নানিয়ারচরে ইউপিডিএফ(প্রসীত)’র চাঁদাবাজ আটক

নিজস্ব প্রতিনিধি, রাঙামাটি:

রাঙামাটির নানিয়ারচর উপজেলায় ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট’র (ইউপিডিএফ) বিমান খীসা (৩৯) নামের এক চাঁদাবাজকে আটক করেছে যৌথবাহিনী। শুক্রবার (৮ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে উপজেলার রামহরি পাড়া থেকে তাকে আটক করা হয়।

এসময় তার কাছ থেকে নগদ ১২ হাজার ৩৪৫ টাকা, ইউপিডিএফ মূলদলের চাঁদা আদায়ের হিসেব খাতা ০১টি, চাঁদার রশিদ ০৩টি, জাতীয় পরিচয়পত্র ০১টি এবং একটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে।

যৌথবাহিনী সূত্রে জানানো হয়- শুক্রবার বিকেলে উপজেলার রামহরি পাড়ায় চাঁদা আদায়কালে বিমান খীসা ওরফে অনিমেষ খীষা (৩৯) নামের এক ব্যক্তিকে আটক করে যৌথবাহিনী। পরে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে  তাকে নানিয়ারচর থানায় হস্তান্তর করা হয়।

নানিয়ারচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি তদন্ত) মো. ইরফানুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান- আটককৃত ব্যক্তির বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ এনে মামলা দায়ের করা হবে।

খাগড়াছড়িতে ইউপিডিএফ (মূল)’র চাঁদাবাজ আটক

 

নিজস্ব প্রতিবেদক, খাগড়াছড়ি:

খাগড়াছড়ি সদর উপেজলার প্যারাছড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে শ্যামাপান দেবান (৩০) ওরফে কুশল চাকমা নামে ইউপিডিএফ এর এক চাঁদাকাজকে আটক করেছে নিরাপত্তাবাহিনী। সে মহালছড়ি উপজেলার চাদ গরিয়ার জ্যেতির্মল চাকমার ছেলে।

বৃহস্পতিবার (৩১ জানুয়ারি) তাকে আটক করা হয়। এ সময় তার নিকট থেকে আদায়কৃত চাঁদার নগদ ১৫,৪২৭.০০ টাকা, ০২টি চাঁদা আদায়ের রশিদ, ০১টি ইউপিডিএফ কর্তৃক প্রকাশিত বই উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত দ্রব্যাদিসহ ওই চাঁদাকাজকে পুলিশের নিকট হস্তান্তর করার কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

নিরাপত্তাবাহিনী সূত্র জানায়, খাগড়াছড়ি সদর উপেজলার প্যারাছড়া এলাকায় কিছু সশস্ত্র সন্ত্রাসী চাঁদা আদায় করছে মর্মে তথ্য পাওয়া যায়। এপ্রেক্ষিতে খাগড়াছড়ি সদর জোন থেকে নিরাপত্তাবাহিনীর একটি টহলদল অভিযান পরিচালনা করে। এসময় চাঁদা আদায়কারী দুইজন সশস্ত্র সদস্যকে টহলদল দেখতে পায় এবং তাদেরকে আটক করার প্রচেষ্টা চালায়। কিন্ত তারা উভয়েই দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করে। তাৎক্ষনিক টহলদল তাদের পিছু নিয়ে ৬০০-৭০০ গজ ধাওয়া করে শ্যামাপান দেবান (৩০) ওরফে কুশল চাকমাকে আটক করে।

জানাযায়, আটককৃত ব্যক্তির নামে খাগড়াছিড় সদর থানা মামলা নং-০৮, ধারা: ১৭১/৩৮৬/৩৪/অস্ত্র বি: ১৯৭৮ সালে অস্ত্র আইন (সংশোধিত ২০০২) এর ১৯-এ তারিখ ১৩ নভেম্বর ২০১৬ মোতাবেক মামলা রয়েছে। আটকৃত ব্যক্তি শ্যামাপান দেবান (৩০) ওরফে কুশল চাকমা দীর্ঘিদিন যাবত পলাতক অবস্থায় ছিল বলেও জানা যায়।

এ ব্যাপারে খাগড়াছড়ি সদর জোন কমান্ডার লে. কর্নেল মোহাম্মদ আরাফাত হোসেন বলেন, ইউপডিএফ (মূল) এর সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে চাঁদা আদায় করছে এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা করছে মর্মে গোয়েন্দা তথ্য রয়েছে। গোয়েন্দা তথ্যের উপর ভিত্তি করে ওই জোনের অপারেশন কার্যক্রম নিয়মিত পরিচালনা করা হচ্ছে। এরই প্রেক্ষিতে গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী ওই জোনের উদ্যোগে অপারেশন পরিচালনা করা হলে উল্লেখিত চাঁদাবাজকে আটক করা হয়। আটককৃত চাঁদাবাজ গাছবান, ভাইবোনছড়া, অমৃত কারবারীপাড়া, নারায়নখাইয়া, প্যারাছড়া এলাকার বিভিন্ন স্থানে চাঁদা আদায় করছে এবং নিয়মিত চলাচল করছে মর্মে গোয়েন্দা তথ্য রয়েছে। ওই কার্যক্রমে জড়িত ব্যক্তি এবং পরিকল্পনাকারীদের জোনের আওতাধীন এলাকায় কোন প্রকার অবৈধ কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতে দেয়া হবে না এবং এ  ব্যাপারে ভবিষ্যতে আরো কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ কর হবে।

রাঙামাটিতে অস্ত্রসহ জেএসএস’র বাঙালি চাঁদা কালেক্টর আটক

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাঙামাটি:

রাঙামাটি শহরে যৌথবাহিনী  অভিযান চালিয়ে জেএসএস’র সক্রিয় চাঁদা কালেক্টর আফজাল হোসেন (৫২) নামের এক চাঁদাবাজকে আটক করেছে।

মঙ্গলবার (২২ জানুয়ারি) দুপুরে শহরের ক্ষেপ্পাপাড়া থেকে তাকে আটক করা হয়।

এসময় তাঁর কাছ থেকে একটি পিস্তল, ৩টি মোবাইল ফোন  এবং  নগদ ২হাজার ১২০টাকা উদ্ধার করা হয়েছে।

যৌথবাহিনী সূত্রে জানানো হয়, সোমবার দুপুরে যৌথবাহিনী শহরের আসামবস্তিস্থ ক্ষেপ্পাপাড়া নামক স্থানে আফজালকে ধরতে অভিযান পরিচালনা করে। আফজাল যৌথবাহিনীর অভিযান টের পেয়ে তার বাড়ির পাশে ঝোঁপে লাফ দেয়। যৌথবাহিনী ওই ঝোঁপ  থেকে তাকে হাতেনাতে আটক করতে সক্ষম হয়। এসময় তার কাছ থেকে একটি পিস্তল, ৩টি মোবাইল ফোন এবং  নগদ ২হাজার ১২০টাকা উদ্ধার করা হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে আরও জানানো হয়, আফজাল শহরের রিজার্ভবাজার, তবলছড়ি  এবং আসামবস্তি বাজার এলাকার স্থানীয় কাঠ, মাছ, বাঁশ ব্যবসায়ী, দোকানদার, সিএনজি এবং বিভিন্ন পণ্যবাহী গাড়ি থেকে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি’র (পিসিজেএসএস)  হয়ে  চাঁদা আদায় করে আসছে বহুবছর ধরে।

আফজাল  ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে এসব চাঁদার টাকা সংগ্রহ করে জেএসএস’র চীফ কালেক্টর জ্ঞান শংকর চাকমার কাছে হস্তান্তর করে। আর আফজালের অবর্তমানে তার স্ত্রী খোদেজা বেগম এবং তার সহযোগী ওই এলাকার বাসিন্দা ডেস্কী মিয়া ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চাঁদা আদায় করে থাকে।  আদায়ের সেসব চাঁদা থেকে আফজাল ৩০% করে কমিশন পেয়ে থাকে বলে যৌথবাহিনীর কাছে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছেন তিনি।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে রাঙামাটি কোতয়ালী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আব্দুর রহিম জানান, আটক আফজালের বিরুদ্ধে অবৈধ অস্ত্র রাখার দায়ে এবং চাঁদাবাজির অভিযোগ এনে দু’টি মামলা দায়ের করা হবে।

বাঘাইছড়িতে তিন আগ্নেয়াস্ত্রসহ ইউপিডিএফের পরিচালক আটক

সাজেক প্রতিনিধি:

রাাঙ্গামাটি জেলার বাঘাইছড়ি উপজেলার বঙ্গলতলী ও রুপকারী শাখার ইউপিডিএফের পরিচালক এবং ইউপিডিএফ’র বিচার বিভাগীয় পরিচালক অটল চাকমা(৫৫) ও তার সহকারী শুদ্ধজয় চাকমা(৪২) কে আটক করেছে নিরাপত্তা বাহিনী।

সোমবার ভোর পাঁচটার দিকে মধ্য বঙ্গলতলীর সতিরঞ্জন চাকমার বাড়ী থেকে তাদের আটক করা হয়।
এ সময় তাদের কাছ থেকে ২টি এলজি, ১টি দেশীয় বন্দুক, ১০ রাউন্ড কার্তুজ, ১৫টি চাঁদার রশিদ বই, ১ সেট সামরিক পোশাক, ৪টি মোবাইল, ১টি নোট বুক, ১টি রেডি সহ গুরুত্বপূর্ণ নথি উদ্ধার করা হয়।

নিরাপত্তা বাহিনী সুত্রে জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ৪ইস্ট বেঙ্গল বাঘাইহাট সেনা জোন থেকে নিরাপত্তা বাহিনীর একটি টিম অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করে।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, আটক অটল চাকমা একজন চিহ্নিত সন্ত্রাসী। গত ৩ এপ্রিল একই এলাকা থেকে পরিচালক সুগত চাকমাকে আটকের পর ঐ দায়িত্বে আসে অটল চাকমা।

আর আসার পর থেকেই এলাকার ছোট বড় সকল ব্যবসায়ীর কাছ থেকে সে লাগামহীন চাঁদাবাজী করতে থাকে আর অস্ত্র দিয়ে প্রতিনিয়ত লোকজনের মাঝে ভয়ভীতি দেখিয়ে আসছিল তারা। তাদেরকে আটকের পর জিজ্ঞাসাবাদে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। এবং তাদের দেওয়া তথ্যমতে, এলাকায় অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে নিরাপত্তা বাহিনী সুত্রটি।

আটক ইউপিডিএফ নেতা অটল চাকমা বাঘাইছড়ি উপজেলার কাট্রলী গ্রামের মৃত মনিন্দ্র চাকমার ছেলে এবং তার সহকারী শুদ্ধজয় চাকমা দীঘিনালা উপজেলার সংগলা গ্রামের চিত্তরঞ্জন চাকমার ছেলে বলে জানা যায়।

এবিষয়ে বাঘাইছড়ি থানার অফিসার ইনচার্জ আমির হোসেন বলেন, আটককৃতরা উপজেলার শীর্ষ চাঁদাবাজ সন্ত্রাসী। তাদের বিরুদ্ধে এলাকায় ব্যাপক চাঁদাবাজীসহ বিভিন্ন অপকর্মের অভিযোগ রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

এ বিষয়ে ইউপিডিএফ’র বাঘাইছড়ি উপজেলা পরিচালক জুয়েল চাকমা বলেন, ইউপিডিএফ তো কোন নিষিদ্ধ দল নয়। গণতান্ত্রিক একটি দলের সদস্যদের অন্যায় ভাবে আটক করা ঠিক নয়। তাদেরকে সম্পূর্ণ অন্যায়ভাবে আটক করা হয়েছে। আমার জানা মতে, তাদের কাছে আটকের সময় কিছুই ছিলনা। আটকের বিষয়ে ইউপিডিএফ’র পক্ষ থেকে এর তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি ।

উপজাতি চাঁদাবাজদের স্বর্গরাজ্য পাহাড়ি জনপদ

চাঁদাবাজি

মমিনুল ইসলাম, পার্বত্য চট্রগ্রাম থেকে ফিরে:

চাঁদাবাজির স্বর্গরাজ্যে পরিণত হয়েছে দেশের গুরুত্বপূর্ণ এক দশমাংশের পার্বত্য জনপদ। সরকারি কর বা ভ্যাটের ন্যায় এখানে প্রকাশ্যে চলছে বেপরোয়া চাঁদাবাজি, এমনটিই জানিয়েছে গোয়েন্দা সূত্র। বাঙালি-পাহাড়ি যেই হোক না কেন, কিছু করতে হলেই গুণতে হয় চাঁদা। উপজাতিদের সশস্ত্র গ্রুপগুলো চাঁদাবাজির মাধ্যমে দিনে আদায় করে এক থেকে দেড় কোটি টাকা।

সামান্য কলার ছড়া থেকে শুরু করে, ব্যবসা-বাণিজ্য, জেলে, খামার, ঠিকাদারি, উন্নয়নমূলক কাজ সব কিছু থেকে আদায় করা হয় চাঁদা। আর তা না দিলে নির্যাতন, নিপীড়ন থেকে শুরু করে অপহরণ, খুন, ধর্ষণ হওয়ার শঙ্কা ভুক্তভোগীদের। প্রাণ ভয়ে মুখও খুলতে চান না তারা। স্বয়ং পুলিশ প্রশাসনও তাদের কাছে জিম্মি বলে অভিযোগ।

একটি গোয়েন্দা সূত্র বলছে, পুরো পার্বত্য অঞ্চলে (রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান) চাঁদা আদায়ে নিয়োজিত রয়েছে জেএসএস’র-ইউপিডিএফ’র পাঁচ হাজার সশস্ত্র প্রশিক্ষিত কর্মী। সরকারের করের ন্যায় বিভিন্ন জিনিসের ওপর মাসিক/বাৎসরিক নির্দিষ্ট হারে চাঁদা আদায় করা হয় এবং রসিদও দেয়া হয়। ক্যাডার পর্যায়ে নিয়োগপ্রাপ্ত এসব সশস্ত্র সদস্যের বেতন-ভাতাও দেয়া হয় বলে জানিয়েছে সূত্র।

চাঁদাবাজী

সম্প্রতি পাহাড়ে বিভিন্ন পণ্যের ওপর ‘শান্তি চুক্তি’ সমর্থক জনসংহতি সমিতি (জেএসএস) ও চুক্তি বিরোধী ইউপিডিএফ’র আরোপ করা চাঁদার তালিকা করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এতে সাবেক ও বর্তমান রেটও উল্লেখ করা হয়েছে।

এ তালিকা মতে, গাছে প্রতি ঘনফুট ও বাঁশে প্রতি শ’ হিসেবে চাঁদা আদায় করা হয়। বর্তমানে প্রতি ঘনফুট সেগুন গোল গাছে জেএসএসকে চাঁদা দিতে হয় বছরে ৪০টাকা, ইউপিডিএফকে দিতে হয় ৫০টাকা। এভাবে সেগুন রদ্দা, গামারী গোল-রদ্দা, লালি গোল-রদ্দার ওপর আলাদা আলাদা হারে চাঁদা ধার্য করা হয়েছে।

বর্তমানে প্রতি শ’ বাঁশে বছরে জেএসএস-ইউপিডিএফ উভয়েই চাঁদা আদায় করে ৪০০ টাকা করে। এভাবে বাইজ্জা বাঁশের জন্য রয়েছে আলাদা রেট। প্রথম শ্রেণীর মাছ ব্যবসায়ীদের জেএসএসকে বছরে চাঁদা দিতে হয় ৪০ হাজার, ইউপিডিএফকে ৫০ হাজার। এভাবে দ্বিতীয় ও তৃতীয় শ্রেণির ব্যবসায়ীদের পৃথক হারে গুণতে হয় চাঁদা।

তালিকা থেকে আরও জানা যায়, বিভিন্ন ধরনের মাছ ধরার জালের ওপর আলাদা আলাদা হারে বাৎসরিক (নয় মাসে বছর) চাঁদা আদায় করা হয়। কেসকি জাল (১ হাজার বামের ওপর) থেকে জেএসএস আদায় করে ছয় হাজার টাকা, ইউপিডিএফ সাত হাজার। এভাবে ধর্ম জাল, টেংরা জাল, কুত্তা জলা, ভাসা জাল, টেইনা জাল, লুই জাল, নাইট জাল, বড়শির ওপর আলাদা হারে চাঁদা আদায় করে তারা। এছাড়া সব ধরনের জেলেদের বছরে চাঁদা দিতে হয় জেএসএসকে সাতশ, ইউপিডিএফকে পাঁচশ।

চাঁদাবাজী

পার্বত্য চট্রগ্রামে বসবাসরত উপজাতি বাসিন্দাদেরও দিতে হয় বাৎসরিক চাঁদা। প্রতি উচ্চবিত্ত পরিবারের জন্য জেএসএস- ইউপিডিএফ’র ধার্যকৃত চাঁদা আটশ টাকা। মধ্যবিত্ত পরিবার প্রতি জেএসএস আদায় করে পাঁচশ এবং ইউপিডিএফ ছয়শ’। নি¤œবিত্ত পরিবার প্রতি জেএসএস তিনশ, ইউপিডিএফ চারশ টাকা চাঁদা আদায় করে।

এ চাঁদার আওতায় বাদ পড়েনি কলার ছড়াও। প্রতি ছড়ার জন্য বর্তমানে জেএসএস’কে ছয় টাকা ও ইউপিডিএফ’কে দিতে হয় ১০ টাকা। এছাড়া গরু ও ছাগল বিক্রির ওপর যথাক্রমে জেএসএস ১২ ও ৬ শতাংশ এবং ইউপিডিএফ দুইশ ও একশ হারে চাঁদা আদায় করে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, পাহাড়ের আঞ্চলিক সংগঠনগুলো চাঁদার এ অর্থ দিয়ে দেশ-বিদেশে বাঙালি বিদ্বেষী প্রচারণা ও তাদের অস্ত্র ভা-ারকে সমৃদ্ধ করার কাজ করে থাকে।

বাৎসরিক এ চাঁদা আদায় ছাড়াও বিভিন্ন দিবসকে সামনে রেখে বেপরোয়া চাঁদাবাজির অভিযোগ রয়েছে ইউপিডিএফ-জেএসএস সহ আঞ্চলিক সংগঠনগুলোর বিরুদ্ধে। প্রতি বছর ‘বৈসাবী’ উদযাপন কমিটির নামে ব্যক্তি বিশেষে দুই হাজার টাকা থেকে দশ হাজার টাকা পর্যন্তও চাঁদা আদায় হয়।

ইনকিলাব-এ প্রকাশিত খবরের তথ্য অনুযায়ী, খাগড়াছড়ি ও রাঙামাটিতে চাঁদাবাজির শীর্ষে রয়েছে শান্তিচুক্তি বিরোধী সংগঠন ইউনাইটেড পিপল ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ)। এরপরের অবস্থানে রয়েছে চুক্তির সমর্থক পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির ক্যাডাররা। এদের অঙ্গ সংগঠন যেমন- পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ, হিল উইম্যান ফেডারেশন বিভিন্ন অপকৌশলে পাহাড়ে চাঁদাবাজি চালিয়ে যাচ্ছে।

চাঁদাবাজি

পাহাড়ের নিরীহ বাঙালিরাই মূলত সন্ত্রাসীদের চাঁদাবাজির প্রধান টার্গেট। এর পরের অবস্থানে রয়েছে তিন পার্বত্য জেলায় বসবাসরত ১৩টি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী। এর মধ্যে প্রায় সকলকে চাঁদা দিতে বাধ্য হতে হলেও চাকমাদের কাছ থেকে চাঁদা দাবির তেমন ঘটনা শোনা যায় না।

স্থানীয়রা জানান, বাঁশ, বেত, কাঠ, ছন সংগ্রহ, বেচাকেনা ও পরিবহন, কৃষি-খামার, ক্ষুদ্র-মাঝারি ব্যবসা-বাণিজ্য, সড়ক ও নৌপথে মালামাল পরিবহন থেকে শুরু করে ঠিকাদারি, অবকাঠামো নির্মাণ কাজ সবকিছুর ওপর থেকেই জোরপূর্বক চাঁদা আদায় করা হচ্ছে। এমনকি কলা, আদা, হলুদ, আনারস, লেবু, কমলা, খাদ্যশস্য চাষাবাদ, গবাদিপশু-পাখি বেচাকেনা করতে গিয়েও চাঁদা পরিশোধ করতে বাধ্য হচ্ছেন পার্বত্য এলাকার বাসিন্দারা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক রাঙামাটির বিলাইছড়ি উপজেলা আওয়ামী লীগের এক শীর্ষ নেতা জানান, এখানে অস্ত্রধারী জেএসএসের এতটাই প্রভাব ক্ষমতাসীন দলের লোক হয়েও তাদের পক্ষে চাঁদাছাড়া বসবাস করা অসম্ভব। নিরুপায় হয়ে দোকান-পাটও গুটিয়ে নিতে বাধ্য হচ্ছেন অনেকে। তাদের কাছে পুলিশও জিম্মি বলে অভিযোগ তার।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে পার্বত্য চট্রগ্রামের উত্তর বন বিভাগের বাঘাইহাট রেঞ্জের এক বন কর্মকর্তা জানান, রাঙামাটিতে সাধারণ সরকার ছাড়াও অন্য একটি ‘সরকার’ কাজ করে। যেটাকে তারা কখনই উপেক্ষা করতে পারেন না। বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষও অবহিত বলে জানান তিনি।

২২ জুন পার্বত্য চট্রগ্রামের সংরক্ষিত মহিলা এমপি ফিরোজা বেগম চিনু বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শান্তি চুক্তি করে পাহাড়ে অনেক উন্নয়ন করেছেন। কিন্তু কিছু সশস্ত্র গ্রুপ চাঁদাবাজি, খুন, অপহরণ করে পাহাড়কে অস্থিতীশীল করার পাঁয়তারা করছে। তিনি এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন বলে জানান।

জেএসএস’র মুখপাত্র ও সহপ্রচার সম্পাদক সজীব চাকমা বলেন, ‘জেএসএস’র বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ উদ্দেশ্য প্রণোদিত। আমরা চাঁদাবাজিতে বিশ্বাসী নই। মানুষের সহযোগিতায় দল পরিচালিত হয়।’

অন্যদিকে, ইউপিডিএফ’র মুখপাত্র, প্রচার ও প্রকাশনা বিভাগের প্রধান নিরন চাকমা চাঁদাবাজির অভিযোগ অস্বীকার করেন। বলেন, ‘এ অভিযোগ মিথ্যা ও বানোয়াট। তিনিও জানান, মানুষের সহযোগিতায় তাদের দল পরিচালিত হয়।