অবাধ সশস্ত্র তৎপরতা আর লাগামহীন চাঁদাবাজিতে শান্তিচুক্তির প্রত্যাশা ধুলিস্যাৎ হয়ে গেছে

নিজাম উদ্দিন লাভলু:

পার্বত্য চট্টগ্রামের তিন জেলা খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি ও বান্দরবানে সশস্ত্র তৎপরতা ও চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণ করছে তিনটি আঞ্চলিক পাহাড়ি সংগঠন। জনসংহতি সমিতি বা জেএসএস (সন্তু), জেএসএস (সংস্কার) ও ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট বা ইউপিডিএফের সশস্ত্র তৎপরতা ও চাঁদাবাজির কারণে পার্বত্য এলাকায় পাহাড়ি বাঙালির মধ্যে বিশ্বাস ও আস্থা দিন দিন কমে যাচ্ছে। দুটি সম্প্রদায়ের মধ্যে এ অবিশ্বাসের প্রেক্ষাপটে একটি হত্যাকাণ্ডের জের ধরে সম্প্রতি রাঙামাটির লংগদুতে হিংসাত্মক ঘটনা ঘটেছে।

১৯৯৭ সালে সরকারের সাথে জনসংহতি সমিতির (জেএসএস) পার্বত্য শান্তিচুক্তি সম্পাদনের পর ১৯৯৮ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় ইউপিডিএফ। পরবর্তীতে জেএসএস’র একটি অংশ মূল দল থেকে ছুটে গিয়ে জেএসএস (সংস্কার) নামে সাংগঠনিক তৎপরতা শুরু করে। পূর্ণ স্বায়ত্বশাসন ও স্বাধীন জুম্মল্যান্ড প্রতিষ্ঠার নামে সংগঠনগুলো সশস্ত্র তৎপরতা চালাচ্ছে। আর চাঁদাবাজির মাধ্যমে গড়ে তুলছে টাকার পাহাড়। অত্যাধুনিক অস্ত্রশস্ত্রেও তারা এখন সমৃদ্ধ।
বর্তমানে ৫১ ভাগ পাহাড়ি বিভিন্ন ক্ষুদ্র নৃ- গোষ্ঠী আর ৪৯ ভাগ বাঙালি জনগোষ্ঠীর মানুষ বসবাস করেন এ তিন জেলায়। শান্তিচুক্তির পর পাহাড়ে উপজাতি ও বাঙালি জনগোষ্ঠীর মধ্যে সম্পর্কের উন্নয়ন ঘটছিল। একপর্যায়ে প্রতিবেশীসুলভ ও সৌহার্দপূর্ণ সম্পর্কও গড়ে উঠে। কিন্তু পাহাড়ি সংগঠনগুলোর লাগামহীন চাঁদাবাজি ও সশস্ত্র তৎপরতার কারণে এখানকার বাঙালি পাহাড়ি সম্প্রদায়ের মধ্যে অনাস্থা ও অবিশ্বাস ক্রমশঃ বাড়ছে।
বাঙালিদের ধারণা, ঐ সংগঠনগুলোর চাঁদাবাজি ও সশস্ত্র তৎপরতায় পাহাড়িদের সবার সমর্থন আছে। অন্যদিকে, সংগঠনের নেতাকর্মীরা সাধারণ পাহাড়িদের মধ্যে বাঙালিদের ব্যাপারে নেতিবাচক ধারণা দিয়ে শত্রু-ভাবাপন্ন করে তুলছে। এতে দিন দিন সাম্প্রদায়িক দূরত্ব বেড়ে চলেছে।

এলাকার পাহাড়ি ও বাঙালি বাসিন্দারা জানিয়েছেন, শান্তিচুক্তির পর এলাকার মানুষ আশা করেছিল তাদের বসবাস হবে নির্বিঘ্ন ও শান্তিপূর্ণ। কিন্তু যতই দিন যাচ্ছে, অশান্তির দাবানল বেড়েই চলেছে। অবাধ সশস্ত্র তৎপরতা আর লাগামহীন চাঁদাবাজিতে শান্তিচুক্তির প্রত্যাশা ধুলিস্যাৎ হয়ে গেছে।

জানা যায়, অনগ্রসর জনগোষ্ঠী বিবেচনায় পাহাড়ি জনসাধারণকে করের আওতা থেকে মুক্তি দিয়েছে সরকার। কর দিতে না হলেও সন্ত্রাসী সংগঠনের চাঁদার হাত থেকে মুক্তি পাচ্ছে না পার্বত্য চট্টগ্রামের সাধারণ মানুষ। বাঙালি কিংবা উপজাতি- সবাই এসব সন্ত্রাসীকে চাঁদা দিতে বাধ্য। বিভিন্ন ফসল, ফল ফলাদি, গবাদিপশু বেচাকেনায়ও চাঁদা আদায় করছে সন্ত্রাসীরা। প্রকাশ্যে চিঠি দিয়েও চাকুরিজীবীদের কাছ থেকে চাঁদা আদায় করছে তারা। প্রাণভয়ে পুলিশ ও প্রশাসনের লোকজনের কাছে এসব চাঁদাবাজির বিষয়ে অভিযোগ করছে না কেউ। অভিযোগ এলেও প্রমাণের অভাবে পার পেয়ে যাচ্ছে জড়িতরা।

নিরাপত্তা বাহিনী ও পুলিশ মাঝে-মধ্যে চাঁদাবাজদের আটক করলেও চাঁদাবাজি বন্ধ হয়নি। অভিযান কঠোর হলে নতুন উপায়ে চাঁদা আদায় করা হয়। এদিকে চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে কিংবা না দিলে হত্যা, অপহরণের পাশাপাশি নানাভাবে ক্ষতি করা হয়। সাম্প্রতিক সময়ে গড়ে উঠা ফলদ ও বনজ বাগানের মালিকদের ঘাড়ে চাপিয়ে দেয়া হয় মোটা অংকের চাঁদা। একরপ্রতি এক থেকে দেড় হাজার টাকা হারে চাঁদা আদায় করা হয়। তিনটি সংগঠনকেই পৃথক পৃথকভাবে চাঁদা পরিশোধ করতে হয়।

খাগড়াছড়ির রামগড়ের শুধুমাত্র পাতাছড়া ইউনিয়নেই প্রায় চার হাজার একর ফলদ ও বনজ বাগান আছে। এসব বাগানের মালিকদের কাছ থেকে ইউপিডিএফ একাই চাঁদা আদায় করে বছরে প্রায় ৬০ লক্ষ টাকা। চাঁদা দেয়ার পরও নানা অজুহাতে হাজার হাজার ফলবান গাছ কেটে দেয়া হয়। বাগানের ফলফলাদি লুটে নেয়া হয়। এক বাগান মালিক বলেন, চাঁদা দিয়েও তারা পাহাড়ি সংগঠন দুটির কাছে জিম্মি।

রাঙামাটির নানিয়ারচর এলাকায়ও চাঁদার জন্য শত শত একর আনারস বাগান কেটে পুড়িয়ে দেয়া হয়। এ কারণে পার্বত্য এলাকার মানুষের মাঝে এখন বিরাজ করছে সশস্ত্র সংগঠনগুলোর ‘চাঁদা আতঙ্ক’। পার্বত্য এলাকার সীমানা-লাগোয়া সমতল জেলায়ও সশস্ত্র গ্রুপগুলো চাঁদাবাজিসহ সশস্ত্র তৎপরতায় লিপ্ত হয়েছে।

খাগড়াছড়ির সীমানার পাশের ফটিকছড়ির বিস্তীর্ণ এলাকায় ইউপিডিএফ ও জেএসএস’র (সংস্কার) তৎপরতার খবর পাওয়া গেছে। ঐ এলাকার সাতটি চা বাগানকে জিম্মি করে বছরে প্রায় ৫০ লক্ষ টাকা চাঁদা আদায় করা হয়। গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রতিদিনই পার্বত্য অঞ্চল থেকে উপজাতি সশস্ত্র গ্রুপ এক থেকে দেড় কোটি টাকা চাঁদা আদায় করছে। বছরশেষে যার পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ৪০০ কোটি।

চাঁদা আদায়ে নিয়োজিত রয়েছে জেএসএস ও ইউপিডিএফের প্রায় পাঁচ হাজার সশস্ত্র প্রশিক্ষিত কর্মী। আদায় করা চাঁদার টাকা দিয়েই দলের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা, রেশন, অবসরকালীন ভাতা, ক্ষতিপূরণ ইত্যাদি দেয়া হয়। এছাড়া পাহাড়ের আঞ্চলিক সংগঠনগুলো চাঁদার এ অর্থ দিয়ে দেশ-বিদেশে বাঙালি বিদ্বেষী প্রচারণা ও তাদের অস্ত্রভাণ্ডার সমৃদ্ধ করার কাজ করে।

নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক পার্বত্য খাগড়াছড়ির এক ব্যবসায়ী বলেন, আঞ্চলিক দলগুলোর চাঁদাবাজি অহরহ ঘটছে। চাঁদাবাজিতে তারা কেউ পিছিয়ে নেই। কোনো পরিবহন মাল নিয়ে খাগড়াছড়ি ঢোকার সময় অথবা বের হওয়ার সময় চাঁদা দিতে হয়। একেক সময় তারা একেক স্থান থেকে চাঁদা তোলে। চাঁদা না দিলে গাড়ি থামিয়ে স্টাফদের মারধর করা হয়, অনেক ক্ষেত্রে গাড়ি পুড়িয়ে দেয়া হয়। চাঁদা না দেয়ায় সম্প্রতি বিআরটিসি’র একটি ও প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের একটি গাড়ি পুড়িয়ে দেয় ইউপিডিএফ।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, ইউপিডিএফ-এর খাগড়াছড়ি ইউনিটে চাঁদাবাজির মাধ্যমে খুচরা খাত থেকে মাসিক আয় প্রায় ৪ কোটি টাকা। খাগড়াছড়ি জেলা ইউনিটের অন্তর্গত প্রায় ৫টি সাবডিভিশন থেকে এ বিপুল পরিমাণ চাঁদা আদায় হয়ে থাকে। এছাড়াও ইউপিডিএফ’র আলাদা বার্ষিক চাঁদা শত কোটি টাকার উপরে।

গত ৯ ফেব্রুয়ারি ইউপিডিএফ’র সামরিক শাখার প্রধান প্রদীপন খীসার খাগড়াছড়ির বাড়ি থেকে যৌথবাহিনীর অভিযানে উদ্ধার হওয়া ৮০ লাখ টাকার সাথে প্রাপ্ত প্রায় দুই বস্তা নথিপত্র ঘেঁটে এমন চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া গেছে। উদ্ধার হওয়া নথির তথ্য মতে, খাগড়াছড়ি জেলা ইউনিটের আওতায় ইউপিডিএফ’র বেশ কয়েকটি ডিভিশন ও সাব-ডিভিশন রয়েছে।

ডিভিশনগুলো হচ্ছে, সুবর্ণপুর ডিভিশন (সাংগঠনিক নাম) ও রতœপুর ডিভিশন। খাগড়াছড়ি জেলায় ইউপিডিএফ’র সাব ডিভিশনগুলো হচ্ছে : তৃণভূমি সাব ডিভিশন (সাংগঠনিক নাম), বকুলতলা সাব ডিভিশন, বটতলা সাব ডিভিশন ও পূর্ণমিশন সাব ডিভিশন। প্রতিটি সাব ডিভিশনে মাসে ৭০ থেকে ৮০ লাখ টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় হয়ে থাকে। এ সব ডিভিশনের দায়িত্বে আছেন একজন প্রধান, একজন সেক্রেটারি ও একজন কো-অর্ডিনেটর। ঐ এলাকায় উত্তোলিত চাঁদা সাংগঠনিক কাজে খরচের পর মাসশেষে কো-অডিনেটর কেন্দ্রীয় অর্থ বিভাগের প্রধান (সিসি)-এর কাছে প্রেরণ করে থাকেন।

ইউপিডিএফ’র আদায়কৃত অর্থের হিসেব তদারকির জন্য রয়েছে আলাদা শৃঙ্খলা তদারকি বিভাগ সিসি। রয়েছে মিশন হাইয়ার পরিচালক পোস্ট। ইউপিডিএফ আয়-ব্যয়ের হিসাব খুবই নিখুঁতভাবে করে থাকে। চাঁদা আদায়সহ দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় কাজ করার জন্য চাঁদা কালেক্টর ও কমান্ডারদের রয়েছে মোটরসাইকেল। এছাড়া একেকজনের কাছে রয়েছে একাধিক মোবাইল সিম। ফোন করে চাঁদা পরিশোধের তাগাদা দেয়া হয়।

জানা যায়, মাঠ পর্যায়ের এসব কর্মীদের এক স্থান থেকে অন্য স্থানে বদলিও করা হয়। তারা সকলেই ছদ্মনাম ব্যবহার করে। গত শুক্রবার রামগড়ের গৈয়াপাড়া এলাকায় আটক ইউপিডিএফের চাঁদা কালেক্টর জীবন চাকমা পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে জানায়, চাঁদাবাজির কাজে এলাকাভিত্তিক তাদের বাঙালি সোর্স রয়েছে। এদের মাধ্যমে তথ্য ও ফোন নম্বর সংগ্রহ করে চাঁদা দাবি করা হয়।

নিরাপত্তা বাহিনীর সূত্র জানায়, মাসিক খুচরা চাঁদার পাশাপাশি ইউপিডিএফ’র প্রতিটি সেক্টরে মোটা অংকের বাৎসরিক চাঁদা রয়েছে। বিশেষ করে পরিবহন খাত, ফলদ ও বনজ বাগান, বিভিন্ন তামাক কোম্পানি, মোবাইল কোম্পানি, জীবন রক্ষাকারী ওষুধ কোম্পানি, স’ মিল ও চাকুরিজীবীদের কাছ থেকে ইউপিডিএফ বার্ষিক চাঁদা আদায় করে থাকে। এ ছাড়াও বিভিন্ন দিবস ও উৎসব উপলক্ষে আলাদা চাঁদা আদায় করা হয়ে থাকে। এ টাকা নিয়মিত মাসিক আদায়কৃত ৪ কোটি টাকার বাইরে।

খাগড়াছড়ি সদরের নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক এক কাঠ ও বাঁশ ব্যবসায়ী বলেন, ১৯৯৭ সালে শান্তিচুক্তি হওয়ার আগে পার্বত্য এলাকায় একমাত্র শান্তিবাহিনীকে চাঁদা দিতে হতো। চাঁদা নিয়ে ওরা ব্যবসায়ীদের নানাভাবে সহায়তাও করতো। আর এখন চাঁদা দিতে হয় তিন গ্রুপকে। খাগড়াছড়ি জেলা পরিষদের সাবেক এক সদস্য জানান, পাহাড়ি সম্প্রদায়ের ক্ষুদ্র চাষী থেকে শুরু করে সব পেশাজীবীকেই চাঁদা দিতে হয়। কিন্তু পাহাড়িরা ভয়ে এসব কথা প্রকাশ করে না।

পাহাড়ি বাঙালি জনগোষ্ঠীর নানা পেশাজীবীর সাথে কথা বলে জানা গেছে, পার্বত্য শান্তিচুক্তির পর তিন পার্বত্য জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর ক্যাম্প ও নিরাপত্তা পোস্ট প্রত্যাহার করার কারণে বিস্তীর্ণ এলাকা সশস্ত্র গ্রুপগুলোর নিরাপদ ও মুক্ত অঞ্চলে পরিণত হয়েছে। অপ্রতিরুদ্ধ হয়ে উঠেছে গ্রুপগুলো। এ অবস্থায় তুলে নেয়া নিরাপত্তা ক্যাম্পগুলো পুনঃস্থাপনের পাশাপাশি তিন জেলায় র‌্যাবের ইউনিট স্থাপনের জোরালো দাবি উঠেছে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, সংগঠন পরিচালনা, অস্ত্র সংগ্রহ প্রভৃতির জন্য তিনটি সংগঠন ফান্ড গড়ে তোলার জন্য চাঁদা আদায় কার্যক্রমকে সবচেয়ে বেশি প্রাধান্য দেয়। আর এ কারণে এলাকার নিয়ন্ত্রণ ও আধিপত্য গ্রহণকে কেন্দ্র করে সংগঠনগুলো নিজেদের মধ্যে সংঘাত সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। এসব সংঘর্ষে তিন গ্রুপেরই অনেক সদস্য প্রাণ হারিয়েছে।

প্রাপ্ত এক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ২০১০ এর জানুয়ারি হতে ২০১১ সালের এপ্রিল মাস পর্যন্ত ইউপিডিএফ ও জেএসএস’র মধ্যে ৫৪ বার সশস্ত্র সংঘর্ষ হয়। এ সংঘর্ষে জেএসএস’র ১৯ জন নিহত ও ১৪ জন আহত হয়। ইউপিডিএফের নিহত হয় ১০ জন ও আহত হয় ৫ জন।

প্রাপ্ত তথ্য মতে, সমগ্র রাঙামাটি জেলায়, খাগড়াছড়ি জেলার অল্প কিছু এলাকায় এবং বান্দরবানে জেএসএস (সন্তু) গ্রুপের মোটামুটি প্রভাব ও আধিপত্য রয়েছে। অন্যদিকে ইউপিডিএফ-এর আধিপত্য রয়েছে সমগ্র খাগড়াছড়ি জেলা, রাঙামাটির কোনো কোনো এলাকা ও বান্দরবানের অল্প পরিমাণ এলাকায়। খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানে জেএসএস (সংস্কার)-এর মোটামুটি প্রভাব ও আধিপত্য থাকলেও রাঙামাটিতে অল্প পরিমাণে প্রভাব রয়েছে বলে জানা যায়।

সামরিক কাঠামোয় সংগঠনগুলোর সশস্ত্র উইং পরিচালিত হয়। কোম্পানি, প্লাটুন, পোস্ট, সাব-পোস্ট ইত্যাদি ভাগে ভাগ করা হয় এলাকাকে। চাঁদা আদায়ের জন্য রয়েছে চাঁদা কালেক্টর। ক্যাপ্টেন বা মেজর পদবির সদস্যরা কোম্পানিগুলোর কমান্ডারের দায়িত্ব পালন করেন। একইভাবে প্লাটুন কমান্ডার, পোস্ট বা সাব পোস্ট কমান্ডারও রয়েছে।

সশস্ত্র সদস্যরা বাংলাদেশ, ভারত ও মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর পোষাক পরিধান করে। ইউপিডিএফ তিন পার্বত্য জেলাকে জাগুয়া, ঈগল ও ড্রাগন নামে তিনটি কোম্পানিতে ভাগ করে তাদের সশস্ত্র কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, চাঁদার টাকার একটি বড় অংশ ব্যয় করা হয় অস্ত্র সংগ্রহে। অত্যাধুনিক সব অস্ত্র সংগ্রহ করে সশস্ত্র তৎপরতা চালাচ্ছে তারা। জানা যায়, এম কে-১১, জার্মানির তৈরি এইচ কে-৩৩, রাশিয়ার জি-৩, একে-৪৭, একে-২২, এম-১৬ রাইফেল, নাইন এমএম পিস্তল, চাইনিজ সাব মেশিনগান, এসবিবিএল বন্দুকের মতো অস্ত্র রয়েছে সংগঠনগুলোর হাতে। ভারতের মিজোরাম ও মিয়ানমার হতে এসব অত্যাধুনিক অস্ত্র সংগ্রহ করে তারা।

মিয়ানমারের বিদ্রোহী সংগঠন আরাকান লিবারেশন পার্টির (এএলপি) সহযোগিতায় এখানকার একটি পাহাড়ি সংগঠনের জন্য অস্ত্রের চালান আসার পথে ঐদেশের কারেন প্রদেশে সেগুলো ধরা পড়ে। গত ৯ ডিসেম্বরে আটক হওয়া ঐ চালানে ১৬টি একে-৪৭ রাইফেল ছিল বলে জানা যায়।

একইভাবে ভারতের মিজোরামেও একাধিকবার অস্ত্রের চালান ধরা পড়ে। ইউপিডিএফের কেন্দ্রীয় প্রচার শাখার প্রধান নিরন চাকমার মুঠোফোনের সুইচ কয়েকদিন ধরে অফ থাকায় চাঁদাবাজি ও সশস্ত্র তৎপরতার অভিযোগ সম্পর্কে তাদের বক্তব্য নেয়া যায়নি।

তবে নামপ্রকাশ না করার শর্তে ঐ সংগঠনের এক নেতা মুঠোফোনে বলেন, চাঁদাবাজি ও সশস্ত্র তৎপরতার সাথে ইউপিডিএফকে জড়িয়ে যে ধরণের অভিযোগ করা হচ্ছে তা সঠিক নয়। জুম্মজাতির স্বাধিকারের জন্য আন্দোলন করছেন তারা। এ কঠিন আন্দোলন সংগ্রাম চালাতে টাকার প্রয়োজন। তাই তারা জনগণের কাছ থেকে কিছু চাঁদা সংগ্রহ করে। সশস্ত্র তৎপরতা সম্পর্কে ওই নেতা বলেন, সন্তু লারমার সন্ত্রাসীদের হাত থেকে আত্মরক্ষার জন্য তারা অস্ত্র বহন করে।

এদিকে, সমঅধিকার আন্দোলন নামে একটি বাঙালি সংগঠনের খাগড়াছড়ির এক নেতা নাম পরিচয় গোপন রাখার শর্তে বলেন, আওয়ামীলীগ যখনই ক্ষমতায় আসে পার্বত্য এলাকায় পাহাড়ি সন্ত্রাসী গ্রুপগুলো বেপরোয়া হয়ে উঠে। ওই নেতা আরও বলেন, বর্তমান সরকারের বিশেষ নীতির কারণে এখন পাহাড়ি সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধ্ আইন-শৃঙ্খলাবাহিনীর জোরালো কোন অভিযান নেই। তাই সশস্ত্র গ্রুপগুলো এখন অনেকটা অবাধ ও নির্বিঘ্নে তাদের তৎপরতা চালাচ্ছে।

জেএসএস সন্ত্রাসীদের চাঁদাবাজীতে অতিষ্ঠ বান্দরবানবাসী (ভিডিওসহ)

পার্বত্যনিউজ রিপোর্ট:

অপরূপ সৌন্দর্যের লীলাভূমি পার্বত্য চট্টগ্রাম।‌ পর্যটন ও ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর বৈচিত্রময় ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির জন্য দেশ ও দেশের বাহিরে এ অঞ্চলের পরিচিতি রয়েছে। অথচ একটি স্বার্থন্বেষী গোষ্ঠী নিজেদের হীন উদ্দেশ্য সাধনকল্পে বাংলাদেশের স্বাধীনতা লগ্ন থেকে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কার্যক্রমের মাধ্যমে অশান্ত করে তুলেছে পার্বত্য চট্টগ্রামকে। ১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর করা হয় শান্তিচুক্তি। কিন্তু স্বার্থন্বেষী গোষ্ঠী ষড়যন্ত্র অব্যাহত রাখে। অস্ত্র ও ভয়ভীতির মাধ্যমে চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালিয়ে যায়।

তাদের অস্ত্রের হুমকির মুখে সাধারণ উপজাতি সম্প্রদায় ও পাহাড়ি-বাঙালি উভয়ই ভীত-সন্ত্রস্ত। এ স্বার্থন্বেষী গোষ্ঠী পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি(পিসিজেএসএস) ও ইউনাইটড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট(ইউপিডিএফ) নামে আঞ্চলিক দল গঠনের অন্তরালে পার্বত্য চট্টগ্রামের তিন জেলায় (খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি ও বান্দরবানে) ত্রাসের রাজ্য কায়েম করতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। শান্তিবাহিনী এই দলগুলোর সামরিক শাখা রয়েছে।

শান্তিচুক্তির পর শান্তিবাহিনী বিলুপ্ত হয়েছে বলে প্রচার রয়েছে। এখন স্থানীয় জনগনের কাছে তারা ‘ভেতর পার্টি’ বলে পরিচিত। গভীর জঙ্গলের ভেতরে তাদের সশস্ত্র অবস্থান ও কার্যকলাপ পরিচালিত হয় বলে তারা ‘ভেতর পার্টি’ নামে নিজেদের পরিচয় দিয়ে থাকে।  যার ফলশ্রুতিতে রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানে সশস্ত্র সন্ত্রাসী গ্রুপকে চাঁদা দিতে হয়।

মুরগি ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে গরু ব্যবসায়ী ও কাঠ ব্যবসায়ীকেও। এমনকি পাহাড়ের সাধারণ উপজাতি ও ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সম্প্রদায়কেও তাদের কষ্টার্জিত অর্থ পাহাড়ের এ সন্ত্রাসীদের দিতে হয়। সরকারি, বেসরকারি ও এনজিওর বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্প হতে চাঁদা দিতে হয় জেএসএস এর সশস্ত্র গ্রুপের চাঁদাবাজদের। সন্ত্রাসীদের চাঁদা দিতে অস্বীকার করলে তাদের উপর হত্যা, অপহরণ, মারপিঠ ও ধর্ষণসহ নানা অত্যাচার করা হয়।

JSS Report3

সম্প্রীতির বান্দরবান হিসেবে পরিচিত পার্বত্য জেলাটিকেও অশান্ত করে তুলতে জেএসএস নামক দলটির সশস্ত্র গ্রুপ। বান্দরবানে সাতটি উপজেলায় তাদের চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কার্যক্রম বৃদ্ধি করেছে। ফলে, পাহাড়ের সাধারণ জনগণ ও ব্যবসায়ীমহলের জীবন অতিষ্ঠ হয়ে পড়ে। প্রতিনিয়ত একটির পর একটি অভিযোগ আসতে থাকে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর নিকট। সম্প্রীতির বান্দরবানে শান্তি ফিরিয়ে আনতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তৎপরতায় সম্প্রতি গ্রেফতার হয়েছে বেশ কয়েকজন সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজকে।

গত ৪ ডিসেম্বর ২০১৬ থানচিতে জেএসএস এর নামে সন্তু লারমার কথা বলে চাঁদাবাজি করার সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে হাতেনাতে ধরা পড়ে তিন সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজ। তারা হল-ম্যান ক্রোই ম্রো, রেং হাই ম্রো ও মাংয়া ম্রো। তার মধ্যে ২জন কারাগারে রয়েছে। আটককৃত সন্ত্রাসীরা জিজ্ঞাসাবাদে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে চাঁদাবাজি সম্পর্কে বিস্ময়কর তথ্য দেয় বলে বিশ্বস্ত সূত্র জানিয়েছে।

তারা জানায়, অনেকের কাছ থেকে বিভিন্ন অঙ্কের টাকা আদায় করে তারা জয়সেন, উত্তম চাকমা ও সাইক্লোন চাকমাকে (তারা রাঙামাটি থেকে চাঁদাবাজির জন্য নিয়োগকৃত) দেয়। থানচি বাজারে বিভিন্ন অংকে চাঁদাবাজি করে, যেমন: পাবলিক পরিবহন হতে ১০,০০০(দশ হাজার টাকা, কলা ও কাঠবাহী গাড়ি থেকে ৫,০০০(পাঁচ হাজার টাকা), মটরসাইকেল হতে ২,৫০০(দুই হাজার পাঁচশত টাকা)হারে মাসিক চাঁদা আদায়ের জন্য লিফলেট বিতরণ করে ও চাঁদাবাজি করে। স্থানীয় জেএসএস নেতা, থানচি উপজেলার পরিষদের শীর্ষ স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সহযোগিতায় এ চাঁদাবাজি হয়ে থাকে বলে জানান তারা।

এদিকে গত ৬ ডিসেম্বর ২০১৬ রোয়াংছড়ি উপজেলা থেকে আইন শৃঙ্খলাবাহিনী আটক করে আরেক কুখ্যাত সন্ত্রাসী ও চাঁদবাজ পরান/আপন তঞ্চঙ্গাকে। উক্ত সন্ত্রাসী আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আরও বিস্ময়কর তথ্য দেয়। সে জানায়, সমস্ত বান্দরবানে তাদের সশস্ত্র গ্রুপ চাঁদাবাজি ও অপহরণ করে থাকে। রোয়াংছড়িতে একটি চাঁদাবাজির শক্তিশালী নেটওর্য়াক রয়েছে।

পরান তঞ্চঙ্গা, রুপন তঞ্চঙ্গা, প্রীতিসেন তঞ্চঙ্গা, অনীল তঞ্চঙ্গা, অপু তঞ্চঙ্গা, অনুপম তঞ্চঙ্গার নেতৃত্বে একটি সন্ত্রাসী গ্রুপ রোয়াংছড়ি উপজেলা থেকে বান্দরবান জেলার চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসীদলের শীর্ষ নেতা এস মং (ছদ্মনাম ও রাঙ্গামাটি হতে আগত) এর প্রত্যক্ষ তত্ত্ববধানে সকল ব্যবসায়ী ও সাধারণ ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর ও বাঙালীর নিকট হতে চাঁদা আদায় করে থাকে। চাঁদা দিতে অস্বীকার করলে খুন ও অপহরণের মতো ঘটনায় স্বীকার হতে হয় পাহাড়ি সাধারণ জনগোষ্ঠীকে। পরান তঞ্চঙ্গার তথ্য মতে, উক্ত চাঁদাবাজির টাকা পিসিজেএস এর কেন্দ্রীয় শীর্ষ নেতার পিএসের নিকট প্রেরণ করা হয়। যে টাকা থেকে পার্টির সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা, পার্টিকে শক্তিশালী করা, অস্ত্র ক্রয় এবং দেশীয় ও আন্তর্জাতিক লবিং, মিডিয়া লবিং এর কাজে ব্যবহার করা হয়।

গত ১৮ ডিসেম্বর ২০১৬ আলীকদম উপজেলার দশ কিলো এলাকা হতে চাঁদাবাজির অপরাধে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী আটক করে কেতং ত্রিপুরা, ক্যমং ত্রিপুরা ও ছবিরাম ত্রিপুরাকে। আটককৃত সন্ত্রাসীদের একইদিনে প্রেরণ করা হয় জেল হাজতে। কেতং ও ক্যমং ত্রিপুরার নিকট অবৈধ অস্ত্র ও গুলি রয়েছে বলে সূত্রে জানা যায়।

গত ২৬ ডিসেম্বর ২০১৬ তারিখ থানচি উপজেলার বলিপাড়া ইউনিয়নের ৯ নং ওয়ার্ডের সুয়ারাং পাড়ায় চাঁদা আদায়কালে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী কর্তৃক আটক করা হয় আরও ৩ জন চাঁদাবাজ। তারা হলো, মংত্রচি মার্মা ওরফে রেচিং মার্মা, ম্যানথক ম্রো ও ম্যানপং ম্রোকে।

তাদের জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, তারা থানচি-আলীকদম সড়কের ১০কিলো, ১৫কিলো, ১৬কিলো ও ২৬কিলো এলাকায় চাঁদাবাজি করে। আটক হওয়ার সময় ম্যানপং ম্রো এর নিকট রাইফেলের গুলি পাওয়া যায়।

গত ২৫ ডিসেম্বর ২০১৬ ম্যাংপাই ম্রো বোথা ম্রো নামক ব্যক্তির কাছ থেকে রাইফেলের গুলি থানচি উপজেলা জেএসএস এর সভাপতি চষা থোয়াই মার্মার(পক্ সে) ভাই এর নিকট পৌঁছে দেয়ার জন্য তার ব্যাগে নিয়ে যায়। ম্যানপং ম্রো বর্তমানে কারাগারে রয়েছে।

এদিকে গত তিন ফেব্রুয়ারি ২০১৭ ৪ জন অজ্ঞাত ব্যক্তি কর্তৃক রোয়াংছড়ি উপজেলার নোয়াপতং ইউনিয়নের বাগমারা ভিতরপাড়ার কারবারী মং শৈ থুই মার্মা অপহরণ করা হয়। আইন শৃঙ্খলা বাহিনী কর্তৃক বর্ণিত ব্যক্তিকে বিভিন্ন স্থানে তল্লাশি করেও মেলেনি তার সন্ধান। পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, জেলার রোয়াংছড়ি উপজেলার নোয়পতং ইউনিয়নের বাঘমারা ভিতর পাড়ায় অস্ত্রধারী ৪ সন্ত্রাসী অস্ত্রের মুখে বাঘমারা ভিতরপাড়া কার্বারী (পাড়া প্রধান) মংশৈথুই মারমাকে (৪২) অপহরণ করে নিয়ে গেছে। খবর পেয়ে পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন ও আশপাশের এলাকাগুলোতে অভিযান চালানো করেন।

প্রত্যক্ষদর্শী বাথোয়াই মার্মা বলেন, রাত নয়টার দিকে অস্ত্রধারী সন্ত্রসীরা কারবারীকে ডেকে আনতে আমাকে পাঠায়। তারা এসময় নিজেদেরকে শান্তি বাহিনীর (জেএসএস) লোক পরিচয় দেয়।

অপহৃত কারবারী মংশৈথুই’র ছোট বোন মা চ থুই বলেন, অস্ত্রধারী সন্ত্রসীরা আমার ভাইকে হাত ও চোখ বেঁধে পাহাড়ি পথ ধরে জঙ্গলের দিকে মারতে মারতে নিয়ে যায়। কিন্তু আমরা কোন প্রতিবাদ করতে পারিনি। এসময় তারা নিরাপত্তা বাহিনীকে ঘটনা সম্পর্কে না জানাতেও নির্দেশ দেয়। তবে ঘটনার পর আমরা পার্শ্ববর্তী সেনাক্যাম্পে বিষয়টি অবহিত করি।

জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক হ্লাথোয়হ্রী মারমা জানান, ইউপি নির্বাচনের পর থেকে জনসংহতি সমিতির সঙ্গে দ্বন্দ্ব চলে আসছে আওয়ামী লীগের। এ ঘটনার জের ধরে জনসংহতি সমিতির লোকজন পাড়া কারবারিকে অপহরণ করেছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।

পরবর্তিতে গত ৫ জানুয়ারি ২০১৭ তারিখে বেথছড়া এলাকায় ওই কারবারীকে অসুস্থ্য অবস্থায় পাওয়া যায়। এতে সন্দেহজনকভাবে অনেকে আটক করা হলেও এখনো প্রকৃত অপহরণকারীদের খুঁজে বের করতে বিভিন্নভাবে তল্লাশি চালাচ্ছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

গত ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৭ তারিখ আলীকদম উপজেলার রূপসি পাড়া ইউনিয়নের নাইক্ষ্যংমুখ এলাকায় জেএসএস এর সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা চাঁদাবাজি করছে এমন সংবাদের ভিত্তিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী গমন করলে চাঁদাবাজরা বর্ণিত দলকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি ছুঁড়ে। আইন শৃঙ্খলা বাহিনীও পাল্টা গুলি করে। এতে জেএসএস এর একজন সশস্ত্র চাঁদাবাজ পূর্ণরতন চাকমা নিহত হয়। জেএসএস এর নিহত সন্ত্রাসীর পরনে ছিল জেএসএস দলের জলপাই কালার পোশাক।

ািু্বক-280x300

সূত্র জানিয়েছে, লামা থানার অন্তর্গত রূপসীপাড়া আর্মি ক্যাম্প থেকে আনুমানিক ৮ কি.মি. দুরে অবস্থিত নাইক্ষ্যংমুখ পাড়ায় সপ্তাহ খানেক আগে জেএসএস(মূল) দলের সাধন চাকমা ওরফে ওমাং গ্রুপের সন্ত্রাসীরা চাঁদা দাবী করে। সোমবার তাদের চাঁদা নেয়ার নির্ধারিত দিন ছিল।

গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এ খবর পেয়ে সেনাবাহিনীর একটি টহল দল সোমবার ঘটনাস্থলের আশেপাশে গোপনে অবস্থান নেয়। এদিকে বিকাল চারটার দিকে জেএসএস সন্ত্রাসীদের ১৫ জনের একটি দল এসএমজি, এলএমজির মতো ভয়ঙ্কর আগ্নেয়াস্ত্রে সজ্জিত হয়ে চাঁদা আদায় করতে নাইক্ষ্যংমুখ পাড়ায় আগমন করে। এসময় তারা কাছের সেনাবাহিনী অবস্থান টের পেয়ে গুলিবর্ষণ শুরু করে।

সেনাবাহিনীও পাল্টা জবাবে গুলিবর্ষণ শুরু করলে সন্ত্রাসীরা গুলি ছুঁড়তে ছুঁড়তে পালিয়ে যায়। এসময় ১৫ মিনিটব্যাপী বন্দুকযুদ্ধে উভয় পক্ষ আনুমানিক ৩০০ রাউন্ড গুলি বিনিময় করে। সেনাবাহিনীর গুলিতে পুর্ণ রতন চাকমা(২৮) নামের এক সন্ত্রাসী গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনা স্থলেই নিহত হয়। সে রাঙামাটি জেলার বাঘাইছড়ি উপজেলার হিরারচর গ্রামের রঙ্গু চাকমার পুত্র।

এদিকে গত ১৮ মার্চ পার্বত্য চট্টগ্রামের রাজনৈতিক সংগঠন জনসংহতি সমিতির (জেএসএস) সামরিক শাখার থার্ড ইন কমান্ড ও বান্দরবান জেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত  ধনবিকাশ চাকমা (৬০) ওরফে উ মংকে তার ‍দুই সহযোগীসহ আটক করেছে র‌্যাব। তাদের কাছ থেকে প্রায় ১২ লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়। রোববার (১৯ মার্চ) ভোরে তাদের চট্টগ্রামের হাটহাজারী থেকে আটক করা হয়েছে।

17361743_1279388035508316_5742224790216268162_n

সূত্রে জানা গেছে, র‌্যাব-৭ এর ডিএডি মো. শহীদুল্লাহর নেতৃত্বে একটি টিম রবিবার বিকেলে চট্টগ্রামের হাটহাজারী থানা এলাকায় ডিউটিরত থাকাকালে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারে, বান্দরবান থেকে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির সশস্ত্র শাখার একটি দল খুন, গুম, অপহরণ ও চাঁদাবাজির বিপুল পরিমাণ টাকাসহ মাইক্রোবাসে করে চট্টগ্রামের দিকে আসছে।

এ খবরের ভিত্তিতে ডিএডি মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে হাটহাজারী থানাধীন বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন নিউ শাহজাহান হোটেলের সামনে চেকপোস্ট বসিয়ে গাড়ি তল্লাশী শুরু করে।এই তল্লাশীকালে বিকাল সাড়ে চারটার দিকে চট্টগ্রামের দিক থেকে একটি কালো রঙের মাইক্রোবাস আসতে থাকলে তারা থামানোর সঙ্কেত দেয়। এতে মাইক্রোবাসটি চেকপোস্টের সামনে থামে এবং গাড়ির দরজা খুলে তিন/চারজন যাত্রীবেশী জেএসএস সন্ত্রাসীরা বেরিয়ে দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করে।

এসময় র‌্যাব সদস্যরা তাদের চেজ করে আটক করতে সক্ষম হয়। আটককৃতরা হলো, ধনবিকাশ চাকমা, পিতা- মৃত বীরেন্দ্র চাকমা, মাতা- মায়াবী চাকমা, বাড়ি- পানখাইয়া পাড়া, খাগড়াছড়ি; প্রেম রঞ্জন চাকমা(৩২), পিতা- সুন্দর মণি চাকমা, বাড়ি- পূনর্বাসন পাড়া, বান্দরবান সদর এবং রুবেল বাবু তঞ্চঙ্গা, পিতা- রাজ্য মোগহন তঞ্চঙ্গা, বাড়ি- বিলাইছড়ি রাঙামাটি।’

সূত্রমতে, আটককালে ধনবিকাশ চাকমার হাতে রক্ষিত কালো রঙের একটি ব্যাগ ও সকলের পোশাকের বিভিন্ন পকেট তল্লাশী করে ১ হাজার টাকা, ৫০০ টাকা ও ১০০ টাকার বেশ কয়েকটি বান্ডিল উদ্ধার করা হয়। এসব বান্ডিলে প্রায় ১২ লক্ষ টাকা পাওয়া যায়।

গ্রেফতারকৃতরা র‌্যাবের জিজ্ঞাসাবাদে নিজেদের পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির সামরিক শাখার সদস্য বলে স্বীকার করে এবং আটককৃত টাকা বান্দরবান থেকে জনসংহতি সমিতির নামে খুন, অপহরণ, গুমের ভয় দেখিয়ে চাঁদাবাজির মাধ্যমে আয় করা বলে র‌্যাবের কাছে দেয়া স্বীকারোক্তিতে জানিয়েছে।

 গত বান্দরবান সদর উপজেলায় সুয়ালক ইউনিয়নে অভিযান চালিয়ে অস্ত্রসহ তিন সন্ত্রাসীকে আটক করেছে পুলিশ। আটককৃতরা হলেন, রাঙ্গামাটির বরকল উপজেলার সুভলং ইউনিয়নের রিটু চাকমা (৩৪), বান্দরবান বলিপাড়ার অমল চাকমা ও টংকাবতীর শান্তি চাকমা। এসময় তাদের কাছ থেকে ৮ রাউন্ড গুলিসহ একটি বিদেশী পিস্তল ও ৫ রাউন্ড গুলিসহ একটি দুই নলা বন্ধুক উদ্ধার করা হয়।

বান্দরবান জেলা পুলিশ সুপার সঞ্জিত কুমার রায় জানান, সুয়ালক ইউনিয়নের ভাগ্যকুল এলাকার সামশুর রহমানের মাছের প্রজেক্টের পাশের ঝিরিতে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে স্থানীয়দের সহায়তায় মঙ্গলবার রাতে অস্ত্রসহ চাঁদাবাজ তিন সন্ত্রাসীকে আটক করে। অভিযান চলাকালে সন্ত্রাসীরা রাতের অন্ধকারে এলোপাতারী গুলি করে। এসময় পুলিশের গুলিতে রিটু চাকমা আহত হন।

তিনি জানান, এ তিন সন্ত্রাসী দীর্ঘ দিন ধরে ডাকাতি ও চাঁদাবাজি কাজে লিপ্ত রয়েছে। ১ মার্চ থেকে চাঁদাবাজ, সন্ত্রাসী কার্যকলাপ ও মাদকের বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযান পরিচালিত হয়ে আসছে।

টংকাবতী একাধিক স্থানীয়রা জানান, জেএসএস’র কালেক্টর রিটু চাকমার নেতৃত্বে দীর্ঘ দিন ধরে এলাকায় সন্ত্রাসী কার্যকলাপ ও চাঁদাবাজি চলে আসছে। কেউ তার বিরুদ্ধাচরণ করলে মারধরের স্বীকার হন। পুলিশ সূত্র জানা গেছে, অভিযানে সদর থানার পরির্দশক মো. রফিক উল্লাহসহ ৫ পুলিশ সদস্য আহত হন।

নীলগিরি, নীলাচল, শৈল প্রপাত, মেঘলা, বগা লেক, চিম্বুক ভ্যালি, তাজিং ডং, কেওকারাডং, বড় পাথর প্রভৃতি পর্যটন কেন্দ্র সম্বলিত বাংলাদেশের অত্যন্ত সৌন্দর্য মণ্ডিত জেলা বান্দরবান উপজাতীয় আঞ্চলিক সংগঠন জেএসএসের সন্ত্রাস, চাঁদাবাজী, খুন, ধর্ষণ, অপহরণে বিপন্ন।

তবে সেনাবাহিনী ও স্থানীয় আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এই সন্ত্রাস নির্মূলে তৎপর রয়েছে। তাদের তৎপরতায় সম্প্রতি বেশ কিছু জেএসএস সন্ত্রাসী আটক হওয়ায় অনেকটাই কোণঠাসা অবস্থায় রয়েছে। এই অভিযান চলমান থাকলে বান্দরবানে জেএসএস সন্ত্রাসীদের আস্তানা নির্মূল অনেকাংশেই সম্ভব হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন জেলাবাসী।

তাদের মতে, পার্বত্য বান্দরবান জেলায় জেএসএসের সশস্ত্র গ্রুপ ও চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে সকলস্তরের পাহাড়ি উপজাতি ও বাঙালিদের ঐক্যবদ্ধ প্রয়াস ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রচেষ্টা সম্প্রীতি রক্ষা ও পর্যটন বিকাশে ভূমিকা রাখতে পারে। কাজেই এখনই সময় জেএসএস এর সন্ত্রাসীদের অপকর্ম ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার।

শান্তিচুক্তির ১৯ বছর পূর্তিকে ঘিরে কাউখালীতে জেএসএস’র কোটি টাকার চাঁদাবাজী

%e0%a6%a4%e0%a6%95%e0%a6%b9%e0%a6%ac

পার্বত্যনিউজ রিপোর্ট:

২ ডিসেম্বর পার্বত্য শান্তি চুক্তির ১৯ বছর পূর্তিকে ঘিরে কাউখালীতে জনসংহতি সমিতি (জেএসএস) ও অংগসংগঠনগুলোর বিরুদ্ধে ব্যাপক চাঁদাবাজীর অভিযোগ পাওয়া গেছে। এক কোটি টাকা টার্গেট নির্ধারণ করে গত এক মাস যাবৎ ম্যারাথন কর্মসূচীর মাধ্যমে এ টাকা আদায় করা হচ্ছে বলে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে।

২ ডিসেম্বর পার্বত্য শান্তিচুক্তির ১৯ বছর পূর্তি। প্রতি বছর এ দিনে রাঙ্গামাটিতে ব্যাপক শো’ডাউন করে থাকে সন্তু লারমার জনসংহতি সমিতি। এ বছরও দিবসটি পালনের লক্ষ্যে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে জনসংহতি সমিতি (জেএসএস) ও তাদের ছাত্র সংগঠন পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ।

এ কর্মসূচী বাস্তবায়ন করতে শুধু কাউখালীতেই টার্গেট করা হয়েছে এক কোটি টাকা। এ টার্গেট পূরণ করতে চাঁদা আদায়ের ম্যারাথন কর্মসূচী হাতে নেয় তারা। এ লক্ষ্যে গত এক মাস যাবৎ কাউখালী ও এর আশেপাশের এলাকাগুলো চষে বেড়াচ্ছেন জনসংহতি সমিতি (জেএসএস) ও তাদের ছাত্র সংগঠনের নেতারা।

কোটি টাকা আদায়ে সংগঠনটি যেসব প্রতিষ্ঠানগুলো টার্গেট করেছে এর মধ্যে রয়েছে গাছ, বাঁশ, সরকারী চাকুরীজীবী, বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও ব্রিকফিল্ড। ইতোমধ্যেই উপজেলার প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের কাছ থেকে মাথাপিছু এক হাজার টাকা নির্ধারণ করে তা যথাসময়ে পাঠিয়ে দিতে মুঠোফোনে ক্ষুদে বার্তা পাঠানো হয়েছে।

যথা সময়ে নির্ধারিত টাকা পাঠিয়ে দেয়া না হলে সেসব শিক্ষকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার হুমকিও দেয়া হয়েছে। এতে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন দূর্গম অঞ্চলে কর্মরত স্কুল শিক্ষকরা। জীবনের নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে বেশীরভাগ শিক্ষকই টাকা পৌঁছে দিয়েছে বলে জানা গেছে।

এসব শিক্ষকদের মতে পানিতে বাস করে কুমিরের সাথে লড়াই করা ঠিক হবেনা। আবার আতঙ্কিত অনেক শিক্ষক কাউখালী সেনা ক্যাম্পে মৌখিক অভিযোগও করেছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কলমপতি, ঘাগড়া, বেতবুনিয়া ও ফটিকছড়ি ইউনিয়নের অসংখ্য শিক্ষক সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, বিষয়টি স্থানীয় সেনা ক্যাম্পকে অবগত করায় দাদারা ক্ষিপ্ত হয়েছেন।

উপজেলার সরকারী অফিসগুলো ঘুরে জানা গেছে, বেশীরভাগ কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের কাছ থেকে পদ ও পদবী হারে টাকা নির্ধারণ করে দেয়া হয়েছে। এসব সরকারী চাকুরীজিবীরা চাঁদা দেয়ার কথা স্বীকার করলেও নির্ধারিত চাঁদার পরিমাণ কত তা জানাতে অস্বীকৃতি জানান অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারী।

কোটি টাকার লক্ষ পূরণের প্রধান টার্গেট হচ্ছে গাছ ও বাঁশ ব্যবসা। মৌসুমটি গাছ ও বাঁশ ব্যবসার হওয়ায় এসব ব্যবসার সাথে সম্পৃক্ত ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে আদায় করা হবে অন্তত অর্ধ কোটি টাকা। এমন তথ্য পাওয়া গেছে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে।

এছাড়াও তালিকায় রয়েছেন ঠিকাদার, স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সড়কে চলাচলরত গাড়ীগুলো। তবে যেসব ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান ও সড়কে চলাচলরত গাড়ীগুলো জেএসএস থেকে বছর ব্যাপী টোকেন সংগ্রহ করেছেন তাদের কাছ থেকে চাঁদার পরিমাণ কম রাখা হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে নিরাপত্তার স্বার্থে কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান প্রধানের বক্তব্য বা নাম প্রকাশ করা সম্ভব হচ্ছে না।

এসব অভিযোগের বিষয়ে কথা হয় জেএসএস’র কেন্দ্রীয় তথ্য ও সহ প্রচার সম্পাদ সজীব চাকমার সাথে। তিনি জানান, সারাদেশে যেভাবে চলছে আমাদের নেতা কর্মীরাও সাধারণ মানুষের কাছ থেকে সেভাবে সহযোগিতা নিচ্ছে। এটাকে কোন ক্রমেই চাঁদাবাজি বলা যাবেনা।

তিনি আরো জানান, সবার সাথে আলোচনা স্বাপেক্ষে কর্মসূচী পালনের জন্য টাকা আদায় করা হচ্ছে। কাউকে জোর করে টাকা নেয়া হচ্ছেনা।

এ বিষয়ে জেএসএস কাউখালী উপজেলা সভাপতি সুবাষ চাকমার মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করেও ফোন বন্ধ থাকায় কথা বলা সম্ভব হয়নি।

এদিকে জেএসএস’র লাগামহীন চাঁদাবাজীর তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন, বাঙ্গালী ছাত্র পরিষদ কাউখালী উপজেলা শাখার সভাপতি মোঃ আব্দুল্লাহ তুহিন। তিনি জানান, জেএসএস’র চাঁদাবাজীর পরিধি আগের তুলনায় দ্বিগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।

কোটি টাকা চাঁদার লক্ষ্য পূরণ করতে তারা এবার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোও টার্গেট করে অসহায় শিক্ষকদের হয়রানি করছে। তিনি জেএসএস’র চাঁদাবাজী বন্ধে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের জোর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

কাউখালী থানার ওসি আব্দুল করিম জানান, বিষয়টি আমি অনেকের মুখে শুনেছি। তবে কেউ লিখিত অভিযোগ না করলে সেক্ষেত্রে আমাদের করার কিছু থাকে না।

বান্দরবানে চলছে জেএসএসের চাঁদাবাজির মহোৎসব(ভিডিও)

চাঁদাবাজি

নিজস্ব প্রতিবেদক:
বান্দরবানে সন্তু লারমার নেতৃতাধীন জনসংহতি সমিতি (জেএসএস) নীরবে চলছে চাঁদাবাজির মহোৎসব। জেলার সাত উপজেলার শহরের বাইরে মুদি দোকান, কাট ব্যবসায়ী, ঠিকাদার,কৃষক, শ্রমিক, যানবাহন মালিক, সবাইকে চাঁদা দিয়ে নিজ নিজ পেশায় টিকে থাকতে হয়। শুধু ব্যবসা-বাণিজ্যই নয়, স্থানীয় উৎপাদিত কৃষিপণ্য এলাকার বাহিরে নিতে গেলেই জেএসএস সন্ত্রাসীদের চাঁদা দিতে হয়।

এর আগে ব্যবসায়ীদের প্রকার ভেদে চাহিদা মত টাকা দিয়ে বাৎসরিক টোকেন নিতে হয়। অন্যথায় তাদের উপর নেমে আসে অপহরণের হুমকি ও শারীরিক নির্যাতন। ব্যবসা চালানো ও নিরাপত্তার কথা ভেবে নীরবে চাঁদা দিয়ে আসছে পাহাড়ের ব্যবসায়ীরা। জেএসএস’র চাঁদা যেন বৈধতা পেয়ে গেছে পাহাড়ে। প্রশাসন যেন সন্ত্রাসীদের বিষয়ে নীরব ভূমিকা পালন করছে স্থানীয়দের অভিমত।

স্থানীয় গোয়েন্দা সংস্থা ও এলাকাবাসীর সূত্র জানায়, গত অর্থ বছরে সাত উপজেলার ব্রীক ফিল্ড, কাঠ ব্যাবসায়ী থেকে প্রতি ঘন ফুটে ৩৫ টাকা, ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান থেকে ১০%, লাকড়ি ব্যবসায়ী, বাঁশ ব্যবসায়ী, তামাক চাষীদের থেকে প্রতি কানি (৪০শতক) ১৪ হাজার টাকা, বাস, জীপ, ট্রাক প্রকার ভেদে ৮ হাজার থেকে ৩৫ হাজার টাকা পর্যন্ত।

আর কাঠ কাঁটা মাঝি, কাঠের চালির মাঝি, মাছ ধরার জেলে, বাজারের বিভিন্ন ব্যবসায়ী থেকে বাৎসরিক টোকেন নিতে হয়। এছাড়া কলা, আদা, মরিচ, ধান, , হলুদ, আনারস, লেবু, কমলা, কুমড়াসহ বিভিন্ন কৃষি পণ্য বাজার জাত করা কালে গরিব পাহাড়ী কৃষকদের চাঁদা দিতে হয়। এমনকি গবাদিপশু-পাখি বেচাকেনা করতে গিয়েও চাঁদা পরিশোধ করতে হয় স্থানয়িদের। অন্যথায় কোন কিছুই নয়। তবে এক্ষেত্রে পাহাড়ীদের থেকে বাঙ্গালীদের চাঁদার পরিমান একটু বেশী। আর চাঁদা আদায়ের দায়ীত্ব থাকে সশস্ত্র গ্রুপগুলো।

গোয়েন্দা সূত্র মতে, তিন পার্বত্য জেলায় জেএসএস’র পাঁচ হাজার সশস্ত্র বাহিনী রয়েছে। আর এ সশস্ত্র বাহিনী দেশের সেনা বাহিনীর আদলে গড়ে তোলা হয়েছে। এদের মধ্য সিপাহী থেকে শুরু করে মেজর জেনারেল পর্যন্ত রয়েছে। তাদের মাসিক বেতন, রেশন ও নিরাপত্তা ঝুঁকিও দেয়া হয় আদায়কৃত চাঁদার টাকা থেকে।

গোয়েন্দা সূত্র মতে আরো জানা যায়, জেএসএস চাঁদাবাজির মাধ্যমে গত অর্থ বছরে বান্দরবান জেলা থেকে ৩০ কোটি টাকা আদায় করেছে। চলতি অর্থ বছরে এর পরিমান ৫০ কোটি টাকা আদায়ের নির্ধারণ করা হয়েছে। আর এসব টাকায় তাদের সেনা ও নিরাপত্তা বাহিনীকে চ্যালেঞ্জ দিতে মিয়ানমার বিদ্রোহী বাহিনী, চীন ও ভারত থেকে অবৈধ অস্ত্র গোলা বারুদ আনা হয়। জেএসএস’র সশস্ত্র বাহিনীর আদায় কারা চাঁদার টাকা দিয়ে অধিকার আদায়ের নামে দেশের বিরুদ্ধে সশস্ত্র যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে। আর বছরের পর বছর নীরবে চাঁদা দিয়ে যাচ্ছেন তিন পার্বত্য জেলার অসহায় মানুষ।

তিন পার্বত্য জেলায় দুর্গম ও সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ায় পাহাড়ি এলাকা সন্ত্রাসীদের আস্তানা পর্যন্ত পৌঁছা কঠিন। এছাড়া পার্বত্য এলাকায় মোবাইল নেটওর্য়াক থাকায় নিরাপত্তা বাহিনী পৌছাঁর আগেই খবর পেয়ে সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা নিরাপদস্থলে চলে যায়।

গত মাসে বান্দরবান আইনশৃঙ্খলা সভায় জেএসএস’র সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে পুলিশের রহস্যজনক ভূমিকা থাকায় পুলিশ সুপার আওয়ামীলীগের নেতাদের তোপের মুখে পড়তে হয়। পরে পুলিশ তৎপর হয়ে আ’লীগ নেতা অপহৃরত মংপু মার্মার অপহরণকারী এজাহারভূক্ত কয়েকজন আসামীকে আটক করে। প্রায় দু-মাস হলেও অপহৃরত আ’লীগ নেতাকে উদ্ধার করতে পারেনি।

চাঁদা আদায়ের বিষয়ে বান্দরবান প্রেস ক্লাবে আঞ্চলিক পরিষদের সদস্য কে এস মং বলেন, দেশের বড় রাজনৈতিক দলগুলোও চাঁদা করে। পাহাড়ে সংগঠন চালাতে হলে শুভাকাঙ্ক্ষীদের থেকে চাঁদা নিতে হয়।

রামগড়ে চাঁদাবাজীতে জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশ সদস্য ক্লোজ

xcdf5

খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি ॥

খাগড়াছড়ি’র মানিকছড়ি উপজেলার গচ্ছাবিল বাজারে তামাকের গাড়ির গতিরোধ করে চালককে মারধোর করে চাঁদাবাজীর অভিযোগে হাতিমুড়া ক্যাম্পের পুলিশ সদস্য মোঃ মওদুদ’কে অবশেষে খাগড়াছড়ি পুলিশ লাইনে ক্লোজ করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

অভিযোগ রয়েছে দীর্ঘদিন ধরে হাতিমুড়া ক্যাম্প ও হাফছড়ি পুলিশ ফাঁড়ির অসাধু কিছু পুলিশ সদস্য রাতের আঁধারে অর্থ বানিজ্যের মাধ্যমে বিভিন্ন চোরা কার্বারীদের অবৈধ মাদক দ্রব্য, কাঠ ও রাবার পাচার কাজে সহযোগিতা করে আসছে। আর এসব অবৈধ কাজে হাফছড়ি পুলিশ ফাঁড়ির আইসি আব্দুল আজিজ, পুলিশ সদস্য রুপ কুমার চাকমা ও হাতিমুড়া ক্যাম্পের আইসি মোঃ শাহাবুদ্দিন জড়িত বলে অভিযোগ উঠেছে।

উল্লেখ্য, বর্তমান হাফছড়ি পুলিশ ফাঁড়ির আইসি আব্দুল আজিজকে ইতিপূর্বে বিভিন্ন অপকর্মে লিপ্ত থাকার অভিযোগে বদলী করলেও বিশেষ উদ্যেশ্য থাকার কারণে বারবার হাফছড়ি ফাঁড়িতে বদলী হয়ে আসেন। তবে অভিযুক্তরা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তারা এসব কাজে জড়িত নন।  

প্রসঙ্গত, শুক্রবার রাত দেড়টার দিকে খাগড়াছড়ি থেকে চট্টগ্রামগামী তামাক ভর্তি একটি ট্রাক (চট্ট মেট্রো-ট-১১.৪১৬৭) রামগড় উপজেলাধীন জালিয়াপাড়া বাজার ক্রস করলে ২টি মোটর সাইকেল যোগে ৬ব্যাক্তি ট্রাকটিকে পিছন থেকে তাড়া করে। পরে ট্রাক চালক দ্রুত গাড়ি টেনে মানিকছড়ি উপজেলার গচ্ছাবিল বাজারে পৌছালে ট্রাকটির গতিরোধ করে চালককে মারধোর সহ ৫হাজার টাকা চাঁদাবাজীকালে স্থানীয় লোকজন তাদের তাড়া করে হাফছড়ি ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহ-সভাপতি মোঃ আক্কাস আলী’কে আটক করে গণ ধোলাই দিয়ে মানিকছড়ি থানা পুলিশে হস্তান্তর করে। এসময় তার ব্যবহৃত মোটর সাইকেলটি (চট্ট মেট্রো-হ-১১-৯৬৪৭) আটক করা হয়। তবে তার সাথে থাকা বাকী ৫ জন পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।

স্থানীয়রা জনান, বাকী ৫জনের মধ্যে একজন পুলিশ সদস্য ছিলেন। এ বিষয়ে মানিকছড়ি থানায় ২০০২ সালের ৪/৫ ধারায় আইন-শৃংখলা ভঙ্গের অভিযোগে দ্রুত বিচার আইনে একটি দায়ের করা মামলা হয়েছে।

বিষয়টি প্রশাসনে জানাজানি হলে পর দিন দুপুরে ঘটনার সাথে জড়িত পুলিশ সদস্যকে খাগড়াছড়ি পুলিশ লাইনে ক্লোজ করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

মাটিরাঙ্গা উপজেলার গোমতিতে সেনাক্যাম্প স্থাপনের দাবী বাঙ্গালীদের : অবরোধ প্রত্যাহার

13.05

মাটিরাঙ্গা সংবাদদাতা :

মাটিরাঙ্গা উপজেলাধীন গোমতি বাজারে পার্বত্য চট্টগ্রামের আঞ্চলিক সন্ত্রাসী সংগঠন পার্বত্য শান্তিচুক্তি বিরোধী ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট-ইউপিডিএফ’র অব্যাহত চাঁদাবাজিতে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে মাটিরাঙ্গার কৃষি অঞ্চল হিসেবে পরিচিত গোমতি। গত কয়েকদিন ধরে ইউপিডিএফের স্বশস্ত্র সন্ত্রাসীদের অব্যাহত চাঁদাবাজি ও লুটপাটের প্রতিবাদে মঙ্গলবার গোমতি বাজার ব্যবসায়ী ও স্থানীয় জনগণ গোমতি বাজারের সকল দোকানপাট বন্ধ ও মাটিরাঙ্গা-গোমতি সড়ক বন্ধ করে দিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছে।

গোমতি বাজার ব্যবসায়ী সমিতি এবং এলাকাবাসী ইউপিডিএফ‘র চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার ও গোমতি ইউনিয়নে দুইটি সেনাক্যাম্প স্থাপনের দাবীতে গোমতি বাজারের সকল ধরণের ব্যবসায়িক কার্যক্রম বন্ধ এবং মাটিরাঙ্গা-গোমতি সড়কে যান চলাচল বন্ধ করে দেয়। ফলে মাটিরাঙ্গা উপজেলা সদরের সাথে উত্তরের চার ইউনিয়নের সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।

উদ্ভুত পরিস্থিতিতে মাটিরাঙ্গা উপজেলা প্রশাসন, বিজিবি ও পুলিশের উর্দ্ধতন কর্মকর্তারা মঙ্গলবার সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং বিক্ষুদ্ধ ব্যবসায়ী ও এলাকাবাসীর সাথে বৈঠক করেন। বৈঠকে ২৯ বর্ডার গার্ড ব্যাটালিয়ন বিজিবি‘র পলাশপুরে জোন অধিনায়ক লে. কর্নেল মোখলেসুর রহমান, সহকারী পুলিশ সুপার (রামগড় সার্কেল) মো: শাহজাহান হোসেন, মাটিরাঙ্গা উপজেলা চেয়ারম্যান মো: তাজুল ইসলাম তাজু, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান শামসুল হক, মাটিরাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ড. মোহাম্মদ মাহে আলম, মাটিরাঙ্গা উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান মো: দেলোয়ার হোসেন, মাটিরাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো: মাইন উদ্দিন খানসহ পুলিশ ও বিজিবি’র কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

স্থানীয়রা অবিলম্বে ইউপিডিএফ কর্তৃক গোমতিতে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চাঁদাবাজি করা টাকা ও মোবাইল প্রশাসনের মাধ্যমে ফেরত, গোমতি ও জালিয়াপাড়ায় দ্ইুটি সেনাবাহিনীর ক্যাম্প স্থাপনের দাবী করেছেন। এলাকাবাসী ইউপিডিএফ সন্ত্রাসীদের সাথে স্থানীয় বিজিবি ক্যাম্পের আঁতাতের অভিযোগ তুলে বলেন, যখনই বিজিবি এলাকা ত্যাগ করে ক্যাম্পে ফিরে যায় তখনই ইউপিডিএফ প্রকাশ্যে অস্ত্রসহ এলাকায় প্রবেশ করে চাঁদাবাজিতে লিপ্ত হয়। বিজিবি’র অবস্থানের সকল খবর সন্ত্রাসী তাৎক্ষণিকভাবে পেয়ে যায় বলেও তাদের অভিযোগ।

গোমতি বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক ডা. তোফাজ্জল হোসেন বলেন, ইউপিডিএফ গত দুই মাস ধরে গোমতি বাজার ব্যবসায়ীদের কাছে বাৎসরিক ৫ লাখ টাকা চাঁদাদাবী করে ৫ দফা চিঠি প্রদান করে। তারা বিভিন্ন সময়ে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে চাঁদা প্রদানের জন্য হুমকি দিয়ে যাচ্ছে। বিষয়টি প্রশাসন জানলেও এখনো কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

প্রশাসনের সাথে স্থানীয়দের দুই দফা বৈঠক শেষে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সন্ত্রাসীদের গ্রেফতারসহ ব্যবসায়ীসহ সাধারন মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করণের লক্ষ্যে গোমতি ও আশেপাশের এলাকায় পুলিশ ও বিজিবির সার্বক্ষনিক টহল জোরদার, সন্ত্রাসীদের গ্রেফতারের আশ্বাসের প্রেক্ষিতে দুপরের দিকে ব্যবসায়ীরা তাদের সব ধরনের কর্মসুচী প্রত্যাহার করে নেয়।

উদ্বুদ্ধ পরিস্থিতিতে গোমতির ব্যবসায়ীসহ সাধারণ মানুষকে ধৈর্য্য ধরে পরিস্থিতি মোকাবেলার পরামর্শ দিয়ে বিজিবির পলাশপুর জোন অধিনায়ক লে. কর্ণেল মোখলেছুর রহমান আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একার পক্ষে সন্ত্রাসীদের নির্মূল সম্ভব নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, জনগণের সহযোগিতায় সম্মিলিতভাবে সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।  

এ বিষয়ে গোমতি বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক ডা. তোফাজ্জল হোসেন পার্বত্যনিউজকে বলেন, ইউপিডিএফের এসকল সন্ত্রাসীদের অবিলম্ভে গ্রেফতার করা না হলে গোমতির সর্বস্তরের মানুষকে সাথে নিয়ে আমরাই সন্ত্রাসীদের মোকাবেলা করবো।

প্রসঙ্গত, গত শনিবার (১০ মে ২০১৪) রাত পৌনে ৯টার দিকে পার্বত্য শান্তিচুক্তি চুক্তিবিরোধী ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট-ইউপিডিএফ‘র চাঁদা কালেক্টর ইউনিটের প্রধান জেরিন চাকমা‘র নেতৃত্বে ইউপিডিএফ‘র স্বশস্ত্র সন্ত্রাসীরা গোমতি বাজারে প্রবেশ করে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে গণহারে চাঁদাবাজি করে। এসময় তারা অন্তত: ৫০টি দোকানে প্রবেশ করে ব্যবসায়ীদের ব্যবহৃত শতাধিক মোবাইল ফোন নিয়ে যায়। এসময় তারা ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে প্রায় ৫০ হাজার টাকা চাঁদাবাজি করে বলে ব্যবসায়ীরা নিশ্চিত করেছে। এর আগে গত ৮ মে বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার দিকে মাটিরাঙ্গা উপজেলার বড়নাল ইউনিয়নের তৈলাফাং রোয়াজা পাড়া থেকে ইউপিডিএফ সন্ত্রাসী জেরিন চাকমার নেতৃত্বে স্থানীয়দের ১৩ টি গরু অপহরণ করা হয়। পরে সন্ত্রাসীদের সাথে নগদ ৩০ হাজার টাকা এবং ২০ হাজার পরবর্তীতে পরিশোধ করা হবে মর্মে আপোসরফা করে গরুগুলো উদ্ধার করা হয়।

সন্ত্রাসীদের শিকড়সহ কীভাবে উপড়ে ফেলতে হয় তা আওয়ামী লীগের জানা আছে- প্রতিমন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈসিং এমপি

রাঙামাটিতে বীরবাহাদুরের সম্বর্ধনা

 

পার্বত্যনিউজ রিপোর্ট:
সন্ত্রাসীদের শিকড়সহ কীভাবে উপড়ে ফেলতে হয় তা আওয়ামীলীগের জানা আছে। যারা অস্ত্রের ভাষায় কথা বলে, সন্ত্রাসী করে তাদের শিকড়সহ কিভাবে উপড়ে ফেলতে হয় তা আওয়ামীলীগের জানা আছে বলে হুশিয়ারী উচ্চারণ করেছেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈসিং এমপি। পার্বত্যাঞ্চলে গুটি কয়েক মানুষ সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজী, অপহরণ, হত্যা ও গুমের সাথে জড়িত। তাদের নির্মুল করতে সরকার অঙ্গীকারাবদ্ধ। আঞ্চলিক রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি  বলেন, অস্ত্রের রাজনীতি না করলেও অস্ত্রের নল কিভাবে বাঁকা করতে হয় বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ তা ভালো করেই জানে। আর যদি কেউ আমাদের সাথে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড করে ভয় দেখানোর চেষ্টা করে তাদের কিভাবে সমুচিত শিক্ষা দিতে হয় তা জননেত্রী শেখ হাসিনা ভালো করেই জানে এবং সময়মতো সেটার জবাবও দিয়ে দেন।

প্রতিমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, এসব সন্ত্রাসীদের নির্মুল করতে যারা এ এলাকায় শান্তি চান, সম্প্রীতি চান, ছেলেমেয়েদের শিক্ষিত করতে চান তারা আমাদের পাশে থাকবেন বলেন। গতকাল রাঙ্গামাটি জেলা আওয়ামীলীগের উদ্যোগে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী বীর বাহাদুর এমপিকে দেয়া সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

রাঙ্গামাটি জেলা আওয়ামীলীগ কার্যালয়ের আওয়ামীলীগ সভাপতি ও সাবেক পার্বত্য প্রতিমন্ত্রী দীপংকর তালুকদারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বক্তব্য রাখেন, মহিলা সংসদ সদস্য ফিরোজা বেগম চিনু, আওয়ামীলীগ সিনিয়র সহ-সভাপতি ও আঞ্চলিক পরিষদ সদস্য মাহাবুবুর রহমান, আওয়ামীলীগ সহ-সভাপতি ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নিখিল কুমার চাকমা, শ্রমিকলীগের সাধারণ সম্পাদক শামসুল আলম, কৃষকলীগের সাধারণ সম্পাদক জাহিদ আখতার, মহিলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদিক জেবুন্নেছা রহিম, স্বেচ্ছাসেবকলীগের আহবায়ক স্মৃতি বিকাশ ত্রিপুরা, যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক নুর মোহাম্মদ কাজল, ছাত্রলীগ সভাপতি শাহ এমরান রোকন সহ আওয়ামীলীগের অঙ্গ সংগঠনের নেতা কর্মীরা বক্তব্য রাখেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে বীর বাহাদুর এমপি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যে প্রজেক্টগুলো বাস্তবায়নের জন্য অঙ্গীকার করেছেন তার এক চুলও এদিকওদিক হবে না। ভালো কাজের বিরোধীরা সব সময় বিরোধীতা করতে থাকবে। আমরা আমাদের ভালো কাজগুলো করে যাবো।

তিনি বলেন, আমি মনে করি কোন সংসদ সদস্যের কোন সন্ত্রাসী দল থাকতে পারে না। রাঙ্গামাটি থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য ও চান না এখানে সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজী হোক। সন্ত্রাস নির্মুলে আমার সেই ভাই অবশ্যই আমাদেরকে সহযোগিতা করবে এটা আমাদের বিশ্বাস। সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজী কোন দল নেই। আমরা অস্ত্রধারীদের বিশ্বাস করি না, সন্ত্রাসীকে বিশ্বাস করি না, তাদেরকে আশ্রয় ও প্রশ্রয়ও দিই না। যারা অস্ত্রবাজী করে, চাঁদাবাজী করে সন্ত্রাসী করে তারা শুধু আমাদের নয় দেশ ও জনগনের শত্রু। সকল রাজনৈতিক দল, সকল সম্প্রদায় মিলে আমরা পার্বত্য অঞ্চল থেকে সন্ত্রাস দমন করবো। সন্ত্রাসীদের শেকড় শুদ্ধ পার্বত্য অঞ্চল থেকে উপড়ে ফেলে দিবো। আমাদের রাজনৈতিক দল গুলোর মধ্যে কোন বিভেদ নেই। সকলেই আমরা মিলে মিশে সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তুলবো। পার্বত্য অঞ্চলের জনগনের শান্তি জন্য, তাদের জান মাল রক্ষা করার জন্য এ অঞ্চলের সম্প্রীতি রক্ষার জন্য যা করা দরকার তা আমরা করতে প্রস্তুত রয়েছি।

রাঙ্গামাটি জেলা আওয়ামীলীগ সভাপতি ও সাবেক পার্বত্য প্রতিমন্ত্রী দীপংকর তালুকদার বলেন, পাহাড়ের যারা অস্ত্রবাজী, চাঁদাবাজী করে তাদের বিরুদ্ধে পার্বত্য অঞ্চলের মানুষ ধীরে ধীরে ঐক্য বদ্ধ হচ্ছে। আর বেশীদিন সময় নেই যারা এসব অপকর্মের সাথে জড়িত রয়েছে তাদেরকে নির্মুল করে দিতে। তিনি বলেন, এই এলাকার জনগনই তাদের নির্মুল করে দেবে।

তিনি বলেন, পার্বত্য অঞ্চলের উন্নয়নের আওয়ামীলীগ সরকার সব সময় বদ্ধপরিকর। আওয়ামীলীগ থেকে বিজয় ছিনিয়ে নিয়ে গেলেও আওয়ামীলীগ রাঙ্গামাটি জেলার উন্নয়নে এতোটুকু কার্পণ্য করবে না। তিনি বলেন, পাহাড়ের আওয়ামীলীগ যে উন্নয়ন করেছে অতীতের কোন সরকার তা করতে পারেনি। কিন্তু আমাদের আঞ্চলিক দলগুলো সেসব উন্নয়ন কাজে সব সময় বাধা দিয়ে আসছিলো। আমরা তাও উন্নয়ন কাজে পিছ পা হইনি।

এর আগে পার্বত্য প্রতিমন্ত্রী বীর বাহাদুর এমপিকে রাঙ্গামাটি জেলা আওয়ামীলীগ সহ সকল অঙ্গ সংগঠনের পক্ষ থেকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান।

 

আরও খবর

টেকনাফ উপকূল দিয়ে মানব পাচার অব্যাহত

পর্যটন শিল্প ত্বরান্বিত করতে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা জরুরী- মেনন

বান্দরবানে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সুরের মুর্ছনায় সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউটের ২৫ বছর পূর্তি

বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে চাষাবাদ করলেই পাহাড়ের কৃষকদের ভাগ্য উন্নয়ন হবে- বীর বাহাদুর