নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তে বিজিপি আরএসও নতুন করে গোলাগুলি : মর্টার শেল নিক্ষেপ: আহত ৪

2851304573156928558691-500x298

পার্বত্যনিউজ রিপোর্ট:

বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তের নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তে আবার নতুন করে গোলাগুলি শুরু হয়েছে। আজ রাত সাড়ে ৯ টায় শুরু হয়ে প্রায় দেড় ঘন্টা ধরে এই গোলাগুলি চলে। এসময় মিয়ানমার সীমান্ত রক্ষীবাহিনী বিজিপি মর্টার শেল ব্যবহার করেছে। এতে কমপক্ষে চারজন আরএসও সদস্য আহত হয়েছে বলে বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে। তবে বিজিপি পক্ষের ক্ষয়ক্ষতির কোনো তথ্য জানা সম্ভব হয়নি।

 

আমাদের নাইক্ষ্যংছড়ি প্রতিনিধি জানিয়েছেন, গতকাল রাত সাড়ে নয়টার দিকে হঠাৎ করেই মিয়ানমারের দিক থেকে ব্যাপক গোলাগুলির শব্দ শোনা যেতে থাকে। নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার সদর ইউনিয়নের পর্দান ঝিরি ও জামছড়ি এলাকার দক্ষিণে বাংলাদেশ সীমান্তের ৪২ নং পিলারের বিপরীত দিক থেকে মিয়ানমারের সীমান্ত রক্ষীবাহিনী বিজিপি বাংলাদেশের সীমান্ত লক্ষ্য করে বিরামহীনভাবে গুলিবর্ষণ করতে থাকে। এর মধ্যে ৩/৪টি মর্টার শেলের গোলাও নিক্ষেপ করা হয়েছে বলে জানা গেছে। সূত্র জানিয়েছে মিয়ানমারের স্বাধীনতাকামী মুসলিম সশস্ত্র সংগঠন রোহিঙ্গা সলিডারিটি অর্গানাইজেশন(আরএসও) এবং বিজিপি’র মধ্যে এই গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় কমপক্ষে ৪জন আরএসও সদস্য আহত হয়েছে বলে আরএসও সূত্র স্বীকার করেছে। 

সূত্র মতে, ঘটনাস্থল মিয়ানমার-বাংলাদেশ সীমান্ত সংলগ্ন মিয়ানমারের অভ্যন্তরে হবার সম্ভাবনা বেশী। তবে রাতের গহীন অন্ধকার ও অতি দূর্গমতার কারণে ঘটনাস্থলের অবস্থান নিশ্চিত করা যায়নি।

সীমান্তের একটি বিশ্বস্ত সূত্র জানিয়েছে, মিয়ানমারের বুড্ডিস্ট সমর্থিত রাখাইন বেসড আরাকানের স্বাধীনতাকামী আরাকান লিবারেশন পার্টির(এএলপি) সশস্ত্র সংগঠন আরাকান লিবারেশন আর্মির(এএলএ) সদস্যরা সম্প্রতি কৌশল পরিবর্তন করে দূর্গম সীমান্ত অতিক্রম করে মুসলিম পোশাক করে আরএসও’র ছদ্মবেশ ধারণ করে বাংলাদেশের ভেতর থেকে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর উপর আক্রমণ পরিচালনা করছে। এভাবে তারা একদিকে মিয়ানমার আর্মির উপর আক্রমণ করছে অন্যদিকে তার দায়ভার মুসলিম জনগোষ্ঠীর উপর চাপিয়ে দিচ্ছে। সূত্রমতে, গত ১৫ মে এএলএ এমনি এক আক্রমণ পরিচালনা করে মিয়ারমার আর্মির উপর যাতে বেশ কযেকজন আর্মি সদস্য মারা যায়। এ ঘটনায় বিজিপি পতাকা বৈঠক আহ্বান করে বিজিবিকে হুশিয়ার করে দেয়। এএলএ ভারত সমর্থিত বৌদ্ধ জঙ্গী সংগঠন বলে প্রচার রয়েছে।

এদিকে সীমান্তে নিরাপত্তার সাথে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র পার্বত্যনিউজকে বলেন, সীমান্তের দুই পাশে যেভাবে বিজিবি, বিজিপি ও সেনাবাহিনীসহ বিভিন্ন নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করেছে দুই দেশ তাতে এর মধ্যে আরএসও যাতায়াত অসম্ভব। কাজেই আরএসও’র গোলাগুলি সম্পূর্ণ অপপ্রচার। বিজিপি নিজেরাই রাতের অন্ধকারে গোলাগুলি করে পরিস্থিতি ঘোলাটে করতে চাইছে। বিশেষ করে আগামীকাল যে বৈঠক রয়েছে সেটাকে লক্ষ্য করে এমন অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে পারে বলে আমরা ধারণা করছি।

এদিকে হঠাৎ করে রাতের অন্ধকারে বিজিপি’র গোলাবর্ষণে এলাকাবাসী ভীত সন্ত্রস্ত হয়ে পড়ে এবং দিগবিদিক শূন্য হয়ে পালাতে শুরু করে। সীমান্তের ছেরার কুলের বাসিন্দা কামাল গোলাগুলি শুরু হলে সন্তানদের নিয়ে দৌড়ে নাইক্ষ্যংছড়ির দিকে চলে আসলেও তার স্ত্রীর সন্ধান পাননি। বর্তমানে তিনি স্ত্রীর খোঁজে হন্যে হয়ে বেড়াচ্ছেন। স্থানীয় ইউপি সদস্য আলী হোসেন পার্বত্যনিউজকে বলেন, গোলাগুলি শুরু হলে তিনি এলাকাবাসীকে সীমান্তবর্তী অবস্থান ছেড়ে নাইক্ষ্যংছড়ির দিকে নিয়ে আসেন। বর্তমানে তিনি নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা সদরে অবস্থান করছেন।

সীমান্তে বাংলাদেশ সীমান্ত রক্ষীবাহিনী বিজিবি সতর্ক অবস্থান নিয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবেলায় তাদের সকল ধরণের প্রস্তুতি রয়েছে বলে জানিয়েছে বিজিবি সূত্র।

-ফাইল ছবি: বিজিপি

 

 

 

বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তে মিয়ানমার সেনাবাহিনী ও বিচ্ছিন্নতাবাদীদের মধ্যে গুলিবিনিময়ের ঘটনা ঘটেছে

27461

বান্দরবান সংবাদদাতা :

বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তের ৩৮নং পিলারের নিকটবর্তী এলাকায় মিয়ানমারের অভ্যন্তরে গুলিবিনিময়ের ঘটনা ঘটেছে। এরপর থেকে সীমান্তে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। মঙ্গলবার সকালে এ ঘটনায় সীমান্ত এলাকার লোকজনের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। দুপুরে বিজিবির কক্সবাজার সেক্টর কমান্ডার ও ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক সীমান্ত এলাকা পরিদর্শন করেছেন।

স্থানীয়রা জানান, বাইশফাড়ী সীমান্তের ৩৮ ও ৩৭ নং পিলারের কাছে মুরুইঙ্গার ঝিড়ি এলাকায় সকালে কিছুক্ষণ পরপর গোলাগুলির শব্দ শোনা যায়। এতে ওই এলাকার লোকজনদের মধ্যে আতংক ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় পাড়া প্রধান (কারবারী) ক্যহ্লাচিং জানান, সকাল ৭টার দিকে বেশ গোলাগুলি হয়েছে। তারা শুনেছেন মিয়ানমারের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সাথে সে দেশের বিচ্ছিন্নতাবাদীদের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ শুরু হয়।

এ বিষয়ে কক্সবাজার বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. সাইফ সীমান্তে গোলাগুলির কথা স্বীকার করে জানান, এ ঘটনার পর সীমান্তে নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে। সীমান্তের কাছে সন্ত্রাসীদের সাথে সেদেশের নিরাপত্তা বাহিনীর মধ্যে কোনো ঘটনা ঘটে থাকতে পারে বলে আমরা ধারণা করছি।