দীপঙ্কর অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার ও কুজেন্দ্র সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠাকে প্রাধান্য দেবেন

এমপি হিসাবে শপথ নেয়ার পর প্রাথমিক প্রতিক্রিয়ায় পার্বত্যনিউজকে জানালেন দুই এমপি

মেহেদী হাসান পলাশ।।

অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারকে প্রধান্য দেবো- দীপঙ্কর

রাঙামাটি থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক সাবেক প্রতিমন্ত্রী দীপঙ্কর তালুকদার পার্বত্যনিউজকে এমপি হিসাবে শপথ নেয়ার পর তার প্রাথমিক প্রতিক্রিয়ায় বলেন, ৫টি বছর আমার গলায় একটি অস্বস্তির কাঁটা বিঁধে ছিলো। সেই কাঁটাটা উপড়ে ফেলতে জনগণ আমাকে সহায়তা করেছে সে জন্য আমি জনগণকে ধন্যবাদ, কৃতজ্ঞতা জানাই। জনগণের সমর্থন না থাকলে কেউ রাজনীতিতে টিকে থাকতে পারে না। তাই জনগণকে আমি আমার এই বিজয়টা উৎসর্গ করছি।

শুরুতেই কোন কাজগুলোকে অগ্রাধিকার দেবেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, প্রথম থেকে বাস্তবায়ন শুরু করবো। নির্বাচনের সময় যে অঙ্গীকার গুলো করেছি সেগুলো বাস্তবায়ন করবো। এলাকার উন্নয়ন, এলাকার শান্তি, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার, অবৈধ অস্ত্রধারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া।

আবারো মন্ত্রী হচ্ছেন কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা তো ভোট চাইতে পারি। জনগণ আমাদের ভোট দিয়ে এমপি বানাতে পারে। কিন্তু মন্ত্রী বানানো না বানানো এটা একান্তই প্রধানমন্ত্রীর ইচ্ছা। উনি যাকে মনে করবেন তাকেই মন্ত্রী বানাবেন। যাকে দিয়ে কাজ করাতে পারবেন তাকেই মন্ত্রী বানাবেন। তবে তিনি এখনো সরকারের কাছ থেকে এ ব্যাপারে কোনো ইশারা ইঙ্গিত পাননি বলেও জানান।

সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠা প্রথম কাজ হবে কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরার

খাগড়াছড়ি থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য ও ভারত প্রত্যাগত শরণার্থি ও অভ্যন্তরীণ উদ্বাস্তু
পুণর্বাসন বিষয়ক টাস্কফোর্সের চেয়ারম্যান কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা পার্বত্যনিউজকে এমপি হিসাবে শপথ নেয়ার পর তার প্রাথমিক প্রতিক্রিয়ায় বলেন, জনগণ ভোট দিয়েছে, সরকারের উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার জন্য কাজ করতে হবে। ৫ বছর কাজ করেছি, মানুষ আমাকে মূল্যায়ন করেছে। শেখ হাসিনাকে মূল্যায়ন করেছে। মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের শক্তিকে ভোট দিয়েছে। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে উন্নয়নের পক্ষে রায় দিয়েছে। এটা ভাল লাগছে। নেত্রী কাজ করেছেন, মানুষ তার প্রতিদান দিয়েছে। এটা ভাল লাগে।

শুরুতেই কোন কাজগুলোকে অগ্রাধিকার দেবেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে অবকাঠামো, স্কুল কলেজের প্রয়োজন আছে, এটা হচ্ছে, আরো হবে। কিন্তু আমার প্রথম দরকার হচ্ছে সম্প্রীতি। পার্বত্য চট্টগ্রামে সম্প্রীতি বজায় থাকবে। শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান থাকবে পাহাড়ী-বাঙালীদের মধ্যে, উন্নয়ন তরাণ্বিত হবে। আমি সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠাকে প্রাধান্য দেবো। একটা দেশে অবৈধ অস্ত্র থাকতে পারে না। সেটা কেন আছে সেটা দেখে সমাধানের ব্যবস্থা করবো।

খাগড়াছড়িবাসী আপনাকে মন্ত্রী হিসাবে দেখতে চায়, এ ব্যাপারে তার প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে তিনি বলেন, রাঙামাটিতে মন্ত্রী ছিলো, বান্দরবানেও মন্ত্রী ছিলো। কিন্তু তিন পার্বত্য জেলার মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে খাগড়াছড়ি। খাগড়াছড়িতে অনেক ঝামেলা আছে। এখানে ইউপিডিএফের ঝামেলা আছে, জেএসএসের ঝামেলা আছে। এখানে মন্ত্রী থাকলে তার কিছু করার সুযোগ সৃষ্টি হবে। প্রধানমন্ত্রী বা সরকারের কাছাকাছি যাওয়ার কিছু সুযোগ থাকে।

একজন এমপি সব কথা সংসদের দাঁড়িয়ে বলতে পারে না। কিছু কথা একান্তে বলার দরকার আছে। মন্ত্রী না না হলে তো সব সময় একান্তে কথা বলা যায় না। সেজন্য সকলেই চায় আমি মন্ত্রী হই। শুধু খাগড়াছড়িবাসী নয়, তিন পার্বত্য জেলার সকলেই চায় আমি মন্ত্রী হই। এ নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই। তবে এখনো তিনি সরকারের তরফ থেকে এ ধরণের কোনো ইঙ্গিত পাননি বলে জানান।

বান্দরবান থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য ও বর্তমান পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী বীর বাহাদুরের মন্তব্য নেয়ার জন্য ফোন করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

পাহাড়ে শিক্ষার চাহিদা বৃদ্ধি পেয়েছে কিন্তু মানসম্মত শিক্ষা বাড়েনি- কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা এমপি

pic k 01 (1)

খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি:

কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা এমপি বলেছেন, শিক্ষকরাই এদেশের মানুষ গড়ার প্রধান কারিগর। শিক্ষকদের দায়িত্বশীল ভূমিকাই পারে এ দেশকে মানসম্মত শিক্ষা ও সু-শিক্ষিত জাতি উপহার দিতে।

‘মানসম্মত শিক্ষা জাতির প্রতিজ্ঞা’ এ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বৃহস্পতিবার প্রাথমিক শিক্ষা সপ্তাহ ২০১৬ উপলক্ষে র‌্যালি শেষে সকালে খাগড়াছড়ি মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মিলনায়তনে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

পাহাড়ে শিক্ষার চাহিদা বৃদ্ধি পেয়েছে কিন্তু মানসম্মত শিক্ষা বাড়েনি উল্লেখ করে এ সময় কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা আরো বলেন, শিক্ষকরাই জাতির মেরুদন্ড। বর্তমান সরকার ২০২১ সালের মধ্যে এ দেশকে নিয়ে মধ্যম আয়ের যে স্বপ্ন বাস্তবায়নে কাজ করছে তার অংশিদার শিক্ষকরাও। শিক্ষকদের বেতন ও বিভিন্ন সুবিধা বৃদ্ধির বিষয়টি মাথায় রেখে সরকার কাজ করছেন বলেও জানান তিনি ।

খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগের আহবায়ক মংক্যচিং চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন, খাগড়াছড়ি পুলিশ সুপার মো. মজিদ আলী বিপিএম সেবা, খাগড়াছড়ির অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) আ ন ম নাজিম উদ্দিন, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) মো. মামুন কবির ও খাগড়াছড়ি উপজেলা চেয়ারম্যান চঞ্চুমনি চাকমা প্রমূখ।

আলোচনা সভা চলাকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বক্তব্য ও ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সরকারের উদ্যোগ ও অগ্রযাত্রার চিত্র তুলে ধরা হয় সভায়।

অন্যদিকে, আলোচনা সভার পূর্বে প্রাথমিক শিক্ষা সপ্তাহ ২০১৬ উপলক্ষে র‌্যালিটি পৌর টাউন হল প্রাঙ্গন থেকে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে খাগড়াছড়ি মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মিলনায়তনে গিয়ে আলোচনা সভায় মিলিত হয়।

খাগড়াছড়ির এমপি কুজেন্দ্র’র বিরুদ্ধে সরকারী ভবন, গাড়ি অবৈধভাবে ভোগ করার অভিযোগ ওয়াদুদ ভুঁইয়ার: এমপি’র অস্বীকার

02.10

পার্বত্যনিউজ রিপোর্ট:

খাগড়াছড়ির এমপি কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরার বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার করে ও নিয়ম ভঙ্গ করে সরকারী ভবন নিজের বসবাসের জন্য ব্যবহার করার অভিযোগ করেছেন জেলা বিএনপি সভাপতি ও সাবেক এমপি ওয়াদুদ ভুঁইয়া। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন স্থানীয় এমপি কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা। পার্বত্যনিউজকে তিনি বলেছেন, কোনো অনিয়ম নয়, নিয়ম মোতাবেক ভাড়া নিয়েছেন তিনি।

খাগড়াছড়ির সংসদ সদস্য কর্তৃক সরকারী ভবন, জেলা পরিষদের গাড়ি ও অন্যান্য সুবিধা অবৈধভাবে ভোগ করার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান ও সাবেক সংসদ সদস্য এবং খাগড়াছড়ি জেলা বিএনপির সভাপতি ওয়াদুদ ভূইয়া। সংবাদ মাধ্যমে প্রেরিত এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহীর জন্য নির্মিত ও বরাদ্ধকৃত সরকারী বাসভবন খাগড়াছড়ির সরকারদলীয় সংসদ সদস্য কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা‘র ব্যবহারের জন্য সাজসজ্জা চলছে, যা সরকারি বিধি মোতাবেক অবৈধ। ঢাকায় এমপি হোস্টেল ও ন্যাম ভবনে বরাদ্ধকৃত বাসা ব্যাতিত কোনো সংসদ সদস্য নিজ নির্বাচনী এলাকায় সরকারী কোনো বাসা বরাদ্দ পায় না বলেও বিবৃতি উল্লেখ করেন সাবেক এ সংসদ সদস্য।

একজন সরকারী কর্মকর্তার জন্য বরাদ্দকৃত অথবা যেকোনো সরকারী বাস ভবন কোনো সংসদ সদস্যের জন্য বরাদ্ধ বা ব্যবহার বৈধ নয় বলেও বিবৃতিতে দাবী করেন তিনি। ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা প্রায় কোটি টাকা মূল্যের খাগড়াছড়ি জেলা পরিষদের সরকারি গাড়ি, ড্রাইভার ও তৈল ব্যবহার করে আসছে বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করেন ওয়াদুদ ভুইয়া।

বিবৃতিতে তিনি বলেন, আওয়ামীলীগের চরম স্বেচ্ছাচারিতা কোন পর্যায়ে গিয়ে পৌঁছেছে তা এ সংসদ সদস্যের কর্মকান্ড থেকে সহজেই অনুমান করা সম্ভব। সরকার বা স্থানীয় প্রশাসন যেন চোখ বুজে আছে বলেও বিবৃতিতে দাবী করেন বিএনপি দলীয় সাবেক এ সংসদ সদস্য বলেন, এবিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো প্রশাসনিক ব্যাবস্থা চোখে পড়েনি। জেলা পরিষদকে দলীয়করণ করে স্বায়ত্বশাসিত এ প্রতিষ্ঠানকে ব্যক্তিস্বার্থ চরিতার্থ করার কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করেন ওয়াদুদ ভুইয়া।

বিবৃতিতে ওয়াদুদ ভূইয়া বলেন, দেশব্যাপী চরম দূর্নীতি, নৈরাজ্য ও দলীয় স্বেচ্ছাচারিতার বহি:প্রকাশ হচ্ছে এ ধরণের কর্মকান্ড। আমি এ ধরণের অবৈধ কর্মকান্ডের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি এবং অবিলম্বে এ ধরণের কর্মকান্ডের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যাবস্থা নিতে সরকার ও যথাযথ কর্তৃপক্ষকে আহ্বান জানাচ্ছি। অন্যথায় এই অনিয়ম ও দলীয়করণের বিরুদ্ধে স্থানীয়ভাবে আন্দোলন গড়ে তোলার ঘোষণা দেন বিবৃতিতে।

প্রসঙ্গত, খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহীর জন্য ৬৮ লাখ টাকায় ভবনটি নির্মাণ করা হয় জেলা পরিষদের অর্থায়নে। খোনে জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহীর বসবাস করার কথা। কিন্তু ইতিমধ্যে সেখানে স্থানীয় সংসদ সদস্যের বসবাসের জন্য সাজসজ্জার কাজ চলছে। খোজ নিয়ে জানা গেছে, ঈদের পরপরই স্থানীয় সরকার দলীয় সংসদ সদস্য কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা বর্তমান বাসা ছেড়ে সেখানে উঠবেন।

জানা গেছে, ৫ জানুয়ারীর নির্বাচনের পূর্বে তিনি জেলা পরিষদ চেয়ারম্যানের পদ থেকে পদত্যাগ করলেও এখনো পর্যন্ত জেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের সরকারী বাংলোয় বসবাস করছেন। যদিও খুব কাছাকাছি খাগড়াপুরে সংসদ সদস্য কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা‘র নিজের বাড়ি রয়েছে। অন্যদিকে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সাাইথোঅং মারমা পাইনখাইয়াপাড়াস্থ নিজের বাড়িতেই বসবাস করছেন।

এসব অভিযোগের বিষয়ে সংসদ সদস্য কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরার বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি পার্বত্যনিউজকে বলেন, বাসাটি আমি নিয়ম মোতাবেক ভাড়া নিয়েছি। জেলাপরিষদ কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্ত নিয়ে আমার কাছে বাসাটি ভাড়া দিয়েছে। কতো টাকায় ভাড়া নিয়েছেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, ১০ হাজার টাকায় ভাড়া নিয়েছি।

বর্তমানে আপনি জেলা পরিষদ চেয়ারম্যানের বাসায় বসবাস করায় জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান সেখানে উঠতে পারছেন না এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি জানান, এটি জেলা পরিষদ চেয়ারম্যানের বাসভবন নয়, রেস্ট হাউজ। জেলাপরিষদ চেয়ারম্যানরা ভাড়া দিয়ে এই ভবন ব্যবহার করেন। আমিও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান থাকাকালে ভাড়া দিয়ে উঠেছিলাম। বর্তমানে কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা হিসাবে ভাড়া দিচ্ছি। কতো টাকা ভাড়া দিচ্ছেন জানতে চাইলে ৫ হাজার টাকা বলে তিনি জানান।