শান্তিচুক্তির ১৯ বছর পূর্তিকে ঘিরে কাউখালীতে জেএসএস’র কোটি টাকার চাঁদাবাজী

%e0%a6%a4%e0%a6%95%e0%a6%b9%e0%a6%ac

পার্বত্যনিউজ রিপোর্ট:

২ ডিসেম্বর পার্বত্য শান্তি চুক্তির ১৯ বছর পূর্তিকে ঘিরে কাউখালীতে জনসংহতি সমিতি (জেএসএস) ও অংগসংগঠনগুলোর বিরুদ্ধে ব্যাপক চাঁদাবাজীর অভিযোগ পাওয়া গেছে। এক কোটি টাকা টার্গেট নির্ধারণ করে গত এক মাস যাবৎ ম্যারাথন কর্মসূচীর মাধ্যমে এ টাকা আদায় করা হচ্ছে বলে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে।

২ ডিসেম্বর পার্বত্য শান্তিচুক্তির ১৯ বছর পূর্তি। প্রতি বছর এ দিনে রাঙ্গামাটিতে ব্যাপক শো’ডাউন করে থাকে সন্তু লারমার জনসংহতি সমিতি। এ বছরও দিবসটি পালনের লক্ষ্যে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে জনসংহতি সমিতি (জেএসএস) ও তাদের ছাত্র সংগঠন পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ।

এ কর্মসূচী বাস্তবায়ন করতে শুধু কাউখালীতেই টার্গেট করা হয়েছে এক কোটি টাকা। এ টার্গেট পূরণ করতে চাঁদা আদায়ের ম্যারাথন কর্মসূচী হাতে নেয় তারা। এ লক্ষ্যে গত এক মাস যাবৎ কাউখালী ও এর আশেপাশের এলাকাগুলো চষে বেড়াচ্ছেন জনসংহতি সমিতি (জেএসএস) ও তাদের ছাত্র সংগঠনের নেতারা।

কোটি টাকা আদায়ে সংগঠনটি যেসব প্রতিষ্ঠানগুলো টার্গেট করেছে এর মধ্যে রয়েছে গাছ, বাঁশ, সরকারী চাকুরীজীবী, বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও ব্রিকফিল্ড। ইতোমধ্যেই উপজেলার প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের কাছ থেকে মাথাপিছু এক হাজার টাকা নির্ধারণ করে তা যথাসময়ে পাঠিয়ে দিতে মুঠোফোনে ক্ষুদে বার্তা পাঠানো হয়েছে।

যথা সময়ে নির্ধারিত টাকা পাঠিয়ে দেয়া না হলে সেসব শিক্ষকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার হুমকিও দেয়া হয়েছে। এতে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন দূর্গম অঞ্চলে কর্মরত স্কুল শিক্ষকরা। জীবনের নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে বেশীরভাগ শিক্ষকই টাকা পৌঁছে দিয়েছে বলে জানা গেছে।

এসব শিক্ষকদের মতে পানিতে বাস করে কুমিরের সাথে লড়াই করা ঠিক হবেনা। আবার আতঙ্কিত অনেক শিক্ষক কাউখালী সেনা ক্যাম্পে মৌখিক অভিযোগও করেছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কলমপতি, ঘাগড়া, বেতবুনিয়া ও ফটিকছড়ি ইউনিয়নের অসংখ্য শিক্ষক সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, বিষয়টি স্থানীয় সেনা ক্যাম্পকে অবগত করায় দাদারা ক্ষিপ্ত হয়েছেন।

উপজেলার সরকারী অফিসগুলো ঘুরে জানা গেছে, বেশীরভাগ কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের কাছ থেকে পদ ও পদবী হারে টাকা নির্ধারণ করে দেয়া হয়েছে। এসব সরকারী চাকুরীজিবীরা চাঁদা দেয়ার কথা স্বীকার করলেও নির্ধারিত চাঁদার পরিমাণ কত তা জানাতে অস্বীকৃতি জানান অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারী।

কোটি টাকার লক্ষ পূরণের প্রধান টার্গেট হচ্ছে গাছ ও বাঁশ ব্যবসা। মৌসুমটি গাছ ও বাঁশ ব্যবসার হওয়ায় এসব ব্যবসার সাথে সম্পৃক্ত ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে আদায় করা হবে অন্তত অর্ধ কোটি টাকা। এমন তথ্য পাওয়া গেছে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে।

এছাড়াও তালিকায় রয়েছেন ঠিকাদার, স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সড়কে চলাচলরত গাড়ীগুলো। তবে যেসব ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান ও সড়কে চলাচলরত গাড়ীগুলো জেএসএস থেকে বছর ব্যাপী টোকেন সংগ্রহ করেছেন তাদের কাছ থেকে চাঁদার পরিমাণ কম রাখা হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে নিরাপত্তার স্বার্থে কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান প্রধানের বক্তব্য বা নাম প্রকাশ করা সম্ভব হচ্ছে না।

এসব অভিযোগের বিষয়ে কথা হয় জেএসএস’র কেন্দ্রীয় তথ্য ও সহ প্রচার সম্পাদ সজীব চাকমার সাথে। তিনি জানান, সারাদেশে যেভাবে চলছে আমাদের নেতা কর্মীরাও সাধারণ মানুষের কাছ থেকে সেভাবে সহযোগিতা নিচ্ছে। এটাকে কোন ক্রমেই চাঁদাবাজি বলা যাবেনা।

তিনি আরো জানান, সবার সাথে আলোচনা স্বাপেক্ষে কর্মসূচী পালনের জন্য টাকা আদায় করা হচ্ছে। কাউকে জোর করে টাকা নেয়া হচ্ছেনা।

এ বিষয়ে জেএসএস কাউখালী উপজেলা সভাপতি সুবাষ চাকমার মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করেও ফোন বন্ধ থাকায় কথা বলা সম্ভব হয়নি।

এদিকে জেএসএস’র লাগামহীন চাঁদাবাজীর তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন, বাঙ্গালী ছাত্র পরিষদ কাউখালী উপজেলা শাখার সভাপতি মোঃ আব্দুল্লাহ তুহিন। তিনি জানান, জেএসএস’র চাঁদাবাজীর পরিধি আগের তুলনায় দ্বিগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।

কোটি টাকা চাঁদার লক্ষ্য পূরণ করতে তারা এবার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোও টার্গেট করে অসহায় শিক্ষকদের হয়রানি করছে। তিনি জেএসএস’র চাঁদাবাজী বন্ধে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের জোর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

কাউখালী থানার ওসি আব্দুল করিম জানান, বিষয়টি আমি অনেকের মুখে শুনেছি। তবে কেউ লিখিত অভিযোগ না করলে সেক্ষেত্রে আমাদের করার কিছু থাকে না।

রাঙ্গামাটির কাউখালীতে অজ্ঞাত তরুণীর ক্ষত বিক্ষত লাশ উদ্ধার

মৃত্যু নিশ্চিত করতে কেটে দেয়া হয়েছে স্তন ও হাত পায়ের রগ

লাশ উদ্ধার

কাউখালী প্রতিনিধি:

রাঙামাটির কাউখালী থেকে অজ্ঞাত তরুণীর ক্ষত বিক্ষত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ৪ জানুয়ারী বিকাল পাঁচটায় উপজেলার কলমপতি ইউনিয়নের তারাবনিয়া এলাকা থেকে এ লাশ উদ্ধার করা হয়।

নিহত তরুণীর পরনে সেলোয়ার কামিজ ও বোরকা পড়া ছিল। কাউখালী থানার অফিসার ইনচার্জ আব্দুল করিম ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন। এব্যাপারে কাউখালী থানায় হত্যা মালা দায়ের করেছে পুলিশ।

কলমপতি ৭নং ওয়ার্ডের মেম্বার অংখ্যাচিং মারমা জানান, সোমবার বিকাল ৫টার সময় তারাবনিয়া এলাকার জনৈক কৃষক রাস্তার পাশে জঙ্গলে গরু খুঁজতে যায়। এসময় রাস্তা থেকে অন্তত বিশ ফুট গভীরে ছড়ার মধ্যে বোরকা পরা নারীর লাশ দেখতে পায়। এসময় ঐ কৃষক এলাকাবাসীকে খবর দেয়। পরে স্থানীয়রা বিষয়টি পুলিশকে জানায়।

খবর পেয়ে কাউখালী থানার এস.আই যোযৎসু যজ চাকমার নেতৃত্বে পুলিশ কাউখালী সদর থেকে প্রায় ৯ কিলোমিটার দূরত্বে তারাবনিয়ার পাহাড়ের পাশের ছড়া থেকে নিহত তরুণীর লাশ উদ্ধার করে কাউখালী থানায় নিয়ে আসে।

কলমপতি ৪নং ওয়ার্ডের মেম্বার দেলোয়ার হোসেন জানান, অজ্ঞাত ঐ তরুণীকে অত্যান্ত নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। হত্যাকান্ডের পর মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার জন্য হাত ও পায়ের রগ কেটে দেয়া হয়েছে। কেটে ফেলা হয়েছে স্তন ও মুখের মাংস। লাশ ফুলে ও পঁচন ধরার দরুন সনাক্ত করা খুবই কষ্টসাধ্য হয়েপড়েছে। এছাড়াও লাশ যাতে সনাক্ত করা না যায় তার জন্য মুখমন্ডলের মাংশ কেটে নেয়া হয়েছে।

কাউখালী থানার এস.আই যোযৎসু যজ চাকমা জানান, অত্যান্ত পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে এবং এ হত্যাকান্ড দু’থেকে তিনদিন পূর্বে হয়ে থাকতে পারে। নিহতের শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। কেটে নেয়া হয়েছে নিহতের স্তন। এছাড়াও মৃত্যু নিশ্চিত করতে হাত ও পায়ের রগও কেটে দেয়া হয়েছে। লাশ যাতে সনাক্ত করা না যায় তার জন্য মুখমন্ডলের মাংশ কেটে ফেলে দেয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে লাশ ফুলে গিয়ে পঁচন ধরেছে। চেহারাও তেমন একটা চেনা যাচ্ছেনা।

স্থানীয় চেয়ারম্যান ও মেম্বারদের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, নিহত তরুণী স্থানীয় কেউ না। পুলিশের ধারণা ঐ তরুণীকে কাউখালীর বাইরে থেকে প্রতিহিংসা বা বেড়ানোর কথা বলে নির্জন স্থানে এনে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে। কাউখালী থানার ওসি আব্দুল করিম জানান, থানায় হত্যা মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। লাশ ময়না তদন্তের জন্য রাঙ্গামাটি প্রেরণ করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০০৮ সালের ১৮ মে একই স্থানে সুনিল কান্তি দে নামের ৬০ বছরের এক সিএনজি ড্রাইভারকে জবাই করেতার সিএনজি ছিনতাই করা হয়েছিল।

রাঙ্গামাটির কাউখালী থেকে ৪টি গ্রেনেড ১টি এলজিসহ ২ রাউন্ড গুলি উদ্ধার

Rangamati kawkhali news pic (2)

কাউখালী প্রতিনিধি:
রাঙ্গামাটির কাউখালী উপজেলার দুর্গম এলাকা থেকে পরিত্যাক্ত অবস্থায় ৪টি গ্রেনেড, ১টি এলজিসহ ২ রাউন্ড তাজা গুলি উদ্ধার করেছে সেনাবাহিনী। শুক্রবার দুপুর দুইটায় কাউখালী রাঙ্গুনীয়া সীমান্তবর্তী রাঙ্গুনীয়ার দুর্গম বগাবিলি এলাকা থেকে এসব উদ্ধার করা হয়েছে।

স্থানীয় ও সেনাবাহিনী সূত্রে জানা যায়, নাইল্যাছড়ি এলাকার জৈনক দেলোয়ার তার জমিতে আবর্জনা পরিষ্কার করতে গেলে একটি বন্দুক দেখতে পায়। পরে স্থানীয়দের মাধ্যমে কাউখালী সেনাবাহিনী ক্যাম্পে খবর দেওয়া হলে কাউখালী আর্মি ক্যাম্প এর ক্যাম্প কামান্ডার ক্যাপ্টেন আসিফ তানবির রেজা খাঁন এর নেতৃত্বে সেনাবাহিনী একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিত্যাক্ত একটি এলজি ও দুই রাউন্ড তাজা গুলি উদ্ধার করে। ১টি এলজি ও ২ রাউন তাজা গুলির উদ্ধারকৃত স্থানটি রাঙ্গুনীয়া এলাকায় হওয়ায় রাঙ্গুনীয়া থানা পুলিশের কাছে এসব হস্তান্তর করা হবে বলে জানিয়েছে সেনাবাহিনী। 

এদিকে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সেনাবাহিনীর একটি টিম পরিত্যাক্ত অবস্থায় ৪টি গ্রেনেড উদ্ধার করে। শুক্রবার সেনাবাহিনীর বিস্ফোরক বিশেষজ্ঞ এসব গ্রেনেড পরীক্ষা নিরীক্ষা করবে বলে জানা গেছে। তবে প্রাথমিক ভাবে এগুলো অকেজো বলে মনে সেনাবাহিনী। কাউখালী থানার অফিসার ইনচার্জ নিলু কান্তি বড়ুয়া ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছে।

 

আরও খবর

পার্বত্য চট্টগ্রামে র‌্যাব মোতায়নের সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবিতে খাগড়াছড়ি ও রাঙামাটিতে তিন পাহাড়ি সংগঠনের মানববন্ধন

রাঙ্গামাটি সেনা জোনের সহায়তায় কাউখালীতে ধাত্রীবিদ্যা প্রশিক্ষণ শেষে সনদ ও কিটস বিতরণ

মানিকছড়িতে দু’টি তাজা কার্তুজসহ ১ ইউপিডিএফ কর্মী আটক

রামগড়ে অস্ত্র ও গুলিসহ ২ উপজাতীয় সন্ত্রাসী আটক

বাঘাইছড়িতে দুই গ্রুপের সংঘর্ষে দুইজন খুন

দীঘিনালায় সন্ত্রাসীদের গুলিতে এক ইউপিডিএফকর্মী নিহত : আহত ১

কি ঘটবে পার্বত্য ভূমি কমিশন আইন সংশোধন প্রস্তাব কার্যকর হলে?

কাউখালীতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে বসতঘড় পুড়ে ছাই

agun

নিজস্ব প্রতিনিধি, কাউখালী, রাঙ্গামাটি : 

মঙ্গলবার দুপুর আনুমানিক দেড়টার দিকে উপজেলা কাশাখালী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় এর পাশে  এ ভয়াবহ অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটে। প্রাথমিক ভাবে ধারণা করা হচ্ছে ঘরের চুলা থেকে অগ্নিকান্ডের সূত্রপাত হয়।

হঠাৎ ভরদুপুরে আগুন দেখে এলাকাবাসী ছুটে এসে প্রাণপন চেষ্টা করে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। কিন্তু ততক্ষণে সবকিছু ছাই হয়ে যায়।  

পুড়ে যাওয়া ঘরের মালিক তাজুল ইসলাম কান্নাজড়িত কন্ঠে বলেন,  ‘আমার সব শেষে হয়ে গেছে। এখন শুধু পরনের কাপড়টুকুই আছে। আমি এবং আমার স্ত্রী জীবিকা নির্বাহের জন্য পাহাড়ে কাঠ সংগ্রহ করতে যাই, এ সময় বাড়িতে আমার দুই শিশু কন্যা ও এক শিশু পুত্রকে রেখে যাই।’ তার নগদ পয়ত্রিশ হাজার টাকা, এক ভড়ি স্বর্ণ সহ বাড়ির সকল আসবাবপত্র পুড়ে যায়। এ অগ্নিকান্ডের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ লক্ষাধিক টাকা বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা যায়।
স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. আব্দুল মোতালেব জানান, বাড়ির মালিক ও তার স্ত্রী প্রতিদিনের মত কাঠ সংগ্রহ করতে পাহাড়ে চলে যায়। দুপুর দেড়টার দিকে আগুনে তার ঘর সম্পূর্ণ পুড়ে যায়।