চকরিয়া বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্কে দর্শনার্থীর উপচেপড়া ভিড়

chakaria-pic-park-15-09
চকরিয়া প্রতিনিধি::
দেশি-বিদেশি পর্যটকদের কাছে আকর্ষণীয় স্থান কক্সবাজারের চকরিয়ার ডুলাহাজারাস্থ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্কে ঈদের একটানা ছুটিতে দর্শনার্থীরা উপচেপড়া ভিড় করছে। ঈদের দিন মঙ্গলবার ও পরদিন বুধবার দর্শনার্থীদের তেমন উপস্থিতি চোখে না পড়লেও বৃহস্পতিবার থেকে দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে পার্কে।

এতে পার্ক কর্তৃপক্ষ আশা করছেন, আজ এবং আগামীকালও একইভাবে দর্শনার্থী ও পর্যটকের ভিড় থাকবে পার্কে। সবমিলিয়ে লক্ষাধিক দর্শনার্থী ও বিভিন্ন জেলার পর্যটক পার্ক ভ্রমণ করবেন। এজন্য ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের পাশাপাশি আগে থেকে বর্ণিল সাজে সাজানো হয়েছে পুরো পার্ককে।

সরেজমিন পার্ক ঘুরে দেখা গেছে, আগত দর্শনার্থী ও পর্যটকেরা পার্কে থাকা বাঘ, বানর, লাম চিতা, হনুমান, উল্লুক, কালো শিয়াল, জলহস্তি, চিত্রা হরিণ, মায়া হরিণ, প্যারা হরিণ, মিঠা পানির কুমির, মঁয়ূর, বনমোরগ, বন্য শুকর, তারকা কচ্ছপ, বানর ও বিভিন্ন প্রজাতির পশু-পাখিসহ অসংখ্য বন্যপ্রাণির বেষ্টনীতে ঢু মারছে। আবার অনেক দর্শনার্থী সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত মনের আনন্দে ঘুরে-বেড়ানোর পাশাপাশি গগণচুম্বি মাদার ট্রির (গর্জন) ছায়াতলের সুশীতল হাওয়ার পরশ নিচ্ছেন। বড়দের সঙ্গে যাওয়া কিশোর-কিশোরী ও শিশুরা হাতির পিঠে চড়ে খায়েশ মেটাচ্ছে।

পার্ক সূত্র জানায়, আগত দর্শনার্থী পার্কের প্রধান ফটকের বাইরে স্থাপিত দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল, নির্মিত লেক ও বাগানের দিকেই ঝোঁক ছিল বেশি।

পার্কের গেইট ইজারাদার মো. নাছির উদ্দিন জানান, এবার ঈদের দুইদিন পর গতকাল বৃহস্পতিবার থেকেই দর্শনার্থী আসতে শুরু করে। একদিনেই অন্তত ২০ হাজার পর্যটক পার্কে ভিড় করে। তবে আগামী শনিবার পর্যন্ত একইভাবে দর্শনার্থী সমাগম হবে বলে তিনি আশা করছেন।

পার্কের কর্মকর্তা মো. মাজহার“ল ইসলাম চৌধুরী বলেন, ‘ঈদের ছুটিতে দর্শনার্থী ও পর্যটকদের আকৃষ্ট করতে আগে থেকেই পুরো পার্ককে বর্ণিল সাজে সাজানো হয়। নেওয়া হয় ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা। এতে এখনো পর্যন্ত কোন ধরণের দুর্ঘটনা ঘটেনি।’

কক্সবাজার জেলা পরিষদের আয়োজনে শুরু হয়েছে বার্ষিক ব্যাডমিন্টন প্রতিযোগিতা

DSCN0247

নিজস্ব প্রতিনিধি:

প্রতি বছরের মত এবারো কক্সবাজারে জেলা পরিষদের আয়োজনে শুরু হয়েছে বার্ষিক ব্যাডমিন্টন প্রতিযোগিতা। সোমবার রাত সাড়ে ৯ টায় জেলা পরিষদ প্রাঙ্গনে আনুষ্ঠানিকতার মাধ্যমে এ প্রতিযোগিতা উদ্বোধন করেন, আমন্ত্রিত প্রধান অতিথি জেলা প্রশাসক মোস্তাক আহম্মদ চৌধুরী।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সার্বিক ড. অনুপম শাহা, জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা খন্দকার জহিরুল ইসলাম, এমএম ইস্পাহানি লিমিটেডের ডিভিশন ম্যানেজান (চট্টগ্রাম দক্ষিণ) আবু হেনা মোস্তাফা হেলাল প্রমূখ।

জেলা পরিষদের সহকারী প্রকৌশলী সোহেল রানার দেওয়া তথ্যে জানা যায়, বার্ষিক এই ব্যডমিন্টন প্রতিযোগিতা ২ সপ্তাহ ব্যাপি চলবে। এবারের প্রতিযোগিতায় অংশ গ্রহণ করেছে ৮ টি দল। আর এই দলগুলো বাঁচাই করা হয়েছে লটারীর মাধ্যমে। সন্ধ্যা থেকে রাত অবধি দৈনিক ৩ অথবা ৪ টি খেলা চলবে।

সোমবার প্রথম খেলা চলে ড. অনুপম ও কামরুল এবং প্রতিপক্ষ দল অনুপদ দে ও পারভেজের সাথে। আর এই পুরো টিককে ২ টি ভাগে ভাগ করা হয়েছে। এমএম ইস্পাহানী লিমিটেড এর সৌজন্যে এ বার্ষিক ব্যাডমিন্টন প্রতিযোগিতা ২০১৬ চলছে।

একযুগ পর আওয়ামী লীগের কাউন্সিলে আসছেন কেন্দ্রের এক ডজন নেতা: নেতাকর্মীদের উচ্ছাস

আওয়ামী লীগ

ওমর ফারুক হিরু:

দীর্ঘ এক যুগ পরে কক্সবাজারের আওয়ামীলীগের নেতা-কর্মীদের মধ্যে উচ্ছ্বাসের সৃষ্টি হয়েছে। ৩১ জানুয়ারি কক্সবাজার জেলা আওয়ামীলীগের সম্মেলন ও কাউন্সিলকে ঘিরে এ উচ্ছ্বাসের সৃষ্টি হয়েছে।

সূত্রমতে, গত ২০০৩ সালের ২০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হয় জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন ও কাউন্সিল। সরাসরি ভোটে মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক ও কক্সবাজার পৌরসভার সাবেক চেয়ারম্যান মরহুম একেএম মোজাম্মেল হক সভাপতি ও সালাহউদ্দিন আহমদ সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। ২০০৫ সালের ২৭ মে একেএম মোজাম্মেল হকের মৃত্যু হলে ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দায়িত্ব পান উখিয়া-টেকনাফ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যাপক মোহাম্মদ আলী। কিন্তু বিগত ২০০৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে জেলা আওয়ামী লীগের নেতাদের মধ্যে সৃষ্ট বিরোধের জের ধরে তিনি ওই পদ থেকে অপসারিত হন। সেই থেকে ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন দ্বিতীয় সহ-সভাপতি এডভোকেট একে আহমদ হোসেন।

এরপর অন্তত ১০ বারেরও বেশী জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন ও কাউন্সিলের তারিখ নির্ধারণ করা হয়। কিন্তু নানা অজুহাতে তা না হলেও এবার ৩১ জানুয়ারি সম্মেলনের তারিখটি অনেকটা চূড়ান্ত হয়েছে।

ইতিমধ্যে কক্সবাজার শহরের ব্যানার, ফেস্টুন, তোরণ, পোষ্টারে ভরে গেছে। নিজেদের বিভিন্ন পদের প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা দিয়ে চলছে এ প্রচারণা। একই সঙ্গে প্রার্থীরা বিভিন্ন কাউন্সিলদের কাছে কাছে গিয়ে ভোট প্রার্থনাও শুরু করেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ৩১ তারিখের সম্মেলন ও কাউন্সিলে উপস্থিত থাকবেন কেন্দ্রের অর্ধ ডজন নেতা। যাদের মধ্যে থাকবেন, আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফ, প্রেসিডিয়াম সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোশারফ হোসেন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহাবুবুল আলম হানিফ, সাংগঠনিক সম্পাদক বীর বাহাদুরসহ অন্যান্য নেতা।

এ সম্মেলন ও কাউন্সিলকে ঘিরে অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটতে পারে বলে আতংকিত রয়েছেন আওয়ামীলীগের কিছু সিনিয়র নেতা। তারা বলছেন, ওই সম্মেলন ও কাউন্সিলকে কেন্দ্রে করে একটি মহল অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটাতে নীল নকশা তৈরী করছে। দীর্ঘদিন নিষ্ক্রিয় থাকা কয়েকজন আওয়ামীলীগ নামধারীরাই এ ষড়যন্ত্র করতে পারে বলে মন্তব্য করছেন। আওয়ামীলীগের সুনাম ক্ষুণ্ন করা ও জেলা আওয়ামীলীগকে কেন্দ্রের কাছে প্রশ্নবিদ্ধ করার জন্য এই ষড়যন্ত্র করছে বলে তাদের ধারণা।

জেলা আওয়ামীলীগের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সভাপতি এডভোকেট একে আহম্মদ হোসেন বলেন, সম্মেলন ও কাউন্সিলকে কেন্দ্র করে কোন ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা মেনে নেওয়া যাবে না। ওই দিন দলের বা সহযোগী দলের অথবা অঙ্গ সংগঠনের কোন নেতা যদি বিশৃংখলতা সৃষ্টি করে তার বিরুদ্ধে নেওয়া হবে কঠোর ব্যবস্থা।

দীর্ঘ এক যুগ পরে এই সম্মেলন ও কাউন্সিলকে ঘিরে বিশেষ নিরাপত্তার ব্যবস্থা করেছে আইন শৃংখলা বাহিনী। যে কোন অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে পুলিশ ও র‌্যাবের পাশাপাশি বিজিবিও প্রস্তুত থাকবে বলে জানা যায় সংশ্লিষ্ট সূত্রে।

কক্সবাজারের ভারপ্রাপ্ত পুলিশ সুপার ছত্রধর ত্রিপুরা জানিয়েছেন, পুরো কক্সবাজার জুড়ে ৩ স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। সম্মেলনে যাতে কোন ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে তার জন্য পর্যান্ত নিরাপত্তার ব্যবস্থা রয়েছে।

এদিকে, ইতিমধ্যে সম্মেলনকে ঘিরে সভাপতি প্রার্থী হিসেবে মাঠে নেমেছেন ৫ জন। এরা হলেন, জেলার সহ সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যাপক মোহাম্মদ আলী, সাবেক সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম চৌধুরী, বর্তমান সাধারণ সম্পাদক সালা উদ্দিন আহমদ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট সিরাজুল মোস্তফা এবং চকরিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য জাফর আলম। সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী হিসেবে রয়েছেন ৩ জন। এরা হলেন, কক্সবাজার পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি মুজিবুবর রহমান, জেলা কমিটির সদস্য রাশেদুল ইসলাম ও জেলা আওয়ামী লীগের শিল্প ও বাণিজ্য বিষয়ক সম্পাদক মার্শেদুল হক রাশেদ।

জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনে মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীসহ ১১ জন কেন্দ্রীয় নেতা
জেলা আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন ও কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হবে আগামী ৩১ জানুয়ারী। এতে অংশ নিতে কক্সবাজার আসার কথা রয়েছে ১১ জন কেন্দ্রীয় নেতার। তাদের মধ্যে ৪ জন মন্ত্রী এবং ৩ জন প্রতিমন্ত্রী রয়েছেন।

জেলা আওয়ামী লীগ সূত্র জানিয়েছে, কক্সবাজার পাবলিক লাইব্রেরীর শহীদ দৌলত ময়দানে ৩১ জানুয়ারী সকাল ১০ টায় সম্মেলন শুরু হবে। সম্মেলন উদ্বোধন করবেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় প্রেসিডিয়াম সদস্য, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী প্রকৌশলী মোশারফ হোসেন। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রিয় সাধারণ সম্পাদক, জনপ্রশাসন মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম।

প্রধান বক্তা থাকবেন কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল-আলম হানিফ। এছাড়াও বিশেষ অতিথি হিসেবে থাকবেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক বীর বাহার উ শৈ সিং, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক, পরিবেশ ও বন প্রতিমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক, বিজ্ঞান প্রযুক্তি মন্ত্রী স্থপতি ইয়াফেস ওসমান, শ্রম ও জনশক্তি বিষয়ক সম্পাদক হাবিবুর রহমান সিরাজ, স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যা বিষয়ক সম্পাদক ডাঃ বদিউজ্জামান ভুঁইয়া ডাবলু, কেন্দ্রিয় সদস্য মির্জা আজম এমপি, সুজিত রায় নন্দী ও আমিনুল ইসলাম আমিন প্রমুখ।

সম্মেলন ও কাউন্সিল অধিবেশনে সভাপতিত্ব করবেন জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অ্যাড. একে আহমদ হোছাইন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনায় থাকবেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সালাহ উদ্দিন আহমেদ সিআইপি।

কক্সবাজার ফিসারীঘাট এলাকায় ৪৬ মন মাছ জব্দ

01 (1)

নিজস্ব প্রতিনিধি:

কক্সবাজার শহরের ফিসারীঘাট এলাকায় ৪৬ মন মুছ কাটা (গুইজ্জা) মাছ জব্দ করেছে পুলিশ। সন্দেহ করা হচ্ছে এসব মাছ ডাকাতি করা হয়েছে। অন্যদিকে মাছের মালিকের দাবি মাছগুলো ডাকাতির নয় ক্রয়কৃত। এ নিয়ে চলছে উত্তেজনা।

বৃহস্পতিবার সকাল ১০ টার দিকে ফিসারীঘাট সংলগ্ন বিএফডিসির সম্মুখ থেকে বোট ভর্তি এসব মাছ জব্দ করা হয়। মাছগুলো মালিক শফিউল আলম বাশির নতুন বাহারছড়ার মৃত আব্দুল গণির ছেলে।

কক্সবাজার সদর থানার এসআই মনোয়ার হোসেন জানান, ফিসারীঘাট এলাকার ব্যবসায়ীরা মাছ জব্দ করার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে মৎস্য ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আব্দুল আল মাসুদ আজাদসহ অন্যান্যদের দেওয়া তথ্যে জানা যায়, গত কয়েকদিন আগে ফিশিং বোট মালিক আমির হোসেন, নুরুল আমিন খোকা ও হাসানের বোট থেকে মাছ ডাকাতি হয়। তাদের দাবি জব্দকৃত মাছগুলো তাদের কাছ থেকে ডাকাতির মাধ্যমে ছিনিয়ে নেয়া মাছ। শফিউল আলম বাশির ডাকাতদের কাছ থেকে ওসব মাছ নিয়ে ফিসারীঘাটে বিক্রি করতে এনেছে।

এদিকে অভিযুক্ত শফিউল আলম বাশির বলেন, এসব মাছ ডাকাতির মাছ নয়। তিনি ক্রয় করেছেন আরেক মাছ ব্যবসায়ীর কাছ থেকে। উদ্দেশ্যমুলকভাবে তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। এ অবস্থায় পুলিশ খতিয়ে দেখছে ওসব মাছ আদো ডাকাতির মাছ কিনা। তবে আপাত মাছগুলো বিক্রি করে ফেলা হয়েছে। আর বিক্রির টাকা মৎস্য ব্যবসায়ী সমিতির কাছে রাখা হয়েছে।

মৎস্য ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আব্দুল আল মাসুদ আজাদ জানান, দীর্ঘদিন ধরে ফিসারীঘাট এলাকায় কিছু ব্যবসায়ী ডাকাতদের কাছ থেকে মাছ ক্রয় করছে। তাদের সাথে ডাকাতদের যোগসাজস রয়েছে। আর জব্দ করা এসব মাছ ফিসরীঘাটের বোট মালিকদের মাছ। যা গত কয়েকদিন আগে ডাকাতি হয়েছে। এছাড়া শফিউল আলম বাশিরসহ আরো কয়েকজন দীর্ঘদিন ধরে এ অপকর্ম চালিয়ে আসছে।

শফিউল আলম বাশির জানান, তিনি কক্সবাজার মৎস্য ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি ও ফিশিং বোট মালিক সমিতির দায়িত্বপ্রাপ্তদের মধ্যে একজন। অভ্যন্তরিন বিরোধের কারনে ডাকাতির মাছ নিয়েছে বলে তাকে ফাসানোর চেষ্টা চালানো হচ্ছে। ওসব মাছের মূল বিক্রেতা ঘটনাস্থলে আসছে। তখন প্রমাণ হবে ওসব মাছ ডাকাতির মাছ নয়।

এ ঘটনায় পুলিশ কাউকে আটক করেনি। বিষয়টি তদন্তাধিন রয়েছে। আর এনিয়ে ফিসারীঘাট এলাকায় বিরাজ করছে উত্তেজনা।

দেশের কোনো মাদ্রাসা থেকে জঙ্গী তৈরী হয় না- এ এম এম বাহাউদ্দীন

বাহাউদ্দীন

স্টাফ রিপোর্টার, কক্সবাজার :

বাংলাদেশ জমিয়াতুল মোদার্রেছিনের কেন্দ্রীয় সভাপতি ও দৈনিক ইনকিলাব সম্পাদক আলহাজ্ব এ এম এম বাহাউদ্দিন বলেছেন, মাদরাসা শিক্ষা দেশের জন্য বড় একটি আশীর্বাদ। এখান থেকে দেশপ্রেমিক যোগ্য নাগরিক তৈরী হচ্ছে। দেশের কোন মাদরাসা থেকে জঙ্গি তৈরী হয় না। বিভিন্ন সংগঠন-সংস্থা তাদের চাকরীর প্রমোশনের জন্য জঙ্গিবাদের ধোয়া জিইয়ে রেখেছেন বলে মন্তব্য করে তিনি এসব মিথ্য অপবাদ বন্ধ করার আহবান জানান।

মাদরাসা শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে বিশেষমহলের অপপ্রচারে দেশবাসী সজাগ রয়েছে। ১০ জানুয়ারী রবিবার সকালে কক্সবাজার সাংস্কৃতিককেন্দ্র অনুষ্ঠিত জমিয়তের জেলা সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে আলহাজ্ব এ এম এম বাহাউদ্দিন এসব কথা বলেন।

জমিয়াতের সভাপতি বলেন, আলেম ওলামারা আজ অনেক বেশী শক্তিশালী। মাদরাসা শিক্ষা বাদ দিয়ে দেশের উন্নতি অগ্রগতি কল্পনা করা যাবেনা। অলেম সমাজকে সাথে নিয়েই দেশের সব কাজ করতে হবে। বর্তমান সরকারও সে বিষয়ে গুরুত্ব দিচ্ছেন।

তিনি বলেন, সারা বিশ্বে ইসলাম বিদ্বেষীরা মুসলমানদের মাঝে বিবাদ-বিসংবাদ জিইয়ে রেখেছে। সেই সংকটের মাঝেও নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি হচ্ছে। দেশকে ইসলাম বিদ্বেষী প্রমাণ করতে বিভিন্ন এনজিও সংস্থা কোটি কোটি টাকা ব্যয় করেছে। কিন্তু তারা সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। এরপরও ইসলাম বিদ্বেষীদের অপতৎপরতা অব্যাহত আছে। অথচ ফ্রান্স, যুক্তরাষ্ট্রসহ অনেক পশ্চিমা দেশে আজ ইমামদের গুরুত্ব বেড়েছে। সেখানে ইসলামের দাওয়াতের ক্ষেত্র বেড়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে ওহাবী-সালাফীরাও নিজেদের অবস্থান পরিবর্তন করে এক কাতারে চলে আসছে। রাশিয়া ও ভারতে মুসলমানদের সংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে জানিয়ে তিনি বলেন, এটিই বিশ্বব্যাপী ইসলামী জাগরণ ও মুসলমানরা শক্তিশালী হওয়ার প্রমাণ। সম্প্রতি উন্নত বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ইসলাম বিষয়ক মন্ত্রী নিয়োগ দেয়া হলেও বাংলাদেশের অধিকাংশ মন্ত্রীদের ইসলাম সম্পর্কে কোন ধারণাই নাই। তাই আলেম ওলামা ও মসজিদ-মাদরাসা নিয়ে তারা জঙ্গিবাদের অপবাদ দিয়ে থাকেন।

তিনি বলে, ইসলাম আমাদের মূল পরিচিতি। ওয়াজ নসিহত ও খুতবার মাধ্যমে মুসলমানদের সচেতন করা হয়। মসজিদে খুতবা নিয়ন্ত্রণ করার পরিকল্পনা কাজে আসবে না। সেই দিন এক মিনিটের ভূমিকম্প দেশের সব মানুষ মসজিদে এক কাতারে চলে আসে। এতে কি প্রমাণ হয়?

তিনি আরো বলেন, দাবী আদায়ের জন্য দেশের জেনারেল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলোতে হরতাল অবরোধ হলেও দেশের মাদরাসাগুলোতে একদিনের জন্যও ক্লাশ বন্ধ হয়নি বলে উল্লেখ করে জমিয়াত সভাপতি বলেন, অলেম ওলামারা কৃতজ্ঞ ও শান্ত।

তিনি বলেন, সরকারের আন্তরিকতায় জমিয়াতের মাধ্যমে মাদরাসা শিক্ষকদের অনেক দাবী পূরণ হয়েছে। এজন্য তিনি প্রধানমন্ত্রী ও শিক্ষামন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান। ২০১৬ সালের মধ্যে এবতেদায়ী মাদরাসা সরকারীকরণের দাবীও পুরণ হবে তিনি আশাবাদ ব্যাক্ত করেন।

তিনি আরো বলেন, দেশে ইসলামের নামে যারা রাজনীতি করেছেন তাদের ক্ষমতা ও রাজনৈতিক অভিলাষের কারণে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। তবে সংকটের পরেও নতুন পথ তৈরী হচ্ছে। মত পার্থক্য কমিয়ে আলেম ওলামাদের এক কাতারে শামিল হওয়ার আহবান জানান তিনি। শিক্ষার্থীদের উন্নত বিশ্বের চালেঞ্জ উপযোগী গড়ে তুলতে পাঠদান নিশ্চিত করার পাশাপাশি সরকারের নীতিমালার ভেতরে থেকে প্রতিষ্ঠান চালাতে হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

জমিয়াতের জেলা সভাপতি অধ্যক্ষ মাওলানা কামাল হোছাইনের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর এ একে এম সায়েফ উল্ল্যা, জমিয়াতের মহাসচিব প্রিন্সিপ্যাল মাওলানা শাব্বির আহমদ মোমতাজী, জমিয়াতের কেন্দ্রীয় সহ সাধারণ সম্পাদক, চট্টগ্রাম মহানগর জমিয়তের সভাপতি মাওলানা আবুল বয়ান হাশমী, কক্সবাজার ইসলামিয়া মহিলা কামিল (মাস্টার্স) মাদরাসার অধ্যক্ষ মাওলানা জাফর উল্লাহ নূরী।

জেলা জমিয়তের সাধারণ মাওলানা শাহাদাত হোছাইনের পরিচালনায় সম্মেলনে অধ্যক্ষ মাওলানা মুহিব্বুল্লাহ, অধ্যক্ষ মাওলানা ফরিদ আহমদ চৌধুরী, অধ্যক্ষ মাওলানা মুহাম্মদ ওমর হামজা, অধ্যক্ষ মাওলানা আমির হোছাইন, অধ্যক্ষ মাওলানা কফিল উদ্দিন ফারুক, অধ্যক্ষ মাওলানা বদরুদ্দোজা, বক্তব্য রাখেন।

সম্মেলনের জমিয়তের পক্ষে দাবী দাওয়ার কথা তুলে ধরেন জেলা জমিয়তের সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা ছালাহ উদ্দিন মোহাম্মদ তারেক।

টেকনাফে নিয়ন্ত্রণহীন রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্পগুলো : বিপাকে স্থানীয়রা

রোহিঙ্গা ক্যাম্প
মুহাম্মদ ছিদ্দিকুর রহমান, টেকনাফ :

নিয়ন্ত্রহীন হয়ে পড়েছে সীমান্ত উপজেলা টেকনাফে রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলো। রোহিঙ্গাদের অবাধ বিচরণে বিপাকে পড়েছে স্থানীয়রা। উখিয়া-টেকনাফে যে সমস্ত মিয়ানমারের নাগরিক রোহিঙ্গা বসবাস করছে তাদের সম্প্রতি সময়ের কার্যকলাপে এই ধারণা করছেন বিশ্লেষক মহল।

 

সরকার বিরোধী সহিংসতায় অর্থের বিনিময়ে ক্যাম্প গুলোর রোহিঙ্গারা অংশ নিতে পারে বলেও মনে করে তারা। বোদ্ধাদের রোহিঙ্গাদের প্রতি সন্দেহের তীর ছুঁড়ার কারণ হিসেবে বলা হচ্ছে শরর্ণার্থীরা ক্যাম্পের ভেতরে বাইরে অবাধ বিচরণ করার মতো সুযোগ থাকার কারণে। উখিয়া টেকনাফ রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলো অনেকটা অপ্রতিরুদ্ধ। ক্যাম্পের থেকে যখন ইচ্ছে বের হতে পারে বাংলাদেশে আশ্রিত এসব ভিনদেশী নাগরিক। আর এ কারণে যেকোন কাজে ক্যাম্পের রোহিঙ্গাদের ব্যবহার করা যাচ্ছে অর্থের বিনিময়ে।

এমতাবস্থায় দেশের চলমান অস্থিরতায় রোহিঙ্গাদের যে কোন সহিংসতামুলক কর্মকাণ্ডে অল্প পারিশ্রমিকে সন্তুষ্ট রোহিঙ্গাদের ব্যবহার হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

একাধিক সূত্র মতে, ২০১২ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর কক্সবাজারের রামু এবং ৩০ সেপ্টেম্বর উখিয়াসহ জেলার বৌদ্ধ মন্দিরে হামলায় রোহিঙ্গাদের সম্পৃক্ততার রয়েছে মর্মে খবর বেরিয়েছে বিভিন্ন মাধ্যমে। এছাড়াও ১৫ ফ্রেব্রুয়ারী কক্সবাজার শহরে জামায়াত শিবিরের সহিংসতায় তিন জনের মৃত্যু হয় পুলিশ- জামায়াত সংঘর্ষে। আর এ ঘটনায় পুলিশ ৬ জন রোহিঙ্গাকে আটক করে। এ সহিংসতায় অংশগ্রহনের অভিযোগে এসব রোহিঙ্গাদের আটক করে আইন-শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী।

এছাড়া বিভিন্ন সয়ম টেকনাফের লেদা, নয়াপড়া রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে বেশ কয়েকবার পরিত্যক্ত অস্ত্র উদ্ধার করতে সক্ষম হয় বিজিবি পুলিশ। এছাড়া রোহিঙ্গা ক্যাম্প গলোতে খুন খারাবির ঘটনাও ঘটে অনেক সময়। তবুও থেমে তারা এখনো অপারাধ করে আসছে ভয়ঙ্কর রোহিঙ্গারা।

স্থানীয়রা বলছেন রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলো নিয়ন্ত্রণে না থাকার কারণে যেনতেন ভাবে রোহিঙ্গারা নিজেদের পরিচালিত করছেন। ক্যাম্পের চারদিকে দীর্ঘদিন সীমানা প্রাচীর না থাকার কারণে তারা অপরাধমুলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়তে পারছে যখন তখন।

জানা যায়, উপজেলায় অবস্থিত রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোর থেকে দিন দিন নিয়ন্ত্রণ হারাচ্ছে প্রশাসন। মানবিক বিপর্যস্তের অজুহাতে টেকনাফে অবস্থিত রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে আশ্রিত বার্মাইয়ারা এখন প্রতিদিন অপরাধ জগতে ঢুকে পড়ছে।

এর কারণ হিসেবে বলা হচ্ছে আশ্রিত রোহিঙ্গাদের ক্যাম্প থেকে স্থানীয় লোকালয়ে অবাধ বিচরণের স্বাধীনতা দেয়া। বলা হচ্ছে পুরোপুরি অরক্ষিত হয়ে আছে দীর্ঘদিন থেকে টেকনাফ শরণার্থী শিবিরগুলো। মিয়ানমার থেকে নানা কারণে বিতাড়িত এসব রোহিঙ্গারা অস্থায়ীভাবে বাংলাদেশে বসবাসের জায়গা হিসেবে ক্যাম্প স্থাপন করে নিয়ম বেঁধে দেয়া হলেও সেখানে যা ইচ্ছে তাই করছে এসব ভিনদেশীরা। আশ্রিত হিসেবে তাদের জীবনযাত্রায় সীমাবদ্ধতার কোন কিছুই মানছেনা রোহিঙ্গারা।

অভিযোগ আছে রোহিঙ্গারা ক্যাম্পে বিভিন্ন এনজিও সংস্থার প্রত্যক্ষ মদদে নানা অপরাধ কর্মকান্ডের প্রাক্টিস করে থাকে। এছাড়া অস্ত্র বানানো, মার্শাল আর্টসহ বিভিন্ন অপকর্মের পশরা বসায় তারা সেখানে। সব চেয়ে মারাত্বক ও ঝূঁকিপূর্ণতা হচ্ছে রোহিঙ্গারা ক্যাম্প থেকে যে কোন সময় আসা যাওয়া করতে পারে। এভাবে যখন তখন যেখানে সেখানে আসা যাওয়ার ফলে তারা ইচ্ছামত সারাদেশে ছড়িয়ে পড়ছে এবং পুনর্বাসিত হচ্ছে।

তাছাড়া সেখানে সন্দেহভাজন অপরচিত মানুষের আনা গোনা চলে প্রতিদিন। দীর্ঘদিন থেকে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে গাইড ওয়াল বা কাঁটা তাঁরের বেড়া না থাকার কারণে তাদের এই অবাধ বিচরণ বলে মন্তব্য করেছেন বিশ্লেষকরা। রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলো অরক্ষিত এমনকি প্রশাসনের নিয়মিত নজরদারী না থাকার কারণে এখানে নানা ঘটনার সূত্রপাত ঘটছে। শুধু তাই নয় রোহিঙ্গারা ব্যবহার হচ্ছে রাজনীতিতে।

নয়াপাড়া শরণার্থী শিবিরের ক্যাম্প ইনচার্জ জালাল উদ্দিন এ প্রতিবেদককে জানান, কোন রোহিঙ্গা যদি কোথাও জরুরী কাজে যেতে চায় তবে তাকে কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে যেতে হয়। কিন্তু ক্যাম্পের চারিদিকে কোন গাইড ওয়াল বা কাটাতাঁরের বেড়া না থাকায় কর্তৃপক্ষকে ফাঁকি দেয়ার সুযোগ পাচ্ছে।

টেকনাফের নায়াপাড়া, মোছনি, লেদা পৃথক ৪টি রোহিঙ্গা ক্যাম্প রয়েছে। যেখানে প্রায় লক্ষাধিক মিয়ানমারের নাগরিক রোহিঙ্গারা বসবাস করছে। মিয়ানমার থেকে বিতাড়িত হয়ে আসায় মানবিক কারণে তাদের বাংলাদেশ সরকার আশ্রয় দেয় ওই সব ক্যাম্পে। পাশাপাশি রোহিঙ্গাদের নানাভাবে সেবা দিয়ে আসছে বিভিন্ন এনজিও সংস্থা। এরপরও আরো বেশি সুযোগ সুবিধার জন্য রোহিঙ্গারা বাইরে বের হয়ে নানা অপরাধমুলক কর্মকান্ডে জড়িয়ে পড়ছে টাকার বিনিময়।

তড়িতভাবে টেকনাফের রোহিঙ্গা ক্যাম্প গুলো প্রশাসনের কঠোর নজরদারীতার মধ্যে নিয়ে আসার পরামর্শ দিয়েছেন এখানকার সচেতন মানুষেরা।

ম্যালেরিয়া জ্বরের কারণ, লক্ষণ ও চিকিৎসা

ম্যালেরিয়া

দিদারুল আলম রাফি:

চট্টগ্রাম, কক্সবাজার এবং ৩ পার্বত্য জেলা খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি ও বান্দরবান জেলায় ম্যালেরিয়া ব্যাপক হারে ছড়িয়ে পড়েছে। ভয়াবহ আকার ধারণ করছে এই রোগ।

তিন পার্বত্য জেলায় কয়েক বছর ম্যালেরিয়ার প্রকোপ রোধ করা গেলেও তা আবারো জনমনে আতংক দেখা দিয়েছে। গত কয়েকবছর তা নিয়ন্ত্রণে থাকলেও চলতি বছরে, পাহাড়ের মানুষের কাছে ফের মহামারী হিসেবে দেখা দিয়েছে ম্যালেরিয়া।

ম্যালেরিয়া মূলত প্লাজমোডিয়াম, ফেলসিপেরাম, ভাইভক্স, ওভালে অথবা ম্যালেরি-এর যেকোনো একটি জীবানু বহনকারী মশার দংশন থেকে এ রোগ হয়।

ম্যালেরিয়ার লক্ষণ:
ম্যালেরিয়ার সাধারণ লক্ষণ হল শীত লাগা এবং কাঁপুনি দিয়ে জ্বর আসা। এটা বড়দের মধ্যেই অধিকহারে দেখা যায়। বাচ্চাদের অনেক সময় জ্বরের সঙ্গে পেটের গোলমাল, শ্বাসজনিত অসুবিধা ইত্যাদি দেখা যায়। ছয় মাস
থেকে পাঁচ বছরের বাচ্চাদের মধ্যে কাঁপুনি দিয়ে জ্বর আসা ভাবটি লক্ষ্য করা যায় না। এর পরিবর্তে খিটখিটে ভাব, ঝিমুনি, খাওয়ার অনীহা, বমি, মাথাব্যথা, খুব বেশী জ্বর প্রভৃতি দেখা দিয়ে থাকে। পাঁচ বছরের বেশী বয়সীরা ম্যালেরিয়াতে আক্রান্ত হলে প্রথমে শীত ও কাঁপুনি অনুভব করে, তারপর জ্বর ক্রমেই বৃদ্ধি পেয়ে ১০৫ ফারেনহাইট পর্যন্ত উঠতে পারে। সেই সঙ্গে প্রচন্ড মাথাব্যথা ও তারপর ঘাম দিয়ে জ্বর ছাড়লে রোগী খুব দুর্বল বোধ করে। ফ্যালসিপেরাম ম্যালেরিয়া ভয়াবহ আর জটিল আকার ধারণ করতে পারে শুরু থেকেই।
খিঁচুনি, শ্বাসকষ্ট, রক্তস্বল্পতা, প্রস্রাব কমে যাওয়া, প্রস্রাবের সঙ্গে রক্ত যাওয়া, কোমায় আচ্ছন্ন হওয়া ইত্যাদি জটিলতার লক্ষণ।

প্রাথমিক বিপদ সংকেত 
ম্যালেরিয়ায় আক্রান্তদের মধ্যে নিম্নলিখিত লক্ষণগুলো দেখলে অতি দ্রুত চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে:

পানি অথবা খাবারের প্রতি খুব বেশী অনীহা, ঘন ঘন বমি হওয়া, খিঁচুনি ও ঝিমুনিভাব দেখা দিলে বা অজ্ঞান হয়ে পড়লে এবং রোগীর মাঝে অত্যধিক ক্লান্তি দেখা দিলে।

রোগ নির্ণয়ের উপায় 
রক্ত পরীক্ষার মধ্যে ম্যালেরিয়ার জীবাণু খুঁজে বের করা রোগ নির্ণয়ের সর্বেোত্তম উপায়। ম্যালেরিয়া সন্দেহ করলে যে কোন সময়ই রোগীর রক্ত পরীক্ষা করা যাবে। তবে তা অবশ্যই ওষুধ শুরু করার আগে। যদি প্রথম পরীক্ষায় কিছু না পাওয়া যায়, তবে পরপর তিনদিন পরীক্ষা করা উচিত। মাইক্রোস্কোপ ছাড়াও এখন
ম্যালেরিয়ার এন্টিজেন পরীক্ষা করা হয়। এ ধরনের পরীক্ষায় কম সময় লাগে।

ম্যালেরিয়ার পরীক্ষা                                                                                                                    রক্তের ব্লাড ফিল্ম নামক পরীক্ষাটি দ্বারা জীবাণু নিশ্চিত করা যায়। 

জটিলতা                                                                                                                                রক্ত শুন্যতা, প্লিহা (Spleen) বড় হয়ে যাওয়া, কোমাসহ মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে।

চিকিৎসা 
ম্যালেরিয়া রোগের চিকিৎসার প্রধান লক্ষ্য রোগ দ্রুত শনাক্তকরণ ও আরোগ্য লাভ। চিকিৎসা নির্ভর করে রোগী কী ধরনের ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত হয়েছে, ভাইভ্যাক্স না ফ্যালসিপেরামে। ম্যালেরিয়ার জন্য ক্লোরোকুইন সবচেয়ে কার্যকরী ওষুধ। কিন্তু পুরো কোর্স খেতে হবে। তবে এখন আরও ভাল ভাল ওষুধ দেশে আছে।
ম্যালেরিয়ার জটিলতা দেখা দিলে সত্বর চিকিৎসা শুরু করতে হবে। সব রকম সুব্যবস্থা আছে এমন হাসপাতালে রোগীর চিকিৎসা করা উচিত।

ম্যালেরিয়া রোগ প্রতিরোধের উপায় 
ম্যালেরিয়াবাহী মশা মূলত সন্ধ্যা থেকে ভোরের মধ্যে কামড়ায়। এ সময়টাকে দু’ভাগে ভাগ করা যায়। সন্ধ্যা থেকে শোয়ার আগে আর শোয়ার পর থেকে ভোর পর্যন্ত বিছানায় যাওয়ার আগে শরীরের খোলা অংশগুলোতে মশা তাড়ানোর ক্রিম লাগানো যেতে পারে; কিন্তু এ ক্রিমগুলোর কার্যকারিতা স্বল্পস্থায়ী। মশারি ব্যবহার না করলে মশা তাড়ানোর ধুপ ও ম্যাট ব্যবহার করা যেতে পারে। বাড়িঘর ও আশপাশে যাতে মশা বংশবৃদ্ধি করতে না পারে সেদিকে সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে। কোথাও অবাঞ্ছিত পানি জমতে দেওয়া যাবে না। ওষুধ খেয়ে ম্যালেরিয়ার হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার পদ্ধতিটি যথেষ্ট নির্ভরযোগ্য নয়। কোনো অঞ্চলে ম্যালেরিয়ার
প্রাদুর্ভাব থাকলে সে স্থানে যাবার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী কলোরোকুইন বা প্রগুয়ানিল জাতীয় ঔষধে এ রোগের প্রকোপ থেকে বাঁচা যায়।

তথ্য গোপন ও অর্থের বিনিময়ে বান্দরবান ও কক্সবাজারে অর্ধলক্ষাধিক রোহিঙ্গা ভোটার তালিকায় অন্তর্ভূক্তির পথে

rohingya votar

নুরুল আলম সাঈদ, নাইক্ষ্যংছড়ি:

পার্বত্য বান্দরবান জেলার চার উপজেলা ও কক্সবাজার জেলার রোহিঙ্গা অধ্যুষিত আট উপজেলায় চলমান ভোটার হালনাগাদে রোহিঙ্গারা কৌশলে তথ্য গোপন করে অর্থের বিনিময়ে ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভূক্তির অপচেষ্টা চালিয়ে আসছে ।

জানা যায়, রোহিঙ্গা সলিডারিটি অর্গানাইজেশন (আরএসও) অর্থায়নে ও রাজনৈতিক দলের ছত্রছায়ায় চলমান ভোটার হালনাগাদ কার্যক্রম -২০১৪ মায়ানমার সীমান্তের রোহিঙ্গা অধ্যূষিত বাংলাদেশের বান্দরবান পার্বত্য জেলার বান্দরবান সদর, নাইক্ষ্যংছড়ি, আলীকদম, লামা উপজেলা ও পর্যটন নগরী কক্সবাজার জেলার রোহিঙ্গা অধ্যুষিত টেকনাফ, উখিয়া, রামু, চকরিয়া, কক্সবাজার সদর, কুতবদিয়া, পেকুয়া ও মহেশখালী উপজেলায় রোহিঙ্গারা দলে দলে রাজনৈতিক দলের ছত্রছায়ায় মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে ভোটার তালিকায় নিজের নাম অন্তর্ভূক্তি করছেন বলে বিশ্বস্ত সূত্রে জানা যায় ।

রোহিঙ্গা নাগরিকদের ভোটার তালিকায় অন্তর্ভূক্তির জন্য সীমান্তের বিচ্ছন্নতাবাদী সংগঠন রোহিঙ্গা সলিডারিটি অর্গানাইজেশন (আরএসও) নেতারা তোড় জোড় চালাচ্ছে বিগত দুই মাস ধরে । এর অংশ হিসেবে তাদের প্রবীণ নেতাদের নিয়ে দফায় দফায় বৈঠক ও বসে । বর্তমানে এসব উপজেলার প্রত্যন্ত এলাকার রোহিঙ্গা নাগরিকদের নগদ অর্থ এবং প্রতিটি মসজিদ, মাদ্রাসায় ইফতার ও ঈদ সামগ্রী বিতরণ করছে প্রতিনিয়ত । রোহিঙ্গারা ভোটার তালিকায় নিজ নাম অর্ন্তভূক্তিকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছে বলে বিশ্বস্ত সূত্রে জানা যায় । ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভূক্তির জন্য অর্থের যোগান দিচ্ছে আরএসও নামের সংগঠনটি । বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলায় রোহিঙ্গা সলিডারিটি অর্গানাইজেশন (আরএসও) ’র টাকার বিনিময়ে ভোটার হয়েছেন হাবিবা বেগম পিতা- আবুল কালাম স্বামী আব্দূল হান্নান ,মাহাবুবা বেগম স্বামী-জাহাঙ্গীর আলম,সেতারা বেগম পিতা-শফি উল্লাহ আর্দশ গ্রাম,জসিম উদ্দিন পিতা- ছৈয়দ আলম প্রকাশ কালু ,মরিয়ম বেগম স্বামী-আব্দু রাজ্জাক তার নাম ভোটার তালিকায় মৃত দেখানো হয়েছে বর্তমানে জীবিত আছেন । এছাড়া স্বামী ও মা-বাবা ভোটার হয়নি ।

অবৈধ পন্থায় সরকার দলীয় নেতাদের হস্তক্ষেপে ভোটার গননাকারী শিক্ষক সাইফুল ইসলাম এসব রোহিঙ্গাদেরকে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে ভোটার তালিকায় অন্তর্ভূক্তি করেছেন । জানা যায়, ২নং ওয়ার্ডের গননাকরী সাইফুল ইসলামও রোহিঙ্গা নাগরিক । এছাড়া মমতাজ বেগম স্বামী-শামসুল আলম, নুরুল হাকিম পিতা-নুর মোহাম্মদ বিছামারা, মো. ছাদেক পিতা-মো. ইউনুছ, ছৈয়দ হোসেন পিতা-ঠান্ডা মিয়া, মনোয়ারা বেগম স্বামী-আলমগীর, জান্নাতুল ফেরদৌস স্বামী নুরুল আলম, জসিম উদ্দিন পিতা নুর মোহাম্মদ এসব ব্যক্তির পিতা-মাতা ,স্বামী,চাচা, ফুফু পূর্বে ভোটার তালিকায় নাম না থাকলেও সরকার দলীয় গুটি কয়েক নেতা-কর্মী, গণনাকারী , সুপারভাইজার ও নাইক্ষ্যংছড়ি নির্বাচন অফিসার মাইনুল হককে মোটা অংকের টাকা দিয়ে নিজের নাম ভোটার তালিকায় অর্ন্তভূক্তি করেছেন বলে বান্দরবান অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক বরাবরে অভিযোগ দাখিল করেছেন।

এদিকে নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান কামাল উদ্দিন ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান হামিদা চৌধুরী টাকা নিয়ে ভোটার তালিকায় রোহিঙ্গা নাগরিক অর্ন্তভূক্তি না করতে এবং প্রকৃত বাংলাদেশীদের ভোটার তালিকায় অন্তর্ভূক্তির জন্য নির্বাচন অফিসারকে আহবান জানালে তিনি এই বক্তব্যকে ভিন্ন খাতে প্রভাবিত করে, একটি ষড়যন্ত্রকারী মহল ও রোহিঙ্গা আরএসও নেতাদের ইন্ধনে বিভিন্ন মাধ্যমে তাকে অপদস্ত করা হয়েছে বলে বক্তব্য প্রদান করে আসছে ।

এ বিষয়ে উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান কামাল উদ্দিন বলেন, নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার সব মানুষের সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ সহবস্থান নষ্ট করার জন্য একটি কু-চক্রী মহলের হয়ে তিনি এই অপচেষ্টা চালাচ্ছে । তার সাথে আমার কোন কথা কাঁটাকাঁটি হয়নি ।

এ বিষয়ে উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান হামিদা চৌধুরী বলেন, আমি জনপ্রতিনিধি , আমার কাছে কোন মানুষ আসলে আমি সুপারিশ করি, এটি আমার দোষ । নির্বাচন অফিসারের সাথে আমার কোন তর্কাতর্কি হয়নি ।

জানা যায়, নির্বাচন কমিশনের প্রথম ও দ্বিতীয় দফা ভোটার হালনাগাদ কার্যক্রমের অংশ হিসেবে মাঠ পর্যায়ে তথ্য সংগ্রহকারীদের সংগৃহীত সর্বশেষ রেকর্ড পত্রাদি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য গঠিত বিশেষ কমিটির যাচাই-বাছাই ও ছবি তোলার কার্যক্রম চলছে । এদিকে নির্বাচন কমিশনের নানা শর্তের বেড়াজালে আটকা পড়ে বান্দরবান ও কক্সবাজার জেলার ভোটার হওয়ার উপযোগী প্রায় ২০ হাজার জনসাধারণ তথ্য ফরম সংকটের কারণে ভোটার হতে পারেনি।

অথচ নির্বাচন কমিশনের বিশেষ কড়াকড়িতে হাজার হাজার অনুপ্রবেশকারী রোহিঙ্গারা কৌশল পাল্টিয়ে বান্দরবান, কক্সবাজারসহ বিশেষায়িত ১৪ উপজেলাকে এড়িয়ে বৃহত্তর চট্টগ্রামের বিভিন্ন উপজেলায় মিথ্যা তথ্য দিয়ে ভোটার হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

নির্বাচন কমিশনের তফসীল অনুযায়ী বান্দরবান ও কক্সবাজার জেলায় প্রথম ও দ্বিতীয় দফায় ১৫ জুন থেকে ২৪ জুন পর্যন্ত মাঠ পর্যায়ে ভোটার হাল নাগাদ তথ্য সংগ্রহের কাজ চলে। এ সময় মোট ভোটারের শতকরা ৫ শতাংশ হারে তথ্য ফরম তথ্য সংগ্রহকারীদের নিকট সরবরাহ দেওয়ায় এখানে ফরম সংকট থাকা সত্বেও নির্বাচন অফিস থেকে চাহিদা অনুপাতে ফরম সরবরাহ না দেওয়ায় প্রায ২০ হাজার ভোটার উপযোগী লোক ভোটার হতে পারেনি। উখিয়ার রাজাপালং ইউনিয়নের পাতাবাড়ী গ্রামের দুবাই প্রবাসী নুরুল আমিন কাগজ পত্র সব কিছু জোগাড় করে তথ্য সংগ্রহকারীর নিকট জমা দিতে পারলেও শেষ পর্যন্ত ফরম সংকটের কারণে ভোটার হতে পারছে না বলে জানান।

রত্নপালং ইউনিয়নের ডিগ্রী দ্বিতীয় বর্ষের অধ্যয়নরত ছাত্র মোহাম্মদ আবু ফয়সালসহ অনেক ছাত্র অভিযোগ করে বলেন, দেশের অন্যান্য এলাকার চেয়ে উখিয়ায় ভোটার হওয়া খুবই জটিল ব্যাপার। নাইক্ষ্যংছড়ি সদরের শাকিলা রায়হান বলেন, আমার বয়স হওয়ার পর অদৃশ্য কারণে ভোটার হতে পারিনি । নাইক্ষ্যংছড়ির নির্বাচন অফিসার মাইনুল হক বলেন, অনেক রোহিঙ্গা এদের মাঝে প্রকৃত বাংলাদেশী নির্ণয় করা কঠিন হয়ে দাড়িয়েছে । তবুও এলাকার জনপ্রতিনিধি এবং প্রশাসনের সহায়তায় কোন ভাবে শেষ করেছি । শেষ পর্যন্ত ভোটার হালনাগাদ বিষয়ে কোন অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি ।

উখিয়া অতিরিক্ত উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা রায়হানুল ইসলাম মিয়া বলেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যে সব আবেদনকারী নির্বাচন কমিশনের চাহিদা অনুপাতে প্রয়োজনীয কাগজপত্র সহ আবেদন করতে সক্ষম হয়েছে সে ধরনের ৫ হাজার ৩শ ৪৩টি ফরম তথ্য সংগ্রহকারীরা পূরণ করে জমা দিয়েছেন। এ সময় তথ্য সংগ্রহকারীরা ২৭৫জন মৃত ভোটার ও প্রায় ৪শ জন স্থানান্তরকরণের আবেদন ফরম জমা দিয়েছেন।

কক্সবাজারের ৮ উপজেলা, পার্বত্য বান্দরবানের ৪ উপজেলা ও পাবর্ত্য রাঙ্গামাটির ২ উপজেলাসহ ১৪উপজেলাকে অনুপ্রবেশকারী রোহিঙ্গাসহ বিদেশী নাগরিক ভোটার তালিকায় অর্ন্তভুক্তির আশংকায় বিশেষায়িত ঘোষনা করা হয়। উল্লেখিত ১৪ উপজেলায় ভোটার হতে আগ্রহী উপযুক্ত লোকজনদের বাবা, মা, চাচা, ভাই, ফুফুর জাতীয় পরিচয় পত্র, জমির খতিয়ান, জন্ম নিবন্ধন, জাতীয়তা সনদ, বিদ্যুৎবিলসহ ১৩ প্রকারের তথ্য প্রমাণাদি তথ্য সংগ্রহকারীদের নিকট প্রদান পূর্বক ফরম পূরণের নির্দেশনা রয়েছে। এসব তথ্য সংশ্লিষ্ট কাগজ পত্র যেসব আবেদনকারী জমা দিতে সক্ষম হয়েছে শুধু মাত্র তারাই ভোটার হতে পারবে বলে নির্বাচন অফিস থেকে জানা গেছে।

রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ প্রতিরোধ ও প্রত্যাবাসন সংগ্রাম পরিষদের আহবায়ক অধ্যক্ষ হামিদুল হক চৌধুরীসহ অনেক সচেতন লোকজন বলেছেন, নির্বাচন কমিশনের কঠোরতা ও নানা শর্তাবলী বিদেশী নাগরিকদের বাংলাদেশের ভোটার তালিকায় অর্ন্তভূক্তিতে অনেকটা যুগোপযোগী। কিন্তু কক্সবাজার জেলার উখিয়া, টেকনাফ, সদর, পেকুয়া, রামু, চকরিয়া, কুতুবদিয়া, মহেশখালী, পাবর্ত্য বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি, লামা, আলী কদম, সদর ও রাঙ্গামাটির কাপ্তাই ও রাজস্থলী উপজেলাকে রোহিঙ্গা প্রবণ এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করে এসব উপজেলায় বিশেষ কড়াকড়ি আরোপ করা হয়।

এসবের পাশাপাশি রোহিঙ্গাদের নিরাপদ আস্তানা হিসেবে খ্যাত চট্টগ্রাম সিটিকর্পোরেশন ও জেলার বিভিন্ন উপজেলাকে অনুপ্রবেশকারী রোহিঙ্গারা ভোটার হতে নিরাপদ ও সহজ ভেবে বিভিন্ন বাসা বাড়ীতে আশ্রয় নিয়ে কৌশলে ভোটার হয়ে যাচ্ছে। কারণ উল্লেখিত ১৪ উপজেলার বাইরে বাকী উপজেলাগুলোতে ভোটার আগ্রহী ও উপযোগী যে কেউ সহজে ভোটার হতে সক্ষম বিধায় ভূয়াঁ জাতীয়তা সনদ, জন্ম নিবন্ধনসহ সংশ্লিষ্ট কাগজ পত্রের ফটোকপি জমাপূর্বক ভোটার হওয়ার অভিযোগ রয়েছে। তারা এসব উপজেলায় নিবন্ধিত ভোটার ফরম ও তৃতীয় ধাপে তথ্য সংগ্রহের সময় বিশেষ নজরদারীর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবী জানিয়েছেন।

৪৩ বছরেও পর্যটন শহর হিসেবে গড়ে ওঠেনি টেকনাফ সেন্টমার্টিন

teknaf sanmatiom

টেকনাফ প্রতিনিধি:

ভৌগোলিক অবস্থানগত কারণে গুরুত্বপূর্ণ এবং প্রাকৃতিক সম্পদ ও সম্ভাবনায় ভরপুর সাগর-নদী-পাহাড় ঘেরা সীমান্ত শহর টেকনাফ এবং দেশের একমাত্র প্রবালদ্বীপ সেন্টমার্টিন স্বাধীনতার পর ৪৩ বছরেও আধুনিক ও পরিকল্পিত পর্যটন শহর হিসেবে গড়ে ওঠেনি। অথচ পরিকল্পিত উপায়ে আধুনিক পর্যটন শহর হিসেবে গড়ে তোলা হলে তা শুধু দেশে নয়, গোটা দুনিয়া জুড়ে খ্যাতি পেতে পারতো।

 

 

কারণ সাগর-নদী-পাহাড়-সমুদ্র সৈকত- প্রবালদ্বীপ ও অপার সম্ভাবনা আর প্রাকৃতিক সম্পদে ভরপুর সব কিছুর সমন্বয়ে এমন পর্যটন অঞ্চল বিশ্বে কমই আছে। তবে দেরিতে হলেও সরকার পরিকল্পিত পর্যটন নগরী হিসাবে গড়ে তুলতে সেন্টমার্টিন দ্বীপ থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত প্রায় ৮০ হাজার একর জমি নিয়ে মাস্টারপ্ল্যানের চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে।

জানা গেছে,প্রস্তাবিত মাস্টারপ্ল্যান কিছুটা কাটছাঁট করে চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়ে গেজেট আকারে প্রকাশ করেছে সরকার। এদিকে মাস্টারপ্ল্যানের কাজ শুরুর পর থেকেই দেশি-বিদেশি উদ্যোক্তারা কক্সবাজারে বিনিয়োগ করার ক্ষেত্রে ধীরে চলো নীতিগ্রহণ করেছিলেন। যতদিন পর্যন্ত মাস্টারপ্ল্যান অনুমোদিত হবে না, ততদিন তারা ঝুঁকি নিতে চাননি। মাস্টারপ্ল্যানে কোথায় কী হবে, কী করা যাবে, আর কী করা যাবে না- এমন সব বাধ্যবাধকতার কারণেই মূলত এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল। এসব বিনিয়োগকারীরা রাজধানীর ‘ড্যাব’-এর মতো জটিলতায় পড়তে চাননি। কিন্তু এখন মাস্টারপ্ল্যান চূড়ান্ত অনুমোদন পাওয়ায় স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছে স্থানীয় প্রশাসন এবং দেশী-বিদেশী উদ্যোক্তারা।

বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকতের শহর কক্সবাজার ও দেশের একমাত্র প্রবালদ্বীপ সেন্টমার্টিনে পর্যটন শিল্পের প্রসার শুরু হয় মূলত কয়েক যুগ আগে থেকেই। বিপুলসংখ্যক পর্যটকের পদচারণায় মুখরিত কক্সবাজার, টেকনাফ ও সেন্টমার্টিনে দেখা দেয় আবাসন, বিনোদনসহ নানা সংকট। আর এই সুযোগে পর্যটকদের সুবিধা দিতে কক্সবাজার থেকে সেন্টমার্টিন পর্যন্ত গড়ে উঠেছে শত শত বহুতল ভবন।

গত বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সময়ে কক্সবাজারের সাগরকে হোটেল-মোটেল জোন ঘোষণা করে প্লট বরাদ্দ দেয়া হয়। সেখানে এখন গড়ে উঠেছে অর্ধশতাধিক অট্টালিকা। হোটেল-মোটেল জোনের পূর্ব পাশে এখন শতাধিক গেস্ট হাউস বাণিজ্যিকভাবে হোটেল ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। আর এর পরিধি বেড়ে কক্সবাজার শহর ছেড়ে বিস্তীর্ণ সৈকত হয়ে ঠেকেছে দেশের শেষ সীমানা সেন্টমার্টিন পর্যন্ত। পর্যটন শিল্পের অংশ হিসেবে গড়ে উঠেছে শত শত অট্টালিকা।

রাজধানী ঢাকায় যেখানে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক পাঁচ তারকামানের হোটেল নেই, সেখানে কক্সবাজারেই গড়ে উঠেছে প্রায় এক ডজন পাঁচ তারকামানের হোটেল। নির্মিত হচ্ছে আরো বেশ কয়েকটি। এছাড়া স্টুডিও টাইপ তিন তারকা ও পাঁচ তারকামানের অ্যাপার্টমেন্টও রয়েছে অর্ধশতাধিক। এসব নির্মাণে কক্সবাজারে বর্তমানে অর্ধশতাধিক ডেভেলপার কোম্পানি কাজ করছে বলে জানা গেছে। এসব প্রকল্পে দেশ-বিদেশের ব্যবসায়ীরা বিনিয়োগ করেছেন হাজার হাজার কোটি টাকা। ফলে কক্সবাজার একটি দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনৈতিক অঞ্চলে রূপ নিতে যাচ্ছে।

কিন্তু সরকারিভাবে কোন ধরনের মাস্টারপ্ল্যান না থাকায় পুরো কক্সবাজারই অপরিকল্পিত নগরায়নে পরিণত হয়েছে। দীর্ঘ দিন ধরে কক্সবাজারবাসী ও বিনিয়োগকারীদের দাবী ছিল পুরো কক্সবাজারকে একটি মাস্টারপ্ল্যানের আওতায় আনা। এরই ধারাবাহিকতায় সরকারের পক্ষে নগর উন্নয়ন অধিদপ্তর ও বেসরকারি সংস্থা শেলটেক কনসালট্যান্ট যৌথভাবে মাস্টারপ্ল্যান তৈরির উদ্যোগ নেয়। দীর্ঘ প্রায় দুই বছর কাজ করার পর ২০১১ সালের ১১ মে নগর উন্নয়ন অধিদফতর মাস্টারপ্ল্যানের খসড়া প্রকাশ করে। ‘প্রিপারেশন অব ডেভেলপমেন্ট প্ল্যান অব কক্সবাজার টাউন অ্যান্ড সি-বিচ আপ টু টেকনাফ’ নামক প্রকল্পের আওতায় এই খসড়া পরিকল্পনা (মাস্টারপ্ল্যান) তৈরী করা হয়।

বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, কক্সবাজারের মহেশখালী পৌরসভা ও আদিনাথ মন্দির এলাকা থেকে শুরু করে কক্সবাজার পৌরসভা, কক্সবাজার সদর উপজেলার একাংশ, কক্সবাজার সমুদ্রসৈকত থেকে টেকনাফ সৈকত পর্যন্ত এলাকা, রামু ও উখিয়া উপজেলার একাংশ, টেকনাফ পৌরসভা, সাবরাং ইউনিয়নের একাংশ এবং সেন্টমার্টিন দ্বীপসহ প্রায় ৮০ হাজার একর জমি নিয়ে মাস্টারপ্ল্যানটি প্রণয়ন করা হয়েছে। এর মধ্যে কক্সবাজার পৌরসভা ও সদর উপজেলার একাংশে হোটেল-মোটেল জোন, খেলার মাঠ, সরকারি অফিস-আদালত, আবাসিক ও বাণিজ্যিক এলাকা, পিকনিক স্পট, এডুকেশন জোন, বিশ্ববিদ্যালয়, কেন্দ্রীয় বাণিজ্যিক জোন, সিটি পার্ক, ন্যাচারাল পার্ক, প্রাকৃতিক বনসহ ইকোট্যুরিজম, রেল স্টেশন, চাইন্দায় শিল্প এলাকা, ময়লা-আবর্জনার ডাম্পিং জোন, খুরুশকুলে প্রাকৃতিক বন, পার্ক, মৎস্য জোন, ন্যাশনাল পার্ক, মহেশখালীতে পার্ক, ইকোট্যুরিজম, আবাসিক ও বাণিজ্যিক এলাকা, টেকনাফে এক্সক্লুসিভ ট্যুরিস্ট জোন, সেন্টমার্টিনে ইকোট্যুরিজম সহ নানা পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। এই মাস্টারপ্ল্যানের খসড়া প্রকাশের দীর্ঘ দুই বছর পর সম্প্রতি তা চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়ে গেজেট আকারে প্রকাশ করেছে সরকার।

দেশের একমাত্র প্রবালদ্বীপ সেন্টমার্টিনের সাগরের তলদেশে রয়েছে মনোমুগ্ধকর বিচিত্র্য প্রাণী ও হরেক রকম জীব। রয়েছে নানান আকারের পাথরের স্তুপ, দুর্লভ প্রবাল, পাথরের ফুল। সাগরের জলরাশি ও সৌন্দর্যে ভরা বিচিত্র জীব-প্রাণী যেন হাতছানি দিয়ে ডাকে দেশী-বিদেশী পর্যটকদের। সাগরের তলদেশে এসব বিচিত্র জীব অবাক হওয়ার মত, দেখলে মনে হবে সাগরের তলদেশে রয়েছে  শ্রষ্টার সৃষ্টির রহস্যময় এক জগত।

গবেষকদের মতে- সেন্টমার্টিনের উপরের অংশে যে সৌন্দর্য্য রয়েছে তার বহুগুণ মনোমুগ্ধকর সৌন্দর্য্য পড়ে রয়েছে সাগর তলদেশে। উপরে সাগরের সুনীল জলরাশি আর নারিকেল গাছের ছায়ায় ঢাকা বিস্তীর্ণ সাদা বালুকাবেলার চেয়েও সুন্দর এক জগত পড়ে আছে পানির নিচে। এখানে রয়েছে কোরালের পাশাপাশি ছোট ছোট জীব, যা সাগরের তলদেশে তৈরি করে বিচিত্র ধরনের বাসা। কোমর পানির নিচে ডুব দিলে দেখা মেলে বিচিত্র কোরাল ও নানা ধরনের মাছ ও শৈবালের। এছাড়া সাগরের গভীরে রয়েছে বিশাল বিশাল বিচিত্র পাথর ও প্রবালের স্তুপ।

সেন্টমার্টিনের ছেড়াদ্বিয়া (স্থানীয় ভাষায়-চিরাদিয়া) ভ্রমণ করে এসব সৌন্দর্য্য উপভোগ করতে পারেন যে কোন পর্যটক। দেশের পর্যটন রাজধানী কক্সবাজারের সর্বদক্ষিণে অবস্থিত সেন্টমার্টিন দ্বীপে প্রতি বছর ভ্রমনে আসেন দেশী-বিদেশী কয়েক লাখ পর্যটক। কিন্তু পর্যটকরা নানান কারণে দ্বীপের এই সৌন্দর্য না দেখে ফিরে যান। সেন্টমার্টিনের এসব সাগর রতœ না দেখে ফিরে যাওয়াকে দুর্ভাগ্য বলেই অনেকে মনে করেন।এসব সাগর রতœ দেখতে হলে অবশ্যই সেন্টমার্টিনে থাকতে হবে। এখানে পর্যটকদের থাকার সুযোগ-সুবিধা রয়েছে অনেক।

বর্তমানে মানসম্মত হোটেল-মোটেল আর কটেজের সংখ্যাও বাড়ছে। এগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হোটেল এবং কটেজ হচ্ছে- প্রিন্স হেভেন, আল বাহার, প্রাসাদ প্যারাডাইজ, কক্স বাংলা, রোজ মেরি, ব্লু মেরিন রিসোর্ট, ডলফিন, সি আইল্যান্ড, সি ব্লু, ব্লু সি,  ব্লু মুন, সীমানা পেরিয়ে, অবকাশ, ড্রীম নাইট, সিটিবি, ডায়মন্ড, আইল্যান্ড প্রাসাদ, প্রিন্স আলবাহার, ঊশান ভিউ, সমুদ্র বিলাস, স্বপ্নপুরী, স্বপ্ন বিলাশ, সাগর বিলাস, জলপরী, নীল দিগন্ত, নাবিবা বিলাস, পান্না রিসোর্ট, কোরাল ভিউ, সেন্ট রিসোর্ট, রেহানা কর্টেজ, ময়নামতি, দেওয়ান কটেজ, গ্রিনল্যান্ড, মুজিব কটেজ, শাহজালাল কটেজ, রেজা কটেজ, রিয়াদ রেস্ট হাউস, বে অব বেঙ্গল ইত্যাদি। পর্যটকদের সেবা দিতে টেকনাফ পৌর শহরেও গড়ে উঠেছে বেশ কিছু আবাসিক-অনাবাসিক হোটেল- দ্বীপপ্লাজা, স্কাইভিউ, নাফ, নিরিবিলি, সম্রাট, রাজমহল, আল-আব্বাছ, নাফ কুইন, নাফ সীমান্ত, আল-করম, গ্রীন গার্ডেন, মিল্কি রিসোর্ট, বড়হাজী হোটেল, প্লেজার-ইন্, হিলটপ ইত্যাদি।

তাছাড়া রয়েছে পর্যটন কর্পোরেশনের হোটেল নেটং, জেলা পরিষদ ডাকবাংলো, পানি উন্নয়ন বোর্ড, বিদ্যুৎ, সড়ক ও জনপথ, গণপূর্ত, বনবিভাগ ও জনস্বাস্থ্য বিভাগের রেস্টহাউস সেন্টমার্টিন দ্বীপের বাসিন্দা তাহেরা বেগম জানান, দ্বীপের মানুষ পর্যটকদের বরণ করতে সদাপ্রস্তুত।

সেন্টমার্টিন দ্বীপের ইউপি চেয়ারম্যান আলহাজ্ব নুরুল আমিন জানান, দ্বীপের মানুষ সবসময় পর্যটকবান্ধব। পর্যটন মৌসুমে যাতে দেশী-বিদেশী পর্যটক শিক্ষার্থীরা নিরাপদে দ্বীপে ভ্রমণ করতে পারেন সেজন্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য সবপ্রস্তুতি নেয়া হয়। পর্যটক আগমনকে ঘিরে অপরূপ সাজে সাজানো হয় সমুদ্র সৈকত, জেটি ও দ্বীপের বিভিন্ন প্রাকৃতিক স্পটগুলো। তিনি আরো বলেন, “অপূর্ব সুন্দর স্থান সেন্টমার্টিন দ্বীপ, স্বচ্ছ নীল পানিতে ঘেরা এই দ্বীপের মানুষও অসম্ভব ভালো। চুরি ডাকাতির রেকর্ড নেই। সারারাত ঘুরতে পারা যায় নির্ভয়ে-নির্জনে। বিশেষত চাঁদনী রাতে দ্বীপের অপরূপ সৌন্দর্য কেবল উপভোগ, অবলোকন ও হৃদয়াঙ্গম করা যায় যা লিখে বা বলে বোঝানো সম্ভব নয়।

কক্সবাজারের চকরিয়াতে সড়ক দুর্ঘটনায় ২ জন নিহত : ৬ জন আহত

images স
স্টাফ রিপোর্টার, কক্সবাজার:

কক্সবাজার-চট্রগ্রাম মহা সড়কের চকরিয়াতে বালি ভর্তি ট্রাক আর চাদেঁর গাড়ীর মুখোমুখি সংঘর্ষে ২ দিন মজুর নিহত ও ৬ জন আহত হয়েছে। আহতদের মধ্যে ২ জনের অবস্থা আশংকাজনক।

 

চকরিয়ার হারভাং দরগাহ এলাকায় শনিবার ভোর ৫ টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। চকরিয়ার হারভাং পুলিশ ফাড়িঁর ইনচার্জ এস আই বাবুল আজাদ জানান, চকরিয়া থেকে লোহাগাড়া গামী চাদেরঁ গাড়ী ও বিপরিত দিক থেকে আসা বালিভর্তি ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে ঘটনাস্থলে চকরিয়ার হারভাং কাটাখালী গ্রামের ইদ্রিস মারা যায়। আহত হয় ৭ জন।

হাসপাতালে নেয়ার পথে চকরিয়ার হারভাং পাহাড়তলি এলকার হেলাল উদ্দিন মারা যায়। তারা দু জনই দিন মজুর বলে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান বাবর জানিয়েছেন। আহতদের মধ্যে আলমগীর ও ফরিদের অবস্থা আশংকাজনক বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছে। আহতদের চকরিয়া ও চট্রগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।