কক্সবাজার সদর থানা পুলিশের অভিযানে গ্রেফতার ১৮

বিশেষ প্রতিনিধি, কক্সবাজার:

কক্সবাজার সদর থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে বিভিন্ন মামলায় অভিযুক্ত ১৮ জনকে আটক করেছে।

এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ১১ মার্চ সকাল থেকে ১২ মার্চ  সকাল পর্যন্ত তাদের গ্রেফতার করা হয়।

ভারপ্রাপ্ত অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ খায়রুজ্জামান এর নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে ১৮ আসামিকে গ্রেফতার করেন কক্সবাজার সদর মডেল থানা পুলিশ। গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিদের মাঝে রয়েছে বিভিন্ন মামলার আসামি।

কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত অফিসার ইনচার্জ মো. খায়রুজ্জামান খান এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন বিভিন্ন মামলায় গ্রেফতারের পর আদালতের মাধ্যমে তাদেরকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

এলাকার আম জনতা ও পর্যটকদের সার্বিক নিরাপত্তার নিশ্চিতের লক্ষ্যে মামলায় অভিযুক্ত ও চিহিৃত অপরাধীদের বিরুদ্ধে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

কক্সবাজার শহরে বন্দুকযুদ্ধে ইয়াবা কারবারী নিহত 

বিশেষ প্রতিনিধি, কক্সবাজার:

কক্সবাজার শহরে বন্দুকযুদ্ধে দেলোয়ার হোসেন নামে এক ইয়াবা ব্যবসায়ী নিহত হয়েছে।

মঙ্গলবার ভোরে পুলিশ তার গুলিবিদ্ধ লাশ উদ্ধার করেছে। ওই সময় অস্ত্র, তাজা কার্তুজ ও ইয়াবা উদ্ধার করে বলেও জানায় পুলিশ।

পুলিশ জানিয়েছে, ইয়াবা ব্যবসায়ীদের দুইপক্ষের ভাগবাটোয়া নিয়ে নিজেদের মধ্যে গোলাগুলি হয়েছে। এতে একজনের মৃত্যু হয়েছে। মৃত ব্যক্তির নাম দেলোয়ার হোসেন (৩৮)। তিনি শহরের বাস টার্মিনালের লারপাড়া এলাকার গোলাম হোসেন ওরফে গুল হোসেনের ছেলে বলে জানাগেছে।

ঈদগাঁও থেকে ৪ শ্রমিক অপহরণ, ১২ ঘন্টা পর ২ জন উদ্ধার

বিশেষ প্রতিনিধি, কক্সবাজার:

কক্সবাজার সদরের ঈদগাঁও থেকে ফের ৪ শ্রমিক অপহরণ করেছে অপহরণকারীরা। তবে দুই শ্রমিককে অপহরণের ১২ ঘন্টার পর পুলিশ অভিযান চালিয়ে উদ্ধার করেছে।

তারা হল ঈদগাঁও ইউনিয়নের ভাদিতলা এলাকার ফয়েজুর রহমানের পুত্র মুজিবুর রহমান ও আবদু সালামের ছেলে আবদু শুক্কুর। ৮ মার্চ রাত আনুমানিক ২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে ভাদিতলার পুর্বে একটি পাহাড়ে।

স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, উদ্ধার হওয়া শ্রমিকদ্বয় ঘটনাস্থলের পাশে পাহাড়ের ধান চাষাবাদ করছিল। বণ্যহাতীর উপদ্রব বেড়ে যাওয়ায় তা পাহারা দেওয়ার জন্য টং ঘরে অবস্থান নেয়। এ সময় অপহরণকারী চক্রের ১০/১২ জন সদস্য তাদেরকে অস্ত্রের মুখে তুলে নিয়ে পাহাড়ে দিকে ঢুকে পড়ে।

খবর পেয়ে ঈদগাঁও পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের  ইনচার্জ মো. আসাদুজ্জামানের নির্দেশে এএসআই লিটনুর রহমান জয়, এসএসআই জামাল উদ্দীন সঙ্গীয় একদল ফোর্স দ্রুত পাহাড়ে ঢুকে পড়ে। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে গহীন জঙ্গলে তাদের রেখে পালিয়ে যায় অপহরণচক্রের সদস্যরা।  ১২ ঘন্টা পর পুলিশ অপহৃতদের উদ্ধার করে তদন্ত কেন্দ্রের হেফাজতে নিয়ে আসে।

উল্লেখ্য, শুক্রবার রাতে একই ইউনিয়নের ভোমরিয়া ঘোনা সাততারা নামক স্থান থেকে অপর দুই শ্রমিক আবু তালেব ও আবু শামা অপহৃত হয়। এখনো তাদের সন্ধান পাননি পরিবার ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। বেশ কিছুদিন বন্ধ থাকার পর  আবারও অপহরণকারী চক্রের সদস্যরা একের পর এক নিরীহ মানুষ অপহরণ করে নিয়ে যাওয়ার ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে আবারো আতঙ্ক বিরাজ করছে বলে জানা গেছে।

৩১৯ জন রোহিঙ্গা এইডসে আক্রান্ত

ডেস্ক রিপোর্ট

কক্সবাজারের উখিয়া টেকনাফের বিভিন্ন শিবিরের রোহিঙ্গাদের মধ্যে এইচআইভি এইডসে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়েছে। আক্রান্তদের মধ্যে পুরুষের তুলনায় নারীর সংখ্যা বেশি।

এ পর্যন্ত এইচআইভি-এইডসে আক্রান্ত ৩১৯ জন রোহিঙ্গাকে চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে ২৭৭ জন চিকিৎসার আওতায় রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা বলছেন।

এর আগে গত ফেব্রুয়ারিতেই এইডসে আক্রান্ত অন্তত ৯ জন রোহিঙ্গার সন্ধান মিলেছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যানুযায়ী, বর্তমানে উখিয়া-টেকনাফের শিবিরগুলোয় প্রায় ৯ লাখ ৯ হাজার রোহিঙ্গা অবস্থান করছে।

তাদের মধ্যে গত ফেব্রুয়ারিতে এইডসে আক্রান্ত ৪ পুরুষ ও ৫ নারীকে চিহ্নিত করা হয়। একই সময়ে এ রোগে দুই নারী ও এক পুরুষ মারা যান। তবে ফেব্রুয়ারিতে কক্সবাজারের স্থানীয়দের মধ্যে এইডস আক্রান্ত কাউকে পাওয়া যায়নি।

এ ব্যাপারে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এইডস-এসটিডি কর্মসূচির কর্মকর্তা এসএম আখতারুজ্জামান বলেন, ‘কক্সবাজার, উখিয়া ও টেকনাফ হাসপাতালে এইচআইভি-এইডস শনাক্তকরণ সংক্রান্ত কাউন্সিলিং ও টেস্ট করার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

যাদের শরীরে এইচআইভি ভাইরাস পাওয়া যায় তাদের কক্সবাজার হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয়। গত ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এইচআইভি-এইডসে আক্রান্ত ৪৪৮ জনকে শনাক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে ৩১৯ জন রোহিঙ্গা এবং ১২৯ বাংলাদেশি রয়েছে।’

আক্রান্তদের মধ্যে ২৭৭ জন রোহিঙ্গা এবং ৭২ বাংলাদেশিকে চিকিৎসার আওতায় আনা হয়েছে। যারা এইডসে আক্রান্ত হয়েছে তাদের মধ্যে ৬৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ১৯ জন রোহিঙ্গা এবং ৪৪ জন বাংলাদেশি। আক্রান্ত ও মারা যাওয়াদের মধ্যে পুরুষের তুলনায় নারীর সংখ্যা বেশি।

আখতারুজ্জামান আরও বলেন, কক্সবাজারের এলাকার এইচআইভি-এইডসে আক্রান্তদের শনাক্তকরণ ও চিকিৎসা দেওয়া হয় জেলা হাসপাতালের মাধ্যমে। তবে এ রোগে আক্রান্ত রোহিঙ্গাদের ক্যাম্প থেকে হাসপাতালে আনা-নেওয়ার ক্ষেত্রে নানা ধরনের জটিলতার মুখোমুখি হতে হয়। এ কারণে উখিয়া স্বাস্থ্য কেন্দ্রে এইডসে আক্রান্ত রোহিঙ্গাদের শনাক্তকরণ ও চিকিৎসা কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে।

এরই মধ্যে কক্সবাজারে চিকিৎসাসেবা গ্রহণকারী ৮৪ রোহিঙ্গাকে উখিয়া স্বাস্থ্য কেন্দ্রে স্থানান্তর করা হয়েছে। বাকিদের পর্যায়ক্রমে স্থানান্তর করা হবে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের টিবি-ল্যাপ্রোসি এবং এইডস-এসটিডি প্রোগ্রামের লাইন ডিরেক্টর অধ্যাপক ডা. শামিউল ইসলাম বলেন, ‘মিয়ানমারে অন্যান্য জনগোষ্ঠীর তুলনায় রোহিঙ্গাদের এইচআইভি-এইডসে আক্রান্তের হার কম। যদিও তা আমাদের দেশের তুলনায় বেশি। সে জন্য শনাক্ত ও চিকিৎসা কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করতে কাজ করছি। রোহিঙ্গা এইডস রোগীদের বেশিরভাগ মিয়ানমারে শনাক্ত হয়েছিল।

কিন্তু সেখানে স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনার কারণে তারা চিকিৎসা পেত না। আমাদের দেশে আসার পর আমরা এইচআইভি আক্রান্তদের শনাক্ত করে চিকিৎসার আওতায় এনেছি। যেন অন্যদের মধ্যে এ ভাইরাস সংক্রমিত না হয়। আমরা প্রিভেশন মাদার টু চাইল্ড নামে একটি প্রোগ্রাম চালু করেছি। যার আওতায় গর্ভবতী নারীদের এইচআইভি পরীক্ষা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে কেউ শারীরিক নির্যাতনের শিকার এলে তখনও এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছি।

এ ছাড়া ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর কেউ কোনো কারণে চলে এলে তাদের পরীক্ষা করছি। বৈশ্বিক নিয়ম অনুযায়ী এইচআইভি শনাক্তের আগে কাউন্সিলিং করতে হয়। আমরা সেই আলোকে কাজ করছি।’

জানা গেছে, এশিয়ার মধ্যে যে কটি দেশ এইচআইভির জন্য ঝুঁকিপূর্ণ তার মধ্যে মিয়ানমার অন্যতম। জাতিসংঘের এইডসবিষয়ক প্রতিষ্ঠান ইউএনএইডসের তথ্য মতে, দেশটিতে বর্তমানে ২ লাখ ৩০ হাজার থেকে ২ লাখ ৬০ হাজার এইচআইভি-এইডস আক্রান্ত মানুষ রয়েছে। দেশটির প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে দশমিক ৮ ভাগ এইডসে আক্রান্ত।

এ ছাড়া শিরায় ইনজেকশন গ্রহণকারীদের মধ্যে ২৩ শতাংশ, নারী যৌনকর্মীদের মধ্যে ৬ দশমিক ৩ শতাংশ এবং সমকামীদের মধ্যে ৬ দশমিক ৬ শতাংশ এই ভাইরাসে আক্রান্ত। সেই হিসাব অনুযায়ী বাংলাদেশে আসা রোহিঙ্গাদের মধ্যে ২ থেকে আড়াই হাজার এইডস রোগী থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এইডস-এসটিডি কর্মসূচির কর্মকর্তারা বলেছেন, রোহিঙ্গারা যদি আমাদের দেশের স্থানীয় লোকদের সঙ্গে মেলামেশার সুযোগ পায়, তা হলে এ রোগ ছড়াতে পারে। তাই রোহিঙ্গারা যেন কক্সবাজারে ছড়িয়ে না পড়ে সে জন্য আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী তাদের ক্যাম্পে রাখার ব্যবস্থা নিয়েছে।

যাদের এইচআইভি শনাক্ত হচ্ছে তাদের একা বা স্বজনের সঙ্গে কক্সবাজার হাসপাতালে আসতে দেওয়া হয় না। এই আক্রান্তদের চিকিৎসার জন্য কক্সবাজার হাসপাতালে নিয়ে যান আইএমও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

সূত্র: bangladeshtoday.com

আত্মসমর্পণকারী আরও ৫ ইয়াবা ব্যবসায়ীর জামিন নামঞ্জুর

কক্সবাজার প্রতিনিধি:

গত ১৬ ফেব্রুয়ারি টেকনাফ হাইস্কুল মাঠে আত্মসমর্পণকারী আরও ৫ জন ইয়াবা ব্যবসায়ীর জামিন নামঞ্জুর করা হয়েছে।

সোমবার ২৫ ফেব্রুয়ারি টেকনাফের জিআর মামলার দায়িত্বপ্রাপ্ত সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বেগম জেরিন সুলতানার আদালতে ৫ জন এজাহারভুক্ত আসামি জামিন আবেদন করে। আদালত চলাকালে জিআরও এসআই আরমান জামিন আবেদনগুলো শুনানীর জন্য উপস্থাপন করলে বিচারক আবেদনের শুনানী শেষে তাদের জামিন নামঞ্জুর করেন।

কক্সবাজারের কোর্ট পুলিশ পরিদর্শক (ভারপ্রাপ্ত) কাজী মো. রুবেল বড়ুয়া বিষয়টি সোমবার নিশ্চিত করেছেন। সোমবার যাদের জামিন নামঞ্জুর করা হয়েছে তারা হচ্ছে-মৃত এজাহার মিয়ার পুত্র এনামুল হক প্রকাশ এনাম মেম্বার (২৪), মো. মৌলভী আলী হোসেনের পুত্র মো. তৈয়ব (৪৬), হাজী খুইল্ল্যা মিয়ার পুত্র জাফর আহামেদ প্রকাশ জাফর (৪৩), মৃত হাছন আলীর পুত্র মো. হাশেম প্রকাশ আংকু, মো. জমিলের পুত্র মো. আইয়ুব।

ইয়াবা কারবারীদের গোপনে জামিন আবেদন নাকচ 

বিশেষ প্রতিনিধি, কক্সবাজার:

আত্মসমর্পণকারী ইয়াবা কারবারি সাবেক এমপি আব্দুর রহমান বদির ১০ স্বজনের গোপনে জামিন আবেদন নাকচ করেছেন আদালত।

মঙ্গলবার কক্সবাজারের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক জেরিন সুলতানার আদালতে তারা জামিনের আবেদন জানালে শুনানি শেষে বিচারক তা নাকচ করে দেন।

আসামিদের কারাগারে রেখেই অতিগোপনে চাওয়া জামিন আবেদনের খবরটি চেপে রাখা হলেও মঙ্গলবার রাতে তা প্রচার হয়। আদালত পুলিশের পরিদর্শক মো. দিদারুল আলম সূত্রে এসব তথ্যে নিশ্চিত হওয়া গেছে।

জামিন আবেদনকারী ১০ ইয়াবা কারবারি হলেন, আব্দুর রহমান বদির ভাই আব্দুস শুক্কুর, আমিনুর রহমান ওরফে আব্দুল আমিন, শফিকুল ইসলাম প্রকাশ শফিক, ফয়সাল রহমান, ফুফাত ভাই কামরুল হাসান রাসেল, ভাগনে সাহেদ রহমান নিপু, চাচাত ভাই মো. আলম, খালাত ভাই মং অং থেইন ওরফে মমচি, বদির ভাই আব্দুল শুক্কুরের ব্যবস্থাপক মারুফ বিন খলিল ওরফে বাবু ও মোজাম্মেল হক।

আসামিপক্ষের আইনজীবী ছিলেন, অ্যাডভোকেট আবুল কালাম আজাদ, মো. মোস্তফা, সাইদুল ইসলাম ও মো. রফিক উদ্দিন চৌধুরী।

আইনজীবী আবুল কালাম আজাদ শুনানিকালে বলেন, তার মক্কেলরা কেউ ২০ দিন, কেউ এক মাস আগে পুলিশি হেফাজতে আসেন। কিন্তু তাদের নামে করা মামলায় দেখানো হয়েছে তাদেরকে অস্ত্র ও ইয়াবাসহ মেরিন ড্রাইভ থেকে আটক করা হলো।

তাদের প্রশ্ন আত্মসমর্পণের জন্য মাসযাবত পুলিশি হেফাজতে থাকা অবস্থায় তাদের কাছে ইয়াবা ও অস্ত্র কিভাবে এলো?

বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় এমপি হলেন খাগড়াছড়ির বাসন্তী চাকমা ও কক্সবাজারের কানিজ ফাতেমা

 

ডেস্ক রিপোর্ট

একাদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের সব প্রার্থীকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বেসরকারিভাবে নির্বাচিত ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। সংরক্ষিত ৪৯টি আসনের প্রতিটিতে একজন করে প্রার্থী থাকায় বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন তারা। এতে পার্বত্য সংরক্ষিত আসনে খাগড়াছড়ির বাসন্তী চাকমা ও কক্সবাজারের কানিজ ফাতেমা আহমেদ নির্বাচিত হয়েছেন।

নির্বাচিতদের মধ্যে রয়েছেন আওয়ামী লীগের মনোনীত ৪৩ জন, জাতীয় পার্টির চারজন, ওয়ার্কার্স পার্টির একজন এবং স্বতন্ত্র একজন।

শনিবার(১৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেল ৫টা পর্যন্ত প্রার্থীদের মধ্যে কেউ মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার না করায় তাদের বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ঘোষণা করেন রিটার্নিং কর্মকর্তা আবুল কাসেম।

এ বিষয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তা আবুল কাসেম বলেন, ‘সংরক্ষিত ৪৯টি নারী আসনের কোনোটিতে একাধিক প্রার্থী না থাকায় তারা সবাই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। নির্বাচিতদের চূড়ান্ত তালিকা রোববার (১৭ জানুয়ারি) প্রকাশ করা হবে। নির্বাচিতদের গেজেট প্রকাশের জন্য রোববার নির্বাচন কমিশন সচিবকে চিঠি দেয়া হবে। পরবর্তীতে কমিশন থেকে তা গেজেট আকারে প্রকাশ করবে।’

সংরক্ষিত আসনে মনোনয়নপত্র জমার শেষ দিন ছিল ১১ ফেব্রুয়ারি। ওইদিন পর্যন্ত ৪৯টি আসনের বিপরীতে ৪৯ প্রার্থী মনোয়নপত্র জমা দেন। পরের দিন মনোনয়নপত্র যাচাই শেষে প্রত্যেকের মনোয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেন রিটার্নিং কর্মকর্তা আবুল কাসেম। এরপর আজ (শনিবার) ছিল মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন। এ দিন কেউ মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার না করায় প্রত্যেকেই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন।

আওয়ামী লীগ থেকে নির্বাচিতদের মধ্যে রয়েছেন ঢাকার শিরীন আহমেদ, জিন্নাতুল বাকিয়া, শবনম জাহান শিলা, সুবর্ণা মুস্তাফা ও নাহিদ ইজহার খান, চট্টগ্রামের খাদিজাতুল আনোয়ার ও ওয়াসিকা আয়েশা খান, কক্সবাজারের কানিজ ফাতেমা আহমেদ, খাগড়াছড়ির বাসন্তী চাকমা, কুমিল্লার আঞ্জুম সুলতানা ও আরমা দত্ত, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার উম্মে ফাতেমা নাজমা বেগম, গাজীপুরের শামসুন্নাহার ভূঁইয়া ও রুমানা আলী, বরগুনার সুলতানা নাদিরা, জামালপুরের মিসেস হোসনে আরা, নেত্রকোনার হাবিবা রহমান খান (শেফালী) ও জাকিয়া পারভীন খানম, পিরোজপুরের শেখ এ্যানি রহমান, টাঙ্গাইলের অপরাজিতা হক ও মমতা হেনা লাভলী, সুনামগঞ্জের শামীমা আক্তার খানম, মুন্সিগঞ্জের ফজিলাতুন নেসা, নীলফামারীর রাবেয়া আলী, নরসিংদীর তামান্না নুসরাত বুবলী, গোপালগঞ্জের নার্গিস রহমান, ময়মনসিংহের মনিরা সুলতানা, ঝিনাইদহের মোছা. খালেদা খানম, বরিশালের সৈয়দা রুবিনা মিরা, পটুয়াখালীর কাজী কানিজ সুলতানা, খুলনার অ্যাডভোকেট গ্লোরিয়া ঝর্ণা সরকার, দিনাজপুরের জাকিয়া তাবাসসুম, নোয়াখালীর ফরিদা খানম (সাকী), ফরিদপুরের রুশেমা বেগম, কুষ্টিয়ার সৈয়দা রাশেদা বেগম, মৌলভীবাজারের সৈয়দা জোহরা আলাউদ্দিন, রাজশাহীর আদিবা আনজুম মিতা, চাঁপাইনবাবগঞ্জের ফেরদৌসী ইসলাম জেসী, শরিয়তপুরের পারভীন হক সিকদার, রাজবাড়ীর খোদেজা নাসরীন আক্তার হোসেন, মাদারীপুরের মোসা. তাহমিনা বেগম, পাবনার নাদিয়া ইয়াসমিন জলি ও নাটোরের রত্না আহমেদ।

এ ছাড়া জাতীয় পার্টির অধ্যাপিকা মাসুদা এম রশিদ চৌধুরী, অ্যাডভোকেট সালমা ইসলাম, অধ্যক্ষ রওশন আরা মান্নান ও নাজমা আকতার; ওয়ার্কার্স পাটির মনোনীত প্রার্থী লুৎফুন নেসা খান ও স্বতন্ত্র সেলিনা ইসলাম সংরক্ষিত আসনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলেন।

জাতীয় সংসদে ৩০০ আসনের বিপরীতে ৫০টি আসন নারীদের জন্য সংরক্ষিত। এর মধ্যে ৪৯টি আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সাংসদ নির্বাচিত হওয়ায় আরেকটি আসন ফাঁকা রয়েছে। সেই আসনটি একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির সাতজন প্রার্থী নির্বাচিত হওয়ায় দলটির জন্য সংরক্ষিত আছে। সংরক্ষিত আসনে বিএনপির একজন প্রার্থী দেয়ার সুযোগ রয়েছে।

মনোনয়নপত্র যাচাই শেষে এ বিষয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তা আবুল কাসেম বলেছিলেন, ‘সংসদ নির্বাচনের গেজেট প্রকাশের ৯০ দিনের মধ্যে বিএনপির প্রার্থীরা যদি শপথ গ্রহণ না করেন, তাহলে এ সাতটা আসন নির্বাচন কমিশন শূন্য ঘোষণা করবে। পরবর্তীতে এই আসনগুলোতে নির্বাচন হবে। তাতে যারা এ আসনগুলো পাবে, সেই ভিত্তিতে একটি নারী আসনের ভোট হবে।’

বঙ্গোপসাগরে ৫ কোটি টাকার ইয়াবাসহ ৪ জন আটক

বিশেষ প্রতিনিধি, কক্সবাজার:

কক্সবাজার সোজা গভীর বঙ্গোপসাগরে অভিযান চালিয়ে ৫ কোটি টাকা মূল্যের এক লাখ ইয়াবাসহ চার মাদকবিক্রেতাকে আটক করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)।

শুক্রবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে গভীর বঙ্গোপসাগরে অভিযান চালিয়ে ইয়াবাসহ ওই চার মাদক বিক্রেতাকে আটক করে কক্সবাজারে নবগঠিত র‌্যাব-১৫ এর সদস্যরা। এ সময় ইয়াবা পাচার কাজে ব্যবহৃত মাছ শিকারের একটি নৌকাও জব্দ করা হয়েছে।

আটক ৪ মাদক বিক্রেতা হলেন- এনায়েতুল্লাহ (২৮), করিমুল্লাহ (৩২), রশিদুল্লাহ (২২) ও  হামিদ (২০)। আটকদের নাম জানা গেলেও ঠিকানা পাওয়া যায়নি।

র‌্যাব-১৫ এর কোম্পানি কমান্ডার মেজর মো. মেহেদী হাসান বলেন, গভীর সমুদ্র দিয়ে মিয়ানমার থেকে ইয়াবার বড় একটি চালান টেকনাফ হয়ে কক্সবাজারের দিকে আসছে, এমন খবরের ভিত্তিতে শুক্রবার দুপুরে তারা সাগরে অভিযান পরিচালনা করেন।

একপর্যায়ে গভীর সাগরে মাছ শিকারের নৌকাগুলোতে তল্লাশি চালানো হয়। এ সময় একটি নৌকা থেকে এক লাখ পিস ইয়াবা পাওয়া যায়। পরে নৌকায় থাকা চারজনকে আটক করা হয়। উদ্ধার করা এসব ইয়াবার বাজার মূল্য ৫ কোটি টাকা বলে জানিয়েছে র‌্যাব।

মেজর মেহেদী হাসান জানান, আটকদের থানায় হস্তান্তর ও তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

কক্সবাজার কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানে আন্তর্জাতিক ক্বেরাত সম্মেলন

বিশেষ প্রতিনিধি, কক্সবাজার:

কক্সবাজার কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানে শুরু হয়েছে আন্তর্জাতিক ক্বেরাত সম্মেলন। শনিবার (৯ ফেব্রুয়ারি) বিকেল ২টা থেকে শুরু হওয়া ক্বেরাত সম্মেলনে একাধিক অধিবেশনে সভাপতিত্ব করছেন আলেমে দ্বীন শাইখুল হাদিছ আল্লামা সোলতান যাওক নদভী, আল্লামা মুহাম্মদ তৈয়ব ও আল্লামা মসরুর।

সম্মলনে তেলাওয়াতে অংশ গ্রহণ করছেন মিশর, তানজানিয়া, ভারত, কানাডা, লন্ডন ও ইন্দোনেশিয়াসহ দেশি-বিদেশী প্রখ্যাত ক্বারীবৃন্দ।

প্রসঙ্গত, সম্মেলনে দেশ বিদেশের দেড় ডজন ক্বারীদের কন্ঠে মহাগ্রন্থ আলকুরআন থেকে তেলাওয়াত চলছে।

পাবলিক লাইব্রেরির সংবর্ধণা অনুষ্ঠানে অংগ্রহণ করতে কক্সবাজারে শিক্ষা উপমন্ত্রী

বিশেষ প্রতিনিধি, কক্সবাজার:

জেলা আওয়ামী লীগের উদ্যোগে পাবলিক লাইব্রেরিতে আয়োজিত সংবর্ধণা অনুষ্ঠানে অংগ্রহণ করতে কক্সবাজারে পৌছেছেন শিক্ষা উপমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ব্যারিস্টার মুহিবুল হাসান চৌধুরী নওফল।

বুধবার (৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেল সোয়া ৪ টায় কক্সবাজার বিমানবন্দরে পৌঁছান তিনি।

এ সময় জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও কক্সবাজার পৌর মেয়র মুজিবুর রহমান, কক্সবাজার-২ আসনের সংসদ সদস্য আশেক উল্লাহ রফিক, জেলা প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা তাঁকে স্বাগত জানান।

উল্লেখ্য, বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় জেলা আওয়ামী লীগের উদ্যোগে পাবলিক লাইব্রেরিতে আয়োজিত সংবর্ধণা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত থাকবেন শিক্ষা উপমন্ত্রী।