পাহাড়ে ধর্মান্তরিত করে ১২ হাজার পরিবারকে খৃস্টান বানানো হয়েছে

সেবার নামে এনজিওর আড়ালে চলছে ধর্মান্তকরণ

গির্জা

মিয়া হোসেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম থেকে ফিরে :

দরিদ্র ও অসহায় পাহাড়ী পরিবারদের নিয়ে পাবর্ত্য চট্টগ্রামে কাজ করছে অসংখ্য দেশী-বিদেশী এনজিও। এদের মধ্যে বেশকিছু এনজিও সেবার আড়ালে দারিদ্র্যতার সুযোগ নিয়ে ধর্মান্তকরণ করছে।

স্থানীয় আইন শৃংখলা বাহিনীর সদস্যদের তথ্য থেকে জানা যায়, গত দেড় বছর তথা ২০১৫-১৬ বছরে পাবর্ত্য চট্টগ্রামে ১৫৪টি উপজাতি পরিবারকে খৃস্টান ধর্মে ধর্মান্তরিত করা হয়েছে। এসব পরিবারের ৪৭৫ জন সদস্যকে খৃস্টান করা হয়েছে। আর গত ২০ বছরে ১২ হাজার উপজাতি পরিবারকে খৃস্টান ধর্মে ধর্মান্তরিত করা হয়েছে বলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক প্রতিবেদন থেকে জানা যায়।

সম্প্রতি পাবর্ত্য চট্টগ্রামে সরেজমিনে জানা যায়, পার্বত্য চট্টগ্রামকে ঘিরে এনজিওর আড়ালে চলছে ধর্মান্তরকরণ। দেশের গুরুত্বপূর্ণ এ জনপদের পিছিয়ে থাকা ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীদের টার্গেট করে মাঠে নেমেছে আন্তর্জাতিক খৃস্টান মিশনারিগুলো। অভিযোগ, স্বাস্থ্য ও সমাজসেবার নামে দারিদ্র্য পীড়িত উপজাতি জনগোষ্ঠীকে ধর্মান্তরকরণের অপতৎপরতায় লিপ্ত বিদেশি অর্থে পরিপুষ্ট এ এনজিওগুলো। এ অবস্থা চলতে থাকলে এ অঞ্চলে বিচ্ছিন্নতাবাদী কার্যক্রম জোরদার হওয়ার শঙ্কা সংশ্লিষ্টদের।

পার্বত্য চট্টগ্রামের তিন জেলা রাঙামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়িতে বসবাস করে ১৩টি ক্ষুদ্র নৃতাত্ত্বিক জাতিগোষ্ঠী। রাজনৈতিক বিচ্ছিন্নতা, চরম দারিদ্র্য, ক্ষুধা, মহামারি, অপুষ্টি ও স্যানিটেশন সমস্যা নিত্যসঙ্গী তাদের। আর এ সুযোগকে কাজে লাগিয়ে স্বার্থসিদ্ধি করছে এনজিওগুলো। পশ্চিমাদের পার্বত্য অঞ্চল নিয়ে একটি খৃস্টান রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার চক্রান্তের অংশ এটি।

স্থানীয় আইন শৃংখলা বাহিনীর সূত্রে জানা যায়, গত দেড় বছর তথা ২০১৫ থেকে চলতি ২০১৬ সালের জুন পর্যন্ত পাবর্ত্য এলাকায় ১৫৪টি পরিবারের ৪৭৫জন সদস্যকে খৃস্টান ধর্মে ধমান্তরিত করা হয়েছে। এসব পরিবারকে বিভিন্ন এনজিও ও ব্যক্তিরা নানাভাবে প্রভাবিত করেছে। তাদের মধ্যে খাগড়াছড়িতে ১৪৪টি পরিবারের ৩৪২জন সদস্য ও বান্দরবানে ১০টি পরিবারের ৩৩জন। তবে রাঙামাটিতে ধর্মান্তরিত করার কোন তথ্য পাওয়া যায়নি। ধর্মান্তরিত করা এসব উপজাতিদের মধ্যে অধিকাংশই চাকমা।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, গত ২০ বছরে সেখানে ১২ হাজার উপজাতি পরিবার খৃস্টান হয়েছে। এ ক্ষেত্রে তিন পার্বত্য জেলার ১৯৪টি গির্জা মুখ্য ভূমিকা রেখেছে। এর মধ্যে খাগড়াছড়ি জেলায় ৭৩টি গির্জা রয়েছে। ১৯৯২ সাল থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত এ জেলায় চার হাজার ৩১টি পরিবার খৃস্টান হয়েছে। বান্দরবান জেলায় গির্জা রয়েছে ১১৭টি। এখানে একই সময়ে খৃস্টান হয়েছে ছয় হাজার ৪৮০টি উপজাতি পরিবার।

রাঙ্গামাটিতে চারটি গির্জা খৃস্টান বানিয়েছে এক হাজার ৬৯০টি পরিবারকে। পাহাড়ি যেসব জনগোষ্ঠীর লোকসংখ্যা কম, তাদের প্রায় শতভাগ খৃস্টান হয়ে গেছে অনেক আগেই। এমন একটি উপজাতি পাংখু। যাদের পুরো জনগোষ্ঠীই খৃস্টান হয়ে গেছে; বদলে গেছে তাদের ভাষা। এমনকি তাদের অক্ষরও ইংরেজি।

জানা যায়, এনজিওর নাম ধারণ করে খৃস্টানরা এই দুর্গম এলাকায় হাসপাতাল, বিনোদন কেন্দ্র, গির্জা ইত্যাদি গড়ে তুলেছে। বহুজাতিক কোম্পানির আর্থ-রাজনৈতিক স্বার্থে এবং অসহায়, নিঃস্ব, নিরক্ষর মানুষকে সেবা করার নামে ইউরোপীয় সংস্কৃতি ও খ্রিস্ট ধর্মে দীক্ষিত করার চেষ্টা চালাচ্ছে এ এনজিওগুলো। এদের বাজেটের ৯০ শতাংশ অর্থ খৃস্টানদের বা খৃস্টান হওয়ার সম্ভাবনাময় ব্যক্তিদের স্বার্থে ব্যয় হয়।

বাংলাদেশের সবচেয়ে বৃহত্তর ইউনিয়ন খাগড়াছড়ি জেলার সাজেক। সীমান্তবর্তী ও দুর্গম এই উপত্যকায় খাগড়াছড়ি বা রাঙ্গামাটি শহর থেকে পৌঁছতে সময় লাগে দু’দিন। এই ইউনিয়নের ২০টি গ্রামে খেয়াং, বম, পাংখু, লুসাই উপজাতির ১০ হাজার মানুষের বাস। ২০ বছর আগেও এখানে খ্রিস্ট ধর্মের নামগন্ধ ছিল না। উপজাতিদের ভাষা, সংস্কৃতি সবই ছিল। আজ তার কিছুই নেই।

সাজেক ইউনিয়নের আকর্ষণীয় রুইলুই পর্যটন কেন্দ্রে অবস্থিত গির্জার ধর্ম প্রচারক ময়তে লুসাইয়ের সঙ্গে কথা হয় এ বিষয়ে। তিনি ধর্মান্তর করণের বিষয়টি অস্বীকার করেন। বলেন, ‘আমরা কেবল নিজ ধর্মের অনুসারীদের বাইবেলের শিক্ষা দিয়ে থাকি।’

‘সেভেন সিস্টা’র নামে খ্যাত মিজোরাম, নাগাল্যান্ড, হিমাচল, অরুণাচল প্রভৃতি ভারতীয় রাজ্যের বৃহত্তর জনগোষ্ঠী এখন ধর্মান্তরিত খৃস্টান। ওই সব পাহাড়ি অঞ্চল সংলগ্ন বাংলাদেশের পার্বত্য এলাকায়ও উল্লেখযোগ্য হারে খৃস্টানের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। সাম্প্রদায়িক উন্নয়ন পরিকল্পনার অধীনে এখানকার খৃস্টান যুবকদের উচ্চশিক্ষার জন্য যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা প্রভৃতি দেশে প্রেরণ করে থাকে।

এদিকে, এনজিওদের দেশীয় সংস্কৃতি ও আদর্শবহির্ভূত সব কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ করার দাবি জানিয়েছেন সচেতন নাগরিকরা। পাশাপাশি এ এনজিওদের কর্মকা- ঘনিষ্টভাবে মনিটরিং এর দাবি তুলেছেন তারা। এর আগে ২০১৫ সালের জুন মাসে নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা পরিষদের হলরুমে ধর্মান্তরিত করার ঘটনায় গণশুনানিও অনুষ্ঠিত হয়। তারও আগে ২০১৪ সালের ৮ ডিসেম্বর উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে গণশুনানি অনুষ্ঠিত হয়।

এছাড়াও পার্বত্য চট্টগ্রামে খৃস্টান মিশনারীদের বিরুদ্ধে ধর্মান্তরকরণের অভিযোগ এনেছে বান্দরবানের বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী চাক সম্প্রদায়ের নেতারা। এ বিষয়ে ২০১৪ সালের অক্টোবরে প্রধানমন্ত্রী বরাবরে একটি স্মারকলিপিও প্রদান করেন তারা।

৩২ জন বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী নেতার স্বাক্ষরিত স্মারকলিপিটি রাষ্ট্রপ্রধান ছাড়াও ৬টি মন্ত্রণালয়, মানবাধিকার সংস্থা, বিজিবি-পুলিশ প্রশাসন, উপজেলা চেয়ারম্যান, ওসিসহ বিভিন্ন বৌদ্ধ সমিতি এবং ইউপি চেয়ারম্যানদের কাছে অনুলিপি পাঠানো হয়েছে। স্মারকলিপির সাথে নব্য খৃস্টান প্রচারক চাক ছেলে- মেয়েদের একটি নামের তালিকাও সংযুক্ত করা হয়।

এ ব্যাপারে চাক সম্প্রদায়ের নেতা ছানু অং চাক, বাচাচিং চাক, নাইন্দা অং চাক, ফোছা অং চাক, অংথোয়াইচিং চাক জানান, খ্রিশ্চিয়ান মিশন চাক ছেলে মেয়েদেরকে ধর্মান্তরিত করার কারণে ভবিষ্যতে বড় ধরনের ধর্মীয় দাঙ্গা হাঙ্গামার সম্ভাবনা রয়েছে। এ বিষয়ে রাষ্ট্রীয়ভাবে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণসহ প্রশাসনিক সহায়তা পেতে সংশ্লিষ্ট মহলের প্রতি আহ্বান জানান।

দুর্গম পাহাড়ে এনজিও ও মিশনারী তৎপরতার আড়ালে চলছে ধর্মান্তরকরণ

খ্রিস্টানকরণ

মমিনুল ইসলাম, পার্বত্য চট্রগ্রাম থেকে ফিরে:

বাংলাদেশের পাহাড়ি জনপদ পার্বত্য চট্টগ্রামকে ঘিরে এনজিও’র আড়ালে চলছে ধর্মান্তরকরণ। দেশের গুরুত্বপূর্ণ এ জনপদের পিছিয়ে থাকা ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীদের টার্গেট করে মাঠে নেমেছে আন্তর্জাতিক খ্রিস্টান মিশনারিগুলো। অভিযোগ, স্বাস্থ্য ও সমাজসেবার নামে দারিদ্র্য পীড়িত উপজাতি জনগোষ্ঠীকে ধর্মান্তÍরকরণের অপতৎপরতায় লিপ্ত বিদেশী অর্থে পরিপুষ্ট এ এনজিওগুলো। এ অবস্থা চলতে থাকলে এ অঞ্চলে বিচ্ছিন্নতাবাদি কার্যক্রম জোরদার হওয়ার শঙ্কা সংশ্লিষ্টদের।

পার্বত্য চট্টগ্রামের তিন জেলা রাঙামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়িতে বসবাস করে ১৩টি ক্ষুদ্র নৃতাত্ত্বিক জাতিগোষ্ঠী। রাজনৈতিক বিচ্ছিন্নতা, চরম দারিদ্র্য, ক্ষুধা, মহামারী, অপুষ্টি ও স্যানিটেশন সমস্যা নিত্যসঙ্গী তাদের। আর এ সুযোগকে কাজে লাগিয়ে স্বার্থসিদ্ধি করছে এনজিও’গুলো। পশ্চিমাদের পার্বত্য অঞ্চল নিয়ে একটি খ্রিষ্টান রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার চক্রান্তর অংশ এটি।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২০ বছরে সেখানে ১২ হাজার উপজাতি পরিবার খ্রিষ্টান হয়েছে। এ ক্ষেত্রে তিন পার্বত্য জেলার ১৯৪টি গির্জা মুখ্য ভূমিকা রেখেছে। এর মধ্যে খাগড়াছড়ি জেলায় ৭৩টি গির্জা রয়েছে। ১৯৯২ সাল থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত এ জেলায় চার হাজার ৩১টি পরিবার খ্রিষ্টান হয়েছে। বান্দরবান জেলায় গির্জা রয়েছে ১১৭টি। এখানে একই সময়ে খ্রিস্টান হয়েছে ছয় হাজার ৪৮০টি উপজাতি পরিবার।

রাঙামাটিতে চারটি গির্জা খ্রিস্টান বানিয়েছে এক হাজার ৬৯০টি পরিবারকে। পাহাড়ি যেসব জনগোষ্ঠীর লোকসংখ্যা কম, তাদের প্রায় শতভাগ খ্রিস্টান হয়ে গেছে অনেক আগেই। এমন একটি উচজাতি পাংখু। যাদের পুরো জনগোষ্ঠীই খ্রিস্টান হয়ে গেছে; বদলে গেছে তাদের ভাষা। এমনকি তাদের অক্ষরও ইংরেজি।

জানা যায়, এনজিও’র নাম ধারণ করে খ্রিষ্টানরা এই দুর্গম এলাকায় হাসপাতাল, বিনোদন কেন্দ্র, গির্জা ইত্যাদি গড়ে তুলেছে। বহুজাতিক কোম্পানির আর্থ-রাজনৈতিক স্বার্থে এবং অসহায়, নিঃস্ব, নিরক্ষর মানুষকে সেবা করার নামে ইউরোপীয় সংস্কৃতি ও খ্রিষ্ট ধর্মে দীক্ষিত করার চেষ্টা চালাচ্ছে এ এনজিওগুলো। এদের বাজেটের ৯০ শতাংশ অর্থ খ্রিষ্টানদের বা খ্রিষ্টান হওয়ার সম্ভাবনাময় ব্যক্তিদের স্বার্থে ব্যয় হয়।

বাংলাদেশের সবচেয়ে বৃহত্তর ইউনিয়ন খাগড়াছড়ি জেলার সাজেক। সীমান্তবর্তী ও দুর্গম এই উপত্যকায় খাগড়াছড়ি বা রাঙামাটি শহর থেকে পৌঁছতে সময় লাগে দু’দিন। এই ইউনিয়নের ২০টি গ্রামে খেয়াং, বম, পাংখু, লুসাই উপজাতির ১০ হাজার মানুষের বাস। ২০ বছর আগেও এখানে খ্রিষ্ট ধর্মের নামগন্ধ ছিল না। উপজাতিদের ভাষা, সংস্কৃতি সবই ছিল। আজ তার কিছুই নেই।

সাজেক ইউনিয়নের আকর্ষণীয় রুইলুই পর্যটন কেন্দ্রে অবস্থিত গির্জার ধর্ম প্রচারক ময়তে লুসাইয়ের সঙ্গে কথা হয় এ বিষয়ে। তিনি ধর্মান্তরকরণের বিষয়টি অস্বীকার করেন। বলেন, ‘আমরা কেবল নিজ ধর্মের অনুসারীদের বাইবেলের শিক্ষা দিয়ে থাকি।’

‘সেভেন সিস্টা’র নামে খ্যাত মিজোরাম, নাগাল্যান্ড, হিমাচল, অরুণাচল প্রভৃতি ভারতীয় রাজ্যের বৃহত্তর জনগোষ্ঠী এখন ধর্মান্তরিত খ্রিষ্টান। ওই সব পাহাড়ি অঞ্চলসংলগ্ন বাংলাদেশের পার্বত্য এলাকায়ও উল্লেখযোগ্য হারে খ্রিষ্টানের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। সাম্প্রদায়িক উন্নয়ন পরিকল্পনার অধীনে এখানকার খ্রিষ্টান যুবকদের উচ্চশিক্ষার জন্য যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা প্রভূতি দেশে প্রেরণ করে থাকে। এভাবে সীমান্তের দুই পাশে বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলনের আশঙ্কা উড়িয়ে দেয়া যায় না।

এদিকে, এনজিওদের দেশীয় সংস্কৃতি ও আদর্শ বহির্ভূত সব কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ করার দাবি জানিয়েছেন সচেতন নাগরিকরা। পাশাপাশি এ এনজিওদের কর্মকাণ্ড ঘনিষ্ঠভাবে মনিটরিং এর দাবি তুলেছেন তারা।

এর আগে ২০১৫ সালের জুন মাসে নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা পরিষদের হল রুমে ধর্মান্তরিত করার ঘটনায় গণশুনানীও অনুষ্ঠিত হয়। তারও আগে ২০১৪ সালের ৮ ডিসেম্বর উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে গণশুনানী অনুষ্ঠিত হয়।

এছাড়াও পার্বত্য চট্টগ্রামে খ্রিস্টান মিশনারীদের বিরুদ্ধে ধর্মান্তরকরণের অভিযোগ এনেছে বান্দরবানের বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী চাক সম্প্রদায়ের নেতারা। এ বিষয়ে ২০১৪ সালের অক্টোবরে প্রধানমন্ত্রী বরাবরে একটি স্মারকলিপিও প্রদান করেন তারা।

৩২ জন বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী নেতার স্বাক্ষরিত স্মারকলিপিটি রাষ্ট্রপ্রধান ছাড়াও ৬টি মন্ত্রণালয়, মানবাধিকার সংস্থা, বিজিবি-পুলিশ প্রশাসন, উপজেলা চেয়ারম্যান, ওসিসহ বিভিন্ন বৌদ্ধ সমিতি এবং ইউপি চেয়ারম্যানদের কাছে অনুলিপি পাঠানো হয়েছে। স্মারকলিপির সাথে নব্য খ্রিষ্টান প্রচারক চাক ছেলে- মেয়েদের একটি নামের তালিকাও সংযুক্ত করা হয়।

এ ব্যাপারে চাক সম্প্রদায়ের নেতা ছানু অং চাক, বাচাচিং চাক, নাইন্দা অং চাক, ফোছা অং চাক, অংথোয়াইচিং চাক জানান, খ্রিশ্চিয়ান মিশন চাক ছেলে মেয়েদেরকে ধর্মান্তরিত করার কারণে ভবিষ্যতে বড় ধরণের ধর্মীয় দাঙ্গা হাঙ্গামার সম্ভাবনা রয়েছে। এ বিষয়ে রাষ্ট্রীয়ভাবে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণসহ প্রশাসনিক সহায়তা পেতে সংশিষ্ট মহলের প্রতি আহ্বান জানান।

সূত্র মতে, ধর্মান্তরিত করার এই প্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়িত থাকার ব্যাপারে বেশ কয়েকটি এনজিওর নাম প্রায় সময় উঠে আসে। একটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত একটি সংবাদে এসব এনজিওগুলোর নাম উল্লেখ করা হয়।
এগুলো হচ্ছে- ক্রিশ্চিয়ান কমিশন ফর ডেভেলপমেন্ট অব বাংলাদেশ (সিসিডিবি), অ্যাডভানটেজ ক্রুশ অব বাংলাদেশ, হিউম্যানেটারিয়ান বাংলাদেশ, গ্রিন হিল, গ্রামীণ উন্নয়ন সংস্থা (গ্রাউস), কারিতাস, ইভানজেলিক্যাল ক্রিশ্চিয়ান ক্রুশ, শান্তি রানী ক্যাথলিক চার্চ, জাইনপাড়া আশ্রম উদ্যান, আশার আলো, মহামনি শিশুসদন, বৈশানীয়, তৈমু প্রভৃতি।

অভিযোগ উঠেছে, এসব সংগঠন মাসিক নগদ অর্থসহায়তা ও প্রতি সপ্তাহে চাল, ডাল, তেল, কৃষি সামগ্রী সরবরাহের শর্তে এলাকার গরিব মানুষকে খ্রিষ্টধর্মে ধর্মান্তরিত করছে।

পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ে সরকারী সিদ্ধান্তে দৃঢ়তা কাম্য

মেহেদী হাসান পলাশ

মেহেদী হাসান পলাশ :

পার্বত্য চট্টগ্রামে বিদ্যমান অস্থিতিশীলতা, নৈরাজ্য, সন্ত্রাস ও ষড়যন্ত্র বন্ধে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিয়েছে। যাতে পার্বত্য চট্টগ্রামে সক্রিয় বিদেশী দাতা সংস্থা ইউএনডিপি’র কার্যক্রম মনিটরিং ও জবাবদিহিতার আওতায় আনা, সিএইচটি কমিশনের নাম পরিবর্তন, বিদেশী অতিথি ও কূটনীতিদের পার্বত্য চট্টগ্রামে ভ্রমণ ও স্থানীয় পর্যায়ে বৈঠক নিয়ন্ত্রণ এবং পুলিশ ও আনসারে যোগ দেয়া শান্তিবাহিনীর সাবেক সদস্যদের তিন পার্বত্য জেলা থেকে অন্য জেলায় বদলীর মতো সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। এ ধরণের সিদ্ধান্ত গ্রহণের মাধ্যমে পার্বত্য চট্টগ্রামে বিদ্যমান সন্ত্রাস, নৈরাজ্য ও ষড়যন্ত্র দমনে সরকারের কঠোর অবস্থান প্রস্ফুটিত হয়েছে। গত ৭ জানুয়ারী স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভা কক্ষে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। গত ৪ ফেব্রুয়ারি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক অধিশাখা-৬ থেকে তিন পার্বত্য জেলার জেলা প্রশাসকদের নিকট ১১ দফা নির্দেশনা সম্বলিত ফ্যাক্স পাঠানোর পর এ তথ্য জানা যায়। মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনাটি লেখকের সংগ্রহে রয়েছে। বিজিবি’র একটি রিপোর্টের ভিত্তিতে শান্তিচুক্তি পরবর্তী পার্বত্য চট্রগ্রামের পরিস্থিতি ও প্রাসঙ্গিক বিষয়ে অনুষ্ঠিত সভায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সিনিয়র সচিব স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্র সচিব, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব নব বিক্রম কিশোর ত্রিপুরা, আনসার ভিডিপি’র মহাপরিচালক, গোয়েন্দা সংস্থা ও বিজিবির কর্মকর্তাগণ।

সভায় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, শান্তিচুক্তি পরবর্তী সময়ে স্থানীয় একাধিক সংগঠন বিভিন্নভাবে শান্তিচুক্তি বিরোধী কার্যক্রমসহ চাঁদাবাজি, অপহরণ ও বিভিন্ন ধ্বংসাত্মক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। এতে পাহাড়ি জনপদ ক্রমেই অশান্ত হয়ে উঠছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব বলেন, পার্বত্য চট্রগ্রামের উন্নয়নের নামে যে অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয় তার জবাবদিহিতা নেই বলললেই চলে। পার্বত্য জনপদে ইউএনডিপিসহ অন্যান্য এনজিও যেসব উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ করে সেসব প্রকল্পের মনিটর করা দরকার। এছাড়া, তিন পার্বত্য জেলায় যেসব সংগঠন শান্তিচুক্তি বিরোধী কার্যক্রমে লিপ্ত এবং চাঁদাবাজি, হত্যা ও অপহরণের সাথে যুক্ত তাদের কাছে থাকা অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে একটি সমন্বিত অভিযান পরিচালনা করা যেতে পারে। সভায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব বলেন, পার্বত্য চট্রগ্রামে গত দশ বছরে ইউএনডিপির মাধ্যমে ১৬০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এসব প্রকল্প বাস্তবায়ন পর্যায়ে মনিটর করা প্রয়োজন৤ তিনি বলেন, বিদেশী নাগরিকদের পার্বত্যাঞ্চল ভ্রমণে  Code of Conduct  প্রণয়ন করা দরকার। অনেক সময় বিদেশী নাগরিক পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে না জানিয়ে শুধু জেলা প্রশাসক/ পুলিশ সুপারকে জানিয়ে পার্বত্যাঞ্চলে ভ্রমণে যায়, এটি সঠিক  নয়। জেলা প্রশাসক বা পুলিশ সুপারের কাছে এধরণের কোন আবেদন হলে তা সঙ্গে সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করা হলে মন্ত্রণালয়ই এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিতে পারে।

এদিকে পার্বত্য চট্রগ্রাম বিষায়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব বলেন, পার্বত্য শান্তিচুক্তির ৪টি অধ্যায়ে ৭২টি ধারা রয়েছে। অধিকাংশ ইতোমধ্যে বাস্তবায়িত হলেও পার্বত্য আঞ্চলিক পরিষদের প্রধান জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমা (সন্ত লারমা) স্বীকার করেন না। উপজাতীয় নেতৃবৃন্দের বিরোধিতার কারণে গত ২২ বছরেও তিন পার্বত্য জেলায় স্থানীয় সরকার পরিষদের নির্বাচন করা সম্ভব হয়নি। পার্বত্য চট্রগ্রাম শান্তিচুক্তি অনুযায়ী তিন পার্বত্য জেলা পরিষদে হস্তান্তরিত ৩৩টি বিষয় /বিভাগসমূহের মধ্যে ৩০ টি সংস্থা/বিষয় ইতোমধ্যে হস্তান্তরিত হয়েছে। অবশিষ্ট তিনটি বিষয় কেন্দ্রীয় সরকারের সাথে সংশ্লিষ্ট বিধায় হস্তান্তর কার্যক্রম অব্যাহত আছে। তিনি বলেন, জেএসএস এবং ইউপিডিএফসহ আরও যে সব স্থানীয় সংগঠন আছে তাদের কাছে প্রচুর অবৈধ অস্ত্র আছে। এসব অস্ত্র উদ্ধার করা প্রয়োজন। প্রত্যন্ত এলাকাগুলোতে সশস্ত্র গ্রুপগুলো সব সময়ই সক্রিয় রয়েছে। ভারত ও মিয়ানমার থেকে অস্ত্র ও মাদকদ্রব্য চোরাচালানীতেও কোন কোন সংগঠন জড়িত রয়েছে মর্মে অভিযোগ আছে। বিজিবি কর্তৃক বিওপি স্থাপনের জন্য বন বিভাগ থেকে জায়গা চাওয়া হলে এ বিষয়ে মন্ত্রণালয় হতে সহযোগিতা করা হবে মর্মে তিনি উল্লেখ করেন। বৈঠকে আনসার ও ভিডিপির মহাপরিচালক বলেন, উন্নয়নের নামে ১৬০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার কোথায় খরচ করা হলো তার হিসাব নেওয়া দরকার। ইউএনডিপির কাছে এ বিষয়ে রিপোর্ট চাওয়া যেতে পারে। তিনি  বলেন, বিদেশী পর্যটকগণ স্থানীয় উপজাতীয় নেতৃবৃন্দের সাথে যোগাযোগ করে পার্বত্যাঞ্চলে ভ্রমণে গিয়ে থাকেন। ফলে বিষয়টি প্রশাসন কিংবা সেনাবাহিনীর অগোচরেই থেকে যায়। সভায় ডিজিএফআই প্রতিনিধি বলেন, বিদেশী নাগরিক মন্ত্রণালয় বা উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের অনুমতি না পেলে পার্বত্য এলাকায় বসবাসরত কারোর মেহমান হিসাবে সাধারণ যানবাহনে গমন করে থাকে। সিএইচটি কমিশন সহ কিছু সংস্থা স্থানীয় উপজাতীয় নেতৃবৃন্দের সাথে প্রশাসন কিংবা সেনাবাহিনীর উপস্থিতি ব্যতিরেকে বৈঠক ও আলাপ আলোচনা বেশি পছন্দ করে। পার্বত্য চট্রগ্রামের উপজাতীয়দেরকে আদিবাসী হিসাবে ঘোষণা করা তাদের মূল উদ্দেশ্য। অন্যান্য বিষয়ে অনৈক্য থাকলেও এই পয়েন্টে সকল স্থানীয় উপজাতীয় সংগঠন একমত পোষণ করে। বিস্তারিত আলোচনা শেষে সভায় নিম্নবর্ণিত সিদ্ধান্তসমূহ গৃহীত হয়:

বিগত ১০ বছরে পার্বত্য চট্রগ্রামে ইউএনডিপি কর্তৃক ১৬০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের  উন্নয়ন প্রকল্পসমূহের বাস্তবায়ন অগ্রগতি ও ফলাফল প্রেরণের জন্য অনুরোধ করা হয়; শান্তিচুক্তি বিরোধী সশস্ত্র সংগঠন এবং স্থানীয় সন্ত্রাসী গ্রুপ কর্তৃক চাঁদাবাজি, খুন, অপহরণ, মাদকদ্রব্য ও অস্ত্র চোরাচালান রোধকল্পে সেনাবাহিনী, পুলিশ, বিজিবি, আনসার এর সমন্বয়ে যৌথ অভিযান পরিচালনার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়; কোন আইনগত ভিত্তি না থাকায় সিএইচটি কমিশনের নাম সংশোধন করে ‘কমিশন’ শব্দটি বাদ রেখে অন্য কোন নাম রাখার বিষয়ে অনুরোধ করা হয়; কূটনৈতিকগণ ছাড়া সাধারণ বিদেশী নাগরিকগণ পার্বত্য চট্রগ্রাম ভ্রমণ করতে চাইলে অন্তত একমাস পূর্বে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে অনুমতির জন্য আবেদন করবেন; স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট গোয়েন্দা সংস্থার ইতিবাচক প্রতিবেদনের ভিত্তিতে অনুমতি প্রদান করবে; অনুমতিপ্রাপ্ত বিদেশী নাগরিকগণ সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসক/ পুলিশ সুপারের নিকট তাদের উপস্থিতি/ভ্রমণসূচি দাখিল সাপেক্ষে ভ্রমণ করবেন; কূটনৈতিকগণ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে অনুমতি গ্রহণ করে পার্বত্য চট্রগ্রাম ভ্রমণ করবেন; কোন দেশী-বিদেশী ব্যক্তি/সংস্থা কর্তৃক পার্বত্যাঞ্চলে উপজাতীয়দের সাথে সাক্ষাত কিংবা বৈঠক করতে চাইলে স্থানীয় প্রশাসন এবং সেনাবাহিনী/বিজিবি এর উপস্থিতি নিশ্চিত করতে হবে; পার্বত্য চট্রগ্রামের সামগ্রিক আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্বে নিয়োজিত ২৪ পদাতিক ডিভিশনের সাথে পারস্পরিক সমন্বয় সাধনের মাধ্যমে অন্যান্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসমূহ দায়িত্ব পালন করবে; ভারত ও বাংলাদেশের সাথে বাংলাদেশের পার্বত্য চট্রগ্রামের ৪৭৯ কিলোমিটার অরক্ষিত সীমান্তের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার নিমিত্তে ইতোমধ্যে গৃহীত/বাস্তবায়িত প্রকল্পসমূহের বাস্তবায়ন অগ্রগতি পর্যালোচনাসহ আবশ্যকীয় স্থাপনা নির্মাণের প্রস্তাব বিজিবি প্রেরণ করবে; পার্বত্য চট্টগ্রামের বিদ্যমান চেকপোস্টগুলোকে শক্তিশালী করার জন্য নির্দেশ দেয়া হয়েছে। পার্বত্য চট্টগ্রামে পুলিশ ও আনসার বাহিনীতে কর্মরত শান্তিবাহিনীর সাবেক সদস্যদের তিন পার্বত্য জেলা থেকে সরিয়ে অন্যত্র বদলীর সুপারিশ করা হয়েছে।

পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এ সিদ্ধান্ত যুগান্তকারী। নিকট অতীতে এতো সুনির্দিষ্ট, সুচিন্তিত, লক্ষ্যানুসারী সিদ্ধান্ত দৃষ্টিগোচর হয়নি। সন্দেহ নেই পার্বত্য চট্টগ্রামে দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় বিভিন্ন সরকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর অভিজ্ঞতা বিবেচনায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের এ সিদ্ধান্ত দেশবাসী কর্তৃক প্রশংসিত হয়েছে। তবে পার্বত্য চট্টগ্রামকে ঘিরে বিচ্ছিন্নতাবাদী ষড়যন্ত্রে লিপ্ত পাহাড়ী সন্ত্রাসী ও তাদের সমর্থক, পৃষ্ঠপোষক, দেশী বিদেশী দাতা সংস্থা, এনজিও ও কূটনীতিকরা চরমভাবে ক্ষুদ্ধ হয়েছে। তাই তারা সরকারী এ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ করতে তাদের অনুজীবী দেশীয় রাজনীতিবিদ, এনজিওকর্মী, বুদ্ধিজীবী ও গণমাধ্যমকর্মীদের মাঠে নামিয়েছে। এদের মধ্যে অন্যতম টিআইবি’র নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান। তিনি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের গৃহীত সিদ্ধান্তসমূহকে অগণতান্ত্রিক, বৈষম্যমূলক, নির্লজ্জ সাম্প্রদায়িকতা, শান্তি চুক্তি বিরোধী এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের নির্লজ্জ দৃষ্টান্ত বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি আরো বলেন, বিদেশী নাগরিকরা পার্বত্য চট্টগ্রাম ভ্রমণে  যেতে অনুমতি লাগবে আবার যে কেউ সেখানকার ‘আদিবাসীদের’ সাথে দেখা করতে চাইলে সাথে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাউকে সাথে রাখতে হবে এইরকম সিদ্ধান্ত গ্রহণ নির্বুদ্ধিতা ও সাম্প্রদায়িক মানসিকতার পরিচয় দেয়’।

বিশিষ্ট কলামিষ্ট সৈয়দ আবুল মকসুদ সিএইসটি কমিশনের নাম পরিবর্তন সম্পর্কে বলেন, ‘নাম পরিবর্তনের এ অধিকার স্বারাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে কে দিয়েছে? এতদিন পর নাম পরিবর্তনের প্রসঙ্গ কেন তোলা হচ্ছে। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর অধিকার আছে দেশের বাইরে থেকে আসুক বা দেশের ভিতর থেকে কেউ আসুক সে বিষয়ে নজরদারী রাখা। তার মানে তো এই নয় যে, একজন বাঙালী পাহাড়ী কাউকে বিয়ে করতে হলে, বিয়ের বরযাত্রী নিয়ে পাহাড়ে যেতে হলে প্রশাসনের অনুমতি, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি লাগবে। পাহাড়ীদের কি কোন বিদেশী মেহমান থাকতে পারে না’? এটা মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন বলেও মন্তব্য করেন তিনি। প্রবীণ রাজনীতিবিদ ঐক্য ন্যাপের সভাপতি পংকজ ভট্টাচার্য বলেন, ‘আমরা জানি জেলে কারোর সাথে দেখা করতে হলে প্রশাসনের উপস্থিতিতে করতে হয়। তাহলে আমার প্রশ্ন, পার্বত্য চট্রগ্রাম কি তাহলে কারাগার যে এখানে বাইরের কেউ যেতে হলে অনুমতি নিতে হবে’। পংকজ ভট্টাচার্য আরো বলেন, ‘এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে বাঙালি যে একটি উপনিবেশবাদী জাতি তা প্রমাণিত হয়েছে। বাঙালিরা বর্ণবাদী, ইহুদী, জার্মানির মতো। এর মধ্য দিয়ে জাতিগত সাম্প্রদায়িকতা প্রকাশ্যে রূপ লাভ করেছে। পাহাড়ে সেনা শাসনের বিষয়টি এর মধ্য দিয়ে জানিয়ে দেয়া হলো। এটাকে বর্ণবাদী ও সাম্প্রদায়িকতা’ বলে মন্তব্য করেন তিনি।

সিএইচটি কমিশনের নাম পরিবর্তনের অনুরোধের সিদ্ধান্তের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে এই কমিশনের সদস্য ব্যরিস্টার সারা হোসেন বলেন, ‘এই সিদ্ধান্ত অবশ্যই সংবিধান পরিপন্থী। তাছাড়া কোন একটি সংগঠনের নাম পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার কি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আছে কি? অধ্যাপক মেসবাহ কামাল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তকে নির্লজ্জ সিদ্ধান্ত ও পার্বত্য চুক্তির সাথে বিরোধাত্মক’ বলে অভিহিত করেন।

 উল্লেখ্য যে, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এ সিদ্ধান্ত নিয়ে যারা বিরূপ মনোভাব ও মন্তব্য করেছেন তাদের সম্পর্কে খতিয়ে দেখলে দেখা যাবে এরা কোনো না কোনোভাবে বিভিন্ন এনজিও সাথে জড়িত বা তা থেকে লাভবান। আর ঐ সকল এনজিও উল্লিখিত দাতা দেশ ও উন্নয়ন সংস্থা থেকে আর্থিকভাবে অনুদানপ্রাপ্ত বা লাভবান। ফলে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ে পাহাড়ী বিচ্ছিন্নতাবাদী ও তাদের পৃষ্ঠপোষকদের প্রতিকূলে যেকোনো সিদ্ধান্ত ও ঘটনাবলীতে তারা সবসময় সোচ্চার প্রতিবাদ জানিয়ে থাকে। অর্থাৎ ক্ষুদ্র জাতিসত্ত্বার অধিকার নয় বরং এর পেছনে তাদের আর্থিক স্বার্থ জড়িত।

 পার্বত্য চট্টগ্রামে কারা সাম্প্রদায়িকতার বীজবপন তা ড. ইফতেখারুজ্জামানের স্বার্থের চোখে ধরা না পড়লেও তাকে প্রথম আলোর সাবেক ফটো সাংবাদিক সৈকত ভদ্রের আর্তির কথা স্মরণ করিয়ে দেয়া প্রয়োজন। বর্তমান বিশ্বে জাতি, ধর্ম, বর্ণ, দেশে, মহাদেশ নির্বিশেষে বিয়ে হচ্ছে সর্বত্র। কেবল বাংলাদেশের পাহাড়ী সন্ত্রাসী সংগঠনগুলোর কাছেই এটা মহা অপরাধ। যেকোনো কোনো পাহাড়ী মেয়ে কোনো বাঙালী ছেলেকে বিয়ে করলে পাহাড়ী সন্ত্রাসী সংগঠনগুলো ওই মেয়েকে গণধর্ষণের পর হত্যা করে থাকে। এমনকি পাহাড়ী মেয়েরা বাঙালী ছেলেদের সাথে প্রেম, বন্ধুত্ব, চলাফেরা করলে পাহাড়ী সংগঠনগুলো ওই মেয়েকে চাপ দেয় ফিরে আসতে। কিন্তু ফিরে না এলে জাতি রক্ষায় নামে উল্লিখিত শাস্তি দেয়া হয়। এটাই তাদের অঘোষিত শাস্তি। গত ২৩ ফেব্রুয়ারী ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন জাতীয় মুক্তি কাউন্সিলের সদস্য  সাংবাদিক সৈকত ভদ্র। তিনি ভালবেসে বিয়ে করেছিলেন খাগড়াছড়ির মেয়ে সহযোদ্ধা রেটিনা চাকমাকে। বাঙালী ছেলেকে বিয়ে করায় রেটিনা চাকমার উপর নেমে আসে অমানুষিক নির্যাতন। একই কারণে প্রথম আলো থেকে চাকুরী হারাতে হয় তাকে। পাহাড়ীদের চাপে তাকে চাকরী থেকে বহিস্কারের জন্য প্রথমআলোর সম্পাদক বরারব সুপারিশ করেছিলেন ঐক্যন্যাপের সভাপতি পঙ্কজ ভট্টাচার্য। সৈকত ভদ্র সংবাদ সম্মেলনে বলেন, “একবিংশ শতাব্দীতে এসে বাংলাদেশেও মেয়েদের উপর নিলামের মত মধ্যযুগীয় বর্বরতা সংঘটিত হতে পারে সেটা জেনে আপনারা অবাক হতে পারেন” । তিনি স্ত্রী রেটিনা চাকমাকে নিলামের হাত থেকে বাঁচানোর জন্য জাতীয় বিবেক ও মানবিকতার কাছে আর্তনাদ করেছেন। কিন্তু অধিকাংশ গণমাধ্যমের বিবেক ও মানবিকতায় সৈকত ভদ্রের এ আর্তনাদ নিষ্ফল করাঘাত করেছে। এমনকি পাহাড়ীদের ব্যাপারে অতি স্পর্শকাতর গণমাধ্যমেও সৈকত ভদ্রের এ আর্তনাদ প্রকাশযোগ্য বলে বিবেচিত হয়নি।

শুধু এক রেটিনা চাকমা নয়, গুইমারা উমাচিং মারমা, মাটিরাঙার সোনাবি চাকমা, রাঙামাটি কুতুকছড়ির রীনা ত্রিপুরা, রামগড়ের মণিকা ত্রিপুরা, এরকম আরো অসংখ্য পাহাড়ী মেয়েকে বাঙালী বিয়ে করায় অপহরণ, গণধর্ষণ, হত্যাসহ বিভিন্ন নারকীয় অভিজ্ঞতার শিকার হতে হয়েছে। অবশ্য সেদিক দিয়ে ভাগ্যবান ড. ইফতেখারুজ্জামান। তিনিও খাগড়াছড়ির জামাই। স্ত্রী চাকমা সম্প্রদায়ের। তাকে বা তার স্ত্রীকে এমন অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হতে হয়েছে এমন তথ্য লেখকের জানা নেই। বরং ঢাকায় তিনি চাকমা সম্প্রদায়ের কাছে সর্বোচ্চ জামাই আদরই পেয়ে থাকেন। কিন্তু খাগড়াছড়িতে শশুরবাড়ী যেতে হয় রাতের অন্ধকারে। ঐক্যন্যাপের সভাপতি পঙ্কজ ভট্টাচার্য প্রায়ই বলে থাকেন পার্বত্য চট্টগ্রামে ইসরাইলী শাসন চলছে। পঙ্কজ বাবুর ইতিহাস জ্ঞান নিয়ে প্রশ্ন তোলার ধৃষ্টতা দেখাতে চাই না। তবে তিনি যদি পরিস্কার করে বলেন, ইসরাইলের স্যাটেলার ইহুদি শাসনে নিপীড়িত স্থানীয় মুসলিমদের সাথে পার্বত্য চট্টগ্রামের পরিস্থিতি কীভাবে মেলালেন। এখানে কারা স্যাটলার, কারা স্থানীয়? কারা শোষক, কারা শাসক?

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পার্বত্য চট্টগ্রামে সক্রিয় দাতা সংস্থাগুলো অনেকটা স্বাধীনভাবে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে। এনজিও পরিচালনা সংক্রান্ত কোনো সরকারি নির্দেশনা তারা মানে না। তাদের কাজের ও খরচের কোনো বিবরণ/হিসাবও সরকারকে দেয় না। এ ব্যাপারে একাধিকবার বলা হলেও তারা তা পালন করেনি। পার্বত্য চট্টগ্রামে বিদেশী দাতা সংস্থা, মিশনারী ও এনজিও’র কর্মকাণ্ড সবসময়ই প্রশ্নবিদ্ধ। এসব এনজিও ও দাতা সংস্থার বিরুদ্ধে বিচ্ছিন্নতাবাদী কর্মকাণ্ডে সহায়তা, উস্কানী, সাম্প্রদায়িকতা সৃষ্টি, ধর্মান্তরকরণসহ নানা অভিযোগ বহুদিনের। সরকারি একাধিক তদন্তে একথা প্রমাণিত হয়েছে। পার্বত্য চট্টগ্রামকে ইস্ট তিমুর ও সাউথ সুদানের মতো আলাদা খ্রিস্টান রাষ্ট্র বানানোর পশ্চিমা নীলনকশাও সকলের জানা। গত ১৩ মার্চ বান্দরবানের আলীকদমে  ‘সেভেন্থ ডে অ্যাডভেন্টিস্ট’ নামে এক খ্রিস্টান মিশনারী লোভ দেখিয়ে অনেকটা গোপনেই স্থানীয় ৩৩ জন মুরুংকে খ্রিস্টান ধর্মে ধর্মান্তরিত করে। পুলিশ এ অভিযোগে মিশনারীটির ৫ জন সদস্যকে গ্রেফতারও করেছে। গতবছর একই এলাকার চাক সম্প্রদায় মিশনারীদের বিরুদ্ধে ধর্মান্তরিত করার অভিযোগ এনে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপিও দিয়েছে। কাজেই জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে বৈদেশিক সাহায্যের নামে টাকা এনে এসব এনজিও ও দাতা সংস্থা কোথায় কিভাবে বিনিয়োগ করছে তা জানা জরুরি ও বাংলাদেশের ন্যায্য অধিকার।

এদিকে ১৯৮৯ সালে গঠিত ইন্টারন্যাশনাল সিএইচটি কমিশনের মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় দীর্ঘদিন পর নতুন সিএইচটি কমিশন গঠিত হয়েছে। এর নামের আগে এখন আর ইন্টারন্যাশনাল লেখা হয় না। নতুন সংস্থাটি কবে, কোথায় গঠিত ও নিবন্ধিত হয়েছে, কোন আইনে নিবন্ধিত হয়েছে, বাংলাদেশে কার্যক্রম পরিচালনার আদৌও কোনো অনুমতি আছে কিনা সেসব খতিয়ে দেখে এই কমিশনকে নিষিদ্ধ করার দাবি পার্বত্যবাসী, বিশেষ করে বাঙালিদের দীর্ঘদিনের। এই কমিশনের বিরুদ্ধে পার্বত্য চট্টগ্রামে অস্থিরতা, সাম্প্রদায়িকতা, দাঙ্গা সৃষ্টির অভিযোগ করে থাকে বাঙালিরা। সাম্প্রদায়িকতা সৃষ্টির অভিযোগে পার্বত্য বাঙালিরা ইতোমধ্যে এই কমিশনকে পার্বত্য চট্টগ্রামে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে। তাদের সফরকালে প্রায় সবসময় একই অভিযোগে বাঙালিদের হামলার শিকার হতে হয়েছে। এমন একটি প্রতিষ্ঠান কি করে ‘কমিশন’ নামে কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারে তা খতিয়ে দেখে মন্ত্রণালয় কেবল ‘কমিশন’ নামটি বাদ দিয়ে নতুন করে নিবন্ধিত হয়ে কার্যক্রম পরিচালনার সুপারিশ করেছে। এটি অত্যন্ত সফট ডিসিশন বলেই সংশ্লিষ্ট মহলের অভিমত।

পার্বত্য চট্টগ্রামকে নিয়ে পাশ্চাত্যের স্বতন্ত্র খ্রিস্টান রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ষড়যন্ত্র ও তৎপরতার কারণেই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিদেশী নাগরিক ও কূটনীতিকদের চলাচলের ক্ষেত্রে উল্লিখিত বিধিনিষেধ আরোপ করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। অবশ্য আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী এমনিতেই কূটনীতিকদের সকল ভ্রমণ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে নির্ধারণ করতে হয়। কিন্তু বাংলাদেশে কর্মরত পশ্চিমা কূটনীতিকরা বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এই আইন অমান্য করে থাকেন। বিশেষ করে পার্বত্য চট্টগ্রামের বেলায় এ ঘটনা অহরহই ঘটে থাকে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের এ নির্দেশনা তাদের জন্য আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শনের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়ার বেশি কিছু নয়। অন্যদিকে পরিচয় গোপন করে বা পর্যটকের ছদ্মাবরণে পার্বত্য চট্টগ্রামে বিদেশী নাগরিকদের ভ্রমণ ও বাংলাদেশ বিরোধী তৎপরতা পরিচালনার কথাও নতুন নয়।  এ ক্ষেত্রে জাতিসংঘের স্পেশ্যাল র‌্যাপোটিয়ার্স Mr. Lars Anders Bear এর কথা স্মরণ করা যেতে পারে।  সুইডেন নাগরিক Mr. Lars Anders Bear বিভিন্ন দেশের আদিবাসী ইস্যু নিয়ে কাজ করেন। তিনি UNFPII-এ স্পেশাল রেপোর্টিয়ার হিসেবে নিয়োজিত। UNFPII এর দশম অধিবেশনে Mr. Lars Anders Bear কর্তৃক উপস্থাপিত ‘Status of the  implementation of CHT Peace Accord of 1997′ যথেষ্ট বিতর্কের সৃষ্টি করেছে। তিনি জাতিসংঘের পরিচয় গোপন করে পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক কমিশনের সদস্য হিসেবে বাংলাদেশ সফর করেন এবং তার সংগৃহীত তথ্য-উপাত্ত UNFPII এর স্বার্থে ব্যবহার করে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করেছেন। এমনকি শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে নিষিদ্ধ করার সুপারিশ করতেও কসুর করেননি তিনি। এ ধরনের তৎপরতা রোধে পার্বত্য চট্টগ্রামে বিদেশী নাগরিকদের ভ্রমণ নজরদারী করা অত্যন্ত জরুরি। বিশেষ করে যেখানে পাহাড়ী সন্ত্রাসীরা প্রতিনিয়ত অপহরণ ও জিম্মি করে হত্যা ও অর্থ আদায়ের ঘটনা ঘটিয়ে চলেছে সেখানে বিদেশী নাগরিকদের ভ্রমণ নিরাপদ করতেও নজরদারী প্রয়োজন।

 তবে একথা সত্য যে, এ ধরনের নীতিমালার কঠোর প্রয়োগ পার্বত্য চট্টগ্রামের পর্যটন সম্ভাবনাকে নিরুৎসাহিত করবে এবং একই সাথে সেখানে কর্মরত বিদেশী নাগরিকদের কাজে বাধার সৃষ্টি করবে। এ ক্ষেত্রে সচেতন মহলের অভিমত এই যে, বিশেষ অঞ্চল হিসাবে বিবেচিত পার্বত্য চট্টগ্রামে বিদেশীদের চাকরি ও অবস্থান নিরুৎসাহিত করে বাংলাদেশীদের মাধ্যমেই কার্যক্রম পরিচালনা করা যেতে পারে এবং পার্বত্য চট্টগ্রামের পর্যটন অঞ্চলে বিদেশীদের ভ্রমণে এ নিদের্শাবলীর শৈথিল্য প্রদর্শন এবং পর্যটন অঞ্চলের বাইরে বিদেশীদের ভ্রমণের এ নিষেধাজ্ঞা কড়াকড়িভাবে আরোপ করা যেতে পারে। ভারত, পাকিস্তান, চায়নাসহ বিশ্বের দেশে দেশের ইনসার্জেন্ট অঞ্চগুলোতে এভাবেই বিদেশীদের নিয়ন্ত্রণ করা হয়ে থাকে।

 স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের নির্দেশনার অন্যতম হচ্ছে, শান্তিবাহিনীর সাবেক সদস্য যারা পুলিশ ও আনসারে যোগদান করেছে এবং তাদের মাধ্যমে যারা পার্বত্য চট্টগ্রামে নিয়োজিত তাদের পার্ব্ত্য চট্টগ্রামের বাইরে বদলী করতে হবে। এটি অত্যন্ত সঠিক ও প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত।

 অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, পাহাড়ী সন্ত্রাসীদের ছাত্র সংগঠন পাহাড়ী ছাত্র পরিষদের অনেক সদস্য ছাত্রজীবন শেষে নিরাপত্তাবাহিনীর চাকুরীতে যোগদান করে। কিন্তু সার্ভিসে যোগদানের পরেও  অনেকেই তাদের গোপন সংগঠনের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করে চলে। এ বিবেচনায় নিরাপত্তা বাহিনীতে কর্মরত পাহাড়ীদের পার্বত্য চট্টগ্রামে পদায়ন দীর্ঘদিন বন্ধ ছিল। কিন্তু বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর শান্তিচুক্তি বাস্তবায়নের নামে একটি মহল ইউএনডিপি’র ইন্ধনে পার্বত্য চট্টগ্রামে মিশ্র পুলিশ বাহিনী সৃষ্টির নামে উপজাতীয় পুলিশ ও আনসারদের পার্বত্য চট্টগ্রামে পদায়ন শুরু করে। এই সুযোগে শান্তিবাহিনীর যেসকল সদস্য অস্ত্র জমা দিয়ে পুলিশ ও আনসারে চাকরী নিয়েছিল তারাও পদায়ন হয়। কিন্তু সার্ভিসে থাকলেও তারা সার্ভিসের গোপন খবর বিশেষ করে অপারেশনাল নানা তথ্যাদি উপজাতীয় সংগঠন ও সন্ত্রাসীদের কাছে পাচার করতো। এ বিষয়ে পুলিশসহ একাধিক গোয়েন্দা সংস্থা সরকারের কাছে রিপোর্ট করেছে বলে জানা গেছে। এছাড়া বাঙালীদের কাছে মদ একটি নিষিদ্ধ পানীয় হলেও পাহাড়ীদের জীবনে এটি খুবই সাধারণ পানীয়। অনেকক্ষেত্রে দেখা গেছে, উপজাতীয় পুলিশ দায়িত্ব পালনকালে মদ খেয়ে মাতাল হয়ে পড়ে, বা সন্ত্রাসীরা টার্গেট করে উপজাতীয় পুলিশদের পাহাড়ী মদ খাইয়ে মাতাল করে। মাতাল অবস্থায় সে অস্ত্রের উপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে। এই সুযোগে পাহাড়ী সন্ত্রাসীরা পুলিশের অস্ত্র নিয়ে পলায়ন করে। এ কায়দায় গত দূর্গাপূজার সময় পানছড়িতে লক্ষ্ণীকুমার চাকমা নামের এক শান্তিবাহিনী ফেরত উপজাতীয় পুলিশের একে-৪৭ রাইফেল চুরি হয়। বিষয়টি বিবেচনা করেই সরকার এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

কাজেই দেশী দাতা দেশ, সংস্থা ও তাদের অনুজীবী এনজিও, এনজিও’র মালিক, সুবিধাভোগী বুদ্ধিজীবীরা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের এ সিদ্ধান্তে যত সমালোচনাই করুক, জাতীয় স্বার্থ, নিরাপত্তা, অখণ্ডতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষাকল্পে সরকারকে তার সিদ্ধান্তে দৃঢ়তা প্রদর্শন করতে হবে। জাতীয় প্রত্যাশাও এটাই।

Email:palash74@gmail.com

নোট: গত ২২ মার্চ ২০১৫ তারিখে দৈনিক ইনকিলাবে এই লেখাটি প্রকাশিত  হয়েছিল। তবে বর্তমান লেখাটি ঈষৎ পরিবর্ধিত। লেখাটি যেদিন প্রকাশিত হয় তার পরদিনই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয় পার্বত্য চট্টগ্রামে পর্যটকদের ভ্রমণের ক্ষেত্রে ৪ ফেব্রুয়ারীর আদেশ শিথিল করে।

লেখকের পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক আরো কিছু লেখা

 

আলীকদমে বিশ্ব খাদ্য দিবস পালিত

Alikadam (Banarban) World Food Day News Pic

আলীকদম (বান্দরবান) প্রতিনিধি:
বান্দরবানের আলীকদম উপজেলায় গতকাল বৃহস্পতিবার উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে কারিতাস খাদ্য নিরাপত্তা প্রকল্পের সহযোগিতায় বিশ্ব খাদ্য দিবস পালিত হয়েছে। ‘সুস্বাস্থ্যের জন্য চাই পুষ্টিকর খাদ্য ব্যবস্থা’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে দিবসটি পালন করা হয়। এ উপলক্ষে এক বর্ণাঢ্য র‌্যালি উপজেলার বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে উপজেলা পরিষদ চত্ত্বরে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আলী আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোতাকাব্বীর আহমেদ। উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা গোপন চৌধুরীর সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মো: রিটন, উপজেলা প্রকৌশলী সজল কৃষ্ণ দেব, উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা ও সরকারী বেসরকারী কর্মকর্তাবৃন্দ। এতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন কারিতাস খাদ্য নিরাপত্তা প্রকল্পের জুনিয়র কর্মসূচী কর্মকর্তা উসিনু মার্মা ও কারিতাস খাদ্য নিরাপত্তা প্রকল্পের মাঠ কর্মকর্তা জুয়েল চৌধুরী।

সভায় বক্তারা বলেন, কৃষি উৎপাদন বাড়াতে পরিবেশের ক্ষতিকর তামাক চাষকে নিরূৎসাহিত করতে হবে। রবিশস্যের আবাদ বাড়াতে হবে। তামাক মাটি ও পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতিসাধন করছে। ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্য সুন্দর পরিবেশ সৃষ্টিতে কৃষিবান্ধব অর্থনীতির বিকল্প নেই। সভাশেষে কারিতাস খাদ্য নিরাপত্তা প্রকল্পের ২৫০ জন উপকারভোগীদের মাঝে কম্পোষ্টের জন্য ৩৫০ টাকা হারে বিতরণ করা হয়।

একটি স্থায়ী পার্বত্যনীতি সময়ের দাবী

মেহেদী হাসান পলাশ, Mehadi Hassan Palash
 
মেহেদী হাসান পলাশ :
বান্দরবানে আন্তর্জাতিক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ওয়ার্ল্ড ভিশনের কার্যক্রম বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে এনজিও ব্যুরো। নির্দেশ পাওয়ার পরপরই ওয়ার্ল্ড ভিশনের কার্যক্রম গুটিয়ে ও কার্যালয়ের আসবাবপত্র সরিয়ে নেয়ার কাজ শুরু করেছে সংস্থাটি। বান্দরবান ওয়ার্ল্ড ভিশন কর্মকর্তা সূত্রে জানা যায়, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়স্থ এনজিও ব্যুরোর কর্মকর্তা জহিরুল ইসলাম স্বাক্ষরিত পরিপত্রে বলা হয়, আগামী ৩০ সেপ্টেম্বরের পর থেকে বান্দরবান জেলায় ওয়ার্ল্ড ভিশন আর কোনো কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবে না। সে পত্র মোতাবেক বান্দরবান শহরের বাস স্টেশন এলাকায় অবস্থিত ওয়ার্ল্ড ভিশন কার্যালয়ের যাবতীয় কার্যক্রম গুটিয়ে ফেলা হচ্ছে। ঠিক কি কারণে বান্দরবানে তার কার্যক্রম গুটিয়ে ফেলার নির্দেশ দেয়া হয়েছে সে বিষয়ে কোনো পক্ষই মুখ খুলছে না।
ওয়ার্ল্ড ভিশন নামক এই এনজিওটির বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরেই পার্বত্য চট্টগ্রামে ক্রিশ্চিয়ানাইজেশন, বিচ্ছিন্নতাবাদ ও সাম্প্রদায়িকতায় উসকানী প্রদান, পক্ষপাতদুষ্টু কর্মকাণ্ড পরিচালনার অভিযোগ করে আসছিল পার্বত্য চট্টগ্রামের বাঙালী অধিবাসীরা। বিভিন্ন সরকারি ও গোয়েন্দা তদন্তে এর প্রমাণও মিলেছে। এ ধরনের রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত এনজিও ও মিশনারী সংস্থাগুলোর কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণের সুপারিশ করা হয়েছে সেসব রিপোর্টে। সে কারণে পার্বত্য বাঙালীরা দীর্ঘদিন ধরেই পার্বত্য চট্টগ্রামের এ ধরনের এনজিওর কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ করার দাবি করে আসছিলো। ওয়ার্ল্ড ভিশনের বান্দরবানে ডাইরেক্ট একশন (ডাক) বা সরাসরি কর্মকাণ্ড বন্ধের নির্দেশ তারই অংশ বলে নাম না প্রকাশ করার শর্তে একটি সূত্র উল্লেখ করেছে। শুধু ওয়ার্ল্ড ভিশন নয় পার্বত্য চট্টগ্রামে রাষ্ট্রবিরোধী কিংবা বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে যুক্ত সব এনজিও ও মিশনারী সংস্থাকেই সরকার একে একে নিয়ন্ত্রেণে আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে দাবি করেছে সূত্রটি।
 
ওয়ার্ল্ড ভিশনের বান্দরবান এডিপি ম্যানেজার টিমথি উজ্জ্বল কান্তি সরকার জানান, আশির দশকের আগে থেকে ওয়ার্ল্ড ভিশন বান্দরবান জেলায় জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। সম্প্রতি তার মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে সরকার ওয়ার্ল্ড ভিশনের কার্যক্রম নবায়ন না করে বরং  কার্যক্রম বন্ধের নির্দেশ দেয়। ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে সংস্থাটির মেয়াদ শেষ হচ্ছে। এর ফলে ওই মেয়াদের (৩০ সেপ্টেম্বর) মধ্যেই আমরা বান্দরবানে ওয়ার্ল্ড ভিশনের কার্যক্রম গুটিয়ে ফেলার কাজ শুরু করেছি। তিনি আরো জানান, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের বিরোধিতায় সরকার ওয়ার্ল্ড ভিশনের নবায়ন বন্ধ করে দিয়েছে। সরকার বলেছে, ওয়ার্ল্ড ভিশন আন্তর্জাতিক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন, তাই বাংলাদেশে সরাসরি সংস্থাটি কোনো কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবে না। তবে ওয়ার্ল্ড ভিশন স্থানীয় এনজিওর সাথে পার্টনারশীপে জনহিতকর কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবে। জানা গেছে, ওয়ার্ল্ড ভিশনে ৮ জন কর্মকর্তা ও ৮০ জন স্বেচ্ছাসেবক দিয়ে সীমিত আকারে বান্দরবান সদর উপজেলার সদর, কুহালং ও সুয়ালক এই তিনটি ইউনিয়ন ও বান্দরবান পৌরএলাকায় কৃষি বিষয়ক, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, শিশু কল্যাণ ও দুর্যোগকালীন সেবামূলক কার্যক্রম পরিচলনা করে আসছিল। এছাড়া বিভিন্ন এলাকার ১ হাজার ২৮০ জন ওয়ার্ল্ড ভিশনের স্পন্সর ছাত্র-ছাত্রী রয়েছে। সংস্থাটির পক্ষ থেকে ছাত্র-ছাত্রীদের অর্থিক ও শিক্ষা উপকরণ দিয়ে সহযোগিতা করে আসছিল।
গত মঙ্গলবার সরেজমিনে বাস স্টেশন এলাকায় অবস্থিত ওয়ার্ল্ড ভিশন কার্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের তত্ত্বাবধানে সংস্থাটির আসবাবপত্র অন্যত্র সরিয়ে নেয়া হচ্ছে। এসময় দেখা যায়, ওই মাঠে প্রতিষ্ঠানের বিপুল পরিমাণ কাগজপত্র পুড়িয়ে ফেলা হচ্ছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে ওয়ার্ল্ড ভিশনের কর্মকর্তারা বলেছেন, প্রতিষ্ঠানের নিয়ম মোতাবেক নির্দিষ্ট মেয়াদ শেষে অপ্রয়োজনীয় কাগজ পুড়িয়ে ফেলা হয়। তাই এসব কাগজপত্র পুড়িয়ে ফেলা হচ্ছে।
এদিকে ওয়ার্ল্ড ভিশনের সরাসরি কর্মকাণ্ড বান্দরবানে বন্ধ করায় সরকারকে ধন্যবাদ জানিয়েছে বান্দরবানের বাঙালি জনগোষ্ঠী। একই সাথে তারা কর্মকাণ্ডে লিপ্ত অন্যসব এনজিও, দাতা সংস্থা ও মিশনারী প্রতিষ্ঠানের সরাসরি কার্যক্রম শুধু বান্দরবান নয়, তিন পার্বত্য জেলাতেই বন্ধের দাবি জানিয়েছে। এ খবরে আলোচ্য বিষয় হলো, ওয়ার্ল্ড ভিশনের মতো একটি আন্তর্জাতিক এনজিও’র কার্যক্রম গুটিয়ে নিতে বলা সরকারি আদেশ, বড় মাপের একটি সিদ্ধান্ত। বর্তমান সরকার বলিষ্ঠতার পরিচয় দিয়ে এ সিদ্ধান্ত কার্যকর করেছে। জাতীয় স্বার্থে এটি সরকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ ইতিবাচক সিদ্ধান্ত।
 
২০১০ সালের ২৮ জানুয়ারি পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে বিভিন্ন গণমাধ্যমে উপজাতিদের ‘আদিবাসী’ বলে অভিহিত না করার জন্য একটি প্রজ্ঞাপণ জারি করা হয়। প্রজ্ঞাপণের ভাষার বলিষ্ঠতা ছিল লক্ষণীয়। পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ে বিভিন্ন দাতা দেশ ও সংস্থার নানা ষড়যন্ত্রের কথা সুস্পষ্ট ভাষায় তুলে ধরা হয়। বাংলাদেশের উপজাতিদের ‘আদিবাসী’ হিসেবে আখ্যা দেয়ার অন্তর্নিহিত কারণ সেখানে চিহ্নিত করে দেশবাসী বিশেষ করে গণমাধ্যমের সাথে সংশ্লিষ্টদের ‘আদিবাসী’ শব্দ পরিহার করার জন্য অনুরোধ করা হয়। পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ে বর্তমান সরকারের এ দুটি বলিষ্ঠ সিদ্ধান্ত দেশব্যাপী প্রশংসিত হয়েছিল। বিশেষ করে পার্বত্য চট্টগ্রামের বৃহত্তর জনগোষ্ঠী বাঙালিরা সরাসরি সরকারের এ সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানায়। কিন্তু এর সুফল ঘরে তুলতে পারেনি সরকার। এর কারণ সরকারের কিছু উপদেষ্টা, মন্ত্রী, এমপি, আমলা, মহাজোটের শরীক কিছু নেতার বিভিন্ন বক্তব্য ও কর্মকাণ্ড। সরকারের দায়িত্বশীল এসব ব্যক্তিবর্গ এমন কিছু বক্তব্য ও কর্মকাণ্ড পরিচালনা করেছেন, যাতে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ে সরকারের ভাবমর্যাদা উন্নত হওয়ার পরিবর্তে বিতর্কিত ও প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে।
 
পার্বত্য চট্টগ্রাম বাংলাদেশের এক দশমাংশ ভূখণ্ড নিয়ে গঠিত। জনসংখ্যা সীমিত হলেও জনবৈচিত্র্য বাংলাদেশের অন্য যে কোনো অংশের থেকে আলাদা। ভৌগোলিক অবস্থানগত কারণে ভূ-রাজনীতিতে বিশ্বে এ অঞ্চলের গুরুত্ব অপরিসীম। সমৃদ্ধ সম্পদে সে আপনা মাংসে হরিণা বৈরী। পার্বত্য চট্টগ্রাম সন্নিহিত কক্সবাজার ও এর পদচুমে বঙ্গোপসাগরের অবস্থান বিশ্বের দৃষ্টিতে লোভনীয়। ফলে পার্বত্য চট্টগ্রামকে নিয়ে বিশ্বশক্তির রয়েছে অনেক ষড়যন্ত্র, চক্রান্ত ও লোলুপ দৃষ্টি। তাই বাংলাদেশের সবচেয়ে সেনসেটিভ ভূখণ্ড এই পার্বত্য চট্টগ্রাম। সেকারণে পার্বত্য চট্টগ্রাম বাংলাদেশের কাছে, বাংলাদেশের জনগণের কাছে, সরকারের কাছে আলাদা গুরুত্বের দাবি রাখে। সঙ্গত কারণেই পার্বত্য চট্টগ্রাম নিয়ে যে কোনো সরকারি সিদ্ধান্ত ও কর্মপরিকল্পনা হতে হবে সুচিন্তিত, সুপরিকল্পিত ও সুদুরপ্রসারী।
 
ooo 
 
প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের শাহাদাতের পর থেকে পার্বত্য চট্টগ্রাম পরিচালিত হচ্ছে তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত, এডহক নীতি ও অনেকক্ষেত্রে খামখেয়ালীপনার ভিত্তিতে। প্রেসিডেন্ট এরশাদ গুচ্ছগ্রাম সৃষ্টির সময় যেমন পুনর্বাসনের কথা চিন্তা করেননি, ঠিক তেমনি পার্বত্য জেলা পরিষদ আইন তৈরির সময় ১৯০০ সালে ব্রিটিশ সরকার কর্তৃক প্রণীত একটি মৃত আইন- হিল ট্রাক্টস ম্যানুয়ালকে জীবিত করেছেন। এমনকি এ আইন সৃষ্টিতে রাষ্ট্রিয় সার্বভৌমত্ব, অখণ্ডতা, কর্তৃত্ব ও সংবিধানকে সুবিবেচনা করা হয়নি। সে কারণেই শান্তিচুক্তির বিরুদ্ধে দায়ের করা রিটে উচ্চ আদালত জেলা পরিষদ আইনের বেশ কিছু ধারাকে “রাষ্ট্রের ভেতরে রাষ্ট্র’ আখ্যা দিয়ে অসাংবিধানিক ও রাষ্ট্রবিরোধী বলে বাতিল করে দিয়েছেন। এরশাদের পর বিএনপি ক্ষমতায় এসে শান্তিচুক্তি করার জন্য কর্নেল অলি আহমদ ও রাশেদ খান মেননের নেতৃত্বে কমিটি গঠন করে জেএসএস’র সাথে আলোচনা চালিয়ে গেছে। কিন্তু আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে যখন সেই শান্তিচুক্তি করেছে বিএনপি তাকে ‘দেশ বিক্রির কালো চুক্তি’ বলে আখ্যা দিয়ে তারা ক্ষমতায় গেলে তা বাতিল করার ঘোষণা দিয়ে প্রবল আন্দোলন করেছে। তবে এ কথা অনস্বীকার্য যে, আওয়ামী লীগ নিজেও যখন শান্তিচুক্তি করেছে তখন সংবিধান ও সার্বভৌমত্বের চেয়ে নোবেল শান্তি পুরস্কার প্রাপ্তিকেই হয়ত বেশি প্রাধান্য দিয়েছে। ফলে আদালতের স্টে অর্ডারের স্যালাইন দিয়ে শান্তিচুক্তিকে এখন আইসিইউতে বাঁচিয়ে রাখা হয়েছে। এদিকে বিএনপি পুনরায় ক্ষমতায় এসে কিন্তু ‘দেশ বিক্রির কালো চুক্তি’ বাতিল করেনি, বরং তারাই এচুক্তি সবচেয়ে বেশি বাস্তবায়ন করেছে।
 
‘আদিবাসী’ বিষয়ে আওয়ামী লীগের শীর্ষ পর্যায় থেকে নিম্নস্তরে এক ধরনের সমর্থন ছিল সবসময়। গত নির্বাচনে আওয়ামী লীগের ইশতেহারেও এই ‘আদিবাসী’ শব্দটি ব্যবহার করা হয়েছে। কিন্তু ক্ষমতায় গিয়ে ‘আদিবাসী’ কনসেপ্টের বিরুদ্ধে সবচেয়ে শক্ত অবস্থান নিয়েছে আওয়ামী লীগই। এ বিষয়ে ভারতীয় সমর্থন পাওয়ার ফলেই সরকারের পক্ষে এমন শক্ত অবস্থান নেয়া সম্ভব হয়েছে। আমাদের পার্বত্য নীতি স্পষ্ট হলে এমন অনেক আন্তর্জাতিক বন্ধু পাওয়া সম্ভব।(যদিও সিএইচটি নিয়ে ভারতের সব নীতিই আমাদের স্বার্থানুকূল হবে এমন ভাবার কোনো কারণ নেই)।  কিন্তু শান্তিচুক্তি বাস্তবায়নের নামে বিভিন্ন স্থান থেকে ঢালাওভাবে বহু নিরাপত্তা ক্যাম্প সরিয়ে নেয়ার ফলে পার্বত্য চট্টগ্রাম এখন কার্যত পাহাড়ী চাঁদাবাজ, অপহরণকারী ও সন্ত্রাসীদের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে। পার্বত্য চট্টগ্রামের অর্ধেক জনগোষ্ঠী বাঙালি। সেকারণে পার্বত্য মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী পদটি পাহাড়ীদের দখলে থাকলেও সচিব পদটিতে বাঙালি আমলার পদায়ন হয়েছে সব সময়। ফলে সরকারী কার্যক্রম ও নীতিতে এক ধরণের ভারসাম্য ছিল। কিন্তু আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় এসে মন্ত্রীর পাশাপাশি সচিব পদেও পাহাড়ী পদায়ন করায় পার্বত্য মন্ত্রণালয় কার্যত, একটি ভারসাম্যহীন একপেশে সাম্প্রদায়িক মন্ত্রণালয়ে পরিণত হয়েছে। এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে পার্বত্য চট্টগ্রামের স্থানীয় রাজনীতি, সমাজব্যবস্থা, সৌহার্দ্য, সম্প্রীতি ও সহাবস্থানে।
 
এভাবেই সরকার পরিবর্তনের সাথে সাথে পার্বত্য চট্টগ্রামে সরকারী নীতি পরিবর্তন হয়। শুধু সরকার পরিবর্তন নয়, সরকারি কর্মকর্তা পরিবর্তনের সাথে সাথেও সেখানে নীতির পরিবর্তন ঘটে। এক কর্মকর্তা পার্বত্য চট্টগ্রামে ২-৩ বছরের দায়িত্ব পালনকালে যে নীতি অনুসরণ করেন পরবর্তী কর্মকর্তা এসে তা সম্পূর্ণ উল্টে দেন। ফলে পার্বত্য চট্টগ্রামের অগ্রগতি ও সহাবস্থান চরমভাবে ব্যাহত হয়। এর প্রকৃষ্ট উদাহরণ পার্বত্য ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশন নিয়ে সাম্প্রতিক অস্থিরতা। আদালত শান্তিচুক্তির মৌলিক ধারাগুলোর বেশিরভাগই অসাংবিধানিক বলে বাতিল করে দেয়ার পর ভূমি কমিশনও অসাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে বাতিল হয়ে যাবে, এমনটাই মতামত ছিল দেশের প্রাজ্ঞ আইনজীবীদের। বর্তমান সরকারের কতিপয় ব্যক্তির অতি আগ্রহে যখন ভূমি কমিশন একতরফাভাবে কার্যকর করার উদ্যোগ নেয়া হয়, তখন স্বভাবতই বাঙালিরা ভূমি কমিশন বাতিলের দাবিতে তীব্র আন্দালন গড়ে তোলে। সেসময় কোনো কোনো কর্মকর্তা মনে করলেন, সরকারেরও মুখ রক্ষা করা দরকার। ব্যাস, বাঙালিদের একটি অংশের হাতে ভূমি কমিশন সংস্কার প্রস্তাবের একটি ড্রাফট তুলে দিয়ে সরকারী কর্তৃপক্ষের সাথে বৈঠকে বসিয়ে দিলেন। ফলে দেশের সার্বভৌমত্ব, রাষ্ট্রিয় অখণ্ডতা, সংবিধান, সরকারি কর্তৃত্ব, আদালতের এখতিয়ার বিরোধী একটি প্রতিষ্ঠান বাতিল না হয়ে টিকে থাকার পথ তৈরি হলো। এ নিয়ে ইতোমধ্যে পার্বত্য চট্টগ্রামে সৃষ্টি হয়েছে ব্যাপক নৈরাজ্য, বিভেদ ও দ্বন্দ্ব। এমনও দেখা গেছে যে, পার্বত্য চট্টগ্রামে দায়িত্বপালনকালে কোনো এক সরকারী কর্মকর্তা পার্বত্য চট্টগ্রামকে ভালবেসে এর উপর দুটি বই লিখে ফেলেন ছদ্মনামে। তথ্যবহুল ও গবেষণামূলক এই বইটি প্রচারে তখন সরকারীভাবে ব্যাপক প্রমোট করা হয়। কিন্তু সরকার পরিবর্তনের সাথে সাথে এ বইটিই তার জন্য কাল হয়ে দাঁড়ায়। এ বইটিই অত্যন্ত মেধাবী এ কর্মকর্তার চাকুরী অবসানের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। যদিও পার্বত্য চট্টগ্রাম নিয়ে পড়াশোনা ও গবেষণায় প্রায় সকল সরকারী অফিসেই বইটি অনুসৃত হয়। এরপর থেকে পার্বত্য চট্টগ্রাম নিয়ে ভালবেসে কিছু করার ক্ষেত্রে সরকারী কর্মকর্তাদের মধ্যেও এক ধরণের দ্বিধাদ্বন্দ্ব কাজ করে থাকে। একটি স্থায়ী পার্বত্য নীতি না থাকার কুফল এটি।
 
সিএইচটি নিয়ে যে পাশ্চাত্য ষড়যন্ত্র ভারতের সেভেন সিস্টার্সও তার অন্তর্ভূক্ত। সেটা বুঝতে পেরেই ভারত সরকার সেভেন সিস্টার্স রাজ্যগুলোতে পাশ্চাত্যের আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থার সরাসরি কার্যক্রম বা ডাইরেক্ট একশন (ডাক) বন্ধ করে দিয়েছে।  সেখানে আন্তর্জাতিক সংস্থার অর্থায়নে কার্যক্রম পরিচালনা করে ভারত সরকার বা ভারতীয় এনজিও। কিন্তু বাংলাদেশে এসব আন্তর্জাতিক এনজিও, দাতা সংস্থা ও মিশনারী প্রতিষ্ঠানগুলো সরাসরি কার্যক্রম পরিচালনা করে। তাদের কার্যক্রম ও অর্থ পরিচালনার কোনো হিসেব বাংলাদেশ সরকারকে দেয় না। এমনকি তাদের মিটিংগুলোতে বাংলাদেশ সরকারের প্রতিনিধিদের ঢুকতে দেয় না। কেউ ঢুকলেও পরিচয় পেলে অপমান করে বের করে দেয়। সে ক্ষেত্রে বান্দরবানে ওয়ার্ল্ড ভিশনের কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণের উদ্যোগ ইতিবাচক। অন্যান্য এনজিও ও দাতা সংস্থার ক্ষেত্রেও একই ব্যবস্থা কাম্য। অথচ একই সময়ে সরকারের কোনো কোনা মন্ত্রী ইউএনডিপির মতো পার্বত্য চট্টগ্রামে বহুল বিতর্কিত দাতা সংস্থার কার্যক্রমের আওতা বৃদ্ধির জন্য ডিও লেটার পাঠাচ্ছে তাদের আবাসিক কার্যালয়ে এবং তা সাথে সাথে গৃহীতও হয়েছে। একটি স্থায়ী পার্বত্য নীতির অভাবেই এমনটি ঘটছে।
পার্বত্য চট্টগ্রামে পাহাড়ী-বাঙালি বিভেদের কথাই কেবল দেশবাসী জেনে আসছে। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন। আট লক্ষাধিক উপজাতীয় জনগোষ্ঠীর মধ্যে বড়জোর হাজার দশেক লোক এই বিভেদের সাথে জড়িত। এরা ইউপিডিএফ, জেএসএস’র সন্ত্রাসী ও মতলববাজ এনজিও কর্মী। বাকি সকল উপজাতি সদস্য কিন্তু শান্তিপ্রিয়, পাহাড়ী বাঙালি সহাবস্থানে বিশ্বাসী ও দেশপ্রেমিক। কিন্তু মুষ্টিমেয় সন্ত্রাসীদের অস্ত্রের মুখে তারা বাধ্য হয় সন্ত্রাসীদের সেখানো বুলি প্রচার করতে, তাদের গাইডেড পথে চলতে। অথচ এই সন্ত্রাসীদের ক্ষেত্র বিশেষে তারা বাঙালীদের থেকেও বেশি ঘৃণা করে। কারণ বাঙালিদের থেকে তারা আরো বেশি সন্ত্রাসের/ চাঁদাবাজির শিকার। সিএইচটিতে কর্মরত এনজিও কর্মীরা নানা কায়দার বিভেদ ছড়িয়ে দিয়ে একটি বাঙালী বিদ্বেষী প্রজন্ম সৃষ্টি করতে অপচেষ্ট। অথচ এই বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠ শান্তিপ্রিয় দেশপ্রেমিক উপজাতিদের নিরাপত্তা দিয়ে, ভালবেসে কাছে টানা হয়নি কখনো।বরং উপজাতি বলে সন্ত্রাসীদের পাল্লায় তুলে কেবল দূরেই ঠেলে দেয়া হয়েছে। সেখানে বিভেদের দশভূজা জাগ্রত কিন্তু শান্তির বীণাপাণি নিদ্রা যায়। কোনো কোনো ঘটনার প্রেক্ষিতে সরকারী পৃষ্টপোষকতায় সম্প্রীতি মিছিল চোখে পড়লেও সরকারী লোকেরা যেভাবে সে মিছিল চারপাশ থেকে ঘিরে রাখে তাতে সম্প্রীতির থেকে সংশয় চোখে পড়ে বেশী।
 
পার্বত্য চট্টগ্রাম নিয়ে বিভ্রান্তি দেশের বুদ্ধিজীবী মহলের মধ্যে বেশি। এদের বেশিরভাগই মনে করেন বাঙালি ও সেনাবাহিনী সেখানে যত সমস্যার মূল। সন্দেহ নেই, তাদের বিভ্রান্তি ভিত্তিহীন। কিন্তু সে বিভ্রান্তি অপনোদনের চেষ্টা রাষ্ট্রিয় পর্যায় থেকে কি যথাযথভাবে নেয়া হয়েছে? ঘটনার প্রেক্ষিতে মাঝে মাঝে সেখানে মিডিয়া টিম পাঠানো হয়, বুদ্ধিজীবীদের কাউকে অনুরোধ করে লেখানো হয়। কিন্তু এ দেশের কতজন মানুষ জানে পার্বত্য চট্টগ্রামে কোন প্রেক্ষাপটে বাঙালিদের পাঠানো হয়েছে? কতজন জানে পার্বত্য চট্টগ্রামে বাঙালি অবস্থানের গুরুত্ব? কতজন জানে সেনাবাহিনী পার্বত্য চট্টগ্রামে আসলে কি করে? তাদের সেবা, ত্যাগ, কমিটমেন্টের কথা কতো জনের মাঝে তুলে ধরা হয়েছে? কাশ্মীরে ভারতীয় সেনাবাহিনীর অবদান নিয়ে বলিউডে অনেক সিনেমা হয়েছে, হলিউডের কথা বললে তো একটি বই লেখা হয়ে যাবে। কিন্তু বাংলাদেশে পার্বত্য চট্টগ্রামে সেনাবাহিনীর আত্মত্যাগের অনেক ঘটনা গল্প ও ছবিকে হার মানায়। কিন্তু তার কথা দেশের কতজন মানুষ জানে। একটি স্থায়ী পার্বত্যনীতি না থাকার কারণেই তা সম্ভব হয়নি।
 
কাজেই বর্তমানে পার্বত্য চট্টগ্রামের অস্থির পরিস্থিতি বিবেচনায় কোনো এডহক সিদ্ধান্তে সমাধান না খুঁজে একটি স্থায়ী পার্বত্যনীতি প্রণয়নের দিকে বেশি জোর দিতে হবে। সেখানে বসবাসকারী সব সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি, রাজনৈতিক দল, নাগরিক সমাজ,  সিভিল ও সামরিক প্রশাসন, বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে একটি শক্তিশালী কমিটির মাধ্যমে এ পার্বত্যনীতি প্রণয়ন করতে হবে- যা সব সরকার ও সব ব্যক্তির জন্য অনুসরণযোগ্য ক্ষেত্র বিশেষে বাধ্যতামূলক করতে হবে। এখনই সময়। কারণ লেটার ইজ বেটার দ্যান নেভার।  
Email:palash74@gmail.com, সৌজন্যে- দৈনিক ইনকিলাব। (ইষৎ পরিবর্তিত)

পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ে লেখকের আরো কিছু প্রবন্ধ

পার্বত্য চট্টগ্রাম জাতীয় দৃষ্টির মধ্যে রাখতে হবে

একটি স্থায়ী পার্বত্যনীতি সময়ের দাবী

বাংলাদেশে আদিবাসী বিতর্ক

আদিবাসী বিষয়ে আন্তর্জাতিক আইনের ভুল ব্যাখ্যা ও অপপ্রয়োগ

পার্বত্য চট্টগ্রাম কি বাংলাদেশ নয়, বাঙালীরা কি মানুষ নন- ১

পার্বত্য চট্টগ্রাম কি বাংলাদেশ নয়, বাঙালীরা কি মানুষ নন- ২

পার্বত্য চট্টগ্রাম কি বাংলাদেশ নয়, বাঙালীরা কি মানুষ নন- ৩