উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে মানিকছড়িতে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন দলীয় ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা

খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি:

খাগড়াছড়ির মানিকছড়িতে আনন্দঘন পরিবেশে চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যান পদপ্রার্থীরা উৎসবমূখর পরিবেশে নির্বাচনী আচরণবিধি মেনেই সোমবার সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন দলীয় ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা।

ভাইস চেয়ারম্যান পুরুষ পদে ৪ যুবলীগ নেতাসহ ৫জন এবং মহিলা পদে ৪জন মনোনয়নপত্র জমা দিলেও চেয়ারম্যান একমাত্র উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মো. জয়নাল আবেদীন মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। ফলে ধরেই নেওয়া যায় আওয়ামী লীগ মনোনিত দলীয় প্রতীক নৌকার কান্ডারী মো. জয়নাল আবেদীন আগামী দিনের মানিকছড়ি উপজেলা পরিষদে বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি।

উপজেলা নির্বাচন অফিস ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার অফিস সূত্রে জানা গেছে, ৫ম উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের দ্বিতীয় ধাপে নির্বাচন আগামী ১৮ মার্চ। ফলে ১৮ ফেব্রুয়ারি ছিল মনোনয়নপত্র জমার শেষ কার্যদিবস। তাই সকাল থেকে দলীয় ও স্বতন্ত্র পদপ্রার্থীরা নির্বাচনী আচরণবিধি মেনে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন সহকারী রিটার্নিং অফিসার ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার(অ.দা) বিভীষণ কান্তি দাশ এর নিকট।

সকাল ১১টায় চেয়ারম্যান পদে একমাত্র প্রতিদ্বন্দ্বি উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মো. জয়নাল আবেদীন বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান ম্রাগ্য মারমা, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান এম.এ. জব্বার ও এম.এ. রাজ্জাক ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মো. আবুল কালামসহ জনপ্রতিনিধি ও দলীয় নেতাদের সাথে নিয়ে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। এ পদে আর কেউ মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেনি। ফলে ধরেই নেওয়া যায় বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় মানিকছড়িবাসীর অভিভাবক হতে যাচ্ছেন উদীয়মান ও অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদ এবং বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মো. জয়নাল আবেদীন।

ভাইস চেয়ারম্যান পুরুষ পদে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন ৪ যুবলীগ নেতাসহ ৫জন। এরা হলেন, বর্তমান ভাইস চেয়ারম্যান ও উপজেলা যুবলীগ সভাপতি ও ঠিকাদার মো. তাজুল ইসলাম বাবুল, উপজেলা যুবলীগ সহ সভাপতি ও ঠিকাদার মো. সামাউন ফরাজী সামু, উপজেলা যুবলীগ সাধারণ সম্পাদক ও মেমোরি কিন্ডার গার্টেন এন্ড পাবলিক স্কুলের পরিচালক এবং ঠিকাদার মো. জাহেদুল আলম মাসুদ, উপজেলা যুবলীগ সাংগঠনিক সম্পাদক ও ইউপি সদস্য মো.ইদ্রিস ইসলাম বাচ্চু, ও উপজেলা আনসার ও ভিডিপি’র পিসি মো. নাছির উদ্দীন।

অপরদিকে মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে মনোনয়নপত্র নিয়েছেন ৪জন। এরা হলেন, বর্তমান ভাইস চেয়ারম্যান রাহেলা আক্তার, সাবেক সংরক্ষিত ইউপি সদস্য শিউলি বেগম, সাবেক সংরক্ষিত ইউপি মহিলা সদস্য ও উপজাতি নেত্রী ডলি চৌধুরী ও উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মরহুম ডা. খান মকবুল আহম্মদ এর কনিষ্ঠ কন্যা নুরজাহান আফরিন লাকি।

এদিকে ৫ম উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের দ্বিতীয় ধাপে মনোনয়ন দাখিলের শেষ দিন সোমবার সকাল থেকে উপজেলা পরিষদ চত্বরসহ আশে-পাশে প্রার্থীদের প্রস্তাব ও সমর্থনকারীরা দলে দলে সমবেত হয়ে ভাগে ভাগে এসে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। উপজেলা নির্বাহী অফিসার(অ.দা) ও সহকারী রিটার্নিং অফিসার বিভীষণ কান্তি দাশ উপস্থিত থেকে মনোনয়নপত্র গ্রহণ করেছেন।

খাগড়াছড়ির ৮ উপজেলায় চেয়ারম্যান পদের জন্য মনোনয়ন জমা দিলেন ৪০ জন

খাগড়াছড়ির ৮ উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে ৪০, ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৪৮ ও নারী ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৩১ প্রার্থীর মনোনয়ন জমা

নিজস্ব প্রতিবেদক, খাগড়াছড়ি:

খাগড়াছড়ির ৮ উপজেলায় দ্বিতীয় ধাপে অনুষ্ঠিতব্য উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে ৪০ জন, ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৩৮ জন ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৩১ জন মনোনয়নপত্র দাখিল করেছে।

সোমবার(১৮ ফেব্রুয়ারি) মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিনে রিটার্নিং অফিসার ও সহকারী রিটার্নিং অফিসারদের কাছে প্রার্থীরা দলীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকদের নিয়ে মনোনয়নপত্র দাখিল করেন।

খাগড়াছড়ি সদর উপজেলা চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের প্রার্থী মো. শানে আলম, জাতীয় পার্টির প্রার্থী মো. নজরুল ইসলাম, ন্যাশনাল পিপল্স পার্টির প্রার্থী মো. আয়নাল হক, আঞ্চলিক অনিবন্ধিত সংগঠন জনসংহতি সমিতি এমএন লারমা গ্রুপ সমর্থিত প্রার্থী তরুণ আলো দেওয়ান ও ইউপিডিএফ সমর্থিত বর্তমান চেয়ারম্যান চঞ্চুমনি চাকমা মনোনয়নপত্র দাখিল করেছে।

এছাড়াও ভাইস চেয়ারম্যান পদে জেলা যুবলীগের সহ-সভাপতি মেহেদী হাসান হেলাল, আক্তার হোসেন, ফারুক ভূইয়া, রুতান চৌধুরী, রণিক ত্রিপুরা, জয় কুমার চাকমা ও আবু হানিফ, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে বিউটি রানী ত্রিপুরা, নিউসা মগ, সালমা আহসান মৌ ও নাসিমা বেগম।

পানছড়ি উপজেলায় আওয়ামী লীগ সমর্থিত চেয়ারম্যান প্রার্থী বিজয় কুমার দেব ও আঞ্চলিক অনিবন্ধিত সংগঠন ইউপিডিএফ গণতান্ত্রিক সমর্থিত স্বতন্ত্র প্রার্থী মিঠন চাকমা, জনসংহতি সমিতি এমএন লারমা গ্রুপ সমর্থিত স্বতন্ত্র প্রার্থী শ্যামল কান্তি চাকমা, ইউপিডিএফ প্রসীত সমর্থিত স্বতন্ত্র প্রার্থী অনীল চন্দ্র চাকমা ও শান্তি জীবন চাকমা। পুরুষ ভাইস চেয়ারম্যান পদে সাংবাদিক শাহজাহান কবির সাজু, মো. এমরান হোসেন, আয়ন চাকমা মুকুল, হারুনুর রশিদ, চন্দ্র দেব, মনিন্দ্র লাল ত্রিপুরা, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে মিলন বিবি, মনিকা ত্রিপুরা ও  রত্না তংচঙ্গা।

মানিকছড়ি উপজেলায় আওয়ামী লীগ সমর্থিত চেয়ারম্যান প্রার্থী জয়নাল আবেদীন একমাত্র চেয়ারম্যান পদে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছে। এছাড়া ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৫ জন ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৪ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেছে।

লক্ষ্মীছড়ি উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী বাবুল চৌধুরী, উপজেলা পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান স্বতন্ত্র প্রার্থী (ভাইস চেয়ারম্যান) উগ্যপ্রু মারমা, বর্মাছড়ি ইউপির সাবেক ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান স্বতন্ত্র প্রার্থী স্বপন চাকমা, সদর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান স্বতন্ত্র প্রার্থী রাজেন্দ্র চাকমা ও বর্মাছড়ি ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান স্বতন্ত্র প্রার্থী নীলবর্ণ চাকমা মনোনয়নপত্র দাখিল করেছে। এছাড়া ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৩ জন ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৪ জন প্রার্থী মনোনয়ন দাখিল করেছে।

দীঘিনালা উপজেলায় আওয়ামী লীগ সমর্থিত চেয়ারম্যান প্রার্থী হাজী মো. কাশেম, আঞ্চলিক অনিবন্ধিত সংগঠন জনসংহতি সমিতি এমএন লারমা সমর্থিত স্বতন্ত্র প্রার্থী রাজ্যময় চাকমা, প্রফুল্ল কুমার চাকমা, স্বতন্ত্র প্রার্থী উমেশ কান্তি চাকমা, স্বতন্ত্র প্রার্থী ধর্ম্মবীর চাকমা, বিশ্বকল্যাণ চাকমা, সাধন চন্দ্র চাকমা ও প্রিয়দর্শী চাকমা মনোনয়নপত্র দাখিল করেছে। এছাড়া ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৪ জন এবং মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৩ জন প্রার্থী মনোনয়ন পত্র দাখিল করেছে।

মহালছড়ি উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী ক্যাজই মারমা, আঞ্চলিক সংগঠন জনসংহতি সমিতি এমএন লারমা গ্রুপ সমর্থিত প্রার্থী বিমল কান্তি চাকমা(বর্তমান চেয়ারম্যান), কাকলী খীসা(বর্তমান মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান), স্বতন্ত্র প্রার্থী সোনা রতন চাকমা, হুমায়ুন কবির ও সুকুমার চাকমা মনোনয়নপত্র দাখিল করেছে। এছাড়া ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৪ জন ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৩ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেছে।

রামগড় উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী বিশ্ব প্রদীপ কুমার কার্বারী, আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক কাজী নুরুল আলম আলমগীর, উপজেলা যুবলীগ সভাপতি ও বর্তমান ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আব্দুল কাদের, পৌর আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক রফিকুল আলম কামাল ও সাবেক জেলা পরিষদ সদস্য আবু বক্কর সিদ্দিক। এছাড়া ভাইস চেয়ারম্যান পদে ২ জন ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৩ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেছে।

মাটিরাঙা উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী রফিকুল ইসলাম, বিদ্রোহী প্রার্থী উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তাজুল ইসলাম, ন্যাশনাল পিপল্স পার্টি সমর্থিত প্রার্থী শেখ ছালাউদ্দিন ছালু ও স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী মোহাম্মদ আলী ভূইয়া মনোনয়নপত্র দাখিল করেছে। এছাড়া ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৫ জন ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৫ জন প্রার্থী মনোনয়পত্র দাখিল করেছে।

খাগড়াছড়ির ৮ উপজেলায় দ্বিতীয় ধাপে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে আগামী ১৮ মার্চ। আগামী ২০ ফেব্রুয়ারি প্রার্থীতা যাচাই বাছাই করা হবে। খাগড়াছড়ি সদর, পানছড়ি, মানিকছড়ি ও লক্ষ্মীছড়ি উপজেলার রিটার্নিং অফিসারের দায়িত্ব পালন করবেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক কাজী মোহাম্মদ চাহেল তস্তরী। দীঘিনালা, মহালছড়ি, রামগড় ও মাটিরাঙা উপজেলার রিটার্নিং অফিসারের দায়িত্ব পালন করবেন জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন।

লক্ষ্মীছড়ি উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে উৎসব মুখর পরিবেশে মনোনয়ন পত্র জমা 

খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি:

লক্ষ্মীছড়ি উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে উৎসবমুখর পরিবেশে মনোনয়ন পত্র জমা দিয়েছেন প্রার্থীরা।

মনোনয়ন পত্র জমা দেয়ার শেষ দিন সোমবার(১৮ফেব্রুয়ারি) বিকাল ৫টা পর্যন্ত ৫জন চেয়ারম্যান পদে পুরুষ ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৩জন এবং মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৪জন মনোনয়ন পত্র জমা দিয়েছেন বলে উপজেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে।

সহকারী রিটার্নিং অফিসার ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জাহিদ ইকবাল জানান, উপজেলা চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যান পদে মনোনয়ন বিক্রি হয়েছিল ১৫ জন। তার মধ্যে চেয়ারম্যান পদে সবাই মনোনয়ন পত্র জমা দিয়েছেন। পুরুষ ভাইস চেয়ারম্যান পদে একজন এবং মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে একজনের মনোনয়ন পত্র জমা হয় নি। এর মধ্যে একজন প্রার্থী ২টি পদে মনোনয়ন নিলেও জমা দিয়েছেন একটি পদে।

মনোনয়নপত্র যারা জমা দিয়েছেন তার হলেন, লক্ষ্মীছড়ি উপজেলা ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান অংগ্য প্রু মারমা, সাবেক লক্ষ্মীছড়ি ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান রাজেন্দ্র চাকমা, সরকার দলীয় আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকের মনোনীত প্রার্থী বাবুল চৌধুরী, সাবেক ভারপ্রাপ্ত বর্মাছড়ি ইউপি চেয়ারম্যান স্বপন চাকমা ও সাবেক বর্মাছড়ি ইউপি চেয়ারম্যান নীল বর্ণ চাকমা মনোনয়ন পত্র জমা দেন। পুরুষ ভাইস চেয়ারম্যান পদে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. নুরে আলম, ইউসিসিএলি. এর চেয়ারম্যান রাজু চাকমা দীপান্তর ও উল্লাচি মার্মা মনোনয়ন পত্র জমা দেন। মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে সুমনা চাকমা, মেরিনা চাকমা, রত্না চাকমা ও মিনুচিং মারমা মনোনয়ন পত্র জমা দিয়েছেন। আগামী ২০ মার্চ মনোনয়ন পত্র বাছাই করা হবে।

নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ১৫ জন প্রার্থীর মনোনয়ন পত্র দাখিল

বাইশারী প্রতিনিধি:

বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে ৫, পুরুষ ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৫ ও  নারী ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৫ জন মনোনয়ন পত্র জমা দিয়েছেন।

সোমবার ১৮ ফেব্রুয়ারি বিকাল ৩টা ৪৫মিনিট থেকে প্রার্থীরা নিজেই উপস্থিত থেকে উপজেলা নির্বাচন অফিসে মনোনয়ন পত্র জমাদান শুরু করেন।

উপজেলা চেয়ারম্যান পদে নৌকা প্রতীকের আওয়ামী লীগ মনোনীত অধ্যাপক শফিউল্লাহ, সতন্ত্র প্রার্থী, মো. আবু তাহের কোম্পানি, অধ্যক্ষ মো. ফরিদুল আলম, চোছুমং মারমা, মো. ইকবাল।

পুরুষ ভাইস চেয়ারম্যান পদে মংলা মারমা, জহির উদ্দিন, মাওলানা শাহজাহান কবির, ছৈয়দুল বশর, মো. ইমরান। নারী ভাইস চেয়ারম্যান পদে ওজিফা খাতুন রুবি, হামিদা চৌধুরী, শামীমা আক্তার, জোহুরা বেগম, সানজিদা আক্তার রুনা।

নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা নির্বাচন অফিসার আবু জাফর সর্বমোট ১৫ জন প্রার্থীর মনোনয়ন ফরম জমা দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, বিকাল ৫টা পর্যন্ত এসব ফরম জমা হয়েছে। বাকী চেয়ারম্যান পদে ১ ও পুরুষ ভাইস চেয়ারম্যান পদে ২ জনের মনোনয়ন্ পত্র জমা হয়নি।

দীঘিনালায় উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে প্রার্থীদের মনোনয়ন পত্র জমা

দীঘিনালা প্রতিনিধি:

২য় পর্যায়ে পঞ্চম উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে দীঘিনালায় উপজেলায় চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যান পদে বিভিন্ন প্রার্থীরা মনোনয়ন পত্র জমা দিয়েছেন।

সোমবার মনোনয়ন পত্র জমাদানের শেষ দিনে উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা রকর চাকমার নিকট এসব মনোনয়ন পত্র জমা দেন।

উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে মনোনয়ন পত্র জমা দিয়েছেন, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আলহাজ্ব মোহাম্মদ কাশেম।

অন্যদিকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পত্র জমা দেন, উপজেলা জনসংহতি সমিতি (এমএন লারমা)র সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক প্রফুল্ল কুমার চাকমা, কেন্দ্রীয় পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রাজ্যময় চাকমা, সাবেক উপজেলা পরিষদ ধর্মবীর চাকমা, ৩নং কবাখালী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান বিশ্ব কল্যাণ চাকমা, প্রিয়দর্শী চাকমা,  উমেশ কান্তি চাকমা,  উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সাবেক সভাপতি সাধন চন্দ্র চাকমা।

অন্যদিকে পুরুষ ভাইস চেয়ারম্যান পদে মনোনয়ন পত্র জমা দেন, উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মো. মোস্তফা কামাল মিন্টু, উপজেলা জনসংহতি সমিতি (এমএন লারমা)র নেতা সমদা নন্দ চাকমা, সুসময় চাকমা, অনুপম চাকমা।

মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে মনোনয়ন পত্র জমা দেন, উপজেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সভানেত্রী এবং কবাখালী ইউনিয়ন পরিষদের মহিলা মেম্বার সীমা দেওয়ান এবং বর্তমান মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান গোপা দেবী চাকমা এবং লিপি দেওয়ান।

এব্যাপারে উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা রকর চাকমা জানান, উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে খাগড়াছড়িতে দুজন এবং দীঘিনালায় ছয় জন প্রার্থী চেয়ারম্যান পদে মনোনয়ন পত্র জমা দিয়েছেন। অন্যদিকে পুরুষ ভাইস চেয়ারম্যান পদে চারজন এবং মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে তিনজন মনোনয়ন পত্র জমা দিয়েছেন।

পানছড়িতে উপজেলা পরিষদে চেয়ারম্যান পদে ৬ জনসহ ১৬ প্রার্থীর মনোনয়নপত্র দাখিল

নিজস্ব প্রতিবেদক, খাগড়াছড়ি:

বিপুল উৎসাহ উদ্দীপনার মধ্যে দিয়ে খাগড়াছড়ি জেলার পানছড়ি উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে প্রার্থীরা মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন।

সোমবার সকাল ১১টা থেকেই মনোনয়ন প্রত্যাশীরা সহকারী রির্টারিং কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. তৌহিদুল ইসলাম এর নিকট চেয়ারম্যান পদে ৬জন, ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৭ জন ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৩জন মনোনয়ন পত্র দাখিল করেন।

চেয়ারম্যান পদে মনোনয়নপত্র দালিখকারীরা হলেন, আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী  বিজয় কুমার দেব, প্রসীত বিকাশ খীসার নেতৃত্বাধীন  আঞ্চলিক রাজনৈতিক দল ‘ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ) সমর্থিত প্রার্থী অনিল কান্তি চাকমা, শান্তি জীবন চাকমা, ইউপিডিএফ গণতান্ত্রিকের মিটন চাকমা, স্বতন্ত্র শ্যামল কান্তি চাকমা ও অনিল কান্তি দে।

পুরুষ ভাইস চেয়ারম্যান পদে সাংবাদিক শাহজাহান কবির সাজু, মো. এমরান হোসেন, আয়ন চাকমা মুকুল, হারুনুর রশিদ, চন্দ্র দেব, মনিন্দ্র লাল ত্রিপুরা, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে মিলন বিবি, মনিকা ত্রিপুরা ও  রত্না তংচঙ্গা।

দ্বিতীয় ধাপে তিন পার্বত্য জেলায় উপজেলা নির্বাচন ১৮ মার্চ

নিজস্ব প্রতিনিধি:

উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে দ্বিতীয় ধাপের তফসিল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। এতে  তিন পার্বত্য জেলার সবকয়টি উপজেলা পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

বৃহস্পতিবার(৭ জানুয়ারি) নির্বাচন ভবনের মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে ইসি সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ এই তফসিল ঘোষণা করেন।

তফসিল অনুযায়ী মনোনয়ন দাখিলের শেষ সময় ১৮ ফেব্রুয়ারি, যাচাই বাছাই ২০ ফেব্রুয়ারি, প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ২৭ ফেব্রুয়ারি এবং ভোট গ্রহণ ১৮ মার্চ।

এই ধাপে পাঁচটি বিভাগের ১৭টি জেলার মোট ১২৯টি উপজেলায় ভোট হবে বলে উল্লেখ করেন সচিব।

উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (দেশের অর্ধেক উপজেলায়) এবং জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা (অর্ধেক উপজেলায়) রিটার্নিং কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হবে।

উপজেলা ভোটে ইভিএম ব্যবহার করা হবে কিনা এমন প্রশ্নে জবাবে হেলালুদ্দীন বলেন, “ইভিএমের জন্য বিধিমালা করে ভেটিংয়ের জন্য আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। ভেটিং হয়ে আসলে কমিশন সভা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তবে প্রথম ধাপে উপজেলা নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার করা হবে না।”

তিন পার্বত্য জেলার যে উপজেলাগুলোতে নির্বাচন হবে সেগুলো হচ্ছে, রাঙ্গামাটি জেলার সদর, বাঘাইছড়ি, লংগদু, নানিয়ারচর, বরকল, জুড়াছড়ি, কাউয়াখালী, কাপ্তাই, রাজস্থলী ও বিলাইছড়ি; বান্দরবান সদর, রোয়াংছড়ি, রুমা, থানচি, লামা, আলীকদম ও নাইক্ষ্যংছড়ি; খাগড়াছড়ি জেলার সদর, মহালছড়ি, পানছড়ি, মাটিরাঙ্গা, রামগড়, মানিকছড়ি, লক্ষ্মীছড়ি ও দীঘিনালা। এর বাইরে কক্সবাজারের চকরিয়াতেও ভোট হবে এদিন।

উপজেলা নির্বাচনে আ’লীগের দৌড়ঝাঁপ বিএনপি চুপচাপ

কক্সবাজার প্রতিনিধি:

একাদশ সংসদ নির্বাচনের আমেজ শেষ হতে না হতেই আগামী মার্চে অনুষ্ঠিতব্য উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের আমেজ বইতে শুরু করেছে কক্সবাজার জেলায়। ইতোমধ্যে দলীয় মনোনয়ন পেতে আওয়ামী লীগের অনেকেই দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন। এখনো এ নিয়ে কোনো সাড়া নেই বিএনপির।

নির্বাচন কমিশন ৩ ফেব্রুয়ারিতে তফসিল ঘোষণার কথা জানিয়েছেন। সে ঘোষণার পর থেকে উপজেলা নির্বাচনে আগ্রহী প্রার্থীদের মধ্যে এ তোড়জোড় শুরু হয়। তবে এই তোড়জোড় আপাতত সরকারি দল আওয়ামী লীগে মধ্যেই সীমাবদ্ধ রয়েছে। চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যান উভয় পদেই অনেক আগ্রহী দেখা যাচ্ছে। বিএনপি বা অন্য কোনো দলের প্রার্থীদের আগ্রহ এখনও পর্যন্ত দেখা যায়নি।

জানা গেছে, ফেব্রুয়ারিতে সম্ভাব্য তফসিল ঘোষণার পর থেকে কক্সবাজার জেলার প্রতিটি উপজেলায় উপজেলা নির্বাচনের হাওয়া লেগেছে। তবে তা আপাতত আওয়ামী লীগের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রয়েছে। এই নির্বাচনকে সামনে রেখে জেলার এক উপজেলায় চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের নেতার ব্যানারে ১০ জনের বেশি নির্বাচন করার আগ্রহ প্রকাশ করেছে। এতে রয়েছে ডাকসাইটে নেতা ও নবীন অনেকে। এসব আওয়ামী লীগ নেতারা সবাই দলীয় মনোনয়ন নিয়ে নির্বাচন করার কথা বলছেন। ইতিমধ্যে অনেকে দলীয় মনোনয়ন পেতে লবিংও শুরু করেছেন বলে জানা গেছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কক্সবাজারের আট উপজেলায় উপজেলা নির্বাচন নিয়ে সরব হয়ে উঠেছেন আওয়ামী লীগের আগ্রহীরা। এর মধ্যে চকরিয়া উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি রেজাউল করিম, জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ও বরইতলী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান এটিএম জিয়া উদ্দিন চৌধুরী জিয়া, জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য সাবেক ছাত্রনেতা আমিনুর রশিদ দুলাল, চকরিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ফাঁসিয়াখালীর চেয়ারম্যান গিয়াস উদ্দিন চৌধুরী, উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও কক্সবাজার জেলা ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি শ্রমিক নেতা আলহাজ ফজলুল করিম সাঈদী, মাতামুহুরী সাংগঠনিক উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি পশ্চিম বড়ভেওলার চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী বাবলা, মাতামুহুরী সাংগঠনিক উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাহারবিল ইউপি চেয়ারম্যান মহসিন বাবুল, চকরিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক ও সুরাজপুর-মানিকপুর ইউনিয়নের তিনবার নির্বাচিত চেয়ারম্যান আজিমুল হক আজিম, চকরিয়া পৌরসভা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও কক্সবাজার জেলা পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান জাহেদুল ইসলাম লিটু এবং আওয়ামী লীগ নেতা নুরে হাবিব তছলিম।

পেকুয়ায় প্রার্থী হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন- উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম, জেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা এড. কামাল হোসেন, জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য মো. হোসাইন বি.এ, আরেক সদস্য এস.এম গিয়াস উদ্দীন, শীলখালী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ওয়াহিদুর রহমান ওয়ারেচী, উপজেলা যুবলীগের সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম।

মহেশখালীতে প্রার্থী হওয়ার আগ্রহ দেখাচ্ছেন-উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান শরীফ বাদশা, উপজেলা আওয়ামী লীগের শ্রমবিষয়ক সম্পাদক মোস্তফা আনোয়ার, মালয়েশিয়া প্রবাসী আওয়ামী লীগ নেতা মার্শাল পাভেল, কালারমারছড়া ইউপি চেয়ারম্যান তারেক শরীফ, ধলঘাটা ইউপি চেয়ারম্যান কামরুল হাসানসহ আরো অন্তত ১০ জন।

কক্সবাজার সদরে প্রার্থী হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন-গতবারের আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল তালেব, কক্সবাজার পৌরসভার সাবেক চেয়ারম্যান নূরুল আবছার, জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক কায়সারুল হক জুয়েল ও সদর উপজেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুল করিম মাদু ও ইমরুল হাসান রাশেদসহ আরো কয়েকজন।

রামু উপজেলায় প্রার্থী হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সোহেল সরওয়ার কাজল, বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান রিয়াজুল আলম, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক নূরুল হক চৌধুরী, খুনিয়াপালং ইউপি চেয়ারম্যান আবদুল মাবুদ, উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য সরওয়ার কামাল সোহেলসহ আরো কয়েকজন।

উখিয়া উপজেলায় উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হামিদুল হক চৌধুরী, হুমায়ুন কবির চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির চৌধুরী ও সাংবাদিক ইমরুল কায়েস চৌধুরী ছাড়াও আরো কয়েকজনের নাম শোনা যাচ্ছে। টেকনাফ উপজেলায় প্রার্থী হতে পারেন সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যাপক মোহাম্মদ আলী, বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান জাফর আহমদ, উপজেলা আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক নুরুল বশর, অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ অফিসার আবদুর রহমান, সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান এইচএম ইউনুছ বাঙ্গালী, উপজেলা যুবলীগের সভাপতি নূরুল আলম।

ভাইস চেয়ারম্যান পদে উপজেলা সেচ্ছাসেবকলীগের সভাপতি সাবেক ছাত্রনেতা সরওয়ার আলম, সাংবাদিক জাবেদ ইকবাল চৌধুরীসহ আরো কয়েকজন। মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে উপজেলা মহিলা আ’লীগের সভাপতি কাউন্সিলর কোহিনুর আকতার ও মিছবাহার ইউসুছসহ আরো কয়েকজন।

কুতুবদিয়ায় প্রার্থী হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন আওয়ামী লীগ নেতা ফরিদুল ইসলাম চৌধুরী ও উপজেলা আওয়ামী লীগে সভাপতি আওরঙ্গজেব মাতব্বর।

এদিকে উপজেলা নির্বাচন নিয়ে আওয়ামী লীগে তোড়জোড় চললেও বিএনপি বা অন্য কোনো দলের প্রার্থীদের কোনো আগ্রহই দেখা যাচ্ছে না। এর কারণে হিসেবে তারা বিএনপিসহ অন্যান্য দলের নীতি-নির্ধারকরা বলছেন, আওয়ামী লীগ সংসদ নির্বাচনের মতো উপজেলা নির্বাচনেও জালিয়াতি করে বিজয় ছিনিয়ে নেবে। তাই বিএনপি বা অন্য কোনো দলের নেতাদের প্রার্থী হওয়ার আগ্রহ নেই।

এই প্রসঙ্গে কক্সবাজার জেলা বিএনপির সভাপতি শাহজাহান চৌধুরী বলেন, ‘দেশের নির্বাচন ব্যবস্থা বলতে কিছু নেই। আওয়ামী লীগ একাদশ সংসদ নির্বাচনে তা চূড়ান্তভাবে প্রমাণ করেছেন। উপজেলা নির্বাচনেও এই নির্লজ্জ পদ্ধতির নির্বাচন হবে। এতে কোনো সন্দেহ নেই। তাই বিএনপির কোনো নেতা এখন নির্বাচন করতে আগ্রহী নয়। তারপরও পরিস্থিতি পাল্টালে কি হয় দেখা যাক।’

উপজেলা নির্বাচন প্রসঙ্গে কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এড. সিরাজুল মোস্তফা বলেন, ‘আওয়ামী লীগ উন্নয়নের রাজনীতি দিয়ে দেশের মানুষের প্রবল আস্থা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে। এখন চারিদিকে আওয়ামী লীগের জয়জয়কার। এতে দলের নেতারাও বেশ চাঙ্গা। সেই প্রেক্ষাপটে দলের মনোনয়ন পেতে একাধিক আগ্রহী নেতা রয়েছেন। কিন্তু সবাইকেতো মনোনয়ন দেয়া যাবে না। যোগ্যতার বিচারে যেই সবার চেয়ে যোগ্য তাকেই আওয়ামী লীগের মনোনয়ন দেয়া হবে।’

রামগড়ে উপজেলা নির্বাচনে আ’লীগের দলীয় প্রার্থী মনোনীত

নিজস্ব প্রতিবেদক, রামগড়:

খাগড়াছড়ির রামগড়ে আসন্ন উপজেলা পরিষদের নির্বাচনে  আওয়ামী লীগের দলীয় প্রার্থী মনোনীত করা হয়েছে। গোপন ভোটের মাধ্যমে চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান ও নারী ভাইস চেয়ারম্যান পদে দলীয় প্রার্থী নির্বাচিত করা হয়।

সোমবার( ২৮ জানুয়ারি) পৌর শহরের শিল্পী কমিউনিটি সেন্টারে অনুষ্ঠিত দলের বর্ধিতসভায়  গোপন ভোটের মাধ্যমে প্রার্থী নির্বাচিত করা হয়।  নির্বাচিত প্রার্থীরা হচ্ছেন চেয়ারম্যান পদে বিশ্ব প্রদীপ ত্রিপুরা, প্রাপ্ত ভোট ৫৮, ভাইস চেয়ারম্যান পদে কাজী জিয়াউল হক  শিপন, প্রাপ্ত ভোট ৪৬ ও নারী ভাইস চেয়ারম্যান মিসেস নাসিমা আহসান নিলা, প্রাপ্ত ভোট ৫৬।

চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী অন্যান্য প্রার্থীদের মধ্যে কাজী নূরুল আলম আলমগীর পেয়েছেন ২৫ ভোট,  মো. রফিকুল আলম কামাল পেয়েছেন  ১৫ ভোট ও  মো. আব্দুল কাদের পেয়েছেন এক ভোট। এছাড়া উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান  পদের মনোনয়ন  প্রার্থীদের মধ্যে নুরুল আলম জিকু   পেয়েছেন ২০ ভোট, মো. সামসুউদ্দীন মিলন পেয়েছেন  ১৫ ভোট, মো. আনোয়ার ফারুক পেয়েছেন ১৪ ভোট  ও  প্রদেশ এিপুরা পেয়েছেন এক  ভোট। নারী ভাইস চেয়ারম্যান  পদের অন্যান্য প্রার্থীর মধ্যে  নিউ সং চৌধুরী পেয়েছেন  ২৫ ভোট,  মোছাঃ হাসিনা আক্তার পেয়েছন ১১ ভোট ও  শ্রীমতি মিলা দেবনাথ পেয়েছন তিন ভোট।

সোমবার দুপুরে বর্ধিতসভা শুরু হয়। উপজেলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক ইউপি চেয়ারম্যান শাহা আলম মজুমদারের সভাপতিত্বে এ বর্ধিত সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন খাগড়াছড়ি  জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ সভাপতি রণ বিক্রম ত্রিপুরা। বিশেষ অতিথি ছিলেন সাবেক সাংসদ একেএম আলীম উল্লাহ, জেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি কল্যাণ মিত্র বড়ুয়া, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক নির্মলেন্দু চৌধুরী।

বর্ধিতসভার প্রথম পর্বে আলোচনা সভা শেষে দ্বিতীয় পর্বে প্রার্থী নির্বাচনের ভোটাভুটি শুরু হয়। সন্ধ্যায় নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা করা হয়।

উত্তাপহীন কাউখালী উপজেলা পরিষদ নির্বাচন: আ’লীগের একাধিক প্রার্থী: মাঠে নেই বিএনপি


আরিফুল হক মাহবুব, কাউখালী:

আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে দলীয় টিকেট পেতে কাউখালী আওয়ামী লীগের একাধিক প্রার্থী উপর মহলে তদবির চালিয়ে যাচ্ছেন। মনোনয়ন পেতে দলের একাধিক প্রার্থী মাঠে সক্রিয় থাকায় চূড়ান্ত প্রার্থীতা নিশ্চিত করতে হিমশিম খেতে হবে দলটির। মাঠ পর্যায়ে অনুসন্ধান করে এমন আভাসই পাওয়া যাচ্ছে।

এদিকে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর মামলা মোকাদ্দমায় জর্জরিত কাউখালী উপজেলা বিএনপি এখনো পর্যন্ত কোমর সোজা করে দাঁড়াতে পারেনি। ফলে নির্বাচনী মাঠে কোমায় থাকা বিএনপির পক্ষে আসন্ন উপজেলা নির্বাচনে কোন প্রার্থী খুঁজে পাওয়া যায় কিনা বা তারা সে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে কিনা তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে। তবে কেন্দ্রীয় বিএনপি ইতোমধ্যে নির্বাচনে অংশ না নেয়ার ঘোষণা দিয়েছে। বর্তমান অবস্থায় স্বতন্ত্র নির্বাচন করা দলটির নেতাদের পক্ষে সম্ভব নয়।

অপরদিকে কাউখালীতে পাহাড়ের আঞ্চলিক সংগঠন ইউপিডিএফ ও জেএসএস’র এলাকা ভিত্তিক বিশাল একটা অংশে আধিপত্য থাকায় তারাও আসন্ন নির্বাচনে প্রার্থী দেবে এতে কোন সন্দেহ নাই। তবে অন্য সময় দল দু’টি পৃথক পৃথক প্রার্থী দিলেও এবার ঐক্যবদ্ধ প্রার্থী দেয়ার সম্ভাবনা বেশী। ফলে স্থানীয় প্রশাসনকে বাড়তি টেনশন মাথায় নিয়ে নির্বাচনী মাঠে কাজ করতে হচ্ছে।

অনুসন্ধানে দেখা যায়, ক্ষমতাসীন আওয়মী লীগের দলীয় চেয়ারম্যান পদে মনোনয়ন পেতে চার সম্ভাব্য প্রার্থী মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন। এদের মধ্যে রয়েছেন বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি এস.এম চৌধুরী, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি অংচাপ্রু মারমা, কলমপতি ইউপি চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ক্যজাই মারমা, যুগ্ম সম্পাদক ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান শামছুদ্দোহা চৌধুরী। চার জনের মধ্যে তিনজনই দলের হেভিওয়েট প্রার্থী হওয়ায় চূড়ান্ত প্রার্থীতা নিশ্চিত করতে কেন্দ্রীয় কমিটিকে অনেকটা হিমশিম খেতে হবে এতে কোন সন্দেহ নেই।
এছাড়া চেয়ারম্যান পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান অর্জুনমনি চাকমার নামও শোনা যাচ্ছে।

৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হওয়া একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন সহিংসতায় বিএনপি কর্মীদের হাতে নিহত হন ঘাগড়া ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মো. বাছির উদ্দিন। ঐদিন একাধিক মারামারির ঘটনাও ঘটে। এ ঘটনায় একটি হত্যা মামলায়সহ একাধিক মারামারি মামলায় জর্জরিত বিএনপির পক্ষে এখনো পর্যন্ত কোমর সোজা করে দাঁড়ানো সম্ভব হয়নি। হত্যা মামলায় জেলে আছেন উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল মোতালেব। এছাড়া বেশ কয়েকজন প্রথম সারির নেতা হত্যা মামলার আসামী হওয়ায় অনেকটা কোনঠাঁসা অবস্থায় রয়েছে উপজেলা বিএনপি।

নির্বাচনী সহিংসতার পর নিজেরা কোন মামলায় না জড়ালেও মামলায় জর্জরিত নেতা কর্মীদের ফেলে আত্মগোপনে চলে গেছেন উপজেলা সভাপতি জসিম উদ্দিন খোকন ও সাধারণ সম্পাদক এমএ মনছুর। ফলে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে তাদের কোন প্রার্থী মাঠে থাকে কিনা তা নিয়ে যথেষ্ঠ সন্দেহ রয়েছে।

রাজনৈতিকভাবে কোমায় থাকা বিএনপিকে কফিনবন্দী করে ফল নিজেদের ঘরে তুলতে নির্বাচনী মাঠে আওয়ামীলীগের জন্য প্রধান বাঁধা হয়ে দাঁড়াতে পারে আঞ্চলিক সংগঠন ইউপিডিএফ ও জেএসএস। এ নির্বাচনে দল দু’টি যদি ঐক্যবদ্ধ প্রার্থী দেয় সে ক্ষেত্রে সহজে স্থানীয় নির্বাচনের মাঠ পাড়ি দেয়া আওয়ামীলীগের পক্ষে কষ্টসাধ্য হতে পারে। শেষ পর্যন্ত আওয়ামী লীগ বনাম আঞ্চলিক সংগঠনের (স্বতন্ত্রের) মধ্যেই নির্বাচনী উত্তাপ সীমাবদ্ধ থাকার সম্ভাবনা।

এ ধরণের ঘটনা ঘটলে নির্বাচনী সহিংসতার ব্যাপক আশঙ্কা রয়েছে। উপজেলার দূর্গম এলাকাগুলোতে আওয়ামী লীগের পক্ষে প্রচারণা চালানো ঝুুঁকিপূর্ণ হতে পারে।

ভাইস চেয়ারম্যান পদটি দলীয় না হলেও এ পদটিও দলীয় ছত্রছায়ায় হয়ে থাকে। এ পদেও আওয়ামীলীগ ও স্বতন্ত্র একাধিক প্রার্থীর নাম শুনা যাচ্ছে। এর মধ্যে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে উল্লেখযোগ্য কারো শোনা যাচ্ছে না। তবে স্বতন্ত্র থেকে বর্তমান ভাইস চেয়ারম্যান মংশিউ চৌধুরী ও জাতীয় পার্টি সমর্থিত রফিকুল ইসলামের নাম শোনা যাচ্ছে। মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে বর্তমান ভাইস চেয়ারম্যান এ্যানি চাকমা, জান্নাতুল ফেরদৌস ও সাবেক মেম্বার জোসনা আক্তার প্রার্থী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।