প্লেবয় সুন্দরীর ইসলাম ধর্মগ্রহণ

 image_204_14300

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

দু’বছর ধরে প্রতি রোববার ক্যাথলিক চার্চে গিয়েছি। ক্রিশ্চিয়ানিটি বুঝতে চেষ্টা করেছি। এছাড়াও কুয়ান ইন ও অন্যদের উপাসনা করার মাধ্যমে নতুন অর্থ খুঁজে পাওয়ার চেষ্টা করেছি। বৌদ্ধদের ধর্মীয় আচার পালনেরও চেষ্টা করি। কিন্তু ইসলাম ধর্ম জানার পর থেকে আমার হৃদয়ে অন্যরকম একটা অনুভূতির স্পর্শ অনুভব করতে লাগলাম। অন্য ধর্ম কখনও আমার হৃদয় এতটা স্পর্শ করে যায়নি। কথাগুলো বললেন মালয়েশিয়ার সাবেক প্লেবয় সুন্দরী ফেলিক্সিয়া ইয়েপ। গত বৃহস্পতিবার তিনি ইসলাম গ্রহণ করেছেন। বলেছেন, এর মাধ্যমে তার পুনর্জন্ম হয়েছে।

ইসলাম গ্রহণের আগে ইসলাম সম্পর্কে জানতে ৭ মাস ব্যয় করেছেন তিনি। বৃহস্পতিবার তিনি প্লেবয় বানি’দের পোশাক ছুড়ে ফেলে দিয়ে গ্রহণ করেছেন ইসলাম ধর্ম। ফেসবুকে এক বিবৃতির মাধ্যমে এ ঘোষণা দিয়েছেন।

নতুন এই সফরে ফেলিক্সিয়া যেন অবিচল ও অঙ্গীকারবদ্ধ থাকতে পারেন সে জন্য সকলের দোয়া প্রার্থনা করেছেন। একই সঙ্গে তিনি এ-ও বলেছেন, নতুন জীবনের জন্য যারা প্রার্থনা করেছেন শুধু আল্লাহই তাদের প্রতিদান দিতে পারবেন। ফেসবুকে ফেলিক্সিয়ার ৮ লাখ ৫০ হাজার অনুসারীর সাড়ে সাত লাখ ওই বিবৃতিতে লাইক দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ইসলাম গ্রহণের জন্য বেছে নেয়ার কারণ হলো সেদিন ছিল ফেলিক্সিয়ার ২৮তম জন্মদিন। সাবেক প্লেবয় বানি ছাড়াও নিজ দেশে তারকা মডেল ছিলেন তিনি।

এ বছরের শুরুর দিকে তিনি খোলামেলা ছবিতে পোজ দেয়া বন্ধ করে দেন। এরপর থেকে ঐতিহ্যবাহী মুসলিম পোশাকে মডেলিং করে আসছেন ফেলিক্সিয়া।

এ সংক্রান্ত আরো খবর:

ইসলাম গ্রহণ করলেন দক্ষিণ ভারতের নায়িকা মনিকা (ভিডিওসহ)

হিন্দু থেকে মুসলিম হলেন একই পরিবারের ৫ জন

মুসলিম হচ্ছেন বলিউডের সেক্স সিম্বল নায়িকা মমতা কুলকার্নি

নায়িকা শাবনাজের বদলে যাওয়ার গল্প

আমি আল্লাহর কাছে তওবা করেছি আর ওড়না খুলবো না- ভীনা মালিক(ভিডিওসহ)

ইসলামকে জানার চেষ্টায় আমার চোখ খুলে গেল- মার্কিন সঙ্গীত শিল্পী জেনিফার(ভিডিওসহ)

চলচ্চিত্রে নিজের অভিনীত চরিত্র দেখলে এখন নিজেই বিব্রত হন শাবানা

ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর মুসলিমরা নির্মম নির্যাতনের শিকার

উপজাতীয় নওমুসলিমদের ওপর খ্রিস্টান মিশনারীদের দৌরাত্ম

আধ্যাত্মিক পরিবেশ টেনে নিল মসজিদের ভেতরে: জাপানি নওমুসলিম নাকাতা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

‘আধ্যাত্মিক পরিবেশের আকর্ষণ আমাকে টেনে নিল মসজিদের ভেতরে। আমি ধীরে ধীরে পা ফেলছিলাম। আমার কানে ভেসে আসছিল এক বিশেষ আহ্বান বা সুসংবাদ। তাতে বলা হল যে তুমি শিগগিরই সত্যকে খুঁজে পাবে। ‘ এ কথাগুলো বলেছেন জাপানি নওমুসলিম নারী ‘কাওয়ারায়ি নাকাতা’। তিনি সত্যকে পেয়েছিলেন অনেক চড়াই-উতরাইয়ের পর। নাকাতা কখনও ভাবেননি যে সত্যকে এভাবে খুঁজে পাওয়া যাবে। 

 জাপানি নওমুসলিম নারী ‘কাওয়ারায়ি নাকাতা’ কখনও স্রস্টা সম্পর্কে তেমন মনোযোগ দিয়ে ভাবনা-চিন্তা করেননি। এমন ভাবনার দরকার ছিল বলেও ভাবেননি কখনও। তিনি এ প্রসঙ্গে বলেছেন: আমার জীবনের সব কিছুই চলছিল ভালভাবে। আমি সৌভাগ্য অনুভব করতাম। কখনও আল্লাহর অস্তিত্বের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করিনি। কিন্তু হঠাৎ আবিষ্কার করি যে আমার জীবন পুনরাবৃত্তিতে  একঘেয়ে হয়ে আছে ও জীবনের কোনো অর্থ নেই। তখন থেকেই সত্যকে খুঁজতে থাকি। নানা ধর্মের প্রচারকরা আমার বাসায় এসেছেন বেশ কয়েকবার। সে সময় খ্রিস্ট ধর্ম প্রচারের জন্য একজন মহিলা নিয়মিত আমার বাসায় আসতেন। তিনি আমাকে বাইবেল শেখাতেন ও আমিও খুব আগ্রহ নিয়ে তা শিখতাম। কিন্তু আমি যার খোঁজ করছিলাম তা পেলাম না।”

 নওমুসলিম মিসেস নাকাতা আরো বলেছেন: ‘আমি বসবাস করতাম কিয়েটো  নামক ঐতিহাসিক শহরে। এই শহরে রয়েছে নানা ধরনের উপাসনালয়। আমাদের বাসভবনের কাছেই ছিল একটি ইবাদত কেন্দ্র বা উপাসনালয়। আমি প্রতিদিন সকালে সেখানে যেতাম ও প্রার্থনা করতাম। তিন মাস ধরে প্রতিদিন এই প্রার্থনা অব্যাহত রেখেছিলাম। সত্যের সন্ধানেই এই প্রার্থনা চালিয়ে যাচ্ছিলাম। দোয়ায় মনোযোগ নিবিষ্ট বা কেন্দ্রীভূত করা ছিল বেশ কঠিন। তবে তা ছিল খুবই আনন্দদায়ক। কিন্তু কিছুদিন পরই অনুভব করলাম যে আমার ভেতরের জগত ও বাইরের বাস্তবতার মধ্যে রয়েছে ব্যাপক ব্যবধান। তাই আমি হতাশ হয়ে পড়ছিলাম। অথচ আমি উৎসাহ ও উদ্দীপনা নিয়ে জীবন যাপন করতে আগ্রহী ছিলাম। কিন্তু দুঃখজনকভাবে আমার প্রচেষ্টায় কোনো ফল হয়নি।’ 

 এর কিছুকাল পর নওমুসলিম মিসেস নাকাতা জীবনের গতিপথ পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেন। পড়াশুনা অব্যাহত রাখার জন্য তিনি ফ্রান্সে যান। আর এখানেই ঘটে তার জীবনে যুগান্তকারী গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। এ প্রসঙ্গে নাকাতা বলেছেন:

 ফ্রান্সে পরিচিত হই এক মুসলমানের সঙ্গে। তিনি নিজের ধর্ম ইসলামকে গভীরভাবে ভালবাসতেন ও সমস্ত শক্তি আর আত্মবিশ্বাস নিয়ে এ ধর্মের পক্ষে কথা বলতেন। তার ওই দৃঢ়টা ও আত্মবিশ্বাস দেখে আমার নিজের জন্য অনুশোচনা হত। কারণ, আমি দীর্ঘ বহু বছর ধরে আত্মিক প্রশান্তি খুঁজে বেড়াচ্ছিলাম। আর এ জন্য অনেক গবেষণা ও পড়াশুনার পর যখন হতাশায় ডুবে ছিলাম তখন দেখলাম যে এই মুসলমান ইসলামকে ভালবাসতেন গভীরভাবে ও এর ছায়াতলে মানসিক প্রশান্তি অনুভব করছেন। তাই আমি ইসলাম ধর্ম সম্পর্কে গবেষণার সিদ্ধান্ত নিলাম যাতে এ ধর্মের অনুসারীদের এত গভীর আত্মিক প্রশান্তির উৎস সম্পর্কে জানতে সক্ষম হই। সে সময় পর্যন্ত অনেক ধর্ম আমাকে আকৃষ্ট করলেও ইসলামের প্রতি একবারও আকৃষ্ট হইনি।’

জাপানি নওমুসলিম মিসেস নাকাতা ফরাসি ভাষায় অনূদিত পবিত্র কুরআনের একটি কপি সংগ্রহ করেন ও তা পড়তে থাকেন। এ মহাগ্রন্থ পড়ার সময় তিনি অনুভব করেন যে, এ আসমানি বই পড়ার জন্য কারো সাহায্য নেয়া জরুরি। ফলে হঠাৎ বিদ্যুতের মতই নাকাতার মাথায় এক ঝলকের মধ্যে ভেসে উঠল সেই মুসলিম মহিলার মুখখানি। ফলে তিনি মুসলমানদের ইবাদত-কেন্দ্র তথা মসজিদে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।  নাকাতা এ প্রসঙ্গে বলেছেন:

 ‘অবশেষে একদিন মসজিদে গেলাম। মসজিদের পরিবেশ ছিল আমার জন্য এক অচেনা ও অপরিচিত জগত। কিন্তু বিস্ময়কর এক প্রশান্তি অনুভব করলাম। মসজিদটি ছিল এক বিশেষ আধ্যাত্মিক সুরভিতে ভরপুর। নীরবতা সেই পরিবেশকে করেছিল আরো প্রাণস্পর্শী ও মধুর। প্রাণজুড়ানো সেই আধ্যাত্মিক পরিবেশের আকর্ষণ আমাকে টেনে নিল মসজিদের ভেতরে। ধীরে ধীরে পা ফেলছিলাম। আমার কানে ভেসে আসছিল এক বিশেষ আহ্বান বা সুসংবাদ। তাতে বলা হল যে তুমি শিগগিরই সত্যকে খুঁজে পাবে।’

 এ সময় মসজিদের বারান্দায় বই-পুস্তকের একটি ছোট্ট দোকান দেখলাম। কাছে গিয়ে বিক্রেতাকে বললাম:

 ‘আমি এমন একজনকে খুঁজছি যে ইসলামকে আমার কাছে পরিচিত করবে। সে আমাকে মসজিদের লাইব্রেরিতে নিয়ে গেল। সেখানে পৌঁছে দেখলাম যে একদল মুসলিম মহিলার জন্য ধর্ম বিষয়ক ক্লাস চলছিল এবং তা মাত্র কিছুক্ষণ আগে শেষ হল। সেই প্রথম আমি হিজাব পরিহিতা কোনো মুসলিম নারীকে দেখেছিলাম। তারা আমার প্রস্তাব শুনে খুব খুশি হয়ে আমাকে স্বাগত জানালেন। তারা ছিলেন সবাই সক্রিয়, প্রাণোচ্ছল ও প্রফুল্ল। তাদের দিক-নির্দেশনা অনুযায়ী প্যারিসে যে কয়েকটি বৈঠক হত তাতে উপস্থিত হতাম। মুসলমানদের এইসব বৈঠকে আমার উপস্থিতি ধীরে ধীরে আমার মানসিকতাকে বদলে দেয় এবং বেশ কিছু বই পড়ার পর ইসলাম সম্পর্কে আমার ধারণা বদলে যায়। আমি বুঝতে পারলাম যে ইসলামে কোনো কিছুই জোর করে চাপিয়ে দেয়া হয় না। ইসলাম জীবন যাপনের যৌক্তিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক পথ দেখায়। কোনো কোনো ধর্ম বা মতবাদ সব ধরনের বস্তুগত, জৈবিক বা পার্থিব চাহিদাকে উপেক্ষা করে কেবল পারলৌকিক বিষয়কে গুরুত্ব দেয়। কিন্তু ইসলাম আত্মা ও শরীরের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করতে বলে। অর্থাৎ ইসলাম আত্মিক ও শারীরিক উভয় চাহিদাকেই গুরুত্ব দেয়।’

 জাপানি নওমুসলিম মিসেস নাকাতা ইসলাম সম্পর্কে ব্যাপক গবেষণার পর এ ধর্ম সম্পর্কে নানা বাস্তবতা উপলব্ধি করতে সক্ষম হন। তিনি এ প্রসঙ্গে বলেছেন,  ‘ইসলাম অর্থ আল্লাহর কাছে আত্মসমর্পণ। ইসলামের দৃষ্টিতে প্রত্যেক মানুষের মূল্য নির্ভর করে তার ঈমান ও সৎ কর্ম সম্পাদনের ওপর। যখন খ্রিস্ট ধর্মের পেছনে ছুটতাম তখন এ ধর্মের পক্ষ থেকে বলা হত যে আমাদের পাপগুলো জন্মগত। অথচ এ কথা আত্মিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক দিক থেকে মোটেই যৌক্তিক বা বোধগম্য নয়। কিন্তু ইসলাম বলে সব মানুষই জন্মগতভাবে পবিত্র ও নিরপরাধ; আর পরবর্তীকালে প্রত্যেক মানুষ নিজেই তার পাপের জন্য দায়ী। আর এ কথা খুবই যৌক্তিক। ইসলাম খুবই সহজ ও স্বচ্ছ ধর্ম। এ ধর্মে কোনো জটিল তত্ত্ব নেই।’

 জাপানি নওমুসলিম মিসেস নাকাতা  মুসলমানদের সমাবেশে উপস্থিত হয়ে বেশ আনন্দ ও স্বাচ্ছন্দ্য অনুভব করছিলেন। যেসব মুসলিম মহিলা তাকে পথ প্রদর্শন বা গাইড করছিলেন তাদের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রাখেন নাকাতা এবং মুসলমানদের প্রথা ও রীতিগুলো রপ্ত করে নেন তাদের কাছে। তিনি এ প্রসঙ্গে বলেছেন:

 আমি তাদের সঙ্গে মসজিদে যেতাম ও তাদের চাল-চলন বা গতিবিধি খুব আগ্রহ নিয়ে লক্ষ্য করতাম। অনেক সময় তাদের সম্মান দেখানোর জন্য তাদের সঙ্গে তাল মিলিয়ে নামাজের অঙ্গভঙ্গিগুলো করে যেতাম যদিও নিজেও বুঝতাম না যে নামাজ আদায় করছি। মুসলমানদের আলোচনা অনুষ্ঠানগুলোতেও অংশগ্রহণ করতে থাকি। যেসব বক্তব্য শুনতাম সেসবকে আমার হৃদয় যেন শুকনো মাটি বা বালির দ্রুত পানি শুষে নেয়ার মতই গ্রহণ করত। এসব বক্তব্য আমাকে দিত আধ্যাত্মিক আনন্দ। ধীরে ধীরে অনুভব করলাম যে বহু বছর ধরে আমি যে সত্যের সন্ধান করছি তা পেয়েছি। অবশ্য এ জন্য অনেক পরিশ্রম করতে হয়েছে। যতই ইসলাম সম্পর্কে বেশি তথ্য জানছিলাম ততই এ ধর্মকে গ্রহণের ইচ্ছাও আমার মধ্যে জোরদার হচ্ছিল। অবশেষে এই সাক্ষ্য দিলাম যে, আল্লাহ এক এবং মুহাম্মাদ (সা.) তাঁর রাসূল। ‘

নামাজ মিসেস নাকাতার ওপর গভীর প্রভাব ফেলেছে। তার মতে নামাজ মানুষের বিশ্বাস বা ঈমানকে সুদৃঢ় করে। মুসলমান হওয়ার পর প্রথম নামাজ আদায়ের অভিজ্ঞতা প্রসঙ্গে নাকাতা বলেছেন:

‘যখন প্রথমবার সিজদার উদ্দেশ্যে কপাল মাটিতে রাখলাম এক ও দয়ালু আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপনের উদ্দেশ্যে তখন আমার মধ্যে দেখা দিয়েছিল অসাধারণ অনুভূতি এবং নিজের মাথা জমিন থেকে ওঠাতে পারছিলাম না। যখনই সিজদায় যেতাম তখনই আল্লাহর অস্তিত্বকে ও ঈমান বা বিশ্বাসের অর্থকে বেশি মাত্রায় অনুভব করতাম। আর এটা ছিল এক সুন্দর আধ্যাত্মিক অভিজ্ঞতা যা আমি অন্য ধর্মগুলোর মধ্যে পাইনি।’

 জাপানি নওমুসলিম মিসেস নাকাতা কিছুকাল পর মিশরে যান আরবী ভাষা ও ইসলামী শিক্ষা আরো ভালোভাবে রপ্ত করার জন্য। আরবী ভাষা ভালোভাবে বোঝার পর নাকাতা কুরআনের বাণীর অর্থগুলো আরো ভালোভাবে উপলব্ধি করতে থাকেন: তিনি এ প্রসঙ্গে বলেছেন, আরবী ভাষা মোটামুটি বোঝার পর কুরআনের সৌন্দর্য আমাকে বিমুগ্ধ করছে। কুরআনের বিষয়বস্তুগুলো ছাড়াও এর সুরও অশেষ সৌন্দর্যে ভরপুর। কুরআন বার বার পড়লেও ক্লান্ত হওয়া তো দূরের কথা বরং আমার অন্তর যেন সৌভাগ্যের সাগরে অবগাহন করতে থাকে। মহান আল্লাহ আমাকে এই সৌভাগ্য নসিব করেছেন বলে আমি তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞ এবং আমি ইসলামকে আমার দেশের জনগণের কাছে তুলে ধরছি। যে সৌভাগ্য কেবল এক আল্লাহকে চেনা ও জানার মাধ্যমে পাওয়া যায় সে সৌভাগ্য তারাও অর্জন করুক- এই আমার প্রার্থনা। আমি সুনিশ্চিত যে আল্লাহর ওপর ভরসার সুবাদে সব কিছুই ঠিক হয়ে যাবে।’

ব্যাপকহারে মুসলিম হচ্ছেন আইসল্যান্ডের উদারপন্থিরা

image_95755_0.gif
 
আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
 
আইসল্যান্ডের উদারমনা লোকজন নাকি এখন মুসলিম হওয়ার জন্য মরিয়া হয়ে ওঠেছেন। এজন্য তারা একটি মুসলিম সংগঠনের কাছে আবেদনও করেছেন। সরকার রাজধানী রেকজাভিকে একটি মসজিদ বানানোর অনুমতি বতিল করে দেয়ার প্রেক্ষিতে তারা এ পদক্ষেপ নিয়েছে বলে বিবিসি জানিয়েছে।
 
এ সম্পর্কে মুসলিম এসোসিয়েশনের প্রতিষ্ঠাতা সালমান তামিমি ‘আইসল্যান্ড রিভিউ ওয়েবসাইটকে’ বলেছেন,‘আমাদের সংস্থার সদস্য হওয়ার জন্য ইতিমধ্যে অনেকেই ইমেইল করেছেন। এতে আমি কিছুটা বিস্মিত হয়েছি। তবে আমার কিন্তু ভালোই লাগছে।’
 
গত বছর মুসলমানদের একটি মসজিদ বানানোর অনুমতি দিয়েছিল দেশটির পার্লামেন্ট। কিন্তু মসজিদ বানানোকে সরকারি জমির অপব্যবহার উল্লেখ করে সম্প্রতি তা বাতিল করে দেয় সরকার। সরকারের এ বর্ণবাদী সিদ্ধান্তে বিক্ষুব্ধ হন দেশের উদারমনারা। তারা বলছেন, মসজিদ বানালে যদি জমির অপব্যবহার করা হয়, তবে গির্জা বানানোর অনুমতি কীভাবে দেয়া হয়! এরই প্রতিবাদে গির্জা ছেড়ে মুসলিম সংগঠনে যোগ দেয়ার আগ্রহ দেখিয়েছেন বহু খিস্ট্রান।
 
প্রসঙ্গত, আইসল্যান্ডে তালিকাভুক্ত মুসলিম ধর্মাবলম্বীদের সংখ্যা মাত্র ৭৭০ জন। কিন্তু সে দেশে তাদের কোনো ধর্মীয় উপাসনালয় নেই। এসোসিয়েশনের কার্যালযের চতুর্থ তলায় তারা নামাজ আদায় করে থাকেন। গত ১৪ বছর ধরে তারা একটি মসজিদ তৈরিতে অনুমোদনের জন্য সরকারের দিকে তীর্থের কাকের মতো তাকিয়ে ছিলেন। ২০১৩ সালে তাদের মসজিদ নির্মাণের অনুমতি মেলে। কিন্তু শেষ মুহূর্তে ঠুনকো অজুহাতে তা বাতিল করা হয়। আর এতেই খেপেছেন সে দেশের নিরপেক্ষ মানুষেরা।
 
মুসলিম এসোসিয়েশনের সদস্য হওয়ার আগ্রহ ব্যক্ত করেছেন আইসল্যান্ডের নেতৃস্থানীয় সাংবাদিক গানার স্মারি ইগিলশন। নিজের ফেসবুকে দেয়া এক পোস্টে তিনি বলেন,‘ আমি তাদের সঙ্গে যোগ দিলে মুসলিম সংগঠনের সদস্যরা সরকারের মিথ্যা অজুহাতের বিরুদ্ধে লড়াই করার শক্তি পাবেন।’ তিনি সরকারি দল প্রোগ্রেসিভ পার্টি এবং তার সমর্থকদের সমালোচনা করে বলেন, তারা ‘অহেতুক ভীতিতে’ আক্রান্ত হয়ে পড়েছে।
 
তবে প্রধানমন্ত্রী ডেভিড গুনলাউগসন তার বিরুদ্ধে আনীত বর্ণবাদের অভিযোগ নাকচ করে দিয়ে বিরোধীদের উদ্দেশ্য করে বলেছেন, তারা চাইলে এ বিষয়ে সরকারের সঙ্গে মুক্ত আলোচনায় অংশ নিতে পারেন।
 
আইসল্যান্ডের আইন অনুযায়ী একজন নাগরিক একসঙ্গে কেবলমাত্র একটি ধর্মীয় সংগঠনের সদস্য হতে পারেন। এ কারণে মসজিদের প্রতি সমর্থন জানাতে গিয়ে আইসল্যান্ডের মানবতাবাদীরা গির্জা ত্যাগ করুক, এটি চাইছেন না মুসলিম এসোসিয়েশনের প্রধান তামিমি। তিনি মনে করেন,‘খ্রিস্টান ধর্মের মধ্যে থেকেও তাদের পক্ষে অন্য ধর্মাবলম্বীদের মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় সংগ্রাম করা সম্ভব।’
 

এ সংক্রান্ত আরো খবর:

ইসলামে ধর্মান্তরিত তারকারা

ইসলাম গ্রহণ করলেন দক্ষিণ ভারতের নায়িকা মনিকা (ভিডিওসহ)

হিন্দু থেকে মুসলিম হলেন একই পরিবারের ৫ জন

মুসলিম হচ্ছেন বলিউডের সেক্স সিম্বল নায়িকা মমতা কুলকার্নি

নায়িকা শাবনাজের বদলে যাওয়ার গল্প

আমি আল্লাহর কাছে তওবা করেছি আর ওড়না খুলবো না- ভীনা মালিক(ভিডিওসহ)

ইসলামকে জানার চেষ্টায় আমার চোখ খুলে গেল- মার্কিন সঙ্গীত শিল্পী জেনিফার(ভিডিওসহ)

চলচ্চিত্রে নিজের অভিনীত চরিত্র দেখলে এখন নিজেই বিব্রত হন শাবানা

ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর মুসলিমরা নির্মম নির্যাতনের শিকার

উপজাতীয় নওমুসলিমদের ওপর খ্রিস্টান মিশনারীদের দৌরাত্ম

ইসলাম গ্রহণ করলেন দক্ষিণ ভারতের নায়িকা মনিকা (ভিডিওসহ)

image_93735_0

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছেন দক্ষিণ ভারতের অভিনেত্রী মনিকা। ৩০ মে তিনি ইসলাম গ্রহণ করেন। ইসলাম গ্রহণের পর তিনি নিজের নাম রেখেছেন এমজি রহিমা। তামিল চলচ্চিত্রে শিশু শিল্পী হিসেবে তিনি অভিনয় শুরু করেন। এ পর্যন্ত ৭০টিরও বেশি ছবিতে তিনি কাজ করেছেন। তেলেগু, মালায়লাম ও কান্নাডা ছবিতের তিনি পরিচিত মুখ।

শুক্রবার এক প্রেস কনফারেন্সে ২৬ বছর বয়সী এ অভিনেত্রী বলেন, ‘আমি টাকা বা প্রেমের জন্য ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করিনি। ইসলামের নিয়মকানুন ও রীতিনীতি পছন্দ হওয়ায় আমি এ ধর্ম গ্রহণ করেছি।’

কার মাধ্যমে তিনি ইসলাম ধর্ম গ্রহণে অনুপ্রাণিত হন তা তিনি জানাননি। তিনি আর চলচ্চিত্রে অভিনয় করবেন না বলে জানিয়েছেন। শিশুশিল্পী হিসেবে তিনি তামিল নাড়ুর জাতীয় পুরস্কার লাভ করেন। ২০০১ সালে মালায়লাম চলচ্চিত্রে অভিনয়ে শুরুতে তিনি নাম পরিবর্তন করে প্রাভিনা রাখেন।

এ সংক্রান্ত আরো খবর:

হিন্দু থেকে মুসলিম হলেন একই পরিবারের ৫ জন

মুসলিম হচ্ছেন বলিউডের সেক্স সিম্বল নায়িকা মমতা কুলকার্নি

নায়িকা শাবনাজের বদলে যাওয়ার গল্প

আমি আল্লাহর কাছে তওবা করেছি আর ওড়না খুলবো না- ভীনা মালিক(ভিডিওসহ)

ইসলামকে জানার চেষ্টায় আমার চোখ খুলে গেল- মার্কিন সঙ্গীত শিল্পী জেনিফার(ভিডিওসহ)

চলচ্চিত্রে নিজের অভিনীত চরিত্র দেখলে এখন নিজেই বিব্রত হন শাবানা

ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর মুসলিমরা নির্মম নির্যাতনের শিকার

উপজাতীয় নওমুসলিমদের ওপর খ্রিস্টান মিশনারীদের দৌরাত্ম

 

 

সপরিবারে ইসলাম গ্রহণ করলেন ঢাবি হলের কর্মচারী

image_84968_0

ডেস্ক নিউজ:

স্ত্রী, দুই সন্তান, ভাই এবং শ্বশুর-শাশুড়িসহ ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সলিমুল্লাহ মুসলিম (এসএম) হলের কর্মচারী রাজু লাল। সম্প্রতি তিনি স্বেচ্ছায় হিন্দু ধর্ম থেকে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন। ধর্মান্তরিত হয়ে তিনি রাফাত হোসেন নাম গ্রহণ করেছেন।

এ উপলক্ষে শনিবার দুপুরে হলের ভেতরে ‘কর্মকর্তা কর্মচারী কল্যাণ ট্রাস্ট’ উদ্যোগে এক দোয়া মাহফিলের আয়োজন করে এ তথ্য জানানো হয়।

মাহফিলে উপস্থিত ছিলেন- ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আনোয়ার হোসেন আনু, হল ছাত্রলীগের সভাপতি মেহেদী হাসান, সাধারণ সম্পাদক দিদার মো. নিজামুল ইসলাম, হলের সাবেক ছাত্র রুবেল ও ফাহাদ, সলিমুল্লাহ মুসলিম হল কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ ট্রাস্টের সভাপতি মো. দেলোয়ার হোসেন দুলাল, সাধারণ সম্পাদক মো. রোস্তম আলম সরকার।

রাফাত হোসেন বলেন, তিনি স্বেচ্ছায় স্বজ্ঞানে সপরিবারে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছেন। তিনি প্রখ্যাত ভারতীয় ইসলাম প্রচারক ডা. জাকির নায়েকের ভক্ত। তার বক্তব্যের অনেকগুলো সিডির সংগ্রহ তার কাছে রয়েছে এবং তিনি নিয়মিত সেগুলো শোনেন। এসব শুনতে শুনতেই তার মধ্যে এ ভাবান্তর হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
 
হলের অন্য কর্মাচারীরা জানান, তিনি বিভিন্ন ইসলামি বিষয়ে জানতে জানতে এ ধর্মে ধর্মান্তরিত হওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।