অপহরণের প্রতিবাদ: মানবিক, বাণিজ্যিক, না রাজনৈতিক?

  • মাহের ইসলাম

প্রকাশ্য দিবালোকে সশস্ত্র কিছু দুষ্কৃতিকারী দুইজন মানুষকে অপহরণ করলে, সবারই খারাপ লাগার কথা, ভয় পাওয়ার কথা; এমনকি অপহৃতদের ক্ষতির আশঙ্কায় উৎকণ্ঠিত হওয়ার কথা। এরপর শত ভয়ভীতি এবং উৎকণ্ঠা সত্ত্বেও, সমাজের কিছু বিবেকবান মানুষ এই ঘটনার প্রতিবাদ করবে; একই সাথে অপহরণকারীদের ধরতে এবং অপহৃতদের উদ্ধারে আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাবে আইন শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী, অনেক ক্ষেত্রে সফলও হবে। অন্যদিকে, অনিষ্টের উৎকণ্ঠার পাশাপাশি, তাদের মঙ্গল কামনায় নীরবে প্রার্থনা এবং সরবে তাদের উদ্ধারের দাবী জানানো আমাদের সমাজে খুবই স্বাভাবিক।

এই স্বাভাবিক ব্যাপারগুলোই একের পর এক ঘটে চলেছে পার্বত্য অঞ্চলের আঞ্চলিক সংগঠনের দুই নারী নেত্রীর অপহরণকে কেন্দ্র করে। এরই ধারাবাহিকতায়, গত ২ তারিখে অপহৃত একজনের মায়ের করুণ ছবি সম্বলিত একটি নিউজ করেছে দেশেরই একটা শীর্ষস্থানীয় জাতীয় দৈনিক। এছাড়া অপহৃতদের উদ্ধারসহ ৫দফা দাবিতে ঢাকায় নারী-যুব-ছাত্র সংগঠনসমূহের প্রতিবাদী মশাল মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে একই দিন সন্ধ্যায়।

ঘটনা যাদেরকে নিয়ে, সেই মন্টি চাকমা ও দয়াসোনা চাকমাকে অপহরণের পর প্রায় ১৫ দিন পার হয়ে গেছে। বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে ঘটনার যে বর্ণনা পাওয়া গেছে, তা থেকে জানা যায়, অস্ত্রের মুখে কিছু সন্ত্রাসী গত ১৮ মার্চ রাঙামাটির সদরের কুতুকছড়ির উপর পাড়া গ্রাম থেকে  ইউপিডিএফ সমর্থিত হিল উইমেন্স ফেডারেশনের এই দুই নেত্রীকে অপহরণ করে। ঐ সময় সন্ত্রাসীদের ছোঁড়া গুলিতে ধর্মসিং চাকমা নামে একজন ইউপিডিএফ নেতা গুলিবিদ্ধও হয়েছে। সন্ত্রাসীরা এসময় একটি ঘরে আগুনও ধরিয়ে দেয়। এ অপহরণ ঘটনায় ২১জনকে আসামি করে রাঙামাটির কোতয়ালী থানায় একটি মামলা হয়েছে। তন্মধ্যে, নানিয়াচর উপজেলা চেয়ারম্যান শক্তিমান চাকমাকে প্রধান আসামি এবং সদ্য গঠিত ইউপিডিএফ গণতান্ত্রিক দলের সভাপতি তপন জ্যোতি চাকমা ওরফে বর্মাকে দ্বিতীয় আসামি করা হয়েছে।

এ ঘটনার প্রতিবাদে পার্বত্য অঞ্চলের পাশাপাশি ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে প্রতিবাদ সমাবেশ, মশাল মিছিল, প্রেস ব্রিফিং করে অপহৃতদের উদ্ধারের দাবী জানানো হয়েছে। বলাবাহুল্য যে, প্রসীত খীসার নেতৃত্বাধীন ইউপিডিএফ সমর্থিত তিন সংগঠন গণতান্ত্রিক যুব ফোরাম, পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ ও হিল উইমেন্স ফেডারেশন যৌথভাবে ২১মার্চ খাগড়াছড়ি ও রাঙ্গামাটিতে অবরোধ কর্মসূচি পালন করে।  এ কর্মসূচীতে তাদের সমর্থকেরা যথারীতি জ্বালাও – পোড়াও, গাড়ি ভাংচুর, মারধোরের ঘটনা, পুলিশের উপর হামলা ইত্যাদি ঘটনার জন্ম দিয়েছে।

অবরোধ চলাকালে সন্ত্রাসীদের গুলিতে এক অটোরিক্সার চালক আহত হয়, অপর একটি অটোরিক্সায় ছোঁড়া ইটের আঘাতে দেড় বছরের একটি শিশুও আহত হয়। ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে একাধিক গাড়িতে, মারধোর করা হয়েছে যাত্রী ও চালককে। পরিশেষে, অবরোধে হামলা ভাংচুরের দায়ে ইউপিডিএফ’র ৮০ নেতাকর্মীকে আসামি করে মামলাও দায়ের করা হয়েছে।

ঘটনার এখানেই শেষ নয়; শেষ হওয়ার কথাও নয়। কারণ অপহৃতদের অদ্যাবধি উদ্ধার করা যায়নি। প্রায় প্রতিদিনই আমরা খবরের কাগজে এই সংক্রান্ত সংবাদ পাচ্ছি। স্বাভাবিকভাবেই প্রতিদিনই তাদের উদ্ধারের দাবী জানিয়ে বিভিন্ন স্থানে, অনেকেই যার যার সাধ্যানুযায়ী কিছু না কিছু করার চেষ্টা করছেন। এই চেষ্টা্তে ফেসবকে পোস্ট ও কমেন্টের ঝড় বইছে।

এই ঘটনার প্রেক্ষিতে, ইতোমধ্যেই অনেক বিশিষ্ট ব্যক্তি এবং জন প্রতিনিধি  অপহরণসহ গুম, খুন, ধর্ষণের বিচারহীনতা এবং সরকারের নির্লিপ্ততার তীব্র নিন্দা জানিয়ে এবং অবিলম্বে অপহৃত নেত্রীদ্বয়কে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করে অপহরণকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদানের দাবি জানিয়ে বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেছেন বা ইমেইলে সংহতি জানিয়েছেন।

প্রশ্ন হচ্ছে, এই স্বাভাবিক ব্যাপার কিন্তু সবসময় আমাদের দেশের সবক্ষেত্রে ঘটে না। বিস্মিত হওয়ার বিষয়টি হলো এই যে, এমনকি এই পার্বত্য অঞ্চলেই অনেক অপহরণের পরেও ঢাকায় এমন আন্দোলন বা বিশিষ্ট ব্যক্তিগণ কর্তৃক বিবৃতি স্বাক্ষর বা সংহতি প্রকাশ বা জাতীয় দৈনিকে সংবাদ দেখা যায় না। সহজ ভাষায়, আমাদের সমাজেরই কিছু তথাকথিত মানব দরদী এবং বিশিষ্ট ব্যক্তি এই দুই নারীর ক্ষেত্রে যে প্রতিক্রিয়া বা কর্মসূচী করছেন তা সকল অপহৃত নর বা নারীর জন্যে করেন না। অর্থাৎ, উনাদের কর্মকাণ্ড বিশেষ বিশেষ ব্যক্তি বা দলের জন্যে এক রকম, আর অন্য সকল মানুষের জন্যে আরেক রকম।

আমি ইচ্ছে করেই শান্তি চুক্তির আগের সময়কার কথা বলছি না। ঢাকা ট্রিবিউন এর ২৭ জুলাই ২০১৩ সালের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে, পার্বত্য চট্টগ্রামে গত ১৩ বছরে (২০০১ – ২০১৩) কমপক্ষে ৬৪০ জনকে অপহরণ করা হয়, তন্মধ্যে গুটিকয়েক ভাগ্যবান মুক্তিপণের বিনিময়ে ফিরে আসতে পেরেছিলেন। ভেবে দেখতে পারেন, বিগত বছরগুলোতে কতবার বা কতজনের জন্যে এমন আয়োজন দেখেছেন, আজ যেমন দেখছেন এই দুই নেত্রীর জন্যে।  এই দুই নেত্রীর জন্য যে প্রতিক্রিয়া দেখানো হচ্ছে আমি তার বিরোধীতা করছি না। বরং এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু এই স্বাভাবিক ঘটনাটি যখন অন্য অনেকের ক্ষেত্রে না ঘটে- তখন কিছু প্রশ্নের জন্ম দেয়! প্রতিক্রিয়াশীলদের প্রতিক্রিয়ার আসল উদ্দেশ্য বা অর্ন্তনিহিত তাৎপর্য নিয়ে প্রশ্ন দেখা দেয়।  বর্তমান লেখার মূল উদ্দেশ্য সেটাই।

উদাহরণ স্বরূপ পার্বত্য চট্টগ্রামে সম্প্রতিকালে ঘটে যাওয়া কয়েকটি উল্লেখযোগ্য অপহরণের ঘটনার দিকে পাঠকদের মনোযোগ আকর্ষণ করা যেতে পারে।

১. চাঁদা না দেয়ায়  ২৭ মার্চ, ২০১৮ তারিখে খাগড়াছড়ি সদর থেকে মোবাইল অপারেটর রবি কোম্পানীর চার প্রকৌশলীকে অপহরণ করেছে পাহাড়ী সন্ত্রাসীরা। বিষয়টি কঠোরভাবে গোপন রাখায় অপহরণের ঘটনাটি এতদিন প্রকাশ পায়নি। সংবাদে আরো জানা গেছে, অপহরণ করে কয়েক কোটি টাকা টাকা মুক্তিপণ দাবি করেছে অপহরণকারীরা। (পার্বত্যনিউজ, ৩ এপ্রিল ২০১৮)।

২. খাগড়াছড়ির মানিকছড়ি উপজেলার ছদুরখীল এলাকায় মোবাইল ফোন কোম্পানীর চার টেকনিশিয়ানকে অপহরণ করা হয় ৬ মার্চ, ২০১৮ তারিখে। ইতিপূর্বে, চাঁদা না দেওয়ায় চাঁদাবাজরা কয়েকবার টাওয়ারের লাইন বিচ্ছিন্ন করে দেয়। পরে, রবি টাওয়ারের মেরামতের  কাজে আসলে এই টেকনিশিয়ানদের অপহরণ করে সন্ত্রাসীরা। (পার্বত্যনিউজ, ৬ মার্চ ২০১৮)

৩. নারী, শিশু ও বৃদ্ধসহ একত্রে ৬২ জনকে অপহরণ করেছিল একদল সশস্ত্র দুর্বৃত্ত, গত ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৩ তারিখে। ‘অপহরণের ১৬২ দিন পর মুক্তি পেলেন ৩৫ জন’ শিরোনামে দৈনিক প্রথম আলোর ৩০ জুলাই ২০১৩ তে প্রকাশিত সংবাদ হতে আরো জানা যায় যে, পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির ৪১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠান শেষে ইঞ্জিনচালিত নৌকাযোগে রাঙামাটি থেকে বাড়ি ফেরার পথে এদেরকে অপহরণ করা হয়। পরে নয়জন নারী, শিশু ও বৃদ্ধকে মুক্তি দেয়। সংবাদ প্রকাশের দিনও আরো ১৫জন অপহরণকারীদের হাতে জিম্মি ছিল।

৪.  ২০১৪ সালের নভেম্বরে লংগদু উপজেলার সদর ইউনিয়নের হারিহাবা নামক এলাকা থেকে অপহৃত হন বন বিভাগের তিনজন কর্মকর্তা। দৈনিক প্রথম আলোর ৮ নভেম্বর ২০১৪ তারিখের সংবাদ অনুসারে, তাদের মুক্তির বিনিময়ে অপহরণকারীরা ১৫লাখ টাকা দাবি করে। ৬ নভেম্বরে অপহৃত হওয়ার ১৯ দিন পরে যৌথ বাহিনীর অভিযানের মধ্যে দিয়ে তাদের মুক্তি ঘটে।

৫. ২০১৩ সালের ৮ জুলাই বাঘাইছড়ি উপজেলার মারিশ্যা থেকে বি টেকনোলজির প্রকৌশলীসহ পাঁচজনকে অপহরণ করে ৪০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। পরবর্তীতে, দর কষাকষির এক পর্যায়ে, মুক্তিপণ ৪০ লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে তিন কোটি টাকা দাবি করায় বি টেকনোলজির প্রতিনিধির সঙ্গে অপহরণকারীদের বৈঠক ভেস্তে যায়। (দৈনিক প্রথম আলো, ২২ জুলাই ২০১৩)।

৬. এক ব্রিটিশ ইঞ্জিনিয়ারকে তার দুই ডেনিস সহকর্মীসহ রাঙ্গামাটির গুনিয়াপাড়া থেকে ২০০১ সালের ফেব্রুয়ারিতে আটজনের একদল সশস্ত্র পাহাড়ি  মুক্তিপণের দাবিতে অপহরণ করে। একই গাড়িতে থাকা আরো একজন বিদেশি এবং গাড়ির ড্রাইভারকে তারা ছেড়ে দেয় মুক্তিপণের টাকা জোগাড় করার জন্যে।  কত টাকা মুক্তিপণের বিনিময়ে মাসাধিককাল পরে তারা মুক্তি পেয়েছিলেন, তা অবশ্য জানা যায় নি। (দি টেলিগ্রাফ, ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০০১)।

৭. ডেনিশ সাহায্যকারী সংস্থা ডানিডাতে কর্মরত দুইজন বাংলাদেশিকে থানচির নিকটবর্তী এক গ্রাম থেকে ২০০৭ সালের জুলাই মাসে অপহরণ করা হয়। (রয়টার্স, ১৩ জুলাই ২০০৭)।

৮. রাঙ্গামাটির বিলাইছড়ি থেকে একজন স্থানীয় গাইডসহ দুই বাঙ্গালী পর্যটককে অপহরণ করা হয় ২০১৫ এর ৩ অক্টোবর তারিখে। (ডেইলি সান, ১৩ অক্টোবর ২০১৫)।

৯. গুইমারা উপজেলার বাইল্যাছড়ি সাইনবোর্ড এলাকায় বাসের গতিরোধ করে, বাস থেকে স্বামীর পাশে বসে থাকা স্ত্রীকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছিলো ৮ সেপ্টেম্বর ২০১৭ তারিখে। পরে ২০১৮ সালের মার্চে ইউপিডিএফ সমর্থিত পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের কর্মী সজীব ত্রিপুরাকে আটক করে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। তার স্বীকারোক্তি হতে পুলিশ জানতে পারে যে, গৃহবধু ফাতেমা বেগমকে অপহরণ করে ইউপিডিএফের সদস্যরা মিলে পালাক্রমে ধর্ষণ করেছে। তার অপরাধ ছিলো সে বাঙালী ছেলেকে ভালবেসে বিয়ে করেছে ধর্মান্তরিত হয়ে (পার্বত্যনিউজ, ৪ মার্চ ২০১৮)।

১০. খাগড়াছড়ি জেলা শহরের এক হাসপাতাল থেকে পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ এর  দুই নেতাকে অস্ত্রের মূখে অপহরণ করা হয় ২০১৭ সালের অক্টোবরে। এই ঘটনায়  আঞ্চলিক একটি রাজনৈতিক দলকে দায়ী করা হয়। (পার্বত্যনিউজ, অক্টোবর ২২, ২০১৭)।

১১. নভেম্বর ২০১৭ তে খাগড়াছড়ি সদর উপজেলার কমলছড়িতে ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্টের (ইউপিডিএফ) দুই সদস্যকে মারধরের পর গুরুতর জখম অবস্থায় অপহরণ ও হরিনাথ পাড়া থেকে ইউপিডিএফ’র অপর এক সমর্থককে অপহরণের অভিযোগ পাওয়া যায় ইউপিডিএফ খাগড়াছড়ি ইউনিটের সংগঠক মাইকেল চাকমার এক বিবৃতিতে।(পার্বত্যনিউজ, নভেম্বর ১৮, ২০১৭)।

১২. ১১তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীর পোষ্টার লাগানোর সময় রাঙ্গামাটি থেকে ইউপিডিএফের  সাতজন কর্মীকে ২০০৯ এর ডিসেম্বরে অপহরণ করা হয়। এই ঘটনার পিছনে, জে এস এস এর সন্ত্রাসীরা এই অপহরণের সাথে জড়িত বলে ইউপিডিএফের পক্ষ হতে অভিযোগ করা হয়। (ডেইলি স্টার, ২৬ ডিসেম্বর, ২০০৯)।

১৩. বিপক্ষ দলের হয়ে মিছিলে অংশ নেয়ায় নানিয়ারচরের ৫ জন ইউপি সদস্যসহ ২০ জনকে ২১ ডিসেম্বর ২০১৭ তে অপহরণের অভিযোগ করা হয়। (পার্বত্যনিউজ, ডিসেম্বর ২২, ২০১৭)।

১৪. অতি সম্প্রতি, নব গঠিত ইউপিডিএফ ডেমোক্র্যাটিক এর তরফ হতে প্রকাশিত এক বুকলেটে ১৮ জন ইউপিডিএফ কর্মীর নাম ও ঠিকানা দেয়া হয়েছে। বুকলেটের দাবী অনুযায়ী, দলের সিদ্ধান্তের সাথে দ্বিমত করায় এই ১৮ জনকে মেরেই ফেলা হয়েছে।

১৫. ২০১৭ সালের ২১ এপ্রিলে এক ত্রিপুরা নারী চা শ্রমিক বাঙ্গালী ছেলেকে ভালবেসে পালিয়ে বিয়ে করার জের ধরে  পাহাড়ি সন্ত্রাসীদের হাতে অপহৃত ফটিকছড়ির নাছিয়া চা বাগানের ১৯টি পরিবারের নারী ও শিশুসহ ৭৮ জনকে অপহরণ করে পাহাড়ী সন্ত্রাসীরা।

১৬. ৫ জানুয়ারী ২০১৪ সালের নির্বাচনের আগে ৩ জানুয়ারিতে জেএসএস এমএনলারমা গ্রুপের সমর্থিত খাগড়াছড়ি আসনের স্বতন্ত্রপ্রার্থী মৃনাল কান্তি ত্রিপুরার স্ত্রীসহ ৬জন নারী কর্মীকে জেলা সদরের গিরিফুল দক্ষিণ হেডম্যান পাড়া এলাকা হতে অপহরণ করা হয়ে। প্রার্থী মৃনাল কান্তি ত্রিপুরা জানায়, পানছড়ি সড়কস্থ গিরিফুল এলাকায় তার স্ত্রী পারুমিতা চাকমা (পুতুলী), তার বউদি মেনকা ত্রিপুরা, তার শেলিকা অনুভা ত্রিপুরা এবং আরও ৩কর্মীসহ ভোট চাওয়ার জন্য গেলে ঘটনাস্থলে অপহরণের শিকার হয়। তিনি এ ঘটনায় ইউপিডিএফকে দায়ী করেন।

এরকম আরো অসংখ্য ঘটনার উদাহরণ দেয়া যায়, কিন্তু তা পাঠকদের ধৈর্যচ্যুতি ঘটাতে পারে বিধায় সে চেষ্টায় বিরত থাকা হলো।

শান্তি চুক্তির পরে গত ২০ বছরে, পাহাড়ি-বাঙ্গালী মিলিয়ে পার্বত্য চট্টগ্রামে প্রায় হাজার দেড়েক মানুষ অপহরণের ঘটনার শিকার হয়েছে। এদের মধ্যে পাহাড়িদের সংখ্যাই বেশি। আঞ্চলিক দলগুলোর সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের হাতেই সবচেয়ে বেশি অপহরণ, হত্যা বা ধর্ষণের মতো অপরাধের শিকার হচ্ছে নিরীহ পাহাড়িরা। কিন্তু ভয়ে তারা মুখ খুলতে সাহস পায় না কখনই, তাই এই সব ঘটনার বেশির ভাগই রয়ে যায় সকলের অজ্ঞাতে। এসব অপহরণের কথা, অহরণের পর হত্যার কথা মিডিয়াতে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই খুব একটা আলোচিত হয় না।

অপহৃত দুই নেত্রী অপেক্ষাকৃত শক্তিশালী দলের হওয়ায় এবং অপহরণকারীদের দৌরাত্ম এখনো অতটা বাড়েনি বলেই হয়তবা আমরা এই ঘটনার কথা জানা গেছে। যদি এর ঊল্টোটা ঘটতো, অর্থাৎ চিরাচরিত প্রথার মতই প্রধান দুই আঞ্চলিক দলের সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা ছোট দুই দলের নেতাদের অপহরণ করত, তাহলে যে আর যাই হোক এত মিছিল, প্রতিবাদের লোক পাওয়া যেত না- সেটা বুঝতে এতক্ষণে নিশ্চয় কারো দেরি হওয়ার কথা নয়।

উপরে যেসকল অপহরণের ঘটনার কথা আলোচিত হয়েছে, এরকম আরো অসংখ্য অপহরণের ঘটনায় এখন যাদের প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে তাদের টিকিটিও খুঁজে পাওয়া যায়নি, বিবৃতি, কর্মসূচীতো দুরে থাকুক।

ভেবে দেখুন, দিনে দুপুরে সবার সামনে থেকে স্বামীর পাশে বসা গৃহবধুকে অপহরণ করার পরেও কিন্তু আমরা এই সকল নারীবাদী, মানবাধিকার কর্মী এবং বিশিষ্ট ব্যক্তিদের কোন ধরনের বক্তৃতা বা বিবৃতি দেখিনি। কেউই তখন ফাতেমা বেগমকে উদ্ধার বা অপহরণকারীদের গ্রেফতারের দাবী জানিয়ে রাজপথে একটি বারের জন্যেও মশাল মিছিলের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেননি। মামলা আছে, গ্রেফতারকৃত আসামির স্বীকারোক্তি আছে, অথচ বাকি অপরাধীদের গ্রেফতার বা শাস্তির দাবিতে কোন আওয়াজ নেই।

আজ যারা অপহৃত এই দুই নেত্রীকে নিয়ে এত কিছু বলছেন, এদের অনেকেই হয়ত সৈকত ভদ্র অথবা রেটিনা চাকমার সহযোদ্ধা ছিলেন; অথচ কী এক অদ্ভুত কারণে রেটিনা চাকমার অপহরণ ও তাকে নিলামে তুলে ধর্ষণ নিয়ে কেউ কখনই কিছু বলেননি এবং বলছেন ও না। দিপা ত্রিপুরার অপহরণকারী এবং যৌন নির্যাতনকারীদের ব্যাপারেও কেউ কিছু কখনই বলে না।

চোখের সামনে ঘটে যাওয়া হাজারো জলজ্যান্ত অপহরণের ঘটনা থাকা সত্ত্বেও কী এক অদ্ভুত কারণে কিছু লোক প্রতি বছরই কল্পনা চাকমার বানোয়াট এক অপহরণের বিচার চায়! কারণটি অনুধাবনের ও খুঁজে বের করার ভার সচেতন পাঠকদের উপরই রইল!

♦ লেখক: পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক গবেষক।


মাহের ইসলামের আরো লেখা পড়ুন

  1. পার্বত্য চট্টগ্রামে অপপ্রচার: মুদ্রার অন্য দিক
  2. মারমা দুই বোন, অপপ্রচার এবং ডিজিটাল যুগের দুর্বলতা
  3. পাহাড়িদের সরলতা কি গুটিকয়েকজনের ক্রীড়নক: প্রেক্ষিত বিলাইছড়ি ইস্যু
  4. পার্বত্য চট্টগ্রামে সেনাবাহিনীঃ নির্দোষ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত দোষী
  5. মিথুন চাকমার প্রতি সহানুভুতি কি অবিচার ?
  6. দেশের সার্বভৌমত্ব, জাতীয় চেতনা ও নাগরিক নিরাপত্তা নিয়ে অপপ্রচার বন্ধে কোনো ছাড় নয়
  7. ইমতিয়াজ মাহমুদ- মিথ্যা বিভ্রান্তি ছড়িয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি না করে অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে শেখান(ভিডিও)

 

ইউপিডিএফের হাতে ১ হাজার আগ্নেয়াস্ত্র: বার্ষিক চাঁদা আদায় ৬০ কোটি টাকা

পার্বত্যনিউজের সাথে একান্ত সাক্ষাৎকারে ইউপিডিএফ গণতান্ত্রিক নেতৃবৃন্দ

পার্বত্যনিউজ রিপোর্ট:
প্রসীত-রবি’র নেতৃত্বাধীন ইউপিডিএফ এখন পরিবার ও আত্মীয়তন্ত্র পাটিতে পরিণত হয়েছে। অনেক নেতৃত্ব ব্যাপক দুর্নীতি, অনিয়ম, স্বেচ্ছাচারী ও নারী কেলেংকারীসহ নানা অপকর্মে জড়িত। গোষ্ঠীবাদ, আঞ্চলিকতাবাদ, স্বজনপ্রীতির কারণে পার্টির মধ্যে বিভেদ বৈষম্য চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে। দুর্নীতিবাজ নেতাদের রক্ষা করে সৎ ও যোগ্য নেতাকর্মীদের পদে পদে বঞ্চিত করার প্রবণতা ক্রমশ বাড়ছে। হত্যা করা হচ্ছে বিরুদ্ধচারণকারীদের।

প্রসীত-রবি’র নেতৃত্বাধীন ইউপিডিএফ তিন পার্বত্য জেলা থেকে ৫০/৬০ কোটি টাকা চাঁদা আদায় করছে। এ অর্থের সিংহভাগ ব্যয় হচ্ছে অস্ত্র ক্রয়ে। এছাড়া আইন-আদালত, কতিপয় সাংবাদিক ও বুদ্ধিজীবীদের পিছনে অর্থ ব্যয় হচ্ছে। ইউপিডিএফ’র অস্ত্র আসে ভারতের মিজোরাম হয়ে। ইউপিডিএফ’র সামরিক শাখায় তিনটি কোম্পানি রয়েছে। এদের কাছে রকেট লাঞ্চার, ১৪-এমএম, এম-১৬, এসকে-৩২, সেনেভা-৮১, এম-৪ ও এম-১-এর মতো ভয়ানক অস্ত্রসহ প্রায় এক হাজার অত্যাধুনিক এবং ভারী আগ্নেয়াস্ত্র রয়েছে। তবে কোনো স্থায়ী সামরিক ক্যাম্প নেই। সবগুলোই ভ্রাম্যমাণ। বাঙালিদের সাথে পাহাড়ি নারীদের প্রেমের ক্ষেত্রে সাংগঠনিকভাবে ইউপিডিএফের প্রচ- বাধা রয়েছে। অবাধ্য হলে নিলামে তোলা, মৃত্যুদণ্ডসহ চরম খেসারত দিতে হয়।

প্রসীত-রবি’র নেতৃত্ব প্রত্যাখান করে বেরিয়ে এসে সদস্য গঠিত বর্মা-তরু নেতৃত্বাধীন ইউপিডিএফ’র (গণতান্ত্রিক) দুই শীর্ষ নেতা পার্বত্যনিউজের সাথে একান্ত সাক্ষাৎকারে এমন পিলে চমকানো চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছেন। পার্বত্য জেলা খাগড়াছড়ির একটি রেস্টুরেন্টে বসে পার্বত্যনিউজের পক্ষ থেকে এই সাক্ষাৎকারটি নেয়া হয়। অডিও ও ভিজ্যুয়াল দুই পদ্ধতিতেই পুরো সাক্ষাৎকারটির রেকর্ড আমাদের কাছে রয়েছে।

পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির স্বাক্ষরের ধারাবাহিকতায় ১৯৯৮ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি খাগড়াছড়ি স্টেডিয়ামে আনুষ্ঠানিকভাবে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতে গেরিলা নেতা সন্তু লারমার নেতৃত্বে অস্ত্র সমর্পণ করে জনসংহতি সমিতির সদস্যরা। আর ঐদিনই প্রসীত বিকাশ খীসা ও রবি শংকর চাকমার নেতৃত্বে খাগড়াছড়ি স্টেডিয়ানে শত শত কালো পতাকা উত্তোলন করে অস্ত্র সমর্পণ অনুষ্ঠানকে ধিক্কার জানানো হয়।

এরই ধারাবাহিকতায় পরবর্তীতে ১৯৯৮ সালের ২৬ ডিসেম্বর ঢাকায় সম্মেলনের মধ্য দিয়ে পার্বত্য চট্টগ্রামের পূর্ণ স্বায়ত্ত্বশাসনের দাবিতে প্রসীত বিকাশ খীসা ও রবি শংকর চাকমার নেতৃত্বে ১১ সদস্যের ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট(ইউপিডিএফ) গঠিত হয়। শুরু হয় সন্তু ও প্রসীতের নেতৃত্বে আধিপত্য বিস্তার ও রক্ষার লড়াই। এসময় থেকে পুরো পার্বত্য চট্টগ্রামে ব্যাপক চাঁদাবাজি, হত্যা ও অপহরণের পাশাপাশি নিরাপত্তার বাহিনীর সাথে মাঝে মধ্যে বন্দুক যুদ্ধে লিপ্ত হতে থাকে তারা। এতে প্রাণ হারায় বহু নেতাকর্মী। কিন্তু প্রতিষ্ঠার ১৮ বছরের মাথায় ইউপিডিএফ ভেঙ্গে যায়। গত ১৫ নভেম্বর ২০১৭ প্রসীত-রবি’র নেতৃত্ব প্রত্যাখান করে বেরিয়ে এসে তপন কান্তি চাকমা বর্মাকে আহ্বায়ক ও জলেয়া চাকমা তরুকে সদস্য সচিব করে গঠিত হয় ১১ সদস্যের ইউপিডিএফ (গণতান্ত্রিক) দল।

নবগঠিত ইউপিডিএফ (গণতান্ত্রিক)-এর আহ্বায়ক তপন কান্তি চাকমা বর্মা পার্বত্যনিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেন, ১৯৯৭ সালে ২ ডিসেম্বর পার্বত্য চুক্তির বিরোধিতা করে পূর্ণ স্বায়ত্ত্বশাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য নিয়ে ইউপিডিএফ আবির্ভূত। ১১ সদস্য নিয়ে ছিল এর কমিটি। ব্যাপক জনসমর্থন না থাকলেও তৎকালীন পাহাড়ী ছাত্র ও যুব সমাজে কিছুটা প্রভাব ছিল। জুম্ম জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার নিয়ে শুরু থেকে আমরা অনেক ত্যাগ তিতিক্ষার মাধ্যমে এবং জীবনের সর্বোচ্চ ঝুঁকি নিয়ে সংগঠনের স্বার্থে কাজ করেছি। সংগঠনের নেতৃত্বে যারা আছেন তাঁদের প্রতি আমাদের আস্থা ছিল। তখন পর্যন্ত নেতাদের বাইরের চেহারায় সৎ ও যোগ্য বলে প্রতীয়মান হতো। কিন্তু মুখোশের আড়ালে নেতাদের ভিতরে যে ব্যাপক দুর্নীতি, অনিয়ম, চারিত্রিক স্খলন ও স্বেচ্ছাচারিতা ছিল আমরা বুঝে উঠতে পারিনি। সময়ের পরিক্রমায় তাদের মুখোশ উম্মুচন হতে লাগল।

আমরা বিষয়টি বুঝতে পেরে পার্টির নিয়ম অনুযায়ী সমালোচনা-আত্মসমালোচনা ও দ্বন্দ্ব নিরসনের গঠনমূলক উপায়ে সমস্ত অভিযোগ ও দুর্বলতা পার্টির মধ্যে সীমাবদ্ধ রেখে পার্টির ভাবমর্যাদা রক্ষা করার চেষ্টা করেছি। কিন্তু তা সত্ত্বেও পার্টির নেতৃত্ব বিষয়টির প্রতি গুরুত্ব না দিয়ে বরং চরম অবহেলা করতে থাকে। দুর্নীতিবাজ নেতাদের রক্ষা করে সৎ ও যোগ্য নেতাকর্মীদের পদে পদে বঞ্চিত করার প্রবণতা ক্রমশঃ বৃদ্ধি পেতে থাকে। এ কারণে সঞ্চয় চাকমা, দীপ্তিশংকর চাকমা, দীপায়ন খীসা, অভিলাষ চাকমা, সমীরণ চাকমা, অনিল চাকমা, ধ্রুবজ্যোতি চাকমাসহ আরো অনেক নেতাকর্মী নিষ্ক্রিয় হয়ে দেশে-বিদেশে অবস্থান করছেন।

তাদের মধ্যে পার্টি কর্তৃক অনিল চাকমা ও অভিলাষ চাকমাকে খুন করা হয়েছে। তাছাড়াও অনিল চাকমার অনুসারী সন্দেহে লক্ষীছড়িতে রয়েল মারমাকে মার্সিং অবস্থায় পিছন থেকে সুপরিকল্পিতভাবে গুলি করে হত্যা করা হয়। একই কায়দায় রঞ্জন মুনি চাকমা (আদি)-এর নেতৃত্বে বাঘাইছড়ি জারুলছড়িতে তার শ্বশুর বাড়িতে সাহসী ও দক্ষ কর্মী স্টেন চাকমাকেও গুলি করে হত্যা করা হয়। এভাবে নিষ্ক্রিয় ১০ নেতাকর্মীকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। বর্মা বলেন, পার্টির এসব আদর্শহীনতা, অন্যায় দেখে আমরা কিছু লোক তিন বছর আগে নিষ্ক্রিয় হয়ে স্বাভাবিক জীবনযাপন করার চেষ্টা করি। কিন্তু তারা আমাদের সে সুযোগ দেয়নি। আমাকেও পর পর তিনবার হত্যার চেষ্টা চালিয়েছে। এ অবস্থায় আমাদের জীবন রক্ষার্থে নিশ্চুপ বসে থাকার সুযোগ ছিলো না। আমরা আত্মরক্ষার্থে কিছু একটা করার মানসে জেএসএস সংস্কারের সাথে যোগাযোগ করি তাদের দলে যোগ দেয়ার জন্য। তারা রাজি থাকলেও ইউপিডিএফ থেকে চিঠি দিয়ে তাদের দলে আমাদেরকে নিতে নিষেধ করা হয়। ফলে আমরা জেএসএসের সাথে যোগ দিতে পারিনি। তাই আমার বাধ্য হয়ে ইউপিডিএফ (গণতান্ত্রিক) গঠন করেছি।

তপন কান্তি চাকমা বর্মা বলেন, মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে বহুমুখী প্রতিভার সমন্বয়ে যেখানে সহযোগী গড়ে তুলে পার্টি এগিয়ে নেওয়ার কথা, সেখানে উল্টো দুর্নীতিবাজ, লোভী, অযোগ্য, বিতর্কিত তথা নিয়ম লংঘনকারীদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দিয়ে সংগঠন চলানোর প্রতিবাদে আমরা দল গঠন করেছি। দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রতি অবিচল আস্থা ও বিশ^াস রেখে আমাদের নতুন সংগঠনের পথ চলা শুরু হয়েছে।
প্রসীতের নেতৃত্বাধীন ইউপিডিএফের ‘পূর্ণস্বায়ত্ত্বশাসনই পার্বত্য চট্টগ্রামের একমাত্র সমাধান’ এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম থেকে সেনাবাহিনীর ক্যাম্প প্রত্যাহারের দাবি প্রসঙ্গে বলেন, বাংলাদেশ একটি স্বাধীন ও সার্বভৌমত্ব দেশ। ‘পূর্ণস্বায়ত্ত্বশাসনের দাবি রাষ্ট্রবিরোধী। আর সেনাবাহিনী কোথায় থাকবে এটা রাষ্ট্রই নির্ধারণ করবে।

তপন কান্তি চাকমা আরও বলেন, প্রসীতের নেতৃত্বাধীন ইউপিডিএফের জনস্বার্থ ও সংগঠন বিরোধী কর্মকা- পার্টির বৈঠকে বহুবার আলোচনা হয়েছে। কিন্তু বিচার পাইনি। তাই সংগঠন থেকে বেরিয়ে নিষ্ক্রিয় হয়েছিলাম। কিন্তু জীবনের নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়ায় বাধ্য হয়ে নতুন সংগঠন করেছি।

তিনি বলেন, দলের কেউ নিষ্ক্রিয় হলেও রেহাই নেই। তাদের গৃহবন্দী, গ্রাম বন্দী ও অর্থদ- করা হয়। অনেক সময় মেরে ফেলা হয়। সংগঠন ছাড়ার অপরাধে গত কয়েক বছরে ১০ নেতাকর্মীকে প্রসীত বিকাশ খীসার নির্দেশে হত্যা করা হয়েছে।

তপন কান্তি চাকমা বর্মা ইউপিডিএফ নেতৃবৃন্দ কর্তৃক নারীদের ওপর নির্যাতনের ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরে বলেন, উপজাতি মেয়েরা কোন বাঙালি যুবকের সাথে প্রেমের সম্পর্ক করলে তাকে ও তার পরিবারকে নানাভাবে নির্যাতন করা হয়। হত্যা, শারীরীক নির্যাতনের পাশাপাশি অর্থদ- করা হয়। রীনা দেওয়ান ও কবিতাসহ অনেক নারীদের উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, ইউপিডিএফের সহযোগী সংগঠন পিসিপি ও হিল উইমেন্স ফেডারেশনের নেত্রীদের পার্টির বাইরে কাউকে বিয়ে করার সুযোগ নেই।

ইউপিডিএফের সম্পদ প্রসঙ্গে বর্মা বলেন, চাঁদাবাজির মাধ্যমে ইউপিডিএফের বার্ষিক আয় ৫০-৬০ কোটি টাকা। এ টাকা তারা অস্ত্র ক্রয়, পার্টির পরিবার ও কল্যাণের পেছনে ব্যয় করে থাকে। কিন্তু এর বাইরে পার্টির নেতৃবৃন্দ এই অর্থ লুটপাট করে নিজেরা সম্পদের মালিক হয়ে বিলাসবহুল জীবনযাপন করছে। সম্প্রতি এক নেতার বাড়ি থেকে ৮০ লক্ষাধিক টাকা উদ্ধার হওয়া তার বড় প্রমাণ। ইউপিডিএফ তাদের সঞ্চয়কৃত অর্থ ব্যাংক একাউন্টের মাধ্যমে পরিচালনা করে না। তবে বিশ^স্থ ব্যক্তিদের নামে ব্যাংক একাউন্ট খুলে বা তাদের ব্যবসায় বিনিয়োগ করে থাকে বলেও তিনি জানান।

তিনি আরো বলেন, ইউপিডিএফের দু’টি গঠনতন্ত্র রয়েছে। একটি গঠনতন্ত্র তারা জনগণ ও কর্মীদের মাঝে প্রকাশ করে। অন্য গঠনতন্ত্রটি পার্টির ৫/৬ জন সিনিয়র নেতা ছাড়া অন্যকেউ দেখতে পায় না। প্রকাশ্যে যাই বলুক প্রকৃতপক্ষে সংগঠন পরিচালিত হয় ঐ গুপ্ত গঠনতন্ত্র অনুযায়ী।

আপনাদের নব্য মুখোশ বাহিনী বলা হচ্ছে কেন জানতে চাইলে বর্মা বলেন, আমরা মুখোশ পরে আছি কোথায়? ইউপিডিএফের যেভাবে জন্ম, আমাদেরও সেভাবেই জন্ম। তারাও সাংবাদিক সম্মেলন করে পার্টির আত্মপ্রকাশ করেছিলো, আমরাও সাংবাদিক সম্মেলনের মাধ্যমেই আমাদের পার্টির আত্মপ্রকাশ ঘটিয়েছি। আমরা মুখোশ পরে নেই। তাদের দলের প্রতিষ্ঠার সাথে সরকারি কোনো সম্পৃক্ততা নেই জানিয়ে তিনি বলেন, জেএসএস ইউপিডিএফের জন্মের ব্যাপারে একই অভিযোগ করে থাকে।

পার্টি চালাতে তো আর্থিক সমর্থন লাগে। আপনাদের দাবি অনুযায়ী ইউপিডিএফ না হয় চাঁদাবাজি করে চলে। কিন্তু আপনারা চলছেন কীভাবে- এ প্রশ্নের উত্তরে বর্মা বলেন, আমরা জনগণের কাছ থেকে সহায়তা নিই। ইউপিডিএফের মতো চাঁদার রেট বেঁধে দিই না। যার যেমন খুশি আমাদের সহায়তা করে।

ইউপিডিএফ গণতান্ত্রিকের সদস্য সচিব জলেয়া চাকমা তরু বলেন, ইউপিডিএফ-এ ব্যাপক হতাশা বিরাজ করছে। ত্যাগী ও যোগ্য নেতাকর্মীরা চরম হতাশাগ্রস্ত। লবিং-গ্রুপিং মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে, আমার লোক-উনার লোক বলে গোষ্ঠীবাদ, আঞ্চলিকতাবাদ, স্বজনপ্রীতির কারণে পার্টির মধ্যে বিভেদ বৈষম্য চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে। পার্টির কিছু সৎ নেতাকর্মীদের মুখের দিকে তাকিয়ে সকল প্রকার বৈষম্য ও বঞ্চনাকে মুখ বুঁজে সহ্য করেছিলাম। মূলতঃ ইউপিডিএফের মধ্যে একটি দুর্নীতির সিন্ডিকেট/চক্র সৃষ্টি করে নিজেরা অর্থশালী ও সম্পদশালী হওয়ার হীন উদ্দেশ্যে খুবই তৎপর। দায়িত্ব পালনের চেয়ে নিজের স্বার্থে অর্থ, খ্যাতি ও পদবী লাভ বড় হয়ে দাঁড়িয়েছে। তারা সহকর্মীদের থেকে দূরত্ব বজায় রেখে চলেন এবং কর্মীরা যাতে তাদের বড় মন করে সে ধরনের আচরণ দেখান- যার ফলে কর্মীরা তাদরে ভয় পায়, সমস্যার কথা বলার সাহস পায় না।

অনেকে ইউপিডিএফ-এ যোগদানের আগে পারিবারিক অবস্থা খুবই খারাপ হলেও বর্তমানে পার্টির দায়িত্ব পালনের সুবাদে যেন আলাউদ্দিনের চেরাগ পেয়েছে। ইউপিডিএফের অনেক নেতার অবস্থার উন্নতির পরিবর্তন মানুষকে অবাক করে তুলেছে। তাদের স্ত্রীদের স্বর্ণালংকারের অভাব নেই। তাদের ছেলের জন্মদিনে লক্ষ লক্ষ টাকা খরচ করা হয়। অনেক নেতা নানা অনৈতিক কর্মকা-ে জড়িত। কতিপয় নেতা জনগণের বা পার্টির লক্ষ লক্ষ টাকা দুর্নীতি করে ব্যবসা পরিচালনাসহ বিলাসবহুল বাড়ি বানিয়েছে। অনেকের নামে-বেনামে লক্ষ লক্ষ টাকা ব্যাংক ব্যালেন্স ও সম্পত্তি রয়েছে। তাই আমরা এই দুর্নীতিবাজ, প্রতারক ও নীতি-আদর্শহীন নেতাদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে বাধ্য হয়েছি।

তিনি বলেন, ইউপিডিএফ যদিও নিজেদেরকে গণতান্ত্রিক পাটি দাবি করে কিন্তু তাদের কাজেকর্মে তথা অকর্মী সুলভ আচরণের কারণে ইউপিডিএফ আজ ডাকাতের পার্টিতে পরিণত হয়েছে। যার কারণে ইউপিডিএফ তার নিজ কর্মীকে মেরে ফেলতে দ্বিধাবোধ করে না।

নেতাদের কর্মকাণ্ডের বিরোধিতা করার অপরাধে গত কয়েক বছরে ১৭ জন নেতাকর্মীকে পরিকল্পিতভাবে মেরে ফেলা হয়েছে। এরা হচ্ছে সুমন চাকমা, স্টালিন চাকমা, পরাক্রম চাকমা, দম্বা চাকমা, দিবাকর চাকমা, সংগ্রাম চাকমা, কিশোর মোহন চাকমা, দুর্জয় চাকমা, বরুণ চাকমা, জ্যোতি বিকাশ চাকমা, দেব বিকাশ চাকমা, স্টেন চাকমা, জেনেল চাকমা, সাজেকে বীর চাকমা, তুহিন চাকমা, তনদ্রুং চাকমা ও রাহুল চাকমা।

ইউপিডিএফ গণতান্ত্রিকের সদস্য সচিব জলেয়া চাকমা তরু আরও বলেন,পার্বত্য চট্টগ্রামে শতকরা ৯০ জন মানুষ জুম চাষের উপর নির্ভরশীল। ইউপিডিএফ সবুজ বনভূমি রক্ষা বা প্রাকৃতিক পরিবেশ রক্ষার নামে জুম চাষ বন্ধ করে দেওয়ার পাশাপাশি রাবার গাছ, সেগুন গাছ ও বাগান সৃজন করা বন্ধ করে দিয়েছে। পার্বত্য চট্টগ্রাম সম্পূর্ণ অগণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে জুম্ম জনগণের ভোটাধিকার ছিনিয়ে নিয়ে তাদের পছন্দমত ব্যক্তিকে জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত করা এবং জনগণকে শারীরিক নির্যাতন ও হাজার হাজার টাকা আর্থিক দ-ে দ-িত করে জনগণের যৌক্তিক কণ্ঠ রোধ করে দেওয়াটা ইউপিডিএফের উদ্দেশ্য।

তিনি বলেন,পাহাড়ী-বাঙ্গালীদের মধ্যে দাঙ্গা বাঁধানোর জন্য ফলদ বাগান নষ্ট করে দেওয়া এবং ট্রাক পুড়িয়ে দেয়াসহ শিক্ষা সফরে যাওয়া ছাত্র-ছাত্রীদের বাস ডাকাতি-ইউপিডিএফের নিত্য দিনের কর্মে পরিণত হয়েছে।
জলেয়া চাকমা তরু বলেন, জুম চাষ বন্ধ করে দেওয়া হলেও কোন কোন জায়গায় জুম চাষে উৎপাদিত কাঁচামাল যেমন- আদা, হলুদ, তিল, তুলা, মরিচ জব্দ করে আত্মসাৎ করছে। সম্প্রতি জুম চাষ বন্ধ করার নামে মাইচছড়ি ছাদি পাড়ায় ত্রিপুরাদের উপর ব্রাশ ফায়ার করা হয়েছিল।

তিনি বলেন, বিগত ১৮ বছরের অভিজ্ঞতায় দেখা যায়, এইভাবে পূর্ণ স্বায়ত্ত্বশাসন কায়েম করার কোন সম্ভাবনা নেই। অথচ জুম্ম জনগণের একটা অংশ এই জঙ্গী চক্রের হাতে জিম্মি হয়ে পড়েছে। আর ইউপিডিএফের অনেক দেশপ্রেমিক নেতাকর্মীও আজ চরম বিপদে। কারণ ইউপিডিএফ সংগঠনে যোগ দেওয়া যায়, কিন্তু সরে আসার কোন সুযোগ থাকে না।

তিনি ইউপিডিএফের কাছে যারা জিম্মী তাদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, আসুন আজ আমরা এই জিম্মীদশা থেকে মুক্তি লাভের জন্য একজোট হই। ইউপিডিএফ নেতৃত্ব যদি তাদের ভুলত্রুটি সংশোধনে সচেষ্ট না হয় তাহলে তাদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াই।

প্রসীত বিকাশ খীসার নেতৃত্বাধীন ইউপিডিএফের জেলা সংগঠক মাইকেল চাকমা পার্বত্যনিউজকে বলেন, তপন কান্তি চাকমা বর্মা এবং জলেয়া চাকমা তরুর নেতৃত্বাধীন কোনো কমিটি সম্পর্কে আমরা কিছু জানি না, অতএব তাদের অভিযোগ সম্পর্কেও আমাদের কিছু বলার নেই।

নবগঠিত ইউপিডিএফ (গণতান্ত্রিক)-এর আহ্বায়ক তপন কান্তি চাকমা বর্মা এবং সদস্য সচিব জলেয়া চাকমা তরুর করা বিভিন্ন অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে প্রসীত-রবি’র নেতৃত্বাধীন ইউপিডিএফের কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক নিরণ চাকমা পার্বত্যনিউজকে মোবাইলফোনে জানান, এসব আসলে সবই মিথ্যা এবং ভিত্তিহীন অভিযোগ। ইউপিডিএফ শুরু থেকেই গণতান্ত্রিক একটি দল ছিল, এখনও তাই আছে। ইউপিডিএফ জনগণের দাবি আদায়ের আন্দোলন করে বলে জনগণই আমাদের সর্বাত্মক সহায়তা করে থাকে। তাই চাঁদাবাজি করার কোনো প্রয়োজন পড়ে না। আর গণতান্ত্রিক আন্দোলনে অস্ত্রেরও দরকার পড়ে না। তাই এক হাজার অস্ত্র থাকার অভিযোগটিও সত্য নয়। আর নিজেদের কর্মী হত্যার অভিযোগ সম্পর্কে তিনি বলেন, ইউপিডিএফ কখনো হত্যার রাজনীতিতে বিশ্বাস করে না। তিনি উল্টো অভিযোগ করে বলেন, হত্যাকারী তো তারাই, নব্য মুখোশ বাহিনীর প্রধান তপন কান্তি চাকমা বর্মার বিরুদ্ধেই তো হত্যার অভিযোগ আছে। সে নিজেই তো ক্যাপ্টেন গাজী হত্যা মামলার আসামি। সে কীভাবে অন্যদের হত্যাকারী দাবি করতে পারে?

প্রসীত বিকাশ খীসার নেতৃত্বাধীন ইউপিডিএফের ছাত্র সংগঠন পাহাড়ী ছাত্র পরিষদের খাগড়াছড়ি জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক অমল ত্রিপুরা পার্বত্যনিউজকে বলেন, আমি এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে চাচ্ছি না। এসব বিষয়ে নিরণ দাদার সাথে কথা বলেন। উনার কথাই আমার কথা।

সূত্র: পাক্ষিক পার্বত্যনিউজ

পার্বত্য চট্টগ্রামের আঞ্চলিক দল ও তাদের সশস্ত্র বাহিনীর কার্যক্রম এবং স্বাধীন ‘জুম্মল্যান্ড’ এর স্বপ্ন   

 

 তিমির মজুমদার

 আমার জন্ম বাংলাদেশের এক অভিশপ্ত অঞ্চল পার্বত্য চট্টগ্রামের এক প্রত্যন্ত পাড়ায়।  অভিশপ্ত বলছি এ কারণে যে, এই এলাকার মানুষেরা নানাভাবে অত্যাচারিত, নিপীড়িত ও নির্যাতিত। স্বাধীনতার প্রকৃত মুক্তি ও আনন্দ যে কি তা এই এলাকার মানুষেরা জানে না। তাই এখানকার যুব সম্প্রদায়কে স্বাধীনতার স্বপ্ন দেখানো হয় নতুন দেশ ‘জুম্মল্যান্ড’ এর।  কিন্তু সেই স্বপ্ন কবে বাস্তবায়ন হবে, আর কতটা ত্যাগ এখানকার মানুষকে করতে হবে তা আমরা কেউ জানি না।

স্বাধীনতার পরপরই আমাদের নেতা মানবেন্দ্র নারায়ণ লারমা পার্বত্য এলাকার স্বায়ত্বশাসন চেয়েছিলেন। কিন্তু আমাদের সেই দাবী তখন অগ্রাহ্য করা হয়েছিল। ফলে সশস্ত্র সংগ্রাম শুরু করতে হয়েছিল এখানকার জনগোষ্ঠীর। ১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরের মাধ্যমে আমরা আশায় বুক বেঁধেছিলাম। কিন্তু ২০ বছর কেটে গেলেও শান্তিচুক্তি বাস্তবায়নের অগ্রগতি নিয়ে এখানকার বাসিন্দারা হতাশ। কাজেই এখানে বসবাসরতরা মনে করেন, সশস্ত্র সংগ্রামের পথে পুণরায় পা বাড়ানোই মুক্তির একমাত্র উপায়।

কিন্তু আমাদের নেতৃত্ব এবং আমাদের জুম্মল্যান্ড সশস্ত্র বাহিনীর কার্যক্রম কতটা বাস্তবসম্মত? কেননা আমরা তো তাদের দ্বারাও নির্যাতিত হচ্ছি নিরন্তর।  এ থেকে পরিত্রাণের উপায় কি সত্যিই নেই?

১৯৭৬ সালের ১৮ জুলাই তারিখে বিলাইছড়ির তক্তানলার কাছে মালুমিয়া পাহাড়ের কোল ঘেঁষে সকাল ১১ টায় রাঙ্গামাটি থেকে আগত পুলিশ টহলের উপর আক্রমণটি ছিল জেএসএস-এর সামরিক শাখা তথা শান্তিবাহিনীর প্রথম আত্মপ্রকাশ। তার পরবর্তী ইতিহাস- রক্তের হলি খেলার ইতিহাস। বাংলাদেশ সরকারের নিরাপত্তা বাহিনীর অত্যাচার, এখানে পুণর্বাসিত বাঙ্গালী সেটেলারদের অত্যাচার এবং সর্বোপরি আমাদের নিজস্ব নিরাপত্তা বাহিনী তথা শান্তিবাহিনীর অস্ত্রধারীদের অত্যাচার থেকে পরিত্রাণের কোন উপায় আমাদের জানা নেই। এক শান্তিবাহিনীর পরিবর্তে এখন অত্যাচারিত হচ্ছি জেএসএস, ইউপিডিএফ, ইউপিডিএফ(গণতান্ত্রিক) এবং জেএসএস (সংস্কার) এই চার দলের ভিন্ন ভিন্ন অস্ত্রধারী দল কর্তৃক। তারা সকলে যদি স্বাধীন জুম্মল্যান্ড প্রতিষ্ঠায় কাজ করে তাহলে জুম্মল্যান্ড আর্মির (জেএলএ) সকল দল একত্রিত হতে পারছে না কেন?

স্বাধীনতার পর থেকে এখনও পর্যন্ত অস্ত্রের ঝনঝনানি এখানে নিরন্তর চলছে।  চলছে জেএসএস, ইউপিডিএফ, ইউপিডিএফ(গণতান্ত্রিক) এবং জেএসএস (সংস্কার) এর মধ্যে আধিপত্য ও চাঁদাবাজীর এলাকা সম্প্রসারণের লড়াই। এরই মধ্যে প্রাণ দিতে হয়েছে প্রায় ত্রিশ হাজার নিরীহ মানুষকে। আহত হয়েছে কমবেশী দশ হাজার এবং অপহরণ করা হয়েছে কমবেশী সাত হাজার মানুষ।  এর কমপক্ষে এক তৃতীয়াংশ পাহাড়ী জনগোষ্ঠী। সম্ভ্রমহানীর শিকার হয়েছে অসংখ্য বাঙ্গালী ও পাহাড়ী নারীরা। জুম্মল্যান্ড আর্মির সশস্ত্র যোদ্ধারা যেখানেই রাত্রিযাপন করে সেখানকার সকল কিছুই হয়ে যায় তাদের নিজস্ব। সেই পাড়া, বাড়ী বা ঘরের সকল মহিলারা হয়ে যায় তাদের খণ্ডকালীন সময়ের ‘স্ত্রী’। হায়রে স্বাধীনতার আন্দোলনের চরিত্রহীন নায়কেরা !

নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা শান্তিচুক্তির পূর্বে এখানকার মানুষদের উপর অনেক অত্যাচার করতো। কিন্তু বর্তমান প্রেক্ষাপট সম্পূর্ণ ভিন্ন।  তাদের অত্যাচারে মাত্রা কমে এলেও যেসব রাত্রিতে আমাদের নিজস্ব সশস্ত্র সদস্যরা কোন পাড়ায় বা কোন বাড়ি/ঘরে কাটায় তারা হয়ে ওঠে মূর্তিমান আতংক। যত্নে পালিত সবচেয়ে বড় ‘বন্য’(শুকর)টি তাদের জন্য উৎসর্গ করতে হবে।  সারা মাসের খাবার হিসেবে সংগৃহীত যা থাকে, তা তাদের রান্না করে খাওয়াতে হবে এবং সবশেষে ঘরের বা পাড়ার মহিলাদের হতে হবে তাদের দলের সকল সদস্যের শয্যাসঙ্গী।  সেটা যে কত ভয়ংকর তা কেবল ভূক্তভোগীরাই জানে। তাদের বিরুদ্ধে টু শব্দ করা যাবে না, কাউকে জানানো যাবে না। কেননা তারা তো ‘জুম্মল্যান্ড’ এর স্বাধীনতার সংগ্রামে লিপ্ত। তারা তো পার্বত্য জনগোষ্ঠীর মুক্তিযুদ্ধের নায়ক। তাছাড়া তাদের হাতে রয়েছে ভয়ংকর সব আগ্নেয়াস্ত্র।

ব্যবসা বাণিজ্য, চাকুরী, কৃষিকাজ, ফলমূল, হাঁস মুরগী, ছাগল, গরু যা কিছুই বিক্রি করি না কেন তাদের দিয়ে দিতে হবে নির্দিষ্ট অংকের বিপুল পরিমাণ চাঁদা। না দিলে কি হবে? জীবন দিয়ে দেনা শোধ করতে হবে। এ কেমন স্বাধীনতার স্বপ্ন তারা দেখায়? এ তো স্বাধীনতা নয়, নিরন্তর অত্যাচার। এই অত্যাচার থেকে পরিত্রাণের উপায় কি আসলেই নেই?

একথা নিশ্চিতভাবে বলা যায় যে, বাংলাদেশ সরকারের নিরাপত্তা বাহিনী পার্বত্য এলাকায় বসবাসরত জনসাধারণের সম্পূর্ণ নিরাপত্তা দিতে পারেনি। আর আমাদের মুক্তিযোদ্ধারা নিরাপত্তার নামে যা করছে তা আর আমরা সহ্য করতে পারছি না। তাহলে উপায় কি? এ নিয়ে আমি অনেক ভেবেছি কিন্তু কোন কুলকিনারা পাইনি। নিম্নলিখিত উপায়গুলো পাহাড়ে বসবাসরত সকলে সম্মিলিতভাবে চেষ্টা করে দেখতে পারিঃ

প্রথমতঃ সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় নিজেদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিজেরা নিশ্চিত করতে হবে। আর এটা করার জন্য নিজ নিজ এলাকায়, নিজ নিজ পাড়ায়, প্রতিটি বাজার এলাকায় স্বেচ্ছাসেবী বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনী গড়ে তুলতে হবে। রাত জেগে নিজেদের মধ্যে পাহারার ব্যবস্থা করতে হবে। এক্ষেত্রে স্থানীয় পর্যায়ে বাংলাদেশ সরকারের নিরাপত্তা বাহিনীর সাথে সমন্বয়পূর্বক কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণ করা যেতে পারে।  কথায় বলে ‘দশের লাঠি একের বোঝা’ অথবা ‘দশে মিলে করি কাজ, হারি জিতি নাহি লাজ’।  সকলে মিলে চেষ্টা করলে নিপীড়ন নির্যাতন বন্ধ না হলেও অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে।

 দ্বিতীয়তঃ জেএসএস, ইউপিডিএফ, ইউপিডিএফ(গণতান্ত্রিক) এবং জেএসএস (সংস্কার) যতদিন  পর্যন্ত একত্রিত না হয় ততদিন পর্যন্ত আমাদের সকলকে ভিন্ন ভিন্ন ভাবে এসব দলগুলোকে নিয়মিত ও অনিয়মিত চাঁদা প্রদান বন্ধ করতে হবে। মাথার ঘাম পায়ে ফেলে, কষ্ট করে আমরা যতটুকু উপার্জন করবো তা আমাদের পরিবারের জন্য। আমরা তার ভাগ কাউকে দেব না। একইভাবে বড় বড় ব্যবসায়ী, উন্নয়ন কার্যক্রম সম্পাদনে নিয়োজিত ঠিকাদার, মোবাইল কোম্পানী, ব্রিটিশ টোবাকো, কাঠ ব্যবসায়ী, বাস ও ট্রাক মালিক সমিতিসহ সবাইকে সম্মিলিতভাবে চাঁদা প্রদান বন্ধ করতে হবে। চলুন আমরা নিজ নিজ পাড়া, এলাকা, বাজার ইত্যাদিকে ‘চাঁদা মূক্ত এলাকা’ হিসেবে ঘোষণা করি। সংঘবদ্ধভাবে আমরা চাঁদাবাজীকে না বলি এবং কেউ যদি জোর করে চাঁদা আদায় করতে আসে তাকে আইনের হাতে সোপর্দ করি। কারো একার পক্ষে এই কাজ সম্ভব না হলেও সম্মিলিতভাবে সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজ প্রতিরোধ করা অসম্ভব নয়। প্রয়োজন আমাদের সকলের ঐকান্তিক সদিচ্ছা এবং একতাবদ্ধ ভাবে প্রতিরোধ গড়ে তোলা। এ ক্ষেত্রে সমতল ভূমিতে প্রচলিত ‘লাঠি ও বাঁশি’ পদ্ধতির প্রচলন করা যেতে পারে।

তৃতীয়তঃ সকল পরিস্থিতিতে নিজ নিজ এলাকায় শান্তি ও সম্প্রীতি বজায় রাখতে হবে। এদেশের প্রধান শক্তিই হচ্ছে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি। এখানে পাহাড়ী-বাঙ্গালী ভেদাভেদ আমাদেরকে কেবল দূর্বলই করবে। প্রত্যেককে একে অন্যের সামাজিক, ধর্মীয় ও অন্যান্য কৃষ্টি ও সাংস্কৃতিকে যথাযথ সম্মান প্রদর্শন করতে হবে। পরস্পরের প্রতি শ্রদ্ধাশীল ও সহনশীল আচরণ করতে হবে এবং একে অন্যের বিপদে আপদে এগিয়ে আসতে হবে।  একই এলাকায় কারও প্রতি কোন প্রকার অন্যায় ও অত্যাচার হলে সকলকে একযোগে তার প্রতিকার করতে এগিয়ে আসতে হবে।  তাহলে নিজেদের মধ্যে শান্তি ও সম্প্রীতি বজায় থাকবে যা এলাকায় নিরাপত্তা ও উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে।

চতুর্থতঃ প্রত্যেককে অর্থনৈতিকভাবে সাবলম্বি হবার চেষ্টা করতে হবে। টেকসই আর্থ সামাজিক উন্নয়ন এর জন্য সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা বজায় রাখতে হবে। অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ত্বরান্বিত করার কাজে আত্মনিয়োগ করতে হবে । কৃষি, ফলজ, বনজ ইত্যাদি বৃক্ষরোপণ, হাঁস- মুরগী  পালন, ছাগল–গরু পালন, একটি বাড়ী একটি খামার প্রকল্প, ক্ষূদ্র ও মাঝারি কুটির শিল্প প্রভৃতিসহ নানা প্রকার অর্থনৈতিক কমকাণ্ডে নিজেদের যুক্ত করতে হবে। মনে রাখতে হবে যে, অর্থনৈতিক মুক্তি ছাড়া জীবন মানের উন্নয়ন সম্ভব নয়। বর্তমানে আমরা যে অবস্থায় আছি, আমাদের পরবর্তী প্রজন্ম যেন আরও ভালো থাকে সে চেষ্টা আমাদের করে যেতে হবে।

পঞ্চমতঃ শিক্ষায় বিনিয়োগ করতে হবে। প্রত্যেকের ছেলে মেয়েদের স্কুল কলেজে পাঠাবার কোন বিকল্প নেই। মনে রাখতে হবে যে ‘মানুষের মত দেখতে হলেই মানুষ হয় না; শিক্ষা ছাড়া মানুষকে কেউ মানুষ কয় না’।  আঞ্চলিক নেতৃত্ব আমাদের সন্তানদের মুর্খ করে রাখতে চায়। অথচ আমাদের দেয়া চাঁদার টাকায় তাদের নিজেদের ছেলেমেয়েদের শহরের নামী দামী স্কুল/কলেজ অথবা বিদেশে লেখা পড়া করায়। তাদের এই চক্রান্ত থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতেই হবে। শুধু পাশের হার ও জিপিএ ভিত্তিক শিক্ষা নয়; জীবনের বাস্তবতা ঘনিষ্ঠ শিক্ষা অর্জনের প্রতি জোর দিতে হবে। আমাদের ছেলেমেয়েরা লেখা পড়া কারানোর পাশাপাশি সাবলম্বী হবার শিক্ষা অর্জন করতে হবে। শিক্ষা অর্জনের সাথে সাথে তারা নিজ নিজ পরিবারকে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে সহযোগিতা করবে এবং মানুষের মত মানুষ হতে সচেষ্ট হবে।

স্বাধীনতার ৪৬ বছর পরেও আমরা পার্বত্য চট্টগ্রামের আধিবাসীরা স্বাধীনতার মুক্তি সম্পূর্ণভাবে  উপভোগ করতে পারছি না। বাংলাদেশ সরকারের নিরাপত্তা বাহিনী, বাঙ্গালী এবং জুম্ম লিবারেশন আর্মির  অত্যাচার এবং চাঁদাবাজীতে এখানকার জনগণের জীবন অতিষ্ট। এই অত্যাচার থেকে আমরা সকলেই মুক্তি চাই। বাংলাদেশ সরকারের উপর আস্থা রাখতে চাই। কিন্তু বিগত বছরগুলোর অবস্থা দৃষ্টে এখানকার সাধারণ মানুষ সত্যিই আশাহত।

(লেখক শিক্ষাবিদ, উন্নয়ন কর্মী এবং গবেষক)

বাঘাইছড়িতে তিন আগ্নেয়াস্ত্রসহ ইউপিডিএফের পরিচালক আটক

সাজেক প্রতিনিধি:

রাাঙ্গামাটি জেলার বাঘাইছড়ি উপজেলার বঙ্গলতলী ও রুপকারী শাখার ইউপিডিএফের পরিচালক এবং ইউপিডিএফ’র বিচার বিভাগীয় পরিচালক অটল চাকমা(৫৫) ও তার সহকারী শুদ্ধজয় চাকমা(৪২) কে আটক করেছে নিরাপত্তা বাহিনী।

সোমবার ভোর পাঁচটার দিকে মধ্য বঙ্গলতলীর সতিরঞ্জন চাকমার বাড়ী থেকে তাদের আটক করা হয়।
এ সময় তাদের কাছ থেকে ২টি এলজি, ১টি দেশীয় বন্দুক, ১০ রাউন্ড কার্তুজ, ১৫টি চাঁদার রশিদ বই, ১ সেট সামরিক পোশাক, ৪টি মোবাইল, ১টি নোট বুক, ১টি রেডি সহ গুরুত্বপূর্ণ নথি উদ্ধার করা হয়।

নিরাপত্তা বাহিনী সুত্রে জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ৪ইস্ট বেঙ্গল বাঘাইহাট সেনা জোন থেকে নিরাপত্তা বাহিনীর একটি টিম অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করে।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, আটক অটল চাকমা একজন চিহ্নিত সন্ত্রাসী। গত ৩ এপ্রিল একই এলাকা থেকে পরিচালক সুগত চাকমাকে আটকের পর ঐ দায়িত্বে আসে অটল চাকমা।

আর আসার পর থেকেই এলাকার ছোট বড় সকল ব্যবসায়ীর কাছ থেকে সে লাগামহীন চাঁদাবাজী করতে থাকে আর অস্ত্র দিয়ে প্রতিনিয়ত লোকজনের মাঝে ভয়ভীতি দেখিয়ে আসছিল তারা। তাদেরকে আটকের পর জিজ্ঞাসাবাদে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। এবং তাদের দেওয়া তথ্যমতে, এলাকায় অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে নিরাপত্তা বাহিনী সুত্রটি।

আটক ইউপিডিএফ নেতা অটল চাকমা বাঘাইছড়ি উপজেলার কাট্রলী গ্রামের মৃত মনিন্দ্র চাকমার ছেলে এবং তার সহকারী শুদ্ধজয় চাকমা দীঘিনালা উপজেলার সংগলা গ্রামের চিত্তরঞ্জন চাকমার ছেলে বলে জানা যায়।

এবিষয়ে বাঘাইছড়ি থানার অফিসার ইনচার্জ আমির হোসেন বলেন, আটককৃতরা উপজেলার শীর্ষ চাঁদাবাজ সন্ত্রাসী। তাদের বিরুদ্ধে এলাকায় ব্যাপক চাঁদাবাজীসহ বিভিন্ন অপকর্মের অভিযোগ রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

এ বিষয়ে ইউপিডিএফ’র বাঘাইছড়ি উপজেলা পরিচালক জুয়েল চাকমা বলেন, ইউপিডিএফ তো কোন নিষিদ্ধ দল নয়। গণতান্ত্রিক একটি দলের সদস্যদের অন্যায় ভাবে আটক করা ঠিক নয়। তাদেরকে সম্পূর্ণ অন্যায়ভাবে আটক করা হয়েছে। আমার জানা মতে, তাদের কাছে আটকের সময় কিছুই ছিলনা। আটকের বিষয়ে ইউপিডিএফ’র পক্ষ থেকে এর তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি ।

অবাধ সশস্ত্র তৎপরতা আর লাগামহীন চাঁদাবাজিতে শান্তিচুক্তির প্রত্যাশা ধুলিস্যাৎ হয়ে গেছে

নিজাম উদ্দিন লাভলু:

পার্বত্য চট্টগ্রামের তিন জেলা খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি ও বান্দরবানে সশস্ত্র তৎপরতা ও চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণ করছে তিনটি আঞ্চলিক পাহাড়ি সংগঠন। জনসংহতি সমিতি বা জেএসএস (সন্তু), জেএসএস (সংস্কার) ও ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট বা ইউপিডিএফের সশস্ত্র তৎপরতা ও চাঁদাবাজির কারণে পার্বত্য এলাকায় পাহাড়ি বাঙালির মধ্যে বিশ্বাস ও আস্থা দিন দিন কমে যাচ্ছে। দুটি সম্প্রদায়ের মধ্যে এ অবিশ্বাসের প্রেক্ষাপটে একটি হত্যাকাণ্ডের জের ধরে সম্প্রতি রাঙামাটির লংগদুতে হিংসাত্মক ঘটনা ঘটেছে।

১৯৯৭ সালে সরকারের সাথে জনসংহতি সমিতির (জেএসএস) পার্বত্য শান্তিচুক্তি সম্পাদনের পর ১৯৯৮ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় ইউপিডিএফ। পরবর্তীতে জেএসএস’র একটি অংশ মূল দল থেকে ছুটে গিয়ে জেএসএস (সংস্কার) নামে সাংগঠনিক তৎপরতা শুরু করে। পূর্ণ স্বায়ত্বশাসন ও স্বাধীন জুম্মল্যান্ড প্রতিষ্ঠার নামে সংগঠনগুলো সশস্ত্র তৎপরতা চালাচ্ছে। আর চাঁদাবাজির মাধ্যমে গড়ে তুলছে টাকার পাহাড়। অত্যাধুনিক অস্ত্রশস্ত্রেও তারা এখন সমৃদ্ধ।
বর্তমানে ৫১ ভাগ পাহাড়ি বিভিন্ন ক্ষুদ্র নৃ- গোষ্ঠী আর ৪৯ ভাগ বাঙালি জনগোষ্ঠীর মানুষ বসবাস করেন এ তিন জেলায়। শান্তিচুক্তির পর পাহাড়ে উপজাতি ও বাঙালি জনগোষ্ঠীর মধ্যে সম্পর্কের উন্নয়ন ঘটছিল। একপর্যায়ে প্রতিবেশীসুলভ ও সৌহার্দপূর্ণ সম্পর্কও গড়ে উঠে। কিন্তু পাহাড়ি সংগঠনগুলোর লাগামহীন চাঁদাবাজি ও সশস্ত্র তৎপরতার কারণে এখানকার বাঙালি পাহাড়ি সম্প্রদায়ের মধ্যে অনাস্থা ও অবিশ্বাস ক্রমশঃ বাড়ছে।
বাঙালিদের ধারণা, ঐ সংগঠনগুলোর চাঁদাবাজি ও সশস্ত্র তৎপরতায় পাহাড়িদের সবার সমর্থন আছে। অন্যদিকে, সংগঠনের নেতাকর্মীরা সাধারণ পাহাড়িদের মধ্যে বাঙালিদের ব্যাপারে নেতিবাচক ধারণা দিয়ে শত্রু-ভাবাপন্ন করে তুলছে। এতে দিন দিন সাম্প্রদায়িক দূরত্ব বেড়ে চলেছে।

এলাকার পাহাড়ি ও বাঙালি বাসিন্দারা জানিয়েছেন, শান্তিচুক্তির পর এলাকার মানুষ আশা করেছিল তাদের বসবাস হবে নির্বিঘ্ন ও শান্তিপূর্ণ। কিন্তু যতই দিন যাচ্ছে, অশান্তির দাবানল বেড়েই চলেছে। অবাধ সশস্ত্র তৎপরতা আর লাগামহীন চাঁদাবাজিতে শান্তিচুক্তির প্রত্যাশা ধুলিস্যাৎ হয়ে গেছে।

জানা যায়, অনগ্রসর জনগোষ্ঠী বিবেচনায় পাহাড়ি জনসাধারণকে করের আওতা থেকে মুক্তি দিয়েছে সরকার। কর দিতে না হলেও সন্ত্রাসী সংগঠনের চাঁদার হাত থেকে মুক্তি পাচ্ছে না পার্বত্য চট্টগ্রামের সাধারণ মানুষ। বাঙালি কিংবা উপজাতি- সবাই এসব সন্ত্রাসীকে চাঁদা দিতে বাধ্য। বিভিন্ন ফসল, ফল ফলাদি, গবাদিপশু বেচাকেনায়ও চাঁদা আদায় করছে সন্ত্রাসীরা। প্রকাশ্যে চিঠি দিয়েও চাকুরিজীবীদের কাছ থেকে চাঁদা আদায় করছে তারা। প্রাণভয়ে পুলিশ ও প্রশাসনের লোকজনের কাছে এসব চাঁদাবাজির বিষয়ে অভিযোগ করছে না কেউ। অভিযোগ এলেও প্রমাণের অভাবে পার পেয়ে যাচ্ছে জড়িতরা।

নিরাপত্তা বাহিনী ও পুলিশ মাঝে-মধ্যে চাঁদাবাজদের আটক করলেও চাঁদাবাজি বন্ধ হয়নি। অভিযান কঠোর হলে নতুন উপায়ে চাঁদা আদায় করা হয়। এদিকে চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে কিংবা না দিলে হত্যা, অপহরণের পাশাপাশি নানাভাবে ক্ষতি করা হয়। সাম্প্রতিক সময়ে গড়ে উঠা ফলদ ও বনজ বাগানের মালিকদের ঘাড়ে চাপিয়ে দেয়া হয় মোটা অংকের চাঁদা। একরপ্রতি এক থেকে দেড় হাজার টাকা হারে চাঁদা আদায় করা হয়। তিনটি সংগঠনকেই পৃথক পৃথকভাবে চাঁদা পরিশোধ করতে হয়।

খাগড়াছড়ির রামগড়ের শুধুমাত্র পাতাছড়া ইউনিয়নেই প্রায় চার হাজার একর ফলদ ও বনজ বাগান আছে। এসব বাগানের মালিকদের কাছ থেকে ইউপিডিএফ একাই চাঁদা আদায় করে বছরে প্রায় ৬০ লক্ষ টাকা। চাঁদা দেয়ার পরও নানা অজুহাতে হাজার হাজার ফলবান গাছ কেটে দেয়া হয়। বাগানের ফলফলাদি লুটে নেয়া হয়। এক বাগান মালিক বলেন, চাঁদা দিয়েও তারা পাহাড়ি সংগঠন দুটির কাছে জিম্মি।

রাঙামাটির নানিয়ারচর এলাকায়ও চাঁদার জন্য শত শত একর আনারস বাগান কেটে পুড়িয়ে দেয়া হয়। এ কারণে পার্বত্য এলাকার মানুষের মাঝে এখন বিরাজ করছে সশস্ত্র সংগঠনগুলোর ‘চাঁদা আতঙ্ক’। পার্বত্য এলাকার সীমানা-লাগোয়া সমতল জেলায়ও সশস্ত্র গ্রুপগুলো চাঁদাবাজিসহ সশস্ত্র তৎপরতায় লিপ্ত হয়েছে।

খাগড়াছড়ির সীমানার পাশের ফটিকছড়ির বিস্তীর্ণ এলাকায় ইউপিডিএফ ও জেএসএস’র (সংস্কার) তৎপরতার খবর পাওয়া গেছে। ঐ এলাকার সাতটি চা বাগানকে জিম্মি করে বছরে প্রায় ৫০ লক্ষ টাকা চাঁদা আদায় করা হয়। গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রতিদিনই পার্বত্য অঞ্চল থেকে উপজাতি সশস্ত্র গ্রুপ এক থেকে দেড় কোটি টাকা চাঁদা আদায় করছে। বছরশেষে যার পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ৪০০ কোটি।

চাঁদা আদায়ে নিয়োজিত রয়েছে জেএসএস ও ইউপিডিএফের প্রায় পাঁচ হাজার সশস্ত্র প্রশিক্ষিত কর্মী। আদায় করা চাঁদার টাকা দিয়েই দলের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা, রেশন, অবসরকালীন ভাতা, ক্ষতিপূরণ ইত্যাদি দেয়া হয়। এছাড়া পাহাড়ের আঞ্চলিক সংগঠনগুলো চাঁদার এ অর্থ দিয়ে দেশ-বিদেশে বাঙালি বিদ্বেষী প্রচারণা ও তাদের অস্ত্রভাণ্ডার সমৃদ্ধ করার কাজ করে।

নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক পার্বত্য খাগড়াছড়ির এক ব্যবসায়ী বলেন, আঞ্চলিক দলগুলোর চাঁদাবাজি অহরহ ঘটছে। চাঁদাবাজিতে তারা কেউ পিছিয়ে নেই। কোনো পরিবহন মাল নিয়ে খাগড়াছড়ি ঢোকার সময় অথবা বের হওয়ার সময় চাঁদা দিতে হয়। একেক সময় তারা একেক স্থান থেকে চাঁদা তোলে। চাঁদা না দিলে গাড়ি থামিয়ে স্টাফদের মারধর করা হয়, অনেক ক্ষেত্রে গাড়ি পুড়িয়ে দেয়া হয়। চাঁদা না দেয়ায় সম্প্রতি বিআরটিসি’র একটি ও প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের একটি গাড়ি পুড়িয়ে দেয় ইউপিডিএফ।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, ইউপিডিএফ-এর খাগড়াছড়ি ইউনিটে চাঁদাবাজির মাধ্যমে খুচরা খাত থেকে মাসিক আয় প্রায় ৪ কোটি টাকা। খাগড়াছড়ি জেলা ইউনিটের অন্তর্গত প্রায় ৫টি সাবডিভিশন থেকে এ বিপুল পরিমাণ চাঁদা আদায় হয়ে থাকে। এছাড়াও ইউপিডিএফ’র আলাদা বার্ষিক চাঁদা শত কোটি টাকার উপরে।

গত ৯ ফেব্রুয়ারি ইউপিডিএফ’র সামরিক শাখার প্রধান প্রদীপন খীসার খাগড়াছড়ির বাড়ি থেকে যৌথবাহিনীর অভিযানে উদ্ধার হওয়া ৮০ লাখ টাকার সাথে প্রাপ্ত প্রায় দুই বস্তা নথিপত্র ঘেঁটে এমন চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া গেছে। উদ্ধার হওয়া নথির তথ্য মতে, খাগড়াছড়ি জেলা ইউনিটের আওতায় ইউপিডিএফ’র বেশ কয়েকটি ডিভিশন ও সাব-ডিভিশন রয়েছে।

ডিভিশনগুলো হচ্ছে, সুবর্ণপুর ডিভিশন (সাংগঠনিক নাম) ও রতœপুর ডিভিশন। খাগড়াছড়ি জেলায় ইউপিডিএফ’র সাব ডিভিশনগুলো হচ্ছে : তৃণভূমি সাব ডিভিশন (সাংগঠনিক নাম), বকুলতলা সাব ডিভিশন, বটতলা সাব ডিভিশন ও পূর্ণমিশন সাব ডিভিশন। প্রতিটি সাব ডিভিশনে মাসে ৭০ থেকে ৮০ লাখ টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় হয়ে থাকে। এ সব ডিভিশনের দায়িত্বে আছেন একজন প্রধান, একজন সেক্রেটারি ও একজন কো-অর্ডিনেটর। ঐ এলাকায় উত্তোলিত চাঁদা সাংগঠনিক কাজে খরচের পর মাসশেষে কো-অডিনেটর কেন্দ্রীয় অর্থ বিভাগের প্রধান (সিসি)-এর কাছে প্রেরণ করে থাকেন।

ইউপিডিএফ’র আদায়কৃত অর্থের হিসেব তদারকির জন্য রয়েছে আলাদা শৃঙ্খলা তদারকি বিভাগ সিসি। রয়েছে মিশন হাইয়ার পরিচালক পোস্ট। ইউপিডিএফ আয়-ব্যয়ের হিসাব খুবই নিখুঁতভাবে করে থাকে। চাঁদা আদায়সহ দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় কাজ করার জন্য চাঁদা কালেক্টর ও কমান্ডারদের রয়েছে মোটরসাইকেল। এছাড়া একেকজনের কাছে রয়েছে একাধিক মোবাইল সিম। ফোন করে চাঁদা পরিশোধের তাগাদা দেয়া হয়।

জানা যায়, মাঠ পর্যায়ের এসব কর্মীদের এক স্থান থেকে অন্য স্থানে বদলিও করা হয়। তারা সকলেই ছদ্মনাম ব্যবহার করে। গত শুক্রবার রামগড়ের গৈয়াপাড়া এলাকায় আটক ইউপিডিএফের চাঁদা কালেক্টর জীবন চাকমা পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে জানায়, চাঁদাবাজির কাজে এলাকাভিত্তিক তাদের বাঙালি সোর্স রয়েছে। এদের মাধ্যমে তথ্য ও ফোন নম্বর সংগ্রহ করে চাঁদা দাবি করা হয়।

নিরাপত্তা বাহিনীর সূত্র জানায়, মাসিক খুচরা চাঁদার পাশাপাশি ইউপিডিএফ’র প্রতিটি সেক্টরে মোটা অংকের বাৎসরিক চাঁদা রয়েছে। বিশেষ করে পরিবহন খাত, ফলদ ও বনজ বাগান, বিভিন্ন তামাক কোম্পানি, মোবাইল কোম্পানি, জীবন রক্ষাকারী ওষুধ কোম্পানি, স’ মিল ও চাকুরিজীবীদের কাছ থেকে ইউপিডিএফ বার্ষিক চাঁদা আদায় করে থাকে। এ ছাড়াও বিভিন্ন দিবস ও উৎসব উপলক্ষে আলাদা চাঁদা আদায় করা হয়ে থাকে। এ টাকা নিয়মিত মাসিক আদায়কৃত ৪ কোটি টাকার বাইরে।

খাগড়াছড়ি সদরের নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক এক কাঠ ও বাঁশ ব্যবসায়ী বলেন, ১৯৯৭ সালে শান্তিচুক্তি হওয়ার আগে পার্বত্য এলাকায় একমাত্র শান্তিবাহিনীকে চাঁদা দিতে হতো। চাঁদা নিয়ে ওরা ব্যবসায়ীদের নানাভাবে সহায়তাও করতো। আর এখন চাঁদা দিতে হয় তিন গ্রুপকে। খাগড়াছড়ি জেলা পরিষদের সাবেক এক সদস্য জানান, পাহাড়ি সম্প্রদায়ের ক্ষুদ্র চাষী থেকে শুরু করে সব পেশাজীবীকেই চাঁদা দিতে হয়। কিন্তু পাহাড়িরা ভয়ে এসব কথা প্রকাশ করে না।

পাহাড়ি বাঙালি জনগোষ্ঠীর নানা পেশাজীবীর সাথে কথা বলে জানা গেছে, পার্বত্য শান্তিচুক্তির পর তিন পার্বত্য জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর ক্যাম্প ও নিরাপত্তা পোস্ট প্রত্যাহার করার কারণে বিস্তীর্ণ এলাকা সশস্ত্র গ্রুপগুলোর নিরাপদ ও মুক্ত অঞ্চলে পরিণত হয়েছে। অপ্রতিরুদ্ধ হয়ে উঠেছে গ্রুপগুলো। এ অবস্থায় তুলে নেয়া নিরাপত্তা ক্যাম্পগুলো পুনঃস্থাপনের পাশাপাশি তিন জেলায় র‌্যাবের ইউনিট স্থাপনের জোরালো দাবি উঠেছে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, সংগঠন পরিচালনা, অস্ত্র সংগ্রহ প্রভৃতির জন্য তিনটি সংগঠন ফান্ড গড়ে তোলার জন্য চাঁদা আদায় কার্যক্রমকে সবচেয়ে বেশি প্রাধান্য দেয়। আর এ কারণে এলাকার নিয়ন্ত্রণ ও আধিপত্য গ্রহণকে কেন্দ্র করে সংগঠনগুলো নিজেদের মধ্যে সংঘাত সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। এসব সংঘর্ষে তিন গ্রুপেরই অনেক সদস্য প্রাণ হারিয়েছে।

প্রাপ্ত এক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ২০১০ এর জানুয়ারি হতে ২০১১ সালের এপ্রিল মাস পর্যন্ত ইউপিডিএফ ও জেএসএস’র মধ্যে ৫৪ বার সশস্ত্র সংঘর্ষ হয়। এ সংঘর্ষে জেএসএস’র ১৯ জন নিহত ও ১৪ জন আহত হয়। ইউপিডিএফের নিহত হয় ১০ জন ও আহত হয় ৫ জন।

প্রাপ্ত তথ্য মতে, সমগ্র রাঙামাটি জেলায়, খাগড়াছড়ি জেলার অল্প কিছু এলাকায় এবং বান্দরবানে জেএসএস (সন্তু) গ্রুপের মোটামুটি প্রভাব ও আধিপত্য রয়েছে। অন্যদিকে ইউপিডিএফ-এর আধিপত্য রয়েছে সমগ্র খাগড়াছড়ি জেলা, রাঙামাটির কোনো কোনো এলাকা ও বান্দরবানের অল্প পরিমাণ এলাকায়। খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানে জেএসএস (সংস্কার)-এর মোটামুটি প্রভাব ও আধিপত্য থাকলেও রাঙামাটিতে অল্প পরিমাণে প্রভাব রয়েছে বলে জানা যায়।

সামরিক কাঠামোয় সংগঠনগুলোর সশস্ত্র উইং পরিচালিত হয়। কোম্পানি, প্লাটুন, পোস্ট, সাব-পোস্ট ইত্যাদি ভাগে ভাগ করা হয় এলাকাকে। চাঁদা আদায়ের জন্য রয়েছে চাঁদা কালেক্টর। ক্যাপ্টেন বা মেজর পদবির সদস্যরা কোম্পানিগুলোর কমান্ডারের দায়িত্ব পালন করেন। একইভাবে প্লাটুন কমান্ডার, পোস্ট বা সাব পোস্ট কমান্ডারও রয়েছে।

সশস্ত্র সদস্যরা বাংলাদেশ, ভারত ও মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর পোষাক পরিধান করে। ইউপিডিএফ তিন পার্বত্য জেলাকে জাগুয়া, ঈগল ও ড্রাগন নামে তিনটি কোম্পানিতে ভাগ করে তাদের সশস্ত্র কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, চাঁদার টাকার একটি বড় অংশ ব্যয় করা হয় অস্ত্র সংগ্রহে। অত্যাধুনিক সব অস্ত্র সংগ্রহ করে সশস্ত্র তৎপরতা চালাচ্ছে তারা। জানা যায়, এম কে-১১, জার্মানির তৈরি এইচ কে-৩৩, রাশিয়ার জি-৩, একে-৪৭, একে-২২, এম-১৬ রাইফেল, নাইন এমএম পিস্তল, চাইনিজ সাব মেশিনগান, এসবিবিএল বন্দুকের মতো অস্ত্র রয়েছে সংগঠনগুলোর হাতে। ভারতের মিজোরাম ও মিয়ানমার হতে এসব অত্যাধুনিক অস্ত্র সংগ্রহ করে তারা।

মিয়ানমারের বিদ্রোহী সংগঠন আরাকান লিবারেশন পার্টির (এএলপি) সহযোগিতায় এখানকার একটি পাহাড়ি সংগঠনের জন্য অস্ত্রের চালান আসার পথে ঐদেশের কারেন প্রদেশে সেগুলো ধরা পড়ে। গত ৯ ডিসেম্বরে আটক হওয়া ঐ চালানে ১৬টি একে-৪৭ রাইফেল ছিল বলে জানা যায়।

একইভাবে ভারতের মিজোরামেও একাধিকবার অস্ত্রের চালান ধরা পড়ে। ইউপিডিএফের কেন্দ্রীয় প্রচার শাখার প্রধান নিরন চাকমার মুঠোফোনের সুইচ কয়েকদিন ধরে অফ থাকায় চাঁদাবাজি ও সশস্ত্র তৎপরতার অভিযোগ সম্পর্কে তাদের বক্তব্য নেয়া যায়নি।

তবে নামপ্রকাশ না করার শর্তে ঐ সংগঠনের এক নেতা মুঠোফোনে বলেন, চাঁদাবাজি ও সশস্ত্র তৎপরতার সাথে ইউপিডিএফকে জড়িয়ে যে ধরণের অভিযোগ করা হচ্ছে তা সঠিক নয়। জুম্মজাতির স্বাধিকারের জন্য আন্দোলন করছেন তারা। এ কঠিন আন্দোলন সংগ্রাম চালাতে টাকার প্রয়োজন। তাই তারা জনগণের কাছ থেকে কিছু চাঁদা সংগ্রহ করে। সশস্ত্র তৎপরতা সম্পর্কে ওই নেতা বলেন, সন্তু লারমার সন্ত্রাসীদের হাত থেকে আত্মরক্ষার জন্য তারা অস্ত্র বহন করে।

এদিকে, সমঅধিকার আন্দোলন নামে একটি বাঙালি সংগঠনের খাগড়াছড়ির এক নেতা নাম পরিচয় গোপন রাখার শর্তে বলেন, আওয়ামীলীগ যখনই ক্ষমতায় আসে পার্বত্য এলাকায় পাহাড়ি সন্ত্রাসী গ্রুপগুলো বেপরোয়া হয়ে উঠে। ওই নেতা আরও বলেন, বর্তমান সরকারের বিশেষ নীতির কারণে এখন পাহাড়ি সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধ্ আইন-শৃঙ্খলাবাহিনীর জোরালো কোন অভিযান নেই। তাই সশস্ত্র গ্রুপগুলো এখন অনেকটা অবাধ ও নির্বিঘ্নে তাদের তৎপরতা চালাচ্ছে।

ভারত ভাগের ৬৯ বছর পরও পার্বত্য চট্টগ্রাম আগ্রাসন দিবস পালন করে পাহাড়ী একটি গ্রুপ

%e0%a6%85%e0%a6%b8%e0%a7%8d%e0%a6%a4%e0%a6%bf%e0%a6%a4%e0%a7%8d%e0%a6%ac%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%b8%e0%a6%99%e0%a7%8d%e0%a6%95%e0%a6%9f%e0%a7%87-%e0%a6%aa%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%ac%e0%a6%a4

(৩)

মেহেদী হাসান পলাশ :

১৯৪৭ সালের ১৫ আগস্ট ভারত রাষ্ট্রের জন্ম হয়। তার আগের দিন জন্ম হয়েছে পাকিস্তান নামক রাষ্ট্রের। ভারত বিভাগে স্যার সিরিল র‌্যাড ক্লিফের বিভাজন রেখা অনুযায়ী পার্বত্য চট্টগ্রাম পড়ে পূর্ব পাকিস্তানের ভাগে। কিন্তু সেই ভাগ মেনে নিতে পারেনি বাংলাদেশের পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসকারী চাকমা সম্প্রদায়ের একটি গ্রুপ।

স্নেহ কুমার চাকমার নেতৃত্বে এদিন তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান তথা আজকে বাংলাদেশের রাঙামাটিতে ভারতের পতাকা উত্তোলন করা হয়। কিন্তু পাকিস্তান রেজিমেন্টের বেলুচ রেজিমেন্টের সৈন্যরা এ ঘটনার ২ দিন পর রাঙামাটি থেকে ভারতের পতাকা নামিয়ে পাকিস্তানের পতাকা উত্তোলন করে। সেই থেকে পার্বত্য চট্টগ্রাম পূর্ব পাকিস্তানের। ১৯৭১ সালে স্বাধীন বাংলাদেশের জন্ম হয় পূর্ব পাকিস্তানের ভূখণ্ড নিয়ে। সে হিসাবে পার্বত্য চট্টগ্রাম বাংলাদেশের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসাবে অন্তর্ভুক্ত হয়।

বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী ১৯৪৭ সালে পার্বত্য চট্টগ্রাম যদি পাকিস্তানভুক্ত না হতো তাহলে তা বাংলাদেশেও অন্তর্ভুক্ত হতে ব্যর্থ হতো। ভারত ভাগের ৬৯ বছর পর হলেও বাংলাদেশের পার্বত্য চট্টগ্রামের একটি আঞ্চলিক সংগঠন ও তাদের শাখা সংগঠনগুলো পূর্ব পাকিস্তান তথা বাংলাদেশের রাঙামাটি থেকে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর ভারতীয় পতাকা নামিয়ে দেয়ার দিন ১৭ আগস্টকে পার্বত্য চট্টগ্রাম আগ্রাসন দিবসরূপে পালন করে থাকে। এরই ধারাবাহিকতায় চলতি বছর থেকে ভারতে অবস্থিত চাকমা উপজাতিরা এদিনকে ব্লাক ডে বা কালো দিবস হিসেবে পালন করে থাকে।


এই সিরিজের আগের লেখাগুলো

  1. ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশন: সরকারের মর্যাদা কর্তৃত্ব ও এখতিয়ার ক্ষুণ্ন হতে পারে
  2. ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশন আইন বৈষম্যমূলক ও বাঙালি বিদ্বেষী

পার্বত্য চট্টগ্রামের অন্যতম আঞ্চলিক সংগঠন ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রাটিক ফ্রন্ট বা ইউপিডিএফ ও এর বিভিন্ন শাখা সংগঠন পাহাড়ী ছাত্র পরিষদ, যুব ফ্রন্ট, হিল উইমেন্স ফেডারেশনের পক্ষ থেকে এর নেতৃবৃন্দ প্রতিবছর ১৭ আগস্টকে পার্বত্য চট্টগ্রাম আগ্রাসন দিবস পালন করে থাকে। ঢাকা, চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রামে এই কর্মসূচী পালিত হয়। ইউপিডিএফ সমর্থিত বলে পরিচিত স্থানীয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল সিএইচটিনিউজ.কমে (chtnews.com) প্রকাশিত বিভিন্ন খবরে এর সত্যতা পাওয়া যায়।

২০ আগস্ট ২০১৬ তারিখে সিএইচটিনিউজ.কমে প্রকাশিত খবরে দেখা যায়: “পাকিস্তান কর্তৃক পার্বত্য চট্টগ্রাম আগ্রাসনের ৬৯তম বার্ষিকী উপলক্ষে বৃহত্তর পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ী ছাত্র পরিষদ (পিসিপি), ঢাকা শাখার উদ্যোগে ১৯ আগস্ট শুক্রবার বিকাল ৫টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহাসিক কার্জন হল মাঠে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে’’। উক্ত আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন পিসিপি ঢাকা শাখার সভাপতি রোনাল চাকমা। সভায় মূল আলোচক ছিলেন ইউপিডিএফ-এর কেন্দ্রীয় সদস্য নতুন কুমার চাকমা।

এছাড়াও আলোচনা করেন গণতান্ত্রিক যুব ফোরামের যুগ্ম-সম্পাদক বরুণ চাকমা, হিল উইমেন্স ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সভানেত্রী নিরূপা চাকমা, পিসিপির কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি বিনয়ন চাকমা, সাধারণ সম্পাদক বিপুল চাকমা। সভা পরিচালনা করেন পিসিপি ঢাকা শাখার সাধারণ সম্পাদক রিয়েল ত্রিপুরা।

সভায় ইউপিডিএফ নেতা নতুন কুমার চাকমা তাঁর বক্তব্যে পার্বত্য চট্টগ্রাম আগ্রাসন দিবসের বিস্তারিত তুলে ধরে বলেন, ‘১৯৪৭ সালের ভারত স্বাধীনতা আইন’ (১৮ জুলাই ১৯৪৭ সালে ব্রিটিশ পার্লামেন্টে গৃহীত) মোতাবেক দ্বি-জাতিতত্ত্বের ভিত্তিতে মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ অঞ্চলসমূহ নিয়ে পাকিস্তান এবং হিন্দু ও অমুসলিমদের নিয়ে ভারত রাষ্ট্র গঠিত হয়।

সে সময়ে শতকরা ৯৮ ভাগের বেশি অমুসলিম অধ্যুষিত পার্বত্য চট্টগ্রামের অধিবাসীরা স্বাভাবিকভাবেই পাকিস্তান রাষ্ট্রে যোগ দিতে চাইনি। দেশ ভাগের সময় তৎকালীন জনসমিতির সাধারণ সম্পাদক স্নেহ কুমার চাকমার নেতৃত্বে ১৯৪৭ সালের ১৫ আগস্ট অবিভক্ত পার্বত্য চট্টগ্রামের রাজধানী রাঙামাটিতে ব্রিটেনের ইউনিয়ন জ্যাক-এর পরিবর্তে ভারতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। তৎকালীন ইংরেজ জেলা প্রশাসক কর্ণেল জি. এল. হাইড নিজেও উক্ত পতাকা উত্তোলন অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে পতাকায় স্যালুট করেন। পরে কর্ণেল হাইড নিজের দপ্তরেও আনুষ্ঠানিকভাবে ভারতীয় পতাকা উত্তোলন করেছিলেন। অন্যদিকে বন্দরবান সদরে বোমাং রাজ পরিবারের উদ্যোগে উত্তোলিত হয় বার্মার পতাকা।

ভারত-পাকিস্তান আনুষ্ঠানিকভাবে বিভক্ত হওয়ার পর ১৭ আগস্ট পার্বত্য চট্টগ্রাম অংশটি পাকিস্তানের সাথে যুক্ত করে দিয়ে ম্যাপে প্রদর্শিত হলে পরিস্থিতি পাল্টে যায়। পরবর্তীতে ২০ আগস্ট পাকিস্তানের বালুচ রেজিমেন্ট এক সশস্ত্র আগ্রাসন চালিয়ে পার্বত্য চট্টগ্রাম দখল করে নেয়। রাঙামাটি ও বান্দরবান থেকে নামিয়ে দেয় স্থানীয় অধিবাসীদের উত্তোলিত পতাকা। সূচনা হয় আগ্রাসী অপশক্তির দখলদারিত্বের নতুন ইতিহাস। এই দখলদারিত্বের মধ্য দিয়ে ব্রিটিশদের পর পাকিস্তানি শাসকরা যে শোষণ-নির্যাতনের জোয়াল পার্বত্য চট্টগ্রামের জনগণের ওপর চাপিয়ে দিয়েছিল তা আজ ৬৯ বছর পর স্বাধীন বাংলাদেশ আমলেও জারি রয়েছে।

তিনি আরো বলেন, পতাকা উত্তোলন যে কোন সাধারণ নিছক একটি ঘটনা ছিল না তা ১৯ আগস্ট ডিসি বাংলোতে ডিসি কর্ণেল হাইড-এর উপস্থিতিতে চাকমা রাজাসহ গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গকে নিয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকটিই তার প্রমাণ। উক্ত বৈঠক থেকে বেঙ্গল বাউন্ডারি কমিশনের প্রধান সিরিল র‌্যাডক্লিফ-এর পার্বত্য চট্টগ্রামকে পাকিস্তানে অন্তর্ভুক্তির সিদ্ধান্ত না মানার প্রস্তাব গৃহীত হয়। এসময় তিনি তৎকালীন জনসমিতির নেতৃত্ব পাকিস্তানের দখলদার বাহিনীর বিরুদ্ধে কোন প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারেননি বলেও মন্তব্য করেন।

ইউপিডিএফ নেতা ছাত্র ও যুব সমাজের উদ্দেশ্যে বলেন, বিশ্বের বুকে সম্মান-মর্যাদার সহিত মাথা উঁচু করে বাঁচতে হলে অতীত ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিয়ে অবশ্যই সকলকে সংগ্রামী ভূমিকা গ্রহণ করতে হবে। আলোচনা সভায় ঢাকা ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ও ইডেন কলেজসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্র-ছাত্রীরা অংশগ্রহণ করেন। শুধু ঢাকা নয়, খাগড়াছড়ি সদরেও একই দিবস উপলক্ষে অনুষ্ঠান করে সংগঠনটি।

সিএইচটিনিউজের ২০ আগস্ট ২০১৬ তারিখে প্রকাশিত সংবাদে দেখা যায়, ‘নব্য বেলুচ রেজিমেন্ট সম্পর্কে সজাগ হোন! ধর্মের লেবাসধারী পাকিস্তানি চরদের প্রতিরোধ করুন’ এই শ্লোগানে পার্বত্য চট্টগ্রামে পাকিস্তান আগ্রাসনের ৬৯ বছর উপলক্ষে বৃহত্তর পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ (পিসিপি), গণতান্ত্রিক যুব ফোরাম (ডিওয়াইএফ) ও হিল উইমেন্স ফেডারেশন জেলা কমিটির উদ্যোগে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

২০ আগস্ট সকালে খাগড়াছড়ি জেলা সদরে অনুষ্ঠিত সভায় পিসিপি’র জেলা সাধারণ সম্পাদক সুনীল ত্রিপুরার সঞ্চালনায় ডিওয়াইএফ জেলা সভাপতি লালন চাকমার সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন ইউপিডিএফ’র সংগঠক রিকো চাকমা ও হিল উইমেন্স ফেডারেশন জেলা দপ্তর সম্পাদক দ্বিতীয়া চাকমা। এতে প্রধান আলোচক ছিলেন পিসিপি’র সাবেক সাধারণ সম্পাদক অলকেশ চাকমা।

বক্তারা বলেন, ২০ আগস্ট পার্বত্য চট্টগ্রামবাসীদের জন্য একটি অভিশপ্ত দিন বা ‘কাল দিবস’। ১৯৪৭ সালের এই দিনে হানাদার বাহিনী ‘বেলুচ রেজিমেন্ট’ সশস্ত্র আগ্রাসনের মাধ্যমে জনগণের আশা-আকাক্সক্ষা গুঁড়িয়ে দিয়ে পাকিস্তান নামক রাষ্ট্রে জোর-জবরদস্তিমূলকভাবে অন্তর্ভুক্ত করেছিল। একই অনলাইনে প্রকাশিত সংবাদ সূত্রে জানা যায়, ২০ আগস্ট, ২০১২ সালে খাগড়াছড়িতে, রামগড়ে, ২০ আগস্ট, ২০১৩ সালে খাগড়াছড়ি ও রাঙামাটিতে, ২০ আগস্ট ২০১৪ সালে ঢাকায়, ১৯ আগস্ট ২০১৬ সালে চট্টগ্রাম, ঢাকা, খাগড়াছড়ি ও রাঙামাটির বিভিন্ন স্থানে এ দিবস পালন করে।

তবে বাংলাদেশে পিসিপি দিনটিকে আগ্রাসন দিবস হিসেবে পালন করে আসলেও এ বছর থেকে সারা ভারতে দিনটিকে কালো দিবস হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে চাকমা ন্যাশনাল কাউন্সিল অফ ইন্ডিয়া।

২০১৬ সালের ২৪-২৫ মার্চ আসামের গৌহাটিতে অনুষ্ঠিত চাকমা ন্যাশনাল কাউন্সিল অফ ইন্ডিয়ার প্রথম জাতীয় অধিবেশনে এই প্রেক্ষাপটকে সামনে রেখে সমগ্র ভারতের চাকমা জনগোষ্ঠী প্রতি বছর ১৭ আগস্টকে ব্লাক ডে পালনের আহ্বান ঘোষণা দেন। সে মোতাবেক ১৭ আগস্ট ভারতের সেভেন সিস্টার্স রাজ্যগুলো বিশেষ করে আসাম, ত্রিপুরা, মিজোরাম, অরুণাচল এবং দিল্লী, বেঙ্গালুরুসহ যেসব রাজ্যে চাকমা জনগোষ্ঠী বসবাস করে তারা একসাথে ব্লাক ডে বা কালো দিবস পালন করে।

সেভেন সিস্টার্স থেকে প্রকাশিত গণমাধ্যমসহ ভারতের প্রধান প্রধান গণমাধ্যমে ফলাও করে চাকমাদের এই ব্লাক ডে পালনের খবর ফলাও করে প্রচার করা হয়। উত্তর-পূর্ব ভারতের যুগশঙ্খ পত্রিকায় প্রকাশিত এ সংক্রান্ত একটি রিপোর্টে বলা হয়েছে, ‘সংস্থার ত্রিপুরা কমিটির পক্ষ থেকে গত ১৭ আগস্ট) আগরতলায় প্রেস ক্লাবের সামনে কালো দিবস পালনের অঙ্গ হিসেবে একটি ধর্ণা কর্মসূচী নেওয়া হয়। এখানে সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। এ উপলক্ষে ভারতের ত্রিপুরা, মিজোরাম, অরুণাচল প্রদেশসহ উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে নানা কর্মসূচী গ্রহণ করেছে চাকমারা।

পত্রিকাটির প্রতিবেদনে বলা হয়,‘বাংলাদেশের পার্বত্য অঞ্চলকে নিজেদের মূল ভূখণ্ড বলেই মনে করে থাকে চাকমা জনগোষ্ঠীর মানুষজন। কিন্তু তাদের জোর করে সেই ভূখ- থেকে উৎখাত করা হয়েছে’ বলে অভিযোগ তুলে তার বিরুদ্ধেই তীব্র প্রতিবাদ কর্মসূচী গ্রহণ করে ‘চাকমা ন্যাশনাল কাউন্সিল অব ইন্ডিয়া’ আহ্বান জানায় ‘ব্লাক ডে’ পালনের। সংগঠনের পক্ষ থেকে এই দিবস পালনের তাৎপর্য ব্যাখ্যা করতে গিয়ে জানান, এবছর থেকে প্রতি বছর উত্তর-পূর্ব ভারতে বসবাসকারী চাকমা জনগোষ্ঠীর লোকেদের দ্বারা ১৭ আগস্ট দিনটি কালো দিবস হিসেবে প্রতিপালিত হবে।

এই সিদ্ধান্তটি ঘোষিত হয়েছে গত ২৪-২৫ মার্চ আসামের গৌহাটিতে অনুষ্ঠিত চাকমা ন্যাশনাল কাউন্সিল অফ ইন্ডিয়ার প্রথম জাতীয় অধিবেশনে। সেই ঘোষণা অনুযায়ী কালো দিবসটি একযোগে পালিত হয় আসাম, মিজোরাম, অরুণাচল ও ত্রিপুরায়। এছাড়া এই দিনটি কলকাতা, নয়া দিল্লী, মুম্বাই, ব্যাঙ্গালুরু ইত্যাদি শহরেও প্রবাসী ছাত্র-ছাত্রী ও কর্মসূত্রে বসবাসকারী সেখানকার চাকমাদের উদ্যোগে পালিত হয়েছে।

কালো দিবস পালনের তাৎপর্য ব্যাখ্যা করতে গিয়ে সংগঠনের নেতৃত্বরা জানিয়েছেন, ১৯৪৭ সালের ১৭ আগস্টের রাতটি ছিল সমগ্র চাকমা জনসমাজের পক্ষে চরম দুঃস্বপ্নময় রাত এবং আরও একটি কালো অধ্যায়ের সূচনা। সেদিন থেকে আজ অবধি ৭০ বছর অতিক্রান্ত হয়ে গেলেও চাকমা সমাজ যে প্রশ্নটির সদুত্তর খুঁজে ফেরে, সেই প্রশ্নটি হচ্ছে, কোন্ নীতি অনুসরণ করে বেঙ্গল বাউন্ডারী কমিশন ৯৮.৫ শতাংশ অমুসলিম অধ্যুষিত পার্বত্য চট্টগ্রাম জেলাকে পাকিস্তানের অন্তর্ভুক্তির ঘোষণা দিয়েছিল।

ভারতের টেলিগ্রাফ পত্রিকায় প্রকাশিত রিপোর্টে শান্তি বিকাশ চাকমা বলেন, “The Chakmas, living in other parts across the country, like Bangalore, Mumbai and Delhi, will also observe the day in a similar manner.”

দিবসটি পালনের প্রেক্ষাপট হিসেবে তিনি বলেন, on August 17, in 1947, when the rest of India had been celebrating the new-found independence, the Baloch regiment of the Pakistani army had invaded Chittagong Hill Tracts and pulled down the Indian flag raised atop the Chakma king’s royal palace in Rangamati.

 “According to the Partition formula, the Chittagong Hill Tracts, which had 97.5 percent population of the indigenous communities, should have been included in India and this is what the Buddhist tribals had been hoping for. Even the late king Tridib Roy had raised the Indian flag atop the royal palace but it was pulled down by the officers of the Baloch regiment on August 17,” said Chakma.

নর্থ ইস্ট টুডে পত্রিকায় এ সংক্রান্ত রিপোর্টে বলা হয়েছে, ““The Chakma community of the Northeast earlier asked Prime Minister Narendra Modi to raise the issue of alleged human rights violation against the Chakma community in the Chittagong Hill Tract. “

 প্রশ্ন হচ্ছে, ভারত ভাগের ৬৯ বছর পরও কেন বাংলাদেশ-ভারতের চাকমারা একত্রে ১৭ আগস্টকে কালো দিবস ও পাকিস্তান আগ্রাসন দিবস পালন করছে কেন? কি এর তাৎপর্য? এর মধ্য দিয়ে তারা জাতিকে এবং বাংলাদেশ ও ভারতে জনগণ, সরকার ও বিশ্ববাসীকে কি বার্তা দিতে চাইছে?

খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা ও নিরাপত্তা বিশ্লেষক মে. জে. (অব.) সৈয়দ মুহম্মদ ইব্রাহীম বীরপ্রতীক এ প্রসঙ্গে ইনকিলাবকে বলেন, ১৯৩০-এর দশকের শেষ দিকে একটি পরিকল্পনা ছিল, আসামের লে. গভর্ণর রেন্যাল্ড কুপল্যান্ডের নেতৃত্বে একটি ক্রাউন কলোনী করা হবে, যেখানে বর্তমান ভারতের উত্তর-পূর্ব অংশের উত্তর-পূর্ব অংশ এবং বাংলাদেশের পার্বত্য চট্টগ্রাম জড়িত থাকবে। যেখানে মিয়ানমারের বর্তমান রাখাইন প্রদেশ জড়িত থাকবে। তথা বঙ্গোপসাগরের নীল পানি ও হিমালয়ের পাদদেশ হয়ে চীনের সীমান্ত পর্যন্ত বিস্তৃত থাকবে এই রাষ্ট্রের সীমানা। এই পরিকল্পনাটি বাস্তবায়ন হয় নাই।

কিন্তু বাস্তবায়নের সকল উপাত্ত তখন যেমন বিদ্যমান ছিলো, এখনো বিদ্যমান আছে। সেখানে ক্রিশ্চিয়ানাইজেশনের কারণে খ্রিস্ট ধর্মে দীক্ষিত হওয়া জনগোষ্ঠীর হার ৭০%- ৯০% পর্যন্ত উন্নীত হয়েছে। বাংলাদেশের পার্বত্য চট্টগ্রামের ব্যক্তিগণ সেই অংশের প্রতি হাঁ বা না জানালেও ’৪৭ সালে তারা ভারতে থাকতে চেয়েছিলেন। স্নেহ কুমার চাকমার নেতৃত্বে রাঙামাটিতে ভারতের পতাকা উড়িয়েছিলেন। এখন আমার নিকট আশ্চর্য ঠেকছে যে বর্তমান প্রজন্মের একটি অংশ সেই সাতচল্লিশের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানাচ্ছে। এর উত্তর আমার কাছে হুবহু জানা নেই যে তারা কি চায়? বিচ্ছিন্নতা, না বাংলাদেশের অংশ? এর উত্তর তাদেরকে দিতে হবে।

পার্বত্য চট্টগ্রাম সমঅধিকার আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা ওয়াদুদ ভুইয়া ইনকিলাবকে এ প্রসঙ্গে বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের একটি ক্ষুদ্র জনগোষ্ঠীর লক্ষ্যবস্তু রয়েই গেছে বাংলাদেশ থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়া। সাতচল্লিশে ভারত ভাগের সময় পাকিস্তানকেও মেনে নিতে পারেনি, বাংলাদেশকেও মেনে নিতে পারেনি। একই গোষ্ঠী বর্তমান প্রজন্মকে ১৯৭১ সালের পাকিস্তান প্রেমকে ভুলিয়ে দিয়ে সাতচল্লিশের চেতনায় ফিরিয়ে নেয়ার অপচেষ্টা চলছে।

১৯৭১ সালে তাদের গুরুজনেরা স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছিল এবং পাকিস্তান আর্মিকে সহায়তা করেছিল। আজকের প্রজন্মের একটি অংশ ১৯৪৭ ফেরত যেতে চাইছে। ১৯৪৭ সালে তাদের সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী নেতৃবৃন্দ ভারতের সাথে থাকতে চেয়ে ভারতের পতাকা উড়িয়েছিল।

এতে কি বোঝা যায়, দেশের জনগণ এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছে। তারা কি বিচ্ছিন্ন হয়ে ভারতে যেতে চায়? এটার মানে কি তারা ভারত বা বাংলাদেশের সাথে না মিশে গিয়ে আলাদা কোনো রাষ্ট্র করতে চায়? এটা বোঝা দুষ্কর হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর সাথে যখন কৌশলগত বাঙালী খেদাও আন্দোলন যুক্ত হয়েছে তখন দেশের সচেতন ও দেশপ্রেমিক নাগরিকগণ শঙ্কিত হয়ে পারে না।

পার্বত্য বাঙালী নাগরিক পরিষদের চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার আলকাছ আল মামুন ভুইয়া ইনকিলাবকে বলেন, এর মাধ্যমে তারা যে বাংলাদেশ আজো মেনে নিতে পারেনি বরং অন্য একটি দেশে মিশে যেতে চায় তা পরিষ্কার বোঝা যায়।

এ ব্যাপারে ইউপিডিএফ’র বক্তব্য জানতে তাদের প্রচার ও প্রকাশনা শাখার প্রধান নিরন চাকমার সাথে ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, তাদের কেউ এ ধরনের কর্মসূচীর সাথে জড়িত নয়। তখন সিএইচটি নিউজে প্রকাশিত সংবাদ ও অনুষ্ঠানে উপস্থিত তাদের নেতৃবৃন্দের নাম পড়ে শোনালে ‘এ বিষয়ে আপনার সাথে কোনো কথা বলতে চাই না’ বলে তিনি ফোন কেটে দেন।

খাগড়াছড়িতে ৪ টি আগ্নেয়াস্ত্রসহ ইউপিপিএফ’র সামরিক প্রধান উজ্জল স্মৃতি চাকমাসহ আটক ৬

uzzal-smrity-chakma

নিজস্ব প্রতিবেদক:

খাগড়াছড়িতে যৌথ বাহিনীর অভিযানে বিপুল পরিমাণ সামরিক সরঞ্জাম ও ধারালো অস্ত্রসহ ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট’র(ইউপিপিএফ)  সামরিক শাখার প্রধান উজ্জল স্মৃতি চাকমাসহ আটক ৬ জন আটক হয়েছে। উজ্জল স্মৃতি চাকমা ইউপিডিএফ এর সেকেন্ড ইন কমান্ড হিসেবে খ্যাত। রবিবার দুপুরে জেলা শহরের পেরাছড়ার হেডম্যান পাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।

আটক অন্যরা হচ্ছে রূপম চাকমা(২৫), রণি ত্রিপুরা(৩৬), সমাপন দেওয়ান(২৮), বাবুল মারমা(১৯) ও সন্ধিপন চাকমা(২০)।

খাগড়াছড়ি সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তারেক মো: আব্দুল হান্নান জানান, গোপন সংবাদের যৌথ বাহিনী দুপুর ১২টার দিকে হেডম্যান পাড়া এলাকায় ইউপিডিএফ আস্তানাটি ঘেরাও করে উজ্জল স্মৃতি চাকমাসহ ছয় জনকে আটক করে । এ সময় আরও বেশ কয়েকজন পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। পরে তাদের আস্তানা তল্লাসী করে একটি টুটু বোর রাইফেল, একটি পিস্তল, একটি দেশী বন্দুক, একটি পাইপগানসহ বিপুল পরিমাণ সামরিক পোশাক, ধারালো অস্ত্র, লিফলেট উদ্ধার হয়।

%e0%a6%89%e0%a6%9c%e0%a7%8d%e0%a6%9c%e0%a6%b2-%e0%a6%b8%e0%a7%8d%e0%a6%ae%e0%a7%83%e0%a6%a4%e0%a6%bf-%e0%a6%9a%e0%a6%be%e0%a6%95%e0%a6%ae%e0%a6%be

তার দাবী উজ্জল স্মৃতি চাকমা ইউপিডিএফ’র সামরিক শাখার প্রধান। তবে ইউপিডিএফ’র প্রচার ও প্রকাশনা শাখার প্রধান নিরণ চাকমা জানান, উজ্জল স্মৃতি ইউপিডিএফ খাগড়াছড়ি জেলা শাখার সমন্বয়ক ও কেন্দ্রীয় নেতা।

এ সংবাদ লেখা পর্যন্ত আরো কয়েকটি স্থানে অভিযান চলছে বলে জানা গেছে।

এদিকে স্থানীয় উজ্জলা দেবী চাকমা জানান, বাড়ীটি তার ছিল। ইউপিডিএফ’র সন্ত্রাসীরা কয়েক বছর আগে তাকে জোরপূর্বক উচ্ছেদ করে দখল করে নেয়।

উল্লেখ্য, ২০০৮ সালে অনুষ্ঠিত নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ইউপিডিএফ’র প্রার্থী হিসেবে প্রসীত খিসার ডান হাত বলে খ্যাত অংশ নিয়ে ৬০ হাজার ৪১০ ভোট পেয়ে দ্বিতীয় হন।

এদিকে রবিবার বিকেলে ইউপিডিএফ’র খাগড়াছড়ি জেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত সংগঠক প্রদীপন খীসা এক বিবৃতিতে এ গ্রেফতারের তীব্র নিন্দা জানিয়ে আটকৃতদের অবিলম্বে মুক্তি দাবী করেছেন।

খাগড়াছড়িতে চাইনিজ এসএমজি ও জি-৩ রাইফেলের পর আরো একটি এম-১৬ রাইফেল উদ্ধার

total-arms

নিজস্ব প্রতিবেদক:

খাগড়াছড়ি জেলার মহালছড়ি উপজেলায় গতকালের চাইনিজ সাব মেশিন গান ও জি-৩ রাইফেল উদ্ধারের পর শনিবার সকালে একই স্থান থেকে ৩৮ রাউন্ড গুলিসহ যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি আরো একটি এম-১৬ রাইফেল উদ্ধার করা হয়েছে। পার্বত্যনিউজের মহালছড়ি প্রতিনিধি ও নিরাপত্তা বাহিনী সূত্র এ খবরের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

পার্বত্যনিউজ প্রতিনিধি জানিয়েছেন, এ নিয়ে মোট উদ্ধারের তালিকা হচ্ছে, একটি বিদেশী জি-৩ রাইফেল, একটি জি থ্রি রাইফেলের ম্যাগজিন, একটি চাইনিজ সাব মেশিনগান, একটি চাইনিজ সাব মেশিনগানের ম্যাগজিন, একটি এম-১৬ রাইফেল, এম-১৬ রাইফেলের ম্যাগজিন ১ টি, এম-১৬ রাইফেলের গুলি ৩৮ রাউন্ড, ১৯ রাউন্ড জি থ্রি রাইফেলের গুলি, ৪৯ রাউন্ড চাইনিজ সাব মেশিন গানের গুলি, একটি ওয়াকিটকি সেট, একটি মোবাইল, একটি ব্যাগ  উদ্ধার করে।

জানা গেছে, শুক্রবারের বন্দুক যুদ্ধ ও তল্লাশীর পর সেনাবাহিনী সারারাত বন-পর্বত সঙ্কুল গহীন এলাকা কঠোরভাবে ঘেরাও করে রাখে এবং শনিবার সকালের আলো ফোটার সাথে সাথে আরো একদফা নিবিড় তল্লাশী শুরু করে এবং এ দফা তল্লাশীতে গুলি ভর্তি ম্যাগজিনসহ এম-১৬ রাইফেলটি পাওয়া যায়।

পার্বত্যনিউজ প্রতিনিধি রাতেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং স্থানীয়দের বরাতে জানিয়েছে যে, সেনাবাহিনীর গুলিতে আরো একজন পাহাড়ী সন্ত্রাসী গুরুত্বর আহত হয়েছে। ঘটনাস্থলে আরো একটি যখমের আলামত রয়েছে। সম্ভবত সন্ত্রাসীরা তাদের আহত এ সদস্যকে সরিয়ে ফেলতে সমর্থ হয়।

hsfj

উল্লেখ্য, শুক্রবার ইতোপূর্বে প্রকাশিত খবরে জানানো হয়েছে যে, খাগড়াছড়িতে সেনাবাহিনী ও ইউপিডিএফ সন্ত্রাসীদের মধ্যে সংঘটিত এক বন্দুকযুদ্ধে সামরিক পোশাক পরিহিত এক ইউপিডিএফ সন্ত্রাসী মারা গেছে। এসময় একটি চাইনিজ সাব মেশিনগান ও একটি জি থ্রি রাইফেল ও বিপুল পরিমাণ গুলি ও সামরিক সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে বলে বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে।

সূত্র জানিয়েছে, জেলার সদর উপজেলার কুতুকছড়িতে ইউপিডিএফ’র ১৫-২০ সদস্যের একটি সশস্ত্র দল দলীয় প্রধানের নেতৃত্বে গোপন বৈঠক করে এবং পার্বত্য চট্টগ্রামের বিভিন্ন স্থান যেমনঃ তাইন্দং, গঙ্গারাম, সাজেক, বঙগাতলী, ঘিলাছড়ি, হামুক্কুছড়া, কুতুকছড়ি, মাইলছড়ি, সিদ্ধিছড়িসহ বিভিন্ন স্থানে নাশকতার পরিকল্পনা করছে বলে খবর পাওয়া যায়।

সূত্র মতে, গোপন বৈঠক শেষে ইউপিডিএফ’র সশস্ত্র দলটি গোপন আস্তানায় চলে যায়। আজ সন্ধ্যা ৬ টায় মহালছড়ি জোন সদর থেকে নিরাপত্তা বাহিনীর একটি দল দাতকুপিয়া এবং ভুয়াছড়ি এলাকার মধ্যবর্তী স্থানে গিয়ে ইউপিডিএফ’র সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের গোপন আস্তানাটির সন্ধান পায় এবং যৌথবাহিনী সন্ত্রাসীদের গোপন আস্তানা ঘিরে ফেলতে সক্ষম হয়।

যৌথবাহিনীর উপস্থিতি টের পেয়ে অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীরা নিরাপত্তা বাহিনীকে লক্ষ্য করে গুলি ছুঁড়তে শুরু করে। জবাবে নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযান দলটিও পাল্টা গুলি চালায়। এক পর্যায়ে সশস্ত্র সন্ত্রাসী দলটি অন্ধকার পাহাড়ে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।

fdawt

এসময় দুই পক্ষের মধ্যে বন্দুকযুদ্ধে সামরিক পোশাক পরিহিত ইউপিডিএফের এক সন্ত্রাসী গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যায়। এ সময় নিরাপত্তা বাহিনী তার কাছ থেকে একটি চাইনিজ সাব মেশিনগান (এসএমজি) উদ্ধার করে।

পার্বত্য চট্টগ্রামের স্থিতিশীল পরিস্থিতিকে বিনষ্ট করার লক্ষ্যে ভূমি দখল, বাঙ্গালী হটাও এবং তথাকথিত জুম্মল্যান্ড গঠনের চক্রান্ত নিয়ে বেশ কিছুদিন যাবত পাহাড়ি সশস্ত্র সংগঠনগুলো খুন, গুম, হত্যা, অপহরণ, চাঁদাবাজিসহ নানান সশস্ত্র অপপ্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। ইউপিডিএফ’র আজকের এই গোপন বৈঠক সেই গোপন অভিলাষ পূরণের অংশ বলে ধারণা করা হচ্ছে।

তবে ইউপিডিএফের প্রচার ও প্রকাশনা বিভাগের প্রধান নিরন চাকমা গণমাধ্যমকে তাদের সংগঠনের সাথে এ ধরণের কোনো সংঘর্ষের খবর অস্বীকার করেছেন।

ইউপিডিএফ সংগঠক মিঠুন চাকমা গ্রেফতার

mithun chakma
স্টাফ রিপোর্টার:

পার্বত্য চট্টগ্রামের আঞ্চলিক সংগঠন ইউপিডিএফের অন্যতম সংগঠক মিঠুন চাকমাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

সোমবার রাত সোয়া ১টার দিকে খাগড়াছড়ি সদরের নিজ বাড়ি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গোপন সংবাদের ভিত্তিতে খবর পেয়ে খাগড়াছড়ি জেলা পুলিশের একটি দল সোমবার দিবাগত রাত ১২ টার দিকে শহরের অর্পনাচরণ চৌধুরী পাড়ায় মিঠুন চাকমার নিজের বাড়ি ঘেরাও করে। এসময় বাড়ির দরোজা খুলতে না চাইলে পুলিশ দরোজা ভাঙার হুমকি দেয়। পরে স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলরের উপস্থিতিতে পুলিশের কাছে আত্মসমর্পন করে।

আটকের পর পুলিশ তাকে সদর থানায় নিয়ে এসেছে। তার বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর গাড়ি বহরে হামলা, দিঘীনালায় বিজিবি ক্যাম্পে হামলাসহ সদর থানায় ১০-১২টি মামলা রয়েছে বলে থানা পুলিশ জানিয়েছে।

এ ছাড়াও বিভিন্ন সামাজিক গণমাধ্যমে ও ব্লগে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ে সাম্প্রদায়িক ও রাষ্ট্র ও সংবিধান বিরোধী প্রচারণা চালানোয় তার বিরুদ্ধে আইসিটি এক্টেও মামলা করার কথা বিবেচনা করা হচ্ছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

মিঠুন চাকমা পার্বত্য চট্টগ্রাম ছাত্র পরিষদ-পিসিপির সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি ছিলেন। তিনি রাজনীতির পাশাপাশি লেখালিখ করেন। সামাজিক মাধ্যম ও ব্লগে তিনি সক্রিয়।

বিস্তারিত আসছে…….

১০ হাজারের বেশি সশস্ত্র সন্ত্রাসী দাপিয়ে বেড়াচ্ছে পার্বত্য অঞ্চল

অস্থির পাহাড় দিশেহারা মানুষ (২)

ততততত

আবু সালেহ আকন, পার্বত্যাঞ্চল থেকে ফিরে:

জেএসএস ও ইউপিডিএফের ১০ হাজারের বেশি সন্ত্রাসী দাপিয়ে বেড়াচ্ছে তিন পার্বত্য জেলা। পুলিশ ও গোয়েন্দা সূত্র বলেছে, এরা সবাই নিজ নিজ সংগঠনের বেতনভুক্ত কর্মকর্তা-কর্মচারী। একটি সুশৃঙ্খল বাহিনীতে যেরূপ পদ-পদবি রয়েছে এই সংগঠন দুটোর কর্মকর্তা-কর্মচারীদেরও তেমনি পদ-পদবি রয়েছে। তাদের বেতন স্কেলও রয়েছে। তাদের প্রত্যেকের রয়েছে ঝুঁকি ভাতা।

দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে কেউ যদি নিহত বা আহত হয় তবে তাদের জন্য রয়েছে সংগঠনের পক্ষ থেকে ক্ষতিপূরণ। শুধু পাহাড়ি সন্ত্রাসীরাই নয়, প্রতিবেশী দেশ মিয়ানমার থেকে আগত কিছু সন্ত্রাসীও জেএসএস ও ইউপিডিএফের হয়ে কাজ করছে।

স্থানীয় সূত্র এবং পুলিশ ও গোয়েন্দা তথ্য মতে তিন পার্বত্য জেলায় ১০ হাজারের ওপরে সশস্ত্র সন্ত্রাসী রয়েছে। এদের হাতে রয়েছে অত্যাধুনিক আগ্নেয়াস্ত্র। এদের মধ্যে বান্দরবান উপজেলাতেই রয়েছে পাঁচ হাজারের মতো সন্ত্রাসী। এদের মধ্যে কয়েকজন হলো এস মং ওরফে মেজর আশিষ, মনি চিং মার্মা, কে চিং মার্মা, সিলিপ ত্রিপুরা, ধং চং মার্মা, রাজেন্দ্র ত্রিপুরা, চায়নু মার্মা, হাচিং মার্মা, অঙ্গ মার্মা, কৃষ্ট, রাংকুনু ত্রিপুরা, নিমন্দ্র ত্রিপুরা, ছলেমুল ত্রিপুরা, অতিরাম, র‌্যাংকনো, বিক্রম, জন বাহাদুর, মারুং, সুমন দাস, নিমন্ত্র ত্রিপুরা, হামাজন ত্রিপুরা, লেনছন মেন্ডেলা, অংশৈপ্রু, সরেন্দ্র, নকুল, উইলিয়াম, মনিচিং, চাকনাই মুরং, অং কে জ, জেরী ত্রিপুরা।

কিছু বাঙালি নামের সশস্ত্র সন্ত্রাসীও রয়েছে। নামে বাঙালি হলেও তারা প্রতিবেশী মিয়ানমারের নাগরিক বলে জানা গেছে। এদের মধ্যে অন্যতম হলো মনছুর রহমান, জাকির হোসেন, শাহ আলম ও আব্বাস উদ্দিন।

চাঁদাবাজী

স্থানীয় সূত্র জানায়, কোথাও কোথাও জেএসএস আবার কোথাও ইউপিডিএফের আধিপত্য পুরো পাহাড়ে। তবে জেএসএস আর ইউপিডিএফ যে-ই হোক তাদের কর্মকাণ্ড সাধারণ পাহাড়ি ও বাঙালিদের মধ্যে চরম আতঙ্কের। বাঙালিদের চেয়েও পাহাড়ের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর লোকেরা তাদের কাছে বেশি পণবন্দী।

এর কারণ হিসেবে জানা যায়, বাঙালিরা সাধারণত লোকালয়ে বসবাস করে। শহর কিংবা বাজারের আশপাশে দলবদ্ধ হয়ে এদের বসবাস। আর পাহাড়িরা গহিন অরণ্যে বসবাস করে। অনেক সময় দেখা যায় পাহাড়ের চূড়ায় হয়তো একাকী একটি বাড়িতে বসবাস করছে কোনো পাহাড়ি উপজাতি পরিবার। যে কারণে তাদের সন্ত্রাসীরা সহজেই টার্গেট করতে পারে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এদের মূল কাজ হচ্ছে চাঁদাবাজি। বিভিন্ন সেক্টর থেকে এরা চাঁদা আদায় করে থাকে। নিবন্ধিত কোনো দল না হলেও পাহাড়ের জেলা উপজেলায় এই দু’টি সংগঠনের দলীয় কার্যালয় রয়েছে। একটি গোয়েন্দা প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, গত বছর শুধু বান্দরবান থেকেই জেএসএস ৩০ কোটি টাকার চাঁদা তুলেছে। এ বছর তাদের টার্গেট হলো ৫০ কোটি টাকা। এই দিয়েই দলের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা, রেশন, অবসরকালীন ভাতা, ক্ষতিপূরণ ইত্যাদি দেয়া হয়। এ ছাড়া পাহাড়ের আঞ্চলিক সংগঠনগুলো চাঁদার এ অর্থ দিয়ে দেশ-বিদেশে বাঙালি বিদ্বেষী প্রচারণা ও তাদের অস্ত্র ভাণ্ডারকে সমৃদ্ধ করার কাজ করে থাকে বলে একটি গোয়েন্দা সূত্র জানায়।

গোয়েন্দা প্রতিবেদন অনুযায়ী, সরকারি কর বা ভ্যাটের ন্যায় এখানে প্রকাশ্যে চলে চাঁদাবাজি। সামান্য কলার ব্যবসা থেকে শুরু করে বড় বড় ব্যবসা-বাণিজ্য, জেলে, খামার, ঠিকাদারি, উন্নয়নমূলক কাজ সব কিছু থেকে আদায় করা হয় চাঁদা। আর তা না দিলে নির্যাতন, নিপীড়ন থেকে শুরু করে অপহরণ, খুন, ধর্ষণ হওয়ার শঙ্কা ভুক্তভোগীদের। প্রাণভয়ে মুখও খুলতে চান না তারা। স্বয়ং পুলিশ প্রশাসনও তাদের কাছে পণবন্দী বলে অভিযোগ।

রাঙ্গামাটির বিলাইছড়ি থানার ওসি মঞ্জুরুল আলম মোল্লা বলেন, গোপনেও কেউ চাঁদা দেয় কি না তা স্বীকার করে না। শুনি চাঁদা নেয়। কিন্তু কারা দেয় তার খোঁজ পাওয়া যায় না। ভুক্তভোগী কয়েকজন বলেন, চাঁদা যে দিচ্ছে তার হদিস পাওয়া যায় না।

সম্প্রতি পাহাড়ে বিভিন্ন পণ্যের ওপর ‘শান্তি চুক্তি’ সমর্থক জনসংহতি সমিতি (জেএসএস) ও চুক্তি বিরোধী ইউপিডিএফের আরোপ করা চাঁদার তালিকা করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

চাঁদাবাজি

ওই তালিকা অনুযায়ী, গাছে প্রতি ঘনফুট ও বাঁশে প্রতি শ’ হিসেবে চাঁদা আদায় করা হয়। বর্তমানে প্রতি ঘনফুট সেগুন গোল গাছে জেএসএসকে চাঁদা দিতে হয় বছরে ৪০ টাকা, ইউপিডিএফকে দিতে হয় ৫০ টাকা। এভাবে সেগুন রদ্দা, গামারী গোল-রদ্দা, লালি গোল-রদ্দার ওপর আলাদা আলাদা হারে চাঁদা ধার্য করা হয়েছে।

বর্তমানে প্রতি শ’ বাঁশে বছরে জেএসএস-ইউপিডিএফ উভয়েই চাঁদা আদায় করে ৫০০ টাকা করে। এভাবে বাইজ্জা বাঁশের জন্য রয়েছে আলাদা রেট। প্রথম শ্রেণীর মাছ ব্যবসায়ীদের জেএসএসকে বছরে চাঁদা দিতে হয় ৪০ হাজার, ইউপিডিএফকে ৫০ হাজার। এভাবে দ্বিতীয় ও তৃতীয় শ্রেণীর ব্যবসায়ীদের পৃথক হারে গুনতে হয় চাঁদা।

তালিকা থেকে আরো জানা যায়, বিভিন্ন ধরনের মাছ ধরার জালের ওপর আলাদা আলাদা হারে বাৎসরিক (নয় মাসে বছর) চাঁদা আদায় করা হয়। কেসকি জাল থেকে জেএসএস আদায় করে ছয় হাজার টাকা, ইউপিডিএফ সাত হাজার। এভাবে ধর্ম জাল, টেংরা জাল, কুত্তা জাল, ভাসা জাল, টেইনা জাল, লুই জাল, নাইট জাল, বড়শির ওপর আলাদা হারে চাঁদা আদায় করে তারা। এ ছাড়া সব ধরনের জেলেদের বছরে চাঁদা দিতে হয় জেএসএসকে ৭০০, ইউপিডিএফকে ৫০০।

পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসরত উপজাতি বাসিন্দাদেরও দিতে হয় বাৎসরিক চাঁদা। প্রতি উচ্চবিত্ত পরিবারের জন্য জেএসএস- ইউপিডিএফের ধার্যকৃত চাঁদা ৮০০ টাকা। মধ্যবিত্ত পরিবার প্রতি জেএসএস আদায় করে ৫০০ এবং ইউপিডিএফ ৬০০। নি¤œবিত্ত পরিবার প্রতি জেএসএস ৩০০, ইউপিডিএফ ৪০০ টাকা চাঁদা আদায় করে।

এ চাঁদার আওতায় বাদ পড়েনি কলার কাঁদিও। প্রতি কাঁদি কলার জন্য বর্তমানে জেএসএসকে ছয় টাকা ও ইউপিডিএফকে দিতে হয় ১০ টাকা। এ ছাড়া গরু ও ছাগল বিক্রির ওপর যথাক্রমে জেএসএস ১২ ও ৬ শতাংশ এবং ইউপিডিএফ ২০০ ও ১০০ হারে চাঁদা আদায় করে। দু’টি মুরগি বিক্রি করলে দুই টাকা, চার টাকা চাঁদা দিতে হয়।

বিলাইছড়ির আওয়ামী লীগ নেতা প্রহরকান্তি চাকমা বলেন, চাঁদাবাজি আগের তুলনায় বেড়েছে। তবে ওই এলাকায় ইউপিডিএফ নেই বলে তিনি উল্লেখ করেন। বান্দরবানের কিউচিং মারমা বলেন, দুর্বৃত্তদের চাঁদাবাজিতে পুরো পাহাড়ি অঞ্চল এখন অস্থির। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এই এলাকার বনবিভাগের এক কর্মকর্তা বলেন, চাঁদা না দিয়ে এখানে কারো বাস করা সম্ভব নয়। সাজেকের খ্রিষ্টান ধর্মীয় নেতা ময়তে লুসাই বলেন, অনেকবার তার কাছে চাঁদা চেয়েছে। কিন্তু তিনি দেননি। তিনি বলেন, একবার দিলেই ওরা সুযোগ পেয়ে যাবে। তখন বারবার চাইবে।

বাৎসরিক এ চাঁদা আদায় ছাড়াও বিভিন্ন দিবসকে সামনে রেখে বেপরোয়া চাঁদাবাজির অভিযোগ রয়েছে ইউপিডিএফ-জেএসএসসহ আঞ্চলিক সংগঠনগুলোর বিরুদ্ধে। গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, খাগড়াছড়ি ও রাঙামাটিতে চাঁদাবাজির শীর্ষে রয়েছে শান্তিচুক্তি বিরোধী সংগঠন ইউনাইটেড পিপল ডেমোক্র্যাটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ)। এর পরের অবস্থানে রয়েছে চুক্তির সমর্থক পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি। এদের অঙ্গ সংগঠন যেমন পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ, হিল উইম্যান ফেডারেশন বিভিন্নভাবে পাহাড়ে চাঁদাবাজি করছে বলে অভিযোগ আছে।

পার্বত্য চট্টগ্রামের সংরক্ষিত মহিলা এমপি ফিরোজা বেগম চিনু বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শান্তি চুক্তি করে পাহাড়ে অনেক উন্নয়ন করেছেন। কিন্তু কিছু সশস্ত্র গ্রুপ চাঁদাবাজি, খুন, অপহরণ করে পাহাড়কে অস্থিতিশীল করার পাঁয়তারা করছে। তিনি এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

– সূত্র: নয়াদিগন্ত