রক্তের ঝর্ণা বইছে পার্বত্য জনপদে ॥ উপদলীয় সংঘাতে ১৪ মাসে নিহত ৪৯ জন

তোফাজ্জল হোসেন কামাল :
সবুজ পাহাড় আবার রক্তে লাল হয়েছে। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর পাহাড়ে আঞ্চলিক রাজনৈতিক দলের মধ্যে যে ভ্রাতৃঘাতী সংঘাত শুরু হয়েছিল, তার সর্বশেষটা ঘটেছে ৪ ফেব্রুয়ারি সোমবার রাঙ্গামাটির কাপ্তাইয়ে। সেদিন দূর্বৃত্তদের গুলীতে উপজেলার রাইখালীর কারিগর পাড়ায় দু’জন নিহত হয়েছেন। এর আগে গত ২৯ জানুয়ারি মঙ্গলবার দুপুরে একই জেলার লংগদুতে। এ নিয়ে গত ১৪ মাসে পাহাড়ের সন্ত্রাসপ্রবণ জেলা রাঙ্গামাটি ও খাগড়াছড়িতে ৪৯ জনের অকাল মৃত্যু ঘটেছে।

প্রতিটি হত্যাকাণ্ডের পর পরই বিবদমান গ্রুফগুলো ঘটনার জন্য পরস্পরকে দোষারোপ করে আসছে। সর্বশেষ কাপ্তাইয়ের ঘটনার জন্যও পাহাড়ের আঞ্চলিক দল জনসংহতি সমিতি (এমএন লারমা) পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতিকে (জেএসএস) দায়ী করেছে। তবে জেএসএস অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

জানা গেছে, রাঙামাটির কাপ্তাই উপজেলার রাইখালী ইউনিয়নে কারিগড় পাড়ায় দুর্বৃত্তদের গুলীতে সোমবার বিকেলে নিহত দুজনের মধ্যে একজন জনসংহতি সমিতির (এমএন লারমা) কর্মী। অন্যজন স্থানীয় বাঙালি বাসিন্দা। তবে কাপ্তাইর রাইখালী ইউনিয়েনর কারিগর পাড়ায় নিহত দুইজনকে আওয়ামী লীগের কর্মী বল দাবি করা হয়েছে। সোমবার রাতে রাঙামাটি জেলা আওয়ামী লীগের দফতর সম্পাদক রফিক আহম্মদ তালুকদার স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ দাবি করা হয়। এ সময় জেএসএস (সন্তু লারমা) গ্রুপের সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা গুলী করে তাদেরকে হত্যা করেছে বলে অভিযোগ করা হয়।

এর আগে ২৯ জানুয়ারির ঘটনার জন্য ইউপিডিএফ জনসংহতি সমিতি (এমএন লারমা)কে দায়ী করেছিল। তবে এমএন লারমা তা অস্বীকার করে। এর আগে ১৯ জানুয়ারি খাগড়াছড়ির জেলা সদরে পেরাছড়া গ্রামে রনীক ত্রিপুরা নামে ইউপিডিএফের কর্মী নিহত হন।

এর আগে গত ৪ জানুয়ারি শুক্রবার রাঙামাটির বাঘাইছড়িতে জনসংহতি সমিতির (এমএন লারমা) এক কর্মী নিহত হন।

আঞ্চলিক দল ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ), জনসংহতি সমিতি (এমএন লারমা) ও ইউপিডিএফ গণতান্ত্রিক দলের মধ্যে এই সংঘাত চলে আসছে। এক একটি হত্যাকাণ্ডের পর দলগুলো পরস্পরের ওপর দায় চাপায়।

জানতে চাইলে পার্বত্য নাগরিক কমিটির সভাপতি গৌতম দেওয়ান বলেন, ‘পার্বত্য নাগরিক কমিটির উদ্যোগে পাহাড়ে ভ্রাতৃঘাতী সংঘাত বন্ধের চেষ্টা করা হচ্ছে। আমরা আঞ্চলিক রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করে যাচ্ছি। সংঘাত চলমান থাকায় আমরা উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠার মধ্যে রয়েছি।’

জানা যায়, ১৯৯৭ সালে পার্বত্য চুক্তির পর জেএসএস ভেঙে পর্যায়ক্রমে কয়েকটি দল গঠিত হয়। এরপর ভ্রাতৃঘাতী সংঘাতে অশান্ত হয়ে পড়ে পাহাড়। ২০১৫ সালে আঞ্চলিক দলগুলোর মধ্যে একটি সমঝোতা হয়। এরপর সংঘাত প্রায় আড়াই বছর বন্ধ ছিল। কিন্তু ২০১৭ সালে ১৫ নভেম্বর ইউপিডিএফ ভেঙে ইউপিডিএফ গণতান্ত্রিক নামে অপর একটি দল গঠিত হওয়ার ২০ দিনের মাথায় পুনরায় সংঘাত শুরু হয়।

তবে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর ভ্রাতৃঘাতী সংঘাত কিছুটা কমে আসে। নির্বাচনে ইউপিডিএফ খাগড়াছড়িতে ও জনসংহতি সমিতি (জেএসএস) রাঙামাটিতে স্বতন্ত্র হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে। নির্বাচনকে সামনে রেখে এই দুই দলের মধ্যে একটা অলিখিত ঐক্যও হয় বলে সে সময় গণমাধ্যমের খবরে জানা যায়।

আর এই দুই দল ভেঙে গঠিত জেএসএস এমএন লারমা এবং ইউপিডিএফ গণতান্ত্রিক নির্বাচনে আওয়ামী লীগকে সমর্থন দেয়। দুই জেলায় তারা ইউপিডিএফ এবং জেএসএস প্রার্থীর সরাসরি বিপক্ষে কাজ করে। এই দ্বন্ধ থেকে নির্বাচনের এক সপ্তাহ আগে পানছড়িতে হামলায় দুজন নিহত হন। তাঁদের একজন ইউপিডিএফ সমর্থক।

এ নিয়ে দল দুটির ওপর প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী আঞ্চলিক দল দুটি ক্ষুব্ধ হয়। নির্বাচনের পর রাঙামাটিতে কারচুপির অভিযোগ এনে জেএসএস প্রার্থী এবং দশম সংসদের সংসদ সদস্য উষাতন তালুকদার ফলাফল প্রত্যাখ্যান করেছেন।

১ জানুয়ারির ওই সংবাদ সম্মেলনে জেএসএস (এমএন লারমা) ও আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে ভোটকেন্দ্র দখল এবং জাল ভোট দেয়ার অভিযোগ করা হয়। এ সব কারণে নির্বাচন শেষ হতে না হতেই আবারও সহিংসতা শুরু হয় বলে বিভিন্ন মহল ধারণা করছে। ৪ জানুয়ারি বাঘাইছড়িতে এমএন লারমার কর্মী বসু চাকমা হত্যার ঘটনায় জেএসএসকে দায়ী করে দলটি।

অভিযোগ অস্বীকার করে জেএসএস কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য গুনেন্দু বিকাশ চাকমা বলেন, একাদশ সংসদ নির্বাচনে সাধারণ মানুষের ভোট কেড়ে নিয়েছে এমএন লারমা। বাঘাইছড়ি উপজেলার তুলাবান ও পাবলাখালী গ্রামে ভোটারদের সঙ্গে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। সাধারণ মানুষ ক্ষেপে গিয়ে হয়তো বসু চাকমাকে হত্যা করেছে। এঘটনায় জেএসএস দায়ী নয়।

তবে সংঘাতের জন্য আঞ্চলিক দলগুলো প্রশাসন এবং সরকারকে দায়ী করছে। ইউপিডিএফের মুখপাত্র মাইকেল চাকমা বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে শাসকগোষ্ঠীরা ভ্রাতৃঘাতী সংঘাত জিইয়ে রেখেছে। সরকার চাইলে যেকোনো সময় সংঘাত বন্ধ করতে পারে।

জানতে চাইলে রাঙামাটির পুলিশ সুপার আলমগীর কবির বলেন, ভ্রাতৃঘাতী সংঘাত আঞ্চলিক দলগুলোর মধ্যে হচ্ছে। হত্যাকা-গুলো নিয়ে তদন্ত চলছে। সংঘাত কমিয়ে আনতে পদক্ষেপও নেওয়া হচ্ছে।

কাপ্তাই’র রাইখালিতে যে দু’জন প্রাণ হারিয়েছেন, তারা পাহাড়ে স্থানীয় বিববদমান রাজনৈতিক দলগুলোর সংঘাতের বলি। নিহত দু’জনের মধ্যে একজন জনসংহতি সমিতির (এমএন লারমা) কর্মী। অন্যজন স্থানীয় বাঙালি বাসিন্দা।

গত সোমবার বিকেলের এ ঘটনার জন্য পাহাড়ের আঞ্চলিক দল জনসংহতি সমিতি (এমএন লারমা) পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতিকে (জেএসএস) দায়ী করেছে। তবে জেএসএস অভিযোগ অস্বীকার করেছে। এ নিয়ে রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ি জেলায় বিবদমান এসব গোষ্ঠীর সংঘাতে গত ১৪ মাসে ৪৯ জন নিহত হলেন।

সর্বশেষ গত ২৯ জানুয়ারি রাঙামাটির লংগদু উপজেলার লংগদু সদর ইউনিয়নের ভুইয়োছড়া গ্রামে ইউপিডিএফের কর্মী পবিত্র চাকমা নিহত হন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সোমবার বেলা তিনটার দিকে রাইখালীর কারিগড় পাড়ার ফরেস্ট অফিস এলাকায় একটি চা-দোকানে বসে জেএসএসের (এমএন লারমা) কর্মী মংসানু মারমা কয়েক বন্ধুর সঙ্গে গল্প করছিলেন। এ সময় হঠাৎ করে ৮ থেকে ১০ জন দুর্বৃত্তের দল তাঁদের ঘেরাও করে। পরে পালানোর চেষ্টা করলে এলোপাতাড়ি ব্রাশফায়ার করা হয়।

মংসানু মারমা (৪০) ও ট্রাকচালকের সহকারী মো. জাহিদুল ইসলাম (৩২) গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান। নিহত জাহিদুলের বাড়ি নোয়াখালীতে। তিনি রাইখালি ইউনিয়নের নারানগিরি গ্রামে থাকতেন। ঘটনার পর কারিগড় পাড়ার এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে যান।

রাইখালী এলাকাবাসী জানান, দীর্ঘ সময় ধরে কাপ্তাই উপজেলায় জনসংহতি সমিতির ( জেএসএস) আধিপত্য ছিল। গত একাদশ সংসদ নির্বাচনের পর জনসংহতি সমিতির (এমএন লারমা) কিছু নেতা-কর্মী রাইখালী এলাকায় এসে দলীয় কর্মকান্ড শুরু করেন। তাঁরা সেখান থেকে রাজস্থলীর বাঙালহালিয়া বাজারেও দলীয় কাজ করতেন।

ঘটনার দিন সকালে সাংগঠনিক কাজে জনসংহতি সতিমির (এমএন লারমা) কর্মী মংসানু মারমা কারিগড়পাড়ায় যান। মংসানু মারমার বাড়ি একই ইউনিয়নের নারানগিরিমুখ গ্রামে। ঘটনাস্থল থেকে তাঁর বাড়ি চার থেকে পাঁচ কিলোমিটার।

জনসংহতি সমিতির (এমএন লারমা) কেন্দ্রীয় কমিটির তথ্য ও প্রচার সম্পাদক সুধাকর ত্রিপুরা বলেন, ‘পরিকল্পিতভাবে কাপ্তাইয়ে জনসংহতি সমিতির (জেএসএস) সশস্ত্র সদস্যরা এ হামলা চালিয়েছে। ঘটনায় আমাদের একজন সক্রিয় কর্মী ও একজন সাধারণ বাঙালি নিহত হয়েছেন।’

এ ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়ে ও প্রকৃত অপরাধীকে আইনে আওতায় এনে শাস্তিও দাবি করেন তিনি।
এ অভিযোগের বিষয়ে জনসংহতি সমিতির (জেএসএস) তথ্য ও প্রচার বিভাগের সদস্য দীপায়ন খীসা বলেন, এ ঘটনায় জনসংহতি সমিতির (জেএসএস) সম্পৃক্ততার প্রশ্নই আসে না এটা তাদের বিরোধের ফসল।

সূত্র: দৈনিক সংগ্রাম

জুম্ম জাতির অধিকার আদায়ে ইউপিডিএফ (প্রসীত) জুম্ম জাতির সাথে প্রতারণা করেছে: ইউপিডিএফ গণতান্ত্রিক

ডেক্স রিপোর্ট:

পাহাড়ে জুম্ম জাতির অধিকার আদায়ের নামে ইউপিডিএফ (প্রসীত) জুম্ম জাতির সাথে প্রতারণা করেছে। বার বার সাধারণ মানুষের ভাগ্য বদলের কথা বলে তাদের নানা প্রত্যাশা পুরণের স্বপ্ন দেখিয়ে ভোট আদায় করে জয়ের পর তারা জুম্ম জাতিকে নিয়ে তামাশা করে আসছে।

শনিবার(২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে খাগড়াছড়ির পানছড়িতে উপজাতীয় সাংস্কৃতিক সংঘ’র কার্যালয়ে ইউপিডিএফ গণতান্ত্রিকের উদ্যোগে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে প্রার্থী দেওয়া নিয়ে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন।

মতবিনিময় সভায়, আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে প্রসীত খীসার নেতৃত্বাধীন ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ) সমর্থিত প্রার্থীদের বর্জনের আহ্বান জানানো হয়েছে।

সভায় ইউপিডিএফ গণতান্ত্রিক এর পানছড়ি ইউনিট প্রধান আলোকময় চাকমা, সহকারী ইউনিট প্রধান রোমেল চাকমা ও স্থানীয় হেডম্যান, কার্বারী, জনপ্রতিনিধি, যুব সমাজের প্রতিনিধিসহ গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গরা এতে উপস্থিত ছিলেন।

বক্তারা ইউপিডিএফ সংগঠনের নাম ব্যবহার করে তাদের আখের গুছিয়ে জুম্মজাতির ভবিষ্যৎ নিয়ে খেলছে বলে অভিযোগ তোলেন। ইউপিডিএফ পাহাড়ে লাগামহীন ভাবে চাঁদাবাজী, খুন, অপহরণ, নির্যাতন চালিয়ে আসছে বলেও অভিযোগ করা হয়। তাদের হত্যাযজ্ঞের ভয়ে সাধারণ মানুষ এখন অনিরাপদ এবং ভীত বলে উল্লেখ করে সংগঠনের নাম ব্যবহার করে আয়েশী জীবন যাপনেই ইউপিডিএফ প্রসীত বাহিনীর লক্ষ্য বলেও অভিযোগ করেন উপস্থিত নেতৃবৃন্দরা।

বক্তারা পাহাড়ে সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির পরিবর্তে উন্নয়নের পথে জুম্মজাতির প্রত্যাশা ও স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য ইউপিডিএফ গণতান্ত্রিক প্রার্থী দেওয়ার লক্ষে সকলের মতামত চান। এ সময় যুব সমাজের সমর্থন চান। এতে উপস্থিত নেতৃবন্দরা ইউপিডিএফ গণতান্ত্রিক এর প্রার্থী দিলে জয়ের ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করে প্রার্থী দেওয়ার আহ্বান জানান। এছাড়াও সাম্প্রতিককালে পাহাড়ে হত্যাকাণ্ডের জন্য ইউপিডিএফকে দায়ী করেন।

খাগড়াছড়িতে ইউপিডিএফ (মূল)’র চাঁদাবাজ আটক

 

নিজস্ব প্রতিবেদক, খাগড়াছড়ি:

খাগড়াছড়ি সদর উপেজলার প্যারাছড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে শ্যামাপান দেবান (৩০) ওরফে কুশল চাকমা নামে ইউপিডিএফ এর এক চাঁদাকাজকে আটক করেছে নিরাপত্তাবাহিনী। সে মহালছড়ি উপজেলার চাদ গরিয়ার জ্যেতির্মল চাকমার ছেলে।

বৃহস্পতিবার (৩১ জানুয়ারি) তাকে আটক করা হয়। এ সময় তার নিকট থেকে আদায়কৃত চাঁদার নগদ ১৫,৪২৭.০০ টাকা, ০২টি চাঁদা আদায়ের রশিদ, ০১টি ইউপিডিএফ কর্তৃক প্রকাশিত বই উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত দ্রব্যাদিসহ ওই চাঁদাকাজকে পুলিশের নিকট হস্তান্তর করার কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

নিরাপত্তাবাহিনী সূত্র জানায়, খাগড়াছড়ি সদর উপেজলার প্যারাছড়া এলাকায় কিছু সশস্ত্র সন্ত্রাসী চাঁদা আদায় করছে মর্মে তথ্য পাওয়া যায়। এপ্রেক্ষিতে খাগড়াছড়ি সদর জোন থেকে নিরাপত্তাবাহিনীর একটি টহলদল অভিযান পরিচালনা করে। এসময় চাঁদা আদায়কারী দুইজন সশস্ত্র সদস্যকে টহলদল দেখতে পায় এবং তাদেরকে আটক করার প্রচেষ্টা চালায়। কিন্ত তারা উভয়েই দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করে। তাৎক্ষনিক টহলদল তাদের পিছু নিয়ে ৬০০-৭০০ গজ ধাওয়া করে শ্যামাপান দেবান (৩০) ওরফে কুশল চাকমাকে আটক করে।

জানাযায়, আটককৃত ব্যক্তির নামে খাগড়াছিড় সদর থানা মামলা নং-০৮, ধারা: ১৭১/৩৮৬/৩৪/অস্ত্র বি: ১৯৭৮ সালে অস্ত্র আইন (সংশোধিত ২০০২) এর ১৯-এ তারিখ ১৩ নভেম্বর ২০১৬ মোতাবেক মামলা রয়েছে। আটকৃত ব্যক্তি শ্যামাপান দেবান (৩০) ওরফে কুশল চাকমা দীর্ঘিদিন যাবত পলাতক অবস্থায় ছিল বলেও জানা যায়।

এ ব্যাপারে খাগড়াছড়ি সদর জোন কমান্ডার লে. কর্নেল মোহাম্মদ আরাফাত হোসেন বলেন, ইউপডিএফ (মূল) এর সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে চাঁদা আদায় করছে এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা করছে মর্মে গোয়েন্দা তথ্য রয়েছে। গোয়েন্দা তথ্যের উপর ভিত্তি করে ওই জোনের অপারেশন কার্যক্রম নিয়মিত পরিচালনা করা হচ্ছে। এরই প্রেক্ষিতে গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী ওই জোনের উদ্যোগে অপারেশন পরিচালনা করা হলে উল্লেখিত চাঁদাবাজকে আটক করা হয়। আটককৃত চাঁদাবাজ গাছবান, ভাইবোনছড়া, অমৃত কারবারীপাড়া, নারায়নখাইয়া, প্যারাছড়া এলাকার বিভিন্ন স্থানে চাঁদা আদায় করছে এবং নিয়মিত চলাচল করছে মর্মে গোয়েন্দা তথ্য রয়েছে। ওই কার্যক্রমে জড়িত ব্যক্তি এবং পরিকল্পনাকারীদের জোনের আওতাধীন এলাকায় কোন প্রকার অবৈধ কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতে দেয়া হবে না এবং এ  ব্যাপারে ভবিষ্যতে আরো কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ কর হবে।

লংগদুতে ইউপিডিএফ কমান্ডারকে গুলি করে হত্যা

 

লংগদু প্রতিনিধি / নিজস্ব প্রতিনিধি, রাঙামাটি:

রাঙামাটির লংগদু উপজেলায় ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট্র’র (ইউপিডিএফ) এরিয়া কমান্ডার পবিত্র চাকমাকে (৪৬) গুলি করে হত্যা করেছে একদল দুর্বৃত্ত। মঙ্গলবার (২৯ জানুয়ারি) দুপুর ২টার দিকে উপজেলার ভূইয়াছড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে- উপজেলার ইউপিডিএফ নিয়ন্ত্রিত ভূইয়াছড়া এলাকায় কমান্ডার পবিত্র তার এক সঙ্গীকে নিয়ে একটি ঘরে আড্ডা দিচ্ছিলেন। এসময় একদল অস্ত্রধারী দুর্বৃত্ত ওই ঘরে ঢুকে ব্রাশ ফায়ার করলে ঘটনাস্থলে পবিত্র নিহত হয়। এসময় তার সঙ্গী পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। সূত্রটি আরও জানায়- চাঁদার টাকা ভাগাভাগি নিয়ে নিজেদের মধ্যে অন্তর্কোন্দলের জের ধরে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে।

তবে স্থানীয় ইউপিডিএফ এ ঘটনার জন্য তাদের প্রতিপক্ষ জেএসএস সংস্কারকে দায়ী করেছে। তবে স্থানীয় জেএসএস এ ঘটনা অস্বীকার করে বলেন- এটি ইউপিডিএফ নিয়ন্ত্রিত এলাকা। ইউপিডিএফ নিজেদের অন্তর্কোন্দলের কারণে এ ঘটনা ঘটিয়েছে।

লংগদু থানার অফিসার ইনচার্জ রঞ্জন কুমার সামন্ত ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, লংগদু সদর ইউনিয়নের ভূইয়াছড়া এলাকায় পবিত্র চাকমা নামে একজনকে গুলি করে হত্যার খবর পেয়েছি।

বাঘাইছড়িতে ইউপিডিএফ-জেএসএস গোলাগুলি

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাঙামাটি:

রাঙামাটির দুর্গম বাঘাইছড়ি উপজেলায় ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ) এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি সংস্কার (পিসিজেএসএস) এমএর লারমা গ্রপের মধ্যে গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে।

রবিবার (২৭ জানুয়ারি) সকালে সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার বঙ্গলতলী ইউনিয়নে এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে,  উপজেলার বঙ্গলতলী ইউনিয়নের সাধনা চোখ বন বিহারের পাশে ইউপিডিএফ এবং জেএসএস সংস্কার তাদের আধিপত্য বিস্তার এবং এলাকা নিয়ন্ত্রণ নিতে উভয় পক্ষ গুলিবিনিময় করে। তবে গোলাগুলির ঘটনায় কোনো পক্ষের  মধ্যে হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। দুপুর পর্যন্ত উভয় পক্ষের মধ্যে গোলাগুলির ঘটনা স্থায়ী ছিলো।

এ ঘটনার পর পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। বর্তমানে  ওই এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

বাঘাইছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এম এ মনজুরুল আলম জানান- লোক মুখে শুনেছি সাধনা চোখ বন বিহারের পাশে পাহাড়ের দু’টি সশস্ত্র আঞ্চলিক দল এলাকা নিয়ন্ত্রণ নিতে গুলাগুলি করেছে।

নানিয়ারচরে ইউপিডিএফ’র কালেক্টর আটক

 

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাঙামাটি:

রাঙামাটির নানিয়ারচর উপজেলা থেকে ইউপিডিএফ’র দু’কালেক্টরকে আটক করেছে যৌথবাহিনী।

সোমবার (২১ জানুয়ারি)সন্ধ্যার দিকে উপজেলার ঘিলাছড়ি এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয়।

আটককৃত ব্যক্তিরা হলেন-রাঙামাটির লংগদু উপজেলার  মধ্য খারিকাটা গ্রামের অশ্বহামা চাকমার ছেলে বোধিস্বত্ত চাকমা ওরফে পিপলু (৩৮) এবং একই উপজেলার বড়াদম গ্রামের সুমতি রঞ্জন চাকমার ছেলে শুশান্ত চাকমা ওরফে অটল চাকমা (৪০)।

এসময় তাদের কাছ থেকে একটি মোটরসাইকেল, নগদ ২১হাজার ৭৭৩টাকা, চাঁদা আদায়ের রশিদ, মোবাইল ফোন ৪টি, জাতীয় পরিচয় পত্র ২টি, ব্লেড ৪টি, ঘড়ি ২টি, চশমা ২টি এবং ওই এলাকায় বিভিন্ন দোকান থেকে চাঁদা আদায়ের টোকেন উদ্ধার করা হয়।

যৌথবাহিনী সূত্রে জানানো হয়- আটককৃত ব্যক্তিরা চাঁদা আদায় করে ঘিলাছড়ি এলাকা দিয়ে যাওয়ার সময় তাদের গতিবিধি সন্দেহ হলে যৌথবাহিনী তাদের আটক করে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটককৃতরা ইউপিডিএফ মূল সংগঠনের সক্রিয় কর্মী এবং ওই এলাকায় ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চাঁদা আদায় করে বলে যৌথবাহিনী সূত্রে জানানো হয়।

নানিয়ারচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কবির হোসেন জানান- এ ব্যাপারে আমি এখনো অবগত হতে পারিনি। জানতে পারলে  ঘটনার সম্পর্কে  বিস্তারিত বলা যাবে।

খাগড়াছড়িতে ইউপিডিএফ সদস্যকে হত্যার নিন্দা

প্রেসবিজ্ঞপ্তি:

সদর উপজেলার গাছবানে নিজবাড়িতে পিপলু ত্রিপুরা ওরফে রনি ত্রিপুরা নামে ইউপিডিএফ সদস্যকে গুলিকরে হত্যার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে ইউপিডিএফ।

ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট(ইউপিডিএফ)-এর খাগড়াছড়ি জেলা ইউনিটের ভারপ্রাপ্ত প্রধান সংগঠক উজ্জ্বল স্মৃতি চাকমা রবিবার(২০ জানুয়ারি)সংবাদ মাধ্যমে এক বিবৃতিতে এ নিন্দা জানান।

বিবৃতিতে তিনি এ হত্যার ঘটনাকে পরিকল্পিত উল্লেখ করে বলেন, শনিবার রাত সাড়ে আটটার সময় সংস্কারবাদী জেএসএস সন্ত্রাসীরা নিজবাড়িতে রনি ত্রিপুরাকে গুলিকরে হত্যার পর পালিয়ে যায়।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, খাগড়াছড়িতে একের পর এক ইউপিডিএফ ও তার সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মী ও সমর্থককে হত্যাকরা হলেও খুনীদের গ্রেফতার করা হচ্ছে না।  সন্ত্রাসীদের লেলিয়ে দিয়ে খুন, গুম, অপহরণ, চাঁদাবাজিসহ নানা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়ে এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েমের ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি। প্রশাসন কিছুতেই এই হত্যার দায় এড়াতে পারে না বলেও যোগ করেন তিনি।

ইউপিডিএফ নেতা অবিলম্বে রনি ত্রিপুরার খুনিদের গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

উল্লেখ্য, রনি ত্রিপুরা কয়েক বছর আগে এক দুর্ঘটনায় পায়ে মারাত্মক আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে পঙ্গু অবস্থায় জীবন-যাপন করছিলেন এবং বাড়িতে চিকিৎসারত অবস্থায় ছিলেন।

খাগড়াছড়িতে ৫ম উপজেলা পরিষদ নির্বাচনকে ঘিরে সক্রিয় ইউপিডিএফ

পার্বত্যনিউজ রিপোর্ট:
পঞ্চম উপজেলা পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে খাগড়াছড়িতে সক্রিয় হয়ে উঠেছে আঞ্চলিক রাজনৈতিক সংগঠন ইউপিডিএফ(প্রসীত)। যৌথ বাহিনীর সাঁড়াশি অভিযানে মাঠ ছাড়া সংগঠনটি একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে সক্রিয় হয়ে ওঠে। উপজেলা নির্বাচনকে ঘিরে আবারও মাঠ দখলের জন্য শক্তি বৃদ্ধি করছে। বাড়িয়েছে চাঁদাবাজি ও প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করার তৎপরতা।

চলতি বছরে এ পর্যন্ত খাগড়াছড়িতে দুটি লাশ পড়েছে। তবে প্রশাসন বলছে, সন্ত্রাসীরা উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে প্রভাব ফেলতে পারবে না। তাদের গ্রেফতারে যৌথ বাহিনীর অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

৯ উপজেলা নিয়ে গঠিত খাগড়াছড়ি জেলা। পঞ্চম উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের প্রথম ধাপে জেলার খাগড়াছড়ি সদর, রামগড়, মানিকছড়ি, মাটিরাঙা ও মহালছড়ি উপজেলা পরিষদে নির্বাচন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

২০১৪ সাল থেকে চার ধাপে অনুষ্ঠিত গত চতুর্থ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে পাঁচ উপজেলা পরিষদে ইউপিডিএফ(প্রসীত), দুটি বিএনপি, একটি আওয়ামী লীগ ও একটিতে জেএসএস(এমএন) প্রার্থীরা নির্বাচিত হন। পঞ্চম উপজেলা পরিষদে আওয়ামী লীগ, ইউপিডিএফ(প্রসীত) ও জেএসএস(এমএন) সম্ভাব্য প্রার্থীরা তৎপরতা শুরু করলেও বিএনপির কোন তৎপরতা এখনো চোখে পড়েনি।

খাগড়াছড়ির পাঁচ উপজেলায় ইউপিডিএফ(প্রসীত) গ্রুপ সমর্থিত নির্বাচিত উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানরা হলেন, খাগড়াছড়ি সদর উপজেলা পরিষদে চঞ্চু মনি চাকমা, পানছড়িতে সর্বোত্তম চাকমা, লক্ষ্ণীছড়িতে সুপার জ্যোতি চাকমা, দীঘিনালা উপজেলা পরিষদে নব কমল চাকমা ও সর্বশেষ অনুষ্ঠিত গুইমারা উপজেলা পরিষদে উশেপ্রু মারমা।
পক্ষান্তরে বিএনপি প্রার্থীরা দুটি উপজেলা পরিষদের নির্বাচিত ও অপর তিনটি উপজেলা পরিষদের সামান্য ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হন।

চতুর্থ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের ফলাফল বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, খাগড়াছড়ি সদর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে প্রসীত খীসার নেতৃত্বাধীন ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট(ইউপিডিএফ)সমর্থিত প্রার্থী চঞ্চুমনি চাকমা ১৩,৪২৪ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। তার নিকটতম বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী কংচাইরী মগ পান ১৩,২৬২ ভোট। রামগড় উপজেলা পরিষদে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী শহিদুল ইসলাম ভূঁইয়া ফরহাদ ১০,৪৫৪ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামীলীগের বিদ্রোহী প্রার্থী চাইথোয়াই চৌধুরী ৫,১২৫ ভোট পান। মানিকছড়িতে আওয়ামীলীগ সমর্থিত প্রার্থী ম্রাগ্য মারমা ১১,৫২৯ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। তার নিকটতমী বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী এস এম রবিউল ফারুক পান ৮,৩৭৬ ভোট।

মাটিরাঙা উপজেলা পরিষদে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী মো: তাজুল ইসলাম ১৬৯৪৩ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামীলীগ সমর্থিত প্রার্থী মো: শামছুল হক পান ১৫,১৬৯ ভোট। মহালছড়িতে জেএসএস(এমএন) গ্রুপের সমর্থিত প্রার্থী বিমল কান্তি খীসা ৮,৮৯৯ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। তার নিকটতম আওয়ামীলীগ সমর্থিত প্রার্থী নিলোৎপল খীসা পান ৪.৩৮৩ ভোট। পানছড়িতে ইউপিডিএফ সমর্থিত প্রার্থী সর্বোত্তম চাকমা ১১,৭৯৮ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। তার নিকটতম বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী অনিমেষ চাকমা রিংকু ভোট ৮,৩৯১ পান।

দ্বিতীয় ধাপে অনুষ্ঠিত লক্ষ্ণীছড়ি উপজেলা পরিষদে ইউপিডিএফ সমর্থিত প্রার্থী সুপার জ্যোতি চাকমা ৪,৩৭০ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামীলীগ সমর্থিত প্রার্থী সাথোয়াই অং মারমা পান ২,৮৪৭ ভোট।

তৃতীয় ধাপে দীঘিনালা উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ইউপিডিএফ সমর্থিত প্রার্থী নব কমল চাকমা ১২,৮১০ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। তার নিকটতম আওয়ামীলীগ সমর্থিত প্রার্থী মো: কাশেম পান ১০,৮৫৩ ভোট।

গুইমারা উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ইউপিডিএফ সমর্থিত প্রার্থী উশ্যেপ্রু মারমা ৬ হাজার ৩৮ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন ও আওয়ামীলীগ সমর্থিত প্রার্থী মেমং মারমা পান ৫ হাজার ৫৫৭ ভোট।

তবে বিভিন্ন হত্যাসহ একাধিক মামলার আসাসী হওয়ার কারণে খাগড়াছড়ি সদর, পানছড়ি ও লক্ষ্ণীছড়ি উপজেলা পরিষদে চেয়ারম্যানরা দীর্ঘ দিন ধরে অনেকটা আত্মগোপনে রয়েছে। লক্ষ্ণীছড়ি ও পানছড়ি উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানরা ইতিমধ্যে পদ হারিয়েছেন। সেখানে ভাইস চেয়ারম্যানরা এখন দায়িত্ব পালন করছেন। ফলে এ তিন উপজেলায় ইউপিডিএফ(প্রসীত) গ্রুপের চতুর্থ উপজেলা পরিষদে নির্বাচিত চেয়ারম্যানরা আদৌ অংশ নিতে পারবে কিনা নিশ্চিত নয়।

পক্ষান্তরে আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে বিএনপি নেবে কিনা এখনো নিশ্চিত নয়। অংশ না নিলে তাদের বিশাল ভোট কোন দিকে যাবে এ নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা চলছে।

এদিকে পঞ্চম উপজেলা পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ফের সক্রিয় হয়ে উঠেছে পাহাড়ে আলোচিত ও বিতর্কিত আঞ্চলিক সংগঠন ইউপিডিএফ(প্রসীত) গ্রুপ। যৌথবাহিনীর সাঁড়াশি অভিযানে সংগঠনটি অনেকটা কোনঠাসা হয়ে পড়লেও আবার মাঠ দখলের জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছে।

চলতি বছরে জেলার দীঘিনালা ও রামগড়ে প্রতিপক্ষ জেএসএস(এমএন)গ্রুপের দুই কর্মী প্রাণ হারিয়েছে। জেএসএস(এমএন) এ হত্যাকাণ্ডের জন্য ইউপিডিএফ(প্রসীত) গ্রুপকে দায়ী করলেও ইউপিডিএফ’র কেন্দ্রীয় নেতা মাইকেল চাকমা এ ঘটনাকে আভ্যন্তরীণ কোন্দল বলে দাবী করেছে।

সদ্য সমাপ্ত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মত উপজেলা নির্বাচনেও ইউপিডিএফ প্রসীত গ্রুপ জেএসএস সন্তু গ্রুপের সমর্থন পাবে এবং তারা সমঝোতার ভিত্তিতে নির্বাচন করবে বলে স্থানীয়দের ধারণা। তাদের ধারণা একাদশ জাতীয় সংস নির্বাচনে পরাজয়ের প্রতিশোধ নেবে উপজেলা নির্বাচনে। ফলে ব্যাপক সহিংসা বাড়তে পারে। এ ছাড়াও একাধিক আসনে ইউপিডিএফ জেএসএস সংস্কারের মুখোমুখি হতে হবে।

পঞ্চম উপজেলা পরিষদে অংশ নিচ্ছেন কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে ইউপিডিএফ(প্রসীত) গ্রুপের কেন্দ্রীয় নেতা মাইকেল চাকমা বলেন, ইউপিডিএফ গণতান্ত্রিক দল। নির্বাচনে অংশগ্রহনের বিষয়ে আমরা সব সময় প্রজেটিভ। তবে তা নির্ভর করবে পরিস্থিতির উপর। আমরা দেখবো একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মতো নিয়ন্ত্রিত নির্বাচন হয়, না অবাধ ও সুষ্ঠ নির্বাচন হয়। তারপর সিদ্ধান্ত নেবো।

অপরদিকে খাগড়াছড়ির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এম এম সালাউদ্দিন একটি আঞ্চলিক সংগঠনের অপতৎপরতায় জেলার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতির কথা স্বীকার করে বলেন, আমরা বসে নেই। জানমালের নিরাপত্তায় সেনাবাহিনীর সহযোগিতায় সন্ত্রাসীদের ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। প্রতিনিয়ত সন্ত্রাসীদের অস্ত্রসহ ধরা হচ্ছে।

তিনি বলেন, আসন্ন পঞ্চম উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে সন্ত্রাসীরা যাতে প্রভাব ফেলতে না পারে, জনগণ যাতে তার পছন্দের প্রার্থীকে নির্বাচিত করতে পারে তার জন্য নিরাপত্তা বাহিনীর সক্রিয় ভূমিকা থাকবে। আমরা কোনক্রমেই সন্ত্রাসীদের মতামত সাধারণ মানুষের উপর চাপিয়ে দিতে দেবো না।

খাগড়াছড়িতে অস্ত্রসহ ইউপিডিএফ চাঁদাবাজ আটক

প্রেস বিজ্ঞপ্তি:

খাগড়াছড়ির সদর উপজেলার অমৃত কারবারী পাড়া এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে ইউপিডিএফ(মূল)এর এক সশস্ত্র চাঁদাবাজকে আটক করেছে নিরাপত্তা বাহিনী।

বৃহস্পতিবার(১৭ জানুয়ারি) তাকে আটক করা হয়।

আটককৃত ব্যক্তির নাম কিরন চাকমা(৩৭)। সে বিলপাড়া ভাইবোনছড়া এলাকার শশি কান্তি চাকমার ছেলে বলে জানা গেছে।

নিরাপত্তাবাহিনী জানিয়েছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তাকে আটক করা হয়। আটকের সময় তাঁর কাছ থেকে ১টি এলজি, ১রাউন্ড এ্যামুনিশন,  আদায়কৃত চাঁদার নগদ ২হাজার টাকা ২টাকা, ১টি মোবাইল ফোন, ২টি চাঁদা আদায়ের রশিদ, ১টি নোটবুক ও জাতীয় পরিচয়পত্র উদ্ধার করা হয়।

উদ্ধারকৃত মালামালসহ আটককৃত সন্ত্রাসীকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

এ ব্যাপারে নিরাপত্তাবাহিনীর জোন কমান্ডার লে. কর্নেল আরাফাত হোসেন পিএসসি বলেন, জোনের আওতাধীন এলাকায় কোনো প্রকার অবৈধ কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতে দেওয়া হবে না। প্রয়োজনে ভবিষ্যতে আরও কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

অস্ত্র ও গুলিসহ ইউপিডিএফ চাঁদাবাজ আটক

নিজস্ব প্রতিবেদক, মাটিরাঙ্গা:

মাটিরাঙ্গায় অস্ত্র ও গুলিসহ মধু রঞ্জন ত্রিপুরা নামে এক ইউপিডিএফ কর্মীকে আটক করেছে নিরাপত্তা বাহিনী।

আটককৃত মধু রঞ্জন ত্রিপুরা ময়দাছড়ার লক্ষী রঞ্জন ত্রিপুরা ছেলে।

মঙ্গলবার(১৫ জানুয়ারি) দিবাগত রাত সাড়ে ১১টার দিকে বাইল্যাছড়ি ১ নম্বর রাবার বাগান এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়।

এ সময় তাঁর কাছ থেকে থেকে একটি দেশি বন্দুক (এল জি), ২ রাউন্ড তাজা গুলি, ২ রাউন্ড খালি কার্তুজ, ২ টি বড় দা ও চাঁদা আদায়ের বই উদ্ধার করা হয়।

জানা গেছে, চাঁদাবাজির উদ্দেশ্যে ইউপিডিএফ কর্মীরা বাইল্যাছড়ি ১ নম্বর রাবার বাগান এলাকায় বৈঠক করছে এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মাটিরাঙ্গা জোন একটি বিশেষ অভিযান চালায়। নিরাপত্তাবাহিনীর উপস্থিতি  টের পেয়ে অন্যরা পালিয়ে গেলেও মধু রঞ্জন ত্রিপুরাকে আটক করে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা।

উদ্ধারকৃত মালামালসহ আটক চাঁদাবাজ মধু রঞ্জন ত্রিপুরাককে গুইমারা থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে বলে নিরাপত্তাবাহিনী সূত্র নিশ্চিত করেছে।

এদিকে ওই যুবককে আটকের প্রতিবাদে নিন্দা জানিয়েছে ইউপিডিএফ। গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে যুবককে নিরীহ বলে দাবি করেছে সংগঠনটি। সংগঠনটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, আটককৃত মধু রঞ্জন ত্রিপুরা ইউপিডিএফ এর সদস্য নয়। এবং আটককৃত যুবকের মুক্তি দাবি করেছে তারা।