পাহাড়ে পর্যটনবিরোধী প্রচারণা

%e0%a6%aa%e0%a6%be%e0%a6%b9%e0%a6%be%e0%a7%9c-%e0%a6%aa%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%9f%e0%a6%a8

ফজলুল হক, পাবর্ত্য চট্টগ্রাম থেকে ফিরে:

পাবর্ত্য চট্টগ্রাম বাংলাদেশের নৈসর্গিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি। পাহাড় নদী আর ঝর্ণার আহ্বানে সাড়া দিয়ে হাজার হাজার মানুষ ছুটে যান পাবর্ত্য অঞ্চলের খাগড়াছড়ি, রাঙ্গামাটি ও বান্দরবানে।

জানা গেছে, দেশের এক-দশমাংশ ভূখণ্ড নিয়ে গঠিত পার্বত্য তিন জেলা রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান। পাহাড়, নদী-নালা ও গাছপালাবেষ্টিত অসাধারণ প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের এ ভূমিতে রয়েছে বাঙালি ও ১৩টি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির অনন্য দৃষ্টান্ত। পর্যটন শিল্পের জন্য রয়েছে বিশাল সম্ভাবনা। কিন্তু কিছু সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর জন্য তা আজ ভূলুণ্ঠিত হতে বসেছে।

তিন জেলার উল্লেখযোগ্য দর্শনীয় স্থান:
বান্দরবানে নীলাচল, নীলগিরি, বগালেক, মেঘলা, স্বর্ণমন্দির, শৈলপ্রপাত, চিম্বুক পাহাড় ও ঝুলন্ত ব্রিজ, খাগড়াছড়িতে কলাংপাড়া, দীঘিনালা বনবিহার, রিছাং ঝর্না, আলুটিলা রহস্যাময় গুহা, সাংকসর নগর বৌদ্ধা মন্দির এবং রাঙ্গামাটিতে সাজেক ভ্যালি, কর্ণফুলী হ্রদ, পর্যটন মোটেল ও ঝুলন্ত সেতু, সুবলং ঝর্ণা, কাপ্তাই জাতীয় উদ্যান, ফুরমোন পাহাড়, রাজবণ বিহার, তিনটিলা বণবিহার ও উপজাতীয় যাদুঘর প্রভৃতি রয়েছে।

%e0%a6%86%e0%a6%b2%e0%a7%81%e0%a6%9f%e0%a6%bf%e0%a6%b2%e0%a6%be-%e0%a6%aa%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%9f%e0%a6%a8

সম্ভাবনাময় পর্যটন:
রিছাং বর্ণার কাছে বসবাসকারী নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক চাকমা অধিবাসী জানান, বাপু আমার পাঁচটি মেয়ে, তিন মেয়ের বিয়া দিয়েছি। ১০জন নাতি নাতনি রয়েছে।এখানে প্রতিদিন অনেক মানুষ আসে। মানুষের চা বিড়ি খাওয়ানোর জন্য প্রথমে একটি দোকান করেছি। এখন আমার চারটি দোকান। দোকানগুলো আমার স্ত্রী, মেয়ে এবং নাতি নাতনিরা চালায়।

পর্যটন শিল্পবিরোধী প্রচারণা:
পর্যটন আকৃষ্ট এসব অঞ্চলকে অশান্ত করতে দীর্ঘদিন ধরেই পাহাড়ি সন্ত্রাসীরা নানাভাবে সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালিয়ে আসছে।পাবর্ত্য এলাকায় বেশকিছু পর্যটন কেন্দ্র গড়ে উঠেছে। এসব পর্যটন কেন্দ্রে মানুষের আগমনে সন্ত্রাসীদের আধিপত্য বিস্তারে বাধার সৃষ্টি হওয়ায় পার্বত্য এলাকায় পর্যটন শিল্পের বিরুদ্ধে পাহাড়ি সন্ত্রাসীগোষ্ঠীগুলো নানাভাবে ষড়যন্ত্র শুরু করছে।

তাদের এ ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে স্থানীয়রা ঐক্যবদ্ধ রয়েছেন।তারা কঠোর হস্তে সন্ত্রাসীদের দমন করতে সরকারের প্রতি দাবি জানিয়েছেন।সরেজমিনে ঘুরে জানা গেছে, সাজেক, কাপ্তাই ও পাবর্ত্য এলাকায় যাতে পর্যটকরা না আসে এ জন্য পাহাড়ি সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলো নানা ষড়যন্ত্র চালিয়ে যাচ্ছে।পর্যটকদের ভয়ভীতি দেখানো হয়, বিভিন্ন হোস্টেল ও রিসোর্টের মালিকদের কাছ থেকে উচ্চহারে চাঁদা আদায় করা হয়। এমন কি বিভিন্ন পর্যটন কেন্দ্রে নিষেধাজ্ঞাও জারি করা হয়।

২০১৫ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি থেকে বান্দবানের অন্যতম দর্শনীয় স্থান স্বর্ণ মন্দিরে দর্শনার্থীদের প্রবেশে অনির্দিষ্টকালের জন্য নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছিল।পরে আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর হস্তক্ষেপে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার হয়।

%e0%a6%aa%e0%a6%be%e0%a6%b9%e0%a6%be%e0%a7%9c-%e0%a6%aa%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%9f%e0%a6%a8-%e0%a7%a8

রাঙামাটির অন্যতম পর্যটন কেন্দ্র সাজেক। এ পর্যটন কেন্দ্র বন্ধ করার জন্য নানামুখী চক্রান্ত চালিয়ে যাচ্ছে সন্ত্রাসীরা।২০১৪ সালের পর্যটন মওসুমে ৩১ ডিসেম্বর রাঙামাটির সাজেকে সাবেক এক সেনা কর্মকর্তাকে গাড়ি থেকে নামিয়ে তার গাড়িতে আগুন দেয় উপজাতি সন্ত্রাসীরা।

এ ঘটনায় গোটা এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পর্যটকরা যাতে সাজেকে পরিদর্শন করতে না আসে এ কারণে এসব ঘটানো হয়।সাজেক এলাকার বাসিন্দারা জানান, আমরা এই পর্যটন কেন্দ্রের কারণে অনেকভাবে উপকৃত হচ্ছি।কিন্তু কিছু সন্ত্রাসী নানাভাবে এই পর্যটন কেন্দ্রের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে যাচ্ছে।

কয়েক মাস আগে ‘বৃহত্তর সাজেক ইউনিয়নবাসী’ব্যানারে পর্যটনের বিরুদ্ধে একটি লিফলেট প্রচার করেছে সন্ত্রাসীরা।তারা ওই লিফলেটে বেশকিছু মিথ্যা তথ্য তুলে ধরে ‘পর্যটন তুলে নাও- নিতে হবে’ এই শ্লোগান দেয়ার জন্য এলাকাবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছে।কিন্তু সন্ত্রাসীদের লিফলেট প্রচারণার বিরুদ্ধে ‘রুইলুই ও কংলাকপাড়ার দরিদ্র এলাকাবাসী’ পাল্টা লিফলেট প্রচার করেছে।

‘সাজেক ইউনিয়নবাসীর কাছে রুইলুই ও কংলাকপাড়াবাসীর আকুল আবেদন, সাজেকের রুইলুইপাড়া পর্যটন কেন্দ্র বন্ধের ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে রুখে দাড়ান’ শিরোনামের লিফলেটে বলা হয়েছে, সাজেক পর্যটন কেন্দ্র স্থাপনের মাধ্যমে এই দুই পাড়ার দরিদ্র জনগণের ব্যাপক আর্থ সামাজিক উন্নয়ন ঘটেছে। এখন আমরা স্ত্রী পরিবার নিয়ে সুখে বসবাস করতে পারছি।

এই পর্যটনকে কেন্দ্র করে ৩৫জন দরিদ্র ত্রিপুরা, মিজো ও পাংখু জনগোষ্ঠীর সরাসরি কর্মসংস্থান হয়েছে। সেই সঙ্গে স্থানীয় ব্যক্তি উদ্যোগে ছোট বড় ১২টি রিসোর্ট ও হোস্টেল গড়ে উঠেছে, যার মাধ্যমে আরও অনেক পরিবারের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ঘটছে।

pahar-ctg

প্রচারে বলা হয়, ‘আমরা এলাকাবাসী আমাদের ধর্মীয় মূল্যবোধ, কৃষ্টি ও সংস্কৃতি সমুন্নত রাখতে বদ্ধপরিকর।কাজেই অসামাজিক কার্যক্রমের অভিযোগ ভিত্তিহীন। পর্যটনের জন্য আমাদের কোন পরিবার ও ব্যক্তিকে উচ্ছেদ হতে হয়নি বরং হেডম্যানের সহায়তায় নতুন স্থানে পরিকল্পিত ও আধুনিক বাসস্থান তৈরি করে দেয়া হয়েছে যার মাধ্যমে আমরা উপকৃত হয়েছি।

এই এলাকায় পর্যটনের উন্নয়ন হলে সকলেই উপকৃত হবে। কাজেই অন্যের কথায় এবং গুজবে কান দিয়ে আমাদের নিজেদের পেটে লাথি মারবেন না। চাঁদাবাজিতে ব্যর্থ হয়ে এবং নিজেদের হীনস্বার্থ হাসিলের উদ্দেশ্যে সাজেক এলাকাবাসীর নামে যে উসকানিমূলক কথাবার্তা ও আন্দোলনের পায়তারা চলছে তার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ান।

এই পর্যটনকে কেন্দ্র করে পরিবহন খাতে অনেক লোকের কর্মস্থান হয়েছে। সেই সঙ্গে প্রতিদিন এই এলাকায় নতুন নতুন দোকানপাট গড়ে উঠেছে, যা এ অঞ্চলের জনগণের সার্বিক অর্থনৈতিক উন্নয়ন ঘটাবে।

মনে রাখবেন, অতিথিরা দেবতা সমান, এদের নিরাপত্তা প্রদান সকলের দায়িত্ব। তবে বর্তমানে সন্ত্রাসীদের পক্ষ থেকে লিফলেট বিতরণ বন্ধ থাকলেও তাদের হুমকি এবং দেয়ালে সাঁটানো পোষ্টার দিয়ে পর্যটকবিরোধী প্রচারণা বন্ধ নেই’।

সাজেক এলাকার পর্যটন এসোসিয়েশনের প্রশাসক সিয়াতা লুসাই বলেন, এখানকার পর্যটন শিল্পের বিরুদ্ধে স্থানীয় সন্ত্রাসীরা নানাভাবে ষড়যন্ত্র করছে। তারা চাঁদা দাবি করে, এলাকায় ভয়ভীতি দেখায়। ২০১৪ সালে একটি গাড়ি পুড়িয়ে এলাকায় ভীতি সৃষ্টি করেছিল।তারপর থেকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রহরায় সাজেকে পর্যটকদের ভ্রমণ করানো হয়।

সাজেক এলাকার এক হোটেলের মালিক ও ধর্ম প্রচারক মইতে লুসাই জানান, আমরা এ পর্যটন কেন্দ্রের মাধ্যমে অনেক আয় রোজগার করতে পারছি। কিন্তু সন্ত্রাসীরা আমাদের কাছে মোটা অংকের টাকা দাবি করে। ফলে আমাদের এখানে ব্যবসা করা কষ্টকর হয়ে যাচ্ছে। এখানকার পর্যটন শিল্পের বিরুদ্ধে লিফলেট ছেড়ে নানাভাবে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। এসব ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার জন্য তিনি সরকারের সংশ্লিষ্টদের প্রতি দাবি জানান।

– সূত্র: জাগো নিউজ

ঘুরে আসুন বৈচিত্র্যময় স্বর্গীয় সৌন্দর্য্যের তীর্থভূমি পার্বত্য জেলা খাগড়াছড়ি

alutila 1

মোঃ আল আমিন:

নৈসর্গিক সৌন্দর্যের লীলা নিকেতন, নানা বৈচিত্র্য পাহাড়ী ঝর্নাধারা আর সবুজের উঁচুনিচু সমাহারপূর্ণ খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা। সৃষ্টিকর্তা তার স্বর্গিয় নেয়ামতে সাজিয়েছেন খাগড়াছড়িকে

এখানে রয়েছে আকাশ-পাহাড়ের মিতালী, চেঙ্গী ও মাইনী উপত্যকার বিস্তীর্ণ সমতল ভূ-ভাগ ও পাহাড়ী-বাঙ্গালীদের ভিন্ন ভিন্ন সংস্কৃতির বৈচিত্র্যতা। যেদিকে চোখ যায় সবুজ আর সবুজ। এ জেলার বৈচিত্র্যময় জীবনধারা ও প্রকৃতিক সৌন্দর্য সবাইকে বিমোহিত করবেই। বাংলাদেশের রূপের রানীখ্যাত পার্বত্য খাগড়াছড়ির প্রতিটি উপজেলায় রয়েছে বিভিন্ন দৃষ্টিনন্দন পর্যটন ষ্পট।

খাগড়াছড়িঃ
খাগড়াছড়ি সদর থেকে মাত্র ৩ কিঃ মিঃ পূর্বেই কৃষি গবেষণা কেন্দ্র । সবুজের অফুরন্ত সমারোহ আর স্বপ্নীল আবেশে যদি নিজেকে ভুলতে চান তবে কৃষি গবেষণা কেন্দ্র আদর্শ স্থান । পাহাড়ের বুক চিড়ে রাস্তার দু’পাশে ফলের বাগান স্বচ্ছ-স্থির জলরাশি নানান প্রজাতির পাখি দেখে আপনি নিজেকে নতুনভাবে আবিষ্কার করবেন আরেকবার।
নির্মাণ শৈলীর এক অপূর্ব নিদর্শন খাগড়াছড়ি পর্যটন মোটেল। এ মোটেলটি শহরে প্রবেশের মুখেই পাশে বয়ে গেছে চেঙ্গী নদীর শান্ত স্রোত। পর্যটন মোটেলের বিপরিত পাশের রয়েছে জেলা আনসার ও ভিডিপি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের উঁচু পাহাড়ে অবস্থিত হেরিটেজ পার্ক এখন এটি একটি নতুন পর্যটন মাত্রা যোগ করেছে। ১০ একর ভূমির উপর গড়ে উঠা হেরিটেজ পার্ক থেকে একে বেকে চলা চেঙ্গী ও আলুটিলা পর্যটন কেন্দ্র সত্যিই মন ছুঁয়ে যায়।

debota pukur
দেবতা পুকুর জেলা সদর থেকে মাত্র ৫ কিঃ মিঃ দক্ষিণে খাগড়াছড়ি-মহালছড়ি সড়কের কোল ঘেষে অবস্থিত মাইসছড়ি এলাকার নুনছড়ি মৌজার আলুটিলা পর্বত শ্রেনী হতে সৃষ্ট ছোট্র নদী নুনছড়ি। মুল রাস্তায় বাস থেকে নেমে কিলো দুয়েক হাটলে সমুদ্র সমতল হলে ৭০০ ফুট পাহাড়ের উচ্চতার চুড়ায় দেবতার পুকুর রুপকথার দেবতার আশীর্বাদের মতো সলিল বারির স্ত্রোতহীন সঞ্চার। কথিত আছে স্থানিয় বাসিন্দাদের জলতৃষা নিবারণের জন্য স্বয়ং জল-দেবতা এ পুকুর খনন করেন। পুকুরের পানিকে স্থানীয় লোকজন দেবতার আশীর্বাদ বলে মনে করেন।
খাগড়াছড়ি কৃষি গবেষণার উল্টো দিকে খাগড়াছড়ি আদর্শ বিদ্যালয়ের পাশ দিয়ে কিছুদূর হেঁটে পানির এই নদী ধরে পূর্বদিকে আরো পাঁচ মিনিট হাটলে হাতের ডান দিকে পাহাড় থেকে আসা ছোট ছড়াটিকে দেখতে অনেকটা ড্রেনের মতমনে হবে। এই ছড়াটির দুপাশের গাছের ছাইনিতে মনে হবে সুড়ঙ্গপথের মত । ছড়াটির শেষ মাথায় পৌছতে সময় লাগবে প্রায় তিন ঘন্টা। গরমের দিনে ছড়াটির পানি বেশ ঠান্ডা থাকায় এটি ঠান্ডা ছড়া নামে পরিচিত।

 মাটিরাঙ্গাঃ

alu tila 2

আলুটিলা পর্যটন খাগড়াছড়ি জেলা সদর হতে ৭ কিঃ মিঃ পশ্চিমে মাটিরাঙ্গা উপজেলার আলুটিলা পর্যটন কেন্দ্র রয়েছে জেলার বহুল পরিচিত রহস্য গুহা। স্থানিয়রা এক বলে মাতাই হাকড় বা দেবতার গুহা। তবে আলুটিলা পর্যটন কেন্দ্রে অবস্থিত বলে আমরা একে আলুটিলা গুহা বলেই চিনি। এটি জেলার একটি নাম করা পর্যটন কেন্দ্র। আলুটিলা খাগড়াছড়ির সবচাইতে উঁচু পর্বত মূলত এটি একটি পর্বতশ্রেনী। আলুটিলার পূর্বের নাম ছিল আরবারী পর্বত। এর সর্বোচ্চ উচ্চতা সমুদ্র সমতল হতে ৩০০০ ফুট।

আলুটিলা সুড়ঙ্গের দৈর্ঘ্য প্রায় ২৮২ ফুট। এখান থেকে পর্যবেক্ষণ টাওয়ারে উপর থেকে খাগড়াছড়ি শহর বেশ কিছু অংশ দেখা যায়। আলুটিলা রহস্য গুহায় যেতে হলে প্রথমে টিকেট কেটে ভীতরে প্রবেশ করতে হবে। ফটকের দুপাশে রয়েছে গেট আকারের দুটি বড় বটবৃক্ষ। ফটক দিয়ে প্রবেশের সময় আপনাকে মশাল সংগ্রহ করতে হবে কারণ রহস্যময় গুহাটিতে একেবারেই সূর্যের আলো প্রবেশ করে না । পর্যটন কেন্দ্রের ফটক দিয়ে প্রবেশ করে ডান পাশে মিনিট খানের হাটার পর পাবেন নিচের দিকে সরু সিড়ি পথ। এই পথ বেয়ে নিচে নামলে নিচের দিকে প্রায় ২৬৬ টি সিঁড়ি বেয়ে নিচি নামলে পাবেন সেই কাংখিন রহস্যগুহার মুখ। গুহাটি খবই অন্ধকার ও শীতল কোন প্রকার সূর্যের আলো প্রবেশ করেনা তাই মশাল জ্বালিয়ে প্রবেশ করতে হবে এই পাথুরে গুহায়। খুব সাবধানে পা পেলতে হবে যা গাঁ ছমছম করা পরিবেশ। সুড়ঙ্গের তলদেশ পিচ্চিল ও পাথুরে। গুহার ভিতরে জায়গায় জায়গায় পানি জমে আছে, রয়েছে বড় বড় পাথর। রীতিমত রূপকথার সেই গুহার মতই।

গুহাটির এপাশ দিয়ে ঢুকে ওপাশ দিয়ে বের হতে সময় লাগবে প্রায় ১০-১৫ মিনিট। আর এই বেত্রিক্রমী প্রাকৃতিক পরিবেশে মুগ্ধ হয়ে খাগড়াছড়ির সাবেক জেলা প্রশাসক একটি কবিতা লিখেছিলেন যা অনেকটা এ রমকম-“ক্লান্ত পথিক ক্ষণেক বসিও আলুটিলার বটমূলে, নয়ন ভরিয়া দেখিও মোর চেঙ্গী নদীর কোলে”।

khagrachari

উপজেলাটিতে অবস্থিত জেলার সবচাইতে পরিচিত নয়াভিরাম প্রাকৃতিক ঝর্নাটির নাম রিছাং ঝর্না। শুধু প্রাকৃতিক সৌন্দর্যই নয় এর ভিন্ন প্রাকৃতি একে দিয়েছে আলাদা পরিচিতি। আলুটিলা পর্যটন কেন্দ্র হতে ৪ কিঃ মিঃ পশ্চিমে মূল রাস্তা থেকে উত্তরে গেলেই ঝর্না স্তলের দুরুত্ব সাকুল্যে ১১ কিঃ মিঃ প্রায়। হাজার ফুট নীচের উপত্যকায় দৃষ্টি পড়লে কোন অপূর্ব মুগ্ধতায় যে কেউ শিউরে উঠবেন। ঝর্ণার সমগ্র যাত্রাপথটাই দারুন রোমাঞ্চকর। দূরের উঁচুনীচু সবুজ পাহাড়, বুনো ঝোপ, নামে বেনামে রঙ্গীন বনো ফুল এসব নয়াভিরাম অফুরন্ত সৌন্দর্য আপনাকে কল্পনার রাজ্য নিয়ে যেতে সক্ষম। গাড়ী থেকে নেমে পায়ে হেটে যেতে হবে পাহাড়ী পথে সঙ্গেনিতে পারেন একটি বাঁশের লাঠি যা কষ্ট কমাতে সাহায্য করবে। এভাবে হাটতে হাটতে একসময় কানে ভেসে আসবে পানি পড়ার শব্দ । সত্যিই সৌন্দর্যের আধার রিছাং ঝর্না যেন প্রকৃতির এক অপার সৃষ্টি।
শতায়ুবষী বটগাছ মাটিরাঙ্গা উপজেলার খেদাছাড়ার কাছাকাছি এলাকায় এ প্রাচীন বটবৃক্ষ শুধু ইতিহাসের সাক্ষী নয় এ যেন দর্শনীয় আশ্চর্যের কোন উপাদান। এ গাছের বয়স নিরুপনের চেষ্টা একেবারেই বৃথা। পাঁচ একরের অধিক জরি উপরে এ গাছটি পর্যটকের কাছে দারুণ আকর্ষনীয়। মূল বটগাছটি থেকে নেমে আসা প্রতিটি ঝুড়িমূল কালের প্ররিক্রমায় এক একটি নতুন বটবৃক্ষে পরিণত হয়েছে।

ভগবান টিলা জেলা সদর থেকে এর কৌণিক দুরত্ব আনুমানিক ৮৫ কিঃ মিঃ । ভগবান টিলা তবলছড়ি থেকে একটু সামনে জেলার মাটিরাঙ্গা উপজেলার তাইন্দং ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী এই ভববান টিলা। খাগড়াছড়ির সবচেয়ে বেশী উচ্চতার এই পাহাড়টির উচ্চতা ১৬০০ ফুট। নিবিড় অণ্যের এই পাহাড় উঠলে ভারত ও বাংলাদেশ একই সাথে দেখা যায়।

উপজেলার পানছড়ি তবলছড়ি সড়কের গৌরাঙ্গ পাড়া এলাকায় রয়েছে তবলছড়ি ঝর্নাটির অবস্থান। ঝর্ণাটিলা উপরের অবস্থিত আর্মি ক্যাম্পের পিছনে অবস্থিত ঝনাটি। এই পাহাড় ও দেয়ালে একটু দূরেই রয়েছে বিরাশি টিলা । এই টিলার উপর উঠলে ভারতে ত্রিপুরা রাজ্য দেখা যায়। এই পাহাড়ের সাথে ৮২টি টিলার সংযোগ রয়েছে বলে বিরাশি টিলা নামে পরিচিত।

দীঘিনালাঃ

toidu-jhorna-news-pic-1
পর্যটকদের আকৃষ্ট করতে এখানে আছে দীঘিনালার তৈদু ঝর্ণা । অনেকের দাবী খাগড়াছড়ির রিছাং ঝর্নার ছেয়েও বড় এই ঝর্না। তৈদু ঝর্নাকে ঘিরে আশপাশে রয়েছে আরো তিনটি ছোট ঝর্না এবং দুটি মনোমুগ্ধকর জলপ্রপাত। অপরিচিত থাকায় দুই চারজন দর্শনাথী গেলেও এখন ঢাকা চট্টগ্রাম সহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আগমন বেড়েছে এই ঝর্নার । উপজেলা সদর থেকে প্রায় ৩ কিঃ মিঃ দূরে ও খাগড়াছড়ি জেলা সদর থেকে গাড়িতে রওয়ানা হয়ে ৯ কিঃ মিঃ দূরে নয় মাইল নামক স্থানে যেতে হবে সীমানা পাড়া দূর্গম পাহাড়ী এলাকায় যাতায়াত সুবিধা না থাকায় প্রাায় এক ঘন্টা পথ পায়ে হেটে যেতে হবে এই তৈদু ঝর্নায়। তাছাড়া দীঘিনালায় উপজাতীয়দের সংস্কৃতিসমৃদ্ব মানিক্যাদীঘি এই দীঘি নাম দিয়েই বর্তমান দীঘিনালার নাম করণ।

পানছড়িঃ
জেলার পানছড়ি সদর থেকে প্রায় ৩ কিলোমিটার দুরে অবস্থিত শান্তিপুর এলাকা এখানে অবস্থিত রাবার ড্যামটি সম্প্রতি তিন পার্বত্য জেলার একটি অন্যতম পর্যটন নগরিতে পরিচিত। রাবার ড্যামটি বেয়ে ঝর্ণার পানি পড়ার দৃশ্য দেখতে প্রতিদিন এখানে দর্শনার্থীর সংখ্যা বেড়েই চলছে। একদিকে পানি জমছে অন্যদিকে ড্যামের উপর দিয়ে ঝর্ণার মত কল কল আওয়াজে পানি বের হচ্ছে এই দৃশ্যটিই নয়নাভিরাম যেন এক অপরূপ সৌন্দর্যের পানি খেলা।
এছাড়াও পানছড়িতে রয়েছে এশিয়া মহাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম বৌদ্বমূতি। জায়গাটি অরণ্য কুটির নামেই পরিচিত। যা দেখার জন্য প্রতিদিনই ভীড় করছে শত শত পর্যটক।

মহালছড়িঃ
কাপ্তাই বাঁধের ফলে কাপ্তাই হ্রদের পানি জমে নানিয়ারচর হয়ে মহালছড়ি পর্যন্ত এসেছে। বর্ষাকালে বিশাল জলরাশি জমাট হয়ে পরিণত হয় এক ফ্রিঞ্জল্যান্ড। মহালছড়ি ডাকবাংলো হতে এ নয়নাভিরাম দৃশ্য দেখে যে কোন পর্যটক মুদ্ধ না হয়ে পারেন না। এ ছাড়া মহালছড়ি হতে এ হ্রদ দিয়ে রাাঙ্গামটি যাওয়ার পথে দু’ধারের মনোরম ও নয়নাভিরাম দৃশ্য ভ্রমন পিপাসুদের ভাল লাবেই।

মানিকছড়িঃ
জেলার মানিকছড়ি উপজেলার মং সার্কেলের রাজার প্রাচীন রাজবাড়ি এবং রাজত্বকালীন স্থাপত্য খাগড়াছড়ি জেলার অন্যতম দর্শনীয় স্থান। রাজার সিংহাসন, মূল্যবান অস্ত্রশস্ত্রসহ প্রতœতাক্তিক অনেক স্মৃতি বিজড়িত এ রাজবাড়ি । যদিও সুষ্ঠ সংরক্ষণ, যথাযথ ব্যবষ্পনার অভাবে হারিয়ে গেছে অনেক কিছুই। মং রাজার ইতিহাস সংস্কৃতি জানা ও দেখার জন্য ঘুরে যেতে পারেন প্রাচীন এই রাজবাড়ী।
রাজবাড়ী থেকে ২ কিঃ মিঃ দুরে মানিক ছড়ির কর্ণেল বাগান । মনমাতানো হরেক রকমের এই বাগানটি অতিক্রম করতে প্রায় ২ ঘন্টা সময় লাগে। অবসরপ্রাপ্ত একজন কর্ণেল বাগানটি করে তত্বাবধায়কের মাধ্যমে বাগানটি পরিচালিত করে।

রামগড়ঃ
উপজেলার উপজেলা প্রশাসন কেন্দ্রিক ইংরেজী ডব্লিও বর্ণমালার আকৃতিতে ২৫০ মিটার লম্বা রামগড় লেক। লেকের উভয় পাশে রয়েছে যানবাহন চলাচলের রাস্তা ও মাঝ খানে একটি সুদৃশ্য ঝুলন্ত সেতু। প্রাকৃতিক পরিবেশ বান্ধব এই মনোরম লেকে প্রবেশ দ্বারে ১নং গেইটে ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্বের বীর মুক্তিযোদ্বারে স্মতি বিজড়ীত বিজয়ভাস্কার্য এবং ডান পাশে রয়েছে ১৯৫২ ভাষা আন্দোলনের স্মতি বিজড়ীত মহান শহীদ মিনার।

লেকের পাশে উপজেলা প্রশাসন ভবনের পেছনে রয়েছে ১৭৯৫ সালের ২৯ শে জুন স্বল্প পরিসরে মাত্র ৪৪৮ জন সদস্য নিয়ে যাত্রা শুরু করা রামগড় লোকাল ব্যাটিলিয়ন যা বিভিন্ন নাম ও ধাপ অতিক্রম করে বর্তমানে বাংলাদেশ বর্ডার গার্ড (বিজিবি)র উৎপত্তিস্তল স্মৃতি বিজোড়িত স্মৃতিস্তম্ভ। রামগড়েই সমাহিত মহান স্বাধীনতা যুদ্বে শহীদ বীরউত্তম ক্যাপ্টেন আফতাবুল কাদেরের সমাধিস্তল।

রামগড় সদরে প্রবেশ দ্বারে রামগড় সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়ের সম্মুখে রয়েছে বিশালকার আরেকটি স্বাধীনতা স্বৃতিস্তম্ভ। রামগড় উপজেলায় প্রবেশের পূর্বে রয়েছে মনোরোম পরিবেশে গড়া রামগড় চা বাগান, রামগড় সরকারী ডিগ্রি কলেজের সম্মুখে রয়েছে পাহাড় অঞ্চল কৃষি গবেষণা কেন্দ্র (সহেল বাগান), পাইলট বাগান, কলসীর মুখ (লাচারীপাড়া) ও ১৯২০ মহকুমা শহরের এসডিওর ডাক বাংলো।

যেভাবে আসতে হবেঃ
সুদূর রাজধানী ঢাকা থেকে খাগড়াছড়ির দুরত্ব ৩১৬ মিঃ মিঃ এবং চট্টগ্রাম হতে ১০৯ কিঃ মিঃ ঢাকা থেকে খাগড়াছড়ির উদ্দেশ্যে বিভিন্ন আরামদায়কা বাস ছাড়ে প্রতিদিন কমপক্ষে ৮/১০টি। সাইদাবাদ, কমলাপুর , গাবতলী, ফকিরাপুল কলাবাগান ও টিটি পাড়া থেকে টিকেট গ্রংগ্রহ করে এস আলম, শ্যামলী, সৌদিয়া, শান্তি ও ঈদল পরিবহনে সরাসরি খাগড়াছড়ি আসা যায় তাছাড়া ঢাকা থেকে ফেনী এসে হিলকিং বা হিলবার্ড যোগে খাগড়াছড়ি আসাযায়। চট্টগ্রামের অক্স্রিজেন অথবা কদমতলী বাস টার্মিনাল থেকে লোকাল বাসে উঠে খাগড়াছড়িতে আসার ব্যবস্থা রয়েছে।

কোথায় থাকবেনঃ
এখানে পর্যটকদের জন্য খাগড়াছড়িতে রয়েছে অনেক আবাসিক হোটেল। হোটেলের নাম ও ফোন নাম্বার। পর্যটন মোটেল- ০৩-৬২০৮৪ থেকে ৬২০৮৫, হোটেল শৌল্য সুবর্ণ- ৬১৪৩০৬, জিরান হোটেল- ৬১০৭১, হোটেল লিবয়ত- ৬১২২০, চৌধুরী বোডিং- ৬১১৭৬, থ্রি ষ্টার- ৬২০৫৭, ফোর ষ্টার- ৬২২৪০, উপহার- ৬১৯৮০, হোটেল নিলয়- ০১৫৫৬৭৭২২০৬ ইত্যাদি।