আলীকদমে চৈক্ষ্যং আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি গঠনে অনিশ্চয়তা : আদালতের আদেশ আমলে নেননি প্রধান শিক্ষক

মমতাজ উদ্দিন আহমদ, আলীকদম :

বান্দরবানের আলীকদম উপজেলার চৈক্ষ্যং আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ে দু’পক্ষের রশি টানাটানিতে অনিশ্চয়তায় পড়েছে ম্যানেজিং কমিটি গঠন প্রক্রিয়া। এ নিয়ে ক্ষুদ্ধ একটি পক্ষের মামলার প্রেক্ষিতে গত বছর বান্দরবানের বিজ্ঞ যুগ্ম জেলা জজ আদালত ‘বিদ্যালয়ের স্বার্থে ম্যানেজিং কমিটি গঠনের নির্বাচন থামিয়ে রাখা সমীচীন হবেনা’ মর্মে আদেশ দেন। একই আদেশে মামলার ‘বাদীকে প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ক্যাটাগরি থেকে বাদ দিয়ে ম্যানেজিং কমিটি গঠনকল্পে নির্বাচন অনুষ্ঠান অসঙ্গত ও ন্যায়বিচার পরিপন্থি’ বলে উল্লেখ করা হয়। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আদালতের এ আদেশের বিরুদ্ধে ‘কমিটির অনুমোদন’ ছাড়াই জেলা জজ আদালতে আপীল করে ম্যানেজিং কমিটির নির্বাচন প্রক্রিয়ায় দীর্ঘসূত্রিতা করছেন বলে করেছেন অভিযোগ মামলার বাদী ও অভিভাবকরা।

বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা প্রধান শিক্ষক মঞ্জুরুল ইসলাম আদালতে পেশ করা আর্জিতে বলেন, ১৯৮৬ সালে তাঁর কেনা ৫০ শতক জমিতে তদানিন্তন চৈক্ষ্যং নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা হয়। তিনি স্থানীয়দের সহযোগিতায় ওই বছরের জানুয়ারীতে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠার পর ১৯৯০ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করেন। এরপর তিনটি ম্যানেজিং কমিটির ভোটার তালিকায় তাঁর নাম ছিল। ২০০২ সালের ২৪ জুন হতে পরবর্তী ৩বছর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতির দায়িত্বও পালন করেন। তিনি অভিযোগ করেন, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জসিম উদ্দিন তহবিল তসরূপসহ নানা অনিয়মে জড়িয়ে পড়লে তিনি ক্ষুব্ধ হয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট অভিযোগ করেছিলেন। এরপর প্রধান শিক্ষক অযৌক্তিকভাবে ২০১১ সালের ৩০ জুলাই প্রকাশিত খসড়া ভোটার তালিকায় প্রতিষ্ঠাতা ক্যাটাগরি থেকে তাঁকে বাদ দেন। বিজ্ঞ যুগ্ম জেলা জজ আদালতের ১৪ জানুয়ারী ২০১৩ ইং তারিখের আদেশ নম্বর : ১৩ এ উল্লেখ করা হয়, ‘একটি পদের জন্য বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির নির্বাচন আটকিয়ে রাখা যেমন সমীচীন হবেনা, তেমনিভাবে কোন কর্তৃপক্ষ কর্তৃক সিদ্ধান্ত ব্যতীত বাদীকে হঠাৎ করে প্রতিষ্ঠাতা সদস্য তালিকা থেকে বাদ দিয়ে ভোটার তালিকা প্রণয়ন গ্রহণীয় নয়’। বিজ্ঞ জেলা যুগ্ম জজের এ আদেশের বিরুদ্ধে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক গত ১৫ মে ২০১৩ ইং তারিখে মিস আপীল ০৩/১৩ দায়ের করেন।

এ আপীলের পর ম্যানেজিং কমিটি গঠন প্রক্রিয়া অনিশ্চিয়তার মুখে পড়ে। অভিযোগ উঠেছে, এ মীস আপীলে বিদ্যালয়ের কোন স্বার্থ জড়িত না থাকলেও প্রধান শিক্ষক উপযাচক হয়ে এ কাজটি করেন। এতে স্থানীয় অভিভাবক কিংবা বিদ্যালয়ের এডহক কমিটির লিখিত কোন অনুমোদন নেই। চৈক্ষ্যং ইউনিয়নের সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, অনেক আশা-আকাঙ্খা নিয়ে এ বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা হয়েছিল। সাম্প্রতিক সময়ে প্রধান শিক্ষকের মর্জির কাছে বিদ্যালয়ের পড়ালেখার পরিবেশ এবং উন্নয়ন সম্ভাবনা ধুলিস্যাৎ হয়ে যাচ্ছে। তাঁর মতে, বিজ্ঞ জেলা যুগ্ম জজ আদালতের আদেশের বিরুদ্ধে প্রধান শিক্ষকের করা আপীলে মূলতঃ বিদ্যালয়ের কোন স্বার্থ নেই। বরং বিদ্যালয়ের টাকা খরচ করে বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় অবদান রাখা ব্যক্তির সাথে শত্রুতা সৃষ্টি করা হচ্ছে।

স্থানীয় ইউপি মেম্বার ও অভিভাবক অলিউর রহমান বলেন, নিয়মিত কমিটি গঠিত হলে বিদ্যালয়ে পড়ালেখার পরিবেশ ভাল হতো। কিন্তু প্রধান শিক্ষক নানা অজুহাত সৃষ্টি করে ম্যানেজিং কমিটি গঠনে বিলম্বিত করছেন। এতে বিদ্যালয়ের পড়ালেখার পরিবশ ও উন্নয়ন ব্যাহত হচ্ছে। একইভাবে প্রধান শিক্ষকের নানা অনিয়ম ও বিদ্যালয় স্বার্থী পরিপন্থী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেন বিদ্যালয়ের অভিভাবক হাফিজুর রহমান, ডাঃ পুজন দাশ, মংয়েনু মার্মা সওঃ, আব্দুল খালেক, সৈয়দ হোসেনসহ একাধিক অভিভাবক ও স্থানীয় সচেতন লোকজন। সম্প্রতি সরেজমিন তথ্যানুসন্ধানকালে তারা প্রধান শিক্ষকের নানা অনিয়ম তুলে ধরে এ ক্ষোভের কথা জানান। বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা প্রধান শিক্ষক মঞ্জুরুল ইসলাম বলেন, তিনি স্থানীয়দের সহযোগিতায় বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর বিভিন্ন কমিটিতে শিক্ষানুরাগী সদস্য, এডহক কমিটির সভাপতি ও শিক্ষাবোর্ড কর্তৃক অনুমোদিত নির্বাহী কমিটির সদস্য নির্বাচিত হন। কিন্তু প্রধান শিক্ষকের অনিয়ম-দুর্নীতি নিয়ে কথা বলায় তাকে ২০১১ সালে প্রণয়নকৃত ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়। এ সংক্রান্ত সকল অভিযোগ অস্বীকার করে প্রধান শিক্ষক জসিম উদ্দিন বলেন, এডহক কমিটির অনুমোদন নিয়েই জেলা জজ আদালতে মীস আপীলটি করা হয়েছে। এডহক কমিটির মেয়াদ সংক্রান্ত বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি ফাইল ঘেঁটে সংশ্লিষ্ট তথ্যাদি দিবেন বলে জানালেও পরে আর দেননি। বিদ্যালয়ের এডহক কমিটির আহ্বায়ক ও ইউপি চেয়ারম্যান জামাল উদ্দিন বলেন, কমিটির বৈঠকে বিজ্ঞ জেলা যুগ্ম জজ আদালতের আদেশের বিরুদ্ধে মীস আপীল করার বিষয়ে কোন সিদ্ধান্ত তার জানামতে কমিটির নিয়মিত বৈঠকে হয়নি। প্রধান শিক্ষকের করা আপীলের বিষয়ে তিনি খোঁজ খবর নিয়ে দেখবেন।

জানতে চাইলে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবু তাহের মুহাম্মদ কামরুল হাসান বলেন, আদালতে দুইটি পক্ষের মামলা সংক্রান্ত জটিলতায় ম্যানেজিং কমিটি গঠন থেমে আছে। এ বিষয়টি শীঘ্রই সুরাহা না হলে বিদ্যালয়ের সার্বিক পরিবেশ বিঘ্নিত হওয়ার আশংকা করেন তিনি।

আলীকদমের পানবাজারে দু’পক্ষের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ : আহত ৩

Crime News_Alikadam Pic

মমতাজ উদ্দিন আহমদ, আলীকদম (বান্দরবান) প্রতিনিধি :

আজ শুক্রবার সন্ধ্যায় বান্দরবানের আলীকদম উপজেলার পানবাজারে বিবদমান দু’পক্ষের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ হয়েছে। এ সময় গুরুতর আহত ৩ জনকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসার পর চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়। বাজার পরিচালনা কমিটির নির্বাচনে ভোটার তালিকা তৈরীতে দু’পক্ষের বিরোধের জেরে এ ঘটনার সূত্রপাত বলে জানা গেছে।

প্রতক্ষদূর্শী আলীকদম ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ড মেম্বার জাকের হোসেন ও মঞ্জুর আলম ভুলু জানান, শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে পাঁচটার দিকে পানবাজারে জিন্নত আলীসহ কয়েকজন দোকান প্লট মালিক ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে একটি অভিযোগপত্রে স্বাক্ষর নিচ্ছিলেন। এ সময় জিন্নত আলীর মালিকানাধীন প্লটের ব্যবসায়ী বেলাল মিকারের স্বাক্ষর আদায়ের সময় প্রতিপক্ষ ব্যবসায়ী দেলোয়ার, এরশাদ ও ফারুক বাঁধা দেয়। এতে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে।  এ সময় ব্যবসায়ী পক্ষের দেলোয়ার হোসেন (৪৫), আনোয়ার হোসেন ছোটন (১৬) ও মো. এরশাদ মিয়া (৩৫) গুরুতর আহত হন। তাদেরকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসেন। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে আহতদের চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়েছে।

সংঘর্ষে আহত মো. এরশাদ জানান, পান বাজারে প্লট মালিক পক্ষের মো. নুরের নেতৃত্বে হামলা চালানো হয়। মো. নুর নিজেই কয়েকজনকে গুরুতর আহত করে।

অপরদিকে হামলায় নেতৃত্বাদানকারী মো. নুর জানান, সংঘর্ষের সময় প্লট মালিক পক্ষের ছাবের আহামদ মেম্বার (৪৫) ও জিন্নাত আলী (৫০) আহত হয়েছেন। তবে তারা হাসপাতালে নয়, বাড়িতে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

আলীকদম থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) ছৈয়দ ওমর জানান, পুলিশ খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে গেছে। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ তৎপর রয়েছে। তবে এখনো থানায় কোন পক্ষই অভিযোগ করেনি।

আলীকদম বিএনপির সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ ‘নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা ষড়যন্ত্রমূলক’

BNP Press Confarence Pic 3

আলীকদম (বান্দরবান) প্রতিনিধি:
বান্দরবানের আলীকদমে আ.লীগ কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগের অভিযোগ এনে উপজেলা বিএনপির আহ্বায়কসহ ১৮ দলীয় নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহারের দাবীতে সাংবাদিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার আলীকদম বাজারে দলীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুল হামিদ।

লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, আলীকদম উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও উপজেলা চেয়ারম্যান মো. আবুল কালাম এবং উপজেলা যুবদলের সদস্য আবুল হাসেমের বিরুদ্ধে আ.লীগের দায়ের করা অগ্নিসংযোগের মামলাটি ষড়যন্ত্রমূলক। গত ১৯ নভেম্বর আলীকদম থানায় দায়ের করা এ মামলায় ১৮ দলীয় জোটের আরো ৫০/৬০ জনকে অজ্ঞাত আসামী করা হয়। সাম্প্রতিক সময়ে আলীকদমের রাজনীতিতে আ.লীগ কর্মীশূন্য হয়ে পড়েছে উল্লেখ করে বলা হয়, সাংগঠনিক দুর্বলতা ও নেতৃত্বশূন্যতা আড়াল করতেই বিএনপির নেতাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করার মিশন হাতে নিয়েছে আ.লীগ নেতারা।

লিখিত বক্তব্যে উল্লেখ করা হয়, জাতীয় নির্বাচনকালীন নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবীতে আলীকদমেও সাম্প্রতিক সময়ে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচী পালিত হচ্ছে।  বিরোধী দলের আন্দোলন দমন করতেই বিএনপির আহ্বায়ক ও উপজেলা চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের করা হয। আ.লীগ নেতারা নিজেদের দলীয় কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগের নাটক সাজিয়ে বিরোধীপক্ষকে হয়রানী করছেন। এ মামলার ফলে আলীকদমের রাজনীতিতে হানাহানি, হিংসা-বিদ্বেষ সৃষ্টির মাধ্যমে এলাকার স্বাভাবিক পরিবেশ নস্যাৎ হবে। মিথ্যা মামলায় গ্রেফতারের ভয়ে নেতাকর্মীরা আতংকের মধ্যে রয়েছেন।

সংবাদ সম্মেলনে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করে স্থানীয় শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখায় পরিবেশ সৃষ্টির জন্য আ.লীগ নেতাদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়। বিএনপি নেতারা বলেন, আমরা হানাহানি ও প্রতিহিংসার পরিবেশ চাই না, তাই মিথ্যা মামলাটি প্রত্যাহার করে নিয়ে আ.লীগ নেতারা  শুভবুদ্ধির পরিচয় দিবেন’। সংবাদ সম্মেলনে বিএনিপ ও অংগ সহযোগি সংগঠনের অর্ধ শতাধিক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।

আলীকদমে ‘অবৈধ’ সার আটক দেখিয়ে ছেড়ে দেয়ার সিদ্ধান্ত

Follow Up

আলীকদম (বান্দরবান) প্রতিনিধি :

বান্দরবানের আলীকদম উপজেলায় ট্যোবাকো কোম্পানীর ‘অবৈধ’ মজুদকৃত ৪১ মেট্রিক টন ডিএপি সার ছেড়ে দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে উপজেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটি। অবৈধ মজুদের অভিযোগে সারগুলি গত রবিবার উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) কর্তৃক ‘আটক’ করেন। বুধবার ইউএনও কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এ সংক্রান্ত একটি সভায় ইউএনও বলেন, সারগুলি জব্দ নয়, আটক করা হয়েছিল। ঢাকা ট্যোবাকো ইন্ডাস্ট্রিজ ও নাছির ট্যোবাকো থেকে ‘মুছলেকা’ নিয়ে অবৈধ সারগুলি ছেড়ে দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এ দু’কোম্পানী সারগুলি তামাক চাষের ব্যবহার করবে। তামাক চাষকে সরকারীভাবে নিরূৎসাহিত করা হয়। প্রশাসন থেকে এ খাতে ভর্তুকীকৃত সার বরাদ্দ দেয়া হয় না। এ কারণে কোম্পানীগুলো প্রতিবছর অবৈধ উপারে সার সংগ্রহ করে আসছে। আজ থেকেই টোবাকো কোম্পানীগুলো অবৈধ সারগুলি বিতরণ শুরু করেছে।

বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, ২০০৯ সালের সার বিধিমালা লঙ্ঘন করে ঢাকা ট্যোবাকো ইণ্ডাস্ট্রিজ ৩৭ মেট্রিক টন ও নাছির ট্যোবাকো ৪ মেট্রিক টন ডিএপি সার আলীকদম উপজেলার পান বাজারে মজুদ করেন। এ অভিযোগে গত রবিবার বিকেলে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোতাকাব্বীর আহমেদ সার জব্দ করেছেন বলে জানিয়েছিলেন সাংবাদিকদের। তবে আজ বুধবার উপজেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটির সভায় তিনি জব্দ নয় সারগুলি আটক করা হয়েছিল বলে জানান। এ সময় উপজেলা নির্বাহী অফিসার আরো বলেন, ‘প্রশাসনের অনুমতি ছাড়া এ দু’ট্যোবাকো কোম্পানীর সারগুলি আলীকদমে অবৈধভাবে এনেছেন’।

index

উপজেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটির সদস্য সচিব ও উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ আলী আহমেদ বলেন, ‘অবৈধ এ সার আটকের বিষয় নিয়ে সাংবাদিকরা প্যাঁচাচ্ছে’। এর প্রতিবাদ করে সার ও বীজ মনিটরিং কমিটির সদস্য ও প্রেসক্লাব সভাপতি মমতাজ উদ্দিন আহমদ বলেন, সাংবাদিকরা অবৈধ সারের বিষয়ে লিখেছেন। ট্যোবাকো কোম্পানীগুলো প্রশাসনের অনুমতি ছাড়া সার মজুদ করছে। এ সময় সারগুলির বিষয়ে বিধিমতে ব্যবস্থা গ্রহণের ওপর তিনি মত ব্যক্তি করেন। বৈঠক উপস্থিত উপজেলা পরিষদের দু’ভাইস চেয়ারম্যান আইনগতভাবে নয়, স্থানীয় সিদ্ধান্তেই ‘অবৈধ’ সারগুলি ছেড়ে দেয়ার পক্ষে জোরালো সুপারিশ করেন।

ইউএনও কার্যালয়ে বুধবার অনুষ্ঠিত সার ও বীজ মনিটির কমিটির সভায় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ইউপি চেয়ারম্যান জামাল উদ্দিন, ঢাকা ট্যোবাকোর চকরিয়া রিজিওনাল ম্যানেজার (আরএম) মোঃ কাউসার খান, শাখা ম্যানেজার শহিদুল ইসলাম, মৎস্য কর্মকর্তা আজিম উদ্দিন, ঢাকা ট্যোবাকোর ম্যানেজার মোঃ রাব্বী, নাছির ট্যোবাকোর প্রতিনিধি মোঃ আওয়াল, আবুল খায়ের ট্যোবাকোর ম্যানেজার কিবিরিয়া।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার জানান, পার্শ্ববর্তী লামা উপজেলায়ও কয়েকদিন পূর্বে অবৈধ সার আটকের পর ‘মুছলেকা’ নিয়েছে ছেড়ে দেয়া হয়েছে। সার ও বীজ মনিটরিং কমিটির সভায় সিদ্ধান্তের আলোকে আলীকদমেও একই প্রক্রিয়ায় ট্যোবাকোর কোম্পানী থেকে ‘মুছলেকা’ নিয়ে আটক সারসগুলি ছেড়ে হবে।

আলীকদম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ হোসাইন বলেন, আলীকদমে অবৈধ সার মজুদের বিষয়টি তিনি শুনেছেন। তবে সার আটক কিংবা জব্দের বিষয়ে উপজেলা প্রশাসন থেকে তাকে কিছুই জানানো হয়নি। 

আলীকদমে আ’লীগ কার্যালয়ে আগুন : উপজেলা চেয়ারম্যানসহ অজ্ঞাতনামা অর্ধশতাধিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা

Al Office Faire News Pic_2 Alikadam_Bandarban.doc

মমতাজ উদ্দিন আহমদ, আলীকদম (বান্দরবান) প্রতিনিধি:

সোমবার দিনগত মঙ্গলবার রাত সোয়া তিনটার সময় বান্দরবান জেলার আলীকদম উপজেলা আওয়ামীলীগ অফিসে দুর্বৃত্তরা অগ্নিসংযোগ করেছে। এ ঘটনায় উপজেলা চেয়ারম্যান ও সদ্য ঘোষিত বিএনপির সভাপতি মোঃ আবুল কালাম ও যুবদলের আবুল হাশেমকে আসামী করে উপজেলা আওয়ামীলীগ সাধারণ সম্পাদক দুংড়ি মং মার্মা বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেছে। মামলায় আরো অজ্ঞাতনামা অর্ধশতাধিক লোককে অভিযুক্ত করা হয়েছে। দলীয় কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগকে পরিকল্পিত দাবী করে উপজেলা আওয়ামীলীগ ও অংগ-সহযোগি সংগঠন উপজেলা সদরে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রেসক্লাব চত্ত্বরে প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে। সমাবেশ শেষে মিছিল নিয়ে থানায় অভিযোগপত্র পেশ করা হয়।

পুলিশ ও দলীয় সূত্রে জানা গেছে,  মঙ্গলবার রাত সোয়া তিনটার সময় আওয়ামীলীগ কার্যালয়ে পেট্রোল-অকটেন ঢেলে আগুন লাগায় দুর্বৃত্তরা। এ সময় কার্যালয়ের ভেতরে দলীয় গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র ও বেশ কিছু ডিজিটাল ব্যানার-পেস্টুন পুড়ে যায়। বাজারের নৈশ প্রহরীরা আগুন দেখতে পায়। আলীকদম বাজারের নৈশপ্রহরী মোহাম্মদ ইসা বলেন, আমি আওয়ামীলীগ কার্যালয়ের ভেতরে হঠাৎ আগুন দেখতে পেয়ে ডাক চিৎকার শুরু করি। পরে দরজা ভেঙ্গে ভেতরে ঢুকে আরো কয়েকজনের সহায়তায় আগুন নিভাতে সক্ষম হই।

থানায় প্রদত্ত উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক দুংড়িমং মার্মা বলেন, গত ১৬ নভেম্বর আলীকদম প্রেসক্লাব চত্ত্বরে ১৮ দলের সমাবেশে উপজেলা বিএনপির নবনিযুক্ত সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান মো. আবুল কালাম আওয়ামীলীগ অফিস নির্মাণ নিয়ে কটুক্তিপূর্ণ বক্তব্য রাখেন। এ সময় তিনি দলীয় কার্যালয় ভাংচুর ও নেতাকর্মীদের বাড়িঘর ভেঙ্গে আগুনে পুড়ানোর প্রকাশ্য হুমকি দেন। দুংড়ি মং মার্মা অভিযোগ করেন, তার (উপজেলা চেয়ারম্যান) হুকুমেই বিএনপির উগ্রপন্থিরা আগুন লাগিয়েছে। এ ঘটনায় থানায় মামলা নং- ০২, তারিখ ১৯/১১/২০১৩ ইং রুজু হয়েছে।

এ ঘটনায় আওয়ামীলীগ ও অংগ-সহযোগি সংগঠনের উদ্যোগে মঙ্গলবার উপজেলা সদরে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রেসক্লাব চত্ত্বরে প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলা আওয়ামীলীগ সভাপতি নাছির উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন জেলা আওয়ামীলীগের সদস্য মোজাম্মেল হক, উপজেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি ও ইউপি চেয়ারম্যান জামাল উদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক দুংড়ি মং মার্মা, যুগ্ম সম্পাদক কামরুল হাসান টিপু, সাংগঠনিক সম্পাদক সমর রঞ্জন বড়ুয়া ও ওলামালীগ সভাপতি বেলাল উদ্দিন সিরাজী।

বাজারের নাইট গার্ড মোহাম্মদ ইসা বলেন, আমি আওয়ামীলীগ কার্যালয়ের ভেতরে হঠাৎ আগুন দেখতে পেয়ে ডাক চিৎকার শুরু করে দরজা ভেঙ্গে ভেতরে ঢুকি। পরে আরো কয়েকজনের সহায়তায় আগুন নিভাতে সক্ষম হই।

উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক দুংড়িমং মার্মা বলেন, গত ১৭ নভেম্বর আলীকদম প্রেসক্লাব চত্ত্বরে ১৮ দলের সমাবেশে উপজেলা বিএনপির নবনিযুক্ত সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান মো. আবুল কালাম আওয়ামীলীগ অফিস নির্মাণ নিয়ে কটুক্তিপূর্ণ বক্তব্য রাখেন। এর জেরে ধরে বিএনপির উগ্রপন্থিরা আগুন লাগিয়েছে বলে তারা ধারণা করছেন।

এ ব্যাপারে উপজেলা আওয়ামীলীগ অংগ ও সহযোগি সংগঠনের পক্ষ থেকে মঙ্গলবার বিক্ষোভ মিছিল ও প্রেসক্লাব চত্ত্বরে প্রতিবাদ সমাবেশ করবে। পাশাপাশি বিএনপির দুষ্কৃতিকারীদের অভিযুক্ত করে থানায় অচিরেই অভিযোগপত্র দায়ের করা হবে।

অভিযোগ অস্বীকার করে উপজেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল হামিদ বলেন, বিএনপি প্রতিহিংসার রাজনীতি করেনা। বিএনপির কেউ আগুন লাগানোর মতো হীনকাজে জড়িত নয়। আলীকদমে বিএনপির গতিশীলতা নষ্ট করার জন্য উদ্দেশ্যমূলক অভিযোগ করা হচ্ছে।

জানতে চাইলে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ হোসাইন বলেন, টহল পুলিশের মাধ্যমে খবর পেয়ে আমি রাত সাড়ে তিনটার ঘটনাস্থলে পৌঁছি। এ ঘটনায় দোষীদের সনাক্তে তদন্ত চলছে।

আলীকদম পাবলিক স্কুল নির্মাণে জমির মালিকদের চেক হস্তান্তর

আলীকদম (বান্দরবান) প্রতিনিধি :

বান্দরবানের আলীকদম পাবলিক স্কুল নির্মাণের লক্ষে ক্রয়কৃত জমির চেক হস্তান্তর অনুষ্ঠান আজ সোমবার জোন সদরে অনুষ্ঠিত হয়। এ উপলক্ষে আলীকদম জোন কমাণ্ডার লেঃ কর্ণেল মোঃ আলমগীর কবীরের সভাপতিত্বে আয়োজিত এক সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন ৬৫ ব্রিগেডের ভারপ্রাপ্ত কমাণ্ডার কর্ণেল জায়েদ হাসান। অনুষ্ঠানে ৩ বেঙ্গলের সিও লেঃ কর্ণেল শরিফুল ইসলাম, আলীকদম জোনের জেডএসও মেজর কামরুল হাসান খান সুমন, উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোতাকাব্বীর আহমেদসহ সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, আলীকদম পাবলিক স্কুল নির্মাণের লক্ষে সম্প্রতি উপজেলা সদরে ১১ জন মালিকের নিকট হতে ৫ একর ৯০ শতক জমি ২ কোটি ২৭ লক্ষ ৫৮ হাজার ৭৫০ টাকায় ক্রয় করা হয়। এসব টাকা থেকে প্রথম পর্যায়ে জমির মালিকদের ৫০ হাজার টাকা হারে প্রদান করার পর সোমবার অবশিষ্ট টাকার চেক প্রদান করা হয়। চেক হস্তান্তরের মধ্য দিয়ে জমির সমুদয় মূল্য মালিকদের নিকট পরিশোধ করা হয়।

সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে ৬৫ ব্রিগেডের ভারপ্রাপ্ত কমাণ্ডার কর্ণেল জায়েদ হাসান বলেন, আলীকদমে পাবলিক স্কুল নির্মাণের মধ্যে দিয়ে এতদাঞ্চলের শিক্ষার সুদুরপ্রসারী দিগন্ত উন্মোচিত হবে। সেনাবাহিনীর নিয়ন্ত্রিত পাবলিক স্কুলে শিক্ষার মান সারা দেশে স্বীকৃত।

আলীকদমে ‘বৈধ’ ডিপোতে জোতের বাইরের কাঠ মজুদের অভিযোগ

BagerhatNews29.07.2013

আলীকদম (বান্দরবান) প্রতিনিধি:
পাহাড়ি জেলা বান্দরবানের আলীকদমে তৈন রেঞ্জের আওতাধীন ১১১নং অস্থায়ী কাঠের ‘বৈধ’ ডিপোতে জোতের বাইরের কাঠ মজুদের অভিযোগ উঠেছে। নির্মাণাধীন আলীকদম-থানচি সড়কের ১৬ কিলোমিটার এলাকার অশ্রেণীভূক্ত বনাঞ্চল থেকে এসব কাঠ কাটা হয়। এ নিয়ে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে অভিযোগ বিচারাধীন থাকাবস্থায় সাড়ে চারশ’ ঘনফুট জোতের বাইরের কাঠ ডিপোতে মজুদ করা হয়েছে।

লামা বন বিভাগীয় কর্মকর্তা (ডিএফও)’র নিকট লিখিত এক অভিযোগে জানা গেছে, উপজেলার বটতলী পাড়ার ওসমান আলীকদম-থানচি রোডের ১৭ কিলোমিটার এলাকায় স্থানীয় কমপ্লেক মুরুংয়ের ভোগদখল থেকে ২৫টি গোদা গাছ ক্রয় করেন। সম্প্রতি ওসমান এ গাছগুলি কর্তন করলে পরিমাণ দাড়ায় ৪৫০ ঘনফুট। তৈন রেঞ্জের ১১১ নং অস্থায়ী কাঠের ডিপোর মালিক ছেনোয়রা বেগম ওসমানের কাটা কাঠগুলি গোপনে এনে আমতলীর চাকলাম কার্বারী পাড়ায় অবৈধ মজুদ করেন। এ নিয়ে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে গাছের মালিকানা নিয়ে ওসমান অভিযোগ দায়ের করলে বিষয়টি বিচারাধীন আছে।

ক্রয়সূত্রে গাছের মালিক ওসমান দাবী করেন, তার কর্তিত গাছের মালিক স্থানীয় আদু কার্বারীর ছেলে কমপ্লেক মুরুং। যেখান থেকে গাছ কাটা হয়েছে সেখানে কোন সরকালী হোল্ডিং কিংবা খতিয়ান নেই। তাই গাছ কাটার জন্য সরকারী জোত পারমিট ইস্যু হওয়ারও সুযোগ নেই। অথচ ছেনোয়রা বেগম গাছের মালিকনা দাবী করে বন বিভাগের অনুমোদিত ১১১ নং কাঠের ডিপোতে জোতের বাইরের কাঠগুলি অবৈধ মজুদ করেছেন। ছেনোয়রা বেগম বলেন, গাছগুলি তার মালিকানাধীন। যে জায়গা থেকে গাছ কাটা হয়েছে সে জায়গাটি তার ভোগদলখীয়।

উল্লেখ্য, জোত পারমিটের অজুহাতে স্থানীয় ছেনুয়ারা বেগম আলীকদম-থানচি সড়কে অবৈধভাবে গাছ কেটে চলেছেন মর্মে গত ১৮ আগস্ট স্থানীয় পাড়া প্রধান আদু মুরুং কার্বারীসহ ১৫ জন উপজাতি উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) বরাবর লিখিত দেন। এ নিয়ে গত ৮ সেপ্টেম্বর ইউএনও অফিসের সার্ভেয়ারের [পত্র নং- কানুন/২০১৩-৫৪(১৬) (ভূমি)] তদন্তকালে অভিযুক্ত ছেনোয়ারা উপস্থিত হননি। তদন্তকালে মুরুংদের অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হয়।

আদু মুরুং কার্বারী অভিযোগ করেন, ছেনুয়ারা বেগম নিজেকে ‘ফরেস্টের মহিলা, মুন্সির বউ’ ইত্যাদি পরিচয়ে স্থানীয় উপজাতিদের ভোগ দখলীয় বাগানের গাছ কেটে নিচ্ছেন। অবৈধভাবে কর্তিত কাঠ জোত পারমিটের আড়ালে তার বাড়ির আঙিনায় স্থাপিত ১১১নং ডিপোতে মজুদ করে থাকেন।

উপজেলা জনসংহতি সমিতি-জেএসএস এর সাধারণ সম্পাদক চাহ্লা মং মার্মা বলেন, পাহাড়ের অশ্রেণীভূক্ত বনাঞ্চলের অধিকন্ত গাছপালা স্থানীয় উপজাতি বাসিন্দারা ভোগ দখল করছেন। কিন্তু সম্প্রতিক সময়ে ছেনোয়ারাসহ কতিপয় ব্যক্তি জোর করেই এসব কাঠ কেটে বন বিভাগ অনুমোদিত কাঠের ডিপোতে মজুত করছেন। এ নিয়ে স্থানীয়রা অভিযোগ করেও সুষ্ঠু প্রতিকার পাচ্ছেন না।

এ ব্যাপারে তৈন রেঞ্জে নবনিযুক্ত রেঞ্জ কর্মকর্তার শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘আমি কর্মস্থলে নতুন। জোতের বাইরের কাঠ ডিপোতে রাখার অনুমতি নেই। এ বিষয়ে অনুসন্ধান করে আইনগত পদক্ষেপ নেবো’।
জানতে চাইলে লামা বন বিভাগীয় কর্মর্কা মুহাম্মদ সাঈদ বলেন, এ বিষয়ে আমার দপ্তরে একটি অভিযোগ এসেছে। যদি অভিযুক্ত ছেনোয়ারা তার ডিপোতে অবৈধ কাঠ মজুদ করে থাকেন, তবে তদন্ত করা হবে। জোতের বাইরের কাঠ প্রমাণিত হলে টিপি সরবরাহ করা হবে না’।

আলীকদম ইয়েস ফ্রেন্ডস্ গ্রুপের নতুন কমিটি গঠিত

আলীকদম (বান্দরবান) প্রতিনিধি:
বান্দরবানের আলীকদম উপজেলায় ইয়ুথ এনগেজমেন্ট এন্ড সাপোর্ট (ইয়েস) ফ্রেন্ডস গ্রুপের ১৯ সদস্যের নয়া কমিটি গঠিত হয়েছে। গত ৯ নভেম্বর স্থানীয় একটি ক্যান্টিনে অনুষ্ঠিত ইয়েস ফ্রেন্ডসের ত্রৈমাসিক মাসিক সভায় এ কমিটি গঠিত হয়। সভায় ফাহিমা আক্তারকে দলনেতা, হ্লাহ্লাচিং মারমা ও এস,এম, জুয়েলকে উপ-দলনেতা মনোনীত হন। নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে ছয়মাস পর্যন্ত এ কমিটি দায়িত্ব পালন করবে। ইয়েস ফ্রেন্ডস গ্রুপের সাবেক দলনেতা ফারুক আহমেদ সুমনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় উপস্থিত ছিলেন ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) চকরিয়ার এরিয়া ম্যানেজার মামুন কবীর ও অ্যাসিসটেন্ট ম্যানেজার মোঃ রাশেদুল ইসলাম।

সভায় জানানো হয়, দেশের ৪৫ টি প্রশাসনিক অঞ্চলে টিআইবি সনাক, স্বজন, ইয়েস এবং ইয়েস ফ্রেন্ডস গ্রুপের মাধ্যমে দুনীতিবিরোধী বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছে। একই ধারাবাহিকতায় আলীকদম উপজেলায়ও যুব সম্প্রদায়কে নিয়ে ইয়েস ফ্রেন্ডস গ্রুপ এই এলাকায় দুর্নীতিবিরোধী সামাজিক আন্দোলন তৈরির লক্ষ্যে কাজ করছে। দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলনকে বেগবান করার লক্ষ্যে নয়া কমিটিকে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়।

আলীকদমের আমতলীতে কঠিন চীবর দানোৎসব

আলীকদম (বান্দরবান) প্রতিনিধি:
বান্দরবান জেলার আলীকদম উপজেলায় আমতলী ত্রিশরণ বৌদ্ধ বিহারে দানোত্তম কঠিন চীবর দান অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়েছে। গত শুক্রবার দিনব্যাপি অনুষ্ঠানমালার প্রথম প্রহরে সুত্রপাঠ, প্রাত:রাশ, বৌদ্ধ পতাকা উত্তোলন, অষ্টপরিস্কার ও মহাসংঘদান এবং ভিক্ষুসংঘের পিন্ডদান অনুষ্ঠিত হয়। বিকেলে মঙ্গলাচরণ পাঠ, কঠিন চীবর দান ও দানীয়বস্তুয়াদি উৎসর্গ এবং সন্ধ্যায় সমবেত প্রার্থনা ও হাজার প্রদীপ প্রজ্জ্বলনের মধ্যে দিয়ে শেষ হয় দানোত্তম কঠিন চীবর দানের অনুষ্ঠানিকতা। এতে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে উপাসক-উপাসিকারা ভিক্ষু সংঘের ধর্ম দেশনা শ্রবণে সমবেত হন। স্বাগত ভাষণ দেন ত্রিশরণ বৌদ্ধ বিহার পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক সমিরন তঞ্চঙ্গ্যা।

পূণ্যার্থীদের উদ্দেশ্যে ভিক্ষুসংঘ কঠিন চীবর দানের ফল তুলে ধরে বুদ্ধের নীতি-আদর্শ মেনে শীল পালনের আহ্বান জানান ভিক্ষু সংঘ। গৌতম বুদ্ধের প্রবর্তিত নিয়মে তিন মাস বর্ষাব্রত পালন শেষে পূণ্যার্থীরা আশ্বিনী পূর্ণিমা থেকে কার্ত্তিক পূণিমা পর্যন্ত বৌদ্ধ বিহারে কঠিন চীবর দান উদ্যাপন করেন।
ধর্ম দেশনা কালে ভিক্ষুসংঘ বলেন, সমাজে মহামানব গৌতম বুদ্ধের অহিংস বাণী, নীতি-আদর্শ, ত্যাগ ও মৈত্রীপূর্ণ আচরণ প্রতিফলিত হলে সমাজে এতো বেশি হিংসা-বিদ্ধেষ, হানাহানি ও মোহ সৃষ্টি হতো না।

আলীকদমে বিএনপির উদ্যোগে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসে আলোচনা সভা

আলীকদম (বান্দরবান) প্রতিনিধি:
 বান্দরবান জেলার আলীকদম উপজেলা বিএনপি অংগ ও সহযোগি সংগঠনের উদ্যোগে গতকাল বৃহস্পতিবার জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালিত হয়েছে। এ উপলক্ষ্যে আলীকদম প্রেসক্লাব চত্ত্বরে এক সমাবেশ উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মাশুক আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন জেলা বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মি. মংক্যনু।

এতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মনছুর আহামদ। সভায় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুল হামিদ, হাজী মঞ্জুরুল ইসলাম, উপজেলা কৃষক দল সভাপতি জুলফিকার আলী ভূট্টো, মহিলা দলের সভাপতি ও ভাইস চেয়ারম্যান শিরিনা আক্তার, শ্রুমিক দলের মো. কামাল উদ্দিন, ছাত্রদল সভাপতি মো. ইলিয়াছ, সেক্রেটারী জয়নাল আবেদীন ও স্বেচ্ছাসেবক দলের হায়দার আলী প্রমুখ। বিকেলে আলোচনা সভার পূর্বে উপজেলা যুবদলের নবনিযুক্ত আহ্বায়ক ও উপজেলা চেয়ারম্যান মো. আবুল কালামের নেতৃত্বে একটি মিছিল সভাবেশস্থলে যোগ দেয়। আলোচনা সভায় যুবদল আহ্বায়ক বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন।

আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, স্বাধীনতার পর আওয়ামীলীগ নেতৃত্ব ক্ষমতাকে চিরস্থায়ী করার জন্য মানুষের বাক-ব্যক্তি ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা হরণ করে একদলীয় বাকশাল কায়েম করে। বাকশালী সরকার চরম অগণতান্ত্রিক ও ফ্যাসিবাদী হয়ে উঠে। বর্তমান সরকারও স্বাধীনতা উত্তর বাকশালীপন্থা গ্রহণ করেছে। বক্তারা আলো বলেন, ৭ নভেম্বর জাতীয় জীবনের এক ঐতিহাসিক দিন। ১৯৭৫ সালের এই দিনে সৈনিক-জনতা রাজপথে নেমে এসেছিল জাতীয় স্বাধীনতা ও গণতন্ত্র রক্ষার দৃঢ় প্রত্যয় বুকে নিয়ে। সে সশয় শহীদ জিয়ার সঠিক নেতৃত্ব দেশকে রক্ষা করেছিল।