জেএসএসের এজেন্ডা বাস্তবায়নে কাজ করছে রাঙামাটির স্থানীয় প্রশাসন- ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় বর্ধিত সভায় অভিমত

দতকহজ

স্টাফ রিপোর্টার:

জেএসএসের এজেন্ডা বাস্তবায়নে কাজ করছে রাঙামাটির স্থানীয় প্রশাসন ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় বর্ধিত সভায় জোরালে ভাষায় অভিযোগ করেন রাঙামাটি জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আবদুল জব্বার সুমন।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, বর্তমান সময়ে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি জেএসএস’র এজেন্ডা বাস্তবায়ন করার লক্ষ্যে কাজ করছে রাঙামাটির স্থানীয় প্রশাসন। এমনই মনে হচ্ছে আমাদের। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত হওয়া ৬ষ্ঠ পর্যায়ের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে যে ধরনের নূন্যতম সহযোগিতা আইনানুগ ভাবেও পাওয়ার কথা ছিলো সেই ধরনের সহযোগিতা প্রশাসনের পক্ষ থেকে করা হয়নি বলে অভিযোগ করে ছাত্রলীগ সভাপতি জানান, আঞ্চলিকদলীয় সন্ত্রাসীদের সাথে সখ্যতা গড়ে তুলে ছাত্রলীগ ও আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীদের অসহযোগিতা করছে স্থানীয় প্রশাসন।

রোববার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনে আয়োজিত দুইদিনব্যাপী কেন্দ্রীয় বর্ধিত সভায় অংশ নিয়ে কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের দৃষ্টি আকর্ষণ করে নিজের বক্তব্যে জেলা ছাত্রলীগ সভাপতি এই দাবি জানান।

সারাদেশের ১২০টি সাংগঠনিক ইউনিটের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকদের নিয়ে কেন্দ্রীয় কমিটি কর্তৃক আয়োজিত উক্ত বর্ধিত সভায় ছাত্রলীগ সভাপতি সুজন আরো বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম জন সংহতি সমিতি জেএসএস, ইউপিডিএফ ও সংস্কারপন্থী এমএন লারমা গ্রুপের সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের হাতে থাকা অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার বন্ধে বিভিন্ন সময়ে সাংবাদিক সম্মেলন, মানববন্ধনসহ বিভিন্ন ধরনের কর্মসূচীর মাধ্যমে দলীয় হাই কমান্ড ও সরকারের উচ্চ পর্যায়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করে পার্বত্য এলাকা থেকে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে অভিযান পরিচালনার জন্য আমরা কর্মসূচী পালন করেছি। কিন্তু স্থানীয় প্রশাসনের অসহযোগিতার কারনে তৃণমুল নেতাকর্মীরদের দাবিগুলো বাস্তবায়ন হচ্ছে না, বারবারই উপেক্ষিত থেকে যাচ্ছে।

জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক প্রকাশ চাকমার উপস্থিতিতে রাঙামাটি জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আব্দুল জব্বার সুজন সিনেটের বক্তব্যে আরো বলেন, এখনই যদি আঞ্চলিক দলীয় সন্ত্রাসীদের আইনের আওতায় এনে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার করা না হয়, তাহলে ভবিষ্যতে রাঙামাটি তথা পার্বত্য চট্টগ্রামে ছাত্রলীগসহ আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীদের কেউই সুষ্ঠুভাবে রাজনীতি করাতো দূরের কথা নিরাপদে চলাফেরাও করতে পারবে না।

রোববার সকাল ১০ থেকে শুরু হওয়া এই বর্ধিত সভার উদ্বোধন করেন ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও বর্তমানে যোগাযোগ মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এমপি। দুইদিন ব্যাপী চলা এই বর্ধিত সভা আজ বিকেল পর্যন্ত চলবে বলে জানা গেছে।

অবাধ, সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে পার্বত্য চট্টগ্রামে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে বিশেষ অভিযান সময়ের দাবী

শুধু তারিখ পিছিয়ে পার্বত্য চট্টগ্রামে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়

মেহেদী হাসান পলাশ

মেহেদী হাসান পলাশ

পার্বত্য জেলা রাঙামাটির ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন তৃতীয় ধাপের পরিবর্তে ৬ষ্ঠধাপে নেয়া হয়েছে। নির্বাচন কমিশন থেকে জারি করা এ সংক্রান্ত নির্দেশে বলা হয়েছে, ‘যেহেতু প্রধান প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো প্রার্থী মনোনয়ন দিতে পারেনি সেহেতু নির্বাচনে সবার অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে রাঙামাটি জেলার ১০টি উপজেলার সকল ৪৯ ইউনিয়নের নির্বাচন ৩য় পর্যায়ের পরিবর্তে ৬ষ্ঠ পর্যায়ে অন্তর্ভুক্ত’ করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। যদিও অন্য একটি পার্বত্য জেলা খাগড়াছড়ির ৩৭টি ইউনিয়নের মধ্যে আওয়ামী লীগ ৩৬টিতে, অন্যতম বৃহৎ রাজনৈতিক দল বিএনপি ২৭টিতে নমিনেশন দিতে পেরেছে। কিন্তু খাগড়াছড়ি জেলার নির্বাচন পেছানো হয়নি।

এদিকে ইসির পত্রে রাঙামাটি জেলায় ‘প্রধান প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো প্রার্থী মনোনয়ন দিতে’ না পারার কোনো কারণ না বলা হলেও সরকারি দল আওয়ামী লীগের নেতারা পরিষ্কার করে একাধিকবার বলেছেন, পাহাড়ী সন্ত্রাসীদের হুমকির কারণে তারা অনেক ইউনিয়নে প্রার্থী দিতে পারছেন না। শুধু তাই নয় নির্বাচন পেছানোর পর সংবাদ সম্মেলন করে আওয়ামী লীগের তরফ থেকে এও বলা হয়েছে, “পার্বত্য চট্রগ্রামে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার না হলে শুধু ইউপি নির্বাচন কেন ভবিষ্যতে কোন নির্বাচনেই অংশ নেবে না আওয়ামী লীগ”।

cht book 4

এ প্রেক্ষাপটে রাঙামাটিতে অনুষ্ঠিত পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত জাতীয় সংসদের স্থায়ী কমিটির বৈঠকে পার্বত্য চট্টগ্রাম থেকে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে সকল আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয়ে অবিলম্বে যৌথ অভিযান শুরু করার সুপারিশ করা হয়েছে। কিন্তু কবে কখন থেকে এই অভিযান শুরু হবে বা আদৌ হবে কিনা এ ব্যাপারে এখন পর্যন্ত কোনো সুস্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি। অথচ রাঙামাটি ছাড়া পার্বত্য চট্টগ্রামের অপর দুই জেলা খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানে শুরু হয়েছে নির্বাচনী ডামাঢোল।

টানা দ্বিতীয়বারের মতো শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ সরকার প্রবল প্রতাপে দেশ পরিচালনা করছে।বাংলাদেশের ইতিহাসে এর চেয়ে দাপুটে সরকার আর কখনো দেশ শাসন করেনি।প্রশাসন, পুলিশসহ সকল ধরনের ব্যুরোক্রাসি, মিডিয়া, সরকার বিরোধী মত, এমনকি বিরোধী রাজনৈতিক দলসমূহকে দলে পিষে অতীতে আর কোনো সরকার এমনভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে পারেনি। সারা বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের দাপটে যেখানে রাজপথের প্রধান বিরোধী দল বিএনপি, জামায়াত, শিবির যেখানে মাথা তুলে দাঁড়াতে পারছে না। সেখানে পার্বত্য চট্টগ্রামে সরকারি দল চরম অসহায়! অসহায় প্রধান বিরোধী দলও।

সারা দেশের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে মনোনয়ন পেতে যেখানে জাতীয় রাজনৈতিক দলগুলোর নেতকর্মীদের মধ্যে তদ্বির, কালো টাকা, প্রবল প্রতিদ্বন্দ্বিতা, সংঘাত, সংঘর্ষ, হত্যাকাণ্ড হচ্ছে; সেখানে পার্বত্য চট্টগ্রাম সম্পূর্ণ আলাদা। কেননা পার্বত্য চট্টগ্রামের বিভিন্ন ইউপিতে প্রধান জাতীয় রাজনৈতিক দলগুলো মনোনয়ন দেয়ার জন্য প্রার্থীই খুঁজে পাচ্ছে না। সরকারি দল আওয়ামী লীগ, রাজপথের বিরোধী দল বিএনপি পার্বত্য চট্টগ্রামের বিভিন্ন ইউপিতে নমিনেশন দেয়ার মতো আগ্রহী প্রার্থী পাচ্ছে না। এমন নয় যে সেখানে বিএনপি এবং আওয়ামী লীগের সংগঠন নেই। সংগঠন থাকলেও বিএনপি-আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা প্রার্থী হতে আগ্রহী নয়।

chtbook 9

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, তিন পার্বত্য জেলায় সক্রিয় তিনটি আঞ্চলিক সংগঠনের সশস্ত্র শাখার সন্ত্রাসীদের হুমকির মুখে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির নেতাকর্মীরা নমিনেশন নিতে আগ্রহী নয়।হুমকির মুখে জীবন বাঁচতে তারা নির্বাচনী মাঠ ছেড়ে দিয়েছে পাহাড়ী সন্ত্রাসীদের কাছে।

বিষয়টি স্বীকার করে  রাঙামাটি জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী দীপংকর তালুকদার জানিয়েছেন, স্থানীয় সশস্ত্র নামধারী সন্ত্রাসীদের অবৈধ অস্ত্রের ভয়ে পাহাড়ে মানুষ জিম্মি। তাদের হুমকির কারণে অধিকাংশ ইউনিয়ন পরিষদে আমাদের দলের অনেকে নির্বাচনে প্রার্থী হতে অনীহা প্রকাশ করছেন। এমনকি দলীয় বর্তমান ইউপি চেয়ারম্যানরা পর্যন্ত ভয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণে অনিচ্ছা প্রকাশ করেছেন। কারণ নির্বাচন এলে স্থানীয় আঞ্চলিক দলগুলোর অপতৎপরতা বৃদ্ধি পায়। বিশেষ করে পাহাড় অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে তাদের জোর বেশি থাকে।

আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে পার্বত্য জেলা রাঙামাটির ৪৯টি আসনের মধ্যে ৩০ আসনে চেয়ারম্যান পদে মনোনয়ন দিতে পেরেছে আওয়ামী লীগ। বাকি ১৯টি আসনে চেষ্টা করেও কোনো সরকারি দল কোনো প্রার্থী দিতে পারেনি। সাবেক পার্বত্য বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ও রাঙামাটি জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি দীপংকর তালুকদার বলেন, নির্বাচনের আগেই স্থানীয় নামধারী সন্ত্রাসী গ্রুপের ভয়ে আওয়ামী লীগের কোন নেতাকর্মী প্রার্থী হতে চাইছেন না। যার কারণে রাঙামাটি ৪৯টি ইউনিয়নের মধ্যে ১৯টি ইউনিয়ন প্রার্থী দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।

অন্যদিকে একই জেলায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি সাকুল্যে ২২টি ইউপিতে নমিনেশন দিতে পেরেছে। অর্ধেকের বেশি আসনে অর্থাৎ ২৭ টি ইউপিতে বিএনপির নেতাকর্মীরা প্রার্থী হতে আগ্রহ প্রকাশ করেনি। রাঙামাটি জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক দীপেন তালুকদার ও জেলা বিএনপির সহসভাপতি, সাবেক মেয়র সাইফুল ইসলাম চৌধুরী ভুট্টো পার্বত্য নিউজকে বলেন, সন্ত্রাসীদের হুমকি মুখে রাঙামাটি জেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে বিএনপির নেতাকর্মীরা নির্বাচন করতে আগ্রহী হচ্ছেন না।

ooooooo

একই অবস্থা পার্বত্য জেলা খাগড়াছড়িতেও। এ জেলার ৩৭ টি ইউনিয়ন পরিষদের মধ্যে ৩৬টিতে আওয়ামী লীগ নমিনেশন দিতে পারলেও বিএনপি ২৭ টিতে নমিনেশন দিতে পেরেছে। খাগড়াছড়ি জেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য ওয়াদুদ ভুঁইয়া পার্বত্যনিউজকে জানান, পাহাড়ী সন্ত্রাসীদের হুমকির মুখে বিভিন্ন ইউনিয়নে বিএনপির নেতাকর্মীরা নির্বাচন করতে ভয় পাচ্ছেন। তাই তারা নমিনেশন নিতে আগ্রহী নয়। বান্দরবানে পাহাড়ী সন্ত্রাসীদের ভিত অপেক্ষাকৃত দুর্বল হওয়ায় সেখানের পরিস্থিতি অবশ্য ভিন্ন। তবুৃ রুমা ও রোয়াংছড়ির মতো প্রত্যন্ত উপজেলাগুলো এলাকাবাসী ইচ্ছামতো নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারছে না।

পাহাড়ী সন্ত্রাসীরা শুধু নির্বাচনে অংশ নিতে জাতীয় দলের নেতাকর্মীদের ভয় দেখাচ্ছে তা ই নয়। তারা সরকারি দলের মন্ত্রী, এমপিদেরও নির্বাচনে অংশ নিতে ভয় দেখাচ্ছে। ইতোমধ্যে সাবেক পার্বত্য বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ও রাঙামাটি জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি দীপংকর তালুকদারকে হত্যা করার হুমকি দিয়েছে পাহাড়ী সন্ত্রাসীরা। রাঙামাটি জেলা ও উপজেলা আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনসমূহ এই হুমকির বিরুদ্ধে জেলাব্যাপী বিক্ষোভ সমাবেশ করছে পার্বত্য চট্টগ্রাম থেকে মনোনীত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য ফিরোজা বেগম চিনু গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, পাহাড়ী সন্ত্রাসীরা তাকেও হত্যা করার হুমকি দিচ্ছে

পার্বত্য চট্টগ্রামে আইন শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে সরকারি উদ্যোগ থাকলের বাস্তবে তা যথেষ্ট কার্যকর নয়।শান্তিচুক্তির পর পাহাড়ীদের একটি গ্রুপ অস্ত্র সমর্পন করলেও পার্বত্য চট্টগ্রাম এখনও বৃহৎ অবৈধ অস্ত্রাগার।

খুন, ধর্ষণ, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস, হুমকি, অপহরণ পার্বত্য চট্টগ্রামের নিত্য নৈমত্তিক ঘটনা। পাহাড়ে অপহরণ ঘটনায় এখনো মুক্তিপণ না দিয়ে মুক্তির ঘটনা বিরল। পার্বত্য চট্টগ্রামে চাঁদা না দিয়ে পাহাড়ী-বাঙালি কারো পক্ষে বাস করা অসম্ভব। অথচ সেই পাহাড়ীরাই সন্ত্রাসীদের মনোনীত প্রার্থিকে ভোট নিয়ে নির্বাচিত করে। এটা ভালোবেসে নয়, স্বতঃস্ফুর্তভাবে অস্ত্রের মুখে জিম্মী হয়ে। পার্বত্য চট্টগ্রামে সরকার এখনো নির্ভয়ে ভোটদানের পরিবেশ সৃষ্টি করতে পারেনি। তাছাড়া সন্ত্রাসীদের মনোনীত প্রার্থিকে ভোট না দিলে বিচ্ছিন্ন পাহাড়ী পাড়াগুলোতে বসবাসকারী নিরীহ জনগণের জীবনের নিরাপত্তা হুমকির মুখে থাকে।

Rangamati pic2

শুধু তাই নয়, সরকার পাহাড়ী সন্ত্রাসীদের হুমকির মুখে তিন পার্বত্য জেলায় আওয়ামী লীগের কার্যক্রম চালানো অসম্ভব হয়ে পড়েছে বলে সরকারি দলের নেতারাই স্বীকার করেছেন।

পাহাড়ী সন্ত্রাসীদের কার্যক্রমে অতিষ্ঠ হয়ে বিভিন্ন স্থানে সম্প্রতি আওয়ামী লীগে যোগদান করেছিল কয়েকশত শান্তিকামী পাহাড়ী। কিন্তু সরকারী দল তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে না পারায় পুণরায় তারা পাহাড়ী সংগঠনে ফিরে যেতে বাধ্য হয়েছে।

খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, নির্বাচনী প্রচার আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হওয়ার আগেই সন্ত্রাসীরা বিভিন্ন পাহাড়ী পাড়াগুলোতে ঘুরে ঘুরে নিরীহ ভোটারদের ভয়, হুমকি প্রদর্শন করে নিজ দলের মনোনীত প্রার্থীদের ভোট দেয়ার কথা বলছে। তারা এমনও বলছে যে, পুলিশ-সেনাবাহিনী-বিজিবি ভোটের কিছুদিন পাহারা দেবে। কিন্তু ভোটের পর আর তাদের পাওয়া যাবে না। সে সময় তারা থাকবে। তাদের প্রার্থীরা হেরে গেলে ভোটের পর তারা এর প্রতিশোধ নেবে।

গত ১৬ মার্চ রাঙামাটির নানিয়ারচরে পাহাড়ী সন্ত্রাসীদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে নির্বাচন করতে চাওয়ায় সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান পঞ্চানন চাকমাকে অপহরণ করে পাহাড়ী সন্ত্রাসীরা। এরপরও এ উপজেলায় একই কারণে আরো কিছু অপহরণের ঘটনা ঘটেছে। একইভাবে দলীয় মনোনয়নের বাইরে প্রার্থি হতে চাওয়ায় বান্দরবানের রুমা উপজেলায় পাহাড়ী সংগঠনের এক নেতাকে গুলি করে ও কুপিয়ে হত্যা করে তার দলের সদস্যরাই।নির্বাচন যতো এগিয়ে আসবে এ ধরনের ঘটনা ততো বৃদ্ধি পাবে বলে স্থানীয়দের ধারণা।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, ২০১১ সালে অনুষ্ঠিত সর্বশেষ ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে পার্বত্য চট্টগ্রামের তিন জেলায় সর্বমোট ১১৯টি ইউপির মধ্যে ১১৩টি ইউপিতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় এবং ৬টি ইউপি নির্বাচন স্থগিত হয়।  ১১৩টি ইউপির মধ্যে আওয়ামী লীগ ৩৬টি, বিএনপি ২২টি, জেএসএস(মূল) ১৫টি, ইউপিডিএফ ৩১টি, জেএসএস(সংস্কার) ৫টি, স্বতন্ত্র ৩টি, বাঙালি সংগঠন ১টি আসনে জয়লাভ করে।

result 1

জেলাওয়ারি হিসাবে দেখা যায়, রাঙামাটি জেলায় ৪৯টি ইউপির মধ্যে আওয়ামী লীগ ১১টি, বিএনপি ৬টি, ইউপিডিএফ ১৬টি, জেএসএস(মূল) ১২টি, জেএসএস(সংস্কার) ২টি, স্বতন্ত্র ২টি এবং বাঙালি সংগঠন ১টি ইউপিতে চেয়ারম্যান পদে জয়লাভ করে। এ সময় ১টি আসনে নির্বাচন স্থগিত থাকে।

খাগড়াছড়ির ৩৯টি আসনের মধ্যে ৩৭টিতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় এবং ২টির ফলাফল স্থগিত থাকে। নির্বাচন হওয়া ৩৭টি ইউপির মধ্যে আওয়ামী লীগ ১৩টি, বিএনপি ৩টি, ইউপিডিএফ ১৫টি, জেএসএস(সংস্কার) ৩টি আসনে জয়লাভ করলেও জেএসএস (মূল) ও বাঙালি সংগঠনগুলো এ জেলায় কোনো ইউপিতে জয়লাভ করতে সক্ষম হয়নি।

অন্যদিকে বান্দরবানের ৩১টি ইউপির মধ্যে ২৮টিতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এরমধ্যে আওয়ামী লীগ ১২টি, বিএনপি ১২টি, জেএসএস (মূল) ৩টি ও স্বতন্ত্র ১টি আসনে জয়লাভ করে। ইউপিডিএফ ও বাঙালি সংগঠন এ জেলায় কোনো আসন পায়নি।

কিন্তু ২০১১ সালের নির্বাচন ও ২০১৬ সালের নির্বাচনের মধ্যে বিস্তর তফাত রয়েছে। ২০১১ সালের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল অরাজনৈতিক আবরণে। কিন্তু ২০১৬ সালের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে সম্পূর্ণ রাজনৈতিক আবহে। একেবারে দলীয় মনোনয়নে, দলীয় প্রতীকে। অন্যদিকে স্থানীয়ভাবে বিবেচনা করলে বর্তমানে পার্বত্য চট্টগ্রামে সন্তু লারমার ঘোষিত অসহযোগ আন্দোলন চলছে। এ আন্দোলনের অংশ হিসাবে তিন স্থানীয় পাহাড়ী প্রতিদ্বন্দ্বী সংগঠনের মধ্যে চলছে অঘোষিত অস্ত্র বিরতি। শুধু তাই নয়, এ তিন পাহাড়ী সংগঠনের ঐক্য প্রক্রিয়া প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। এ পরিপ্রেক্ষিতে তিন পার্বত্য জেলার পাহাড়ী সংগঠনগুলো যদি সমঝোতার ভিত্তিতে নির্বাচনী লড়াইয়ে নামে তাহলে সরকারি দল আওয়ামী লীগসহ জাতীয় রাজনৈতিক দলগুলোকে বিশেষ বেকায়দায় পড়তে হবে।

সাধারণত তিন পার্বত্য জেলার উপজাতি অধ্যুষিত ইউপিগুলোতে পাহাড়ী আঞ্চলিক সংগঠনগুলো জয়লাভ করে। তাছাড়া অনেক সময় একাধিক বাঙালি প্রার্থীর বিপরীতে একক পাহাড়ী প্রার্থী দিয়েও আঞ্চলিক সংগঠনগুলো জয়লাভ করে। প্রত্যন্ত ইউপিগুলোতে বিচ্ছিন্নভাবে বসবাস করা পাহাড়ী পাড়া বা গ্রামগুলোর বাসিন্দা বা ভোটাররা সবসময় উপজাতি আঞ্চলিক সংগঠনগুলোর সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের বন্দুকে মুখে বসবাস করে। এসব সন্ত্রাসীরা নিরীহ উপজাতি বাসিন্দাদের উপর যতোই জুলুম, নির্যাতন, অত্যাচার, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস চালাক জীবনের ভয়ে, বন্দুকের মুখে তারা তাদের নির্দেশিত পথেই চলতে বাধ্য হয়, তাদের মনোনীত প্রার্থীকেই ভোট দিতে বাধ্য হয়।

cht book 6

পার্বত্য বিশেষজ্ঞদের মত, শুধুমাত্র নির্বাচনের তারিখ পিছিয়ে পার্বত্য চট্টগ্রামে অবাধ, নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও ভয়হীন নির্বাচনী পরিবেশ সৃষ্টি করা সম্ভব নয়। যতক্ষণ না তিন পার্বত্য জেলায় প্রবলভাবে বিরাজমান পাহাড়ী সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর অস্ত্র উদ্ধার করা সম্ভব হবে। বিশেষ করে প্রত্যন্ত অঞ্চলে বিচ্ছিন্নভাবে বসবাসকারী নিরীহ উপজাতীয় বাসিন্দাদের দিকে তাক করা পাহাড়ী সন্ত্রাসীদের বন্দুকের নলগুলোকে নিষ্ক্রিয় বা ধংস করা না যাবে ততদিন পার্বত্য চট্টগ্রামের মানুষ তাদের পছন্দের প্রার্থীদের ভোট দিতে সক্ষম হবে না। পার্বত্য চট্টগ্রামের অবাধ, নিরোপেক্ষ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে পাহাড়কে অস্ত্রমুক্ত করা  সময়ের দাবী। এ দাবী সরকারী দল আওয়ামী লীগের, এ দাবী বিএনপিসহ সকল রাজনৈতিক দলের, এ দাবী বাঙালীর, এ দাবী নিরীহ ও সাধারণ পাহাড়ীর, এ দাবী পার্বত্য চট্টগ্রামে দায়িত্বরত প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের।

পার্বত্য চট্টগ্রামে কর্মরত বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থাও নির্বাচনের আগে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে বিশেষ অভিযানের কথা উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছে বলে জানা গেছে। এমনকি জেএসএস সহসভাপতি ও সাংসদ উষাতন তালুকদারও স্থায়ী কমিটির বৈঠকে অস্ত্র উদ্ধারে বিশেষ অভিযানের কথা বলেছেন। কাজেই নির্বাচনের আগে পার্বত্য চট্টগ্রামে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে বিশেষ অভিযানের দাবী কতিপয় সন্ত্রাসীবাদের দল, মত, জাতি, বর্ণ নির্বিশেষে ১৬ লাখ পার্বত্যবাসীর।

তিন পার্বত্য জেলায় জাতীয রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ঐক্যবদ্ধ রাজনৈতিক সদিচ্ছা, সরকারের আন্তরিকতা ও প্রশাসন, বিশেষ করে নিরাপত্তা বাহিনীগুলোর ঐকান্তিক প্রচেষ্টা ছাড়া এ কঠিন কাজে জয়লাভ সম্ভব নয়।


 

লেখকের পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক আরো কিছু লেখা

খাগড়াছড়ির গুইমারাতে অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার

Capture

নিজস্ব প্রতিনিধি:

খাগড়াছড়ির গুইমারাতে অভিযান চালিয়ে অস্ত্র, গুলি ও চাঁদা আদায়ের রশিদ বই উদ্ধার করেছে নিরাপত্তা বাহিনী। সোমবার গভীর রাতে গুইমারা উপজেলার ইন্দ্রমনি কার্বারীপাড়ায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে এসব অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার করা হয়।

নিরাপত্তাবাহিনী জানায়, দীর্ঘদিন ধরে কিছু সন্ত্রাসী ঐ এলাকায় তাদের কার্যক্রম চালিয়ে আসছে এমন সংবাদের ভিত্তিতে সোমবার মধ্যরাতে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা পাহাড়ের উপরের একটি জুম ঘরে অভিযান চালায়। এ সময় সন্ত্রাসীরা নিরাপত্তাবাহিনীর উপস্থিতি টের পেয়ে পালিয়ে গেলেও ২টি দেশীয় তৈরী পিস্তল, ৬ রাউন্ড গুলি, ৬টি চাঁদা আদায়ের রশিদ বই, একটি ছুরিসহ বেশকিছু জিনিস পত্র উদ্ধার করতে সক্ষম হয়।

পরে উদ্ধারকৃত অস্ত্র ও গুলি গুইমারা থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। নিরাপত্তাবাহিনী সূত্র জানিয়েছে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে তাদের এ অভিযান অব্যহত থাকবে।

মহেশখালীতে অস্ত্র ঠেকিয়ে স্কুল ছাত্রী অপহরণ

নিজস্ব প্রতিনিধি:

মহেশখালীর কালারমারছড়ায় এক স্কুল ছাত্রী (এসএসসি পরীক্ষার্থী) কে বিদ্যালয় থেকে বাড়ি ফেরার পথে অস্ত্রের মুখে অপহরণ করে গভীর অরণ্যে নিয়ে গেছে সন্ত্রাসীরা। মঙ্গলবার বেলা ১২টায় কালারমারছড়ার পূর্ব আধাঁরঘোনার আনন্দ মার্কেটে এ ঘটনা ঘটে।

জনারণ্য এলাকা থেকে স্কুল ছাত্রীকে অপরহরণ করে নিয়ে গেলেও সন্ত্রসীরা ফাঁকা গুলি ছোড়ায় কেউ উদ্ধার করতে এগিয়ে আসেনি। স্থানীয় আবুল কাসেমের পুত্র ও ওয়ার্ড মেম্বার নুরুল ইসলামের ভাতিজা রাসেলের নেতৃত্বে এ ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে।

কালারমারছড়া পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই নির্মল ও কালারমারছড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা পাহাড়ে তল্যাশী চালিয়েও স্কুল ছাত্রীকে উদ্ধার করতে পারে নি।

প্রত্যক্ষদর্শী রজমান আলী জানিয়েছেন, অস্ত্র ঠেকিয়ে স্কুল ছাত্রীকে অপহরণ করে নিয়ে গেছে। এখন যে অবস্থা বিরাজ করছে এতে কোন মেয়ে বিদ্যালয়ে যেতে পারবে না। এটি প্রকাশ্যে হওয়ায় প্রশাসনের নজরে এসেছে। অজান্তে অনেক কিছুই করে যাচ্ছে সন্ত্রাসীরা।

কালারমারছড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আবুল হাসেম ও সিনিয়র শিক্ষক রুহুল আমিন জানিয়েছেন, বিদ্যালয় থেকে কোচিং শেষে বাড়ি ফেরার পথে শিক্ষার্থীকে অপহরণ করা হয়েছে। অপহরণকারিরা প্রভাবশালী হওয়ায় ওই শিক্ষার্থীকে উদ্ধার করতে কেউ এগিয়ে আসেনি। বিষয়টি প্রশাসনকে অবহিত করা হয়েছে। আমরা নিজেরাও তাকে উদ্ধারে পাহাড়ী এলাকায় গিয়েছি।

কালারমারছড়া পুলিশ ফাড়ির ইনচার্জ এসআই নির্মল জানান, স্কুল ছাত্রীকে উদ্ধারে বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালানো হচ্ছে। এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত অপহৃতাকে উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ।

দীঘিনালায় সেনাবাহিনী ও সন্ত্রাসীদের মধ্যে ঘন্টাব্যাপী বন্দুকযুদ্ধে ৫টি অস্ত্র ও ৪৫০ রাউন্ড গুলিসহ একজন আটক

Arms recover pic (02) 07-09-2015

নিজস্ব প্রতিনিধি, দীঘিনালা:

সেনাবাহিনীর অপারেশনে  পার্বত্য চট্টগ্রামে আবারো বিপুল পরিমাণ অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনা ঘটছে। এবারে ঘটনাস্থল খাগড়াছড়ি জেলার দিঘীনালা থানা। গত রাত থেকে চলা এ অপারেশনে এখন পর্যন্ত ৫টি আগ্নেয়াস্ত্র ও বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়েছে।

উদ্ধারকৃত অস্ত্রের মধ্যে রয়েছে একটি ভারী মেশিনগান, একটি গ্রেনেড,  দুইটি এসএলআর, একটি ৫.৫৬ এমএম এসএমজি, একটি ৭.৬২ ফোল্ডেড এসএমজি মতো ভয়ানক মারণাস্ত্র রয়েছে। এছাড়াও একটি মেশিনগানের ম্যাগজিন, তিনটি এসএলআরের ম্যাগজিন, তিনটি এসএমজি’র ম্যাগজিন, একটি রাইফেল ম্যাগজিন, একটি স্থানীয় তৈরী ম্যাগাজিন, ৬২ রাউন্ড মেশিনগানের গুলি, ১০৬ রাউণ্ড ৭.৬২ বোরের গুলি, ১২৫ রাউণ্ড ৫.৫৬ বোরের গুলি, তিনটি পাউচ, ৮ টি মোবাইল ফোন, ৬ টি সামরিক পোশাক ইত্যাদি। এঘটনায় সেনবাহিনী একজনকে আটক করতে সক্ষম হয়েছে। আটক সন্ত্রাসীর নাম বর্ষসভা চাকমা(৩৫)। অভিযানে নেতৃত্ব দেন, দীঘিনালা জোন অধিনায়ক লে.কর্ণেল মহসিন রেজা।

viber image 2

জানা যায়, উপজেলার দূর্গম ছাদকছড়া গ্রামে বিপুল পরিমান অস্ত্র ও গোলা-বারুদ মজুদ আছে, এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গত রোববার সন্ধ্যা থেকে সেনাবাহিনী ওই এলাকায় অভিযান শুরু করে। রাতভর অভিযানের পর ভোর ৫টার দিকে ঘটনাস্থলে পৌছামাত্র সন্ত্রাসীরা প্রথমে সেনাবাহিনীকে লক্ষ্য করে গুলি ছুড়ে। পরে সেনাবাহিনীও পাল্ট গুলি ছুড়ে। এসময় উভয় পক্ষের মধ্যে প্রায় ঘন্টাব্যাপী বন্দুকযুদ্ধ হয়। এসময় বন্দুকযুদ্ধে উভয়পক্ষের প্রায় একশত আশি রাউন্ড গুলি বিনিময় হয়। গুলি বিনিময়ের এক পর্যায়ে ঘটনাস্থলে থাকা প্রায় ২৫/৩০ জন সন্ত্রাসী পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।

এসময় উলঙ্গ হয়ে পালিয়ে যাওয়ার সময় বর্ষসভা চাকমা নামে একজনকে আটক করা হয়। পরে বর্ষসভা চাকমাকে সাথে নিয়ে ঘটনাস্থল থেকে দুটি এসএমজি, একটি মেশিনগান, দুটি এসএলআর, একটি গ্রেনেড, বিভিন্ন অস্ত্রের ম্যাগজিন নয়টি, সাড়ে চারশত গুলি এবং ছয় সেট সেনাবাহিনীর পোষাক, একটি ডিভিডি সেট এবং আটটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।

Arms recover pic (03) 07-09-2015

এসময় অভিযানে আরো উপস্থিত ছিলেন, খাগড়াছড়ি রিজিয়নের ব্রিগেড কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল স.ম মাহবুব আলম, দীঘিনালা জোনের উপ-অধিনায়ক মেজর ইমতিয়াজ, এ্যাডজুটেন্ট তৌহিদুল ইসলাম মান্নান।

এ ব্যাপারে খাগড়াছড়ি রিজিয়নের ব্রিগেড কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল স.ম মাহবুব আলম পিএসসি জানান, ছাদকছড়া এলাকায় স্বশস্ত্র সন্ত্রাসীদের ২৫/৩০জনের একটি দল অবস্থান করছেন, এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রোববার সন্ধ্যা থেকে সোমবার ভোর পর্যন্ত অভিযান চালানো হয়।

দীঘিনালা জোন কমান্ডার লে. কর্ণেল মহসীন রেজা বলেন, “তারা সন্ত্রাসী কর্মকান্ড পরিচালনার জন্যই সেখানে জড়ো হয়েছিল। সাধারণ জনগণের যেন জানমালে ক্ষতি না হয় সে দিক বিবেচনা করে আমরা আরও বড় ধরনের সশস্ত্র অভিযানে যাইনি। খাগড়াছড়ি রিজিয়নের স্টাফ অফিসার মেজর মো: নাসির-উল-হাসান খান জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রোববার রাত ১০টা থেকে দীঘিনালা জোনের সেনাবাহিনীর সদস্যরা অভিযান শুরু করে। এ সময় বাচ্ছুক্কা চাকমা নামে এক সন্ত্রাসীকে আটক করে। এসময় একটি এসএমজি, তিনটি এসএলআর, তিনটি এসএলআরের ম্যাগাজিন, তিনটি এসএমজির ম্যাগাজিন ও সাড়ে ৩০০ রাউন্ড তাজা গুলিসহ সেনাবাহিনীর ৬ সেট পোশাক উদ্ধার করা হয়।

আটক বর্ষসভা চাকমা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানায়, সে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি (জেএসএস-এমএন লারমা) সংগঠনের সক্রিয় সদস্য। সে আরো জানায় প্রথমে রাঙ্গামাটি জেলার বাঘাইছড়ি এলাকায় দায়িত্ব পালন করেন, পরে কয়েকদিন আগে দীঘিনালায় এসে দায়িত্ব পালন শুরু করেন।

এব্যাপারে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি (জেএসএস-এমএন লারমা) কেন্দ্রিয় কমিটির সহ-তথ্য ও প্রচার সম্পাদক প্রশান্ত কুমার চাকমা জানান, আমাদের সস্বস্ত্র কোন সংগঠন নেই। অস্ত্র ও গুলিসহ আটক হওয়া ব্যক্তির সাথেও আমাদের কোন প্রকার সর্ম্পৃক্ত নেই।

উল্লেখ্য গত ১৫ আগস্ট একই রিজিয়নের আওতাধীন রাঙামাটি জেলার বাঘাইছড়ি উপজেলার বরাদম এলাকায় সেনাবাহিনীর সাথে বন্দুকযুদ্ধে ৫ জন নিহত হয়।

বাঘাইছড়ি

নিহত সন্ত্রাসীরা সকলে জেএসএস সংস্কারপন্থী গ্রুপের সদস্য। এসময় একটি সাবমেশিনগান, দুইটি চাইনিজ রাইফেল, তিনটি এসএলআর, একটি আমেরিকান পিস্তলসহ বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ উদ্ধার হয়। সন্ত্রাসীদের আটকের সময় হাতাহাতি লড়াইয়ে সেনাবাহিনীর একজন কর্পোরাল মারাত্মকভাবে আহত হয়। এসময় যৌথবাহিনী ঘটনাস্থল থেকে বিপুল পরিমাণ গুলি ও সামরিক পোশাক ও সামরিক সরঞ্জাম আটক করে। আটক গুলির মধ্যে ছিল ১২০ রাউণ্ড রাইফেলের গুলি, ৮৪ রাউণ্ড এসএমজি’র গুলি ১৪৫ রাউণ্ড এসএলআরের গুলি, ৯৪ রাউণ্ড পয়েন্ট টু টু বোর রাইফেলের গুলি, ৭ রাউণ্ড পিস্তলের গুলি। এছাড়াও এসময় বিপুল পরিমাণ সামরিক পোশাক ও সামরিক সরঞ্জামাদি আটক করা হয়।

এদিকে গত ৬ সেপ্টেম্বর বান্দরবানে একটি একে টুটু বোর রাইফেল, একটি বিদেশী পিস্তল ও বিপুল পরিমাণ গুলিসহ পার্বত্য জনসংহতি সমিতির দুই চাঁদাবাজ আটক করে যৌথবাহিনী।

vb 060915 1 copy

গত রবিবার ভোর রাতে জেলার রুমা উপজেলার রুমার চর পাড়া এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয়। আটককালে তাদের কাছ থেকে একটি যুক্তরাষ্ট্রের তৈরী একে-২২ বোর রাইফেল, পয়েন্ট ৩২ বোরের যুক্তরাষ্ট্রের তৈরী একটি পিস্তল, ২০ রাউন্ড একে-২২ বোর রাইফেলের গুলি, ৪৯ রাউন্ড পিস্তলের গুলি, একটি চাকু, ৪ টি চাঁদা আদায়ের রশিদ বই, ৫ টি মোবাইল, অতিরিক্ত ৭ টি সিম, ৪ টি ডাইরি, ৩ টি নোটবুক ও নগদ ২ লাখ ৯১ টাকা উদ্ধার করা হয়।

এভাবে একের পর এক ভয়ানক অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় পার্বত্য চট্টগ্রামের জনগনের মধ্যে স্বস্তি ফিরে আসতে শুরু করেছে। তারা এজন্য বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছে।

পানছড়িতে ভারী অস্ত্র সহকারে তিন উপজাতি সন্ত্রাসী আটক

ARMS PIC

শাহজাহান কবির সাজু, পানছড়ি:

খাগড়াছড়ি জেলার পানছড়ি উপজেলায় ভারী অস্ত্র সহকারে  তিন উপজাতি সন্ত্রাসীকে আটক করেছে সেনাবাহিনী। আটককৃতরা হলেন, মরাটিলা গ্রামের নব কুমার ত্রিপুরার ছেলে সুরেন ত্রিপুরা (৩০), সুরেন্দ্র হেডম্যান পাড়া এলাকার সুরেন্দ্র ত্রিপুরার ছেলে কাঠাং ত্রিপুরা (৩২) ও মরটিলা গ্রামের মিলন ভূষণ ত্রিপুরার ছেলে মাহেন্দ্র ত্রিপুরা (৩২)।

জানা যায়, শনিবার ভোর সাড়ে তিনটার দিকে পানছড়ি সাব জোন অধিনায়ক মেজর মেহেদী হাসান রাসেলের নেতৃত্বে সেনাবাহিনীর একটি দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ঐ এলাকায় অবস্থান নিয়ে প্রফুল্ল রঞ্জন কার্বারী এলাকায় অভিযান চালিয়ে ভারী অস্ত্রসহ তিন জনকে আটক করতে সক্ষম হয়।

এ সময় তাদের কাছ থেকে এ.কে টু-টু একটি, পয়েন্ট টু-টু রাইফেল একটি, দেশীয় তৈরী পিস্তল একটি, ৪২ পয়েন্ট টু-টু রাইফেল এমিনেশন, পাঁচ রাউন্ড পিস্তলের গুলি,  চার রাউন্ড এসেলার, ২টি এল.জি কার্টিস উদ্ধার করা হয়। আসামীদের পানছড়ি থানায় হস্তান্তর করে হয়েছে জানান সাব জোন কমান্ডার।

এ ব্যাপারে পানছড়ি থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে বলে জানান পানছড়ি থানা অফিসার ইনচার্জ আব্দুস সামাদ মোড়ল।

টেকনাফে বিজিবি‘র অভিযানে দেশী এলজিসহ এক রোহিঙ্গা ডাকাত আটক

teknaf pic 08-04-14

টেকনাফ প্রতিনিধি: 
কক্সবাজার জেলার সীমান্ত উপজেলা টেকনাফে অস্ত্রসহ এক রোহিঙ্গা ডাকাতকে আটক করেছে বর্ডার গার্ড ব্যাটালিয়ন (বিজিবি)। ৮ এপ্রিল ভোরে নয়াপাড়া বিওপির নায়েব সুবেদার আবুল কালামের নেতৃত্বে  হ্নীলা ইউনিয়নের নয়াপাড়া শরনার্থী শিবিরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আবদুল হামিদের বাড়ী তল্লাশী চালিয়ে দেশীয় তৈরি এলজি বন্দুকসহ মোঃ আবদুল হামিদ (৪৭)কে আটক করে। ধৃত আবদুল হামিদ মৃত আবদুল মোতালেবের  ছেলে ও নয়াপাড়া শরণার্থী শিবিরের এইচ ব্লকের  ১২২৫/৪ কক্ষের ৫২৯/১৬৬১৪ নং  এমআরসি শরনার্থী। অবশ্য, ইতিপূর্বে এইচ ব্লকের আবদুল কাদেরের ছেলে নুরুল আমিনকে (২৩)কে বন্দুকসহ আটক করা হয়েছিল।

টেকনাফস্থ ৪২ বিজিবির অধিনায়ক ও পরিচালক লে. কর্নেল আবুজার আল জাহিদ  জানান,  ডাকাতির প্রস্তুতির খবর পেয়ে বিজিবি অভিযান চালিয়ে অস্ত্রসহ এ রোহিঙ্গা ডাকাতকে আটক করা হয়। আটককৃত ব্যক্তির তথ্যমতে খারাংখালী এলাকার মৃত আবদুল জলিলের পুত্র  মোঃ নুর মোহাম্মদ (৪৫)ও দক্ষিণ রঙিখালী  গ্রামের মৃত হামিদ আলীর পুত্র আব্দুস শুক্কুর (৪০)। জব্দকৃত আগ্নেয়াস্ত্র এবং ধৃত আসামীকে টেকনাফ মডেল থানায় হস্তান্তর ও মামলা দায়েরের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন।

লক্ষ্ণীছড়ির মাস্টারপাড়া এলাকা থেকে অস্ত্র উদ্ধার

arms recovery

মোবারক হোসেন, লক্ষীছড়ি প্রতিনিধি, খাগড়াছড়ি:

লক্ষ্ণীছড়ির মাস্টারপাড়া থেকে একটি দেশে তৈরী এলজি উদ্ধার করেছে সেনাবাহিনী ও পুলিশের একটি যৌথ দল।গতকাল রাত সাড়ে ১১টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সেনাবহিনী ও পুলিশ খাগড়াছড়ি জেলার লক্ষ্ণীছড়ি উপজেলার মাস্টারপাড়া এলাকায় যৌথ অভিযান চালায় ।

সেনাবাহিনীর উপস্থিতি টের পেয়ে উপজাতীয় সন্ত্রাসীরা পলিয়ে যায়। সন্ত্রাসীরা পালিয়ে গেলে পরিত্যাক্ত অবস্থায় ঘটনাস্থলে দেশে তৈরী একটি এলজি উদ্ধার করে। পুলিশ সাংবাদিকদের খবরের সত্যতা নিশ্চিত করেছে।

এ ব্যাপারে লক্ষ্ণীছড়ি থানায় একটি সাধারণ ডাইরী রজু করা হয়েছে।