পার্বত্য চট্টগ্রামের ১৩ হাজার উপজাতীয় সন্ত্রাসীর হাতে ৩ হাজার ভয়ানক আগ্নেয়াস্ত্র

পার্বত্যনিউজ রিপোর্ট :

পার্বত্য চট্টগ্রামে চারটি উপজাতীয় আঞ্চলিক সংগঠনের সশস্ত্র গ্রুপের রয়েছে আর্ম ক্যাডার ও সেমি আর্ম ক্যাডার বাহিনী। এর মধ্যে আর্ম ক্যাডারের সংখ্যা প্রায় ৩ হাজার। অন্যদিকে সেমি আর্ম ক্যাডারের সংখ্যা ১০ হাজারের বেশি। সেমি আর্ম ক্যাডাররা অস্ত্র প্রশিক্ষিত। তারা ভবিষ্যতে সংগঠনগুলোর জন্য কাজে লাগে।

এসব সন্ত্রাসীদের কাছে তিন হাজারের বেশি আগ্নেয়াস্ত্র রয়েছে। সেখানে পুরনো অস্ত্রের পাশাপাশি নতুন এবং অত্যাধুনিক অস্ত্রও রয়েছে। এসবের মধ্যে আছে এম ১৬ রাইফেল, মিয়ানমারে তৈরি এম ১ রাইফেল, একে ৪৭ রাইফেল, একে ২২ রাইফেল এবং এলএমজি (লাইট মেশিনগান), হেভি মেশিনগান, জি-৩ রাইফেল, স্নাইপার রাইফেল ইত্যাদি ভয়ঙ্কর স্বয়ংক্রিয় আগ্নেয়াস্ত্র। প্রতিবেশী দুইটি দেশ থেকে তারা এই অস্ত্র, গুলি ও প্রশিক্ষণ পেয়ে থাকে। প্রতিনিয়ত নতুন নতুন অস্ত্র আসছে। মাঝে মাঝে কিছু ধরা পড়লেও তা খুবই সামান্য। উপজাতীয় সন্ত্রাসীদের হাত ঘুরে এসব অস্ত্রের একটি অংশ সমতলের জঙ্গী ও সন্ত্রাসীদের হাতেও চালান হচ্ছে বলে জানা গেছে।

সন্ত্রাসীদের পাশাপাশি কিছু লোক ধর্মীয় নেতার পরিচয়ের আড়ালে অস্ত্র পাচারের সাথে জড়িত রয়েছে। এরকম কিছু ধর্মীয় লেবাসধারী নেতা আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে ধরাও পড়েছে। গোয়েন্দারা খোঁজ নিয়ে জেনেছে, তারা বাংলাদেশি নয়। বাংলাদেশের পরিচয়পত্র তাদের হাতে নেই। গহীন অরণ্যে রয়েছে জঙ্গিদের প্রশিক্ষণ কেন্দ্র।তারা স্বীকার করেছে, মিজোরাম সীমান্ত এলাকা দিয়ে পাহাড়ি চারটি সশস্ত্র গ্রুপ অস্ত্র, গোলাবারুদ ও গ্রেনেড এনে মজুদ করছে।

শান্তিচুক্তি অনুযায়ী পাহাড়ী সন্ত্রাসীরা অস্ত্র জমা দিলেও পরে অনুসন্ধান করে জানা গেছে, তারা তিনভাগের একভাগ অস্ত্র জমা দিয়েছে। যা জমা দিয়েছে তাও পুরোনো, ভাঙাচোরা, অচল ও সেকেল। নতুন ও অত্যাধুনিক অস্ত্র জমা দেয়নি। অন্যদিকে শান্তিবাহিনীর একটি অংশ এই চুক্তি না মেনে অস্ত্র জমাদান করেনি। মূলতঃ সরকারের উপর আস্থা স্থাপন না করা ও পরবর্তীকালে প্রেশার গ্রুপ হিসাবে কাজ করার জন্য কৌশলের অংশ হিসাবে শান্তি বাহিনী একটি অংশকে অস্ত্র সমর্পনের বাইরে রেখে দেয় চুক্তি বিরোধী হিসাবে। পরবর্তীতে নানা কারণে তাদের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়। সশস্ত্র গ্রুপগুলোর চাঁদাবাজি, আধিপত্য বিস্তার এবং নির্বাচনের বছরে রাজনৈতিক কারণে হানাহানিতে এসব অস্ত্রের ব্যবহার হচ্ছে।

পার্বত্য চট্টগ্রামের পুলিশসহ একাধিক সূত্রে জানা গেছে, ২০১৪ সাথে চলতি বছরের এপ্রিল মাস পর্যন্ত বান্দরবান, বাঙামাটি ও খাগড়াছড়িতে সশস্ত্র সংগঠনের হাতে ১৩০জন ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী ও ৮৫জন বাঙালী নিহত হয়েছে। এ সময় আহত হয়েছেন ২২৩জন ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী ও ৫৫১জন বাঙালী। অপহরণের ঘটনা ঘটেছে প্রায় ৪০০ ও গুলি বিনিময়ের ঘটনা ঘটেছে ১৩০টি। প্রায় ৫০০টি অস্ত্র ও ৭ হাজার গুলি উদ্ধার করা হয়েছে।

গত ১৮ এপ্রিল পার্বত্য জেলা রাঙামাটিতে বিপুল পরিমাণ আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধারকৃত অস্ত্রের মধ্যে রয়েছে, ২ টি ৭.৬২ মিঃমিঃ এসএমজি, ১ টি এ্যাসল্ট রাইফেল, ২ টি পিস্তল, ১৬ রাউন্ড এ্যামোনিশন, ২ টি এসএমজির ম্যাগাজিন, ১ টি এ্যাসল্ট রাইফেলের ম্যাগাজিন, ২ টি পিস্তলের ম্যাগাজিন ও ১ টি সিলিং। ১৮ এপ্রিল ভোর ৪ টায় রাঙ্গামাটি সদর উপজেলার বালুখালী ইউনিয়নের কাইন্দা এলাকায় সন্ত্রাসীদের গোপন আস্তানায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী কর্তৃক পরিচালিত একটি বিশেষ অভিযান এ অস্ত্র উদ্ধার করা হয়।

জানা গেছে, গত ৬ মাসে পাহাড়ে ৫২ সশস্ত্র হামলা ও অপহরণ হয়েছে। মিয়ানমারের এক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির সাথে পাহাড়ের সশস্ত্র গ্রুপের এক শীর্ষ নেতার ফোনালাপের ঘটনায় পার্বত্য অঞ্চলে তোলপাড়ের সৃষ্টি হয়েছে। মিয়ানমারের ওই শীর্ষ ব্যক্তি পাহাড়ের সশস্ত্র গ্রুপের ক্যাডারদের সহযোগিতা করার আশ্বাস দিয়েছেন। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর নেটওয়ার্কে এমন তথ্য উঠে এসেছে।

ওই সূত্রগুলো জানিয়েছে, সন্ত্রাস দমনে পার্বত্যাঞ্চলে নিয়োজিত সেনাবাহিনী যথেষ্ট তৎপর থাকলে শান্তিচুক্তির পর সেখানে তাদের অবস্থান ‘ইন এইড টু সিভিল পাওয়ার’ করে সরকার হাত পা বেঁধে দিয়েছে। পুলিশ ছাড়া সেনাবাহিনী সেখানে কোনো অপারেশনে যেতে পারে না। কিন্তু আগে থেকে পুলিশ জেনে যাওয়ায় অনেক ক্ষেত্রে সন্ত্রাসীরা আগাম তথ্য পেয়ে যাচ্ছে।

এদিকে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির আলোকে ৫৫২টি সেনা ক্যাম্পের মধ্যে ৩৩৪টি ক্যাম্প প্রত্যাহার করে নেয়া হয়েছে। বর্তমানে ২১৮টি ক্যাম্প রয়েছে। বেশিরভাগ ক্যাম্প প্রত্যাহার করে নেয়ায় সশস্ত্র সন্ত্রাসী সংগঠনগুলো আরো বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। এর মধ্যে দুর্গম খাগড়াছড়ি-রাঙামাটি রোডের থেকে সেনা ক্যাম্প প্রত্যাহার করে নেয়ায় বিশাল অংশ সশস্ত্র ইউপিডিএফের নিয়ন্ত্রণে চলে গেছে। এরই একটি অংশে ৫ মে ঘটে ভয়াবহ হত্যাকাণ্ড।

সেনা ক্যাম্প প্রত্যাহার করে নেয়ার পর থেকেই পার্বত্য চট্টগ্রামে খুন, অপহরণ, দখল ও চাঁদাবাজি ব্যাপক হারে বেড়ে গেছে। শান্তিপ্রিয় ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী ও বাঙালীরা চাঁদা দিয়েও এখন আর শান্তিতে বসবাস করতে পারছেন না। প্রতিটি মুহুর্ত তাদের কাটছে নিরাপত্তাহীনতায় মধ্যে। বিস্তার ঘটেছে ভয়াবহ চাঁদাবাজীর নেটওয়ার্ক। বছরে প্রায় ৪০০ কোটি টাকা চাঁদা আদায় করে থাকে এই উপজাতীয় সন্ত্রাসী গ্রুপগুলো। চাঁদা না দিয়ে সেখানে কোনো কর্মকাণ্ড পরিচালনা এমনকি বসবাসও সম্ভব নয়। এই চাঁদাবাজী, আধিপত্য বিস্তার ও রাজনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষার বলি হচ্ছে পাহাড়ী, বাঙালি নির্বিশেষে পাহাড়ের সাধারণ মানুষ।

সম্প্রতি এক দিনের ব্যবধানে নানিয়ারচরে ঘটে যাওয়া ৬ হত্যাকাণ্ডের কারণও এই চাঁদাবাজী, আধিপত্য বিস্তার ও রাজনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা। জেএসএস সংস্কার নেতা সুদর্শন চাকমা আগামী নির্বাচনে প্রার্থি হওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন। তিনি নির্বাচনে দাঁড়ালে স্থানীয় একটি আঞ্চলিক সংগঠনের জন্য ব্যাপক সমস্যার সৃষ্টি হতো। বিশেষ করে নানিয়ারচর ও বাঘাইছড়িতে তারা নির্বিঘ্নে নির্বাচনী কার্যকলাপ পরিচালনা করতে পারতো না। অন্যদিকে ইউপিডিএফ গণতান্ত্রিক ও জেএসএস সংস্কার মিলে খাগড়াছড়িতে প্রার্থী দিলে মহালছড়ি, দিঘীনালায় ইউপিডিএফ (প্রসীত) নির্বাচনে প্রবল বাঁধার সম্মুখীন হতো। বর্তমানে জেএসএস মূল ও ইউপিডিএফ মূলের মধ্যে নির্বাচনী সমঝোতার সূত্রে সিজ ফায়ার রয়েছে বলে স্থানীয়ভাবে প্রচার রয়েছে।

হঠাৎ করে অস্থিতিশীল হয়ে পড়ায় তিন পার্বত্য জেলা রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার এবং অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের গ্রেফতারে শিগগিরই যৌথ অভিযান চালানো প্রয়োজন বলে স্থানীয় শান্তিপ্রিয় সাধারণ বাঙালী ও ক্ষুদ্র নৃ- গোষ্ঠীর লোকজন মনে করেন।

খাগড়াছড়ি ও রাঙামাটির একাধিক স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পার্বত্য চট্টগ্রামে সশস্ত্র সংগঠনগুলোর মধ্যে বিপুল পরিমান চাঁদার টাকা নিয়ে দ্বন্দ্ব চলে আসছে যুগ যুগ ধরে। চাঁদা আদায় এবং এলাকার নিয়ন্ত্রণ রাখতেই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে পাহাড়ে।

১৯৯৭ সালে জনসংহতি সমিতির সঙ্গে (জেএসএস) শান্তিচুক্তির পর পাহাড়ে শান্তির সুবাতাস বইতে শুরু করে। এর এক বছরের মাথায় চুক্তির বিরোধিতা করে পূর্ণ স্বায়ত্তশাসনের দাবিতে গঠিত হয় ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ)। মূলত তার পরেই পাহাড়ে আবারও আধিপত্য বিস্তারে রক্তের খেলা শুরু হয়।

এরপর ২০০৭ সালে জেএসএস থেকে বেরিয়ে রূপায়ণ দেওয়ান-সুধাসিন্ধু খীসাদের নেতৃত্বে আত্মপ্রকাশ করে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি (এম এন লারমা)। এতদিন ইউপিডিএফ ও জেএসএস (এম এন লারমা) দুই সংগঠন অনেকটা এক হয়ে সন্তু লারমার নেতৃত্বাধীন জনসংহতি সমিতির বিরুদ্ধে আন্দোলন করছিল। কিন্তু গতবছরে ইউপিডিএফ (গণতান্ত্রিক) নামে আত্মপ্রকাশ করে পাহাড়ের চতুর্থ আঞ্চলিক দল। মূলত এই চার সংগঠনের ক্ষমতার বিস্তার, চাঁদাবাজি ও আধিপত্যের দ্বন্দ্বে আবারও অশান্ত হয়ে উঠেছে পাহাড়।

গত এক দশকের পাহাড়ে আঞ্চলিক রাজনীতি পর্যবেক্ষণ করে দেখা গেছে, ইউপিডিএফের আধিপত্য খাগড়াছড়িতে বেশি। বালাঘাটা ও নাইক্ষ্যংছড়ির কিছু এলাকা বাদে বান্দরবানে আধিপত্য বেশি জেএসএসের। তবে রাঙামাটির বিশাল এলাকায় এক সময় ই্উপিডিএফ আধিপত্য বিস্তার করলেও বর্তমানে তাদের অবস্থান সঙ্কুচিত হয়ে বাঘাইছড়ি, নানিয়ারচর ও কাউখালীর কিছু এলাকায় সীমিত রয়েছে। বাকি অংশ জেএসএস লারমা ও কিছু অংশ সংস্কারের দখলে রয়েছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, তিন পার্বত্য জেলার পরিস্থিতি হঠাৎ করেই জটিল হয়ে উঠছে। আঞ্চলিক দলগুলোর নেতৃত্বে চার ভাগ হলেও তৃণমূল পর্যায়ে এ বিভক্তি মারাত্মক আকার ধারণ করেছে।

পাহাড়ে ছড়িয়ে পড়া এই সহিংসতার কারণ বিশ্লেষণ করলে সরকারের একাধিক গোয়েন্দা রিপোর্টে থেকে জানা যায়, ২০১৭ সালের ডিসেম্বরে পার্বত্য চুক্তির (শান্তি চুক্তি) ২০ বছর পূর্তি উপলক্ষে রাজধানীতে এক আলোচনা সভায় পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির সভাপতি এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের চেয়ারম্যান জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় (সন্তু) লারমা চুক্তি বাস্তবায়নে সরকার আন্তরিক না এমন অভিযোগ এনে ‘পাহাড়ে আগুন জ্বলবে’ বলে হুঁশিয়ারি দেন। এরপরই ওই বছরের ৫ ডিসেম্বর ইউপিডিএফ সমর্থিত অনাধি রঞ্জন চাকমা (৫৫) নামের নানিয়ারচর উপজেলার সাবেক এক ইউপি সদস্যকে হত্যা করার মধ্যে দিয়ে পাহাড়ে হত্যাযজ্ঞের সূত্রপাত ঘটে। এ হত্যার জন্য ইউপিডিএফ প্রসিত গ্রুপ গণতান্ত্রিককে ইউপিডিএফতে দায়ী করে।

একই দিন রাঙামাটির জুরাছড়িতে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক অরবিন্দ চাকমাকে গুলি করে হত্যা করা হয়। আওয়ামী লীগ এ হত্যাকাণ্ডের জন্য পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতিকে (পিসিজেএসএস) দায়ী করে। একই দিন বিলাইছড়ি উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি রাসেল মার্মাকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করা হয়।

৭ ডিসেম্বর রাঙামাটি শহরের বিহারপুর এলাকায় জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সহ-সভানেত্রী ঝর্ণা খীসার বাসায় হামলা করে সন্ত্রাসীরা। এসময় তাঁকে হত্যা করতে কুপিয়ে জখম করা হলেও প্রাণে বেঁচে যান তিনি।

বিলাইছড়ি আ’লীগ নেতাকে কোপানোর অভিযোগে সেখার উপজেলার চেয়ারম্যান ও পিসিজেএসএস উপজেলা শাখার নেতা শুমঙ্গল চাকমাসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়। এ ঘটনায় চেয়ারম্যান ও জনসংহতি সমিতির নেতা শুভমঙ্গল চাকমাসহ কয়েকজনকে আটকও করা হয়। পরে তারা জামিনে মুক্তি পায়।এসময় প্রাণভয়ে জুড়াছড়ি, বিলাইছড়ি ও বাঘাইছড়ি উপজেলার আওয়ামী লীগ ও তার অংগসংগঠনগুলোর পাহাড়ী নেতাকর্মীরা দলে দলে পদত্যাগ করে উপজেলাগুলো প্রায় শাসকদল শুন্য হয়ে পড়ে। জেএসএসের হুমকির কারণেই এ ঘটনা ঘটে বলে আওয়ামী লীগের অভিযোগ।

১৫ ডিসেম্বর রাঙ্গামাটি সদর উপজেলার বন্দুকভাঙ্গা ইউনিয়নের ধামাইছড়া গ্রামে প্রতিপক্ষের গুলিতে ইউপিডিএফ নেতা অনল বিকাশ চাকমা প্লাটো ওরফে লক্ষী নিহত হয়। ইউপিডিএফ এ হত্যাকাণ্ডের জন্য ইউপিডিএফ গণতান্ত্রিক বার্মা গ্রুপকে দায়ী করেছে।

সর্বশেষ ২১ ডিসেম্বর রাঙ্গামাটির বন্দুকভাঙ্গা ইউনিয়ন থেকে ৫ ইউপি মেম্বারসহ ২০ জনকে অপহরণ করা হয়। একদিন পর তারা নিজ গ্রামে ফিরে আসে।

এদিকে চলতি বছরের ৩ জানুয়ারি বিলাইছড়ি উপজেলায় যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক বিশ্বরায় তঞ্চাঙ্গ্যাকে হত্যার উদ্দেশ্য গুলি করা হলেও তিনি প্রাণে বেঁচে যান। এ ঘটনার জন্য যুবলীগ সন্তু গ্রুপ জনসংহতি সমিতিকে দায়ী করেছিল।

৩০ জানুয়ারি আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসবিরোধী মহাসমাবেশে অংশ নেওয়ায় বিলাইছড়িতে আওয়ামী লীগের তিন কর্মীকে কুপিয়ে মারাত্মক জখম করা হয়। এ ঘটনার জন্য সন্তু লারমার জনসংহতি সমিতিকে দায়ী করেছিল আওয়ামী লীগ।

১২ ফেব্রুয়ারি রাঙামাটি শহরে ছাত্রলীগ নেতা সুপায়ন চাকমাকে মারধর করে পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের কর্মীরা। প্রতিবাদে রাঙামাটিতে হরতাল পালন করে ছাত্রলীগ।

১১ মার্চ বাঘাইছড়িতে গুলি করে হত্যা করা হয় ইউপিডিএফের কর্মী নতুন মনি চাকমাকে। ওই দিন রাতে নিজ বাড়িতে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে নতুন মনি চাকমাকে হত্যা করা হয়। তাঁর মাথাসহ সারা শরীরে কোপানো হয়। তিনি ইউপিডিএফের প্রসিত বিকাশ খীসা পক্ষের কর্মী ছিলেন।

১৮ মার্চ রাঙামাটির কুতুছড়ি থেকে অপহরণ করা হয় ইউপিডিএফ সমর্থিত হিল উইমেন্স ফেডারেশন নেত্রী মন্টি চাকমা ও দয়াসোনা চাকমাকে। ৩২ দিন পর ১৯ এপ্রিল মুক্তি দেওয়া হয় তাঁদের। এ ঘটনার জন্য ইউপিডিএফ গণতান্ত্রিক ইউপিডিএফকে দায়ী করেছে।

১২ এপ্রিল পাল্টাপাল্টি হামলায় মারা যান তিনজন। রাঙামাটির নানিয়ারচর উপজেলায় ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্টের (ইউপিডিএফ) এক সদস্যকে গুলি করে হত্যার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতিরও (এম এন লারমা) দুই কর্মীকে হত্যা করা হয়। নিহতরা হলেন ইউপিডিএফের কর্মী জনি তঞ্চঙ্গ্যা (৪০), জনসংহতি সমিতির (এম এন লারমা) কর্মী পঞ্চায়ন চাকমা ওরফে সাধন চাকমা (৩০) ও কালোময় চাকমা (২৯)।

গত ১৭ এপ্রিল রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেক ইউনিয়নের মারিশ্যা-দিঘিনালা সড়কের জোড়া ব্রিজ এলাকায় ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্টের (ইউপিডিএফ) কর্মী তপন চাকমাকে গুলি করে হত্যা করা হয়। এ ছাড়া রাঙ্গামাটি-খাগড়াছড়ি সীমান্তবর্তী বাঘাইছড়ি উপজেলার মারিশ্যা-দিঘিনালা সড়কের ৮-৯ কিলো নামক স্থানে ইউপিডিফের আরেক কর্মী বিজয় চাকমাকে (৩২) হত্যা করে প্রতিপক্ষ।

এরপর চলতি বছরের এপ্রিলের ২০ তারিখ থেকে ইউপিডিএফ তাদের আধিপত্য বিস্তারে রাঙামাটির দূর্গম বাঘাইছড়ি উপজেলায় পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি সংস্কার’র (জেএসএস এমএন লারমা গ্রুপ) এলাকায় হানা দেওয়া শুরু করে। তাদের তান্ডবে ওইদিন উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে জনপ্রতিনিধিসহ ৫০পরিবার পালিয়ে এসে উপজেলা শহরে এসে আশ্রয় নেয়।

অপরদিকে চলতি মাসের ২ মে সকালে একই উপজেলার রূপকারী ইউনিয়নের নালকাটা এলাকায় আধিপত্য বিস্তারে ইউপিডিএফ প্রসীত গ্রুপ এবং জেএসএস সংস্কার বন্দুক যুদ্ধে অবতীর্ণ হয়। তবে উভয়পক্ষের মধ্যে কেউ হতাহত হয়নি।

৩ মে নানিয়ারচর উপজেলায় নিজ কার্যালয়ের সামনের সময় গুলি করে হত্যা করা হয় নানিয়ারচর উপজেলা চেয়ারম্যান ও পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (এম এন লারমা) অন্যতম শীর্ষ নেতা শক্তিমান চাকমাকে। এই সময় তাঁর সঙ্গে থাকা সংগঠনটির আরেক নেতা রূপম চাকমা গুলিবিদ্ধ হন।

এর একদিন পরই ৪ মে শক্তিমান চাকমার দাহক্রিয়ায় অংশ নিয়ে চলে যাওয়ার সময় সশস্ত্র হামলায় নিহত হন ইউপিডিএফ-গণতান্ত্রিকের শীর্ষ নেতা তপন জ্যোতি চাকমা বর্মা, পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (এম এন লারমা) নেতা সুজন চাকমা, সেতুলাল চাকমা, তনয় চাকমা। এ সময় আহত হয় আরো নয়জন। একই সময় খাগড়াছড়িতে ৭ জনকে খুন করা হয়েছে এবং অনেককে অপহরণ করা হয়েছে।

শক্তিমান ও বর্মার উপর ভয়াবহ স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র থেকে ব্রাশফায়ার করেছিল সন্ত্রাসীরা। দূর্গম সীমান্তের কারণে খুব সহজেই সন্ত্রাসীদের হাতে এ ধরণের মারণাস্ত্র চলে আসছে। পার্বত্য চট্টগ্রামে সীমান্তের ৮৫ কিলোমিটারের মধ্যে কোনো সীমান্তচৌকি (বর্ডার আউটপোস্ট-বিওপি) নেই। ফলে সেখানে বাধাহীনভাবে অস্ত্র ঢুকতে পারে। তাছাড়া শান্তিচুক্তি সই করার পর চুক্তি বাস্তবায়নের শর্ত মোতাবেক বেশকিছু নিরাপত্তা ফাঁড়ি প্রত্যাহার করা হয়।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পাহাড়ি সীমান্তে পর্যাপ্ত রাস্তা না থাকায় উন্মুক্ত সীমান্তে বিওপি স্থাপন করা যাচ্ছে না। কেননা বিওপি স্থাপন করতে হলে তার নিরাপত্তার প্রয়োজনে যোগাযোগ জরুরি। বর্তমান অবস্থায় পার্বত্য চট্টগ্রামে এমন দুর্গম স্থানও রয়েছে, যেখানে কোনো সশস্ত্র হামলা হলে নিরাপত্তা বাহিনীর পৌঁছতে ৪৮ ঘণ্টা পর্যন্ত সময় লেগে যায়।

পার্বত্যাঞ্চলের যে অস্থিরতা শুরু হয়েছে তাতে অভিজ্ঞ মহলের মতে, নির্বাচন যতো এগিয়ে আসবে এই সংঘাত ততোই বৃদ্ধি পাবে। সেকারণে সরকারকে এখনই তৎপর হতে হবে। তাদের মতে, দ্রুততার সাথে পার্বত্য চট্টগ্রামে সন্ত্রাস নির্মূলে সেনাবাহিনী, বিজিবি ও পুলিশের নেতৃত্বে যৌথ অপারেশন পরিচালনা করে সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার করতে হবে। পার্বত্য চট্টগ্রামের বাস্তবতায় সন্ত্রাসীদের ভয়ে ক্ষতিগ্রস্তরা মামলা করতে সাহস পায় না। তাই পুলিশ বাদী হয়ে মামলা করে সন্ত্রাসীদের আটক করতে হবে। পার্বত্যবাসীর দীর্ঘদিনের দাবী মেনে পাহাড়ে র্যাবের স্থায়ী ব্যাটালিয়ন করে র্যাব মোতায়েন করতে হবে এবং সেনা ক্যাম্প প্রত্যাহারের কারণে যেসব স্থানে নিরাপত্তা ঝুঁকি সৃষ্টি হয়েছে সেসব স্থানে সেনা ক্যাম্প পুণরায় মোতায়েন করতে হবে।

খাগড়াছড়িতে চাইনিজ এসএমজি ও জি-৩ রাইফেলের পর আরো একটি এম-১৬ রাইফেল উদ্ধার

total-arms

নিজস্ব প্রতিবেদক:

খাগড়াছড়ি জেলার মহালছড়ি উপজেলায় গতকালের চাইনিজ সাব মেশিন গান ও জি-৩ রাইফেল উদ্ধারের পর শনিবার সকালে একই স্থান থেকে ৩৮ রাউন্ড গুলিসহ যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি আরো একটি এম-১৬ রাইফেল উদ্ধার করা হয়েছে। পার্বত্যনিউজের মহালছড়ি প্রতিনিধি ও নিরাপত্তা বাহিনী সূত্র এ খবরের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

পার্বত্যনিউজ প্রতিনিধি জানিয়েছেন, এ নিয়ে মোট উদ্ধারের তালিকা হচ্ছে, একটি বিদেশী জি-৩ রাইফেল, একটি জি থ্রি রাইফেলের ম্যাগজিন, একটি চাইনিজ সাব মেশিনগান, একটি চাইনিজ সাব মেশিনগানের ম্যাগজিন, একটি এম-১৬ রাইফেল, এম-১৬ রাইফেলের ম্যাগজিন ১ টি, এম-১৬ রাইফেলের গুলি ৩৮ রাউন্ড, ১৯ রাউন্ড জি থ্রি রাইফেলের গুলি, ৪৯ রাউন্ড চাইনিজ সাব মেশিন গানের গুলি, একটি ওয়াকিটকি সেট, একটি মোবাইল, একটি ব্যাগ  উদ্ধার করে।

জানা গেছে, শুক্রবারের বন্দুক যুদ্ধ ও তল্লাশীর পর সেনাবাহিনী সারারাত বন-পর্বত সঙ্কুল গহীন এলাকা কঠোরভাবে ঘেরাও করে রাখে এবং শনিবার সকালের আলো ফোটার সাথে সাথে আরো একদফা নিবিড় তল্লাশী শুরু করে এবং এ দফা তল্লাশীতে গুলি ভর্তি ম্যাগজিনসহ এম-১৬ রাইফেলটি পাওয়া যায়।

পার্বত্যনিউজ প্রতিনিধি রাতেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং স্থানীয়দের বরাতে জানিয়েছে যে, সেনাবাহিনীর গুলিতে আরো একজন পাহাড়ী সন্ত্রাসী গুরুত্বর আহত হয়েছে। ঘটনাস্থলে আরো একটি যখমের আলামত রয়েছে। সম্ভবত সন্ত্রাসীরা তাদের আহত এ সদস্যকে সরিয়ে ফেলতে সমর্থ হয়।

hsfj

উল্লেখ্য, শুক্রবার ইতোপূর্বে প্রকাশিত খবরে জানানো হয়েছে যে, খাগড়াছড়িতে সেনাবাহিনী ও ইউপিডিএফ সন্ত্রাসীদের মধ্যে সংঘটিত এক বন্দুকযুদ্ধে সামরিক পোশাক পরিহিত এক ইউপিডিএফ সন্ত্রাসী মারা গেছে। এসময় একটি চাইনিজ সাব মেশিনগান ও একটি জি থ্রি রাইফেল ও বিপুল পরিমাণ গুলি ও সামরিক সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে বলে বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে।

সূত্র জানিয়েছে, জেলার সদর উপজেলার কুতুকছড়িতে ইউপিডিএফ’র ১৫-২০ সদস্যের একটি সশস্ত্র দল দলীয় প্রধানের নেতৃত্বে গোপন বৈঠক করে এবং পার্বত্য চট্টগ্রামের বিভিন্ন স্থান যেমনঃ তাইন্দং, গঙ্গারাম, সাজেক, বঙগাতলী, ঘিলাছড়ি, হামুক্কুছড়া, কুতুকছড়ি, মাইলছড়ি, সিদ্ধিছড়িসহ বিভিন্ন স্থানে নাশকতার পরিকল্পনা করছে বলে খবর পাওয়া যায়।

সূত্র মতে, গোপন বৈঠক শেষে ইউপিডিএফ’র সশস্ত্র দলটি গোপন আস্তানায় চলে যায়। আজ সন্ধ্যা ৬ টায় মহালছড়ি জোন সদর থেকে নিরাপত্তা বাহিনীর একটি দল দাতকুপিয়া এবং ভুয়াছড়ি এলাকার মধ্যবর্তী স্থানে গিয়ে ইউপিডিএফ’র সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের গোপন আস্তানাটির সন্ধান পায় এবং যৌথবাহিনী সন্ত্রাসীদের গোপন আস্তানা ঘিরে ফেলতে সক্ষম হয়।

যৌথবাহিনীর উপস্থিতি টের পেয়ে অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীরা নিরাপত্তা বাহিনীকে লক্ষ্য করে গুলি ছুঁড়তে শুরু করে। জবাবে নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযান দলটিও পাল্টা গুলি চালায়। এক পর্যায়ে সশস্ত্র সন্ত্রাসী দলটি অন্ধকার পাহাড়ে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।

fdawt

এসময় দুই পক্ষের মধ্যে বন্দুকযুদ্ধে সামরিক পোশাক পরিহিত ইউপিডিএফের এক সন্ত্রাসী গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যায়। এ সময় নিরাপত্তা বাহিনী তার কাছ থেকে একটি চাইনিজ সাব মেশিনগান (এসএমজি) উদ্ধার করে।

পার্বত্য চট্টগ্রামের স্থিতিশীল পরিস্থিতিকে বিনষ্ট করার লক্ষ্যে ভূমি দখল, বাঙ্গালী হটাও এবং তথাকথিত জুম্মল্যান্ড গঠনের চক্রান্ত নিয়ে বেশ কিছুদিন যাবত পাহাড়ি সশস্ত্র সংগঠনগুলো খুন, গুম, হত্যা, অপহরণ, চাঁদাবাজিসহ নানান সশস্ত্র অপপ্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। ইউপিডিএফ’র আজকের এই গোপন বৈঠক সেই গোপন অভিলাষ পূরণের অংশ বলে ধারণা করা হচ্ছে।

তবে ইউপিডিএফের প্রচার ও প্রকাশনা বিভাগের প্রধান নিরন চাকমা গণমাধ্যমকে তাদের সংগঠনের সাথে এ ধরণের কোনো সংঘর্ষের খবর অস্বীকার করেছেন।

পানছড়ি পিসিপি কার্যালয় থেকে এলজি ও ৩ রাউন্ড গুলিসহ আটক-৯

ooo

স্টাফ রিপোর্টার:

খাগড়াছড়ি জেলার পানছড়ি উপজেলাস্থ পিসিপি (পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ) কার্যালয়ে যৌথ বাহিনীর অভিযানে একটি এলজি ও ৩ রাউন্ড গুলিসহ ৯ জনকে আটক করা হয়েছে।

আটককৃতরা পানছড়ি উপজেলা পিসিপি সভাপতি হিমেল চাকমা, কলেজ শাখা পিসিপি সভাপতি এডিসন চাকমা, দপ্তর সম্পাদক সাধন চাকমা, বড় কলক এলাকার জীতেন্দ্র চাকমার ছেলে কল্যাণ জ্যোতি চাকমা, একই এলাকার সুগন্ধা চাকমার ছেলে সুপ্রিয় চাকমা, দুদুকছড়ার ভ’বন চন্দ্র চাকমার ছেলে সুবিরণ চাকমা, যুবনাশ্ব পাড়ার বিজয় চাকমার ছেলে রমেশ চাকমা, পূজগাং এলাকার সম্মুলাল চাকমার ছেলে সোহেল চাকমা ও মাচ্ছ্যাছড়ির শ্যামল কান্তি চাকমার ছেলে দিদল চাকমা।

বৃহষ্পতিবার সকাল ১১টায় এই অভিযানের নেতৃত্ব দেয় ৩ বিজিবি লোগাং জোনের সহকারী পরিচালক রহমত আলী ও পানছড়ি সাব জোনের সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার মো: ওয়াহিদুজ্জামান।


এ সংক্রান্ত আরো খবর:


পানছড়িস্থ লোগাং জোন অধিনায়ক লে: কর্ণেল আহসান আজিজ (পিএসসি) জানায়, পানছড়ি কলেজ গেইট এলাকায় পিসিপি কার্যালয়ে কয়েকজন অস্ত্রধারী গোপন বৈঠকে বসেছে খবরের ভিত্তিতে যৌথ বাহিনী এ অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করে। আটককৃতদের অস্ত্র ও গুলিসহ পুলিশে সোপর্দ করা হয়েছে।

পানছড়ি থানার দায়িত্বরত অফিসার এসআই মো: ইয়াছিন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানায়, এ ব্যাপারে অস্ত্র আইনের ১৯(ক)-চ ধারায় অস্ত্র আইনে একটি মামলা হয়। পানছড়ি থানার মামলা নং-৬।

এদিকে পার্বত্য নাগরিক পরিষদের সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার আলকাস আল মামুন ভুঁইয়া এ ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় পার্বত্যনিউজকে বলেন, যে সব সংগঠন অবৈধ অস্ত্র নিয়ে পার্টি অফিসে মিটিং করে সে ধরনের সংগঠনের বৈধ রাজনীতি করার অধিকার নেই। এদের বিরুদ্ধে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীকে শক্ত ভূমিকা নেয়ার দাবী জানাচ্ছি। পার্বত্য চট্টগ্রামে এসব সন্ত্রাসী সংগঠন ও অফিসের নামে তাদের আস্তানা নিষিদ্ধ করারও জোর দাবী জানান তিনি।

এদিকে পাহাড়ী ছাত্র পরিষদ পিসিপি খাগড়াছড়ি জেলা শাখা এক বিবৃতিতে তাঁরা অবিলম্বে আটক নেতা-কর্মীদের নিঃশর্ত মুক্তি ও তাদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার, অন্যায় ধরপাকড় ও ন্যায়সঙ্গত গণতান্ত্রিক আন্দোলন দমনের ষড়যন্ত্র বন্ধের দাবি জানান।

অবাধ, সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে পার্বত্য চট্টগ্রামে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে বিশেষ অভিযান সময়ের দাবী

শুধু তারিখ পিছিয়ে পার্বত্য চট্টগ্রামে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়

মেহেদী হাসান পলাশ

মেহেদী হাসান পলাশ

পার্বত্য জেলা রাঙামাটির ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন তৃতীয় ধাপের পরিবর্তে ৬ষ্ঠধাপে নেয়া হয়েছে। নির্বাচন কমিশন থেকে জারি করা এ সংক্রান্ত নির্দেশে বলা হয়েছে, ‘যেহেতু প্রধান প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো প্রার্থী মনোনয়ন দিতে পারেনি সেহেতু নির্বাচনে সবার অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে রাঙামাটি জেলার ১০টি উপজেলার সকল ৪৯ ইউনিয়নের নির্বাচন ৩য় পর্যায়ের পরিবর্তে ৬ষ্ঠ পর্যায়ে অন্তর্ভুক্ত’ করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। যদিও অন্য একটি পার্বত্য জেলা খাগড়াছড়ির ৩৭টি ইউনিয়নের মধ্যে আওয়ামী লীগ ৩৬টিতে, অন্যতম বৃহৎ রাজনৈতিক দল বিএনপি ২৭টিতে নমিনেশন দিতে পেরেছে। কিন্তু খাগড়াছড়ি জেলার নির্বাচন পেছানো হয়নি।

এদিকে ইসির পত্রে রাঙামাটি জেলায় ‘প্রধান প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো প্রার্থী মনোনয়ন দিতে’ না পারার কোনো কারণ না বলা হলেও সরকারি দল আওয়ামী লীগের নেতারা পরিষ্কার করে একাধিকবার বলেছেন, পাহাড়ী সন্ত্রাসীদের হুমকির কারণে তারা অনেক ইউনিয়নে প্রার্থী দিতে পারছেন না। শুধু তাই নয় নির্বাচন পেছানোর পর সংবাদ সম্মেলন করে আওয়ামী লীগের তরফ থেকে এও বলা হয়েছে, “পার্বত্য চট্রগ্রামে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার না হলে শুধু ইউপি নির্বাচন কেন ভবিষ্যতে কোন নির্বাচনেই অংশ নেবে না আওয়ামী লীগ”।

cht book 4

এ প্রেক্ষাপটে রাঙামাটিতে অনুষ্ঠিত পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত জাতীয় সংসদের স্থায়ী কমিটির বৈঠকে পার্বত্য চট্টগ্রাম থেকে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে সকল আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয়ে অবিলম্বে যৌথ অভিযান শুরু করার সুপারিশ করা হয়েছে। কিন্তু কবে কখন থেকে এই অভিযান শুরু হবে বা আদৌ হবে কিনা এ ব্যাপারে এখন পর্যন্ত কোনো সুস্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি। অথচ রাঙামাটি ছাড়া পার্বত্য চট্টগ্রামের অপর দুই জেলা খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানে শুরু হয়েছে নির্বাচনী ডামাঢোল।

টানা দ্বিতীয়বারের মতো শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ সরকার প্রবল প্রতাপে দেশ পরিচালনা করছে।বাংলাদেশের ইতিহাসে এর চেয়ে দাপুটে সরকার আর কখনো দেশ শাসন করেনি।প্রশাসন, পুলিশসহ সকল ধরনের ব্যুরোক্রাসি, মিডিয়া, সরকার বিরোধী মত, এমনকি বিরোধী রাজনৈতিক দলসমূহকে দলে পিষে অতীতে আর কোনো সরকার এমনভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে পারেনি। সারা বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের দাপটে যেখানে রাজপথের প্রধান বিরোধী দল বিএনপি, জামায়াত, শিবির যেখানে মাথা তুলে দাঁড়াতে পারছে না। সেখানে পার্বত্য চট্টগ্রামে সরকারি দল চরম অসহায়! অসহায় প্রধান বিরোধী দলও।

সারা দেশের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে মনোনয়ন পেতে যেখানে জাতীয় রাজনৈতিক দলগুলোর নেতকর্মীদের মধ্যে তদ্বির, কালো টাকা, প্রবল প্রতিদ্বন্দ্বিতা, সংঘাত, সংঘর্ষ, হত্যাকাণ্ড হচ্ছে; সেখানে পার্বত্য চট্টগ্রাম সম্পূর্ণ আলাদা। কেননা পার্বত্য চট্টগ্রামের বিভিন্ন ইউপিতে প্রধান জাতীয় রাজনৈতিক দলগুলো মনোনয়ন দেয়ার জন্য প্রার্থীই খুঁজে পাচ্ছে না। সরকারি দল আওয়ামী লীগ, রাজপথের বিরোধী দল বিএনপি পার্বত্য চট্টগ্রামের বিভিন্ন ইউপিতে নমিনেশন দেয়ার মতো আগ্রহী প্রার্থী পাচ্ছে না। এমন নয় যে সেখানে বিএনপি এবং আওয়ামী লীগের সংগঠন নেই। সংগঠন থাকলেও বিএনপি-আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা প্রার্থী হতে আগ্রহী নয়।

chtbook 9

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, তিন পার্বত্য জেলায় সক্রিয় তিনটি আঞ্চলিক সংগঠনের সশস্ত্র শাখার সন্ত্রাসীদের হুমকির মুখে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির নেতাকর্মীরা নমিনেশন নিতে আগ্রহী নয়।হুমকির মুখে জীবন বাঁচতে তারা নির্বাচনী মাঠ ছেড়ে দিয়েছে পাহাড়ী সন্ত্রাসীদের কাছে।

বিষয়টি স্বীকার করে  রাঙামাটি জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী দীপংকর তালুকদার জানিয়েছেন, স্থানীয় সশস্ত্র নামধারী সন্ত্রাসীদের অবৈধ অস্ত্রের ভয়ে পাহাড়ে মানুষ জিম্মি। তাদের হুমকির কারণে অধিকাংশ ইউনিয়ন পরিষদে আমাদের দলের অনেকে নির্বাচনে প্রার্থী হতে অনীহা প্রকাশ করছেন। এমনকি দলীয় বর্তমান ইউপি চেয়ারম্যানরা পর্যন্ত ভয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণে অনিচ্ছা প্রকাশ করেছেন। কারণ নির্বাচন এলে স্থানীয় আঞ্চলিক দলগুলোর অপতৎপরতা বৃদ্ধি পায়। বিশেষ করে পাহাড় অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে তাদের জোর বেশি থাকে।

আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে পার্বত্য জেলা রাঙামাটির ৪৯টি আসনের মধ্যে ৩০ আসনে চেয়ারম্যান পদে মনোনয়ন দিতে পেরেছে আওয়ামী লীগ। বাকি ১৯টি আসনে চেষ্টা করেও কোনো সরকারি দল কোনো প্রার্থী দিতে পারেনি। সাবেক পার্বত্য বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ও রাঙামাটি জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি দীপংকর তালুকদার বলেন, নির্বাচনের আগেই স্থানীয় নামধারী সন্ত্রাসী গ্রুপের ভয়ে আওয়ামী লীগের কোন নেতাকর্মী প্রার্থী হতে চাইছেন না। যার কারণে রাঙামাটি ৪৯টি ইউনিয়নের মধ্যে ১৯টি ইউনিয়ন প্রার্থী দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।

অন্যদিকে একই জেলায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি সাকুল্যে ২২টি ইউপিতে নমিনেশন দিতে পেরেছে। অর্ধেকের বেশি আসনে অর্থাৎ ২৭ টি ইউপিতে বিএনপির নেতাকর্মীরা প্রার্থী হতে আগ্রহ প্রকাশ করেনি। রাঙামাটি জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক দীপেন তালুকদার ও জেলা বিএনপির সহসভাপতি, সাবেক মেয়র সাইফুল ইসলাম চৌধুরী ভুট্টো পার্বত্য নিউজকে বলেন, সন্ত্রাসীদের হুমকি মুখে রাঙামাটি জেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে বিএনপির নেতাকর্মীরা নির্বাচন করতে আগ্রহী হচ্ছেন না।

ooooooo

একই অবস্থা পার্বত্য জেলা খাগড়াছড়িতেও। এ জেলার ৩৭ টি ইউনিয়ন পরিষদের মধ্যে ৩৬টিতে আওয়ামী লীগ নমিনেশন দিতে পারলেও বিএনপি ২৭ টিতে নমিনেশন দিতে পেরেছে। খাগড়াছড়ি জেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য ওয়াদুদ ভুঁইয়া পার্বত্যনিউজকে জানান, পাহাড়ী সন্ত্রাসীদের হুমকির মুখে বিভিন্ন ইউনিয়নে বিএনপির নেতাকর্মীরা নির্বাচন করতে ভয় পাচ্ছেন। তাই তারা নমিনেশন নিতে আগ্রহী নয়। বান্দরবানে পাহাড়ী সন্ত্রাসীদের ভিত অপেক্ষাকৃত দুর্বল হওয়ায় সেখানের পরিস্থিতি অবশ্য ভিন্ন। তবুৃ রুমা ও রোয়াংছড়ির মতো প্রত্যন্ত উপজেলাগুলো এলাকাবাসী ইচ্ছামতো নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারছে না।

পাহাড়ী সন্ত্রাসীরা শুধু নির্বাচনে অংশ নিতে জাতীয় দলের নেতাকর্মীদের ভয় দেখাচ্ছে তা ই নয়। তারা সরকারি দলের মন্ত্রী, এমপিদেরও নির্বাচনে অংশ নিতে ভয় দেখাচ্ছে। ইতোমধ্যে সাবেক পার্বত্য বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ও রাঙামাটি জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি দীপংকর তালুকদারকে হত্যা করার হুমকি দিয়েছে পাহাড়ী সন্ত্রাসীরা। রাঙামাটি জেলা ও উপজেলা আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনসমূহ এই হুমকির বিরুদ্ধে জেলাব্যাপী বিক্ষোভ সমাবেশ করছে পার্বত্য চট্টগ্রাম থেকে মনোনীত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য ফিরোজা বেগম চিনু গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, পাহাড়ী সন্ত্রাসীরা তাকেও হত্যা করার হুমকি দিচ্ছে

পার্বত্য চট্টগ্রামে আইন শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে সরকারি উদ্যোগ থাকলের বাস্তবে তা যথেষ্ট কার্যকর নয়।শান্তিচুক্তির পর পাহাড়ীদের একটি গ্রুপ অস্ত্র সমর্পন করলেও পার্বত্য চট্টগ্রাম এখনও বৃহৎ অবৈধ অস্ত্রাগার।

খুন, ধর্ষণ, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস, হুমকি, অপহরণ পার্বত্য চট্টগ্রামের নিত্য নৈমত্তিক ঘটনা। পাহাড়ে অপহরণ ঘটনায় এখনো মুক্তিপণ না দিয়ে মুক্তির ঘটনা বিরল। পার্বত্য চট্টগ্রামে চাঁদা না দিয়ে পাহাড়ী-বাঙালি কারো পক্ষে বাস করা অসম্ভব। অথচ সেই পাহাড়ীরাই সন্ত্রাসীদের মনোনীত প্রার্থিকে ভোট নিয়ে নির্বাচিত করে। এটা ভালোবেসে নয়, স্বতঃস্ফুর্তভাবে অস্ত্রের মুখে জিম্মী হয়ে। পার্বত্য চট্টগ্রামে সরকার এখনো নির্ভয়ে ভোটদানের পরিবেশ সৃষ্টি করতে পারেনি। তাছাড়া সন্ত্রাসীদের মনোনীত প্রার্থিকে ভোট না দিলে বিচ্ছিন্ন পাহাড়ী পাড়াগুলোতে বসবাসকারী নিরীহ জনগণের জীবনের নিরাপত্তা হুমকির মুখে থাকে।

Rangamati pic2

শুধু তাই নয়, সরকার পাহাড়ী সন্ত্রাসীদের হুমকির মুখে তিন পার্বত্য জেলায় আওয়ামী লীগের কার্যক্রম চালানো অসম্ভব হয়ে পড়েছে বলে সরকারি দলের নেতারাই স্বীকার করেছেন।

পাহাড়ী সন্ত্রাসীদের কার্যক্রমে অতিষ্ঠ হয়ে বিভিন্ন স্থানে সম্প্রতি আওয়ামী লীগে যোগদান করেছিল কয়েকশত শান্তিকামী পাহাড়ী। কিন্তু সরকারী দল তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে না পারায় পুণরায় তারা পাহাড়ী সংগঠনে ফিরে যেতে বাধ্য হয়েছে।

খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, নির্বাচনী প্রচার আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হওয়ার আগেই সন্ত্রাসীরা বিভিন্ন পাহাড়ী পাড়াগুলোতে ঘুরে ঘুরে নিরীহ ভোটারদের ভয়, হুমকি প্রদর্শন করে নিজ দলের মনোনীত প্রার্থীদের ভোট দেয়ার কথা বলছে। তারা এমনও বলছে যে, পুলিশ-সেনাবাহিনী-বিজিবি ভোটের কিছুদিন পাহারা দেবে। কিন্তু ভোটের পর আর তাদের পাওয়া যাবে না। সে সময় তারা থাকবে। তাদের প্রার্থীরা হেরে গেলে ভোটের পর তারা এর প্রতিশোধ নেবে।

গত ১৬ মার্চ রাঙামাটির নানিয়ারচরে পাহাড়ী সন্ত্রাসীদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে নির্বাচন করতে চাওয়ায় সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান পঞ্চানন চাকমাকে অপহরণ করে পাহাড়ী সন্ত্রাসীরা। এরপরও এ উপজেলায় একই কারণে আরো কিছু অপহরণের ঘটনা ঘটেছে। একইভাবে দলীয় মনোনয়নের বাইরে প্রার্থি হতে চাওয়ায় বান্দরবানের রুমা উপজেলায় পাহাড়ী সংগঠনের এক নেতাকে গুলি করে ও কুপিয়ে হত্যা করে তার দলের সদস্যরাই।নির্বাচন যতো এগিয়ে আসবে এ ধরনের ঘটনা ততো বৃদ্ধি পাবে বলে স্থানীয়দের ধারণা।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, ২০১১ সালে অনুষ্ঠিত সর্বশেষ ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে পার্বত্য চট্টগ্রামের তিন জেলায় সর্বমোট ১১৯টি ইউপির মধ্যে ১১৩টি ইউপিতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় এবং ৬টি ইউপি নির্বাচন স্থগিত হয়।  ১১৩টি ইউপির মধ্যে আওয়ামী লীগ ৩৬টি, বিএনপি ২২টি, জেএসএস(মূল) ১৫টি, ইউপিডিএফ ৩১টি, জেএসএস(সংস্কার) ৫টি, স্বতন্ত্র ৩টি, বাঙালি সংগঠন ১টি আসনে জয়লাভ করে।

result 1

জেলাওয়ারি হিসাবে দেখা যায়, রাঙামাটি জেলায় ৪৯টি ইউপির মধ্যে আওয়ামী লীগ ১১টি, বিএনপি ৬টি, ইউপিডিএফ ১৬টি, জেএসএস(মূল) ১২টি, জেএসএস(সংস্কার) ২টি, স্বতন্ত্র ২টি এবং বাঙালি সংগঠন ১টি ইউপিতে চেয়ারম্যান পদে জয়লাভ করে। এ সময় ১টি আসনে নির্বাচন স্থগিত থাকে।

খাগড়াছড়ির ৩৯টি আসনের মধ্যে ৩৭টিতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় এবং ২টির ফলাফল স্থগিত থাকে। নির্বাচন হওয়া ৩৭টি ইউপির মধ্যে আওয়ামী লীগ ১৩টি, বিএনপি ৩টি, ইউপিডিএফ ১৫টি, জেএসএস(সংস্কার) ৩টি আসনে জয়লাভ করলেও জেএসএস (মূল) ও বাঙালি সংগঠনগুলো এ জেলায় কোনো ইউপিতে জয়লাভ করতে সক্ষম হয়নি।

অন্যদিকে বান্দরবানের ৩১টি ইউপির মধ্যে ২৮টিতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এরমধ্যে আওয়ামী লীগ ১২টি, বিএনপি ১২টি, জেএসএস (মূল) ৩টি ও স্বতন্ত্র ১টি আসনে জয়লাভ করে। ইউপিডিএফ ও বাঙালি সংগঠন এ জেলায় কোনো আসন পায়নি।

কিন্তু ২০১১ সালের নির্বাচন ও ২০১৬ সালের নির্বাচনের মধ্যে বিস্তর তফাত রয়েছে। ২০১১ সালের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল অরাজনৈতিক আবরণে। কিন্তু ২০১৬ সালের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে সম্পূর্ণ রাজনৈতিক আবহে। একেবারে দলীয় মনোনয়নে, দলীয় প্রতীকে। অন্যদিকে স্থানীয়ভাবে বিবেচনা করলে বর্তমানে পার্বত্য চট্টগ্রামে সন্তু লারমার ঘোষিত অসহযোগ আন্দোলন চলছে। এ আন্দোলনের অংশ হিসাবে তিন স্থানীয় পাহাড়ী প্রতিদ্বন্দ্বী সংগঠনের মধ্যে চলছে অঘোষিত অস্ত্র বিরতি। শুধু তাই নয়, এ তিন পাহাড়ী সংগঠনের ঐক্য প্রক্রিয়া প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। এ পরিপ্রেক্ষিতে তিন পার্বত্য জেলার পাহাড়ী সংগঠনগুলো যদি সমঝোতার ভিত্তিতে নির্বাচনী লড়াইয়ে নামে তাহলে সরকারি দল আওয়ামী লীগসহ জাতীয় রাজনৈতিক দলগুলোকে বিশেষ বেকায়দায় পড়তে হবে।

সাধারণত তিন পার্বত্য জেলার উপজাতি অধ্যুষিত ইউপিগুলোতে পাহাড়ী আঞ্চলিক সংগঠনগুলো জয়লাভ করে। তাছাড়া অনেক সময় একাধিক বাঙালি প্রার্থীর বিপরীতে একক পাহাড়ী প্রার্থী দিয়েও আঞ্চলিক সংগঠনগুলো জয়লাভ করে। প্রত্যন্ত ইউপিগুলোতে বিচ্ছিন্নভাবে বসবাস করা পাহাড়ী পাড়া বা গ্রামগুলোর বাসিন্দা বা ভোটাররা সবসময় উপজাতি আঞ্চলিক সংগঠনগুলোর সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের বন্দুকে মুখে বসবাস করে। এসব সন্ত্রাসীরা নিরীহ উপজাতি বাসিন্দাদের উপর যতোই জুলুম, নির্যাতন, অত্যাচার, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস চালাক জীবনের ভয়ে, বন্দুকের মুখে তারা তাদের নির্দেশিত পথেই চলতে বাধ্য হয়, তাদের মনোনীত প্রার্থীকেই ভোট দিতে বাধ্য হয়।

cht book 6

পার্বত্য বিশেষজ্ঞদের মত, শুধুমাত্র নির্বাচনের তারিখ পিছিয়ে পার্বত্য চট্টগ্রামে অবাধ, নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও ভয়হীন নির্বাচনী পরিবেশ সৃষ্টি করা সম্ভব নয়। যতক্ষণ না তিন পার্বত্য জেলায় প্রবলভাবে বিরাজমান পাহাড়ী সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর অস্ত্র উদ্ধার করা সম্ভব হবে। বিশেষ করে প্রত্যন্ত অঞ্চলে বিচ্ছিন্নভাবে বসবাসকারী নিরীহ উপজাতীয় বাসিন্দাদের দিকে তাক করা পাহাড়ী সন্ত্রাসীদের বন্দুকের নলগুলোকে নিষ্ক্রিয় বা ধংস করা না যাবে ততদিন পার্বত্য চট্টগ্রামের মানুষ তাদের পছন্দের প্রার্থীদের ভোট দিতে সক্ষম হবে না। পার্বত্য চট্টগ্রামের অবাধ, নিরোপেক্ষ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে পাহাড়কে অস্ত্রমুক্ত করা  সময়ের দাবী। এ দাবী সরকারী দল আওয়ামী লীগের, এ দাবী বিএনপিসহ সকল রাজনৈতিক দলের, এ দাবী বাঙালীর, এ দাবী নিরীহ ও সাধারণ পাহাড়ীর, এ দাবী পার্বত্য চট্টগ্রামে দায়িত্বরত প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের।

পার্বত্য চট্টগ্রামে কর্মরত বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থাও নির্বাচনের আগে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে বিশেষ অভিযানের কথা উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছে বলে জানা গেছে। এমনকি জেএসএস সহসভাপতি ও সাংসদ উষাতন তালুকদারও স্থায়ী কমিটির বৈঠকে অস্ত্র উদ্ধারে বিশেষ অভিযানের কথা বলেছেন। কাজেই নির্বাচনের আগে পার্বত্য চট্টগ্রামে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে বিশেষ অভিযানের দাবী কতিপয় সন্ত্রাসীবাদের দল, মত, জাতি, বর্ণ নির্বিশেষে ১৬ লাখ পার্বত্যবাসীর।

তিন পার্বত্য জেলায় জাতীয রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ঐক্যবদ্ধ রাজনৈতিক সদিচ্ছা, সরকারের আন্তরিকতা ও প্রশাসন, বিশেষ করে নিরাপত্তা বাহিনীগুলোর ঐকান্তিক প্রচেষ্টা ছাড়া এ কঠিন কাজে জয়লাভ সম্ভব নয়।


 

লেখকের পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক আরো কিছু লেখা

মিজোরামে বিপুল অস্ত্র উদ্ধার: গন্তব্য পার্বত্য চট্টগ্রাম

m16_17136

পার্বত্যনিউজ ডেস্ক:

মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে পাচারের সময় ভারতের মিজোরাম রাজ্যের দুটি গ্রামে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ আগ্নেয়াস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করেছে আসাম রাইফেলস। উদ্ধারকৃত অস্ত্র ও গোলাবারুদগুলোর মধ্যে রয়েছে, ১২টি ম্যাগাজিনসহ পাঁচটি একে-৪৭ ও তিনটি একে-৫৬ রাইফেল। ভারতের সীমান্তরক্ষী আধাসামরিক বাহিনী এই অভিযান চালিয়েছে বলে জানা গেছে। এসব উদ্ধারকৃত অস্ত্র ও গোলাবারুদ মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশের পার্বত্য চট্টগ্রাম এলাকায় পাচারের উদ্দেশ্যে নিয়ে আসা হতে পারে বলে বলে মিজোরাম পুলিশ সন্দেহ করছে। টাইমস অভ ইন্ডিয়া।

মিজোরাম রাজ্যের সেরচিপ জেলার কেতুম ও খলেলুঙ গ্রাম থেকে শুক্রবার ভোরে এসব অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়। এ সময় মিনচুঙ্গা (৫৫) ও ভেনপুইলালা (৩০) নামে দুই মিজো ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়। ঊর্ধ্বতন পুলিশ ও গোয়েন্দা কর্মকর্তারা এদেরকে জিজ্ঞাসাবাদ করছেন বলে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন জেলার পুলিশ প্রধান লালরিংডিকা। বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী গ্রাম দু’টি মিজোরামের রাজধানী আইজল থেকে প্রায় ১২০ কিলোমিটার দক্ষিণে।

13গহ

তিনি আরো জানান, উদ্ধারকৃত আগ্নেয়াস্ত্রের মধ্যে পাঁচটি একে-৪৭, তিনটি একে-৫৬ রাইফেলের পাশাপাশি একে সিরিজ রাইফেলের ১২টি ম্যাগাজিন পাওয়া যায়। আর অস্ত্রগুলো প্রতিবেশী বাংলাদেশে নেওয়া হচ্ছিল বলে তিনি ধারণা করছেন।

গত ছয় মাসের মধ্যে সীমান্তরক্ষী বাহিনী আসাম রাইফেলসের হাতে এটি দ্বিতীয় সর্বোচ্চ অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনা বলে জানা গেছে। এর আগে মিয়ানমার সীমান্তবর্তী রাজ্যের চাম্পাই জেলা থেকে যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি আটটি এম ৪রাইফেল উদ্ধার করে তারা। আসাম রাইফেলস নামে ভারতের এই সীমান্তরক্ষী বাহিনী মিয়ানমারের সঙ্গে থাকা দেশটির এক হাজার ৬৪৩কিলোমিটার সীমান্ত পাহারায় নিয়োজিত।

এর আগে ২০১৪ সালের মার্চে মিজোরাম পুলিশ বাংলাদেশগামী বিপুল পরিমাণ অস্ত্র উদ্ধার করেছে। মিজোরামের পুলিশ প্রধান অলোক কুমার ভার্মা এবং উপপ্রধান এ কে পট্টনায়করে মতে, তাদের হিসাব অনুযায়ী দুদিন অর্থাৎ ৭ এবং ৮ মার্চ মিজোরামের আইজল শহরের কাছ থেকেই তারা বিপুল পরিমাণ অস্ত্র উদ্ধার করেন। পুলিশের তালিকা অনুযায়ী তারা ৪৬টি এ কে ৪৭ বন্দুক, তিনটি লাইট মেশিনগান, সেনাবাহিনীতে ব্রাউনি নামে পরিচিত দুটি রাইফেল , প্রচুর গোলাবারুদ এবং এ কে ৪৭ ও লাইট মেশিনগানের প্রচুর তাজা গুলি তারা উদ্ধার করে।

এদিকে ২০১৪ সালের অগাস্টে দেশটির আরেক সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ চোরাকারবারীদের কাছ থেকে আটটি একে সিরিজের রাইফেল উদ্ধার করে। তখন স্থানীয় তিন চাকমার সঙ্গে দুই বাংলাদেশি চাকমাকেও গ্রেফতার করা হয়। এভাবে মিয়ানমার থেকে মিজোরাম হয়ে এসব অস্ত্রের চালান বাংলাদেশে পার্বত্য এলাকায় পাহাড়িদের মধ্যে বিবাদমান দুটি পক্ষ ইউপিডিএফ ও পাবর্ত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির সদস্যদের কাছে যায় বলে ধারণা করা হয়।

পার্বত্য চট্টগ্রামের চোরাই বাজার থেকে মিয়ানমারের বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী আরাকান আর্মি ও অনেক বিদ্রোহী রোহিঙ্গা গোষ্ঠীর পাশাপাশি বাংলাদেশি ধর্মীয় জঙ্গিরা এসব অস্ত্র পেয়ে থাকে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।

পার্বত্য চট্টগ্রামে সাম্প্রতিক অস্ত্র উদ্ধারের খবর :

১. পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তিচুক্তি পরবর্তীকালে সেনাবাহিনীর সবচেয়ে বড় অস্ত্র উদ্ধার অভিযান

২. পার্বত্য চট্টগ্রাম- চাঁদাবাজির অভয়ারণ্য: নিরুপায় জনগণ: অসহায় সরকার

৩. বাঘাইছড়িতে সেনাবাহিনীর সাথে বন্দুকযুদ্ধে নিহত ৫ বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার

৪. খাগড়াছড়িতে মেশিনগান, এসএমজি, এসএলআরসহ আবারো বিপুল পরিমাণ আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করেছে সেনাবাহিনী

৫. বান্দরবানের রুমায় দুইটি বিদেশী আগ্নেয়াস্ত্র, বিপুল পরিমাণ গুলিসহ জেএসএস চাঁদাবাজ আটক

দীঘিনালায় সেনাবাহিনী ও সন্ত্রাসীদের মধ্যে ঘন্টাব্যাপী বন্দুকযুদ্ধে ৫টি অস্ত্র ও ৪৫০ রাউন্ড গুলিসহ একজন আটক

Arms recover pic (02) 07-09-2015

নিজস্ব প্রতিনিধি, দীঘিনালা:

সেনাবাহিনীর অপারেশনে  পার্বত্য চট্টগ্রামে আবারো বিপুল পরিমাণ অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনা ঘটছে। এবারে ঘটনাস্থল খাগড়াছড়ি জেলার দিঘীনালা থানা। গত রাত থেকে চলা এ অপারেশনে এখন পর্যন্ত ৫টি আগ্নেয়াস্ত্র ও বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়েছে।

উদ্ধারকৃত অস্ত্রের মধ্যে রয়েছে একটি ভারী মেশিনগান, একটি গ্রেনেড,  দুইটি এসএলআর, একটি ৫.৫৬ এমএম এসএমজি, একটি ৭.৬২ ফোল্ডেড এসএমজি মতো ভয়ানক মারণাস্ত্র রয়েছে। এছাড়াও একটি মেশিনগানের ম্যাগজিন, তিনটি এসএলআরের ম্যাগজিন, তিনটি এসএমজি’র ম্যাগজিন, একটি রাইফেল ম্যাগজিন, একটি স্থানীয় তৈরী ম্যাগাজিন, ৬২ রাউন্ড মেশিনগানের গুলি, ১০৬ রাউণ্ড ৭.৬২ বোরের গুলি, ১২৫ রাউণ্ড ৫.৫৬ বোরের গুলি, তিনটি পাউচ, ৮ টি মোবাইল ফোন, ৬ টি সামরিক পোশাক ইত্যাদি। এঘটনায় সেনবাহিনী একজনকে আটক করতে সক্ষম হয়েছে। আটক সন্ত্রাসীর নাম বর্ষসভা চাকমা(৩৫)। অভিযানে নেতৃত্ব দেন, দীঘিনালা জোন অধিনায়ক লে.কর্ণেল মহসিন রেজা।

viber image 2

জানা যায়, উপজেলার দূর্গম ছাদকছড়া গ্রামে বিপুল পরিমান অস্ত্র ও গোলা-বারুদ মজুদ আছে, এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গত রোববার সন্ধ্যা থেকে সেনাবাহিনী ওই এলাকায় অভিযান শুরু করে। রাতভর অভিযানের পর ভোর ৫টার দিকে ঘটনাস্থলে পৌছামাত্র সন্ত্রাসীরা প্রথমে সেনাবাহিনীকে লক্ষ্য করে গুলি ছুড়ে। পরে সেনাবাহিনীও পাল্ট গুলি ছুড়ে। এসময় উভয় পক্ষের মধ্যে প্রায় ঘন্টাব্যাপী বন্দুকযুদ্ধ হয়। এসময় বন্দুকযুদ্ধে উভয়পক্ষের প্রায় একশত আশি রাউন্ড গুলি বিনিময় হয়। গুলি বিনিময়ের এক পর্যায়ে ঘটনাস্থলে থাকা প্রায় ২৫/৩০ জন সন্ত্রাসী পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।

এসময় উলঙ্গ হয়ে পালিয়ে যাওয়ার সময় বর্ষসভা চাকমা নামে একজনকে আটক করা হয়। পরে বর্ষসভা চাকমাকে সাথে নিয়ে ঘটনাস্থল থেকে দুটি এসএমজি, একটি মেশিনগান, দুটি এসএলআর, একটি গ্রেনেড, বিভিন্ন অস্ত্রের ম্যাগজিন নয়টি, সাড়ে চারশত গুলি এবং ছয় সেট সেনাবাহিনীর পোষাক, একটি ডিভিডি সেট এবং আটটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।

Arms recover pic (03) 07-09-2015

এসময় অভিযানে আরো উপস্থিত ছিলেন, খাগড়াছড়ি রিজিয়নের ব্রিগেড কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল স.ম মাহবুব আলম, দীঘিনালা জোনের উপ-অধিনায়ক মেজর ইমতিয়াজ, এ্যাডজুটেন্ট তৌহিদুল ইসলাম মান্নান।

এ ব্যাপারে খাগড়াছড়ি রিজিয়নের ব্রিগেড কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল স.ম মাহবুব আলম পিএসসি জানান, ছাদকছড়া এলাকায় স্বশস্ত্র সন্ত্রাসীদের ২৫/৩০জনের একটি দল অবস্থান করছেন, এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রোববার সন্ধ্যা থেকে সোমবার ভোর পর্যন্ত অভিযান চালানো হয়।

দীঘিনালা জোন কমান্ডার লে. কর্ণেল মহসীন রেজা বলেন, “তারা সন্ত্রাসী কর্মকান্ড পরিচালনার জন্যই সেখানে জড়ো হয়েছিল। সাধারণ জনগণের যেন জানমালে ক্ষতি না হয় সে দিক বিবেচনা করে আমরা আরও বড় ধরনের সশস্ত্র অভিযানে যাইনি। খাগড়াছড়ি রিজিয়নের স্টাফ অফিসার মেজর মো: নাসির-উল-হাসান খান জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রোববার রাত ১০টা থেকে দীঘিনালা জোনের সেনাবাহিনীর সদস্যরা অভিযান শুরু করে। এ সময় বাচ্ছুক্কা চাকমা নামে এক সন্ত্রাসীকে আটক করে। এসময় একটি এসএমজি, তিনটি এসএলআর, তিনটি এসএলআরের ম্যাগাজিন, তিনটি এসএমজির ম্যাগাজিন ও সাড়ে ৩০০ রাউন্ড তাজা গুলিসহ সেনাবাহিনীর ৬ সেট পোশাক উদ্ধার করা হয়।

আটক বর্ষসভা চাকমা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানায়, সে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি (জেএসএস-এমএন লারমা) সংগঠনের সক্রিয় সদস্য। সে আরো জানায় প্রথমে রাঙ্গামাটি জেলার বাঘাইছড়ি এলাকায় দায়িত্ব পালন করেন, পরে কয়েকদিন আগে দীঘিনালায় এসে দায়িত্ব পালন শুরু করেন।

এব্যাপারে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি (জেএসএস-এমএন লারমা) কেন্দ্রিয় কমিটির সহ-তথ্য ও প্রচার সম্পাদক প্রশান্ত কুমার চাকমা জানান, আমাদের সস্বস্ত্র কোন সংগঠন নেই। অস্ত্র ও গুলিসহ আটক হওয়া ব্যক্তির সাথেও আমাদের কোন প্রকার সর্ম্পৃক্ত নেই।

উল্লেখ্য গত ১৫ আগস্ট একই রিজিয়নের আওতাধীন রাঙামাটি জেলার বাঘাইছড়ি উপজেলার বরাদম এলাকায় সেনাবাহিনীর সাথে বন্দুকযুদ্ধে ৫ জন নিহত হয়।

বাঘাইছড়ি

নিহত সন্ত্রাসীরা সকলে জেএসএস সংস্কারপন্থী গ্রুপের সদস্য। এসময় একটি সাবমেশিনগান, দুইটি চাইনিজ রাইফেল, তিনটি এসএলআর, একটি আমেরিকান পিস্তলসহ বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ উদ্ধার হয়। সন্ত্রাসীদের আটকের সময় হাতাহাতি লড়াইয়ে সেনাবাহিনীর একজন কর্পোরাল মারাত্মকভাবে আহত হয়। এসময় যৌথবাহিনী ঘটনাস্থল থেকে বিপুল পরিমাণ গুলি ও সামরিক পোশাক ও সামরিক সরঞ্জাম আটক করে। আটক গুলির মধ্যে ছিল ১২০ রাউণ্ড রাইফেলের গুলি, ৮৪ রাউণ্ড এসএমজি’র গুলি ১৪৫ রাউণ্ড এসএলআরের গুলি, ৯৪ রাউণ্ড পয়েন্ট টু টু বোর রাইফেলের গুলি, ৭ রাউণ্ড পিস্তলের গুলি। এছাড়াও এসময় বিপুল পরিমাণ সামরিক পোশাক ও সামরিক সরঞ্জামাদি আটক করা হয়।

এদিকে গত ৬ সেপ্টেম্বর বান্দরবানে একটি একে টুটু বোর রাইফেল, একটি বিদেশী পিস্তল ও বিপুল পরিমাণ গুলিসহ পার্বত্য জনসংহতি সমিতির দুই চাঁদাবাজ আটক করে যৌথবাহিনী।

vb 060915 1 copy

গত রবিবার ভোর রাতে জেলার রুমা উপজেলার রুমার চর পাড়া এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয়। আটককালে তাদের কাছ থেকে একটি যুক্তরাষ্ট্রের তৈরী একে-২২ বোর রাইফেল, পয়েন্ট ৩২ বোরের যুক্তরাষ্ট্রের তৈরী একটি পিস্তল, ২০ রাউন্ড একে-২২ বোর রাইফেলের গুলি, ৪৯ রাউন্ড পিস্তলের গুলি, একটি চাকু, ৪ টি চাঁদা আদায়ের রশিদ বই, ৫ টি মোবাইল, অতিরিক্ত ৭ টি সিম, ৪ টি ডাইরি, ৩ টি নোটবুক ও নগদ ২ লাখ ৯১ টাকা উদ্ধার করা হয়।

এভাবে একের পর এক ভয়ানক অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় পার্বত্য চট্টগ্রামের জনগনের মধ্যে স্বস্তি ফিরে আসতে শুরু করেছে। তারা এজন্য বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছে।

মাটিরাঙ্গায় ইতালিয়ান পিস্তলসহ জেএসএস সন্ত্রাসী আটক : ৪ পুলিশ আহত(ভিডিওসহ)

Arms Recover 19.10 (1)

পার্বত্যনিউজ রিপোর্ট:

খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গায় ইতালির তৈরী ৭.৬৫ বোরের পিস্তলসহ এক উপজাতি সন্ত্রাসীকে মাটিরাঙ্গা ও গুইমারা থানা পুলিশ এক যৌথ অভিযানের মাধ্যমে আটক করেছে।

আজ রোববার সকাল সাড়ে ন‘টার দিকে খাগড়াছড়ির পুলিশ সুপার শেখ মো: মিজানুর রহমানের নেতৃত্বে পুলিশের একটি বিশেষ দল বাইল্যাছড়ির কামাল কোম্পানীর ব্রিক ফিল্ড থেকে এ সন্ত্রাসীকে আটক করা হয়েছে।

আটককৃত সন্ত্রাসীর নাম কিশোর কুমার ত্রিপুরা (৩০) প্রকাশ বীতেন ত্রিপুরা। সে বাই্ল্যাছড়ির ৩ নং রাবার বাগান এলাকার ধীরেন্দ্র কুমার ত্রিপুরার ছেলে। সে জনসংহতি সমিতি‘র (এমএন লারমা) স্থানীয় নেতা ও চাঁদা আদায়কারী বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছে।

অভিযানকালে সন্ত্রাসী কিশোর ত্রিপুরা পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি করলে অল্পের জন্য প্রাণে রক্ষা পান মাটিরাঙ্গা থানার এস আই মো: কবির হোসেন। এসময় পুলিশের সাথে সন্ত্রাসী কিশোর ত্রিপুরা‘র ধস্তাস্তির ঘটনাও ঘটে। এ সময় পুলিশ তাকে জাপটে ধরে। তবে ধস্তাধস্তিতে পুলিশের এস.আই কবির, এ.এস.আই মহসিন, কনষ্টবল আল মামুন ও ডিএসবি লাইজু আহত হয়। আটককালে পুলিশ তার কাছ থেকে ৫ রাউন্ড গুলিসহ একটি ইতালিয়ান ব্যারেটা পিস্তল, নগদ টাকা ও একটি মোবাইল ফোন জব্দ করেছে।

খাগড়াছড়ির পুলিশ সুপার শেখ মো: মিজানুর রহমান বলেন, কিছুদিন যাবত এই সন্ত্রাসী আমাদের অব্যাহত নজরদারীতে ছিল। অবশেষে আজ তার অবস্থান নিশ্চিত হয়ে তাকে গ্রেফতার করা হলো। এটা পুলিশের নিয়মিত কার্যক্রমের একটা বড় সাফল্য বলেও মনে করেন তিনি। তিনি বলেন আপনারা জানেন, এসকল সন্ত্রাসীরা চাঁদাবজি ও হত্যা থেকে সব অপরাধমুলক কর্মকান্ড করে থাকে। তারা বিভিন্ন ভাবে এখানকার মানুষকে ক্ষতিগ্রস্থ করছে। তিনি সর্বস্তরের মানুষের সহযোগিতা কামনা করে সকলের সহযোগিতা নিয়ে সুন্দর আইন-শৃঙ্খলা পরিবেশ উপহার দিতে পারবো। তিনি বলেন স্থানীয় আঞ্চলিক সংগঠনের ব্যানারে পাহাড়ী সন্ত্রাসীরা এখানকার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতিসহ সার্বিক উন্নয়ন ব্যহত করার চেষ্টা করছে।

পানছড়িতে পুলিশের অস্ত্র হারানোর ঘটনার সাথে এসব সন্ত্রাসীদের কোন ধরনের যোগসুত্র আছে কিনা স্থানীয় সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এবিষয়ে একটি মামলা চলমান রয়েছে তাই তদন্তের স্বার্থে এবিষয়ে বেশী কিছু বলা যাবেনা। তবে অস্ত্রটি উদ্ধারে তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে এবং অস্ত্রটি উদ্ধারে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

সন্ত্রাসীরা আটকের পর খুব অল্প সময়ে জামিনে বেরিয়ে আসে কেন এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, উপযুক্ত স্বাক্ষীর অভাবেই সন্ত্রাসীরা বেরিয় আসে।

পুলিশের হাতে আটক সন্ত্রাসী কিশোর কুমার ত্রিপুরা (৩০) প্রকাশ বীতেন ত্রিপুরা‘র বিরুদ্ধে গুইমারা থানায় অস্ত্র আইনে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলেও জানান খাগড়াছড়ির পুলিশ সুপার শেখ মো: মিজানুর রহমান।

এদিকে ইতালির তৈরী ৭.৬৫ বোরের পিস্তলসহ জনসংহতি সমিতি‘র (এমএন লারমা) সন্ত্রাসী কিশোর কুমার ত্রিপুরা (৩০) প্রকাশ বীতেন ত্রিপুরা আটকের খবর ছড়িয়ে পড়লে মাটিরাঙ্গার সাধারণ মানুষ স্বস্তির নি:শ্বাস ফেলে দেশীয় আইনের যথাযথ প্রয়োগের মাধ্যমে তার শাস্তি দাবী করেন।

আলীকদমে দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার

jjjbbf

স্টাফ রিপোর্টার:

বান্দরবানের আলীকদম উপজেলায় পরিত্যক্ত অবস্থায় একটি দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করেছে সেনাবাহিনীর সদস্যরা। মঙ্গলবার রাত ১টার দিকে গোপন সংবাদের দিকে আলীকদম– থানছি সড়কের ছয় কিলোমিটার এলাকায় অভিযান চালিয়ে দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। এ সময় কাউকে আটক করতে পারেনি সেনাবাহিনীর সদস্যরা।

 

সূত্র জানায়, ওই সড়কে আগ্নেয়াস্ত্র রয়েছে এমন সংবাদের ভিত্তিতে সেনাবাহিনীর একটি দল রাতে আলীকদম-থানছি সড়কের ছয় কিলোমিটার এলাকায় অভিযান চালায়। এসময় সড়ক থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় একটি এলজি উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত এলজি অস্ত্রটি বুধবার সকালে সেনা সদস্যরা আলীকদম থানা পুলিশের হাতে হস্তান্তর করা হয়েছে।

আলীকদম জোনের ক্যাপ্টেন সাইদুর রহমান বলেন, উদ্ধারকৃত অস্ত্রটি বুধবার সকালে আলীকদম থানায় জমা দেওয়া হয়েছে। আলীকদম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ হোসাইন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

দীঘিনালায় পিস্তলসহ দুই উপজাতীয় যুবক আটক

Army 2

দীঘিনালা (খাগড়াছড়ি) সংবাদদাতা
খাগড়াছড়ির দীঘিনালা উপজেলায় মেরুং-চংড়াছড়ি আর্মি ক্যাম্পের চেক পোস্টে ২৯ নভেম্বর রোববার সকাল ১১টায় তল্লাশি চালিয়ে ১টি চায়না পিস্তল, ২টি ম্যাগজিন ও ১রাউন্ড গুলিসহ মোটরসাইকেল চালক ও আরোহীকে আটক করেছে।

জানা য়ায়, আটকৃতরা হলেন রাঙাগামাটি জেলার বাঘাইছড়ি থানার নিউ লাইল্লা ঘোনা পাড়া মৃত সুভাল চাকমার ছেলে (জেএসএস এম.এন লারমা গ্রুপের সদস্য) তন্তু মনি চাকমা (৩৩) ও খাগড়াছড়ি সদর মধুপুর এলাকার সিকি মনি খীসার ছেলে তাপস খীসা (২৫)।

সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার মো. সেলিম জানান, দীঘিনালা জোনের অধিনায়ক লে. কর্নেল মো. লোকমান আলীর নির্দেশে সাধারণ জনগণের নিরাপত্তার স্বার্থে এবং আগামী দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বিশেষ অভিযানে সকাল থেকে চংড়াছড়ি আর্মি ক্যাম্পের সামনের রাস্তায় চেক পোস্ট বসায় এবং এ সময় সকল যানবাহন চেক করা হয়।

সকাল ১১টার দিকে চেক করতে গিয়ে আটককৃত দুজনের ব্যাগ তল্লাশি করে ১টি চায়না পিস্তল, ২টি ম্যাগজিন ও ১রাউন্ড গুলিসহ আটক করা হয়। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করতে আসেন দীঘিনালা জোনের ক্যাপ্টেন মো. আল আমিন ও ক্যাপ্টন মো. ফারাবি। পরে আসামীদের দীঘিনালা থানায় সোপর্দ করা হয়।

দীঘিনালা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শাহাদাৎ হোসেন টিটো জানান, সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে আটককৃত দু’জনকে থানায় সোপর্দ করার পর তাদের বিরুদ্ধে মামলার প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে।