বাঘাইহাট জোনের উদ্যোগে ইফতার মাহফিল

zone copy
সাজেক প্রতিনিধি:

রাঙ্গামাটি সাজেকের ৪ইস্ট বেঙ্গল বাঘাইহাট জোনের উদ্যোগে ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

এলাকার গন্যমান্য ব্যক্তিদের সাথে নিয়ে বুধবার সন্ধ্যায় বাঘাইহাট জোন সদর মিলনায়তনে এ ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। ইফতারের আগে দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনায়  দোয়া করা হয়।

ইফতার মাহফিলে সকলের উদ্দ্যেশে জোন অধিনায়ক লে.ক ইসমাইল হোসেন খাঁ বলেন “সমাজের উন্নয়নে ও আইন শৃঙ্খলা রক্ষার্থে এবং সম্প্রীতি বজায় রাখতে এলাকার সকল গন্যমান্য ব্যক্তিদের ভূমিকা রাখতে হবে।লংগদুতে যে অনাকাঙ্খিত ঘটনা ঘটেছে এর রেশ যেন এলাকায় কোন প্রকার সম্প্রীতি বিনষ্টের চেষ্টা না ঘটে। ওই এলাকার ঘটনা নিয়ে এ এলাকায় যেন কেহ অপরাজনীতি করতে না পারে সে জন্য সকলকে সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে। সম্প্রীতি বিনষ্টকারী সে যেই হোক তাকে সকলেই প্রতিহত করতে হবে এবং নিরাপত্তাবাহিনী সম্প্রীতি বিনষ্টকারীদের কঠোর হস্তে দমন করবে।

 এসময় ইফতার মাহফিলে উপস্থিত ছিলেন, বাঘাইহাট জোনের উপ-অধিনায়ক মেজর মঈনুল ইসলাম (পিএসসি), বাঘাইহাট রেঞ্জ কর্মকর্তা সৈয়দ গোলাম সাহিদ, সাজেক ইউপি চেয়ারম্যান নেলশন চাকমা, বাঘাইহাটি বাজার কমিটির সভাপতি ডা.নাজিম, বাঘাইহাট উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শাক্যবোধি চাকমা সহ জোনের সকল অফিসার্স ও বাঘাইহাট জোনের আওতাধীন সকল গন্যমান্য ব্যক্তি বর্গ।




বঙ্গলতলী বোধীপুর বনবিহারে নিরাপত্তাবাহিনীর পক্ষ থেকে সহায়তা প্রদান

bbb copy

সাজেক প্রতিনিধি:

রাঙ্গামাটি বাঘাইছড়ি উপজেলার ৩৫নং বঙ্গলতলী ইউনিয়নের বঙ্গলতলী বোধীপুর বনবিহারে সহায়তা প্রদান করেছে বাংলাদেশ নিরাপত্তাবাহিনীর ৪ইস্ট বেঙ্গল বাঘাইহাট জোন।

বুধবার সকাল ১০টায় বঙ্গলতলী বোধীপুর বনবিহারের নির্মাণাধীন আবাসিক ভবনের জন্য বাঘাইহাট জোনের জোন অধিনায়ক লে. ক ইসমাইল হোসেন খাঁ বিহার পরিচালনা কমিটির নিকট  ৬ বান টিন সহায়তা প্রদান করেন।

এসময় লে.ক ইসমাইল হোসেন খাঁ বলেন, নিরাপত্তাবাহিনী সব সময় এলাকার উন্নয়ন শান্তি শৃঙ্খলা ও সম্প্রীতি রক্ষায় কাজ করে যাচ্ছে এবং এর পাশাপাশি সকল সম্প্রদায়ের সামাজিক ও ধর্মীয় কাজেও নিরাপত্তাবাহিনী সহায়তা প্রদান করে থাকে ভবিষ্যতেও এর দ্বারা অব্যাহত থাকবে।

এসময় উপস্থিত ছিলেন, করেঙ্গাতলী ক্যাম্প কমান্ডার কেপ্টেন পাহিম, বঙ্গলতলী ইউপি চেয়ারম্যান জ্ঞানজ্যোতি চাকমা, বিহার অধ্যক্ষ বুদ্ধ জ্যোতি স্থবির, বঙ্গলতলী মৌজা হেডম্যান বিশ্ব জ্যোতি চাকমা, বিহার পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক শুভ রন্জন চাকমা প্রমুখ।




সাজেকে খাদ্য সংকট মোকাবেলায় নিরাপত্তাবাহিনীর চাউল বিতরণ

6.6

সাজেক প্রতিনিধি:

রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেকের দুর্গম গ্রামে খাদ্য সংকট মোকাবেলায় সাহায্যের হাত বাড়িয়েছে নিরাপত্তাবাহিনীর ব্রি. জে. এএফ জগলুল আহম্মেদ এনডিসি, পিএসসি,(কমান্ড্যান্ট দি ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টাল সেন্টার)।

বুধবার সকালে রুইলুই পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বাঘাইহাট জোনের তত্বাবধানে ব্রি.জে. এএফ জগলুল আহম্মেদ’র পক্ষ থেকে বাঘাইহাট জোনের জোন অধিনায়ক লে. কর্ণেল ইসমাইল হোসেন খাঁ এর উপস্থিতিতে কংলাক ও রুইলুই পাড়ার খাদ্যপিড়িত ১০০ পরিবারের মাঝে চাউল বিতরণ করা হয়।

এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন, রুইলুই ও কংলাক মৌজা হেডম্যান লালথাং লুসাই ও চংমিং থাং লুসাই, রুইলুই পাড়ার মেম্বার শান্তি কুমার ত্রিপুরা প্রমুখ।




বাঘাইহাট জোন কাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট’১৭ ফাইনালে বাঘাইহাট জুনিয়র একাদশ চ্যাম্পিয়ন

DSC_0847 copy

সাজেক প্রতিনিধি:

রাঙ্গামাটি বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেকে বাঘাইহাট জোন কাপ  ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলায় শ্বাসরুদ্ধকর ম্যাচে হাড্ডা হাড্ডি লড়াই করে বাঘাইহাট জুনিয়র একাদশ ৫-৩ গোলে উত্তর নন্দরাম একাদশকে পরাজিত করে চ্যাম্পিয়ন ট্রপি অর্জন করে।

বৃহস্পতিবার বেলা ৩টায় বাঘাইহাট জোন সদর মাঠে ফাইনাল খেলাটি অনুষ্ঠিত হয়।

বাঘাইহাট জোন কাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, বাঘাইহাট জোন কমান্ডার লে.ক. ইসমাঈল হোসেন খাঁ(পিএসসি),

প্রধান অতিথির বক্তব্যে লে.ক ইসমাঈল হোসেন খাঁ(পিএসসি)বলেন,  পার্বত্য এলাকায় সকল জনগোষ্ঠীর মাঝে সম্প্রীতি সৌহার্দ ও সহবস্থান বজায় রাখতে নিরাপত্তাবাহিনী কাজকরে যাচ্ছে। এ এলাকার জনগণ খুবই বিনোদন প্রিয়। বিনোদনের অংশ হিসেবে নিরাপত্তাবাহিনী তৃণমূল পর্যায়ে ফুটবল খেলার মান উন্নয়নে এ টুর্নামেন্টের আয়োজন করেছে এবং ব্রিগেড পর্যায়ে এধরনের খেলায় এতো গুলো টিম অংশ গ্রহণ করেনি জোনকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টে যতগুলো টিম অংশ গ্রহণ করেছে। অংশগ্রহণকৃত সকল টিমকে ধন্যবাদ জানাই, আগামিতে এর ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকবে।

এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন, সাজেক ইউ.পি চেয়ারম্যান নেলশন চাকমা, বঙ্গলতলী ইউপি চেয়ারম্যান জ্ঞানজ্যোতি চাকমা, বাঘাইহাট বাজার কমিটির সভাপতি ডা. নাজিম উদ্দিন, সম্পাদক মো. জুয়েল, বাঘাইহাট উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সাক্যবোধি চাকমা সহ স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

ওই ফাইনাল খেলায় বাঘাইহাট জুনিয়র একাদশের অধিনায়ক মো. রুবেল ও টিম ম্যানেজার এবিএম সিদ্দিকের হাতে চ্যাম্পিয়ন ট্রপি ও নগদ ১৫ হাজার টাকা তুলেদেন লে.ক ইসমাঈল হোসেন খাঁ(পিএসসি) এবং এসময় উত্তর নন্দরাম দলকে রানার্সআপ ট্রপি ও নগদ ১০ হাজার টাকা তুলে দেন।

ফাইনাল খেলায় সেরা খেলোয়াড় হিসেবে বিবেচিত হয় বাঘাইহাট জুনিয়র একাদশ টিমের মো. হেলার, তাকে ম্যান অবদ্যা সিরিজ ট্রপি এবং নগদ ৫ হাজার টাকা তুলে দেন প্রধান অতিথি।

বাঘাইহাট জোন কাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের খেলায় সর্বমোট ১৬টি দল অংশগ্রহণ করে।

ফাইনাল খেলাটি উপভোগ করতে জড় হয় সাজেক এলাকায় বসবাসরত হাজারও পাহাড়ি-বাঙ্গালী’র সর্বস্তরের জনগণ। এসময় জোন সদর মাঠটি রুপ নেয় পাহাড়ি-বাঙ্গালীর মিলন মেলায়।




ভৌগোলিক অবস্থান এবং স্থানীয় কিছু সমস্যার কারণে সাজেকে সংকট

pic(1)
রাঙামাটি প্রতিনিধি : রাঙামাটি জেলার বাঘাইছড়ির দুর্গম সাজেকে খাদ্য সংকট নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছে রাঙ্গামাটি জেলা আওয়ামী লীগ। বুধবার সকালে দলীয় কার্যালয়ে এই সংবাদ সম্মেলনে আয়োজন করা হয়।

এসময় সংবাদ সম্মেলনে জেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক মো. মুছা মাতব্বর, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বৃষ কেতু চাকমা, সাবেক চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগ সহ-সভাপতি চিংকিউ রোয়াজা, নিখিল কুমার চাকমা, মো. রুহুল আমিন, পার্বত্য আঞ্চলিক পরিষদ সদস্য মো. কামাল উদ্দিন, দফতর সম্পাদক রফিক আহমদ তালুকদারসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, সাজেকের খাদ্য সংকট মোকাবেলায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। বাঘাইছড়ির সাজেক ইউনিয়নে খাদ্য সংকট মোকাবেলায় সরকারের পক্ষ থেকে জরুরি পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। কিন্তু তারপরও কুচক্রী মহল সাজেকের বিষয়টি নিয়ে বিভিন্নভাবে সামনে নিয়ে আসছে। তারা হীনস্বার্থ হাসিলে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয়ে অতিরঞ্জিত করে এটির অপপ্রচার চালাচ্ছে। মূলত সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার অপচেষ্টায় লিপ্ত তারা। এতে আরও বলা হয়, প্রকৃতপক্ষে ভৌগোলিক অবস্থা এবং স্থানীয় কিছু সমস্যার কারণে সাজেকে এই সাময়িক সংকটের সৃষ্টি বলে আমরা মনে করি।

সাজেকের বিদ্যমান খাদ্য সংকট মোকাবেলায় সরকারে পক্ষ থেকে নেয়া পদক্ষেপ তুলে ধরে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় রাঙ্গামাটি জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে এ পর্যন্ত ৩০ টন চাল, নগদ ১০ লাখ টাকা, রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের মাধ্যমে ১০ টন চাল, ত্রাণ মন্ত্রণালয় জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে নগদ ১ লাখ টাকা বিতরণ করেছে। আরও ১শ’ টন চাল বরাদ্দের ছাড় করা হয়েছে। এছাড়াও সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে ব্যাপক ত্রাণ তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।




সাজেকে বাঘাইহাট জোন কাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট-২০১৭ শুরু

DSC_0765 copy

সাজেক প্রতিনিধি:

রাঙ্গামাটি বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেকে বাংলাদেশ নিরাপত্তাবাহিনী বাঘাইহাট জোনের পক্ষ থেকে বর্ণিল সাজসজ্জা ও জমকালো আয়োজনের মধ্যদিয়ে মঙ্গলবার জোন সদর মাঠে শুরু হয়েছে বাঘাইহাট জোন কাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট-২০১৭। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে টুর্নামেন্ট এর উদ্বোধন করেন, বাঘাইহাট জোনের উপ-অধিনায়ক মেজর মঈনুল ইসলাম।

এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন, সাজেক ইউপি চেয়ারম্যান নেলশন চাকমা, রুপকারী ইউপি চেয়ারম্যান শ্যামল কান্তি চাকমা, বঙ্গলতলী ইউপি চেয়ারম্যান জ্ঞানোজোতি চাকমা, বাঘাইহাট বাজার কমিটির সভাপতি ডা. নাজিম, সাধারণ সম্পাদক মো. জুয়েলসহ বাঘাইহাট জোনের আওতাধীন গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সকলের উদ্দেশ্যে মেজর মঈনুল ইসলাম বলেন, সকল সম্প্রদায়ের মধ্যে সৌহার্দ সম্প্রীতি বজায় রাখতে নিরাপত্তাবাহিনী পার্বত্য এলাকার মানুষের সেবায় কাজ করে যাচ্ছে। বিনোদনের অংশ হিসেবে নিরাপত্তাবাহিনী তৃণমূল পর্যায়ে ফুটবল খেলার মান উন্নয়নে এ টুর্নামেন্টের আয়োজন করেছে। আগামীতে এর ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকবে।

উল্লেখ্য, টুর্নামেন্টে সর্বমোট ১৬টি স্থানীয় আঞ্চলিকদল অংশগ্রহণ করছে। উদ্বোধনী খেলায় অংশগ্রহণ করে বঙ্গলতলী ইউপি ফুটবল একাদশ ও গ্লোকমাছড়া ফুটবল একাদশ। দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে ১০মিনিট কমিয়ে খেলা ৮০ মিনিটের খেলায় বঙ্গলতলী ইউপি ফুটবল একাদশ  ৮-০ গোলে গ্লোকমাছড়া ফুটবল একাদশকে পরাজিত করে।




বাঘাইছড়িতে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের চেষ্টা

a1 copy

সাজেক প্রতিনিধি:

বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। এ দেশের ইতিহাস ও সংস্কৃতি যুগ যুগ ধরে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির স্বাক্ষর বহন করে আসছে। ধর্মীয় বিশ্বাসের দিক থেকে ভিন্নতা থাকলেও এ দেশের হিন্দু- মুসলমান-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান সুদৃঢ় সামাজিক বন্ধনে আবদ্ধ। সমতলে বাংলাদেশের হিন্দু সম্প্রদায়ের পূজা উৎসব হিন্দু-মুসলমান মিলেমিশে উপভোগ করে।

অনুরুপ ভাবে পার্বত্য এলাকায় বসবাসরত শান্তি সম্প্রীতি প্রিয় সকল সম্প্রদায়ের লোকজন বসবাস করে আসছে আবহমান কাল থেকে। পার্বত্য এলাকাতেও একইভাবে বৈসাবি উৎসবও সকল সম্প্রদায়ের লোকজনের অংশগ্রহণে আনন্দঘন পরিবেশে পালিত হয়ে থাকে, কিন্তু শান্তি সম্প্রীতি প্রিয় লোকদের মাঝে উগ্র সাম্প্রদায়িকতার ছোবল দেওয়ার জন্য লিপ্ত থাকে কিছু স্বার্থান্বেষী মহল। আর এসব স্বার্থান্বেষী মহল সম্প্রীতি প্রিয় সাধারণ জনগণের মাঝে সাম্প্রদায়িকতার বিষ বাষ্প ছড়িয়ে দিয়ে ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের চেষ্টায় থাকে।

তারই অংশ হিসেবে শান্তি সম্প্রীতি প্রিয় বাঘাইছড়িবাসীর মাঝে হঠাৎ করে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের চেষ্টায় চালাচ্ছে। সাম্প্রদায়িকতার বিষ বাষ্প ছড়িয়ে দিয়ে ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের লক্ষ্যে কিছু স্বার্থান্বেষী মহল তাদের নিজস্ব অনলাইন ওয়েব পোর্টালের মাধ্যমে অপপ্রচার করে পাহাড়ি বাঙ্গালীর মাঝে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা সৃষ্টির পায়তারা করছে। আর এসবের বিস্তারিত তথ্য না নিয়ে অনাকাঙ্কিত কিছু হলুদ সাংবাদিকও এমন রিপোর্ট প্রকাশ করে থাকে। আর এসব ওয়েব পোর্টালের ফেইসবুক পেজ থেকে উগ্রসাম্প্রদায়িক গোষ্ঠীর লোকেরা ফেসবুকে শেয়ার করে লোকজনের মাঝে আতঙ্ক সৃষ্টি করছে।

সম্প্রতি কয়েকটি অনলাইন ওয়েব পোর্টাল বাঘাইছড়িতে সাম্প্রদায়িক উস্কানীর লক্ষ্যে নিউজ প্রকাশ করেছে, যে বাঘাইছড়ি দুইটিলা নামক এলাকায় নিরাপত্তাবাহিনীর মদদে সেটলাররা কামিনি কুমার চাকমা (লাম্বা পেদা) নামে এক কৃষকের প্রায় ১২০০ কলা গাছ কেটে সাবাড় করে দিয়েছে। কেটে দেওয়া বাগানের ছবিও প্রকাশ করেছে ওইসব ওয়েব পোর্টালে।

„2 copy

সরেজমিনে পরিদর্শনে গেলে দেখা যায় দুইটিলা নামক এলাকায় প্রকাশিত ছবির মত কোন বাগান চোখে পড়ার মত নেই। নিরাপত্তাবাহিনীর দুইটিলা ক্যাম্পের হেলিপেড এ্যারিয়া থেকে ১০-২০গজ দূরত্বে ৭-৮টির মতো কলাগাছ ও আগাছাসহ কাটা রয়েছে। অথচ অন্য কোন এলাকায় সংঘটিত ঘটনার ছবি প্রকাশ করে স্বার্থান্বেষী মহল তাদের কয়েকটি নিজস্ব অনলাইন ওয়েব পোর্টালের মাধ্যমে শান্ত বাঘাইছড়িকে অশান্ত করার চেষ্টা চালাচ্ছে।

এবিষয়ে নিরাপত্তাবাহিনীর সাথে যোগাযোগ করলে জানায়, ক্যাম্পের নিরাপত্তার জন্য ক্যাম্প ও হেলিপ্যাডের আশেপাশের এলাকার আগাছা পরিস্কার করা হয়েছে। এতে ৫-৮টির মতো কলাগাছ কাটা হয়েছে। বিষয়টিকে এখন কিছু স্বার্থান্বেষীমহল তাদের হীন স্বার্থ উদ্ধার করতে অপপ্রচার করছে এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের পায়তারা করছে। অপপ্রচারের মাধ্যমে সাধারণ জনগণকে নিরাপত্তা বাহিনীর মুখোমুখি অবস্থান করিয়ে নিজেদের স্বার্থ উদ্ধারের চেষ্টা করছে। এতে নিরাপত্তাবাহিনী হুঁশিয়ারী করে বলেন, এলাকায় কোন সন্ত্রাসী গোষ্ঠী বা স্বার্থান্বেষীমহল সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করার ষড়যন্ত্র করলে তাদের কঠোর হাতে দমন করা হবে।

এবিষয়ে বাঘাইছড়ি থানার অফিসার ইনচার্জ আমির হোসেন বলেন, বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুক ও কিছু অনলাইন ওয়েব পোর্টালে দেখার পর পুলিশ সুপারের নির্দেশে আমি ঘটনাস্থলে যাই। সেখানে গিয়ে ঘটনার কোন সত্যতা পাওয়া যায়নি। ওই এলাকায় নিরাপত্তাবাহিনীর যে ক্যাম্প রয়েছে তাদের নিরাপত্তার জন্য আশেপাশে আগাছা পরিস্কার করেছে। ক্যাম্প এ্যারিয়ার পাশে কামিনি কুমার চাকমার জায়গা রয়েছে, ক্যাম্প সংলগ্ন হওয়ায় ক্যাম্প থেকে কামিনি চাকমাকে কয়েকটি কলাগাছ কাটতেও বলা হয়েছিল। কামিনি চাকমা না কাটায় নিরাপত্তাবাহিনী ৫-৭টি কলাগাছ কেটেছে। সেখানে আমি কামিনি কুমার চাকমার সাথে কথা বলেছি, সে জানায় আমাকে ক্যাম্প থেকে আগে বলেছিল কয়েকটা কলাগাছ কাটতে আমি তাদেরকে বলেছি তাদের প্রয়োজনমত কেটে নিতে। তবে কামিনি কুমার চাকমার জায়গাতে তেমন বেশি কলা বাগান নেই।

3 copy

এবিষয়ে বাঘাইছড়ি উপজেলা চেয়ারম্যান বড়ঋষি চাকমা বলেন, রাষ্ট্রের প্রয়োজনে কলাগাছ কাটতেই পারে এনিয়ে এতো তোলপার কিসের। আমার মতে নিরাপত্তাবাহিনী আইন প্রয়োগকারী সংস্থা হয়ে অন্যায় করতে পারে না। বিষয়টিকে নিয়ে কিছু স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী অপপ্রচার করে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করার চেষ্টা করছে। বাঘাইছড়িতে যেন সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট না হয় এব্যাপারে সকলকে সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে।

উল্লেখ্য স্বার্থান্বেষী মহল তাদের নিজস্ব কয়েক’টি অনলাইন ওয়েব পোর্টালে গত মাসে একই এলাকায় নিরাপত্তাবাহিনী নতুন হ্যালিপেড তৈরি করতে জায়গা নির্বাচন করতে জায়গা খুঁজলে, ষড়যন্ত্র করে লোকজনকে উত্তেজিত করার অপপ্রয়াস চালায়। সম্প্রতি সাজেকের দুর্গম গ্রামে খাদ্যাভাব দেখা দিলে তা নিয়েও কথিত ওয়েব পোর্টাল বিভ্রান্তি মূলক নিউজ প্রকাশ করে। নিউজে শিরোনাম করা হয় “সাজেকে খাদ্যাভাবে ৯ জনের মৃত্যু, ত্রাণ বিতরণে জেলাপ্রশাসনের বাধা”। নিউজ প্রকাশের দুইদিন পর অবশ্য নিউজটি মুছে দেয় ওয়েব পোর্টালটি।




সাজেকে খাদ্যসংকট মোকাবেলায় ৯’শ পরিবারের মাঝে নগদ অর্থসহ খাদ্যশস্য বিতরণ

a (3) copy

সাজেক প্রতিনিধি:

রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলা সাজেকের দুর্গম গ্রামে খাদ্যসংকট মোকাবেলায় সোমবার নগদ অর্থ ও খাদ্যশস্য বিতরণ করেছে রাঙামাটি জেলা প্রশাসন।

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে পার্বত্য মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় সোমবার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত নিজে উপস্থিত থেকে বাঘাইহাটে সাজেক ইউপি কার্যালয়ে ও রুইলইু এলাকায় দুর্গতদের মাঝে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মানজারুল মান্নান।

এসময় বাঘাইছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাজুল ইসলাম, জেলা ত্রাণ কর্মকর্তা বিশ্বনাথ মজুমদার, রাঙামাটি প্রেসক্লাব সভাপতি সাখাওয়াত হোসেন রুবেলসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

এ সময় বাঘাইহাট সাজেক ইউপি কার্যালয়ে ও রুইলুইতে সাজেক এলাকার দুর্গম গ্রামের ৯শ’ পরিবারকে ১৮মেট্রিক টন চাউল ও প্রতি পরিবারকে ৫’শ টাকা করে সর্বমোট সাড়ে চার লক্ষ টাকা বিতরণ করা হয়। খাদ্যশস্য বিতরণকালে জেলা প্রশাসক বলেন, সরকার দুর্গম এলাকার জনগণের বিপদে সহযোগিতার হাত বাড়িয়েছে। এ সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে। তিনি কৃষি ও ফলদ বাগান সৃষ্টির মাধ্যমে আত্মকর্মসংস্থানের মাধ্যমে স্বনির্ভর হওয়ারও আহ্বান জানান।

এসময় তিনি স্থানীয় প্রান্তিক জনসাধারণকে উদ্দেশ্য করে বলেন, বাল্যবিয়ে একটি সামাজিক ব্যাধি। এ ব্যাধি থেকে মুক্তি না পাওয়ার কারণেই সাজেকের মতো দুর্গম একটি ইউনিয়নের অধিকাংশ পরিবারের ৩টি থেকে শুরু করে আটটি পর্যন্ত সন্তান রয়েছে। এতে করে আয়ের চেয়ে ব্যয়ের পরিমাণ অধিকহারে বেড়ে যায় এবং আমি শুনেছি আঞ্চলিক সন্ত্রাসীরা জুমচাষে বাধা দিয়েছে তারপরেও যারা জুমচাষ করেছে তারা জুমচাষ থেকে আশানুরূপ ফলন না পাওয়ায় এ অঞ্চলে সাময়িক খাদ্যাভাব দেখা দিয়েছে।

এছাড়াও এ এলাকার মানুষজনের মধ্যে সচেতনতাবোধ না থাকায় পুরুষদের কাজের প্রতি অনিহার কারণেই এ সংকট তৈরি হয়েছে। এ অবস্থা থেকে পরিত্রাণে এ এলাকার মানুষজনকেই সর্বাজ্ঞে এগিয়ে আসতে হবে। এতে করে সহযোগিতা প্রদান করবে সরকার। ইতিমধ্যেই দুর্গম সাজেকবাসীর জন্য কৃষি প্রকল্পসহ আত্মকর্মসংস্থানমূলক বিভিন্ন প্রকল্প হাতে নিয়েছে রাঙামাটি জেলা প্রশাসন। সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় যোগাযোগও করা হচ্ছে নিয়মিত।

জেলা প্রশাসক আরও জানান, রাঙামাটির সাজেকের ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় অত্যন্ত আন্তরিক। যার ফলশ্রুতিতে সাজেকের ব্যাপারে রাঙামাটি জেলা প্রশাসন থেকে যোগাযোগ করা হলে মন্ত্রণালয় মাত্র ১ঘন্টা সময়ের মধ্যে তাৎক্ষণিক খাদ্য ও নগদ অর্থ সহায়তা প্রদান করে জেলা প্রশাসনকে।

জেলা প্রশাসক বলেন, সাজেকবাসীর জন্য প্রধানমন্ত্রীর তথা পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আন্তরিকতা আগে যেমন অব্যাহত ছিল ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেক ইউনিয়নের ৪০ থেকে ৪৫টি দুর্গম গ্রামে খাদ্যসংকট সৃষ্টি হয়। বিগত বছর জুম ধানের উৎপাদন কম হওয়ায় জুমের ভূমির পরিমাণ কমে আসায় ও সর্বোপরি বাঁশ, কাঠ, বেতসহ বনজ সম্পদের উৎস হ্রাস পাওয়ায় এ ইউনিয়নে খাদ্য সংকটের সৃষ্টি হয়। ইতোমধ্যে প্রশাসনসহ বিভিন্ন সংস্থা থেকে দুর্গত এলাকায় খাদ্যশস্য বিতরণ করা হয়েছে।




সাজেকের বাঘাইহাট উচ্চ বিদ্যালয়ে এসএসসি পরীক্ষার ফলাফল বিপর্যয়

SAM_0766 copy

সাজেক প্রতিনিধি:

রঙ্গামাটির সাজেকের সর্বোচ্চ বিদ্যাপিঠ বাঘাইহাট উচ্চ বিদ্যালয়ে এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলে এবার বিশাল বিপর্যয় ঘটেছে। বিগত কয়েক বছরের তুলনায় এবছরই প্রথম এমন ফলাফল বিপর্যয়ের ঘটনা ঘটলো। এসএসসি পরীক্ষার ফলাফল বিপর্যয়ের ঘটনায় হতাশায় ভুগছেন শিক্ষার্থী ও অভিভাবক মহল।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৭ সালের এসএসসি পরিক্ষায় মোট  ১৭৩জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে যার মধ্যে  ১০৫জন ছাত্র ৬৮জন ছাত্রী। পাশ করেছে মাত্র ৫৫জন, যার মধ্যে ছাত্র ২৮জন, ছাত্রী ২৭জন, গড়ে পাশের হার ৩১.৭৯%। তবে গত বছর এ বিদ্যালয়ের গড় পাশের হার ছিল ৮০%এর অধিক। এবছর এবিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ ফলাফল পেয়েছে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে জাহানারা আক্তার ৪.৬৮। ১৭৩জনের মধ্যে ফেল করে ১১৮জন যার মধ্যে ৯০জনেরও বেশি ইংরেজিতে ফেল করেছে বলে জানা যায়।

এদিকে এ ফলাফল বিপর্যয়ের জন্য এসএসসিতে নুতন উত্তর পত্র মূল্যায়ন পদ্ধতিকেই দায়ী করেছেন বাঘাইহাট উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শাক্যবোধি চাকমা।

তিনি আরও বলেন, বিদ্যালয়ে বিজ্ঞান বিভাগের ও গণিত শিক্ষক নেই অন্য শিক্ষকদের দিয়ে এসব পড়ানো হয় শিক্ষক সল্পতার কারণেই রীতিমত সকল বিষয়ে ক্লাস নেওয়া সম্ভব হয়না যার ফলে এ বছর এসএসসি’র ফলাফল এমন হয়েছে। তবে আগামীতে এ দুর্বলতা কাটিয়ে উঠে আবারও কাঙ্ক্ষিত ফলাফলের ধারায় ফিরে আসবে বলেও মনে করছেন তিনি।

তবে শুধুমাত্র এসএসসিতে নুতন উত্তর পত্র মূল্যয়ন পদ্ধতিকে নয়, পাঠদানে শিক্ষকদের গাফেলতিকেও অনেক বেশি দায়ী করছেন সচেতন অভিভাবক মহল। তাদের মতে শিক্ষকদের আন্তরিকতার অভাবের ফসল এ ফলাফল বিপর্যয়। তারা মনে করেন পদ্ধতির দোহাই দিয়ে সাময়িক সন্তুষ্টি লাভ করা যাবে তবে যাদের জীবনের সুন্দর পথ রুদ্ধ হয়ে গেল তা ফিরিয়ে দেয়া যাবেনা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক অভিভাবক জানালেন, শিক্ষার্থীদের পাঠদান করালেই তো তারা ভালো ফলাফল করবে। সারাবছর প্রাইভেট পড়াইয়ে লাভ কি হল! এখন বুঝতেছি প্রাইভেট হলো এক ধরনের ফরমালিটি যা স্যারদের খুশী করা। না হয় সাত সকালে শুরু করে গণিত ও ইংরেজি প্রাইভেট পড়ে, কিন্তু কিভাবে গণিতে ও ইংরেজিতে ফেল করে। তাছাড়া এসব ব্যবসায়ী প্রাইভেটধারী শিক্ষকদের কাছে কেজি: মাপা দরে প্রাইভেট পড়ে ভবিষ্যতে ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ারের স্বপ্ন বোতলবন্দি ছাড়া আর কিছু নয় বলেও অনেকে মতামত প্রকাশ করেন।

অভিজ্ঞ মহলের ধারণা ভোর পাঁচটা থেকে শুরু হয় প্রাইভেট বাণিজ্য। সকাল দশটায় কোন রকম পেন্ট-শার্ট লাগিয়ে বিদ্যালয়ে এসে প্রাইভেট পড়ুয়া ও পড়িয়েরা থাকে ক্লান্ত। তাছাড়া ঘুমেও অনেক সময় তাদের দুর্বল করে ফেলে বিধায় বিদ্যালয়ে আর তেমন গুরুত্ব দেওয়া হয়না। তাছাড়া প্রাইভেট পড়ুয়ারা বরাবরই প্রাইভেট শিক্ষকদের দয়ায় স্কুল পরীক্ষায় ভালো ফলাফল করে থাকে। এসব দিকে নজর দিয়ে যদি ছাত্র-ছাত্রীদের স্কুলে পড়ালেখায় মনোযোগী করা যায় তবেই ভবিষ্যতে ছাত্র-ছাত্রীদের ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার স্বপ্ন বাস্তবে পরিণত হবে বলে তাদের ধারণা।

বিদ্যালয়টির এমন ফলাফলে সাজেক ইউপি চেয়ারম্যান নেলশন চাকমা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, শিক্ষকদের উদাসীনতা পাঠদানে অমনোযোগিতা ও শিক্ষকদের শিক্ষকতার পেশার সাথে ব্যবসার সাথে জড়িয়ে পরায় পাঠদানে শিক্ষককরা তেমন মনোনিবেশ করেনা যার ফলে এমন হয়েছে। প্রায় সময় ছাত্র/ছাত্রীদের সাথে বাজারে রাস্তায় কথা হয় আমার তখন ছাত্র/ছাত্রীদের কাছে জানতে চায়লে বিদ্যালয়ে না গিয়ে এখানে কি করছো। তখন ছাত্র/ছাত্রীরা বলে ‘বিদ্যালয়ে ঠিকমত ক্লাস হয়না হলেও সারাদিনে ২-৩টি ক্লাস হয় সেজন্য যেতে মন চায়না’ আর এথেকেই স্পষ্ট বুঝা যায় সঠিক পাঠদানের অভাবেই এমন ফলাফল হয়েছে। তিনি আরও জানান বিদ্যালয়ের নামে মাত্র একটি পরিচালনা কমিটি রয়েছে বিদ্যালয়ের ব্যাপারে কমিটির কোন তদারকি নেই, কমিটির সঠিক তদারকির অভাবেও শিক্ষক/শিক্ষিকা নিজেদের ইচ্ছেমত যার যেভাবে মন চায় দায়িত্বপালন করেন।

এ ব্যাপারে বাঘাইছড়ি উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নুর মোহাম্মদ জানান, নতুন নিয়মে উত্তরপত্র মূল্যায়ন পদ্ধতির কারণে সারাদেশে এবার ফল বিপর্যয় হয়েছে তারই অংশ হিসেবে এমনটাই হতে পারে। তবে বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের আন্তরিকতা ও অভিভাবকদের সচেতনতা থাকলে এমন ফলাফল বিপর্যয় হতোনা। তাই আগামীতে শিক্ষকদের আন্তরিকতা ও পাঠদানের উপর জোর দিতে হবে সেই সাথে অভিভাবকদেরও সচেতন হতে হবে ছেলে মেয়েরা ঠিকমত পড়ালেখা করছে কিনা নিয়মিত বিদ্যালয়ে যাচ্ছে কিনা সে বিষয়ে খবরা খবর রাখতে হবে অভিভাবকদের।




সাজেকে খাদ্য সংকট মোকাবেলায় সাহায্যের হাত বাড়িয়েছে নিরাপত্তাবাহিনী

Khagrachari Pic 01 copy

নিজস্ব প্রতিবেদক, খাগড়াছড়ি:

রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেক ইউনিয়নের খাদ্য সংকট মোকাবেলায়  সাহায্যের হাত বাড়িয়েছে খাগড়াছড়ি সেনা রিজিয়ন। বুধবার সকাল থেকে হেলিকাপ্টার যোগে প্রত্যন্ত দূর্গম এলাকার গ্রামগুলোতে খাদ্য প্রেরণ ও বিতরণ শুরু হয়েছে। নিরাপত্তাবাহিনীর এ উদ্যোগে স্বস্তি ফিরে এসেছে। নিরাপত্তাবাহিনী এমন মহতি উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছে এলাকাবাসী। জুমের ফলন  কম হওয়া, বনজসম্পদ কমে যাওয়া এবং পাশাপাশি একটি আঞ্চলিক রাজনৈতিক দলের জুম চাষের চাঁদাবাজির কারণে সাজেকে খাদ্য সংকটের অন্যতম কারণ বলে জানিয়েছেন, জুম চাষ ও বনজসম্পদের উপর আয় নির্ভর এসব গ্রামের ভুক্তভোগীরা।

দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে ভারতের মিজোরাম রাজ্য সন্নিহিত প্রাকৃতিক রূপে রূপময় ও  অপার সম্ভাবনার জনপথ সাজেক। সমতল ভূমি থেকে প্রায় ৩ হাজার ফুট উচু পাহাড়ের চুড়ায় সাজেক অবস্থিত। এ পাহাড়ের চুড়া থেকে মিজোরামের লুসাই পাহাড়ের নয়নাভিারাম দৃশ্য দেখে বিস্ময়ে কিংকর্তব্যবিমুঢ় হয়ে পড়বে যে কোন আগন্তুক।

Khagrachari Pic 03 copy

দেশের সর্ব বৃহৎ ইউনিয়ন সাজেক। আয়তন ৬০৭ বর্গ মাইল। যা দেশের যে কোন জেলার চেয়েও বড়। সাজেকে লোকসংখ্যা প্রায় ৫২ হাজার। সাজেকের রয়েছে, ঢেউ খেলানো অসংখ্য উচ্চু-নিচু পাহাড় বেষ্টিত হৃদয়গ্রাহী সবুজ বনানী পূর্ণ। সর্বত্র ছড়িয়ে রয়েছে নয়নাভিরাম নানান দৃশ্য। পাহাড়ের বুক চিরে  আপন মনে বয়ে চলেছে নাম না জানা অসংখ্য নদ-নদী। নদীতে ভাসছে বাঁশের চালি। যা যাবে কাপ্তাই লেক হয়ে কর্ণফুলী পেপার মিলে। রাস্তার দু’ধারে-চোখে পড়বে উপজাতীয়দের বসত বাড়ি বিচিত্রময় জীবন ধারা।

এক সময় সাজেক যাওয়া ছিল অনেকটা স্বপ্ন। নিরাপত্তাবাহিনীর ১৯ ইসিবি’র সুবাধে বছর কয়েক আগে সাজেক পর্যন্ত রাস্তা হয়েছে। ফলে সাজেক এখন দেশের অন্যতম পর্যটন কেন্দ্রও। নয়নাভিরাম দৃশ্য দেখতে সাজেকে প্রতিদিন শত শত পর্যটকের আগম ঘটছে। সে সাথে বদলে যেতে শুরু করেছে সাজেকবাসীর জীবন চিত্র। তবে সাজেকে বেশ কিছু দুর্গম এলাকা রয়েছে যেখানে উন্নয়নের ছোয়া পৌঁছেনি। প্রত্যন্ত এ সব  গ্রামগুলোতে পৌঁছতে ৫/৭ দিনের পায়ে হাঁটা পথ।

সাজেকবাসীর আয়ের উৎস মূলত জুম চাষ ও বনজসম্পদ। দুর্গম এলাকা উচু-নিচু পাহাড়ের আগুন জ্বালিয়ে আগাছা পুড়িয়ে প্রাকৃতিক সার তৈরি করে ধান, ভুট্টা, কুমড়াসহ বিভিন্ন ধরনের ফসলের চাষ অর্থাৎ জুম চাষের উপরই ঐতিহ্যগত ভাবে পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবন-জীবিকা নির্ভরশীল। বর্ষা শুরুর আগেই জুম চাষীরা পাহাড়কে চাষাবাদের উপযোগী করে তোলেন আর বর্ষা শুরু হলেই সাথে সাথে জুমে বীজ বপন শুরু হয়। পুরো বছর জুমের ফসল বেচাকেনা করেই চলে জুম চাষীদের জীবন।

Khagrachari Pic 02 copy

সাজেক ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য শান্তি কুমার ত্রিপুরা জানান, গত বছর জুমের ধানসহ অনান্য ফসলের ফলন  কম হওয়ার কারণে প্রায় দু’মাস আগে থেকেই  খাদ্য সংকট দেখা দিয়েছে রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেক ইউনিয়নের প্রায় ২০টি গ্রামে।  খাদ্যাভাবসহ আর্থিক অনটনে ভূগছে সাজেকের উদোলছড়ি, নতুন জৌপুই, পুরান জৌপুই, নিউথাংমাং, নিউলংকর, ব্যাটলিংপাড়া, শিয়ালদাই, নিমুইপাড়া, হাগড়াকেজিং, দুলুছড়ি, দুলবন্যাসহ বিশটি গ্রামের প্রায় সাড়ে চার শতাধিক পরিবার।

সাজেক ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান নেলসন চাকমা জানান, গত বছর জুমে ফলন কম হওয়া ও এলাকায় গাছ-বাঁশ কমে যাওয়ায় মানুষের আয়ও কমে গেছে। ফলে এলাকায় খাদ্য সংকট দেখা দিয়েছে।

তবে স্থানীয় এক কার্বারী নাম প্রকাশ না করা শর্তে জানান, একটি আঞ্চলিক রাজনৈতিক দলের সন্ত্রাসীরা গত বছর থেকে জুম চাষে আগাম চাঁদা ধায্য করে দেওয়ায় জুমিয়া পরিবার গুলো  খাদ্য ও আর্থিক সংকটে পড়েছে। তবে নিরাপত্তাবাহিনী অসহায় মানুষগুলোর মাঝে খাদ্য বিতরণ শুরু করায় স্বস্তি ফিরেছে জুমিয়াদের মাঝে।

এদিকে বুধবার থেকে সাজেকের প্রত্যন্ত দুর্গম এলাকায় নিরাপত্তাবাহিনীর উদ্যোগে ও বিজিবির সহযোগিতায় চাউল বিতরণ শুরু হয়েছে। সকাল থেকে হেলিকাপ্টারে করে দুর্গম এলাকায়  চাউল পৌঁছে দেওয়া হয়। বাঘাইহাট জোন কমান্ডার লে.কর্ণেল মুহাম্মদ ইসমাইল খাঁ দুপুরে কংলাক পাড়ায় নিজে চাউল বিতরণ করেন।

Khagrachari Pic 04 copy

এ সময় সাংবাদিকদের জানান, সাজেকে সাময়িক খাদ্য সংকট দেখা দেওয়ায় আত্মমানবতা সেবার অংশ হিসেবে ২৪ পদাতিক ডিভিশন ও খাগড়াছড়ি রিজিয়নের পক্ষ থেকে সাজেকের প্রত্যন্ত দুর্গম এলাকায় চারটি হেলিকাপ্টারের সাহায্যে চাউল পৌঁছে দেওয়া হয়েছে এবং  অসহায়  মানুষের মাঝে বিতরণ শুরু হয়েছে। ভবিষ্যতে এ ধারা অব্যাহত থাকবে বলে তিনি জানান।

কংলাক পাড়ার কার্বারী লাল তনা লুসাই নিরাপত্তাবাহিনীর উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, এভাবে চলতে থাকলে সাজেকে দূ্র্ভিক্ষ দেখা দেওয়ার আশঙ্কা ছিল।