দশ কেজি চাউলের আশায় প্রায় ৯০ কিমি পথ পাড়ি দিল কাউলা ত্রিপুরা

DSC_0067 copy

সাজেক প্রতিনিধি:

রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলা দুর্গম সাজেক ইউনিয়নের ব্যাটলিং তারুং পাড়ার কাউলা ত্রিপুরা খাদ্যাভাবে দশ কেজি চাউলের আশায় দুই দিন পায়ে হেঁটে প্রায় ৯০কিমি পথ পাড়ি দিয়ে অবশেষে পেল, খাদ্যসংকট মোকাবেলায় বাঘাছড়ি উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলার সকল ইউপি চেয়ারম্যানদের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দেওয়া চাউল। আর চাউল নিতে এসে তার এমন খাদ্যাভাবের বিভৎস্য বর্ণনা দেন কাউলা ত্রিপুরা। কেবল কাউলা ত্রিপুরা নন ব্যাটলিংউদুলছড়ি পাড়ার নতুন কুমার চাকমাও একি বর্ণনা দিয়ে বলেন, আমাদের গ্রামে চালের কেজি ৯০-১২০ টাকা আর আমাদের আয় নেই বললেই চলে তাই ৯০টাকা করে চাউল ক্রয়ের সামর্থ নেই। কোন রকম জুমচাষ করে চলতাম তবে এবছর জুমের ধান খুবই কম হয়েছে তাই আমাদের ঘরে খাবারের জন্য কোন চাউল নেই। কার্বারীর মাধ্যমে জানতে পেরেছি সাজেকের চেয়াম্যান আমাদের জন্য ১০ কেজি করে চাউলের ব্যবস্থা করেছে। তাই খুশি হয়ে দুইদিন ধরে পায়ে হেঁটে এসে পৌঁছালাম চাউল নিতে।

শনিবার সকাল ১০টায় সাজেকের নয়নং পাড়া এলাকায় সাজেকের খাদ্যসংখট মোকাবেলায় বাঘাছড়ি উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলার সকল ইউপি চেয়ারম্যানদের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দেওয়া ৪ হাজার ১শত কেজি চাউল বিতরণ করা হয়। চাউল বিতরণীর সময় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, বাঘাইছড়ি উপজেলা চেয়ারম্যান বড়ঋষি চাকমা, বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন, ভাইস চেয়ারম্যান দিপ্তিমান চাকমা। এছাড়াও বাঘাইছড়ি উপজেলার সাতটি ইউনিয়নের চেয়ারম্যনসহ স্থানীয় প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন সাজেক ইউপি চেয়ারম্যান নেলশন চাকমা।

এসময় প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপজেলা চেয়ারম্যান বলেন, সাজেকের খাদ্যাভাব সর্ম্পকে আমাকে সাজেকের চেয়ারম্যান জানিয়েছে এবং এবিষয়ে আমি জেলাপ্রশাসন ও ত্রান মন্ত্রানালয়েও চিঠি দিয়েছি আশা করছি দ্রুত সরকারি সাহায্য এসে পৌঁছাবে আপনাদের খাদ্যাভাব কিছুটা হলেও লাঘব হবে। আপনারা আমাদের ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেছেন, আপনাদের দুর্দিনে কাছে আসা আমাদের কর্তব্য। তাই আমরা আপনাদের জন্য সরকারের নিকট বারবার আবেদন করছি, যোগাযোগ চালিয়ে যাচ্ছি, আপনারা কেউ মনোবল হারাবেননা। বর্তমান সরকার জনগণবান্ধব সরকার এ এলাকার জনগণের জন্য সরকারের সজাগ দৃষ্টি রয়েছে, তাই আশা করছি সরকার আপনাদের সাহায্যে অবশ্যই এগিয়ে আসবেন।

সরেজমিনে পরিদর্শনে গেলে দেখা যায় সাজেক এলাকার ৪০-৪৫টি দূর্গম গ্রামগুলোতে চলছে চরম খাদ্যাভাব। সাজেকের উদোলছড়ি, নতুন জৌপুই, পুরান জৌপুই, নিউ থাংমাং, ব্যাটলিংপাড়া, তারুমপাড়া, কমলাপুর, লংত্যাং, অরুণপাড়া, কাচ্ছ্যাপাড়া, শিয়ালদাই, গণ্ডাছড়া, থলছড়া, এগজ্যাছড়ি, মোন আদাম, ধাব আদাম, হলকপাড়া, উদলছড়ি, বদলছড়ি, নিমুইপাড়া, হগড়া হেজিং, দুলুছড়ি ও দুল বন্যা গ্রামে খাদ্য সংকট দেখা দিয়েছে। এসব গ্রামে এখন প্রতি এক কেজি চালের দাম ৯০ থেকে ১২০ টাকা বলে জানান তারা। অনেক উপজাতী পরিবার অর্ধাহারে-অনাহারে দিন কাটাচ্ছেন বলেও জানান।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, দুর্গম সাজেকে অধিকাংশ মানুষ জুম চাষের ওপর নির্ভরশীল। জুমচাষ করে যা উৎপাদন হয় তা দিয়ে সারা বছর কেটে যায়।

সাজেক ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নেলশন চাকমা বলেন, গত দু’য়েকমাস হতে সাজেকের প্রায় ৫০টি গ্রামের ২ হাজারের অধিক পরিবারের মধ্যে তীব্র খাদ্য সংকট চলছে। আমি এবিষয়ে উপজেলাপরিষদের মাসিক সমন্বয় সভায় বারবার বিষয়টি উপস্থাপন করেছি।  ইউএনও বরাবর খাদ্যসংকট মোকাবেলায় গত দু্ইমাস আগে ৬শ মেট্রিকটন খাদ্য শষ্য বরাদ্ধ চেয়ে দুর্যোগ ও ত্রান ব্যবস্থাপনা মন্ত্রানালয়ে আবেদন করেছিলাম। এখন পর্যন্ত কোন সাড়া মিলেনি। খাদ্যাভাব চরমে পৌঁছে যাওয়ায় উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের সাথে সমন্বয় করে উপজেলা চেয়ারম্যান থেকে ৩০ হাজার টাকা, ভাইস চেয়ারম্যানদের থেকে ২০ হাজার টাকা এবং উপজেলার ইউপি চেয়ারম্যানদের থেকে ২০ হাজার টাকা করে নিয়ে আমরা উভয়ের সহযোগিতায় ৫টি গ্রামের ৪১০ পরিবারের মাঝে দ্রুত চার হাজার একশ কেজি চাউল বিতরণ করি যা প্রয়োজনের তুলনাই একেবারে নগন্য।




সাজেকে দৃষ্টি প্রতিবন্ধীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার

g copy

সাজেক প্রতিনিধি:

রাঙ্গামাটির সাজেকের বাঘাইহাটে বৃহস্পতিবার সকালে মালেকা বেগম(৪৫) নামে দৃষ্টি প্রতিবন্ধীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বাঘাইহাটের চব্বিশ কবর কলনীর দৃষ্টি প্রতিবন্ধী মালেকা বেগম কে প্রতিদিন এলাকার লোকজন খাবার দেয়। তারই সূত্র ধরে সকালে পার্শ্ববর্তী প্রতিবেশি একমহিলা তাকে ডাকলে তার বাড়ি থেকে কোন সারা শব্দ না আসায় দরজা খুলে তার ঝুলন্ত লাশ দেখতে পেয়ে সে চিৎকার করে লোকজনকে ডাকে। তার চিৎকার শুনে লোকজন এসে ঝুলন্ত লাশ দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দেয়।

স্থানীয়রা আরও জানায়, মালেকা  প্রায় ১৫ বছর ধরে দৃষ্টি প্রতিবন্ধী ছিল এবং প্রায় ২ বছর ধরে মানসিক ভারসাম্যহীন। কিভাবে সে নিজে গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করেছে তা স্পষ্ট নয়। এনিয়ে এখন এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

মৃত মালেকা বেগমের স্বামী মনছুর বলেন, তার সাথে আমার প্রায় ১২ বছর সম্পর্ক বিচ্ছেদ রয়েছে। তবে খবর পেয়ে আমি দেখতে আসি। দেখে আমার মনে হচ্ছেনা যে সে নিজে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে। মৃত মালেকা বেগমের মাসুদ (১৫) নামে এক পুত্র রয়েছে।

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী মালেকা বেগমের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে।

এবিষয়ে সাজেক থানার অফিসার ইনচার্জ নুরুল আনোয়ার বলেন, এলাকার লোকজন লাশটি দেখে আমাদের খবর দেয়। আমরা এসে ঝুলন্ত অবস্থায় লাশটি দেখতে পায় এবং গলায় ফাঁস দেওয়া রশি কেটে লাশটি নামানো হয়। ময়না তদন্তের জন্য লাশটি খাগড়াছড়ি সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তবে মৃত ব্যক্তি আত্মহত্যা করেছে, নাকি কেউ হত্যা করেছে এবিষয়ে ময়নাতদন্তের পর জানা যাবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।




সাজেকে প্রথমবারের মত নদীতে ফুল ভাসানোর মধ্য দিয়ে বৈসাবি উৎসব

b (1) (1) copy

সাজেক প্রতিনিধি:

১৯০টিরও বেশি গ্রাম ৬০৭ বর্গমাইল এলাকা জুড়ে সাজেকে প্রথমবারের মত ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে বুধবার ভোরে কাচালং নদীতে ফুল ভাসানোর মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর ঐতিহ্যবাহী প্রধান সামাজিক ও প্রাণের উৎসব ‘বৈসাবি’।

ফুল বিঝুকে কেন্দ্র করে নদীর পাড়গুলো হাজারো তরুণ-তরুণীর মিলন মেলায় পরিণত হয়। নদীতে ফুল ভাসোনোর পর শিশু কিশোর, তুরুণ-তরুণী বৃদ্ধরাসহ গ্রাম থেকে গ্রামে ৩-৪কিলো হেঁটে র‌্যালি করেছে প্রতিটি গ্রামের লোকজন।

কোন বাঁধা বিপত্তি ছাড়া সাজেকের পাহাড়ি জনগোষ্ঠী এ প্রথম উন্মুক্ত ভাবে আনুষ্ঠানিক উৎসবের মধ্য দিয়ে ঐতিহ্যবাহী প্রধান সামাজিক ও প্রাণের উৎসব ‘বৈসাবি’ পালন করছে।

অদৃশ্য শক্তির প্রভাবে অতীতে শান্তি-সম্প্রীতি-সংস্কৃতি প্রিয় এ জনগোষ্ঠী ইচ্ছা থাকা সত্বেও পালন করতে পারেনি তাদের এ প্রানের উৎসব বৈসাবি। নিরাপত্তাবাহিনীর তৎপরতায় অদৃশ্য শক্তি এবার বাঁধা সৃষ্টি করতে পারেনি বলেই এ উৎসবের আমেজ প্রতিটি গ্রামে ছড়িয়ে নব জীবনের উন্মাদনা সৃষ্টি হয়েছে বলেও মনে করছেন স্থানীয়রা।

পাহাড়ি সম্প্রদায়ের তরুণ-তরুণী, ছোট ছোট ছেলে-মেয়েরা ফুল তুলে গঙ্গা দেবীর উদ্দেশ্যে নদী-খালে ভাসিয়ে পুরাতন বছরের গ্লানি মুছে নতুন বছরের শুভ কামনায় নিজেদের পবিত্রতা কামনা করে।

বৈসাবি উৎসবকে আরও আনন্দ মুখর করতে প্রতিটি গ্রামে বিভিন্ন ধরনের খেলাধুলাসহ সাংস্কৃতিক ও পুরষ্কার বিতরণী অনুষ্ঠানেরও আয়োজন করা হয়েছে।

ফুল বিজু, মূলবিজু ও বিচিকাতাল নামে নিজস্ব বৈশিষ্ট্যতায় এ উৎসবে আনন্দের আমেজ ছড়ায়। ত্রিপুরা ভাষায় এ উৎসবকে বৈসু, মারমা ভাষায় সাংগ্রাই এবং চাকমা ভাষায় বিজু বলা হয়। ত্রিপুরা, মারমা ও চাকমা এ তিন সম্প্রদায়ের উৎসবের নাম একত্র করে বৈসাবি শব্দটির উৎপত্তি।

b (2) (2) copy

ত্রিপুরা ও চাকমা সম্প্রদায় বুধবার ফুল বিজু পালন করছে। রাতে উড়বে হাজারো ফানুস বাতি। আগামীকাল বৃহস্পতিবার মূল বিঝু আর পহেলা বৈশাখ বা গজ্জাপয্যা পালন করবে। ঐদিন ঘরে ঘরে চলবে অতিথি আপ্যায়ন। ত্রিপুরা সম্প্রদায় হারিবৈসু, বিযুমা, বিচিকাতাল। শুক্রবার মারমা সম্প্রদায় সাংগ্রাই উৎসবে ঐতিহ্যবাহী জলকেলি বা পানি খেলা হওয়ার কথা থাকলেও সাজেকে মারমা সম্প্রদায়ের লোকজন না থাকায় সাংগ্রাই উৎসবটি এখানে পালন হচ্ছেনা।

পাশাপাশি তঞ্চঙ্গ্যা, বম, খিয়াং, লুসাই, পাংখোয়া, ম্রো, খুমি, আসাম, চাক ও রাখাইনসহ ১৩টি ক্ষুদ্র নৃ-জনগোষ্ঠী তাদের ভাষা-সংস্কুতি ও অবস্থানকে বৈচিত্রময় করে তুলতে প্রতি বছর চৈত্রের শেষ দিন থেকে ‘বৈসাবি’ উৎসব পালন করে থাকে।

এবিষয়ে সাজেক ইউপি চেয়ারম্যান নেলশন চাকমা বলেন, এবারই প্রথম সাজেকের জনগণ এতো উৎসব মুখর পরিবেশে বৈসাবি উৎসব পালন করছে। ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি অনুষ্ঠান উন্মুক্ত ভাবে পালনের ফলেই একজন আরেকজনের প্রতি ভাতৃত্ব ও মূল্যবোধ সৃষ্টি করে, আর নতুন বছর সকলের জন্য মঙ্গল বয়ে আনুক এ কামনাই করি।

নিরাপত্তাবাহিনী সূত্র জানায়, সাজেকে সকল সম্প্রদায়ের জনগোষ্ঠী বৈসাবি উসৎব  যেন নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করতে পারে তার জন্য সমগ্র সাজেক জুড়ে যৌথ বাহীনির তিন স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, কোথাও কোন রকম বিশৃঙ্খলা করার চেষ্টা করলে বা কেউ বাঁধা দিলে সাথে সাথে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অবহিত করতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের বলা হয়েছে বলেও জানায় সূত্রটি।




প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে দুর্গম এলাকায় আবাসিক মাধ্যমিক বিদ্যালয় স্থাপন করা হবে

1 (1) copy

সাজেক প্রতিনিধি:

পরিচালক প্রকল্প উন্নয়ন মাউশি প্রফেসর ড. জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের লক্ষে সমগ্র বাংলাদেশের প্রত্যন্ত দুর্গম এলাকায় অবহেলিত ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ছেলে মেয়েদের শিক্ষার মানোন্নয়ন সুযোগ সুবিদা বৃদ্ধি ও ঝরেপড়া রোধ করতে বহুতল বিশিষ্ট আবাসিক মাধ্যমিক বিদ্যালয় স্থাপন করছে সরকার। তারই ধারাবাহিকতায় পার্বত্য চট্রগ্রামে ১৩টি নতুন আবাসিক মাধ্যমিক বিদ্যালয় স্থাপন করতে যাচ্ছে তার মধ্যে রাঙ্গামাটি সাজেকে একটি এবং বরকল উপজেলাতে একটি।

সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে তিনি আরও বলেন, এসব আবাসিক বিদ্যালয়ের ধরন হবে আধুনিক মডেল যাতে থাকবে ছাত্র ছাত্রীদের জন্য পৃথক পৃথক আবাসিক ব্যবস্থা, প্রশাসনিক ভবন, একাডেমিক ভবন, খেলার মাঠসহ আরও অনেক সুবিধা।

শনিবার সকালে রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলার ‍বৃহত্তর সাজেক ইউনিয়নের উলুছড়া এলাকায় আবাসিক মাধ্যমিক বিদ্যালয় স্থাপনের জন্য প্রস্তাবিত জমি দেখতে এসে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে পরিচালক প্রকল্প উন্নয়ন মাউশি প্রফেসর ড. জাহাঙ্গীর হোসেন এসব কথা বলেন।

উলুছড়া মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে সকাল ১০টায় মতবিনিময় সভায় সাজেক ইউপি চেয়ারম্যানের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, বাঘাইছড়ি উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বড়র ঋষি চাকমা, ভাইস চেয়ারম্যান দিপ্তিমান চাকমা, মহিলা ভাইস চেয়াম্যান সুমিতা চাকমা প্রমুখ।

এসময় বিশেষ অতিথি ও সভাপতির বক্তব্যে বক্তারা বলেন, সারা দেশের ন্যায় পিছিয়ে পড়া সাজেকবাসীর জন্য প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে যে উদ্যোগ তা অবশ্যই সাজেকবাসীর উন্নয়নের জন্য অভাবনীয় পরিবর্তনের ধাপ। এ জনপদের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর লোকজন চিকিৎসা ও শিক্ষা থেকে সবসময় পিছিয়ে ছিলো। টাকার অভাবে অনেক ছেলে মেয়েরা প্রাথমিক শিক্ষার পরপরই ঝরে পড়তো, এলাকার শিক্ষার উন্নয়নের জন্য সরকার আবাসিক মাধ্যমিক বিদ্যালয় স্থাপনের যে উদ্যোগ নিয়েছে তার জন্য সাজেকবাসী প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞ থাকবে।

অনুষ্ঠানের শুরুতেই উপজাতীয় শিল্পীদের পরিবেশনায় গান ও নৃত্যের মাধ্যমে প্রধান অতিথিকে অভ্যর্থনা দেওয়া হয়।

অনুষ্ঠান চলাকালীন মাঝামাঝি সময়ে ঝড়ো হাওয়ায় অনুষ্ঠানের স্থল/মঞ্চ লণ্ডভণ্ড হয়ে যায় তাই অনুষ্ঠান দ্রুত শেষ করা হয়।




সাজেক-নীলগিরি ‘ট্যুর ডি সিএইচটি মাউন্টেন বাইক প্রতিযোগিতা’ শুরু

Khagrachari Pi 03

নিজস্ব প্রতিবেদক, খাগড়াছড়ি:
পার্বত্য চট্টগ্রামে পর্যটন শিল্পের বিকাশে সাজেক-নীলগিরি ২৫০ কিলোমিটার তিন দিন ব্যাপী ‘ট্যুর ডি সিএইচটি মাউন্টেন বাইক প্রতিযোগিতা’ শুরু হয়েছে। স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষ্যে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ এ্যাডভেঞ্চার ক্লাব যৌথভাবে এ প্রতিযোগিতার আয়োজন করে।

২৪ মার্চ শুক্রবার সকালে দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে ভারতের মিজোরাম রাজ্য সন্নিহিত প্রাকৃতিক রূপে রূপময় ও অপার সম্ভাবনার জনপথ খাগড়াছড়ি রিজিয়নের আওতাধীন রাঙামাটির সাজেক পর্যটন কেন্দ্রের রুইলুইপাড়া এলাকায় প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করেন খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কংজরী চৌধুরী।
Khagrachari Pi 02

এসময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব এ.এস.এম শাহেন রেজা, সুবিনয় ভট্টাচার্য্য ও বাংলাদেশ এ্যাডভেঞ্চার ক্লাবের পরিচালক মশিউর খন্দকার প্রমুখ।

রাঙ্গামাটির সাজেক ভ্যালী থেকে খাগড়াছড়ি হয়ে বান্দরবানের নীলগিরি পর্যন্ত মোট ২৫০ কিলোমিটার পাহাড়ি পথে এ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এতে অংশ নিয়েছে মোট ৪২ জন প্রতিযোগী। প্রথম দিনে সাজেক হতে খাগড়াছড়ি পর্যন্ত ৬৮ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে তাঁরা। প্রথম দিন দুর্গম পাহাড়ি পথ পাড়ি দিতে গিয়ে বেশ কয়েকজন প্রতিযোগী আহত হয়।
Khagrachari Pi 04

প্রতিযোগিতায় প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অধিকারীকে যথাক্রমে ৮০ হাজার, ৬০ হাজার এবং ৪০ হাজার টাকা সমপরিমাণ অংকের এমটিভি হিমালয় স্পন্সরশীপ প্রদান করা হবে। যার মাধ্যমে বিজয়ীরা ভারতের একটি প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের সুযোগ পাবেন।




জনগণের মাঝে আর্থসামাজিক উন্নয়নের বৈপ্লবিক পরিবর্তন হয়েছে

DSC_0398 copy

সাজেক প্রতিনিধি:

বাংলাদেশ নিরাপত্তাবাহিনীর বাঘাইহাট জোনে অনুষ্ঠিত হেডম্যান ও কার্বারী সম্মেলনে, সাজেকের ২০০৮/১০ সালের ঘটনা উল্লেখ করে হেডম্যান/কার্বারীরা বলেন, অনাকাঙ্ক্ষিত ৮/১০ সালের ওই ঘটনার পর এলাকায় যে বিরাজমান পরিস্থিতি ছিল পাহাড়ি বাঙ্গালীর মাঝে যে দুরত্ব ছিল তা একমাত্র নিরাপত্তাবাহিনীর ৪ বেঙ্গলের দ্বারায় জনগণের মাঝে আগের মত পাহাড়ি বাঙ্গালীর মাঝে আবারও আস্থার পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে এবং ৪ বেঙ্গলের কারণেই এলাকাতে শান্তি বিরাজ করছে।

হেডম্যান/কার্বারীরা আরও বলেন, এ বেঙ্গল আসার পর সাজেক এতো প্রচার প্রসার হয়েছে যা বলার মত না, এখানকার জনগণ উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্য দাম পেতনা এখন পর্যটন ও সড়ক যোগাযোগ উন্নয়নের ফলে জনগণ উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্য দাম পাচ্ছে এর ফলে এ এলাকার জনগণের মাঝে আর্থসামাজিক উন্নয়নের বৈপ্লবিক পরিবর্তন ঘটেছে এবং কি এ বেঙ্গল অন্যান্য বেঙ্গলের থেকে আলাদা এ বেঙ্গল আসছে পর্যন্ত কখনও নিরিহ লোককে হয়রানি করেনি এবং জনপ্রতিনিধিদের সাথে নিয়ে এ বেঙ্গল এলাকায় উন্নয়ন করে যাচ্ছে শান্তির পরিবেশ বজায় রাখছে আশাকরি এর ধারা অব্যাহত থাকবে।

এধরনের সম্মেলন সাজেকসহ পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তি, সম্প্রীতি, সৌহার্দ্য ও সহাবস্থান প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে স্থানীয়দের অভিমত। এছাড়া নিয়মিতভাবে এ ধরনের সম্মেলনের মাধ্যমে দিকনির্দেশনা প্রদানের জন্য অংশ গ্রহণকারীরা নিরাপত্তাবাহিনীর কাছে অনুরোধ জানিয়েছেন।

হেডম্যান ও কার্বারী সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন, বাঘাইহাট জোনের অধিনায়ক লে.ক ইসমাইল হোসেন খাঁ(পিএসসি)। এসময় অন্যান্যের মধ্যে আরও বক্তব্য রাখেন, বাঘাইহাট জোনের উপ-অধিনায়ক মেজর মঈনুল ইসলাম(পিএসসি), বঙ্গলতলী ইউপি চেয়ারম্যান কার্বারী জ্ঞনোজ্যোতি চাকমা, হেডম্যান বিশ্বজিত চাকমা, কার্বারী অতুলাল চাকমা(সাবেক চেয়ারম্যান), কার্বারী নতুনজয় প্রমুখ।

এসময় বাঘাইহাট জোনের আওতাধীন এলাকার অর্ধ-শতাধিক হেডম্যান ও কার্বারী উপস্থিত ছিলেন। সম্মেলনে হেডম্যান ও কার্বারীগণ পার্বত্য চট্টগ্রামের উন্নয়নে ও শান্তি প্রতিষ্ঠায় নিরাপত্তাবাহিনীর অবদানের কথা অকুণ্ঠ চিত্তে স্মরণ করেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি সকল হেডম্যান ও কারবারীদের কাছ থেকে তাদের এলাকার বিভিন্ন সমস্যা সম্পর্কে জানতে চাইলে, উঠে আসে বাঘাইহাট হতে করেঙ্গাতলী সড়কের বেহাল অবস্থার কথা, গংগারাম/নন্দারাম এলাকায় স্কুলের শিক্ষা সহায়ক উপকরণ সহ স্কুল নানান সমস্যার পাশাপাশি সাম্প্রদায়িক ঘটনায় নিরিহ লোকজনকে মামলা থেকে অব্যাহতির ব্যবস্থাসহ আরও নানা সমস্যা। এসময় জোন কমান্ডার সব বিষয়ে সর্বোচ্চ সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

সম্মেলনে জোন অধিনায়ক লে.ক ইসমাইল হোসেন খাঁ বলেন, সাজেকের মানুষ শান্তি প্রিয় আর সরকারও শান্তি প্রতিষ্ঠায় কাজ করে যাচ্ছে। পার্বত্যাঞ্চলে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে উন্নয়নমূলক কাজে সরকারকে সহযোগিতা করছে নিরাপত্তাবাহিনী। এলাকায় চাঁদাবাজী, সন্ত্রাসীমূলক অপরাধ কর্মকাণ্ড ও দুষ্কৃতিকারীদের নির্মূলে পাড়া কারবারী ও মৌজা হেডম্যানদের ভূমিকা রাখতে হবে। শান্তির পরিবেশ অশান্ত করার কোনো কাজ করলে কাউকে কোন প্রকার ছাড় দেয়া হবে না।

যারা অন্যায়ভাবে নিরীহ জনগণ থেকে চাঁদা আদায় করছে, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে তাদেরকে স্পষ্ট করে বলেন, যেখানে অস্ত্রের ঝনঝনানি যেখানে চাদাঁবাজি সেখানেই সাথে সাথে ব্যবস্থা নেওয়া হবে অতীতেও এ ইউনিট তার উদাহরণ দিয়েছে।

এসময় তিনি আরও বলেন, যারা চাঁদা নেন তারা সংখ্যায় খুবই নগন্য। সকলে সংঘবদ্ধ হয়ে তাদের প্রতিরোধ করতে হবে । এলাকার সমস্যা সমাধানের পাশাপাশি অন্যায় অপরাধ প্রতিরোধে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বানও জানান তিনি।

বর্তমানে সাজেকের শান্তি শৃঙ্খলা সুস্থ পরিবেশ বজায় রেখে চলমান উন্নয়ন কাজকে আরও এগিয়ে নেয়ার উপর গুরুত্বারোপ করে তিনি আরও বলেন, এলাকাতে যে সব দুষ্কৃতিকারী রয়েছে তাদের আইনের আওতায় আনতে হেডম্যান কারবারীদের সহযোগিতা প্রয়োজন। পাহাড়ি-বাঙ্গালী সম্প্রীতিকে বিনষ্ট করার জন্য বিভিন্ন ঘটনাকে বিকৃতভাবে উপস্থাপন করা হয়, এর থেকে বিরত থেকে সম্প্রীতি সৌহার্দের সাথে সবাইকে বসবাস করতে হবে। সাজেকে আইন-শৃঙ্খলা ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের ফলে এ জনপদে বসবাসরত সকল জনগোষ্ঠির মাঝে বৈপ্লবিক পরিবর্তন হয়েছে।

সম্মেলনে হেডম্যান-কারবারীদের পাশাপাশি অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, সাজেক থানার অফিসার ইনচার্জ নুরুল আনোয়ার, সাজেক ইউপি চেয়ারম্যান নেলশন চাকমা, বাঘাইহাট বাজার কমিটির সভাপতি ডা. নাজিম উদ্দিন, সাধারণ-সম্পাদক মো. জুয়েল  প্রমুখ।




বেবি টাইগার্স’র ৫৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত

54 copy

সাজেক প্রতিনিধি:

বর্ণিল সাজসজ্জা ও কেক কাটাসহ নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে বুধবার দুপুরে রাঙ্গামাটি পার্বত্যজেলার সাজেকের বাঘাইহাট জোন সদরে পালিত হয়েছে বাংলাদেশ নিরাপত্তাবাহিনীর বেবি টাইগার্স’র(৪ ইস্ট বেঙ্গল) ৫৪ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী। দিবসটি উপলক্ষে নানা রঙ-বেরঙের বেলুন আর বর্ণিল সাজে সাজানো হয় জোন সদরকে।

বেলা ১২টা থেকেই আমন্ত্রিত অতিথিরা জোন সদরে উপস্থিত হতে থাকেন। এসময় বেবি টাইগার্স’র অধিনায়ক লে.ক. মো. ইসমাইল হোসেন(পিএসসি) আমন্ত্রিত অতিথিদের স্বাগত জানান।

বেবি টাইগার্স(৪ইস্ট বেঙ্গল)’র  ৫৪ তম বর্নিল প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে খাগড়াছড়ি রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিজে. মীর মুশফিকুর রহমান (এসইউপি, পিএসসি), প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীর কেক কাটেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মীর মুশফিকুর রহমান বলেন, এ ইউনিটের স্বাধীনতার আগে হতে এবং পরবর্তীতেও বাংলাদেশ নিরাপত্তাবাহিনীতে যে বীরত্বের প্রমাণ রয়েছে আশা করি তা উত্তর উত্তর বৃদ্ধিপাবে এবং জনগণকে সাথে নিয়ে দেশের উন্নয়ন ও শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে বিশেষ ভূমিকা রাখবে।

অনুষ্ঠানে রিজিয়নের জিটুআই মুজাহিদ, বাঘাইহাট জোনের উপঅধিনায়ক মেজর মঈনুল ইসলাম, বাঘাইহাট রেঞ্জ অফিসার গোলাম সাহিদ, সাজেক থানার এসআই আলিম, সাজেক ইউপি চেয়ারম্যান নেলশন চাকমা, বঙ্গলতলী ইউপি চেয়ারম্যান জ্ঞানজ্যোতি চাকমা সহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সাংবাদিক, পদস্থ সামরিক ও আধা সামরিক কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে ৪ ইস্ট বেঙ্গলের অধিনায়ক স্বাগত বক্তব্যে ইউনিটের অতীত ইতিহাস তুলে ধরে বলেন,  ৫৩ বছর আগে ১৯৬৩ সালের ১০ফ্রেব্রুয়ারি তৎকালীন পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে জম্ম নেয়া ৪ইস্ট বেঙ্গল(বেবি টাইগার্স)নামে প্রতিষ্ঠা লাভ করে।  মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশ গ্রহণকারী এ ব্যাটালিয়নের রয়েছে ইতিহাস ও ঐতিহ্য। তার মধ্যে রয়েছে বীর শ্রেষ্ঠ শহীদ সিপাহী মোস্তফা কামাল সহ ৫ জন বীর উত্তম, ৯ জন বীর বিক্রম এবং ২৩ জন বীর প্রতীক খেতাবে ভূষিত হবার অনন্য দৃষ্টান্ত।

তাছাড়া এ ইউনিট পার্বত্য চট্রগ্রামে ৬বার দায়িত্ব পালন করেছে এবং প্রতিবারে এ ইউনিটের বীরত্বের প্রমান রেখেছে বিশেষ করে বেবি টাইগার্স বাঘাইহাটে আসার পর প্রথমেই সাজেকের মন্দিরা ছড়ায় অভিযান পরিচালনা করে বিপুল পরিমান অস্ত্র ‍ও গুলাবারুদ সরঞ্জাম উদ্ধার, মাচালং একুজ্জাছড়ি অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীকে হত্যা এবং সর্বশেষ বাঘাইছড়ির বরাধম পাড়ায় পাঁচ জন সশস্ত্র সন্ত্রাসীকে হত্যাসহ বিপুল পরিমান অস্ত্র ও সরঞ্জাম উদ্ধার করে যা শান্তি চুক্তির পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশ নিরাপত্তাবাহিনীর সেরা সাফল্য বর্তমানেও বেবি টাইগার্স এলাকাই শান্তি শৃঙ্খলার পাশাপাশি এলাকার উন্নয়নেও নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।




সাজেকে একুশের প্রথম প্রহরে ভাষা শহীদদের প্রতি আওয়ামী লীগের শ্রদ্ধা নিবেদন

DSC_0301

সাজেক প্রতিনিধি:

‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি আমি কি ভুলিতে পারি’ মুখে মুখে এ গান আর হাতে হাতে ফুল নিয়ে একুশের প্রথম প্রহরে শহীদ মিনারে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেছে ক্ষমতাসীন দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ও সকল সহযোগী সংগঠনের সাজেক থানা শাখার নেতাকর্মীরা।

একুশের প্রথম প্রহরে শ্রদ্ধা নিবেদনের উদ্দেশ্যে সাজেক থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ-সম্পাদক সুজিত দে’র নেতৃত্বে দলীয় কার্যালয় থেকে শহীদ মিনারে গিয়ে পুস্পমাল্য অর্পণ করে দলটির নেতাকর্মীরা।

শহীদ বেদিতে পুস্পমাল্য অর্পণের পর ৫২’র ভাষা শহীদদের আত্মার মাগফেরাত কামান করে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।

এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন সাজেক আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক রহমত উল্লাহ, যুবলীগের সভাপতি মো. আলী, সাজেক থানা ছাত্রলীগের সভাপতি মো. রুবেল, সাধারণ সম্পাদক মো. মিজান, সহ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠনের সকল নেতা কর্মী।




সাজেকে ইউপিডিএফ’র চাঁদাবাজ হাতেনাতে আটক

DSCN1020 copy

সাজেক প্রতিনিধি:

রাঙ্গামাটি সাজেকের উজোবাজারস্থ দুইপথা নামক এলাকা থেকে চাঁদা আদায়ের সময় ইউপিডিএফ’র কালেক্টর অনুপম চাকমা(৪০)কে আটক করেছে নিরাপত্তা বাহিনী।

নিরাপত্তাবাহিনী সূত্রে জানা যায়, সোমবার দিন গংগারাম মুখের উজোবাজারে হাটের দিন থাকায় খুচরা ও পাইকারী ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চাঁদা আদায়ের জন্য দুইপথা নামক এলাকাতে অবস্থান করছে।

এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সকাল ১১টায় নিরাপত্তা বাহিনী অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করে, এসময় তার কাছে চাঁদা আদায়ের ১৪টি রশিদবই, ২টি মোবাইল, যুবফোরামের ৭টি পোস্টার, ও নগদ ৬৩২৬টাকা পাওয়া যায় এবং অনুপম চাকমা নিজেকে ইউপিডিএফ’র কালেক্টর বলে স্বীকার করেছে বলেও জানায় সূত্রটি।

অনুপম চাকমা সাজেকের রেতকাবা মুখের লক্ষীধন চাকমার ছেলে বলে জানা যায়।

অনুপম চাকমার নামে বাঘাইহাট এলাকায় ব্রাশ ফায়ার করে সরকারী দায়িত্ব পালনে বাধা, প্রাণনাশের হুমকি, ক্ষয়ক্ষতির চেষ্টা, ভীতি প্রদর্শন এবং গংগারাম এলাকায় প্রতিবাদ সমাবেশ ও বিভিন্ন ধরনের উষ্কানীমূলক বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগে সাজেক থানায় দুইটি মামলা রয়েছে বলেও জানা গেছে।

স্থানীয় একটি সূত্র জানায়, সে দীর্ঘদিন যাবৎ গংগারাম এলাকায় ইউপিডিএফ’র চাঁদা আদায় করে আসছে। তবে এ বিষয়ে ইউপিডিএফ’র সাজেক শাখার সমন্বয়ক জুয়েল চাকমার সাথে মোবাইলে একাধিকবার কল করেও কল না ধরায় যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

এ বিষয়ে সাজেক থানার অফিসার ইনচার্জ নুরুল আনোয়ার বলেন, অনুপম চাকমা ওয়ারেন্টভুক্ত আসামী তার বিরুদ্ধে সাজেক থানায় দুইটি ও দীঘিনালা থানায় একটি মামলা রয়েছে, তাকে দীর্ঘদিনধরে খুঁজছিল পুলিশ। তার বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।




সাজেকে বাঘাইহাট উচ্চ বিদ্যালয়ে পরীক্ষার্থীদের বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত

2

সাজেক প্রতিনিধি:

সাজেকের অন্যতম বিদ্যাপীঠ বাঘাইহাট উচ্চ বিদ্যালয়ের ২০১৭ সালের এসএসসি পরীক্ষার্থীদের বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শনিবার সকালে বিদ্যালয় মাঠে বিদায় অনুষ্ঠানে বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি অতুলাল চাকমার সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাঘাইহাট সেনা জোনের অধিনায়ক লে.ক. আলীহায়দার সিদ্দীকি(পিএসসি)।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাঘাইহাট জোনের নবাগত জোন অধিনায়ক লে.ক. ইসমাইল খাঁ ও সাজেক ইউপি চেয়ারম্যান নেলশন চাকমা।

এছাড়া্ আরও উপস্থিত ছিলেন বিদ্যালয়’র প্রধান শিক্ষক শাক্যবোধি চাকমা, বাঘাইহাট বাজার কমিটির সভাপতি ডা. নাজিম উদ্দিন, বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সদস্য শিক্ষক/শিক্ষিকা, অভিভাবক ও গন্যমান্য ব্যক্তি বর্গ।

পরে বিদ্যালয়’র বিভিন্ন শ্রেনীর মেধাবীদের মাঝে পুরষ্কার বিতরণ করা হয় এবং বিদ্যালয়’র মাঠে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

এবছর এ বিদ্যালয় থেকে ১৭৫জন শিক্ষার্থী এসএসসি পরিক্ষায় অংশগ্রহণ করবে।