সাজেক রিজার্ভ ফরেস্ট থেকে পাচারকালে বিপুল পরিমাণ সেগুন কাঠ আটক

SAM_2579 copy

সাজেক প্রতিনিধি:

রাঙ্গামাটি জেলার বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেকের রিজার্ভ ফরেস্ট এলাকা থেকে কাঠ পাচারকালে নিরাপত্তাবাহিনীর অভিযানে ৪ লক্ষাধিক টাকা মূল্যের সেগুন কাঠ আটক করা হয়েছে।

সোমবার মধ্য রাতে কাচালং নদী দিয়ে সাজেক রিজার্ভ ফরেস্ট’র কাঠ পাচারের সময় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বাঘাইহাট জোনের নিরাপত্তাবাহিনীর সদস্যরা কাচালং নদী থেকে ২৭৫ টুকরা, আনুমানিক ৩০০ ঘন ফুট সেগুন কাঠ আটক করে। এ সময় নিরাপত্তাবাহিনী কাউকে আটক করতে পারেনি বলেও জানা গেছে।

সকালে নিরাপত্তাবাহিনী আটককৃত কাঠ বাঘাইহাট রেঞ্জ কর্মকর্তা সৈয়দ গোলাম সাহিদ’র নিকট হস্তান্তর করা হয়েছে।

এ বিষয়ে বাঘাইহাট রেঞ্জ কর্মকর্তা সৈয়দ গোলাম সাহিদ জানান, রিজার্ভ ফরেস্ট থেকে অবৈধ কাঠ পাচার রোধে নিরাপত্তাবাহিনীর সহায়তায় বন-বিভাগের যৌথ অভিযান অব্যাহত থাকবে।

উল্লেখ্য ২০১৬ সালের ৬ ডিসেম্বর সোমবার সকাল ১০টার দিকে সাজেকের টাইগার টিলা ও আশপাশের এলাকা থেকে সাজেক রিজার্ভের কাঠ পাচারের সময় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বাঘাইহাট জোনের উপ-অধিনায়ক মেজর মঈনুল ইসলাম (পিএসসি)’র নেতৃত্বে একটি টহল টিম দুই দফা অভিযান চালিয়ে ৩৪১ টুকরা সেগুন (গোল) কাঠ আটক করতে সক্ষম হয়েছিল।

স্থানীয় একটি সূত্র জানায়, সাজেক এলাকায় কোনো জ্যোত পারমিট/মালিক বাগান নেই কিন্তু পার্শ্ববর্তী ইউনিয়ন রুপকারী ও বঙ্গলতলীতে জ্যোত পারমিটের বাগান রয়েছে। কাঠ পাচারকারীরা ওইসব বাগান মালিকদের নামে রিজার্ভ’র কাঠ পাচার করে থাকে।




সাজেকের উজো বাজারে শিক্ষা সামগ্রী ও শীতবস্ত্র বিতরণ

untitled-1-copyসাজেক প্রতিনিধি:

রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলার সীমান্তবর্তী এলাকা সাজেকের উজো বাজারস্থ গংগারাম মুখ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাত্র ছাত্রীদের মাঝে শিক্ষা সামগ্রী ও গংগারাম এলাকার হতদরিদ্র ও নিম্ন  আয়ের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর পৌষের কনকনে শীত নিবারনের  জন্য বংলাদেশ নিরাপত্তাবাহিনীর পক্ষ থেকে শতাধিক পরিবারের মাঝে কম্বল বিতরণ করা হয়েছে।

বুধবার সকাল ১০টায় গংগারাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে নিরাপত্তাবাহিনীর বাঘাইহাট জোন ৪ইস্ট বেঙ্গল’র পক্ষ থেকে এ কম্বল বিতরণ করা হয়। এসময় শীত বস্ত্র বিতরণ অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন  বাঘাইহাট জোনের অধিনায়ক লে.ক. আলী হায়দার সিদ্দীকী (পিএসসি)। প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, এ এলাকায় শান্তি প্রতিষ্ঠা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই হচ্ছে নিরাপত্তাবাহিনীর মূল উদ্দেশ্য। ক’দিন আগে উজোবাজার ও বাঘাইহাট বাজার নিয়ে যে সমস্যা সৃষ্টি হয়েছিল  এ সমস্যা উভয় পক্ষকে সাথে নিয়ে সমাধান করতে পেরে আমার খুব ভালো লাগছে এবং এ সমস্যা সমাধান হওয়ায় এলাকায় এখন শান্তি বিরাজ করছে এভাবে এলাকায় শান্তি সম্প্রীতি দৃঢ় হলে এলাকায় উন্নয়নও বাড়বে।

ছাত্র/ছাত্রী ও অভিবাকের উদ্দেশ্যে  তিনি আরও বলেন, ছাত্র/ছাত্রীদের সকলকে ভালো ভাবে পড়তে হবে জ্ঞানের আলোয় নিজেকে আলোকিত করতে হবে। লেখাপড়া শেষে সমাজের জন্য এলাকার জন্য ভূমিকা রাখতে হবে এবং অভিভাবকদেরও খিয়াল রাখতে হবে ছেলে মেয়েরা যেন ভালো ভাবে লেখাপড়া করে। লেখাপড়া শেষে যেন, কোন অন্যায় ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে না পরে।

এসময় প্রধান অতিথির বক্তব্যের মাঝে এলাকার প্রবীন মুরুব্বী জতিলাল কার্বারী ও গংগারাম বাজার সভাপতি হৃদয় রন্জন চাকমা উভয়েই বলেন, আমরা এখানে যারা আছি পাহাড়ী বাঙ্গালী সবাই সম্প্রীতি চাই আমাদের এলাকার পাহাড়ী বাঙ্গালীদের মধ্যে খুবই মিল মহব্বত রয়েছে কিন্তু আমরা চাপে পড়ে এ মিল মহব্বত দেখাতে পারি না। এলাকায় নিরাপত্তাবাহিনী আমাদের যেভাবে সাহায্য সহযোগিতা করেন সেভাবে চেয়ারম্যান মেম্বাররাও করেন না। নিরাপত্তাবাহিনী সাজেকে উচ্চ শিক্ষার জন্য সর্বপ্রথম বাঘাইহাটে  মাধ্যমিক স্কুল করে দিয়েছেন। অসুস্থ্য রুগীদের সাস্থ্য সেবা বিনামূল্যে ঔষধ দিয়ে থাকেন। এ জন্য আমরা এলাকার লোকজন নিরাপত্তাবাহিনী কাছে কৃতজ্ঞ।

এসময় গতকয়েকদিন আগে বাঘাইহাট বাজার আর উজোবাজার নিয়ে যে সমস্যা হয়েছিল জোন অধিনায়ক এ সমস্যা সমাধান করায় এলাকায় শান্তি ফিরে এসেছে বলেও জানায় তারা।

সাজেক ইউপি চেয়ারম্যান নেলশন চাকমা বলেন, আজ সাজেকের এত উন্নয়ন একমাত্র নিরাপত্তাবাহিনীর অবদান, নিরাপত্তাবাহিনী কারণে এ এলাকার ছেলে মেয়েদের প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষার সুযোগ বৃদ্ধি পেয়েছে এবং শিক্ষার পাশাপাশি নিরাপত্তাবাহিনী এলাকায় চিকিৎসা সেবা, শান্তি শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা বিধানে নিরাপত্তাবাহিনী ভূমিকা উল্লেখযোগ্য। নিরাপত্তাবাহিনী সাজেকের জনগণের জীবন যাত্রার মান যে বৈপ্লবিক পরিবর্তন করেছে তার জন্য এ এলাকার জনগণ নিরাপত্তাবাহিনীকে সারাজীবন মনে রাখবে।

পরে গংগারাম মুখ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাত্র/ছাত্রীদের মাঝে স্কুল ব্যাগ, মাতৃভাষার বই, খাতা কলম ও গংগারাম এলাকার শতাধিক পরিবারের মাঝে কম্বল বিতরন করা হয় এবং গংগারাম মুখ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের চাওয়ায় বিদ্যালয়ে ১০টি অফিস চেয়ার ও ১০ জোড়া বেঞ্চ দেওয়ার আশ্বাস দেন জোন অধিনায়ক।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাঘাইহাট জোনের উপ-অধিনায়ক মেজর মামুন, সাজেক ইউপি চেয়ারম্যান নেলশন চাকমা, বাঘাইহাট বাজার কমিটির সভাপতি ডা.নাজিম ও সম্পাদক মো. জুয়েল, অশোক কুমার চাকমা, লক্ষী চাকমাসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি বৃন্দ।




সাজেকে বাউকুল চাষে ভাগ্য বদল পাহাড়ীদের

untitled-1-copy

সাজেক প্রতিনিধি:

বাউকুলের চাষ করে নিজেদের ভাগ্য বদলেছেন রাঙামাটি পার্বত্য জেলা সাজেকের অর্ধ-শতাধিক পাহাড়ি পরিবার। এবছর সাজেকে বাউকুলের বাম্পার ফলন হয়েছে। ইতোমধ্যে প্রায় সবগুলো গাছের ফল বিক্রিও প্রায় শেষ পর্যায়ে। সাজেকে উৎপাদিত এসব বাউকুল আকারে বড় এবং স্বাদেও মিষ্টি। সাজেক পাহাড়ের উঁচু নিচু জমিতে এবছর ব্যাপকহারে বাউকুল উৎপাদন হয়েছে।

ফলের ভারে নুয়ে পড়া গাছগুলোকে বাঁশের ঠেকা দিয়ে সোজা করে দাঁড় করিয়ে রাখা হয়েছে। ৫ থেকে ১০ ফুট উঁচু প্রতিটি গাছে ঝুলছে পরিপুষ্ট বাউকুল। কোনোটি সবুজ আবার কোনোটিতে হালকা বাদামী রং ধরেছে। ফলের ভারে কোনো কোনো ডাল বাউকুলসহ মাটির উপরেই লতার মমো পড়ে আছে।

৭ জানুয়ারি রাঙামাটির সাজেকের বাঘাইহাট ডিপু পাড়ার সুজন চাকমার বাউকুল বাগানে গিয়ে এমন দৃশ্য দেখা যায়। ৮০ শতাংশ জায়গা জুড়ে সুজন চাকমার বাগানে সব মিলিয়ে ১৮৫টি বাউকুল গাছ রয়েছে। সবকটি গাছেই ফলন এসেছে। বড় আকারের এ বাউকুল’র একেকটির ওজন ৩০ থেকে ৫০ গ্রাম। স্বাদেও বেশ মিষ্টি।

শুধু সুজন চাকমা নন, সাজকের ডিপু পাড়া, গুচ্ছ গ্রাম নোয়াপাড়া, গ্লোকমা ছড়া, মাচালং এ্যাগোজ্যাছড়ি এলাকায় তার মতো আরও অর্ধ-শতাধিক বাউকুলচাষী  রয়েছে। এ বছর এ এলাকায় বাউকুলের ফলন যেমন বেশি হয়েছে, তেমনি ভালো দামও পাওয়া যাচ্ছে। এ মৌসুমে একেকজন চাষি পঞ্চাশ হাজার থেকে দুই  লাখ টাকা পর্যন্ত বাউকুল বিক্রি করেছে।

বাউকুল চাষী সুজন চাকমা জানান, ২০১৪ সালে খাগড়াছড়ির এক নার্সারী থেকে বাউকুলবীজ সংগ্রহ করেন। ৮০ শতাংশ জায়গায় ১৮৫টি চারা রোপণ করেছেন। ২০১৫ সাল থেকে বাগানে ফল আসা শুরু হয়। প্রথম বছরেই বাগান থেকে ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকার মত বাউকুল বিক্রি হয়েছে। আর এ বাগান করতে প্রথম ১৫ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। এ বছর বাগানে বাদুর ও অন্যান্য পাখিদের হাত থেকে রক্ষা করতে জাল দিয়ে ঢেকে দেয়া হয় পুরো বাউকুল বাগান এবং ওষুধসহ বাগান পরিষ্কার করা বাবত খরচ হয় প্রায় ছয় হাজার টাকা। ঠিকমত বাগান পরিচর্যার কারণে বাগানে বাম্পার ফলন হয়েছে।  ইতোমধ্যে ফলন্ত বাগানে উৎপাদিত অর্ধেক বাউকুল বিক্রি করে আয় হয়েছে ১ লাখ ৭ হাজার টাকা। প্রতি কেজি বাউকুল প্রথমে ৮০ টাকা ও এখন ৬০ টাকা বিক্রি হচ্ছে।

সুজন চাকমা আরও বলেন, যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত হওয়ায় সাজেকে উৎপাদিত বাউকুল এখন সহজেই চট্রগ্রাম, কুমিল্লা, রাজধানী ঢাকাতেও নিয়ে যেতে পারছেন ব্যবসায়ীরা।

সুজন চাকমার মতো ডিপু পাড়ার শান্তিময় চাকমা, মিলন কার্বারী, খোকন চাকমা তাদের বাউকুল চাষে অভাবনী সাফল্যের বর্নণা দেন এবং বাউকুল চাষ করে অর্থনৈতিকভাবে ও স্বাবলম্বী হয়েছেন বলেও জানিয়েছেন তারা।

কম পুঁজিতে লাভ বেশি হওয়ায় সাজেকে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে বাউকুল চাষ। বাম্পার ফলন আর বেশি লাভের আশায় জুম চাষ বাদ দিয়ে বাউকুল চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছে পাহাড়ি সাজেক অঞ্চলের কৃষকরা।

সাজেক ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নেলশন চাকমা বলেন, সাজেকে কয়েক বছর ধরে বাউকুল চাষ করা হচ্ছে। প্রতিবছর ফলন বেড়েই চলেছে। এর মধ্যে ডিপু পাড়া গ্রামে বেশি বাউকুল চাষ হয়। সাজেকের বাউকুল বড়, স্বাদেও মিষ্টি। এলাকায় মিশ্র ফলদ বাগানেরও প্রয়োজন রয়েছে। সরকারি সাহায্য পেলে এখানে বাউকুল চাষ বাড়বে, পাশাপাশি কৃষকেরা অর্থনৈতিক ভাবে লাভবান হবে বলেও মনে করেন নেলশন চাকমা।

বাঘাইছড়ি উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আল ইমরান বলেন, উপজেলার ৫-৬একর জমিতে বাউকুল চাষ হয়েছে। এর মধ্যে সাজেকে ৩-৪ একর জমিতে কৃষকেরা আমাদের পরামর্শক্রমে চাষ করেছেন, এবছর বাম্পার ফলন হয়েছে বলে বাউকুল চাষীদের কাছ থেকে জানতে পেরেছি। উপজেলার সাজেকেই প্রথম বাউকুল চাষ শুরু হয় এবং সেখানের আবহাওয়া ও মাটি উপযোগী হওয়ায় এর ফলন বেশি হচ্ছে।




সাজেকে নিরাপত্তাবাহিনীর পক্ষ থেকে ২শতাধিক কম্বল বিতরণ

kk-copy

সাজেক প্রতিনিধি:

রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলার পূর্ব সীমান্তবর্তী এলাকা সাজেকে হতদরিদ্র ও নিম্ন আয়ের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর পৌষের কনকনে শীত নিবারনের  জন্য বংলাদেশ নিরাপত্তাহিনীর পক্ষ থেকে ২শতাধিক পরিবারের মাঝে কম্বল বিতরণ করা হয়েছে।

রবিবার সকাল সাড়ে ১০টায় বাঘাইহাটে সাজেক ইউপি কার্যালয়ে নিরাপত্তাবাহিনীর বাঘাইহাট জোন ৪ইস্ট বেঙ্গল’র পক্ষ থেকে এ কম্বল বিতরণ করা হয়। এসময় শীত বস্ত্র বিতরণ অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন  বাঘাইহাট জোনের  উপ-অধিনায়ক মেজর মামুন, আরও উপস্থিত ছিলেন ক্যাপটেন আকরাম, সাজেক ইউপি চেয়ারম্যান নেলশন চাকমা, বাঘাইহাট বাজার কমিটির সভাপতি ডা.নাজিম সহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি বৃন্দ।

এসময় কম্বল নিতে আসা বিষু চাকমা বলেন, আমাদের এলাকার অধিকাংশ মানুষের শীতবস্ত্র নেই নিরাপত্তাবাহিনী আমাদেরকে কম্বল দিয়ে  অনেক উপকার করেছে আমাদের আত্মা তাদের জন্য দোয়া করবে।




বাঙালীদের বয়কটের শর্তে সাজেকের মাচালং বাজার বয়কট তুলে নিলো উপজাতীয় সন্ত্রাসীরা

sajek-bazar

পার্বত্যনিউজ রিপোর্ট:

রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা সাজেকের মাচালং বাজারটি বৃহস্পতিবার বয়কটের ডাক দিয়েছিল সাজেকে আধিপত্যে থাকা আঞ্চলীক সশস্ত্র সংগঠনটি আর এর দুদিন পরেই শর্ত সাপেক্ষে মাচালং বাজার বয়কট শিথিল করা হয়েছে বলেও খবর পাওয়া গেছে।

স্থানীয় একটি সূত্র জানায়, মাচালং বাজারের অধিকাংশ ব্যবসায়ী উপজাতি হওয়ায় বয়কট করার দুদিন পরেই উপজাতী জনগণের কাছে শর্ত জুড়ে দিয়ে শিথিল করা হয় বাজার বয়কট। শর্তগুলো হলো: মাচালং বাজারে কোন বাঙ্গালী ব্যবসায়ীর দোকান থেকে কোন উপজাতি ক্রেতা কিছু ক্রয় করতে পারবে না, বাঙ্গালীর মোটর সাইকেল, সিএনজি এবং বাঘাইহাট জীপ সমিতির গাড়ীতে কোন উপজাতি চলাচল করতে পারবে না এমন শর্তে বয়কট তুলে নেওয়া হয় বলেও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়।

এমন শর্তে উপজাতীয় ব্যবসায়ীর কাছ থেকে মালামাল ক্রয় করতে পারলেও যাতায়াতে বাড়তি ভাড়ায় চরম দূর্ভোগে পরে সাজেকের উপজাতীয় জনগণ। আর এর ফলে ৫০টাকার ভাড়া গুনতে হচ্ছে ১৫০টাকায় তার পরেও মিলছেনা পর্যাপ্ত যানবাহন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সাজেকের শিজকমুখ এলাকার উপজাতি একজন জুম চাষীর সাথে কথা বললে তিনি আক্ষেপ করে বলেন, আমরা সাধারণ মানুষ। আমাদের দিয়ে রাজনীতি করছে বহিরাগত কিছু সন্ত্রাসী। আমরা সাজেকের জনগণ পাহাড়ী বাঙ্গালী কিছু বুঝিনা আমরা সবাই শান্তিতে বসবাস করতে চায়, সরকার কি সন্ত্রাসীদের দমন করতে পারে না।

সরকার ইচ্ছা করলে সাজেকে একদিনেই সন্ত্রাস মুক্ত করতে পারে। সন্ত্রাসীদের জন্য জীপ গাড়ীতে চড়তে না পারায় আজকে আমাকে ৫০টাকার ভাড়া মোটর সাইকেলে করে ১৫০টাকা দিয়ে যেতে হয়েছে মাচালং বাজারে, এ ভাবে আর কিছুদিন চললে আমাদের না খেয়ে মরতে হবে।

এবিষয়ে বাঘাইহাট জীপ সমিতির লাইন কন্ট্রোলার রহিম বলেন, আমাদের সমিতির গাড়ীগুলো প্রতিদিনের মত বৃহঃস্পতিবার ও শুক্রবার মাচালং বাজারে হাটের দিন থাকায় সাজেক পর্যন্ত আমাদের লাইনের গাড়ি ছিল। কিন্তু দুইদিন ধরে আমাদের সমিতির গাড়ীতে কোন উপজাতি যাত্রী চলাচল করছে না, যার ফলে গাড়ীতে তেল খরচও উঠছেনা আর এজন্যই আমরা শুক্রবার বিকাল থেকে সমিতির লাইন বন্ধ রাখি যদি যাত্রী চলাচল করতে চায় আমরা গাড়ী চালাব।

এবিষয়ে নিরাপত্তাবাহিনী সূত্রে জানায়, এলাকায় কোন দুষ্কৃতকারী ও সন্ত্রাসী গোষ্ঠী কোন রকম বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করলে তাদেরকে কঠোর হাতে দমন করা হবে এবং এলাকায় শান্তি বজায় রাখতে নিরাপত্তাবাহিনী বিশেষ ভাবে প্রস্তুত আছে।




আবারও সাজেকের মাচালং বাজার বয়কটের ডাক

sajek-bazar

পার্বত্যনিউজ রিপোর্ট:

রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা সাজেকের মাচালং বাজার বয়কটের ডাক দিয়েছে সাজেকের আধিপত্যে থাকা আঞ্চলিক সশস্ত্র সংগঠন। বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই সাজেক এলাকায় আধিপত্যে থাকা এ সশস্ত্র সংগঠনটি মাচালং বাজার বয়কটের চাপ দিচ্ছে বলে জানা যায়।

স্থানীয় একটি সূত্র জানায়, শুক্রবার মাচালং বাজারে হাটের দিন থাকে, বৃহস্পতিবার মাচালং বাজারে সাজেকের দূরদূরান্ত থেকে লোকজন আসে এবং হাটের দিনের মতো লোক সমাগম হয় কিন্তু বৃহস্পতিবার সকালে হঠাৎ করে লোকজনকে বাজারে আসতে দিচ্ছে না এমনকি গাড়িতে করে লোকজন আসতে চাইলে তাদেরকে গাড়ি থেকে নামিয়ে রাখা হচ্ছে এখন পর্যন্ত লোকজন বাজারে আসতে পারছে না বলেও জানায় সূত্রটি।

এ বিষয়ে বাঘাইহাট জীপ সমিতির লোকজনের সাথে যোগাযোগ করলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে তারা বলেন, আমরা রাস্তায় গাড়ী চালাই, এ বিষয়ে মন্তব্য করলে আমাদেরকে সমস্যায় পড়তে হয়। তবে আমাদের সমিতির গাড়ীগুলো বৃহ্স্পতিবার ও শুক্রবার মাচালং বাজারে হাট বসে। সে উদ্দেশ্যে সাজেকের বিভিন্ন এলাকায় গাড়িগুলো যায় লোকজন আনতে, তবে আজকে আমাদের গাড়িগুলো খালি ফেরৎ আসে।

মাচালং বাজারের উপজাতীয় এক ব্যাবসায়ী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, আমরা ব্যবসায়ীরা সবাই একপ্রকার জিম্মী। আমাদের স্বাধীনতা বলতে কিছুই নেই, আমরা চাঁদা দিয়েও শান্তিতে ব্যবসা করতে পারছি না। কয়েক দিন পরপর একটা না একটা সমস্যার সৃষ্টি হয়, হঠাৎ করে কী জন্য এ বয়কট বুঝতে পারছি না। এখন আমাদের ব্যবসা গুটিয়ে চলে যাওয়া ছাড়া আর কিছু করার নেই।

এ বিষয়ে নিরাপত্তা বাহিনী সূত্র জানায়, আমরাও সকাল থেকে মাচালং বাজার বয়কটের বিষয়টি শুনেছি এবং বিভিন্ন জায়গা থেকে লোকজনকে বাজারে আসতে আঞ্চলিক সংগঠন ইউপিডিএফ’ বাধা দিচ্ছে বলেও খবর পাওয়া যাচ্ছে, তবে যেসব এলাকায় বাধা দেওয়া হচ্ছে সেখানে আমরা নিরাপত্তা বাহিনীর টহল জোরদার করেছি।

উল্লেখ্য উপজাতী সন্ত্রাসীদের চাপে বয়কট থাকা সাজেকের বাঘাইহাট বাজারটি দীর্ঘ ছয় বছর অচল থাকার পর ২০১৬ সালের ২৩ অক্টোবর স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও বাজার কমিটির যৌথ উদ্যোগে পুনরায় চালু করা হয়।

এর মাঝেই সাজেকের এই বাজারটি আবারও বয়কট করা হলে জনগণকে তীব্র ভোগান্তি পোহাতে হবে। তাছাড়া নতুন করে বাজার বয়কটের ফলে সাধারণ মানুষের মাঝে আতঙ্ক বিরাজ করছে।




দুর্গম সাজেকেও বছরের প্রথম দিনে বই উৎসব পালন

sajek

সাজেক প্রতিনিধি:

বাংলাদেশের পূর্ব সীমান্তবর্তী এলাকা রাঙ্গামাটির সাজেকে নতুন বছরের প্রথম দিন অনুষ্ঠিত হয়েছে বই উৎসব। ২০১৭ সালের প্রথম দিন শিশির ভেজা সকালে সাজেকের প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের হাতে বই তুলে দিয়ে এ উৎসবের উদ্ধোধন করেন বাঘাইছড়ি উপজেলার ভারপ্রাপ্ত শিক্ষা অফিসার নিখিলেশ চাকমা।

রবিবার সকাল সাড়ে ৯টায় বাঘাইহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রাথমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের হাতে বই তুলে দেন। উদ্ধোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন সাজেক ইউপি চেয়ারম্যান নেলশন চাকমা, বাঘাইহাট বাজার কমিটির সভাপতি ডা. নাজিম উদ্দিনসহ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক, এলাকার বিশেষ ব্যক্তিবর্গ ও অভিবাবক বৃন্দ।  এরপরেই সকাল সাড়ে ১১টায় বাঘাইহাট উচ্চ বিদ্যালয়ে মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের বই উৎসবের উদ্বোধন করেন সাজেক ইউপি চেয়ারম্যান নেলশন চাকমা।

এদিকে বছরের প্রথম দিন বই পেয়ে বেজায় খুশি প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থীরা। এতে তারা নতুন উদ্যোমে বছরের প্রথম দিনই নতুন ক্লাসের পড়াশোনা শুরু করতে পারবে। বছরের শুরুতে নতুন বই পেয়ে পড়াশোনায় এগিয়ে যাওয়ার পাশপাশি আগামী পরীক্ষার প্রস্তুতিও ভাল হবে বলে প্রত্যাশা তাদের।

প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের মাঝে একযোগে সাজেকের প্রাথমিক স্তরে সরকারি বে-সরকারি ৪৫ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ১৭,৩৫২টি বই বিতরন করা হয় বলে জানানো হয় প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে। বাঘাইহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৩য়-৫ম শ্রেণীর ২৩২জন ছাত্র-ছাত্রীদের মাঝে বই বিতরনের পাশাপাশি বিদ্যালয়ের বার্ষিক উন্নয়ন তহবিল থেকে টিফিন বক্স ও পানির বোতল দেওয় হয়। মাধ্যমিক স্তরের সাজেকের ৪টি বিদ্যালয়েও বই বিতরণ করা হয় তবে কতটি বই বিতরন করা হয়েছে তা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানতে চায়লে তার সংখ্যা জানাতে পারেনি পরে জানাবেন বলেও জানিয়েছেন।




সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর রাষ্ট্রদ্রোহী স্বায়ত্ব শাসনের প্রচেষ্টাকে কঠোর হস্তে দমন করা হবে

b1-copy

সাজেক প্রতিনিধি:

সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর রাষ্ট্রদ্রোহী স্বায়ত্ব শ্বাসন প্রতিষ্ঠার যে কোন প্রচেষ্টাকে কঠোর হস্তে দমন করা হবে। মঙ্গলবার সকাল ১১টায় রাঙ্গামাটি সাজেকের বাঘাইহাট জোনে আয়োজিত মত-বিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে খাগড়াছড়ি রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিজে.সম মাহবুবউল আলম(পিএসসি) এ কথা বলেন।

তিনি আরও বলেন সন্ত্রাসী গোষ্ঠীরা চায়না সাজেকের জনগণের ভাগ্য উন্নয়ন হোক সুখে শান্তিতে বসবাস করুক উপজাতীয় জনগণের জীবনমান উন্নয়ন হোক। তারা চায় সবসময় এ এলাকার জনগণকে অস্ত্রের মুখে জীম্মি করে রাখতে। উন্নয়ন ও আধুনিকতার ছোঁয়া থেকে দূরে রাখতে। এলাকার জনগণের উপার্যিত অর্থ থেকে চাঁদা আদায় করে ভোগবিলাসী জীবন যাপন করছে সন্ত্রাসীরা। এ অঞ্চলের জনগণের ভাগ্য উন্নয়নের লক্ষে সরকার ও নিরাপত্তাবাহিনীর আন্তরিকতায় আজ সাজেক পর্যটন কেন্দ্র হয়েছে। আর এ পর্যটন কেন্দ্র হওয়ায় সাজেকের জনগণের জীবনযাত্রার মান ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে। এ উন্নয়নে সন্ত্রাসী গোষ্ঠীরা একের পর এক বাধা সৃষ্টি করে এলাকার জনগণকে উন্নয়নের ছোঁয়া থেকে বঞ্চিত করতে বিভিন্ন অপকৌশলের পথ অবলম্বন করছে। সাজেকের জনগণের এ উন্নয়নের অগ্রযাত্রাকে কোন মহল বা সন্ত্রাসি গোষ্ঠি যেন বাধা সৃষ্টি করতে না পারে সে ব্যাপারে সকলকে সজাগ থাকার জন্য আহ্বান জানান তিনি।

এসময় মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন বাঘাইহাট জোন অধিনায়ক লে ক. আলী হায়দার সিদ্দীকী(পিএসসি), বাঘাইহাট জোনের উপ-অধিনায়ক মেজর মঈনুল, সাজেক থানার অফিসার ইনচার্জ নুরুর আনোয়ার, সাজেক ইউপি চেয়ারম্যান নেলশন চাকমা, বঙ্গলতলী ইউপি চেয়ারম্যান জ্ঞানজ্যোতি চাকমাসহ বাঘাইহাট জোনের আওতাধীন এলাকার সকল গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।




সবাইকে সাথে নিয়ে সাজেকের উন্নয়নের ধারা বজায় রাখার আহ্বান

untitled-1-copy

সাজেক প্রতিনিধি:

রাঙ্গামাটির সাজেকের রুইলুই পাড়ায় মঙ্গলবার সকাল ১০টায় দুঃস্থদের মাঝে টিন, কম্বল, স্কুল ব্যাগ ও পাঠ্য বই বিতরনকালে রুইলুই পাড়াবাসীর উদ্দেশ্যে খাগড়াছড়ি রিজিয়ন কমান্ডার ব্রি.জে মাহাবুব উল আলম(পিএসসি) বলেন, সবাইকে সাথে নিয়ে সাজেকের উন্নয়নের ধারা বজায় রাখতে হবে।

তিনি প্রসঙ্গ উল্লেখ করে বলেন, ৩১ অক্টোবর ২০১৪ সালে রুইলুই পাড়াই নিরাপত্তাবাহিনী তত্ত্বাবধানে পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তোলার পর এ অঞ্চলের মানুষের ব্যাপক আর্থ সামাজিক উন্নয়ন ঘটেছে। খাগড়াছড়ি হতে শুরু করে সাজেক পর্যন্ত মানুষের মাঝে পর্যটনকে কেন্দ্র করে ব্যাপক কর্ম সংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।

তিনি আরও বলেন এ পর্যটনকে কেন্দ্র করে যখন পাহাড়ের মানুষের অর্থনৈতিক মুক্তি মিলেছে তখন একটি স্বার্থান্বেষী মহল ব্যক্তিগত স্বার্থ চরিতার্থে পর্যটন বন্ধের পায়তারা চালাচ্ছে।

তিনি এ ব্যাপারে স্থানীয় জনগণকে সতর্ক থাকার এবং ব্যক্তিমহলের উস্কানীমূলক কথাবার্তায় ভুল পথে পা না বাড়িয়ে এলাকার উন্নয়নে পাহাড়ী বাঙ্গালী বিভেদ ভুলে একসাথে কাজ করার আহ্বান জানান।

উল্লেখ্য যে রুইলুই পাড়ার সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ পর্যটনের মাধ্যমে উন্নতি লাভ করলেও এখনও কিছু ত্রিপুরা জনগোষ্ঠীর জনগণ এ উন্নয়ন কর্মখাণ্ডে পিছিয়ে আছে। তিনি পিছিয়ে পড়া এসকল জনগণের উন্নয়নে সকলকে একযোগে কাজ করতে আহ্বান জানান এবং এ এলাকার জনগণের মাঝে নিরাপত্তাবাহিনীর সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলে অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

সংক্ষিপ্ত বক্তব্য শেষে তিনি দুঃস্থদের মাঝে ৫০টি কম্বল, ৫বান্ডিল টিন ও শিশুদের  স্কুল ইউনিফরম, ব্যাগ ও পাঠ্য বই বিতরন করেন।

এসময় বিতরনী অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বাঘাইহাট জোনের অধিনায়ক লে. ক. আলী হায়দার সিদ্দীকী(পিএসসি) রুইলুই পাড়ার হেডম্যান লাল থাং লুসাউসহ এলাকার কার্বারী ও জনসাধারণ।




পাহাড়ে পর্যটন বিকাশে উপজাতি সন্ত্রাসীদের বাধা : হাজার কোটি টাকা রাজস্ব বঞ্চিত হচ্ছে সরকার

সাজেক১

মিয়া হোসেন, পার্বত্যাঞ্চল থেকে ফিরে:
উচু-নীচু পাহাড়, পাহাড়ের বুক চিরে প্রবাহিত ঝর্ণা, নয়নাভিরাম সবুজ গাছপালা, হাত বাড়ালেই যেন ছোয়া যায় মেঘ, আকাশের বিশালতা যেন হাতছানি দিয়ে ডাকে। এ সবই রয়েছে আমাদের মাতৃভূমির তিন পাবর্ত্য জেলায়। একটু ছুটি পেলেই পর্যটকরা ছুটে যায় পাহাড়ী এলাকায় ঘুরতে। কিন্তু এ এলাকায় পর্যটন বিকাশে পদে পদে বাধা দিচ্ছে উপ-জাতি সন্ত্রাসীরা। এমন কী পর্যটকদের আগমন ঠেকাতে বিভিন্ন সময় সন্ত্রাসীরা হামলা চালাচ্ছে, আর চুরি, ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটছে অহরহ।

সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, পার্বত্য এলাকায় পর্যটন বিকশিত করতে পারলে প্রতি বছর সরকার ৪ থেকে ৫ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আহরণ করতে পারবে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, বাংলার দার্জিলিং খ্যাত সাজেক পর্যটন কেন্দ্রে দর্শনার্থীদের ভিড়। বিশেষ করে ছুটির দিনগুলোতে এখানে থাকার জন্য কক্ষ পাওয়া যায় না। আগে থেকেই বুকিং হয়ে যায়। প্রতিটি কক্ষের ভাড়া এক হাজার টাকা থেকে ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত।

সরেজমিন রিপোর্ট

স্থানীয় সাজেক এলাকার বাসিন্দারা জানান, আমরা এই পর্যটন কেন্দ্রের কারনে অনেক উপকৃত হচ্ছি। আমরা পাহাড় পুড়িয়ে জুম চাষ করতাম। কিন্তু এখন এই পর্যটন কেন্দ্রে আয় দিয়েই গোটা বছর চলে যায়। কষ্ট করে জুম চাষ করতে হয় না। কিন্তু কিছু সংখ্যক সন্ত্রাসীরা নানাভাবে এই পর্যটন কেন্দ্রের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে যাচ্ছে।

গত কয়েক মাস আগে ‘বৃহত্তর সাজেক ইউনিয়নবাসী’ ব্যানারে পর্যটনের বিরুদ্ধে একটি লিফলেট প্রচার করেছে সন্ত্রাসীরা। পাহাড়ে মানুষের সমাগম বাড়লে সন্ত্রাসীরা আতঙ্কিত হয়ে যায়, সন্ত্রাসী কর্মকান্ড চালাতে তারা ভয় পায়। এ জন্য পর্যটনের বিরুদ্ধে তারা অবস্থান নিয়েছে।

সাজেকের স্থানীয় অধিবাসীরা জানান, সাজেক পর্যটন কেন্দ্র স্থাপনের মাধ্যমে এই দুই পাড়ার দারিদ্র জনগনের ব্যাপক আর্থ সামাজিক উন্নয়ন ঘটেছে। এখন আমরা স্ত্রী পরিবার নিয়ে খেয়ে পরে সুখে বাস করতে পারছি।

সাজেক পর্যটনকে কেন্দ্র করে ৩৫জন দারিদ্র ত্রিপুরা ও মিজো, পাংখু ব্যক্তিবর্গের সরাসরি কর্মসংস্থান হয়েছে। সেই সাথে স্থানীয় ব্যক্তি উদ্যোগে ছোট বড় ৩০-৩৫টি রিসোর্ট, হোস্টেল গড়ে উঠেছে, যার দ্বারা আরো অনেক পরিবারের অর্থনৈতিক উন্নয়ন সাধন হয়েছে। আমরা এলাকাবাসী আমাদের ধর্মীয় মূল্যবোধ, কৃষ্টি ও সংস্কৃতি সমুন্নত রাখতে বদ্ধ পরিকর।

তারা আরো বলেন, পর্যটনের জন্য আমাদের কোন পরিবার ও ব্যক্তিকে উচ্ছেদ হতে হয়নি বরং হেডম্যানের সহায়তায় নতুন স্থানে পরিকল্পিত ও আধুনিক বাসস্থান তৈরী করে দেওয়া হয়েছে, যা আমাদের উপকৃত করেছে।

সাজেক পর্যটন মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অনিত্য ত্রিপুরা বলেন, আমাদের সমিতির সদস্য ১৬জন। তবে এখানে ৩৫-৩৬টি আবাসিক হোটেল রয়েছে। এতে ৩-৪ হাজার মানুষ একত্রে বাস করতে পারে। আমার দু‘টি হোটেল রয়েছে। তা থেকে প্রতি মাসে ৩০-৩৫ হাজার টাকা আয় হয়। আগে জঙ্গলে জুম চাষ করতাম, এখন আর জুম চাষ করতে হয় না।

তিনি জানান, একটি গ্রুপ পাহাড়ে পর্যটনের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে। তবে এখন আঞ্চলিক সংগঠনগুলো কোন চাপ দিচ্ছে না। কিন্তু সেনাবাহিনীর উপস্থিতি না থাকলে তারা চাঁদা চাইতে পারে বলে তিনি আশংকা করেন।

জানা গেছে, খ্রীষ্টান ধর্মাবলম্বীদের বড় দিন ও শুক্র, শনিবারের সাপ্তাহিক ছুটির টানা ছুটিতে রাঙামাটিতে পর্যটকের ঢল নেমেছে। এসব পর্যটকদের পদচারনায় মূখর হয়ে উঠেছে পার্বত্য শহর রাঙামাটি। শহরের পর্যটন কেন্দ্র, আবাসিক হোটেল, বাস টার্মিনালগুলোতে পর্যটকদের উপচে পড়া ভীড় দেখা গেছে।

এদিকে শহরের সবকটি হোটেল আগাম বুকিং হয়ে যাওয়ায় রাঙামাটিতে আগত পর্যটকরা আবাসন সংকটে পড়েছেন।

পর্যটন কর্পোরেশন ও বিভিন্ন সূত্রের তথ্য মতে তিন দিনে রাঙামাটিতে ৪০ হাজারের অধিক পর্যটকের আগমন ঘটেছে। বড়দিনসহ টানা ছুটি থাকায় পর্যটকদের বাড়তি চাপ পড়েছে বলেও জানান সংশ্লিষ্টরা।

রাঙামাটি পর্যটন কর্পোরেশন কর্তৃপক্ষ জানায়, এ তিন দিনে শুধুমাত্র পর্যটন কর্পোরেশনের ঝুলন্ত ব্রীজে দর্শনার্থী প্রবেশ করেছে ১২ হাজারের অধিক। কর্পোরেশনের মোটেল ও কটেজ এর সবগুলো সীট ২৫ডিসেম্বর পর্যন্ত বুকিং হয়ে গেছে। এতে কর্পোরেশনের প্রায় ২০ লক্ষ টাকার রাজস্ব আয় হয়েছে।

রাঙামাটি পর্যটন কমপ্লেক্সের ব্যবস্থাপক অলোক বিকাশ চাকমা জানান, টানা ছুটি আর ডিসেম্বর মাস হওয়ায় রাঙামাটিতে ব্যাপক পর্যটকের আগমন ঘটেছে। প্রতিদিন গড়ে ৪ হাজার পর্যটক ঝুলন্ত ব্রীজে প্রবেশ করছে।
আবাসিক হোটেল মালিক নেছার আহমেদ জানান, শহরের প্রায় সব হোটেলের সীট আগাম বুকিং হয়ে গেছে। এতে হোটেল ব্যবসা বেশ চাঙ্গা হয়েছে বলেও তিনি জানান।

এদিকে পর্যটকের আগমন বাড়ায় কাপ্তাই হ্রদের টুরিস্ট বোট চালক, শহরের অটোরিক্সা চালক, উপজাতীয় বস্ত্র বিতান ও হোটেল রেস্টুরেন্টগুলো ব্যস্ত সময় পার করছে।

পাহাড়ে পর্যটনের সম্ভাবনা সর্ম্পকে সাবেক প্রতিমন্ত্রী আওয়ামী লীগ নেতা বাবু দীপঙ্কর তালুকদার বলেন, যদি পর্যটনকে ভালোভাবে বিকশিত করা যায়। তাহলে আমরা পাহাড়ের পর্যটন থেকে সরকারের জাতীয় রাজস্ব খাতে কয়েক হাজার কোটি টাকা রাজস্ব দিতে পারি। কিন্তু কিছু সন্ত্রাসীরা পর্যটকদের পকেট হাতিয়ে টাকা পয়সা নিয়ে নেয়। চুরি, সন্ত্রাসীর কারণে পর্যটন বিকশিত হচ্ছে না। তিনি ইউপিডিএফ ও জেএসএসকে একই মুদ্রার এপিঠ ওপিঠ বলে আখ্যায়িত করেন।

খাগড়াছড়ি জেলা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক এস এম শফি বলেন, আলুটিলা ইকোট্যুরিজম পর্যটনসহ বিভিন্নস্থানে পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তুলতে হবে। আলুটিলা থেকে কোন বাসিন্দাদের উচ্ছেদ ছাড়াই সেখানে ইকোট্যুরিজম তৈরী করা যাবে। কিন্তু একটি মহল এ পর্যটনের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে।

উল্লেখ্য, খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসন জেলার পর্যটন খাতের উন্নয়নে সম্প্রতি সদর ও মাটিরাঙ্গা উপজেলার তিন মৌজার ৭০০ একর জমি অধিগ্রহণ করে বাংলাদেশ ইকোনমিক জোন অথরিটির মাধ্যমে বিশেষ প্রকল্প গ্রহণ করেছিলো। এসব এলাকার উপজাতিদের উচ্ছেদ আতঙ্কে পাহাড়ী আঞ্চলিক সংগঠনগুলো এ নিয়ে প্রতিবাদ ও আন্দোলন চালিয়ে আসছিলো। এজন্য বর্তমানে এ প্রকল্পের কাজ বন্ধ রয়েছে।