খাগড়াছড়ির সাম্প্রদায়িক-সম্প্রীতির বন্ধনকে আরও সুদৃঢ় করার আহ্বান জানালেন কংজরী চৌধুরী

নিজস্ব প্রতিবেদক, মাটিরাঙ্গা:

হৃদয়ে অসাম্প্রদায়িক চেতনা ধারন করে সকল সম্প্রদায়ের মানুষের অংশ গ্রহণে হিন্দু-মুসলমানসহ প্রতিটি ধর্মের উৎসব গুলো সম্প্রীতির মহা পরিচয় বহন করে উল্লেখ করে খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কংজরী চৌধুরী বলেছেন, ঈদের আনন্দ যেমন সবাই ভাগ করে নেয়, তেমনি পুজোৎসবও সব ধর্মের লোকজন ভাগাভাগি করে নেয়।

খাগড়াছড়ি জেলাকে সাম্প্রদায়িক-সম্প্রীতির জনপদ উল্লেখ করে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রয়েছে বলেই সরকারের উন্নয়ন তরান্বিত হচ্ছে। আগামীতেও সবসময় খাগড়াছড়ির সাম্প্রদায়িক-সম্প্রীতির বন্ধনকে আরো সুদৃঢ় ও অটুট রাখার আহ্বান জানান কংজরী চৌধুরী।

রোববার বিকাল সাড়ে তিনটায় মাটিরাঙ্গা কেন্দ্রীয় শ্রী শ্রী জগন্নাথ মন্দিরে ভগবান জগন্নাথ দেবের রথযাত্রার উদ্বোধনকালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মাটিরাঙ্গা কেন্দ্রীয় সার্বজনীন শ্রী শ্রী জগন্নাথ মন্দির পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও মাটিরাঙ্গা সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হিরনজয় ত্রিপুরার সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মাটিরাঙ্গা পৌরসভার মেয়র মো. শামছুল হক বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন।

বাংলাদেশ ত্রিপুরা কল্যান সংসদের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি মনিন্দ্র কিশোর ত্রিপুরা, মাটিরাঙ্গা ডিগ্রি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ প্রশান্ত কুমার ত্রিপুরা, মাটিরাঙ্গা উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম-আহ্বায়ক সুবাস চাকমা, মাটিরাঙ্গা সদর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মিলন কান্তি ত্রিপুরা, মাটিরাঙ্গা কেন্দ্রীয় রক্ষাকালী মন্দিরের সভাপতি বাবুল আইচ ও সাধারণ সম্পাদক স্বপন কান্তি পালসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সনাতন সম্প্রদায়ের জগন্নাথ ভক্তবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

পরে তিনি জগন্নাথ দেবের হাজারো ভক্তদের সাথে নিয়ে রথ টেনে ভগবান শ্রী শ্রী জগন্নাথ দেবের রথযাত্রার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।




মাটিরাঙ্গায় বিএনপি নেতা নজরুল ইসলামের পরিবারের মাঝে তারেক রহমানের ঈদ উপহার

নিজস্ব প্রতিবেদক, মাটিরাঙ্গা:

বিগত পৌরসভা নির্বাচন চলাকালীন দুর্বৃত্তের হামলায় নিহত বিএনপি নেতা মো. নজরুল ইসলাম (রঙ মিয়া) পরিবারের মাঝে বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান’র পাঠানো ঈদ উপহার প্রদান করা হয়েছে। শনিবার (২৫ জুন) বিকালের দিকে তারেক রহমানের পক্ষ থেকে নিহতের পরিবারের হাতে ঈদ সামগ্রী পৌঁছে দেন মাটিরাঙ্গা উপজেলা বিএনপি’র নেতৃবৃন্দ।

একই সময়ে বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ঈদ শুভেচ্ছা কার্ড তুলে দেয়া হয় নিহত বিএনপি নেতা মো. নজরুল ইসলামের স্ত্রীর হাতে। এসময় আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন মো. নজরুল ইসলামের বিধাব স্ত্রী।

এসময় মাটিরাঙ্গা উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান নাছির আহাম্মদ চৌধুরী, মাটিরাঙ্গা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. বদিউল আলম, মাটিরাঙ্গা পৌরসভা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. বাদশা মিয়া, খাগড়াছড়ি জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মো. ইব্রাহিম খলিল, মাটিরাঙ্গা উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক জিয়াউর রহমান, মাটিরাঙ্গা পৌর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. শাহজালাল কাজল, উপজেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মো. ফোরকান ইমামী ও ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মো. লাতু মিয়া লিডার সহ বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদল নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

এসময় খাগড়াছড়ি জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মো. ইব্রাহিম খলিল বলেন, খাগড়াছড়ি জেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য ওয়াদুদ ভুইয়ার নেতৃত্বে বিএনপির নেতাকর্মীরা দুঃসময়ে আপনাদের পাশে আছে। সুসময়ে বিএনপি নিহত নজরল ইসলামের পরিবারের দায়িত্ব নেবে ওয়াদুদ ভুইয়ার এমন প্রতিশ্রুতির কথা জানিয়ে তিনি বলেন, নিহত নজরল ইসলামের হত্যার যথাযথ বিচার হবে। প্রকৃত হত্যাকারীদের বিচারের আওতায় আনা হবে।

প্রসঙ্গত, ২০১৫ সালের ২২ ডিসেম্বর খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গা পৌরসভা নির্বাচন চলাকালীন রাত পৌনে ৮টার দিকে মাটিরাঙ্গা পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ইসলামপুর এলাকায় মাটিরাঙ্গা উপজেলা কৃষকদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি মো. নজরুল ইসলাম (রঙ মিয়া) কে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা।




রামু সমিতির উদ্যোগে এতিমখানা ও দরিদ্র জনগোষ্ঠির মাঝে জাকাতের অর্থ বিতরণ

রামু প্রতিনিধি:

ঢাকাস্থ রামু সমিতির উদ্যোগে এতিমখানা ও দরিদ্র জনগোষ্ঠির মাঝে জাকাত ফান্ডের অর্থ বিতরণ করা করা হয়েছে।

শনিবার (২৪ জুন) সকাল দশটায় রামু কেন্দ্রিয় জামে মসজিদ কমপ্লেক্সে রামুর বিভিন্ন এতিমখানার প্রতিনিধিদের হাতে জাকাত তহবিলের অর্থ হস্তান্তর করা হয়।

এসময় রামু কেন্দ্রিয় জামে মসজিদ কমপ্লেক্স এর সভাপতি অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক মাওলানা মোহাম্মদ তৈয়ব, রামু জামেয়াতুল উলুম মাদ্রাসার মুহতামিম মাওলানা শামসুল হক, খুনিয়াপালং দারিয়ারদিঘী মারকাযুল হুদা আল ইসলামী মাদ্রাসার পরিচালক মাওলানা কেফায়েত উল্লাহ,  ঢাকাস্থ রামু সমিতির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আজিজুল ইসলাম, আজীবন সদস্য নুরুল কবির, রামু কেন্দ্রিয় জামে মসজিদ কমপ্লেক্স পরিচালনা কমিটির সদস্য মামুনুল হক, সাংবাদিক সোয়েব সাঈদ উপস্থিত ছিলেন।

এছাড়াও রামুর ১১টি ইউনিয়নে রামু সমিতির নিজস্ব উদ্যোগে দরিদ্র জনগোষ্ঠিকে জাকাতের অর্থ বিতরণ অব্যাহত রয়েছে। সমিতির নেতৃবৃন্দের সার্বিক তত্ত্বাবধানে স্বচ্ছতার সাথে এতিমখানা ও দরিদ্র জনগোষ্ঠিকে জাকাত বিতরণ কার্যক্রম রামুর সচেতন মহলে প্রশংসিত হয়েছে।

সংগঠনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আজিজুল ইসলাম, ঢাকাস্থ রামু সমিতি এ প্রথমবার জাকাত সংগ্রহ ও বিতরণের উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে। সকলের সহযোগিতা পেলে আগামীতে এ উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে।




দুর্গতের পাশে রাঙামাটি মেডিকেলের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা

নিজস্ব প্রতিনিধি:

রাঙামাটির ভূমিধ্বসে মারা যায় অসংখ্য নিরীহ মানুষ, নেমে আসে বিপর্যয়। সুন্দর পাহাড়ে ঘেরা শহরটি বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে অন্য শহর হতে। যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন শহরে যেনো নেমে আসে অসভ্য কালোছায়া। স্বজনহারা, ঘরহারা মানুষরা তখন আশ্রয় নেয় বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্রে।

রাঙামাটি মেডিকেলের ছাত্ররা এসব কিছুর সাক্ষী, নিজ চোখে দেখেছে মাটিচাপা লাশ, স্বজনহারা মানুষের হাহাকার। দূর্যোগের কারণে বন্ধ হয় কলেজ, হল ছেড়ে চলে যায় সবাই। কিন্তু যে শহরে তারা বিদ্যার্জনে এসেছে যে মানুষগুলো তাদের কে বিভিন্নভাবে আপন করে নিয়েছে, সাহায্য করেছে বিভিন্ন ভাবে।

তাদের প্রতি, পাহাড়ের প্রতি মমতার টানে মেডিকেল কলেজের ২য় ব্যাচের মনিটর অর্নব ও কামরুল হাসান সজীব উদ্যোগ নেয় তাদের পাশে দাঁড়ানোর। সাথে সাথে সাড়া মেলে ব্যাচের সব শিক্ষার্থীর। ১৭ তারিখে ফেসবুকে তৈরি হলো ইভেন্ট ‘ভুমিধ্বসে দুর্গতদের পাশে এগিয়ে আসুন’। সাড়া পাওয়া যায় ঢাকা, চট্টগ্রামের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অধ্যায়নরত বন্ধুদের।

এছাড়াও এতে সাড়া দেয় কলেজের অধ্যক্ষ ডা. টিপু সুলতান, ডা. বিপ্লব বড়ুয়াসহ অন্যান্য শিক্ষকদের। যাদের অনুপ্রেরণা ছাত্রদের এগিয়ে যেতে সাহস যোগায়। শুরু হলো বিভিন্ন স্থান হতে সাহায্য তোলা, বন্ধুদের কেউ ডোনেশন বক্স নিয়ে ছুটে বেড়াচ্ছে শহরের মার্কেটে মার্কেটে, কেউ যাচ্ছে কোচিং সেন্টারে, কেউ বা স্যারদের কাছে। বিভিন্ন সংগঠন যেমন হাতেহাত ফাউন্ডেশন সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন।

একদিকে খোঁজ চলছে আশ্রয়কেন্দ্রে কোন জিনিসটির অভাব, কোনটি পেলে এ ঘরহারা, স্বজনহারা মানুষরা একটু স্বস্তি পাবে যা ত্রাণ হিসেবে দেয়া যাবে। ৫দিনের তৎপরতায় ৩০০টি পরিবারকে ১৭টি করে ত্রাণ সামগ্রী দেবার মতো অর্থের যোগান মেলে। ফল স্বরুপ ২২ জুন ত্রাণ দেয়ার জন্য ৭জন অর্নব, সজীব, সাবিত, সাঈদ, জয়দেব, ইফরাদ, চয়ন। রাঙামাটির ছাত্রসহ অন্যান্য হাতেহাত ফাউন্ডেশনের সদস্য আরিফ, রমিজ, ফারুক, মুহিব, কামরুল, রাকিব।

এছাড়ও মো. বিল্লাল, অসীম, পরাগ, ত্রাণ নিয়ে বোট সহযোগে রওনা দেয়। বেলা ১২টার পর থেকে শুরু ত্রাণ বিতরণ যেখানে উপস্থিত ছিলেন অধক্ষ ডা. টিপু সুলতান, রাঙামাটি মেডিকেল কলজের কয়েকজন সিনিয়র শিক্ষক। ত্রাণ বিতরণের আগ মুহূর্ত থেকে শুরু মুষুলধারে বৃষ্টি, যেনো থামতেই চায় না। কিন্তু এ বাঁধা থামাতে পারেনি এ তরুণদের। টানা ৬-৭ ঘন্টা বৃষ্টিতে ভিজে ভিজে ৫টি আশ্রয়কেন্দ্র রাঙামাটি সরকারি উচ্চবিদ্যালয়, পুলিশ লাইন্স স্কুল, মনোঘর আবাসিক স্কুল, যুব উন্নয়ন কেন্দ্র, ভেদভেদি পৌর উচ্চবিদ্যালয়সহ একটি প্রত্যন্ত গ্রামের নাম উল্লাছড়া ত্রাণ দেয়া হয়। সন্ধ্যা নাগাদ ত্রাণ কাজ শেষ করে এ তরুণরা প্রবল বর্ষণের মাঝে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বোট সহযোগে রওনা দেয়। বাসায় ফিরে রাত ১২টার পর।




ক্ষতিগ্রস্তদের ত্রান দিল চট্টগ্রামের ‘ইরা’

নিজস্ব প্রতিনিধি:

চট্টগ্রামের সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবি সংগঠন ‘ইরা’র পক্ষ থেকে রাঙামাটিতে পাহাড় ধ্বসে ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে ত্রান সহায়তা দেয়া হয়েছে।

শুক্রবার সকাল থেকে রাঙামাটির বিভিন্ন আশ্রয় কেন্দ্রে ঘুরে ঘুরে এ সহায়তা প্রদান করা হয়। আশ্রয় কেন্দ্রে আশ্রয় নেয়া লোকজনের মাঝে শুকনো খাবার, ওষুধ, সাবান বিতরণ করেন তারা। উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, মোনঘর আবাসিক স্কুল, উলুছড়া, আলুটিলাসহ বেশ কয়েকটি আশ্রয় কেন্দ্রে প্রায় পাঁচ শতাধিক লোকজনের মাঝে এসব ত্রান সহায়তা দেয়া হয়।

এসময় সংগঠনের সভাপতি প্রবীর দেবনাথ, সহ-সভাপতি শুভ বিশ্বাস, সাধারণ সম্পাদক জয়া শর্মা, সাংগঠনিক সম্পাদক তাসলিমুল হক শাওন, অর্থ সম্পাদক জয় পাল, জন যোগাযোগ বিষয়ক সম্পাদক ক্য মং চিং মার্মা (জয়), সদস্য তুলি চৌধুরী, নাঈম মাহমুদ, ফয়জুর রহমান দীপ্ত, অরিজিৎ বড়ুয়া, মিশকাত উপস্থিত ছিলেন।




খাগড়াছড়িতে আ’লীগের দুই গ্রুপের ৬৮তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালন

নিজস্ব প্রতিবেদক, খাগড়াছড়ি:

পাল্টা-পাল্টি কর্মসূচির মধ্য দিয়ে খাগড়াছড়িতে আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপ ৬৮তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালন করেছে।

সকালে কদমতলি এলাকা থেকে খাগড়াছড়ি জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা এমপির নেতৃত্বে একটি বর্ণাঢ্য র‌্যালি শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে  টাউন হল চত্বরে স্থাপিত বঙ্গবন্ধুর স্মৃতি ভাস্কর্যে পুস্পমাল্য অর্পন করে।

এ সময় জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি রণ বিক্রম ত্রিপুরা, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক নির্মলেন্দু চৌধুরী, জেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা নুরুন্নবী চৌধুরী, জেলা পরিষদ সদস্য মংক্যচিং চৌধুরী, এডভোকেট আশুতোষ চাকমা. খগেশ্বর ত্রিপুরা, শতরূপা চাকমা, জেলা যুবলীগের সভাপতি যতিন কুমার ত্রিপুরা, সহ-সভাপতি মেহেদী হাসান হেলাল, জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি টিকো চাকমাসহ অঙ্গ সংগঠনগুলোর নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

অপর দিকে বহিস্কৃত জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জাহেদুল আলমের অনুসারিরা পৌরসভার মেয়র মো: রফিকুল আলমের নেতৃত্বে  সকালে কলেজ রোহ সড়কস্থ দলীয় কার্যালয় থেকে একটি র‌্যালি বের করে। র‌্যালিটি শহর ঘুরে টাউন হল চত্বরে স্থাপিত বঙ্গবন্ধুর স্মৃতি ভাস্কর্যে পুস্পমাল্য অর্পন করে।

এ সময় জেলা আওয়ামী লীগের শিক্ষা ও মানব সম্পদ বিষয়ক সম্পাদক দিদারুল আলম ও জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক জহির উদ্দিন ফিরোজসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।




মহালছড়ি বাঙ্গালী ছাত্র পরিষদের ইফতার মাহফিল ও উপজেলা কমিটি গঠন

মহালছড়ি প্রতিনিধি:
পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষ্যে খাগড়াছড়ি জেলার মহালছড়ি উপজেলার টাউন হলে বুধবার পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে পার্বত্য বাঙ্গালী ছাত্র পরিষদ মহালছড়ি উপজেলা শাখার আয়োজনে এক ইফতার মাহফিল ও উপজেলা কমিটি গঠন করা হয়।

সংগঠনের মহালছড়ি শাখার সভাপতি মো. শাহাদাৎ হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার আব্দুল মজিদ, পিবিসিপির খাগড়াছড়ি জেলা শাখার সভাপতি ইঞ্জি. লোকমান হোসেন, জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক আসাদুল্লাহ আসাদ, জেলা সহ-সভাপতি নজরুল ইসলাম, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ মহালছড়ি উপজেলা শাখার সভাপতি মো. জিয়াউর রহমান, মাটিরাঙ্গা বাঙ্গালী ছাত্র পরিষদের উপজেলা সভাপতি রবিউল ইসলাম, পার্বত্য বাঙ্গালী ছাত্র পরিষদের কেন্দ্রীয় ও খাগড়াছড়ি জেলা শাখার এবং মহালছড়ি উপজেলা শাখার নেতৃবৃন্দ ও কর্মী সমর্থকবৃন্দ।

ইফতারপূর্ব আলোচনা সভার শুরুতে সম্প্রতি সময়ে রাঙ্গামাটিতে পাহাড় ধ্বসে নিহত সেনা অফিসারসহ সকল নিহতদের এবং পার্বত্য সন্ত্রাসীদের হাতে খুন হওয়া ভাড়ায় চালিত মোটরসাইকেল চালক ছাদেকুল, শান্ত ও নয়নের রুহের মাগফিরাত কামনা করা হয়।

এ সময় মো. শাহাদাৎ হোসেনকে সভাপতি, বেলাল হোসেনকে সাধারণ সম্পাদক ও মাহবুবকে সাংগঠনিক সম্পাদক করে ৬১ সদস্য বিশিষ্ট মহালছড়ি উপজেলার পূর্নাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়। অনুষ্ঠানে এলাকার বিপুল পরিমাণ লোকজনের সমাগম হয়।




মহালছড়ি উপজেলায় পার্বত্য বাঙ্গালী ছাত্র পরিষদের ঈফতার পার্টি ও আলোচনা সভা

মহালছড়ি প্রতিনিধি:

পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষ্যে খাগড়াছড়ি জেলার মহালছড়ি উপজেলা টাউন হলে বুধবার পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষ্যে পার্বত্য বাঙ্গালী ছাত্র পরিষদ মহালছড়ি উপজেলা শাখার আয়োজনে এক ইফতার মাহফিল ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সর্বক্ষেত্রে পার্বত্য বাঙ্গালীদের সাংবিধানিক অধিকার দিতে হবে।” এ স্লোগানের উপর ভিত্তি করে আন্দোলন রত বাঙ্গালী জনগোষ্ঠির অধিকার আদায়ের আন্দোলনকারী ওই সংগঠনের মহালছড়ি শাখার সভাপতি মো. শাহাদাৎ হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার আব্দুল মজিদ।

অন্যান্য অতিথিদের মধ্যে আরো উপস্থিত ছিলেন যথাক্রমে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ মহালছড়ি উপজেলা শাখার সভাপতি মো. জিয়াউর রহমান এবং পার্বত্য বাঙ্গালী ছাত্র পরিষদের কেন্দ্রীয় ও খাগড়াছড়ি জেলা শাখার এবং মহালছড়ি উপজেলা শাখার নেতৃবৃন্দ ও কর্মী সমর্থকবৃন্দ। ইফতার পূর্ব আলোচনা সভার শুরুতে সম্প্রতি রাঙ্গামাটিতে পাহাড় ধ্বসে নিহত এবং পার্বত্য সন্ত্রাসীদের হাতে খুন হওয়া ছাদেকুল ও লোকমানের রুহের মাগফিরাত কামনা করা হয়। অনুষ্ঠানে এলাকার বিপুল পরিমাণ লোকের সমাগম হয়।




পানছড়ি উপজেলা বিএনপি, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের আয়োজনে ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত

নিজস্ব প্রতিবেদক, পানছড়ি:

জেলার পানছড়িতে উপজেলা বিএনপি, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের আয়োজনে এক ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বুধবার বিকাল ৫টায় উপজেলা বিএনপি কার্যালয়ের সামনে অনুষ্ঠিতব্য ইফতার মাহফিলে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. বেলাল হোসেন।

যুবদলের দপ্তর সম্পাদক মো. সেলিমের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি কংচাইরী মাষ্টার, এডভোকেট মঞ্জুর মোর্শেদ, যুগ্ম সম্পাদক তাজুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক এসএম আফসার, জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মাহাবুবুল আলম সবুজ, ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক ইব্রাহিম খলিল, স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক জয়নাল আবেদীন, জেলা বিএনপি নেতা নাছির আহাম্মদ চৌধুরী, যুবদল সভাপতি মো. তোফাজ্জল হোসেন ও ছাত্রদল সভাপতি নুরুল কায়েস শিমুল। ইফতার শুরুর আগে প্রয়াত জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান মিল্লাত, রাঙামাটির পাহাড় ধ্বসে নিহতদের আত্মার মাগফেরাত কামনা, দেশ ও জাতির সমৃদ্ধি এবং শান্তি কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।




পাহাড়ে সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে ঐক্য গড়ে তোলার আহ্বান

নিজস্ব প্রতিবেদক, বান্দরবান:

তিন পার্বত্য জেলায় সন্তু লারমার সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা বছরে ৪ শত কোটি টাকা চাঁদাবাজি করে। চাঁদা না দিলে অপহরণ-খুন করা হয়। পাহাড়ী-বাঙ্গালীদের কাছ থেকে তোলা চাঁদাবাজির এ টাকা দিয়ে সন্ত্রাসীরা অস্ত্র কিনে। আর সে অস্ত্র দিয়ে পার্বত্যবাসীদের হত্যা করে। জেএসএস চাঁদাবাজির টাকা দিয়ে নেতারা আরাম আয়েশে থাকে এবং তাদের ছেলে মেয়েদের বিদেশে পড়া-লেখা করায়।

জুম্মো জাতিস্বত্তার কথা বলে তারা পাহাড়ে বিভেদ ও অশান্তি সৃষ্টি করে চাকমা ছাড়া অন্য ক্ষুদ্র জাতিকে দাবিয়ে রাখতে চায়। সন্তু বাহিনী পাহাড়ি কোন ছেলে-মেয়ের হাতে কলম তুলে দিতে পারেনি। কলমের বদলে তুলে দিয়েছে অস্ত্র। আদর্শ জাতি গঠনের শিক্ষা না দিয়ে তারা সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজি করার প্রশিক্ষণ দিচ্ছে। শান্তি বাহিনীর সৃষ্টির শুরু থেকে এ পর্যন্ত তারা শুধু লুট করেছে। তাদের মতের বিরুদ্ধে গেলে স্থানীয়দের প্রাণ কেড়ে নেয়, নয়তো মোটা অংকের টাকা লুট। লুট করা ছাড়া তারা পাহাড়িদের আর্ত সামাজিক উন্নতি ও অর্থনৈতিক মুক্তির জন্য কিছুই করতে পারেনি।

মঙ্গলবার রাজবিলা ইউনিয়নের জামছড়ি বাজার এলাকায় আওয়ামী লীগ নেতা মং পু মারমা অপহরণের এক বছর পুর্তি উপলক্ষ্যে আলোচনা সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন।

সমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ক্য শৈ হ্লা। বান্দরবান সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি পাই হ্লা অং মারমার সভাপতিত্বে জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি মং ক্য চিং চৌধুরী, যুগ্ম সম্পাদক লক্ষিপদ দাশ, সাংগঠনিক সম্পাদক অজিত দাশ, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক মং হ্নৈ চিং মারমা, জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তিং তিং ম্যা মারমা, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ইয়াকুব চৌধুরী, বান্দরবান সদর ইউপি চেয়ারম্যান সা চ প্রু মারমা, রাজবিলা ইউনিয়ন চেয়ারম্যান ক্য অং প্রু মারমা, ছাত্রলীগ নেতা ম্যা সাইং নু মারমা, মং চ সিং মারমা  বক্তব্য ।

বক্তারা বলেন, সন্তু লারমাসহ জেএসএস নেতা-কর্মীদের মুখোমুখি হয়ে তাদের প্রশ্ন করুন জনসংহতি সমিতি পাহাড়ি কোন জাতির জন্য কি করেছেন। কার স্বার্থের জন্য তারা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও চাঁদাবাজি করছে। পাহাড়ের উন্নয়নকে কেন তারা বাঁধাগ্রস্ত করছেন। পাহাড়ে উন্নয়ন হলে জাতি শিক্ষিত ও উন্নত হবে, এটা সন্তু লারমারা চান না কেন। অস্ত্রের ভয়ে আর মাথা নিচু করে থাকার কোন প্রয়োজন নেই। মং পু অপহরণের পর জামছড়ির প্রতিটি পরিবার এখন প্রতিবাদী কন্ঠস্বর। জামছড়ির মতো পাহাড়ের যেখানে সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজি সেখানে তাদের বিরুদ্ধে ঐক্য গড়ে তুলতে হবে। পাহাড়ের প্রত্যকটি এলাকা সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হলে সন্ত্রাসীরা বান্দরবানে স্থান পাবে না।

বক্তারা আরো বলেন, পাহাড়ে সম্প্রীতি রক্ষার জন্য বীর বাহাদুরের বিকল্প নেই। বীর বাহাদুর সন্ত্রাসকে প্রশ্রয় দেয় না। তিনি সব সময় সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে পার্বত্য জেলার মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনে কাজ করে যাচ্ছেন। তাই শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করার জন্য বীর বাহাদুরকে আগামী নির্বাচনে বিপুল ভোটে জয়ী করার জন্য বক্তারা সকলের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। সমাবেশে মং পু মেম্বারের অপহরণ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার জন্য প্রশাসনের প্রতি দাবি জানান।

সমাবেশের আগে নেতা মং পু মারমা অপহরণের এক বছর পুর্তি উপলক্ষে মানববন্ধন, বিক্ষোভ মিছিল করা হয়।

উল্লেখ্য ২০১৬ সালের ১৩ জুন রাতে মং পু মেম্বারকে জামছড়ির তার নিজ বাসা থেকে অস্ত্রের মুখে দুর্বৃত্তরা অপহরণ করে নিয়ে যায়। এক বছর পার হলেও এখন পর্যন্ত তার কোন সন্ধান পাওয়া যায়নি।