লামায় ৪টি দোকান ভস্মীভূত

নিজস্ব প্রতিবেদক, বান্দরবান:

বান্দরবানের লামা বাজারে অগ্নিকাণ্ডে ৪টি দোকান ভস্মীভূত হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে ফায়ার সার্ভিস, সেনাবাহিনী, পুলিশ ও স্থানীয় জনসাধারণ চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন।

সূত্র জানায়, ভোর ৬টায় লামা বাজারের কেন্দ্রীয় মসজিদ সংলগ্ন বিদ্যুতের শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয় মেসার্স মিজান ট্রেডার্স এর ২য় তলায়। মূহুর্তে  আগুন ছড়িয়ে পড়ে পাশ্ববর্তী আরো তিনটি দোকানে ছড়িয়ে পড়ে।

স্থানীয়রা ফায়ার সার্ভিসকে খবর দিলে প্রায় দেড় ঘন্টা অভিযান চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। এসময় মেসার্স মিজান ট্রেডার্স, মক্কা এন্টারপ্রাইজ ও জনতা অটো রাইসমিল ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

লামা ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন লিডার মোজাম্মেল হক জানান, বিদ্যুতের শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে। প্রাথমিক ভাবে প্রায় ২৫ লক্ষ টাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা ক্ষতির পরিমান আরো বেশি বলে জানিয়েছেন। লামা উপজেলা নির্বাহী অফিসার খিনওয়ান নু সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।




লামায় সরকারি চাল কালো বাজারে

লামা প্রতিনিধি:

উপজেলায় সরকারের ওএমএসের চাল কালোবাজারে বিক্রয় করার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় জনসাধারণ বুধবার সন্ধ্যায় লামা পৌরসভার ছাগলখাইয়া এলাকা থেকে কালোবাজারে বিক্রিত ২শত কেজি চাল আটক করেছে।

ওএমএসের চাল কালোবাজারে বিক্রয় করার অভিযোগের বিষয়ে বান্দরবান জেলা প্রশাসক দিলীপ কুমার বণিক জানিয়েছেন, শীঘ্রই আমরা ব্যবস্থা নিচ্ছি।

উপজেলা খাদ্য অফিস জানিয়েছে, লামা পৌরসভায় ওএমএসের চাল বিক্রয় করার জন্য ৬জন ডিলার নিয়োগ করা হয়েছে। শুক্রবার ব্যতিত সপ্তাহে ৬দিন প্রতি ডিলার দৈনিক ১ মেট্রিকটন করে চাল বিক্রয় করবেন।

স্থানীয় অধিবাসী খাদিজা বেগম, তোরাব আলী ও আনোয়ারা বেগম জানান, লামা পৌরসভার ছাগলখাইয়া এলাকার দোকানদার দিল মোহাম্মদ সরকারি ওএমএসের চাল কালোবাজারে ক্রয় করে চড়া মূল্যে বিক্রি করে।

প্রতিনিয়ত এই অনিয়ম করলে বুধবার বিকালে সরকারি বস্তা হতে প্লাস্টিকের বস্তায় পরিবর্তন করার সময় স্থানীয় জনসাধারণের নজরে আসে। চাল গুলো দিল মোহাম্মদের মুদি দোকানের পাশে লিটন ফার্মিসিতে মজুদকালে জনগণ ধরে ফেলে। সাধারণ মানুষ ওএমএস ডিলারদের কাছ থেকে চাল ক্রয় করতে গেলে ডিলারগণ চাল নাই মর্মে ফেরত দেন। অভিযোগ উঠেছে ওএমএস ডিলারগণ চড়া মূল্যে ওএমএসের চাল কালো বাজারে বিক্রয় করেন।

জানা গেছে, চাল বিক্রয় তদারকী করার জন্য সরকারি কর্মকর্তা নিয়োগ করা হলেও অনেক তদারকী কর্মকর্তা ডিলারের গুদাম চিনেন না। ডিলারগণ নিজেদের কে ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের প্রভাবশালী নেতাদের আশীর্বাদপুষ্ট দাবি করে সরকারি খোলা বাজারের চাল দেদারছে কালোবাজারে বিক্রয় করছে।

গত ১৫ অক্টোবর ওএমএসের চাল বিক্রির সর্বশেষ তারিখ থাকলেও সরকারি অপর আদেশে তা পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত বর্ধিত করা হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে ওএমএস চাল তদারকী না করার জন্য উপজেলা খাদ্য অফিসের মাধ্যমে ওএমএস ডিলারগণ অনৈতিক সিন্ডিকেট তৈরি করেছেন।

দোকানদার রশিদা বেগম জানান, আমি কয়েকজন মানুষ দিয়ে ডিলারদের কাছ থেকে জনপ্রতি ১ বস্তা করে চাল সংগ্রহ করেছি। ছাগলখাইয়ার নিকটবর্তী লাইনঝিরি পয়েন্টের ডিলার অপু দাশ এর পক্ষে বড় ভাই বাবুল দাশ জানান, এই চাল আমার না।

এবিষয়ে ওএমএসের দায়িত্বপ্রাপ্ত তদারকী কর্মকর্তা ও উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার যতীন্দ্র মোহন মণ্ডল জানান, ডিলার প্রতিদিনকার ন্যায় আমার কাছে বিতরণকৃত মাস্টাররোল নিয়ে আসে, আমি প্রতিদিনকার ন্যায় মাষ্টাররোলে স্বাক্ষর করেছি। ডিলারের গুদামে কি পরিমাণ চাল মজুদ আছে বা কি পরিমাণ বিতরণ করেছে তা আমার জানা নেই। আমি আজকে সহকারে ডিলারের গুদামে ইতোপূর্বে পরিদর্শন করি নাই।

উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মিলন কান্তি চাকমা আলীকদমে অবস্থানের কথা জানিয়ে বলেন, আমার লোকবল কম বিধায় আমার করার কিছুই নাই।

লামা উপজেলা নির্বাহী অফিসার খিনওয়ান নু জানান, অভিযোগকারীরা আমার কাছে এসেছে।




বান্দরবানের লামা থেকে ৫০ হাজার লিটার দেশীয় মদ ও উপকরণ জব্দ


নিজস্ব প্রতিবেদক, বান্দরবান:

বান্দরবানের লামার আজিজনগর মারমা পাড়ায় ১৭ অক্টোবর মঙ্গলবার মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর অভিযান চালিয়ে প্রায় ৫০ হাজার লিটার দেশীয় মদ ও মদ তৈরির উপকরণ জব্দ করেছে। এ ঘটনায় স্থানীয় মিশু মারমা (৩৫) নামের এক মহিলাকে আটক করে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করে ছেড়ে দেয়।

এর আগেও কয়েকবার র‌্যাব, পুলিশ ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর অভিযান পরিচালনা করে মদ ও উপকরণ জব্দ করেছে একই এলাকা থেকে। বিভিন্ন সময়ের অভিযানে কয়েকজনকে আটক ও জরিমানাও করা হয়। কিন্তু মূল হোতারা সবসময় বাইরে থেকে যাচ্ছে। ফলে, আজিজ নগর ইউনিয়নে পাহাড়ী পল্লীগুলোতে দেশীয় মদ উৎপাদন বন্ধ করা যাচ্ছে না।

স্থানীয় জনগণের অভিযোগের ভিত্তিতে প্রশাসন অভিযান পরিচালনা করে ঠিকই। প্রশাসনের কতিপয় কর্মকর্তা অভিযানের খবর মূল হোতাদের আগে জানিয়ে দেয় বলে তাদের আটক করা যায় না। শর্ষের মধ্য ভুত থাকলে যা হয়।

আজিজ নগর বাজার সংলগ্ন মার্মা পাড়ায় প্রতি মাসে ২০ লক্ষ টাকার অধিক চোলাই মদ উৎপন্ন হয়। আর এখানে উৎপাদিত মদের চকরিয়া, চুনতি ও লোহাগড়াই ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। প্রশাসন কঠোরভাবে নজরদারী না করলে আজিজনগর ও আশেপাশের এলাকার যুব সমাজ ধংসের দারপ্রান্তে পৌঁছে যাবে বলে স্থানীয়রা জানান।

সূত্র জানায়, দেশীয় মদ বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদন করে বিক্রির উদ্দেশ্য মওজুদ করা হচ্ছে এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মার্মা পাড়ায় সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানে প্রায় ৫০ হাজার লিটার মদ, উপকরণ জব্দ করা হয়।

অভিযানে নেতৃত্ব দেন উপজেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সায়েদ ইকবাল। এসময় চট্টগ্রাম মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক ফজলুর রহমান, উপ-পরিচালক একেএম শওকত ইসলাম, শামীম আহমেদ, সহকারী পরিচালক জিল্লুর রহমান অভিযানে অংশ নেয়। পরে উদ্ধারকৃত চোলাই মদ ও মদ উপকরণ ধ্বংস করা হয়।




স্বামীকে ফিরে পেতে শশুড় বাড়িতে মনিকার অনশন

 

লামা প্রতিনিধি:

স্বামীকে ফিরে পেতে শশুড় বাড়িতে আমরণ অনশন করছেন উম্মে খাদিজা জামান (মনিকা)। সাভার থেকে বান্দরবানের লামা পৌর সদরের চাম্পাতলীস্থ বাড়িতে শনিবার সকাল থেকে অনশনে বসেন।

ভালবেসে বিয়ে করেছিলেন লামা উপজেলার সাবেক কৃষি কর্মকর্তা স্বপন কুমার দাস এর ছেলে মিশু দাসকে। মিশু দাস ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে ইসলামী শরিয়ত মোতাবেক নিকাহ রেজিষ্টার সম্পাদন করে মনিকাকে গত ১৪ মে ২০১৫ইং চট্টগ্রামে বিবাহ করেন। বিবাহ সক্রান্ত বিষয়ে নোটারী পাবলিক মূলে হলফনামা সম্পাদন করা হয়।

ঢাকা সাভারের পিতা মো. রফিকুজ্জামান সালাম মাতা রৌশন আরা বেগমের আদরের কন্যা উম্মে খাদিজা জামান মনিকা। লামা উপজেলার সাবেক কৃষি কর্মকর্তা স্বপন কুমার দাস এর ছেলে মিশু দাস। পরিবারের সাথে কক্সবাজারে বেড়াতে এসে মিশুর সাথে খাদিজার পরিচয় হয়। এরপর ভাব বিনিময় একপর্যায়ে মিশু ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন।

পরে মনিকাকে বিয়ের প্রস্তাব দিলে উভয়ের সম্মতিতে নোটারী পাবলিকের মাধ্যমে বিবাহ হয়। কিন্তু মিশুর পরিবার বিবাহ মেনে নিতে পারেনি। তারা চট্টগ্রাম জোরারগঞ্জ-এ বাসা ভাড়া করে থাকতো। মিশুর পরিবার শুরু করে বিভিন্ন ধরনের ষড়যন্ত্র।

গত ৯ অক্টোবর কাজের কথা বলে বাসা থেকে বের হয় মিশু। সে থেকে আর ফিরেনি। মনিকা ১০ অক্টোবর চট্টগ্রাম জোরারগঞ্জ থানায় একটি নিখোঁজ ডায়েরী করেন। এরই মধ্যে মিশুর মোবাইল থেকে মনিকার ছোট ভাইয়ের মোবাইলে একটি ম্যাসেজ যায়; তাতে লেখা রয়েছে ‘তোমরা তোমাদের বোনকে নিয়ে যাও আমিও চলে গেলাম’।

ষড়যন্ত্রের আভাস বুঝতে পেরে মনিকা ছুটে আসেন লামায়। শশুড় বাড়িতে খোঁজ নিলে তারা মনিকাকে পাত্তা দিচ্ছে না। মিশুর পরিবারের দাবী তারা ছেলেকে ত্যাগ করেছেন। মনিকার দাবী শশুর বাড়ির লোকজন মিশুকে তার কাছ থেকে সরিয়ে নিয়েছে।

স্বামীকে না নিয়ে সে লামা থেকে ফিরে যাবেনা। তাই শশুড় বাড়ির বারান্দায় শনিবার সকাল থেকে শুরু করেছে আমরণ অনশন। ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. ফরিদ উদ্দিন জানিয়েছেন, বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছে।




লামা কো-অপারেটিভ ব্যবস্থাপনা কমিটির র্নিবাচন সম্পন্ন


লামা প্রতিনিধি: লামা কো- অপারেটিভ ক্রেডিট ইউনিয়ন লিঃ এর ২৬তম বার্ষিক সাধারন সভা ও ব্যবস্থাপনা কমিটির নির্বাচন ২০১৭,অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বার্ষিক সাধারণ সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন লামা উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান, লামা উপজেলা আওয়ামীলীগ সভাপতি আলহাজ মোহাম্মদ ইসমাইল। শুক্রবার বার্ষিক সাধারণ সভা শেষে লামা আদর্শ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোট গ্রহনের মাধ্যমে নির্বাচন সম্পন্ন হয়।

দুপুর ১টা হতে বিকাল ৫ টা পর্যন্ত একটানা ভোট গ্রহন করে, মোট ১২ শত ৮৫ জন ভোটারের মধ্যে ৯শত ২৭ জন ভোটার ভোটদিয়ে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় তাদের প্রতিনিধি নির্বাচিত করে।

এবারের নির্বাচনে সভাপতি পদে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সভাপতি নির্বাচিত হন অচ্যু কুমার দাশ, সহ- সভাপতি পদে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বচিত হয় বিধান কান্তি দাশ।

অপর দিকে ৩৯৯ ভোট পেয়ে সাধারন সম্পাদক পদে নির্বাচিত হন কানু কান্তি দাশ, তার নিকট তম প্রতিদ্বন্দ্বী সুকুমার দেওয়ানজী পায় ৩২৭ ভোট, ক্যাশিয়ার পদে ৭৬৩ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয় মাইকেল আইচ,তার নিকট তম প্রতিদ্বন্দ্বী রাজিব দাশ পায় ২১২ ভোট, ডিরেক্টর পদে ৩ জন প্রার্থীর মধ্যে যথাক্রমে আশু কর্মকার ৬৬৩ ভোট পেয়ে ১ম ও মিন্টু কুমার দাশ ৫৪২ ভোট পেয়ে ২য় স্থান ও সমর কান্তি দাশ ৪০৩ ভোট পেয়ে ৩য় স্থান অধিকার করেন।

নির্বাচনে প্রজিাইডিং অফিসারের দায়িত্ব পালন করেন লামা উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা জুয়েল মজুমদার। নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন রুপন কান্তি চৌধুরি।




বান্দরবানে সন্দেহজনক কার্যকলাপে জড়িত থাকার অভিযোগে আরো এক মিয়ানমারের বৌদ্ধ ভিক্ষু গ্রেফতার

লামা প্রতিনিধি:

বাংলাদেশে অবৈধভাবে বসবাস করে সন্দেহজনক কার্যকলাপে জড়িত থাকার অভিযোগে মিয়ানমারের এক বৌদ্ধ ভিক্ষুকে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী গ্রেফতার করেছে।

সোমবার বিকালে লামা পৌরসভার হরিণঝিরি এলাকা থেকে মিয়ানমার নাগরিক ওরে বুংহ্লা মার্মা(৪২) কে আটক করা হয়। সে মিয়ানমারের রাখাইন প্রদেশের ক্যতরস্রোত জেলার পাওয়ারায়া থানার পাওয়ারায়া গ্রামের মৃত মংছিং প্রু মার্মার ছেলে।

বৌদ্ধ ভিক্ষু পরিচয় দিয়ে বাংলাদেশে অবৈধভাবে বসবাস করে সন্দেহজনক কার্যকলাপে জড়িত থাকার অভিযোগে সরই এলাকা থেকে গত শুক্রবার আরো এক মিয়ানমার নাগরিক হ্লাথোয়াই মার্মাকে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী গ্রেফতার করেছে।

জানা গেছে, মিয়ানমার নাগরিক ওরে বুংহ্লা মার্মা গত দেড় বছর যাবত লামা পৌরসভার হরিণঝিরি বৌদ্ধ কিয়াং এর ভিক্ষু পরিচয় দিয়ে বাংলাদেশে অবৈধভাবে বসবাস করে আসছে। স্থানীয় জনসাধারণ জানিয়েছেন, তার কাছে আরো অনেক অপরিচিত লোকজন আসা যাওয়া করত। সে সন্দেহজনক কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িত। তার বিরুদ্ধে গোয়েন্দাগিরির অভিযোগ উঠেছে। সোমবার আইন শৃঙ্খলা বাহিনী তাকে গ্রেফতার করেছে।

লামা থানার অফিসার ইনচার্জ আনোয়ার হোসেন জানিয়েছেন, গ্রেফতারকৃত বৌদ্ধ ভিক্ষু বাংলাদেশে অবস্থানের বৈধ কোন কাগজপত্র দেখাতে পারে নাই। তার বিরুদ্ধে বৈদেশিক আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে।




লামায় প্রশাসনের হস্তক্ষেপে বাল্য বিবাহ বন্ধ

লামা প্রতিনিধি:

লামা পৌরসভার পশ্চিম রাজবাড়িতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপে বাল্য বিবাহ বন্ধ করা হয়েছে। রবিবার (৮ অক্টোবর) সন্ধ্যায় সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সায়েদ ইকবাল কনের বাড়িতে উপস্থিত হয়ে বাল্য বিবাহ বন্ধ করেন। বাল্য বিবাহ করার অপরাধে বর পক্ষের ৫ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে।

রবিবার সন্ধ্যায় পৌরসভার পশ্চিম রাজবাড়ীর মুসলিম উদ্দিনের মেয়ে মর্জিনা বেগম (১২)এর সাথে লামা ইউনিয়নের চিউনিমুখ বরিশাল পাড়ার নুরুল ইসলামের ছেলে মো. আশরাফুল ইসলাম (১৫) এর বিবাহের আয়োজন করা হয়। বাল্য বিবাহ দেয়ার ব্যপারে নিষেধ করার পরও বর ও কনে পক্ষ মানতে চায়নি।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সায়েদ ইকবাল জানান, বাল্য বিবাহ করার অপরাধে বর আশরাফুল ইসলামকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।




লামা বাজারে পরিত্যক্ত অবস্থায় এলজি উদ্ধার

লামা প্রতিনিধি:

উপজেলা সদরের লামা বাজারের একটি হার্ডওয়্যারের দোকান সংলগ্ন এলাকা থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় একটি এলজি উদ্ধার করা হয়েছে। রবিবার  (৮ অক্টোবর) দুপুরে সেনাবাহিনী ও পুলিশ গোপন সংবাদের ভিত্তিতে যৌথ অভিযান চালিয়ে এলজি উদ্ধার করেছে।

লামা থানা অফিসার ইনচার্জ আনোয়ার হোসেন জানিয়েছেন, গোপন সূত্রে সংবাদ পেয়ে আইন শৃংঙ্খলা বাহিনী লামা বাজার কেন্দ্র্রীয় জামে মসজিদ সংলগ্ন এলাকায় সকাল থেকে অভিযান চালায়। দীর্ঘ তল্লাশির পর একটি হার্ডওয়াডের গুদাম সংলগ্ন এলাকায় পরিত্যক্ত অবস্থায় একটি এলজি উদ্ধার করা হয়েছে।

এ ঘটনায় লামা থানায় একটি মামলা রুজু করা হয়েছে।




মুক্তিযোদ্ধা ও আওয়ামীলীগ নেতা অর্জুন চন্দ্র শীল পরলোক গমন


নিজস্ব প্রতিবেদক, বান্দরবান
মুক্তিযোদ্ধা ও বান্দরবানের লামা উপজেলা আওয়ামীলীগের সাবেক সহ-সভাপতি অর্জুন চন্দ্র শীল শনিবার বিকালে লামা উপজেলা হাসপাতালে পরলোকগমন করেছেন। তিনি সাংবাদিক এস কে খগেশ প্রতি চন্দ্র খোকনের বাবা। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭০ বছর। তিনি স্ত্রী, দুই ছেলে ও তিন মেয়েসহ অনেক আত্মীয়-স্বজন ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

মুক্তিযোদ্ধা অর্জুন চন্দ্র শীল ১৯৭১ সালের মুক্তিযোদ্ধে অংশ নিয়ে দেশ স্বাধীন করতে যুদ্ধ করেছিলেন। তিনি দীর্ঘদিন বান্দরবান জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিলের ডেপুটি কমান্ডার ও লামা উপজেলা আওয়ামীলীগের সহ সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি শিক্ষানুরাগী ও পরোপকারী ছিলেন। রবিবার সকালে প্রয়াত অর্জুন চন্দ্র শীলের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া সম্পন্ন করার কথা রয়েছে।

তার মৃত্যুতে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রনালয়ের প্রতিমন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈসিং এমপি, লামা উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি মোহাম্মদ ইসমাইল, লামা উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার শেখ মাহাবুবুর রহমান শোক প্রকাশ ও পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।




লামায় মিয়ানমারের বৌদ্ধ ভিক্ষু ভূয়া কাগজপত্র তৈরি করে ভোটার হওয়ার চেষ্টাকালে গ্রফতার

লামা প্রতিনিধি:

বাংলাদেশে অবৈধভাবে অনুপ্রবেশ করে সন্ত্রাসী কার্যকলাপ করার অভিযোগে মায়নমারের এক নাগরিককে গ্রেফতার করা হয়েছে।

শনিবার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত মিয়ানমার সন্ত্রাসী হ্লাথোয়াই মার্মা (৩৫) কে বান্দরবান জেল হাজতে প্রেরণ করেছেন। নিজের নাম “রাজসেনা” পরিচয় দিয়ে ও ভূয়া জন্মসনদ এবং কাগজপত্র তৈরি করে ভোটার হওয়ার চেষ্টাকালে স্থানীয় জনসাধারণের সহযোগিতায় আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে সে গ্রেফতার হয়।

জানা গেছে, মিয়ানমারের রাখাইন প্রদেশের চিথুই জেলার কেওয়াকতো থানার খগডুক গ্রামের মংথেনু মার্মার ছেলে হ্লাথোয়াই মার্মা (৩৫) কে সরই কম্পোনীয়া এলাকা থেকে স্থানীয় জনসাধারণের সহযোগিতায় আইন শৃঙ্খলা বাহিনী শুক্রবার রাতে আটক করে লামা থানায় সোপর্দ করে।

ইউপি মেম্বার মো. নাছির উদ্দিন জানিয়েছেন, সরই ইউনিয়নের কম্পোনীয়া রেথোয়াই পাড়াস্থ বৌদ্ধ কেয়াং এর ভান্তে হিসাবে গত ১ বছর যাবত অত্র এলাকায় অবৈধভাবে বসবাস করে আসছে। সে পাহাড়ি সন্দেহভাজন লোকজনের সাথে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত মর্মে স্থানীয় জনসাধারণের সন্দেহ হয়। ভূয়া জন্মসনদ ও কাগজপত্র তৈরি করে ভোটার হতে চাইলে বিষয়টি ধরা পড়ে। বাংলাদেশের নাগরিক হিসাবে কোন ধরণের কাগজপত্র প্রদর্শন করতে পারে নাই।

লামা থানার অফিসার ইনচার্জ আনোয়ার হোসেন জানিয়েছেন, তার বিরুদ্ধে বৈদেশিক নাগরিক সম্পর্কৃত আইন ১৯৪৬ এর ১৪ ধারায় স্থানীয় ইউপি মেম্বার নাছির উদ্দিন এজেহার দায়ের করেছেন।