লামা সন্ত্রাসীদের অভয়ারণ্য

নিজস্ব প্রতিবেদক, বান্দরবান:

বান্দরবানের লামার দূর্গম এলাকাগুলো সন্ত্রাসীদের অভায়ারণ্যে পরিণত হয়েছে। সন্ত্রাসীদের চাঁদাবাজি, হত্যা ও অপহরণ কর্মকাণ্ডে অতিষ্ট হয়ে পড়েছে এলাকাবাসী। মঙ্গলবার লামা উপজেলা পরিষদ সভা কক্ষে আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় জেএসএস সস্ত্রাসী কার্যকলাপ বন্ধ করতে দূর্গম এলাকাগুলোতে নিরাপত্তা বাহিনীর স্থায়ী ক্যাম্প স্থাপনের দাবি জানিয়েছেন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার খিনওয়ান নু’র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে ছিলেন লামা উপজেলা চেয়ারম্যান থোয়াইনুঅং চৌধুরী। এ সময় সভায় পার্বত্য জেলা পরিষদ সদস্য মোস্তফা জামাল, লামা পৌরসভার মেয়র, মো. জহিরুল ইসলাম, লামা থানার অফিসার ইনচার্জ মো. আনোয়ার হোসেন, গজালিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বাথোয়াইচিং বক্তব্য রাখেন।

বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানরা জানান, সাম্প্রতিক সময়ে লামার দূর্গম এলাকাগুলোতে অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীরা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। জেএসএস সন্ত্রাসীদের কারণে দুর্গম এলাকার সাধারণ মানুষ আর নিরাপদে ও শান্তিতে নেই। এর থেকে রেহায় পাচ্ছেনা পাহাড়ে গাছ-বাঁশ আহরণকারী খেটে খাওয়া মানুষগুলোও।

গজালিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বাথোয়াইচিং মারমা অভিযোগ করে বলেন,  দাবিকৃত চাঁদা না পেয়ে একটি বিদ্যালয়ে ক্লাস বন্ধ করে দিযেছে সন্ত্রাসীরা। গজালিয়া ইউনিয়নের পাহাড়িকা স্কুল নামক ওই বিদ্যালয়টির নির্মিত নতুন ভবনে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদেরকে প্রবেশ করতে দিচ্ছেনা। অন্যান্য ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানরাও একই ধরণের অভিযোগ করেন। এর থেকে পরিত্রাণ পেতে লামা উপজেলা সদর থেকে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন এলাকাগুলোতে নিরাপত্তা বাহিনীর ক্যাম্প স্থাপনের দাবি জানান তারা।

সভায় বক্তব্য রাখেন, লামা উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান শারাবান তাহুরা, সহকারী কমিশনার (ভূমি) সায়েদ ইকবাল, সদর ইউপি চেয়ারম্যান মিন্টু কুমার সেন ও রুপসীপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান ছাচিং প্রুমার্মা প্রমুখ।




বান্দরবান থেকে শুকনো খাবার ক্ষতিগ্রস্তদের হাতে পৌঁছতে সময় লেগেছে ৩৮ দিন

লামা প্রতিনিধি:

লামা উপজেলায় সাম্প্রতিক সময়ে বন্যা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত ১২০ পরিবারের মাঝে শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়েছে। লামা উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান থোয়াই নু অং চৌধুরী ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার খিন ওয়ান নু গত সোমবার(২১ আগস্ট) উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে শুকনো খাবারের প্যাকেট ক্ষতিগ্রস্তদের হাতে তুলে দেন।

এ সময়ে আরও উপস্থিত ছিলেন লামা সদর ইউপি চেয়ারম্যান মিন্টু কুমার সেন ও ফাঁসিয়াখালী ইউপি চেয়ারম্যান জাকির হোসেন মজুমদার।

জানা গেছে, জেলা ত্রাণ ও পুর্নবাসন কার্যালয় গত ১৩ জুলাই লামা উপজেলার জন্য ১২০ প্যাকেট শুকনো খাবার বরাদ্দ দেখান। প্রতিটি প্যাকেটে রয়েছে ৫ কেজি চাল, ১ কেজি ডাল, সয়াবিন ১ লিটার, লবণ ১ কেজি, চিনি ১ কেজি, মুড়ি আধা কেজি ও চিড়া আধা কেজি।

উপজেলা ত্রাণ অফিস কর্তৃক জানা গেছে, গত ১৩ আগস্ট লামায় শুকনো খাবারের প্যাকেট পৌঁছে। বান্দরবান জেলা ত্রাণ ও পুর্নবাসন অফিস থেকে বরাদ্দ হওয়ার প্রায় ১ মাসের মাথায় বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তরা শুকনো খাবারের প্যাকেট পেলেন।




লামায় বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে শুকনো খাবার বিতরণ

নিজস্ব প্রতিবেদক, বান্দরবান:

দেরিতে হলেও সম্প্রতি লামা উপজেলায় বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়েছে। সোমবার উপজেলা প্রাশাসনের উদ্যোগে পরিষদ মিলনায়তনে কর্মসূচির উদ্বোধন করেন উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান থোয়াইনু অং চৌধুরী।

নির্বাহী অফিসার খিন ওয়ান নু’র সভাপতিত্বে লামা সদর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মিন্টু কুমার সেন, ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. জাকের হোসেন মজুমদার, সরই ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ফরিদ উল আলম, সরই ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ নেতা মো. নুরুল আলমসহ সুবিধা ভোগীরা উপস্থিত ছিলেন।




লামার ফাঁসিয়াখালী বগাইছড়ি ব্রিজ যেকোন মুহুর্তে ধসে যেতে পারে

লামা প্রতিনিধি:

বান্দরবান পার্বত্য জেলার লামা উপজেলার ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের বগাইছড়ি খালের উপর নির্মিত ব্রিজ যেকোন মুহুর্তে ধসে যেতে পারে। ব্রিজের বেইজের নিচের মাটি সরে গেছে। ব্রিজের সামনের অংশ জবর দখল করার উদ্দেশ্যে ব্যারিকেড দিয়ে নদীর পানি প্রবাহের গতি পরিবর্তন করা হয়েছে। পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের একটি তদন্ত টিম জরুরি ভিত্তিতে গাইড ওয়াল নির্মাণ করে ব্রিজটি রক্ষার জন্য মতামত দিয়েছেন।

পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড গত ২০১০ সালে ২ কোটি টাকা ব্যয়ে বগাইছড়ি খালের উপর ব্রিজ নির্মাণ করেন। ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাকির হোসেন মজুমদার জানিয়েছেন, জনৈক ব্যক্তি ব্রিজের সামনের অংশকে নিজেদের জায়গা দাবি করে পানি প্রবাহের স্বাভাবিক ধারাকে ব্যাহত করেছে। আবার ব্রিজ সংলগ্ন এলাকা থেকে ডুলাহাজারার একটি সিন্ডিকেট অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে যাচ্ছে। স্থানীয়ভাবে নিষেধ করার পরেও অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধ হয় নি। ক্ষমতাশীন দলের রাজনৈতিক প্রভাব ও প্রশাসনিক ছত্র ছায়ায় বগাইছড়ি খাল থেকে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে বালু উত্তোলন অব্যাহত রয়েছে। যার কারণে সরকারের কোটি কোটি টাকা অর্থায়নে নির্মিত ব্রিজ, কালভার্ট ও সড়ক দিন দিন নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।

সম্প্রতি পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের একটি টিম বগাইছড়ি খালের উপর নির্মিত ব্রিজ পরিদর্শন করেছে। পরিদর্শন টিমের সদস্য ও সুপারভাইজার প্রশান্ত কুমার ভট্টাচার্য জানিয়েছেন, ব্রিজের সামনের অংশের জায়গা জনৈক ব্যক্তি নিজেদের দাবি করে পানি চলাচলের ধারাকে বাধাগ্রস্থ করেছে। যে কারণে ব্রিজের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। আবার বগাইছড়ি খাল থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন অব্যাহত রয়েছে।

স্থানীয় ইউপি মেম্বার. মো. হোসাইন জানিয়েছেন, ব্রিজটি ধসে গেলে জনসাধারণের দুর্ভোগ বেড়ে যাবে। যে কোন মূল্যে ব্রিজটি রক্ষা করা প্রয়োজন।

পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুল আজিজ জানিয়েছেন, বগাইছড়ি ব্রিজ রক্ষার জন্য উন্নয়ন বোর্ড চলতি অর্থবছর প্রকল্প গ্রহণ করবে। বগাইছড়ি খালের জায়গা জবর দখলকারীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে স্থানীয় প্রশাসনকে পত্র দিয়ে অনুরোধ করা হবে। ব্রিজ রক্ষায় সকল মহলকে এগিয়ে আসতে হবে।




লামার ক্ষতিগ্রস্ত সবজি চাষীরা ঘুরে দাঁড়াতে চায়

লামা প্রতিনিধি:

লাভের আশায় সবজি আবাদ করে কৃষক আব্দুল খালেক, সোলায়মান, অনিল কান্তি দাশ ও অংচাপ্রু মার্মারা এখন দিশেহারা। জমি বর্গা ও লাগিয়ত নিয়ে লাগানো বরবটি, করলা, খিরা, ঢেঁড়শ, চিচিঙ্গা অতি বৃষ্টিতে নষ্ট হয়ে গেছে। তথাপি আবার ঘুরে দাঁড়াতে করে যাচ্ছে প্রাণপণ চেষ্টা। প্রতি মৌসুমে স্থানীয় বাজারের চাহিদা মিটিয়ে লামা উপজেলার সবজি চট্টগ্রাম সহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করা হয়। এবারের ঘূর্ণিঝড় মোরা, অতি বৃষ্টি, পাহাড় ধস ও বন্যায় সবজি চাষীরা সর্বশান্ত। তারপরও থেমে নাই সবজি চাষিদের ঘুরে দাঁড়ানোর প্রচেষ্টা।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের হিসাব মতে লামা উপজেলার ৮০ হেক্টর জমির সবজি ক্ষতি হয়েছে। এনজিও কর্তৃক পরিচালিত খাদ্য নিরাপত্তা প্রকল্পের আওতায় ১৫২জন সবজি চাষীর ফসল নষ্ট হয়েছে। মেরাখোলা মুসলিম পাড়া, খিরজানুনা, বধুরঝিরি, মেরাখোলা হিন্দু পাড়া, ছোট বমু হেডম্যান পাড়া, বাইশপাড়ি পাড়া, এমংথোয়াই পাড়া, গজালিয়া হেডম্যান পাড়া, রেমং পাড়া, আকিরাম পাড়া, পুইত্যা পাড়া, শামুকছড়া পাড়া, গাইন্দ্যা পাড়া, দূযোধন পাড়া, কোলাক্য পাড়া, চিউনিমুখ পাড়া, ফাঁসিয়াখালী, দরদরী, রুপসীপাড়া, শিলেরতুয়া, মাষ্টার পাড়ার সবজি চাষীরা বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতির বিবরণ উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট প্রেরণ করা হয়েছে।

শামুকছড়া পাড়ার নুর হোসেন, কোলাক্য পাড়ার মরত্তো চাকমা ও রেমং পাড়ার থুইচিং মার্মা জানিয়েছেন, ক্ষতিগ্রস্ত সবজি চাষীদের সার, বীজসহ উৎপাদন খরচে সহায়তা প্রদান করলে ক্ষতিগ্রস্ত চাষীরা ঘুরে দাঁড়াতে পারবে। কৃষক শাহ নেওয়াজ জানিয়েছেন, প্রাকৃতিক দূর্যোগে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য লামা উপজেলায় ৩০ লক্ষ টাকা বরাদ্দ এসেছিল। ইউপি চেয়ারম্যানদের অনুকূলে প্রাকৃতিক দূর্যোগের টাকা বিভাজন করে দিলেও কোন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক ও সবজি চাষীর ভাগ্যে সহায়তার অর্থ মিলেনি। উপজেলা পরিষদে সহায়তা চেয়ে অনেক আবেদন করা হলেও কোন  সহায়তা ভাগ্যে জুটেনি।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নুরে আলম জানিয়েছেন, ক্ষতিগ্রস্ত সবজি চাষী ও কৃষকদের সহায়তায় কোন বরাদ্দ আসে নি। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের বান্দরবান জেলা প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা ও ভারপ্রাপ্ত উপ-পরিচালক ড. আক্কাছ মাহমুদ জানিয়েছেন, প্রাকৃতিক দূর্যোগে জেলার মধ্যে লামা উপজেলার সবজি চাষীসহ কৃষকরা বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।




দুই কর্মকর্তা দিয়ে চলছে বান্দরবানের সাত উপজেলার কাজ, প্রকল্প বাস্তবায়নে ধীরগতি

 

লামা প্রতিনিধি:

দুই প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) দিয়েই চলছে বান্দরবানের সাতটি উপজেলা প্রশাসন। প্রতি উপজেলায় একজন করে প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা থাকার কথা থাকলেও দীর্ঘদিন ধরে সরকারি এ গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরগুলোতে কর্মকর্তা নেই। ফলে সরকারের গৃহিত নানা উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ যথাযথভাবে বাস্তবায়নে দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা। সরকারি গৃহিত উপজেলা পর্যায়ে বিভিন্ন উন্নয়ন কাজে ব্যাহত হচ্ছে। ফলে দূর্গম পাহাড়ে বসবাসরত দরিদ্র জনগোষ্ঠীরা সরকারি উন্নয়নের সুফল পাচ্ছেনা।

সংশ্লিষ্ট অফিস সূত্রে জানা গেছে, আলীকদম ও লামা উপজেলায় প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার পদটি খালী রয়েছে গত এক বছর ধরে। অপর দিকে রুমা উপজেলায় দীর্ঘ দুই বছর ধরেই পদটি খালী। এছাড়া থানছি ও নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলায়ও একই অবস্থা। রোয়াংছড়ি উপজেলার প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও)তর্পণ দেওয়ান অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন রুমা, লামা ও আলীকদমসহ চারটি উপজেলা। অন্য দিকে বান্দরবান সদর উপজেলার প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. আলমগীর হোসেন অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন থানছি ও নাইক্ষ্যংছড়িসহ তিনটি উপজেলা।

নাইক্ষ্যংছড়ি উপজলার সোনাছড়ি ইউনিয়নের ৮নম্বর ওয়ার্ডে সাবেক মেম্বার অরবিন্দু বড়ুয়া বলেন, পিআইও না থাকায় অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা পিআইও দিয়ে উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নে সরকারি উন্নয়ন কাজে ব্যাহত হচ্ছে। জনপ্রতিনিধিদেরও দুর্ভোগে পোহাতে হয়েছে প্রকল্প বাস্তবায়ন কাজে। উন্নয়ন কাজ তড়িৎ গতিতে বাস্তবায়নের জন্য দ্রুত পিআইও নিয়োগের দাবি জানাচ্ছি।

লামা উপজেলার রুপসী পাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ছাচিং প্রু মারমা বলেন, নিজস্ব পিআইও নেই। তাই ভাড়াটিয়া পিআইও দিয়ে সরকারি উন্নয়ন কাজ বাস্তবায়ন করতেই অনেক কষ্ট।

২ নম্বর রুমা সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শৈমং মারমা জানান, বান্দরবান জেলার প্রায় সব উপজেলাই দুর্গম। এ দুর্গম উপজেলাগুলোতে নানা প্রকল্পের কাজ পরিদর্শনসহ দৈনন্দিন দাপ্তরিক কাজ সামলাতে এক পিআইওই যেখানে হিমশিম খেতে হচ্ছে, সেখানে এক পিআইও চালাচ্ছেন চার উপজেলা। দূর্গম অঞ্চলের সরকারি গৃহিত প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নের নিশ্চিতে জরুরী ভিত্তিতে প্রতিটি উপজেলায় একজন করে পিআইও নিয়োগের দাবি জানাচ্ছেন তিনি।

বান্দরবান সদর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মো. আলমগীর হোসেন বলেন, শীঘ্রই শুন্য পদগুলোতে পিআইও  নিয়োগ প্রক্রিয়া হতে চলেছে বলে জানা গেছে। থানছি উপজেলার  বিশেষ দুর্গম এলাকা রেমাক্রী, বড় মদক, তিন্দুসহ দূর্গমাঞ্চল সমূহে প্রকল্প পরিদর্শনের ক্ষেত্রে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানরা আমাকে সহযোগিতা করছেন।

জেলা ত্রাণ ও পূণর্বাসন  কর্মকর্তা আকবর আলী বলেন, সারা দেশের ১৫০জনের পদ শুন্য রয়েছে। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার পদে নিয়োগের বিষয়ে উচ্চ আদালতে রিট মামলা থাকায় বিপাকে রয়েছে সরকার। তবে চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যেই নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে বলেও জানান এ কর্মকর্তা।




লামায় ভিজিডি’র জব্দকৃত ১৮৪ বস্তা চাল নিয়ে ধুম্রজাল

লামা প্রতিনিধি:

লামা বাজারের নিউ রনি স্টোরে সরকারের ভিজিডি ও খাদ্য বান্ধব কর্মসূচির ব্লক সম্বলিত ১৮৪ বস্তা চাল আটককে কেন্দ্র করে ধুম্রজালের সৃষ্টি হয়েছে। রনি স্টোর হতে লামা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) চাল গুলো জব্দ করার পর হতে চালের বৈধতা নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়।

রনি স্টোরের মালিক রনি কর্মকার ও ডিও ব্যবসায়ী ডিলার মো. রহিম একটি বাহিনীর পরিবারের সদস্যদের রেশন সামগ্রী ক্রয়ের ডিও লেটার উপস্থাপন করেছেন। লামা উপজেলা নির্বাহী অফিসার খিন ওয়ান নু ও সহকারী কমিশনার ভূমি সায়েদ ইকবাল বৃহস্পতিবার রনি স্টোরে সরজমিনে গমন করে জব্দকৃত চাল গুলো রেশনের চাল বিবেচনায় ভিজিডি ব্লক সম্বলিত চাল গুলোর উপর হতে আরোপিত সিলগালা তুলে নেন। উপজেলা নির্বাহী অফিসার ডিও ব্যবসায়ী এবং রনি স্টোরের মালিক থেকে পৃথক মুচলেখা নেন।

এদিকে বৃহস্পতিবার আলীকদমের চার ইউপি চেয়ারম্যান আলীকদম প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে দাবি করেছেন, লামায় রনি স্টোরের জব্দকৃত চাল গুলো আলীকদমের ভিজিডি কর্মসূচির নয়।

সরকারের একটি গোয়েন্দা সূত্রের তথ্য মতে আলীকদম খাদ্য গুদাম হতে সরবরাহকৃত রেশনের চালের প্রতিটি বস্তার ওজন ৫০ কেজি। সরকারি সামাজিক নিরাপত্তার বেস্টনি যথা ভিজিডি ও খাদ্য বান্ধব কর্মসূচির ব্লক সম্বলিত চালের বস্তা রেশনের চাল হিসাবে সাধারণত সরবরাহ করা হয়না। যদি কোন ডিলার বা চাল ব্যবসায়ী সামাজিক নিরাপত্তা বেস্টনির সরকারি ব্লক সম্বলিত চালের বস্তাকে রেশনের চাল বলে দাবি করেন তবে তা সংশ্লিষ্ট বাহিনীকে বিব্রত করার অপচেষ্টা। রনি স্টোরে জব্দকৃত চালের বস্তার প্রতিটির ওজন ৩০ কেজি।

বান্দরবান জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক সুবীর নাথ চৌধুরী জানিয়েছেন, ১৫/১৬টি ভিজিডি’র ব্লক সম্বলিত বস্তায় রেশনের চাল সরবরাহ করা হয়েছে। তবে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, ১৮৪ বস্তার প্রতিটিতেই ভিজিডি ও খাদ্য বান্ধব কর্মসূচির ব্লক লাগানো ছিল।

স্থানীয় সচেতন মহল মনে করেন, ভিজিডি’র কর্মসূচির চাল বিতরণের বিষয়টি আরো অধিকতর তদারকির প্রয়োজন রযেছে। খাদ্য গুদামের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মচারীগণ লামা ও আলীকদমে বিব্রতকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করে কোন ক্রমেই দায় এড়াতে পারেনা।

আলীকদম উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা সুস্মিতা খীসা জানিয়েছেন, মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের ভিজিডি কর্মসূচির ব্লক লাগানো চালের বস্তা রেশনের চাল হিসাবে সরবরাহ করে আলীকদম খাদ্য গুদামের কর্মকর্তা কর্মচারীরা সতর্কতার পরিচয় দেয়নি। যার কারণে এলাকায় বিব্রতকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এখান থেকে আমাদের একটি শিক্ষা হল।




‘‘শান্তি বাহিনীর হাতিয়ার, গর্জে উঠুক আরেকবার” শ্লোগানের মধ্য দিয়ে লামায় আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস উদযাপন

লামা প্রতিনিধি:

“শান্তি বাহিনীর হাতিয়ার, গর্জে উঠুক আরেকবার” শ্লোগানের মধ্য দিয়ে লামায় আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস পালিত হয়েছে। আদিবাসী দিবসের কর্মসূচি উদ্যাপন উপলক্ষে র‌্যালি ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

আদিবাসী অধিকার বিষয়ক জাতিসংঘ ঘোষণা পত্রের একাদশ” আদিবাসী অধিকার বিষয়ক জাতিসংঘ ঘোষণার বাস্তবায়ন চাই স্লোগানের মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস উদযাপন কমিটির উদ্যোগে কর্মসূচি পালিত হয়েছে। লামা বাজারে র‌্যালি শেষে পালিটুল মাঠ প্রাঙ্গনে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

উদযাপন কমিটির সভাপতি ছাহ্লাখই মার্মার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশের ওয়াকার্স পাটির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও মুক্তিযুদ্ধা চকরিয়া ইউনিট কমান্ডার কমরেট হাজী বশিরুল আলম। বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ ওয়াকার্স পাটির বান্দরবান জেলার সমন্বয়ক আবুল কালাম আজাদ।

বিশেষ অতিথি ছিলেন ত্রিপুরা কল্যাণ সংসদ লামা উপজেলা সভাপতি ইলিশা ত্রিপুরা। হিল উইম্যান্স ফেডারেশন লামা উপজেলা সম্পাদিকা উসাংপ্রু মার্মা। ম্রো যুবনেতা চম্পট ম্রো। বক্তব্য রাখেন পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ মাতামুহুরী কলেজ শাখার সভাপতি সত্যপ্রিয় চাকমা। ত্রিপুরা স্টুডেন্টস ফোরাম লামা উপজেলা সেক্রেটারি বিরেন্দ্র ত্রিপুরা।

বক্তৃতায় বিরেন্দ্র ত্রিপুরা বলেন, পাহাড়িদের মাতৃভাষা বাংলা নয়। নিজ নিজ গোষ্ঠীর ভাষাই আমাদের মাতৃভাষা। সুতারাং আমাদেরকে মাতৃভাষার পরিচয় বাংলা দেওয়া ঠিক হবে না।

সভায় বক্তরা বাংলাদেশ সরকারকে রাষ্ট্রীয়ভাবে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীদের আদিবাসী স্বীকৃতি প্রদানের দাবি জানান এবং রাষ্ট্রীয়ভাবে আদিবাসী দিবস পালনের দাবি জানান।




লামা ব্লাড ব্যাংকের দ্বিতীয় প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালন

লামা প্রতিনিধি:

লামা ব্লাড ব্যাংকের দ্বিতীয় প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালন করা হয়েছে। বুধবার সকালে লামা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীর কর্মসূচি পালন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদ সদস্য মোস্তফা জামাল।

প্রধান আলোচক ছিলেন লামা পৌরসভার মেয়র মো. জহিরুল ইসলাম। উদ্বোধক হিসাবে উপস্থিত ছিলেন বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদ সদস্য ফাতেমা পারুল। বিশেষ অতিথি ছিলেন লামা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক বীথি তঞ্চগ্যা, লামা আদর্শ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এএম ইমতিয়াজ, লামামুখ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুশ শুক্কুর ও লামা পৌরসভার প্যানেল মেয়র মো. হোসেন বাদশা।কর্মসূচিতে সভাপতিত্ব করেন লামা ব্লাড ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা ও এডমিন মোহাম্মদ আখতার হামিদ।

সূচনা বক্তব্য রাখেন ব্লাড ব্যাংকের সদস্য আব্দুল্লাহ। প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে ৩০জন মেধাবী গরীব ছাত্র-ছাত্রীকে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ করা হয়। এছাড়া ৩টি উচ্চ বিদ্যালয়ের ৩০জন এ প্লাস প্রাপ্ত ছাত্র-ছাত্রীকে সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করা হয়। লামার মেধাবী ছাত্র সৃজনশীল মেধা অন্বেষন প্রতিযোগিতার ৯ম ও ১০ম বিভাগে “বাংলাদেশ স্ট্যাডিজ ও মুক্তিযুদ্ধ” রচনা প্রতিযোগিতায় সারা বাংলাদেশে ১ম স্থান অধিকারী আহমেদ আবতাহী ও “বাংলার পাট বিশ্বমাত” রচনা প্রতিযোগিতায় সারা বাংলাদেশে ১ম স্থান অধিকারী উম্মে হানি রুমীকে সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করা হয়।




লামায় ১৮৪ বস্তা সরকারি চাল আটক

লামা প্রতিনিধি:

উপজেলার লামা বাজারের একটি দোকান থেকে ১৮৪ বস্তা সরকারি চাল আটক করা হয়েছে। চালের বস্তার গায়ে খাদ্য অধিদপ্তরের খাদ্য বান্ধব কর্মসূচি ও মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের ভিজিডি-২০১৭ কর্মসূচির চাল লেখা আছে। প্রতিটি বস্তার ওজন ৩০ কেজি। বুধবার দুপুরে সহকারী কমিশনার (ভূমি) সায়দ ইকবাল লামা বাজারের রনি স্টোর থেকে চালগুলো জব্দ করেন।

বুধবার দুপুরে লামা বাজারের রনি স্টোরের মালিক রনি কর্মকার চালের বস্তা পরিবর্তন করার সময় উপস্থিত জনগণ উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে বিষয়টি জানান। সহকারী কমিশনার (ভূমি) দোকানে গিয়ে চালের গুদাম তালা মেরে সিলঘালা করে দেন।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার খিন ওয়ান নু জানিয়েছেন, চালের বিষয়টি যাচাই বাছাই করে দেখা হচ্ছে। স্টোর মালিক রনি কর্মকার জানিয়েছেন, চালগুলো আলীকদম খাদ্য গুদাম থেকে মঙ্গলবার বিকালে আব্দুর রহিম নামক এক ডিলার লামা বাজারে পৌঁছে দিয়েছেন।

আলীকদম খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মংহ্লাপ্রু মার্মা জানিয়েছেন, চালগুলো আলীকদম খাদ্য গুদাম থেকে নেওয়া হয়েছে। আলীকদম উপজেলা চেয়ারম্যান আবুল কালাম জানিয়েছেন, আটককৃত চালগুলো আলীকদমের বিভিন্ন ইউনিয়নের দুর্গমের ভিজিডির চাল। খাদ্য গুদাম কর্মকর্তার সহায়তায় চালগুলো বিতরণ না করে সুযোগ বুঝে ডিলারের মাধ্যমে সংশ্লিষ্টগণ কালো বাজারে বিক্রয় করে দিয়েছে।

বান্দরবান জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক সুবীর নাথ চৌধুরী জানিয়েছেন, বর্তমান অর্থবছরের ডিও ছাড়ার মত কর্মসূচির কোন বরাদ্দ আসে নাই। বন্যার কিছু চাল জিআর খাতের বরাদ্দ ছাড়া হয়েছে। গত ৩০ জুন ভিজিডি কর্মসূচির সর্বশেষ ডিও ছাড় করা হয়েছে। জুনের পরে খাদ্য বান্ধব কর্মসূচির কোন চালের ডিও প্রদান করা হয় নাই। তবে খাদ্য বান্ধব কর্মসূচির ব্লক মারা বস্তা দিয়ে ভিজিডি কর্মসূচির চালের প্যাকেট করা হয়েছে।