আলীকদমে মাতামুহুরী নদী থেকে জুম চাষীর লাশ উদ্ধার

লামা প্রতিনিধি:

আলীকদম উপজেলার মাতামুহুরী নদী থেকে লিংতই ম্রো (৫০) নামক এক জুম চাষীর লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। বুধবার সকাল ১০টায় উপজেলার চৈক্ষ্যং এলাকা থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়। লিংতই ম্রো ৪নং কুরুক পাতা ইউনিয়নের আমেন পাড়ার লংকক ম্রো এর ছেলে।

করুক পাতা ইউপি চেয়ারম্যান ক্রাতপুং ম্রো জানান, গত ১৯জুন সোমবার লিংতই ম্রো তার জুমের খামারে পূজা করতে যায়। সেখান থেকে সে আর ফিরে আসেনি। অনেক খোঁজাখুজি করেও তার কোন সন্ধান পাওয়া যায় নি। বুধবার স্থানীয় ইউপি সদস্যের মাধ্যমে নদীতে লাশ ভাসার সংবাদ পেলে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। পরে পুলিশ নদী থেকে লাশ উদ্ধার করে।

আলীকদম থানার অফিসার ইনচার্জ লাশ উদ্ধারের সত্যতা নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, ময়না তদন্ত শেষে নিহতের পরিবারের আবেদন অনুসারে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।




লামায় ৮টি যাত্রীবাহী গাড়িতে গণ ডাকাতি

লামা প্রতিনিধি:

উপজেলার লামা ফাঁসিয়াখালী সড়কের মিরিঞ্জা টপ এলাকায় সড়কে গতিরোধ করে দুর্ধর্ষ সড়ক গণ ডাকাতির ঘটনা সংঘটিত হয়েছে। সোমবার দিবাগত রাতে সড়কের উভয় দিক থেকে আসা জীপ গাড়ি ও মোটর সাইকেলসহ ৮ টি যাত্রীবাহী গাড়ির গতিরোধ করে ডাকাতি করা হয়।

ডাকাতরা অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে যাত্রীদের কাছ থেকে নগদ টাকা, স্বর্ণের চেইন, মোবাইল সেটসহ মূল্যবান জিনিসপত্র ছিনিয়ে নেয়। এসময় ডাকাতদের মারধরে ৮ যাত্রী আহত হয়। লামা থানার পুলিশের উপ-পরিদর্শক মাহবুবুর রহমানের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলের দিকে এগিয়ে গেলে ডাকতরা পালিয়ে যায়।

ডাকাতির কবলে পতিত যাত্রীগণ জানায়, ডাকাতরা অস্ত্র-শস্ত্র সজ্জিত হয়ে রাত সাড়ে দশটার দিকে মিরিঞ্জা পাহাড়ের ১২ মাইলের টেকের সড়কে গাছ ফেলে ব্যারিকেড সৃষ্টি করে। এ সময় ডাকাতরা উভয় দিক থেকে আসা জীপ গাড়ী ও মোটরসাইকেলের গতি রোধ করে লুটপাট করে।

টাকা দিতে প্রতিবাদ করায় ডাকাতরা ৮ যাত্রীকে মারধর করলে তারা আহত হয়। আহতরা হলো মো. কায়েস উদ্দিন (৩০), আবুল বশর (৩০), আনোয়ার হোসেন (২৪), গাড়ী চালক কাজল (২২), মো. আল-আমিন (২০), মো. আয়েজ উদ্দিন (৩৪), সামশুল আলম (৪৫) ও নুর আলম (৫০)।

লামা থানার অফিসার ইনচার্জ মো. আনোয়ার হোসেন জানিয়েছেন, ডাকাতির খবর পাওয়া মাত্র ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। ভুক্তভোগীরা মামলা করলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।




বান্দরবানে ঝুঁকিপূর্ণ বসবাসকারীদের নিরাপদে সরিয়ে আনতে জেলা প্রশাসনের অভিযান

লামা প্রতিনিধি:

পাহাড়ের পাদদেশে ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে বসবাসকারীদের নিরাপদ স্থানে কিংবা নির্দিষ্ট আশ্রয় কেন্দ্রে সরিয়ে নেওয়ার জন্য বান্দরবান জেলা প্রশাসন অভিযান শুরু করেছে। প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ড. কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী ঝুঁকিপূর্ণ বসবাসকারীদের নিরাপদে সরিয়ে নিয়ে পাহাড়ের জীবন যাত্রা স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনার জন্য ১৯ দফা নির্দেশনা দিয়ে পত্র জারি করেছেন।

বান্দরবান জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার আলী নুরের নেতৃত্বে শহরের কালাঘাটা, বড়ুয়ার টেক, ফেনসি ঘোনা, রাজার গোদা, বীর বাহাদুর নগর, গর্জনিয়া পাড়াসহ বিভিন্ন দুর্গোম পাড়ায় ঝুঁকিপূর্ণ বসবাসকারীদের সরিয়ে আনতে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। সেখানে ঝুঁকিপূর্ণ বসবাসে ৪৫ থেকে ৫০ পরিবারকে পাওয়া গেছে। বসবাসকারীদের সতর্ক করার পাশাপাশি নিরাপদে সরে যেতে নির্দেশ প্রদান করা হয়। যদি নিরাপদ আশ্রয়ে সরে না যায় তবে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান জেলা প্রশাসনের এ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট।

লামা উপজেলা নির্বাহী অফিসার খিন ওয়ান নু’র নেতৃত্বে শনিবার  থেকে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে ঝুঁকিপূর্ণ বসবাসকারীদের সরিয়ে আনতে অভিযান শুরু করা হয়েছে। শুক্রবার লামা পৌরসভার লাইনঝিরি, ফাঁসিয়াখালীর মিরিঞ্জায় পাড়ায় পাড়ায় উঠান বৈঠক করা হয়। এ সময় সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাইদ ইকবাল, লামা ইউপি চেয়াম্যান মিন্টু কুমার সেন সাথে ছিলেন।

আলীকদম উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ নায়িরুজ্জামান জানিয়েছেন, ঝুঁকিপূর্ণ বসবাসের তালিকা প্রস্তুত করার জন্য ইউনিয়ন পরিষদ চেয়াম্যানদের বলা হয়েছে। নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা নির্বাহী অফিসার এসএম সরওয়ার কামাল জানিয়েছেন, নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলায় তুলনামূলক ভাবে ঝুঁকিপূর্ণ বসবাসকারী কম। তবে তালিকা করার জন্য ইউপি চেয়ারম্যানদেরকে জানানো হয়েছে।

বান্দরবান পৌরসভা, সদর উপজেলাসহ লামা ও নাইক্ষ্যংছড়িতে বিভিন্ন সময় প্রবল বর্ষণ ও ভূমি ধ্বসে ২০০৮ সন থেকে ২০১৭ পর্যন্ত ৮৫জনের মৃত্যু হয়েছে। লামা উপজেলায় পাহাড় ধসে গত ২০০৮ সালে ১১জন এবং ২০১২ সাল থেকে এ পর্যন্ত ৩৭জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া নাইক্ষ্যংছড়িতে ৫জনের মৃত্যু হয়েছে। ২০১৭ সালের ১৩জুন বান্দরবান সদর ইউনিয়ন ও পৌরসভা এলাকায় ৬জনের মৃত্যু হয়েছে।

ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাসকারী বাসিন্দা নুরুল আমিন বলেন, পাহাড়ের পাদদেশে ঝুঁকিতে বসবাস করছি বাধ্য হয়ে। আমাদের নিরাপদ আবাসস্থল তৈরির জায়গা কেনার সামর্থ নেই।

 

জেলা মৃত্তিকা ও পানি সংরক্ষণ কেন্দ্রের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মো. মাহবুবুল আলম জানান, অতি বর্ষণ, বন উজাড়, পাথর উত্তোলন এবং পাহাড় কাটার কারণই পাহাড় ধ্বসের মূল কারণ। ৩ পার্বত্য জেলার মধ্যে বান্দরবানে অবৈধ ভাবে গাছ পালা নিধনের পরিমাণ বেড়ে গেছে।

 

বান্দরবান জেলার অতিরিক্ত জেলা প্রাশসক (সার্বিক) দিদারে আলম মাকসুদ চৌধুরী বলেছেন, পাহাড় ও নিচু এলাকায় যারা ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাস করছে তাদের তালিকা তৈরি করা হচ্ছে। তালিকা তৈরি শেষ হলে বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে।

পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈসিং এমপি বলেছেন, পাহাড়ের পাদদেশে ঝুঁকি নিয়ে বসবাসকারী পরিবারগুলোকে পর্যায়ক্রমে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে আনা হচ্ছে। যারা ঝুঁকিতে আছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তাদের জন্য প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করে পাহাড়ি টাইপের আবাসন করে পুর্নবাসনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।




বান্দরবানে ৫ শতাধিক হেক্টর জমি নষ্ট

লামা প্রতিনিধি:

টানা বর্ষণ ও পাহাড় ধ্বসের কারণে বান্দরবান পার্বত্য জেলার বিভিন্ন উপজেলায় ৫ শতাধিক হেক্টর আবাদি জমি মাটি চাপায় নষ্ট হয়েছে। পাহাড় ধ্বসে এবং প্রবল বর্ষণে শতাধিক মৎস্য বাঁধ ভেঙ্গে গেছে। প্রবল বেগে পানি ঢুকে বরবটি, পেঁপে, আদা ক্ষেতসহ নানা প্রকার আবাদি ফসলের জমি তলিয়ে গেছে। অসংখ্য কলা, আম, আনারস বাগান সহকারে ফলদ ও বনজ বাগানও ধ্বংস হয়ে গেছে।

বান্দরবান সদরের কুহালং ইউনিয়নের বাসিন্দা উছোমং মারমা জানিয়েছেন, সরকারি অর্থায়নে বটতলী বাঘমারা গ্রামের উজানে মৎস্য বাঁধ নির্মাণ করা হয়। উজানে পূর্বের আরেকটি বাঁধ ছিল। নির্মাণের দুই মাসের মাথায় অতিরিক্ত বর্ষণে নতুন নির্মিত বাঁধটিসহ দুটি বাঁধ ভেঙ্গে যায়। বাঁধের পানিতে বটতলী বাঘমারা গ্রামের ৫টি দোকান ৫৪ পরিবারের ৩৫ হেক্টর জমির নানা প্রকার আবাদি ফসল ও সবজি নষ্ট হয়ে যায়। এতে গ্রামবাসীর প্রায় অর্ধকোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। অপরিকল্পিতভাবে বাঁধ নির্মাণ করায় টানা বর্ষণে বাঁধটি ধ্বসে গেছে বলে বটতলী বাঘমারা গ্রামের কারবারী মহ্লাউ মার্মা দাবি করেছেন।

লামা পৌরসভার ৫নং ওয়ার্ডের পশ্চিম রাজবাড়ি গ্রামের মো. মিরাজ উদ্দিন জানিয়েছেন, অনেক কষ্টে সে কলাবাগান করেছে। পাহাড় ধ্বস এবং অতি বর্ষণে তার কলাবাগান সম্পূর্ণরূপে নষ্ট হয়েছে। লামা সদর ইউনিয়নের এম হোসেন পাড়ার মো. জসিম উদ্দিন জানিয়েছেন, পাহাড় ধ্বসে তার বসত ঘরটি বিধ্বস্ত হয়েছে। মাটিচাপায় দু’টি ছাগল মারা গেছে। পরনের কাপড় ছাড়া কোন কিছু ঘর থেকে বের করতে পারে নি। বর্তমানে অন্য আরেকজনের বারান্দায় রাতের বেলায় ঘুমান। পৌরসভার নয়াপাড়ার কামাল উদ্দিন জানিয়েছেন, ঘূর্ণিঝড়ে ও অতিবর্ষণে তার বাড়ি বিধ্বস্থ হয়েছে। বর্তমানে মাথা গোজার কোন জায়গা নেই। সাবেক পৌর কাউন্সিলর মো. দিদারুল আলম জানিয়েছেন, নয়াপাড়া গ্রামের প্রায় ৩০টি পরিবার বর্তমানে খোলা আকাশের নিচে বসবাস করছে।

স্থানীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে জেলার লামা, আলীকদম, নাইক্ষ্যংছড়ি ও বান্দরবান সদর উপজেলায় পাহাড় ধ্বসে পাঁচ শতাধিক হেক্টর আবাদি জমি নষ্ট হয়েছে। অনেকে এনজিও ও ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে ফলদ বাগান করেছে। পাহাড় ধ্বসে বাগান নষ্ট হওয়ায় কৃষকগণ বর্তমানে দিশেহারা। স্থানীয় প্রশাসন ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনের বিষয়ে আগ্রহী না হওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

লামা পৌরসভার মেয়র জহিরুল ইসলাম বলেছেন, ঘূর্ণিঝড় মোরা’য় পৌরসভা এলাকায় অবস্থিত অনেক কলা, পেঁপেসহ ফলের বাগানের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। রূপসীপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান ছাচিং প্রু মার্মা জানিয়েছেন, অনেক কৃষক পরিবার ফলদ বাগান হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছে। নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার বাইশারি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. আলম জানিয়েছেন, ঘূর্ণিঝড় এবং পাহাড় ধ্বসে বাইশারির আবাদি জমির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। পুর্নবাসনের ব্যবস্থা না করলে অনেক পরিবার ভিখারিতে পরিণত হবে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আলতাফ হোসেন বলেছেন, পাহাড় ধ্বস ও টানা বর্ষণে জেলার বিভিন্ন উপজেলায় জমির মৌসুমী ফসল, আবাদী জমি, ফলদ ও বনজ বাগানসহ শাক-সবজির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। উপসহকারী কমিউনিটি কৃষি অফিসারদের ক্ষতিগ্রস্তের তালিকা প্রণয়ন করার জন্য নির্দেশ দেয়া হয়েছে।




লামায় নদীতে ডুবে প্রতিবন্ধী নারীর মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদক, বান্দরবান:

বান্দরবানের লামা উপজেলার বমু বিলছড়ি ইউনিয়নে নদীতে গোসল করতে নেমে ফরিদা বেগম নামক এক প্রতিবন্ধী নারী নিহত হয়েছেন। শুক্রবার দুপুরে পানিস্যা বিল এলাকার ব্রিজের নিচে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত ফরিদা বেগম পানিস্যা বিল এলাকার সৈয়দ নুরের মেয়ে।

জানা গেছে, প্রতিবন্ধী ফরিদা বেগম দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থতায় ভুগছিলেন। মানসিক প্রতিবন্ধী হওয়ায় বেশি দিন স্বামীর সংসার করতে পারেননি। বৃদ্ধ বাবার সংসারে থাকতেন।

ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল মতলব জানান, স্থানীয়রা লাশটি উদ্ধার করেছে। নদীতে গোসলরত অবস্থায় মৃগী রোগে আক্রান্ত হওয়ায় তিনি আর কুলে উঠে আসতে পারেন নি।




বমু বিলছড়িতে নদীতে ডুবে প্রতিবন্ধী নারীর মৃত্যু


লামা সংবাদদাতা :

লামা উপজেলা সদরের পার্শ্ববর্তী বমু বিলছড়ি ইউনিয়নে নদীতে গোসল করতে নেমে ফরিদা বেগম নামক এক প্রতিবন্ধী নারীর মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার দুপুরে পানিস্যা বিল এলাকার ব্রিজের নিচে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত ফরিদা বেগম পানিস্যা বিল এলাকার সৈয়দ নুরের মেয়ে।

জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে প্রতিবন্ধী ফরিদা বেগম অসুস্থতায় ভুগছিলেন। মানসিক প্রতিবন্ধী হওয়ায় বেশিদিন স্বামীর সংসার করতে পারে নি। বৃদ্ধ বাবার সংসারে থাকত।

ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল মতলব জানিয়েছেন, স্থানীয়রা শেষে উদ্ধার করেছে। নদীতে গোসলরত অবস্থায় মৃগী রোগে আক্রান্ত হওয়ায় সে আর কূলে উঠে আসতে পারে নি।




লামা, আলীকদম ও নাইক্ষ্যংছড়ির বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনায় চরম বিপর্যয়

লামা প্রতিনিধি:

লামা, আলীকদম ও নাইক্ষ্যংছড়ির বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থা ভেঙ্গে পড়েছে। গত এক মাস যাবত বিদ্যুৎ গ্রাহকগণ চরম ভোগান্তির সম্মুখীন হয়েছে। সড়কের পাশে অপরিকল্পিত বনায়ন, নিম্নমানের খুঁটি স্থাপন, প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও ঘূর্ণিঝড় মোরার কারণে উপজেলা সমূহের বিদ্যুৎ সরবরাহে নাজুক অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।

বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা ঘূর্ণিঝড় মোরায় সবচেয়ে বেশি বিধ্বস্ত হয়ে পড়েছে। তেত্রিশ হাজার কেভি এবং এগারো হাজার ভোল্টেজের শতাধিক বিদ্যুতের খুঁটি ঘূর্ণিঝড় মোরায় ভেঙে গেছে। লণ্ডভণ্ড হয়ে পড়েছে বিদ্যুৎ সরবরাহের ব্যবস্থা। উপজেলা সদর সমূহে জোড়াতালি দিয়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হলেও তা দিনের দুই এক ঘন্টার বেশি থাকে না। বর্তমানে উপজেলাসমূহের দুই শতাধিক গ্রাম বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের মুখে পতিত। কবে নাগাদ উপজেলা সমূহের সর্বত্র বিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্বাভাবিক হবে তা জানাতে পারছে না পিডিবি।

স্থানীয়রা জানায়, তামাক প্রক্রিয়াজাত করণের জন্য লামা-আলীকদম-চকরিয়া ও নাইক্ষ্যংছড়ির সড়কের দুইধারে বিএটিবি তামাক কোম্পানিগুলো অপরিকল্পিতভাবে রেইন ট্রি গাছ রোপণ করেছে। যা খুব দ্রুত বেড়ে উঠে এবং ডাল-পালা ছড়িয়ে পড়ে। সামান্য ঝড়ো হাওয়ায় এসকল গাছের ডাল-পালা ভেঙ্গে গিয়ে ও উপড়ে পড়ে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। আবার সামান্য বাতাসেই গাছ ভেঙ্গে বিদ্যুতের তার ও খুঁটি ভেঙ্গে যায়। বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা।

তাছাড়া সড়কের দুপাশের গাছ-পালার ডাল নিয়মিত না কাটায় সামান্য বাতাসেই বিদ্যুৎ বিপর্যস্ত হয়। আলীকদম উপজেলা চেয়্যারম্যান মো. আবুল কালাম জানিয়েছেন, আলীকদমের বিদ্যুৎ সরবরাহে সরকারের কোন ধরণের নিয়মনীতি মানা হচ্ছে না। বিদ্যুৎ গ্রাহকদের পিডিবি মানুষ মনে করে না বলে মনে হয়। একটি এনজিওর লামা উপজেলা ব্যবস্থাপক মেহেরুন্নেছা মেরি জানিয়েছেন, বিদ্যুতের অব্যবস্থাপনার কারণে ল্যাপটপের চার্জ থাকে না। সে কারণে নিয়মিত অফিস রিপোর্ট পাঠাতে পারি না।

গৃহিণী তাসলিমা আক্তার জানিয়েছেন, বিদ্যুতের অবব্যস্থাপনার কারণে-টিভি, ফ্রিজ, আইপিএস, মোবাইলসহ নিত্য প্রয়োজনীয় বৈদ্যুতিক সামগ্রীগুলো অকার্যকর হয়ে পড়েছে। লামা উপজেলা পরিষদ সদস্য জটিলা রানি শীল বলেছেন, স্থানীয় মেম্বার সাগর বিদ্যুৎ গ্রাহকদের নিকট থেকে মিটার প্রতি একশত টাকা নিয়েছেন। দীর্ঘদিন অতিবাহিত হওয়ার পরেও মোরায় ক্ষতিগ্রস্ত বিদ্যুৎ ঠিক করা হচ্ছে না।

অপর গৃহিণী রোকেয়া বেগম জানিয়েছেন, লো ভোল্টেজের কারণে বৈদ্যুতিক সামগ্রীগুলো নষ্ট হয়ে যায়। মোটর দিয়ে পানি উঠানো যায় না। ফ্যান ব্যবহার করতে সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। সামান্য বৃষ্টিতেই লামার বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। লামা উপজেলায় আইনশৃঙ্খলা কমিটির এক সভায় জানানো হয় যে, বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থায় অনিয়মের কারণে অফিস-আদালতের কাজকর্ম ঠিকমতো করা যায় না। অফিসিয়াল রিপোর্ট কম্পিউটার ও ল্যাপটপ হওয়ায় বিভাগীয় কার্যক্রমের রিপোর্ট প্রস্তুত ও প্রেরণ করা যায় না।

লামা ও আলীকদমের বিদ্যুৎ চকরিয়া থেকে এবং নাইক্ষ্যংছড়ির বিদ্যুতের তেত্রিশ হাজার ভোল্টেজের লাইন কক্সবাজার থেকে সংযোগ দেয়া হয়েছে। তেত্রিশ হাজার ভোল্টেজের লাইনসমূহের ব্যবহৃত তার ও খুঁটি খুবই নিম্নমানের বলে জানা গেছে।  আবার লামা আলীকদম ও নাইক্ষ্যংছড়ির বিদ্যুৎ বিতরণের নিয়ন্ত্রণ কক্সবাজার থেকে করা হয়। যে কারণে এ উপজেলাগুলোতে বিদ্যুৎ সরবরাহে সংশ্লিষ্টগণ খাম-খেয়ালিপনার আশ্রয় নেন বলে অভিযোগ দীর্ঘদিনের। লোডশেডিং এ কোন ধরণের নিয়ম-নীতি মানা হয় না। বিদ্যুৎ কখন যাবে আর কখন আসবে গ্রাহকগণ সে বিষয়ে অবগত নন।

লামা বিদ্যুৎ বিভাগের আবাসিক প্রকৌশলী মোহাম্মদ অলিউল ইসলাম বলেছেন, লামায় আমি নতুন যোগদান করেছি। মোরায় বিদ্যুতের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে, তারপরও বিপর্যয় থেকে কেটে উঠার জন্য আমরা চেষ্টা করছি। পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈসিং বলেছেন, লামা আলীকদম ও নাইক্ষ্যংছড়ির বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনা বান্দরবান জেলার অধীনে নিয়ে আসার জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেয়া হবে।




মাতামুহুরীর বুকে ধূ ধূ বালুচর, হারিয়ে ফেলেছে নাব্যতা

লামা প্রতিনিধি:

মারমা ভাষায় মামুরি। বাংলায় মাতামুহুরী। বান্দরবান পার্বত্য জেলার আলীকদম উপজেলা সদর থেকে প্রায় ৯০ কিলোমটিার দক্ষিণে মায়ানমার সীমান্তবর্তী পাহাড়ের পাদদেশ থেকে এই নদীর উৎপত্তি। উৎপত্তিস্থল থেকে সর্পিল গতিতে একে বেঁকে মাতামুহুরী নদী আলীকদম, লামা ও চকরিয়া উপজেলার বুক চিরে মিশেছে বঙ্গোপসাগরে।

নদীটির মোট দৈর্ঘ্য ২৮৭ কিলোমিটার। গড় প্রস্থ ১৫৪ মিটার, নদীটির প্রকৃতি সর্পিলাকার। বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের রেকর্ড বইয়ে এই নদীটির নম্বর পূর্ব পাহাড়ী অঞ্চলের নদী নং- ১৩ (১)। এককালের প্রমত্ত্বা মাতামহুরী নদী আজ প্রচণ্ড পানি শূণ্যতায় ভূগছে। এক সময়কার খরস্রোতা মাতামুহুরী এখন অনেকটা মরা খাল। বর্ষা মৌসুমে কিছুটা প্রাণ ফিরে পায়।

আশির দশকের পর থেকে নির্বিচারে বৃক্ষ নিধন, পাহাড় কেটে পাথর উত্তোলন, অপরিকল্পিত জুম চাষ, মাতামুহুরী রিজার্ভ ফরেষ্টের বৃক্ষ নিধন, পাহাড়ের গাছ-পালা কেটে আগুণে পুড়ে কয়লা তৈরি, আগুন লাগিয়ে পাহাড় পোড়ানো, নির্বিচারে বনজ সম্পদ ধ্বংস, পাহাড় কাটা, পাহাড় কেটে অপরিকল্পিতভাবে বাড়ি ঘর নির্মাণ, তামাক চাষ, ইত্যাদির কারণে চির যৌবনা এই মাতামুহুরী আজ নব্যতা হারিয়ে ফেলেছে। স্থানীয় পরিবেশ সচেতন ব্যক্তিরা এটাকে পরিকল্পিতভাবে নদী হত্যা বলে দাবি করেছে।

আশির দশকে লামা ও আলীকদমবাসীর যাতায়াতের পথ ছিল এই মাতামুহুরী নদী। এই কারণে নদীর দুই ধারে গড়ে উঠেছে জনবসতি। তবে এখন জনবসতি রয়েছে, নেই নদীর সেই যৌবন।

একতা মহিলা সমিতির নির্বাহী পরিচালক ও পরিবেশ সচেতন কর্মী আনোয়ারা বেগম জানিয়েছেণ, মাতামুহুরী কালের বিবর্তে শীর্ণ নদীতে রূপ নিয়েছে। এই নদীর উৎপত্তিস্থল পর্যন্ত রয়েছে অসংখ্য পাহাড়ি ঝিরি ও খাল। প্রকৃতির বুক চিরে বয়ে চলা এসব ঝিরি ও খালের মিলনস্থল মাতামুহুরী নদীর কোন না কোন পয়েন্ট।

এককালের প্রমত্ত্বা মাতামুহুরী নদীর পানিতে প্রবাহ থাকলেও এখন দিন দিন কমে তা তলানীতে পৌচেছে। নদীর বুক চিড়ে জেগে উঠেছে ধু ধু বালির চর। হুমকির মুখে পড়েছে মৎস সম্পদ। গ্রীষ্মের প্রখর রৌদ্রের তাপে সামান্য চিকচিকে বয়ে চলা পানি উত্তপ্ত হয়ে যায়। যার কারণে এই নদী মাছের বসবাসের অনুপযোগি হয়ে গেছে।

প্রবীন ব্যক্তি ও রুপসীপাড়া ইউপি চেয়্যারম্যান চাহ্লাখইন মার্মা বলেছেন, আশির দশকে মাতামুহুরীর গভীরতা ছিল ৫০ থেকে ৬০ ফুট। প্রস্থ ছিল ১৫শত থেকে ১৬শ ফুট। সরকারি পরিসংখ্যান মতে নদীর আয়তন ছিল ১৮শ ৮০ একর। নদীর খুটি খ্যাত বড় বড় কুমগুলো এখন আর নেই। এই নদীর বাঁকে ভূমির কুম, মাছকুম, চেলার কুম, সতমল্লার কুম, দু:খ্যা-শুখ্যার কুম, তৈনি খালের কুম, গ্যাস কুমসহ আরো অনেকগুলো কুম ছিল। বর্তমানে কিছু কিছু কুম নামে থাকলেও হারিয়েগেছে অধিকাংশ কুম।

জেলে সমিতির সভাপতি বাবু সওদাগর জানিয়েছেন, এক সময় এই নদী থেকে মাছ ধরে সংসার চলতো দুই উপজেলা প্রায় পাঁচ‘শ জেলে পরিবারের। এখন নদীতে পানি নেই, মাছ নেই। সবই অতীত। কল্পনায় আছে শুধু মনকাড়া গল্পের মতোই সোনালী অতীত। কাজ-কর্মহীন এই জেলে পরিবারগুলোতে এখন চরম হতাশা। এখন আর আগের মত মাতামুহুরীর শৈল, বোয়াল, মৃগেল, পুটি, চিংড়ি, বাটাসহ মিষ্টি পানির ৮০ প্রকৃতির মাছের মধ্যে ৭০ প্রজাতির মাছের দেখা নেই।

লামা উপজেলা সাবেক চেয়্য্যারম্যান আলহাজ্ব মো. ইসমাইল বলেছেন, এখন এই নদীর নব্যতা পুনরুদ্ধার করতে হবে। নদীতে তার প্রাণ ফিরিয়ে দিতে হবে। আর এই জন্য ড্রেজিং করা খুবই জরুরী হয়ে পড়েছে। যার জন্য সরকারকেই উদ্যোগ নিতে হবে। অন্যথায় আগামী এক দশক পর নাব্যতা সংকটে ভোগা মাতামুহুরী হারিয়ে ফেলবে তার আসল পরিচয়।

লামা বিভাগীয় বন কর্মকর্তা কামাল উদ্দিন জানিছেন, মাতামুহুরী রক্ষায় সরকার ও স্থানীয় জনসাধারনকে আন্তরিক হতে হবে।




আলীকদমে অস্ত্রসহকারে ৫ পাহাড়ি সন্ত্রাসী আটক

আটক

লামা প্রতিনিধি:

বান্দরবান পার্বত্য জেলার আলীকদমের দুর্গম পোয়ামুহুরী এলাকা থেকে দুইটি দেশীয় তৈরি গাদা বন্দুক ও ছয়টি ছোরা সহকারে ৫ পাহাড়ি সন্ত্রাসীকে আটক করা হয়েছে। আলীকদম সদর থেকে প্রায় ৫৫/৬০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে মায়ানমার সীমান্ত সংলগ্ন এলাকা থেকে বুধবার বিকেলে স্থানীয় ম্রো জনগোষ্ঠীর জনগণ সন্ত্রাসীদেরকে আটক করে পোয়ামুহুরী আর্মি ক্যাম্পে সোপর্দ করেছে।

আলীকদম উপজেলা চেয়্যারম্যান মো. আবুল কালাম জানিয়েছেন, পূর্বের একটি ডাকাতির ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগ এনে স্থানীয় জনসাধারণ অস্ত্র ও ছুরি সহকারে ৫ সন্ত্রাসীকে আটক করে নিরাপত্তাবাহিনীর নিকট হস্তান্তর করেছে।

আটককৃতরা হলো, থানখা ম্রো(২১), মাংইল ম্রো(২২), লেংপ্রু ম্রো(২০), বিজয় ম্রো(২০), আওবই ম্রো(২৪)। সড়কপথে যোগাযোগ ব্যবস্থা না থাকায় আটককৃত সন্ত্রাসীদেরকে আলীকদম সদরে আনতে বিলম্ব হচ্ছে।

আলীকদম থানার অফিসার ইনচার্জ জানিয়েছেন, থানায় আনার পরে বিস্তারিত বলা যাবে।

নিরাপত্তাবাহিনীর বান্দরবান রিজিয়নের ব্রিগেড মেজর তৌহিদুল ইসলাম জানিয়েছেন, আটককৃতদের বিষয়ে আরও খোঁজখবর নিয়ে পরে বিস্তারিত জানানো হবে।




লামার চাম্বি উচ্চ বিদ্যালয়ে উচ্চ মাধ্যমিকের পাঠদানের অনুমতি লাভ

Lama Photo-1, 7 Jun 2017 copy

লামা প্রতিনিধি:

বান্দরবান পার্বত্য  জেলার লামা উপজেলাধীন আজিজনগর ইউনিয়নের চাম্বি উচ্চ বিদ্যালয়ে উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা শাখার পাঠদানের অনুমতি প্রদান করা হয়েছে।  শিক্ষামন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ শাখা-১২( বেসরকারি মাধ্যমিক-০৩) এর সহকারী সচিব অসীম কুমার কর্মকার স্বাক্ষরিত পত্রমূলে অনুমতিপত্র জারি করা হয়েছে।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো.আব্দুস সাত্তার জানিয়েছেন, আজিজনগরের সাবেক ইউপি চেয়্যারম্যান আলহাজ্জ মো. নাজমুল ইসলাম চৌধুরী ১জানুয়ারী, ১৯৭৬ সনে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করেন। পরে ১জানুয়ারী, ১৯৮১ সনে জুনিয়র পর্যায়ের একাডেমিক স্বীকৃতি লাভ করে। এরপর  ১ জানুয়ারী, ১৯৮৫ সনে মাধ্যমিক পর্যায়ের একাডেমিক স্বীকৃতি পায় এবং ১জুন, ২০১৭ সনে শিক্ষামন্ত্রণালয় কর্তৃক উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করার জন্য অনুমতি লাভ করে। বর্তমানে ৯৭৪ জন ছাত্র-ছাত্রী চাম্বি উচ্চ বিদ্যালয়ে অধ্যায়ন করছে।

আজিজনগর ইউনিয়ন চেয়্যারম্যান ও বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি মো.জসিম উদ্দিন জানিয়েছেন, চাম্বি উচ্চ বিদ্যালয়কে কলেজে রুপান্তরিত করায় আজিজনগরের শিক্ষা ব্যবস্থার অনেক অগ্রগতি সাধিত হলো।উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মোস্তাফিজুর রহমান জানিয়েছেন,  চাম্বি উচ্চ বিদ্যালয়কে কলেজে রুপান্তরিত করাটা সরকারের শিক্ষা প্রসারের ইতিবাচক কাজ।

লামা উপজেলা নির্বাহী অফিসার খিনওয়ান নু বলেছেন, পার্বত্য অঞ্চলের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর শিক্ষা ব্যবস্থার  উন্নয়নে সরকার চাম্বি উচ্চ বিদ্যালয়কে কলেজে রুপান্তরিত করেছে। পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ও বান্দরবান ৩০০ নং আসনের সংসদ সদস্য বীর বাহাদুর উশৈসিং এমপি বলেছেন, শিক্ষা ছাড়া পার্বত্য জনপদের উন্নয়ন সম্ভব নয়। পার্বত্য অঞ্চলের জনগণকে মানব সম্পদে পরিণত করার জন্য চাম্বি উচ্চ বিদ্যালয়কে কলেজে রুপান্তরিত করা হয়েছে।