লক্ষ্মীছড়িতে পুলিশ কনেস্টেবল ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা

লক্ষ্মীছড়ি প্রতিনিধি:

খাগড়াছড়ি জেলার লক্ষ্মীছড়ি উপজেলায় এক পুলিশ সদস্য পারিবারিক কলোহের জের ধরে বৃহস্পতিবার বিকাল ৩টায় ময়ূরখীল পুলিশ ফাঁড়ি এলাকায় নিজ বাসায় গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় লক্ষ্মীছড়ি হাপাতাল থেকে মানিকছড়ি এবং পরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়।

প্রত্যক্ষদর্শিরা জানান, ময়ূরখীল এলাকার জনৈক মেম্বারের ভাড়া বাসায় দরজার তালাবদ্ধ দেখে আশপাশের লোকজনকে খবর দেয়। প্রতিবেশিরা দরজা ভেঙ্গে ময়ূরখীল ফাঁড়ির কনেস্টেবল আব্দুর রাজ্জাক(২৯) কং- ৬৪২ কে উদ্ধার করে প্রথমে লক্ষ্মীছড়ি হাসপাতালে ভর্তি করে। অবস্থা আশঙ্কাজনক হলে দ্রুত লক্ষ্মীছড়ি জোনের সহায়তায় নিরাপত্তাবাহিনীর এ্যম্বুল্যান্সে করে মানিকছড়ি হাসপাতালে পাঠালে কর্তব্যরত ডাক্তার মূমূর্ষ অবস্থায় জরুরী চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করে। লক্ষ্মীছড়ি হাসপাতালের ডা. রাব্বী সাংবাদিকদের জানান, রোগীর অবস্থা খুবই আশঙ্কাজনক।

ময়ূরখীল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. জাহাঙ্গির আলম জানান, আমরা খবর পাওয়ার সাথে সাথে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে এসেছি। ঘটনার কারণ সম্পর্কে তাৎক্ষনিক কিছুই জানাতে পারেননি তিনি।

আব্দুর রাজ্জাকের স্ত্রী জানান, আজকে কোনো ঝগড়া বিবাদ হয়নি। তবে বার বার অজ্ঞান হয়ে পড়ায় তার কাছ থেকে কোনো কিছু জানা সম্ভব হয়নি।

প্রতিবেশিরা জানান, মাঝে মধ্যেই জগড়া হতে দেখা যায়। আরও কোনো ঘটনা আছে কিনা স্পষ্ট করে কেউ বলতে পারেনি।

উল্লেখ্য প্রায় ২ বছর ধরে মূয়রখীল পুলিশ ফাঁড়িতে কর্মরত আছেন আব্দুর রাজ্জাক। ঘটনার দিন সকালে উপজেলা সদরে মোবাইল টীমে পোশাক পরিহিত অবস্থায় ডিউটি করেছে বলেও জানা যায়। আব্দুল সোবাহান নামে ৬ বছরের ছেলে এবং সুমাইয়া আক্তার নামে ৪ বছরের কন্যা সন্তান রয়েছে। তার বাড়ি রংপুর জেলায়। ঘটনাটি শোনার সাথে সাথে অন্যান্য সহকর্মী ও কর্মকর্তারা হাসপাতালে ছুটে যান।




লক্ষ্মীছড়িতে শিক্ষক সংকটে প্রাথমিক শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত

প্রধান শিক্ষক নেই ১৫ বিদ্যালয়ে, ৩টিতে এক এবং ৬টি চলছে দু’জন শিক্ষক দিয়ে

Khagrachari-Laxmi Pic 01

বিশেষ প্রতিনিধি, লক্ষ্মীছড়ি থেকে ফিরে:
শিক্ষক সংকটে খাগড়াছড়ি জেলার লক্ষ্মীছড়িতে প্রাথমিক শিক্ষা কার্যক্রম ভেঙ্গে পড়েছে। প্রতিটি বিদ্যালয়ে নূন্যতম চারজন এবং প্রতি ৪০ জন শিক্ষার্থীর জন্য একজন করে শিক্ষক থাকার কথা থাকলেও লক্ষ্মীছড়িতে মাত্র ১ জন করে শিক্ষক দিয়ে চলছে ৩ টি বিদ্যালয়ের পাঠদান। দু’জন করে চলছে ৫টিতে এবং ১৫টি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যাালয়ে প্রধান শিক্ষক নেই।

অধিকাংশ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতেও শিক্ষার্থী অনুপাতে শিক্ষক না থাকায় প্রাথমিক শিক্ষাকার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। বেশ কিছু বিদ্যালয়ে দপ্তরী দিয়ে চলছে পাঠদান। লক্ষ্মীছড়ি উপজেলার দূর্গম এলাকার অধিকাংশ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ই জরাজীর্ণ। একটু বৃষ্টি হলে পানিকে একাকার হয়ে যায়।

লক্ষীছড়ি উপজেলার নোয়াপাড়া, দন্ডিপাড়া, মরাচেঙ্গী, বিনাছড়ি, লেলাং, মুক্তাছড়ি, ফুত্যাছড়ি, জুর্গাছড়িসহ নতুন জাতীয়করণ হওয়া আরো ৬টিসহ ১৫টি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দীর্ঘ দিন ধরে প্রধান শিক্ষকের পদ খালি।

একজন করে শিক্ষক দিয়ে চলছে শুকনাছড়ি,লেলাং ও ফুত্যাছড়ি এ তিন সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়। যতীন্দ্র কার্বারী পাড়া,দন্ডিপাড়া,মরাচেঙ্গী,মুক্তাছড়ি ও জুর্গছিড়ি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় চলছে দু’জন করে শিক্ষক দিয়ে।

বিনাজুড়ি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক উদয় চাকমা জানান, এ বিদ্যালয়ে বর্তমানে শিক্ষার্থীর সংখ্যা দুই শতাধিক। তিনি একাই ২০১৩ সালের সেপ্টেম্বর মাস থেকে পাঠদান চালিয়ে যাচ্ছেন।সদরে কোন মিটিং থাকলেও ঐ দিন স্কুল বন্ধ রাখতে হয়। ফলে শিক্ষার্থীরা বঞ্চিত হচ্ছে তাদের প্রাপ্য অধিকার হচ্ছে। শিক্ষার মানও হ্রাস পাচ্ছে।

এছাড়া নোয়াপাড়া, দন্ডি পাড়া, মরাচেঙ্গী, লেলাং পাড়া, ফুত্যাছড়ি, মুক্তাছড়ি ও জুর্গাছড়ি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গত কয়েক বছর প্রধান শিক্ষক নেই। এছড়া তিন বছর আগে জাতীয়করণ হওয়া ৭টি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নেই।

Khagrachari-Laxmi Pic 02

এ ছাড়া যতিন্দ্র কার্বারী পাড়া, দন্ডি পাড়া, লেলাং পাড়া, ফুত্যাছড়ি ও মরাচেঙ্গী পাড়া বিদ্যালয়গুলোতে মাত্র দু’জন শিক্ষক দিয়ে পাঠদান চলছে। জাতীয়করণ হয়নি দু’টি বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের চাকুরীও। এছাড়া উপজেলার অন্য সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতেও শিক্ষার্থী অনুপাতে শিক্ষক না থাকায় প্রাথমিক শিক্ষাকার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।

বিনাজুড়ি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় এসএমসি সভাপতি চাইবাই মারমা জানান, বিদ্যালয়ে ২০১ জন ছাত্র-ছাত্রী রয়েছে। অথচ শিক্ষক মাত্র ১ জন। এ কারণে প্রায় বিদ্যালয়টি বন্ধ থাকে। বিদ্যালয়ে শিক্ষক দেওয়ার জন্য বহু মহলে দেন-দরবার করেও কোন ফল পাইনি। তাই হতাশ হয়ে বসে আছি।

নাম প্রকাশ না করা শর্তে একজন এসএমসির সভাপতির বাইরের উপজেলা থেকে শিক্ষক নিয়োগ দেওয়ার কারণে এ সংকট সৃষ্টি হচ্ছে। নিয়োগ পাওয়ার পর পরই তদবির করে ঐ সব শিক্ষক তার সুবিধাজনক স্থানে বদলী যান। ফলে বিদ্যালয়টি হয়ে পড়ে শিক্ষক শূণ্য।

অপর একজন এসএমসি অভিযোগ, শিক্ষক নিয়োগ ও বদলীতে ঘুষ-বাণিজ্যের কারণে এ সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে। তিনি বলেন, ঘুষ নিয়ে বহিরাগতদের নিয়োগ দেওয়ার কারণে অনেকে কর্মস্থলে যোগ না দিয়েই সুবিধাজনক স্থানে বদলী হয়ে যান।

লক্ষ্মীছড়ি উপজেলা শিক্ষা অফিসার শাহ মো: ইকবাল মনসুর বলেন, লক্ষ্মীছড়ি উপজেলার সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষক সংকটের কারণে শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।

তিনি বলেন, প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে ধর্মসহ ২৭টি করে বিভাগ চালু আছে। একজন বা দু’জন করে শিক্ষক দিয়ে কোন অবস্থায়ই বিদ্যালয় চালানো সম্ভব না।

খাগড়াছড়ি জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার ফাতেমা মেহের ইয়াসমিন জানান, দীর্ঘ দিন ধরে প্রধান শিক্ষকের পদোন্নতির বিষয়টি ঝুলে থাকায় বিদ্যালয়গুলোর এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। এখন জট খুলেছে। শীঘ্রই সংকট কেটে যাবে। আর প্রক্রিয়াধীন নিয়োগ সম্পন্ন হলে বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষক সংকট মোচন হবে।

খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কংজরী চৌধুরী জানান, শীঘ্রই শূণ্যপদের অনুকুলে শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে। এর ফলে কোন বিদ্যালয়ে আর শিক্ষক সংকট থাকবে।




লক্ষ্মীছড়িতে কমিউনিটি পুলিশিং বিষয়ক সভা

RGGREGRHETG

লক্ষ্মীছড়ি প্রতিনিধি: খাগড়াছড়ি জেলার লক্ষ্মীছড়ি উপজেলায় কমিউনিটি পুলিশিং কমিটি গঠন উপলক্ষে এক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ১৭ জানুয়ারি উপজেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে দুপুরে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন লক্ষ্মীছড়ি থানার অফিসার্স ইনচার্জ মো. আরিফ ইকবাল।

সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান অংগ্য প্রু মারমা। এছাড়াও বক্তব্য রাখেন, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. বিল্লাল হোসেন ব্যাপারী, সাংগঠনিক সম্পাদক লেলিন কুমার চাকমা, মো. নুরে আলম, আব্দুর রশীদ মোল্লা, আব্দুল মাজেদ গাজি, সদর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান প্রবিল কুমার চাকমা ও লক্ষ্মীছড়ি প্রেসক্লাব সভাপতি সাংবাদিক মো. মোবারক হোসেন।

বক্তারা কমিউনিটি পুলিশিং কার্যক্রমকে প্রসংশা করে বলেন, এই কমিটি সঠিকভাবে কাজ করলে, এলাকার সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা, সমাজে বাল্যবিবাহ বন্ধ, যৌতুক, মাদক নিয়ন্ত্রণ, চুরি,ডাকাতিসহ সমাজের নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড কমিয়ে আনা সম্ভব।

অনুষ্ঠানের সভাপতি থানার অফিাসার্স ইনচার্জ মো. আরিফ ইকবাল সকলকে অবহিত করেন যে, সবসময় যাকে পাওয়া যাবে, যিনি মানুষের কল্যাণে এগিয়ে আসবেন এবং পুলিশকে সহযোগিতা করবে এমন ব্যক্তিদের নাম প্রস্তাবনার ভিত্তিতে যাচাই-বাছাই করে একটি পূর্ণাঙ্গ উপজেলা কমিউনটি পুলিশিং কমিটি গঠন করা হবে। এ ব্যাপারে তিনি সকলের সহযোগিতা কামনা করেন।




লক্ষীছড়িতে ইউপিডিএফ’র চাঁদাবাজি থেকে রেহাই পাচ্ছে না স্বজাতির নিরীহ পাহাড়ীরাও

Khagrachari Pic-04

বিশেষ প্রতিবেদক, লক্ষীছড়ি থেকে ফিরে:

খাগড়াছড়ি জেলার দূর্গম উপজেলা লক্ষীছড়ি চাঁদাবাজদের স্বর্গরাজ্য।ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট(ইউপিডিএফ) নামে সংগঠন লক্ষীছড়িতে চাঁদাবাজীর মহোৎসব চালাচ্ছে। এ সংগঠনটি অত্যাচার থেকে রেহাই পাচ্ছে না স্ব জাতির নিরীহ পাহাড়ীরাও। কিন্তু প্রাণ ভয়ে কেউ মুখ খুলছে না,কিংবা আইনের আশ্রয় নিচ্ছে না। দূর্গম যোগাযোগ ব্যবস্থা কারণে নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানও ব্যাহত হচ্ছে। আবার এসব চাঁদাবাজ-সন্ত্রাসীরা ধরা পড়লেও আইনের ফাঁকফোকর দিয়ে বেরিয়ে যাচ্ছে।

স্থানীয় সূত্রগুলো জানায়, লক্ষীছড়িতে পরিবহন, স্থানীয় হাটবাজার, উন্নয়ন প্রকল্প থেকে শুরু করে জুমচাষ, কৃষি পণ্য ও গবাদি পশু পালনসহ কোন কিছুই চাঁদার আওতাভূক্ত হচ্ছে না। স্ব-জাতির নিরীহ পাহাড়ীরাও রেহাই পাচ্ছেন না চাঁদাবাজদের কাছ থেকে। মাঝে মাঝে বিভিন্ন গ্রামে সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা ঢুকে লোকজনকে ঘর বাড়ি থেকে বের করে দিয়ে সাংগঠনিক কার্যক্রম চালাচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

লক্ষীছড়ি সদর ইউনিয়নে লক্ষী চাকমা, রক্তিম চাকমা ও সুইসোনা চাকমা। বার্মাছড়ি ইউনিয়নে রতন বসু চাকমা, তোরেন চাকমা ও অজয় চাকমা এবং দুল্যাতলীতে আপ্রুশী মার্মা ও রেশমী চাকমা ইউপিডিএফ’র সাংগঠনিক ও চাঁদা আদায়কারীদের নিয়ন্ত্রণ করে বলে জানিয়েছে সূত্রগুলো।

সূত্রমতে, লক্ষীছড়ির যতীন্দ্র কার্বারী পাড়া, মরা চেঙ্গী, শিলাছড়ি। সিন্দুকছড়ি সড়কের বটতলী, চাহ্লাতলী। মানিকছড়ি-লক্ষীছড়ি সড়কের মংহ্লাপাড়া ও লক্ষীছড়ি-ফটিকছড়ি সড়কের বাইনাছড়া নামক স্থানে ইউপিডিএফ’র সন্ত্রাসীরা প্রতিনিয়ত চাঁদাবাজি করছে।

সূত্র আরও জানায়, ইউপিডিএফসহ আঞ্চলিক সংগঠনগুলো সাংগঠনিক কর্মকান্ড পরিচালনার জন্য নেতাকর্মীদের এক স্থান থেকে অন্য স্থানে বদলি করে থাকে। যার কারণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষে এসব সন্ত্রাসীদের সহজে চিহ্নিত করা সম্ভব হয়ে উঠে না।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক পাহাড়ী জানান, জুম চাষ করতে হলে তাদের অগ্রীম চাঁদা দিয়ে রাখতে হয়। এছাড়া কলা, বাঁশ-গাছ, শাক সব্জী, হাঁস-মুরগী, গরু ছাগল বাজারে আনতে গেলে পথে তাদের চাঁদা দিতে হয়। ইউপিডিএফ’র সদস্যরা পথের মধ্যে চৌকি(চেক পোষ্ট) বসিয়ে চাঁদা আদায় করে।

আরেক বাঁশ-কাঠ ব্যবসায়ী জানায়, লক্ষীছড়ির ধুরুং খাল ব্যবহার করতে হলে বাঁশ প্রতি ২টাকা, কাঠ প্রতি ফুট ১৫ টাকা করে দিতে হয় ইউপিডিএফ’র চাঁদাবাজদের।

একজন পরিবহন শ্রমিক নাম প্রকাশ না করার অনুরোধে জানান, লক্ষীছড়িতে চলাচল করা যানবাহন, ভাড়ায় চালিত মোটরসাইকেলগুলো বাৎসরিক চাঁদা দিয়ে চলাচল করে। চাঁদা না দিলে চালক-শ্রমিকদের মারধর ও অপহরণ করা হয়।

নাম প্রকাশ না করা শর্তে লক্ষীছড়ি বাজারের এক পাহাড়ি ব্যবসায়ী বলেন, লক্ষীছড়িতে বাঙালিদের চেয়ে পাহাড়িরাই কষ্টে দিন পার করছে। কারণ অধিকাংশ পাহাড়ি গ্রামের আশাপাশে কোন নিরাপত্তা ক্যাম্প নেই। সে সুযোগে তারা নিরীহ পাহাড়িদের বেশি অত্যাচার চালাচ্ছে। ইউপিডিএফ’র সন্ত্রাসীরা পাহাড়িদের অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনের নামে উল্টো অধিকার হরণ করছে।

লক্ষীছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) মোহাম্মদ আরিফ ইকবাল জানান, তার কাছে এ ধরনের কোন অভিযোগ নেই।

অভিযোগের প্রেক্ষিতে ইউপিডিএফ’র লক্ষীছড়ি উপজেলার শাখার সংগঠক রত্তিম চাকমার সাথে চেষ্টা করেও তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।




লক্ষ্মীছড়ি চলছে কর্তা ছাড়া : কর্মে অচলাবস্থা

Khagrachari-Laxmi Pic 01

নিজস্ব প্রতিবেদক:

খাগড়াছড়ির দূর্গম উপজেলা পরিষদ চলছে কর্তা ছাড়া। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার পদটি শূণ্য ছয় মাস ধরে। উপজেলা চেয়ারম্যান অস্ত্র মামলায় জেল হাজতে। দুই প্রধান কর্তার অনুপস্থিতিতে অচল হয়ে পড়েছে লক্ষ্মীছড়ি উপজেলার দাপ্তরিক কর্মকাণ্ড। মানুষ সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। কর্তা না থাকায় বিভিন্ন বিভাগের দপ্তরগুলোও চলছে ঢিলে-ঢালাভাবে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০১৬সালের ১৪ জুলাই লক্ষ্মীছড়ি নির্বাহী কর্মকর্তা মো. শওকত ওসমান বদলী হয়ে যান। অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয় পাশ্ববর্তী মানিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা যুথিকা ঘোষকে। তিনিও একই বছরের ২৪নভেম্বর বদলী হয়ে গেলে মানিকছড়ি উপজেলার নবাগত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিনিতা রানীকে অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়। এদিকে ১জানুয়ারি রাতে অস্ত্রসহ গ্রেফতার হয়ে কারাগারে আছেন, লক্ষ্মীছড়ি উপজেলা চেয়ারম্যান সুপার জ্যোতি চাকমা।

রবিবার (১৫ জানুয়ারি) লক্ষ্মীছড়ি উপজেলা পরিষদে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় পুরো উপজেলা পরিষদের অধিকাংশ দপ্তরে তালা ঝুলছে। যে ক’টি দপ্তর খোলা আছে, কর্মচারী অলস সময় পার করছে।

লক্ষ্মীছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সিএ পলাশ চাকমা জানান, অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা মানিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিনিতা রানী লক্ষ্মীছড়িতে সপ্তাহে দু’দিন অফিস করে। অন্য সময় জরুরী কোন ফাইল থাকলে মানিকছড়ি থেকে করিয়ে আনতে হয়।

লক্ষ্মীছড়ির ঠিকাদার বাবুল চৌধুরী জানান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার পদটি দীর্ঘ দিন ধরে খালি থাকায় স্থানীয় অধিবাসীরা নানা দূর্ভোগের শিকার হচ্ছে।

খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ ওয়াহিদুজ্জামান জানান, এ নিয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে বহু লেখালেখি হয়েছে। কিন্তু ফল পাচ্ছি না।

খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কংজরী চৌধুরী জানান, লক্ষ্মীছড়িতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার পদ নিয়ে বহুবার সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে কথা বলেছি। কিন্তু অজ্ঞাত কারণে কোন কাজ হচ্ছে না।




লক্ষ্মীছড়ি-বর্মাছড়ি সড়কে তিনটি ব্রিজ নির্মাণে উদ্যোগ নিয়েছে এলজিইডি, অপেক্ষা আঞ্চলিক পরিষদের অনুমোদনের

Khagrachari Picture(02) 16-01-2017 (1) copy
বিশেষ প্রতিবেদক, লক্ষ্মীছড়ি থেকে ফিরে :
খাগড়াছড়ি জেলার লক্ষ্মীছড়ি-বর্মাছড়ি সড়কে নির্মাণাধীন তিনটি ব্রিজ ও সড়ক নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে এলজিইডি। ইতোমধ্যে সড়কের সার্ভের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। আঞ্চলিক পরিষদের অনুমোদন পেলে টেন্ডার আহবান করা হবে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন খাগড়াছড়ি এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আশরাফুল হক। অসমাপ্ত ব্রিজগুলো ও সড়কটির কাজ সম্পন্ন হলে লক্ষ্মীছড়ি উপজেলার বর্মাছড়ি ইউনিয়নে ১৬টি গ্রামের প্রায় ১০ হাজার মানুষের দীর্ঘ দিনের দুর্ভোগের অবসান হবে।

পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড ২০০৮-০৯ অর্থ বছরে লক্ষ্মীছড়ি-বর্মাছড়ি সড়কের মরাচেঙ্গী গুঘাট, ডান্দি ছড়া ও মরাচেঙ্গী ছড়ার উপর তিনটি ব্রিজ নির্মাণের দরপত্র আহ্বান করে।

3

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ৭৮ লাখ ৩২ হাজার ৭৬ টাকার মরাচেঙ্গী রেংগুঘাট ব্রিজের নির্মাণ কাজের দায়িত্বে পান পারিশা ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের বিপরীতে মানিকছড়ি উপজেলার বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম বাবুল, ৭২ লাখ ২৮ হাজার ৪৮৫ টাকার ডান্দি ছড়া ব্রিজ কাজ পান আমিন বাদ্রাস ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের সত্বাধীকারী খাগড়াছড়ির মাহবুবুর রহমান মোহন ও ৭৮ লাখ ৩২ হাজার ৭৬ টাকার মরাচেঙ্গী ছড়ার উপর ব্রিজ নির্মাণের দায়িত্ব পান বাতায়ন দেওয়ান। কিন্তু ব্রিজ তিনটি অসমাপ্ত রেখে ঠিকাদাররা কাজ বন্ধ করে দেন।

একটি সূত্র জানায়, আঞ্চলিক রাজনৈতিক দল ইউপিডিএফ’র চাঁদাবাজি ও পর্যাপ্ত রবাদ্দ না থাকায় ঠিকাদাররা ব্রিজের নির্মাণ কাজ বন্ধ করে দিতে বাধ্য হন।

ডান্দি ছড়া ব্রিজের ঠিকাদার মাহবুবুর রহমান মোহন জানান, ব্রিজের প্রায় ৫০ ভাগ কাজ শেষ হয়েছে। বিপরীতে বিল পেয়েছেন, ২৮ লাখ টাকা। কিন্তু পরবর্তীতে চাঁদাবাজি আর বরাদ্দ না দেওয়ায় ব্রিজের নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করা সম্ভব হচ্ছে না।

লক্ষ্মীছড়ি উপজেলার দুর্গম ইউনিয়ন বর্মাছড়ি। পায়ে হাঁটাপথ প্রায় ২৬ কিলোমিটার। এই ইউনিয়নের ১৬টি গ্রামে প্রায় ১১ হাজার মানুষের বসবাস। এখানে রয়েছে ৮টি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, ৪টি উচ্চ ও নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়সহ অনেক গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান।

11

বর্মাছড়ি ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান প্রতুল কান্তি চাকমা জানান, বর্মাছড়ি যাতায়াতের মাধ্যম হচ্ছে চাঁদের গাড়ী ও মোটরসাইকেল। বর্ষা মৌসুমে তাও বন্ধ হয়ে যায়। ফলে এলাকাবাসীকে সীমাহীন দুর্ভোগের শিকার হতে হয়। কৃষক উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্য মূল্য পাচ্ছে না।

সাবেক লক্ষ্মীছড়ি উপজেলা চেয়ারম্যান দশরথ তালুকদার জানান, বর্মাছড়ি সড়কের তিনটি ব্রিজসহ সড়কটি নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হলে লক্ষ্মীছড়ি-রাঙামাটি সড়কের দূরত্ব প্রায় ৭০ কিলোমিটার কমে যাবে।

খাগড়াছড়ি স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আশরাফুল হক জানান,পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড অসমাপ্ত ব্রিজসহ সড়কের নির্মাণ কাজ এলজিইডি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ইতোমধ্যে সড়কের সার্ভেও সম্পন্ন হয়েছে। ব্রিজ ও সড়ক নির্মাণের জন্য পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের অনুমোদন চাওয়া হয়েছে। অনুমোদন পেলে দ্রুত টেন্ডার আহ্বান করে কাজ শুরু করা হবে।




লক্ষ্মীছড়িতে অন্যায় দাবী আদায়ের জিম্মী সাধারণ মানুষ: দূর্বিষহ জনজীবন

Khagrachai-Laxmichari Pic 02

বিশেষ প্রতিবেদক, লক্ষীছড়ি থেকে ফিরে:

খাগড়াছড়ির লক্ষ্মীছড়ি উপজেলা চেয়ারম্যান সুপার জ্যোতি চাকমার অস্ত্রসহ আটকের ঘটনাকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার ষড়যন্ত্র চলছে। নানা রং দিয়ে নিত্য নতুন ইস্যু সৃষ্টি পায়তারা চলছে। অন্যায় আবদার আদায়ে লক্ষ্মীছড়ির সাধারন পাহাড়িদের দাবার গুটি হিসেবে ব্যবহার করছে। আর এ ক্ষেত্রে প্রধান সেনাপতির ভূমিকা পালন উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান অংগ্যপ্রু মারমাসহ ইউপিডিএফ সমর্থিত বেশ কয়েকজন জনপ্রতিনিধি।

এদিকে কথিত সুপার জ্যোতি মুক্তি সংগ্রাম কমিটির লক্ষ্মীছড়ি বাজার বয়কট ঘোষণার কারণে বাজারের প্রায় আড়াই শতাধিক ব্যবসায়ী পথে বাসার উপক্রম হয়েছে। অদৃশ্য শক্তির বাধার কারণে বাজারে আসতে না পারায় সাধারণ পাহাড়িরা মানবেতর জীবন-যাপন করছে। বিশেষ করে উপজাতীয় বিক্রেতা ও ব্যবসায়ীরা। লক্ষ্মীছড়িতে সরেজমিন ঘুরে ও বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষের সাথে কথা এমন তথ্য পাওয়া গেছে।

স্থানীয় সূত্রগুলো জানায়, প্রতি রবিবার ও বুধবার লক্ষ্মীছড়ি উপজেলার একমাত্র ‘লক্ষ্মীছড়ি বাজারটি’ হাট বসে। প্রতি হাটের দিন পাহাড়ি বাঙালি হাজারো ক্রেতা-বিক্রেতার মিলন মেলায় পরিণত হতো বাজারটি।

Khagrachai-Laxmichari Pic 01

কিন্তু রবিবার(১৫ জানয়ারি) সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, ক্রেতা বিক্রেতার পদচারণায় কোলাহলময় লক্ষ্মীছড়ি বাজারটি শুনশান নীরবতা। হাট বাজারের মূল উপজীব্য প্রান্তিক ক্রেতা বিক্রেতারা বাজারে না আসায় বেকায়দায় পড়েছেন বাজার ফান্ড অনুমোদিত লক্ষীছড়ি বাজারের আড়াই শতাধিক পাহাড়ি-বাঙালি দোকানদার। দোকানিরা পসরা সাজিয়ে বসে থাকলেও প্রান্তিক এলাকার ক্রেতারা বাজারে আসেনি।

বাজার কেন্দ্রিক জনগণ ও স্থানীয় ব্যবসায়ীরা ছাড়া বাহির থেকে কোন ক্রেতা বিক্রেতা আসেনি। হাটবারের দিনের সাধারণ পণ্য: কলা, জুমের ফসলসহ অন্যান্য সবজি ও হাঁস মুরগী বিক্রি করতে দেখে যায়নি পাহাড়ীদের।

গত ১ জানুয়ারী মধ্যরাতে অস্ত্রসহ গ্রেফতার হন লক্ষীছড়ি উপজেলা চেয়ারম্যান সুপার জ্যোতি চাকমা। আর তার নি:শর্ত মুক্তিসহ কয়েক দফা দাবী তুলে ৩ জানুয়ারি পুরো জেলায় বাজার বয়কটের ডাক সুপার জ্যোতি মুক্তি সংগ্রাম কমিটি সড়ক অবরোধ এবং একটি নিছক তুচ্ছ ঘটনায় ৪ জানুয়ারি থেকে লক্ষ্মীছড়ি বাজার বয়কট কমিটি নামে পোষ্টার সর্বস্ব একটি সংগঠন। যাদের নৈপথ্যে শক্তির যোগান দিচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে পাহাড়ের অনিবন্ধিত আঞ্চলিক সংগঠন ইউনাইটেড পিপলস্ ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট(ইউপিডিএফ) এর বিরুদ্ধে।

দু’টি সংগঠনের মধ্যে সুপার জ্যোতি মুক্তি সংগ্রাম কমিটির নেতৃত্বে রয়েছেন, লক্ষীছড়ি উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান অংগ্যপ্রু মারমা, সংরক্ষিত ভাইস ভাইস চেয়ারম্যান বেবী রাণী বসু, দুল্যাতলী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ত্রিলন চাকমা দয়াধনসহ বেশ কয়েকজন ইউপিডিএফ’র নেতাকর্মী।

Khagrachai-Laxmichari Pic 03

গত ৩ জানুয়ারী “নির্বাচিত জুম্ম প্রতিনিধি সংসদ” নাম সংবলিত একটি ই-মেইল থেকে সুপার জ্যোতি মুক্তি সংগ্রাম কমিটি আত্মপ্রকাশ ঘটে।

মূয়রখীল, মঙ্গলপাড়া ও মেজর পাড়া এলাকার বৈদ্যুতিক খুটিঁ, চায়ের দোকান ও বসতবাড়ির সামনে সাটাঁনো হয়েছে “সর্বাত্মকভাবে লক্ষীছড়ি বাজার বয়কট করুন” পোষ্টার। পোষ্টারে গ্রেফতার হওয়া লক্ষীছড়ি উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান সুপার জ্যোতি চাকমাকে ইউপিডিএফ’র ভ্রাতৃপ্রতীম সংগঠন গণতান্ত্রিক যুব ফোরামের প্রতিষ্ঠা সদস্য হিসেবে দাবী করা হয়েছে।

এছাড়া সুপার জ্যোতি চাকমা’র নি:শর্ত মুক্তি, ৩ জানুয়ারী লক্ষীছড়ি বাজারে হামলায় ক্ষতিগ্রস্থদের ক্ষতিপূরণ ও হামলাকারীদের গ্রেফতার ও নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের সাথে অসৌজন্যমূলক আচরণ বন্ধের দাবী জানানো হয় পোষ্টারে।

লক্ষীছড়ি বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক অজিত বিকাশ দত্ত পার্বত্যনিউজকে জানান, লক্ষীছড়ি বাজারে ক্রেতা বিক্রেতা না আসায় অর্থনৈতিক ভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। বাজারের অধিকাংশ ব্যবসায়ীদের সাথে ভেতরের খুচরা ব্যবসায়ীদের লেনদেন রয়েছে। কিন্তু তারা বাজারে না আসায় অর্থনৈতিক ভাবে অনেক ব্যবসায়ী বেকায়দায় পড়েছেন। অচিরেই এ অচলাবস্থার নিরসন হওয়া দরকার।

Khagrachai-Laxmichari Pic 04

লক্ষীছড়ি উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক বিল্লাল হোসেন বেপারী পার্বত্যনিউজকে জানান, ইউপিডিএফ’র ইন্দনেই কুচক্রী একটি মহল বাজার বয়কটের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। তাদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে নিরাপত্তা বাহিনীর প্রতি অনুরোধ জানাচ্ছি।

লক্ষ্মীছড়ি উপজেলা বিএনপি’র সভাপতি ফেরকান হাওলাদার পার্বত্যনিউজকে জানান,মিথ্যা অজুহাতে একটি আঞ্চলিক সংগঠন পাহাড়ি ক্রেতা-বিক্রেতাদের বাজারে আসতে বাধা দিচ্ছে। এতে করে বাজারের ব্যবসায়ীদের পাশাপাশি দূর্গম এলাকার পাহাড়িরাও সীমাহীন কষ্টে দিন পার করছে।

লক্ষ্মীছড়ি বাজারে দোকান খুলে বসে আসেন, পাহাড়ি ব্যবসায়ী দম্পতি বিন্দাবন চাকমা ও লাল মতি চাকমা। তারা দু’জনে জানান, দোকান খুলে আছি। কিন্তু ক্রেতা নেই। তাই দারুন অভাব-অনটনে দিন পার করছেন তারা। এই দুই দম্পতি দ্রুত এ সংখটের অবসান চান।

নাম প্রকাশ না করা অনুরোধ করে এক ব্যবসায়ী জানান, লক্ষীছড়ি উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান অংগ্যপ্রু মারমা বাজার বয়কটের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। তিনি প্রশাসনের সামনে ব্যবসায়ীদের পক্ষে কথা বললেও ভেতরে ইউপিডিএফ’র নির্দেশেই বাজার বয়কট কর্মসূচীর নেতৃত্ব দিচ্ছেন।

কয়েকজন জনপ্রতিনিধি নাম প্রকাশ না করে জানান, বাজার বয়কট কর্মসূচীর ডাক অপরাজনৈতিক কৌশল। তাদের ভয়ে জনগণ বাজারে আসতে পারছেন না। এতে করে দরিদ্র জনগোষ্ঠীরা অত্যন্ত দূর্ভোগে পড়েছেন।

উপজেলা পরিষদ এলাকায় রতন চাকমা নামে এক যুবক জানান, সুপার জ্যোতি চাকমাকে মুক্তি না দেয়া পর্যন্ত জনগণ বাজারে আসবে না। নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র বাইরের বাজারগুলো থেকে ক্রয় করছেন গ্রামবাসী।

রবিবার দুপুর পৌনে ১ টার দিকে লক্ষ্মীছড়ি বাজারে দেখা হয় উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান অংগ্যপ্রু মারমার সাথে। সাংবাদিকরা তার সাথে কথা বলতে চাইলে তিনি উপজেলা পরিষদের চায়ের দাওয়াত দেন। বলেন, অফিসে বসে কথা হবে। পরক্ষণে তার কথা মত অফিসে গেলে তাকে আর পাওয়া যায়নি। এর পর দফায় দফায় তার সেল ফোনে কল দিলেও তিনি আর কল রিসিভ না করায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। একইভাবে কথা বলার চেষ্টা হয় উপজেলা ইউপিডিএফ’র সংগঠক রত্তিম চাকমার সাথে। তিনিও ফোন না ধরায় তার সাথে কথা বলা সম্ভব হয়নি।

লক্ষীছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) মোহাম্মদ আরিফ ইকবাল পার্বত্যনিউজকে জানান, বাজারে আসতে কাউকে বাঁধা দেয়া হয়েছে এমন কোন অভিযোগ শুনা যায়নি।

প্রসঙ্গত, গত ১ জানুয়ারী রাতে অবৈধ অস্ত্র রাখার অভিযোগে লক্ষীছড়ি উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান সুপার জ্যোতি চাকমাকে সরকারি বাসভবন থেকে গ্রেফতার করে নিরাপত্তা বাহিনী। পরের দিন আদালতের নির্দেশে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। ৪র্থ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ইউপিডিএফ’র সমর্থনপুষ্ট হয়ে তিনি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন বলে লোকশ্রুতি রয়েছে।




লক্ষ্মীছড়ি, মানিকছড়ি উপজেলার ভূমি জোনিং ম্যাপের যাচাই করণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত

 

kuytgyjtgj copy

নিজস্ব প্রতিবেদক:

খাগড়াছড়ি জেলার লক্ষ্মীছড়ি ও মানিকছড়ি উপজেলার ভূমি জোনিং খসড়া ম্যাপ যাচাই করণ বিষয়ক দিনব্যাপী এক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। রবিবার মানিকছড়ি উপজেলা হল রুমে অনুষ্ঠিত এ কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন যুগ্ম সচিব প্রকল্প পরিচালক মো. শওকত আকবর।

মুখ্য আলোচক ছিলেন, এগ্রিকালচার স্পেশালিস্ট ড. এসএম আতিকুল্লাহ। মানিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী অফিসার বিনিতা রানী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন।

এছাড়াও বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন মানিকছড়ি উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ম্রাগ্য মারমা। মানিকছড়ি উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান রাহেলা আক্তারসহ কর্মশালায় লক্ষ্মীছড়ি ও মানিকছড়ি উপজেলার বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি, পুলিশ অফিসার, এনজিও এবং মিডিয়া কর্মীরা অংশ নেন।

অনুষ্ঠানের ডিজিটাল ম্যাপ তৈরী, এলাকার, বিভিন্ন জীব-বৈচিত্র, পাহাড়,জমি, আবাসনসহ ভূমির প্রয়োজনীয় উল্লেখযোগ্য বিষয়গুলো চিহ্নিত করাই হলো এ প্রকল্পের উদ্দেশ্যে।

এ ভূমি জোনিং প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে পৃথিবীর যে কোনো প্রান্তে বসে কম্পিউটারের মাধ্যমে ইন্টারনেটে নিজ এলাকার ভূমি এবং স্থাপনা নির্দেশনা দেবে। তবে এটি কোনো মালিকানা, দলিল, ভূমি জরিপ এমন কোনো বিষয় নয় বলে উল্লেখ করেন বক্তারা।




লক্ষ্মীছড়ি উপজেলা চেয়ারম্যান সুপার জ্যোতি চাকমার নিঃশর্ত মুক্তির দাবি স্ত্রীর

Khagrachari Picture(01) 14-01-2017 copy

নিজস্ব প্রতিবেদক:
গুলি ভর্তি বিদেশী পিস্তলসহ আটক খাগড়াছড়ি জেলার লক্ষীছড়ি উপজেলা চেয়ারম্যান সুপার জ্যোতি চাকমার নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানিয়েছেন সুপার জ্যোতি চাকমার সহধর্মিনী ননা চাকমা।

তিনি শনিবার সকালে খাগড়াছড়ি শহরে একটি রেস্টুরেন্টে আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে এ দাবী জানিয়ে বলেন, সুপার জ্যোতি চাকমাকে গ্রেফতার নিরাপত্তা বাহিনীর প্রতিশোধপরায়ণতার ফল ও অস্ত্র উদ্ধারের দাবী সাজানো নাটক।

তার দাবি স্থানীয় নিরাপত্তা বাহিনীর সাথে বিভিন্ন বিষয়ে মতবিরোধের কারণে বাসায় অস্ত্র রেখে লক্ষ্মীছড়ি উপজেলা চেয়ারম্যান সুপার জৌাতি চাকমাকে পরিকল্পিতভাবে গ্রেফতার করা হয়েছে।

তিনি তার স্বামীর মুক্তি, দায়েরকৃত অস্ত্র মামলা প্রত্যাহার, নিরীহ লোকজনকে অস্ত্র নাটক সাজিয়ে গ্রেফতার-হয়রানী বন্ধ ও নিরাপত্তা বাহিনীর খবরদারি এবং তল্লাশীর নামে হয়রানী, গ্রেফতার, নির্যাতনের অভিযোগ এনে তা বন্ধের দাবি জানান।

সাংবাদিক সম্মেলন উপস্থিত ছিলেন, লক্ষ্মীছড়ি উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান অংগ্যপ্রু মারমা, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান বেবি রানী বসু, সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান, মিলন চাকমা, লক্ষীছড়ি উপজেলা সদর ইউপি চেয়ারম্যান প্রবীল চাকমা, দুল্যাতলী ইউপি চেয়ারম্যান ত্রিলন চাকমা, বর্মাছড়ি ইউপি চেয়ারম্যান হরি মহন চাকমা, সুপার জ্যোতি চাকমার ভাতিজা বিপুল চাকমা, আত্মীয় রাজেন্দ্র চাকমা ও রমেশ চাকমা উপস্থিত ছিলেন।

প্রসঙ্গত, গত উপজেলা নির্বাচনে সুপার জ্যোতি চাকমা লক্ষ্মীছড়ি উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। তিনি আঞ্চলিক রাজনৈতিক সংগঠন ইউপিডিএফ’র অন্যতম পৃষ্ঠপোষক বলে জনশ্রুতি রয়েছে। ১ জানুযারি দিবাগত রাত সোয়া ২টার দিকে যৌথবাহিনী অভিযান চালিয়ে পাঁচ রাউন্ড গুলি ভর্তি একটি বিদেশী পিস্তলসহ খাগড়াছড়ির লক্ষ্মীছড়ি উপজেলা চেয়ারম্যান সুপার জ্যোতি চাকমাকে আটক করে। পরের দিন বিকালে তাকে খাগড়াছড়ি সিনিয়র জুিডসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আবু সুফিয়ান মো. আদালতে হাজির করা হলে আদালত জামিন না-মঞ্জুর করে জেল হাজতে পাঠনোর নির্দেশ দেন।




লক্ষ্মীছড়ি জোনের উদ্যোগে শীত বস্ত্র ও বই বিতরণ

grwgrghreg
লক্ষ্মীছড়ি প্রতিনিধি:

খাগড়াছড়ি জেলার লক্ষ্মীছড়ি জোনের উদ্যোগে শীত বস্ত্র ও নতুন বছরের বই বিতরণ করা হয়। ১৩ জানুয়ারি শুক্রবার দুপুরে মগাইছড়ি এলাকায় এ শীত বস্ত্র ও বই বিতরণ করা হয়।

লক্ষ্মীছড়ি জোন কমান্ডার লে. কর্নেল মো: আবুল কালাম শামসুদ্দিন রানা মাদ্রাসার ছাত্রদের হাতে বই তুলে দেন এবং অসহায় দুঃস্থদের মাঝে শীত বস্ত্র বিতরণ করেন।

এ সময় মেজর রাসেল আহমেদ, জোনের এ্যাডজুন্টে ক্যাপ্টেন সানজিদুল ইসলামসহ মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সভাপতি মো. নুরে আলম, শিক্ষক ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

জানা যায়, শিশু শ্রেণি, ১ম ও ২য় শ্রণির শিক্ষার্থীদের মাঝে ৩০ সেট বই ও ৫০ পিচ কম্বল বিতরণ করা হয়।

এর আগেও লক্ষ্মীছড়ি জোনের পক্ষ হতে দুর্গম বর্মাছড়ি, দুল্যাতলীসহ বিভিন্ন এলাকার পাহাড়ি-বাঙ্গালী অসহায়, গরীব ও দুঃস্থদের মাঝে শীত বস্ত্র বিতরণ করা হয়েছে।