সন্তু লারমা অনুমতি না দেয়ায় খাগড়াছড়ির তিনটি সড়কের নির্মাণ প্রকল্প বাতিল

Khagrachari-Picture02-16-01-2017-1-copy-1-300x181
খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি :

পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ চেয়ারম্যান সন্তু লারমা অনুমতি না দেয়ায় খাগড়াছড়ি জেলার ‘সি এইচ টি’ সিলেক্টেড তিনটি সড়কের নির্মাণ প্রকল্প বাতিল করা হয়েছে। এমন অধিকতর জনগোষ্ঠীর উন্নয়নমুখী কাজ ব্যাহত হওয়ায় জনমনে হতাশা ও ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে।

পাহাড়ি এ সড়ক গুলোতে শুকনো মৌসুমে চাঁদের গাড়ী ও মোটরসাইকেলে যাতায়াত করলেও বর্ষা মৌসুমে মাটির এ সড়কপথে বড়বড় গর্ত সৃষ্টি হয় এবং যানবাহন  চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পায়ে হেঁটে যাতায়াত করতে হয় স্থানীয় অধিবাসীদের। সীমাহীন দুর্ভোগে পরেন এসব এলাকার বাসিন্দারা। প্রকল্পগুলো বাতিল হওয়ায় এসব এলাকায় বসবাসকারী প্রায় অর্ধলক্ষাধিক মানুষের দীর্ঘ দিনের দুর্ভোগের অবসান ক্ষীণ হয়ে উঠছে। সড়কগুলো নির্মাণ করার দীর্ঘ দিনের যে দাবী তাও ভেস্তে যাচ্ছে।

11-1

সংশ্লিষ্ট সূ্ত্রে জানা যায়, লক্ষ্মীছড়ি থেকে বর্মাছড়ি ১৪.৮ কি. মি., মাটিরাঙ্গা  উপজেলার বেলছড়ি থেকে অযোদ্ধা ৯.৭ কি. মি. ও খাগড়াছড়ি থেকে সিঙ্গিনালা ২১ কি. মি. সড়ক নির্মাণকাজ প্রকল্পেরর জন্য প্রায় দু’শত কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছিলো। এশিয়ান ডেভলাপম্যান্ট ব্যাংক এডিবি’র অর্থায়নে এলজিডি এ সড়কগুলো নির্মাণের উদ্দ্যেগ নিয়ে সড়কের সার্ভের কাজসহ বেশকিছু কাজ সম্পন্ন করে।

তবে পার্বত্য চুক্তিমতে এলজিডির এ সমস্ত উন্নয়ন কাজে আঞ্চলিক পরিষদের অনুমোদন প্রয়োজন হওয়ায় সড়ক নির্মাণে আঞ্চলিক পরিষদের অনুমোদন চাওয়া হয়েছিলো। কিন্তু গত ২৮  ফেব্রুয়ারি  আঞ্চলিক পরিষদের নিয়মিত বৈঠকে প্রকল্পটি অনুমোদন না দেওয়াই বরাদ্দকৃত অর্থ বান্দরবন জেলায় স্থানান্তরিত করা হয়েছে। এর ফলে আবারো নতুন কোনো প্রজেক্ট না আসলে এ সড়কগুলো নির্মাণে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।

লক্ষ্মীছড়ি উপজেলা চেয়ারম্যান সুপার জ্যোতি চাকমা পার্বত্যনিউজকে জানান, লক্ষ্মীছড়ি থেকে বর্মাছড়ি সড়কটি নির্মাণ করা অতীব জরুরী এবং অত্রাঞ্চল বসবাসরত নাগরিকদের দীর্ঘদিনের দাবী। সড়কটি নির্মাণে সরকারের পদক্ষেপ ব্যাহত হওয়ায় ক্ষোভ জানিয়ে তিনি বলেন, এ অঞ্চলের জনগণের দুর্ভোগের বিষয়টি চিন্তা করে আঞ্চলিক পরিষদ প্রকল্পটির অনুমোদন দেওয়া প্রয়োজন ছিলো।
3

এর আগে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড ২০০৮-০৯ অর্থ বছরে লক্ষ্মীছড়ি-বর্মাছড়ি সড়কের মরাচেঙ্গী গুঘাট, ডান্দি ছড়া ও মরাচেঙ্গী ছড়ার উপর তিনটি ব্রিজ নির্মাণের দরপত্র দিয়ে নির্মাণ কাজ শুরুকরে।কিন্তু ব্রিজ তিনটি অসমাপ্ত রেখে ঠিকাদাররা কাজ বন্ধ করে দেন।

একটি সূত্র জানায়, আঞ্চলিক রাজনৈতিক দল ইউপিডিএফ’র চাঁদাবাজি ও পর্যাপ্ত বরাদ্দ না থাকায় ঠিকাদাররা ব্রিজের নির্মাণ কাজ বন্ধ করে দিতে বাধ্য হন।

খাগড়াছড়ি স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আশরাফুল হক জানান, খাগড়াছড়ি সদর,লক্ষ্মীছড়ি ও মাটিরাঙ্গা উপজেলার  তিনটি সড়কের নির্মাণ কাজ এলজিইডি করার সিদ্ধান্ত নিয়ে  সড়কের সার্ভে সম্পন্ন করে। তবে পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের চেয়ারম্যানের অনুমোদন না পাওয়ায় অাপাতত প্রকল্পটি বাতিল করা হয়েছে । লক্ষ্মীছড়ি উপজেলার অসমাপ্ত তিনটি ব্রিজ অন্য একটি প্রজেক্টের আওতায় আনার প্রস্তাব করা হয়েছে। চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে অনুমোদন পেলে কাজ শুরু করা হবে।




বুধবার থেকে লক্ষীছড়ি বাজার চালু হচ্ছে

Untitled-3 copy

নিজস্ব প্রতিবেদক,খাগড়াছড়ি:

অবশেষে টানা প্রায় দেড় মাস বন্ধ থাকার পর বুধবার লক্ষ্মীছড়ি বাজার চালু হচ্ছে। এ নিয়ে মঙ্গলবার রাতে মাইকিং করা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন, স্থানীয় প্রশাসন ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ।

লক্ষ্মীছড়ি উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. বিল্লাল হোসেন বেপারি জানান, বুধবার থেকে লক্ষ্মীছড়ি বাজার চালু হবে মর্মে মঙ্গলবার রাত পৌনে ৮টার দিকে পাহাড়িদের পক্ষ থেকে মাইকিং করেছে। উ্পজেলা ভাইস চেয়ারম্যান অংগ্যপ্রু মারমা ফোনে তাকে নিশ্চিত করেছেন।

লক্ষীছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) মোহাম্মদ আরিফ ইকবাল বুধবার থেকে লক্ষ্মীছড়ি বাজার চালু হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, বুধবার থেকে লক্ষ্মীছড়ি বাজারের সাপ্তাহিক হাঁট মিলবে জানিয়ে মঙ্গলবার রাতে জনসাধারণের উদ্দেশ্যে মাইকিং করা হয়েছে।

খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কংজরী চৌধুরী জানান, লক্ষ্মীছড়ি বাজার চালু করার জন্য নানামুখী তৎপরতা চালিয়েছে। সব মহলের সাথে বৈঠক করেছি। যার সুফল এখন আসছে।

প্রসঙ্গত, গত ১জানুয়ারি রবিবার দিবাগত  রাতে যৌথ বাহিনী অভিযান চালিয়ে লক্ষ্মীছড়ি উপজেলা চেয়ারম্যান সুপার জ্যোতি চাকমাকে পাঁচ রাউন্ড গুলি ভর্তি একটি বিদেশী পিস্তলসহ আটক করে। এ ঘটনার প্রেক্ষাপটে পাহাড়ের অনিবন্ধিত আঞ্চলিক সংগঠন ইউনাইটেড পিপলস্ ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট(ইউপিডিএফ)’র পৃষ্টপোষকতায় উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান অংগ্যপ্রু মারমাকে আহ্বায়ক করে সুপার জ্যোতি মুক্তি সংগ্রাম কমিটি গঠিত হয়। সুপার জ্যোতি চাকমার নি:শর্ত মুক্তিসহ কয়েক দফা দাবীতে “লক্ষ্মীছড়ি বাজার বয়কট কমিটি” ৪ জানুয়ারি থেকে লক্ষ্মীছড়ি বাজার বয়কটের ডাক দেয়। নানাভাবে হুমকি-ধমকি দিয়ে সাধারণ পাহাড়িদের লক্ষ্মীছড়ি বাজার বর্জন করতে বাধ্য করে। এ নিয়ে স্থানীয় নিরাপত্তা বাহিনীসহ বিভিন্ন প্রশাসনিক যন্ত্রগুলো বাজারটি চালু করার জন্য দফায় দফায় বৈঠক করে। গত ১ ফেব্রুয়ারি সুপার জ্যোতি চাকমা  জামিনে মুক্তি পায়। সে সাথে সুপার জ্যোতি চাকমা মুক্তি সংগ্রাম কমিটির সকল কার্যক্রম বিলুপ্তি ঘোষণা করা হয়।




লক্ষীছড়িতে ইউপিডিএফের তিন সহযোগী সংগঠনের কাউন্সিল সম্পন্ন

IMG_20170212_104457----

প্রেস বিজ্ঞপ্তি : ছাত্র-যুব-নারীর সম্মলিত শক্তিই হোক অস্তিত্ব রক্ষার অন্যতম হাতিয়ার- এই স্লোগানকে সামনে রেখে খাগড়াছড়ির লক্ষ্মীছড়িতে ইউপিডিএফের সহযোগী বৃহত্তর পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ (পিসিপি), হিল উইমেন্স ফেডারেশন (এইচডব্লিওএফ) ও গণতান্ত্রিক যুব ফোরাম (ডিওয়াইএফ) যথাক্রমে ১৩তম, ২য় ও ২য় লক্ষ্মীছড়ি উপজেলা শাখার কাউন্সিল সম্পন্ন হয়েছে।

বুধবার (৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৭) সকাল ১০টায় লক্ষ্মীছড়ি সদর এলাকায় এই কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়।

কাউন্সিল অধিবেশন শুরুতে গণতান্ত্রিক আন্দোলনে নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা ও সম্মান জানিয়ে এবং আলুটিলায় ট্রাক চাপায় নিহতদের আত্মা শান্তি কামনা করে এক মিনিট নিরবতা পালন করা হয়।

কাউন্সিল অধিবেশনের হিল উইমেন্স ফেডারেশন লক্ষ্মীছড়ি উপজেলা শাখার সভাপতি রেশমি মারমার সভাপতিত্বে ও গণতান্ত্রিক যুব ফোরামের লক্ষ্মীছড়ি উপজেলা শাখার যুগ্ম আহবায়ক ক্যাম্রং দেওয়ানের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন, ইউনাইটেড পিপল্স ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ)-এর লক্ষ্মীছড়ি উপজেলা ইউনিটের সংগঠক অমর চাকমা, পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটি সাধারণ সম্পাদক অনিল চাকমা, গণতান্ত্রিক যুব ফোরামের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক থুইক্যচিং মারমা, পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের ঢাকা মহানগর শাখার সভাপতি রোনাল চাকমা, হিল উইমেন্স ফেডারেশনের খাগড়াছড়ি জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক চৈতালী চাকমা ও লক্ষ্মীছড়ি উপজেলা সদর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান প্রবীল চাকমা প্রমুখ।

এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন দুইল্যাতলী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ত্রিলন চাকমা(দয়াধন) ও লক্ষীছড়ি সদর ইউনিয়নের সদস্য সুভাষ চাকমা ও বিভিন্ন উপজেলা কলেজ থেকে পিসিপি, যুব ফোরাম ও হিল উইমেন্স ফেডারেশনের প্রতিনিধিবৃন্দ। কাউন্সিলে স্বাগত বক্তব্য রাখেন পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের লক্ষ্মীছড়ি উপজেলা শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক মংসাচিং মারমা।

আলোচনা সভা শেষে কাউন্সিল অধিবেশনের উপস্থিত সকলে সর্বসম্মতি ক্রমের রাজ চাকমাকে সভাপতি, নয়ন চাকমাকে সাধারণ সম্পাদক ও পাইসুই মং মারমাকে সাংগঠনিক সম্পাদক করে ২১ সদস্য বিশিষ্ট পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ, রিপন চাকমাকে সভাপতি, ক্যাম্রং মারমাকে সাধারণ সম্পাদক ও কিরন চাকমা সাংগঠনিক সম্পাদক করে ১৫ সদস্য বিশিষ্ট গণতান্ত্রিক যুব ফোরাম ও রেশমি মারমাকে সভাপতি, থুইসুনু মারমাকে সাধারণ সম্পাদক ও চন্দনা চাকমাকে সাংগঠনিক সম্পাদক করে ১৩ সদস্য বিশিষ্ট হিল উইমেন্স ফেডারেশনের নতুন কমিটি গঠিত হয়।

নতুন কমিটিকে শপথবাক্য পাঠ করান পিসিপি’র কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক অনিল চাকমা, গণতান্ত্রিক যুব ফোরামের কেন্দ্রীয কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক থুইক্যচিং মারমা ও হিল উইমেন্স ফেডারেশনের খাগড়াছড়ি জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক চৈতালী চাকমা।




নাইক্ষ্যংছড়ির বাইশারী ছাত্রদলের সম্মেলনে নতুন নেতৃত্ব

Untitled-1 copy

নাইক্ষ্যংছড়ি প্রতিনিধি:

নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার বাইশারী ইউনিয়নে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের দ্বি-বার্ষিক সম্মেলন-১৭ সম্পন্ন হয়েছে। কাউন্সিলে বর্তমান, সাবেক ছাত্রনেতা ও কাউন্সিলরদের সর্ব সম্মতিক্রমে মুফিজুর রহমান সভাপতি ও মো. ইলিয়াছকে সাধারণ সম্পাদক করে পাচঁ সদস্যের কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন, ইয়াছিন আরাফাত সিনিয়র সহ সভাপতি, মো. আব্দুল্লাহ যুগ্ম সম্পাদক এবং আলী মো. মিনহাজ সাংগঠনিক সম্পাদক।

শনিবার সকাল ১০ টায় বাইশারী বাজার চত্বরে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে ছাত্রদলের দিনব্যাপী কর্মসূচি শুরু হয়। ইউনিয়ন ছাত্রদলের বিদায়ী সভাপতি ও ইউনিয়ন যুবদলের আহ্বায়ক মো. জসিম উদ্দিনের সভাপতিত্বে নবগঠিত কমিটির নির্বাচিত সভাপতি মুফিজুর রহমানের সঞ্চালনায় দ্বি-বার্ষিক সম্মেলন উদ্বোধন ঘোষণা করেন উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি আবু সুফিয়ান চৌধুরী।

এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা বিএনপির সভাপতি নুরুল কোম্পানী। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. কামাল উদ্দিন, প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম সম্পাদক জিয়াউল হক, মহিলা দলের সভানেত্রী হামিদা চৌধুরী, উপজেলা বিএনপির উপদেষ্টা আজিজুল হক তালুকদার, যুগ্ম সম্পাদক ও বাইশারী ইউনিয়ন বিএনপি সভাপতি মনিরুল হক মনু, উপজেলা বিএনপি সাংগঠনিক সম্পাদক মো. নুরুল কাশেম, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবকদলের সভাপতি আব্দুল আলীম বাহাদুর, উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম সম্পাদক মো. হোছাইন, রামু উপজেলা বিএনপির সহ সভাপতি নুরুল আজিম মাইজ্জ্যা, বাইশারী ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ছিদ্দিকুর রহমান, শ্রমিকদল সভাপতি সাব্বির আহমদ, স্বেচ্ছাসেবকদল সভাপতি আব্দুর রশিদ, নাইক্ষ্যংছড়ি সদর ইউনিয়ন ছাত্রদল সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম, ডিগ্রি কলেজ ছাত্রদলের সিনিয়র সহ সভাপতি আবু ছিদ্দিক মানিক, ঈদগড় ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক তৈয়ব উল্লাহ প্রমুখ।




লক্ষ্মীছড়িতে পুলিশ কনেস্টেবল ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা

লক্ষ্মীছড়ি প্রতিনিধি:

খাগড়াছড়ি জেলার লক্ষ্মীছড়ি উপজেলায় এক পুলিশ সদস্য পারিবারিক কলোহের জের ধরে বৃহস্পতিবার বিকাল ৩টায় ময়ূরখীল পুলিশ ফাঁড়ি এলাকায় নিজ বাসায় গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় লক্ষ্মীছড়ি হাপাতাল থেকে মানিকছড়ি এবং পরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়।

প্রত্যক্ষদর্শিরা জানান, ময়ূরখীল এলাকার জনৈক মেম্বারের ভাড়া বাসায় দরজার তালাবদ্ধ দেখে আশপাশের লোকজনকে খবর দেয়। প্রতিবেশিরা দরজা ভেঙ্গে ময়ূরখীল ফাঁড়ির কনেস্টেবল আব্দুর রাজ্জাক(২৯) কং- ৬৪২ কে উদ্ধার করে প্রথমে লক্ষ্মীছড়ি হাসপাতালে ভর্তি করে। অবস্থা আশঙ্কাজনক হলে দ্রুত লক্ষ্মীছড়ি জোনের সহায়তায় নিরাপত্তাবাহিনীর এ্যম্বুল্যান্সে করে মানিকছড়ি হাসপাতালে পাঠালে কর্তব্যরত ডাক্তার মূমূর্ষ অবস্থায় জরুরী চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করে। লক্ষ্মীছড়ি হাসপাতালের ডা. রাব্বী সাংবাদিকদের জানান, রোগীর অবস্থা খুবই আশঙ্কাজনক।

ময়ূরখীল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. জাহাঙ্গির আলম জানান, আমরা খবর পাওয়ার সাথে সাথে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে এসেছি। ঘটনার কারণ সম্পর্কে তাৎক্ষনিক কিছুই জানাতে পারেননি তিনি।

আব্দুর রাজ্জাকের স্ত্রী জানান, আজকে কোনো ঝগড়া বিবাদ হয়নি। তবে বার বার অজ্ঞান হয়ে পড়ায় তার কাছ থেকে কোনো কিছু জানা সম্ভব হয়নি।

প্রতিবেশিরা জানান, মাঝে মধ্যেই জগড়া হতে দেখা যায়। আরও কোনো ঘটনা আছে কিনা স্পষ্ট করে কেউ বলতে পারেনি।

উল্লেখ্য প্রায় ২ বছর ধরে মূয়রখীল পুলিশ ফাঁড়িতে কর্মরত আছেন আব্দুর রাজ্জাক। ঘটনার দিন সকালে উপজেলা সদরে মোবাইল টীমে পোশাক পরিহিত অবস্থায় ডিউটি করেছে বলেও জানা যায়। আব্দুল সোবাহান নামে ৬ বছরের ছেলে এবং সুমাইয়া আক্তার নামে ৪ বছরের কন্যা সন্তান রয়েছে। তার বাড়ি রংপুর জেলায়। ঘটনাটি শোনার সাথে সাথে অন্যান্য সহকর্মী ও কর্মকর্তারা হাসপাতালে ছুটে যান।




লক্ষ্মীছড়িতে শিক্ষক সংকটে প্রাথমিক শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত

প্রধান শিক্ষক নেই ১৫ বিদ্যালয়ে, ৩টিতে এক এবং ৬টি চলছে দু’জন শিক্ষক দিয়ে

Khagrachari-Laxmi Pic 01

বিশেষ প্রতিনিধি, লক্ষ্মীছড়ি থেকে ফিরে:
শিক্ষক সংকটে খাগড়াছড়ি জেলার লক্ষ্মীছড়িতে প্রাথমিক শিক্ষা কার্যক্রম ভেঙ্গে পড়েছে। প্রতিটি বিদ্যালয়ে নূন্যতম চারজন এবং প্রতি ৪০ জন শিক্ষার্থীর জন্য একজন করে শিক্ষক থাকার কথা থাকলেও লক্ষ্মীছড়িতে মাত্র ১ জন করে শিক্ষক দিয়ে চলছে ৩ টি বিদ্যালয়ের পাঠদান। দু’জন করে চলছে ৫টিতে এবং ১৫টি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যাালয়ে প্রধান শিক্ষক নেই।

অধিকাংশ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতেও শিক্ষার্থী অনুপাতে শিক্ষক না থাকায় প্রাথমিক শিক্ষাকার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। বেশ কিছু বিদ্যালয়ে দপ্তরী দিয়ে চলছে পাঠদান। লক্ষ্মীছড়ি উপজেলার দূর্গম এলাকার অধিকাংশ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ই জরাজীর্ণ। একটু বৃষ্টি হলে পানিকে একাকার হয়ে যায়।

লক্ষীছড়ি উপজেলার নোয়াপাড়া, দন্ডিপাড়া, মরাচেঙ্গী, বিনাছড়ি, লেলাং, মুক্তাছড়ি, ফুত্যাছড়ি, জুর্গাছড়িসহ নতুন জাতীয়করণ হওয়া আরো ৬টিসহ ১৫টি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দীর্ঘ দিন ধরে প্রধান শিক্ষকের পদ খালি।

একজন করে শিক্ষক দিয়ে চলছে শুকনাছড়ি,লেলাং ও ফুত্যাছড়ি এ তিন সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়। যতীন্দ্র কার্বারী পাড়া,দন্ডিপাড়া,মরাচেঙ্গী,মুক্তাছড়ি ও জুর্গছিড়ি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় চলছে দু’জন করে শিক্ষক দিয়ে।

বিনাজুড়ি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক উদয় চাকমা জানান, এ বিদ্যালয়ে বর্তমানে শিক্ষার্থীর সংখ্যা দুই শতাধিক। তিনি একাই ২০১৩ সালের সেপ্টেম্বর মাস থেকে পাঠদান চালিয়ে যাচ্ছেন।সদরে কোন মিটিং থাকলেও ঐ দিন স্কুল বন্ধ রাখতে হয়। ফলে শিক্ষার্থীরা বঞ্চিত হচ্ছে তাদের প্রাপ্য অধিকার হচ্ছে। শিক্ষার মানও হ্রাস পাচ্ছে।

এছাড়া নোয়াপাড়া, দন্ডি পাড়া, মরাচেঙ্গী, লেলাং পাড়া, ফুত্যাছড়ি, মুক্তাছড়ি ও জুর্গাছড়ি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গত কয়েক বছর প্রধান শিক্ষক নেই। এছড়া তিন বছর আগে জাতীয়করণ হওয়া ৭টি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নেই।

Khagrachari-Laxmi Pic 02

এ ছাড়া যতিন্দ্র কার্বারী পাড়া, দন্ডি পাড়া, লেলাং পাড়া, ফুত্যাছড়ি ও মরাচেঙ্গী পাড়া বিদ্যালয়গুলোতে মাত্র দু’জন শিক্ষক দিয়ে পাঠদান চলছে। জাতীয়করণ হয়নি দু’টি বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের চাকুরীও। এছাড়া উপজেলার অন্য সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতেও শিক্ষার্থী অনুপাতে শিক্ষক না থাকায় প্রাথমিক শিক্ষাকার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।

বিনাজুড়ি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় এসএমসি সভাপতি চাইবাই মারমা জানান, বিদ্যালয়ে ২০১ জন ছাত্র-ছাত্রী রয়েছে। অথচ শিক্ষক মাত্র ১ জন। এ কারণে প্রায় বিদ্যালয়টি বন্ধ থাকে। বিদ্যালয়ে শিক্ষক দেওয়ার জন্য বহু মহলে দেন-দরবার করেও কোন ফল পাইনি। তাই হতাশ হয়ে বসে আছি।

নাম প্রকাশ না করা শর্তে একজন এসএমসির সভাপতির বাইরের উপজেলা থেকে শিক্ষক নিয়োগ দেওয়ার কারণে এ সংকট সৃষ্টি হচ্ছে। নিয়োগ পাওয়ার পর পরই তদবির করে ঐ সব শিক্ষক তার সুবিধাজনক স্থানে বদলী যান। ফলে বিদ্যালয়টি হয়ে পড়ে শিক্ষক শূণ্য।

অপর একজন এসএমসি অভিযোগ, শিক্ষক নিয়োগ ও বদলীতে ঘুষ-বাণিজ্যের কারণে এ সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে। তিনি বলেন, ঘুষ নিয়ে বহিরাগতদের নিয়োগ দেওয়ার কারণে অনেকে কর্মস্থলে যোগ না দিয়েই সুবিধাজনক স্থানে বদলী হয়ে যান।

লক্ষ্মীছড়ি উপজেলা শিক্ষা অফিসার শাহ মো: ইকবাল মনসুর বলেন, লক্ষ্মীছড়ি উপজেলার সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষক সংকটের কারণে শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।

তিনি বলেন, প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে ধর্মসহ ২৭টি করে বিভাগ চালু আছে। একজন বা দু’জন করে শিক্ষক দিয়ে কোন অবস্থায়ই বিদ্যালয় চালানো সম্ভব না।

খাগড়াছড়ি জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার ফাতেমা মেহের ইয়াসমিন জানান, দীর্ঘ দিন ধরে প্রধান শিক্ষকের পদোন্নতির বিষয়টি ঝুলে থাকায় বিদ্যালয়গুলোর এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। এখন জট খুলেছে। শীঘ্রই সংকট কেটে যাবে। আর প্রক্রিয়াধীন নিয়োগ সম্পন্ন হলে বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষক সংকট মোচন হবে।

খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কংজরী চৌধুরী জানান, শীঘ্রই শূণ্যপদের অনুকুলে শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে। এর ফলে কোন বিদ্যালয়ে আর শিক্ষক সংকট থাকবে।




লক্ষ্মীছড়িতে কমিউনিটি পুলিশিং বিষয়ক সভা

RGGREGRHETG

লক্ষ্মীছড়ি প্রতিনিধি: খাগড়াছড়ি জেলার লক্ষ্মীছড়ি উপজেলায় কমিউনিটি পুলিশিং কমিটি গঠন উপলক্ষে এক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ১৭ জানুয়ারি উপজেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে দুপুরে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন লক্ষ্মীছড়ি থানার অফিসার্স ইনচার্জ মো. আরিফ ইকবাল।

সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান অংগ্য প্রু মারমা। এছাড়াও বক্তব্য রাখেন, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. বিল্লাল হোসেন ব্যাপারী, সাংগঠনিক সম্পাদক লেলিন কুমার চাকমা, মো. নুরে আলম, আব্দুর রশীদ মোল্লা, আব্দুল মাজেদ গাজি, সদর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান প্রবিল কুমার চাকমা ও লক্ষ্মীছড়ি প্রেসক্লাব সভাপতি সাংবাদিক মো. মোবারক হোসেন।

বক্তারা কমিউনিটি পুলিশিং কার্যক্রমকে প্রসংশা করে বলেন, এই কমিটি সঠিকভাবে কাজ করলে, এলাকার সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা, সমাজে বাল্যবিবাহ বন্ধ, যৌতুক, মাদক নিয়ন্ত্রণ, চুরি,ডাকাতিসহ সমাজের নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড কমিয়ে আনা সম্ভব।

অনুষ্ঠানের সভাপতি থানার অফিাসার্স ইনচার্জ মো. আরিফ ইকবাল সকলকে অবহিত করেন যে, সবসময় যাকে পাওয়া যাবে, যিনি মানুষের কল্যাণে এগিয়ে আসবেন এবং পুলিশকে সহযোগিতা করবে এমন ব্যক্তিদের নাম প্রস্তাবনার ভিত্তিতে যাচাই-বাছাই করে একটি পূর্ণাঙ্গ উপজেলা কমিউনটি পুলিশিং কমিটি গঠন করা হবে। এ ব্যাপারে তিনি সকলের সহযোগিতা কামনা করেন।




লক্ষীছড়িতে ইউপিডিএফ’র চাঁদাবাজি থেকে রেহাই পাচ্ছে না স্বজাতির নিরীহ পাহাড়ীরাও

Khagrachari Pic-04

বিশেষ প্রতিবেদক, লক্ষীছড়ি থেকে ফিরে:

খাগড়াছড়ি জেলার দূর্গম উপজেলা লক্ষীছড়ি চাঁদাবাজদের স্বর্গরাজ্য।ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট(ইউপিডিএফ) নামে সংগঠন লক্ষীছড়িতে চাঁদাবাজীর মহোৎসব চালাচ্ছে। এ সংগঠনটি অত্যাচার থেকে রেহাই পাচ্ছে না স্ব জাতির নিরীহ পাহাড়ীরাও। কিন্তু প্রাণ ভয়ে কেউ মুখ খুলছে না,কিংবা আইনের আশ্রয় নিচ্ছে না। দূর্গম যোগাযোগ ব্যবস্থা কারণে নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানও ব্যাহত হচ্ছে। আবার এসব চাঁদাবাজ-সন্ত্রাসীরা ধরা পড়লেও আইনের ফাঁকফোকর দিয়ে বেরিয়ে যাচ্ছে।

স্থানীয় সূত্রগুলো জানায়, লক্ষীছড়িতে পরিবহন, স্থানীয় হাটবাজার, উন্নয়ন প্রকল্প থেকে শুরু করে জুমচাষ, কৃষি পণ্য ও গবাদি পশু পালনসহ কোন কিছুই চাঁদার আওতাভূক্ত হচ্ছে না। স্ব-জাতির নিরীহ পাহাড়ীরাও রেহাই পাচ্ছেন না চাঁদাবাজদের কাছ থেকে। মাঝে মাঝে বিভিন্ন গ্রামে সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা ঢুকে লোকজনকে ঘর বাড়ি থেকে বের করে দিয়ে সাংগঠনিক কার্যক্রম চালাচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

লক্ষীছড়ি সদর ইউনিয়নে লক্ষী চাকমা, রক্তিম চাকমা ও সুইসোনা চাকমা। বার্মাছড়ি ইউনিয়নে রতন বসু চাকমা, তোরেন চাকমা ও অজয় চাকমা এবং দুল্যাতলীতে আপ্রুশী মার্মা ও রেশমী চাকমা ইউপিডিএফ’র সাংগঠনিক ও চাঁদা আদায়কারীদের নিয়ন্ত্রণ করে বলে জানিয়েছে সূত্রগুলো।

সূত্রমতে, লক্ষীছড়ির যতীন্দ্র কার্বারী পাড়া, মরা চেঙ্গী, শিলাছড়ি। সিন্দুকছড়ি সড়কের বটতলী, চাহ্লাতলী। মানিকছড়ি-লক্ষীছড়ি সড়কের মংহ্লাপাড়া ও লক্ষীছড়ি-ফটিকছড়ি সড়কের বাইনাছড়া নামক স্থানে ইউপিডিএফ’র সন্ত্রাসীরা প্রতিনিয়ত চাঁদাবাজি করছে।

সূত্র আরও জানায়, ইউপিডিএফসহ আঞ্চলিক সংগঠনগুলো সাংগঠনিক কর্মকান্ড পরিচালনার জন্য নেতাকর্মীদের এক স্থান থেকে অন্য স্থানে বদলি করে থাকে। যার কারণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষে এসব সন্ত্রাসীদের সহজে চিহ্নিত করা সম্ভব হয়ে উঠে না।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক পাহাড়ী জানান, জুম চাষ করতে হলে তাদের অগ্রীম চাঁদা দিয়ে রাখতে হয়। এছাড়া কলা, বাঁশ-গাছ, শাক সব্জী, হাঁস-মুরগী, গরু ছাগল বাজারে আনতে গেলে পথে তাদের চাঁদা দিতে হয়। ইউপিডিএফ’র সদস্যরা পথের মধ্যে চৌকি(চেক পোষ্ট) বসিয়ে চাঁদা আদায় করে।

আরেক বাঁশ-কাঠ ব্যবসায়ী জানায়, লক্ষীছড়ির ধুরুং খাল ব্যবহার করতে হলে বাঁশ প্রতি ২টাকা, কাঠ প্রতি ফুট ১৫ টাকা করে দিতে হয় ইউপিডিএফ’র চাঁদাবাজদের।

একজন পরিবহন শ্রমিক নাম প্রকাশ না করার অনুরোধে জানান, লক্ষীছড়িতে চলাচল করা যানবাহন, ভাড়ায় চালিত মোটরসাইকেলগুলো বাৎসরিক চাঁদা দিয়ে চলাচল করে। চাঁদা না দিলে চালক-শ্রমিকদের মারধর ও অপহরণ করা হয়।

নাম প্রকাশ না করা শর্তে লক্ষীছড়ি বাজারের এক পাহাড়ি ব্যবসায়ী বলেন, লক্ষীছড়িতে বাঙালিদের চেয়ে পাহাড়িরাই কষ্টে দিন পার করছে। কারণ অধিকাংশ পাহাড়ি গ্রামের আশাপাশে কোন নিরাপত্তা ক্যাম্প নেই। সে সুযোগে তারা নিরীহ পাহাড়িদের বেশি অত্যাচার চালাচ্ছে। ইউপিডিএফ’র সন্ত্রাসীরা পাহাড়িদের অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনের নামে উল্টো অধিকার হরণ করছে।

লক্ষীছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) মোহাম্মদ আরিফ ইকবাল জানান, তার কাছে এ ধরনের কোন অভিযোগ নেই।

অভিযোগের প্রেক্ষিতে ইউপিডিএফ’র লক্ষীছড়ি উপজেলার শাখার সংগঠক রত্তিম চাকমার সাথে চেষ্টা করেও তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।




লক্ষ্মীছড়ি চলছে কর্তা ছাড়া : কর্মে অচলাবস্থা

Khagrachari-Laxmi Pic 01

নিজস্ব প্রতিবেদক:

খাগড়াছড়ির দূর্গম উপজেলা পরিষদ চলছে কর্তা ছাড়া। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার পদটি শূণ্য ছয় মাস ধরে। উপজেলা চেয়ারম্যান অস্ত্র মামলায় জেল হাজতে। দুই প্রধান কর্তার অনুপস্থিতিতে অচল হয়ে পড়েছে লক্ষ্মীছড়ি উপজেলার দাপ্তরিক কর্মকাণ্ড। মানুষ সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। কর্তা না থাকায় বিভিন্ন বিভাগের দপ্তরগুলোও চলছে ঢিলে-ঢালাভাবে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০১৬সালের ১৪ জুলাই লক্ষ্মীছড়ি নির্বাহী কর্মকর্তা মো. শওকত ওসমান বদলী হয়ে যান। অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয় পাশ্ববর্তী মানিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা যুথিকা ঘোষকে। তিনিও একই বছরের ২৪নভেম্বর বদলী হয়ে গেলে মানিকছড়ি উপজেলার নবাগত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিনিতা রানীকে অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়। এদিকে ১জানুয়ারি রাতে অস্ত্রসহ গ্রেফতার হয়ে কারাগারে আছেন, লক্ষ্মীছড়ি উপজেলা চেয়ারম্যান সুপার জ্যোতি চাকমা।

রবিবার (১৫ জানুয়ারি) লক্ষ্মীছড়ি উপজেলা পরিষদে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় পুরো উপজেলা পরিষদের অধিকাংশ দপ্তরে তালা ঝুলছে। যে ক’টি দপ্তর খোলা আছে, কর্মচারী অলস সময় পার করছে।

লক্ষ্মীছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সিএ পলাশ চাকমা জানান, অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা মানিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিনিতা রানী লক্ষ্মীছড়িতে সপ্তাহে দু’দিন অফিস করে। অন্য সময় জরুরী কোন ফাইল থাকলে মানিকছড়ি থেকে করিয়ে আনতে হয়।

লক্ষ্মীছড়ির ঠিকাদার বাবুল চৌধুরী জানান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার পদটি দীর্ঘ দিন ধরে খালি থাকায় স্থানীয় অধিবাসীরা নানা দূর্ভোগের শিকার হচ্ছে।

খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ ওয়াহিদুজ্জামান জানান, এ নিয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে বহু লেখালেখি হয়েছে। কিন্তু ফল পাচ্ছি না।

খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কংজরী চৌধুরী জানান, লক্ষ্মীছড়িতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার পদ নিয়ে বহুবার সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে কথা বলেছি। কিন্তু অজ্ঞাত কারণে কোন কাজ হচ্ছে না।




লক্ষ্মীছড়ি-বর্মাছড়ি সড়কে তিনটি ব্রিজ নির্মাণে উদ্যোগ নিয়েছে এলজিইডি, অপেক্ষা আঞ্চলিক পরিষদের অনুমোদনের

Khagrachari Picture(02) 16-01-2017 (1) copy
বিশেষ প্রতিবেদক, লক্ষ্মীছড়ি থেকে ফিরে :
খাগড়াছড়ি জেলার লক্ষ্মীছড়ি-বর্মাছড়ি সড়কে নির্মাণাধীন তিনটি ব্রিজ ও সড়ক নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে এলজিইডি। ইতোমধ্যে সড়কের সার্ভের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। আঞ্চলিক পরিষদের অনুমোদন পেলে টেন্ডার আহবান করা হবে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন খাগড়াছড়ি এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আশরাফুল হক। অসমাপ্ত ব্রিজগুলো ও সড়কটির কাজ সম্পন্ন হলে লক্ষ্মীছড়ি উপজেলার বর্মাছড়ি ইউনিয়নে ১৬টি গ্রামের প্রায় ১০ হাজার মানুষের দীর্ঘ দিনের দুর্ভোগের অবসান হবে।

পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড ২০০৮-০৯ অর্থ বছরে লক্ষ্মীছড়ি-বর্মাছড়ি সড়কের মরাচেঙ্গী গুঘাট, ডান্দি ছড়া ও মরাচেঙ্গী ছড়ার উপর তিনটি ব্রিজ নির্মাণের দরপত্র আহ্বান করে।

3

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ৭৮ লাখ ৩২ হাজার ৭৬ টাকার মরাচেঙ্গী রেংগুঘাট ব্রিজের নির্মাণ কাজের দায়িত্বে পান পারিশা ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের বিপরীতে মানিকছড়ি উপজেলার বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম বাবুল, ৭২ লাখ ২৮ হাজার ৪৮৫ টাকার ডান্দি ছড়া ব্রিজ কাজ পান আমিন বাদ্রাস ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের সত্বাধীকারী খাগড়াছড়ির মাহবুবুর রহমান মোহন ও ৭৮ লাখ ৩২ হাজার ৭৬ টাকার মরাচেঙ্গী ছড়ার উপর ব্রিজ নির্মাণের দায়িত্ব পান বাতায়ন দেওয়ান। কিন্তু ব্রিজ তিনটি অসমাপ্ত রেখে ঠিকাদাররা কাজ বন্ধ করে দেন।

একটি সূত্র জানায়, আঞ্চলিক রাজনৈতিক দল ইউপিডিএফ’র চাঁদাবাজি ও পর্যাপ্ত রবাদ্দ না থাকায় ঠিকাদাররা ব্রিজের নির্মাণ কাজ বন্ধ করে দিতে বাধ্য হন।

ডান্দি ছড়া ব্রিজের ঠিকাদার মাহবুবুর রহমান মোহন জানান, ব্রিজের প্রায় ৫০ ভাগ কাজ শেষ হয়েছে। বিপরীতে বিল পেয়েছেন, ২৮ লাখ টাকা। কিন্তু পরবর্তীতে চাঁদাবাজি আর বরাদ্দ না দেওয়ায় ব্রিজের নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করা সম্ভব হচ্ছে না।

লক্ষ্মীছড়ি উপজেলার দুর্গম ইউনিয়ন বর্মাছড়ি। পায়ে হাঁটাপথ প্রায় ২৬ কিলোমিটার। এই ইউনিয়নের ১৬টি গ্রামে প্রায় ১১ হাজার মানুষের বসবাস। এখানে রয়েছে ৮টি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, ৪টি উচ্চ ও নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়সহ অনেক গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান।

11

বর্মাছড়ি ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান প্রতুল কান্তি চাকমা জানান, বর্মাছড়ি যাতায়াতের মাধ্যম হচ্ছে চাঁদের গাড়ী ও মোটরসাইকেল। বর্ষা মৌসুমে তাও বন্ধ হয়ে যায়। ফলে এলাকাবাসীকে সীমাহীন দুর্ভোগের শিকার হতে হয়। কৃষক উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্য মূল্য পাচ্ছে না।

সাবেক লক্ষ্মীছড়ি উপজেলা চেয়ারম্যান দশরথ তালুকদার জানান, বর্মাছড়ি সড়কের তিনটি ব্রিজসহ সড়কটি নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হলে লক্ষ্মীছড়ি-রাঙামাটি সড়কের দূরত্ব প্রায় ৭০ কিলোমিটার কমে যাবে।

খাগড়াছড়ি স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আশরাফুল হক জানান,পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড অসমাপ্ত ব্রিজসহ সড়কের নির্মাণ কাজ এলজিইডি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ইতোমধ্যে সড়কের সার্ভেও সম্পন্ন হয়েছে। ব্রিজ ও সড়ক নির্মাণের জন্য পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের অনুমোদন চাওয়া হয়েছে। অনুমোদন পেলে দ্রুত টেন্ডার আহ্বান করে কাজ শুরু করা হবে।