খাগড়াছড়িতে পৃথক পাহাড় ধ্বসে তিন শিশুর মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদক, খাগড়াছড়ি:

খাগড়াছড়ির রামগড় ও লক্ষীছড়ি উপজেলায় পৃথক পাহাড় ধ্বসে ৩ শিশুর মৃত্যু ও দু’জন আহত হয়েছে। রোববার ভোর রাতে প্রবল বর্ষণের সময় পাহাড় ধ্বসে হতাহতের ঘটনা ঘটে।

পাহাড় ধ্বসে রামগড় উপজেলায় ২০টির মতো ঘরবাড়ি ও দোকানপাট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া লক্ষ্মীছড়ি ও গুইমারা উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে তিন শতাধিক পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। বর্ষন ও পাহাড় ধ্বস অব্যাহত থাকায় জেলায় ৫টি আশ্রয় শিবির খুলেছে প্রশাসন। সেখানে লোকজনকে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

রামগড় উপজেলার বুদংপাড়ার বাসিন্দা মো. মোস্তফা জানান, রোববার ভোর সাড়ে ৬টার দিকে তার বসতবাড়ির উপর একটি বিশাল পাহাড় ধ্বসে পড়ে। এতে তার মো. নুরনবী(১৪) ও মো. হোসেন(১০) নামে দুই সহোদর নিহত ও বিল্লাল হোসেন আহত হয়।

জাহেদুর নেছা জানান, ভোর রাতে প্রবল বর্ষণের সময় বাড়ির পূর্ব পাশের পাহাড় ধ্বসে মাটিচাপা পড়ে একই বিছানায় ঘুমন্তাবস্থায় তার দুই ছেলে মারা যান।

নিহতদের চাচা জানান, ঘটনার পর প্রায় দুই ঘন্টা চেষ্টা চালিয়ে দুই সহোদরের লাশ উদ্ধার করতে সক্ষম হয়। পরে ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট এসে মাটি চাপায় নিখোঁজ গবাদি পশুর সন্ধান চালায়। নিহতদের পরিবারকে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক ২০ হাজার টাকা সাহায্য করা হয়।

অন্যদিকে, রোববার সকাল ৮টায় লক্ষ্মীছড়ির যতীন্দ্র কার্বারী পাড়া এলাকায় পাহাড় ধ্বসে নিপুন চাকমা(৫) নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়। সে একই এলাকার দেবব্রত চাকমার মেয়ে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন, উপজেলা চেয়ারম্যান সুপার জ্যোতি চাকমা।

এদিকে প্রবল বর্ষণে গুইমারা ও লক্ষ্মীছড়ি উপজেলার নিম্নাঞ্চল পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় প্রায় দেড় শতাতিক পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। বর্ষণ অব্যাহত থাকলে আরও ভূমি ধ্বসের শঙ্কা থাকায় জেলা শহরের আলুটিলায় বুলডোজার দিয়ে পাহাড় কাটতে দেখা গেছে।

খাগড়াছড়ির জেলা প্রশাসক মো. রাশেদুল ইসলাম জানান, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বসবাসকারীদের সরিয়ে আনতে জেলা সদর, মহালছড়ি, মানিকছড়ি ও রামগড়ে ৫টি আশ্রয় কেন্দ্র খোলা হয়েছে। মাইকিং করে ও উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ঝুঁকিপূর্ণ বসতবাড়ি সনাক্ত করে তাদের উদ্বুদ্ধ করে আশ্রয় কেন্দ্রে নেয়া হচ্ছে। এখন পর্যন্ত ৮০টির মতো পরিবার আশ্রয় কেন্দ্রে রয়েছে। তাদের খাবার, বিশুদ্ধ খাবার পানি ও নিরাপত্তার জন্য আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে পুলিশ মোতায়ন করা হয়েছে।

এবছর পাহাড় ধ্বস ও প্রবল বর্ষণ অতীতের সকল রেকর্ড ভেঙেছে উল্লেখ করে ডিসি ভূ-তাত্ত্বিকদের সমন্বয়ে পাহাড়ের প্রকৃতিগত বৈশিষ্ট্য জরিপ করে নীতিমালা প্রয়ননের প্রস্তাব দেন।




লক্ষীছড়িতে পাহাড় ধ্বসে একজনের মৃত্যু, আহত ৭

 

নিজস্ব প্রতিবেদক, খাগড়াছড়ি:

পাহাড় ধ্বসে লক্ষ্মীছড়ির বর্মছড়ি ফুত্যাছড়া পাড়ার পরিমল চাকমা(৩০) নামে একজনের মৃত্যু হয়েছে। পাহাড় ধ্বসে একই পরিবারের শিশু ও নারীসহ আরো ৭জন আহত হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করে লক্ষ্মীছড়ি জোন কমান্ডার লে. কর্ণেল মো. মিজানুর রহমান জানান, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় নিরাপত্তাবাহিনীর সদস্য পাহাড় কেটে পরিমল চাকমার লাশ উদ্ধার করে। একই পরিবারের শিশু ও নারীসহ আরো ৭জন মারাত্বক আহত হয়।

স্থানীয় অধিবাসী রাজেন্দ্র চাকমা জানান, বর্মাছড়ি ইউনিয়নের ফুত্যাছড়া পাড়ার প্রাণকৃত চাকমার ছেলে পরিমল চাকমা(৩০) পাহাড় ধ্বসে মাটি চাপায় মৃত্যু হয়। একই পরিবারের শিশু ও নারীসহ আরো ৭জন মারাত্বক ভাবে আহত হয়। ঘটনাটি মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ঘটলেও ছড়া ও খালে পানি ভরাট হয়ে যাওয়ায় হাসপাতালে আনা সম্ভব হয়নি।

বুধবার সকালে আহতদের লক্ষ্মীছড়ি হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। লক্ষ্মীছড়ি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আহতরা হচ্ছে, মধ্যম বর্মাছড়ি পাড়ার সজিব চাকমার স্ত্রী রজমালা চাকমা(২৪), তার ৯ বছরের কন্যা পার্কি চাকমা ও ৬ বছরের শিশু তুষি চাকমা। সড়ক যোগাযোগ না থাকায় আহত ধনঞ্জয় চাকমা(৬৫), তার স্ত্রী তিতুর বালা চাকমা(৫৫), মেয়ে সাবেত্রী চাকমা(৪০) ও সাবেত্রী চাকমার ছেলে এপিন চাকমাকে হাসপাতালে আনা সম্ভব হচ্ছে না।

লক্ষ্মীছড়ি উপজেলা নির্বাহী অফিসার জাহিদ ইকবাল পাহাড় ধ্বসের মৃত্যুর ঘটনা নিশ্চিত করেছেন।

অপর দিকে অতিবৃষ্টিতে চট্টগ্রামের উত্তর ফটিকছড়ির হেয়াকোতে সড়ক ধ্বসে যাওয়ায় খাগড়াছড়ি-ঢাকা সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। একইভাবে ঘিলাছড়িতে সড়কের উপর পাহাড় ধ্বসে পড়ায় খাগড়াছড়ি-রাঙামাটি সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে।




নয়ন হত্যার বিচার ও লংগদুতে গণগ্রেফতার বন্ধের দাবিতে লক্ষ্মীছড়িতে মানববন্ধন

Khagrachari Pic 04 (1) copy

নিজস্ব প্রতিবেদক, খাগড়াছড়ি:

নুরুল ইসলাম নয়ন হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠ বিচার ও নিরহ বাঙালীদের নামে মিথ্যা মামলা দায়ের, গণগ্রেফতার ও গ্রেফতারকৃতদের নি:শর্ত মুক্তির দাবিতে খাগড়াছড়ির লক্ষ্মীছড়িতে মানববন্ধন করেছে সর্বস্তরের বাঙালিরা।

সকাল পৌনে ১১টার দিকে লক্ষীছড়ি থানার মোড় থেকে লক্ষীছড়ি বাজার পর্যন্ত দীর্ঘ মানববন্ধনে স্থানীয় বিভিন্ন পেশার লোকজনও একাত্মতা প্রকাশ করে অংশ নেয়। মানববন্ধন থেকে নয়নের খুনিকে খুঁজে বের করে উপযুক্ত বিচারের দাবি জানানো হয়।

মানববন্ধন থেকে লংগদুতে সাধারণ মানুষকে সাজানো মামলায় গণগ্রেফতার বন্ধ ও গ্রেফতারকৃতদের নি:শর্ত মুক্তির দাবি জানানো হয়।

মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন, মো. হেলাল, মহিউদ্দিন, মাইনুল, মনির, কোরবান, কলিম, ও রমজান।

মানববন্ধন থেকে পাহাড়ে চাঁদাবাজি বন্ধ, অস্ত্রের ঝনঝনানি বন্ধ ও সন্ত্রাসীদের হাতে  নিরীহ পাহাড়ি-বাঙালি জনগণের হয়রানি বন্ধের দাবি জানানো হয়।




সুপার জ্যোতি চাকমার বিরুদ্ধে দায়িত্ব হস্তান্তরে তাল বাহনার অভিযোগ

18816847_723485887854012_2081745811_n-238x300

নিজস্ব প্রতিবেদক, খাগড়াছড়ি:

সাময়িক বরখাস্তের ১৫দিন পার হয়ে গেলেও এখনো দায়িত্ব হস্তান্তর করেননি খাগড়াছড়ি জেলার লক্ষ্মীছড়ি উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান সুপার জ্যোতি চাকমা। তবে তিনি অফিস করা থেকে বিরত থাকলেও দায়িত্ব হস্তান্তরে নানা তাল বাহনা করে যাওয়ার কারণে লক্ষ্মীছড়ি উপজেলার উন্নয়ন কর্মকাণ্ড ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

সুপার জ্যোতি চাকমা ৪র্থ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে পাহাড়ের আঞ্চলিক সংগঠন ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট এর (ইউপিডিএফ) সমর্থন নিয়ে লক্ষ্মীছড়ি উপজেলার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। চলতি বছর ১লা জানুয়ারি মধ্য রাতে যৌথবাহিনী অভিযান চালিয়ে ১টি বিদেশী  পিস্তল, ১টি ম্যাগজিন ও ৫ রাউন্ড তাজা গুলিসহ সুপার জ্যোতি চাকমাকে তার সরকারি নিজ বাসভবন থেকে আটক করে।

অস্ত্র আইনের মামলায় লক্ষ্মীছড়ি উপজেলা চেয়ারম্যান সুপার জ্যোতি চাকমার বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হলে গত ২৩ মে উপজেলা পরিষদ আইন ১৯৯৮, উপজেলা পরিষদ (সংশোধন) আইন ২০১১ ধারা (সংশোধিত) এর ১৩খ (১) ধারা অনুসারে সুপার জ্যোতি চাকমাকে সাময়িক বরখাস্তের আদেশ দেয়া হয়। স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব লুৎফুন নাহার ২৩ মে স্বাক্ষরিত ৪৬.০৪৫.০২৭.০৮.১১৭.১১৭.২০১৭-৬৬৯ স্মারকমূলে প্রেরিত এক পত্রে এ তথ্য জানা যায়। বরখাস্তের প্রজ্ঞাপনে বলা হয় লক্ষ্মীছড়ি থানার মামলা নং-১, তারিখ-০২.০১.২০১৭ (ঝচখ ১৩/১৭, জি.আর ০১/১৭) এর অভিযোগপত্র আদালতে গৃহীত  হওয়ায় তার দ্বারা উপজেলা পরিষদের ক্ষমতা প্রয়োগ জনস্বার্থের পরিপন্থী মর্মে সরকার মনে করে বলে পত্রে উল্লেখ করা হয়। বিধি মোতাবেক বরখাস্তের ৩দিনের মধ্যে দায়িত্ব বুঝিয়ে দেয়ার নিয়ম রয়েছে। অন্যথায় ৪র্থ দিন থেকে প্যানেল চেয়ারম্যান-১ অফিসিয়াল যাবতীয় কাজ সম্পাদন করতে কোনো বাঁধা থাকে না।

এদিকে সাময়িকভাবে বরখাস্তের ১৫দিন পার হলে দায়িত্ব হস্তান্তর না করায় জনমনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। এ বিষয়ে সাময়িক বরখাস্ত উপজেলা চেয়ারম্যান সুপার জ্যোতি চাকমার সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। উপজেলার প্যানেল চেয়ারম্যান (ভাইস চেয়ারম্যান) অংগ্যপ্র মারমার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, সোমবার দায়িত্ব হস্তান্তরের কথা থাকলেও সুপার জ্যোতি চাকমা পরিষদে যাননি।

সোমবার দুপুরে সোয়া ২টায় লক্ষ্মীছড়ি উপজেলা নির্বাহী অফিসার জাহিদ ইকবালের সাথে কথা হয় পার্বত্যনিউজ প্রতিবেদকের।  তিনি  জানান, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে ও বিভিন্ন জাতীয়, আঞ্চলিক ও অনলাইন পত্রিকায় উপজেলার চেয়ারম্যানকে বরখাস্তের খবরটি দেখেছেন। তবে অফিসিয়ালি এখনো পাননি। তবে তিনি স্বীকার করেন, বিধি মতে বরখাস্তের তিন দিনের মধ্যে দায়িত্ব বুঝিয়ে দেওয়ার বিধান রয়েছে। অন্যথায় ৪র্থ দিনে প্যানেল চেয়ারম্যান দায়িত্ব বুঝে নিয়েছেন মর্মে গন্য হবে এবং পরবর্তিতে আদেশে আর্থিক ক্ষমতা দেয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে একটি পত্র প্রেরণ করতে হবে।

অন্যদিকে, দিকে লক্ষ্মীছড়ি উপজেলা পরিষদের অফিস সহকারী জুকেশ বিন্দু চাকমা বলেন, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের ওয়েব-সাইড থেকে বরখাস্তের প্রজ্ঞাপন ডাউনলোড করে চেয়ারম্যান সুপার জ্যোতি চাকমাকে দেখানো হয়েছে।




বরখাস্তের ৯ দিন পার হলেও লক্ষ্মীছড়ি উপজেলা চেয়ারম্যান এখনো জানেন না

18816847_723485887854012_2081745811_n-238x300

গুইমারা প্রতিনিধি:

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব লুৎফুন নাহার ২৩ মে স্বাক্ষরিত ৪৬.০৪৫.০২৭.০৮.১১৭.১১৭.২০১৭-৬৬৯ স্মারকমূলে প্রেরিত এক পত্রে এ তথ্য জানা যায়। এ বিষয়ে জানতে উপজেলা চেয়ারম্যান’র দপ্তরে গেলে সুপার জ্যোতি চাকমা বলেন, আমি শুনেছি তবে এ সংক্রান্ত কোনো চিঠি আমি পাইনি। চিঠি পেলে পরবর্তি করণীয় বিষয় চিন্তা করবো বলে তিনি জানান। নিয়মিত দাপ্তরিক কাজ করতে দেখা গেছে।

লক্ষ্মীছড়ি উপজেলা নির্বাহী অফিসার জাহিদ ইকবাল জানান, অনলাই নিউজ পত্রিকায় সংবাদ দেখেছি। বিধি মতে বরখাস্তের আদেশ পাওয়ার পর প্যানেল চেয়ারম্যানকে দায়িত্ব বুঝিয়ে দিবেন চেয়ারম্যান। পরে আর্থিক ক্ষমতা পাওয়ার জন্য নির্বাহী অফিসার হিসেবে চিঠি লেখার বিধান রয়েছে। তবে এর বাইরে অবশ্য তিনি আর কিছু বলতে রাজি হন নি।

বরখাস্তের প্রজ্ঞাপনে বলা হয় লক্ষ্মীছড়ি থানার মামলা নং-১, তারিখ-০২.০১.২০১৭ (ঝচখ ১৩/১৭, জি.আর ০১/১৭) এর অভিযোগপত্র আদালতে গৃহীত হওয়ায় তার দ্বারা উপজেলা পরিষদের ক্ষমতা প্রয়োগ জনস্বার্থের পরিপন্থী মর্মে সরকার মনে করে বলে পত্রে উল্লেখ করা হয়।

উল্লেখ্য চলতি  ১ জানুয়ারি দিবাগত রাত ২টার দিকে নিরাপত্তাবাহিনী সরকারি নিজ বাসভবনে অভিযান চালিয়ে ১টি পিস্তল, ১টি ম্যাগজিন ও ৫ রাউন্ড তাজা গুলি উদ্ধার করে। এসময় আগ্নেয়াস্ত্র রাখার পক্ষে কোন বৈধ কাগজপত্র না থাকায় তাকে গ্রেফতার পূর্বক তার বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে মামলা দায়ের করা হয়।

৪র্থ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে সুপার জ্যোতি চাকমা আঞ্চলিক রাজনৈতিক সংগঠন ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট(ইউপিডিএফ) এর সমর্থন নিয়ে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন।

 




লক্ষীছড়ি উপজেলা চেয়ারম্যান সুপার জ্যোতি চাকমা বরখাস্ত

18816847_723485887854012_2081745811_n

নিজস্ব প্রতিবেদক, মাটিরাঙ্গা :

খাগড়াছড়ির দুর্গম লক্ষীছড়ি উপজেলা চেয়ারম্যান সুপার জ্যোতি চাকমাকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। উপজেলা পরিষদ আইন, ১৯৯৮ উপজেলা পরিষদ (সংশোধন) আইন, ২০১১ দ্বারা (সংশোধিত) এর ১৩খ (১) ধারা অনুসারে তাকে বরখাস্ত করা হয়েছে।

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব লুৎফুন নাহার স্বাক্ষরিত এক পত্রে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

লক্ষীছড়ি থানার মামলা নং-১, তারিখ-০২.০১.২০১৭ (SPL ১৩/১৭, জি.আর ০১/১৭)) এর অভিযোগপত্র আদালতে গৃহীত হওয়ায় তার দ্বারা উপজেলা পরিষদের ক্ষমতা প্রয়োগ জনস্বার্থের পরিপন্থী মর্মে সরকার মনে করে বলে পত্রে উল্লেখ করা হয়।

18834465_723486404520627_1810150265_n

প্রসঙ্গত, চলতি বছরের ২ জানুয়ারি রাত দুইটার দিকে সেনাবাহিনী তার সরকারি বাসভবনে তল্লাশি চালিয়ে তার নিয়ন্ত্রাধীনে থাকা একটি পিস্তল, ম্যাগজিন ও ৫ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করে। এসময় আগ্নেয়াস্ত্র রাখার পক্ষে কোন বৈধ কাগজপত্র না থাকায় তাকে গ্রেফতার পূর্বক তার বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে মামলা দায়ের করা হয়।

সুপার জ্যোতি চাকমা আঞ্চলিক রাজনৈতিক সংগঠন ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট-ইউপিডিএফ এর সমর্থন নিয়ে লক্ষীছড়ি উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন।




শিক্ষার উন্নয়ন ও প্রসারে  লক্ষীছড়ি জোন সচেষ্ট থাকবে লে.কর্ণেল মো. মিজানুর রহমান মিজান

Khagrachari Pic 02 copy

নিজস্ব প্রতিবেদক, খাগড়াছড়ি:

খাগড়াছড়ির লক্ষীছড়ি জোন কমান্ডার লে.কর্ণেল মো. মিজানুর রহমান মিজান পিএসসিজি ২০১৭ সালে এসএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন ও উচ্চ শিক্ষার প্রতি উৎসাহিত করে বলেন, লক্ষীছড়ি এলাকা দুর্গম বিধায় শিক্ষাগত অবকাঠামো দুর্বল। কিন্তু সকলের সর্বাত্মক প্রচেষ্টা এ এলাকাকে আরও উন্নত করে তুলবে। এলাকার গরীব শিক্ষার্থীরা যাতে পিছিয়ে না পড়ে সেই ব্যাপারে লক্ষীছড়ি জোন  সচেষ্ট থাকবে বলে তিনি প্রতিশ্রুতি দেন।

রবিবার সকালে  ২০১৭ সালে সালে এসএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ১০৬ জন শিক্ষার্থীদের লক্ষীছড়ি জোনের উদ্যোগে দেওয়া সংবর্ধনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।জোন কমান্ডার মো. মিজানুর রহমান মিজান লক্ষীছড়িতে কলেজ নির্মাণে নিরাপত্তাবাহিনীর সহযোগিতার কথা উল্লেখ করে বলেন, শিক্ষা প্রসারে যে কোন উদ্যোগে লক্ষীছড়ি জোন সদা প্রস্তুত। তিনি দুরদুরান্ত থেকে সকলকে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে অংশ গ্রহণ করায় অভিনন্দন ও ধন্যবাদ জানান।

Khagrachari Pic 01 copy

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন, লক্ষীছড়ি জোন উপ-অধিনায়ক মেজর ইফতেখার উদ্দিন আহমেদ।অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. ইউসুফ সারোয়ার। শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে বক্তব্য রাখেন, শান্ত চাকমা ও মেহেরুন্নেসা। এছাড়া অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জাহিদ ইকবাল ও উপজেলা চেয়ারম্যান সুপার জ্যোতি চাকমা।

সংবর্ধনা অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে লক্ষীছড়ি জোন কৃতি শিক্ষার্থীদের হাসি ও  উচ্ছলতায় মুখর হয়ে উঠে।অনুষ্ঠানে জোন কমান্ডার মো. মিজানুর রহমান মিজান পিএসপিজি বিজ্ঞান, মানবিক ও ব্যবসা শিক্ষা বিভাগের শ্রেষ্ঠ শিক্ষার্থীদের পৃথকভাবে পুরস্কৃত করা ছাড়াও উত্তীর্ণ সকল শিক্ষার্থীদের বাংলা একাডেমীর ইংলিশ টু বাংলা ডিকশনারী প্রদান করেন।

এছাড়া চারটি স্কুলের প্রধান শিক্ষক ও আমন্ত্রিত অতিথিদের জোন কমান্ডার শুভেচ্ছা উপহার প্রদান করা হয়।লক্ষীছড়ি জোনের এ উদ্যোগ এলাকার শিক্ষার্থীদের আরও ভাল ফলাফল করার স্পৃহা বাড়াবে এমনি অভিমত অনুষ্ঠানে উপস্থিত সকলের।

 




লক্ষীছড়িতে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান নির্মাণের নামে  ‘নিরাপত্তা চৌকি’ দখলের পায়তাঁরা

ljkhkl

বিশেষ প্রতিনিধি:

খাগড়াছড়ির লক্ষীছড়িতে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান নির্মাণের নামে নিরাপত্তা বাহিনীর একটি ‘নিরাপত্তা চৌকি’ দখলের পায়তাঁরা চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সদর উপজেলার শিলাছড়ি টিলা নামক স্থানে প্রায় সাত একর ভূমির দখল পাকাপোক্ত করতে  স্বার্থাণ্বেষী একটি মহল ইতিমধ্যে ঐ স্থানে ছাপরার মাধ্যমে দোচালা অস্থায়ী ঘর তুলে প্যাগোডার আদল দিয়েছে।

তবে প্রশাসনের হস্তক্ষেপে নির্মাণ কাজ বর্তমানে বন্ধ থাকলে এ প্যাগোডা নির্মাণের সাথে  দেশীয় ও আন্তর্জাতিক অনুদানের  প্রায় ২০ কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার কৌশলগত জোর চেষ্টা চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

সরেজমিনে তদন্তে দেখা গেছে, লক্ষীছড়ি উপজেলা সদর সংলগ্ন দক্ষিণ-পশ্চিমে লক্ষীছড়ি-বার্মাছড়ি প্রধান সড়কের পাশে পারিপার্শ্বিক এলাকা হতে উচুঁতে ৭ একর জায়গা নিয়ে শিলাছড়ি টিলা অবস্থিত।

নিরাপত্তা বাহিনীর সূত্র জানায়, ১৯৮১ সাল হতে টিলাটি সেনাবাহিনীর শিলাছড়ি ১নং পোষ্ট হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছিল। পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তিচুক্তির পর সেনাবাহিনী পোস্ট ছেড়ে দিলে পুলিশ সদস্যরা এ পোষ্টটি পরিচালনা করতো। পরবর্তীতে ২০০০ সালে এলাকার পরিস্থিতি উন্নত হলে পোষ্টটি হতে নিরাপত্তা বাহিনী সরিয়ে আনা হয়। তবে নিরাপত্তা বাহিনী কেবলমাত্র টহলের মাধ্যমে নিরাপত্তা চৌকিটি দখল চলমান রাখা হয়।

স্থানীয় সূত্র জানায়, ভৌগলিক দিক থেকে লক্ষীছড়ি উপজেলার যোগাযোগ ব্যবস্থা খুবই নাজুক। এ কারণে প্রতিটি নির্বাচনে ভোট কেন্দ্রগুলোতে নির্বাচনী সরঞ্জাম পাঠাতে হলে হেলিকাপ্টার ব্যবহার করতে হয়। এছড়া  কোন জরুরী রোগী বহন, দুর্গম  এলাকায় জরুরী সরকারী-বেসরকারী ত্রাণ প্রেরণ ও উচ্চপদস্থ সরকারী কর্মকর্তা ও গন্যমান্য ব্যক্তিদের  সফরের সময় ব্যবহারের জন্য লক্ষীছড়িতে একটি বেসামরিক হেলিপ্যাড নির্মাণ জরুরী।

lkjl;

লক্ষীছড়ি উপজেলার একমাত্র হেলিপ্যাড (উপজেলা পরিষদ মাঠ) বিভিন্ন স্থাপনার কারনে অনুপযোগী। সে দৃষ্টিকোণ থেকে একটি হেলিপ্যাড নির্মাণে জায়গা নির্ধারণে সম্প্রতি লক্ষীছড়ি জোন কমান্ডার লে, কর্ণেল মো: মিজানুর রহমান মিজান উপজেলার হেলিপ্যাডের জন্য জায়গা খোঁজার উদ্দেশ্যে কারিগরী ও কৌশলগত দিক থেকে উপযুক্ত এই পাহাড়ের চূড়ায় পর্যবেক্ষনের জন্য শিলাছড়ি টিলা পরিদর্শন করে সম্ভাব্যতা যাচাই করেন।

 কিন্তু এর দুদিন পরই একটি মহল এক রাতের মধ্যে শিলাছড়ি টিলায় ছাপরার মাধ্যমে প্যাগোডার আদল দিয়ে কিয়াং ঘর নিমার্ণ করে এবং পর্যবেক্ষণ চৌকি হিসাবে ব্যবহার শুরু করে।

 পরবর্তীতে উপজেলা থানা নির্বাহী অফিসার জাহিদ ইকবাল ও ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা লক্ষীছড়ি থানা মোঃ আরিফ ইকবাল এর হস্তক্ষেপে অবৈধ স্থাপনা নির্মান বন্ধ করা হয়।

নিরাপত্তা বাহিনীর চৌকিতে প্যাগোডা নির্মাণ প্রসঙ্গে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে লক্ষীছড়ি উপজেলা চেয়ারম্যান সুপার জ্যোতি চাকমা বলেন, এখানে বড় আকারে প্যাগোডা নির্মাণের পরিকল্পা রয়েছে। এ জন্যে ১৯৯৪ সালে বন্দোবস্তি পাওয়ার জন্য আবেদন করা হয়েছিল। যে জায়গাটি ১৯৮১ সাল থেকে সেনাবাহিনী ‘নিরাপত্তা চৌকি’ হিসেবে ব্যবহার করছে, সেখানে ১৯৯৪ সালে কিভাবে আবেদন করলেন এমন প্রশ্ন এড়িয়ে যান সুপার জ্যোতি চাকমা।

লক্ষীছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জাহিদ ইকবাল  জানান, প্যাগোডা নির্মাণ কমিটির নেতৃবৃন্দকে ডাকা হয়েছে। তাদের মধ্যে কেউ কেউ নিরাপত্তা বাহিনীর পরিত্যাক্ত সরকারী খাস জমিতে প্যাগোডা নির্মানের বিষয়ে অজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। তারা জমির মালিকানার বিষয়ে কোন বৈধ কাগজপত্র দেখাতে পারেনি। উপজেলা পরিষদের অফিসে তাদের রক্ষিত নথিপত্র ঘেটেও দেখা গেছে, শিলাছড়ি টিলার জমি সরকারী খাস জমি।

লক্ষীছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো: আরিফ ইকবাল জানান, সরকারী খাস জমিতে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। প্যাগোডা নির্মাণ কমিটির নেতৃবৃন্দও কাজ বন্ধ রাখার বিষয়ে অঙ্গীকার দিয়েছে। এ বিষয়ে লক্ষীছড়ি থানায় সাধারন ডাইরী নং ২৭৫, তারিখ ০৯-০৪-২০১৭  করা হয়েছে।

পার্বত্য চট্টগ্রামে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান নির্মাণের নামে সরকারী খাস জমি দখল নতুন কোন ঘটনা নয়। কোথাও কোথাও বন্দোবস্তকৃত জমি জবরদখল করা হয়েছে।

খাগড়াছড়ি জেলা দীঘিনালা উপজেলায় “সোনা মিয়া টিলায়” ৮শ ১২টি বাঙ্গালী পরিবারের ৩শ একর বসত ভূমি দখল করে নির্মাণ করা হয়েছে “ সাধনা বৌদ্ধ বিহার” নামে একটি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান। সে সাথে “সোনা মিয়া টিলার” নাম রাতারাতি পরিবর্তন করে রাখা হয়েছে “সাধনা” পাহাড় নামে। অথচ এখানে রয়েছে,বাঙ্গালীদের বাপ- দাদার কবরস্থান এবং বাগান-বাগিচা ও রয়েছে“সোনা মিয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়”।

একই কায়দায় জেলার মহালছড়ির কেয়াংঘাটের করল্যাছড়িতে ৩৮৪ বাঙ্গালী পরিবারের ১৫শত ৩৬ একর বৈধ বসত ভূমি দখল করে সারনাথ অরণ্য কুটির, বৌদ্ধ উপসনালয় নামে ১১টি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান।

ছবির ক্যাপশন
১. প্রথম ছবি কিয়াং ঘর নির্মাণের পরে
২. দ্বিতীয় ছবি কিয়াং ঘর নির্মাণের আগের।




লক্ষ্মীছড়ি উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যানের ভাড়াবাসা থেকে উপজাতি মহিলার লাশ উদ্ধার

unnamed

মানিকছড়ি প্রতিনিধি:

লক্ষ্মীছড়ি উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান বেবী রাণী বসুর মানিকছড়িস্থ ভাড়াটিয়া বাসার টয়লেট থেকে এক উপজাতি ৪ সন্তানের জননীর ফাঁস দেয়া লাশ উদ্ধার করেছে মানিকছড়ি থানা পুলিশ। এ ঘটনায় ধুম্রজালের সৃষ্টি হয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, রাঙ্গামাটির কাউখালি উপজেলার নিচুপাড়া গ্রামের প্রবাসী পোয়াশি মারমার (মালেশিয়া) স্ত্রী ৪ সন্তানের জননী পাইমাপ্রু মারমা (৩৫) প্রতিবেশী এক বাঙ্গালি যুবকের সাথে পরকীয়ার সূত্রে ৫ এপ্রিল পালিয়ে এসে লক্ষ্মীছড়ির মগাইছড়িতে জনৈক ইউপি সদস্যের বাড়িতে আশ্রয় নেয়। ৬ এপ্রিল স্থানীয় উপজাতি যুবকরা বিষয়টি টের পেয়ে পাড়া প্রধান কার্বারীদের মাধ্যমে ওই মহিলাকে জোরপূর্বক তুলে নেয়ার চেষ্টা করেন। খবর পেয় লক্ষ্মীছড়ি উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান

অংগ্যপ্রু মারমা ও বেবী রাণী বসু (ইউপিডিএফ নেত্রী) ছুঁটে আসেন। ইতোমধ্যে পাইমাপ্রু মারমার প্রেমিক ভয়ে পালিয়ে যায়। ফলে উপজাতি মহিলা বাঙ্গালির সাথে পালিয়ে আসার ঘটনাটিকে উপজাতি রীতি অনুযায়ী ভাইস চেয়ারম্যান বেবী রাণী বসুর বাড়িতে শুক্রবার বিকালে বিচারের সময় নির্ধারণ করে মহিলার বাবা-মা ও শ্বশুর পক্ষকে খবর দেয়া হয় এবং মহিলাকে উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান বেবী রাণী বসুর মানিকছড়িস্থ ভাড়াটিয়া বাসায় নজরদারিতে রাখা হয়।

শুক্রবার ওই মহিলার অভিভাবকরা কাউখালি থেকে মানিকছড়ি আসার আগেই পাইমাপ্রু মারমার মরদেহ পাওয়া যায় ভাইস চেয়ারম্যানের পরিত্যক্ত টয়লেটে। শুক্রবার বেলা ২টার পর মানিকছড়ি থানা পুলিশকে বিষয়টি অবহিত করা হলে অফিসার ইনচার্জ আবদুল রকিব সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে সরজমিনে ছুঁটে যান। এ সময় সেখানে শতাধিক উৎসক মানুষের ভিড় জমে।

মানিকছড়ি উপজেলা চেয়ারম্যান ম্রাগ্য মারমা, লক্ষ্মীছড়ি উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান এবং বর্তমান জেলা পরিষদ সদস্য রেম্রাচাই চৌধুরী, ভাইস চেয়ারম্যান অংগ্যপ্রু মারমা, বেবী রাণী বসুসহ উপজাতি নেতাদের উপস্থিতিতে পুলিশ মরদেহটি উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসেন। পরে নিহতের মা আনুমা মারমা (৫৫) স্বামী নিশি মারমা বাদী হয়ে অপমৃত্যু মামলা দায়ের করেন। মামলা নং-২ তারিখঃ- ৭.৪.১৭ খ্রি.।

থানার অফিসার ইনচার্জ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, পরকীয়ার জের ধরে পালিয়ে এসে জনগণ(উপজাতি) কর্তৃক আটক হওয়া মহিলার ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। ময়না তদন্ত শেষে মৃত্যুর প্রকৃত ধরণ পাওয়া যাবে। তবে ধারণা করা হচ্ছে সামাজিক মান মর্যাদার ভয়ে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে মহিলা।




সন্তু লারমার অনুমতি না পাওয়ায় খাগড়াছড়ির তিনটি সড়কের নির্মাণ প্রকল্প বাতিল

Khagrachari-Picture02-16-01-2017-1-copy-1-300x181
খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি :

পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ চেয়ারম্যান সন্তু লারমা অনুমতি না দেয়ায় খাগড়াছড়ি জেলার ‘সিএইচটি’ সিলেক্টেড তিনটি সড়কের নির্মাণ প্রকল্প বাতিল করা হয়েছে। এমন অধিকতর জনগোষ্ঠীর উন্নয়নমুখী কাজ ব্যাহত হওয়ায় জনমনে হতাশা ও ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে।

পাহাড়ি এ সড়কগুলোতে শুকনো মৌসুমে চাঁদের গাড়ী ও মোটরসাইকেলে যাতায়াত করলেও বর্ষা মৌসুমে মাটির এ সড়কপথে বড় বড় গর্ত সৃষ্টি হয় এবং যানবাহন  চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পায়ে হেঁটে যাতায়াত করতে হয় স্থানীয় অধিবাসীদের। সীমাহীন দুর্ভোগে পড়েন এসব এলাকার বাসিন্দারা। প্রকল্পগুলো বাতিল হওয়ায় এসব এলাকায় বসবাসকারী প্রায় অর্ধলক্ষাধিক মানুষের দীর্ঘ দিনের দুর্ভোগের অবসান ক্ষীণ হয়ে উঠছে। সড়কগুলো নির্মাণ করার দীর্ঘ দিনের যে দাবী তাও ভেস্তে যাচ্ছে।

11-1

সংশ্লিষ্ট সূ্ত্রে জানা যায়, লক্ষ্মীছড়ি থেকে বর্মাছড়ি ১৪.৮ কি. মি., মাটিরাঙ্গা  উপজেলার বেলছড়ি থেকে অযোদ্ধা ৯.৭ কি. মি. ও খাগড়াছড়ি থেকে সিঙ্গিনালা ২১ কি. মি. সড়ক নির্মাণকাজ প্রকল্পেরর জন্য প্রায় দু’শত কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছিলো। এশিয়ান ডেভলাপম্যান্ট ব্যাংক এডিবি’র অর্থায়নে এলজিডি এ সড়কগুলো নির্মাণের উদ্যোগ নিয়ে সড়কের সার্ভের কাজসহ বেশকিছু কাজ সম্পন্ন করে।

তবে পার্বত্য চুক্তিমতে এলজিডির এ সমস্ত উন্নয়ন কাজে আঞ্চলিক পরিষদের অনুমোদন প্রয়োজন হওয়ায় সড়ক নির্মাণে আঞ্চলিক পরিষদের অনুমোদন চাওয়া হয়েছিলো। কিন্তু গত ২৮  ফেব্রুয়ারি  আঞ্চলিক পরিষদের নিয়মিত বৈঠকে প্রকল্পটি অনুমোদন না দেওয়াই বরাদ্দকৃত অর্থ বান্দরবন জেলায় স্থানান্তরিত করা হয়েছে। এর ফলে আবারো নতুন কোনো প্রজেক্ট না আসলে এ সড়কগুলো নির্মাণে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।

লক্ষ্মীছড়ি উপজেলা চেয়ারম্যান সুপার জ্যোতি চাকমা পার্বত্যনিউজকে জানান, লক্ষ্মীছড়ি থেকে বর্মাছড়ি সড়কটি নির্মাণ করা অতীব জরুরী এবং অত্রাঞ্চল বসবাসরত নাগরিকদের দীর্ঘদিনের দাবী। সড়কটি নির্মাণে সরকারের পদক্ষেপ ব্যাহত হওয়ায় ক্ষোভ জানিয়ে তিনি বলেন, এ অঞ্চলের জনগণের দুর্ভোগের বিষয়টি চিন্তা করে আঞ্চলিক পরিষদ প্রকল্পটির অনুমোদন দেওয়া প্রয়োজন ছিলো।
3

এর আগে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড ২০০৮-০৯ অর্থ বছরে লক্ষ্মীছড়ি-বর্মাছড়ি সড়কের মরাচেঙ্গী গুঘাট, ডান্দি ছড়া ও মরাচেঙ্গী ছড়ার উপর তিনটি ব্রিজ নির্মাণের দরপত্র দিয়ে নির্মাণ কাজ শুরুকরে।কিন্তু ব্রিজ তিনটি অসমাপ্ত রেখে ঠিকাদাররা কাজ বন্ধ করে দেন।

একটি সূত্র জানায়, আঞ্চলিক রাজনৈতিক দল ইউপিডিএফ’র চাঁদাবাজি ও পর্যাপ্ত বরাদ্দ না থাকায় ঠিকাদাররা ব্রিজের নির্মাণ কাজ বন্ধ করে দিতে বাধ্য হন।

খাগড়াছড়ি স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আশরাফুল হক জানান, খাগড়াছড়ি সদর,লক্ষ্মীছড়ি ও মাটিরাঙ্গা উপজেলার  তিনটি সড়কের নির্মাণ কাজ এলজিইডি করার সিদ্ধান্ত নিয়ে  সড়কের সার্ভে সম্পন্ন করে। তবে পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের চেয়ারম্যানের অনুমোদন না পাওয়ায় অাপাতত প্রকল্পটি বাতিল করা হয়েছে । লক্ষ্মীছড়ি উপজেলার অসমাপ্ত তিনটি ব্রিজ অন্য একটি প্রজেক্টের আওতায় আনার প্রস্তাব করা হয়েছে। চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে অনুমোদন পেলে কাজ শুরু করা হবে।