লংগদুতে রাবেতা কলেজে মাতৃভাষা দিবসের আলোচনা সভা

IMG_20170220_105447----222222222222222 copy

লংগদু প্রতিনিধি:

লংগদু উপজেলার রাবেতা মডেল কলেজের উদ্যোগে ২১শে ফেব্রুয়ারি শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সোমবার, সকাল সাড়ে দশটায় কলেজের ক্যাম্পাসে আয়োজিত আলোচনা সভায় কলেজের অধ্যক্ষ মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ সভাপতিত্ব করেন। কলেজের প্রভাষক মুসা তালুকদারের পরিচালনায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন, লংগদু উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মো. আইবুল ইসলাম।

অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, গাঁথাছড়া বায়তুশ শরফ কমপ্লেক্সের সুপার হাফেজ মাওলানা ফোরকান আহম্মেদ,  লংগদু প্রেস ক্লাবের সভাপতি মো. এখলাস মিঞা খান, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের ডেপুটি কমান্ডার মো. খোরশেদ আলম, কলেজ ম্যানেজিং কমিটির সদস্য ডা. রশীদুজ্জামান, রাবেতা মডেল কলেজের প্রভাষক আজগর আলী, প্রভাষক হারুনুর রশীদ। এছাড়া ছাত্রদের মধ্যে মো. ইউসুফ বক্তব্য রাখেন।

আলোচনা সভায় কলেজের ছাত্রছাত্রী ও শিক্ষকগণ এসময় উপস্থিত ছিলেন।

সভায় বক্তারা বলেন, আমরা যে বাংলা ভাষায় কথা বলি এটি ঐতিহাসিক লড়াইয়ের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। শ্রদ্ধা জানাই সেসব ভাষা শহীদদের যাদের জীবনের বিনিময়ে এ মহান মাতৃভাষা রক্ষা করেছেন। ভাষা শহীদদের আত্মত্যাগে অর্জিত  এ ভাষা দিবসটি আজ আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে পালন করা হচ্ছে।




লংগদুতে জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ উদযাপন

IMG_20170215_103008--------999999999999999 copy

লংগদু প্রতিনিধি:

রাঙ্গামাটির লংগদুতে উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের আয়োজনে জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ-২০১৭ উদযাপন উপলক্ষে র‌্যালি ও উপজেলা পর্যায়ে বিভিন্ন ইভেন্টে শ্রেষ্ঠত্ব বাছাই  প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়।

বুধবার, সকাল দশটায় উপজেলা সদরে লংগদু সরকারী উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গন থেকে শিক্ষা সপ্তাহের উদ্বোধনী র‌্যালি বের করা হয়। র‌্যালিটি উপজেলার প্রধান সড়ক ঘুরে পুনরায় বিদ্যালয়ে গিয়ে শেষ হয়। উপজেলার বিভিন্ন মাধ্যমিক স্কুল, মাদ্রাসা ও কলেজের ছাত্রছাত্রী ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান, সহকারী শিক্ষক ও বিভিন্ন কর্মকর্তাগণ এসময় অংশগ্রহণ করেন।

উপজেলায় পর্যায়ে শ্রেষ্ঠত্ব বাছাই প্রতিযোগিতা পরিচালনা করেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মো. আইবুল ইসলাম। এতে সাংস্কৃতিক পর্যায়ে ১৪টি ইভেন্ট, স্কাউটিং পর্যায়ে ১৪টি ইভেন্ট, চার জন শ্রেষ্ঠ শিক্ষক, চার জন শ্রেষ্ঠ শিক্ষার্থী, চার জন শ্রেষ্ঠ শ্রেণী প্রতিষ্ঠান প্রধান ও চারটি শ্রেষ্ঠ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নির্বাচন করা হয়।

অনুষ্ঠানে রাবেতা মডেল কলেজের অধ্যক্ষ মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ, মাইনীমুখ ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা ফেরদৌস আলম, লংগদু সরকারী উচচ বিদ্যালয়ের (ভারপ্রাপ্ত) প্রধান শিক্ষক বৃষক কুমার চাকমা, গাঁথাছড়া বায়তুশ শরফ কমপ্লেক্সের সুপার হাজ্বী হাফেজ মাওলানা ফোরকান আহম্মেদ, রাবেতা মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নুরুল করিম, মাইনীমুখ মডেল হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক রোফিকুন্নেছা রোজি, করল্যাছড়ি আরএস উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আব্দুর রহীম, লংগদু বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রবি রঞ্জন চাকমা সহ প্রতিযোগী ছাত্র ছাত্রীগণ এসময় উপস্থিত ছিলেন।




লংগদুতে জুনিয়র টাইগার্সের ৬৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত

IMG_20170207_124704 copy

লংগদু প্রতিনিধি:

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস ও ঐতিহ্যের ধারক বাহক জুনিয়র টাইগার্স (২ইস্ট বেঙ্গল রেজি.) উল্লেখ করে এ ইউনিটের ৬৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে অভিনন্দন জানিয়েছেন খাগড়াছড়ি রিজিয়নের রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মীর মুশফিকুর রহমান।

তিনি আরও বলেন, আমি আশাবাদী এ ইউনিটের পূর্বসূরীদের মতই আপনারা সকলেই প্রত্যেকটা কাজে সহযোগিতা করবেন।

মঙ্গলবার, লংগদু সেনা জোনের ২ ইস্ট বেঙ্গল রেজি. (জুনিয়র টাইগার্স) এর ৬৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে খাগড়াছড়ি রিজিয়ন কমান্ডার মীর মুশফিকুর রহমান এমন মন্তব্য করেন। এরপর তিনি প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কেক কাটেন এবং সকলের সাথে প্রীতিভোজে অংশ নেন।

লংগদু জোনের জোন কমান্ডার লে. কর্নেল আব্দুল আলীম চৌধুরী পিএসসি অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন। অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, রাজ নগর বডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) জোনের জোন কমান্ডার তারেক-বে নজীর, লংগদু উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো. তোফাজ্জল হোসেন। রাঙামাটি জেলা পরিষদের সদস্য মো. জানে আলম, লংগদু থানার অফিসার ইনচার্জ মোমিনুল ইসলামসহ জোনের বিভিন্ন সেনা কর্মকর্তা ও আমন্ত্রিত অতিথিগণ।

এর পূর্বে প্রধান অতিথি রিজিয়ন কমান্ডার মীর মুশফিকুর রহমান জোনের উদ্যোগে নব নির্মিত অতিথিশালা উদ্বোধন করেন।

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সন্ধ্যায় জোনের অভ্যন্তরীণ মাঠে এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক সন্ধ্যার আয়োজন করা হয়।




লংগদুতে এক ছাত্রীর ঝুলন্ত মৃতদেহ উদ্ধার

news_img-1

লংগদু প্রতিনিধি:

রাঙ্গামাটির লংগদুতে গলায় ফাঁস লাগানো ঝুলন্ত অবস্থায় এক ছাত্রীর মৃতদেহ উদ্ধার করেছে থানার পুলিশ। সোমবার, উপজেলার আটারকছড়া ইউনিয়নের করল্যাছড়ি এলাকায় এঘটনা ঘটেছে। লংগদু থানা পুলিশ ও

এলাকাবাসী সূত্র জানায়, উপজেলার আটারকছড়া ইউনিয়নের করল্যাছড়ি এলাকার দিনমজুর মো. ইদ্রিছ মিয়ার বড় কন্যা ও করল্যাছড়ি আরএস উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণীর ছাত্রী তানিয়া আক্তার(১৫)। ৬ ফেব্রুয়ারি, সোমবার সকালে বাসায় কাজকর্ম করছিলো। তানিয়ার বাবা প্রতিদিনের মতো কাজের সন্ধানে বাইরে যান। অপর ভাইবোনরা যে যার মত স্কুলে যায় এবং তাদের মা পাহাড়ে গরু ছেড়ে দিতে যায়।

সকাল সাড়ে দশটার সময় তাদের মা গরু দিয়ে ঘরে ফিরে এসে তারই শাড়ী দিয়ে গলায় ফাঁস লাগানো সিলিংয়ের সাথে ঝুলন্ত অবস্থায় মেয়েকে দেখতে পান। এ খবর জানাজানি হলে এলাকাবাসী ছুটে আসেন। পরে লংগদু থানা পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। পুলিশ এসে লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।

লংগদু থানার অফিসার ইনচার্জ মো. মোমিনুল ইসলাম পার্বত্যনিউজকে জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রাথমিক তদন্ত করেছি। ময়না তদন্তের জন্য লাশ রাঙ্গামাটি জেলা মর্গে পাঠানো হবে।

তিনি আরও বলেন, মেয়েটির বাবা খুব গরিব। অভাব অনটনে তাদের দিন যাচ্ছিল বলে এলাকাবাসীর কাছ থেকে জানতে পেরেছি। হয়তো এ কারণেই মেয়েটি আত্মহত্যা করে থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।

করল্যাছড়ি আরএস উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুর রহীম পার্বত্যনিউজকে জানান, তানিয়া আক্তার আমার বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণীর ছাত্রী। আজ ঝুলন্ত অবস্থায় তার মৃত দেহ পাওয়া গেছে শুনে খারাপ লাগছে। মেয়েটি খুব অভাব অনটনের মধ্যদিয়ে পড়া লেখা চালিয়ে যাচ্ছিলো। আত্মহত্যার ব্যাপারটি ঠিক বুঝতে পারছি না। এদিকে তানিয়া আক্তারের মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।




উত্তর ইয়ারিংছড়ি সেনামৈত্রী উচ্চ বিদ্যালয়ের সম্প্রসারিত শ্রেণী কক্ষ উদ্বোধন

IMG_20170124_123436---11111111111111111111

লংগদু প্রতিনিধি:
আমরা হলাম রাজনীতি খেলোয়াড়, পাকা রাজনৈতিক কর্মী। আমরা জিতি বা হারি,  সরকারে থাকি আর বিরোধী দলে থাকি, আমরা সবসময় জনগণের কল্যাণে চিন্তা করি।

মঙ্গলবার লংগদু উপজেলার উত্তর ইয়ারিংছড়ি সেনামৈত্রী উচ্চ বিদ্যালয়ের সম্প্রসারিত শ্রেণী কক্ষ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সাবেক পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ও রাঙামাটি জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি দীপংকর তালুকদার এমন মন্তব্য করেছেন।

তিনি আরো বলেন, আমি করল্যাছড়িতে এসেছি, কিন্তু উত্তর ইয়ারিংছড়িতে আসতে না পারলেও উন্নয়ন থেকে আপনারা বঞ্চিত হন নাই। অথচ বিগত দিনে ৯১-৯৬ সালে বিএনপি সরকারের আমলে কী উন্নয়ন দেখেছেন তা আপনারাই বলবেন। আমরা সেনাবাহিনীকে ধন্যবাদ জানাই তারা এই বিদ্যালয়টি চালু করেছে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন, বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি আবুল কালাম আজাদ। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল মালেকের পরিচালনায় এতে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, রাঙামাটি জেলা পরিষদের সদস্য মো. জানে আলম, মাইনীমুখ ইউপি চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আব্দুল বারেক সরকার।

এছাড়া অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, জেলা আওয়ামীলীগের সদস্য ইউসুফ আলী খান, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবলীগের সভাপতি মো. আব্দুর রহীম, আমিনুল ইসলাম, হাফিজুল ইসলাম।




উন্নয়নের স্বার্থে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজদের প্রতিহত করতে হবে            

 

লংগদু  প্রতিনিধি:

লংগদু উপজেলায় সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি খুবই ভালো। এ সম্প্রীতি যাতে বিনষ্ট না হয় তার জন্য সকলকে সচেষ্ট থাকতে হবে। সম্প্রীতি বিনষ্টকারী সে যেই হোক তাকে ছাড় দেওয়া হবেনা। যেখানে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড হবে, সেখানেই নিরাপত্ত বাহিনীর হস্তক্ষেপ থাকবে। সন্ত্রাসীরা উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে বাধাগ্রস্থ করে। তাই, এলাকার উন্নয়নের স্বার্থে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজদের প্রতিহত করতে সকলকে এগিয়ে আসতে হবে।

শনিবার, লংগদু সেনা জোনের উদ্যোগে জোন সদরে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে খাগড়াছড়ি রিজিয়নের রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মীর মুশফিকুর রহমান (এসইউপি, পিএসসি) এসব কথা বলেন।

সভায় সভাপতিত্ব করেন, লংগদু জোনের জোন কমান্ডার লে. কর্ণেল আব্দুল আলীম চৌধুরী (পিএসসি)।

সভায় অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, লংগদু উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো. তোফাজ্জল হোসেন, রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য মো. জানে আলম, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মো. নাছির উদ্দিন, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও মাইনীমুখ ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল বারেক সরকার।

এছাড়া জোনের বিভিন্ন সেনা কর্মকর্তা, বিভিন্ন ইউপি চেয়ারম্যানগণ, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধি ও গণ্যমান্যব্যক্তিগণ এসময় উপস্থিত ছিলেন।

সভায় প্রধান অতিথি রিজিয়ন কমান্ডার মীর মুশফিকুর রহমান বক্তব্যে আরও বলেন, আমি আশাকরি আপনারা সকলে মিলেমিশে কাজ করবেন এবং জোনকে সহযোগিতা দিবেন। একত্রে থাকতে গেলে সামান্য ভুল বুঝাবুঝি হতে পারে। এটাকে পুঁজি করে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট হওয়ার কোন কারণ নাই। কিন্তু এগুলো করার পিছনে কিছু লোক থাকে যারা সুযোগের অপেক্ষায় থাকে। তারা ঘোলাপানিতে মাছ শিকার করতে চায়। কিন্তু এটা কোন সুফল বয়ে আনবেনা।

তিনি বলেন, একটা বড় ধরণের ঘটনা আপনাদের দশ বছর পিছনে ফিরে নিয়ে যাবে। সেটা যেন না হয়। আপনাদের অনেক গুরু দায়িত্ব আছে সুন্দর একটা লংগদু উপজেলা উপহার দিয়ে যাওয়া।

শেষে রিজিয়ন কমান্ডার গরীব লোকজনদের মাঝে শীতকম্বল, কোমলমতি শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ করেন। এরপর তিনি জোনের উদ্যোগে পরিচালিত কম্পিউটার প্রশিক্ষণ ও সেলাই প্রশিক্ষণ কেন্দ্র পরিদর্শন করেন এবং শেষে গ্রামার স্কুলের ভবন নির্মাণের জায়গা দেখেন। জোনের এ উদ্যোগের জন্য তিনি জোন কমান্ডারের প্রশংসা করেন।




উন্নয়নের জন্য স্থিতিশীল পরিবেশ প্রয়োজন

untitled-1-copy-000000000000000-1

 লংগদু প্রতিনিধি:

পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক সাবেক প্রতিমন্ত্রী ও রাঙামাটি জেলা আওয়া লীগের সভাপতি দীপংকার তালুকদার বলেন, এলাকার উন্নয়নের জন্য স্কুল, কলেজ, রাস্তাঘাট, বিদ্যুৎ ব্যবস্থার উন্নয়নের জন্য আমরাও চেষ্টা করছি। কিন্তু এখানে যেটা সবচেয়ে বেশি জরুরী প্রয়োজন সেটা হলো স্থিতিশীল ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ। যদি স্থিতিশীল পরিবেশ না থাকে তাহলে উন্নয়ন করাটা কষ্টকর, উন্নয়ন বাঁধাগ্রস্ত হয়।

রোববার, লংগদু উপজেলার গুলশাখালী আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ে মেধাবী শিক্ষার্থীদের নিকট পুরস্কার ও বই বিতরণ উৎসবে প্রধান অতিথির বক্তব্যে দীপংকর তালুকদার একথা বলেন।

তিনি আরও বলেন, শান্তির পরিবেশকে  নষ্ট করতে বিভিন্ন মহল চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এখন নতুন করে বলা হচ্ছে ভূমি কমিশন কাজ শুরু করলে এখানকার বাঙালীদের চলে যেতে হবে। তবে আমি বলতে পারি ভূমি কমিশনের কাজ ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি করা। ভূমি বিরোধ বাড়ানো তাদের কাজ নয়। ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশনের কার্যক্রমে কারও কোন ক্ষতি হবার সম্ভাবনা নেই।

যদি কেউ ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে থাকে তাহলে সরকার তাদের  এ পার্বত্য চট্টগ্রামেই পূনর্বাসনের ব্যবস্থা করবে। আমাদের মধ্যে নানাবিধ বিভ্রান্তি সৃষ্টি করার জন্য অপচেষ্টা চলছে। এসকল অপচেষ্টার বিরুদ্ধে আমাদের রুখে দাঁড়াতে হবে, সতর্ক থাকতে হবে। যদি অশান্তি এবং অরাজক অবস্থা থাকে তাহলে কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন সম্ভব নয়।

লংগদু উপজেলার বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) রাজনগর জোনের জোন কমান্ডার লে. কর্ণেল তারেক মুহাম্মদ বে-নজির’র  সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, রাঙামাটি জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো.জসিম উদ্দীন, লংগদু থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মমিনুল ইসলাম, গুলশাখালী ইউপি চেয়ারম্যান আবু নাছির, গুলশাখালী আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুর রহীম, বঙ্গবন্ধু শিশু কিশোর মেলার জেলা শাখার যুগ্ম আহ্বায়ক ও সাবেক জেলা ছাত্র লীগ সভাপতি শাহ এমরান রোকন, লংগদু উপজেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম সম্পাদক সুভাষ দাশ, আজগর আলী, গুলশাখালী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আবু বক্কর ছিদ্দিক, অভিভাবক সদস্য ও উপজেলা যুব লীগের সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম।

গুলশাখালী আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটির আয়োজনে ও সীমান্ত প্রহরী আদর্শ নিন্ম মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মাসুদ রানার পরিচালনায় এ অনুষ্ঠানে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী ও জেএসসি পরীক্ষায় অত্র ইউনিয়নের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে জিপিএ ৫ (এ+) পাওয়া মেধাবী শিক্ষার্থীদের হাতে পুরস্কার এবং নতুন বই তুলে দেন প্রধান অতিথিসহ আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ।




লংগদুতে জোন কমান্ডার্স কাপের চ্যাম্পিয়ন মাইনীমুখ একাদশ

img_20161230_170015-3333333333333333-copy

লংগদু প্রতিনিধি:

লংগদু উপজেলার জোন কমান্ডার্স কাপ ফুটবল টুর্ণামেন্টের ফাইনাল খেলা জোন সদর মাইনীমুখ আর্মীক্যাম্প মাঠে অনুষ্ঠিত হয়েছে। ফাইনালে মাইনীমুখ ইউনিয়ন একাদশ খেদারমারা ইউনিয়ন একাদশকে ১-০ গোলে হারিয়ে টূর্ণামেন্টের চ্যাম্পিয়ন হয়।

শুক্রবার, বিকাল তিনটায় জোনের মাঠে অনুষ্ঠিত জোন কমান্ডার্স কাপ ফুটবল টুর্ণামেন্টের ফাইনাল খেলা শেষে জোন কমান্ডার লে. কর্ণেল আব্দুল আলীম চৌধুরী পিএসসি প্রধান অতিথি হিসেবে মাইনীমুখ ইউনিয়ন একাদশের খেলোয়াড়দের নিকট চ্যাম্পিয়ন ট্রপি ও নগদ বিশ হাজার টাকা এবং খেদারমারা ইউনিয়ন একাদশের খেলোয়াড়দের নিকট রানার্স আপ ট্রপি ও নগদ দশ হাজার টাকা পুরস্কার হিসেবে তুলে দেন।

এসময় তিনি বলেন, আমি সত্যি অভিভূত। এ ফুটবল খেলা দেখতে এতো দর্শকের সমাগম হওয়ায়। যারা ফুটবল খেলেছে তারা খেলায় অত্যান্ত নৈপুন্যতা দেখিয়েছে। লংগদুর মত দূর্গম এলাকায় ভালোমানের খেলোয়াড় আছে। একে অপরের সহমর্মিতা ও সহবাস্থানে থাকলে এ এলাকায় খেলাধুলার বিকাশ ঘটবে। তিনি এ অঞ্চলে পেশাদার খেলোয়াড় তৈরী হওয়ার জন্য খেলোয়াড়দের নিয়মিত অনুশীলণ চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো. তোফাজ্জল হোসেন, ভাইস চেয়ারম্যান মো. নাছির উদ্দিন, লংগদু থানার অফিসার ইনচার্জ মো. মোমিনুল ইসলাম, মাইনীমুখ ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল বারেক সরকার, খেদারমার ইউপি চেয়ারম্যান সন্তোষ কুমার চাকমা, লংগদু সদর ইউপি চেয়ারম্যান কুলিন মিত্র চাকমা (আদু), আটারকছড়া ইউপি চেয়ারম্যান মঙ্গল কান্তি চাকমা, লংগদু প্রেসক্লাবের সভাপতি মো. এখলাস মিঞা খান, টুর্ণামেন্ট পরিচালনা কমিটির সদস্য প্রভাষক হারুনুর রশীদ সহ বিভিন্ন সেনা কর্মকর্তাগণ এসময় উপস্থিত ছিলেন।

খেলার প্রথমার্ধে উভয় দলই কোন গোলের দেখা পায়নি। খেলার ২য়ার্ধে মাইনীমুখ ইউনিয়ন একাদশের খেলোয়াড় মিজানুর রহমান এক মাত্র গোলটি করে দলকে চ্যাম্পিয়ন করেন। এদিকে মাঠে নৈপূণ্য খেলা প্রদর্শণের কারণে মাইনীমুখ একাদশের খেলোয়াড় মো. মিরাজ সেরা খেলোয়াড় হিসেবে নির্বাচিত হন।

ফুটবল টুর্ণামেন্টের ফাইনাল খেলা দেখতে মাঠে অন্তত চার হাজার দর্শকের সমাগম ঘটে।




সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির অনন্য উদাহরণ লংগদু উপজেলা- ব্রি. জেনারেল মাহাবুবুল আলম

img_20161228_133700-6666666666-copy

লংগদু প্রতিনিধি :
লংগদু সেনা জোন সদরে বুধবার, বেলা সাড়ে বারটায় আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে খাগড়াছড়ি রিজিয়নের রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল স. ম. মাহাবুবুল আলম বলেছেন, লংগদু জোনের আওতাধীন এলাকা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক অনন্য উদাহরণ। তিনি আরও বলেন, এখানে যেভাবে পাহাড়ী ও বাঙ্গালীরা একসাথে মিলেমিশে থাকছেন, একসাথে সম্প্রীতির সাথে বসবাস করছেন এবং একে অপরের সাথে সহনশীল আচরণ করছেন তাতে সকল পক্ষই সুখে শান্তিতে থাকতে পারছেন।এলাকার জীবনমান উন্নয়নের জন্য অবকাঠামোগত উন্নয়ন যেমন প্রয়োজন, তেমনি প্রয়োজন স্থিতিশীল শান্ত পরিবেশ।

লংগদু জোনের জোন কমান্ডার লে. কর্নেল আব্দুল আলিম চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ সভায়
অতিথির মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, লংগদু উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো. তোফাজ্জল হোসেন, লংগদু উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ নিজাম উদ্দিন আহম্মেদ, জোনের সেনা কর্মকর্তা মেজর আবু সাঈদ, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মো. নাছির উদ্দিন, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মকর্তা ডা. বিশ্বজিৎ মহাজন, উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. পলাশ কান্তি চাকমাসহ জোনের বিভিন্ন সেনা কর্মকর্তা ও বিভিন্ন ইউপি চেয়ারম্যাগণ।

রিজিয়ন কমান্ডার স.ম. মাহাবুবুল আলম আরো বলেন, বর্তমান যুগটা হচ্ছে জ্ঞানের যুগ। তথ্যের ও ব্যবসার যুগ। তাই, জীবন জীবিকায় উন্নতি করতে এখানে শিল্পকারখানা গড়ে তুলতে হবে। তাতে যেটুকু ক্ষতি হবে তা মানতে হবে। উন্নত বিশ্বও এভাবেই শিল্পায়ন গড়ে তুলেছে। যারা ঢাকায় বসে টেলিভিশনে টকশো করে পার্বত্য চট্টগ্রামের উন্নয়নে বিরোধিতা করেন তারা কখনো পার্বত্য চট্টগ্রামের দুর্গম এলাকায় এসে বাস্তবতা দেখেন না। তাদের ছেলে মেয়েরাও বেশির ভাগ উন্নত রাষ্ট্রে পড়তে যায়। আমার রিজিয়নের উদ্যোগে সাজেকে একটি মাল্টি মিডিয়া স্কুল গড়ে তুলেছি। সেখানে ছাত্ররা কম্পিউটারের মাধ্যমে ইন্টারনেট সংযোগ দিয়ে তার পড়াটা আদায় করে নিতে পারছে। সরকার এই প্রজেক্টটি নিয়ে এখন ভাবছেন। কিন্তু আমরা তা পার্বত্যাঞ্চলের প্রত্যন্ত এলাকা সাজেকে দু’বছর আগে এই প্রকল্প তৈরি করেছি। বর্তমানে আমাদের এই প্রকল্পটি বেশ সাড়া জাগিয়েছে।

আমরা আমাদের দায়িত্ব পালনকালে কারো যদি কোনো ক্ষতি হয়েও থাকে সেটা ইচ্ছেকৃতভাবে নয়। আমি দুই বছর যাবৎ রিজিয়নে দায়িত্ব পালন করেছি। এখন সরকারে নির্দেশে চালে যাচ্ছি। আপনাদের যে আন্তরিকতা সহযোগিতা পেয়েছি তা কোনদিন ভুলতে পারবো না। আজকের মতো আপনাদের সাথে হয়তো এভাবে দেখা হবে না। তবে যেখানেই যাই আপনাদের কথা মনে থাকবে।

তিনি আরো বলেন, আমার দৃঢ় বিশ্বাস আপনারা যেভাবে আছেন সেভাবে থেকে এলাকার অবকাঠামো বিনির্মাণে কাজ করবেন। সম্প্রীতি বজায় রেখে শিক্ষার জন্য কাজ করবেন। তার জন্য সবাইকে উদার মনোভাব বজায় রাখতে হবে। এসময় তিনি সকলের মঙ্গল কামনা করেন।

পরে প্রধান অতিথি ব্রিগেডিয়ার জেনারেল স.ম. মাহাবুবুল আলম জোনের সংস্কারকৃত মসজিদ গেইট উদ্বোধন করেন। এরপর তিনি জোনের উদ্যোগে আয়োজিত কম্পিউটার ও সেলাইন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রও উদ্বোধন করেন।




খাগড়াছড়িতে সাংবাদিককে মারধরের ঘটনায় লংগদু প্রেসক্লাবের নিন্দা

লংগদু প্রতিনিধি:

খাগড়াছড়ি পৌর মেয়র রফিকুল আলম কর্তৃক সাংবাদিক নিরব চৌধুরীকে মারধরের ঘটনায় ‘লংগদু উপজেলা প্রেসক্লাবে’র পক্ষ থেকে নিন্দা প্রকাশ করা হয়েছে।

রোববার লংগদু উপজেলার মাইনীমুখ বাজারস্থ অস্থায়ী প্রেসক্লাব কার্যালয়ে এক আলোচনা সভায় এ নিন্দা প্রকাশ করা হয়। প্রেস ক্লাবের সভাপতি মো. এখলাস মিঞা খানের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন, প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ওমর ফারুক মুছা।

এছাড়া সাংবাদি আব্দুর রহীম, আরমান খান, মো. আলমগীর হোসেন, ওছমান গণি লিটুসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমের কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

সভায় সাংবাদিক নিরব চৌধুরীর উপর প্রতিবাদ ও নিন্দা জানিয়ে হামলাকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবী জানানো হয়।