লংগদুতে নয়ন হত্যার জের, পাহাড়িদের ক্ষয়ক্ষতি ৬ কোটি ৬১ লাখ টাকা


নিজস্ব প্রতিনিধি :
রাঙামাটির লংগদু উপজেলায় পাহাড়িদের বাড়িঘরে আগুন দেওয়ার ঘটনায় ২১৩টি পরিবার ও আটটি দোকান পুড়ে ৬ কোটি ৬১ লাখ ৮৫ হাজার টাকার ক্ষতি হয়েছে। পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে রাঙামাটি জেলা প্রশাসকের পাঠানো প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা যায়।

প্রসঙ্গত, ১ জুন লংগদু উপজেলার সদর ইউনিয়ন যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও মোটরসাইলেক চালক নুরুল ইসলাম নয়নের লাশ দীঘিনালার চারমাইল এলাকায় পাওয়া যায়। স্থানীয় বাঙালিরা এই ঘটনার জন্য পাহাড়ের আঞ্চলিক সন্ত্রাসী সংগঠনগুলোকে দায়ী করে। এই ঘটনার প্রতিবাদে লংগদুবাসীর ব্যানারে নয়নের লাশ নিয়ে একটি বিক্ষোভ মিছিল উপজেলা সদরে আসার পথে পাহাড়িদের বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগ করে। এ সময় শতাধিক বাড়ি আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে যায়।

এদিকে, গত ৯ জুন খাগড়াছড়ির দীঘিনালা থেকে দুই ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হলে তারা নয়ন হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে স্বীকারোক্তি দেয় বলে জানায় পুলিশ। নয়নের মোটরসাইকেলটিও দীঘিনালার মাইনী নদী থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতার দুই ব্যক্তি রনেল চাকমা ও জুনেল চাকমা পুলিশকে জানিয়েছে, মোটরসাইকেল ছিনতাই করার জন্যই তারা নয়নকে হত্যা করে। তবে নয়ন হত্যাকাণ্ডের পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে মোটরসাইকেলটি কোথাও নিয়ে যেতে পারেনি হত্যাকারীরা। পরে তারা মোটরসাইকেলটি মাইনী নদীতে ফেলে দেয়।




লংগদুতে ক্ষতিগ্রস্থ পরিবার সমূহকে যথাযথ পুনর্বাসন করা হবে


নিজস্ব প্রতিনিধি :
রাঙামাটির লংগদুতে যুবলীগ নেতা নয়ন হত্যাকে কেন্দ্র করে পাহাড়িদের বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্থ এলাকা পরিদর্শন করেছে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রনালয়ের একটি প্রতিনিধি দল। শনিবার সকালে উপজেলা বিশ্রামাগারে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও ক্ষতিগ্রস্থ পাহাড়ি নেতাদের সঙ্গে আলোচনা সভা করে প্রতিনিধি দলের প্রধান পার্বত্য মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব কামাল উদ্দীন তালুকদার। এ সময় সাথে ছিলেন উপ-সচিব সুদত্ত চাকমা।

সভায় তারা ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, যা ঘটেছে তা খুবই মর্মান্তিক। এখন সকলের চেষ্টায় বর্তমান অবস্থা থেকে পরিত্রানের পথ খুঁজতে হবে। অভিমান অভিযোগ নিয়ে বসে না থেকে কিভাবে বাঁচা যায় তা ঠিক করতে হবে। সরকারের ঊর্ধ্বতন মহলে বিষয়টির গুরুত্ব আছে। ক্ষতিগ্রস্থ পরিবার সমূহকে যথাযথ পুনর্বাসন করা হবে।

তারা আরো বলেন, সব ভেদাভেদ ভুলে সামনে এগিয়ে যেতে হবে। সন্দেহ অবিশ্বাস দূর করতে পাহাড়ি বাঙালি সবাইকে কাজ করতে হবে। সাধারণ পাহাড়িদের নির্ভয় দিতে হবে তাদের আস্থা অর্জন করতে হবে। তবেই শান্তি ফিরে আসা সম্ভব।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জাহাঙ্গীর আলম, উপজেলা চেয়ারম্যান তোফাজ্জল হোসেন, উপজেলা নির্বাহী অফিসার তাজুল ইসলাম, সহকারী কমিশনার (ভূমি) তৌহিদুল ইসলাম, থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মমিনুল ইসলাম, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল বারেক সরকার, সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদ সদস্য জানে আলম, জনসংহতি সমিতির সাধারণ সম্পাদক মনিশংকর চাকমা, ইউপি চেয়ারম্যান মঙ্গল কান্তি চাকমা, কুলিন মিত্র চাকমা (আদু) সহ স্থানীয় পাহাড়ি ও বাঙ্গালি কমিউনিটির গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

এরপর সকাল ১১টায় প্রতিনিধিদল ক্ষতিগ্রস্থ তিনটিলা এলাকার পুড়ে যাওয়া ঘরবাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করেন।

উল্লেখ্য গত ১ জুন লংগদুর যুবলীগ নেতা ও মোটরসাইকেল চালক নুরুল ইসলাম নয়নকে সন্ত্রাসীরা  হত্যা করে  লাশ ফেলে রাখে দিঘীনালা-খাগড়াছড়ি সড়কের চারমাইল এলাকায়। পরের দিন নয়নের লাশসহ শোক মিছিল নিয়ে উপজেলা মাঠে যাওয়ার সময় কিছু দুস্কৃতিকারী পাহাড়িদের দোকান ও বসতঘরে আগুন লাগিয়ে দেয়। এতে পাহাড়িদের দুশতাধিক ঘর পুড়ে যায়। এ ঘটনায় লংগদু থানা পুলিশ বাদী হয়ে ১৫ জনের নাম উল্লেখ করে এবং পাহাড়িদের পক্ষে আরো ৯৮ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত ৩০০ জনের বিরুদ্ধে দুটি মামলা করা হয়েছে ।




লংগদুতে পাহাড়িদের বাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় ৯ জনের ৩ দিনের রিমান্ড


নিজস্ব প্রতিনিধি :
রাঙামাটির লংগদু উপজেলা যুবলীগ নেতা নুরুল ইসলাম নয়ন হত্যাকাণ্ডের জের ধরে পাহাড়িদের বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় নয় জনের বিরুদ্ধে তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

রোববার রাঙামাটি সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ঝুমা সরকারের আদালতে এই নয় জনের সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়। পরে আদালত তাদের তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। রিমান্ডে নেওয়া অভিযুক্তরা হলেন-শাহ আলম, এম এ হালিম, রহমান, আ. জব্বার, রহিম, শরিফ, জিয়াবুল ও রহমান। বাকি একজনের নাম জানা যায়নি।

উল্লেখ্য, গত ১ জুন লংগদু উপজেলার সদর ইউনিয়ন যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক নুরুল ইসলাম নয়নের লাশ দীঘিনালার চারমাইল এলাকায় পাওয়া যায়। ঘটনার প্রতিবাদে পরদিন ২ জুন সকালে নয়নের লাশ নিয়ে একটি বিক্ষোভ মিছিল উপজেলা সদরে আসার পথে পাহাড়িদের বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগ করে। এসময় শতাধিক বাড়ি আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে যায়।

এ ঘটনায় ৩ জুন পুলিশ বাদী হয়ে ১৫ জনের নাম উল্লেখ করে তিনশ জনের নামে মামলা দায়ের করে। পরে ১১ জুন আরও ৯৮ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও তিনশ জনের নামে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

এদিকে, শুক্রবার (৯ জুন) খাগড়াছড়ির দীঘিনালা থেকে দুই ব্যক্তিকে গ্রেপ্ততার করা হলে তারা নয়ন হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে স্বীকারোক্তি দেয় বলে জানায় পুলিশ। নয়নের মোটরসাইকেলটিও দীঘিনালার মাইনী নদী থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার দুইজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়।




নয়ন হত্যাকাণ্ডে গ্রেফতার জুনেল চাকমা ও রুনেল চাকমার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান

নিজস্ব প্রতিবেদক, খাগড়াছড়ি:

আলোচিত যুবলীগ নেতা নুরুল ইসলাম নয়ন হত্যাকাণ্ডে গ্রেফতার জুনেল চাকমা ও রুনেল চাকমা খাগড়াছড়ি আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। রবিবার দুপুরে খাগড়াছড়ি অতিরিক্ত চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট রোকেয়া আক্তারের আদালতে তারা জবানবন্দি দেয়।

খাগড়াছড়ি সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তারেক মো. আব্দুল হান্নান আদালতে জবানবন্দি দেওয়ার কথা নিশ্চিত করে বলেন, নিহত নয়নের উদ্ধার হওয়া মোবাইল ফোনের কললিস্টের সূত্র ধরে দুই আসামীকে গ্রেফতার ও তাদের স্বীকারোক্তিতে খাগড়াছড়ির মাইনী নদী থেকে নয়নের মোটরসাইকেল উদ্ধারের পর আসামীরা রবিবার আদালতে স্বেচ্ছায় জবানবন্দি দিয়েছে। এর মধ্য দিয়ে মামলার তদন্তে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। পুলিশ অপর আসামী বাবু রাজ চাকমাকে গ্রেফতারের চেষ্টা চালাচ্ছে।

গত ১ জুন দুপুরে খাগড়াছড়ির চার মাইল এলাকা থেকে রাঙামাটির লংগদু উপজেলা যুবলীগের নেতা নুরুল ইসলাম নয়নের লাশ উদ্ধার হয়। এঘটনার জেরে ২ জুন লংগদুর তিনটিলা, মানিকজোড় ছড়া ও বাইট্যাপাড়া এলাকায় ২১২টি পাহাড়ি বাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে অগ্নিসংযোগ, ভাংচুর ও লুটপাট করে দুর্বৃত্তরা। নয়নের ছোট ভাই দীন ইসলাম লিটন অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামী করে খাগড়াছড়ি সদর থানায় মামলা করেন।

শুক্রবার সকালে খাগড়াছড়ি পুলিশ ও পিবিআই নয়ন হত্যাকাণ্ডের আসামী জুনেল চাকমাকে (১৯) চট্টগ্রাম থেকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তার স্বীকারোক্তিতে খাগড়াছড়ির দীঘিনালা থেকে রুমেল চাকমাকে গ্রেফতারের পর দু’জনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে শনিবার নৌবাহিনী ও ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল খাগড়াছড়ির মাইনী নদীতে টানা প্রায় ৫ ঘন্টা অভিযান চালিয়ে নয়নের মোটরসাইকেল উদ্ধার করে।

খাগড়াছড়ি সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তারেক মো. আব্দুল হান্নান  জানান, একটি মাদকের আড্ডা থেকে মোটরসাইকেল ছিনতাইয়ের পরিকল্পনা হয়। নয়ন হত্যা মিশনে তিনজন অংশ নেয়। মূলত মোটরসাইকেল ছিনতাইয়ের জন্য এ হত্যাকাণ্ডটি ঘটে। কিন্তু ঘটনার লংগদুতে পাহাড়ি পল্লীতে অগ্নিসংযোগের ভয়ে তারা মোটরসাইকেলটি মাইনী নদীতে ফেলে দেয়।




দুই খুনীর স্বীকারোক্তিতে মাইনী নদী থেকে যুবলীগ নেতা নয়নের মোটরসাইকেল উদ্ধার

নিজস্ব প্রতিবেদক, খাগড়াছড়ি:

টানা প্রায় পাঁচ ঘন্টা খাগড়াছড়ির দীঘিনালার মাইনী নদীতে অভিযান চালিয়ে রাঙামাটির লংগদু উপজেলার যুবলীগ নেতা নুরুল ইসলাম নয়নের ব্যহৃত মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করেছে, কাপ্তাইয়ের শহীদ মুয়াজ্জেম ঘাটির নৌবাহিনীর ডুবুরী দল ও চট্টগ্রাম ফায়ার সার্ভিস।

শুক্রবার সকালে খাগড়াছড়ি পুলিশ ও পিবিআই নয়ন হত্যাকাণ্ডের আসামী জুনেল চাকমাকে (১৯) চট্টগ্রাম থেকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তার স্বীকারোক্তিতে খাগড়াছড়ির দীঘিনালা থেকে রুমেল চাকমাকে গ্রেফতার করে। তাদের স্বীকারোক্তিতে মাইনী নদী থেকে নয়নের মোটরসাইকেল উদ্ধার হয়।

খাগড়াছড়ি পুলিশ সুপার আলী আহমদ খান এক প্রেস ব্রিফিং-এ জানান, রাঙামাটির লংগদু উপজেলার বাসিন্দা জুনেল চাকমা ও বাবু রাজ চাকমা নামে দুই যুবক গত ১ জুন নুরুল ইসলাম নয়নকে খাগড়াছড়ি যাওয়ার কথা বলে ভাড়া করে আনে। পথিমধ্যে দীঘিনালা থেকে রুনেল চাকমা নামে আরেক যুবক তাদের সফর সঙ্গী হয়। খাগড়াছড়ি থেকে ফেরার পথে জেলা সদরের চার মাইল এলাকায় নয়নকে মাথায় রড দিয়ে আঘাত করে হত্যা করার পর তার মটরসাইকেল নিয়ে পালিয়ে যায় সন্ত্রাসীরা।

পরবর্তীতে এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে লংগদুতে হামলা হওয়ায় সন্ত্রাসীরা মটরসাইকেলটি বিক্রি না করে গত ৪ জুন দীঘিনালার মাইনী নদীতে ফেলে দেয়। মোবাইলের কল তালিকা ধরে তদন্তের মাধ্যমে শুক্রবার(৯ জুন) চট্টগ্রামের কর্ণফুলী এলাকা থেকে লংগদুর রাঙ্গিপাড়ার জ্ঞান লাল চাকমার ছেলে জুনেল চাকমা(১৮) কে গ্রেফতার করা হয়।

পরবর্তীতে তার দেয়া স্বীকারোক্তি মোতাবেক একইদিন সন্ধ্যায় দীঘিনালার বাবুছড়া এলাকার রাজ মোহন চাকমা রুনেল চাকমাকে গ্রেফতার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করেছে। তাদের স্বীকারোক্তি মোতাবেক শনিবার মাইনী নদীতে তল্লাশি চালিয়ে নয়নের মটরসাইকেলটি উদ্ধার করা হয়।

মূলত মটরসাইকেল ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে নয়নকে হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে। তিনি আঞ্চলিক কোন সংগঠনের সাথে নয়নের হত্যাকারীদের সম্পৃক্ত কিনা এমন প্রশ্নের উত্তরে পুলিশ সুপার জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে বলে জানান। এছাড়া পলাতক বাবু রাজ চাকমাকেও গ্রেফতারে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে।

এর আগে, শনিবার বেলা সাড়ে ১১টা থেকে বিকাল সোয়া ৪টা পর্যন্ত রাঙামাটির কাপ্তাইয়ের শহীদ মোয়াজ্জম নৌঘাটির ডুবুরি দল টানা পাঁচ ঘন্টা মাইনী নদীতে তল্লাশি চালিয়ে বিকেল ৪টা ১৫ মিনিটে নয়নের মটরসাইকেলটি উদ্ধার করে। উদ্ধার কাজে নৌ বানিহী ডুবুরি দলকে সহযোগিতা করেন চট্টগ্রামের ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল ও স্থানীয়রা।

তল্লাশি অভিযান চালানোর সময় খাগড়াছড়ির পুলিশ সুপার আলী আহমদ খান ছাড়াও শহীদ মোয়াজ্জম নৌ ঘাটির লে. এম কবির হোসেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এমএম সালাহউদ্দীন, পিবিআই চট্টগ্রাম বিভাগের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাঈন উদ্দিন, দীঘিনালা থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি) সামসুদ্দিন ভূইয়া, খাগড়াছড়ি সদর থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি) তারেক মোহাম্মদ আব্দুল হান্নান, পিবিআই’র পরিদর্শক সন্তোষ চাকমা উপস্থিত ছিলেন।

প্রসঙ্গত, গত ১ জুন দুপুরে খাগড়াছড়ির চার মাইল এলাকায় খুন করা হয় রাঙমাটির লংগদু উপজেলা যুবলীগের নেতা নুরুল ইসলাম নয়নকে। এঘটনাকে কেন্দ্র করে ২ জুন লংগদুর তিনটিলা, মানিকজোড় ছড়া ও বাইট্যাপাড়া এলাকায় ২১২টি পাহাড়ি বাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে অগ্নিসংযোগ, ভাংচুর ও লুটপাট  করে দুর্বৃত্তা।

খাগড়াছড়ি সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তারেক মো. আব্দুল হান্নান জানান, নয়ন হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তার ছোট ভাই লিটন বাদি হয়ে খাগড়াছড়ি সদর থানায় অজ্ঞাত ব্যক্তিদের  আসামী করে মামলা দায়ের করেন।




লংগদুতে ক্ষতিগ্রস্থ এলাকা পরিদর্শনে রাজা দেবাশীষ: ঘটনা সম্পর্কে এখনও পুরোপুরি তথ্য পাইনি

 

লংগদু প্রতিনিধি:

চাকমা রাজা ব্যারিষ্টার দেবাশীষ রায় বলেছেন, লংগদুর ঘটনা সম্পর্কে এখনও পর্যন্ত পুরোপুরি তথ্য পাইনি। যা কিছু বুঝে উঠতে পেরেছি এই ঘটনাটা একেবারেই না ঘটা অথবা অন্তত যে ব্যাপকভাবে বিস্তৃত হয়েছে এটা ঠেকানো যেত। আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর দায়িত্ব জেলা এবং উপজেলার প্রশাসন দেখা। পূর্বে লংগদুতে ৪মে, ৮৯ যে ঘটনা ঘটেছিল সেই ঘটনা থেকে তারা অনুমান করে ব্যবস্থা নিতে পারতো।

তিনি আরও বলেন, এখানে একটা গুজবকে কেন্দ্র করে পাহাড়ীদের গ্রামে বাঙ্গালীদের দ্বারা আক্রমন হয়েছে। রাঙামাটিতে দুই/এক বছর আগে যে ঘটনা ঘটেছে সেগুলো থেকে আমরা যদি শিক্ষা নিতাম তাহলে এটার ব্যবস্থা সহজেই নেয়া যেত।

রাঙামাটির লংগদু উপজেলায় পাহাড়ীদের বাড়ীঘরে অগ্নিসংযোগ ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গিয়ে স্থানীয় সংবাদকর্মীদের এক প্রশ্নের জবাবে চাকমা রাজা ব্যারিষ্টার দেবাশীষ রায় এসব কথা বলেছেন।

চাকমা রাজা ব্যারিষ্টার দেবাশীষ রায় শনিবার লংগদু পরিদর্শনে এসে প্রথমে উপজেলার মানিকজোড়ছড়া, বাইট্টাপাড়া, তিনটিলা অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্থ পাহাড়ীদের বাড়ী ঘর ঘুরে ঘুরে দেখেন এবং ক্ষতিগ্রস্থদের খোঁজ খবর নেন। সেখানে পাহাড়ী জনসাধারণের মধ্যে কাপড়, চাল, ডালসহ ত্রাণ বিতরণ করেন।

এরপর তিনি সন্ত্রাসী কর্তৃক নিহত যুবলীগ নেতা নয়নের বাড়ীতেও যান। সেখানে তার পরিবার বর্গদের খোঁজ খবর নেন এবং সকলকে সমবেদনা জানান। এসময় স্থানীয় হেডম্যান, কারবারী ও গণ্যমান্য ব্যাক্তিগণ উপস্থিত ছিলেন।

দেবাশীষ রায় আরও বলেন, আমাদের রাষ্ট্রের, সরকারের নিরাপত্তা বাহিনীর প্রাতিষ্ঠানিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার প্লান থাকে। পৃথিবীর মধ্যে দূর্যোগ মোকাবেলা করতে বাংলাদেশ কিন্তু শীর্ষে রয়েছে। কিন্তু এখানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর যারা দায়িত্বে ছিলেন তাদের যতখানি দক্ষতা বা প্রজ্ঞার পয়োজন ছিল এখানে তার পরিচয় মিলেনা। ফলে এই ঘটনায় আমাদের পাহাড়ী গ্রাম নয় সমগ্র দেশেরই আন্তর্জাতিভাবে  ভাবমুর্তি ক্ষুন্ন হয়েছে।

আমাদের নিরাপত্তা বাহিনী, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভাবমুর্তিতে যে আঘাত এসেছে তা প্রতিহত করা দরকার। এই ঘটনা সরকার কিংবা সরকারের বাহিনী ভুল করেনি। কিন্তু সরকারের তরফ থেকে পরিস্কারভাবে কেউ দায়ী কিনা সেটা যদি চিহ্নিত করতে না পারেন তাহলেতো সার্বিক পরিস্তিতি দায় সরকারের উপরই বর্তায়। দায় সকল প্রশাসনের উপর চলে যায়। এটা কারো জন্য মঙ্গল জনক না।

শুধুমাত্র এই ঘটনাই নয় এই অঞ্চলে দীর্ঘমেয়াদি শান্তি-সমৃদ্ধি আনতে হলে আমাদের মধ্যে পারস্পরিক বিশ্বাস আনতে হবে। সন্দেহ, গুজব এইসব থেকে এই ধরনের ঘটনার জন্ম হয়। কিছু ব্যাক্তি, যারা সম্প্রদায়িক ঘটনা ঘটান তাদের জন্য এই ঘটনার জন্য জড়িত নয় তারাও বদনামের শিকার হন। সরকারের উচিত এই ঘটনার জন্য উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা।

 

 

 

 

 

 




দীঘিনালার মাইনী নদী থেকে নয়নের মোটরসাইকেল উদ্ধার

নিজস্ব প্রতিবেদক:

খাগড়াছড়ির দীঘিনালায় মাইনী নদী থেকে নয়নের মোটরসাইকেলটির অবস্থান শনাক্ত করার পর নৌবাহিনী ও ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরিদের সহযোগিতায় উদ্ধার করা হয়েছে।

রাঙামাটির লংগদু উপজেলার যুবলীগ নেতা নুরুল ইসলাম নয়ন হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত সন্দেহে খাগড়াছড়ি ও চট্টগ্রামের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে ২ জনকে আটক করেছে পুলিশ ও পিবিআই।

খাগড়াছড়ি সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তারেক মো. আব্দুল হান্নান জানান, শুক্রবার খাগড়াছড়ি পুলিশ ও পিবিআই চট্টগ্রামে অভিযান চালিয়ে জুনেল চাকমাকে(১৯) ও তার স্বীকারোক্তিতে রাতে দীঘিনালা থেকে রুনেল চাকমাকে(৩৬) আটক করে।

তাদের স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে নয়নের মোটরসাইলটি উদ্ধারে শনিবার বেলা ১১টা থেকে খাগড়াছড়ির দীঘিনালা উপজেলার মাইনী নদীতে কাপ্তাইয়ের শহীদ মুয়াজ্জেম নৌ ঘাঁটির একটি ডুবুরী দল অভিযান চালায়।




মোটরসাইকেল উদ্ধারে খাগড়াছড়ির মাইনী নদীতে নৌবাহিনীর ডুবুরি দলের অভিযান

নিজস্ব প্রতিবেদক, খাগড়াছড়ি:

রাঙামাটির লংগদু উপজেলার যুবলীগ নেতা নুরুল ইসলাম নয়ন হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত সন্দেহে খাগড়াছড়ি ও চট্টগ্রামের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে ২জনকে আটক করেছে পুলিশ ও পিবিআই।

খাগড়াছড়ি সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তারেক মো. আব্দুল হান্নান জানান, শুক্রবার খাগড়াছড়ি পুলিশ ও পিবিআই চট্টগ্রামে অভিযান চালিয়ে জুনেল চাকমাকে(১৯) ও তার স্বীকারোক্তিতে রাতে দীঘিনালা থেকে রুনেল চাকমাকে(৩৬) আটক করে।

তাদের স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে নয়নের মোটরসাইলটি উদ্ধারে  শনিবার বেলা ১১টা থেকে খাগড়াছড়ির দীঘিনালা উপজেলার মাইনী নদীতে কাপ্তাইয়ের শহীদ মুয়াজ্জেম নৌ ঘাঁটির একটি ডুবুরী দল অভিযান চালাচ্ছে।

অভিযানস্থলে খাগড়াছড়ির পুলিশ সুপার আলী আহম্মদ খান, নৌবাহিনীর লে. এম কবীর হোসেন, পিবিআই চট্টগ্রাম ইউনিটের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাঈন উদ্দিন, খাগড়াছড়ির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এমএম সালাহউদ্দীন, দীঘিনালা থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি) সামসুদ্দিন ভূইয়া, খাগড়াছড়ি সদর থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি) তারেক মোহাম্মদ আব্দুল হান্নান উপস্থিত রয়েছেন।

খাগড়াছড়ি সদর থানার ওসি তারেক মোহাম্মদ আব্দুল হান্নান আটকের বিষয় নিশ্চিত করে বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা নয়নকে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন। তাদের স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে মাইনী নদীতে নৌ বাহিনীর একটি দল অভিযান চালাচ্ছে। দুপুরের পর চট্টগ্রাম থেকে ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট অভিযান কাজে যোগ দেয়।

উল্লেখ্য, গত ১ জুন দুপুরে খাগড়াছড়ির চারমাইল এলাকায় রাঙামাটির লংগদু উপজেলার বাইট্যাপাড়া এলাকার নুরুল ইসলাম নয়নকে হত্যা করে তার ব্যবহৃত মটরসাইকেলটি নিয়ে যায় সন্ত্রাসীরা। এর জেরে ২ জুন লংগদুর তিনটি পাহাড়ি অধ্যুষিত এলাকার ২১২টি বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগ ও লুটপাট করে উত্তেজিত বাঙালিরা।

খাগড়াছড়ি সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তারেক মো. আব্দুল হান্নান জানান, ২ জুন লংগদুতে পাহাড়ি বাড়ি-ঘরে আগুন দেওয়ার পর ভয়ে সন্ত্রাসীরা মোটরসাইকেলটিমাইনী নদীতে ফেলে দেন।

খাগড়াছড়ি পুলিশ সুপার আলী আহমদ খান জানান, মোটরসাইকেলটি উদ্ধারের পর ব্রিফিং করে  বিস্তারিত জানানো হবে।




সরকারি দল লংগদু ঘটনাকে ভিন্ন খাতে প্রভাবিত করার চেষ্টা করছে: আব্দুল্লাহ আল নোমান

নিজস্ব প্রতিবেদক, খাগড়াছড়ি:

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল নোমান অভিযোগ করেছেন, সরকার রাঙামাটির লংগদু’র সহিংসতার ঘটনাকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার ষড়যন্ত্র করছে। তিনি এঘটনার জন্য সুষ্ঠ, নিরপেক্ষ, রাজনীতি বহির্ভুত ও বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবি জানিয়ে বলেন, যাতে কোন নিরপরাধ মানুষ এঘটনার অভিযোগে শাস্তি না পায়। তিনি গণগ্রেফতারের নিন্দা জানিয়ে বলেন, উপজাতিদের ঘর-বাড়িতে যেমন অগ্নিসংযোগের ঘটনা কারো কাম্য নয়, তেমনি নয়ন হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটাও গ্রহণ যোগ্য নয়।

শুক্রবার দুপুর ১২টার দিকে লংগদু উপজেলা সংঘটিত সম্প্রতি সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে রাঙামাটি জেলা বিএনপির প্রধান কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে নোমান এসব কথা বলেন।

আব্দুল্লাহ আল নোমান অভিযোগ করেন, পার্বত্যাঞ্চলে এ পর্যন্ত ৮জন মোটরসাইল চালককে হত্যা করা হয়েছে। যাদের বিচার আজও হয়নি। পাহাড়ে এ ধরনের ঘটনা বার বার ঘটছে। এসব হত্যাকাণ্ডের পিছনে কি আছে সে বিষয়গুলো ক্ষতিয়ে দেখা দরকার। একই সাথে এসব ঘটনার সঙ্গে জড়িত প্রকৃত দোষীদের সুষ্ঠ তদন্তের মাধ্যমে বিচারের আওতায় আনার আহ্বান জানান তিনি।

এসময় বিএনপির চেয়ারপার্সনের  উপদেষ্টা সুকুমার বড়ুয়া ও সাংগঠনিক সম্পাদক মাহাবুবুর রহমান শামীম, কেন্দ্রীয় কমিটির ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক দীপেন দেওয়ান, কেন্দ্রীয় কমিটির উপজাতীয় বিষয়ক সম্পাদক অব: কর্ণেল মনীষ দেওয়ান, জেলা বিএনপির সভাপতি মো. শাহ আলম, সাধারণ সম্পাদক দীপেন তালুকদার, যুগ্ম সম্পাদক মো. মামুনুর রশিদ মামুন, জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সাইফুল ইসলাম পনির, জেলা ছাত্র দলের সভাপতি আবু সাদ্দাৎ সায়েমসহ অন্যান্য নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

বিএনপির নির্বাহী কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান মো. আব্দুল্লাহ আল নোমান অভিযোগ করে আরও বলেন, ক্ষমতাসীন রাজনীতিক দল লংগদু ঘটনাটাকে ভিন্ন খাতে প্রভাবিত করার চেষ্টা করছে। উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে বিএনপির নেতাকর্মীদের গ্রেফতার করা হচ্ছে। তারা যদি দোষী হয়, তাহলে সেটা বিচার বিভাগের ব্যাপার। কিন্তু তদন্ত না করে কাউকে বিনা কারণে হয়রানি করা যাবেনা।

তিনি আরও বলেন, আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করতে চেয়েছি। রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে নয়। অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য। কিন্তু প্রশাসন আমাদেরকে সেখানে যেতে বাঁধা দিয়েছে। প্রশাসন বলছে পাহাড়ের পরিস্থিতি এখনো স্বাভাবিক নয়। তাহলে ধরে নেওয়া যায়, তারা সেখানের পরিস্থিতি এখনো স্বাভাবিক করতে পারেনি। পরিস্থিতি অস্বাভাবিক কি আছে সেটা জেনে নিরসন করাও দারকার ।

পরে বিএনপির নির্বাহী কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান মো. আব্দুল্লাহ আল নোমান লংগদু ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য নিয়ে আসা ৫লাখ টাকা রাঙামাটি জেলা বিএনপির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের হাতে হস্তান্তর করেন।এ সময় তিনি বলেন, আমরা শুনেছি ক্ষতিগ্রস্তরা নাকি ত্রাণ নিচ্ছে না। এ টাকা যদি ক্ষতিগ্রস্তরা নিতে না চাই, তাহলে সে টাকা ঢাকায় ফেরত যাবে।




লংগদুতে  আবারও অজ্ঞাত বাঙালি যুবকের লাশ উদ্ধার

রাঙামাটি প্রতিনিধি:

রাঙামাটি লংগদু উপজেলার মাইনী খাল থেকে অজ্ঞাতনামা এক যুবকের লাশ উদ্ধার করেছে লংগদু থানার পুলিশ। বৃহস্পতিবার সকালে লংগদুর কাচালং মাইনীমুখ খাল থেকে এ লাশ উদ্ধার করা হয়।

স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, লাশটি উপজেলার ইয়ারিংছড়ি এলাকার কাপ্তাই হ্রদের পানিতে ভাসতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেয়।

ইতোমধ্যে পুলিশ লাশটি উদ্ধার করেছে। রাঙামাটি জেলার উর্দ্ধতন পুলিশ কর্মকর্তারা লাশটি পরিদর্শন করেছেন এবং ময়না তদন্ত করার জন্য রাঙামাটিতে প্রেরণ করা হয়েছে।

লংগদু উপজেলা চেয়ারম্যান মো. তোফাজ্জল হোসেন জানান, সকালে লংগদু উপজেলার মাঈনি মুখ এলাকার কাচালং নদীতে ভাসমান অবস্থায় ওই যুবকের লাশ দেখতে পায় স্থানীয়রা। পরে এঘটনার খবর পুলিশকে দেওয়া হলে তারা লাশটাকে উদ্ধার করে। নিহত যুবকের পড়নে জিনসের প্যান্ট ও সাদা রঙে শার্ট ছিল। তার শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।

এব্যাপারে লংগদু উপজেলা থানার কর্মকর্তা (ওসি) মো. মোমিনুল ইসলাম জানায়, খবর পয়ে পুলিশ কাচালং নদীতে ভাসমান যুবকের লাশটি উদ্ধার করেছে। প্রার্থমিকভাবে ধারনা করা হচ্ছে এটা হত্যা জনিত ঘটনা। কারণ তার শরীরে আঘাতে চিহ্ন ও মুখে আগুনে পুড়া দাগ রয়েছে। বয়স ৩৮/৪০ হতে পারে। এখনো নাম পরিচায় পাওয়া যায়নি। ময়নাতদন্তের রিপোর্টের পর বাকি তথ্য জানা যাবে। এঘটনায় এলাকার পরিস্থিতি থমথমে। তিনি আরো বলেন, লাশটি খাগড়াছড়ি বা দিঘীনালার দিক থেকে ভেসে এই এলাকায় আসতে পারে।