লংগদুর দুর্গম জনপদে চিকিৎসা সহায়তা দিয়েছে নিরাপত্তাবাহিনী

লংগদু প্রতিনিধি:

রাঙ্গামাটির লংগদু উপজেলার দুর্গম জনপদ উত্তর রহমতপুরে চার শতাধিক পাহাড়ি-বাঙ্গালী গরীব জনসাধারণকে বিনামূল্যে ঔষধ ও চিকিৎসা সহায়তা দিয়েছে লংগদু সেনা জোন।

বুধবার, লংগদু সেনা জোনের উদ্যোগে উপজেলার কালাপাকুজ্যা ইউনিয়নের উত্তর রহমতপুর এলাকায় সকাল আটটা থেকে বিনামূল্যে ঔষধ ও চিকিৎসা সহায়তা দেওয়া হয়।

লংগদু জোনের জোন কমান্ডার লে. কর্ণেল আ. আলীম চৌধুরী পিএসসি উপস্থিত থেকে এই চিকিৎসা সহায়তা ক্যাম্প উদ্বোধন করেন। এসময় কালাপাকুজ্যা ইউপি চেয়ারম্যান মো. মোস্তফা মিয়া, সুপারিপাতাছড়া সাব জোন কমান্ডার তানজিমুল আনোয়ার সহ এলাকার গন্যমান্য ব্যক্তিগণ উপস্থিত ছিলেন।

জোন কমান্ডার লে. কর্ণেল আ. আলীম চৌধুরী বলেন, উপজেলার দুর্গম এলাকাগুলোতে যেখানে গরীব জনসাধারণ দুরত্ব ও দূর্গমতার কারণে উপজেলা সদরে গিয়ে প্রয়োজনীয় নুন্যতম চিকিসাটুকু করাতে পারেনা। তাই, জোনের উদ্যোগে আমরা সেসব দুর্গম এলাকাগুলোতে গিয়ে গরীব জনসাধারণকে বিনামূল্যে ঔষধ ও চিকিৎসা সহায়তা দিচ্ছি। এটি একটি মানব সেবামূলক কাজ। জোনের এই কাজের উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে বলেও তিনি জানান।

পরে জোনের আরএম ও ক্যাপ্টেন মো. রুবেল আজাদ দেড় শতাধিক পাহাড়ি নারী পুরুষ ও তিন শতাধিক বাঙ্গালী নারী, পুরুষ ও শিশুকে বিনামূল্যে ঔষধ ও চিকিৎসা প্রধান করেন। এসময় জোনের মেডিক্যাল এ্যসিসটেন্ট কর্পোরাল নজরুল ইসলাম সহ সেনা সদস্যরা একাজে বিশেষভাবে সহযোগিতা করেন।




লংগদুতে যুবউন্নয়নের উদ্যোগে আইপিএস তৈরির প্রশিক্ষণ উদ্বোধন

 

লংগদু প্রতিনিধি:

কর্ম উদ্যোগী যুবকদের যাতে আর বেকারত্ব থাকতে না হয় তার জন্য লংগদু উপজেলা যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর বাস্তবমূখী প্রশিক্ষণের ব্যাবস্থা গ্রহণ করেছে। মোবাইল সার্ভিসিং প্রশিক্ষণ শেষে এবার আইপিএস তৈরির প্রশিক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ফলে এলাকার যুবকরা প্রশিক্ষণ প্রাপ্তির শেষে আইপিএস তৈরির মাধ্যমে আর্থিকভাবে উন্নতি ঘটাতে পারবে বলে জানিয়েছেন লংগদু উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো. তোফাজ্জল হোসেন।

মঙ্গলবার, লংগদু উপজেলা যুব উন্নয়নের উদ্যোগে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে আইপিএস তৈরি বিষয়ক ১৫ দিনব্যাপী প্রশিক্ষণের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মো. তোফাজ্জল হোসেন এসব কথা বলেছেন।

উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মাহাবুব ইলাহী এর সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান নুরজাহান বেগম। এছাড়া রাঙ্গামাটি জেলা যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের প্রশিক্ষক মো. মোস্তফা মিয়া।

এসময় মাইনীমুখ, মুসলিম ব্লক, তিনটিলা, বাইট্টাপাড়া এলাকার দেড় শতাধিক শিক্ষিত বেকার যুবক যুবতি এ প্রশিক্ষণে অংশ নেয়।




ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে রাবেতা কলেজের ছাত্র-শিক্ষকদের মানববন্ধন


লংগদু প্রতিনিধি:
রাঙামাটির লংগদু উপজেলার স্বনামধন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রাবেতা মডেল কলেজ সম্পর্কে ‘দৈনিক সংবাদ’ পত্রিকায় গত ১১ অক্টোবর প্রকাশিত অসত্য, বানোয়াট ও বিভ্রান্তিকর সংবাদ প্রকাশের প্রতিবাদে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে কলেজ শিক্ষক, কর্মচারী ও ছাত্রছাত্রীবৃন্দ।

রোববার, সকাল দশটায় কলেজের সামনে প্রধান সড়কে ঘন্টাব্যাপী মানববন্ধন ও সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন, রাবেতা মডেল কলেজের অধ্যক্ষ মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ।

মানববন্ধনে সংহতি প্রকাশ করে বক্তব্য রাখেন, লংগদু উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও মাইনীমুখ ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল বারেক সরকার, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের ডেপুটি কমান্ডার খোরশেদ আলম, লংগদু প্রেস ক্লাবের সভাপতি মো. এখলাস মিঞা খান, উপজেলা আওয়ামীলীগের মহিলা সম্পাদিকা ও ইউপি সদস্য আনোয়ারা বেগমসহ প্রমুখ।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, রাবেতা কলেজ অত্র উপজেলার গরীব-অসহায় ছাত্র-ছাত্রীদের বিদ্যাপীঠ। যে সকল অভিভাবক ঢাকা, চট্টগ্রাম ও রাঙ্গামাটি শহরে ছেলে মেয়েদের পড়ানোর সামর্থ রাখে না তারাই এই কলেজে লেখাপড়া করছে। এবং এ কলেজটি বিগত দিনের রাঙ্গামাটি জেলার শ্রেষ্ঠ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে, যা লংগদুবাসীর জন্য গৌরবের ও আনন্দের।

বক্তারা আরো বলেন, এই প্রতিষ্ঠান আছে বলেই আমাদের ছেলে মেয়েরা দেশের বিভিন্ন বিশ^বিদ্যালয়ে লেখা পড়ার জন্য যোগ্য হয়েছে। কলেজের সাবেক এক দরিদ্র শিক্ষার্থী বিসিএস ক্যাডারে নিয়োগ পেয়েছে। এত কিছুর পরেও কেন এই কলেজকে নিয়ে নানা ষড়যন্ত্র চলছে-এ প্রশ্ন আমাদের।

বক্তারা আরো বলেন, যারা এমন ষড়যন্ত্র করছে তারা জাতীর শত্রু। আমরা সকল ষড়যন্ত্র নস্যাৎ কওে রাবেতা কলেজের উন্নয়নের কাজ করে যাব।

কলেজের অধ্যক্ষ মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ বলেন, সম্প্রতি শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর কর্তৃক সারা দেশের ২১২টি বেসরকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় শিক্ষার মানোন্নয়নের লক্ষে বেসরকারী কলেজ সমূহের উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ শুরু হয়েছে। যেখানে রাঙ্গামাটি জেলার চারটি বেসরকারী কলেজ রয়েছে যার মধ্যে রাবেতা মডেল কলেজ একটি। এই প্রকল্পের মাধ্যমে সাড়ে তিন কোটি টাকা ব্যয়ে কলেজের একটি চার তলা ভবন নির্মাণের কথাছিল। কিন্ত কিছ মানুষ এই কলেজের উন্নয়নে ঈর্ষান্বীত হয়ে ভূয়া, বানোয়াট ও বিভ্রান্তিকর তথ্য দিয়ে ‘দৈনিক সংবাদ’ পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশে সহযোগীতা করে।

তিনি আরো বলেন, মুক্তিযোদ্ধের আদর্শ লালন পরিষদ নামের একটি সংগঠনের পক্ষে গত ২০ শে আগষ্ট ২০১৭ প্রকল্প পরিচালক মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর বরাবর একটি আবেদন করা হয়। যেখানে আমাদের কাজটি বাতিল করার অনুরোধ করা হয়। এবং আবেদনকারী হিসেবে রাঙ্গামাটি জেলা পরিষদের সদস্য ও লংগদু উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক মো. জানে আলমের নাম উল্লেখ করা হয়।

এই বিষয়ে জানে আলম বলেন, এই আবেদন পত্রে আমাকে মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ লালন পরিষদ নামের সংগঠনের সভাপতি বানানো হয়েছে। যা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট। এমন কোন সংগঠনের সাথে আমি জড়িত নই। আর এমন সংগঠনের অস্তিত্ব আছে বলে আমার জানা নাই। আমি এ ষড়যন্ত্রের তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি।

মানববন্ধন ও সমাবেশে আরো বক্তব্য রাখেন, রাবেতা কলেজ ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্র আবুবক্কর ছিদ্দিক মামুন, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যকলা বিভাগের চতুর্থ বর্ষেও ছাত্র শামসুল ইসলাম মাসুদ, কলেজের সাবেক ছাত্র জাহেদুল ইসলাম, কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি নেছার উদ্দিন হৃদয়।

মানববন্ধনে রাবেতা মডেল কলেজের শিক্ষক কর্মচারী সহ পাঁচ শতাধিক ছাত্র ছাত্রী উপস্থিত ছিলেন।




লংগদুতে জাতীয় কন্যা শিশু দিবসের আলোচনা সভা


লংগদু প্রতিনিধি:
‘কন্যা শিশুর জাগরণ, আনবে দেশের উন্নয়ন’ এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে জাতীয় কন্যা শিশু দিবস-২০১৭ পালন উপলক্ষে লংগদু উপজেলা প্রশাসান ও উপজেলা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উদ্যোগে এক আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।

শুক্রবার, উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে আয়োজিত আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন, উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মো. মহি উদ্দিন ।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) মো. মনিরুজ্জামান এর পরিচালনায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো. তোফাজ্জল হোসেন।

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা মো. ছদর আমিন, লংগদু প্রেস ক্লাবের সভাপতি মো. এখলাস মিঞা খান।

প্রধান অতিথি মো. তোফাজ্জল হোসেন বক্তব্যে বলেন, পরিবার থেকে কন্যা শিশুরা পিচিয়ে পড়ে। পরিবারে একজন ছেলে শিশুর প্রতি যেভাবে যত্ন পায়  সেভাবে একজন কন্যা শিশু এত যত্ন পায় না। কন্যা শিশুদের ঠিকমত লেখা-পড়া করাতে হবে। মানুষের মত মানুষ করতে হবে। কন্যা শিশুদের প্রতি সজাগ থেকে যদি আমরা সত্যিকারের কাজ করি তাহলে আমাদের দেশের প্রকৃত উন্নয়ন হবে।




লংগদু অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্তদের ৭১ লাখ টাকা অনুদান

নিজস্ব প্রতিনিধি:

রাঙামাটির লংগদুতে অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে ৭১ লাখ ৬৪ হাজার টাকা প্রদান করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১০ অক্টোবর) সকালে লংগদু উপজেলা পরিষদের মিলনায়তনে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং রাঙামাটি জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এ আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়।

আর্থিক সহায়তা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাঙামাটির জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মানজারুল মান্নান, ইউএনডিপি রাঙামাটি অফিস প্রধান ঝুমা দেওয়ান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোসাদ্দেক মেহেদী ইমাম, উপজেলা চেয়ারম্যান মো. তোফাজ্জল হোসেন, লংগদু থানার ওসি রঞ্জন কুমার সামন্ত, ৭নং লংগদু ইউনিয়নের চেয়ারম্যান কুলিন মিত্র চাকমা (আদু), ১নং আটারকছড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মঙ্গল কান্তি চাকমাসহ ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের লোকজন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে রাঙামাটির জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মানজারুল মান্নান বলেন, ‘সব ক্ষতিগ্রস্তদের আগামী এক বছর পর্যন্ত প্রতিবার ৩০ কেজি করে চাল দেওয়া হবে। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে টেন্ডার আহ্বান করা হবে। আশাকরি আগামী নভেম্বর মাসের মধ্যে ক্ষতিগ্রস্তদের গৃহ নির্মাণের কাজ শুরু করা যাবে।’

সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং রাঙামাটি জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে সম্পূর্ণ ও আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত মোট ২১৩টি পরিবারকে ১১ হাজার ৫০০ টাকা করে ২৫ লাখ টাকা দেওয়া হয়। একই অনুষ্ঠানে রাঙামাটি জেলা প্রশাসন ও ইআরএফ, ইউএনডিপি ব্যাংক এশিয়ার সহযোগিতায় আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত ৪৪ পরিবারকে ১০ হাজার টাকা করে মোট চার লাখ ৪০ হাজার টাকা এবং সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত ১৭৬ পরিবারকে ২৪ হাজার টাকা করে মোট ৪২ লাখ ২৪ হাজার টাকা দেওয়া হয়।

প্রসঙ্গত, গত ১ জুন লংগদু উপজেলার সদর ইউনিয়ন যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও ভাড়ায় মোটরসাইকেল চালক নুরুল ইসলাম নয়নের লাশ দীঘিনালার চারমাইল এলাকায় পাওয়া যায়। ২ জুন সকালে একটি প্রতিবাদ মিছিল থেকে স্থানীয় পাহাড়িদের দোকান, বসত ঘরসহ চারটি গ্রামের দু’শতাধিক বাড়িঘরে আগুন দেওয়া হয়।




লংগদুতে যুব সমাজে ইয়াবার ছোবল, যুবক আটক

 

লংগদু প্রতিনিধি:

রাঙ্গামাটি শহরের পরে মাদকের নেশা ইয়াবার ছোবল এখন লংগদু উপজেলার যুব সমাজে। উপজেলার মাইনীমুখ বাজার থেকে ১৫পিস ইয়াবাসহ এক যুবককে আটক করেছে পুলিশ।

আটককৃত যুবকের নাম রমজান চৌধুরী ওরফে দিলদার(২২)। সে উপজেলার ৬নং মাইনীমুখ ইউপির সাবেক মেম্বার মৃত মীর মোয়াজ্জেম হোসেন চৌধুরী ওরফে ভোলা মেম্বারের ছেলে।

পুলিশ সূত্র জানায়, ইয়াবা বিক্রি করছেন এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে লংগদু থানার এস আই বেলাল হোসেনের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল উপজেলার মাইনীমুখ বাজার থেকে শনিবার  রাত সাড়ে আটটার সময় দিলদারকে আটক করে। এসময় তার কাছ থেকে ১৫পিস ইয়াবা টেবলেট (বাবা) উদ্ধার করা হয়।

লংগদু থানার সেকেন্ড অফিসার এস আই দুলাল হোসেন (পিপিএম) ইয়াবাসহ যুবক আটকের ঘটনাটি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, আটককৃত যুবক দিলদার প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে ইয়াবা সেবন ও খুছরা বিক্রির সাথে জড়িত রয়েছে বলে স্বীকার করেছে।

এছাড়া মাইনীমুখ বাজারে আরো বেশ কয়েক জনের নাম পুলিশের কাছে প্রকাশ করেছে। আটককৃত রমজান চৌধুরী ওরফে দিলদারের বিরুদ্ধে পুলিশ বাদি হয়ে ১৯৯০ সালের মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ সংশোধিত আইনে মামলা করা হয়েছে। রোববার আসামীকে রাঙ্গামাটি কোর্টে সোপর্দ করা হয়েছে।

সূত্র জানায়, এর আগে লংগদুতে ইয়াবাসহ এক দম্পতিকে আটক করা হয়েছিল। এইবার ২য় বার ইয়াবাসহ যুবককে আটক করা হল। উপজেলার মাইনীমুখ বাজার, বাইট্যাপাড়া, জারুরবাগান, গাথাছড়া সহ বিভিন্ন এলাকায় ইয়াবা সেবনে আসক্ত হয়ে পড়েছে। এদের বেশিরভাগ উঠতি বয়সের যুবক।

মাইনীমুখ বাজার ব্যবসায়ী কল্যান সমিতির সভাপতি কামাল পাশা জানান, লংগদুতে দিনদিন ইয়াবার সয়লাব হচ্ছে। এতে যুবসমাজ সহ বেশিরভাগ উঠতি বয়সের তরুনরা এই ইয়াবা নেশার প্রতি ঝুকছে বলে আমরা খবর পাচ্ছি। এই মরণ নেশার হাত থেকে সমাজকে বাঁচাতে চাই। তার আইন শৃঙ্খলা বাহিনীকে সব ধরণের সহযোগিতা করে যাব।




পাহাড়ি ও বাঙালিদের মধ্যে দীর্ঘদিনের সম্প্রীতি বজায় রয়েছে: লে. ক. আলীম

লংগদু প্রতিনিধি:

লংগদু উপজেলার সেনা জোনের উদ্যোগে এক মতবিনিময় সভা জোনের অধিনায়ক লে. কর্ণেল আ. আলীম চৌধুরী পিএসসি এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বুধবার (২০ সেপ্টেম্বর) সেনা জোন সদর মাইনীমুখ আর্মিক্যাম্প এর মিলনায়তনে এই মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়।

মতবিনিময় সভায় নিরাপত্তা সম্পর্কিত বিষয়সমূহ, আসন্ন বিভিন্ন বৌদ্ধ বিহারে কঠিন চীবরদান অনুষ্ঠান, দুর্গা পূজা ও রোহিঙ্গা ইস্যু সহ বিভিন্ন সমস্যাবলী নিয়ে আলোচনা করা হয়।

সভায় সভাপতির বক্তব্যে জোনের অধিনায়ক লে. কর্ণেল আ. আলীম চৌধুরী পিএসসি বলেন, পার্বত্যাঞ্চলে শান্তি, সম্প্রীতি ও উন্নয়নে সেনাবাহিনী কাজ করে যাচ্ছে। লংগদু উপজেলায় বসবাসরত সকলেই শান্তি ও সাম্প্রদায়ীক সম্প্রীতিতে বিশ্বাসী। সাম্প্রতিক সময়ে লংগদুতে ঘটে যাওয়া ঘটনাটি অনাকাঙ্খিত ও দুঃখ জনক। এই ঘটনাটি ছাড়া এখানকার পাহাড়ি ও বাঙালিদের মধ্যে দীর্ঘদিনের বিশ্বাস ও সম্প্রীতি বজায় রয়েছে।

তিনি আরো বলেন, আসন্ন দুর্গাপূজা ও কঠিন চীবরদান অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে বনবিহার ও মন্দির এলাকায় যাতে কোন প্রকার সমস্যা সৃষ্টি না হয় তার জন্য প্রয়োজনে এলাকায় জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে একটি কমিটি করবেন। আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির যেকোন প্রয়োজনে আমাদের জোনে জানাবেন সেনাবাহিনী আপনাদের পাশে থাকবে।

তিনি বলেন, মায়ানমারে রোহিঙ্গা নিধন একটি বর্বরোচিত, মানব বিবর্জিত ও ন্যাক্কার জনক কাজ। আমরা এব্যাপারে নিন্দা ও ঘৃনা জানাই। বর্তমানে আমাদের দেশে যে হারে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ করছে তার জন্য একটি বড় সমস্যার সৃষ্টি হতে পারে। রোহিঙ্গারা যাতে কোনভাবে এই উপজেলায় অনুপ্রবেশ করতে না পারে তার জন্য আমাদের সকলকে সতর্ক থাকতে হবে। উপজেলার কোথাও রোহিঙ্গা দেখা দিলে আপনারা প্রশাসনকে খবর দিবেন।

মতবিনিময় সভায় অন্যাদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, লংগদু উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো. তোফাজ্জল হোসেন চেয়ারম্যান, জোনের উপ-অধিনায়ক মেজর মো. রফিকুল ইসলাম, লংগদু উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোসাদ্দেক মেহেদী ইমাম, লংগদু থানার বিদায় অফিসার ইনচার্জ মো. মোমিনুল ইসলাম, নবাগত অফিসার ইনচার্জ রনজিত কুমার সামন্ত, আটারকছড়া ইউপি চেয়ারম্যান মঙ্গল কান্তি চাকমা, গাঁথাছড়া বায়তুশ শরফ কমপ্লেক্সের সুপার হাজ্বি হাফেজ মাওলানা ফোরকান আহম্মেদ, লংগদ সদর ইউপি চেয়ারম্যান কুলিন মিত্র চাকমা (আদু), মাইনীমুখ ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা ফেরদৌস আলম, লংগদু জেএসএস সভাপতি ত্রিলোচন চাকমা, বাংলাদেশ জাতীয় ইমাম সমিতির লংগদু উপজেলা শাখার সভাপতি মাওলানা আমীনুর রশীদ, মাইনীমুখ জামে মসজিদের পেশ ইমাম মাওলানা সাদুর রশীদ, দূরছড়ি বাজার চৌধুরী নিন্দ্রা জয় চাকমা।

এছাড়া সভায় বিভিন্ন জনপ্রতিনিধি, বিভিন্ন বিভাগীয় কর্মকর্তা, জোনের বিভিন্ন সেনা কর্মকর্তা হেডম্যান-কার্বারী, সংগঠনের প্রতিনিধি ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যাক্তিগণ এসময় উপস্থিত ছিলেন।




লংগদুর ইয়ারাংছড়িতে পানিবন্দিদের নিরাপত্তাবাহিনীর চিকিৎসা সহায়তা প্রদান

নিজিস্ব প্রতিনিধি:

রাঙামাটির লংগদু উপজেলার দূর্গম পাহাড়ি এলাকায় ইয়ারাংছড়িতে পানিবন্দিদের চিকিৎসা ও রোগিদের মাঝে বিনামূল্যে ঔষধ প্রদান করেছে লংগদু সেনা জোন।

সোমবার সকাল ৯টায় লংগদু স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সহযোগিতায় ওই এলাকার প্রায় ৭০০ পাহাড়ি-বাঙালী, নারী-পুরুষ ও শিশুদের বিনামূল্যে চিকিৎসা প্রদান করা হয়।

ইয়ারাংছড়ির পানিবন্দিদের মাঝে চিকিৎসা প্রদান করেন লংগদু জোনের মেডিক্যাল অফিসার ক্যাপ্টেন মো. রুবেল আজাদ, উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. বিশ্বজিৎ মহাজন, থানা মেডিক্যাল অফিসার ডা. মো. নুরুল হুদা ও উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিক্যাল অফিসার মীর আহম্মেদ।

সকালে মেডিক্যাল ক্যাম্পেইন উদ্বোধন করেন রাঙামাটি জেলার লংগদু সেনা জোনের জোন কমান্ডার লে. কর্নেল আব্দুল আলীম চৌধুরী, পিএসসি। পরে তিনি চিকিৎসা ক্যাম্প পরিদর্শন করেন।

এসময় পানিবন্দি মানুষেদের লংগদু সেনা জোন কমান্ডার লে. কর্নেল আব্দুল আলীম চৌধুরী বলেন, উপজেলার দুর্গম এলাকার পানি বন্দি গরীব ও অসহায় জনসাধারণ যারা সহজে উপজেলা সদরে এসে চিকিৎসা সেবা নিতে পারে না, তাদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা এই ফ্রি মেডিক্যাল ক্যাম্পেইনর উদ্দেশ্য। ভবিষ্যতেও লংগদু সেনা জোন হতে এ ধরনের বিনামুল্যে চিকিৎসা সেবা ও ঔষধ বিতরণ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। এছাড়া তাৎক্ষনিক কোন রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিলে জোন হতে জরুরী চিকিৎসা সহায়তা দেওয়া হবে।




ফরমার স্টুডেন্ট অ্যাসোসিয়েশন অব গুলশাখালীর উদ্যোগে কৃতি ছাত্র-ছাত্রীদের সংবর্ধনা

লংগদু প্রতিনিধি:

রাঙামাটির লংগদুতে ফরমার স্টুডেন্ট অ্যাসোসিয়েশন অব গুলশাখালীর উদ্যোগে কৃতি ছাত্র-ছাত্রী সংবর্ধনা ও সাংস্কৃতিক সন্ধ্যার আয়োজন করা হয়।

সোমবার(৪ সেপ্টেম্বর) উপজেলার গুলশাখালী সীমান্ত প্রহরী নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মাঠে এই সংবর্ধানার আয়োজন করা হয়। সংবর্ধনায় ফরমার স্টুডেন্ট অ্যাসোসিয়েশন অব গুলশাখালীর সভাপতি মো. সিরাজুল ইসলাম এর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ও রাঙামাটি জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি দীপংকর তালুকদার।

বক্তব্যে তিনি বলেন, লক্ষ্যে পৌঁছাতে হলে বেশি করে মেধার চর্চা করতে হবে। আমরা যদি মেধাবীদের মূল্যায়ন করি তাহলে এলাকায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে উৎসাহ বাড়বে। শেষে প্রধান অতিথি দীপংকর তালুকদার ফরমার স্টুডেন্ট অ্যাসোসিয়েশন অব গুলশাখালীর উদ্যোগে এবং সৈয়দ ইবনে রহমত এর সম্পাদনায় প্রকাশিত ম্যাগাজিন ‘দিশারী’র মোড়ক উন্মোচন করেন।

ফরমার স্টুডেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের স্থায়ী কমিটির সদস্য মো. এরশাদ আলীর পরিচালনায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, রাঙ্গামাটি জেলা পরিষদের সদস্য স্মৃতি বিকাশ ত্রিপুরা, জেলা পরিষদ সদস্য মো. জানে আলম, বীর মুক্তিযোদ্ধা বাবু চিত্ত রঞ্জন দাশ, সাবেক রাঙ্গামাটি পৌরসভার প্যানেল মেয়র জামাল উদ্দিন, লংগদু থানা অফিসার ইনচার্জ মোমিনুল ইসলাম, গুলশাখালী ইউপি চেয়ারম্যান আবু নাছির, সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুর রহীম, আওয়ামীলীগের বিশিষ্ট নেতা হাজ্বী ফয়েজুল আজিম।

প্রধান অতিথি ও বিশেষ অতিথিগণ কৃতি ছাত্র-ছাত্রীদের হাতে উপহার তুলে দেন। সব শেষে সন্ধ্যায় এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক সন্ধ্যার আয়োজন করা হয়।




লংগদুতে নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা সম্পর্কীত সমন্বয় সভা

লংগদু প্রতিনিধি:

রাঙ্গামাটির লংগদু উপজেলার সেনা জোনের জোন কমান্ডার লে. কর্ণেল আ. আলীম চৌধুরী বলেছেন, নিরাপত্তাবাহিনী পার্বত্যাঞ্চলে পিছিয়ে পড়া সকল জনগোষ্ঠির শিক্ষা, উন্নয়ন সহ দেশের নিরাপত্তার কাজে কাজ করে যাচ্ছে। উন্নয়নের স্বার্থে বসবাসরত সকলকে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিতে বসবাস করতে হবে।

তিনি আরো বলেন, লংগদুতে গত ২জুন নয়ন হত্যা কাণ্ডকে কেন্দ্র করে যে নির্মম ঘটনা তা অপ্রত্যাশিত এবং অত্যান্ত নিন্দনীয়। এ ঘটনাটি কারো কাম্য ছিলনা। এর সাথে যারা জড়িত তাদের ধিক্কার জানাই এবং এর প্রেক্ষিতে যে সমস্ত ভূক্তভোগী পরিবারগুলি আছে যাদের জীবনযাত্রা সমস্যায় পড়েছেন আমি তাদের প্রতি সমবেদনা জানাই।

তিনি বলেন, ২ জুন ঘটনাটি কেন ঘটেছে, কারা এর সাথে জড়িত পুরো বিষয়টি এখনও তদন্তাধীন রয়েছে। প্রশাসন ও পুলিশ এবিষয়ে তদন্ত করছেন। সরকার ক্ষতিগ্রস্তদের যা সাহায্য করার দরকার তা করেছে।

লংগদু সেনা জোনের উদ্যোগে নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা সম্পর্কিত সমন্বয় সভায় সভাপতির বক্তব্যে জোন কমান্ডার আ. আলীম চৌধুরী এসব কথা বলেন।

সভায় এলাকার সার্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি, কাঠ চোরাচালান, ভূমি সংক্রান্ত বিরোধ ও নিরসনে করণীয়, রোহিঙ্গা ইস্যু, শিক্ষার হার বৃদ্ধি, সন্ত্রাস নির্মূলের লক্ষ্যে অভিভাবক, নিরাপত্তা বাহিনী, প্রশাসন, লংগদুতে তিনটি এলাকায় অগ্নিকাণ্ডের পর বর্তমান পরিস্থিতি, পবিত্র ঈদ-উল-আযহা এবং দূর্গাপূজার কারণে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও জনগুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোর নিরাপত্তা, জোনের উদ্যোগে কম্পিউটার প্রশিক্ষণ, সেলাই প্রশিক্ষণ, শিক্ষা উপকরণ বিতরণ সম্পর্কে আলোচনা স্থান পায়।

সভায় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, লংগদু উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো. তোফজ্জাল হোসেন, বাইট্টাপাড়া ১আনসার ব্যাটালিয়নের কমান্ডার সোহেলুরর রহমান, লংগদ জোনের ক্যাপ্টেন মোক্তাদির, লেপ্টেন্যান্ট হামিদ, লংগদু থানা অফিসার ইনচার্জ মোমিনুল ইসলাম, বাঘাইছড়ি থানার অফিসার ইনচার্জ আমির হোসেন, রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য মো. জানে আলম, গুলাশাখালী ইউপি চেয়াম্যান আবু নাছির, লংগদু প্রেসক্লাবের সভাপতি মো. এখলাস মিঞা খান, লংগদু জেএসএস সভাপতি ত্রিলোচন চাকমা, খেদারমারা ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান সুবিমল চাকমা, সুচিত্রা সেন কার্বারী।

সভায় জোন কমান্ডার লে. কর্ণেল আ. আলীম চৌধুরী আরো বলেন, ঘটনার সময় যদি নিরাপত্তাবাহিনী সময়মত মানিকজোড়ছড়া পর্যন্ত না পৌঁছাতো সেখানে দুই পক্ষের মধ্যে আরো ব্যাপক সহিংস ঘটনা ঘটতে পারতো। কিন্ত তা সম্ভব হয়নি। অথচ অনেকে লংগদুর ঘটনার জন্য নিরাপত্তাবাহিনীকে নিয়ে ফেইসবুকে ও বিভিন্ন জায়গায় নানা রকম মন্তব্য করে লেখা ও উষ্কানীমূলক বক্তব্য দিচ্ছে। এটা অন্ত্যান্ত দুঃখজনক ব্যাপার।

আমি মনে করি শান্তি চুক্তির পরে এই এলাকার পরিস্থিতি বা স্থিতিশীলতা যেভাবে চলে এসেছে তা অত্যান্ত চমৎকারভাবে এসেছে।