রোয়াংছড়িতে স্থানীয় সরকার প্রকৌশলী অফিসে তালা

gm mohiuddin chowdhury copy

রোয়াংছড়ি প্রতিনিধি:

রোয়াংছড়ি উপজেলায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশলী বিভাগে চলতি দায়িত্বপ্রাপ্ত উপসহকারী প্রকৌশলী গোলাম মো. মহিউদ্দিন চৌধুরী বিল ভাউচার ও গুরুত্বপূর্ণ ফাইল নিয়ে পালানোর চেষ্টাকালে স্থানীয় জনতা ক্ষুদ্ধ হয়ে ‍ইঞ্জিনিয়ারের অফিস তালা বন্ধ করে দেয়। প্রায় সাড়ে ৩ লক্ষাধিক টাকার ভুয়া ভাউচার করে পালানোর চেষ্টা করায় অফিস বন্ধ করে দেওয়া হয়। বুধবার বিকাল প্রায় সাড়ে তিন টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

অভিযোগে জানা যায়, ঠিকাদার ও জনপ্রতিনিধিদের কাজের বিল করার ক্ষেত্রে মোটা অঙ্কের ঘুষ চাওয়া হয়। ঘুষ না দিলে বিল ভাউচার করা হয় না। গোপনে টেন্ডার করাসহ নানা অনিয়ম চলছে বলেও জানা গেছে।

গত বছরের এডিপির বিশেষ বরাদ্দ হিসেবে উপজেলা কমপ্লেক্সে ৪টি টিন শেড এবং ৩য় ও ৪র্থ শ্রেণির কর্মচারীদের ডরমেটরি ভবন মেরামত কাজের জন্য ৩৪ লাখ টাকা অনুমোদন পাওয়া যায়। তার মধ্যে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে দরপত্র আহ্বান না করে কোন রকমে নামে মাত্র কোটেশন দিয়ে কাজ ভাগ-বাটোয়ারা করে দেওয়া হয়।

অফিস সূত্রে জানা যায়, গোলাম মো. মহিউদ্দিন চৌধুরীর বিরুদ্ধে ব্যাপক অনিয়ম, দুর্নীতি ও অর্থ আত্মসাৎ এর অভিযোগে এলজিইডি চট্টগ্রাম অঞ্চল ও চট্টগ্রাম তত্ত্বাবধায়ক কার্যালয় অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আবুতালেব, বান্দরবানের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহন চাকমা, বান্দরবানে সিনিয়র সহকারী প্রকৌশলী মো. হোসেন ও জিল্লুর রহমানকে নিয়ে গঠিত ৩ সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটিও ব্যাপক অনিয়ম, দুর্নীতি ও অর্থ আত্মসাৎ এর প্রমাণ পায়।

ইতিপূর্বে চট্টগ্রাম বিভাগীয় নির্বাহী প্রকৌশলীও গত ২৭ এপ্রিল ২০১৭ রোয়াংছড়িতে এসে তদন্ত করেছিলেন। তদন্তে হাতেনাতে ধরা পড়ে ব্যাপক অনিয়ম, দুর্নীতি ও অর্থ আত্মসাৎ বিষয়টি।

তাছাড়া, রোয়াংছড়ি উপজেলার সোয়ানলু পাড়া ও আলেক্ষ্যং লাংগে পাড়াসহ ১২টি সরকারি প্রাইমারী স্কুলের চলমান নির্মাণ কাজে সম্পূর্ণ নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করা হচ্ছে। যার ফলে এসব স্কুলের শিক্ষার্থীদের জীবন বিপন্ন হওয়া আশঙ্কা করা হচ্ছে। তদন্ত কমিটি সেই অবস্থায় তা প্রত্যক্ষ করলে চট্টগ্রামের বিভাগীয় অফিস থেকে মহিদ্দিন চৌধুরীকে শোকজও করা হয়।

তবে নাম না বলার শর্তে ক’জন স্থানীয় জনতা ও রোয়াংছড়ি সদর ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ড সদস্য ক্যনুমং মারমা অভিযোগ করে বলেন, তিনি রোয়াংছড়িতে স্থানীয় সরকার প্রকৌশলী অধিদপ্তদরে যোগদানের পর থেকে মাসে ৪-৫ দিনের অধিক অফিস করেন না। অফিসে এলেও তিনি মাত্র ঘন্টা খানেক অফিস করেন। এ ধরনের কর্মকাণ্ডে বিশেষভাবে রোয়াংছড়ির মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। আর এসব সংবাদ বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশিত হলেও তিনি বেপরোয়াভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। তার বিরুদ্ধে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোন আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন এলাকার জনগণ।

এলজিইডি অফিস কর্মকর্তার কাছে জানতে চাইলে উপজেলা উপসহকারী প্রকৌশলী গোলাম মো. মহিউদ্দিন চৌধুরীর চলতি দায়িত্ব থাকায় ভয়ে সকল সহকারী কর্মকর্তারা মুখ খুলতে নারাজ।

এছাড়াও উপজেলা প্রশাসনে প্রতি মাসে মিটিং এবং জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানের সময় অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকলেও গোলাম মো. মহিউদ্দিন চৌধুরী অনুপস্থিত থাকেন। ফলে সচেতন জনগণের প্রতিনিধিরা জাতীয় দিবসে পালন না করে অবমাননা মনে করেন। উন্নয়নের স্বার্থে বেশি প্রয়োজনে মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে, আমার কথা বলার সময় নেই, আমি গণভবনে, সংসদ ভবনে, মন্ত্রণালয়ের মধ্যে ব্যস্ত আছি বলে মুঠোফোনের লাইন কেটে দেন। নিজ দায়িত্ব অবহেলা, সরকারি অর্থ আত্মসাৎ, উন্নয়নমূলক কাজে অসযোগিতা সরকারি অর্থ বন্টনে লুকোচুরিসহ নানা অভিযোগে রোয়াংছড়ি থেকে অপসারণে দাবি এবং লুটপাটকৃত অর্থ উদ্ধারে কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা কামনা করেন এলাকাবাসী।

উপসহকারী প্রকৌশলী সাজেদুল বলেন, উপসহকারী প্রকৌশলী গোলাম মো. মহিউদ্দীন চৌধুরী আমার সাথে একই পদের একজন কর্মকর্তা কিন্তু তাকে উপজেলার চলতি দায়িত্ব দেওয়ায় তিনি ক্ষমতার অপব্যহার করেছেন। মহিদ্দিন চৌধুরীর ব্যাপক অনিয়মের প্রতিবাদ করায় আমাকে কাজের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। অফিসে এসে বসে থাকার ছাড়া কোন কাজ নেই। ঠিকাদাররা আমাকে দেখলে সরে যায়। আফিসে না আসলে অনুপস্থিত হিসেবে গণ্য করেন মহিদ্দিন চৌধুরী। মহিদ্দিনকে উপজেলাতে দায়িত্ব দেওয়ার পর থেকে প্রত্যকটি প্রকল্পের কাজে দুর্নীতি ও ব্যাপক অনিয়ম করে চলেছেন। সোয়ানলু পাড়ার একটি প্রকল্পের কাজ, চতুর্দিকে ড্রেন করার বাজেট ছিল কিন্তু তা নিয়ম নীতি না মেনে সামান্য কাজ করে টাকা আত্মসাৎ করা হচ্ছে ।

এদিকে গোলাম মো. মহিউদ্দিন চৌধুরী ঢাকায় রাজধানীতে বসুন্ধরা ভিআইপি এলাকার এ্পোলো হাসপাতালের পাশে বহু দামের বিলাস বহুল ৬তলায় ফ্ল্যাট বাড়ি কিনছে বলে জানা গেছে।

সমাজ সেবক দিপক ভট্টাচার্য আক্ষেপ করে বলেন, এক সময় গোলাম মো. মহিউদ্দিন চৌধুরীকে উন্নয়নের কাজের খবর জানতে চাওয়ায় তার সাথে অসাদাচরণ ব্যবহার করা হচ্ছে এমন অভিযোগও করেন।

উপসহকারি প্রকৌশলী গোলাম মো. মহিউদ্দিন চৌধুরী সাথে এব্যাপারে কথা বলতে চাইলে তিনি কোন কথা বলেননি ।

উপজেলা ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মাউসাং মারমা ও  নির্বাহী অফিসার মো. দাউদ হোসেনের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তারা কিছু জানেন না বলে জানান।




রোয়াংছড়ি শেখ রাসেল ডিজিটাল ল্যাব ও ইন্টারনেট সপ্তাহ শীর্ষক সেমিনার

Rowangchari pic-24.05

রোয়াংছড়ি প্রতিনিধি:

রোয়াংছড়ি উপজেলায় প্রশাসন এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি অধিদপ্তর কর্তৃক আয়োজিত ইন্টারনেট সপ্তাহ, টেকসই উন্নয়নের সাস্টেনেবল ডেপলাভমেন্ট গোল আইসিটি ইন ইডুকেশন শিক্ষা গুণগত মান অর্জনের লক্ষ্যে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে এক শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বুধবার সকার সাড়ে ১০টায় নাগাদ আয়োজিত অনুষ্ঠানের উপজেলা পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মাউসাং মারমার সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. দাউদ হোসেন চৌধুরী। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা পরিষদের পুরুষ ভাইস চেয়ারম্যান ক্যসাইনু মারমা, উপজেলা তথ্য ও প্রযুক্তি প্রোমার অফিসার রাশেদুল আলম প্রমুখ।

এসময় বক্তারা বলেন, শিক্ষা ছাড়া কোন বিকল্প নাই। বর্তমান সরকার টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে স্বত:স্ফুর্ত ভাবে কাজ করে যাচ্ছে। প্রতি মূহুর্তে যোগাযোগ ব্যবস্থার সুবিধা পাচ্ছে। শিক্ষার পাশা পাশি কম্পিউটার প্রশিক্ষণে ব্যবস্থা করা হচ্ছে। দুর্গম পাহাড়েও তথ্য প্রযুক্তি যুগ হিসেবে ছড়িয়ে দিচ্ছে যোগাযোগে ইন্টারনেট ব্যবস্থা। আগামিতে শিক্ষার্থীরা আরো সুবিধা পাবে বলে আশা ব্যক্ত বরেন বক্তারা।

এছাড়াও অন্যদের মধ্যে এলাকার স্থানীয় জনপ্রতিনিধি মেম্বা, কারবারী, হেডম্যান, উপজেলা বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা ও সুশীল সমাজের ব্যক্তিবর্গসহ শিক্ষার্থীদের অভিভাবকগণ উপস্থিত ছিলেন।




রোয়াংছড়িতে উন্মুক্ত বাজেট ঘোষণা অধিবেশন অনুষ্ঠিত

Rowangchari pic-23.05.17 (1)

রোয়াংছড়ি প্রতিনিধি:

রোয়াংছড়ি উপজেলার সদর ইউনিয়নের ২০১৭-১৮ অর্থ বছরের উন্মুক্ত বাজেট ঘোষণা অধিবেশন ইউনিয়ন পরিষদের মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টা নাগাদ আয়োজিত অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. দাউদ হোসেন চৌধুরী।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা পরিষদের পুরুষ ভাইস চেয়ারম্যান ক্যসাইনু মারমা, আলেক্ষ্যং ইউপির চেয়ারম্যান বিশ্বনাথ তঞ্চঙ্গ্যা, বান্দরবান জেলা (এলজিএসপি) ফেসিলিটেটর উজ্জ্বল বিকাশ ত্রিপুরা, বড়শিলা মৌজা হেডম্যান শৈসাঅং মারমা প্রমুখ।

এসময় চলতি ২০১৭-১৮ অর্থ বছরের আনুসাঙ্গিক প্রকল্প বাস্তবায়নের লক্ষ ১ কোটি ৮৪ লক্ষ ৫৬ জাহার ১শত ৯৯ টাকা বাজেট ঘোষণা করা হয়। রোয়াংছড়ি কলেজে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আনন্দসেন তঞ্চঙ্গ্যার সঞ্চালনায় সভায় সভাপতিত্ব করেন, রোয়াংছড়ি ইউপির চেয়ারম্যান চহ্লামং মারমা।

এছাড়াও অন্যান্যদের মধ্যে এলাকার স্থানীয় জনপ্রতিনিধি মেম্বার, কারবারী, হেডম্যান, সরকারি, বেসরকারি কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট সুশীল সমাজের ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।




রোয়াংছড়িতে দিনব্যাপী মিশ্রফল চাষিদের কর্মশালা অনুষ্ঠিত

Rowangchari pic 08.05.17 (1)

রোয়াংছড়ি প্রতিনিধি:

বান্দরবান রোয়াংছড়িতে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের পরিচালনায় মিশ্রফলের চাষ ও বাগান করার প্রকল্পের আওতায় আয়োজিত দিনব্যাপী মিশ্রফল চাষিদের কর্মশালা রোয়াংছড়ি সদর ইউনিয়ন পরিষদ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়েছে।

রোয়াংছড়ি উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ও রোয়াংছড়ি সদর ইউপির চেয়ারম্যান চহ্লামং মারমার সভাপতিত্বে কর্মশালাটি উদ্বোধন করা হয়।

এসময় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম বোর্ডের মিশ্রফলের চাষ প্রকল্পের সহকারী ম্যানেজার শ্যামল বিকাশ চাকমা, বান্দরবান ইক্ষু গবেষণা ইনস্টিউটের কর্মকর্তা মি. কেচাম, রোয়াংছড়ি উপজেলার কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার মোছাম্মত হাবিবুন নেছা, মাঠ সংগঠক নোয়েল মানিক খিয়াং, আজিজুর রহমান, গোবিন্দ কুমার চাকমা প্রমুখ।

এদিকে প্রকল্পের সহকারী ম্যানেজার শ্যামল বিকাশ চাকমা বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের আওতায় বিভিন্ন প্রকল্প নিয়ে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। দরিদ্র ও হতদরিদ্রদের স্বাবলম্বী করার লক্ষ্যে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড থেকে প্রতিনিয়ত সহযোগিতা করা হচ্ছে। এবারের রোয়াংছড়ি উপজেলা বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের মধ্যদিয়ে দরিদ্র কৃষকদের বাছাই করে কৃষি সরঞ্জাম সামগ্রী, বিভিন্ন প্রজাতির ফলদ ও ঔষধি চারা, শাক-সবজি বীজসহ জৈব পদার্থ, রাসায়নিক সার বিতরণ করা হয়। সর্বোপরি চাষিদেরকে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের পক্ষ থেকে সহায়তা প্রদান ও বাগানের রক্ষণা-বেক্ষণ করে থাকেন। চাষিদের অংশগ্রহণের মধ্যদিয়ে কর্মশালায় প্রশিক্ষক হিসেবে ছিলেন, রোয়াংছড়ি উপজেলার কৃষি অফিসার মোছাম্মদ হাবিবুন নেছা। অপরদিকে পৃথকভাবে রোয়াংছড়ি সদর ইউয়িন পরিষদের চেয়ারম্যান কার্যালয়ে মাসিক সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

এতে ইউপির চেয়ারম্যান চহ্লামং মারমা সভাপতিত্বে মাসিক সভায় রেজুলেশন পাঠ করে শুনান সচিব মিলন কান্তি দাশ। চলমান অর্থ বছরে উন্নয়ন কর্মসূচি ও কার্যক্রম তুলে ধরে ভিজিডি, ভিজিএফ, জন্মনিবন্ধন, মৃত্যু নিবন্ধনসহ সকল প্রকার কার্যক্রম সরকারি দপ্তরের সাথে সমন্বয় রেখে সুষ্ঠভাবে কাজ করার ব্যাপারে আলোচনা করেন। মাসিক সমন্বয় সভায় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, ইউনিয়ন পরিষদের সকল মেম্বারসহ সরকারি-বেসরকারি দপ্তরের কর্মকর্তাগণ।




২০১৭ সালের এসএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ৮৭জন শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা ও আলোচনা সভা

Rowangchari 2 pic 06.05

রোয়াংছড়ি প্রতিনিধি:

রোয়াংছড়ি কলেজ পরিচালনা কমিটি উদ্যোগে আয়োজিত রোয়াংছড়ি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের ২০১৭ সালের এসএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ৮৭জন শিক্ষার্থীদের নিয়ে রোয়াংছড়ি কলেজ হল রুমে সংবর্ধনা ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার সকালে অনুষ্ঠিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে কলেজ পরিচালনা কমিটি সভাপতি ও উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান হ্লাথোয়াই হ্রী মারমা সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মাউসাং মারমা।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও রোয়াংছড়ি সদর ইউপির চেয়ারম্যান চহ্লামং মারমা, সিনিয়র সহ-সভাপতি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী প্রতিনিধি নেইতং বইতিন বম, অব. মাষ্টার মংপু মারমা, উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ধীরেন ত্রিপুরা, কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আনন্দ সেন তঞ্চঙ্গ্যা প্রমুখ।

এছাড়াও অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, ইতিহাস বিভাগের প্রভাষক মংচসিং মারমা, তথ্য ও প্রযুক্তি (আইসিটি) বিভাগের প্রভাষক উথোয়াইপ্রু মারমা, বাংলা বিভাগের প্রভাষক নোহা ত্রিপুরা, যুক্তি বিদ্যা বিভাগের প্রভাষক ডশৈয়ী মারমা, অর্থনৈতিক বিভাগের প্রভাষক চৈতি পদ দাশ, অফিস সহকারী অংপ্রু মারমা, কাম-কম্পিউটার অপারেটর চন্দনজয় তঞ্চঙ্গ্যা, লাল থাংসান বম, সমাজ সেবক আব্দুর রহিমসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও কলেজ শিক্ষার্থীরা ।

আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, আজকের শিক্ষার্থীরা আগামী দিনের ভবিষ্যৎ। মানুষের জীবনে শিক্ষা ছাড়া কোন বিকল্প নেই। শিক্ষা ছাড়া উন্নতি করা যায় না। শিক্ষা হল উন্নতির চাবিকাঠি। বর্তমান সরকার ডিজিটাল দেশ হিসেবে বাংলাদেশকে রূপান্তরিত করার জনস্বার্থে শিক্ষার মান্নোয়নের জন্য স্বতঃস্ফূর্তভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

এসময় রোয়াংছড়ি সরকারি স্কুলে সহকারী শিক্ষক বোধিচন্দ্র তঞ্চঙ্গ্যা জানায়, এবারের প্রায় ১১৪জন শিক্ষার্থীর পরীক্ষার অংশগ্রহণ করেছিল। তার মধ্যে প্রায় ৮৭জন ছাত্র-ছাত্রী পাশ করেছে। আগামীতে আরও বেশি ছাত্র-ছাত্রীরা পাশ করবে বলে আশা ব্যক্ত করেন।




দৈনিক জনকণ্ঠ ও ইত্তেফাকে প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদে রোয়াংছড়িতে মানববন্ধন

Rowangchari pic-2.05

রোয়াংছড়ি প্রতিনিধি:

২৪ এপ্রিল দৈনিক জনকণ্ঠ ও ২৯ এপ্রিল দৈনিক ইত্তেফাক তথাগত ভগবান বুদ্ধকে সন্ত্রাসী অাখ্যায়িত করে সংবাদ প্রকাশ করায় সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদক ফিরোজ মান্না ও আবুল খায়ের বিরুদ্ধে বিচার চেয়ে রোয়াংছড়িতে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার সকালে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের আয়োজিত অনুষ্ঠানে শতাধিক ভিক্ষু সংঘসহ হাজারো ধর্ম প্রাণ মানুষের অংশগ্রহণের মধ্যদিয়ে রোয়াংছড়ি কেন্দ্রীয় বৌদ্ধ বিহারে অধ্যক্ষ ভদন্ত উ.পঞ্ঞা নাইন্দা মহাথের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মাউসাং মারমা, পুরুষ ভাইস চেয়ারম্যান ক্যসাইনু মারমা, রোয়াংছড়ি সদর ইউপির চেয়ারম্যান চহ্লামং মারমা, সাবেক ইউপির চেয়ারম্যান অংশৈমং মারমা, আলেক্ষ্যং ইউপির চেয়ারম্যান বিশ্বনাথ তঞ্চঙ্গ্যা।

ইউপির চেয়াম্যান চহ্লামং মারমার সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন, উ.পঞ্ঞা নাইন্দা মহাথের, আগ্রশ্রী থের, ভাইস চেয়ারম্যান ক্যসাইনু মারমা, সাবেক ইউপির চেয়ারম্যান অংশৈমং মারমা, ইউপির চেয়ারম্যান বিশ্বনাথ তঞ্চঙ্গ্যা, প্রীতিময় তঞ্চঙ্গ্যা, কারবারী আথুইমং মারমা, রুপন বড়ুয়া, ইউপির সদস্য ভারত সেন তঞ্চঙ্গ্যা ও শিক্ষকসহ আরও অনেকে বক্তব্য রাখেন।

এসময় বক্তারা বলেন, বৌদ্ধ ধর্ম হচ্ছে একটি শান্তিপূর্ণ ধর্ম। এটি একটি শান্তি ও অহিংসা ধর্ম। সে ধর্মকে নিয়ে ২৪ এপ্রিল দৈনিক জনকণ্ঠে “পার্বত্য এলাকা নতুন অশান্তি সৃষ্টির চেষ্টায় ভাবনা কেন্দ্র” শীর্ষক উস্কানিমূলক সংবাদ লিখেছেন ফিরোজ মান্না। অপরদিকে ২৯ এপ্রিল দৈনিক ইত্তেফাকে প্রথম পাতায় “পাহাড়ে আর একটি অশান্তি সৃষ্টি ৯৬৯ গ্রুপ” শীর্ষক শিরোনামে প্রতিবেদনটি লিখেছেন আবুল খায়ের। এসব সংবাদকে মিথ্যা, বানোয়াট বলে তীব্র প্রতিবাদ, নিন্দা জানিয়ে সংশ্লিষ্ট সাংবাদিকের বিরুদ্ধে কঠিন শাস্তি ও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে সুষ্ঠু বিচারের দাবি করেন।




রোয়াংছড়ি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় শেখ রাসেল ডিজিটাল ল্যাব বেসিক কম্পিউটার প্রশিক্ষণ সমাপনী

Rowangchari pic24.04

রোয়াংছড়ি প্রতিনিধি:

বান্দরবানে রোয়াংছড়িতে একদিনের সরকারি সফর এসে রোয়াংছড়ি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় শেখ রাসেল ডিজিটাল ল্যাব বেসিক কম্পিউটার প্রশিক্ষণ শেষে সমাপনী অনুষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের মাঝে সনদ বিতরণ করেন বান্দরবান জেলা প্রশাসক অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি দিলিপ কুমার বণিক।

সোমবার সকাল আয়োজিত রোয়াংছড়ি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় শেখ রাসেল ডিজিটাল ল্যাব বেসিক কম্পিউটার প্রশিক্ষণ সমাপনী ও সনদ বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রোগ্রামার রাশেদুল আলমের সঞ্চালনায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. দাউদ হোসেন চৌধুরী। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, জেলা প্রশাসক দিলিপ কুমার বণিক.বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মাউসাং মারমা, প্রধান শিক্ষক দেবব্রত চাকমা, তারাছা ইউপির চেয়ারম্যান উথোয়াইচিং মারমা, সিনিয়র সহকারী শিক্ষক বোধিচন্দ্র তঞ্চঙ্গ্যা প্রমুখ।

প্রধান অতিথি বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কনিষ্ঠ পুত্র শেখ রাসেলের নামে প্রধানমন্ত্রীর অক্লান্তিক পরিশ্রমে এ ডিজিটাল ল্যাব। বর্তমান যুগ সম্পর্কে জানতে হলে কম্পিউটার জানা অবশ্যক। পড়া লেখার পাশাপাশি সকল শিক্ষার্থীর এ সব কম্পিউটার জানা থাকলে সরকারি-বেসরকারি চাকুরি করতে বিশেষ অগ্রাধিকার পায়।

তিনি আরও বলেন, প্রথাগত বাল্য বিবাহকে রোধ করতে হবে। নতুন প্রজন্ম ছেলে-মেয়েদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে।

স্কুলে কম্পিউটার প্রশিক্ষণ বৃদ্ধি করতে জেলা প্রশাসন পক্ষ থেকে নগদ অর্থ অনুদান দেন। সনদ বিতরণ শেষে স্কুল পরিদর্শন করে সকল ছাত্র-ছাত্রীকে পড়া লেখা ব্যাপারে খোঁজ খবর নেন। পরে উপজেলা পরিষদের আয়োজিত একটি বাড়ি একটি খামার কর্মশালায় উদ্বোধন করেন এবং রোয়াংছড়ি উপজেলা ইংরেজি ভাষা ক্লাবের অনুষ্ঠানে যোগ দেন।

পৃথক পৃথক ভাবে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে অংশগ্রহণের মধ্যদিয়ে নির্বাহী অফিসারের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, উজেলা পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মাউসাং মারমা, পুরুষ ভাইস চেয়ারম্যান ক্যসাইনু মারমা, রোয়াংছড়ি সদর ইউপির চেয়ারম্যান চহ্লামং মারমা, নোয়াপতং ইউপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান উবাপ্রু মারমা, একটি বাড়ি একটি খামার উপজেলা সমন্বয়ক নিতোলাল তঞ্চঙ্গ্যাসহ উপজেলা প্রশাসনে সকল দপ্তরে অফিসারগণ।

এসময় প্রধান অতিথি বলেন, ক্ষুধা মুক্ত বাংলাদেশ গড়ার লক্ষে সরকার স্বতঃস্ফুর্ত ভাবে কাজ করে যাচ্ছে। দারিদ্র বিমোচনে ক্ষুদ্র ঋণ প্রদান করে উন্নয়নের দিকে ধাবিত হচ্ছে। সকলকে সচেষ্ট থাকতে হবে। প্রধানমন্ত্রী স্বপ্ন পূরণে বাস্তবায়ন ও উন্নয়নে অঙ্গিকারবদ্ধ।

অনুষ্ঠান শেষে রোয়াংছড়ি সদর ইউপির চেয়ারম্যানের উদ্যোগে বিভিন্ন ক্লাব ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মাঝে ক্রীড়া উপকরণ সামগ্রী বিতরণ করেন এবং উপজেলা চত্বরে ২০১৭ সালে বৃক্ষ রোপনের উদ্বোধন করেন দিলিপ কুমার বণিক।




রোয়াংছড়িতে কলেজ নির্মাণের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন ও মহা সাংগ্রাইং সমাপনী অনুষ্ঠিত

Wzyyy copy

রোয়াংছড়ি প্রতিনিধি:

বান্দরবানে রোয়াংছড়িতে দুই কোটি টাকা ব্যয়ের প্রকল্পে রোয়াংছড়ি কলেজের সংযোগ সড়ক, ভূমি উন্নয়ন, একাডেমি ভবন, শ্রেণি কক্ষ ও ছাত্রবাস নির্মাণের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেন প্রতিমন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈসিং এমপি। এরপরে মহা সাংগ্রাইং সমাপনী অনুষ্ঠানে যোগ দেন। উৎসাহ উদ্দীপনায় ও উৎসব মুখর পরিবেশের শেষ হয়েছে।

মহা সাংগ্রাইং পোয়ে ছিল ঐতিহ্যবাহী পিঠা তৈরি, বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মারমা, তঞ্চঙ্গ্যা, বম, খেয়াং, খুমি, ম্রো সাংস্কৃতিক নাচ, গান, হরেক রকম খেলাধুলা ইত্যাদি। বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদ, পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড, বান্দরবান জেলা ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর ইনস্টিটিউট সহযোগিতায় ও রোয়াংছড়ি উৎসব উদযাপন কমিটির উদ্যোগে মহা সাংগ্রাইং ৫ দিনব্যাপী আয়োজিত সমাপনী অনুষ্ঠানে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী প্রধান অতিথি বীর বাহাদুর উশৈসিং এমপির বক্তব্যে বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে এটা একটা শান্তি চুক্তি ফলপ্রসূ। বাঙালী, হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টান যার যার ধর্ম শান্তি ও নিরপেক্ষভাবে ধর্মীয় উৎসব পালন করে যাচ্ছে। সম্প্রীতি মানুষ হিসেবে এতে কোন বাঁধা নেই।

মহা সাংগ্রাইং উৎসবকে ঘিরে জেলার ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর ইনস্টিটিউট সহযোগিতায় রোয়াংছড়িতে এ প্রথম লোকজ মেলা হিসেবে বিভিন্ন সাম্প্রদায়িক সংস্কৃতির আত্মপ্রকাশ তুলে ধরা হচ্ছে। তা না হলে পুরানো সংস্কৃতিকগুলো হারিয়ে যেতে উপক্রম হয়ে পড়েছিল। যেসব মারমাদের সংস্কৃতিতে ছিল ওই সব ধীরে ধীরে বিলুপ্তির পথে যাচ্ছে। এ ধরণের অনুষ্ঠানের মধ্যদিয়ে বিলুপ্ত হওয়া সংস্কৃতিগুলো ধারাবাহিকভাবে তুলে ধরা প্রয়োজন বলেও মনে করেন।

তিনি আরও বলেন, ছেলে-মেয়েরা লেখা পড়ার পাশাপাশি ওই সব নিজ নিজ সংস্কৃতিগুলোকে জানতে হবে। শুধু তাই নয় নিজেকে সম্মান পেতে হলে অন্যকে সম্মান করতে হবে। জাতিগোষ্ঠীকে টিকিয়ে রাখতে হলে এ সংস্কৃতিগুলো সকলেরই জানা দরকার। সকালে আয়োজিত দিনব্যাপী মহা সাংগ্রাইং সমাপনী অনুষ্ঠানের ৩৩৮নং রোয়াংছড়ি মৌজা হেডম্যান চসিংপ্রু মারমার সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ,পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে প্রতিমন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈসিং এমপি।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. অংশৈপ্রু মারমা, পরিবার পরিকল্পনা উপপরিচালক ডা. অংচালু, বান্দরবান জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক রোয়াংছড়ি উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হ্লাথোয়াইহ্রী মারমা, জেলা পরিষদ সদস্য ক্যসাপ্রু মারমা, জেলা পরিষদ সদস্য কাঞ্চন জয় তঞ্চঙ্গ্যান, জেলা পরিষদ সদস্য সিংয়ইম্রো, বান্দরবান অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক হারুন অর রশিদ, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অনির্বাণ চাকমা, পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড বান্দরবান ইউনিটের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আব্দুল আজিজ, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর ইনস্টিটিউটর পরিচালক মংনুচিং মারমা,পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের সদস্য কাজল কান্তি দাশ, উপজেলা পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মাউসাং মারমা, পুরুষ ভাইস চেয়ারম্যান ক্যসাইনু মারমা, রোয়াংছড়ি নির্বাহী অফিসার মো. দাউদ হোসেন চৌধুরী, সাইংগ্রাইং পোয়ে উদযাপন আহ্বায়ক কমিটি সভাপতি ও রোয়াংছড়ি সদর ইউপির চেয়ারম্যান চহ্লামং মারমা, রোয়াংছড়ি থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. ওমর আলীর (ওসি)।

এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন, তারাছা ইউপির চেয়ারম্যান উথোয়াইচিং মারমা, নোয়াপতং ইউপির চেয়ারম্যান ভারপ্রাপ্ত উবাপ্রু মারমা, রোয়াংছড়ি যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা পুলুপ্রু মারমা, ত্রাণ ও প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা তর্পন দেয়ান প্রমুখ।

এতে উপজেলা আওয়ামী লীগের অঙ্গসহযোগী সংগঠনে নেতৃবৃন্দে ও বিভিন্ন গ্রাম থেকে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যদিয়ে অনুষ্ঠানে হাজারো মানুষ অংশগ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানের শেষে খেলাধুলা বিজয়ীদের মাঝে পুরষ্কার বিতরণ ও মৈত্রী পানি বর্ষনের ফিতা কেটে উদ্বোধন করেন প্রধান অতিথি বীর বাহাদুর উশৈসিং এমপির।




রোয়াংছড়িতে দুর্নীতি দমন প্রতিরোধ কমিটির উদ্যোগে সাংগ্রাইং উদযাপন

Rowangchari pic -14.04.17
রোয়াংছড়ি প্রতিনিধি :
রোয়াংছড়ি উপজেলায় দুর্নীতি দমন প্রতিরোধ কমিটির উদ্যোগে আয়োজিত সাংগ্রাইং ও পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে রোয়াংছড়িতে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের হয়ে প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে রোয়াংছড়ি বাজার প্রাঙ্গনে পথ সভায় অনুষ্ঠিত হয়েছে।

৫ দিনব্যাপি সাইংগ্রাইং ও পহেলা বৈশাখ অনুষ্ঠানে ঐতিহ্যবাহি দিনের তাৎপর্যর তুলে ধরে সংক্ষিপ্ত আলোচনা করা হয়। শুক্রবার সকাল অনুষ্ঠিত শোভাযাত্রা ও পথ সভায় দুর্নীতি দমন প্রতিরোধ কমিটি সদস্য সচিব উথোয়াই মারমার সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন শিক্ষক চচিংঅং মারমা, সমাজ সেবক উসাইংনু মারমাসহ আরো অনেকে।

এসময় অনুষ্ঠানে ছাত্র-ছাত্রী, যুবক-যুবতী ও সুশীল সামাজের গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ অংশগ্রহণ করেন।




রোয়াংছড়িতে ৫ দিনব্যাপী সাংগ্রাইং ও ১লা বৈশাখ উদযাপন উপলক্ষে বর্ণাঢ্য র‌্যালি ও আলোচনা সভা

Rowangchari pic -13.04

রোয়াংছড়ি প্রতিনিধি:

বান্দরবানে রোয়াংছড়ি উপজেলায় ১নং রোয়াংছড়ি সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও  মহা সাংগ্রাইং উদযাপন কমিটির উদ্যোগে আয়োজিত আহ্ববায়ক কমিটি সভাপতি চহ্লামং মারমার নেতৃত্বে মহা সাইংগ্রাইং ও পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে বর্ণাঢ্য র‌্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার শুরু হয়েছে ৫ দিনব্যাপী সাইংগ্রাইং ও পহেলা বৈশাখ অনুষ্ঠান। ১৭ এপ্রিল উদযাপন অনুষ্ঠানের শেষ দিনে বান্দরবান ৩০০নং আসনের সাংসদ ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী বীর বাহাদুর (উসুইসিং) এমপির উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। ওই অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের মাধ্যমে শিক্ষা উন্নয়নমূলক কাজের রোয়াংছড়িতে নির্দিষ্ট স্থানে রোয়াংছড়ি কলেজ ভবন ভিত্তিপ্রস্তর উদ্বোধন করা হবে বলেও জানা গেছে।

বৃহস্পতিবার সকালে অনুষ্ঠিত র‌্যালি ও আলোচনা সভায় ইউপির চেয়ারম্যান ও সাংগ্রাইং উদযাপন পরিচালনায় আহ্ববায়ক কমিটি সভাপতি চহ্লামং মারমার সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, রোয়াংছড়ি উপজেলা পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মাউসাং মারমা। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা পরিষদের পুরুষ ভাইস চেয়ারম্যান ক্যসাইনু মারমা রোয়াংছড়ি ৩৩১নং মৌজা হেডম্যান চসিংপ্রু মারমা, অবসর প্রাপ্ত শিক্ষক মংপু মারমা, সংবাদ প্রতিনিধি সাথোয়াইঅং মারমা, ত্রিপুরা কল্যাণ সংগঠনের সভাপতি ধিরেন ত্রিপুরা, আব্দুর রহিম সোহান প্রমুখ।

Rowangchari pic 13.04

এ সময় সভায় বক্তারা বলেন, মহা সাইংগ্রাইং ও পহেলা বৈশাখ একই দিনের হওয়ায় অত্যন্ত আনন্দ উপভোগ করছি। এ দিনকে উপলক্ষ করে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের সাথে মিলে নববর্ষ বরণ করে নেওয়া একটা আলাদা আনন্দ। মহা সাংগ্রাইং উপলক্ষে ঐতিহ্যবাহী পিঠা তৈরি, মৈত্রী পানি বর্ষণ, খেলাধূলা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, মারমা সাংস্কৃতিক গোষ্ঠীর নাচ পরিবেশন করা হয়। পুরানো বছর বিদায় এবং নতুন বছর বরণ করা তার পাশাপাশি ধর্মীয় অনুষ্ঠান ও পালন করা হয়। কারো সাথে বিদায় বছরে মনোমালিন্য থাকতে পারে সব কিছুই ভুলে সকলের সাথে হাতে হাত মিলে, কাঁধে কাঁধ মিলে পরস্পরের সহযোগিতার মাধ্যমে এগিয়ে পথ চলার আহ্বান জানান বক্তারা। এসময় অনুষ্ঠানে ধর্ম প্রাণ নর-নারী ও সুশীল সমাজের গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।