এক স্কুলকে ঘিরে ৩টি ইটভাটা, শ্বাস কষ্টে ভুগছে শতশত শিক্ষার্থী

Rowangchari pic 22.02

রোয়াংছড়ি প্রতিনিধি :

রোয়াংছড়ির তারাছা ইউপি’র ছাইঙ্গ্যা অঞ্চলে প্রভাবশালী ও সরকার দলীয় নেতাদের ছত্রছায়ায় গড়ে উঠেছে ৩টি  ইটভাটা। গত ৩/৪ বছর ধরে বন বিভাগের সংরক্ষিত বনাঞ্চল হতে মূল্যবান কাঠ কেটে জ্বালানি কাঠ পোড়ানো হচ্ছে এসব ইটভাটায়। অন্যদিকে তিনটি ইট ভাটার মাঝ খানে ৫০ গজে ছাইঙ্গ্যা সরকারি প্রাথমিক ও নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রায় সাড়ে তিনশ কোমলমতি শিক্ষার্থী অসস্থিতে আছে।

ইটভাটাগুলোর চিমনি থেকে নির্গত দূষিত ধোঁয়ার ফলে শিক্ষার্থীদের শ্বাস কষ্ট ও অজ্ঞাত রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। এতে অভিভাবকদেরও দুশ্চিন্তার শেষ নেই। অপরদিকে পার্শ্ববর্তী বন বিভাগের সংরক্ষিত বনের সেগুন, গামার, মেহগনিসহ মূল্যবান কাঠ কেটে জ্বালানো হচ্ছে ইট ভাটাগুলোতে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও এলাকার গণ্যমান্যদের সাথে কথা বলে জানা যায়, বান্দরবানে সরকার দলীয় নেতা প্রভাবশালী  আব্দুর রহিম চৌধুরী’র মেয়ের জামাই মোহাম্মদ নুরুল, পাহাড়িকা আবাসিক হোটেলের মালিক উজ্জ্বল কান্তি দাশ ও মোহাম্মদ মিলন সরকারি বিধিবিধানকে তোয়াক্কা না করে সরকারি অনুমোদন ছাড়াই অবৈধ পন্থায় ইট ভাটাগুলোতে সংরক্ষিত বনের কাঠ কেটে পোড়ানো হচ্ছে।

তিনটি ইট ভাটা মাঝ খানে ৫০ গজের মধ্যে ছাইঙ্গ্যা সরকারি প্রাথমিক ও নিম্ন মাধ্যমিক উন্নীত বিদ্যালয়। বিদ্যালয়ের ৫০ গজেরও অদূরে দক্ষিণ প্রান্তে আব্দুর রহিমের জামাতা নুরুল, ঠিক উত্তরে মোহাম্মদ মিলন এবং পূর্বে দিকে উজ্জ্বল কান্তি দাশের ইট ভাটায়  চিমনি থেকে প্রচুর ক্ষতিকারক ধোঁয়ায় নির্গত হয়ে ছাত্র-ছাত্রীরা শ্বাস কষ্টে ভুগছেন। প্রতিনিয়ত ছাত্র-ছাত্রীদের পড়াশোনা ও শিক্ষক-শিক্ষিকার মধ্যে পাঠ দানও ব্যাহত হচ্ছে।

ইটভাটায় জ্বালানি কাঠ সরবরাহকারী শ্রমিক ফোরকান বলেন, দীর্ঘদিন যাবত তিনটি ইটভাটায়  জ্বালানি কাঠ সরবরাহ করে আসছেন। উপজেলা বন বিভাগের সংরক্ষিত বাগান হতে কাঠ কেটে আনার কথা স্বীকার করে তিনি বলেন, জ্বালানি কাঠের জন্য কোন অনুমোদন লাগে বলেও তার জানা নেই। তাছাড়া পুলিশ ও প্রশাসনকে ইটভাটার মালিকরা ম্যানেজ করেন। জ্বালালি কাঠ বহনকারী গাড়ি চট্টমেট্রো-ট-১১-১৯০৭ এর ড্রাইভার মো. দুলালও একই কথা বলেন।

ওই বিদ্যালয়ে অধ্যায়নরত কয়েকজন শিক্ষার্থী বলেন, আমরা সকলেই প্রায় বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত। ইটভাটায় নির্গত ধোঁয়ার কারণে প্রচুর শ্বাস কষ্টে ভুগছি। ধোঁয়া ও ধুলাবালি কাপড়-চোপড়ও নষ্ট হচ্ছে।

প্রধান শিক্ষক সুনীতি বড়ুয়া বলেন, স্কুলের পাশে ৩টি ইটভাটা থাকাতে এখানে যারা আছে সবাই শ্বাস কষ্টে ভুগছে। আমি নিজেই একজন রোগী। প্রতিদিন ৪০-৫০টি গাড়ি যাতায়াতের কারণে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। শুধু তাই নয়, ছাত্র-ছাত্রীদের স্কুলে আসাও বিপদজনক হয়ে উঠছে। কয়েক দিন পূর্বেও মর্মান্তিক দুর্ঘটনা সংগঠিত হয়েছে। পুলিশ প্রশাসন ও উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এ ব্যাপারে কোন পদক্ষেপ না নেওয়ায় ছাত্র-ছাত্রীদের স্কুলের পাঠাতে অভিভাবকগণও শঙ্কিতবোধ করছেন। বিষয়টি ইতোমধ্যে বিদ্যালয় পক্ষ থেকে জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলার শিক্ষা কর্মকর্তাদের অবহিত করা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত কোন সুরাহা করা হয়নি।

এসএমসি সভাপতি আইয়ব আনসারি বলেন, এ বিদ্যালয়ে যথেষ্ট ছাত্র-ছাত্রী রয়েছে। কিন্তু দৈনিক ইটভাটার গাড়ি বেপরোয়া যাতায়াতের কারণে স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীরা আসছেন না। কদিন আগে মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় একজন ছাত্রী  মারা গেছেন। স্কুলে এলেও ছাত্ররা শ্বাস কষ্টে আক্রান্ত হয়ে পড়ছে ধুলাবালি ও ধোঁয়ার কারণে। এব্যাপারে স্কুল কমিটির পক্ষ থেকে কয়েক বার উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অবহিত করা হচ্ছে, কোন সুরাহা হয়নি।

ইট ভাটা ম্যানাজার দিনো, জামাল উদ্দীন, আবুতৈয়ব বলেন, এখানে দৈনিক প্রায় ১৫০ জন শ্রমিক কাজ করেন। তার মধ্যে ১০-১২ বছর বয়সী শিশু শ্রমিক ৮ জন আছে। সরকারি অনুমতিপত্র আছে কিনা তা তারা জানেন না।

যোগাযোগ করা হলে উজ্জ্বল কান্তি দাশ বলেন, ইটভাটার স্থাপনের জন্য আবেদন করেছি কিন্তু অনুমতি পত্র এখনো পাইনি। তাই হাইকোর্টে রিট করেছি। যতদিন ডিসি সাহেব লাইসেন্স দিতে পারবে না ততদিন পর্যন্ত হাইকোর্টের রিট নিয়ে কাজ করতে পারব।

মোহাম্মদ মিলন মুঠোফোনে বলেন, পাহাড়িকা আবাসিক মালিক উজ্জ্বল দাদার সাথে যোগাযোগ করুন তিনি আপনাদের, সাংবাদিককে ম্যানেজ করবেন। এব্যাপারে জানতে চেয়ে উপজেলার শিক্ষা অফিসার মোহাম্মদ কামাল হোসেনকে যোগাযোগ করে পাওয়া যায়নি। রোয়াংড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দাউদ হোসেন চৌধুরীর সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন ডিসি অফিসের ট্রেনিং-এ আছি। তাই তার বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।

 




আর্ন্তজাতিক মাতৃভাষা দিবসে রোয়াংছড়ি কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে জনতার ঢল

Rowangchari pic 21.02.17
রোয়াংছড়ি প্রতিনিধি:
আর্ন্তজাতিক মাতৃভাষা দিবসে রোয়াংছড়ি উপজেলার বিভিন্ন স্তরের মানুষ শ্রদ্ধা জানাতে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সমবেত হয়েছেন। মঙ্গলবার রাতে ১২টা ১ মিনিট থেকে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন সর্বস্তরে মানুষ।

উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, রাজনৈতিক দল, বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থা এনজিওসহ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা জানান উপজেলার সর্বস্তরের মানুষ।

দিবসটি উপলক্ষে বর্ণাঢ্য আয়োজন করা হয়েছে নানা কর্মসূচি। ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য কবিতা আবৃত্তি, চিত্রাঙ্কন, রচনা লিখন প্রতিযোগিতা ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে। এতে অংশ নিচ্ছে রোয়াংছড়ি কলেজ, রোয়াংছড়ি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়, রোয়াংছড়ি আদর্শ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও উপজেলা প্রশাসন।




রোয়াংছড়িতে ভোরের কাগজের রজতজয়ন্তী পালন

Rowangchari 1 pic 15.02

রোয়াংছড়ি প্রতিনিধি:

রোয়াংছড়ি উপজেলায় ভোরের কাগজের রজতজন্তী অনুষ্ঠান পালিত হয়েছে। বুধবার সকাল ১০টায় রোয়াংছড়ি সদর ইউনিয়ন পরিষদ প্রাঙ্গন থেকে উপজেলার ভোরের কাগজের প্রতিনিধি সাথোয়াইঅং মারমা নেতৃত্বে র‌্যালি বের হয়ে প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে একই স্থানে এসে মিলিত হয়।

পরে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে কেক কাটার মধ্যে দিয়ে শুরু হয় রজতজন্তী অনুষ্ঠান।

রোয়াংছড়ি সদর ইউপির চেয়ারম্যান ও রোয়াংছড়ি প্রেসক্লাব সভাপতি চহ্লামং মারমা সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, রোয়াংছড়ি কলেজের আইসিটি বিভাগের প্রভাষক উথোয়াইপ্রু মারমা, রোয়াংছড়ি সদর ইউপির ৯নং ওয়ার্ড মেম্বার মেচিংঅং মারমা, প্রাণী সম্পদ বিভাগের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সৈকত মাহাম্মদ, ইউএও প্রতিনিধি মো, মোসিব, নিরাপত্তা বাহিনী, ডিজিএফআই জাহাঙ্গীর প্রমুখ।

এছাড়া এলাকার কারবারী, হেডম্যানসহ গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও বান্দরবান সরকারী কলেজের অর্নাসের ২বর্ষের ছাত্র উবাচ মারমা উপস্থিত ছিলেন।




শান্তি শৃঙ্খলা ভঙ্গ করে অশান্তিতে থাকতে চাই না জনগণ: প্রতিমন্ত্রী বীর বাহাদুর

Rowangchari pic 09.002

রোয়াংছড়ি প্রতিনিধি:

যারা এলাকার কতিপয় ভুল বিভ্রান্তি ছড়িয়ে শান্তি বিনষ্ট করতে চাচ্ছে তাদের কেউ পার পাবে না। পার্বত্য বান্দরবানের জনগণ সম্প্রীতিতে থাকতে চাই। শান্তি শৃঙ্খলা ভঙ্গ করে অশান্তিতে থাকতে চাই না। রোয়াংছড়িতে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান উদ্বোধন শেষে বৃহস্পতিবার কচ্ছতলী বাজার প্রাঙ্গনে এক জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী বীর বাহাদুর এসব কথা বলেন।

রোয়াংছড়ি উপজেলার আ’লীগের সধারণ সম্পাদক আনন্দ সেন তঞ্চঙ্গ্যার সঞ্চালনায় ও আলেক্ষ্যং ইউনিয়ন আ’লীগের সভাপতি মংচউ মারমার সভাপতিত্বে জনসভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, জেলা আ’লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদ সদস্য লক্ষীপদ দাশ, জেলা আ’লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হ্লাথোয়াইহ্রী মারমা, জেলা পরিষদ সদস্য কাঞ্চনজয় তঞ্চঙ্গ্যা, ম্রাসা খেয়াং, জেলা পরিষদের মুখ্যনির্বাহী কর্মকর্তা মো. শহিদুল আলম, বান্দরবান জেলা অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক দিদারে আলম মোহাম্মদ মাকসুদ চৌধুরী, রোয়াংছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. দাউদ হোসেন চৌধুরী, উপজেলা আ’লীগের সভাপতি রোয়াংছড়ি সদর ইউপির চেয়ারম্যান চহ্লামং মারমা প্রমুখ।

বীর বাহাদুর আরও বলেন, এলাকার উন্নতি করতে হলে সকলেরই এগিয়ে আসতে হবে। সকলের সহযোগিতা ছাড়া এগিয়ে যাওয়া সম্ভব না। আয়ের উৎস বৃদ্ধি পেতে হবে, উন্নতি করতে হলে শিক্ষিত হতে হবে। পরস্পরের সহযোগিতা থাকা দরকার বলেও মনে করেন তিনি।

এ সময় নিপীড়ন নির্যাতন করা চেষ্টাকারীদের দমন করার লক্ষে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীকে সজাগ থাকার আহ্বান জানান।

রোয়াংছড়ি উপজেলায় একদিনের সরকারী সফর এসে বাস্তবায়িত উন্নয়নমূলক কার্যক্রম শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কচ্ছতলী নিম্নমাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ছাত্রা বাস, আলেক্ষ্যং-নোয়াপতং ইউনিয়নে সংযোগ সড়কের তারাছা খালের উপর গার্ডার ব্রিজ, রোয়াংছড়ি থেকে কচ্ছতলী এলাকার বিভিন্ন পাড়ায় বৈদ্যুতিক সংযোগ, রোয়াংছড়ি কেন্দ্রীয় বৌদ্ধ বিহারের ধর্ম ঘর, কচ্ছতলী পাড়ায় বৌদ্ধ বিহার উদ্বোধন করেন প্রতি মন্ত্রী বীর বাহাদুর (উশৈসিং) এমপি।




বান্দরবানে অপহৃত আওয়ামী লীগ নেতা উদ্ধার

16473925_1238208122959641_524619917279712936_n

নিজস্ব প্রতিবেদক, বান্দরবান:

বান্দরবানের রোয়াংছড়ি থেকে অপহৃত আওয়ামী লীগ নেতা ও পাড়া প্রধান মংশৈথুই মারমাকে ছেড়ে দিয়েছে সন্ত্রাসীরা। রোববার ভোর ৬টার দিকে তাকে জেলার বেতছড়া এলাকার গহীণ অরণ্য থেকে উদ্ধার করে নিরাপত্তা বাহিনী।

নিরাপত্তা বাহিনীর সদর জোনের অধিনায়ক লে. কর্নেল মশিউর রহমান জুয়েল জানান, অপহৃতকে উদ্ধারে নিরাপত্তা বাহিনী ও পুলিশের একাধিক টিম রোয়াংছড়ি উপজেলার সম্ভাব্য স্থানগুলোতে অভিযান চালায়। অভিযানে টিকতে না পেরে সন্ত্রাসীরা গহীণ অরণ্যে মংশৈথুইকে রেখে পালিয়ে যায় বলেও ধারণা করা হচ্ছে।

তিনি আঘাত প্রাপ্ত হলেও সুস্থ আছেন। চিকিৎসা শেষে পরিবারে কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

শুক্রবার রাতে রোয়াংছড়ি উপজেলার নোয়াপতং ইউনিয়নের বাঘমারা ভেতর পাড়ার পাড়া প্রধান ও আওয়ামী লীগ নেতা মংশৈথুই মারমাকে অস্ত্রের মুখে সন্ত্রাসীরা অপহরণ করে। এ ঘটনায় পুলিশ এক ইউপি সদস্যসহ ২ জনকে আটক করেছে।

গত বছর ১৩ জুন রাতে জেলার সদর উপজেলার জামছড়ি এলাকা থেকে অপহৃত হন সদর উপজেলা আওয়ামী লীগ যুগ্ম-আহ্বায়ক মং পু মার্মা। এখনো তার কোন খোঁজ মেলেনি।




আওয়ামী লীগ কি জেএসএসের টার্গেটে পরিণত হয়েছে?

Bandarban pic-4.2.2017 (1)

নিজস্ব প্রতিবেদক, বান্দরবান:
আওয়ামীলীগ নেতা মংপু অপহরণের আট মাসের মাথায় আবারো আওয়ামীলীগ নেতা অপহরণের অভিযোগ পাওয়া গেছে জেএসএস এর সামরিক শাখার (সাবেক শান্তি বাহিনী) বিরুদ্ধে।

শুক্রবার রাত সাড়ে নয়টার দিকে রোয়াংছড়ি উপজেলায় নোয়াপতং ইউনিয়নে ৭নং ওয়ার্ড আ’লীগের সহ-সভাপতি ও বাঘমারা ভিতর পাড়ার কারবারী মংশৈথুই মারমাকে অস্ত্রের মুখে অপহরণ করে জেএসএস’র সামরিক শাখা। এঘটনার জড়িত সন্দেহে তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ। যৌথ বাহিনী সারাদিন অভিযান চালিয়েও মংশৈথুই মারমাকে উদ্ধার করতে পারেনি।

এদিকে পুলিশ ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে স্থানীয় ইউপি সদস্য জনসংহতি সমিতির সমর্থক কেনু প্রু মারমা ও দৈনিক মুক্তবাণী পত্রিকার রোয়াংছড়ি উপজেলা প্রতিনিধি থোয়াইচা উ মারমাসহ তিনজনকে আটক করেছে। তবে এ ঘটনায় এখনো কোন মামলা দায়ের করা হয়নি।

আওয়ামী লীগের নেতা মংশৈথুই মারমার অপহরণের প্রতিবাদে আগামী সোমবার রোয়াংছড়িতে সকাল-সন্ধ্যা অবরোধের ডাক দিয়েছে স্থানীয় আওয়ামী লীগ। শনিবার বিকেলে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সদর ইউপির চেয়ারম্যান চহ্লামং মারমার সভাপতিত্বে বিক্ষোভ সমাবেশ শেষে অবরোধের এ ঘোষণা দেওয়া হয়।

একই সঙ্গে অপহৃত আওয়ামী লীগ নেতাকে উদ্ধারে প্রশাসনকে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়েছেন নেতৃবৃন্দ। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অপহৃত নেতা উদ্ধার না হলে ৬ ফেব্রুয়ারি উপজেলায় সকাল-সন্ধ্যা সড়ক ও নৌপথ অবরোধ করা হবে বলে জানানো হয়।

awami-meeting

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, জেলার রোয়াংছড়ি উপজেলার নোয়পতং ইউনিয়নের বাঘমারা ভিতর পাড়ায় অস্ত্রধারী ৪ সন্ত্রাসী অস্ত্রের মুখে বাঘমারা ভিতরপাড়া কার্বারী (পাড়া প্রধান) মংশৈথুই মারমাকে (৪২) অপহরণ করে নিয়ে গেছে। খবর পেয়ে পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন ও আশপাশের এলাকাগুলোতে অভিযান চালানো করেন।

প্রত্যক্ষদর্শী বাথোয়াই মার্মা বলেন, রাত নয়টার দিকে অস্ত্রধারী সন্ত্রসীরা কারবারীকে ডেকে আনতে আমাকে পাঠায়। তারা এসময় নিজেদেরকে শান্তি বাহিনীর (জেএসএস) লোক পরিচয় দেয়।

অপহৃত কারবারী মংশৈথুই’র ছোট বোন মা চ থুই বলেন, অস্ত্রধারী সন্ত্রসীরা আমার ভাইকে হাত ও চোখ বেঁধে পাহাড়ি পথ ধরে জঙ্গলের দিকে মারতে মারতে নিয়ে যায়। কিন্তু আমরা কোন প্রতিবাদ করতে পারিনি। এসময় তারা নিরাপত্তা বাহিনীকে ঘটনা সম্পর্কে না জানাতেও নির্দেশ দেয়। তবে ঘটনার পর আমরা পাশ্ববর্তী সেনাক্যাম্পে বিষয়টি অবহিত করি।

জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক হ্লাথোয়হ্রী মারমা জানান, ইউপি নির্বাচনের পর থেকে জনসংহতি সমিতির সঙ্গে দ্বন্দ্ব চলে আসছে আওয়ামী লীগের। এ ঘটনার জের ধরে জনসংহতি সমিতির লোকজন পাড়া কারবারিকে অপহরণ করেছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, গত ইউপি নির্বাচনে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বাঘমারা ভেতর পাড়ায় জনসংহতি সমিতি ও আওয়ামী লীগ নেতা কর্মীদের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় রোয়াংছড়ি থানায় পাল্টাপাল্টি মামলা হয়। জনসংহতি সমিতির দায়ের করা মামলায় অপহৃত পাড়া কারবারী আসামী ছিলেন। অন্যদিকে আওয়ামী লীগের দায়ের করা মামলায় জনসংহতি সমিতির সমর্থক ও নেতা কর্মীদের আসামী করা হয়। মামলায় জনসংহতি সমর্থক পাড়ার বাসিন্দা নুশৈ মারমা পরিবারসহ ভয়ে ওই পাড়া ছেড়ে পালিয়ে যায়। স্থানীয়রা ধারণা করছেন, এ ঘটনার জের ধরে পাড়া কারবারীকে অপহরণ করা হয়েছে।

জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক হ্লাথুরী মারমা জানান, ইউপি নির্বাচনের পর থেকে জনসংহতি সমিতির সঙ্গে দ্বন্দ্ব চলে আসছে আওয়ামী লীগের। এ ঘটনার জের ধরে জনসংহতি সমিতির লোকজন পাড়া কারবারীকে অপহরণ করেছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।

এর আগে গত বছরের ১৩ জুন সন্ত্রাসীরা বান্দরবান সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতা মংপু মারমাকে অপহরণ করে। এখনো তার খোঁজ পাওয়া যায়নি।

গোয়েন্দা সূত্র জানায়, বাঘমারা ও নোয়াপতং এলাকা জেএসএস’র ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। জেএসএস’র সামরিক শাখা এই এলাকা থেকেই পরিচালিত হয়। কখন কার কাছ থেকে চাঁদা আদায় ও কখন কাকে অপহরণ করা হবে ওই এলাকায় বসে ঠিক করা হয়।

আওয়ামীলীগ নেতা মংপু অপহরণের পর থেকে বান্দরবান জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ক্য শৈহ্লা রাজনৈতিক কর্মকান্ডের গতি বাড়ান ঐ এলাকায়। এতে বেকাদায় পড়ে জেএসএস। রাজনৈতিক প্রতিহিংসায় জেএসএস অপহরণ পথ বেছে নিয়েছে বলে মনে করেন আওয়ামীলীগ নেতৃবৃন্দ।

অপর একটি সূত্র জানায়, দৈনিক মুক্তবাণী পত্রিকার রোয়াংছড়ি উপজেলা প্রতিনিধি থোয়াইচা উ জেএসএস এর সদস্য। তার জামাতাও জেএসএস’র স্বতস্ত্র শাখার সদস্য। কয়েকদিন আগে থোয়াইচা উ’র বাসায় বৈঠক করে তার জামাতা। বৈঠকে ঠিক হয় কাকে অপহরণ করা হবে।

এদিকে জেএসএস বান্দরবান শাখার বিবৃতিতে জানানো হয়, রোয়াংছড়ি থানা কমিটির সদস্য কেনু প্রু মারমা ও দৈনিক মুক্তবাণী পত্রিকার রোয়াংছড়ি উপজেলা প্রতিনিধি থোয়াইচা উ মারমার মুক্তি দাবী করা হয়। তারা আরো বলেছেন, বাথুয়াই মার্মাকে আটক না করে, কোন তথ্য না নিয়ে উদ্দেশ্যভাবে মূলক জেএসএস সদস্যদের আটক করা হয়েছে।

রোয়াংছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দু সাত্তার জানান, শুক্রবার রাতে ৪/৫ জনের একটি সন্ত্রাসী দল পাড়া কারবারী ও আওয়ামী লীগ নেতা মংশৈথুই মারমাকে অপহরণ করে নিয়ে যায়। ওই পাড়ার বাসিন্দা বাথুই মং মারমা প্রথমে কারবারীকে ঘর থেকে ডেকে নিয়ে যায়। সন্ত্রাসীরা দুজনকে অপহরণ করলেও পরে বাথুই মারমাকে ছেড়ে দিয়ে কারবারীকে নিয়ে যায়।




মংশৈথুই মারমাকে মুক্তি না দিলে ৬ ফেব্রুয়ারি থেকে সকাল-সন্ধ্যা অবরোধের হুঁশিয়ারি দিয়েছে আ’লীগ

awami-meeting

রোয়াংছড়ি প্রতিনিধি:

রোয়াংছড়ি উপজেলায় আ’লীগের উদ্যোগে নোয়াপতং ইউনিয়নে ৭নং ওয়ার্ড আ’লীগের সহ-সভাপতি ও বাঘমারা ভিতর পাড়ার কারবারী মংশৈথুই মারমা অপহরণের মুক্তির দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শনিবার বিকাল ৩টার সময় বাজারস্ত মাল্টিপারপাস ভবন প্রাঙ্গন থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের হয়ে উপজেলার প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। পরে একই স্থানে এসে মিলিত হয়ে প্রতিবাদ সমাবেশ করেন।

উপজেলায় আ’লীগের সভাপতি ও রোয়াংছড়ি সদর ইউপির চেয়ারম্যান চহ্লামং মারমার সভাপতিত্বে প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন, বান্দরবান জেলার আ’লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক রোয়াংছড়ি উপজেলা চেয়ারম্যান হ্লাথোয়াই হ্রী মারমা সহ অন্যান্যদের মধ্যে উচাইনিং মারমা, আথুইমং, শিশির তঞ্চঙ্গ্যা, পুহ্লাঅং মারমা, চহাইমং মারমা, বিশ্বনাথ তঞ্চঙ্গ্যা, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ধীরেন ত্রিপুরা, জনমজয় তঞ্চঙ্গ্যা, উপজেলায় যুবলীগের সভাপতি পুরুকান্তি তঞ্চঙ্গ্যা প্রমুখ।

সমাবেশে বক্তারা মংশৈথুই মারমাকে অক্ষত অবস্থায় অতিসত্ত্বর মুক্তির দাবি জানান। আগামী ২৪ ঘন্টার মধ্যে মুক্তি না দিলে ৬ ফেব্রুয়ারি থেকে সকাল-সন্ধ্যা অবরোধ কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দেন।

বক্তারা আরও বলেন, মংশৈথুই মারমা একজন সহজ সরল মানুষ। কারও সাথে কোন ঝগড়া বিবাদ নেই, এমন এজন ব্যক্তিকে অপহরণ করা হয়েছে। একই অপরাধে আ’লীগ নেতা মংপু মারমাকে অপহরণ করে হত্যা করা হয়েছে।




বান্দরবানে আওয়ামী লীগ নেতা মং শৈ থুই কার্বারী অপহৃত

Bandarban pic-4.2.2017 (1)

নিজস্ব প্রতিবেদক, বান্দরবান:

বান্দরবান সদর উপজেলার বাঘমারা ভিতর পাড়ায় কার্বারী ও আওয়ামী লীগ নেতা মংশৈথুই মারমাকে অস্ত্রের মুখে অপহরণ করেছে অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীরা। শুক্রবার রাত সাড়ে নয়টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় দুজনকে আটক করেছে পুলিশ।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, বান্দরবানের রোয়াংছড়ি উপজেলার নোয়াপতং ইউনিয়ন ৭নং ওয়ার্ড দৌছড়ি থেকে পাড়া প্রধান কার্বারী ও ৭নং ওয়ার্ডের আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক মংশৈথুই মারমাকে অস্ত্রের মুখে অপহরণ করে নিয়ে যায় পাঁচজন অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী।

খবর পেয়ে পুলিশ, নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থল এলাকা গুলোতে উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছে। এ ঘটনায় পুলিশ বাঘমারা থেকে থোয়াইচিংউ মারমা ও ইউপি সদস্য ক্যনুপ্রু মারমাকে আটক করেছে।

অপহৃত মংশৈথুই মারমার বোন মাচথুই মারমা জানান, আঞ্চলিক রাজনৈতিক জেএসএস নেতা বাথোয়াই মারমা মং শুক্রবার রাত নয়টার দিকে ভিতরের পার্টি (জেএসএস অস্ত্রধারী সদস্য) ডেকেছে বলে আমার ভাইকে নিয়ে যায়। এরপর থেকে নিখোঁজ হন আমার ভাই।

এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সদর থানার ওসি রফিক উল্লাহ জানান, বাঘমারা থেকে একজন কার্বারীকে অপহরণ করা হয়েছে। অপহৃতকে উদ্ধারে অভিযান চালানো হচ্ছে। দু-জনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এঘটনায় এখনো মামলা দায়ের করা হয়নি।

২০১৬সালের ১৩ জুন রাতে জেলার সদর উপজেলার জামছড়ি এলাকা থেকে অপহৃত হন সদর উপজেলা আওয়ামী লীগ যুগ্ম-আহ্বায়ক মং পু মার্মা। এ ঘটনায় জেএসএসকে দায়ী করে ৩৮ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন অপহৃতের স্বজনরা।




নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে রোয়াংছড়ি থেকে পাহাড়ি সন্ত্রাসী আটক

আটক

নিজস্ব প্রতিবেদক:

বান্দরবানের রোয়াংছড়ি থেকে চাঁদাবাজ ও চিহ্নিত সন্ত্রাসী আটক করেছে নিরাপত্তা বাহিনী। মঙ্গলবার সকালে বাজারে অভিযান চালিয়ে অনিল তঞ্চঙ্গ্যাকে আটক করা হয়। সে জনসংহতি সমিতির রোয়াংছড়ি উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে আছেন বলে স্থানীয়রা জানান।

নিরাপত্তা বাহিনী সূত্রে জানা যায়, রোয়াংছড়ি বাজার ও আশে পাশের এলাকায় দীর্ঘ দিন ধরে ব্যবসায়ী ও জুম চাষীদের কাছ থেকে হুমকি ও অস্ত্রের মুখে চাঁদা আদায় করে আসছিল অনিল তঞ্চঙ্গ্যা। স্থানীয়দের অভিযোগের ভিত্তিতে অনিল তঞ্চঙ্গ্যাকে আটক করা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদে অপরাধমূলক কার্যকলাপের কথা স্বীকার করেছে বলেও জানান নিরাপত্তা বাহিনী।

সূত্র জানায়, ডিসেম্বর মাসে রোয়াংছড়ি বাজার ব্যবসায়ীদের কাছে চাঁদার দাবী করে চিঠি পাঠায় সন্ত্রাসীরা। ব্যবসায়ীরা চাঁদা না দেয়ায় সন্ত্রাসীদের হুমকির মুখে জেলা শহর থেকে নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিপত্র আনায়নে পন্যবাহী যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকে। নিরাপত্তা বাহিনী নিরাপত্তার সহায়তা দিলে ব্যবসায়ীরা দু’সপ্তাহ পর জেলা শহর থেকে মালামাল আনা শরু করে।




পাহাড়ে চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস করলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না

Rowangchari pic 27.01

 রোয়াংছড়ি প্রতিনিধি :

রোয়াংছড়ি উপজেলার কানাইজো পাড়ার ও আন্তাহার পাড়ার নোয়াপতং ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ উদ্যোগে আয়োজিত পৃথক পৃথক মতবিনিময় সভার প্রধান অতিথি বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ক্যশৈহ্লা মারমা বলেন,পাহাড়ে চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাস করলে কাউকে ছাড় দেয়া হবে।

শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টায় কানাইজো পাড়ার ও আন্তাহার পাড়ার মধ্যে সারা দিনব্যাপী বৌদ্ধ বিহার প্রাঙ্গন ও আন্তাহার পাড়ার মাঠে পৃথক পৃথক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভার সভাপতিত্ব করেন আ’লীগের ১নং ওয়ার্ড কমিটি সভাপতি মংসাপ্রু মারমা ও ২নং ওয়ার্ড আ’লীগ সভাপতি বৃগমনি ত্রিপুরা।

প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ক্যশৈহ্লা মারমা। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা আ’লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান হ্লাথোয়াই হ্রী মারমা, সাংগঠনিক সম্পাদক অজিত কান্তি দাশ, জেলা পরিষদ সদস্য কাঞ্চন জয় তঞ্চঙ্গ্যা, জেলা পরিষদ সদস্য ফিলিপ ত্রিপুরা, জেলা মহিলা আ’লীগ সভা নেত্রী এম্যাচিং মারমা, রোয়াংছড়ি উপজেলায় আ’লীগের সভাপতি ও রোয়াংছড়ি সদর ইউপির চেয়ারম্যান চহ্লামং মারমা, সহ সভাপতি ও এমপির প্রতিনিধি নেইতং বইতিং বম, সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান প্হ্লুাঅং মারমা, রোয়াংছড়ি উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান মাউসাং মারমা প্রমুখ।

অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথির বক্তব্যে বলেন, আর চাঁদাবাজি নয়, শান্তি সম্প্রীতি করে থাকতে চাই, অন্যায় অবিচার, অত্যাচার চাই না, জনগণ চাই শান্তি, যারা আইন শৃঙ্খলা ভঙ্গ করে অন্যায় অত্যাচার চাঁদাবাজি করবে তাদের কোন ছাড় দেয়া হবে না।

বর্তমান সরকার দু:খি মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে। দারিদ্র, শিক্ষা বঞ্চিত জনগোষ্ঠীর পাশে থেকে সহযোগিতা করছেন। পাহাড়ের জনগোষ্ঠীর উচ্চ শিক্ষার লাভে বান্দরবানে বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করা হবে। জনস্বার্থে সরকার স্বত:স্ফুর্ত ভাবে উন্নয়নের কাজ করে যাচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, পাহাড়ে নৈরাজ্যকতা সৃষ্টি করার লক্ষে চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাস করে বেড়াচ্ছে একটি স্বসস্ত্র দল। জনগণের সম্প্রীতিকে বিনষ্ট করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। বর্তমানে ভূমি বিরোধ নিষ্পতি নিয়ে ফরেস্ট বিভাগের জায়গাগুলো বেদখল করার বিভ্রান্তি করছে এক চক্র। সহজ সরল মানুষদেরকে ভূয়া কাগজ পত্র দিয়ে মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে যাচ্ছে।এ মিথ্যা চক্র থেকে সতর্ক থাকার জন্য সকলকে পরামর্শ দেন।

অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, জেলা পরিষদ সদস্য কাঞ্চন জয় তঞ্চঙ্গ্যা, পৌর কমিশনার অজিত কান্তি দাশ, মাহিলা ভাইস চেয়ারম্যান মাউসাং মারমা, নোয়াপতং ইউনিয়নের আওয়ামী যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সাথোয়াইঅং মারমা, এম্যাচিং মারমা ও রাঙ্গামাটি রাজস্থালী উপজেলার মহিলা আ’লীগ সভানেত্রী লম্বতি ত্রিপুরা।

সভায় সঞ্চালনা করেন যুবলীগের সভাপতি হ্লাবু মারমা ও নিপা চন্দ্র ত্রিপুরা।

এসময় জেলা, উপজেলার, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ অঙ্গ সহযোগি সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। সভা শেষে শীতার্তদের মাঝে কম্বল বিতরণ করেন চেয়ারম্যান ক্যশৈহ্লা মারমা।