শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ এলাকার উন্নয়নে সেই সন্তু-অংথোয়াইচিং‘র নাম গন্ধ নেই: একেএম জাহাঙ্গীর

রুমা প্রতিনিধি:

পার্বত্য চট্টগ্রাম তথা বান্দরবানের শিক্ষাসহ সর্বক্ষেত্রে উন্নয়নের অগ্রগতির কোথাও কোনো সরকারের আমলেই  লক্ষ্য করা যায়নি। যে কোনো সময়ের অপেক্ষা এই আওয়ামী লীগ সরকার দেশে উন্নয়ন করেছে।  কিন্তু যে দল পার্বত্য শান্তি চুক্তির বিরোধিতা করে কালো পতাকা উত্তোলণ ও বিক্ষোভ মিছিল করেছিল, সে মাম্যাচিং এর সাথে এককাতারে রয়েছে এখন জনসংহতি সমিতি।

তাদের এসব  নীতিচ্যুতি দেখে হাসি পায়। তাদের নীতি দেখে আমরা প্রায় সময় হাসি। সোমবার দুপুরে রুমা সদর ইউনিয়ন পরিষদ প্রাঙ্গনে আওয়ামী লীগের রুমা সদর ইউপি শাখার ত্রি-বার্ষিক সম্মেলণে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বান্দররবান জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি একেএম জাহাঙ্গীর এসব কথা বলেন।

প্রধান অতিথি একেএম জাহাঙ্গীর বলেন শান্তি-শৃঙ্খলাসহ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কলেজ, রাস্তা, কিয়াং-গীর্জা, মন্দির-মসজিদ উন্নয়নের থাতা ঘাটলে সর্ব প্রথম সামনে আসে- পার্বত্য প্রতিমন্ত্রী বীর বাহাদুরের নাম। উন্নয়নের বীর বাহাদুর ছাড়া অন্য কারোর নাম খুঁজলেও পাবেনা। যে যত বলুক, জনসংহতি সমিতির সেই সন্তু লারমা ও রুমা উপজেলা চেয়ারম্যান অংথোয়াইচিং মারমা‘র এলাকার উন্নয়ন কর্মকান্ডে তাদের নাম-গন্ধ নেই। ভবিষ্যতেও তারা উন্নয়নের ভূমিকা রাখতে পারবেনা। এ বিষয়টি এলাকার মানুষকে বুঝতে হবে।

তিনি আরো বলেন বিভিন্ন সময়ে অনেক নেতা কর্মী আওয়ামী লীগের যোগদানের কথা উল্লেখ করে বলেন তাদের ভুলত্রুটি বুঝতে পেরেছে। তাই ভুল স্বীকার করে অনেক আওয়ামী লীগে এসে জাতির স্বার্থে কাজ করছে। কিন্তু সেই দৃষ্টান্ত জনসংহতি সমিতির নেই। থাকবেও না।

একেএম জাহাঙ্গীর দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন, রুমায় অনেক নেতা কর্মীকে দেখা যায়। যে কিনা মন্ত্রী বা জেলা নেতৃবৃন্দ আসলে সামনে এসে অনেক কিছু কল্পকাহিনী বানিয়ে বক্তৃতা দিতে চায়। তারপর সভা-সমাবেশ শেষ হলে তাদের আর খুঁজে পাওয়া যায়না। এসব কর্মী আওয়ামী নীতিতে নেই। তাই যারা নিষ্ঠার সাখে কাজ করবে তাদের নতুন কমিটি নির্বাচিত করতে স্থানীয় নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

সদর ইউপি শাখার আওয়ামী লীগের সভাপতি কিরণ কান্তি দে‘র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ত্রি-বার্ষিক সম্মেলণে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তৃতা করেন জেলা পষিদের সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক লক্ষী পদ দাশ, রোয়াংছড়ি উপজেলা সাবেক চেয়ারম্যান হ্লাথোয়াইহ্রী মারমা, আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক অজিত দাশ, রুমা আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও জেলা পরিষদের সদস্য জুয়েল বম, জেলা আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক মংহৈৃচিং মারমা, রুমা আওয়ামী লীগের সভাপতি উহ্লাচিং মারমা, সাধারণ সম্পাদক সাংপুই বম ও মহিলা আওয়ামী লীগের সভানেত্রী ও উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান জিংএংময় বম ও পাইন্দু ইউপি চেয়ারম্যান উহ্লামং মারমা প্রমুখ।

এছাড়াও উপজেলা আওয়ামী লীগের দিলীপ দাশ, মীর নাছির উল্লাহ, আবু সিদ্দিক, যুবলগের চাইশৈহ্লা মারমা ও যুবলীগের সাবেক সভাপতি উজ্জল ধর। উপস্থাপনার দায়িত্ব পালন করেন রুমা সদর ইউপি চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি শৈমং মারমা শৈবং।

পরে সদর ইউপি শাখার আওয়ামী লীগের বর্তমান সভাপতি কিরণ কান্তি দাশকে পুণরায় সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক পদে থোয়াইনুচিং মারমা ও সাংগঠনিক সম্পাদক পদে নাইলিয়ান বমকে মনোনীত করে ৬৫সদস্য বিশিষ্ট সদর ইউপি শাখা কমিটি ঘোষণা করে সবাইকে পরিচয় করিয়ে দেন প্রথান অতিথি একেএম জাহাঙ্গীর।




বান্দরবানে নিখোঁজ দুই পর্যটক উদ্ধার

 

নিজস্ব প্রতিবেদক, বান্দরবান:

বান্দরবানের রুমায় উপজেলা নিখোঁজ দুই পর্যটকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। সোমবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে তাদেরকে উদ্ধার করা হয়। বিষয়টি রুমা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শরিফুল ইসলাম নিশ্চিত করেছেন।

স্থানীয় সূত্র জানায়, সোমবার বিকেলে উপজেলার তিন পাসাইতার ঝর্ণায় ছবি তুলতে গিয়ে নিখোঁজ হন ফটোগ্রাফার শহিদুল ইসলাম (৩০) এবং কাপ্তাই সুইডেন পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে কমরত হোজগাতুন বনি (৩২)। রাতে গাছের সাথে আটকে থাকা দু-পর্যটককে সেনা বাহিনী ও স্থানীয়রা উদ্ধার করে।

ইউএনও শরিফুল ইসলাম বলেন, তিন পাসাইতার ঝর্ণা দুর্গম হওয়ায় ওইখানে পর্যটক যাওয়া নিষেধ রয়েছে। কিন্তু ছয় পর্যটক নিষেধ অমান্য করে অন্য উপজেলার ছড়ার মাধ্যমে ওই এলাকায় যায়। বিকেলে ছবি তুলতে গিয়ে দুজন  স্রোতে ভেসে যায়।




বান্দরবানে তিনপা সাইতারে ঝর্ণার পানিতে ২ পর্যটক নিখোঁজ

নিজস্ব প্রতিবেদক, বান্দরবান:
বান্দরবানের রুমায় তিনপা সাইতারে ঝর্ণায় বেড়াতে গিয়ে ২ পর্যটক নিখোঁজ হয়েছে। সোমবার বিকালে ঝর্ণায় নামলে স্রোতের টানে তারা নিখোঁজ হন।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, রোয়াংছড়ি উপজেলার ভিতর দিয়ে একজন গাইডকে নিয়ে পাইন্দু ইউনিয়নের দর্শণীয় স্থান তিনপা সাইতারে ঝর্ণায় বেড়াতে যান ৭ জনের একটি পর্যটক দল। ঝর্ণায় ছবি তুলতে পা পিছলে গিয়ে এসময় স্রোতের টানে ভেসে যায় ২ জন পর্যটক।

তারা হলেন চট্টগ্রামের ফটোগ্রাফার শহিদুল ইসলাম(২৭) ও আইটি বিশেষজ্ঞ মোহাম্মদ হোজগাতুন গণি(৩৬)।

নিখোঁজের পর সফরসঙ্গী ও শুক্রামনি পাড়াবাসীদের নিয়ে ঝর্ণায় অনেক খোজাখুজির পর তাদের সন্ধান পায়নি। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলের দিকে রওনা দিয়েছেন পুলিশ ও আইনশৃঙ্খখলা বাহিনী।

প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার সকালে ফায়ার সার্ভিসের ডুবরী দল ঘটনাস্থলের উদ্দেশ্য রওনা দিবে। স্থানীয়দের সহায়তায় অভিযান পরিচালনা করবে।

জানা গেছে গতকাল রোববার বিকালে সাতজনের একটি পর্যটক দল রোয়াংছড়ি উপজেলা সদরে সেনা ক্যাম্পে জানিয়ে পর্যটন স্থান তিনাপ সাইতার’ উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেন। পথে রনিন পাড়ায় রাত কেটে পরদিন সোমবার(০৪-০৯-২০১৭) দুপুরে পর্যটন স্পট ”তিনাপ সাইতারে” পৌঁছান।সেখানে সময় কাটান তারা।

বিকেল তিনটার দিকে সাতার কাটতে গিয়ে শ্রোতের তোড়ে ভেসে যায় দুইজন।তাদের অনেক খোঁজাখুজি করে না পেয়ে গাইডসহ বাকী ছয়জন পার্শ্ববতী শুক্রমনি পাড়ায় অবস্থান করছে এখন।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার(ইউএনও) মুহাম্মদ শরিফুল ইসলাম পার্বত্যনিউজকে জানান কাল নিখোঁজ দুইজনকে উদ্ধার করতে কাল(০৫-০৯-২০১৭) ভোরে চট্টগ্রাম থেকে ডুবরিসহ ফায়ার সার্ভিসের একটি টিম আসবেন।

পর্যটক চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র নূর হোসেন বলেন, রুমা উপজেলা সদর থেকে আমরা ৭ জন থিনাপ ঝর্ণা দেখতে যায়। বিকালে ঝর্ণার পানিতে নামার পর ২ জনের পা পিছলে স্রোতের পানিতে ভেসে গিয়ে নিখোঁজ রয়েছেন।

রুমা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শরীফুল ইসলাম জানান, দুর্গমাঞ্চল ও রাত হওয়ায় নিখোঁজ দু-পর্যটকের উদ্ধার অভিযান চালানো যাচ্ছেনা। সকালে ঘটনাস্থল’সহ আশপাশে অভিযান চালানো হবে।


আপডেইট

শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত জানা গেছে, পর্যটক ২ জন শেষ পর্যন্ত গতরাতেই উদ্ধার করা হয়েছে বলে আমাদের স্থানীয় প্রতিবেদক টেলিফোনে নিশ্চিত করেছেন।




রুমা উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নির্দেশে বাল্য বিবাহ বন্ধ

 

নিজস্ব প্রতিবেদক, বান্দরবান:

বান্দরবানের রুমা উপজেলায় ২নং ইউনিয়নে মুসলিম পাড়ায় বাসিন্দা আব্দুল সোবহান তার ১৩ বছর বয়সী ৭ম শ্রেণি পড়ুয়া কন্যাকে কক্সবাজার জেলার চকরিয়ায় বড়ইতলি ইউনিয়নের মুসন্নিয়া গ্রামের বাসিন্দা মোহাম্মদ জাফর আহমেদের ছেলে সোহেল উদ্দিন (২৩) এর সাথে বিয়ের প্রস্তুতি চলছিল বৃহস্পতিবার।

রাত ৮টার দিকে নির্বাহী অফিসারের নির্দেশে ২নং রুমা সদর ইউপি চেয়ারম্যান শৈমং মারমা ও থানার এস আই আবুল হোসেন নেতৃত্বে বিয়ের আসরে উপস্থিত হয়ে বাল্য বিবাহটি বন্ধ করা হয়।

ইউপি চেয়ারম্যান শৈমং মারমা জানান, উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মাদ শরিফুল হক এক স্কুল ছাত্রীর বাল্য বিবাহ অনুষ্ঠান আয়োজনের কথা জানিয়ে আমাকে মুসলিম পাড়া ডেকে পাঠান। আমি পুলিশ ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে মেয়েটি নাবালিকা নিশ্চিত হয়ে বিবাহের আয়োন বন্ধ করা হয়। উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নির্দেশনা মোতাবেক অভিবাবকদের মুচলেকা নিয়ে বাল্য বিবাহ বন্ধ করা হয়। তিনি আরও জানান, অভিভাবক জোর করে তার মেয়েকে বিয়ে দিতে চাচ্ছেন, এমন কথা ওই স্কুল ছাত্রীরা তাকে বলেছেন।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহাম্মদ শরিফুল হক জানান সোর্সের মাধ্যমে বাল্য বিবাহের আয়োজনের কথা জানার পর সদর ইউপি চেয়ারম্যান জনাব শৈমং মারমা, থানার অফিসার ইনচার্জ ও মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তাকে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে বলা হয়। দরিদ্র-গরিব অভিভাবকের উভয় পক্ষ থেকে শাবালক-বালিকা হবার আগে কোনো বিয়ে দেবেন না এমন মুচলেকা নিয়ে প্রথমবার হিসেবে বাল্যবিবাহ বন্ধ করতে পরামর্শ দেয়া হয়।

অনেকের মুখে আর চায়ের কাপে আড্ডায় বিষয়টি উঠে আসে এবং উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহাম্মদ শরিফুল হককে প্রসংশা করেন এলাকাবাসী।




রুমার সাথে সড়ক যোগাযোগ আবারও বন্ধ

নিজস্ব প্রতিবেদক, বান্দরবান:

ভারি বর্ষণে পাহাড় ধসে বান্দরবানের সাথে রুমা উপজেলার সড়ক যোগাযোগ আবারো বন্ধ হয়ে গেছে। শনিবার সকাল থেকে সড়কের দলিয়ান পাড়ার অদুরে ভাঙ্গার মুখ এলাকায় আবারও পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটেছে। ফলে বান্দরবানের সাথে রুমা উপজেলার সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়।

রুমা উপজেলা পরিবহন মালিক সমিতির লাইনম্যান জাকির হোসেন জানান, দলিয়ান পাড়া এলাকায় পাহাড় ধসের কারণে শনিবার সকাল থেকে সকল ধরনে যানবাহন বন্ধ রয়েছে এবং কোনো যানবাহন রুমা থেকে জেলা সদর ছেড়ে যায়নি। এতে করে মানুষের ভোগান্তি বেড়ে গেছে।

এদিকে ভারি বর্ষণের কারণে পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসকারীদের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। জেলা প্রশাসন ও পৌর সভার পক্ষ থেকে পাহাড়ের ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাস কারীদের আশ্রয়কেন্দ্র ও নিরাপদ স্থানে যাওয়ার জন্য মাইকিং করে সতর্ক করা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, গত ২৩ জুলাই সড়কের ওয়াই জংশ দলিয়ান পাড়া এলাকায় পাহাড় ধসে নারীসহ ৫জন নিহত হয়।




পাহাড় ধসে নিখোঁজের ২০ দিন পর তরুণীর লাশ উদ্ধার


নিজস্ব প্রতিবেদক, বান্দরবান
বান্দরবানের রুমা সড়কের দানিয়াল পাড়ার অদুরে ভাঁঙ্গার মুখ এলাকায় পাহাড় ধসে নিখোঁজ তরুণী উমেচিং মারমা লাশ শুক্রবার মিলেছে ২০ দিন পর।

পাড়া প্রধান মংশৈহ্লা মারমা কার্বারী বলেন, রুমা সড়কে পাহাড় ধসে নিখোঁজ আমার দুই কন্যা’র মধ্য ঘটনার দিন ছোট মেয়ের লাশ পাওয়া যায়। কিন্তু বড় মেয়ের লাশ ২০ দিন পর পাওয়া গেল।

রোয়াংছড়ি থানার অফিসার্স ইনচার্জ ওমর আলী জানান, রোয়াংছড়ির সাঙ্গু নদীর তারাছা মুখ থেকে অর্ধ গলিত নারীর লাশ পাওয়া গেছে। ধারণা করা হচ্ছে লাশটি গত ২৩ জুলাই রুমা পাহাড় ধসে নিখোঁজ তরুণী উমেচিং মারমার। লাশটি উদ্ধার করে বান্দরবান হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।




বান্দরবানে পাহাড় ধ্বসে নিখোঁজ জবিউলের লাশ উদ্ধার

নিজস্ব প্রতিবেদক, বান্দরবান:

বান্দরবানের রুমায় পাহাড় ধ্বসে নিখোঁজ পোস্ট মাষ্টার জবিউলের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সোমবার বিকেলে বান্দরবান-রুমা সড়কের দলিয়ানপাড়া এলাকায় পাহাড় ধ্বসের স্থান থেকে প্রায় ৪০০ ফিট নিচে ঝিড়ি থেকে স্থানীয়দের সহায়তায় লাশ উদ্ধারের কথা জানান রোয়াংছড়ি থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ওমর আলী। এ পর্যন্ত জবিউলসহ চারজনের লাশ উদ্ধার করা হল।

রুমা উপজেলার নির্বাহী অফিসার শরীফুল হক ঘটনাস্থল থেকে জানান, লাশটির পরনের পেন্ট ও শরীরের গঠন দেখে পোস্ট মাষ্টার জবিউলের বলে তার সহকর্মীরা চিহ্নিত করেছেন। তার পরিবারের সদস্যরা কুমিল্লা থেকে রওনা হয়েছেন বলে জানিয়েছেন। আমরা তাদের অপেক্ষায় আছি। লাশ সনাক্ত হলে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

প্রসঙ্গত, ২৩ জুলাই বান্দরবান-রুমা সড়কের দলিয়ান পাড়া এলাকায় পাহাড় ধ্বসে রুমা উপজেলা স্বাস্থ্যকর্মী মুন্নি বড়ুয়া, কৃষি ব্যাংক রুমা শাখার কর্মকর্তা গৌতম কুমার নন্দীসহ চার জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। এখনো নিখোঁজ রয়েছে বান্দরবানের সাঙ্গু উচ্চ বিদ্যালয়ের ৮ম শ্রেণির ছাত্রী সিং মে চিং মার্মা।




বান্দরবানে পাহাড় ধ্বসে নিখোঁজ ২জনের সন্ধান মেলেনি

নিজস্ব প্রতিবেদক, বান্দরবান:

বান্দরবানের রুমা সড়কের দৌলিয়ান পাড়ায় পাহাড় ধ্বসের ঘটনায় ৩জনের লাশ উদ্ধার করা হলেও এখনো ২জন নিখোঁজ রয়েছে। সর্বশেষ ঘটনাস্থল থেকে ৬ কিলোমিটা দুরে রোয়াংছড়ি উপজেলার বেতছড়ায় এলাকায় সাঙ্গু নদীতে মেলে কৃষি ব্যাংক কর্মকর্তা গৌতম নন্দীর গলিত দেহ। পোস্ট মাস্টার জবিউল হোসেন এবং কিশোরী চিং মে প্রুর এখনও সন্ধান মিলেনি। তবে ঘটনার দিন অজ্ঞাত তিন শ্রমিক নিখোঁজ রয়েছেন বলে স্থানীয়রা জানালেও তার সত্যতা মেলেনি।

গত ২৩ জুলাই সকালে ঘটনাস্থলের থেকে ২ কি.মি দুরে ঝিড়িতে পাওয়া যায় কিশোরী চিং মে হ্লার মরদেহ। এর দুই দিন পর চট্টগ্রামের বাঁশখালিতে সাঙ্গু নদীতে পাওয়া যায় স্বাস্থ্য সহকারি মুন্নী বড়ুয়ার মরদেহ। এ ঘটনার ৫ দিন পর বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বান্দরবানের রোয়াংছড়ি উপজেলার বেতছড়ায় মিলে কৃষি ব্যাংক কর্মকর্তা গৌতম নন্দীর গলিত দেহ।

পুলিশ জানায়, ঘটনাস্থল থেকে ৬ কিলোমিটার দুরে সাঙ্গু নদীর বালুচরে মাটি চাপা পড়া অবস্থায় তাকে দেখতে পান এলাকাবাসী। খবর পেয়ে রাতে রোয়াংছড়ি থানা পুলিশ গলিত ওই মরদেহ উদ্ধার করে। গৌতম নন্দীর স্বজনরা রাতেই তার লাশ শনাক্ত করেছেন।

স্থানীয় পরিবহন সূত্রে জানাযায়, ওই বাসের ২৫জন যাত্রীর ১৭জনই পায়ে হেঁটে নিরাপদে রাস্তার ভাঙ্গন অংশ পার হয়। কিন্তু পাহাড় ধ্বসের শিকার হন ৩ নারীসহ আটজন।

এঘটনায় মাঠি চাপা পড়ে আহত হন মিনঝিরি পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক চিত্ত রঞ্জন চাকমা, এনজিও কর্মী অং থোয়াই মারমা এবং গাড়ির হেলপার রুবেল চাকমা।

এদিকে টানা ৬ দিন উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রেখেছেন সেনাবাহিনী প্রকৌশল শাখা। আর নিখোঁজ পোস্ট মাস্টার জবিউল হোসেন এবং কিশোরী চিং মে প্রুর খোঁজে তাদের স্বজনরা অপেক্ষায় আছেন।




রুমায় চাচার হাতে ভাতিজা খুন, আটক-৪

নিজস্ব প্রতিবেদক, বান্দরবান:

বান্দরবানের রুমায় আপন চাচার হাতে ভাতিজা খুন হয়েছেন। নিহত ব্যক্তি ইউএনডিপি পরিচালিত একটি বিদ্যালয়ে শিক্ষক নুশৈমং মারমা (৪০)।

বুধবার বিকালে উপজেলার পাইন্দু ইউনিয়নের দুর্গম উজানী পাড়ায় এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। নিহত নুশৈমং মারমা ওই পাড়ার পথোয়াইউ মারমার ছেলে। এঘটনায় পুলিশ অভিযান চালিয়ে ২টি দেশিয় বন্দুকসহ ৪জনকে আটক করেছে।

আটককৃত ব্যক্তিরা হলেন,  ক্য অং প্রু মারমা (কারবারী) (৫৮), তার ছেলে হ্লাসিংমং মারমা (৩৯), মংবাসিং মারমা (৩০) ও মংক্যহ্লা মারমা (২৮)। আটককৃত ক্যঅং প্রু নিহত নুশৈমং মারমার চাচা।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, বুধবার বিকালে জুমের কাজ শেষে ঘরে ফেরার পথে ওঁৎ পেতে থাকা দুর্বৃত্তরা নুশৈমং মারমাকে লক্ষ্য করে গুলি করে। তার মৃত্যু নিশ্চিত করতে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে ও লাঠি দিয়ে পিটিয়ে জুম ক্ষেতে রেখে যায় দুর্বৃত্তরা।

নিহত নুশৈমং মারমার স্ত্রী ছোমে মারমা জানান, গ্রামে কয়েক ব্যক্তির সাথে ভূমি নিয়ে আমার স্বামীর বিরোধ ছিল। পূর্ব শত্রুতার জেরে তাকে খুন করা হয়েছে।

রুমা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. শরিফুল ইসলাম বলেন, নুশৈমং মারমার লাশ বৃহস্পতিবার পুলিশ উদ্ধার করেছে। এ ঘটনার অভিযোগে অস্ত্রসহ চারজনকে আটক করা হয়েছে।




বান্দরবানে পাহাড় ধ্বসে নিখোঁজদের উদ্ধার করা যায়নি

নিজস্ব প্রতিবেদক, বান্দরবান:

বান্দরবন-রুমা সড়কের দৈালিয়ান পাড়া এলাকায় পাহাড় ধ্বসের ঘটনায় নিখোঁজ ব্যক্তিদের উদ্ধারে সোমবার সকাল থেকে ফের অভিযান পরিচালিত হয়। উদ্ধার অভিযানে অংশ নিয়েছে সেনা সদস্য, পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও রেডক্রিসেন্টের সদস্যরা। এদেরকে সহযোগিতা করছে রুমা এলাকার আরো ৬টি পাহাড়ি পাড়াবাসী। নিখোঁজদের তালিকা গতকালের চেয়ে বৃদ্ধি পেয়েছে।

মাটি চাপায় নিখোঁজরা হলেন রুমা উপজেলার স্বাস্থ্য সহকারী মুন্নি বড়ুয়া (৪৫), রুমা উপজেলা পোস্ট মাস্টার জাবিউল আলম (৪৫), রুমা কৃষি ব্যাংক কর্মচারী গৌতম নন্দী (৪০) গৃহবধু চিংমে মারমা (৩০) এবং অজ্ঞাত পরিচয় আরো তিনজন শ্রমিক।

নিখোঁজ মুন্নি বড়ুয়ার ১০ বছরের চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী জেসিকা বড়ুয়া খাওয়া দাওয়া ছেড়ে ঘরের দরজায় চেয়ার পেতে মায়ের অপেক্ষায় বসে। পরিচিত কাওকে দেখলে শুধু মায়ের কথা জিজ্ঞাস করে আর দেয়ালে ঝোলানো মায়ের ছবির দিকে অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রবিবার সকালে জেলার রুমা উপজেলার ২৬ কিলোমিটার দুর দৌলিয়ান পাড়া এলাকায় এ হতাহতের ঘটনা ঘটে। এতে সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হয়ে পড়ে। রুমার বাসিন্দা চিংমেহ্লা মারমা তরুনীর লাশ উদ্ধার করে সৎকার করা হয়েছে। আর আহত চারজন রুমা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ও বান্দরবান সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

এ ব্যাপারে রুমা উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অংথোয়াইচিং মারমা জানান, গাড়ি থেকে নেমে, ওই এলাকায় হেঁটে পারাপারের সময় পাহাড় ধ্বসে মাটি চাপায় এখনও নিখোঁজ রয়েছেন চারজনসহ মোট সাত জন যাত্রী। অজ্ঞাতনামা তিনজন যাত্রী শ্রমিক উল্লেখ করেন তিনি।

উদ্ধার অভিযান ভারী বৃষ্টি ও আলো সল্পতার কারণে রোববার সন্ধ্যায় বন্ধ রাখা হয়। সোমবার সকাল থেকে ফের উদ্ধার অভিযান শরু হলেও ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে অভিযান ব্যাহত হচ্ছে। নিখোঁজদের উদ্ধারে প্রায় ৪০০ ফুট লম্বা মোটা রশিসহ প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ব্যবহার করছেন।

নিখোঁজ মুন্নি বড়ূয়ার ভাই স্থানীয় সাংবাদিক ছোটন বড়ূয়া বলেন, রবিবার সকালে সংবাদ সংগ্রহের জন্য ঘটনাস্থালে যায়। উদ্ধারকারীরা যখন আমার বোনের ভ্যানিটিব্যগটি পায় তখন জানতে পারি আমার বোন মাটি চাপায় আছে। সোমবার সকাল থেকে সেনা সদস্য ও দমকলকর্মীরা উদ্ধার অভিযান চালালেও বৃষ্টির জন্য উদ্ধার কার্যক্রম চালাতে সমস্যা হচ্ছে।

নিরাপত্তা বাহিনী সূত্র জানায়, ভারী বৃষ্টির কারণে উদ্ধার কাজ ব্যবহত হচ্ছে। এখনো হালক হালকা পাহাড় ধ্বস হচ্ছে। বৃষ্টি কমলে পুরোদমে অভিযান চালানো সম্ভব।

স্থানীয়রা জানান, রবিবার চিংমেহ্লা মারমা মৃতদেহ ঘটনাস্থল থেকে দুই কিলোমিটার নিচে পাহাড়ি ঝিড়ি থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। পাহাড় ধ্বসে মৃতদেহ গুলো যদি ঝিড়িতে পড়ে যাই হয়ত ঝিড়ির স্রোতের টানে সাঙ্গু নদীতে যেতে পারে।

সরকারি সূত্র জানিয়েছে, জেলা ও উপজেলা প্রশাসন থেকে পাহাড় ধ্বসের ঘটনায় নিহত ও আহতদের পরিবারকে আর্থিক সহায়তা প্রদানের উদ্যোগ নিয়েছে।

বান্দরবান সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রফিক উল্লাহ বলেন, উদ্ধার অভিযান চলছে। উদ্ধার অভিযান সম্পূর্ণ হওয়ার পর কতজন মারা গেছে তা জানাতে পারব।

এদিকে তিনদিনের টানা বর্ষণে বান্দরবান-চট্টগ্রাম সড়কের বাজালিয়া এলাকার সড়ক বন্যার পানিতে তালিয়ে যাওয়ায় এবং বান্দরবান-রাঙামাটি সড়কের পলুপাড়া এলাকার বেলী ব্রিজ ডুবে যাওয়ায় সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে।

অন্যদিকে লামার গজালিয়া ইউনিয়নের বমু খালে পানিতে ভেসে আসা জাবের আহমদ (৪৫) নামে এক ব্যক্তির লাশ সোমবার সকালে উদ্ধার করেছে স্থানীয়রা। সে উপজেলার ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের মালুম্যা এলাকার মোজাফফর আহমদের ছেলে।

জানা গেছে, রবিবার বিকালে স্থানীয় মো. ইব্রাহিম ও নিহত জাবের এক সাথে লুলাইং খাল পারাপারের সময় স্রোতের টানে ২জন ভেসে যায়। ইব্রাহিম কোনমতে তীরে উঠলেও জাবের আহমদকে পাওয়া যায়নি। সোমবার সকালে জাবেরের মৃতদেহ উদ্ধার করে স্থানীয়রা।