রুমা উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নির্দেশে বাল্য বিবাহ বন্ধ

 

নিজস্ব প্রতিবেদক, বান্দরবান:

বান্দরবানের রুমা উপজেলায় ২নং ইউনিয়নে মুসলিম পাড়ায় বাসিন্দা আব্দুল সোবহান তার ১৩ বছর বয়সী ৭ম শ্রেণি পড়ুয়া কন্যাকে কক্সবাজার জেলার চকরিয়ায় বড়ইতলি ইউনিয়নের মুসন্নিয়া গ্রামের বাসিন্দা মোহাম্মদ জাফর আহমেদের ছেলে সোহেল উদ্দিন (২৩) এর সাথে বিয়ের প্রস্তুতি চলছিল বৃহস্পতিবার।

রাত ৮টার দিকে নির্বাহী অফিসারের নির্দেশে ২নং রুমা সদর ইউপি চেয়ারম্যান শৈমং মারমা ও থানার এস আই আবুল হোসেন নেতৃত্বে বিয়ের আসরে উপস্থিত হয়ে বাল্য বিবাহটি বন্ধ করা হয়।

ইউপি চেয়ারম্যান শৈমং মারমা জানান, উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মাদ শরিফুল হক এক স্কুল ছাত্রীর বাল্য বিবাহ অনুষ্ঠান আয়োজনের কথা জানিয়ে আমাকে মুসলিম পাড়া ডেকে পাঠান। আমি পুলিশ ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে মেয়েটি নাবালিকা নিশ্চিত হয়ে বিবাহের আয়োন বন্ধ করা হয়। উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নির্দেশনা মোতাবেক অভিবাবকদের মুচলেকা নিয়ে বাল্য বিবাহ বন্ধ করা হয়। তিনি আরও জানান, অভিভাবক জোর করে তার মেয়েকে বিয়ে দিতে চাচ্ছেন, এমন কথা ওই স্কুল ছাত্রীরা তাকে বলেছেন।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহাম্মদ শরিফুল হক জানান সোর্সের মাধ্যমে বাল্য বিবাহের আয়োজনের কথা জানার পর সদর ইউপি চেয়ারম্যান জনাব শৈমং মারমা, থানার অফিসার ইনচার্জ ও মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তাকে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে বলা হয়। দরিদ্র-গরিব অভিভাবকের উভয় পক্ষ থেকে শাবালক-বালিকা হবার আগে কোনো বিয়ে দেবেন না এমন মুচলেকা নিয়ে প্রথমবার হিসেবে বাল্যবিবাহ বন্ধ করতে পরামর্শ দেয়া হয়।

অনেকের মুখে আর চায়ের কাপে আড্ডায় বিষয়টি উঠে আসে এবং উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহাম্মদ শরিফুল হককে প্রসংশা করেন এলাকাবাসী।




রুমার সাথে সড়ক যোগাযোগ আবারও বন্ধ

নিজস্ব প্রতিবেদক, বান্দরবান:

ভারি বর্ষণে পাহাড় ধসে বান্দরবানের সাথে রুমা উপজেলার সড়ক যোগাযোগ আবারো বন্ধ হয়ে গেছে। শনিবার সকাল থেকে সড়কের দলিয়ান পাড়ার অদুরে ভাঙ্গার মুখ এলাকায় আবারও পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটেছে। ফলে বান্দরবানের সাথে রুমা উপজেলার সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়।

রুমা উপজেলা পরিবহন মালিক সমিতির লাইনম্যান জাকির হোসেন জানান, দলিয়ান পাড়া এলাকায় পাহাড় ধসের কারণে শনিবার সকাল থেকে সকল ধরনে যানবাহন বন্ধ রয়েছে এবং কোনো যানবাহন রুমা থেকে জেলা সদর ছেড়ে যায়নি। এতে করে মানুষের ভোগান্তি বেড়ে গেছে।

এদিকে ভারি বর্ষণের কারণে পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসকারীদের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। জেলা প্রশাসন ও পৌর সভার পক্ষ থেকে পাহাড়ের ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাস কারীদের আশ্রয়কেন্দ্র ও নিরাপদ স্থানে যাওয়ার জন্য মাইকিং করে সতর্ক করা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, গত ২৩ জুলাই সড়কের ওয়াই জংশ দলিয়ান পাড়া এলাকায় পাহাড় ধসে নারীসহ ৫জন নিহত হয়।




পাহাড় ধসে নিখোঁজের ২০ দিন পর তরুণীর লাশ উদ্ধার


নিজস্ব প্রতিবেদক, বান্দরবান
বান্দরবানের রুমা সড়কের দানিয়াল পাড়ার অদুরে ভাঁঙ্গার মুখ এলাকায় পাহাড় ধসে নিখোঁজ তরুণী উমেচিং মারমা লাশ শুক্রবার মিলেছে ২০ দিন পর।

পাড়া প্রধান মংশৈহ্লা মারমা কার্বারী বলেন, রুমা সড়কে পাহাড় ধসে নিখোঁজ আমার দুই কন্যা’র মধ্য ঘটনার দিন ছোট মেয়ের লাশ পাওয়া যায়। কিন্তু বড় মেয়ের লাশ ২০ দিন পর পাওয়া গেল।

রোয়াংছড়ি থানার অফিসার্স ইনচার্জ ওমর আলী জানান, রোয়াংছড়ির সাঙ্গু নদীর তারাছা মুখ থেকে অর্ধ গলিত নারীর লাশ পাওয়া গেছে। ধারণা করা হচ্ছে লাশটি গত ২৩ জুলাই রুমা পাহাড় ধসে নিখোঁজ তরুণী উমেচিং মারমার। লাশটি উদ্ধার করে বান্দরবান হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।




বান্দরবানে পাহাড় ধ্বসে নিখোঁজ জবিউলের লাশ উদ্ধার

নিজস্ব প্রতিবেদক, বান্দরবান:

বান্দরবানের রুমায় পাহাড় ধ্বসে নিখোঁজ পোস্ট মাষ্টার জবিউলের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সোমবার বিকেলে বান্দরবান-রুমা সড়কের দলিয়ানপাড়া এলাকায় পাহাড় ধ্বসের স্থান থেকে প্রায় ৪০০ ফিট নিচে ঝিড়ি থেকে স্থানীয়দের সহায়তায় লাশ উদ্ধারের কথা জানান রোয়াংছড়ি থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ওমর আলী। এ পর্যন্ত জবিউলসহ চারজনের লাশ উদ্ধার করা হল।

রুমা উপজেলার নির্বাহী অফিসার শরীফুল হক ঘটনাস্থল থেকে জানান, লাশটির পরনের পেন্ট ও শরীরের গঠন দেখে পোস্ট মাষ্টার জবিউলের বলে তার সহকর্মীরা চিহ্নিত করেছেন। তার পরিবারের সদস্যরা কুমিল্লা থেকে রওনা হয়েছেন বলে জানিয়েছেন। আমরা তাদের অপেক্ষায় আছি। লাশ সনাক্ত হলে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

প্রসঙ্গত, ২৩ জুলাই বান্দরবান-রুমা সড়কের দলিয়ান পাড়া এলাকায় পাহাড় ধ্বসে রুমা উপজেলা স্বাস্থ্যকর্মী মুন্নি বড়ুয়া, কৃষি ব্যাংক রুমা শাখার কর্মকর্তা গৌতম কুমার নন্দীসহ চার জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। এখনো নিখোঁজ রয়েছে বান্দরবানের সাঙ্গু উচ্চ বিদ্যালয়ের ৮ম শ্রেণির ছাত্রী সিং মে চিং মার্মা।




বান্দরবানে পাহাড় ধ্বসে নিখোঁজ ২জনের সন্ধান মেলেনি

নিজস্ব প্রতিবেদক, বান্দরবান:

বান্দরবানের রুমা সড়কের দৌলিয়ান পাড়ায় পাহাড় ধ্বসের ঘটনায় ৩জনের লাশ উদ্ধার করা হলেও এখনো ২জন নিখোঁজ রয়েছে। সর্বশেষ ঘটনাস্থল থেকে ৬ কিলোমিটা দুরে রোয়াংছড়ি উপজেলার বেতছড়ায় এলাকায় সাঙ্গু নদীতে মেলে কৃষি ব্যাংক কর্মকর্তা গৌতম নন্দীর গলিত দেহ। পোস্ট মাস্টার জবিউল হোসেন এবং কিশোরী চিং মে প্রুর এখনও সন্ধান মিলেনি। তবে ঘটনার দিন অজ্ঞাত তিন শ্রমিক নিখোঁজ রয়েছেন বলে স্থানীয়রা জানালেও তার সত্যতা মেলেনি।

গত ২৩ জুলাই সকালে ঘটনাস্থলের থেকে ২ কি.মি দুরে ঝিড়িতে পাওয়া যায় কিশোরী চিং মে হ্লার মরদেহ। এর দুই দিন পর চট্টগ্রামের বাঁশখালিতে সাঙ্গু নদীতে পাওয়া যায় স্বাস্থ্য সহকারি মুন্নী বড়ুয়ার মরদেহ। এ ঘটনার ৫ দিন পর বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বান্দরবানের রোয়াংছড়ি উপজেলার বেতছড়ায় মিলে কৃষি ব্যাংক কর্মকর্তা গৌতম নন্দীর গলিত দেহ।

পুলিশ জানায়, ঘটনাস্থল থেকে ৬ কিলোমিটার দুরে সাঙ্গু নদীর বালুচরে মাটি চাপা পড়া অবস্থায় তাকে দেখতে পান এলাকাবাসী। খবর পেয়ে রাতে রোয়াংছড়ি থানা পুলিশ গলিত ওই মরদেহ উদ্ধার করে। গৌতম নন্দীর স্বজনরা রাতেই তার লাশ শনাক্ত করেছেন।

স্থানীয় পরিবহন সূত্রে জানাযায়, ওই বাসের ২৫জন যাত্রীর ১৭জনই পায়ে হেঁটে নিরাপদে রাস্তার ভাঙ্গন অংশ পার হয়। কিন্তু পাহাড় ধ্বসের শিকার হন ৩ নারীসহ আটজন।

এঘটনায় মাঠি চাপা পড়ে আহত হন মিনঝিরি পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক চিত্ত রঞ্জন চাকমা, এনজিও কর্মী অং থোয়াই মারমা এবং গাড়ির হেলপার রুবেল চাকমা।

এদিকে টানা ৬ দিন উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রেখেছেন সেনাবাহিনী প্রকৌশল শাখা। আর নিখোঁজ পোস্ট মাস্টার জবিউল হোসেন এবং কিশোরী চিং মে প্রুর খোঁজে তাদের স্বজনরা অপেক্ষায় আছেন।




রুমায় চাচার হাতে ভাতিজা খুন, আটক-৪

নিজস্ব প্রতিবেদক, বান্দরবান:

বান্দরবানের রুমায় আপন চাচার হাতে ভাতিজা খুন হয়েছেন। নিহত ব্যক্তি ইউএনডিপি পরিচালিত একটি বিদ্যালয়ে শিক্ষক নুশৈমং মারমা (৪০)।

বুধবার বিকালে উপজেলার পাইন্দু ইউনিয়নের দুর্গম উজানী পাড়ায় এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। নিহত নুশৈমং মারমা ওই পাড়ার পথোয়াইউ মারমার ছেলে। এঘটনায় পুলিশ অভিযান চালিয়ে ২টি দেশিয় বন্দুকসহ ৪জনকে আটক করেছে।

আটককৃত ব্যক্তিরা হলেন,  ক্য অং প্রু মারমা (কারবারী) (৫৮), তার ছেলে হ্লাসিংমং মারমা (৩৯), মংবাসিং মারমা (৩০) ও মংক্যহ্লা মারমা (২৮)। আটককৃত ক্যঅং প্রু নিহত নুশৈমং মারমার চাচা।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, বুধবার বিকালে জুমের কাজ শেষে ঘরে ফেরার পথে ওঁৎ পেতে থাকা দুর্বৃত্তরা নুশৈমং মারমাকে লক্ষ্য করে গুলি করে। তার মৃত্যু নিশ্চিত করতে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে ও লাঠি দিয়ে পিটিয়ে জুম ক্ষেতে রেখে যায় দুর্বৃত্তরা।

নিহত নুশৈমং মারমার স্ত্রী ছোমে মারমা জানান, গ্রামে কয়েক ব্যক্তির সাথে ভূমি নিয়ে আমার স্বামীর বিরোধ ছিল। পূর্ব শত্রুতার জেরে তাকে খুন করা হয়েছে।

রুমা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. শরিফুল ইসলাম বলেন, নুশৈমং মারমার লাশ বৃহস্পতিবার পুলিশ উদ্ধার করেছে। এ ঘটনার অভিযোগে অস্ত্রসহ চারজনকে আটক করা হয়েছে।




বান্দরবানে পাহাড় ধ্বসে নিখোঁজদের উদ্ধার করা যায়নি

নিজস্ব প্রতিবেদক, বান্দরবান:

বান্দরবন-রুমা সড়কের দৈালিয়ান পাড়া এলাকায় পাহাড় ধ্বসের ঘটনায় নিখোঁজ ব্যক্তিদের উদ্ধারে সোমবার সকাল থেকে ফের অভিযান পরিচালিত হয়। উদ্ধার অভিযানে অংশ নিয়েছে সেনা সদস্য, পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও রেডক্রিসেন্টের সদস্যরা। এদেরকে সহযোগিতা করছে রুমা এলাকার আরো ৬টি পাহাড়ি পাড়াবাসী। নিখোঁজদের তালিকা গতকালের চেয়ে বৃদ্ধি পেয়েছে।

মাটি চাপায় নিখোঁজরা হলেন রুমা উপজেলার স্বাস্থ্য সহকারী মুন্নি বড়ুয়া (৪৫), রুমা উপজেলা পোস্ট মাস্টার জাবিউল আলম (৪৫), রুমা কৃষি ব্যাংক কর্মচারী গৌতম নন্দী (৪০) গৃহবধু চিংমে মারমা (৩০) এবং অজ্ঞাত পরিচয় আরো তিনজন শ্রমিক।

নিখোঁজ মুন্নি বড়ুয়ার ১০ বছরের চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী জেসিকা বড়ুয়া খাওয়া দাওয়া ছেড়ে ঘরের দরজায় চেয়ার পেতে মায়ের অপেক্ষায় বসে। পরিচিত কাওকে দেখলে শুধু মায়ের কথা জিজ্ঞাস করে আর দেয়ালে ঝোলানো মায়ের ছবির দিকে অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রবিবার সকালে জেলার রুমা উপজেলার ২৬ কিলোমিটার দুর দৌলিয়ান পাড়া এলাকায় এ হতাহতের ঘটনা ঘটে। এতে সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হয়ে পড়ে। রুমার বাসিন্দা চিংমেহ্লা মারমা তরুনীর লাশ উদ্ধার করে সৎকার করা হয়েছে। আর আহত চারজন রুমা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ও বান্দরবান সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

এ ব্যাপারে রুমা উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অংথোয়াইচিং মারমা জানান, গাড়ি থেকে নেমে, ওই এলাকায় হেঁটে পারাপারের সময় পাহাড় ধ্বসে মাটি চাপায় এখনও নিখোঁজ রয়েছেন চারজনসহ মোট সাত জন যাত্রী। অজ্ঞাতনামা তিনজন যাত্রী শ্রমিক উল্লেখ করেন তিনি।

উদ্ধার অভিযান ভারী বৃষ্টি ও আলো সল্পতার কারণে রোববার সন্ধ্যায় বন্ধ রাখা হয়। সোমবার সকাল থেকে ফের উদ্ধার অভিযান শরু হলেও ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে অভিযান ব্যাহত হচ্ছে। নিখোঁজদের উদ্ধারে প্রায় ৪০০ ফুট লম্বা মোটা রশিসহ প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ব্যবহার করছেন।

নিখোঁজ মুন্নি বড়ূয়ার ভাই স্থানীয় সাংবাদিক ছোটন বড়ূয়া বলেন, রবিবার সকালে সংবাদ সংগ্রহের জন্য ঘটনাস্থালে যায়। উদ্ধারকারীরা যখন আমার বোনের ভ্যানিটিব্যগটি পায় তখন জানতে পারি আমার বোন মাটি চাপায় আছে। সোমবার সকাল থেকে সেনা সদস্য ও দমকলকর্মীরা উদ্ধার অভিযান চালালেও বৃষ্টির জন্য উদ্ধার কার্যক্রম চালাতে সমস্যা হচ্ছে।

নিরাপত্তা বাহিনী সূত্র জানায়, ভারী বৃষ্টির কারণে উদ্ধার কাজ ব্যবহত হচ্ছে। এখনো হালক হালকা পাহাড় ধ্বস হচ্ছে। বৃষ্টি কমলে পুরোদমে অভিযান চালানো সম্ভব।

স্থানীয়রা জানান, রবিবার চিংমেহ্লা মারমা মৃতদেহ ঘটনাস্থল থেকে দুই কিলোমিটার নিচে পাহাড়ি ঝিড়ি থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। পাহাড় ধ্বসে মৃতদেহ গুলো যদি ঝিড়িতে পড়ে যাই হয়ত ঝিড়ির স্রোতের টানে সাঙ্গু নদীতে যেতে পারে।

সরকারি সূত্র জানিয়েছে, জেলা ও উপজেলা প্রশাসন থেকে পাহাড় ধ্বসের ঘটনায় নিহত ও আহতদের পরিবারকে আর্থিক সহায়তা প্রদানের উদ্যোগ নিয়েছে।

বান্দরবান সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রফিক উল্লাহ বলেন, উদ্ধার অভিযান চলছে। উদ্ধার অভিযান সম্পূর্ণ হওয়ার পর কতজন মারা গেছে তা জানাতে পারব।

এদিকে তিনদিনের টানা বর্ষণে বান্দরবান-চট্টগ্রাম সড়কের বাজালিয়া এলাকার সড়ক বন্যার পানিতে তালিয়ে যাওয়ায় এবং বান্দরবান-রাঙামাটি সড়কের পলুপাড়া এলাকার বেলী ব্রিজ ডুবে যাওয়ায় সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে।

অন্যদিকে লামার গজালিয়া ইউনিয়নের বমু খালে পানিতে ভেসে আসা জাবের আহমদ (৪৫) নামে এক ব্যক্তির লাশ সোমবার সকালে উদ্ধার করেছে স্থানীয়রা। সে উপজেলার ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের মালুম্যা এলাকার মোজাফফর আহমদের ছেলে।

জানা গেছে, রবিবার বিকালে স্থানীয় মো. ইব্রাহিম ও নিহত জাবের এক সাথে লুলাইং খাল পারাপারের সময় স্রোতের টানে ২জন ভেসে যায়। ইব্রাহিম কোনমতে তীরে উঠলেও জাবের আহমদকে পাওয়া যায়নি। সোমবার সকালে জাবেরের মৃতদেহ উদ্ধার করে স্থানীয়রা।




বান্দরবানে ফের পাহাড় ধ্বস: ১ জন নিহত, নিখোঁজ ৩

নিজস্ব প্রতিবেদক, বান্দরবান:

ভারি বর্ষণে ফের বান্দরবানের রুমায় পাহাড় ধ্বসের ঘটনা ঘটেছে। এঘটনায় একজন নিহত, তিন জন নিখোঁজ এবং অপর তিনজনকে উদ্ধার করা হয়েছে। সেনা, দমকল বাহিনী ও রেড ক্রিসেন্ট কর্মীরা উদ্ধার তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে। সড়কটি যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে।

নিহতের নাম, চিংমে হ্লা মারমা। নিখোঁজরা হলেন, চিংমেচিং (১৭) ও মুনি বড়ুয়া (৩৫), তাদের একজন পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের কর্মকর্তা। অন্য আর একজনের নাম জানা যায়নি।

সূত্র জানায়, রবিবার সকালে বান্দরবান-রুমা সড়কের দলিয়ানপাড়া এলাকায় সড়কটি পাহাড় ধ্বসে ভেঙে যাওয়ায় ঝুঁকি পূর্ণ হওয়ায় রুমা থেকে আসা বাস যাত্রীরা হেটে পাড় হচ্ছিলেন। এসময় পাহাড় ধ্বস হলে সাতজন মাটির নিচে চাপা পড়ে। স্থানীয়রা তিনজনকে জীবিত উদ্ধার করে। সেনা ও দমকল বাহিনী উদ্ধার তৎপরতা চালিয়ে একজনের লাশ উদ্ধার করে এবং এখনো তিনজন নিখোঁজ রয়েছে।

খবর পেয়ে সেনাবাহিনী এবং স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধার তৎপরতা চালাচ্ছে। তবে প্রচুর পরিমাণে বৃষ্টি হওয়ায় উদ্ধার তৎপরতা ব্যাহত হচ্ছে।

সেনাবহিনীর প্রকৌশল বিভাগ ১৯ ইসিবির উপ-অধিনায়ক মেজর ইফতেখার জানান, ফায়ার সার্ভিস ও সেনা বাহিনী যৌথভাবে উদ্ধার তৎপরতা চালাচ্ছে।

পাহাড় ধ্বসের এলাকা পরিদর্শন করেন পার্বত্য চট্টগ্রাম মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈসিং এমপি। এসময় বান্দরবান রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল  মুহাম্মদ যুবায়ের সালেহীন, জেলা প্রশাসক দীলিপ কুমার বড়ুয়া ও জেলা পুলিশ সুপার সঞ্জিত কুমার রায় উপস্থিত ছিলেন।

বান্দরবানের মৃত্তিকা সংরক্ষণ কেন্দ্রের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মাহাবুবুল ইসলাম বলেন, সকাল ৯টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় বান্দরবানে ৭৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। এখনো ভারি বৃষ্টিপাত অব্যাহত রয়েছে

প্রসঙ্গত, ১২জুন অবিরাম বর্ষণে পাহাড় ধ্বসে মাটি চাপা পড়ে একই পরিবারের তিন শিশুসহ ৯ জন নিহত হন এবং বান্দরবান-রুমা উপজেলা সড়কের দলিয়ান পাড়া এলাকায় পাহাড় ধ্বসে সড়ক প্রায় একমাস যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন ছিল।




রুমায় জেএসএস সন্ত্রাসী আটক গুলিসহ ২ বিদেশী পিস্তল উদ্ধার

নিজস্ব প্রতিনিধি:

বান্দরবানের রুমা থেকে দুইটি বিদেশী পিস্তল ও গুলিসহ একজন মারমা সন্ত্রাসীকে আটক করেছে যৌথবাহিনী। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত আড়াইটার এই উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করা হয় বলে বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে।

আটক মারমা সন্ত্রাসীর নাম শৈ লা প্রু মারমা(৫১)। তিনি রুমা ইউনিয়ন পরিষদের ৮ নং ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বার।

সূত্র জানিয়েছে, রুমার একটি উপজাতীয় সন্ত্রাসী গ্রুপ সীমান্তের ওপার থেকে অস্ত্র সংগ্রহ করে নিজেদের শক্তি বৃদ্ধি ও দেশীয় জঙ্গীদের কাছে বিক্রির চেষ্টা করছে এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে যৌথ বাহিনী স্থানীয় বিভিন্ন উপজাতীয় সন্দেহভাজন সন্ত্রাসীদের উপর গোপন নজরদারী চালিয়ে আসছিলো গত ২ মাস ধরে।

বৃহস্পতিবার রাত দুইটার দিকে গোয়েন্দাদের নিশ্চিত খবরের প্রেক্ষিতে যৌথবাহিনীর একটি দল রুমা থানার একজন সাবেক ইউপি চেয়ারম্যানের বাড়ি ও মংপ্রু মারমার বাড়িতে তল্লাশি চালায়। তল্লাশীর এক পর্যায়ে রাত আড়াইটার দিকে রুমা বাজারের সন্নিকটে মংপ্রু মারমার বাড়ির একটি কক্ষের ভেতর থেকে একটি পলিথিনের ব্যাগ উদ্ধার করে যৌথবাহিনী।

পরে ব্যাগটি তল্লাশী করে দুইটি বিদেশী ২২ বোর পিস্তল, ১ রাউন্ড এম-১৬ রাইফেলের গুলি, ৬ রাউন্ড পিস্তলের গুলি, ১ দেশীয় ধারালো অস্ত্র ও নগদ ১ লাখ ৩৩ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়।

উদ্ধারকৃত পিস্তলের মধ্যে একটি স্বয়ংক্রিয় ও অপরটি সিঙ্গেল লোডেড এবং আটককৃত টাকা অস্ত্র কেনা বেচার উদ্দেশ্যে রাখা হয়েছিল বলে যৌথবাহিনী বাহিনী সূত্র জানিয়েছে। অস্ত্রগুলো মিয়ানমারের বিদ্রোহী গ্রুপ এএলপি নিকট থেকে সংগ্রহ করা হয়ে থাকতে পারে এবং তা দেশীয় জঙ্গীদের কাছে বিক্রি করে আর্থিক ফায়দা আদায়ই উদ্দেশ্য ছিলো বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে সূত্রটি।

আটক মংপ্রু মারমা জেএসেএসর রাজনীতির সাথে জাড়িত বলে স্থানীয়রা জানিয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে এই অস্ত্র ও টাকার সাথে নিজের সম্পৃক্ততার কথা অস্বীকার করে জানিয়েছে কেউ তাকে ফাঁসাতে তার বাড়িতে এই অস্ত্র রেখে গেছে। তাকে রাতেই রুমা থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

রুমা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শরিফুল ইসলাম পার্বত্যনিউজকে এ আটকের সত্যতা স্বীকার করে জানিয়েছেন, আটককৃত ব্যক্তি জেএসএস রাজনীতির সাথে জড়িত। তিনি স্থানীয় মেম্বার। তার বিরুদ্ধে থানায় সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়ের করার পর আদালতে চালান করা হবে।

পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি, রুমা থানা কমিটির সাধারণ সম্পাদক মং মং চিং মারমা এক বিবৃতিতে এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন।

বিবৃতিতে তিনি পার্বত্য সমস্যা সমাধান, পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়ন ও এই এলাকায় শান্তি স্থাপনের স্বার্থে অবিলম্বে সেনাবাহিনী ও পুলিশ কর্তৃক এ ধরনের হীন কর্মকান্ড বন্ধের ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সরকারের নিকট জোর আহ্বান জানিয়েছেন।




রুমায় ট্রাক খাদে পড়ে ভিডিপি কমান্ডারসহ নিহত-২

নিজস্ব প্রতিবেদক, বান্দরবান:

বান্দরবানের রুমায় কাঠ বোঝায় ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে আনসার ভিডিপি কমান্ডারসহ দু’জন নিহত ও ৫জন আহত হয়েছে। স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করানো হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শী চনুমং জানান, রবিবার দুপুরে কাঠ বোঝায় ট্রাকটি রুমার টেবিল পাহাড় এলাকায় চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ট্রাকটি খাদে পড়ে যায়। এতে আনসার ভিডিপি কমান্ডার পুহ্লা অং মারমা (৫২) ও ট্রাক চালক সম্ভু (৩৮) ঘটনাস্থলেই মারা যায়।

রুমা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শরিফুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ দু’টি উদ্ধার করেছি।