শ্রীনগর সীমান্ত হাটে বাংলাদেশ-ভারত যৌথ উদ্যোগে মহান ভাষা দিবস উদযাপন

Ramgarh 21.2

রামগড় প্রতিনিধি:

ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনার মধ্যদিয়ে মঙ্গলবার ছাগলনাইয়া ও ভারতের দক্ষিণ ত্রিপুরার সাব্রুমের শ্রীনগর সীমান্ত হাটে দু’দেশের যৌথ উদ্যোগে উদযাপন করা হয়েছে মহান একুশে ফেব্রুয়ারি, আর্ন্তজাতিক মাতৃভাষা দিবস। প্রথম বারের মত বাংলাদেশ ভারতের আয়োজনে অনুষ্ঠিত ভাষা দিবসের এ অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে শ্রীনগর সীমান্ত হাট পরিণত হয় দুই দেশের মানুষের মিলন মেলায়।

ফেনী ও দক্ষিণ ত্রিপুরা জেলা প্রশাসন দিবসটি উপলক্ষে দিনব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচী গ্রহণ করে। সীমান্ত হাটে স্থাপিত অস্থায়ী শহীদ মিনারে শহীদ ভাষা সৈনিকদের স্মরণে শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ করেন অনুষ্ঠানে দু’দেশের দুই প্রধান অতিথি ফেনীর এমপি নিজাম উদ্দিন হাজারী ও ত্রিপুরার লোকসভার সদস্য কমরেড জীতেন্দ্র চৌধুরী। পরে দুই দেশের জাতীয় সংগীত পরিবেশনের পর বেলুন উড়িয়ে এবং মঙ্গল প্রদীপ প্রজ্জ্বলন করে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন প্রধান অতিথিদ্বয়।

দুই পর্বের অনুষ্ঠানমালার প্রথমে অনুষ্ঠিত হয় ভাষা দিবসের আলোচনা সভা। ছাগলনাইয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মেজবাউল হায়দার  চৌধুরী ও সাব্রুম মহকুমার শ্রীনগর পঞ্চায়েত কমিটির চেয়ারম্যান বাবুল সেনের যৌথ সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন, এমপি নিজাম উদ্দিন হাজারী, এমপি শিরিন আখতার, ত্রিপুরার লোকসভার সদস্য কমডর জীতেন্দ্র চৌধুরি, দক্ষিণ ত্রিপুরার এমএলএ  রীতা কর, ফেনীর জেলা প্রশাসক মো. আমিন উল আহসান, ফেনীর পুলিশ সুপার রেজাউল হক প্রমুখ।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, বিজিবির জয়লস্কর ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্ণেল কামরুল ইসলাম, দক্ষিণ ত্রিপুরার পুলিশ সুপার তাপস দেব বার্মা, ডিএম  সিকে জমাতিয়া, ত্রিপুরার এমএলএ প্রভা চৌধুরী, ফেনী সদর উপজেলা চেয়ারম্যান আবদুর রহমান বিকম, পরশুরাম উপজেলা চেয়ারম্যান কামাল উদ্দিন মজুমদার, ছাগলনাইয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জেসমিন আক্তার, দক্ষিণ ত্রিপুরার এডিএম মনোজ কান্তি সেনসহ দুই দেশের রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও  বিভিন্ন পদস্থ সরকারী কর্মকর্তা।

আলোচনা সভা শেষে উভয় দেশের শিল্পীদের পরিবেশনায় এক মনোজ্ঞ সংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।




রামগড় উপজেলা চেয়ারম্যানকে শহীদ মিনারে যেতে বাধা দেওয়ার অভিযোগ

Khagrachari Pic 06 (2) copy

নিজস্ব প্রতিবেদক,খাগড়াছড়ি:

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ও শহীদ দিবস উপলক্ষে রামগড় উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম’কে শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদনে প্রশাসন ও আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে বাধা প্রদান ও নিরুৎসাহিত করার অভিযোগ করেছেন জেলা বিএনপি।

খাগড়াছড়ি জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত দপ্তর সম্পাদক মো. আবু তালেব মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে অভিযোগ করেন, ২১ ফেব্রুয়ারি দিনটি একটি জাতীয় দিবস। প্রত্যেক শ্রেণী পেশার মানুষ দিনটিকে স্বরণীয় করে রাখার জন্য শহীদ মিনারে পুষ্পমাল্য অর্পণ করে শ্রদ্ধা নিবেদন করে থাকে। কিন্তু রামগড় উপজেলা পরিষদ একটি সরকারী প্রতিষ্ঠান হওয়ার পরও প্রতিষ্ঠানের প্রধান হিসেবে উপজেলা চেয়ারম্যান পরিষদের শহিদুল ইসলাম পুষ্পমাল্য অর্পণে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোন প্রকার সহযোগিতা পাননি এবং সরকারী দলের পক্ষ থেকে হুমকি-ধমকি ও বাধা প্রদান করে।

তিনি এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসন ও জেলা প্রশাসনের কাছে সহযোগিতা চাইলেও কোন প্রকার সহযোগিতা পাওয়া যায়নি। উপরন্তু স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে শহীদ মিনারে পুষ্পমাল্য অর্পণ না করার জন্য বারবার অনুরোধ করা হয়।

বিবৃতিতে খাগড়াছড়ি জেলা বিএনপির সভাপতি ও সম্পাদকসহ নেতৃবৃন্দ রামগড় প্রশাসন ও সরকারী দলের এহেন আচরণের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বাকশালী আচরণের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিরোধ গড়ে তোলার জন্য নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান। ভবিষ্যতে এ ধরনের আচরণ অব্যাহত থাকলে জেলা বিএনপি হরতাল অবরোধ সহ কর্মসূচী ঘোষণা করতে বাধ্য হবে বলেও হুশিয়ারী উচ্চারণ করেন।

এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে রামগড় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাঈন উদ্দিন খান এ সব অভিযোগ অস্বীকার করেন।




ত্রিপুরা কিশোরীর ধর্ষককে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেফতার করা না হলে কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি

Ramgarh 20.2.17 copy

রামগড় প্রতিনিধি:

খাগড়াছড়ির রামগড়ে উপজেলার প্রত্যন্ত এলাকা রুপাইছড়িতে ত্রিপুরা কিশোরী ধর্ষণের ঘটনার প্রতিবাদে ও আসামী গ্রেফতারের দাবিতে সোমবার সচেতন পাহাড়ি শিক্ষার্থীর ব্যানারে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ(পিসিপি) ও হিল উইমেন ফেডারেশন(এইচ ডব্লিও এফ)। ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে আসামী গ্রেফতার না হলে কঠোর কর্মসূচি নেয়ার ঘোষণা দেয়া হয়েছে মানববন্ধন থেকে।

সোমবার সকাল পৌনে ১১টা হতে সোয়া ১১টা পর্যন্ত  রামগড় পৌর শহরের উপকণ্ঠে খাগড়াছড়ি সড়কের পাশে এ মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়। মানবন্ধনে বক্তব্য রাখেন পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের রামগড় উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক ও রামগড় উপজেলার সচেতন শিক্ষার্থীর সমন্বয়ক নরেশ ত্রিপুরা, হিল উইমেন্স ফেডারেশনের খাগড়াছড়ি জেলা শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক রেশমী মারমা, নারী ও যৌন নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির লক্ষ্মীছড়ি উপজেলার সদস্য ও মহিলা ইউপি মেম্বার জয়া চাকমা ও মেরিনা চাকমা।

বক্তারা বলেন, উপজেলার রামগড় ইউনিয়নের প্রত্যন্ত পাহাড়ি পল্লী রুপাইছড়ির স্কুল পাড়ার বাসিন্দা সম্ভা চরণ ত্রিপুরার ১৫ বছর বয়সী কিশোরীকে দুই রাত একদিন আটকে রেখে পালাক্রমে ধর্ষণ করা হয়। এ ঘটনায় থানায় মামলা হওয়ার ৩ দিন অতিবাহিত হলেও ধর্ষণকারী হাসানসহ ঘটনার সাথে জড়িতদের গ্রেফতার করা হয়নি। মানববন্ধন থেকে ধর্ষণ মামলার আসামীকে আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেফতারের আল্টিমেটাম দিয়ে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়, অন্যথায় কঠোর কর্মসূচি নেয়া হবে।

উল্লেখ্য, গত শনিবার (১৮ ফেব্রুয়ারী) উপজেলার রুপাইছড়ির স্কুল পাড়ার বাসিন্দা সম্ভা চরণ ত্রিপুরার  থানায় দায়ের করা মামলায় অভিযোগ করেন, বুধবার গভীর রাতে পার্শ্ববর্তী এলাকা খাগড়াবিলের হানিফ বাচ্চুর ছেলে মো. হাসান(২৫) জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যায়। রুপাইছড়ির জঙ্গলে নিয়ে হাত পা বেঁধে দুদিন ধরে তাকে ধর্ষণ করে হাসান। শুক্রবার ভোর বেলায় সে বাড়ি ফিরে এসে বাবা, মা ও আত্মীয়-স্বজনদের ঘটনাটি জানায়। ধর্ষণের ঘটনায় ওই কিশোরী বিষপানে আত্মহত্যার চেষ্টা করে। অপহরণপূর্বক ধর্ষণের সংশ্লিষ্ট ধারায় দায়ের করা মামলায় হাসানকে আসামী করা হয়।

অভিযুক্ত হাসানের সাথে সম্পর্কের তথ্য অনিকার খালু নবরায় মেম্বারের :

পার্বত্যনিউজডটকম-এ ১৮ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত ‘রামগড়ে কথিত ধর্ষণের শিকার ত্রিপুরা কিশোরীর আত্মহত্যার চেষ্টা’ শীর্ষক সংবাদে উল্লেখিত ধর্ষিতা কিশোরীর সাথে ধর্ষণের ঘটনায় অভিযুক্ত মো. হাসানের দীর্ঘদিনের সম্পর্ক থাকার  তথ্যের নিন্দা জানিয়ে মানববন্ধন থেকে বলা হয়, উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে এটি প্রকাশ করা হয়েছে। এ ব্যাপারে পার্বত্যনিউজের প্রতিনিধির বক্তব্য : ধর্ষিতার সাথে হাসানের সর্ম্পক থাকার তথ্য ধর্ষিতা অনিকা ত্রিপুরার আপন খালু  ১ নং রামগড় ইউনিয়নের ৯ নং ওয়ার্ডের মেম্বার নবরায় ত্রিপুরার । ১৮ ফেব্রুয়ারি  বেলা ১ টা ২৮ মিনিটে  ধর্ষণ ও বিষপানে আত্মহত্যার চেষ্টার ঘটনা সম্পর্কে তথ্যের জন্য ইউপি মেম্বার নবরায় ত্রিপুরার সাথে মোবাইল ফোনে কথা হয় পার্বত্যনিউজডট কম প্রতিনিধির। তার সাথে ৬ মিনিট ৫৭ সেকেন্ড কথোপকথনে (বয়েজ রেকর্ড সংরক্ষিত) ইউপি মেম্বার নবরায় ত্রিপুরা বলেছেন, ‘অনিকা ত্রিপুরা আমার আপন শালার মেয়ে। ঘটনার পর আমরা পরস্পর আলাপ আলোচনায় জানতে পেরেছি  হাসানের সাথে অনিকার দীর্ঘদিনের সম্পর্ক আছে। তিনি আরও বলেছেন, তাকে জোর করে তুলে নিয়ে গেছে বলে অনিকা বললেও আমরা তার এ কথা বিশ্বাস করি না। আমাদের সমাজও তার এ কথা মানে না।’ নবরায় ত্রিপুরার উদ্ধৃতি দিয়েই প্রকাশিত সংবাদে এ তথ্য পরিবেশন করা হয়েছে। পার্বত্যনিউজডটকম কিংবা দৈনিক ইত্তেফাকের নিজস্ব কোন বক্তব্য এটি নয়। কাজেই উদ্দেশ্য প্রণোদিত হয়ে এ সংবাদ প্রকাশ করার অভিযোগ অমূলক।

 




রামগড়ে কথিত ধর্ষণের শিকার ত্রিপুরা কিশোরীর আত্মহত্যার চেষ্টা

Ramgarh 18.2

রামগড় প্রতিনিধি:

খাগড়াছড়ি জেলার রামগড়ে কথিত ধর্ষণের শিকার এক ত্রিপুরা উপজাতীয় কিশোরী বিষপানে আত্মহত্যার চেষ্টার ঘটনা ঘটেছে।

শনিবার দুপুরে এ ব্যাপারে রামগড় থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন  ধর্ষিতার বাবা। মামলা রুজুর পর পুলিশ রামগড় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ওই কিশোরীকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য খাগড়াছড়ি জেলা সদর হাসপাতালে পাঠিয়েছে।

পুলিশ ও ধর্ষিতা জানায়, উপজেলার ১ নং রামগড় ইউনিয়নের ৯ নং ওয়ার্ডের প্রত্যন্ত পাহাড়ি পল্লী রুপাইছড়ির বাসিন্দা সম্ভা চরণ ত্রিপুরার ১৫ বছর বয়সী কিশোরীকে  বুধবার গভীর রাতে পার্শ্ববর্তী এলাকা খাগড়াবিলের হানিফ বাচ্চুর ছেলে মো. হাসান(২৫) জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যায়। রুপাইছড়ির জঙ্গলে নিয়ে হাত পা বেধে দুদিন ধরে তাকে ধর্ষণ করে হাসান।

শুক্রবার ভোর বেলায় সে বাড়ি ফিরে এসে বাবা, মা ও আত্মীয়-স্বজনদের ঘটনাটি জানায়। কিশোরীর আপন খালু ৯ নং ওয়ার্ডের ইউপি মেম্বার নবরায় ত্রিপুরা বলেন, হাসানের সাথে তার ভাগ্নির দীর্ঘদিনের সম্পর্ক ছিল। বুধবার রাতে সে স্বেচ্চায় ওই ছেলের সাথে চলে যায়।

শুক্রবার ভোর ৫টার দিকে খাগড়াবিলের ডাক্তার মোস্তফার বাড়ির পাশের রাস্তায় জনৈক পথচারি মেয়েটিকে দেখে  মোবাইল ফোনে খবরটি জানালে আত্মীয় স্বজনরা গিয়ে তাকে বাসায় নিয়ে আসে।

তিনি জানান, দুদিন ধরে বাহিরে থাকার বিষয় নিয়ে তাকে স্বজনরা জিজ্ঞাসাবাদ ও গালমন্দ করলে এক মূহুর্তে সে ঘরের ভিতরে গিয়ে ক্ষেতে ব্যবহারের জন্য রাখা বিষ পান করে। পরে তাকে দ্রুত রামগড় হাসপাতালে এনে ভর্তি করা হয়।

বাড়ি থেকে জোরপূর্বক তুলে নেয়ার অভিযোগ সত্য নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, ৪১টি পরিবারের ওই বসতি থেকে কাউকে জোর করে নিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। তিনি আরও বলেন, একটি গোষ্ঠী এ ঘটনাকে নিয়ে সাম্প্রদায়িক ইস্যু তৈরি করে আন্দোলন করার পাঁয়তারা করছে।

এদিকে শুক্রবার সকাল ১১টা ২০মিনিটে রামগড় হাসপাতালে বিষ পানের রুগী হিসাবে ভর্তি করার পর সে অনুযায়ী চিকিৎসা চলছিল।

শনিবার দুপুরে কিশোরীটি ধর্ষণের শিকার হওয়ার ঘটনাটি প্রকাশ পায়। হাসপাতালের কর্তব্যরত এক সিনিয়র নার্স জানান, শনিবার দুপুরে পুলিশের অনুরোধে মেয়েটির চেকআপ করা হয়। বাহ্যিকভাবে ধর্ষণের কোন আলামত তিনি পাননি বলেও জানান।

রামগড় থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি) মো. মাইন উদ্দিন খান শনিবার দুপুরে হাসপাতালে এসে মেয়েটির ও তার বাবার বক্তব্য নেন। পরে ওসির পরামর্শে কিশোরীর বাবা সম্ভা চরণ ত্রিপুরা শনিবার বেলা ২টার দিকে থানায় গিয়ে একটি এজাহার দায়ের করন।

ওসি মো. মাইন উদ্দিন খান বলেন, ওই কিশোরীর পিতা সম্ভা চরণ ত্রিপুরা খাগড়াবিলের হানিফ বাচ্চুর ছেলে মো. হাসানকে আসামী করে  অপহরণ পূর্বক ধর্ষণের সংশ্লিষ্ট ধারায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলা রুজুর পর শনিবার বেলা সাড়ে ৩টার দিকে ওই কিশোরীকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য খাগড়াছড়ি জেলা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তিনি আরও বলেন, আসামীকে ধরতে পুলিশ ইতিমধ্যে তৎপরতা শুরু করেছে।




রামগড়ে ব্যবসায়ির বাড়ি পুড়ে ছাঁই, ২০ লক্ষ টাকার ক্ষয়ক্ষতি

অগ্নিকাণ্ড

রামগড় সংবাদদাতা:
রামগড় উপজেলার বলিপাড়া এলাকায় অগ্নিকান্ডে সাহাব উদ্দিন নামে এক ব্যবসায়ির বাড়ি পুড়ে ছাঁই হয়ে গেছে। এতে নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকারসহ প্রায় ২০ লক্ষ টাকার ক্ষয় ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত ওই ব্যবসায়ি। আজ শুক্রবার বেলা সোয়া ১টার দিকে এ অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দারা জানায়, রামগড় ইউনিয়নের বলিপাড়া নামক এলাকায় শুক্রবার দুপুরে সাহাব উদ্দিনের সেমি পাকা বসতঘরে হঠাৎ আগুন লেগে যায়। ধোঁয়ার কুন্ডলী দেখে এক প্রতিবেশী ঘরে আগুন লাগার কথা জানায় গৃহকর্তীকে।

এ সময় গৃহকর্তী ও তার এক কন্যা রান্নাঘরে ছিলেন। আগুন লাগার খবর ছড়িয়ে পড়লে আশেপাশের লোকজন আগুন নেভাতে ছুটে আসেন। জুমাবার হওয়ায় গৃহকর্তা সাহাব উদ্দিনসহ গ্রামের পুরুষরা মসজিদে ছিলেন।

খবর পেয়ে রামগড় ফায়ার স্টেশন থেকে দমকলকর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছলেও যান্ত্রিকত্রæটির দরুণ আগুন নেভানোর কাজ ব্যাহত হয়। এসময় লোকজন দমকলবাহিনীর উপর ক্ষুব্দ হয়ে উঠে। স্থানীয় ইউপি মেম্বার রিপন জানান, আগুনে ঘরের সমস্ত মালামালই পুড়ে গেছে।

অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত বাড়ির মালিক ও সোনাইপুল বাজারের ব্যবসায়ি সাহাব উদ্দিন বলেন, সেমি পাকা ঘরের পাঁচটি কক্ষের আসবাবপত্রসহ সমস্ত মালমাল পুড়ে ছাঁই হয়ে গেছে। স্ত্রী ও কন্যার পড়নের কাপড় ছাড়া কিছুই রক্ষা করা যায়নি।

ঘরের আলমরিায় রক্ষিত নগদ ৪ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা, প্রায় ১১ভরি স্বর্ণালংকার, জমিজমার দলিলপত্র সব পুড়ে গেছে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমান প্রায় ২০ লক্ষ টাকা বলে তাঁর দাবি। তিনি বলেন, পাকা ঘরের সাথে লাগোয়া সিএনজি অটোরিকসা রাখার টিনের ঘর থেকে আগুনের সূত্রপাত হয় বলে তার ধারণা। তবে কিভাবে আগুন লেগেছে তা তিনি জানেন না।

এদিকে, অগ্নিকান্ডের ঘটনা ও ফায়ার সার্ভিসের লোকজনের উপর গ্রামবাসীদের বিক্ষুব্দ হওয়ার খবর পেয়ে রামগড় বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে.কর্ণেল এম জাহিদুর রশীদ, রামগড় সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সৈয়দ মো: ফরহাদ, সহকারি কমিশনার(ভূমি) তামান্না নাসরিন পান্না, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল কাদের, ইউপি চেয়ারম্যান শাহ আলম ঘটনাস্থলে ছুটে যান। থানার সেকেন্ড অফিসার এসআই আনোয়ারের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেন।

ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের ইনচার্জ হাবিবুল্লা বাহার বলেন, বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে অগ্নিকান্ডের সূত্রপাত বলে তিনি নিশ্চিত বলে জানান। যান্ত্রিক ত্রæটির কারণে আগুন নেভানোর কাজ বিঘ্নিত হওয়া সম্পর্কে তিনি বলেন, পানি তোলার পাম্প মেশিনের পাইপ লাইনে জলাশয়ের কাদা ঢুকে অচল হয়ে গেলে আরেকটি মেশিন এনে আগুন নেভানোর কাজ করা হয়।

তিনি আরও বলেন, এসময় এলাকার কিছু উছশৃক্সখল যুবক দমকলকর্মীদের উপর চড়াও হয়। তারা অগ্নিনির্বাপক গাড়ির চাবি কেড়ে নেয়। পরে বিজিবি, পুলিশ, উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেন।




মানিকছড়ি ও রামগড়ে দুদক কর্মকর্তার পদচারণায় অফিস পাড়ায় তোলপাড়

duduk

মানিকছড়ি প্রতিনিধি:
দুর্নীতি দমন কমিশনের সমন্বিত জেলা খাগড়াছড়ি ও রাঙ্গামাটি কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মো. শফিকুর রহমান ভূঁইয়া মানিকছড়ি ও রামগড় উপজেলায় সফরে অফিস পাড়ায় তোলপাড় চলছে। জনসেবা ও উন্নয়ন কর্মকান্ডের ভুল-ত্রুটি শুধরে নিতে মাঠে নেমেছেন জনপ্রতিনিধরা।

জানা গেছে, দুর্নীতি দমন কমিশনের সমন্বিত জেলা খাগড়াছড়ি ও রাঙ্গামাটি কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মো. শফিকুর রহমান ভূঁইয়া গত ১৪ ফেব্রুয়ারী খাগড়াছড়ি জেলার রামগড় হাসপাতালের বিভিন্ন বিভাগের কর্মকর্তা কর্মচারী, রোগী ও রোগীর আত্বীয় স্বজনের সাথে কথা বলে হাসপাতালটির বিভিন্ন বিষয়াদির খোঁজখবর নেন। তিনি এ সময় ল্যাব রুম, এক্স-রে রুম ও বিভিন্ন ওয়ার্ড ঘুরে দেখেন।

পরে হাসপাতালের প্রধান স্বাস্থ্যও প.প. কর্মকর্তা ডা. মো. জাহিদুর ইসলামের সাথে মতবিনিময় কালে খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কংজরী চেীধুরীও আকস্মিক হাসপাতাল পরিদর্শনে আসেন এবং তিনিও হাসপাতালের খোঁজখবর নেন।

মতবিনিময়কালে উপস্থিত ছিলেন, রামগড় উপজেলা পুলিশিং কমউিনিটির সভাপতি মংপ্রু চেীধুরী, উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি মো. শাহআলম, মেডিকেল অফিসার ডা. রতন খীসা, ডা. বিজয় মজুমদার, উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মো. মাসুদ মামুন ও দুপ্রক সদস্যসহ স্থানীয় সাংবাদিকবৃন্দ।

স্থানীয় এলাকাবাসী ও রোগী আবদুর রহমান বলেন, এ ধরনের পরিদর্শন হাসপাতালের সেবার মান বাড়াতে সহায়ক হবে ও হাসপাতালের বিভিন্ন অনিয়ম দুর্নীতি কমে আসবে এবং সচেতনতা বৃদ্ধি পাবে। এর আগে সোমবার বিকালে উপজেলা গেষ্ট হাউজে দুদকের উপ-পরিচালক রামগড় উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সাথে মতবিনিময় করেন। এ সময় তিনি দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির কার্যক্রমে আরো গতিশীলতা ভাড়াতে বিভিন্ন পরামর্শ দেন। বিকাল সাড়ে ৩ টায় দুদক কর্মকর্তা মানিকছড়ি উপজেলায় আসেন এবং উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সদস্যদের সাথে মতবিনিময় করেন।

এ সময় তিনিকমিটির সভাপতি মো. আতিউল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক আবদুল মান্নানসহ উপস্থিত সদস্যদের নিকট উপজেলায় জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসন কর্তৃক জনসেবার মান সর্ম্পকে জানতে চান। এক পর্যায়ে তিনি বলেন, যে গত ২০১৫-১৬ অর্থবছরে কাবিটার বরাদ্ধ থেকে (১) উপজেলা পরিষদের পুকুর সংস্কার বাবদ ১০ মে.টন খাদ্যশষ্য (২) মার্কেট নির্মাণে আড়াই লক্ষ টাকা এবং ২০১৬-১৭ অর্থবছরে এডিবি’র বরাদ্ধে ২ লক্ষ টাকা ব্যয়ে মো. মাঈন উদ্দীনের বাড়ী- শহীদ চেয়ারম্যান এর বাড়ী পর্যন্ত ড্রেন নির্মাণ সর্ম্পকে দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটি অবগত কিনা জানতে চান। এক পর্যায়ে তিনি বিষয়টি সর্ম্পকে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা(পি.আই.ও) নিকট জানতে চান। জবাবে পি.আই.ও মো. আবদুল জব্বার প্রকল্পের সত্যতা স্বীকার করে বলেন, উপজেলা চেয়ারম্যানের অনুরোধে নেয়া প্রকল্প দু’টি শেষ পর্যায়ে রয়েছে। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে দু’টি প্রকল্প শেষ করা হবে।

এ খবর জনপ্রতিনিধিরা জানতে পেরে দ্রুত নড়েচড়ে বসেছেন। এ খবর পেয়ে উপজেলা বুধবার (১৫ ফেব্রুয়ারী) সকালে উপজেলা চেয়ারম্যান ম্রাগ্য মারমা প্রকল্প চেয়ারম্যানদের নিয়ে বৈঠকে বসেন এবং দ্রুত কাজ শেষ করার সিদ্ধান্তে উপনিত হন।

এ বিষয়ে নবাগত উপজেলা নির্বাহী অফিসার বিনিতা রানী বলেন, দু’টি  প্রকল্প(কাবিটার) গত অর্থবছরের এছাড়া এডিবি’র বরাদ্দটির(প্রজেক্ট) কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে। প্রকল্পগুলো সম্পর্কে পিআইও’র নিকট জানতে চাওয়া হয়েছে এবং এডিবি’র প্রকল্পের বিষয়ে কোন ক্রটি রয়েছে কিনা তা সরজমিনে তদন্ত করে দেখা হবে।




জালিয়াপাড়া-রামগড় সড়ক দুই দিন বন্ধ থাকবে

Khagrachari Pic 07.jpg.psd

নিজস্ব প্রতিবেদক:

সোমবার (৩০ জানুয়ারি) সকাল ৬টা থেকে মঙ্গলবার(৩১ জানুয়ারি) বিকাল ৫টা পর্যন্ত জালিয়াপাড়া-রামগড় সড়কে সব ধরনের যানবাহন বন্ধ থাকবে। এ সময় খাগড়াছড়ি, ফেনী ও ঢাকা সড়কে চলাচলকারী যানবাহনগুলো বিকল্প সড়ক হিসেবে ফটিকছড়ি হয়ে হেয়াকো দিয়ে চলাচল করবে।

খাগড়াছড়ি সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ মোসলেহউদ্দিন চৌধুরী জানান, জালিয়াপাড়া-রামগড় সড়কের নাকাপা এলাকার নড়েবড়ে ও ঝুঁকিপূর্ণ বেইলী ব্রিজটি মেরামতের জন্য সড়ক বিবঅগ জনস্বার্থে এ নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। এ নিয়ে মাইকিংসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে জানানো হয়েছে।




রামগড়ে মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ডের সম্পাদকের উপর হামলার ঘটনায় মামলা

20170123_175951-3 (1) copy

রামগড় প্রতিনিধি:
খাগড়াছড়ির রামগড়ে মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ডের সাধারণ সম্পাদক মো. জসিম উদ্দিন চৌধুরির  উপর  সন্ত্রাসী হামলার  ঘটনায়  থানায় একটি  মামলা রুজু হয়েছে।

মঙ্গলবার  রাতে  রামগড়  থানায় মামলাটি দায়ের করেন জসিম উদ্দিনের ভাই সেলিম চৌধুরি। মামলায় ছয়জনকে আসামী করা হয়েছে। আসামী হচ্ছে, ফারুক ওরফে চিকনা ফারুক(২৫), ফারুক ওরফে ভোসকা ফারুক(২৬) , বকর(২৫), শাহেদ(২৫), মজিবুল হোসেন ওরফে আপন(২৫) ও মোকলেসুর রহমান(৪০)।
পুলিশ জানায়, আসামীরা সবাই গা ঢাকা দিয়েছে। তবে তাদের গ্রেফতার করতে পুলিশের তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।
সোমবার  বেলা সাড়ে ১১টার দিকে রামগড়  উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কার্যালয়ে সভা শেষে বের হয়ে রাস্তায় আসা মাত্র ৬-৭ জন চিহ্নিত সন্ত্রাসী  উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ডের সাধারণ সম্পাদক মো. জসিম উদ্দিন চৌধুরির উপর অতর্কিতভাবে হামলা চালায়। এক পর্যায়ে সন্ত্রাসীরা তাকে ব্রিজের নিচে ফেলে দেয়।

এ সময় সন্তান কমান্ডের সভাপতি খাজা নাজিম উদ্দিন, সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার হাশেম আলি কমান্ডারসহ কয়েকজন তাকে রক্ষা করতে এগিয়ে এলে হামলাকারীরা তাদের উপরও চড়াও হয়। গুরুতর আহত  অবস্থায় পরে তাকে রামগড়  উপজেলা  হাসপাতালে  ভর্তি করা হয়।




রামগড়ে সন্ত্রাসী হামলায় মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ডের সম্পাদক জসিম গুরুতর আহত

বুধবার খাগড়াছড়িতে সকাল-সন্ধ্যা সড়ক অবরোধ
Ramgarh 23.1
রামগড় প্রতিনিধি :
খাগড়াছড়ির রামগড়ে সন্ত্রাসী হামলায় উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ডের সাধারণ সম্পাদক মো. জসিম উদ্দিন চৌধুরী গুরুতর আহত হয়েছেন। স্থানীয় কতিপয় সন্ত্রাসী সোমবার উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কার্যালয়ের পাশে তাঁর ওপর প্রকাশ্যে এ হামলা চালায়। গুরুতর আহত অবস্থায় তিনি বর্তমানে রামগড় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন আছেন।

এদিকে খাগড়াছড়িতে শুক্রবার জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার রইছ উদ্দিনের ওপর এবং সোমবার রামগড় উপজেলা সন্তান কমান্ডের সাধারণ সম্পাদকের ওপর সন্ত্রাসী হামলার ঘটনার প্রতিবাদে বুধবার ২৫ জানুয়ারি খাগড়াছড়িতে সকাল সন্ধ্যা সড়ক অবরোধের কর্মসূচি দিয়েছে জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ও জেলা মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ড।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, রামগড় উপজেলা পরিষদের প্রবেশদ্বারে অবস্থিত মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কার্যালয় থেকে সোমবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বৈঠক শেষে বের হয়ে রাস্তায় আসার পরই ৬-৭ জন সন্ত্রাসী মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ডের সাধারণ সম্পাদক মো. জসিম উদ্দিন চৌধুরির ওপর অর্তকিতভাবে হামলা চালায়। সন্ত্রাসীরা প্রকাশ্য দিবালোকে তাঁকে বেদম মারপিট করে ব্রিজের নীচে ফেলে দেয়। এসময় কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধা ও সন্তান কমান্ডের সদস্যরা এগিয়ে এলে সন্ত্রাসীরা তাদের উপরও চড়াও হয়। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে রামগড় হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করানো হয়।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন জসিম উদ্দিন পার্বত্যনিউজকে বলেন, ‘শুক্রবার খাগড়াছড়িতে জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডারের ওপর সন্ত্রাসী হামলার প্রতিবাদে তারা সোমবার উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদে এক সভা করেন। সভা শেষে সংসদ থেকে বের হয়ে রাস্তার আসার সাথে সাথে ৬-৭ জন চিহ্নিত সন্ত্রাসী আর্তকিতভাবে আমার ওপর হামলা চালায়। এক পর্যায়ে তারা আহত অবস্থায় আমাকে ব্রিজের নীচে ফেলে দেয়।’

সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার হাশেম আলী কমান্ডার ও উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ডের সভাপতি খাজা নাজিম উদ্দিন পার্বত্যনিউজকে বলেন, ‘ঐ সন্ত্রাসীদের হামলা থেকে জসিমকে রক্ষা করতে এগিয়ে গেলে তাদের উপরও সন্ত্রাসীরা চড়াও হয়।’

রামগড় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) মো. মাইন উদ্দিন খান পার্বত্যনিউজকে বলেন, খবর পেয়ে তিনি আহত জসিমকে হাসপাতালে দেখতে যান। জসিম হামলাকারীদের পাঁচজন চিনতে পেরেছেন বলে তাঁকে জানান। থানায় মামলা দায়ের করলে পুলিশ ব্যবস্থা নেবে।

এদিকে সন্ত্রাসী হামলার খবর পেয়ে রামগড় পৌরসভার মেয়র মো. শাহজাহান কাজী রিপন ও খাগড়াছড়ি জেলা মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ডের সভাপতি মো. হারুণ মিয়াসহ কয়েকজন নেতৃবৃন্দ রামগড় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন জসিম উদ্দিনকে দেখতে আসেন। এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করে জেলা সন্তান কমান্ডের সভাপতি মো. হারুণ মিয়া হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবী জানান।

তিনি পার্বত্যনিউজকে জানান, গত শুক্রবার একইভাবে জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার রইছ উদ্দিনের ওপর হামলা করা হয়। জসিম উদ্দিন ও রইছ উদ্দিনের ওপর হামলার প্রতিবাদে ও সন্ত্রাসীদের গ্রেফতারের দাবীতে বুধবার খাগড়াছড়ি জেলায় সকাল সন্ধ্যা সড়ক অবরোধ পালন করা হবে।




রামগড়-সাব্রুম স্থল বন্দর চালুর উদ্যোগ : ফেনী নদীর ওপর মৈত্রী সেতু নির্মাণে ভারতের দরপত্র আহ্বান

Ramgarh 20.1
রামগড় প্রতিনিধি :
খাগড়াছড়ির রামগড়- সাব্রুম স্থল বন্দর চালুর লক্ষ্যে সীমান্তবর্তী ফেনীনদীর ওপর বাংলাদেশ ভারত মৈত্রী সেতু-১ নির্মাণের ঠিকাদার নিয়োগের জন্য দরপত্র আহবান করেছে ভারত। সেদেশের ন্যাশনাল হাইওয়েস এন্ড ইনফ্রাস্টাকচার ডেভেলপমেন্ট কর্পোরেশন লিমিটেড (এনএইচআইডিসিএল) নামে সংস্থাটি অনলাইন দরপত্রটি আহবান করে।

ত্রিপুরার বহুল প্রচারিত পত্রিকা দৈনিক সংবাদ ও প্রতিষ্ঠানটির নিজস্ব ওয়েবসাইটে  দরপত্র বিজ্ঞপ্তিটি প্রকাশিত হয়। ফেনীনদীর উপর এক্সটা ডোজড/ ক্যাবল স্টেইড আরসিসি সেতু নির্মাণের দরপত্র দাখিলের শেষ তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে আগামী ১৮ ফেব্রুয়ারি।

জানা যায়, প্রায় ১০০ কোটি ভারতীয় রুপি ব্যয় করে সেতুটি নির্মাণ করবে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার। আর্ন্তজাতিক মানের  দুই লেনের এ সেতুতে থাকবে ফুটওয়ে এবং এ্যাপ্রোচ রোড। নির্মাণের সময়সীমা ধরা হয়েছে দুই বছর পাঁচ মাস।

এদিকে ত্রিপুরার আগরতলা থেকে প্রকাশিত ডেইলি দেশের কথা পত্রিকায় ১৬ জানুয়ারি‘ফেনী সেতুর অনলাইন টেন্ডার ডাকা হলো’ শিরোনামে প্রকাশিত এক রির্পোটে বলা হয়, ফেনী নদীর উপর প্রস্তাবিত এই আর্ন্তজাতিক সেতু নির্মিত হলে শুধু ভারতের পূর্বোত্তরই নয়, খুলে  যাবে দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর সাথে বাণিজ্যিক সম্ভাবনা। সেতুটি হলে বাংলাদেশের সঙ্গে সড়কপথে ত্রিপুরাসহ উত্তরপূর্ব রাজ্যগুলোর বাণিজ্যিক আদানপ্রদানের সম্ভাবনা কয়েকগুণ বেড়ে যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

শুধু তাই নয়, কাছে এসে যাবে চট্টগ্রাম নৌ বন্দর। সমুদ্র পথে পণ্য পরিবহনের সুযোগও মিলবে।  রামগড়ে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত ত্রিপুরা স্টুডেন্টস ফোরামের এক অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে ভারতের লোকসভার পূর্ব ত্রিপুরার এমপি ও ত্রিপুরা রাজ্যসভার  প্রাক্তন মন্ত্রী কমডর জীতেন্দ্র চৌধুরিও বলেছেন, ১-২ মাসের মধ্যে মৈত্রী সেতুর নির্মাণ কাজ শুরু হবে। আর সেতুটি নির্মিত হলে দুদেশের বাণিজ্যিকসহ সার্বিক সর্ম্পক আরও জোরদার হবে।

রামগড় উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আল মামুন মিয়া পার্বত্যনিউজকে বলেন, সেতু নির্মাণের বিষয় নিয়ে রামগড়ে বাংলাদেশ ও ভারতের পদস্থ কর্মকর্তাদের যৌথসভা অনুষ্ঠিত হওয়ার পর গত ডিসেম্বর মাসেই দুদেশের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা যৌথভাবে সরেজমিনে পরিদর্শন-পরিমাপ করে সেতু নির্মাণের প্রস্তাবিত মহামুনি এলাকায় সেতুর এলাইনমেন্টের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, সর্বশেষ গত ২ জানুয়ারি খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে বাংলাদেশ স্থল বন্দর কর্তৃপক্ষের আহবানে রামগড় স্থল বন্দর উন্নয়ন বিষয়ে এক গণ পরামর্শ সভাও অনুষ্ঠিত হয়।

এদিকে, গত বৃহষ্পতিবার ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের উদয়পুর সেক্টরের আইজি মি. ইউপি সারেনঙীর নেতৃত্বে উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তারা মৈত্রী সেতু নির্মাণের প্রস্তাবিত স্থান সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন। সীমান্তের ওপাড়ের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র পার্বত্যনিউজকে জানায়, রামগড়ের মহামুনি এলাকার বিপরীতে ভারতের সাব্রুম মহকুমার সীমান্তবর্তী আনন্দপাড়া ও নবীনপাড়ায় সেতু নির্মাণের প্রস্তাবিত এলাকাটি তাঁরা পরিদর্শন করেন। পরিদর্শকদলে বিএসএফের ডিআইজি(অপারেশন) ডিকে বোড়া, ৫১ বিএসএফের কমান্ডিং অফিসার জিএন মিনাসহ মহকুমা প্রশাসনের পদস্থ কর্মকর্তারাও ছিলেন।

উল্লেখ্য, ২০১৫ সালের ৬ জুন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বাংলাদেশ-ভারত মৈত্রী সেতু-১ নামে ফেনী নদীর ওপর প্রস্তাবিত সেতুটির ভিত্তিপ্রস্তরের ফলক উন্মোচন করেন।