বারুণী স্নানোৎসব ঘিরে দু’দেশের মানুষের মিলন মেলা  রামগড় সাব্রুমে

Ramgarh 26

রামগড় প্রতিনিধি:

ঐতিহ্যবাহী বারুণী স্নানোৎসবকে ঘিরে রবিবার খাগড়াছড়ির রামগড় ও ভারতের সাবরুম শহর পরিনত হয় দু’দেশের লক্ষ মানুষের মিলন মেলায়। উভয় দেশের হাজার হাজার পুণ্যার্থীর সমাগমে মুখরিত হয়ে উঠে ফেনী নদী। বৃটিশ আমল থেকেই চৈত্রের মধুকৃষ্ণা ত্রয়োদশি তিথিতে প্রতিবছর ফেনী নদীতে বারুণী স্নানে মিলিত হন দুই দেশের হিন্দু ধর্মাবলম্বী মানুষ। তারা পূর্ব পুরুষদের আত্মার শান্তির জন্য তর্পন করে এখানে।

নদীর দুই তীরে দুই দেশের পৌরহিতরা সকালেই বসেন পূজা অর্চণার জন্য। পূর্ব পুরুষদের আত্মার শান্তি কামনা ছাড়াও নিজের পুণ্যলাভ ও সকল প্রকার পাপ, পংকিলতা থেকে মুক্ত হওয়ার উদ্দেশ্যে ফেনী নদীর বারুণী স্নানে ছুটে আসেন সনাতন ধর্মাবলম্বী আবালবৃদ্ধবণিতা। স্নানোৎসব হিন্দু সম্প্রদায়ের ধর্মীয় অনুষ্ঠান হলেও এখন তা সার্বজনিন উৎসবে পরিণত হয়েছে। দুই দেশে অবস্থানকারী আত্মীয়- স্বজনদের দেখা সাক্ষাৎ করার জন্যও অনেকে দূর দূরান্ত থেকে এখানে ছুটে আসেন।

ঐতিহ্যবাহী এ বারুণী মেলা উপলক্ষে বহুকাল থেকেই এদিনে দু’দেশের সীমান্ত অঘোষিতভাবে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত  উন্মুক্ত থাকার সুবাদে এপার বাংলার মানুষ ছুটে যায় ওপারের সাবরুম মহকুমা শহরে, আবার ওপারের লোক এসে ঘুরে যান রামগড়। এ মেলাকে ঘিরে দু’দেশের মানুষের মধ্যে তৈরি হয় ভ্রাতৃত্ব ও সম্প্রীতির মেলবন্ধন।

রবিবার ভোর বেলা হতে ফেনী নদীর বাজার ঘাট এলাকায় পুর্ণ্যার্থীসহ লোকজন সমাগম হতে থাকে। সীমান্তের ওপারেও ভারতীয়রা জড়ো হয়। সকাল থেকে নদীর তীরে দুই দেশের পৌরহিতরা পূজার আসনে বসেন। শুরু হয় ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠান।  স্নান পর্ব শুরু হলেও  সীমান্ত পারাপারে বাধা দেয় বিজিবি-বিএসএফ। বেলা বাড়ার সাথে সাথে নদীর দুই তীরেই লোক সমাগম বাড়তে থাকে।

সকাল ৯টার দিকে সীমান্তরক্ষীবাহিনীর বাধা উপেক্ষা করে দু’দেশের হাজার হাজার মানুষ বাঁধ ভাঙ্গা স্রোতের মত পারাপার শুরু করে। সন্ধ্যা পর্যন্ত পারাপার অব্যাহত থাকে। এপারের মানুষ সাব্রুমে ঘোরাঘরি শেষে প্রয়োজনীয় সব জিনিসপত্র কিনে দেশে ফিরেন। একইভাবে ভারতীয়রা রামগড় পৌর শহর ঘুরে পছন্দের নানা সামগ্রী ক্রয় করে ফিরে যান। বারুণী মেলায় যোগ দিতে  চট্টগ্রাম, ফেনী কুমিল্লা, নোয়াখালী, কক্সবাজার, রাঙ্গামাটি, বান্দরবানসহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে হাজার হাজার মানুষ রামগড়ে ছুটে আসেন।

এবার উভয় সীমান্তে বিপুল সংখ্যক সীমান্তরক্ষীবাহিনীর পাশাপাশি দু’দেশের পুলিশও মোতায়েন করা হয়। এছাড়া যে কোন অপ্রীতিকর ঘটনা রোধে রামগড় পৌর শহরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা তৎপর ছিল। রামগড় বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে.কর্ণেল এম. জাহিদুর রশীদ বলেন, মেলা উপলক্ষে মেলাস্থল ছাড়াও সীমান্তের আশেপাশে ব্যাপক নিরাপত্তার ব্যবস্থা নেয়া হয়। জঙ্গী, সন্ত্রাসী পারাপার ও অস্ত্র, মাদকদ্রব্য পাচারের সুযোগ যাতে কেউ না পায় সেজন্য বিএসএফের সাথে বৈঠক করে নিরাপত্তা ব্যবস্থা কড়াকড়ির সিদ্ধান্ত হয় ।’

বারুণী মেলা বিষয়ে রামগড় পৌরসভার মেয়র মো. শাহজাহান কাজী রিপন বলেন, বারুণী মেলায় শুধু বাঙালি হিন্দু সম্প্রদায়ের অংশগ্রহণ নয়, ত্রিপুরা, মারমা, চাকমা, মুসলিম সকল সম্প্রদায়ের মানুষের সমাগম ঘটে এখানে। বারুণী স্নান একটি ধর্মীয় উৎসব হলেও  দু’দেশের বিভিন্ন জাতি, সম্প্রদায় ও ধর্মের মানুষের সমাগমে এটি সার্বজনীন আনন্দ মেলার ঐতিহ্যে পরিনত হয়েছে।

সাব্রুমের অধিবাসি ও অসরপ্রাপ্ত শিক্ষা অফিসার  অশোকানন্দ রায় বর্ধন বলেন, ত্রিপুরা রাজ্যের ভারতবিভক্তের বহু আগে থেকেই এ মেলা চলে আসছে। এটা হিন্দুদের পার্বন হলেও এখন অসম্প্রদায়িক উৎসবে রুপ নিয়েছে, দু’দেশের সংস্কৃতির অংশ হয়ে পড়েছে।  তাই একদিনের এ মহামিলনকে আরও প্রাণবন্ত ও সুশৃঙ্খল করতে প্রয়োজন দু’দেশের সরকারী পর্যায়ে যৌথ উদ্যোগ।




রামগড় আ,লীগের সংবাদ সন্মেলনে দাবী : উপজেলা চেয়ারম্যানের বাসভবনে কথিত হামলার ঘটনা মিথ্যা

20170325_185712

রামগড় প্রতিনিধি
রামগড় উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম ভুইয়ার বাসায় হামলা এবং তাঁর প্রাণ নাশের চেস্টার অভিযোগ মিথ্যা ও সাজানো নাটক বলে দাবি করেছে আওয়ামীলীগ।

বৃহস্পতিবার খাগড়াছড়ি জেলা বিএনপি এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে অভিযোগ করে, রামগড়ে  আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক কাজী আলমগীরের নেতৃত্বে ৩০/৩৫ জন সন্ত্রাসী উপজেলা চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম ভুইয়ার বাস ভবনে হামলা চালায় এবং তাঁর  প্রাণ নাশের চেষ্টা করা হয়। বিএনপির এই প্রেস বিজ্ঞপ্তিটি পার্বত্যনিউজ ডট কমসহ কয়েকটি অন লাইন সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত হয়। এর প্রেক্ষিতে শুক্রবার সন্ধ্যা ৭টায় দলীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সন্মেলনের আয়োজন  করে আওয়ামীলীগ।

সংবাদ সন্মেলনে আওয়ামীলীগের নেতৃবৃন্দ বলেন, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত দলীয় অফিসে গণ হত্যা দিবস ও স্বাধীনতা দিবস পালনের প্রস্তুতি সভা হয়। এতে আওয়ামীলীগ ও অংগ সংগঠনের নেতাকর্মীরা সবাই উপস্থিত  ছিলেন। রাতে অনলাইন সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত বিএনপির প্রেস রিলিজে তারা জানতে পারেন  উপজেলা চেয়ারম্যানের বাসায় কথিত হামলার কথা।

আওয়ামীলীগ নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, হামলার ঘটনা মিথ্যা। আর হয়ে থাকলে তা বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দল  অথবা পারিবারিক দ্বন্দ্বে হতে পারে। আবার সাজানো ঘটনা ঘটিয়ে আওয়ামীলীগের সুনাম নষ্ট করার ষড়যন্ত্রও হতে পারে।

বিগত বিএনপি জামায়াত সরকারের আমলে রামগড়ে আওয়ামীলীগের নেতা কর্মী সমর্থকদের উপর অত্যাচার, নির্যাতন ও বাড়িঘর ছাড়া করার কথা উল্লেখ করে তারা বলেন, আওয়ামীলীগ নেতার মায়ের জানাজায়ও আসতে দেয়া হয়নি। অথচ দল ক্ষমতায় আসার পর আওয়ামীলীগ অত্যাচার,  নির্যাতনের প্রতিশোধ না নিয়ে সব দলের সহবস্থানের পরিবেশ গড়ে তোলা হয়েছে। শান্তি পূর্ণ সহবস্থান নষ্ট করে ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করতে বিএনপি  একের পর এক মিথ্যা  অভিযোগ তুলছে।

সংবাদ সন্মেলনে উপজেলা চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম ভুইয়ার বিরুদ্ধে সরকারি বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের টাকা লুটপাটসহ দাপ্তরিক নানা অনিয়ম, দুর্নীতির অভিযোগ করা হয়।

সংবাদ সন্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন উপজেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ন আহবায়ক কাজী  নুরুল আলম (আলমগীর)। বক্তব্য দেন, খাগড়াছড়ি জেলা আওয়ামীলীগের সদস্য শের আলী ভুইয়া, উপজেলা আওয়ামীলীগের আহবায়ক ও ইউপি চেয়ারম্যান মো. শাহ আলম, উপজেলা আওয়ামীলীগের সাবেক সভাপতি মো. মোস্তফা হোসেন, পৌর আওয়ামীলীগের আহবায়ক  রফিকুল ইসলাম কামাল।

উপস্থিত ছিলেন, পৌর আওয়ামীলীগের যুগ্ন আহবায়ক বিশ্ব ত্রিপুরাসহ আওয়ামীলীগ, ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতৃবৃন্দ  ।




রামগড়ে গণহত্যা দিবস পালিত

20170325_111536 copy

রামগড় প্রতিনিধি:

যথাযোগ্য  মর্যাদায়  রামগড়ে  পালিত হয়েছে ২৫ মার্চ গণহত্যা দিবস। উপজেলা প্রশাসন দিবসটি উপলক্ষে এক আলোচনা সভার আয়োজন করে। উপজেলা অডিটোরিয়ামে সকাল ১০টায় অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায়  সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী  অফিসার মো. আল মামুন মিয়া।

এতে বক্তব্য দেন উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান  আব্দুল  কাদের, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার  মো. মফিজুর রহমান, উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতা ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান কাজী নুরুল আলম, রামগড় থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মাইন  উদ্দিন খান, সাংবাদিক মো., নিজাম উদ্দিন লাভলু, সাবেক ছাত্রলীগ নেতা শাহ আলম প্রমুখ।

সমাজ উন্নয়ন প্রকল্পের উপজেলা কর্মকর্তা মো. মতিউর রহমানের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায়  সহকারী কমিশনার (ভূমি) তামান্না নাসরিন উর্মিসহ বিভিন্ন বিভাগের সরকারী কর্মকর্তা, মুক্তিযোদ্ধা, রাজনৈতিক ব্যক্তি, স্কুলের ছাত্র ছাত্রী ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ  উপস্থিত ছিলেন।




রামগড় উপজেলা চেয়ারম্যানের প্রাণ নাশের চেষ্টার অভিযোগ

প্রেস বিজ্ঞপ্তি :

২৪ মার্চ শুক্রবার অনুমানিক সন্ধ্যা ৭.৪৫টার সময় রামগড়ের উপজেলা চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম ফরহাদের বাসায় সন্ত্রাসী হামলা চালিয়েছে সরকারি দলের ক্যাডার-রা। রামগড় আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক কাজী আলমগীরের নেতৃত্বে ৩০-৩৫ জনের একটি সন্ত্রাসী গ্রুপ অতর্কিতভাবে দেশীয় অস্ত্র-স্বস্ত্রে বাড়ীতে হামলা চালিয়ে ঘরের প্রধান ফটক ভাঙ্গার চেষ্টা করে। ফটক ভাঙ্গতে ব্যর্থ হয়ে অন্যান্য দরজা-জানালা, লাইট পোস্ট সহ দুইটি মোটর সাইকেল ভাংচুর করে ব্যপক ক্ষতি সাধন করে এবং এ হামলায় পাঁচজন আহত হয়। আমরা আশংকা করছি বাড়ীর প্রধান ফটক ভাঙ্গতে পারলে উপজেলা চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম ফরহাদের প্রাণনাশের চেষ্টা করতো।

অপরদিকে একই সময়ে মাটিরাংগা উপজেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক ইসমাইল’কে তাইন্দং বাজারে একটি দোকানে চা-নাস্তা করা অবস্থায় সরকারি দলের ক্যাডার-রা অতর্কিতে হামলা করে। এতে ইসমাইলের ডানহাত ভেঙ্গে এবং শরীরের বিভিন্ন জায়গায় মারাত্মকভাবে জখম করে। বর্তমানে তাকে মুমুর্ষ অবস্থায় মাটিরাঙ্গা হাসপাতাল হয়ে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে।

উপরোক্ত ঘটনা ও সন্ত্রাসী কর্মকান্ড সমূহ পরিকল্পিত এবং এ জেলায় যাতে কোন বিএনপি নেতাকর্মী থাকতে না পারে সরকারি দলের ক্যাডার বাহিনী সে ব্যাবস্থা করছে বলে আমরা আশংকা করছি।

ঘটনা সমূহের তদন্তপূর্বক জড়িত সন্ত্রাসীদের আইনের আওতায় এনে বিচারের দাবী করেছেন জেলা বিএনপির সভাপতি ওয়াদুদ ভূইয়া সহ সকল নেতৃবৃন্দ। অন্যথায় খাগড়াছড়ি জেলা বিএনপি হরতাল অবরোধ সহ কঠোর কর্মসূচী প্রদানে বাধ্য হবে।




রামগড়ে যাত্রীবাহী বাস উল্টে আহত ২০

Ramgarh 24

রামগড় প্রতিনিধি:

খাগড়াছড়ির রামগড়ে যাত্রীবাহী বাস উল্টে শিশু ও নারীসহ প্রায় ২০জন যাত্রী আহত হয়েছে। শুক্রবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে জালিয়াপাড়া রামগড় সড়কের পাতাছড়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। আহতদের মধ্যে চারজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

পুলিশ ও আহত যাত্রীদের সাথে আলাপ করে জানা গেছে, জেলার মাটিরাঙ্গার তাইন্দং থেকে ফেণীর উদ্দেশ্যে ছেড়ে আসা একটি যাত্রীবাহী বাস (নম্বর ফেনী জ ১১-০০১৯) জালিয়াপাড়া রামগড় সড়কের পাতাছড়া আনসার ক্যাম্প এলাকায় পৌঁছলে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি গাড়িকে সাইড দিতে গিয়ে পাশের উঁচু টিলার সাথে ধাক্কা খেয়ে  রাস্তার উপর উল্টে পড়ে। এতে শিশু ও নারীসহ প্রায় ২০জন যাত্রী আহত হয়।

24.3 copy

দুর্ঘটনার সাথে সাথে নিকটস্থ ক্যাম্পের আনসার সদস্য ও স্থানীয় এলাকাবাসী আহতদের উদ্ধার করে রামগড় হাসপাতালে পাঠায়। আহতদের মধ্যে  মেহেদী হোসেন(৫), তার মা আমেনা আক্তার(৩০), আবুল কাশেম(৩০), নুর আলম(৩৫) ও মনোয়ারা বেগম(৩৫)কে আশঙ্কাজনক অবস্থায় রামগড় হাসপাতাল থেকে চট্টগ্রাম ও কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে রামগড় হাসপাতালে ১০জন চিকিৎসাধীন আছে। এরা হচ্ছে, অন্তর(১৬), মাহবুব আলম(৩০), স্ত্রী জামিলা(২৬), সুফিয়া বেগম(৩৪), জান্নাত(৮), মনির আলম(২২), খোরশেদ(১৭), মফিজ(৭০) রবিউল(১৫) ও মো. হোসেন(২৫)।

আহতদের মধ্যে অন্যরা প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরেছে। রামগড় সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সৈয়দ মোহাম্মদ ফরহাদ দুর্ঘটনায় আহতদের দেখতে হাসপাতালে যান। তিনি তাদের চিকৎসার খোঁজখবর নেন।

রামগড় থানার সেকেন্ড অফিসার এসআই আনোয়ার জানান, দুর্ঘটনাগ্রস্ত  বাসটি পুলিশের হেফাজতে নেয়া হয়েছে। চালক পালিয়ে গেছে।




রামগড়ে অবৈধ পাহাড় কাটার দায়ে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা

রামগড় প্রতিনিধি:

খাগড়াছড়ির রামগড়ে বৃহষ্পতিবার বিকালে অবৈধ ভাবে পাহাড় কাটার দায়ে এক ব্যক্তির ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমান  আদালত। পাহাড় কাটার কাজে ব্যবহৃত একসেভেটরটি মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেয়া হয়েছে। ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করেন রামগড় উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) তামান্না নাসরিন উর্মি।

জানা যায়, বৃহষ্পতিবার বিকাল ৪টার দিকে অবৈধভাবে পাহাড় কাটার খবর পেয়ে রামগড় উপজেলার বাগানটিলা এলাকায় অভিযানে যান ভ্রাম্যমান আদালত।

এ সময় ওই এলাকায় অবৈধভাবে পাহাড় কাটার দায়ে মজিবুর রহমান সুমন নামে এক ব্যক্তির ৫০ হাজার টাকার জরিমানা করেন ভ্রান্যমান আদালত। এ সময় পাহাড় কাটার কাজে ব্যবহৃত এসকেভেটরও আটক করা হয়। পরে মুচলেকা নিয়ে এটি ফেরৎ দেয়া হয়।

ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনাকারী সহকারী কমিশনার(ভূমি) তামান্না নাসরিন উর্মি বলেন, পরিবেশ সংরক্ষণ আইন ১৯৯৫ এর ৬(খ) ধারায় পাহাড় কাটার অপরাধে ওই ব্যক্তিকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।




রামগড়ে বিশ্ব পানি দিবস উদযাপিত

20170322_112614-2 copy

রামগড় প্রতিনিধি:

দেশের অন্যান্য স্থানের মত রামগড়েও বুধবার উদযাপিত হয়েছে বিশ্ব পানি দিবস। উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে উপজেলা মিলনায়তনে ‘নদ নদী খাল বিলে দূষণ চলে যদি জনগণের দুঃখ তাতে বাড়বে নিরবধি’ এ শ্লোগানকে সামনে রেখে অনুষ্ঠিত বিশ্ব পানি দিবসের আলোচনায় প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা নির্বাহী  অফিসার মো. আল মামুন মিয়া।

বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল  কাদের, সহকারী কমিশনার (ভূমি তামান্না  নাসরিন উর্মি, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মো. মফিজুর রহমান, পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ সহকারী প্রকৌশলী আজিজুর রহমান।

অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন, রামগড় পৌরসভার কাউন্সিলর আবুল কাশেম, সাবেক ছাত্রলীগ নেতা শাহ আলম, সাংবাদিক নিজাম উদ্দিন  লাভলু, করিম শাহ প্রমুখ।




রামগড়ে সুকেন্দ্রাইপাড়া স্কুলকে লেপটপ প্রদান

20170321_143842-2 copy

রামগড় প্রতিনিধি:

খাগড়াছড়ির রামগড় পৌরসভায়  অবস্থিত  সুকেন্দ্রাইপাড়া সরকারী প্রাথমিক  বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের শিক্ষার মানোন্নয়নের লক্ষ্যে স্কুলের জন্য একটি লেপটপ প্রদান করেছেন স্কুলেরই প্রাক্তন ছাত্র ফিরোজ আহমেদ রানা।

মঙ্গলবার লেপটপ প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ও বিশেষ অতিথি ছিলেন যথাক্রমে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আল মামুন মিয়া ও রামগড় পৌরসভার মেয়র মো. শাহ জাহান কাজী রিপন। সভাপতির বক্তব্য দেন উপজেলা সহকারী শিক্ষা অফিসার মো আবু ইউছুপ।

এছাড়া স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা রওশন আরা চৌধুরি ও ঢাকাস্থ উইনকম সিস্টেমের মালিক ফিরোজ আহমেদ রানা বক্তব্য দেন। প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী  অফিসার মো. আল মামুন মিয়া ফিরোজ আহমেদ রানার উদ্যোগের প্রশংসা করে বলেন, সমাজের অর্থ বিত্তশালীদের এভাবে এগিয়ে আসা উচিৎ।

শিক্ষকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, স্কুলে অনেক সমস্যা আছে, থাকবে। সব সমস্যা এক সাথে সমাধান করা সম্ভব না। সমস্যার মধ্যে থেকেই নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করতে হবে। শিশুদের মাতৃস্নেহে লেখাপড়া শিখাতে হবে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মেয়র  মো. শাহ জাহান কাজী রিপন বলেন, প্রাক্তন ছাত্র হয়ে  স্কুলের প্রতি ফিরোজ আহমেদ রানার আন্তরিকতা ও ভালবাসার নিদর্শন হল লেপটপটি। তার এ দৃষ্টান্ত অন্যদের এ ধরণের কাজে অনুপ্রেরণা দেবে। তিনি স্কুলের কিছু সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ নেবেন বলেও জানান। অনুষ্ঠানে স্কুলের অন্যান্য শিক্ষক শিক্ষিকা, পরিচালনা কমিটির সদস্য, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন।




রামগড়ে বজ্রপাতে বৃদ্ধা নিহত

রামগড় প্রতিনিধি:

খাগড়াছড়ির রামগড়ে সোমবার সকালে বজ্রপাতে রোকেয়া বেগম(৬০) নামে এক বৃদ্ধা  নিহত হয়েছেন।

জানা যায়, রামগড় উপজেলাধীন রামগড় ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের বাঁশপাড়া গ্রামে সকাল ৮টার দিকে গোয়াল থেকে গরু বের করার সময় বিকট শব্দে বজ্রপাত হয়। এতে আব্দুর রউফ বদির বৃদ্ধা স্ত্রী রোকেয়া বেগম মাটিতে লুটে পড়েন। অচেতন অবস্থায় রামগড় উপজেলা হাসপাতালে নেয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

সাবেক ইউপি সদস্য করিমুল হক মজুমদার জানান, বজ্রপাতে ওই মহিলার গরুটিও মারা যায়।




ওয়াদুদ ভূইয়ার আম বাগান জ্বালিয়ে দিয়েছে দুর্বৃত্তরা

17352698_1575079649188629_1334264419_n copy

নিজস্ব প্রতিবেদক, খাগড়াছড়ি:

খাগড়াছড়ি জেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য ওয়াদুদ ভূইয়া রামগড়ের ফলদ বাগান জ্বালিয়ে দিয়েছে দৃর্বৃত্তরা। এতে বাগানের মুকুল আসা বিপুল সংখ্যক আম্রপালি আম গাছ জ্বলে গেছে। তবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জানা যায়নি।

ওয়াদুদ ভূইয়া ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, রামগড়ের তৈচালা পাড়া এলাকায় বিজিবি সেক্টরের পূর্বপাশে তার প্রায় সাত একর পাহাড় রয়েছে। সেখানে প্রায় পাঁচ একর পাহাড়ে আম্রপালিসহ বিভিন্ন প্রজাতির ফলদ গাছ রয়েছে। কিন্তু বিরাজমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে গত দুই বছর বাগান পরিচর্যা করা সম্ভব হয়নি। চলতি বছর পরিচর্যা করার পর প্রতিটি আম্রপালি গাছে প্রচুর মুকুল এসেছে। কিন্তু বৃহষ্পতিবার রাতে আগুন দিয়ে বাগানটি জ্বালিয়ে দিয়েছে দুর্বৃত্তরা।এতে বাগানের প্রায় এক তৃতীয়াংশ আম্রপালি গাছ জ্বলে গেছে। তিনি এ ঘটনাকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা বলে দাবি করেন।

রামগড় উপজেলা চেয়ারম্যান শহীদুল ইসলাম ফরহাদ জানান, সন্ত্রাসীরা বাগানে পরিকল্পিতভাবে আগুন দিয়েছে এতে কোন সন্দেহ নেই। এ ব্যাপারে থানায় সাধারণ ডায়েরি করার প্রস্তুতি চলছে বলেও তিনি জানান।

রামগড় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাঈন উদ্দীন জানান, বিষয়টি স্থানীয় উপজেলা চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম ফরহাদ শনিবার রাতে জানিয়েছেন। তাকে সাধারণ ডায়েরি করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। অভিযোগ পেলে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।