রামগড়ের দুর্গম এলাকায় বাঙালিদের ভূমিতে চা শ্রমিক পরিবারগুলোর বসতি করানোর চেষ্টা ব্যর্থ

Ramgarh 29

রামগড় প্রতিনিধি:

পাহাড়ি সন্ত্রাসীদের হাতে অপহৃত ফটিকছড়ির নাছেহা চা বাগানের ত্রিপুরা শ্রমিকের মধ্যে আরও ৯টি পরিবারের ৩১জন  পালিয়ে এসেছে। শুক্রবার গভীর রাতে ও শনিবার সকালে এরা বাগানে পালিয়ে আসে। নিরাপত্তাবাহিনী ও বিজিবির উপর্যপরি অভিযানের মুখে সন্ত্রাসীরা এদের ছেড়ে দেয় বলে ফিরে আসা শ্রমিকরা জানান।  এনিয়ে অপহৃত ৭৮জনের মধ্যে ৫৪জন ফিরেছে। বর্তমানে ৫টি পরিবারের ২৪জন এখনও ফিরেনি।

২১ এপ্রিল বাগানের ১৯টি পরিবারের নারী ও শিশুসহ ৭৮জনকে অপহরণ করে সন্ত্রাসীরা। এদিকে পাহাড়ি সন্ত্রাসীদের চা শ্রমিক পরিবারগুলোকে রামগড়ের বিভিন্ন দুর্গম এলাকায় বাঙালিদের অনাবাদি টিলা ভূমিতে জোর করে বসতি করানোর চেষ্টাও ব্যর্থ করে দিয়েছে আইনশৃঙ্খলাবাহিনী।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার রাত ১টার দিকে সাতটি ত্রিপুরা পরিবারের নারী ও শিশুসহ ২২জন বাগানে তাদের বাড়িঘরে ফিরে আসে। বাগান  কর্তৃপক্ষ ফিরে আসা শ্রমিক পরিবারদের জন্য রাতেই খাবারের ব্যবস্থা করেন।

শনিবার সকালে ফিরে আরও দুটি পরিবারের ৯জন। ফিরে আসা শ্রমিক পরিবারের বয়স্ক ও নারী, শিশুরা অনেকটা অসুস্থ। অনাহারে, অর্ধাহারে থেকে তারা শারীরিকভাবে অত্যন্ত দুর্বল হয়ে পড়েছে।

কয়েকজন শ্রমিক জানান, শুক্রবার সন্ধ্যায় ছাড়া পেয়ে তারা পরিবার পরিজন নিয়ে দীর্ঘ ৪০-৪৫ কিলোমিটার পথ পায়ে হেঁটে গভীর রাতে বাগানে পৌঁছেন। দীর্ঘ পাহাড়ি পথ পায়ে হাঁটার কারণে অনেকেই অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। তারা আরও জানান, নিরাপত্তাবাহিনী ও বিজিবি দফায় দফায় ওই এলাকায় অভিযান চালানোর কারণে সন্ত্রাসীরা তাদের ছেড়ে দেয়।

বাগানের ব্যবস্থাপক মুনির হায়দার জানান, শুক্রবার গভীর রাতে সাত পরিবার বাগানে ফিরে আসার পরই তাদের জন্য রাতের খাবারের ব্যবস্থা করা হয়। শনিবার শ্রমিকদের আর্থিক সহায়তাও দেয়া হয়।

তিনি আরও বলেন, বেশ কয়েকজন বৃদ্ধ ও নারী শ্রমিক অসুস্থ। এদের ওষুধপত্র দেয়া হয়েছে। বাগান ব্যবস্থাপক জানান, বর্তমানে  ৫টি পরিবারের ২৪জন সদস্য এখনও ফিরেনি।

এদিকে, আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর একটি সূত্র জানায়, বাগান থেক অপহৃত ত্রিপুরা পরিবারগুলোকে পার্বত্য চট্টগ্রামের একটি সন্ত্রাসী গ্রুপ খাগড়াছড়ির রামগড় উপজেলার দুর্গম বিভিন্ন পাহাড়ি এলাকায় বসবাস করানো চেষ্টা চালায়।

সূত্র জানায়, রামগড়ের গুজা পাড়া, মরা কয়লা, গরু কাটা, মাঝিরামপাড়া প্রভৃতি দুর্গম এলাকায় বাঙালি অনাবাদি পাহাড়ি টিলায় বাগানের এসব শ্রমিকদের জোর করে বসতি স্থাপন করানোর জন্য পরিকল্পনা নেয়া হয়। এ জন্য টিলাগুলোতে বেশ কয়েকটি বাঁশ ও কাঠের কাঁচা ঘরও নির্মাণ করা হয়।

সূত্র জানায়, অপহৃত ত্রিপুরা পরিবারগুলোকে উদ্ধারে নিরাপত্তাবাহিনী ও বিজিবির অভিযানের সময় ঘরগুলোর সন্ধান মেলে। আইনশৃঙ্খলাবাহিনী অউপজাতীয় অনাবাদি এসব ভূমি দখলের উদ্দেশ্যে কয়েকটি নির্মাণাধীন কাঁচাঘর ভেঙ্গে দেয়।

বাগানে পালিয়ে আসা শ্রমিকরা জানান, তারা যুগ যুগ ধরে বাগানে বসবাস করছেন। জীবিকা নির্বাহ করছেন। তারা দাঁতমারা ইউনিয়নেরই ভোটার। পাহাড়ি সন্ত্রাসীরা তাদেরকে তুলে নিয়ে রামগড়ের দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় বসবাস করাতে চেয়েছে। কিন্তু কোন শ্রমিক তাদের কথায় রাজী হয়নি। একজন বৃদ্ধ শ্রমিক জানান, তাদের প্রস্তাবে রাজী না হওয়ায় কয়েকজনকে মারধরও করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ১৫ এপ্রিল নাছেহা চা বাগানের শ্রমিক তশিরাম ত্রিপুরার কন্যা শব্দ মিলা ত্রিপুরা(২০) সোনারখীলের হাক্কিটিলা গ্রামের সুরত আলীর ছেলে আরিফের (২৫) সাথে পালিয়ে বিয়ে করার জের ধরে পার্বত্য এলাকার একটি পাহাড়ি সন্ত্রাসী গ্রুপটি নাছেহা চা বাগানের ১৯টি ত্রিপুরা চা শ্রমিক পরিবারের ৭৮জনকে তুলে নিয়ে যায়।




রামগড়ে জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মেলার উদ্বোধন

unnamed (1) copy

রামগড় প্রতিনিধি:

’উন্নত আগামীর জন্য বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি’ শ্লোগানকে সামনে রেখে খাগড়াছড়ির রামগড়ে শনিবার উদ্বোধন করা হয়েছে দুই দিনব্যাপী জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মেলার। ৩৮তম বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সপ্তাহ উপলক্ষ্যে উপজেলা প্রশাসন এ মেলার আয়োজন করে। উপজেলা অডিটোরিয়ামে সকাল ১১টায় অনুষ্ঠিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন রামগড় উপজেলা নির্বাহি অফিসার মো. আল মামুন  মিয়া।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সৈয়দ মোহাম্মদ ফরহাদ, রামগড় সরকারি কলেজের প্রভাষক  মো. মুনির হোসেন, উপজেলা পরিষদের সংরক্ষিত সদস্য ফাতেমা খাতুন, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি মোস্তফা হোসেন প্রমুখ।

অনুষ্ঠান সঞ্চালনায় ছিলেন, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার রফিকুল ইসলাম ভুইয়া। উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে উপজেলা নির্বাহি অফিসারসহ অন্যান্য অতিথিরা রামগড়  বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি  মেলার বিভিন্ন স্টলে বিজ্ঞান বিষয়ক প্রজেক্টগুলো পরিদর্শন করেন।

মেলায় রামগড় বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্রীদের ১১টি, রামগড় সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্রদের ১০টি, চৌধুরিপাড়া উচ্চ বিদ্যালয় ৪টি, বলিপাড়া জুনিয়র স্কুল ৩টি এবং নাকাপা জুনিয়র স্কুলের ছাত্রছাত্রীরা বিজ্ঞান বিষয়ক দুটি প্রজেক্ট উপস্থাপন করেছে।

রবিবার বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সপ্তাহের সমাপনি ও পুরষ্কার বিতরণী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে।




কেউ স্মরণ করেনি স্বাধীনতা যুদ্ধের প্রথম শহীদ ক্যাপ্টেন আবতাবুল কাদের’কে

aftabul kadir pic copy

গুইমারা প্রতিনিধি:

কেউ স্মরণ করেনি মুক্তিযুদ্ধে অসাধারণ অবদানের স্বীকৃতি স্বরুপ বীরউত্তম খেতাবে ভুষিত স্বাধীনতা যুদ্ধের প্রথম শহীদ ক্যাপ্টেন আবতাবুল কাদেরকে। নিরবে নিভৃতে কেঁদেছে ৪৬তম শাহাদাত বার্ষিকী।

২৭ এপ্রিল বৃহস্পতিবার এ বীর শহীদের ৪৬তম শাহাদাত বার্ষিকীতে শুধুমাত্র রামগড়স্থ শহীদ ক্যাপ্টেন কাদের বিদ্যা নিকেতনে মিলাদ ও দোয়া মাহফিল করে দায়সারা ভাবে পালন করা হয় দিবসটি। পরে রামগড় কেন্দ্রীয় কবরস্থানে অবস্থিত শহীদের কবরে পুষ্পস্থাবক অর্পণ ও জেয়ারত করা হয়। কিন্তু দেশের প্রথম এ শহীদকে নিয়ে কেন্দ্রীয় ভাবে কিংবা সরকারের উচ্চ পর্যায়ের পক্ষ থেকে তার শাহাদাত বার্ষিকী পালন তেমন একটা লক্ষ করা যায়নি।

১৯৭১ সালের ২৭ এপ্রিল স্বাধীনতা যুদ্ধকালীন পাক ও মিজো বাহিনীর সাথে সম্মুখ যুদ্ধে নিজের জীবন উৎসর্গ করে দেশের জন্য প্রথম শহীদ হন ক্যাপ্টেন আফতাবুল কাদের (বীর উত্তম)। এ শহীদ বীর মুক্তিযুদ্ধাকে খাগড়াছড়ি জেলার রামগড় উপজেলা সদরে সমাহিত করা হয়। তাকে কবরস্থ করার সময় তার হাতে বিবাহের মেহিদীর রং ঝলঝল করছিল। তিনি সদ্য বিবাহিত স্ত্রীকে রেখে বাংলা মা’কে শক্রদের হাত থেকে রক্ষা করার জন্য ঝাঁপিয়ে পড়ে ছিলেন। স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় মুক্তিযুদ্ধে অন্যন্য অসাধারণ ও গৌরবউজ্জ্বল অবদানের স্বীকৃতি স্বরুপ বাংলাদেশ সরকার ১৯৭৩ সালে তাকে মরনোত্ত্বর বীর উত্তম উপাধিতে ভূষিত করেন।

জানাযায়, ১৯৪৭ সালের ২৫ ডিসেম্বর দিনাজপুর জেলায় জন্মগ্রহণ করেন তিনি। পৈত্রিক নিবাস ছিল লক্ষীপুরের রামগঞ্জে টিওড়া গ্রামে। তার মাতা রওশনারা বেগম একজন গৃহিনী হলেও বাবা অবদুল কাদের ছিলেন ইংরেজ আমলের একজন ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট।

তিনি ১৯৬৪ সালে ময়মনসিংহ জেলার মৃত্যুঞ্জয় স্কুল থেকে এসএসসি এবং ১৯৬৬ সালে আনন্দ মোহন কলেজ থেকে এইচএসসি পাশ করেন। পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যায়ে ইংরেজিতে (সম্মান) ভর্তি হন। ১৯৬৭ সালে পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে যোগ দেন তিনি। ১৯৬৯ সালে তিনি আর্টিলারী কমিশন প্রাপ্ত হন। ১৯৭০ সালে তিনি পাকিস্তান হায়দ্রাবাদ ক্যান্টনমেন্ট ৪০ফিল্ড আর্টিলারী রেজিমেন্টে ক্যাপ্টেন হিসেবে যোগদেন।

১৯৭১ সালে ২৮শে ফেব্রুয়ারি সংসার নামে একটি ছোট ঘর বাঁধার স্বপ্ন নিয়ে সরকারী কর্মস্থল পাকিস্তানের হায়দ্রাবাদ থেকে ছুটিতে নিজবাড়ি ঢাকায় এসেছিলেন। মা প্রাণের টুকরো সন্তানের জন্য ঘরণী করে আনেন এক সুন্দরী বউ। ২৫ মার্চ কালো রাতে পাক বাহিনী পৈচাসিক বর্বরোচিত হত্যাযজ্ঞ শুরু করলে পাক হানাদারদের নির্মম কর্মকাণ্ডের তীব্র ক্ষোভ, প্রতিরোধ আর পরাধীনতার শৃঙ্খল ভাঙার দৃঢ় প্রত্যয়ে প্রিয় ঘর, ঘরণীর মধুর বন্ধন ছিন্ন করে তরুণ অফিসার ঝাঁপিয়ে পড়েন মুক্তিযুদ্ধে।

যোগদান করেন ৮মে ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের মেজর জিয়ার এক নম্বর সেক্টরে। ২৮ মার্চ তিনি যুদ্ধে অংশ নিতে চট্রগ্রামের পথ বেয়ে ফেনীর শুভপুর হয়ে ২এপ্রিল রাতে কাদের পর্দাপন করেন সীমান্ত শহর রামগড়ে। শুরু হয় তার কর্মব্যস্ততা। রামগড় কে শত্রুমুক্ত রাখার লক্ষ্যে তিনি ইপিআর হাবিলদার কাশেম’র প্লাটুনসহ ৫ এপ্রিল সফল অপারেশন চালিয়ে ধুমঘাট রেলওয়ের ব্রিজ উড়িয়ে দেন।

প্রায় ৫০০ সংগ্রামী তরুণ এসে জড়ো হয় রামগড় সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে। তাদের উদ্দেশ্য ছিল একটাই অস্ত্র ট্রেনিং নেওয়া। এতদিন বেঙ্গল রেজিঃ আর ইপিআর (ইস্টপাকিস্তান রাইফেল্স) যুদ্ধ করেছে পাকহানাদার বাহিনীর সাথে এবার করবে বাংলার তরুণ সমাজ। তিনি নিজেই প্রশিক্ষণার্থীদের দায়িত্ব ভার গ্রহণ করেন। তার সহযোগী হিসেবে বেছে নেন ইপিআর সুবেদার একেএম, মফিজুল বারি (বিডিআর এর প্রথম উইং কমান্ডার) এবং কয়েকজন ইনস্ট্রাকটর প্লাটুনে ভাগ করে দেয়া হয় সবাইকে। শুরু হয় পুরোদমে মুক্তিযুদ্ধের ট্রেনিং। শতশত মুক্তিকামী যুবক দুঃসাহসী যোদ্ধা হিসেবে গড়ে তোলা হয় প্রশিক্ষণ কেন্দ্র।

১০ এপ্রিল মেজর জিয়া, লে. খালেকুজ্জামানসহ ক্যাপ্টেন কাদের ৫০জনের একটি গ্রুপের সাথে খাগড়াছড়ির উদ্দেশ্যে রামগড় ত্যাগ করেন। তিনি তার গ্রুপসহ মহালছড়ি, রাঙ্গামাটি, মানিকছড়ি, বিভিন্ন স্থানে বিচরণ করেন। রাঙ্গামাটি বন্ধুক ভাঙ্গা নামক স্থানে অবস্থান কালে তারা প্রায় দুই লঞ্চবোঝাই পাকবাহিনীর হাতে বাধা গ্রস্থ হয়। প্রায় দুই ঘন্টা যুদ্ধে এ দ্বীপে শক্রপক্ষের বেশ কয়েক জন সৈন্য নিহত হয়। শেষ পর্যন্ত পিছু হটতে বাধ্য হয় পাকবাহিনীর সদস্যরা।

এদিকে পাকসেনারা নিজেদের দলভারী করার জন্য হাজার হাজার মিজোদের তাদের দলে অর্ন্তভুক্ত করে প্রশিক্ষণ দেয়। আর মুক্তি যোদ্ধাদের গুরুত্বপূর্ণ সকল ঘাঁটির উপর বিমান হামলা শুরু করে। অন্যদিকে মুক্তিবাহিনীর রসদ এবং গোলা বারুদ শেষ হবার পথে, তাছাড়া মুক্তি যোদ্ধাদের অধিকাংশেরই ছিলোনা পাহাড়ি এলাকায় কোন যুদ্ধের পূর্ব প্রশিক্ষণ। মুক্তি যোদ্ধারা পরবর্তীতে পজিশন দুর্বল হয়ে পড়ে প্রায়। ঠিক এ নাজুক পরিস্থিতিক্ষণে ২৭ শে এপ্রিল সকালে মহালছড়িতে অবস্থানকারী মুক্তিযোদ্ধারা আক্রান্ত হয় শত্রু বাহিনীর হাতে। শত্রুরা ছিলো দলে ভারী ও একটি নিয়োমিত কমান্ডো কোম্পানী। তাদের ছিলো ১৫-১৬শ মিজোর দুটি ব্রিগ্রেড। যা মুক্তিযোদ্ধাদের সংখ্যার চেয়ে দু’তিন গুন বেশি। ক্যাপ্টেন কাদের ছিলেন, রাঙ্গামাটি রেকিতে। রেকি শেষে মেজর শওকতের প্লান অনুযায়ী ক্যাপ্টেন কাদের অসীম সাহসের সাথে বীর দর্পে শত্রুদের উপর ঝাঁপিয়ে পড়েন মহালছড়িতে তুমুল যুদ্ধে।

তার অসামান্য রনকৌশলের কাছে শত্রুরা হেরে গিয়ে পিছু হটতে বাধ্য হয়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত জীবন বাঁচানোর তাগিতে পাক হানাদাররা বেপরোয়া হয়ে ওঠে। তারা মিজোদের সামনে রেখে একটার পর একটা আক্রমন চালিয়ে সামনে অগ্রসর হয়। মুক্তি যোদ্ধাদের পাল্টা আক্রমনে মিজোরা পিছু হঁটতে চাইলে পাকবাহিনীরা এমন ভাব দেখাত যে, পিছু হঁটতে চাইলে তারা নিজেরাই মিজোদের হত্যা করবে। তাই তারা এক রকম উম্মাদ হয়ে ওঠে।

এদিকে তিনটি এলএমজির মধ্যে একটি এলএমজি অচল হয়ে পরলে তা স্বচল করার চেষ্টা কালে শত্রুরা মুক্তিযুদ্ধাদের ঘিরে ফেলে, গর্জে ওঠে পাক-বাহিনীর মেশিন গান, তারা আফতারকে লক্ষ্য করে কয়েক রাউন্ড গুলি করলে মহালছড়ি থানার কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের সামনে কবর স্থানের ডান পার্শে বটবৃক্ষের নিচে গুলিবিদ্ধ হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন ক্যাপ্টেন কাদের। যুদ্ধ দু’পক্ষের মধ্যে তখনও চলছেই। গুরুতর আহত অবস্থায় মেজর মীর সওকতের নির্দেশে সহকর্মীরা সহযোদ্ধা, শওকত আলী এবং সিপাহী ড্রাইভার আব্বাস আহত কাদেরকে বহন করে নিরাপদে একটি জীপযোগে রামগড় নিয়ে যাওয়ার পথে জালিয়াপাড়া নামক স্থানে তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন।

এসময় গুইমারাতে আহত কাদেরকে পান করানো হয় জীবনের শেষ পানি। ২৭ শে এপ্রিল বিকালে শহীদ বীরযোদ্ধা ক্যাপ্টেন কাদের’র পবিত্র মরদেহ রামগড় নিয়ে আসা হয়। এসময় সকলের চোখে মুখে নামে শোকের ছায়া। সন্ধ্যার প্রক্কালে রামগড় কেন্দ্রীয় মসজিদ প্রাঙ্গনে ইমাম মাওলানা মোহাম্মদ মোস্তফার পরিচালনায় শহীদ ক্যাপ্টেন আফতাবুল কাদেরের জানাজা নামাজ শেষে কেন্দ্রীয় কবরস্থানে পূর্ণ সামরিক ও ধর্মীয় মর্যাদায় দাফন করা হয়।

মুক্তিযুদ্ধের অসাধারণ ও গৌরবোজ্জ্বল অবদানের স্বীকৃতির স্বরুপ ১৯৭৩ সালে সরকার ক্যাপ্টেন আফতাবুল কাদেরকে মরণোত্তর ‘বীর উত্তম’ উপাধিতে ভূষিত করেন। তার নামে স্মৃতি সৌধ (খাগড়াছড়ি), ভার্স্কয (মহালছড়ি), কেজি স্কুল (রামগড়), রাস্তার নাম করণ (রামগড়) করা হয়েছে। রামগড়ে চির নিদ্রায় শায়িত বীরযুদ্ধা ক্যাপ্টেন আফতাবুল কাদের মরণোত্তর “বীর উত্তম” উপাধিতে ভূষিত করা হলেও তার নামে আজো কোন স্মৃতি জাদুঘর প্রতিষ্ঠান করা হয়নি। এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সু-দৃষ্টিসহ পার্বত্য চট্টগ্রামবাসীর দাবি শিঘ্রই রামগড়ে তার নামে একটি স্মৃতি যাদুঘর স্থাপনের জন্য জোর দাবি জানান।




রামগড়ে বনানী টেলিকমে চুরির ঘটনায় আন্তঃজেলা চোর সিন্ডিকেটের ২জন গ্রেফতার

Ramgarh 28.4.17 copy

রামগড় প্রতিনিধি:

রামগড় বাজারের উপকন্ঠে বনানী টেলিকম নামে একটি ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানে দুঃসাহসিক চুরির ঘটনায় জড়িত দুই ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এরা হচ্ছে এরশাদুল হাসান(২৫) প্রকাশ এরশাদ, প্রকাশ হাসান। সে কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার ইউছুফ নগর গ্রামের লতিফ সওদাগর বাড়ির শহীদুল ইসলাম শহীদের ছেলে। অন্যজন হচ্ছে, ফটিকছড়ির ভুজপুর থানাধীন হেঁয়াকোর পূর্বপাড়া গ্রামের মৃত অলি আহম্মদের ছেলে  লিয়াকত হোসেন(২৪)। এদের কাছ থেকে পুলিশ বনানী টেলিকমের চুরি যাওয়া মোবাইন ফোন সেটের মধ্যে দুটি স্মার্ট ফোন উদ্ধার করেছে।

পুলিশ জানায়, গ্রেফতারকৃতরা আন্ত:জেলা চোর সিন্ডিকেট দলের সদস্য। বনানী টেলিকমে চুরির ঘটনার দায় স্বীকার করে তারা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। চুরি যাওয়া স্মার্ট ফোনের আইএম ইআই নম্বরের মাধ্যমে চোরের অবস্থান নির্ণয় এবং মোবাইল ট্রেকিংয়ের মাধ্যমে আসামী এরশাদুল হাসানকে চট্টগ্রামের বাকলিয়া থানার আব্দুল লতিফ হাটের ইসলাম সওদাগর কলোনীর জনৈক গিয়াসের বাসা থেকে গ্রেফতার করা হয়। সে ওই বাসায় ভাড়া থাকতো।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মো. সুজাউদৌলা ও এসআই আনোয়ার হোসেনের নেতৃত্বে রামগড় থানার পুলিশের একটি দল বুধবার চট্টগ্রামের ওই বাসা থেকে এরশাদকে গ্রেফতার করে। তার দেয়া তথ্য অনুযায়ী ওইদিন রাতেই হেঁয়াকোর পূর্বপাড়া বাসা থেকে লিয়াকতকে গ্রেফতার করা হয়।

এসআই সুজা উদৌলা জানান, গ্রেফতারকৃতরা চুরির ঘটনার দায় স্বীকার করে খাগড়াছড়ি চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আবু সুফিয়ান মো. নোমান’র আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে।

জবানবন্দিতে তারা উল্লেখ করে,  তারা দুজনসহ আন্তঃ জেলা চোর সিন্ডিকেট দলের ১২জন সদস্য ওই প্রতিষ্ঠানে চুরির ঘটনায় অংশ গ্রহণ করে। তাদের সিন্ডিকেটের মূল হোতার নাম হানিফ। তার বাড়ি কুমিল্লায়। তার ডান হাত বিকল। ১২ জনের মধ্যে লিয়াকত ছাড়া অন্য সবার বাড়ি কুমিল্লায় বলেও এরশাদ জানায়।

জবানবন্দিতে তাদের উল্লেখ করা চুরির নগদ টাকার পরিমান ও মালামালের তথ্যের সাথে সংশ্লিষ্ট মামলার এজাহারে উল্লেখ করা  বিবরণের রিরাট ফারাক রয়েছে। জবানবন্দি গ্রহণ শেষে আদালত দুই আসামীকে জেল হাজতে প্রেরণ করেন।

গত ১৯ এপ্রিল গভীর রাতে রামগড় পৌর শহরের উপকন্ঠে অবস্থিত বনানী টেলিকম নামে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সাটারের শক্ত তালা ভেঙ্গে দুঃসাহসিক চুরি সংঘটিত হয়। চোরেরা প্রতিষ্ঠান থেকে নগদ টাকা ও দামী মোবাইল ফোন সেট, মোবাইল রিচার্জ কার্ডসহ বিভিন্ন মূল্যবান সামগ্রী চুরি করে নিয়ে যায়। ঘটনায় ২০ এপ্রিল রামগড় থানায় একটি মামলা রুজু হয়।




৭১’র ২৭ এপ্রিল মহালছড়ি যুদ্ধে শহীদ হন বীর মুক্তিযোদ্ধা ক্যাপ্টেন কাদের বীর উত্তম

downloadfile

রামগড় প্রতিনিধি:

প্রিয়তমা স্ত্রীর এবং নিজের হাতের বিয়ের মেহেদির রঙ ম্লান হওয়ার আগেই ১৯৭১ এর ২৭ এপ্রিল খাগড়াছড়ির মহালছড়িতে পাক হানাদার ও তাদের সহযোগী মিজোরদের সাথে প্রচণ্ড সন্মুখ যুদ্ধে শহীদ হন তরুণ বীরসেনা ক্যাপ্টেন আফতাবুল কাদের বীরোত্তম।

এ বীর শহীদের ৪৬তম শাহাদাৎ বার্ষিকী উপলক্ষ্যে বৃহস্পতিবার রামগড়স্থ শহীদ ক্যাপ্টেন কাদের বিদ্যানিকেতনে মিলাদ ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে।

২ এপ্রিল সীমান্তবর্তী মহকুমা শহর রামগড়ে এসে স্থানীয় স্বাধীনতাকামী যুব ও তরুণদের গেরিলা যুদ্ধের প্রশিক্ষণ দেয়া শুরু করেন। রামগড়কে শত্রুমুক্ত রাখতে তার নেতৃত্বে সর্বপ্রথম এক সফল অপারেশনের মাধ্যমে ধুমঘাট রেলওয়ে ব্রিজ ধ্বংস করা হয়। এমনিভাবে রামগড় ও এর আশেপাশের এলাকায় বহু প্রতিরোধযুদ্ধে নেতৃত্ব দেন তিনি।

২৭ এপ্রিল সকাল নয়টার দিকে মহালছড়িতে অবস্থানকারী মুক্তিযোদ্ধরা শত্রু আক্রান্ত হয়। পাকিস্তানি ও তাদের সহযোগী মিজোবাহিনীর শত্রুরা ছিল দলে ভারী। তাদের দলে ছিল পাক সৈন্যদের একটি নিয়মিত কমান্ডো কম্পানি, আর ছিল দুই ব্রিগেডে ১৫০০ মিজো সৈন্য।

যা মুক্তিযোদ্ধাদের সংখ্যার চেয়ে দু’তিন গুণ বেশি। এছাড়া বিমান থেকেও মুক্তিযোদ্ধাদের সম্ভাব্য ঘাঁটি লক্ষ্য করে একের পর এক বিমান হামলাও চালায় পাকবাহিনী। এক দিকে দু’তিন গুণ বেশি শত্রু সৈন্য, অন্যদিকে পার্বত্য এলাকায় ছিল না কোন পূর্বযুদ্ধ ট্রেনিং। তবুও অসীম সাহসিকতা নিয়ে বীরযোদ্ধারা লড়াই চালিয়ে যান।

এ সময় ক্যাপ্টেন কাদের ছিলেন রাঙ্গামাটি রেকিতে। রেকি শেষে মেজর শওকতের প্ল্যান অনুযায়ী ক্যাপ্টেন কাদের যোগ দেন মহালছড়ির এ অসম তুমুল যুদ্ধে। প্রতিকূলতা সত্ত্বেও এ অকুতোভয় তরুণ বীরযোদ্ধার সাহস ও সন্মিলিত প্রতিরোধে মিজোবাহিনী প্রথম অবস্থায় পিছু হটতে শুরু করে। এতে পাক সৈন্যরা পিছন থেকে অস্ত্র ঠেঁকিয়ে তাদের সামনে অগ্রসর হতে বাধ্য করতো।

এ অবস্থায় মিজোরা হিংস্র হয়ে উঠে। প্রায় চারিদিক থেকে ঘিরে ফেলে তারা মুক্তিযোদ্ধাদের। প্রচণ্ড যুদ্ধের এক পর্যায়ে শত্রুদের মেশিনগানের একটি গুলি এসে বিঁধে যুদ্ধরত অসীম সাহসি বীর তরুণ ক্যাপ্টেন কাদের’র বুকে। মাটিতে লুটিয়ে পড়েন তিনি। এসময় সহযোদ্ধা শওকত আলী ও ফজলুর রহমান ফারুক আহত কাদেরকে উদ্ধার করে রামগড়ে নিয়ে আসার পথে মৃত্যুবরণ করেন তিনি।

২৮ এপ্রিল ভোরে রামগড় কবরস্তানে পূর্ণ সামরিক ও ধর্মীয় মর্যাদায় সমাহিত করা হয় তাকে। সেদিন নিজের প্রাণের বিনিময়ে প্রায় ২০০ মুক্তিসেনার জীবন বাঁচিয়ে ছিলেন তিনি। এ বীর মুক্তিযোদ্ধার অতুলনীয় বীরত্বকে চিরস্মরণীয় করে রাখতে ১৯৭৪ সালে বাংলাদেশ সরকার বীর উত্তম খেতাবে ভূষিত করেন তাকে।




নাছিয়া চা বাগানের অপহৃত ৭৮ ত্রিপুরা শ্রমিকের মধ্যে ১৬ জনকে উদ্ধার করেছে বিজিবি

Ramgarh 26.4
রামগড় প্রতিনিধি :
এক ত্রিপুরা নারী চা শ্রমিক বাঙ্গালী ছেলেকে ভালবেসে পালিয়ে বিয়ে করার জের ধরে  পাহাড়ি সন্ত্রাসীদের হাতে অপহৃত ফটিকছড়ির নাছিয়া চা বাগানের ৭৮ জন ত্রিপুরা  শ্রমিকের মধ্যে ১৬ জনকে উদ্ধার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। বুধবার রামগড়ের বিভিন্ন দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় দিনভর অভিযান চালিয়ে ৫টি পরিবারের ৮ জন শিশু ও ৫ জন মহিলাসহ ১৬ জনকে উদ্ধার করা হয়।

গত শুক্রবার বাগানের ১৯টি পরিবারের নারী ও শিশুসহ ৭৮ জনকে অপহরণ করে সন্ত্রাসীরা। অপহৃতদের মধ্যে ১৪ পরিবারের ৬২ জনকে এখনও উদ্ধার করা যায়নি। বিজিবি সূত্র জানায়, তাদের উদ্ধার অভিযান অব্যাহত থাকবে।

এদিকে অপহৃতদের মধ্যে ১৬ জনকে উদ্ধারের খবর পেয়ে হাটহাজারী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হাসান আল মামুন ও রামগড় সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ নুপার সৈয়দ মো. ফরহাদ বুধবার রাতে রামগড় থানায় এসে ঐ শ্রমিকদের সাথে বলে খোঁজখবর নিয়েছেন।

জানাযায়, বুধবার সকালে রামগড় বিজিবি জোনের সহ-অধিনায়ক মেজর হুমাযুন কবিরের নেতৃত্বে একটি টহল দল অপহৃতদের উদ্ধারে অভিযান শুরু করে। ফটিকছড়ির দাঁতমারা লাগায়ো রামগড়ের গুজা পাড়া, মরা কয়লা, গরু কাটা প্রভৃতি দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় সারাদিন অভিযান চালায় বিজিবি।

এ অভিযানে রামগড়ের পাতাছড়া ইউনিয়নের গরু কাটাসহ পার্শ্ববর্তী এলাকা থেকে ৫টি চা শ্রমিক পরিবারের ১৬ জনকে উদ্ধার করা হয়। এরা হচ্ছে, সত্য কুমার ত্রিপুরা(৩৫), স্ত্রী পতিবালা ত্রিপুরা(৩০), শিশু পুত্র শুভ ত্রিপুরা(৩), কন্যা জ্যোতি ত্রিপুরা(২), রদন ত্রিপুরা(৬০), স্ত্রী মায়া লক্ষ্মী ত্রিপুরা(৫৫), শান্ত ত্রিপুরা(২৫), স্ত্রী লক্ষ্মী মালা ত্রিপুরা(২০), শিশু কন্যা রিতা ত্রিপুরা(৩), শির মতি ত্রিপুরা(৩৪), শিশু সন্তান জীবনা(৯), অরুন(৭), রুবেল(৫), বিজয়(২) এবং বিনো মালা ত্রিপুরা(৩০) ও শিশু নুপুর(৩)।

বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় এদের উদ্ধার রামগড় বিজিবি ব্যাটালিয়ন সদরে নিয়ে আসা হয়। অভুক্ত, অর্ধভুক্ত এসব উদ্ধারকৃতদের বিজিবির পক্ষ থেকে খাবারের ব্যবস্থা করা হয়।  এদিকে, অপহৃতদের মধ্যে ১৪ পরিবারের ৬২ জনকে বুধবার উদ্ধার করা যায়নি। বিজিবি জানায়, তাদের উদ্ধার অভিযান অব্যাহত থাকবে।

উদ্ধারকৃতরা জানান, উপজাতীয় সন্ত্রাসীরা চা বাগান থেকে তুলে নিয়ে যাওয়ার পর রামগড়ের দুর্গম এলাকায় আটকে রাখে। ঐ এলাকার কয়েকজন গ্রামবাসী তাদেরকে সামান্য খাবার খেতে দেয়। ছেলে মেয়ে পরিবার পরিজন নিয়ে তারা গত ৫ দিন অভুক্ত, অর্ধভুক্ত অবস্থায় কাটায়। বৃদ্ধ রদন ত্রিপুরা বলেন, তারা যুগ যুগ ধরে চা বাগানে কাজ করেন, চা বাগানেই থাকেন। বাগানের এক ত্রিপুরা মেয়ে শ্রমিক পার্শ্ববর্তী গ্রামের বাঙালি ছেলের সাথে পালিয়ে যাওয়ায় সন্ত্রাসীরা তাদেরকে বাগান থেকে নিয়ে জঙ্গলের ভিতর আটকে রাখে। অন্যান্য অপহৃতরা কোথায় আছে তারা তা জানেন না।

রামগড় বিজিবি জোন কমান্ডার লে. কর্ণেল এম জাহিদুর রশিদ বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের শান্তি চুক্তি বিরোধী সংগঠন ইউপিডিএফের সন্ত্রাসীরাই চা বাগানের ত্রিপুরা শ্রমিকদের সপরিবারে অপহরণ করে। ৫ দিন যাবৎ এদেরকে রামগড়ের দুর্গম এলাকায় আটকে রাখা হয়। অনাহারে থেকে তারা খুবই দুর্বল হয়ে গেছে।

তিনি বলেন, পাতাছড়া ইউনিয়নের মেম্বার মানেন্দ্র ঐ সন্ত্রাসী গ্রুপের হয়ে কাজ করে। তিনি জনপ্রতিনিধি হয়েও অপহৃতদের উদ্ধারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ন্যুনতম সহায়তা করেনি। জোন কমান্ডার আরও জানান, অপহৃত অবশিষ্ট লোকজনদের উদ্ধার করতে বৃহষ্পতিবার পুনরায় অভিযান চালানো হবে। সিন্ধুকছড়ি সেনা জোন ও রামগড় বিজিবি যৌথভাবে এ অভিযান চালাবে।

উল্লেখ্য, খাগড়াছড়ির রামগড় উপজেলা সীমানা লাগোয়া ফটিকছড়ির দাঁতমারা ইউনিয়নের সোনারখীল এলাকায় নাছিয়া চা বাগানের শ্রমিক তশিরাম ত্রিপুরার কন্যা শব্দ মিলা ত্রিপুরা(২০) সোনারখীলের হাক্কিটিলা গ্রামের সুরত আলীর ছেলে আরিফের(২৫) সাথে পালিয়ে গিয়ে বিয়ে করার ঘটনার জের ধরে পার্বত্য এলাকার পাহাড়ি সন্ত্রাসী গ্রুপটি শুক্রবার বাগান থেকে সকল ত্রিপুরা চা শ্রমিকদের সপরিবারে তুলে নিয়ে যায়।




ফটিকছড়ির নাছিয়া চা বাগানের ১৯টি ত্রিপুরা পরিবারকে তুলে নিয়ে গেছে পাহাড়ি সন্ত্রাসীরা

fotikchori_31383_37845

রামগড় প্রতিনিধি:

এক ত্রিপুরা চা শ্রমিক বাঙ্গালী ছেলেকে ভালবেসে পালিয়ে বিয়ে করার জের ধরে পাহাড়ি সন্ত্রাসীরা ফটিকছড়ির নাছিয়া চা বাগানের ১৯টি ত্রিপুরা  শ্রমিক পরিবারের ৭৮ জনকে তুলে নিয়ে গেছে। ওই মেয়েকে ফিরিয়ে না দেয়া পর্যন্ত চা বাগানটিতে কোন ত্রিপুরা শ্রমিককে কাজ করতে দেবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে সন্ত্রাসী গ্রুপটি।

শুক্রবার ওই পরিবারগুলোকে বাগান থেকে তুলে নিয়ে গেলেও ভয়ে তা কেউ প্রকাশ করছে না। এ ঘটনায় এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, খাগড়াছড়ির রামগড় উপজেলা সীমানা লাগোয়া ফটিকছড়ির দাঁতমারা ইউনিয়নের সোনারখীল এলাকায় নাছিয়া চা বাগানের অবস্থান।

গত শুক্রবার পার্বত্য চট্টগ্রামের একটি পাহাড়ি সন্ত্রাসী গ্রুপ মিটিংয়ের কথা বলে বাগানে কর্মরত ১৯টি ত্রিপুরা শ্রমিক পরিবারের ৭৮ জন সদস্যকে নিয়ে যায়।

সূত্র জানায়, সন্ত্রাসীরা শ্রমিক ও তাদের পরিবারের সদস্যদের রামগড়ের গুজাপাড়া, মরা কয়লা, গরু কাটা, মাঝিরামপাড়া প্রভৃতি দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় নিয়ে আটকে রাখে। সন্ত্রাসীরা বাগান কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছে, বাঙ্গালী ছেলেকে ভালবেসে পালিয়ে বিয়ে করা ত্রিপুরা চা শ্রমিক শব্দ মিলা ত্রিপুরাকে তাদের কাছে এনে না দেয়া পর্যন্ত ওই শ্রমিক পরিবারদের ফেরৎ দেয়া হবে না। বাগানের শ্রমিকরা জানায়,  ১৫ এপ্রিল তশিরাম ত্রিপুরার কন্যা চা শ্রমিক শব্দ মিলা ত্রিপুরা(২০) সোনারখীলের হাক্কিটিলা গ্রামের সুরত আলীর ছেলে আরিফের(২৫) সাথে পালিয়ে গিয়ে বিয়ে করে। দীর্ঘদিন ধরে তাদের দুজনের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। পালিয়ে বিয়ে করার পর এনিয়ে ছেলে বা মেয়ের কোন পরিবার থেকে কোন অভিযোগ করা হয়নি। এর ৩/৪ দিন পর ঘটনাটি প্রকাশ হলে পার্বত্য এলাকার পাহাড়ি সন্ত্রাসী গ্রুপটি ক্ষুব্ধ হয়ে উঠে। শুক্রবার তারা বাগান থেকে সকল ত্রিপুরা চা শ্রমিকদের সপরিবারে তুলে নিয়ে যায়। এদের মধ্যে শব্দ মিলা ত্রিপুরার মা-বাবা ও ভাই-বোনও রয়েছে।

বাগানের ব্যবস্থাপক মনির হায়দার ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, দাঁতমারা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জকে ঘটনাটি জানানো হয়েছে।

ফটিকছড়ির দাঁতমারা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জানে আলম জানান, ওই সন্ত্রাসী গ্রুপের নেতাদের সাথে তিনি ফোনে কথা বলেছেন। তারা তাকে জানিয়েছে ত্রিপুরা মেয়েটিকে তাদের কাছে হস্তান্তর না করা পর্যন্ত ওই শ্রমিকদের ফেরৎ দেয়া হবে না। চেয়ারম্যান বলেন, ঘটনাটি তিনি রামগড় বিজিবি জোন কমান্ডার, রামগড়ের পাতাছড়ার ইউপি চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে জানিয়েছেন।

এদিকে, ভুজপুর থানার ওসি আব্দুল লতিফ বলেন, এ ধরনের কোন ঘটনার কথা তিনি শুনেননি। কেউ কোন অভিযোগও করেনি।




নিহত কোস্ট গার্ডের সদস্য এনামুলের গ্রামেরবাড়ি রামগড়ে শোকের মাতম

unnamed copy

রামগড় প্রতিনিধি:

পটুয়াখালী-কুয়াকাটা মহাসড়কের বান্দ্রা নামক স্থানে এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় রামগড়ের এনামুল হক(২৮)সহ পর্টুয়াখালী কোস্টগার্ডের তিনজন সদস্য নিহত হয়েছেন।

শুক্রবার দুপুর পৌনে বারোটার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত অপর দুজন হলেন, ফুয়াদ হোসেন(২৭) ও আবু সাদেক(২৮)।

এদিকে, নিহত এনামুলের গ্রামের বাড়ি রামগড় পৌরসভার দারোগাপাড়ায় চলছে শোকের মাতম। তিনি ওই এলাকার বাসিন্দা  ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি মো. ইউছুপ আলীর ছেলে। চার ভাইয়ের মধ্যে তিনি সবার ছোট। সড়ক দুর্ঘটনায় তার মৃত্যুর খবর এলাকায়  ছড়িয়ে পড়লে  প্রতিবেশী ও আত্মীয়পরিজন তাদের বাড়িতে ছুটে যান। পুরো এলাকাজুড়ে শোকের ছায়া নেমে আসে।

নিহত এনামুলের আত্মীয় সাংবাদিক ফয়েজ আহমেদ মিলন জানান, ২০১২ সালে তিনি বাংলাদেশ নৌবাহিনীতে যোগদান করেন। এখনও বিয়ে করেননি। দেড় মাস আগে ছুটিতে বাড়ি এসেছিলেন। ছেলের অকাল মৃত্যুতে মা বাবা দুজনই নির্বাক।

তিনি বলেন, শনিবার তার মরদেহ রামগড়ে এসে পৌঁছবে। মহামুনি কবরস্থানে তাকে দাফন করা হবে।
জানা যায়,  এনামুল হক কোস্ট গার্ডের অপর দুই সহকর্মীসহ একটি মোটরসাইকেলে করে পটুয়াখালী থেকে কুয়াকাটার দিকে যাচ্ছিলেন। কলাপাড়ার দিক থেকে ছেড়ে আসা আল্লাহর দান নামক যাত্রীবাহী একটি বাস পটুয়াখালীর দিকে যাচ্ছিল। কলাপাড়া-আমতলীর সীমান্তবর্তী বান্দ্রা নামক স্থানে বাস এবং মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই দুজনের মৃত্যু হয়। পরে কলাপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গুরুতর আহত মো. এনামুল হক মারা যান।

আমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শহিদ উল্লাহ বলেন, বাসটিকে আটক করা হয়েছে। তবে চালক ও সহযোগী কাউকে পাওয়া যায়নি।  দুর্ঘটনায় নিহত অপর দুজনের মধ্যে এম এ সাদেকের বাড়ি ময়মনসিংহ জেলার নান্দাইল উপজেলায় আর মো. ফুয়াদ হোসেনের বাড়ি ঝালকাঠি জেলার কাঠালিয়া উপজেলায় বলেও জানা গেছে।




রামগড় বাজারে বনানী টেলিকমে তালা ভেঙ্গে নগদ অর্থসহ ১০ লক্ষাধিক টাকার মালামাল চুরি

unnamed copy

রামগড় প্রতিনিধি:

রামগড় বাজারের উপকন্ঠে মোবাইল ফোন সামগ্রীর বৃহৎ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বনানী টেলিকমে ১৯ এপ্রিল রাতে দুঃসাহসিক চুরি সংগঠিত হয়েছে। চোরেরা নগদ টাকাসহ ১০ লক্ষাধিক টাকার মোবাইল সেট ও রিচার্জ কার্ডসহ বিভিন্ন সামগ্রী চুরি করে নিয়ে গেছে।

এ ঘটনায় বাজারের ব্যবসায়ীদের মধ্যে আতঙ্ক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বুধবার গভীর রাতে চোরেরা বনানী টেলিকমের সাটারের শক্তিশালী তালা ভেঙ্গে প্রতিষ্ঠানের ভিতরে ঢুকে। তারা ক্যাশ বক্সে রাখা নগদ টাকা এবং স্মার্ট ফোন সেট ও মোবাইল রিচার্জ কার্ডসহ বিভিন্ন মূল্যবান সামগ্রী চুরি করে নিয়ে যায়। চোরেরা চুরি করে যাওয়ার সময় সাটারে নতুন একটি তালা লাগিয়ে দেয়।

প্রতিষ্ঠানের পরিচালক মো. মঈন উদ্দিন সোহেল বলেন, বৃহস্পতিবার সকালে প্রতিষ্ঠান খুলতে এসে দেখেন সাটারে নতুন একটি তালা লাগানো। পরে তালাটি ভেঙ্গে ভিতরে ঢুকে দেখেন ক্যাশ বক্সে রাখা নগদ ৪ লক্ষ ৭৮ হাজার ৯৭০ টাকা এবং শোকেস থেকে এক লক্ষ ৮৩ হাজার ২৮০ টাকা মূল্যের বিভিন্ন ব্রান্ডের দামী স্মার্ট মোবাইল ফোন সেট, দুই লক্ষ ৯০ হাজার ৯০০ টাকার মোবাইলের রিচার্জ কার্ড ও প্রায় ৬৫ হাজার টাকা মূল্যের জিপি মডেম, পেনড্রাইব, হেডফোন, মেমরি কার্ড ইত্যাদি চুরি করে নিয়ে গেছে।

এসময় চোরদের ফেলে যাওয়া দুটি কাপড়ের শপিং ব্যাগ পাওয়া যায়। এদিকে বাজারের প্রাণ কেন্দ্রে পুলিশ বক্সের অদূরে প্রধান সড়কের পাশের এ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে দুঃসাহসিক চুরির ঘটনা ছড়িয়ে পড়লে বাজারের ব্যবসায়ীসহ লোকজন খোঁজখবর নিতে ছুটে আসেন।

এ ঘটনায় ব্যবসায়ী মহলে আতঙ্ক ও ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে। বাজারে পুলিশ ও নৈশ প্রহরীদের দায়িত্ব পালন নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এদিকে চুরির ঘটনার খবর পেয়ে রামগড় থানার সেকেন্ড অফিসার এসআই আনোয়ার হোসেন প্রতিষ্ঠানটি পরিদর্শন করেন। আলামত হিসেবে চোরের ফেলে যাওয়া ব্যাগ, তালা ইত্যাদি জব্দ করেছে পুলিশ।

এসআই আনোয়ার বলেন, পরিকল্পিতভাবে এ চুরির ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ এ চুরির ঘটনায় জড়িতদের ধরতে তৎপরতা শুরু করেছে। বনানী টেলিকমের পরিচালক মো. মঈন উদ্দিন সোহেল বলেন, চুরির ঘটনায় মামলা রুজুর প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে।




রামগড়ে চাঁদার দাবিতে অপহৃত ২ নির্মাণ শ্রমিককে উদ্ধার করেছে বিজিবি

উদ্ধার

নিজস্ব প্রতিনিধি:

খাগড়াছড়ির রামগড়ে অপহৃত দুই নির্মাণ শ্রমিককে অপহরণের এক ঘণ্টার মাথায় উদ্ধার করেছে বিজিবি।

বুধবার বেলা পৌনে ১১টার দিকে উপজেলার যৌথ খামার এলাকার একটি কালভার্টের দুই শ্রমিককে চাঁদার দাবিতে অপহরণ করা হয়।

আপহৃতরা হলেন, রামগড়ের বৈদ্যটিলা এলাকার বাসিন্দা নির্মাণ শ্রমিক নুরুল ইসলাম (৩০) ও ইসমাইল হোসেন (২৬)।

শ্রমিক অপহরণের খবর পেয়ে বর্ডার গার্ড ব্যাটালিয়নের রামগড়-৪৩ বিজিবির জোন কমান্ডার লে. কর্নেল এম জাহিদুর রশীদের তৎপরতায় পার্শ্ববর্তী এলাকায় অভিযান চালায়। অভিযানে চৌধুরী বাজারের স্থানীয় বুলু কার্বারী মেম্বারের দোকান থেকে দুপুর ১২টার দিকে অপহৃত দুই নির্মাণ শ্রমিককে উদ্ধার করা হয়।

৪৩-বিজিবির জোন এনসিও আমিরুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, খবর পেয়ে অভিযান চালালে সন্ত্রাসীরা অপহৃত দুই নির্মাণ শ্রমিককে বুলু কার্বারী মেম্বারের দোকানে রেখে পালিয়ে যায়। পরে তাদের দুইজনকে উদ্ধার করা হয়।

উল্লেখ্য, অপহরণকারীরা নিজেদের ইউপিডিএফের সংস্কারপন্থী দাবি করে অনেক আগে থেকেই ওই কাজের জন্য চাঁদা দাবি করে আসছিল বলে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার সূত্রে জানা গেছে।