রামগড়ে ভোক্তা অধিকার আইন বিষয়ক সেমিনার অনুষ্ঠিত

 

রামগড় প্রতিনিধি:

খাগড়াছড়ির রামগড়ে ভোক্তা অধিকার আইন বিষয়ে গণসচেতনতামূলক এক সেমিনার বুধবার(১৮ অক্টোবার)  অনুষ্ঠিত  হয়েছে।

উপজেলা পরিষদের আয়োজনে পরিষদ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এ সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন রামগড় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আল মামুন মিয়া।

অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা পরিষদের সংরক্ষিত মহিলা সদস্য ফাতেমা খাতুন, থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি) মো. শরীফুল ইসলাম, রামগড় পৌরসভার  ভারপ্রাপ্ত মেয়র মো. আহসান উল্লাহ।

এছাড়া বিভিন্ন বিভাগের সরকারি কর্মকর্তা, ব্যবসায়ী, জনপ্রতিনিধি, সাংবাদিকসহ বিভিন্ন পেশাজীবী ব্যক্তিবর্গ  সেমিনারে অংশ গ্রহণ করেন। সেমিনারের সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী  কর্মকর্তা মো. আল মামুন মিয়া ভোক্তা অধিকার আইন সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেন।

তিনি এ ব্যাপারে ব্যাপক গণসচেতনতা সৃষ্টি করতে প্রত্যেককে নিজ নিজ অবস্থান থেকে ভুমিকা রাখার  অনুরোধ জানান।




রামগড়ে ব্যাপকহারে নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হচ্ছে শিশুরা: দশ দিনে ৪০জন হাসপাতালে ভর্তি

রামগড় প্রতিনিধি:

খাগড়াছড়ির রামগড় উপজেলার প্রতিটি এলাকায় ঘরে ঘরে নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হচ্ছে শিশুরা। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রতিদিন গড়ে ৪-৫জন নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত শিশু ভর্তি হচ্ছে। এদিকে হঠাৎ করে নিউমোনিয়া রোগীর চাপ বেড়ে যাওয়ায় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এ রোগের প্রয়োজনীয় ওষুধের সংকট দেখা দিয়েছে। ডাক্তার ও নার্সরা দায়িত্ব পালনে হিমশিম খেতে হচ্ছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানাযায়, অক্টোবর মাসের শুরুতে হঠাৎ করে শিশুরা নিউমোনিয়া রোগে আক্রান্ত হতে থাকে। প্রতিদিন ৪-৫জন নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত শিশু হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে। ১ অক্টোবর হতে ১০ অক্টোবর পর্যন্ত এ দশ দিনে ৪০জন শিশু ভর্তি হওয়ার রেকর্ড রয়েছে হাসপাতালের রেজিস্টারে।

মঙ্গলবার (১০ অক্টোবর) দুপুরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আন্তঃবিভাগ পরিদর্শন কর দেখা গেছে, নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত ১৪জন শিশুর চিকিৎসা চলছে। কর্তব্যরত এক সেবিকা জানান, ১৯জন নিউমোনিয়া রোগীর মধ্যে মঙ্গলবার সকালে ৫জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছে।

গত ১০ দিনে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া ৪০জন  শিশু রোগীর অধিকাংশের বয়স এক বছরের মধ্যে। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন  শিশু রোগীর কয়েকজন অভিভাবক জানান, হাসপাতাল থেকে প্রয়োজনীয় সব ওষুধ  পাওয়া যাচ্ছে না। বিশেষ করে অধিক দামের এন্টিবায়োটিক ইনজেকশন বাহির থেকে কিনে আনতে হচ্ছে তাদের।

এদিকে কর্তব্যরত এক সেবিকা জানান, হঠাৎ করে শিশু নিউমোনিয়া রোগী বেড়ে যাওয়ায় তারা বেশ হিমশিম খাচ্ছেন। বিভিন্ন এলাকার অধিবাসীদের কাছ থেকে জানাগেছে, প্রতিটি গ্রামের ঘরে ঘরে নিউমোনিয়া আক্রান্ত শিশু রোগী রয়েছে। অধিকাংশ শিশু রোগীদের অভিভাবকরা গ্রাম্য ডাক্তারদের কাছ থেকে চিকিৎসা নিচ্ছে।

রামগড় উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. জাহিদুল ইসলাম বলেন, আবহাওয়ার পরির্বতনের কারণেই শিশুরা নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হচ্ছে। বিশেষ করে দিনের বেলায় প্রখর রৌদ্র তাপে প্রচণ্ড গরম এবং ভোর রাতে ঠাণ্ডা পড়ার কারণে শিশুরা এ রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। আক্রান্ত শিশুদের দ্রুত হাসপাতালে এনে চিকিৎসা নিলে রোগ সেরে যায়। তবে অভিভাবকদের অবহেলায় এ রোগে শিশুর মৃত্যুও  ঝুঁকিও রয়েছে অনেক। হাসপাতালে নিউমোনিয়ার পর্যাপ্ত ওষুধ না থাকার কথা স্বীকার করে তিনি বলেন, হঠাৎ করে রোগী বেড়ে যাওয়ায় কিছুটা সংকট দেখা দিয়েছে।




ডাকাতের উপদ্রপে রামগড় এলাকাবাসীর রাত জেগে পাহারা

ডেস্ক নিউজ:

খাগড়াছড়ি জেলার রামগড় পৌরসভার সদুকার্বারীপাড়া ও ফেনীরকুল এলাকায় গত এক সপ্তাহে তিনটি বাড়িতে ডাকাতি ও ডাকাতির চেষ্টার ঘটনায় এলাকাবাসী রাত জেগে পাহারা দিচ্ছে এবং জোরদার করা হয়েছে পুলিশের তল্লাশি ও বৃদ্ধি করা হয়েছে টহল।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ২৭ সেপ্টেম্বর রাত ২ টার পর পৌরসভার শালবাগান একালার পার্শ্ববর্তী বাগান বাজার ইউনিয়নের হাজিপাড়া এলাকায় জনৈক তোফাজ্জলের বাড়িতে ডাকাতি ও শ্লীলতাহানির চেষ্টা করে ডাকাত দল। একই রাতে সাড়ে ৩টার দিকে পৌরসভার দক্ষিণ সদুকার্বারী পাড়ার আবুল কালামের বাড়িতে ডাকাতির ঘটনা ঘটে। এর আগে হাজিপাড়া এলাকায় দ্বীন মোহাম্মদের মুদি দোকানের নগদ টাকা ও মালামাল লুটের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এসব ঘটনার দুইদিন পর পার্শ্ববর্তী ফেনীরকুল এলাকার প্রবাসীর স্ত্রী ফেরদৌসের বাড়িতে একই কায়দায় চুরির ঘটনা ঘটেছে। আবার ওই দিনে রাতে পাশ্ববর্তী নজিরটিলা একটি বাড়িতে ডাকাতির চেষ্টা করে ডাকাত দল। তাছাড়া আশংকাজনক হারে বাড়ছে মোবাইল ও নগদ টাকা চুরির ঘটনা।

ক্ষতিগ্রস্তদের সূত্রমতে, ডাকাত দল প্রথমে কৌশলে দরজার ছিটকিনি ভেঙ্গে ঘরে প্রবেশ করে ধারালো চাপাতি, চাকু, ছুরি ও লোহার রড দেশীয় অন্ত্রের মুখে সবাইকে জিম্মি করে হাত, পা, চোখ বেঁধে মারপিট করে স্বর্ণালঙ্কার ও নগদ টাকা নিয়ে যায়। কোথাও কোথাও ঘরের শিশু সন্তাদের জিম্মি করে ডাকাতি করছে।

স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর সাহাব উদ্দিন জানান, হঠাৎ ডাকাতের উৎপাতে গ্রামবাসী আতঙ্কগ্রস্ত। এ ব্যাপারে প্রশাসনকে তড়িৎ অবহিত ও ব্যবস্থা গ্রহনের অনুরোধ করা হয়েছে। তাছাড়া রাত জেগে গ্রামবাসী পাহারা দিচ্ছেন।

রামগড় থানা অফিসার ইনচার্জ শরিফুল ইসলাম জানান, ডাকাতির খবর শুনে ভিকটিমদের বাড়িতে গিয়ে খোঁজ খবর নিয়েছি। ঘটনার পরপরই পুলিশ রাতভর সন্দেহজনক স্থানে ব্যক্তি ও যানবাহন তল্লাশি করছে ও টহল বৃদ্ধি করা হয়েছে। এছাড়া যতদ্রুত সম্ভব ডাকাত দলটিকে সনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন তিনি।

সূত্র: সিটিজি টাইমস




রামগড়-ভারত সীমান্ত: দুদেশের হাজারো ভক্তের সিক্ত চোখে দেবী দুর্গার বির্সজন ফেনী নদীতে

রামগড় প্রতিনিধি:

রামগড় ভারত সীমান্তবর্তী ফেনী নদীতে দুদেশের হাজারো হিন্দু ধর্মাবলম্বী অশ্রু সিক্ত চোখে বির্সজন দিয়েছেন দুর্গতিনাশিনী দেবী দুর্গাকে।

শনিবার বিকাল ৫টার দিকে ফেনী নদীর রামগড় আনন্দপাড়া ঘাটে এ বির্সজন অনুষ্ঠান সম্পন্ন করা হয়। রামগড় দক্ষিণেশ্বরী কেন্দ্রীয় কালীবাড়িতেই উপজেলার একমাত্র সার্বজনীন দুর্গোৎসব অনুষ্ঠিত হয়।

বড়ুয়া বাড়িতে আয়োজন করা হয় পারিবারিক মন্ডপ। শনিবার বেলা ২টায় কালীবাড়ি থেকে বিজয়া দশমীর বর্নাঢ্য র‌্যালী বের হয়। দেবী দুর্গাসহ অন্যান্য প্রতিমা নিয়ে র‌্যালীটি পৌরসভার জগন্নাতপাড়া, ডেবারপাড়, মাস্টারপাড়া, রামগড় বাজার, আনন্দপাড়া প্রভৃতি এলাকা প্রদক্ষিণ করে।

র‌্যালীতে শত শত সনাতন ধর্মাবলম্বী ত্রিপুরা উপজাতীয় ও বাঙ্গালি হিন্দু নারী, পুরুষ, আবাল বৃদ্ধ বণিতা অংশ নেন। বিজয়া দশমীর এ বর্নাঢ্য র‌্যালী শেষে ফেনী নদীর আনন্দপাড়া আবাসিক এলাকা ঘাটে  মুর্হুমুহু উলু ধ্বনি, ঢাকঢোল, শঙ্খ বাজিয়ে অশ্রুসিক্ত নয়নে দেবী দুর্গাসহ একেএকে প্রত্যেক প্রতিমাকে বির্সজন দেয়া হয় নদীতে।

এসময় সীমান্তের ওপারে ভারতে সাব্রুমের অসংখ্য নারী পুরুষ নদীর তীরে সমবেত হন দেবী দুর্গাকে বিদায়  জানাতে । তারাও  ওপার খেকে উলু ধ্বনি ও শঙ্খ বাজিয়ে দেবী দুর্গার বির্সজনে অংশ নেন । এক সময় নৌকায় চড়িয়ে দেবী দুর্গার এ বির্সজন সম্পন্ন করা হত ফেনী নদীতে।

আয়োজকরা জানান, এখন নৌকা পাওয়া যায় না। তাই বেশ কয়েক বছর ধরে নদীর পাড় থেকেই বির্সজন দেয়া হচ্ছে। আবহাওয়া প্রতিকূল হওয়া সত্ত্বেও এ বছর বেশ জাঁকজমকভাবে দুর্গোৎসব উদ্যাপিত হয় রামগড়ে।

উপজাতীয় শরণার্থী পুর্নবাসন সংক্রান্ত টাস্কফোর্সের চেয়ারম্যান (প্রতিমন্ত্রী মর্যাদা) যতীন্দ্র লাল ত্রিপুরা, খাগড়াছড়ির এমপি কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা, খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কংজরী চৌধুরি, রামগড় বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্ণেল এম জাহিদুর রশীদ, রামগড় উপজেলা চেয়ারম্যান মো. শহিদুল ইসলাম ভুইয়া, উপজেলা নির্বাহি অফিসার মো. আল মামুন মিয়া, পৌরসভার মেয়র মো. শাহ জাহান কাজী রিপন, রামগড় সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সৈয়দ মো. ফরহাদ ও  থানার অফিসার ইনচার্জ মো. শরীফুল ইসলামসহ বিভিন্ন সরকারি কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, জনপ্রতিনিধিরা দুর্গোৎসবে অংশ নেন।

এদিকে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে আনন্দ উদ্দীপনায় দুর্গোৎসব সম্পন্ন করতে সার্বিক সহযোগিতার জন্য স্থানীয় প্রশাসন, রাজনৈতিক, সামাজিক নেতৃবৃন্দসহ রামগড়বাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা  জানিয়েছেন দক্ষিণেশ্বরী কালিবাড়ি পরিচালনা পরিষদের সভাপতি তাপস ত্রিপুরা ও সাধারণ সম্পাদক সজীব সিংহ।




রামগড়ে ছাত্রলীগের বিক্ষোভ মিছিল, প্রতিবাদ সমাবেশ

রামগড় প্রতিনিধি:

খাগড়াছড়ির মহালছড়ি উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি জিয়া উর রহমানের ওপর সন্ত্রাসী হামলার প্রতিবাদে এবং হামলাকারীদের গ্রেফতারের দাবিতে শুক্রবার(২২সেপ্টেম্বর)  রামগড়ে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ  সমাবেশ  হয়েছে।

রামগড়  উপজেলা ছাত্রলীগের উদ্যোগে  বিকাল ৪টার দিকে দলীয় কার্যালয় প্রাঙ্গণ  হতে বিক্ষোভ  মিছিল বের হয়। উপজেলা  ছাত্রলীগের আহ্বায়ক কাওছার হাবিব শোভনের নেতৃত্বে  বিক্ষোভ মিছিলটি প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। পরে দলীয় কার্যালয়ের সন্মুখে এক প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত  হয়।

এতে কাওছার হাবিব শোভন ও দেলোয়ার হোসেন বক্তব্য দেন। বক্তারা ছাত্রলীগ নেতা জিয়া উর রহমানের ওপর হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান। তারা অবিলম্বে জিয়া উর রহমানের ওপর হামলাকারীদের গ্রেফতার ও কঠোর শাস্তির দাবি জানান।

উল্লেখ্য,  বৃহষ্পতিবার  রাতে খাগড়াছড়ি সদরে কতিপয় দুর্বৃত্ত মহালছড়ি উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি জিয়া উর রহমানের ওপর হামলা চালিয়ে তাকে আহত করে।




৫০ বছরের নেছার আলী অশীতিপর বৃদ্ধা মাকে পিঠে চড়িয়ে পালিয়ে এসেছেন


নিজাম উদ্দিন লাভলু, উখিয়া থেকে ফিরে

নেছার আলীর বয়সও ৫০ ছুঁই ছুঁই। রোগে শোকে নিজেও দুর্বল। স্ত্রী, দুই পুত্র, এক কন্যা আর দুভাইয়ের প্রাণ গেছে বার্মিস সেনাদের হাতে। ঘরবাড়ি আগুনে ছাঁই করে দিয়েছে তারা। বিধবা পুত্রবধূ, দুই নাতি আর অশীতিপর মাকে সঙ্গে নিয়ে মানায়মারের বনে আত্মগোপন করে প্রাণ বাঁচিয়েছেন। হাঁটাচলায় অক্ষম অশীতিপর বৃদ্ধা মা বলেছিলেন, আমাকে তোর পিঠে চড়িয়ে কস্ট করে বাংলাদেশে নেয়ার দরকার নেই। আমাকে এখানে রেখে তোরা পালিয়ে যা। কিন্তু নেছার আলী মাকে সেই মৃত্যুপুরীতে ফেলে আসতে পারেননি। তিনি বললেন, এ বৃদ্ধা শুধু তার মা নন, তার বেহেশত।

তাই এ অমূল্য সম্পদ মাকে পিঠে নিয়ে মাইলের পর মাইল পায়ে হেঁটে এসেছেন বাংলাদেশে। আশ্রয় নিয়েছেন উখিয়ার বালুখালীতে। নেছার আলী জানান, তারা কৃষিজীবি পরিবার। কোন দ্বন্দ্ব, ফ্যাসাদে কখনও নিজেদের জড়াননি। মায়ানমারের সেনাবাহিনী ও বৌদ্ধরা এভাবে তাদের ওপর নারকীয়তা চালাবে ভাবতেও পারেননি। বনের পশুপাখিকেও মারতে মানুষের হাত কাঁপে। কিন্তু তারা হাজার হাজার অসহায় রোহিঙ্গা নারী, পুরুষ, শিশুদের নির্বিচারে হত্যা করে যাচ্ছে। ওরা মানুষ রুপী রক্ষস। তারা হেসে হেসে গুলি করে আমার স্ত্রী, দুই ছেলে, এক মেয়ে এবং দুই ভাইকে হত্যা করেছে। স্বজনদের হারিয়ে শোকে পাথর হয়ে গেছেন তিনি। উখিয়া টেকনাফ সড়কের বালুখালী পানবাজার হতে প্রায় তিন কিলোমিটার পশ্চিমে দুর্গম এলাকার এক উঁচু পাহাড়ের চূড়ায় দেখা মেলে এ নেছার আলীর সাথে। তখনও তার পিঠে ঝুলছিল বৃদ্ধা মা।

জানালেন, বালুখালী পানবাজারে ত্রাণের আশায় গিয়েছিলেন। হুড়োহুড়ি কাঁড়াকাঁড়ি করে কোন ত্রাণ নেযা সম্ভব হয়নি তার। তাই খালি হাতে মাকে পিঠে চড়িয়ে ফিরে এসেছেন প্রায় ২শ ফুট উঁচু পাহাড়ের চূড়ায় ঝুঁপড়ি ঘরের আশ্রয়স্থলে। রামগড় থেকে আর্থিক সহায়তা নিয়ে যাওয়া প্রতিনিধিদলের কাছ থেকে পাঁচশত টাকা পেয়ে খুশিতে আত্মহারা হয়ে যান নেছার আলী।

তিনি বলেন, প্রধান রাস্তা থেকে অনেক দূরে এবং দুর্গম হওয়ায় এখানে কেউ ত্রাণ নিয়ে আসেন না। তাই তারা বঞ্চিত হচ্ছেন সাহায্য থেকে। একই কথা জানালেন, ঐ পাহাড়ে আশ্রয় নেয়া অন্যরাও। কয়েকশ পরিবার আশ্রয় নিয়েছেন ওখানে। অনেকে ঝূঁপড়ি ঘর বানাচ্ছিলেন তখনও। দুর্গম ঐ এলাকায় বেশ কয়েকটি পাহাড়জুড়ে আশ্রয়স্থল করে নিয়েছেন হাজার হাজার রোহিঙ্গা। পাহাড়ি ঝিরি-ছড়া পথে পায়ে হেঁটে যেতে হয় ওখানে। রামগড়ের প্রতিনিধিদলের সাথে যাওয়া একটি চিকিৎসা সহায়তাকারীদল ঐ পাহাড়ে আশ্রিতদের চিকিৎসা ও ওষুধপত্র দেন।

রামগড় কেন্দ্রিয় জামে মসজিদ ও কোর্ট জামে মসজিদের আওতাধীন ব্যবসায়ী, চাকুরিজীবি, ধনার্ঢ্য ব্যক্তিসহ সর্বস্তরের মানুষের কাছ থেকে সংগৃহিত প্রায় আড়াই লক্ষ টাকার আর্থিক সহায়তা বিতরণ করা হয় বালুখালীর দুর্গম ঐ পাহাড়ি এলাকার আশ্রিত রোহিঙ্গাদের মাঝে। রামগড় কেন্দ্রিয় জামে মসজিদের ইমাম মাওলানা মো. আব্দুল হক, মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান, কোর্ট জামে মসজিদের ইমাম মাওলানা মোঃ আকতার হোসাইন ও রামগড় বাজার ব্যবসায়ি সমিতির সভাপতি আবুল হাশেম খাঁ ঝুঁপড়ি ঘরে আশ্রিতদের হাতে হাতে নগদ অর্থ সাহায্য বিতরণ করেন।




রামগড়ে বিজিবি-বিএসএফের সৌজন্য বৈঠক

রামগড় প্রতিনিধি:
খাগড়াছড়ির সীমান্তবর্তী  উপজেলা রামগড়ে আজ সোমবার বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ বিজিবি ও ভারতীয় সীমান্তরক্ষীবাহিনী বিএসএফের সেক্টর  কমান্ডার পর্যায়ে এক সৌজন্য বৈঠক অনুষ্ঠিত  হয়।

সকাল ১১টা হতে বেলা পৌনে ৩টা পর্যন্ত রামগড় পৌরসভার সন্মেলন কক্ষে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত  হয়। বৈঠকে ছয় সদস্যের বিজিবি’র পক্ষে নেতৃত্ব দেন গুইমারা সেক্টরের নবাগত সেক্টর  কমান্ডার কর্ণেল মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন।

অপর সদস্যরা হচ্ছেন, রামগড় ৪৩ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্ণেল এম জাহিদুর রশীদ, লে. কর্ণেল মাহমুদুল হক, লে. কর্ণেল কামরুল ইসলাম, মেজর হুমায়ুন কবির, মেজর জিয়াউল হক।

অপরপক্ষে চার সদস্যের  বিএসএফের নেতৃত্বে ছিলেন বিএসএফের  ত্রিপুরার উদয়পুর সেক্টরের  ডিআইজি  সিপি সেক্সেনা। অপর তিন কর্মকর্তা হচ্ছেন, ৩১ বিএসএফের কমান্ডিং অফিসার টিএস নেগী, ৪৭ বিএসএফের আর কে সাহা ও ৫৭ বিএসএফের কমান্ডিং  অফিসার জিএল মিনা।

বৈঠক শেষে মেজর হুমায়ুন কবির জানান, এটি কোন আনুষ্ঠানিক বৈঠক ছিল না। স্রেফ সৌজন্য বৈঠক। এতে অনানুষ্ঠানিক আলাপ আলোচনা হয় দুপক্ষের মধ্যে।  বিশেষ  করে সীমান্তের বিভিন্ন অপরাধ দমন, চোরাচালান প্রতিরোধ  ইত্যাদি  কার্যক্রমে  পারষ্পারিক সহযোগীতাদানের ব্যাপারে কথা হয়।
সকাল পৌনে ১১টায় রামগড় সাব্রুম সীমান্তের থানাঘাটে বিএসএফের প্রতিনিধিদলকে বাংলাদেশে  স্বাগত জানান বিজিবি কর্মকর্তারা।

বৈঠক শেষে প্রতিনিধি দলটি একই সীমান্ত পথে ভারতে ফিরে যায়।




রামগড়ে মাটি খুঁড়ে ইয়াবা ও ফেন্সিডিল উদ্ধার: আটক তিন

নিজস্ব প্রতিবেদক:

খাগড়াছড়ি জেলার রামগড় পৌরসভার মহামুনি এলাকায় একটি বাড়িতে অভিযান চালিয়ে মাটি খুঁড়ে ইয়াবা ও ফেন্সিডিল ইদ্ধার করা হয়েছে। মাদক ব্যবসার অভিযোগে পুলিশ একই পরিবারের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানসহ ৩জনকে আকট করেছে। আটককৃতরা হলো মো. ইয়াছিন (৪৫) পিতা আবু তাহের, তার স্ত্রী মায়াধন (৩৭) ও তাদের পুত্র মো. ইয়াকুব (১৯)।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, রামগড়ের নাকাপা পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা মো. এয়াকুবকে তল্লাশি করে ৫পিস ইয়াবা পায়। পরে তার দেয়া তথ্য অনুসারে তার বাড়িতে অভিযান চালিয়ে মাটি খুড়ে আরো ৬০ পিস ইয়াবা ও ৪০ বোতল ফেন্সিডিল উদ্ধার করে রামগড় থানা পুলিশ।

পরে মাদক ব্যবসার অপরাধে স্বামী-স্ত্রী সন্তানসহ ৩জনকে আটক করা হয়।
রামগড় থানা অফিসার ইনচার্জ শরিফুল ইসলাম জানান, মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে অপরাধীদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। মাদক নির্মুলে পুলিশের তৎপরতা অব্যহত থাকবে।




রামগড়ে প্রাইম ব্যাংকের ১৪৬তম শাখার উদ্বোধন

রামগড় প্রতিনিধি:

খাগড়াছড়ির রামগড়ে আধুনিক ব্যাংকিং সেবাদানের লক্ষ্য নিয়ে বৃহষ্পতিবার(১৪ সেপ্টেম্বর) আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করলো প্রাইম ব্যাংক। এটি এ পার্বত্য উপজেলার সর্বপ্রথম প্রাইভেট ব্যাংক  এবং পার্বত্য চট্টগ্রামে প্রাইম ব্যাংকের প্রথম শাখা।

ব্যাংকটির ভাইস চেয়ারম্যান ও চট্টগ্রামের বিশিষ্ট শিল্পপতি নাদের খান প্রধান অতিথি হিসেবে ১৪৬তম এ শাখার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।

ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আহমেদ কামাল চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উদ্বোধনী সভায় প্রধান অতিথি নাদের খান ছাড়াও বিশেষ অতিথি ছিলেন খাগড়াছড়ির সাবেক এমপি একেএম আলীম উল্লাহ, রামগড় উপজেলা চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম ভুইয়া, গুইমারা উপজেলা চেয়ারম্যান উশেপ্রু মারমা, রামগড় পৌরসভার মেয়র মোহাম্মদ শাহজাহান কাজী রিপন, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মো আব্দুল কাদের, উপজেলা পরিষদের মহিলা সদস্য ফাতেমা খাতুন।

স্বাগত বক্তব্য দেন প্রাইম ব্যাংকের রামগড় শাখার ব্যবস্থাপক মো. সালাউদ্দিন কাদের মাসুদ। ব্যবসায়ীদের পক্ষে বক্তব্য রাখেন মো. শাহ আলম ।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রাইম ব্যাংকের শাখা নেটওয়ার্কের প্রধান মো. এজাজ হোসাইন, প্রাইম ব্যাংক লিমিটেড কোম্পানির সেক্রেটারি এহসান হাবিব, চট্টগ্রাম জোনাল প্রধান মো. আনোয়ারুল ইসলাম চৌধুরি, এফএমডি ডিভিশন প্রধান মেজর(অব:) সাইফ আল আমীন, রামগড় ও হালদাভ্যালী চা বাগানের সিনিয়র ব্যবস্থাপক মো. জাহাঙ্গীর আলম, রাউজান, লালদীঘি ও হেয়াকো শাখার ম্যানেজার যথাক্রমে মো. ইউনুছ, মো. আবুল কালাম ও মীর আহমেদসহ ব্যাংকের বিভিন্ন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, জনপ্রতিনিধি, ব্যবসায়ী, সরকারি কর্মকর্তা, মুক্তিযোদ্ধা, গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

চট্টগ্রামের অক্সিজেন শাখার ব্যবস্থাপক মুজাহিদ বিন কায়সারের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত উদ্বোধনী সভা শেষে বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। রামগড় কোর্ট জামে মসজিদের পেশ ইমাম মাওলানা মো. আকতার হোসাইন মোনাজাত পরিচালনা করেন। এর আগে ভোরে ব্যাংক ভবনে খতমে কোরআনের আয়োজন করা হয়।




রামগড় নাগরিক কমিটি বিলুপ্তি ঘোষণা করে বিএনপিতে যোগদান

নিজস্ব প্রতিবেদক, খাগড়াছড়ি:

খাগড়াছড়ি জেলার রামগড় উপজেলার নাগরিক কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করে সকল নেতৃবৃন্দ বিএনপিতে যোগ দিয়েছেন।

মঙ্গলবার বিকালে খাগড়াছড়ি জেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য ওয়াদুদ ভূইয়ার সাথে স্বাক্ষাত করে রামগড় উপজেলা নাগরিক কমিটি বিলুপ্তি ঘোষণা করে সকল নেতৃবৃন্দ বিএনপিতে যোগ দেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন, নাগরিক কমিটির রামগড় উপজেলা শাখার সিনিয়র সহ-সভাপতি মোস্তফা হায়দার চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক মো. হারুনুর রশীদ, আবুল বাশার, মো. নবী চৌধুরী ও আব্দুল ছাত্তারসহ শতাধিক নেতৃবৃন্দ।

রামগড় উপজেলা চেয়ারম্যান ও জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শহীদুল ইসলাম ভূইয়াসহ উপজেলা বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

ওয়াদুদ ভূইয়া সকলে মিলে অতীতের ভুলভ্রান্তি ভুলে গিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে দলের কর্মকাণ্ড পরিচালনার মাধ্যমে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বেগম খালেদা জিয়ার হাতকে শক্তিশালী করার আহ্বান জানান। নাগরিক কমিটির নেতৃবৃন্দও আগামীতে রামগড় উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতৃবৃন্দের সাথে দলের সকল কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দেন।