রামগড়ে বিজয় মেলার নামে অশ্লীল যাত্রা, জুয়ার অনুমতি বাতিলের দাবিতে মানববন্ধন

রামগড় প্রতিনিধি:

খাগড়াছড়ির রামগড়ে বিজয় মেলার নামে অশ্লীল যাত্রা জুয়ার আয়োজন বন্ধ করার দাবিতে সোমবার(১৫ জানুয়ারি) বিকালে মানববন্ধন করেছেন আলেমওলামাসহ কয়েক’শ সাধারণ মানুষ। রামগড় পৌরসভার সোনাইপুল বাজারে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

কথিত বিজয় মেলার জেলা প্রশাসনের অনুমতি বাতিল করে যাত্রা জুয়ার আয়োজন বন্ধ করা না হলে কঠোর আন্দোলনে নামার হুঁশিয়ারি দেয়া হয় মানববন্ধন থেকে। মানববন্ধনে সোনাইপুল জামে মসজিদের খতিব মাওলানা আব্দুস শাকুর ছাড়াও বক্তব্য দেন মাওলানা কাউছার, মাওলানা ওবায়দুল হক, মুফতি মিজানুর রহমান, মাওলানা মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ প্রমুখ।

মানববন্ধনে সোনাইপুল, বাগানবাজার, বলিপাড়া, হাজী পাড়া, ওয়াইফাপাড়া প্রভৃতি এলাকার মসজিদ ও মাদ্রাসার আলেম ওলামাসহ সর্বস্তরের মানুষ অংশগ্রহণ করেন।

বক্তারা বলেন, কিছুদিন পর এসএসসি পরীক্ষা শুরু হচ্ছে। এ অবস্থায় মেলার আয়োজন পরীক্ষার্থীদের ক্ষতিগ্রস্ত করবে। এছাড়া মেলার নামে অশ্লীলতা ও জুয়ার আসর এখানকার সুষ্ঠু পরিবেশকে নষ্ট করবে, অবনতি হবে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির। তারা বলেন, মেলার অনুমতি বাতিল করে অশ্লিলতা ও জুয়ার আয়োজন বন্ধ করা না হলে কঠোর আন্দোলনে নামবেন এলাকাবাসী। বুকের রক্ত দিয়ে হলেও তারা কথিত বিজয় মেলা ঠেকানোর কড়া হুঁশিয়ারি দেন।

জানাযায়, মাসব্যাপী মুক্তিযুদ্ধের বিজয় মেলা অনুষ্ঠানের অনুমতি নিয়ে  রামগড় সদরের টিএন্ডটি মাঠে আয়োজন-প্রস্তুতি নেয়ার পর এ নিয়ে এলাকার মুক্তিযোদ্ধা ও আলেম ওলামাদের পক্ষ থেকে ব্যাপক প্রতিবাদ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। এতে  টিএন্ডটি মাঠে মেলা চালু করতে ব্যর্থ হয় আয়োজকরা। পরে পুনরায় রামগড়ের সোনাইপুল বাজার সংলগ্ন সদুকারবারিপাড়ায় এ মেলা অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি শুরু করে তারা।

উল্লেখ্য, রামগড়ের পার্শ্ববর্তী জালিয়াপাড়া এলাকায় মুক্তিযুদ্ধের বিজয় মেলার নামে অশ্লীলতা ও জুয়ার অভিযোগে নিরাপত্তাবাহিনী সম্প্রতি ওই মেলা বন্ধ করে দেয়।




রামগড়ে অস্ত্র ও গুলিসহ ২ ইউপিডিএফ’র সন্ত্রাসী আটক

নিজস্ব প্রতিনিধি:

খাগড়াছড়ির রামগড়ে নিরাপত্তাবাহিনী ও পুলিশের যৌথ অভিযানে একটি বিদেশী একে-২২ রাইফেল ও বিভিন্ন আগ্নেয়াস্ত্র ও গোলা বারুদসহ দুই ইউপিডিএফ’র সন্ত্রাসীকে আটক করা হয়েছে। রবিবার(১৪ জানুয়ারি) গভীর রাতে এ অভিযান চালানো হয়।

নিরাপত্তাবাহিনী ও পুলিশ জানায়, রবিবার রাত আনুমানিক আড়াইটার দিকে রামগড় থানাধীন দুর্গম এলাকা প্রেমতলায় যৌথবাহিনী অভিযানে যায়। সিন্ধুকছড়ি নিরাপত্তা জোনের উপ-অধিনায়ক মেজর তৌহিদ সালাহ উদ্দিনের নেতৃত্বে নিরাপত্তাবাহিনী ও রামগড় থানার পুলিশের একটি বিশেষ দল  ওই দুর্গম  পাহাড়ি এলাকায় অভিযান পরিচালনা করেন।

এসময় প্রেমতলা এলাকায় জনৈক উপজাতির একটি ঘরে তল্লাশী করতে গেলে দুজন সন্ত্রাসী পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। যৌথবাহিনী পিছু ধাওয়া করে তাদের দুজনকেই ধরে ফেলে। ধৃতরা হচ্ছে, সুজন চাকমা(২৮) ও আব্বাই মারমা(৩৩)।

পরে ওই ঘর তল্লাশী করে  ইউএসএসআর’র তৈরি একটি একে-২২ রাইফেল, একটি বড় এলজি, একটি ছোট এলজি, একে ২২ রাইফেলের ম্যাগজিন ১টি, একে-২২ রাইফেলের গুলি ১০ রাউন্ড, এলজি’র বুলেট ৪ রাউন্ড, রাম দা ১টি, টচ লাইট, মোবাইল ফোন সেট, চাঁদা আদায়ের রশীদ বই, ইউপিডিএফের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর লিফলেট ইত্যাদি উদ্ধার করা হয়।

অভিযানে অংশগ্রহণকারী রামগড় থানার এএসআই সিদ্দিক জানান, ভোর ৫টা পর্যন্ত এ অভিযান চলে। তনি বলেন, আটককৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। পরে এদের রামগড় থানায় হস্তান্তর করা হবে।

নিরাপত্তাবাহিনীর একটি সূত্র জানায়, আটককৃতরা ইউপিডিএফের সশস্ত্র গ্রুপের সদস্য। এদের নিয়ন্ত্রণে ওই এলাকায় চাঁদা আদায়সহ সকল অপতৎপরতা পরিচালিত হয়। তবে এ ব্যাপারে অভিযুক্ত সংগঠনটির পক্ষ থেকে কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

নিরাপত্তাবাহিনীর একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানান, আটককৃতরা ইউপিডিএফের সশস্ত্র গ্রুপের সদস্য। এদের নিয়ন্ত্রণে ওই এলাকায় চাঁদা আদায়সহ সকল অপতৎপরতা পরিচালিত হয়ে আসছে দীর্ঘ দিন। তারা ওই প্রেমতলায় নানান ভাবে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে মরিয়া হয়ে উঠে। এতে ওই এলাকার শান্তি শৃঙ্খলা বিঘ্নিত হচ্ছিল। এজন্য প্রেমতলায় নিরাপত্তাবাহিনীর গোয়েন্দা তৎপরতা বৃদ্ধি করা হয়। তারই ধারাবাহিকতায় গোপন তথ্যের ভিত্তিতে আমরা এ অভিযান পরিচালনা করি। অভিযানে আটককৃতরা ইউপিডিএফের সক্রিয় সদস্য। তাদের ধরার বিষয়ে নিরাপত্তাবাহিনী দীর্ঘ দিন কাজ করছে। এ অভিযান, আটক এবং উদ্ধার তারই সফলতা  বলে প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে নিরাপত্তাবাহিনী দাবি করেন।




রামগড়ে হিসাব রক্ষণ অফিসের অডিটর’র বিদায় সংবর্ধনা

রামগড় প্রতিনিধি:

খাগড়াছড়ির রামগড়ে উপজেলা হিসাব রক্ষণ অফিসের অডিটর মো. আমিনুল ইসলামের  বিদায়  সংবর্ধনা রবিবার(১৪ জানুয়ারি) অনুষ্ঠিত  হয়।

উপজেলা হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তা মো. শহিদুল ইসলাম অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন। এতে বক্তব্য দেন উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. নাছির উদ্দিন, উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর আলম, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের  অফিস সহকারী  মো. জামাল উদ্দিন, সাংবাদিক নিজাম উদ্দিন লাভলু ও বিদায়ী অডিটর মো. আমিনুল ইসলাম।

অনুষ্ঠানে বক্তারা রামগড়ে অডিটর আমিনুল ইসলামের কর্মকালীন দক্ষতা, আন্তরিকতা ও দায়িত্ব- কর্তব্য নিষ্ঠার প্রশংসা করেন।

অডিটর আমিনুল ইসলাম সম্প্রতি রামগড় থেকে নোয়াখালির সোনাগাজি উপজেলায় বদলী হন।




রামগড়ে বিজিবি’র উদ্যোগে দুস্থদের মাঝে কম্বল বিতরণ

রামগড় প্রতিনিধি:

খাগড়াছড়ির রামগড়ে দুস্থ শীতার্ত মানুষের মাঝে কম্বল বিতরণ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। বিজিবি’র ৪৩ ব্যাটালিয়নের উদ্যোগে সোমবার(৮জানুয়ারি) এ কম্বল বিতরণ করা হয়।

উপ অধিনায়ক মেজর মো. হুমায়ুন কবির রামগড় পৌরসভার তৈচালাপাড়ায় ব্যাটালিয়ন সদরে দুস্থ মহিলা ও পুরুষদের মধ্যে কম্বল বিতরণ করেন। শীতবস্ত্র বিতরণ কর্মসূচির প্রথম দিনে সোমবার তৈচালাপাড়া এলাকার শতাধিক অসহায় শীতার্ত মানুষের মাঝে এ কম্বল বিতরণ করা হয়।

মেজর হুমায়ুন কবির জানান, ৪৩ ব্যাটালিয়নের প্রতিটি বিওপির আওতাধীন এলাকার অসহায় দরিদ্র মানুষের মাঝে এ কম্বল বিতরণ করা হবে। ব্যাটালিয়ন সদর দপ্তরে কম্বল বিতরণকালে ৪৩ বিজিবির বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।




পদ্মা সেতু দৃশ্যমান হওয়ার সাথে সাথে বিএনপি নেত্রীর গাত্রদাহ শুরু হয়েছে: ওবায়দুল কাদের

রামগড় প্রতিনিধি:

সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, পদ্মা সেতু দৃশ্যমান হওয়ার সাথে সাথে বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়ার গাত্রদাহ শুরু হয়ে গেছে। পাঁয়রাবন্দর সমুদ্র বন্দরসহ বর্তমান সরকারের বিভিন্ন মেগা প্রকল্পের বাস্তবায়ন দেখে তার মাথা খারাপ হয়ে গেছে। কোন মেগা প্রকল্প বাস্তবায়ন তো দূরে কথা, পরিকল্পনা নেয়ার  সক্ষমতা, সাহস, আন্তরিকতা, সদিচ্ছা  কোনটাই বিএনপির নেই। বিএনপি নেত্রী  পারেননি, শেখ হাসিনা এসব প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে পেরেছেন। এটা বেগম জিয়ার গাত্র দাহের কারণ। উন্নয়নের জোয়ারে আওয়ামী লীগ সরকারের প্রতি মানুষের অভাবনীয় সমর্থন দেখে নির্বাচনে হেরে যাওয়ার ভয়ে তারা বিভ্রান্তিকর কথাবার্তা বলছেন।

তিনি আরও বলেন, নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে নির্বাচন কমিশনের অধীনে, শেখ হাসিনার অধীনে নয়। অথচ বিএনপি শেখ হাসিনার অধীনে নির্বাচন হওয়ার কথা বলে মানুষকে ব্লাক মেইলিং করার চেষ্টা করছে। অন্যান্য গণতান্ত্রিক দেশের মত নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশনের মাধ্যমেই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

বর্তমান নির্বাচন কমিশন সম্পূর্ন নিরপেক্ষ উল্লেখ করে তিনি বলেন,  এ নির্বাচন কমিশনের অধীনে অনুষ্ঠিত কুমিল্লা, রংপুর সিটি কর্পোরেশনসহ স্থানীয় নির্বাচনগুলো শতভাগ সুষ্ঠ ও নিরপেক্ষভাবে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা দেশি বিদেশি সব পর্যবেক্ষকরাই বলেছেন।

বুধবার(৩ জানুয়ারি) খাগড়াছড়ির রামগড়ে রামগড় সাব্রুম স্থল বন্দর ও ফেনীনদীর ওপর বাংলাদেশ ভারত মৈত্রী সেতু-১ এর নির্মাণ সংক্রান্ত এক বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী আরও বলেন, পদ্মা সেতুর নির্মাণে সর্বোচ্চ মান নিশ্চিত করা হচ্ছে। তা না হলে আগামী অক্টোবর মাসের আগেই এর নির্মাণ কাজ করা যেতো।

রামগড় পৌরসভার সন্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত বৈঠকে মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের ছাড়াও বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাই কমিশনার হর্ষ বর্ধন শ্রিংলা, খাগড়াছড়ির এমপি কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা, সাবেক সাংসদ যতীন্দ্র লাল ত্রিপুরা, খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কংজরী চৌধুরি, খাগড়াছড়ির জেলা প্রশাসক মো. রাশেদুল ইসলাম, জেলা পুলিশ সুপার আলী আহমদ খান, খাগড়াছড়ি ও রামগড় পৌরসভার মেয়র যথাক্রমে রফিকুল ইসলাম ও মোহাম্মদ শাহজাহান, ইউএনও আল মামুন মিয়াসহ সড়ক ও জনপথ বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং ভারতের দক্ষিণ ত্রিপুরা জেলার বিভিন্ন কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে ফেনী নদীর ওপর ভারত সরকারের অর্থায়নে নির্মিত মৈত্রী সেতু-১ এর নির্মাণ সংক্রান্ত বিভিন্ন আলোচনা হয়।

বৈঠক শেষে বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাই কমিশনার হর্ষ বর্ধন শ্রিংলা সাংবাদিকদের বলেন, মৈত্রী সেতু নির্মাণ কাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। এ সেতু দু’দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করবে। প্রসার ঘটবে ত্রিপুরার সাথে বাংলাদেশের ব্যবসা বাণিজ্য।

বৈঠক শেষে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের ও ভারতের হাই কমিশনারসহ দু’দেশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা রামগড় পৌর এলাকার মহামুনিতে স্থল বন্দর ও মৈত্রী সেতু নির্মাণের স্থান পরিদর্শন করেন।




রামগড় সাব্রুম স্থল বন্দর চালু হলে অভাবনীয় উন্নয়ন হবে: এমপি কুজেন্দ্র

রামগড় প্রতিনিধি:

উপজাতীয় শরণার্থী পুনর্বাসন সংক্রান্ত  টাস্ক ফোর্সের চেয়ারম্যান কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা এমপি বলেছেন, রামগড় সাব্রুম স্থল বন্দর চালু হলে এখানকার মানুষের অভাবনীয় অর্থনৈতিক  উন্নয়ন সাধিত হবে। সে সাথে পুরো জেলার চিত্র পাল্টে যাবে। এক সময়ের প্রাচীন মহকুমা শহর রামগড় ফিরে পাবে হারানো ঐতিহ্য।

মঙ্গলবার(২ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় খাগড়াছড়ি জেলার রামগড়ের সোনাইপুল বাজারে অবস্থিত ফরেনার্স চেকপোস্টের উদ্বোধন ও কমিউনিটি পুলিশিং সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

তিনি আরও বলেন, খাগড়াছড়ি এখন পর্যটন এলাকা হিসেবে দেশব্যাপী পরিচিতি লাভ করেছে। সোনাইপুল ফরেনার্স চেকপোস্ট পর্যটকদের  নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে। এলাকার আইন শৃঙ্খলা রক্ষার ক্ষেত্রেও ভুমিকা রাখবে।  রামগড় থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. শরীফুল ইসলামের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে  উপস্থিত ছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা ও সাবেক সংসদ সদস্য একেএম আলীম উল্ল্যাহ, খাগড়াছড়ি জেলা পুলিশ সুপার আলী আহমদ খান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) কাজী মো. চাহেল তস্তরি, রামগড় সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সৈয়দ মো. ফরহাদ, রামগড়  উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আল মামুন মিয়া, রামগড় উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান  মো. আব্দুল কাদের, উপজেলা আওয়ামী লীগের  সাবেক সভাপতি মো. মোস্তাফা হোসেন, উপজেলা কমিউনিটি পুলিশিং কমিটির সভাপতি ও খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা  পরিষদের সাবেক সদস্য মংপ্রু চৌধুরী, পুলিশিং কমিটির সাধারণ সম্পাদক কাজী নুরুল আলম ও  রামগড় পৌরসভার প্যানেল মেয়র আহসান উল্ল্যাহ।

রামগড়  থানার পিএসআই কাজী মো. শাহ নেওয়াজ অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন। আলোচনা সভার আগে প্রধান অতিথি এমপি কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা ফলক উন্মোচন ও ফিতা কেটে ফরেনার্স চেকপোস্টের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।




রামগড়ে শহীদ ক্যাপ্টেন কাদের বিদ্যা নিকেতনের ১০ পরীক্ষার্থীর ৮জনই জিপিএ-৫

রামগড় প্রতিনিধি

প্রাথমিক সমাপনি পরীক্ষায় খাগড়াছড়ির রামগড়ে শহীদ ক্যাপ্টেন কাদের বিদ্যা নিকেতনের  ১০ পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৮জনই জিপিএ-৫  পেয়েছে।  ‘এ’  গ্রেড প্রাপ্ত দুই পরীক্ষার্থীর পক্ষ থেকে পরীক্ষার খাতা পূনঃমূল্যায়নের আবেদন করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। বিদ্যালয়টির  অভাবনীয় এ সাফল্যে পুরো উপজেলায় আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।

জিপিএ-৫ প্রাপ্ত ছাত্র ছাত্রীরা হচ্ছে, রুকাইয়া সুলতানা সায়মা, জান্নাতুল নুসরাত, নিগার সুলতানা মীম, তানজীম শাহরীয়ার ফাহিম, মো. ফারহান ফুয়াদ, মো. আবু ফাহাদ মহিব, জোবায়ের হোসেন সজিব  ও  মো. ফখরুল ইসলাম আরমান। ‘এ’ গ্রেড প্রাপ্ত দুজন হচ্ছে বুশরা আফরোজ শাওন (৪.৮৩) ও  মো. আসিফুল ইসলাম মাহিম(৪.৮৩)। বিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ ফেরদৌস আরা বেগম জানান, ‘এ’ গ্রেড প্রাপ্ত দুই পরীক্ষার্থীও জিপিএ -৫ পাওয়ার কথা। তাদের পরীক্ষার খাতা পুনঃ নিরীক্ষনের আবেদন করা হবে। এদিকে, রবিবার বিদ্যালয়ে নার্সারি থেকে ৪র্থ শ্রেণির বার্ষিক পরীক্ষার  ফলাফল প্রকাশ ও মা সমাবেশ অনুষ্ঠিত  হয়।

স্কুলের অধ্যক্ষ  ফেরদৌস  আরা বেগমের সভাপতিত্বে মা সমাবেশে বিদ্যালয় পরিচালনা পরিষদের সভাপতি মংপ্রু চৌধুরি প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। বক্তব্য দেন পরিচালনা পরিষদের সহ-সভাপতি সাংবাদিক নিজাম উদ্দিন লাভলু, অভিভাবক সদস্য মো. মোস্তফা হোসেন, অভিভাবকের মধ্যে মরিয়ম আক্তার, শারমিন আক্তার, নাজনীনা আশরাফী, নাজিম উদ্দিন প্রমুখ।
উপাধ্যক্ষ আনিসুর রহমান অনুষ্ঠান  পরিচালনা  করেন।




রামগড়ে মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সের জায়গা বেদখলের প্রতিবাদে মানববন্ধন

রামগড় প্রতিনিধি:

মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সের রেকর্ডীয় জায়গা বেদখলের প্রতিবাদে ও অবৈধ দখলদারের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়ার দাবিতে বৃহস্পতিবার (২৮ ডিসেম্বর) রামগড় উপজেলার মুক্তিযোদ্ধা এবং তাদের সন্তানরা মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে। সকাল ১০টায় পৌর শহরের উপকন্ঠে শহীদ ক্যাপ্টেন আফতাবুল কাদের বীর উত্তম সড়কের পাশে তারা এ মানববন্ধন করেন।

মুক্তিযোদ্ধারা অভিযোগ করে বলেন, রামগড় পৌরসভার কমপাড়া এলাকায় উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের নামে ৯.১৮ শতাংশ জায়গা রয়েছে। সরকার ২০১৪ সালে জায়গাটি বন্দোবস্ত দেয়। এ জায়গায় উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা  কমপ্লেক্স নির্মাণের সিদ্ধান্ত হয়। গত মাসে দুই কোটি ১৮ লক্ষ টাকার কমপ্লেক্স ভবন নির্মাণ প্রকল্পের টেন্ডার হয়। প্রকল্প কাজের ঠিকাদার কাজ শুরু করতে গেলে জনৈক রুহুল আমিন এতে বাধা দেয়।

তারা আরও অভিযোগ করেন, ওই ব্যক্তি মুক্তিযোদ্ধা সংসদের রেকর্ডীয় জায়গার ওপর একটি কাচা ঘর ও গাছ লাগিয়ে বেদখল করেছেন। এ অবস্থায় অবৈধ দখলদারকে উচ্ছেদ করে অবিলম্বে মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সের নির্মাণ কাজ শুরু করার কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান মুক্তিযোদ্ধারা। প্রশাসন এ ব্যাপারে তরিৎ পদক্ষেপ না নিলে আগামীতে আরও কঠোর কর্মসূচি নেয়া হবে বলেও তারা জানান।

মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন খাগড়াছড়ি জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমাণ্ডের সাবেক ডেপুটি কমান্ডার মো. মোস্তফা, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ সমিতির সভাপতি মনছুর আহম্মদ, খাগড়াছড়ি জেলা মুক্তিযোদ্ধার সন্তান কমান্ডের সভাপতি মো. হারুণ প্রমুখ বক্তব্য দেন।

মানববন্ধনে অন্যান্যের মধ্যে সাবেক উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মফিজুর রহমান, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা  কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. আবুল কালাম, মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ডের খাজা নাজিম উদ্দিন, জসিম উদ্দিন চৌধুরি প্রমুখ।

এদিকে, রামগড় উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আল মামুন মিয়া এ ব্যাপারে জানান, মুক্তিযোদ্ধা সংসদের জায়গা থেকে অবৈধ দখলদারকে উচ্ছেদের আইনানুগ পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে।




রামগড়ে বিজিবি দিবস উদযাপিত

রামগড় প্রতিনিধি:

রামগড়ে বুধবার (২০ ডিসেম্বর) বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ বা বিজিবি দিবস উদযাপন করা হয়েছে। ৪৩ ব্যাটালিয়নের উদ্যোগে এ উপলক্ষে নানা কর্মসূচি নেয়া হয়।  ১৭৯৫ সালে পার্বত্য চট্টগ্রামের রামগড়ে ‘রামগড় লোকাল ব্যাটালিয়ন’ নামে গোড়াপত্তন হয় বাংলাদেশের এ সীমান্তরক্ষীবাহিনীর।

বুধবার ৭তম বিজিবি দিবস উপলক্ষে রামগড়স্থ ৪৩ ব্যাটালিয়নের উদ্যোগে ভোরে মসজিদে মিলাদ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। সকালে ব্যাটালিয়ন সদর দপ্তরে আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। পরে এ উপলক্ষে অনুষ্ঠিত বিশেষ দরবারে বক্তব্য দেন ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্ণেল এম জাহিদুর রশীদ, পিএসসি।

দুপুরে আয়োজিত প্রীতিভোজ অনুষ্ঠানে অধিনায়ক ছাড়াও অন্যান্যের মধ্যে ব্যাটালিয়নের উপ অধিনায়ক মেজর মো. হুমায়ুন কবির, রামগড় উপজেলা চেয়ারম্যান শহীদুল ইসলাম ভুইয়া, রামগড় পৌরসভার মেয়র মোহাম্মদ শাহজাহান কাজী রিপন, রামগড় ও হালদাভ্যালী চা বাগানের সিনিয়র ব্যবস্থাপক মো. জাহাঙ্গীর আলম, রামগড়ের পাতাছড়া ইউপি চেয়ারম্যান মনিন্দ্র ত্রিপুরা,  ফটিকছড়ির বাগান বাজার ইউপি চেয়ারম্যান মো. রুস্তম আলী, দাঁতমারা ইউপি চেয়ারম্যান মো. জানে আলমসহ বিভিন্ন সামরিক, বেসামরিক কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ সাংবাদিক উপস্থিত ছিলেন। সন্ধ্যায় অনুষ্ঠিত হয় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

১৭৯৫ সালে রামগড় লোকাল ব্যাটালিয়ন নামে বাহিনীটির গোড়াপত্তন হওয়ার পর কালের বিবর্তনে পরিবর্তন হয় বাহিনীটির নামও। পরিবর্তন হয় অস্ত্রশস্ত্রের, পোশাকেরও। জনবল, শক্তি সামর্থও বৃদ্ধি পায় সময়ের প্রয়োজনে। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৭২ সালে ইস্ট পাকিস্তান রাইফেলস (ইপিআর) নাম বদল করে বাহিনীটির নাম দেয়া হয় বাংলাদেশ রাইফেলস্ বা বিডিআর। ২০০৯ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি ঢাকার পিলখানায় সংঘটিত বিডিআর বিদ্রোহের ঘটনার পর ২০১০ এর ৮ ডিসেম্বর জাতীয় সংসদে ‘বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ আইন ২০১০’ পাস হওয়ার মাধ্যমে ২০১১ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে এ সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সর্বশেষ নামকরণ হয় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ বা বিজিবি। ওই বছরে ২০ ডিসেম্বর বিজিবি দিবস হিসাবে ঘোষণা দেয়া হয়।




‘রামগড় লোকাল ব্যাটালিয়ন’ আজকের বিজিবি

রামগড় প্রতিনিধি:

১৭৯৫ সালে পার্বত্য চট্টগ্রামের রামগড়ে  ‘রামগড় লোকাল ব্যাটালিয়ন’ নামে গোড়াপত্তন হয় বাংলাদেশের এ সীমান্তরক্ষীবাহিনীর। বুধবার (২০ ডিসেম্বর) বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ বা বিজিবি দিবস।

১৭৯৫ সালে রামগড় লোকাল ব্যাটালিয়ন নামে বাহিনীটির গোড়াপত্তন হওয়ার পর কালের বিবর্তনে পরিবর্তন হয় বাহিনীটির নামও। পরিবর্তন হয় অস্ত্রশস্ত্রের, পোশাকেরও। জনবল, শক্তি সামর্থ্য ও বৃদ্ধি পায় সময়ের প্রয়োজনে। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৭২ সালে ইস্ট পাকিস্তান রাইফেলস (ইপিআর) নাম বদল করে বাহিনীটির নাম দেয়া হয় বাংলাদেশ রাইফেলস্ বা বিডিআর। ২০০৯ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি ঢাকার পিলখানায় সংঘটিত বিডিআর বিদ্রোহের ঘটনার পর ২০১০ এর ৮ ডিসেম্বর জাতীয় সংসদে ‘বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ আইন ২০১০’ পাস হওয়ার মাধ্যমে ২০১১ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে এ সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সর্বশেষ নামকরণ হয় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ বা বিজিবি। ঐ বছরে ২০ ডিসেম্বর বিজিবি দিবস হিসাবে ঘোষণা দেয়া হয়।

২০০৫ সালে তৎকালিন ৩৩ রাইফেল ব্যাটালিয়নের উদ্যোগে রামগড়ে স্থাপন করা হয় এ বাহিনীর দৃষ্টিনন্দন বিশাল জন্ম স্মৃতিস্তম্ভ। এর বেদিতে  বিজিবি’র সংক্ষিপ্ত জন্ম ইতিহাস লেখা ছাড়াও পোড়া মাটি দিয়ে তৈরি বাহিনীটির বিবর্তনের ৮টি অবয়ব বা টেরাকোটা স্থাপন করা হয়েছে। দেশের বিভিন্ন সমতল জেলা থেকে আগত পর্যটকরা রামগড় সদরের ভারত সীমান্ত ঘেঁষা অফিস টিলা এলাকায় অবস্থিত দৃষ্টিনন্দন এ বিশাল ‘রাইফেলস্ স্মৃতিস্তম্ভে’ ঘুরে দেখেন আর জেনে নেন বাহিনীটির সুদীর্ঘকালের গৌরবময় জন্ম ইতিহাস।

সপ্তদশ শতকের শেষভাগে পার্বত্য চট্টগ্রামে লুসাই বিদ্রোহ দেখা দিলে এ এলাকা রক্ষার জন্য ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি রামগড়ে মাত্র ৪৮৬জন সৈন্য নিয়ে ‘রামগড় লোকাল ব্যাটালিয়ন’ গঠন করে। অস্ত্র শস্ত্রের মধ্যে ছিল ৬ পাউন্ড গোলার ৪টি কামান। এছাড়া দুটি অনিয়মিত অশ্বরোহি দল ও যাতায়াতের জন্য ছিল কয়েকটি উপযোগী যানবাহন। ১৭৯৫ থেকে ১৮৬০ সাল পর্যন্ত  রামগড় লোকাল ব্যাটালিয়ন নামে বাহিনীটির কার্যক্রম চলে। ১৮৬১ সালে এ বাহিনীকে পুনর্গঠিত করে এর নামকরণ করা হয় ফ্রন্টিয়ার গার্ডস। সৈন্য সংখ্যা বৃদ্ধি করে ১৪৫৪জনে উন্নীত করা হয়।

ওই সময় এ পার্বত্য এলাকায় লুসাই বিদ্রোহ চরম আকার ধারণ করলে ১৮৭১ সালে সৈন্য সংখ্যা আরও বৃদ্ধি করে এ বিদ্রোহ দমন করে বাহিনীটি। পরবর্তীকালে ১৮৭৯ সালে ফ্রন্টিয়ার গার্ডস্ নাম পরিবর্তন করে স্পেশাল রিজার্ভবাহিনী, ১৮৯১তে বেঙ্গল মিলিটারি পুলিশ ব্যাটালিয়ন, ১৯১২ সালে ঢাকা মিলিটারি পুলিশ, ১৯২০ সালে বেঙ্গল ব্যাটালিয়ন অব ইস্টার্ণ ফ্যন্টিয়ার রাইফেলস্। ১৯৪৭ এ ভারত বিভক্তির পর  এ বাহিনীর নামকরণ হয় ইস্ট পাকিস্তান রাইফেলস (ইপিআর)।