ইসলামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ‘মা’ সমাবেশ

 

20170516_114803 copy

রাজস্থলী প্রতিনিধি :

জেলার রাজস্থলী উপজেলার ৩নং বাঙ্গালহালিয়া ইউনিয়নের ইসলামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মঙ্গলবার সকাল ১০টায় কাপ্তাই তথ্য অফিস কর্তৃক আয়োজিত বর্তমান সরকারের ১০টি কর্মকাণ্ডকে নিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা যতন মার্মার সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান উথিনসিন মারমা।

বিশেষ অতিথি ছিলেন, ভাইস চেয়ারম্যান অংনুচিং মারমা, ৩নং বাঙ্গালহালিয়া ইউপি চেয়ারম্যান ঞোমং মারমা। এতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন, কাপ্তাই তথ্য অফিসের সহকারী তথ্য অফিসার মো. হারুন। সভায় প্রধান অতিথি বলেন, বর্তমান সরকার নারী বান্ধব সরকার। তিনি নারীদের অগ্রাধিকার প্রদান করেন। নারীরা আজ অবলা নয়।

শিক্ষার জন্য সরকার বদ্ধপরিকর। বাল্য বিবাহ, ইভটিজিং বা কোন অসামাজিক কার্যকলাপ কারো নজরে পড়লে তাৎক্ষণিক প্রশাসনকে অবহিত করবেন। একজন শিক্ষিত মা একটি শিক্ষিত জাতি প্রতিষ্ঠিত করতে পারে। তারই ধারাবাহিকতায় সকল শিক্ষার্থীদের স্কুলমুখী করার জন্য আহ্বান জানান।

এসময় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি সাংবাদিক হারাধন কর্মকার, দুর্নীতি দমনের সাধারণ সম্পাদক শামসুর আলম, সাবেক সেনা সদস্য নুর মাহমুদ। এশিয়ান টিভি প্রতিনিধি আজগর আলী খান, ইউপি সদস্যা সালমা আক্তার ও বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুইচংহ্লা মারমা প্রমুখ।

 




প্রতিরাতে হানা দিচ্ছে বন্য হাতি, আতঙ্কে আছে এলাকাবাসী

unnamed (3) copy

 রাজস্থলী প্রতিনিধি:

রাঙ্গামাটি জেলার রাজস্থলী উপজেলার ৩নং বাঙ্গালহালিয়া ইউনিয়নের ধলিয়া মুসলিম পাড়া ও মারমা পাড়ায় বন্য হাতি তাণ্ডব চালিয়ে তছনছ করে দিয়েছে বিপুল পরিমাণ জমির ধান ও ফলদ বনজ বাগান। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কয়েকদিন ধরে বাঙ্গালহালিয়া ইউনিয়নের ধলিয়া মুসলিম পাড়া ও মারমা পাড়া এলাকায় ৩০-৪০টি বন্য হাতির দল প্রতিরাতে এ তাণ্ডব চালিয়ে যাচ্ছে বলে খবর পাওয়া গেছে।

হাতিগুলো বর্তমানে পার্শ্ববর্তী রাঙ্গুনীয়া উপজেলার খুরুশিয়া, নারিচ্যা, শিলক ও জঙ্গল সরফভাটার এলাকায় অবস্থান করে স্থানীয়দের মাঝেও আতঙ্ক বিরাজ করছে। হাতির তাণ্ডবে ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারগুলো মানবেতর জীবন যাপন করছে। ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারদের সাথে কথাবলে জানা যায়, গহীন অরণ্য পাহাড় থেকে বন্য হাতির দলগুলো প্রতিরাতে লোকালয়ে উঠে আসে।

পরে রাতভর হাতিগুলো তাণ্ডব চালিয়ে কৃষকের উৎপাদিত ৩০-৩৫ কানির জমির ধান ফলদ বাগানের কলাগাছ, কাঁঠালগাছ সহ বিভিন্ন প্রজাতির ফসলাদি প্রায় ২০ লক্ষ টাকার সম্পদ নষ্ট করে ফেলেছে বন্য হাতির দল। বিশেষ করে রাতের বেলায় হাতির সঙ্গবদ্ধ দল জমিতে নামলে বিকট শব্দে ডাক শুরু করে। তখন পুরো এলাকা আতঙ্কে ছড়িয়ে পরে। স্থানীয় ইউপি সদস্য জানান, অনেক সময় রাত জেগে আগুন জ্বালিয়ে ও ঢাকঢোল পিটিয়ে চিৎকার করেও বন্য হাতির দলকে তাড়ানো যায় না।

বেশি ভয় দেখালেও হাতির পালগুলো মানুষকে আক্রমণ করার জন্য ছুটে আসে। তবে ফসলাদি ক্ষয়ক্ষতিগুলো একনজরে তাকিয়ে থাকা ছাড়া আর কিছুই করার থাকে না। এ বিষয়ে হাতির আক্রমণের ঘটনা সত্যতার নিশ্চিত করে ৩নং বাঙ্গালহালিয়া ইউপি চেয়ারম্যান ঞোমং মারমা জানান, কয়েকদিন থেকে বন্য হাতিগুলো এলাকায় অবস্থান করায় লোকজন এখন চরম আতঙ্কে রয়েছে। আবার যেকোন মুহুর্তে তাণ্ডব চালিয়ে জানমালের ক্ষতি সাধন করতে পারে।

এখনও সরকারি কিংবা বে-সরকারি কোন সহযোগিতা পায়নি। তিনি বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানাবেন বলে জানান। বাঙ্গালহালিয়া বনবিভাগের স্টেশন কর্মকর্তা কনক বড়ুয়া জানান, বাঙ্গালহালিয়া ইউনিয়নে বন্য হাতি আক্রমণের ঘটনা শুনেছি। এঘটনায় ক্ষতিগ্রস্থরা আবেদন করলে তদন্তপূর্বক বিধি মোতাবেক সহযোগিতা প্রদান করা হবে। উল্লেখ্য যে, পাহাড়ের আবাসস্থল ও বনজ সম্পদ উজার হওয়াতে হাতির প্রতিনিয়ত খাদ্যের অভাব হওয়ায় খাবার সংগ্রহে লোকালয়ে চলে আসে। ফলে বন্য হাতির তাণ্ডবে প্রতিদিন গ্রামবাসী ভয়ে আতঙ্কে রয়েছে।




রাজস্থলীতে নিরাপত্তাবাহিনীর উদ্যোগে ধাত্রী বিদ্যা প্রশিক্ষণ

IMG_20170507_095257 copy

রাজস্থলী প্রতিনিধি:

শান্তি, সম্প্রীতি, উন্নয়ন এরই ধারাবাহিকতায় প্রতিমাসের ন্যায় রাজস্থলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স প্রাঙ্গনে রবিবার সকাল ১০টা হতে দিনব্যাপী কাপ্তাই জোন’র উদ্যোগে রাজস্থলী সাব জোন’র ব্যবস্থাপনায় ধাত্রীবিদ্যা প্রশিকক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠিত কর্মশালায় সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন, সাব জোন কমান্ডার ওয়ারেন্ট অফিসার্স এইচএম সোহারার্ওয়াদী ও সার্জেন্ট মঞ্জুরুল আলম, সৈনিক মাসুম। ধাত্রী বিদ্যা প্রশিক্ষণে এলাকার মধ্যবয়সী ও বয়জ্যেষ্ঠ নারীরা অংশ গ্রহণ করেন। এ ধাত্রী বিদ্যা প্রশিক্ষণের মধ্য দিয়ে এলাকার হত দরিদ্র পরিবারের চিকিৎসা সেবা এগিয়ে এসেছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক গর্ভবতী মহিলা তার সন্তান প্রসব হওয়ার পর তিনি বলেন, নিরাপত্তাবাহিনী এ ধরনের প্রশিক্ষণ দিয়ে সমাজের আমাদের মতো নারীদের প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করেছে। আমরা দুর এলাকায় হওয়ায় সহজে চিকিৎসা সেবা পায় না যার ফলে অনেক গর্ববতী মহিলা অকালে প্রান হারায়। তাই আমরা বাংলাদেশ নিরাপত্তাবাহিনী কাপ্তাই ৫ আরই ব্যাটালিয়নের ঊর্ধতন কর্মকর্তাদের আন্তরিকভাবে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করছি। যাতে এধরনের প্রশিক্ষণ অব্যাহত থাকলে অদুর ভবিষ্যত কোন মা অকালে প্রান হারাবে না।

নিরাপত্তাবাহিনী পার্বত্য অঞ্চলে শান্তি, সম্প্রীতি, উন্নয়ন সামাজিক, চিকিৎসা ও শিক্ষা বিষয় নিয়ে এবং পার্বত্য অঞ্চলের অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের প্রতিহত করতে প্রতিনিয়ত কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছেন।




রাজস্থলীর বাঙ্গালহালিয়াতে বন্যহাতির তাণ্ডবে ফসলাদি ক্ষয়ক্ষতি

hati copy

রাজস্থলী প্রতিনিধি:

রাঙ্গামাটি জেলার রাজস্থলী উপজেলার ৩নং বাঙ্গালহালিয়া ইউনিয়নের ধলিয়া মুসলিম পাড়া ও মারমা পাড়ায় বন্যহাতি তাণ্ডব চালিয়ে তছনছ করে দিয়েছে বিপুল পরিমাণ জমির ধান ও ফলজ বনজ বাগান।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত কয়েকদিন ধরে বাঙ্গালহালিয়া ইউনিয়নের ধলিয়া মুসলিম পাড়া ও মারমা পাড়া এলাকায় ৩০-৪০টি বণ্যহাতির দল এ তাণ্ডব চালিয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। হাতিগুলো বর্তমানে পার্শ্ববর্তী রাঙ্গুনীয়া উপজেলার খুরুশিয়া, নারিচ্যা, শিলক ও জঙ্গল সরফভাটার স্থাণীয়দের মাঝেও আতঙ্ক বিরাজ করছে।

হাতির তাণ্ডবে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো মানবেতর জীবন যাপন করছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারদের সাথে আলাপকালে জানা যায়, গহীন অরণ্য পাহাড় থেকে বণ্যহাতির দলগুলো প্রতিরাত্রে লোকালয়ে উঠে আসে। পরে রাতভর হাতিগুলো ধলিয়া পাড়ার, ম্রাথোয়াই মারমা, অংথোয়াইচিং মারমা, থুইসাপ্রু মারমা, ক্যসুইঅং মারমা, ক্যপ্রুসিং মারমা, থুইসাঅং মারমা, আফছার হোসেন, মোহাম্মদ আলী, খোরশেদুল আলম, আব্দুল খালেক প্রায় ৩০-৩৫ কানির জমির ধান ফলজ বাগানের কলাগাছ, কাঠালগাছ সহ বিভিন্ন প্রজাতির ফসলাদি প্রায় ২০ লক্ষ টাকার সম্পদ নষ্ট করে ফেলেছে বন্য হাতির দল।

বিশেষ করে রাতের বেলায় হাতির সংঘবদ্ধ দল জমিতে নামলে বিকট শব্দে ডাক শুরু করে। তখন পুরো এলাকা আতঙ্কে ছড়িয়ে পরে। স্থানীয় ইউপি সদস্য মংউচিং মারমা জানান, অনেক ক্ষেত্রে রাত্রে, রাত জেগে আগুন জালিয়ে ও ঢাকঢোল পিটিয়ে চিৎকার করেও বন্য হাতির দলকে তাড়ানো যায় না। বেশি ভয় দেখালেও হাতির পাল মানুষের সামনা সামনি ছুটে এসে মারার জন্য খাড়া হয়ে উঠে। তবে ফসলাদি ক্ষয়ক্ষতিগুলো একনজরে তাকিয়ে থাকা ছাড়া আর কিছুই করার থাকে না।

এ বিষয়ে হাতির আক্রমনের ঘটনা সত্যতার নিশ্চিত করে ৩নং বাঙ্গালহালিয়া ইউপি চেয়ারম্যান ঞোমং মারমা জানান, গত কয়েকদিন থেকে বন্যহাতিগুলো এলাকায় অবস্থান করায় লোকজন এখন চরম আতঙ্কে রয়েছে। আবার যেকোন মুহুর্তে তাণ্ডব চালিয়ে জানমালের ক্ষতি সাধন করতে পারে। এখনো সরকারি কিংবা বে-সরকারি কোন সহযোগিতা পায়নি। তিনি বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানাবেন বলে জানান।

বাঙ্গালহালিয়া বনবিভাগের স্টেশন কর্মকর্তা কনক বড়ুয়া জানান, বাঙ্গালহালিয়া ইউনিয়নে বণ্যহাতি আক্রমনের ঘটনা শুনেছি। এঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তরা আবেদন করলে তদন্তপূর্বক বিধি মোতাবেক সহযোগিতা প্রদান করা হবে।

উল্লেখ্য যে, পাহাড়ের আবাসস্থল ও বনজ সম্পদ উজার হওয়াতে হাতির প্রতিনিয়ত খাদ্যের অভাব হওয়ায় খাবার সংগ্রহে লোকালয়ে চলে আসে। তার কারণে প্রতিদিন গ্রামবাসীদের ক্ষয়ক্ষতি সাধিত




বৌদ্ধ ধর্মের প্রতি অবমাননাকর সংবাদ পরিবেশনের প্রতিবাদে রাজস্থলীতে মানববন্ধন

20170503_093655 copy

রাজস্থলী প্রতিনিধি:

ধর্মের প্রতি অবমাননাকর সংবাদ পরিবেশনের প্রতিবাদে দৈনিক জনকণ্ঠ পত্রিকার রিপোর্টার ফিরোজ মান্নানের বিরুদ্ধে বুধবার সকাল ১০টায় রাজস্থলী উপজেলা প্রশাসন চত্ত্বরে মানববন্ধন করেছে, ত্রিরত্ন ভিক্ষু এসোসিয়েন (ত্রিভিএ) ও রাজস্থলী উপজেলা বৌদ্ধ ধর্মের সাধারণ মানুষ ও পার্বত্য ভিক্ষু সংঘ।

উজ্জ্বল তঞ্চঙ্গ্যার উপস্থাপনায় উ. কিত্তিমা মহাথের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, বাঙ্গালহালিয়া আগা পাড়া বৌদ্ধ শিশু অনাথালয়ের পরিচালক উ. ভদন্ত ক্ষেমাচারা মহাথের। প্রতিবাদ সভায় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান অংনুচিং মারমা, জেলা পরিষদের সদস্য চাঁনমনি তঞ্চঙ্গ্যা, সাবেক চেয়ারম্যান নিউচিং মারমা, ১নং ঘিলাছড়ি ইউপি চেয়ারম্যান সুশান্ত প্রশাদ তঞ্চঙ্গ্যা, হেডম্যান দীপময় তালুকদার, এমপি প্রতিনিধি সুভাষ চন্দ্র বাচ্চুমনি তঞ্চঙ্গ্যা, রাজস্থলী বৌদ্ধ বিহারের অধ্যক্ষ ধর্মানন্দ মহাথেরসহ অন্যান্য ভিক্ষুকগণ বক্তব্য রাখেন।

বক্তরা বলেন, ২৪ এপ্রিল বহুল প্রচারিত জাতীয় দৈনিক জনকণ্ঠ পত্রিকার সাংবাদিক ফিরোজ মান্নানের করা একটি সংবাদ প্রকাশ করা হয়। প্রকাশিত সংবাদের এক জায়গায় উল্লেখ করা হয় যে, ৯ দ্বারা তাদের দেবতা সন্ত্রাসী গৌতম বুদ্ধের গুন। ৬ দ্বারা সন্ত্রাসী গৌতম বুদ্ধের শিক্ষা এটা নাকি বৌদ্ধের ত্রিরত্ন। এ ধরনের সংবাদ প্রকাশ করে সমগ্র বৌদ্ধ ধর্মের প্রচারক গৌতম বুদ্ধকে সন্ত্রাসী আখ্যায়িত করা হয়েছে যা পুরো ধর্মীয় অবমাননার একটি দৃষ্টান্তরূপ।

দেশের আপামর শান্তিপ্রিয় বৌদ্ধধর্মালম্বীর ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানা হয়েছে। এধরনের কাল্পনিক বানোয়াট ও উদ্দেশ্য প্রণোদিত সংবাদ দেশের সার্বিক পরিস্থিতিকে যে কোন সময় অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে। অবিলম্বে এ ধরনের সংবাদ প্রত্যাহার এবং দেশের শান্তিপ্রিয় বৌদ্ধদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত প্রদানের জন্য দোষী ব্যক্তি  সাংবাদিক ফিরোজ মান্নার বিরুদ্ধে যথাযথ শাস্তির ব্যবস্থাসহ আইনের আওতায় এনে গ্রেফতার করার জন্য দাবি জানান বক্তারা।




বাঙ্গালহালিয়া নাইক্ষ্যংছড়ি এলাকায় কমিউনিটি ক্লিনিক উদ্বোধন

20170430_110224 copy

রাজস্থলী প্রতিনিধি:

জেলার রাজস্থলী উপজেলার ৩নং বাঙ্গালহালিয়া ইউনিয়নে দুর্গম পার্বত্য নাইক্ষ্যংছড়ি এলাকায় জনগণের চিকিৎসার সুবিধার্থে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অধিদপ্তর কর্তৃক বরাদ্ধকৃত কমিউনিটি ক্লিনিক রবিবার ১১ টায় রাজস্থলী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান উথিনমিন মারমা উদ্বোধন করেন।

এসময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান অংনুচিং মারমা। বাঙ্গালহালিয়া আগাপাড়া বৌদ্ধ শিশু আশ্রমের পরিচালক ভদন্ত উঃ ক্ষেমাচারা মহাথের বাঙ্গালহালিয়া কলেজের প্রভাষক, ৩নং বাঙ্গালহালিয়া ইউনিয়নের ইউপি চেয়ারম্যান ঞোমং মারমা, ৩২০নং কাকড়াছড়ি মৌজার হেডম্যান মংসিং চৌধুরী, আরএইচস্টেপ প্রকল্প ব্যবস্থাপক কাজী মুশফিকুর রহমান ও উপজেলা স্বাস্থ্য পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রুইহ্লাঅং মারমা।

উদ্বোধন শেষে নাইক্ষ্যংছড়া বৌদ্ধ বিহারের অধ্যক্ষ ভদন্ত উঃ ক্ষেমাচারা মহাথের’র সভাপতিত্বে এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি বলেন, বর্তমান সরকার শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও যোগাযোগ ক্ষেত্রে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। সারা দেশে ১৬ হাজার ক্লিনিক বাস্তবায়নের লক্ষ্য নিয়ে এ দুর্গম পার্বত্য এলাকার যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রাস্তাঘাট না থাকা সত্ত্বেও সরকার চিকিৎসা সেবা যাতে অপ্রতুল থাকে সে ব্যবস্থা করনের লক্ষ্যে এ নাইক্ষ্যংছড়ি এলাকায় একটি কমিউনিটি ক্লিনিক স্থাপন করেছে।

সরকারের সৎইচ্ছা থাকার সত্ত্বেও পাহাড়ের আঞ্চলিক সংগঠনের চাঁদাবাজির কারণে এলাকার উন্নয়নের ব্যাঘাত সৃষ্টি হচ্ছে। তাদের চাঁদা আদায়ের কাজ অব্যাহত থাকায় এ এলাকার খেটে খাওয়া মানুষ জিম্মি হয়ে পড়েছে। তাই সকলে ঐক্যবদ্ধ হয়ে এ চাঁদাবাজদের প্রতিহত করতে হবে। নইলে এ এলাকার উন্নয়ন সম্ভব নয়।




রাজস্থলীতে গরু খুঁজতে গিয়ে লাশ হয়ে ফিরল এক ব্যক্তি

রাজস্থলী প্রতিনিধি:

রাঙ্গামাটি জেলাধীন রাজস্থলী উপজেলা বাঙ্গালহালিয়া ডাক বাংলা পাড়ার ম্রাসাঅং মারমার ছেলে থুইহ্লাচিং মারমা (৬০) নিজ গৃহপালিত গরু প্রতিদিনের ন্যায় পাহাড়ে ছেড়ে দিলে তা খুঁজতে গিয়ে বুধবার বাড়িতে না ফেরায় পরিবারের মধ্যে সন্দেহ হয়।

চারিদিকে খোঁজার পর বৃহস্পতিবার ভোরে লাশ মাটিতে পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে তাদের বাড়িতে নিয়ে আসে।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, তিনি প্রতিদিনের ন্যায় নিজ গৃহপালিত গরুগুলো চরানোর উদ্দেশ্যে পাশ্ববর্তী পাহাড়ে নিয়ে যায়। এক সময় গরুগুলো খুঁজতে গেলে সে নিখোঁজ হয়। সে একজন মৃগ রোগী বলে তার পরিবার সূত্রে জানা যায়।

এ ব্যাপারে বাঙ্গালহালিয়া পুলিশ ফাঁড়ির এসআই এনামুল হক বলেন, প্রাথমিক সুরতকালে তার দেহে কোন আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায় নাই। চন্দ্রঘোনা থানার পুলিশ উপ-পরিদর্শক সুলভ দে জানান, লাশ সনাক্ত করে তার পরিবারকে হস্তান্তর করা হয়েছে। যেহেতু কোন অভিযোগ না থাকায় লাশ সৎকার করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।




বাঙ্গালহালিয়ায় মারমাদের সাংগ্রাই উপলক্ষে জল উৎসব

20170420_130623 copy

রাজস্থলী প্রতিনিধি:

রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলার রাজস্থলী উপজেলার বাঙ্গালহালিয়া উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে বৃহস্পতিবার পার্বত্য চট্টগ্রামের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী মারমা সম্প্রদায়ের সাংগ্রাই উপলক্ষে এক উল উৎসব ও মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। সাংগ্রাই জল উৎসব ১৪২৪ উপলক্ষে এক আলোচনা সভা সাংগ্রাই জল উৎসব উদযাপন পরিষদের সভাপতি ৩২০নং কাকড়াছড়ি মৌজার হেডম্যান মংসিং চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন, রাজস্থলী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান উথিনসিন মারমা। অনুষ্ঠানের উদ্বোধক ছিলেন, রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য চাঁনমনি তঞ্চঙ্গ্যা। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন, রাজস্থলী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি উবাচ মারমা, সাধারণ সম্পাদক পুচিমং মারমা, ৩নং বাঙ্গালহালিয়া ইউপি চেয়ারম্যান ঞোমং মারমা, সাবেক রাইখালী ইউপি চেয়ারম্যান মংক্য মারমা ও ৩৩৩নং সংসদীয় আসনের মহিলা এমপি প্রতিনিধি  লংবতি ত্রিপুরাসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে আগত হাজার হাজার দর্শক শ্রোতাবৃন্দ।

অনুষ্ঠানের শুরুতেই যুবক যুবতীদের পক্ষ থেকে অতিথিদের ফুল দিয়ে বরণ করে নেওয়া হয়। এরপর মংসিং চৌধুরী হেডম্যানের সভাপতিত্বে এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি বলেন, পুরাতন বছরকে গ্লানি দিয়ে নতুন বছরকে বরণ করার উদ্দেশ্য হলো মারমা সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী জল উৎসব। এ পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তি, শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার বদ্ধ পরিকর। কিছু অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী পার্বত্য রাজস্থলীতে নিরীহ খেটে খাওয়া মানুষের উপর অস্ত্রদিয়ে জিম্মি করে ফলে এ পার্বত্য রাজস্থলীতে অশান্তি বিরাজ করছে।

তিনি আরও বলেন, তারা পদে পদে চাঁদাবাজি, গুম, হত্যা ও নিরীহ জনগণকে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে চাঁদা আদায় করে আসছে। তাই প্রশাসনের প্রতি অনুরোধ, অচিরেই এ পার্বত্য রাজস্থলীতে অস্ত্র উদ্ধার করে তাদের আইনী আওতায় আনার ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আহ্বান জানাচ্ছি। আলোচনা সভা শেষে প্রধান অতিথি ও উদ্বোধক মারমা সম্প্রদায়ের সাংগ্রাই উপলক্ষে আয়োজিত জল উৎসবের উদ্বোধন করা হয়।

অপরদিকে স্থানীয় শিল্পী গোষ্ঠী কর্তৃক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশন করা হয়। এ সময় জল উৎসবে পার্বত্য চট্টগ্রাম ব্যতীত চট্টগ্রামের রাঙ্গুনীয়া, কাপ্তাই ও পার্শ্ববর্তী বান্দরবান, পদুয়াসহ হাজার হাজার লোকজন উৎসবে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন।




রাজস্থলীতে নিরাপত্তা বাহিনীর ইতিবাচক কার্যক্রম

20170409_095327 copy

নিজস্ব প্রতিবেদক , রাজস্থলী:

রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলার কাপ্তাই ৫ আরই ব্যাটালিয়ন বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে রাজস্থলীতে ইতিবাচক সারা জেগেছে। সম্প্রতি রাজস্থলী উপজেলার বিভিন্ন খেটে খাওয়া নারীদের প্রতি মাস অন্তর অন্তর ধাত্রী বিদ্যা প্রশিক্ষণ কর্মশালা, চিকিৎসা সেবা ও শীতকালে শীত নিবারণের জন্য দুস্থ পরিবারের মাঝে কম্বল বিতরণ করে ইতিবাচক কার্যক্রমের জাগরণ সৃষ্টি করছে।

ইতিপূর্বে তাও  নিরাপত্তা বাহিনীর ৭ আরই ব্যাটালিয়ন অধীনে নির্মিত সাপার্স ডট কম নামে একটি কম্পিউটার প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন করেন। ৭ আরই অন্যস্থলে যাওয়ার পর প্রতিষ্ঠানটি হাতে নেন ১১ আরই ব্যাটালিয়ন। তাও ২-৪ মাস চালানোর পর প্রতিষ্ঠানটি স্থগিত হলে বর্তমানে ৫ আরই ব্যাটালিয়ন’র সুনজরে পরে। তারই ধারাবাহিকতায় এলাকার কর্মসংস্থান বৃদ্ধির লক্ষ্যে ৫ আরই ব্যাটালিয়ন এ প্রতিষ্ঠানটি চালুকরণের উদ্যোগ নেন।

সম্প্রতি কম্পিউটার প্রশিক্ষণ চালু করে বিদ্যালয়মুখী শিক্ষার্থীদের প্রশিক্ষণ প্রদান করা হচ্ছে। রাজস্থলী সাব জোন কমান্ডার সিনিয়র ওয়ারেন্টা ফিসার মিজানুর রহমান বলেন, কাপ্তাই জোনের জোন অধিনায়ক এর ব্যবস্থাপনায় এ প্রতিষ্ঠানটি চালু করা হয়েছে। প্রতি ব্যাচ অনুযায়ী শিক্ষার্থীদের মাঝে সার্টিফিকেট বিতরণ করা হবে।

তিনি আরও বলেন, গত কয়েকদিন ধরে পার্বত্য অঞ্চলে সামাজিক, সাংস্কৃতিক, বৈসাবি অনুষ্ঠানে রাজস্থলী উপজেলার ঘিলাছড়ি তঞ্চঙ্গ্যা কল্যাণ সংস্থাকে কাপ্তাই ৫ আরই ব্যাটালিয়নের পক্ষ থেকে বৈসাবি পালন করার জন্য অনুদান প্রদান করা হয়।




রাজস্থলীতে কাপ্তাই তথ্য অফিস কর্তৃক নারী ও শিশু  উন্নয়নে যোগাযোগ বিষয়ের উপর ওরিয়েন্টেশন কর্মশালা

20170418_103523 copy

রাজস্থলী প্রতিনিধি:

কাপ্তাই তথ্য অফিসের ব্যবস্থাপনায় নারী ও শিশু উন্নয়নে যোগাযোগ কার্যক্রম (৪র্থ পর্যায়) শীর্ষক প্রকল্পের অধীনে ২০১৬-১৭ অর্থ বছরের জিওবি খাতে নেতৃত্বস্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান, মেম্বার, বিভিন্ন বিভাগের কর্মকর্তা, কর্মচারী ও ধর্মীয় গুরুদের নিয়ে  সকাল ১০টায় উপজেলা শিল্পকলা একাডেমিতে কাপ্তাই তথ্য বিভাগের তথ্য অফিসার মো. হারুনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠিত কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান উথিনসিন মারমা। বিশেষ অতিথি পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান অংনুচিং মারমা।

অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা স্বাস্থ্য পরিবার পরিকল্পনা প্রতিনিধি ডা. নিবীর দাশ, উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সঞ্জয় দেবনাথ, রাজস্থলী প্রেসক্লাব সভাপতি মো. আজগর আলী খান প্রমুখ।

সভায় প্রধান অতিথি বলেন, জন্মনিবন্ধন ও নাগরিক সনদ যথাযথভাবে তথ্য সেবা কেন্দ্র থেকে গ্রহণ করতে হবে। তিনি নারীদের উদ্দেশ্যে বলেন, নারীরা কোন অবলা নয়। বর্তমান নারীরা পুরুষদের সমান অধিকার আদায় করেছে। নারী ও শিশুর সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বর্তমান সরকার কাজ করে যাচ্ছে। পুরুষদের পাশাপাশি নারীদের অগ্রাধিকার দিচ্ছে সরকার।

তিনি আরও আমাদের রাজস্থলী উপজেলার বাল্য বিবাহ বলতে ২%এর অধিক। তাই সবার দৃষ্টি কামনা করছি যাহাতে ১০০% বাল্য বিবাহ রোধ করা যায়। মাদক, ও জঙ্গিবাদ এবং নারীর ক্ষমতায়ন ও নারীর সামাজিক নিরাপত্তা সরকার প্রদান করে আসছে এবং জঙ্গি সমগ্র বাংলাদেশ থেকে নির্মূল করার প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে।

সভায়, স্বাগত বক্তব্য রাখেন, তথ্য অফিসার কাপ্তাই মো. হারুন।