রাঙ্গামাটিতে বিএনপি’র বিক্ষোভে পুলিশি বাধা, আহত ৫ নেতাকর্মী


রাঙ্গমাটি প্রতিনিধি:
‘জুলুমবাজ বাকশালী সরকারের মামলা হামলা নির্যাতনের কবল থেকে দেশ ও জাতিকে রক্ষা করতে হবে। তবে দেশে গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হবে।’ বুধবার সকালে বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে গ্রেফতারী পরোয়ানা জারির প্রতিবাদে দলীয় কার্যালয়ের সামনে রাঙ্গামাটি জেলা বিএনপি ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তারা এসব কথা বলেন।

এসময় সমাবেশে বক্তব্যে রাখেন,রাঙ্গামাটি জেলা বিএনপি’র সহ-সভাপতি মো. হারুনুর রশিদ, সাধারণ সম্পাদক দীপন তালুকদার দীপু, যুগ্ম সম্পাদক এড. মো. মামুনুর রশিদ, সাংগঠনিক সম্পাদক এড. সাইফুল ইসলাম পনির, যুবদলের সভাপতি সাইফুল ইসলাম শাকিল প্রমুখ।

বক্তারা বলেন, খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে অবৈধ সরকারের দেয়া প্রহসনের গ্রেফতারী পরোয়ানা সাধারণ মানুষ মেনে নেবে না। সরকার পতনের মাধ্যমে দখলদার সরকারের এসব ঘৃণিত কর্মকান্ডের সমুচিত জবাব দেওয়া হবে। তাই সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে আন্দোলনের মাধ্যমে অবৈধ সরকারে পতন ঘটতে হবে।

সমাবেশের আগে ছাত্রদল ও যুবদল জটিকা মিছিল বের করলে পুলিশ বাধা দেয়। পরে পুলিশের বাধা অমান্য করলে পুলিশ লাঠি চার্জ করে নেতাকর্মীদের উপর। এতে ৫ জন নেতাকর্মী আহত হয়।




রাজাখালী ইউনিয়ন যুবদলের ১ নং ওয়ার্ডের আংশিক কমিটি অনুমোদন


পেকুয়া প্রতিনিধি:
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদল পেকুয়া উপজেলার আওতাধীন রাজাখালী ইউনিয়ন শাখার ১ নং ওয়ার্ড যুবদলের আংশিক ওয়ার্ড কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। শনিবার রাজাখালী ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম, সাধারণ সম্পাদক এস এম আমিন উল্লাহ, সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দু শুক্কুরের যৌথ স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে দলকে সুসংগঠিত করতে রাজাখালী ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ড যুবদলের কমিটি গঠন কল্পে ওই দিন বিকাল ৩টায় সবুজবাজারস্থ বিএনপির কার্যালয়ে রাজাখালী ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি জাহাঙ্গীর আলমের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক এস এম আমিন উল্লাহের পরিচালনায় এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন রাজাখালী ইউনিয়ন বিএনপির আহবায়ক মাষ্টার আবু জাফর এমএ।

বিশেষ অতিথি ছিলেন সাবেক আহবায়ক কাজী আক্তার আহমদ, ১নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি জিয়াবুল করিম, রাজাখালী ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক নুরুল আমিন, ইউনিয়ন ছাত্রদল সভাপতি শাহাদত হোছাইন, ১নং ওয়ার্ড বি এন পির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ডা. শামীম, ইউনিয়ন শ্রমিকদলের সাধারণ সম্পাদক মোহাং বেলাল। আলোচনা সভা শেষে সকলের সিদ্ধান্তক্রে মোহাম্মদ তানজিদ(সনেট) কে সভাপতি, মোহাম্মদ আব্দুর রহমান কে সিনিয়র সহ সভাপতি, মোহাম্মদ রেজাউল করিম কে সাধারণ সম্পাদক, মোহাং জাহাঙ্গীর কে সাংগঠনিক সম্পাদক করা হয়। উক্ত কমিটিকে আগামী ১ মাসের মধ্যে পূণাঙ্গ কমিটি ইউনিয়ন যুবদল বরাবর প্রেরণ করার জন্য তাগিদ দেওয়া হয়েছে।




কোন্দলে আওয়ামীলীগ মামলার জালে বিএনপি ও সুযোগ সন্ধানে ইউপিডিএফ


এইচ এম প্রফুল্ল, খাগড়াছড়ি:

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সাংগঠনিকভাবে দল গোছানোর কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে আওয়ামীলীগ ও বিএনপির পাশাপাশি আঞ্চলিক রাজনৈতিক সংগঠন ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট(ইউপিডিএফ)। তবে মামলার জালে বিএনপি আর আওয়ামীলীগ আছে দলীয় কোন্দলে-জঞ্জালে। অপর দিকে সুযোগ সন্ধানে আছে ইউপিডিএফ।

এছাড়া জাতীয় পাটি(এ) ও জেএসএস(এমএন) নীরবে ভোটের মাঠ গোছাচ্ছে।জামাতসহ অন্য ইসলামী দলগুলোর কোন তৎপরতা নেই খাগড়াছড়িতে।তবে ইউপিডিএফ’র কৌশলী তৎপরতার কারণে খাগড়াছড়ি আসনে নির্বাচনী বৈতরণী পার হওয়া জাতীয় রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য চ্যালেঞ্জিং হয়ে উঠতে পারে।

আওয়ামী লীগ

দলীয় কোন্দলে ঘুর পাক খাচ্ছে খাগড়াছড়িতে আওয়ামী লীগের রাজনীতি। দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রধান বিরোধী দলের বর্জনে মুখে আওয়ামীলীগ প্রার্থী কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা ৯৯ হাজার ৫৮ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। তবে এবার আওয়ামীলীগের যে কোন প্রার্থীর জন্য যতটা সহজ হবে না বলে মনে করেন সচেতন মহল। গত উপজেলা নির্বাচনে ৯টি উপজেলার মধ্যে ৮টিতে হেরেছে দলীয় প্রার্থীরা। তিন পৌরসভায় দুটি হাত ছাড়া হয়েছে।

খাগড়াছড়ি আসনে আওয়ামীলীগের সম্ভাব্য প্রার্থী হিসাবে যাদের নাম শোনা যাচ্ছে তারা হলেন, বর্তমান সংসদ সদস্য কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা, সাবেক সংসদ সদস্য ও প্রতিমন্ত্রী মর্যাদায় পার্বত্য চট্টগ্রাম টাস্কফোর্স চেয়ারম্যান যতীন্দ্র লাল ত্রিপুরা, জেলা আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি মুক্তিযোদ্ধা রণ বিক্রম ত্রিপুরা, খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কংজরী চৌধুরী ও পানছড়ি কলেজের অধ্যক্ষ সমীর দত্ত চাকমা।

তবে প্রচারপ-প্রচারণায় এগিয়ে আছেন, কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা এমপি। তিনি প্রায় প্রতিদিন কোন না কোন উপজেলা চষে বেড়াচ্ছেন। নৌকায় ভোট চাইছে এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যাকে মনোনয়ন দিবেন,তার পক্ষে কাজ করার অঙ্গীকার করছেন। অপর দিকে পিছিয়ে নেই জেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কংজরী চৌধুরীও। তিনিও নির্বাচনী প্রচারণা চালাচ্ছে বলে গুঞ্জন রয়েছে।

খাগড়াছড়ি শহর ও বেশ কয়েকটি উপজেলায় খাগড়াছড়ি সর্বস্তরের জনসাধারণের ব্যানারে ২৯৮ নং সংসদীয় আসনের বাসিন্দাদের ঈদুল আযহার শুভেচ্ছা জানিয়ে পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামীলীগের সহ সভাপতি কংজরী চৌধুরীর পক্ষে ফেস্টুন সাঁটানো হয়েছে।

ঐসব ফেস্টুনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী বীর বাহাদুর ঊসেশিং এমপি’র সংবলিত ছবির সাথে কংজরী চৌধুরী ছবি রয়েছে। তবে কংজরী চৌধুরীর এসবের কিছু জানেন না জানিয়ে বলেন, বিষয়টি নিয়ে আমি নিজেই বিব্রতকর অবস্থায় পড়েছি। দলের মূল স্রোতের সাথে আমার বিরোধ সৃষ্টি করার জন্য তৃতীয় কোন পক্ষ এ কাজ দাবী করে বলেন, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংসদ সদস্য প্রার্থী হওয়ার আমার কোন ইচ্ছে নেই।

খাগড়াছড়ি আওয়ামীলীগে দু’ধারা চলছে। গত পৌরসভা নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীর বিরোধীতা করার অভিযোগে জেলা আওয়ামলীগের সাধারন সম্পাদক সম্পাদক জাহেদুল আলমেকে বহিস্কারের প্রস্তাব করে কেন্দ্রে চিঠি পাঠায় জেলা আওয়ামী লীগ। সে থেকে প্রতিটি কর্মসূচী পালিত হচ্ছে, পৃথকভাবে।

এক পক্ষে নেতৃত্বে আছেন বর্তমান সংসদ সদস্য কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা এবং অপর পক্ষে জেলা আওয়ামীলীগের সাময়িক বহি:স্কৃত সাধারণ সম্পাদক জাহেদুল আলমের অনুসারিরা। জাহেদুল আলম গত নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়ে বহি:স্কৃত হয়েছিলেন।সে সময় তিনি বিদ্রোহী প্রার্থী হয়ে দোয়াত-কলম প্রতীক নিয়ে ১৬ হাজার ৫৬১ ভোট পান।পরবর্তীতে দল তাকে আবার ফিরিয়ে নিয়ে দলের জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক দায়িত্ব দেয়।

কোন্দলের জেরে গত প্রায় দুই বছর ধরে খাগড়াছড়িতে আওয়ামীলীগের দুইপক্ষের মধ্যে হামলা-মামলা চলছে। দুই পক্ষই একে অপরকে মূল স্রোতধারা বলে দাবী করছে।

এ বিষয়ে জাহেদুল আলমের ছোট ভাই খাগড়াছড়ি জেলা আওয়ামীলীগের শিক্ষা ও মানবসম্পদ বিষয়ক সম্পাদক দিদারুল আলম নিজেদের দলের মূলস্রোত দাবী করে বলেন, জেলা আওয়ামলীগের কার্যালয় আমাদের দখলে আছে। কাজে আমরাই মূল আওয়ামীলীগ। পক্ষান্তরে জেলা আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি মুক্তিযোদ্ধা রণ বিক্রম ত্রিপুরা বলেন, ওরা দখলদার। অফিসটি আমরা চিঠি দিয়ে মালিককে বুঝিয়ে দিয়েছি। কিন্তু জাহেদ-রফিক তা জোরপূর্বক দখল করে রেখেছে।

রণ বিক্রম ত্রিপুরা নিজেদের মূলস্রোত ধারার দাবী করে বলেন, যারা নির্বাচন আসলে দলের প্রার্থীর বিরোধীতা করে, বঙ্গবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রীকে লাল কার্ড দেখায় আাবার নির্বাচন গেলে নৌকায় উঠতে চাই তারা কখনো আওয়ামীলীগ হতে পারে না।

খাগড়াছড়ি জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নির্মলেন্দ্র চৌধুরী বলেন, সার্বক্ষণিক জেলার মানুষের সেবা ও উন্নয়নে পাশে থাকায় কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা ছাড়া এ আসনে বিকল্প কাউকে ভাবছে না নেতাকর্মীরা।

তবে সব মিলে খাগড়াছড়িতে আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক অবস্থা অনেকটা নড়েবড়ে বলে মনে করেন পর্যবেক্ষক মহল।

বিএনপি

খাগড়াছড়ি বিএনপি আটকে আছে মামলার জালে। নেতাকর্মীদের মাসের অধিকাংশ সময় ব্যয় হচ্ছে, আদালতের বারান্দায়। তারপর খাগড়াছড়িতে বিএনপির সাংগঠনিক অবস্থা বেশ শক্তিশালী। গত উপজেলা নির্বাচনে দুটি উপজেলায় বিএনপির প্রার্থীরা নির্বাচিত হয়েছে। তিনটি উপজেলায় হেরেছেন সামান্য ভোটের ব্যবধানে।
আগামী নির্বাচনে খাগড়াছড়ি আসনে দলের শক্তিশালী প্রার্থী জেলা বিএনপির সভাপতি ওয়াদুদ ভূঁইয়া। তিনি দুইবারের সংসদ সদস্য এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান।

নানা বাধা ও প্রতিবন্ধকতা সত্বেও তৃণমূল নেতাকর্মীদের সঙ্গে সার্বক্ষনিক যোগাযোগ ও কমিটিগুলো পুনর্গঠনের কারণে দলে ওয়াদুদ ভূইয়ার অবস্থান সু-দৃঢ় বলে দাবী নেতাকর্মীদের। প্রশাসনের বাধা থাকলেও কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় সব কর্মসূচীই পালিত হচ্ছে। তবে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নেতৃত্বে দ্বন্দ্ব ও সমন্বয়হীতার কারণে জেলার বেশ কয়েকটি উপজেলায় সমর্থন থাকলেও সাংগঠনিক অবস্থা দুর্বল।

খাগড়াছড়ি জেলা বিএনপির সভাপতি ওয়াদুদ ভূঁইয়া বলেন, ‘সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখেই নয়, গতানুগতিকভাবে দলকে গোছানোর কাজ চলছে। সে সঙ্গে নির্বাচনের জন্যে সামগ্রিক প্রস্তুতি রয়েছে। তিনি জানান, জরুরী সরকারের নিষেধাজ্ঞার কারণে ২০০৮ সালের নির্বাচনে অংশ নিতে না পারলেও আগামীতে দলের মনোনয়ন নিয়ে তিনি প্রার্থী হতে তিনি প্রস্তুত।

কিছুদিন আগেও সমীরন দেওয়ানের নেতৃত্বে পৃথকভাবে বিএনপির ব্যানারে কর্মসূচী পালন করতে দেখা গেলেও এখন তা চোখে পড়ছে না। সমীরণ দেওয়ানসহ তার গ্রুপের সকলেই এখন নিস্ক্রিয়। সম্প্রতি জেলা বিএনপির আংশিক কমিটি ঘোষনার পর সমীরন দেওয়ানের অন্যতম সহযোগি মাটিরাঙা উপজেলা পরিষদের সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও পৌরসভার মেয়র নাসির আহমেদ চৌধুরী তার অনুসারীদের নিয়ে ওয়াদুদ ভূইয়ার হাতে ফুলের তোড়া দিয়ে মূলস্রোতে ফিরেছেন। ফলে খাগড়াছড়ি বিএনপির পূর্ন নেতৃত্ব এখন জেলা বিএনপির সভাপতি ওয়াদুদ ভূঁইয়ার নিয়ন্ত্রণে।

জানা গেছে, চলতি বছরের মার্চে কেন্দ্র ঘোষিত জেলা বিএনপির ১৫১ সদস্যের মধ্যে সভাপতি, সহসভাপতি, সম্পাদকসহ ৩১ সদস্যের নামের তালিকায় নেই সমীরণ দেওয়ান ও তার পক্ষের কারোরই নাম না থাকায় গ্রুপের নেতাকর্মীরা অনেকটা হতাশ। এ কারণে অনেকে নিস্ক্রিয় হয়ে পড়েছেন। তবে আগামী নির্বাচনে আবারও সমীরন দেওয়ান দলীয় মনোনয়ন চাইতে পারেন বলে জানিয়েছেন তার অনুসারিরা। তবে সমীরন দেওয়ানের অনুগত বলে পরিচিত জেলা যুবদলের সভাপতি আব্দুল সালাম বলেন, কেন্দ্রীয় বিএনপি যাকে মনোনয়ন দিবেন তার পক্ষে কাজ করার চেষ্টা করবো। সুযোগ না পেলে ভোটটা দিয়ে আসবো।

জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অনিমেষ চাকমা রিংকু বলেন, ‘সহসাই পূর্ণাঙ্গ কমিটির ঘোষণা আসতে পারে। মোস্তাফিজুর রহমান মিল্লাতের অকাল মৃত্যুর শোক কাটিয়ে ওঠার পরই বৈঠকের সর্বসম্মত মতামত ও কেন্দ্রীয় পরামর্শে সাধারণ সম্পাদক পদের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেবেন আমাদের নেতা ওয়াদুদ ভূঁইয়া।

অপর যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট আব্দুল মালেক মিন্টু বলেন, আওয়ামীলীগের গত প্রায় সাড়ে আট বছরের শাসনামলে জেলাাব্যাপী দলের নেতাকর্মীদের নামে অন্তত সোয়া দুই শতাধিক মামলা হয়েছে। আসামী করা হয়েছে প্রায় ২০ হাজার নেতাকর্মীকে। কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় কোন কর্মসূচী স্বছন্দে করতে পারছে না। সব কর্মসূচী দলীয় কার্যালয়ের ভিতরে করতে হয়। অনেক উপজেলায় তাও করতে দিচ্ছে না পুলিশ।

কোন কোন উপজেলায় কর্মসূচীতে বাধা দিচ্ছে আওয়ামীলীগ। সম্প্রতি দলের সদস্য সংগ্রহ ও নাবায়ন কর্মসূচী এবং সর্বশেষ ঈদ-উল আযহার পোষ্টার লাগানোর কাজেও বাধা দেওয়া হচ্ছে। তা সত্বেও খাগড়াছড়ি জেলা বিএনপি দেশের যে কোন জেলার চেয়েও সু-সংগঠিত। তিনি বেশ কয়েকটি উপজেলায় সাংগঠনিক দুর্বলতার কথা স্বীকার করে বলেন, শীঘ্রই সব মিটে যাবে।

তবে আগামী নির্বাচনে বিএনপির ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে দল কতোটা পাহাড়ী ভোট টানতে পারবে অনেকখানি তার উপর বলে পর্যবেক্ষকদের মতামত।

জাতীয় পার্টি

খাগড়াছড়িতে জাতীয় পাটির সাংগঠনিক অবস্থা লেজেগোবরে। তাদের কোন তৎপরতা নেই বললে চলে। মূলত জাতীয় সংসদ নির্বাচন এলে দলের কতিপয় নেতাকর্মী তৎপরতা শুরু হয়। চট্টগ্রাম থেকে ছুটে আসেন জাতীয় পাটির কেন্দ্রীয় কমিটির প্রেসিডিয়াম সদস্য সোলায়মান আলম শেঠ। তিনি সম্প্রতি খাগড়াছড়িতে এক অনুষ্ঠানে বলেছেন, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাতীয় পার্টি এককভাবে অংশগ্রহন করবে।

এজন্য দলীয় নেতাকর্মীদের প্রস্তুতি নেওয়ারও আহ্বান জানান তিনি। আওয়ামী লীগ জোটগত নির্বাচনে গেলে খাগড়াছড়ি আসন থেকে তিনি জাতীয় পাটির হয়ে মনোনয়ন চাইবেন বলে জানান। তিনি গত দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে খাগড়াছড়ি আসনে জাতীয় পাটির প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দিতা করে মাত্র ৮ হাজার ১৮০ ভোট পেয়ে জামানত হারান।

জেলা জাতীয় পাটির সভাপতি মো: ইছহাক ও সাধারণ সম্পাদক ফিরোজ আহমেদ জানান, দল থেকে সোলায়মান আলম শেঠ প্রার্থী হবেন অনেকটাই নিশ্চিত। একই কথা বললেন, কেন্দ্রীয় সদস্য ইঞ্জিনিয়ার খোরশেদ আলম।

তবে জেলা জাতীয় পাটির সমন্বয়কারী হিসেবে পরিচয় দেওয়া পূর্ণজ্যোতি চাকমা বলেন, ‘জেলার বাইরের লোক হিসেবে সোলায়মান আলম শেঠকে খাগড়াছড়িতে প্রার্থী হিসেবে এরশাদ স্যার এলাউ নাও করতে পারেন। সে ক্ষেত্রে কেশব লাল চক্রবর্তী প্রার্থী হবেন। কেশব লাল চক্রবর্তী সড়ক বিভাগে চাকরির সূত্রে এসে মানিকছড়ি উপজেলার বাসিন্দা বলে জানা গেছে।

ইউপিডিএফ

১৯৯৭ সালে জনসংহতি সমিতির (জেএসএস) সঙ্গে সরকারের চুক্তি স্বাক্ষরের বিরোধিতা করে জন্ম নেয় আঞ্চলিক রাজনৈতিক সংগঠন ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ) সাংগঠনিকভাবে খাগড়াছড়িতে বেশ শক্তিশালী।

সংগঠনটি ২০০১ সালের নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী দিয়ে তাদের সাংগঠনিক অবস্থা জানান দিয়ে আসছে। পরপর তিনটি জাতীয় নির্বাচনে অংশ নিয়ে নানা প্রতিবন্ধকতা পেরিয়ে বিপুল ভোট পেয়েছেন ইউপিডিএফ প্রার্থীরা।

সর্বশেষ ২০১৪ সালে সংগঠনের প্রধান প্রসিত বিকাশ খীসা প্রার্থী হয়ে ৬৭ হাজার ৮০০ ভোট পেয়ে দ্বিতীয় হন। এছাড়া জেলার ৯টি উপজেলার মধ্যে ৫টি উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে তাদের প্রার্থী নির্বাচিত হয়েছেন।

স্থানীয় জাতীয় রাজনৈতিক দলগুলোর মত,  নির্বাচনে খাগড়াছড়ির প্রত্যন্ত অঞ্চলে ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায় না। যার ফলে প্রত্যন্ত অঞ্চলের নিরীহ পাহাড়ীরা জান মালের নিরাপত্তার ভয়ে কখনই নিজের পছন্দের প্রার্থিদের ভোট দিতে পারে না। এই সুযোগ পেয়ে থাকে ইউপিডিএফ।

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও ইউপিডিএফ প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে এটা অনেকটাই নিশ্চিত। তবে প্রার্থী কে হচ্ছেন তা এখনো পরিস্কার নয়।

সাবেক প্রার্থি উজ্জল স্মৃতি চাকমা বিপুল অস্ত্রসহ গ্রেফতার হয়েছিলেন একবার। জেলা সংগঠক প্রদীপন খীসার বাড়ি থেকে ৮০ লাখ টাকা উদ্ধারের ঘটনায় জেলায় ব্যাপক আলোচিত হয়েছিল।

তবে আগামী নির্বাচনে এই দলটির জন্য গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাক্টর হতে পারে ইউপিডিএফ-জেএসএস(মূল) সমঝোতা। সত্যি যদি এই সমঝোতা নির্বাচনী জোটে রূপান্তিরিত হয় তবে ইউপিডিএফ প্রার্থি আগামী নির্বাচনে যে কোনো দলের জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

জেএসএস

খাগড়াছড়িতে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি( সন্তু) গ্রুপের তৎপরতা না থাকলেও (এমএন লারমা) অংশের সাংগঠনিক অবস্থা রয়েছে।গত সংসদ নির্বাচনে মৃণাল কান্তি ত্রিপুরা প্রার্থী হয়ে ১০ হাজার ৬২৬ ভোট পান। তিনি এবারও প্রার্থী হতে পারেন।

জামাত

এক সময় জামাত-শিবিরের তৎপরতা থাকলেও এখন নেই। বিশেষ করে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার শুরু হবার পর দমন-পীড়নের গত কয়েক বছর ধরে মাঠ ছাড়া জামাত-শিবিরের নেতাকর্মী। এছড়া ইসলামী ঐক্যজোট ও বাসদ-জাসদের তেমন কোন অস্তিত্ব নেই খাগড়াছড়িতে।




ত্যাগী, বিনয়ী এবং ভদ্র নেতাকর্মীরাই চকরিয়ার নেতৃত্বে আসীন হবে


চকরিয়া প্রতিনিধি
কক্সবাজার জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক মুজিবুর রহমান চেয়ারম্যান বলেছেন- দ্বি-জাতি তত্তের ধর্মান্ধ পাকিস্তান থেকে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ত্যাগীকর্মীদের সাথে নিয়ে দীর্ঘ সংগ্রামের মাধ্যমে অ-সাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ প্রতিষ্টা করেছিলেন। আর সেই ধরণের ত্যাগী, বিনয়ী এবং ভদ্র নেতাকর্মীরাই ভবিষ্যতে চকরিয়ার নেতৃত্বে আসীন হবে।

শোকের মাস উপলক্ষে ২৩ আগষ্ট বুধবার বিকালে জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর শাহাদাত বার্ষিকী বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ, চকরিয়া উপজেলার সুরাজপুর-মানিকপুর ইউনিয়ন শাখা ও স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের উদ্যোগে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন।
মুজিবুর রহমান চেয়ারম্যান বলেন, আগামী একাদশ নির্বাচনে চকরিয়া-পেকুয়া আসনে নৌকা প্রতীকের জয় নিশ্চিত করতে হবে। যাতে আমরা এই আসনটি পুনরুদ্ধার করে দেশরত্ম শেখ হাসিনাকে উপহার দিতে পারি। এইজন্য এখন থেকে সংগঠনের কার্যক্রম গতিশীল করতে যার যার অবস্থান থেকে সকলকে কাজ করতে হবে।

সুরাজপুর-মানিকপুর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি বাদল কান্তি শর্মা’র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তৃতা করেন- জেলা আওয়ামীলীগের সিনিয়র সহ-সভাতি এডভোকেট আমজাদ হোসেন, সহ-সভাপতি ও সাবেক চকরিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান রেজাউল করিম, কক্সবাজার জেলা পরিষদের সদস্য ও জেলা আওয়ামীলীগের বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক লায়ন কমর উদ্দিন আহামদ, সদস্যবৃন্দ যথাক্রমে এ.টি.এম. জিয়াউদ্দিন চৌধুরী, আমিনুর রশিদ দুলাল, মিজানুর রহমান, উম্মে কুলসুম মিনু, চকরিয়া উপজেলা আওয়ামীলীগের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক জামাল উদ্দিন জয়নাল, উপজেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম সম্পাদক ও সুরাজপুর-মানিকপুর ইউপি চেয়ারম্যান আজিমুল হক আজিম।

ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম কাজল মেম্বারের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় আরো বক্তব্য রাখেন মুক্তিযোদ্ধা নজির আহামদ, কৃষকলীগের উপজেলা যুগ্ম আহ্বায়ক মোজাম্মেল হক, কলিম উল্রাহ্্, চকরিয়া উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি শওকত ওসমান, আওয়মাীলীগ নেতা মোঃ শাহাব উদ্দিন, বরইতলী ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ নেতা সেলিম উল্লাহ্্ বাহাদুর, ইউনিয়ন আওয়মীলীগের যুগ্ম সম্পাদক নুরুল আমীন, ছাত্রলীগ নেতা জুলফিকার আলী ভুট্টো, ও শাখাওয়াত হোসেন সৈকত প্রমুখ নেতৃবৃন্দ।




বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশকে বিশ্বের বুকে ঠাঁই দিয়েছেন- সাংসদ কমল


রামু প্রতিনিধি:
কক্সবাজার-৩ (সদর-রামু) আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ সাইমুম সরওয়ার কমল বলেছেন, হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙ্গালী জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কেবল বাঙ্গালী জাতির নয়, তিনি ছিলেন বিশ্ব নেতা। তাঁর কারণেই বাংলাদেশ বিশ্বের বুকে ঠাঁই করে নিয়েছে। তিনি বেঁচে থাকলে বাংলাদেশ আজ উন্নত দেশের একটিতে পরিনত হতো। আজ তিনি না থাকলেও তাঁর সুযোগ্য কন্যা জননেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশকে উন্নয়নশীল দেশে রূপ দিয়ে জাতির পিতার স্বপ্ন বাস্তবায়ন করে যাচ্ছেন। যারা জাতির পিতাকে ভালোবাসে না, যারা আওয়ামীলীগকে ভালোবাসে না, তারা কখনো বাংলাদেশকে ভালোবাসতে পারে না। জাতির পিতা দেশের জন্য নিজেকে উৎসর্গ করেছিলেন। আওয়ামীলীগ ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরাও দেশের জন্য জীবন দিয়ে কাজ করে যাচ্ছে। তিনি জাতীয় শোককে শক্তিতে রুপান্তর করে আগামী জাতীয় নির্বাচনে নৌকা প্রতীককে বিজয়ী করার সংগ্রামে ঝাপিয়ে পড়ার আহবান জানান।

সাংসদ কমল মঙ্গলবার (১৫ আগষ্ট) জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪২তম শাহাদত বার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষ্যে রামু উপজেলা আওয়ামীলীগ ও অঙ্গসংগঠনের উদ্যোগে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

কক্সবাজার জেলা আওয়ামীলীগের সহ সভাপতি জাফর আলম চৌধুরীর সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, রামু উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও উপজেলা যুবলীগ সভাপতি রিয়াজ উল আলম, কক্সবাজার জেলা আওয়ামীলীগের মহিলা বিষয়ক সম্পাদক মুসরাত জাহান মুন্নী, জেলা পরিষদ সদস্য শামসুল আলম চেয়ারম্যান ও নুরুল হক, প্রবীন আওয়ামীলীগ নেতা মাস্টার ফরিদ আহমদ, হাবিব উল্লাহ চৌধুরী, গর্জনিয়া ইউনিয়ন পরিষদেও চেয়ারম্যান সৈয়দ নজরুল ইসলাম, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম ভূট্টো, রামু উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক নীতিশ বড়ুয়া, যুবলীগ নেতা নবীউল হক আরকান, উপজেলা কৃষকলীগের আহবায়ক সালাহ উদ্দিন, যুগ্ন আহবায়ক মিজানুর রহমান, রামু উপজেলা ওলামালীগ সভাপতি মাওলানা নুরুল আজিম, উপজেলা তাঁতীলীগ সভাপতি নুরুল আলম জিকু, সাধারণ সম্পাদক মোস্তাক আহমদ, উপজেলা শ্রমিকলীগ আহবায়ক শফিকুল আলম কাজল, যুগ্ন আহবায়ক সাহাব উদ্দিন ও আরিফুল ইসলাম, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগের যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক আবু বক্কর ছিদ্দিক, উপজেলা মৎস্যজীবি লীগের সভাপতি সেলিম উদ্দিন, উপজেলা ছাত্রলীগ নেতা সাদ্দাম হোসেন ও মোহাম্মদ নোমান, বঙ্গবন্ধু ছাত্র পরিষদের আহবায়ক একেরামুল হাসান ইয়াছিন।

আলোচনা সভা সঞ্চালনায় ছিলেন, আওয়ামীলীগ নেতা সৈয়দ মো. আবদু শুক্কুর ও ফতেখাঁরকুল ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবকলীগ সভাপতি আজিজুল হক। সভায় রামু উপজেলা আওয়ামীলী, যুবলীগ, ছাত্রলীগ, স্বেচ্ছাসেবকলীগ, কৃষকলীগ, শ্রমিকলীগ, তাঁতীলীগ, বঙ্গবন্ধু ছাত্র পরিষদ, সৈনিকলীগসহ বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগি সংগঠনের শত শত নেতাকর্মী ও সর্বস্তুরের জনতা উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষ্যে রামুতে ২দিন ব্যাপী কর্মসূচি পালিত হচ্ছে। এরমধ্যে গতকাল ১৫ আগষ্ট ভোরে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত উত্তোলন, কালো পতাকা উত্তোলন, কালো ব্যাজ ধারন, সকাল ১০টায় কোরআনখানি মিলাদ মাহফিল, বিকাল তিনটায় শোকর‌্যালী ও আলোচনা সভা, দিনব্যাপী বঙ্গবন্ধুর ভাষন প্রচার করা হয়। অনুরুপ কর্মসূচি উপজেলার প্রত্যেক ওয়ার্ড ও ইউনিয়নে পালিত হয়েছেন। কর্মসূচির অংশ হিসেবে আগামী ২২ আগষ্ট রামু স্টেডিয়ামে মেজবানের আয়োজন করা হয়েছে।




কক্সবাজারে যথাযোগ্য মর্যাদায় জাতীয় শোক দিবস পালনের প্রস্তুতি

প্রেস বিজ্ঞপ্তি:
জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর ৪২তম শাহাদ বার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস যথাযোগ্য মর্যাদায় পালনের লক্ষ্যে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ, জেলা শাখা মাসব্যাপী কর্মসূচী গ্রহণ করেছে। এ কর্মসূচীর অংশ হিসেবে আগামী ১৪ আগস্ট পাবলিক লাইব্রেরীতে আলোচনা সভা ও ১৫ আগস্ট জাতীয় ও দলীয় পতাকা অর্ধনমিত করণ, একইসাথে কালো পতাকা উত্তোলনের কর্মসূচি রয়েছে।

১৫ আগস্টের কর্মসূচীতে সকাল ৮ টায় থাকছে কারোব্যাজ ধারণ ও বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে মাল্যদান। সকাল সাড়ে ৮ টায় থাকছে বঙ্গবন্ধু সহ ১৫ আগষ্টের সকল শহীদদের আত্মার মাগফেরাত কামনায় কোরআন খানি, মিলাদ ও দোয়া মাহফিল। আর সকাল ৯ টায় থাকছে শোক র‌্যালী।

এসব কর্মসূচির বিষয়টি নিশ্চিত করেন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এড. সিরাজুল মোস্তফা ও সাধারণ সম্পাদক মুজিবুর রহমান চেয়ারম্যান।




বাঙ্গালীরাই বাংলাদেশের আদিবাসী


নিজস্ব প্রতিবেদক, বান্দরবান
“সর্বক্ষেত্রে পার্বত্য বাঙ্গালীদের সংবিধানিক অধিকার দিতে হবে, বাঙ্গালীরাই বাংলাদেশের আদিবাসী” প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে পার্বত্য বাঙ্গালী ছাত্র পরিষদ বান্দরবান জেলা শাখা।

বাংলাদেশের উপজাতিদের আদিবাসী স্বীকৃতির দাবীর আড়ালে লুকায়িত রাষ্ট্র বিরোধী ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে ব্যানার ও ফেস্টুন হাতে নিয়ে বিভিন্ন শ্রেণী পেশার বাঙ্গালী তরুণরা অংশ নেয়।

মোহাম্মদ শাহাদাৎ হোসেনের সভাপতিত্বে শুক্রবার প্রেসক্লাবের সামনে পার্বত্য বাঙ্গালী ছাত্র পরিষদের আয়োজনে মানববন্ধন ও সমাবেশ করা হয়।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, বাংলাদেশে একমাত্র আদিবাসী বাঙ্গালী। কিন্তু সম্প্রীতি আমরা দেখতে পাচ্ছি যে প্রতিটা বিষয়ে বাঙ্গালীদের অধিকার থেকে বঞ্চতি করা হচ্ছে। সর্বস্তরে বাঙ্গালীরা লাঞ্চনা ও র্নিযাতনের স্বীকার হচ্ছে। বান্দরবানের বিভিন্ন অফিসে আদালত উপজাতীদের দখলে। চাকরী বলেন বা টেন্ডার বলেন সব উপজাতীদের। আমাদের দাবী সর্বক্ষেত্রে পার্বত্য বাঙ্গালীদের সংবিধানিক অধিকার  দিতে হবে।




রোয়াংছড়িতে বিএনপি’র সদস্য সংগ্রহ অভিযান শুরু


রোয়াংছড়ি প্রতিনিধি:

রোয়াংছড়ি উপজেলায় বিএনপির সভাপতি মং চাথোয়াই মারমা নতুন সদস্য অন্তরভুক্তির মধ্যে দিয়ে উদ্বোধন করলেন বান্দরবান জেলা বিএনপি সভানেত্রী মাম্যাচিং মারমা।

কেন্দ্রীয় নির্দেশক্রমে সম্প্রতি রোয়াংছড়িতে সদস্য সংগ্রহ ও নবায়ন অভিযানের দলীয় শৃঙ্খলা বজায় রেখে সংগঠনের দলের শক্তিশালী করতে প্রত্যয়ে গড়ে তোলতে হবে মর্মে রোয়াংছড়ি উপজেলায় জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি’র নিস্বার্থে করা ঘোষনা করা হয়েছে সভানেত্রী মাম্যাচিং মারমা।

সদস্য সংগ্রহ ও নবায়ন এই উপলক্ষ্যে রোয়াংছড়ি উপজেলা বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টার রোয়াংছড়ি বাজারস্থ মাল্টিপারপাস প্রাঙ্গনে নারীর ও পুরুষ শতাধিক নেতাকর্মী অংশ গ্রহনের মধ্য দিয়ে সদস্য অন্তরভুক্তিকরণ ও আলোচনা সভা আয়োজন করেন। রোয়াংছড়ি উপজেলার বিএনপি সভাপতি (অব.) মাষ্টার মং চাথোয়াইপ্রু মারমা সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় সাবেক জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেলা বিএনপি’র সভানেত্রী মাম্যাচিং মারমা প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।

অন্যান্যর মধ্যে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন,উপজেলা যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক চিত্তরঞ্জন তঞ্চঙ্গ্যা,রোয়াংছড়ি সদর ইউপির ৩ ওয়ার্ড মেম্বার গাধিলাল তঞ্চঙ্গ্যা, অংশৈচিং মারমা, জেলা সাংগঠনিক সম্পাদ মো. জসিম উদ্দীম, জেলা সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক পৌর মেয়র মো: জাবেদ রেজা প্রমুখ।

উপজেলা সাধারণ সম্পাদক মাওসেতুং তঞ্চঙ্গ্যা সভা সঞ্চালনা বক্তারা বলেন, শুধু বিএনপি দলীয় পরিচয় দিয়ে থাকলে হবে না,যার যার কাজ করে দলে শক্তিশালী করতে সকলে এগিয়ে আসতে হবে। প্রতিটি ওয়ার্ড,ইউনিয়ন,উপজেলা ও জেলা সকল নেতাকর্মী ঐক্যবদ্ধ হয়ে করা আহ্বান জানান বক্তারা।

প্রধান অতিথি মাম্যাচিং মারমা বলেন আজ রসিদ মাধ্যমে যাদের  সদস্য অর্ন্তভ্ক্তু হয়েছে এবং সদস্যের জন্য দশ টাকা দিতে হচ্ছে এটা দলের সভানেত্রী নির্দেশে করা হচ্ছে। যারা বিএনপি দলকে ভালবাসেন তার কোন দিন দলের অমঙ্গল চাইবে না এবং দলের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি ও ভঙ্গ করবেন না। প্রকৃত যারা রানৈতিক ও দলের প্রতি টান থাকবে। আাগামী একাদশ জাতীয় সংসদের নির্বাচনে লক্ষ্যে দলে শৃঙ্খলা বজায় রেখে জাতীয়তাবদী দলে চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া হাতকে শক্তিশালী করতে একযোগে কাজ করা আহ্বান জানান।




পেকুয়ায় বিএনপি সাংগঠনিক সম্পাদক পদ থেকে উপজেলা চেয়ারম্যান রাজুর পদত্যাগ


পেকুয়া প্রতিনিধি:
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) পেকুয়া উপজেলা শাখার নবগঠিত কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন শাফায়েত আজিজ রাজু। পেকুয়া উপজেলা বিএনপির আংশিক কমিটি অনুমোদনের একদিনের মধ্যেই তিনি প্রেস নোটের মাধ্যমে এ ঘোষণা দেন।

সংবাদ মাধ্যমে পাঠানো নিজ সাক্ষরিত প্রেস নোট পাঠকদের জন্য হুবুহু তুলে ধরা হল, কৃতজ্ঞতা অশেষ বিনয়ের সহিত আমি অপারগতা প্রকাশ করছি। সাথে আছি সাথে থাকব। অপরাজনীতির শিকার হয়ে নেতা হতে চাইনা। সবার ভালবাসার কর্মী হওয়া অধিক শ্রেয়। শুভাকাংখী যারা অবমূল্যায়নের অশ্রু সংবরণ করে ভালবাসার অশ্রু দিয়ে অভিনন্দনে সিক্ত করেছেন আমাকে। তাদের কাছে ক্ষমাপ্রার্থনা এবং নিরন্তর শুভকামনা।

মঙ্গলবার (১আগস্ট) বিকেলে জেলা বিএনপির দপ্তর সম্পাদক কর্তৃক প্রেস রিলিজের মাধ্যমে জানতে পারলাম পেকুয়া উপজেলা বিএনপির নতুন কমিটি (আংশিক) অনুমোদন দেয়া হয়েছে। যেখানে আমাকে সাংগঠনিক সম্পাদক মনোনীত করা হয়েছে। আমি উক্ত পদ থেকে পদত্যাগ করলাম। মহান আল্লাহ পাক আমাকে কর্মীর কাতারে থাকার তৌফিক দান করুন।

উল্লেখ্য, শাফায়েত আজিজ রাজু বিএনপি থেকে পরপর দুই বার পেকুয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন।এব্যাপারে জানতে চাইলে পেকুয়া উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোছাইন বক্তব্য দিতে অস্বীকৃতি জানান।

তবে পেকুয়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি বাহাদুর শাহ বলেন, তার পদত্যাগের বিষয়ে লিখিতভাবে জানানো হয়নি। পদত্যাগের কারণও আমার কাছে স্পষ্ট নয়।

কক্সবাজার জেলা বিএনপির সভাপতি শাহজাহান চৌধুরী বলেন, বিষয়টি আমি শুনেছি। তবে আমার মনে হচ্ছে মান-অভিমান থেকে এটি হচ্ছে। আশাকরছি বিষয়টি খুব শীঘ্রই সমাধান হয়ে যাবে।




রমজান মাসের পবিত্রতা রক্ষা করা সকলের দায়িত্ব- কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা


মহালছড়ি প্রতিনিধি:

খাগড়াছড়ি জেলার মহালছড়ি উপজেলা আওয়ামী লীগের উদ্যোগে ৬৮তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালিত ও পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

এতে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন খাগড়াছড়ি জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা এমপি ২৯৮ নং খাগড়াছড়ি।

শুক্রবার বিকালে উপজেলা টাউন হলে আওয়ামী লীগ মহালছড়ি শাখা ও এর সকল সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে আয়োজিত এই ৬৮তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী ও ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথি তার বক্তব্যে বলেন রমজান হচ্ছে পবিত্র মাস এ মাসের পবিত্রতা রক্ষা করা হচ্ছে সকলের দায়িত্ব।

প্রধান অতিথি আরো বলেন ধর্ম যার যার উৎসব সবার। এ উৎসব সবার মাঝে ছড়িয়ে দিয়ে সাম্পদায়িক সম্প্রীতি বন্দন অটুট থাকার আশা ব্যক্ত করেন। তিনি সাধারণ মানুষকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে আওয়ামী লীগের সাথে থেকে এ সরকারের উন্নয়ন কাজকে গতিশীল করার আহ্বান যানান।

৬৮তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী ও ইফতার মাহফিলে মহালছড়ি উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নিলুৎপল খীসার সভাপতিত্বে এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন, খাগড়াছড়ি জেলা আওয়ামিলীগের সহ সভাপতি কল্যাণ মিত্র বড়ুয়া, জেলা আওয়ামিলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও জেলা পরিষদের সদস্য আশুতোষ চাকমা, এ্যডভোকেট সুপাল চাকমা, মহালছড়ি উপজেলা আওয়ামিলীগের সহ সভাপতি চিন্তা হরন শার্মা, সাধারন সম্পাদক ও মহালছড়ি ১নং সদর ইউপি চেয়ারম্যান রতন কুমার শীল, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. জসিম উদ্দিন, সহ সাংগঠনিক সম্পাদক সুলতান মাহমুদ, উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম মাসুদ, উপজেলা ছত্রলীগের সভাপতি জিয়াউর রহমান (জিয়া) ও আওয়ামিলীগের অংগসগঠনের নেতৃবৃন্দ সহ প্রমূখ।