খাগড়াছড়িতে পুলিশের বাধা উপেক্ষা করে বিএনপির বিক্ষোভ সমাবেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক, খাগড়াছড়ি:

দ্রব্যমূল্যে উর্ধ্বগতি, পৌর ট্যাক্স ও গ্যাস-বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে খাগড়াছড়িতে পুলিশের বাধা উপেক্ষা করে বিএনপির বিক্ষোভ সমাবেশ হয়েছে।

বুধবার (১৩ ডিসেম্বর) বেলা ১১ টায় খাগড়াছড়ি মিল্লাত চত্ত্বর থেকে জেলা বিএনপির বিক্ষোভ মিছিলটি বের হয়ে আদালত সড়কের দিকে যেতে চাইলে জেলা খাদ্য অফিসের সামনে পুলিশের বাধার মুখে পড়ে।

পরে সেখানে আয়োজিত সমাবেশে জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি প্রবীন চন্দ্র চাকমা শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে পুলিশের বাধা দেওয়ায় নিন্দা জানিয়ে ভবিষ্যতে বিএনপির নেতাকর্মীরা আর কোন বাধা মানবে না বলে হুঁশিয়ারী উচ্চারণ করেন।

সমাবেশে আরো বক্তব্য রাখেন, জেলা বিএনপির সাংগঠনিক এমএন আবছার, আব্দুর রব রাজা, জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল-আলম সবুজ, জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক ইব্রাহিম খলিল ও জেলা মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদিকা কোহেলী দেওয়ান।




রাঙামাটিতে প্রাণ ভয়ে আওয়ামী লীগ থেকে পাহাড়ি নেতাকর্মীদের গণ পদত্যাগ

নিজস্ব প্রতিনিধি:

রাঙামাটিতে গত কয়েকদিন ধরে জাতীয় রাজনৈতিক দল আ’লীগের রাজনীতি থেকে সরে যাচ্ছে পাহাড়িরা। গণহারে পদত্যাগের হিড়িক, সকলের একটাই কারণ পারিবারিক সমস্যা। কিন্তু পরিস্থিতি বলছে অন্য কথা।

গেলবারের সংসদ নির্বাচনে পাহাড়ি অধ্যুষিত অঞ্চলগুলোতে আ’লীগ ভোট পায়নি। ওই অঞ্চলে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি ( জেএসএস ,) ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক পার্টি (ইউপিডিএফ) ও জনসংহতি সমিতি সংস্কারের  (এমএন লারমা গ্রুপ ) সাথে আঁতাত এবং নির্বাচনী কেন্দ্রে ভয়-ভীতি প্রদর্শন করে রাঙামাটি আসনটি দখল করে।

আ’লীগ সরকার গঠন করার পর রাঙামাটির ওইসব পাহাড়ি অধ্যুষিত অঞ্চলগুলোতে নিজেদের আধিপত্য বিস্তার করার জন্য এবার জেলা পরিষদের সদস্য সংখ্যা বাড়িয়ে ১৫জনে উন্নতি করে এবং ওইসব অঞ্চলগুলোতে জেলা পরিষদের প্রকল্পের মাধ্যমে উন্নয়নের ধারা অব্যহত রাখে।

জেলা পরিষদের সদস্যরা সরকারের এসব উন্নয়নের প্রকল্পগুলি নিজেদের ক্রেডিট বলে চালিয়ে যেতে থাকে। আর স্থানীয় উন্নয়নের জন্য বরাদ্দকৃত খাদ্যশস্যগুলো নিয়ে নিজেদের পকেট ভারী করেছে বলে ওইসব এলাকার পাহাড়ি আ’লীগ নেতাদের অভিযোগ।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে পদত্যাগকারী একাধিক নেতার সাথে কথা বলে জানা গেছে, তারা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে ভালবেসে আ’লীগের রাজনীতির সাথে জড়িত হয়েছে। আর এখন যেকোন মূহুর্তে তাদের জীবন হারাতে হতে পারে জেএসএস সন্ত্রাসীদের হাতে।এজন্য নিজেদের জীবন বাঁচাতে তারা এখন দলে দলে আ’লীগের রাজনীতি থেকে সরে যাচ্ছে বলে তারা জানান।

এ বিষয়ে জুরাছড়ি উপজেলা আ’লীগের জৈষ্ঠ্য এক নেতার সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে তিনি জানান, আ’লীগ এবং ওই সংগঠনের অন্যান্য নেতা-কর্মীরা জেএসএস’র সন্ত্রাসীদের ভয়ে গণহারে পদত্যাগ করছে। খাদ্য শস্য বরাদ্দের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি জানান, আসলে নেতা-কর্মীরা যা বলছে তা ঠিক না, এগুলোতো এলাকার উন্নয়নের জন্য। তারা জীবন বাঁচানোর জন্য এসব ওলটপালট কথা বলছে।

তিনি বলেন, আমি প্রাণ ভয়ে রাঙামাটিতে অবস্থান করছি। ওই এলাকায় আ’লীগের রাজনীতি থেকে সরে আসার জেএসএস পাঁচদিনের আল্টিমেটাম দিয়েছে, এখন তিনদিন অতিবাহিত হয়েছে আর মাত্র বাকি আছে দু’দিন। ওই এলাকার পরিস্থিতি এখন থমথমে বলে তিনি জানান। এদিকে জুরাছড়ি আ’লীগ এবং অঙ্গসহযোগী সংগঠন থেকে পদত্যাগের মিছিল দিনদিন ভারি হচ্ছে।

মঙ্গলবার (১২ডিসেম্বর)  সর্বশেষ পর্যন্ত জুরাছড়ি উপজেলা আ’লীগ থেকে আটজন, উপজেলা যুবলীগ থেকে দুইজন, ছাত্রলীগ থেকে একজন, মহিলা আ’লীগ থেকে একজন, কৃষকলীগ থেকে তিনজন, আওয়ামী সমর্থিত দু’জন জনপ্রতিনিধি এবং আ’লীগের ৩৫জন কর্মী।

অপরদিকে বিলাইছড়ি উপজেলা থেকে একজন এবং যুবলীগের থেকে একজন পদত্যাগ করেছেন। বাঘাইছড়ি থেকে পদত্যাগ করেছেন ৪ জন। প্রকৃতপক্ষে এই পদত্যাগের সংখ্যা আরো অনেক বেশী। কিন্তু আওয়ামী লীগের নেতারা তা স্বীকার করতে চাইছে না।

এ বিষয়ে জেলা আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক মুছা মাতব্বর জানান, জেএসএস’র সন্ত্রাসীরা অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে আ’লীগের পাহাড়ি নেতা-কর্মীদের পদত্যাগ করতে বাধ্য করলেও আ’লীগ তা কখনও মেনে নেবে না।  পাহাড় থেকে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের জন্য তিনি সরকারের কাছে জোর দাবি জানান।

তিনি বলেন, জেএসএস আ’লীগকে ভয় পায়, কারণ আ’লীগ অসাম্প্রদায়িক রাজনীতিতে বিশ্বাসী। এজন্য জেএসএস পাহাড়ি আ’লীগ নেতাদের ভয় দেখিয়ে আ’লীগ থেকে সরিয়ে নিচ্ছে।

এ নেতা আরও বলেন, পাঁচ বছর আগে জেলা কৃষকলীগের সভাপতি অনিল তঞ্চাঙ্গ্যকে অপহরণ করা হয়েছে। তাকে এখনো খুঁজে পাওয়া যায়নি। রাজস্থলী উপজেলা আ’লীগের সহ-সভাপতি মংকিউ মার্মাকে গুলি করে হত্যা সর্বশেষ জুরাছড়ি উপজেলা আ’লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক অরবিন্দু চাকমাকে গুলি করে হত্যা, বিলাইছড়ি আ’লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক রাসেল মার্মাকে বেধড়ক পিটুনি এবং জেলা মহিলালীগের সহ-সভাপতি ঝর্ণা খীসাকে বাড়িতে গিয়ে জেএসএস’র সন্ত্রাসীরা হামলা করে।

জেলা আ’লীগের এ  নেতা জানান, শান্তি চুক্তির বর্ষপূর্তিকে ঘিরে সন্তু লারমা পার্বত্য জেলায় আগুন লাগানোর যে হুমকি দিয়েছে তারপর থেকে এ ঘটনা ঘটছে।




চকরিয়ায় আ’লীগের বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত


চকরিয়া প্রতিনিধি:
কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার সুরাজপুর-মানিকপুর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের উদ্যোগে সোমবার ১১ ডিসেম্বর বিকালে দলের বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি বাদল শর্মার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বর্ধিত সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন চকরিয়া উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ জাফর আলম।

ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ও ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম কাজলের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন চকরিয়া উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ও ফাসিয়াখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গিয়াস উদ্দিন চৌধুরী,  উপজেলা আওয়ামীলীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি সাবেক ছাত্রনেতা ছরওয়ার আলম, চকরিয়া পৌরসভা আওয়ামীলীগের সাবেক আহবায়ক অধ্যাপক একেএম গিয়াস উদ্দিন, উপজেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি মোক্তার আহমদ চৌধুরী, বাবু এমআর চৌধুরী, উপজেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম সম্পাদক ও স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আজিমুল হক, সাংগঠনিক সম্পাদক সাংবাদিক মিজবাউল হক, উপজেলা আওয়ামীলীগ নেতা রোস্তম শাহরিয়ার, আওয়ামীলীগ নেতা চট্টগ্রামস্থ চকরিয়া সমিতির সাধারণ সম্পাদক হামিদ হোছাইন, আওয়ামীলীগ নেতা মুজিবুল হক রতন, নুরুল আমিন প্রমুখ। এছাড়াও অনুষ্ঠিত সভায় ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ, সহযোগি সংগঠনের সিনিয়র নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন।

সভায় প্রধান অতিথি উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ জাফর আলম বলেন, আগামী নির্বাচনে চকরিয়া-পেকুয়া আসনে নৌকার বিজয় নিশ্চিত করতে হবে। দলের মনোনয়ন নিয়েও আমরা গত তিনটি সংসদ নির্বাচনে এই জনপদে বিজয় ঘরে তুলতে পারিনি। আগামীতে আমরা সেই ধরণের ভুল আর করতে চাইনা। এইজন্য এখন থেকে আওয়ামীলীগের প্রতিটি নেতাকর্মীদেরকে নির্বাচনের জন্য প্রস্ততি নিতে হবে। জননেত্রী শেখ হাসিনাকে পুনরায় প্রধানমন্ত্রী পদে দেখতে চাইলে ভেদাভেদ ভূলে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে দলের জন্য কাজ করতে হবে।

তিনি বলেন, দলের সাংগঠনিক কার্যক্রম বেগবান করতে সকলের সাথে সমন্বয় করে কাজ করতে হবে। পাশাপাশি জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বধীন বর্তমান সরকারের সফল উদ্যোগ জনগনের মাঝে তুলে ধরতে হবে। আশাকরি উপজেলার প্রতিটি ইউনিটের আওয়ামীলীগ ও সহযোগি সংগঠনের নেতাকর্মীরা সেইভাবে দায়িত্ব পালন করবে।




বান্দরবান আ’লীগ থেকে বহিষ্কৃত দুই নেতার গোপন বৈঠক


নিজস্ব প্রতিবেদক, বান্দরবান
রাজনীতিতে শেষ কথা বলে কিছু নেই- এরই যেন প্রতিফলন ঘটেছে বান্দরবানের রাজনীতিতে। একসময় দুজনে আওয়ামীলীগে ছিলেন হেভী ওয়েট। রাজনীতিতে দু-হেভী ওয়েটের আধিপত্য বিস্তারে নেতা-কর্মীরা দিশেহারা হয়ে পড়েছিলেন। ফলে আওয়ামীলীগে তখন বিরাজ করছিল প্রসন্ন-মুজিব দা-কুড়াল অবস্থা। অবশেষে ১৮ বছরের টানা জেলা আ’লীগের সভাপতি প্রসন্ন কান্তি তঞ্চঙ্গ্যার পতন ঘটে ২০১৩ সালে।

অন্যদিকে প্রসন্ন কান্তি তঞ্চঙ্গ্যা জেলা আ’লীগ থেকে বহিষ্কার হওয়ার পর অপ্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে উঠেন জেলা আ,লীগের সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদের সদস্য কাজি মুজিবুর রহমান। এরই মধ্য জেলা আওয়ামীলীগে সভাপতি করা হয় জেলা পরিষদের চেয়াম্যান ক্যশৈহ্লাকে।

জেলা সভাপতি ক্যশৈহ্লা হলেও দল ও নেতা কর্মীদের পরিচালনা করেন জেলা আ,লীগের সাধারণ সম্পাদক কাজি মুজিবুর রহমান। তিনি শুধু পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী বীর বাহাদুর এমপিকে সমীহ করতেন বলে জনশ্রুতি রয়েছে। জেলা ও উপজেলার নেতা-কর্মীরা তার সাথে দেখা করতে ঘন্টার পর ঘন্টা অপেক্ষা করতে হত তার বাসভবনে। ছোট একটি ঘটনায় তার পতন ডেকে আনেন নিজেই। এরপর কাজি মুজিবুর দল থেকে বহিষ্কার হন।

জানা গেছে এক সময় দা-কুড়াল সম্পর্ক ভুলে জোট বেঁধেছেন আ,লীগ থেকে বহিষ্কৃত এই দুই নেতা। বান্দরবান জেলা আওয়ামী লীগের বহিষ্কৃত সাবেক সভাপতি প্রসন্ন কান্তি তঞ্চঙ্গ্যা ও সাধারণ সম্পাদক কাজি মুজিবুর কক্সবাজারে বেসরকারি হোটেলে গোপন বৈঠকও করেছেন। যা ইতোমধ্যে টক অবদ্যা টাউনে পরিণত হয়েছে।

বৈঠকে আওয়ামী লীগের অঙ্গ সংগঠনের কিছু নেতাকর্মীও উপস্থিত ছিলেন বলে জানা গেছে। এঘটনার জেরে রবিবার ১০ ডিসেম্বর আজিজনগর ইউনিয়নের সেচ্ছাসেবক লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মফিজুল ইসলামকে বহিষ্কার করা হয়েছে সংগঠন থেকে।

সূত্র জানায়, শনিবার ৯ ডিসেম্বর কক্সবাজারেরর একটি হোটেলে বহিষ্কৃত জেলা আ’লীগের সাবেক সভাপতি প্রসন্ন কান্তি তঞ্চঙ্গ্যা ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক কাজি মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে বৈঠক হয়। আগামী সংসদ নির্বাচনে এ-দুজন আওয়ালীগ থেকে মনোনয়ন চাইবেন নয়তোবা সতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রার্থী হবেন। এনিয়ে অনুগত নেতাকর্মীদের নিয়ে নিয়ে বৈঠক হয়েছে বলে সূত্র জানায়।

বৈঠকটি গোপনে করা হলেও সামাজিক যোগযোগ মাধ্যমে খবর চলে আসে।

সূত্র জানায়, আগামী সংসদ নির্বাচনে দলের বহিষ্কৃত দুই নেতা বান্দরবান সংসদীয় আসনের জন্য আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন চাইবেন। এ ক্ষেত্রে বর্তমান সাংসদ ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী বীর বাহাদুরকে মনোনয়ন দেয়া হলে যে কোন একজন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে লড়বেন। এ বিষয়ে তৃণমূল পর্যায়ে নেতা কর্মীদের জনমত যাচাইয়ে জন্যই বৈঠকের আয়োজন করা হয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক নেতারা বলেন, আমরা এখন মামলা-হামলার ভয় করি না। আগামী সংসদ নির্বাচন নিয়ে আমাদের বৈঠক। সময় বলে দিবে আমাদের কি করা প্রয়োজন। নির্বাচনে নিজেদের করণীয় এবং নিজেদের মধ্য মনোমালিন্য ভুলে গিয়ে এক সাথে কাজ করার লক্ষ্য নিয়ে এ বৈঠক করেছি।

বৈঠক নিয়ে এ বিষয়ে মুঠোফোনে কাজি মুজিবুর রহমান ও প্রসন্ন কান্তি তঞ্চঙ্গার সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা ফোন রিসিভ করেনি। এমনকি জেলা আ,লীগের কয়েকজন নেতাও ফোন রিসিভ করেননি।

উল্লেখ্য, দলীয় শৃঙ্খলা ভংঙ্গের দায়ে ও গঠনতন্ত্র বিরোধী হওয়ায় ২০১৩ সালে বহিষ্কার করা হয় জেলা আ’লীগের সভাপতি প্রসন্ন কান্তি তঞ্চঙ্গাকে। অপর দিকে ২০১৫ সালের জুন মাসে জেলা ছাত্রলীগের সম্মেলনে হামলার অভিযোগে কাজি মুজিবুর রহমানসহ ২২ নেতাকর্মীকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়।




জুরাছড়িতে আ’লীগের পদত্যাগের হিড়িক: ৩ দফায় ২শতাধিক নেতাকর্মীর পদত্যাগ

রাঙ্গামাটি প্রতিনিধি:

আওয়ামী লীগের জুরাছড়ি কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক অরবিন্দু চাকমা হত্যা ও আরো দুই নেতাকে হত্যা চেষ্টার ঘটনায় সন্ত্রাসীদের হুমকীর কারণে ওই উপজেলায় আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের পদত্যাগের যেন হিড়িক পড়েছে। সবাই ব্যক্তিগত ও পারিবারিক সমস্যার কথা উল্লেখ করে পদত্যাগপত্র জমা করলেও মুলত তাদেরকে নিত্য হুমকী দিচ্ছে আঞ্চলিক দলগুলির পেশী শক্তির নেতাকর্মীরা। ইতিমধ্যেই ভয়ে ৩য় দফাসহ প্রায় ২শতাধিক নেতাকর্মী দল থেকে পদত্যাগ করেছেন।

এদিকে আওয়ামী লীগকে ঠেকাতে মরিয়া হয়ে উঠেছে আঞ্চলিক দলগুলো। তবে আওয়ামী লীগের দলীয় সূত্রগুলো দাবি করছে এতেই বোঝা যাচ্ছে যে অবৈধ অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের দাপট কতটুকু। তারা না মানছে মানুষের অধিকার না মানছে আইন, কিন্তু বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে মুছে ফেলা এতো সহজ নয় বলে জানিয়েছে আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ।

প্রতিদিনই পদত্যাগপত্র স্ব-স্ব সভাপতির কাছে জমা দিচ্ছে বলে দলীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে।  আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের সাবেক দুই ইউপি চেয়ারম্যান, সাংগঠনিক সম্পাদক লাল বিহারী চাকমাসহ আরোও ৫২জন নেতা-কর্মী সোমবার পদত্যাগ করেছে বলে খবর পাওয়া গেছে। এর আগে ১ম দফায় ১২জন ও ২য় দফায় ১১১জন পদত্যাগ করেন।  উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতা অরবিন্দু চাকমার খুন হওয়ার পর এ নিয়ে তৃতীয় দফায় প্রায় ২শত জন নেতাকর্মী পদত্যাগ করলো।

সোমবার (ডিসেম্বর) বেলা সাড়ে ১২টায় উপজেলা সদরে এসে স্থানীয় সাংবাদিকদের কাছে তাদের পদত্যাগের বিষয়টি নিশ্চিত করেন জুরাছড়ি আওয়ামী লীগের বেশ কিছু নেতা-কর্মী।  এদের মধ্যে প্রথম সারির নেতা  উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক লাল বিহারী চাকমা, মৈদং ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক চেয়ারম্যান বরুন তালুকদার, দুমদুম্যা ইউনিয়নের নেতা ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান তরুন মনি চাকমা, মহিলা লীগেরসহ সভাপতি জ্যোৎস্না চাকমা, ইউনিয়ন শাখারসহ সভাপতি চন্দা চাকমা, সাধারণ সম্পাদক তারকা চাকমাসহ অনেক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে গত রবিবার আওয়ামী লীগের আইন বিষয়ক সম্পাদক মায়া নন্দ দেওয়ান, শিক্ষা ও মানব সম্পদ সম্পাদক  সন্তোষ দেওয়ান, আওয়ামী লীগের অন্যতম সদস্য বিরঙ্গ লাল চাকমা, যুব লীগেরসহ সভাপতি মিঠুন চাকমা, উপজেলা শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক জতির ময় চাকমা, কৃষক লীগের যুগ্ম সম্পাদক বঙিম চাকমা, সাংগঠনিক সম্পাদক মাইকেল চাকমা, দপ্তর সম্পাদক বন চন্দ্র চাকমা, মহিলা বিষয়ক সম্পাদক নীল পুতি চাকমা, কার্যকরী কমিটির সদস্য সন্তোষ চাকমা, সুনিল কান্তি চাকমা, দয়ামুনি চাকমা, অরুন কান্তি চাকমা, জুরাছড়ি ইউনিয়ন ছাত্র লীগের সাধারণ সম্পাদক কাকন মোহন চাকমা, সদস্য মোহর চাকমা পদত্যাগ করেন।

ইতিমধ্যে পদত্যাগকৃত আওয়ামী লীগের নব্য সদস্য হচ্ছে ৭০জন।  তারা হচ্ছে, জুরাছড়ি ইউনিয়নের কুসুমছড়ি গ্রামের পিত্তি রাজ চাকমা, রেবতী চাকমা, নোয়া রাম চাকমা, এডিসন চাকমা, প্রিয় লাল চাকমা, রিপন চাকমা, মহেন্দ্র চাকমা, যতিন্দ্র চাকমা, কুঞ্জধন চাকমা, রিতু জীবন চাকমা,দয়াল চাকমা, ভিতর বালুখালী গ্রামের বিজয় লক্ষ্য চাকমা, সাপছড়ির গ্রামের কিরণ কুমার চাকমা, শিণছড়ির প্রেম রঞ্জন চাকমা, ভুবন চন্দ্র চাকমা।

বনযোগীছড়া ইউনিয়নের বহেরাছড়ি গ্রামের সুনীল চাকমা, বিন্দু চাকমা, প্রভু রঞ্জন চাকমা, জ্যোতি চাকমা, পূন্যসেন চাকমা, রাজেন্দ্র চাকমা, অরুন জীবন চাকমা, শ্রীকান্ত চাকমা, উদয়ন চাকমা, বেকাবেক্যা গ্রামের শান্তি রতন, ধামাই পাড়া গ্রামের বিমল চাকমা, শৈলেন চাকমা, প্রীতি বিন্দু চাকমা, কৃষ্ণ মোহন চাকমা, কাংরাছড়ি(রাস্তা মাথা) গ্রামের দয়া কুমার চাকমা।

মৈদং ইউনিয়নের অঞ্জ লাল চাকমা,  অনিল চাকমা, হিরো নাক্ষ্য চাকমা, লাল বিহারী চাকমা, ললিত চন্দ্র চাকমা, রবিধন চাকমা, বিক্রম চাকমা, নাগরি চাকমা, সজ্জিত তালুকদার, তপন চাকমা, রাঙ্গীদাশ চাকমা, দবনা চাকমা, জৎস চাকমা, প্রান্ত চাকমা, অরুন কুমার চাকমা, শান্তি প্রিয় চাকমা, নির্মল চাকমা, নিখিল প্রিয় চাকমা, মিঠুন চাকমা, কাঞ্চন কুমার চাকমা, সুরময় চাকমা, সুনীল বরণ চাকমা, ধনেশ্বর চাকমা, হিমায়ন চাকমা।

দুমদুম্যা ইউনিয়নের মেগনাথ চাকমা, বেবী সোনা চাকমা, ভাগ্য ধন চাকমা, নিরঞ্জয় চাকমা, রুমেল চাকমা, স্বপন চাকমা, সুচী রানী চাকমা, সুজতা চাকমা, সুমতি চাকমা, সোনালীকা চাকমা, সমীরণ চাকমা, দুরগো নাথ চাকমা, নোমেল চাকমা, কমলা রঞ্জন চাকমা, চিক্ক রঞ্জন চাকমা, অনিল বিকাশ চাকমা, সম্রাট সুর চাকমা, অনিল বরণ চাকমা, বিরভদ্র চাকমা, নিপুন্ন চাকমা, বিকাশ চাকমা, প্রীতি বিন্দু চাকমা, সুভনন্দ চাকমা, দয়া লক্ষী চাকমা, কালো নন্দ চাকমা, জীবন বিকাশ চাকমা, চান্দু চাকমা, সুন্দরী চাকমা, করুনা ময় চাকমা, কালা কেতু চাকমা, পদ্মা দেবী চাকমা পদত্যাগ করেছেন বলে নিশ্চিত করেছেন আওয়ামী লীগের সংগঠক বিরঙ্গ লাল চাকমা।

এদিকে পদত্যাগকৃত মহিলা লীগের জুরাছড়ি ইউনিয়নের বালুখালী গ্রামের মুনি বালা চাকমা, শিলছড়ি গ্রামের শেফালীকা চাকমা, চঞ্চলা চাকমা, প্রেমলতা চাকমা, কোনতলা চাকমা, আল্পনা চাকমা, চিক্কোবী চাকমা, মায়া লতা চাকমা, মালতি চাকমা, কল্পনা চাকমা, কুসুমছড়ি গ্রামের বিনঙ্গ লতা চাকমা(জুলি), ঊষা রানী চাকমা, বিত্তো লতা চাকমা, সুফলা চাকমা, রঞ্জন মগী চাকমা, রুপ্তা চাকমা, স্বপ্না দেবী চাকমা, দীপিকা চাকমা, কিরণ মালা চাকমা, লক্ষী রানী চাকমা, লতিকা চাকমা, ফুল রানী চাকমা, রিংকি চাকমা, মায়াবী চাকমা, সুন্দরী চাকমা, রুমি চাকমা. রুমেন চাকমা, মমতা দেওয়ান, লক্ষী দেবী চাকমা।

বনযোগীছড়া ইউনিয়নের বেকাবেক্যা গ্রামের যত্ন শোভা চাকমা, বহেরাছড়ি গ্রামের কামনা চাকমা, বিশাখা চাকমা, ঝর্না চাকমা, জ্ঞান সভা চাকমা, চিক্কা রানী চাকমা, মেদরী চাকমা, অনিতা চাকমা, সুরংখ লতা চাকমা, হেঙ্গদী চাকমা, পিংকি চাকমা, বোধ রানী চাকমা, পারবিনা চাকমা, সঞ্জিতা চাকমা।

পদত্যাগকৃত ছাত্র লীগের নব্য যোগদানকৃত কুসুমছড়ি গ্রামের অভিজিৎ চাকমা, সোহেল চাকমা, হিমেল চাকমা, রিটন চাকমা, মিটন চাকমা, লুলাংছড়ি গ্রামের সুমন চাকমা।  বনযোগীছড়া ইউনিয়নের ধামাইপাড়া গ্রামের মিশর চাকমা।

এক প্রশ্নের জবাবে তারা বলেন, ব্যক্তিগত ও পারিবারিক সমস্যার কারণে সকল দলীয় কার্যক্রম থেকে সেচ্চায় অব্যহতি নিচ্ছেন।  ইতিমধ্যে তারা দলের গঠনতন্ত্র অনুসারে পদত্যাগপত্র স্ব-স্ব সভাপতির কাছে পাঠিয়েছেন বলে দাবি করেন।

কুসুমছড়ি জুলি, মমতা, ঊষারানী চাকমা এসময় জানান, আমরা কৃষিজীবী ও দিন মজুর।  দিন এনে দিন খায়, কাজ না করলে পেটে ভাত জোটে না।  এমন অবস্থায় কিছু না বুঝে সংগঠনে যোগ দিয়েছি।  প্রায় সময় সভা-সমাবেশ থাকে তাতে যোগ দেওয়া সম্ভব হয়না।  তাই দল থেকে আমরা সেচ্চাই পদত্যাগ করছি।

উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি প্রবর্তক চাকমা দলীয় কর্মীর পদত্যাগ বিষয়ে মুঠোফোনে এবং পদত্যাগপত্র হাতে পেয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন।  যুব লীগের সভাপতি সুমতি বিকাশ দেওয়ান বলেন, যুব লীগের বেশ কিছু পদত্যাগপত্র হাতে পেয়েছি।  গঠনতন্ত্র মূলে তাদের সদস্য বাতিলের পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

মহিলা লীগের সভানেত্রী কল্পিতা চাকমা জানান জুরাছড়ি ও বনযোগীছড়া ইউনিয়নের কুসুমছড়ি, বহেরাছড়ি, আনন্দ পাড়ার অনেক গুলো নব্য যোগদানকারী সদস্য’র সাধারণ সদস্য পদ বাতিলের পদত্যাগপত্র হাতে পেয়েছি।

কৃষক লীগের সভাপতি কেতন চাকমা বলেন, যুগ্ম ও সাংগঠনিক সম্পাদকসহ আটজনের পদত্যাগপত্র নিশ্চিত করে বলেন, এই কমিটি এখনো অনুমোদন পাওয়া যায়নি।  সুতরাং পদত্যাগের প্রয়োজন হয় না।  তারপরেও বিধি মোতাবেক তাদের আবেদন মঞ্জুর করা হবে।

এদিকে শনিবার রাতে জুরাছড়ি নেতা-কর্মীদের পদত্যাগের বিষয়ে জানিয়ে জেলা আওয়ামী লীগ একটি বিবৃতি দিয়েছে।  জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মুছা মাতব্বরের স্বাক্ষরিত বিবৃতিতে বলা হয়, জনসংহতি সমিতির  (জেএসএস)সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা তাদের নেতা-কর্মীদের হত্যার ভয় দেখিয়ে পদত্যাগ করতে বাধ্য করছে। তবে জনসংহতি সমিতি বিষয়টি অস্বীকার করেছে।




সরকারের উন্নয়নের সুফল জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে হবে

নিজস্ব প্রতিবেদক, মাটিরাঙ্গা:

দল গোছানোর অংশ হিসেবে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গা পৌরসভাধীন ২নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক কাউন্সিল সম্পন্ন হয়েছে। সোমবার (১১ ডিসেম্বর) বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে কাউন্সিলের উদ্বোধন করেন মাটিরাঙ্গা পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি হারুনুর রশীদ ফরাজী।

২নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. আমিন মিয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কাউন্সিলের দ্বিতীয় অধিবেশনে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন মাটিরাঙ্গা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সুবাস চাকমা। মাটিরাঙ্গা পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও প্যানেল মেয়র মো. আলাউদ্দিন লিটন কাউন্সিলের প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন। মাটিরাঙ্গা পৌর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি মো. জালাল মজুদার, কামাল উদ্দিন, মাটিরাঙ্গা উপজেলা যুবলীগের সভাপতি মো. রফিকুল ইসলাম এবং মাটিরাঙ্গা উপজেলা ছাত্রলীগের আহ্বায়ক ও পৌরসভার ২নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মোহাম্মদ আলী বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।

গণতন্ত্র চর্চায় আওয়ামী লীগ বরাবরই এগিয়ে মন্তব্য করে মাটিরাঙ্গা পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি হারুনুর রশীদ ফরাজী বলেন, কাউন্সিলের মাধ্যমে নেতৃত্ব সৃষ্টিতে আওয়ামী লীগ দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। তিনি নতুন-পুরনো নেতৃত্বের সমন্বয়ে দলকে জনগণের দোড়গোরায় পৌঁছে দেয়ার আহ্বান জানান।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাটিরাঙ্গা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সুবাস চাকমা কাউন্সিলরদের প্রত্যক্ষ ভোটে নেতৃত্ব নির্বাচনকে সময়োপযোগী পদক্ষেপ মন্তব্য করে বলেন, নতুন নেতৃত্বকেই আগামী নির্বাচনে নৌকার পক্ষে জনমত গড়ে তুলতে হবে। দেশের চলমান উন্নয়ন কর্মকাণ্ডকে এগিয়ে নিতে সরকারের উন্নয়নের সুফল জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে সকলের প্রতি আহ্বান জানান।

কাউন্সিল অধিবেশন মাটিরাঙ্গা পৌর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও পৌর কাউন্সিলর মো. মোস্তফা, মাটিরাঙ্গা উপজেলা স্বেচ্ছাসেবলীগের সভাপতি ও পৌর কাউন্সিলর মো. এমরান হোসেন, মাটিরাঙ্গা পৌর ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মো. ওসমান গনি ও ২নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. সিরাজ মিয়া বক্তব্য রাখেন।




বাঘাইছড়িতে জেএসএস নেতা ঊষাতন-বড় ঋষিকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা

 

নিজস্ব প্রতিনিধি:

রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলায় রাঙামাটি আসনের সংসদ সদস্য এবং জেএসএস নেতা ঊষাতন তালুকদার এবং বাঘাইছড়ি উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বড় ঋষি চাকমাকে অবাঞ্চিত ঘোষণা করেছে উপজেলা আ’লীগ।

বৃহস্পতিবার (৭ডিসেম্বর) রাতে এমন তথ্য নিশ্চিত করেন, বাঘাইছড়ি উপজেলা আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. আলী হোসেন।

তিনি বলেন, জুরাছড়ি উপজেলা আ’লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক অরবিন্দু চাকমাকে হত্যা এবং বিলাইছড়ি উপজেলা আ’লীগের সহ-সভাপতি রাসেল মারমাকে মারধরের প্রতিবাদ জানিয়ে উপজেলা আ’লীগ এ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।

তিনি বলেন, যতদিন আ’লীগ নেতার হত্যাকারীদের গ্রেফতার করা হবে না ততদিন তাদের এ উপজেলায় সরকারি কোন কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করতে দেয়া হবে না।




স্বৈরচার বিরোধী আন্দোলনে শহিদের কবরে আওয়ামীলীগের শ্রদ্ধা নিবেদন


চকরিয়া প্রতিনিধি:
১৯৮৭ সালের ৫ ডিসেম্বর স্বৈরচার বিরোধী আন্দোলনে অন্যতম লড়াকু সৈনিক তৎকালীন চকরিয়া থানা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি শহীদ দৌলত খানের ৩০তম শাহাদত বার্ষিকী মঙ্গলবার নানা আয়োজনের মাধ্যমে যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হয়েছে। তার স্মরণে আওয়ামীলীগ, ছাত্রলীগ ও শহীদ দৌলত স্মৃতি সংসদ বিভিন্ন কর্মসূচী পালন করেছে। ৫ ডিসেম্বর সকালে দৌলত খানের জন্মভূমি কোনাখালীতে কোরআনখানি, দোয়া মাহফিল বিশেষ মোনাজাত করা হয়।

দুপুর বারোটার দিকে শহিদ দৌলতের খানের কবরে পুষ্পমাল্য অর্পন করেন, চকরিয়া উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি জাফর আলম, সিনিয়র সহ-সভাপতি সরওয়ার আলম, জেলা আওয়ামীলীগ সদস্য আমিনুর রশিদ দুলাল, মাতামুহুরী থানা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক সাহারবিল ইউপি চেয়ারম্যান মহসিন বাবুল, চকরিয়া শহীদ দৌলত খান স্মৃতি সংসদের আহবায়ক এসএম জাহাঙ্গীর আলম বুলবুল, সহ-সভাপতি মকছুদুল হক ছুট্টো, চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি এমআর আজিম প্রমুখ।

এদিকে বিকাল তিনটায় চকরিয়া পৌরসভা ছাত্রলীগের সভাপতি মিজানুর রহমানের সভাপতিত্বে ভরামুহুরী উপজেলা আওয়ামীলীগের কার্যালয়ে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেখানে বক্তব্য রাখেন, মাতামুহুরী থানা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক মহসিন বাবুল, চকরিয়া উপজেলা আওয়ামীলীগের সিনিয়র সভাপতি সরওয়ার আলমসহ প্রমুখ।




শান্তিচুক্তি বাস্তবায়নে শীঘ্রই সন্তু লারমা সাথে বৈঠক হবে:  ওবায়দুল কাদের

কক্সবাজার প্রতিনিধি:

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তি প্রতিষ্ঠায় ৭২টি চুক্তির মধ্যে অনেকগুলো চুক্তি ইতিমধ্যে বাস্তবায়ন হয়েছে। যেগুলো এখনো বাস্তবায়ন হয়নি, সেগুলো বাস্তবায়নের উপায় বের করার জন্য জনসংহতি সমিতির চেয়ারম্যান সন্তু লারমার সঙ্গে বৈঠক হবে।

আজ সোমবার সকালে কক্সবাজারের একটি হোটেলে রোহিঙ্গাদের জন্য দেওয়া বিভিন্ন ব্যক্তি ও সংগঠনের অনুদানের টাকা গ্রহণ শেষে ওবায়দুল কাদের সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, পার্বত্য চুক্তির আগে ও পরের অবস্থা পর্যালোচনা করলে পাহাড়ে উন্নয়নের দৃশ্য সহজে বোঝা যাবে। এখন পাহাড়ে রাস্তাঘাট, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বিদ্যুৎসহ সবকিছুর ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে। পার্বত্য চট্টগ্রামের এখন একমাত্র সমস্যা হচ্ছে ভূমি। এই সমস্যা সমাধানের জন্য সরকারের আন্তরিকতার অভাব নেই।
ওবায়দুল কাদের বলেন, আজ সকালে জনসংহতি সমিতির চেয়ারম্যান সন্তু লারমার সঙ্গে মোবাইল ফোনে তিনি কথা বলেছেন। শিগগির তাঁরা একসঙ্গে বসে বৈঠক করবেন। যেসব চুক্তি বাস্তবায়িত হয়নি, সেগুলো কীভাবে দ্রুত বাস্তবায়ন করা যায়, সে বিষয়ে তাঁরা আলোচনা করবেন। এরপর সন্তু লারমার সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কথা হবে।

বিএনপির অপপ্রচার প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, এই মুহূর্তে বিএনপির কথামালার চাতুরী ছাড়া আর কোনো পুঁজি নেই। যতই দিন যাচ্ছে, ততই তারা মিথ্যাচার ও স্ট্যান্ডবাজি করে বেড়াচ্ছে। আগামী নির্বাচনে না এলে তাদের অবস্থা হবে মুসলিম লীগের মতো।

মন্ত্রী বলেন, মিয়ানমারের সঙ্গে যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠন হলেও সব রোহিঙ্গাকে এক দিনে ফেরত পাঠানো সম্ভব নয়। এটি একটি দীর্ঘমেয়াদি প্রক্রিয়া। তারপরও রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে সরকার ব্যর্থ হবে না। শেখ হাসিনা পদ্মা সেতু যেমন নিজস্ব অর্থায়নে নির্মাণ করছেন, তেমনি সাহসের সঙ্গেও রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলা করছেন।




চকরিয়া পৌর বিএনপির ৭১ সদস্য বিশিষ্ট আহবায়ক কমিটি


চকরিয়া প্রতিনিধি:
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির চকরিয়া পৌরসভা শাখার নির্বাহী কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে। সংগঠনকে আরো গতিশীল, শক্তিশালী ও সুসংহত করার লক্ষ্যে নুরুল ইসলাম হায়দারকে আহবায়ক, অধ্যাপক ফখরুদ্দিন ফরায়েজী এবং এম. মোবারক আলীকে যুগ্ম-আহ্বায়ক করে ৭১ সদস্য বিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটি অনুমোদন দেয়া হয়েছে।

জেলা বিএনপির সভাপতি শাহজাহান চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক এড. শামীম আরা স্বপ্না ২৯ নভেম্বর বুধবার উক্ত কমিটি অনুমোদন করেন।

ঘোষিত আহবায়ক কমিটিকে আগামী দু’মাসের মধ্যে সম্মেলন ও কাউন্সিলের মাধ্যমে চকরিয়া পৌর বিএনপির নতুন নির্বাহী কমিটি গঠনের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। জেলা বিএনপির দপ্তর সম্পাদক ইউসুফ বদরী স্বাক্ষরিত দলের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে