ঝর্ণা খীসাকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে আটক জনসংহতির ৭ নেতা রিমান্ডে

রাঙ্গামাটি প্রতিনিধি:

জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ঝর্ণা খীসাকে নিজ বাসভবনে কুপিয়ে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে আটক জনসংহতি সমিতির ৭ নেতাকর্মীকে রিমান্ড মঞ্জুর করেছে আদালত।

মঙ্গলবার (১২ ডিসেম্বর) তাদের রাঙ্গামাটির সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কাজী মো. মোহসেন এর আদালতে হাজির করা হলে আদালত প্রত্যেককে ১ দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করে। এসময় গ্রেফতারকৃতরাও আদালতে উপস্থিত ছিলো। আসামিরা হলেন, রিটন চাকমা, বাবু চাকমা, মঙ্গলমনি চাকমা, সাধন চাকমা, রিকন চাকমা, ফালনজিৎ চাকমা এবং রূপম চাকমা।

এদিকে জুরাছড়িতে আওয়ামী লীগ নেতা অরবিন্দু চাকমা হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ও বিলাইছড়িতে আওয়ামী লীগ নেতা রাসেল মার্মাকে হত্যাচেষ্টার ঘটনায় গ্রেফতারকৃতদের আগামী ১৭ ও ১৮ ডিসেম্বর রিমান্ড শুনানীর দিন ধার্য্য করা হয়েছে আদালতে।

উল্লেখ, গেল ৫ ডিসেম্বর মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে জুরাছড়ি ইউনিয়নের মগবাজার স্থলে একদল জলপাই রঙের পোশাক পরিহিত দুর্বৃত্ত ব্রাশ ফায়ার করে হত্যা করে অরবিন্দু চাকমাকে এবং বিলাইছড়িতে আরেক আওয়ামী লীগ নেতা রাসেল মার্মাকে হত্যারচেষ্টা করে।

পরে গেল ৬ ডিসেম্বর রাতে রাঙামাটি শহরের ভালেদী আদাম এলাকায় নিজ বাসায় কূপিয়ে মারাত্মক জখম করা হয় ঝর্ণা খীসাকে। তিনি বর্তমানে চট্টগ্রামের একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।




রাঙামাটিতে প্রাণ ভয়ে আওয়ামী লীগ থেকে পাহাড়ি নেতাকর্মীদের গণ পদত্যাগ

নিজস্ব প্রতিনিধি:

রাঙামাটিতে গত কয়েকদিন ধরে জাতীয় রাজনৈতিক দল আ’লীগের রাজনীতি থেকে সরে যাচ্ছে পাহাড়িরা। গণহারে পদত্যাগের হিড়িক, সকলের একটাই কারণ পারিবারিক সমস্যা। কিন্তু পরিস্থিতি বলছে অন্য কথা।

গেলবারের সংসদ নির্বাচনে পাহাড়ি অধ্যুষিত অঞ্চলগুলোতে আ’লীগ ভোট পায়নি। ওই অঞ্চলে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি ( জেএসএস ,) ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক পার্টি (ইউপিডিএফ) ও জনসংহতি সমিতি সংস্কারের  (এমএন লারমা গ্রুপ ) সাথে আঁতাত এবং নির্বাচনী কেন্দ্রে ভয়-ভীতি প্রদর্শন করে রাঙামাটি আসনটি দখল করে।

আ’লীগ সরকার গঠন করার পর রাঙামাটির ওইসব পাহাড়ি অধ্যুষিত অঞ্চলগুলোতে নিজেদের আধিপত্য বিস্তার করার জন্য এবার জেলা পরিষদের সদস্য সংখ্যা বাড়িয়ে ১৫জনে উন্নতি করে এবং ওইসব অঞ্চলগুলোতে জেলা পরিষদের প্রকল্পের মাধ্যমে উন্নয়নের ধারা অব্যহত রাখে।

জেলা পরিষদের সদস্যরা সরকারের এসব উন্নয়নের প্রকল্পগুলি নিজেদের ক্রেডিট বলে চালিয়ে যেতে থাকে। আর স্থানীয় উন্নয়নের জন্য বরাদ্দকৃত খাদ্যশস্যগুলো নিয়ে নিজেদের পকেট ভারী করেছে বলে ওইসব এলাকার পাহাড়ি আ’লীগ নেতাদের অভিযোগ।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে পদত্যাগকারী একাধিক নেতার সাথে কথা বলে জানা গেছে, তারা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে ভালবেসে আ’লীগের রাজনীতির সাথে জড়িত হয়েছে। আর এখন যেকোন মূহুর্তে তাদের জীবন হারাতে হতে পারে জেএসএস সন্ত্রাসীদের হাতে।এজন্য নিজেদের জীবন বাঁচাতে তারা এখন দলে দলে আ’লীগের রাজনীতি থেকে সরে যাচ্ছে বলে তারা জানান।

এ বিষয়ে জুরাছড়ি উপজেলা আ’লীগের জৈষ্ঠ্য এক নেতার সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে তিনি জানান, আ’লীগ এবং ওই সংগঠনের অন্যান্য নেতা-কর্মীরা জেএসএস’র সন্ত্রাসীদের ভয়ে গণহারে পদত্যাগ করছে। খাদ্য শস্য বরাদ্দের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি জানান, আসলে নেতা-কর্মীরা যা বলছে তা ঠিক না, এগুলোতো এলাকার উন্নয়নের জন্য। তারা জীবন বাঁচানোর জন্য এসব ওলটপালট কথা বলছে।

তিনি বলেন, আমি প্রাণ ভয়ে রাঙামাটিতে অবস্থান করছি। ওই এলাকায় আ’লীগের রাজনীতি থেকে সরে আসার জেএসএস পাঁচদিনের আল্টিমেটাম দিয়েছে, এখন তিনদিন অতিবাহিত হয়েছে আর মাত্র বাকি আছে দু’দিন। ওই এলাকার পরিস্থিতি এখন থমথমে বলে তিনি জানান। এদিকে জুরাছড়ি আ’লীগ এবং অঙ্গসহযোগী সংগঠন থেকে পদত্যাগের মিছিল দিনদিন ভারি হচ্ছে।

মঙ্গলবার (১২ডিসেম্বর)  সর্বশেষ পর্যন্ত জুরাছড়ি উপজেলা আ’লীগ থেকে আটজন, উপজেলা যুবলীগ থেকে দুইজন, ছাত্রলীগ থেকে একজন, মহিলা আ’লীগ থেকে একজন, কৃষকলীগ থেকে তিনজন, আওয়ামী সমর্থিত দু’জন জনপ্রতিনিধি এবং আ’লীগের ৩৫জন কর্মী।

অপরদিকে বিলাইছড়ি উপজেলা থেকে একজন এবং যুবলীগের থেকে একজন পদত্যাগ করেছেন। বাঘাইছড়ি থেকে পদত্যাগ করেছেন ৪ জন। প্রকৃতপক্ষে এই পদত্যাগের সংখ্যা আরো অনেক বেশী। কিন্তু আওয়ামী লীগের নেতারা তা স্বীকার করতে চাইছে না।

এ বিষয়ে জেলা আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক মুছা মাতব্বর জানান, জেএসএস’র সন্ত্রাসীরা অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে আ’লীগের পাহাড়ি নেতা-কর্মীদের পদত্যাগ করতে বাধ্য করলেও আ’লীগ তা কখনও মেনে নেবে না।  পাহাড় থেকে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের জন্য তিনি সরকারের কাছে জোর দাবি জানান।

তিনি বলেন, জেএসএস আ’লীগকে ভয় পায়, কারণ আ’লীগ অসাম্প্রদায়িক রাজনীতিতে বিশ্বাসী। এজন্য জেএসএস পাহাড়ি আ’লীগ নেতাদের ভয় দেখিয়ে আ’লীগ থেকে সরিয়ে নিচ্ছে।

এ নেতা আরও বলেন, পাঁচ বছর আগে জেলা কৃষকলীগের সভাপতি অনিল তঞ্চাঙ্গ্যকে অপহরণ করা হয়েছে। তাকে এখনো খুঁজে পাওয়া যায়নি। রাজস্থলী উপজেলা আ’লীগের সহ-সভাপতি মংকিউ মার্মাকে গুলি করে হত্যা সর্বশেষ জুরাছড়ি উপজেলা আ’লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক অরবিন্দু চাকমাকে গুলি করে হত্যা, বিলাইছড়ি আ’লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক রাসেল মার্মাকে বেধড়ক পিটুনি এবং জেলা মহিলালীগের সহ-সভাপতি ঝর্ণা খীসাকে বাড়িতে গিয়ে জেএসএস’র সন্ত্রাসীরা হামলা করে।

জেলা আ’লীগের এ  নেতা জানান, শান্তি চুক্তির বর্ষপূর্তিকে ঘিরে সন্তু লারমা পার্বত্য জেলায় আগুন লাগানোর যে হুমকি দিয়েছে তারপর থেকে এ ঘটনা ঘটছে।




সকল স্থাপনা থেকে ত্রিদিব রায়ের নাম মুছে ফেলার নির্দেশ দিয়েছেন জেলা প্রশাসক

 

রাঙ্গামাটি প্রতিনিধি:

রাঙ্গামাটিতে স্বাধীনতা বিরোধী হিসেবে পরিচিত যুদ্ধাপরাধী চাকমা রাজা (সার্কেল চিফ) ত্রিদিব রায়ের নামে সকল স্থাপনার নামফলক  ৯০ দিনের মধ্যে অপসারণের নির্দেশ দিয়েছিলেন হাইর্কোট। কিন্তু হাইকোর্টের আদেশের দীর্ঘ ৬ মাস পেরিয়ে গেলেও যুদ্ধাপরাধী রাজা ত্রিদিব রায়ের নামে সকল স্থাপনা ও নামফলক অপসারণের কোন উদ্যোগ না নেয়ায় জেলা প্রশাসনের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডারসহ সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা।

এরই প্রেক্ষিতে দ্রুত সময়ের মধ্যে চাকমা রাজা ত্রিদিব রায়ের নামে যত স্থাপনা রয়েছে তা অপসারণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশ প্রদান করেছেনে রাঙ্গামাটি জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মানজারুল মান্নান।

রবিবার (১০ ডিসেম্বর) সকালে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত জেলার মাসিক আইন শৃঙ্খলা কমিটির সভায় তিনি এই নিদের্শ দেন। এসময়  উপস্থিত ছিলেন, পুলিশ সুপার সাঈদ তারিকুল হাসান, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট নজরুল ইসলাম, সিভিল সার্জন শহীদ তালুকদার, জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার রবার্ট রোনাল পিন্টু প্রমুখ।

সভায় পুলিশ সুপার মো. সাঈদ তারিকুল হাসান বলেন, সম্প্রতি পৃথক ঘটনায় আওয়ামীগের নেতা, ইউপিডিএফ সদস্যকে গুলি করে হত্যা, আওয়ামী লীগের দুই নেতাকে কুপিয়ে আহত করার যে ঘটনাগুলো ঘটেছে এগুলো বিচ্ছিন্ন ঘটনা, আইন শৃঙ্খলা বাহিনী সজাগ রয়েছে। বিভিন্ন এলাকায় টইল জোরদার করা হয়েছে। আর যারা এইসব ঘটনা ঘটিয়েছে তাদের কাউকে ছাড় দেয়া হবে না। দ্রুত তাদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা হবে।

সভায় মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার রবার্ট রোনাল পিন্টু বলেন,  হাইকোর্ট ৩ মাসের মধ্যে রায় দিলেও ৬ মাসেও আদালতে এই রায় কার্যকর না হওয়া খুবই দুঃখজনক। তাই আমরা দ্রুত আদালতের রায় বাস্তবায়ন চাই।




জুরাছড়িতে আ’লীগের পদত্যাগের হিড়িক: ৩ দফায় ২শতাধিক নেতাকর্মীর পদত্যাগ

রাঙ্গামাটি প্রতিনিধি:

আওয়ামী লীগের জুরাছড়ি কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক অরবিন্দু চাকমা হত্যা ও আরো দুই নেতাকে হত্যা চেষ্টার ঘটনায় সন্ত্রাসীদের হুমকীর কারণে ওই উপজেলায় আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের পদত্যাগের যেন হিড়িক পড়েছে। সবাই ব্যক্তিগত ও পারিবারিক সমস্যার কথা উল্লেখ করে পদত্যাগপত্র জমা করলেও মুলত তাদেরকে নিত্য হুমকী দিচ্ছে আঞ্চলিক দলগুলির পেশী শক্তির নেতাকর্মীরা। ইতিমধ্যেই ভয়ে ৩য় দফাসহ প্রায় ২শতাধিক নেতাকর্মী দল থেকে পদত্যাগ করেছেন।

এদিকে আওয়ামী লীগকে ঠেকাতে মরিয়া হয়ে উঠেছে আঞ্চলিক দলগুলো। তবে আওয়ামী লীগের দলীয় সূত্রগুলো দাবি করছে এতেই বোঝা যাচ্ছে যে অবৈধ অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের দাপট কতটুকু। তারা না মানছে মানুষের অধিকার না মানছে আইন, কিন্তু বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে মুছে ফেলা এতো সহজ নয় বলে জানিয়েছে আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ।

প্রতিদিনই পদত্যাগপত্র স্ব-স্ব সভাপতির কাছে জমা দিচ্ছে বলে দলীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে।  আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের সাবেক দুই ইউপি চেয়ারম্যান, সাংগঠনিক সম্পাদক লাল বিহারী চাকমাসহ আরোও ৫২জন নেতা-কর্মী সোমবার পদত্যাগ করেছে বলে খবর পাওয়া গেছে। এর আগে ১ম দফায় ১২জন ও ২য় দফায় ১১১জন পদত্যাগ করেন।  উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতা অরবিন্দু চাকমার খুন হওয়ার পর এ নিয়ে তৃতীয় দফায় প্রায় ২শত জন নেতাকর্মী পদত্যাগ করলো।

সোমবার (ডিসেম্বর) বেলা সাড়ে ১২টায় উপজেলা সদরে এসে স্থানীয় সাংবাদিকদের কাছে তাদের পদত্যাগের বিষয়টি নিশ্চিত করেন জুরাছড়ি আওয়ামী লীগের বেশ কিছু নেতা-কর্মী।  এদের মধ্যে প্রথম সারির নেতা  উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক লাল বিহারী চাকমা, মৈদং ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক চেয়ারম্যান বরুন তালুকদার, দুমদুম্যা ইউনিয়নের নেতা ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান তরুন মনি চাকমা, মহিলা লীগেরসহ সভাপতি জ্যোৎস্না চাকমা, ইউনিয়ন শাখারসহ সভাপতি চন্দা চাকমা, সাধারণ সম্পাদক তারকা চাকমাসহ অনেক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে গত রবিবার আওয়ামী লীগের আইন বিষয়ক সম্পাদক মায়া নন্দ দেওয়ান, শিক্ষা ও মানব সম্পদ সম্পাদক  সন্তোষ দেওয়ান, আওয়ামী লীগের অন্যতম সদস্য বিরঙ্গ লাল চাকমা, যুব লীগেরসহ সভাপতি মিঠুন চাকমা, উপজেলা শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক জতির ময় চাকমা, কৃষক লীগের যুগ্ম সম্পাদক বঙিম চাকমা, সাংগঠনিক সম্পাদক মাইকেল চাকমা, দপ্তর সম্পাদক বন চন্দ্র চাকমা, মহিলা বিষয়ক সম্পাদক নীল পুতি চাকমা, কার্যকরী কমিটির সদস্য সন্তোষ চাকমা, সুনিল কান্তি চাকমা, দয়ামুনি চাকমা, অরুন কান্তি চাকমা, জুরাছড়ি ইউনিয়ন ছাত্র লীগের সাধারণ সম্পাদক কাকন মোহন চাকমা, সদস্য মোহর চাকমা পদত্যাগ করেন।

ইতিমধ্যে পদত্যাগকৃত আওয়ামী লীগের নব্য সদস্য হচ্ছে ৭০জন।  তারা হচ্ছে, জুরাছড়ি ইউনিয়নের কুসুমছড়ি গ্রামের পিত্তি রাজ চাকমা, রেবতী চাকমা, নোয়া রাম চাকমা, এডিসন চাকমা, প্রিয় লাল চাকমা, রিপন চাকমা, মহেন্দ্র চাকমা, যতিন্দ্র চাকমা, কুঞ্জধন চাকমা, রিতু জীবন চাকমা,দয়াল চাকমা, ভিতর বালুখালী গ্রামের বিজয় লক্ষ্য চাকমা, সাপছড়ির গ্রামের কিরণ কুমার চাকমা, শিণছড়ির প্রেম রঞ্জন চাকমা, ভুবন চন্দ্র চাকমা।

বনযোগীছড়া ইউনিয়নের বহেরাছড়ি গ্রামের সুনীল চাকমা, বিন্দু চাকমা, প্রভু রঞ্জন চাকমা, জ্যোতি চাকমা, পূন্যসেন চাকমা, রাজেন্দ্র চাকমা, অরুন জীবন চাকমা, শ্রীকান্ত চাকমা, উদয়ন চাকমা, বেকাবেক্যা গ্রামের শান্তি রতন, ধামাই পাড়া গ্রামের বিমল চাকমা, শৈলেন চাকমা, প্রীতি বিন্দু চাকমা, কৃষ্ণ মোহন চাকমা, কাংরাছড়ি(রাস্তা মাথা) গ্রামের দয়া কুমার চাকমা।

মৈদং ইউনিয়নের অঞ্জ লাল চাকমা,  অনিল চাকমা, হিরো নাক্ষ্য চাকমা, লাল বিহারী চাকমা, ললিত চন্দ্র চাকমা, রবিধন চাকমা, বিক্রম চাকমা, নাগরি চাকমা, সজ্জিত তালুকদার, তপন চাকমা, রাঙ্গীদাশ চাকমা, দবনা চাকমা, জৎস চাকমা, প্রান্ত চাকমা, অরুন কুমার চাকমা, শান্তি প্রিয় চাকমা, নির্মল চাকমা, নিখিল প্রিয় চাকমা, মিঠুন চাকমা, কাঞ্চন কুমার চাকমা, সুরময় চাকমা, সুনীল বরণ চাকমা, ধনেশ্বর চাকমা, হিমায়ন চাকমা।

দুমদুম্যা ইউনিয়নের মেগনাথ চাকমা, বেবী সোনা চাকমা, ভাগ্য ধন চাকমা, নিরঞ্জয় চাকমা, রুমেল চাকমা, স্বপন চাকমা, সুচী রানী চাকমা, সুজতা চাকমা, সুমতি চাকমা, সোনালীকা চাকমা, সমীরণ চাকমা, দুরগো নাথ চাকমা, নোমেল চাকমা, কমলা রঞ্জন চাকমা, চিক্ক রঞ্জন চাকমা, অনিল বিকাশ চাকমা, সম্রাট সুর চাকমা, অনিল বরণ চাকমা, বিরভদ্র চাকমা, নিপুন্ন চাকমা, বিকাশ চাকমা, প্রীতি বিন্দু চাকমা, সুভনন্দ চাকমা, দয়া লক্ষী চাকমা, কালো নন্দ চাকমা, জীবন বিকাশ চাকমা, চান্দু চাকমা, সুন্দরী চাকমা, করুনা ময় চাকমা, কালা কেতু চাকমা, পদ্মা দেবী চাকমা পদত্যাগ করেছেন বলে নিশ্চিত করেছেন আওয়ামী লীগের সংগঠক বিরঙ্গ লাল চাকমা।

এদিকে পদত্যাগকৃত মহিলা লীগের জুরাছড়ি ইউনিয়নের বালুখালী গ্রামের মুনি বালা চাকমা, শিলছড়ি গ্রামের শেফালীকা চাকমা, চঞ্চলা চাকমা, প্রেমলতা চাকমা, কোনতলা চাকমা, আল্পনা চাকমা, চিক্কোবী চাকমা, মায়া লতা চাকমা, মালতি চাকমা, কল্পনা চাকমা, কুসুমছড়ি গ্রামের বিনঙ্গ লতা চাকমা(জুলি), ঊষা রানী চাকমা, বিত্তো লতা চাকমা, সুফলা চাকমা, রঞ্জন মগী চাকমা, রুপ্তা চাকমা, স্বপ্না দেবী চাকমা, দীপিকা চাকমা, কিরণ মালা চাকমা, লক্ষী রানী চাকমা, লতিকা চাকমা, ফুল রানী চাকমা, রিংকি চাকমা, মায়াবী চাকমা, সুন্দরী চাকমা, রুমি চাকমা. রুমেন চাকমা, মমতা দেওয়ান, লক্ষী দেবী চাকমা।

বনযোগীছড়া ইউনিয়নের বেকাবেক্যা গ্রামের যত্ন শোভা চাকমা, বহেরাছড়ি গ্রামের কামনা চাকমা, বিশাখা চাকমা, ঝর্না চাকমা, জ্ঞান সভা চাকমা, চিক্কা রানী চাকমা, মেদরী চাকমা, অনিতা চাকমা, সুরংখ লতা চাকমা, হেঙ্গদী চাকমা, পিংকি চাকমা, বোধ রানী চাকমা, পারবিনা চাকমা, সঞ্জিতা চাকমা।

পদত্যাগকৃত ছাত্র লীগের নব্য যোগদানকৃত কুসুমছড়ি গ্রামের অভিজিৎ চাকমা, সোহেল চাকমা, হিমেল চাকমা, রিটন চাকমা, মিটন চাকমা, লুলাংছড়ি গ্রামের সুমন চাকমা।  বনযোগীছড়া ইউনিয়নের ধামাইপাড়া গ্রামের মিশর চাকমা।

এক প্রশ্নের জবাবে তারা বলেন, ব্যক্তিগত ও পারিবারিক সমস্যার কারণে সকল দলীয় কার্যক্রম থেকে সেচ্চায় অব্যহতি নিচ্ছেন।  ইতিমধ্যে তারা দলের গঠনতন্ত্র অনুসারে পদত্যাগপত্র স্ব-স্ব সভাপতির কাছে পাঠিয়েছেন বলে দাবি করেন।

কুসুমছড়ি জুলি, মমতা, ঊষারানী চাকমা এসময় জানান, আমরা কৃষিজীবী ও দিন মজুর।  দিন এনে দিন খায়, কাজ না করলে পেটে ভাত জোটে না।  এমন অবস্থায় কিছু না বুঝে সংগঠনে যোগ দিয়েছি।  প্রায় সময় সভা-সমাবেশ থাকে তাতে যোগ দেওয়া সম্ভব হয়না।  তাই দল থেকে আমরা সেচ্চাই পদত্যাগ করছি।

উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি প্রবর্তক চাকমা দলীয় কর্মীর পদত্যাগ বিষয়ে মুঠোফোনে এবং পদত্যাগপত্র হাতে পেয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন।  যুব লীগের সভাপতি সুমতি বিকাশ দেওয়ান বলেন, যুব লীগের বেশ কিছু পদত্যাগপত্র হাতে পেয়েছি।  গঠনতন্ত্র মূলে তাদের সদস্য বাতিলের পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

মহিলা লীগের সভানেত্রী কল্পিতা চাকমা জানান জুরাছড়ি ও বনযোগীছড়া ইউনিয়নের কুসুমছড়ি, বহেরাছড়ি, আনন্দ পাড়ার অনেক গুলো নব্য যোগদানকারী সদস্য’র সাধারণ সদস্য পদ বাতিলের পদত্যাগপত্র হাতে পেয়েছি।

কৃষক লীগের সভাপতি কেতন চাকমা বলেন, যুগ্ম ও সাংগঠনিক সম্পাদকসহ আটজনের পদত্যাগপত্র নিশ্চিত করে বলেন, এই কমিটি এখনো অনুমোদন পাওয়া যায়নি।  সুতরাং পদত্যাগের প্রয়োজন হয় না।  তারপরেও বিধি মোতাবেক তাদের আবেদন মঞ্জুর করা হবে।

এদিকে শনিবার রাতে জুরাছড়ি নেতা-কর্মীদের পদত্যাগের বিষয়ে জানিয়ে জেলা আওয়ামী লীগ একটি বিবৃতি দিয়েছে।  জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মুছা মাতব্বরের স্বাক্ষরিত বিবৃতিতে বলা হয়, জনসংহতি সমিতির  (জেএসএস)সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা তাদের নেতা-কর্মীদের হত্যার ভয় দেখিয়ে পদত্যাগ করতে বাধ্য করছে। তবে জনসংহতি সমিতি বিষয়টি অস্বীকার করেছে।




পাহাড়ে প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের কারণ বন উজাড়

নিজস্ব প্রতিনিধি:

রাঙামাটি জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বৃষকেতু চাকমা বলেছেন,  পাহাড়ে প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের প্রধান কারণ হলো বন উজাড়। বন ধ্বংসের কারণে ভয়াবহ পাহাড় ধস  ঘটেছে।

জেলা পরিষদের আয়োজনে রাঙামাটিতে আন্তর্জাতিক পর্বত দিবস উপলক্ষে সোমবার (১১ ডিসেম্বর) দুপুরে অনুষ্ঠিত আলোচনাসভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

পরিষদের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন, জেলা পরিষদ সদস্য সাধন মনি চাকমা, স্মৃতি বিকাশ ত্রিপুরা, ত্রিদিব কান্তি দাশ, সিভিল সার্জন ডা. শহীদ তালুকদার।

এ সময় পরিষদ সদস্য হাজী মো. মুছা মাতব্বর, পরিষদ সদস্য মনোয়ারা আক্তার জাহান, পরিষদ সদস্য সবির কুমার চাকমা, পরিষদ সদস্য মো. জানে আলম, পরিষদ সদস্য জ্ঞানেন্দু বিকাশ চাকমাসহ সরকারি বিভিন্ন বিভাগের কর্মকর্তা, সাংবাদিক ও সুশীল সমাজের ব্যক্তি বর্গ উপস্থিত ছিলেন।




ফেইসবুকে কটুক্তিমূলক পোস্ট না দেয়ার আহ্বান রাঙামাটি ডিসি’র

নিজস্ব প্রতিনিধি:

রাঙামাটির জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মানজারুল মান্নান জেলায় সাম্প্রদায়িক-সম্প্রতি বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন।

শনিবার (৯ ডিসেম্বর) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম  রাঙামাটি ডিসি ফেইসবুক ফেইজে তিনি এ আহ্বান জানান।

ডিসি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুক ফেইজে বলেন, ঐতিহ্যগত ভাবে  রাঙামাটিতে বিভিন্ন, ধর্ম, বর্ণ, গোত্রের দীর্ঘদিন ধরে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় রেখে বসবাস করছেন।

তিনি বলেন, সম্প্রতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে বিভিন্ন ব্যক্তি, সংগঠন সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করার লক্ষ্যে কটুক্তিমূলক পোস্ট করে যাচ্ছেন। এ ধরণের পোস্টগুলো জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতি ঘটাতে পারে বলে জানান।

সাম্প্রদায়িক-সম্প্রীতি বজায় রাখার জন্য এ ধরণের পোস্ট দেয়া থেকে সকলকে বিরত রাখার অনুরোধ জানান তিনি।




রাঙামাটিতে বেগম রোকেয়া দিবস পালিত

নিজস্ব প্রতিনিধি:

আন্তর্জাতিক নারী নির্যাতন প্রতিরোধ পক্ষ এবং বেগম রোকেয়া দিবস পালিত হয়েছে।

শনিবার (০৯ডিসেম্বর) দুপুরে জেলা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর এবং জেলা প্রশাসনসহ বিভিন্ন নারী সংগঠনের উদ্যোগে এ কর্মসূচি পালন করা হয়।

কর্মসূচির মধ্যে ছিল মানববন্ধন, আলোচনা সভা এবং জয়িতা সম্মাননা বিতরণ।

দুপুরে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে বিভিন্ন নারী সংগঠনের উদ্যোগে ঘন্টাব্যাপী মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়।

মানববন্ধন শেষে পরে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে  আলোচনা সভায় সভা অনুষ্ঠিত হয়।সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মানজারুল মান্নান।

স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক ড. প্রকাশ কান্তি চৌধুরীর সভাপতিত্বে এসময় জেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা হোসনে আরা বেগম, জেলা পরিষদের সদস্য মনোয়ারা জসিম অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন। পরে বেগম রোকেয়া দিবস উপলক্ষ্যে ৫জন নারীকে জয়িতা সম্মাননা প্রদান করা হয়।




রাঙামাটিতে দুর্নীতি প্রতিরোধ দিবস পালিত

নিজস্ব প্রতিনিধি:

রাঙামাটিতে আন্তর্জাতিক দুর্নীতি প্রতিরোধ দিবস পালিত হযেছে। শনিবার (৯ ডিসেম্বর)  সকাল সাড়ে ১১টার দিকে জেলা প্রশাসন প্রাঙ্গণে দুর্নীতি প্রতিরোধ উপলক্ষ্যে একটি মানবন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

মানববন্ধনে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মানজারুর মান্নান, পুলিশ সুপার সাঈদ তারিকুল হাসানসহ বিভিন্ন দুর্নীতি বিরোধী সংগঠন এবং স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সদস্যরা মানববন্ধনে অংশ নেন।

পরে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মানজারুল মান্নান বেলুন উড়িয়ে দিবসের দিনব্যাপী কর্মসূচির উদ্বোধন করেন।

এর পরই জেলা প্রশাসন সম্মেলন কক্ষে দুর্নীতি প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষ্যে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

জেলা দুর্নীতি দমন কমিশন’র (দুদুক) সম্বনিত কার্যালয়ের উপ-পরিচালক শফিকুর রহমানের সভাপতিত্বে এসময় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন, জেলা প্রশাসক মো. মানাজারুল মান্নান।

পুলিশ সুপার সাঈদ তারিকুল হাসান, সিভিল সার্জন ডা. শহিদ তালুকদার, মানবাধিকার কমিশনের সাবেক সদস্য নিরুপা দেওয়ান, রাঙামাটি সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর জাফর আহমেদ, দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি মায়াধন চাকমা আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন।

জেলা প্রশাসন, দুদক এবং  টিআইবি’র সহযোগিতায় এ দিবস পালন করা হয়েছে।




বাঘাইছড়িতে সন্তু লারমার কুশ পুত্তলিকা দাহ

নিজস্ব প্রতিনিধি:

রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলায় এবার জ্যেতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয়’র (সন্তু লারমা) কুশ পুত্তলিকা দাহ করেছে বাঘাইছড়ি পৌর আ’লীগের নেতৃবৃন্দ। শুক্রবার (৭ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় উপজেলার চৌমহনী চত্ত্বরে এ কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।

এদিকে সন্তু লারমার কুশ পুত্তলিকা দাহ করার আগে পৌর আ’লীগের নেতৃবৃন্দ উপজেলায় বিক্ষোভ মিছিল এবং সমাবেশ করে। মিছিলটি উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে উপজেলার চৌমহনী চত্ত্বরে গিয়ে শেষ হয়।

মিছিল পরবর্তী চৌমহনী চত্ত্বরে বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে পৌর আ’লীগের সভাপতি জমির উদ্দীনের সভাপতিত্বে এসময় বক্তব্য রাখেন, উপজেলা আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. আলী হোসেন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. গিয়াস উদ্দীন মামুন, উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক জগৎ দাশ, শ্রমিক লীগের  মো. রফিক, ওসমান গণি, কাচাংলং ডিগ্রি কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি মামুনুর রশীদ মামুন প্রমুখ।

বক্তারা সমাবেশে সন্তু লারমাকে সন্ত্রাসী, খুনী সংগঠনের নেতা আখ্যা দিয়ে বলেন, যতদিন আ’লীগ নেতা খুনীদের গ্রেফতার করা না হবে ততদিন এ উপজেলায় সন্তু লারমা, জেএসএস নেতা এবং রাঙামাটি আসনের সংসদ সদস্য ঊষাতন তালুকদার এবং উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বড় ঋষী চাকমা কোন সরকারি অনুষ্ঠানে অংশ গ্রহণ করতে পারবে না।

প্রশাসন যদি চলতি বছরের ১৫ডিসেম্বর এর মধ্যে আ’লীগ নেতা খুনীদের আটক না করলে পরবর্তী তারিখ থেকে আরও কঠোর আন্দোলন করা হবে বলে বক্তারা  এসময় হুঁশিয়ারী প্রদান করে।




আ’লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক অরবিন্দু চাকমার হত্যাকাণ্ডের তিন দিনের মাথায় ১২ নেতা-কর্মীর পদত্যাগ

রাঙ্গামাটি প্রতিনিধি:

জেলার জুরাছড়ি আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক অরবিন্দু চাকমার হত্যাকাণ্ডের তিন দিনের মাথায় ব্যক্তিগত ও পারিবারিক সমস্যার কারণে দলের সকল কার্যক্রম থেকে স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের অঙ্গ সংগঠনের ১২ নেতা-কর্মী।

শুক্রবার (৮ ডিসেম্বর) সকালে উপজেলা প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এ তথ্য জানানো হয়েছে। পদত্যাগকৃতরা হচ্ছেন, উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি কালাধন চাকমা, যুগ্ম সম্পাদক পব্বন বিকাশ চাকমা, সহ-সভাপতি অনিল কুমার চাকমা, মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক সম্পাদক দীপংকর কার্বারী, যুব লীগের অর্থ সম্পাদক উত্তম কুমার চাকমা, মহিলা লীগের ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক টুনি চাকমা, জুরাছড়ি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি হৃদয় রঞ্জন চাকমা, কৃষক লীগের ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক সনদ কুমার চাকমা, কার্যকরী কমিটির সদস্য ফুলেশ্বর চাকমা, ছাত্র লীগের যুগ্ম সম্পাদক রপ্তদীপ চাকমা (রকি) সহ নব্য যোগদানকৃত সাবেক দুমদুম্যা ইউপি চেয়ারম্যান রাজিয়া চাকমা, বনযোগীছড়া ইউনিয়ন পরিষদের সংরক্ষিত ওয়ার্ড সদস্য কৃষ্ণা চাকমা।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়েছে, ইতিমধ্যে দলের নিয়ম অনুসারে পদত্যাগপত্র সভাপতির কাছে পাঠানো হয়েছে বলে তারা জানান।

এক প্রশ্নের জবাবে তারা বলেন, ব্যক্তিগত ও পারিবারিক সমস্যার কারণে সকল দলীয় কার্যক্রম থেকে সেচ্চায় অব্যহতি নিচ্ছেন। ইতিমধ্যে তারা দলের নিয়ম অনুসারে পদত্যাগপত্র সভাপতির কাছে পাঠানো হয়েছে বলে তাদের দাবি। উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি প্রবর্তক চাকমা দলীয় কর্মীর পদত্যাগ বিষয়ে গুঞ্জন শুনেছি। তবে এখনো পর্যন্ত কোন পদত্যাগপত্র আমার কাছে আসেনি।

যুব লীগের সভাপতি সুমতি বিকাশ দেওয়ান বলেন, যুব লীগের কোন কর্মী পদত্যাগ করেছে বলে আমার জানা নেই। তবে চিঠি পেলে বলতে পারব কে বা কারা বা কেন পদত্যাগ করছে।

মহিলা লীগের সভানেত্রী মিতা চাকমাকে বাব বার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সম্ভব হয়নি।

ছাত্র লীগের সভাপতি রিকো চাকমা জানান, যুগ্ম সম্পাদক রকি চাকমা বহু আগে থেকে একজন নিক্রিয় কর্মী। তবে তার এখনো কোন পদত্যাগপত্র হাতে পাইনি।

কৃষক লীগের সভাপতি কেতন চাকমা বলেন, এ বিষয়ে আমাকে কেউ কোন কথা কিংবা পদত্যাগপত্র পাঠায়নি।

এদিকে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক অরবিন্দু চাকমার হত্যাকাণ্ডের এসআই মো. মাইন উদ্দিন বাদী হয়ে ৯জন নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাত ১৫-২০জন দেখিয়ে বৃহস্পতিবার মামলা হয়েছে। মামলায় ১৪৩, ১৪৮, ৩২৪, ৩২৬, ৩০৭, ৩০২, ৩৪ ধারা উল্লেখ করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন থানা অফিসার ইনর্চাজ মো. আব্দুল বাছেদ। তদন্তের স্বার্থে আসামিদের নাম প্রকাশের অনিচ্ছা প্রকাশ করেন তিনি

উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে জুরাছড়ি ইউনিয়নের মগবাজার স্থলে একদল জলপাই রঙে পোশাক পরিহিত একদল দুর্বৃত্ত ব্রাশ ফায়ার করে হত্যা করে অরবিন্দু চাকমাকে।