সাজেক সড়কের দু-পাশের ঝোপঝাড়, ডেকে আনছে দুর্ঘটনা


সাজেক প্রতিনিধি:
মেঘ-পাহাড়ের মিতালি দেখতে প্রতিদিন ছুটে আসছেন হাজারও পর্যটক আর আঁকাবাঁকা পাহাড়ি পথ ধরে পৌঁছাতে হয় বাংলার দার্জিলিংখ্যাত সাজেকে। তবে বুকে হিম ধরানো এই পথে নতুন আতঙ্ক হিসেবে দেখা দিয়েছে সড়কের দু-পাশে থাকা ঝোপঝাড়।

সাজেকের বাঘাইহাট থেকে রুইলুই পর্যটনকেন্দ্র পর্যন্ত ৩৪ কিলোমিটার দীর্ঘ সড়কের দুই পাশে ঝোপঝাড়ের কারণে রাস্তা সরু হয়ে গেছে। পাশাপাশি সড়কের বাঁক দেখতে সমস্যায় পড়ছেন যানবাহন চালকেরা। এ কারণে ঘটছে দুর্ঘটনা।

বাঘাইহাটের গাড়িচালকেরা জানান, রাস্তার দু-পাশে এমন ঝোপঝার হয়েছে যে বিপরীত দিকে থাকা কোন কিছুই দেখা যাচ্ছে না। অনেক সময় জিপগাড়ির সাথে মোটরসাইকেল মুখমুখি হয়ে ছোটখাট দূর্ঘর্টনার সম্মুখীন হতে হচ্ছে। এমনকি রাস্তা এতোই ঝোপঝাড়ে ঢাকা পরেছে যে বিপরীত দিক থেকে আসা গাড়ী ক্রস করতে বিপাকে পরতে হয় চালকদের।

সাজেকে থেকে ফিরে আসা পিকআপ চালক সুমন বলেন, রাস্তার পাশে এতো বেশি ঝোপঝাড় হয়েছে যে গত কয়েকদিন ধরে সাজেকে পর্যটক আনা নেয়ার সময় রাস্তার পাশে থাকা ঝোপঝাড় গাড়ীতে থাকা পর্যটকদের শরীরেও লাগছে এবং তারা হালকা আঘাত প্রাপ্ত হচ্ছে এবং কি সড়কে এমনিতেই অসংখ্য বাঁক রয়েছে। এসব বাঁক ঝোপে ঢাকা পড়ায় চালকেরা দেখতে পান না। অনেক সময় দুটি গাড়ি মুখোমুখি হয়ে যায়। ঝোপ পরিষ্কার করা না হলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে তিনি জানান।

সরেজমিনে দেখা গেছে, বাঘাইহাট থেকে রুইলুই সড়কে বেশির ভাগ অংশে ঝোপঝাড়ে ঢাকা পড়েছে। বিশেষ করে নাকশছড়ি, টাইগার টিলা, চাম্পাতলী এবং মাচালং থেকে রুইলুই পর্যন্ত সড়কের দুই পাশ ঝোপঝাড়ে ঢেকে গেছে।

সাজেক ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নেলশন চাকমা বলেন, অতিরক্ত বৃষ্টিপাতের কারণে রাস্তার দুইপাশে থাকা ঝোপঝার দ্রুত বেড়ে উঠছে। যারফলে সড়কের দুই পাশ ঝোপঝাড়ে ঢাকা পড়ায় যানবাহন চলাচলের অসুবিধা হচ্ছে। এ কারণে প্রায়সময় দুর্ঘটনা ঘটছে। তবে গত বছর আগষ্ট-সেপ্টেম্বরের দিকে বাঘাইহাট জোন থেকে একলক্ষ টাকা সহায়তা নিয়ে ঝোপঝার কাটা হয় এবছরও জুন-জুলাই মাসের দিকে কাটা হলেও মাত্র কয়েক মাসেই ঝোপঝার বেড়ে উঠে।

বাঘাইহাট জোন অধিনায়ক লে. কর্নেল ইসমাইল হোসেন খাঁ বলেন, সড়কের দুই পাশে ঝোপঝাড় বেড়ে গিয়ে যানচলাচলের অসুবিধা হচ্ছে। এটা আমাদের নজরেও এসেছে। বিষয়টি খাগড়াছড়ি সওজকে জানানো হয়েছে। তারা দ্রুত জঙ্গল পরিষ্কার করার পদক্ষেপ নিচ্ছে। তবে গত জুন-জুলাই  মাসে সাজেক ইউপি চেয়ারম্যানের মাধ্যামে জোনের সহায়তায় ঝোপঝাড় কাটা হয়েছিল।




পাহাড়ে আঞ্চলিক সংগঠনগুলোকে সংঘাত বন্ধের আহবান জানিয়েছেন ধুতাঙ্গ ভান্তে

নিজস্ব প্রতিনিধি: সংঘাত বন্ধ করে শান্তির পথে ফিরে আসতে পাহাড়ে আঞ্চলিক সংগঠনের প্রতি আহবান জানিয়েছেন বৌদ্ধ ধর্মীয় গুরু ড. এফ দীপংকর মহাথেরো (ধুতাঙ্গ ভান্তে)। তিনি বলেন, হানাহানি করে কখনোই শান্তি আনা সম্ভব নয়। এই জন্য প্রয়োজন ধৈর্য্য সহশীলতা ও মৈত্রীভাব। বুদ্ধের অনুশাসন মেনে নিয়মিত পঞ্চশীল গ্রহণ করে জীবনাচরনের পরামর্শ দেন।

বৃহস্পতিবার বিলাইছড়ি উপজেলা সদরের ধুপশীল মহাশ্মশান ধর্মপ্রিয় আন্তর্জাতিক বিদর্শন ভাবনা কেন্দ্রে ২য় দনোত্তম কঠিন চীবর দানোৎসবে ধর্মীয় দেশনায় ধুতাঙ্গ ভান্তে এ আহ্বান জানান।

ধমীয় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের কেন্দ্রীয় সদস্য দীপংকর তালুকদার, রাঙ্গামাটি জেলা পরিষদ সদস্য রেমলিয়ানা পাংখোয়া, জেলা পরিষদের সাবেক সদস্য অভিলাস তঞ্চঙ্গ্যা, বিলাইছড়ি উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান জয় সেন তঞ্চঙ্গ্যা, উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি সুরেশ কান্তি তঞ্চঙ্গ্যা, উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক শেখ শহিদুল ইসলাম।

দীপংকর তালুকদার তার বক্তব্যে বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের উন্নয়নে বর্তমান সরকার কাজ করে যাচ্ছে। সরকারের উন্নয়ন কর্মকান্ডে এটি গোষ্ঠী প্রতিনিয়ত বাধাগ্রস্থ করছে। এইভাবে যদি বাধা গ্রস্ত হতে থাকে তাহলে এই অঞ্চলের মানুষ উন্নয়ন কর্মকান্ড থেকে বঞ্চিত হবে।

১৯ অক্টোবর সকালে পঞ্চশীল প্রার্থনা, বুদ্ধমুর্তি দান, সংঘান, অষ্ট পরিস্কার দান সহ নানাবিধ আচার অনুষ্ঠানের মধ্যে দিয়ে দ্বিতীয় দিনের প্রথম পর্ব শুরু হয়। বিকালে ২৪ ঘন্টায় নির্মিত কঠিন চীবর উৎসর্গের মধ্যে দিয়ে ২ দিন ব্যাপী অনুষ্ঠান মালা শুরু হয়।




পার্বত্য চট্টগ্রামের ৪ হাজারতম পাড়া কেন্দ্র উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

নিজস্ব প্রতিনিধি:

পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের উন্নয়নমূলক কর্মকান্ড বাস্তবায়ন কাজের তদারকী বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছেন বোর্ডের চেয়ারম্যান ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব নব বিক্রম কিশোর ত্রিপুরা। বৃহস্পতিবার পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড রাঙ্গামাটির বোর্ড রুমে ২০১৭-১৮ অর্থ বছরের ২য় সভায় সভাপতিত্বকালে এ নির্দেশ দেন। চেয়ারম্যান ২০১৭-১৮ অর্থ বছরে মাধ্যমে পূর্ববর্তী বছরের চেয়েও অধিকতর ভালো করার জন্য বোর্ডের সংশ্লিষ্ট সকলকে নিদের্শ দেন।

সভায় পরিচালনা বোর্ড এর ১ম সভার কার্যবিবরণী পাঠ ও অনুমোদন, ২০১৭-১৮ অর্থ বছরে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন প্রকল্পসমূহের সেপ্টেম্বর ২০১৭ পর্যন্ত বাস্তবায়ন অগ্রগতি পর্যালোচনা এবং বিবিধ আলোচনা করা হয়।

বোর্ডের অধীনে পরিচালিত দীর্ঘমেয়াদী প্রকল্প সমন্বিত সমাজ উন্নয়ন প্রকল্প-৩য় পর্যায় এর আওতায় ৪ হাজার তম পাড়াকেন্দ্রটি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কর্তৃক আগামী নভেম্বর মাসে শেষের দিকে উদ্বোধন করার কথা রয়েছে মর্মে চেয়ারম্যান বোর্ড সভায় উপস্থিত সকলকে অবহিত করেন।

পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের পৃষ্ঠপোষকতায় প্রতি বছর ১৮ অক্টোবর শেখ রাসেল এর জন্মবার্ষিকী স্মরণের রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলায় নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে বলে বোর্ড সভা সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের ২০১৭-১৮ অর্থ বছরের জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিন মাসে উন্নয়নমূলক কাজের অগ্রগতিসহ বোর্ডের নতুন প্রকল্প “পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর আয়বর্ধক কর্মসূচী হিসাবে উন্নত জাতের বাঁশ উৎপাদন” শীর্ষক প্রকল্পের সার্বিক বিষয় উপস্থাপিত হয়।

সভায় পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের ভাইস-চেয়ারম্যান তরুণ কান্তি ঘোষ, বোর্ডের সদস্য-অর্থ শাহীনুল ইসলাম , সদস্য-বাস্তবায়ন মো: মনজুরুল আলম, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষযক মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব সুদত্ত চাকমা, বোর্ডের সদস্য-পরিকল্পনা মোহাম্মদ নুরুল আলম চৌধুরী, সদস্য-প্রশাসন আশীষ কুমার বড়ুয়া, খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলার জেলা প্রশাসক জনাব মো: রাশেদুল ইসলাম, রাঙ্গামাটি জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মানজারুল মান্নান, বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদ এর প্রতিনিধি মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা মো: শহীদুল আলম, রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের প্রতিনিধি সদস্য স্মৃতি বিকাশ ত্রিপুরা, খাগড়াছড়ি জেলা পরিষদ এর প্রতিনিধি মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা মো: নুরুজ্জামান, বোর্ডের আইসিডিপি প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক মোহাম্মদ ইয়াছিন, বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলীগণ এবং উঁচুভূমি বন্দোবস্তীকরণ রাবার বাগান ব্যবস্থাপনা কমিটি জেনারেল ম্যানেজার (ভারপ্রাপ্ত) পুষ্প স্মৃতি চাকমাসহ বোর্ডের অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।




২৫ নভেম্বর রাঙ্গামাটি জেলা মিনিট্রাক ও পিকআপ শ্রমিক ইউনিয়নের দ্বি-বার্ষিক নির্বাচন

 

রাঙ্গামাটি প্রতিনিধি:

দীর্ঘ ৫ বছর পর আগামী ২৫ নভেম্বর রাঙ্গামাটিতে জেলা  মিনিট্রাক ও পিকআপ শ্রমিক ইউনিয়নের দ্বি-বার্ষিক নির্বাচন অনুষ্ঠিত  হবে। নির্বাচন উপলক্ষ্যে বৃহস্পতিবার বিকেলে জেলা মিনিট্রাক ও পিকআপ ইউনিয়ন কার্যালয়ে ২৪ ধারা মোতাবেক দ্বি-বার্ষিক ব্যবস্থাপনা কমিটির নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়েছে।

এসময় সভায় রাঙ্গামাটি জেলা মিনিট্রাক ও পিকআপ শ্রমিক ইউনিয়নের সাব কমিটির আহ্বায়ক হাজী সাব্বির আহম্মদ ওসমানী, সদস্য সচিব জাহিদুল ইসলাম জাহিদ, সদস্য টিটু বিশ্বাস, কানু চৌধুরী, আজম আলী আজম ও প্রেসিডিয়াম সদস্য কিশোর চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।

নির্বাচনী তফসিল সভায় বক্তারা বলেন, প্রায় দীর্ঘ বছর পর রাঙ্গামাটি জেলা মিনিট্রাক ও পিকআপ শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ইতিমধ্যে নির্বাচনীর সকল প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। আমরা সুষ্ঠভাবে নির্বাচন সম্পূর্ণ করে শ্রমিকের কল্যাণের জন্য একটি নতুন কমিটি উপহার দেওয়ার চেষ্টা করবো।

নির্বাচনী তফসিল সমূহ নিম্নে দেওয়া হলো, সমিতির কার্যালয় থেকে মনোনয়ন পত্র সংগ্রহ ২৫ অক্টোবর থেকে ২৭ অক্টোবর পর্যন্ত, মনোনয়ন পত্র দাখিল ২৮ অক্টোবর, মনোনয়ন পত্র বাছাই ২৯ অক্টোবর, বৈধ ও বাতিলকৃত মনোনয়ন পত্রের উপর প্রর্থীর খসড়া তালিকা প্রকাশ ৩০ অক্টোবর, আপত্তিকৃত কিংবা বাতিলকৃত মনোনয়ন পত্রের উপর প্রার্থীর আপিল আবেদন দাখিল ১ নভেম্বর, আপিল শুনানী ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ ২ নভেম্বর, প্রার্থী প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ৩ নভেম্বর, প্রার্থীর চুড়ান্ত তালিকা প্রকাশ ৪ নভেম্বর, প্রতীক বরাদ্দ ৫ নভেম্বর এবং ভোট গ্রহণ ও ফলাফলা ঘোষণা ২৫ নভেম্বর  পৌর ট্রাক টার্মিনালস্থ যৌথ কমিটি কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হবে।




রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এর সাথে পি ৬৫তম বিসিএস বুনিয়াদি প্রশিক্ষণার্থীদের সৌজন্য সাক্ষাৎ

প্রেস বিজ্ঞপ্তি:

রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বৃষ কেতু চাকমার সাথে পি ৬৫তম বিসিএস বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ কোর্স এ অংশগ্রহণকারী ১০জন প্রশিক্ষণার্থী মঙ্গলবার (১৭অক্টোবর) সকালে পরিষদ চেয়ারম্যান এর অফিসকক্ষে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন।

বুনিয়াদি প্রশিক্ষণের অংশ হিসেবে পরিষদ সম্পর্কে ধারণা গ্রহণের লক্ষ্যে প্রশিক্ষণার্থীরা চেয়ারম্যানের সাথে এ সৌজন্য সাক্ষাতে মিলিত হয়।

সাক্ষাৎকার অনুষ্ঠানে রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা ছাদেক আহমদ, নির্বাহী প্রকৌশলী কাজী আবদুস সামাদ ও পরিষদের হিসাব ও নিরীক্ষা কর্মকর্তা মো. খোরশেদুল আলম চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।

প্রশিক্ষণার্থীদের স্বাগত জানিয়ে চেয়ারম্যান বলেন, ১৯৯৭ সালে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি হওয়ার পর পার্বত্য জেলা পরিষদ গঠিত হয়। চুক্তি অনুযায়ী পরিষদে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, মৎস্য, সমবায়, যুব উন্নয়ন’সহ ২৪টি এবং নির্বাহী আদেশে ৬টি বিভাগ হস্তান্তরিত হয়। পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর কল্যাণ ও উন্নয়নে পরিষদ হস্তান্তরিত বিভাগ ও পার্বত্য মন্ত্রণালয়ের এডিবি প্রকল্পের মাধ্যমে কাজ করে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, এ জেলার উন্নয়নে জেলার সরকারি-বেসরকারী গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান প্রধান ও জনপ্রতিনিধিদের সমন্বয়ে জেলা উন্নয়ন কমিটি গঠন করা হয়েছে যা প্রতিমাসে জেলার সার্বিক উন্নয়ন, সমস্যা নিরসন ও সম্ভাবনা নিয়ে সভা করা হয়।

এছাড়া উপস্থিত প্রশিক্ষণার্থীদেরকে পরিষদের বিভিন্ন কার্যক্রম সম্পর্কে ধারণা প্রদান করেন পরিষদের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী প্রকৌশলী।




 দেশের সকল এলাকার সমউন্নয়ন নিশ্চিত করতে হবে

প্রেস বিজ্ঞপ্তি:

উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে কোন একটি জেলাকে বাদ দিয়ে দেশ কখনোই এগিয়ে যেতে পারেনা বলে মন্তব্য করেছেন রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বৃষ কেতু চাকমা। তিনি বলেন, দেশকে মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত করতে হলে দেশের সকল এলাকার সমউন্নয়ন নিশ্চিত করতে হবে। সরকার যেসব উন্নয়ন কর্মকাণ্ড বাস্তবায়ন করছে এগুলো এগিয়ে নিয়ে যেতে পারলে দেশ অতি দ্রুত মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হবে।

বুধবার (১৮ অক্টোবর) সকালে রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের সভাকক্ষে আয়োজিত পরিষদের মাসিক সভায় সভাপতির বক্তব্যে চেয়ারম্যান একথা বলেন।

চেয়ারম্যান রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের কার্যক্রম বাস্তবায়নের প্রসঙ্গে বলেন, ১৯৯৭ সালে চুক্তির মাধ্যমে পার্বত্য জেলা পরিষদ গঠিত হয়েছে এবং চুক্তি মোতাবেক বিভিন্ন বিষয় ও দপ্তর হস্তান্তরিত হয়েছে। হস্তান্তরিত বিভাগের মাধ্যমে রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ জেলাবাসীর আর্থসামাজিক উন্নয়নে কাজ করে চলেছে। মানুষ তার সুফল পেতে শুরু করেছে।

তিনি রাঙ্গামাটির উন্নয়ন কর্মকাণ্ড আরো বৃদ্ধির উপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, জেলার উন্নয়নের সাথে জড়িত প্রতিষ্ঠানগুলো সমন্বিতভাবে কাজ করলে এ অঞ্চলের মানুষ উপকৃত হবে। একদিকে মানুষ যেমন উন্নয়নের প্রকৃত সুফল ভোগ করতে পারবে, তেমনি দেশও সমৃদ্ধির দিকে এগিয়ে যাবে। রাঙ্গামাটির উন্নয়ন কর্মকাণ্ডসহ জনকল্যাণকর যেকোন কাজে পরিষদের হস্তান্তরিত দপ্তরসহ অন্যান্য সকল প্রতিষ্ঠানকে সমন্বিতভাবে পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে কাজ করার আহ্বান জানান।

পরিষদের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ছাদেক আহমদ এর পরিচালনায় অনুষ্ঠিত সভায় রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য ও হস্তান্তরিত বিভাগের কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।

সভায় স্বাস্থ্য বিভাগের সিভিল সার্জন বলেন, রোগীদের সুবিধার্থে বর্তমানে জেনারেল হাসপাতালে এম্বুলেন্স সার্ভিস, ইসিজি, এক্সরে, আল্ট্রাসনোগ্রাফি, প্যাথলজিসহ বিভিন্ন কার্যক্রম সরকারি মূল্যে করা হচ্ছে এবং প্রসূতি মায়েদের নরমাল ও সিজার ডেলিভারি সুষ্ঠভাবে করা হচ্ছে। এছাড়া উপজেলা পর্যায়ে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলো ৫০ বেডে উন্নীত করা হবে।

তিনি বলেন, ইতোমধ্যে ২লক্ষ ৮০হাজার কীটনাশক যুক্ত মশারী আনা হয়েছে যা শীঘ্রই জেলার প্রতিটি উপজেলায় বিতরণ করা হবে। তৃণমূল পর্যায়ে কোন ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত রোগী থাকলে তাকে দ্রুত উপজেলা বা জেলা হাসপাতালে প্রেরণ করার অনুরোধ জানান তিনি। ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত রোগীকে হাসপাতাল থেকে বিনামূল্যে চিকিৎসা ও ওষুধ এবং রোগীকে যাতায়াতের জন্য ব্র্যাক হতে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হবে।

জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগের প্রকৌশলী বলেন, শহরের পানির লাইন মেরামত কাজ ও ই টেন্ডারিং কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বলেন, আগামী নভেম্বর মাসে জেলা উপজেলার প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে একযোগে বার্ষিক পরীক্ষা শুরু হবে। পরীক্ষা সুষ্ঠভাবে সম্পন্ন করতে তিনি সকলের সহযোগিতা কামনা করেন। তিনি বলেন, গত ১২ অক্টোবর শুরু হয়ে ১৭ অক্টোবর বঙ্গবন্ধু ও বঙ্গমাতা গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট সমাপ্ত হয়েছে। টুর্নামেন্টে জেলার ১০টি উপজেলার বিভিন্ন বিদ্যালয়ের ২০টি দল অংশগ্রহণ করে এবং ফাইনাল খেলায় বাঘাইছড়ির পাকুজ্জ্যাছড়ি ও কাউখালীর সাপমারা প্রাথমিক বিদ্যালয় চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে।

জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা  জানান, আগামী ২৬ অক্টোবর ৭ম শ্রেণি মেধাবৃত্তি পুরস্কার ও সনদ প্রদান করা হবে। জেলা সমাজসেবা বিভাগের কর্মকর্তা বলেন, মুক্তিযোদ্ধা ভাতা, বৃদ্ধ ভাতা সহ অন্যান্য ভাতাসমূহ সঠিকভাবে প্রদান করা হচ্ছে।

সভায় হস্তান্তরিত বিভাগের অন্যান্য কর্মকর্তাগণ তাদের বিভাগের স্ব স্ব কার্যক্রম উপস্থাপন করেন এবং বিভিন্ন সমস্যা ও সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে মতামত ও পরামর্শ প্রদান করেন।




ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে রাবেতা কলেজের ছাত্র-শিক্ষকদের মানববন্ধন


লংগদু প্রতিনিধি:
রাঙামাটির লংগদু উপজেলার স্বনামধন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রাবেতা মডেল কলেজ সম্পর্কে ‘দৈনিক সংবাদ’ পত্রিকায় গত ১১ অক্টোবর প্রকাশিত অসত্য, বানোয়াট ও বিভ্রান্তিকর সংবাদ প্রকাশের প্রতিবাদে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে কলেজ শিক্ষক, কর্মচারী ও ছাত্রছাত্রীবৃন্দ।

রোববার, সকাল দশটায় কলেজের সামনে প্রধান সড়কে ঘন্টাব্যাপী মানববন্ধন ও সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন, রাবেতা মডেল কলেজের অধ্যক্ষ মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ।

মানববন্ধনে সংহতি প্রকাশ করে বক্তব্য রাখেন, লংগদু উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও মাইনীমুখ ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল বারেক সরকার, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের ডেপুটি কমান্ডার খোরশেদ আলম, লংগদু প্রেস ক্লাবের সভাপতি মো. এখলাস মিঞা খান, উপজেলা আওয়ামীলীগের মহিলা সম্পাদিকা ও ইউপি সদস্য আনোয়ারা বেগমসহ প্রমুখ।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, রাবেতা কলেজ অত্র উপজেলার গরীব-অসহায় ছাত্র-ছাত্রীদের বিদ্যাপীঠ। যে সকল অভিভাবক ঢাকা, চট্টগ্রাম ও রাঙ্গামাটি শহরে ছেলে মেয়েদের পড়ানোর সামর্থ রাখে না তারাই এই কলেজে লেখাপড়া করছে। এবং এ কলেজটি বিগত দিনের রাঙ্গামাটি জেলার শ্রেষ্ঠ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে, যা লংগদুবাসীর জন্য গৌরবের ও আনন্দের।

বক্তারা আরো বলেন, এই প্রতিষ্ঠান আছে বলেই আমাদের ছেলে মেয়েরা দেশের বিভিন্ন বিশ^বিদ্যালয়ে লেখা পড়ার জন্য যোগ্য হয়েছে। কলেজের সাবেক এক দরিদ্র শিক্ষার্থী বিসিএস ক্যাডারে নিয়োগ পেয়েছে। এত কিছুর পরেও কেন এই কলেজকে নিয়ে নানা ষড়যন্ত্র চলছে-এ প্রশ্ন আমাদের।

বক্তারা আরো বলেন, যারা এমন ষড়যন্ত্র করছে তারা জাতীর শত্রু। আমরা সকল ষড়যন্ত্র নস্যাৎ কওে রাবেতা কলেজের উন্নয়নের কাজ করে যাব।

কলেজের অধ্যক্ষ মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ বলেন, সম্প্রতি শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর কর্তৃক সারা দেশের ২১২টি বেসরকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় শিক্ষার মানোন্নয়নের লক্ষে বেসরকারী কলেজ সমূহের উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ শুরু হয়েছে। যেখানে রাঙ্গামাটি জেলার চারটি বেসরকারী কলেজ রয়েছে যার মধ্যে রাবেতা মডেল কলেজ একটি। এই প্রকল্পের মাধ্যমে সাড়ে তিন কোটি টাকা ব্যয়ে কলেজের একটি চার তলা ভবন নির্মাণের কথাছিল। কিন্ত কিছ মানুষ এই কলেজের উন্নয়নে ঈর্ষান্বীত হয়ে ভূয়া, বানোয়াট ও বিভ্রান্তিকর তথ্য দিয়ে ‘দৈনিক সংবাদ’ পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশে সহযোগীতা করে।

তিনি আরো বলেন, মুক্তিযোদ্ধের আদর্শ লালন পরিষদ নামের একটি সংগঠনের পক্ষে গত ২০ শে আগষ্ট ২০১৭ প্রকল্প পরিচালক মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর বরাবর একটি আবেদন করা হয়। যেখানে আমাদের কাজটি বাতিল করার অনুরোধ করা হয়। এবং আবেদনকারী হিসেবে রাঙ্গামাটি জেলা পরিষদের সদস্য ও লংগদু উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক মো. জানে আলমের নাম উল্লেখ করা হয়।

এই বিষয়ে জানে আলম বলেন, এই আবেদন পত্রে আমাকে মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ লালন পরিষদ নামের সংগঠনের সভাপতি বানানো হয়েছে। যা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট। এমন কোন সংগঠনের সাথে আমি জড়িত নই। আর এমন সংগঠনের অস্তিত্ব আছে বলে আমার জানা নাই। আমি এ ষড়যন্ত্রের তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি।

মানববন্ধন ও সমাবেশে আরো বক্তব্য রাখেন, রাবেতা কলেজ ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্র আবুবক্কর ছিদ্দিক মামুন, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যকলা বিভাগের চতুর্থ বর্ষেও ছাত্র শামসুল ইসলাম মাসুদ, কলেজের সাবেক ছাত্র জাহেদুল ইসলাম, কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি নেছার উদ্দিন হৃদয়।

মানববন্ধনে রাবেতা মডেল কলেজের শিক্ষক কর্মচারী সহ পাঁচ শতাধিক ছাত্র ছাত্রী উপস্থিত ছিলেন।




শিশুদের লেখাপড়ার পাশাপাশি খেলাধুলায়ও এগিয়ে আনতে হবে

রাঙ্গামাটি প্রতিনিধি:

শিশুদের লেখাপড়ার পাশাপাশি খেলাধুলায়ও এগিয়ে আনতে হবে। শিশুদের প্রতি বঙ্গবন্ধু এবং বঙ্গমাতার এই অসীম ভালবাসার প্রতি শ্রদ্ধা রেখেই আমাদের আগামী দিনের ভবিষ্যৎ আজকের শিশুদের গড়ে তুলতে হবে।  বৃহস্পতিবার রাঙ্গামাটি চিংহ্লা মং মারী ষ্টেডিয়ামে বঙ্গবন্ধু ও বঙ্গমাতা ফুটবল টুর্ণামেন্টের জেলা পর্যায়ের খেলার উদ্বোধনকালে পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বৃষ কেতু চাকমা এ কথা বলেন।

এসময় উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে রাঙ্গামাটি জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার রওশন আলী, এডিপিও মো. মনসুর আলী, জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক বরুন বিকাশ দেওয়ান, সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ত্রিরতন চাকমা, বিশিষ্ট সমাজ সেবক দানবীর চাকমাসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

চেয়ারম্যান বৃষকেতু চাকমা বলেন, আমাদের আগামী দিনের ফুটবলার গড়ে তোলার জন্য তৃণমূল পর্যায় থেকে ক্ষুদে খেলোয়াড় সৃষ্টি করতে হবে। এই ধরনের ফুটবল টুর্নামেন্টের আয়োজন ভবিষ্যৎ খেলোয়াড়দের দক্ষ ফুটবলার হওয়ার পথ সৃষ্টি করবে। তিনি আরো বলেন, বিশ্বের বড় বড় খেলোয়াড়, পেলে, ম্যারাডোনা, মেসি, নেইমার, সুয়ারেজ, রোনাল্ডোসহ বিভিন্ন খেলোয়াড়দের কারণে আজ তাদের দেশ গর্বিত। এই দেশের দলগুলো ভালো খেলে বলেই বিশ্বের কাছে পরিচিত।

উদ্বোধনী খেলায় বঙ্গমাতা টুর্নামেন্টের বালিকাদের খেলায় কাপ্তাই উপজেলার চংড়াছড়ি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় বরকল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়কে ২-০ গোলে পরাজিত করে। বালক দলের খেলায় বরকল মডেল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ৩-১ গোলে কাপ্তাই মুরালীপড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়কে পরাজিত করে।




রাঙ্গামাটিতে বিএনপি’র বিক্ষোভে পুলিশি বাধা, আহত ৫ নেতাকর্মী


রাঙ্গমাটি প্রতিনিধি:
‘জুলুমবাজ বাকশালী সরকারের মামলা হামলা নির্যাতনের কবল থেকে দেশ ও জাতিকে রক্ষা করতে হবে। তবে দেশে গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হবে।’ বুধবার সকালে বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে গ্রেফতারী পরোয়ানা জারির প্রতিবাদে দলীয় কার্যালয়ের সামনে রাঙ্গামাটি জেলা বিএনপি ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তারা এসব কথা বলেন।

এসময় সমাবেশে বক্তব্যে রাখেন,রাঙ্গামাটি জেলা বিএনপি’র সহ-সভাপতি মো. হারুনুর রশিদ, সাধারণ সম্পাদক দীপন তালুকদার দীপু, যুগ্ম সম্পাদক এড. মো. মামুনুর রশিদ, সাংগঠনিক সম্পাদক এড. সাইফুল ইসলাম পনির, যুবদলের সভাপতি সাইফুল ইসলাম শাকিল প্রমুখ।

বক্তারা বলেন, খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে অবৈধ সরকারের দেয়া প্রহসনের গ্রেফতারী পরোয়ানা সাধারণ মানুষ মেনে নেবে না। সরকার পতনের মাধ্যমে দখলদার সরকারের এসব ঘৃণিত কর্মকান্ডের সমুচিত জবাব দেওয়া হবে। তাই সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে আন্দোলনের মাধ্যমে অবৈধ সরকারে পতন ঘটতে হবে।

সমাবেশের আগে ছাত্রদল ও যুবদল জটিকা মিছিল বের করলে পুলিশ বাধা দেয়। পরে পুলিশের বাধা অমান্য করলে পুলিশ লাঠি চার্জ করে নেতাকর্মীদের উপর। এতে ৫ জন নেতাকর্মী আহত হয়।




হিল উইমেন্স ফেডারেশনের নতুন কমিটি গঠিত: মণিরা ত্রিপুরা সভাপতি, আশিকা চাকমা সাধারণ সম্পাদক


পার্বত্যনিউজ ডেস্ক:

“জুম্ম নারীর সমমর্যাদা ও সমঅধিকার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়নের আন্দোলন জোরদার করুন”- এই শ্লোগানকে সামনে রেখে বুধবার রাঙ্গামাটি সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউটে হিল উইমেন্স ফেডারেশনের ৯ম কেন্দ্রীয় কাউন্সিল ও প্রতিনিধি সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

সংগঠনের সভাপতি চঞ্চনা চাকমার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সম্মেলন ও কাউন্সিলে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ২৯৯ পার্বত্য রাঙ্গামাটি আসনের সাংসদ ও পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির সহ সভাপতি উষাতন তালুকদার।

সম্মেলনে বিশেষ অতিথি হিসেবে আরো উপস্থিত ছিলেন জনসংহতি সমিতির তথ্য ও প্রচার সম্পাদক মঙ্গল কুমার চাকমা, পার্বত্য চট্টগ্রাম মহিলা সমিতির সাধারণ সম্পাদক সুপ্রভা চাকমা, পার্বত্য চট্টগ্রাম যুব সমিতির রাঙ্গামাটি জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক অরুণ ত্রিপুরা, পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের রাঙ্গামাটি জেলা কমিটির সভাপতি রিন্টু চাকমা প্রমুখ। মণিরা ত্রিপুরার উপস্থাপনায় স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন হিল উইমেন্স ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সদস্য শৈএনু মারমা।

সম্মেলনে সামগ্রিক প্রতিবেদন পেশ করেন হিল উইমেন্স ফেডারেশনের বিদায়ী সাধারণ সম্পাদক রিমিতা চাকমা। সম্মেলনের শুরুতে জাতীয় সঙ্গীতের মাধ্যমে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন প্রধান অতিথি উষাতন তালুকদার এবং দলীয় সঙ্গীতের মাধ্যমে দলীয় পতাকা উত্তোলন করেন হিল উইমেন্স ফেডারেশনের সভাপতি চঞ্চনা চাকমা।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে উষাতন তালুকদার এমপি বলেন, বাংলাদেশের সংবিধানে গণতান্ত্রিক অধিকার চর্চা করার কথা বলা হয়েছে। সমাবেশ-মিটিং-মিছিল করার অধিকার দেয়া হয়েছে। আমরা গণতান্ত্রিক অধিকারের চর্চা করছি। আমরা এখানে কোনো উস্কানিমূলক বক্তব্য রাখছি না। কিন্তু হিল উইমেন্স ফেডারেশনকে কেন বাধা দেয়া হচ্ছে। আমাদেরকে নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলন করতে বাধাগ্রস্ত করবেন না।

তিনি বলেন, জনসংহতি সমিতি ও সমিতির সহযোগী সংগঠনগুলো প্রশাসনকে লিখিতভাবে অবহিত করে এযাবৎ বিভিন্ন কর্মসূটি পালন করে আসছে। সে হিসেবে হিল উইমেন্স ফেডারেশনের আজকের এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। অথচ সম্মেলনের অনুমতি নেই বলে হিল উইমেন্স ফেডারেশনের গণতান্ত্রিক ও শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত আজকের এই সম্মেলনকে বাধা দেয়া হচ্ছে।

সরকারের দৃষ্টি আর্কষণ করে তিনি বলেন, আমাদের কোন দূরভিসন্ধি নেই। দয়া করে আমাদের গণতান্ত্রিক অধিকার খর্ব করবেন না। আমাদের কার্যকলাপের ফলে কোন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটবে তার কোন সম্ভাবনা নেই। আমরা কোন রাষ্ট্র বিরোধী কাজ করছি না। আমরা হলের ভেতরে আমাদের সাংগঠনিক কার্যক্রম নিয়ে নিয়মতান্ত্রিকভাবে আলোচনা করছি মাত্র। অহেতুকভাবে ভুল বুঝা হচ্ছে, অহেতুকভাবে সন্দেহ করা হচ্ছে।

পরিশেষে তিনি হিল উইমেন্স ফেডারেশনের সদস্যদের আহ্বান জানিয়ে বলেন, হাজারো প্রতিকূলতার মুখে জুম্ম জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠায়, জুম্ম নারীর সমঅধিকার ও সমমর্যাদা প্রতিষ্ঠায় আন্দোলন চালিয়ে যেতে হবে।
তিনি আরো বলেন, আপনারা নিজেদেরকে ছোট ভাববেন না। একজন পুরুষ হিসেবে যেমন অধিকার ভোগ করতে পারে, একজন নারী হিসেবেও মানুষের মতো মানুষ হয়ে বেঁচে থাকার অধিকার রয়েছে। জনসংহতি একটি আদর্শিক সংগঠন। এই সংগঠনের নীতি-আদর্শকে আমাদের পথ চলতে হবে। চে গুয়েভারা বলেছেন, মৌমাছিরা যেমন সারাক্ষণ গুনগুন করে, আমাদেরকেও যেমনি সারাক্ষণ জনগণের কাছে গিয়ে অধিকারের কাছে বলতে হবে।

৯ম কেন্দ্রীয় কাউন্সিলে মণিরা ত্রিপুরাকে সভাপতি, আশিকা চাকমাকে সাধারণ সম্পাদক এবং শৈএনু মারমাকে সাংগঠনিক সম্পাদক করে ১৫ সদস্য-বিশিষ্ট কেন্দ্রীয় কমিটি গঠিত হয়। নব নির্র্বাচিত কেন্দ্রীয় কমিটিকে শপথ বাক্য পাঠ করেন হিল উইমেন্স ফেডারেশনের বিদায়ী সভাপতি চঞ্চনা চাকমা।

–বিজ্ঞপ্তি