বেগম রোকেয়া দিবসে মানিকছড়ির ‘জনি আক্তার’ জয়িতা নির্বাচিত

মানিকছড়ি প্রতিনিধি:

বেগম রোকেয়া দিবস উদযাপন উপলক্ষ্যে মানিকছড়িতে নানা আয়োজনে দিবসটি পালন করেছে উপজেলা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর। এবার উপজেলার একমাত্র জয়িতা নির্বাচিত হয়েছেন জনি আক্তার।

শনিবার (৯ ডিসেম্বর) সকাল ১০টায় চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ি সড়কের উপজেলা পরিষদ সংলগ্ন মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

এতে উপজেলা সরকারি বিভিন্ন দপ্তর প্রধান, জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, পুলিশ, সাংবাদিক, কর্মচারী ও নারীরা অংশ নেয়। পরে উপজেলা পরিষদ হল রুমে অনুষ্ঠিত হয় আলোচনা সভা ও নির্বাচিত ‘জয়িতা’কে সংবর্ধনা অনুষ্ঠান।

এতে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা মো. কামরুল আলম। উপজেলা প্রেসক্লাব সদস্য সচিব সাংবাদিক আবদুল মান্নান এর সঞ্চলনায় অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন, উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান রাহেলা আক্তার।

বিশেষ অতিথি ছিলেন, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. নোমান মিয়া, অফিসার ইনচার্জ মো. মাইন উদ্দীন খান, দুপ্রক সভাপতি ও তিনটহরী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আতিউল ইসলাম, উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. শাহাজাহান সিরাজ, পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের উপজেলা সমন্বয়কারী মো. ইয়াছিনুল হক, সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. আবদুল মান্নান পাটোয়ারীসহ পরিসংখ্যান,আইসিডি ও উপজেলা রির্সোস সেন্টার কর্মকর্তা প্রমুখ।

সভায় বক্তারা আন্তর্জাতিক নারী নির্যাতন প্রতিরোধ পক্ষ এবং বেগম রোকেয়া দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে বলেন, মহিয়ষী নারী বেগম রোকেয়ার আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে আজ আমাদের নারীরা এগিয়ে যাচ্ছে। রাজনীতি, সামাজিক পরিবেশ জয়ের পাশাপাশি নারীরা আজ জল-স্থল ও আকাশ পথ জয় করেছে।

সভা শেষে নির্বাচিত জয়িতা জনি আক্তার এর হাতে সন্মাননা ক্রেস্ট তুলে দেন অতিথিরা।




আন্তর্জাতিক দুর্নীতি বিরোধী দিবসে মানিকছড়িতে নানা আয়োজন

মানিকছড়ি প্রতিনিধি:-

`দেশ প্রেমের শপথ নিন, দুর্নীতিকে বিদায় দিন’ ‘দুর্নীতি উন্নয়নের অন্তরায়, আসুন, দুর্নীতিকে ঘৃণা করি। এভাবে নানা শ্লোগান লেখা ব্যানার সম্বলিত জনসমাগমে মানববন্ধন, দুর্নীতি বিরোধী গণ-স্বাক্ষর সংগ্রহ, আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণের মধ্য দিয়ে যথাযোগ্য মর্যাদায় মানিকছড়িতে আন্তর্জাতিক দুর্নীতিবিরোধী দিবস-২০১৭ পালন করেছে উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটি।

৯ ডিসেম্বর আন্তর্জাতিক দুর্নীতি বিরোধী দিবস উপলক্ষ্যে মানিকছড়ি উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির আয়োজনে এবং উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় এবার তৃণমূলে দিবসটি পালন করছে দুদক। এরই অংশ হিসেবে মানিকছড়ি উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটি নানা কর্মসূচি গ্রহণ করেন।

শনিবার (৯ ডিসেম্বর) সকাল ১০টায় চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ি সড়কের উপজেলা পরিষদ সংলগ্ন মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে উপজেলা সরকারি বিভিন্ন দপ্তর প্রধান, জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, পুলিশ, সাংবাদিক, কর্মচারী ও নারীরা অংশ নেয়। পরে উপজেলা পরিষদ হল রুমে অনুষ্ঠিত হয় আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান।

এতে সভাপতিত্ব করেন দুপ্রক সভাপতি মো. আতিউল ইসলাম। দুপ্রক সদস্য সচিব সাংবাদিক আবদুল মান্নান এর সঞ্চলনায় অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন, উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান রাহেলা আক্তার। বিশেষ অতিথি ছিলেন, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. নোমান মিয়া, অফিসার ইনচার্জ মো. মাইন উদ্দীন খান, মৎস্য কর্মকর্তা মো. শাহাজাহান সিরাজ, পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের উপজেলা সমন্বয়কারী মো. ইয়াছিনুল হক, মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা মো. কামরুল আলম, সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. আবদুল মান্নান পাটোয়ারীসহ পরিসংখ্যান, আইসিডি, উপজেলা রিসোর্স সেন্টার কর্মকর্তা প্রমুখ। সভায় বক্তারা দুর্নীতি প্রতিরোধে সবাইকে গণ-জোয়ার সৃষ্টিতে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

সভা শেষে অতিথিরা ‘দুর্নীতি প্রতিরোধে ছাত্র সমাজের ভূমিকা’ বিষয়ক রচনা প্রতিযোগিতায় ক,খ,গ গ্রুপে বিজয়ী ৯জন এবং বিশেষ বিবেচনায় আরো ৪জনসহ মোট ১৩জন শিক্ষার্থীর হাতে পুরস্কার তুলে দেন।




মানিকছড়িতে শিক্ষক চিংসামং চৌধুরীর ৩য় মৃত্যুবার্ষিকী পালিত

 

মানিকছড়ি প্রতিনিধি:

খাগড়াছড়ির মানিকছড়ি উপজেলায় কলেজিয়েট উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা প্রধান শিক্ষক, মারমা উন্নয়ন সংসদের সাবেক সভাপতি ও আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি  চিংসামং চৌধুরীর ৩য় মৃত্যু বার্ষিকী বুধবার (৬ ডিসেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টায় পালিত হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ২০১৪ সালের ৬ ডিসেম্বর সন্ত্রাসীর গুলিতে তিনি নিহত হন। এ উপলক্ষ্যে কলেজিয়েট স্কুলের মাঠে ছাত্র-ছাত্রী, শিক্ষক ও মারমা উন্নয়ন সংসদের নেতা কর্মীরা অস্থায়ী বেদিতে পুষ্প মাল্য অর্পণ ও স্মরণ সভার আয়োজন করেন।

এ সভায় সভাপতিত্ব করেন বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটির সভাপতি মাস্টার হরি কুমার মারমা। এ সভায় উপস্থিত ছিলেন উপজেলার চেয়ারম্যান ম্রাগ্য  মারমা, জেলা পরিষদের সদস্য এম এ জব্বার, মানিকছড়ির সাব জোন কমান্ডার ফয়সাল আহম্মেদ, কলেজিয়েট উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ও মারমা উন্নয়ন সংসদের সভাপতি মংশেপ্রু মারমা, মানিকছড়ি থানার ভার প্রাপ্ত কর্মকর্তা(তন্দন্ত) তালাত মাহমুদ, আওয়ামী লীগের সভাপতি জয়নাল আবেদিন, সাধারণ সম্পাদক মো. মাইন উদ্দীন, সদর ইউপি চেয়ারম্যান শফিকুর রহমান ফারুক, মারমা উন্নয়ন সংসদের সাবেক সভাপতি চিংলাপ্রু মারমা ও বর্তমান সাধারণ সম্পাদক কংজপ্রু মারমা প্রমুখ।




মানিকছড়িতে কীটনাশকযুক্ত মশারী বিতরণ

 

মানিকছড়ি প্রতিনিধি:

এক সময়ের ম্যালিরিয়া প্রবণ পার্বত্য জনপদ মানিকছড়ির তৃণমূলে উপজেলা স্বাস্থ্য ও ব্র্যাক স্বাস্থ্য কর্মসূচির আওতায় কীটনাশকযুক্ত দীর্ঘস্থায়ী মশারী(খখওঘ) বিতরণ কার্যক্রম ২৩ নভেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়েছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও প.প কর্মকর্তা ডা. নোমান মিয়ার সভাপতিত্বে এবং ব্র্যাক ম্যানাজার মিলন ঘোষের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত মশারী বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন, উপজেলা চেয়ারম্যান ম্রাগ্য মারমা। বিশেষ অতিথি ছিলেন, ভাইস চেয়ারম্যান রাহেলা আক্তার, আওয়ামী লীগ নেতা এমই. আজাদ চৌধুরী বাবুল, ইউপি সদস্য মো. জয়নাল আবেদীন, প্রবীণ রাজনীতিবিদ কাজী মো. ননা মিয়া প্রমুখ।

স্বাগত বক্তব্যে ব্র্যাক ম্যানাজার মিলন ঘোষ জানান, এ মৌসুমে ব্র্যাক এ উপজেলায় ত্রিশ সহস্রধিক কীটনাশকযুক্ত দীর্ঘস্থায়ী মশারী বিতরণ কার্যক্রমের(খখওঘ) অংশ হিসেবে শনিবার উপজেলার বড়ডলু পাড়া কেন্দ্রের অধীনে ৮০৯ জনের মাঝে মশারী বিতরণের মধ্য দিয়ে কার্যক্রমের শুভ সূচনা হয়।

প্রধান অতিথি উপজেলা চেয়ারম্যান ম্রাগ্য মারমা বলেন, এক সময় পাহাড়ের আতঙ্ক ছিল ম্যালেরিয়া জ্বর। প্রাণঘাতি ম্যালেরিয়া থেকে জনগণকে বাঁচাতে স্বাস্থ্য বিভাগ এবং ব্র্যাক এ অঞ্চলের তৃণমূলে চিকিৎসার পাশাপাশি জনসংখ্যা ১.৮হারে কীটনাশকযুক্ত দীর্ঘস্থায়ী মশারী বিতরণের ফলে ম্যালেরিয়া আজ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এ ধারা অব্যাহত থাকলে অচিরেই ম্যালেরিয়া চিরতরে নির্মূল হবে। এ জন্য সরকারের পাশাপাশি ব্র্যাক প্রশংসার দাবিদার।

সভাপতি উপজেলা স্বাস্থ্য ও প.প কর্মকর্তা ডা. নোমান মিয়া বলেন, আগামী ডিসেম্বর মাসের মধ্য উপজেলায় ত্রিশ সহস্রাধিক মশারী বিতরণ সম্পন্ন হবে। যাতে করে প্রতিটি পরিবারের লোকজন মশারীর নিচে ঘুমাতে পারে। এতে প্রাণঘাতি ম্যালেরিয়া থেকে সকলে মুক্ত থাকবে। দেশ ম্যালেরিয়া নির্মুলে বিশ্ব দরবারে প্রশংসিত হবে।




মাদ্রাসার প্রশ্নে পিএসসি পরীক্ষা নেয়ার ঘটনায় দায়িত্বপ্রাপ্তদের অব্যাহতি


মানিকছড়ি প্রতিনিধি: মানিকছড়ি একটি কেন্দ্রে মাদ্রাসার প্রশ্ন দিয়ে পিএসসি পরীক্ষা নেওয়ার ঘটনায় ওই কেন্দ্রের সচিব, ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, হল সুপার ও পর্যবেক্ষকদের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেয়া হলেও আপাতত বেঁচে গেছেন শিক্ষা কর্মকর্তা শুভাশীষ বড়ুয়া!

গত ১৯ নভেম্বর প্রাথমিক ও ইবতেদায়ি সমাপনী পরীক্ষার প্রথমে দিনে অনুষ্ঠিত ইংরেজি পরীক্ষায় মানিকছড়ি উপজেলার ‘রাণী নিহার দেবী সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়’ কেন্দ্রের একটি কক্ষের ৩০ জন পিএসসি পরীক্ষার্থীকে ইবতেদায়ি প্রশ্নে পরীক্ষা দিতে হয়েছে। এ সময় পরীক্ষার্থীরা প্রশ্ন কমন হয়নি মর্মে প্রতিবাদ করলেও পর্যবেক্ষকরা বিষয়টি আমলে না নিয়ে পরীক্ষা সম্পন্ন করেন! পরীক্ষা শেষে শিক্ষার্থীরা হল থেকে বের হয়ে এসে বিষয়টি সংশ্লিষ্ট স্কুল শিক্ষক ও অভিভাবকদের জানায়। এর পর হল সুপার বিষযটি উপজেলা শিক্ষা অফিসারকে অবহিত করেন। কিন্তু ওই শিক্ষা কর্মকর্তা বিষয়টি গুরুত্ব না দিয়ে শিক্ষার্থীদেরকে পাস করিয়ে দেবেন মর্মে সান্তনা দিয়ে দায়িত্ব শেষ করেন।

পরে এ বিষয়ে পার্বত্যনিউজসহ বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ হলে উপজেলা প্রশাসন বিষয়টি আমলে নিয়ে সংশ্লিষ্টদের তলব করেন। এতে ওই কেন্দ্র সংশ্লিষ্ট দায়িত্বপ্রাপ্তরা তাঁদের লিখিত বক্তব্যে বলেন, ভূল ধরা পড়ার সাথে সাথে বিষয়টি উপজেলা শিক্ষা অফিসারকে অবহিত করা হয়। তিনি শিক্ষার্থীদেরকে এ বিষয়ে পর্যাপ্ত নাম্বার দিয়ে পাস করিয়ে দেবেন বলে আশ্বস্ত করার কারণে এ বিষয়ে আর কাউকে অবহিত করা হয়নি।

এদিকে মানিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আহ্সান উদদীন মুরাদ গত ২১ নভেম্বর বিকালে পিইসি ও ইবতেদায়ি ৬ কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত কেন্দ্র সচিব, সহকারী সচিব, সরকারি অফিসার, হল সুপার ও কক্ষের পর্যবেক্ষকদের নিয়ে জরুরি বৈঠকে বসেন। এ সময় কেন্দ্র সংশ্লিষ্টরা ভুল স্বীকার করে পৃথক পৃথকভাবে লিখিত জবাব দেন। পরে রাতেই তিনি দায়িত্ব অবহেলার কারণে ওই কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত কেন্দ্র সচিব, সহকারী সচিব, ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, হল সুপার, সহকারী হল সুপারকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেন এবং ওই কক্ষের দুজন পর্যবেক্ষককে পুরো পরীক্ষাকালীন দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি ঘোষণা করে চিঠি ইস্যু করেন।

কিন্তু অধীনস্থরা অব্যাহতি পেলেও শিক্ষা কর্মকর্তা শুভাশীষ বড়ুয়া আপাতত বেঁচে গেলেন। অব্যাহতি প্রাপ্ত একাধিক শিক্ষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে অভিযোগ করে বলেন, যেহেতু প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষা তাই প্রশ্ন বিতরণে ভুলের বিষয়টি প্রথমে শিক্ষা কর্মকর্তাকে অবহিত করা হয়েছিল। তিনি কেন বিষয়টি উধ্বর্তন কর্তৃপক্ষকে অবহিত না করে শিক্ষার্থীদের পাস করিয়ে দেবেন বলে ঘোষণা দিলেন। আজ শুধু আমাদেরই বিচার হলো। শিক্ষা কর্মকর্তাকেও বিচারের আওতায় আনার জোর দাবী জানাচ্ছি আমরা।

নতুন দায়িত্ব প্রাপ্তরা হলেন, কেন্দ্র সচিব দীলিপ কুমার দেব, ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা উপজেলা সমাজ সেবা অফিসার মো. আবদুল মন্নান পাটোয়ারী, হল সুপার শিখা রাণী হাওলাদার, সহকারী হল সুপার মো. আনোয়ার হোসেন।




মানিকছড়িতে মাদ্রাসার প্রশ্নে পিএসসি পরীক্ষা, ঘটনা ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা

মানিকছড়ি প্রতিনিধি:
রোববার ১৯ নভেম্বর দেশব্যাপী পিএসসি ও ইবতেদায়ীর সমাপনী পরীক্ষার প্রথম দিনে অনুষ্টিত ইংরেজি পরীক্ষায় মানিকছড়ি কেন্দ্রের একটি কক্ষের ৩০ জন পিএসসি শিক্ষার্থীকে পরীক্ষা দিতে হয়েছে ইবতেদায়ীর প্রশ্নে। ফলে প্রশ্ন কমন না হওয়ায় শিক্ষার্থীদের ভাগ্য নিয়ে দুঃচিন্তায় পড়েছেন অভিভাবকরা।

ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থী, অভিভাবক, সংশ্লিষ্ট স্কুলের শিক্ষক সূত্রে জানা গেছে, মানিকছড়ি উপজেলার ৬টি কেন্দ্রে পিএসসি পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ১৮৭৭ জন। এর মধ্যে ছাত্র ৮৪৭ জন, ছাত্রী ১০৩০ জন।

অন্যদিকে ইবতেদায়ী কেন্দ্র ৩টি। পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ৬৮ জন। এর মধ্যে ছাত্র ৩৮ জন, ছাত্রী ৩০ জন।

উপজেলা সদরস্থ ‘রাণী নিহার দেবী সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়’ পিএসসি কেন্দ্রের ১১২ নং কক্ষের ৩০ জন শিক্ষার্থী যথাক্রমে রাজবাড়ী মডেল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১২ জন, দক্ষিণ হাফছড়ি পাড়া শিশু শিক্ষা কেন্দ্রের ১০ জন ও মুসলিমপাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৮ জন শিক্ষার্থীর মাঝে ইবতেদায়ীর ইংরেজি প্রশ্ন বিতরণ করেন পর্যবেক্ষকরা। এতে শিক্ষার্থীরা বিষয়টি বুঝতে না পারলেও প্রশ্ন কমন না হওয়ার বিষয়ে একধিকবার কর্তব্যরত শিক্ষকদের কাছে বললেও শিক্ষকরা বিষয়টি আমলে নেননি। ফলে ইবতেদায়ী প্রশ্নেই পরীক্ষা দিতে হয়েছে ক্ষুদে শিক্ষার্থীদের। পরীক্ষা শেষে ওই কক্ষের ছেলে-মেয়েরা অভিভাকদের কাছে এসে কান্নাকাটি শুরু করলে বিষয়টি জানা জানি হয়।

খবর পেয়ে উপজেলা শিক্ষা অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) শুভাশীষ বড়ুয়া পরিদর্শনে আসেন এবং ঘটনা ধামাচাপা দিতে চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এক পর্যায়ে তিনি শিক্ষার্থীদের পাস করিয়ে দেবেন বলে নিশ্চয়তা দেন।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে হল সুপার মো. আকবর আলী ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ভুলবশত এমন ঘটনা ঘটেছে। এছাড়া কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত সরকারি অফিসার যিনি প্রশ্ন গ্রহণ করেছেন তিনি উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. মাহমুদুল হকের অসচেতনতার কারণেই এমনটি ঘটেছে।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার শুভাশীষ বড়ুয়া’র কাছে জানতে চাইলে তার ব্যাক্তিগত মুঠোফোনে সংযোগ পাওয়া যায় নি।

মানিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী অফিসার (অতি.) জাহিদ ইকবাল বলেন, লক্ষ্মীছড়ির ৪টি কেন্দ্রে পরীক্ষা থাকায় যথা সময়ে মানিকছড়ি যাওয়া সম্ভব হয়নি। তাছাড়া এ বিষয়ে রবিবার রাত পৌনে ১০টা পর্যন্ত কেউ জানায়নি। দ্রুত এ বিষয়ে খোঁজ নিয়ে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।




মানিকছড়িতে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালিত

মানিকছড়ি প্রতিনিধি:

মানিকছড়িতে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালন করেছে জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি। এ উপলক্ষ্যে মঙ্গলবার বিকালে মানিকছড়ি উপজেলা বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে তাৎপর্য ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

উপজেলা যুবদলের যুবনেতা মো. মোশারফ হোসেনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে উপজেলা বিএনপির সভাপতি এমএ করিম এর সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এনামুল হক এনাম, সাংগঠনিক সম্পাদক মজিবুল হক বাহার, যুবদলের নেতা জয়নাল আবদীন, রমজান হোসেন সেলিম, উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি মো. জাহাঙ্গীর হোসেন, সাধারণ সম্পাদক মহিউদ্দিন কিশোর, ওলামা দলের সাংগঠনিক সম্পাদক ইব্রাহীম আল ফরিদী, শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক আলী নুর, কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম প্রমুখ।




মানিকছড়ি বিশ্বশান্তি স্মৃতিধাম আন্তর্জাতিক ভাবনা কেন্দ্রে দিনব্যাপী কঠিন চীবর দানোৎসব অনুষ্ঠিত

নিজস্ব প্রতিবেদক, খাগড়াছড়ি:

খাগড়াছড়ির মানিকছড়ি বিশ্বশান্তি স্মৃতিধাম আন্তর্জাতিক ভাবনা কেন্দ্রে  শুক্রবার(৩ নভেম্বর) দিনব্যাপী দানোত্তম কঠিন চীবর দানোৎসব অনুষ্ঠিত হয়েছে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন, সাবেক শিল্পমন্ত্রী দিলীপ বড়ুয়া ও বিশেষ অতিথি ছিলেন, খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কংজরী চৌধুরী, মানিকছড়ি উপজেলা চেয়ারম্যান ম্রাগ্য মারমা। আর এর মধ্যে দিয়ে খাগড়াছড়িতে শেষ হলো বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের মাসোব্যাপী কঠিন চীবর দানোৎসব।

দিনটি উপলক্ষ্যে সকাল থেকে বিশ্বশান্তি স্মৃতিধাম আন্তর্জাতিক ভাবনা কেন্দ্রে বিশ্ব শান্তি কামনায় সমবেত বুদ্ধ প্রার্থনা, বুদ্ধ পূজা, পঞ্চশীল গ্রহণ, বুদ্ধমূর্তি দান, সংঘদান, অষ্ট পরিখরা দান, ধর্ম দেশনা ও উৎসর্গ, বিক্ষু সংঘকে পিণ্ড দান, কঠিন চীবর দান।

অনুষ্ঠানে মাটিরাঙার বর্ণাল দীপংকর বৌদ্ধ বিহারের অধ্যক্ষ ভদন্ত উ. সুরিয়া মহাথেরোর  সভাপতিত্বে  অনুষ্ঠিত কঠির চীরব দান উৎসবে মানিকছড়ি বিশ^শান্তি স্মৃতিধাম আন্তর্জাতিক ভাবনা কেন্দ্রের অধ্যক্ষ স্মৃমি মিত্র মহাস্থবির ভিক্ষু সংঘের ধর্ম দেশনা ও দায়ক-দায়িকাদের প্রার্থনা গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে জেলার জেলার ৯টি উপজেলার বিভিন্ন ধর্মীয় ভিক্ষু সংঘ ও দায়ক-দায়িকা এবং পূন্যার্থীরা অংশ নেন। প্রতি বছর আষাঢ়ি  পূর্ণিমার পর দিন থেকে বৌদ্ধ ভিক্ষুদের তিন মাসব্যাপী ওয়া বা বর্ষাব্রত  পালন শেষে  প্রবরাণা পূর্ণিমার মধ্য দিয়ে বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের মাঝে আনন্দের বার্তা বয়ে আনে। এর পর শুরু হয় মসোব্যাপী কঠিন চীবর দানোৎসব।




মানিকছড়িতে ঐতিহ্যবাহী বুদ্ধ মেলার ৬৩তম আসর কাল

মানিকছড়ি প্রতিনিধি:

খাগড়াছড়ি জেলার প্রবেশদার মানিকছড়ি উপজেলার ঐতিহ্যবাহী মং রাজবাড়ীর আবাস্থল রাজ জেতবন বুদ্ধ বিহারে আগামীকাল দিনব্যাপী বিহার প্রাঙ্গনে বুদ্ধ মেলা অনুষ্ঠিত হবে।

শুক্রবার (৩ নভেম্বর) দিনব্যাপী অনুষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে ভোর বেলা বুদ্ধ পতাকা উত্তোলন, বুদ্ধ পূজা, পুষ্প পূজা, প্রদীপ পূজা, পঞ্চশীল গ্রহণ, সন্ধা ফানোস বাতি উড়িয়ে দিনব্যাপী অনুষ্ঠানের পরিসমাপ্তি ঘটবে বলে জানিয়েছেন মেলা উদযাপন কামিটি।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, মং রাজা মম্প্রুসাইন আমলে ১৯৫৪ সালে গুইমারা উপজেলায় সেংগুলি পাড়া নামক স্থান থেকে রাজা নিজ হাতে নিয়ে এসে পঞ্চ বুদ্ধ নামে মুর্তিটি স্থাপন করেন। তখন থেকে প্রতি বছর কার্তিক পূর্ণিমাতে বুদ্ধ মেলা অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। এতে তিন পার্বত্য জেলা থেকে হাজার হাজার বুদ্ধ ধর্মাবলম্বীসহ সকলধর্মের মানুষের সমাগমে মিলন মেলায় পরিণত হয় রাজবাড়ী প্রাঙ্গন।

এছাড়া মেলার সকল প্রস্তুতি সম্পূর্ণ হয়েছে বলে জানিয়েছেন আয়োজকরা । এ ব্যাপারে মানিকছড়ি থানার পুলিশ পরিদর্শক(তদন্ত) মো. তালাত মাহমুদ বলেন, মেলায় আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর কড়া নজরদারীসহ সব ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকবে।




মানিকছড়িতে ইচ্ছার বিরুদ্ধে বিয়ে দেয়ার চেষ্টায় ‘মা’য়ের জেল, যুবকের বিরুদ্ধে মামলা

 

মানিকছড়ি প্রতিনিধি:

মানিকছড়ি গিরি মৈত্রী ডিগ্রি কলেজের একাদশ শ্রেণির বিজ্ঞান শাখার মেধাবী ছাত্রী সালমা আক্তারের মতামত উপেক্ষা করে একাধিকবার বিয়ের অয়োজন করেন ‘মা’ সুফিয়া বেগম! কিন্তু সালমার ইচ্ছা এবং প্রশাসনের হস্তক্ষেপে ওই সময় বিয়ের আয়োজন ভেস্তে গেলেও বুধবার (১ নভেম্বর) আবারও জোরপূর্বক সালমাকে তুলে নিয়ে কোর্ট ম্যারেজের মাধ্যমে বিয়ের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেন ‘মা’ সুফিয়া বেগম ও বর আবদুল করিম ওরফে বলি করিম! খবর পেয়ে প্রশাসন মেয়েকে উদ্ধার করে সেফহোমে প্রেরণ করেন এবং মা’কে ভ্রাম্যমাণ আদালতে ৭ দিনের জেল ঘোষণা করেন। অপরদিকে  অভিযুক্ত যুবকের বিরুদ্ধে অপহরণের মামলা রজু করেন ছাত্রী সালমা আক্তার।

প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার তিনটহরী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ২০১৬ সালে এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ ৪.১৯ পাওয়া সালমা এবার স্থানীয় কলেজের একাদশ শ্রেণির মেধাবী ছাত্রী। তিনটহরীর মৃত ফজল হকের ৭ ছেলে-মেয়ের মধ্যে ৬ষ্ঠ। ২০১৫ সালে বাবার মৃত্যুর পর সংসারে অভাব-অনটন তাদের তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে। নুন আনতে পান্তা ফুরায়! সবার ছোট বোন এ বছর জেএসসি পরীক্ষার্থী।

দরিদ্র পরিবারে এ অবস্থায় সম্প্রতি সালমার পড়ালেখা বন্ধ করে বিয়ের আয়োজন করেন মা সুফিয়া বেগম! কিন্তু মেধাবী সালমা তা মেনে নিতে পারেনি! ফলে সে বারবার বাল্যবিয়ে বন্ধের বিরুদ্ধে আইনগত সহায়তা চায় প্রশাসনের কাছে। সর্বশেষ গত ৭ অক্টোবর উপজেলা নির্বাহী অফিসার অভিভাবক ‘মা’ সুফিয়া বেগমের নিকট থেকে মুচলেখা নিয়ে বিয়ে বন্ধ করেন। কিন্তু তাতেও মেয়েকে বিয়ে দেয়ার ইচ্ছা থেকে সরে আসেনি সুফিয়া বেগম।

গত ৩১ অক্টোবর ফটিকছড়ির প্রভাবশালী (বিবাহিত) আবদুল করিম ওরফে বলি করিম কনের মায়ের সহযোগিতায় সালমাকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যায় চট্টগ্রাম। সালমা চট্টগ্রাম থেকে সু-কৌশলে বিষয়টি জানান মানিকছড়ি মহিলা বিষয়ক অফিসার মো. কামরুল আলমকে। ফলে ওই মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে অবহিত করলে দ্রুত পুলিশ পাঠিয়ে সালমাকে উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় সহযোগিতার জন্য সালমার মা সুফিয়া বেগমকে ২ নভেম্বর ভ্রাম্যমাণ আদালতে ৭ দিনের বিনাশ্রম জেল দেন ইউএনও মো. আহসান উদদীন মুরাদ।

এছাড়া ওই প্রভাবশালী বর মো. আবদুল করিম ওরফে বলি করিমের বিরুদ্ধে অপহরণের মামলা রজু করেন সালমা নিজে! অপর দিকে সালমার জীবনের নিরাপত্তার জন্য প্রশাসনের সহযোগিতায় তাকে চট্টগ্রামস্থ সেফহোমে প্রেরণ করেন উপজেলা সমাজসেবা অফিস।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আহসান উদ্দিন মুরাদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, কলেজ ছাত্রী সালমা পড়ালেখায় আগ্রহী হওয়ায় এবং তার মত উপক্ষো করে একাধিকবার বিয়ের আয়োজন করেন অভিভাবক সুফিয়া বেগম। এছাড়া সর্বশেষ সালমাকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে বিয়ের আয়োজন করার অপরাধে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থাসহ সালমাকে সেফহোমে প্রেরণ করা হয়েছে।

এ রির্পোট লেখা পর্যন্ত (সন্ধ্যা পৌনে ৬টা) সালমা মানিকছড়ি থানায় উপস্থিত হয়ে অভিযুক্ত ছেলের বিরুদ্ধে অপহরণের অভিযোগে মামলা করার প্রস্তুতি চলছিল।