মাটিরাঙ্গায় শিক্ষকের বাসায় হামলা করে সহযোগীসহ কাউন্সিলর সোহেল রানা শ্রীঘরে

পার্বত্যনিউজ রিপোর্ট :

মাটিরাঙ্গা মডেল হাই স্কুলের সিনিয়র শিক্ষক মো. হাবিবুর রহমানের বাসায় হামলা, ভাঙচুর, প্রাণনাশের হুমকি ও শ্লীলতাহানির চেষ্ঠার অভিযোগে মাটিরাঙ্গা থানায় দায়ের করা মামলায় মাটিরাঙ্গা পৌরসভার ৮নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. সোহেল রানা সহযোগীসহ শ্রীঘরে।

বুধবার দুপুরের দিকে খাগড়াছড়ির চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আবু সুফিয়ান মোহাম্মদ নোমান’র আদালতে জামিনের আবেদন করলে বিজ্ঞ আদালত জামিন নামঞ্জুর করে তাদেরকে কারাগারে প্রেরণ করে। বাদী পক্ষের আইনজীবি এ্যাডভোকেট মঞ্জুর মোর্শেদ ভুইয়া বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, আসামীগণ আদালতে হাজির হয়ে জামিন চাইলে আদালত জামিন নামঞ্জুর করে তাদেরকে জেলহাজতে প্রেরণ করে।

শিক্ষক হাবিবুর রহমান জানান, গত ১ অক্টোবর পৌরসভার কাউন্সিলর সোহেল রানা দলবল নিয়ে মুসলিমপাড়ায় তাঁর বসতবাড়িতে হামলা চালায়। ঐ সময় তিনি বাসায় ছিলেন না। তিনি অভিযোগ করেন, সোহেল রানার কাছে তাঁর মেয়েকে বিয়ে না দেয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে হামলার ঘটনা ঘটিয়েছে।

শিক্ষক হাবিবর রহমানের সহধর্মীনি তওহিদা আক্তার জানান, সোহেল রানা দীর্ঘদিন ধরে তাঁর বড় মেয়েকে উত্যক্ত করত। কয়েকবার বিয়ের প্রস্তাবও দেয়। কিন্তু তারা এতে রাজী হননি। তার অত্যাচারে পড়ালেখা বন্ধ করে মেয়েকে গত মার্চে বিয়ে দিয়ে দেন। গত ঈদে মেয়েটি বাড়িতে বেড়াতে আসে। এ খবর পেয়ে কাউন্সিলর সোহেল রানা ১ অক্টোবর দুপুরে তাদের বাসায় ঢুকে ঘরের আসবাবপত্র ভাংচুর করতে থাকে। এক পর্যায়ে মেয়েকে খুুঁজতে থাকে। এ সময় মেয়ে ঘরের একটি কক্ষে দরজা বন্ধ করে লুকিয়ে থাকে।

তিনি আরও বলেন, মেয়েকে খুঁজে না পেয়ে সোহেল রানা অশ্লীল ভাষায় গালমন্দ করে এবং তাকে মারতে তেড়ে আসে। এ সময় তাঁর আর্তচিৎকারে প্রতিবেশীরা  ছুটে আসলে কাউন্সিলর তার দলবল নিয়ে চলে যায়। এ ঘটনায় শিক্ষক হাবিবুর রহমানের স্ত্রী ফরিদা আক্তার বাদী হয়ে গত ৪ অক্টোবর মাটিরাঙ্গা থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।

জানা যায়, পৌরসভার কাউন্সিলর সোহেল রানা এক সময় বিএনপির ক্যাডার ছিল। ২০১৫ সালে মাটিরাঙ্গা পৌরসভার নির্বাচনের আগে সে আওয়ামী লীগে যোগ দেয়। আওয়ামী টিকেটে নির্বাচন করে সে ৮ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়।

স্থানীয় সূত্রগুলো জানায়, কাউন্সিলর নির্বাচিত হওয়ার পর সে আরও বেপরোয়া হয়ে উঠে। তক্ষক ও ইয়াবাসহ বিভিন্ন মাদক ব্যবসার সঙ্গে তার জড়িত থাকারও অভিযোগ রয়েছে।

প্রসঙ্গত, গত ১ অক্টোবর বিকালের দিকে কয়েকজন সঙ্গীসহ মাটিরাঙ্গা পৌরসভার কাউন্সিলর মো: সোহেল রানা মাটিরাঙ্গা মডেল হাই স্কুলের সিনিয়র শিক্ষক মো. হাবিবুর রহমানের বাসায় হামলা, ভাঙচুর চালায়। এসময় তারা ঐ শিক্ষকের অনুপুস্থিতির সুযোগে তার স্ত্রী ফরিদা আকতারকে মারতে উদ্যত হয়। এ ঘটনার পর মাটিরাঙ্গা পৌরসভার কাউন্সিলর মো: সোহেল রানা ও তার সহযোগি মো: জসিম উদ্দিনকে আসামী করে গত ৪ অক্টোবর মাটিরাঙ্গা থানায় অভিযোগ করেন শিক্ষক মো. হাবিবুর রহমানের স্ত্রী ফরিদা আকতার।




মাটিরাঙ্গায় জাতীয় কন্যা শিশু দিবস ও বাল্য বিবাহ নিরোধ দিবস পালিত

নিজস্ব প্রতিবেদক, মাটিরাঙ্গা:
মানববন্ধন ও আলোচনা সভার মধ্য দিয়ে খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গায় জাতীয় কন্যা শিশু দিবস ও বাল্য বিবাহ নিরোধ দিবস পালিত হয়েছে। মাটিরাঙ্গা উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় উপজেলা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর এ কর্মসুচির আয়োজন করে।
সোমবার সকালের দিকে মাটিরাঙ্গা উপজেলা পরিষদ সম্মুখ সড়কে মানববন্ধন শেষে মাটিরাঙ্গা উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে মাটিরাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী অফিসার বিএম মশিউর রহমান’র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাটিরাঙ্গা উপজেলা চেয়ারম্যান মো. তাজুল ইসলাম তাজু।
মাটিরাঙ্গা ডিগ্রী কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ প্রশান্ত ককুমার ত্রিপুরা ও মাটিরাঙ্গা উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা মনিকা বড়ুয়া প্রমুখ আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন।
বাল্য বিবাহ প্রতিরোধে জনপ্রতিনিধিদের এগিয়ে আসার আহবান জানিয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্য মো. তাজুল ইসলাম তাজু বলেন, বাল্য বিবাহ সামাজিক ব্যাধিতে পরিনত হয়েছে। জনপ্রতিনিধিদের সহযোগিতা ছাড়া বাল্য বিবাহ প্রতিরোধ সম্ভব না।
সভাপতির বক্তব্যে মাটিরাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী অফিসার বিএম মশিউর রহমান বলেন, কারো ঘরে আগুন লাগলে যেমন আগুন নিভানোর জন্য কাউকে না কাউকে ডাক দিতে হয় তেমনি বাল্যবিবাহ নামক ব্যাধি থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য কাউকে না কাউকে ডাক দিতে হবে। আমাদের সমাজে বাল্য বিবাহ নামক আগুন লেগেছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, এ আগুন নিভানোর দায়িত্ব আপনাদেরই নিতে হবে।
অনুষ্ঠানে বিভিন্ন নারী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, এনজিও কর্মীগন উপস্থিত ছিলেন।



মাটিরাঙায় ইয়াবাসহ যুবক আটক

নিজস্ব প্রতিবেদক, মাটিরাঙ্গা:

খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গায় মো. সাজ্জাদ হোসেন (১৯) এক মাদকসেবীকে ইয়াবাসহ আটক করেছে মাটিরাঙা সেনা জোনের নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা। সে মাটিরাঙার চর পাড়ার মানিক মিয়ার ছেলে। এ সময় তার কাছ থেকে ৭ পিস ইয়াবা উদ্ধার করে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা।

নিরাপত্তাবাহিনী সুত্রে জানা গেছে, মাটিরাঙ্গার চরপাড়া এলাকায় ইয়াবা বিক্রি করছেন, এমন সংবাদের ভিত্তিতে মাটিরাঙ্গা সেনা জোনের একটি টহলদল রোববার সন্ধ্যার দিকে মো. সাজ্জাদ হোসেন কে চরপাড়া থেকে ইয়াবাসহ আটক করে।

মাটিরাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সৈয়দ মো. জাকির হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে আটক যুবকের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা রুজুর প্রস্তুতি চলছে।

 




মাটিরাঙ্গায় অপহরণের তিন ঘন্টার মাথায় অপহৃতকে উদ্ধার: চার অপহরণকারী আটক

নিজস্ব প্রতিবেদক, মাটিরাঙ্গা:

খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গায় আথোই মারমা (১৮) নামে এক কিশোরীকে অপহরণের তিন ঘন্টার মাথায় উদ্ধার করেছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়োজিত যৌথ বাহিনী। রোববার (১৫ অক্টোবর) রাত ১০টার দিকে মাটিরাঙ্গার কামিনী মেম্বারপাড়া এলাকা থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়। এসময় অপহরনের সাথে জড়িত চার অপহরনকারীকে আটক করেছে যৌথবাহিনী।

জানা গেছে, রোববার সন্ধ্যা পৌনে সাতটার দিকে রামগড় মাষ্টারপাড়ার বাসিন্দা নিবাই মারমার মেয়ে আথোই মারমা খাগড়াছড়ি থেকে রামগড়ে ফেরার পথে মাটিরাঙ্গার ১০নং এলাকয় যাত্রীবাহি বাস থেকে নামিয়ে তুলে নিয়ে যায় ইউপিডিএফ কর্মী বাবু ত্রিপুরার নেতৃত্বে চার অপহরকারী। এসময় তার পাশে বসে থাকা আবদুস ছোবহান নামে এক যাত্রীকে মারধর করে।

খবর পেয়ে নিরাপত্তাবাহিনী ও পুলিশ মাটিরাঙ্গার কামিনী মেম্বারপাড়া এলাকার একটি ঘর থেকে তাকে উদ্ধার করে। এসময় অপহরণের সাথে জড়িত চার অপহরণকারীকে আটক করেছে যৌথবাহিনী। আটককৃতরা হলো, খাগড়াছড়ির ভাইবোনছড়ার আনন্দি চাকমার ছেলে নিপন চাকমা (২০), খাগড়াছড়ি সদরের খাগড়াপুরের সুশীল ত্রিপুরার ছেলে কৃপায়ন ত্রিপুরা (২০), রাঙ্গমাটির বাঘাইছড়ির বটতলী এলাকার নমমী চন্দ্র চাকমার ছেলে সুনেল চাকমা (২৫) ও খাগড়াছড়ি সদরের খাগড়াপুরের রামেন্দ্র ত্রিপুরার ছেলে বাবু ত্রিপুরা (২৬)।

অপহরণের বর্ণনা দিয়ে আথোই মারমা জানায়, কোন কিছু না বলেই চার যুবক আমাকে বাস থেকে নামিয়ে একটি ত্রিপুরা পাড়ার দিকে নিয়ে যায়। সেখানে একটি বাড়িতে আমাকে আটকে রাখে। পরে সেখান থেকে সেনাবাহিনী ও পুলিশ আমাকেসহ চার অপহরণকারীকে নিয়ে আসে।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে মাটিরাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ সৈয়দ মো. জাকির হোসেন বলেন, আটককৃতদের বিরুদ্ধে অপহরণ মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। আটককৃতদের সকলেই আঞ্চলিক সংগঠন ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট-ইউপিডিএফের কর্মী বলেও জানান তিনি।




মাটিরাঙ্গায় বিশ্ব হাত ধোয়া দিবস পালিত

নিজস্ব প্রতিবেদক, মাটিরাঙ্গা:

‘পরিচ্ছন্ন হাত, সুন্দর ভবিষ্যৎ’ এ শ্লোগানকে সামনে রেখে খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গায় পালিত হয়েছে ‘বিশ্ব হাত ধোয়া দিবস’। মাটিরাঙ্গা উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর এ কর্মসুচির আয়োজন করে। রোববার (১৫ অক্টোবর) মাটিরাঙ্গা মডেল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত কর্মসুচির উদ্বোধন করেন মাটিরাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী অফিসার বিএম মশিউর রহমান।

প্রতিদিন সাবান দিয়ে হাত ধোয়া অভ্যাসে পরিণত করতে এ দিনটি সারা বিশ্বের মানুষকে অনুপ্রাণিত করে এমন মন্তব্য করে মাটিরাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী অফিসার বিএম মশিউর রহমান বলেন, নানা রোগবালাই প্রতিরোধে সাবান দিয়ে হাত ধোয়া যে জরুরি, দিবসটি মানুষের মাঝে সে সচেতনতাও জাগ্রত করে।

এসময় মাটিরাঙ্গা উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপসহকারী প্রকৌশলী মো. আইয়ুব আলী আনসারী, মাটিরাঙ্গা উপজেলা ভারপ্রাপ্ত প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার কৃষ্ণ লাল দেবনাথ ও মাটিরাঙ্গা মডেল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আবদুল মালেক প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে মাটিরাঙ্গার মাটিরাঙ্গা পৌরসভাধীন সাতটি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ২‘শ ১৬ জন শিক্ষার্থীকে হাত ধোয়ার কৌশল ও প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে ধারণা দেয়া হয়।




তাইন্দংয়ে নিহত ইয়াছিন মেম্বারের পরিবারের দায়িত্ব দিলেন আওয়ামীলীগ নেতা

নিজস্ব প্রতিবেদক, মাটিরাঙ্গা :

দীর্ঘদিন পরে হলেও ২০০১ সালে নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতায় নিহত তাইন্দং ইউনিয়ন যুবলীগের সাবেক সভাপতি মো. ইয়াছিন মেম্বারের পরিবারের পাশে দাঁড়ালেন খাগড়াছড়ি জেলা আওয়ামীলীগের শিক্ষা ও মানব সম্পদ বিষয়ক সম্পাদক দিদারুল আলম। এসময় তিনি গণমানুষের জন্য ইয়াছিন মেম্বারের রাজনীতির স্বীকৃতি দিয়ে ইয়াছিন মেম্বারের দুই মেয়ের লেখাপড়া ও ঐ পরিবারের ভরণপোষণের দায়িত্বভারও গ্রহণ করেন।

তাইন্দংয়ের ইয়াছিন মেম্বার নিহত হওয়ার ১৭ বছরের মাথায় শনিবার (১৪ অক্টোবর) দুপুরের দিকে দলীয় নেতাকর্মীদের সাথে নিয়ে ইয়াছিন মেম্বারের তাইন্দংয়ের বাড়িতে যান খাগড়াছড়ি জেলা আওয়ামীলীগের শিক্ষা ও মানব সম্পদ বিষয়ক সম্পাদক দিদারুল আলম। ইয়াছিন মেম্বারের কবর জিয়ারত শেষে তিনি নিহতের পরিবারের সাথে কথা বলেন। এসময় তিনি রাজনীতির শিকার ইয়াছিন মেম্বারের স্ত্রীর হাতে নগদ ১৪ হাজার টাকাসহ ৬৪ হাজার টাকার অনুদান তুলে দেন। এসময় তিনি এয়াছিন মেম্বারের দুই মেয়ের লেখাপড়াসহ ঐ পরিবারের যাবতীয় ভরণপোষণের দায়িত্বভারও গ্রহণ করেন।

এসময় তার সাথে খাগড়াছড়ি জেলা ছাত্রলীগের সাধারন সম্পাদক মো: জহির উদ্দিন ফিরোজ, সহ-সভাপতি ইমাম হোসেন মানিক, মো. মাইনুল ইসলাম, মো. ফারুক হোসেন ও মাটিরাঙ্গা উপজেলা যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. শাহীন সরকারসহ জেলা ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

গত ১৭ বছরের একটা বড় সময় আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় থাকলেও কেউই রাজনীতির শিকার শহীদ ইয়াছিন মেম্বারের পরিবারসহ তার এতিম দুই মেয়ের খবর রাখেনি জানিয়ে খাগড়াছড়ি জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মো. জহির উদ্দিন ফিরোজ এ প্রতিবেদককে বলেন, কেউ যা করেনি খাগড়াছড়ি জেলা আওয়ামীলীগের শিক্ষা ও মানব সম্পদ বিষয়ক সম্পাদক দিদারুল আলম তা করে শহীদ ইয়াছিন মেম্বারের রাজনীতির স্বীকৃতি দিয়েছে। দলের সুসময়ে সুবিধাবাদীদের দৌরাত্মে ইয়াছিন মেম্বারের ত্যাগ হারিয়ে গেছে বলেও ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি।




স্বাধীনতার ৪৬ বছর পর দুই সৎ ভাইয়ের বিচার চাইলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা কালা মিয়া

নিজস্ব প্রতিবেদক, মাটিরাঙ্গা:

দুই সৎ ভাইয়ের বিরুদ্ধে মেয়েকে পুড়িয়ে মারার চেষ্টাসহ সহায় সম্পত্তি দখলের চেষ্টার অভিযোগ করেছেন ৭১‘র রনাঙ্গনের বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. কালা মিয়া। তাকে ষড়যন্ত্রমুলকভাবে জেলে পাঠিয়ে তার সাত মাসের অন্ত:স্বত্তা স্ত্রীকে বাড়ি থেকে বের করে দেয়ারও অভিযোগ করেন দুই সৎ ভাইয়ের বিরুদ্ধে। দীর্ঘদিনেও কোথাও কোন বিচার না পেয়ে সাংবাদিক সম্মেলনের মাধ্যমে তিনি তার উপর এসব অন্যায়-অবিচারের বিচার দাবি করেন।

শুক্রবার (১৩ অক্টোবর) বেলা ১১টার দিকে খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গা উপজেলার তবলছড়ি বিল্ডিং ঘরে আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. কালা মিয়া বলেন, ১৯৭১ সালে মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে সক্রিয়ভাবে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করে দেশকে শত্রুমুক্ত করতে পারলেও আমার দুই ভাইয়ের নির্মম অত্যাচার থেকে আমার পরিবার ও স্ত্রী-কন্যাদের আমি রক্ষা করতে পারিনি।

জনাকীর্ণ সাংবাদিক সম্মেলনে মাটিরাঙ্গা উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মো. মনছুর আলী, তবলছড়ি ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো: আবদুল কাদের, খাগড়াছড়ি জেলা মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ডের সভাপতি মো: হারুন মিয়া, তবলছড়ি ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক মো. কামাল হোসেন মেম্বার, সন্তান কমান্ড নেতা মো: সাদ্দাম হোসেন ও মো. মামুননুর রশীদ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

তিনি বলেন, এক পর্যায়ে আমি জীবনের প্রয়োজনে আমার তিন কণ্যাকে আমার দুই সৎ ভাই ও বাবার কাছে রেখে আমি আমার  স্ত্রী ও দুই ছেলেকে নিয়ে ঢাকায় চলে গেলে আমার তিন মেয়ের উপর নেমে আসে অবর্ননীয় অত্যাচার। এক পর্যায়ে আমার বাবা মারা গেলে আমার সম্পত্তির লোভে দুই সৎ ভাই মো. মনির আহাম্মদ ও মো. কবির আহাম্মদ আমার মেয়েদের উপর শারিরীক ও মানসিক নির্যাতন শুরু করে। এসব করেও তারা শান্ত হয়নি। একপর্যায়ে আমার এক মেয়েকে আগুনে পুড়িয়ে মারার চেষ্টা করে। এসম আমার অগ্নিদ্বগ্ধ মেয়েকে ঘর থেকে বের করে রাস্তায় ফেলে রাখে। সেখান থেকে তুলে নিয়ে জনৈক আবদুল জলিল আমার মেয়েকে চিকিৎসা দিয়ে সুস্থ করে তোলেন।

বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. কালা মিয়া বলেন, আমি দেশের জন্য যৌবন বির্সজন দিয়েছি। কিন্তু আজও আমি এসবের বিচার পাইনি। স্বাধীনতা লাভের ৪৬ বছর পর এ মুক্তিযোদ্ধা তার পরিবারের উপর নির্মম নির্যাতন ও অত্যাচারের জন্য দুই সৎ ভাই মো. মনির আহাম্মদ ও মো. কবির আহাম্মদের বিচার দাবি করেন।




মাটিরাঙ্গায় ইঁদুর নিধন অভিযান উদ্বোধন

নিজস্ব প্রতিবেদক, মাটিরাঙ্গা:

’ইঁদুর দমন সফল করি, মাঠের ফসল গোলায় ভরি’ এ শ্লোগানকে সামনে রেখে মাটিরাঙ্গায় মাসব্যাপী জাতীয় ইঁদুর নিধন অভিযানের উদ্বোধন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালের দিকে মাসব্যাপী এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন মাটিরাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী অফিসার বিএম মশিউর রহমান।

মাটিরাঙ্গা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন মাটিরাঙ্গা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ম. তাজুল ইসলাম। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন মাটিরাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ সৈয়দ মো. জাকির হোসেন ও মাটিরাঙ্গা উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক সুবাস চাকমা।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মাটিরাঙ্গা উপজেলা কৃষি সম্প্রসারন কর্মকর্তা মো. নাজমুল হোসেন মজুমদার, উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. জয়নাল আবেদীন, নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি ও মাঠ পর্য়ায়ের কৃষক ছাড়াও কৃষি বিভাগের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।




শ্যালিকাকে ধর্ষণের অভিযোগে দুলাভাইসহ তিন ধর্ষক আটক

 

নিজস্ব প্রতিবেদক, মাটিরাঙ্গা:

শ্যালিকাকে গণধর্ষণের অভিযোগে দুলাভাইসহ তিন ধর্ষককে আটক করেছে মাটিরাঙ্গা থানা পুলিশ। বুধবার (১১ অক্টোবর) রাত ১১ টার দিকে মাটিরাঙ্গার বেলছড়ি ইউনিয়নের নিউ অযোধ্যা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ধর্ষিতার বড় বোন রোকেয়া বেগম বাদী হয়ে মাটিরাঙ্গা থানা মামলা দায়ের করেছেন বলে নিশ্চিত করেছেন মাটিরাঙ্গা থানা পুলিশের অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সৈয়দ মো. জাকির হোসেন।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গতমাসে মাটিরাঙার বাসিন্দা মো. আব্দুল কাদেরের ছেলে মো. জয়নাল আবেদীন (৩৫) এর সাথে মামলার বাদী ধর্ষিতার বড় বোন রোকেয়া বেগমের বিয়ে হয়। বড় বোন রোকেয়া বেগমের স্বামী মো. জয়নাল আবেদীন বুধবার (১১ অক্টোবর) চট্টগ্রামে বসবাসরত শ্যালিকাকে তার বাড়িতে বেড়াতে নিয়ে আসে।

ঘটনার দিন রাত আনুমানিক ১০ টার দিকে স্বামী মো. জয়নাল আবেদীন শ্যালিকাকে ঘরে রেখে সুকৌশলে স্ত্রী রোকেয়া বেগমকে ঘর থেকে জ্যোস্নার আলো দেখার জন্য বাগানের দিকে নিয়ে যায়। এসময় অপর দুই আসামী মো. মনির হোসেন ও মো. নজরুল ইসলাম ঘরে থাকা রোকেয়া বেগমের ছোট বোনের উপর পাশবিক নির্যাতন চালায়।

এসময় ঘরের ভেতর থাকা ছোট বোনের চিৎকার শুনে রোকেয়া বেগম ঘরে ছুটে যেতে চাইলে স্বামী মো. জয়নাল আবেদীন তাকে ঘরে যেতে বাধা প্রদান করে। একসময় সে স্বামীর বাধা উপেক্ষা করে ঘরে এসে তার বোনের উপর পাশবিক নির্যাতনের দৃশ্য দেখতে পায়। এসময় সে চিৎকার করলে তার স্বামী মো. জয়নাল আবেদীন মুখ চেপে ধরে।

এসময় তাদের চিৎকার শুনে পার্শ্ববর্তী লোকজন ছুটে এসে বিবস্ত্র অবস্থায় ধর্ষিতাসহ তিন ধর্ষকে আটক করে। এসময় স্থানীয়রা বিষয়টি বেলছড়ি ইউনিয়ন চেয়ারম্যানকে জানালে তিনি মাটিরাঙ্গা থানা পুলিশের কাছে তিন ধর্ষককে সোর্পদ করেন।

বেলছড়ি ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. নজরুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ঘটনাস্থল থেকে স্থানীয়রা তিন ধর্ষককে আটক করে। পরে পুলিশকে খবর দেয়া হলে, পুলিশ তিন ধর্ষককে আটক করে।’

মাটিরাঙ্গা থানা পুলিশের অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সৈয়দ মো. জাকির হোসেন বলেন, আটককৃতরা পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ধর্ষণের কথা স্বাকীর করেছে। তিন আসামীর বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ (সংশোধনী-০৩) এর ৯ (১)/১০/৩০ ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার অভিযুক্তদের আদালতে প্রেরণ করা হয়।




মাটিরাঙ্গায় দুই ইয়াবা ব্যবসায়ী আটক


নিজস্ব প্রতিবেদক, মাটিরাঙ্গা :

খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গায় ইয়াবা সিন্ডিকেটের এক সদস্যসহ দুই ইয়াবা ব্যবসায়ীকে আটক করেছে মাটিরাঙ্গা থানা পুলিশ। আটককৃতরা হলো, ইয়াবা সিন্ডিকেটের সদস্য মাটিরাঙ্গার করল্যাছড়ি এলাকার মো. জামাল উদ্দিনের ছেলে মো. জহিরুল ইসলাম (৩২) ও একই এলাকার মো. বাচ্চু মিয়ার ছেলে মো. আল আমিন (১৬)। শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার মাটিরাঙ্গার আমতলী ইউনিয়নের করল্যাছড়ি বাজার থেকে তাদেরকে আটক করা হয়।

করল্যাছড়ি বাজারে ইয়াবা ট্যাবলেট বিক্রির উদ্দ্যেশ্যে অবস্থান করছে এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মাটিরাঙ্গার গোমতি পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. খায়রুজ্জামান ও মাটিরাঙ্গা থানার এএসআই মো. মশিউর রহমানের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল অভিযান চালিয়ে ইয়াবাসহ মো. জরিুল ইসলাম ও আল আমিনকে আটক করে। এসময় তার কাছ থেকে বিক্রির উদ্দ্যেশে নিয়ে আসা ৯ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।

স্থানীয় একটি ইয়াবা সিন্ডিকেট দীর্ঘদিন ধরে আমতলী ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানে যুব সমাজের মাঝে ইয়াবা ট্যাবলেট বিক্রি করে আসছে বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশকে জানিয়েছে ঐ সিন্ডিকেটের আটক সদস্য ইয়াবা ব্যাবসায়ী মো. জরিুল ইসলাম।

ইয়াবাসহ দুই ইয়াবা ব্যাবসায়ীকে আটকের সত্যতা নিশ্চিত করে মাটিরাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সৈয়দ মো. জাকির হোসেন জানান, স্থানীয় ইয়াবা সিন্ডিকেটের সদস্য মো. জরিুল ইসলামসহ আটক দুই জনের বিরুদ্ধেমাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। ইয়াবা ব্যবসায়ীদের সাথে কোন ধরনের আপস করা হবে না জানিয়ে তিনি বলেন, যেকোন মুল্যে ইয়াবা বিক্রি ও সেবন বন্ধ করা হবে।