মাটিরাঙ্গায় ১শ’ ৫০ পিস ইয়াবাসহ মাদক ব্যাবসায়ী আটক

নিজস্ব প্রতিবেদক, মাটিরাঙ্গা:

মাদক ব্যবাসায়ী ও মাদকসেবীদের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযানের অংশ হিসেবে খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গা পৌরসভার ৭নং ওয়ার্ডের বলিপাড়া থেকে ১শ’ ৫০ পিস ইয়াবাসহ মো. খোরশেদ আলম (৩৭) নামে এক মাদক ব্যাবসায়ীকে আটক করে মাটিরাঙ্গা সেনা জোনের নিরাপত্তাবাহিনীর সদস্যরা। মঙ্গলবার রাত দেড়টার দিকে তাকে বলিপাড়ার নিজ বাড়ি থেকে আটক করা হয়।

আটককৃত ইয়াবা ব্যবসায়ী মো. খোরশেদ আরম বলিপাড়ার মৃত সিরাজুল ইসলামের ছেলে। জানা গেছে, খোরশেদ আলম দীর্ঘদিন ধরে ইয়াবার ব্যবসা করে আসছে এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মাটিরাঙ্গা জোনের জোনাল স্টাফ অফিসার মেজর ইমরুল কায়েস এর নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করে মাটিরাঙ্গা সেনা জোনের নিরাপত্তাবাহিনীর সদস্যরা।

পরে আটক খোরশেদ আলমের দেয়া তথ্যমতে বিক্রির উদ্দ্যেশ্যে তার ঘরে রাখা ১শ’ ৫০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করে নিরাপত্তাবাহিনীর সদস্যরা। পরে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে উদ্ধারকৃত ইয়াবাসহ আটক ইয়াবা ব্যাবসায়ী মো. খোরশেদ আলমকে মাটিরাঙ্গা থানায় সোপর্দ করা হয়।

মাটিরাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. সাহাদাত হোসেন টিটো ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, আটক যুবকেরর বিরুদ্ধে মাটিরাঙ্গা থানায় মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে।




মাটিরাঙ্গায় আ’লীগের শোকসভায় দলের ঐক্য বিরোধী অপতৎপরতা প্রতিহত করার আহ্বান

নিজস্ব প্রতিবেদক, মাটিরাঙ্গা:

শোকাবহ আয়োজনে বাংলাদেশের স্থপতি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪২তম শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষ্যে মাটিরাঙ্গায় সংগঠনের ঐক্য ও স্বার্থ বিরোধী অপতৎপরতা প্রতিহত করার আহ্বানের মধ্য দিয়ে মাটিরাঙ্গায় শোক র‌্যালি করেছে আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা। মঙ্গলবার বিকালের দিকে দলীয় কার্যালয় থেকে বের হওয়া শোক র‌্যালি মাটিরাঙ্গার প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে মাটিরাঙ্গা মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় হয়ে দলীয় কার্যালয়ে গিয়ে শেষ হয়।

মাটিরাঙ্গা উপজেলা ও পৌর আওয়ামী লীগ এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের আয়োজনে নেতাকর্মীদের স্বতঃস্ফুর্ত অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত শোক ‌র‌্যালি পরিনত হয় জনস্রোতে। নিকট অতীতে সরকারি দল আওয়ামী লীগের কোন কর্মসূচিতে নেতাকর্মীদের এতো সমাগম দেখা যায়নি। তবে শোক দিবসের এ কর্মসূচিতে মাটিরাঙ্গা উপজেলা আওয়ামী লীগের একাধিক শীর্ষ নেতা উপস্থিত না থাকায় তৃনমুল নেতাকর্মীদের ক্ষোভ প্রকাশ করতে দেখা গেছে।

শোক র‌্যালি শেষে দলীয় কার্যালয়ে মাটিরাঙ্গা পৌর আওয়ামী লীগের সিনি. সহ-সভাপতি মো. আবদুল সালাম’র সভাপতিত্বে মাটিরাঙ্গা উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সম্পাদক মো. তাজুল ইসলামের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত শোক সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন মাটিরাঙ্গা উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি মো. এরশাদুজ্জামান।

মাটিরাঙ্গা উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি মো. ওয়ালী উল্যাহ, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. আলী হোসেন, মাটিরাঙ্গা পৌর আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি এমএম জাহাঙ্গীর আলম, মাটিরাঙ্গা উপজেলা মহিলালীগের সভাপতি হোসনে আরা বেগম, মাটিরাঙ্গা পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও প্যানের মেয়র মো. আলাউদ্দিন লিটন, উপজেলা যুবলীগের সভাপতি মো. রফিকুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক মো. জহিরুল ইসলাম খোন্দকার, মাটিরাঙ্গা পৌর যুবলীগের সভাপতি মো. মোশাররফ হোসেন, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগের সভাপতি ও ১নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. এমরান হোসেন, পৌর স্বেচ্ছাসেবকলীগের সভাপতি মো. বাবুল আহমেদ, মাটিরাঙ্গা উপজেলা ছাত্রলীগের আহ্বায়ক ও ২নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মোহাম্মদ আলী ও পৌর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক তছলিম উদ্দিন রুবেল বক্তব্য রাখেন।

শোক সভায় বক্তারা বলেন, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির জনককে স্বপরিবারে হত্যা করে খুনিচক্র বাঙ্গালি জাতীয়তাবাদকে হত্যা করেছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করে শোককে শক্তিতে পরিণত করে বঙ্গবন্ধুর সোনারবাংলা গড়ার আহ্বান জানান বক্তারা। মাটিরাঙ্গায় আওয়ামী লীগের রাজনীতির কবর রচনা করতে দলের ভেতর ঘাপটি মেরে থাকা একটি গোষ্ঠী অপতৎপরতা চালাচ্ছে উল্লেখ করে বক্তারা বলেন, দলের বৃহত্তর ঐক্যের স্বার্থে তাদের যে কোন অপতৎপরতাকে প্রতিহত করা হবে। আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে তৃনমুল নেতাকর্মীদের ঐক্যের ডাক দিলেন বক্তারা।  ১৫ আগস্ট বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়ার জন্মদিন পালনেরও সমালোচনা করেন বক্তারা।

এর আগে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান’র আত্মার শান্তি কামনা করে দলীয় কার্যালয়ে মিলাদ মাহফিল ও বিশেষ মোনাজাত এবং কাঙালী ভোজের আয়োজন করা হয়। মিলাদ ও দোয়া মাহফিল পরিচালনা করেন মাটিরাঙ্গা কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের পেশ ইমাম মাও. মো. হারুন অর রশীদ




মাটিরাঙ্গায় শোকাবহ আয়োজনে জাতীয় শোক দিবস পালিত

নিজস্ব প্রতিবেদক, মাটিরাঙ্গা:

বর্ণাঢ্য ‌র‌্যালি, শোক সভা, রচনা ও বক্তৃতা প্রতিযোগিতা এবং মিলাদ মাহফিলসহ নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গায় স্বাধীন বাংলাদেশের মহান স্থপতি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান‘র ৪২তম শাহাদাৎ বার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস পালিত হয়েছে।

দিবসটি উপলক্ষ্যে মঙ্গলবার দিনের শুরুতেই সকাল সাড়ে আটটার দিকে মুশলধারে বৃষ্টিকে উপেক্ষা করে মাটিরাঙ্গা উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে এক শোক ‌র‌্যালি মাটিরাঙ্গা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে শুরু হয়ে গুরুত্বপুর্ন সড়ক ঘুরে উপজেলা পরিষদ মাঠে এসে শেষ হয়।

শোক র‌্যালি শেষে মাটিরাঙ্গা উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে মাটিরাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী অফিসার বিএম মশিউর রহমান‘র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় মাটিরাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ মো. সাহাদাত হোসেন টিটো, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার মো. মনছুর আলী, মাটিরাঙ্গা উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা নিটোল মনি চাকমা, মাটিরাঙ্গা ডিগ্রি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ প্রশান্ত কুমার ত্রিপুরা, মাটিরাঙ্গা উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি মো. এরশাদুজ্জামান, মাটিরাঙ্গা পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও প্যানেল মেয়র মো. আলাউদ্দিন লিটন, মাটিরাঙ্গা সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হিরনজয় ত্রিপুরা, মাটিরাঙ্গা প্রেসক্লাবের সভাপতি এমএম জাহাঙ্গীর আলম ও মাটিরাঙ্গা উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মো. জহিরুল ইসরাম খন্দকার বক্তব্য রাখেন।

১৫ আগস্টের শোককে শক্তিতে পরিনত করে সরকারের রুপকল্প ২০২১ ও ২০৪১ বাস্তবায়ন ও ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়তে সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে মাটিরাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী অফিসার বিএম মশিউর রহমান বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশের ইতিহাস। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে বিচ্ছিন্ন করে বাংলাদেশের ইতিহাস রচিত হতে পারেনা।

বঙ্গবন্ধুর আদর্শ থেকে শিক্ষা নিয়ে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হতে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়তে সকলের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বক্তারা বলেন, শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশকে ভঙ্গুর রাষ্ট্রে পরিনত করার ষড়যন্ত্র করা হয়েছিল। শেখ হাসিনার যোগ্য নেতৃত্বে ঘাতকদের সে স্বপ্ন চুরমার হয়ে গেছে। বাংলাদেশ উন্নয়নের পথে এগিয়ে যাচ্ছে।

এর আগে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ শাহাদাতবরণ কারীদের আত্মার শান্তি ও দেশের উন্নতি কামনা করে দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন মাটিরাঙ্গা কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের পেশ ইমাম হাফেজ মাওলানা মো. হারুন অর রশীদ।

অনুষ্ঠানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান‘র ৪২তম শাহাদাৎ বার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষ্যে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের মধ্যে অনুষ্ঠিত রচনা ও বক্তৃতা প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করেন মাটিরাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী অফিসার বিএম মশিউর রহমান।

এদিকে বাদ জোহর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান‘র আত্মার শান্তি কামনা করে মাটিরাঙ্গা কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে মিলাদ মাহফিল ও বিশেষ মোনাজাতের আয়োজন করা হয়। মিলাদ মাহফিলে মাটিরাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী অফিসার বিএম মশিউর রহমান ও মাটিরাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ মো. সাহাদাত হোসেন টিটোসহ বিভিন্ন পর্যায়ের গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ অংশগ্রহণ করেন। মিলাদ ও দোয়া মাহফিল পরিচালনা করেন মাটিরাঙ্গা কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের ভারপ্রাপ্ত পেশ ইমাম মাও. মো. রফিকুল ইসলাম।




বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ মালয়েশিয়া হবে

নিজস্ব প্রতিবেদক, মাটিরাঙ্গা:

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ আজ উন্নয়নের পথে হাঁটছে উল্লেখ করে মাটিরাঙ্গা পৌরসভার মেয়র ও মাটিরাঙ্গা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. শামছুল হক বলেন, বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ একদিন মালয়েশিয়া হবে। সেদিন খুব বেশি দুরে নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তিনি বলেন, জাতির জনককে হত্যার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশকে ভঙ্গুর রাষ্ট্রে পরিনত করার যে ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছিল আজ ঘাতকদের সে স্বপ্ন মিথ্যা প্রমান করে দিয়েছেন জাতির জনক এর কণ্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪২তম শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষ্যে মাটিরাঙ্গা সদর ইউনিয়ন পরিষদ আয়োজিত শোক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। মাটিরাঙ্গা সদর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান হিরনজয় ত্রিপুরা শোক সভায় সভাপতিত্ব করেন।

মাটিরাঙ্গা সদর ইউনিয়ন পরিষদের ৩নং ওয়ার্ডের মেম্বার অমৃত কুমার ত্রিপুরার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত শোকসভায় মাটিরাঙ্গা পৌরসভার প্যানেল মেয়র ও মাটিরাঙ্গা পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. আলাউদ্দিন লিটন, গকুলপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বীরলাল ত্রিপুরা, মাটিরাঙ্গা সদর ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি বিনয় রঞ্জন ত্রিপুরা, মাটিরাঙ্গা সদর ইউনিয়ন পরিষদের ১নং ওয়ার্ডের মেম্বার মলেন্দ্র লাল ত্রিপুরা অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন।

বিএনপির সময় অবহেলিত মাটিরাঙ্গা সদর ইউনিয়নের জনগণ উন্নয়ন বঞ্চিত ছিল উল্লেখ করে সভাপতির বক্ত্যবে মাটিরাঙ্গা সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হিরনজয় ত্রিপুরা তার সময়ে ব্যাপক উন্নয়নের ফিরিস্তি তুলে ধরে বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দুর্গম ও অবহেলিত জনপদে উন্নয়নের ছোঁয়া লেগেছে। সুচিত উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে আগামী নির্বাচনে সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে নৌকায় ভোট দেয়ারও আহ্বান জানান তিনি।

পরে খাগড়াছড়ির সংসদ সদস্যের টিআর প্রকল্পের বরাদ্দ হতে ধল্যা হাজাপাড়ার একটি সন্যাসী দলকে হারমোনয়িাম ও মৃদঙ্গ বিতরণ করেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি মাটিরাঙ্গা পৌরসভার মেয়র ও মাটিরাঙ্গা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. শামছুল হক।

মাটিরাঙ্গা উপজেলা ছাত্রলীগের আহ্বায়ক ও মাটিরাঙ্গা পৌরসভার কাউন্সিলর মোহাম্মদ আলী, মাটিরাঙ্গা সদর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি বিবিন্দ্র কুমার ত্রিপুরাসহ মাটিরাঙ্গা সদর ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীগণ শোক সভায় উপস্থিত ছিলেন।




মাটিরাঙ্গায় বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধার্ঘ্য অর্পণ

নিজস্ব প্রতিবেদক, মাটিরাঙ্গা:

স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪২তম শাহাদতবার্ষিকী উপলক্ষে তার প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানিয়েছে মাটিরাঙ্গা উপজেলা প্রশাসন ও মুক্তিযোদ্ধা সংসদসহ রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠন।

 

মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৮ টার দিকে প্রশাসনের পদস্থ বিভাগীয় কর্মকর্তা ও মুক্তিযোদ্ধাদের সাথে নিয়ে মাটিরাঙ্গা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সামনে স্থাপিত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান মাটিরাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী অফিসার বিএম মশিউর রহমান।

মাটিরাঙ্গা উপজেলা প্রশাসনের শ্রদ্ধা নিবেদনের পরপরই মাটিরাঙ্গা উপজেলা ও পৌর মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের পক্ষ থেকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা ফুল দিয়ে নিবেদন করে।

এরপরপরই মাটিরাঙ্গা উপজেলা ও পৌর আওয়ামী লীগ, সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠন, মাটিরাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান হিরনজয় ত্রিপুরা, মাটিরাঙ্গা ডিগ্রী কলেজ, মাটিরাঙ্গা মহিলা কলেজসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং সামাজিক সংগঠনের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা জানানো হয়।

এসময় বাংলাদেশের স্থপতি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪২তম শাহাদত বার্ষিকী উপলক্ষে মাটিরাঙ্গা উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গনে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেনী পেশার শোকাহত মানুষের ঢল নামে।




বইয়ের সাথে বন্ধুত্ব করলে জীবেন সাফল্য আসবেই

নিজস্ব প্রতিবেদক, মাটিরাঙ্গা:

বইয়ের সাথে বন্ধুত্ব করার আহ্বান জানিয়ে মাটিরাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী অফিসার বিএম মশিউর রহমান বলেছেন, জীবনে যারা সাফল্য পেয়েছে সকলেরই বন্ধুত্ব ছিল বইয়ের সাথে। বইয়ের সাথে বন্ধুত্ব করো, তবে সাফল্য আসবেই। তিনি বিজ্ঞান ভিত্তিক সমাজ গঠনে ছাত্র-ছাত্রীদের বিজ্ঞান বিষয়ে জ্ঞান লাভের আহবান জানান। নোট বা গাইড বই পরিহার করারও আহবান জানান তিনি।

সোমবার (১৪ আগস্ট) বেলা ১২টার দিকে মাটিরাঙ্গা উপজেলা ত্রিপুরা স্টুডেন্টস ফোরামের উদ্যোগে কৃতি শিক্ষার্থী ও একাদশ শ্রেণীর গরীব ছাত্র-ছাত্রীদের মাঝে বিনামূল্যে বই বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন। মাটিরাঙ্গা উপজেলা ত্রিপুরা স্টুডেন্টস ফোরামের সভাপতি হরিন্দ্র ত্রিপুরা সভাপতিত্ব করেন।

মাটিরাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ মো. সাহাদাত হোসেন টিটো, মাটিরাঙ্গা পৌরসভার মেয়র মো. শামছুল হক, মাটিরাঙ্গা সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হিরনজয় ত্রিপুরা, মাটিরাঙ্গা ডিগ্রী কলেজের ইংরেজী বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক প্রদীপ কুমার দাশ ও খাগড়াছড়ি জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ডের সভাপতি মো. হারুন মিয়া প্রমুখ বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন।

মাটিরাঙ্গা উপজেলা ত্রিপুরা স্টুডেন্টস ফোরামের সাংগঠনিক সম্পাদক বজেন ত্রিপুরা অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন।

ত্রিপুরা স্টুডেন্টস ফোরামের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মলেন্দ্র ত্রিপুরা, টিএসএফ’র কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি বিপুল বিকাশ ত্রিপুরা ও মাটিরাঙ্গা উপজেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক বাহারাম ত্রিপুরা অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মাটিরাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ মো. সাহাদাত হোসেন টিটো পাহাড়ের অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের সাথে বন্ধুত্ব না করার আহবান জানিয়ে বলেন, সন্ত্রাসীদের সাথে বন্ধুত্ব করলে সুন্দর জীবন নষ্ট হবে। থমকে যাবে ভবিষ্যতের সব স্বপ্ন। টিএসএফকে সবধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দিয়ে মাটিরাঙ্গা পৌরসভার মেয়র মো. শামছুল হক বলেন, নিজেদের প্রয়োজনেই লেখাপড়া চালিয়ে যেতে হবে।

ত্রিপুরা স্টুডেন্টস ফোরাম কার্যালয়কে কতিপয় বহিরাগতের বিরুদ্ধে অসামজিক কাজে ব্যাবহারের অভিযোগ করে মাটিরাঙ্গা সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হিরনজয় ত্রিপুরা বলেন, এ প্রতিষ্ঠানকে কলঙ্কমুক্ত করার দায়িত্ব টিএএফ নেতৃবৃন্দের।

পরে অনুষ্ঠানে মাটিরাঙ্গার উপজেলার ত্রিপুরা সম্প্রদায়ের একাদশ শ্রেনীর ১৬ জন গরীব ছাত্র-ছাত্রীদের মাঝে বিনামুল্যে বই বিতরণ করেন মাটিরাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী অফিসার বিএম মশিউর রহমান।




মাটিরাঙ্গার সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি যেন মুখ থুবড়ে না পড়ে: লে. কর্নেল কাজী মো. শামশের উদ্দিন

নিজস্ব প্রতিবেদক, মাটিরাঙ্গা:

বর্ণিল আয়োজনের মধ্য দিয়ে খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গায় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব ভগবান শ্রীকৃষ্ণের জন্মাষ্টমী পালিত হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে মাটিরাঙ্গা উপজেলা শ্রী শ্রী জন্মাষ্টমী উদযাপন পরিষদ বর্ণাঢ্য মঙ্গল শোভাযাত্রা ও আলোচনাসভার আয়োজন করে।

দিবসটি উপলক্ষে সোমবার (১৪ আগস্ট) বেলা ১১টার দিকে মাটিরাঙ্গা কেন্দ্রীয় শ্রী শ্রী রক্ষাকালী মন্দির পরিচালনা পরিষদ ও সনাতন ছাত্র-যুব পরিষদের সহযোগিতায় মাটিরাঙ্গা কেন্দ্রীয় শ্রী শ্রী রক্ষাকালী মন্দির থেকে এক বর্ণাঢ্য মঙ্গল শোভাযাত্রা বের করা হয়ে প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে পুনরায় রক্ষাকালী মন্দির প্রাঙ্গণে গিয়ে শেষ হয়। এর আগে বর্ণাঢ্য মঙ্গল শোভাযাত্রার উদ্বোধন করেন মাটিরাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী অফিসার বিএম মশিউর রহমান।

বর্ণাঢ্য মঙ্গল শোভাযাত্রা শেষে মাটিরাঙ্গা কেন্দ্রীয় শ্রী শ্রী রক্ষাকালী মন্দির প্রাঙ্গণে শ্রী শ্রী জন্মাষ্টমী উদযাপন পরিষদের সভাপতি বাবুল বণিক এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন মাটিরাঙ্গা জোন অধিনায়ক লে. কর্নেল কাজী মো. শামশের উদ্দিন পিএসসি, জি। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন মাটিরাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী অফিসার বিএম মশিউর রহমান, মাটিরাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ মো. সাহাদাত হোসেন টিটো ও মাটিরাঙ্গা পৌরসভার মেয়র মো. শামছুল হক। প্রশান্ত কুমার সাহা‘র সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন শ্রী শ্রী জন্মাষ্টমী উদযাপন পরিষদের আহবায়ক অধ্যাপক প্রদীপ কুমার দাশ।

ধর্মের নামে যেন কেউ কোন ধরনের সহিংসতা বা সাম্প্রদায়িক উস্কানীর সৃষ্টি না করে সেদিকে লক্ষ্য রাখার আহবান জানিয়ে মাটিরাঙ্গা জোন অধিনায়ক লে. কর্ণেল কাজী মো. শামশের উদ্দিন পিএসসি, জি বলেন, সব ধর্মই শান্তির আহবান জানায়। মাটিরাঙ্গার সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, কোন ভাবেই যেন এখানকার সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি মুখ থুবড়ে না পড়ে। কোন অশুভ শক্তি যেন মাথাছাড়া দিয়ে উঠতে না পারে শ্রী কৃষ্ণের জন্মাষ্টমির দিনে এ শিক্ষা গ্রহণের আহবান জানান তিনি।

আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, ভাদ্র মাসের কৃষ্ণ পক্ষের অষ্টমী তিথিতে অত্যাচারীর বিরুদ্ধে দুর্বলের অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং দুষ্টের দমন ও শিষ্টের পালন রক্ষায় এ ধরায় ভগবান শ্রীকৃষ্ণ অবতার হয়ে আসেন। তারা বলেন, এ দিনে উপাবাসে সপ্ত জন্মকৃত পাপ বিনষ্ট হয়। তারা বলেন, ভগবান শ্রীকৃষ্ণ দ্বাপর যুগের বিশৃঙ্খল ও অরক্ষিত মুল্যবোধের সময়ে প্রথিবীতে মানবপ্রেমের অমৃত বাণী  প্রচার ও প্রতিষ্ঠা করেছেন। পরামত্মার সঙ্গে জীবাত্মার মিলনই সেই বাণীর মুল বিষয়। তাই তিনি ভক্ত ও বিশ্বাসীদের কাছে প্রেমাবতার।

বর্ণাঢ্য মঙ্গল শোভাযাত্রা ও আলোচনা সভায় কেন্দ্রীয় শ্রী শ্রী রক্ষাকালী মন্দিরের সাধারণ সম্পাদক স্বপন কান্তি পাল, সহ-সভাপতি সমীর চন্দ্র বণিক, শ্রী শ্রী জন্মাষ্টমী উদযাপন কমিটির সাধারণ সম্পাদক ব্রজলাল দেসহ দূর দূরান্ত থেকে আগত হিন্দু সম্প্রদায়ের ভক্তবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।




মাটিরাঙ্গায় চালক ও হেলপারদের দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালা

নিজস্ব প্রতিবেদক, মাটিরাঙ্গা:

সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধ ও যাত্রীসেবার মান উন্নয়নসহ পরিবহন সেক্টরে শৃঙ্ক্ষলা রক্ষার লক্ষ্যে মাটিরাঙ্গায় চালক ও হেলপারদের নিয়ে দিনব্যাপী এক প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মাটিরাঙ্গা থানা পুলিশ দিনব্যাপী এ কর্মশালার আয়োজন করে।

রোববার সকাল ১০টার দিকে মাটিরাঙ্গা থানার হল রুমে সচেতনতামুলক এ প্রশিক্ষণ কর্মশালার উদ্বোধন করেন মাটিরাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ মো. সাহাদাত হোসেন টিটো।

কর্মশালায় মাটিরাঙ্গা থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) বায়েছুল ইসলাম খান, উপ-পরিদর্শক (এসআই) মোহাম্মদ ইয়াছিন, উপ-পরিদর্শক (এসআই) মনোজ কান্তি কুরী, সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) মো. মাকসুদ হোসেনসহ মাটিরাঙ্গা থানার পুলিশ সদস্যগণ উপস্থিত ছিলেন।

সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধ ও যাত্রীসেবার মান উন্নয়নসহ পরিবহন সেক্টরে শৃঙ্ক্ষলা রক্ষায় করণীয় বিষয়ের উপর আলোকপাত করে মাটিরাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ মো. সাহাদাত হোসেন টিটো যথাযথভাবে ট্রাফিক আইন মেনে চলা এবং অপ্রাপ্ত বয়স্ক চালক ও হেলপার দিয়ে যানবাহন না চালানোর আহবান জানান। সড়ক দুর্ঘটনা রোধে ওভারটেকিং, বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালানো এবং উল্টোপথে গাড়ী না চালানোর জন্য পরামর্শ দেন মাটিরাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ মো. সাহাদাত হোসেন টিটো।

দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালায় মাটিরাঙ্গা উপজেলার বিভিন্ন রুটের ৬০জন বাস, ট্রাক, মাইক্রো, সিএনজি, মটরসাইকেল ও পিকআপ চালক ও গাড়ির হেলপার অংশ গ্রহণ করে।




বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে পরিবেশের ভারসাম্য ফিরিয়ে আনতে হবে: কংজরী চৌধুরী

 

নিজস্ব প্রতিবেদক,মাটিরাঙ্গা :

পাহাড়ের ঢালুতে অধিকহারে বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে পরিবেশের ভারসাম্য ফিরিয়ে আনার আহ্বান জানিয়ে খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কংজরী চৌধুরী বলেছেন, শুধুমাত্র বৃক্ষ নিধন নয়, নিজেদের বেঁচে থাকার জন্য ভারসাম্যপূর্ণ পরিবেশ সৃষ্টির লক্ষ্যে ব্যাপকভাবে বৃক্ষরোপণ করতে হবে। বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে একদিকে যেমন সবুজ বনায়ন তৈরী হবে তেমনি আমাদের চারদিকের পরিবেশও রক্ষা হবে। পাহাড়ে অক্সিজেনের ভাণ্ডার তৈরী হবে।

শনিবার বেলা ১২টার দিকে মাটিরাঙ্গা মডেল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের উদ্যোগে মাটিরাঙ্গার প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র চাষীদের মাঝে মসলা ও ফলদ চারা বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। খাগড়াছড়ি জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর এ কার্যক্রমে সহযোগিতা করে।

মাটিরাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী অফিসার বিএম মশিউর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য মিসেস নিগার সুলতানা, খাগড়াছড়ি জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক তরুণ ভট্টাচার্য্, মাটিরাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ মো. সাহাদাত হোসেন টিটো ও মাটিরাঙ্গা পৌরসভার মেয়র মো. শামছুল হক। এছাড়াও মাটিরাঙ্গা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. শাহ আলম মিয়া ও মাটিরাঙ্গা সদর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান হিরনজয় ত্রিপুরা প্রমুখ অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন।

পাহাড়ে ব্যাপকহাবে বৃক্ষ নিধনের ফলেই সাম্প্রতিক সময়ে পাহাড় ধ্বসের মতো ঘটনা ঘটেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমাদেরকে ঐক্যবদ্ধভাবেই এ দুর্যোগ মোকাবেলা করতে হবে। এজন্য বৃক্ষরোপণের কোন বিকল্প নেই। অধিকহারে বৃক্ষরোপনই পাহাড় ধ্বসের মতো দুর্যোগ মোকাবেলা করতে পারে। আর এ জন্যই সবুজ বনায়ন গড়ে তোলার লক্ষ্যে পার্বত্য জেলা পরিষদ জেলার প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র চাষীদের মাঝে মসলা ও ফলদ চারা বিতরণ প্রকল্প গ্রহণ করেছে বলেও জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে মাটিরাঙ্গার ৩শ’ ৫০ জন প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র চাষীর মাঝে দশটি করে মসলা ও ফলদ চারা বিতরণ করেন খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কংজরী চৌধুরী। পর্যায়ক্রমে মাটিরাঙ্গার তিন হাজার প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র চাষীর মাঝে মসলা ও ফলদ চারা বিতরণ করা হবে বলেও জানান তিনি।




মাটিরাঙ্গায় নদীর পেটে চরপাড়া সড়ক

 

নিজস্ব প্রতিবেদক, মাটিরাঙ্গা:

টানা বর্ষণ আর পাহাড়ি ঢলে নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে মাটিরাঙ্গার পৌর শহরের বুকে অবস্থিত জনবসতিপুর্ণ চরপাড়া যাতায়াতের একমাত্র সড়কটি। সড়কটি ধলিয়া খালের পেটে তলিয়ে যাওয়ায় চরপাড়ার অধিবাসীদের যাতায়াতে চরম ভোগান্তি তৈরী হয়েছে। নদী ভাঙনরোধে আগাম ব্যবস্থা না নেয়ায় এমন অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে বলে দাবী স্থানীয় অধিবাসীদের।

সরেজমিনে চরপাড়া ঘুরে দেখা গেছে, শনিবার সকালের দিকে স্থানীয় অধিবাসীসহ রাস্তা ধরে চলাচলারী মানুষের চোখের সামনেই পাকা সড়কটি নদীর বুকে হারিয়ে যায়। নিজেদের চলাচলের একমাত্র সড়কটি নদীর পেটে চলে যাচ্ছে এমন দৃশ্য দেখেও কারোরই যেন কিছু করার ছিলনা। সকলের অসহায়ের মতো তাকিয়ে ছিল। শুধুমাত্র পাকা সড়ক নয়, সড়কের সাথে সাথে নদীর পেটে চলে গেছে ফলজ গাছও।

স্থানীয় অধিবাসী ও সড়ক ভাঙনের প্রত্যক্ষদর্শী সুনী ত্রিপুরা জানান, পাহাড়ী ঢলে নেমে আসা পানির তোড়ে চোখের পলকেই নদীগর্বে বিলীন হয়ে যাচ্ছে চরপাড়া সড়কটি ধরে বসবাসকারী হাজারো মানুষের যোগাযোগের একমাত্র সড়কটি। টানা ভারী বর্ষণ অব্যাহত থাকলে ধলিয়া খালের পাড়ে বসবাসকারী অনেকেরই ঘরবাড়ি নদী গর্ভে বিলীন হয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তিনি।

ভাঙনের বিষয়টি জানার পরপরই ভাঙন কবলিত চরপাড়া এলাকা পরিদর্শন করেছেন মাটিরাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী অফিসার বিএম মশিউর রহমান। এসময় তিনি ভাঙনের ভয়াবহতা দেখে হতাশ হয়ে পড়েন। বিষয়টি তিনি দ্রুত জেলা প্রশাসকসহ উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাবেন বলেও এ প্রতিনিধিকে জানান। এসময় মাটিরাঙ্গা উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা রাজকুমার শীল ও মাটিরাঙ্গা পৌরসভার ৫নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. আলী মিয়া তার সাথে ছিলেন।

এদিকে ধলিয়া খালের ভাঙন রোধে সরকারের দ্রুত পদক্ষেপ কামনা করেছেন মাটিরাঙ্গা পৌরসভার ৫নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. আলী মিয়া। ভাঙন রোধ করা না গেলে চরপাড়ার বিশাল অংশজুড়ে থাকা জনবসতি আর ফসলী জমি নদীর পেটে তলিয়ে যাবে এমন আশঙ্কা তার।