মাটিরাঙ্গায় জাতীয় শিশু পুরস্কার প্রতিযোগিতা সম্পন্ন

Sishu Purosker NEWS

নিজস্ব প্রতিবেদক :

নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে পার্বত্য খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গায় জাতীয় শিশু পুরস্কার প্রতিযোগিতা সম্পন্ন হয়েছে। বুধবার সকালের দিকে মাটিরাঙ্গা মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত শিশু পুরস্কার প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করেন মাটিরাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী অফিসার বি. এম মশিউর রহমান।

উপজেলা পর্যায়ে জাতীয় শিশু পুরস্কার প্রতিযোগিতা আয়োজক কমিটির সদস্য সচিব ও উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার কৃষ্ণলাল দেবনাথ এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপজেলা রিসোর্স ইনস্ট্রাক্টর মো. আজগর হোসেন, মাটিরাঙ্গা মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আব্দুল মালেক, মাটিরাঙ্গা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি মো. এরাশাদ হোসেন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

শিশু পুরস্কার প্রতিযোগিতা শিশুদের প্রতিভা বিকাশের বড় মাধ্যম উল্লেখ করে মাটিরাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী অফিসার বি. এম মশিউর রহমান বলেন, এ প্রতিযোগিতার মাধ্যমে এ প্রজন্ম ভবিষ্যত গড়ার সুযোগ পাবে। নতুন কিছু জানার আকাঙ্খা সৃষ্টি হবে। শিশুদের জানতে দিতে হবে এমন মন্তব্য করে তিনি বলেন, তাদের জানার জানাল খুলে দিতে হবে। তবেই তারা আগামীর বিশ্বকে জয় করতে পারবে।

এসময় মাটিরাঙ্গা ইসলামিয়া আলিম মাদরাসার সহকারী মৌলভী মো: আবুল কাশেম, মাটিরাঙ্গা বনশ্রী বিদ্যানিকেতনের সহকারী শিক্ষক মো. আবদুল মুনাফসহ বিভিন্ন মাধ্যমিক ও প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

শিক্ষা, সাংস্কৃতিক এবং ক্রীড়া বিভাগে ৩২টি বিষয়ে উপজেলার প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থীরা স্বতঃস্ফুর্তভাবে অংশ গ্রহণ করে।

পরে অন্যদের সাথে নিয়ে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা পরিদর্শন করেন মাটিরাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী অফিসার বি. এম মশিউর রহমান। এসময় তিনি শিশুদের প্রতিভার প্রশংসা করেন।




কীটনাশকযুক্ত মশারীর যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে

17.01.2017_Brack News Pic (1)

নিজস্ব প্রতিবেদক:

জাতীয় ম্যালেরিয়া নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচীর আওতায় রোগ প্রতিরোধে স্বাস্থ্য বিভাগ ও ব্র্যাকের উদ্যোগে কীটনাশকযুক্ত মশারী বিতরণ করা হয়েছে। মঙ্গলবার সকালের দিকে মাটিরাঙ্গার মুসলিমপাড়া গ্রামে মাটিরাঙ্গা পৌরসভার মেয়র মো. শামছুল হক প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এসব মশারী বিতরণ করেন।

মাটিরাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মো. খায়রুল আলম’র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত দীর্ঘমেয়াদী কীটনাশকযুক্ত মশারী বিতরনী অনুষ্ঠানে মাটিরাঙ্গা থানার উপ-পরিদর্শক মো. রুহুল আমিন ও ব্র্যাকের স্বাস্থ্য পরিদর্শক তপন কুমার বক্তব্য রাখেন। ব্র্যাক স্বাস্থ্য কর্মসূচীর মাটিরাঙ্গা উপজেলা ব্যবস্থাপক মো জসিম উদ্দিন মশারী বিতরণী অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাটিরাঙ্গা পৌরসভার মেয়র মো. শামছুল হক ম্যালেরিয়া নিয়ন্ত্রণে ব্র্যাকের নিরন্তর প্রচেষ্টার জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে কীটনাশকযুক্ত মশারী যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করার আহ্বান জানান। পার্বত্য চট্টগ্রামের শান্তি প্রতিষ্ঠা সহ অবারিত উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে শেখ হাসিনার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তিনি বলেন, ম্যালেরিয়া নিয়ন্ত্রনে সরকারের নানা পদক্ষেপের কারণে দিন দিন পাহাড়ের মানুষ ম্যালেরিয়া থেকে অনেকাংশে মুক্ত। পাহাড়ে ম্যালেরিয়ার পূর্বের ভয়াবহতা এখন আর নেই। তবে ভয়াবহতা নেই ভেবে অবহেলা করলেও চলবে না। ম্যালেরিয়া নিয়ন্ত্রণে বাড়ির আঙ্গিনা পরিস্কার রাখা, ঝোপ-ঝাড় কেটে ফেলা, ঘরের পাশে জমানো পানি এবং ময়লা-আবর্জনা না রাখার পরামর্শ দেন তিনি।

মারাত্বক ম্যালেরিয়া হলে ঘরে বসে না থেকে দ্রুত নিকটবর্তী হাসপাতালে যাওয়ার পরামর্শ দিয়ে মাটিরাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. খায়রুল আলম বলেন, ম্যালেরিয়া থেকে বাঁচার জন্য ঘুমানোর আগে কীটনাশকযুক্ত মশারী টাঙ্গাতে হবে। সময় মতো চিকিৎসকের পরামর্শ ও চিকিৎসা গ্রহণ করতে হবে।

প্রসঙ্গত, ম্যালেরিয়া নিয়ন্ত্রণে ব্র্যাকের স্বাস্থ্য, পুষ্টি ও জনসংখ্যা কর্মসূচীর আওতায় মাটিরাঙ্গা উপজেলায় কীটনাশকযুক্ত মশারী বিতরণ কর্মসূচীর প্রথম পর্যায়ে ৫‘শ ৩৭জনের মাঝে এ মশারী বিতরণ করা হয়। এ কর্মসূচীর আওতায় মাটিরাঙ্গা উপজেলায় প্রায় ত্রিশ হাজার কীটনাশকযুক্ত দীর্ঘমেয়াদী মশারী বিতরণ করা হবে বলেও জানিয়েছেন ব্র্যাক স্বাস্থ্য কর্মসূচীর মাটিরাঙ্গা উপজেলা ব্যবস্থাপক মো. জসিম উদ্দিন।




ফিরে দেখা: মাটিরাঙ্গার উন্নয়ন মেলা ‘শান্তি-সম্প্রীতির’ মেল বন্ধন

12.01.2017_Matiranga Unnayon Mela NEWS Pic

নিজস্ব প্রতিবেদক :

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবসকে সামনে রেখে সারাদেশে একযোগে পালিত হয়েছে ‘উন্নয়ন মেলা-২০১৭’। সারাদেশের ন্যায় পার্বত্য খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গায় বৃহত পরিসরে অনুষ্ঠিত উন্নয়ন মেলা বিগত সময়ে বাস্তবায়িত সরকারের অর্জন ও বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের তথ্য ও চিত্র প্রদর্শনের পাশাপাশি শান্তি-সম্প্রীতির মেল বন্ধনে পরিনত হয়। তিন দিনব্যাপী মেলাকে ঘিরে ছিল উৎসুক জনতার ভীড়। সকাল থেকে রাত অবধি বিভিন্ন বয়সী মানুষের  সরব উপস্থিতি মেলা আয়োজনকে পুর্ণতা দিয়েছে বলে মনে করেন মেলা আয়োজন কমিটির সদস্য সচিব ও মাটিরাঙ্গা উপজেলা প্রকৌশলী মো. আনোয়ারুল হক।

মেলার প্রথম দিনেই বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী, নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা শেষে মেলা মাঠের প্রবেশমুখে ফিতা কেটে তিন দিনব্যাপী উন্নয়ন মেলার উদ্বোধন করেন খাগড়াছড়ির সংসদ সদস্য কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা। মাটিরাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী অফিসার বিএম মশিউর রহমান‘র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে পাহাড়ের অবারিত উন্নয়কে যারা অস্বীকার করছে তাদেরকে দেশবিরোধী ষড়যন্ত্রকারীদের দলভুক্ত উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বৈষম্যহীন রাষ্ট্র নির্মানে সকলকে সাথে নিয়ে করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা এমপি। সরকারের বিভিন্ন বিভাগের ৪৩টি স্টল সহ ৬৩টি স্টল নিয়ে শুরু হওয়া এ মেলা মাটিরাঙ্গার মানুষের মধ্যে নতুন প্রাণের সঞ্চার করেছে বলে মনে করছেন মেলায় আগতদের অনেকইে।

 মেলার দ্বিতীয় দিনে প্রশাসনের বিভাগীয় প্রধান, নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, শিক্ষক-সাংবাদিক ও এনজিও কর্মীদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হয় ‘গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের বিশেষ সাফল্য ও নাগরিক সেবার উদ্ভাবনসহ এমডিজি অর্জন ও এসডিজি বাস্তবায়ন শীর্ষক সেমিনার। সরকারের এমডিজি অর্জন ও এসডিজি বাস্তবায়ন শীর্ষক এ সেমিনারের মাধ্যমে না জানা অনেক তথ্য জানার সুযোগ তৈরী করেছে বলে মনে করেন, সেমিনারে অংশ নেয়া মাটিরাঙ্গা প্রেসক্লাবের সভাপতি এমএম জাহাঙ্গীর আলম ও মাটিরাঙ্গা সদর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান হিরনজয় ত্রিপুরা। তাদের মতে এমন সেমিনার সরকারের কর্মকাণ্ডকে অনেকদুর এগিয়ে নেয়াসহ জনগণের জানার পথকে সুগম করবে।

সরকারের এ উন্নয়ন মেলাকে শুধুমাত্র তথ্য নির্ভর স্টলের মধ্যে না রেখে বর্তমান প্রজন্মকে জানাতে মেলা আয়োজন কমিটি বিভিন্ন স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীরে জন্য আয়োজন করে ‘চিত্রাঙ্কণ, রচনা ও ক্যুইজ’ প্রতিযোগিতার। মেলার দ্বিতীয় দিনে উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত এ প্রতিযোগিতার মাধ্যমে এ মেলার আয়োজন সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের মাঝে সরকারের গৃহিত ও বাস্তবায়িত উন্নয়ন কর্মকাণ্ডকে ছড়িয়ে দেয়া হয়েছে বলেই মনে করেন মেলা আয়োজন কমিটির আহ্বায়ক ও মাটিরাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী অফিসার বিএম মশিউর রহমান।

বর্তমান সরকারের মেয়াদে মাটিরঙ্গা উপজেলায় বাস্তবায়িত ইনেভেশন কার্যক্রমকে জনগণের মাঝে তুলে ধরতে মেলার তৃতীয় দিনে আয়োজন করা হয় ‘ইনোভেশন সেমিনার’। সেমিনারে মুল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন মাটিরঙ্গা উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. আসাদুজ্জামান। মানুষকে সহজে জানার সুযোগ করে দিতেই এমন সেমিনারের আয়োজন করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। ইনোভেশন সেমিনারে মাটিরাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী অফিসার বিএম মশিউর রহমান, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. শাহ আলম মিয়া ও মাটিরাঙ্গা প্রেসক্লাবের সভাপতি এমএম জাহাঙ্গীর আলম আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন।

মেলার তৃতীয় দিনে বিভিন্ন ধর্মাবলম্বী ধর্মীয় নেতৃবৃন্দের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হয় ব্যতিক্রমী আয়োজন জঙ্গীবাদ ও সন্ত্রাস বিরোধী ‘শান্তি সম্মেলন’। মাটিরাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী অফিসার বিএম মশিউর রহমানের সভাপতিত্বে জঙ্গীবাদ ও সন্ত্রাস বিরোধী শান্তি সম্মেলনে খাগড়াছড়ির অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) মো. আবুল আমিন প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন। সারাদেশের উন্নয়ণ মেলা যেখানে তথ্য ও চিত্র প্রদর্শনীর মধ্যে সিমাবদ্ধ ছিল সেখানে মাটিরাঙ্গায় ধর্মীয় নেতৃবৃন্দের অংশগ্রহণে এমন ব্যাতিক্রমী আয়োজন মেলাকে নতুন রূপ দিয়েছে বলে মনে করেন মাটিরাঙ্গা কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের খতীব আলহাজ হাফেজ মাওলানা. হারুনুর রশিদ। তিনি বলেন, মেলা বলতেই যেখানে অশ্লীলতার ছড়াছড়ি সেখানে এমন পরিচ্ছন্ন আর বিষয় ভিত্তিকআয়োজন মেলাকে প্রাণবন্ত করেছে। শান্তি সম্মেলন মানুষে মানুষে ভাতৃত্ববোধকে জাগ্রত করেছে বলে মনে করেন মাটিরাঙ্গা সার্বজনীন গৌতম বৌদ্ধ বিহারের বিহার অধ্যক্ষ মঙ্গলজ্যোতি ভিক্ষু। তার মতে প্রতিটি মেলাতেই এমন আয়োজন থাকা উচিত।

সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড সম্পর্কে বর্তমান প্রজন্মকে জানাতে মেলার তৃতীয় দিনের অন্যতম আয়োজন ছিল ‘উন্নয়ন বির্তক’। ‘তথ্যপ্রযুক্তিই বাংলাদেশের টেকসই উন্নয়নের মুল চাবিকাঠি’ শীর্ষক উন্নয়ন বিতর্কে মাটিরাঙ্গা ডিগ্রী কলেজ ও গুইমারা কলেজের মধ্যে প্রাণবন্ত বিতর্ক অনুষ্ঠিত হয়। মাটিরাঙ্গা ডিগ্রী কলেজককে হারিয়ে গুইমারা কলেজ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে। বিতর্কে গুইমারা কলেজ দলের দলনেতা তমা বড়ুয়া শ্রেষ্ঠ বক্তা নির্বাচিত হয়।

প্রতিবন্ধী মানুষের মাঝে কম্বল বিতরনের মাধ্যমে মানবিক দায়িত্ব পালন করেছে মাটিরাঙ্গা ডিগ্রী কলেজ ও গুইমারা কলেজের শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীরা মেলার তৃতীয় দিনে মেলা মাঠে দুই শতাধিক প্রতিবন্ধী মানুষের হাতে হাতে পৌঁছে দেয় উষ্ণ কম্বল। শিক্ষার্থীদের মাধ্যমে কম্বল বিতরনের মধ্য দিয়ে তাদের মধ্যে মানবিক দায়িত্ববোধকে জাগ্রত করার চেষ্টা করা হয়েছে বলে বলেন, মাটিরাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী অফিসার বিএম মশিউর রহমান।

মেলাকে শুধুমাত্র সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে সীমাবদ্ধ না রেখে মেলায় আগতদের জন্য প্রতিদিনই মেলা মঞ্চে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন ছিল। যেখানে মাটিরাঙ্গা শিল্পকলা একাডেমীর শিল্পীরা ছাড়াও ঢাকা ও চট্টগ্রাম থেকে আসা শিল্পীরা মনোমুগ্ধকর সঙ্গীত পরিবেশন করে। এছাড়ও শিশু-কিশোরদেরদের জন্য ছিল আকর্ষনীয় নাগরদোলা ও ট্রেন রাইড। ছিল মৃত্যুকুপে প্রাইভেট কার ও মোটর সাইকেল রেইচ।

পুরস্কার বিতরনীসহ নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে পর্দা নামে মাটিরাঙ্গায় প্রথমবারের মতো আয়োজিত ‘উন্নয়ন মেলা’র। খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেযারম্যান কংজরী চৌধুরী প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে মেলার সমাপ্তি ঘোষনাসহ পুরস্কার বিতরণ করেন। মাটিরাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী অফিসার বিএম মশিউর রহমান‘র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে মাটিরাঙ্গা জোন অধিনাযক লে. কর্ণেল কাজী মো. শামশের উদ্দিন, পিএসসি ও মাটিরাঙ্গা পৌরসভার মেয়র মো. শামছুল হক অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেযারম্যান কংজরী চৌধুরী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সামগ্রিক উন্নয়নের কথা সবাই জানে, আর জানেনা তারা, যারা জানতে চায়না। চোখ বন্ধ করে তাকালে কিছু দেখা যাবেনা উল্লেখ করে তিনি বলেন, চোখ খুলে দেখুন, সব পরিস্কার হয়ে যাবে। সত্যকে মেনে নেয়ার মানসিকতা সৃষ্টির পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, আপনাদের জানার আগ্রহ আমাদের এ আয়োজনকে স্বার্থক করেছে।

এদিকে একটি স্বার্থক মেলা আয়োজনে প্রশাসনকে ধন্যবাদ দিয়ে মাটিরাঙ্গা জোন অধিনাযক লে. কর্ণেল কাজী মো. শামশের উদ্দিন, পিএসসি বলেন, সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড গুলোকে জনগণের আরও সামনে নিয়ে আসতে হবে। আর নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদেরই সে দায়িত্ব পালন করতে হবে।

পরে তিন দিনব্যাপী উন্নয়ন মেলায় অনুষ্ঠিত বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় বিজয়ী এবং মেলায় অংশ গ্রহণকারী স্টলগুলোর মধ্যে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার, সার্টিফিকেট ও ক্রেস্ট তুলে দেন আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ।




মুখ থুবড়ে পড়েছে মাটিরাঙার চিকিৎসা ব্যবস্থা

Untitled-1 copy

নিজস্ব প্রতিবেদক:

মাত্র  একজন  ডাক্তার দিয়ে খুড়িয়ে খুড়িয়ে চলছে ৩১শয্যা বিশিষ্ট মাটিরাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। ফলে ডাক্তার সংকটে নিজেই রোগী হতে চলেছে হাসপাতালটি। কাগজে কলমে ৯ জন ডাক্তারের পদায়ন থাকলেও হাসপাতালটির চিকিৎসা সেবা চলছে মাত্র একজন ডাক্তার দিয়ে। ফলে পার্বত্য খাগড়াছড়ির জনবহুল বৃহত্তম উপজেলা মাটিরাঙ্গার প্রায় ১ লক্ষ ৭০ হাজার মানুষের চিকিৎসা সেবা এখন চরম অনিশ্চিত। ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলোর অবস্থা আরও বেহাল। চিকিৎসক না থাকার কারণে রোগীরাও হাসপাতালে আসা ছেড়ে দিয়েছে। রোগীদের এখন একমাত্র ভরসা নিরাপত্তাবাহিনীর সেবা কেন্দ্রগুলো। ডাক্তার সংকট প্রকট আকার ধারণ করায় যে কোন সময় মানবিক বিপর্যয় ঘটে যেতে পারে বলে চিন্তিত খোদ মাটিরাঙার সচেতন মহলের।

বৃহস্পতিবার মাটিরাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে দেখা যায় উপজেলার দুর্গম জনপদ থেকে অনেক কষ্টে অর্জিত টাকা পয়সা খরচ করে আসা রোগীদের ভীড়। হাসপাতালের সহকারী মেডিকেল অফিসার অংচিংপ্রু চৌধুরী রোগী সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, মাটিরাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চারটি জুনিয়র কনসালটেন্ট ও মেডিকেল অফিসারের দুটি পদই শূন্য। মেডিসিন, সার্জারী, গাইনী ও এনেসথেসিয়া সর্বোপরি মেডিকেল অফিসারের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে ডাক্তার সংকট থাকায় প্রতিনিয়ত এলাকার গরীব দুস্থ রোগীদের চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হতে হচ্ছে।

হাসপাতালে কর্তব্যরত একমাত্র ডাক্তার ও আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আর,এম,ও) ছাড়া সম্প্রতি ডেপুটেশনে থাকা একজন ডাক্তার ও দুইজন স্বাস্থ্য সহকারীর উপর ভর করেই চলছে উপজেলার স্বাস্থ্য সেবা। এ অবস্থায় তাদের বক্তব্যেও ক্ষোভ ফুটে উঠেছে।

তবে খোঁজ নিযে জানা গেছে, মাটিরাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. খায়রুল আলমের অব্যাহত কর্মস্থলে ও দায়িত্ব পালনে চরম গাফেলতি এ হাসপাতালের চিকিৎসা ব্যবস্থার পাশাপাশি প্রশাসনিক কাঠামোকেও লেজে-গোবরে করে রেখেছে। তিনি কবে আর কখন হাসপাতালে আসেন আর যান তার কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য দিতে পারেনি হাসপাতালের কর্মরত কেউই।

হাসপাতালের বর্তমান চিকিৎসক সংকটে হতাশা ব্যক্ত করে কর্তব্যরত চিকিৎসক অংচিংপ্রু চৌধুরী বলেন, খুবই সমস্যায় আছি। হাসপাতালে আসা রোগীদের চিকিৎসা সেবা দিতে গিয়ে এখন আমরা যারা আছি তারা পরিবার থেকে অনেকটা বিচ্ছিন্ন। ইচ্ছা থাকলেও পারিবারিক ও সামাজিক কোনো অনুষ্ঠানে যোগ দিতে পারি না। অনেকটা হাফিয়ে উঠেছি বলতে পারেন। তিনি জরুরি ভিত্তিতে শুন্যপদে চিকিৎসক পদায়নে উপর মহলের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

একই অবস্থা চলমান আছে উপজেলার ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলোতেও। গুইমারা ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্রের ১ জন, আলুটিলা ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্রের ১ জন, বড়নাল ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্রের ১ জন, তবলছড়ি ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্রের ২ জন এবং তবলছড়ির গৌরাঙ্গ পাড়া স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ১ জন চিকিৎসক থাকার কথা থাকলেও সবকটি পদই শুন্য রয়েছে।

মাটিরাঙা হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা নিতে আসা বেলছড়ির বয়োবৃদ্ধ নীতিশ ত্রিপুরা জানান, হাসপাতালে ডাক্তার না থাকায় রোগীরা এখন আর হাসপাতালে আসেন না। চিকিৎসা বঞ্চিত মানুষগুলো ভীড় করছে নিরাপত্তাবাহিনীর বিভিন্ন চিকিৎসা কেন্দ্রে।

মাটিরাঙ্গা স্বাস্থ্য সেবার বিষয়ে জানতে চাইলে মাটিরাঙ্গা পৌরসভার মেয়র মো. শামছুল হক অনেকটা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, মাত্র তিনজন ডাক্তার দিয়ে চলছে মাটিরাঙা উপজেলার স্বাস্থ্য সেবা। উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তার গাফেলতি আর দায়িত্বে অবহেলার কারণে হাসপাতালটির চিকিৎসা ব্যবস্থা ভেঙ্গে পড়েছে। তিনি বলেন, এখানকার মানুষ প্রতিনিয়ত চিকিৎসা সেবার নামে প্রতারিত হচ্ছে। এ অবস্থা চলতে থাকলে একসময় তা বিক্ষোভেও রূপ নিতে পারে। তিনি অবিলম্বে এ হাসপাতালে প্রয়োজনীয় চিকিৎসক নিয়োগের দাবি জানান।

হাসপাতালে গিয়ে পাওয়া যায়নি মাটিরাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. খায়রুল আলমকে। হাসপাতালের এক অফিস স্টাফ জানান, স্যার ঢাকায় এক সেমিনারে যোগ দিতে গেছেন। তবে মাটিরাঙ্গা পৌরসভার মেয়র মো. শামছুল হকের অভিযোগ, ডা. মো. খায়রুল আলম মাসের বেশির ভাগ সময়ই কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকেন।

মাটিরাঙ্গার চিকিৎসক সঙ্কট ও স্বাস্থ্য সেবা নিয়ে খাগড়াছড়ির সিভিল সার্জন ডা. নীশিত নন্দী মজুমদার বলেন, এ নিয়ে প্রতিনিয়ত লেখালেখি হচ্ছে। কিন্তু সরকার চিকিৎসক না দিলে আমার কী করার আছে? উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. খায়রুল আলমের ধারাবাহিক কর্মস্থলে অনুপস্থিতির বিষয়ে জানতে চাইলে সিভিল সার্জন ডা. নীশিত নন্দী মজুমদার বলেন, তিনি খাগড়াছড়ির স্থানীয় বাসিন্দা। তাকে কর্মস্থলে নিয়মিত উপস্থিত থাকার জন্য বহুবার সতর্ক করা হয়েছে।

এ বিষয়ে কথা বলতে মাটিরাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. খায়রুল আলমের সেল ফোনে ফোন দিয়ে এবং ক্ষুদে  বার্তা পাঠিয়েও তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

সব মিলিয়ে এখানকার চিকিৎসা ব্যাবস্থা অনেকটা লেজে-গোবরে অবস্থা। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রতিস্থাপিত ব্যয় বহুল এক্স-রে মেশিনটিও দীর্ঘদিন যাবত অকার্যকর অবস্থায় পড়ে আছে। জানা গেছে, জাতীয় বিদ্যুৎ গ্রেডে ভোল্টেজের তারতম্যের কারণে এটি চালু করা যাচ্ছে না। ফলে রোগীদেরকে অতিরিক্ত পয়সা খরচ করে প্রাইভেট ডায়গোনস্টিক সেন্টারে এক্স-রে করতে হয়। কাগজে কলমে ৩১ শয্যা বিশিষ্ট এ হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা অনেকটা “কাজীর গরু কিতাবে আছে, গোয়ালে নেই” এর মতো অবস্থা।




জঙ্গীবাদ শান্তি, উন্নয়ন ও নিরাপত্তার প্রধান শত্রু

12.01.2017_Matiranga Santi Sommelon News Pic-01

নিজস্ব প্রতিবেদক :

বাংলাদেশে জঙ্গীদের কোন সঙ্গী নেই। বর্তমান সরকারের সুচিত উন্নয়নের চলমান গতিধারা অব্যাহত রাখতে শান্তির কোন বিকল্প নেই। শান্তিই হচ্ছে উন্নয়নের পূর্বশর্ত। জঙ্গীবাদ শান্তি, উন্নয়ন ও নিরাপত্তার প্রধান শত্রু। টেকসই উন্নয়ন ত্বরান্বিত করাসহ শান্তিপুর্ণ ও স্থিতিশীল সমাজ প্রতিষ্ঠায় ঐক্যের কোন বিকল্প নেই। জঙ্গীবাদের নামে দেশের উন্নয়নকে বাধাগ্রস্থ করার ষড়যন্ত্র চলছে।

মাটিরাঙ্গার তিন দিনব্যাপী উন্নয়ন মেলার তৃতীয় দিনে বিভিন্ন ধর্মাবলম্বী ধর্মীয় নেতৃবৃন্দের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত ব্যতিক্রমী আযোজন শান্তি সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন খাগড়াছড়ির অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) মো. আবুল আমিন।

আফগানিস্তানের প্রসঙ্গ টেনে মো আবুল আমিন বলেন, সেখানে অবারিত শান্তি ছিলনা বলেই উন্নয়ন থেকে পিছিয়ে গেছে। নিরাপত্তা বিঘ্নিত হয়েছে। হানাহানির মতো ঘটনা ঘটেছে। রক্তপাত হয়েছে। বাংলাদেশকে আফগানিস্তান বানানোর ষড়যন্ত্র করা হয়েছে দাবী করে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার যোগ্য নেতৃত্বের ফলে সব চেষ্টাই ব্যর্থ হয়েছে।

মাটিরাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী অফিসার বিএম মশিউর রহমানের সভাপতিত্বে মেলামঞ্চে অনুষ্ঠিত শান্তি সম্মেলনে মাটিরাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ মো. সাহাদাত হোসেন টিটো, মাটিরাঙ্গা উপজেলা প্রকৌশলী মো. আনোয়ারুল হক, মাটিরাঙ্গা কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের খতীব আলহাজ হাফেজ মাওলানা হারুনুর রশিদ, মাটিরাঙ্গা সার্বজনীন গৌতম বৌদ্ধ বিহারের বিহার অধ্যক্ষ মঙ্গলজ্যোতি ভিক্ষু, মাটিরাঙ্গা কেন্দ্রীয় সার্বজনীন শ্রী শ্রী জগন্নাথ মন্দিরের পুরোহিত রবীন্দ্র চক্রবর্তী, মাটিরাঙ্গা প্রেসক্লাবের সভাপতি এমএম জাহাঙ্গীর আলম ও মাটিরাঙ্গা সদর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান হিরনজয় ত্রিপুরা বক্তব্য রাখেন।

ইসলামের পাশাপাশি সকল ধর্মই সন্ত্রাস ও জঙ্গীবাদসহ যে কোন ধরনের নৈরাজ্যকে যেমন অনুমতি দেয় না, তেমনি যারা করে তারাও ঐ ধর্মের পরিপূর্ণ সঠিক অনুসারী হিসেবে গণ্য হয় না এমন মন্তব্য করে মাটিরাঙ্গা কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের খতীব আলহাজ্ব হাফেজ মাওলানা হারুনুর রশিদ বলেন, ইসলাম সন্ত্রাস, জঙ্গীবাদ, চরমপন্থা ও নৈরাজ্যের বিরুদ্ধে কঠোর। তিনি বলেন, জিহাদ ও জঙ্গীবাদ এক নয়। জিহাদ ফরজ আর জঙ্গীবাদ হারাম।

বাংলাদেশকে সম্প্রীতির দেশ উল্লেখ করে মাটিরাঙ্গা সার্বজনীন গৌতম বৌদ্ধ বিহারের বিহার অধ্যক্ষ মঙ্গলজ্যোতি ভিক্ষু বলেন, জঙ্গীবাদ বা সন্ত্রাসবাদকে কোন ধর্মই সমর্থন করে না। বৌদ্ধ ধর্ম শান্তির ধর্ম উল্লেখ করে তিনি বলেন, সন্ত্রাসবাদকে বৌদ্ধ ধর্ম সমর্থন করে না। বৌদ্ধ ধর্ম ‘পরম সহিষ্ণুতা’র পথ দেখায়। যেখানে সন্ত্রাসের কোন জায়গা নেই।

সভাপতির বক্তব্যে মাটিরাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী অফিসার বিএম মশিউর রহমান বলেন, এমডিজি অর্জনের মধ্য দিয়ে এসডিজি বাস্তবায়নের দিকে দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। দেশের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে বিরোধীতাকারীদের রাজাকার হিসেবে চিহ্নিত করার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশের শান্তি, সম্প্রীতি আর উন্নয়নের বিরোধীতাকারীরাও একসময় ‘নব্য রাজাকার’ হিসেবে চিহ্নিত হবে। তাই তিনি সকলকে সরকারের উন্নয়ন ট্রেনের যাত্রী হওয়ার আহ্বান জানান।

উন্নয়ন মেলার ব্যতিক্রমী আয়োজন শান্তি সম্মেলনে অংশ নেয়া মাটিরাঙ্গার বিভিন্ন মসজিদের ইমাম, আলেম-ওলামা, বিভিন্ন মন্দিরের পুরোহিতসহ ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ, নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি, সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের জঙ্গীবিরোধী শপথ বাক্য পাঠ করান খাগড়াছড়ির অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) মো. আবুল আমিন।

এদিকে সরকার ঘোষিত তিন দিনব্যাপী উন্নয়ন মেলায় সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন মূলক কর্মকাণ্ড জনগণের সামনে তুলে ধরার পাশাপাশি জঙ্গীবাদ ও সন্ত্রাস বিরোধী শান্তি সম্মেলন আয়োজনের জন্য মাটিরাঙ্গা উপজেলা প্রশাসনকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন মাটিরাঙ্গা ইসলামিয়া আলীম মাদ্রাসার অধ্যক্ষ কাজী মো. সলিম উল্যাহসহ আলেম সমাজের নেতৃবৃন্দ।




মাটিরাঙ্গার শীতার্ত মানুষের পাশে দাঁড়ালো পুলিশ

12.02.2017_Kombol Bitoron NEWS Pic-003

নিজস্ব প্রতিবেদক:

মাটিরাঙ্গা উপজেলা প্রশাসন ও মাটিরাঙ্গা নিরাপত্তা জোনের পর এবার মাটিরাঙ্গার শীতার্ত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে মাটিরাঙ্গা থানা পুলিশ। ‘আসুন শীতার্ত মানুষের পাশে দাঁড়ায়’ এ শ্লোগানকে সামনে রেখে মাটিরাঙ্গা পৌরসভার বিভিন্ন ওয়ার্ডের প্রায় দুই শতাধিক দুস্থ ও অসহায় মানুষের মাঝে কম্বল বিতরণ করে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে মাটিরাঙ্গা থানা পুলিশ।

বৃহস্পতিবার সকালের দিকে মাটিরাঙ্গা থানা কমপাউন্ডে অসহায় ও দুস্থ মানুষের মাঝে কম্বল বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে কম্বল বিতরণ করেন খাগড়াছড়ির সংসদ সদস্য কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, খাগড়াছড়ির পুলিশ সুপার মো. মজিদ আলী বিপিএম-সেবা, মাটিরাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী অফিসার বিএম মশিউর রহমান ও মাটিরাঙ্গা পৌরসভার মেয়র মো. শামছুল হক প্রমূখ। মাটিরাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ মো. সাহাদাত হোসেন টিটো কম্বল বিতরণী অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে সরকারী সহায়তার পাশাপাশি সমাজের বিত্তবানদের দুস্থ, অসহায় ও গরীব শীতার্তদের জন্য সাধ্যমতে সাহায্যের হাত বাড়ানোর আহ্বান জানিয়ে খাগড়াছড়ির সংসদ সদস্য কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা বলেন, মানুষ মানুষের জন্য এ উপলব্ধি থেকেই সকলকে কাজ করতে হবে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার পাশাপাশি শীতার্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর মধ্য দিয়ে পুলিশ তাদেরকে ‘জনগণের বন্ধু’ হিসেবে আবারও প্রমান করতে সক্ষম হয়েছে।

‘মানুষ মানুষের জন্য’ এ উপলব্ধি থেকেই পুলিশ শীতার্ত মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে উল্লেখ করে খাগড়াছড়ির পুলিশ সুপার মো. মজিদ আলী বিপিএম-সেবা বলেন, পুলিশ সবসময়ই জনগণের পাশে ছিল আর ভবিষ্যতেও এভাবেই সুখে-দু:খে মানুষের পাশে থাকবে।

চাকুরী করতে এসে জনগণের পাশে দাঁড়ানোকে পুলিশের উদার মানবিকতার পরিচায়ক বলে উল্লেখ করে মাটিরাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী অফিসার বিএম মশিউর রহমান বলেন, একাজের মাধ্যমে পুলিশ তাদের উষ্ণ ভালোবাসার পরিচয় দিয়েছে।

পরে অনুষ্ঠানের অন্যান্য অতিথিদের সাথে কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা এমপি শীতার্ত মানুষের মাঝে কম্বল বিতরণ করেন।




জিপিএ-৫ নয়, শিক্ষার গুণগত মান বাড়াতে হবে

12.01.2017_Gomti BK School NEWS Pic-02

নিজস্ব প্রতিবেদক :

শুধুমাত্র জিপিএ-৫ প্রাপ্তিতে উচ্ছাস প্রকাশ না করে শিক্ষার গুণগত মান বাড়ানোরে পরামর্শ দিয়ে খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কংজরী চৌধুরী বলেছেন, শিক্ষকদের প্রস্তুতি নিয়ে ক্লাসে যেতে হবে। পাঠদানের যথাযথ মুল্যায়ন করতে হবে। সার্টিফিকেট নির্ভরশিক্ষার পরিবর্তে প্রকৃত শিক্ষা গ্রহণ করতে হবে। শিক্ষা নয় সুশিক্ষাকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। তবেই শিক্ষার যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত হবে।

বৃহস্পতিবার দুপুরের দিকে খাগড়াছড়ির গোমতি বিকে উচ্চ বিদ্যালয়ের নবনির্মিত ভবনের উদ্বোধন ও জেএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্সার্থীদের সংবর্ধণা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ছাত্র-ছাত্রীদের জীবনমুখী শিক্ষার দিকে উৎসাহিত করার আহ্বান জানিয়ে কংজরী চৌধুরী বলেন, কারিগরী শিক্ষা জীবন বদলের হাতিয়ার হতে পারে। বর্তমান সরকার শিক্ষার মান বাড়াতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সরকারের এ সুযোগকে কাজে লাগাতে হবে।

বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি মো. মনির হোসেন‘র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে মাটিরাঙ্গা পৌরসভার মেয়র মো. শামছুল হক ও গোমতি ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. ফারুক হোসেন লিটন বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন।

অনুষ্ঠানে মাটিরাঙ্গা উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান মো. দেলোয়ার হোসেন, মাটিরাঙ্গা উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতা সুবাস চাকমা, বেলছড়ি ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. নজরুল ইসলাম ও বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক লুৎফুর রহমান প্রমানিকও বক্তব্য রাখেন।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মাটিরাঙ্গা পৌরসভার মেয়র মো. শামছুল হক শিক্ষকদের পাঠদানে আন্তরিক হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, শিক্ষাকে পন্য করা থেকে বিরত থাকতে হবে। শুধুমাত্র শিক্ষক হলেই হবে না, শিক্ষককে অবশ্যই মেধাবীও হতে হবে। বর্তমান সরকারের মেয়াদে মাটিরাঙ্গায় শিক্ষা ক্ষেত্রে ব্যাপক পরিবর্তনের কথা উল্লেখ করে বলেন, এ সরকার জনগণের জন্য দিবেদিত।

অনুষ্ঠানের শেষে খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কংজরী চৌধুরী কৃতি শিক্ষার্থীদের হাতে ক্রেস্ট তুলে দেন। পরে তিনি গোমতি বিকে উচ্চ বিদ্যালয়ে শহীদ মিনার নির্মাণের প্রস্তাবিত জায়গা ও গোমতি বাজার পরিদর্শন করেন। এসময় তিনি গোমতি কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ মাঠ উন্নয়নে প্রয়োজনীয় বরাদ্ধ দানেরও আশ্বাস দেন।




বাংলাদেশ এসডিজি বাস্তবায়নের পথে এগিয়ে যাচ্ছে

10-01-2017_mdg-sdg-seminer-news-pic

নিজস্ব প্রতিবেদক :

এমডিজি অর্জনের পথ ধরে এসডিজি বাস্তবায়নেও বাংলাদেশ রোল মডেল হতে চায় উল্লেখ করে খাগড়াছড়ির অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) এটিএম কাওছার হোসেন বলেছেন, এ লক্ষ্যকে সামনে রেখেই বর্তমান সরকার কাজ করে যাচ্ছে। বাংলাদেশ এসডিজি বাস্তবায়নের পথে এগিয়ে যাচ্ছে। তিনি বলেন, সেদিন খুব বেশী দুরে নয়, বাংলাদেশেই বিভিন্ন দেশ  থেকে শ্রমিক আসবে।

মাটিরাঙ্গা উপজেলা প্রশাসন আয়োজিত তিন দিনব্যাপী উন্নয়ন মেলার দ্বিতীয় দিনে মঙ্গলবার দুপুরে মেলা মঞ্চে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের বিশেষ সাফল্য ও নাগরিক সেবার উদ্ভাবনসহ এমডিজি অর্জন ও এসডিজি বাস্তবায়ন শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

খাগড়াছড়ির মধ্যে প্রগতিশীল উপজেলা হিসেবে মাটিরাঙ্গা সবক্ষেত্রেই নিজেদের সক্ষমতা প্রমান করেছে উল্লেখ করে খাগড়াছড়ির অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) এটিএম কাওছার হোসেন বলেন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা লালন করে আমরা আমাদের কাঙ্খিত লক্ষ্যে পৌঁছতে পারবো। সকলের ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টার ফলে সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট গোল বা এসডিজি বাস্তবায়ন সম্ভব অভিমত ব্যক্ত করেন তিনি।

মাটিরাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী অফিসার বিএম মশিউর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সেমিনারে মাটিরাঙ্গা উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান মিসেস হাসিনা বেগম, মাটিরাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ মো. সাহাদাত হোসেন টিটো বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।

সেমিনারে ব্রাকের ব্যবস্থাপক মো. জসিম উদ্দিন, মাটিরাঙ্গা পৌরসভার কাউন্সিলর মো. এমরান হোসেন, মাটিরাঙ্গা মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আশরাফ উদ্দিন খোন্দকার, মাটিরাঙ্গা প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মুজিবুর রহমান ভুইয়া, মাটিরাঙ্গা সদর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান হিরনজয় ত্রিপুরা ও মাটিরাঙ্গা উপজেলা প্রকৌশলী মো. আনোয়ারুল হক প্রমূখ বক্তব্য রাখেন। সেমিনারে মুল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন মাটিরাঙ্গা উপজেলা রিসোর্স ইনস্ট্রাক্টর মো. আজগর হোসেন।

বাংলাদেশের সম্ভাবনা অনেক উল্লেখ করে সেমিনারে বক্তারা বলেন, এমডিজির লক্ষ্য পূরণের পথ ধরেই এসডিজি বাস্তবায়ন করতে হবে। এজন্য প্রয়োজন টেকসই উন্নয়ন। এসডিজি বাস্তবায়নে প্রশাসন-জনপ্রতিনিধি আর জনগণের সমন্বিত প্রচেষ্টা জরুরী উল্রেখ করে তারা সকল ক্ষেত্রে সুষম বন্টন, স্থিতিশীল রাজনৈতিক ব্যবস্থা, সমঅধিকার নিশ্চিত করার উপর গুরুত্বারোপ করেন।

এর আগে তিনি উন্নয়ন মেলার বিভিন্ন স্টল ঘুরে দেখেন। এসময় তিনি সংশ্লিষ্টদের সাথে সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ড নিয়ে কথা বলেন। এসময় তিনি মেলার আয়োজন নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন।




খাগড়াছড়িকে বাদ দিয়ে দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন সম্ভব নয়

09-01-2017_matiranga-unnayon-mela-news-pic

নিজস্ব প্রতিবেদক :

বন-জঙ্গলে বসে যারা চাঁদাবাজি করছে তাদের কারণে পাহাড়ের কাঙ্খিত উন্নয়ন ব্যাহত হচ্ছে দাবী করে খাগড়াছড়ির সংসদ সদস্য কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা বলেন, তাদের নীলনকশা কখনোই বাস্তবায়ন হবেনা। পাহাড়ের অবারিত উন্নয়কে যারা অস্বীকার করছে তাদেরকে দেশবিরোধী ষড়যন্ত্রকারীদের দলভুক্ত উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বৈষম্যহীন রাষ্ট্র নির্মানে সকলকে সাথে নিয়ে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।

সোমবার বেলা ১২টার দিকে খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গা মডেল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে তিন দিনব্যাপী উন্নয়ন মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

এর আগে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে মাটিরাঙ্গা উপজেলা পরিষদ চত্বর থেকে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা শুরু করে মেলা মাঠের প্রবেশমুখে ফিতা কেটে উন্নয়ন মেলার উদ্বোধন করেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি খাগড়াছড়ির সংসদ সদস্য কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা।

মাটিরাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী অফিসার বিএম মশিউর রহমান‘র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মাটিরাঙ্গা পৌরসভার মেয়র মো. শামছুল হক, মাটিরাঙ্গা উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান মিসেস হাসিনা বেগম ও মাটিরাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ মো. সাহাদাত হোসেন টিটো ও মাটিরাঙ্গা উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মো. মনছুর আলী বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উন্নয়ণ মেলা বাস্তবায়ন কমিটির সদস্য সচিব ও উপজেলা প্রকৌশলী মো. আনোয়ারুল হক, বড়নাল ইউনিয়ণ পরিষদ চেয়ারম্যান মো. আলী আকবর প্রমূখ বক্তব্য রাখেন।

সমতলের ন্যায় পাহাড়ের উন্নয়নে সরকার সমানতালে কাজ করছে দাবী করে কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা এমপি বলেন, খাগড়াছড়িকে বাদ দিয়ে দেশের সামগ্রিক উন্নয় সম্ভব নয়। এমডিজি (মিলিনিয়াম ডেভেলপমেমন্ট গোল) অর্জনে বিশ্বের মধ্যে বাংলাদেশকে ‘রোল মডেল’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা ঐক্যবদ্ধ থাকলে ২০৩০সালের মধ্যেই এসডিজি (সাসটেইনেবল ডেভেলপমেমন্ট গোল) বাস্তবায়ন সম্ভব হবে।

টেকসই উন্নয়নের অগ্রযাত্রাকে সফল করতে সরকারের বিভিন্ন বিভাগকে একসাথে কাজ করার উপর গুরুত্বারোপ করে সভাপতির বক্তব্যে মাটিরাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী অফিসার বিএম মশিউর রহমান যারা সরকারের উন্নয়ন কার্যক্রমকে বাধাগ্রস্থ করতে চায় তাদেরকে ‘নব্য রাজাকার’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন।

মাটিরাঙ্গা উপজেলা পরিষদের বিভিন্ন বিভাগ, বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদসহ ৬৩টি স্টল স্থান পেয়েছে। ১১ জানুয়ারি পর্যন্ত এ মেলা চলবে। প্রতিদিন মেলায় সরকারের উন্নয়ন নিয়ে বিভিন্ন কর্মকাণ্ড ছাড়াও উন্নয়ন বিষয়ক বিতর্ক, কুইজ ও রচনা প্রতিযোগিতাসহ সরকারের বিভিন্ন কর্মকাণ্ড নিয়ে নাগরিক সেমিনারের আয়োজন থাকবে। এছাড়াও মেলায় আগতদের বিনোদনের জন্য প্রতিদিন সন্ধ্যায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন থাকবে মেলা মঞ্চে।

মেলার উদ্বোধন শেষে তিনি মেলার বিভিন্ন স্টল ঘুরে দেখেন এবং সংশ্লিষ্টদের সাথে সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ড নিয়ে কথা বলেন।




মাটিরাঙ্গায় তিন দিনব্যাপী উন্নয়ন মেলার উদ্বোধন কাল

08-01-2017_unnayon-mela-pic-02jpg

নিজস্ব প্রতিবেদক:

সরকারের উন্নয়ন কার্যক্রমের সঙ্গে প্রান্তিক জনগণ’র সম্পৃক্ততা বাড়াতে সারাদেশের ন্যায় মাটিরাঙ্গায় অনুষ্ঠিত হবে তিন দিনব্যাপী উন্নয়ন মেলা। ৯থেকে ১১জানুয়ারি অনুষ্ঠিত এ মেলায় সরকারি, বেসরকারী ও স্বায়ত্বশাসিত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান তাদের উন্নয়ন চিত্র তুলে ধরবে।

সোমবার(৯জানুয়ারি) সকাল ১০টার দিকে মাটিরাঙ্গা সরকারী মডেল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে তিন দিনব্যাপী উন্নয়ন মেলার উদ্বোধন করবেন খাগড়াছড়ির  নির্বাচিত সংসদ সদস্য কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা।

তিন দিনব্যাপী এ মেলায় সরকারের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি ও সাফল্য, রূপকল্প ২০২১ ও ২০৪১-এ উন্নত বাংলাদেশের প্রস্তাবনা  সম্পর্কে জনগণকে উদ্বুদ্ধ করা, সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সরকারের সাফল্য একং টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্পর্কে ধারণা দেওয়াসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতা এবং সরকারি কর্মকর্তাদের অংশ গ্রহণে আলোচনা সভা ও সেমিনার অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন মাটিরাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী অফিসার বিএম মশিউর রহমান।