মাটিরাঙ্গা উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে মহান মে দিবস পালিত

01.05.2017_Matiranga MAY Dibas NEWS Pic
নিজস্ব প্রতিবেদক, মাটিরাঙ্গা :

‘শ্রমিক মালিক গড়ব দেশ, এগিয়ে যাবে বাংলাদেশ’ এ শ্লোগানকে ধারণ করে বর্ণাঢ্য র‌্যালি ও আলোচনা সভাসহ বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গা উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে মহান মে দিবস পালিত হয়েছে। সোমবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে মাটিরাঙ্গা উপজেলা পরিষদ চত্বর থেকে বর্ণাঢ্য র‌্যালি শুরু হয়ে উপজেলার বিভিন্ন গুরুত্বপুর্ণ সড়ক ঘুরে মাটিরাঙ্গা উপজেলা পরিষদ মাঠে এসে শেষ হয়।

মাটিরাঙ্গা উপজেলা চেয়ারম্যান মো. তাজুল ইসলাম তাজু, মাটিরাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী অফিসার বি.এম মশিউর রহমান, মাটিরাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ মো. সাহাদাত হোসেন টিটো, মাটিরাঙ্গা উপজেলা যুবলীগের সভাপতি মো. রফিকুল ইসলাম, মাটিরাঙ্গা প্রেস ক্লাবের সভাপতি এম এম জাহাঙ্গীর আলম, মাটিরাঙ্গা পৌরসভার ৭নং কাউন্সিলর মো. আবুল হাসেম ভুইয়া, ৬নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. শহীদুল ইসলাম সোহাগ, তাইন্দং ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মো. তাজুল ইসলাম তাজু ও মোটরসাইকেল মালিক ও চালক সমবায় সমিতির সাধারন সম্পাদক মো. রেজাউল করিম সহ বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ র‌্যালিতে অংশগ্রহণ করেন।

পরে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন মাটিরাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী অফিসার বি.এম মশিউর রহমান করেন। আলোচনা সভায় মাটিরাঙ্গা উপজেলা চেয়ারম্যান মো. তাজুল ইসলাম তাজু ও মাটিরাঙ্গা প্রেস ক্লাবের সভাপতি এম এম জাহাঙ্গীর আলম প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

আলোচনা সভায় বক্তারা শ্রমিকদের অবহেলার চোখে নয় বরং মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে মুল্যায়ন করতে হবে। শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠায় সকলকে যার যার অবস্থান থেকে কাজ করারও আহবান জানান বক্তারা। তারা বলেন, শ্রমিকরা আমাদের দেশের অর্থনীতিতে বড়ধরনের ভুমিকা রাখছে। শ্রমিকদের উপর ভিত্তি করেই দেশের হাজার হাজার মিল-কারখানার চাকা ঘুরছে।




মাটিরাঙ্গায় বসতবাড়ি পুড়ে ছাই

30.04.2017_Matiranga Agnikando NEWS Pic

নিজস্ব প্রতিনিধি, মাটিরাঙ্গা:

মাটিরাঙ্গায় আগুনে পুড়ে গেছে বসতবাড়ি। রোববার বিকাল ৫টার দিকে মাটিরাঙ্গা পৌরসভার ১নং ওয়ার্ডের ইছাছড়া গ্রামে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, রোববার বিকাল ৫টার দিকে আগুণের সুত্রপাত হয়। অগ্নিকাণ্ডের পরপরই ১৭ ফিল্ড রেজিমেন্ট আর্টিলারীর ক্যাপ্টেন মো. তারিকুল ইসলামের নেতৃত্বে নিরাপত্তাবাহিনী ও পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হলেও ততোক্ষণে বসতবাড়ির দুটি ঘর পুড়ে ছাই হয়ে যায়।

বসতবাড়ির দুটি ঘর সহ ঘরে থাকা নগদ ৫০ হাজার টাকা সহ অন্তত ৫ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয় বলে দাবি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের।

রান্না ঘর থেকে আগুণের সূত্রপাতা হয়ে থাকতে পারে বলে স্থানীয়রা ধারনা করলেও ভূমি সংক্রান্ত পুর্ব শত্রুতার জের ধরে জনৈক গোলাম রাব্বানী তাদের বসত ঘরে অগ্নিসংযোগ করে থাকতে পারে বলে অভিযোগ করেছেন অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত পুলিশ সদস্য শাহ পরানের ছোট ভাই মো. নুরুল আলম।

মাটিরাঙ্গা পৌরসভার ১নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. এমরান হোসেন অগ্নিকাণ্ডের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, কে বা কারা অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটিয়েছে বা কিভাবে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে তা তদন্ত সাপেক্ষেই বেরিয়ে আসবে। তার আগে কিছু মন্তব্য করা ঠিক হবেনা।

মাটিরাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ মো. সাহাদাত হোসেন টিটো, অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, অগ্নিকাণ্ডের বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।




মাটিরাঙ্গায় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মেলা সম্পন্ন

30.04.2017_Matiranga Science Mela NEWS Pic (2)

নিজস্ব প্রতিবেদক, মাটিরাঙ্গা:

‘উন্নত আগামীর জন্য বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি’ শ্লোগাণকে সামনে রেখে ৩৮তম জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সপ্তাহ উপলক্ষ্যে মাটিরাঙ্গা উপজেলা প্রশাসন আয়োজিত দুই দিনব্যাপী বিজ্ঞান মেলা পুরষ্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে শেষ হলো।

মাটিরাঙ্গা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মীর মোহাম্মদ মোহতাছিম বিল্লাহ’র সভাপতিত্বে মাটিরাঙ্গা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত মেলার সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে পুরষ্কার বিতরণ করেন, মাটিরাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী অফিসার বিএম মশিউর রহমান।

মাটিরাঙ্গা উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আবুল হাসেম, মাটিরাঙ্গা ইসলামিয়া আলিম মাদরাসার অধ্যক্ষ কাজী মো. সলিম উল্যাহ, মাটিরাঙ্গা মিউনিসিপ্যাল মডেল হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক মো. নুরুল ইসলামসহ অংশগ্রহণকারী বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধানগণ উপস্থিত ছিলেন।

সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাটিরাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী অফিসার বিএম মশিউর রহমান বলেন, এ মেলা থেকে অর্জিত জ্ঞান ভবিষ্যত জীবনের জন্য সোপান হিসেবে কাজে আসবে। তিনি বিজ্ঞানের আলোকে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, বিজ্ঞান মনস্ক মানুষ সমাজকে বদলে দিতে পারে।

প্রসঙ্গত, ৬টি বিভাগে মেলায় নিজেদের উদ্ভাবন উপস্থাপন করে উপজেলার ১২টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ক্ষুদে শিক্ষার্থীরা। পরে বিভিন্ন বিভাগে বিজয়ীদের মাঝে সনদ ও ক্রেস্ট বিতরণ করেন, অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথিসহ আমন্ত্রিতগণ।




সুস্থ হয়ে ফিরেছে পরি বিক্রম ত্রিপুরা: চোখে-মুখে হাসির ঝিলিক

30.04.2017_Manobik NEWS -Pori Bikram.Pic-02

নিজস্ব প্রদিবেদক, মাটিরাঙ্গা:

মাটিরাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী অফিসার বিএম মশিউর রহমানের আন্তরিকতাপুর্ণ দায়িত্ব গ্রহণের পর সুস্থ জীবনে ফিরে এসেছে মাটিরাঙ্গা উপজেলার দুর্গম পাহাড়ি জনপদ দলদলি মৌজার হরিপুর্ণ কার্বারী পাড়ার অভিনাথ ত্রিপুরা ও দ্বীনমালা ত্রিপুরা দম্পতির দ্বিতীয় ছেলে পরি বিক্রম ত্রিপুরা। অর্থভাবে যার চিকিৎসা হওয়া নিয়ে অভিভাবক থেকে শুরু করে স্থানীয়দের অনেক সংশয় ছিল তাদের সব সংশয়কে মিথ্যা প্রমান করে সুস্থ ও স্বাভাবিক জীবনে ফিরেছে সেই ছোট্ট ছেলে পরিবিক্রম ত্রিপুরা।

‘দুই লাখ টাকা বাঁচিয়ে তুলতে পারে পরি বিক্রম ত্রিপুরাকে’ শিরোনামে পার্বত্যনিউজে সংবাদ প্রকাশের পর মাটিরাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী অফিসার বিএম মশিউর রহমান এ প্রতিবেদককে ডেকে নিয়ে তার বিষয়ে খোঁজ-খবর নেন। এক পর্যায়ে ১৪ মার্চ এ প্রতিবেদক, মাটিরাঙ্গা সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হিরনজয় ত্রিপুরা ও মাটিরাঙ্গা পৌরসভার প্যানেল মেয়র মো. আলাউদ্দিন লিটনসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে হৃদরোগে আক্রান্ত মাটিরাঙ্গার দুর্গম পাহাড়ী জনপদের দিনমজুর পিতা-মাতার সন্তান পরি বিক্রম ত্রিপুরা চিকিৎসার দায়িত্বভার গ্রহণ করেন মাটিরাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী অফিসার বিএম মশিউর রহমান।

হৃদরোগে আক্রান্ত পরি বিক্রম ত্রিপুরার চিকিৎসায় নেপথ্যে ভূমিকা পালন করেন মাটিরাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী অফিসার বিএম মশিউর রহমানের চিকিৎসক সহধর্মীনি ডা. নুসরাত কামাল (যিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজের আইএমও)।

তিনিই তার চিকিৎসক সহকর্মী চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের কার্ডিয়াক সার্জারী বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. সুমন নাজমুল হোসেনের মাধ্যমে পরিবিক্রম ত্রিপুরার চিকিৎসার যাবতীয় ব্যবস্থা করেন।

এরপর চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের হৃদরোগ বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ডা. সুমন নাজমুল হোসেন এর মাধ্যমে প্রাথমিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়। গত ১৯ এপ্রিল চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের কার্ডিয়াক সার্জারী বিভাগে হৃদরোগ বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. সুমন নাজমুল হোসেনের নেতৃত্বে তার অপারেশন করা হয়। অপারেশন শেষে গত ২৬ এপ্রিল হাসপাতাল থেকে অবমুক্ত করা হয়।

খাগড়াছড়ির সংসদ সদস্য কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা ও খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কংজরী চৌধুরীর সহযোগিতার কথা স্মরণ করে মাটিরাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী অফিসার বিএম মশিউর রহমান বলেন, তাদের সহযোগিতা ছাড়া এমন একটি জটিল ও ব্যয় বহুল রোগের অপারেশন করা আমার পক্ষে সম্ভব হতোনা। তিনি চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের হৃদরোগ বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. সুমন নাজমুল হোসেনসহ অপারেশন টিমের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। আর হৃদরোগে আক্রান্ত পরি বিক্রম ত্রিপুরার বিষয়টি তুলে আনার জন্য এ প্রতিবেদককে এবং পরিবিক্রম ত্রিপুরার চিকিৎসায় সার্বক্ষনিক তদারকির জন্য মাটিরাঙ্গা সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হিরনজয় ত্রিপুরা ও মাটিরাঙ্গা সদর ইউনিয়ন পরিষদের ১নং ওয়ার্ডের মেম্বার মলেন্দ্র লাল ত্রিপুরাকে ধন্যবাদ জানান।

এদিকে ছেলের সুস্থ হয়ে ফিরে আসায় দুর্গম পাহাড়ি জনপদ দলদলি মৌজার হরিপুর্ণ কার্বারী পাড়ার অভিনাথ ত্রিপুরা ও দ্বীনমালা ত্রিপুরা দম্পতির যেন আনন্দের শেষ নেই। ছেলের সুস্থ হয়ে ফিরে আসায় পিতা অভিনাথ ত্রিপুরা মাটিরাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী অফিসার বিএম মশিউর রহমানের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, আমরা আজীবন তার কাছে ঋণী হয়ে থাকবো। ভগবান যেন সবসময় তার ভালো করেন।

হৃদরোগে আক্রান্ত পরিবিক্রম ত্রিপুরার চিকিৎসায় সার্বক্ষনিক তদারকির দায়িত্বে থাকা মাটিরাঙ্গা সদর ইউনিয়ন পরিষদের ১নং ওয়ার্ডের মেম্বার মলেন্দ্র লাল ত্রিপুরা বলেন, যার পাশে কেউ থাকে তার পাশে ভগবান কাউকে না কাউকে পাঠান এটা তারই নজির। তিনি বলেন, পরিবিক্রম ত্রিপুরার চিকিৎসায় মাটিরাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী অফিসার যে ভূমিকা রেখেছেন তা কোনদিনই ভুলার মতো নয়।

মাটিরাঙ্গা পৌরসভার প্যানেল মেয়র ও মাটিরাঙ্গা পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. আলাউদ্দিন লিটন এ প্রতিবেদককে বলেন, একটি অসহায় পরিবারের জন্য মাটিরাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী অফিসার বিএম মশিউর রহমান যা করেছেন তা স্মরনীয় হয়ে থাকবে। তিনি তার এ মানবতাবাদী উদার মানসিকতা থেকে শিক্ষা নেয়ার আছে বলেও মন্তব্য করেন।

মাটিরাঙ্গা সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হিরনজয় ত্রিপুরা মাটিরাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী অফিসার বিএম মশিউর রহমানের মানবিক হাত প্রসারিত করার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, তার উদ্যোগের ফলেই একটি অসুস্থ ছেলে সুস্থ জীবনে ফিরে এসেছে। তিনি একটি ঘরের নিভু নিভু আলো জ্বালিয়ে দেয়ার দায়িত্ব নিয়ে উদার মানসিকতার পরিচয় দিয়েছেন। তার মতো মানবিকগুন সম্পন্ন অফিসারই দেশকে বদলে দিতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

এদিকে অপারেশন শেষে মাটিরাঙ্গায় ফিরে এসে মা-বাবাকে সাথে নিয়ে মাটিরাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী অফিসার বিএম মশিউর রহমানের সাথে দেখা করেন পরিবিক্রম ত্রিপুরা।

এসময় তিনি তার চিকিৎসাসহ বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে খোঁজ-খবর নেন। এসময় তিনি কি খাবে জানতে চাইলে ত্রিপুরা ভাষায় তরমুজ খাবে বললে তিনি তাৎক্ষনিক তাকে তরমুজ খাওয়ান এবং ফল খাওয়ার জন্য টাকা দেন।




মাটিরাঙ্গা উপজেলা ছাত্রদলের নতুন কমিটি গঠন

30.04.2017_JCD NEws

নিজস্ব প্রতিবেদক, মাটিরাঙ্গা :

রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে ঝিমিয়ে পড়া মো. হারুন অর রশীদের নেতৃত্বাধীন মাটিরাঙ্গা উপজেলা ছাত্রদলের কমিটি বিলুপ্ত করে মাটিরাঙ্গা উপজেলা ছাত্রদলের নতুন কমিটি অনুমোদন দিয়েছে খাগড়াছড়ি জেলা ছাত্রদল। নতুন কমিটি অনুমোদনের মধ্য দিয়ে মাটিরাঙ্গায় ছাত্রদলের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড গতি সঞ্চারিত হবে বলে মনে করছেন, ছাত্রদলের তৃনমূল নেতাকর্মীরা।

মো. সাইফুল ইসলামকে সভাপতি, মো. ফোরকান ইমামীকে সাধারণ সম্পাদক ও মো. আহসান উল্যাহ আশিককে সাংগঠনিক সম্পাদক করে মাটিরাঙ্গা উপজেলা ছাত্রদলের ১১ সদস্য বিশিষ্ট আংশিক কমিটির অনুমোদন দিয়েছেন খাগড়াছড়ি জেলা ছাত্রদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি মো. শরীফুল ইসলাম ভুইয়া আসাদ ও সাধারণ সম্পাদক মো. ইব্রাহিম খলিল।

কমিটির অন্যান্যরা হলেন, সিনিয়র সহ-সভাপতি মো. আনোয়ার হোসেন, সহ-সভাপতি মনিরুজ্জামান মনি ও মো. আনোয়ার হোসেন, যুগ্ম-সম্পাদক আবু বকর ছিদ্দিক রিপন ও রুহুল আমিন রুবেল, দপ্তর সম্পাদক মো. নুরুল আলম জুয়েল, প্রচার সম্পাদক মো. রবিউল হোসেন রুবেল এবং সদস্য মো. আফজাল হোসেন ভুইয়া।

সম্প্রতি খাগড়াছড়ি জেলা বিএনপির যুগ্ম-সম্পাদক এ্যাড. মো. আবদুল মালেক মিন্টু আনুষ্ঠানিকভাবে মাটিরাঙ্গা উপজেলা ছাত্রদলের নব-নির্বাচিত নেতৃবৃন্দের হাতে কমিটি তুলে দেন। এসময় খাগড়াছড়ি জেলা ছাত্রদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি মো. শরীফুল ইসলাম ভুইয়া আসাদ ও সাধারণ সম্পাদক মো. ইব্রাহিম খলিলসহ জেলা ও উপজেলা ছাত্রদলের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

নতুন নেতৃত্বের মাধ্যমে মাটিরাঙ্গায় ছাত্রদল ঘুরে দাঁড়াবে এমন আশা প্রকাশ করে খাগড়াছড়ি জেলা বিএনপির যুগ্ম-সম্পাদক এ্যাড. মো. আবদুল মালেক মিন্টু বলেন, ছাত্রদলের প্রতিটি নেতাকর্মীকে ওয়াদুদ ভুইয়ার রাজনৈতিক জীবন থেকে শিক্ষা নিতে হবে। জেল, জুলুমকে উপেক্ষা করে জনগণের অধিকার আদায়ে ওয়াদুদ ভুইয়ার নেতৃত্বে সরকার বিরোধী আন্দোলনে মাঠে থাকতে হবে।




ইউএনও বিএম মশিউর রহমানের বিরুদ্ধে অপপ্রচারে ক্ষুব্ধ মাটিরাঙ্গা ও গুইমারাবাসী

090 copy

গুইমারা প্রতিনিধি:

পার্বত্য খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গা ও গুইমারার পিছিয়েপড়া জনগোষ্ঠির জন্য দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে আসা মাঠ পর্যায়ে সরকারের দক্ষ কর্মকর্তা হিসেবে পরিচিত খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিএম মশিউর রহমানের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগকে ভিত্তিহীন ও কাল্পনিক বলে দাবি করেছেন মাটিরাঙ্গার রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও জনপ্রতিনিধিরা।

তারা বলেন, মাটিরাঙ্গা উপজেলায় ইউএনও হিসেবে যোগদানের পর থেকে তিনি সরকারের নানামুখি কর্মকাণ্ড বাস্তবায়নের পাশাপাশি জনগণের কল্যানে কাজ করে যাচ্ছেন।

বিভিন্ন সময় নিরাত্তাবাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধে পাহাড়ীদের নির্যাতন, হত্যা ও ধর্ষনের মতো কাল্পনিক অভিযোগের পর এবার একই কায়দায় মাটিরাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিএম মশিউর রহমানের বিরুদ্ধে যাত্রিবাহী বাসে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রীকে জড়িয়ে কাল্পনিক অভিযোগ তুলেছে আওয়ামী লীগের ছত্রছায়ায় থাকা একটি স্বার্থন্বেসী মহল।

ইতিমধ্যেই এ মহলটি মাটিরাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিএম মশিউর রহমানের অর্জনকে ম্লান করে দিতে বিভিন্ন স্থানে কাল্পনিক অভিযোগের ভিত্তিহীন প্রচারনায় নেমেছে। সারাদেশের মধ্যে দুই দুই বারের শ্রেষ্ঠ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে নির্বাচিত মাটিরাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিএম মশিউর রহমানকে বিতর্কিত করতে মাঠে নেমেছেন মাটিরাঙ্গার আওয়ামী লীগ নেতা সুভাস চাকমা। আওয়ামী লীগের এ নেতা টাকার বিনিময়ে জনৈক সাংবাদিককে দিয়ে একটি ভুইফোর অনলাইন পত্রিকায় মিথ্যা সংবাদ পরিবেশন করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে হেনস্তাসহ প্রশাসনকে বিতর্কিত করার চেষ্টা করেছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে মাটিরাঙ্গা পৌর আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ও মাটিরাঙ্গা প্রেসক্লাবের সভাপতি এমএম জাহাঙ্গীর আলম বলেন, সম্প্রতি মাটিরাঙ্গা উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক সুভাষ চাকমা মাটিরাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিএম মশিউর রহমানের কাছে কিছু অন্যায় আবদার করেন। যা রক্ষা না করায় উদ্দেশ্য প্রণোদিত ভাবে বিভিন্ন মাধ্যমে এ কাল্পনিক গল্প প্রচার করেন। তিনিই টাকার বিনিময়ে সংবাদ মাধ্যমে তা প্রচার করেন। মাটিরাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিএম মশিউর রহমানের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ আর ওই সাংবাদিকের প্রকাশিত সংবাদের কোন ভিত্তি নেই বলেও দাবি করেন তিনি।

এ ঘটনায় তিব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে যারা মিথ্যা অপপ্রচার ছড়িয়ে বর্তমান সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করার মিশনে নেমেছে, তাদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তি দাবি করেন তিনি।

অন্যদিকে মাটিরাঙ্গা প্রেসক্লাবের একজন সদস্য হয়েও স্থানীয় কোন সাংবাদিকের সাথে কোন প্রকার আলোচনা না করে টাকার কাছে বিক্রি হয়ে ভিত্তিহীন সংবাদ প্রকাশ করায় সেই সাংবাদিকের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও জানান তিনি। এমন কাল্পনিক সংবাদ প্রকাশের সম্পূর্ণ দায়ভার তার একার বলেও মন্তব্য করেন প্রেসক্লাব সভাপতি এমএম জাহাঙ্গীর আলম।

বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ড খাগড়াছড়ি জেলা শাখার সভাপতি মো. হারুন মিয়া জানান, মাটিরাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিএম মশিউর রহমান তিনি শুধু একজন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাই নন, তিনি একজন মুক্তিযোদ্ধার সন্তানও বটে। তাকে জড়িয়ে মনগড়া মিথ্যা অপবাদ দেয়া মানে বাংলাদেশের লক্ষ লক্ষ মুক্তিযোদ্ধার সন্তনকে কলঙ্কিত করা। তাকে জড়িয়ে কাল্পনিক গল্প মুক্তিযোদ্ধার সন্তানরা কখনো মেনে নিবেনা। তিনি এ উদ্দেশ্য মূলক এ মিথ্যাচারের সাথে জতিদের আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানান।

মাটিরাঙ্গা সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও বাংলাদেশ ইউনিয় পরিষদ চেয়ারম্যান ফোরামের পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক সম্পাদক হিরনজয় ত্রিপুরা ইউএনও বিএম মশিউর রহমানের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগকে ভিত্তিহীন দাবি করে বলেছেন, তার মতো একজন কর্মকর্তা মানুষের উপকারই করতে পারে। তিনি বলেন, কাছ থেকে দেখা একজন মানুষের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের ভিত্তি খুঁজে পাওয়া যাচ্ছেনা। এ বিষয়ে স্থানীয় একজন সাংবাদিকের রিপোর্টের প্রসঙ্গ টেনে তিনি এ ধরনের সাংবাদিকতা ছেড়ে জনকল্যাণমুখী সাংবাদিকতা করারও আহ্বান জানান।

মাটিরাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিএম মশিউর রহমানের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সুবিধাবঞ্চিতদের অপপ্রচার ছাড়া আর কিছুই না এমন দাবি করে মাটিরাঙ্গা পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও প্যানেল মেয়র মো. আলাউদ্দিন লিটন এ মিথ্যাচারের সাথে জড়িতদের আইনের আওতায় নিয়ে আসারও দাবি জানান। মাটিরাঙ্গা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সুবাস চাকমা প্রত্যক্ষভাবে এ ধরনের অপপ্রচারে যুক্ত আছে, এটা আওয়ামী লীগের দলীয় সিদ্ধান্ত কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, অবশ্যই না। এটা যদি তিনি এমন কাজ করে থাকেন তবে তা ব্যক্তি সুবাস চাকমা করছেন। এর সাথে আওয়ামী লীগের কোন সম্পৃক্ততা নেই।

আওয়ামী লীগের ছত্রছায়ায় গুইমারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিএম মশিউর রহমানের বিরুদ্ধে মাটিরাঙ্গা উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক সুভাষ চাকমার এমন কাল্পনিক অপপ্রচারে ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছে মাটিরাঙ্গার সচেতন রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা। তারা এহেন অপপ্রচারের নিন্দা জানিয়ে অবিলম্বে অপপ্রচারকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি তুলেছে।

গুইমারা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও গুইমারা সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মেমং মারমা এ ঘটনাকে নিছক অপপ্রচার দাবি করে বলেন, বিএম মশিউর রহমানের মতো একজন কর্মকর্তা কখনো এমন কাজ করতে পারেনা। এ অপপ্রচারের মাধ্যমে একটি মহল বিশেষ ফায়দা হাসিলের চেষ্টা করছে মাত্র। একইভাবে এ অভিযোগকে মনগড়া বলে দাবি করে গুইমারা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, সব মহলে শ্রদ্ধেয় একজন সরকারি কর্মকর্তাকে হেনস্থা করতেই এমন অপপ্রচার। তিনি অপপ্রচারকারীদের আইনের আওতায় আনারও দাবি জানান।




আজকের শিক্ষার্থীরাই একদিন মাটিরাঙ্গাসহ দেশকে আলোকিত করবে 

29.04.2017_Mtiranga Science MELA News Pic (2)

নিজস্ব প্রতিবেদক, মাটিরাঙ্গা:

লেখাপড়ার পাশাপাশি নৈতিক শিক্ষার সম্মিলন ঘটানোর আহ্বান জানিয়ে মাটিরাঙ্গা জোন অধিনায়ক লে. কর্ণেল কাজী শামশের উদ্দীন পিএসসি বলেছেন, গুরুজনদের সম্মান দিতে হবে। শিক্ষকদের সবসময় সম্মানিত করা একজন শিক্ষার্থীর বড় কাজ উল্লেখ করেন তিনি। ইন্টারনেটকে পুঁজি করে আমরা খারাপ কাজে মনোনিবেশ করছি এমন বক্তব্যের উদ্ধৃতি টেনে তিনি বলেন, মানুষের দোষ নয় গুনগুলোকে প্রচার করতে হবে। শিক্ষার্থীদের উপস্থাপিত বিভিন্ন প্রজেক্টের প্রশংসা করে তিনি বলেন, এ শিক্ষার্থীরাই একদিন মাটিরাঙ্গাসহ দেশকে আলোকিত করবে।

উন্নত আগামীর জন্য বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি শ্লোগাণকে সামনে রেখে ৩৮তম জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সপ্তাহ উপলক্ষ্যে মাটিরাঙ্গা উপজেলা প্রশাসন আয়োজিত দুই দিনব্যাপী বিজ্ঞান মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মাটিরাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী অফিসার বিএম মশিউর রহমানের সভাপতিত্বে মাটিরাঙ্গা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাটিরাঙ্গা পৌরসভার মেয়র মো. শামছুল হক ও মাটিরাঙ্গা ডিগ্রি  কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ প্রশান্ত কুমার ত্রিপরা।

মাটিরাঙ্গা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মীর মোহাম্মদ মোহতাছিম বিল্লাহ ও মাটিরাঙ্গা উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আবুল হাসেম অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন।

জিপিএ-৫ শিক্ষার মানদণ্ড নয় বলেও এসময় মন্তব্য করে মাটিরাঙ্গা জোন অধিনায়ক লে. কর্ণেল কাজী শামশের উদ্দীন পিএসসি, জি বলেন, আজকে যারা বিজ্ঞান চর্চা, ব্যবসা-বাণিজ্য আর সরকারি চাকুরীতে আইডল হয়েছেন তাদের সবাই জিপিএ-৫ পায়নি। তারা নিজের যোগ্যতা বলেই সমাজের গুণীজনে পরিণত হয়েছেন। নিজ নিজ কর্মের মাধ্যমে আজ সমাজকে আলোকিত করে চলেছেন।

১২টি প্রতিষ্ঠানের ৩৭টি প্রজেক্ট নিয়ে শুরু হওয়া দুই দিনব্যাপী এ মেলা শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞানের প্রতি উৎসাহিত করবে উল্লেখ করে সভাপতির বক্তব্যে মাটিরাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী অফিসার বিএম মশিউর রহমান বলেন, বিজ্ঞানকে লালন করতে হবে। বিজ্ঞান মনস্ক মানুষ ও জাতি গঠনে এ মেলা মাইল ফলক ভূমিকা রাখবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

মাটিরাঙ্গা উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে ৩৮তম জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সপ্তাহ উপলক্ষ্যে অনুষ্ঠিত বিজ্ঞান মেলায় মাটিরাঙ্গা ডিগ্রি কলেজ, মাটিরাঙ্গা মডেল উচ্চ বিদ্যালয়, মাটিরাঙ্গা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, শান্তিপুর উচ্চ বিদ্যালয়, গোমতি বি.কে উচ্চ বিদ্যালয়, মাটিরাঙ্গা ইসলামিয়া আলিম মাদরাসা, মাটিরাঙ্গা মিউনিসিপ্যাল মডেল হাইস্কুল, আমতলী উচ্চ দ্যিালয়, খেদাছড়া উচ্চ বিদ্যালয়, তাইন্দং উচ্চ বিদ্যালয়, তবলছড়ি টিকে হাইস্কুল ও তবলছড়ি ইসলামিয়া সিনিয়র মাদরাসা।

এর আগে তিনি ফিতা কেটে দিনব্যাপী মেলার উদ্বোধন শেষে মেলার বিভিন্ন স্টল ঘুরে দেখেন। এসময় তিনি শিক্ষার্থীদের উপস্থাপিত বিভিন্ন প্রজেক্ট সম্পর্কে ধারণা লাভ করেন।

এর আগে অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি মাটিরাঙ্গা জোন অধিনায়ক লে. কর্ণেল কাজী শামশের উদ্দীন পিএসসি, জি অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছলে ফুল দিয়ে তাকে স্বাগত জানান মাটিরাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী অফিসার বিএম মশিউর রহমান ও মাটিরাঙ্গা পৌরসভার মেয়র মো. শামছুল হক।




মাটিরাঙ্গায় বাল্য বিবাহ থেকে রক্ষা পেল আরিফা

download

নিজস্ব প্রতিবেদক, মাটিরাঙ্গা :

খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গায় প্রশাসনের তরিৎ হস্তক্ষেপে বাল্য বিবাহের হাত থেকে রক্ষা পেল স্কুল ছাত্রী আরিফা আক্তার (১৩)। সে আমতলী উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী বড়নাল ইউনিয়নের করিম মাষ্টারপাড়ার মো. মনির হোসেনের কন্যা।

জানা গেছে, শুক্রবার একই ইউনিয়নের আলী আকবর চেয়ারম্যান পাড়া মো. মফিজুর রহমানের ছেলে বিদেশ ফেরত মো. মিজানুর রহমানের সাথে বিয়ের আয়োজন করা হয়। বাল্যবিবাহের বিষয়টি প্রশাসন নিশ্চিত হয়ে সেখানে হাজির হয়ে বাল্য বিবাহ বন্ধ করে। তবে এসময় বর বা বর পক্ষের কাউকে ঘটনাস্থলে পাওয়া যায়নি।

মাটিরাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী অফিসার বি.এম মশিউর রহমান মুঠোফোনে জানান, বাল্য বিবাহের শিকার স্কুল ছাত্রীটির সহপাঠীদের দেয়া তথ্য মতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিয়ে বাড়িতে প্রথমে পুলিশ পাঠানো হলেও পুলিশ বিয়ে বন্ধ করে চলে আসার পরে আবারো বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা শুরু করে কনে পক্ষ। পরে পলাশপুর জোন অধিনায়ক লে. কর্ণেল মো. খালিদ আহমেদ বিষয়টি জানতে পেরে বিজিবি পাঠিয়ে বাল্য বিবাহ বন্ধ করা হয়। এদিকে বিয়ে বাড়িতে আসার খবর পেয়ে বরপক্ষ বিয়ে বাড়ি ত্যাগ করে।

নিজেদের ভুল বুঝতে পেরে স্কুল ছাত্রী আরিফাকে প্রাপ্ত বয়স্ক না হওয়া পর্যন্ত বিয়ে দিবেন না এবং আবারো স্কুলে পাঠাবেন এমন মুছলেকা প্রদান করেন কনের দরিদ্র পিতা মো. মনির হোসন।




মাটিরাঙ্গায় একটি বাড়ি-একটি খামার প্রকল্পের ঋণ বিতরণ

unnamed copy

নিজস্ব প্রতিবেক, মাটিরাঙ্গা:

মাটিরাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী অফিসার বিএম মশিউর রহমান ঋণের টাকা সদ্বব্যাবহারের মাধ্যমে নিজেদের ভাগ্য পরিবর্তনের আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, ঋণের টাকা দিয়ে নিজের ভাগ্য উন্নয়ন সম্ভব।

বৃহস্পতিবার ১১টায় মাটিরাঙ্গা উপজেলা পরিষদের সম্মেলন কক্ষে একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্পের ৮টি সমিতির সুফলভোগীদের মাঝে ঋণ বিতরণ কালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্পের সমন্বয়কারী খুশি কৃষ্ণ ত্রিপুরা‘র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ঋণ বিতরণ অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন, একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্পের ফিল্ড সুপারভাইজার প্রিয় কান্তি চাকমা।

অনুষ্ঠানে দৈনিক সুপ্রভাত বাংলাদেশ মাটিরাঙ্গা প্রতিনিধি সাগর চক্রবর্তী কমল, তৈয়ব মেম্বর ও রাইটার পাড়া গ্রাম উন্নয়ন সমিতির সভাপতি মো. শহিদুল ইসলাম, আলী আকবর চেয়ারম্যান পাড়ার সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন।

অনুষ্ঠানে করল্যাছড়ি বাজার পাড়া গ্রাম উন্নয়ন সমিতির ৬জন ৭৫ হাজার, তৈয়ব মেম্বর ও রাইটার পাড়া গ্রাম উন্নয়ন সমিতির ১০জন সদস্যের মাঝে ২ লাখ ৩৫ হাজার টাকা, খেদাছড়া ডিপি পাড়া গ্রাম উন্নয়ন সমিতির ৩জন ৯০ হাজার টাকা, শাসমু রহমান সর্দ্দার পাড়া গ্রাম উন্নয়ন সমিতির ১১জন ২ লক্ষ ৭০ হাজার টাকা, হৃদয় মেম্বার পাড়া গ্রাম উন্নয়ন সমিতির ৭জন ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকা, আলী আকবর চেয়ারম্যান পাড়া গ্রাম উন্নয়ন সমিতির ১০জন ১ লক্ষ ৮০ হাজার টাকা, বিল তৈইকুম্বা পাড়া গ্রাম উন্নয়ন সমিতির ১জন ১০ হাজার টাকা, পঞ্চকুমার মাষ্টার পাড়া গ্রাম উন্নয়ন সমিতির ৭জন ১ লক্ষ ৩০ হাজার টাকা, একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্পের ৮টি সমিতির সুফলভোগীদের মাঝে ঋনের অর্থ তুলে দেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি মাটিরাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী অফিসার বিএম মশিউর রহমান।




মাটিরাঙ্গায় পরিবহন মালিক ও চালকদের সাথে মতবিনিময় সভা

unnamed copy

নিজস্ব প্রতিবেদক , মাটিরাঙ্গা:

সড়ক ‍দুর্ঘটনা রোধ ও সড়কে যান চলাচলে শৃঙ্খলা আনয়নের লক্ষ্যে সড়ক পরিবহন মালিক ও সিএনজি চালকদের সাথে মতবিনিময় করেছে নিরাপত্তা বাহিনী। বুধবার বেলা ১১টার দিকে খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গা জোন সদরে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন, মাটিরাঙ্গা জোন অধিনায়ক লে. কর্ণেল কাজী শামশের উদ্দিন পিএসসি জি।

মাটিরাঙ্গা জোন, পলাশপুর জোন, যামিনীপাড়া জোন এ তিন জোনের দায়িত্বপূর্ণ এলাকার সিএনজি পরিবহন মালিক ও চালকদের সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার বেলা ১১টার দিকে খাগড়াছড়ি জেলার মাটিরাঙ্গা জোন সদরে আয়োজিত মাটিরাঙ্গা ও তবলছড়ি সিএনজি পরিবহন মালিক ও চালকদের সাথে মতবিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন মাটিরাঙ্গা জোন অধিনায়ক লে. কর্ণেল মো. কাজী মো. শামশের উদ্দিন পিএসসি.জি।

মতবিনিময় সভায় যামিনীপাড়া জোন অধিনায়ক লে. কর্ণেল মাহমুদুল হক পিএসসি, পলাশপুর জোন অধিনায়ক লে. কর্ণেল মো. খালিদ আহমেদ পিএসসি, মাটিরাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী অফিসার বিএম মশিউর রহমান, মাটিরাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ মো. সাহাদাত হোসেন টিটো বক্তব্য রাখেন।

মতবিনিময় সভায় মাটিরাঙ্গা জোনের উপ-অধিনায়ক মেজর মো. মিজানুর রহমান পিএসসি.জি, জোনল স্টাফ অফিসার ক্যাপ্টেন তানজিম হোসোইন, বড়নাল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আলী আকবর, তবলছড়ি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. আবদুল কাদের, তাইন্দং ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. হুমায়ুন কবীর, শান্তি পরিবহনের প্রতিনিধি মো. আলমগীর হোসেন, সিএনজি চালক সমিতির সভাপতি মো. আবদুস ছোবহানসহ মাটিরাঙ্গা ও তবলছড়ি সিএনজি চালকগণ উপস্থিত ছিলেন।

দুই ঘন্টাব্যাপী সভায় মাটিরাঙ্গা ও তবলছড়ি সিএনজি পরিবহন মালিক ও চালক সমিতির নেতৃবৃন্দ তাদের বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরেন। পরিবহন সেক্টরের শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার জন্য ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রাপ্তি সহজকরণ, গাড়ির রেজিস্ট্রেশন ফি কমিয়ে আনা, বাস, ট্রাক, ট্রলি, সিএনজি ইত্যাদির জন্য টার্মিনাল নির্মাণসহ নির্বিঘ্নে রাস্তায় চলাচলের বিষয়ে বিভিন্ন প্রস্তাবনা তুলে ধরেন।

এসময় শান্তি পরিবহনের বেপরোয়া গতি কমিয়ে আনার উপর গুরুত্বারোপ করে তারা বলেন, সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানির পর বিশ হাজার টাকা সহযোগীতা দেয়া হলেও জীবনের মূল্য কখনো টাকা দিয়ে নির্ধারণ করা উচিত না।