মহেশখালী প্রেসক্লাবের দ্বি বার্ষিক নির্বাচন সম্পন্ন

মহেশখালী প্রতিনিধি:

মহেশখালী প্রেসক্লাবের দ্বি বার্ষিক নির্বাচন ১৩ ডিসেম্বর সম্পন্ন হয়েছে। নির্বাচনে দৈনিক কক্সবাজারের মহেশখালী অফিস প্রধান ও দৈনিক যুগান্তরের মহেশখালী প্রতিনিধি মাহবুবর রোকন সভাপতি ও দৈনিক সমুদ্রবার্তার মহেশখালী প্রতিনিধি কাউন্সিলর ছালামত উল্লাহ সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন।

মহেশখালী কেজি এন্ড প্রি-ক্যাডেট স্কুলে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে সকাল ১০টা থেকে বেলা ২টা পর্যন্ত ভোট গ্রহণ চলে। নির্বাচনের দায়িত্বে থাকা প্রিসাইডিং অফিসার উপজেলা মসজিদের খতিব কাজী মৌলানা মোরতাজ আহমদ জানিয়েছেন মোট ২২ ভোটের সবকটি ভোটই প্রদান করেন ভোটাররা। এতে সভাপতি পদে ৭জন প্রার্থীর মধ্যে দৈনিক কক্সবাজারের মাহবুব রোকন ৯ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ও দৈনিক কক্সবাজারের স্টাফ রিপোর্টার জয়নাল আবেদীন  পেয়েছেন ৫ ভোট।

সাধারণ সম্পাদক পদে এম ছালামত উল্লাহ (সমুদ্রবার্তা) ও সাহাব উদ্দিন (সমকাল) ৭ ভোট করে সমান ভোট পাওয়ায় লটারীতে বিজয়ী হয়েছেন ছালামত উল্লাহ। সহ-সভাপতি পদে সর্বোচ্চ ১৫ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন সৈয়দ মোস্তফা আলী (দৈনিক গণসংযোগ), তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আমিনুল হক (কক্সবাজারবাণী) পেয়েছেন ৭ ভোট।

সাংগঠনিক সম্পাদক পদে পার্বত্যাঞ্চলের জনপ্রিয় অনলাইন পত্রিকা পার্বত্য নিউজের মহেশখালী প্রতিনিধি এম বশির উল্লাহ ১৩ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন সরওয়ার কামাল দৈনিক আজকের কক্সবাজার) ৮ ভোট।

যুগ্ম সম্পাদক পদে মৌলভী রুহুল কাদের( কক্সবাজার ৭১) ১১ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন, তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী গাজী আবু তাহের (আমাদের কক্সবাজার) পেয়েছেন ১০ ভোট। আগেই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বীতায় নির্বাচিত হয়েছেন প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক পদে দৈনিক সৈকত প্রতিনিধি আবদুর রশিদ এবং কোষাধ্যক্ষ পদে নির্বাচিত হয়েছেন দৈনিক হিমছড়ি প্রতিনিধি মোহাম্মদ তারেক।

নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করেছেন মহেশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবুল কালাম ও মহেশখালী থানার ওসি প্রদীপ কুমার দাশ। এছাড়া নির্বাচনে সহকারি প্রিসাইডিং অফিসার হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন মহেশখালী কলেজের অধ্যাপক কানু কুমার চৌধুরী ও মহেশখালী আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক লায়েক হায়দার।

এদিকে নব নির্বাচিত কমিটির সকলকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন বিভিন্ন সরকারি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান।




মহেশখালীতে প্রতিপক্ষের গুলিতে যুবক খুন

মহেশখালী প্রতিনিধি:

মহেশখালী উপজেলার হোয়ানক কালাগাজির পাড়ায় গুলিতে আবু কায়সার (২১) নামে এক যুবক নিহত হয়েছে। সে ওই এলাকার সাবেক মেম্বার জোনাব আলীর পুত্র।

শনিবার (৯ ডিসেম্বর) ভোরে প্রতিপক্ষ জালাল বাহিনীর সন্ত্রাসীদের গুলিতে গুলিবিদ্ধ হয়ে আবু কায়সার মারা যান বলে দাবি করেছেন তার পরিবার।

নিহতের পিতা জোনাব আলী অভিযোগ করেন, তারা ভোরে প্রতিদিনের মতো ঘুমন্ত অবস্থায় ছিলেন। এসময় অতর্কিত অবস্থায় জালাল বাহিনীর সন্ত্রাসী ছৈয়দ মিয়া, রমিজ, খোরশেদ, বক্কর, আবছার, আমিনসহ ৩০/৪০ জনের একদল সন্ত্রাসী জোনাব আলীর বাড়িতে হামলায় চালায়।

এসময় সন্ত্রাসীরা আবু কায়সারকে লক্ষ্য করে রাইফেল দিয়ে গুলি করে। এতে সে গুরুতর আহত হয়। আহত অবস্থায় তাকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সকাল ১১টার দিকে মারা যায় আবু কায়সার।

সত্যতা নিশ্চিত করে মহেশখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রদীপ কুমার দাশ বলেন, কি কারণে এবং কারা মেরেছে তা এখনো জানতে পারিনি। তবে স্থানীয়দের মতে দুই গ্রুপের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে জমিজমার বিষয় নিয়ে বিরোধ চলে আসছিলো। তার জের ধরে মাঝে মাঝে উভয় পক্ষের মাঝে সংঘর্ষ হতো।

জালাল বাহিনীর লোকজন পাহাড়ি জমি দখল করতে নিরহ মানুষের উপর হামলা করত প্রায় সময়। নিহত কায়সার ছোট বয়স থেকে চট্টগ্রামে শহরে বেড়ে উঠে সেই মারামারির মধ্যে কোন দিন ছিলোনা। তার পিতার অসুস্থ্যতার কারণে গ্রামে দেখতে এসে প্রতিপক্ষের হাতে নিহত হয়েছে। পুলিশ ঘটনাস্থলে রয়েছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপুর্ণ পয়েন্টে টহল দিচ্ছে বলে জানা গেছে।

ইতিপূর্বে জালাল বাহিনীর হাতে জোনাব আলী বাহিনীর ৫জন নিহত হয়েছে।




মহেশখালী দ্বীপে অতিদরিদ্র ও ভিক্ষুকদের জন্য বাড়ি নির্মাণ কাজ এগিয়ে চলেছে

মহেশখালী প্রতিনিধি:

প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত “সবার জন্য বাসস্থান” নিশ্চিত করার লক্ষ্যে আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের অধীনে “যার জমি আছে ঘর নাই, তার নিজ জমিতে গৃহ নির্মাণ” প্রকল্পের আওতায় মহেশখালীতে অতিদরিদ্র ও ভিক্ষুকদের জন্য ২’শ ৫৭টি বাড়ি নির্মাণ কাজ এগিয়ে চলছে। এই পর্যায়ে ২ কোটি ৫৭ লাখ টাকা ব্যয়ে এসব বাড়ি নির্মাণ করা হচ্ছে। চলতি মাসের মধ্যে মহেশখালীতে এই কাজ শেষ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এদিকে দ্বীপের বাস্তুহীন দরিদ্ররা এমন তৈরি বাড়ি পাওয়ায় প্রধানমন্ত্রী ও স্থানীয় সাংসদের কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। তবে এখনো এই দ্বীপে বাড়ি পাওয়ার মতো অনেক মানুষ রয়েছে। এই প্রকল্পে আগামীতে আরও ৫শ’টি বাড়ি নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে বলেও জানা গেছে।

জানা গেছে, সবার জন্য বাসস্থান নিশ্চিত করতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘোষিত আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের ‘যার জমি আছে ঘর নাই, তার নিজ জমিতে গৃহ নির্মাণ’ উপ-খাতের আওতায় মহেশখালী দ্বীপে বর্তমানে ২’শ ৫৭টি টিনসেড বাড়ি নির্মাণের কাজ চলছে। মূলত গৃহহীন অতিদরিদ্র ও ভিক্ষুকরাই পাচ্ছেন এসব সরকারি বাড়ি। নিজের একখণ্ড জমির উপর সম্পূর্ণ সরকারি উদ্যোগে তৈরি করে দেওয়া হচ্ছে এসব বাড়ি। ঢাকা থেকে প্রকল্প সূত্রে জানা যায় -১৯৯৭ সালের ১৯ মে কক্সবাজার জেলাসহ পার্শ্ববর্তী এলাকা ঘূর্ণিঝড়ে আক্রান্ত হওয়ায় বহু পরিবার গৃহহীন হয়ে পড়ে। দেশের তদানীন্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঐ এলাকা পরিদর্শনে যান।

তিনি মানুষের দুঃখ দুর্দশা দেখে অত্যন্ত সহানুভূতিশীল হয়ে পড়েন এবং সকল গৃহহীন পরিবারসমূহকে পুনর্বাসনের তাৎক্ষনিক নির্দেশ দেন। তারই পরিপ্রেক্ষিতে ১৯৯৭ সালে “আশ্রয়ণ” নামে একটি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। সম্পূর্ণ বাংলাদেশ সরকারের অর্থায়নে ১৯৯৭ সাল থেকে এ পর্যন্ত তিনটি ফেজে আশ্রয়ণ প্রকল্প (৯১৯৭ – ২০০২), আশ্রয়ণ প্রকল্প (ফেইজ-২) (২০০২ – ২০১০), আশ্রয়ণ-২ প্রকল্প (২০১০ – ২০১৭) মোট ১,৫৯,৮৯০টি পরিবার পুনর্বাসন করা হয়। তন্মধ্যে আশ্রয়ণ- ২ প্রকল্পের মাধ্যমে ৫৩,৯৭৭টি পরিবার পুনর্বাসন করা হয়। বর্ণিত প্রকল্পের সাফল্য ও ধারাবাহিকতায় ২০১০-২০১৯ (সংশোধিত) মেয়াদে ২.৫০ লক্ষ গৃহহীন, ছিন্নমূল পরিবার পুনর্বাসনের লক্ষ্যে আশ্রয়ণ-২ নামে এই প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। মহেশখালীতে এই বাড়ি নির্মাণ কাজ বাস্তবায়ন করছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিস।

মহেশখালী উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা শফিউল আলম সাকিব জানান, এই প্রকল্পের আওতায় মহেশখালী পৌরসভা ও অপর ৭টি ইউনিয়নে মোট ২৫৭টি বাড়ি নির্মাণ করা হচ্ছে। এর মধ্যে পৌরসভায় ৪৯টি, কুতুবজোম ইউনিয়নে ৫৭টি, ছোট মহেশখালীতে ২০টি, কালারমার ছড়ায় ৩২টি, হোয়ানকে ১৩টি, শাপলাপুরে ২৬টি, মাতারবাড়িতে ৩৬টি ও বড় মহেশখালী ইউনিয়নে ২৪টি বাড়ি রয়েছে। গেল ৫ নভেম্বর এই সব বাড়ি নির্মাণের কাজ আনুষ্ঠানিক ভাবে শুরু হয়। চলতি মাসের ২০ তারিখের মধ্যে এসব বাড়ি নির্মাণের কাজ শতভাগ সম্পন্ন হবে বলে জানান তিনি।

এদিকে গেল ৪ডিসেম্বর দুপুরে মহেশখালী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ আবুল কালাম, সহকারী কমিশনার(ভূমি) বিভীষণ কান্তি দাশ, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা সফিউল আলম সাকিবের নেতৃত্বে একটি দল এসব নির্মাণ কাজ পরিদর্শনে যান। পরিদর্শন শেষে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ আবুল কালাম সুষ্ঠ মানসম্মত ভাবে বাড়িগুলো নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হচ্ছে বলে জানান। উপজেলার কুতুবজোমে এমন একটি বাড়ি পাচ্ছেন স্থানীয় ফেরিঅলা মো. ইসমাইল। সরজমিন পরিদর্শনে গিয়ে বাড়িটিতে পাওয়া যায় তার স্ত্রী নুর আয়শা বেগমকে। আলাপকালে নুর আয়শা প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে এমন বাড়ি পেয়ে বেশ মুগ্ধতা প্রকাশ করেন।

তিনি জানান, তার স্বামী একজন ফেরিওলা। এলাকায় আইসক্রিম বিক্রি করে কোনোমতে সংসার চালান। এতোদিন তাদের কোনো স্থায়ী বাড়ি ছিল না। দুই কন্যা সন্তান নিয়ে তারা খুব কষ্টে জীবনযাপন করে আসছিল। এখন বাড়ি পাওয়ার পর স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা তাদের কাছে এসে খোঁজ খবর নিচ্ছে। এতে তারা খুশি। তিনি দুঃসময়ে তাদেরকে বাড়ি পাওয়ার জন্য নির্বাচন করায় তিনি এলাকার সন্তান আশেক উল্লাহ রফিক এমপি ও প্রধানমন্ত্রীর কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। একই ভাবে এমন প্রাপ্তিতে বেশ কৃতজ্ঞতা ও মুগ্ধতা প্রকাশ করেছেন গৃহ পাওয়া লোকজন। এবার সবচেয়ে বেশি বাড়ি পাচ্ছেন কুতুজোমের দরিদ্র লোকজন।

এপ্রসঙ্গে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা মোশাররফ হোসেন খোকন জানান, দেশের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী দরিদ্র মানুষের জন্য একটি সংবেদনশীল সত্ত্বার নাম। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাই বাস্তুহারা দরিদ্র মানুষের শেষ ঠিকানা। এলাকার জনপ্রিয় আশেক উল্লাহ রফিক এমপি’র হাত ধরে মহেশখালীতে নজিরবিহীন উন্নয়ন কাজ চলছে। এটি তারই অংশ। তিনি বলেন, কুতুবজোম একটি দরিদ্র পিড়ীত এলাকা। আগামী এলাকার দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য সরকার আরও কাজ করবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

এপ্রসঙ্গে কক্সবাজার-২ মহেশখালী-কুতুবদিয়া আসনের এমপি জানান, বর্তমানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে মহেশখালী-কুতুবদিয়ায় ব্যাপক উন্নয়ন কাজ চলছে। এলাকার জনসাধারণের সার্বিক নাগরিক সুবিধার অংশ হিসেবে বাড়ি নির্মাণ প্রকল্প প্রধানমন্ত্রীর একটি দান। আগামীতে দ্বীপাঞ্চলে এরকম আরও বহু উন্নয়ন কাজ হবে বলেও জানান তিনি।

এদিকে মহেশখালীর বাস্তুহীন দরিদ্র জনগোষ্ঠীর তুলনায় ২’শ ৫৭টি বাড়ি অপ্রতুল বলে মনে করেন অনেকেই। তারা আগামীতে এই দ্বীপাঞ্চলে এরকম আরও বাড়ি বরাদ্দের আবেদন জানান। অপরদিকে দ্রুত সময়ে মহেশখালীতে এরকম আরও ৫০০টি বাড়ি নির্মাণ করা হবে দায়িত্বশীল একটি সরকারি সূত্রে জানা গেছে।




মহেশখালীতে এবার লবণের টার্গেট ১৯ লাখ মে. টন

মহেশখালী প্রতিনিধি:

মহেশখালীতে গত বছর ১৮ লাখ মেট্রিক টন লবণ উৎপাদনের টার্গেট থাকলেও চলতি মৌসুমে প্রায় ১৯ লাখ মেট্রিক টন লবণ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে মাঠে নেমেছেন লবণ চাষীরা। হাজার হাজার চাষী লবণ উৎপাদন করে সাংসারিক জীবন পরিচালিত করে থাকে এবং দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশে লবণ রপ্তানি করে কৃষকরা।

দেশের অন্যান্য উপকূলীয় এলাকার সমুদ্রের লোনা পানির চেয়ে এ অঞ্চলের লোনা পানির ঘনত্ব সবচেয়ে বেশি তাই মহেশখালী প্রাকৃতিক উপায়ে লবণ উৎপাদন সহজ এবং দেশের লবণ উৎপাদনের প্রধান উপজেলাও বটে। জেলার সিংহভাগ লবণ উৎপাদিত হয় মহেশখালীতে। আমন মৌসুম শেষে ধান কাটার পর ইতিমধ্যে লবণ উৎপাদনের মাঠ তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন তারা।

মহেশখালী লবণ প্রদর্শনি কেন্দ্র অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার পৌরসভাসহ ৬ ইউনিয়নে আনুমানিক ৭ হাজার ৫০০ একর জমিতে ১৯ লাখ মেট্রিক টন লবণ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে মাঠে নেমেছেন প্রান্তিক চাষিরা। চলতি মাসের শুরু থেকে লবণ উৎপাদনের লক্ষ্যে মাঠ পরিচর্যা পুরোদমে শুরু করেছেন তারা। ডিসেম্বরের শেষের নাগাদ লবণ উৎপাদন শুরু হবে।

উপজেলার কালারমারছড়া প্রান্তিক লবণ চাষি সাইফুল ইসলাম বলেন, গত ২০১৬-১৭ অর্থ বছরে লবণের মৌসুমে দাম মানানসই ও আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় চাষীরা আর্থিকভাবে লাভবান হয়েছিল। আমাদের দেশের চাষিরা মাথার ঘাম পায়ে পেলে উৎপাদন করেন সাদাসোনা খ্যাত লবণ। এবারে মৌসুম অনুকূলে থাকলে চাষীরা অন্যান্য বছরের তুলনায় চলতি মৌসুমে আরো বেশি লবণ উৎপাদনের টার্গেট নিয়ে মাঠে নেমেছেন।

প্রান্তিক লবণচাষীরা জানান, গত দুই মৌসুমে সরকার বিদেশ থেকে লবণ আমদানি না করায় এবং সরকারিভাবে উপকূলীয় এলাকায় লবণচাষীদের বাঁচাতে লবণ নীতিমালাসহ দাম বৃদ্ধি করায় আমরা লবণ উৎপাদনের লক্ষমাত্রার চেয়ে বেশি লবণ উৎপাদন নিয়ে মাঠে নেমেছি। সম্পূর্ণ আধুনিক পদ্ধতিতের (পলিটিনের) মাধ্যমে সাদা সোনাখ্যাত লবণ উৎপাদিত হবে। বর্তমানে মাঠ পর্যায়ে লবণ মনপ্রতি প্রায় ৩৫০ থেকে ৪’শ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে। এ দাম স্থীর থাকলে এবং বিদেশ থেকে লবণ আমদানি বন্ধ হলে স্থানীয় লবণ চাষীরা পুরোদমে লবণ উৎপাদনে আরো সক্রিয় হবেন।

মহেশখালীর উত্তরনলবিলা লবণ কেন্দ্র প্রধান মরিুজ্জামান বলেন, চলতি মৌসুম ভাল থাকলে এবং সরকার বিদেশ থেকে লবণ আমদানি না করে থাকে চাষীরা নিঃসন্দেহে লাভবান হবে। আলহাজ্ব আশেক উল্লাহ রফিক এমপি বলেন, বর্তমান সরকার বিদেশ থেকে লবণ আমদানী ও লবণের দাম নির্ধারন করে দেওয়ায় মহেশখালীর লবণ চাষীদের মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে।




মহেশখালীতে “জশনে জুলুসে ঈদে মিলাদুন্নবী (দঃ) ” শীর্ষক র‌্যালি

মহেশখালী প্রতিনিধি:

আহলে সুন্নাত ওয়াল জামা’আত বাংলাদেশ মহেশখালী উপজেলা শাখার উদ্দ্যোগে আয়োজিত প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ (দঃ) এর শুভাগমণ উদযাপন উপলক্ষ্যে রবিবার (৩ ডিসেম্বর) সকাল ৯টায় পবিত্র “জশনে জুলুসে ঈদে মিলাদুন্নবী (দঃ) ”   শীর্ষক আনন্দ র‌্যালি ছোট মহেশখালী তৈয়্যবিয়া মাদ্রাসা থেকে শুরু হয়ে পুটিবিলা খানকায় মুনাজাত ও তৈয়্যবিয়া মাদ্রাসায় তাবারুক বিতরণের মাধ্যমে শেষ হয়।

ওই আনন্দ র‌্যালিতে ও জশনে জুলুসে উপস্থিত ছিলেন মহেশখালী-কুতুবদিয়ার সাংসদ  আলহাজ্ব আশেক উল্লাহ রফিক এমপি, আহলে সুন্নাত ওয়াল জামা’আত মহেশখালীর সভাপতি মুফতি আবু আরিফ মুহাম্মদ লোকমান, আহলে সুন্না ওয়াল জামাতের নেতৃবৃন্দদের মধ্যে সুপার মাওলানা ছিদ্দিক আজাদ, মাওলানা শফিউল আলম (চেয়ারম্যান), মাওলানা শফিউল আলম খাঁন, সুপার মাওলানা জালাল উদ্দীন ইসলামাবাদী, মাওলানা রওশন আলী, সুপার মাওলানা নেজাম উদ্দীন, সমাজ সেবক আয়ুবুর রহমান, মাওলানা সুলতান উদ্দীন আলকাদেরী, গাউছিয়া কমিটির সভাপতি জনাব শামসুল আলম (চেয়ারম্যান) মাওলানা আব্দুস সাত্তার, মাওলানা এনামুল হক, মাওলানা খাইরুল আমিন, মাওলানা মফিজুর রহমান, মাস্টার এনামুল করিম, জনাব এমএ ছবর, মাওলানা ফরিদ উদ্দীন, শাহজাহান (চেয়ারম্যান), কাজী মুহাম্মদ হোছাইন, কাজী জয়নাল আবেদীন, কাজী নুরুল আবছার,  আবু ছিদ্দীক, মাওলানা জাকের হোছাইন, হাফেজ হেফাজত উল্লাহ ফোরকানী, মাওলানা শফিউল করিম, আবছার কামাল, মাস্টার হুমায়ুন কবির, সিরাজুল মোস্তাফা, হাফেজ আবু বক্কর, মাওলানা হোছাইন ছিদ্দিকী,  আব্দুল ওয়াহেদ রাব্বানী, আবু তালেব বহদ্দার, মঈন উদ্দীন, ইমরান উল্লাহসহ আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাত, গাউছিয়া কমিটি,  ছাত্রসেনা, যুবসেনা নেতৃবৃন্দ সহ অসংখ্য রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ এবং হাজার হাজার নবীপ্রেমিক ভাইয়েরা।

সমগ্র মুসলিম মিল্লাতের জন্য দোয়ার মাধ্যমে শেষ হয়।




আগামী সংসদ নির্বাচনে নৌকা মার্কার প্রার্থীকে বিজয়ী করতে শ্রমিকলীগ রাজপথে রয়েছে

মহেশখালী প্রতিনিধি:

আগামী সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের গণজোয়ার সৃষ্টি করতে হবে, এই লক্ষে শ্রমিকলীগের প্রতিটি নেতা কর্মীকে নিরলস ভাবে কাজ করার আহ্বান জানান জাতীয় শ্রমিক লীগ জেলা সাংগঠনিক সম্পাদক ও মহেশখালী উপজেলা সাধারণ সম্পাদক সরওয়ার আলম।

তিনি বলেন, স্বাধীনতার স্বপক্ষের শক্তি হিসাবে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাথে প্রতিটি তৃনমূলে জাতীয় শ্রমিকলীগের কর্মীরা কাজ করে যাচ্ছে। সেই তুলনায় আমাদের কর্মীদের মুল্যায়ন করা হচ্ছেনা।  সরকারের প্রতিটি উন্নয়ন মুলক কাজে শ্রমিকলীগের নেতা কর্মীরা রয়েছে। আগামী সংসদ নির্বাচনে মহেশখালী কুতুবদিয়ার নৌকা মার্কার প্রার্থীর পক্ষে কাজ করে বিপুল ভোটে বিজয় করার আহ্বানও জানান তিনি।

মঙ্গলবার (২৮ নভেম্বর)  বিকাল ৩টায় ছোট মহেশখালী ইউনিয়ন পরিষদ হল রুমে ছোট মহেশখালী সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ও  ইউনিয়ন শ্রমিকলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি জাহেদ সিকদারের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক  মো. একরামুল হকের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত বর্ধিত সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে জাতীয় শ্রমিক লীগ নেতা এসব কথা বলেন।

এছাড়াও বিশেষ অতিথি ছিলেন পৌর শ্রমিকলীগের সভাপতি রিপন উদ্দিন, শাপলাপুর ইউনিয়ন সভাপতি দেলোয়ার হোসেন দুলাল, কুতুবজোম ইউনিয়ন সভাপতি মাহামুদুল করিম, হোয়ানক ইউনিয়ন সভাপতি আক্কাস বাঙ্গালী, কুতুবজোম ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মো. জসিম উদ্দিন, কুতুবজোম ইউনিয়নের সহ-সভাপতি ফারুক আলম, ছোট মহেশখালী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আব্দুল করিম, ছোট মহেশখালী ইউনিয়ন ছাত্রলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক মোম রাশেদ, ছোট মহেশখালী টমটম শ্রমিক সভাপতি মোজাম্মেল হক, পানিরছড়া আর্দশ উচ্ছ বিদ্যালয় ছাত্রলীগ সভাপতি গিয়াস উদ্দিন আজম।

এসময় আরো বক্তব্য রাখেন  ছোট মহেশখালী ইউনিয়ন শ্রমিকলীগের ৯নং ওয়ার্ড সভাপতি প্রিতোষ দে, সাধারণ সম্পাদক বিশ্বনাথ দে, ৫নং ওয়ার্ড সভাপতি আব্দুল কুদ্দুছ,  ৪নং ওয়ার্ড সভাপতি আবুল হোসেন, ৮নং ওয়ার্ড সভাপতি আব্দু শুক্কুর, ১নং ওয়ার্ডের সাধারণ সম্পাদক এরশাদ উল্লাহ প্রমুখ।




মহেশখালীতে গ্রাম আদালত সম্পর্কে ব্যাপক জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে কর্মশালা অনুষ্ঠিত

মহেশখালী প্রতিনিধি:

গ্রাম আদালতকে কার্যকর করা, স্থানীয় জনগণের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানো এবং তাদের সেবা নিতে উৎসাহ দিতে প্রকল্পভুক্ত ইউনিয়ন পরিষদ ও উপজেলা পর্যায়ে কর্মরত বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি (জাতীয়,স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক এনজিও) প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণ ও সহযোগিতা কিভাবে বাড়ানো যায় তা নিয়ে মহেশখালী উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে কর্মশালার আয়োজন করা হয়।

এতে মহেশখালী উপজেলার কর্মরত বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি কর্মকর্তাসহ মোট ৪০জন অংশগ্রহণ করেন। সোমবার(২৭ নভেম্বর) সকাল ১০টা থেকে এ কর্মশালা দিনব্যাপী উপজেলা হলরুমে অনুষ্ঠিত হয়।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ আবুল কালামের সভাপতিত্বে কর্মশালায় ইউএনডিপির কক্সবাজার ডিস্ট্রিক ফ্যাসপলিটেটর আখ্যাই মং মারমা বলেন, বাংলাদেশে গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ প্রকল্প (২য় পর্যায়) ব্লাস্ট মহেশখালী উপজেলায় জাতিসংঘের উন্নয়ন সংস্থা (ইউএনডিপি) ও ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত ‘বাংলাদেশে গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ (২য় পর্যায়) প্রকল্প-এর আর্থিক ও কারিগরি সহায়তায় সহযোগী সংস্থা বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড এন্ড সার্ভিস ট্রাস্ট (ব্লাষ্ট)এর কর্মশালা আয়োজনে বিশেষ সহযোগিতা প্রদান করে।

বর্তমানে কক্সবাজার জেলার মোট ৬ উপজেলার ৩৬টি ইউনিয়নে এ প্রকল্পটি কাজ বাস্তবায়ন হচ্ছে। মহেশখালী উপজেলায় ৬টি ইউনিয়নে ৯৭২০জন নারী পুরুষের মাঝে ৬৪৮টি উঠান বৈঠক, ৮টি র‌্যালি, বিভিন্ন ভিডিও শো প্রদর্শন করেন। এই প্রকল্পের সুনির্দিষ্ট উদ্দেশ্য হলো স্থানীয়ভাবে সহজে, স্বল্প সময়ে, স্বল্প ব্যায়ে এবং স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় বিরোধ নিষ্পত্তিতে গ্রাম আদালতের মূখ্যঅংশীজনদের (যারা বিচারিক কাজে যুক্ত থাকবেন বিশেষভাবে ইউপি চেয়ারম্যান ও সদস্যবৃন্দ) সক্ষম করে তোলা এবং অন্যায়ের প্রতিকার লাভের জন্য তৃণমুলের দরিদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠী, বিশেষত নারীদের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহায়ক হিসেবে ভূমিকা রাখবে।

এসময় ব্লাস্ট মহেশখালী উপজেলা সম্বনয়কারী আব্দুল কাদের, উপজেলা শিক্ষা অফিসার তাজরুল ইসলাম ,উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শামসুল আলম, ডাক্তার আশরাফুল আলম, মৎস্য কর্মকর্তা ছাবেদুল হক, সমবায় কর্মকর্তা  গোলাম মাসুদ কুতুবী, ইন্সট্রাক্টর মো. গোলাম গফুর, সমাজসেবা অফিসের প্রতিনিধি ওমর ফারুক, সাংবাদিক নেতা আমিনুল হক, মাস্টার তৌহিদা আকতার, সূর্যের হাসিক্লিনিকের ম্যানেজার সাজ্জাত হোসেন, রিক এরিয়া ম্যানেজার রাশেদুল, আনোয়ার, ওয়েস্তা সংস্থার হামিদুল হক মানিক, ইউএমটিবির মো. আব্রাহাম লিংকন, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র শাথা ব্যবস্থাপক লাচোখিং, ব্র্যাক কর্মসূচি সংগঠক মো. সালাউদ্দিন, নিউট্রিশন সুপারভাইজার রাখনাথ দত্ত, বাংলা জার্মান সম্প্রীতির ম্যানেজার খোরশেদ আলম, মুক্তির শাখা ব্যবস্থাপক সাগর শর্মা, বুরো বাংলাদেশের শাখা ব্যবস্থাপক মো. শামসুল আলম, উপকুল এর ম্যানেজার আনোয়ার হোসেন, আশার ম্যানেজার মো. সিরাজুল হক, সিসিডিএফ এর নির্বাহী পরিচালক সুব্রত দত্ত, কোস্ট ট্রস্ট এর সজল কুমার শীল, ইপসার প্রজেক্ট অফিসার এম আজিজুল হক, মুক্তির প্রকল্প সম্বনয়কারী ফয়সাল মাহামুদ সাকিব বাংলাদেশ মহিলা আইনজীবী সমিতির লিগ্যাল এইড কমিটির উপজেলা সম্বনয়কারী আব্দুল হান্নান, মহেশখালীজেলা ছোট মহেশখালী গ্রাম আদালত সহায়ক আব্দুল করিম উপস্থিত ছিলেন।




মহেশখালীর কালারমারছড়ায় অগ্নিকাণ্ডে ৫টি বাড়ি পুড়ে ছাই

মহেশখালী প্রতিনিধি:

কক্সবাজারের মহেশখালীতে রান্না ঘরের চুলা থেকে আগুনের সৃষ্টি হয়ে আপন ৪ ভাইসহ ৫জনের বাড়ি আগুনে পুড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

বৃহাস্পতিবার(২৩ নভেম্বর) সকাল ১১টায় মহেশখালী উপজেলার কালারমারছড়া ইউনিয়নের ইউনুচখালী মাইজ পাড় গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আবুল কাসেম জানান, আজিজুর রহমানের পুত্র আবুল কাশেম এর রান্না ঘর থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়।

অগ্নিকাণ্ড প্রায় ২ ঘন্টাব্যাপী চলে, গোরকঘাটা এলাকা থেকে ফায়ার সার্ভিস গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণ আনে। এসময় বাড়িরচালা, ধান, স্বর্ণ ও নগদ টাকাসহ মূল্যবান জিনিস পত্র আগুনে পুড়ে যায়।

আগুনে ক্ষতিগ্রস্তরা হলেন, আজিজুর রহমানের পুত্র নুর মোহাম্মদ, আবু তাহের, আবুল কালাম, লাতু মিয়ার পুত্র মোহাম্মদ মাসুক। মাটির দেওয়াল টিনের চালা বিধ্বস্ত হয়ে ৫ পরিবারের ৩৭জন সদস্য খোলা আকাশের নিচে বসবাস করছে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ আবুল কালাম জানান, অগ্নিকাণ্ডের বিষয়টি শুনেছি, ক্ষতিগ্রস্ত লোকজনকে সহায়তা দেওয়ার চেষ্টা রয়েছে।




মহেশখালীতে পুলিশের হাতে ১০ অস্ত্র ও গুলাবারুদসহ জামায়াত ক্যাডার গ্রেফতার

মহেশখালী প্রতিনিধি

মহেশখালী থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে জামায়াত নেতা গোলাম আযমের দেহরক্ষী আকতার হামিদের ছোট ভাই ১১ মামলার পলাতক আসামি দুর্ধর্ষ জামায়াত ক্যাডার মো. শাহাজান(৩৮) কে ১০ দেশীয় তৈরি অস্ত্র ও ৯ রাউন্ড গুলিসহ গ্রেফতার করেছে।

বৃহস্পতিবার(২৩ নভেম্বর) ভোর রাত্রে উপজেলার হোয়ানক ইউনিয়নের কেরুনতলী এলাকার আইজ্জ্যামোলা ঘোনায় অভিযান চালিয়ে পুলিশ তাকে অস্ত্র ও গুলাবারুদসহ গ্রেফতার করে।

গ্রেফতারকৃত মো. শাহাজান উপজেলার হোয়ানক ইউনিয়নের কেরুনতলী এলাকার সাবেক চেয়ারম্যান মৃত আবদুল মাবুদ চৌধুীর পুত্র বলে জানা গেছে। তার বিরুদ্ধে মহেশখালী থানায় হত্যা, ডাকাতি ও অস্ত্রসহ ১১ মামলা রয়েছে বলেও থানা সূত্রে প্রকাশ।

পুলিশ জানান, বৃহস্পতিবার(২৩ নভেম্বর) ভোর রাত ৩টার সময় মহেশখালী থানার অফিসার ইনচার্জ প্রদীপ কুমার দাশ এর নেতৃত্বে একদল পুলিশ গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উপজেলার হোয়ানক ইউনিয়নের কেরুনতলী এলাকার আইজ্জ্যামোলা ঘোনায় অভিযান চালিয়ে ২টি দেশীয় তৈরি লম্বা বন্দুক ৮টি দেশীয় তৈরি কাটা বন্দুক ও ৯ রাউন্ড গুলিসহ ক্যাডার মো. শাহাজান(৩৮)কে গ্রেফতার করে। তার বিরুদ্ধে মহেশখালী থানায় হত্যা, ডাকাতি ও অস্ত্রসহ ১১ মামলা রয়েছে বলে থানা সূত্রে জানা যায়। তার গ্রেফতারে এলাকায় স্বস্তি ফিরে এসেছে।

গ্রেফতারকৃতের বিরুদ্ধে পুলিশ বাদী হয়ে মহেশখালী থানায় সংশ্লিষ্ট আইনে মামলা দায়ের করেছে বলে থানা সূত্রে জানাযায়। তবে তার পরিবারের দাবি শাহাজাহান কে পরিকল্পিত ভাবে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছে প্রতিপক্ষের লোকজনরা।




কুখ্যাত জলদস্যু জাম্বু র‌্যাবের সাথে বন্দুকযুদ্ধে নিহত: ৪৪টি আগ্নেয়াস্ত্রসহ ১,২১৫ রাউন্ড গুলি উদ্ধার

মহেশখালী প্রতিনিধি:

কক্সবাজারে র‌্যাবের সাথে বন্দুকযুদ্ধে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী, সোনাদিয়ার ত্রাস ও জলদস্যু মোকারম হোসেন জাম্বু ((৩৮) ) নিহত হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে ৪৪টি বিভিন্ন ধরণের আগ্নেয়াস্ত্র, ১,২১৫ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়েছে।

রোববার বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে জেলার মহেশখালী উপজেলা সোনাদিয়া দ্বীপে এ ঘটনা ঘটেছে। নিহত জাম্বু সোনাদিয়া পূর্বপাড়ার এখলাস মিয়ার পুত্র। র‌্যাব কক্সবাজার ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার মেজর রুহুল আমিন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

মেজর রুহুল আমিন জানান, লে. কর্ণেল মিফতাহ উদ্দিন আহমদ এর নেতৃত্বে সোনাদিয়ায় অভিযান চালানো হয়। এসময় সেখানে পৌঁছালে উপস্থিতি টের পেয়ে সন্ত্রাসীরা র‌্যাবকে লক্ষ্য করে এলোপাথাড়ি গুলি বর্ষণ করে। আত্মরক্ষার্থে র‌্যাবও পাল্টা গুলি ছুঁড়ে। গোলাগুলির এক পর্যায়ে সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যায়।

পরে ঘটনাস্থলে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় জলদস্যু মোকারম হোসেন জাম্বুকে পাওয়া যায়। দ্রুত কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। ঘটনাস্থল থেকে বিদেশি পিস্তলসহ ৪৪টি আগ্নেয়াস্ত্র, ১ হাজার ২১৫ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়েছে।

র‌্যাব জানান জলদস্যু জাম্বুর নামে কক্সবাজার জেলার বিভিন্ন থানায় ডাকাতি, খুন, ধর্ষণ, চাঁদাবাজিসহ মোট ১২টি মামলা রয়েছে।