মহালছড়ি আর্মি জোন কর্তৃক এলাকার শীতার্তদের মাঝে কম্বল বিতরণ

IMG_20170118_104404 copy

মহালছড়ি প্রতিনিধি:

পার্বত্য খাগড়াছড়ি জেলার মহালছড়ি উপজেলায় আর্মি জোন কর্তৃপক্ষ বুধবার এলাকার গরীব শীতার্ত পরিবারের মাঝে কম্বল বিতরণ করেন।

বুধবার সকাল দশ টার সময় সিঙ্গীনালা উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে মহালছড়ি আর্মি জোনের জোন কমান্ডার মোহাম্মাদ হুমায়ন কবির এসপিপি, পিএসসি  উপস্থিত থেকে এলাকার গরীব ও অসহায় পরিবারের  মাঝে  প্রায় ৫০০পিস উন্নতমানের  কম্বল বিতারন করেন। এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন সাবেক জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বাবু রুইথুই কার্বারি, উপজেলা বি আর ডিপির চেয়ারম্যান বাবু কংজরী চৌধুরী, সিঙ্গীনালা উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রধান  শিক্ষক, সিঙ্গীনালা সরকারী প্রথমিক বিদ্যালয়’র প্রধান শিক্ষক সহ এলাকার গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

এদিকে এসব গরীব,  অসহায় শীতার্ত মানুষ ও পরিবারের লোকজন শীতের কম্বল পেয়ে অত্যন্ত খুশি ও আনন্দিত।

এসময় এক হতদরিদ্র ও অসহায় গৃহহীন  পরিবারকে একটি গৃহ নির্মান প্রতিশ্রুতি  দেন মহালছড়ি আর্মি জোনের জোন কমান্ডার।  কর্তৃপক্ষের এ মহতি উদ্যোগকে স্বাগত ও অভিনন্দন জানিয়েছেন এলাকার সচেতন মহলসহ গণমাধ্যম ব্যক্তিবর্গরা।




মহালছড়ি ডিগ্রী কলেজের একাডেমিক ভবন নির্মাণ কাজের উদ্বোধন ও ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালন

untitled-2-copy

মহালছড়ি প্রতিনিধি:

খাগড়াছড়ি জেলার মহালছড়ি ডিগ্রী কলেজের নবনির্মিত ভবন উদ্বোধন করেন খাগড়াছড়ি ২৯৮নং আসনের এমপি এবং খাগড়াছড়ি জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা। বুধবার এ উপলক্ষে মহালছড়ি ডিগ্রী কলেজে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

কলেজের অধ্যক্ষ মৈত্রী প্রসাদ খীসার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলেচানা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন সাংসদ কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা। বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন, মহালছড়ি উপজেলা চেয়ারম্যান বিমল কান্তি চাকমা, উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়া, খাগড়াছড়ি জেলা পরিষদ সদস্য জুয়েল চাকমা, সতিশ চাকমা, মংসিপ্রু চৌধুরী অপু, উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতিসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ও অন্যান্য বক্তারা পার্বত্য চট্টগ্রামের সার্বিক উন্নয়নসহ শিক্ষা ব্যবস্থার গুণগত মান উন্নয়নের বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর আন্তরিকতার প্রশংসা করেন এবং কলেজের ছাত্র-ছাত্রীদের মনযোগ সহকারে পড়ালেখা করে এলাকার এবং দেশ ও জাতির কল্যানে আত্মনিয়োগ করার  পরামর্শ দেন।

এরপর প্রধান অতিথি তার সফর সঙ্গীদের নিয়ে মহালছড়ি মডেল পাইলট হাই স্কুল মাঠে মহালছড়ি ছাত্রলীগ আয়োজিত বাংলাদেশ ছাত্রলীগের ৬৯তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীর অনুষ্ঠান স্থলে পৌঁছে বিকেলে সম্মেলনের উদ্বোধন করেন। বাংলাদেশ ছাত্রলীগের ৬৯তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষ্যে উপজেলা ছাত্রলীগ এ দিন হাই স্কুল মাঠে এক আলোচনা সভার আয়োজন করেন। এর পূর্বে ছাত্রলীগ এক বণার্ঢ্য র‌্যালী সহকারে এলাকা প্রদক্ষিণ করে সমাবেশ স্থলে এসে পৌঁছালে ছাত্রলীগ সভাপতি মো. জিয়াউর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ও অন্যান্য অতিথিবৃন্দ বক্তব্য রাখেন। এরপর সন্ধ্যায় এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক সন্ধ্যার আয়োজন করা হয়েছে।




মহালছড়ি উপজেলায় যথাযোগ্য মর্যাদায় মহান বিজয় দিবস উদযাপন

666

 মহালছড়ি প্রতিনিধি:

খাগড়াছড়ি জেলার মহালছড়ি উপজেলায় দিনব্যপী নানা কর্মসূচী, ও বর্ণাঢ্য আয়োজন এবং যথাযোগ্য মর্যাদায়  মহান বিজয় দিবস উদযাপিত হয়েছে।  মহালছড়ি উপজেলার কেন্দ্রীয় স্মৃতিসৌধে উপজেলা প্রশাসন, মহালছড়ি প্রেসক্লাব, শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধা ক্যা. আফতাবুল কাদের স্মৃতি সংসদ, উপজেলা আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠন, উপজেলা জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি ও সহযোগী সংগঠন, মহালছড়ি এপিবিএন আইডিয়েল স্কুল এন্ড কলেজ, মহালছড়ি মডেল হাই স্কুল, সদর এলাকার প্রাথমিক ও অন্যান্য শিশুতোষ স্কুলগুলি আমাদের মহান বিজয়ের ৪৫ দিবসের সূচনা লগ্নে বর্ণাঢ্য র‌্যালিসহ বাঙালী জাতির গৌরব ও ঐতিহ্যের এ দিনে পুস্ফস্তবক অর্পনের মধ্যদিয়ে শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধাদের শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন। এ সময় ফুলে ফুলে ভরে উঠেছিল স্মৃতিসৌধ।

মহালছড়ি উপজেলাবাসী, স্থানীয় রাজনৈতিক দলগুলি ও তাদের সহযোগী সংগঠনগুলি, উপজেলা প্রশাসন স্থানীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সমূহ এবং অন্যান্য সংগঠনগুলি আমাদের গৌরবদীপ্ত মহান দিবস যথাযোগ্য মর্যাদায় পালনের জন্য যেসব কর্মসূচী পালন করেন, উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে স্থানীয় স্টেডিডিয়ামে আনুষ্ঠানিক জাতীয় পতাকা উত্তোলন, সংক্ষিপ্ত আলোচনানুষ্ঠান, বিভিন্ন স্কুলের শিক্ষার্থীদের শরীর চর্চা প্রদর্শনী, মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধণা, পুরষ্কার বিতরণ, রাজনৈতিক দলগুলিও তাদের দলীয় কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন এবং আলোচনা সভানুষ্ঠান করেন।

মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে এ দিন এলাকার সরকারী, আধা সরকারী, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, এনজিও এবং বিভিন্ন সংগঠন কার্যালয়ে যথাযোগ্য মর্যাদায় জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। এ দিন হাসপাতাল, এতিম খানা ও আবাসিক হোটেলে উন্নতমানের খাবার পরিবেশন করা হয়।

শুক্রবার বিকেলে মহালছড়ি প্রেসক্লাব ও শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধা ক্যা. আফতাবুল কাদের স্মৃতি সংসদ যৌথভাবে এক আলোচনা সভার আয়োজন করেছে। এলাকা ভিত্তিক “মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস জানুন” শির্ষক  আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করবেন, মহালছড়ি প্রেসক্লাব ও শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধা ক্যা. আফতাবুল কাদের স্মৃতি সংসদ এর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি দৈনিক খবরপত্র পত্রিকার মহালছড়ি প্রতিনিধি দীপক সেন। সভায় বক্তব্য রাখবেন, মহালছড়ি প্রেস ক্লাবের সম্পাদক মো. সাহাদাৎ হোসেন আফতাবুল কাদের স্মৃতি সংসদের সম্পাদক মো. মোশাররফ হোসেনসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

দিবসটি পালন উপলক্ষে মহালছড়িস্থ চোংড়াছড়ি গুচ্ছগ্রামের শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধা ক্যা. আফতাবুল কাদের বীর উত্তম উচ্চ বিদ্যালয়ে পৃথক কর্মসূচী পালন করা হয়। কর্মসূচী হলো বিদ্যালয় প্রাঙ্গনের অস্থায়ী (একদিনের) স্মৃতিসৌধে পুস্ফস্তবক অর্পণ, জাতীয় পতাকা উত্তোলন, কুচকাওয়াচ প্রদর্শণী এবং বিভিন্ন ইভেন্টে ক্রীড়ানুষ্ঠান আলোচনা সভা ও পুরষ্কার বিতরণী অনুষ্ঠান। সর্বশেষ মহালছড়ি হাই স্কুল মাঠে বিশাল আয়োজনে সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা। এ সব অনুষ্ঠান উপভোগ করতে দিনভর অগনিত দর্শকের সমাগম চলছে।




মহালছড়ি আর্মি জোন কর্তৃপক্ষ এলাকার শীতার্তদের মাঝে কম্বল বিতরণ

456

মহালছড়ি প্রতিনিধি:

পার্বত্য খাগড়াছড়ি জেলার মহালছড়ি উপজেলায় আর্মি জোন কর্তৃপক্ষ বৃহস্পতিবার এলাকার গরীব শীতার্ত পরিবারের মাঝে কম্বল বিতরণ কর্মসূচী গ্রহণ করেছে।

কর্মসূচীর প্রথমদিন বুধবার রাত দশ টার থেকে শুরু করে রাত তিনটা পর্যন্ত ৭০ টি উন্নতমানের কম্বল উপজেলা সদরের আশপাশের গ্রামগুলির গরিব শীতার্ত মানুষ ও পরিবারের মধ্যে বিতরণ করেছে।

মহালছড়ি আর্মি জোন কর্তৃপক্ষের পক্ষে মেজর মো. এসএস সালেহ বিন সফি, ক্যা. আরিফুর রহমান ও সেকেন্ড ল্যা. মো. তাম্মাম, এ কম্বল বিতরণ করেন। এ সময় মহালছড়ি প্রেসক্লাবের নেতৃবৃন্দরা তাদের সঙ্গে থেকে কর্মসূচীতে সহযোগিতা করেন। এ কর্মসূচী এলাকার গরিব শীতার্ত মানুষের জন্য পুরো শীত মওশুম অব্যাহত থাকবে বলে নিশ্চিত করেছেন মহালছড়ি আর্মি জোন কর্তৃপক্ষ। এদিকে এসব শীতার্ত মানুষ ও পরিবারের লোকজন শীতের কম্বল পেয়ে অত্যন্ত খুশি ও আনন্দিত।

মহালছড়ি আর্মি জোন কর্তৃপক্ষের এ মহতি উদ্যোগকে স্বাগত ও অভিনন্দন জানিয়েছেন এলাকার সচেতন মহলসহ গণমাধ্যম ব্যক্তিত্বরা।

এ উদ্যোগ ও কর্মসূচী অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।




মহালছড়ি উপজেলায় শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা

10

মহালছড়ি প্রতিনিধি:

বিজয়ের ঊষালগ্নে মহান বিজয়ের ঠিক দু’দিন আগে হানাদার বাহিনীর দোষরদের ষড়যন্ত্রের কারণে ৭১-এর এ  দিনে দেশের খ্যাতিমান বুদ্ধিজীবীদের ধরে নিয়ে গিয়ে নিমর্মভাবে হত্যা করেছিল হানাদার বাহিনী। এটি ছিল বাঙ্গালী জাতিকে মেধাশুনা করার অপকৌশল। এ নির্মমতার শোকাবহদিনটি দেশবাসী স্বশ্রদ্ধ ও বিনম্রচিত্তে স্মরণ করেন। তারই অংশ হিসেবে মহালছড়ি উপজেলা প্রশাসন শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস-২০১৬ উদযাপন উপলক্ষে এক আলোচনা সভার আয়োজন করে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইলিয়াস মিয়ার সভাপতিত্বে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় বুদ্ধিজীবী দিবসের তাৎপর্য ও গুরুত্ব সংক্রান্ত বক্তব্য রাখেন, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সদর ইউপি চেয়ারম্যান রতন কুমার শীল, উপজেলা চেয়ারম্যান বিমল কান্তি চাকমা, ভাইস চেয়ারম্যান কাকলী খীসা, থানার ওসি সেমায়ুন কবির চৌধুরী প্রমূখ।

এ আলোচনা সভায় এলাকার জনপ্রতিনিধি, গন্যমান্য ব্যক্তি, সাংবাদিক ও সরকারী বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন। আলোচনা সভায় শহীদ বুদ্ধিজীবীদের রুহের মাগফেরাত কামনা করা হয় এবং শহীদ বুদ্ধিজীবীদের স্মরণে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নিরবতা পালন করা হয়।




সবার নজর এড়িয়ে যাবেন বীরাঙ্গনা ‘হ্লাম্রাসং মারমা’রাই

pic-3-copy

নিজস্ব প্রতিবেদক:

মুক্তিযুদ্ধের সময় সমতলের ন্যায় পাহাড়েও নৃশংস আর অমানবিক অত্যাচারের ঘটনা ঘটেছিল।দীর্ঘদিন চাপা পড়ে আছে সেসব ঘটনা। খাগড়াছড়ির মহালছড়িতে বীরাঙ্গনা ‘হ্লাম্রাসং মারমা’ তাদেরই একজন। ১৬ ডিসেম্বর পুরো জেলাজুড়ে সরকারী-বেসরকারী উদ্যোগে অনেক আনুষ্ঠানিকতা হবে। কিন্তু সবার নজর এড়িয়ে যাবেন ’৭১ নির্যাতিত ‘হ্লাম্রাসং মারমা’রাই।

মুক্তিযুদ্ধের সময় সম্ভ্রমহারানো এ নারীকে স্বচক্ষে দেখতে গিয়েছিলেন, খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদ সদস্য ও আওয়ামী লীগ নেতা জুয়েল চাকমা। সাবেক এই ছাত্রনেতা  শুক্রবার দুপুর দেড়টায় হ্লাম্রাসং মারমার বাড়িতে গিয়ে জেলা পরিষদ এর পক্ষে সরেজমিনে তার খোঁজ খবর নেন এবং হ্লাম্রাসং মারমাকে শীত বস্ত্র, লুঙ্গি, বালিশ, বেডশীট, চাদর ও নগদ টাকা প্রদান করেন।

এসময় জুয়েল চাকমা বীরঙ্গনা হ্লাম্রাসং মারমাকে বলেন, এ সবের কৃতিত্ব সম্পূর্ণ সরকারের। পার্বত্য জেলা পরিষদ সরকারের একটা মাধ্যম মাত্র। একমাত্র আওয়ামী লীগ সরকারই মুক্তিযোদ্ধা ও বীরাঙ্গনাদের যথোপযুক্ত সম্মান দিতে জানে।

 

জুয়েল চাকমা’র ফেইসবুক স্ট্যাটাস থেকে জানা যায়, তিনি দীর্ঘদিন ধরেই মহীয়সী নারী ‘হ্লাম্রাসং মারমা’র খোঁজ খবর নিচ্ছিলেন। বিভিন্ন মিডিয়া আর সরাসরি মাধ্যমে তার খবর নিয়ে আসছেন। কোন প্রকার প্রচার কাতরতা বা আত্ম জাহিরের মানসিকতার বিপরীতে ‘হ্লাম্রাসং মারমা’র আত্মত্যাগের প্রতি শ্রদ্ধাবনত চিত্তে পদধূলি নেবার মানসেই তিনি তার কাছে ছুটে গিয়েছেন।

 

তিনি উল্লেখ করেন, খাগড়াছড়ির সংসদ সদস্য কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা এবং জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কংজরী চৌধুরীর সাথে পরামর্শ করে তিনি এসব বঞ্চিত বীরাঙ্গণা ও মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি আরো বেশী দায়িত্ববান হতে আশাবাদী।




অমানবিকভাবে সম্মানী ভাতা বন্ধ মহালছড়ির ১০ মুক্তিযোদ্ধার

unnamed-1-copy

নিজস্ব প্রতিবেদক:

অজ্ঞাত কারণে খাগড়াছড়ি জেলার মহালছড়িতে ১০ বীর মুক্তিযোদ্ধা প্রায় এক বছর ধরে সম্মানী ভাতা পাচ্ছেন না । ভাতার জন্য মুক্তিযোদ্ধারা মাসের পর মাস  ঘুরছেন উপজেলা, জেলা প্রশাসন ও মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের টেবিলে। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না। ফলে পরিবার-পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছে তারা।

১৯৭১-এর  মহান মুক্তিযুদ্ধে খাগড়াছড়ির মহালছড়িতে  রয়েছে বীরত্ব গাঁথা ইতিহাস। সম্মূখ যুদ্ধে মহালছড়িতে শহীদ হয়েছিলেন, অসীম সাহসী ক্যাপ্টেন আফতাবুল কাদের। নিখোঁজ হয়েছেন বেশ কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধা। যাদের সন্ধান এখনও পান নি স্বজনরা।

দেশ স্বাধীনের পর থেকে মহালছড়ি উপজেলার ২৫ মুক্তিযোদ্ধা দীর্ঘ  ভাতা পেয়ে আসলেও একজন মুক্তিযোদ্ধা মারা যাওয়ায় সংখ্যা নেমে আসে ২৪। কিন্তু  অজ্ঞাত কারণে গত জানুয়ারী মাস থেকে ১০ বীর মুক্তিযোদ্ধার প্রতি মাসে জন প্রতি ১০ হাজার টাকা সম্মানী ভাতা বন্ধ হয়ে যায়। এ নিয়ে একাধিকবার বিভিন্ন দপ্তরে ধর্না দিলেও বিষয়টির কোনো সুরাহা হয় নি। ফলে এ নিয়ে বিক্ষুদ্ধ মুক্তিযোদ্ধাদের রয়েছে নানা ক্ষোভ।

মুক্তিযোদ্ধা মো: শাহ জাহান পাটোয়ারী  বলেন, প্রশাসনিক জটিলতার কারণে গত ১০ মাস ভাতা পাচ্ছেন না তারা। নামে ভাতা বন্ধ না করে সংখ্যায় বন্ধ হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে মুক্তিযোদ্ধা সংসদও বিপাকে পড়েছে। এখন ১৪ জনের ভাতা পর্যায়ক্রমে ২৪ জনের মধ্যে বন্টন করা হচ্ছে। তিনি ক্ষোভের সাথে আরও বলেন, এটি বয়স্ক ভাতা বা বিধবা ভাতা নয়, এটি আমাদের সম্মানী ভাতা। ভাতা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আমরা অপমান বোধ করছি।

প্রয়াত মুক্তিযোদ্ধা সাহেব মিয়ার ছেলে মো:  জসিম উদ্দিন বলেন, তারা ভাতা নিয়ে ভোগান্তিতে আছেন। ইউএনও অফিসে গেলে বলা হয় ডিসি অফিসে যাও, ডিসির  অফিসে গেলে বলা হয় মন্ত্রণালয়ে যাও। এভাবে এক বছর পার হয়ে গেছে।

মহালছড়ি উপজেলা  মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার চাহ্লাপ্রু চৌধুরী ভাতা বন্ধ হওয়ার জন্য  উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়াকে দায়ী করে বলেন, তার  ভুলের কারণে মুক্তিযোদ্ধারা গত প্রায় এক বছর ধরে তাদের সম্মানী ভাতা পাচ্ছেন না। এ বিষয়ে তিনি বিভিন্ন দপ্তরে ধর্না দিলেও কোন ফল পান নি।

তবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা  মোহাম্মদ ইলিয়াছ মিয়া তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, কারণটা তার জানা নেই।

খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ ওয়াহিদুজ্জামান,  বলেন তিনি এ বিষয়ে মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রনালয়ে চিঠি লিখেছেন। তিনি আশা করেন শীঘ্রই এ সমস্যার সমাধান হবে।

অপর দিকে জেলা প্রশাসন বিষয়টিকে  ‘অমানবিক’ আখ্যায়িত করে শীঘ্রই সমস্যার সমাধান হবে বলে আশা করেন।

খাগড়াছড়ির মহালছড়ি উপজেলার ১০ মুক্তিযোদ্ধা দ্রুত বকেয়াসহ তাদের সম্মানী ভাতা পাবেন এ প্রত্যাশা জেলাবাসীর।




মহালছড়িতে ‘পার্বত্য এলাকার জনগোষ্ঠীর শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান’ শীর্ষক মতবিনিময় সভা

sam_1527-copy

মহালছড়ি প্রতিনিধি:

পার্বত্য খাগড়াছড়ি জেলার মহালছড়ি উপজেলাস্থ মহালছড়ি আর্মি জোন সদরে ‘পার্বত্য এলাকার জনগোষ্ঠীর শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান’ শীর্ষক এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

জোন কর্তৃক আয়োজিত এ মতবিনিময় সভায় এলাকার জনপ্রতিনিধি, গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, বিভিন্ন পেশাজীবি, হেডম্যান, কার্বারী, ব্যবসায়ী প্রতিনিধি, শিক্ষক, ধর্মীয় গুরু, রাজনৈতিক দলের ও তাদের সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, সাংবাদিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন।

এ সভায় মহালছড়ি জোন অধিনায়ক লে: কর্ণেল মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির এসপিপি, পিএসসি এলাকার শান্তিপূর্ণ পরিবেশ অক্ষুন্ন রেখে সকল ধর্মাবলম্বী তথা পার্বত্য এলাকার বসবাসরত সকল জনগোষ্ঠীর শান্তিপূর্ণ সহবাস্থান এবং ভ্রাতৃত্বপূর্ণ পরিবেশ অব্যাহত রাখার উপর গুরুত্বারোপ করে বক্তব্য রাখেন। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন, জোন উপঅধিনায়ক মেজর মো: রুমান মাহমুদ, জেড এসও মেজর মো: সালেহ বিন সফি, উপজেলা চেয়ারম্যান বিমল কান্তি চাকমা, খাগড়াছড়ি জেলা পরিষদ, চেয়ারম্যান, রুইতি কার্বারী, মহালছড়ি সদর ইউপি চেয়ারম্যান, রতন কুমার শীল, প্রমূখ।

উক্ত মত বিনিময় সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে উপজেলা চেয়ারম্যান বর্তমান পরিস্থিতিতে এ ধরনের সময়োপযোগী পদক্ষেপ গ্রহণ করায় জোন কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানান। এ সময় অন্যান্য প্রসঙ্গের সাথে বিরাজমান সমস্যা ও তার সমাধানের ব্যাপরে অগ্রাধিকার দিয়ে বক্তব্য রাখেন। তিনি মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের উপর নির্যাতনের জন্য  সে দেশের সরকার ও সেদেশের নিরাপত্তা বাহিনীকে দায়ী করে অবিলম্বে তা বন্ধ করার দাবী জানান।

এছাড়াও মত বিনিময় সভায় বক্তারা এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রেখে সকল ধর্মাবলম্বী জনগোষ্ঠীর সহাবস্থানের ব্যাপারে গুরুত্বারোপ করে বক্তব্য রাখেন।




মহালছড়িতে তথ্য অধিকার আইন ২০০৯ বিষয়ক জনঅবহিতকরণ সভা

img_20161204_112017-1-copy

মহালছড়ি প্রতিনিধি:

পার্বত্য খাগড়াছড়ি জেলার মহালছড়ি উপজেলায় তথ্য অধিকার আইন-২০০৯ বিষয়ক গুরুত্বপূর্ণ জন অবহিতকরণ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

রবিবার মহালছড়ি উপজেলা টাউন হলে অনুষ্ঠিত এ জনঅবহিতকরণ সভায় প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন তথ্য কমিশনার প্রফেসর ড. খুরশীদা বেগম সাঈদ। মহালছড়ি উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মাদ ইলিয়াস মিয়া এর  উপস্থাপনায় অনুষ্ঠিত সভায় বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা চেয়ারম্যান বিমল কান্তি চাকমা, ভাইস চেয়ারম্যান কাকলী খীসা,মহালছড়ি থানা অফিসার ইনচার্জ মোঃ সেমায়ুন কবির তথ্য কমিশনের কর্মকর্তা মোঃ শাহাদাৎ হোসেন।

সভায় প্রধান অতিথি তার গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্যে বলেন, তথ্য কমিশনের মূল কাজ হলো তথ্য কি, তার উপযোগিতা ও উপকারিতা এবং আবশ্যকতা কি, এসব সম্পের্কে জনগনকে অবহিত করা এবং তথ্যের আদান প্রদানে প্রশিক্ষণের মাধ্যেমে জন সচেতনতা সৃষ্টি  করা।

তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকার জনগনের সরকার হিসাবে জনগনের জন্য তথ্য জানার অধিকারকে আইন করে যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহন করেছে। যার সঠিক ব্যবহার  ও প্রয়োগের জন্য তথ্য কমিশন নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। আগামীতে তথ্য অধিকার আইন পাঠ্যসূচিতে অন্তভূক্তির কাজ চলছে বলেও তিনি জানান।

সভায় এলাকার জন্য প্রতিনিধি, গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, সরকারী দপ্তর সমূহের অফিসারবৃন্দ, মহালছড়ি প্রেসক্লাবের নেতৃবৃন্দসহ আরও অনেকে উপস্থিত ছিলেন।




শান্তিচুক্তির ১৯ বছর পূর্তিতে মহালছড়িতে বিজয় র‌্যালি, সমাবেশ

sam_1508-copy

মহালছড়ি প্রতিনিধি:

পার্বত্য শান্তিচুক্তির ১৯ বছর পূর্তি উপলক্ষে খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলার মহালছড়ি উপজেলায় বিজয় র‌্যালি, সমাবেশ ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

দিবসটি যথাযথভাবে পালনে এদিন মহালছড়ি এলাকাবাসীর উদ্যোগও আয়োজনে এবং মহালছড়ি জোন কর্তৃপক্ষের সার্বিক সহযোগীতায় স্মরনাতীতকালের এক সুশৃঙ্খল বর্ণাঢ্য বিজয় র‌্যালি অনুষ্ঠিত হয়।

মহালছড়ি জোন কর্তৃপক্ষের পক্ষে জোন অধিনায়ক লে: কর্ণেল মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির এসপিপি-পিএসসি, লে: আরিফুর রহমান, মেজর সালেদিন সফি, সেকেন্ড. লে. তাম্মাম, ও ক্যা: মোজাম্মেল হক। মহালছড়ি উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়া এর নেতৃত্বে বেশ কিছু সরকারী কর্মকর্তা কর্মচারী, মহালছড়ি সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রতন কুমার শীলের সম্মিলিত যৌথ নেতৃত্বে অনুষ্ঠি উক্ত বিজয় র‌্যালি মহালছড়ি টাউন হলের ময়দান হতে শুরু হয়ে পুরো উপজেলা সদর এলাকা প্রদক্ষিণ করে এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশ ও আলোচনা সভার মাধ্যমে সমাপ্ত হয়।

‘শান্তি চুক্তির ১৯ বছর আমাদের অর্জন ও প্রত্যাশার বিজয় র‌্যালি’ শিরোনাম সম্বলিত ব্যানার ও ‘পাহাড়ী -বাঙ্গালী ভাই ভাই শান্তিচুক্তির সুফল পা’ প্লেকার্ড, ফেস্টুনে সুসজ্জিত উক্ত বিজয় র‌্যালিতে এলাকার কৃষক, শ্রমিক, ব্যবসায়ী, চাকুরীজীবী, ছাত্র, নারী, পুরুষ, আবাল-বৃদ্ধ-বনিতাসহ পাহাড়ী বাঙ্গালী মিলিত সর্বস্তরের কয়েক হাজার মানুষের সমাগম হয়।

অপরদিকে পার্বত্য চট্টগ্রাম জন সংহতি সমিতি মহালছড়ি থানা শাখার আয়োজনে সংগঠনের কার্যালয়ের সামনে এক সমাবেশ ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সংগঠনের থানা কমিটির সভাপতি প্রিয় কুমার চাকমার সভাপতিত্বে এবং তথ্য ও প্রচার সম্পাদক নয়নজ্যোতি তালুকদারের উপস্থাপনায় উক্ত সমাবেশের আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন সাধারণ সম্পাদক, সন্তোষময় চাকমা, সহসভাপতি বিমল কান্তি চাকমা, যুব ও ছাত্র নেতা অমিয় কান্তি চাকমা, পিসিপি সভাপতি জেপলিন চাকমা, বিশেষ অতিথি থুইহলা অং মারমা, কেন্দ্রীয় নেতা ও প্রধান অতিথি প্রজিত চাকমা, জেলা শাখার ছাত্র ও যুবনেতা নিলরঞ্জন চাকমা, সমর বিকাশ চাকমা, মংহলাপ্রু মার্মাসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

সভায় বক্তারা ভূমি কমিশন পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রচলিত আইন, রীতি ও পদ্ধতি অনুযায়ী ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি ও পার্বত্য চুক্তি (পার্বত্য শান্তিচুক্তি) পূর্ণ বাস্তবায়নের দাবী জানান।