মহালছড়ি আর্মি জোন এর উদ্যোগে বিদ্যালয়ের আসবাবপত্র ও শিক্ষা উপকরণ প্রদান

প্রতিনিধি মহালছড়ি:

খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলার মহালছড়ি উপজেলায় মহালছড়ি আর্মি জোনকর্তৃক উপজেলার সাথী পাড়া বেসরকারি প্রাথমিক  বিদ্যালয়ে আসবাবপত্র ও শিক্ষার্থীদের মাঝে বিভিন্ন ধরনের শিক্ষা উপকরণ প্রদান  করেছে মহালছড়ি আর্মি জোন।

বুধবার(১৭ জানুয়ারি) সকাল ৯টার সময় মহালছড়ি উপজেলায় মাইসছড়ি ইউনিয়নে, দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় সাথী পাড়া বেসরকারি  বিদ্যালয়ে ছাত্রছাত্রীদের পড়া লেখা করার সুবিধার্থে  ১২ জোড়া বেঞ্চ ও বিভিন্ন ধরনের শিক্ষা উপকরণ  প্রদান করেন।

বিদ্যালয়টিতে শিক্ষার্থীদের জন্য পর্যাপ্ত পরিমান বেঞ্জ না থাকার কারণে দীর্ঘ দিন যাবৎ শিক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রম ব্যহত হয়ে আসছিল। মহালছড়ি জোনের জোন কমান্ডারের আশ্বাসে ওই বিদ্যালয়টিতে এসব আসবাবপত্র ও শিক্ষা উপকরণ প্রদান করা হয়।

এসময় মহালছড়ি জোনের জোন কমান্ডারের পক্ষ হতে ক্যাপ্টেন সৈয়দ ইমরান হোসেন উপস্থিত থেকে সাথী পাড়া  বেসরকারি প্রথমিক বিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীদের লেখাপড়া করার সুবিধার জন্য এ আসবাবপত্র ও বিভিন্ন ধরনের শিক্ষা সামগ্রী প্রদান করেন।

এসময় তিনি বিদ্যালয়ের কমলমতি ছাত্রছাত্রীদের  লেখাপড়ার খোঁজ খবর নেন। এবং ছাত্রছাত্রীদের সু শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে দেশ গড়ার কাজে নিজেকে আত্মনিয়োগ করার পরামর্শ দেন।

এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন, বিদ্যায়ের প্রধান শিক্ষক চিত্তরঞ্জন ত্রিপুরা, হেডম্যান স্বদেশ প্রীতি চাকমা, কার্বারী  প্রিয়বানী ত্রিপুরা এবং এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিসহ স্থানীয় গণমাধ্যম ব্যক্তিবর্গ।




মহালছড়ি জোন এর উদ্যোগে দুর্গম এলাকায় চিকিৎসা সেবা ও বিনামূল্যে ঔষুধ বিতরণ

মহালছড়ি প্রতিনিধি:

খাগড়াছড়ি জেলার মহালছড়ি উপজেলায় দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলে গিয়ে গরীব ও দুস্থ রোগীদের মাঝে বিনামূল্যে চিকিৎসা ও ওষুধ বিতরণ করে স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করেছেন মহালছড়ি জোন।

বুধবার(১৭ জানুয়ারি) সকাল ১০টায়  উপজেলার মাইসছড়ি ইউনিয়নের দুর্গম এলাকা নোয়াপাড়া গ্রামের  হেডম্যান এসোসিয়েশন এর কার্যালয় প্রাঙ্গণে দিনব্যাপী উপজাতি  ও বাঙ্গালীদের বিভিন্ন ধরনের আনুমাননিক ৩ শতাধিক রোগীকে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা প্রদান করে ঔষধ বিতরণ করেছেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন, মহালছড়ি জোনের জোন উপ-অধিনায়ক মেজর মোহাম্মাদ মনজুর-ই-এলাহী, আর এমও ক্যাপ্টেন নাহিদ নেওয়াজ।

জোন উপ-অধিনায়ক বলেন, বর্তমানে প্রচণ্ড ঠাণ্ডার কারণে মানুষের বিভিন্ন ঠাণ্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত হতে দেখা যাচ্ছে মানুষকে। কিন্তু পাহাড়ি অঞ্চলের দুর্গম এলাকার সাধারণ মানুষ উচুঁ নিচু পাহাড় বেয়ে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আসা সম্ভব না হওয়ায় এসব রোগের চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হয়। সে জন্য দুর্গম এলাকার সাধারণ গরীব মানুষের কথা চিন্তা করে জোনের পক্ষ থেকে এ উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।  প্রত্যেক দুর্গম এলাকায় গিয়ে এ ধরণের স্বাস্থ্যসেবা প্রদান অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।

এদিকে এ মহতি উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন এলাকার সচেতন মহল।




মহালছড়ি আর্মি জোন এর উদ্যোগে শীতার্তদের মাঝে কম্বল বিতরণ

 

মহালছড়ি প্রতিনিধি:

খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলার মহালছড়ি উপজেলায় আর্মি জোন কর্তৃপক্ষ এলাকার গরীব শীতার্ত পরিবারের মাঝে কম্বল বিতরণ করেছে।

বৃহস্পতিবার (৪ জানুয়ারি)  সকাল  ১১টায় মহালছড়ি আর্মি জোনের জোন উপ-অধিনায়ক মেজর মো. মনজুর-ই-এলাহী পিএসসি, উপস্থিত থেকে মহালছড়ি জোনের আওতাধীন ফরেস্ট অফিস হেডম্যান পাড়া এলাকার গরীব শীতার্ত ও অসহায় পরিবারের  মাঝে একশ পিস উন্নতমানের কম্বল বিতরণ করেন।

এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন, স্থানীয় কার্বারী করুনাময় চাকমাসহ স্থানীয় সামাজিক গণমাধ্যম ব্যক্তিবর্গ।

এদিকে এসব গরীব, অসহায়, শীতার্ত মানুষ ও পরিবারের লোকজন শীতের কম্বল পেয়ে অত্যন্ত খুশি ও আনন্দিত।

মহালছড়ি আর্মি জোন কর্তৃপক্ষের এ মহতি উদ্যোগকে স্বাগত ও অভিনন্দন জানিয়েছেন এলাকার সচেতন মহলসহ গণমাধ্যম ব্যক্তিরা।

এ উদ্যোগ ও কর্মসূচি শীত মৌসুমে অব্যাহত থাকবে বলেও জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।




ট্যুরিস্ট গাড়ি দুর্ঘটনায় খাগড়াছড়ি-রাঙামাটি সড়কে চার ঘন্টা যানবহন চলাচল বন্ধ

মহালছড়ি প্রতিনিধি:

খাগড়াছড়ি জেলার মহালছড়ি উপজেলায় খাগড়াছড়ি থেকে ছেড়ে আশা একটি শান্তি পরিবহন এর পর্যটক বহনকারী গাড়ি ২৫ ডিসেম্বর বিকাল সাড়ে চারটার সময় মহালছড়ি উপজেলার চোংড়াছড়ি হেডম্যান পাড়া নামক স্থানে এসে বেলী ব্রিজের সাথে ধাক্কা লেগে ব্রিজের রেলিং ভিতরে ঢুকে পড়ে।

ফলে খাগড়াছড়ি-রাঙ্গামাটি সড়কে সকল ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। ব্রিজের দুই পাশে বেশ কিছু যানবাহন আটকা পড়ার ফলে আটকা পড়া যানবাহনের যাত্রীরা চরম ভোগান্তিতে পড়ে। দুর্ঘটনা কবলিত গাড়িটিকে সেনা ও পুলিশ সদস্য এবং স্থানীয় লোকজন মিলে  দীর্ঘ চার ঘন্টা যাবত চেষ্টা চালিয়ে সড়ক হতে সরাতে সক্ষম হয়। চার ঘন্টা পর রাত সাড়ে আটটার দিকে খাগড়াছড়ি-রাঙ্গামাটি যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক হয়।

এসময় গাড়ির ভিতরে থাকা গাড়ির হেলপার মো. কাদের মিয়া (৩৫) গুরুতর আহত এবং একজন পর্যটক সামান্ন আহত হয়।

এদিকে দুর্ঘটনার খবর পেয়ে মহালছড়ি আর্মি জোনের জোন কমান্ডার লে.কর্ণেল মুহাম্মদ মোসতাক আহম্মদ পিএসসি, জোন উপ-অধিনায়ক মেজর মো. মন্জুর- ই- এলাহী পিএসসি, মহালছড়ি উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান ক্যাচিংমিং চৌধুরী, মহালছড়ি সদর ইউপি চেয়ারম্যান বাবু রতন কুমার শীল, মহালছড়ি থানার এএসআই  জহিরুল ইসলাম দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসে। সেনা ও পুলিশ সদস্য ও স্থানীয় মিলে আহতদের উদ্ধার করে মহালছড়ি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। গুরুতর  আহত গাড়ির হেলপার কাদের মিয়াকে কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসা দেওয়ার জন্য খাগড়াছড়ি সদর হাসপাতালে প্রেরণ করেন।




পানছড়িতে বিজিবি দিবস পালিত

নিজস্ব প্রতিনিধি, পানছড়ি:

এক প্রাণবন্ত আয়োজনের মধ্যে দিয়ে পানছড়িতে পালিত হয়েছে বিজিবি দিবস। এর আয়োজক ছিল পানছড়িস্থ ৩ বিজিবি লোগাং জোন। এ উপলক্ষে বুধবার(২০ডিসেম্বর) ফজরের নামাজের পর বিশেষ দোয়া, কোয়াটার গার্ডে পতাকা উত্তোলন, দরবার ও এক প্রীতিভোজের আয়োজন করা হয়। বেলা ১টায় বিজিবি সদর দপ্তরে এক সংক্ষিপ্ত আলোচনা শেষে আগত অতিথিদের নিয়ে এক প্রীতিভোজে অংশ নেয় ৩ বিজিবি অধিনায়ক লে. কর্ণেল মোহাম্মদ রফিকুল হাসাসন পিএসসি।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান সর্বোত্তম চাকমা, উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহাম্মদ আবুল হাশেম, অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) উত্তম চন্দ্র দেব, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান লোকমান হোসেন, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান রত্না তঞ্চঙ্গ্যা, বিভিন্ন দপ্তরের বিভাগীয় প্রধান, প্রেসক্লাব সভাপতি নূতন ধন চাকমা, সকল ইউপি চেয়ারম্যান ও এলাকার সুশীল সমাজের গণ্যমান্য ব্যক্তিরা। বিকাল ৩টায় এক প্রীতি ফুটবল ও সন্ধ্যায়  সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে দিবসের সমাপ্তি ঘটবে বলে বিজিবি সূত্রে জানা যায়।




মহালছড়ি উপজেলায় যথাযোগ্য মর্যাদায় মহান বিজয় দিবস উদযাপন

মহালছড়ি প্রতিনিধি:

খাগড়াছড়ি জেলার মহালছড়ি উপজেলায় দিনব্যপী নানা কর্মসূচি ও বর্ণাঢ্য আয়োজন এবং যথাযোগ্য মর্যাদায়  মহান বিজয় দিবস উদযাপিত হয়েছে।  মহালছড়ি উপজেলার কেন্দ্রীয় স্মৃতিসৌধে উপজেলা প্রশাসন, মহালছড়ি উপজেলা আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠন, উপজেলা জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি ও সহযোগী সংগঠন, মহালছড়ি এপিবিএন আইডিয়েল স্কুল এন্ড কলেজ, মহালছড়ি মডেল হাই স্কুল, সদর এলাকার প্রাথমিক ও অন্যান্য শিশুতোষ স্কুলগুলি আমাদের মহান বিজয়ের ৪৬ দিবসের সূচনা লগ্নে বর্ণাঢ্য র‌্যালিসহ বাঙালি জাতির গৌরব ও ঐতিহ্যের এ দিনে পুষ্পস্তবক অর্পণের মধ্যদিয়ে শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধাদের শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন। এ সময় ফুলে ফুলে ভরে উঠেছিল স্মৃতিসৌধ।

মহালছড়ি উপজেলাবাসী, স্থানীয় রাজনৈতিক দলগুলি ও তাদের সহযোগী সংগঠনগুলি, উপজেলা প্রশাসন স্থানীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সমূহ এবং অন্যান্য সংগঠনগুলি আমাদের গৌরবদীপ্ত মহান দিবস যথাযোগ্য মর্যাদায় পালনের জন্য যেসব কর্মসূচি পালন করেন।

উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে স্থানীয় স্টেডিডিয়ামে  আনুষ্ঠানিক জাতীয় পতাকা উত্তোলন, সংক্ষিপ্ত আলোচনানুষ্ঠান, বিভিন্ন স্কুলের শিক্ষার্থীদের শরীর চর্চা প্রদর্শনী, মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধণা, পুরস্কার বিতরণ করেন। কুচকাওয়াজ এ প্রথম স্থান অধিকার করেন, মহালছড়ি আইডিয়াল স্কুল এন্ড কলেজ, এবং শরীর চর্চা ডিসপ্লে প্রদর্শনীতে প্রথম স্থান অধিকার করেন মহালছড়ি সরকরি উচ্চ বিদ্যালয়, এসময় উপস্থিত ছিলেন, মহালছড়ি উপজেলা নির্বাহী অফিসার তামান্না নাসরীন ঊর্মি,  উপজেলা চেয়ারম্যান বিমল কান্তি চাকমা, মহালছড়ি থানা অফিসার ইনচার্জ জুবাইরুল হক, উপজেলা ভাইস ক্যাচিংমিং চৌধুরী, ভাইস চেয়ারম্যান কাকলি খীসা, মহালছড়ি আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও ১নং সদর ইউপি চেয়ারম্যান  রতন কুমার শীল,  বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা বৃন্দ, ও বিভিন্ন বিদ্যালয়ের শিক্ষক/শিক্ষিকা বৃন্দসহ স্থানীয় সাংবাদিক বৃন্দ।

এছাড়া রাজনৈতিক দলগুলিও তাদের দলীয় কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন এবং আলোচনা সভানুষ্ঠান করেন।

মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে এ দিন এলাকার সরকারি, আধা সরকারি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, এনজিও এবং বিভিন্ন সংগঠন কার্যালয়ে যথাযোগ্য মর্যাদায় জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। এ দিন হাসপাতাল, এতিম খানা ও আবাসিক হোটেলে উন্নতমানের খাবার পরিবেশন করা হয়।

দিবসটি পালন উপলক্ষে মহালছড়িস্থ চোংড়াছড়ি গুচ্ছগ্রামের শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধা ক্যাপ্টেন. আফতাবুল কাদের বীর উত্তম উচ্চ বিদ্যালয়ে পৃথক কর্মসূচি পালন করা হয়। কর্মসূচি হলো বিদ্যালয় প্রাঙ্গনের অস্থায়ী (একদিনের) স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ, জাতীয় পতাকা উত্তোলন, কুচকাওয়াজ প্রদর্শণী এবং বিভিন্ন ইভেন্টে ক্রীড়ানুষ্ঠান আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান। সর্বশেষ মহালছড়ি হাই স্কুল মাঠে বিশাল আয়োজনে সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা। এ সব অনুষ্ঠান উপভোগ করতে দিনভর অগনিত দর্শকের সমাগম চলছে।




এবার রোকেয়া পদক পেয়েছেন পাহাড়ের মেয়ে শোভা রাণী ত্রিপুরা

ডেস্ক প্রতিবেদন:
এবার রোকেয়া পদক পেয়েছেন রাঙ্গামাটির পাহাড়ের মেয়ে লেখক শোভা রাণী ত্রিপুরা। শনিবার (৯ ডিসেম্বর) মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয় রোকেয়া দিবস উপলক্ষে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে রোকেয়া পদক বিতরণ করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, দেশের উন্নয়নে নারী পুরুষ সবার সমান অবদান রাখতে হবে। নারীদের নিজ পায়ে দাঁড়ানোরও তাগিদ দেন প্রধানমন্ত্রী।

নারী উন্নয়নে অবদান রাখার জন্য প্রতিবছরের ন্যয় এ বছরও রোকেয়া পদক দেওয়া হয়েছে দেশের গুণী নারীদের। এবার লেখক শোভা রাণীসহ বেগম রোকেয়া পদক-২০১৭  পেয়েছেন মাহফুজা খাতুন বেবী মওদুদ (মরণোত্তর), চিত্রশিল্পী সুরাইয়া রহমান, সংগঠক মাজেদা শওকত আলী, সমাজসেবক মাসুদা ফারুক রত্না।

শোভা রাণী ত্রিপুরার জন্ম রাঙামাটি জেলার বরকল উপজেলায়। তাঁর স্বামী মংছেনচীং সাহিত্যে ২০১৬ সালে একুশে পদক পান। ওই বছর শোভা রাণীও উপজেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ ‘জয়িতা’ হিসেবে পুরস্কৃত হন। কবি ও কথাসাহিত্যিক শোভা রানী ত্রিপুরা পেশায় শিক্ষক। শিক্ষকতার পাশাপাশি সংস্কৃতিচর্চা আর লেখালেখিতে তাঁর বিশেষ আগ্রহ। শৈশব-কৈশোর থেকে লেখালেখির অভ্যাস। ছোট বয়সে লেখায় হাতেখড়ি। শোভা ত্রিপুরা নিজ জনগোষ্ঠীর একজন উদ্যমী নারী। ক্ষুদ্র-নৃ গোষ্ঠীর জীবনযাত্রা ছাড়াও তিনি লিখেছেন ছোটগল্প, কবিতা, নাটক, প্রবন্ধ, ভ্রমণ কাহিনী, গান, উপন্যাস ইত্যাদি।

১৯৮৪ সালে আরেক লেখক ও গবেষক মংছেনচীং রাখাইন (মংছিন) এর সাথে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন শোভা ত্রিপুরা। এ যাবত তাঁর প্রকাশনার মধ্যে উল্লেখযোগ্য ঝরাপাতা (কবিতা) ১৯৯৬, ত্রিপুরা জাতির ইতিকথা ২০০১, ত্রিপুরা জাতির রূপকথা ২০০২, জাতক (বুদ্ধ) ২০০৪, ত্রিপুরা জাতি ২০০৭, ত্রিপুরা জাতির ইতিবৃত্ত, আলোময়ীমা ত্রিপুরেশ্বরী, শুভ বাংলা নববর্ষ ২০১২, স্বপ্নের ধূসর ছায়া (গল্প) ২০১৩, ‘রাখাইন ও ত্রিপুরা জাতিসত্তা’ ২০১৪, ধূসর পাহাড়ে সবুজ তারুণ্য (গল্প) ২০১৪, ত্রিপুরা জাতির কিংবদন্তী ২০১৪, একুশের অপরাজিত কথামালা (নাটক) ২০১৪, গিরি নন্দিনী (কবিতা) ২০১৪ ও আলোক নবগ্রহ ধাতু চৈত্য বৌদ্ধ বিহার ও ভদন্ত চন্দ্রমণি মহাথেরো প্রভৃতি। শোভা ত্রিপুরার সাহিত্য কর্মের বেশি অংশ জুড়ে নিজ জাতি-ধর্ম, সংস্কৃতি, জীবনযাত্রা, ইতিহাস স্থান পেয়েছে। তাছাড়া বৌদ্ধ ধর্ম ও জাতক, রাখাইন জীবনধারা ইত্যাদি নিয়েও কাজ রয়েছে তাঁর।

বাবার চাকরি সূত্রে শোভা ত্রিপুরা খাগড়াছড়ি জেলার মহালছড়িতে বসবাস করছেন। ১৯৭৭ সালে খাগড়াছড়ি সরকারি কলেজে প্রথমবর্ষে পড়া অবস্থায় শিক্ষক হিসেবে চাকরি পেয়েছিলেন। এর আগে শোভা ত্রিপুরা ১৯৭৩ সালে বঙ্গভবনে কৃতী যুব সংবর্ধনায় অংশ নেন। ১৯৯৯ সালে ঢাকা নারী গ্রন্থ প্রবর্তনা আয়োজিত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপস্থিতিতে কক্সবাজার ও তিন পার্বত্য জেলার লেখিকা হিসেবে সংবর্ধিত হন। ১৯১২ সালে মহান স্বাধীনতা দিবসে মহালছড়ি সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সংসদ কর্তৃক সাহিত্যে অবদানের জন্য ‘সংবর্ধনা’ প্রদান করা হয় তাঁকে। শিক্ষকতায় উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে তিনবার শ্রেষ্ঠ শিক্ষক নির্বাচিত হয়েছিলেন। কবি ও কথাসাহিত্যিক শোভা ত্রিপুরা বাংলাদেশ ত্রিপুরা জাতির মসী চালনায় ‘অগ্নিকন্যা খেতাব’ প্রাপ্ত হন। সামাজিক অনেক কাজে জড়িত শোভা ত্রিপুরা। মহালছড়ি শিল্পকলা একাডেমির সদস্য তিনি। জাতীয় মহিলা সংস্থা, রাখাইন-ত্রিপুরা প্রকাশনা সমিতি, বিশ্ববাংলা সাহিত্য পরিষদ, ছায়ানীড় এর সাথেও সম্পৃক্ত।

উল্লেখ্য, ১৮৮০ সালের ৯ ডিসেম্বর রংপুরের পায়রাবন্দে এক জমিদার পরিবারে রোকেয়ার জন্ম হয়। একই দিন, ১৯৩২ সালের ৯ ডিসেম্বর তিনি পরলোক গমন করেন। নারীশিক্ষার প্রসারে কাজ করে গেছেন আমৃত্যু। নারীদের দাসত্বের শৃঙ্খল থেকে বেরিয়ে মাথা উচু করে বাঁচার স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন বেগম রোকেয়া। তার সম্মানে প্রতি বছর এই পদক প্রদান করা হয়।




মহালছড়িতে এক বিয়ের অনুষ্ঠানকে চাঁদার হাত থেকে রক্ষা করল নিরাপত্তাবাহিনী

মহালছড়ি প্রতিনিধি:

খাগড়াছড়ির মহালছড়ি উপজেলার বেতছড়ি মুখ এলাকার একটি পাহাড়ি গ্রামে ৮ ডিসেম্বর (শুক্রবার) বিয়ের অনুষ্ঠান থেকে ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ) এর সশস্ত্র সদস্যরা মোটা অংকের চাঁদা দাবি করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে। অভিযোগ পাওয়ার পর মহালছড়ি জোনের নিরাপত্তাবাহিনী তাৎক্ষনিক পদক্ষেপ গ্রহণের কারণে চাঁদার হাত থেকে বেঁচে গেলেন ওই গ্রামের (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক) এক চাকমা পরিবার।

মহালছড়ি জোন অধিনায়ক লে. কর্ণেল মুহাম্মদ মোসতাক আহামদ পিএসসি পার্বত্যনিউজকে বলেন, বিয়ের অনুষ্ঠানে বর-কনেকে কিছু উপহার সামগ্রী প্রদানের উদ্দেশ্যে মহালছড়ি জোন থেকে একটি প্রতিনিধি দল সেখানে যাওয়ার পথে লোক মারফত জানতে পারে ইউপিডিএফ’র সশস্ত্র একটি সন্ত্রাসী দল বিয়ের অনুষ্ঠান থেকে মোটা অংকের চাঁদার দাবিতে সেখানে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছে। ওই প্রতিনিধি দল তড়িঘড়ি করে সেখানে পৌঁছার আগেই অস্ত্রধারীরা সেখান থেকে পালিয়ে যেতে সক্ষম হলেও সন্ত্রাসীদের তাণ্ডবের ঘটনার সত্যতা পাওয়া যায়।

তখন নিরাপত্তা বাহিনীর প্রতিনিধি দলকে স্থানীয়রা অভিযোগ করে বলেন, সন্ত্রাসীদের চাপে পড়ে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা দ্রুত শেষ করে বর-কনেকে বরের পিত্রালয়ে দীঘিনালায় পাঠানো হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, চাঁদা নিতে ব্যর্থ হওয়াতে ওই সশস্ত্র গ্রুপটি ক্ষিপ্ত হয়ে নিরাপত্তাবাহিনীর বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে। এসব মিথ্যা অপপ্রচারে কান না দিয়ে সন্ত্রাসীর বিরুদ্ধে জনপ্রতিরোধ গড়ে তুলে শান্তি, সম্প্রীতি ও উন্নয়নের স্বার্থে সকলকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।




মহালছড়ি আর্মি জোন এর উদ্যোগে শীতার্তদের মাঝে কম্বল বিতরণ

মহালছড়ি প্রতিনিধি:

খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলার মহালছড়ি উপজেলায় আর্মি জোন কর্তৃপক্ষ এলাকার গরীব শীতার্ত পরিবারের মাঝে কম্বল বিতরণ করেছে।

৫ ডিসেম্বার (মঙ্গলবার)  বিকাল ৫টায় মহালছড়ি আর্মি জোনের জোন অধিনায়ক লে. কর্নেল মুহাম্মদ মোসতাক আহাম্মদ পিএসসি, উপস্থিত থেকে মহালছড়ি উপজেলার ধমুনী ঘাট এলাকার গরীব শীতার্ত  ও অসহায় পরিবারের  মাঝে  বেশ কিছু   উন্নতমানের  কম্বল বিতরণ করেন।

এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন, মহালছড়ি জোনের মাস্টার ওয়া. অফিসার মো. মফিজুর রহমান, ধমুনীঘাট ক্যাম্প কমান্ডার ওয়া. অফিসার আমিনুর রহমান। স্থানীয় কার্বারী ক্রর্মচাঁন ত্রিপুরাসহ  স্থানীয় সামাজিক গণমাধ্যম  ব্যক্তিবর্গ।

এদিকে এসব গরীব, অসহায়, শীতার্ত মানুষ ও পরিবারের লোকজন শীতের কম্বল পেয়ে অত্যন্ত খুশি ও আনন্দিত।

মহালছড়ি আর্মি জোন কর্তৃপক্ষের এ মহতি উদ্যোগকে স্বাগত ও অভিনন্দন জানিয়েছেন এলাকার সচেতন মহলসহ গণমাধ্যম ব্যক্তিরা।

এ উদ্যোগ ও কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে বলেও জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।




পার্বত্য চুক্তির ফলে পার্বত্য চট্টগ্রামে সকল ক্ষেত্রে উন্নয়ন সাধিত হয়েছে

 

মহালছড়ি প্রতিনিধি:

খাগড়াছড়ির মহালছড়ি সেনাজোনের উদ্যেগে আয়োজিত পার্বত্য চুক্তির ২০তম বর্ষপূর্তি উদযাপন উপলক্ষ্যে মহালছড়ি জোন অধিনায়ক লে. কর্ণেল মুহাম্মদ মোসতাক আহাম্মদ পিএসসি প্রধান অতিথির বক্তব্যে বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তি চুক্তির ফলে সকল ক্ষেত্রে উন্নয়ন সাধিত হয়েছে।

সোমবার (৪ ডিসেম্বর) সকাল ১০টায় মহালছড়ি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গন থেকে এক বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের হয়ে টাউন হলে এসে এক আলোচনা সভার মাধ্যমে শেষ হয়।

আলোচনা সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন, মহালছড়ি জোন উপঅধিনায়ক মেজর মনজুর-ই-এলাহী, মহালছড়ি থানার অফিসার ইনচার্জ জবাইরুল হক, মহালছড়ি সদর ইউপি চেয়ারম্যান রতন কুমার শীল, মুক্তিযোদ্ধা ও শিক্ষানুরাগী শাহাজান পাটোয়ারী, মহালছড়ি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নিপুল বিকাশ খীসা।

আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি আরো বলেন, বর্তমান সরকার পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসরত সকল জাতিগোষ্ঠীর স্বার্থে খুবই আন্তরিকতার সহিত কাজ করে যাচ্ছেন। ঐতিহাসিক এ শান্তি চুক্তির ফলে দীর্ঘ ২৪ বছরের সশস্ত্র সংঘাত বন্ধ হওয়ায়  শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও রাস্তা-ঘাট নির্মাণসহ প্রত্যেকটি ক্ষেত্রে অকল্পনীয় পরিবর্তন ঘটেছে। পার্বত্য চট্টগ্রাম এর নান্দনিক সৌন্দর্য্য এখন দেশে বিদেশেও পরিচিতি লাভ করছে।

এভাবে শান্তি বজায় থাকলে উন্নয়নের ধারাবাহিকতাও অব্যাহত থাকবে। নিরাপত্তার পাশাপাশি নিরাপত্তাবাহিনীও পাহাড়ে উন্নয়ন অব্যাহত রেখেছে। বর্তমান সরকারের উন্নয়নের ধারাবাহিকতা ধরে রাখার লক্ষ্যে যার যার এলাকায় শান্তি ও সম্প্রীতি বজায় রাখার সকলের  প্রতি আহ্বান জানান বক্তারা।