চার দফা দাবিতে বান্দরবানে বিসিএস সাধারণ শিক্ষা সমিতির মতবিনিময় সভা

নিজস্ব প্রতিবেদক, বান্দরবান:

বান্দরবানে সাংবাদিকদের সাথে বিসিএস সাধারণ শিক্ষা সমিতির মত বিনিময় সভায় চার দাবি বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন।

রবিবার বান্দরবান ইউনিটির আয়োজনে বান্দরবান সরকারি কলেজের শিক্ষক মিলনায়তনে বিসিএস সাধারণ শিক্ষা সমিতি মতবিনিময় সভা করা হয়।

বেসরকারি কলেজসমূহ জাতীয়করণের যে প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, সেই প্রক্রিয়ায় যুক্ত শিক্ষকদের বিসিএস ক্যাডারভুক্ত না করার দাবি জানিয়েছেন বান্দরবান বিসিএস সাধারণ শিক্ষক সমিতি।

মতবিনিময় সভায় জাতীয়করণের লক্ষ্যে ঘোষিত বেসরকারি কলেজের শিক্ষকদের জন্য প্রধানমন্ত্রীর অনুশাসন, নন-ক্যাডার ও জাতীয় শিক্ষানীতি ২০১০-এ বর্ণিত নির্দেশনা অন্তর্ভুক্ত করে বিধিমালা জারির দাবি জানান শিক্ষক নেতারা।

এসময় সভায় বক্তারা বলেন, ২০১০ সালের ৮ ডিসেম্বর জাতীয় সংসদে জাতীয় শিক্ষানীতি গৃহীত হলেও অদ্যাবধি বেসরকারি কলেজ জাতীয়করণের কোনও বিধিমালা প্রনয়ন করা হয়নি। অথচ জাতীয়করণ চলছে অব্যাহতভাবে। এই ধরনের কার্যক্রম মহান জাতীয় সংসদকে অবমাননার শামিল। বিসিএস সাধারণ শিক্ষা সমিতি শিক্ষা ক্যাডারে বেসরকারি কলেজ জাতীয়করণসহ অন্য যে কোনও প্রক্রিয়ায় শিক্ষক আত্তীকরণ সমর্থন করে না।

আগামী ১৬ নভেম্বর জাতীয়করণের জন্য ঘোষিত বেসরকারি কলেজের শিক্ষকদের প্রধানমন্ত্রীর অনুশাসন, নন-ক্যাডার ও জাতীয় শিক্ষানীতি ২০১০ এ বর্ণিত নির্দেশনা অন্তর্ভুক্ত করে বিধিমালা জারি করা না হলে ১৭ নভেম্বর ঢাকায় বিসিএস সাধারণ শিক্ষা সমিতি মহাসমাবেশ ডেকে কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলেও মতবিনিময় সভায় চারটি দাবি তুলে ধরা হয়।

মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন বান্দরবান সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ ও বিসিএস সাধারণ শিক্ষা সমিতির সভাপতি প্রফেসর মো. মকছুদুল আমিন, সাধারণ সম্পাদক মো. মোর্শেদ আলী, বাংলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক বিপম চাকমা, সহকারী অধ্যাপক মো. তোয়ারেক, অর্থনীতি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক বিজয় ভৌমিক, ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক মো. আবুল কাসেম, প্রভাষক মেহেদীসহ বিসিএস সাধারণ শিক্ষা সমিতির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।




বান্দরবানে জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস পালিত

 

নিজস্ব প্রতিবেদক, বান্দরবান:

‘সাবধানে চালাবো গাড়ি, নিরাপদে ফিরবো বাড়ি’ এই প্রতিপাদ্যকে নিয়ে বান্দরবানে জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস পালন করা হয়েছে। রবিবার জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা প্রশাসক দিলীপ কুমার বনিক।

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো. মফিদুল আলমের সভাপতিত্বে সহকারী পুলিশ সুপার ভুইয়া মাহবুবুল হাসান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শারমীন আক্তার ,বিআরটিএর পরিদর্শক মো. ফাহাদ সিকদার উপস্থিত ছিলেন।

সভায় বক্তারা বলেন, পথচারীদের পথ চলতে সচেতন হতে হবে। চালকদের সচেতন হতে হবে গাড়ি চালানোর সময়। গাড়ির মালিকদের সচেতন হতে হবে অতিরিক্ত যাত্রী ও মাল পরিবহনে। সবচেয়ে বেশি সচেতন হতে হবে বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি (বিআরটিএ) ও ট্রাফিক বিভাগকে। দুর্ঘটনা রোধে উল্টো পথে গাড়ি না চালানো ও সড়কের বিভিন্ন সতর্কতামুলক চিহ্ন মেনে চলার আহ্বান জানান বক্তারা।

সভার আগে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় হতে একটি বর্নাঢ্য র‌্যালি বের হয়ে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে একই স্থানে এসে শেষ হয়। সরকারি বেসরকারি কর্মচারী ও বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্র-ছাত্রীরা র‌্যালিতে প্ল্যাকার্ড হাতে অংশ নেয়।




বাইশারীতে কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত খাদ্য গুদামটি দীর্ঘ দুই যুগ যাবত পরিত্যক্ত!

 

বাইশারী প্রতিনিধি:

বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার বাইশারীতে দীর্ঘ দুই যুগের অধিক সময় যাবত কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত বিশাল আকৃতির খাদ্য গুদামটি খালি ও পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। সাথে রয়েছে খাদ্য গুদামের কর্মকর্তা, কর্মচারীদের জন্য নির্মিত ফ্যামিলি কোয়ার্টারও। আজ থেকে দীর্ঘ দুই যুগের অধিক সময় খালি অবস্থায় পড়ে রয়েছে খাদ্য গুদামটি। যাহা সরকার ও জনসাধারণের কোন কাজে আসছে না। এই কথাগুলো বললেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বিশাল আকৃতি খাদ্য গুদামটি বর্তমানে গোচরণ ভূমিতে পরিণত হয়েছে। অযত্ন অবহেলায় খাদ্য গুদাম ও স্টাফ কোয়ার্টারগুলো সাপ, বিচ্ছু, পোকামাকড়ের কারখানায় পরিণত হয়েছে। বর্তমানে স্টাফ কোয়ার্টারের রক্ষিত লোহার রড, ইট, দরজা, জানালা অনেকেই খুলে নেওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

বাইশারী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলম বলেন, বাইশারীতে এককালে টানা কয়েক বছর যাবত খাদ্য গুদামটি চালু ছিল। স্থানীয় লোকজনের কাছ থেকে ন্যায্য মূল্যে ধান, চাউল ও ক্রয় করছিল। পরবর্তী সময়ে খাদ্য গুদামটি কেন যে বন্ধ হয়ে গেল তিনি কিছুই জানেন না। তবে বিষয়টি নিয়ে উপজেলা প্রশাসনের সাথে কথা বলবেন বলে জানান।

গেল ২০১২ সালের ভয়াবহ বন্যায় খাদ্য গুদামের বাউন্ডারি ওয়াল মাটিতে ধ্বসে যায়। এরপর থেকে ওইসব দেওয়াল আর কোন ধরনের মেরামতও করা হয়নি। এছাড়া চতুর্পাশে কাঁটা তারের বেড়া এবং গাছগুলো আস্তে আস্তে হারিয়ে যাচ্ছে। অন্তত পক্ষে গুদামটি সংরক্ষণে প্রয়োজন বলে মনে করেন স্থানীয় লোকজন।

চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলম বলেন, খাদ্য গুদামটি চালু হলে তিন ইউনিয়নের লক্ষাধিক লোক সুবিধা পাবে। পাশাপাশি সরকারের দেওয়া ভিজিডি, ভিজিএফ এর চাউলগুলো অত্র গুদাম থেকে নেওয়া গেলে অনেক টাকা তাদের বেঁচে যেত। তাই অবিলম্বে খাদ্য গুদামটি সংরক্ষণ ও চালু করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।




এ সপ্তাহের মধ্যে রোহিঙ্গা শূন্য হচ্ছে বান্দরবান

পার্বত্যনিউজ ডেস্ক:

মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের মধ্যে ২৮ হাজার ১৬০ জন নাইক্ষ্যংছড়ি সদরের চাকঢালা ও ঘুমধুমের তমব্রু সীমান্তের বিভিন্ন পয়েন্টে আশ্রয় নিয়েছিল। এরমধ্যে ঘুমধুম ইউনিয়নের তমব্রু সীমান্তে আশ্রয় নেওয়া ১৮ হাজার ৬৩৮ জনকে কক্সবাজারের কুতুপালং এ পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।

এখন সেখানে আর কোনও রোহিঙ্গা শরণার্থী নেই। তবে নাইক্ষ্যংছড়ি চাকঢালা সীমান্তের ৩টি শরণার্থী ক্যাম্পে এখনো ৯ হাজার ৫২২ জন রোহিঙ্গা রয়েছে। যাদের চলতি সপ্তাহের মধ্যে কক্সবাজারের কুতুপালংয়ে পাঠিয়ে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন বান্দরবানের জেলা প্রশাসক দিলীপ কুমার বণিক।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, বান্দরবানে আশ্রয় নেওয়া ২৮ হাজার ১৬০ জন রোহিঙ্গার মধ্যে ১৬ হাজার ১৬০ জন ‍নিবন্ধিত এবং ১২ হাজার রোহিঙ্গা অনিবন্ধিত। নো ম্যানস ল্যান্ডে আশ্রয় নেওয়া এসব রোহিঙ্গার ওপর যে কোনও মুহূর্তে ওই দেশের সেনাবাহিনী হামলা করতে পারে এ আশঙ্কায় তাদের কক্সবাজারের বালুখালী ও কুতুপালংয়ে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

এখনো নাইক্ষ্যংছড়ি চাকঢালা সীমান্তে অবস্থানকারী শরণার্থী রোহিঙ্গাদের জন্য ১২ হাজার ৬১৫ কেজি চাল, ৬২৮কেজি ডাল, ১হাজার  ৫০২ কেজি লবন, ৫শ’ কেজি চিড়া, ৭২৪ কেজি চিনি, ১ হাজার ২শ’ লিটার তেল, পেয়াজ ও রসুন ৩২৩ কেজি, ১৫১ প্যাকেট বিস্কুট, ১হাজার ২শ’ পিস লুঙ্গি, ১৩৭ বস্তা কাপড়, ৬৪০টি কোরান শরীফ, ৪০টি জায়নামাজ, ১ হাজার পিস কম্বল, ৩ হাজার ৫শ’ টি সাবান ও ২৫২টি প্লেট ছাড়াও পর্যাপ্ত পরিমাণ ওষুধ মজুদ রয়েছে।

বান্দরবানের জেলা প্রশাসক দিলীপ কুমার বণিক এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, ‘আমাদের এখানে থাকাকালীন সময় কোনও রোহিঙ্গা শরণার্থী না খেয়ে মরে নাই। তারা প্রত্যেকেই নিজের ঘরের মত এখানে বসবাস করেছে। তবে তাদের এখানে থাকাটা নিরাপদ ছিল না। তাই তাদের কক্সবাজারের বালুখালী ও কুতুপালং এ পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। যারা এখনও রয়েছে তাদেরকেও এ সপ্তাহের মধ্যে কুতুপালং-এ পাঠিয়ে দেওয়া হবে।

 

সূত্র: বাংলা ট্রিবিউন




বান্দরবানে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের শিক্ষা বৃত্তি প্রদান

নিজস্ব প্রতিবেদক, বান্দরবান:

পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের অর্থায়নে বান্দরবানে শিক্ষা বৃত্তি প্রদান করা হয়েছে। শনিবার নব-নির্মিত অরুন সারকী টাউন হল অডিটরিয়ামে প্রধান অতিথি পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈসিং এমপি শিক্ষার্থীদের মাঝে বৃত্তি প্রদান করেন।

মন্ত্রী বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে বর্তমান সরকারের আন্তরিকতা ও বেশি প্রাধান্য দেয়ায় শিক্ষা ব্যবস্থার আমুল পরিবর্তন হয়েছে।  শিক্ষিত হয়ে ছেলে মেয়েরা জাতির উন্নয়নে কাজ করে যাবে বলে তিনি আশা করেন।

তিনি বলেন, সরকার প্রতিটি উপজেলায় কলেজ স্থাপনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হলে পার্বত্য জেলাগুলোতে মানসম্মত শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব হবে।

এসময় অনুষ্ঠানে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের ভাইস চেয়ারম্যান তরুণ কান্তি ঘোষ, যুগ্ম সচিব (সদস্য পরিকল্পনা) মো. নুরুল আলম চৌধুরী, জেলা প্রশাসক দিলীপ কুমার বণিক, বান্দরবান ক্যান্ট পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ লে. কর্ণেল ড. মোহাম্মদ রেজাউল ইসলাম, জেলা পরিষদের নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নুরুল আবছার, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. কামরুজ্জামান, বান্দরবান সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ প্রদীপ কুমার বড়ুয়া, সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. মকছুদুল আমিন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

সূত্র জানায়, ২০১৬-১৭ অর্থ বছরে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড পার্বত্যঞ্চলের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ১ হাজার ২শত ৮১জন শিক্ষার্থী শিক্ষাবৃত্তি পেয়েছে। সব মিলিয়ে সর্বমোট ৫৭ লক্ষ ৬০ হাজার টাকা প্রদান করা হয়েছে। বান্দরবান জেলায় কলেজ পর্যায়ে এক কালিন ২১৫ জনকে ৪ হাজার টাকা করে ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের ৫ হাজার টাকা করে ২১২ জনসহ মোট ৪২৭ জন মেধাবী শির্ক্ষার্থীকে বৃত্তির চেক দেয়া হয়। বাকী ৮৫৪জন শিক্ষার্থীরা রাঙ্গামাটি এবং খাগড়াছড়ি জেলা থেকে এই বৃত্তির টাকা উত্তোলন করবে।

অনুষ্ঠানে আগামী বছর বাড়িয়ে ১কোটি টাকা করা হবে বলেও ঘোষণা দেন প্রতিমন্ত্রী বীর বাহাদুর এমপি।




কবে শেষ হবে লামায় পানি শোধনাগারের নির্মাণ কাজ

নিজস্ব প্রতিবেদক, বান্দরবান:

বান্দরবানের লামা পৌরসভার বাসিন্দারা এখনো নদী, রিং বা টিউবেয়েল উপর নির্ভরশীল হয়ে আছে। একারণে এলাকায় বিভিন্ন পানিবাহিত রোগের প্রাদুর্ভাব রয়ে গেছে। ২০১৩-১৪ সালে বান্দরবান জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর মাতামুহুরী নদী থেকে পানি উত্তোলন করে শোধনের মাধ্যমে সরবরাহের কাজ শুরু করলেও অর্থের অভাবে শেষ করতে পারেনি। প্রকল্পটি শেষ করতে না পারায় জনদূর্ভোগ এখনো রয়ে গেছে।

সূত্র জানায়, গত ২০১৩-১৪ অর্থ বছরে লামা পৌরসভায় পানি সরবরাহ ব্যবস্থা উন্নয়ন কর্মসূচির আওতায় ৬ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রকল্পটি শুরু করে বান্দরবান জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর। জাজের পরিধি বেড়ে যাওয়ায় রিভাইজ করে ৭ কোটি ৮৭ লক্ষ টাকায় উন্নীত করা হয়। ১ কোটি ৮৭ লক্ষ টাকা পরিকল্পনা ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন না মেলায় প্রকল্পের কাজ প্রায় বন্ধ রয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানাযায়, প্রকল্পটিতে ঘণ্টায় ১০০ ঘনমিটার ক্ষমতা সম্পন্ন পানি শোধনাগার নির্মাণ ও ৪টি প্যাকেজের মাধ্যমে পাইপ লাইন স্থাপন কাজের কার্যাদেশ পাই মেসার্স রতন সেন তংঞ্চগ্যা ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। ইতিমধ্যে প্রকল্পের ৪ কোটি টাকা খরচ হয়েছে।

ঠিকাদার সূত্র জানায়, পাইপ লাইন স্থাপনে ইতিমধ্য ৮৮ লক্ষ ৬১ হাজার টাকা ব্যয়ে ৩টি প্যাকেজের কাজ শেষ হয়েছে। বরাদ্দ না থাকায় ৪২ লক্ষ ৪৯ হাজার টাকার কার্যাদেশ দেওয়া একটি প্যাকেজের কাজ সম্পন্ন করা হয়নি। এছাড়া পানি শোধনাগার প্রকল্পের মেকানিক্যাল, মিশিনারিজ ও ইলেকট্রিকেল কোন কাজ করা হয়নি।

লামা পৌরসভার মেয়র জহিরুল ইসলাম জানান, অর্থের অভাবে পানি সরবরাহ প্রকল্পের কাজ প্রায় বন্ধ রয়েছে।

জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. মুজিবুর রহমান জানিয়েছেন, বাস্তবতার আলোকে প্রকল্পটিতে অতিরিক্ত ১ কোটি ৮৭ লক্ষ টাকা ব্যয় বেড়ে গেছে। অর্থের অভাবে প্রকল্পটি শেষ করা যাচ্ছেনা।

নির্বাহী প্রকৌশলী সোহরাব হোসেন জানিয়েছেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করতে গিয়ে নির্মাণ খরচ বেড়ে গেছে। রিভাইজ করে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করা হয়েছে।




বান্দরবানে মাউন্টেইন বাইসাইকেল প্রতিযোগিতায় প্রথম হয়েছেন মো. আব্দুলাহ

নিজস্ব প্রতিবেদক, বান্দরবান:

বান্দরবানে মাউন্টেইন বাইসাইকেল প্রতিযোগিতায় মো. আব্দুলাহ প্রথম স্থান অর্জন করেছেন।

অংশ নেবার লক্ষ্যে প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিজয় দিবস উপলক্ষ্যে শুক্রবার সকালে জাতীয় সাইক্লিং প্রতিযোগিতার উদ্যোগে এবং বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদ ও জেলা ক্রীড়া সংস্থার সহযোগিতায় বাইসাইকেল প্রতিযোগিতা বান্দরবান-রাঙ্গামাটি সড়কের রাজবিলার ডাক বাংলো এলাকা থেকে সাইক্লিং প্রতিযোগিতা আরম্ভ হয়। প্রতিযোগিতায় প্রায় ৫০জন অংশ নেয়।

জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক ও পৌর মেয়র মোহাম্মদ ইসলাম বেবী সাইক্লিং প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করেন।

সূত্র জানায়, রাজবিলার ডাক বাংলো এলাকা থেকে সাইক্লিং প্রতিযোগিতায় শুরু পাহাড়ি দুর্গম পথ বেয়ে দীর্ঘ ২৫ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে শহরের স্থানীয় রাজার মাঠে শেষ হয়। মাত্র ৫৫ মিনিট সময় অতিক্রম করে প্রতিযোগিতার প্রথম হন মো. আব্দুলাহ্। তিনি পেশায় রিক্সা ও সাইকেল ম্যাকানিক। ৫৭ মিনিটে মো. কাউসার ৫৮ মিনিট ৩৩ সেকেন্ড ৩য় মাহামুদুল হাসান (সোহান) ২য় ও ৩য় স্থান লাভ করে। এছাড়া আরো ছয়জন প্রতিযোগীকে বিজয়ী হিসেবে নেয়া হয়েছে।

আয়োজকেরা জানান, আসন্ন বিজয় দিবসে ঢাকায় জাতীয় মাউন্টেইন বাইসাইকেল প্রতিযোগিতায় বান্দরবান থেকে এ আটজনকে প্রশিক্ষণ দিয়ে প্রতিযোগিতায় পাঠানো হবে।




নো-ম্যানস ল্যান্ডে আটকে থাকা রোহিঙ্গাদের ক্যাম্পে আনা হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক, বান্দবান:

কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার পালংখালী ইউনিয়নের আঞ্জুমানপাড়া সীমান্ত পয়েন্টের নো-ম্যানস ল্যান্ডে থাকা রোহিঙ্গাদের বিভিন্ন ক্যাম্পে নেওয়া হচ্ছে। বৃহস্পতিবার সাড়ে ১১টা থেকে এসব রোহিঙ্গাদের উখিয়ার কুতুপালং ও বালুখালীর ক্যাম্পে নেওয়া শুরু হয়।

নতুন করে মিয়ানমার সেনাবাহিনী নির্যাতন শুরু করলে গত রবিবার থেকে এসব রোহিঙ্গা রাখাইন রাজ্য থেকে পালিয়ে আঞ্জুমানপাড়া সীমান্ত পয়েন্টের নো-ম্যানস ল্যান্ডে এসে আশ্রয় নেয়। নো-ম্যানস ল্যান্ডে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গারা পালংখালী ইউনিয়নের আনজুমান পাড়া জিরো পয়েন্ট নাফনদী অতিক্রম করার চেষ্টা করলে বিজিবি সদস্যরা তাদের বাঁধা দেয়।

তবুও রোহিঙ্গাদের অনেকেই ঢুকে পড়ে উখিয়ার বিভিন্ন ক্যাম্পে। আর যারা এখনও নো-ম্যানস ল্যান্ডে অবস্থান করছে তারা পড়ে খাদ্য সংকটে। অবশ্য, বেসরকারি এবং ব্যক্তিগত উদ্যোগে তাদের মাঝে কিছু খাবার ও ত্রাণ বিতরণ করা হয়।

গত তিন থেকে পাঁচদিন ধরে অভুক্ত এসব রোহিঙ্গারা প্যারার কাড়ি, জমির আইল, চিংড়ি ঘেরের হাঁটু পানি ও ধানি জমিতে অবস্থান করায় অধিকাংশ রোহিঙ্গা বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়েছে। সেখানে একটি মসজিদে অস্থায়ী ভাবে বসানো মেডিকেল ক্যাম্পে অসুস্থ্যদর চিকিৎসা সেবা দেওয়া হলেও তা ছিল অপ্রতুল বলে দাবি করছে ভুক্তভোগী রোহিঙ্গারা।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে দায়িত্বরত বিজিবি সদস্যরা জানান, ওপরের নির্দেশে এসব রোহিঙ্গাদের তল্লাশি ও কলেরা টিকা খাওয়ানোর পর রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পাঠানো হয়।

বুচিডং শহরের খিয়াংধং গ্রামের রওশন আলী (৩৮) ৫ ছেলে মেয়ে নিয়ে রাস্তার ধারে গাছ তলায় বিশ্রাম নিচ্ছিল। সে জানায়, বুচিডং শহরে ৮৫টি গ্রাম আছে। তৎমধ্যে ১৪টি গ্রাম ছাড়া সবকটি গ্রাম জ্বালিয়ে দিয়েছে মিয়ানমার সেনাবাহিনী। এই ১৪টি গ্রামের অধিকাংশ পরিবার ইতিপূর্বে বালুখালী ও কুতুপালংয়ে আশ্রয় নিয়েছে।

রওশন আলী আরো বলেন, তাদের গ্রামগুলো বিচ্ছিন্ন এলাকা হওয়ায় জীবন বাজি রেখে সেখানে থাকার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু মিয়ানমার সামরিক জান্তা ও রাখাইন বৌদ্ধ সন্ত্রাসীরা থাকতে দিল না। সাদা কার্ড ধরিয়ে দেওয়ার নামে তাদের অত্যাচার, জুলুম মারধর, ধান-চাল, সহায় সম্পদ লুটপাট শুরু করলে গত এক সপ্তাহ আগে ওই ১৪টি গ্রামের ৩০ হাজার পরিবার সীমান্তে পাড়ি জমানোর উদ্দেশ্যে পাহাড়ি পথ ধরে রওনা হয়। গত সোমবার ভোর রাতে আনজুমান পাড়া সীমান্তে এসে তারা বিজিবি’র বাঁধার মুখে আটকা পড়ে যায়। সেখানে তাদের তিনদিন থাকতে হয়েছে না খেয়ে।

বৃহস্পতিবার এসব রোহিঙ্গারা বালুখালী ও কুতুপালং এলাকায় আসতে পারলেও তাদের এখনো ছন্ন ছাড়া জীবন যাপন করতে হচ্ছে।

আইওএম এর প্রোগ্রাম ম্যানেজার সৈকত বিশ্বাস বলেন, আটকে পড়া ৩০ হাজার রোহিঙ্গাদের কুতুপালং ও বালুখালী ক্যাম্পে নিয়ে আসা হয়েছে। তাদের বিভিন্ন মেডিকেল সেন্টারে স্বাস্থ্য সেবা দেওয়ার পাশাপাশি শুকনো খাবার ও ত্রাণ সামগ্রীর কার্ড বিতরণ করা হয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নিকারুজ্জামান সীমান্তে আটকে পড়া রোহিঙ্গারা ক্যাম্পে ফিরে আসার সত্যতা নিশ্চিত করেছে।




বঙ্গবন্ধু ও বঙ্গমাতা গোল্ডকাপে বালাঘাটা ও রাজবিলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় চ্যাম্পিয়ন

নিজস্ব প্রতিবেদক, বান্দরবান:

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেসা গোল্ডকাপ ফুটবল জেলা পর্যায়ের প্রতিযোগিতার ফাইনাল খেলায় বালাঘাটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় (বালক দল) ও রাজবিলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় (বালিকা দল) চ্যাম্পিয়ান হয়েছে। প্রধান অতিথি ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রনালয়ের প্রতিমন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈ সিং এমপি প্রতিযোগীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করেন।

এসময় জেলা প্রশাসক দিলীপ কুমার বণিক, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. কামরুজ্জামান, জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক ইসলাম বেবী, সহ-সভাপতি দিপ্তি কুমার বড়ুয়া, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার রিটন বড়ুয়া প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

বৃহস্পতিবার বিকেলে স্থানীয় রাজার মাঠে ফাইনাল খেলায় সদর উপজেলার রাজবিলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় বালিকা দল ১-০ গোলে পরাজিত করে লামা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় বালিকা দলকে। দলের পক্ষে গোলটি করেন মাশৈচিং মারমা।

বান্দরবান জেলা সদরের বালাঘাটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় দল বনাম নাইক্ষ্যংছড়ির বাইশারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় নির্ধারিত সময়ের খেলায় ৩-৩ গোলে ড্র থাকে। ফলে চ্যাম্পিয়ান দল নির্ধারণ করতে

টাইব্রেকারে ৩-২ গোলে ব্যবধানে বালাঘাটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় দল চ্যাম্পিয়ান হয়।  টুর্নামেন্টে ৭টি গোল করে সেরা গোলদাতার পুরস্কার পান বাইশারী দলের রমজান আলী।

খেলা শেষে অংশগ্রহনকারী দলকে ট্রফি তুলে দেন প্রধান অতিথি বীর বাহাদুর উশৈসিং এমপি। এসময় তিনি চ্যম্পিয়ন দু-দলকে নগদ ১০ হাজার টাকা ও রানার আপ দলকে ৭ হাজার টাকা উপহার দেন। এছাড়াও সেরা খেলোয়াড়, সেরা গোলদাতার হাতেও ব্যক্তিগত আর্থিক পুরস্কার তুলে দেন মন্ত্রী। টুর্নামেন্টে জেলার ১৪টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান অংশ নেয়।




রোহিঙ্গাদের মাঝে ত্রাণ দিলেন বান্দরবান জেলা আ’লীগ

 

নিজস্ব প্রতিবেদক, বান্দরবান:

“মানুষের জন্য মানুষ, জীবনের জন্য জীবন” এ প্রতিপাদ্য নিয়ে মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা নির্যাতিত অসহায় রোহিঙ্গাদের পাশে দাঁড়াল বান্দরবানবাসীর পক্ষে বান্দরবান জেলা আওয়ামী লীগ।

জানাগেছে, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী বীর বাহাদুর এমপির নির্দেশনায় জেলা আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ দু-ভাগে ভাগ হয়ে মানবিক সহায়তা প্রদানের লক্ষ্যে বুধবার নাইক্ষছড়ি উপজেলার চাকঢালা, বড় চনখোলা, সাপমারা ঝিড়ি, দো-ছড়ি, ঘুমধুম এলাকায় আশ্রয় নেয়া ২৫০০ রোহিঙ্গা পরিবারের মাঝে নিত্য প্রয়োজনীয় ত্রান সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে।

ত্রাণ বিতরণে অংশ নেয় জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আব্দুর রহিম চৌধুরী, উপদেষ্টা কাজল কান্তি দাশ, সাধারণ সম্পাদক পৌর মেয়র ইসলাম বেবী, সহ-সাধারণ সম্পাদক লক্ষি পদ দাশ, সাংগঠনিক সম্পাদক মোজাম্মেল হক বাহাদুর, জেলা পরিষদের সদস্য ক্যসাপ্রু, নাইক্ষংছড়ি সদর ইউনিয়নের ইপি চেয়ারম্যান তসলিম ইকবাল চৌধুরী, ঘুনধুম ইউপি চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর, জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক জনি সুশিলসহ জেলা ও উপজেলা আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।