লামার ফাঁসিয়াখালী বগাইছড়ি ব্রিজ যেকোন মুহুর্তে ধসে যেতে পারে

লামা প্রতিনিধি:

বান্দরবান পার্বত্য জেলার লামা উপজেলার ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের বগাইছড়ি খালের উপর নির্মিত ব্রিজ যেকোন মুহুর্তে ধসে যেতে পারে। ব্রিজের বেইজের নিচের মাটি সরে গেছে। ব্রিজের সামনের অংশ জবর দখল করার উদ্দেশ্যে ব্যারিকেড দিয়ে নদীর পানি প্রবাহের গতি পরিবর্তন করা হয়েছে। পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের একটি তদন্ত টিম জরুরি ভিত্তিতে গাইড ওয়াল নির্মাণ করে ব্রিজটি রক্ষার জন্য মতামত দিয়েছেন।

পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড গত ২০১০ সালে ২ কোটি টাকা ব্যয়ে বগাইছড়ি খালের উপর ব্রিজ নির্মাণ করেন। ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাকির হোসেন মজুমদার জানিয়েছেন, জনৈক ব্যক্তি ব্রিজের সামনের অংশকে নিজেদের জায়গা দাবি করে পানি প্রবাহের স্বাভাবিক ধারাকে ব্যাহত করেছে। আবার ব্রিজ সংলগ্ন এলাকা থেকে ডুলাহাজারার একটি সিন্ডিকেট অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে যাচ্ছে। স্থানীয়ভাবে নিষেধ করার পরেও অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধ হয় নি। ক্ষমতাশীন দলের রাজনৈতিক প্রভাব ও প্রশাসনিক ছত্র ছায়ায় বগাইছড়ি খাল থেকে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে বালু উত্তোলন অব্যাহত রয়েছে। যার কারণে সরকারের কোটি কোটি টাকা অর্থায়নে নির্মিত ব্রিজ, কালভার্ট ও সড়ক দিন দিন নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।

সম্প্রতি পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের একটি টিম বগাইছড়ি খালের উপর নির্মিত ব্রিজ পরিদর্শন করেছে। পরিদর্শন টিমের সদস্য ও সুপারভাইজার প্রশান্ত কুমার ভট্টাচার্য জানিয়েছেন, ব্রিজের সামনের অংশের জায়গা জনৈক ব্যক্তি নিজেদের দাবি করে পানি চলাচলের ধারাকে বাধাগ্রস্থ করেছে। যে কারণে ব্রিজের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। আবার বগাইছড়ি খাল থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন অব্যাহত রয়েছে।

স্থানীয় ইউপি মেম্বার. মো. হোসাইন জানিয়েছেন, ব্রিজটি ধসে গেলে জনসাধারণের দুর্ভোগ বেড়ে যাবে। যে কোন মূল্যে ব্রিজটি রক্ষা করা প্রয়োজন।

পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুল আজিজ জানিয়েছেন, বগাইছড়ি ব্রিজ রক্ষার জন্য উন্নয়ন বোর্ড চলতি অর্থবছর প্রকল্প গ্রহণ করবে। বগাইছড়ি খালের জায়গা জবর দখলকারীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে স্থানীয় প্রশাসনকে পত্র দিয়ে অনুরোধ করা হবে। ব্রিজ রক্ষায় সকল মহলকে এগিয়ে আসতে হবে।




যথাযোগ্য মর্যাদায় রোয়াংছড়িতে জাতীয় শোক দিবস পালিত

রোয়াংছড়ি প্রতিনিধি:

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪২তম জাতীয় শাহাদাৎ বার্ষিকী উপলক্ষ্যে শোক দিবসে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণের মধ্যে দিয়ে যথাযোগ্য মর্যাদায় দিবসটি পালিত হয়েছে।

মঙ্গলবার সকাল ১০টায় রোয়াংছড়ি উপজেলায় আওয়ামী লীগ আয়োজিত শোক দিবস উপলক্ষ্যে রোয়াংছড়ি বাজারস্থ মাল্টিপারপাস প্রাঙ্গন থেকে ২শতাদিক নেতাকর্মী অংশগ্রহণের মাধ্যমে বর্ণাঢ্য র‌্যালি বের হয়ে প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে একই স্থানে এসে শেষ হয়। এরপর রোয়াংছড়ি বাজারস্থ মাল্টিপারপাস মিলনায়নে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

এতে উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ও রোয়াংছড়ি সদর ইউপির চেয়ারম্যান চহ্লামং মারমার সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বান্দরবান জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হ্লাথোয়াইহ্রী মারমা।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সহসভাপতি চহাইমং মারমা, আলেক্ষ্যং ইউপির চেয়াম্যান বিশ্বানাথ তঞ্চঙ্গ্যা, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রামশিয়াম বম, সাংগঠনিক সম্পাদক জনমজয় তঞ্চঙ্গ্যা, সাংগঠনিক সম্পাদক ও জেলা দৈনিক মানবকণ্ঠ সাংবাদিক মংখিংসাই মারমা, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. আব্দুর রহিম সোবহান, উপজেলা শ্রমিকলীগের সভাপতি আথুইমং মারমা, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগের সভাপতি প্রীতিময় তঞ্চঙ্গ্যা, উপজেলা মহিলা আওয়ামী লীগ সভানেত্রী অংম্রাচিং মারমা প্রমুখ।

এসময় বক্তারা বলেন রক্তের অক্ষরে লেখা দিন আজ, ১৯৭৫ সালে ১৫আগস্ট এই দিনে বুলেটের আঘাতে ক্ষতবিক্ষত ও ঝাঝরা করা হয় বাংলার স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে।

উন্নয়ন অগ্রযাত্রাকে থামিয়ে রাখা চেষ্টা করছিল কিন্তু থামাতে পারেনি। স্বাধীন বাংলাদেশে ঘৃণিত একদল ঘটকরা ওই দিনে ছোট শিশু শেখ রাসেলকে পর্যন্ত রেহাই দেননি। বঙ্গ কন্যা শেখ হাসিনা’র সরকার পরিচালনাতে আজ এগিযে যাচ্ছে দেশ। উন্নয়নে বন্যা বয়ে দিয়েছে প্রধানমন্ত্রী  শেখ হাসিনা। তাই এ ঘাতকরা যেখানে পালিয়ে থাকুক দেশে ফিরিয়ে এনে ফাঁসি রায় কার্যকর করা আহ্বান জানান বক্তারা।

প্রধান অতিথি বলেন, বঙ্গবন্ধুর জন্ম হয়েছে বলেই আজ এ দেশ স্বাধীন হয়েছে। এ দেশ স্বাধীন হয়েছে বলেই বীর বাহাদুর এমপি’র (উশৈসিং) কে পেয়েছি। বঙ্গবন্ধু যদি জাতির স্বার্থে চিন্তা না থাকত তাহলে শোষিত পৈশাজীব হতে মুক্তি হত না। আজ আমরা স্বাধীন দেশে বসবাস করছি, শেখ হাসিনা সুদক্ষ ভাবে দেশ পরিচালনা করছে। তাই দেশে বিভিন্ন অলিগলিতে উন্নয়নে ছোঁয়া পাচ্ছে। এই উন্নয়নকে অব্যাহত রাখতে আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়য্ক্তু করে দেশ নেত্রী শেখ হাসিনা ও সম্প্রীতি বান্দরবানে চির সবুজ নেতা বীর বাহাদুর এর হাতকে শক্তিশালী করতে এক যোগে কাজ করা আহ্বান জানান।

উপজেলা আ’লীগ সাংগঠনিক সম্পাদক ধীরেন ত্রিপুরার সভা সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন, ছাত্রলীগের সভাপতি সুমনজয় তঞ্চঙ্গ্যা, যুবলীগের সভাপতি পুরুকান্তি তঞ্চঙ্গ্যা প্রমুখ।

এদিকে পৃথক ভাবে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে যথাযোগ্য মর্যাদায় ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবস পালিত হয়েছে। ইতোপূর্বে উপজেলা প্রাঙ্গন থেকে বর্ণাঢ্য র‌্যালি বের হয়ে প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে পরিষদের প্রাঙ্গনে এসে শেষ হয়। অতঃপর উপজেলা পরিষদ হল রুমে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

মঙ্গলবার সকাল ১০টায় অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন নির্বাহী অফিসার রবীন্দ্র চাকমা। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মাউসাং মারমা। অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন পার্বত্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী প্রতিনিধি নেইতং বইতিং বম, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের কর্মকর্তা পুলুপ্রু মারমা, নির্বাচন কর্মকর্তা মো. আব্দুর শুক্কুর, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা তর্পন দেওয়ান, বিআরডিবি কর্মকর্তা পুলুমা মারমাসহ সকল দপ্তরের কর্মকর্তা ও কর্মচারিগণ অংশগ্রহণ করেন।




নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা প্রশাসনের জাতীয় শোক দিবসে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল

বাইশারি প্রতিনিধি:

বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষ্যে র‌্যালিসহ আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়। উপজেলায় মঙ্গলবার(১৫ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১১টায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এসএম সরওয়ার কামালের সভাপতিত্বে এবং বিআরডিবি সহকারী কর্মকর্তা মো. শাহ আলমের সঞ্চালনায় এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

এতে প্রধান অতিথি ছিলেন নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. কামাল উদ্দীন।

এসময় বক্তারা বলেন, আগস্ট মাস বাঙ্গালী জাতির জন্য শোকের মাস। এ ম্যাসেই জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে স্বপরিবারে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। যারা সেদিন এ ঘটনা ঘটিয়েছিল। পরবর্তীতে তারাই জাতির পিতার কন্যা শেখ হাসিনাকে বারবার হত্যার চেষ্টা চালিয়েছে। এখনও স্বোচ্ছার সেই অপশক্তিটি। তারা ২১ শে আগস্টে সবচেয়ে ন্যাক্কারজনক ভাবে শেখ হাসিনাকে হত্যার উদ্দেশ্যে গ্রেনেড ছুঁড়ে মারে। কিন্তু স্বয়ং আল্লাহ সেদিন শেখ হাসিনাকে বাঁচিয়ে রেখেছেন। যার জন্যই আজ বাংলাদেশ বিশ্ব দরবারে এগিয়ে চলেছে।

বক্তারা আরও বলেন, সেদিন যদি শেখ হাসিনাকে তারা হত্যা করতে পারত, তাহলে সেদিন হত্যা হতো এদেশের মানুষের আশা-আকাঙ্খা। হত্যা হতো এদেশের কোটি কোটি মানুষের স্বপ্ন। আবার রাজত্ব করত সেই স্বাধীনতাবিরোধী অপশক্তি।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ও বক্তব্য রাখেন, নাইক্ষ্যংছড়ি থানা অফিসার ইনচার্জ এসএম তৌহিদ কবির, উপজেলা শিক্ষা অফিসার আবু আহম্মেদ, উপজেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতা অধ্যাপক এম, শফি উল্লাহ, পার্বত্য বিষয়ক প্রতিমন্ত্রির বিশেষ প্রতিনিধি আল হাজ্ব খাইরুল বাশার, উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. আবু তাহের, সদর ইউপি চেয়ারম্যান তসলিম ইকবাল চৌধুরী, সদস্য সচিব মো. ইমরান মেম্বার, সদর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. তারেক রহমান, মহিলা আওয়ামী লীগের সভানেত্রী জুহুরা বেগম, সাধারণ সম্পাদক ওজিফা খাতুন রুবী,

কৃষকলীগের সাধারণ সম্পাদক সাইফুদ্দীন মামুন শিমুল, স্বেচ্ছা সেবকলীগের সভাপতি মো. আব্দু সাত্তার, শ্রমিকলীগের সভাপতি জহির উদ্দীন, উপজেলা যুবলীগের সভাপতি মো. জসিম উদ্দীন, সাধারণ সম্পাদক মো. আলী হোসেন মেম্বার।এতে আরও উপস্থিত ছিলেন, সাবেক সিনিয়র সহ সভাপতি নাজমুল হাছান, সাবেক যুগ্ম সম্পাদক ইব্রাহীম আজাদ, সদর ইউনিয়ন যুবলীগ সহ-সভাপতি মিজানুল করিম, সাধারণ সম্পাদক ফাহিম ইকবাল চৌধুরী খাইরু, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. আনছার উল্লাহ প্রমুখ।

আলোচনা সভার পূর্বে জাতীয় শোক দিবস তথা ৪২তম শাহাদাত বাষির্কী উপলক্ষ্যে উপজেলা আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে র‌্যালি নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে।




আলীকদম সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে অনিয়ম, দুর্নীতিতে বেহাল দশা

 

আলীকদম প্রতিনিধি:

আলীকদম সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক কর্মচারীরা দপ্তরীর নিকট জিম্মি হয়ে পড়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। দপ্তরীর অপকর্মের প্রতিবাদ করায় শিক্ষকদের হাত-পা কেটে ফেলার হুমকি দিয়েছেন চতুর এ দপ্তরী। জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে ইউএনও’র পরামর্শে শিক্ষকরা থানায় সাধারণ ডাইরি (জিডি) করেছেন। ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ‘গুণধর’ এ দপ্তরীর অপকর্মের অন্যতম সহযোগী।

এ অবস্থায় নিরুপায় হয়ে বিদ্যালয়ের অন্যান্য শিক্ষক-কর্মচারীরা সুনির্দিষ্ট ১২টি বিষয়ে তদন্ত দাবি করে লিখিত অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে। অভিযোগে বিদ্যালয়ের বৃক্ষ নিধন, কোচিং বাণিজ্য, অর্থ আত্মসাত ও পুকুরের লিজ জালিয়াতিসহ নানান আর্থিক অনিয়মের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।

প্রাপ্ত অভিযোগে প্রকাশ, ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ও দপ্তরী জাহাঙ্গীর আলমের যোগ সাজশে ‘বিদ্যালয়ের মানোন্নয়ন’ নামে চলতি শিক্ষাবর্ষে একটি খাত সৃষ্টি করেন। এ খাতের আওতায় বিদ্যালয়ের ৩৬০জন শিক্ষার্থী থেকে জনপ্রতি ৫শ’ টাকা হারে ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা অর্থ আদায় করে আত্মসাত করা হয়। শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ২শ’ থেকে ৫শ’ টাকা হারে ছাড়পত্র ফি আদায় করা হলেও সরকারি কোষাগারে জমা করা হচ্ছেনা। যা শিক্ষামন্ত্রণালয় কর্তৃক ২০১৪ সালের ৬ জুলাই জারী করা পরিপত্র বিরোধী। অভিযোগ প্রকাশ, বিদ্যালয়ে বিভিন্ন খাতে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে আদায় করা অর্থ ব্যয়ে শিক্ষকদের নিয়ে তিন সদস্যের কমিটি থাকার কথা। কিন্তু কমিটি ছাড়াই বিদ্যালয়ের আয়ের টাকা হরিলুট করছেন প্রধান শিক্ষক ও দপ্তরী। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মৃদুল কান্তি তালুকদার বলেন, শিক্ষকরা আমাকে তোয়াক্কা করছেন না। আমার বিরুদ্ধে তারা অহেতুক মিথ্যা অপবাদ দিচ্ছেন।

সহকারী শিক্ষক ছৈয়দ মো. আব্দুল মান্নান বলেন, বিদ্যালয়ের দপ্তরী জাহাঙ্গীর আলমের হুমকীতে আমরা তটস্থ। দুই দশকের বেশি সময় তিনি একই কর্মস্থলে থাকায় সে কাউকে পরোয়া করছে না। ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক তাকে বিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসের ভেতরে স্বপরিবারে থাকতে দিয়েছেন। তার (জাহাঙ্গীরের) পালিত গরু, ছাগল, হাস, মুরগী বিদ্যালয়ের পরিবেশ নষ্ট করছে। ক্লাস চলাকালীন জাহাঙ্গীরের পালিত ছাগল ক্লাসে ঢুকে পড়ে। এ ব্যাপারে প্রধান শিক্ষক ও দপ্তরীকে বলায় উল্টো হুমকি পেতে হয়েছে শিক্ষকদের। বিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মচারীদেরকে দপ্তরী জাহাঙ্গীর বিভিন্ন সময় গালিগালাজ করে‘চাকুরী কেমনে কর’ বলে হুমকী দিয়ে থাকেন। ফলে একজন শিক্ষক থানায় জিডি করতে বাধ্য হয়েছেন।

শিক্ষকরা লিখিত অভিযোগে বলেন, বিদ্যালয়ের গেইটের কাছে অন্বেষা নামে কোচিং সেন্টার পরিচালনা করেন দপ্তরী জাহাঙ্গীর। তাকে দিয়েই ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক পরীক্ষার প্রশ্নপত্র  আনয়ন ও সেটিংএর কাজ করান। প্রশ্নপত্রও গচ্ছিত রাখা হয় দপ্তরীর কাছেই। পরীক্ষা চলার সময় দপ্তরীর নিকট হতেই প্রশ্ন নিয়ে শিক্ষকদের পরীক্ষার হলে যেতে হয়। বিদ্যালয়ের একজন চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীকে এ ধরণের ‘ক্ষমতা’ প্রদানকে নৈতিকতা বিবর্জিত, বেআইনী ও শিক্ষক সমাজকে হেয় ও অপমান করার শামিল দাবি করেছেন।

শিক্ষকরা বলেন, বিদ্যালয়ের নামে থাকা বিশাল একটি পুকুর বছরের পর বছর ধরে দপ্তরী জাহাঙ্গীর ভোগ করছেন। মাছ চাষ করে অর্থগৃধু হচ্ছেন। শিক্ষক ও কমিটির সাথে আলোচনা ছাড়া এবং প্রকাশ্য নিলামনা দিয়ে দপ্তরীকে মাছ চাষের অনুমতি দিয়েছেন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক।

এ ব্যাপারে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক বলেন, পুকুরটিতে আতাউল নামে এক ব্যক্তির সাথে যৌথ ভাবে মাছ চাষ করেন জাহাঙ্গীর। বৈধ উপায়ে পুকুর নিলামনা দেওয়ার কথা স্বীকার করেছেন তিনি। স্থানীয় বাজারের কাপড়ের দোকানদার আতাউল বলেন, ‘আমি পুকুরটিতে কিছু মাছ ফেলেছি, তবে এখনো পর্যন্ত কাগজে পত্রে নিলাম নেইনি’।

সহকারী শিক্ষক মো. জাহাঙ্গীর আলম মনছুরী বলেন, ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ও দপ্তরী মিলে বিদ্যালয়ের বড় ও মাঝারী সাইজের ৮টি বৃক্ষ নিধন করেছেন। যার মূল্য কয়েক লক্ষ টাকা হবে। এ বৃক্ষ নিধণের ক্ষেত্রে কোন প্রকার সরকারি অনুমোদন নেওয়া হয়নি। বিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনিয়মের প্রতিবাদ করায় দপ্তরী আমাকে ও অন্য শিক্ষকদের মৃত্যুর হুমকী দিয়েছেন। আমি বাধ্য হয়ে থানায় জিডি করেছি।

শিক্ষকরা বলেন, ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নিজের মর্জিমাফিক বিদ্যালয়ে আসা যাওয়া করেন। নিয়মের ধার ধারেননা। বিদ্যালয়ে বিভিন্ন সংস্কারের নামে বিল ভাউচার করে অর্থ আত্মসাত করছেন। শিক্ষক কিংবা কমিটির সাথে আলোচনা না করেই বিদ্যালয়ের বেসরকারি তহবিল থেকে অর্থ উত্তোলন করে কথিত ‘কেন্টিন’ নির্মাণ করেছেন।

অভিযুক্ত দপ্তরী বক্তব্য জানতে কয়েক বারতার মুঠোফোনে কল দিয়েও সংযোগ পাওয়া যায়নি। বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মোহাম্মদ নায়িরুজ্জামান বলেন, শিক্ষকদের স্বাক্ষরিত অভিযোগ পত্র পেয়ে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি করেছি। তদন্ত কমিটির রিপোর্ট হাতে পেলে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




রাঙ্গুনিয়ায় সেনা সদস্যের স্ত্রীকে গলাকেটে হত্যা

নিজস্ব প্রতিবেদক, বান্দরবান:

চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার বেতাগী ইউনিয়নের বড়ুয়া পাড়া গ্রামে রুমি বড়ুয়া নামে এক শিক্ষিকাকে রবিবার গভীর রাতে গলাকেটে হত্যা করা হয়েছে। নিহত রুমি বড়ুয়া সেনা সদস্য নান্নু বড়ুয়ার স্ত্রী।

স্থানীয় লোকজন জানান, রবিবার বিকালে নান্নু বড়ুয়া স্ত্রী রুমি বড়ুয়াকে গ্রামের বাড়িতে নিয়ে যান। রাত ১২টার দিকে রুমি বড়ুয়াকে গলাকেটে হত্যা করা হয়। পরে নান্নু বড়ুয়ার চিৎকারে আশপাশের মানুষ ঘটনাস্থলে গিয়ে রুমি বড়ুয়ার গলাকাটা লাশ দেখতে পায়। নান্নু বড়ুয়া দাবি করেন, কয়েকজন দুর্বৃত্ত এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে । ঘাতকদের তিনি চিনেন না বলেও জানান।

স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে রাত ২টায় রাঙ্গুনিয়া থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে। কিন্তু গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধারে বাধা দেন নান্নু বড়ুয়া। চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার নুরে আলম মিনা দুপুরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং নিহতের স্বামী নান্নু বড়ুয়াকে আটক করেন।

রাঙ্গুনিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ইমতিয়াজ মো. আহসানুল কাদের ভুঁইয়া বলেন, গৃহবধূর মরদেহ নিতে সেনা বাহিনীর অনুমতির প্রয়োজন বলে জানান নান্নু বড়ুয়া। হত্যাকাণ্ডটি রহস্যজনক বলে মনে হচ্ছে। এব্যাপারে কেউ মুখ খুলছে না। স্থানীয়রা হত্যাকাণ্ডে স্বামীর প্রতি আঙুল তুলছে।




মাদক সেবন ও পরিবহন থেকে বিরত থাকুন

 

গুইমারা প্রতিনিধি:

যথাযথ হেলমেট ব্যবহার, বৈধ গাড়ির লাইসেন্স নিয়ে গাড়ি চালানো, পাহাড়ের টেকে হর্ন বাজানো বিশেষ করে মাদক সেবন ও পরিবহন থেকে বিরত থাকা এবং দ্রুত গতিতে গাড়ি চালিয়ে ওভার টেকিং না করার জন্য পরামর্শ দিয়ে নিজে নিরাপদে থেকে যাত্রীদের নিরাপদে রাখার নির্দেশ দেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. ফরহাদ।

পুলিশই জনতা, জনতাই পুলিশ আর এ স্লোগান হোক দেশের সকল জনতার এ লক্ষ্য নিয়ে  খাগড়াছড়ির গুইমারা উপজেলার জালিয়াপাড়ায়  কমিউনিটি পুলিশিং কমিটির উদ্বোধনী আলোচনা সভায় পুলিশ সুপার মো. ফরহাদ পরিবহন শ্রমিকদের উদ্দেশ্যে এসব কথা বলেন।

বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন, জামাল মেম্বার(সাবেক) সোমবার (১৪ আগস্ট)  সকাল ১১টায় গুইমারা থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি) যোবায়েরুল হকের সভাপতিত্বে জালিয়াপাড়া কমিউনিটি পুলিশিং কমিটির নিজ কার্যালয়ে সভাটি অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় পরিবহন কমিউনিটি পুলিশিং কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো. রুবেল-তার বক্তব্যে  উপস্থিত সকল পরিবহন চালকদের লক্ষ্য সতর্কবার্তা দিয়ে বলেন, কোন শ্রমিক মাদক সেবন করতে পারবে না এবং কোন গাড়িতে মাদক বহনও করতে পারবে না। যদি করেন তার দায় আপনাকে বহন করতে হবে এর জন্য কোন শ্রমিক ভাই সমিতির সহযোগিতা পাবেন না।




বান্দরবানে সনাতন ধর্মালম্বীদের শ্রী শ্রী জন্মাষ্টমী উৎসব উদ্বোধন


নিজস্ব প্রতিবেদক, বান্দরবান:
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব শ্রী শ্রী জন্মাষ্টমী উৎসব নানা আয়োজনের মাধ্যমে পালন করছে বান্দরবানের সনাতন ধর্মালম্বীরা।

ভগবান শ্রীকৃষের জন্ম উৎসবকে ঘিরে চারদিন ব্যাপী নানা আয়োজন উপলক্ষ্যে রবিবার স্থানীয় রাজারমাঠে প্রদীপ প্রজ্জলন ও জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে জন্মাষ্টমী উৎসবের উদ্বোধন করেন বাঙ্গালহালিয়া জ্যোতিশ্বর বেদান্ত মঠ ও মিশনের অধ্যক্ষ শ্রীমৎ স্বামী অভেদানন্দ ব্রহ্মচারী মহারাজ।

এসময় বান্দরবান জন্মাষ্টমী উদযাপন পরিষদের সভাপতি অঞ্জন কান্তি দাশ,সাধারণ সম্পাদক সুজন চৌধুরী সনজয়, আঞ্চলিক পরিষদের সদস্য কাজল কান্তি দাশ, পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য ও বান্দরবান শ্রী শ্রী কেন্দ্রীয় দুর্গা মন্দিরের সাধারণ সম্পাদক লক্ষীপদ দাশ, সভাপতি নিখিল কান্তি দাশ, গীতা সুধাকর শ্রীমান প্রদর্শন দেবনাথ, বান্দরবান শ্রী শ্রী কেন্দ্রীয় দুর্গা মন্দিরের উপদেষ্টা অমল কান্তি দাশ, সুধাংশু চর্ক্রবত্তী, অনিল কান্তি দাশ, জন্মাষ্টমী উদযাপন পরিষদের আইন শৃংঙ্খলা বিষয়ক সম্পাদক পিন্টু কান্তি দাশ সহ বিভিন্ন মন্দিরের পুরোহিত,সভাপতি সম্পাদকসহ শত শত ভক্তবৃন্দরা উপস্থিত ছিলেন।

শ্রী শ্রী জন্মাষ্টমী উৎসব উপলক্ষে চলছে হরিনাম সংকীর্তন,বিশ্বশান্তি ও মঙ্গল কামনায় অগ্নিহোত্র যজ্ঞ, আলোচনাসভা,আরতি কীর্তন, ভাগবত কথা পাঠ, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, মহাপ্রসাদ বিতরণসহ নানা আয়োজন ।

আগামী ১৬ আগস্ট মহানামযজ্ঞের পূর্ণাহুতি, নগর পরিক্রমা ও শুভেচ্ছা বিনিময়ের মধ্য দিয়ে সনাতন ধর্মালম্বীদের এই  জন্মাষ্টমী উৎসব শেষ হবে।




বান্দরবানে শিক্ষকদের কোচিং বাণিজ্য বন্ধে মাঠে নামছে মোবাইল কোর্ট


নিজস্ব প্রতিবেদক, বান্দরবান:
বান্দরবানের বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কর্মরত শিক্ষকদের কোচিং বাণিজ্য ঠেকাতে শীঘ্রই মাঠে নামছে স্থানীয় প্রশাসন। যেসব শিক্ষক ২০১২ সালে শিক্ষা মন্ত্রণালয় প্রণীত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের কোচিং বাণিজ্য বন্ধ নীতিমালা মানবেন না তাঁদের চাকরি থাকবে না বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈসিং এম.পি। রবিবার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে জেলা আইন-শৃঙ্খলা সংক্রান্ত সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

প্রতিমন্ত্রী জেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে উদ্দেশ্য করে বলেন, আপনারা খবর নেন, কোনো শিক্ষক যদি নীতিমালা না মেনে কোচিং করায়, তাহলে তাঁর বিরুদ্ধে উর্ধতন কর্তৃপক্ষের কাছে লিখেন। তাঁর শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধেও লেখেন। শিক্ষকদের যদি কোচিং করানো অবস্থায় পাওয়া যায় তাহলে ঐ প্রতিষ্ঠানের প্রধান এবং শিক্ষা অফিসার দায়ী থাকবেন। জেলা প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেন।

জেলা প্রশাসক দিলীপ কুমার বণিক জানান, নীতিমালা বহির্ভূত কোচিং বন্ধে শীঘ্রই মোবাইল কোর্ট মাঠে নামবে।

জেলা শিক্ষা অফিসার সোমা রানী বড়ুয়া জানান, কোচিং বাণিজ্যে জড়িত শিক্ষকদের একটি তালিকা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে ইতোমধ্যে প্রেরণ করা হয়েছে। আরো যদি কেউ কোচিং করিয়ে থাকেন, তাঁদের তালিকাও প্রণয়ন করা হবে।




জনগণের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে না পারলে অন্যত্রে চলে যান- পার্বত্য প্রতিমন্ত্রী


নিজস্ব প্রতিবেদক, বান্দরবান:
জনগণকে স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত করতে বান্দরবান সদর হাসপাতালের কনসালটেন্ট চিকিৎসকরা সপ্তাহে ২ দিন ডিউটি নির্ধারণ করে নিয়েছেন। কিন্তু বেতন নেয় পুরো সপ্তাহের। ফলে ডাক্তারদের নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত করতে কর্তৃপক্ষকে আরো কঠোর হবার নির্দেশ দিয়েছেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈসিং এমপি।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, এটা অত্যন্ত গর্হিত কাজ। যদি আমাদের বান্দরবানবাসীকে স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত করার ইচ্ছা বা তাদের পছন্দ না হয় তাহলে বদলী হয়ে অন্য জায়গায় চলে যান। যদি থাকেন দয়া করে মানুষকে প্রকৃত সেবা দিন। আপনারা ডিউটি ফাঁকি দেন, জনগণ গালি দেয় আমাদের। আপনাদের অবহেলায় বদনাম হয় সরকারের, বদনাম হয় জননেত্রী শেখ হাসিনার। রবিবার বান্দরবান সদর হাসপাতালের স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়ন বিষয়ক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈসিং এম পি এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, হাসপাতালের নষ্ট এ্যাম্বুলেন্স, পরীক্ষা-নিরীক্ষার যন্ত্রপাতিসহ সবধরনের সমস্যার তালিকা প্রণয়ন করে জেলা পরিষদ এবং প্রতিমন্ত্রীর দপ্তরে জমা দেবার নির্দেশ দেন। যেসব সমস্যা স্থানীয়ভাবে সমাধান করা সম্ভব এবং যেগুলো কেন্দ্রীয় ভাবে সমাধান তা আলাদা আলাদা করে তালিকা প্রনয়নের নির্দেশ দেন। তিনি জানান, শীঘ্রই আরো ৫ জন ডাক্তার নিয়োগের ব্যাপারে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সাথে কথা হয়েছে।

বীব বাহাদুর বলেন, কর্তব্যরত নার্সদের দুর্ব্যবহার, নিয়মিত জেনারেটর সচল না থাকা, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য আইপিএস স্থাপন, ইমার্জেন্সী বিভাগে সার্বক্ষণিক ডাক্তার উপস্থিত থাকাসহ বিভিন্ন বিষয়ে তিনি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে দ্রুত পদক্ষেপ নেবারও নির্দেশ দেন।

সভায় তাৎক্ষণিকভাবে হাসপাতালের পানি সমস্যা সমাধানে জনস্বাস্থ্য বিভাগকে একটি গভীর নলকূপ স্থাপনের নির্দেশ দেন। টয়লেটসহ হাসপাতালের সব স্থাপনা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করতে ৫০ হাজার টাকা, ইসিজি মেশিন কেনার জন্যে ৩৬ হাজার টাকা, এবং নষ্ট এ্যাম্বুলেন্স মেরামতের জন্যে ৫২ হাজার টাকা বরাদ্দ দিতে জেলা পরিষদকে নির্দেশ দেন।

পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ক্য শৈ হ্লা বলেন, পার্বত্য জেলা পরিষদের মাধ্যমে সদর হাসপাতালে সিসি ক্যামরা স্থাপন করে দেওয়া হবে ও এ্যাম্বুলেন্স মেরামত করে দেওয়া হবে। জেলা পরিষদের বিশেষ কমিটির মাধ্যমে প্রতিদিন একজন বিশেষ প্রতিনিধির মাধ্যমে হাসপাতালে র্কাযক্রমগুলো পরিদর্শন করে রির্পোট তৈরি করার মাধ্যমে সমস্যা সমাধান করা হবে।

এসময় জেলা পরিষদের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা শহিদুল আলম, ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. অং সুই প্রু, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো. মাকসুদ চৌধুরী, ভারপ্রাপ্ত আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. শাহানা রহমানসহ স্বাস্থ্য বিভাগের উর্ধতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।




থানচিতে নৌকা ডুবে একজন নিখোঁজ

থানচি প্রতিনিধি:

থানচি থেকে নাফাখুম যাওয়ার পথে বড় ইয়াংরে চং এ নৌকা ডুবে এক শ্রমিক নিখোঁজ হয়েছে। রবিবার দুপুর ২টায় থানচি থেকে তিন্দু গ্রোপিং পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নির্মানাধীণ ভবনের নির্মাণ সামগ্রী রড নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। বিকাল ৩টায় বড় ইয়াংরে নামক স্থানে পৌছলে নদীতে পানির শ্রোত অতিরিক্ত বয়ে যাওয়ায় নৌকা ডুবে যায়।

ঘটনাস্থলে এক নির্মাণ শ্রমিক নিখোঁজ হন।নিখোঁজ শ্রমিককে পুলিশ ও বিজিবি উদ্ধারের চেষ্টা চালাচ্ছে। তিন্দু গ্রোপিং পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভবন নির্মাণের ঠিকাদার  এলজিইডি ৪র্থ শ্রেণির কর্মচারী মোহাম্মদ রোকন মিঞা জানান, নিখোঁজ শ্রমিকের বাড়ি নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলায়।