বাঘাইছড়িতে সোলার ছিনতাইকারী সন্দেহে এক পাহাড়ী যুবক আটক

বাঘাইছড়ি প্রতিনিধি : বাঘাইছড়ি উপজেলার চৌওমুহনী সদর থেকে বাঘাইছড়ি উপজেলা প্রসাশনের জন্য গ্রামীণ শক্তি এনজিও কর্তৃপক্ষের ক্রয়করা ৮২৭ পিচ সোলার থেকে ৩৬৮ পিচ ছিনতাইয়ের ঘটনায় চীর শান্তি চাকমা(৩২) পিতা: শংকর চাকমা গ্রাম বালুখালির এক পাহাড়ী যুবককে আটক করেছে বাঘাইছড়ি থানা পুলিশ।

গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বাঘাইছড়ি থানার এস,আই মো. রুবেলের নেতৃত্বে সোমবার সকাল ১০ ঘটিকায় চৌওমুহনী রাঙ্গুনিয়া ষ্টোর থেকে তাকে  আটক করা হয়।

আটকের পর থেকে বাঘাইছড়ি থানায় নিয়ে ব্যাপকহারে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় এসময় সে নিজেকে ইউপিডিএফ সমর্থিত যুব ফোরাম সংগঠনের সাবেক সদস্য পরিচয় দেয় এবং তার বাবা শংকর চাকমা একজন সাবেক মেম্ভার বলে জানায় বর্তমানে সে কাঠের ব্যাবসা করে।

চীর শান্তি চাকমাকে আটকের ব্যাপারে বাঘাইছড়ি থানার ওসি মো. আমির হোসেন বলেন উপজেলা পরিষদের ৩৬৮ পিচ সোলার ছিনতাইয়ের ব্যাপারে এখন পর্যস্ত থানায় কেউ মামলা করেনি এবং গ্রামীণ শক্তির ম্যানেজার শ্যামল চাকমা ও যোগাযোগ রাখছে না তাকে ফোন দিয়েও পাওয়া যায় না। তারপরও রাষ্ট্রীয় সম্পদ ছিনতাই হওয়ায় পুলিশ নিজ দায়িত্বে সাধারণ ডায়রি করে তদন্ত করছে এবং ছিন্তাইয়ের সাথে জড়িত সন্দেহে এক চাকমা যুবক কে আটক করা হয়েছে।মঙ্গলবার ইওনো মহোদয় আসার পর সিন্ধান্ত হবে।

এদিকে সোলার ছিনতাইয়ের বিষয় নিয়ে পাহাড়ী সংগঠনগুলো ভিবিন্ন ফেক আইডির মাধ্যমে এক পক্ষ আরেক পক্ষকে দোষারোপ করে পরিবেশ উত্তপ্ত করে তুলছে। কেউ আবার আটক ব্যক্তিকে নির্দোষ দাবীও তুলছে। তবে চীর শান্তি চাকমাকে পুলিশ আটক করারার সাথে সাথে ফেইসবুকে তাকে নিয়ে দুই পক্ষের টানাহেঁচড়া নতুন সন্দেহের সৃষ্টি করছে। পুলিশি তদন্তের পর সঠিক তথ্য জানা যাবে। ছিনতাই করা সোলার উদ্ধারে যৌথবাহিনীর অভিযান চলছে এরিমধ্যে ৩০ পিচ সোলার উদ্ধার করা হয়েছে বাকী সোলার উদ্ধার না হওয়া পর্যন্ত অভিযান চলবে।

বাঘাইছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তাজুল ইসলাম ছিনতাইয়ের বিষয়ে     বলেন, এ ব্যাপারে কোম্পানী আমাকে কিছু বলেনি। তাছাড়া মাঝ পথে কি হয়েছে তা আমার জানার দরকার নেই। আমাকে মালামাল বুঝিয়ে দেওয়া না পর্যন্ত কিছু বলতে পারবো না। এর দায়ভার উপজেলা প্রশাসন নিবে না।

উল্লেখ্য, শুক্রবার (০৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে বাঘাইছড়ি উপজেলা প্রশাসনের জন্য কেনা ৮২৭টি সোলার খাগড়াছড়ি থেকে ট্রাকে করে বাঘাইছড়িতে নেয়ার পথে দু’দফায় ৩৬৮টি সোলার ছিনতাই করে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা।




আগুনে সর্বহারা গ্রাম পুলিশ নুর নবীর পাশে দাঁড়িয়েছে বাঘাইছড়ি কাঠ ব্যাবসায়ী সমিতি

বাঘাইছড়ি প্রতিনিধি :

গত ২৪ আগস্ট অগ্নিকাণ্ডে সর্বস্ব হারানো রুপকারী ইউনিয়নের গ্রাম পুলিশ মো. নুর নবীর পাশে দাঁড়িয়েছে বাঘাইছড়ি কাঠ ব্যবসায়ী সমিতি। মঙ্গলবার(২৯ আগস্ট ) সন্ধায় সমিতির কার্যালয়ে গ্রাম পুলিশ মো. নুর নবীর হাতে দুই বাণ্ডিল ঢেউটিন তুলেদেন সমিতির নেতৃবৃন্দ।

এসময়  কাঠ ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি হাজী আবুল মাসুম, সাধারণ সসম্পদক মো. গিয়াস উদ্দিন আল মামুন, সহ-সভাপতি মো. ওমর আলী, সহ-সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক, যুগ্ম-সাধারণ সম্পদক মো. জমির হোসেন, কোষাধক্ষ্য মো. এনতাজ আলী, দপ্তর ও প্রচার সম্পদক জয়নাল আবেদিন বুলু, সদস্য মো. রফিক আলী সহ সমিতি কার্যনির্বাহী সদস্য গণ উপস্থিত ছিলেন। নিজ রান্নাঘরের চুলার আগুনে সর্বহারা নুর নবী সরকারি কোন সহযোগিতা না পাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

জানাযায়, বৃহস্পতিবার(২৪ আগস্ট)  সকাল দশ ঘটিকার সময় বাঘাইছড়ি কাচালং বাজার সংলগ্ন মোস্তফা কলনীতে এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড সংঘঠিত হয়। এতে স্থানীয় গ্রাম পুলিশ মো. নুর নবী(৪৮), পিতা- মৃত লাল মিয়ার বসত ঘরটি সম্পূর্ণ পুড়ে যায় এতে প্রায় পাঁচ লক্ষাধিক টাকার ক্ষতি হয়। ধারণা করা হচ্ছে নুর নবীর রান্নাঘরের চুলা থেকে এই অগ্নিকাণ্ড সংঘঠিত হয়।

এসময় নুর নবীর আত্মচিৎকারে এসআই রুবেলের নেতৃত্বে  বাঘাইছড়ি থানার পুলিশ সদস্য এবং এলাকার লোকজন এগিয়ে এসে প্রায় দুই ঘন্টা চেষ্টা করে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। কিন্তু আশপাশে পানির সু-ব্যাবস্থা না থাকার কারণে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ সদস্য এবং এলাকার লোকজনের অনেক কাঠখর পোড়াতে হয়।
এসময় আগুন নিভাতে আসা পুলিশ কর্মকর্তা এসআই রুবেল জানান সময়মত পুলিশ সদস্য এবং এলাকার লোকজন এগিয়ে না আসলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরো বাড়তে পারতো এবং আশপাশের এলাকায় আগুন ছড়িয়ে পরার সম্ভাবনা ছিলো। আকর্ষিক অগ্নিকাণ্ডে সর্বস্ব হারিয়ে পথে বসা নুর নবীর কান্নাকাটিতে আশপাশের লোকজনের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে আসে। সে কান্নাজড়িত কন্ঠে বলে আমার পরনের লুঙ্গিটি ছাড়া আমি আর কিছুই বাঁচাতে পারিনি আমার সবকিছু শেষ হয়ে গেছে।

সরকারের কাছে বারবার আবেদন করেও বাংলাদেশের সর্বোচ্চ আয়তনের উপজেলা বাঘাইছড়িতে ফায়ারসার্ভিসের কোন অগ্রগতি না হওয়ায় সকলের মধ্যে চাপা ক্ষোভ লক্ষ্য করা গেছে।




বাঘাইছড়িতে ইভটিজিং ও মাদকের বিরুদ্ধে শপথ গ্রহণ

নিজস্ব প্রতিনিধি:

বাঘাইছড়ি উপজেলার সিজগমূখ উচ্চবিদ্যালয়ে ইভটিজিং, মাদক দ্রব্যের কুফল, বাল্য বিবাহ রোধ, ও জঙ্গী বাদের প্রতিরোধে সচেতনতা বৃদ্ধি শীর্ষক আলোচনা এবং শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক সমাবেশ মঙ্গলবার (২৯ আগস্ট ) সকাল ১০টায় অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বাঘাইছড়ি থানার অফিসার ইনচার্জ মো. আমির হোসেন ইভটিজিং, মাদক দ্রব্যের কুফল, বাল্যবিবাহ রোধ এবং জঙ্গী বাদের প্রতিরোধে করণীয় বিয়য় নিয়ে বিহৎ আলোচনা করেন।

তিনি বলেন এ বিষয় গুলো সমাজের অসুখ আমরা চাই এই ধরনের অসুখে কেউ আর নতুন করে আক্রান্ত না হোক, মানুষের অসুখ হলে ডাক্তারের কাছে যায় চিকিৎসা নেয় ভালো হওয়ার চেষ্টা করে তদরুপ সমাজেরও অসুখ হয় সমাজের অসুখ হলে সম্মিলিত ভাবে চিকিৎসার ব্যাস্থা না করলে ধীরে ধীরে ক্যান্সার হওয়ার সম্ভাবনা থাকে তাই সময়মত চিকিৎসার ব্যাস্থা করতে হবে না হয় মহামারি আকারে ক্যান্সার হওয়ার সম্ভাবণা রয়েছে। তাই সকল কে সচেতন থাকতে হবে অভিভাবক দের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আপনার সন্তান কোথায় যায় কার সাথে মেলামেশা করে সময় মত বাসায় ফিরছে কিনা নিয়মিত তদারকি করবেন।

পরে তিনি উপস্থিত সকলকে ইভটিজিং, মাদক দ্রব্য গ্রহণ, বাল্যবিবাহ রোধ এবং জঙ্গী বাদের বিরুদ্ধে সবাইকে শপথ করান সকলে হাত তুলে শপথ গ্রহণ করেন। তিনি সকলের মাঝে ওসি বাঘাইছড়ির সরকারি ফোন নাম্বারটি বিতরণ করেন সবাই তা গ্রহণ করেন তখন সকলকে উদ্দেশ্য করে বলেন আজ আমি নিশ্চিত যে এ এলাকায় প্রায় একহাজার পুলিশের বন্ধু রয়েছে যেকোন অপরাধে তারা পুলিশকে তথ্য দিবে সহোযোগিতা করবে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বাঘাইছড়ি উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বাবু বড় ঋষি চাকমা, তিনি তার বক্তব্য বাঘাইছড়ি থানার বর্তমান ওসি র কাজকর্মের ভূয়শী প্রসংশা করেন এবং এ যাবৎ কালে সেরা ওসি বলে আখ্যায়িত করে বলেন মাদকের ব্যাপারে কোন ছাড় নয় তিনি উত্তেজিত হয়ে এলাকার যুব সমাজকে সতর্ক করেন কেউ যদি মাদক নিয়ে ধরা পরে তাদের জন্য কোন শুপারিশ নয় কঠোর হস্তে তাদের বিরুদ্ধে স্থানীয় ভাবে ব্যাবস্থা নেয়ার হুশিয়ারী দেন।




বাঘাইছড়িতে ঝর্নায় গোছল করা নিয়ে উপজাতীয় যুবকদের তুলকালাম কাণ্ড

নিজস্ব প্রতিনিধি:

শুক্রবার সাকাল ১১ ঘটিকার সময় বাঘাইছড়ি উপজেলার অন্তর্গত দশ নাম্ভার বাঘাইহাট ঝর্ণায় ৩০/৪০ জন পর্যটক এবং স্থানীয় উপজাতীয় যুবক গোসল করার সময় হঠাৎ ঝর্ণার প্রায় ১০০ ফিট উপড় থেকে বিশাল এক সেগুন কাঠের টুকরো ছুড়ে মারে কিছু মাদকাসক্ত উপজাতীয় যুবক ।

ভাগ্যক্রমে গাছের বিশাল টুকরোটি পাথরের সাথে লেগে দূরে ছিটকে গিয়ে পারে বসে আড্ডারত পাঁচ পাহাড়ি যুবকের গাঁ ঘেষে পরায় কোন ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। এতে ঝর্ণায় অবস্থান করা সবাই আতঙ্কিত হয়ে উপড়ে উঠে আসে। উপড়ে তাকিয়ে দেখতে প্রায় ৩/৪ জন উপজাতীয় যুবক ঝর্ণার চুড়ায় দাড়িয়ে হাসছে।

তখন নিচে অবস্থান করা পাহাড়ি যুবকরা উত্তেজিত হয়ে দৌড়ে ঝর্ণার চুড়ায় গিয়ে দুই যুবককে ধরে নিচে নিয়ে আসে মারধর করতে থাকে। দুই পক্ষের মারামারিতে ঝর্ণাপাড়ে তুলকালাম কাণ্ড ঘটে, মারামারির সংবাদ পেয়ে স্থানীয় উপজাতীয় যুবকদের ১০/১৫ জনের একটি দল ধাড়ালো দা ও লাঠিশোটা নিয়ে ঝর্ণায় আসে।

এ সময় বিভিন্ন জায়গা থেকে আসা পর্যটকগণ চরম নিরাপত্তাহীনতা বোধ করায় ব্যাগ, কাপড় রেখে ছুটাছুটি করতে থাকে। এসময় স্থানীয় কিছু পাহাড়ি ঝর্ণায় আটকে পরা পর্যটকদের নিরাপদে চলে যেতে বলেন। পরে সংবাদ পেয়ে বাঘাইহাট জোনের সেনাবাহিনী ও দশ নাম্বার ফাড়ির পুলিশ এসে সাজেক ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান নেলসন চাকমাসহ ঘটনাস্থলে ঘটনারস্থল পরিদর্শণ করে এবং পর্যটকদের উদ্ধার করেন।

নিরাপত্তা বাহিনীর উপস্থিতি টের পেয়ে দোষী উপজাতীয় যুবকরা পালিয়ে যায়, তাই কাউকে আটক করা যায়নি।

ঝর্ণায় অবস্থান করা এক পাহাড়ি যুবক জানায় উপড় থেকে গাছের টুকরো ফেলা যুবকদের বাড়ি দীঘিনালা উপজেলায়। তারা সবাই মাতাল অবস্থায় কাজটি করেছে। ভগবানের কৃপায় আজ তারা রক্ষা পেয়েছে বলে জানায়। তাদের এই ঘৃণিত কাজের জন্য সাজেক ইউনিয়নের চেয়ারম্যানসহ স্থানীয় পাহাড়ি মুরুব্বীগণ দুঃখ প্রকাশ করেন। প্রায় দুই ঘন্টা ঝর্ণায় দর্শনার্থী যাতায়াত বন্ধ থাকার পর পরিবেশ স্বাভাবিক হয়।




বাঘাইছড়িতে বন্যাকবলিতদের পাশে বিজিবি

নিজস্ব প্রতিনিধি: রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়িতে বন্যাকবলিতদের পাশে দাঁড়িয়েছে বিজিবি। সোমবার বিকালে বন্যাকবলিত ১০০ পরিবারের মাঝে মারিশ্যা বিজিবির তরফ থেকে ত্রাণ বিতরণ করা হয়েছে।

বন্যাকবলিত হয়ে আশ্রয় নেয়া কিশালয় সরকারী প্রথমিক বিদ্যালয়, তুলাবান সরকারী প্রথমিক বিদ্যালয় এবং বায়তুশ সরব কমপ্লেক্স এতিম খানা আশ্রয়কেন্দ্রে এসব ত্রাণ বিতরণ করা হয়েছে। ত্রাণ হিসেবে প্রতিটি পরিবারকে দেয়া হয়েছে- চার কেজি চাউল, এক কেজি মুশুর ঢাল, দুইশ গ্রাম লবণ এবং দুইশ গ্রাম চিনি।

মারিশ্যা ৩৯ বিজিবি এবং ৫৪ বিজিবি অধিনায়কের পক্ষে ৩৯ বিজিবির মেডিকেল অফিসার ক্যাপ্টেন মো. জিয়াউল হক এই ত্রাণ বিতরণ করেন। প্রয়োজনে আরো ত্রাণ বিতরণ করা হবে বলেও জানান  তিনি।

এসময় কেপ্টেন জিয়াউল হকের সাথে অন্যান্য জেসিও এবং সৈনিকরা উপস্থিত ছিলেন।




সাজেকে পুত্র ও ভাতিজার হাতে খুন হওয়া শান্তিলাল চাকমার গলাকাটা লাশ উদ্ধার

সাজেক প্রতিনিধি (আপডেট):

রাঙ্গামাটি বাঘাইছড়ি উপজেলা সাজেকের উত্তর ভাইবোন ছড়া নামক এলাকায় গত (৭ আগস্ট) রবিবার মধ্যরাতে খুন হওয়া শান্তিলাল চাকমা (৫৫)’র গলা কাটা লাশ আজ সকাল সাড়ে ৯টার দিকে বাঘাইছড়ি মারিশ্যার বটতলী এলাকার কাচালং নদী থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ।

শান্তিলাল চাকমার পুত্র সোহেল চাকমা (২৫) ও ভাতিজা আলোময় চাকমা (৩৩) কুপিয়ে নৃশংস হত্যার পর গলাকাটা লাশ কাচালং নদীতে ভাসিয়ে দিয়েছিল তারা। তাদের দেওয়া স্বীকারোক্তি অনুযায়ী পুলিশ ও স্থানীয় লোকজন নদীতে খুঁজতে থাকে।

অবশেষে গত তিনদিন ধরে পাহাড়ি ঢলে সাজেকে বন্যা সৃষ্টি হলে আজ পানি কমতে থাকায় কাচালং নদীতে ঝোপঝাড়ের সাথে আটকে থাকা লাশটি ভেসে উঠে পানির স্রোতের সাথে নামতে থাকে।

এবিষয়ে বাঘাইছড়ি থানার অফিসার ইনচার্জ আমির হোসেন বলেন, কাচালং নদী দিয়ে একটি লাশ ভেসে আসছে এমন সংবাদের ভিত্তিতে সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ইঞ্জিন চালিত নৌকা দিয়ে কাচালং নদীতে আমরা খুঁজতে থাকি এক পর্যায়ে মারিশ্যা বটতলী এলাকার কাচালং নদীতে লাশটি পাওয়া যায়।

আমাদের কাছে তথ্য ছিল গত কয়েকদিন আগে সাজেকে একটি খুন হয়েছে তার লাশটি নদীতে ভাসিয়ে দেওয়া হয়েছিল। লাশটি পাওয়া যায়নি তাই আমরা উদ্ধার করা লাশটিকে সনাক্ত করতে প্রথমে সাজেকে খুন হওয়া ব্যক্তির আত্মীয় স্বজনদের খবর দেই।

খবর পেয়ে তার পুত্র প্রহেল চাকমা ও সাজেক ইউপির ৫নং ওয়ার্ড মেম্বার পরিচয় চাকমা ও শান্তিলাল চাকমা হত্যা মামলার বাদী বিনয় শংকর চাকমা থানায় আসে এবং লাশটি শান্তিলাল চাকমার লাশ বলে তারা সনাক্ত করে। ময়না তদন্তের জন্য লাশটি খাগড়াছড়ি সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

উল্লেখ্য সাজেকের উত্তর ভাইবোন ছড়া নামক এলাকায় গত ৭ আগস্ট রবিবার মধ্যরাতে শান্তি লাল চাকমাকে কুপিয়ে হত্যা করেছে তার পুত্র সোহেল চাকমা (২৫) ও ভাতিজা আলোময় চাকমা (৩৩)। কুপিয়ে নৃশংশ হত্যার পর গলাকাটা লাশ কাচালং নদীতে ভাসিয়ে দেয় তারা।

এঘটনায় গ্রামবাসী তাদের দুজনকে আটক করে আইন শৃঙ্ক্ষলা বাহিনীকে খবর দেয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে এলাকাবাসী খুনীদের পুলিশের হাতে সোপর্দ করে।

স্থানীয় সুত্রে জানা যায়, পিতার সাথে পুত্রের পারিবারিক কলহ ও ভাতিজার সাথে অর্থ লেনদেন থাকায় এমন ঘটনা ঘটতে পারে। তবে নিহত শান্তিলাল চাকমার ভাতিজা আলোময় চাকমা একজন চিহ্নিত সন্ত্রাসী সে এর আগেও একাধিক নিরীহ ব্যক্তিকে হত্যা করেছে। এলাকায় কারো সাথে তার তর্ক হলে তাকেও হত্যা করতে দ্বিধাবোধ করতো না। তাই তার এ হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে এলাকাবাসী ভয়ে আতঙ্কে কিছু বলার সাহস পেতনা। হত্যাকাণ্ড আর সহ্য করতে না পেরে চার পাঁচ গ্রামের লোকজন জড়ো হয়ে রাত ৩টার দিকে তাকে আটক করা করে।

সুত্রটি আরও জানায়, সে দীর্ঘদিন যাবৎ আঞ্চলিক দল ইউপিডিএফ এর রাজনীতির সাথে জড়িত ছিল। সেখান থেকে এমন কর্মকাণ্ড করায় ২-৩ মাস আগে তাকে ইউপিডিএফ থেকে বহিস্কার করা হয়। বহিস্কারের পরেও এলাকায় অন্যায়, অত্যাচার, হত্যাকাণ্ড অব্যাহত রাখে।

এবিষয়ে সাজেক থানার অফিসার ইনচার্জ নুরুল আনোয়ার বলেন, ঘটনার খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে যাই এবং তাদেরকে আটক করা হয়। আটকৃতরা প্রাথমিকভাবে তাদের দোষ স্বীকার করে। লাশ উদ্ধারে যৌথবাহিনীর তল্লাশী চলছে নদী ও স্থলে।

তবে আটককৃত’র মধ্যে আলোময় চাকমা একজন চিহ্নিত সন্ত্রাসী তার নামে থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। এমনকি সে এর আগে আমাকে মোবাইলে সাজেক থানা বোমা মেরে গুড়িয়ে দিবে বলে হুমকি দিয়েছিল।আগামীকাল তাদেরকে কোর্টে প্রেরণ করা হবে।




রাঙামাটির কাচালং নদী থেকে গলাকাটা লাশ উদ্ধার

বাঘাইছড়ি প্রতিনিধি:

রাঙ্গামাটি জেলার বাঘাইছড়ি উপজেলার বটতলী কাচালং নদী থেকে সোমবার সকাল ৮:৪০ মিনিটের দিকে বাঘাইছড়ি থানা পুলিশ একটি পচে ফুলে ওঠা লাশ উদ্ধার করে।

স্থানীয়দের ধারণা, রাঙ্গামাটি সাজেকের উত্তর ভাইবোন ছড়া নামক এলাকায় ৭/৮/২০১৭ রবিবার মধ্যরাতে শান্তিলাল চাকমার ৫৫) কে কুপিয়ে হত্যা করেছে তার পুত্র সোহেল চাকমা(২৫) ও ভাতিজা আলোময় চাকমা(৩৩)।

হত্যার পর লাশ পাহাড়ী ঝিরিতে ফেলে পালানোর সময় এলাকাবাসীর হাতে আটক হয়। পরে তাদের সাজেক থানা পুলিশের কাছে তুলে দেয়া হয়। পরে পুলিশ আদালতের মাধ্যমে কারাগারে প্রেরণ করে। তবে লাশটি আসলেই শান্তিলাল চাকমার কিনা পুলিশ তা এখনো নিশ্চিত করতে পারেনি।

এলাকাটি দূর্গম হওয়ায় পুলিশের পক্ষে লাশ উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।ধরণা করা হচ্ছে ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে পাহাড়ী ঢলের সাথে ভেসে লাশটি কাচালং নদীতে এসে পড়ে।

এলাকাবাসী কাছে খবর পেয়ে বাঘাইছড়ি থানা পুলিশের একটি টিম সকাল ৮ ঘটিকায় বটতলী গ্রামে গিয়ে লাশটি আটক করে থানায় নিয়ে আসে। এদিকে লাশ উদ্ধারের সংবাদ পেয়ে সাজেক থানা থেকে পুলিশের একটি টিম বাঘাইছড়ি থানার উদ্যেশে রওনা দিয়েছে। সাথে শান্তি লাল চাকমার পরিবারের সদস্যরা রয়েছেন। তারা পৌঁছলে লাশের পরিচয় নিশ্চিত হওয়াসহ আইননানুগ ব্যাবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানান বাঘাইছড়ি থানার অফিসার্স ইন্চার্জ জনাব মো: আমীর হোসেন।

তবে লাশ উদ্ধার নিয়ে বিভিন্ন মহলে নানা গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে যে, এটি শান্তি লাল চাকমার লাশ নয়। কারণ উদ্ধার হওয়া লাশের আনুমানিক বয়স ৩০/৩৫ বছর হবে। আর মামলার এজাহার এবং গ্রামবাসীর তথ্যমতে, শান্তিলাল চাকমার বয়স ৫৫ বছর।

তাই এলাবাসীর ধারণা লাশটি অন্য কারো হতে পারে, কেননা নদীতে লাশ ভেসে আসার ঘটনা এটিই নতুন নয়। পাহাড়ী সন্ত্রাসীদের হত্যা করে বনের গভীরে ফেলে রাখা কোনো লাশ হতে পারে যা বন্যার প্রবল স্রোতে নদীতে এসে পড়েছে।  তাই ভালো ভাবে অনুসন্ধান করা অতীব জরুরী।




দুর্গতদের পাশে উপজেলা প্রশাসন, পৌরসভা ও আওয়ামী লীগ

বাঘাইছড়ি প্রতিনিধি:

পাহাড়ি ঢল ও টানা বর্ষণের ফলে পৌরসভা ও উপজেলায় বন্যায় প্লাবিত হয়েছে নিন্মাঞ্চলগুলো। প্লাবিত এলাকাগুলো হলো মুসলিম ব্লক, কলেজ পাড়া, মধ্যম পাড়া, মাষ্টার পাড়া, পুরাতন মারিশ্যা, ঢেবার পাড়া, হাজী পাড়া, বাবুর পাড়া, বটতলী, এফ ব্লক, জি ওয়ান ব্লক, উগলছড়ি, লাইল্যাঘোনা, মাদ্রাসা পাড়া, রফিক মাস্টার পাড়া সমূহ।

বাঘাইছড়ি উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. আলী হোসেন বলেন, পাহাড়ি ঢলে বাঘাইছড়ি উপজেলায় বন্যা দুর্গতদের উপজেলা আওয়ামী লীগ ত্রাণ বিতরণ করেছে।

বাঘাইছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. তাজুল ইসলাম বন্যায় দুর্গতদের শুকনা খাবার বিতরন করেন।

বাঘাইছড়ি পৌরসভার মেয়র দুর্গত এলাকা পরিদর্শন করেন এবং পৌরসভার ২ ও ৩ নং ওয়ার্ড মারিশ্যা ইউপি সংলগ্ন বন্যায় দুর্গতদের খিচুরি বিতরণ করেন।

এসময় পৌর মেয়র জাফর আলী খান, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আলী হোসেন, কাউন্সিলর বাহার উদ্দিন, কাউন্সিলর ওবাইদুল হক স্থানীয় জনপ্রতিনিধিগন উপস্থিত ছিলেন।

১নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. হোসেন দুর্গতদের বাড়িতে গিয়ে খাবার বিতরণ করেন ও ক্ষতিগ্রস্তদের সমবেদনা জানান।

এছাড়া বাঘাইছড়ি উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. ওমর আলী, সাধারণ সম্পাদক জাবেদ হোসেন, কাজী মোস্তফা, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের ত্রান বিতরণ করেন।

বাঘাইছড়ি উপজেলাধীন বায়তুল শরফ জব্বারিয়া এতিম খানায় আশ্রিতদের খাবার বিতরণ করেন।

এদিকে উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক গিয়াস উদ্দিন, উপজেলা প্রশাসন পৌরসভার মেয়র, সকল কাউন্সিলরগণকে জনগনের পাশে থেকে দুর্গতদের সহযোগিতা করার জন্য ধন্যবাদ জানান।




তিন দিনের টানা ভারী বর্ষণে বাঘাইছড়ি উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত

নিজস্ব প্রতিনিধি:

তিন দিনের টানা ভারী বর্ষণে বাঘাইছড়ি উপজেলার নিম্নাঞ্চল বন্যার পানিতে প্লাবিত হয়েছে। এছাড়া বাঘাইছড়ি পৌরসভাসহ উপজেলার প্রায় ৮টি ইউনিয়নের নিচু এলাকা প্লাবিত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

জানাযায়, গত তিন দিনের টানা ভারী বর্ষণে বড় ধরনের তেমন কোন ক্ষয়-ক্ষতি হয়নি। ভারী বর্ষণ শুরুর সাথে সাথে মানুষ গুলো ও তাদের গরু ছাগল নিরাপদ আশ্রয় কেন্দ্রে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। জানমালের বড় ধরনের ক্ষতি সাধিত হয়নি। তবে কোথায় কোন দুর্ঘটনা বা মৃতের সংবাদ পাওয়া যায়নি।

জানা যায়, পৌরসভার মধ্যে প্রায় ১হাজার লোকজন পানি বন্দি রয়েছে। পৌরসভা কর্তৃপক্ষ খবর পাওয়ার সাথে সাথে লোকজনদের আশ্রয় কেন্দ্র নেওয়া শুরু করছে। অপর দিকে তাদেরকে জরুরী ভাবে শুকনো খাবার পরিবেশন করা হচ্ছে।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মানজারুল মান্নান জানান, বাঘাইছড়িতে বন্যায় প্লাবিত খবর পাওয়ার পর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মাধ্যমে সেখানে শুকনা খাবার পাঠানো হয়েছে। তার সাথে পানি বন্দি ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য জরুরী ভাবে উপজেলায় ১০ মেট্রিক টন চাউল ও পৌরসভার জন্য ৫ মেট্রিক টন চাউল প্রেরণ করা হয়েছে। প্রয়োজনে আরো পাঠানো হবে।

এদিকে টানা বর্ষণে ও উজানের পানিতে রাঙামাটি জেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। হুমকির মুখে পড়েছে কাপ্তাই বাধ, এ অবস্থায় কাপ্তাই পানি কেন্দ্রের ১৬টি গেইট দিয়ে সেকেন্ডে ৩৮ হাজার কিউসিক পানি ছাড়া হচ্ছে। আজকে পর্যন্ত কাপ্তাই লেকের পানির লেভেল ১০৭ ফিট, অথচ থাকার কথা ছিল ৯২ফিট। কাপ্তাই লেকের পানি লেভেলের ধারণ ক্ষমতা ১০৯ফিট।

 




বাঘাইছড়ি বিএনপি’র তৃনমূল কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে হতাশা ও চাপা ক্ষোভ

বাঘাইছড়ি প্রতিনিধি:

বাঘাইছড়ি উপজেলায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)’র নতুর সদস্য সংগ্রহ ও পুরাতন সদস্যপদ নবায়ন কর্মসূচিতে তৃনমূলের কর্মী সমর্থকরা হতাশ।

৫ আগস্ট বিকাল ৪টায় উপজেলা বিএনপি’র সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. সেলিম উদ্দিন বাহারের নেতৃত্বে উন্নয়ন বোর্ড রেস্ট হাউজ প্রাঙ্গনে নতুন সদস্য সংগ্রহ ও পুরাতন সদস্যপদ নবায়ন অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।এ অনুষ্ঠানে কোরবান আলির সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন বিএনপি’র কেন্দ্রীয় সহ-ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক এ্যাড. দীপেন দেওয়ান।

এসময় উপস্থিত ছিলেন রাঙ্গামটি জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি সাইফুল ইসলাম, রফিক উদ্দিন, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রনেল দেওয়ান, জেলা শ্রমিকদলের সভাপতি মমতাজ মিয়া ও বাঘাইছড়ি পৌরসভার সাবেক মেয়র মো. আলমগীর কবির প্রমূখ।

অন্য দিকে ৬ আগস্ট বিকাল ৪টায় উপজেলা ও পৌর বিএনপির যৌথ পরিচালনায় নতুন সদস্য সংগ্রহ ও পুরাতন সদস্য পদ নবায়ন অনুষ্ঠানে সাধারণ সম্পাদক জাবেদ হোসেনের সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি ছিলেন রঙ্গামাটি জেলা বিএনপির সভাপতি শাহ আলম। অনুষ্ঠানে উপজেলা বিএনপির সভাপতি ওমর আলীর সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি ছিলেন সাধারণ সম্পাদক দীপন তালুকদার, এ্যাড. মামুনর রশিদ মামুন, পৌর বিএনপির সভাপতি নিজাম উদ্দিন বাবু, সাধারণ সম্পাদক মো. নুরুল আলম প্রমূখ।

এসময় রাঙ্গামাটি জেলার উপজেলা বিএনপির অঙ্গ সংগঠনগুলোর কর্মী ও সমর্থকরা উপস্থিত ছিলেন।

বাঘাইছড়ি উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক সেলিম বাহার বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার নির্দেশ মতো বিএনপির সদস্য ফরম পূরন ও পুরাতন সদস্যদের নবায়ন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে উভয় পক্ষয়ই বিএনপির কর্মী সমর্থক বাড়ানোর জন্য কাজ করছে। সিনিয়র নতৃবৃন্দের সমন্বয়ের অভাবে তৃনমূল কর্মী ও সমর্থকর আজ হতাশায়।

এদিকে কাজী মোস্তফা বলেন, দীপেন দেওয়ান জেলা নেতৃবৃন্দের সাথে না এসে আবারও বাঘাইছড়িতে গ্রুপিং করার চেষ্টা করছে।