বড় ধরণের পাহাড় ধসে দিঘীনালা- বাঘাইছড়ি সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন

নিজস্ব প্রতিনিধি
রাঙামাটি জেলার বাঘাইছড়ি উপজেলার দুই টিলা আর্মি ক্যাম্পের পাশে পানির পয়েন্ট নামক স্থানে বড় ধরণের পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটেছে।

সোমবার রাত সাড়ে ৮ টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। এতে রাস্তা সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে। এ ঘটনায় বাঘাইছড়ি-দিঘীনালা সড়ক যোগাযোগ সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে। দুইটিলা সেনা ক্যাম্প কর্তৃপক্ষ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানিয়েছেন সড়কটি সড়ক ও জনপথের আওতাধীন। তাদেরকে বিষয়টি অবগত করা হয়েছে। তবে সড়কটি থেকে ধসে পড়া মাটি সরিয়ে চলাচল উপযোগী করতে সময় প্রয়োজন বলেও তারা মনে করেন।

এদিকে অব্যাহত বর্ষণে বাঘাইছড়ির বিভিন্ন স্থানে পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটেছে। এতে হতাহতের ঘটনা না ঘটলেও যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে।

জানা গেছে, বাঘাইছড়ির কাচালং মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের পেছনের পাহাড় ধসে পড়ায় বিদ্যালয় প্রবল ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। কাচালং বাজার-থানা সড়ক বাজারের মাঝ খানের ব্রিজ একপাশের মাটি ধসে গেছে।

এ ছাড়াও কাচালঙের কালী মন্দির রাস্তা সম্পূর্ণ ধসে গেছে। বাশ ফকির মাজারের সড়ক বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। থানা থেকে কোনো গাড়ি বের করতে পারছে না পুলিশ। পুলিশ সদস্যরা পায়ে হেটে চলাচল করছে। মারিস্যা সড়কের দুই টিলা ছাড়াও আরো তিনটি জায়গায় পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটেছে। এগুলো হলো: ৩ কিলো, ৮ কিলো, ১২ কিলো নামক স্থান।




বাঘাইছড়িতে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের চেষ্টা

a1 copy

সাজেক প্রতিনিধি:

বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। এ দেশের ইতিহাস ও সংস্কৃতি যুগ যুগ ধরে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির স্বাক্ষর বহন করে আসছে। ধর্মীয় বিশ্বাসের দিক থেকে ভিন্নতা থাকলেও এ দেশের হিন্দু- মুসলমান-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান সুদৃঢ় সামাজিক বন্ধনে আবদ্ধ। সমতলে বাংলাদেশের হিন্দু সম্প্রদায়ের পূজা উৎসব হিন্দু-মুসলমান মিলেমিশে উপভোগ করে।

অনুরুপ ভাবে পার্বত্য এলাকায় বসবাসরত শান্তি সম্প্রীতি প্রিয় সকল সম্প্রদায়ের লোকজন বসবাস করে আসছে আবহমান কাল থেকে। পার্বত্য এলাকাতেও একইভাবে বৈসাবি উৎসবও সকল সম্প্রদায়ের লোকজনের অংশগ্রহণে আনন্দঘন পরিবেশে পালিত হয়ে থাকে, কিন্তু শান্তি সম্প্রীতি প্রিয় লোকদের মাঝে উগ্র সাম্প্রদায়িকতার ছোবল দেওয়ার জন্য লিপ্ত থাকে কিছু স্বার্থান্বেষী মহল। আর এসব স্বার্থান্বেষী মহল সম্প্রীতি প্রিয় সাধারণ জনগণের মাঝে সাম্প্রদায়িকতার বিষ বাষ্প ছড়িয়ে দিয়ে ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের চেষ্টায় থাকে।

তারই অংশ হিসেবে শান্তি সম্প্রীতি প্রিয় বাঘাইছড়িবাসীর মাঝে হঠাৎ করে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের চেষ্টায় চালাচ্ছে। সাম্প্রদায়িকতার বিষ বাষ্প ছড়িয়ে দিয়ে ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের লক্ষ্যে কিছু স্বার্থান্বেষী মহল তাদের নিজস্ব অনলাইন ওয়েব পোর্টালের মাধ্যমে অপপ্রচার করে পাহাড়ি বাঙ্গালীর মাঝে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা সৃষ্টির পায়তারা করছে। আর এসবের বিস্তারিত তথ্য না নিয়ে অনাকাঙ্কিত কিছু হলুদ সাংবাদিকও এমন রিপোর্ট প্রকাশ করে থাকে। আর এসব ওয়েব পোর্টালের ফেইসবুক পেজ থেকে উগ্রসাম্প্রদায়িক গোষ্ঠীর লোকেরা ফেসবুকে শেয়ার করে লোকজনের মাঝে আতঙ্ক সৃষ্টি করছে।

সম্প্রতি কয়েকটি অনলাইন ওয়েব পোর্টাল বাঘাইছড়িতে সাম্প্রদায়িক উস্কানীর লক্ষ্যে নিউজ প্রকাশ করেছে, যে বাঘাইছড়ি দুইটিলা নামক এলাকায় নিরাপত্তাবাহিনীর মদদে সেটলাররা কামিনি কুমার চাকমা (লাম্বা পেদা) নামে এক কৃষকের প্রায় ১২০০ কলা গাছ কেটে সাবাড় করে দিয়েছে। কেটে দেওয়া বাগানের ছবিও প্রকাশ করেছে ওইসব ওয়েব পোর্টালে।

„2 copy

সরেজমিনে পরিদর্শনে গেলে দেখা যায় দুইটিলা নামক এলাকায় প্রকাশিত ছবির মত কোন বাগান চোখে পড়ার মত নেই। নিরাপত্তাবাহিনীর দুইটিলা ক্যাম্পের হেলিপেড এ্যারিয়া থেকে ১০-২০গজ দূরত্বে ৭-৮টির মতো কলাগাছ ও আগাছাসহ কাটা রয়েছে। অথচ অন্য কোন এলাকায় সংঘটিত ঘটনার ছবি প্রকাশ করে স্বার্থান্বেষী মহল তাদের কয়েকটি নিজস্ব অনলাইন ওয়েব পোর্টালের মাধ্যমে শান্ত বাঘাইছড়িকে অশান্ত করার চেষ্টা চালাচ্ছে।

এবিষয়ে নিরাপত্তাবাহিনীর সাথে যোগাযোগ করলে জানায়, ক্যাম্পের নিরাপত্তার জন্য ক্যাম্প ও হেলিপ্যাডের আশেপাশের এলাকার আগাছা পরিস্কার করা হয়েছে। এতে ৫-৮টির মতো কলাগাছ কাটা হয়েছে। বিষয়টিকে এখন কিছু স্বার্থান্বেষীমহল তাদের হীন স্বার্থ উদ্ধার করতে অপপ্রচার করছে এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের পায়তারা করছে। অপপ্রচারের মাধ্যমে সাধারণ জনগণকে নিরাপত্তা বাহিনীর মুখোমুখি অবস্থান করিয়ে নিজেদের স্বার্থ উদ্ধারের চেষ্টা করছে। এতে নিরাপত্তাবাহিনী হুঁশিয়ারী করে বলেন, এলাকায় কোন সন্ত্রাসী গোষ্ঠী বা স্বার্থান্বেষীমহল সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করার ষড়যন্ত্র করলে তাদের কঠোর হাতে দমন করা হবে।

এবিষয়ে বাঘাইছড়ি থানার অফিসার ইনচার্জ আমির হোসেন বলেন, বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুক ও কিছু অনলাইন ওয়েব পোর্টালে দেখার পর পুলিশ সুপারের নির্দেশে আমি ঘটনাস্থলে যাই। সেখানে গিয়ে ঘটনার কোন সত্যতা পাওয়া যায়নি। ওই এলাকায় নিরাপত্তাবাহিনীর যে ক্যাম্প রয়েছে তাদের নিরাপত্তার জন্য আশেপাশে আগাছা পরিস্কার করেছে। ক্যাম্প এ্যারিয়ার পাশে কামিনি কুমার চাকমার জায়গা রয়েছে, ক্যাম্প সংলগ্ন হওয়ায় ক্যাম্প থেকে কামিনি চাকমাকে কয়েকটি কলাগাছ কাটতেও বলা হয়েছিল। কামিনি চাকমা না কাটায় নিরাপত্তাবাহিনী ৫-৭টি কলাগাছ কেটেছে। সেখানে আমি কামিনি কুমার চাকমার সাথে কথা বলেছি, সে জানায় আমাকে ক্যাম্প থেকে আগে বলেছিল কয়েকটা কলাগাছ কাটতে আমি তাদেরকে বলেছি তাদের প্রয়োজনমত কেটে নিতে। তবে কামিনি কুমার চাকমার জায়গাতে তেমন বেশি কলা বাগান নেই।

3 copy

এবিষয়ে বাঘাইছড়ি উপজেলা চেয়ারম্যান বড়ঋষি চাকমা বলেন, রাষ্ট্রের প্রয়োজনে কলাগাছ কাটতেই পারে এনিয়ে এতো তোলপার কিসের। আমার মতে নিরাপত্তাবাহিনী আইন প্রয়োগকারী সংস্থা হয়ে অন্যায় করতে পারে না। বিষয়টিকে নিয়ে কিছু স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী অপপ্রচার করে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করার চেষ্টা করছে। বাঘাইছড়িতে যেন সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট না হয় এব্যাপারে সকলকে সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে।

উল্লেখ্য স্বার্থান্বেষী মহল তাদের নিজস্ব কয়েক’টি অনলাইন ওয়েব পোর্টালে গত মাসে একই এলাকায় নিরাপত্তাবাহিনী নতুন হ্যালিপেড তৈরি করতে জায়গা নির্বাচন করতে জায়গা খুঁজলে, ষড়যন্ত্র করে লোকজনকে উত্তেজিত করার অপপ্রয়াস চালায়। সম্প্রতি সাজেকের দুর্গম গ্রামে খাদ্যাভাব দেখা দিলে তা নিয়েও কথিত ওয়েব পোর্টাল বিভ্রান্তি মূলক নিউজ প্রকাশ করে। নিউজে শিরোনাম করা হয় “সাজেকে খাদ্যাভাবে ৯ জনের মৃত্যু, ত্রাণ বিতরণে জেলাপ্রশাসনের বাধা”। নিউজ প্রকাশের দুইদিন পর অবশ্য নিউজটি মুছে দেয় ওয়েব পোর্টালটি।




সাজেকে খাদ্য সংকট মোকাবেলায় ১০ মেট্রিকটন খাদ্য বরাদ্দ দিয়েছে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়

DSC_0067 copy
সাজেক প্রতিনিধি :

রাঙামাটি সাজেক ইউনিয়নের দুর্গম এলাকায় জুমিয়া পরিবারগুলোতে খাদ্য সংকট মোকাবেলায় খাদ্য শষ্য বরাদ্দ দিয়েছে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়। পার্বত্য চট্টগ্রাম মন্ত্রণালয় সূত্রে জানাযায়, বৃহস্পতিবার পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় প্রাথমিক পর্যায়ে রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের অনুকুলে ১০ মেট্রিকটন খাদ্যশষ্য বরাদ্দ প্রদান করেছে, পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে আরো বরাদ্দ দেওয়া হবে।

পার্বত্য চট্রগ্রামের সবছেয়ে জনপ্রিয় অনলাইন গণমাধ্যম পার্বত্যনিউজ.কম এ “দশ কেজি চাউলের আশায় প্রায় ৯০ কিমি পথ পাড়ি দিল কাউলা ত্রিপুরা” সংবাদটি প্রচারের পর সাজেকের খাদ্যাভাবের খবরটি সকলের নজরে আসে এরপর থেকে জাতীয় বিভিন্ন পত্রিকা ও ইলেকট্রনিক্ মিডিয়াতেও এনিয়ে খবর প্রচার করে। এরপর নড়েচরে বসে সরকারের বিভিন্ন দপ্তর ও মন্ত্রনালয়।

উল্লেখ্য দুর্গম সাজেক ইউনিয়নে জুমিয়া পরিবার গুলোতে বিগত অড়াইমাস ধরে তীব্র খাদ্য সংকট চলছে। পাহাড়ের পাদদেশে জুম চাষ, বাঁশ ও বনজ সম্পদ আহরণ করে জীবিকা নির্বাহ করে সাজেকের দূর্গম গ্রামগুলোর বাসিন্দারা। কিন্তু এবছর জুম চাষে বিপর্যয় হওয়ায় এবং প্রাকৃতিক সম্পদের উৎস হ্রাস পাওয়ায় প্রাক- বর্ষা মৌসুম থেকে সাজেকের প্রায় ৪০টি দূর্গম গ্রামে আর্থিক অভাব দেখা দিয়েছে। যার প্রভাব পড়ছে খাদ্যে। সাজেকের অধিকাংশ গ্রামে এখনও পর্যন্ত সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা নাই। যার কারণে পায়ে হাঁটা পথে মাচালং বাজার থেকে কোন পণ্য ক্রয় করে এসব গ্রামে নেয়া পর্যন্ত খরচ পড়ে ক্রয়মূল্যের তিনগুণ। যার কারণে সাজেকের অধিকাংশ গ্রামের মানুষ খাদ্য ক্রয় করতে পাচ্ছেনা। এতে করে তীব্র খাদ্য সংকট দেখা দিয়েছে।

সাজেকের কজতলী পাড়ার গ্রাম্য প্রধান কালা চাঁন ত্রিপুরা জানান, তাঁর গ্রামবাসীর প্রধান জুমিয়া পরিবার আর্থিক অনটনের কারণে তীব্র খাদ্য সংকটে পড়েছে। তারা জুম চাষ ও পাহাড় থেকে বনজ সম্পদ আহরণ করে জীবিকা চালায়। কিন্তু বিগত সময়ে জুম চাষে কম ফসল আসায় গত চৈত্র মাস থেকে কজতলী গ্রাম সহ অনেক গ্রামে খাদ্য সংকট দেখা দিয়েছে।

সাজেক ইউপি’র সীমান্ত সংলগ্ন ৮নং ওয়ার্ডের মেম্বার দহিন্দ্র লাল ত্রিপুরা জানান, সাজেকের পুরান জোপুই, নতুন জোপুই, উদলছড়ি, পুরান থাঙনঙ, নতুন থাঙনঙ থারুম পাড়া-সহ ২০টির মতো গ্রামের মানুষ আর্থিক অভাবের কারণে চাল কিনতে পারছেনা। এসব গ্রামে প্রতি কেজি চাল বিক্রী হচ্ছে ৯০-১১০টাকা। জরুরী ভিত্তিতে যদি দূর্গত এলাকায় ত্রাণ সরবরাহ করা না যায় তাহলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে।

সংরক্ষিত মহিলা মেম্বার সুশীলা চাকমা জানান, প্রতিবছর সাজেকের দূর্গম গ্রামগুলোতে খাদ্য সংকট দেখা দেয়। এবার তীব্র ভাবে সংকট হওয়ার কারণ হচ্ছে জুমের ফসল কম হওয়া। খাদ্যের অভাবে দূর্গম গ্রামের মানুষগুলো কলা গাছের নরম অংশ খেয়ে আছে বলে শোনা যাচ্ছে। এ সংকটে সবচেয়ে বেশী ভুগছে নারী ও শিশুরা।

বাঘাইহাট বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. জুয়েল জানান, বাঘাইহাট ও মাচালং বাজারে পণ্যের মূল্য স্বাভাবিক। কিন্তু কিছু এলাকায় পণ্যের মূল্য অস্বাভাবিক বলে শুনেছে। যার মূল কারণ সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা না থাকা। পায়ে হাঁটা পথে মাচালং বাজার থেকে ব্যাটলিং কিংবা অন্যান্য বাজারে পণ্য নিয়ে যেতে খরচ পড়ে ক্রয়মূল্যের ৩-৪ গুণ। যার কারণে সেসব ব্যবসায়ীরা বেশী দামে পণ্য বিক্রী করছেন।

সাজেক ইউপি’র চেয়ারম্যান নেলসন চাকমা জানান, খাদ্য সংকটের কথা শুনে গত ২১ এপ্রিল দূর্গত এলাকার ৪১০ পরিবারকে ১০ কেজি করে চাল বিতরণ করা হয়। এর আগে গত দু’মাস আগে থেকে খাদ্য সংকটের কথা উপজেলা পরিষদে মাসিক সমন্বয় সভায়

ইউএনও’কে অবগত করা হয়। সেখান থেকে অল্প কিছু ত্রান বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়া জরুরী ভিত্তিতে দূর্গত এলাকার জন্য ৬শ মেট্টিক টন ত্রাণ চেয়ে আবেদন করা হয়েছে এবং সমস্যের স্থায়ী সমাধানের জন্য দ্রুত সময়ের মধ্যে সাজেকে সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা তরান্বিত করার পক্ষে জোর দেন তিনি। তিনি আরও জানান গতকাল আমাকে রাঙ্গামাটি জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ফোন করে বলেন পার্বত্যচট্রগ্রাম মন্ত্রানালয় থেকে রাঙ্গামাটি জেলা পরিষদের অনুকূলে ১০ মেট্রিকটন চাউল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে সেগুলো এনে দ্রুত বিতরন করার জন্য।




বাঘাইছড়িতে চাঁদার জন্য তিন বাঙ্গালী শ্রমিককে মারধর করেছে উপজাতীয় সন্ত্রাসীরা

hg copy

সাজেক প্রতিনিধি:

রাঙ্গামাটি বাঘাইছড়ি উপজেলার তিনজন বাঙ্গালী শ্রমিককে চাঁদার জন্য মারধর করেছে উপজাতীয় সন্ত্রাসীরা।

বুধবার বিকাল ৪টার সময় রুপকারী দোখাইয়া নামক স্থানে পাবলিক হেল্থ কর্তৃক টেন্ডারকৃত রাঙ্গামাটির ঠিকাদার রুবেল’র দু’টি রিংওয়েলের কাজ করার জন্য বাঘাইছড়ি উপজেলার পশ্চিম মুসলিম ব্লকের বাসিন্দা স্থানীয় শ্রমিক মো. শাহ আলম (২৬) পিতা মো. আলী হোসেন, মো. নুরমোহাম্মদ (২৮) পিতা জামাল হোসেন, মো. তাজুল ইসলাম (৪৫) পিতা. মো. চানমিয়া  ওই এলাকায় কাজের উদ্দেশ্যে যায়।

সেখানে চাঁদার টাকা আগে পরিশোধ না করে কেন কাজ করতে এসেছে এমন কথা বলে ৭/৮ জন উপজাতীয় সন্ত্রাসী লাঠি-সোটা এবং রড নিয়ে তাদের এলোপাথাড়ি মারধর করতে থাকে। পরে কাজের স্থান থেকে জঙ্গলের ভিতরে নিয়ে পুনরায় লাথি ও কিল ঘুষি এবং অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে। তারা নিজেদেরকে ইউপিডিএফ’র সদস্য বলে দাবি করেছে বলেও জানায়।

ধাপে ধাপে তিনবার শ্রমিকদের উপর নির্যাতন চালায় সন্ত্রাসীরা। পরে রাত আটটার দিকে তাদেরকে ছেড়ে দেয় বলেও জানায়।

এসময় সেখানে তারা কয়েজনকে চিনতে পেরেছে বলে জানালেন, আহত মো. শাহ আলম। চিহ্নিতরা হলো-আসেন্দু চাকমা(২৪) পিতা  অঞ্জ্যত গ্রাম গোলাছড়ি, বদল চাকমা (২৪) পিতা বড় পেদা গ্রাম বালুখালি, মটর চাকমা (২০) পিতা ঘুধু চাকমা গ্রাম বালুখালি, রনজিৎ চাকমা(২৮) পিতা সিন্দু লাল চাকমা গ্রাম মগবান, আমিক্কো চাকমা(২২)।

আহতরা কোনরকম প্রাণে বেঁচে এসে রাত ১০টার দিকে বাঘাইছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে চিকিৎসার জন্য গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের হাসপাতালে ভর্তি করেন। বর্তমানে তারা উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে চিকিৎিসাধীন রয়েছে।

এবিষয়ে বাঘাইছড়ি উপজেলা ইউপিডিএফ’র পরিচালক জুয়েল চাকমা বলেন, ঘটনাটি সম্পর্কে আমার জানা নেই। আমি বর্তমানে এলাকার বাহিরে আছি তবে আমি খোঁজ নিয়ে দেখছি এ ধরনের ঘটনা আমাদের কেউ করেছে কিনা। তবে এমনও হতে পারে কেউ ঘটনা ঘটিয়ে আমাদের উপর দোষ চাপানোর চেষ্টা করছে।

এবিষয়ে বাঘাইছড়ি থানার অফিসার ইনচার্জ আমির হোসেন বলেন, আহতদের অভিযোগের প্রেক্ষিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তাদের অভিযোগটি বর্তমানে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। আহতদের অবস্থার উন্নতি হলে তারা মামলা করবে বলেও জানিয়েছে আহতদের স্বজনরা।




বাঘাইছড়িতে পশু মারার ফাঁদে শিশুর মৃত্যু

chilld-death-pic-17.04.17

নিজস্ব প্রতিনিধি:

রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার পৌর এলাকায় পোল্ট্রি ফার্মে মুরগী রক্ষার জন্য পশু মরার ফাঁদে দুই বছর সাত মাস বয়সের হারুন রশিদ রায়হান নামের এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

শিশু হারুন মধ্যম পাড়া এলাকার বাসিন্দা রাশেদুল ইসলামের ছেলে। সোমবার সকালে এ ঘটনা ঘটে।

জানা যায়, রাশেদুল ইসলামের পাশ্ববর্তী এলাকার বাসিন্দা মো. মোরশেদ এবং মো. রুবেলের যৌথ মালিকানায় একটি পোল্ট্রি ফার্ম রয়েছে। ফার্মের মুরগী বন্য পশুদের থেকে রক্ষা করার জন্য রাতে ফার্মের চতুর্দিকে বৈদ্যুতিক ফাঁদ দেয়া থাকে এবং সকালে ফাঁদ খুলে নেওয়া হয়। কিন্তু তারা সোমবার এ ফাঁদ না খুলার কারণে শিশুটি সেখানে খেলতে গিয়ে বৈদ্যুতিক শর্টে মারা যায়।

এ ব্যাপারে বাঘাইছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমির হোসেন জানান, শিশুটির পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো মামলা দায়ের করেনি। তবে পুলিশ বাদী হয়ে থানায় একটি সাধারণ ডায়রি করেছে।




আলীকদমের সহকারী শিক্ষিকা জয়নব স্টাডিট্যুরে মালয়েশিয়া যাচ্ছেন

Alikadam Teacher News.Pic

আলীকদম প্রতিনিধি :
প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রণালয়ের অর্থানুকুল্যে ‘টিচার এডুকেশন-এ টিচার ট্রেনিং’এর ওপর স্টাডিট্যুরে যাচ্ছেন আলীকদম চম্পট পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা জয়নব আরা বেগম। ১০ এপ্রিল (সোমবার) মন্ত্রণালয়ের এডমিন-২ ব্রাঞ্চ থেকে জারী করা এক পত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রণালয়ের ডেপুটি সেক্রেটারি নাসরিন জাহান স্বাক্ষরিত পত্রে জানা গেছে, ‘টিচার এডুকেশন এ- টিচার ট্রেনিং’এর ওপর স্টাডিট্যুরে ৩ জন সরকারি কর্মকর্তা, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৮ জন প্রধান শিক্ষক ও ৩ জন সহকারি শিক্ষিকা রয়েছেন।

এরমধ্যে উল্লেখ্যযোগ্য হচ্ছেন, যশোরের জেলাপ্রশাসক এমডি হুমায়ুন কবির, প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রণালয়ের মেন্টিন্যান্স ইঞ্জিনিয়ার হাবিবুল্লাহ, এসিটেন্ট প্রোগ্রামার এমডি মনিরুজ্জামান, বাঘাইছড়ি উপজেলার খেদারমারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধানশিক্ষক বিপারশি চাকমা ও আলীকদম উপজেলার চম্পট পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষিকা জয়নব আরা বেগম।

উল্লেখ্য, সহকারি শিক্ষিকা জয়নব ২০১৫ সালের ৫-২২ জুলাই পর্যন্ত স্কুলস্ অনলাইন পার্টনারশীপের ওপর সরকারি আদেশে লন্ডন সফর করেন।

সেখানে তাকে লন্ডনের হেভারিংএর মেয়রের পক্ষ থেকে রানীর পোষাক পরিয়ে এওয়ার্ড প্রদান করেন।




আটককৃত সুগত চাকমার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী অভিযান চালিয়ে এলজি উদ্ধার

updf copy

সাজেক প্রতিনিধি:

রাঙ্গামাটি বাঘাইছড়ি উপজেলা ইউপিডিএফ’র পরিচালক সুগত চাকমা(৪৫)কে নিরাপত্তাবাহিনী সোমবার দুপুরের দিকে উপজেলার করেঙ্গাতলী মরিচাবনছড়া এলাকা থেকে আটক করা হয়।

নিরাপত্তাবাহিনী সূত্র জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বাঘাইহাট সেনা জোন থেকে নিরাপত্তা বাহিনী একটি টিম অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করে। আটক সুগত চাকমা একজন চিহ্নিত সন্ত্রাসী। দীঘিনালা মারিশ্যা সড়কে চাঁদার জন্য প্রাণ আরএফএল’র গাড়ির উপর ব্রাশ ফায়ার করার অন্যতম হোতা আটক সুগত চাকমা।

আর তারই সূত্র ধরে রবিবার দীঘিনালা খাগড়াছড়ি সড়কে প্রাণ আরএফএল’র গাড়িবহরে আবারও ব্রাশ ফায়ার চালায় ইউপিডিএফ’র সন্ত্রাসীরা আর তাদের ধরতে নিরাপত্তাবাহিনী বিভিন্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করছে এবং আটক সুগত চাকমাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে তার দেওয়া তথ্যমতেও অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানিয়েছে সূত্রটি।

আটকের পর তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী রাতে অভিযান চালিয়ে তার ব্যবহৃত একটি এলজি ও ৩রাউন্ড কার্তুজ ও গুরুত্বপূর্ণ নথি উদ্ধার করেছে নিরাপত্তাবাহিনী।

নিরাপত্তা বাহিনী সূত্র আরও জানায়, আটক সুগত চাকমাকে এর আগেও ২০০৫ সালে মাচালং এলাকা থেকে এসএমজিসহ আটক করেছিল নিরাপত্তাবাহিনী তখন সে দুই বছর জেলে থাকার পর বের হয়ে আবারও ইউপিডিএফ’র সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে সক্রিয়ভাবে কাজ করে আসছে। সে বর্তমানে ইউপিডিএফ’র বিচার বিভাগের প্রধান হিসেবে দায়িত্বে রয়েছে এবং তার নির্দেশে মারিশ্যা খাগড়াছড়ি সড়কে চাঁদার জন্য প্রাণ আরএফএল’র গাড়িতে ব্রাশফায়ার করেছিল। ইউপিডিএফ’র সন্ত্রাসীরা এবং চাঁদা না দেওয়ায় আবারও দীঘিনালা খাগড়াছড়ি সড়কে প্রাণ আরএফএল’র গাড়িতে ব্রাশফায়ার করা হয়। তারা ৮-১০জনের মত একটি গ্রুপ খাগড়াছড়ি সড়কের পাঁচ মাইল ও সাত মাইল এলাকায় চাঁদা কালেকশন করে থাকে বলেও সে স্বীকারোক্তি দিয়েছে, জানায় নিরাপত্তাবাহিনীর সূত্রটি।

আটক ইউপিডিএফ নেতা সুগত চাকমা করেঙ্গাতলীর মরিচাবনছড়ার মৃত বাক্কি চাকমার ছেলে এবং তার নিজ বাড়িও মরিচাবনছড়া বলে জানা যায়। সুগত চাকমা ইউপিডিএফ’র প্রতিষ্ঠা লগ্ন থেকেই ইউপিডিএফ’র বিভিন্ন এলাকায় পরিচালকের দায়িত্ব পালন করে আসছে এবং ইউপিডিএফ গঠন হওয়ার আগে সে জেএসএস’র রাজনীতির সাথে জরিত ছিল।

এ বিষয়ে ইউপিডিএফ’র বাঘাইছড়ি উপজেলা পরিচালক জুয়েল চাকমা বলেন, ইউপিডিএফ তো কোন নিষিদ্ধ দল নয় গণতান্ত্রিক একটি দলের সদস্যদের অন্যায় ভাবে আটক করা যা শুভ নয়, তাকে সম্পূর্ণ অন্যায় ভাবে আটক করা হয়েছে, আটকের বিষয়ে ইউপিডিএফ’র পক্ষ থেকে এর তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি ।

এবিষয়ে বাঘাইছড়ি থানার অফিসার ইনচার্জ আমির হোসেন বলেন, আটককৃত সুগত চাকমা উপজেলার শীর্ষ সন্ত্রাসী তালিকার মধ্যে অন্যতম একজন সন্ত্রাসী তার বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।




ইউপিডিএফ’র বাঘাইছড়ি উপজেলার সহকারী পরিচালক আটক

17792362_1901450996740512_1028546399_n copy

সাজেক প্রতিনিধি :

রাঙ্গামাটি বাঘাইছড়ি উপজেলার ইউপিডিএফ’র উপ-সহকারী পরিচালক সুগত চাকমা(৪৫)কে আটক করেছে নিরাপত্তাবাহীনি।

সোমবার দুপুর দেড়টার দিকে উপজেলার করেঙ্গাতলী মরিচাবনছড়া এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়।

নিরাপত্তাবাহিনী সূত্র জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বাঘাইহাট সেনা জোন থেকে নিরাপত্তাবাহিনীর একটি টিম অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করে। আটক সুগত চাকমা একজন চিহ্নিত সন্ত্রাসী। দীঘিনালা মারিশ্যা সড়কে চাঁদার জন্য প্রাণ আরএফএল’র গাড়ির উপর ব্রাশ ফায়ার করার অন্যতম হোতা আটক সুগত চাকমা।


এ সংক্রান্ত আরও খবর

খাগড়াছড়িতে আরএফএল’র গাড়ী বহরে ইউপিডিএফ সন্ত্রাসীদের ব্রাশফায়ার, ২ জন গুরুতর আহত

চাঁদার জন্য ইউপিডিএফ আরএফএল‘র গাড়িতে গুলি চালায়, ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে সেনা ক্যাম্প স্থাপনের দাবি


আর তারই সূত্র ধরে রবিবার দীঘিনালা খাগড়াছড়ি সড়কে প্রাণ আরএফএল’র গাড়িবহরে আবারও ব্রাশ ফায়ার চালায় ইউপিডিএফ’র সন্ত্রাসীরা আর তাদের ধরতে নিরাপত্তাবাহিনী বিভিন্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করছে এবং আটক সুগত চাকমাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে তার দেওয়া তথ্যমতেও অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানিয়েছে সূত্রটি।

আটক ইউপিডিএফ নেতা সুগত চাকমা করেঙ্গাতলীর মরিচাবনছড়ার মৃত বাক্কি চাকমার ছেলে এবং তার নিজ বাড়িও মরিচাবনছড়া বলে জানা যায়।

এবিষয়ে ইউপিডিএফ’র বাঘাইছড়ি উপজেলা পরিচালক জুয়েল চাকমা বলেন, ইউপিডিএফ তো কোন নিষিদ্ধ দল নয় গনতান্ত্রিক একটি দলের সদস্যদের অন্যায় ভাবে আটক করা যা শুভ নয়, তাকে সম্পূর্ণ অন্যায় ভাবে আটক করা হয়েছে। আটকের বিষয়ে ইউপিডিএফ’র পক্ষ থেকে এর তিব্র নিন্দা জানাচ্ছি।




ইউপিডিএফ সন্ত্রাসীদের ব্রাশ ফায়ারে প্রাণ আরএফএল কোম্পানির ২ জন গুরুতর আহত

গুলিবর্ষণ

নিজস্ব প্রতিবেদক, খাগড়াছড়ি :

চাঁদা না দেওয়ায় ইউপিডিএফ সন্ত্রাসীরা খাগড়াছড়ি-দীঘিনালা সড়কের ছয় মাইলে রাস্তায় গাছের গুড়ি ফেলে অারএফএল’র গাড়ী বহরে ব্রাশ ফায়ারে দুইজন গুরতর অাহত। অাশংকজনক অকস্থায় আহতদের চট্টগ্রাম মেডিকেলে প্রেরণ করা হয়েছে। আহতরা হলেন মোসলেম উদ্দিন(১২)এবং আব্দুল কাইয়ুম(২২)। তারা দুজনই আরএফএল’র গাড়িতে ছিলেন।

উল্লেখ্য, একই স্থানে আগেও একাধিকবার আরএফএল’র পণ্যবাহী গাড়ির বহরে ব্রাশ ফায়ার করেছে ইউপিডিএফ সন্ত্রাসীরা।

বিস্তারিত




বাঘাইছড়িতে গাঁজাসহ দম্পতি আটক

17619813_684329378436330_1802417057_n

সাজেক প্রতিনিধি:

রাঙ্গামাটি বাঘাইছড়ি উপজেলার কাচালং বাজার এলাকা থেকে গাঁজাসহ স্বামী-স্ত্রীকে আটক করেছে পুলিশ। সোমবার রাত সাড়ে এগারটার দিকে অভিযান চালিয়ে আব্দুর রহিম (৩৫) ও তার স্ত্রী নুর নাহার বেগম(৩০) নামে এক দম্পতিকে আটক করে পুলিশ।

এসময় তাদের সাথে থাকা ব্যাগে তল্লাশি চালিয়ে প্রায় দুই কেজি গাঁজা উদ্ধার করে পুলিশ।

এবিষয়ে বাঘাইছড়ি থানার অফিসার ইনচার্জ মো. আমির হোসেন জানান, দীর্ঘদিন ধরেই এই দম্পতি মাদকের ব্যবসার সাথে জড়িত বলে জানতে পেরে অবশেষে গোপনে তথ্য নিয়ে তাদেরকে গাঁজাসহ হাতেনাতে আটক করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করে তাদেরকে জব্দকৃত গাঁজাসহ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, এই মাদক ব্যবসায়ীর মাধ্যমে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে মাদক ছড়িয়ে পড়ছে। এতে করে উঠতি বয়সের তরুণ-যুবকেরা মাদকের সর্বনাশা ছোবলে আক্রান্ত হচ্ছে প্রতিনিয়ত। এই সকল মাদক ব্যবসায়ী ও মাদক সেবীদের বিরুদ্ধে বাঘাইছড়ি থানা পুলিশ জিরো টলারেন্স নীতিতে কাজ করছে এবং মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে।