ভূষনছড়ায় নৌকা উল্টে নির্মাণ শ্রমিক নিখোঁজ

রাঙ্গামাটি প্রতিনিধি:
কাপ্তাই হ্রদের ঝড়ের কবলে পড়ে নৌকা উল্টে নির্মাণ শ্রমিক শহিদুল ইসলাম(৩০) নামে এক ব্যক্তি নিখোঁজ হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে রাঙ্গামাটি বরকল উপজেলার ভূষনছড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, ভূষনছড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নির্মাণ কাজে নিয়োজিত ৬ জন শ্রমিক বৃস্পতিবার রাতে ভূষনছড়া বাজারে যায়। বেচাকেনা শেষে রাতে নৌকা করে ভূষনবাগ ফেরার পথে তারা সকলে প্রচন্ড ঝড়ো হাওয়ার কবলে পড়ে এবং তাদের নৌকা উল্টে যায়। এতে পাচঁ নির্মাণ শ্রমিক সাঁতরিয়ে তীরে উঠতে পারলেও শ্রমিক শহিদুল ইসলাম এখনো নিখোঁজ রয়েছে ।

বরকল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মফজল আহমদ খান এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, কাপ্তাই হ্রদে নৌকা উল্টে একজন নির্মান শ্রমিক নিখোঁজ রয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। তার গ্রামের বাড়ি লংগদুর মাইনী বলেও জানা গেছে।




ঐতিহাসিক ভূষণছড়া গণহত্যা দিবস আজ

 

926vvvvvvvvvvvvvvvvvvv

ভূষণছড়া গণহত্যা পার্বত্য চট্টগ্রামের বৃহত্তম হত্যাকাণ্ড

সৈয়দ ইবনে রহমত

৩১ মে, ভূষণছড়া গণহত্যা দিবস। পার্বত্য চট্টগ্রামে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বৃহৎ এবং  ভয়াবহ হত্যাকাণ্ডটি হচ্ছে ভূষণছড়া গণহত্যা। ১৯৮৪ সালের এই দিনে রাঙামাটি জেলার বরকল উপজেলার
ভূষণছড়া ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকার বাঙ্গালীরা এই নির্মম গণহত্যার শিকার হন। পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি (জেএসএস) -এর অঙ্গ সংগঠন শান্তিবাহিনীর হাতে অসংখ্যবার পার্বত্য চট্টগ্রামের বাঙালিরা গণহত্যার শিকার হয়েছে। শান্তিবাহিনীর হত্যাকাণ্ডগুলোর মধ্যে রাজনগর গণহত্যা, পাকুয়াখালী ট্রাজেডি, মাটিরাঙ্গা গণহত্যা, ভূষণছড়া গণহত্যা উল্লেখযোগ্য। আর পার্বত্য চট্টগ্রামের কয়েক শত বছরের ইতিহাস ঘাটলেও ভূষণছড়া গণহত্যার মতো এত বড় ধ্বংসযজ্ঞের আর কোন নজির খুঁজে পাওয়া যাবে না। এমনকি ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে পাকিস্তানী পাষণ্ডরাও এখানে এমন জঘন্যতম ঘটনার জন্ম দেয়নি। যে ঘটনার মাধ্যমে মাত্র কয়েক ঘন্টা সময়ে হত্যা করা হয়েছে চার শতাধিক নিরস্ত্র নিরীহ মানুষ । এবং আহত করা হয়েছে আরও সহস্রাধিক মানুষ। নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে একটি জনপদ।

১৯৮৪ সালের ৩০ মে দিবাগত রাত আনুমানিক ৪টা থেকে পরদিন সকাল ৮টা ৩০মিনিট পর্যন্ত সময়ে অর্থাৎ ৩১ মে সংঘটিত পার্বত্য চট্টগ্রামের সবচেয়ে কলঙ্কজনক অধ্যায় ভূষণছড়া গণহত্যা। এর সাথে সম্পর্কযুক্ত কয়েকটি রিপোর্টের পর্যালোচনা সচেতন দেশবাসীর সামনে তুলে ধরতে চাই । এই পর্যালোচনার জন্য যে  সব
রির্পোটগুলোর সাহায্য  নেওয়া হয়েছে সেগুলো হলো: BANGLADESH TODAY, 16-30 JUNE 1984-এ প্রকাশিত  Moinuddin Nasser-এর ‘Massacre at Bhushanchara’ শীর্ষক নিবন্ধ, BANGLADESH ECONOMIST, 1 July 1984: Vol-2 -এ প্রকাশিত জনাব Ali Murtaza -এর ‘Massacre at dawn’ শীর্ষক নিবন্ধ এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক ১০টি বইয়ের প্রণেতা ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ে অভিজ্ঞ এবং গবেষক জনাব আতিকুর রহমান এর অনুসন্ধানী প্রতিবেদন “বিলম্বিত পার্বত্য ঘটনা: ভূষণছড়া গণহত্যা – ১ ও ২”।

সেদিন আসলে কি ঘটেছিল আমরা তার আভাস পেতে পারি জনাব Ali Murtaza  এর রিপোর্টের ভূমিকা থেকেই। তিনি শুরুতেই একটি দৃশ্য বর্ণনা দিয়েছেন এভাবে-

The beheaded body of a young  woman Rizia Khatun was found lying at proabari para of Bhushanchara settlement with her dead body in the position of suckling her bosom. Both hands of yet another baby were found severed. Yet another infant was see cut by half. A seven day old boy was bayoneted to death in front of his parents.

এবার ভূষণছড়া গণহত্যা সম্পর্কে একটা সংক্ষিপ্ত চিত্র তুলে ধরা যাক জনাব, Moinuddin Nasser এর লেখা থেকে-

A group of about 150 members of the shanti Bahinin headed by one Major Moni Shawpan Dewan , Launched the attack on the BDR camp and Bangali Settlers at the Bhusnanchara union of Barkal upojela in the early hours of May 31.

The insurgents, including their female cadres, in two groups launched the armed attack at 4 a. m. which continued till 8.30 a. m. They abruptly opened fire and killed the youth, women, children, elderly people and even the livestock. From three rehabilitation zones at Bhusnachra union under Barkal uppojela about 186 dead bodies of men, women, youths and babies were recovered till the writing of this report. It is learnt that a large number of corpses which could not be recovered were getting decomposed in the area. It is recorded that a total of about 500 people including BDR personnel, were injured in the raid, According to a reliable source, several BDR personnel were also killed.

ভূষণছড়া গণহত্যায় শাহাদাত বরণকারীদের মাজারের একাংশ

ভূষণছড়া গণহত্যায় শাহাদাত বরণকারীদের মাজারের একাংশ

আতিকুর রহমান সাহেবের লেখায় ফুটে উঠেছে ঘটনার ভয়ঙ্কররূপ। তিনি লিখেছেন-

‘‘কলা বন্যা, গোরস্থান, ভূষণছড়া, হরিণা হয়ে ঠেকামুখ সীমান্ত পর্যন্ত বিস্তৃত এই বিরাট এলাকা জুড়ে সন্ধ্যা থেকে আপতিত হয় ভয়াল নিস্তদ্ধতা। কুকুর শিয়ালেরও সাড়া শব্দ নেই। আর্মি, বিডিআর, ভিডিপি সদস্যরাও ক্যাম্পে বন্দি। অতর্কিত পূর্ব দিক থেকে প্রথম ধ্বনিত হয়ে উঠল একটি গুলির শব্দ। তৎপরই ঘটনাবলীর শুরু। চুতর্দিকে ঘর-বাড়ীতে আগুন লেলিহান হয়ে উঠতে লাগল। উত্থিত হতে লাগল আহত নিহত অনেক লোকের ভয়াল চিৎকার এবং তৎসঙ্গে গুলির আওয়াজ , জ্বলন্ত গৃহের বাঁশ ফোটার শব্দ, আর আক্রমণকারীদের উল্লাস মূখর হ্রেসা ধ্বনি। এভাবে হত্যা, অগ্নিসংযোগ, আর্তচিৎকার ও উল্লাসের ভিতর এক দীর্ঘ গজবি রাতের আগমন ও যাপনের শুরু। চিৎকার, আহাজারী ও মাতমের ভিতর  সুর্যোদয়ে জেগে উঠলো পর্য্যুদস্তজনপদ। হতভাগা জীবিতরা আর্তনাদে ভরিয়ে তুললো গোটা পরিবেশ। অসংখ্য আহত ঘরে ও বাহিরে লাশে লাশে ভরে আছে পোড়া ভিটা। এতো লাশ, এতো রক্ত আর এতো ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ এক অর্ধরাতের ভিতর এলাকাটি বিরান। অদৃষ্ট পূর্ব নৃশংসতা। অভাবিত নিষ্ঠুরতা। ওয়ারলেসের মাধ্যমে এই ধবংসাত্মাক দুর্ঘটনার কথা স্থানীয় বিডিআর ও আর্মি কর্তৃপক্ষ ঊর্ধ্বমহলে অবহিত করে। শুরু হয় কর্তৃপক্ষীয় দৌড় ঝাপ আগমন ও পরিদর্শন । চললো লাশ কবরস্থ  করার পালা ও ঘটনা লুকানোর প্রক্রিয়া। ঘটনাটি যে কত ভয়াবহ, মর্মন্তুদ আর অমানবিক এবং শান্তিবাহিনী যে কত হিংস্র পাশবিক চরিত্র সম্পন্ন মানবতা বিরোধী সাপ্রদায়িক সংগঠন তা প্রচারের সুযোগটাও পরিহার করা হলো। খবর প্রচারের উপর জারি করা হলো নিষেধাজ্ঞা। ভাবা হলো: জাতীয়ভাবে ঘটনাটি বিক্ষোভ ও উৎপাতের সূচনা ঘটাবে। দেশ জুড়ে উপজাতীয়রা হবে বিপন্ন।

ঘটনার ভয়াবহতা আর সরকারী নিস্ক্রিয়তায় ভীত সস্ত্রস্ত অনেক সেটালারই স্থান ত্যাগ করে পালালো। পলাতকদের ঠেকাতে পথে ঘাটে, লঞ্চে, গাড়িতে, নৌকা ও সাম্পানে চললো তল্লাশী ও আটকের প্রক্রিয়া। তবু নিহত আর পলাতকরা মিলে সংখ্যার প্রায় অর্ধেকই হলো ঐ জনপদ থেকে লাপাত্তা। শুরু হলো জীবিতদের মাধ্যমে লাশ টানা ও কবরস্থ করার তোড়জোড়। খাবার নেই, মাথা গোঁজার ঠাই নেই্ চারিদিকে কেবল পঁচা লাশের দুর্গন্ধ, পালাবারও পথ নেই। নিরূপায় জীবিতরা, লাশ গোজানো ছাড়া আর কোন কাজ নেই ।  দয়া পরবশ কর্তৃপক্ষ, কিছু আর্থিক সহযোগীতায় এগিয়ে এলেন । এটাকে দয়া বলা ছাড়া উপায় কি?”

বরকল ভূষণছড়া এবং প্রিতিছড়ায় সেদিন কোন মানুষকেই জীবিত পাওয়া যায়নি। জীবিত পাওয়া যায়নি  কোন পোষা প্রাণীকেও। Nasser সাহেবের রিপোর্টের সাথে প্রকাশিত একটি ছবিতে দেখা যায় অগ্নিদগ্ধ বিরান ভূমিতে দাঁড়িয়ে আছে একটি মাত্র কুকুর। আর ছবির ক্যাপশন এ লেখা আছে-

Bhushanchara: Only the Dog was left Alive.

শান্তিবাহিনীর পাশবিক আক্রমণে সেদিন, নিহতদের প্রকৃত সংখ্যা আজো পাওয়া যায়নি। নিখোঁজদের সংখ্যা এবং তাদের পরবর্তী অবস্থা জানা যায়নি। তা ছাড়া ঘটনার ভয়াবহতায় যে সব বাঙ্গালী পার্বত্য এলাকা থেকে পালিয়ে গেছে তাদের কি পরিমাণ আত্মীয় স্বজন নিহত হয়েছে তারও সঠিক হিসাব পাওয়া সম্ভব হয়নি। তবু প্রতিবেদকদের প্রতিবেদন থেকে নিহতদের সংখ্যার একটা ধারণা পাওয়া যায়। যা আৎকে উঠার মতোই বিরাট এক সংখ্যা।

Nasser  সাহের তার রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ১৮৬ জনের লাশ পাওয়ার কথা উল্লেখ করেছেন। আবার তিনি আশঙ্কা করেন যে মৃতের সংখ্যা কোনভাবেই  ৪ শতকের কম হবে না। কেননা বরকলের ১৬০০ পরিবারের মধ্যে তিন শতাধিক পরিবার সেদিন আক্রান্ত হয়েছে। আর আক্রান্তদের মধ্যে ১০০টি পরিবার সম্পূর্ণভাবে নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে।

এই পরিসংখ্যানের সত্যতার সমর্থন মিলে আতিক সাহেবের লেখা থেকেও। তিনি দীর্ঘ সময় অনুসন্ধান শেষে নিহতদের নাম ঠিকানা সম্বলিত যে তালিকা প্রস্তুত করেছেন তাতে ৩৭০ জনের পরিচিতি তুলে ধরেছেন। Murtaza সাহেবও আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছেন, প্রকৃত মৃতের সংখ্যা বিভিন্ন স্থানে পাওয়া লাশের সংখ্যার চাইতে অনেক বেশি। তাঁর এই আশঙ্কার কারণ হিসাবে তিনি লিখেছেন-\

During my visit prittisara river even after five days of the incident, I found five bodies on the bank. The settlers told me that several other bodies still in the forest around that area.

ভূষণছড়া গণহত্যার কুখ্যাত নায়কের পরিচিত তুলে ধরতে গিয়ে Moinuddin Nasser  সাহেব লিখেছেন-

Major Moni Shawpan Dewan of the Priti group who was supposed to be the leader of the insurgents in this attack was student of Rangamati Govt. High school After liberation he went to continue his studies at Luthiana University of India/ Securing a Scholarship from the India Government, but he joined the Shanti Bahini without completing studies.

দুঃখজনক হলেও নির্মম সত্য এই যে, ভূষণছড়া গণহত্যা সহ অসংখ্য বর্বরোচিত ঘটনার শিকার হয়েছে পার্বত্য অঞ্চলে বাঙ্গালীরা। কিন্তু বাঙ্গালীদের উপর সন্ত্রাসী কর্তৃক সংঘটিত এসব নির্যাতনের চিত্র আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমতো দূরের কথা দেশীয় প্রচার মাধ্যমেও স্থান পায়নি। দেশে তখন সামরিক শাসন ও সংবাদ প্রচারের উপর সেন্সরর ব্যবস্থা আরোপিত থাকায় এবং পাহাড়ের অভ্যন্তরে যাতায়াত ও অবস্থান নিরাপদ না হওয়ায় অধিকাংশ গণহত্যা ও নিপীড়ন খবর হয়ে পত্র পত্রিকায় স্থান পায়নি। আর এই সুযোগে নির্যাতনকারী উপজাতীয়রা নিজেদের নৃশংসতার স্বরূপকে ঢেকে তিলকে তাল করে নিজেদের পক্ষে প্রচার চালিয়েছে বিশ্বব্যাপী। এতে দুনিয়াব্যাপী ধারণা জন্মেছে যে, পার্বত্যাঞ্চলের উপজাতীয়রাই নির্যাতনের শিকার। যার ফলে দেশ এবং সরকারের ভাবমূর্তি যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তেমনি আন্তর্জাতিকভাবে সুনাম অর্জনকারী সেনাবাহিনীর চরিত্রেও কলঙ্ক আরোপিত হয়েছে।

পার্বত্য অঞ্চলের বাঙ্গালীরা একদিকে নির্মম হত্যাকন্ডের শিকার হবে অন্যদিকে উপজাতীয়দের অপপ্রচারে নির্যাতনকারী হিসেবে পরিচিত হবে আর সরকার নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করবে এমন ব্যবস্থা চিরদিন চলতে পারে না । তাই সরকারের আশু কর্তব্য হচ্ছে মেজর মনি স্বপনদের বিচারের কাঠ গড়ায় দাঁড় করানো। উপযুক্ত তথ্য প্রমাণ উপস্থাপনের মাধ্যমে ভূষণছড়া গণহত্যাসহ পার্বত্য অঞ্চলের সকল হত্যাকান্ডের সাথে জড়িতদের প্রকৃত বিচারের মাধ্যমেই পার্বত্য অঞ্চলের সঠিক চিত্র বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরা সম্ভব। এর মাধ্যমে ফিরিয়ে আনা সম্ভব দেশের সরকার ও সেনাবাহিনীর হারানো ভাবমূর্তি।

তাছাড়া ১৯৯৭ সালে তথাকথিত শান্তিুচুক্তি করে জেএসএস তথা শান্তিবাহিনীর সদস্যদের সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করা হলেও আজও পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তি আসেনি। বন্ধ হয়নি হত্যাকাণ্ডও। কাগজে-কলমে শান্তিবাহিনী না থাকলেও পার্বত্য চট্টগ্রামে সশস্ত্র সংগঠনগুলোর দৌড়াত্ম্য কমেনি, বরং তাদের হাতে বাঙালিরা যেমন হত্যার শিকার হচ্ছে, তেমনি নিহত হচ্ছে পাহাড়ি জনগোষ্ঠীগুলোর মানুষজনও।

পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের ব্যবস্থা রয়েছে। রয়েছে জাতিসংঘের নিজস্ব বিচার ব্যবস্থাও। আমেরিকার মত প্রবল শক্তিধর সেনাবাহিনীও যখন ইরাকে বন্দী নির্যাতন করে পার পায়নি। আমাদের দেশেও ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা বিরোধীদের মানবতাবিরোধী কর্মকান্ডের বিচার চলছে। তা হলে, স্বাধীন দেশে পার্বত্য অঞ্চলে যারা হাজার হাজার মানুষ হত্যা করেছে তাদের কেন বিচার হবে না? ভূষণছড়া গণহত্যা কি
মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ নয়?

পার্বত্যাঞ্চলের এসব অপরাধীর বিচারের ব্যাপারে কোন প্রকার বাধা থাকতে পারে না। আর থাকলেও তাকে ন্যায় সঙ্গত বাধা হিসাবে আখ্যায়িত করার কোন সুযোগ নেই। সর্বোপরি পার্বত্য চট্টগ্রামের শান্তি-শৃঙ্খলা উন্নয়ন করতে হলে যুদ্ধাপরাধীদের ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখে প্রশ্রয় দেয়ার কোন সুযোগ নেই। কেননা সন্ত্রাসীরা ক্ষমার দৃষ্টিকে কখনই সরকারের উদার দৃষ্টি ভঙ্গি হিসাবে দেখে না। তারা একে সরকারে দুর্বলতা হিসাবেই গ্রহণ করে থাকে। এবং সঠিক পথে ফিরে আসার পরিবর্তে  তারা  বরং  আরো বেশি করে অপকর্মে লিপ্ত হওয়ার  উৎসাহ বোধ করে। সব শেষে আতিক সাহেবের ভাষাতেই বলতে চাই-

‘‘এই নৃশংসতা বিনা বিচারে পার পেয়ে গেলে, এটি অপরাধ ও দন্ডনীয় কুকর্ম বলে নজির  স্থাপিত হবে না। এটা হবে আরেক নিন্দনীয় ইতিহাস।’’

 

(কৈফিয়ত: ‘পার্বত্য চট্টগ্রামের বৃহত্তম হত্যাকান্ড: ভূষণছড়া গণহত্যা’ শিরোনামে লেখাটি অতীতে কয়েকটি গণমাধ্যমে মোহাম্মদ ইউছুফ নামে প্রকাশিত হয়েছে। পার্বত্য নিউজ ডটকম কেন একই লেখা সৈয়দ ইবনে রহমতের নামে প্রকাশ করলো-প্রশ্নটি ওঠা অত্যন্ত ন্যায্য। ২০০৫ সালে বাঙালী অন্তপ্রাণ এক তরুণ রচনায় উল্লিখিত বিভিন্ন সোর্সের সাহায্য নিয়ে ভূষণছড়া হত্যাকাণ্ডের উপর একটি প্রবন্ধ তৈরী করে ফেলে। জীবনের প্রথম জাতীয় পত্রিকায় লেখা পাঠানোর আগে সংশয়াবদ্ধ তরুণটি নিজের নামের স্থানে মোহম্মদ ইউছুফ লিখে পাঠায় দৈনিক ইনকিলাবে। ইনকিলাবে লেখাটি আমারই সম্পাদনায় প্রকাশ হয়। পরে আরো অন্যান্য কয়েকটি গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়। লেখাটি যে এতো বিপুল গ্রহণযোগ্যতা পাবে তরুণটির পক্ষে তৎকালে জানা সম্ভব ছিলনা। ফলে নিজের নামটি দেবার কোনো আগ্রহ ছিলনা অন্তঃমূখী এই মেধাবী তরুণের। এখনো নেই। আমি নিজে থেকে যখন তার কাছে লেখকের আসল পরিচয় জানতে চাইলাম তখন বেরিয়ে এলো প্রকৃত সত্য ঘটনা। এখন আমার দায়িত্ব পড়লো সেই তরুণকে তার প্রাপ্য কৃতিৃত্বটুকু ফিরিয়ে দেয়া। সেই তরুণই আজকের লেখক সৈয়দ ইবনে রহমত। এ লেখার মধ্যদিয়েই তার সাথে আমার পরিচয় আর আজকে ইনকিলাবে ও পার্বত্য নিউজডটকমে আমার সহকর্মী, সহমর্মী ও সহযোদ্ধা।)




প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে পরিবারের সংবাদ সম্মেলন

17793170_687791878090080_2072567456_n

রাঙামাটি প্রতিনিধি :

বরকল উপজেলার কুকিছড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে দায়েরকৃত মিথ্যা বানোয়াট ও ষড়যন্ত্রমূলক মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ওই শিক্ষিকার মাতা তাহমিনা তাহের ও তার পরিবার।

সোমবার সকালে রাঙামাটি শহরের রেইনবো নামক একটি রেস্তোরাঁয় এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষাকার পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে তাহমিনা তাহের লিখিত বক্তব্যে অভিযোগ করে বলেন, বরকল উপজেলার কুকিছড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মিজানুর রহমান একজন মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সন্তান। সমাজে তার সুনাম দীর্ঘ দিনের। এছাড়া সম্প্রতি অনুষ্ঠিত হওয়া ইউনিয়ন পর্যায়ের নির্বাচনের সময় তিনি সহকারী প্রিজাইডিং এর দায়িত্ব পালন করেছেন সুনামের সাথে। তাই প্রতিহিংসার বদলা নিতে এলাকার একটি কুচক্রীমহল তাকে ফাঁসানোর জন্য বিভিন্নভাবে অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তিনি অবিলম্বে রাঙামাটির বরকল উপজেলার কুকিছড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মিজানুর রহমান বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করার জন্য প্রশাসনের কাছে জোর দাবি জানান।

উল্লেখ্য, গত ২৮ মার্চ রাঙামাটির বরকল উপজেলার কুকিছড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মিজানুর রহমান (৩৬) বিরুদ্ধে একই গ্রামের জোছনা দেবী চাকমা (৩৮) শ্লীলতাহানির অভিযোগ এনে নারী ও শিশু দমন আইনে থানায় মামলা করেছেন।




অবশেষে শপথ গ্রহণ করলেন সেই চেয়ারম্যান

up-news-pic-copy
রাঙামাটি প্রতিনিধি :

বহু দ্বন্দ্ব মামলা-মোকাদ্দমার পর অবশেষে রাঙামাটির বরকল উপজেলার ৪নং ভূষণছড়া ইউনিয়ন পরিষদের নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান মামুনুর রশিদ শপথ গ্রহণ করেছেন।

সোমবার বিকেলের দিকে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এ শপথ বাক্য পাঠ করান জেলা প্রশাসক মো. মানজারুল মান্নান।

এ সময় শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন,অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) প্রকাশ কান্তি দাশ, সদর উপজেলার নির্বাহী অফিসার মোছাৎ সুমনী আক্তার প্রমুখ।

উল্লেখ্য, গত ৪ জুন বরকল উপজেলা ভূষণছড়া ইউনিয়ন পরিষদ নিবার্চন অনুষ্ঠিত হয়। এতে চেয়্যারম্যান প্রার্থী ছিলেন মো. মামুনুর রশিদ মামুন এবং তার প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন দিলীপ কুমার চাকমা। এর মধ্যে দিলীপ কুমার চাকমাকে বিপুল ভোটে হারিয়ে নির্বাচিত হন মামুনুর রশিদ।

পরাজিত প্রার্থী দিলীপ কুমার চাকমা ফলাফল মেনে না নিয়ে ভোট পুনর্গণনার আবেদন করেন। এ আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এতদিন মামুনুর রশিদের শপথ পাঠ স্থগিত ছিল।




বরকলে আত্মকর্মসংস্থান জোরদার বিষয়ক প্রশিক্ষণ

barkal-news-pic-1

রাঙামাটি প্রতিনিধি :

বরকল উপজেলার সুবলং ইউনিয়নের তন্যাছড়ি, শিলছড়ি ও হাজাছড়া গ্রামের যুবদের আত্মকর্মসংস্থান জোরদার বিষয়ক প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার সকালে সুবলং ইউনিয়নের মহালছড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আয়োজিত প্রশিক্ষণের উদ্বোধন করেন রাঙামাটি জেলা যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোঃ হাবিব উল্লাহ। প্রশিক্ষণে তিনটি গ্রাম থেকে ৫১ জন যুব প্রশিক্ষনার্থী অংশ নেন।

প্রশিক্ষণ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বরকল উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা প্রিয় রতন চাকমা, কৃষি বিভাগের কর্মকর্তা সুব্রত চৌধুরী, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের প্রশিক্ষক ডা. পরেশ দেওয়ান, রূপক বড়ুয়া, স্থানীয় ওয়ার্ড মেম্বার মধুমিলন চাকমা, মহালছড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মায়াধন চাকমা প্রমূখ। যুবদের আত্মকর্মসংস্থান জোরদারের লক্ষ্যে গাভী পালন, গরু মোটাতাজাকরণ, নার্সারী উন্নয়ন, পারিবারিক পোল্ট্রি উন্নয়ন, পেন কালচারের মাধ্যমে মৎস্য চাষ, প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে আধুনিক পদ্ধতিতে চাষাবাদ বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। দিনব্যাপী এ প্রশিক্ষণে প্রত্যন্ত এলাকার পুরুষ ও মহিলারা তাদের এলাকার উন্নয়নের জন্য প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সরকারি সেবা পৌঁছে দেয়ার জন্য কর্মকর্তাদের অনুরোধ জানান।

প্রশিক্ষণের মাধ্যমে গ্রামীণ এলাকায় দক্ষ জনবল সৃষ্টির লক্ষ্যে যুব উন্নয়ন দায়িত্বশীলতার সাথে কাজ করে যাবে বলে আশ্বাস দেন কর্মকর্তারা।

কর্মকর্তারা বলেন, প্রশিক্ষিত যুবশক্তি ছাড়া দেশের উন্নয়ন সম্ভব নয়। পাহাড়ে আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের জন্য স্থানীয় এলাকার সচেতন মহল, জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক প্রত্যেককে এলাকার উন্নয়নে এগিয়ে আসতে হবে। আগামী ১ জানুয়ারি থেকে রাঙামাটিতে যুব উন্নয়নের তিন মাসব্যাপী আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে যুবদের জন্য বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। ওই প্রশিক্ষণে অংশ নেয়ার জন্য শিলছড়ি, তন্যাছড়ি ও হাজাছড়া গ্রামের বেকার যুবদের আহ্বান জানান যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা।

কর্মকর্তারা বলেন, এসব পিছিয়ে থাকা গ্রামগুলোর যুবকরা প্রশিক্ষণ শেষে সনদপত্র পাবে এবং তাদেরকে পরবর্তীতে আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য পর্যায়ক্রমে যুবঋণ দেওয়া হবে। এ ঋণ কাজে লাগিয়ে তারা বেকারত্ব দূর করে স্বাবলম্বী হতে পারবে।




‘জয় বাংলা’ শ্লোগানের কারনে শহীদ হয়েছিলেন ফকির ধনা মিয়া: ২২ ডিসেম্বর ওরশ

dana-mihya-majar-pic-copy

রাঙামাটি প্রতিনিধি:

শাহছুফি ধনা মিয়া (রঃ) প্রকাশ ফকির মামা আমাদের দেশের ধর্মপ্রাণ মানুষের কাছে অলৌকিক ক্ষমতার অধিকারী একজন সুফি ব্যক্তিত্ব। আল্লাহ ভক্তের প্রতীক, তথা অনুকরণীয় এক ইসলামী আদর্শ বলে ব্যপক ভাবে পরিচিত। জাতি ধর্ম নির্বিশেষে সবাই তার মাজারকে শ্রদ্ধা করে এবং তার ভক্তের ও অভাব নেই মিশানো গাল গল্পের । স্থানীয়দের সাথে কথা বলে এমনই জানা যায়।

রাঙামাটি পার্বত্য জেলা শহরের অদূরে বরকল উপজেলার সুবলং বাজারের পাশে কাপ্তাই হ্রদের মাঝখানে ছোট একটি মাজার শরীফ। স্থানীয়রা জানান, তিনি একজন ধ্রুব তারা বাংলার ইসলামী ধর্ম আকাশে। যদি বলি বাংলাদেশের ইসলাম প্রচারের সরাসরি তার কি কোন ভূমিকা আছে কি? এর কথায় উত্তর- না। ধর্মীয় বিশ্বাসের উত্তপ্ত হাওয়া সাধারণ কেটে খাওয়া মানুষের বিচার বুদ্ধি কতখানি দূরীভূত করে ধর্মের রঙিন বর্ণণা কিভাবে তাদের নেশা গ্রস্থ করে রাখে। তারা যে সত্য অসত্য বিচার তথ্য প্রমাণের খোঁজ রাখে না। ধর্মের অলৌকিকত্বে সহজে মুগ্ধ হয়ে তারা ছাইপাসে ও পূর্ণ বিশ্বাস আনে।

মাজার জিয়ারত করতে আসা কয়েকজন ধর্মপ্রাণ মানুষের সাথে কথা বলে জানা যায়, ধনা মিয়া ফকির মামা (রঃ) এর মাজার জিয়ারত করতে আমাদের খুবই ভালো লাগে, আমরা কিছু দান করি  এবং তার দোয়ায় যেন আমাদের মঙ্গল হয়। ভক্তরা আরও জানান, আমরা মামার (রঃ)  দোয়ায় অনেক সাফল্যে অর্জন করেছি তাই শাহছুফি ধনা মিয়া ফকির মামা (রঃ) দরবারে আসি।

মাজারের খাদেম মোঃ আতর আলী ধনা মিয়া ফকিরের সম্প্রতি একটি ঘটনা জানান, একদিন এক জেলে কাপ্তাই হ্রদে মাছ শিকার করছিল। হঠাৎ এক উপজাতি সন্ত্রাসী নৌকা, জালসহ তাকে অপহরণ করে গভীর জঙ্গলে নিয়ে যায়। তখন জেলে মুক্তির আশায় হযরত ধনা মিয়া ফকিরের উছিলায় আল্লাহর নাম স্মরণ করেন। আকস্মিক এক মহিলা কন্ঠে একজন এসে জিজ্ঞাসা করলেন আপনার কি হয়েছে? তখন জেলে তার ঘটনা খুলে বললেন, পরে সেখান থেকে অপহরণকারী নিজেই জেলেকে মুক্তি দেয়। তিনি আরও জানান, সৃষ্টিকর্তার কাছে কোন জাতি ভেদাভেদ নেই। এখানে সব জাতি ধর্ম নির্বিশেষের মানুষ প্রতিনিয়ত মামার দরবার শরীফে আসে।

ধনা মিয়া ফকির মৃত্যুবরণের সংক্ষিপ্ত ঘটনা: ধনা মিয়া ফকির ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় ‘জয় বাংলা  আর দেশ স্বাধীন’ এ শ্লোগান দেয়ার অপরাধে তাকে হানাদার ও রাজাকাররা নৃশংসভাবে খুন করে। পওে তাকে ঘটনাস্থলের কাছে বরকল উপজেলার সুবলং বাজারে পাশে জলবেষ্টিত একটি দ্বীপে সমাহিত করা হয় । তার পবিত্র মাজার শরীফের  প্রসিদ্ধি উপজেলার গণ্ডি ছাড়িয়ে এখন জেলার মানুষের মনে ঠাঁই কওে নিয়েছে। মহান মুক্তিযুদ্ধের সময়ে ঘাতকের হাতে নিহত এই সাধক তাই ধনা মিয়া ফকিরের নামেও সমধিক পরিচিত।

মাজার কমিটির সাধারণ সম্পাদক মোঃ আবু তাহের জানান, ’মামার মাজারে সব ধরনের দান টাকা পয়সা সব ধনা ফকির মামা’র দরবারের জন্য ব্যয় করা হয়। মাজার সং¯কারের জন্য রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ উন্নয়ন বোর্ড বেশ অর্থ ব্যয় করেছে। নতুন কওে সংস্কারের প্রয়োজন দেখা দেয়ায় আমরা রাঙ্গামাটি জেলা পরিষদে আবেদন করেছি। আশ্বাস পেয়েছি এখনো কোন বরাদ্ধ পাইনি।’

মাজার কমিটির সহ-সভাপতি সুজন কুমার শীল জানান, ‘আমরা প্রতি বছর ওরশ শরীফ পালন করি। তবে আশাকরছি এ বছর জাঁকজমকভাবে পালন করবো। তিনি আরও জানান, আমাদের ওরশে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় সংশ্লিষ্টদের সহযোগিতা চেয়েছি। যাতে কোন ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি না হয়। তবে আগামী ২২ শে ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার আমাদের শহীদ শাহছুফি ধনা মিয়া (রঃ) এর বার্ষিক ওরশ শরীফ জাতি ধর্ম নির্বিশেষে সবাইকে দাওয়াত জানিয়েছি।’




বরকল উপজেলার ভূষণছড়া ইউপি’র  ৫ ওয়ার্ড মেম্বারের শপথ গ্রহণ

shopot-gorhon-pic-copy

রাঙামাটি প্রতিনিধি:

রাঙামাটির বরকল উপজেলার ৪নং ভূষণছড়া ইউনিয়ন পরিষদের নবনির্বাচিত  ৫ জন ওর্য়াড মেম্বারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়েছে। মেম্বাররা হলেন- আব্দুল জলিল, রুহুল আমিন, আবু ছৈয়দ, মোঃ সবুর তালুকদার এবং মমতাজ সিদ্দিক।

সোমবার দুপুরের দিকে রাঙামাটি সদর উপজেলার নির্বাহী অফিসার মোছাৎ সুমনী আক্তার নবনির্বাচিত মেম্বারদের সদর উপজেলার একটি অফিস কক্ষে এ শপথ বাক্য পাঠ করান।

উল্লেখ্য, গত ৪ জুন বরকল উপজেলা ভূষণছড়া ইউনিয়ন পরিষদ নিবার্চন অনুষ্ঠিত হয়। এতে চেয়্যারম্যান প্রার্থী ছিলেন মোঃ মামুনুর রশিদ মামুন এবং  প্রতিদ্ধন্দী ছিলেন দিলীপ কুমার চাকমা। এর মধ্যে দিলীপ কুমার চাকমাকে বিপুল ভোটে হারায় মামুনুর রশিদ। এতে ওয়ার্ড মেম্বার নির্বাচিত হয় মোট ১২ জন। এদের মধ্যে ৫ জন বাঙালি এবং ৭জন উপজাতি।

এদিকে মামুনুর রশিদের জয় মেনে নিতে না পেরে একটি মামলা করেন দিলীপ কুমার চাকমা। ফলে তাদের দ্বন্ধ তৈরি হয়। ২৮ নভেম্বর শপথের তারিখ থাকলেও এই দ্বন্ধের কারণে উপজাতি ৭ জন  ওর্য়াড মেম্বার  শপথ নিতে সদর উপজেলায় আসেনি বলেও জানা গেছে।




উপজেলা  চেয়ারম্যান মনি চাকমার বিরুদ্ধে তথ্য গোপন করে নির্বাচনে অংশগ্রহনের অভিযোগ

news-pic-3-copy

রাঙামাটি প্রতিনিধি:

রাঙামাটির বরকল উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মনি চাকমা, পিতা আষাতোষ চাকমা তার প্রকৃত পরিচয় আত্মগোপনের অভিযোগ করে রাঙামাটিতে সংবাদ সম্মেলন করেছে বরকল উপজেলার সচেতন নাগরিকবৃন্দ। রবিবার বিকালে রাঙামাটি শহরের একটি রেইনবো নামক রেস্টুরেন্টে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এতে উপস্থিত ছিলেন বরকল উপজেলার স্থানীয় বাসিন্ধা মো: হাসান, মো: মেহেদী হাসান, রফিকুল ইসলাম এবং ফরিদ মোল্লা প্রমূখ।

নাগরিকগণ সংবাদ সম্মেলনে বরকল উপজেলা পরিষদের চেয়াম্যান মনি চাকমার বিরুদ্ধে অভিযোগ করে বলেন, তিনি আসলে কি মনি চাকমা, নাকি সুপ্রিয় চাকমা? তার প্রকৃত নাম সুপ্রিয় চাকমা, পিতা লাল মনি চাকমা এবং মাতা কৃপাদেবী চাকমা। তিনি রাঙামাটি সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে নবম শ্রেণীতে ভর্তি হয়েছিলেন। ১৯৯২ সালে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড কুমিল্লা’র অধিনে এসএসসি পরিক্ষায় অংশগ্রহন করেন এবং গণিত বিষয়ে অকৃতকার্য হয়েছিলেন। রোল নাম্বার ছিল ম-১৭২৪ এবং রেজিস্ট্রেশন নাম্বার-৫২৭২২/১৯৯০। তার জন্ম তারিখ ১১/১০/১৯৭৫ইং।

কিন্তু তিনি ৪র্থ উপজেলা পরিষদ নির্বাচন-২০১৪ এর রিটার্নিং অফিসার ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) এর নিকট ১৩/০২/২০১৪ তারিখে হলফনামা মূলে দাখিলকৃত এসএসসি সনদপত্রে দেখা যায়, তার নাম মনি চাকমা, পিতা মৃত আষাতোষ চাকমা, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড কুমিল্লা এর অধীনে কাউখালি বেতবুনিয়া উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ১৯৯৩ সালে এসএসসি পরিক্ষায় উর্ত্তীণ হয়েছেন। সেখানে তার জন্ম তারিখ দেখানো হয়েছে ১০/১১/১৯৭৮। তার এ পরিচয় ভূল ও সম্পূর্ণ মিথ্যা । যাকে তার পিতা হিসাবে দেখানো হয়েছে সেই আষাতোষ চাকমা নামে কোন ব্যাক্তির স্থাবর সম্পত্তি কিংবা অস্তিত্ব কখনো ছিলনা এবং নেই বলে তারাও জানান তারা।

নাগরিকগণ সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা আরো বলেন, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মনি চাকমার প্রকৃত পিতা লাল মনি চাকমা তার ভাইয়ের সাথে রাঙামাটি শহরের কলেজ গেইট এলাকায় বসবাস করে। তার এই পরিচয় আত্মগোপনে জনগণের সাথে প্রতারণা দাবি করে স্থানীয় ব্যাক্তিরা তার বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা এবং তার নির্বাচনী পদবী বাতিলের জোর দাবি জানান।




রাঙামাটিতে বিদেশী মদসহ বৌদ্ধ ভিক্ষুবাহী নৌকা আটক

%e0%a6%9f%e0%a6%9a%e0%a6%9c

নিজস্ব প্রতিবেদক:
রাঙামাটি জেলার বরকল উপজেলার কাপ্তাই লেক থেকে ২৭ বোতল বিদেশী মদসহ ৪ বৌদ্ধ ভান্তেকে আটক করে বিজিবি। বুধবার দুপুর ১১ টায় উপজেলার জলযান ঘাট এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয়। ভান্তেরা এ সময় ভারত সংলগ্ন সীমান্ত থেগামুখ থেকে রাঙামাটিতে যাচ্ছিলেন। বিজিবি সূত্র এ খবর নিশ্চিত করেছে।

সূত্র জানিয়েছে, বুধবার সকাল ১১ টার দিকে বড় হরিণার শ্রীনগড় বৌদ্ধ বিহার থেকে রাঙামাটিস্থ চাকমা রাজার বৌদ্ধ বিহারে একটি ইঞ্জিন চালিত বোটে কয়েকজন বৌদ্ধ ভিক্ষু রাঙামাটি যাচ্ছিলেন। তাদের গতিবিধি সন্দেহজনক মনে হওয়ায় বিজিবি সদস্যরা বোটটি থামার সংকেত দিলে বোটটি না থামিয়ে আরো জোরে চালাতে থাকে। এসময় বিজিবি সদস্যদের সন্দেহ আরো বৃদ্ধি পাওয়ায় তারা ৪ ভান্তেসহ বোটটি আটক করে।

আটক ভান্তেরা হলেন, সুমনাচার চাকমা (৩১), পিতা-পূর্নাদম চাকমা, সাং- কুসুম ছড়ি, সুবলং, বরকল; সুদর্শি চাকমা (৩৬), পিতা-শান্তি লাল চাকমা, সাং-পানছড়ি, জেলা- খাগড়াছড়ি;  আনন্দ চাকমা (২৫), পিতা- সুরেশ চাকমা, সাং-পানছড়ি, জেলা খাগড়াছড়ি; এবং অপরজনের নাম জানা যায় নি।

এ সময় তল্লাশী চালিয়ে বিজিবি সদস্যরা বোটের যাত্রী ৪ জন বৌদ্ধ ভিক্ষুর ব্যাগ থেকে ২৭ বোতল ভারতীয় মদ উদ্ধার করা হয়। আটককৃত মদের আনুমানিক মূল্য ৪ লক্ষ ৭৭ হাজার ৩শত টাকা। বিদেশী মদ সম্পর্কে তাদের কাছে জানতে চাইলে তারা এ সম্পর্কে তাদের অজ্ঞতা প্রকাশ করে। তাদের ব্যাগে পাওয়া যাওয়ার বিষয়টি জানালে তারা ক্ষমা চেয়ে পরবর্তীতে এ ধরণের ঘটনা আর হবে না এ মর্মে মুচলেকা দিতে সম্মত হয়। বোট চালকও জানান, তিনি এ মদ সম্পর্কে কিছু জানেন না।

এসময় বিজিবি সদস্যরা উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের সাথে আলাপ করে আটক ভান্তেদের সামাজিক মর্যাদা চিন্তা করে ভান্তে ও বোট চালককে ছেড়ে দিলেও নৌকা ও বিদেশী মদের বোতলগুলো জব্দ করেন।

জব্দকৃত ভোটের বিরুদ্ধে আইনী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে এবং মাদকগুলো ধ্বংস করে ফেলা হবে বলে বিজিবি সূত্র জানিয়েছে।

উল্লেখ্য, বছর খানেক আগে একইস্থানে ভারত থেকে বাংলাদেশে আসার সময় ৪ টি স্বর্ণমূতি, বিদেশী এনার্জি ড্রিংকস ও দুই ব্যাগ টাকাসহ কয়েকজন বৌদ্ধ ভিক্ষুকে আটক করে বিজিবি। এসময় ভিক্ষুরা জানায়, ভারত থেকে প্রার্থনা উদ্দেশ্যে তারা এ মূর্তিগুলো এনেছিলেন এবং টাকাগুলো দানের টাকা।

এসময় স্থানীয় বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীরা বিজিবি ক্যাম্প ঘেরাও করে মিছিল করতে থাকলে স্থানীয় বিজিবি উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের সাথে আলাপ করে ভিক্ষুদের ছেড়ে দেয়।




‘পাহাড়ে ফলদ গাছ রোপণের মাধ্যমে সবুজ বনায়ন করতে হবে’

1466948972
নিজস্ব প্রতিনিধি : পাহাড়ে ফলদ গাছ রোপণের মাধ্যমে সবুজ বনায়ন করতে হবে, তাছাড়া সঞ্চয়ী মনোভাব নিয়ে ফলদ চারা রোপণ করলে ভবিষ্যতে অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হওয়া যায় বলে মন্তব্য করেছেন রাঙ্গামাটি জেলা পরিষদ সদস্য সবির  কুমার চাকমা। তিনি বলেন, এ অঞ্চলের পাহাড় ও সমতল জায়গায় ফলদ গাছ রোপণের মাধ্যমে সবুজ বনায়ন করা গেলে নিজেরাও লাভবান হবেন এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম দেশের বোঝা নয় সম্পদে পরিণত হবে।

রবিবার বরকল উপজেলায় উপজেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের মিশ্র ফল বাগান স্থাপন প্রকল্পের আওতায় উপকারভোগী কৃষক/কিষানীদের ‘ফল চাষের আধুনিক কলাকৌশলী’ বিষয়ক প্রশিক্ষণ ও উপকরণ হিসেবে গাছের চারা বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

এসময় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক রমনী কান্তি চাকমা, বরকল সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রভাত কুমার চাকমা, সুবলং ইউনিয়নের আওয়ামীলীগ সভাপতি সুশান্ত ময় চাকমা।

সভায় প্রধান অতিথি আরো বলেন, দেশের বৃক্ষ সম্পদ ও পরিবেশের ভারসাম্য সংরক্ষণের লক্ষ্যে গাছ লাগানো খুবই জরুরী। তাই পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার জন্য বৃক্ষরোপণ কর্মসূচীকে একটি সামাজিক আন্দোলন হিসাবে গ্রহণ করতে হবে। তিনি বলেন, গাছের চারা অর্থনৈতিক উন্নয়ন উপকারভোগী পরিবারের পুষ্টির চাহিদা মেটানো সম্ভব এবং এর সাথে সাথে নিজেদের অর্থনৈতিক উন্নয়নে গাছের তুলনা হয় না। তাই যেসব গাছের চারা বিতরণ করা হয়েছে তা সঠিক ভাবে নিজ নিজ বাগানে লাগিয়ে সঠিক ভাবে পরিচর্যা করে নিজেদের সাবলম্বি হওয়ার আহবান জানান।

পরে বরকল উপজেলার গরীব বাগান চাষী ৯০ জন কৃষক/কিষানীদের হাতে ৩ হাজার ৬ শত আম ও লিচুর চারা বিতরণ করা হয়।