অবশেষে শপথ গ্রহণ করলেন সেই চেয়ারম্যান

up-news-pic-copy
রাঙামাটি প্রতিনিধি :

বহু দ্বন্দ্ব মামলা-মোকাদ্দমার পর অবশেষে রাঙামাটির বরকল উপজেলার ৪নং ভূষণছড়া ইউনিয়ন পরিষদের নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান মামুনুর রশিদ শপথ গ্রহণ করেছেন।

সোমবার বিকেলের দিকে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এ শপথ বাক্য পাঠ করান জেলা প্রশাসক মো. মানজারুল মান্নান।

এ সময় শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন,অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) প্রকাশ কান্তি দাশ, সদর উপজেলার নির্বাহী অফিসার মোছাৎ সুমনী আক্তার প্রমুখ।

উল্লেখ্য, গত ৪ জুন বরকল উপজেলা ভূষণছড়া ইউনিয়ন পরিষদ নিবার্চন অনুষ্ঠিত হয়। এতে চেয়্যারম্যান প্রার্থী ছিলেন মো. মামুনুর রশিদ মামুন এবং তার প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন দিলীপ কুমার চাকমা। এর মধ্যে দিলীপ কুমার চাকমাকে বিপুল ভোটে হারিয়ে নির্বাচিত হন মামুনুর রশিদ।

পরাজিত প্রার্থী দিলীপ কুমার চাকমা ফলাফল মেনে না নিয়ে ভোট পুনর্গণনার আবেদন করেন। এ আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এতদিন মামুনুর রশিদের শপথ পাঠ স্থগিত ছিল।




বরকলে আত্মকর্মসংস্থান জোরদার বিষয়ক প্রশিক্ষণ

barkal-news-pic-1

রাঙামাটি প্রতিনিধি :

বরকল উপজেলার সুবলং ইউনিয়নের তন্যাছড়ি, শিলছড়ি ও হাজাছড়া গ্রামের যুবদের আত্মকর্মসংস্থান জোরদার বিষয়ক প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার সকালে সুবলং ইউনিয়নের মহালছড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আয়োজিত প্রশিক্ষণের উদ্বোধন করেন রাঙামাটি জেলা যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোঃ হাবিব উল্লাহ। প্রশিক্ষণে তিনটি গ্রাম থেকে ৫১ জন যুব প্রশিক্ষনার্থী অংশ নেন।

প্রশিক্ষণ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বরকল উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা প্রিয় রতন চাকমা, কৃষি বিভাগের কর্মকর্তা সুব্রত চৌধুরী, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের প্রশিক্ষক ডা. পরেশ দেওয়ান, রূপক বড়ুয়া, স্থানীয় ওয়ার্ড মেম্বার মধুমিলন চাকমা, মহালছড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মায়াধন চাকমা প্রমূখ। যুবদের আত্মকর্মসংস্থান জোরদারের লক্ষ্যে গাভী পালন, গরু মোটাতাজাকরণ, নার্সারী উন্নয়ন, পারিবারিক পোল্ট্রি উন্নয়ন, পেন কালচারের মাধ্যমে মৎস্য চাষ, প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে আধুনিক পদ্ধতিতে চাষাবাদ বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। দিনব্যাপী এ প্রশিক্ষণে প্রত্যন্ত এলাকার পুরুষ ও মহিলারা তাদের এলাকার উন্নয়নের জন্য প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সরকারি সেবা পৌঁছে দেয়ার জন্য কর্মকর্তাদের অনুরোধ জানান।

প্রশিক্ষণের মাধ্যমে গ্রামীণ এলাকায় দক্ষ জনবল সৃষ্টির লক্ষ্যে যুব উন্নয়ন দায়িত্বশীলতার সাথে কাজ করে যাবে বলে আশ্বাস দেন কর্মকর্তারা।

কর্মকর্তারা বলেন, প্রশিক্ষিত যুবশক্তি ছাড়া দেশের উন্নয়ন সম্ভব নয়। পাহাড়ে আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের জন্য স্থানীয় এলাকার সচেতন মহল, জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক প্রত্যেককে এলাকার উন্নয়নে এগিয়ে আসতে হবে। আগামী ১ জানুয়ারি থেকে রাঙামাটিতে যুব উন্নয়নের তিন মাসব্যাপী আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে যুবদের জন্য বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। ওই প্রশিক্ষণে অংশ নেয়ার জন্য শিলছড়ি, তন্যাছড়ি ও হাজাছড়া গ্রামের বেকার যুবদের আহ্বান জানান যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা।

কর্মকর্তারা বলেন, এসব পিছিয়ে থাকা গ্রামগুলোর যুবকরা প্রশিক্ষণ শেষে সনদপত্র পাবে এবং তাদেরকে পরবর্তীতে আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য পর্যায়ক্রমে যুবঋণ দেওয়া হবে। এ ঋণ কাজে লাগিয়ে তারা বেকারত্ব দূর করে স্বাবলম্বী হতে পারবে।




‘জয় বাংলা’ শ্লোগানের কারনে শহীদ হয়েছিলেন ফকির ধনা মিয়া: ২২ ডিসেম্বর ওরশ

dana-mihya-majar-pic-copy

রাঙামাটি প্রতিনিধি:

শাহছুফি ধনা মিয়া (রঃ) প্রকাশ ফকির মামা আমাদের দেশের ধর্মপ্রাণ মানুষের কাছে অলৌকিক ক্ষমতার অধিকারী একজন সুফি ব্যক্তিত্ব। আল্লাহ ভক্তের প্রতীক, তথা অনুকরণীয় এক ইসলামী আদর্শ বলে ব্যপক ভাবে পরিচিত। জাতি ধর্ম নির্বিশেষে সবাই তার মাজারকে শ্রদ্ধা করে এবং তার ভক্তের ও অভাব নেই মিশানো গাল গল্পের । স্থানীয়দের সাথে কথা বলে এমনই জানা যায়।

রাঙামাটি পার্বত্য জেলা শহরের অদূরে বরকল উপজেলার সুবলং বাজারের পাশে কাপ্তাই হ্রদের মাঝখানে ছোট একটি মাজার শরীফ। স্থানীয়রা জানান, তিনি একজন ধ্রুব তারা বাংলার ইসলামী ধর্ম আকাশে। যদি বলি বাংলাদেশের ইসলাম প্রচারের সরাসরি তার কি কোন ভূমিকা আছে কি? এর কথায় উত্তর- না। ধর্মীয় বিশ্বাসের উত্তপ্ত হাওয়া সাধারণ কেটে খাওয়া মানুষের বিচার বুদ্ধি কতখানি দূরীভূত করে ধর্মের রঙিন বর্ণণা কিভাবে তাদের নেশা গ্রস্থ করে রাখে। তারা যে সত্য অসত্য বিচার তথ্য প্রমাণের খোঁজ রাখে না। ধর্মের অলৌকিকত্বে সহজে মুগ্ধ হয়ে তারা ছাইপাসে ও পূর্ণ বিশ্বাস আনে।

মাজার জিয়ারত করতে আসা কয়েকজন ধর্মপ্রাণ মানুষের সাথে কথা বলে জানা যায়, ধনা মিয়া ফকির মামা (রঃ) এর মাজার জিয়ারত করতে আমাদের খুবই ভালো লাগে, আমরা কিছু দান করি  এবং তার দোয়ায় যেন আমাদের মঙ্গল হয়। ভক্তরা আরও জানান, আমরা মামার (রঃ)  দোয়ায় অনেক সাফল্যে অর্জন করেছি তাই শাহছুফি ধনা মিয়া ফকির মামা (রঃ) দরবারে আসি।

মাজারের খাদেম মোঃ আতর আলী ধনা মিয়া ফকিরের সম্প্রতি একটি ঘটনা জানান, একদিন এক জেলে কাপ্তাই হ্রদে মাছ শিকার করছিল। হঠাৎ এক উপজাতি সন্ত্রাসী নৌকা, জালসহ তাকে অপহরণ করে গভীর জঙ্গলে নিয়ে যায়। তখন জেলে মুক্তির আশায় হযরত ধনা মিয়া ফকিরের উছিলায় আল্লাহর নাম স্মরণ করেন। আকস্মিক এক মহিলা কন্ঠে একজন এসে জিজ্ঞাসা করলেন আপনার কি হয়েছে? তখন জেলে তার ঘটনা খুলে বললেন, পরে সেখান থেকে অপহরণকারী নিজেই জেলেকে মুক্তি দেয়। তিনি আরও জানান, সৃষ্টিকর্তার কাছে কোন জাতি ভেদাভেদ নেই। এখানে সব জাতি ধর্ম নির্বিশেষের মানুষ প্রতিনিয়ত মামার দরবার শরীফে আসে।

ধনা মিয়া ফকির মৃত্যুবরণের সংক্ষিপ্ত ঘটনা: ধনা মিয়া ফকির ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় ‘জয় বাংলা  আর দেশ স্বাধীন’ এ শ্লোগান দেয়ার অপরাধে তাকে হানাদার ও রাজাকাররা নৃশংসভাবে খুন করে। পওে তাকে ঘটনাস্থলের কাছে বরকল উপজেলার সুবলং বাজারে পাশে জলবেষ্টিত একটি দ্বীপে সমাহিত করা হয় । তার পবিত্র মাজার শরীফের  প্রসিদ্ধি উপজেলার গণ্ডি ছাড়িয়ে এখন জেলার মানুষের মনে ঠাঁই কওে নিয়েছে। মহান মুক্তিযুদ্ধের সময়ে ঘাতকের হাতে নিহত এই সাধক তাই ধনা মিয়া ফকিরের নামেও সমধিক পরিচিত।

মাজার কমিটির সাধারণ সম্পাদক মোঃ আবু তাহের জানান, ’মামার মাজারে সব ধরনের দান টাকা পয়সা সব ধনা ফকির মামা’র দরবারের জন্য ব্যয় করা হয়। মাজার সং¯কারের জন্য রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ উন্নয়ন বোর্ড বেশ অর্থ ব্যয় করেছে। নতুন কওে সংস্কারের প্রয়োজন দেখা দেয়ায় আমরা রাঙ্গামাটি জেলা পরিষদে আবেদন করেছি। আশ্বাস পেয়েছি এখনো কোন বরাদ্ধ পাইনি।’

মাজার কমিটির সহ-সভাপতি সুজন কুমার শীল জানান, ‘আমরা প্রতি বছর ওরশ শরীফ পালন করি। তবে আশাকরছি এ বছর জাঁকজমকভাবে পালন করবো। তিনি আরও জানান, আমাদের ওরশে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় সংশ্লিষ্টদের সহযোগিতা চেয়েছি। যাতে কোন ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি না হয়। তবে আগামী ২২ শে ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার আমাদের শহীদ শাহছুফি ধনা মিয়া (রঃ) এর বার্ষিক ওরশ শরীফ জাতি ধর্ম নির্বিশেষে সবাইকে দাওয়াত জানিয়েছি।’




বরকল উপজেলার ভূষণছড়া ইউপি’র  ৫ ওয়ার্ড মেম্বারের শপথ গ্রহণ

shopot-gorhon-pic-copy

রাঙামাটি প্রতিনিধি:

রাঙামাটির বরকল উপজেলার ৪নং ভূষণছড়া ইউনিয়ন পরিষদের নবনির্বাচিত  ৫ জন ওর্য়াড মেম্বারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়েছে। মেম্বাররা হলেন- আব্দুল জলিল, রুহুল আমিন, আবু ছৈয়দ, মোঃ সবুর তালুকদার এবং মমতাজ সিদ্দিক।

সোমবার দুপুরের দিকে রাঙামাটি সদর উপজেলার নির্বাহী অফিসার মোছাৎ সুমনী আক্তার নবনির্বাচিত মেম্বারদের সদর উপজেলার একটি অফিস কক্ষে এ শপথ বাক্য পাঠ করান।

উল্লেখ্য, গত ৪ জুন বরকল উপজেলা ভূষণছড়া ইউনিয়ন পরিষদ নিবার্চন অনুষ্ঠিত হয়। এতে চেয়্যারম্যান প্রার্থী ছিলেন মোঃ মামুনুর রশিদ মামুন এবং  প্রতিদ্ধন্দী ছিলেন দিলীপ কুমার চাকমা। এর মধ্যে দিলীপ কুমার চাকমাকে বিপুল ভোটে হারায় মামুনুর রশিদ। এতে ওয়ার্ড মেম্বার নির্বাচিত হয় মোট ১২ জন। এদের মধ্যে ৫ জন বাঙালি এবং ৭জন উপজাতি।

এদিকে মামুনুর রশিদের জয় মেনে নিতে না পেরে একটি মামলা করেন দিলীপ কুমার চাকমা। ফলে তাদের দ্বন্ধ তৈরি হয়। ২৮ নভেম্বর শপথের তারিখ থাকলেও এই দ্বন্ধের কারণে উপজাতি ৭ জন  ওর্য়াড মেম্বার  শপথ নিতে সদর উপজেলায় আসেনি বলেও জানা গেছে।




উপজেলা  চেয়ারম্যান মনি চাকমার বিরুদ্ধে তথ্য গোপন করে নির্বাচনে অংশগ্রহনের অভিযোগ

news-pic-3-copy

রাঙামাটি প্রতিনিধি:

রাঙামাটির বরকল উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মনি চাকমা, পিতা আষাতোষ চাকমা তার প্রকৃত পরিচয় আত্মগোপনের অভিযোগ করে রাঙামাটিতে সংবাদ সম্মেলন করেছে বরকল উপজেলার সচেতন নাগরিকবৃন্দ। রবিবার বিকালে রাঙামাটি শহরের একটি রেইনবো নামক রেস্টুরেন্টে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এতে উপস্থিত ছিলেন বরকল উপজেলার স্থানীয় বাসিন্ধা মো: হাসান, মো: মেহেদী হাসান, রফিকুল ইসলাম এবং ফরিদ মোল্লা প্রমূখ।

নাগরিকগণ সংবাদ সম্মেলনে বরকল উপজেলা পরিষদের চেয়াম্যান মনি চাকমার বিরুদ্ধে অভিযোগ করে বলেন, তিনি আসলে কি মনি চাকমা, নাকি সুপ্রিয় চাকমা? তার প্রকৃত নাম সুপ্রিয় চাকমা, পিতা লাল মনি চাকমা এবং মাতা কৃপাদেবী চাকমা। তিনি রাঙামাটি সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে নবম শ্রেণীতে ভর্তি হয়েছিলেন। ১৯৯২ সালে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড কুমিল্লা’র অধিনে এসএসসি পরিক্ষায় অংশগ্রহন করেন এবং গণিত বিষয়ে অকৃতকার্য হয়েছিলেন। রোল নাম্বার ছিল ম-১৭২৪ এবং রেজিস্ট্রেশন নাম্বার-৫২৭২২/১৯৯০। তার জন্ম তারিখ ১১/১০/১৯৭৫ইং।

কিন্তু তিনি ৪র্থ উপজেলা পরিষদ নির্বাচন-২০১৪ এর রিটার্নিং অফিসার ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) এর নিকট ১৩/০২/২০১৪ তারিখে হলফনামা মূলে দাখিলকৃত এসএসসি সনদপত্রে দেখা যায়, তার নাম মনি চাকমা, পিতা মৃত আষাতোষ চাকমা, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড কুমিল্লা এর অধীনে কাউখালি বেতবুনিয়া উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ১৯৯৩ সালে এসএসসি পরিক্ষায় উর্ত্তীণ হয়েছেন। সেখানে তার জন্ম তারিখ দেখানো হয়েছে ১০/১১/১৯৭৮। তার এ পরিচয় ভূল ও সম্পূর্ণ মিথ্যা । যাকে তার পিতা হিসাবে দেখানো হয়েছে সেই আষাতোষ চাকমা নামে কোন ব্যাক্তির স্থাবর সম্পত্তি কিংবা অস্তিত্ব কখনো ছিলনা এবং নেই বলে তারাও জানান তারা।

নাগরিকগণ সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা আরো বলেন, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মনি চাকমার প্রকৃত পিতা লাল মনি চাকমা তার ভাইয়ের সাথে রাঙামাটি শহরের কলেজ গেইট এলাকায় বসবাস করে। তার এই পরিচয় আত্মগোপনে জনগণের সাথে প্রতারণা দাবি করে স্থানীয় ব্যাক্তিরা তার বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা এবং তার নির্বাচনী পদবী বাতিলের জোর দাবি জানান।




রাঙামাটিতে বিদেশী মদসহ বৌদ্ধ ভিক্ষুবাহী নৌকা আটক

%e0%a6%9f%e0%a6%9a%e0%a6%9c

নিজস্ব প্রতিবেদক:
রাঙামাটি জেলার বরকল উপজেলার কাপ্তাই লেক থেকে ২৭ বোতল বিদেশী মদসহ ৪ বৌদ্ধ ভান্তেকে আটক করে বিজিবি। বুধবার দুপুর ১১ টায় উপজেলার জলযান ঘাট এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয়। ভান্তেরা এ সময় ভারত সংলগ্ন সীমান্ত থেগামুখ থেকে রাঙামাটিতে যাচ্ছিলেন। বিজিবি সূত্র এ খবর নিশ্চিত করেছে।

সূত্র জানিয়েছে, বুধবার সকাল ১১ টার দিকে বড় হরিণার শ্রীনগড় বৌদ্ধ বিহার থেকে রাঙামাটিস্থ চাকমা রাজার বৌদ্ধ বিহারে একটি ইঞ্জিন চালিত বোটে কয়েকজন বৌদ্ধ ভিক্ষু রাঙামাটি যাচ্ছিলেন। তাদের গতিবিধি সন্দেহজনক মনে হওয়ায় বিজিবি সদস্যরা বোটটি থামার সংকেত দিলে বোটটি না থামিয়ে আরো জোরে চালাতে থাকে। এসময় বিজিবি সদস্যদের সন্দেহ আরো বৃদ্ধি পাওয়ায় তারা ৪ ভান্তেসহ বোটটি আটক করে।

আটক ভান্তেরা হলেন, সুমনাচার চাকমা (৩১), পিতা-পূর্নাদম চাকমা, সাং- কুসুম ছড়ি, সুবলং, বরকল; সুদর্শি চাকমা (৩৬), পিতা-শান্তি লাল চাকমা, সাং-পানছড়ি, জেলা- খাগড়াছড়ি;  আনন্দ চাকমা (২৫), পিতা- সুরেশ চাকমা, সাং-পানছড়ি, জেলা খাগড়াছড়ি; এবং অপরজনের নাম জানা যায় নি।

এ সময় তল্লাশী চালিয়ে বিজিবি সদস্যরা বোটের যাত্রী ৪ জন বৌদ্ধ ভিক্ষুর ব্যাগ থেকে ২৭ বোতল ভারতীয় মদ উদ্ধার করা হয়। আটককৃত মদের আনুমানিক মূল্য ৪ লক্ষ ৭৭ হাজার ৩শত টাকা। বিদেশী মদ সম্পর্কে তাদের কাছে জানতে চাইলে তারা এ সম্পর্কে তাদের অজ্ঞতা প্রকাশ করে। তাদের ব্যাগে পাওয়া যাওয়ার বিষয়টি জানালে তারা ক্ষমা চেয়ে পরবর্তীতে এ ধরণের ঘটনা আর হবে না এ মর্মে মুচলেকা দিতে সম্মত হয়। বোট চালকও জানান, তিনি এ মদ সম্পর্কে কিছু জানেন না।

এসময় বিজিবি সদস্যরা উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের সাথে আলাপ করে আটক ভান্তেদের সামাজিক মর্যাদা চিন্তা করে ভান্তে ও বোট চালককে ছেড়ে দিলেও নৌকা ও বিদেশী মদের বোতলগুলো জব্দ করেন।

জব্দকৃত ভোটের বিরুদ্ধে আইনী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে এবং মাদকগুলো ধ্বংস করে ফেলা হবে বলে বিজিবি সূত্র জানিয়েছে।

উল্লেখ্য, বছর খানেক আগে একইস্থানে ভারত থেকে বাংলাদেশে আসার সময় ৪ টি স্বর্ণমূতি, বিদেশী এনার্জি ড্রিংকস ও দুই ব্যাগ টাকাসহ কয়েকজন বৌদ্ধ ভিক্ষুকে আটক করে বিজিবি। এসময় ভিক্ষুরা জানায়, ভারত থেকে প্রার্থনা উদ্দেশ্যে তারা এ মূর্তিগুলো এনেছিলেন এবং টাকাগুলো দানের টাকা।

এসময় স্থানীয় বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীরা বিজিবি ক্যাম্প ঘেরাও করে মিছিল করতে থাকলে স্থানীয় বিজিবি উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের সাথে আলাপ করে ভিক্ষুদের ছেড়ে দেয়।




‘পাহাড়ে ফলদ গাছ রোপণের মাধ্যমে সবুজ বনায়ন করতে হবে’

1466948972
নিজস্ব প্রতিনিধি : পাহাড়ে ফলদ গাছ রোপণের মাধ্যমে সবুজ বনায়ন করতে হবে, তাছাড়া সঞ্চয়ী মনোভাব নিয়ে ফলদ চারা রোপণ করলে ভবিষ্যতে অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হওয়া যায় বলে মন্তব্য করেছেন রাঙ্গামাটি জেলা পরিষদ সদস্য সবির  কুমার চাকমা। তিনি বলেন, এ অঞ্চলের পাহাড় ও সমতল জায়গায় ফলদ গাছ রোপণের মাধ্যমে সবুজ বনায়ন করা গেলে নিজেরাও লাভবান হবেন এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম দেশের বোঝা নয় সম্পদে পরিণত হবে।

রবিবার বরকল উপজেলায় উপজেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের মিশ্র ফল বাগান স্থাপন প্রকল্পের আওতায় উপকারভোগী কৃষক/কিষানীদের ‘ফল চাষের আধুনিক কলাকৌশলী’ বিষয়ক প্রশিক্ষণ ও উপকরণ হিসেবে গাছের চারা বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

এসময় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক রমনী কান্তি চাকমা, বরকল সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রভাত কুমার চাকমা, সুবলং ইউনিয়নের আওয়ামীলীগ সভাপতি সুশান্ত ময় চাকমা।

সভায় প্রধান অতিথি আরো বলেন, দেশের বৃক্ষ সম্পদ ও পরিবেশের ভারসাম্য সংরক্ষণের লক্ষ্যে গাছ লাগানো খুবই জরুরী। তাই পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার জন্য বৃক্ষরোপণ কর্মসূচীকে একটি সামাজিক আন্দোলন হিসাবে গ্রহণ করতে হবে। তিনি বলেন, গাছের চারা অর্থনৈতিক উন্নয়ন উপকারভোগী পরিবারের পুষ্টির চাহিদা মেটানো সম্ভব এবং এর সাথে সাথে নিজেদের অর্থনৈতিক উন্নয়নে গাছের তুলনা হয় না। তাই যেসব গাছের চারা বিতরণ করা হয়েছে তা সঠিক ভাবে নিজ নিজ বাগানে লাগিয়ে সঠিক ভাবে পরিচর্যা করে নিজেদের সাবলম্বি হওয়ার আহবান জানান।

পরে বরকল উপজেলার গরীব বাগান চাষী ৯০ জন কৃষক/কিষানীদের হাতে ৩ হাজার ৬ শত আম ও লিচুর চারা বিতরণ করা হয়।




রাঙামাটিতে ইউপি নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগ তদন্তে ইসি কমিটির বরকল পরিদর্শন

1466952391

নিজস্ব প্রতিনিধি : রাঙামাটিতে গত ৪ জুন অনুষ্ঠিত বরকল উপজেলার ভূষণছড়া ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে একটি কেন্দ্রে ব্যাপক জালভোটসহ অনিয়মের অভিযোগ তদন্তে বরকল পরিদর্শন করে এসেছেন নির্বাচন কমিশন গঠিত তদন্ত কমিটি।

রোববার এক সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটির প্রধান ও চট্টগ্রাম বিভাগের আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা আব্দুল বাতেন সকালে ভূষণছড়া ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ছোটহরিণা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোট কেন্দ্রটি সরেজমিন গিয়ে প্রত্যক্ষ করেন। ওই সময় স্থানীয় জনগণের সঙ্গে কথা বলে অভিযোগ সম্পর্কে তত্ত্ব-তালাশ নেন তিনি। পরে বরকল উপজেলা সদরে গিয়ে উপজেলা নির্বাচন অফিসে অভিযোগকারী ও অভিযুক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী, তাদের সমর্থক, পোলিং এজেন্ট, নির্বাচনী কর্মকর্তা-কর্মচারী, প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও আইনশৃংখলা বাহিনীর কর্মকর্তাসহ স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলে তাদের সাক্ষ্য নেন তদন্ত কর্মকর্তা আব্দুল বাতেন। ওই সময় জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. নাজিম উদ্দিন, বরকল উজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা সুচমিকা চাকমা তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, ৪ জুন অনুষ্ঠিত বরকলের ভূষণছড়া ইউপি নির্বাচনে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ প্রার্থী মামুনুর রশিদ মামুনের বিরুদ্ধে পাহাড়ি ভোটারদের বের করে দিয়ে ছোটহরিণা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র দখল করে ব্যাপক জালভোটসহ ভোট ডাকাতির অভিযোগ করেন জনসংহতি সমিতির সমর্থিত স্বতন্ত্র প্রার্থী দিলীপ কুমার চাকমা। তিনি ওই কেন্দ্রের ফল বাতিল করে কেন্দ্রটিতে পুননির্বাচন ঘোষণার দাবিতে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কাছে লিখিত অভিযোগ দেন। পাশাপাশি হাইকোর্টেও একটি রিট আবেদন করেন তিনি। একই সঙ্গে দাবি নিয়ে অবরোধসহ বিভিন্ন কর্মসূচি দিয়ে আন্দোলনে নামে জনসংহতি সমিতি। এসবের পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্টের আদেশে ১৬ জুন চট্টগ্রামের আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা আব্দুল বাতেনকে প্রধান করে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে নির্বাচন কমিশন।

তদন্তকালে তদন্তকারী কর্মকর্তা আব্দুল বাতেন বলেন, গত ৪ জুন ষষ্ঠ ধাপে রাঙ্গামাটি জেলার ৪৮টি ইউপিতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে।ওইসব ইউপির মধ্যে নির্বাচন কমিশনে বরকলের ভূষণছড়া ইউনিয়নের একটি কেন্দ্রে অনিয়মের অভিযোগ দেয়া হয়। আমরা অভিযোগের সত্যতা তদন্ত করে দেখছি। এজন্য সবার সঙ্গে কথা বলেছি। কেন্দ্রটি পরিদর্শন করা হয়েছে। তদন্তে অভিযোগকারী ও অভিযুক্ত প্রার্থী, তাদের সমর্থক, সাধারণ লোকজন, ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা, কর্মচারী, প্রিসাইডিং অফিসার, ষ্ট্রাইকিং ফোর্স, পোলিং এজেন্ট, নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেটসহ যারা ওই কেন্দ্রের দায়িত্বে ছিলেন সবার মৌখিক এবং লিখিত সাক্ষ্য নেয়া হচ্ছে।

এছাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ প্রশাসনিক ও আইনশৃংখলা বাহিনীর কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেছি। সবার সঙ্গে কথা বলে সত্যতা যাচাই করা হচ্ছে। আমরা মনে করি মিথ্যা দু’য়েকজন বলতে পারে কিন্তু সবাই তো বলবে না। সত্যতা পাওয়া গেলে ওই কেন্দ্রে পুন:ভোট গ্রহণ করা হবে। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে তদন্ত রিপোর্ট জমা দেয়া হবে বলে জানান তিনি।

তদন্তকারী কর্মকর্তা বলেন, সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রে ভোট প্রদানে কোনো বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছিল কিনা, ভোট দিতে গিয়ে ভোটাররা কোনোভাবে বাধাগ্রস্ত হয়েছিলেন কিনা এবং কোনো প্রার্থীর পোলিং এজেন্টকে ভোট কেন্দ্র হতে বের করে দেয়ার ঘটনা ঘটেছিল কিনা- সেগুলো সুষ্ঠু তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

অভিযোগ সম্পর্কে জেএসএস সমর্থিত স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী দিলীপ কুমার চাকমা বলেন, ভোটের দিন ভূষণছড়া ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ছোটহরিণা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোটগ্রহণকালে সকালের দিকে বিজিবির সহায়তায় স্থানীয় আওয়ামী লীগের ছত্রচ্ছায়ায় ৫০-৬০ জনের একদল বহিরাগত বাঙালি ওই ভোটকেন্দ্র দখল করে কেন্দ্র থেকে আমার পোলিং এজেন্টদের জোরপূর্বক বের করে দেয় এবং ব্যালটে সিল মেরে বাক্সে ফেলে। ভোট কেন্দ্রের প্রিসাইডিং অফিসার ও পোলিং অফিসারদের উপস্থিতিতে নৌকা প্রতীকে সিল মেরে অবাধ জালভোট প্রদান করে তারা।

তিনি দাবি করেন, ওই সময় আইনশৃংখলা বাহিনীর সদস্যরা পাহাড়ি ভোটারদের কেন্দ্র থেকে তাড়িয়ে দেয় এবং তাদের মারধর করে। এতে রতিবালা চাকমাসহ ৮-১০ জন পাহাড়ি আহত হয়। আওয়ামী লীগ সমর্থনপুষ্ট বহিরাগত বাঙালিদের হামলার ফলে ভোটকেন্দ্রটিতে পাহাড়ি ভোটাররা সুষ্ঠুভাবে ভোট দিতে পারেননি। তাই কেন্দ্রটির ফল বাতিল করে সেখানে পুনর্র্নিবাচনের দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, প্রহসনমূলক ও জালভোটের ফল বাতিল করে অচিরেই ছোটহরিণা কেন্দ্রে পুন:ভোট গ্রহণ করতে হবে। অন্যথায় কঠোর আন্দোলনের কর্মসূচি দেয়া হবে।

আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী ও নির্বাচিত চেয়ারম্যান মামুনুর রশিদ মামুন ওই কেন্দ্রে ভোট সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ হয়েছে বলে দাবি করে অচিরেই গেজেট প্রকাশের দাবি জানান।

এদিকে ওই ইউনিয়নের ৯টি কেন্দ্রের মধ্যে ৮টি কেন্দ্রের ফলাফলের ব্যাপারে জনসংহতি সমিতির প্রার্থীর আপত্তি না থাকলেও ছোটহরিণা ভোট কেন্দ্রের বিষয়ে তাদরে বক্তব্য হল- ওই কেন্দ্রে ভোটারের সংখ্যা ২ হাজার ৭১২জন। তন্মধ্যে পাহাড়ি ভোটার ২ হাজার ৫৬ এবং বাঙালি ভোটার ৬৫৬ জন। পাহাড়ি ভোটার সংখ্যা বেশি হওয়ায় সেখানে পাহাড়ি সবাই দিলীপ কুমার চাকমাকে ভোট দিয়েছে। তাই সেখানে ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থীর জেতার বিষয়টি প্রশ্নই আসে না। অন্যদিকে আওয়ামী লীগের দাবি পাহাড়ি সবাই জনসংহতি সমিতিকে সমর্থন করে এমনটা ভাবার কারণ নেই। আলোচিত ভুষণছড়া কেন্দ্রে ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থী মামনুর রশীদ মামুন পেয়েছেন ১ হাজার ৬৬৪ ভোট এবং দিলীপ কুমার চাকমা পেয়েছেন ৮শ’ ভোট।




পাল্টা ব্যবস্থার হুমকি বরকলের বাঙালীদের

IMG_6491

স্টাফ রিপোর্টার ॥

রাঙামাটি জেলার বরকল উপজেলায় অবরোধের নামে েনৈরাজ্য  ও জনদূর্ভেোগ সৃষ্টির বিরুদ্ধে বরকলের বাঙালীরা প্রতিবাদ মুখর হয়ে উঠেছে। অবিলম্বে পাহাড়ী সন্ত্রাসীদের নৈরাজ্যকর কর্মসূচী শক্ত হাতে দমন করতে সরকারের প্রতি আহ্বান রেখে বাঙালীরা জানিযেছে, না হলে বাঙালীরা পাল্টা ব্যবস্থা নিয়ে মাঠে নামবে।

বুধবার সকালে বরকল উপজেলা সদরে পার্বত্য বাঙ্গালী ছাত্র পরিষদের ব্যানারে বাঙ্গালীদের কয়েকটি সংগঠন এর সমন্বয়ে আয়োজিত এক বিক্ষোভ মিছিল পরবর্তী সমাবেশ থেকে এ দাবী জানায় বাঙ্গালীরা।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, সামান্য একটি ঠুনকো অজুহাতে সন্তু লারমার দল জেএসএস অগণতান্ত্রিক কর্মসূচী দিয়ে আবারো পাহাড়ের শান্ত পরিবেশকে অশান্ত করতে আবারো সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা লাগার মতো কর্মসূচী দিয়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত করছে এটি পার্বত্যবাসী কখনো হতে দেবে না। জেএসএস এর এই ধরনের সাম্প্রদায়িক কর্মসূচীর মাধ্যমেই এবার প্রমাণিত হয়েছে সন্তু লারমা কখনো পাহাড়ে শান্তি চান না।

তারই ধারাবাহিকতায় সন্তু লারমার নির্দেশে তারই সন্ত্রাসী বাহিনী জেএসএসর সন্ত্রাসীরা অবরোধের নামে অস্ত্রেরমুখে হরতাল পালন করাচ্ছে সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষজনদের। বক্তারা বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, প্রশাসনের নাগের ডগায় জেএসএস এই ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকান্ড চালালেও এসকল সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা-ই নেওয়া হচ্ছে না।

বক্তারা প্রশাসনের সমালোচনা করে আরো বলেন, পবিত্র রমজান মাসে রাঙামাটি জেলায় লাগাতার অবরোধ দিয়ে মানুষের যে দূর্ভোগ বাড়িয়েছে সেইসব নৈরাজ্য সৃষ্টিকারী পাহাড়ি সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে অবিলম্বে ব্যবস্থা নেয়া না হলে শীঘ্রই পুরো বরকল উপজেলাকে অচল করে দেওয়ার হুশিয়ারী দেন বাঙ্গালী নেতৃবৃন্দ।

সমাবেশে উপজেলা আওয়ামীলীগের নেতা ও ভূষণছড়া ইউনিয়নের নৌকা প্রতিক নিয়ে সদ্য নির্বাচিত ইউপি চেয়ারম্যান মামুনুর রশিদ মামুন, আরিফুল রহমান আরিফ, আব্দুস সবুর তালুকদার মেম্বার, মাহফুজ, জাফর ইকবাল, সামসুল ইসলামসহ অন্যান্যরা বক্তব্য রাখেন। সমাবেশের আগে একটি বিক্ষোভ মিছিল বরকল বাজার থেকে উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে গিয়ে সমাবেশে মিলিত হয়।




বরকলে চার দিন ধরে সকাল সন্ধ্যা অবরোধ পালন করছে জেএসএস

নিজস্ব প্রতিনিধি:

রাঙামাটির বরকল উপজেলার ৪নং ভূষণছড়া ইউনিয়নের ছোটহরিণায় ভোট কারচুপির এবং জোর পূর্বক ভোট কেন্দ্র দখলের প্রতিবাদে গত রোববার থেকে সড়ক ও নৌ পথে সকাল-সন্ধ্যা অবরোধ পালন করছে জেএসএস নেতা কর্মীরা।

রাঙামাটি জেলার জেএসএস কেন্দ্রী কমিটির তথ্য প্রচার সম্পাদক সজীব চাকমা জানান, রাঙামাটিতে অনুষ্ঠিত ৬ষ্ঠ ধাপের ইউপি নির্বাচনে কারচুপির প্রতিবাদে বরকল উপজেলায় আমরা সকাল-সন্ধ্যা অবরোধের ডাক দিয়েছিলাম। এ অবরোধ চলতে থাকবে যতক্ষণ না পূনঃনির্বাচন দিবে সরকার তত দিন চলতে থাকবে ।

তিনি আরো জানায়, ইউপি নির্বাচনে কারচুপির প্রতিবাদে ও পার্বত্য চট্টগ্রাম থেকে অস্থায়ী সেনাক্যাম্প প্রত্যাহারের দাবিতে আগামী ১৩ ও ১৪ জুন রাঙামাটিতে সকাল সন্ধ্যা অবরোধ পালন করবে পার্বত্য চটটগ্রাম জনসংহতি সমিতি।

এ দিকে রাঙামাটি থেকে বরকল উপজেলার সড়ক ও নৌযান বন্ধ হওয়ায় চরম দুর্ভোগে রাঙামাটিবাসী। রির্জাভবাজার ব্যবসায়ী লুলু মিয়ার অভিযোগ, আমাদের যাতায়াত করা খুবই কষ্টকর। আমরা ব্যবসা কাজে বরকল উপজেলা প্রতিনিয়িত যাতায়াত করে থাকি কিন্তু গত রোববার থেকে যাতায়াত করা খুব অসহায় জনক।

বরকল উপজেলার চিন্সি চাকমা বলেন, আমার চাকরির জন্য রাঙামাটি সদরে আসতে হয়। কিন্তু অবরোধের কারণে যাতায়াত জন্য বেশি কষ্ট পোহাতে হয় । পুলিশের সাথে কথা বলে জানা গেছে, আমরা প্রতিনিয়িত কড়াকড়ি ভাবে টহল দিচ্ছি। যাতে কোন অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটতে পারে।

অন্য দিকে সমাবেশে থেকে ভোট কারচুপির প্রতিবাদে পূনঃনির্বাচন না দিলে এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম থেকে অস্থায়ী সেনাক্যাম্প প্রত্যাহার না করলে সকাল উপজেলারসহ হাটবাজার বর্জন নৌ ও সড়ক পথ অবরোধসহ কঠোর আন্দোলনের হুমকি দিয়েছেন পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি ।