পেকুয়ায় অপ্রতিরোধ্য চট্টগ্রাম পরিষদের উদ্যোগে শীতবস্ত্র বিতরণ


পেকুয়া প্রতিনিধি:
কক্সবাজারের পেকুয়ায় অরাজনৈতিক সংগঠন “অপ্রতিরোধ্য চট্টগ্রাম পরিষদ”এর উদ্যোগে শীতার্তদের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ ও পেকুয়া শাখার অভিষেক অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়েছে। ১৯ জানুয়ারি শুক্রবার বিকেলে পেকুয়া কবির আহমদ চৌধুরী বাজারস্থ ওয়াপদা চত্ত্বরে চট্টগ্রাম মহানগর শাখার সভাপতি আদনান এলাহী তুহিনের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ ইকফাত ফয়সাল ছোটনের পরিচালনায় অনুষ্ঠানের উদ্বোধক ছিলেন পেকুয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শাফায়েত আজিজ রাজু।

এতে প্রধান অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম মেরন সান স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ লায়ন ড. মোহাম্মদ সানাউল্লাহ। বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা যুবলীগের সাধারন সম্পাদক মোঃ বারেক, বারবাকিয়া ইউপির চেয়ারম্যান এএইচএম বদিউল আলম, সুপ্রীম কোর্টের আইনজীবি এড. মহি উদ্দিন, যুবলীগ সহ-সভাপতি জিয়াবুল হক জিকু, আ’লীগ নেতা মো. ইকবাল, উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক এহতেশামুল হক, ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম আহবায়ক শহিদুল ইসলাম, চট্টগ্রামস্থ পেকুয়া উপজেলা ছাত্র যুব কল্যাণ পরিষদের সভাপতি সোহেল আজিম, সদস্য শহীদুল ইসলাম আজিজ, কক্সবাজারস্থ পেকুয়া উপজেলা ছাত্র যুব কল্যাণ পরিষদের সভাপতি ইকবাল হোছাইন।

পরে শীতার্ত অসহায় গরীবদের মাঝে শীতবস্ত্র তুলে দেন অতিথিরা।

বক্তারা বলেন, মানবতার সেবায় সবার আগে সবসময় এ শ্লোগানকে সামনে নিয়ে অপ্রতিরোধ্য চট্টগ্রাম পরিষদ এগিয়ে যাচ্ছে, এগিয়ে যাবে। তবে তারা ছাত্র হয়েও প্রথম পেকুয়ায় যে মানবতার সেবায় নিজেরা এগিয়ে এসে শীতার্তদের মাঝে শীতবস্ত্র তুলে দিয়ে পেকুয়ায় নজিরবিহীন দৃষ্টান্ত স্থাপন করে গেছেন। অপ্রতিরোধ্য চট্টগ্রাম পরিষদের সকল নেতৃবৃন্দকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি।




পেকুয়ায় ৫ বাড়িতে দূর্ধর্ষ চুরি

 

পেকুয়া প্রতিনিধি:

পেকুয়া জিএমসি স্কুলের সাবেক শিক্ষক রুহুল আমিনের বাড়ি সহ ৫টি বাড়িতে দূর্ধর্ষ চুরির ঘটনা ঘটেছে। ঘটনাটি ঘটে পেকুয়া উপজেলার বারবাকিয়া ইউনিয়নের দক্ষিণ সবজীবন পাড়া গ্রামে।

স্কুল প্রাক্তন শিক্ষক রুহুল আমিন জানান, গত ১৪ জানুয়ারি রোববার তারা স্বপরিবারে চট্টগ্রাম শহরে থাকা তার পুত্র চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক তৌহিদের বাসায় বেড়াতে যান। সেই দিন রাতে তাদের বাড়ির তালা ও জানালা ভেঙে দূর্ধর্ষ চোরের দল তার বাড়িতে থাকা একটি এলইডি টেলিভিশন, রাইচ কুকার, ইউপিএসের ব্যাটারি, নগদ টাকা ও মূল্যবান কাগজ পত্র সহ লক্ষাধিক টাকার মালামাল চুরি করে নিয়ে যায়।

স্থানীয়রা বলেন, পরের দিন রাতে একই গ্রামে আরো ৪টি বাড়িতে হানা দেয় চোরের দল এসময় একই এলাকার হাবিবুর রহমানের পুত্র ডা. নুরুল আবছারের বাড়ি, শামসুল ইসলামের বাড়ি, আহমদে হোছেনের পুত্র হাছানের বাড়িসহ মোট ৪টি বাড়ি থেকে চোরের দল প্রায় দুই লক্ষ টাকার মালামাল চুরি করে নিয়ে যায়।

ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন বারবাকিয়া ইউপি চেয়ারম্যান এইচএম বদিউল আলম জিহাদী। তিনি বলেন, এঘটনা খুবই দুঃখজনক আমি আগামীকাল স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ নিয়ে মিটিং ডেকেছি এ ব্যাপারে সবাইকে সজাগ থাকতে হবে। পেকুয়া থানার ওসি (তদন্ত) মনজুরুল কাদের মজুমদার বলেন, আমি ঘটনাটি শুনিনি। কেউ অভিযোগও দেয়নি। অভিযোগ পেলে অবশ্যই দেখবো। তবে ভুক্তভোগীরা এ ব্যাপারে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।




পেকুয়ার মাদ্রাসা ছাত্র ১০দিন ধরে নিখোঁজ

 

পেকুয়া প্রতিনিধি:

কক্সবাজারের পেকুয়ার এক মাদ্রাসা ছাত্র ১০ দিন ধরে নিখোঁজ রয়েছে। এই ১০দিনে তাকে হন্যে হয়ে খুঁজে পাগল প্রায় তার স্বজনরা। নিখোঁজ ছাত্র মো. আবরাব প্রকাশ রুবেল(১২) পেকুয়া সদর ইউনিয়নের জালিয়াখালী এলাকার নেছার উদ্দিনের ছেলে। সে পটিয়া পৌর সদরের হাজী আব্দুল মালেক আমিরিয়া হেফজ খানার ছাত্র।

মঙ্গলবার (৯জানুয়ারি) বিকেলে ছুটির সময় মাদ্রাসা থেকে নিখোঁজ হয় রুবেল। এঘটনায় নিখোঁজ ছাত্রের পিতা নেছার উদ্দিন বাদী হয়ে পটিয়া থানায় সাধারণ ডায়েরি দায়ের করেছেন। তবে গত ১০দিনেও নিখোঁজ ছাত্রের সন্ধান দিতে পারেনি পুলিশ।

এদিকে ঘটনার তিনদিন পর ১২ জানুয়ারি থেকে নিখোঁজ রুবেলের সন্ধানের কথা বলে স্বজনদের ফোন করে জারুলবুনিয়ে এলাকার বদি আলম প্রকাশ বদের ছেলে রোকন। কিন্তু নিখোঁজ ছাত্রের স্বজনদের বিভিন্ন জায়গায় ঘুরিয়ে রুবেলের সন্ধান দেয়নি তিনি।

পরে অপর একটি মোবাইল নাম্বার মেসেজ করে দিয়ে তার ব্যবহৃত মোবাইল বন্ধ করে দেয় রোকন। রোকনের পাঠানো নাম্বারে ফোন দিলে কথা হয় জারুলবুনিয়া এলাকার ফয়জুল হকের ছেলে নেছারের সাথে। তিনিও সন্ধান দেয়ার কথা বলে নিখোঁজ ছাত্রের স্বজনদের বিভিন্ন স্থানে ঘুরিয়ে হয়রানী করে। পরে সে তার বোনের জামাই আক্তার নামের একব্যক্তির নাম্বার দেয়।

তিনিও একইভাবে হয়রানী করে নিখোঁজের স্বজনদের। নিখোঁজ ছাত্রের পিতা নেছার উদ্দিন বলেন, আমার ছেলে নিখোঁজ হয়নি। তাকে অপহরণ করা হয়েছে। তাকে ফেরত না পাওয়ায় খুব উৎকন্ঠায় রয়েছি আমরা। আমি প্রশাসনের কাছে আমার ছেলেকে অক্ষত ফেরত চাই। আক্তার নামের ব্যক্তিটি আমার ছেলে আমিরাবাদ আছে বললেও পরে তাকে মিরসরাই নিয়ে যাওয়ার কথা বলে। প্রশাসন উদ্যোগী হলে আমার ছেলেকে উদ্ধার করা সম্ভব।

এ ব্যাপারে পটিয়া থানার উপ পরিদর্শক (এসআই) আব্দুল জাহের বলেন, বিষয়টি সুক্ষভাবে অনুসন্ধান করা হচ্ছে। নিখোঁজ ছাত্রকে উদ্ধারে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালানো হচ্ছে।




পেকুয়ায় এক সাংবাদিককে হত্যার হুমকি

 

পেকুয়া প্রতিনিধি:

কক্সবাজারের পেকুয়ায় কর্মরত তরুণ সাংবাদিক ইমরান হোসাইনকে মুঠোফোনে হত্যা ও অস্ত্র-মাদক দিয়ে ফাঁসানোর হুমকি দিয়েছে অজ্ঞাত পরিচয়ের দুর্বৃত্তরা। সাংবাদিকতা ছেড়ে দিতে গত এক সপ্তাহ ধরে তাকে এ হুমকি দেয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ইমরান হোসাইন। এ ঘটনায় বুধবার(১৭জানুয়ারি) দুপুরে হুমকির শিকার সাংবাদিক ইমরান বাদী হয়ে পেকুয়া থানায় সাধারণ ডায়েরি দায়ের করেছেন।  যার নং-৬৪৫, তাং-১৭.০১.১৮ইং।

এ ব্যাপারে সাংবাদিক ইমরান হোসাইন বলেন, গত এক সপ্তাহ ধরে গভীর রাতে আমার ব্যবহৃত মুঠোফোনে কল করে হত্যাসহ অস্ত্র ও মাদক দিয়ে ফাঁসানোর হুমকি অব্যাহত রেখেছে অজ্ঞাত পরিচয়ের একাধিক ব্যক্তি। এছাড়াও তারা একই ঘটনা আমার পরিবারের সদস্যদের সাথে ঘটানোর হুমকি দিয়েছেন। তাই আমি ও আমার পরিবারের সদস্যরা চরম নিরাপত্তা হীনতায় ভুগছি।

পেকুয়া থানার ওসি (তদন্ত) মনজুর কাদের মজুমদার বলেন, বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। আমরা তথ্যপ্রযুক্তির সাহায্যে জড়িতদের সনাক্ত করার চেষ্টা চালাচ্ছি।




পেকুয়ায় বানৌজা শেখ হাসিনায় চুরি

 

পেকুয়া প্রতিনিধি:

কক্সবাজারের পেকুয়ায় সাবমেরিন স্টেশনের নিরাপত্তায় নিয়োজিত নৌবাহিনীর জাহাজ বানৌজা শেখ হাসিনায় চুরির ঘটনা ঘটেছে।

মঙ্গলবার রাতে উপজেলার মগনামা ইউনিয়নের কুতুবদিয়া চ্যানেলের কোদাইল্লাদিয়া পয়েন্টে এ ঘটনা ঘটে।

এদিকে এ ঘটনায় বানৌজা শেখ হাসিনার কমান্ডার এস এম মনিরুজ্জামান বাদী হয়ে অজ্ঞাত আসামি দেখিয়ে পেকুয়া থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছেন। যার নং-৬৪৩, তাং-১৭.০১.১৮ইং।

থানা সূত্রে জানাযায়,গভীর রাতে কয়েকজন দুর্বৃত্ত মগনামা উপকূলে নোঙর করে থাকা বানৌজা শেখ হাসিনায় হানা দেয়। তারা ১০ হাজার টাকা মূল্যমানের ৭টি এলইডি লাইট চুরি করে নিয়ে যায়। তবে স্থানীয় পাহারাদার দুর্বৃত্তদের দেখে চিৎকার দেয়াতে তারা পালিয়ে যায়। এসময় দুর্বৃত্তরা মুখ ঢেকে রাখায় তাদের চিনতে পারেনি পাহারাদাররা।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে পেকুয়া থানার ওসি (তদন্ত) মনজুর কাদের মজুমদার বলেন, নৌবাহিনীর পক্ষ থেকে থানায় সাধারণ ডায়েরি দায়ের করা হয়েছে। বিষয়টি অনুসন্ধান করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।




মগনামায় সাবেক ইউপি চেয়ারম্যানের বাড়িতে আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা, আটক-১

পেকুয়া প্রতিনিধি:

পেকুয়ার মগনামায় সাবেক চেয়ারম্যান ইউনুছের বসতবাড়িতে পুলিশ টহল থাকা শর্তেও দুর্বৃত্তরা আগুন দিয়ে পুড়িয়েছে বসতবাড়ি। তা নিয়ে প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে পেকুয়া থানার পুলিশ। পুলিশের রহস্যময় ভূমিকার কারণে বার বার এ ধরণের ঘটনার জন্ম নিচ্ছে।  রোববার (১৪ জানুয়ারি) রাত ৩টার দিকে উপজেলার মগনামা ইউনিয়নের কাকপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। সোমবার দুপুরে এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে শফি আলম নামের এক ব্যক্তিকে আটক করেছে পুলিশ।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, গভীর রাতে দুর্বৃত্তরা ইউনুছ চৌধুরীর বাড়ির রান্নাঘরে আগুন ধরিয়ে দিয়ে পালিয়ে যায়। এসময় বাড়িতে কেউ ছিলনা। মুহূর্তে রান্নাঘরটি পুড়ে ছাই হয়ে যায়। ভোরেই পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। সোমবার (১৫ জানুয়ারি)  সকাল থেকে ইউনুছ চৌধুরীর বাড়িতে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।

ইউনুছ চৌধুরীর ভাই সরওয়ার কামাল চৌধুরী বলেন, যুদ্ধাপরাধ মামলার ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত মীর কাশেম আলীর দেহরক্ষি মগনামা ইউপির বর্তমান চেয়ারম্যান ওয়াসিমের নেতৃত্বে গত ১৩ জানুয়ারি সন্ধ্যায় আমার ভাইকে হত্যার চেষ্টা চালায়। বর্তমানে আহতাবস্থায় তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। এ ঘটনায় আমরা মামলা দায়ের করেছি। মামলা দায়েরের একদিন পর বাড়ির রান্নাঘরটি পুড়িয়ে দিয়েছে তারা। অথচ বাড়িতে আমাদের কোন লোক ছিলনা। পুলিশ টহল অবস্থায় রান্নাঘরটি পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে।

পেকুয়া থানার উপ পরিদর্শক (এসআই) কামরুল হাসান বলেন, মামলার আসামিদের ধরতে পুলিশ সারারাত মগনামাতেই অবস্থান করছিল। রাত ৩টার দিকে জানতে পারি ইউনুছ চৌধুরীর বসতবাড়িতে আগুন দেওয়া হয়েছে। ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই রান্নাঘরটি সম্পূর্ণ পুড়ে যায়। কিভাবে রান্নাঘরটি পুড়েছে তা তদন্ত করা হচ্ছে। এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সুব্রত রায় বলেন, ইউনুছ চৌধুরীর উপর হামলার ঘটনায় একজনকে আটক করা হয়েছে। ঘটনায় জড়িত সন্দেহে সোমবার (১৫ জানুয়ারি) দুপুরে মগনামার নতুনঘোনা এলাকার আহমদ হোসেনের পুত্র মো. শফি আলমকে আটক করা হয়েছে। সে রান্নাঘর পুড়িয়ে দেওয়া এবং হামলার ঘটনায় জড়িত আছে কিনা তা তদন্ত করা হচ্ছে।

পেকুয়া থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মনজুর কাদের মজুমদার বলেন, রাতে পুলিশের অভিযানের ফাঁকে কে বা কারা ইউনুছ চৌধুরীর রান্নাঘরটি পুড়িয়ে দিয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ বিষয়ে লিখিত এজাহার জমা দিয়েছেন সরওয়ার আলম চৌধুরী। তদন্তপূর্বক আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




পেকুয়ার রাজাখালীতে এক শিক্ষক গুলিবিদ্ধ

পেকুয়া প্রতিনিধি:
কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার রাজাখালীতে দূর্বৃত্তদের ছোড়া গুলিতে এক শিক্ষক গুলিবিদ্ধ হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে ১৪ জানুয়ারি রবিবার রাত ৯টায় রাজাখালী ইউনিয়নের রব্বত আলী পাড়া এলাকায়। গুলিবিদ্ধ শিক্ষকের নাম নিরুপম দাশ(৫০)। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে পেকুয়া নুর হাসপাতালে ভর্তি করেন। আহত ওই শিক্ষক রাজাখালী এয়ার আলী খাঁন উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক।

স্থানীয়রা জানান, শিক্ষক নিরুপম প্রতি দিনের ন্যায় রবিবার রাতে রাজাখালী ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন সিকদারের ভাই মফিজের মেয়ে দশম শ্রেণীর পড়ুয়া ছাত্রীকে পড়াতে তাদের বাড়িতে যায়। পাঠদান শেষে নিরুপম ওই বাড়ি থেকে বিদ্যালয়ের ছাত্রাবাসে ফেরার পথে দূর্বৃত্তরা তাকে লক্ষ্যকরে গুলি ছুড়ে। এতে তিনি গুলিবিদ্ধ হয়ে প্রাণে বাঁচতে পালিয়ে সবুজ বাজার এলাকায় পৌঁছেন। সেখানে তিনি জ্ঞান হারিয়ে মাটিতে পড়ে যান। এসময় স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে পেকুয়া নুর হাসপাতালে নিয়ে আসে। তবে কি কারণে শিক্ষক নিরুপম গুলিবিদ্ধ হয়েছেন তা নিশ্চিত করা যায়নি। নিরুপম আনোয়ারা উপজেলার বরইকোলা এলাকার বাসিন্দা।

এ ব্যাপারে পেকুয়া থানার ওসি (তদন্ত) মনজুরুর কাদের মজুমদার জানান, গুলিবিদ্ধের ঘটনার খবর পেয়েছি। আহত শিক্ষককে দেখতে হাসপাতালে পুলিশ পাঠিয়েছি।




মগনামা সাবেক চেয়ারম্যানের উপর হামলা, বসতবাড়ি ভাংচুর-আহত ৬

পেকুয়া প্রতিনিধি:

কক্সবাজারের পেকুয়ার মগনামায় এস আলম গ্রুপের জমি নিয়ে গুলাগুলির ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় দুর্বৃত্তের হামলায় মগনামা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ইউনুছ চৌধুরী গুরুতর আহত হয়েছে। এসময় দুর্বৃত্তরা তার বাড়িতে ব্যাপক ভাংচুর চালিয়েছে বলে দাবি করেছেন ইউনুছের পরিবার। আর এ ঘটনায় চেয়ারম্যানসহ ৬জন আহত হয়েছে। ১৩ জানুয়ারি (শনিবার) সন্ধ্যায় মগনামা ইউনিয়নের কাকপাড়া এলাকায় ঘটনাটি ঘটেছে।

পরিবার সূত্রে জানাযায়, সন্ত্রাসীরা ইউনুছ চেয়ারম্যানের বাড়িতে হামলা চালিয়ে পরিবারের সদস্যদেরকে মারধর করে তাকে কালারপাড়া এলাকার নির্জন স্থানে নিয়ে যায়। সেখানে তাকে বেধড়ক মারধর করে চোখ তুলে নেওয়ায় চেষ্টা চালায়। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে পেকুয়া সদর হাসপাতালে ভর্তি করে।

পেকুয়া সদর হাসপাতালের কর্তব্যরত ডা. মুজিবুর রহমান বলেন, আহতের অবস্থা গুরুতর। তার মাথা, চোখসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত রয়েছে। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে চমেক হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে।

ইউনুছ চেয়ারম্যানের স্ত্রী জান্নাতুল ফেরদৌস বলেন, সকাল থেকে সন্ত্রাসীরা আমাদের বসতবাড়ি লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণ অব্যাহত রাখে। এসময় স্থানীয় প্রশাসনের সহায়তা চেয়েও আমরা পাইনি। পরে সন্ধ্যায় মগনামা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শরাফত উল্লাহ চৌধুরী ওয়াসিমের নেতৃত্বে কালার পাড়া এলাকার কানা মানিক, পশ্চিম কূল এলাকার জিয়াবুল, কাজী মার্কেট এলাকার আব্দুল করিম, লিটন, আফজলীয়া পাড়া এলাকার কায়সার ও জয়নাল সহ অর্ধশতাধিক সন্ত্রাসী বাড়িতে হামলা চালায়। এসময় তারা ব্যাপক ভাংচুর চালিয়ে গুলিবর্ষণ করতে করতে আমার স্বামীকে তুলে নিয়ে যায়। পরে স্থানীয়দের সহযোগিতা আমার স্বামীকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করি।

ইউনুছ চেয়ারম্যানকে উদ্ধার করতে গিয়ে স্থানীয় পাঁচ লবণচাষী আহত হয়েছেন। আহতরা হলেন চান্দার পাড়া এলাকার মো. আব্দুর রহিমের ছেলে মো. হেলাল (২৫), আকতার হোসেনের ছেলে লোকমান(১৬), মোক্তার হোসেনের ছেলে মো. রিদুয়ান(২২), আব্দু জলিলের ছেলে আহমদ নবী (১৮) ও মো. ইব্রাহিম (২০)।

মগনামা ইউনিয়ন সেচ্ছাসেবক লীগ নেতা সুলতান মো. রিপন বলেন, চলতি মৌসুমের শুরুতে সাবমেরিন স্টেশনের জন্য অধিগ্রহণ করা সরকারি জমি লবণ চাষের জন্য অবৈধ দখল নেয় মগনামা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শরাফত উল্লাহ ওয়াসিম। জমির বিনিময়ে প্রান্তিক লবণ চাষীদের কাছ থেকে তিনি অর্থ আদায় করতে থাকেন।

এ ব্যাপারে কক্সবাজার জেলা পরিষদ সদস্য ও উপজেলা যুবলীগ সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ষড়যন্ত্রমূলক ফাঁসানো মামলায় দীর্ঘ দশমাস কারাভোগ করার পর শুক্রবার (১২জানুয়ারি) বিশাল গণ সংবর্ধনার মাধ্যমে এলাকায় ফিরেন আওয়ামী লীগ নেতা ইউনুছ চেয়ারম্যান। তার ফিরে আসাতে প্রাণসঞ্চার হয় অত্যাচারিত জনসাধারণের। প্রতিবাদ মুখর হয়ে উঠে চাষীরা। বন্ধ করে দেয় চেয়ারম্যান ওয়াসিমকে অনৈতিক চাঁদা প্রদান। আর এতেই ফুঁসে উঠে ওয়াসিমের সশস্ত্র বাহিনী। তাই পরিকল্পিতভাবে তার উপর এ হামলা চালানো হয়।

এ ব্যাপারে জানতে মগনামা ইউপির চেয়ারম্যান শরাফত উল্লাহ চৌধুরী ওয়াসিমের সাথে যোগাযোগ করার জন্য ওনার ব্যবহৃত মোবাইল নম্বারে বহুবার কল দিলেও সংযোগ না পাওয়ায় বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

এ ব্যাপারে পেকুয়া থানার ওসি (তদন্ত) মনজুর কাদের মজুমদারের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান পূর্ব শত্রুতা এবং এস. আলম গ্রুপের জমির দখল সংক্রান্ত বিষয়ে নিয়ে এ ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছি। ইউনুছ চেয়ারম্যানের উপর হামলাকারীদের ধরতে পুলিশের অভিযান চলছে। ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।




পেকুয়ায় রাস্তা বানাতে অভিনব কৌশল

পেকুয়া প্রতিনিধি:

পেকুয়ার টইটং ইউনিয়নের নাপিতখালী দক্ষিণপাড়া এলাকায় বসতবাড়ির ভিতর দিয়ে রাস্তা নিতে অভিনব কৌশল গ্রহণের অভিযোগ উঠেছে এক প্রভাবশালীদের বিরুদ্ধে। এ নিয়ে দীর্ঘ ৪০ বছরের বসতবাড়ি বেদখল হওয়ার আশঙ্কা করছে ভুক্তভোগিরা। এছাড়াও দুপক্ষে এ নিয়ে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশঙ্কা করছে স্থানীয় এলাকাবাসী।

খোঁজ নিয়ে জানাযায়, টইটং নাপিতখালী-মৌলভী বাজার সড়কের দক্ষিণপাড়ায় মৃত বদিউল আলমের পুত্র গোলাম মুস্তফা ও মৃত সিরাজ মিয়ার পুত্র মাহমদ হোছাইন দীর্ঘ ৪০ বছর ধরে বসবাস করে আসছেন। এছাড়াও তাদের আশেপাশে শতাধিক বসতবাড়ি রয়েছে। যার যার চলাচলের রাস্তাও রয়েছে। কিন্তু বিগত কয়েকমাস আগে একই এলাকার মৃত নুরুল ইসলামের পুত্র মো. হেলাল গং তাদের বসতবাড়ির ভিতর দিয়ে রাস্তা তৈরি করতে অভিনব কৌশল অবলম্বন করেন। এক পর্যায়ে গত ৪ দিন আগে মো. হেলাল গং নাপিতখালী-মৌলভী বাজার সড়কে যেতে তাদের নিজস্ব জমির উপর একটি রাস্তা তৈরি করে। কিন্তু ওই রাস্তায় যেতে চাইলে গোলাম মুস্তফা ও মাহমুদ হোছাইনের বসতবাড়ির উপর দিয়ে যেতে হবে। এছাড়াও হেলাল গং তাদের জমি এক ব্যক্তিকে বিক্রি করেছে বসতবাড়ির ভিতর দিয়ে রাস্তা তৈরি করে দিবে মর্মে চুক্তি সম্পাদন করে। ইতিমধ্যে তারা রাস্তা তৈরি করতে নিষেধ করলে হত্যার মত হুমকি দিচ্ছে বলে ভুক্তভোগিরা জানিয়েছেন।

গোলাম মুস্তফার ছেলে মো. পারভেজ বলেন, আমরা ৪০ বছর ধরে দক্ষিণপাড়ায় বসবাস করে আসছি। ইতিমধ্যে আমাদের বসতবাড়ির উপর দিয়ে রাস্তা করতে মো. হেলাল গং স্থানীয় ছৈয়দ নুর, রমিজ উদ্দিন, শফি আলম ও মো. ইলিয়াছকে নিয়ে চক্রান্ত শুরু করেছে। পুলিশও নিয়ে এসেছিল। হুমকি দিচ্ছে যেকোন বিনিময়ে আমাদের বসতবাড়ির উপর দিয়ে রাস্তা নিয়ে যাবে। জোরপূর্বক রাস্তা করলে বাড়ির মহিলাদের চলাচল অনেক অসুবিধার সম্মুখিন হবে। আমরা এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসন, ইউপি চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্যের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।

স্থানীয় আমানউল্লাহ চৌধুরী বলেন, মো. হেলাল গং তাদের সুবিধার জন্য ইতোমধ্যে মসজিদের জমি দখল করে রাস্তাটি তৈরি করেছে। এ রাস্তা দিয়ে নাপিতখালী সড়কে যাওয়ার কোন সুযোগ নাই। তাই গোলাম মুস্তফার বসতবাড়ির ভিতর দিয়ে রাস্তা নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে তারা।

ইউপি সদস্য শাহাদত হোছাইন এ বিষয়ে বলেন, নাপিতখালী মেইন সড়কের পাশে কয়েকবছর ধরে বসবাস করে আসছেন। ইতিমধ্যে তাদের ভিটার উপর দিয়ে রাস্তা নিয়ে যাওয়া চেষ্টার কথা মৌখিকভাবে আমাকে জানিয়েছেন। স্থানীয়ভাবে দুই পক্ষকে নিয়ে এ বিষয়ে আলাপ করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।




পেকুয়ায় মহিষের লড়াইয়ে যুবকের প্রাণহানি

 

পেকুয়া প্রতিনিধি:

কক্সবাজারের পেকুয়ায় দুই মহিষের লড়াইয়ে প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। আর এ ঘটনায় নুরুল হোসেন (২৮) নামের এক যুবকের প্রাণহানি হয়। সে টইটং ইউনিয়নের জানআলী মুরা এলাকার মৃত আব্দুল হকের পুত্র।

মঙ্গলবার (৯ জানুয়ারি) রাত সাড়ে ৮টায় পেকুয়া বাজারস্থ নুর হাসপাতালে আহত অবস্থায় ভর্তি হয় রাত ৯টায় চিৎকিসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয়।

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, টইটং ইউনিয়নের ঢালারমুখ এলাকার ওমান প্রবাসী বেলাল উদ্দিনের পালিত মহিষ দেখভাল করতেন যুবক নুরুল হোসেন। প্রতিদিনের মত ঘটনার দিন নুরুল হোসেন মধুখালী পাহাড়ি এলাকায় মহিষ গুলো নিয়ে যায়। একই জায়গায় সংগ্রামের জুম এলাকার ছেনুয়ারা নামের এক মহিলার একদল মহিষ আগে থেকেই অবস্থান করছিল। তাদের মধ্য দুই মহিষের লড়াই শুরু হলে যুবক নুরুল হোসেন তার মহিষটি নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। ওই সময় প্রতিপক্ষের মহিষের আক্রমনে গুরুতর আহত হয়। রাত ৯টায় হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়।

ইউপি সদস্য আবু ওমর বলেন, মর্মান্তিক মৃত্যু হওয়া নুরুল হোসেনের পরিবার খুবই অসহায়। পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ না দেওয়ায় স্থানীয়ভাবে তার দাফন করা হয়েছে। তবে মহিষের মালিক পক্ষ থেকে তার ক্ষতিপূরণ দেওয়ার জন্য বলা হয়েছে।