চকরিয়া থেকে যুবক অপহৃত, ৫০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবি


পেকুয়া প্রতিনিধি:
কক্সবাজারের চকরিয়া পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের সামনে থেকে আব্দুল কাদের (৩৫) নামের এক যুবককে অপহরণ করেছে দুর্বৃত্তরা। এদিকে গত ৩৬ ঘন্টায় আব্দুল কাদেরের হদিস না পাওয়ায় উদ্বিগ্ন রয়েছেন তার পরিবারের সদস্যরা।

শনিবার (২১ অক্টোবর) সকালে এ ঘটনা ঘটে। অপহৃত যুবক পেকুয়া উপজেলার টইটং ইউনিয়নের নাপিতখালী এলাকার আহমদ হোছাইনের ছেলে। তিনি পেশায় ইলিক্ট্রিশিয়ান।

অপহৃত যুবকের ভাই ফজলুল কাদের বলেন, চকরিয়া পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে মিটার সংক্রান্ত কাজ সারতে গিয়ে সে অপহৃত হয়। তবে রবিবার সকালে দশটার দিকে তার মোবাইল থেকে আমার মোবাইলে ফোন দিয়ে তাকে চকরিয়ার হারবাং আজিজনগর সীমান্তের গহীন অরণ্যে আটকে রাখা হয়েছে বলে জানান। সেখানে থেকে মুক্তি পেতে অপহরণকারীরা পঞ্চাশ হাজার টাকা দাবী করছে বলেও জানান সে।

তিনি আরো বলেন, এ ঘটনায় আমরা লিখিত এজাহার নিয়ে চকরিয়া থানায় গেলেও যথাযথ ব্যবস্থা নিতে অবহেলা করছে পুলিশ। পুলিশ আগামীকাল (সোমবার) ব্যবস্থা নিবেন বলে জানিয়েছেন।

চকরিয়া থানার উপ পরিদর্শক (এসআই) এনামুল হক এ ঘটনায় অপহৃতের পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পাওয়ার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, বিষয়টি তদন্ত করে আইনগতভাবে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।




পেকুয়ায় শ্রমিকদলের কাউন্সিলে ছাত্রলীগের এলোপাতাড়ি গুলি, গুলিবিদ্ধ ৪


পেকুয়া প্রতিনিধি:
পেকুয়ায় শ্রমিকদলের দ্বীবার্ষিক কাউন্সিলে ছাত্রলীগ এলোপাতাড়ি গুলি চালিয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন শ্রমিক দলের নেতৃবৃন্দ। এঘটনায় ৪ বিএনপি ও শ্রমিকদল নেতা গুলিবিদ্ধ হয়েছে। জানাযায়, মঙ্গলবার রাত ৯ টার দিকে পেকুয়া উপজেলার বারবাকিয়া ইউনিয়নের জালিয়াকাটা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

গুলিবিদ্ধরা হলেন, বারবাকিয়া ইউনিয়ন বিএনপি নেতা ইসমাইল হোছাইন (৫৫), উপজেলা শ্রমিকদল সভাপতি মুজিবুল হক চৌধুরী (৪০), ইউনিয়ন শ্রমিকদল সভাপতি কামাল (৩৫), ছাত্রদল নেতা মিজান (৩০)। এসময় হামলাকারীরা সভাস্থলে চেয়ার ও একটি মোটর সাইকেল ভাংচুর করে।

উপজেলা শ্রমিকদলের সভাপতি গুলিবিদ্ধ মুজিবুল হক চৌধুরীর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, আমরা সন্ধ্যার পরে বারবাকিয়া ইউনিয়নের ৮ নং ওয়ার্ডের কমিটি গঠনের জন্য কাউন্সিল করতে যাই। কাউন্সিল শেষে চলে আসার পথে অতর্কিতভাবে ছাত্রলীগের ১০/১২ জনের একদল সন্ত্রাসীরা দা কিরিচ নিয়ে আমাদের উপর হামলা চালায়। এসময় তারা আমাদের উপর এলোপাতাড়ি গুলি চালায়। এসময় আমাদের নেতা-কর্মীরা নদীতে ঝাঁপ দিয়ে জীবন বাঁচায়। গুলিতে আমাদের অনেক নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। ওই সভায় আহতরা ছাড়াও উপজেলা শ্রমিকদলের সাংগঠনিক সম্পাদক আজগর আলী, সহ সাংগঠনিক সম্পাদক জামাল হোছাইন, বিএনপি নেতা বেলাল উদ্দিন, বারবাকিয়া ইউনিয়ন যুবদল নেতা আবদুস সবুর এমইউপি, ছরওয়ার উদ্দিন সাবেক এমইউপি, এবং ওয়ার্ড় পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

আহতদের পেকুয়া উপজেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিএনপি নেতা-কর্মীরা। এ বিষয়ে উপজেলা বিএনপির সভাপতি এম বাহাদুর শাহ ও সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোছাইনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা জানান, শ্রমিকদলের একটি ওয়ার্ড পর্যায়ের কাউন্সিলে রাতের আঁধারে হামলা চালিয়ে আমাদের নেতা-কর্মীদের গুলিবিদ্ধ করেছে ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীরা। আমাদের সাংগঠনিক অগ্রযাত্রাকে ব্যহত করার জন্যই তারা এ নগ্ন হামলা চালিয়েছে বলে জানান তারা।

এ বিষয়ে উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক এহতেশামুল হকের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, আমার কাছে ছাত্রলীগ যে হামলা চালিয়েছে এধরণের কোন তথ্য নেই।

এ বিষয়ে বারবাকিয়া ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি আবুল হোছাইন শামা ও সাধারণ সম্পাদক কামাল হোছাইনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা বলেন, ঘটনা হয়েছে শুনেছি তবে কারা হামলা চালিয়েছে তা জানিনা। হামলাকারীরা ছাত্রলীগ নাকি আওয়ামীলীগ জানতে চাইলে সাধারণ সম্পাদক কামাল জানান ‘কপিল গ্রুপের ছাত্রলীগ বলে ধারণা করছি কেননা মিটিং এ উপজেলা ছাত্রলীগ নেতা জুয়েলের পিতা বিএনপি নেতা ইসমাইল খুলু উপস্থিত ছিলেন।




১৭ দফা সুনির্দিষ্ট নীতিমালার দাবিতে পেকুয়া ফারিয়া’র মানববন্ধন

পেকুয়া প্রতিনিধি:
১৭ দফা সুনির্দিষ্ট নীতিমালা প্রণয়ণ ও বাস্তবায়নের দাবীতে মানববন্ধন করেছে বাংলাদেশ ফার্মাসিউটিক্যালস্ রিপ্রেজেন্টেটিভ এ্যাসোসিয়েশন(ফারিয়া)পেকুয়া উপজেলা শাখার কর্মরত নেতৃবৃন্দ ও ঔষুধ শিল্পে নিয়োজিত উপজেলা প্রতিনিধিরা।

১৫ অক্টোবর দুপুর ১২টায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে ফারিয়া কেন্দ্রীয় কমিটির অংশ হিসাবে তারা এই কর্মসূচি পালন করে।

ব্যানার পোষ্টারে উল্লেখিত নীতিমালাগুলো হচ্ছে, কথায় কথায় চাকুরী ছাঁটাই বন্ধ, সামাঞ্জস্যপূর্ণ বেতন কাঠামো তৈরি, প্রেসক্রিপশনের ছবি তোলা বন্ধ, সব কোম্পানির উৎসব বোনাস ও প্রফিট বোনাস চালু করেত হবে, সাপ্তাহিক ছুটিসহ সকল সরকারী ছুটি কার্যকর করতে হবে, ব্যাংক চেক ও মূল সার্টিফিকেট জমা নেওয়া বন্ধ করতে হবে, প্রভিডেন্ট ফান্ড ও গ্রাচ্যুয়েটি চালু করতে হবে, মাতৃত্বকালীন ছুটি ও ভাতা দিতে হবে, সেলস্ ও মার্কেটিং বিভাগ আলাদা করতে হবে, ঔষুধ শিল্পে নিয়োজিত প্রতিনিধিদের চাকুরী’র সুনির্দিষ্ট নীতিমালা প্রণয়ন।

মানববন্ধনে অংশ নেন পেকুয়া ফারিয়ার সভাপতি মামুনুর রশীদ, সহসভাপতি অর্জুন কুমার, সাধারণ সম্পাদক শাহাদত হোছাইন, সহ সাধারণ সম্পাদক মুবিনুর রহমান ও কুতুব উদ্দিন, প্রচার সম্পাদক শাহীনুর ইসলাম, সদস্য নাছির উদ্দিন, মো. জাহাঙ্গীর, মো. ইউছুফ, মো. মনোয়ার ঔষুধ শিল্পে কর্মরত উপজেলা প্রতিনিধিসহ প্রধান উপদেষ্টা আমিনুর রহমান, আনোয়ার হোছাইন, অনিমেষ ও শাহাদত।




পেকুয়ার প্রবীণ সাংবাদিক ছগির আহমদ ইন্তেকাল করেছেন


পেকুয়া প্রতিনিধি:
পেকুয়ার প্রবীণ সাংবাদিক ছগির আহমদ আজগরী ইন্তেকাল করেছেন (ইন্নালিল্লাহে ওয়ান্নিলিল্লাহে..রাজেউন)। রবিবার ১৫ অক্টোবর সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় শীলখালী ইউনিয়নের জারুলবুনিয়া এলাকার নিজ বাসভবনে জীবনের নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন। মৃত্যুকালে তার বয়স ৬০ বছর।

সোমবার দুপুর ২টায় জারুলবুনিয়া সামাজিক কবরস্থানের পাশে মরহুমের নামাজে জানাজা অনুষ্টিত হবে বলে তার পারিবারিক সূত্র জানিয়েছে। তিনি স্ত্রী, ১ কন্যা, ৩ পুত্র সন্তান রেখে গেছেন।

আমৃত্যু তিনি ঢাকার দৈনিক ভোরের ডাক, কক্সবাজারের আঞ্চলিক পত্রিকা দৈনিক সৈকত ও সমুদ্রবার্তা পত্রিকার পেকুয়া প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তাছাড়া জারুল বুনিয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এসএমসি কমিটির সহ-সভাপতি, পেকুয়া সাংবাদিক সমিতির সভাপতির দায়িত্ব পালনসহ সামাজিক রাজনৈতিক বিভিন্ন সংগঠনের সাথে জড়িত ছিলেন। দীর্ঘদিন ধরে তিনি গলায় ক্যান্সার ও হাট্রের রোগে ভোগছিলেন।

এদিকে তার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছে পেকুয়া প্রেস ক্লাবসহ কর্মরত সাংবাদিকবৃন্দ।




রাজাখালী ইউনিয়ন যুবদলের ১ নং ওয়ার্ডের আংশিক কমিটি অনুমোদন


পেকুয়া প্রতিনিধি:
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদল পেকুয়া উপজেলার আওতাধীন রাজাখালী ইউনিয়ন শাখার ১ নং ওয়ার্ড যুবদলের আংশিক ওয়ার্ড কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। শনিবার রাজাখালী ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম, সাধারণ সম্পাদক এস এম আমিন উল্লাহ, সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দু শুক্কুরের যৌথ স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে দলকে সুসংগঠিত করতে রাজাখালী ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ড যুবদলের কমিটি গঠন কল্পে ওই দিন বিকাল ৩টায় সবুজবাজারস্থ বিএনপির কার্যালয়ে রাজাখালী ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি জাহাঙ্গীর আলমের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক এস এম আমিন উল্লাহের পরিচালনায় এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন রাজাখালী ইউনিয়ন বিএনপির আহবায়ক মাষ্টার আবু জাফর এমএ।

বিশেষ অতিথি ছিলেন সাবেক আহবায়ক কাজী আক্তার আহমদ, ১নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি জিয়াবুল করিম, রাজাখালী ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক নুরুল আমিন, ইউনিয়ন ছাত্রদল সভাপতি শাহাদত হোছাইন, ১নং ওয়ার্ড বি এন পির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ডা. শামীম, ইউনিয়ন শ্রমিকদলের সাধারণ সম্পাদক মোহাং বেলাল। আলোচনা সভা শেষে সকলের সিদ্ধান্তক্রে মোহাম্মদ তানজিদ(সনেট) কে সভাপতি, মোহাম্মদ আব্দুর রহমান কে সিনিয়র সহ সভাপতি, মোহাম্মদ রেজাউল করিম কে সাধারণ সম্পাদক, মোহাং জাহাঙ্গীর কে সাংগঠনিক সম্পাদক করা হয়। উক্ত কমিটিকে আগামী ১ মাসের মধ্যে পূণাঙ্গ কমিটি ইউনিয়ন যুবদল বরাবর প্রেরণ করার জন্য তাগিদ দেওয়া হয়েছে।




পেকুয়ায় ভাতিজার চুরিকাঘাতে চাচা আহত

পেকুয়া প্রতিনিধি:

পেকুয়ার সদর ইউনিয়নের বাইম্যাখালী বাংলা পাড়ায় আপন ভাতিজা মৃত মো. আলী লালুর পুত্র মাহামুদুল করিমের চুরিকাঘাতে চাচা জাকের হোসেন (৫৫) গুরুতর আহত হয়েছে। আহত জাকের হোসেন পেকুয়া সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। বৃহস্পতিবার (৫ অক্টোবার) সকাল ৮টায় এ ঘটনা ঘটে।

আহত জাকের হোসেনের পুত্র নুরুল আবছার বলেন, মাহামুদুল করিম একজন সন্ত্রাসী প্রকৃতির লোক। সে আমাদের বাড়ির সবার অবর্তমানে পূর্ব শত্রুতার জের ধরে দলবল নিয়ে পিতাকে বুকে এবং পিঠে চুরিকাঘাত করে। এ সময় তার সাথে ছিলেন নোমান, জমির উদ্দিন, রোজিনা ও নুর আয়েশাসহ আরো ৪/৫ জন। পরে স্থানীয়রা তাদের ধাওয়া দিলে পালিয়ে যায়।

নুরুল আবছার আরো বলেন, গত কয়েকদিন আগে আমি তার কাছ থেকে গ্যাস ওয়ালীং মেশিনের পাওনা টাকা চাইতে গেলে দলবল নিয়ে আমার উপর হামলা করে। যা আমি গ্রাম আদালতে শালিস দায়ের করি। এর দুইদিন পর সে আমাদের বিরুদ্ধে চকরিয়া সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেষ্ট আদালতে মিথ্যা একটি মামলা দায়ের করেন।

আহত জাকের হোসেন বলেন, সকালে আমি বাড়ির চলাচলের রাস্তায় বালি দিচ্ছিলাম। পূর্ব শত্রুতার জের ধরে পিছনে মাহামুদুল করিম এসে কোন কথা ছাড়াই চুরিকাঘাত করে। সামনে ঘুরতেই বুকের উপর চুরি চালিয়ে দেয়। এ সময় তার সাথে আরো কয়েকজন থাকায় আমি চিৎকার করলে স্থানীয় নুরুল কবির মাঝি, আমিরুল রশিদ, ইউনুস ও আমির হোসেন মাঝিসহ আরো কয়েকজন এসে তাদের ধাওয়া দিলে পালিয়ে যায়। আমার ছেলেরা বাড়িতে না থাকায় স্থানীয়রা আমাকে উদ্ধার করে পেকুয়া সরকারি হাসপাতালে ভর্তি করায়। বিকালে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকাবস্থায়ও হাসপাতালে এসে সে হামলার চেষ্টা করে। এ বিষয়ে আমি আইনগত ব্যবস্থা নিব।

পেকুয়া হাসপাতালের জরুরী বিভাগ এর কর্তব্যরত চিকিৎসক জানিয়েছেন, আহত জাকের হোসেন এর বুকে এবং পিঠে চুরির আঘাত রয়েছে। তার চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

এ ব্যাপারে জানতে অভিযুক্ত মাহামুদুল করিমের ব্যবহারকৃত মোবাইল নাম্বারে কল দিলেও সংযোগ না পাওয়ায় বক্তব্য নেওয়া যায়নি।




পেকুয়ায় মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার

পেকুয়া  প্রতিনিধি:

পেকুয়ায় ৫৮পিস ইয়াবাসহ এক চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।  বুধবার (৪অক্টোবর) রাত ১০টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পেকুয়া থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) উত্তম কুমার সরকারের নেতৃত্বে একদল পুলিশ পেকুয়া সদর ইউনিয়নের আহমদ ডিলার চৌমুহনী এলাকায় অভিযান চালিয়ে জসিম উদ্দিন (৫০) নামের এক মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করে। সে একই এলাকার মৃত করিমদাদের পুত্র।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে পেকুয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জহিরুল ইসলাম খাঁন বলেন, জসিম উদ্দিন চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী। তার বিরুদ্ধে একাধিক মাদক মামলা রয়েছে। বুধবার রাতে ফের ইয়াবাসহ তাকে আটক করা হয়। এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে থানায় নিয়মিত মামলা রুজু করে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।




পেকুয়ায় ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় বিদ্যুতের খুঁটি, দূর্ঘটনার আশংকা


পেকুয়া প্রতিনিধি:
পেকুয়া সদর ইউনিয়নের পশ্চিম চৌমহুনীস্থ পল্লী বিদ্যুতের জোনাল অফিস সংলগ্ন একটি খুঁটি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। খুঁটিটি থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়ে মারাত্মক দূর্ঘটনার আংশকা থাকলেও পেকুয়া জোনাল অফিস কর্মকর্তার খবর নেই। ভুক্তভোগী এর আগে লিখিত অভিযোগ ও বর্তমানে মৌখিকভাবে অভিযোগ করলেও কর্ণপাত করছে না বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে।

সরেজমিন গিয়ে দেখা গেছে, পেকুয়া জোনাল অফিসের সামনে একটি খুঁটি দালানের ভিতর দিয়ে সংযোগ স্থাপন করা হয়েছে। তা ২০১০ সালে দালানের মালিক হাজ্বি মাওলানা আবদুল জলিল কাশেমী বাদি হয়ে ওই খুঁটি সরানোর জন্য আবেদন করেন। কর্তৃপক্ষ সরেজমিন তদন্ত পূর্বক তিনটি খুঁটি সারানোর জন্য বলেন। কিন্তু এখনো সরানো হয়নি। বর্তমানে ওই দালানের মালিক দালান সংস্কার করতে গেলে আবারো পেকুয়া জোনাল অফিস কর্মকর্তা খোরশেদ আলমকে বলেন। তিনি কোন ধরনের কর্ণপাত করছে না। যার কারণে বড় ধরনের দূর্ঘটনার আশংকা করছেন স্থানীয় আশে পাশের দোকান ব্যবসায়ীরা।

স্থানীয় ব্যবসায়ী মহিউদ্দিন, নেজাম উদ্দিনসহ অনেকে বলেন, দালানের ভিতর দিয়ে নিয়ে যাওয়া খুঁটিটি অতিসত্ত্বর সরানোর প্রয়োজন। একদিকে দালান সংস্কার করতে অসুবিধা অন্যদিকে দালানের উপরে চলাচলকারী লোকজন বিদ্যুতের তারে জড়িয়ে মৃত্যুর আশংকা আছে।

দালান মালিক হাজ্বি মাওলানা আবদুল জলিল কাশেমী বলেন, চৌমহুনী হয়ে লাইন সংযোগ হওয়ার সময় আমি লিখিত অভিযোগ দিয়েছিলাম। পরে তারা তিনটি খুঁটি সরানোর কথা বললেও আর সরাইনি। গত কয়েকদিন আগে ট্রান্সপার থেকে আগুন লেগে খুটিটি অনেকাংশে পুড়ে যায়। ভাগ্য ভাল স্থানীয়রা দ্রুত পানির ব্যবস্থা করে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। যেকোন মূহর্তে খুঁটিটি ভেঙ্গে গিয়ে বড় ধরনের দূর্ঘটনার আশংকা রয়েছে। বর্তমানে আমি দালান সংস্কার করতে গিয়ে ব্যাপক অসুবিধার সম্মুখিন হওয়ায় পেকুয়া জোনাল অফিসের কর্মকর্তা খোরশেদ আলমকে অবগত করি। কিন্তু তিনি কোন ব্যবস্থা নিচ্ছেন না।

এ বিষয়ে জানার জন্য পেকুয়া জোনাল অফিসের কর্মকর্তা খোরশেদ আলমের ব্যক্তিগত ও অফিসের মোঠোফোন যোগাযোগ করলে বন্ধ পাওয়ায় বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।




পেকুয়ায় জমি দখলে রাখতে গিয়ে নিরাপত্তাহীনতায় প্রবাসীর পরিবার 

পেকুয়া প্রতিনিধি:

পেকুয়ার টইটং ইউনিয়নের মধুখালী লম্বাঘোনা এলাকায় দীর্ঘদিনের ভোগদখলীয় জমি দখলে রাখতে গিয়ে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন এক প্রবাসীর পরিবার। এ অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগি সৌদি প্রবাসী নুরুল হকের মা নুর খাতুন(৭০)।

বৃদ্ধা নুর খাতুন জানিয়েছেন, তার পুত্র সৌদি প্রবাসী নুরুল হক লম্বাঘোনা এলাকায় দীর্ঘ ৪০ বছর ধরে বেশ কিছু রিজার্ভ ভূমির মালিক। তাতে তিনি সৃজিত বনায়ন করে আসছেন। এরইমধ্যে ওই জমির উপর লোলপ দৃষ্টি পড়ে পুরাড়িয়া এলাকার মৃত রশিদ আহমদের পুত্র রবি আলম ও আবদুল হকের পুত্র গিয়াস উদ্দিনের। শুরু করে সৃজিত বাগানের গাছ কর্তন। অস্ত্রসহ সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে দিনে রাতে ওই বাগানের চারপার্শ্বে মহড়া প্রদর্শন করে চলছে প্রতিনিয়ত। গাছ কর্তনে বাধা দিতে গেলেই শুরু করে নির্বিচারে গুলি বর্ষণ। হতাহত করে নিরহ লোকদের। বসতবাড়িতে এসে হামলা করতে পর্যন্ত দ্বিধা করেনি সন্ত্রাসীরা। পাহাড়ে অঘোষিত রাজত্ব করছে তারা। ইতিমধ্যে আহত হয়েছে শিশু পুত্র মো. ইমরান, আবদুল হামিদ ও নুরুল আমিন নামের ৩জন।

এদিকে গতকাল রাতে রবি আলম ও গিয়াস উদ্দিন তার দলবল নিয়ে আমার পরিবারে এসে হামলা শুরু করে। আমি বৃদ্ধা মহিলা, পুত্রবধু ও সন্তানেরা তাদের রুখতে না পারায় নিরবে তাদের তান্ডব চোঁখে দেখেছি মাত্র। এছাড়াও আমার পুত্রের বেশ কিছু জমি দখল করে তারা দুজন অবৈধভাবে বালু উত্তোলন শুরু করেছে। অস্ত্রশস্ত্র বালু মহল রক্ষা করতে সন্ত্রাসী বাহিনী গঠন করেছে রবি আলম ও গিয়াস উদ্দিন। তারা স্থানীয় ইউপি সদস্য, ইউপি চেয়ারম্যানকে তোয়াক্কা করেনা। আমরা চরমভাবে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। আমি প্রশাসন মহোদয়ের কাছে এই দুই সন্ত্রাসীকে দ্রুত আটকের দাবি জানাচ্ছি।

প্রবাসী নুরুল হক মুঠোফোনে এ প্রতিনিধিকে জানায়, দীর্ঘ ৪০ বছর ধরে আমি ওই জমি আমার মামাদের কাছ থেকে দখল ক্রয় করে সৃজিত বাগান তৈরি করেছি। গাছও বড় হয়েছে। ইতিমধ্যে রবি আলম ও গিয়াস উদ্দিন আমার জমিসহ সৃজিত বাগান দখলের চেষ্টা চালাচ্ছে। এছাড়াও তারা সংঘবদ্ধ হয়ে আমার পরিবারে এসে হামলার চেষ্টা করেছে। আমার বৃদ্ধা মা স্ত্রী ও সন্তানেরা আতঙ্কে দিনাপাত করছে। এ বিষয়ে আমি স্থানীয় চেয়ারম্যান জাহেদুল ইসলাম চৌধুরীর হস্তক্ষেপ কামনা করলে গ্রাম আদালতের শালিষী বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে জমি ও সৃজিত বাগান আমার বলে প্রতিয়মান হয়। যার কারণে সে চেয়ারম্যানের সালিশি বিচার পর্যন্ত অমান্য করে চলছে। আমি স্থানীয় প্রশাসনের কাছে ওই দুই সন্ত্রাসী আটকের দাবি জানাচ্ছি।

টইটং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাহেদুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, জমির বৈধ মালিক হলো নুরুল হক। সালিশি বৈঠকে তা প্রতিয়মান হয়েছে। কিন্তু একটি ভুয়া স্ট্যাম্প নিয়ে একই এলাকার রবি আলম ও গিয়াস উদ্দিন জমি জবর দখল চেষ্টা করছে। অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে তারা প্রবাসীর পরিবারের উপর বেশ কয়েকবার হামলা চেষ্টা করেছে। দুর্গম পাহাড়ে তারা অবস্থান নেওয়ার তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া যাচ্ছেনা। তাই প্রবাসী নুরুল হকের পরিবারের নিরাপত্তার ব্যাপারে আমি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হস্তক্ষেপ কামনা করছি।




পেকুয়ায় জমি জবর দখল করে বসতবাড়ি নির্মাণের অভিযোগ

পেকুয়া প্রতিনিধি:
পেকুয়ার টইটং ইউনিয়নের মৌলভী হাছানের ঝুম এলাকায় দীর্ঘদিনের ভোগদখলীয় জমি জবর দখল করে বসতবাড়ি নির্মাণের অভিযোগ ওঠেছে এক প্রভাবশালীর বিরুদ্ধে। এনিয়ে দু’পক্ষে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশংকা করছে স্থানীয়রা।

জমির প্রকৃত মালিক ওই এলাকার মৃত মো. ইসমাঈলের পুত্র মনজুর আলম বলেন, পৈত্রিক দখল সূত্রে মৌলভী হাছানের ঝুম এলাকায় বেশ কিছু রিজার্ভ ভুমির মালিকনা প্রাপ্ত হই। এরপর থেকে ওই জমিতে নিজ উদ্যোগে সামাজিক বনায়ন সৃজন করি। এরই মাঝে আমি কর্মের তাগিদে প্রবাসে পাড়ি জমাই। পরবর্তী সময়ে আমি বিদেশে থাকাবস্থায়ও জমি দখলে ছিল। কিন্তু বিগত ৩ বছর আগে হঠাৎ করে একই এলাকার মৃত ছিদ্দিক আহমের পুত্র মো. জাহাঙ্গীর আলম তার দলবল নিয়ে সৃজিত বনায়নসহ বেশ কিছু জমি দখল করে নেয়। এমনকি একটি বসতিও তৈরি করে। বিষযটি আমার অবর্তমানে স্ত্রী স্থানীয়দের জানালে তারা কৌশলে সাবেক চেয়ারম্যান মোসলেম উদ্দিনের বরাবর সালিশি বিচার দায়ের করেন। গ্রাম আদালত প্রয়োজনীয় কাগজপত্র বিশ্লেষণ করে জমি আমার বলে প্রতীয়মান হয়। তাদের জমি ছেড়ে দেওয়ার নির্দেশ প্রদান করলেও তারা আরো বেশি ক্ষিপ্ত হয়ে জমি জবর দখল করা শুরু করে। এমনকি ভাড়াটে সন্ত্রাসী নিয়ে আমার পরিবারের উপর হামলাও করে।

একপর্যায়ে বর্তমান চেয়ারম্যান জাহেদুল ইসলাম চৌধুরীর কার্যালয়ে আমার স্ত্রী রহিমা বেগম ও পুত্র জাহেদুল করিম বাদি হয়ে বিচার দায়ের করেন। যার মামলা নং-১৮৭/১৬ইং। গ্রাম আদালত দীর্ঘ শুনানীকালে জমি আমার বলে প্রতীয়মান হলে গ্রাম আদালত আমার পক্ষে রায় প্রদান করেন। সর্বশেষ তারা নাপিতখালী এলাকার ছিদ্দিক এর লিখিত একটি ভুয়া স্ট্যাম্প দেখালে বিচারকগণ বিচার বিশ্লেষণ করে তা ভুয়া বলে প্রতিয়মান করে। তারপরও ওই স্ট্যাম্পটি সঠিক বলে তারা দাবী করলে চেয়ারম্যানসহ গ্রাম আদালতের যৌথ প্যানেল স্ট্যাম্পটি আইনগতভাবে পরীক্ষা নিরীক্ষা করার জন্য এক্সপার্টে দেওয়ার নির্দেশ প্রদান করেন। স্ট্যাম্পটি আইনগতভাবে পরীক্ষা করলে ভুয়া হবে এ প্রতীয়মান হলে গ্রাম আদালতের বিচারকে অমান্য করে আদালতের মাধ্যমে ওই নথি তলব করে নিয়ে যায়।

এবিষয়ে জানতে চাইলে জাহাঙ্গীর আলম বলেন, মনজুর আলম অনেক আগেই এ জমি বিক্রি করে দিয়েছে। সে যাকে বিক্রি করে দিয়েছে তার কাছ থেকে ক্রয় করে বসতবাড়ি তৈরি করে বসবাস করে আসছি। ভাড়াটে সন্ত্রাসী কেন রাখব। আমার ক্রয়কৃত জমিতে পরিবার পরিজন নিয়ে বসবাস করে আসছি। গ্রাম আদালতের বিচারগণ সে ম্যানেজ করে নিয়েছে তাই উচ্চ আদালতের ধারস্ত হয়েছি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে টইটং গ্রাম আদালতের প্রধান টইটং ইউপি’র চেয়ারম্যান জাহেদুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, এ জমি নিয়ে গ্রাম আদালতে কয়েকদফা বৈঠক হয়েছে। সাক্ষী প্রমাণে জমি মনজুর আলমের বলে প্রতীয়মান হয়েছে। সর্বসম্মতভাবে তার পক্ষে রায় প্রদান করা হয়েছে। যে স্ট্যাম্পটি জাহাঙ্গীর আলম উপস্থিত করেছে তা নিয়ে সন্দেহ দেখা দেওয়ায় আইনগতভাবে এক্সপাটে দেওয়ার নির্দেশ প্রদান করেছি। পরে তারা উচ্চ আদালতের আশ্রয় নিয়ে নথি তলব করলে তা পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।