পেকুয়ায় সন্ত্রাসী হামলায় শিশুসহ আহত ৫

pic_ahoto_pekua_rajakali
পেকুয়া প্রতিনিধি:
কক্সবাজারের পেকুয়ায় সন্ত্রাসী হামলায় একই পরিবারের শিশুসহ ৫ জন আহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। ২৩ ফেব্রেুয়ারী সকাল ৯টার দিকে পেকুয়া উপজেলার রাজাখালী ইউনিয়নের মাতবর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পূর্ব পার্শ্বের লবণ মাঠে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় আহত হলেন ওই গ্রামের মৌলানা গিয়াস উদ্দিনের স্ত্রী মোবাশ্বেরা বেগম (৪৫), তার ছেলে আকবর ফারুক (২৮), নুরুল আমিনের স্ত্রী রোজিনা ইয়াসমিন (২৬), মৃত পেঠান আলীর পুত্র আলী আহমদ (৩২), আব্বাস উদ্দিনের শিশু কন্যা আফসানা সোলতানা (৫)।

আহতদেরকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে পেকুয়া সরকারী হাসপাতালে ভর্তি করে।

প্রত্যক্ষদর্শীসূত্রে জানায়, ঘটনার দিন স্থানীয় রাজা মিয়ার পুত্র কফিল উদ্দিনের নেতৃত্বে তার ভাই হারুন রশিদসহ একদল সন্ত্রাসী মৌলনা গিয়াস উদ্দিনের খরিদকৃত নিজস্ব লবণ মাঠ দেখা শুনা করার সময় তার ছেলে আকবর ফারুকের উপর দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে হামলা চালিয়ে গুরুতর আহত করে। এসময় খবর পেয়ে তার পরিবারের লোকজন আকবর ফারুককে বাঁচাতে এগিয়ে গেলে মৌলানা গিয়াস উদ্দিনের স্ত্রী ও তার পরিবারের অন্যান্য লোকজনের উপর বেপরোয়া হামলা চালায়।

আহত গৃহবধূ মোবাশ্বেরা বেগম অভিযোগ করেন, ‘হামলাকারীরা দীর্ঘদিন ধরে আমার ম্বামীর কাছ থেকে মোটা অংকের চাঁদা দাবী করে আসছিল। তাদের দাবীকৃত চাঁদা না দেওয়ায় ঘটনার দিন আমাদের খরিদা সম্পত্তি জবর দখলের জন্য আমাদের উপর হামলা চালিয়েছে। হামলাকারীরা ঘটনার সময় আমার গলায় থাকা ১৮ হাজার টাকা মূল্যের স্বর্ণের চেইন, আমার ৩২শ টাকা দামের মোবাইল, আমার ছেলে ফারুকের পকেটে থাকা নগদ ৫২ শ টাকা ছিনিয়ে নিয়ে যায়। পরে তারা আমাদেরকে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি-ধমকি দিয়ে ঘটনাস্থল থকে চলে যাওয়ার পর স্থানীয়রা আমাদের উদ্ধার করে।’

এদিকে এ ঘটনায় মৌলনা গিয়াস উদ্দিন বাদী হয়ে ২৩ ফেব্রেুয়ারী পেকুয়া থানায় হামলাকারী কফিল উদ্দিনকে প্রধান আসামী করে ৬ জনের বিরুদ্ধে একটি এজাহার দায়ের করছেন।

এ ব্যাপারে পেকুয়া থানার ওসি জিয়া মোহাম্মদ মোস্তাফিজ ভুইয়া অভিযোগ পাওয়ার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।




পেকুয়ায় লবণের মাঠ দখল নিয়ে উত্তেজনা: পুলিশ সুপারের হস্তক্ষেপ কামনা

unnamed (2) copy

পেকুয়া প্রতিনিধি:

পেকুয়া উপজেলার মগনামা ইউনিয়নের রগুরদিয়া এলাকায় লবণ মাঠ দখল-বেদখলকে কেন্দ্র করে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে উত্তেজনা বিরাজ করছে। এনিয়ে একপক্ষের মালিকানাধীন দীর্ঘদিনের ভোগদখলীয় জমিতে অসাধু প্রভাবশালী চক্রের জবর দখল চেষ্টা বন্ধে কক্সবাজার জেলা পুলিশ সুপারের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন নিরীহ বর্গা চাষীরা।

মগনামা ইউনিয়নের করিয়াঘোনা এলাকার মৃত আবদুল বারীর পুত্র আবু ছিদ্দিক, মিয়াজীপাড়া এলাকার মৃত নজু মিয়ার পুত্র মো. নুরুল আবছার ও মটকাভাংগা কুমপাড়া এলাকার মৃত সামশুল আলমের পুত্র জসিমউদ্দিনসহ স্থানীয় বর্গা চাষীরা বলেন, একই ইউনিয়নের মরহুম রমিজ আহমদ চৌধুরীর পুত্র দু’সহোদর এরফানুল হক চৌধুরী ও আহসানুল হক চৌধুরীর উত্তরাধিকার সূত্রে মালিকানাধীন উপজেলার মগনামা মৌজার আর এস খতিয়ান নং-৩৮০, আর এস দাগ নং-৩৩৩৫এর আন্দর মোতাবেক বিএস ৯৯২নং খতিয়ানের বিএস ৫২২২দাগের ৭.৯৫ একর জমি মোতাবেক দিয়ারা জরিপের মাঠ পর্চা ডিপি ২৩৭৭ নম্বর খতিয়ানের ৭.১১ একর জমির প্রকৃত মালিক হন। বিরোধীয় জমির ১৮ কানি জায়গায় তারা পৈত্রিক সূত্রে ৪০-৪২ বছর, কেউবা ১৫-২০ বছর আবার কেউবা ১০-২০ বছর ধরে লাগিয়ত নিয়ে বর্গা চাষী হিসাবে লবণ উৎপাদন করে আসছি।

কিন্তু সম্প্রতি ওই লবণ চাষের জমির উপর লোলুপ দৃষ্টি পড়েছে মগনামা ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বার মো. আলমগীরের। তিনি দাপট দেখিয়ে দীর্ঘদিনের বর্গা নেয়া লবণ মাঠের জমি জনৈক মমতাজ কামাল চৌধুরীর নিকট থেকে লাগিয়ত নিয়েছেন উল্লেখ করে আমাদের কাছ থেকে মোটা অংকের চাঁদা দাবি করে আসছেন। তার দাবিকৃত চাঁদা না দিলে চলতি বছরের চাষাবাদ বন্ধ ও লবণ মাঠের দখল কেড়ে নেওয়ার হুমকি প্রদান করছেন।

এমনকি তিনি পেকুয়া থানায় অনেকের নামোল্লেখ করে হয়রানীমূলক মিথ্যা অভিযোগ দায়ের করেন। থানা পুলিশের শান্তি শৃঙ্খলা বজায় রাখার নির্দেশনা মোতাবেক আমরা থানায় শালিসী বৈঠকে যোগদান করি। থানা পুলিশ দু’পক্ষের বক্তব্য গ্রহণ শেষে ন্যায় সংগতভাবে আমাদের চাষাবাদ বৈধতার পক্ষে মত দেন। এতে প্রভাবশালী অসাধু ওই জনপ্রতিনিধি থানার ওসি ও পুলিশকে বসে নিয়ে আমাদের দীর্ঘদিনের বর্গা চাষের লবণ মাঠে চাষাবাদ বন্ধ করার অপচেষ্টা চালায়।

কিন্তু পেকুয়া থানা পুলিশের বলিষ্ঠ ভূমিকায় তাতে তিনি ব্যর্থ হন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে পরবর্তীতে ওই প্রভাবশালী স্থানীয় থানা পুলিশের বিরুদ্ধে মিথ্যা, বানোয়াট, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে পত্র-পত্রিকায় একতরফা সংবাদ প্রচার করে প্রশাসনের বিভিন্ন মহল ও এলাকার সচেতন ব্যক্তিদের বিভ্রান্ত করে যাচ্ছে। এছাড়াও আমাদের দীর্ঘদিনের বর্গা দখল নিতে লবণ চাষের জমিতে ভীতিকর মহড়া ও হুমকি প্রদর্শন অব্যাহত রেখেছেন ওই প্রভাবশালী।

ইউপির ৭নং ওয়ার্ডের মেম্বার নুরুল আজিম বলেন, বিরোধীয় লবণ চাষের মাঠ প্রভাবশালী জনপ্রতিনিধি মো. আলমগীরের পক্ষে নেওয়ার কোন বৈধতা নেই। ইতিপূর্বে একই জমি স্থানীয় উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি এম. কফিল উদ্দিন বাহাদুরকে জুড়িশিয়াল স্ট্যাম্প চুক্তিমুলে লাগিয়ত দেন ওই প্রতারক মমতাজ কামাল চৌধুরী। পরে জমি পরিদর্শন ও দখলে গিয়ে কোন স্বত্ব বৈধতা না পেয়ে তারা সরে দাঁড়ান। ছাত্রলীগ নেতা কফিলের মতো একইভাবে অবৈধ চুক্তিমুলে এসব জমি দাবি করছেন মেম্বার আলমগীর। যা নিয়ে বিরোধীয় লবণ মাঠের ১৮ কানি জমি জবর দখলের চেষ্টাও চালাচ্ছেন তিনি।

অন্যদিকে জমির প্রকৃত মালিক মরহুম রমিজ আহমদ চৌধুরীর পুত্র দু’সহোদর যথাক্রমে এরফানুল হক চৌধুরী ও আহসানুল হক চৌধুরীর সাথে যোগাযোগ করলে তারা জানান, দানপত্র স্বত্বমূলে বিরোধীয় জমির মালিক লুৎফুন নাহার চৌধুরী। তার ওয়ারিশ মুলে আমরা। এনিয়ে সুপ্রীম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের রীট পিটিশান মামলা নং-৯২২৯/০৮ মুলে আমাদের পক্ষে স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা বিদ্যমান রয়েছে।

কথিত মালিক দাবিদার মমতাজ কামাল চৌধুরী বা তার পোষ্য স্থানীয় জনপ্রতিনিধি আলমগীর আমাদের মালিকানাধীন লবণ চাষের জমি জবর দখলের চেষ্টার কোন আইনগত বৈধতা ছিল না, থাকতে পারে না। ওই জনপ্রতিনিধি যে লাগামহীন মিথ্যাচার ষড়যন্ত্রে মেতেছেন তাতে সংঘাত ও উত্তেজনার শঙ্কা দেখা দিয়েছে। তাই আমরা উর্ধ্বতন প্রশাসন ও কক্সবাজারের পুলিশ সুপারের হস্তক্ষেপ কামনা করছি। এ ব্যাপারে স্থানীয় এমইউপি আলমগীরের সাথে যোগাযোগ করার জন্য ওনার ব্যবহৃত মোবাইল নাম্বারে অনেক বার কল দিলেও সংযোগ পাওয়া যায়নি বলে বক্তব্য নেওয়া সম্ভাব হয়নি।




পেকুয়ায় মা, ভাই ও ভাবীকে পিটিয়ে আহত করলো দুই বোন

পেকুয়া প্রতিনিধি:

পেকুয়ায় জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে মা, ভাই ও ভাবীকে পিটিয়ে আহত করলো দুই বোনের নেতৃত্বে একদল দুর্বৃত্ত।

বুধবার ১টার দিকে উপজেলার বারবাকিয়া ইউনিয়নের পূর্ব বুধামাঝির ঘোনা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এতে তিন নারীসহ একই পরিবারের ৪জন আহত হয়েছেন। আহতরা হলেন মৃত আব্দু রশিদের স্ত্রী রেজিয়া বেগম(৬০), সেকান্দর আলীর স্ত্রী হাসিনা বেগম(৩৫), ছাদেকুর রহমানের স্ত্রী রেবেকা বেগম(৩০) ও  আব্দু রশিদের পুত্র মো. পারভেজ(২৫)। স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে পেকুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে।

 আহত রেজিয়া বেগম বলেন, জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে আমার দুই মেয়ে সারাহ বেগম ও হালিমা বেগমের নেতৃত্বে ৭-৮জন দুর্বৃত্ত আমাদের ঘরে ঢুকে আমাকেসহ আমার দুই পুত্রবধু ও এক ছেলেকে বেদড়ক পিটিয়ে আহত করে। তারা কোন ভাবেই জমির প্রাপ্য নয়। তাই স্থানীয় প্রশাসনের কাছে আমাদের উপর এমন বর্বর হামলাকারীদের সুষ্ঠ বিচার দাবি করছি।

 এ ব্যাপারে পেকুয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জিয়া মো. মোস্তাফিজ ভূঁইয়া বলেন, বিষয়টি শুনেছি। তবে এ ঘটনায় এখনো লিখিত কোন অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে আইনগতভাবে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




পেকুয়া বাইম্যাখালী আলো ঘর শিক্ষা কেন্দ্রের বার্ষিক পুরষ্কার বিতরণ

unnamed (1) copy

পেকুয়া প্রতিনিধি:

পেকুয়ার সদর ইউনিয়নের বাইম্যাখালী আলোঘর শিশু শিক্ষা কেন্দ্রের বার্ষিক ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার পুরষ্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বুধবার শেয়ার ইউরোপীয় ইউনিয়ন কারিতাস ফ্রান্স’র অর্থায়নে কারিতাস বাংলাদেশ কর্তৃক পরিচালিত আলোঘর প্রকল্প পেকুয়া এরিয়া অফিসের উদ্যোগে বিদ্যালয় মাঠে এসএমসি কমিটির সভাপতি মুজিবুল হক চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন বাইম্যাখালী আলোঘর শিশু শিক্ষা কেন্দ্রের সহকারী শিক্ষিকা সাইদা পারভীন রুমা।  অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন পেকুয়া ইউপির ২ নং ওয়ার্ডের এমইউপি সাজ্জাদ হোসাইন।

বিশেষ অতিথি ছিলেন কারিতাস চট্রগ্রাম অঞ্চল আলোঘর প্রকল্প পেকুয়া এরিয়া অফিসের কো-অর্ডিনেটর হেলাল উদ্দিন, শিক্ষা সুপারভাইজার মথি ত্রিপুরা, সাংবাদিক রিয়াজ উদ্দিন, আমিনুর রশিদ, নুরুল কবির মাঝি, বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা কমরু বেগম প্রমুখ।

অনুষ্ঠান শেষে বার্ষিক ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতায় ১০ টি ইভেন্টে বিজয়ীদের মাঝে পুরষ্কার প্রদান করা হয়।




পেকুয়ায় দেলু হত্যা মামলার আসামী গ্রেফতার

পেকুয়া প্রতিনিধি:
পেকুয়া হত্যা মামলার এক আসামীকে আটক করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভিস্টিগেশন (পিবিআই) কক্সবাজারের একটি টিম। আটককৃত আসামী উপজেলার রাজাখালী ইউনিয়নের সাবেক ইউপি সদস্য দেলোয়ার হোসেন প্রকাশ দেলু হত্যাকান্ডের অন্যতম আসামী সিহাব উদ্দিনকে (২৫)।

সোমবার ২০ ফেব্রুয়ারি দুপুর ১ টার দিকে উপজেলার মগনামা ইউনিয়নের শরতঘোনা এলাকা থেকে পিবিআই’এর পুলিশ পরিদর্শক মেজবাহ উদ্দিন খানের নেতৃত্বে একদল পুলিশ তাকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। সে একই এলাকার বদি আলমের পুত্র।

আটকের সত্যতা নিশ্চিত করে পিবিআই কক্সবাজারের পুলিশ পরিদর্শক মেজবাহ উদ্দিন খান এ প্রতিবেদককে জানান, গত বছরের ২ ফেব্রুয়ারী রাতে রাজাখালী ইউনিয়নের নতুনঘোনা এলাকার মৃত আশকর আলীর ছেলে দেলোয়ার হোসেন প্রকাশ দেলু মেম্বারকে মুঠোফোনে ভোজনভোজে নিমন্ত্রণ জানিয়ে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে পরিকল্পিতভাবে কুপিয়ে হত্যা

এর পরেরদিন নিহতের পুত্র সালাহ উদ্দিন বাদি হয়ে পেকুয়া থানায় ১৮ জনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। যার নং-০২/১৬। ইতিপূর্বে এ মামলা পিবিআই এর কাছে তদন্তভার আসলে আমরা এজাহার নামীয় ২ আসামী ও তদন্তের ভিত্তিতে সিহাব উদ্দিনকে গ্রেফতার করি।




প্রভাব খাটিয়ে ভাইয়ের বসত বাড়ি দখল করেছে যুবলীগ নেতা

পেকুয়া প্রতিনিধি :
পেকুয়ায় রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে আপন ভাইয়ের বসত-ঘর দখল করে নিয়েছে উপজেলা যুবলীগের সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক আনিসুর রহমান বাবুল। এছাড়াও তাঁর ভাই ও পরিবারের উপর তিনি হুমকি অব্যাহত রাখায় ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে ঘরছাড়া হয়েছে ওই পরিবার।

বসত ঘর থেকে উচ্ছেদ হওয়ায় অপর ভাই মো. মহসিন অভিযোগ করে বলেন, আমার বৈধ মালিকানাধীন দখলীয় জমিতে গড়ে তোলা বসতি থেকে আমাকে ও আমার পরিবারকে উচ্ছেদ করে দিয়েছে আমারই বড়ভাই আনিসুর রহমান বাবুল। এ ব্যাপারে আমি রাজাখালী ইউনিয়ন পরিষদে অভিযোগ দায়ের করেছি। যা বর্তমানে চলমান রয়েছে। আমার পিতা মৃত খায়রুজ্জামান থেকে বিএস ১১১ নং খতিযানের ৮৪০৯ দাগের ১৬ শতক জায়গা আমি হেবামূলে প্রাপ্ত হই। কিন্তু গত চারদিন আগে আমার ভাই ওই জায়গা থেকে ঘরসহ ৬ শতক জায়গা দখল করে নিয়ে আমাকে উচ্ছেদ করে।

এদিকে অভিযোগের ব্যাপারে পেকুয়া উপজেলা যুবলীগের সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক আনিসুর রহমান বাবুলের সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর মোবাইল বন্ধ থাকায় বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।




পেকুয়ায় যুবক গুলিবিদ্ধের ঘটনায় থানায় এজাহার দায়ের

pekua_pic_akkas[1]

পেকুয়া প্রতিনিধি:
পেকুয়ায় অনৈতিক কর্র্মকান্ডে বাধা দেওয়ার জের ধরে যুবক গুলিবিদ্ধের ঘটনায় অবশেষে থানায় এজাহার দায়ের করেছে আহত পরিবার। গত ১৮ ফেব্রুয়ারী পেকুয়া উপজেলার বারবাকিয়া ইউনিয়নের ফাঁসিয়াখালী এলাকায় গুলিবিদ্ধের ঘটনায় আহত যুবক আক্কাসের বড় ভাই মোহাম্মদ জাবের বাদী হয়ে ৭ জনকে আসামী করে পেকুয়া থানায় এজাহার জমা দিয়েছেন।

এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১১ ফেব্রুয়ারী ফাঁসিয়াখালী সবজীবন পাড়া এলাকার আমির হোসেনের পুত্র মকছুদুর রহমান আনুমানিক ১১ টার দিকে এক চরিত্রহীন মহিলাকে নিয়ে এসে পূর্ব জালিয়াকাটা এলাকার আবু তাহেরের পুত্র মামুন, মৃত নুরুল কাদেরের পুত্র আবুল কাসেমের গং গুলিবিদ্ধ আক্কাসের শশুর বাড়ির পরিত্যক্ত ঘরে মদ, গাঁজাসহ অসামাজিক কাজকর্মে লিপ্ত হয়।

এ অসামাজিক কাজকর্মে ভিকটিম মোহাম্মদ আক্কাস বাধা দিলে ও প্রতিবাদ করলে তার সাথে আসামীদের কথাকাটাকাটি, হাতাহাতির উপক্রম হয়। এরপর ১ নং আসামী মামুন ভিকটিম আক্কাসকে দেখে নেবে বলে হুমকি ধমকি দিয়ে বাড়ি চলে যায়।

এ দিকে ভিকটিম মো: আক্কাস প্রতিদিনের ন্যায় তার কর্মস্থল থেকে রাত ১০ টার দিকে বাড়িতে ফিরলে পূর্ব জালিয়াকাটা এলাকার আবু তাহেরের পুত্র মো: মামুন, মৃত নুরুল কাদের পুত্র আবুল কাসেম ওই ভিকটিম আক্কাসের পিছু নেয়। ওই সময়ে ভিকটিম মোহাম্মদ আক্কাস পেকুয়া বাজার থেকে জালিয়াকাটা এলাকার আবু তাহেরের সীমানা অতিক্রম করলে পূর্ব জালিয়াকাটা এলাকার আবু তাহেরের পুত্র মো: মামুন, মৃত নুরুল কাদেরের পুত্র আবুল কাসেম গং ওই আক্কাসকে ধরে টানা হেচঁড়া করে পরে তাকে লক্ষ্য করে অবৈধ অস্ত্র দিয়ে তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে পিঠে, কোমরে ও পায়ে গুলি করে পালিয়ে যায়।

এ সময় সন্ত্রাসীরা তাকে লক্ষ্য করে তিন রাউন্ড গুলি ছুড়ে। আহত আক্কাসের আত্মচিৎকারে এলাকার লোকজন এগিয়ে এলে সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যায়। তারা তাকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় উদ্ধার করে পেকুয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। গুলিবিদ্ধ আক্কাসের অবস্থা গুরুতর দেখে কর্তব্যরত ডাক্তার তাকে চমেক হাসপাতালে প্রেরণ করে। বর্তমানে গুলিবিদ্ধ আক্কাস চমেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

এ ব্যাপারে পেকুয়া থানার অফিসার ইনচার্জ জিয়া মোহাম্মদ মোস্তাফিজ ভূইয়া এজাহার পাওয়ার সত্যতা স্বীকার করেন এবং এজাহার রেকর্ড হলে দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান।




পেকুয়ায় জাতীয় পার্টির নির্ধারিত সভা হয়নি!

পেকুয়া প্রতিনিধি:
কক্সবাজারের পেকুয়ায় ইউনিয়ন জাতীয় পার্টির নির্ধারিত সভা হয়নি। এনিয়ে এলাকায় তীব্র মিশ্র প্রতিক্রিয়া বিরাজ করছে। ঘটনাটি ঘটেছে, গত শুক্রবার সকাল ১১টায় উপজেলার শিলখালী ইউনিয়নে। জানা যায়, উপজেলা জাতীয় পার্টির সাংগঠনিক কর্মসূচীর অংশ হিসাবে শুক্রবার সকাল ১১টায় স্থানীয় ইউনিয়ন জাতীয় পার্টি ও অংঙ্গ সহযোগী সংগঠনের বর্ধিত সভা অনুষ্টানের কথা ছিল।

এনিয়ে ইউনিয়ন জাতীয় পার্টির সভাপতি মোঃ আলম ফরায়েজীর নেতৃত্বে ব্যাপক প্রচার প্রস্তুতি চালান। ঘটনার দিন সেখানে গিয়ে দেখা যায় যে, ইউনিয়ন জাতীয় পার্টির সভাপতি মোঃ আলম ফরায়েজীর নেতৃত্বে কয়েকজন মহিলা সহ ৭/৮জন লোক দৌড়ঝাঁফে ব্যস্ত থাকলেও ইউনিয়ন জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক মোঃ কায়সার হামিদ সিদ্দিকীর নেতৃত্বের লোকজন নির্ধারিত সভা পন্ড প্রতিরোধের প্রস্তুতিতে অবস্থান গ্রহন করে।

এক পর্যায়ে উপজেলা পর্যায়ের নেতৃস্থানীয়রা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়েও দু’পক্ষের মধ্যে কোন সমঝোতা করতে ব্যর্থ হন। ফলে, ওইদিন শিলখালী ইউনিয়ন জাতীয় পার্টির নির্ধারিত সভা হয়নি।

এ ব্যাপারে পেকুয়া উপজেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি এস এম মাহাবুব ছিদ্দিকী ও সাধারণ সম্পাদক বিডিআর(অবঃ) মোঃ জাহাঙ্গীর আলমের কাছে এ বিষয়ে জানতে যোগাযোগ করলে তারা ফোন রিসিভ করেননি।




পেকুয়ার সংরক্ষিত বনাঞ্চলে ড্রেজিং মেশিনে বালি উত্তোলন, প্রশাসন নীরব

বিপুল পরিমাণ রাজস্ব বঞ্চিত এবং হুমকির মুখে পরিবেশ ও জীব বৈচিত্র!

pic 18-02-2016 (2)

পেকুয়া প্রতিনিধি:
কক্সবাজারের পেকুয়ার সংরক্ষিত বনাঞ্চলে ড্রেজিং মেশিন বসিয়ে মূল্যবান খনিজ সম্পদ বালি উত্তোলন আহরণ পাঁচার বানিজ্যে মেতেছে উঠেছে প্রভাবশালীরা। এতে সরকার শুধু বিপুল পরিমাণ রাজস্ব বঞ্চিত হওয়ার পাশাপাশি পরিবেশ ও জীব বৈচিত্রকে হুমকির মুখে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে বলে অভিমত পরিবেশবাদীদের।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ৭ ইউনিয়নের পেকুয়া উপজেলায় ৩-৩টি ইউনিয়ন যথাক্রমে টইটং, বারবাকিয়া ও শিলখালী ইউনিয়নে রয়েছে বিস্তির্ণ বনাঞ্চল। চট্টগ্রাম দক্ষিণ বন বিভাগের অধিন বারবাকিয়া রেঞ্জভুক্ত হিসাবে পরিচিত ৩ ইউনিয়নের সংরক্ষিত বনবিভাগের সহায় সম্পদের দেখভালোয় রয়েছে টইটং, বারবাকিয়া ও পহরচাঁদা নামের ৩টি বনবিট।

গতকাল টইটং ও বারবাকিয়া বনবিট এলাকা সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, ওই এলাকার সংগ্রামেরজুম, আরগিল্লারদারা ও তৎসংগ্লন্নে সংরক্ষিত বনবিভাগের ছড়াগুলোয় পৃথক পৃথক সিন্ডিকেটের লোকজন বালি উত্তোলনের একাধিক ড্রেজিং মেশিন বসিয়ে অপরিকল্পিত ভাবে মূল্যবান পাহাড়ী খনিজ সম্পদ উত্তোলন আহরণ পাঁচার বাণিজ্যে মেতে উঠেছে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়রা এ ঘটনায় জড়িতদের নাম জানাতে অপারগতা প্রকাশ করে বলেন, বালিদূস্যতায় জড়িতদের নাম প্রকাশের ঘটনা টের পেলে অভিযুক্তরা তাদের শুধু নানা ভাবে শোষন হয়রানীই নয় প্রয়োজনে খুন গুমও করতে পারে। সংরক্ষিত বনাঞ্চলে পৃথক ৪/৫টি সিন্ডিকেটে বালি উত্তোলনের অবৈধ ড্রেজিং মেশিন বসিয়ে মূল্যবান এ খনিজ সম্পদ আহরণ পাঁচার বানিজ্যে মাতলেও নাম পাওয়া গেছে ২টি চক্রের।

এরা হলেন যথাক্রমে টইটং ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের ধনিয়াকাটা পূর্ব আবদুল্লাহপাড়া এলাকার মৃত আজিজুর রহমানের পুত্র মোঃ আবদুল জব্বার প্রকাশ সন্নাসী জব্বার। আর তার সাথে রয়েছে একই এলাকার মোঃ কালুর পুত্র মোহাম্মদ রফিক।

এছাড়া পৃথক আরেকটি ক্ষমতাধর সিন্ডিকেটের নেতৃত্ব দিচ্ছেন বারবাকিয়া ইউনিয়নের পাহাড়ীয়াখালী এলাকার জাফরের পুত্র বর্তমান মেম্বার মোঃ জাহাঙ্গীর আলম প্রকাশ বনরাজা জাহাঙ্গীরের ছোট ভাই মোঃ আলমগীর প্রকাশ ডাকাত আলমগীর। বনবিভাগের সংরক্ষিত রিজার্ভ পাহাড়ী লোকালয়ের বিভিন্ন পয়েন্টে ড্রেজিং মেশিন বসিয়ে অপরিকল্পিত বালি উত্তোলন আহরণ পাঁচার বানিজ্যের কারণে সেখানকার পাহাড় টিলাগুলোয় দেখা দিয়েছে ছোট বড় বিপদজনক ফাটল।

এছাড়াও সেখানে উত্তোলিত বালি পাঁচারে পাহাড় কেটে রাস্তা নির্মান করায় বন জীব বৈচিত্র রক্ষার পরিবেশও পড়েছে হুমকির মুখে। বনবিভাগের সংরক্ষিত রিজার্ভ পাহাড়ি লোকালয়ে ড্রেজিং মেশিন বসিয়ে অপরিকল্পিত বালি উত্তোলনের ফলে সেখানকার বন পরিবেশে দেখা দিয়েছে নানা ধরনের বিপর্যয়।

এ সব বিষয়ে, বনবিভাগের লোকজনের কাছে জানতে চাইলে তারা নিজেদের ঢাল তলোয়ার বিহীন নিধিরাম সর্দ্দার উল্লেখ করে বলেন, পর্যাপ্ত অস্ত্র ও জনবল সংকট ছাড়াও স্থানীয় প্রশাসনের সার্বক্ষনিক সহযোগিতার অভাবে ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে মামলা রুজু ছাড়া তাদের পক্ষে অপরাধীদের ধরে বিচারাদালতে সৌপর্দ্দ সম্ভব হয় না বলে দিন দিন তারা বেপরোয়া হয়ে পড়ছে।

এ ব্যাপারে পেকুয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ মাহাবুব উল করিমের কাছে জানতে চাইলে বিষয়টি কেউ তাকে অবহিত করেনি বলে জানান। তিনি আরো জানান সংরক্ষিত বনাঞ্চলে বালি দূস্যতা বন্ধে বন বিভাগের পক্ষ থেকে সহযোগিতা চাইলে প্রয়োজনে তিনি স্বঃশরীরে পরিদর্শনে গিয়ে আইনানূগ ব্যবস্থা নেবেন।




পশুর সাথে এ কেমন শত্রুতা!

pic pekua 18-2-2017

পেকুয়া প্রতিনিধি:
পশুর সাথে মানুষের এ কেমন শত্র“তা। পশুরা বুঝে না কিছু কোথায় যেতে হবে যেতে হবে না। এটি কার ফসলী জমি না পরিত্যক্ত জমি তা বুঝে না। তাই বলে কি ভাতে বিষ মিশ্র করে দিয়ে এভাবে নির্বিচারে ৪০টির চেয়ে বেশি হাঁস নিধন করতে হয়। যারা এসব নেক্কার জনক ঘটনা ঘটিয়েছে তারা পশুর চেয়ে অদম। এ ধরণের ঘটনা ঘটেছে পেকুয়া উপজেলার সদর ইউনিয়নের হরিনাফাঁড়ি এলাকায়।

স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদূর্শী এবং ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারের পক্ষে ফোরকান জানায় ওই দিন বিকাল ৪ টায় একই এলাকার নুরুল কবিরের পুত্র ফোরকান ও রাশেদা বেগমের মালিকানাধীন ৩০-৪০টি হাঁস বাড়ীর পার্শ্ববর্তী একটি পরিত্যক্ত জায়গায় বিচরণ করে। প্রতিদিনের ন্যায় ঘটনার দিন ও বিচরণ করতে যায়। কিন্তু একই এলাকার মৃত বজল আহমদের পুত্র নাছির ও বেলাল প্রতিহিংসা পরায়ন হয়ে পূর্বশত্র“তার জের ধরে ভাতে বিষ মিশ্র করে হাঁস গুলোকে খাবার দেয়। হাঁসগুলো বিষ মিশ্র করা ভাতগুলো খেয়ে ওখানে মারা যায়।

পরে ক্ষতিগ্রস্থ পরিবার মামলা করার প্রস্তুতি নিলে স্থানীয় সেলিম মিস্ত্রী প্রকাশ নোয়াখায়ল্যা সেলিম প্রতিপক্ষ থেকে মোটাংকের টাকা নিয়ে ধামা চাপা দেওয়ার চেষ্টা করে। এ ব্যাপারে অভিযুক্ত সেলিম মিস্ত্রীর কাছ থেকে জানতে চাইলে সে ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে এবং টাকা নিয়ে ম্যানেজের বিষয়টি এড়িয়ে যায়।