পেকুয়ায় যৌতুকের দাবীতে গৃহবধুর উপর অমানবিক নির্যাতন


পেকুয়া প্রতিনিধি:
পেকুয়ায় যৌতুকের দাবীতে রোজিনা আক্তার (২০) নামের এক গৃহবধু নির্যাতনের শিকার হয়েছে। ওই গৃহবধু স্বামী, দেবর, ননদ ও শাশুড়ির মারধরে গুরুতর আহত হয়ে বর্তমানে হাসপাতালে শয্যাশায়ী হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৫ আগস্ট) সকাল ৮টার দিকে উপজেলার টইটং ইউনিয়নের ধনিয়াকাটা পূর্ব পাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয়রা জানান, বশির আহমদের পুত্র ওয়াহিদ মিয়ার সাথে দুইবছর আগে বিয়ে হয় একই এলাকায় জামাল হোসেনের মেয়ে রোজিনা আক্তারের। তাদের সংসার জীবনে ফাহিম উদ্দিন নামের ১১ মাস বয়সী এক শিশুপুত্র রয়েছে। বিয়ের প্রথম একবছর সংসার সুখে কাটলেও সম্প্রতি যৌতুকের দাবীতে গৃহবধূর উপর নির্যাতন শুরু করে স্বামী।

গৃহবধূর পিতা জামাল হোসেন জানান, দুইবছর আগে মেয়ে বিয়ে দেওয়ার সময় দেড় লাখ টাকা দিয়েছিলেন পাত্রপক্ষকে। যৌতুকের লোভে নির্যাতন শুরু করলে মাস তিনেক আগেও মেয়ের সুখের আশায় আরো পঞ্চাশ হাজার টাকা মেয়ের জামাইকে দেন গাছ ব্যবসায়ী এ পিতা। তারপরেও থামেনি মেয়ের উপর নির্যাতন। পাঁচদিন আগেও মারধর করা হয় গৃহবধূ রোজিনাকে। তার স্বামী ওয়াহিদ মিয়া (৩০), ননদ শেফাইদা (১৯), শাশুড়ি রোকেয়া বেগম (৫০) ও দেবর আহমদ কবির (২৮) মিলে বুধবার সকালে বেধড়ক পিটিয়ে গুরুতর আহত করে।

স্থানীয় ইউপি সদস্য জাহাঙ্গীর ও গৃহবধূর পিতা গিয়ে গৃহবধূর শাশুড় বাড়ীর গোয়ালঘর থেকে আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন। এ ব্যাপারে তিনি আইনগত ব্যবস্থা নিবেন বলেও জানান।




অস্ত্র ও গুলিসহ পেকুয়া উপজেলা যুবলীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদের সদস্যসহ গ্রেফতার ৫

কক্সবাজার প্রতিনিধি:

কক্সবাজারের পেকুয়ায় র‌্যাবের অভিযানে জেলা পরিষদের সদস্য ও উপজেলা যুবলীগের সভাপতি জাহাঙ্গীর আলমসহ ৫ সহোদরকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এসময় ৩টি অস্ত্র, ১০ রাউন্ড গুলি ও নগদ ১৭ লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়।

রোববার সকালে পেকুয়া উপজেলার সদর ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের নিজ বাড়ি থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃত জাহাঙ্গীর আলম পেকুয়া উপজেলা যুবলীগের সভাপতি ও কক্সবাজার জেলা পরিষদের সদস্য।

গ্রেফতারকৃত জাহাঙ্গীর আলমের অপর ৪ সহোদর হলো আলমগীর, আজমগীর, কাইয়ুম ও ওসমান সরওয়ার। গ্রেফতারকৃতদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে আদালতের গ্রেফতারি পরোয়ানা রয়েছে।

র‌্যাব-৭ কক্সবাজার ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার মেজর মো. রুহুল আমিন জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পেকুয়ায় জেলা পরিষদের সদস্য জাহাঙ্গীর আলমের বাড়িতে অভিযান চালানো হয়। সকালে ওই বাড়ি ঘেরাও করে তল্লাশী করে নগদ ১৭ লাখ টাকা, দেশীয় তৈরী ৩টি বন্দুক ও ১০ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়।




পেকুয়ার উজানটিয়ায় ৪ দিন ধরে বিদ্যুৎ নেই, জনদুর্ভোগ চরমে

 

পেকুয়া প্রতিনিধি:

পেকুয়া উপজেলার উজানটিয়া ইউনিয়নে ৪ দিন ধরে পল্লী বিদ্যুৎ নেই। ফলে জনদুর্ভোগের সৃষ্টি হয়েছে। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ৯ আগস্ট পেকুয়া সদর ইউনিয়নের জালিয়াখালী মটকাভাঙ্গা এলাকায় পল্লী বিদ্যুতের একটি খুঁটি মাটিতে পড়ে যায়। এ থেকে উজানটিয়া ইউনিয়নের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয় পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পল্লী বিদ্যুতের অফিসের লোকজন পল্লী বিদ্যুতের খুঁটিগুলো খুব নিচু করে বসায়। যার কারণে টানা বৃষ্টিতে নদীতে পানি বেড়ে যাওয়ায় পল্লী বিদ্যুতের তারের উপর দিয়ে চলাচল করে বোট। এ বোটের নোঙ্গরে ছিড়ে যায় পল্লী বিদ্যুতের সংযোগ তার। এ থেকে বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ হয়ে থাকে পুরো উজানটিয়া ইউনিয়নে।

এলাকাবাসীর অভিযোগ পল্লী বিদ্যুতের কর্মকর্তা কর্মচারীরা চরম অবহেলা করে দায়সারা ভাবে খুঁটিগুলো এমন নিচে বসিয়েছে নদীতে পানি বৃদ্ধি পাওয়ার সাথে খুটি ও তার পানিতে ডুবে যায়।

উজানটিয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা ও কক্সবাজার জজ কোটের আইনজীবি এড. মীর মোশাররফ হোসেন টিটু এ প্রতিবেদককে, জানান পল্লী বিদ্যুতের কর্মকর্তা কর্মচারীদের অবহেলার কারণে উজানটিয়া ইউনিয়নে বার বার বিদ্যুতের খুঁটি পড়ে যায় না হয় সংযোগ তার ছিড়ে যায়। এসব বিষয় নিয়ে পল্লী বিদ্যুতের উর্ধ্বতন থেকে শুরু করে উপজেলা পর্যায়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের কে বিষয়টি অবগত করলেও কোন সুরাহ হয় না। তারা দায়সাড়াভাবে জবাব দেয়।

পল্লী বিদ্যুতের খুঁটি মাটিতে পড়ে যাওয়ার বিষয় নিয়ে পেকুয়া উপজেলা ইনচার্জ খোরশেদ সাহেবকে জানানো হলে তিনি মেরামতের জন্য লোক যাচ্ছে যাচ্ছে বলে কালক্ষেপন করতে থাকে।

এ ব্যাপারে পেকুয়া পল্লী বিদ্যুতের ইনচার্জ খোরশেদ আলমের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বিষয়টি জানেন এবং দ্রুত মেরামত করে দেওয়া হবে বলে জানান।




পেকুয়ায় কৃতি শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষা বৃত্তি বিতরণ

পেকুয়া প্রতিনিধি:
পেকুয়ায় কৃতি শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষা বৃত্তি প্রদান করছে উপজেলা পরিষদ। ১০ আগষ্ট উপজেলা পরিষদ হলরুমে উপজেলা পরিষদের বরাদ্দ থেকে উপজেলার প্রাথমিক সমাপনী, এবতেদায়ী, জে এস সি/জেডিসি, এস এস সি/ দাখিল পরীক্ষায় এ প্লাস পেয়ে কৃতিত্বের স্বাক্ষর রেখেছে তাদের উপজেলা পরিষদ এর পক্ষ থেকে শিক্ষা বৃত্তি প্রদান করা হয়।

উপজেলা পরিষদ সূত্রে জানায়, এস এস সি/ দাখিল পরীক্ষায় ২০ জনকে   জনপ্রতি ১ হাজার ৮ শত টাকা করে, জে এস সি/জেডিসি পরীক্ষায় ৯৮ জনকে ১ হাজার ৬ শত টাকা, প্রাথমিক সমাপনী/এবতেদায়ী পরীক্ষায় ১৪৮ জনকে ১ হাজার ৪ শত টাকা করে বৃত্তির নগদ অর্থ প্রদান করেন। মোট ২৬৬ জন শিক্ষার্থীকে নগদ ৪ লক্ষ টাকা প্রদান করা হয়। বিতরণ প্রদান অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা চেয়ারম্যান শাফায়েত আজিজ রাজু, উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা লিয়াকতসহ বিভিন্ন প্রতিষ্টানের শিক্ষকরা।




পেকুয়ায় দু’ভাইয়ের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ : মহিলাসহ আহত-৭

পেকুয়া প্রতিনিধি:

পেকুয়া উপজেলা বারবাকিয়া ইউনিয়নের বারাইয়্যাকাটা এলাকায় জমি বিরোধের জের ধরে আপন দু’ভাইয়ের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে মহিলাসহ ৭ জন আহত হয়েছে। আহতেরা হলেন, মৃত আবুল খায়ের এর পুত্র হাজ্বি কালু (৭০), তার স্ত্রী রোকেয়া বেগম(৩৫), পুত্র ওসমাণ ফারুক (২৫), ভাই রহিম দাদ (৬৫) কামরুন্নাহার (২৫), মইরা বেগম (৫০), হাছিম আলী (৩৫)।

ঘটনাটি ঘটেছে, বৃহস্পতিবার (১০ আগষ্ট) সন্ধ্যা ৭টায় বারবাকিয়া ইউনিয়নের বারাইয়্যাকাটা রাস্তার মাথা এলাকায়। আহতেরা মারাত্মক আহত হওয়ায় পেকুয়া সরকারী হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক চট্টগ্রাম মেডিকেল হাসপাতালে রেফার করেন।

স্থানীয় লোকজন বলেন, তিন শতক জমি নিয়ে স্থানীয় মোহাম্মদ কালুর সঙ্গে রহিমদাঁদের বিরোধ চলছিল। এনিয়ে থানা ও ইউপি কার্যালয়ে বৈঠক হলে কালুর পক্ষে রায় দেন শালিসকারকেরা। এতে রহিমদাঁদের লোকজন ক্ষিপ্ত হয়ে ওই জমিতে ধানের চারা রোপন করতে গেলে কালুর লোকজন বাধা দেন। একপর্যায়ে রহিমদাঁদ ও তাঁদের লোকজন কালুর লোকজনের ওপর হামলা করে। এতে কালুর মাথা, ঘাড়ে ও পিটে পাঁচটি দা’য়ের কোপ পড়ে। অন্যান্যরা কম-বেশি আহত হন। পরে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এসে আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে।

পেকুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জহিরুল ইসলাম খান বলেন, হামলার খবর শুনে পুলিশ পাঠানো হয়। আহতদের চিকিৎসা চলছে। লিখিত অভিযোগ দিলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




পেকুয়ায় স্বেচ্ছাসেবকদল দুই নেতাকে অপহরণের ৬ ঘন্টা পর উদ্ধার

পেকুয়া প্রতিনিধি:
পেকুয়া উপজেলা স্বেচ্ছাসেবকদলের ২ নেতাকে অপহরণের ৬ ঘন্টা পর আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। জানাযায়, বৃহস্পতিবার সকাল ৭ টায় পেকুয়া থেকে চট্টগ্রাম যাওয়ার পথে মইজ্যারটেক এলাকা থেকে তারা অপহৃত হন।

অপহৃতদের স্বজনদের সাথে কথা বলে জানাযায়, পেকুয়া উপজেলা স্বেচ্ছাসেবকদলের আহবায়ক আহসান উল্লাহ ও ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবকদল নেতা আতিক উল্লাহ ভোর ৫ টার দিকে করিমের মালিকানাধীন সিএনজি নিয়ে পেকুয়ার উত্তর মেহেরনামাস্থ বাড়ী থেকে চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেয়।

উদ্ধার হওয়া স্বেচ্ছাসেবকদল দল নেতা আহসান উল্লাহ ফোনে এ প্রতিবেদককে জানান, তারা সকাল ৭ টার দিকে চট্টগ্রামের মইজ্জারটেক এলাকায় পৌঁছালে বৃষ্টি শুরু হয়। এরই মধ্যে তিনজন লোক মোটর সাইকেলে করে পেছনদিক থেকে এসে তাদের গতিরোধ করে দুজন সিএনজিতে উঠে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে সিএনজি সহ পটিয়ার দিকে নিয়ে যায়। প্রায় একঘন্টা সিএনজি চালানোর পর একটি পাহাড়ী এলাকায় সিএনজি রেখে ছড়া পার করে পায়ে হেঁটে তাদেরকে একটি পরিত্যক্ত ঘরে নিয়ে বেঁধে রাখে। এসময় সিএনজি ড্রাইভার করিমকে জিম্মি করে রাখে তারা।

এরই মধ্যে অপহরণকারীদের সাথে যুক্ত হয় অপহরণকারীদের আরো ৫ সদস্য। ভয়ার্ত কন্ঠে আহসান উল্লাহ বলেন, কয়েকঘন্টা ধরে আমি ও আতিকুল্লাহকে শারিরীকভাবে নির্যাতন করার পর কাপড় চোপড় খোলে চোখ বেঁধে ফেলা হয়। আমাদের দুজনকে হাফপ্যান্ট পরিয়ে দেয় তারা। এরপর আমাদেরকে বলা হয়, মরার জন্য প্রস্তুতি নিতে।

তিনি বলেন, এসময় অপহরণকারীদের কয়েকজন রামদা ও অস্ত্র নিয়ে এসে আমাদেরকে জবেহ করে দেয়ার প্রস্তুতি নেয়। আমি তখন হাউমাউ করে কেঁদে তাদের পায়ে ধরে জীবন ভিক্ষা চাই। তাদেরকে বলি আমি নতুন বিবাহিত। আমার স্ত্রী সন্তান সম্ভাবা। আমার যা আছে সব নিয়ে নাও আমার জীবনটা ভিক্ষা দাও। এরই মধ্যে আতিকউল্লাহর কাছে থাকা এনসিসি ব্যাংকের একটি ৪০ হাজার চেক পেয়ে তা ১১টা ৩৫ মিনিটের সময় ব্যাংকটির পটিয়া শাখা থেকে তুলে নেয় তারা। আতিকউল্লাহ জানান, চেকটি তার বোন জামাইকে দেয়ার জন্য চট্টগ্রাম নিয়ে যাচ্ছিলেন তিনি।

তারা জানান, এসময় তাদের কাছে থাকা টাকা, মোবাইল নিয়ে কাপড়চোপড় গুলো ফেরত দেয় অপহরণকারীরা। এদিকে অপহৃতদের স্বজনরা সকাল ১০ টার দিকে ঘটনা জানতে পেরে আনোয়ারা থানাকে বিষয়টি অবহিত করলে তারা খোঁজ নিচ্ছেন বলে স্বজনদের জানান। পরে অপহরণকারীরা তাদেরকে পটিয়ার একটি রাস্তায় ছেড়ে দিয়ে পালিয়ে যায়। পরে তারা স্থানীয়দের সহায়তায় চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মেইন রোড়ে এসে চট্টগ্রামের বাসায় চলে যায়।

এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে পেকুয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) মনজুরুল কাদের জানান যেহুতু ঘটনা আমাদের এলাকায় হয়নি সেহুতু বিষয়টি আনোয়ারা থানাকে অবহিত করা হয়েছে।

এ বিষয়ে আনোয়ারা থানার অফিসার ইনচার্জ দুলাল মাহমুদের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, আমি বিষয়টি শুনে সংবাদদাতাদের তথ্য অনুযায়ী নিজেই চাতুরী চৌমুহনী অভিযান চালিয়েছিলাম কিন্তু ঘটনার কোন আলামত পাইনি। পরে শুনলাম তাকে পটিয়ায় পাওয়া গেছে।




কুতুবদিয়া-ছনুয়া চ্যানেল ইয়াবা চালানের নতুন ট্রানজিট

পেকুয়া প্রতিনিধি:

ইয়াবা চালানের নুতুন ট্রানজিট হিসাবে বেছে নিয়েছে কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার পাশ্ববর্তী উপজেলা বাশঁখালীর ছনুয়া ও কুতুবদিয়া।এ চ্যানেল দিয়ে দেদারছে পাচার করছে পেকুয়া উপজেলার ইয়াবা ট্রানজিট জোন হিসেবে খ্যাত রাজাখালী ইউনিয়নের বকশিয়া ঘোনা ও সুন্দরী পাড়া এলাকার ইয়াবা ব্যবসায়ীরা। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদারকির অভাবের সুযোগে এ ব্যবসার মাধ্যমে ওইসব এলাকার প্রায় অর্ধ ডজনাধিক ব্যক্তি রাতারাতি বনে গেছেন কোটিপতি।

কিন্তু স্থানীয়দের অভিযোগ, এ পয়েন্ট দিয়ে ইয়াবা পাচার অব্যাহত থাকলেও অদৃশ্য কারণে ব্যবস্থা নিচ্ছে না সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। স্থানীয় কিছু অসাধু ট্রলার মালিক অধিক লাভের আশায় জড়িয়েছেন এ অবৈধ কাজে। অভিনব কৌশলে পাচারকারীরা ইয়াবা পাচার অব্যাহত রাখায় তা বরাবরই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখের আড়ালে রয়ে গেছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, গভীর সাগরে মাছ ধরতে যাওয়া ট্রলারের নামে উপকূলে নিয়ে আসা হয় ইয়াবার চালান। উপকূলের ছনুয়া চ্যানেল থেকে ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ ও ঝালকাঠি সহ দেশের বিভিন্ন স্থানে লবণ নিয়ে যাওয়া কার্গো ট্রলারে তুলে দেয়া হয় এসব ইয়াবা চালান। যা অত্যন্ত নিরাপদভাবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে পৌঁছে যায় গন্তব্যে স্থানে।

রাজাখালী ইউনিয়নের ইয়াবা কারবারের মূল নিয়ন্ত্রকের ভূমিকা পালন করেন উত্তর সুন্দরী পাড়া এলাকার আব্দুল মালেকের পুত্র আনছারুল ইসলাম টিপু। কোন জমিদার বংশের উত্তরাধিকারী না হলেও রাজার হাল তার। তার পিতা আব্দুল মালেকও একজন চোরাকারবারী ছিলেন বলে স্থানীয় প্রবীণরা জানান। পিতার আয়কৃত কালো টাকা দিয়ে অবৈধ ব্যবসা করে মালিক হয়েছেন কাড়িকাড়ি টাকা ও অঢেল সম্পদের। এ ব্যবসায় তার সহযোগীরাও হয়েছেন আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ।

ইয়াবা সম্রাট টিপুর সেকেন্ড ইন কমান্ড হিসেবে পরিচিত জালাল আহমদ হয়েছেন গাড়ি, বাড়ি ও বেশ কয়েকটি ট্রলারের মালিক। জালাল আহমদের পিতা মোহাম্মদ শরিফ ছিলেন এলাকার নিতান্ত গরিব শ্রেণির মানুষ। একবছর আগেও জালাল উদ্দিন অন্যের ট্রলারে মজুরি করতেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয়রা বলেন, তাদের এ ইয়াবা পাচার সিন্ডিকেটে যুক্ত আছেন সুন্দরী পাড়া এলাকার মৃত শরীফের ছেলে আফজাল কবির, তার ছেলে শামসু, জসিম, মৃত ছিদ্দিক আহমদের ছেলে গিয়াস উদ্দিন খোকা, উলা মিয়ার ছেলে জামাল, বদরুল আলমের ছেলে মিজান, রাজ্জাক মাঝির ছেলে মাহাবু, মো. গোলাম শরীফের ছেলে আব্দুল মাবুদ, জালাল আহমদের ছেলে ফয়সাল, মৃত ফজল আহমদের ছেলে সাজ্জাদ, আবুল কাশেমের ছেলে শমসু, বকশিয়া ঘোনা এলাকার ছৈয়দ নূরের পুত্র মনছুর, জকরিয়া, আমিন শরিফের ছেলে আহমদ ছবি, আলী আহমদের পুত্র আক্তার কামাল ও নবী হোছেনের ছেলে এবং চিহ্নিত মানব পাচারকারী আব্দুল মজিদ। এছাড়াও ইয়াবা ব্যবসায় জড়িত রয়েছে ইউনিয়নের উলাদিয়া পাড়ার মৃত আমির হামজার ছেলে জামাল, চড়ি পাড়ার আছদ আলী মাঝির ছেলে জাফর মাঝি, বামলা পাড়া এলাকার মৃত গোলাম নবীর ছেলে বদি আলম, শাহ আলমের ছেলে মো. আলম ও সিকদার পাড়া এলাকার আমির হামজার ছেলে জামাল।

স্থানীয়রা আরো জানান, মো. জাকারিয়ার মালিকানাধীন এফবি রাবেয়া ও এমবি তামিম, আব্দুল মালেকের মালিকানাধীন এফবি নজরুল ও এমবি খোকা-২, রুহুল আমিনের মালিকানাধীন এফবি আকিব, গিয়াস উদ্দীন খোকা মালিকানাধীন এফবি জারিত এবং আনছারুল ইসলাম টিপুর মালিকানাধীন এমবি খোকা-১ ইয়াবা পাচার কাজে জড়িত রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, ইয়াবা ব্যবসায় জড়িতদের ব্যাপারে যথাযথ তদন্তের মাধ্যমে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হোক।

এ ব্যাপারে আনছারুল ইসলাম টিপুর সাথে যোগাযোগ করার জন্য ওনার ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরে কল দিয়ে সংযোগ না পাওয়ায় বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

পেকুয়া থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মনজুর কাদের মজুমদার বলেন, পেকুয়া থানা পুলিশ ইতিমধ্যে ইয়াবার বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স ঘোষণা করেছে। রাজাখালীতে ইয়াবা পাচারের বিষয়ে আমাদের জানা ছিল না। ছনুয়া চ্যানেল এলাকায় নজরদারি বাড়ানো হবে। ইয়াবা ব্যবসায় যে বা যারা জড়িত থাকুক। কাউকে ছাড় দেয়া হবে না।




ব্যানার লাগাতে গিয়ে পেকুয়ায় বিদ্যুৎ স্পৃষ্টে এক স্কুল ছাত্র আহত

পেকুয়া প্রতিনিধি:
পেকুয়ায় ব্যানার লাগাতে গিয়ে বিদ্যুৎ স্পৃষ্ট হয়ে এক স্কুল ছাত্র গুরুত্বর আহত হয়েছে। ৮ আগষ্ট বিকাল ৩টায় পেকুয়া চৌমুহনী স্টশনের ফুলকলির ছাদে এ ঘটনা ঘটে।

আহত স্কুল ছাত্রের নাম মো. অপু(১৫), সে সদর ইউনিয়নের মছিন্যাকাটা এলাকার মহিউদ্দিনের পুত্র ও পেকুয়া মডেল জি এম সি ইনষ্টিটিউশনের নবম শ্রেণীর ছাত্র।

প্রত্যক্ষদূর্শীসূত্রে জানা যায়, উপজেলা ছাত্রলীগের এক নেতা কে অভিনন্দন জানানো ব্যানার রাস্তার উপর রশি দিয়ে টাঙ্গানোর জন্য ফুলকলি ভবনের ছাদে উঠে এ সময় পল্লী বিদ্যুৎ ৩৩ হাজার ভোল্টের খুটি লাগানো ছিল। হঠাৎ অসাবধানতার কারণে ওই স্কুল ছাত্র পল্লী বিদ্যুতের তারে জড়িয়ে যায় এসময় পল্লী বিদ্যুৎ ঘটনার খবর পেয়ে সংযোগ লাইন বন্ধ করলে সাথে সাথে ওই ছাত্রকে ছেড়ে দেয়।

এসময় তাকে উদ্ধার না করে ঘটনাটি অবাক হয়ে চেয়ে তাকে। এক পর্যায়ে স্থানীয় সাংবাদিক ফারুক দ্রুত ছাদে উঠে আহত স্কুল ছাত্রকে উদ্ধার করে পেকুয়া সদর হাসপাতালে ভর্তি করলে কর্তব্যরত ডাক্তার আহত স্কুল ছাত্রের অবস্থার অবনতি দেখে দ্রুত চমেকে প্রেরণ করে। এ রির্পোট লেখা পর্যন্ত তার অবস্থার উন্নতি হয়েছে বলে পরিবারসূত্রে জানা গেছে।




রামপুর চিংড়ী জোনে আন্তর্জাতিক প্রতিনিধিদল


পেকুয়া প্রতিনিধি:
বর্তমানে স্বাভাবিক ও গতানুগতিক পদ্ধতিতে যেখানে এক একরে ১০০-১৫০ কেজি চিংড়ী উৎপাদন হয় সেখানে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে চাষ করলে একর প্রতি সাড়ে ৩ হাজার কেজীর বেশী চিংড়ী উৎপাদন করা সম্ভব। কক্সবাজারের খুরুষ্কুলে একটি পাইলট প্রকল্পে সফলতার পর এবার দেশের বৃহত্তম মৎস্য প্রজেক্ট এরিয়া রামপুর চিংড়ী জোনে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে নিরাপদ চিংড়ী চাষের সম্ভাব্যতা যাঁচাইয়ে পরিদর্শনে এসেছে একটি আন্তর্জাতিক প্রতিনিধিদল। রবিবার তারা রামপুরের ১০ একর, ১১ একর প্রকল্প ও মৎস্য অধিদপ্তরের প্রদর্শনী চিংড়ী খামার সহ বিভিন্ন প্রজেক্ট পরিদর্শন করেন।

ন্যাশনাল স্যানিটেশন ফাউন্ডেশন ও ইন্টারন্যাশনাল ফুড প্লানিং রিসার্স ইনষ্টিটিউশনের কান্ট্রি ডিরেক্টর মি. ক্রেইগ এ মেইজনার এ প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন। তাদের সাথে ছিলেন, বাংলাদেশ ফুজেন ফুডস এক্সপোর্টস এসোসিয়েশনের সাবেক সহ-সভাপতি মাহমুদুল হাসান, বর্তমান সেক্রেটারী জেনারেল এস এম মোরশেদ জাফর, পরিচালক ও দৌদুল কুমার দত্ত, ১১ একর চিংড়ী চাষ প্রকল্পের সাধারন সম্পাদক সৈয়দ নুরুল আকবর, ১০ একর চিংড়ী চাষ প্রকল্পের সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান প্রমূখ।

শুধু সাড়ে ৩ হাজার গুণ বেশী চিংড়ী উৎপাদন নয় নিরাপদ চিংড়ী চাষের পাশাপাশি প্রকল্প পাড়ে সবজী বিপ্লব করাও সম্ভব বলে মনে করেন ঘের মালিকরা। এরকম একটি প্রদর্শনী খামার রামপুর ১০ একর প্রকল্পের ৩ নং ফোল্ডারের একষট্টি প্লটের একটি চিংড়ী খামারে গিয়ে দেখা যায়, চিংড়ী খামারের চারপাশের বেড়ীবাঁধে ঢেঢ়শ, বেগুন, শসা, করলা সহ বিভিন্ন প্রকার সবজী ফলানো হয়েছে। লবণ পানির মধ্যে এসব সবজী কিভাবে চাষ হয় জানতে চাইলে সেখানকার কর্মচারী আবদুল গফুর জানান, গভীর টিউবঅয়েল বসিয়ে অথবা শুধুমাত্র বৃষ্টির পানিতেই এসব সবজি চাষ করা সম্ভব।

সঠিক পদ্ধতিতে চাষ করলে লবণের কোন প্রভাব সবজী চাষে পড়বেনা বলে তিনি জানান। একটি ১০ একর প্রকল্প পাড়ে সবজি চাষ করলে লাখ টাকার সবজি উৎপাদন হবে বলে মনে করেন তিনি। এভাবে প্রতিটি প্রজেক্টে সবজী চাষ করা হলে মৎস্য বিপ্লবের পাশাপাশি সবজি বিপ্লব হতেও বেশী সময় লাগবেনা বলে মনে করেন তারা।

বাংলাদেশ ফ্রুজেন ফুডস এক্সপোর্টস এসোসিয়েশনের সেক্রেটারী জেনারেল এসএম মোরশেদ জাফর বলেন, কক্সবাজারের খুরুস্কুল এলাকায় “পাইলট প্রজেক্ট অন এওয়ারনেস অব সাইন্টেফিক শ্রিম্প ফার্মিং” প্রকল্পের সফলতার পর আন্তর্জাতিক অর্গনাইজেশনকে দেশের বৃহত্তম ঘের এরিয়া রামপুর চিংড়ী জোনে সম্ভাব্যতা যাঁচাইয়ের জন্য আহবান জানিয়েছে হিমায়িত মৎস্য রপ্তানীকারকদের চেম্বার অব কমার্স ফ্রুজেন ফুডস এক্সপোর্টস এসোসিয়েশন বাংলাদেশ। এরই প্রেক্ষিতে তারা ভিজিট করতে এসেছে।

তিনি বলেন, সাধারণ পদ্ধতিতে চিংড়ী চাষ করলে একর প্রতি যেখানে ১০০ কেজী চিংড়ী উৎপাদন হয় সেখানে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে চাষ করলে প্রতি একরে সাড়ে ৩ টন অর্থাৎ ৩ হাজার ৫ শত কেজী চিংড়ী মাছ উৎপাদন হবে। আর সেটা দেশের বৃহত্তম চিংড়ী জোনে চালু করতে পারলে শুধু চকরিয়ার উৎপাদিত চিংড়ী দিয়েই দেশের চাহিদা পূরণ করে বিদেশে রপ্তানি করে দেশের বাজেট পরিমাণ রাজস্ব আয় সম্ভব।

তিনি জানান, বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি বলতে মাছের সুষম খাদ্য, বায়ো সিকিউরিটি, পানিতে অক্সিজেন মিশ্রন ও পরিমিত লবনাক্ততা নিশ্চিতকরণকে বুঝায়। প্রতিনিধি দলের প্রধান মি. ক্রেইগ এ মেইজনার জানান, “রামপুরের প্রজেক্টগুলোতে কোনপ্রকার সাইন্টেফিক পদ্ধতি নেই। স্বাভাবিক পদ্ধতিতেই চাষ হয়। আর তাই খুব কম চিৎড়ী উৎপাদন হয়। ঘের গুলোর ক্যানেল, বেড়ীবাঁধ, ওয়াটার লেবেল ঠিক করে এখানে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে চাষ করতে পারলে বাংলাদেশকে আর পিছনে ফিরে তাকাতে হবেনা। এ বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে চিংড়ী চাষে সচেতনতা বৃদ্ধিতে সরকারের পূর্ণ সহায়তা এবং পর্যাপ্ত অর্থনৈতিক সাপোর্ট দরকার হবে বলে মনে করেন তিনি।




গ্রীষ্মকালীন ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় জিএমসি ইনষ্টিটিউশন কক্সবাজার জেলা চ্যাম্পিয়ন


পেকুয়া প্রতিনিধি:
৪৬তম জাতীয় স্কুল মাদ্রাসা গ্রীষ্মকালীন ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় পেকুয়া জিএমসি ইনষ্টিটিউশন কক্সবাজার জেলা চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। গতকাল কক্সবাজার সরকারী বালক উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত ফাইনাল খেলায় মালুমঘাট আইডিয়াল হাইস্কুলকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন ট্রফি জিতে নেয়। এদিকে সকালে একই মাঠে অনুষ্ঠিত সেমি ফাইনালে উখিয়া সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়কে ৩-০ গোলে হারিয়ে ফাইনালে আইডিয়ালের মুখোমুখি হয় জিএমসি।

ফাইনালে মূল খেলায় কোন পক্ষই গোল করতে না পারায় ট্রাইবেকারে ৪-৩ গোলে মালুমঘাট আইডিয়ালকে হারায়। সেমি ফাইনালে একাই ৩ গোল করে হ্যাট্রিক করেছে ১০ শ্রেণীর ছাত্র হেফাজউদ্দিন। ফাইনালে জিএমসির অধিনায়কের দায়িত্বপালন করেন ১০ শ্রেণীর ছাত্র ইরফান, অন্যান্য খেলোয়াড়রা হলেন, হেফাজ, আবদুল্লাহ, শাওন, নেজাম, মিনহাজ, জোনাইদ, রাশেদ, সাঈদী, দিদার, জোনাইদ-২ প্রমূখ।।

ফাইনাল খেলায় উপস্থিত ছিলেন, জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার সালাহউদ্দিন, সরকারী বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক, কক্সবাজার সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রাম মোহন সেন, নাছির উদ্দিন, জেলা ক্রীড়া সংস্থার সভাপতি ফজলুল করিম সাঈদী, পেকুয়া জিএমসি ইনষ্টিটিউশনের সভাপতি উম্মে কুলসুম মিনু, মাষ্টার নুর মোহাম্মদ, মাষ্টার আবদুল গফুর উপস্থিত ছিলেন।