পেকুয়ায় ইউপি সদস্যের বসতঘরে ডাকাতদলের হানা, ভাংচুর

 

পেকুয়া প্রতিনিধি:

পেকুয়ায় এক ইউপি সদস্যের বসত ঘরে ডাকাতদল হানা দিয়ে ব্যাপক ভাংচুর চালিয়েছে। এসময় ডাকাতি চেষ্টা প্রতিহত করতে এলাকাবাসীরা এগিয়ে আসলে গুলি ছুঁড়তে ছুঁড়তে পালিয়ে যায় ডাকাতদলের সদস্যরা।

শুক্রবার (২৩জুন) গভীর রাতে উপজেলার রাজাখালী ইউনিয়নের মাতবর পাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। মো. ওসমান রাজাখালী ইউনিয়ন পরিষদের ১নং ওয়ার্ডের সদস্য ও একই এলাকার মৃত হাফেজ আহমদের ছেলে।

ইউপি সদস্য মো. ওসমান বলেন, শুক্রবার দিনগত রাত ১২টার দিকে একই এলাকার মাহাবুর রহমানের ছেলে আরিফ(২২), আবুল হাশেমের ছেলে সনেক(২৭), আবুল কালামের ছেলে মিশকাত(২১), মো. মিয়ার ছেলে জিহান(২৩) সহ আরো ৫-৬জন সশস্ত্র ডাকাত আমার বাড়িতে হানা দেয়।

এসময় ডাকাতদল লোহার দরজা ভেঙ্গে বসত ঘরে প্রবেশ চেষ্টা চালায়। কিন্তু লোহার দরজায় আঘাতের শব্দে প্রতিবেশীরা এগিয়ে আসলে ডাকাতদলের সদস্যরা গুলি ছুঁড়তে ছুঁড়তে পালিয়ে যায়। ডাকাতদল আমার বসত ঘরের দরজা জানালাসহ বিভিন্ন জায়গায় ব্যাপক ভাংচুর চালায়।

পেকুয়া থানার ওসি জহিরুল ইসলাম খান বলেন, ইউপি সদস্যের ঘরে ডাকাতি চেষ্টার খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে যায়। কিন্তু পুলিশ গিয়ে উল্লেখযোগ্য কোন আলামত খুঁজে পায়নি। তারপরেও বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।




সিএনজি সমিতির সম্পাদকের প্রতিশ্রুতির সময়সীমা শেষ

পেকুয়া প্রতিনিধি:

জিএমসি ইনস্টিটিউশনের ৯ম শ্রেণীর ছাত্র সাজ্জাদকে মারধর করার ঘটনার মিমাংসা আগামী ২৪ ঘন্টার মধ্যে করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন পেকুয়া উপজেলা সিএনজি সমিতির সম্পাদক বারেক। সেই ২৪ ঘন্টা শেষ হলেও তার কোন খবর নেই।

পেকুয়ায় সিএনজি ড্রাইভার কর্তৃক স্কুল ছাত্রকে মারধরের ঘটনা এখনো অমিমাংসিত রয়ে গেছে। আর এঘটনার জের ধরে আবারো শিক্ষার্থীদের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে।

সিএনজি চালক কর্তৃক স্কুল ছাত্রকে মারধরের ঘটনার প্রতিবাদে ১৮জুন রবিবার পেকুয়া উপজেলার চৌমুহনী এলাকায় ডাকা অবরোধে সড়ক অবরোধকারী ছাত্রদের উপর ব্যাপক লাঠিচার্জ করেছে পেকুয়া থানা পুলিশ। এসময় সিএনজি চালকরাও লাঠিসোটা নিয়ে পুলিশের সাথে স্কুল ছাত্রদের উপর হামলা চালাতে দেখা যায়।

পুলিশের লাঠিচার্জ ও ধাওয়া এবং ছাত্রদেরকে মাটিতে ফেলে মারধর করার ছবি তুলতে গেলে স্থানীয় এক সাংবাদিককেও পিটিয়ে আহত করেছে পুলিশ। এসময় সাংবাদিকের ক্যামেরা ও মোবাইল ফোন, নগদ টাকা ছিনিয়ে নেয় পুলিশ। অবশ্য পুলিশ দাবি করেছে, ছাত্রদের সড়ক অবরোধের সময় তাদেরকে বোঝানোর চেষ্টা করার সময় কিছু উত্তেজিত ছাত্র এসআই কামরুলের উপর হামলা করলে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনতে ছাত্রদের সড়ক থেকে সরিয়ে দিয়েছে মাত্র।

উল্লেখ্য, ১৭জুন জিএমসি ইনস্টিটিউশনের ৯ম শ্রেণীর ছাত্র সাজ্জাদ স্কুল শেষে চৌমুহনী থেকে টইটং যাওয়ার সময় ভাড়া কম দেয়া নিয়ে চালকের সাথে বাকবিতণ্ডা হয়। এক পর্যায়ে ওই চালক স্কুল ছাত্রকে পিটিয়ে আহত করে। এসংবাদ তার স্কুলে পৌঁছালে পরদিন পেকুয়া জিএমসি ইনস্টিটিউশনের শতাধিক শিক্ষাথী “স্কুল ছাত্রের উপর সিএনজি চালকের হামলা কেন জবাব চাই” স্লোগান দিয়ে চৌমুহনীর মোড়ে এসে অবস্থান নেয়।

এসময় তারা চকরিয়া-মগনামা ও এবিসি মহাসড়কের গাড়ি চলাচল বন্ধ করে দেয়। এতে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। পরে পুলিশ এসে তাদের অবরোধ তুলে নিতে বললে ছাত্ররা সিএনজি চালকের বিচার দাবী করে বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকে। পরে পেকুয়া থানার ঘুষখোর পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মনজুরুল কাদেরের নেতৃত্বে একদল পুলিশ চৌমুহনীতে অবস্থান নিয়ে ছাত্রদের বুঝিয়ে অবরোধ তুলে গাড়ী চলাচল স্বাভাবিক করার চেষ্টা করে।

এসময় জিএমসির ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক জহির উদ্দিন ছাত্রদের শান্ত করার চেষ্টা করে। প্রত্যক্ষদর্শী চৌমুহনীর বেশ কয়েকজন ব্যবসায়ী জানান, পুলিশ ছাত্রদের বোঝানোর চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়ে গাড়ী চলাচল স্বাভাবিক করার চেষ্টা করলে একদল উত্তেজিত ছাত্রএস আই কামরুলের উপর হামলা করার চেষ্টা করে। এতে পুলিশ উত্তেজিত হয়ে ছাত্রদের উপর লঠিচার্জ করে।

এসময় লাঠিচার্জের দৃশ্য ধারণ করতে গেলে পেকুয়া থানার ঘুষখোর ওসি (তদন্ত) মনঞ্জুর কাদের মজুমদারের নেতৃত্বে এস আই কামরুল, এস আই নাছির, এএসআই জাহেদও পুলিশ সদস্য হাসানসহ স্থানীয় সাংবাদিক জোবাইদের উপর হামলা চালিয়ে তার ক্যামেরা ও মোবাইল ফোন এবং নগদ টাকা কেড়ে নেয়। এসময় পেকুয়া প্রেসক্লাবের সভাপতি ছফওয়ানুল করিম সাংবাদিককে মারধরের প্রতিবাদ করলে তাকেও গ্রেফতার করার চেষ্টা চালায়। এসময় অন্যান্য সাংবাদিকরা এগিয়ে এলে পুলিশ তাকে ছেড়ে দেয়।

এ ঘটনায় আহতরা হলেন, ১০ম শ্রেণীর ছাত্র ইলিয়াছ, ৯ম শ্রেনীর ছাত্র অপি, সাজ্জাদ ও ছোটন, ৮ম শ্রেনীর ছাত্র শাহেদ, ৬ষ্ট শ্রেনীর ছাত্র তারেক ও সাংবাদিক জুবাইদ।

এদিকে স্কুল ক্যাবিনেট চেয়ারম্যান রাশেদ জানান ওই দিন ঘটনার পরপরই পেকুয়া উপজেলা সিএনজি সমিতির সম্পাদক বারেক ঘটনাস্থলে এসে আগামী ২৪ ঘন্টার মধ্যে ঘটনার মিমাংসা করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে যায়। সেই ২৪ ঘন্টা শেষ হলেও তার কোন খবর নেই। যার ফলে শিক্ষার্থীরা ফুসে উঠেছে। এতে করে আবারো ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটনার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

সে আরো জানায় ছাত্রদের উপর অহেতুক হামলা করা মানবধিকার লঙ্গন করার সামিল। সুষ্ঠু বিচার না হলে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধনসহ আরো কঠোর কর্মসূচী দেওয়া হবে এবং বিনা উসকানিতে সাধারণ ছাত্র ও সাংবাদিকের উপর পেকুয়া থানার পুলিশের হামলার তীব্র নিন্দা জানায়। এব্যাপারে পেকুয়া উপজেলা সিএনজি সমিতির সম্পাদক বারেকের সাথে যোগাযোগ করার জন্য তার ব্যবহারকৃত মোবাইলে কল দিলে সংযোগ না পাওয়ায় বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

এব্যাপারে পেকুয়া থানার ওসি জহির উদ্দিন পার্বত্যনিউজকে জানান, খুব দ্রূত স্কুল কমিটির সাথে সিএনজি কমিটিকে নিয়ে বসে মিমাংসা করা হবে।

 

 




পেকুয়ায় ছাত্রদের উপর পুলিশের লাঠিচার্জ, সাংবাদিককে মারধর

নিজস্ব প্রতিনিধি :
সিএনজি চালক কর্তৃক স্কুল ছাত্রকে মারধরের ঘটনার প্রতিবাদে ডাকা সড়ক অবরোধকারী ছাত্রদের উপর ব্যাপক লাঠিচার্জ করেছে পেকুয়া থানা পুলিশ।

১৮ জুন রবিবার পেকুয়া উপজেলার চৌমুহনী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এসময় সিএনজি চালকরাও লাঠিসোটা নিয়ে পুলিশের সাথে স্কুল ছাত্রদের উপর হামলা চালাতে দেখা যায়। পুলিশের লাঠিচার্জ ও ধাওয়া এবং ছাত্রদেরকে মাটিতে ফেলে মারধর করার ছবি তুলতে গেলে স্থানীয় এক সাংবাদিককেও পিঠিয়ে আহত করেছে পুলিশ।

এসময় সাংবাদিকের ক্যামেরা ও মোবাইল ফোন, নগদ টাকা ছিনিয়ে নেয় পুলিশ। অবশ্য পুলিশ দাবি করছে, ছাত্রদের সড়ক অবরোধের সময় তাদেরকে বুঝানোর চেষ্টাকালে কিছু উত্তেজিত ছাত্র এসআই কামরুলের উপর হামলা করলে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনতে ছাত্রদের সড়ক থেকে সরিয়ে দিয়েছে মাত্র।

জানা যায়, গত ১৭ জুন জিএমসি ইনষ্টিটিউশনের ৯ম শ্রেণীর ছাত্র সাজ্জাদ স্কুল শেষে চৌমুহনী থেকে টইটং যাওয়ার সময় ভাড়া কম দেয়া নিয়ে চালকের সাথে বাকবিতন্ডা হয়। এক পর্যায়ে ওই চালক স্কুল ছাত্রকে পিঠিয়ে আহত করে। এ সংবাদ তার স্কুলে পৌঁছালে পর দিন পেকুয়া জিএমসি ইনষ্টিটিউশনের শতাধিক শিক্ষাথী “স্কুল ছাত্রের উপর সিএনজি চালকের হামলা কেন জবাব চাই” স্লোগান দিয়ে চৌমুহনীর মোড়ে এসে অবস্থান নেয়। এসময় তারা চকরিয়া-মগনামা ও এবিসি মহাসড়কের গাড়ী চলাচল বন্ধ করে দেয়। এতে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। পরে পুলিশ এসে তাদের অবরোধ তুলে নিতে বললে ছাত্ররা সিএনজি চালকের বিচার দাবী করে বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকে। পরে পেকুয়া থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মনজুরুল কাদেরের নেতৃত্বে একদল পুলিশ চৌমুহনীতে অবস্থান নিয়ে ছাত্রদের বুঝিয়ে অবরোধ তুলে গাড়ী চলাচল স্বাভাবিক করার চেষ্টা করে।

এসময় জিএমসির ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক জহির উদ্দিন ছাত্রদের শান্ত করার চেষ্টা করে। প্রত্যক্ষদর্শী চৌমুহনীর বেশ কয়েকজন ব্যবসায়ী জানান, পুলিশ ছাত্রদের বুঝানো চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়ে গাড়ী চলাচল স্বাভাবিক করার চেষ্টা করলে একদল উত্তেজিত ছাত্র এস আই কামরুলের উপর হামলা করার চেষ্টা করে। এতে পুলিশ উত্তেজিত হয়ে ছাত্রদের উপর লঠিচার্জ করে। এসময় লাঠিচার্জের দৃশ্য ধারণ করতে গেলে পেকুয়া থানার ওসি (তদন্ত) মনঞ্জুর কাদের মজুমদারের নেতৃত্বে এস আই কামরুল, এস আই নাছির, এ এস আই জাহেদও পুলিশ সদস্য হাসানসহ দৈনিক সুপ্রভাত বাংলাদেশ পত্রিকার প্রতিনিধি ও সকালের কক্সবাজারের স্টাফ রিপোর্টার, পার্বত্য নিউজের প্রতিনিধি সাংবাদিক জোবাইদের উপর হামলা চালিয়ে তার ক্যামেরা ও মোবাইল ফোন নগদ টাকা কেড়ে নেয়।

এসময় পেকুয়া প্রেস ক্লাবের সভাপতি ছফওয়ানুল করিম সাংবাদিককে মারধরের প্রতিবাদ করলে তাকেও গ্রেপ্তার করার চেষ্টা চালায়। এসময় অন্যান্য সাংবাদিকরা এগিয়ে এলে পুলিশ তাকে ছেড়ে দেয়।

এব্যাপারে জানতে চাইলে পেকুয়া থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মনজুরুল কাদের জানান, ছাত্রদের অবরোধ তুলতে গিয়ে সাংবাদিক জোবাইদের সাথে সামান্য ভূল বুঝাবুঝি হয়েছে মাত্র। লাঠিচার্জ নয় গাড়ী চলাচল স্বাভাবিক করতেই ছাত্রদের রাস্তা থেকে তুলে দেয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

এ ব্যাপারে সাংবাদিক জোবাইদ জানান, আমি ছাত্রদের উপর লাঠিচার্জের সময় ছবি তুলতে গেলে উত্তেজিত হয়ে পেকুয়া থানার ওসি (তদন্ত) মনঞ্জুর কাদের মজুমদারের নেতৃত্বে এস আই কামরুল, এস আই নাছির, এ এস আই জাহেদও পুলিশ সদস্য হাসানসহ পুলিশ আমার উপর হামলা করে আমার ক্যামেরা ও মোবাইল ফোন মানিব্যাগ কেড়ে নেয়।

এ ব্যাপারে পেকুয়া জিএমসি ইনষ্টিটিউশনের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক জহির উদ্দিনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, ৯ম শ্রেণীর এক ছাত্রকে সিএনজি চালক অহেতুক মারধর করার ঘটনায় স্কুলের শিক্ষার্থীরা সিএনজি চালকের বিচার দাবী করে সড়ক অবরোধ করার চেষ্টা করলে আমরা তাদেরকে বুঝিয়ে স্কুলে নিয়ে আসি।

আহতরা হলেন, ইলিয়াছ (১০ম শ্রেণী),  ৯ম শ্রেনীর ছাত্র অপি, সাজ্জাদ ও ছোটন, ৮ম শ্রেনীর শাহেদ, ৬ষ্ট শ্রেনীর ছাত্র তারেক ও সাংবাদিক জুবাইদ।




পেকুয়ার বাজারগুলোতে কেমিক্যাল মেশানো ফলের সমাহার

পেকুয়া প্রতিনিধি:
পেকুয়ার বাজারগুলোতে মৌসুমী ফলের সমাহার। জৈষ্ঠ্য ও আষাঢ় মাসে সাধারণত নানান রকমের ফল পাওয়া যায় বাজারে।

পেকুয়ার আলহাজ্ব কবির আহমদ চৌধুরী (পেকুয়া বাজারসহ) উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের হাট-বাজার ও ষ্টেশনে জমে উঠেছে ফলের বাজার। কিন্তু ফলের মধ্যে মেশানো হচ্ছে বিষাক্ত কেমিক্যাল। প্রতিদিন টন টন ফল কিনছে ক্রেতারা। তবে ফলে ফরমালিনের ব্যবহার ধরা পড়েছে পেকুয়ায়।

স্থানীয় উৎপাদিত মৌসুমী ফল পেকুয়ায় আগেভাগে শেষ হয়ে গেছে। অন্য বছরগুলোতে মাস দু’য়েক স্থানীয় ফল বাজারে পাওয়া যেত। সম্প্রতি ঘূর্ণিঝড় মোরায় তীব্র প্রভাবে আম, লিচু, জাম, জামরুল, আতাসহ নানান জাতের ফল ঝরে যায়। এতে খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে পরিসমাপ্তি ঘটে স্থানীয় ফলের। স্থানীয় উৎপাদিত ফলে কোন ধরনের বিষাক্ত কেমিক্যাল প্রয়োগ করার প্রয়োজন হয় না।

উত্তর বঙ্গের রাজশাহী, চাপাইনবাবগঞ্জ, বগুড়া, নাটোর, সিরাজগঞ্জসহ বিভিন্ন জেলা থেকে উৎপাদিত ফল আম পেকুয়ার বাজারগুলোতে বিক্রি হচ্ছে। পেকুয়া বাজারে সড়কের দু’পাশ দখল করে বিপুল অংশে মৌসুমী ফলের রমরমা বাজার। ক্রেতা শফিক, মামুন, জসিম, সুজন, জয়নাল, আবুল কালাম, নজরুল, ছাবেকুন্নাহার, সাবিনা, কলি, ইছমত আরা জানায় সব ফলে ফরমালিন।

বাজার থেকে আম কিনে বাড়িতে খাওয়ার সময় সন্দেহ হলে কাটা আম পানিতে কিছুক্ষন চুবিয়ে রাখি। এরপর দেখি পানি গুলো কালো হয়ে গেছে। বাহিরে সুন্দর তাজা দেখালেও ভিতরের মাজা আধাকাচা ও শক্ত। আম খেতে ভয় পাই। লোকজন বলছে ফরমালিন পেটে গেলে কঠিন রোগ হয়। যারা ফলের নামে বিষ খাওয়াচ্ছে এদের বিরুদ্ধে শাস্তি চাই। নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন ব্যবসায়ী জানায় ফরমালিন ছাড়া ফল কোথায় পাব। আমরা ওষুধ মেশাই না। কেনার সময় ফলে এসব ফরমালিন মেশানো থাকে।

বারবাকিয়া বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি জাকের হোসেন জানায় বাজারে সব ফলে ফরমালিন। দু’দিন আগে খাওয়ার জন্য দু’কেজি আম কিনি। সন্দেহ হলে কাটা আম পানিতে রাখলে কালো হয়ে যায় পানি। প্রশাসনের ভেজাল বিরোধী অভিযান পরিচালনা করা দরকার।

পেকুয়া বাজার ব্যবসায়ী কো-অপারেটিভ ক্রেডিট ইউনিয়ন লি.এর সভাপতি হাজ্বি আকতার আহমদ, সেক্রেটারী মো.মিনহাজ উদ্দিন জানায় লোকজন ফরমালিনের কথা বলছে। আমরা চাই না কোন ব্যবসায়ী মানুষের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলুক। জড়িত থাকলে এদের বিরুদ্ধে শাস্তি হোক। আমরা প্রশাসনের কাছে দ্রুত ভেজাল বিরোধী অভিযান পরিচালনার জোর দাবি করছি।

পেকুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার  কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ডা. মুজিবুর রহমান জানান ফরমালিনযুক্ত খাবার খেলে শরীরে নানা কঠিন রোগ ব্যাধি হয়। বিষাক্ত কেমিক্যালের কারনে মানবদেহের কিডনি, লিভার ও গ্যাষ্ট্রো জনিত সমস্য দেখা দেয়। এমনকি মরন ব্যাধি ক্যান্সারেও আক্রান্ত হতে পারে।




রাজাখালী ইউপির প্যানেল চেয়ারম্যান কে?

পেকুয়া প্রতিনিধি :
পেকুয়ার রাজাখালী ইউপির নির্বাচিত চেয়ারম্যান ছৈয়দ নুর অস্ত্র মামলায় বর্তমানে কারাগারে আছেন। তার অবর্তমানে নিয়ম অনুযায়ী প্যানেল-১ এর চেয়ারম্যানের সমস্ত কার্যক্রম চালিয়ে নিয়ে যাওয়ার কথা। প্যানেল-১ এর অবর্তমানে ২/৩ দায়িত্ব পালন করে থাকে। চেয়ারম্যান থাকাকালীন রাজাখালীতে প্যানেল-১ সবার সম্মতিক্রমে মৌখিকভাবে দায়িত্ব পালন করে গেলেও ২/৩ এর নির্বাচন না হওয়ায় এর সংকট চরম আকার ধারণ করেছে। সেবা বঞ্চিত হচ্ছে এলাকার সাধারণ জনগণ। বলতে গেলে প্রায় ২৪ হাজারে মানুষের গ্রাম আদালত, জন্ম নিবন্ধন, চেয়ারম্যান প্রত্যায়নসহ সমস্ত কার্যক্রম থমকে গেছে।

জানা গেছে, গত বছরের ৩১ মার্চের ইউপি নির্বাচনে আ.লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী হিসাবে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন ছৈয়দ নুর। এক বছর সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন কালে সকল ইউপি সদস্য/সদস্যাদের নিয়ে ১৭ জুলাই ২০১৬ সালে ১ম সভায় প্যালেন নির্বাচন নিয়ে আলোচনা হয়। এর ২০দিন পর সকলের মতামতের ভিত্তিতে  ৯নং ওয়ার্ডের বারবার নির্বাচিত ইউপি সদস্য মো: বাদশা মিয়াকে প্যালেন-১ হিসাবে নির্বাচিত করলেও কোন কারণে ২/৩ এর নির্বাচন করেনি। প্রবীণ জনপ্রতিনিধি হিসাবে মো. বাদশা মিয়া সুনামের সাথে দায়িত্ব পালন করে গেছেন। এরই মধ্যে চলতি বছরের গত ৩০ এপ্রিল র‌্যাবের হাতে আটক হন চেয়ারম্যান ছৈয়দ নুর।

আরো জানা গেছে, চরম সংকটের অবস্থায় দায়িত্ব পালন করতে প্যানেল-১ মো. বাদশা মিয়া দেখতে পান তাকে রিজুলেশন আকারে প্যানেল নির্বাচিত করেনি। এ বিষয়ে তিনি ইউপি সচিব নবিউল ইসলামের সাথে কথা বলে কোন ধরণের সুরহা না হওয়ায় জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত আবেদন করেন। কিন্তু ইউপি সচিব রিজুলেশনে প্যানেল নির্বাচন হয়নি মর্মে প্রতিবেদন দিলে এ সংকট চরম আকার ধারণ করে। এছাড়াও অন্য প্যানেল নির্বাচন না হওয়ায় জনগনের ভোগান্তির কোন শেষ নাই। এক ইউপি সদস্য সাক্ষরের কথা বলে আদায় করেন অতিরিক্ত টাকা। এমনকি তার বিরুদ্ধে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের সাক্ষর করে টাকা আদায় করার অভিযোগও রয়েছে। অথচ ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলে কোন শব্দ বর্তমান সরকার রাখে নাই। এছাড়াও একটি পক্ষ চাচ্ছে এলাকায় চরম সংকট তৈরি করতে প্যানেল নির্বাচন বন্ধ থাকুক।

এলাকাবাসীর পক্ষে আবু বক্কর, রহমত উল্লাহ, মো. বেলাল, শাহাব উদ্দিন, ওসমান, জাকের উল্লাহসহ অনেকে অভিযোগ করে বলেন, কক্সবাজার জেলায় তাদের রাজাখালী ইউনিয়নটির বর্তমান অবস্থান খুবই করুণ। পাচ্ছে না কোন ধরণের সেবা। চেয়ারম্যান থাকাকালে ৯নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. বাদশা মিয়া প্যানেলের দায়িত্ব পালন করলেও এখন শুনতেছি তাকে রিজুলেশন আকারে প্যানেল নির্বাচিত করেনি। যার কারণে জন্ম নিবন্ধন, চেয়ারম্যান সনদ ও গ্রাম আদালতের শালিষ বিচার বন্ধ রয়েছে।

এ বিষয়ে আমরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মহোদয়ের কাছে আবেদন জানাচ্ছি দ্রুত প্যানেল নির্বাচিত করে জনগনের দুঃখ লাঘব করুন।




পেকুয়ায় মোরায় ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাড়ালো কারিতাস


পেকুয়া প্রতিনিধি:
পেকুয়ায় মারায় ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে সহায়তায় নিয়ে পাশে দাড়ালো এনজিও সংস্থা কারিতাস বাংলাদেশ। শুক্রবার সকালে পেকুয়া উপজেলার মগনামা ও উজানটিয়া ইউনিয়নের মোট ৮টি ওয়ার্ডের ক্ষতিগ্রস্ত ১ হাজার পরিবারকে নগদ পাঁচ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা প্রদান করেছে কারিতাস চট্টগ্রাম অঞ্চল।

মগনামা ইউনিয়নের ৭০০টি পরিবার এবং উজানটিয়া ইউনিয়নের ৩০০টি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে খাদ্য ক্রয়, গৃহ মেরামতসহ অন্যান্য প্রয়োজনী সমস্যা সমাধানের উদ্দেশেই এ সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। নগদ অর্থ বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নির্বাহী কর্মকর্তা মাহবুবুল করিম, বিশেষ অতিথি ছিলেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) সালমা ফেরদৌস। অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ও মেম্বারবৃন্দ। মোরায় ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য  কারিতাসের নগদ অর্থ বিতরণ কার্যক্রম সম্পর্কে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করতে গিয়ে পেকুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, মোরা’য় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য কারিতাসের এ ধরনের উদ্যোগ সত্যিই প্রশংসনীয়।

এর আগে মোরা আঘাত হানার পূর্ব হতেই কারিতাস চট্টগ্রাম আঞ্চলিক অফিসের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগে একটি কন্ট্রোল রুম চালু করে এবং কর্মী বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থায় রাখে যাতে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় দ্রুত সাড়াদান কার্যক্রম পরিচালনা করা যায়। উপজেলা প্রশাসন, স্থানীয় সরকার এবং ক্ষতিগ্রস্ত জনগণের প্রত্যক্ষ সহায়তায় অংশগ্রহণমূলক পদ্ধতিতে এ বাছাই কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়।

উল্লেখ্য যে, স্টাট নেটওয়ার্ক আর্থিক সহায়তায় কারিতাস বাংলাদেশ এ সহায়তা প্রদান করার জন্য একদল কর্মী বাহিনী তথ্য সংগ্রহ শুরু করে এবং সর্বাধিক ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা চিহ্নিত করে। পরবর্তীতে বিভিন্ন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পেকুয়া উপজেলার মগনামা ও উজানটিয়া ইউনিয়নের সর্বাধিক ক্ষতিগ্রস্ত ১০০০ পরিবারকে বাছাই করা করেছে।




পেকুয়ার টইটংয়ে নতুন আতংক ‘নইব্যা ডাকাত’

পেকুয়া প্রতিনিধি :
কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার টইটং ইউনিয়নের পাহাড়ী এলাকার বাসিন্দাদের মাঝে নতুন আতংকের নাম নবু হোসেন ওরফে নইব্যা ডাকাত। যার নাম শুনলেই টইটংএ বিভিন্ন পাহাড়ী গ্রামের বাসিন্দারা ভয়ে তটস্থ থাকে। প্রকাশ্যে ও অপ্রকাশ্যে এলাকায় নইব্যা ডাকাত ও তার বাহিনীর বিরুদ্ধে কেউ মুখ খোলার সাহস পাচ্ছে না।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে,  বিগত ৭/৮ বছর ধরে টইটং ইউনিয়নের বিশাল পাহাড়ী এলাকায় আস্তানা গড়ে তোলে নইব্বা ডাকাত অবৈধ অস্ত্রের ব্যবসা, বাংলা মদ তৈরী, ইয়াবা ব্যবসা, বন বিভাগের ছড়া থেকে অবৈধ উপায়ে বালু উত্তোলন, পাহাড়ি এলাকায় চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই, পাহাড়ে বসবাসকারী স্থানীয়দের নির্যাতন, চাঁদাবাজি, বন বিভাগের গাছ চুরিসহ এমন কোন অপকর্ম নাই যা সন্ত্রাসী নইব্যা ডাকাত ও তার বাহিনী সংগঠিত করছে না।

গত সোমবার ৫ জুন টইটংয়ের পাহাড়ি এলাকা অভিযান চালিয়ে ওই নইব্যা ডাকাতের মেয়ের জামাই ইসমাইলসহ তার বাহিনীর অপর এক সদস্যকে দেশীয় দুইটি এক বন্দুকসহ গ্রেফতারও করেছে পেকুয়া থানা পুলিশ। এ নিয়ে পেকুয়া থানা পুলিশ বাদী হয়ে অস্ত্র আইনে মামলাও দায়ের করেছে। গত এক মাস পূর্বে পেকুয়া থানা পুলিশ নইব্যার জামাই ইসমাইলের বাড়ী থেকে বিপুল পরিমাণ বাংলা মদসহ মদ তৈরীর সরঞ্জামাদিও উদ্ধার করেছিল। এ ঘটনায় পেকুয়া থানা পুলিশ বাদী মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রন আইনে থানায় মামলা করেছিল।

স্থানীয়রা জানান, টইটংয়ের বিভিন্ন পাহাড়ি গ্রামের জামাই-শাশুরের অত্যচারে সাধারন গ্রামবাসী অতিষ্ট হয়ে পড়েছে। গত কয়েক দিন পূর্বে নইব্যা বাহিনীর সেকেন্ড ইন্ড কমান্ড ইসমাঈল গ্রেফতারের ফলে এলাকায় কিছুটা হলেও স্ব:স্থির নি:স্বাস ফিরে এসেছে। এবার স্থানীয়দের পক্ষ থেকে জোরালো দাবী উঠেছে, দ্রুত সময়ে নইব্যা বাহিনীর প্রধান নবু হোসেন ওরফে নইব্যা ডাকাত গ্রেফতারের।

জানা গেছে, পেকুয়ার এক প্রভাবশালী ব্যক্তি ডাকাত নইব্যাকে নানা ভাবে সহায়তা করার পাহাড়ে সন্ত্রাসী বাহিনী গঠন করে বেপরোয়া হয়ে উঠেছে নইব্যা বাহিনী। টইটংয়ের পাহাড়ি এলাকা মধুখালী থেকে বন বিভাগের ছড়া থেকে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ উপায়ে বালু উত্তোলন করছেন নইব্যার নেতৃত্বে একটি সিন্ডিকেট। আর পূর্ব সোনাইছড়ি এলাকায় নইব্যার বাড়ীর সামনেও মেশিন বসিয়ে অবৈধ উপায়ে বালু দেদারসে বালু উত্তোলন করছেন ডাকাত নইব্যা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিগত ১৯৯৪ সালে চকরিয়া থানায় ডাকাত নইব্যার বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছিলেন টইটং জালিয়ার চাং গ্রামের মিয়াজানের স্ত্রী। মিয়াজানকে সেসমকে হত্যা করেছিল ডাকাত নইব্যার নেতৃত্বে একদল লোক। আর এ মামলাটি বর্তমানে কক্সবাজার অতিরিক্ত জেলা জজ আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। যার এসটি মামলা নং ৮৩/৯৪ইং। এছাড়াও নইব্যার বিরুদ্ধে একটি নারী নির্যাতন মামলায় যাবজ্জীবন সাজাও রয়েছে।

স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান জাহেদুল ইসলাম চৌধুরী জানিয়েছেন, তার ইউনিয়নের পূর্ব অংশের কিছু পাহাড়ি এলাকায় নইব্যা নানান ধরনের অপরাধ সংগঠিত করছে। গত ৫ জুন নইব্যার মেয়ের জামাই অস্ত্রসহ পুলিশের অভিযানে গ্রেফতার হয়েছে।

অভিযোগের ব্যাপারে জানতে নবু হোসেন ওরফে নইব্যা ডাকাতের ব্যক্তিগত মুফোফোনে ৭ জুন রাত ১১ টায় এ প্রতিবেদকের মোবাইল থেকে ফোন করা হলে রিসিভ না করায় বক্তব্য সংযোজন করা সম্ভব হয়নি।

পেকুয়া থানার ওসি মো. জহিরুল ইসলাম খান জানান, অপরাধ করে কেউ পার পাবেনা। পুলিশ অবস্থান সব সময় অপরাধীদের বিরুদ্ধে। তিনি এ বিষয়ে খোঁজ খবর নিয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন বলে জানিয়েছেন।




পেকুয়ায় ভেজাল বিরোধী অভিযানে অর্থদন্ড

পেকুয়া প্রতিনিধি :
পেকুয়ায় ভেজাল বিরোধী অভিযানের অংশ হিসাবে বিভিন্ন ফার্মেসী ও ফুটপাতে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। এতে নানা প্রতিষ্টানকে অর্থদন্ড দেওয়া হয়েছে। উপজেলা সহকারি কমিশনার  (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সালমা ফেরদৌস এ অভিযানে নেতৃত্বে দেন।

বুধবার সকাল ১১টায় পেকুয়া কবির আহমদ চৌধুরী বাজারে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় মোস্তাক আহমদের মালিকনাধীন পপুলার ফার্মেসীকে ৫ হাজার টাকা ও ডায়মন্ড  গ্লাস হাউসের ট্রেড লাইসেন্স না থাকায় ৫শ টাকা জরিমানা করা হয়। পপুলার ফার্মেসী থেকে মেয়াদ উত্তীর্ণ ওষুধও উদ্ধার করা হয়। এ সব ভেজাল ও মেয়াদ উত্তীর্ণ ওষুধ আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয়া হয়। ওই সময় অন্যান্য ওষুধের ফার্মেসীগুলোর মালিকরা দোকান বন্ধ করে দিয়ে লাপাত্তা হয়ে পড়ে।

এছাড়াও  সৌদিয়া ফার্মেসী, এন হোছাইন, জনসেবাসহ আরো কয়েকটি ফার্মেসীতে সরকারী ও নিম্নমানের ওষুধ বিক্রিরও অভিযোগ রয়েছে।

এ ছাড়া যানজট মুক্ত করতে মগনামা-চকরিয়া সড়কের পেকুয়া কবির আহমদ চৌধুরীর বাজারে  ফুটপাত দখল করে চলমান ভ্রাম্যমান ব্যবসা উচ্ছেদ করা হয়।

এ ব্যাপারে সহকারী কমিশনার ভূমি সালমা ফেরদৌস এ প্রতিবেদককে জানান, ভেজাল বিরোধী অভিযান অব্যাহত থাকবে। রমজানে কোন ক্রেতা যাতে ব্যবসায়ীদের কাছে প্রতারিত না হন এ বিষয়ে মনিটরিং জোরদার করা হচ্ছে। পেকুয়া কবির আহমদ চৌধূরীর বাজারে কাপড়ের দোকান ও বিভিন্ন দোকানে গিয়ে পণ্য ও মালামালে সঠিক দামের তালিকা প্রণয়ন করেন ভ্রাম্যমান আদালতের ম্যাজিস্ট্রেট সালমা ফেরদৌস।




মগনামায় গুলিবর্ষণের ঘটনায় পাল্টা পাল্টি মামলার অভিযোগ

পেকুয়া প্রতিনিধি:
পেকুয়ার মগনামা ইউনিয়নের ফুলতালা ষ্টেশনে গুলিবিদ্ধের ঘটনায় পাল্টা পাল্টি মামলা রুজু করা হয়েছে। আফজালিয়া পাড়ার আমিনুল হকের পুত্র মো. করিম বাদি হয়ে একটি মামলা করেন। পেকুয়া থানা ওসি জহিরুল ইসলাম খান এ মামলার কথা নিশ্চিত করেছেন। যার মামলা নং ০৮/১৭ইং।

মামলায় আ.লীগ নেতা, ইউপি সদস্য, গুলিবিদ্ধ আহত ও নিরীহ লোকদের আসামী এবং সম্পূর্ন মিথ্যা বলেও দাবী করেছেন ফুলতালা ষ্টেশনের ব্যবসায়ী ও ভুক্তভোগিরা।

জানা গেছে, গত ৩ ও ৪ জুন মগনামা ফুলতালা ষ্টেশনে ইউপি চেয়ারম্যান শরাফত উল্লাহ চৌধুরী ওয়াসিমের নেতৃত্বে আফজালিয়া পাড়ার সন্ত্রাসীরা বেপরোয়া গুলিবর্ষন করে ১৬ জনকে আহত করে। গত ৫  জুন আনোয়ারুল আজিম বাবুল বাদি হয়ে ইউপি চেয়ারম্যান ওয়াসিমকে ১নং আসামী করে ২৯ জনের নামে মামলা করে। যার মামলা নং-০৫/১৭ইং।

পুলিশ এ ঘটনায় ৪ জনকে আটক করে আদালতে প্রেরণ করে। এর একদিন পর ভুক্তভোগিদের আসামী করে আরেকটি মামলা রুজু করা হয়। মামলায় আসামী করা হয়েছে, উপজেলা আ.লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সাবেক ইউনিয়ন আ.লীগের সভাপতি আনোয়ারুল আজিম বাবুল, ইউপি সদস্য আলমগীর, মহিলা ইউপি সদস্য খালেদা বেগম, খালেদ মোশারফ, ফেরদৌস আহমদ, মো: আরমান, আবু হানিফ, সরওয়ার, আনোয়ার, দিদারুল ইসলাম, আতিক ও আতাউল হক।

ইউপি সদস্য মো. আলমগীর জানান, চেয়ারম্যান ওয়াসিম মগনামাবাসীকে জিম্মি করে রেখেছে। তার বিরুদ্ধে যে কথা বললে তাকে বিভিন্ন কৌশলে পরাস্ত করবে। সর্বশেষ মগনামার ফুলতালা ষ্টেশনের ব্যবসায়ী ও জনসাধারনের নির্বিচারে গুলি চালিয়ে ১৬ জনকে গুরুতর আহত করে। পুলিশ অনেক গড়িমসি করে ভুক্তভোগিদের মামলা রেকর্ড করলেও উল্টো ভুক্তভোগিদের বিরুদ্ধেও মামলা রুজু করেন। যা নিয়ে আমরা খুবই হতাশ। একজন বিএনপি নেতার পক্ষে ওসি’র এমন পক্ষপাতিত্ব কিছুতেই মেনে নেওয়া যায় না।

আ.লীগ নেতা আনোয়ারুল আজিম বাবুল বলেন, আমাদের পক্ষের মামলা রেকর্ড করলেও ওসি মোটা টাকার উৎকুচের মাধ্যমে কাউন্টার মামলাটি রেকর্ড করে। এ নিয়ে প্রকৃত মামলাটির তদন্ত বাধাগ্রস্ত হতে পারে। এ বিষয়ে তিনি প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

এ ব্যাপারে পেকুয়া থানার ওসি জহিরুল ইসলাম খানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি উভয় পক্ষ থেকে মামলা করা করার সত্যতা জানান। তবে তিনি আরো জানান ভুক্তভোগী গুলিবিদ্ধ হয়ে করিম বাদী হয়ে যে মামলাটি করেছেন তা যুক্তিযুক্ত।




পেকুয়ায় আগ্নেয়াস্ত্র ও সহযোগীসহ মাদক সম্রাট ইসমাইল আটক, আহত-১

আটক
পেকুয়া প্রতিনিধি :
পেকুয়ার টইটং ইউনিয়নের কাটা পাহাড় এলাকা থেকে দুটি আগ্নেয়াস্ত্র, ১১ রাউন্ড কার্তুজ ও একটি রামদা উদ্ধার। এসময় মো. ইসমাইল ও আবুল বশর নামের দুই যুবককে আটক করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় একজন হোসেন নামের একজন গুলিবিদ্ধ হয়।

আটককৃতরা হলেন, একই এলাকার কবির আহম্মদের ছেলে মো. ইসমাইল (২৮) ও আবুল কালাম ছেলে আবুল বশর (২৬)। মো. ইসমাইল একজন চিহ্নিত মাদক ও অস্ত্র ব্যবসায়ী। সে তার শশুর ও টইটং ইউপি সদস্য নবুর আশ্রয় পশ্রয়ে এসব অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছিলো।

সোমবার (৫জুন) দুপুর ১২টার দিকে টইটং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, সদস্য ও গ্রাম পুলিশের সহযোগিতায় পেকুয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জহিরুল ইসলাম খানের নেতৃত্বে একদল পুলিশ এসব অস্ত্র উদ্ধার করে।

টইটং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাহেদুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, পাহাড়ি ছড়া থেকে অপরিকল্পিত বালি উত্তোলনে বাধা দেয়ায় মো. হোসেন নামের এক ব্যক্তিকে গুলি করে মো. ইসমাইল। এ ঘটনায় স্থানীয় জনতা ও ইউপি সদস্যদের নেতৃত্বে অবৈধ অস্ত্রধারীদের ঘিরে রাখি আমরা। পরে পেকুয়া থানা পুলিশ দুটি দেশীয় তৈরি বন্দুক ও ১৩ রাউন্ড গুলি সহ দুই যুবককে আটক করে। এসময় অতিরিক্ত পুলিশ ফোর্স গিয়ে আরো তল্লাশি চালিয়ে ইসমাইলের বাড়ি থেকে একটি রামদা ও এক ড্রাম চোলাই মদ  উদ্ধার করে।

অস্ত্র উদ্ধার ও আটকের সত্যতা নিশ্চিত করে পেকুয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জহিরুল ইসলাম খান বলেন, আটকদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট আইনে মামলা (নং-৭) দায়ের করা হয়েছে। আটকদের কে     আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরণ করা হবে।