আদিবাসীদের আলাদা স্বীকৃতির প্রয়োজন হয় না: রাশেদ খান মেনন

নিজস্ব প্রতিনিধি:

আমি বাঙালি এটা কেউ বলে দেবে, কেউ আলাদা করে স্বীকৃতি দেবে, এটা আমি কেন মানবো? আমি বাঙালি এটা আমার অধিকার। তেমনি আদিবাসীদেরও আলাদা স্বীকৃতির প্রয়োজন হয় না। তারা তাদের নিজস্ব সংস্কৃতির মাধ্যমেই পরিচিত।

বুধবার দুপুরে রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আদিবাসী ফোরাম আয়োজিত ‘আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস-২০১৭’ এবং ‘আদিবাসী অধিকার বিষয়ক জাতিসংঘ ঘোষণাপত্রের এক দশক পালন’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, পাহাড়ে অশান্তির জন্য শান্তি চুক্তি করা হয়। কিন্তু এখনও শান্তি নিশ্চিত হয়নি। পাহাড়ে ভূমি সমস্যার সমাধানে দীর্ঘ প্রচেষ্টার পরে জাতীয় সংসদে অনেক লড়াই-সংগ্রাম করে ভূমি কমিশন করা হয়। ভূমি কমিশন এখনও কার্যকর হয়নি।

বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের সাধারণ সম্পাদক সঞ্জীব দ্রং এর সঞ্চালনায়, অনুষ্ঠান উদ্বোধন করেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও বিজ্ঞান লেখক অধ্যাপক ড. জাফর ইকবাল।

বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের সভাপতি জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় সন্তু লারমা বলেছেন, সরকার ভিন্ন জাতিসত্তার মানুষদের নিশ্চিহ্ন করে দেওয়ার তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে। এসব জাতির মানুষ যদি সমান অধিকার নিয়ে বেঁচে থাকতে চায়, তাহলে তাদের সংগ্রাম চালিয়ে যেতে হবে।

সমাবেশে কলামিস্ট ও লেখক সৈয়দ আবুল মকসুদ বলেন, আজ থেকে ১০বছর আগে এ দিনকে আদিবাসী দিবস হিসেবে জাতিসংঘ ঘোষণা করে। যখন জাতিসংঘ স্বীকৃতি দিয়েছিল তখন যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, নিউজিল্যান্ডসহ অন্যান্য বেশ কয়েকটি দেশ এ দিবসের বিরোধিতা করেছিল। অথচ আজ তারাই এ দিবসটি উদযাপন করছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত বাংলাদেশ রাষ্ট্রীয়ভাবে দিনটি উদযাপন করে না।’

সংসদ সদস্য ও আদিবাসীবিষয়ক সংসদীয় ককাসের আহ্বায়ক ফজলে হোসেন বাদশা বলেন, একটি জাতিকে যখন ক্ষুদ্র বলা হয় তখন সে জাতি বৈশম্যের স্বীকার হয়। তিনি বলেন, জাতীয় ভাবে আদিবাসী দিবস পালন হতে হতে একদিন রাষ্ট্রীয় ভাবে পালন হবেই।

‘জাতীয় আদিবাসী পরিষদের’ সভাপতি শ্রী রবীন্দ্রনাথ সরেন বলেন, আমরাও তো এদেশের জনগণ কিন্তু স্বীকৃতি নেই। আমরা শুধু কৃষি কাজে নয়, মুক্তিযুদ্ধ, কৃষক আন্দোলন থেকে শুরু করে এদেশের উন্নয়নের সব কাজে আদিবাসীদের অবদান রয়েছে।

সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম, নাট্য ব্যক্তিত্ব মামুনুর রশীদ, খুশী কবির, ব্যারিস্টার সারা হোসেন, চাকমা রাজা দেবাশীষ রায় প্রমুখ।

সমাবেশে ‘বাংলাদেশ আদিবাসী’ ফোরাম ১০ দফা দাবি তুলে ধরেছেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য দাবিগুলো হলো- ২০০৭ সালে জাতিসংঘের স্বীকৃতি দেওয়া ঘোষণাপত্র অবিলম্বে বাস্তবায়ন, এসডিজি ২০৩০ বাস্তবায়নে ‘আদিবাসী’ জনগণের পূর্ণ অংশীদারিত্ব নিশ্চিত, আদিবাসীদের ঐহিত্যগত ও প্রথাগত ভূমি অধিকারের স্বীকৃতি দিতে হবে।




বাঙালিরাই বাংলাদেশে আদিবাসী

প্রেস বিজ্ঞপ্তি:

বাঙালিরাই বাংলাদেশে আদিবাসী। বাংলাদেশের মহান সংবিধানের  অনুচ্ছেদ ৬(২) এ স্পষ্ট ভাবে বলা হয়েছে যে, বাংলাদেশের জনগণ জাতি হিসাবে বাঙালি এবং নাগরিকগণ বাংলাদেশী বলে পরিচিত হবে এবং অনুচ্ছেদ ২৩(ক): রাষ্ট্র বিভিন্ন উপজাতি, ক্ষুদ্র জাতিসত্তা, নৃ-গোষ্ঠী ও সম্প্রদায়ের অনন্য বৈশিষ্ট্যপূর্ণ আঞ্চলিক সংস্কৃতি এবং ঐতিহ্য সংরক্ষণ, উন্নয়ন ও বিকাশের ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।

বাংলাদেশের সংবিধান পরিপন্থি ও সরকারের জারিকৃত প্রজ্ঞাপন অবজ্ঞা করে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী কর্তৃক রাষ্ট্রবিরোধী গভীর ষড়যন্ত্রের লক্ষ্যে তথাকথিত আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস পালনের প্রতিবাদে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশে পার্বত্য নাগরিক পরিষদের চেয়ারম্যান ও পার্বত্য বাঙ্গালী ছাত্র পরিষদের প্রতিষ্ঠাতা, ইঞ্জিঃ আলকাছ আল মামুন ভূঁইয়াে এসব কথা বলেন।

বুধবার (৯ আগস্ট) সকাল ১০.৩০টায়, জাতীয় প্রেসক্লাব এর সম্মুখে, পার্বত্য নাগরিক পরিষদ ও পার্বত্য বাঙ্গালী ছাত্র পরিষদের যৌথ উদ্যোগে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

সমাবেশ মামুন ভূঁইয়াে বলেন, সরকার স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন বাংলাদেশের উপজাতিরা কখনো আদিবাসী হতে পারে না। উপজাতীয়রা আদিবাসী ইস্যুটি আমাদের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের উপর আঘাতকারী এবং দেশ ভাগের গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ। তিনি শীঘ্রই এ  বিষয়ে সরকারের সরাসরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

পার্বত্য বাঙালী ছাত্র পরিষদের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক ও ঢাকা মহানগর সভাপতি ইঞ্জিঃ শাহাদাৎ ফরাজি সাকিবের সভাপতিত্বে ওই সমাবেশে আরও উপস্থিত ছিলেন, তৃণমূল বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব, অধ্যাপক শাহ্‌জাহান শাজু। পার্বত্য গণ পরিষদের চেয়ারম্যান, কবি মাহমাদুল হাসান নিজামী। পার্বত্য নাগরিক পরিষদের (ভারঃ) মহাসচিব ও পার্বত্য বাঙ্গালী ছাত্র পরিষদের উপদেষ্টা মণ্ডলীর অন্যতম সদস্য, শেখ আহাম্মদ (রাজু)। পার্বত্য নাগরিক পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক ও পার্বত্য বাঙ্গালী ছাত্র পরিষদের উপদেষ্টা আব্দুল হামিদ রানা। পিবিসিপির কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি সারোয়ার জাহান খান প্রমুখ।

অন্যদিকে বিশেষ অতিথি মি. শাজু বলেন, বাংলাদেশের নাগরিকত্ব গ্রহণ করে সকল প্রকার সুযোগ সুবিধা ভোগ করার পরেও দেশের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী সরকারের নির্দেশনা না মেনে উদ্দেশ্য প্রণোদিত ভাবে তথাকথিত আদিবাসী দিবসের নামে রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডে লিপ্ত রয়েছে যাতে দেশের কিছু সুশীল এসব কর্মকাণ্ডে উৎসাহ দিচ্ছে। এটা একটা স্বাধীন রাষ্ট্রের জন্য মোটেও মঙ্গলজনক নয়। বিদেশী কয়েকটি রাষ্ট্র ও এনজিও সংস্থার মাধ্যমে প্ররোচিত হয়ে এখানকার একশ্রেণির মানুষ দেশ বিরোধী ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে। তাই সরকারের নির্দেশনাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন করে পার্বত্য চট্টগ্রামে একটি অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টি করার মানসে বিতর্কিত আদিবাসী দিবস পালন করছে।

অন্যান্য নেতৃবৃন্দ বলেন, উপজাতি সম্প্রদায়ের কিছু মানুষ সংবিধান লঙ্গন করে নিজেদের মিথ্যে আদিবাসী পরিচয় দিয়ে জাতিকে বিভ্রান্ত করছে,পার্বত্য বাঙ্গালী ছাত্র পরিষদ ও পার্বত্য নাগরিক পরিষদ এসব দেশ বিরোধী ষড়যন্ত্রকারীদের বিরুদ্ধে প্রশাসনকে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। অন্যথায় পার্বত্য চট্টগ্রামের বাঙ্গালীরা দেশ রক্ষার্থে এসব দেশদ্রোহীদের বিরুদ্ধে কঠিন আন্দোলন গড়ে তোলার হুঁশিয়ারি উচ্চারন করেন।




বাংলাদেশে গনমুখী শাসন ব্যবস্থা কায়েম না হলে ক্ষুদ্র জাতিসত্তার ও বাঙালি কোন নারীরাই নিরাপদ নয়

নিজস্ব প্রতিনিধি:

বাংলাদেশে গনমুখী শাসন ব্যবস্থা কায়েম না হলে ক্ষুদ্র জাতিসত্তার ও বাঙালি কোন নারীরাই নিরাপদ নয় বলে মন্তব্য করেছেন জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমা।

রবিবার বিকাল ৩টায় দি ডেইলি স্টার ভবনের আজিমুর রহমান কনফারেন্স হলে ‘টেকসই উন্নয়ন এজেন্ডা ও বাংলাদেশের আদিবাসী নারীর অধিকার’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।

তিনি আরও বলেন, বাঙালি নারীদের চেয়ে ক্ষুদ্র জাতিসত্তার নারীরা জাতিগতভাবে অধিক নিপীড়নের শিকার। বৈষম্যমূলক এ সমাজে ক্ষুদ্র জাতিসত্তার নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠা কঠিন ব্যপার।

বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের সাধারণ সম্পাদক সঞ্জীব দ্রং এর সঞ্চলনায় ফাল্গুনী ত্রিপুরা আলোচনা সভার মূল প্রবন্ধ পাঠ করেন এবং স্বাগত বক্তব্য দেন কাপেং ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক পল্লব চাকমা।

বাংলাদেশ আদিবাসী নারী নেটওর্য়াক, কাপেং ফাউন্ডেশন ও বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরাম এর আয়োজনে টেকসই উন্নয়ন এজেন্ডা ও বাংলাদেশের আদিবাসী নারীর অধিকার’ শীর্ষক আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য রাখেন, চাকমা সার্কেলের রানী য়েন য়েন, ব্লাস্টের নির্বাহী পরিচালক ব্যারিস্টার সারা হোসেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম আর্ন্তজাতিক কমিশনের সদস্য ও নিজেরা করি’র সম্বন্বয়কারী খুশি কবির এবং সিটিজেন প্লাটফর্ম ফর এসডিজি বাংলাদেশ এর আহ্বায়ক ও সিপিডি’র সম্মানিত ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য।

ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, বহুত্ববাদকে পিছনে ফেলে বাংলাদেশের সমাজব্যবস্থা আজ একমূখী হতে চলেছে। টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রায় আদিবাসীদের অন্তর্ভূক্তিকরণ অনেকটাই বিন্দুর মাঝে সিন্ধু খোঁজার মত। আদিবাসীদের সঠিক উন্নয়ন করতে হলে প্রথমে অদৃশ্য আদিবাসীদের দৃশ্যমান করতে হবে। আদিবাসীদের জন্য তাই পৃথক আদমশুমারীর ব্যবস্থা সরকারকে করতে হবে। আদিবাসীদের নাগরিক অধিকার তাহলেই নিশ্চিত হবে এবং সঠিক তথ্য উপাত্ত নিয়ে উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড সরকারি এবং বেসরকারি পর্যায়ে করা সুষ্ঠভাবে সম্পাদন করা যাবে।

খুশি কবির বলেন, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার সারকথা, কাউকে পিছনে ফেলে নয়। বাংলাদেশের সরকার এখানে ‘কাউকে’ এ বাক্যের সুনিদিষ্ট জনগণকে এখনো খুঁজে পাচ্ছেন না। সরকার আদিবাসীদের আদিবাসী হিসেবে স্বীকৃতি দিতে অস্বীকার করছেন যেখানে সে জায়গায় আদিবাসী নারীরা স্বাভাবিকভাবেই চরম মানবাধিকার লঙ্ঘনের শিকার হন। টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রায় আদিবাসী নারীদের অন্তর্ভুক্তির জন্য সরকারের সদিচ্ছার প্রয়োজন।

ব্যরিস্টার সারা হোসেন বলেন, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন থাকলেও তার যথাযথ প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন হচ্ছে না। দূর্গম পাহাড়ী এলাকার নারীরা প্রতিকূল পরিবেশ এবং ভাষাগত কারণে ভিকটিম সার্পোট সেন্টার বা আইন সহায়তা কেন্দ্রগুলোর সাহায্য নিতে পারছে না। ‘কাউকে পিছনে ফেলে নয়’ এ শ্লোগান তখনই সার্থক হবে যখন বাংলাদেশ এগিয়ে যাওয়ার সাথে সাথে ক্ষুদ্র জাতিসত্তার মানুষও সামনে এগিয়ে যাবে।

রানী ইয়েন ইয়েন বলেন, সরকারি পরিকল্পনা পত্রের মধ্যে আদিবাসী নারীদের অন্তর্ভুক্তি করা না হলে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার অনবদ্য বিষয়টি বাদ থেকে যাবে। মূলত: আদিবাসীদের গোষ্ঠীগত অধিকার নিশ্চিত করা না হলে আদিবাসীদের মানবাধিকার কখনও নিশ্চিত করা যাবে না। সরকারের ৬ষ্ঠ পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার মত সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনাও শুধু কাগজের পাতায় পড়ে থাকলে উন্নয়ন হবে না। সরকারের সদিচ্ছা প্রয়োজন পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়নের জন্য সেই সাথে পার্বত্য শান্তিচুক্তির বিষয়টিও সরকারের আমলে নেওয়া উচিত।




আদিবাসীদের উপর বৈরী আচরণের মাত্রা অতীতের সব রেকর্ড ভেঙেছে: সন্তু লারমা

নিজস্ব প্রতিনিধি:
আদিবাসীদের উপর বৈরী আচরণের মাত্রা ‘অতীতের সব রেকর্ড ভেঙেছে’ এমন মন্তব্য করে সন্তু লারমা বলেন, “আদিবাসীদের ভূমি নির্বিঘ্নে অনায়াসে বেদখল হয়ে যাচ্ছে। অহঙ্কার ও ক্ষমতার দাপটে পাহাড়ি আদিবাসীরা আরো অসহায় হয়ে পড়ছে।

জাতিসংঘ আদিবাসী বিষয়ক ঘোষণাপত্রের এক দশক ও আদিবাসী দিবস উদযাপন উপলক্ষ্যে শনিবার সকালে রাজধানীর সুন্দরবন হোটেলে এক সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের চেয়ারম্যান জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমা এ কথা বলেন।

এসময় সংবাদ সম্মেলনে আদিবাসী ফোরামের সদস্যসচিব সঞ্জীব দ্রংয়ের সঞ্চালনায় আরও বক্তব্য দেন, ঐক্য ন্যাপের সভাপতি পঙ্কজ ভট্টাচার্য, গবেষক ও কলামিস্ট সৈয়দ আবুল মকসুদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মেসবাহ কামাল, মানবাধিকার কর্মী নুমান আহমেদ খান, বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের সাংগঠনিক সম্পাদক শক্তিপদ ত্রিপুরা ও রবীন্দ্রনাথ সরেন।

জাতিসংঘের আদিবাসী বিষয়ক ঘোষণাপত্রের এক দশক পেরিয়ে গেলেও তার বাস্তবায়ন না করে সরকার আদিবাসীদের প্রতি দায়িত্বহীনতার পরিচয় দিচ্ছে অভিযোগ করে সন্তু লারমা বলেন, “মানবাধিকার লঙ্ঘনের কোনো প্রতিকার নেই। যেন আদিবাসী ও প্রান্তিক মানুষের জন্য কোথাও কেউ নেই। রাষ্ট্র ও সরকার আদিবাসীদের কাছ থেকে অনেক দূরে চলে যাচ্ছে।”

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০০৯ সালে আদিবাসী দিবসের বাণীতে আদিবাসী অধিকার ঘোষণাপত্র বাস্তবায়নের ঘোষণা দিলেও তার বাস্তবায়ন হয়নি বলে অভিযোগ করে সংবাদ সম্মেলনের লিখিত বক্তব্যে সন্তু লারমা বলেন, “আদিবাসীদের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী হিসেবে আখ্যা দেওয়ায় দেশের ৩০ লাখ আদিবাসী জনগণ মানবাধিকার ও মৌলিক স্বাধীনতা থেকে ‘বঞ্চিত’ হয়েছেন।”

লিখিত বক্তব্যে আরও বলেন, ২০০৭ সালে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে আদিবাসী অধিকার ঘোষণাপত্র গৃহীত হয়। এতে আদিবাসীদের মৌলিক অধিকার, আত্ম নিয়ন্ত্রণ অধিকার, ভূমি, অঞ্চল বা টেরিটরি ও প্রাকৃতিক সম্পদের উপর পূর্ণ অধিকার, ভূমির উপর ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক মালিকানা ও নিয়ন্ত্রণ, আদিবাসীদের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, ধর্মীয়, সাংস্কৃতিক উন্নয়ন, শিক্ষাসহ নিজস্ব ভাষা ও জীবনধারা সংরক্ষণের স্বীকৃতি দেয় জাতিসংঘ।

এতে বলা হয়, আদিবাসীদের জীবনধারা, আদিবাসী এলাকা ও তাদের সহায় সম্পদকে প্রভাবান্বিত করে এমন কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করতে গেলে আদিবাসীরে পূর্বানুমতি গ্রহণ, আন্তর্জাতিক নীতি ফ্রি, প্রায়োর অ্যান্ড ইনফরমড পলিসি মেনে চলতে হবে। আদিবাসীদের মানবাধিকার লঙ্ঘিত হলে তার উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কথাও বলা হয় এ ঘোষণাপত্রে। এ ঘোষণাপত্রের কিছুই বাস্তবে মানা হচ্ছে না বলে অভিযোগ সন্তু লারমার।

সন্তু লারমা বলেন, “দেশে আদিবাসীদের বিষয়ে বলতে হয়, লাইফ ইজ নট আওয়ার্স। আদিবাসীদের ভূমি দখলের মহোৎসব চলছে। ভূমিলোভী চক্র নয়, কখনও কখনও বিভিন্ন প্রকল্পের নামে বিশেষত ন্যাশনাল পার্ক, ইকো পার্ক, রিজার্ভ ফরেস্ট, সামাজিক বনায়ন, সামরিক বাহিনীর ক্যাম্প ও স্থাপনা সম্প্রসারণ ইত্যাদির কারণে আদিবাসীরা ভূমি হারাচ্ছে। নতুন যন্ত্রণা শুরু হয়েছে, ইকোনমিক জোন গড়ার পরিকল্পনায় আদিবাসীরা ভূমি হারাতে শুরু করেছেন।”

গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জের সাহেবগঞ্জ ও বাগদাফার্ম, মৌলভীবাজারের ঝিমাই, আমুলি, মেঘাটিলা, নাহার, কাইলিন পুঞ্জি, পাল্লাথল পুঞ্জি; টাঙ্গাইলের মধুপুর; সীতাকুণ্ড, কুমিরা, মিরেরসরাই, ফটিকছড়ি, চাঁদপুর, কুমিল্লা ও রাঙামাটির লংগদু উপজেলায় আদিবাসীদের উপর হওয়া নানা নিপীড়নের চিত্র তুলে ধরেন তিনি।

সংবাদ মম্মেলনে ঐক্যন্যাপের সভাপতি পংকজ ভট্টাচার্য বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে পার্বত্য চট্টগ্রামসহ দেশের সমতল এলাকার ক্ষুদ্র জাতিসত্তার  প্রতি সরকারের বৈরী আচরন আরো বেড়ে গেছে। তিনি দেশকে প্রকৃত অর্থে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী  মৌলিক অধিকার সংরক্ষণে প্রগতিশীল সমাজ, দেশের সুশীল সমাজ পাশে থাকবে বলেও উল্লেখ করেন।

বিশিষ্ট কলামিস্ট ও গবেষক সৈয়দ আবুল মকসুদ বলেন, বাংলাদেশের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীরা মোটেই ভালো নেই। তারা আজ উপেক্ষিত। অথচ দেশের অর্থনীতি, সংস্কৃতি, রাজনীতির ক্ষেত্রে তারা অবদান রেখে চলেছে।

মানবাধিকার কর্মী নুমান আহম্মদ খান বলেন, বাংলাদেশকে একটি সুষ্ঠ গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্য ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর মানুষদেরকে রাষ্ট্র পরিচালনায় অংশগ্রহণ করার ব্যবস্থা করতে হবে।

প্রফেসর মেজবাহ কামাল বলেন, রাষ্ট্র ও সরকার আদিবাসীদের থেকে অনেক দূরে সরে যাচ্ছে বলে আদিবাসীরা মনে করছে। আদিবাসীদের প্রতি রাষ্ট্রের যে বৈরী আচরণ তা অতীতের সমস্ত রেকর্ডকেও ছাড়িয়ে গেছে। উগ্র বাঙ্গালি জাতীয়তাবাদ, উগ্র ধর্মান্ধতা মিলিয়ে রাষ্ট্র এক জাতির এক ধর্মের রাষ্ট্র হয়ে উঠছে। যার ফলে ভাষা বৈচিত্র্য, বর্ণবৈচিত্র্য, জাতিবৈচিত্র্য দেশ থেকে হারিয়ে যাচ্ছে। এমতাবস্থায় রাষ্ট্রের উচিত অতি শীঘ্রই আদিবাসীদের রাজনৈতিক অধিকারসহ সমস্ত মৌলিক অধিকার সংরক্ষণ করা।




প্রাকৃতিক দর্যোগ থেকে রক্ষা ও দেশের কল্যাণ কামনায় খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলায় ঈদ-উল-ফিতর পালিত হচ্ছে

নিজস্ব প্রতিবেদক, খাগড়াছড়ি:

প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে রক্ষা  এবং দেশের কল্যাণ কামনার মধ্য দিয়ে সারাদেশের মতো পার্বত্য জেলা খাগড়াছড়ি জেলায়ও উৎসাহ-উদ্দীপনায় পবিত্র ঈদ-উল-ফিতর পালিত হচ্ছে।

সকাল সাড়ে ৮টায় কেন্দ্রীয় ঈদগাঁ মাঠের ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয়। এতে ঈমামতি করেন, হাফেজ মাওলানা আব্দুর নুর হক্কানী। এখানে জেলা প্রশাসক রাশেদুল ইসলামসহ প্রশাসনিক কর্মকর্তাসহ রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ নামাজ আদায় করেন।

খাগড়াছড়ি পুরাতন পুলিশ লাইন্স মসজিদে ঈদের নামাজ আদায় করেন, খাগড়াছড়ি জেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য ওয়াদুদ ভূইয়া। জামাত শেষে পারস্পরিক উষ্ণ কোলাকুলির মধ্য দিয়ে উৎসব আনন্দ ছড়িয়ে পড়ে শহর জুড়ে।

এর পরই পুরাতন পুলিশ লাইন্স মসজিদ, শালবন মসজিদ, খেজুরবাগান জামে মসজিদ, গাউছিয়া মসজিদ, শান্তিনগর মসজিদ, কুমিল্লাটিলা জামে মসজিদ, মোহাম্মদপুর জামে মসজিদ-এ ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়।

এছাড়া জেলার দীঘিনালা, পানছড়ি, মহালছড়ি, মাটিরাঙ্গা, রামগড়, মানিকছড়ি, গুইমারা ও লক্ষ্মীছড়িতে পৃথক পৃথক ঈদেও জামাত অনুষ্ঠিত হয়।




ওবায়দুল কাদের’র মন্তব্যের তীব্র নিন্দা এবং প্রতিবাদ জানিয়েছে পার্বত্য বাঙ্গালি ছাত্র পরিষদ

 

প্রেস বিজ্ঞপ্তি:

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং যোগাযোগ মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের শনিবার ফেনিতে মিডিয়াকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, ৪ লাখ বাঙালির কারণে পাহাড়ের ভারসাম্য নষ্ট হয়েছে, সে কারণেই সাম্প্রতিক সময়ে পাহাড় ধ্বসের মত এমন বিপর্যয় নেমে এসেছে।

পার্বত্য বাঙ্গালি ছাত্র পরিষদ এর পক্ষ থেকে বলা হয়, কোন এক বিশেষ সম্প্রদায়ের পক্ষ নিয়ে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য, রাষ্ট্রের এবং সরকারের একজন বিচক্ষণ ও দায়িত্বশীল গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির এমন অযৌক্তিক এবং মনগড়া বক্তব্য’র ফলে পাহাড়ে উপজাতি এবং বাঙালি উভয় সম্প্রদায়ের মধ্যে সাম্প্রদায়িক অশান্তি বৃদ্ধি পাবার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।

অন্যদিকে পাহাড় ধ্বসে স্বজনহারা ও ভুক্তভুগি বাঙালিদের মাঝে সরকারের মানবিক ভুমিকা প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে।

ইতিমধ্যেই পরিলক্ষিত যে, বাঙালি জনগোষ্ঠীর একটি বড় অংশ পাহাড়ে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আর্থিক সচ্ছলতার উদ্দেশ্যে বানিজ্যকভাবে বাগান শুরু করেছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য আম, কাঁঠাল, লিচু, সেগুন, কড়ই ইত্যাদি।

অন্যদিকে উপজাতি জনগোষ্ঠী পাহাড়ে জুম চাষের নামে আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস করছে বিপুল পরিমাণ হাজার বছরের পুরনো প্রাকৃতিকভাবে গড়ে উঠা পাহাড়-সুরক্ষাকারী গাছপালা। প্রতিনিয়ত এমন অবাধ বৃক্ষ ধ্বংসের ফলে পাহাড় হারাচ্ছে তার অভ্যন্তরীণ মাটি ধরে রাখার ক্ষমতা এবং তৈরি হচ্ছে ভয়াবহ পাহাড় ধ্বস।

মন্ত্রী মহোদয় জুম চাষের মত এমন একটি ভয়াবহ পাহাড় ধ্বসের কারণ প্রতিকারের ব্যাবস্থা না করে অন্যদিকে পার্বত্য সাধারণ বাঙালিদের নিয়ে এমন অযৌক্তিক এবং মনগড়া বক্তব্যের তীব্র নিন্দা এবং প্রতিবাদ জানিয়েছে। সেই সাথে এমন মন্তব্য প্রত্যাহার পূর্বক পাহাড়ধ্বসের প্রধান কারণ পাহাড়ে জুম চাষাবাদ বন্ধসহ পাহাড় ও পরিবেশ রক্ষায় তিন পার্বত্য জেলাতে পরিবেশ অধিদপ্তরের কার্যক্রম বৃদ্ধির জোর দাবিও জানিয়েছে তারা।




পার্বত্য চট্টগ্রামের নিহত ও ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ ও রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণার দাবি পিবিসিপি’র

 

প্রেস বিজ্ঞপ্তি:

বুধবার এক বিবৃতিতে পার্বত্য চট্টগ্রামের নিহতদের আত্মার শান্তি কামনা করেন এবং মর্মান্তিকভাবে নিহত ও ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ দাবি এবং রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণার জোর দাবি জানিয়ে এই বিপদে সকলকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন পার্বত্য বাঙ্গালী ছাত্র পরিষদের প্রতিষ্ঠাতা ও পার্বত্য নাগরিক পরিষদের চেয়াররম্যান ইঞ্জিনিয়ার আলকাছ আল মামুন ভুঁইয়া। পার্বত্য নাগরিক পরিষদের দপ্তর সম্পাদক মো. খলিলুর রহমান কতৃক প্রেরিত এক ইমেইল বার্তায় এ আহ্বান জানানো হয়।

গত কয়েকদিনে পার্বত্য চট্টগ্রামে অতি বর্ষণে ও পাহাড় ধ্বসে ২ সেনা অফিসার, ৪ সেনা সদস্যসহ প্রায় ১৩৫জন নিহত, মেজর মাহফুজ, ক্যাপটেন তানভির, করপোরাল আজিজ এবং সৈনিক শাহিনসহ প্রায় ১৪৫ জনেরও বেশি তাজা প্রাণ ঝড়ে যায়। এ প্রবল বর্ষণ ও প্রাকৃতিক দুর্যোগে পার্বত্য বাঙালি ছাত্রপরষিদ, এবং সরকারসহ সকলকে এগিয়ে আসার অনুরোধ করে এ বিপদে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। তিনি, যার যা আছে তা নিয়ে সাহায্যে এগিয়ে আসতে এবং ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়াতে সকলের সহযোগিতা কামনা করেন।

বিবৃতিতে তিনি আল্লাহর কাছে দোয়া করেন, যে মুসলমানরা নিহত হয়েছে তাদেরকে আল্লাহ যেন শহীদ হিসেবে কবুল করেন।

তিনি নিহতদের আত্মার শান্তি কামনা করেন এবং মর্মান্তিকভাবে নিহত ও ক্ষতগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণের দাবি এবং রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণার এবং এখন থেকে জুম চাষের নামে পাহাড়ে জঙ্গল বা বন কাটা নিষিদ্ধ করার জোর দাবি জানান। আরো বলনে, ’আল্লাহ তুমি সবাইকে হেফাজত কর”।

বিবৃবিতে মামুন ভুঁইয়া হতাহত সকল সেনাবাহিনীর অফিসার, সেনাসদস্য, অন্যান্য ও তাদের শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করেন।

প্রসঙ্গত, গত তিন দিনের প্রবল বর্ষণের ফলে সোমবার থেকেই পার্বত্য চট্টগ্রামে বিভিন্ন স্থানে পাহাড় ধ্বস শুরু হয়। এতে হতাহত হওয়ার পাশাপাশি গোটা এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। যোগাযোগ ব্যবস্থা পুনরুদ্ধার এবং পাহাড় ধ্বসে ক্ষতিগ্রস্তদের সাহায্যের জন্য বিভিন্ন সেনা ক্যাম্পের সদস্যরা সোমবার থেকেই উদ্ধার কার্যে অংশগ্রহণ করে।




প্রবল বর্ষণে পার্বত্য অঞ্চলের ৩ জেলায় সেনা কর্মকর্তাসহ ১৫০জনের প্রাণহানীতে শোক প্রকাশ জেলা বিএনপির

প্রেস বিজ্ঞপ্তি:

গত ৩ দিন যাবত পার্বত্য অঞ্চলে প্রবল বর্ষণে পাহাড় ধ্বসে ২ সেনা কর্মকর্তা ৩ সেনা সদস্য সহ প্রায় ১৫৩জনের প্রাণহানী ও শত শত লোক আহত হয়েছে। অনেক বাড়িঘর সম্পূর্ণরুপে বিলীন হয়ে গিয়েছে। নিঃস্ব হয়েছে হাজার হাজার লোক। সরকারের প্রতি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার সমূহের ক্ষতিপূরণ প্রদান সহ পূনর্বাসনের দাবি জানিয়েছে জেলা বিএনপি নেতৃবৃন্দ।

তাছাড়াও ঘটনায় নিহত ও আহতদের প্রতি গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করে তাদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারসমূহের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছে জেলা বিএনপি।




দু’জন কেন্দ্রীয় সভাপতি মনোনীত করে পার্বত্য বাঙ্গালী ছাত্র পরিষদ নাটকীয়তার জন্ম দিল

 

প্রেস বিজ্ঞপ্তি:

রবিবার সকাল ১১টায় চট্টগ্রাম অস্থায়ী কার্যালয়ে পার্বত্য বাঙ্গালী ছাত্র পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটি, তিন জেলা (খাগড়াছড়ি, রাঙ্গামাটি ও বান্দরবান) কমিটি, চবি কমিটি, চট্টগ্রাম মহানগর কমিটি এবং বিভিন্ন উপজেলা কমিটির এক যৌথ জরুরী সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভায় সভাপতিত্ব করেন সদ্য বিদায়ী কেন্দ্রীয় সভাপতি মু. শাব্বির আহমদ এবং সভা পরিচালনা করেন সদ্য বিদায়ী কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক মো. সারোয়ার জাহান খান।

১০ জুন, বিকালে ঢাকায় পার্বত্য বাঙ্গালী ছাত্র পরিষদের অস্থায়ী কার্যালয়ে কেন্দ্রীয় উপদেষ্টা কমিটির এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এই বৈঠকে আব্দুল মজিদকে প্রথম বছর এবং ইব্রাহিম মনিরকে দ্বিতীয় বছরের জন্য পার্বত্য বাঙ্গালী ছাত্র পরিষদের কেন্দ্রীয় সভাপতি, শাহাদাৎ ফরাজী সাকিবকে কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক এবং কাউসার উল্লাহকে কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক পদে মনোনিত করা হয়।

গঠনতন্ত্র অনুযায়ী শিক্ষাগত যোগ্যতাকে উপেক্ষা করে, তৃণমূল নেতৃবৃন্দের মতামত বিবেচনা না করে, যোগ্য ও গ্রহণযোগ্য প্রার্থী থাকা সত্ত্বেও অযোগ্য, অছাত্র, বিতর্কিত ও বিবাহিত এবং স্বাধীনতা বিরোধী শক্তি জামাত শিবিরের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত দুইজনকে ভিন্ন ভিন্ন মেয়াদে কেন্দ্রীয় সভাপতি হিসাবে মনোনিত করে। এ দুইজনকে সভাপতি করার কোন নিয়ম পার্বত্য বাঙ্গালী ছাত্র পরিষদের গঠনতন্ত্রে নেই। তথাপি উপদেষ্টা গঠনতন্ত্র বিরোধী এ হীন সিদ্ধান্ত নিয়ে পার্বত্য বাঙ্গালী ছাত্র পরিষদকে হাস্যকর পরিস্থিতির সম্মূখীন করেন।

এমতাবস্থায়,  কেন্দ্রীয় সম্মেলন বাস্তবায়ন কমিটির সদস্য ও নেতৃবৃন্দ উপদেষ্টাগণের অগঠনতান্ত্রিক সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা জানায় এবং সভাপতি পদে মনোনিত দুইজনকে প্রত্যাখান করার ঘোষণা দেয়। এমনকি, ২০জুন, ২০১৭ তারিখের মধ্যে উপদেষ্টা মন্ডলীদেরকে সভাপতি পদের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত পুর্নবিবেচনার অনুরোধ জানায়। নয়তো তারা পার্বত্য বাঙালীর বৃহত্তর স্বার্থে এধরনের হীন সিদ্ধান্তকারীদেরকে অবাঞ্চিত ঘোষণা করা সহ কঠোর কর্সসূচি দিতে বাধ্য হবে বলে উল্লেখ করে।

সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন, কেন্দ্রীয় সম্মেলন বাস্তবায়ন কমিটির সদস্য সাহাজল ইসলাম সজল,  খোরশেদ আলম ফিরোজ,  চবির সভাপতি ও সদ্য ঘোষিত কমিটির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক কাউসার উল্লাহ, সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক ইখতিয়ার ইমন, চট্টগ্রাম মহানগর সভাপতি মো. আলী, যুগ্ম সম্পাদক মো. সুমন, বান্দরবান জেলা আহ্বায়ক মো. আজিজ,  রাঙ্গামাটির জেলা সভাপতি মু. ইব্রাহিম, সিনিয়র সহ সভাপতি মো. নজরুল ইসলাম, খাগড়াছড়ি জেলার ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মো. মাইন উদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক এসএম. মাসুম রানা, দপ্তর সম্পাদক মৃদুল বড়ুয়া, দিঘীনালা সভাপতি মো. সাদ্দাম হোসেন, মানিকছড়ি সভাপতি মো. মোকতাদের হোসেন, সাধারণ সম্পাদক মো. সাহাব উদ্দিন প্রমূখ।




পার্বত্য বাঙ্গালী ছাত্র পরিষদের কেন্দ্রীয় কাউন্সিল ২০১৭-১৮ সম্পন্ন

 

প্রেস বিজ্ঞপ্তি:

শনিবার বিকেলে রাজধানীর একটি রেস্টুরেন্টে পার্বত্য বাঙ্গালী ছাত্র পরিষদের ৭ম কেন্দ্রীয় কাউন্সিল ২০১৭-১৮ সম্পন্ন হয়েছে। জেলা ও তৃনমূল নেতাদের ভোটে ২জনই সমান সংখ্যক ভোট পাওয়ায়, উপদেষ্টা মণ্ডলীর পরামর্শে তাৎক্ষনিক সিদ্ধান্তে মো. আব্দুল মজিদ ও ইব্রাহিম মনির উভয়কেই সভাপতি ঘোষণা করেন।

প্রত্যেকে ১বৎসর ১বৎসর করে(প্রথমে মজিদ পরে ইব্রাহিম মনির) যৌথ ভাবে কেন্দ্রীয় সভাপতির দায়িত্ব পালন করবেন এবং সিনিয়র সহ সভাপতি হিসেবে মো. তৌহিদুল ইসলাম ও সারোয়ার জাহান খানকে মনোনিত করা হয়। সাহাদাৎ ফরাজি সাকিবকে সাধারণ সম্পাদক, সাদেকুর রহমানকে যুগ্ম সম্পাদক এবং কাউছার কে সাংগঠনিক সম্পাদক নির্বাচিত করে মোট ৬ সদস্যের কমিটি ঘোষণা করা হয়।

দুপুর ৩টা থেকে সন্ধ্যা ৮টার পর্ন্ত পার্বত্য বাঙ্গালী ছাত্র পরিষদের কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. আব্দুল হামিদ রানার সভাপতিত্বে এ সম্মেলন  অনুষ্ঠিত হয়। পার্বত্য বাঙ্গালী ছাত্রপরিষদের এ ৭ম কাউন্সিলে সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা, কেন্দ্রীয় উপদেষ্টা মণ্ডলীর সভাপতি ও পার্বত্য নাগরিক পরিষদের চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার আলকাছ আল মামুন ভূঁইয়া প্রধান অথিতি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।

পার্বত্য নাগরিক পরিষদের কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক মো. খলিলুর রহমান কর্তৃক সংবাদ মাধ্যমে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়। এ কমিটিকে আগামী ৩০দিনের মধ্যে পূর্নাঙ্গ কমিটি করে কেন্দ্রীয় উপদেষ্টা মণ্ডলীর অনুমোদন নেয়ার নির্দেশ প্রদান করা হয়।

এ কাউন্সিলে আরও উপস্থিত ছিলেন, পার্বত্য বাঙ্গালী ছাত্র পরিষদের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি ও উপদেষ্টা এডভোকেট এয়াকুব আলী চৌধুরী, নাগরিক পরিষদের সহ সভাপতি অধ্যক্ষ মো. আবু তাহের, পার্বত্য বাঙ্গালী ছাত্র পরিষদের উপদেষ্টা শেখ আহম্মেদ রাজু, মো. কামাল হোসেন ভুঁইয়া, প্রকৌশলী মো. আলী নুর অধ্যাপক ফজলুল হক, পার্বত্য বাঙ্গালী ছাত্র পরিষদের জেলা ও উপজেলা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের নেতৃবৃন্দ, সাংবাদিক ও নাগরিক পরিষদের নেতা আবুল কালাম আজাদ, নাদিম মজিদ প্রমুখ।

প্রধান অথিতির বক্তব্যে পার্বত্য নাগরিক পরিষদের চেয়ারম্যান-ইঞ্জিনিয়ার আলকাছ আল মামুন ভূঁইয়া-সম্প্রতি পার্বত্য চট্টগ্রামের বিষয়ে সরকারের গৃহীত সিদ্ধান্ত সমূহের জন্য সরকারকে ধন্যবাদ জানিয়ে, পার্বত্যাঞ্চালে যৌথ অভিযান চালিয়ে উপজাতীয় সন্ত্রাসীদের অস্ত্র উদ্ধার করা, পার্বত্য বাসীর প্রাণের দাবি-শীঘ্রই রাঙ্গামাটি  বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল কলেজের নিজস্ব ভবন করে দেয়া, বিতর্কিত ভূমি কমিশন আইন বাতিল করা এবং রাঙ্গামাটি লংগদুর শান্তি প্রিয় বাঙালিদের হয়রানী বন্ধ করে গণগ্রেফতার বন্ধ করার দাবি মেনে নেয়ার আহ্বান জানান।

তিনি আগামীতেও পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তি, সম্প্রীতি, উন্নয়ন ও দেশের অর্থনীতির স্বার্থে সরকারের গৃহীত যেকোনো উদ্যোগকে বাঙালি সম্প্রদায় সহযোগিতা করবে বলেও আশ্বাস দেন।