তিন পার্বত্য জেলায় নদী খনন ও স্থলবন্দর করার সিদ্ধান্ত

mistar pic-29.1.2017
নিজস্ব প্রতিবেদক, বান্দরবান :
তিন পার্বত্য জেলায় নদীর নাব্য ফিরিয়ে আনতে খননের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। একই সঙ্গে তিন জেলায় তিনটি স্থলবন্দর নির্মাণ করা হচ্ছে। রবিবার সচিবালয়ে পার্বত্য চট্টগ্রাম এলাকায় নদীর সীমানা নির্ধারণ, নাব্য বৃদ্ধি এবং স্থলবন্দর নির্মাণ সংক্রান্ত সভা শেষে নৌপরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান সাংবাদিকদের এ তথ্য জানিয়েছেন।

মন্ত্রী বলেছেন, সভায় আমরা একমত হয়েছি পার্বত্য চট্টগ্রামের নদীগুলো খনন করে নাব্য ফিরিয়ে আনতে হবে। এজন্য প্রয়োজনীয় কার্যক্রম বিআইডব্লিউটি মাধ্যমে জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনও কার্যক্রম শুরু করবে। জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান, পার্বত্য আঞ্চলিক পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদস্যরা এ ব্যাপারে আমাদের সহায়তা করবেন।

পার্বত্যাঞ্চলের জনপ্রতনিধিদের নিয়ে নদী খননের উপায় নির্ধারণ করা হবে জানিয়ে শাজাহান খান বলেছেন, জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের মাধ্যমে নদীর সীমানা নির্ধারণ করব। বিআইডব্লিউটি’র মাধ্যমে নদীর খনন কাজ শুরুর পর উত্তোলিত মাটি দিয়ে নদীর তীরবর্তী জায়গাগুলো ব্যবহার উপযোগী করা হবে।

নৌপরিবহন মন্ত্রীর সভাপতিত্বে সভায় পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী উ শৈ সিং, নৌপরিবহন সচিব অশোক মাধব রায়, পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের চেয়ারম্যান জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় সন্তু লারমা, জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের চেয়ারম্যান মো. আতাহারুল ইসলাম, বিআইডব্লিউটি’র চেয়ারম্যান এম মোজাম্মেল হক ও তিন পার্বত্য জেলা (রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান) পরিষদের চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

কাচালং, মাইনি, কর্ণফুলী, ইছামতি, চেঙ্গি, মাতামুহুরী, সাঙ্গু, ফেনী, হালদাসহ পার্বত্য এলাকার অন্যান্য নদীগুলো খনন করা হবে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রী।

তিনি বলেছেন, অনেক নদীর শাখা বা উপনদী আছে। আমরা দেখব সেগুলোর কোনগুলো খনন করা যায়। এজন্য পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়সহ অন্যান্য মন্ত্রণালয়ের যে সহায়তা প্রয়োজন হবে তাও আমরা নেব।

খাগড়াছড়ির রামগড়ে একটি স্থলবন্দর নির্মাণ করা হবে জানিয়ে শাজাহান খান বলেছেন, রামগড়-সাব্রুম স্থল বন্দরের কাজ আমার শীঘ্রই শুরু করতে চাই। খাগড়াছড়ির পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের চেয়ারম্যান এ বিষয়ে ঐক্যমত পোষণ করেছেন।

এ ছাড়া বান্দরবানে ঘুমধুম স্থলবন্দর ও রাঙ্গামাটির থেগামুখ স্থলবন্দর স্থাপনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেছেন, কীভাবে আমরা বন্দরগুলো করব, এজন্য আলোচনা চলছে।

সভায় জানানো হয়, প্রস্তাবিত ঘুমধুম স্থলবন্দরের অপরপাশে মিয়ানমার এবং থেগামুখ বন্দরের ওপাশে ভারতের মিজোরামের দেমাগ্রী এলাকা।

এ স্থলবন্দরের ফলে বাংলাদেশ কি সুবিধা পাবে- এ বিষয়ে মন্ত্রী বলেছেন, মালামাল কিন্তু এমনি ওখানে আদান-প্রদান হয়। যেটা হয় অবৈধভাবে। এটা বৈধভাবে করলে উভয় দেশের রাজস্ব বৃদ্ধি পাবে, ব্যবসা-বাণিজ্যের সুযোগ সৃষ্টি হবে। স্থানীয় মানুষের কর্মসংস্থান হবে। মালামাল আনা-নেওয়ায় কোনো আইনগত অসুবিধায় তারা পড়বেন না।

বিশ্বব্যাংক স্টাডি করে এসব জায়গায় বন্দর করার জন্য মতামত দিয়েছে বলেও জানিয়েছেন শাজাহান খান।




অত্যাধুনিক অবৈধ অস্ত্রের ঝনঝনানিতে কাঁপছে পাহাড় : উদ্ধারে নেই চিরুণী অভিযান

%e0%a6%aa%e0%a6%be%e0%a6%b9%e0%a6%be%e0%a7%9c%e0%a7%87-%e0%a6%85%e0%a6%b8%e0%a7%8d%e0%a6%a4%e0%a7%8d%e0%a6%b0-%e0%a6%89%e0%a6%a6%e0%a7%8d%e0%a6%a7%e0%a6%be%e0%a6%b0

মিয়া হোসেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম থেকে ফিরে :

পাবর্ত্য চট্টগ্রাম সীমান্তবর্তী দুর্গম পাহাড়ী এলাকা হওয়ায় সেখানে রয়েছে অবৈধ অত্যাধুনিক অস্ত্রের ভান্ডার। প্রতিবেশী দেশসমূহ থেকে এসব এলাকা দিয়ে নিরাপদে অস্ত্র পৌছেঁ যাচ্ছে সারাদেশের সন্ত্রাসীদের হাতেও। আর পাহাড়ের কথিত আঞ্চলিক সংগঠনগুলোর নেতাকর্মীরা রমরমা অস্ত্রের ব্যবসার পাশাপাশি সন্ত্রাসী কাজে ব্যবহার করছে। এসব অস্ত্রেরমুখে সেখানে চলছে লাগামহীন চাঁদাবাজী। মাঝে মধ্যে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে বেশকিছু অস্ত্র উদ্ধার করা হলেও শান্তিচুক্তির পর অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে পাহাড়ে কোনো চিরুণী অভিযান পরিচালনা করা হয়নি বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। অবিলম্বে পাহাড়ে অস্ত্র উদ্ধারে চিরুণী অভিযান চালানোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

সরেজমিনে ঘুরে স্থানীয় লোকজন ও গোয়েন্দা সূত্র থেকে প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, তিন পার্বত্য জেলা খাগড়াছড়ি, রাঙ্গামাটি ও বান্দরবানের দুর্গম পাহাড়ি এলাকা থেকে বিভিন্ন সময় বিদেশি অত্যাধুনিক মারণাস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। এসব অস্ত্রের মধ্যে রয়েছে এম কে-১১, জার্মানির তৈরি এইচ কে-৩৩, রাশিয়ার জি-৩, একে-৪৭, একে-২২, এম-১৬ রাইফেল, নাইন এমএম পিস্তল, চাইনিজ সাব মেশিনগান, এসবিবিএল বন্দুক। এসব অস্ত্র মানের দিক দিয়ে যেমন অত্যাধুনিক তেমনি দামের দিক দিয়েও ব্যয়বহুল। এম কে-১১ এর মতো অত্যাধুনিক রাইফেল দিয়ে প্রায় এক মাইল দূর থেকেও নিশানা করা যায়। এর কার্যকর রেঞ্জ এক হাজার ৫শ’ গজ। প্রতি মিনিটে ফায়ার করা যায় ৭৫০ রাউন্ড। একটি নতুন এমকে রাইফেলের দাম প্রায় ৮ লাখ টাকা।

স্থানীয় গোয়েন্দা সূত্র জানায়, পাহাড়িদের হাত ঘুরে এসব অস্ত্র এখন পৌঁছে যাচ্ছে দেশে সক্রিয় বিভিন্ন সন্ত্রাসী ও জঙ্গিদের হাতে। ব্যবহার হচ্ছে দেশবিরোধী সন্ত্রাসী কাজে। আটক জঙ্গিরা পাহাড় থেকে অস্ত্র সংগ্রহের বিষয়টি এরই মধ্যে স্বীকার করেছে। জঙ্গিদের কাছ থেকে এ ধরনের তথ্য পাওয়ার পর তিন পার্বত্য জেলায় পুলিশের পাশাপাশি গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দুর্গম এলাকার সুযোগ নিয়ে পাহাড়ে সক্রিয় সন্ত্রাসীরা অস্ত্র কেনাবেচার রুট হিসেবে ব্যবহার করছে পার্বত্য জেলাগুলোকে। অন্যদিকে জঙ্গিরাও এ অঞ্চল থেকে অস্ত্র সংগ্রহকে নিরাপদ হিসেবে মনে করছে।রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানে থাকা বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠনগুলোর সঙ্গে সখ্য গড়ে তুলছে তারা। বিষয়টিকে রাষ্ট্রের জন্য হুমকি হিসেবে দেখছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

গোয়েন্দা সূত্র জানিয়েছে, চট্টগ্রামে আটক অনেক জেএমবি সদস্য জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছে তারা পাহাড়ি অঞ্চল থেকে অস্ত্র সংগ্রহ করেছেন। এরপরই এখানকার নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরো জোরদার করা হচ্ছে। বিশেষ করে সীমান্ত পয়েন্টগুলো আরো সুরক্ষিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন গোয়েন্দারা। সংশ্লিষ্টরা জানান, পাহাড়ে সক্রিয় সন্ত্রাসীদের সঙ্গে যোগসাজশ করে সমতলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানোর চেষ্টা চলছে। গোয়েন্দাদের তালিকায় তিন পার্বত্য জেলায় অস্ত্র কেনাবেচায় সম্পৃক্ত থাকা ১৫টি বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠনের নাম রয়েছে।

এদিকে তিন পার্বত্য জেলার বেশ কয়েকটি স্থানকে অস্ত্র আসার রুট হিসেবে চিহ্নিত করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা। স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, এসব স্থানের মধ্যে রয়েছে-বান্দরবানের থানচি ও নাইক্ষ্যংছড়ির সীমান্তবর্তী এলাকা, রাঙ্গামাটি জেলার বরকল উপজেলার চোট হরিণা, বড় হরিণা, বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেক, জুরাছড়ির আন্দারমানিক, ফকিরাছড়ি, বিলাইছড়ি, খাগড়াছড়ি জেলার দীঘিনালা উপজেলার নারাইছড়ি, পানছড়ির দুদকছড়ি, কেদারাছড়া, মাটিরাঙ্গা উপজেলার আচালং, রামগড় উপজেলার বাগানবাজার, বড়বিল, রামগড় বাজার ইত্যাদি। এসব স্থান রুট হিসেবে ব্যবহারের অন্যতম কারণ হিসেবে অরক্ষিত সীমান্তকে দায়ী করছেন সংশ্লিষ্টরা। তারা জানান, বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে বাংলাদেশ ও ভারতের সঙ্গে ২৮১ কিলোমিটার অরক্ষিত সীমান্তের এরইমধ্যে ১৩০ কিলোমিটার সুরক্ষিত করা হয়েছে। অন্যদিকে মিয়ানমারের সঙ্গে থাকা ১৯৮ কিলোমিটার অরক্ষিত সীমান্তের মধ্যে ৮৫ কিলোমিটার সুরক্ষিত করা হয়েছে। তারা জানান, সীমান্ত সুরক্ষিত করার অংশ হিসেবে কাঁটাতারের বেড়া দেয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন পয়েন্টে বসানো হচ্ছে চেকপোস্ট।

খাগড়াছড়ি সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির এক শীর্ষ নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, পাহাড়ে আঞ্চলিক দলগুলোর বেপরোয়া চাঁদাবাজি চলছে। গাড়িপ্রতি চাঁদা দিতে হয়। পুলিশকে বলেও কোনো লাভ হয় না। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে সন্ত্রাসীরা প্রায়ই গাড়ি ভাঙচুর করছে। উপজাতিদেরও এ চাঁদা দিতে হয়। তাদের কাছে অবৈধ অত্যাধুনিক অস্ত্র রয়েছে। এসব অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে চাঁদাবাজি করা হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা স্বাভাবিক করতে সেনাবাহিনীর পাশাপশি র‌্যাব ক্যাম্প স্থাপনের দাবি জানিয়েছেন তিনি।
খাগড়াছড়ি জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) আব্দুল মজিদ বলেন, পাবর্ত্য এলাকা দুর্গম এবং সন্ত্রাসীরা এসব এলাকায় সশস্ত্র অবস্থায় থাকে। মাঝে মাঝে তাদের বিরুদ্ধে অভিযান চালানো হয় এবং ধরাও পড়ে। ইউপিডিএফ এর শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের ধরেছি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী ও ইউপিডিএফের শীর্ষ নেতা মিঠুন চাকমার বিরুদ্ধে অস্ত্র, চাঁদাবাজি, অপহরণ ও হত্যার ১০-১২টি মামলার ওয়ারেন্ট ও বিপুল চাকমার বিরুদ্ধে ১৫টি মামলার ওয়ারেন্ট ছিল।

সন্ত্রাসীরা অস্ত্র কোথা থেকে পায় জানতে চাইলে তিনি বলেন, ধারণা করা যায় পার্শ্ববর্তী দেশ থেকে তাদের কাছে অত্যাধুনিক অস্ত্র আসছে। এ নিয়ে গোয়েন্দাদেরও রিপোর্ট রয়েছে। তারা বিষয়টি নিয়ে গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছেন। পুলিশের পক্ষ থেকেও অস্ত্রের কানেকশন নিয়ে নজরদারি করা হচ্ছে। একই সঙ্গে পাহাড়ের সন্ত্রাসীদের সঙ্গে জঙ্গিদের সম্পৃক্ততার বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

রাঙামাটি জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) সাঈদ তরিকুল হাসান বলেন, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার এবং সন্ত্রাসীদের ধরতে প্রায়ই অভিযান পরিচালনা করা হয়। তবে দুর্গম এলাকায় যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো না হওয়ায় সমস্যায় পড়তে হয়। যোগাযোগ ব্যবস্থার বিকাশ ও উন্নত প্রযুক্তির পাশাপাশি প্রয়োজনীয় লজিস্টিক সাপোর্ট থাকলে সমস্যার কিছুটা সমাধান হবে বলে তিনি মনে করেন।

পার্বত্য জেলার সংরক্ষিত আসনের মহিলা এমপি ফিরোজা বেগম চিনু বলেন, পার্বত্য অঞ্চল থেকে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার না করলে জনজীবন স্বাভাবিক হবে না এবং জনগণ তার ভোটাধিকারও পাবে না। এমন কোনো ভারী অস্ত্র নেই যা তাদের না আছে।

চিরুনী অভিযানের মাধ্যমে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের দাবি জানিয়ে চিনু বলেন, যার কাছে অস্ত্র পাওয়া যাবে তাকেই গ্রেফতার করতে হবে। শান্তিচুক্তির সময় জনসংহতি সমিতি অস্ত্র জমা দিয়েছে। তাদের কাছে যদি এখন কোন অস্ত্র না থাকে তাহলে তারা চিরুণী অভিযানে সহযোগিতা করতে পারে। পাহাড়ের এ সন্ত্রাসীরা একমাত্র সেনাবাহিনীকে ভয় পায় বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

সাবেক পার্বত্য চট্রগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ও রাঙামাটি জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি দীপংকর তালুকদার বলেন, জেএসএস-ইউপিডিএফ মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ। পাহাড়ে মূল সমস্যা অবৈধ অস্ত্র। এসব অস্ত্র উদ্ধার না হওয়া পর্যন্ত পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে না। পাহাড়ে প্রয়োজনে র‌্যাবও দেয়া যেতে পারে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

এদিকে, কোনো ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ততার কথা অস্বীকার করেছে জেএসএস। দলটির সহ-প্রচার সম্পাদক সজীব চাকমার বক্তব্য হলো, জেএসএসের বিরুদ্ধে অভিযোগ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তবে এখানে মূল সমস্যা হচ্ছে পার্বত্য শান্তি চুক্তি বাস্তবায়ন না করা। ভূমি সমস্যার সমাধানসহ চুক্তি বাস্তবায়ন না হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হবে বলে তিনি মনে করেন।




পাহাড়ে অপহৃত হচ্ছে আ’লীগ নেতারা ক্ষমতায় থেকেও নির্বিকার সরকার

pic-al-copy

মিয়া হোসেন, পার্বত্যাঞ্চল থেকে ফিরে:

সারাদেশে সন্ত্রাস দমনে কঠোর ভূমিকা নিয়েছে সরকার। এমন কী জঙ্গি দমনেও চালাচ্ছে বিশেষ অভিযান। কিন্তুু পার্বত্য চট্টগ্রামের তিন জেলায় একের পর এক অপহরণ করা হচ্ছে ক্ষমতাসীন দল আ‘লীগের নেতাকর্মীদের। তাদের কেউ মুচলেকা দিয়ে ফিরে এসেছে, আবার কেউ মুক্তিপণ দিয়ে ফিরে এসেছে। আবার কারো কোনো সন্ধানই পাওয়া যাচ্ছে না। তবু সরকার সেখানকার সন্ত্রাসীদের দমন করতে পারছে না। এমন কি সন্ত্রাসীদের দমন করতে জঙ্গী দমনের মতো অভিযানও পরিচালনা করছে না বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। অপহরণের পর কোনো কোনো ঘটনায় থানায় জিডি বা মামলাও হচ্ছে না। ক্ষমতায় থেকেও কোনো প্রতিকার না পাওয়ায় সরকারের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করছেন স্থানীয় আ’লীগ নেতারা।

সম্প্রতি সরেজমিনে পার্বত্য চট্টগ্রাম ঘুরে এসব তথ্য জানা গেছে। খাগড়াছড়ি জেলার লক্ষীছড়ি উপজেলার আ‘লীগের নেতৃবৃন্দ জানান, উপজেলার বর্মাছড়ি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি নীলবর্ণ চাকমা (৬২)কে গত ২৯ নভেম্বর ২০১৬ অস্ত্রের মুখে অপহরণ করে নিয়ে যায় ১০-১২ জন সন্ত্রাসী। তারা ইউপিডিএফ সদস্য বলে ধারণা করা হয়। সেদিন খাগড়াছড়িতে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের জনসভায় যোগ দিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন নীলবর্ণ। তিন দিন পর ‘জীবনে আর কোনো দিন আওয়ামী লীগ করবো না’ এমন মুচলেকা দিয়ে তার মুক্তি মিলেছে বলে তার ঘনিষ্ঠজন সূত্রে জানা যায়। তবে এ বিষয়ে মুখ খুলেননি নীলবর্ণ চাকমা। এ সময় তার চোখে মুখে আতঙ্কের ছাপ লক্ষ করা গেছে। আ’লীগ ক্ষমতায় থাকা সত্ত্বেও তাদের নেতাকে অপহরণ করা হলো, অথচ থানায় কোনো মামলা বা জিডি হয়নি। এ ঘটনায় থানায় অভিযোগ দেওয়ার মতো সাহসও পায়নি তার পরিবার। এমনকি নীলবর্ণ যখন নিখোঁজ, তখন তার স্ত্রী বা পরিবারের অন্য কেউই অপহরণের বিষয়টি স্বীকার করেননি কারো কাছে। আর নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত পুলিশের পক্ষ থেকেও এ বিষয়ে থানায় কোনো মামলা বা জিডি করা হয়নি। এ বিষয়ে খাগড়াছড়ি জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) মজিদ আলীও জানান, নীলবর্ণের অপহরণের বিষয়টি পুলিশের কাছে কেউ অভিযোগ করেনি।

ভাগ্য ভালো নীলবর্ণ চাকমার। অপহরণকারীদের কাছ থেকে তিনি ফিরে আসতে পেরেছেন। কিন্তু পার্বত্য তিন জেলায় এরকম অনেকেই আছেন যারা আওয়ামী লীগ, বিএনপি বা মূলধারার রাজনীতি করার অপরাধে অপহৃত হয়ে লাশ হয়ে ফিরেছেন। আবার কেউবা মুক্তিপণ দিয়ে ফিরেছেন। অনেকেই আছেন যারা অপহরণের পর তাদের পরিবার এখনও জানে না তিনি বেঁচে আছেন, নাকি মারা গেছেন। যেমনটি হয়েছে বান্দরবানের আওয়ামী লীগ নেতা মংপ্রু মারমার ক্ষেত্রে। গত ১৩ জুন অপহৃত হন তিনি। এরপর থেকে খোঁজ নেই তার। স্বামীর অপেক্ষায় চোখের পানি ফেলেছেন মংপ্রু মারমার স্ত্রী সামা প্রু মারমা।

সামা প্রু মারমা জানান, তার স্বামী মংপ্রু মারমা বান্দরবান সদর থানার ১ নম্বর রাজবিলা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক মেম্বার এবং সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতা। গত ১৩ জুন রাত ১০টার দিকে তার স্বামী প্রতিবেশী ক্রানু মারমার ঘরে বসে টিভি দেখছিলেন। এ সময় দুর্বৃত্তরা এসে বাইরে থেকে তাকে ডাকাডাকি করে। তিনি ঘর থেকে বের হলে অস্ত্র ঠেকিয়ে দুর্বৃত্তরা তাকে নিয়ে যায়। সেই থেকেই নিখোঁজ তিনি। এই ঘটনায় ১৪ জুন মং প্রুর জামাতা হামংচিং মারমা বাদি হয়ে বান্দরবান সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। এই মামলায় যাদের আসামি করা হয়েছে তারা সন্তু লারমার জেএসএসের সদস্য। এর মধ্যে এক নম্বর আসামি কে এস মং মারমা এবং দুই নম্বর আসামি সাধুরাম ত্রিপুরা মিল্টন আঞ্চলিক জেলা পরিষদ সদস্য।

মামলায় বলা হয়েছে, আসামিরা জেএসএসের সক্রিয় সদস্য। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে মং প্রু আওয়ামী লীগের প্রার্থীর পক্ষে কাজ করায় দুর্বৃত্তরা নির্বাচনের আগে থেকেই তাকে হুমকি দিয়ে আসছিল। নির্বাচনের পরেও তারা একাধিকবার হুমকি দিয়েছে। শেষ পর্যন্ত তাকে অস্ত্র ঠেকিয়ে অপহরণ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে বান্দরবান সদর থানার ওসি মো. রফিক উল্লাহর বক্তব্য হলো, আসামিদের অনেকেই গ্রেফতার হয়েছিলো। তাদের কেউ এখন জেল হাজতে আছেন, কেউ আবার জামিনে বেরিয়ে গেছেন। বাকি আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত আছে।

স্থানীয় আ’লীগের নেতারা জানান, বিগত ইউপি নির্বাচনের সময় আওয়ামী লীগের প্রার্থীদের প্রচার চালাতে দেয়নি। অনেককে তো ঘর থেকেই বের হতে দেয়নি। আমাদের নেতাকর্মীরা ইউনিয়ন এবং ওয়ার্ড কমিটি করতে পারে না। অথচ জেএসএস ও ইউপিডিএফ’র জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন কমিটি তো বটেই গ্রাম কমিটিও আছে। তাদের কাছে স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা অসহায়। বিষয়টি কেন্দ্রীয় নেতাদের বলা হয়েছে বহুবার। কিন্তু কোনো ফলাফল আসেনি।

চলতি বছরের সেপ্টেম্বর মাসে রাঙ্গামাটির জুরাছড়ি উপজেলায় প্রায় সাড়ে ৪শ’ পাহাড়ি উপজাতি সম্প্রদায়ের লোক ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগে যোগদান করেন। এরপর অনেকেই হুমকির কারণে আর আওয়ামী লীগে সক্রিয় থাকতে পারেননি। গত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে কয়েকজন প্রার্থী আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে নৌকা প্রতীক পেয়েও নির্বাচন করতে পারেননি পাহাড়ি সন্ত্রাসীদের ভয়ভীতির কারণে। একই উদাহরণ আছে বিলাইছড়ি উপজেলাসহ জেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলে।

এ ব্যাপারে পার্বত্য রাঙ্গামাটি জেলার পুলিশ সুপার সাঈদ তারিকুল হাসান বলেন, আমাদের কাছে যেসব অভিযোগ আসে, তা তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হয়। পাহাড়ের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আগের চেয়ে অনেক ভালো। আর এখানকার এলাকা দুর্গম। যাতায়াত ব্যবস্থাও ভালো নয়। সমতলের সাথে এ অঞ্চলের তুলনা চলে না। তবু আমরা অভিযোগ পেলেই ব্যবস্থা নিয়ে থাকি।

আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও সাবেক পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী দীপঙ্কর তালুকদার বলেন, একসময় পার্বত্যাঞ্চলে রাজনৈতিক সংগঠন ছিল না। কিন্তু পার্বত্যাঞ্চলে এখন আওয়ামী লীগ শক্তিশালী দল। রাজা বা প্রতিক্রিয়াশীল গ্রুপের অস্তিত্ব হুমকির মধ্যে পড়বে এমন আশঙ্কায় পাহাড়িদের মূলধারার রাজনীতিতে আসতে দিতে চায় না।

তিনি বলেন, জেএসএস বলেন আর ইউপিডিএফ বলেন, তারা সব এক। পার্বত্যাঞ্চলে বিশেষ করে রাঙামাটিতে কোনো পাহাড়ি আওয়ামী লীগ করতে পারবে না বা ব্যবসা করতে পারবে না, এ ধরনের হুমকি আসে। কিন্তু এরপরেও কি একজন পাহাড়ি আওয়ামী লীগ ছেড়েছে? তাদের গ্রুপে ভিড়াতে পেরেছে? পারেনি। কিন্তু বিএনপির উপর যদি এরকম আক্রমণ হয় তাহলে তাদের দলে একজন উপজাতিও থাকবে না।

এ বিষয়ে জনসংহতি সমিতির (জেএসএস) কেন্দ্রীয় সহ-প্রচার সম্পাদক সজীব চাকমার বক্তব্য হলো, অপহরণ বা কারো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে হস্তক্ষেপ আমাদের নীতির মধ্যে পড়ে না। তবে দীর্ঘ ১৯ বছরেও এ চুক্তির বাস্তবায়ন না হওয়ায় নিচের দিকে (পাহাড়ে বা মাঠ পর্যায়ে) আমাদের অনেক জবাবদিহি করতে হচ্ছে। নানা সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। আমাদের মধ্যেও যেমন শান্তিচুক্তি বিরোধী আছে, তেমনি সরকারের মধ্যেও আছে। এ কারণে বিভিন্ন মহল থেকে এ ধরনের অভিযোগ তোলা হচ্ছে বা ভুল বুঝাবুঝি হচ্ছে। তবে আমাদের মূল লক্ষ্য শান্তি চুক্তির বাস্তবায়ন।চুক্তির বাস্তবায়ন হলে এসব সমস্যার সমাধান হবে বলে আশাবাদী তিনি।




পাহাড়ের উপজাতীয় তরুণীদের কাছে তবুও প্রিয় বাঙালি যুবকরা

girl-1-copy

মিয়া হোসেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম থেকে ফিরে :

‘ভালোবাসা’ মানে না কোন বাধা, মানে না ধর্ম, বর্ণ বা জাতের ভেদাভেদ। সুযোগ পেলেই বাঙালি ছেলেদের প্রেমে পড়ে যায় পাহাড়ী উপজাতীয় তরুণীরা। অবশেষে ধর্ম পরিবর্তন করে বিয়ে বন্ধনেও আবদ্ধ হয়। কিন্তু বাধা হয়ে দাঁড়ায় কথিত আঞ্চলিক সংগঠনগুলো। ভালোবাসায় বিচ্ছেদ ঘটাতে ভিলেনের ভূমিকায় অবর্তীণ হয় এসব সংগঠনের সন্ত্রাসীরা। নিজেদের জাত রক্ষার নামে উভয় পরিবারের উপর নির্যাতন চালায়, কখনো কখনো তরুণীদের অপহরণ করে ধর্ষণ করে। হত্যার হুমকী ধমকী দেয়। এসব বাধা উপেক্ষা করেই পাহাড়ী তরুণীরা বাঙালি ছেলেদের বিয়ে করে চলছে। এ হার দিন দিন বেড়েই চলছে।

সম্প্রতি সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, আজ থেকে ১২ বছর আগে বাঙালী তরুণ জামাল উদ্দিনের প্রেমে পড়ে মারমা তরুণী মিনিরওজা মারমা। অবশেষে ভালোবেসে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে বিয়ে বন্ধনে আবদ্ধ হয় তারা। সেই সাথে নাম তার নাম পরির্তন করে আয়েশা সিদ্দিকা রাখা হয়। বর্তমানে তাদের দু‘টি সন্তান রয়েছে। কিন্তু দীর্ঘ ১২ বছর পরও তাদের এ বিয়ে ও ভালোবাসাকে মেনে নিতে পারেনি কথিত আঞ্চলিক সংগঠনগুলোর সন্ত্রাসীরা। গত ৮ নভেম্বর স্থানীয় গিলাছড়ি বাজার থেকে এই নারীকে তুলে নিয়ে যায় উপজাতীয় সন্ত্রাসীরা। তাকে নিয়ে ১দিন, ১ রাত আটকে রেখেছে। তার গলায় শিকল দিয়ে বেঁধে রেখেছে। কেন সে মুসলিম হয়েছে? কেন বাঙালিকে বিয়ে করেছে? এসব প্রশ্নে জর্জরিত করেছে তাকে। গলায় ছুরি ধরে তার কাছ থেকে মিথ্যা বিবৃতি রেকর্ড করেছে। স্বামী-শ্বশুর তাকে নির্যাতন করে একথা বলতে বাধ্য করেছে। আর এসব কথা রেকর্ড করেছে। অবশেষে নিরাপত্তা বাহিনীর চাপে সন্ত্রাসীরা তাকে ছেড়ে দিয়েছে। কিন্তু ভয়ে এ বিষয়ে থানায় কোন মামলাও দায়ের করা হয়নি। সন্ত্রাসীরা তাতেও ক্ষান্ত হয়নি, তার শশুরের আনারস বাগানের প্রায় ৮২ হাজার আনারস কেটে নষ্ট করে দিয়েছে। তবু বাঙালি ছেলেদের ভালোবাসে পাহাড়ের উপজাতি নারীরা।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, পাহাড়ী  নারীরা রাত দিন পরিশ্রম করে সংসারে ঘানি টানে। আর পুরুষরা ঘুরে বেড়ায়, ঘরে বসে হুক্কা টানে। সকল কাজ করে নারীরা। পুরুষরা শুধুই আরাম আয়েশ করে। তারউপর আবার নানা রকম নির্যাতনও সহ্য করতে হয় তাদের। আর বাঙালিদের সংসারে সকল কাজ করে পুরুষরা, নারীরা শুধু সংসার ঘুছানোর সহজ কাজগুলোই করে। সেইসাথে বাঙালি সংস্কৃতিতে পরিচ্ছন্ন জীবনে উন্নত ভালোবাসা পেয়ে সুখী সংসার করে তারা। এসব খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়ায় পাহাড়ের উপজাতি অধিকাংশ তরুণীরই প্রথম পছন্দ হয়ে উঠে বাঙালি তরুণরা। তাই ভালোবেসে বিয়ে বন্ধনে আবদ্ধ হয়। কিন্তু পাহাড়ের কথিত আঞ্চলিক সংগঠনগুলোর ছেলেদেরকে মেয়েরা পছন্দ না করায় তারা ক্ষুব্ধ হয়ে উঠে। ভালোবাসা অর্জন করতে ব্যর্থ হয়ে নারীদের ধর্ষণ করার জন্য ভিলেনের ভূমিকায় অবতীর্ণ হচ্ছে। কিন্তু পুলিশ প্রশাসন তাদেরকে কঠোরভাবে দমন করতেও পারছে না।

জানা যায়, এর আগে ২০১৫ সালের ফেব্রুয়ারির দিকে ভালবেসে এক বাঙালি ছেলেকে বিয়ে করার অপরাধে খাগড়াছড়ির গুইমারার এক মারমা তরুণী ও তার পরিবারকে নির্যাতন ভোগ করাসহ মোটা অঙ্কের চাঁদা দিতে হয়। ওই তরুণীকে একটি কক্ষে বেঁধে অমানসিক নির্যাতন করা হয়। অন্য একটি ঘটনার বিবরণে জানা যায়, ২০১৫ সালের শুরুর দিকে ভালবেসে এক চাকমা মেয়েকে বিয়ে করাই কাল হয় একটি প্রথম শ্রেণীর জাতীয় পত্রিকার স্টাফ আলোকচিত্র সাংবাদিকের, হারাতে হয় চাকরি । অপরদিকে ভালবাসার মানুষকে ভুলে যেতে ওই চাকমা তরুণীর উপর চলে মধ্যযুগীয় র্ববরতা। তোলা হয় নিলামে। যা ব্যাপকভাবে প্রচারিত হয়েছে গণমাধ্যমে।

girl-2-copy

সবচেয়ে তোলপাড় সৃষ্টি করা ঘটনা ঘটে গত বছরের এপ্রিলে খাগড়াছড়ি জেলার দীঘিনালায়। উপজেলার এক ত্রিপুরা মেয়ে ভালবেসে ঘর বাঁধার স্বপ্ন দেখেছিল চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার আহমদ কবীরের ছেলে মো. আবদুল হান্নানের (২৪) সাথে। এক সময় প্রেমিক হান্নানের হাত ধরে পালানোর সময় বাস থেকে নামিয়ে ওই ত্রিপুরা মেয়ে ও হান্নানকে অপহরণ করে পিসিপির কর্মীরা।

অপহরণের পর একটি ঝুম ঘরে আটক করে ত্রিপুরা মেয়েটিকে পালাক্রমে গণধর্ষণ করে পিসিপির স্থানীয় কয়েকজন নেতাকর্মী। গণধর্ষণের পর গভীর রাত পর্যন্ত মেয়েটিকে নিয়ে উল্লাস করে এসব সন্ত্রাসী। পুরো গণধর্ষণের দৃশ্য মোবাইলে ভিডিও করা হয়। এ ঘটনায় আটক ইউপিডিএফ সমর্থিত পিসিপির নেতা সজীব ত্রিপুরা (২২) প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে এসব তথ্য জানায়।

এভাবে পার্বত্য চট্টগ্রামে বাঙালি মুসলিম ছেলেকে ভালবেসে বিয়ে করার কারণে মাটিরাঙা, রাঙামাটির কুতুকছড়ি ও রামগড়ের কয়েকটি ঘটনাসহ এরকম আরও অসংখ্য পাহাড়ি মেয়েকে অপহরণ, ধর্ষণ, হত্যাসহ বিভিন্ন নারকীয় অভিজ্ঞতার শিকার হতে হয়েছে।

সম্প্রতি পাহাড়ি তরুণীদের নিজ জাতি-গোষ্ঠীর লোকদের হাতে এরূপ নির্বিচারে গণধর্ষণের শিকার হওয়া নিয়ে গবেষণাধর্মী উপন্যাস বের করেন লেখিকা রোকেয়া লিটা। চলতি বছরের শুরুর দিকে ‘ডুমুরের ফুল’ নামে আলোড়ন সৃষ্টিকারী এ বইটি বের করলে ধর্ষণ করে মেরে ফেলার হুমকিও দেওয়া হয় লেখিকাকে।

রাঙামাটির বিলাইছড়ির কেরণছড়ি মৌজা কার্বারী অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি অংচাখই কার্বারী জানান, কোনো পাহাড়ি মেয়ে বাঙালি ছেলেকে বিয়ে করলে উপজাতিদের সামাজিক নিয়মে কোনো শাস্তির বিধান নেই। তবে আমরা এ ক্ষেত্রে কার্বারী প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে সাধারণত ২০ হাজার টাকা জরিমানা করে থাকি। এরপর তাদের একত্রে বসবাসে সমস্যা নেই।

স্থানীয়রা মনে করেন, পাহাড়ী সন্ত্রাসীদের মেয়েরা পছন্দ করে না, ভালোবাসে না। তাই ভিলেনের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়ে মেয়েদের অপহরণে লিপ্ত হয়েছে তারা।




পার্বত্য ভূমি কমিশন সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হলে বাঙ্গালীদের বঞ্চিত না করেই পাহাড়ীরা লাভবান হবে- বিচারপতি খাদেমুল ইসলাম চৌধুরী

1111
পার্বত্যনিউজ রিপোর্ট : পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসরত বাঙ্গালীদের ভূমিহারা করার মাধ্যমে পার্বত্য চট্টগ্রামকে বিচ্ছিন্ন করতে একটি মহল ষড়যন্ত্র করছে। সেখানকার বাঙ্গালীরা ভূমিহারা হলে দেশের ওই অঞ্চলটির সার্বভৌমত্ব হারানোর আশঙ্কা রয়েছে। ২৩ ডিসেম্বর ২০১৬ শুক্রবার সকাল ১০টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে আয়োজিত “সংবিধানের আলোকে পার্বত্য চট্টগ্রাম ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশন আইন” শীর্ষক এক আলোচনা সভায় বক্তারা এ মন্তব্য করেন।

বেসরকারি সংস্থা সিএইচটি রিসার্চ ফাউন্ডেশন এর উদ্যোগে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন, অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি পার্বত্য ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান খাদেমুল ইসলাম চৌধুরী। বিশেষ অতিথি ছিলেন, সংরক্ষিত মহিলা সংসদ সদস্য ফিরোজা বেগম চিনু, জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. তারেক শামসুর রেহমান, ব্যারিস্টার সরোয়ার হোসেন। আলোচনায় মূল প্রবন্ধ পাঠ করেন অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম বীর প্রতীক। সিএইচটি রিসার্চ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান সাংবাদিক মেহেদী হাসান পলাশ এর সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন সাংবাদিক সৈয়দ ইবনে রহমত। সভায় আরও বক্তব্য রাখেন পার্বত্য নাগরিক পরিষদের চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার আলকাছ আল মামুন, সম-অধিকার আন্দোলনের কেন্দ্রীয় নেতা জাহাঙ্গীর কামাল ও বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির সহ-সভাপতি শহিদুর রহমান তামান্না। আলোচনা সভা সঞ্চালনা করেন সিএইচটি রিসার্চ ফাউন্ডেশনের কোঅর্ডিনেটর আফরিনা হক।

15725208_10210500751330334_1870648008_o

আলোচনায় প্রধান অতিথি অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি খাদেমুল ইসলাম চৌধুরী ভূমি কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান হিসাবে নিজের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করে বলেন, সঠিকভাবে ভূমি কমিশন বাস্তিবায়িত হলে পাহাড়ীরা লাভবান হবে তবে এর জন্য বাঙ্গালীদের বঞ্চিত করার প্রয়োজন নেই। তার মেয়াদকালে পাহাড়ী নেতাদের নানা অসহযোগিতার কথা উল্লেখ করে ভূমি কমিশনের এই সাবেক বিচারপতি আরও বলেন, বাংলাদেশ হচ্ছে এক কেন্দ্রীক রাষ্ট্র। তাই পার্বত্য চট্টগ্রামকে বিশেষ অঞ্চল বলার কোনো সুযোগ নেই। বাংলাদেশে কোনো আদিবাসী নেই। তাই পার্বত্য এলাকায় আদিবাসী সংক্রান্ত কোন সমস্যাও নেই। তিনি বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের পুনর্বাসিত পাহাড়িদের ভূমি সমস্যার সমাধানের লক্ষ্যে পার্বত্য চট্টগ্রাম ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশন গঠন করা হয়েছে। এর বাইরে এ কমিশন আর কোনো কাজ করতে পারে না। পার্বত্য চট্টগ্রামে যেসব বাঙ্গালী আছেন তারা সেখানে বাংলাদেশী হিসেবে বসবাস করছেন। তাই তাদেরকে সেখান থেকে সরানোর কোনো সুযোগ সংবিধানে নেই। আমাদের সকল সমাধান সংবিধানের ভেতরেই অনুসন্ধান করতে হবে।

সংসদ সদস্য ফিরোজা বেগম চিনু বলেন, সন্তু লারমা পার্বত্য চট্টগ্রামের উন্নয়ন চান না। তিনি যা বলেন তা বিশ্বাস করেন না। আবার যা বিশ্বাস করেন তা বলেন না। পার্বত্য চুক্তি স্বাক্ষরের সময় সন্তু লারমা উপজাতি হিসেবে স্বাক্ষর করেছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, সন্তু লারমা এখন ‘আদিবাসী’ স্বীকৃতি দাবি করে নতুন করে ষড়যন্ত্র শুরু করেছেন। পার্বত্য চট্টগ্রামে অবৈধ অস্ত্রের মাধ্যমে উপজাতীয়দের একটি অংশ সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে রখেছে। সেখানে উপজাতীয়রাও তাদের অত্যাচারে অতিষ্ঠ। তিনি আরও বলেন, উপজাতীয়দের চাঁদাবাজি ও অবৈধ অস্ত্রের কারণে পার্বত্য চট্টগ্রামে সেনাবাহিনীর অবস্থান করাটা জরুরি হয়ে পড়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, দেশের গণমাধ্যমগুলো পার্বত্য চট্টগ্রাম সমস্যা নিয়ে একপেশে লোকদের সাথে কথা বলেন। আড়ালে আরও মানুষের যে কষ্ট আছে তা প্রকাশ করা হয় না।

মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ ইবরাহিম বীর প্রতীক বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে যে সমস্যা বিরাজ করছে তা কোনো দলের বা পক্ষের নয়। এটি একটি জাতীয় সমস্যা। ১৯৯৭ সালে পার্বত্য চুক্তির সময় উপজাতীয়দের একটি গোষ্ঠি খুব চালাকি করে পার্বত্য ভূমি কমিশন গঠনের দাবি তোলে। এ কমিশনের মাধ্যমে তারা পার্বত্য চট্টগ্রামের বাঙ্গালীদের ভূমির অধিকার হারা করতে চায়। যা পার্বত্য চট্টগ্রামকে বিচ্ছিন্ন করার ষড়যন্ত্রের অংশ বলে তিনি মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, সংশোধিত পার্বত্য ভূমি কমিশন আইনে কমিশনের চেয়ারম্যানের ক্ষমতাকে খর্ব করা হয়েছে। এ ছাড়া কমিশনের অধিকাংশ সদস্য উপজাতীয় হওয়ায় এ কমিশন চাইলেও নিরপেক্ষ সিদ্ধান্ত দিতে পারবে না। কোনো উপজাতীয় সদস্য আন্তরিক হয়ে নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করলে তাকে হত্যা করে পাহাড়ী সন্ত্রাসীরা লাশ ঝুলিয়ে রাখবে দৃষ্টান্ত হিসাবে।

পার্বত্য চট্টগ্রামের সমস্যা সমাধানে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ নিলেও উপজাতীয়রা নিজেদের মতো করে সমাধান করতে চান। উপজাতীয় নেতারা পার্বত্য চট্টগ্রামে আলাদা দুটি ভোটার তালিকা প্রণয়ন করে ওই এলাকা থেকে বাঙ্গালীদের সরে আসার ব্যবস্থা করছেন। তিনি আরও বলেন, রাষ্ট্রের স্বার্থে সমতলের বাঙ্গালীরা পার্বত্য চট্টগ্রামে গেছেন। তাই রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্বের স্বার্থে সেখানে বাঙ্গালীদের অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।

dsc_6714

ড. তারেক শামসুর রেহমান বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের মূল সমস্যা হচ্ছে- সন্তু লারমা চান না বাঙ্গালীরা সেখানে বসবাস করুক। সন্তু লারমার জাতীয় পরিচয়পত্র নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, সন্তু লারমা দেশের আনুগত্য স্বীকার করেন না, স্বাধীনতার সময় তার কী ভূমিকা ছিলো তা জাতি জানে না। তিনি কীভাবে পার্বত্য চট্টগ্রাম থেকে বাঙ্গালীদের সরিয়ে নেয়ার দাবি তোলেন? তিনি বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে ১৩টি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠি বসবাস করলেও চাকমা সম্প্রদায় সেখানে একক আধিপত্য বিস্তার করে বাকি সম্প্রদায়গুলোকে বঞ্চিত করছে। পার্বত্য চট্টগ্রাম সমস্যা সমাধানে একটি জাতীয় কমিটি গঠন করা সময়ের দাবি বলেও তিনি মন্তব্য করেন তিনি।

সুপ্রীম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার সারোয়ার হোসেন বলেন, আজকে যদি কোনো জাতীয় দুর্যোগ হয় তাহলে বিপুল সংখ্যক লোককে কোথায় সরানো হবে? কাজেই দেশের এক দশমাংশ ভূ-খণ্ড কোনো গোষ্ঠীর জন্য নির্দিষ্ট করে দেয়া ঠিক হবে না। বরং পার্বত্য চট্টগ্রামের উন্নয়ন ও নিরাপত্তার স্বার্থে সেখানে আরো বেশি করে বাঙ্গালী পাঠানো প্রয়োজন। তিনি বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের কোনো কোনো অঞ্চল সমতলের থেকেও বেশি উন্নত। অথচ, সেখানে উন্নয়নের নামে যা কিছু হয়েছে তার শতকরা আশিভাগ চাকমারা ভোগ করায় বাঙ্গালী ও অন্যান্য উপজাতিরা বঞ্চিত হয়েছে।

সভাপতির বক্তব্যে সিএইচটি রিসার্চ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মেহেদী হাসান পলাশ বলেন, ভূমি কমিশনের নতুন সংশোধনী নিয়ে বিতর্ক ও আন্দোলন হচ্ছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে সিএইচটি রিসার্চ ফাউন্ডেশন এই সেমিনারের আয়োজন করেছে। আশা করছি, এই সেমিনারের মাধ্যমে উপস্থাপিত তথ্য, উপাত্ত ও বিশ্লেষণ সরকার বিবেচনা করে সকল পক্ষের নিকট গ্রহণযোগ্য সমাধানে পৌছাঁতে উদ্যোগ গ্রহণ করবে।




র‌্যাবের অভিযানে কক্সবাজারে ২টি অস্ত্র কারখানার সন্ধান, বিপুল পরিমান অস্ত্র-গোলাবারুদ উদ্ধার

ব্রেকিং নিউজ Breaking News

নিজস্ব প্রতিবেদক:

কক্সবাজারের চকরিয়ার চিংড়ি ঘের জোন খ্যাত চরণদ্বীপ এলাকায় ২টি অস্ত্র তৈরির কারখানার সন্ধান পাওয়া গেছে। আজ রবিবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত র‌্যাব-৭  কর্তৃক এ অভিযান পরিচালনা করে।

এ সময় বিপুল পরিমান অস্ত্র, অস্ত্র তৈরির নানারকম সরঞ্জাম, বিভিন্ন ধরনের গোলাবারুদ উদ্ধারসহ কারখানা থেকে ৬ জনকে আটক করতে সক্ষম হয়েছে র‌্যাব।

বিস্তারিত আসছে……………..




চুক্তি বাস্তবায়নে সরকারের সদিচ্ছা ও আন্তরিকতার অভাব রয়েছে: সন্তু লারমা

photo-bipf-kf-discussion

নিজস্ব প্রতিবেদক:

পার্বত্য চুক্তি বাস্তবায়নে বর্তমান সরকারের সদিচ্ছা ও আন্তরিকতার অভাব রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন পার্বত্য আঞ্চলিক পরিষদের চেয়ারম্যান জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমা ওরফে সন্তু লারমা। বৃহস্পতিবার ঢাকার ডেইলি স্টার ভবনের আজিমুর রহমান কনফারেন্স হলে ‘পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির ১৯ বছর: স্থানীয় জনগণের ভূমি অধিকার ও বাস্তবতা’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সকাল সাড়ে ১০টায় শুরু হওয়া এ আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মানবাধিকার কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান ড. মিজানুর রহমান। এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন চাকমা সার্কেল চিফ ব্যারিস্টার দেবাশীষ রায়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজ বিভাগের প্রফেসর ড. সাদেকা হালিম, মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন’র এর নির্বাহী পরিচালক মিস. শাহীন আনাম, ড. মেসবাহ কামাল প্রমূখ।

বক্তব্যে সন্তু লারমা বলেন, বর্তমান সরকারকে আমি গণতান্ত্রিক, অসাম্প্রদায়িক, জাতি বৈষম্যহীন বলে মানতে নারাজ। বরং এ সরকার অগণতান্ত্রিক এবং উগ্র সাম্প্রদায়িক। শুধু তাই নয়, এ সরকারের মনের ভিতর রয়েছে প্রচণ্ড জাতিগত বৈষম্যতা। যদি তাই না হতো, তাহলে শান্তিচুক্তির সকল ধারাগুলোর বাস্তবায়ন হচ্ছে না কেন? তিনি বলেন, বর্তমান শাসক শ্রেনিতে যারা আছেন তারাই শোষক শ্রেণি। নাসিরনগর আর গোবিন্দগঞ্জে সংখ্যালঘুদের উপর হামলা তারই প্রমাণ।

সরকার শান্তিচুক্তি বাস্তবায়নে গড়িমসি করছে এমন অভিযোগ করে সন্তু লারমা বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে আমি আঞ্চলিক পরিষদের চেয়ারম্যানের দ্বায়িত্ব পালন করে আসছি। এ সময়ের মধ্যে সবাইকে চেনা হয়ে গেছে আমার। সরকারের কোথায় দুর্নীতি, কোথায় দুর্বলতা, কোথায় কোথায় প্রতারণা সব জানা হয়ে গেছে। আর নতুন করে কিছু জানার নেই আমার। পার্বত্য চুক্তির বিষয়ে শেখ হাসিনার সরকার তার নীতিনির্ধারকদের বিভিন্ন বিভ্রান্তিকর তথ্য দ্বারা প্রভাবিত হচ্ছেন এমন অভিযোগ এনে সন্তু লারমা বলেন, ১৯৯৭ সালে চুক্তির সব ধারা জেনেশুনে সরকারের পক্ষ থেকে স্বাক্ষর করা হলেও সরকারের নীতিনির্ধারকরা ইদানীং কিছু অসত্য ও উদ্ভট তথ্য প্রধানমন্ত্রীর কানে দিয়ে তাঁকে প্রভাবিত করছেন। তারা বলছে ইউএনডিপি নাকি পার্বত্যাঞ্চলের মানুষকে খ্রিস্টান ধর্মে ধর্মান্তরিত করে আলাদা রাজ্য প্রতিষ্ঠা করতে চাচ্ছে। তারা প্রধানমন্ত্রীকে আরও বলছে চুক্তির অমুক ধারা বাস্তবায়িত হলে এই হবে, তমুক ধারা বাস্তবায়িত হলে সেই হবে।

তিনি এত টালবাহানা না করে চুক্তির পূর্ণবাস্তবায়নে আন্তরিক হওয়ার জন্য সরকারের উদ্দেশ্যে বলেন, পাহাড়ের মানুষ নিজের অধিকার নিয়ে বেঁচে থাকতে চায়। আর যদি এভাবে একেরপর এক প্রতারণার মাধ্যমে তা ভূলুণ্ঠিত করা হয় তবে তারা সেই গণ্ডি থেকে বেরিয়ে আসবে। তারা তাদের নিজেদের অধিকার নিজেরা আদায় করেই নেবে, কারণ তাদের সেই সাহস এখনও রয়েছে।

শেষের দিকে, ‘আমি নারীবাদের বিরোধীতা করি, কিন্তু নারী মুক্তির পক্ষে’ সন্তু লারমার এমন বক্তব্যে উপস্থিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজ বিভাগের প্রফেসর ড. সাদেকা হালিম, মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন’র এর নির্বাহী পরিচালক শাহীন আনামসহ অন্যান্য নারীদের সাথে মতবিরোধ দেখা দেয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে সন্তু লারমা তার তাৎক্ষণিক জবাবে বলেন, আমি মনে করি নারীবাদী মানে হচ্ছে পুরুষরা যা করবে মহিলারাও তা করবে। কিন্তু আমি তার পক্ষে না। আমার মতে, পুরুষ পুরুষের কাজ করবে নারীরা নারীর কাজ করবে। কিন্তু তাতেও উপস্থিত নারী নেত্রীদের ক্ষোভ প্রশমিত না হওয়ায় পরে আরেক সময় এটা নিয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিয়ে তাদের বুঝিয়ে দিবেন বলে বক্তব্যের সমাপ্তি টানেন সন্তু লারমা।




‘ভূমি জোনিংয়ের মাধ্যমে এক নতুন বাংলাদেশ রচিত হবে’

21-11-2016_bhumi-joning-news-pic

নিজস্ব প্রতিবেদক:

এ জনপদে পাহাড় থাকবেনা, বন ন্যাড়া হয়ে যাবে তা কল্পনা করা যায়না মন্তব্য করে জাতীয় ভূমি জোনিং প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক (যুগ্ম-সচিব) মো: শওকত আকবর বলেছেন ভূমি জোনিং ভূমির অবস্থান নির্ণয় করবে, কারও ভূমির সীমানা নির্ধারন বা বিরোধ নিষ্পত্তি করবেনা। বরং এ প্রকল্পের মাধ্যমে ভূমির সদ্ব্যাবহার নিশ্চিত করা হবে। ভূমি জোনিংয়ের মাধ্যমে এক নতুন বাংলাদেশ রচিত হবে বলেও মতপ্রকাশ করেন তিনি।

তিনি সোমবার বিকালে জাতীয় ভূমি জোনি প্রকল্প (২য় পর্যায়) এর আওতায় মাটিরাঙ্গা উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে মাটিরাঙ্গা ও গুইমারা উপজেলা ভূমি জোনিং খসড়া ম্যাপ যাচাইকরন কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

দেশে প্রতিদিন জনসংখ্যা বাড়ছে মন্তব্য করে জাতীয় ভূমি জোনিং প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক (যুগ্ম-সচিব) মো: শওকত আকবর বলেছেন ফলে কমে যাচ্ছে কৃষি জমি। পরিকল্পিত আবাসন গড়ে তোলার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, সেদিন খুব বেশী দুরে নয় যেদিন অপরিকল্পিত সব আবাসন ভেঙ্গে ফেলতে হবে। ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্যই দেশের প্রতি ইঞ্চি ভূমি পরিকল্পিতভাবে ব্যাবহার নিশ্চিত করতে হবে বলেও মতপ্রকাশ করেন তিনি।

মাটিরাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী অফিসার বিএম মশিউর রহমান এর সভাপতিত্বে উপজেলা ভূমি জোনিং খসড়া ম্যাপ যাচাইকরন কর্মশালায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) ড. গোফরান ফারুকী, মাটিরাঙ্গার সহকারী কমিনার (ভূমি) মোহাম্মদ রায়হানুল হারুন, মাটিরাঙ্গা পৌরসভার মেয়র মো: শামছুল হক, মাটিরাঙ্গা উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান মো: দেলোয়ার হোসেন ও মাটিরাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ মো: সাহাদাত হোসেন টিটো প্রমূখ।

কর্মশালায় অন্যান্যের মধ্যে মাটিরাঙ্গা ডিগ্রী কলেজের অধ্যক্ষ মো: আবুল হোসেন, বড়নাল ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো: আলী আকবর, মাটিরাঙ্গা সদর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান হিরনজয় ত্রিপুরা, সিন্ধুকছড়ি ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান সুইনুইপ্রু চৌধুরী ও হাফছড়ি ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান উশ্যেপ্রু মারমা প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

কর্মশালায় মাটিরাঙ্গা ও গুইমারা উপজেলা পরিষদরে বিভিন্ন বিভাগীয় প্রধান, নির্বাচিত ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান, গনমাধ্যম প্রতিনিধি ও এনজিও প্রতিনিধিগন অংশগ্রহন করেন।




রাঙামাটিতে পার্বত্য চট্টগ্রাম রেগুলেশন-১৯০০ সালের  গ্রন্থের প্রকাশনা উৎসব অনুষ্ঠিত

picture-12-11

রাঙামাটি প্রতিনিধি:

পার্বত্য চট্টগ্রাম রেগুলেশন-১৯০০ সালের  গ্রন্থের ইংরেজী (২য় সংস্করণ) ও বাংলা সংস্করণ-এর প্রকাশনা উৎসব  শনিবার সকালে রাঙামাটিতে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড মিলায়তনে  অনুষ্ঠিত হয়।

এসোসিয়েশন ফর ল্যান্ড রিফর্ম এ্যান্ড ডেভলমেন্ট (এএলআরডি) এবং আইনজীবী সমিতির প্রকাশনা উৎসবে পার্বত্য আঞ্চলিক পরিষদের চেয়ারম্যান জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমা ওরফে সন্তু লারমার সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট আপিল বিভাগের বিচারপতি মো: নিজামুল হক। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন হাইকোর্ট  বিভাগের বিচারপতি মো: রুহুল কুদ্দুস, বিজ্ঞ সিনিয়র আইনজীবী এডভোকেট জেড.আই. খান পান্না, দায়রা জজ মো: কাউসার,  সার্কেল চীফ ও চাকমা সার্কেল ব্যারিস্টার রাজা দেবাশীষ রায়, এএলআরডি নির্বাহী পরিচালক শাসসুল হুদা এবং জেলা আইনজীবি সমিতি সভাপতি এডভোকেট প্রতিম রায় পাপ্পু প্রমূখ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিচারপতি মো: নিজামুল হক বলেছেন, পার্বত্যাঞ্চলে কোন কোন আইন নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা হয় কিন্তু এসব আইনগুলো  কোথায় উৎপত্তি এবং কোথায় থেকে এসেছে তার কোন হদিস নেই। কোন কোন ক্ষেত্রে ১৯০০ সনের  জেলা পরিষদ আইন, আঞ্চলিক পরিষদ আইন ভিন্ন এবং এক এক জায়গায় এক এক রকম হওয়ায় এটার মধ্যে সমন্বয় করা জরুরী হয়ে পড়েছে। অন্যথায় ভিন্ন ভিন্ন আইনের কারনে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীগুলোর অধিকারকে সমুন্নত করবে এমন আইন কালের বির্বতনে হারিয়ে যাবে। আর বিয়য়ে পার্বত্য আঞ্চলিক পরিষদ ভুমিকা নিতে পারে ।

পার্বত্য আঞ্চলিক পরিষদের চেয়ারম্যান জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমা ওরফে সন্তু লারমা বলেছেন, পার্বত্যাঞ্চলে সেনা শাসন আছে। সেখানে বিচারপতি, হেডম্যানদের কোন আইন চলে না। পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তি চুক্তির ১৮ বছর পার হয়ে গেলেও পার্বত্যাঞ্চল থেকে সেনা ক্যাম্প অস্থায়ী সেনা ক্যাম্প এখনও তুলে নেওয়া হয়নি। তিনি আরো বলেন, পার্বত্য চুক্তি যথাযথ বাস্তবায়ন করলে এখানে আইন ব্যবস্থা আরো উন্নত হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

শুভেচ্ছা বক্তব্যের পরে পার্বত্য চট্টগ্রাম রেগুলেশন-১৯০০ সালের  গ্রন্থের ইংরেজী (২য় সংস্করণ) ও বাংলা সংস্করণ বইগুলোর মোড়ক উম্মোচন করেন অতিথিবৃন্দরা।




‘পার্বত্য ভূমি কমিশন নামে পার্বত্যাঞ্চলকে আলাদা জুম্মল্যান্ড গড়ার ষড়যন্ত্র চলছে’

rangamati-bangali-pic1-1-copy

নিজস্ব প্রতিবেদক:

পার্বত্য চট্টগ্রাম ভূমি নিষ্পত্তি কমিশন আইন বাতিলের দাবীতে রাঙামাটিতে কালো পতাকা বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে পার্বত্য বাঙ্গালী ছাত্র পরিষদ। বুধবার সকাল সাড়ে ১০ টায় শহরের কাঁঠালতলী এলাকায় সংগঠনটির কার্যালয় থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়।

মিছিলটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে সমাবেশে মিলিত হয়। এ সময় পার্বত্য বাঙ্গালী ছাত্র পরিষদ ও সাধারণ বাঙালিরা কালো পতাকা হাতে নিয়ে মিছিলে অংশগ্রহণ করেন। সমাবেশে বক্তব্য রাখেন, পার্বত্য বাঙ্গালী ছাত্র পরিষদের রাঙামাটি জেলার একাংশের সভাপতি মুহাম্মদ ইব্রাহীমের, সাধারণ সম্পাদক মো. জাহাঙ্গীর আলম, পার্বত্য বাঙ্গালী ছাত্র পরিষদের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি মো. শাব্বির আহম্মদ প্রমুখ।

সমাবেশে বক্তরা  অভিযোগ করে বলেন, ১৯৯৭ সালে পার্বত্য শান্তিচুক্তি অনুযায়ী শান্তিবাহিনী নামক উপজাতীয় সশস্ত্র গেরিলা বাহিনীরা স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার কথা থাকলেও তারা বাস্তবে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসেনি। তাই বন্ধ হয়নি পাহাড়ে অপহরন, গুম, হত্যা, চাঁদাবাজি। ফিরেনি শান্তিও। তাদের ভয়ে নিরাপত্তাহীনতায় থাকতে হয় সাধারণ পাহাড়ি-বাঙালিরা।

বক্তারা আরও বলেন, শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরের পর শান্তিবাহিনী নামক সশস্ত্র সন্ত্রাসী গ্রুপ ভেঙে জন্ম নিয়েছে আরও তিনটি শসন্ত্র সন্ত্রাসী গ্রুপ। যা বর্তমানে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি (জেএসএস), এমএন লামরার (সংষ্কারপন্তি) ও  ইউপিডিএফ নামে পরিচিত। অন্যদিকে, পার্বত্য ভূমি কমিশন নামে পার্বত্যাঞ্চলকে আলাদা জুম্মল্যান্ড গড়ার ষড়যন্ত্র চলছে ।

বক্তারা অবিলম্বে সংশোধিত এ বৈষম্যমূলক পার্বত্য চট্টগ্রাম ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশন আইন বাতিলের জোর দাবী জানান।