পানছড়িতে ফার্স্ট এইড প্রশিক্ষণার্থীদের মাঝে সনদ বিতরণ

First Aid Pic copy

নিজস্ব প্রতিবেদক, পানছড়ি:

পানছড়ি উপজেলার প্রত্যন্ত ও দুর্গম এলাকায় স্বাস্থ্য সেবা পৌঁছে দেয়ার লক্ষে ৪০জন যুবক-যুবতীকে কমিউনিটি ফার্স্ট এইড প্রশিক্ষণ প্রদান করেছে বাংলাদেশ নিরাপত্তাবাহিনী।

এলাকার সকল সম্প্রদায়ের এসএসসি ও এইচএসসি পাশ শিক্ষার্থীরা দু’মাসব্যাপী প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে। পানছড়ি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স মিলনায়তনে এ প্রশিক্ষণে ২৯টি রোগের প্রাথমিক চিকিৎসা সেবার উপর প্রশিক্ষণ দেয়া হয়।

মঙ্গলবার সকাল ১০টায় পানছড়ি উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে প্রশিক্ষণার্থীদের মাঝে সনদ পত্র বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন খাগড়াছড়ি জোন কমান্ডার লে. কর্ণেল জিএম সোহাগ।

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ আবুল হাশেম, উপজেলা স্বাস্থ্য ও প.প. কর্মকর্তা ডা. সনজীব ত্রিপুরা, জোন উপ-অধিনায়ক মেজর শুভ ইসলাম, সাব জোন কমান্ডার মেজর রফিকুল ইসলাম, স্টাফ অফিসার ক্যাপ্টেন সাইফ জোবায়েদ ও স্টাফ অফিসার লে. শেখ সাদী।

প্রশিক্ষণার্থী মো. ইকবাল হোসেন ও হেমা চাকমা জানায়, এখানকার দুর্গম এলাকার অনেক মানুষ স্বাস্থ্য সেবা থেকে বঞ্চিত। দুঃস্থ, গরীব চিকিৎসা বঞ্চিত জনগণের মাঝে ফার্স্ট এইড প্রশিক্ষণের মাধ্যমে আমরা তাদের পাশে চিকিৎসা সেবা নিয়ে দাঁড়াতে পারবো। পানছড়ির মতো প্রত্যন্ত এলাকায় এভাবে স্বাস্থ্য সেবার আলো ছড়িয়ে নিরাপত্তাবাহিনী একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করলো বলে তাদের দাবি।




পানছড়িতে বঙ্গবন্ধু ও বঙ্গমাতা ফুটবল ফাইনাল অনুষ্ঠিত

Paly Pic copy

নিজস্ব প্রতিবেদক, পানছড়ি :

পানছড়ি উপজেলায় বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে বঙ্গবন্ধু ও বঙ্গমাতা ফুটবলের প্রাণবন্ত ফাইনাল।

সোমবার বিকাল ৩টা থেকে পানছড়ি উপজেলা পরিষদ মাঠে আয়োজিত ফাইনালে বঙ্গমাতায় পূজগাং মূখ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও বঙ্গবন্ধু’তে খরাং সিং কার্বারী পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় চ্যাম্পিয়ন হবার গৌরব অর্জন করে।

খেলা শেষে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান সর্বোত্তম চাকমা ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ আবুল হাশেম উপস্থিত থেকে বিজয়ীদের হাতে ট্রফি তুলে দেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ও বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকবৃন্দ।




পানছড়িতে টমটমের ধাক্কায় শিশুর মৃত্যু

panchari Acc Pic copy

নিজস্ব প্রতিবেদক, পানছড়ি:

খাগড়াছড়ি জেলার পানছড়ি উপজেলায় টমটমের ধাক্কায় এক শিশু নিহত হয়েছে। নিহত শিশু উপজেলার ৪নং লতিবান ইউপির নালকাটা গ্রামের উজ্জ্বল চাকমার মেয়ে মঞ্জুরী চাকমা (৩)। সোমবার সকাল ১০টার দিকে নালকাটা কিলোমিটার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

জানা যায়, শিশু মঞ্জুরী মায়ের সাথে রাস্তা পারাপারের সময় বেপরোয়া ব্যাটারি চালিত টমটম পিছন থেকে সজোরে ধাক্কা দিলে তার মুখমণ্ডলে গুরুতর আঘাত লাগে। স্থানীয়রা উদ্ধার করে পানছড়ি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. সুমেন চাকমা তাকে মৃত ঘোষণা করে।

খবর পেয়ে পানছড়ি থানা পুলিশের এসআই মনোজ কান্তি কুরী ঘটনাস্থলে আসেন। এ ব্যাপারে স্থানীয় ইউপি সদস্য বিনয় চাকমা ও টমটম চালক সমিতির সভাপতি অমিত চাকমা পার্বত্যনিউজকে জানায়, এ বিষয়ে আমরা সামাজিক ভাবে সমাধান করব।




বিদ্যুৎ এখন যায়না, মাঝে মাঝে আসে

images

নিজস্ব প্রতিবেদক, পানছড়ি:

খাগড়াছড়ি জেলার পানছড়ি উপজেলায় বিদ্যুতের বেহাল দশায় অতিষ্ট হয়ে ভুক্তভোগীদের দাবি বিদ্যুৎ এখন যায়না, মাঝে মাঝে আসে। দীর্ঘদিন ধরে ঘন্টায় ঘন্টায় বিদ্যুতের আসা-যাওয়া জনমনে জন্মেছে প্রচণ্ড ক্ষোভ। বিভিন্ন দাপ্তরিক কাজকর্মে ব্যঘাত সৃষ্টি ছাড়াও লো ভোল্টেজের কারণে সন্ধ্যার পর নেমে আসে ভুতুড়ে অন্ধকার। পরিমানমত আলো না থাকায় ছাত্র-ছাত্রীদের মোমবাতি জ্বালিয়েও পড়ালেখা করতে হয় বলে অনেক অভিভাবকের অভিযোগ।

তাছাড়া এবারের এইচএসসি পরীক্ষার্থীরাও তাদের বিভিন্ন বিষয়ের পূর্ব প্রস্ততি মোমবাতির আলোতে সেরেছেন বলে জানা যায়। এদিকে বিভিন্ন দোকান-পাট, ঘর-বাড়িতে ফ্রিজ, টেলিভিশন ও পানির মোটরে মরিচা পড়ার অবস্থা হয়েছে বলেও জানা গেছে।

তাছাড়া ব্যাটারি চালিত টমটমও বাড়িয়ে দিয়েছে দ্বিগুন জ্বালা। মাঝে মধ্যে বিদ্যুৎ আশা মাত্রই প্রায় দু’শতাধিক ব্যাটারি অবৈধ সংযোগে চার্জ দিয়ে থাকে। কিছু কিছু এলাকায় মেইন লাইন থেকে আংটা দিয়ে বিদ্যুৎ নামিয়ে চার্জ দেওয়ার অভিযোগও পাওয়া যায়।

এ ব্যাপারে পানছড়ি বিদ্যুৎ বিভাগের আরআই হুমায়ুন কবির জানায়, আমি এ কর্মস্থলে সদ্য যোগ দিয়েছি মাত্র। তিনি জানান, বর্তমানে বিদ্যুতের সমস্যা পুরো জেলা জুড়েই। খাগড়াছড়ি সদরের ঠাকুরছড়ায় গ্রিডের কাজ খুব দ্রুত চলছে। ২০১৭ সালের শেষের দিকে বিদ্যুতের যে সমস্যা রয়েছে তার পুরোপুরি সমাধান হবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করছেন।




পার্বত্যনিউজে প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ ও প্রতিবেদকের বক্তব্য

ICE 18

নিজস্ব প্রতিনিধি:

‘১৬ মে,২০১৭, দুপুর ৩.২৬ ঘটিকায় ‘পার্বত্য নিউজ” অনলাইনে পত্রিকায় “পানছড়ির বিভিন্ন বাজারে বিষাক্ত আইসক্রিমের সয়লাব” শিরোনামে একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ পাঠিয়েছেন অরণ্য এন্টারপ্রাইজ কর্তৃপক্ষ। প্রতিবাদে বলা হয়েছে, “পত্রিকার রিপোর্টার জনাব মোঃ সাজু উক্ত সংবাদে আমার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান `অরণ্য এন্টারপ্রাইজ’ এর নামে অসম্পূর্ণ ও বিকৃত তথ্য পরিবেশন করে সুনাম ক্ষুন্ন করেছেন।

রিপোর্ট করার পূর্বে তিনি প্রতিপক্ষের তথা আমাদের কোন মতামত নেন নাই; যা রিপোর্টিংয়ের রীতি বিরুদ্ধ। আমাদের মতামত এই, `সনি আইসক্রিম’ ফেনীস্থ ফ্যাক্টরীতে উৎপাদিত মানসম্পন্ন আইসক্রীম, যা বিএসটিআই এবং বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা ইন্সটিটিউট কর্তৃক মান পরীক্ষিত এবং বাজারজাতকরণের অনুমোদন প্রাপ্ত (প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টস সংযুক্ত)।

নিউজে স্থানীয় ডাক্তারের মতামত দেয়া হয়েছে যে `এটি সম্পূর্ণ নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর পানির তৈরী’। আমাদের প্রশ্ন তিনি কি চিকিৎসক না খাদ্য সামগ্রী মান পরীক্ষক? একজন দায়িত্বশীল সরকারি কর্মকর্তা হয়ে সরকার অনুমোদিত প্রতিষ্ঠান কর্তৃক সনদপত্রপ্রাপ্ত কোম্পানীর বিরুদ্ধে না জেনে, ল্যাব টেস্ট না করে তিনি গণমাধ্যমে কিভাবে জনস্বাস্থ্য সংক্রান্ত স্পর্শকাতর একটি বক্তব্য দিলেন?

আমাদের পরিস্কার বক্তব্য এই, যদি সরকার অনুমোদিত ল্যাব টেস্টে আইসক্রীমটি অস্বাস্থ্যকর প্রমাণিত হয়, তাহলে আমরা তা বাজার থেকে প্রত্যাহার করে নিবো। অন্যথায় আমার ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের সুনাম ক্ষুণ্নের দায়ে এবং জনমনে আতংক সৃষ্টির দায়ে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হবো। এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সকলের ইতিবাচক সহযোগিতা কামনা করছি।”

প্রতিবেদকের বক্তব্য

প্রকাশিত সংবাদটির সত্যতা রয়েছে। ৫ টাকা মূল্যের কালো প্রলেপ দেয়া ফেনী থেকে আসা এই আইসক্রীমটির প্যাকেটে বিএসটিআইয়ের একটি সীলমোহর রয়েছে। কিন্তু প্যাকেটের গায়ে ব্যাচ নং, ওজন, উৎপাদনের তারিখ ও মেয়াদ উর্ত্তীর্ণের তারিখ- কোন কিছুই উল্লেখ নেই। এটি ভোক্তা অধিকার আইনের ২০০৯ সালের ৩৭ নং ধারার লঙ্ঘন বলে জানান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ আবুল হাশেম। পানছড়ি উপজেলা স্যানিটরি ইন্সপেক্টর শওকত আলীও তা নিশ্চিত করেন।

তিনি আরো বলেন, বিএসটিআইয়ের অনুমোদনের সময় প্যাকেটের গায়ে উৎপাদন ও মেয়াদ উর্ত্তীনের তারিখ লেখা থাকবে শর্তে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান অঙ্গীকারাবদ্ধ। এর কারণে ১ বছরের কারাদন্ড, ৫০ হাজার টাকা জরিমানা অথবা উভয় শাস্তি হতে পারে। এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও প: প. কর্মকর্তা ডা: সনজীব ত্রিপুরা।

এ ব্যাপার খাগড়াছড়ির পরিবেশক অরণ্য এন্টারপ্রাইজের স্বত্ত্বাধীকারী মো. নুরুন্নবীর সাথে মুঠোফোনে আলাপকালে তিনি জানান, ফেনী মধুপুর সড়কে সনি আইসক্রীম ফ্যাক্টরীর অবস্থান। সরকারী বিধি মোতাবেক বিএসটিআইয়ের অনুমোদনসহ অন্যান্য কাগজপত্রাদি ও আইসক্রীমের গুণগত মান ঠিক আছে বলে তিনি মত প্রকাশ করেন।

প্রতিবাদের সাথে অরণ্য এন্টারপ্রাইজ কর্তৃপক্ষ বিএসটিআইয়ের সনদের কপি দিলেও ‘বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা ইন্সটিটিউট কর্তৃক মান পরীক্ষিত এবং বাজারজাতকরণের অনুমোদন প্রাপ্ত’ বলে যে দাবী করেছেন তার কোনো সনদ দেননি। এমনকি তাকে বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা ইন্সটিটিউট কর্তৃক মান পরীক্ষিত এবং বাজারজাতকরণের অনুমোদনের সার্টিফিকেট দেখাতে বলা হলেও তিনি তা দেখাতে পারেননি।




পানছড়ি ইউপির আয়োজনে সোলার বিতরণ

SOLAR PIC copy

নিজস্ব প্রতিবেদক, পানছড়ি:

খাগড়াছড়ি জেলার পানছড়িতে প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তি পর্যায়ে সোলার প্যানেল বিতরণ করা হয়েছে। এর আয়োজক ছিল, ৩নং সদর পানছড়ি ইউপি। বুধবার দুপুর ১২টার সময় ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ আবুল হাশেম।

জানা যায়, টিআর-কাবিটা ২০১৬-১৭ প্রকল্পের আওতায় প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিগত পর্যায়ে সর্বমোট ৬০টি সোলার প্যানেল বিতরণ হয়। ৩নং সদর পানছড়ি ইউপি চেয়ারম্যান নাজির হোসেন জানায়, প্রধানমন্ত্রীর মিশন ২০২১ বাস্তবায়নে প্রত্যন্ত অঞ্চলকে আলোকিত করার লক্ষ্যে আমরা কাজ করে যাচ্ছি।

ধারাবাহিকভাবে উপজেলার প্রত্যেকটি প্রত্যন্ত অঞ্চল প্রধানমন্ত্রীর হাত ধরে আলোকিত হয়ে উঠবে। এ সময় ৫নং উল্টাছড়ি ইউপির চেয়ারম্যান বিজয় চাকমাসহ সকল ইউপির সদস্য/সদস্যারা উপস্থিত ছিল।

 




পানছড়িতে ডিজিটাল মেলার উদ্বোধন

ICT PIC copy

নিজস্ব প্রতিবেদক, পানছড়ি:

পানছড়িতে উৎসবমুখর পরিবেশের মধ্যে দিয়ে উদ্বোধন হয়েছে জাতীয় ইন্টারনেট সপ্তাহ ও ডিজিটাল মেলা-২০১৭। বুধবার সকাল ১০টায় ফিতা কেটে মেলার উদ্বোধন করে, অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি পানছড়ি উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান সর্বোত্তম চাকমা।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ আবুল হাশেম।

এবারের মেলায় অংশ নেয়া ৮টি স্টলের মধ্যে রয়েছে ৫টি ইউনিয়ন পরিষদ, পানছড়ি বাজার উচ্চ বিদ্যালয়, পানছড়ি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও পানছড়ি ডিগ্রী কলেজ। বাহারী রঙের বেলুন, কাগজ ও ডিজিটাল ব্যানারে দিয়ে স্টলগুলোকে সাজানো হয়েছে নান্দনিক সাজে।

অনুষ্ঠানের উদ্বোধন পর্ব শেষে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সভাপতিত্বে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। পানছড়ি বাজার উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক সুলতান মাহামুদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন, পানছড়ি উপজেলা তথ্য ও প্রযুক্তি অধিদপ্তরের সহকারী প্রোগ্রামার বাবলী খীসা, পানছড়ি ডিগ্রী কলেজের আইসিটি বিভাগের অধ্যাপক রত্ন কুসুম চাকমা, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান লোকমান হোসেন ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান রত্না তঞ্চঙ্গ্যা।




পানছড়ির ডাব বিক্রেতা মেধাবী প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীর শিক্ষার দায়িত্ব নিলো নিরাপত্তাবাহিনী

 

Khagrachari Pictue 03 copy

নিজস্ব প্রতিবেদক, খাগড়াছড়ি:

পার্বত্য নিউজে প্রকাশিত প্রতিবেদন ভাগ্য খুলে দিয়েছে, পানছড়ির প্রতিবন্ধী বোধিপ্রিয় চাকমার। সদ্য এসএসসি পাশ করা বোধিপ্রিয় চাকমার স্বপ্ন বাস্তবায়নে তার পাশে দাঁড়িয়েছে ২০৩ পদাতিক ব্রিগেডের রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মীর মুশফিকুর রহমান এসইউপি, পিএসসি। খাগড়াছড়ি রিজিয়ন কমান্ডার  বোধিপ্রিয় চাকমার কলেজে ভর্তিসহ ১ বছরে খরচ আগাম পরিশোধ ও ভবিষ্যতে তার উচ্চ শিক্ষার সম্পূর্ণ দায়িত্ব গ্রহণ করে তাকে এককালীন আর্থিক সহায়তা দিয়েছেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করে খাগড়াছড়ি রিজিয়নের  স্টাফ অফিসার  মেজর মোহাম্মদ মুজাহিদুল ইসলাম জানান, মঙ্গলবার দুপুরে  প্রতিবন্ধী বোধিপ্রিয় চাকমার হাতে এককালীন আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে। পানছড়ি উপজেলার ৫নং উল্টাছড়ি ইউনিয়নের সূতকর্ম্মা পাড়া গ্রামে মৃত সুকুমার চাকমা ও বিনা চাকমার ছেলে প্রতিবন্ধী বোধিপ্রিয় চাকমা। ২০১৭ সালে প্রকাশিত এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলে সে পানছড়ি মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের ভোকেশনালে ইলেকট্রিকেল বিভাগ থেকে জিপিএ ৪.০৭ পেয়ে আলোড়ন সৃষ্টি করে।

হতদরিদ্র পরিবারে জম্ম নেওয়া প্রতিবন্ধী বোধিপ্রিয় চাকমা বিদ্যালয় ছুটির পর ও বন্ধের দিনে কখনও রোদ আবার কখনও বৃষ্টি উপেক্ষা করে কখনও ভ্যান কখনও ঠেলা গাড়িতে ফেরি করে ডাব বিক্রি করে পরিবারের ও নিজের শিক্ষার খরচে জোগাড় করতেন। মাঝে মধ্যে মানুষের জমিতে বদলা, রাজমিস্ত্রির জোগালীসহ অন্যান্য কাজও করে থাকে। বোধিপ্রিয় চাকমাদের নিজস্ব কোন জায়গা জমি না থাকায় এলাকার কালাচাদ চাকমার জায়গায় ঝুপড়ির মত ঘর বেঁধে কোন রকমে তাদের বসবাস।

পরিবারের ছয় সদস্যের মধ্যে চার জনই প্রতিবন্ধী। বোধিপ্রিয় চাকমার বোন মনোবালা চাকমাও পঞ্চম ও অষ্টম শ্রেণিতে বৃত্তি পেয়েছিল। কিন্তু অভাবের তাড়নায় মেধার বিকাশ প্রস্ফুটিত হওয়ার আগেই অন্নের সন্ধানে পাড়ি জমায় ঢাকার এক ছোটখাট কোম্পানীতে। বোধিপ্রিয় চাকমা মেধাবী হলেও তার দুটি পা খর্বকায়। দু’বেলা ঠিকমত খেতে না পারা, পায়ে হেঁটে বিদ্যালয়ে যাওয়া, খাতা-কলম ও স্কুল পোষাক কিনতে না পারার জ্বালা ছিল বোধিপ্রিয় চাকমার নিত্য সঙ্গী।

এসএসসি পাশ করার পর তার ভবিষ্যত নিয়ে চিন্তিত ছিল পরিবার। এ নিয়ে ৯ মে আমাদের পানছড়ি প্রতিনিধির একটি প্রতিবেদন পার্বত্য নিউজে প্রকাশ হলে দৃষ্টিগোচর হয় খাগড়াছড়ি সেনা রিজিয়নের। সহযোগিতার হাত বাড়ান খোদ রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মীর মুশফিকুর রহমান এসইউপি, পিএসসি। বোধিপ্রিয় চাকমার  স্বপ্ন বাস্তবায়নে নিরাপত্তাবাহিনীর এ  উদ্যোগকে সর্বমহল সাধুবাদ জানিয়েছেন।

 




পানছড়ির বিভিন্ন বাজারে বিষাক্ত আইসক্রিমে সয়লাব

Panchari ICE Pic copy

নিজস্ব প্রতিবেদক, পানছড়ি:

পানছড়ি উপজেলার বিভিন্ন বাজারে নিম্নমানের বিষাক্ত আইসক্রিমে সয়লাব হয়ে গেছে। কোমলমতি শিশুদের মন জয় করতে বাহারি প্যাকেটে কালো আবরণ দেয়া আইসক্রিমটির দাম কম হওয়ায়’র চাহিদাও প্রচুর। প্যাকেটের গায়ে লিখা “চকবার” নামের ৫ টাকা দামের এই আইসক্রিম খেয়ে প্রতিদিনই আক্রান্ত হচ্ছে বিদ্যালয় পড়ুয়া কোমলমতি শিক্ষার্থীরা।

শিশু শ্রেণি থেকে শুরু করে উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা এ আইসক্রিম খেয়ে আক্রান্ত হচ্ছে নানান রোগে। পানছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. ইমরানুল হক সরেজমিনে, এই আইসক্রিম দেখে চমকে যান। তিনি জানান, খাদ্যনালী ও রক্তনালীতে ইনফেকশান ছাড়াও ডায়েরিয়া, পেট ব্যাথা, পাতলা পায়খানাসহ নিউমোনিয়ার মত ভয়াবহ রোগ হতে পারে এ আইসক্রিম থেকে। এটি সম্পূর্ণ নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর পানির তৈরি।

এ কারণে ইতিমধ্যে পানছড়ি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডায়েরিয়ায় আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা বাড়ছে। একদিনে সর্বোচ্চ ২২ জন ডায়েরিয়ায় আক্রান্তকে চিকিৎসা সেবা দেয়া হয়েছে বলেও জানান ডা. ইমরানুল হক।

পানছড়ি উপজেলা স্যানিটারি ইন্সপেক্টর মো. শওকত আলী জানান, খবর পেয়ে পানছড়ি বাজারের কুলিং কর্ণার গুলোতে এই বিষাক্ত আইসক্রিম বিক্রির উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে এসেছি।

এরপরও কেউ অসাধু উপায়ে বিক্রি করলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

জানা গেছে, খাগড়াছড়ির অরণ্য ট্রেডার্স থেকে এসব আইসক্রিম জেলার বিভিন্ন উপজেলায় পরিবেশন করা হয়। এ ব্যাপারে প্রশাসনের সুদৃষ্টি কামনা করছে অভিভাবক মহল।

 




মা দিবসে পানছড়ির হামিদা

Panchari Hamida Pic n 14.5

নিজস্ব প্রতিবেদক, পানছড়ি:

রবিবার ‘‘বিশ্ব মা দিবস’’। দেশের বড় বড় শহরগুলোর মত পার্বত্য জেলাগুলোতেও এ দিনটি যথাযোগ্য মর্যাদার সহিত পালিত হয়ে থাকে। তবে তা সীমাবদ্ধ থাকে কিছু কিছু মানুষের মাঝে। আর অনেকেরই অজানা রয়েছে মা দিবস নামে যে একটি দিন রয়েছে। তারই একটি উদাহরণ হামিদা খাতুন। এ হামিদা পানছড়ি বাজারের পিঠা মেম্বার হিসাবে খ্যাত আবদুল আলীর স্ত্রী।

পানছড়ি ইসলামিয়া সিনিয়র মাদ্রাসার পিছনে চেঙ্গী খালের পাড়েই তাদের জরাজীর্ণ ঘর। তাদের সন্তান শাহানা (২০) ও আবদুল হামিদ (১৫) দু’জনই খর্বকায় প্রতিবন্ধী। বাড়ির আঙিনায় বসে থাকা হামিদাকে মা দিবসের কথা জিজ্ঞাসা করা মাত্রই হামিদার সরাসরি উত্তর আমরা গরীব মানুষ মা দিবস টিবস ইতা বুঝিনা। পোলা আইতের বাপে চা বেইচ্ছা চাইল-ডাইল আইন্যা দে রাইন্দা খাওয়াই ইতা কইরাই আমরা দিন কাটাই। এর মাঝে হামিদার এক কঠিন প্রশ্ন স্যার আম্নেরার মা কি একদিনের।

দিন আসে দিন যায় কিন্তু গৃহবধু হামিদা দীর্ঘ ২০ বছর বুকের ভালোবাসা দিয়ে আকড়ে ধরে আছে তার দুই প্রতিবন্ধী সন্তানকে। গত বছর মারা যায় হামিদার আরও এক প্রতিবন্ধী মেয়ে আম্বিয়া (১৬)। মা দিবসের কথা শুনে আম্বিয়ার শোকে চোখের পানি টলমল করছে হামিদার। আম্বিয়ার জন্য নাকি তার প্রাণ আজও কাঁদে। আবদুল হামিদ মায়ের কোলে চড়ে প্রায় এক মাইলের অধিক পথ পাড়ি দিয়ে মাদ্রাসায় যায়। বর্তমানে সে ৬ষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ে।

নিজেদের কোন জায়গা জমি নেই। পরের জায়গায় জরাজীর্ণ ঘরে তাদের বসবাস। দীর্ঘ ২০ বছর তিন প্রতিবন্ধীকে কোলে করে বুকে জড়িয়ে হামিদা বুঝিয়ে দিল মায়ের মতো আপন আর কে আছে।