পানছড়িতে বিশেষ ক্লাস চালু করার পর শিক্ষার্থীরা উজ্জীবিত

নিজস্ব প্রতিবেদক, পানছড়ি:

পানছড়ি উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহাম্মদ আবুল হাশেম এর উদ্যোগে জেএসসি ও এসএসসি পরীক্ষার্থীদের নিয়ে বিশেষ ক্লাস চালু করার পর শিক্ষার্থীরা হয়ে উঠেছে উজ্জীবিত। নিজ প্রশাসনের অর্থায়নে বিভিন্ন বিদ্যালয়ের মেধাবী শিক্ষকদের নিয়ে চালু করেছেন বিশেষ ক্লাস।

এতে অংশ নিচ্ছে উপজেলার সকল বিদ্যালয়ের মেধাবী শিক্ষার্থীরা। পিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থীদের প্রতি দেয়া হচ্ছে বিশেষ নজর। মাসিক পরীক্ষায় মেধা তালিকায় প্রথম পাঁচ শিক্ষার্থীদের দেয়া হচ্ছে আকর্ষনীয় পুরস্কার।

পানছড়ি বাজার উচ্চ বিদ্যালয়ের ৮ম শ্রেণির শিক্ষার্থী মেরাজ হাসান, দশম শ্রেণির তানিয়া রহমান, উল্টাছড়ি উচ্চ বিদ্যালয়ের অমিতাবচ্চন ত্রিপুরা, পূজগাং মূখ উচ্চ বিদ্যালয়ের পিকাসু চাকমা এ বিশেষ ক্লাসের মাধ্যমে  অগ্রগতি পেয়েছে বলে জানায়। তারা ভালো ফলাফলের ব্যাপারে আশাবাদী।

এ নিয়ে অভিভাবক মহলও সন্তুষ্টি প্রকাশ করছে। বিশেষ কোচিংয়ের কো-অডিনেটর পানছড়ি বাজার উচ্চ বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক মো. আবুল কাশেম জানায়, বিশ বছরের শিক্ষকতা জীবনে এ ধরণের ব্যতিক্রমী উদ্যোগ অতীতে কেউ নেয়নি। এবারে জেএসসি ও এসএসসিতে ফলাফল সন্তোষজনক হবে বলেও তিনি আশাবাদি।




পানছড়িতে ইউপিডিএফ চাঁদাবাজদের গণধোলাই: অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার

নিজস্ব প্রতিবেদক, খাগড়াছড়ি::

খাগড়াছড়ির পানছড়িতে চাঁদা আদায়কালে চার ইউপিডিএফ সন্ত্রাসীকে সদস্যকে গণধোলাই দিয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে সোপর্দ করেছে জনতা। পরে তাদের স্বীকারোক্তিতে দুই রাউন্ড গুলি ও ম্যাগজিনসহ বিদেশী পিস্তল উদ্ধার করেছে নিরাপত্তা বাহিনী।

নিরাপত্তা বাহিনীর সূত্র জানায়, শুক্রবার রাতে পানছড়ি মডেল কলেজ গেইট এলাকার একটি ভবন চাঁদা আদায়কালে স্থানীয় জনগন ইউপিডিএফ’র চার চাঁদাবাজকে আটক করে গণধোলাই দেয়। খবর পেয়ে স্থানীয় নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌছে ইউপিডিএফ সন্ত্রাসীকে উদ্ধার করে।তবে এ সময় দলের পাণ্ডারা পালিয়ে যেতে সমর্থ হয়।

আটককৃতরা হচ্ছে, পানছড়ির দক্ষিণ নালা কাটার শান্তি দুলাল চাকমার ছেলে মুক্তাত্বার দেওয়ান চাকমা, একই উপজেলার বৌদ্ধরাম পাড়ার সুকুমনি চাকমার ছেলে সুমন চাকমা, বৌদ্ধরাম পাড়ার মবুক চাকমার ছেলে বিমল চাকমা ও খাগড়াছড়ি সদর উপজেলার ভাইবোন ছড়ার খেড়া কুমার ত্রিপুরার ছেলে বৌদ্ধিরাম ত্রিপুরাকে উদ্বার করে।

পরে তাদের স্বীকারোক্তিতে আজ ভোর রাতে একটি আমেরিকান পিস্তল, একটি ম্যাগজিন ও দুই রাউন্ড গুলি উদ্ধার করে।

স্থানীয় অধিবাসীরা জানায়, আটক ইউপিডিএফ সদস্যরা দীর্ঘ দিন ধরে এলাকায় ভয়ভীতি দেখিয়ে চাঁদাবাজি করে আসছিল।

পানছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো: মিজানুর রহমান জানান, আটক চার ইউপিডিএফ’র সদস্যের বিরুদ্ধে অস্ত্র মামলা হয়েছে।




সিএনজি দূর্ঘটনায় পানছড়িতে আহত-২

নিজস্ব প্রতিবেদক, পানছড়ি:

খাগড়াছড়ি জেলার পানছড়ি উপজেলায় সিএনজি দূর্ঘটনায় ২জন গুরুতর আহত হয়েছে। বৃহষ্পতিবার বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে মরাটিলা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

এতে মাটিরাঙ্গা উপজেলা তবলছড়ি ইউপির গৌরাঙ্গ পাড়ার মৃত মধু মিয়ার ছেলে মাইন উদ্দিন (৫২) ও একই এলাকার আ. বারিকের স্ত্রী রেহানা বেগম(৪৫) গুরুতর আহত হয়।

স্থানীয়রা আহতের উদ্ধার করে পানছড়ি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক দু’জনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে খাগড়াছড়ি সদর হাসপাতালে প্রেরণ করে। সিএনজি’টি নাম্বারবিহীন ও ড্রাইভার অদক্ষ ছিল বলে সিএনজি সমিতির কার্যালয় পানছড়ি অফিস সূত্রে জানা যায়।




ইউপিডিএফ সন্ত্রাসীর গুলিতে আহত পানছড়ির জীবন ত্রিপুরা


নিজস্ব সংবাদদাতা:
জেলার পানছড়িতে ইউপিডিএফ সন্ত্রাসীর গুলিতে জীবন ত্রিপুরা(৩২) নামে এক ব্যাক্তি গুরুতর আহত হয়েছে। বুধবার রাত ৯টার দিকে উপজেলার ৫নং উল্টাছড়ি ইউপির প্রফুল্ল কার্বারী পাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

জানা যায়, গতরাতে ইউপিডিএফের ৩/৪জন সন্ত্রাসী রাতে আশ্রয় নেয়ার জন্য জীবন ত্রিপুরার বাড়িতে আসে। তিনি সন্ত্রাসীদের বাড়িতে আশ্রয় দিতে অস্বীকার করলে প্রফুল্ল ত্রিপুরার ছেলে জীবন কুমার ত্রিপুরা’(৩২)কে নিজ আঙিনায় ইউপিডিএফ সন্ত্রাসীরা অতর্কিত গুলি করে। এ সময় সে হাতে ও বুকে গুলিবিদ্ধ হয়।

গুলির শব্দে পাড়া-প্রতিবেশীরা ছুটে এসে অবস্থা গুরুতর দেখে তার নিকটাত্মীয়দের মোবাইলে খবর দেয়। খবর পেয়ে দেবরঞ্জন ত্রিপুরা ও ধনরঞ্জন ত্রিপুরাসহ এলাকাবাসীর সহযোগিতায় আহত’কে প্রায় ঘন্টাখানেক পথ কাঁধে নিয়ে পাড়ি দিয়ে মরাটিলা এলাকায় এসে সিএনজি যোগে রাত ১২টায় খাগড়াছড়ি সদর হাসপাতালে পৌছে।

কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিলেও তার অবস্থা গুরুতর দেখে রাত ৩’টার দিকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করে। দেবরঞ্জন ত্রিপুরা ও ধনরঞ্জন ত্রিপুরা ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন।

নিরাপত্তা বাহিনী সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে, জীবন ত্রিপুরাকে ইউপিডিএফ সন্ত্রাসীরা গুলি করেছে। তার শরীরে মোট তিনটি গুলি লেগেছে। একটি তার বাম তলপেটে চামড়া কেটে বেরিয়ে গেছে। আরেকটি তার বাম তলপেটে গুলিবিদ্ধ হয়েছে। অন্যটি তার বাম হাতে গুলি বিদ্ধ হয়েছে। বর্তমানে তিনি আশঙ্কাজনক অবস্থায় চট্টগ্রাম চকবাজারে মেডিকেল কলেজ হাসপাতারে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

পানছড়ি থানা অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) মো: ইরফানুল ইসলাম জানান, এ ব্যাপারে এখনো কেউ কোন অভিযোগ নিয়ে থানায় আসেনি।

এ ব্যাপারে ইউপিডিএফের বক্তব্য নিতে স্থানীয় নেতাদের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করলে তাদের কারো সাথে সংযোগ করা সম্ভব হয়নি।




পানছড়িতে সেলাই মেশিন, ঢেউটিন ও খেলার সামগ্রী বিতরণ

নিজস্ব প্রতিবেদক, পানছড়ি:

জেলার পানছড়িতে উপজেলা পরিষদের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি এডিপির আওতায় দুঃস্থ মহিলা, সামাজিক প্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সেলাই মেশিন, ঢেউটিন ও খেলার সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। এসব সামগ্রীর মাঝে রয়েছে সেলাই মেশিন ৩৩টি, ঢেউটিন ২৭ বান, ফুটবল, ভলিবল, ক্রিকেট সেট, কেরাম, দাবা ও ফুটবলের বুট।

মঙ্গলবার সকাল ১০টায় উপজেলা প্রশাসন ভবনের সামনে এসব সামগ্রী বিতরণ করেন উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান সর্বোত্তম চাকমা ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহাম্মদ আবুল হাশেম।

এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা প্রকৌশলী অরুণ কুমার দাস, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান রত্না তঞ্চঙ্গ্যা, ইউপি চেয়ারম্যান প্রত্যুত্তর চাকমা, বিজয় চাকমা, কালাচাঁদ চাকমা প্রমুখ।




ইলিয়াছ চৌধুরীর মৃত্যুতে পানছড়ি উপজেলা আওয়ামী লীগের শোক বার্তা

নিজস্ব প্রতিবেদক, পানছড়ি:
খাগড়াছড়ি জেলা যুব লীগের সদস্য, দীঘিনালা উপজেলা যুবলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক, বর্তমান দীঘিনালা উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক ইলিয়াছ চৌধুরীর মৃত্যুতে গভীর শোক জানিয়েছে পানছড়ি উপজেলা আওয়ামী লীগ।

পানছড়ি উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি মো: বাহার মিয়া, সাধারণ সম্পাদক জয়নাথ দেব, যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক বিজয় কুমার দেব, যুবলীগ সাধারণ সম্পাদক মো: নাজির হোসেন মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করে শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

গত ১০ অক্টোবর তিনি ব্রেন ষ্ট্রোক করলে উন্নতর চিকিৎসার জন্য ঢাকা স্কয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। দীর্ঘ সপ্তাহ ধরে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় ১৬ অক্টোবর রাত ৯টায় তিনি না ফেরার দেশে পাড়ি জমান।




ফাতেমা অপহরণের স্বীকারোক্তি দিয়েছে ইউপিডিএফের তিন কর্মী


নিজস্ব প্রতিবেদক, খাগড়াছড়ি:

খাগড়াছড়ির গুইমারায় যাত্রীবাহী বাস থেকে গৃহবধূ ফাতেমা বেগমকে অপহরণের ঘটনায় আটক পাঁচ ইউপিডিএফ কর্মীর মধ্যে তিনজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবান্ধী দিয়েছে। এরা হচ্ছে, কমলা দেবী চাকমা(৫০), চিন্তা রানী চাকমা(৩৫) ও সুশিল চাকমা(২০)।

১২ অক্টোবর বৃহস্পতিবার বিকালে খাগড়াছড়ি সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আবু সুফিয়ান মোহাম্মদের আদালতে তারা এ স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্ধি দেয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন, গুইমারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাহাদত হোসেন টিটু।

উল্লেখ্য, গত ৮ সেপ্টেম্বর ঈদের ছুটি শেষে স্বামী মো. নাজমুল হোসেন তার  স্ত্রী ফাতেমা বেগমকে নিয়ে বাসযোগে (বিছমিল্লাহ পরিবহন) কর্মস্থল চট্টগ্রাম যাওয়ার পথে গুইমারার বাইল্যাছড়ি সাইনবোর্ড এলাকায় ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট(ইউপিডিএফ)‘র ১৫/১৬ জন কর্মী বাসের গতিরোধ করে ও  স্বামীর পাশে বসা ফাতেমা বেগমকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যায়। এসময় স্বামী মো. নাজমুল হোসেন বাধা দিলে সন্ত্রাসীরা তাকেও অপহরণের হুমকি দেয়।

প্রসঙ্গত, পাঁচ বছর আগে (০১/১১/২০১২ইং) খাগড়াছড়ির পানছড়ির লোগাং বাজার পাড়ার মনতাজ মিয়ার ছেলে মো. নাজমুল হোসেন ভালোবেসে বিয়ে করে বজেন্দ্র মাষ্টার পাড়ার ফলেন্দ্র ত্রিপুরার মেয়ে নয়না ত্রিপুরাকে। বিয়ের পুর্বেই স্বেচ্ছায় ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে নয়না ত্রিপুরা ফাতেমা ফাতেমা বেগম নাম ধারণ করে। তারপর থেকেই তারা সুখে-শান্তিতে দাম্পত্য জীবন-যাপন করে আসছে। বিয়ের এক বছরের মধ্যই তাদের কোলজুড়ে আসে এক পুত্রসন্তান।

গুইমারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাহাদত হোসেন টিটু জানান, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে বুধবার সকাল ১০টার দিকে গুইমারা উপজেলার বাইল্যাছড়ি ও ১নং রাবার বাগান এলাকা থেকে পাঁচ ইউপিডিএফ কর্মীকে আট করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা ইউপিডিএফের কর্মী ও গৃহবধু ফাতেমা বেগমকে অপহরণের সাথে জড়িত থাকার বিষয়ে স্বীকার করে। তবে আদালতে গিয়ে তিনজন স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্ধী দিয়েছে।




পানছড়িতে যথাযোগ্য মর্যাদায় বিশ্ব শিশু দিবস ও জাতীয় কণ্যা শিশু দিবস পালিত

নিজস্ব প্রতিবেদক, পানছড়ি:

’’শিশু পেলে অধিকার-খুলবে নতুন বিশ্বদ্বার, কণ্যা শিশুর জাগরণ-আনবে দেশে উন্নয়ন” প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে জেলার পানছড়ি উপজেলায় যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হয়েছে বিশ্ব শিশু দিবস ও জাতীয় কণ্যা শিশু দিবস।

এ উপলক্ষ্যে বৃহষ্পতিবার (১২ অক্টোবর) সকাল ১০টা থেকে র‌্যালী ও র‌্যালী পরবর্তী আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এর আয়োজক ছিল উপজেলা প্রশাসন ও মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর। উপজেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত আলোচনায় সভাপতিত্ব করে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহাম্মদ আবুল হাশেম। এ সময় প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান সর্বোত্তম চাকমা।

পানছড়ি বাজার মডেল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বিপাশা সরকারের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন অফিসার ইনচার্স মো. মিজানুর রহমান, ভাইস চেয়ারম্যান লোকমান হোসেন, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান রত্না তঞ্চঙ্গ্যা, বিভিন্ন দপ্তরের বিভাগীয় প্রধানসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা।




পানছড়িতে বন্ধু সেজে অপহরণ, মূলহোতা আটক

নিজস্ব প্রতিনিধি , পানছড়ি, (খাগড়াছড়ি):
জেলার পানছড়ি উপজেলার ৩নং সদর পানছড়ি ইউপির শনটিলা গ্রামের বাঁচা মিয়ার মেয়ের জামাই মো: জাহাঙ্গীর আলম (২৫)। তার আসল ঠিকানা সন্দ্বীপ উপজেলায়। বাবার নাম মো: ইয়াছিন। প্রায় আট বছর ধরে শনটিলা গ্রামে শ্বশুরালয়ে সে বসবাস করছে। ছোট্ট শনটিলা গ্রামের কয়েক বখাটের মাঝে জাহাঙ্গীরও একজন। তার সহপাঠিরা এরি মাঝে কয়েকবার জেল খেটেছে। তাই বন্ধুদের দেখাদেখি বড় বখাটেপনা করার শখ তার মাঝেও জাগে।

এরি মাঝে পানছড়ি বাজারে মাঝে মধ্যে আদা-হলুদ ও তামাক বিক্রি করতে আসা খাগড়াছড়ি মসজিদ রোডের বাসিন্দা সোনা মিয়ার ছেলে ইমতিয়াজ হোসেন (২৩)’র সাথে বন্ধুত গড়ে তোলে। এই বন্ধুত্ব গড়ার পনর দিনের মাথায় শনটিলা এলাকা থেকে তামাক-আদা-হলুদ ক্রয় করে দেয়ার প্রলোভন দেখিয়ে তার বাড়িতে যাওয়ার আমন্ত্রণ জানায়।

বন্ধুর কথায় বিশ্বাস করে ইমতিয়াজ মঙ্গলবার বেলা ১২টার দিকে প্রায় ৫শতাধিক টাকার চানার-বিস্কিট ও কোমল পানীয় নিয়ে ভাড়ায় চালিত মোটর সাইকেল দিয়ে রওয়ানা দেয়া শনটিলার উদ্দেশ্য। কিছুদুর যেতেই জাহাঙ্গীর মোটর সাইকেল বিদায় করে দিয়ে বলে এইতো একটু সামনেই আমার বাড়ি পায়ে হেঁটে যেতে পারব। সামান্য দুর এগুতেই গামছা দিয়ে চোখ বেঁধে ফেলে ইমতিয়াজের। কিছুক্ষন পর সেমি পাকা ও টিনের চাউনির একটি বাড়িতে নিয়ে যায়।

এরি মাঝে হাজির হয় তার পাঁচ সহপাঠি। গাছের সাথে বেঁধে কয়েক দফা চলে মারধর। ঘন্টাখানেক অজ্ঞান থাকার পর জ্ঞান ফিরলে দলের সদস্যরা পঞ্চাশ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবী করে। অপহরণকারীদের মোবাইল দিয়ে মায়ের কাছে টাকা চেয়ে আকুতি জানায়। মায়ের কাছে টাকা নাই বললে আবারো চালায় নির্যাতন।

পরবর্তীতে মোবাইলে বড় বোন কোহিনুর ও তার স্বামী কাসেমেকে জানায়, পঞ্চাশ হাজার টাকা না দিলে মেরে ফেলবে আমাকে বাঁচান। ঘন্টাখানেকের মধ্যে পালিত গরু ও ছোট বোনের স্বামী ইদ্রিসের সহায়তায় অপহরণকারীদের দেয়া বিকাশ নাম্বার ০১৮৪৯৮৮৩৬৬৫ এ পঁয়ত্রিশ হাজার ও অন্য একটি নাম্বারে দশ হাজার সহ সর্বমোট পঁয়তাল্লিশ হাজার পাঠায়। শর্ত ছিল কেউ জানলে ইমতিয়াজকে মেরে ফেলা হবে।

এ টাকা উত্তোলন শেষে আবারো মুক্তিপণ দাবী করে দেড় লক্ষ টাকা। প্রথম দফায় আদায়করা পঁয়তাল্লিশ হাজার টাকা ভাগাভাগি করার ব্যস্ততার ফাঁকে সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে কৌশলে ইমতিয়াজ পালিয়ে যায়। কিছু পথ পায়ে হেঁটে একটি ভাড়ায় চালিত মোটর সাইকেল যোগে রাত নয়’টায় খাগড়াছড়ি পৌঁছে। প্রচন্ড মারের আঘাতে আহতবস্থায় পরিবারের সদস্যরা তাকে খাগড়াছড়ি সদর হাসপাতালে ভর্তি করায়।

এরি মাঝে তার অপহরণের খবর চারিদিকে ছড়িয়ে পড়লে পুলিশ সদর হাসপাতালে তার খবরা-খবর নিতে গেলে গুরুতর আহতাবস্থায় এসব চাঞ্চল্যকর তথ্যাদি জানায় সে।

এদিকে পানছড়ি থানা পুলিশও মাঠে নেমে পড়ে রহস্য উদঘাটনে। অফিসার ইনচার্জ মো: মিজানুর রহমান ব্যবহার করতে থাকে ডিজিটাল প্রযুক্তি। ইমতিয়াজের আত্মীয়- স্বজনের সাথে ব্যবহৃত মোবাইল নাম্বার ও অপহরণকারীদের দেয়া বিকাশ নাম্বার সংগ্রহ করে ট্রেকিংয়ের মাধ্যমে নিশ্চিত হয় এগুলো পানছড়ির টাওয়ার থেকে করা। তথ্য পায় ইমতিয়াজের সাথে জাহাঙ্গীরের ছিল বন্ধুত্ব।

অফিসার ইনচার্জের নেতৃত্বে রাত ২টার দিকে শনটিলা গ্রামে অভিযান চালানো হয় জাহাঙ্গীরের ঘরে। অনেকক্ষণ তল্লাশীর পর খাটের নিচের কয়েকটি বস্তার আড়ালে লুকিয়ে থাকা অবস্থায় তাকে আটক করা হয়। জাহাঙ্গীর বুধবার বিকেলে ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছে। এই কাজে তার পাঁচ সহপাঠিও জড়িত ছিল।

পানছড়ি থানা অফিসার ইনচার্জ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, এ ব্যাপারে একটি মামলার প্রস্তুতি চলছে। বর্তমানে সে পুলিশ হেফাজতে রয়েছে।




পানছড়িতে মোটর সাইকেল মুখোমুখি সংঘর্ষ, আহত-৩

নিজস্ব প্রতিবেদক, পানছড়ি:

খাগড়াছড়ি জেলার পানছড়ি উপজেলায় মোটর সাইকেল মুখোমুখি সংঘর্ষে তিনজন গুরুতর আহত হয়েছে। এতে লোগাং বাজার উচ্চ বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক ত্রিদিপ চাকমা (৫০), মধুমঙ্গল পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক তোফাজ্জল হোসেন (৩৯) ও মোহাম্মদপুর গ্রামের আরিফ (২৮) গুরুতর আহত হয়।

মঙ্গলবার(১০ অক্টোবার) বেলা দেড়’টার দিকে ইসলামপুরস্থ শান্তিগ্রাম আনসার ক্যাম্প এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ক্যাম্পের আনসার সদস্য ও স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে পানছড়ি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে জরুরী বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক মো” শফিকুর রহমান তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে দু’জনকে ভর্তি করে ও ত্রিদিপ চাকমাকে খাগড়াছড়ি সদর হাসপাতালে প্রেরণ করে।

খবর পেয়ে পানছড়ি থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে আসে এবং স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এসে আহতের চিকিৎসা সেবার খোঁজ খবর নেয়।