পানছড়ির লোগাংয়ে ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ

16923938_662965527239382_1365341999_n

নিজস্ব প্রতিবেদক, পানছড়ি :

মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে খাগড়াছড়ি জেলার পানছড়ি উপজেলার ১নং লোগাং ইউপি’র উদ্যেগে ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। মঙ্গলবার সকাল ১১টায় উপজেলার লোগাং বাজার আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় হল রুমে এসব সামগ্রী বিতরণ করা হয়।

ইউপি’র আওতাধীন ২টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ৫টি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ২টি স্থানীয় ক্লাবকে ৯ সেট ফুটবল জার্সি ও ফুটবল, ১১ সেট ভলিবল ও ৬টি হ্যান্ডবল বিতরণ করা হয়। পানছড়ি উপজেলা চেয়ারম্যান সর্বোত্তম চাকমা প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এসব সামগ্রী বিতরণ করেন। এ সময় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জাহিদ হোসেন ছিদ্দিক। অতিথিরা এই ধরনের একটি মহতী উদ্যেগের জন্য চেয়ারম্যানকে সাধুবাদ জানান।

হাতিমারা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রধান সুজিত চাকমা, দুধুকছড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বিপাস চাকমা, লোগাং বাজার সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রধান আবদুল খালেক ভূইয়া এ প্রতিবদেককে জানান, লোগাং ইউপি চেয়ারম্যান শিক্ষানুরাগী, ক্রীড়াপ্রেমী আর উদার মনের মানুষ। জনপ্রতিনিধিদের এসব মহতী কাজে এগিয়ে এলে শিক্ষার্থীরা পড়ালেখা ও খেলাধুলায় দ্বিগুণ উৎসাহ পাবে। লোগাং ইউপি চেয়ারম্যান প্রত্যুত্তর চাকমা জানান, এসব সামগ্রী ইউপির সকল প্রতিষ্ঠানে ধারাবাহিকভাবে বিতরণ অব্যাহত রাখার ব্যাপারে তিনি সব সময় আন্তরিক।

এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন পানছড়ি উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আশেকুর রহমান, উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক শাহজাহান কবির সাজু, লোগাং বাজার আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মিহির চাকমাসহ স্থানীয় ইউপি সদস্য/সদস্যরা।




পানছড়ি কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদন

21 fb.Pic

নিজস্ব প্রতিবেদক, পানছড়ি:

বসন্তের আগমনে চারিদিকে হিমেল হাওয়ার মিষ্টি পরশ। গাছে গাছে ফুটে রয়েছে রক্তিম পলাশ আর শিমুল। দিনটি ছিল ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি। সেদিন গাছের রক্তিম পলাশ, শিমুল আর কৃষ্ণচুড়ার মত বাংলার দামাল ছেলেদের বুকের তাজা রক্তে রঞ্জিত হয়েছিল ঢাকার রাজপথ।  মায়ের ভাষার অধিকার আদায়ের লক্ষেই রাজপথে বুকের তাজা রক্ত ঢেলে দিয়েছিল বাঙ্গালী জাতি। তাই এ দিনটি সারা বিশ্বজুড়েও স্বীকৃতি পেয়েছে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের। বুকের তাজা রক্ত দিয়ে যারা শহীদ হয়েছেন অমর একুশের এ দিনে সেই শহীদদের স্মরণে সারা দেশে সবার কন্ঠে বেজে উঠে “আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি” আমি কি ভুলিতে পারি। সারাদেশের শহীদ মিনারগুলো যখন ফুলে ফুলে ছেয়ে গেছে তেমনি প্রত্যন্ত সীমান্ত ঘেঁষা খাগড়াছড়ি জেলার পানছড়ি উপজেলার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারেও ভাষা শহীদদের বিন্ম্র শ্রদ্ধা নিবেদনে এসেছে সর্বস্তরের মানুষ।

এ উপলক্ষে ২১ ফেব্রুয়ারি মঙ্গলবার ভোরে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানায় পানছড়ি উপজেলা প্রশাসন। উপজেলা চেয়ারম্যান সর্বোত্তম চাকমা ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জাহিদ হোসেন সিদ্দিকের নেতৃত্বে শ্রদ্ধা নিবেদনে অংশ নেয় উপজেলার সকল প্রশাসনিক প্রধান ও কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ। উপজেলা প্রশাসনের পর পরই পানছড়ি থানা অফিসার ইনচার্জ মো. আ. জব্বারের নেতৃত্বে পুষ্পমাল্য অর্পণ করা হয়।

দলীয় কার্যালয় থেকে র‌্যালি সহকারে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে এসে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের পক্ষে পুষ্পমাল্য অর্পণ করে সভাপতি মো. বাহার মিয়া ও সাধারণ সম্পাদক জয়নাথ দেব। এছাড়াও  উপজেলা যুবলীগ, ছাত্রলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, কৃষক লীগ, শ্রমিক লীগের পক্ষে স্ব-স্ব দলের নেতা-কর্মীরা পুষ্পমাল্য অর্পণ করেন।

উপজেলা বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের পক্ষে পুষ্পমাল্য অর্পণ করে উপজেলা বিএনপি সভাপতি মো. বেলাল হোসেন। পরবর্তীতে পানছড়ি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, উপজেলা আনসার ও ভিডিপি, জাতীয় পার্টি, জন সংহতি সমিতি, প্রতিবন্ধী কল্যাণ সংঘ, পানছড়ি বাজার উচ্চ বিদ্যালয়, পানছড়ি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, পানছড়ি মডেল উচ্চ বিদ্যালয়, পানছড়ি শিশু বিদ্যানিকেতন, ইপসা, হিল সাইন আইডিয়াল কিন্ডার গার্টেন, চেংঙ্গী সারিবালা স্মৃতি মহাবিদ্যালয়, জাবারাং কল্যাণ সমিতি ও পানছড়ি সানরাইজ কিন্ডার গার্টেন শহীদ মিনারে পুষ্পমাল্য অর্পণ করে। পুষ্পমাল্য অর্পণের পর পরই শহীদ বেদিতে ভাষা শহীদদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।

সকাল ৯টা থেকে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জাহিদ হোসেন সিদ্দিকের সভাপতিত্বে আলোচনায় প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান সর্বোত্তম চাকমা।




৩২ বিজিবির আয়োজনে পানছড়ির দুর্গম এলাকায় ক্রীড়া অনুষ্ঠান সম্পন্ন

32 BGB PIC

নিজস্ব প্রতিবেদক, পানছড়ি :
খাগড়াছড়ি জেলার পানছড়ি উপজেলার ভারত সীমান্তবর্তী দুর্গম প্রত্যন্ত এলাকায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও স্থানীয় গ্রামবাসীদের নিয়ে বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সোমবার সকাল ১১টা থেকে শুরু হওয়া এই প্রাণবন্ত অনুষ্ঠানটির আয়োজক ছিল খাগড়াছড়িস্থ ৩২ বিজিবি। প্রত্যন্ত এলাকার বিনোদন বঞ্চিত স্থানীয় এলাকাবাসী বিভিন্ন ক্রীড়ায় অংশ নেয় এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপভোগ করে।

পানছড়ি উপজেলা থেকে প্রায় ১৮ কিলোমিটার দূরে লোগাং ইউনিয়নের ৩২বিজিবি’র আওতাধীন ডাইন চন্দ্র বাড়ি বিজিবি ক্যাম্পের উদ্যোগে দিনব্যাপী চলে এ আয়োজন। এলাকাবাসীর সাথে খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপভোগ করতে প্রধান অতিথি হয়ে উপস্থিত ছিলেন খাগড়াছড়ি’র সেক্টর কমান্ডার কর্ণেল মতিউর রহমান।

এ সময় অতিথি হয়ে আরো উপস্থিত ছিলেন ৩২ বিজিবির জোন অধিনায়ক লে. কর্ণেল রাহাত নেওয়াজ ও জিএসওটু মেজর আহসান হাবিব। অতিথিদের পাশাপাশি স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যাক্তিবর্গের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠান হয়ে উঠে বেশ উপভোগ্য।




পানছড়িতে প্রতিবন্ধী কল্যাণ সংঘের উদ্যেগে ইউনিয়ন পর্যায়ে এডভোকেসি সভা অনুষ্ঠিত

Protibondi Pic copy

নিজস্ব প্রতিবেদক:

জেলার পানছড়ি উপজেলা প্রতিবন্ধী কল্যাণ সংঘের বাস্তবায়নে ইউনিয়ন পর্যায়ে এডভোকেসি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। তিন দিনব্যাপী উপজেলার ২নং চেংগী, ৩নং পানছড়ি ও ৫নং উল্টাছড়ি ইউপিতে শনি, রবি ও সোমবার সকাল ১০টা থেকে ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয় সমুহে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

শনিবারে ৩নং পানছড়ি ইউনিয়ন পরিষদ হল রুমে অনুষ্ঠিতব্য সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পানছড়ি থানা অফিসার ইনচার্জ মো. আ. জব্বার ও সভাপতিত্ব করেন ইউপি চেয়ারম্যান মো. নাজির হোসেন। রবিবার উল্টাছড়ি ইউপিতে প্রধান অতিথি ছিলেন চেয়ারম্যান বিজয় চাকমা।

সোমবার চেংগী ইউনিয়ন পরিষদ ভবন কার্যালয়ে অনুষ্ঠিতব্য সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান মো. লোকমান হোসেন ও সভাপতিত্ব করেন ইউপি চেয়ারম্যান কালাচাদ চাকমা। পানছড়ি (পার্ক) এর প্রোগ্রাম অফিসার মো. সিরাজুল ইসলামের সঞ্চালনায় ইউনিয়ন পর্যায়ের সবকয়টি সভায় উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন পানছড়ি প্রতিবন্ধী কল্যাণ সংঘের সভাপতি মো. হাসানুজ্জামান ও সাধারণ সম্পাদক মো. হানিফ মিয়া।

ডিজএ্যাবিলিটি রাইটস ফান্ড ডিআরএফ ও রিহ্যাবিলিটেশন সেন্টার ফর প্রসটিটিউস এন্ড রুটলেস চিলড্রেন (পার্ক) এর সহযোগিতায় অনুষ্ঠানগুলোতে ইউপি চেয়ারম্যানগণ প্রতিবন্ধী কল্যাণ সংঘের সদস্যদের ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা প্রদানের আশ্বাস দেন।




পানছড়ির মুসলিমনগরে আগুনে পুড়ল শতাধিক লিচু গাছ

GARDEN PIC copy

নিজস্ব প্রতিবেদক, পানছড়ি:

খাগড়াছড়ি জেলার পানছড়ি উপজেলার ৫নং উল্টাছড়ি ইউপির মুসলিমনগর গ্রামের একটি বাগানে প্রায় শতাধিক লিচু  ও লেবু গাছ আগুনে পুড়ে গেছে। শুক্রবার বিকেলে এ ঘটনা ঘটে।

জানা যায়, সাবেক লতিবান ইউপির চেয়ারম্যান উল্টাছড়ি গ্রামের মরহুম আবদুল মালেকের ছেলে মো. শফিকুল আলম বিগত ৮/৯ বছর আগে মুসলিমনগর এলাকায় ৫একর জায়গার মধ্যে গড়ে তোলে আম ও লিচু বাগান। বর্তমানে বাগানে প্রায় পাঁচ শতাধিক গাছ রয়েছে। সবগুলো গাছেই মুকুলে ভরপুর। কিন্তু কে বা কাহারা এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটিয়েছে তা জানা যায়নি।

তবে বাগান মালিক শফিকুল জানায়, পূর্ব শত্রুতার জের ধরে এ ঘটনা ঘটতে পারে বলেও তার ধারনা। এদিকে বাগানের পাশেই রয়েছে এপিবিএন ক্যাম্প। ওই ক্যাম্পে দায়িত্বরত এসআই আহাম্মদ আলী পার্বত্যনিউজকে জানায়, ক্যাম্পের সদস্যরা আগুন দেখে নাই তবে ধোঁয়া দেখেছে। বড় আকারে আগুন দেখা না যাওয়ায় তারা জিনিসটি গুরুত্ব দেয়নি বলেও জানায়।

বাগান মালিক জানায়, বিগত বছরগুলোতে লক্ষ লক্ষ টাকা ব্যয় করে এ বাগান গড়েছি বর্তমানে আমার প্রায় দশ লক্ষাধিক টাকার ক্ষতি হয়েছে। এ ব্যাপারে শফিকুল পানছড়ি থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করার প্রস্তুতি নিচ্ছে।




রসের আকালে পানছড়িবাসী শীতের পিঠা-পুলি থেকে বঞ্চিত

Gaci PIC 1 copy

নিজস্ব প্রতিবেদক, পানছড়ি:

শীতকাল মানেই খেজুরের রসে ভিজিয়ে মিষ্টান্ন খাবারের আসল সময়। শহর বাদ দিয়ে গ্রামাঞ্চলে যারা বাস করে শীত মৌসুমে তাদের খাবারের মাঝে অন্যতম হলো খেজুরের রসে ভেজা পিঠা-পুলি। শীত মৌসুমে বিকাল থেকেই কোমরে হাড়ি বেঁধে গাছিদের গাছে উঠে ঠক ঠক শব্দে বুঝিয়ে দিত কাল সকালেই মিলবে হাড়ি ভরা রস।

কিন্তু কালের বিবর্তনে পানছড়ির বিভিন্ন এলাকায় আজ রসের আকাল।  এক সময় দেখা যেত পানছড়ির ফসলি জমির আইল, রাস্তার পাশে, গৃহস্থ বাড়ি ও পুকুর পাড়ে ছিল অসংখ্য খেজুর গাছ। গাছিরা সে সময় এত গাছ কেটে হাড়ি বসানোর সুযোগ পর্যন্ত পেত না। তারপরও সে সময় গ্রাম-গঞ্জের প্রত্যেক ঘরে ঘরে রস পৌঁছে দিয়ে রপ্তানি হতো শহরে।

ফলে শহর থেকে শুরু করে গ্রাম-গঞ্জের ঘরে ঘরে চলত রসের পিঠা-পুলির আসর। তাছাড়া শীতকালে গাছ মালিক ও গাছিদের জন্য রস বিক্রি ছিল একটি লাভজনক ব্যবসা। কিন্তু বর্তমানে পানছড়ির ৫টি ইউনিয়নে গাছের সংখ্যা মাত্র গুটি কয়েক। তাই পাল্টে যেতে শুরু করেছে ৬/৭ বছর আগে সারি সারি গাছে গাছিদের হাড়ি বসানোর চিত্র।

পানছড়ি মোল্লাপাড়া গ্রামের বয়োবৃদ্ধ গাছি আবদুল হক জানায়, খেজুর গাছের রসের কাহিনী শুনলে মনে হবে রূপকথার গল্প। গ্রামের গৃহবধুদের বানানো রসের পিঠাপুলি ও পায়েসের মিষ্টান্ন ঘ্রাণ বহুদুর পর্যন্ত পাওয়া যেত। সে সব এখন শুধু স্মৃতি। বর্তমানে এলাকায় গাছের সংখ্যা খুব কম তাই অন্য কাজের সন্ধানে বেশিরভাগ সময় বাইরে থাকি।

পানছড়ি উপজেলার শনটিলা গ্রামের বয়োবৃদ্ধ মুক্তিযোদ্ধা আলী আহাম্মদ জানায়, এ বছর খেজুরের রস চোখেও দেখেনি। এক সময় শনটিলা এলাকায় সারি সারি খেজুর গাছ ছিল কিন্তু বর্তমানে গুটি কয়েক থাকলেও গাছিরা আগ্রহ হারিয়ে অন্য কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে।

উপজেলার সূতকর্ম্মাপাড়া এলাকার দূর্বাদল চাকমা জানায়, আগে তাদের প্রায় ৮/১০টি গাছ ছিল। যা থেকে পুরো শীত মৌসুম রস পাওয়া যেত। কিন্তু বর্তমানে রয়েছে মাত্র ১টি গাছ তাও আবার গাছি খুঁজে না পাওয়ার কারণে এবার রসের পিঠা-পুলি খেতে পারিনি। রসের পিঠা-পুলির গল্প হয়তো ভবিষ্যত প্রজন্ম শুনতেও পাবে না বলেও তার ধারনা।

পানছড়ির লোগাং, চেংগী, সদর, লতিবান ও উল্টাছড়ির বিভিন্ন এলাকায় রসের আকালের কথা সবার মুখে মুখে। উপজেলার সকল সম্প্রদায়ের সচেতন মহলের দাবি গ্রাম-বাংলার ঐতিহ্য রক্ষায় জীবিত খেজুর গাছগুলি রক্ষার পাশাপাশি নতুন করে বিপুল সংখ্যক খেজুর গাছ রোপন করলে গ্রাম-বাংলার রাস্তা-ঘাটের সৌন্দর্য যেমনি বৃদ্ধি পাবে তেমনি পানছড়িবাসী আবারও প্রাণভরে রসের পিঠা-পুলি ও মিষ্টান্নের স্বাদ গ্রহণ করতে পারবে।




পানছড়িতে বিদেশী পিস্তল, এলজি, গুলি ও সেনা পোশাকসহ আটক-২

দতকহগজ

নিজস্ব প্রতিনিধি, পানছড়ি:

খাগড়াছড়ির পানছড়িতে সেনা ও পুলিশের যৌথ অভিযানে  বিদেশী পিস্তল, গুলি ও সেনা পোশাকসহ পাহাড়ের সশস্ত্র আঞ্চলিক সংগঠন ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্টর (ইউপিডিএফ) সামরিক শাখার দুই শীর্ষ স্থানীয় কমান্ডার আটক হয়েছে।

আটককৃতরা হচ্ছে, পানছড়ি উপজেলার সাবেক পূজগাং পূর্ণ মোহন কার্বারী পাড়া বর্তমানে নাপিতা পাড়া গ্রামের মৃত বিমল চন্দ্র্র চাকমার ছেলে সোনামনি চাকমা ওরফে ভাগ্য চাকমা (৫২) একই উপজেলার সাবেক ব্রজ মোহন কার্বারী পাড়া বর্তমানে নাপিতা পাড়া গ্রামের বিনয় কিশোর চাকমার ছেলে তমেশ চাকমা ওরফে সুয়ান্ত চাকমা (২৬)।

মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৬টার দিকে নিরাপত্তাবাহিনী ও পুলিশ  খাগড়াছড়ির পানছড়ি উপজেলার নাপিতা পাড়া এলাকায় যৌথ  অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে তিন রাউন্ড গুলি ভর্তি একটি বিদেশী পিস্তল, দুই রাউন্ড গুলিসহ একটি এলজি ও সেনা পোষাক উদ্ধার করা হয়।

তবগচ

নিরাপত্তা বাহিনীর সূত্র জানায়, তমেশ চাকমা ওরফে সোয়ান্ত চাকমা  ইউপিডিএফ’র রাঙামাটির বন্দুকভাঙ্গা ইউনিটের কোম্পানী সেকেন্ড ইন কমান্ডার ও সোনামনি চাকমা ওরফে ভাগ্য চাকমা খাগড়াছড়ির পানছড়ি ইউনিটের কোম্পানী সেকেন্ড ইন কমান্ডার।

পানছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুল জব্বার জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সোমবার দিবাগত রাত ১টার দিকে খাগড়াছড়ি সদর জোনের সেনা সদস্য ও পানছড়ি থানা পুলিশের যৌথ বাহিনীর দলটি দুভাগে বিভক্ত হয়ে  নাপিতা পাড়া এলাকায় অভিযান চালায়। অভিযানের এক পর্যায়ে সকাল সাড়ে ৬টার দিকে অস্ত্র, গুলি ও সেনা পোষাকসহ ইউপিডিএফ’র এ দুই শীর্ষ স্থানীয় কমান্ডারকে আটক করা হয়। এ ঘটনায় পানছড়ি থানায় অস্ত্র মামলার প্রস্তুতি চলছে।




পানছড়ি ফুটবল একাডেমির ছোটন অনূর্ধ্ব ১৪ বিভাগীয় দলে

COTON PIC copy

নিজস্ব প্রতিনিধি:

খাগড়াছড়ি জেলার পানছড়ি উপজেলা ফুটবল একাডেমির উদীয়মান ফুটবলার শরীফুল ইসলাম ছোটন অনূর্ধ্ব’ ১৪ বিভাগীয় দলে সুযোগ পেয়েছে। বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন কোচ মাহাবুবুল আলম পলো বিগত তিন মাস আগে থানা পর্যায়ে খেলোয়াড় বাছাই করে। থানা পর্যায়ে সুযোগ পেয়ে ছোটন জেলা পর্যায়েও কৃতকার্য হয়।

৬ ফেব্রুয়ারি খাগড়াছড়ি জেলা থেকে চট্টগ্রাম বিভাগীয় পর্যায়ে বাছাই পর্বে প্রথম বিশে জায়গা করে নেয়। বর্তমানে চট্টগ্রাম বিভাগীয় দলের হয়ে খেলার জন্য ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হবে। পানছড়ি বাজার উচ্চ বিদ্যালয়ের ৮ম শ্রেণীর ছাত্র শরীফুল ইসলাম ছোটন ৩নং সদর পানছড়ি ইউপির তালুকাদার পাড়া গ্রামের মো. ফজলুল কবিরের ছেলে। সে উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক শাহজাহান কবির সাজু, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও ৩নং সদর পানছড়ি ইউপি চেয়ারম্যান নাজির হোসেন এবং জেলা ফুটবল দলের অন্যতম সদস্য ক্যাপ্রুচাই মারমা পরিচালিত পানছড়ি ফুটবল একাডেমিতে দীর্ঘদিন যাবৎ প্রশিক্ষনার্থী ছিল।

পানছড়ির ফুটবল একাডেমির রাশেদ, জুয়েল রানা,  ইমন ও অনূর্ধ্ব’ ১৪ দলে খেলার যোগ্যতা রাখে। জেলায় স্বজন প্রীতির কারণে তাদের সুযোগ হয়ে উঠেনি। ছোটন তার মতামত ব্যক্ত করতে গিয়ে জানায়, পানছড়ি ফুটবল একাডেমিতে বিনামূল্যে ফুটবল প্রশিক্ষন, কোচদের সার্বিক সহয়তা, উৎসাহ ও আন্তরিকতার ফলেই আমার এতদুর আসা। তার সহপাঠী রাশেদ, জুয়েল রানা ও ইমনকে খুব মিস করছে বলেও জানায়। ঢাকা লীগসহ দেশ সেরা গোলরক্ষক হওয়ার স্বপ্ন দেখা ছোটনের আবদার পানছড়ি ফুটবল একাডেমির বেশিরভাগ খেলোয়াড় গরীব পরিবারের। তাদের বুট, জার্সি ও ফুটবল দিয়ে বিত্তবানরা সহযোগিতা করলে পানছড়ি থেকে আরও অনেক খেলোয়াড় বিভাগীয় ও জাতীয় দলে স্থান করে নিবে।




যুব সমাজকে উদ্বুদ্ধু করতে পানছড়িতে ফুটবল ও ভলিবল খেলা অনুষ্ঠিত

Game Pic--

নিজস্ব প্রতিবেদক, পানছড়ি :

দেশের তৃণমূল পর্যায়ে খেলাধুলা উন্নয়নের মাধ্যমে যুব সমাজকে উদ্বুদ্ধ করে সমাজ থেকে জঙ্গিবাদ নির্মূলের লক্ষ্যে খাগড়াছড়ির পানছড়িতে অনুষ্ঠিত হয়েছে ফুটবল ও ভলিবল প্রতিযোগিতা।

পানছড়ি উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে ও উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সার্বিক তত্ত্বাবধানে অনুষ্ঠিত খেলায় অংশ নেয় পানছড়ির বিভিন্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়। দিনের প্রথম খেলা ভলিবল অনুষ্ঠিত হয় বেলা ২টায়। এতে লোগাং উচ্চ বিদ্যালয় ২-০ সেটে পানছড়ি মডেল উচ্চ বিদ্যালয়কে পরাজিত করে।

বিকাল ৩টায় আয়োজিত ফুটবলে অংশ নেয় পানছড়ি বাজার উচ্চ বিদ্যালয় ও পূজগাং উচ্চ বিদ্যালয়। খেলায় দলের ফরোয়ার্ড জুয়েল রানার হ্যাট্টিকের সুবাদে পানছড়ি বাজার উচ্চ বিদ্যালয় ৬-০ গোলে জয়লাভ করে।

খেলা শেষে উপজেলা নির্বাহী অফিসার জাহিদ হোসেন ছিদ্দিক প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে খেলোয়াড়দের মাঝে পুরষ্কার বিতরণ করেন।

এ সময় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পানছড়ি থানা অফিসার ইনচার্জ মো. আ. জব্বার, ১নং লোগাং ইউপি চেয়ারম্যান প্রত্যুত্তর চাকমা, ৩নং পানছড়ি ইউপি চেয়ারম্যান মো. নাজির হোসেন ও উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক শাহজাহান কবির সাজু।

ফুটবল খেলাটি পরিচালনা করে ক্যাপ্রুচাই মারমা। দুই সহকারী ছিলেন মিন্টু ও ফারুক।




পানছড়িতে গাছ থেকে পড়ে একজনের মৃত্যু

DEAD PIC copy

নিজস্ব প্রতিবেদক:

খাগড়াছড়ি জেলার পানছড়ি উপজেলার ৫নং উল্টাছড়ি ইউপির মোল্লাপাড়া গ্রামে গাছ থেকে পড়ে একজনের মৃত্যু হয়েছে। মৃত ব্যক্তির নাম দেলোয়ার (৪০)। সে জেলার মানিকছড়ি উপজেলার মোলাইপাড়া গ্রামের অলি আহাম্মদের ছেলে।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, দেলোয়ার ৪দিন আগে পানছড়ি মোল্লাপাড়াস্থ শ্বশুর আলী নুরের বাড়িতে বেড়াতে আসে। বুধবার বিকাল সাড়ে তিনটার দিকে সে শ্বশুর বাড়িতে একটি গাছ থেকে লাকড়ি কাটার সময় হাত ফসকে নিচে পড়ে যায়। গুরুতর আহত অবস্থায় প্রথমে পানছড়ি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক খাগড়াছড়ি হাসপাতালে পাঠায়। খাগড়াছড়ি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করে।

ঘটনার সাথে সাথে পানছড়ি থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে। পানছড়ি থানা অফিসার ইনচার্জ মো. আ. জব্বার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন।