নানিয়ারচরে প্রতিপক্ষের গুলিতে ইউপিডিএফ নেতা নিহত

নিজস্ব প্রতিনিধি:

রাঙামাটির নানিয়ারচর উপজেলায় প্রতিপক্ষের গুলিতে অনধি রঞ্জন চাকমা (৪৮) নামের ইউপিডিএফ নেতা নিহত হয়েছে। তিনি নানিয়ারচর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সাবেক সদস্য।

মঙ্গলবার সকালে উপজেলার ১৮ মাইল এলাকায় গুলিবিদ্ধ হয়ে অনাধি রঞ্জন চাকমা নিহত হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানাগেছে, সম্প্রতি পার্বত্য চুক্তি বিরোধী সংগঠন ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট ইউপিডিএফ এর মধ্যে মতবিরোধ সৃষ্টি হয়ে গণতান্ত্রিক ইউপিডিএফ নাম দিয়ে অপর একটি রাজনৈতিক গ্রুপ সৃষ্টি হয়। অনাধি রঞ্জন চাকমা এ গ্রুপটির নেতৃত্বে রয়েছে অভিযোগ এনে ৯নং ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি মেম্বার অনাধি রঞ্জন চাকমাকে তারই প্রতিপক্ষ গ্রুপের সন্ত্রাসীরা গুলি করলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

নানিয়ারচর থানার ওসি আব্দুল লতিফ জানান, উপজেলার ১৮ মাইল এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।




শিক্ষা মন্ত্রণালয় কর্তৃক নানিয়াচর কলেজ কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার তীব্র নিন্দা পিসিপির

প্রেস বিজ্ঞপ্তি:

রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ নেওয়ার কারণে শিক্ষা মন্ত্রণালয় কর্তৃক পার্বত্য জেলা রাঙামাটির নানিয়ারচর উপজেলার নানিয়াচর কলেজ কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশনা জারি করলে তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ জানিয়েছে বৃহত্তর পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ (পিসিপি)।

পিসিপির সভাপতি বিনয়ন চাকমা ও সাধারণ সম্পাদক অনিল চাকমা সোমবার (২০ নভেম্বর) সংবাদ মাধ্যমের প্রদত্ত বিবৃতিতে এ নিন্দা ও ক্ষোভ জানান।

পিসিপি নেতৃদ্বয় অভিযোগ করে বলেন, শিক্ষা কার্যক্রমের অন্তর্ভুক্ত নবীনবরণের মত একটা অতি সাধারণ অনুষ্ঠানের মধ্যে শিক্ষামন্ত্রণালয় কিভাবে রাষ্ট্র বিরোধী গন্ধ খুঁজে পায়, তা ভেবে অবাক হতে হয়।

বিবৃতিতে নেতৃদ্বয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে জ্ঞান-বিজ্ঞান চর্চা ও সাংস্কৃতি কর্মকাণ্ড- পরিচালনা করার জন্য সরকারের নিকট দাবি জানান।




নানিয়ারচর কলেজ কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের

পার্বত্যনিউজ ডেস্ক:

সরকার ও রাষ্ট্রবিরোধী কাজে অংশ নেওয়ার অভিযোগে পার্বত্য জেলা রাঙামাটির নানিয়ারচর উপজেলার নানিয়ারচর কলেজ কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। রবিবার (১৯ নভেম্বর) বিকালে মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ থেকে এ নির্দেশ দেওয়া হয়।

মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদফতরের (মাউশি) মহাপরিচালককে এ নির্দেশ দেওয়া হয়। পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসনকে কলেজের ওপর নজরদারিরও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব নাসিমা খানম স্বাক্ষরিত নির্দেশনায় বলা হয়, গত ১৭ আগস্ট নানিয়ারচর কলেজ হলরুমে কলেজ শাখার পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ (পিসিপি) সভাপতি তুষণ চাকমার সভাপতিত্বে ইউপিডিএফ সমর্থিত সিপিসি কলেজ শাখার নবীনবরণ-২০১৭ এবং পঞ্চম কলেজ শাখা কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়।

ওই অনুষ্ঠানের ব্যানারে স্লোগান ছিল, ‘পূর্ণ স্বায়ত্বশাসন পার্বত্য চট্টগ্রামে একমাত্র রাষ্ট্রীয় সমাধান’। অনুষ্ঠানে নানিয়ারচর সদর ইউপি চেয়ারম্যান জ্যোতিলাল চাকমা ও সাবেক চেয়ারম্যান সুশীল চাকমা অংশ নেন। ওই দলটির মাধ্যমে স্কুল-কলেজ শিক্ষার্থীদের স্কুল চলাকালে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ করানো এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরে নিয়মিত অনুষ্ঠানের আয়োজনের অজুহাতে রাষ্ট্রবিরোধী স্লোগান ব্যবহারের মতো আচরণ ভবিষ্যতের জন্য হুমকি।

মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় আরও বলা হয়, এভাবে চলতে থাকলে নানিয়ারচরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির যথেষ্ট অবনতির সম্ভাবনা রয়েছে। এ অবস্থায় বিতর্কিত ইউপিডিএফ’র সরকার ও রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ড বন্ধে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং প্রতিষ্ঠান প্রধানদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে স্থানীয় প্রশাসনকে কাঠোর নজরদারির প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণের জন্য অনুরোধ করা হলো।




নানিয়ারচরে বিদ্যুৎ স্পৃষ্ট হয়ে স্বামী স্ত্রীর মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদক:

রাঙামাটি জেলার নানিয়ারচরে বিদ্যুৎ স্পৃষ্ট হয়ে স্বামী-স্ত্রীর মৃত্যু ঘটেছে। শনিবার রাত সাড়ে ৮ টার দিকে উপজেলার বগাছড়িতে এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার রাতে বগাছড়ি এলাকায় ব্যাপক ঝড়বৃষ্টি হয়। এসময় প্রচুর বজ্রপাতও ঘটে। এতে উপজেলার প্রধান বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন ১১ হাজার ভোল্টেজের লাইন ছিঁড়ে উল্লিখিত বাড়ির টিনের চালের উপর পড়ে। বাড়িটি টিনের বেড়ার হওয়ায় পুরো বাড়ি বিদ্যুতায়িত হয়ে পড়ে।

এতে বাড়ির কর্তা মোহাম্মদ ইসাহাক মীর(৬২) বিদ্যুৎ স্পৃষ্ট হয়ে পড়ে। তাকে বাঁচাতে গিয়ে স্ত্রী রাশিদা বেগমও এগিয়ে গেলে তিনিও বিদ্যুৎ স্পৃষ্ট হয়ে পড়েন।  এতে দুজনই ঘটনাস্থলে মারা যায়।

নানিয়ারচর থানার এএসআই আমিনুল ইসলাম এ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছেছে এবং পরবর্ত ী কার্যক্রম শুরু করেছে।




ইউপিডিএফ নেতার আস্তানা থেকে অপহৃত এক চাকমা নারীকে উদ্ধার করেছে নিরাপত্তা বাহিনী

নিজস্ব প্রতিনিধি:

রাঙামাটির নানিয়ারচরের লম্বাছড়ি নামক স্থান থেকে ইউপিডিএফ নেতা কর্তৃক অপহরণ করে যৌন কাজে ব্যবহারের জন্য আটকে রাখা এক চাকমা নারীকে উদ্ধার করেছে নিরাপত্তা বাহিনী। উদ্ধারকৃত নারীর নাম-শুবলপুরি চাকমা(৩০)। এই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে অমরেশ চাকমা নামে এক কার্বারীকে আটক করা হয়েছে। সুবল পুরি চাকমার পিতার নাম মৃত ভুবন চন্দ্র চাকমা। বাড়ি সাপছড়ি মধ্য পাড়া।

সূত্র জানিয়েছেন, ৬ জুন বৃহস্পতিবার বিকেলে নানিয়ারচর সেনা জোন সংলগ্ন ইসলামপুর আর্মি ক্যাম্পে এসে ইউপিডিএফের ট্যাক্স কালেক্টর মদন চাকমা (৩৫) অভিযোগ করে ৪ জুলাই ২০১৭ তারিখে ইউপিডিএফ তাকে অপহরণ করেছে। ইউপিডিএফের সাথে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিচালনায় অস্বীকৃতি জানানোর কারণে তাকে অপহরণ করা হয় বলে তিনি কর্তৃপক্ষকে জানান। মদন চাকমার পিতার নাম মৃত মৈত্র চাকমা, বাড়ি লম্বাছড়া নানিয়ারচর।

তিনি আরো অভিযোগ করেন, এক সময় ইউপিডিএফের আস্তানা থেকে কৌশলে মদন চাকমা পলায়ন করতে সক্ষম হলে সন্ত্রাসীরা ক্ষিপ্ত হয়ে মদন চাকমার নিজ বাড়ি থেকে তার স্ত্রী শুবল পুরি চাকমাকে (৩০) অপহরণ করে নিয়ে যায় এবং বাকছড়ির আওতাভুক্ত লম্বাছড়ি এলাকার প্রাক্তন কারবারি, অমরেশ চাকমার(৫০) বাড়িতে আটক রেখেছে। অমরেশ চাকমার পিতার নাম মৃত রাজমোহন চাকমা।

উপরোক্ত তথ্যর ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার রাতে নানিয়ারচর থেকে নিরাপত্তা বাহিনীর একটি দল লম্বাছড়ি এলাকায় একটি ঝটিকা অভিযান পরিচালনা করে। ফলশ্রুতিতে অপহৃত মহিলাকে উদ্ধার করা হয় এবং অমরেশ চাকমাকে আটক করে ৭ জুলাই শুক্রবার সকালে পুলিশের নিকট সোপর্দ করা হয়।

নিজেদের হেফাজতে নিয়ে পুলিশ উক্ত মহিলা এবং কারবারিকে জিজ্ঞাসাবাদ করে জানতে পারে যে, শুবলপুরি চকমা আসলে মদন চাকমার স্ত্রী নয়। মুলত মদন চাকমা নিজে তাকে মানিকছড়ি থেকে অপহরণ করে লম্বাছড়ি নিয়ে যায় এবং পরবর্তীতে অমরেশ চাকমা জোরপুর্বক উক্ত মহিলাকে আটক করে রাখে।

স্থানীয়রা জানায়, মদন চাকমা ও অমরেশ চাকমা মিলে উক্ত নারীকে মানিকছড়ি থেকে অপহরণ করে নিয়ে নানিয়ারচরের লম্বাছড়িতে নিয়ে যায়। তারা উভয়েই উক্ত নারীর সাথে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করতে চেয়েছে। এ নিয়ে তাদের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়। তবে তাদের কার সাথে বা নাকি উভয়ের সাথে উক্ত নারীর যৌন সম্পর্ক স্থাপিত হয়েছে সে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, আটককারীদের উদ্দেশ্য ছিলো কিছুদিন রেখে উক্ত নারীকে অন্যত্র বিক্রি করে দিবে। কিন্তু তার আগেই উক্ত নারীকে ভোগ করা নিয়ে উভয়ের মধ্যে তুমুল ঝগড়া সৃষ্টি হলে স্থানীয় কয়েকজন এলাকাবাসী বিষয়টি জেনে যায়। বিষয়টি আঁচ করতে পেরে মদন চাকমা ঘটনাস্থল থেকে সটকে পড়ে সেনাবাহিনীর শরণাপন্ন হয়।

এসময় মিথ্যা তথ্য দিয়ে সেনাবাহিনীর মাধ্যমে অমরেশ চাকমাকে ঘায়েল করার চেষ্টা চালায়। সেনাবাহিনীর একটি টিম অভিযান পরিচালনা করে অমরেশ চাকমাকে আটক করে এবং উক্ত পাহাড়ি নারীকে উদ্ধার করে পুলিশের নিকট সোপর্দ করলে পুলিশী জিজ্ঞাসাবাদে আসল তথ্য বেরিয়ে আসে।

সুবল পুরি চাকমা বাদী হয়ে এ ব্যাপারে গত ৭ জুলাই নানিয়ারচর থানায় মদন চাকমা ও অমরেশ চাকমাকে আসামী করে নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে মামলা দায়ের করেছেন। মামলা নং-২।

মামলার এজাহারে তিনি বলেছেন, ইতোপূর্বে তার তিনটি বিবাহ হয়েছে। তৃতীয় স্বামী রিতেন চাকমার বাড়ি নানিয়ারচরের ১৯ মাইল এলাকায়। ১ নং আসামী মদন চাকমা বাদীকে বিভিন্ন সময় মোবাইল ফোনে উত্তক্ত করতো। একসময় তাকে বিবাহের প্রস্তাব দিলে বাদী রাজী না হওয়ায় ১ নং আসামী গত ৩ এপ্রিল তার স্বামীর বাড়ি থেকে ৩/৪ জন সন্ত্রাসীসহ অপহরণ করে বিভিন্ন স্থানে লুকিয়ে রাখে।

এরপর ২৯ জুন ২ নং আসামীর বাড়িতে নিয়ে লুকিয়ে রাখে। বিষয়টি একসময় লোক জানাজানি হয়ে যায়।

এ ব্যাপারে মন্তব্য নেয়ার জন্য নানিয়ারচরে ইউপিডিএফের দায়িত্বশীল কোনো নেতার সাথে টেলিফোন যোগাযোগ করেও সংযোগ পাওয়া সম্ভব হয়নি।




রাঙ্গামাটির নানিয়ারচরে চলছে ৪ দিনের হরতাল

400px-NaniarcharUpazila

নিজস্ব প্রতিনিধি :
বৃহস্পতিবার থেকে রাঙ্গামাটির নানিয়ারচরে ব্যবসায়ীদের ডাকে পালিত হচ্ছে লাগাতার ৪ দিনের হরতাল। জানা গেছে, পার্বত্য চট্টগ্রামের আঞ্চলিক সংগঠন ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ) কর্তৃক অঘোষিত বাজার বয়কটের ঘটনার সুষ্ঠু সমাধান না করায় ক্ষুব্ধ ব্যবসায়ীদের ডাকে টানা চারদিনের হরতাল পালিত হচ্ছে নানিয়ারচর বাজারে।

হরতালের প্রথম দিন বৃহস্পতিবার উপজেলা সদরে বন্ধ রাখা হয়েছে সকল প্রকার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও যানবাহন চলাচল। হরতাল আহবানকারী ব্যবসায়ীরা উপজেলা সদরের সাথে যোগাযোগের একমাত্র খেয়া ঘাটে যাত্রী পারাপারও বন্ধ করে দিয়েছে। ফলে দুর্ভোগে পড়েছে স্থানীয় যাত্রী সাধারণ। নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র ক্রয়-বিক্রয় বন্ধ থাকায় বিপাকে পড়েছে স্থানীয় কয়েক’শ পাহাড়ি-বাঙ্গালী জনসাধারণ।

নানিয়ারচর ব্যবসায়ী পরিচালনা কমিটির জানিয়েছে, গত ২৬ এপ্রিল থেকে কোনো প্রকার ঘোষণা ছাড়াই লাগাতারভাবে বাজার বয়কটে বাধ্য করছে ইউপিডিএফ। এতে করে বিপুল পরিমাণ ক্ষতির সম্মুখিন হচ্ছেন বাজারের ব্যবসায়ীরা। এই ঘটনার সুষ্ঠু সমাধান করে বাজারে হাট না বসায় বিক্ষুব্ধ ব্যবসায়ীরা বুধবার সন্ধ্যায় এক বৈঠকে বৃহস্পতিবার থেকে আগামী রোববার সন্ধ্যা পর্যন্ত চারদিন লাগাতার হরতালের ডাক দেয়।

নানিয়ারচর বাজার ব্যবসায়ী সমিতি সূত্র জানায়, এই বাজারটিতে সপ্তাহের বুধবার হাট বসে। দূর-দূরান্ত থেকে আগত ক্রেতা-বিক্রেতারা এই হাটে আসে, এতে করে হাটের দিন অন্তত দুই কোটি টাকার লেনদেন হয় নানিয়ারচর বাজারে। কিন্তু ইউপিডিএফের বাধার কারণে বাজারটি মিলছে না। এই সমস্যা সমাধানে ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে জনপ্রতিনিধি থেকে শুরু করে সরকারের উপর মহলে লিখিত আকারে জানানোর পরও কোনো সুরাহা হচ্ছে না। একারণেই চারদিনের হরতালের ডাক দেওয়া হয়েছে। সমস্যার সমাধান না করলে আগামী রোববারের পর থেকে আরো কঠোর কর্মসূচী দিয়ে নানিয়ারচরের বগাছড়ি থেকে রাঙামাটির মানিকছড়ি পর্যন্ত সড়কে টানা অবরোধ কর্মসূচীর ডাক দেওয়া হবে বলেও জানানো হয়েছে।




সাদেকুল হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত দুই আসামি আটক

18518466_1283930188380595_328872576_n
রাঙামাটি প্রতিনিধি :
রাঙামাটির নানিয়ারচরে ভাড়ায় চালিত মোটর সাইকেল চালক সাদেকুল হত্যার এক মাস পর হত্যা মামলায় এজাহারভুক্ত দুই জনকে আটক করেছে রাঙামাটি কোতয়ালী থানা পুলিশ।

সোমবার বিকেলে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কোতয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আব্দুর রশীদের নেতৃত্বে পুলিশ অভিযান চালিয়ে সদর উপজেলার সাপছড়ি এলাকা থেকে এ দুজনকে আটক করে। আটক দুজনের নাম চিরঞ্জিত চাকমা ও কৃষ্ণ বিকাশ চাকমা। তার দুজন নানিয়ারচর উপজেলার ঘিলাছড়ির বাসিন্দা।

পুলিশ জানায়, আটক দুজন এ হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত থাকার স্বীকারোক্তি দিয়েছে। তাদের স্বীকারোক্তিতে জানা গেছে, ভাড়া নিয়ে বাকবিতন্ডার জেরে তারা দজুনে ভাড়ায় চালিত মোটর সাইকেল চালক সাদেকুল ইসলামকে হত্যা করে।

উল্লেখ্য, গত ১৪ এপ্রিল রাঙামাটির নানিয়ারচর উপজেলার ঘিলাছড়িতে মহালছড়ি উপজেলার বাসিন্দা ভাড়ায় চালিত মোটর সাইকেল চালক সাদেকুল ইসলাম এর লাশ পাওয়া যায়। এ ঘটনায় তার ভাই বাদি হয়ে নানিয়ারচর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার এজাহারভুক্ত দুই আসামি এই চিরঞ্জিত চাকমা ও কৃষ্ণ বিকাশ চাকমা।




নানিয়ারচরে পুড়ে গেছে ১১টি বসত ঘর

আগুন

নিজস্ব প্রতিবেদক :
রাঙামাটির নানিয়ারচর মাষ্টার পাড়ায় রান্নার চুলা থেকে লাগা আগুনে পুড়ে গেছে ১১টি বসত ঘর। রোববার দিবাগত রাত সাড়ে দশটার সময় রান্নার চুলা থেকে হঠাৎ করেই আগুনের সূত্রপাত। এরপর মুহুর্তের মধ্যেই আগুন আশেপাশের কয়েকটি ঘরে ছড়িয়ে পড়ে। নানিয়ারচর সেনা জোনের কমান্ডার বাহলুল আলম তার সেনা সদস্যদের নিয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনায় বেঁচে গেছে আরও শতাধিক বসত ঘর।

জানা গেছে, স্থানীয় বাসিন্দাদের সহায়তায় ঘন্টাব্যাপী চেষ্টা চালিয়ে সেনা সদস্যরা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন। এতে করে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ অন্তত ২৫ লক্ষ্য টাকা বলে জানাগেছে।

নানিয়ারচর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান রন বিকাশ চাকমা জানিয়েছেন, সময়মতো যদি নানিয়ারচর জোনের সেনা সদস্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত নাহতো তাহলে আগুনে অন্তত শতাধিক পরিবার আক্রান্ত হতো।

 

তারমধ্যে সরকারি-বেসরকারি কয়েকটি অফিসসহ হেডম্যান এসোসিয়েশনের কার্যালয়, শিক্ষার্থীদের হোষ্টেল, কেজি স্কুল, বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের মতো প্রতিষ্ঠানগুলোও রয়েছে।

 

 




নানিয়ারচরে ট্রাকে আগুন দেওয়ার ঘটনার মূল হোতা রনেল চাকমা আটক

ronel chakma

নিজস্ব প্রতিনিধি :

অবশেষে নিরাপত্তাবাহিনীর হাতে আটক হয়েছে নানিয়ারচরে ট্রাকে আগুন দেওয়ার ঘটনার মূল হোতা রনেল চাকমা। ইউপিডিএফ কর্মী এই রনেল চাকমাই গত ২৩ জানুয়ারি রাঙামাটির নানিয়ারচর এলাকার বেতছড়িতে দুটি পণ্যবাহী ট্রাক জ্বালিয়ে দেয়ার ঘটনার মামলার প্রধান আসামি। রনেল চাকমাকে আটকের বিষয়টির নিশ্চিত করেছেন নানিয়ারচর থানার অফিসার ইনচার্জ আব্দুল লতিফ।

নিরাপত্তা বাহিনীর সূত্র জানিয়েছে, রনেল চাকমা পার্বত্য চুক্তি বিরোধী সংগঠন ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ) এর সক্রিয় কর্মী। কুতুকছড়ি থেকে মহালছড়ি পর্যন্ত এলাকায় ব্যাপক চাঁদাবাজির নেতৃত্বও দেয় সে। বেতছড়িতে ট্রাক দুটি জ্বালিয়ে দেয়ার ঘটনাটি তারই নেতৃত্বে হয় বলে নিরাপত্তাবাহিনীর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকারোক্তি দিয়েছে সে।

নানিয়ারচরে-আগুন-300x169

উল্লেখ্য, চাহিদা অনুসারে অতিরিক্ত চাঁদার টাকা না পাওয়ায় তারই প্রত্যক্ষ নেতৃত্বে গত ২৩ জানুয়ারি ভোররাতে মালবাহী দুইটি ট্রাকে আগুন ধরিয়ে সম্পূর্ন পুড়ে ছাই করে দেয়। এতে করে ব্যবসায়ীদের ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হয়। এই ঘটনায় নানিয়ারচর থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়।

দীর্ঘ প্রায় আড়াই মাস তদন্ত চালিয়ে স্থানীয়দের মাধ্যমে নিশ্চিত হয়ে বুধবার সন্ধ্যায় এই ঘটনার মূল হোতা রনেল চাকমাকে নানিয়ারচর বাজার থেকে আটক করে নিরাপত্তা বাহিনীর একটি টিম।




নানিয়ারচর ও মহালছড়িতে অবরোধ চলছে

নিজস্ব প্রতিবেদক:

রাঙামাটি নানিয়ারচরে মালভর্তি দুইটি ট্রাক আগুনে পুড়িয়ে দেয়া সন্ত্রাসীদের গ্রেফতারের দাবিতে রাঙামাটির নানিয়ারচর ও খাগড়াছড়ির মহালছড়ি উপজেলায় সকাল-সন্ধ্যা সড়ক অবরোধ শান্তিপূর্ণভাবে পালিত হচ্ছে।

সন্ত্রাসীদের গ্রেফতারে প্রশাসনকে দেয়া ৭২ ঘন্টার আল্টিমেটাম শেষে শনিবার পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসরত বাঙ্গালীদের আঞ্চলিক সংগঠন পার্বত্য নাগরিক পরিষদ ও পার্বত্য বাঙ্গালী ছাত্র পরিষদ এ অবরোধের ডাক দেয়।

অবরোধের কারণে রাঙামাটি-খাগড়াছড়ি সড়কে সকাল থেকে সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। দুই উপজেলার বিভিন্ন স্থানে পিকেটিং করছে অবরোধ সমর্থকরা। আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে পুলিশ টহল দিচ্ছে। তবে কোথাও কোন অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।

দাবিকৃত চাঁদা না পেয়ে ২৩ জানুয়ারি ভোরে রাঙামাটি-খাগড়াছড়ি সড়কের বেতছড়ি এলাকায় দুটি মাল ভর্তি ট্রাক আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দেয় সন্ত্রাসীরা। এ ঘটনার জন্য পার্বত্য বাঙ্গালী সংগঠনগুলো উপজাতীয় সংগঠনগুলোকে দ্বায়ী করে। এ ঘটনার পর সন্ত্রাসীদের গ্রেফতারে ৭২ ঘন্টার আল্টিমেটাম দেয় বাঙ্গালী সংগঠনগুলো।