ইউপিডিএফ নেতার আস্তানা থেকে অপহৃত এক চাকমা নারীকে উদ্ধার করেছে নিরাপত্তা বাহিনী

নিজস্ব প্রতিনিধি:

রাঙামাটির নানিয়ারচরের লম্বাছড়ি নামক স্থান থেকে ইউপিডিএফ নেতা কর্তৃক অপহরণ করে যৌন কাজে ব্যবহারের জন্য আটকে রাখা এক চাকমা নারীকে উদ্ধার করেছে নিরাপত্তা বাহিনী। উদ্ধারকৃত নারীর নাম-শুবলপুরি চাকমা(৩০)। এই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে অমরেশ চাকমা নামে এক কার্বারীকে আটক করা হয়েছে। সুবল পুরি চাকমার পিতার নাম মৃত ভুবন চন্দ্র চাকমা। বাড়ি সাপছড়ি মধ্য পাড়া।

সূত্র জানিয়েছেন, ৬ জুন বৃহস্পতিবার বিকেলে নানিয়ারচর সেনা জোন সংলগ্ন ইসলামপুর আর্মি ক্যাম্পে এসে ইউপিডিএফের ট্যাক্স কালেক্টর মদন চাকমা (৩৫) অভিযোগ করে ৪ জুলাই ২০১৭ তারিখে ইউপিডিএফ তাকে অপহরণ করেছে। ইউপিডিএফের সাথে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিচালনায় অস্বীকৃতি জানানোর কারণে তাকে অপহরণ করা হয় বলে তিনি কর্তৃপক্ষকে জানান। মদন চাকমার পিতার নাম মৃত মৈত্র চাকমা, বাড়ি লম্বাছড়া নানিয়ারচর।

তিনি আরো অভিযোগ করেন, এক সময় ইউপিডিএফের আস্তানা থেকে কৌশলে মদন চাকমা পলায়ন করতে সক্ষম হলে সন্ত্রাসীরা ক্ষিপ্ত হয়ে মদন চাকমার নিজ বাড়ি থেকে তার স্ত্রী শুবল পুরি চাকমাকে (৩০) অপহরণ করে নিয়ে যায় এবং বাকছড়ির আওতাভুক্ত লম্বাছড়ি এলাকার প্রাক্তন কারবারি, অমরেশ চাকমার(৫০) বাড়িতে আটক রেখেছে। অমরেশ চাকমার পিতার নাম মৃত রাজমোহন চাকমা।

উপরোক্ত তথ্যর ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার রাতে নানিয়ারচর থেকে নিরাপত্তা বাহিনীর একটি দল লম্বাছড়ি এলাকায় একটি ঝটিকা অভিযান পরিচালনা করে। ফলশ্রুতিতে অপহৃত মহিলাকে উদ্ধার করা হয় এবং অমরেশ চাকমাকে আটক করে ৭ জুলাই শুক্রবার সকালে পুলিশের নিকট সোপর্দ করা হয়।

নিজেদের হেফাজতে নিয়ে পুলিশ উক্ত মহিলা এবং কারবারিকে জিজ্ঞাসাবাদ করে জানতে পারে যে, শুবলপুরি চকমা আসলে মদন চাকমার স্ত্রী নয়। মুলত মদন চাকমা নিজে তাকে মানিকছড়ি থেকে অপহরণ করে লম্বাছড়ি নিয়ে যায় এবং পরবর্তীতে অমরেশ চাকমা জোরপুর্বক উক্ত মহিলাকে আটক করে রাখে।

স্থানীয়রা জানায়, মদন চাকমা ও অমরেশ চাকমা মিলে উক্ত নারীকে মানিকছড়ি থেকে অপহরণ করে নিয়ে নানিয়ারচরের লম্বাছড়িতে নিয়ে যায়। তারা উভয়েই উক্ত নারীর সাথে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করতে চেয়েছে। এ নিয়ে তাদের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়। তবে তাদের কার সাথে বা নাকি উভয়ের সাথে উক্ত নারীর যৌন সম্পর্ক স্থাপিত হয়েছে সে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, আটককারীদের উদ্দেশ্য ছিলো কিছুদিন রেখে উক্ত নারীকে অন্যত্র বিক্রি করে দিবে। কিন্তু তার আগেই উক্ত নারীকে ভোগ করা নিয়ে উভয়ের মধ্যে তুমুল ঝগড়া সৃষ্টি হলে স্থানীয় কয়েকজন এলাকাবাসী বিষয়টি জেনে যায়। বিষয়টি আঁচ করতে পেরে মদন চাকমা ঘটনাস্থল থেকে সটকে পড়ে সেনাবাহিনীর শরণাপন্ন হয়।

এসময় মিথ্যা তথ্য দিয়ে সেনাবাহিনীর মাধ্যমে অমরেশ চাকমাকে ঘায়েল করার চেষ্টা চালায়। সেনাবাহিনীর একটি টিম অভিযান পরিচালনা করে অমরেশ চাকমাকে আটক করে এবং উক্ত পাহাড়ি নারীকে উদ্ধার করে পুলিশের নিকট সোপর্দ করলে পুলিশী জিজ্ঞাসাবাদে আসল তথ্য বেরিয়ে আসে।

সুবল পুরি চাকমা বাদী হয়ে এ ব্যাপারে গত ৭ জুলাই নানিয়ারচর থানায় মদন চাকমা ও অমরেশ চাকমাকে আসামী করে নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে মামলা দায়ের করেছেন। মামলা নং-২।

মামলার এজাহারে তিনি বলেছেন, ইতোপূর্বে তার তিনটি বিবাহ হয়েছে। তৃতীয় স্বামী রিতেন চাকমার বাড়ি নানিয়ারচরের ১৯ মাইল এলাকায়। ১ নং আসামী মদন চাকমা বাদীকে বিভিন্ন সময় মোবাইল ফোনে উত্তক্ত করতো। একসময় তাকে বিবাহের প্রস্তাব দিলে বাদী রাজী না হওয়ায় ১ নং আসামী গত ৩ এপ্রিল তার স্বামীর বাড়ি থেকে ৩/৪ জন সন্ত্রাসীসহ অপহরণ করে বিভিন্ন স্থানে লুকিয়ে রাখে।

এরপর ২৯ জুন ২ নং আসামীর বাড়িতে নিয়ে লুকিয়ে রাখে। বিষয়টি একসময় লোক জানাজানি হয়ে যায়।

এ ব্যাপারে মন্তব্য নেয়ার জন্য নানিয়ারচরে ইউপিডিএফের দায়িত্বশীল কোনো নেতার সাথে টেলিফোন যোগাযোগ করেও সংযোগ পাওয়া সম্ভব হয়নি।




রাঙ্গামাটির নানিয়ারচরে চলছে ৪ দিনের হরতাল

400px-NaniarcharUpazila

নিজস্ব প্রতিনিধি :
বৃহস্পতিবার থেকে রাঙ্গামাটির নানিয়ারচরে ব্যবসায়ীদের ডাকে পালিত হচ্ছে লাগাতার ৪ দিনের হরতাল। জানা গেছে, পার্বত্য চট্টগ্রামের আঞ্চলিক সংগঠন ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ) কর্তৃক অঘোষিত বাজার বয়কটের ঘটনার সুষ্ঠু সমাধান না করায় ক্ষুব্ধ ব্যবসায়ীদের ডাকে টানা চারদিনের হরতাল পালিত হচ্ছে নানিয়ারচর বাজারে।

হরতালের প্রথম দিন বৃহস্পতিবার উপজেলা সদরে বন্ধ রাখা হয়েছে সকল প্রকার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও যানবাহন চলাচল। হরতাল আহবানকারী ব্যবসায়ীরা উপজেলা সদরের সাথে যোগাযোগের একমাত্র খেয়া ঘাটে যাত্রী পারাপারও বন্ধ করে দিয়েছে। ফলে দুর্ভোগে পড়েছে স্থানীয় যাত্রী সাধারণ। নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র ক্রয়-বিক্রয় বন্ধ থাকায় বিপাকে পড়েছে স্থানীয় কয়েক’শ পাহাড়ি-বাঙ্গালী জনসাধারণ।

নানিয়ারচর ব্যবসায়ী পরিচালনা কমিটির জানিয়েছে, গত ২৬ এপ্রিল থেকে কোনো প্রকার ঘোষণা ছাড়াই লাগাতারভাবে বাজার বয়কটে বাধ্য করছে ইউপিডিএফ। এতে করে বিপুল পরিমাণ ক্ষতির সম্মুখিন হচ্ছেন বাজারের ব্যবসায়ীরা। এই ঘটনার সুষ্ঠু সমাধান করে বাজারে হাট না বসায় বিক্ষুব্ধ ব্যবসায়ীরা বুধবার সন্ধ্যায় এক বৈঠকে বৃহস্পতিবার থেকে আগামী রোববার সন্ধ্যা পর্যন্ত চারদিন লাগাতার হরতালের ডাক দেয়।

নানিয়ারচর বাজার ব্যবসায়ী সমিতি সূত্র জানায়, এই বাজারটিতে সপ্তাহের বুধবার হাট বসে। দূর-দূরান্ত থেকে আগত ক্রেতা-বিক্রেতারা এই হাটে আসে, এতে করে হাটের দিন অন্তত দুই কোটি টাকার লেনদেন হয় নানিয়ারচর বাজারে। কিন্তু ইউপিডিএফের বাধার কারণে বাজারটি মিলছে না। এই সমস্যা সমাধানে ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে জনপ্রতিনিধি থেকে শুরু করে সরকারের উপর মহলে লিখিত আকারে জানানোর পরও কোনো সুরাহা হচ্ছে না। একারণেই চারদিনের হরতালের ডাক দেওয়া হয়েছে। সমস্যার সমাধান না করলে আগামী রোববারের পর থেকে আরো কঠোর কর্মসূচী দিয়ে নানিয়ারচরের বগাছড়ি থেকে রাঙামাটির মানিকছড়ি পর্যন্ত সড়কে টানা অবরোধ কর্মসূচীর ডাক দেওয়া হবে বলেও জানানো হয়েছে।




সাদেকুল হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত দুই আসামি আটক

18518466_1283930188380595_328872576_n
রাঙামাটি প্রতিনিধি :
রাঙামাটির নানিয়ারচরে ভাড়ায় চালিত মোটর সাইকেল চালক সাদেকুল হত্যার এক মাস পর হত্যা মামলায় এজাহারভুক্ত দুই জনকে আটক করেছে রাঙামাটি কোতয়ালী থানা পুলিশ।

সোমবার বিকেলে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কোতয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আব্দুর রশীদের নেতৃত্বে পুলিশ অভিযান চালিয়ে সদর উপজেলার সাপছড়ি এলাকা থেকে এ দুজনকে আটক করে। আটক দুজনের নাম চিরঞ্জিত চাকমা ও কৃষ্ণ বিকাশ চাকমা। তার দুজন নানিয়ারচর উপজেলার ঘিলাছড়ির বাসিন্দা।

পুলিশ জানায়, আটক দুজন এ হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত থাকার স্বীকারোক্তি দিয়েছে। তাদের স্বীকারোক্তিতে জানা গেছে, ভাড়া নিয়ে বাকবিতন্ডার জেরে তারা দজুনে ভাড়ায় চালিত মোটর সাইকেল চালক সাদেকুল ইসলামকে হত্যা করে।

উল্লেখ্য, গত ১৪ এপ্রিল রাঙামাটির নানিয়ারচর উপজেলার ঘিলাছড়িতে মহালছড়ি উপজেলার বাসিন্দা ভাড়ায় চালিত মোটর সাইকেল চালক সাদেকুল ইসলাম এর লাশ পাওয়া যায়। এ ঘটনায় তার ভাই বাদি হয়ে নানিয়ারচর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার এজাহারভুক্ত দুই আসামি এই চিরঞ্জিত চাকমা ও কৃষ্ণ বিকাশ চাকমা।




নানিয়ারচরে পুড়ে গেছে ১১টি বসত ঘর

আগুন

নিজস্ব প্রতিবেদক :
রাঙামাটির নানিয়ারচর মাষ্টার পাড়ায় রান্নার চুলা থেকে লাগা আগুনে পুড়ে গেছে ১১টি বসত ঘর। রোববার দিবাগত রাত সাড়ে দশটার সময় রান্নার চুলা থেকে হঠাৎ করেই আগুনের সূত্রপাত। এরপর মুহুর্তের মধ্যেই আগুন আশেপাশের কয়েকটি ঘরে ছড়িয়ে পড়ে। নানিয়ারচর সেনা জোনের কমান্ডার বাহলুল আলম তার সেনা সদস্যদের নিয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনায় বেঁচে গেছে আরও শতাধিক বসত ঘর।

জানা গেছে, স্থানীয় বাসিন্দাদের সহায়তায় ঘন্টাব্যাপী চেষ্টা চালিয়ে সেনা সদস্যরা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন। এতে করে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ অন্তত ২৫ লক্ষ্য টাকা বলে জানাগেছে।

নানিয়ারচর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান রন বিকাশ চাকমা জানিয়েছেন, সময়মতো যদি নানিয়ারচর জোনের সেনা সদস্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত নাহতো তাহলে আগুনে অন্তত শতাধিক পরিবার আক্রান্ত হতো।

 

তারমধ্যে সরকারি-বেসরকারি কয়েকটি অফিসসহ হেডম্যান এসোসিয়েশনের কার্যালয়, শিক্ষার্থীদের হোষ্টেল, কেজি স্কুল, বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের মতো প্রতিষ্ঠানগুলোও রয়েছে।

 

 




নানিয়ারচরে ট্রাকে আগুন দেওয়ার ঘটনার মূল হোতা রনেল চাকমা আটক

ronel chakma

নিজস্ব প্রতিনিধি :

অবশেষে নিরাপত্তাবাহিনীর হাতে আটক হয়েছে নানিয়ারচরে ট্রাকে আগুন দেওয়ার ঘটনার মূল হোতা রনেল চাকমা। ইউপিডিএফ কর্মী এই রনেল চাকমাই গত ২৩ জানুয়ারি রাঙামাটির নানিয়ারচর এলাকার বেতছড়িতে দুটি পণ্যবাহী ট্রাক জ্বালিয়ে দেয়ার ঘটনার মামলার প্রধান আসামি। রনেল চাকমাকে আটকের বিষয়টির নিশ্চিত করেছেন নানিয়ারচর থানার অফিসার ইনচার্জ আব্দুল লতিফ।

নিরাপত্তা বাহিনীর সূত্র জানিয়েছে, রনেল চাকমা পার্বত্য চুক্তি বিরোধী সংগঠন ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ) এর সক্রিয় কর্মী। কুতুকছড়ি থেকে মহালছড়ি পর্যন্ত এলাকায় ব্যাপক চাঁদাবাজির নেতৃত্বও দেয় সে। বেতছড়িতে ট্রাক দুটি জ্বালিয়ে দেয়ার ঘটনাটি তারই নেতৃত্বে হয় বলে নিরাপত্তাবাহিনীর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকারোক্তি দিয়েছে সে।

নানিয়ারচরে-আগুন-300x169

উল্লেখ্য, চাহিদা অনুসারে অতিরিক্ত চাঁদার টাকা না পাওয়ায় তারই প্রত্যক্ষ নেতৃত্বে গত ২৩ জানুয়ারি ভোররাতে মালবাহী দুইটি ট্রাকে আগুন ধরিয়ে সম্পূর্ন পুড়ে ছাই করে দেয়। এতে করে ব্যবসায়ীদের ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হয়। এই ঘটনায় নানিয়ারচর থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়।

দীর্ঘ প্রায় আড়াই মাস তদন্ত চালিয়ে স্থানীয়দের মাধ্যমে নিশ্চিত হয়ে বুধবার সন্ধ্যায় এই ঘটনার মূল হোতা রনেল চাকমাকে নানিয়ারচর বাজার থেকে আটক করে নিরাপত্তা বাহিনীর একটি টিম।




নানিয়ারচর ও মহালছড়িতে অবরোধ চলছে

নিজস্ব প্রতিবেদক:

রাঙামাটি নানিয়ারচরে মালভর্তি দুইটি ট্রাক আগুনে পুড়িয়ে দেয়া সন্ত্রাসীদের গ্রেফতারের দাবিতে রাঙামাটির নানিয়ারচর ও খাগড়াছড়ির মহালছড়ি উপজেলায় সকাল-সন্ধ্যা সড়ক অবরোধ শান্তিপূর্ণভাবে পালিত হচ্ছে।

সন্ত্রাসীদের গ্রেফতারে প্রশাসনকে দেয়া ৭২ ঘন্টার আল্টিমেটাম শেষে শনিবার পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসরত বাঙ্গালীদের আঞ্চলিক সংগঠন পার্বত্য নাগরিক পরিষদ ও পার্বত্য বাঙ্গালী ছাত্র পরিষদ এ অবরোধের ডাক দেয়।

অবরোধের কারণে রাঙামাটি-খাগড়াছড়ি সড়কে সকাল থেকে সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। দুই উপজেলার বিভিন্ন স্থানে পিকেটিং করছে অবরোধ সমর্থকরা। আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে পুলিশ টহল দিচ্ছে। তবে কোথাও কোন অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।

দাবিকৃত চাঁদা না পেয়ে ২৩ জানুয়ারি ভোরে রাঙামাটি-খাগড়াছড়ি সড়কের বেতছড়ি এলাকায় দুটি মাল ভর্তি ট্রাক আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দেয় সন্ত্রাসীরা। এ ঘটনার জন্য পার্বত্য বাঙ্গালী সংগঠনগুলো উপজাতীয় সংগঠনগুলোকে দ্বায়ী করে। এ ঘটনার পর সন্ত্রাসীদের গ্রেফতারে ৭২ ঘন্টার আল্টিমেটাম দেয় বাঙ্গালী সংগঠনগুলো।




নানিয়ারচরে সন্ত্রাসীদের দেওয়া আগুনে পুড়েছে মাইসছড়ির ব্যবসায়ীদের স্বপ্ন

IMG_20170127_002545

খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি :

সন্ত্রাসীদের দেওয়া আগুনে শুধুমাত্র মালামালসহ ট্রাক পুড়ে ছাই হয়নি সেদিন, পুড়েছে মাইসছড়ি বাজারের ১০/১২ জন ব্যবসায়ীর স্বপ্নও। কারো সারা জীবনের উপার্জিত পুঁজি হারিয়ে হতাশ হয়ে পড়েছেন। কেউ আবার  জীবনধারণের একমাত্র অবলম্বন ব্যবসা বন্ধ হবার আশংকায় আছেন। আর কী দাঁড় করাতে পারবেন জীবিকার একমাত্র অবলম্বন ব্যবসাটি । কীভাবে জুটবে পরিবারের সদস্যদের মুখে আহাড়। এসব হাজারো প্রশ্ন ভীড় করছে এ বাজারের ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের মাথায়।

তেমনি একজন ক্ষতিগ্রস্ত মাইসছড়ি বাজারের পাশে বসবাসকারী মো. সফর আলী। সারাজীবন অন্যের জমিতে বর্গা চাষ করে সংসার চালিয়ে আসছেন তিনি। বয়স বেড়েছে এখন আর এতো পরিশ্রম শরীরে সহ্য হচ্ছে না। তাই কয়েক দিন আগে স্থির করেন ব্যবসা করবেন। মাইসছড়ি বাজারে একটি দোকান ঘর ভাড়া নেন ব্যবসা করার উদ্দেশ্যে। সারাজীবনের সঞ্চয় এবং নিকটাত্মীয়দের কাছ থেকে ধারদেনা করে  চট্টগ্রাম থেকে প্রথম দোকানের জন্য মালামাল ক্রয় করেন। অন্যসব দোকানীদের সাথে তিনিও মালামাল  নিয়ে আসতে সেদিন ট্রাকে তুলে দেন। সন্ত্রাসীদের দেওয়া আগুনে সব মালামালের সাথে পুড়ে যায় সফর আলীর মালামালও। সেই সাথে পুড়ে তার স্বপ্নও, আজ তার পথে বসার জোগাড়।
IMG_20170127_002456
বৃহস্পতিবার সফর আলীর বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, পুড়ে নষ্ট হয়ে যাওয়া ব্যবসার উদ্দেশ্য কেনা বিভিন্ন মালামাল। এসময় তিনি পার্বত্যনিউজকে জানান, নগদ দুই লাখ সত্তর হাজার টাকার কেনা মালামাল পুড়েছে। এখন একখণ্ড ভিটেমাটি ছাড়া আর কিছু নেই। সারাজীবনে তিলতিল করে সঞ্চিত অর্থ পুড়িয়ে দিয়েছে সন্ত্রাসীরা। ধারকর্জ করা টাকা কী করে পরিশোধ করবেন? সেই সাথে পরিবারপরিজনের ভরণপোষণ নিয়েও বিপাকে পড়েছেন তিনি।

আরো কয়েকজন ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীর সাথে কথা হয়। তারমধ্যে শুটকি ও মুদি ব্যবসায়ী তমল বড়ুয়া পার্বত্যনিউজকে বলেন, তিনি ব্যাংক লোনের পাশাপাশি মহাজন থেকে বাকিবকেয়া নিয়ে ব্যবসা করেন। তার প্রায় এক লাখ টাকার মালামাল সেদিন পুড়েছে।
IMG_20170127_002557
উল্লেখ্য, গত ২৩ জানুয়ারি সোমবার ভোর ৫ টায় রাঙামাটি জেলার নানিয়ারচরের কাঠালতলীতে উপজাতীয় সন্ত্রাসীরা মালভর্তি ২টি ট্রাক আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দেয়।

এ ঘটনায় মাইসছড়ি বাজার পরিচালনা কমিটির সভাপতি মো. আকবর হোসেন পার্বত্যনিউজকে জানান, বাজারের ১০/১২ জন ব্যবসায়ীর প্রায় বিশ লাখ টাকার মালামাল সন্ত্রাসীরা সেদিন পুড়িয়ে দিয়েছে। তিনি সন্ত্রাসীদের বিচারের দাবী করে, নিরাপদে ব্যবসা করার পরেবেশ সৃষ্টি করতে প্রশাসনের প্রতি অনুরোধ জানান।




নানিয়ারচরে সন্ত্রাসীদের গ্রেফতারে বাঙ্গালী ছাত্র পরিষদের ৭২ ঘণ্টার আল্টিমেটাম

নানিয়ারচরে আগুন

প্রেস বিজ্ঞপ্তি : সোমবার ভোরে চাঁদা না পেয়ে রাঙামাটি-খাগড়াছড়ি সড়কের নানিয়ারচরের বেতছড়ির চোংড়াছড়ি নামক পাহাড়ি এলাকায় মালভর্তি দুইটি ট্রাক আগুনে পুড়িয়ে দেয় সন্তু লারমার পালিত দুর্বৃত্তরা।

বাঙালিদের মালামাল সম্পূর্ণ ভস্মিভূত করার প্রতিবাদ ও তীব্রনিন্দা জানিয়েছেন পার্বত্য বাঙালি ছাত্র পরিষদের উপদেষ্টা পরিষদের সভাপতি ও পার্বত্য নাগরিক পরিষদের চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার আলকাছ আল মামুন ভূইঁয়া।

বুধবার পার্বত্য নাগরিক পরিষদের দপ্তর সম্পাদক মো. খলিলুর রহমান স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে ইঞ্জিনিয়ার আলকাছ আল মামুন ভূইঁয়া বলেন, ১ আগষ্ট ২০১৬ বহুল বিতর্কিত পার্বত্য ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশন আইন পাস হওয়ার পর থেকেই গোটা পার্বত্য চট্রগ্রামে চলছে বাঙালিদের উপর বিভিন্ন ধরনের নির্মম অত্যাচার, জুলুম আর নির্যাতন।

তারই ধারাবাহিকতায় সোমবার মহাল ছড়ি বাঙালি ব্যাবসায়িদের থেকে চাঁদা না পেয়ে রাঙামাটি-খাগড়াছড়ি সড়কের নানিয়ারচরের বেতছড়ির চোংড়াছড়িতে সন্তু লারমার পালিত দুর্বৃত্তরা মালভর্তি দুইটি ট্রাকসহ আগুনে পুড়িয়ে সম্পূর্ণ মালামাল ভস্মিভূত করে ধ্বংস করে দিয়েছে কোটি টাকার সম্পদ।

বিবৃতিতে মামুন ভূইঁয়া আরও বলেন, সন্তু লার্মা বিগত কয়েক মাসে মাটিরাঙ্গার বিটিলায়, লক্ষীছড়ি, খাগড়াছড়ি সদর সহ পুরো পার্বত্য চট্রগ্রামে চাঁদা বাজি, অপহরণ, বাঙালি নারীদের ধর্ষণসহ মায়ানমারের বৌদ্ধদের স্টাইলে বাঙালিদের উপর অমানুসিক অত্যাচার জুলুম চালিয়ে যাচ্ছে, অত্যান্ত দু:খের বিষয় হলেও সত্য যে সরকারের ভূমিকা নির্বিকার।

এ জন্যে এক জন সচেতন নাগরিক হিসেবে সন্তু লার্মার এহেন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ জানানো সময়ের দাবী, বিবৃতিতে তিনি বহুল বিতর্কিত পার্বত্য ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশন আইন ২০১৬ বাতিল, সন্ত্রাস বন্ধে সরকার কে দায়িত্ত্বশীল ভূমিকা পালন করার দাবীসহ সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার পূর্বক পর্যটকদের অভয়ারণ্য সৃষ্টি সহ সাধারণ মানুষের জীবন যাত্রা ফিরিয়ে মহালছড়িতে ট্রাকে আগুন দেয়া সন্ত্রাসীদের গ্রেফতারের জন্য  সরকারকে বৃহস্পতিবার থেকে ৭২ ঘন্টার সময় দেয়া হলো।

এর পরেও যদি সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার করা না হয়, তাহলে অবরোধ সহ গনতান্ত্রিকভাবে আরও কঠিন কর্মসূচী চর্চার জন্য তিনি পার্বত্য বাঙালি ছাত্র পরিষদ, পার্বত্য নাগরিক পরিষদের নেতা/কর্মীদের সহ সকল সংগঠনকে নির্যাতিত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানান ।




ট্রাক জ্বালিয়ে দেয়ার ঘটনায় অজ্ঞাতদের আসামী করে মামলা

নানিয়ারচরে আগুন

নিজস্ব প্রতিবেদক:

রাঙামাটির নানিয়ারচর উপজেলার বেতছড়িতে চাঁদার দাবিতে উপজাতীয় সন্ত্রাসী কর্তৃক মাল বোঝাই ট্রাক জ্বালিয়ে দেয়ার ঘটনায় নানিয়ারচর থানায় মামলা হয়েছে।

নানিয়ারচর থানা সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার পুলিশ বাদি হয়ে অজ্ঞাত নামা আট জনকে আসামী করে এ মামলা দায়ের করা হয়। (মামলা নং ১/তারিখ-২৪-০১-১৭)।

নানিয়ারচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান, ট্রাক পুড়িয়ে দেয়ার ঘটনায় পুলিশ বাদি হয়ে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এ পর্যন্ত কোন আসামী আটক করা হয়েছে কিনা বা সন্দেহজনক কাউকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে কিনা জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন ‘আমি চট্টগ্রাম আছি’।

এদিকে ঘটনার পর দুই দিন পার হতে চললেও এখন পর্যন্ত কাউকে আটক না করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন পরিবহন মালিক, শ্রমিকরা।




নানিয়ারচরে চাঁদার দাবীতে মালভর্তি ট্রাকে আগুন দিয়েছে উপজাতীয় সন্ত্রাসীরা

নানিয়ারচরে আগুন
নিজস্ব প্রতিনিধি:
রাঙামাটি জেলার নানিয়ারচর উপজেলায় চাঁদার দাবীতে মালভর্তি ট্রাকে আগুন লাগিয়ে ভস্মিভূত করেছে উপজাতীয় সন্ত্রাসীরা। এসময় পর্যটকবাহী কয়েকটি গাড়ি থামিয়ে তাদের কাছ থেকে মোবাইল ও টাকা পয়সা ছিনতাই করে নেয়া হয়েছে বলেও জানা গেছে। মঙ্গলবার ভোর ৫ টার দিকে উপজেলার ১৮ মাইল-কাঠালতলী এলাকায় এ ঘটনা ঘটেছে।
পার্বত্যনিউজের মহালছড়ি প্রতিনিধি ঘটনাস্থল সরেজমিন পরিদর্শন করে জানান, মঙ্গলবার সাপ্তাাহিক মহালছড়ি বাজার থাকায় বাজার ব্যবসায়ীরা চট্টগ্রাম থেকে পাইকারী ক্রয় করে চারটি ট্রাকে করে বিভিন্ন মালামাল রাঙামাটি-খাগড়াছড়ি সড়ক হয়ে মহালছড়ি বাজারে আসছিল। এসময় ৪ টি পর্যটকবাহী বিভিন্ন ধরণের গাড়িও তাদের পেছনে অনুসরণ করে ্আসছিলো। গাড়িগুলো নানিয়ারচর উপজেলার ১৮ মাইল-কাঠালতলী এলাকায় পৌঁছালে ১৬ জন উপজাতীয় মুখোশধারী সশস্ত্র সন্ত্রাসী গাড়িগুলোকে থামিয়ে কাদের গাড়ী জিজ্ঞাসাবাদ করে।
আগুন নানিয়ারচর
গাড়ী চালকরা মহালছড়ি বাজারের মালামাল পরিবহনের গাড়ী জানালে তাদের কাছে চাঁদা দাবী করা হয়। ড্রাইভাররা চাঁদা দিতে অপারগতা প্রকাশ করায় সাথে সাথে সন্ত্রাসীরা চট্টমেট্রো ট- ১১০৭৪১ এবং চট্টমেট্রো ট- ১১২০৬৬ নম্বরের দুইটি ট্রাকে আগুন ধরিয়ে দেয়। ট্রাকগুলোর সাথে থাকা ড্রাইভার, হেলপার ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা চট্টমেট্রো ট- ১১২০৬৬ নম্বরের ট্রাকের আগুন তাৎক্ষণিকভাবে নিভিয়ে ফেলতে সক্ষম হলেও চট্টমেট্রো ট- ১১০৭৪১ ট্রাকে দাহ্য মালামাল থাকায় তা নেভাতে সক্ষম হয়নি। ফলে ট্রাকটি এবং তাতে বহন করা মালামাল সম্পূর্ণ ভস্মিভূত হয়ে যায়। ট্রাকটিতে চাল, ডাল, আলু, কেরোসিন, কসমেটিকসসহ বাজারের বিভিন্ন ধরণের ২০ লক্ষাধিক টাকার মালামাল ছিল।
ট্রাকে অবস্থানকারী ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, তারা সন্ত্রাসীদের পায়ে পড়ে ট্রাকে আগুন না লাগাতে অনুনয়বিনয় করেছিল। কিন্তু তাতে সন্ত্রাসীদের মন গলেনি। উল্টো ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও ট্রাক চালকদের মারধোর করে সন্ত্রাসীরা। এতে মহালছড়ি বাজারের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী প্রকাশ আচর্য, কামাল হোসেন, মুন্সী মিয়াসহ কয়েকজন আহত হয়েছে। এদের মধ্যে সন্ত্রাসীদের দায়ের কোপে আহত মুন্সী মিয়াকে মহালছড়ি উপজেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। যাওয়ার সময় সন্ত্রাসীরা ২ রাউন্ড ফাঁকা গুলি করে বলেও জানা গেছে।
NANI
খবর পেয়ে মহালছড়ি সেনা জোন কমান্ডার লে. কর্নেল হুমায়ুন কবীরের নেতৃত্বে সেনা সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌছে, একই সময় মহালছড়ি থানা থেকে পুলিশবাহিনীর সদস্যরাও ঘটনাস্থলে পৌছালেও পানির সঙ্কুলান না থাকায় কেউ আগুন নেভাতে পারেনি। তবে ঘটনার সাড়ে ৩ ঘন্টা পর সকাল সাড়ে আটটার দিকে রাঙামাটি থেকে অগ্নি নির্বাপন দল ঘটনাস্থলে পৌছায়। কিন্তু ততক্ষণে সম্পূর্ণ ট্রাক ও মালামাল ভস্মিভূত হয়ে গেছে।
 এদিকে এ ঘটনার প্রতিবাদে মহালছড়ি বাজার ব্যবসায়ী ও স্থানীয় জনগণ রাঙামাটি-খাগড়াছড়ি সড়ক অবরোধ করে প্রতিবাদ সমাবেশ করছে। এতে রাঙামাটি-খাগড়াছড়ি সড়কে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। তারা দোকানপাট বন্ধ রেখেছে।
 ব্যবসায়ীদের অভিযোগ স্থানীয় উপজাতী সংগঠনের পক্ষ থেকে মহালছড়ি বাজার কমিটির নিকট বড় অংকের চাঁদা দাবী করা হচ্ছিল দীর্ঘদিন ধরে। কিন্তু ব্যবসায়ীরা এই বিপুল পরিমাণ চাঁদা দিতে অপারগতা প্রকাশ করায় তাদের মালামাল বহনকারী ট্রাকে আগুন লাগিয়ে দেয়া হয়েছে। এর প্রতিাবিধান না করা হলে সড়ক অবরোধ ও দোকানপাট বন্ধ কর্মসূচী তুলে নেয়া হবে না বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।