টানা তিন দিনের ভারি বর্ষণে নাইক্ষ্যংছড়িতে পাহাড় ধসের আশঙ্কা

news23 copy

বাইশারী প্রতিনিধি:

তিন দিন ধরে টানা বর্ষণের ফলে  পাহাড়  ধসের  আশঙ্কা  দেখা দিয়েছে নাইক্ষ্যংছড়ির পাহাড়ি জনপদ গুলোতে। বিশেষ করে, উপজেলার শতাধিক গ্রামে হাজারেরও অধিক পরিবার এখন পাহাড় ধসে আমলে নিয়ে সকল দুর্ঘটনা এড়াতে তৎপর হয়েছেন নানাভাবে। রবিবার উপজেলা নির্বাহী অফিসার এসএম সরওয়ার কামাল, ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারমান সহ পরিষদ বর্গকে এ ব্যাপারে সতর্ক থাকতে বলেছেন ইতিমধ্যেই।

সরেজমিন, ঘুরে আরও জানা যায়, বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলাটি মূলত পাহাড়ি জনপদ। এখানকার শতভাগ ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী আর ৪০ শতাংশ বাঙ্গালী বসবাস করে পাহাড়ের চূড়ায় বা ঢালুতে। প্রায় ৭০ হাজার জনসংখ্যা অধ্যুষিত এ উপজেলায় সে হিসেবে অধিকাংশ মানুষের বাস পাহাড়ে। এ কারণে এ আশঙ্কার বিষয়টি এখন নাইক্ষ্যংছড়ির আলোচনার মূল বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

চট্টগ্রাম আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ আবদুল হান্নান জানান, ২৪ এপ্রিল পর্যন্ত বৃহত্তর চট্টগ্রামে ভারি বর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে। বর্তমানে সাগরে ৩ নম্বর স্থানীয় সর্তক সংকেত ঘোষণা করে তারা। আর ভারি বর্ষণ হলে তো  বিভিন্ন ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া দেখা দিতেই পারে। আর এরই মধ্যে পাহাড় ধস একটি।

একাধিক সচেতন ব্যক্তি জানান, উপজেলার শতাধিক গ্রামে শতশত পরিবার পাহাড়ের ঢালু বা চূড়ায় বসবাস করছে বর্তমানে। এসবের মধ্যে নাইক্ষ্যংছড়ি সদরের আদর্শ গ্রাম, মসজিদ ঘোনা, বিছামারা, জারুলিয়াছড়ি, সোনাইছড়ি, ঘুমধুম ফাত্রাঝিরি, বৈদ্যছড়া, তুমব্রু বাইশপাড়ি, লেবুছড়ি, পাইনছড়ি, টাংগ্ররা, ছরই মুরু পাড়া, ভাইসাং চাক পাড়া, বাইশারীর সাপমারা ঝিরি, দশতলা পাহাড়, ছাগল খাইয়া, হরিণখাইয়া, ডলুর ঝিরি, চিকনছড়ি, রাঙ্গাঝিরি, কাগজিখোলা, ইদগড় হেডম্যান পাড়া, উপর চাক পাড়া,তোফান আলী পাড়া, করলিয়া মুরা, হলদিয়া শিয়া ও লম্বাবিল সহ অসংখ্য গ্রাম  রয়েছে পাহাড় অধ্যুষিত। এ সব এলাকায় এমনিতে পাহাড় ধসের আশঙ্কা থাকে সব সময়। আর এর উপর পাহাড় কেটে বিরান ভূমিতে পরিনত হওয়া এ সব গ্রাম এ ঝুঁকিতে বেড়ে তিন গুনে দাঁড়িয়েছে।

বাইশারী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. আলম কোম্পানী জানান, বাইশারীতে বিভিন্ন সময় পাহাড় ধসে মারা গেছে বেশ ক’জন নারী ও শিশু। এর মধ্যে রাঙ্গাঝিরি অন্যতম। বর্তমানে তিন দিন ধরে টানা বৃষ্টিতে  পাহাড় ধসের আশঙ্কার কথা চিন্তা করে তিনি তার পরিষদ বর্গকে সে বিষয়ে সজাগ থাকতে বলে নিয়েছেন ইতিমধ্যেই। কেননা এটা চলতি মৌসুমের প্রধান এবং অন্যতম কাজ। উপজেলা প্রশাসনও এ বিষয়ে ফোন করেছেন তাকে। তাই তিনি এটিকে অধিক গুরুত্ব দিয়েছেন বিশেষভাবে। এভাবে পুরো উপজেলাতে প্রস্তুত হয়ে রয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা নির্বার্হী অফিসার এসএম সরওয়ার কামাল জানান, সামনে ভারি বর্ষণের খবর তিনি শুনেছেন। এ কারণে নানা প্রস্তুতিও নিয়েছেন তিনি। বিশেষ করে ঝুঁকিতে বসবাসকারীদের বিষয়ে কী করা যায় সে বিষয়টি নিয়ে তিনি কাজ শুরু করতে চান সকলকে নিয়ে। আর তা আজকালের মধ্যে শুরু করবেন তিনি। বিশেষ করে যে কোন প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলায় প্রস্তুত থাকতে নির্দেশ দিয়েছেন ইউপি চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে।

এদিকে স্থানীয়রা জানান, নাই্ক্ষ্যংছড়িতে পাহাড় ধস হওয়ার কারণ একাধিক। তম্মধ্যে পাহাড় কেটে নানাভাবে মাটি সরানো এলাকা গুলোর আশ পাশের জনবসতিতে পাহাড় ধস হওয়ার আশঙ্কা বেশি  দেখা দিয়েছে। বড় বড় পাহাড় কেটে এ উপজেলায় বিভিন্ন স্থানে মাটি ভরাটের কাছ চলছে জোরেশোরে। যা চলে আসছে কয়েক মাস ধরে। আর এ সবে জড়িত স্থানীয় আওয়ামী লীগের অনেক নেতা। যাদের ভয়ে কেউ মুখ খুলে না।

তারা আরও জানান, পরিবেশ অধিদপ্তরের নিরবতার সুযোগে পাহাড় খেকোরা এ অরাজকতা করেছে প্রকাশ্যে এবং ইচ্ছা মাফিক। আর স্থানীয় প্রশাসনও নানা সীমাবদ্ধতার কারণে এ বিষয়ে সামনে এগিয়ে যাননি বেশি দূর। আর এ সুযোগটা লুফে নেয় পাহাড় খেকোরা। এ কারণেই এখন সামান্য বৃষ্টিতেই পাহাড় ধসের আশঙ্কার বিষয়টি সামনে আসছে পাহাড়ি জনপদ নাইক্ষ্যংছড়ি।

অপরদিকে, কক্সবাজার আবহওয়া অফিসের ইনচার্জ আবহাওয়াবিদ একেএম নাজমুল হক বলেন, বর্তমানে বৃষ্টি হচ্ছে দু’দিন। সামনে আরও হবে। তবে জুনের আদলে ভারি বৃষ্টি হবে না এপ্রিল বা মে মাসে। তবে পাহাড় কেটে মাটি সরানো পাহাড় গুলো ধসের আশঙ্কায় থাকে সব সময়। কেননা এ সময়ে হিলি সয়েল গুলো নরম হয়ে এদিক-ওদিক সরে গিয়ে ধস নামতে পারে সিরিয়াসলি। তিনি আরও বলেন, বর্তমানে শুধু বঙ্গোপসাগরের জন্যে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত রয়েছে থাকবে আরও ক’দিন। উপকূলীয় বসতির জন্যে নয়।




নাইক্ষ্যংছড়ি সদর ইউপির নির্বাচন ২৩ মে

নিজস্ব প্রতিবেদক, বান্দরবান:

বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি সদর ইউনিয়ন পরিষদের উপ-নির্বাচন আগামী ২৩ মে (মঙ্গলবার) অনুষ্ঠিত হবে। ইসির উপসচিব ফরহাদ আহম্মাদ খান (নির্বাচন পরিচালনা-২) স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এ তফসিল ঘোষণা করা হয়। গত ১৮ এপ্রিল নির্বাচনী তফসিল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

ঘোষিত তফসিল অনুসারে ইউপি নির্বাচনে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ তারিখ  ২৭ এপ্রিল, মনোনয়ন যাচাই-বাছাই ৩০ এপ্রিল এবং প্রত্যাহার ৭ মে।

সুত্র মতে, গত বছরের ৩১ অক্টোবর নাইক্ষ্যংছড়ি সদর ইউনিয়নের নির্বাচন ছিল। নির্বাচনের মাত্র একদিন আগে আলী হোসেন নামের এক ব্যক্তি ভোটার তালিকায় সংশোধনী চেয়ে হাইকোর্টে মামলা করেন।

মামলাটি আমলে নিয়ে বিচারপতি কাজী রেজাউল হক ও মুহাম্মদ উল্লাহ নির্বাচন অনুষ্ঠানে স্থগিতাদেশ দেন। ফলে যাবতীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন হলেও অনুষ্ঠিত হয়নি নির্বাচন।

এরপর স্থগিতাদেশের বিরুদ্ধে লিভ টু আপিল করেন আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী তসলিম ইকবাল চৌধুরী। মামলা নং-৪১২/১৭।

২ মার্চ আপিল শুনানী শেষে নির্বাচন অনুষ্ঠানে আর কোন আইনী বাধা নেই বলে আদেশ দেন প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা, বিচারপতি সৈয়দ মুহাম্মদ হোসাইন ও বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকীর নেতৃত্বে গঠিত বেঞ্চ।

এদিকে জনগণের ভোটের অধিকার ফিরিয়ে আনতে দীর্ঘ সাড়ে ৬ মাস আইনী লড়াই করে গেছেন আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী তসলিম ইকবাল চৌধুরী।




নাইক্ষ্যংছড়ি প্রেসক্লাবের মাসিক সভা অনুষ্ঠিত

Press club pic (1) copy

নাইক্ষ্যংছড়ি প্রতিনিধি:

বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি প্রেসক্লাবের মাসিক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টায় ইউনিয়ন পরিষদস্থ কার্যালয়ে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রেসক্লাব সভাপতি শামীম ইকবাল চৌধুরী।

প্রেসক্লাব সাধারণ সম্পাদক মো. আবুল বশর নয়নের পরিচালনায় সভার শুরুতে বিগত সভার কার্যবিবরণী পাঠ করে শুনান তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক হাফিজুল ইসলাম চৌধুরী।

প্রেসক্লাবের স্থায়ী কার্যালয়ের জমি চূড়ান্ত, গঠনতন্ত্র, বিধিবদ্ধ আলোচনা, প্রেসক্লাবের কার্যক্রম আরও গতিশীল করাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনায় বক্তব্য রাখেন, প্রেসক্লাব সভাপতি ও দৈনিক পূর্বকোণ প্রতিনিধি শামীম ইকবাল চৌধুরী, প্রেসক্লাব সাধারণ সম্পাদক ও দৈনিক পূর্বদেশ প্রতিনিধি মো. আবুল বশর নয়ন, প্রেসক্লাব সহ-সাধারণ সম্পাদক ও দৈনিক বাকঁখালী প্রতিনিধি জাহাঙ্গীর আলম কাজল, প্রেসক্লাব সিনিয়র সদস্য ও দৈনিক সাঙ্গু প্রতিনিধি ইফসান খান ইমন, সদস্য ও দৈনিক সংগ্রাম প্রতিনিধি মাহামুদুল হক বাহাদুর, দপ্তর ও প্রচার সম্পাদক ও দৈনিক সৈকত প্রতিনিধি মো. জয়নাল আবেদীন টুক্কু, ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক ও দৈনিক প্রিয় চট্টগ্রাম বাইশারী প্রতিনিধি আবদুর রশিদ, সহ-ক্রিড়া ও সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক ও দৈনিক কক্সবাজার ৭১ প্রতিনিধি মোহাম্মদ শাহীন, তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক ও দৈনিক সংবাদ প্রতিনিধি হাফিজুল ইসলাম চৌধুরী, কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য ও দৈনিক মানবজমিন প্রতিনিধি মুফিজুর রহমান, সাপ্তাহিক পার্বত্য বাণী প্রতিনিধি সানজিদা আক্তার রুনা, দৈনিক রাঙামাটি প্রতিনিধি মোহাম্মদ তৈয়ব উল্লাহ, দৈনিক সমুদ্রবার্তা প্রতিনিধি এম আবু শাহমা, দৈনিক ইনানী প্রতিনিধি মোহাম্মদ ইউনুছ।




কর্মস্থলে অনুপস্থিত নাইক্ষ্যংছড়ি পিআইও’র ক্ষমতার উৎস জানতে চান ইউএনও

Pio pic copy

নাইক্ষ্যংছড়ি , প্রতিনিধি:

নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ দপ্তর প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. আবিদ হাসান দীর্ঘ ১২দিন যাবত কর্মস্থলে অনুপস্থিত রয়েছেন। ১৭ দিনের ছুটি নিয়ে হজ্জ্বব্রত পালন শেষে দেশে ফিরে আসলেও সোমবার পর্যন্ত তিনি নিজ কর্মস্থলে যোগ দেননি। ফলে ওই দপ্তরের কার্যক্রম স্থবিরতায় সংশ্লিষ্টরা চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। এদিকে বিনা ছুটিতে দীর্ঘদিন পিআইও কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করে তার ক্ষমতার উৎস জানতে চেয়েছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার।

দুপুর ১টায় উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মোহাম্মদ কামাল উদ্দিন ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার এসএম সরওয়ার কামাল পিআইও অফিস পরিদর্শনে গিয়ে হাজিরা খাতাসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্রাদি যাচাই করে উপস্থিত সাংবাদিকদের ক্ষোভের কথা জানান। এসময় তিনি সাংবাদিকদের বলেন, গুরুত্বপূর্ণ এমন একটি দপ্তরে কর্মকর্তা অনুপস্থিত দু:খজনক ব্যাপার। সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডকে বাধাগ্রস্ত করার লক্ষ্যে এমনটি করা হচ্ছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হবে বলেও জানান তিনি।

পিআইও অফিস সূত্রে জানা গেছে, হজ্জ্বে যাওয়ার কথা বলে ১৯ মার্চ থেকে ৫ এপ্রিল পর্যন্ত ছুটি নেন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো.আবিদ হাসান। তার স্থলে অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয় বান্দরবান জেলা সদর পিআইও মো. আলমগীর হোসেনকে।

নাইক্ষ্যংছড়ি প্রকল্প বাস্তবায়ন দপ্তরের অফিস সহকারী সোহেল রানা পার্বত্যনিউজকে জানান হজ্জ্ব শেষে পিআইও দেশে ফিরেছেন। কিন্তু কেন অফিস করছেন না সে বিষয়ে তিনি অবগত নন। প্রতিদিন দূর দূরান্ত থেকে সেবা গ্রহণের জন্য আসা জনপ্রতিনিধিসহ বিভিন্ন জনগণ ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন বলেও তিনি স্বীকার করেন। অফিসে চলমান টিআর ও কাবিখা কাজে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে বলেও জানান তিনি।

সূত্র মতে, ২০১৬-১৭ অর্থ বছরে গ্রামীণ অবকাঠামো সংস্কার (কাবিকা) এবং গ্রামীণ অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ (টিআর) কর্মসূচির ১ম পর্যায়ের সকল ক্ষেত্রে প্রকল্প বাস্তবায়ন ও অর্থ উত্তোলনের শেষ সময় ৩০ এপ্রিল। কিন্তু পিআইও অনুপস্থিত থাকায় স্বল্প সময়ের মধ্যে এ কাজ সম্পাদন করা দুষ্কর হয়ে পড়বে বলে জানান উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মোহাম্মদ কামাল উদ্দিন। তিনি আরও জানান, যথাসময়ে কার্যক্রম শেষ করা না হলে টিআর (সাধারণ) বরাদ্ধের ৪৯ লক্ষ ৮৩ হাজার ও কাবিখা (সাধারণ) বরাদ্ধের ৫৮ লক্ষ ৯৪ হাজার টাকা ফেরত যাওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।

উল্লেখ্য, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. আবিদ হাসান এ দপ্তরে যোগদানের পর থেকে নিজ ইচ্ছা মাফিক অফিস কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছেন। এতে করে পিআইও ব্রিজ, টিআর, কাবিখা খাতে ব্যাপক দুর্নীতি বিস্তার ঘটেছে বলেও জানান নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক জনপ্রতিনিধি।

এদিকে বিনা ছুটিতে থাকা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো: আবিদ হাসানের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন- ‘বরিশাল বিভাগে তার বদলির আদেশ হওয়ায় তিনি কর্মস্থলে যোগ দেননি’’।

অপরদিকে জানতে চাইলে বান্দরবান জেলা ত্রাণ ও পূর্ণবাসন কর্মকর্তা আলী আকবর জানান নাইক্ষ্যংছড়ি পিআইও’র নির্ধারিত ছুটির সময় ছিল ৫ এপ্রিল পর্যন্ত। কিন্তু তিনি এখনো কর্মস্থলে যোগ দেননি। তার মোবাইলেও সংযোগ পাওয়া যাচ্ছেনা বলেও জানান জেলার এ কর্মকর্তা।




সাফল্যের ধারাবাহিকতায় এবার ও সেরা বাইশারী শাহ্ নুরুদ্দীন (রা:) দাখিল মাদ্রাসা

বাইশারী প্রতিনিধি:

বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজলোর বাইশারী শাহ্ নুরুদ্দীন (রা:) দাখিল মাদ্রাসা এবারও ইউনিয়নে শ্রেষ্ঠ স্থান দখল করেছে। ২০১৬ সালে অনুষ্ঠিত ইবতেদায়ি সমাপনী পরীক্ষায় শতভাগ পাশসহ পাঁচ জন শিক্ষার্থী বৃত্তি লাভ করছে এদের মধ্যে একজন ট্যালেন্টপুল ও ৪জন সাধারণ।

বৃত্তি প্রাপ্তরা হলেন, ট্যালেন্টপুল বৃত্তি পেয়েছেন কক্সবাজার জেলার রামু উপজেলার গজানিয়া ইউনিয়নের থমছিড়ি গ্রামের বাসিন্দা মনির আহাম্মদ ও আছিয়া খাতুনের কন্যার মর্জিনা আক্তার। সাধারণ বৃত্তি প্রাপ্তরা হলেন বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার লম্বাবিলের বাসিন্দা আব্বাস উদ্দিন ও মোস্তাফা খাতুনের পুত্র আরাফাতুল ইসলাম, থমছিড়ি এলাকার বাসিন্দা বদিউল আলম ও রোকেয়া বেগমের পুত্র আরিফুল ইসলাম বাপ্পী, বড়বিল গ্রামরে বাসিন্দা নুরুল ইসলাম ও দিলদার বেগমের পুত্র দিদারুল ইসলাম এবং কাগজিখালা কালা পাড়া গ্রামের বাসিন্দা আমির সুলতান ও শাকোর বেগমের পুত্র সাইফুল ইসলাম।

প্রতি বছরের ন্যায় এবারও সাফল্যের ধারাবাহিকতা অব্যাহত রেখে শতভাগ পাশ করে দৃষ্টান্ত স্থাপন করায় অত্র ইউনিয়নের দুর্গম জনপদের লোকজনের নজর কেড়ে নিতে সক্ষম হয়েছে একমাত্র ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানটি। তাই শিক্ষকের পাশাপাশি ইউনিয়ন বাসীরাও আনন্দিত হয়েছেন বলেও অনেকেই এ প্রতিবেদকের নিকট জানান। স্থানীয়রা আরও জানান, স্বল্প বেতনে শিক্ষক শিক্ষিকাদের মধ্যে এ শ্রম অবিস্মরণীয় হয়ে থাকবে।

বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির  সভাপতি ও বাইশারী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলম কোম্পানী বলেন, শিক্ষক শিক্ষিকাদের অক্লান্ত পরিশ্রম, নিয়মিত পাঠদানসহ, খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান চালু রাখায় এ সাফল্য অর্জন সম্ভব হয়েছে বলে তিনি মনে করেন। মাদ্রাসা সুপার মাওলানা নুরুল হাকিম বলেন, শিক্ষক শিক্ষিকাদের অক্লান্ত পরিশ্রম এ সাফল্য অর্জন সম্ভব হয়েছে। তিনি  আর ও বলেন, আগামীতে আরও ভাল ফলাফল অর্জনের চেষ্টা চালিয়ে যাবেন।




বাইশারীতে অপহৃত ব্যক্তি ৪৬ ঘন্টা পর মুক্তিপণে মুক্ত

IMG_8449 copy (1)

বাইশারী প্রতিনিধি:

বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার বাইশারী ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ড করলিয়ামুরা গ্রাম থেকে ১৫ এপ্রিল ভোর রাত ৩টার দিকে অপহরণের শিকার মোহাম্মদ ইউনুছ (৩২) কে দীর্ঘ ৪৬ ঘন্টার পর ১লাখ ৬৬ হাজার টাকা মুক্তিপণ দিয়ে জিম্মি দশা থেকে মুক্ত করে দিয়েছে সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা। রবিবার রাত ১০টা ৩০ মিনিটের দিকে রামু উপজেলার গহীন অরণ্যে ঈদগড় রেঞ্জের সংরক্ষিত বনাঞ্চল বৈধ্য পাড়া এলাকায় ছেড়ে দেওয়া  হয় তাকে।

জিম্মি দশা থেকে মুক্ত হওয়ার পর মোহাম্মদ ইউনুছ স্থানীয় সাংবাদিক ও এলাকাবাসীর সাথে কথা বলতে গিয়ে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন। দীর্ঘ ৪৬ ঘন্টা কালো পাহাড়ে হাঁত পা বেঁধে চরম নির্যাতন করেছে সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা মুক্তিপণের টাকার জন্য। বেদম প্রহার করে মোবাইল ফোনে পরিবারের সদস্যদের নিকট মুক্তিপণের টাকার জন্য চাপ প্রয়োগ করতে বলে তিনি জানান। তবে তিনি সাংবাদিকদের নিকট প্রকাশ্যে বলেন, অপহরণকারীদের সে চিনতে পেয়েছে এবং এদের দলে চার জন চিহ্নিত তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসীও রয়েছে।

অপহৃত ইউনুছ আরও বলেন, বাইশারী এলাকার ভাড়ায় চালিত আবু প্রকাশ আবুইয়া নামের একজন মটর সাইকেল চালক অপহরণকারীদের সার্বিক সহযোগিতা এবং সেই মটর সাইকেল চালকের মাধ্যমে সরাসরি মুক্তিপণের টাকা গুলো সন্ত্রাসীদের হাতে তুলে দেওয়া হয়। তাছাড়া সন্ত্রাসীরা সার্বক্ষণিক টাকা দিতে আসা পরিবারের সদস্যদেরকে তার মটর সাইকেলে করে যেন আসে তা মোবাইল ফোনে জানিয়ে দেয় সন্ত্রাসীরা।

ঐ ঘটনাটি ফাঁস হওয়ার পর থেকে মটর সাইকেল চালক আবু প্রকাশ আবুইয়া এখন এলাকা থেকে উধাও হয়ে গেছে। রবিবার রাতে মুক্তিপণের বিনিময়ে অপহৃত ইউনুছ উদ্ধারের পর পুলিশ তার বাড়িতে গিয়ে তার সাথে কথা বলে এবং ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ জিজ্ঞাসাবাদ করে।

উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে বাইশারী পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ কৃষ্ণ কুমার দাস মোবাইল ফোনে জানান, এএসপি সার্কেল লামা ও সঙ্গীয় ফোর্স সহ আমি সোমবার বিকাল ৩টার দিকে আবারও ঘটনাস্থলে পরিদর্শনে যাচ্ছি। অবশ্যই অপহরণকারীদের খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনা হবে।

তিনি আরও জানান, এখনো পর্যন্ত থানায় কোন ধরনের মামলা রুজু হয় নাই। অপহৃত ইউনুছ জানান, তিনি অবশ্যই মামলা দায়ের করবেন।




বাইশারীতে এক ব্যক্তি অপহরণ, তিন লক্ষ টাকা মুক্তিপণ দাবি

বাইশারী প্রতিনিধি:

বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার বাইশারী ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ড করলিয়ামুরা গ্রাম থেকে এক ব্যক্তিকে অপহৃরণ করেছে সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা।

অপহরণের পর থেকে অপহৃত ব্যক্তির মোবাইল ফোনের মাধমে ৩ লাখ টাকা মুক্তিপন দাবি করে আসছে বলেও জানান পরিবারের সদস্যরা। অপহৃত ব্যক্তি হলেন, মৃত আবুল কালামের পুত্র মোহাম্মদ ইউনুছ (৩২)। সে গত কিছুদিন আগে করলিয়ামুরা গ্রামে বসবাস শুরু করে। তবে তার স্থায়ী ঠিকানা কক্সবাজার জেলার উখিয়া থানাধীন উলুবুনিয়া গ্রামে।

প্রাপ্ত তথ্যে সরজমিনে গিয়ে আশেপাশের লোকজনের সাথে কথা বলে জানা যায়, শনিবার ভোর রাত ৩টা ৩০মিনিটের সময় পুলিশ পরিচয়ে এক দল সশস্ত্র লোক তাকে ঘর থেকে ডেকে বের করে নিয়ে যায়। পরে কিছু দুর নেওয়ার পর সন্ত্রাসীরা তার স্ত্রীর নিকট মোবাইল ফোনে অপহরণের ঘটনাটি ও মুক্তিপণের কথা জানিয়ে দিতে বলে। এর পর থেকে ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর তার নিকটতম আত্মীয় শাহাজাহান ঘটনাটি পুলিশকে জানালে, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

বাইশারী পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত ইনচার্জ এসআই আবু মুছা ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে এবং দ্বিমত পোষন করে বলেন, তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শনের পর সম্ভাব্য স্থানে অভিযান পরিচালানা করার কথা জানান। তবে তিনি অপহরণ নাকি অন্য কিছু রহস্য লোকায়িত রয়েছে তাও খতিয়ে দেখছেন। কারণ হিসেবে জানতে চাইলে সাংবাদিকদের নিকট জানান, অপহৃত মো. ইউনুছের আরও একটি স্ত্রী রয়েছে দ্বিতীয় স্ত্রীকে নিয়ে করলিয়ামুরা গ্রামে গত কিছুদিন আগে বসবাস শুরু করেন। হয়ত দ্বিতীয় স্ত্রীর সাথে বিরোধের জের ধরে কোন ঘটনা ঘটতে পারে।

তিনি আরও বলেন, গত কয়েক দিন আগে তার দ্বিতীয় স্ত্রী বাড়ি থেকে স্বামীকে না বলে পালিয়ে যায়। তাই তিনি এখনো নিশ্চিত নন তিনি অপহরণ হয়েছে কি না। তার পর ও তিনি উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রেখেছেন বলেও জানান।

এ বিষয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্য আনোয়ার সাদেক বলেন, অপহরণের বিষয়টি তিনি শুনার সাথে সাথে পুলিশকে অবহিত করেছেন।




নাইক্ষ্যংছড়িতে উৎসাহ উদ্দীপনায় পহেলা বৈশাখ পালন

Boysak pic-2 copy

নাইক্ষ্যংছড়ি প্রতিনিধি:

পার্বত্য জেলা বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়িতে ক্ষুদ্র নৃ-সম্প্রদায়ের অন্যতম সামাজিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠান বৈসাবি এবং বাঙলার ঐতিহ্যবাহী অনুষ্ঠান পহেলা বৈশাখ উদযাপন করা হয়েছে। এ উৎসবকে ঘিরে উপজেলার বিভিন্ন পাহাড়ি পল্লী গুলোতেও চলছে উৎসবের আমেজ। পুরনো বছরের সকল দুঃখ, গ্লানি মুছে নতুন বছরকে বরণ করতে পহেলা বৈশাখে নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এবং উপজাতি সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়।

শুক্রবার পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে সকালে নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মোহাম্মদ কামাল উদ্দিন ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার এসএম সরওয়ার কামালের নেতৃত্বে এক বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে উন্মুক্ত মঞ্চে গিয়ে বর্ষবরণ উপলক্ষে আয়োজিত মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে মিলিত হয়। এসময় সরকারি কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি ও বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ নতুন বছর উপলক্ষে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। এছাড়াও মাহা সাংগ্রাই ১৩৭৯উপলক্ষে বর্ণাঢ্য র‌্যালি করেছে ধুংরী হেডম্যান পাড়া সাংগ্রাই উদযাপন কমিটি।

Boysak pic-1 copy

উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন, উপজেলা পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মোহাম্মদ কামাল উদ্দিন, উপজেলা নির্বাহী অফিসার এসএম সরওয়ার কামাল, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান হামিদা চৌধুরী, অধ্যক্ষ ওআম রফিকুল ইসলাম, উপজেলা শিক্ষা অফিসার আবু আহমদ, সমন্বিত সমাজ উন্নয়ন প্রকল্পের উপজেলা ব্যবস্থাপক একেএম রেজাউল হক, সমবায় কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম, উপজেলা আওয়ামী লীগ সদস্য সচিব মোহাম্মদ ইমরান মেম্বার, আওয়ামী লীগ নেতা ডা. ইসমাইল হোসেন, মহিলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওজিফা খাতুন রুবি, দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সাধারণ সম্পাদক মাইনুদ্দিন খালেদ, কৃষকলীগ সাধারণ সম্পাদক সাইফুদ্দিন মামুন শিমুল, ছাত্রলীগ সভাপতি বদুর উল্লাহ প্রমুখ।

অনুষ্ঠানে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সাংবাদিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। পরে অনুষ্ঠানে স্থানীয় শিল্পীরা গান পরিবেশন করেন। পুরো অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন বিআরডিবির জুনিয়র অফিসার মো. শাহ আলম এবং সাংস্কৃতি অনুষ্ঠান পরিচালানা করেন প্রধান শিক্ষক শুশংকর রুদ্র।

Boysak pic-3 copy

এদিকে বর্ষবরণ বৈসাবি উপলক্ষে নাইক্ষ্যংছড়ি ধুংরী হেডম্যান পাড়া থেকে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করা হয়। শোভাযাত্রা শেষে ধুংরী হেডম্যান পাড়ায় আনন্দ উৎসবে মিলিত হয়। বৈসাবিকে ঘিরে এ উপজাতীয় পল্লীতে জলকেলী বা ওয়াটার ফেস্টিবল, উপজাতি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, সাংগ্রাই র‌্যালি এবং প্রার্থনা সভাসহ মারমাদের প্রাচীন ও বিলুপ্ত প্রায় বিভিন্ন খেলাধূলার আয়োজন করা হয়।




বাইশারীতে স্থানীয়দের উদ্যোগে দারিয়াবান্দা খেলা

At-13 copy

নাইক্ষ্যংছড়ি প্রতিনিধি:

নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার বাইশারীতে হারিয়ে যেতে বসা গ্রামীন জনপদের ঐতিহ্যবাহী হা-ডু-ডু, মল (দারিয়াবান্দা) ইত্যাদি খেলা গুলো পুণরায় ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নিয়েছে স্থানীয় লোকজন।

পহেলা বৈশাখ উপলক্ষ্যে বৃহস্পতিবার বিকাল ২টায় ইউনিয়নের তুফান আলী পাড়ায় স্থানীয় লোকজনের উদ্যোগে ৫টি দলের অংশগ্রহণে মল (দারিয়াবান্দা) খেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে নুরুল আলম গ্রুপ নামের একটি দল। খেলা পরিচালনা করেন প্রবনী মুরব্বী আবুল হোছন ও মোশারফ আলী।

আয়োজক কমিটির সদস্য ইউপি মেম্বার আবু তাহের জানান, বিলুপ্ত প্রায় এসব খেলাধুলা ফিরিয়ে আনতে স্থানীয় ইউপি সদস্যের উদ্যোগেই দারিয়াবান্দা খেলার আয়োজন করা হয়েছে। তাছাড়া এসব খেলা গুলো এলাকায় প্রচলণ থাকলে অপরাধ প্রবণতা কমার সম্ভাবনা রয়েছে।

ওই অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, মহিলা ইউপি সদস্যা সাবেকুন্নাহার, রাবার বাগান মালিক ইঞ্জিনিয়ার ফারুক খান, ইউনিয়ন যুবলীগ সভাপতি মো. আবুল কালাম, যুবদল সভাপতি জসিম উদ্দিন, তুফান আলী পাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নাজিম উদ্দিন, নাইক্ষ্যংছড়ি প্রেসক্লাবের ক্রীড়া সম্পাদক আব্দুর রশিদ, নির্বাহী সদস্য মুফিজুর রহমান, আয়োজক কমিটির সদস্য নুরুজ্জামান প্রমুখ।




লোভ জনিত দুর্নীতিই আমাদের সমাজকে ধ্বংস করছে

nc pic-dodok (1) copy

বাইশারী প্রতিনিধি:

শিক্ষা, স্বশিক্ষা ও সুশিক্ষাই দুর্নীতি প্রতিরোধে মুখ্য ভূমিকা পালন করে। দুর্নীতি দুই ধরনের যথা-অভাবজনিত দুর্নীতি এবং লোভজনিত দুর্নীতি। বর্তমান বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক প্রেক্ষাপটে অভাবজনিত দুর্নীতির কোন কারণ নেই। বর্তমানে যা চলছে তা লোভ জনিত দুর্নীতিই আমাদের সমাজকে ধ্বংস করছে।

মঙ্গলবার দুপুর ১টার সময় বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা সদরে দুর্নীতি প্রতিরোধ বিষয়ক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে দুর্নীতি দমন কমিশনের কমিশনার (অনুসন্ধান) ড.নাসির উদ্দিন আহমেদ এসব কথা বলেন।

এক্ষেত্রে কেবল শিক্ষাই পারে আগামী প্রজন্মের জন্য একটি দুর্নীতিমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠা করতে। তাই কমিশন ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে দশম শ্রেণির ছাত্র-ছাত্রীদের নিয়ে সততা সংঘ গঠনসহ বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

তিনি আরও বলেন, আজকের তরুণরাই আগামী দিনের দেশ গড়ার মুল। তরুণরাই দুর্নীতি প্রতিরোধে স্মার্ট তথা সুনির্দিষ্ট, পরিমাপযোগ্য, অর্জনযোগ্য, যৌক্তিক ও সময়োপযোগী সমাধান খুঁজে বের করতে পারবে। আগে নিজে পরিশুদ্ধ হয়ে যা শিখছি তা করতে হবে। পাশাপাশি সরকারি কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি ও সাংবাদিকদেরকে দুর্নীতি প্রতিরোধে মূখ্য ভূমিকা পালন করতে হবে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, বান্দরবানের জেলা প্রশাসক দীলিপ কুমার বণিক, পুলিশ সুপার সঞ্জিত কুমার রায়, নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো.কামাল উদ্দিন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এসএম সরওয়ার কামাল, দুদক ঢাকা কার্যালয়ের পরিচালক মো.মনিরুজ্জামান, চট্টগ্রামের বিভাগীয় কার্যালয় পরিচালক মো. আবু সাঈদ, উপপরিচালক সৈয়দ আহমদ, নাইক্ষ্যংছড়ি দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি শাহ সিরাজুল ইসলাম সজল, সাধারণ সম্পাদক মাঈনুদ্দিন খালেদ প্রমুখ।

জেলা প্রশাসক দিলীপ কুমার বণিক বলেন, ‘দুর্নীতি জাতীয় আয়ের সিংহ ভাগকে গ্রাস করছে। তাই দেশকে দুর্নীতি মুক্ত করতে সরকারের পক্ষ থেকে নানা উদ্যোগ গ্রহণ করা হচ্ছে। প্রতিটি দপ্তরে সিটিজেন চার্টার করা হয়েছে। যেন মানুষের ভোগান্তি না হয়। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারিদের বেতন-ভাতা বৃদ্ধি করেছে সরকার। লক্ষ্য একটাই ২০২১ সনের মধ্যে বাংলাদেশকে মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত করা। তাই সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদেরকে আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে হবে। কারণ তারাই সরকারের চিরস্থায়ী প্রতিষ্ঠান। পাশাপাশি জনপ্রতিনিধিরাও দেশের জন্য বড় ভূমিকা পালন করতে পারেন। বান্দরবান জেলায় ১১টি জাতি গোষ্ঠির বসবাস। তাদের জীবন মান উন্নয়নের জন্যে প্রতিমন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈসিং কাজ করছেন। এখানে নিরাপত্তাবাহিনী, বিজিবি, পুলিশ, আনসার বাহিনীর পাশাপাশি জাতীয় ও রাষ্ট্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা অনেক বেশি তৎপর।’

IMG_8299 copy

পুলিশ সুপার সঞ্জিত কুমার রায় বলেন, ‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে সবাইকে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। কারণ সোনার বাংলা গড়ার প্রধান বাধা হলো দুর্ণীতি। দুর্নীতি রোধ করতে পারলেই দেশ উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত হবে।’

উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো. কামাল উদ্দিন বলেন, ‘দুর্নীতি আমাদের সমাজে সবচেয়ে খারাপ শব্দ। এ শব্দটিকে ঘৃণা করা উচিত। দুর্ণীতি জাতির অভিশাপ। কারণ এটি সমাজকে নষ্ট করে। মধ্যম আয়ের দেশে রুপান্তরিত করতে হলে বাংলাদেশকে দুর্ণীতিমুক্ত করতে হবে।’ আলোচনা সভার আগে অতিথিবৃন্দ ও উপস্থিত সকলে উপজাতীয় নারীদের অংশ গ্রহণে মনমুগ্ধকর সংগ্রাই নৃত্য উপভোগ করেন।

এ অনুষ্ঠানের আগে নাইক্ষ্যংছড়ি ছালেহ আহমদ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের হাজারো শিক্ষার্থীকে দুর্নীতি বিরোধী শপথ বাক্য পাঠ করান দুদক কমিশনার ড. নাসির উদ্দিন আহমেদ। এর পর ‘দুর্নীতি হলে শেষ, ‘নিজে বাঁচবো, বাঁচবে দেশ’ স্লোগানে শোভাযাত্রা বের করা হয়।