নাইক্ষ্যংছড়িতে পলিথিন ব্যাগ মজুদ ও পাহাড় কর্তন পরিবেশ অধিদপ্তরের অভিযানে সাড়ে ৩ লাখ টাকা অর্থদণ্ড

বাইশারী প্রতিনিধি:

নিষিদ্ধ পলিথিন ব্যাগ মজুদ রাখায় ভ্রাম্যমাণ আদালত বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি বাজারে চার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে ৩ লাখ ৫৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দিয়েছেন। এ সময় বিপুল পরিমাণ পলিথিন ব্যাগ জব্দ করা হয়। অপর অভিযানে পাহাড় কাটার দায়ে চার ব্যক্তির নাম সংগ্রহসহ একটি মোটর সাইকেল জব্দ করা হয়েছে।

গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মঙ্গলবার দুপুর ১২টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত কক্সবাজার পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক সাইফুল আশ্রাবকে সাথে নিয়ে ভ্রাম্যমাণ অভিযান চালান নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা নির্বাহী অফিসার এসএম সরওয়ার কামাল।

এসময় নাইক্ষ্যংছড়ি বাজারের ব্যবসায়ী আবদুল হক সওদাগরকে ১ লাখ, খায়রুল কবির মনু ১ লাখ, শাহজাহান ১ লাখ, বৃঞ্চ কুমার দাশ ৫০ হাজার এবং হাফেজ আহমদকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এসব ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে প্রায় ২শ কেজি নিষিদ্ধ পলিথিন জব্দ করে ভ্রাম্যমান আদালত।

নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা নির্বাহী অফিসার এসএম সরওয়ার কামাল জানান, নিষিদ্ধ ঘোষিত পলিথিন শপিং ব্যাগ উৎপাদন, আমদানি, বাজারজাতকরণ, মজুদ এবং পাহাড় কাটায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে।

প্রসঙ্গত, গত রবিবার নাইক্ষ্যংছড়ি সদরের ব্যবসায়ী পাড়া এলাকায় পাহাড় কাটার ঘটনায়ও  ভ্রাম্যমান অভিযান চালান নাইক্ষ্যংছড়ি ইউএনও। ওই ঘটনাস্থল পরিদর্শণে এসে মঙ্গলবার আরো বড় তিনটি পাহাড় কাটার অভিযোগ পান পরিবেশ অধিদপ্তর। এসব ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানান পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালন সাইফুল আশ্রাব।




নাইক্ষ্যংছড়িতে দুই ব্যক্তিকে অপহরণ 

বাইশারী প্রতিনিধি:

বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়িতে দুই ব্যক্তিকে অপহরণ করে নিয়ে গেছে সন্ত্রাসীরা। মঙ্গলবার রাত ৩টায় উপজেলার দোছড়ি ইউনিয়নের বাকঁখালী ছাগলখাইয়া এলাকা থেকে তাদের অপহরণ করা হয়। অপহৃতরা হলো- ফয়েজ আহমদের ছেলে মো. হোসন (৪০) ও ফজল করিমের ছেলে নুরুল আজিম (২৯)।

স্থানীয় ইউপি সদস্য নুরুল ইসলাম পরিবারের উদ্ধৃতি দিয়ে জানান, প্রতিদিনের ন্যায় রাতে ঘুমিয়ে পড়ে হোসন ও নুরুল আজিম। রাত ৩টার দিকে ৮-১০জনের অস্ত্রধারী একটি সন্ত্রাসী গ্রুপ ওই দুই কৃষককে নিজ বাড়ি থেকে অস্ত্রের মুখে অপহরণ করে নিয়ে যায়।

তিনি আরো জানান, অপহরণকারীরা এর আগে একই এলাকার নুরুল আমিনের বাড়ি থেকে ৫হাজার টাকা, নুরুল হাকিম থেকে কিছু স্বর্ণ এবং আবদুল মজিদের দোকান থেকে কয়েকটি পানির বোতল ও টাকাসহ মালামাল লুট করে নিয়ে যায়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে নাইক্ষ্যংছড়ি থানার অফিসার ইনচার্জ এএসএম তৌহিদ কবির জানান, অপহরণের খবর শুনে তিনি নিজেই সঙ্গীয় ফোর্সসহ ঘটনাস্থলে পৌঁছান এবং অপহৃতদের উদ্ধারে সম্ভাব্য স্থানে পুলিশ দল অভিযান চালাচ্ছে। পাশাপাশি ছাগলখাইয়া, বিজিবি ক্যাম্পের সদস্যরাও অপহৃতদের উদ্ধারে অভিযানে নামেন।  এই রিপোর্ট পাঠানো পর্যন্ত অপহৃতদের উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি এবং কোন ধরনের খোঁজখবর বা মুক্তিপণের খবরও পাওয়া যায়নি।




নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তে বর্মী সেনাদের স্থলমাইনে আহত হাতিটি মারা গেছে

নাইক্ষ্যংছড়ি প্রতিনিধি:

নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তের ৪৮নম্বর পিলার এলাকায় মিয়ানমারের সেনা দল কর্তৃক পুঁতে রাখা স্থলমাইনে আহত হাতিটি অবশেষে মারা গেছে। গতকাল ২০ নভেম্বর সকাল ৮টায় হাতিটি উপজেলার সদর ইউনিয়নের বাম হাতিছড়া চিকনঝিরি মুখ এলাকায় হাতিটি মারা যায়। ওই দিনই মৃত হাতিটি মাটি চাপা দেওয়া হয়।

নাইক্ষ্যংছড়ি ভারপ্রাপ্ত রেঞ্জ মোবারক হোসেন জানান, বিগত ২ মাস আগে হাতিটি মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে পাড়ি দিতে গিয়ে বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তের ৪৮ নম্বর পিলার এলাকায় মাইন বিস্ফোরণে আহত হয়। এর পর থেকে হাতিটি নানা স্থানে গিয়ে চিৎকার করতে থাকে। পরে গতকাল মারা যায়।

তার অফিসের লোকজন গিয়ে প্রাণী সম্পদ অফিসের ডাক্তার দিয়ে পরীক্ষার পরে মাটিতে পুঁতে ফেলা হয়। এর আগেও মাইন বিষ্ফোরণে আরো বেশ কয়েকটি হাতি মারা যায় নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্ত এলাকায়।




ঘুমধুমে মাদক ব্যবসা বন্ধে পুলিশকে সহযোগিতা করায় দফাদারকে প্রাণ নাশের হুমকির অভিযোগ

উখিয়া প্রতিনিধি:

ঘুমধুমে চোরা-চালান, মাদক ব্যবসা ও অপরাধ দমনে পুলিশকে সহযোগিতা করায় এবার স্থানীয় দুর্বৃত্তরা  জীবন নাশের হুমকি দিয়েছে গ্রাম পুলিশের দফাদার ছৈয়দ আলমকে। চিহ্নিত দুর্বৃত্তরা হুমকির পাশা-পাশি দফাদারকে সরকারি কাজেও বাধা দেওয়া হচ্ছে এমন গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এব্যাপারে দফাদার ছৈয়দ আলম বাদী হয়ে সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেছে বলে জানা গেছে। যার মামলা নং- সিআর ১৪৭/২০১৭।

আদালতে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয় নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঘুমধুম ইউনিয়নের দফাদার ও ৯নং ওয়ার্ড়ের মনজয় পাড়া গ্রামের মৃত দলিল আহমদের পুত্র ছৈয়দ আলম গ্রাম পুলিশ বাহিনীর সদস্য হিসাবে দায়িত্ব পালন করে আসছে। এলাকায় চোরা-চালান, মাদক, ইয়াবা ব্যবসা বন্ধে পুলিশকে সহযোগিতা করাসহ তিনি অপরাধ দমনে রাত-দিন দায়িত্ব পালন করে থাকে। অতি সম্প্রতি ৯নং ওয়ার্ডের ভালুকিয়া পাড়া গ্রামে এক নিরহ পরিবারের পিতৃহীন কিশোরী কন্যাকে ধর্ষণের পর অপহরন করে স্থানীয় সন্ত্রাসীরা। ইউনিয়নের দফাদার হিসাবে ওই ঘটনা বিষয়ে থানায় মামলা দায়ের করতে সহযোগিতা করায় আসামিরা ক্ষুদ্ধ হয়ে উঠে।

দফাদার ছৈয়দ আলম অভিযোগ করে বলেন, একই এলাকার এখলাছ মিয়ার পুত্র মো. জসিম উদ্দিন ধর্ষণ মামলার আসামিদের পক্ষে অবস্থান নিয়ে সহযোগিতা করার কারণে তাকে প্রতি নিয়ত হুমকি-ধমকি দিয়ে যাচ্ছে। শুধু তাই নয় বেশি বাড়া-বাড়ি করলে পরিনাম ভাল হবেনা বলে ও হুংকার দিচ্ছে। জসিম নিজেকে একজন ক্লাবের বড় নেতা পরিচয় দিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ্যে এ হুমকি দিয়েছে বলে গ্রাম বাসিরা জানান।

এব্যাপারে গত ১৬ নভেম্বর দফাদার ছৈয়দ আলম বাদী হয়ে জসিম উদ্দিনকে প্রধান আসামি করে বান্দরবান চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা দায়ের করেছে।




নাইক্ষ্যংছড়িতে মানবিক সংকটে ৭৮ রোহিঙ্গা পরিবার

নিজস্ব প্রতিবেদক, বান্দরবান:

নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা সদর থেকে প্রায় ২৫ কিলোমিটার দুরে দুর্গম দোছড়ি ইউনিয়নের বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তে শূন্য রেখার কাছে ‘বাহির মাঠ’ এলাকায় একটি ত্রাণ শিবিরে আশ্রয় নিয়েছে ৭৮টি রোহিঙ্গা পরিবার। চাল, ডাল, তেল ছাড়া অন্য কোনো ত্রাণ তাদের ভাগ্যে এখন পর্যন্ত জোটেনি।

দুর্গম পাহাড়ের ঢালুতে ৪০-৫০টি ঝুপড়ি ঘর। এসব ঘরে মাথা গোঁজার ঠাঁই হয়েছে ৭৮ রোহিঙ্গা পরিবারের। শিবিরে থাকা বেশির ভাগ শিশুর গায়ে জামা নেই ও ভুগছে নানাবিধ রোগে। খাদ্য সংকট ও স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে রয়েছে বলে তারা জানান।

বাহির মাঠ ত্রাণ শিবিরের একটি ঝুপড়িতে স্ত্রী ও ছয় ছেলেমেয়েকে নিয়ে থাকেন শামসুল আলম (৪৫)। তার বাড়ি মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের কুমিরখালী গ্রামে। সেখানকার একটি মসজিদের ইমাম ছিলেন তিনি। গত ২৫ আগস্ট মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে আসা রোহিঙ্গাদের সঙ্গে তিনি পরিবার নিয়ে সীমান্ত পেরিয়ে আশ্রয় নেন এখানে।

শামসুল আলম বলেন, এখানে খাবার পানির তীব্র সংকট। দোছড়ি ইউনিয়ন পরিষদ গত সেপ্টেম্বর মাসে একটি নলকূপ স্থাপন করে দিলেও সেটি নষ্ট হয়ে গেছে। পাহাড়ি একটি ছড়ায় বাঁধ দিয়ে পানির চাহিদা পূরণ করছেন তারা। নোংরা পানি খেয়ে ডায়রিয়াসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছে শিবিরের বাসিন্দারা।

নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, রাখাইন রাজ্যে সহিংসতা শুরু হওয়ার পরদিন ৭৮ পরিবারের ৩৬২ রোহিঙ্গা ৪৯ নম্বর সীমান্ত পিলারের কাছাকাছি বাহির মাঠ এলাকার আশ্রয় নেয়। কয়েক দিন আগে এই শিবিরে জন্ম নেয় দুই শিশু। এই ত্রাণ শিবিরের বাসিন্দা ৩৬৪জন। এর মধ্যে শিশু ১৭১, নারী ১০০ ও পুরুষ ৯৩ জন।দুর্গম এই শিবিরের বাইরে নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তে আরও দুটি রোহিঙ্গা ত্রাণ শিবির রয়েছে। এর মধ্যে উপজেলার ঘুমধুম ইউনিয়নের বড় ছনখোলায় রয়েছে প্রায় ৭ হাজার রোহিঙ্গা এবং সাপমারাঝিরি আশ্রয় শিবিরে থাকছে আরও তিন হাজার রোহিঙ্গা। এই দুটি শিবিরে থাকা রোহিঙ্গারাও খুব একটা ত্রাণ পাচ্ছে না।

নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম সরওয়ার কামাল বলেন, রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি ও উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে বাহির মাঠ ত্রাণ শিবিরের রোহিঙ্গাদের ত্রাণ দেওয়া হচ্ছে। নাইক্ষ্যংছড়ির তিনটি শিবিরে থাকা সব রোহিঙ্গাকে উখিয়ার ত্রাণ শিবিরে পাঠানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। ইতিমধ্যে প্রায় তিন হাজার রোহিঙ্গাকে উখিয়ায় স্থানান্তর করা হয়েছে।

নাইক্ষ্যংছড়ির দোছড়ি ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হাবিবুল্লাহ জানান, পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলে বিদেশি নাগরিক ও দাতা সংস্থার প্রবেশাধিকার সীমিত থাকায় বাহির মাঠে থাকা রোহিঙ্গাদের ত্রাণ দিতে অনেকে যেতে পারছেনা। সেখানকার যোগাযোগ ব্যবস্থাও খুব খারাপ। ফলে ওই শিবিরের ৩৬৪জন রোহিঙ্গা ত্রাণ ও মানবিক সহায়তা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

রোহিঙ্গা নারী মাজেদা বেগম (৩৬) বলেন, আড়াই মাস ধরে এই ঝুপড়িতে আছেন তারা। ছেলে মেয়েরা ঠিকমতো খেতে পারছে না। মিয়ানমারের কিছু মুদ্রা (কিয়াত) হাতে থাকলেও তা দিয়ে কিছুই কেনা যাচ্ছে না।

আরেক নারী তাহেরা বেগম (৫০) বলেন, এ পর্যন্ত তিন দফা চাল, ডাল, তেল পেয়েছেন তারা। কিন্তু মাছ, মাংস, তরকারি কিছুই নেই। খেতে না পেরে ছেলেমেয়েরা অসুস্থ হয়ে পড়ছে। নেই চিকিৎসার ওষুধ।




পোষাক-পরিচ্ছেদ নিয়ে মিয়ানমার সেনাদের অমানবিক আচরণ এখনো তাড়া করে

নাইক্ষ্যংছড়ি প্রতিনিধি:

মাওলানা হাফেজ আহমদ বড়ছনখোলা  অস্থায়ী রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আশ্রয় নিয়েছেন গত ২৭ আগস্ট থেকেই। তার সাথে আছেন পরিবারের আরো ৯ সদস্য। তাদের আরো ৩জন মাওলানা আছেন। তার পরিবারে নারী সদস্য আছে ৪জন। বাকীরা শিশু। তারা মিয়ানমরের মন্ডুর সিকদার পাড়ায় বসবাস করতেন। মিয়ানমারের বৌদ্ধ সেনারা প্রথাগত নানাবিধ নির্যাতন করতে গিয়ে সীমা ছাড়িয়ে গেলেও তাদের বলার কিছু ছিল না কখনোই।

বছরের পর বছর ধরে মিয়ানমার সেনাদের অমানবিক নির্যাতনের মধ্যদিয়ে দিন যাপন করলেও  বৌদ্ধদের এ আচরণের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ তো দূরের কথা, বড় করে কথা পর্যন্ত বলতে পারতো না তারা। আর এ কারণে তার পরিবারকে বাধ্য হয়ে বৌদ্ধ পোষাক পরিধান করতে হতো বৌদ্ধ সেনাদের আদেশে। আর এটা পরিধান করে ছবি তুলে সরকারি অফিসে জমা দিতে হতো প্রতিবছর। এভাবে আরো কতকিছু। তাদের এ কর্মকাণ্ড অমান্য করলে ক্ষমা করা হয় না কাউকেই। তাদের কঠোর শাস্তি দেয়া হয়। যা অস্বাভাবিক। এভাবে আরো নানাবিধ অত্যচারের কথা অপকটে বলতে থাকেন মাওলানা হাফেজ আহমদ।

তিনি আরো বলেন, তার পরিবারের ১০ সদস্যের সবাই  নামাজ-কালাম ও কোরআন পড়ে। একজন মুসলিম হিসেবে ইসলাম ধর্মের যাবতীয় অনুশাসন তার পরিবার মেনে চলার কথা কিন্তু মিয়ানমারের বৌদ্ধ সেনারা তাদের সে চিন্তা চেতনাকে ধুলোর সাখে মিশে দেয় ক্ষমতার দাপটে।  শুধু ধর্ষণ নয়, হত্যা, জেল-জুলুম এদের নিত্য দিনের ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে।

তিনি এ প্রতিবেদককে বলেন, তার সংসারের অন্যতম সদস্য তার  স্ত্রী ছালেমা খাতুন। একজন মাওলানা স্ত্রী হিসেবে যেভাবে তার পোষাক পরিচ্ছেদ পরিধানের কথা ছিল তা সে পারেনি পড়তে। প্রতিদিন বৌদ্ধসেনারা এসে তদারকি করতো পোষাকের কোন হেরপের হয় কি-না। মেয়ে খুরশিদা বেগমেরও একই কপাল। পুত্রবধু ঝানুরা বেগমের একই ভাগ্য। এভাবে সবার ভাগ্য একই। তাদের বৌদ্ধ পোষাক পরিধানের বিকল্প নেই।

স্ত্রী ছালেমা বেগম জানান, মুসলমানদের ইসলাম ধর্মীয় লেবাস ও আদাব আহলাক পালনে বাধা দিয়ে মগরা ধর্মান্তরিত করতে উদ্বুদ্ধ করে আসছিল নানা কৌশলে। তার এ সবের বলি তার পরিবারও। যাতে প্রতিটি মুসলিম পরিবারের জন্যে অবমাননাকর। যা তাদের এখনও  তাড়া করে এবং হাফিয়ে উঠে নিয়মিত। এভাবে আরকান রাজ্যের শতশত গ্রামের  লক্ষ লক্ষ মুসলমানদেরকে এ অত্যাচার করে আসছিল বর্মি সেনারা। যা নীরবে সয়ে আসছিল তারা।

আর এরই মাঝে গত ২৫ আগস্ট রাতে আতাউল্লাহ বাহিনীর হামলায় মিয়ানমারের ৩৩ সীমান্ত চৌকিতে হামলার পর এ অত্যাচারের মাত্রা বাড়িয়ে শুরু করে বাড়ি-ঘরে অগ্নি সংযোগ, গণহত্যা,গণধর্ষণ ও গণঅত্যাচার। আর এর বলি এ হাফেজের পরিবারও। যা বাংলাদেশে পালিয়ে আসা লক্ষ লক্ষ রোহিঙ্গা নিপিড়নের স্বীকার।




নাইক্ষ্যংছড়িতেও এখন বিলুপ্তির পথে গ্রাম বাংলার ঐতিহ্য, গরু দিয়ে ধান মাড়াই

 

বাইশারী প্রতিনিধি:

রূপ, রং আর ঋতু বৈচিত্র্যের পাহাড়ের দেশ বাংলাদেশ। শষ্যের শ্যামলতা ভাটিয়ালীর পার্বত্য অঞ্চলের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার এগার জাতির সুরের গান, রাখালের বাঁশি, কৃষাণের উদার জমিন, কৃষাণীর ধান ভানার উল্লাস, ছয় রূপের ছয়টি ঋতু সব মিলিয়ে এ যেন কোনো শিল্পীর নিপুণ হাতে রং তুলিতে আঁকা স্বপ্নের দেশ। এদেশে সন্ধ্যে-সকালে ডাহুক, দোয়েল, কোয়েলের ডাকে ঘুম ভাঙ্গে। প্রকৃতির পালাবদলে আসে ছয়টি ঋতু। ঋতু চক্রের ঘূর্ণায়মান রূপকালে এখন হেমন্ত কাল।

কৃষকের সবুজ শ্যামল ধানের ক্ষেত সোনা রং ধারণ করছে। পাকা ধানের মৌ মৌ গন্ধে বাতাস ভরে উঠেছে। মাঠে-মাঠে, ঘরে-ঘরে চলছে ধান কাটার উৎসব। দিনেতো হাজারো ব্যস্ততা আছেই তার ওপর রাতভর চলে ধান মাড়াইয়ের কাজ। এতো ব্যস্ততার পরেও কৃষক তার কৃষাণ বধূ মহাখুশি। ধান নিয়ে গোলাভরে আনছে মেতে উঠে নবান্নে উৎসবে। নতুন চালের ভাত, পিঠা-পুলি, আর পায়েসের গন্ধ ভেসে আসে প্রায় প্রতিটি ঘর থেকে।

তবে আধুনিক বিজ্ঞানের যুগে অপার আধুনিকতার ছোঁয়া লেগেছে আমাদের কৃষিক্ষেত্রে। ধান বপন, রোপণ, ধান কাটা, মাড়াই করা এমনকি ধান থেকে চাল করা নিয়ে প্রত্যেকটা কাজই সম্পন্ন বিজ্ঞানের নব নব আবিষ্কার দ্বারা। গরু আর লাঙ্গল টানা সেই জরার্জীণ কৃষককে এখন আর দেখা যায় না। হালের গরু ছেড়ে কৃষক এখন সাহায্য নেয় ট্রাক্টরের। এর ছোঁয়া লেগেছে পার্বত্য বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলেও। এখন নাইক্ষ্যংছড়িতেও বিলুপ্তির পথে গ্রাম বাংলার ঐতিহ্য গরু দিয়ে ধান মাড়াই।

পাঁচ মিনিটেই জমি প্রস্তুত। বৃষ্টির জন্যে অপেক্ষা করতে হচ্ছে না। পাম্পের সাহায্যে সেচ কাজ করে পানির চাহিদা মিটানো হচ্ছে। প্রতিনিয়তই নিত্যনতুন সব কীটনাশক বাজারে আসছে। এখন আর কৃষককে রৌদ বৃষ্টিতে ভিজে ধানের বীজ তার শষ্যক্ষেতে ছিটিয়ে দিতে হয় না। জমিতে বীজ ছিটানোর জন্যে এখন আছে অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি। ধানের পাতা পরীক্ষা করে এ জমির উপযোগী কীটনাশক ব্যবহার করা হচ্ছে। ধানের আগাছা পরিষ্কার করার জন্যেও ব্যবহার হচ্ছে এক ধরনের দাঁতালো যন্ত্র। ধান কাটার ক্ষেত্রেও ব্যবহৃত হচ্ছে ধান কাটার যন্ত্র। দিনব্যাপী চাষাকে আর গায়ের ঘাম ঝরিয়ে ধান কাটতে হচ্ছে না।

ধান কেটেই কি শেষ, ধানতো ঘরে তুলতে হবে। মাড়াই করতে হবে। আগে গাঁয়ের বৌ ঝিয়েরা পিটিয়ে, পা দিয়ে মাড়িয়ে ধান নিতো। কিন্তু এখন সময়ের সাথে সাথে আস্তে আস্ত সেই পিটিয়ে বা গরুর পা দিয়ে মাড়িয়ে ধান নেয়া অনেকাংশেই কমে এসেছে।

এখন হরেক রকমের ধান মাড়াইয়ের যন্ত্র বাড়ি বাড়ি গিয়ে সেবা দিয়ে আসছে। কাজ কিন্তু এখনো শেষ হয়নি। আরো কিছুটা ব্যস্ততা এখনো আছে। ধান থেকেতো চাল করতে হবে। তো চালটা কি মায়েরা, চাচীরা রাত জেগে ঢেঁকিতে দুলে দুলে করবে? মোটেই না ধান থেকে চাল করার জন্যে মেশিনতো আমার ঘরের সামনেই হাজির। তাহলে আর এতো কষ্ট কিসের? আর তাছাড়া শষ্য রোপণ থেকে শুরু করে মাড়াই পর্যন্ত সবকিছুই করা যায় শষ্যের জমিতে। বিজ্ঞান এবং আধুনিকতা

এই দুইয়ে মিলে আমাদের কৃষি কাজে এনে দিয়েছে আমূল পরিবর্তন। তবে এটাও ঠিক বিজ্ঞানের এই নব নব আবিষ্কারের ভিড়ে আমরা হারাতে বসেছি আমাদের নিজস্ব সংস্কৃতিকে, আমাদের স্বকিয়তাকে, আমাদের সত্তা। আর এই বৈজ্ঞানীক যন্ত্রপাতির প্রত্যেকটিই খুবই ব্যয়বহুল। আর আমাদের দেশের অধিকাংশ কৃষকই দরিদ্র সীমার নিচে বাস করে। তারা এখনো মাথার ঘাম পায়ে ফেলে আমাদের অন্ন যোগান দেয়। তবে আস্তে আস্তে সবই আমাদের করায়ত্ত হবে। বিজ্ঞানের এই আবিষ্কারগুলো আমাদের দৈনন্দিন জীবনকে করেছে সহজ, সাবলীল আর অর্থনীতির চাকাকে করেছে সমৃদ্ধ।

নাইক্ষ্যংছড়ি সদর ইউনিয়নের মধ্যে আদর্শ গ্রাম, উত্তর বিছামারা ও চাক্ হেডম্যান পাড়া গুলো  ঘুরে দেখা যায় কয়েকটি পরিবারে এখনো গরু দিয়ে ধান মাড়াইয়ের কাজ চলছে। আর এদিকে  উপজাতীয় নারীরাও পা দিয়ে ধান মাড়াই করছেন। সদরের মংছাথোয়াই হেডম্যান পাড়ার কথা হয় চাক্ সম্প্রদায়ের জুম্মা কৃষক থোয়াই ম্রো অং চাক্ ও আদর্শ গ্রামের  আঃ সালামের সাথে। তারা বলেন, সমতলের জেলা-উপজেলার মতো পাহাড়ের জেলা-উপজেলাতেও আগে প্রতি ঘরে ঘরে গরু দিয়ে ধান মাড়াই হতো। এখনো মেশিন দিয়ে ধান মাড়াই হয়। এতে ব্যয় একটু বেশি হলেও সময় বাঁচে। গরু দিয়ে ধান মাড়ানো সম্পর্কে তিনি বলেন, ঐতিহ্য ধরে রাখতে এখনো গরু দিয়ে ধান মাড়াই করছি।




ঘুমধুমে অপহরণের শিকার হলেন ধর্ষিতা কিশোরী

উখিয়া প্রতিনিধি:

ধর্ষণের শিকার ও মামলার ভিকটিম কিশোরী রেশমিন আক্তারকে এবার অপহরণ করেছে সন্ত্রাসীরা। ঘটনাটি ঘটেছে ঘুমধুম ইউনিয়নের ভালুকিয়া গ্রামে। কিশোরী অপহরণের ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়াসহ ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

থানায় দায়েরকৃত মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ঘুমধুম ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের ভালুকিয়া পাড়া গ্রামের মৃত জালাল আহমদের কন্যা রেশমি আক্তার (১৫) কে গত ৮ নভেম্বর সন্ধ্যায় স্থানীয় একদল সন্ত্রাসী জোরপূর্বক অপহরণ করেন। এসময় বয়োবৃদ্ধ মা বাঁধা দেওয়ার চেষ্টা করলে অপহরণকারীরা তাকেও মারধর করে। এ ব্যাপারে মা গোলতাজ বেগম বাদী হয়ে নাইক্ষ্যংছড়ি থানায় এজাহার দায়ের করে। এতে আসামি করা হয় একই এলাকার সোনা আলীর পুত্র মিজানুর রহমান (২৪) মোহাম্মদ জসিম (৩৩) সহ ৪জন কে।

মামলার বাদিনী অসহায় গোলতাজ বেগম অভিযোগ করে বলেন গত ১৫ সেপ্টেম্বর স্থানীয় যুবক রফিক উদ্দিন বিয়ের প্রলভন দেখিয়ে তার কিশোরী কন্যাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে পালিয়ে যায়। এ ব্যাপারে বান্দরবান আদালতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন অপরাধে মামলা দায়ের করা হয়। যার নং- ৪১/২০১৭ইং।

স্থানীয় এলাকাবাসীরা জানান, ধর্ষণের ঘটনাকে ধামা চাপা দিতে ধর্ষিতা ভিকটিম কিশোরী রেশমীকে মামলার আসামিরা অপহরণ করে অজ্ঞাত স্থানে আটকিয়ে রেখেছে।




ব্র্যাকের অপরিকল্পিত স্যানিটেশন ব্যবস্থা: রোহিঙ্গা ক্যাম্পের পরিবেশ বিপন্ন

ঘুমধুম প্রতিনিধি:

মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থা নিশ্চিতকরার লক্ষ্যে কতিপয় এনজিও সংস্থা কোনো রকম বিজ্ঞপ্তি বা টেন্ডার আহ্বান না করে তড়িঘড়ি করে এক চাকা বিশিষ্ট ল্যাট্টিন স্থাপন করেছে। সপ্তাহ না পেরোতেই ঐসব ল্যাট্টিন পরিপূর্ণ হয়ে মলমূত্রে একাকার হয়ে পড়েছে। ফলে দুর্গন্ধ ও অস্বাস্থ্যকর বিপন্ন পরিবেশে রোগ-বালাই বাড়ছে। এ নিয়ে বিপাকে পড়েছেন স্থানীয়রা।

সেসব এনজিও সংস্থা বিশেষ করে ব্র্যাকের অনিয়ম, দুর্নীতি ও সেচ্ছাচারিতার বিরুদ্ধে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নিকট অভিযোগ করেছেন স্থানীয় চেয়ারম্যান।

শুক্রবার সরেজমিনে ক্যাম্পের রোহিঙ্গাদের সাথে কথা বলে জানা যায়, এনজিও সংস্থা ব্র্যাক অধিকাংশ ল্যাট্টিন স্থাপন করেছে তাদের নিজস্ব লোকজন দিয়ে। ১০ ইঞ্চি প্রস্থের এসব ল্যাট্টিন ৭ দিন যেতে না যেতেই মলমূত্রে ভর্তি হওয়ায় এখন পুরোপুরি ব্যবহার অযোগ্য। তাছাড়া বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন ক্যাম্পবাসী।

থাইংখালী শফিউল্লাহ কাটা গ্রামের স্থানীয় বাসিন্দা নুরুল ইসলাম অভিযোগ করে জানান, বিভিন্ন এনজিও সংস্থা কর্তৃক বসানো ল্যাট্টিনগুলো ব্যবহার অনুপযোগী হওয়ার কারণে রোহিঙ্গা বিশেষ করে মেয়েরা লজ্জা-শরম ত্যাগ করে বাড়ির আনাচে-কানাচে ঝুপড়িতে মলমূত্র ত্যাগ করছে। যার ফলে স্থানীয়রা দুর্গন্ধে বাড়িতে থাকতে পারছেনা। এতে পরিবেশ বিপন্ন হচ্ছে।

পালংখালী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এম গফুর উদ্দিন চৌধুরী এ ঘটনার সত্যতাস্বীকার করে বলেন, এনজিও সংস্থা ব্রাক ল্যাট্টিন নির্মাণের নামে মোটা অংকের টাকা পকেটস্থ করে নামেমাত্র এক চাকার ল্যাট্টিন দিয়ে পরিবেশ নষ্ট করেছে।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নিকট লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে।উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নিকারুজ্জামান জানান, বিষয়টি নিয়ে ব্র্যাকের কর্মকর্তার সাথে আলোচনা করা হয়েছে। তারা ১ চাকার ল্যাট্টিনের পরিবর্তে ৩ চাকার ল্যাট্টিন নির্মাণের প্রস্তুতি নিয়েছে।

এ ব্যাপারে ব্র্যাকের সেক্টর স্পেশালিস্ট সাইফুল ইসলামের সাথে আলাপ করা হলে তিনি জানান, প্রথম দিকে ল্যাট্টিন স্থাপনের সময় তিনি কর্মস্থলে যোগদান করেননি। বর্তমানে যে সব ল্যাট্টিন স্থাপন করা হচ্ছে তা দীর্ঘস্থায়ী পরিকল্পনা নিয়ে করা হচ্ছে।




নাইক্ষ্যংছড়িতে শিশুদের স্বাস্থ্য সেবা ও পুষ্টি কার্যক্রমে সহায়তা করছে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড

 

বাইশারী প্রতিনিধি:

বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলায় সমন্বিত সমাজ উন্নয়ন প্রকল্পের (আইসিডিপি) মাধ্যমে ইউনিসেফ শিশুদের স্বাস্থ্য সেবা ও পুষ্টি কার্যক্রমে সহায়তা করছে। পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের মাধ্যমে সরকার ও ইউনিসেফের যৌথ অর্থায়নে নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলায় প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা কার্যক্রমের পাশাপাশি ১৭৯টি পাড়া কেন্দ্রে স্বাস্থ্য সেবা ও পুষ্টি কার্যক্রম চলছে।

সমন্বিত সমাজ উন্নয়ন প্রকল্পের (আইসিডিপি) বান্দরবান জেলার ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রকল্প ব্যবস্থাপক প্লু প্রু জানান, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের তত্ববধানে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড ৩ পার্বত্য জেলায় পাড়া কেন্দ্রের মাধ্যমে নারী ও শিশুদের উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে। প্রকল্পের পাড়া কেন্দ্রের মাধ্যমে শিশুর পুষ্টি, স্বাস্থ্য সম্মত পায়খানা ও নিরাপদ পানির ব্যবহার, শিশু ও নারীর অধিকার ইত্যাদি বিষয়ে সচেতনা বৃদ্ধি পেয়েছে। তাছাড়া পাড়া কেন্দ্রের আওতাভুক্ত কিশোর ও মহিলাদের আয়রন ট্যাবলেট খাওয়ানো বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলায় ৭৯টি পাড়া কেন্দ্রে ৩-৫ বছর বয়সি ২৪৬৬জন এবং ৫-৬ বছর বয়সি ১১৪৯জনসহ সর্বমোট ৩৬১৫জন শিশু শিক্ষা গ্রহণ করছে।

উত্তর হলুদ্যাশিয়া পাড়া কেন্দ্রের সভাপতি অবসর প্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক জাফর আলম জানান, পাড়া কেন্দ্রের সচেতনতা কার্যক্রমের দরুন এলাকায় স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধি পেয়েছে। খাবার গ্রহণের আগে হাত ধোয়ার অভ্যাস সৃষ্টি হয়েছে। স্বাস্থ্য সম্মত পায়খানা ও নিরাপদ পানি ব্যবহারের গুরুত্ব পাড়াবাসী বুঝতে পেরেছে। পাড়া কেন্দ্রের পাড়াকর্মী সেলিনা আক্তার বেবি জানান, পাড়ায় নিয়মিত উঠান বৈঠকের মাধ্যমে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও পুষ্টি বিষয়ে সচেতন করা হচ্ছে এবং শিশুদের পুষ্টিহীনতা দূর করার লক্ষ্যে পাড়াকেন্দ্রের আঙ্গিনায় শাক-সবজি বাগান চাষাবাদের পর শিশুদের পরিবারের মাঝে বিতরণ করা হয়।

ইউনিসেফের ৩ পার্বত্য জেলার প্রোগ্রাম অফিসার মংঞোই জানিয়েছেন, আইসিডিপি প্রকল্পে ইউনিসেফ অর্থ সহায়তা প্রদান করছে। প্রকল্পের নিজস্ব কার্যক্রমের পাশাপাশি পাড়া কর্মীগণ মা ও শিশুদের জন্য ভিটামিন, পুষ্টি, ইপিআইসহ গৃহীত জাতীয় কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করছে। এছাড়াও বিভিন্ন জাতীয় দিবসে পাড়া কর্মী ও শিশুরা খেলাধুলাসহ বিভিন্ন প্রোগ্রামে অংশগ্রহণ করে থাকে। মা ও শিশুদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় ছোট ছোট প্রকল্পের মাধ্যমে স্বাস্থ্য সুরক্ষা বিষয়ক কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা পরিষদ ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান কামাল উদ্দিন জানান, পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড পরিচালিত আইসিডিপি পাড়া কেন্দ্রে কোমলতি শিশুদের পাঠদানের মাধ্যমে স্কুলমুখী করার একমাত্র মাধ্যম হচ্ছে আইসিডিপি পাড়া কেন্দ্র। ওই কেন্দ্রের কর্মীদের আরো সম্মানী ভাতা বৃদ্ধির জন্য উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করেন। যাহাতে করে কর্মীরা কোমলমতি শিশুদের পাঠদানে উৎসাহিত হয়।

উপজেলার প্রকল্প ব্যবস্থাপক একেএম রেজাউল হক জানান, সমন্বিত সমাজ উন্নয়ন প্রকল্পের আওতাধীন উপজেলায় অবস্থিত পাড়াকেন্দ্রগুলি যথাযথ পরিদর্শণ, পাড়াকর্মীদের প্রশিক্ষণ প্রদান, মাসিক ক্লাস্টার প্রোগ্রাম, স্কুল ফিডিং প্রোগ্রাম, কমিউনিটি মুবিলাইজেশন কর্মশালা ও জাতীয় প্রোগ্রামের অংশগ্রহণের মাধ্যমে শিশুদের মেধাবিকাশে কাজ করে যাচ্ছি। পাশাপাশি আমার আওতাধীন পাড়াকর্মী ও সিনিয়র কর্মীরা প্রশিক্ষণ নিয়ে সঠিকভাবে কেন্দ্র পরিচালনা করে আসছে। আগামীতে দুর্গম পাহাড়ের অবস্থিত জনসাধারণের মাঝেও নতুন করে পাড়াকেন্দ্র নির্মাণের জন্য উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছেন বলে জানান।

সিভিল সার্জনের পক্ষে বান্দরবান সদর হাসপাতালের জুনিয়র কনসালটেন্ট (শিশু) ডা. মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, ইউনিসেফের সহযোগিতায় গরীব গর্ভবতী মা ও নবজাতক শিশুদের স্বাস্থ্য সহায়তা প্রদান করা হয়। গরীব রোগিদের উন্নত চিকিৎসার জন্য যাতায়াত ভাড়া ও চিকিৎসা সহায়তা প্রদান করা হয়। পাশাপাশি বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির আওতায় এন.জেড একতা মহিলা সমিতি লামা বাস্তবায়নে শিশুদের ভিটামিন সমৃদ্ধ বিস্কুট প্রদান করে থাকেন।

এ বিষয়ে এন.জেড একতা মহিলা সমিতির নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার দায়িত্ব প্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুর রশিদ জানান, উপজেলায় সর্বমোট ১৭৯টি পাড়া কেন্দ্রে মধ্যে ১৭৩টি কেন্দ্রে ৫০ গ্রাম ওজনের ভিটামিন সমৃদ্ধ বিস্কুট খাওয়ানো হয়। আগামীতে বাকী কেন্দ্র গুলোকেও ভিটামিন সমৃদ্ধ বিস্কুট প্রোগ্রামের আওতায় আনা হবে। তাই ভিটামিন সমৃদ্ধ বিস্কুটের যথাযথ সংরক্ষণ ও নিয়মিত শিশুদের খাওয়ানো পরামর্শ দেন।