রোহিঙ্গাদের ত্রাণবাহি ট্রাক উল্টে নিহত ৯ শ্রমিকের দাপন সম্পন্ন: তদন্ত কমিটি গঠন

 

ফলোআপ—-

নাইক্ষ্যংছড়ি প্রতিনিধি:

বৃহস্পতিবার সকালে নাইক্ষ্যংছড়ির দূর্গম চাকঢালায় মর্মান্তিক দূর্ঘটনায় নিহত ৯ শ্রমিকের মধ্যে ৮ শ্রমিকের দাপন সম্পন্ন হওয়ার পাশাপাশি বাকী বড়ুয়া সম্প্রদায়ের মারা যাওয়া শ্রমিকের সৎকর্ম ও শেষ করা হয়। ঘটনার দিন রাতেই এদের  এ কাজ শেষ করা হয়।  এদিকে এ ঘটনার বিষয়ে  বান্দরবানের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেডকে প্রধান করে  ৪ সদস্য বিশিষ্ট  ১টি তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন বান্দরবান জেলা প্রশাসন। কমিটি ৩ দিনের মধ্যে তাদের রিপোর্ট জমা দেবেন বান্দরবান জেলা প্রশাসকের দপ্তরে।

সূত্র আরো জানায়, বান্দরবান রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির তত্বাবধানে কক্সবাজার রেড ক্রিসেন্টের সহায়তায় সেদিন ২ ট্রাক ত্রান নিয়ে যাচ্ছিল নাইক্ষ্যংছড়ির চাকঢালা বড়ছন খোলা নামক রোহিঙ্গা ক্যাম্পে। সোসাইটির লোকজন এ ত্রান গুলো  কক্সবাজারের উখিয়া থেকে  নাইক্ষ্যংছড়ি সদরে  পৌঁছান সকাল ৭ টায়। আর এখান থেকে চাকঢালা বাজার পার হয়ে এ সড়ক  দিয়ে রওয়ানা দেয় সীমান্তের রোহিঙ্গা ক্যাম্পে। এভাবে সকাল সাড়ে পৌঁনে ৮ টায় তারা পৌঁছে সড়কের আমতলি মাঠ এলাকা তথা চাকঢালা বিজিবি চৌকি এলাকায়।  সড়ক ও জনপদ বিভাগের এ সড়কটির তদারকি না থাকায় নানা স্থানে খানাখন্দকে বেহাল হয়ে পড়া সড়কের । আর এই স্থানেও এই দূর্গম  অবস্থা হওয়ায় ট্রাকটি মাল সহ উল্টে যায় পশ্চিমপাশে।

এদিকে  শুক্রবার বিকেলে নাইক্ষ্যঙছড়ি উপজেলা নির্বাহী অফিসার এসএম সরওয়ার কামাল জানান, রোহিঙ্গাদের জন্যে দান করা ত্রাণ সামগ্রির জন্যে সরকারি ভাবে গোদাম ঠিক আছে চাকঢালা জুনিয়র হাই স্কুলে। খোদ  মন্ত্রী বীর বাহাদুর  মহোদয় সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এ স্টকে তাদের ত্রাণসামগ্রী জমা দিয়ে আসছেন গত ২ সপ্তাহ। কিন্তু রেড ক্রিসেন্টের ত্রাণ তারা নিজেরাই বিতরণ করছেন । সেদিনের গুলোও তারা নিয়ে যাচ্ছিল প্রশাসনের অগোচরেই।

এ ছাড়া তিনি আরো জানান, তার পরেও অনাকাঙ্খিত এ ঘটনার খবর পেয়ে বানদরবানের এমপি ও পাবর্ত্য চট্টগ্রাম প্রতিমন্ত্রী বীর বাহাদূর উশৈসিং বৃহষ্পতিবার বিকেলেই  ছুটে আসেন নাইক্ষ্যংছড়িতে। সাথে বান্দরবান জেলা প্রশাসক দিলীপ কুমার বণিক সহ অনেকেই  তার সাথে ছিলেন। এ সময় জেলা প্রশাসক বান্দরবানের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেড  মফিদুল আলম প্রধান করে ১টি কমিটি গঠন করেন। কমিটির অন্যান্য সদস্যরা হলেন, নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা নির্বাহী  অফিসার, বান্দরবানের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও বান্দরবান সড়ক ও জনপদের একজন প্রতিনিধি।

তারা আগামী ২৪ সেপ্টেম্বরের মধ্যে তাদের তদন্ত রিপোর্ট বান্দরবান জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে জমা দেবেন। পরবর্তীতে এ রিপোর্টের উপর ভিত্তি করেই ঘটনার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। 

এদিকে এ তদন্ত কমিটিতে থাকা এ প্রভাবশালী সদস্য এ প্রতিবেদককে জানান, অত্যন্ত স্বচ্ছভাবে তদন্ত হবে। ৯জনের মৃত্যু  আর ১৫জন আহতের এ ঘটনা মর্মান্তিক। তদন্ত কমিটি নির্দিষ্ট সময়ে সুপারিশ সহ প্রতিবেদন জমা দেবে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে। এর পরই বাকী প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।

অপরদিকে সচেতন মহলের দাবি, এ ঘটনাটি নিছক কোন দূর্ঘটনা নয়। সরকারের নির্দেশে অমান্য করে সংশ্লিষ্টরা রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ত্রান বিতরণ করে আসছে গত ১৫ দিন। তারা বড়ছন খোলা রোহিঙ্গা ক্যাম্পে টয়লেট, নলকূপ ও নানা আইটেমের ত্রাণ দিয়ে আসছে নিয়মিত। গত দু’দিন ধরে তারা প্রায় ১ হাজার পরিবারকে বেশ কিছু ত্রাণ দিয়েছেন। আর বৃহস্পতিবার দূর্ঘটনায় হতাহতের এ ট্রাকভর্তি ৫ শত পরিবারের ত্রাণও এই একই রোহিঙ্গা ক্যাম্পে নিয়ে যাচ্ছিল রেডক্রিসেন্ট কর্তৃপক্ষ।

প্রত্যক্ষর্দশী একাধিক এলাকাবাসী জানান, সেদিনের ত্রাণ পরিবহনের জন্যে নিয়োগ দেয়া শ্রমিকদের অধিকাংশই মিয়ানমার নাগরিক ছিল। এদের মধ্যে  ত্র্রাণবাহী  ২টি ট্রাক এবং শ্রমিক নিয়ে আসা আলাদা একটি জীপ গাড়িতে ছিল প্রায় ১’শ। মোট শ্রমিক ২ শত। যাদের মধ্যে  ১ ’শ লেবার এ্ই  ১৪ শত বস্তা ত্রাণ চাকঢালার একটি  মাদ্রাসা এলাকা থেকে  ২ কিলোমিটার দূরের ছনখোলা  রোহিঙ্গা ক্যাম্পে নিয়ে যেতে অপেক্ষা করছিল। এরই মাঝে ঘটে যায় এ মর্মান্তিক দূর্ঘটনা।




এইচ অাই ভি অাক্রান্ত সেই রোহিঙ্গা নারীর মৃত্যু

ঘুমধুম প্রতিনিধি:
মিয়ানমারে সহিংসতার শিকার হয়ে পালিয়ে আসা এইচআইভি ভাইরাসে আক্রান্ত এক রোহিঙ্গা নারী চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। বৃহস্পতিবার (২১ সেপ্টেম্বর) ভোরে কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে এই রোগী মারা যান।

পঞ্চাশোর্ধ্ব এই রোহিঙ্গা নারীর নাম মরিয়ম। তবে তার স্বামীর নাম জানা যায়নি। তিনি মিয়ানমার থেকে পালিয়ে এসে উখিয়ার কুতুপালং শিবিরে আশ্রয় নিয়েছিলেন। ওখানেই অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে প্রথমে শিবিরের এনজিওচালিত হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ওই হাসপাতালে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তার শরীরে এইচআইভি পজিটিভ পাওয়া যায়। পরে তাকে কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. শাহীন আব্দুর রহমান চৌধুরী জানান, কক্সবাজার সদর হাসপাতালে কয়েকদিন এইচআইভি ভাইরাসে আক্রান্ত এই রোহিঙ্গা নারী চিকিৎসা নিয়েছিলেন। তাকে মহিলা ওয়ার্ডে ভর্তি রাখা হয়েছিল। বৃহস্পতিবার ভোরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।

তিনি জানান, রোহিঙ্গা এই নারীর মরদেহ আত্মীয়-স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে নিযুক্ত আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) জৈষ্ট্য সেবিকা (রেফারেল নার্স) কোহিনুর আক্তার জানান, এই রোহিঙ্গা নারী মিয়ানমার থেকে সীমান্ত দিয়ে দেশে আসার পর উখিয়ার কুতুপালং শরণার্থী শিবিরে আশ্রয় নিয়েছিলেন। সেখানে তার অসুস্থতা দেখা দিলে ১৫ সেপ্টেম্বর (শুক্রবার) স্থানীয় একটি সংস্থার হাসপাতালে ভর্তি হন। পরে তার অবস্থা আশংকাজনক হলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাকে কক্সবাজার শহরের ‘ফুয়াদ আল-খতিব হাসপাতালে’ ভর্তি করেন। সেখানে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর ওই নারীর ‘এইচআইভি পজেটিভ’ পাওয়া গেলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাকে কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে যান।

কোহিনুর আক্তার জানান, এই রোহিঙ্গা নারীকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে আনার পর আবারও তার শারীরিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়। এতেও তার শরীরে এইচআইভি পজেটিভ পাওয়া যায়




উপজেলা প্রশাসনের সাথে সমন্বয় না করায় এ দুর্ঘটনা

নাইক্ষ্যংছড়ি প্রতিনিধি:
বড়ছনখোলা রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ত্রাণের গুদামে ত্রাণ নিয়ে যাওয়ার পথে রেড় ক্রিসেন্টর একটি ট্রাক উল্টে ৯ শ্রমিক নিহত হয়েছে আর স্থানীয় মাদ্রাসায় পড়ুয়া এক শিশু ও শ্রমিকসহ আহত হয়েছে ১৫ জন। এদের মধ্যে ড্রাইভার আহত অবস্থায় পলাতক রয়েছে।

সূত্র জানায়,বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার চাকঢালা সীমান্ত পয়েন্টের বড়ছন খোলা  রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ১৪ শত পরিবারের জন্য ভাড়া করা  ২২ শ্রমিকসহ ত্রাণ নিয়ে যাচ্ছিলেন সোসাইটির সরবরাহকারী একটি টিম। তারা সরাসরি এসব ত্রাণ  রোহিঙ্গা ক্যাম্পে নিয়ে যাচ্ছিলেন প্রশাসনকে না জানিয়ে।  যাওয়ার পথে তারা  নাইক্ষ্যংছড়ি-চাকঢালা-বড়ছন খোলা সড়কের চাকঢালা বিজিবি বিওপি গেইট এলাকায় পৌছঁলে সড়কের মাটি দেবে গিয়ে ট্রাকটি উল্টে যায়। এতে ঘটনাস্থলে ৬ জন নিহত হয় আর গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে নেয়ার পথে মারা যায় আরো ৩ জন। এ সময় আহত হয় গাড়ির ড্রইভার ও হেলপার সহ ১৫ জন। আহতদের মধ্যে ৯ জন নাইক্ষ্যংছড়ি হাসপাতালে আর ৫ জনকে ককসবাজার সদর হাপাতালে ভর্তি করা হয়।

থানা সূত্র জানায়, নিহতরা হলো, আবদুল্লাহ (১৮), আবদুল জলিল (৪০), ছুরত আলম (৩৫), সৈয়দুল আমিন (৩২), আবদুল্লাহ (২৬), মামুনুল হাকিম (৩০), সুলতান আহমদ (৪৫), আবদুল মাবুদ (৫০), সুদর্শন বড়ুয়া ( ৫০)। তাদের সকলে বাড়ি নাইক্ষ্যংছড়ি সদর ইউনিয়নে।

হাসপাতাল সূত্র জানায়, আর আহতরা হলো, আলী হোসেন (৫৩), ইউছুপ (১৭), রাজ্জাক (১৭), তাহের (৩০), বাবুল (১৫), জিয়াউর রহমান (১৩), জসিম ( ১৭), আজিজুর রহমান (২৩), আলী আকবর( ২২), ছৈয়দুর রহমান (১৮), মো: ফয়েজ (৩০), সুলতান আহমদ (৩৫) ও আবদুর রহিম ( ১২)। শেষোক্ত আবদুর রহিমের পিতা আবুল মাবুদও এ দূঘটনায় মারা গেছে। সে নাইক্ষ্যংছড়ি মদিনাতুল উলুম আলিম মাদ্রাসার ৬ ষ্ট শ্রেণিতে পড়ে।

ঘটনায় আহত শ্রমিক বাবুল মিয়া জানান, তাদের দল দুটি ট্রাক নিয়ে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ত্রাণ দিতে যাচ্ছিল। ঘটনাস্থলে পৌছলে আগের ত্রাণের গাড়ির ড্রাইভার পেছনের গাড়ির (তাদের গাড়ির) ড্রাইভারকে  চিৎকার দিয়ে বলে রাস্তার মাটি সরে গেছে তুমি গাড়ি থামাও। কিন্তু ড্রাইভার অগ্রাহ্য করে ট্রাক সামনের দিকে নিয়ে যেতেই ডান পাশের সামনের চাকার মাটি সরে গিয়ে গাড়ি  উল্টে যায়।

এ প্রতিবেদকে সে আরো জানায়, গাড়ি উল্টে যাচ্ছে দেখে গাড়ির উপরের শ্রমিকরা এদিক-ওদিক লাফ দেয়ায় হতাহতের সংখ্যা বাড়ে। এতে মালসহ চাপা পড়ে ঘটনাস্থলে ৬ জন মারা যায়। আহতদের ৩১ বিজিবি জেয়ানরা ও স্থানীয়রা উদ্ধ্ার করে নাইক্ষ্যংছড়ি হাসপাতালে পাঠিয়ে দেয়। এতে শেষের দিকে ককসবাজার ফায়ায় সার্ভিসের চৌকস একটি টিমও অংশ নেন।

এ দলের টিম প্রধান সেফায়েত হোসেন জানান,প্রথমে আহত ড্রাইভারসহ অসংখ্য লোক তাদের সাথে অংশ নেন। পরে ড্রাইভারকে খুজে পাওয়া যায় নি। সে পালিয়ে যায় পাহাড়ের দিকে। তবে আহতদের তারা উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায় আর নিহতদের নাইক্ষ্যংছড়ি থানায়।

এদিকে স্থানীয়দের অভিযোগ, রোহিঙ্গাদের সাহায্যে সরকার যাবতীয় ত্রাণ জেলা প্রশাসক বা তার অনুমোদনক্রমে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের তহবিলে জমা দেয়া কথা থাকলেও রেড ক্রিসেন্ট সোসাইট তা অবজ্ঞা করেই এ ত্রাণ রোহিঙ্গা ক্যাম্পে নিয়ে যাচ্ছিল। এছাড়া এ ত্রাণ কাজে ছাত্রসহ শিশুদের শ্রমিক হিসেবে ব্যবহার করায় এ বিষয়ে  প্রশ্নও  তুলেন তারা । এ ঘটনার পর পুরো নাইক্ষ্যংছড়িতে শোকের ছায়া নেমে আসে।

এ বিষয়ে নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা নির্বাহী অফিসার এসএম সরওয়ার কামাল বলেন, জেনে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে, উপজেলার সদর ইউনিয়নের চাকঢালা শেষ প্রান্তে সীমান্তের বড়ছন খোলা রোহিঙ্গা ক্যাম্পের জন্যে ১৪শ পরিবারের জন্যে ত্রাণ বরদ্দ দেয় রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি। আর এ ত্রাণগুলো উপজেলা প্রশাসনকে অবহিত করে ছোট ট্রাক বা অন্যান্য ছোট গাড়িযোগে  চাকঢালা জুনিয়র স্কুলের অস্থায়ী গুদামে রাখার নিদের্শ দেয়া আছে অনেক আগ থেকেই। কিন্তু রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি তা করে নি।

অপরদিকে চাকঢালার এ মার্র্মান্তিক দূর্ঘটনার খবর পেয়ে সূদূর বান্দরবান থেকে ছুটে আসেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈসিং এমপি ও বান্দরবান জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপারের কার্য়ালয়েন উর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও জেলা আওয়ামী লীগ নেতারা। তারা নিহত এবং আহতদের পরিবারকে সহানুভূতি জানানোর পাশাপাশি তাদেরে প্রত্যেককে অর্থ সাহায্যও প্রদান করেন।

তিনি আরো বলেন, বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৫ টায় এ দূর্ঘটনায়  নিহত ৮ মুসলিম শ্রমিকের নামাজে জানাজা নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঈদগাও মাঠে অনুষ্টিত হয়। আর অপর ১ জন শ্রমিক বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী হওয়ায় তাকে সৎকর্মের জন্যে স্বজনদের কাছে লাশ হস্থান্তর করা হয়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে  রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির কর্মকর্তা মাহফুজুর রহমান এ প্রতিবেদককে বলেন, তারা হতাহতদের বিষয়ে সেবা দিতে একটি মেডিক্যাল টিম পাঠিয়েছেন ঘটনাস্থলে। তারা এখানে কাজ করছেন। আর বাকী বিষয় নিয়ে এ প্রতিবেদকের সাথে কোন কথা বলতে তিনি অনীহা প্রকাশ করেন।




নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তে ত্রাণবাহী ট্রাক উল্টে নিহত-৯, আহত ১২

বাইশারী প্রতিনিধি :

বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি সদর ইউনিয়নের চাকঢালা সীমান্তে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের ত্রাণবাহী ট্রাক (চট্টমেট্রো ট ১১-০৫৮৫) উল্টে গিয়ে ৯ শ্রমিকের করুণ মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছে আরও ১২ শ্রমিক। এর মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। বৃহস্পতিবার (২১ সেপ্টেম্বর) সকাল আটটায় বিজিবির চাকঢালা বিওপি সংলগ্ন বড়ছড়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন, নাইক্ষ্যংছড়ি সদর ইউপির ছালামিপাড়ার মো. হানিফের ছেলে আবদুল্লাহ (১৮), নূর আহমদের ছেলে ছুরুত আলম (৩৫), বদিউল আলমের ছেলে ছৈয়দুল আমিন (২৬), বাগানঘোনার মৃত আবুল কালামের ছেলে জলিল আহমদ (৪০), ছিদ্দিকুর রহমানের ছেলে আবদুল্লাহ (১৬), ঘিলাতলীর গোলাম হোসেনের ছেলে মামুনুল হাকিম (১৭), ঠাণ্ডাঝিরির মোক্তার আহমদের ছেলে আবদুল মাবুদ (৪০), সোলাইমানের ছেলে সুলতান আহমদ (৫৪) ও বড়–য়া পাড়ার অন্তু বড়–য়ার ছেলে সুদর্শন বড়–য়া (৪৫)।

এদের মধ্যে ঘটনাস্থলে ছয় জন এবং নাইক্ষ্যংছড়ি সদর হাসপাতালে নেওয়ার পর তিনজন প্রাণ হারান। আহত ১২জনের মধ্যে ঠাণ্ডাঝিরির মো. সেলিমের ছেলে আজিজুর রহমানের (৩৫) অবস্থা অশঙ্কাজনক। তাকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে। বাকিরা নাইক্ষ্যংছড়ি সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। নিহত এবং আহতরা সবাই স্থানীয়ভাবে শ্রমিকের কাজ করেন। ঘটনার পর পরই ট্রাকের চালকের খোঁজ নেই।

সরেজমিনে গেলে প্রত্যক্ষদর্শী অলি বকশিমাঠ পাড়াকেন্দ্রের পাড়াকর্মী তসলিমা আক্তার বলেন, রেড ক্রিসেন্টের ত্রাণবাহী দু’টি ট্রাক সকালে সীমান্তের বড় ছনখোলার রোহিঙ্গা শিবিরের দিকে যাচ্ছিল। তন্মধ্যে একটি ট্রাক বড়ছড়া কালভার্ট পার হলেও অপর ট্রাকটি কালভার্টের পশ্চিমঅংশ ধ্বসে ধান ক্ষেতে উল্টে গেলে ট্রাকের ওপরে থাকা অন্তত ২৫জন শ্রমিক গাড়ি ও ত্রাণচাপা পড়েন। এসময় ঘটনাস্থলেই হতাহতের ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে যান চাকঢালা বিওপির সুবেদার অসিত কুমার নন্দী। তিনি বিওপির অন্যান্য সদস্যদেরকে নিয়ে উদ্ধারকাজ চালান। যথাসময়ে তার কার্যক্রম পরিচালিত না হলে প্রাণহানি আরও বৃদ্ধি পেত।

নাইক্ষ্যংছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এএইচএম তৌহিদ কবির ও সদর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান তসলিম ইকবাল চৌধুরী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ত্রাণবাহী ট্রাক উল্টে গিয়ে ঘটনাস্থলেই ছয়জন প্রাণ হারান। হাসপাতালে নেওয়ার পর বাকি তিনজনের মৃত্যু হয়। এ পরিস্থিতিতে উপজেলায় শোকের মাতম চলছে। নিহতের স্বজনদের আহাজারীতে নাইক্ষ্যংছড়ির আকাশ-বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে।

এদিকে দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে নিহত পরিবারের সদস্যদের সমবেদনা জানিয়েছেন- পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈসিং এমপি, নাইক্ষ্যংছড়ি ৩১ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল মো. আনোয়ারুল আযীম, জেলা প্রশাসক (ডিসি) দিলীপ কুমার বণিক, উপজেলা পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. কামাল উদ্দিন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এসএম সরওয়ার কামালসহ পদস্থ কর্মকর্তারা।




রোহিঙ্গার অজ্ঞাত লাশ উদ্ধার

ঘুমধুম প্রতিনিধি:

কক্সবাজারের উখিয়া থানা পুলিশ অজ্ঞাতনামা এক রোহিঙ্গার লাশ উদ্ধার করেছে।

বুধবার দুপুরে কক্সবাজার-টেকনাফ সড়কের বালুখালী টিভি রিলে কেন্দ্র সংলগ্ন গহীন জঙ্গল থেকে এক রোহিঙ্গার লাশ উদ্ধার করেছে। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার উখিয়া সার্কেল চাইলাউ মার্মা লাশ উদ্ধারের কথা স্বীকার করেছে।

আরো বলেন, অজ্ঞাত নামা যুবকের বয়স ২৫/৩০ বছরের বলে জানিয়েছেন। বুধবার বিকেলে উদ্ধারকৃত লাশটি ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে।




রোহিঙ্গাদের বিপন্ন মানবেতর জীবন যাপন, এপারে আবাসন ও খাদ্য সংকট: ওপারে আগুন-গুলি-মাইনের আতঙ্ক!

বাইশারী প্রতিনিধি:

আরাকান রাজ্যসহ ১৪টি স্টেটের মধ্যে ৯টিতে যুদ্ধসহ নির্যাতন, নিপীড়ন অব্যাহত রয়েছে মিয়ানমারে। এই ৯টি স্টেটের মধ্যে আকিয়াব, বুথিদং ও মংডু এ তিনটি স্টেটের দুইটির এপারে বাংলাদেশের দক্ষিণ শেষ সীমান্ত নাফ নদী, নাইক্ষ্যংছড়ির ঘুমধূমের তুমব্র খাল, লেম্বুছড়ির ৫০ বিওপি, পাইনছড়ির ৫১, ৫২ বিওপি, চাকঢালার চেরারমাঠের ৪৪,৪৫ বিওপি ও কম্বুনিয়ার ৪৬,৪৭ নং বিওপি পয়েন্ট  রয়েছে।

এ পয়েন্ট গুলোর ওপাড়েই মংডো থানা আর বুথিদং থানা । আরাকান রাজ্যের এই আকিয়াব জেলাসহ বুথিদং ও মংডো অঞ্চলেই বসবাস রোহিঙ্গা মুসলিম ও হিন্দুদের। একসময় বঙ্গের পূর্বাঞ্চল থেকে মানুষেরা মংডো ও বুথিদং গিয়ে বসত শুরু করেছিল। সম্ভবত পনেরো’শ শতকে। অথবা তারও আগে। মানুষ গিয়েছে ইংরেজ আমলে। গিয়েছে ইংরেজ- বার্মিজ যুদ্ধের পর। গিয়েছে একাত্তরেও। তিনটি অঞ্চল, দু’টি নদীর এপার ওপার। ওপারে নির্যাতন, নিপীড়ন ও হানাহানির মত ঘটনা সংগঠিত হলেই চলে আসতে হয় এপারে।

এভাবেই তো রোহিঙ্গারা কষ্টে বেঁচে আছে পৃথিবীর সর্বত্র।

মিয়ানমারের রাখাইন বা আরাকান রাজ্যের রোহিঙ্গারা আক্ষরিক অর্থেই দেশহীন মানুষ, কোনও দেশই তাদের দেশ নয়।

মিয়ানমারে বংশ পরম্পরায় বাস করেও তারা মিয়েনমারের নাগরিক নয়। তাড়া খেয়ে বাংলাদেশে, ইন্দোনেশিয়ায়, মালয়েশিয়ায় , থাইল্যান্ডে বা ভারতে  আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গারা সেসব দেশেরও নাগরিক নয়।

সব দেশেই তারা শরণার্থী। অনাকাক্ষিত শরণার্থী। আর সব রোহিঙ্গা মুজাহিদিন নয়, সব রোহিঙ্গাই জিহাদি নয়। বেশিরভাগ রোহিঙ্গাই সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষ। বেশিরভাগ রোহিঙ্গাই শান্তিতে বাস করতে চায়, জীবনের নিরাপত্তা চায়।

রোহিঙ্গা মুসলমানেরা উড়ে এসে জুড়ে বসা কোন জাতি বা গোষ্ঠী নয়:

ইতিহাস বলে মিয়ানমারে  রোহিঙ্গা মুসলমানেরা উড়ে এসে জুড়ে বসা কোন জাতি বা গোষ্ঠী নয়। তারা সেখানে অবস্থান করছেন আদি নিবাস সূত্রেই। মিয়ানমারে রাখাইন সম্প্রদায়ের এককালে স্বাধীন ভূখন্ড ও রাজ্য ছিল।

এই ভারতীয় উপমহাদেশ ও দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ায় সর্বপ্রথম যে কয়টি এলাকায় মুসলিম বসতি গড়ে ওঠে, আরাকান তার মধ্যে অন্যতম। রোহিঙ্গারা সেই আরাকানী মুসলমানের বংশধর।

এক সময় আরাকানে স্বাধীন মুসলিম রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হয়। এরপর ১৬৬০ সাল থেকে আরাকান রাজা থান্দথুধম্মার আমল থেকে এখন পর্যন্ত মিয়ানমারের মুসলমানদের উপর চলে আসছে অবর্ণনীয় নিষ্ঠুর অমানবিক অত্যাচার নিপীড়ন।

এর মাঝে ১৯৩৭ সালে বার্মা স্বায়ত্তশাসন লাভের পর বৌদ্ধদের পরিকল্পিত সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা ব্যাপক রূপ নেয় এবং তারা প্রায় ৩০ লাখ মুসলিম হত্যা করে। ১৯৪৮ সালে বার্মা স্বাধীনতা লাভ করার পর ও এ নির্যাতন অব্যাহত থাকে।

উল্টো ১৯৮২ সালে মিয়ানমারের সরকার সরকারিভাবে মিয়ানমারে রোহিঙ্গা মুসলিমদের নাগরিকত্ব বাতিল করে দেয়। তাদেরকে সে দেশে নাগরিকের বদলে বলা হয় “বসবাসকারী” সেখানে রোহিঙ্গা মুসলমানদের সরকারীভাবে ভোটাধিকার, সাংবিধানিক ও সামাজিকসহ কোন মৌলিক অধিকারের স্বীকৃতি দেয়া হয়না।

এরই মাঝে ২০১২ সাল থেকে মিয়ানমারের সরকারও সেখানকার রাখাইন সম্প্রদায় এক সাথে একরকম ঘোষণা দিয়েই আবার মুসলিম নিধন যজ্ঞ শুরু করে।

সাম্প্রতিক এ দাঙ্গাকে বৌদ্ধ-মুসলিম জাতিগত দাঙ্গার নাম দিয়ে এর আড়ালে থাকা সাম্প্রদায়িক হামলাকে গোপনের চেষ্টা করে সে দেশের সরকার। মিয়ানমারে বৌদ্ধদের প্রাধান্য, ফলে দেশটির প্রচারমাধ্যম বৌদ্ধদের নিয়ন্ত্রণে। ফলে মুসলমান বা রোহিঙ্গাদের উপর অত্যাচার ও নিপীড়নের সঠিক তথ্য প্রচার করা হয়না সেখানে।এতে মিয়ানমার সরকার রোহিঙ্গা মুসলিমদের উপর অতিরিক্ত উদাসীন তা পরিলক্ষিত হয়েছে।

মিয়ানমারে আরকান রাজ্যে হিন্দু সম্প্রদায়ের বসবাস:

রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের পাশাপাশি অনেক হিন্দুও বাস করে আসছে দীর্ঘ বছর ধরে। মিয়ানমারের সেনাবাহিনী ও উগ্রপন্থী মগরা (রাখাইন) শুধু আরাকানে বাসকারী রোহিঙ্গা মুসলিমদের অত্যাচার করে না, বাংলাভাষী সব ধর্মের মানুষকে অত্যাচার করে। তাদের ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দেয় এবং সহায়সম্পদ লুট করে। হিন্দুদেরকে মিলিটারি ও মগরা ‘ইন্ডিয়ান অভিবাসী’ নামে অভিহিত করে। আর রোহিঙ্গাভাষী মুসলিমদের বাংলাদেশ থেকে ‘অবৈধভাবে আসা বাঙালি’ হিসেবে চিহ্নিত করে। চট্টগ্রামের আঞ্চলিক বাংলায় কথা বললে বলা হয় বহিরাগত।

কিন্তু মিয়ানমারে বসবাসকারী হিন্দিভাষীদের সে দেশের সংবিধানে ‘ইন্ডিয়ান’ নামে স্বীকৃতি দেয়া হলেও রোহিঙ্গাভাষী অর্থাৎ চাটগাঁওভাষী হিন্দু বা মুসলমানকে সে দেশের নাগরিক হিসেবে স্বীকৃতি দেয় না।

১৯৮২ সালের একটি আইনে এদের নাগরিকত্ব হরণ করা হয়েছে। এভাবে মিয়ানমার শাসকেরা যুগ যুগ ধরে এক রুদ্ধশ্বাস পরিস্থিতি সৃষ্টি করে ‘বাঙালিদের’ ওপর নির্যাতন চালাচ্ছে বলে নির্যাতিত হয়ে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গারা জানান।

আরাকান রাজ্যে এখনো আগুন, গুলি ও মাইনের আতঙ্কে মুসলমান ও হিন্দুরা:

অসুস্থ রোহিঙ্গা ও হিন্দুদের মাথা, গলা, হাতে ও পায়ে মিয়ানমারের সেনাদের গুলির ক্ষত। চোখেমুখে ভয় ও আতংকের ছাপ। শরীরের এখানে সেখানে কাটাছেড়ার দাগ। এসবের  মধ্যে  রয়েছে- শিশু, কিশোর ও বৃদ্ধা। অনেকের জীবন সংকটাপন্ন বলে জানান চিকিৎসকরা। আহতরা মিয়ানমার সেনাবাহিনীর নির্যাতনের দুঃসহ স্মৃতি ভুলতে পারছে না। নির্যাতনের বর্ণনা দেয়ার সময় চোখ থেকে পানি ঝরছিল। আগুন ও গুলি থেকে কোনোমতে প্রাণ বাঁচিয়ে সীমান্ত পেরোতেই পুঁতে রাখা স্থল মাইনের সামনে পড়ছে রোহিঙ্গারা।

এতে কারো হাত, কারো পা বিচ্ছিন্ন হয়েছে। কারো সারা শরীর ছিন্নভিন্ন হয়ে মিশে গেছে মাটির সঙ্গে। রোহিঙ্গাদের প্রতিকূল অবস্থাকে অনুকূলে আনা তো দূরের কথা। আগের প্রতিকূল অবস্থাকে বলবান রাখতে সীমান্তে বসানো হয়েছে মাইন ও বিস্ফোরক।

মিয়ানমার সেনাবাহিনী ও সীমান্ত বাহিনী বিজিপি দু’দেশের সীমান্ত রেখা ঘেষে স্থাপন করেছে স্থলমাইন ও উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন বিস্ফোরক যা রোহিঙ্গাদের আতঙ্কের মাত্রাকে আরো বাড়িয়ে তুলেছে।

ইতোমধ্যে এসব স্থলমাইন বিস্ফোরণে বৃদ্ধি পেয়েছে মৃতের সংখ্যা। আর আহতের ঘটনা তো নিত্য-নৈমিত্তিক ব্যাপার। বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গারা যেন ফের মিয়ানমারে প্রবেশ করতে না পারে, সেজন্যই এই অভিনব কায়দার আবির্ভাব ঘটিয়েছে বিজিপি। যার দরুণ আরাকান রাজ্য থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের মাঝে দেখা দিয়েছে মৃত্যুঝুঁকি।

ইতোমধ্যে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দেশান্তরীণ হতে গিয়ে প্রাণ হারিয়েছেন বেশ কয়েকজন রোহিঙ্গা ও বাংলাদেশী নাগরিক।

এদিকে ২৫ আগস্ট থেকে ১১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তে স্থলমাইন বিস্ফোরণে নারীসহ ৬ জন নিহত এবং ৫ জন আহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে।

পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের খাদ্য ও আবাসন সংকট:

সর্বস্ব হারিয়ে মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের খাদ্য ও আবাসন সংকট প্রকট আকার ধারণ করেছে। ত্রাণের জন্য হাহাকার করছে হাজারো রোহিঙ্গা। ক্লান্ত ও ক্ষুধার্ত এসব রোহিঙ্গা গাড়ি দেখলেই খাবারের আশায় হুমড়ি খেয়ে পড়ছে। সরকারি ও বেসরকারিভাবে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করা হলেও তা অপ্রতুল। আবাসন সংকটে স্ত্রী পরিজন নিয়ে রোহিঙ্গারা উখিয়া-টেকনাফ সড়কের দু’পাশে মানবেতর সময় পার করছে।

বিশেষ করে খাবার পানির সংকটের কারণে শিশুরা বিভিন্ন রোগব্যাধিতে আক্রান্ত হচ্ছে বলে জানা গেছে। আর এদিকে রোহিঙ্গা শিশুরা কাঁদা ময়লাযুক্ত জায়গায় পলিথিনের নিচে আশ্রয় নিয়েছে। বেসরকারিভাবে যেসব ত্রাণ সামগ্রী দেয়া হচ্ছে তা নতুন রোহিঙ্গারা পাচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে। উপজেলা প্রশাসন ত্রাণ সামগ্রী বিতরণে মনিটরিং করলেও রোহিঙ্গাদের ঢলে সিমান্ত ঘুমধূমে নতুন ও পুরাতন রোহিঙ্গা চিহ্নিত করতে সক্ষম না হওয়ায় বেশিরভাগ ত্রাণ সামগ্রী পুরাতন রোহিঙ্গারা ভোগ করছে বলে নতুন রোহিঙ্গারা জানিয়েছেন।

মজলুম রোহিঙ্গা ও হিন্দুদের সাহায্য দিয়ে বাঁচাতে হবে:

রোহিঙ্গারা মূলত মিয়ানমারের নাগরিক। ধর্মীয় পার্থক্য ও বৈপরীত্যের কারণেই রোহিঙ্গাদের উপর এমন নির্যাতন চালানো হচ্ছে। মুসলিম রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ওপর সামরিক শক্তি নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে, অমানবিক এবং নৃশংস হত্যাকান্ডের মাধ্যমে মুসলমান শূন্য করার খেলায় মেতে উঠেছে।

নিরীহ রোহিঙ্গা মুসলমানদের ওপর এ নৃশংস বর্বরতার নিন্দা জানানোর ভাষা অভিধানে আজ পরাজিত!  বার্মার মজলুম রোহিঙ্গা মুসলমানের কান্নায় পৃথিবীর আকাশ ভারি হয়ে ওঠছে। মুসলিম নারী-পুরুষ ও শিশুরা বাঁচাও বাঁচাও বলে আর্তচিৎকার করছে।

মিয়ানমারের বর্বর সরকার তাদের ওপর নির্যাতনের স্টিম রোলার চালাচ্ছে। হত্যা করছে অসংখ্য নিষ্পাপ শিশু, যুবক, বৃদ্ধাদের। ধর্ষণ করে কলঙ্কিত করছে অসংখ্য মা-বোনদের। বিধবা করছে হাজারো নারীদের। সন্তানহারা করছে অসংখ্য মাকে।

মজলুম রোহিঙ্গা মুসলমানদের আহাজারিতে পৃথিবীর আকাশ বাতাস প্রকম্পিত হয়ে উঠছে।

কোথায় আজ বিশ্ব মুসলমানদের সহযোগিতা ও ভ্রাতৃত্বের লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠিত সংস্থা ওআইসি। নীরব কেন আজ মানবাধিকার সংস্থা? নিশ্চুপ কেন জাতিসংঘ?। পৃথিবীতে দেড়শ কোটি মুসলমান থাকার পরও কেন আরাকান রাজ্যের মুসলমান ও হিন্দুরা  আজ নির্যাতিত?

রোহিঙ্গাদের ওপর নির্মম নির্যাতন এটা পরিষ্কার করে দিয়েছে যে গোটা বিশ্বের অমুসলিম শক্তি আজ মুসলমানদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ। আমরা এখনও নিশ্চুপ! রোহিঙ্গা মুসলমানদের কিই বা দোষ ছিল, যার কারণে তাদের আজ নির্মম-জুলুম নির্যাতন ভোগ করতে হচ্ছে? কারণ একটাই ওরা  যে মুসলমান আর মুসলমানদের চেহেরায় হিন্দু সম্প্রদায়।

মজলুম রোহিঙ্গা এবং হিন্দুদের বীভৎস চেহারাগুলো দেখে কার চোখ না অশ্রুসিক্ত হবে? আপনার সামনে আপনার ভাই-বোন, মা-বাপ, ছেলেমেয়েদের যদি আগুনে পুড়িয়ে ছাই করে, শরীরের ওপর কামান তুলে মাথার মগজ বের করে  ফেলে, চোখের সামনে তাজাদেহ দ্বিখন্ডিত করে ফেলে তখন আপনার কেমন লাগবে? আহ!

বার্মার মুসলমানদের সাথে তাই করা হচ্ছে! জাতিসংঘ রোহিঙ্গা সম্প্রদায়কে বিশ্বের সবচেয়ে বর্বর নির্যাতনের শিকার জনগোষ্ঠী হিসেবে অভিহিত করেছে।

জাতিসংঘের তথ্যমতে, রোহিঙ্গারা বিশ্বের সবচেয়ে বেশি ভাগ্যাহত জনগোষ্ঠী। শত শত বছর ধরে তারা নির্যাতিত ও নিপিড়ীত হচ্ছে। নির্যাতনের চিত্রগুলো বিশ্বমিডিয়ায় প্রকাশ পেয়েছে। নির্বিচারে হত্যা ও নারীদেরকে ধর্ষণের শিকার হতে হচ্ছে রোহিঙ্গাদের। সম্পত্তি জোর করে কেড়ে নেয়াসহ শিক্ষা ও স্বাস্থ্য সেবার সুযোগ দেয়া হয় না।

তাদের সংখ্যা যাতে বাড়তে না পারে সে জন্য বিয়ে করার অনুমতি দেয়া হয় না। ধর্মীয় ইবাদত-বন্দেগী পালনেও বাঁধা দেয়া হয়। বৌদ্ধ রাখাইনদের টার্গেট হলো নিরস্ত্র রোহিঙ্গা মুসলিম ও হিন্দু জনগোষ্ঠীকে নির্যাতনের মাধ্যমে নির্মূল করা। সেই লক্ষ্যে স্থানীয় সরকার, কেন্দ্রীয় সরকার ও সেনাবাহিনী পরিকল্পিতভাবে রোহিঙ্গা এবং হিন্দুদেরকে দেশ থেকে বের করে দিতেই হত্যাযজ্ঞ চালাচ্ছে।

তাই মানবিক দৃষ্টিতে অনুপ্রবেশকারী রোহিঙ্গা এবং হিন্দু সম্প্রদায়ের শরনার্থীদেরকে সার্বিক সহযোগিতা বাচিয়ে রাখতে হবে আমাদের।

রোহিঙ্গা মুসলামানদের নির্যাতনের মূল হোতা ও আতঙ্কের নাম ”অসিন”:

মুসলিমদের ওপর নির্যাতনের মূল হোতা ‘অসিন’ নামের এক ধর্মগুরুর কথা। মিয়ানমারে রোহিঙ্গা মুসলিমদের ওপর বর্বর নির্যাতনের প্রধান আসামি। ২০০৩ সালে ধর্মীয় বিদ্বেষ ছড়ানোর দায়ে তার ২৫ বছরের জেল হয়। তবে মুসলিমবিরোধী প্রচারণার কারণে ২০০৩ সাল থেকে ৭ বছর জেলে ছিলেন।

পরবর্তীতে ২০১০ সালে জেল থেকে মুক্তি লাভ করে তিনি নিজেকে মিয়ানমারের ‘উসামা বিন লাদেন’ হিসেবে প্রচার করেন। তখন থেকে তিনি ইউটিউব ও ফেসবুকের মত মিডিয়ায় ব্যাপক প্রচারণা চালাতে থাকেন। ২০০১ সালে তিনি মুসলিমবিদ্বেষী গোষ্ঠী ‘৯৬৯ Movement এ যোগ দেন।

এ সংগঠনের নেতৃত্বে রয়েছেন উইরাথু নামের বৌদ্ধভিক্ষু। তার বিরুদ্ধে মুসলমানদের উৎপীড়ন চালানোর জন্য উস্কে দেয়ার অভিযোগ থাকলেও তিনি নিজেকে একজন শান্তিপ্রিয় ধর্মযাজক হিসেবেই দাবি করেন। অবশ্য তিনি প্রকাশ্যে মুসলমানদেরকে শত্রু বলে ঘোষণা করেন।

২০১৩ সালের জুন মাসে প্রকাশিত টাইম ম্যাগাজিনের কাভার পেজে তাকে The Face of Buddhidt Terror হিসেবে অভিহিত করা হয়। ‘তুমি দয়ামায়া ভালবাসায় পরিপূর্ণ হতে পারো, কিন্তু তুমি পাগলা কুত্তার পাশে ঘুমাতে পারো না’- মুসলমানদের উদ্দেশ্য করে বলা তার বচন। তিনি আরো বলেন যে, আমরা যদি দুর্বল হয়ে যায়, তবে আমাদের ভুমি একদিন মুসলিমদের হয়ে যাবে।’ রোহিঙ্গা মুসলিম নিধন আন্দোলনের কলকাঠি নাড়ছে বৌদ্ধদের চরমপন্থী সংগঠন‘ ‘৯৬৯ Movement of Buddhist স্বঘোষিত মিয়ানমারের ‘ভ্রাতৃত্বের সম্পর্ক শুধু বৌদ্ধদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে’।

অন্যসকল ধর্মালম্বী বিশেষ করে রোহিঙ্গা মুসলিম নির্মূলে উইরাথু ও তার মতাদর্শীরা ব্যাপক হত্যাযজ্ঞ-ধর্ষণ চালিয়ে যাচ্ছে। বিগত কয়েক দশক থেকেই রোহিঙ্গা মুসলমানদের হত্যা, নির্যাতন, ধর্ষণ চলছিল। বর্তমানে অভিবাসী সমস্যা প্রবল আকার ধারণ করার পর বিশ্বব্যাপী রোহিঙ্গা মুসলমানদের ওপর মিয়ানমারের কর্তৃপক্ষের স্বেচ্ছাচারী সিদ্ধান্ত স্পষ্ট হওয়ায় উইরাথুর অসিনের নেতৃত্বাধীন সমর্থকগোষ্টী সরকারি বাহিনীর সহায়তায় রোহিঙ্গা মুসলমানদের ‘হত্যার উৎসব’ পালন করছে।

বিশ্ব বৌদ্ধদের করণীয়:

মিয়ানমার এবং সে দেশের জনগণ বুদ্ধের বাণীকে মান্য করলে কিছুতেই এমন মানবতাবিরোধী কাজে লিপ্ত হতে পারে না বা তা মেনে নিতে পারে না। মিয়ানমারের এই আচরণ সমগ্র বিশ্বের বৌদ্ধদের জন্য চরম লজ্জার। তাই এই সময়ে বৌদ্ধ রাষ্ট্রগুলোর উচিত মিয়ানমারের মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে কথা বলা। বাংলাদেশি বৌদ্ধ ভিক্ষুদের সর্বোচ্চ সাংঘিক সংগঠন বাংলাদেশ সংঘরাজ ভিক্ষু মহাসভার পক্ষ থেকে একটি বিবৃতি দেওয়া যেতে পারে।

বৌদ্ধদের বিভিন্ন সংগঠন মিয়ানমারে রোহিঙ্গা নির্যাতন বন্ধে দাবি জানিয়ে বিবৃতি দিতে পারে, সোচ্চার হতে পারে। মিয়ানমারে মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে কথা বলা এবং প্রতিবাদ জানানোর দায়িত্ব কেবল শুধু বাংলাদেশের কিংবা মুসলমানদের নয়– এটা সমগ্র বিশ্বনেতৃত্ব ও বিশ্ববাসীর নৈতিক দায়িত্ব। মুসলিম নির্যাতিত হলে আরব বিশ্ব, অমুসলিম নির্যাতিত হলে হিন্দু, বৌদ্ধ এবং খ্রিস্টান বিশ্বকে সোচ্চার হতে হবে এমন সংকীর্ণ ও সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে।




নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তে রোহিঙ্গাদের ঠকিয়ে পশু আয়ত্বে নেওয়া দালালরা প্রশাসনের নজরে

 

নাইক্ষ্যংছড়ি প্রতিনিধি:

বাংলাদেশ সীমান্তে আশ্রয় নেওয়া মিয়ানমারের নির্যাতিত রোহিঙ্গাদের ঠকিয়ে হাজার হাজার পশু আয়ত্বে নেওয়া দালালরা প্রশাসনের নজরে পড়েছে।

বিজিবি, পুলিশসহ বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থাসহ বিভিন্ন মিডিয়ায় ইতিমধ্যেই তাদের চিহ্নিত করেছেন। এইসব দালালদের মধ্যে একজন চেয়ারম্যান, একাধিক ইউপি সদস্যসহ অন্তত শতাধিক নাম রয়েছে।

প্রাপ্ত তথ্যে জানা গেছে, গত ২৫ আগস্ট সীমান্তের চাকঢালা বড়ছনখোলা, চেরারখালের আগা, আশারতলী সাপমারাঝিরি, ফুলতলী এবং ঘুমধুম ইউনিয়নের তুমব্রু, বাইশফাড়ি, রেজু আমতলী পয়েন্ট দিয়ে হাজার হাজার রোহিঙ্গা মিয়ানমার থেকে পালিয়ে এসে আশ্রয় নেয়।

জিরো পয়েন্টে আশ্রিত এসব রোহিঙ্গাদের একমাত্র সম্ভল গরু-ছাগল দেখে একশ্রেণীর দালাল চক্র হঠাৎ সক্রিয় হয়ে উঠে। তারা প্রশাসনের নমীনতার সুযোগে ত্রাণ দেওয়ার নাসে রোহিঙ্গাদের ঠকিয়ে ও হয়রাণির মাধ্যমে তাদের কাছ থেকে গরু-ছাগল গুলো অতি অল্প দামে কিনে নেয়।

অনেক স্থানে রোহিঙ্গাদের গরু চুরি সহ তাদের স্বর্ণলংকার নিয়ে অসহায় ও বাস্তুহারা মানুষগুলোর উপর অমানবিক অত্যাচার করা হয়।

সরেজমিনে অনুসন্ধানে জানা যায়, বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি সদর ইউনিয়নের আশারতলী গ্রামের আলী হোসেন মেম্বার, বিছামারা গ্রামের আলী আহমদ মেম্বার, ছোট জামছড়ির মোক্তার আহমদ, মোহাম্মদ আলী, আশারতলী জামছড়ি গ্রামের সাবের হোসেন, আমির হোসেন, আলী হোসেন, সৈয়দ কাশিম, প্রধানঝিরির সিরাজ মিয়া, জামছড়ির আবুল কালাম, আবদুর রহিম ধলাইয়্যা, আবদুর রহমান, মসন আলী, শামসুল আলম, আবদুর রহমান, সাপমারাঝিরির আক্তার মিয়া, আশারতলীর আবদুল গফুর, প্রধানঝিরির ইমাম হোসেন, জালাল আহমদ, হাসন আলী, চেরারকুলের জামাল আবেদীন।

ঘুমধুমের আজুখাইয়া গ্রামের আজাদ, বড়বিলের আবু কালাম, হারুনুর রশিদ, উখিয়া রাজাপালংয়ের মুজিব উদ্দিন, মো. দিয়া, উত্তর ঘুমধুমের দানু বড়ুয়া, বাইশফাড়ির মো. আলম, ভাজাবনিয়ার আলম, মো. ইজ্জত আলী, বাইশফাড়ির উলা তংচঙ্গ্যা, কামতু মং তংচঙ্গ্যা, অংচিথোয়াই তংচঙ্গ্যাসহ শতাধিক ব্যাক্তি কৌশলী রোহিঙ্গাদের কাছ ঠকিয়ে গবাদিপশু নিয়েছেন।

এদের মধ্যে আবার অনেকে মিয়ানমারের ভিতরে ঢুকেও গরু-ছাগল নিয়ে এসেছেন।

তবে এসব ব্যক্তিদের মতে, রোহিঙ্গারা গোখাদ্য সংগ্রহ করতে না পেরে বাধ্য হয়ে গরু-ছাগল বিক্রি করেছে। ঠকিয়ে নয়, স্বল্প মূল্যে গরু কিনার কথা স্বীকার করেন তারা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক চাকঢালা ও ঘুমধুমের কয়েকজন সচেতন নাগরিক জানান, জিরো পয়েন্ট থেকে পাহাড়ি পথে গরু এনে ইউনিয়ন পরিষদের টোল ট্যাক্স আদায়ের মাধ্যমে বৈধ করেছেন চোরাকারবারীরা।

সেক্ষেত্রে গরু বিক্রয়ের চাদাঁর একটি অংশ জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক ব্যাক্তি ও এক শ্রেণীর প্রশাসনের কাছেও গেছে। যদিওবা নাইক্ষ্যংছড়ি বিজিবি গত ২৫ আগস্ট থেকে বিভিন্ন এলাকা থেকে আটক করা প্রায় শতাধিক গরু বালুখালী শুল্ক কাস্টমে জমা করেছেন।

জানতে চাইলে, নাইক্ষ্যংছড়ি সদর ইউপির ৫নং ওয়ার্ড মেম্বার ফয়েজ উল্লাহ জানান, বিজিবির কঠোরতার মাঝেও গর্জনিয়া-কচ্ছপিয়া, কাউয়ারখোপসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে রোহিঙ্গাদের কাছ থেকে কম মূল্যে গরু কিনেছে অনেকে। কিন্তু ষ্পষ্ট কারা এ কাজটি করেছে তাদের পরিচয় নিশ্চিত নই।

দালাল চক্রের বিষয়ে নাইক্ষ্যংছড়ি থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এএইচএম তৌহিদ কবির বলেন, মিয়ানমারে নির্যাতিত রোহিঙ্গাদের ঠকিয়ে গবাদিপশু নেওয়া ব্যাক্তিদের নাম ইতিমধ্যে স্থানীয় লোকজনের কাছ থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে। যেই জড়িত থাক, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




দীর্ঘদিন পর গর্জনিয়া বাজারের অলি-গলি অবৈধ দখল মুক্ত

নাইক্ষ্যংছড়ি প্রতিনিধি:

অবৈধ দখলে থাকা অলি-গলি দীর্ঘদিন পর দখল মুক্ত হয়েছে রামুর গর্জনিয়া বাজারের। রামু উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নির্দেশে কচ্ছপিয়া ইউনিয়ন পরিষদের তত্ববধানে এ সব রাস্তা-ঘাট অবৈধ দখল মুক্ত হয় ১৮ সেপ্টেম্বর সোমবার হাটের দিন সকালে।

এছাড়া এ বাজারের দুর্গন্ধময় নালা-নর্দমাও পরিস্কার করে পানি চলাচলের ব্যবস্থাও করেন তারা।

সূত্র জানায়, সম্প্রতি একাধিকবার সরকারী কাজে রামু উপজেলা নির্বাহী অফিসার শাহজাহান আলী কচ্ছপিয়া ইউনিয়নে আসেন। এসময় তিনি গর্জনিয়া বাজার পরির্দশন করেন একাধিকবার। এসময় তিনি দেখতে পান এ বাজারটিতে সরকারের কোন নিয়ম নীতির বালাই নেই। ক্রেতা সাধারণ অতি কষ্টে নিজেদের প্রয়োজন মেটাচ্ছিলেন  দিনের পর দিন।

এছাড়া রামু উপজেলার বৃহৎ বাজার হিসেহে যে ঐতিহ্য রয়েছে তা হারিয়ে যেতে বসেছে এ বাজারের। এমন অবস্থা স্বচক্ষে দেখে তিনি স্থানীয় চেয়ারম্যানকে নির্দেশ দেন যেন অতি সত্বর এ অবস্থার উত্তোরণ ঘটানো হয়। আর ব্যবসায়ীদেরও সর্তক করে দেন পাশাপাশি।

এরই প্রেক্ষিতে কচ্ছপিয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আবু মো. ইসমাঈল নোমান গত ক’দিন ধরে পর্যাপ্ত শ্রমিক লাগিয়ে গর্জনিয়া বাজারকে নতুন রূপে সাজিয়ে এক ধরনের পরিবেশ সৃষ্টি করেন। পাশাপাশি বাজারের অলি গলিতে জমে পচেঁ দূর্গন্ধময় পানি নিষ্কাষনের ব্যবস্থা করে দেন তিনি।

ফলে সব কিছুতে এক ধরনের নাগরিক সুবিধা পাওয়ার অবস্থা সৃষ্টি হয়। এতে ক্রেতা সাধারণ দারুণ খুশি হয়ে সাধুবাদ দেন সংশ্লিষ্টদের।

এ বিষয়ে কচ্ছপিয়ার চেয়ারম্যান বলেন, আসলেও এ বিষয়টি অতি জনগুরুত্বপূর্ন। এ বাজারে নিয়মিত লোক জমায়েত থাকে অন্তত কয়েক হাজার। আর হাটের দিন অন্তত ৫/৬ হাজারের অধিক লোক এখানে দূর দূরান্ত থেকে কেনা-কাটা করতে আসে।

আর এ অবস্থায় তিনি অনেকবার অবৈধ দখলদারদের বাজারের অলি-গলি দখল মুক্ত করে দিতে নির্দেশ দিলে তারা অল্প সময়ের জন্যে এ নির্দেশ পালন করেন। পরবর্তীতে পুনরায় পূর্ব বহাল করে বাজারের অবস্থা খারাপ করে ফেলে কতিপয় ব্যবসায়ী।

আর এ অবস্থায় উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কঠোর অবস্থানে বর্তমানে এ বাজার পরিচ্ছন্ন ও দখল মুক্ত হয়।




ঘুমধুমে রোহিঙ্গা দালাল রোহিঙ্গা রোস্তম আটক

ঘুমধুম প্রতিনিধি:

মিয়ানমার সরকার বাহিনীর দমন নিপীড়নের শিকার হয়ে পালিয়ে আসা এপারে আশ্রয় দেওয়ার অজুহাতে টাকা গ্রহণের দায়ে রুস্তম আলী নামক এক দালালকে আটক করেছে বান্দরবানের ভ্রাম্যমাণ আদালত।

সোমবার(১৮ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১টায় ঘুমধুমের পাহাড় পাড়ার বশির আহমদ এর ছেলে রুস্তম আলীকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আজিজুর রহমান আটক করে নিয়ে যান। সে প্রতি রোহিঙ্গা পরিবার থেকে ২হাজার করে কয়েক শতাধিক রোহিঙ্গার নিকট থেকে অন্তত ১০ লাখ টাকা আদায় করেছে বলে সূত্রে জানা গেছে।

তাকে আটক কালে প্রশাসনের পদস্থ অফিসার, ঘুমধুম ইউপি চেয়ারম্যন একেএম জাহাঙ্গীর আজিজ, প্যানেল চেয়ারম্যান কামাল উদ্দিন, ঘুমধুম পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের এস আই আমিনুর রহমান সঙ্গীয় ফোর্স, জনপ্রতিনিধি গণ উপস্থিত ছিলেন।




কুতুপালংয়ে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা নারীর এইচআইভি

 

ঘুমধুম প্রতিনিধি:
কক্সবাজারের উখিয়ার কুতুপালং শরণার্থী ক্যাম্পে আশ্রয় নেওয়া এক রোহিঙ্গা নারীর এইচআইভি পজেটিভ শনাক্তের কথা জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।তিনি বলেন, মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা ওই নারী অসুস্থ হয়ে শুক্রবার কুতুপালং শরণার্থী ক্যাম্প সংলগ্ন একটি সংস্থার হাসপাতালে ভর্তি হন। পরে তার অবস্থা আশঙ্কাজনক হলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাকে কক্সবাজার শহরের ‘ফুয়াদ আল-খতিব হাসপাতালে’ ভর্তি করে।

পঞ্চাশোর্ধ্ব ওই নারী কক্সবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে শনিবার সন্ধ্যায় জানিয়েছেন হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) শাহীন মো. আব্দুর রহমান চৌধুরী।

“সেখানে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর ওই নারীর ‘এইচআইভি পজেটিভ’ ভাইরাস পাওয়া গেলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নিয়ে আসেন।”

এ চিকিৎসক বলেন, রোহিঙ্গা নারীকে হাসপাতালে আনার পর আবারও তার শারীরিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়। এতেও তার এইচআইভি পজেটিভ ভাইরাস ধরা পড়ে।

তাকে হাসপাতালের ‘আশার আলো’ ইউনিটে (এইচআইভি পজেটিভ রোগী সেবা কেন্দ্র ) চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।