বাইশারীতে উপকারভোগীদের মাঝে ভিজিডি কার্ড বিতরণ

BGD copy

বাইশারী প্রতিনিধি:

বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার বাইশারীতে ৬৬০ উপকারভোগী হত দরিদ্রের মাঝে ভিজিডি কার্ড বিতরণ করা হয়েছে।

বুধবার দুপুর এক টায় এক সংক্ষিপ্ত অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে এসব কার্ড বিতরণ করা হয়েছে। বাইশারী ইউপি চেয়ারম্যান মো. আলম কোম্পানীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে কার্ড বিতরণ করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এসএম সরওয়ার কামাল।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাইশারী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম বাহাদুর, উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা কামাল উদ্দিন, উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি শাহ্ সিরাজুর রহমান সজল, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক মংথোয়াইহ্লা মার্মা, যুবলীগ সভাপতি মো. আবুল কালাম, ইউপি সদস্য মো. আনোয়ার, আনোয়ার ছাদেক, আবু তাহের, নুরুল আজিম, ইউপি সদস্যা সাবেকুন্নাহার, সেলিনা আক্তার বেবি প্রমুখ।

যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এনকে রাশেদের পরিচালনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এসএম সরওয়ার কামাল বলেন, বর্তমান সরকার গরীব, অসহায়, দুস্থদের উন্নয়নের লক্ষ্যে সরকারী সহযোগিতা অর্থাৎ প্রতি মাসে ৩০ কেজি করে চাউল বরাদ্ধ দিয়েছে। তিনি আরও বলেন, সরকারী মালের যেন সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা হয় এবং এ মালামাল দিয়ে পরিবারের সদস্যরা যেন স্বচ্ছলভাবে বেঁচে থাকতে পারে সেদিকে জনপ্রতিনিধিদের লক্ষ্য রাখার পাশাপাশি কেউ যেন সরকারী চাউল বাজারে বিক্রি করতে না পারে সে বিষয়ে সকল উপকারভোগীদের সতর্ক করে দেন।




বাইশারীতে এক যুবক অপহরণ, তিন লক্ষ টাকা মুক্তিপণ দাবি

অপহরণ

বাইশারী প্রতিনিধি:

বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার বাইশারী ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ড আলীক্ষ্যং মিরঝিরি গ্রাম থেকে এক যুবককে অপহরণ করেছে সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা। অপহৃত যুবক হাজী মো. লাল মিয়ার পুত্র আবুল বশর (২৫)।

প্রত্যক্ষদর্শী অপহৃত যুবকের বড় ভাই মো. বাদল মিয়া জানান, সোমবার ভোর রাত ৩ টা ৩০ মিনিটের দিকে ৭/৮ জনের এক দল সশস্ত্র সন্ত্রাসী ঘরের দরজা ভেঙ্গে অস্ত্রের মুখে দুই ভাই মো. বাবুল মিয়া ও আবুল বশরকে ধরে নিয়ে যায়। এরই মধ্যে কিছুদূর নেওয়ার পর মো. বাবুল মিয়াকে ছেড়ে দিলেও ছোট ভাই আবুল বশরকে তাদের সাথে গহীন বনে নিয়ে যায়। নিয়ে যাওয়ার দুই ঘন্টা পর অপহৃত আবুল বশরের মোবাইল ফোনে তিন লক্ষ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেছে পরিবারের সদস্যদের নিকট।  অন্যথায় তাকে হত্যা করা হবে বলেও মোবাইল ফোনে জানিয়ে দেয় সন্ত্রাসীরা।

খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান আলীক্ষ্যং পুলিশ ক্যাম্প ইনচার্জ প্রিয়লাল ঘোষ সহ সঙ্গীয় ফোর্স। তিনি অপহরণের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, অপহৃত যুবককে উদ্ধারের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে। বাইশারী পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ মো. আবু মুসা বলেন, সঙ্গীয় ফোর্স সহ তিনি ঘটনাস্থলের আশেপাশে অভিযান পরিচালনা করছেন।

নাইক্ষ্যংছড়িস্থ ৩১ বিজিবির নায়েব সুবেদার খুরশেদ আলম জানান, অধিনায়কের নির্দেশে অপহরণের ঘটনা শুনার পর পরই সম্ভাব্য স্থানে ঘেরাও করার পর অভিযান চালানো হচ্ছে। অবশ্যই যে কোন মূল্যে অপহৃতকে উদ্ধার ও সন্ত্রাসীকে গ্রেফতার করা হবে।

উল্লেখ্য, গত দুই মাস অপহরণ বন্ধ থাকলেও আবার শুরু হয়েছে নাইক্ষ্যংছড়ির বিভিন্ন জায়গায় অপহরণ ও মুক্তিপণ বানিজ্য। বিগত ২০১৬ সালে নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে দুই ডজনেরও অধিক লোক অপহরণ করেছে সন্ত্রাসীরা। সকল অপহৃতদের মুক্তিপণের বিনিময়ে উদ্ধার করা হয়েছে বলে অপহৃত পরিবারের সদস্যরা জানান।

এখনো অভিযান চলছে অপহৃতকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।




নাইক্ষ্যংছড়ি প্রেসক্লাব সভাপতির সঙ্গে পুলিশ উপপরিদর্শকের অসদাচারণ

নাইক্ষ্যংছড়ি প্রতিনিধি:

বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি প্রেসক্লাব সভাপতি শামীম ইকবাল চৌধুরীর সঙ্গে সাদা পোশাকে পুলিশের এক উপ-পরিদর্শকের অসদাচারণের অভিযোগ উঠেছে।

শফিক উল্লাহ নামের ওই পুলিশ কর্মকর্তা রোববার সকাল পৌনে ১১টায় উপজেলা পরিষদের সামনে এ ঘটনা ঘটান। এ নিয়ে স্থানীয় প্রেসক্লাব সহ সচেতন মহলের মাঝে তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। তাৎক্ষণিক জরুরী সভা ডেকে ওই এসআইকে প্রত্যাহারের জন্য পুলিশ সুপারের প্রতি দাবি জানিয়েছেন নাইক্ষ্যংছড়ি প্রেসক্লাব নেতৃবৃন্দ।

প্রেসক্লাব সভাপতি শামীম ইকবাল চৌধুরী বলেন, রবিবার সকালে উপজেলা পরিষদের সামনে সাংবাদিকদের মধ্যে আলাপরত অবস্থায় এক ব্যক্তি অতর্কিত অবস্থায় এসে সাংবাদিকদের গায়ে ধাক্কা দিয়ে ঘটনাস্থল থেকে সরে যেতে বলেন এবং তাকেসহ প্রেসক্লাব সম্পাদককেও গ্রেফতারের হুমকি দেন। পরে জানতে পারি তিনি নাইক্ষ্যংছড়ি থানার এসআই। এ ঘটনায় উপস্থিত সাংবাদিকরা হতবাক হয়ে পড়েন।

প্রেসক্লাব সাধারণ সম্পাদক আবুল বশর নয়ন বলেন, ওই পুলিশ কর্মকর্তার উদ্ধতপূর্ণ আচরণের বিষয়ে নাইক্ষ্যংছড়ি প্রেসক্লাবে তাৎক্ষণিক সভায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানো হয়। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট থানা কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।

নাইক্ষ্যংছড়ি প্রেসক্লাবের তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক হাফিজুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, ইতিপূর্বে এসআই শফিক নাইক্ষ্যংছড়িতে সাংবাদিকদের হেয়প্রতিপন্ন করে সাংবাদিক নেই বলেও মন্তব্য করেছিলেন। ওই এসআই অহেতুক সাংবাদিকদের সাথে বার বার বিবাদে জড়ানোর কারণে অনতিবিলম্বে তাকে প্রত্যাহারের দাবি জানাচ্ছি। অন্যথায় তার বিরুদ্ধে প্রেসক্লাব নেতৃবৃন্দ আন্দোলনে যাবে।

জানতে চাইলে অভিযুক্ত এসআই শফিক উল্লাহ সাদা পোশাকে থাকার কথা স্বীকার করে বলেন, দুই সাংবাদিকের মধ্যে ঝগড়া থামাতে চেষ্টা করেছি মাত্র। তবে প্রথমে আমি পুলিশ পরিচয় দিয়েছিলাম।

এদিকে এ বিষয়ে জানতে চাইলে নাইক্ষ্যংছড়ি থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এএইচ এম তৌহিদ কবির বলেন, ‘আমি জেলায় একটি মিটিংয়ে আছি’ প্রেসক্লাব সভাপতির সাথে এসআই শফিকের কথাকাটাটি হয়েছে বলে শুনেছি। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।

উল্লেখ্য এসআই শফিক উল্লাহ নাইক্ষ্যংছড়ি থানায় যোগদানের পর থেকে গ্রামের অসহায় গরীব জনসাধারণকে বিভিন্ন ভাবে হয়রানি ও অভিযোগ সুরাহার নামে ঘুষ আদায় করে আসছেন বলেও অভিযোগ আছে। ইতিপূর্বেও তিনি স্থানীয় সাংবাদিকদের নিয়ে সমালোচনা করে তোপের মুখে পড়েন।




বাইশারীর গহীন অরণ্যে অবৈধ ইট ভাটা, নষ্ট হচ্ছে পরিবেশের ভারসাম্য, উজাড় হচ্ছে বনাঞ্চল

Et-Vata (2) copy

বাইশারী প্রতিনিধি:

বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার বাইশারী ইউনিয়নের গহীন অরণ্য ১নং ওয়ার্ড কাগজি খোলা ও পার্শ্ববর্তী ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ড রইগার ঝিরি সাপের ঘাটা নামক স্থানে অবৈধভাবে গড়ে তোলা হয়েছে দুইটি ইট ভাটা। বনভূমির পাহাড় কাটা মাটি দিয়ে তৈরি করা হচ্ছে ইট। জ্বালানী হিসেবে যোগান দেওয়া হচ্ছে সংরক্ষিত বনাঞ্চলের মূল্যবান গাছগাছালি।

বিগত আট বছর ধরে ওই ইট ভাটার আশেপাশে নির্বিচারে বনজঙ্গল ও বনের কচিকাঁচা গাছ, পাহাড় কর্তন সহ নানাবিধ তাণ্ডবে প্রাকৃতিক বনভূমি ন্যাড়া ভূমিতে পরিণত হলেও দেখার কেউ নেই। ইট ভাটার বিষাক্ত কালো ধোঁয়ায় আক্রান্ত স্কুল পড়ুয়া শিশু ও এলাকাবাসী।

প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ দেওয়ার পরও বহাল তবিয়তে চালিয়ে যাচ্ছে অবৈধ ইট তৈরি কার্যক্রম। গ্রামবাসী ও স্কুল পরিচালনা কমিটির অভিযোগ অবৈধ ইট ভাটার মালিক প্রভাবশালী হওয়ায় বনবিভাগের দুর্নীতি পরায়ন কর্তব্যরত ব্যক্তিদের ম্যানেজ করায় এ অবৈধ ইট ভাটার কার্যক্রম বন্ধ হচ্ছে না। এ দাবি এলাকার সুশীল সমাজের।

সরজমিনে বাইশারী ইউনিয়নে ১নং ওয়ার্ড কাগজি খোলা ঘুরে দেখা যায়, নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা সদর থেকে আনুমানিক ৪০ কি.মি উত্তরে ফাঁসিয়াখালী সীমান্ত সংলগ্ন ১নং ওয়ার্ড কাগজি খোলা ও পার্শ্ববর্তী ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নে ১নং ওয়ার্ড সাপের ঘাটা এলাকায় দুইটি অবৈধ ইট ভাটা অবস্থিত। যাহা সম্পূর্ণ টিনের চিমনি দিয়ে তৈরী।

ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, শ্রমিকেরা পাহাড় কেটে ইট তৈরি ও মাটি মজুদ করছে। আরও কিছুদুর পূর্ব উত্তরে গিয়ে দেখা যায়, বনাঞ্চলের শত শত মণ লাকড়ি মজুদ করা হয়েছে। ইট ভাটায় কর্মরত দুই শ্রমিকের নিকট জানতে চাইলে কি দিয়ে ইট পুড়ানো হয় তারা অকপটে স্বীকার করে বলেন, লাকড়ি ছাড়া আর কি দিয়ে ইট পুড়ানো হবে। কয়লার কথা জিজ্ঞেস করলে তারা বলেন, এখানে এত লাকড়ি মজুদ রয়েছে কয়লার কোন প্রয়োজন হয় না।

কক্সবাজার পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক সর্দার সরিফুল ইসলাম জানান, সংশোধিত আইনে সংযোজিত পরিবেশ ও জীব বৈচিত্র সংরক্ষণ এবং উন্নয়নের স্বার্থে আধুনিক প্রযুক্তির ইট ভাটা অর্থাৎ ঝিকঝাক কিলন, টেনেল কিলন অথবা অনুরূপ উন্নত মানের প্রযুক্তিতে ইট ভাটা স্থাপন করতে হবে। কৃষি জমি অথবা পাহাড় টিলা থেকে মাটি কেটে বা সংগ্রহ করে ইটের কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহার করা যাবে না। কর্তৃপক্ষের অনুমোদনক্রমে ইট তৈরি করার জন্য পুকুর, খালবিল, নদ-নদী, চরাঞ্চল বা পাহাড় কেটে মাটি সংগ্রহ করা যাবে না। ব্যবহার কমানোর জন্য কমপক্ষে ৫০ শতাংশ ফাঁপা ইট তৈরি করতে হবে। নির্ধারিত মান মাত্রায় কয়লা ব্যবহার করতে হবে। তিনি আরও বলেন উপজেলা সদর সরকারী বা ব্যক্তি মালিকানাধীন বন, অভয়ারণ্য বাগান, কৃষি জমি, পরিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা, নিষিদ্ধ এলাকা সীমা রেখা থেকে নূন্ন্যতম ১ কি.মি দূরত্বের মধ্যে ইট ভাটা করা যাবে না।

পার্বত্য জেলায় পরিবেশ উন্নয়ন কমিটির নির্ধারিত স্থান ছাড়া অন্য কোন স্থানে ইট ভাটা তৈরি সম্পূর্ণ নিষেধ রয়েছে। তিনি আরও জানান, বান্দরবানের বিভিন্ন স্থানে প্রায় ২৬টি ইট ভাটা রয়েছে। যার একটিও নীতিমালায় পড়েনা। ইট ভাটার মালিক ডুলাহাজারা এলাকার বাসিন্দা নাজমুল হক পিয়ারো বলেন, তিনি ইট ভাটার ব্যাপারে হাই কোর্টে রিট করেছেন। অপর মালিক শামশু উদ্দিন বলেন, ইট ভাটা তৈরির কোন অনুমতি তার কাছে নেই।

স্থানীয়দের অনেকে নাম প্রকাশ না করার শর্তে পার্বত্যনিউজকে জানায়, ইট ভাটার বৈধতাতো দূরের কথা, প্রভাবশালীদের ম্যানেজের মাধ্যমে দীর্ঘকাল যাবৎ এ কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। তারা আরও বলেন, ইট ভাটার মালিক প্রভাবশালী হওয়ায় তার বিরুদ্ধে মুখ খুলে কথা বলার সাহস এখানকার সাধারণ মানুষের নেই।

সরজমিনে আরও দেখা যায়, ইট ভাটার মাত্র পাঁচশত গজের ভিতর রয়েছে একটি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, তিনশত গজের ভিতর রয়েছে পুলিশ ফাঁড়ি, ছয়শত গজের মধ্যে রয়েছে মসজিদ, মাদ্রাসা ও বৌদ্ধ বিহার। আর চতুর্দিক রয়েছে প্রাকৃতিক বনভূমি ও জনসাধারণের বসবাস। ইট ভাটার কালো ধোঁয়ায় স্কুল ছাত্র-ছাত্রীরা অনেকেই এখন অসুস্থ বলেও জানা যায়।

বাইশারী ইউপি চেয়ারম্যান মো. আলম কোম্পানী বলেন, ১নং ওয়ার্ড এলাকায় একটি ইট ভাটা রয়েছে। তার কাগজপত্র আছে কিনা তিনি কিছুই জানেন না। তিনি আরও বলেন, এ ইট ভাটা শুধু তার আমলে নয় বিগত দিনেও ছিল এবং মৌসুম শুরু হলে প্রতি বছর ইট ভাটার কার্যক্রম শুরু হয়।

এ বিষয়ে বনবিভাগের নাইক্ষ্যংছড়ি ও সাঙ্গু রেঞ্জের দায়িত্বপ্রাপ্ত রেঞ্জ কর্মকর্তা এসএম হারুন জানান, বিষয়টি বনবিভাগের নয়। তারপরও তিনি খতিয়ে দেখবেন।




দেশে আ’লীগের জন্য এক আইন আর বিএনপির জন্য অন্য আইন প্রয়োগ করছে সরকার

Nc C Dal-2
নাইক্ষ্যংছড়ি প্রতিনিধি :
ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনা ও আনন্দঘন পরিবেশের মধ্য দিয়ে নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা ছাত্রদলের পুনর্মিলন ও বনভোজন সম্পন্ন হয়েছে। শুক্রবার ১৭ ফেব্রুয়ারি উপজেলা সদরের বিছামারা এলাকায় এ বনভোজন অনুষ্টিত হয়েছে।

দিনব্যপী আয়োজিত বনভোজনে নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা ছাড়াও পার্শ্ববর্তী কক্সবাজার জেলা সদর, রামু ও উখিয়া উপজেলার ছাত্রনেতারা যোগ দেন। শুক্রবার দুপুরে বনভোজন ও র‌্যাফেল ড্র অনুষ্ঠানের পুরষ্কার বিতরণে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কক্সবাজার জেলা ছাত্রদল সভাপতি রাশেদুল হক রাশেদ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন- সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হওয়ার পরও উপবন লেকে প্রশাসন ছাত্রদলকে বনভোজন করতে না দেওয়ায় আপনাদের কাছে অস্বাভাবিক মনে হলেও আমার কাছে স্বাভাবিক একটি বিষয়। সভা, সমাবেশ মিটিং-মিছিল করা মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার-মৌলিক অধিকার। যে দেশে সাধারণ মানুষের ভোটে নির্বাচিত কোন সরকার ক্ষমতায় থাকে না এ ধরনের মানুষের স্বাভাবিক জীবন যাত্রা ব্যাহত হয়, মানুষের মত যাতে প্রকাশ করতে না পারে সেজন্য এ সমস্থ কর্মসূচীকে বাধাগ্রস্থ করে। কারণ তারা মানুষের কথাগুলোকে ভয় পায়, তারা সমালোচনাকে ভয় পায়, তারা মানুষের মধ্যে ঐক্যবদ্ধতাকে ভয় পায়। তারা মনে করে মানুষ একত্রিত হয়ে সভা-সমাবেশ করলে সরকারকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেওয়া হবে। একই দেশে আমরা বসবাস করলেও আওয়ামীলীগের জন্য এক আইন আর বিএনপির জন্য অন্য আইন প্রয়োগ করছে বর্তমান সরকার। পৃথিবীর ইতিহাসে কোন স্বৈরাচার মানুষের উপর হামলা, মামলা, অত্যাচার, নির্যাতন করে, মানুষকে খুন করে, গুম করে ক্ষমতায় টিকে থাকতে পারেনি। শেখ হাসিনা সরকারও টিকে থাকতে পারবে না। তাই সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার জন্য তিনি ছাত্রদল নেতাকর্মীদের সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।

নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা ছাত্রদল সভাপতি আবু সুফিয়ান চৌধুরীর সভাপতিত্বে বনভোজন পরবর্তী পুরষ্কার বিতরণ সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. কামাল উদ্দিন, উপজেলা পরিষদের নারী ভাইস চেয়ারম্যান ও নারী নেত্রী হামিদা চৌধুরী, উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক নুরুল কাশেম, কক্সবাজার জেলা ছাত্রদলের সহ-সভাপতি রেজাউল করিম টিপু, রামু উপজেলা ছাত্রদল সভাপতি শাহ নুর উদ্দিন বাবু, সাধারণ সম্পাদক তৌহিদুল ইসলাম, কক্সবাজার জেলা ছাত্রদল সহ-সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান সিকদার, কক্সবাজার জেলা ছাত্রদলের ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক আবদুল্লাহ খান, কক্সবাজার জেলা ছাত্রদলের সহ প্রচার সম্পাদক আবদুল্লাহ আল মামুন, বিএনপি নেতা ইউপি সদস্য আরেফ উল্লাহ ছুট্টু, আমন্ত্রিত অতিথি আবুল বশর নয়ন, ডাক্তার মিজানুর রহমান, বিএনপি নেতা সৈয়দ আলম ফরাজি, উপজেলা যুবদল সভাপতি মো: শাহজাহান, নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা কৃষকদল সভাপতি আবদুল হক, বাইশারী ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দল সভাপতি আবদুর রশিদ, উপজেলা ছাত্রদল সাধারণ সম্পাদক আবু কাইছার, ছাত্রদল নেতা জাহাঙ্গীর আলম, বাইশারী ইউনিয়ন ছাত্রদল সভাপতি মুফিজুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক মো. ইলিয়াছ, ঘুমধুম ইউনিয়ন সভাপতি সিরাজুর ইসলাম, শাহ জালাল, বৃহত্তর চাকঢালা ইউনিট সভাপতি ছৈয়দুল আমিন প্রমুখ। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন উপজেলা ছাত্রদল সিনিয়র সহ-সভাপতি নুরুল আবছার ও সহ-সম্পাদক জিয়াবুল হক।




জনগণের পাশে থেকে দায়িত্বভার নিতে চাই: প্রতিমন্ত্রীর সহধর্মীনি মেহ্লা প্রু

Camp-1 copy

নাইক্ষ্যংছড়ি প্রতিনিধি:

নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার চাকঢালায় পার্বত্য প্রতিমন্ত্রীর সহধর্মীনি মেহ্লা প্রু মারমার উদ্যেগে বিনামূল্যে চিকিৎসা ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার উত্তর চাকঢালা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে দিনব্যাপী এ চিকিৎসা ক্যাম্পে শত শত স্থানীয় গরীব অসহায় জনসাধারণ বিশেষজ্ঞ ডাক্তার দ্বারা চিকিৎসা ও বিনামূল্যে ঔষধ গ্রহণ করেন।

নাইক্ষ্যংছড়ি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. মুবিনুল হক চৌধুরী, ডা. সালমান করিম খান, উপ সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার তপন বড়ুয়া এ ক্যাম্পে চিকিৎসা প্রদান করেন।

অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বান্দরবান জেলা পরিষদ সদস্য ক্যউচিং চাক, বান্দরবান জেলা ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. অংশৈ প্রু মার্মা, নাইক্ষ্যংছড়ি থানা অফিসার ইনচার্জ এএইচএম তৌহিদ কবির, এসআই মনিরুল ইসলাম, বান্দরবান জেলা পরিবার পরিকল্পনা দপ্তরের উপ পরিচালক ডা. অংছালু মারমা, বান্দরবান সদর উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. ভানু মার্মা, নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য ও প. প. কর্মকর্তা ডা. মংহ্লা প্রু।

চিকিৎসা ক্যাম্পে বান্দরবান ৩০০ নং আসনের সংসদ সদস্য ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈ সিং এমপির সহধর্মীনি মেহ্লা প্রু প্রধান অতিথির বক্তব্যে বলেন, আপনারা যত ভালবাসবেন আমাদের দায়িত্ব তত বাড়বে। এতে এলাকার উন্নয়ন হবে। আপনাদের পাশে থেকে দায়িত্বভার নিতে চাই। বিগত পাচঁ বার বীর বাহাদুরকে ভালবেসে এমপি নির্বাচিত করায় জনগণকে ধন্যবাদ জানিয়ে আগামী ইউপি নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীকে জয়ী করার আহ্বান জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, এ চিকিৎসা ক্যাম্পে সাধ্যমতো ঔষুধ সরবরাহ করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সমন্বয়ে নিয়মিত ফ্রি চিকিৎসা ক্যাম্প পরিচালনা করা হবে।

এসময় অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন, বান্দরবান জেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা আবু মুসা, জেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি মংক্যচিং চৌধুরী, লামা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোহাম্মদ ইসমাইল, নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতা অধ্যাপক মো. শফি উল্লাহ, উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক তসলিম ইকবাল চৌধুরী, সদস্য সচিব ইমরান মেম্বার, ডা. ইসমাইল, ডা. সিরাজুল হক, যুবলীগ সভাপতি জসিম উদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ হোসেন।

এদিকে ফ্রি চিকিৎসা ক্যাম্প উদ্বোধন শেষে চাকঢালা আমতলী মাঠ এলাকায় একটি মতবিনিময় সভায় মিলিত হন মেহ্লা প্রু মার্মা। ওই মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি ছাড়াও অন্যদের মাঝে বক্তব্য রাখেন লামা উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি মোহাম্মদ ইসমাইল, অধ্যাপক মো. শফি উল্লাহ, ইউপি নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী তসলিম ইকবাল চৌধুরী।




নাইক্ষ্যংছড়িতে দৈনিক ভোরের কাগজের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালন

Vorer Kagoj-2 (1) copy

নাইক্ষ্যংছড়ি প্রতিনিধি:

র‌্যালি, আলোচনা সভা ও কেক কাটার মধ্য দিয়ে বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলায় দৈনিক ভোরের কাগজের ২৫ বছরে পদার্পণ উপলক্ষে প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালিত হয়েছে। দিনটি উপলক্ষ্যে বুধবার সকাল ১১ টায় নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা প্রতিনিধি ও প্রেসক্লাব সভাপতি শামীম ইকবাল চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো, কামাল উদ্দিন।

বিশেষ অতিথি ছিলেন, নাইক্ষ্যংছড়ি থানা অফিসার ইনচার্জ এএইচ এম তৌহিদ কবির, এসআই মুনিরুল ইসলাম, উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক তসলিম ইকবাল চৌধুরী, সদস্য সচিব মো. ইমরান মেম্বার, সদর ইউপি চেয়ারম্যান ফরিদুল আলম, নারী নেত্রী ওজিফা খাতুন রুবি।

প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আবুল বশর নয়নের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন প্রেসক্লাবের উপদেষ্টা মাইনুদ্দিন খালেদ। এসময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক নুরুল কাশেম, ছাত্রলীগ সভাপতি বদুর উল্লাহ, সাধারণ সম্পাদক উবাচিং মার্মা, সদর যুবলীগ নেতা আনসার উল্লাহ প্রমুখ।

এছাড়াও র‌্যালিতে অংশ নেন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আবু আহমদ, সাংবাদিক আবদুল হামিদ, জাহাঙ্গীর আলম কাজল, আমিনুল ইসলাম, জয়নাল আবেদীন টুক্কু, আবদুর রশিদ, মুফিজুর রহমান, মো. শাহিন, সানজিদা আক্তার রুনা, মাহমুদুল হক বাহাদুর, তৈয়ব উল্লাহ, এম আবু শাহমা, প্রধান শিক্ষক নুরুল বাশার, এএসএম আলমগীর, মহিলা ইউপি সদস্য জুহুরা বেগম, যুবলীগ নেতা নাজমুল হাসান, আবদুর রহমান বাপ্পিসহ দৈনিক ভোরের কাগজের শুভানুধ্যায়ীরা।

অতিথিবৃন্দ তাদের বক্তব্যে বলেন, দৈনিক ভোরের কাগজ একটি অন্যতম ও স্বাধীনতার স্বপক্ষের পত্রিকা। দেশের ক্রান্তিলগ্নে এ পত্রিকা স্বাধীনতার হাল ছাড়েনি। তাই বর্তমান সরকারের সাফল্য উন্নয়নে বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশ করে পাঠকের হৃদয় জুড়ে থাকতে হবে। অতিথিবৃন্দ পত্রিকার সাথে জড়িত সকলের উত্তরোত্তর সাফল্য কামনা করেন। পরে অতিথিবৃন্দ আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কেক কাটেন।

এদিকে প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী অনুষ্ঠান শেষে প্রেসক্লাবের সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় করেন উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ।

এসময় তারা ১৩ ও ১৭ ফেব্রুয়ারি প্রতিমন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈসিং এমপির সহধর্মীনি মিসেস মেহ্লা প্রু মার্মা কর্তৃক চাকঢালা ও সোনাইছড়িতে বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা ও ঔষুধ বিতরণ করার কথা সাংবাদিকদের জানান।

এসময় উপজেলা আওয়ামী লীগ যুগ্ম আহ্বায়ক তসলিম ইকবাল চৌধুরী, সদস্য সচিব মো. ইমরান মেম্বার, ছাত্রলীগ সভাপতি বদুর উল্লাহ, সাধারণ সম্পাদক উবাচিং মার্মা উপস্থিত ছিলেন।




 ফাইনাল খেলায় বাইশারী এসোসিয়েশন ফুটবল একাদশ জয় পেয়েছে ৪-২ গোলে

02 (1) copy

বাইশারী প্রতিনিধি:

বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার বাইশারী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত বিজয় স্মৃতি গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্ণামেন্টের ফাইনাল খেলায় বাইশারী এসোসিয়েশন ফুটবল একাদশ ঈদগাঁও অল স্টার ফুটবল একাদশকে ট্রাইব্রেকারে ৪-২ গোলে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে।

শুক্রবার বিকাল চারটার সময় অনুষ্ঠিত খেলার প্রথমার্ধে ও দ্বিতীয়ার্ধে উভয় দল কোন ধরনের গোল করতে না পারায় শেষ পর্যন্ত খেলাটি ট্রাইব্রেকারে গড়ায়।

ট্রাইব্রেকারে বাইশারী এসোসিয়েশন ফুটবল একাদশ, ঈদগাঁও অল স্টার ফুটবল একাদশকে ৪ গোলে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে।

ওই খেলায় প্রধান পৃষ্ঠপোষক হিসেবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতা ও সমাজ সেবক অধ্যাপক মো. শফিউল্লাহ। সর্বশেষ ফাইনাল খেলায় সভাপতিত্ব করেন বাইশারী ইউপি চেয়ারম্যান মো. আলম কোম্পানী।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম বাহাদুর, নাইক্ষ্যংছড়ি প্রেসক্লাব সভাপতি শামীম ইকবাল চৌধুরী, সিনিয়র সহ-সভাপতি মো. আব্দুল হামিদ, সাধারণ সম্পাদক আবুল বশর নয়ন। স্বাগত বক্তা হিসেবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ কো-অপারেটিভ বুক সোসাইটি চট্টগ্রামের ব্যবস্থাপক মো. রফিক বসরী। সার্বিক নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিলেন বাইশারী পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ মো. আবু মুসা, সহকারী ইনচার্জ ওমর ফারুক, এএসআই রুবেল ধর প্রমুখ।

খেলায় ম্যান অব দ্যা ম্যাচ নির্বাচিত হয়েছেন বাইশারী এসোসিয়েশন ফুটবল একাদশের গোলরক্ষক মো. রিয়াদ এবং টুর্ণামেন্টের সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হয়েছেন স্বাগতিক দলের ডিফেন্ডার টিংকু সুশীল। খেলায় রেফারি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন কক্সবাজার জেলা রেফারি এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম কুতুবী, তার দুই সহযোগী ছিলেন সুমন ভট্টচার্য্য ও মিল্টন দত্ত। ভাষ্যকার ছিলেন মো. আবু সাঈদ ইমরান ও মো. সাইফুল ইসলাম।

খেলা শেষে বিজয় স্মৃতি গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্ণামেন্টের পক্ষ থেকে প্রধান পৃষ্ঠপোষক আওয়ামী লীগ নেতা অধ্যাপক শফিউল্লাহ বিজয় অর্জনকারী বাইশারী এসোসিয়েশন ফুটবল একাদশের অধিনায়ক মো. হোছাইন এবং টিম ম্যানেজার এডভোকেট মুর্শেদুল ইসলাম রুবেলের নিকট চ্যাম্পিয়ন ট্রপি সহ নগদ পঞ্চাশ হাজার টাকা প্রদান করেন। এছাড়া রানার্স আপ দলকে ট্রপি সহ নগদ দশ হাজার টাকা প্রদান করা হয়।

উল্লেখ্য, গত ১৩ জানুয়ারি ২০১৭ বাইশারী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত বিজয় স্মৃতি গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্ণামেন্টের খেলা শুরু হয়ে ১০ ফেব্রুয়ারি ২০১৭ খেলা সমাপ্তি ও ফাইনাল ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়।

উক্ত খেলায় সার্বিক ব্যবস্থাপনা ও আয়োজক ছিলেন বাইশারী সদর কৃষক সমবায় সমিতি লি. এর সভাপতি মো. আমিনুল হাকিম ও সকল সদস্যবৃন্দরা।




বাঁকখালী নদীর নাইক্ষ্যংছড়ির ৩০ কি.মি. খননের দাবি

Bakkali Nodi-2---

নাইক্ষ্যংছড়ি প্রতিনিধি :
বাংলাদেশ-মিয়ানমারের জিরো পয়েন্টের ভূচি পাহাড়ের নিকটবর্তী এলাকা থেকে সৃষ্ট বাকঁখালী নদী নাইক্ষ্যংছড়ি অংশে গতিপথ হারাচ্ছে। পাশাপাশি এ নদীর দু’পাড়ে ভোগ দখলে রেখে তামাক চাষ করার কারণে ক্ষতি হচ্ছে মৎস্য সম্পদ। গত কয়েকদিন যাবত কচ্ছপিয়া-গর্জনিয়া হয়ে নাইক্ষ্যংছড়ির দোছড়ি সীমানা এলাকার জনসাধারণের সাথে কথা বলে এমন তথ্য উঠে এসেছে।

প্রাপ্ত তথ্যে জানা গেছে, দেশের পূর্ব সীমান্ত পার্বত্য বান্দরবান জেলার নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার দোছড়ির ওপারে পাহাড় থেকে উৎসারিত বাকঁখালী নদী কক্সবাজার বুক চিরে বঙ্গোপসাগরের সাথে যুক্ত হয়েছে। কিন্তু সীমান্তের এই গুরুত্বপূর্ণ নদীর নাম এতদিন বান্দরবান জেলার কোথাও উল্লেখ ছিল না। এই নদী খরস্রোতা ও প্রায় ৬৭ কিলোমিটার দীর্ঘ। বাঁকখালী নদীর মোহনা থেকে ৬০ কি.মি. উত্তরে মাতামুহুরী মোহনা।

বর্তমানে এই নদী মৃতপ্রায়। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পাহাড়ী ঢলে ভরাট হয়ে যাওয়া নদীর দুই পাড়ে দখলদাররা তামাক চাষ শুরু করেছে। যার কারণে নদীটি সরু হয়ে বর্ষা মৌসুমে ঘন ঘন বন্যায় কবলিত হচ্ছে নাইক্ষ্যংছড়ি ও আশপাশের এলাকা।

নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা আওয়ামীলীগ সদস্য সচিব ও দোছড়ি ইউপির ৪নং ওয়ার্ড মেম্বার মো. ইমরান জানান, বাকঁখালী নদীটির উৎপত্তি হয়েছে দোছড়ি-মিয়ানমার সীমান্ত থেকে। নাইক্ষ্যংছড়িতে অন্তত ২৫/৩০কি.মি. এলাকা জুড়ে বাকঁখালী নদী। কিন্তু সম্প্রতি সময়ে পাহাড়ে পাথর উত্তোলন, বন ধ্বংসসহ নদীর দুই পাড়ে তামাক চাষের কারণে বাকঁখালী নদী প্রাণ হারাচ্ছে।

পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈসিং এমপির সহকারী একান্ত সচিব সাদেক হোসেন চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশ নদী কমিশন এতদিন জানত বাঁকখালী কক্সবাজারের নদী। ২৩ জানুয়ারী প্রতিমন্ত্রী বীর বাহাদুরের সাথে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ে বৈঠকের পর তারা নিশ্চিত হয় যে, এ নদীর উৎপত্তিস্থল বান্দরবানে। আগামীতে নদী নিয়ে যখন কাজ শুরু হবে তখন সেটা জানা যাবে। বাকখালী বন্দরবানের নদীর তালিকায় উঠেছে এবং সেটা সংশ্লিষ্টরা আমাদের কাছে নিশ্চিত করেছেন।

অপরদিকে রামু উপজেলার কচ্ছপিয়ায় বাঁকখালী নদীর ভাঙ্গন অংশে নিয়োজিত ঠিকাদার সোহেল সিকদার এ প্রতিবেদককে জানান, উজানে পাহাড়ী ঢল ও পরিবেশ বিধ্বংসী কর্মকান্ডের কারণে বাঁকখালী নদী ভরাট হয়ে যাচ্ছে। এ নদীর গতিপথ পরিবর্তন হওয়ায় কচ্ছপিয়া-গর্জনিয়া সংযোগ সড়ক পর্যন্ত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছিল।  যেখানে বর্তমানে কক্সবাজার-রামু আসনের সংসদ সদস্যের আন্তরিকতায় কাজ চলছে। আগামীতে বাঁকখালী খনন করা না হলে নদীটি গ্রামের ভিতর দিয়ে প্রবাহমান হয়ে হাজার হাজার মানুষ ক্ষতিগ্রস্থ হবে বলে মনে করেন তিনি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা নির্বাহী অফিসার এস এম সরওয়ার কামাল বলেন, আমরা জেনেছি বাঁকখালী নদীর উৎপত্তিস্থল দোছড়ি-মিয়ানমার সীমান্তে। আগামীতে নদী খননসহ বাঁকখালীর অস্তিত্ব রক্ষায় প্রশাসন সজাগ থাকবে বলে জানান তিনি।




চাকঢালায় স্থল বন্দরের সম্ভাব্য স্থান পরিদর্শন করলেন ইউএনও

নাইক্ষ্যংছড়ি প্রতিনিধি:

দীর্ঘ প্রতীক্ষিত নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা সদর ইউনিয়নের চাকঢালা পয়েন্টে স্থল বন্দর চালুর প্রাথমিক কাজ শুরু করেছে প্রশাসন। ৭ ফেব্রুয়ারি সকালে উপজেলা প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সম্ভাব্য স্থল বন্দরের জন্যে স্থান নির্ধারন ও প্রাথমিকভাবে অবকাঠামোর জন্যে জমি বা ভূমি সার্ভে করেছেন। এতে করে সীমান্তের চাকঢালাসহ আশেপাশের এলাকার মানুষের ভাগ্যের চাকা ঘুরে যাবে আশা করছেন সুশীল সমাজের লোকজন।

সূত্র মতে বাংলাদেশ-মিয়ানমারের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার চাকঢালা বা আশারতলী পয়েন্টের মধ্যে পরিবেশগত সুবিধা থাকার কারনে উভয় দেশের ব্যবসায়ীরা নানাভাবে ব্যবসা করে আসছিল দীর্ঘদিন ধরে। যদিও সীমান্তের এ পয়েন্ট  গুলো  দিয়ে  প্রতিদিন অবৈধ পথে পণ্য আনা নেয়ার অবৈধ  কাজ ঠেকানো যাচ্ছে  না সেহেতু সরকার সিদ্ধান্ত নেন যে, এ পয়েন্টে আরেকটি স্থল বন্দর হোক। যার মাধ্যমে সমতল পথ দিয়ে সহজেই যেন উভয় দেশের শতশত ব্যবসায়ীরা বৈধ ব্যবসা করতে সুযোগ পাক। আর এতে সরকারও পেতে পারে কোটি কোটি টাকার রাজস্ব।

এ সব চিন্তাভাবনা করে সরকারের আস্থাভাজন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈসিং এমপি গত ৪ ফেব্রুয়ারি দুপুরে নাইক্ষ্যংছড়ির রাজনৈতিক নেতা ছাড়াও উপজেলা প্রশাসনকে নির্দেশ দেন চাকঢালা সীমান্ত পয়েন্ট দিয়ে স্থল বন্দর নির্মাণের  তৎপরতা শুরু করতে।

বিশেষ করে উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে নিদের্শ দেন যেন দ্রুতগতিতে সীমান্তের এ পয়েন্ট দিয়ে স্থল বন্দরের কাজ শুরু করতে ভূমি জরিপ বা অবকাঠামো নির্মাণে স্থান বাছাইয়ের কাজ চুড়ান্ত করে সরকারকে রিপোর্ট দিতে। এরই প্রেক্ষিতে নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা নির্বাহী অফিসার এসএম সরওয়ার কামাল মঙ্গলবার সকাল ১১টায় সীমান্তের ৪৩ ও ৪৪  নম্বর সীমান্ত পিলার সংলগ্ন সম্ভাব্য স্থল বন্দর উপযোগী চেরারমাঠ এলাকা পরির্দশন করেন। পাশাপাশি এখানের ঝিরি ও ছড়ার উপর ব্রিজ-কালভার্ট নির্মাণের জন্যে মাপ-ঝোঁপ  করেন একই সময়।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার এসএম সারওয়ার কামাল বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী বীর বাহাদুরের নিদের্শে তিনি চাকঢালার এ পয়েন্ট দিয়ে স্থল বন্দরের স্পট নির্ধারণে ভূমি সার্ভে করা সহ অন্যান্য আনুষঙ্গিক কাজকর্ম শুরু করতে ওইস্থানে গেছেন। সাথে উপজেলা প্রকৌশলী শহিদুল ইসলাম, সদর ইউপি চেয়ারম্যান ফরিদুল আলম ও উপজেলা সার্ভেয়ার মনির হোসেন সহ সংশ্লিষ্টরা এখানে ছিলেন।

তিনি আরও বলেন, তারা অতি দ্রুত এ বিষয়ে রিপোর্ট দেবেন সরকারকে। আশা করা যায়, নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার এ পয়েন্টেও স্থল বন্দরের জন্যে কার্যক্রম তড়িত শুরু করবে সরকার।