দীঘিনালায় মাতৃভাষা দিবসে ‘চাঙমা বর্ণমালা ও ভাষা শিক্ষা কোর্স উদ্বোধন

Dighinala picture 21-02-2017 copy

দীঘিনালা প্রতিনিধি:

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে ‘চাঙমা বর্ণমালা ও ভাষা শিক্ষা কোর্স’ উদ্বোধন করা হয়েছে। চাঙমা সাহিত্য বা সাঙু পাঠাগার এবং চাঙমা সাংস্কৃতিক গোষ্ঠীর উদ্যোগে মঙ্গলবার দীঘিনালা উপজেলার বাবুছড়া ফ্রেন্ডশিপ স্কুলে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে মোমবাতি প্রজ্জ্বলন করে ‘চাঙমা বর্ণমালা ও ভাষা শিক্ষা কোর্স’ উদ্বোধন করেন, উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নব কমল চাকমা।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (প্রাথমিক শিক্ষাক্রম)’র সদস্য আনন্দ মোহন চাকমার সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, উপজেলা নারী ভাইস চেয়ারম্যান গোপাদেবী চাকমা, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. শেখ শহিদুল ইসলাম, উপজেলা রিসোর্স সেন্টারের ইন্সট্রাক্টর মো. মাইনুদ্দিন,  বাবুছড়া ইউপি চেয়ারম্যান সুগত প্রিয় চাকমা, বাবুছড়া ফ্রেন্ডশিপ স্কুলের প্রধান শিক্ষক তিমির বরণ চাঙমা, সাঙু পাঠাগার’র সভাপতি ও চাঙমা সাহিত্য বা’ এর সদস্য সচিব ইনজেব চাঙমা চারু, সাঙু পাঠাগার’র সহ-সাধারণ সম্পাদক জয়সেন চাকমা প্রমুখ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নব কমল চাকমা বলেন, আমরা আমাদের চেতনা, চর্চা ও নানান পরিবেশ পরিস্থিতির কারণে আমাদের নিজ মাতৃভাষা হারাতে বসেছি। এ ভাষা আমাদের ঐতিহ্যের ধারক ও বাহক।

উল্লেখ্য তিন মাসব্যাপী এ প্রশিক্ষণ কোর্সে বিভিন্ন বয়সী এবং স্কুল কলেজ পড়ুয়া মোট ৭৬জন প্রশিক্ষনার্থী অংশ নেয়।




চাঙমা লিখা শিক্ষা কোর্সে প্রশিক্ষণ নিচ্ছে, স্কুল কলেজ ও বিভিন্ন বয়সী নারী পুরুষ

Dighinala Chakma Language picture 18-02-2017 copy

প্রতিনিধি দীঘিনালা,

শুক্রবার দীঘিনালা উপজেলার দক্ষিণ আটারক ছড়া গ্রামে র‌্যাংকার্যা উচ্চ বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, বিদ্যালয়ের একটি কক্ষে ‘চাকমা লেগা শিকখা কোর্স’ নামের কোর্সে প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন, স্কুল কলেজ ও বিভিন্ন বয়সী নারী পুরুষ। তিন মাসব্যাপী এ প্রশিক্ষণে চাকমা বর্ণমালার পরিচয় সর্ম্পকে ধারণা দেয়া হবে। এতে অংশ নেয়া প্রশিক্ষণার্থীরা চাকমা ভাষার বর্ণমালায় লিখতে ও পড়ার অভিজ্ঞতা অর্জন করতে পারবে।

আটারক ছড়া গ্রামের কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থী ইনিকা চাকমা বললেন, চাকমা ভাষা আমাদের মাতৃভাষা হলেও এ ভাষার বর্ণ সর্ম্পকে আমাদের পরিচয় ছিল না। এ প্রশিক্ষণ কোর্সে এসে চাকমা বর্ণমালা সর্ম্পকে জানতে পেরেছি। এখন চাকমা বর্ণমালা লিখতে ও চাকমা ভাষায় লেখা পড়তে পারি।

প্রশিক্ষণে অংশ নেয়া অপর শিক্ষার্থী এবং দীঘিনালা ডিগ্রি কলেজের শিক্ষার্থী আকাশী চাকমা জানান, সব ভাষারই বর্ণমালা আছে। চাকমা ভাষার বর্ণমালা থাকার পরও বর্ণমালা’র সাথে পরিচয় ছিল না। এ প্রশিক্ষণে অংশ নিয়ে চাকমা ভাষা’র বর্ণমালায় পড়তে পারছি।

প্রশিক্ষণে অংশ নেয়া গৃহিনী নমিতা চাকমা (৪০) জানান, এ প্রশিক্ষণে আমার ছেলেও অংশ নিয়েছে। চাকমা বর্ণমালা সর্ম্পকে জানার জন্যই এ প্রশিক্ষণে অংশ নেয়া।

এব্যাপারে, ‘চাকমা লেগা শিকখা কোর্স’ এর প্রশিক্ষক সুমনা চাকমা জানান, ৩ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হয় এ প্রশিক্ষণ কোর্স। তিন মাসব্যাপী বিনামূল্যের প্রশিক্ষণে ৬০জন স্কুল কলেজ’সহ বিভিন্ন বয়সী নারী পুরুষ অংশ নেয়। এ প্রশিক্ষণের মূল লক্ষ্য হলো, চাকমা ভাষার পরিচয়সহ ভাষা’র বিভিন্ন বর্ণের সাথে পরিচয় করানো। যাতে, চাকমা ভাষায় গল্প, কবিতা পড়তে পারে। তিনি আরও বলেন, আমাদের স্বার্থকতা হবে তখনই, যখন এ প্রশিক্ষণে অংশ নেয়া শিক্ষার্থীরা প্রশিক্ষণ শেষে চাকমা ভাষায় গল্প ও কবিতা লিখতে পারার সক্ষমতা অর্জন করতে পারবে।

এব্যাপারে ‘চাঙমা সাহিত্য বা’ (চাকমা ভাষায় সাহিত্য পত্রিকা)এর সদস্য সচিব এবং সাঙু পাঠাগারের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ইনজেব চাকমা জানান, মাতৃভাষা সবারই জানা দরকার। নিজ ভাষার বর্নমালা জানা না থাকলে, আপনি যতই শিক্ষিত হোন না কেন, তাকে শিক্ষিত বলা যাবে না। বর্তমান সরকারের প্রাথমিক বিদ্যালয় পর্যায়ে চাকমা ভাষার বই চালুর উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়ে বলেন, চাকমা সাহিত্যকে বিশ্ব সাহিত্যে রুপান্তরিত করার জন্যে সরকারের পাশাপাশি আমরা কাজ করছি।




দীঘিনালা মডেল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা

16809199_1213023272138201_87599519_n copy

দীঘিনালা প্রতিনিধি:

দীঘিনালা মডেল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতার পুরষ্কার বিতরণ ও ২০১৬ সালে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষায় জিপিএ ৫ পাওয়া কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা দেয়া হয়েছে।

শনিবার বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায়, বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি বাবু সমধানন্দ চাকমার সভাপতিত্বে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন, দীঘিনালা উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বাবু নব কমল চাকমা।

সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য শতরুপা চাকমা, উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান গোপাদেবী চাকমা, সহকারী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা হ্যাপী চাকমা, দীঘিনালা থানার অফিসার ইনচার্জ মো. মিজানুর রহমান, উপজেলা রিসোর্স সেন্টারের ইন্সট্রাক্টর মো. মাইনুদ্দীন, বোয়ালখালী ইউপি চেয়ারম্যান চয়ন বিকাশ চাকমা, কবাখালী ইউপি চেয়ারম্যান মো. জাহাঙ্গীর হোসেন, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা কামনা ত্রিপুরা প্রমুখ।

আলোচনা সভা শেষে বিদ্যালয়ের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতার পুরষ্কার বিতরণ ছাড়াও ২০১৬ সালে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষায় জিপিএ ৫ পাওয়া ৮জন কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা প্রদান করা হয়।




দীঘিনালার দুর্গম এলাকায় খাবার পানির অভাব

Dighinaala picture 14-02-2017 copy

দীঘিনালা প্রতিনিধি:

কোথাও পানি নেই। খাবার পানিও এক থেকে দেড় কিলোমিটার দুর থেকে আনতে হয়। কারণ পাশের ছড়া, ঝরনাগুলোও শুকিয়ে গেছে। গ্রামের সকলেই পানির কষ্ট ভোগ করছে। সারারাত ঝরনার কুয়ায় পানি জমা হওয়ার পর ভোরে যে আগে যেতে পারে সেই পানি পায়। বাকিরা ঘন্টার পর ঘন্টা পানির জন্য অপেক্ষা করতে হয়। কথা গুলো জানালেন, সীমানা পাড়া গ্রামের রেমেন্দ্র লাল ত্রিপুরা।

জানা যায়, খাগড়াছড়ির দীঘিনালা উপজেলার দুর্গম এলাকা গুলোতে নিরাপদ পানির ব্যবস্থা নেই। এসব গ্রামের লোকজন এখনো ছড়া, ঝর্ণা এবং কুয়ার পানির উপর নির্ভর। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ করার সুবিধা থাকলেও, শীত মৌসুমে ছড়া, ঝর্ণা কুয়াগুলো শুকিয়ে যাওয়ার ফলে এসব গ্রামে পানির সমস্যা দেখা দেয়।

এখানকার লোকজন ঝর্ণা, ছড়া এবং কুয়ার পানি পান করতে করতে এখন পরিষ্কার পানিকেই তারা পান করার উপযোগ্য পানি মনে করে। আর যুগ যুগ ধরে এসব পানি পান করে আসছে। উপজেলার সীমানা পাড়া, মাইয়াপো পাড়া, বুদ্ধমা পাড়া সহ বেশ কয়েক এলাকা ঘুরে দেখা যায়, এসব এলাকার কোথাও নলকূপ নেই। নেই নিরাপদ পানির বিকল্প অন্যকোন ব্যবস্থা। এসব এলাকার সকলেই নদী, ছড়া, ঝিরি এবং কুয়ার পানি পান করা সহ সকল কাজে ব্যবহার করছে। এ গ্রামের অধিকাংশ লোকজন নিরাপদ পানি কি জানে না। নদী, ছড়া, ঝিরি, কুয়ার পরিষ্কার পানিকেই নিরাপদ পানি হিসেবে জানে। আর এসব পানি পান করার কারণে কলেরা এবং ডায়রিয়ার মতো পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছে এসব এলাকার লোকজন।

এব্যাপারে সীমানা পাড়া গ্রামের মতিবালা ত্রিপুরা(৪৫) জানান, ছড়া ঝর্ণা গুলো শুকিয়ে গেছে। দেড়-দুই কিলোমিটার পথ যাওয়ার পর পরিষ্কার পানি পাওয়া যায় না।

সীমানাপাড়া গ্রামের খমিতা ত্রিপুরা(৫৫) জানান, ছড়া ঝিরি কুয়ার পানি পান করেই আমি বড় হয়েছি। এখনো পান করছি। খাওয়া দাওয়া হতে শুরু করে সকল কাজই এ পানি ব্যবহার করি। তিনি আরও জানান, এখন শীতকাল তাই ছড়া, ঝর্না এবং কুয়ার পানি শুকিয়ে যাওয়ার কারণে পানির জন্য অনেক দুর যেতে হয়।

নয়মাইল এলাকার হিরু ত্রিপুরা(৩৩)জানান, বাপ-দাদার আমল থেকে এ গ্রামের সকলেই ছড়া, ঝিরি, কুয়ার পানি পান করে আসছে। এসবের পানি পান করেই এ এলাকার সবাই অভ্যস্ত। তাই এসব ছড়ার পানি পান করার ফলে পানি বাহিত অনেক রোগ হয়। এসব এলাকার নিরাপদ পানি ব্যবহারের জন্য সরকারী ভাবে উদ্যোগ নেয়া দরকার।

এব্যাপারে দীঘিনালা উপজেলা দুর্গম এলাকাগুলোতে নিরাপদ পানির সুব্যবস্থা না থাকার কথা স্বীকার করে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো.জাহাঙ্গীর আলম সরকার জানান, সীমানা পাড়া, বুদ্ধমাপাড়া, মাইয়াপো পাড়া সহ পাহাড়ি এলাকাগুলোতে আমরা নলকূপ বসাতে চেষ্টা করেছি। নলকূপ বসানোর জন্য কিছু বোরিং করার পর পর পাথর পাওয়া যায়, যার ফলে ভালো  পানির স্তর পাওয়া যায় না। পাথর থাকার কারণে এসব গ্রামের কোথাও নলকূপ বসানো সম্ভব হয়নি।




দীঘিনালায় ঝুকিপূর্ণ বেইলী ব্রিজ মেরামত করে দিল ব্যবসায়ীরা

Dighinala picture 13-02-2017 copy

দীঘিনালা প্রতিনিধি:

দীঘিনালা উপজেলায় ঝুকিপূর্ণ একটি বেইলী ব্রিজ মেরামত করে এলাকাবাসীর চলাচলের উপযোগী করে দিল উপজেলার ব্যবসায়ীরা।

সোমবার দিনভর চেষ্টার পর উপজেলার বাবুছড়া এবং দীঘিনালা ইউনিয়নের মধ্যবর্তী ছড়ার উপর নির্মিত বেইলী ব্রিজটি পুনরায় সচল হয়।

জানাযায়, সড়ক ও জনপথ বিভাগের উদ্যোগে নির্মিত বেইলী ব্রিজটি নির্মাণের পর থেকে আর সংস্কার করা হয়নি। যার ফলে গত ২/৩বছর যাবৎ ঝুকিপূর্ণভাবেই পাশ্ববর্তী দুটি ইউনিয়নসহ উপজেলার উৎপাদিত পণ্য পরিবহনসহ লোকজন চলাফেরা করছে। বেশ কয়েকদিন আগে থেকে বেইলী ব্রিজে পাটাতন দেবে গেলে ভারী যান চলাচল একেবারে বন্ধ হয়ে যায়। ফলে উপজেলার বিভিন্ন ব্যবসায়ীরা ব্রিজটি মেরামতের উদ্যোগ নেয়।

এব্যাপারে, ব্যবসায়ী এবং দীঘিনালা উপজেলা যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক নয়ন দাশ জানান, ব্রিজটি এতোটাই ঝুকিপূর্ণ হয় যে, অনেকগুলো পাটাতন দেবে গেছে। যার ফলে যাত্রীবাহী বাস, ট্রাক চলাচল একেবারে ঝুকিপূর্ণ হয়ে উঠে।

উপজেলার বোয়ালখালী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. মোস্তফা জানান, ব্রিজের পাটাতন দেবে যাওয়ার ফলে দুই ইউনিয়নের উৎপাদিত পণ্য, কাঠ, বাঁশসহ এবং ব্যবসায়ীক মালামাল পরিবহন বন্ধ হয়ে যায়। যার ফলে আমরা ব্যবসায়ীরা বেইলী ব্রিজটি মেরামতের উদ্যোগ নেয়। এর আগে ব্রিজের দুই পাড় ধরে রাখার জন্য বল্লি বসিয়েছিলাম। এবার দেবে যাওয়া পুরাতন পাটাতন খুলে সোজা করে, ঝালাই করে চলাচলের উপযোগী করা হচ্ছে।

এব্যাপারে খাগড়াছড়ি সড়ক ও জনপথ বিভাগের কার্যসহকারী বীর ভদ্র চাকমা জানান, দীঘিনালা থেকে জারুলছড়ি পর্যন্ত মোট ৫টি নতুন ব্রিজ হবে। সবগুলো ব্রিজেরই দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। যারফলে পুরাতন ব্রিজগুলো সংস্কারের বরাদ্ধ নেই। এ ব্রিজটি মেরামতের জন্য প্রায় একলক্ষ টাকার মতো খরচ হচ্ছে। সম্পূর্ন অর্থই বহন করছেন, এখানকার ব্যবসায়ীরা। তিনি আরও বলেন, স্থানীয় ব্যবসায়ী উদ্যোগে ব্রিজ মেরামত খুবই  প্রশংসনীয় উদ্যোগ।




পাহাড়ে প্রাকৃতিকভাবে উৎপাদিত চুই যাচ্ছে সারাদেশে, বাণিজ্যিকভাবে চাষের সম্ভাবনা

Dighinala (choi) picture (01) 12-02-2017 copy

দীঘিনালা প্রতিনিধি:

পাহাড়ে প্রাকৃতিকভাবে উৎপাদিত হচ্ছে মসলা জাতীয় উদ্ভিদ চুই। একসময়ে এটি বন্যলতা নামে পরিচিতি থাকলেও বর্তমানে এটি সুস্বাধু খাবার হিসেবে বেড়েছে এর চাহিদা ও কদর। যা স্থানীয় জুমচাষীরা জঙ্গল থেকে সংগ্রহ করে নিয়ে আসছেন বাজারে। পাহাড়ের এ সংগৃহিত চুই এখন যাচ্ছে সারাদেশে।

চুই সর্ম্পকে জানাযায়, চুই মসলা জাতীয় অপ্রচলিত উদ্ভিদ। এটি লতা জাতীয় গাছ। এর কাণ্ড ধূসর এবং পাতা পান পাতার মত সবুজ রঙের। এর কাণ্ডটিই মসলা হিসেবে ব্যবহ্নত হয়। চুই সাধারণত দুই প্রকারের হয। একটির কাণ্ড আকারে যা ২০ থেকে ২৫ সেন্টিমিটার এবং অন্যটির আকার ২.৫ সেন্টিমিটার থেকে ৫ সেন্টিমিটার পর্যন্ত মোটা হয়। চুই গাছ সাধারণত ৮ থেকে ১০ মিটার পর্যন্ত লম্বা হয়।

চুই গাছ জমিতে অথবা গাছের গুড়িতে চাষ করা যায়। এটি চাষের জন্য  দো-আঁশ ও বেলে দো আঁশ মাটিতে পানি নিষ্কাশন সুবিধাজনক স্থানে ভালো জন্মায়। তবে পাহাড়ের মাটিও চুই চাষের জন্য উপযোগী। বৈশাখ  জৈষ্ঠ মাসে এবং আশ্বিন-কার্তিক মাসে কাটিং পদ্ধতিতে কাণ্ড সরাসরি মাটিতে রোপন করা হয়। চুই চাষের জন্য আলাদা মাচা তৈরি করতে হয় না। যেকোন বৃক্ষ জাতীয় গাছ আম, কাঁঠাল, জাম, সুপারি, নারিকেল ও জিয়ল গাছের গোড়ায় রোপন করলে এক বছরের মধ্যেই খাওয়ার উপযোগী হয়।

ঔষধি গুণ সম্পন্ন মুখরোচক এ চুই শ্লেষ্মানাশক, গায়ে ব্যথা উপশমে কার্যকর। এটি হজমিকারক হিসেবে বেশ সহায়ক। সাধারণত মাংসের সাথে এ চুই ব্যবহার করা হয়।

তবে পাহাড়ে বসবাসরত জুম চাষীরা, জুম চাষের সুবাদে প্রাকৃতিকভাবে উৎপাদিত এসব চুই সংগ্রহ করে থাকেন। পরে তা আটি বেঁধে নিয়ে আসেন বাজারে।

চুই বিক্রি করতে আসা দীঘিনালা উপজেলার যতিন ত্রিপুরা জানান, প্রতি বছর জুমের জমি তৈরির সময় চুই পাওয়া যায়। এসব চুই প্রাকৃতিকভাবে উৎপাদিত।

স্থানীয় পাইকার ব্যবসায়ী মো. জামাল হোসেন জানান, প্রতি বাজার থেকে আমরা ৪০টাকা কেজি দরে ক্রয় করে থাকি। পরে তা আমরা শহরের অভিযাত হোটেলগুলোতে প্রতিকেজি ২০০-৩০০ টাকা কেজি হারে বিক্রি করা হয়। পাহাড়ের চুই ব্যপক চাহিদা রয়েছে।

দীঘিনালা হটিকালচার সেন্টারের উপ-সহকারী উদ্যান তত্ত্ব কর্মকর্তা মো. সেলিম জাবেদ জানান, পাহাড়ের মাটি ও আবহাওয়া চুই চাষের উপযোগী। প্রাকৃতিক ভাবে উৎপাদিত চুই সংগ্রহ করে সারা দেশে নিয়ে যাচ্ছে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। তাই তামাকের বিকল্প হিসেবে এখানে বাণিজ্যিক ভাবে চুই চাষাবাদ করে লাভবান হওয়া সম্ভব।




দীঘিনালায় নিখোঁজ ভাড়ায় চালিত মোটরসাইকেল চালক উদ্ধারে মুক্তিপণ দাবি

Dighinala picture 08-02-2017 copy

দীঘিনালা প্রতিনিধি:

দীঘিনালায় ভাড়ায় চালিত মোটরসাইকেল চালক উদ্ধারে মুক্তিপণ দাবি করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার একটি মোবাইল নম্বর থেকে নিখোঁজ মোহাম্মদ আলীর স্ত্রীর মোবাইল নম্বরে ফোন করে দশ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। মোটরসাইকেল চালক মোহাম্মদ আলী রবিবার থেকে সাত দিন ধরে নিখোঁজ রয়েছে। সে উপজেলার দক্ষিণ মিলনপুর গ্রামের মৃত হরমুজ আলীর পুত্র।

পুলিশ জানায়, ভাড়ায় চালিত মোটরসাইকেল চালক মোহাম্মদ আলী রবিবার বিকালে উপজেলার বাসটার্মিনাল থেকে একজন যাত্রী নিয়ে রাঙ্গামাটি জেলার বাঘাইছড়ি উপজেলা সাজেকের দিকে যায়। এর পর থেকেই সে আর বাড়ি ফিরেনি। নিখোঁজ হওয়ার পর থেকে তার মুঠোফোন নম্বর বন্ধ রয়েছে। এদিকে বৃহস্পতিবার নিখোঁজ মোহাম্মদ আলীকে উদ্ধারে তার স্ত্রী মোছাঃ ফাতেমা বেগমের মোবাইল ফোনে একটি নম্বর দিয়ে প্রথমে পঞ্চাশ হাজার টাকা দাবি করা হয়। পরে দিতে অপারগতা করায় এক পর্যায়ে বিশ হাজার টাকা, পরে দশ হাজার টাকা বিকাশ প্রেরণ করার জন্য দাবি করা হয়।

মোহাম্মদ আলীর স্ত্রী মোছাঃ ফাতেমা বেগম জানান, রবিবার ভাড়ায় মোটর সাইকেল চালানোর কথা বলে বাড়ি থেকে বের হয়। এর পর দুপুরেও তার সাথে কথা হয়। এদিকে বৃহস্পতিবার দুপুরে একটি নম্বর দিয়ে কথা বলে মুক্তিপণ দাবি করে। দিতে অপারগতা প্রকাশ করায় বিকাশ নম্বরে দশ হাজার টাকা দাবি করা হয়। কিন্তু আমি আমার স্বামীর সাথে কথা বলতে চাইলে ওনারা আগে বিকাশে টাকা পাঠানোর কথা বলে।

এব্যাপারে দীঘিনালা এসআই মো. ফয়জুল করিম ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, মোবাইল ফোন নম্বর গুলো আমরা তদারকি করছি। এবং নিখোঁজ ব্যক্তি সর্ম্পকে খোঁজ নিতে যাবতীয় কাগজপত্র সিআইডি সেল এ পাঠানো হবে।




গরিব ও অসহায়দের মাঝে দীঘিনালা জোনের শীতবস্ত্র বিতরণ

Dighinala picture (02) 09-02
নিজস্ব প্রতিনিধি
দীঘিনালা জোন অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. ফেরদৌস জিয়াউদ্দীন মাহমুদ বলেছেন, ‘‘বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সর্বদা আর্তমানবতার সেবায় নিয়োজিত। আমাদের উপজেলার দুর্গম ও প্রত্যন্ত এলাকায় অনেক দুঃস্থ ও গরিব লোকজন রয়েছে, যারা শীতে অনেক কষ্ট করে, ভালো শীতের কাপড় কিনতে পারেন না। তাদের কষ্ট আমরা অনুভব করতে পারি। তাই তাদের কষ্ট লাগবে, একটি করে শীতবস্ত্র তুলে দেয়া হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, এবারের শীতে আমরা অন্যান্য স্থানেও অসহায় মানুষের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ করেছি। দীঘিনালা জোনের এ ধরনের সেবা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

বৃহস্পতিবার দীঘিনালা উপজেলার ধনপাতা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে শীতবস্ত্র বিতরণ উপলক্ষে এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্ত্যবে তিনি এসব কথা বলেন।

এসময় ৫ নম্বর বাবুছড়া ইউনিয়ন পরিষদের ইউপি সদস্য সাধন কুমার চাকমার সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, সুনাম দত্ত চাকমা, স্মৃতি বিকাশ চাকমা, নিরোধ তালুকদার, প্রিয়তোষ চাকমা প্রমুখ।

আলোচনা সভার পর উপজেলার ধনপাতা ছড়া ও বাঙ্গালী করুণা পাড়া গ্রামের অর্ধ শতাধিক পরিবারের মাঝে শীতবস্ত্র হিসেবে একটি করে কম্বল বিতরণ করা হয়।




দীঘিনালায় ভাড়ায় চালিত মোটরসাইকেল চালক চারদিন ধরে নিখোঁজ

Dighinala picture 08-02-2017 copy

দীঘিনালা প্রতিনিধি:

দীঘিনালা উপজেলায় এক মোটরসাইকেল চালক রবিবার থেকে চার দিন ধরে নিখোঁজ রয়েছে। নিখোঁজ মোটরসাইকেল চালকের নাম মোহাম্মদ আলী (৪০)। সে উপজেলার দক্ষিণ মিলনপুর গ্রামের মৃত হরমুজ আলীর পুত্র। এব্যাপারে নিখোঁজ মোহাম্মদ আলীর স্ত্রী মোছা ফাতেমা বেগম দীঘিনালা থানায় বুধবার বিকালে সাধারণ ডায়েরি করেছে।

জানা যায়, ভাড়ায় চালিত মোটরসাইকেল চালক মোহাম্মদ আলী রবিবার বিকালে উপজেলার বাসটার্মিনাল থেকে একজন যাত্রী নিয়ে রাঙ্গামাটি জেলার বাঘাইছড়ি উপজেলায় যায়। এর পর থেকেই সে আর বাড়ি ফিরেনি। নিখোঁজ হওয়ার পর থেকে তার মুঠোফোন নম্বর বন্ধ রয়েছে।

এব্যাপারে প্রত্যক্ষদর্শী ভাড়ায় চালিত মোটরসাইকেল চালক মো. শাহ আলম জানান, রবিবার একজন যাত্রী নিয়ে বাঘাইছড়ির দিকে যাওয়ার সময় উপজেলার কবাখালী বাজারে দেখা হয়। এর পর আর তার দেখা পাইনি।

এব্যাপারে নিখোঁজ মোহাম্মদ আলীর ভাগনে মো. আবুল হোসেন জানান, মামাকে খুঁজে পেতে আমাদের আত্বীয়স্বজনসহ সকল জায়গায় খোঁজাখুঁজি করেছি। বুধবার সারাদিন বাঘাইছড়ি উপজেলার মারিশ্যা, দশনম্বর, দুইটিলাসহ বিভিন্ন এলাকায় খোঁজ নিয়েছি এবং খবর পাঠিয়েছি।

মোহাম্মদ আলীর স্ত্রী মোছা. ফাতেমা বেগম জানান, রবিবার ভাড়ায় মোটরসাইকেল চালানোর কথা বলে বাড়ি থেকে বের হয়। এর পর দুপুরেও তার সাথে কথা হয়। বিকাল থেকে তার সাথে যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে।

এব্যাপারে দীঘিনালা থানার এসআই মো. ফয়জুল করিম ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, নিখোঁজ হওয়ার ব্যাপারে মোহাম্মদ আলীর স্ত্রী জিডি করেছে। এব্যাপারে তদন্ত চলছে।




দীঘিনালায় সাড়ে এগার লক্ষ টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনায় দু’জন আটক

আটক

দীঘিনালা প্রতিনিধি:

দীঘিনালায় ব্যবাসায়ীর সাড়ে এগার লক্ষ টাকা ছিনতাইয়ের অভিযোগে দু’জনকে আটক করা হয়েছে। সোমবার বোয়ালখালী বাজার থেকে তাদের আটক করা হয়। আটককৃতরা হলেন, বোয়ালখালী পুরাতন বাজার এলাকার আবদুল লতিফের ছেলে মো. সেলিম ওরফে মুরগি সেলিম এবং বোয়ালখালী পশ্চিম কাঠালতলী গ্রামের বিজয় সিন্ধু চাকমার ছেলে রুনেল চাকমা চিকন্যা(৩৫)।

এঘটনায় ব্যবাসায়ী সেলিম রবিবার দীঘিনালা থানায় বাদী হয়ে পশ্চিম কাঠালতলী গ্রামের গুলাচোখা চাকমার ছেলে বাবুধন চাকমাকে প্রধান আসামী করে তিনজানের নামে মামলা করে।

এব্যাপারে দীঘিনালা থানায় আটক রুনেল চাকমা চিকন্যা(৩৫) জানান, ঘটনার তিনদিন আগে মুরগি সেলিম ব্যবাসায়ী সেলিমের টাকা ছিনতাইয়ের কথা বলে। এসময় আমি অপারগতা প্রকাশ করে, তাকে বাবুধন চাকমার কথা জানাই। পরে মুরগি সেলিম বাবুধন চাকমার সাথে পরামর্শ করে। ঘটনার দিন রবিবার মুরগি সেলিম বাবুধন চাকমাকে নিয়ে ব্যবাসায়ী সেলিম ও তার  ব্যবসা প্রতিষ্ঠান দেখিয়ে দেয়।

এব্যাপারে মুরগি সলিম জানায়, ব্যবসায়ী সেলিমের সাথে আমার আগেই চাউলের ব্যবাসা নিয়ে দ্বন্দ্ব ছিল।

ব্যবসায়ী  সেলিম জানান, আমার কারও সাথে দ্বন্দ্ব নেই। টাকা ছিনতাই করার সময় আমি তিন জনের মধ্যে শুধুমাত্র বাবুধন চাকমাকে চিনতে পারি।

এব্যাপারে দীঘিনালা থানার তদন্তকারী কর্মকর্তা মো. জয়নাল আবেদীন জানান, ব্যবসায়ী সেলিম ও মুরগি সেলিম তারা দুজন সর্ম্পকে মামা-ভাগ্নে। ঘটনার দিন মুরগি সেলিম বাবুধন চাকমাকে বোয়ালখালী বাজারে নিয়ে ব্যবাসায়ী সেলিমকে দূর থেকে পরিচয় করে দেয়। এর পরে ঘটনার আগে সকাল ১০.৫৫ মিনিটে মুরগি সেলিমের সাথে মোবাইল ফোনে বাবুধন চাকমার কথা হয়। এর পরে আবার ১১.১৩ মিনিটে এবং  ১১.৩৩ মিনিটে কথা হয়।

তিনি আরও জানান, ছিনতাই হওয়া সাড়ে এগার লক্ষ টাকা উদ্ধারসহ বাবুধন চাকমাকে আটকের জন্য অভিযান অব্যহত আছে।

উল্লেখ্যঃ রবিবার সকাল সাড়ে এগারটায় ব্যাবসায়ী মো. সেলিম চালানের টাকা এবং অন্যন্য ব্যবসায়ীর টাকা টিটি করার জন্যে দীঘিনালা থেকে জেলা সদরের পূবালী ব্যাংকের উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেয়ার পথে দীঘিনালা-খাগড়াছড়ি সড়কের অটল টিলা এলাকা বাবুধন চাকমাসহ তিনজন মোটরসাইকেল থামিয়ে সঙ্গে থাকা সাড়ে এগার লক্ষ টাকা ও মোবাইল ফোন ছিনতাই করে পালিয়ে যায়।