দীঘিনালায় এক গাঁজা সেবনকারীর এক বছর কারাদণ্ড

IMG_20170428_174648 copy

দীঘিনালা প্রতিনিধি:

দীঘিনালায় এক গাঁজা সেবনকারীর এক বছর কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। গাঁজা সেবনকারীর নাম মো. পারভেজ আলম। শুক্রবার তাকে আটক করা হয়।

পারভেজ আলম উপজেলার হাজাছড়া গ্রামের মৃত সুরুজ মিয়ার পুত্র। সে প্রায় সময় গাঁজা সেবন করে তার মাকে মারধর করতো।

দীঘিনালা থানার এসআই মো. ফয়জুল করিম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, পারভেজ আলম একজন নিয়মিত গাঁজা সেবনকারী। গাজা সেবন করে প্রায়ই তার মাকে মারধর করতো। আজও একই ঘটনা ঘটায়। পরে তাকে আটক করলে, দীঘিনালা উপজেলা সহকারী কমিশনার(ভূমি) মো. মাহফুজুর রহমান ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করে এক বছর বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ প্রদান করেন।




ঘুর্ণিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দীঘিনালা জোনের নিরাপত্তাবাহিনী

18155249_1281705231936671_367256884_n copy

দীঘিনালা প্রতিনিধি:

দীঘিনালা উপজেলার তারাবুনিয়া এলাকায় ঘুর্ণিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্তদের সহযোগিতা করেছে, দীঘিনালা জোনের নিরাপত্তাবাহিনী। বুধবার সকালে উপজেলার তারাবুনিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে নগদ টাকা ও ত্রাণসামগ্রী বিতরণ কার্যক্রম উদ্বোধন করেন, খাগড়াছড়ি রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মীর মুশফিকুর রহমান। পরে তিনি ঘুর্ণিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্তদের খোঁজখবর নেন।

এসময় অন্যদের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন, দীঘিনালা জোন অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্ণেল ফেরদৌস জিয়াউদ্দীন মাহমুদ,  উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নব কমল চাকমা, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. শেখ শহিদুল ইসলাম, ৩ নম্বর কবাখালী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. জাহাঙ্গীর হোসেন।

ঘুর্ণিঝড়ে ঘর ছিন্নভিন্ন হওয়া চন্দ্র আলো চাকমা জানান, মঙ্গলবার ভোরে ঘুর্ণিঝড়ে আমার থাকার ঘর পুরো নষ্ট হয়ে যায়। আমরা ঘরের ভেতরে চাপা পড়ি। বর্তমানে আমার ঘর তৈরি করার মতো কোন প্রকার টাকাপয়সা নেই। নিরাপত্তাবাহিনী ঘর তৈরি করার জন্যে টাকা দিয়েছে। এখন ঘর তৈরি করতে পারবো।
রাঙ্গাবী চাকমা (২৯) নামে আরও একজন জানান, ঘুর্ণিঝড়ে ঘরের সব কিছুই ভিজে গেছে। অন্যের ঘরে গতকাল খাওয়া দাওয়া করেছি। আজকে চাল, ডাল, তেল পেয়েছি। এখন নিজের চুলায় রান্না করতে পারবো।

এসময় ঘুর্ণিঝড়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত পাঁচ জনকে (জন প্রতি)পাঁচ হাজার টাকা করে, এবং ২৫জনকে পাঁচ কেজি চাউল, আধা কেজি তেল, আধা কেজি ডাল, খাবার স্যালাইন, চিড়া এবং  গুড় বিতরণ করা হয়।

উল্লেখ্য মঙ্গলবার ভোরে দীঘিনালা উপজেলার তারাবুনিয়া এলাকা দিয়ে আকষ্মিক  ঘূর্ণিঝড় বয়ে গেছে। এসময় গ্রামের দুই শতাধিক ঘর-বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এছাড়া মাইনী নদীর উপর নির্মিত ঝুলন্ত সেতুটি উল্টে গেলে হাচিনসনপুর এবং বোয়ালখালী এলাকার লোকজনের চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।




দীঘিনালায় ঘূর্ণিঝড়ে দুই শতাধিক ঘর-বাড়ি বিধ্বস্ত সেতু উল্টে যোগাযোগ বন্ধ

sdr

নিজস্ব প্রতিনিধি, দীঘিনালা:

দীঘিনালা উপজেলার তারাবুনিয়া এলাকা দিয়ে বয়ে যাওয়া ঘূর্ণিঝড়ে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মঙ্গলবার সকাল ৫টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। এতে গ্রামের দুই শতাধিক ঘর-বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া মাইনী নদীর উপর নির্মিত ঝুলন্ত সেতুটি উল্টে যায়। ফলে হাচিনসনপুর এবং বোয়ালখালী এলাকার লোকজনের চলাচল বন্ধ রয়েছে। মঙ্গলবার সকালে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বাবু নব কমল চাকমা এবং কবাখালী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. জাহাঙ্গীর হোসেন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন।

সরেজমিনে, মঙ্গলবার সকালে উপজেলার তারাবুনিয়া গ্রামে দেখা যায়, ছিন্ন-বিচ্ছিন্ন হয়ে আছে ঘর-বাড়ি, ঘরের আসবাবপত্র। উপড়ে পড়ে আছে, বড় বড় গাছ। অনেকে ঘূর্ণিঝড়ের ক্ষতি সামলে নিতে মালামাল গোছানোর চেষ্টা করেছেন।

sdr

এসময় কথা হয় তারাবুনিয়া গ্রামের চন্দ্র আলো (২৮) জানান, আমরা তিন সন্তান, স্ত্রীসহ ঘূর্ণিঝড় চলার সময় ঘরেই ছিলাম। কিছু বুঝার আগেই পুরো ঘরটি আমাদের উপর আছড়ে পড়ে। দুই মিনিট পরেই চাপা পড়া ঘর থেকে বের হয়ে দেখি, চারপাশে বসতঘর ভেঙ্গে তছনছ হয়ে আছে।

পূর্ণরাস চাকমা (২৮) জানান, আমরা ঘরে ছিলাম। হঠাৎ বাতাস এসেই আমার ঘরের চাল উড়িয়ে নিয়ে ফেলে দিয়েছে।

অঙ্গলাল চাকমা (৭৫) জানান, বিভিন্ন ফলের গাছ-গাছালি নিয়ে আমার ছিল বাগান বাড়ি। ঘূর্ণিঝড়ে আমার ঘরের চাল উড়িয়ে নিয়ে ক্ষান্ত হয়নি। এসময় বাগানের আম, লিচু, কাঠাল, আমড়া গাছগুলো ভেঙ্গে তছনছ করে দিয়েছে। মনে হচ্ছে, দুই মিনিটের বাতাসে পুরো গ্রামকে ছিন্নভিন্ন করে দিয়েছে।

sdr

এব্যাপারে তারাবুনিয়া এলাকার মেম্বার মো. সামসু জানান, তারাবুনিয়া দশবল বৌদ্ধ বিহারসহ প্রায় দুইশতাধিক ঘরবাড়ি ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে কারো কারো পুরো ঘরই উপড়ে ফেলেছে। কারো আবার আংশিক। এছাড়া পুরো গ্রামে বিভিন্ন ফলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এছাড়া মাইনী নদীর উপর নির্মিতসেতুটি উল্টে যাওয়ার ফলে এলাকাবাসী এবং দুটি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের চরম দুর্ভোগে পড়েছে। তাই সেতুটি দ্রুত মেরামতের জন্য এলাকাবাসীর পক্ষে জোড় দাবি জানাচ্ছি।

এব্যাপারে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নব কমল চাকমা জানান, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। ক্ষতিগ্রস্তদের নামের  তালিকা প্রণয়ন করা হচ্ছে। উর্ধ্বতন কতৃপক্ষের সাথে পরামর্শ করে, খুব শীঘ্রই ত্রান-সহযোগিতার ব্যবস্থা করা হবে।




শান্তিরক্ষা মিশনে পুলিশ উপদেষ্টা হিসেবে যোগ দিলেন দিঘীনালার আমিনুল

18142834_703895983146336_1081264807_n

প্রেস বিজ্ঞপ্তি :
দিঘীনালা সরকারী কলেজের সাবেক ছাত্র মো. আমিনুল হক জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে যোগদান করেছেন। তিনি জাতিসংঘের অধীনে পরিচালিত দক্ষিণ সুদানে শান্তিরক্ষা মিশনে পুলিশ উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।

দিঘিনালা কলেজ থেকে তিনি ২০০১ সালে বিজ্ঞান বিভাগ হতে ১ম বিভাগে উত্তীর্ণ হয়ে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে  স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রী সম্পন্ন করেন। শিক্ষা জীবন শেষে ২০০৯ সালে বাংলাদেশ পুলিশে উপ-পরিদর্শক পদে যোগদান করেন ।

পেশাগত জীবনে সাফল্যের সাথে দায়িত্ব পালন করে বর্তমানে তিনি দক্ষিণ সুদানে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে পুলিশ উপদেষ্টা হিসেবে যোগদান করেছেন।

জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশন দক্ষিণ সুদানে বর্তমানে বাংলাদেশের ৩৯ জন পুলিশ অফিসার কর্মরত আছেন। বিশ্বব্যাপী পরিচালিত শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশ পুলিশের অংশগ্রহণ বর্তমানে ২য় স্থান দখল করে আছে।

তিনি খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলার দিঘীনালা উপজেলার থানাপাড়া নিবাসী রোকেয়া বেগম ও মরহুম ইদু মিয়ার ৩য় সন্তান।




বৃটিশ শাসনামলে নলখাগড়া ও সিমেন্টের প্রলেপে নির্মিত ১০ শয্যার দীঘিনালা হাসপাতাল এখন নিজেই রোগী

Khagrachari Pic 01 (6) copy

নিজস্ব প্রতিবেদক, খাগড়াছড়ি:

শত বছর আগে বৃটিশ শাসনামলে নলখাগড়া ও সিমেন্টের প্রলেপে টিন সেটে নির্মিত ১০শয্যার দীঘিনালা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি চিকিৎসক সংকট এবং রোগী ও চিকিৎসকদের আবাসন সংকটসহ নানা সমস্যায় এখন নিজেই অসুস্থ। হাসপাতালে পর্যাপ্ত ডাক্তার না থাকায় রোগীরা চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এক্স-রে মেশিন কক্ষবন্দি হয়ে আছে এক যুগের বেশি সময় ধরে।

হাসপাতালে পরীক্ষা-নিরীক্ষা তেমন কোন ব্যবস্থা নেই বললেই চলে। ফলে চিকিৎসার অনুকূল পরিবেশ না থাকায় পেট ব্যথার রোগীকেও ছুটতে হয় খাগড়াছড়ি সদর হাসপাতালে। জরাজীর্ণ ভবনে নেই টয়লেটের ব্যবস্থা। রোগীদের হাসপাতালের বাইরে গিয়ে টয়লেটের কাজ সারতে হয়। অথচ এ হাসপাতালের উপর নির্ভর করতে হয়  প্রায় সাড়ে ৩ লক্ষাধিক মানুষকে।

বাংলাদেশ স্বাধীনের পর বিভিন্ন সরকারের মেয়াদে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটির আধুনিকায়নে উদ্যোগ গ্রহণ করলেও ভূমি অধিগ্রহণ সমস্যার বেঁড়া জালে আটকে আছে এর কার্যক্রম। ফলে চরম দুর্ভোগে দীঘিনালা উপজেলাসহ রাঙামাটির বাঘাইছড়ি-সাজেক ও লংগদু উপজেলার তিন লক্ষাধিক বাসিন্দা।

১০শয্যার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসক থেকে শুরু করে সবকয়টি পদে শুন্য পদ বিদ্যমান। ১৪জন চিকিৎসকের অনুকূলে বর্তমানে কর্মরত আছেন ৪জন। আবাসিক চিকিৎসকের পদটিও শুন্য দীর্ঘ সময় ধরে। তত্ত্বাবধায়ক না থাকায় অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অফিস করেন যে যার ইচ্ছে মাফিক এমন অভিযোগ রয়েছে।

Khagrachari Pic 03 (2) copy

সরেজমিনে, শনিবার  সকাল ১০টায় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে দেখা যায়, ভারপ্রাপ্ত আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডাক্তার নুরুল আনোয়ার দায়িত্ব পালন করছেন। তার সাথে কাজ করছেন কয়েকজন সহকারী স্টাফ।  বাকী চিকিৎসকরা অনুপস্থিত। হাসপাতালে রোগীর চাপ থাকায় তিনি একা হিমশিম খাচ্ছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দীঘিনালা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা রেজাউর রহমান খান ছুটিতে আছেন। অন্যরা কোথায় গেছেন, বলতে পারছেন না কেউ। হাসপাতালের সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীকে সকাল ৮টার মধ্যে কর্মস্থলে উপস্থিত হওয়ার কথা।

হাসপাতালে একটি উন্নতমানের এক্স-রে মেশিনসহ অন্যান্য পরীক্ষা-নিরীক্ষার যন্ত্রপাতি দেয়া হলেও দীঘিনালা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সে সেবা পাচ্ছেন না রোগীরা। বিদ্যুৎ নেই ও লো ভোল্টেজ এমন অজুহাতে এক্সে-রে মেশিনটি প্রায় এক যুগ ধরে কক্ষ ও বক্সবন্দি হয়ে আছে। ফলে রোগিদের বেসরকারি ডায়াগনেস্টিক সেন্টারে গিয়ে এক্স-রে ও অন্যান্য পরীক্ষা নিরীক্ষা করতে হচ্ছে। এক্স-রে মেশিনের সন্ধান করতে গিয়ে দেখাগেল কক্ষে তালা ঝুলছে। কক্ষের দরজাও নষ্ট হয়ে গেছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০০৪ সালে দীঘিনালা হাসপাতালে একটি উন্নতমানের এক্স-রে মেশিন খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদ থেকে দীঘিনালা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সরবরাহ করা হয়। কিন্তু যন্ত্রটি বসানোর জায়গা না থাকার অজুহাতে প্রায় ৮ বছর বক্সবন্দি করে ফেলে রাখা হয়।

অবশেষে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নতুন কক্ষ নির্মিত হলে ২০১২ বক্সবন্দি দশা থেকে মুক্ত হয়েছে এক্স-রে যন্ত্রটিও। তবে বক্সবন্দি দশা থেকে এক্স-রে যন্ত্রটি এখন কক্ষবন্দি হয়ে আছে। ফলে ১৩ বছরেও এক্স-রে যন্ত্রটি একবারের জন্যও রোগ নির্ণয়ের কাজে লাগেনি। এটি কবে নাগাদ চালু করা হবে, তাও বলতে পারেননি স্বাস্থ্য দায়িত্বশীল কোনো কর্মকর্তা।

দীঘিনালা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান  নব কমল চাকমা জানান, ১৯২৪ সালে বৃটিশ শাসনামলে নলখাগড়া ও সিমেন্টের প্রলেপে ১০ শয্যার  দীঘিনালা কমপ্লেক্সেটি নির্মিত হয়। এ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের  উপর শুধু এ উপজেলার বাসিন্দারা নায়, পার্শ্ববর্তী রাঙামাটি জেলার সাজেক, বাঘাইহাট ও লংগদু উপজেলার মানুষও চিকিৎসা নিতে আসে।

Khagrachari Pic 02 (5) copy

তিনি আরো জানান, দীঘিনালা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি ৫০ শয্যায় উন্নতিকরণ ও প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণের দাবিতে মিছিল, মানববন্ধন ও প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্বারকলিপি প্রদান থেকে বহুমহলে দেন-দরবার করেছি। কিন্ত কোন ফল না পেয়ে দীঘিনালা বাসির মতো আমিও হতাশ। তিনি জানান, অবকাঠামোর পাশাপাশি দীঘিনালা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসক সংকট ও চিকিৎসকদের আবাসন সংকট রয়েছে। দীর্ঘ দিন ধরে হাসপাতলের এক্স-রে মেশিনটি কক্ষবন্দি হয়ে আছে।

দীঘিনালা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা রেজাউর রহমান খান মুঠোফোনে বলেন, এলাকার বিদ্যুৎ সমস্যার সমাধান না হলে এক্স-রে মেশিনটি কোনোভাবেই চালানো সম্ভব হবে না। যেখানে লো ভোল্টেজের কারণে বৈদ্যুতিক পাখাই ঘোরে না। সেখানে এক্স-রে মেশিন চলবে কি করে।

এক্স-রে কক্ষের দায়িত্বপ্রাপ্ত রেডিওলজিস্ট সোহেল চাকমা বলেন, এক্স-রে যন্ত্রটি এখন চালানোর মতো অবস্থায় রয়েছে কি না বলা মুশকিল। কারণ, যন্ত্রটি স্থাপনের পর গত একযুগে একবারের জন্য এটি চালু করা হয়নি। গত চার বছরে এক্স-রে কক্ষের দরজাও নষ্ট হয়ে গেছে। যেকোনো সময় দরজাটি ভেঙে পড়তে পারে।

দীঘিনালা প্রেস ক্লাবের সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম জানান, দীঘিনালা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি ৫০ শয্যায় উন্নতিকরণের জন্য ১৯৯৬ সালে ভূমি অধিগ্রহণ হয়েছিল। কিন্তু ক্ষতিপূরুণ না দেওয়া সহ নানা সমস্যার বেঁড়াজালে আটকে আছে এর কার্যক্রম। তাছাড়া গত প্রায় ২১ বছরে জমির মূল্যও বৃদ্ধি পেয়েছে।

দীঘিনালা হাসপাতালে চিকিৎসক সংকট প্রকট। রয়েছে চিকিৎসকদের আবাসন সংকট। পাশাপাশি বাড়তি দায়িত্ব পালন করতে চিকিৎসকরা ও মানসিকভাবে বিপর্যস্থ হচ্ছে।  হাসপাতলে জুনিয়র কন্সালটেন্ট(মেডিসিন), জুনিয়র কন্সালটেন্ট(সার্জিকেল), জুনিয়র কন্সালটেন্ট(এ্যানেস) পদগুলো দীর্ঘ দিন ধরে শূন্য রয়েছে। হাসপাতালের কর্মকর্তা-কর্মচারী পদগুলো প্রায় খালি বললে চলে।

Khagrachari Pic 04 (3) copy

দীঘিনালা হাসপাতালে ভারপ্রাপ্ত আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডাক্তার নুরুল আনোয়ার জানান, হাসপাতালে ১৪জন চিকিৎসক থাকার কথা থাকলেও মাত্র ৪জন কর্মরত আছেন। ফলে জনবহুল এলাকায় চিকিৎসা সেবা দেয়া অত্যন্ত কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে। তিনি জানান, চিকিৎসকদের আবাসনের ব্যবস্থা নেই। আবাসিক মেডিকেল অফিসারের জন্য একটি কোয়াটার থাকলেও তা ব্যবহারের অনুপোযোগী। এটি বৃষ্টি হলে ভিতরে পানি পড়ে।

খাগড়াছড়ি আসনের সংসদ সদস্য কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঐকান্তিক ইচ্ছা, প্রতিটি উপজেলায় একটি করে ৫০ শয্যার হাসপাতাল নির্মাণে। আমি এমপি হওয়ার পর থেকে দীঘিনালা হাসপাতালকে ৫০ শয্যায় উন্নতি করার জন্য বহু জায়গায় দেন-দরবার করেছি, কথা বলেছি।

কিন্তু কোথায় আটকে আছে জানা নেই। তিনি মানুষের স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঘোষণা ও ইচ্ছা বাস্তবায়নে অবিলম্বে ৫০শয্যা দীঘিনালা হাসপাতালের নির্মাণ কাজ শুরু করার দাবি জানান।খাগড়াছড়ি জেলার দীঘিনালা উপজেলাবাসীর চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে অবিলম্বে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন এমনি প্রত্যাশা এলাকাবাসীর।




দীঘিনালার হাজাধনমুনিপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মিড ডে মিল কর্মসূচি উদ্বোধন 

IMG_20170420_172941 copy

দীঘিনালা প্রতিনিধি:

দীঘিনালা উপজেলার হাজাধনমুনি পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মিড ডে মিল উদ্বোধন করা হয়েছে।বৃহস্পতিবার দুপুরে খাগড়াছড়ি থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য বাবু কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে  মিড ডে মিল কর্মসূচি উদ্বোধন করেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. শেখ শহিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নব কমল চাকমা, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আলহাজ্ব মোহাম্মদ কাশেম, খাগড়াছড়ি জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক কেএম ইসমাইল হোসেন, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আকলিমা খাতুন এবং সহকারী শিক্ষিকা সুমি আক্তার।

পরে বিদ্যালয়ের ১শত ৮০জন শিক্ষার্থীর মাঝে দুপুরের খাবার বিতরণ করা হয়।




দীঘিনালায় শান্তিপূর্ণ হরতাল পালিত

unnamed copy

দীঘিনালা প্রতিনিধি:

মহালছড়িতে বাঙালি মোটরসাইকেল চালক ছাদিকুল ইসলাম হত্যাকারীদের গ্রেফতার, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে ক্ষতিপূরণের দাবিতে বুধবার দীঘিনালা উপজেলায় শান্তিপূর্ণ হরতাল পালিত হয়েছে। হরতাল চলাকালে দূরপাল্লার এবং অভ্যন্তরীণসহ সকল প্রকার যানবাহন চলাচল বন্ধ ছিল।

সরেজমিনে, উপজেলার লারমা স্কোয়ার, জামতলি, মধ্যবোয়ালখালী এবং মেরুং এলাকা ঘুরে দেখা যায়, হরতাল সমর্থিত পিকেটাররা সকাল থেকেই অবস্থান করছে। রাস্তা-ঘাট ছিল যানবাহন শুন্য। এদিকে হরতাল এর কারণে দূরের লোকজনের দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে। এতে অনেকেই পায়ে হেঁটে উপজেলার অফিসিয়াল কাজ সেরেছেন।

এ ব্যাপারে দীঘিনালা থানার এসআই মো. ফয়জুল করিম জানান, হরতাল চলাকালে কোথাও কোন প্রকার অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই শান্তিপূর্ণভাবে পালিত হয়েছে।




দীঘিনালায় জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সপ্তাহ শুরু

Dighinala picture 19-04-2017 copy

দীঘিনালা প্রতিনিধি:

উন্নত আগামীর জন্য বিজ্ঞান, এ প্রতিপাদ্য বিষয় নিয়ে দীঘিনালায় শুরু হয়েছে সপ্তাহব্যাপী ৩৮তম জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সপ্তাহ।

বুধবার উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত মেলা উদ্বোধন করেন, উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নব কমল চাকমা।

এসময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. শেখ শহিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মাহফুজুর রহমান, উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা এসএম শাহনেয়াজ এবং দীঘিনালা থানার অফিসার ইনচার্জ মো. মিজানুর রহমান। এর আগে অতিথিরা মেলায় অংশ নেয়া বিভিন্ন বিদ্যালয়ের স্টল পরিদর্শন করেন।




অধিকার আদায়ের নামে চাঁদাবাজি-সন্ত্রাসী বন্ধ করা হবে

Dighinala news picture (02) 16-04-2017 copy

দীঘিনালা প্রতিনিধি:

অধিকার আদায়ের নামে পাহাড়ে যারা চাঁদাবাজি করছে। অবৈধ অস্ত্র ব্যবহার করে হুমকি দিয়ে সাধারণ লোকজনদের নির্যাতন করছে, তারা সবাই সন্ত্রাসী। সন্ত্রাসীদের কোন দল নেই। আপনারা অনেক নির্যাতন সহ্য করেছেন। মাসে মাসে চাঁদা দিয়ে আসছেন। আপনারা চাঁদাবাজ ও অবৈধ অস্ত্র ব্যবহারকারীদের তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করেন, তাদের বিরুদ্ধে আমরা ব্যবস্থা নিব।

রোববার দীঘিনালা উপজেলার ছোট মেরুং উচ্চ বিদ্যালয় কমিউনিটি সেন্টারে আয়োজিত হেডম্যান কার্বারী সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন, দীঘিনালা জোন অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্ণেল ফেরদৌস  জিয়াউদ্দীন মাহমুদ পিএসসি।

এসময় তিনি আরও বলেন, দলের নেতারা কোটি কোটি টাকার মালিক হচ্ছে, তারা তাদের ছেলে-মেয়েদের বিদেশে লেখাপড়া করাচ্ছে। চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসী করে কখনো অধিকার আদায় হয় না।

সম্মেলনে ১নম্বর ছোট মেরুং ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. রহমান কবির রতনের সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য রাখেন, মেরুং ইউনিয়নের নারী সদস্য মিনা চাকমা, সদস্য অমিয় কান্তি চাকমা, বিভূতি রঞ্জণ কার্বারী পাড়ার কার্বারী(পাড়া প্রধান) হেমাব্রত চাকমা, মধ্যবোয়ালখালী এলাকার কার্বারী ঝিমিত চাকমা, ঝুরঝুরি পাড়ার কার্বারী মিলন চাকমা প্রমুখ।

সম্মেলন শেষে অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি বিভুতি রঞ্জণ কার্বারী পাড়া, রবি কার্বারী পাড়া, হ্যাডম্যান পাড়া, মনের মানুষ পাড়া, প্রভাত কার্বারী পাড়া, চৌধুরী পাড়া এবং ইন্দ্রজয় কার্বারী পাড়ার কার্বারীদের হাতে একটি করে ফুটবল ও ক্রিকেট খেলার সামগ্রী তুলে দেন।




ফুল ভাসানোর মধ্য দিয়ে শুরু হলো পাহাড়ের ঐতিহ্যবাহী উৎসব বিঝু

Dighinala picture (02) 12-04-2017 copy

দীঘিনালা প্রতিনিধি:

পাহাড়ের ঐতিহ্যবাহী উৎসব বিঝু উপলক্ষে বর্ণাঢ্য র‌্যালি বের করেছে দীঘিালা বৈ-সা-বি উদযাপন কমিটি। বুধবার সকালে উপজেলার লারমা স্কোয়ার থেকে র‌্যালিটি শুরু হয়। র‌্যালিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, দীঘিনালা জোন অধিনায়ক লে.কর্ণেল মো. ফেরদৌস জিয়াউদ্দীন মাহমুদ।

এছাড়া বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নব কমল চাকমা, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ মো. শহীদ হোসেন চৌধুরী, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান সুসময় চাকমা, গোপাদেবী চাকমা, দীঘিনালা প্রেসক্লাবের সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম রাজু, এবং বোয়ালখালী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান চয়ন বিকাশ চাকমাসহ বিভিন্ন এলাকার যুবক-যুবতীরা।

Dighinala picture (01) 12-04-2017 copy

পরে সবাই র‌্যালি সহকারে উপজেলার মাইনী নদীতে গিয়ে সকল সম্প্রদায়ের মঙ্গল কামনা করে নদীতে ফুল ভাসা কর্মসূচিতে অংশ নেয়। এর আগে  রিবেং যুব সংঘ, মধ্য বোয়ালখালী গাবুজ্যা-গাবুরী র‌্যালি ও ফুল ভাসা কর্মসূচিতে অংশ নেয়।