দীঘিনালার ছোটমেরুং আল ইকরা হিফজুল কোরআন মাদ্রাসায় ছাত্র যৌন নিপীড়ন, দুই শিক্ষক গ্রেফতার

 

নিজস্ব প্রতিনিধি, দীঘিনালা:

দীঘিনালায় এক শিশুকে যৌন নিপীড়ন এবং আটকে রেখে নির্যাতনের অভিযোগে দুই ধর্মীয় শিক্ষককে আটক করেছে পুলিশ। আটক ধর্মীয় শিক্ষক উপজেলার ছোট মেরুং আল ইকরা হিফজুল কোরআন মাদ্রাসার তত্ত্বাবধায়ক হাফেজ মোহাম্মদ শরীফুল ইসলাম (৩৬) এবং নুরানী বিভাগের শিক্ষক হাফেজ মো. নোমান (২২)। তাদের বাড়ি উপজেলার মেরুং ইউনিয়নের তিন নম্বর কলোনী এলাকায়। এঘটনায় যৌন নিপীড়িত হওয়া শিশুর পিতা মো. রফিকুল ইসলাম বাদী হয়ে মারধর ও  ধর্ষনের অভিযোগে দীঘিনালা থানায় মামলা দায়ের করেছেন।

মামলার এজাহার ও বাদী সূত্রে জানা যায়, নির্যাতিত হওয়া শিশু ছোট মেরুং আল ইকরা হিফজুল কোরআন মাদ্রাসার ছাত্র। তার বয়স দশ বছর। সে মাদ্রাসায় অবস্থান করেই হেফজ বিভাগে পড়াশুনা করতো। গত রমজান মাসে রাতের বেলা হাফেজ আল নোমানের শয়নকক্ষে নিয়ে ওই ছাত্রকে দিয়ে হাত, পা এবং শরীর ম্যাসাজ  করাতো। এক পর্যায়ে মাদ্রাসার সবাই ঘুমিয়ে পড়লে ছাত্রকে জোরপূর্বক পায়ুপথে যৌনসঙ্গম করে। পরে বিষয়টি কাউকে না জানানোর জন্য বিভিন্ন অযুহাতে মারধর করতো।

তবে বিষয়টি ওই ছাত্রের নানীকে জানানোর পর, ছাত্রের নানী মাদ্রাসার তত্ত্ববধায়ক হাফেজ মোহাম্মদ শরীফুল ইসলামকে জানান। পরে তিনি বিষয়টি কাউকে না জানানোর জন্য অনুরোধ করেন। এদিকে ওই শিক্ষক আরবী পড়া ভূল উচ্চারণের অযুহাতে ওই শিশুর উপর শারীরিক নির্যাতন বাড়িয়ে দেন। বিষয়টি আর কাউকে না জানানোর জন্য চাপ প্রয়োগ করেন। একপর্যায়ে ওই ছাত্র অসুস্থ হয়ে পড়ে।

এ ব্যাপারে ফরহাদের মা জড়িনা বেগম জানান, গত ২৫ জুলাই থেকে আমার ছেলেকে নির্যাতন করে আসছে। শরীর ম্যাসাজের নাম করে বার বার পায়ুপথে যৌনসঙ্গম করে আসছে।  বড় হুজুরকে জানানোর পর কাউকে না বলার জন্যে শারীরিক নির্যাতন বেড়ে যায়। বর্তমানে নির্যাতনের কারণে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসার পরেও আমার ছেলে সুস্থ হয়ে উঠেনি।

এব্যাপারে দীঘিনালার থানার এসআই মো. ফয়জুল করিম ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, ছোট মেরুং আল ইকরা হিফজুল কোরআন মাদ্রাসার আটক দুই শিক্ষকের নামে মারধর, বলৎকারের অভিযোগে মামলা রুজু করা হয়েছে। মামলার আসামী হাজতে আটক রয়েছে।




পাহাড়ের সম্প্রীতি বিনষ্ট করার জন্যে একটি মহল অপতৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে: কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা

নিজস্ব প্রতিনিধি, দীঘিনালা:

‘শেখ হাসিনা পার্বত্যঞ্চলে বসবাসরত পাহাড়ি-বাঙ্গালিদের ভালোবাসেন বলেই শান্তিচুক্তি করেছেন। আর এ শান্তিচুক্তির ফলেই পাহাড়ে এখন শান্তি বিরাজ করছে। এখন পাহাড়ে উন্নয়নের ছোঁয়া লেগেছে এ ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে আরো উন্নয়ন হবে। তারপরও একটি মহল পাহাড়ি-বাঙ্গালী সম্প্রীতি বিনষ্ট করার জন্য, পাহাড়ের মানুষের ঐক্য নষ্ট করার জন্য অপতৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে। এসব অপতৎপরতা রুখে দিতে হবে। ষড়যন্ত্রকারীরা যাতে সুযোগ না পায়, সেদিকে সবাইকে সজাগ এবং ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।’  সোমবার জাতীয় শোক দিবস এবং ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার বিচারের দাবিতে উপজেলা আওয়ামী লীগ আয়োজিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন, খাগড়াছড়ি থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা।

এসময় তিনি আরো বলেন, বঙ্গবন্ধুর পলাতক খুনিদের দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের আওতায় আনার দাবি করে, ১৭ আগস্ট, ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার বিচারসহ দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

দীঘিনালা উপজেলার সিএন্ডবি মাঠে আয়োজিত সমাবেশে  উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আলহাজ্ব মোহাম্মদ কাশেমের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কংজ্যরি চৌধুরী, জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি মো. নুরুন্নবী চৌধুরী, জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি কল্যাণ মিত্র বড়ুয়া, রণ বিক্রম ত্রিপুরা,  জেলা পরিষদ সদস্য এ্যাডভোকেট আশুতোষ চাকমা এবং জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মো. রইছ উ্দ্দিন আহমদ প্রমূখ।

এর আগে শোক দিবস এবং ২১ আগস্ট  গ্রেনেড হামলার বিচারের দাবীতে র‌্যালী বের করা হয়। র‌্যালীটি উপজেলার বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে সমাবেশে গিয়ে শেষ হয়। পরে সকলের মাঝে কাঙালীভোজ বিতরণ করা হয়।




দীঘিনালায় পঁচিশ ফুট উচ্চতার বৌদ্ধ মূতির নির্মাণ কাজ উদ্ধোধন


দীঘিনালা প্রতিনিধি,:
দীঘিনালায় উপজেলার কামাকুছড়া ধর্মাঙ্কুর ধলাইমা বৌদ্ধ বিহারে পঁচিশ ফুট উচ্চতার বৌদ্ধ মূর্তির নির্মাণকাজ উদ্ধোধন করা হয়েছে। রবিবার সকালে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বৌদ্ধ বিহারে মূর্তি নির্মাণকাজ উদ্ধোধন করেন, দীঘিনালা জোন অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল ফেরদৌস জিয়াউদ্দীন মাহমুদ।

কামাকুছড়া ধর্মাঙ্কুর ধলাইমাবৌদ্ধ বিহারের অধ্যক্ষ করুণা বংশ বিক্ষুর সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদ সদস্য ওবৌদ্ধ মূর্তি নির্মাণকাজ কমিটির আহবায়ক মিজ শতরুপা চাকমা, ২নম্বর বোয়ালখালী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান চয়ন বিকাশ চাকমা এবং দীঘিনালা প্রেসক্লাবের সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম রাজু প্রমুখ।

এ ব্যাপারে কামাকুছড়া ধর্মাঙ্কুর ধলাইমাবৌদ্ধ বিহারের অধ্যক্ষ করুণা বংশ ভিক্ষু জানান, খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের অর্থায়নে নির্মিত হচ্ছে এই বৌদ্ধ মূর্তি। এতে প্রায় ৪০ লক্ষ টাকা খরচ হবে। ইতিমধ্যে জেলা পরিষদ থেকে প্রথমে চার লক্ষ টাকা এবং পরে চার লক্ষ টাকা বরাদ্দ দিয়ে কাজ শুরু করা হয়েছে। আগামী ২০১৮ সালে এই বৌদ্ধমূর্তি নির্মাণ কাজ শেষ হবে।




দীঘিনালার ছোট মেরুং উচ্চ বিদ্যালয়ে কিশোরীদের সচেতনতা ক্লাশ

নিজস্ব প্রতিবেদক, দীঘিনালা:

‘‘রক্তে হিমোগ্লোবিন কমে যাওয়াকেই রক্তস্বল্পতা বলা হয়। বিশেষ করে কিশোরী মেয়েদের মাসিক হওয়ার কারণেও রক্তস্বল্পতা হতে পারে। এক্ষেত্রে সাধারণত নিয়মিত খাবারের পাশাপাশি দুধ, গরুর কলিজা, মধু, মাছ, আয়রন জাতীয় খাবার খেতে হবে।

এছাড়া আয়রণ ও ফলিক এ্যাসিড বড়ি খাওয়ার মাধ্যমেও রক্তস্বল্পতা পূরণ করা যায়। রক্তশূণ্যতার কারণে মাথা ঘুরা, অজ্ঞান হওয়া, শ্বাসকষ্ট, বুকে ব্যাথা হতে পারে’’।

আমাদের ছোট মেরুং স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে (এফডাব্লিউসি)আয়রণ ও ফলিক এ্যাসিড মজুদ থাকে। কিশোরী ছাত্রীরা নিতে পারবে।”

রবিবার দীঘিনালা উপজেলার ছোটমেরুং উচ্চ বিদ্যালয়ে নবম ও দশম শ্রেণির ছাত্রীদের রক্তস্বল্পতা এবং স্বাস্থ্য সচেতনতা বিষয়ে সচেতনতা মূলক ক্লাশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন খাগড়াছড়ি জেলা পরিবার পরিকল্পণা বিভাগের উপ-পরিচালক বিপ্লব বড়ুয়া।

অনুষ্ঠানে ছোট মেরুং উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা নিটু দেওয়ান, ছোটমেরুং ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা ক্লিনিকে উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিক্যাল অফিসার অসীম বড়ুয়া এবং মেরুং ইউনিয়ন পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শক কামরুজ্জামান সুমন প্রমূখ।

পরে উপস্থিত দুইশত ছাত্রীদের মাঝে কৃমিনাশক বড়ি ছাড়াও দুই হাজার আয়রণ ও ফলিক এ্যাসিড বড়ি বিতরণ করা হয়।




দেশপ্রেম এবং বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ধারণ করে দেশকে এগিয়ে নিতে হবে: লে. কর্নেল আ. আলীম চৌধুরী

 

নিজস্ব প্রতিনিধি, দীঘিনালা:

লংগদু  উপজেলায় বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে মহান স্বাধীনতার স্থপতি  বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪২তম শাহাদত বার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস পালন করা হয়েছে।

এ উপলক্ষ্যে মঙ্গলবার (১৫ আগস্ট) সকালে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ হতে  স্থাপিত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে পুস্পস্তবক অর্পণ করা হয়। এসময় উপজেলা মুক্তিযুদ্ধা সংসদ, পুলিশ প্রশাসন, বিভিন্ন বেসরকারি দপ্তর এবং শ্রেণী পেশার লোকজন  পুষ্পমাল্য অর্পণ করে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

পরে অনুষ্ঠিত শোকসভায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো.  মোসাদ্দেক মেহেদী ঈমাম এর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন লংগদু জোনের জোন কমান্ডার লে. কর্নেল আ. আলীম চৌধুরী, পি এস সি। শোক সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন লংগদু উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মো. তোফাজ্জল হোসেন, লংগদু থানার অফিসার ইনচার্জ মো. মোমিনুল ইসলাম এবং লংগদু সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রাজিব ত্রিপুরা প্রমূখ।

শোকসভায় প্রধান অতিথি তার বক্তব্যে বলেন,  স্বাধীনতা অর্জনের চেয়ে রক্ষা করা আরো অনেক বেশি কঠিন। তাই আমাদের প্রত্যেককে দেশপ্রেমে এবং জাতির জনকের আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে নিজ দায়িত্ব সঠিক ভাবে পালনের মাধ্যমে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। যে কোন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে রুখে দাড়িয়ে সমন্নিতভাবে দেশকে সুখ, সমৃদ্ধি ও অগ্রগতির দিকে নিয়ে যেতে হবে।

শোকসভার পর অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি লংগদু জোনের জোন কমান্ডার লে. কর্নেল আ. আলীম চৌধুরী, পিএসসি

এদিকে শোক দিবস উপলক্ষ্যে লংগদু সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের  শিক্ষার্থীদের মধ্যে  চিত্রাঙ্কণ, রচনা প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে লংগদু জোনের জোন কমান্ডার লে. কর্নেল আ. আলীম চৌধুরী প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্হিত থেকে বিজয়ী শিক্ষার্থীদের মধ্যে পুরস্কার তুলে দেন। পরে বিজয়ী শিক্ষার্থীদের মধ্যে মুক্তিযুদ্ধ এবং জাতির পিতার জিবনী সম্পর্কিত বই বিতরণ করা হয়। এছাড়া বিদ্যালয়ের ৬০জন শিক্ষার্থীদের  কম্পিউটার প্রশিক্ষণের বই দেয়া হয়।




দীঘিনালায় জাতীয় শোক দিবস উদযাপন

নিজস্ব প্রতিবেদক, দীঘিনালা:

দীঘিনালা উপজেলায় বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে মহান স্বাধীনতার স্থপতি  বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪২তম শাহাদত বার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস পালন করা হয়েছে।

এ উপলক্ষ্যে মঙ্গলবার সকালে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ হতে শিল্পকলা একাডেমিতে স্থাপিত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে পুস্পস্তবক অর্পণ করা হয়। এসময় উপজেলা মুক্তিযুদ্ধা সংসদ, পুলিশ প্রশাসন, বিভিন্ন বেসরকারি দপ্তর এবং শ্রেণী পেশার লোকজন  পুষ্পমাল্য অর্পণ করে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

পরে উপজেলা শিল্পকলা একাডেমি থেকে একটি শোক র‌্যালী বের হয়। শোক র‌্যালী  উপজেলার লারমা স্কোয়ার প্রদক্ষিণ করে শোক সভায় যোগ দেন।

শোকসভায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. শেখ শহিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নব কমল চাকমা।

সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান সুসময় চাকমা, নারী ভাইস চেয়ারম্যান গোপাদেবী চাকমা, উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা এমএম শাহ নেয়াজ, দীঘিনালা থানার অফিসার ইনচার্জ মো. সামসুদ্দীন ভূইয়া, উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা নিরুপন চাকমা, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা তুলসি মোহন ত্রিপুরা, উপজেলা দূর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি রঞ্জন কুমার চাকমা এবং উপজেলা রিসোর্স সেন্টারের প্রশিক্ষক মো. মাঈনুদ্দীন প্রমূখ।

শোকসভার পরে সমাজসেবা অধিদপ্তরের উদ্যোগে ৮টি সমিতির মাধ্যমে ১০ লক্ষ টাকা এবং যুবউন্নয়ন অধিদপ্তরের মাধ্যমে ১২ জন যুবক যুবতীর  মাঝে  ৬ লক্ষ ৩০ হাজার টাকা ঋণ বিতরণ করা হয়।




দীঘিনালায় শ্রীকৃষ্ণের জন্মাষ্টমী উপলক্ষ্যে মঙ্গল শোভাযাত্রা 

 

নিজস্ব প্রতিনিধি, দীঘিনালা:

দীঘিনালায় বর্ণাঢ্য মঙ্গল শোভাযাত্রার মধ্যে দিয়ে শুরু হয়েছে দিনব্যাপী ভগবান শ্রীকৃষ্ণের জন্মাষ্টমী উৎসব। সোমবার (১৪ আগস্ট) সকালে শ্রী শ্রী সনাতন মন্দিরের সামনে থেকে বিশ্ব শান্তির কামনায় শোভাযাত্রার উদ্বোধন করেন উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নব কমল চাকমা। পরে শোভাযাত্রাটি উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে শ্রী শ্রী সনাতন মন্দিরে গিয়ে শেষ হয়।

পরে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায়  শ্রী শ্রী সনাত মন্দিরের সভাপতি নলেন্দ্র লাল ত্রিপুরার সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন দীঘিনালা জোনের উপ-অধিনায়ক মেজর সাব্বির আহমেদ, দীঘিনালা থানার অফিসার ইনচার্জ মো. সামসুদ্দীন ভূইয়া এবং শ্রী শ্রী সনাতন শিব মন্দির পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক নন্দু কুমার দে প্রমূখ।

এর আগে সকাল থেকে চন্ডী পাঠ, গীতা পাঠ, শ্রীকৃষ্ণ নাম জপ অনুষ্ঠিত হয়।




সাজেকে আটকা পড়া সাড়ে চার শতাধিক পর্যটককে উদ্ধার করেছে খাগড়াছড়ি নিরাপত্তাবাহিনী

নিজস্ব প্রতিবেদক, খাগড়াছড়ি:

বন্যায় সাজেকে আটকে পড়া সাড়ে চার শতাধিক পর্যটককে উদ্ধার করেছে খাগড়াছড়ি রিজিয়নের নিরাপত্তাবাহিনীর সদস্যরা। রবিবার দুপরে বাঘাইহাট বাজার এলাকায় নৌকায় করে এদের উদ্ধার করা হয়। তিন দিনের টানা বর্ষণে বাঘাইহাট বাজার ডুবে যাওয়ায় এসব পর্যটক সাজেকে আটকা পড়ে।

খাগড়াছড়ি সেনা রিজিয়নের স্টাফ অফিসার মেজর মোহাম্মদ মুজাহিদুল ইসলাম জানান, সড়কের উপর পাহাড় ধসে ও সড়ক ডুবে যাওয়ায় খাগড়াছড়ির সাথে সাজেক, বাঘাইছড়ি ও লংগদু সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এ অবস্থায় সাজেকে সাড়ে চার শতাধিক পর্যটক আটকা পড়ে। খাগড়াছড়ি নিরাপত্তাবাহিনীর সদস্যরা তাদের নৌকায় পার করার ব্যবস্থা করেন।

এদিকে খাগড়াছড়ির দীঘিনালায় বন্যা পরিস্থিতি কিছুটা উন্নতি হলেও মাইনী নদীর পানি বিপদ সীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় এখনো দীঘিনালার মেরুং বাজার, সোহবানপুর, ছোট মেরুং, বাদলা ছড়ি, বড় মেরুং ও বাচা মেরুংসহ অন্তত ১০টি গ্রামের সহস্রাধিক পরিবার দুই দিন ধরে পানিবন্দি অবস্থায় দিন কাটাচ্ছে। শতাধিক পরিবার আশ্রয় নিয়েছে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে। বন্যার কারণে একটি উচ্চ বিদ্যালয়সহ ৫টি বিদ্যালয়ে ক্লাস বন্ধ রয়েছে।

এদিকে বন্যায় দীঘিনালা ছোট মেরুং বাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ  এলাকায় আশ্রিত বন্যা দুর্গত ১২০ পরিবারের মাঝে ৫ কেজি চাল, ১ লিটার সয়াবিন তেল, ১ কেজি ডাল, ১ কেজি চিনি, ৫০০ গ্রাম চিড়া, ১ প্যাকেট মোমবাতি ও ১ প্যাকেট ম্যাচ ত্রাণ বিতরণ করা হয়।

এসময় উপস্থিত ছিলেন দীঘিনালা উপজেলা চেয়ারম্যান নব কমল চাকমা, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. শেখ শহিদুল ইসলাম, জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক কেএম ইসমাইল হোসেন ও স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান রহমান কবীর রতন।

খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসক মো. রাশেদুল ইসলাম জানান, দীঘিনালার মেরং-এ বন্যা দুর্গতদের জন্য চাল, ডাল ও তৈলসহ শুকনো খাবারসহ ত্রাণ দেওয়া হচ্ছে। প্রয়োজন হলে আরো ত্রাণ বরাদ্দ দেওয়া হবে।

 




দীঘিনালায় টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে আট গ্রামের সাড়ে তিন শতাধিক পরিবার প্লাবিত

দীঘিনালা প্রতিনিধি:

দীঘিনালায় গত শুক্রবার থেকে টানাবর্ষণে সৃষ্ট বন্যায় নিম্নাঞ্চল বন্যার পানিতে প্লাবিত হয়েছে। এতে করে উপজেলার মেরুং ইউনিয়নের আট গ্রামের প্রায় সাড়ে তিনশত পরিবার প্লাবিত হয়েছে। এরমধ্যে শতাধিক পরিবার ছোট মেরুং বাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আশ্রয় নিয়েছে।শনিবার সকালে উপজেলা প্রশাসন বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেছেন।

সরেজমিনে দেখা যায়, গত তিন দিনের টানা বর্ষণ এবং উজানের পাহাড়ি ঢলে উপজেলার মেরুং বাজার, সোবানপুর, হাজাছড়া, ছোট মেরুং, বাদলছড়ি, বড় মেরুং, বাঁচা মেরুং, তিন নম্বর কলোনী এলাকা পানির নিচে তলিয়ে যায়। ঘরবাড়ি তলিয়ে যাওয়ায় গৃহহীন প্রায় সাড়ে তিন শতাধিক পরিবার।  এরমধ্যে শতাধিক পরিবার ছোট মেরুং বাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে  আশ্রয় নিয়েছে। বাকী লোকজন আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছে।

এদিকে পাহাড় ধসে উপজেলার মধ্য বোয়ালখালিতে ১টি, হাজাছড়ায় ২টা এবং মেরুং ৩নং কলোনিতে ২টা বসত ঘর চাপা পড়েছে। তবে এতে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।  পাহাড় ধসে সচেতনতায় উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ হতে মাইকিং করা হয়েছে।

ছোট মেরুং বাজার পরিচালনা কমিটির  সাধারণ সম্পাদক মো. বাবুল হোসেন জানান, বন্যার পানিতে বাজারের শতাধিক দোকান এখন পানির নিচে। বাজারের মাঝখান দিয়ে নৌকা চলাচল করছে। পানির কারণে অনেক দোকানের পণ্যসামগ্রী নষ্ট হয়ে যাবে।

এব্যাপারে মেরুং ইউনিয়নের বাসিন্দা এবং খাগড়াছড়ি জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক কেএম ইসমাইল হোসেন জানান, বন্যায়  সাড়ে তিন শতাধিক পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। আশ্রয় কেন্দ্রে  আশ্রয় নেয়া শতাধিক পরিবারের মাঝে  জেলা যুবলীগের পক্ষ থেকে  তাৎক্ষণিকভাবে শুকনো খাবার বিশেষ করে চিড়া, মুড়ি ও গুড় বিতরণ করেছে।

এব্যাপারে মেরুং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. রহমান কবির রতন  জানান, গত কয়েকদিনের টানা বর্ষণ এবং পাহাড়ি ঢলে মেরুং ইউনিয়নের আটটি গ্রামের সাড়ে তিন শতাধিক পরিবার বন্যার পানিতে প্লাবিত হয়েছে। প্লাবিত পরিবারগুলো পার্শ্ববর্তী আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে আশ্রয় নিলেও  ছোট মেরুং বাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় আশ্রয় কেন্দ্রে শতাধিক পরিবার আশ্রয় নিয়েছে। এদিকে উপজেলা প্রশাসনের নির্দেশে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের তালিকা করে উপজেলা প্রশাসনের নিকট জমা দেয়া হয়েছে।

এব্যাপারে দায়িত্বপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মাহফুজুর রহমান বলেন, আশ্রয় কেন্দ্রে থাকা মানুষগুলো ত্রাণ সহায়তা দেয়ার প্রস্তুতি চলছে। এছাড়া পাহাড়ের নিচে বসবাসকারী লোকজনদের নিরাপদে সরে যেতে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ হতে মাইকিং করা হয়েছে।




দীঘিনালায় বন্যায় শতাধিক পরিবার আশ্রয় কেন্দ্রে, সাজেক, বাঘাইছড়ি ও লংগদু সড়ক যোগাযোগ বন্ধ

নিজস্ব প্রতিবেদক, খাগড়াছড়ি:

দুই দিনের টানা বর্ষণে ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে খাগড়াছড়ির দীঘিনালায় বন্যা পরিস্থিতির অবনতি ঘটেছে। বন্যার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে সহস্রাধিক পরিবার। শতাধিক পরিবার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আশ্রয় নিয়েছে। দীঘিনালার মেরং-এ একটি উচ্চ বিদ্যালয়সহ ৫টি বিদ্যালয় বন্ধ হয়ে গেছে। প্রবল বর্ষণে খাগড়াছড়িতে ফের পাহাড় ধসেরও শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

এদিকে সড়কের উপর পাহাড় ধসে ও সড়কের উপর পানি উঠায় বন্ধ হয়ে গেছে খাগড়াছড়ির সাথে সাজেক, বাঘাইছড়ি ও লংগদু সড়ক যোগাযোগ। পাহাড় ধসে প্রাণ হানির আশঙ্কায় দীঘিনালায় দুটি আশ্রয় শিবিরে ১২টি পরিবার আশ্রয় নিয়েছে।

বন্যায় সব চেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে দীঘিনালার মেরুং-এ। খাগগড়াছড়ি জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক কেএম ইসমাইল হোসেন জানান, মেরুং-এ বন্যায়  সহস্রাধিক পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শতাধিক পরিবার আশ্রয় নিয়েছে। বন্যায় ছোট মেরুং উচ্চ বিদ্যালয়সহ ৫টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে গেছে। জেলা যুবলীগ বন্যা দুর্গতদের দুপুরে চিড়া, মুড়ি ও গুড়সহ শুকনো খাবার বিতরণ করেছে।

খাগড়াছড়ি রিজিয়নের স্টাফ অফিসার মেজর মোহাম্মদ মুজাহিদুল ইসলাম জানান, দুই টিলা এলাকায় পাহাড় ধসে পড়ায় দীঘিনালার সাথে বাঘাইছড়ি, বিভিন্ন স্থানে সড়কে পানি উঠায় দীঘিনালা-লংগদু ও সাজেকের সাথে খাগড়াছড়ির সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে।

খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসক মো. রাশেদুল ইসলাম জানান, দীঘিনালার মেরং-এ বন্যা দুর্গত মানুষগুলোকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। প্রাথমিক দুর্গতদের জন্য শুকনো খাবারসহ ত্রান দেওয়া হচ্ছে। প্রয়োজন হলে আরো ত্রান বরাদ্দ দেওয়া হবে।