থানচিতে এশিয়ান টিভির জন্মদিন পালিত

Untitled-1 copy

থানচি প্রতিনিধি:

এইচডি চ্যানেল এশিয়ান টিভি হোক দেশের মফস্বলসহ গণমানুষের এক মাত্র ইলেক্ট্রনিক মিডিয়া চ্যানেল। এ আশা ব্যক্ত করে থানচিতে এশিয়ান টিভির জন্ম দিনে শুভ্চ্ছো ও অভিনন্দন জানিয়ে দোয়া করেন।

বুধবার সকাল সাড়ে ৮টায় এশিয়ান টেলিভিশনের থানচি প্রতিনিধি মংবোওয়াংচিং মারমা (অনুপম) আয়োজনে এক বর্ণাঢ্য ‌র‌্যালিতে দেড় শতাধিক এশিয়ান টেলিভিশন শ্রোতা অংশ নেন।

উপজেলা জনসেবা কেন্দ্রে( ঘোল ঘর) এক আলোচনা সভা সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়’র প্রধান শিক্ষক নূর মোহাম্মদ’র সভাপতিত্বে, অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবদুর সাক্তার প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন।

এছাড়া উপস্থিত ছিলেন, প্রেসক্লাবের সভাপতি অনুপম মারমা, সাধারণ সম্পাদক চহ্লামং মারমা, সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়’র সহকারী প্রধান শিক্ষক বিপুল বড়ুয়া, থানা সেকেন্ড অফিসার মহাবুব রহমান, শিক্ষক শাহদাৎ হোসেন, গোয়েন্দা বিভাগের ডিএসবি ইমরান হোসেন প্রমুখ।




চাকরিতে স্থানীয়দের নিয়োগের দাবীতে থানচিতে বিক্ষোভ

Thanchi pic copy

রুমা প্রতিনিধি:

আন্তর্জাতিক সংস্থা `হেলান-কেলার’র একটি প্রকল্পে স্বজনপ্রীতিতে অধিক সংখ্যক উপজেলার বাইরে লোক নিয়োগ প্রক্রিয়া করার প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় থানচি সদরে যুব সমাজ ও সর্বস্তরের জনসাধারণ বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন করে।

সমাবেশে ‘হেলান-কেলার’র প্রকল্পের বান্দরবান জেলা ব্যবস্থাপক দীপংকর চাকমার বিরুদ্ধে স্বজনপ্রীতির অভিযোগ এনে তাকে বান্দরবান থেকে অন্যত্র সরিয়ে দেয়ার দাবী জানিয়েছেন বক্তারা।

মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন পার্বত্য প্রতিমন্ত্রীর প্রতিনিধি ও থানচি আওয়ামী লীগের সভাপতি মংথোয়াইম্যা মারমা রনি, জেএসএসের সাধারণ সম্পাদক মেমংপ্রু মারমা, তিন্দু ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান মালিরাম ত্রিপুরা, সুইসাচিং মারমা ও যুব নেতা কংহ্লাঅং মারমা প্রমূখ।

স্বজনপ্রীতির মাধ্যমে লোক নিয়োগ নেয়ার অভিযোগ বিষয়ে জানতে চাইলে জেলা ব্যবস্থাপক দীপংকর চাকমা বলেন, বুধবার পার্বত্য প্রতিমন্ত্রীর প্রতিনিধি ও থানচি আওয়ামী লীগের সভাপতি রনি মারমা মুঠোফোনে তাকে স্বজনপ্রীতির মাধ্যমে লোক নিয়োগের অভিযোগ তুলেন। অফিসে এসে কথা বলতে অনুরোধ জানায়। কোনরকম সত্যমিথ্যা যাচাই না করে থানচিতে গিয়ে মিছিল করেছে রনি। জেলা পরিষদ চেয়ারম্যানের পরামর্শক্রমে থানচিতে নিয়োগ প্রক্রিয়া স্থগিত বলেও জানিয়েছেন দীপংকর চাকমা।

এদিকে আওয়ামী লীগের সভাপতি রনি মুঠোফোনে জানান, স্থানীয়দের নিয়োগ না দিয়ে স্বজনপ্রীতির মাধ্যমে লোক নিয়োগের তার(রনি) কাছে বহুতথ্য রয়েছে। এ অন্যায়ের প্রতিবাদে স্থানীয় লোকজনের আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে অংশ নিয়েছেন বলেও জানান তিনি।

সম্প্রতি আন্তর্জাতিক সংস্থা “হেলান-কেলার” একটি প্রকল্পে থানচিতে লোক নিয়োগের একটি বিজ্ঞাপন দেয়। এতে থানচির চারটি ইউনিয়ন থেকে বিভিন্ন পদে প্রায় একশত জন আবেদন করেন চাকরি প্রার্থীরা। তার মধ্যে শুক্রবার মাঠ কর্মী হিসেবে ‘এফএফ’ পদে নিয়োগের বাছাই পরীক্ষার দিন ধার্য ছিল। এর মধ্যে প্রকল্পের ব্যবস্থাপক দীপংকর চাকমার বিরুদ্ধে ঢালাও ভাবে স্বজনপ্রীতির অভিযোগ ওঠে।




থানচিতে বিনা মূল্যে পাঠ্যপুস্তক বিতরণ

book

থানচি প্রতিনিধি:

বান্দরবানের থানচিতে উপজেলা  প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগে ৩২টি প্রাথমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ৬ হাজার কোমলমতি শিক্ষার্থীর মধ্যে প্রথম দিনে প্রায় ৬শত শিক্ষার্থীদের হাতে প্রথম পর্যায়ে পাঠ্যপুস্তক বিতরণ করা হয়েছে। বাকি গুলো পর্যায়ক্রমে বিতরণ করা হবে বলেও প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) নিজাম উদ্দিন জানিয়েছেন। এ দিকে মাধ্যমিক শিক্ষা বিভাগের চারটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ১২শত শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৪শত শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন পাঠ্য পুস্তক  তুলে দিয়েছে বলেও খবর পাওয়া যায় । স্ব স্ব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও পরিচালনা কমিটি, জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে রোববার সকাল ১০টায়  বিনা মূল্যে পাঠ্যপুস্তক বিতরণ করা হয় ।

থানচি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় নতুন বছরে নতুন পাঠ্যপুস্তক বিতরনে শুভ উদ্বোধন করেন উপজেলা চেয়ারম্যান ক্যহ্লাচিং মারমা, এ সময় ভাইস চেয়ারম্যান চসাথোয়াই মারমা, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান বকুলি মারমা, স্থানীয় এমপি’র স্থায়ী প্রতিনিধি মংথোয়াইম্যা মারমা (রনি) মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার এসএম সাইদ হাসান, প্রধান শিক্ষক নূর মোহাম্মদ, ওসি আবদুর সাত্তার, প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) নিজাম উদ্দিন, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক উবামং মারমা, সহকারী প্রধান শিক্ষক বিপুল বড়ুয়া, সহকারী শিক্ষক শাহদাৎ হোসেন ও মনির আহম্মদ  উপস্থিত থেকে পাঠ্যপুস্তক বিতরণ করা হয়।




থানচিতে ফের দুইজন আটক

আটক

থানচি প্রতিনিধি:

থানচিতে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ(বিজিবি)৩৩ ব্যাটালিয়ানে কমান্ডিং অফিসার  হাবিবুর রহমান (পিএসসি)’র নেতৃত্বে গোপন সংবাদের ভিত্তিত্বে অভিযান চালিয়ে দুই জনকে আটক করার খবর পাওয়া গেছে।

বৃহস্পতিবার রাতে উপজেলা সদর থেকে ৪ কিলোমিটার পশ্চিমে ছাইয়াং ম্রো পাড়া থেকে ২ যুবককে আটক আটক করা হয় বলে জানা গেছে। আটককৃতরা হলেন, পাচিং ম্রো (৩৮) মেনরাও ম্রো (৩৫)।

এর আগে রবিবার স্থানীয় জনতা তিন চাদাঁবাজকে আটক করে বিজিব’র কাছে সোপর্দ করা হয়েছে। তবে থানচি থানা অফিসার ইনচার্জ আবদুর সাত্তার বলেন, বিষয়টি শুনেছি  আসামীদের হস্তান্তর করা হয়নি ।

এ নিউজ লিখার আগ পর্যন্ত আটককৃতদের বিরুদ্ধে মামলা হয়নি




থানচিতে হেডম্যানের অত্যাচারে মৌজাবাসী ক্ষুব্ধ

pranthan-pic

থানচি প্রতিনিধি:

পাড়ার প্রধান (কারবারী)দের সরকারি প্রদত্ত সম্মানি ভাতা আত্মসাৎ, অত্যাচার, জুলুম, শারীরিক নির্যাতন, অতিরিক্ত বার্ষিক জুম খাজনা আদায়, এক স্থানকে একাধিক ব্যক্তির নামে ভূমির প্রাথমিক মালিকানা দিয়ে প্রশাসনের কাছে আবেদনের সুপারিশসহ নানা অপকর্ম নির্বিঘ্নে চালিয়ে যাচ্ছে বলে এক হেডম্যানের বিরুদ্ধে  আভিযোগ  পাওয়া গেছে। বান্দরবানের থানচিতে তিন্দু ইউনিয়নের তিন্দু মৌজায়  হেডম্যানের প্রেনথান খুমীর বিরুদ্ধে অভিযোগের যেন শেষ নেই।এসব অভিযোগ খতিয়ে দেখে দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তির দাবি জানিয়ে ওই মৌজার অধিবাসী, কারবারী, গণ্যমান্য ও জনপ্রতিনিধিরা বান্দরবান জেলা প্রশাসক বরাবর আবেদন করেছেন।

মৌজাবাসীদের অভিযোগে জানা যায়, ৩৬৭ নং তিন্দু মৌজায় উপজাতীয় দুই সম্প্রদায়ের মানুষ বসবাস করেন, মারমা আর খুমী সম্প্রদায়।  মারমার চেয়ে খুমীর জনসংখ্যা বেশি হওয়ার কারণে সেখানে একজন খুমীকে হেডম্যান হিসেবে সকলেই প্রত্যাশা করেন।কিন্তু  প্রেনথান খুমী হেডম্যান হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকে মৌজাবাসীরা তার অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন।

এ প্রসঙ্গে ইউপি মেম্বার ক্রানিংঅং মারমা জানান, এমপির প্রতিনিধি এবং মৌজাবাসীদের পক্ষ থেকে অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে আমরা তার বিরুদ্ধে আবেদন করার উদ্যোগ নিয়েছি। মৌজাবাসী শান্তিতে থাকলে আমরাও শান্তিতে থাকতে পারি।

ইউপি আওয়ামী লীগের সভাপতি সাবেক মেম্বার কাইথাং খুমী জানান, তিন্দু মৌজায় কারবারীদের সম্মানি ভাতাও হেডম্যান আত্মসাৎ করেছেন, জমি বন্দোবস্তির  আবেদনে  একটি স্থানকে একাধিক ব্যক্তির নামে সুপারিশ করে মোটা অংকের ঘুষ আদায় করার অভিযোগও আছে তার বিরুদ্ধে।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) জাহাঙ্গীর আলম বলেন, জেলা প্রশাসক বরাবরে পাঠানো অভিযোগ পত্রের অনুলিপি পেয়েছি। জেলা প্রশাসক মহোদয় অভিযোগের বিষয়ে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিলে তা পালন করা হবে।

এ বিষয়ে  মৌজা হেডম্যান প্রেনথান খুমীর মুঠো ফোন বন্ধ থাকায় তার বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।




থানছিতে ভিয়েতনামের হাইব্রিড নারিকেল চারা বিতরণ

Exif_JPEG_420

থানছি প্রতিনিধি:

বান্দরবানে থানছিতে প্রথম বারের মতো ভিয়েতনাম থেকে আমদানিকৃত ওপি জাতের হাইব্রিড নারিকেল চারা বিতরণ করা হয়েছে। থানছি কৃষি বিভাগের উদ্যোগে ৬০ জন জুমিয়া কৃষকের  মাঝে একটি করে ওপি জাতের নারিকেল চারা  বিতরণ করা হয়।

এ উপলক্ষে বুধবার উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অদিদপ্তর কার্যালয়ের প্রাঙ্গনে চারা বিতরণ সভায় উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান’র সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন,  উপজেলা চেয়ারম্যান ক্যহ্লাচিং মারমা, জেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলতাফ হোসেন, বালাঘাটা  হর্টিকালচার (বাগান) কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম প্রমুখ।




থানচিতে তিন সন্ত্রাসী আটক

untitled-1-copy

থানচি প্রতিনিধি:

থানচিতে চাঁদা সংগ্রহের সময় স্থানীয়  গ্রামবাসীদের ঐক্যবদ্ধে তিন সন্ত্রাসীকে আটক করে ৩৩ বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ(বিজিবি) সোর্পদ করা হয়। সন্ত্রাসীদের কাজ থেকে ৪ রাউন্ড গোলাবারুদ উদ্ধার করে। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলা বলিপাড়া ইউপি ৭ নং ওয়ার্ডে। আটককৃতরা হলো মেনথক মো (২৮), মেনসং ম্রো (২২), ও মংএচিং মারমা (৩৫)।

ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে ৩৩ বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ জোনাল কমান্ডিং অফিসার  হাবিবুর রহমান (পিএসসি) বলেন, তাদেরকে থানচি থানায় হস্তান্তর করার এবং বিরোধে  মামলা পক্রিয়াধীন রয়েছে।

শৈরাং ত্রিপুরা পাড়া প্রধান দংসিহা ত্রিপুরা (কারবারী) ও ইউপি মেম্বার উম্যামং মারমা সাংবাদিকদের জানান, বড় দিনের আগে ত্রিপুরা ন্যাশনাল পার্টি নামে চাঁদা দাবী করে। সন্ত্রাসী ও পাড়াবাসীদের দ্বি-পাক্ষিক আলোচনায় দাবীকৃত টাকা  বড় দিনে নির্ধারিত দিন ছিল সন্ত্রাসীদের দাবীকৃত টাকা প্রদানের। বড় দিন রবিবার দিবাগত রাতে ১২টায় তিনজন প্রবেশ করেন গ্রামে। গ্রামবাসীদের পূর্ব প্রস্তুতি অনুযায়ী তাদের ভোজন ব্যবস্থা করেন ভোজনের সময়  আটক করতে স্বক্ষম হয়।

 




তিন প্রকল্পে ১০লক্ষ টাকার উন্নয়নের সুফল পান নি স্থানীয়রা

unnamed-1-copy

থানচি প্রতিনিধি:

বান্দরবানের থানচিতে বার্ষিক উন্নয়ন তহবিল(এডিপি)সহ তিনটি প্রকল্পের সুফল সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছাই নি। ফলে গৃহিত প্রকল্প এলাকায় লোকজনের কাছে চাপা ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে। এসব প্রকল্পে কাগজে কলমে বাস্তবায়ন দেখিয়ে সব অর্থ ও খাদ্য শষ্য আত্মসাত করা হয়েছে বলে উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)’র সার্বিক তত্ত্বাবধানে ২০১৫-১৬ অর্থবছরে এডিপি‘র  আওতায় মোট ছয়টি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। তার মধ্যে ২লক্ষ টাকায় রেমাক্রী ইউপির  একটি প্রকল্পের -‘মংম্যা পাড়া পাঠাগার নির্মাণ’। এ প্রকল্পের সভাপতি  মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান বকুলি মারমা। তবে এখানে পাঠাগার নির্মাণের প্রকল্প গ্রহণ করা হলেও কোনো কাজ করা হয় নি।

বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের ২০১৫ সালে সাধারণ কর্মসূচির আওতায় ৭মে.টন খাদ্য শষ্য বরাদ্দে রেমাক্রী গ্রুপিং পাড়া প্যাগোডায় ভিক্ষু সংঘে জন্য ক্যাংঘর সম্প্রসারণ নির্মাণের একটি প্রকল্প নেয়া হয়। কেজি ৩৬টাকা দরে সরকারি মূল্য যা আড়াই লক্ষ টাকার বেশি।

 উপজেলা পরিষদের ত্রাণ ও দুর্যোগ অধিদপ্তরের গ্রামীণ অবকাঠামো ও রক্ষনাবেক্ষন (টিআর)‘র আওতায় ২০১৪ সালে গ্রুপিং পাড়ার মাঝখানে বাধ নির্মাণ প্রকল্পের বিপরীতে ১৪মে.টন খাদ্য শষ্য বরাদ্দ নেয়া হয়। যার মূল্য ৫ লক্ষ টাকার বেশি। এ দু‘টি প্রকল্পে প্রায় ৮লক্ষ টাকায় উন্নয়নের কোনো অস্তিত্ব নেই।

সম্প্রতি সরেজমিনে গেলে পাড়াবাসীরা জানায়, প্রকল্প গ্রহণের কথা জানলেও এর বিপরীতে কত টাকা বা কি পরিমাণ খাদ্যশষ্য বরাদ্দ ছিল, তারা তা জানেন না। পাড়া প্রধান ফোসাচিং মারমা অভিযোগ করে জানান, এ প্রকল্পের কাজ কবে নাগাদ করবে, তা আমরা জানি না।

পাড়াবাসীরা আরও জানায়, ক‘বছর আগে পাড়ার ছড়ায় বাঁধ নির্মাণ করতে মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান তার দেবর খ্যাইসিংমং‘কে দায়িত্ব দেয়ার কথা শুনা যায়। তবে বাস্তবে কাজ হয়নি। মহিলা ভাইস চেয়ারম্যানের দেবর খ্যাইসিংমং মারমা বলে ভাইস চেয়ারম্যান বউদি বাঁধ নির্মাণ করতে আমাকে ২০হাজার টাকা দেন। ওই টাকায় বাঁধের  মাটি কেটেছিলাম। বাকিগুলি আমার জানা নেই।

এব্যাপারে মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান বকুলি মারমার সাথে মুঠোফোনে বেশ ক‘দিন ধরে বারবার যোগাযোগ করা হলেও তার ফোন বন্ধ পাওয়ায় তার বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয় নি।  তবে প্রকল্প সার্বিক তত্তাবধানে দায়িত্বে থাকা এলজিইডি‘র উপজেলা সহকারী প্রকৌশলী মেজবাহ কবীর  জানান, মংম্যা পাড়া পাঠাগার কাজটির পরিবর্তে অন্যটি করা হয়েছে। সভার মাধ্যমে পরিবর্তন করা প্রকল্পটির নাম অফিসে সংরক্ষিত সভার বিবরণীতে উল্লেখ রয়েছে বলেও জানান তিনি।

চেয়ারম্যান ক্যহ্লাচিং মারমা জানান, উপজেলা সব প্রকল্পের কাজ সম্পূর্ণভাবে বাস্তবায়ন হয়েছে। কোথাও কোন কাজ করে নি তা প্রমান করতে পারলে পুরস্কৃত করবেন বলেও জানান তিনি।




নিরাপত্তা বাহিনীর নাম ভাঙ্গিয়ে পাথর উত্তোলন

100

থানচি  প্রতিনিধি:

বান্দরবানে রোয়াংছড়িতে নিরাপত্তা বাহিনীর নাম ভাঙ্গিয়ে আলেক্ষ্যং ও পানঁতলা মৌজা সীমান্তে ডলু ঝিড়ি ও সাকলাই ঝিড়ি থেকে অবৈধভাবে পাথর উত্তোলন করছে একটি চক্র। চক্রটি রোয়াংছড়ি থেকে এসব পাথর দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পাচার করছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও বন বিভাগের কর্তারা রহস্যজনক কারণে এসব দেখেও অবৈধভাবে পাথর উত্তোলন বন্ধে কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না  বলেও অভিযোগ পাওয়া যায়।

পরিবেশ অধিদপ্তর, স্থানীয় প্রশাসন ও বন বিভাগের কোন অনুমোদন না থাকায় সরকার হারাচ্ছে কোটি টাকা রাজস্ব। প্রাকৃতিক পরিবেশ ভারসাম্য ও  ঝিড়ির নাব্যতা হারিয়ে জনদূর্ভোগ চরম আকারে ধারণ করছে। ডলু, সাকলাই ঝিড়িতে উপজাতীয় জনগোষ্ঠি অর্ধশতাধিক বসবাসকারীদের পানীয় জল ব্যবহার, স্থানীয় হাট বাজার, স্কুল কলেজের যাওয়ার রাস্তায় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে পাথর পরিবহন করায় যাতায়াতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছে এলাকাবাসী।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, হাফেজ ঘোনার বাসিন্দা জেলা জাতীয় শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক বশর কোম্পানি ওরফে (বশর ড্রাইভার) নিরাপত্তাবাহিনীর নাম ভাঙ্গিয়ে, সরকার দলীয় নেতাদের ছত্রছায়া রোয়াংছড়ি তাড়াছা ইউপি আলেক্ষ্যং মৌজা ও গ্যালেংগা ইউপি পাঁনতলা মৌজা সীমান্তে গভীর অরন্যে ডলু ঝিড়ি ও সাকলাই ঝিড়ির বিভিন্ন  স্থান থেকে পাথর  উত্তোলন করে নিয়ে যাচ্ছে নির্বিঘ্নে।

রোববার সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পাথর ভাঙ্গা ও পরিবহন শ্রমিকের ১০ জনের একটি গ্রুপের  প্রধান রহমত উল্লাহ জানান, বান্দরবানের হাফেজ ঘোনার বাসিন্দা বশর কোম্পানির নির্দেশক্রমে কাজ করছি। পাথর উত্তোলনে প্রশাসনের পারমিট বা অনুমোতির ফটোকপি আমাদেরকে প্রমাণস্বরূপ দেওয়ার জন্য বলেছিলাম, কিন্তু প্রয়োজন পড়বে না বলে জানিয়ে বশর কোম্পানি আমাদের তা দেয়নি।

ডলু পাড়া বাসিন্দা চনুমং মারমা জানান, অক্টোবর থেকে মৌজা হেডম্যান ও বশর কোম্পানি গংদের শতাধিক শ্রমিক পাথর উত্তোলন করছে। ফলে সাকলাই ঝর্ণার পানি উৎসের প্রবাহ শুকিয়ে গেছে। পানির অভাবে ডলুঝিরির পর্শ্ববর্তী দু‘টি উপজাতীয় মহল্লার ৮০ টি পরিবারকে ভবিষ্যতে এলাকা ছাড়তে হতে পারে।

মুঠো ফোনে যোগাযোগে মোহাম্মদ বশর কোম্পানি (বশর ড্রাইভার) বলেন, আমি পাথর উত্তোলন করি না এবং এ বিষয়ে  আমি জানি না।

আলেক্ষ্যং মৌজা হেডম্যান ও বিএনপি নেতা পুমুই হেডম্যান প্রকাশ ব্রিগেডিয়ার তার মুঠোফোনে বার বার যোগাযোগ করা হলে সংযোগ না পাওয়ায় বক্তব্য নেয়ার সম্ভব হয় নি।

ডলুঝিরি পাড়াবাসিন্দা সুইসিঅং ও সাবেক ইউপি মেম্বার থুইসাচিং জানান, আমাদের পানীয় জল ব্যবহার, স্থানীয় হাট বাজার, স্কুল কলেজের যাওয়ার রাস্তায় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে পাথর পরিবহন করায় যাতায়াতে চরম ভোগান্তিতে আছি। বিশ্ব বিদ্যালয়ের ছাত্র অংচিসা বলেন, বারুদ ও বিষ্ফোরক দিয়ে পাথর উত্তোলন প্রশাসনিকভাবে বন্ধ করা না গেলে ভবিষ্যতে আমাদেরকে চিড়িয়াখানায় দেখতে পাবেন।

রোয়াংছড়ি থানা অফিসার ইনচার্জ  মোহাম্মদ ওমর আলী বলেন, পাথর উত্তোলনের বিষয়ে জানি কিন্তু থানা সদর থেকে অনেক দূর। এ  দূর্গম পথ পেরিয়ে আমাদের পক্ষে কোনো কিছু করা সম্ভব নয়।

রোয়াংছড়ি  উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মোহাম্মদ দাউদ হোসেন চৌধুরী বলেন, ওই অঞ্চলে স্থানীয়রা প্রশাসনের কাছে অভিযোগ করেছে, প্রশাসনের পক্ষ থেকেও ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। পাথর উত্তোলনে প্রশাসনিকভাবে পারমিট অনুমোদন করা হয়নি। পারমিট ছাড়া পাথর উত্তোলন করায় সরকার লক্ষ লক্ষ টাকা রাজস্ব  হারাচ্ছে। তাই এটি বন্ধে যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া হবে।




হাসপাতাল, সড়ক, শ্বশানের ব্যারিকেড নির্মাণে স্থানীয় বালু পাথর ব্যবহারে অভিযোগ

323

থানচি প্রতিনিধি:

বান্দরবানে থানচি সদর হতে হাসপাতালের যাওয়ার অভ্যন্তরীণ সড়কে নির্মাণ কাজের ঠিকাদার ও প্রকৌশলীদের যোগসাজের কারণে নিন্মমানের নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহারের, বয়ক হেডম্যান পাড়াবাসীদের নদীতে পানির সংগ্রহ ও শ্বশানে যাওয়ার রাস্তায় ব্যারিকেড (ব্লক) করে গ্রেডওয়াল্ড নির্মাণে কোন বাধা মানা হচ্ছেনা বলে  ব্যাপক অভিযোগ  এলাকাবাসীর। ম্রো বাজারে অধিবাসীদের যাতায়াতে প্রতিবন্ধকতাসহ নানা সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে বলেও জানা যায়।

ঠিকাদার সংস্থা প্রভাবশালী হওয়ার সুবাদে থানচি আলিকদম সড়কের শতাধিক ঝিড়ি-ঝর্ণা থেকে বোল্ডার পাথর ও সাংগু নদীতে বালু উক্তোলনের মাধ্যমে স্থানীয় ময়লা অবর্জণা বালু ও কংক্রিট  নির্মাণ কাজের ব্যবহারে প্রশাসনের অনুমোদন, ল্যাবটারী টেস্টহীণ নির্বিঘ্নে অবাধে ব্যবহৃত হচ্ছে। ফলে শতাধিক  ঝিড়ি ঝর্ণাতে নাব্যতা হারাচ্ছে, শুকিয়ে যাচ্ছে খাওয়ার পানি। সড়কের পার্শ্ববর্তী বসবাসরত শতাধিক পাহাড়ী পল্লীগুলিতে  হাহাকার হচ্ছে  পানীয়জল এ দিকে সরকার হারাচ্ছে কোটি টাকা রাজস্ব।

জানা যায়, ২০১৬ সালে  স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরে তিন কোটি টাকা  ব্যয়ে থানচি সদর থেকে হাসপাতাল হয়ে টিমংপাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় পর্যন্ত দুই কিলোমিটার সড়কে আরসিসি, মাঝখানে ৬ টি কালভার্ট ও  গ্রেডওয়াল নির্মাণে জুন মাসে মিল্টন ট্রেডার্সকে সংশ্লিষ্ট বিভাগের কার্যাদেশ প্রদান করেন। সরকারীভাবে  ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠিদের  ঠিকাদারী লাইসেন্স (ইন্কামটেক্স) আয়কর মুক্ত। মিল্টন ট্রেডার্স স্বত্ত্বাধিকারী মিল্টন চাকমা’র  আয়কর মুক্ত থাকায় নানা কৌশলে প্রভাবীত করে  নির্মাণ কাজটি ৫০ লক্ষ টাকা বিনিময়ে ক্রয় করেন  বান্দরবানে টেন্ডার সিন্ডিকেটে প্রভাবশালী আনিসুর রহমান সূজন।

সরেজমিনে আকুতিস্থলে নির্মাণ কাজের অবৈধ পন্থা বিভিন্ন ঝিড়ি-ঝর্ণা ও সাংগু নদীর থেকে উত্তোলনকৃত নিন্মমানের স্থানীয় বালুর ও পাথরের কংক্রীট দেখা মিলে। প্রতিদিনের ঠিকাদারের নিজস্ব ৪-৫ টি লাক্সারী ট্রাক ভর্তি লোডিং আনলোডিং হচ্ছে।

বয়ক হেডম্যান পাড়া বাসিন্দা স্থানীয় চেয়ারম্যানের বড় ভাই চিংক্য ম্রো  আভিযোগ করে বলেন, এ সড়কটি স্বাধীনতা পরবর্তীতে ৩ বার নির্মাণ করা হয়েছে কিন্তু কোন কাজে আসছে না। আমাদের শ্বশানে ও নদীতে যাওয়ার রাস্তা প্রতিবন্ধকতা  সৃষ্টি করা হয়েছে।

নির্মাণ কাজে তদারকি দায়িত্বে এলজিইডি সহকারী প্রকৌশলী মেজবাহ্ কবীর বলেন, সরকারিভাবে আমাকে তদারকি দায়িত্ব দেয়ায় দেখ ভাল করা হচ্ছে আমি নিরুপায়, বান্দরবান জেলা নির্বাহী প্রকৌশলী ও উপজেলা প্রকৌশলীর নির্দেশ মানিয়ে চলতে হয়  আমার কোন করনীয় নেই।

ঠিকাদার সংস্থা কর্তৃক নিয়োজিত ম্যানেজার সরোওয়ার হোসেন বলেন, সরকারের উন্নয়ন কাজ করছি সিডিউলনুসারে নির্মাণ কাজে বাস্তবায়ন করছি। স্থানীয় বালু পাথর ভাইস চেয়ারম্যান সরবরাহ করছেন আমরা জানি না বৈধ অবৈধ কোনটি। রাজস্ব দিতে হয় সেটি জানি না।

নির্মাণ কাজে মিস্ত্রি আলমগীর হোসেন জানান, আমরা শ্রমিক মানুষ ঠিকাদারে যা দেয় তা দিয়ে কাজ করছি কিন্তু এ সব বালু পাথর দিয়ে টেকসই নয়।

জানতে চাইলে উপজেলা প্রকৌশলী (ভারপ্রাপ্ত) মোহাম্মদ তোফাজ্জল হোসেন ভূইঞা  জানান, থানচি সকল নির্মাণ কাজের রাজনৈতিক নেতাদের প্রভাব বেশী আর ঠিকাদার সংস্থা মিল্টন ট্রেডার্স মালিককে আমি দেখি নি। বাস্তবায়ন কাজ করছেন আনিসুর রহমান সূজন। স্থানীয় বালু পাথর ব্যবহারে আমাদের কোন করনীয় নাই। অবৈধ হলে প্রশাসন আর আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর দেখভাল করেন।

যোগাযোগ করা হলে অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ আবদুর সাত্তার বলেন, রাজস্ব ফইক দিয়ে বালু মহাল থেকে  ও বোল্ডার পাথর উত্তোলনের বিষয়ে আমার জানা নেই তবে অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।