টেকনাফে দুই অপহরণকারী ইয়াবাসহ আটক অপহৃত যুবক উদ্ধার

 

teknaf pic 24-2-17 copy

টেকনাফ প্রতিনিধি:

রোহিঙ্গা বিদ্রোহী সংগঠন রোহিঙ্গা সলিডাডরিটি অর্গানাজেশন (আরএসও)’র নেতা টেকনাফ পৌরসভার পুরান পল্লান পাড়াস্থ আব্দুল হাকিম ডাকাতের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে  ইয়াবাসহ অপহরণকারী চক্রের সদস্য স্ত্রী- ভাই ও অপর এক মিয়ানমার নাগরিককে আটক করেছে এবং অপহৃত যুবককে উদ্ধার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

তবে এ অভিযানের সময় কৌশলে পালিয়ে যায় আব্দুল হাকিম। সে মিয়ানমারের  মংডু বড় ছড়া এলাকার জানে আলমের ছেলে ও শীর্ষ সন্ত্রাসী।   বৃহস্পতিবার দুপুরে আব্দুল হাকিম ডাকাতের ঘরে এ অভিযান চালায়।

এ ব্যাপারে পৃথক ৩ টি মামলা রুজু করা হয়েছে বলে জানিয়েছে টেকনাফ মডেল থানার ওসি (তদন্ত) শেখ আশরাফুজ্জামান।

বিজিবি সূত্রে জানা যায়, ইয়াবা বেচাকেনার সংবাদ পেয়ে ২ বর্ডার গার্ড ব্যাটলিয়নের হাবিলদার মো. মিনহাজ উদ্দিনের নেতৃত্বে বিজিবি সদস্যরা টেকনাফ পৌর এলাকার পুরাতন পল্লান পাড়াস্থ বনভূমি দখল করে বিশেষ কায়দায় নির্মিত প্রাসাদে এক অভিযান পরিচালনা করে।ওই অভিযানে ইয়াবাসহ আটক করা হয় হাকিম ডাকাতের ভাই করিম উল্লাহ প্রকাশ কবির আহমেদ, স্ত্রী ইসমত আরা বেগম ও মিয়ানমার মংডু সিকদার পাড়া এলাকার মৃত মো. আলীর ছেলে নুর আমিনকে। পরে অন্য একটি কক্ষ থেকে উদ্ধার করা হয় ৪ দিন ধরে মুক্তিপনের জন্য আটক করে রাখা যুবক মোহাম্মদ সেলিমকে। সে টেকনাফ উপজেলার সাবরাং ইউনিয়নের শাহপরীরদ্বীপ জালিয়া পাড়ার নুর মোহাম্মদের ছেলে।

উদ্ধার হওয়া যুবক মো. সেলিম জানান,  ২০ ফেব্রুয়ারি বিকাল সাড়ে ৪ টার সময় টেকনাফ পৌর এলাকার কায়ুকখালী ব্রিজের উপর থেকে তাকে অপহরণ করে পুরান পল্লান পাড়াস্থ আব্দুল হাকিম ডাকাতের ঘরের একটি রুমে হাত-পা বেঁধে রেখে মোবাইলে তার পরিবারের কাছ থেকে ৮ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। টাকা না দেওয়ায় তাকে বেশ কয়েকবার হত্যারও হুমকি দেওয়া হত।

এমতাবস্থায়  বিজিবির এ অভিযানে সে ভাগ্যক্রমে উদ্ধার হয়ে বেচেঁ যায়। তিনি এ ব্যাপারে টেকনাফ মডেল থানায় হাকিম ডাকাতসহ অন্যান্যদের আসামী করে মামলা দায়ের করেছেন বলেও জানান। এ ছাড়া ইয়াবা উদ্ধার ও বৈদেশিক নাগরিকদের আশ্রয় দেওয়ার অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে বিজিবি হাবিলদার মো. মিনহাজ উদ্দিন বাদী হয়ে দুটি মামলা দায়ের করেন।

এদিকে ২ বিজিবি ব্যাটলিয়ন উপ-অধিনায়ক মেজর আবু রাসেল সিদ্দিকী জানান, “এ অভিযানে হাকিম ডাকাত পালিয়ে গেলেও আটক করা হয়েছে ভাই, স্ত্রীকে। উদ্ধার করা হয়েছে ৩৯৩৭ পিস ইয়াবা, ৭ টি মোবাইল ও ২ টি চাকু। “

 টেকনাফ মডেল থানার ওসি (তদন্ত) শেখ আশরাফুজ্জামান জানান, “রোহিঙ্গা ডাকাত সর্দার আব্দুল হাকিমকে পলাতক আসামী করে মাদক, অপহরণ ও বৈদেশীক নাগরিক আইনে ৩ টি মামলা রুজু করা হয়েছে। হাকিম ডাকাত এ পর্যন্ত হত্যা, অস্ত্র, ডাকাতিসহ মোট ৯ টি মামলায় পলাতক রয়েছে। “




টেকনাফে ফের ৩০০ রোহিঙ্গা পরিবারের মাঝে মালয়েশিয়ার ত্রাণ বিতরণ

teknaf pic 23-2-17 (1) copy

টেকনাফ প্রতিনিধি:

মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গা শরনার্থী ক্যাম্পে ফের ৩০০ পরিবারের মাঝে মালয়েশিয়া সরকারের পাঠানো ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করেছে জেলা প্রশাসক। বিতরণকালে জেলা প্রশাসক মো. আলী হোসেন সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে বলেন, মালয়েশিয়া সরকারের পাঠানো ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ শুরু হয়েছে। এ ত্রাণ প্রায় সাড়ে ৫ হাজার পরিবারের মাঝে পর্যায়ক্রমে বিতরণ করা হয়েছে। এসব ত্রাণ সামগ্রী দিয়ে রোহিঙ্গা পরিবারের দুই মাসের চাহিদা পূরণ হবে।

সূত্র জানায়, মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের মাঝে বিতরণের জন্য মালয়শিয়ান সরকার ত্রাণ সামগ্রীগুলো বাংলাদেশে পাঠায়। ত্রাণ সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে চাল, ডাল, চিনি, খাদ্যশস্য, ভোজ্যতেল, কম্বল, চিকিৎসার সামগ্রীসহ প্রায় ৩৫ প্রকার পণ্য।

বৃহস্পতিবার সকালে লেদা ক্যাম্পে আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) ও রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি সহযোগিতায় বিতরণকালে উপস্থিত ছিলেন, কক্সবাজার জেলা প্রশাসক আলী হোসেন, রোহিঙ্গা ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রমের সমন্বয় কমিটির প্রধান ও কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) সাইফুল ইসলাম মজুমদার, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার চাউলাউ মারমা, ২ বিজিবির উপ-অধিনায়ক মেজর আবু রাসেল ছিদ্দিকী, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) তুষার আহমেদ, ওসি তদন্ত শেখ আশরাফুজ্জামান, আইওএম এর কক্সবাজার ইনচার্জ অফিসার শাহাজাদ মজিদ প্রমুখ।

 উল্লেখ্য, গত বছরের ৯ অক্টোবর রাখাইন রাজ্যে তিনটি পুলিশ ফাঁড়িতে হামলার ঘটনায় তিন পুলিশসহ ১৮ ব্যক্তি নিহত হয়। এরপর সেখানে সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান শুরু করে সেখানকার সেনাবাহিনী। এ পর্যন্ত গত চার মাসে সেনাবাহিনীর অত্যাচার-নির্যাতন, হত্যা, ধর্ষণ ও দমন-পীড়নের মুখে উখিয়া ও টেকনাফে পালিয়ে আসে অন্তত ৯০ হাজার রোহিঙ্গা। এর মধ্যে উখিয়ার কুতুপালং অনিবন্ধিত শিবিরে আশ্রয় নিয়েছে প্রায় ৪০ হাজার রোহিঙ্গা। আর টেকনাফের লেদা অনিবন্ধিত শিবিরে আশ্রয় নিয়েছে প্রায় ৩৮ হাজার রোহিঙ্গা।

মালয়েশিয়া সরকার ত্রাণগুলো নটিক্যাল আলিয়া নামে একটি জাহাজে বাংলাদেশে পাঠায়।




টেকনাফে বিদেশী বিয়ার জব্দ

টেকনাফ প্রতিনিধি:

কক্সবাজারের টেকনাফে মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে আসার পথে বিপুল পরিমান বিদেশী বিয়ার জব্দ করেছে কোস্ট গার্ড।

সোমবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে কোস্ট গার্ড পূর্ব জোনের অধিনস্থ সিজি স্টেশন টেকনাফ’র একটি টহল দল নিয়মিত টহলের সময় কেরুনতলী এলাকা থেকে বিয়ার গুলো জব্দ করা হয়।

টেকনাফ কোস্ট গার্ড সিজি স্টেশনের কমান্ডার তাসকিন নুর জানান, মিয়ানমার থেকে বিয়ার আসার গোপন সংবাদে কেরুনতলী কেওড়া বাগান এলাকা থেকে  পাচারকারীদের ফেলে যাওয়া ২২ বোতল গ্রান্ড রয়েল মদ, ২০ বোতল সাইরাম মদ, ১৮ ক্যান ডাইব্লু বিয়ার এবং ১২ ক্যান সিঙ্গা বিয়ার জব্দ করে। যার আনুমানিক মূল্য ৬০ হাজার ৬শত টাকা।

তিনি আরও জানান, জব্দকৃত বিয়ারগুলো মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরে জমা করা হয়েছে।




নির্যাতিত স্ত্রীকে উদ্ধার করতে গিয়ে আগ্নেয়াস্ত্রসহ কার্তুজ উদ্ধার

টেকনাফ প্রতিনিধি:

কক্সবাজারের টেকনাফে স্বামীর নির্যাতন থেকে স্ত্রীকে উদ্ধার করতে গিয়ে একটি আগ্নেয়াস্ত্রসহ ৬ রাউন্ড কার্তুজ উদ্ধার করেছে টেকনাফ মডেল থানার পুলিশ।

মঙ্গলবার বিকালে এসআই সাইফুল ইসলামের নেতৃত্বে সাবরাং ইউনিয়নের নয়াপাড়ার গোলাপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে মো. আব্দুল্লাহর বাড়ি থেকে এসব আগ্নেয়াস্ত্র ও কার্তুজগুলো উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ জানায়, টেকনাফ সদর ইউনিয়নের ছোট হাবিবপাড়ার মৃত শামসুল আলমের মেয়ের সাথে সাবরাং নয়াপাড়ার গোলাপাড়ার মৃত মহব্বত আলীর ছেলে মো. আব্দুল্লাহ (৩৫)’র বিয়ে হয়।

বিয়ের পর থেকে যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে শারীরিক নির্যাতন করে আসছিল স্বামী। এ নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে তার স্ত্রী রোজিনা আক্তার নির্যাতনের বিষয়টি তার ছোট বোনকে জানায়।

তার বোন বুলবুলি আক্তার (২১) বাদি হয়ে টেকনাফ মডেল থানায় বড় বোন রোজিনা আক্তারকে নির্যাতনের অভিযোগ দায়ের করেন। এ অভিযোগ থানার এসআই সাইফুল ইসলামকে তদন্তের নির্দেশ দেন।

অভিযানকারী এসআই সাইফুল ইসলাম জানান, ভূক্তভোগী স্ত্রীকে উদ্ধার করতে গিয়ে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে নির্যাতনকারী  মো. আব্দুল্লাহ (৩৫) আগ্নেয়াস্ত্র ও কার্তুজ ফেলে পালিয়ে যায়।

টেকনাফ মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাইন উদ্দিন জানান, স্ত্রীকে নির্যাতন করার সময় উদ্ধার করতে গিয়ে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে নির্যাতনকারী একটি আগ্নেয়াস্ত্র ও ৬ কার্তুজ ফেলে পালিয়েছে।

এঘটনায় টেকনাফ সাবরাং ইউনিয়নের নয়াপাড়া গোলাপাড়ার মৃত মহব্বত আলীর ছেলে মো. আব্দুল্লাহকে  আসামী করে মামলা দায়ের করা হয়েছে।




টেকনাফে সাড়ে ৯ লাখ পিস ইয়াবা উদ্ধার

teknaf pic yaba 19-2-17 copy

টেকনাফ প্রতিনিধি:

কক্সবাজারের টেকনাফে গত দু’দিনে পৃথক অভিযানে ৯ লাখ ৪৪ হাজার ইয়াবা উদ্ধার করেছে কোস্টগার্ড ও বিজিবি। তবে এ ঘটনায় দুটি নৌকা জব্দ করা হলেও কাউকে আটক করতে পারেনি।

কোস্টগার্ড সূত্র জানায়, রোববার রাত ২ টার দিকে টেকনাফ স্টেশন কমান্ডার লেফটেন্যান্ট তাসকিন রেজার নেতৃত্বে কোস্টগার্ড সদস্যরা টেকনাফ স্থলবন্দর সংলগ্ন ছাড়িঅং এলাকায় মিয়ানমার থেকে আসা একটি নৌকাকে দাঁড়ানোর সংকেত দিলে তারা পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা চালায়। এসময় তাদেরকে ধাওয়া করলে দু’টি ইয়াবার বস্তা ফেলে পালিয়ে যায়। ওই বস্তা থেকে ৪ লাখ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে। যার মূল্য ২০ লাখ টাকা।

এছাড়া শনিবার ভোর ৫টায় নাফ নদীর মোহনা নাইক্ষ্যংদিয়া চ্যানেল এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৫ লাখ পিস ইয়াবা উদ্ধার করেছে। তবে এ সময় কাউকে আটক করতে পারেনি।

এ প্রসঙ্গে টেকনাফ স্টেশন কমান্ডার লেফটেন্যান্ট তাসকিন রেজা জানান, উদ্ধারকৃত ইয়াবাগুলো মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরে জমা করা হয়েছে।

অন্যদিকে, শনিবার সাড়ে পাঁচটার দিকে টেকনাফ পৌরসভার নাইট্যংপাড়া ও নাফ নদীর সংযোগ হেচ্ছারখাল এলাকা থেকে ৪৪ হাজার ইয়াবা বড়িসহ একটি নৌকা জব্দ করেছে বিজিবি।

টেকনাফ-২ বিজিবির উপ-অধিনায়ক মেজর আবু রাসেল ছিদ্দিকী বলেন, মিয়ানমার থেকে একটি ইয়াবার চালান আসছে। এমন খবর পেয়ে হেচ্ছারখাল এলাকায় অবস্থান নেয় বিজিবি। পাচারকারীরা বিজিবির সদস্যদের দেখতে পেয়ে ঝাঁপ দিয়ে খালের ওই পারে পালিয়ে যায়। ওই সময় নৌকায় তল্লাশি চালিয়ে পলিথিন ব্যাগে মোড়ানো ৪৪ হাজার ইয়াবা বড়ি পাওয়া যায়।

মেজর আবু রাসেল সিদ্দিকী আরও বলেন, উদ্ধার করা ইয়াবা বড়িগুলো ব্যাটালিয়ন সদর দপ্তরে জমা রাখা হবে। তা পরবর্তী সময়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের উপস্থিতিতে নষ্ট করা হবে।




টেকনাফে ৫০ রোহিঙ্গা পরিবারের মাঝে মালয়েশিয়ান সরকারের ত্রাণ

IMG_20170215_113527 copy

টেকনাফ প্রতিনিধি:

টেকনাফ লেদা রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ৫০ পরিবারের মাঝে ত্রাণ বিতরণের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়েছে। ত্রাণ বিতরণের জন্য মালয়েশিয়া সরকারের সংসদ সদস্য আব্দুল আজিজ এর নেতৃত্বে ৩০ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল বিকাল ৪ টায় রোহিঙ্গা শরণার্থীদের মাঝে ত্রাণ বিতরণের আনুষ্ঠানিকতা শুরু করেন।

এসময় প্রতিনিধি দলের প্রধান আব্দুল আজিজ উপস্থিত দেশী, বিদেশী সাংবাদিকদের সংক্ষিপ্ত প্রেসব্রিফিং করেন। ব্রিফিংকালে তিনি বলেন, রোহিঙ্গাদেরকে আশ্রয় দেওয়া সহ নানান ধরনের সহযোগিতা করার জন্য বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। প্রয়োজনে আরও সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়া হবে বলে সফররত মালয়েশিয়া প্রতিনিধি দলের প্রধান আব্দুল আজিজ আরও বলেন, রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে বাংলাদেশের পাশে থাকবে মালয়েশিয়া।

মালয়েশিয়া প্রতিনিধি দলের সঙ্গে আন্তর্জাতিক অভিভাসন সংস্থা (আইওএম) ও রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির যৌথ উদ্যোগে উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় টেকনাফের লেদায় ৫০ পরিবারের মাঝে বিতরণ  কার্যক্রম শুরু হয়।

এর আগে বিকাল ৩টায় দিকে চট্টগ্রাম বন্দর থেকে টেকনাফে ত্রাণ এসে পৌঁছায় । ত্রাণের মধ্যে চাল, ডাল, কফি, চিনি, খাদ্যশস্য, ভোজ্য তেল, কম্বল ও চিকিৎসা সামগ্রীসহ প্রায় ৩৫ প্রকার পণ্য রয়েছে।

ত্রাণ বিতরণকালে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শফিউল আলম বলেন, প্রাথমিকভাবে ৫০ পরিবারের মধ্যে ত্রাণ বিতরণ করা হচ্ছে। পর্যায়ক্রমে আরও সাড়ে পাঁচ হাজার পরিবার এ ত্রাণ দেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, গত ৯ অক্টোবর বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী মিয়ানমারের অভ্যন্তরে সে দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর বেশ কয়েকটি নিরাপত্তা চৌকিতে হামলা হয়। এতে সীমান্ত পুলিশের ১২ সদস্য নিহত হয়। এ হামলার জন্য রোহিঙ্গা মুসলমানদের দায়ী করে তাদের ওপর নির্যাতন চালায় মিয়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনী। তাদের নির্যাতনে শতাধিক রোহিঙ্গা নিহত হয়েছে।

এরপর থেকে সীমান্তের বিভিন্ন পয়েন্ট দিয়ে বাংলাদেশে রোহিঙ্গাদের অনুপ্রবেশ অব্যাহত রয়েছে। জাতিসংঘের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত ৯ অক্টোবর রোহিঙ্গাদের ওপর সশস্ত্র বাহিনীর নিপীড়ন শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত মিয়ানমারের সংখ্যালঘু মুসলিম জনগোষ্ঠীর অন্তত ৭০ হাজার সদস্য বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে।




টেকনাফে বিশ্ব জলাভূমি দিবস পালিত

teknaf pic (j) 15-02-2017 copy

টেকনাফ প্রতিনিধি:

“দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাসের জন্য জলাভূমি” এ প্রতিপাদ্য শ্লোগানে টেকনাফে বিশ্ব জলাভূমি দিবস পালিত হয়েছে। এ উপলক্ষ্যে ১৫ ফেব্রুয়ারি সকাল ১০ টার দিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. শফিউল আলমের নেতৃত্বে এক বর্ণাঢ্য র‌্যালি প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে  উপজেলা মিলনায়তনে এক আলোচনা সভায় মিলিত হয়।

আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন, টেকনাফ সহ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান, জেলা পরিষদের প্রভাবশালী সদস্য শফিক মিয়া। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. শহিদুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, সহকারী বন সংরক্ষক সরওয়ার আলম, ক্রেল প্রকল্পের টেকনিক্যাল প্রোগ্রাম কো-অর্ডিনেটর রুহুল মোহাইমেন চৌধুরী, উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা শামসুল আলম কুতুবী।

সভার শুরুতে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন, ক্রেল প্রকল্প কক্সবাজার রিজিওন গ্র্যান্টস কর্মকর্তা মো. হেলাল উদ্দিন। আলোচনা সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ক্রেলের প্রকল্পের সাইট অফিসার খান মুহা. মুজাহীদ ইবনে হাবীব।

অনুষ্ঠানে ক্রেল প্রকল্পের ভিলেজ কনজারভেশন গ্রুপ, ভিলেজ কনজারভেশন ফোরাম, যৌথ বন পাহারা দল, সাংবাদিক, উপজেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্যসহ সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা অংশ গ্রহণ করেন।




টেকনাফে ফিশিং ট্রলারে ডাকাতি ট্রলার ও মালামাল লুট : ৩ জেলে নিখোঁজ

টেকনাফ প্রতিনিধি :
বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরার ৫টি ফিশিং ট্রলার ডাকাতি করে ট্রলার, মাছ ও জালসহ সবর্স্ব লুট করে নিয়ে গেছে জলদস্যুরা। এ ঘটনায় ৩ মাঝি নিখোঁজ রয়েছেন। নিখোঁজ জেলেরা হলেন- সাবরাং ইউনিয়নের শাহপরীর দ্বীপের বাসিন্দা আমিন উল্লাহ (৫০), মোহাম্মদ কাসেম (৩৫) ও মোহাম্মদ নুর (২৪)। ১৫ ফেব্রুয়ারি রাতে টেকনাফ শাহপরীরদ্বীপের পশ্চিমে ১২ মাইল এলাকায় এ ডাকাতির ঘটনা ঘটে।

ফেরত জেলে ও ট্রলার মালিকদের ভাষ্য, সোমবার ৫টি ট্রলার নিয়ে মাঝিমাল্লারা বঙ্গোপসাগরে মাছ শিকারে যায়। বুধবার রাতে তারা সাগরে মাছ ধরতে জাল ফেলে। হঠাৎ করে একদল জলদস্যু ট্রলারে হানা দিয়ে জেলেদের মারধর এবং মাছ, জাল, ডিজেল ও অন্যান্য মালামাল লুটে নেয়। ১০ মাঝিমাল্লাসহ এফবি সুলতান আহম্মেদ নামে একটি ট্রলারকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে নিয়ে যাওয়ার সময় জেলেদের সাগরে নিক্ষেপ করে। এ সময় অন্য ট্রলারের মাঝিরা সাগরে ভাসমান অবস্থায় সাত জেলেকে উদ্ধার করে। তিন জেলে এখনও নিখোঁজ রয়েছেন।

উদ্ধার হওয়া জেলেরা হলেন- ফজল আহম্মেদ, নুর হাবিব, নোমান, মোহাম্মদ আইয়ুব, কালা মিয়া, শফি আলম, সেলিম উল্লাহ। তারা সবাই সাবরাং ইউনিয়নের শাহপরীর দ্বীপ এলাকার বাসিন্দা।

টেকনাফ-২ বিজিবির উপ-অধিনায়ক মেজর আবু রাসেল ছিদ্দিকী বলেন, ‘বিষয়টি শুনেছি, ঘটনাটির খোঁজ খবর নেওয়া হচ্ছে।’

টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল মজিদ বলেন, ‘সাগরে ডাকাতির খবর স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের কাছে শুনেছি। ট্রলার মালিককে থানায় অভিযোগ দিতে বলা হয়েছে।




টেকনাফে ৯০ হাজার ইয়াবা উদ্ধার, আটক ১

teknaf pic 13-2-17 copy

টেকনাফ প্রতিনিধি:

কক্সবাজারের টেকনাফে পৃথক অভিযানে প্রায় ৯০ হাজার ইয়াবাসহ মো. হাফেজ উলাহ (৩৭)নামে এক পাচারকারীকে আটক করেছে বিজিবি। সে উপজেলার সাবরাং ইউনিয়নের লাফার ঘোনার অলি আহমদের ছেলে। এ ঘটনায় একজনকে পলাতক আসামী করা হয়েছে।

বিজিবি জানায়, রোববার দিবাগত রাত ৮টায় ও সোমবার ভোর পাঁচটার দিকে টেকনাফে সাবরাং ও হ্নীলা এলাকা থেকে ইয়াবাগুলো উদ্ধার করা হয়।

টেকনাফ ২ বিজিবির অধিনায়ক লে.কর্ণেল আবুজার আল জাহিদ জানান, টেকনাফ নয়াপাড়া বাজার হতে একটি ইজিবাইকে করে ইয়াবার একটি চালান টেকনাফে আনা হচ্ছিল এমন তথ্যের ভিত্তিতে সাবরাং ইউনিয়ন কমপ্লেক্স এলাকার সামনে রাস্তায় অবস্থান নেয়। ওই সময় ইজিবাইকে থাকা সন্দেহ ভাজন একযাত্রীর দেহ তল্লাশি চালিয়ে নয় হাজার ৯৬৬ পিস ইয়াবা বড়ি উদ্ধার করা হয় এবং যাত্রী মো. হাফেজ উলাহকে আটক করা হয়।

অন্যদিকে, সোমবার ভোররাতে হ্নীলার ওয়াব্রাং লবণ মাঠ সংলগ্ন এলাকা দিয়ে একটি ব্যাগসহ কয়েকজন লোককে দেখতে পায় বিজিবির সন্দেহ হওয়ায় তাদেরকে থামানো সংকেত দেন। ওই সময় তারা ব্যাগটি ফেলে পাশ্ববর্তী গ্রামে ঢুকে পালিয়ে যায়। ওই ব্যাগের ভেতর থেকে ৮০ হাজার ইয়াবা বড়ি উদ্ধার করা হয়। কিন্ত এ ঘটনায় কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।

বিজিবির অধিনায়ক আরও বলেন, পাচারকারীসহ আটক ইয়াবাগুলো টেকনাফ থানায় জমা দিয়ে একজনকে পলাতক আসামী করে মামলা রুজু করা হয় এবং মালিকহীন উদ্ধার ইয়াবাগুলো ব্যাটালিয়ান সদর দপ্তরে জমা রাখা হয়েছে।




টেকনাফে ৫টি স্বর্ণের বার উদ্ধার

টেকনাফ প্রতিনিধি:

কক্সবাজারের টেকনাফে ৭২.১৫ ভরি ওজনের ৫টি স্বর্ণের বার উদ্ধার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। তবে এসময় কাউকে আটক করা যায়নি।

শুক্রবার ভোরে টেকনাফ পৌরসভার নাইট্যংপাড়ার সংলগ্ন এলাকায় নাফনদীতে অভিযান চালিয়ে স্বর্ণেরবার গুলো উদ্ধার করা হয়।

বিজিবি সূত্রে, দমদমিয়া বিওপির সদস্যরা মিয়ানমার থেকে ইয়াবা আসার গোপন সংবাদে নাফনদীতে অবস্থান নেয়। এসময় মিয়ানমার থেকে একটি মাছ ধরার নৌকা সংকেত দিলে নৌকাতে থাকা পাচারকারীরা পালিয়ে যায়। পরে নৌকায় থাকা একজোড়া সেন্ডেলে তল্লাশী চালিয়ে ৫টি স্বর্ণের বার উদ্ধার কার হয়।

টেকনাফ-২ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে.কর্ণেল আবুজার আল জাহিদ আটকের সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মিয়ানমার থেকে আসা একটি যাত্রীবাহী নৌকাতে অভিযান চালিয়ে ৮৩১.৫০ ওজনের ৫টি স্বর্ণেরবার উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত স্বর্ণের বাজারমূল্য আনুমানিক ২৯ লাখ ৯২ হাজার ৫‘শ টাকা বলেও তিনি জানান।