ভয়াবহ ভাঙ্গনে হারিয়ে যাচ্ছে প্রবালদ্বীপ সেন্টমার্টিন

Untitled-2 copy

টেকনাফ প্রতিনিধি:

প্রায় দুইশ বছর আগে থেকে বসতি শুরু হয় দেশের একমাত্র প্রবালদ্বীপ সেন্টমাটিনে। এর পর থেকে বিভিন্ন সময়ে ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছাসসহ ভয়াবহ নানা প্রাকৃতিক দূর্যোগ টেকনাফ উপকুলে আঘাত হানলেও কখনো মনোবল ভাঙ্গেনি সেন্টমার্টিন-দ্বীপবাসীর।

কিন্তু সম্প্রতি এ দ্বীপে দু‘টি জলোচ্ছাসে আঘাত হানে এবং দ্বীপের চারপাশে ভয়াবহ ভাঙ্গনের সৃষ্টি হওয়ায় নতুন করে ভাবনায় পড়েছে দ্বীপের প্রায় নয় হাজার বাসিন্দা। ভাঙ্গনের কবলে পড়ে ৮.৩ বর্গ কিলোমিটারের দ্বীপটি দিন দিন ছোট হয়ে আসায় দেশের মানচিত্র থেকে দ্বীপটি হারিয়ে যাবে এমন আশংকায় উদ্বিগ্ন দ্বীপবাসী।

এ দ্বীপের পরিবেশ, পর্যটন ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণের দাবীতে রবিবার দুপুরে টেকনাফ পৌরসভার একটি আবাসিক হোটেলের হলরুমে সেন্টমার্টিন ইউপি চেয়ারম্যান নুর আহমদ  এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন। সেন্টমার্টিনদ্বীপ ইউনিয়নের সাবেক মেম্বার আলহাজ্ব আমির হোসেন ও ব্যবসায়ী হাফেজ উল্লাহ এসময় উপস্থিত ছিলেন।

এসময় সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে ইউপি চেয়ারম্যান নুর আহমদ বলেন, এ দ্বীপে মানুষের  বসবাস শুরু হয় প্রায় দুইশ বছর আগে। দ্বীপে বসতি শুরুর পর এভাবে কোনো দিন এখানে পানি ওঠেনি । এ রকম ভয়াবহ ভাঙ্গনও কোন সময় দেখা যায়নি । জোয়ারের পানি আর সমুদ্রের ঢেউয়ের কারণে দ্বীপে চার পাশেই ভাঙ্গনের সৃষ্টি হয়েছে। বেশী ভেঙ্গেছে উত্তর-পশ্চিম অংশে।

এদিকে বিস্তৃর্ণ  কেয়াবন সাগরে বিলীন হয়ে গেছে। দ্বীপের একমাত্র কবরস্থানটির প্রায় দেড়শ ফুটেরও বেশী সাগরে তলিয়ে গেছে। মাটি সরে যাওয়ায় স্থানীয় পুলিশ ফাঁড়িসহ আশপাশের কয়েকটি সীমানা প্রাচীর ভেঙ্গে পড়ার উপক্রম হয়েছে। ভাঙ্গনের কবলে পড়ে কবর থেকে বেরিয়ে আসে মানুষের কংকালও।

এছাড়া সরকারী-বেসরকারীভাবে স্থাপনা নির্মিত হলেও নির্মিত হয়নি টেকসই বেড়িবাঁধ। পর্যটন, পরিবেশ ও জীববৈচিত্র রক্ষায় সরকারের গৃহিত উন্নয়ন পরিকল্পনা ধরে রাখতে মজবুত ও টেকসই বেড়িবাঁধ নিমার্ণের দাবী করেন।

উপস্থিত সংবাদকর্মীদের প্রশ্নের জবাবে চেয়ারম্যান নুর আহমদ আরও বলেন ‘দ্বীপের চতুর্দিকে বেড়িবাঁধ না থাকায় প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে ভাঙ্গণের কবলে পড়ে বহু বসতবাড়ি ও সরকারী-বেসরকারী অবকাঠামো সাগরে বিলীন হয়ে যায়। ভাঙ্গণ রোধে ক্ষতিগ্রস্থরা ব্যক্তি উদ্যোগে বেড়িবাঁধ  নির্মাণ করতে চাইলে প্রশাসন বাধা প্রদান করে। আমি সেন্টমার্টিনদ্বীপের চতুর্দিকে টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণের দাবিতে  প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সুদৃষ্টি কামনা করছি’।

স্থানীয়রা জানান, ১৯৯১সালের প্রলয়ংকরী ঘূর্ণিঝড়, ৯৪’র জলোচ্ছাসসহ কোনো প্রাকৃতিক দূর্যোগের সময় এ দ্বীপে পানি ওঠেনি । ভাঙ্গনের সমস্যাও তেমন একটা ছিলনা। কিন্তু দ্বীপে বসতি শুরুর দীর্ঘ দুইশ বছর পর, ২০১৬সালে পূর্ণিমার জোয়ারে হঠাৎ সেন্টমার্টিনে জলোচ্ছাসের সৃষ্টি হয়। দ্বীপের চতুর্দিকে ভাঙন শুরু হয়। ভাঙ্গনের কবলে পড়ে দ্বীপের চারপাশে বিশাল অংশ পানিতে তলিয়ে যায়।

ভাঙ্গন কবল থেকে রক্ষা পায়নি দ্বীপের আটটি বসতঘরসহ প্রায় ২১টি স্থাপনা পানিতে ধ্বসে যায়। ভাঙ্গনের কবলে পড়ে দ্বীপের উত্তর ও পশ্চিম অংশে অবস্থিত একমাত্র কবরস্থানটির ১৫০ ফুটেরও বেশী সমুদ্র গর্ভে তলিয়ে গেছে।  ফলে শংকিত হয়ে পড়ে দ্বীপের বাসিন্দারা।

জানা গেছে,বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন ১৯৯৫ (সংশোধিত ২০১০) অনুযায়ী, ১৯৯৯ সালে সেন্ট মার্টিনকে প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা (ইসিএ) হিসেবে ঘোষণা করা হয়।




টেকনাফ শাহপরীরদ্বীপের বেড়িবাঁধ নিরাপত্তাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে নিমার্ণের দাবীতে মানববন্ধন

unnamed copy

টেকনাফ প্রতিনিধি:

টেকসই স্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণের জন্য একনেকে বরাদ্ধকৃত টেকনাফ শাহপরীরদ্বীপের ১০৬কোটি টাকার প্রকল্পের বেড়িবাঁধটি নিরাপত্তাবাহিনী ও নৌ বাহিনীর তত্ত্বাবধানে নির্মাণের দাবীতে মানববন্ধন করেছে শাহপরীরদ্বীপের সর্বস্তরের জনসাধারণ। শুক্রবার বিকালে শাহপরীরদ্বীপ তিনরাস্তার মাথায় এ মানবন্ধনের আয়োজন করা হয়।

প্রায় ২কিলোমিটার দীর্ঘ এ মানববন্ধনে রাস্তার উভয় পাশে বিভিন্ন ফেস্টুন ও ব্যানার নিয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ, স্কুল-মাদ্রাসার শিক্ষার্থীসহ সহস্রাধিক জনতা স্বতস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করে।

এসময় মানববন্ধনে বক্তারা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বরাবর আবেদন জানিয়ে বলেন, একনেকে অনুমোদিত ১০৬কোটি টাকার বেড়িবাঁধ প্রকল্পটি কোন প্রকার ঠিকাদারকে নিয়োগ না দিয়ে বাংলাদেশ নিরাপত্তাবাহিনী ও নৌ বাহিনীর তত্ত্বাবধানে বাস্তবায়ন করার দাবী করেন।

মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন, শাহপরীরদ্বীপ রক্ষা ও উন্নয়ন পরিষদ সভাপতি মাষ্টার জাহিদ হোসেন, শাহপরীরদ্বীপ আওয়ামী লীগ সভাপতি সোনা আলী, শাহপরীরদ্বীপ রক্ষা ও উন্নয়ন পরিষদ সম্পাদক আবুল হাশেম, সাবেক মহিলা মেম্বার সনজিদা বেগম।

উল্লেখ্য, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আন্তরিকতায় বঙ্গোপসাগরের অমবস্যা-পূর্ণিমার জোয়ার ও নৌকা নিয়ে পারাপার দুর্ভোগসহ সাগরের করাল গ্রাস থেকে রক্ষায় টেকনাফের শাহপরীরদ্বীপে বসবাসকারী প্রায় ৪০হাজার মানুষের কথা চিন্তা করে সাগরের জোয়ারের ধাক্কায় বিলীন হয়ে যাওয়া বেড়িবাঁধ সংস্কারের জন্য ১০৬কোটি টাকার প্রকল্পটি একনেকে অনুমোদন দেন। এ প্রকল্পের মাধ্যমে শাহপরীরদ্বীপের প্রায় আড়াই কিলোমিটার (২.৬৪৫ কিমি) পুন:নির্মাণ এবং ঢাল সংরক্ষণ করা হবে।

এছাড়া ১৯৯১সালে মহাপ্রলয়ঙ্কারী ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসে ও ২০০৯সালের প্রাকৃতিক দুর্যোগে (আইলা) ৬৮পোল্ডারের অনেক স্থান ভেঙে যাওয়াসহ ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ২০১২ সালের জুন মাসে সৃষ্ট নিম্নচাপের ফলে ভারিবর্ষণ এবং তীব্র ঢেউয়ের আঘাতে টেকনাফ শাহপরীরদ্বীপের এ পোল্ডারে সি-ডাইক অংশে প্রায় দুই কিলোমিটার ভেঙ্গে লণ্ড ভণ্ড হয়ে যায়। ভেঙ্গে যাওয়া অংশ দিয়ে ক্রমাগত সাগরের লোনা পানি পোল্ডারের অভ্যন্তরে প্রবেশ করায় প্রকল্প এলাকায় ফসল, রাস্তাঘাট, ঘরবাড়ি, চিংড়ি চাষসহ লবণ চাষের ক্ষতি হয়েছে। পানির প্রবল চাপে টেকনাফ ও শাহপরীরদ্বীপের একমাত্র সংযোগ সড়কটির অংশবিশেষ ভেঙ্গে যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। এ পরিস্থিতিতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও জনসাধারণের জোর দাবির মুখে ওই এলাকার সি-ডাইক অংশের বাঁধের ডিজাইন এবং বাস্তবায়ন কাজের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের লক্ষ্যে পানি উন্নয়ন বোর্ড প্রকল্পটি গ্রহণ করেন।




টেকনাফে আনসার ক্যাম্পের অস্ত্র লুটের ঘটনায় তিন জন গ্রেফতার

dsc_065700019204-07-08-copy

নিজস্ব প্রতিবেদক:

টেকনাফে আনসার ক্যাম্পের অস্ত্র লুটের ঘটনায় জড়িত তিন জনকে অস্ত্রসহ আটক করেছে র‌্যাব। পরে তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী পাহাড়ী এলাকায় অভিযান চালিয়ে ক্যাম্প থেকে লুট হওয়া ৫টি রাইফেলসহ ১০টি দেশীয় তৈরী অস্ত্র ও ২৬টি কার্তুজসহ ২১৫টি বুলেট উদ্ধার করা হয়।

মঙ্গলবার দুপুরে পাহাড়ের দুই জায়গা থেকে এসব অস্ত্র ও গুলি উদ্ধারে উপস্থিত ছিলেন, র‌্যাব মহাপরিচালক বেনজির আহম্মদ ও আনসার ব্যাটালিয়ানের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মিজানুর রহমান খাঁন। অভিযান শেষে সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাব মহাপরিচালক বলেন, এ অভিযান অব্যাহত থাকবে আরও ২দিন।

সোমবার রাত ১০টা থেকে মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত টেকনাফ কুতুপালং ও কক্সবাজার সংলগ্ন নাইক্ষ্যংছড়ি পাহাড়ের দুই জায়গায় অভিযান চালিয়ে ৩জনকে আটক এবং অস্ত্র-গুলি উদ্ধার করা হয়। অস্ত্রসহ আটককৃতরা হল, খাইরুল আমিন (বড়), মাস্টার আবুল কালাম আজাদ ও হাসান আহম্মদ।

এসব অস্ত্রের মধ্যে ছিল, আনসার ক্যাম্প থেকে লুট হওয়া ৫টি রাইফেল, ৫টি দেশীয় তৈরী বন্দুক, ১৮৯রাউন্ড বুলেট ও ২৬ টি কার্তুজ।

পরে ওই পাহাড়েই সাংবাদিকদের সাথে সংবাদ সম্মেলন করেন দুই মহাপরিচালক।

র‌্যাবের মহাপরিচালক বলেন, ২০১৬সালের ১৩মে টেকনাফর নয়াপাড়ায় রোহিঙ্গা ক্যাম্পে দুর্বৃত্তের হামলায় আনসার কমান্ডার নিহত ও ১১টি অস্ত্র ও বিপুলসংখ্যক গুলি লুটের ঘটনার পর থেকে র‌্যাবের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এ ঘটনায় এ পর্যন্ত ৯জন আটকের মধ্যে ৮জনই আটক করেছে র‌্যাব। এ অভিযান অব্যাহত থাকবে লুট হওয়া সব অস্ত্র ও গুলির সন্ধ্যান পাওয়া এবং আটককৃতদের গ্রেফতার করা পর্যন্ত।

প্রেস কনফারেন্সে আনসার মহাপরিচালক র‌্যাবের এ অভিযানকে স্বাগত জানিয়ে আশা প্রকাশ করেন লুট হওয়া সবকটা অস্ত্র ও গুলি উদ্ধারের বিষয়ে।

২০১৬ সালের ১৩মে  টেকনাফ উপজেলার নয়াপাড়ায় রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরে আনসার বাহিনীর শালবন ব্যারাকে গভীর রাতে দুর্বৃত্তরা হামলা চালায়। এতে দুর্বৃত্তের গুলিতে নিহত হয় আনসার কমান্ডার আলী হোসেন। দুর্বৃত্তরা ব্যারাক থেকে ১১টি অস্ত্র ও বিপুলসংখ্যক গুলি লুট করে নিয়ে যায়।




টেকনাফে আনসার ক্যাম্পের অস্ত্র লুটের দুই হোতা গ্রেফতার

গ্রেফতার

নিজস্ব প্রতিবেদক:

টেকনাফে আনসার ক্যাম্পের অস্ত্র লুটের ঘটনার অন্যতম হোতা খাইরুল আমিন (বড়) ও মাস্টার আবুল কালাম আজাদকে অস্ত্রসহ গ্রেফতার করেছে কক্সবাজার র‌্যাব সদস্যরা। পরে তাদের নিয়ে পাহাড়ী এলাকায় অভিযান চালিয়ে ক্যাম্প থেকে লুট হওয়া বেশকিছু অস্ত্র ও বুলেট উদ্ধার করা হয়।

সোমবার রাত ১০ টা থেকে মঙ্গলবার ভোর পর্যন্ত টেকনাফ কুতুপালং ও কক্সবাজার সংলগ্ন নাইক্ষ্যংছড়ি পাহাড়ী এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদেরকে আটক ও অস্ত্র উদ্ধার করা হয়।

র‌্যাব-৭ এর কক্সবাজার ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার লে. কর্ণেল আশেকুর রহমান জানান, গোপন সংবাদের অভিযান চালিয়ে রাতে কুতুপালং এলাকা থেকে একটি পিস্তল ও একটি ওয়ান সুটার গানসহ খাইরুল আমিন (বড়) ও মাস্টার আবুল কালাম আজাদকে গ্রেফতার করা হয়। পরে লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধারে কক্সবাজার সংলগ্ন নাইক্ষ্যছড়ি’র বিভিন্ন পাহাড়ে সারা রাত অভিযান চালিয়ে আনসার ক্যাম্প থেকে লুট হওয়া ১টি এসএমজি, ৬টি ম্যাগজিন, ১টি চাইনিজ রাইফেল ও ১টি এমটু চাইনিজ রাইফেল উদ্ধার করা হয়। অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

২০১৬ সালের ১৩ মে  টেকনাফ উপজেলার নয়াপাড়ায় রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরে আনসার বাহিনীর শালবন ব্যারাকে গভীর রাতে দুর্বৃত্তরা হামলা চালায়। এতে দুর্বৃত্তের গুলিতে নিহত হয় আনসার কমান্ডার আলী হোসেন। দুর্বৃত্তরা ব্যারাক থেকে ১১টি অস্ত্র ও বিপুল সংখ্যক গুলি লুট করে নিয়ে যায়।

 




টেকনাফে উন্নয়ন মেলায় আইসিটিসহ অনেক দপ্তরের ‘স্টল’ নেই

untitled-2-copy

টেকনাফ প্রতিনিধি:

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বদেশ প্রর্ত্যাবর্তন উপলক্ষে সরকার ঘোষিত ‘উন্নয়নের গণতন্ত্র-শেখ হাসিনার মুলমন্ত্র’ প্রতিপাদ্য নিয়ে টেকনাফে তিন দিনব্যাপী উন্নয়ন মেলা শুরু হয়েছে। টেকনাফ উপজেলা প্রশাসন পরিষদ চত্বরে এ মেলার আয়োজন করেন। সোমবার সকাল ১১টায় টেকনাফ উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণ থেকে শুরু হয়ে প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষ করে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। ভারপ্রাপ্ত উপজেলা চেয়ারম্যান মাওলানা রফিক উদ্দিন ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ শফিউল আলমের নেতৃত্বে র‌্যালিতে জনপ্রতিনিধি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, সরকারী কর্মকর্তা-কর্মচারী, মিডিয়াকর্মী, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ বিভিন্ন পেশাজীবী, গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ অংশগ্রহণ করেন।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ শফিউল আলম আলোচনা সভার সভাপতিত্ব করেন। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন ভারপ্রাপ্ত উপজেলা চেয়ারম্যান মাওলানা রফিক উদ্দিন, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান তাহেরা আক্তার মিলি, স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা অফিসার ডা. সুমন বড়ুয়া, টেকনাফ উপজেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি আলহাজ্ব জহির হোসেন এমএ।

আলোচনা সভা অনুষ্ঠানে সরকারী দপ্তর সমূহের কর্মকর্তাগণ বক্তব্য ও ভিডিও প্রজেক্টরের মাধ্যমে সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড তুলে ধরা হয়। তাছাড়া স্টলের মাধ্যমেও সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড এবং সেবা তুলে ধরার ব্যবস্থা করা হয়েছে। মেলা উপলক্ষ্যে দর্শক সমাগম ছিল চোখে পড়ার মতো। এতে আবার শিক্ষার্থী ও নারীদের আগ্রহ বেশী দেখা গেছে। সরকারী দপ্তর সমূহের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মাঝে উন্নয়ন মেলা নিয়ে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা পরিলক্ষিত হয়েছে। ভারপ্রাপ্ত উপজেলা চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মাওলানা রফিক উদ্দিন ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ শফিউল আলম, সরকারী কর্মকর্তা ও জনপ্রতিনিধিগণ মেলার স্টল পরিদর্শন করেন।

স্টল গুলোর মধ্যে রয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়ের জাতীয় রাজস্ব বোর্ড, উপজেলা হিসাব রক্ষণ অফিস, প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিস ও সিপিপি, বন বিভাগ, টেকনাফ পৌর সভা, হ্নীলা ইউনিয়ন পরিষদ, হোয়াইক্যং ইউনিয়ন পরিষদ, সাবরাং ইউনিয়ন পরিষদ, সেন্টমার্টিনদ্বীপ ইউনিয়ন পরিষদ, টেকনাফ সদর ইউনিয়ন পরিষদ, ডিজিটাল সেন্টার, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর, পরিসংখ্যান বিভাগ, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর, বাংলাদেশ ইন্সুরেন্স ফোরাম, আনসার ভিডিপি উন্নয়ন ব্যাংক, বাংলাদেশ ইসলামী ব্যাংক, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, আইসিটি কর্ণার, পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি, উপজেলা শিক্ষা অফিস, মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি), নারী উন্নয়ন ফোরাম, উপজেলা পরিষদ, ভূমি অফিস, উপজেলা নির্বাহী অফিস, উপজেলা নির্বাচন অফিস, উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিস, সিনিয়র উপজেলা মৎস্য অফিস, উপজেলা প্রাণী সম্পদ অফিস, উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক, উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা, উপজেলা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর, উপজেলা সমাজ সেবা অধিদপ্তর, উপজেলা সমবায়, উপজেলা পল্লী উন্নয়ন, একটি বাড়ি একটি খামার।

এবারের উন্নয়ন মেলায় এতগুলো স্টলের মধ্যে সাজানোর ক্ষেত্রে সকলের নজর কেড়েছে প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিস, সিপিপি এবং টেকনাফ পৌরসভার স্টল। দপ্তর দু’টির কর্মকর্তা-কর্মচারীগণের আন্তরিকতায় তা সম্ভব হয়েছে বলেও জানা গেছে।

স্টল নেই ৫নং বাহারছড়া ইউনিয়ন পরিষদ, টেকনাফ ৫০ শয্যা হাসপাতাল, সাব-রেজিস্টার অফিস, কাজী অফিস, এনজিওদের স্টল দেখা যায় নি। তাছাড়া আনসার ভিডিপি উন্নয়ন ব্যাংক ও ইসলামী ব্যাংক ছাড়া অন্য কোন ব্যাংকের স্টল ছিলনা।




টেকনাফে ১০ হাজার ইয়াবা উদ্ধার

teknaf-pic-yaba-9-1-17-copy

টেকনাফ প্রতিনিধি:

টেকনাফ উপজেলার শাহপরীরদ্বীপ এলাকা থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় ১০হাজার ইয়াবা উদ্ধার করেছে কোস্টগার্ড। সোমবার ভোর ৫টার দিকে ইয়াবা গুলো উদ্ধার করা হয়।

কোস্টগার্ড সূত্র জানায়, টেকনাফের সিজি আউট পোস্ট শাহপূরীরদ্বীপ’র একটি টহল দল কন্টিনজেন্ট কমান্ডার এম ফিরোজ আহমদের জালিয়াপাড়া প্যারাবন এলাকায় নিয়মিত টহলকালে কয়েকজন সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে ধাওয়া করে। ধাওয়া খেয়ে লোকগুলো পালিয়ে যায়।

পরে সেখান থেকে একটি ব্যাগভর্তি ১০হাজার ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত ইয়াবার আনুমানিক বাজার মূল্য ৫০লাখ টাকা। উদ্ধারকৃত ইয়াবা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের নিকট হস্তান্তর করা হবে বলে জানিয়েছেন কোস্টগার্ড কর্তৃপক্ষ।




টেকনাফে ৬ কোটি টাকা মূল্যের ইয়াবাসহ চার পাচারকারী আটক

unnamed-copy

টেকনাফ প্রতিনিধি:

টেকনাফে বিজিবি’র পৃথক অভিযানে ৬কোটি টাকা মূল্যের ২লক্ষ পিস ইয়াবা বড়ি উদ্ধার করেছে। তম্মধ্যে একটি অভিযানে ৪জন ইয়াবা পাচারকারী আটক এবং ১টি হস্তচালিত নৌকা জব্দ করা হয়েছে। টেকনাফের হ্নীলা ইউনিয়নের জাদিমুরা থেকে এসব ইয়াবা উদ্ধার এবং পাচারকারী আটক করা হয়েছে।

সোমবার টেকনাফস্থ ২বিজিবি অধিনায়কের পক্ষে উপ-পরিচালক মুহাম্মদ আবদুল্লাহিল মামুন প্রেস রিলিজের মাধ্যমে জানান, মিয়ানমার থেকে ইয়াবার একটি বড় চালান আসার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে দমদমিয়া বিওপির নায়েক মো. মনিরুল ইসলামের নেতৃত্বে বিশেষ টহল দল রবিবার রাত ৯টায় জাদিমুরা ডিউটি পোস্টের পাশে উৎপেতে থাকেন। এসময় ৪জন লোক একটি হস্তচালিত নৌকা নিয়ে টহল দলের কাছাকাছি আসলে টহল দল স্পীডবোট নিয়ে চ্যালেঞ্জ করলে তারা পালিয়ে যেতে চেষ্টা করে। টহল দল তাদেরকে দ্রুত আটক করে নৌকার পাটাতনে ফিটিং অবস্থায় ২০হাজার পিস ইয়াবা বড়ি পান। যার মূল্য ৬০লক্ষ টাকা। আটককৃতরা হচ্ছে টেকনাফ উপজেলার হ্নীলা ইউনিয়নের জাদিমুরা ব্রিটিশপাড়া জাফর আলমের ছেলে মো. হাসান (২৬), লাল মিয়ার দুই ছেলে শাহ আলম (৩৫) ও মো. আজিজ (২৩), মিয়ানমারের মংডু থানাধীন গউজিবিল গ্রামের মৃত শরীফের ছেলে মো. ইলিয়াছ (২৫)। উদ্ধারকৃত ইয়াবাসহ আটককৃতদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়ের করে টেকনাফ মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

এদিকে মিয়ানমার থেকে ইয়াবার একটি বড় চালান আসার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রবিবার সকাল ১০টায় টেকনাফস্থ ২ বিজিবি অধিনায়ক লে. কর্ণেল আবু জার আল জাহিদের নেতৃত্বে বিশেষ টহল দল জাদিমুরা ডিউটি পোস্টের পাশে উৎপেতে থাকেন। এসময় কয়েকজন লোক একটি হস্তচালিত নৌকা নিয়ে টহল দলের কাছাকাছি আসলে টহল দল স্পীডবোট নিয়ে চ্যালেঞ্জ করলে তারা নৌকা ফেলে পানিতে ঝাঁপ দিয়ে শুন্য রেখা অতিক্রম করে মিয়ানমারের দিকে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। পরে তল্লাশী করে নৌকার পাটাতনে ফিটিং অবস্থায় ১লক্ষ ৮০হাজার পিস ইয়াবা বড়ি পাওয়া যায়। যার মূল্য ৫কোটি ৪০লক্ষ টাকা। উদ্ধারকৃত ইয়াবা ব্যাটালিয়ান সদর দপ্তরে রাখা হয়েছে। যা যথাসময়ে সংশ্লিষ্টদের উপস্থিতিতে ধ্বংস করা হবে।




রোহিঙ্গাবহনকারী আট নৌকাসহ ১৭ রোহিঙ্গাকে ফেরত

রোহিঙ্গা

নিজস্ব প্রতিবেদক:

কক্সবাজারের টেকনাফের নাফ নদীতে রোহিঙ্গা বহনকারী ৮ টি নৌকা এবং উখিয়া সীমান্ত থেকে ১৭ জন রোহিঙ্গাকে ফেরত পাঠিয়েছে বাংলাদেশ বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সদস্যরা।

শনিবার ভোর থেকে সকাল পর্যন্ত নাফ নদীর ৪ টি পয়েন্ট দিয়ে এবং উখিয়া সীমান্তের শূন্য রেখা হতে এসব রোহিঙ্গাবহনকারী নৌকা ও রোহিঙ্গা ফেরত পাঠানো হয়। এসব নৌকায় শতাধিক রোহিঙ্গা রয়েছে বলেও জানান বিজিবি।

বিজিবি জানায়, মিয়ানমারে সহিংসতার পর থেকে প্রতিদিনই নাফ নদী দিয়ে ছোট ছোট নৌকায় করে রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের চেষ্টা করছে। তারা সীমান্ত পার হয়ে অবৈধভাবে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করছে।

নভেম্বর মাসে বাংলাদেশ-মিয়ানমার জলসীমার শূণ্যরেখা থেকে রোহিঙ্গা বোঝাই তিনশ’রও অধিক নৌকা ফেরত পাঠানো হয়েছে। এসব নৌকাতে তিন হাজারেরও বেশি রোহিঙ্গা ছিল বলেও জানায় বিজিবি।




৩ নৌকাসহ ৭৬ রোহিঙ্গাকে  ফেরত পাঠিয়েছে বিজিবি

রোহিঙ্গা

নিজস্ব প্রতিবেদক:

কক্সবাজারের টেকনাফ উখিয়া সীমান্ত থেকে ৭৬ জন রোহিঙ্গা ও নাফ নদীতে রোহিঙ্গা বহনকারী ৩টি নৌকা ফেরত পাঠিয়েছে বাংলাদেশ বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সদস্যরা।

শুক্রবার ভোর থেকে সকাল পর্যন্ত উখিয়া সীমান্তের শূন্য রেখা হতে এসব রোহিঙ্গা ও নাফ নদীর ২টি পয়েন্ট দিয়ে রোহিঙ্গাবহনকারী নৌকাগুলো ফেরত পাঠানো হয়।

বিজিবি জানায়, মিয়ানমারে সহিংসতার পর থেকে প্রতিদিনই নাফ নদী দিয়ে ছোট ছোট নৌকায় করে রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের চেষ্টা করছে। তারা সীমান্ত পার হয়ে অবৈধভাবে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করছে।

নভেম্বর মাসে বাংলাদেশ-মিয়ানমার জলসীমার শূণ্যরেখা থেকে রোহিঙ্গা বোঝাই তিন’শ মত নৌকা ফেরত পাঠানো হয়। এসব নৌকাতে তিন হাজারেরও বেশি রোহিঙ্গা ছিল বলেও জানায় বিজিবি।




বঙ্গোপসাগর থেকে ১ লাখ পিস ইয়াবা উদ্ধার

teknaf-news-28-12-16-2-copy

টেকনাফ প্রতিনিধি:

টেকনাফের সেন্টমার্টিনে ইয়াবা পাচারকারী ও কোস্টগার্ডের মধ্যে ফাঁকা গুলির ঘটনা ঘটেছে। এসময় পাচারকারীদের ফেলে যাওয়া ১লাখ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। বুধবার ভোররাতে সেন্টমার্টিনের পূর্ব মাঝসাগরে এ ঘটনা ঘটে।

কোস্টগার্ড টেকনাফ স্টেশন কমান্ডার সাব.লে. আশাদুল ইসলাম জানান, রাতে মিয়ানমার থেকে ইয়াবার একটি চালান বাংলাদেশে ঢুকছে এমন গোপন তথ্যের ভিত্তিতে তার নেতৃত্বে কোস্টগার্ডের একটি বিশেষ দল সেন্টমার্টিনের পূর্ব সাগরে অবস্থান নেয়।

এসময় সন্দেহজনক একটি ট্রলারকে থামার সংকেত দেয়া হলে পাচারকারীরা কোস্টগার্ডকে লক্ষ্য করে পাথর ছুড়ে এবং ফাঁকা গুলি চালায়। কোস্টগার্ড আত্মরক্ষার্থে ট্রলারটিকে ধাওয়া করে এক রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুড়ে। পরে পাচারকারীরা সাগরে একটি বস্তা ফেলে মিয়ানমারের জলসীমানায় ঢুকে পড়ে। বস্তাটি উদ্ধার করে এক লাখ পিস ইয়াবা বড়ি পাওয়া যায়। যার দাম আনুমানিক ৫ কোটি টাকা।

তিনি  আরও জানান, উদ্ধারকৃত ইয়াবাগুলো টেকনাফ মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরে হস্তান্তর করা হয়েছে।