সেন্টমার্টিনে ১০ বিদেশী ক্রুসহ ট্রলার আটক

unnamed copy

টেকনাফ প্রতিনিধি:

টেকনাফ সেন্টমার্টিনের পূর্ব সাগরে অভিযান চালিয়ে ট্রলারসহ মিয়ানমারের ১০ ক্রুকে আটক করেছে বাংলাদেশ নৌ-বাহিনীর সদস্যরা। বৃহস্পতিবার ভোরে সেন্টমার্টিনের পূর্ব বাংলাদেশ জলসীমানা থেকে অবৈধ অনুপ্রবেশের দায়ে তাদেরকে আটক করা হয়। আটককতৃরা হলেন, মিয়ানমারের শাহপুর এলাকার মতি মি(৩৩), তমশ(৩৬), ডেলবা(৩৪), বামুবে(৪০), ছছ(৩৭), তাম ঈ(৩২), সুছেশি (৩০),সুছেফু (৩৮), মং চোয়া(৩৫), ওঠকিওকে(৩৩)।

নৌ-বাহিনী সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মায়ানমারের কয়েক জন লোক ট্রলার যোগে সমুদ্র এলাকায় ডাকাতি করার উদ্দেশ্যে অবৈধ ভাবে মিয়ানমার জলসীমা হতে বাংলাদেশের সীমায় প্রবেশ করে। সেন্টমার্টিন দ্বীপের নৌ-বাহিনী সদস্যদের উপস্থিতি টের পেয়ে ট্রলার নিয়ে পালানোর চেষ্টা করলে তাদেরকে আটক করতে সক্ষম হয়। পরে ট্রলার তল্লাশি করে ইঞ্জিন চালিত কাঠের ট্রলার যার মূল্য ৫লক্ষ টাকা, ৩টি বড় তলোয়ার ও ২টি চাপাতি আটক করা হয়।

টেকনাফ থানার ওসি অপারেশন শফিউল আজম জানান, নৌ-বাহিনীর সদস্যরা সেন্টমার্টিনের নিকটবর্তী সাগর থেকে ১০ ক্রুকে আটক করে থানায় সোপর্দ করেছে। এদের বিরুদ্ধে বৈদেশিক নাগরিক আইনে মামলা করে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। এবং তাদের কাছ থেকে ৫ লক্ষ টাকা মূল্যের একটি ট্রলার, ৩টি বড় তলোয়ার ও ২টি চাপাতি উদ্ধার করা হয়েছে।




টেকনাফে ইয়াবাসহ মিয়ানমারের এক নাগরিক আটক

teknaf pic (yaba) 22-3-17 copy

টেকনাফ প্রতিনিধি:

টেকনাফে ২৯ লাখ ৯৭ হাজার ৯’শ টাকা মূল্যের ৯,৯৯৩পিস ইয়াবাসহ নূর ইসলাম (১৯) নামে এক পাচারকারীকে আটক করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। সে মিয়ানমারের আকিয়াব জেলার মংডু থানার রহিঙ্গাদং গ্রামের মৃত ইব্রাহিমের ছেলে।

বিজিবি সূত্র জানায়, বুধবার ভোরে গোপন সংবাদে জানতে পারে, মিয়ানমার থেকে একটি চালান দমদমিয়া কেয়ারীঘাট বরাবর নাফ নদীর কিনারা দিয়ে বাংলাদেশ প্রবেশ করবে। এসময় একজন ব্যক্তি একটি ব্যাগ নিয়ে টহল দলের সম্মুখে আসলে তাকে চ্যালেঞ্জ করে। তার ব্যাগ তল্লাশী চালিয়ে ৯,৯৯৩ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।

টেকনাফ ২ বিজিবির অধিনায়ক লে.কর্ণেল আবুজার আল জাহিদ জানান, নিষিদ্ধ ঘোষিত মাদক ইয়াবা ট্যাবলেট বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে নিজ দখলে রাখার অপরাধ ও অবৈধভাবে মিয়ানমার হতে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের দায়ে আটক আসামীর বিরুদ্ধে টেকনাফ মডেল থানায় মামলা রুজু করা হয়েছে।




ডাকাত নুরুল অালম অস্ত্রসহ গ্রেফতার, এলাকায় স্বস্থি

নিজস্ব প্রতিবেদক, কক্সবাজার :
টেকনাফের বাহারছড়া ইউনিয়নের শামলাপুরের কুখ্যাত ডাকাত নুরুল অবশেষে র্যাবের  হাতে গ্রেফতার হয়েছে। মঙ্গলবার রাতে গোপন সংবাদের তার নিজ বাড়ি থেকে তাকে অস্ত্রসহ গ্রেফতার করেন।

ধৃত নুরুল অালম ওই এলাকার ইজ্জত অালির পুত্র।

সে ২০১০ সালে গুমদুম গুহায় বিদেশি পর্যটক ধর্ষণ মামলার প্রধান অাসামী। তার বিরুদ্ধ হত্যা, ডাকাতি সহ ৪টি মামলা রয়েছে।

এদিকে তার গ্রেফতারে এলাকায় মিস্টি বিতরণ করেন সাধারণ মানুষ।




টেকনাফে বিদেশী আগ্নেয়াস্ত্র ও ইয়াবাসহ এক সন্ত্রাসী গ্রেফতার

unnamed copy

টেকনাফ প্রতিনিধি:

টেকনাফ উপজেলায় ফরিদ আলম ওরফে ডাকাত আলম(২৮)কে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এসময় তার কাছ থেকে ৩ হাজার ইয়াবা ও একটি বিদেশী অস্ত্র উদ্ধার করা হয়ছে। সোমবার রাত ১০ টার দিকে পৌরসভার পল্লান পাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। সে সদর ইউনিয়নের দক্ষিণ লেক্সগুরবিল গ্রামের আব্দুল কাদের ওরফে পেটানের ছেলে।

পুলিশ সুত্রে জানায়, সোমবার রাতে পৌরসভার পল্লান পাড়া মাইমুনা স্কুলের সামনে পুলিশের তালিকাভুক্ত আবদুল হাকিম ডাকাতের সাথে ইয়াবা লেনদেন করছে এমন গোপন সংবাদ পেয়ে টেকনাফ মডেল থানার এসআই বোরহান উদ্দিনের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ওই এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। এসময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পালানোর চেষ্টাকালে ফরিদ আলমকে গ্রেফতার করা হয়। তার কাছ থেকে ৩ হাজার পিস ইয়াবা ও একটি বিদেশী অস্ত্র উদ্ধার করে। তার বিরুদ্ধে থানায় একাধিক মামলা রয়েছে।

অভিযান পরিচালনাকারী এসআই বোরহান উদ্দিন বলেন, তিন হাজার ইয়াবা ও একটি বিদেশী অস্ত্রসহ ফরিদ আলমকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তার স্বীকারোক্তি মতে পালিয়ে যাওয়া পুরান পল্লান পাড়া এলাকার রোহিঙ্গা নাগরিক মৃত জানে আলমের ছেলে আব্দুল হাকিম ডাকাতকে পলাতক আসামী করে মাদক ও অস্ত্র আইনে দুইটি মামলা রুজু করা হয়েছে এবং ধৃত আসামীর বিরুদ্ধে পুলিশের উপর হামলা, বিশেষ ক্ষমতা আইন, অস্ত্র ও মাদক মামলাসহ চারটি মামলার গ্রেফতারী পরয়োনা রয়েছে।

এ প্রসঙ্গে টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি-তদন্ত) শেখ আশরাফুল জাম্মান বলেন, গ্রেফতারকৃতকে ওইসব মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে মঙ্গলবার দুপুরে কক্সবাজার আদালতে পাঠানো হয়েছে।




টেকনাফে বিদেশী পিস্তল ও গুলি উদ্ধার

teknaf pic 19-3-17 (2) copy

টেকনাফ প্রতিনিধি:

টেকনাফে বিদেশী পিস্তল ও গুলি উদ্ধার করেছে বিজিবি। রবিবার ভোর রাতে টেকনাফ পৌর এলাকার পুরান পাল্লনপাড়া কবরস্থানের উত্তর পাশে অভিযান চালিয়ে বিদেশী পিস্তল ও গুলি উদ্ধার করা হয়।

টেকনাফ-২ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্ণেল আবুজার আল জাহিদ অভিযানের সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, সন্ত্রাসী দুষ্কৃতিকারী ও ডাকাত দল অপরাধ সংঘটনের জন্য টেকনাফ পৌর এলাকার পুরান পল্লানপাড়া কবরস্থানের উত্তর পাশে জড়ো হওয়ার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে টেকনাফ-২ বিজিবি ব্যাটালিয়ানের হাবিলদার মো. হাওলাদার শাহজাহানের নেতৃত্বে বিজিবির একটি বিশেষ দল অভিযান পরিচালনা করেন।

বিজিবির উপস্থিতি টের পেয়ে সন্ত্রাসী দুষ্কৃতিকারী ও ডাকাত দল অন্ধকারের সুযোগে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। পরে টহল দল ওই এলাকায় তল্লাশী চালিয়ে ১টি বিদেশী পিস্তল এবং ২ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করে। উদ্ধারকৃত ১টি বিদেশী পিস্তল এবং ২ রাউন্ড গুলি টেকনাফ মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।




টেকনাফে ৩ লাখ ৮০ হাজার ইয়াবা উদ্ধার

teknaf pic 19-3-17 (1) copy

টেকনাফ প্রতিনিধি:

কক্সবাজারের টেকনাফে ৩ লাখ ৮০ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। রবিবার ভোর রাতে নাফ নদীর জালিয়ারদ্বীপ এলাকা থেকে ইয়াবাগুলি উদ্ধার করা হয়। তবে এসময় কাউকে আটক করতে পারেনি।

টেকনাফ ২ বিজিবির অধিনায়ক লে.কর্ণেল আবুজার আল জাহিদ জানান, বিজিবির টহলদল একটি নৌকাকে চ্যালেঞ্জ করলে পাচারকারীরা  নৌকা থেকে লাফ দিয়ে সাঁতরিয়ে শুন্য রেখা অতিক্রম করে মায়ানমারের অভ্যন্তরে চলে যায়। ওই নৌকায় তল্লাশী চালিয়ে ৩ লাখ ৮০ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।

তিনি আরও জানান, উদ্ধার হওয়া ইয়াবার আনুমানিক মূল্য ১১ কোটি ৪০ লাখ টাকা।




টেকনাফে ১ লাখ ২০ হাজার ইয়াবা উদ্ধার

unnamed (1) copy

টেকনাফ প্রতিনিধি:

টেকনাফে ১লাখ ২০হাজার পিস ইয়াবা বড়ি উদ্ধার করেছে বিজিবি। সোমবার সকাল ৭টার দিকে সাবরাং ইউনিয়নের মণ্ডলপাড়া সংলগ্ন নাফনদী থেকে ইয়াবাগুলো উদ্ধার করা হয়। তবে এ ঘটনায় বিজিবি কাউকে আটক করতে পারেনি।

টেকনাফ-২ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আবুজার আল জাহিদ জানান, সোমবার সকালে মিয়ানমার থেকে ইয়াবা বড় চালান সাবরাং ইউনিয়নের মণ্ডলপাড়ার আলোগুলা প্রজেক্টের ৩ নম্বর সুইচ গেইট সংলগ্ন নাফনদী দিয়ে বাংলাদেশে ঢুকছে এমন সংবাদ পেয়ে বিজিবির একটি দল ওই এলাকায় অভিযানে যায়।

তিনি জানান, বিজিবির উপস্থিতি টের পেয়ে ইয়াবা পাচারকারীরা একটি বস্তা ফেলে পালিয়ে যায়। ওই বস্তার ভেতরে ১লাখ ২০হাজার পিস ইয়াবা পাওয়া যায়। উদ্ধার ইয়াবার দাম প্রায় ৩ কোটি ৬০ লাখ টাকার মতো।

ইয়াবাগুলো ব্যাটালিয়ন সদরদফতরে জমা রাখা হয়েছে জানিয়ে বিজিবির এ কর্মকর্তা বলেন, পরে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে এগুলো ধ্বংস করা হবে।




 আবারও বেপরোয়া শামলাপুরের কুখ্যাত ডাকাত নুরুল আলম

Dakat Nurol Alam w copy

নিজস্ব প্রতিবেদক, কক্সবাজার:

টেকনাফ উপজেলার উপকূলীয় বৃহৎ ইউনিয়ন বাহারছড়া। ইউনিয়নের শামলাপুর ১নং ওয়ার্ডের কুখ্যাত ডাকাত নুরুল আলম। দীর্ঘদিন জেল খেটে বের হয়ে আবারও বেপরোয়া হয়ে ওঠেছে। ডাকাতি, চাঁদাবাজি, হুমকি ও ইয়াবা ব্যবসায় জড়িয়ে পড়েছে সে। এতে করে এলাকার শান্তিপ্রিয় মানুষ চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, ২০১০ সালে হোয়াইক্যং ঢালাস্থ কুদুম গুহায় বিদেশি পর্যটক মিস ক্যারিনাকে ধর্ষণ মামলার প্রধান আসামী বাহারছড়া ইউনিয়নের শামলাপুর ১নং ওয়ার্ডের ইজ্জত আলীর পুত্র ডাকাত নুরুল আলম। তার বিরুদ্ধে ২০০৭ সাল থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত রামু উখিয়া টেকনাফ থানায় বিভিন্ন অপরাধে ১২টি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে মাদক আইনে ৩, ডাকাতি ৪, অস্ত্র আইনে ৪ ও একটি হত্যা মামলা রয়েছে। ইতোমধ্যে বহুবার কারাভোগ করেছে সে।

এর আগে ইয়াবাসহ আটক হয়ে দীর্ঘদিন জেল খাটে। জেল থেকে বের হয়ে একমাসের মধ্যে হিমছড়ি পুলিশ ফাঁড়িতে ইয়াবাসহ গ্রেফতার হয়। এরপর আবার বের হয়ে ৬ মাস পর উখিয়ার রেজুব্রিজ এলাকায় বিজিবি’র হাতে ইয়াবাসহ আটক হয়। সম্প্রতি জেল থেকে জামিনে ছাড়া পেয়ে আবারও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। তার হুমকি, চাঁদাবাজি ও নানা রকম হয়রানিতে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে শামলাপুরের নিরীহ মানুষ।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, ২০১৬ সালের ৩অক্টোবর শামলাপুর বাজার থেকে রফিক নামে এক ব্যক্তি অপহরণ করে নিয়ে যায় ডাকাত নুরুল আলম ও তার সহযোগীরা। পরে তাকে এক লক্ষ ৭০হাজার টাকা মুক্তিপণ নিয়ে ছেড়ে দেয়।

সম্প্রতি সে মানুষ হত্যার চুক্তিবদ্ধ হয়ে বিভিন্ন জায়গায় হুমকি-ধমকি দিয়ে চাঁদা আদায় করছে। কয়েকদিন আগে স্থানীয় শিফা গার্ডেন’র দুই কর্মচারী মছেন চাকমা ও ঝন্টুইয়া চাকমাকে ডেকে নিয়ে হুমকি দেয়।

বাগানের কর্মচারী মছেন চাকমা বলেন, ডাকাত নুরুল আলম আমাকে ও ঝন্টুইয়া চাকমাকে পার্শ্ববর্তী দোকানে ডেকে নেয়। এরপর বাগানের মালিক হাবিব উল্লাহ হাবিবের কাছ থেকে নগদ ১০লাখ টাকা এনে দিতে বলে। অন্যথায় আমাদেরকে বাগান ছেড়ে চলে যেতে বলে। নইলে প্রাণনাশের হুমকি দেয়।

শিফা গার্ডেন’র ব্যবসায়ী হাবিব উল্লাহ হাবিব জানিয়েছেন, কর্মচারীদের কাছ থেকে শুনে আমি বিষয়টি শামলাপুর পুলিশ ফাঁড়িতে অভিযোগ করি।

শামলাপুর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ উপ-পরিদর্শক মাসুদ মুন্সী বলেন, এ ধরণের হুমকির একটি অভিযোগ আমরা মোবাইলে পেয়েছি। আমি ঘটনাস্থলে গিয়ে স্থানীয় দোকানদার ও বাগানের কর্মচারীর সাথে কথা বলেছি। তবে অভিযুক্ত নুরুল আলমকে পাইনি।

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, নুরুল আলম ডাকাত এতই বেপরোয়া হয়ে গেছে যে, সে আইনশৃঙ্খলা কোন কিছুর তোয়াক্কা করছেনা। ইয়াবা ব্যবসা, ডাকাতি, চাঁদাবাজিসহ তার বিরুদ্ধে প্রতিনিয়ত নতুন নতুন অভিযোগ ওঠে আসছে এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে। কেবল তার বিরুদ্ধেই নয়; ডাকাত নুরুল আলমের পুরো পরিবারের বিরুদ্ধে ইয়াবা পাচারের অভিযোগ রয়েছে।

কুমিল্লার সাথে বেকারী ব্যবসার নামে ইয়াবার চালান পাঠানো হয় বলেও স্থানীয়রা পুলিশকে একাধিকবার অভিযোগ করেছেন। এছাড়া তার সৎ মা মিয়ানমার নাগরিক সানজিদা খাতুন সামি কবিরাজি চিকিৎসার নামে দৈনিক ২৫ থেকে ৩০হাজার টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে।

স্থানীয়দের দাবি, চিকিৎসার নামে যারা আসেন-তারা আসলেই ইয়াবার জন্যই আসেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্ত করলে তা বেরিয়ে আসবে।

এদিকে ভুক্তভোগী স্থানীয় নিরীহ মানুষ গুলো ডাকাত নুরুল আলমের অত্যাচারের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে উঠেছেন। তারা প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট সকল দপ্তরে অভিযোগও করেছেন। তারা ডাকাতের অত্যাচার থেকে রেহাই পেতে পুলিশ, র‌্যাব, বিজিবি ও প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।




সেন্টমার্টিনে আটকা পড়া সাড়ে ৬’শ পর্যটক ঝুঁকি নিয়ে ফিরছেন

Troler-md20150727160759
টেকনাফ প্রতিনিধি :
প্রবালদ্বীপ সেন্টমার্টিনদ্বীপে আটকা পড়া প্রায় সাড়ে ৬’শ পর্যটক ঝুঁকি নিয়ে ফিরছেন। শনিবার সকাল থেকে ১০টি স্পিড বোট ও ১০টি কাঠের ট্রলার নিয়ে দুপুর পর্যন্ত প্রায় সাড়ে ৬’শ পর্যটক টেকনাফে পৌঁছেন।

বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদফতর থেকে ৩নং সতর্ক সংকেত দেওয়া হয়েছে। টেকনাফ-সেন্টমার্টিন দ্বীপ নৌ-পথে শুক্রবার থেকে পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচল বন্ধ রয়েছে। এতে দেড় হাজার মত পর্যটক আটকে পড়েন।
ফেরত আসা পর্যটকেরা জানিয়েছেন, সেন্টমার্টিনে আরও হাজার খানেক পর্যটক আটকে রয়েছেন।

এ ব্যাপারে সেন্টমার্টিন দ্বীপ ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান নুর আহমদ বলেন, শনিবার সকাল থেকে ১০টি স্পীড বোট ও ১০টি ট্রলারে করে প্রায় সাড়ে ৬’শ পর্যটক টেকনাফে পৌঁছেছেন। দ্বীপে আরো হাজার খানেক পর্যটক থাকতে পারে। তাদের যাতে অসুবিধা না হয় সেদিকে নজর রাখা হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, গত দুই দিন ধরে টেকনাফ-সের্ন্টমাটিন রুটে পর্যটকবাহী জাহাজ ও ট্রলার বন্ধ থাকায় সের্ন্ট মাটিনে বেড়াতে আসা পর্যটকরা আটকা পড়ে।

ফেরত আসা পর্যটকদের মধ্যে রাজশাহীর বাসিন্দা মো. ইব্রাহীম বলেন, ‘জীবনের ঝুঁকি নিয়ে স্ত্রী-ছেলেকে নিয়ে টেকনাফে ফেরত এসেছি। কি করব আমি বেসরকারি একটি ব্যাংকে চাকরি করি কাল আমার অফিসে উপস্থিতি থাকতে হবে, না হলে আমার চাকরি চলে যাবে তাই ঝুকিঁ চলে এসেছি।’

কক্সবাজার আবহাওয়া অফিসের আবহাওয়াবিদ একেএম নাজমুল হক বলেন, সঞ্চালনশীল মেঘমালার জন্য সাগর উত্তাল থাকতে পারে। বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকা এবং সমুদ্রবন্দরের ওপর দিয়ে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় তিন নম্বর স্থানীয় সতর্কতা সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সাগর ও নাফনদীতে মাছ শিকার ও পর্যটকবাহি জাহাজ চলাচল বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে এবং মাঝারি ধরনের বৃষ্টি হতে পারে বলে ধারনা করেন তিনি।

পর্যটকবাহী জাহাজ কেয়ারি সিন্দাবাদের ব্যবস্থাপক মো. শাহ আলম জানান, সাগর উত্তাল থাকায় শুক্রবার থেকে টেকনাফ-সের্ন্টমাটিন নৌরুটে জাহাজ চলাচল বন্ধ রয়েছে। সাগর স্বাভাবিক হয়ে গেলে সের্ন্ট মাটিনে আটকা পড়া পর্যটকদের ফিরিয়ে আনা হবে।

টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. শফিউল আলম বলেন, ঝুকিঁ নিয়ে না আসার জন্য নির্দেশ দেওয়ার পরও সের্ন্ট মাটিনে আটকা পড়া পর্যটকরা ট্রলার নিয়ে টেকনাফে ফিরছেন। দ্বীপে আরো যেসব পর্যটক রয়েছে তাদের খোঁজ খবর নেওয়া হচ্ছে।




আট জেলে এখনো ফেরত দেয়নি মিয়ানমার

নিজস্ব প্রতিবেদক, কক্সবাজার:

বঙ্গোপসাগর থেকে ধরে নিয়ে যাওয়া বাংলাদেশি আট জেলেকে গত দুইদিনেও ফেরত দেয়নি মিয়ানমার সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিপি। তবে ঘটনার প্রথমদিকে জেলেদের ধরে নিয়ে যাওয়ার বিষয়টি মিয়ানমার সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিপি (বর্ডার গার্ড পুলিশ) অস্বীকার করলেও পরে স্বীকার করে নিয়ে শুক্রবার তাদের ফেরত দেওয়ার কথা ছিল বলেও জানান বিজিবির টেকনাফ ২ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্ণেল আবুজার আল জাহিদ। কিন্তু ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা না পাওয়ায় শুক্রবার বাংলাদেশি ৮জেলেকে মিয়ানমারের বিজিপি ফেরত দিতে না পারার বিষয়টি বিজিবিকে জানিয়েছে বলেও জানান তিনি।

বৃহস্পতিবার রাতে সেন্টমার্টিনের দক্ষিণে বঙ্গোপসাগরের মৌলভীর শিল পয়েন্টে বাংলাদেশ-মিয়ানমার জলসীমার শূণ্যরেখা অতিক্রম করে মিয়ানমারের অভ্যন্তরে মাছ ধরার সময় বাংলাদেশি ৮ জেলেকে ধরে নিয়ে যায় দেশটির নৌ-বাহিনীর সদস্যরা। এসময় তারা বাংলাদেশি জেলেদের নৌকাটি সাগরে ডুবিয়ে দেয়। তবে বিষয়টি মিয়ানমারের বিজিপি অস্বীকার করলেও পরে স্বীকার করে নিয়েছে।

টেকনাফ উপজেলার সাবরাং ইউনিয়নের শাহপরীরদ্বীপ এলাকার বাসিন্দা আবুল হোসেনের মালিকানাধীন নৌকার ধরে নিয়ে যাওয়া জেলেরা হলেন, আব্দু রশিদ মাঝি (৩৮), সৈয়দ করিম (৪২), নূর হাসান (২৭), মোহাম্মদ উল্লাহ (৫৫), জামাল হোসেন (৪০), দিল মোহাম্মদ (৩৬), মোহাম্মদ সাদেক (৩৫) ও মোহাম্মদ জাকের (৫৫)। তারা সবাই টেকনাফের বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দা বলে জানান আবুল হোসেন।

বিজিবির কর্মকর্তা আবুজার বলেন, ট্রলার মালিক ও স্থানীয় প্রশাসনের কাছ থেকে খবরটি জানার পর মিয়ানমারের বিজিপির সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা প্রথমে বিষয়টি নিয়ে কোন তথ্য দিতে পারেননি। তবে বিজিপি পরে স্বীকার করলেও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা না পাওয়ার কথা জানিয়ে শুক্রবার জেলেদের ফেরত দিতে পারেনি বলে তারা জানিয়েছে।

এ নিয়ে শুক্রবার মিয়ানমারের বিজিপির কাছে লিখিতভাবে অবহিত করা হয়েছে বলেও জানান তিনি। আবুজার বলেন, সাগরে মাছ ধরার সময় নৌকা ডুবিয়ে দিয়ে বাংলাদেশি ৮ জেলেকে ধরে নিয়ে যাওয়ার বিষয়টি এবং ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা নিতে বিজিবির সদর দপ্তরে শুক্রবার লিখিতভাবে অবহিত করা হয়েছে। ডুবিয়ে দেয়া ট্রলারটির মালিক আবুল হোসেন বলেন, বৃহস্পতিবার রাতে সেন্টমার্টিন দ্বীপের দক্ষিণে বঙ্গোপসাগরের মৌলভীর শিল পয়েন্টে আমার মালিকানাধীন ট্রলারটি নিয়ে ৮ জেলে মাছ ধরছিল।

এসময় আশপাশে বাংলাদেশি জেলেদের আরও কয়েকটি ট্রলার মাছ ধরতে জাল ফেলে। ‘হঠাৎ মিয়ানমার নৌ-বাহিনীর একটি জাহাজ এসে বাংলাদেশি জেলেদের ধাওয়া দেয়। এতে বাংলাদেশি জেলেদের কয়েকটি ট্রলার পালিয়ে আসতে সক্ষম হলেও জাহাজটি আমার মালিকানাধীন ট্রলারটিকে ধাক্কা দিয়ে ডুবিয়ে দেয়। পরে জেলেদের জাহাজে তুলে ধরে নিয়ে যায় মিয়ানমার নৌ-বাহিনী।

আবুল বলেন, এ ঘটনাটি মিয়ানমার নৌ-বাহিনীর তাড়া খেয়ে পালিয়ে আসা অন্য ট্রলারের জেলেরা জানালে শুক্রবার সকালে তা বিজিবি ও স্থানীয় প্রশাসনের কাছে অবহিত করেছেন। শুক্রবার সকালে ডুবিয়ে ট্রলারটি স্থানীয় অন্য ট্রলারের জেলেদের সহযোগিতায় সেন্টমার্টিনের কূলে নিয়ে আসা হয়েছে। জেলেদের ছাড়িয়ে আনতে মিয়ানমারের বিজিপির সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে বলেও জানান বিজিবির কর্মকর্তা আবুজার।