টেকনাফ উপজেলা পরিষদের সংরক্ষিত ২টি মহিলা আসনের তপশীল গোপন করার অভিযোগ

 

টেকনাফ প্রতিনিধি:

টেকনাফ উপজেলা পরিষদের সংরক্ষিত ২টি মহিলা আসনের তপশীল গোপন করার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।এ ব্যাপারে ২জন প্রার্থী প্রতিকার ও পুনরায় তপশীল দাবি করে কক্সবাজার জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত অভিযোগ করেছেন। কক্সবাজার জেলা প্রশাসক আবেদনের প্রেক্ষিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে (ইউএনও) নির্দেশ দিয়েছেন।

অভিযোগকারীরা হলেন, টেকনাফ উপজেলা পরিষদের সংরক্ষিত ১নং মহিলা আসনের প্রার্থী হ্নীলা ইউনিয়নের সংরক্ষিত মহিলা আসনের-৩ মেম্বার মরজিনা আক্তার ছিদ্দিকী এবং টেকনাফ উপজেলা পরিষদের সংরক্ষিত ২নং মহিলা আসনের প্রার্থী সাবরাং ইউনিয়নের সংরক্ষিত মহিলা আসনের-১ মেম্বার আয়েশা বেগম। তারা দু’জন এবং ২নং আসনের বর্তমান মহিলা সদস্য সাবরাং ইউনিয়নের মেম্বার সনজিদা আক্তার টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে কক্সবাজার জেলা প্রশাসকের নির্দেশিত লিখিত অভিযোগের কপি দাখিল করেন।

জানা যায়, টেকনাফ উপজেলার ৬টি ইউনিয়নকে উপজেলা পরিষদের সংরক্ষিত ২টি মহিলা আসনে বিভক্ত করা হয়েছে। হোয়াইক্যং, হ্নীলা ও বাহারছড়া ইউনিয়ন নিয়ে সংরক্ষিত মহিলা আসন-১ এবং টেকনাফ সদর, সাবরাং ও সেন্টমার্টিনদ্বীপ ইউনিয়ন নিয়ে সংরক্ষিত মহিলা আসন-২ নির্ধারণ করা হয়েছে। ১নং আসনের মহিলা সদস্য ছিলেন হ্নীলা ইউনিয়নের মেম্বার রাশেদা বেগম এবং ২নং আসনের মহিলা সদস্য ছিলেন সাবরাং ইউনিয়নের মেম্বার সনজিদা আক্তার। দু’জনই বিগত ইউপি নির্বাচনে জয়ী হতে না পারায় নির্বাচন কমিশন আসন ২টি শুন্য ঘোষণা করেন।

এরপর বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশণ সচিবালয় ৮ জানুয়ারি তপশীল ঘোষণার প্রেক্ষিতে কক্সবাজার জেলা নির্বাচন অফিসার ও রিটার্নিং অফিসার মো. মোজাম্মেল হোসেন ৯ জানুয়ারি স্মারক নং-১৭.০২.৩৩০০.০০০.৪০.০০৫.১৮.১৭ মুলে গণ-বিজ্ঞপ্তি জারী করেন। গণ-বিজ্ঞপ্তির তপশীল অনুসারে মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ তারিখ ১৬ জানুয়ারি, মনোনয়নপত্র বাছাই ১৭ জানুয়ারি, প্রার্থীতা প্রত্যাহার ২৪ জানুয়ারি, ভোটগ্রহণ ২৯ জানুয়ারি।

অভিযোগকারী দু’জন মহিলা মেম্বার তাদের লিখিত আবেদনে দাবি করেছেন গণ-বিজ্ঞপ্তিটি বহুল প্রচার করতে বলা হলেও কতিপয় ব্যক্তিদের যোগসাজসে তা গোপন রাখা হয়েছে। এমনকি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানদের কাছেও যথাসময়ে গণ-বিজ্ঞপ্তির কপি পৌঁছানো হয়নি। মনোনয়নপত্র দাখিল করার শেষ দিনে সময় শেষ হওয়ার অল্পক্ষণ আগে জানতে পেরেছেন। যার কারণে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেও আনুষাঙ্গিক কাজ সম্পাদন করে জমা দিতে পারেননি। যোগসাজসে গণ-বিজ্ঞপ্তি গোপনকারীরা এ সুযোগে ২জনকে মনোনয়নপত্র দাখিল করিয়ে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বীতায় নির্বাচিত করার পায়ঁতারা করেছে। তারা ঘোষিত তপশীল স্থগিত করে পুণরায় তপশীল ঘোষণা করার দাবি জানিয়েছেন।

১নং আসনের বর্তমান মহিলা সদস্য হ্নীলা ইউনিয়নের মেম্বার রাশেদা বেগম এবং ২নং আসনের বর্তমান মহিলা সদস্য সাবরাং ইউনিয়নের মেম্বার সনজিদা আক্তার জানান তারা গণ-বিজ্ঞপ্তি সম্পর্কে মোটেও জানেননা।




টেকনাফে ইয়াবাসহ পাচারকারী আটক

টেকনাফ প্রতিনিধি:

টেকনাফের হোয়াইক্যং থেকে ২৯ লাখ ৯০ হাজার ৪’শ টাকা মুল্যের ৯ হাজার ৯৬৮ পিস ইয়াবাসহ ১জন পাচারকারীকে আটক করেছে। ইয়াবাসহ আটক পাচারকারী হোয়াইক্যং উত্তরপাড়া মৃত অলি হোসেনের ছেলে মো. সৈয়দ হাসান (৪০)। জব্দকৃত ইয়াবা ট্যাবলেটসহ তাকে টেকনাফ মডেল থানায় সোপর্দ করা হয়েছে।

টেকনাফ-২ বিজিবির পরিচালক অধিনায়ক লে. কর্নেল এসএম আরিফুল ইসলাম ১৯ জানুয়ারি ১টায় হোয়াইক্যং বিওপির নায়েব সুবেদার মো. নজরুল ইসলামের নেতৃত্বে একটি টহল দল হোয়াইক্যং ইউপিস্থ ওবিএমঘাট এলাকায় নিয়মিত টহলে গমন করে।

এসময় একজন লোককে নাফ নদীর পাড় দিয়ে আসতে দেখে চ্যালেঞ্জ করে। এমতাবস্থায় ইয়াবা পাচারকারী নাফ নদীর তীরবর্তী কর্দমাক্ত এলাকা দিয়ে দৌঁড়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে আটক করতে সক্ষম হয়। আটককৃত লোককে তল্লাশী করে তার পরিহিত কোটের ভেতর অভিনব পদ্ধতিতে ফিটিং অবস্থায় পলিথিন দ্বারা মোড়ানো ৫০টি নীল রংয়ের প্যাকেট পাওয়া যায়। ওই প্যাকেটগুলো খুলে গণনা করে ২৯ লাখ ৯০ হাজার ৪’শ টাকা মুল্যের ৯ হাজার ৯৬৮ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করতে সক্ষম হয়।




টেকনাফে ভূয়া ওয়ারিশ সাজিয়ে মেরিন ড্রাইভের জমি অধিগ্রহণের টাকা উত্তোলনের চেষ্টা

 

টেকনাফ প্রতিনিধি:

টেকনাফ উপজেলার বাহারছড়া ইউনিয়নের নোয়াখালীপাড়ার ভূয়া ওয়ারিশ সাজিয়ে মেরিন ড্রাইভের জমি অধিগ্রহণের টাকা উত্তোলনের চেষ্টা করছে একদল ভূমিদস্যু। এতে জড়িত রয়েছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা।

তথ্যনুসন্ধানে জানা গেছে, টেকনাফ উপজেলার বাহারছড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাওলানা আজিজ উদ্দীন ও ৯নং ওয়ার্ডের মেম্বার মো. ইলিয়াছ একাধিক ভূয়া ওয়ারিশ সনদ প্রদান করেছে। তাদের এ সিন্ডিকেটের মধ্যে রয়েছেন, মাও: রফিক উদ্দীন, মাও. আজিজ উদ্দীন, মো. ইলিয়াছ ও আবদুর শুক্কুর।

বাহারছড়া ইউনিয়নের ২০১৭ সালের ১৫৯৮ ও ১৫৯৯ নং স্মারকমূলে ইস্যুকৃত আবদুল কাদের প্রকাশ পেঠান আলীকে একমাত্র ওয়ারিশ সাজিয়ে এবং চেমন খাতুন প্রকাশ ছৈয়দ বানুর ভূয়া নাম ব্যবহার করে ওয়ারিশ সনদ প্রদান করেন বাহারছড়া ইউপি চেয়ারম্যান মৌলভী আবদুল আজিজ ও ৯নং ওয়ার্ডের ইউপি মেম্বার মো. ইলিয়াছ এবং ১৩৮৩ নং স্মারক মূলে চেমন খাতুনের কোন প্রকার প্রকাশ নাম না থাকা সত্বেও চেমন খাতুন প্রকাশ সৈয়দ বানু নামে ভূয়া প্রত্যায়ন দেন।

একইভাবে আবদুল কাদের নামে যে ব্যক্তিকে একমাত্র ওয়ারিশ সনদ প্রদান করেছে তাদের পরিবারের মোট ৮জন ওয়ারিশ রয়েছে। এরা হলেন আবদুল কাদের, জহির আহমদ, নুর আহমদ,ছুরা খাতুন, জুহুরা খাতুন, গুলচেহের, খতিজা খাতুন, তার স্ত্রী ছৈয়দ বানু এবং এরা সবাই ৭১৩ নং বিএস খতিয়ানের মকতুল হোসেন পিতা ছৈয়দ আলীর ওয়াারিশ। যা ২৬/১১/২০১২ তারিখে ২৯৬৬নং কবলামূলে অধ্যাপক নুরুল হককে জমি রেজিস্ট্রি প্রদান করেন। তাও আবদুল কাদের তার অন্য ওয়ারিশ গোপন করে রেজিস্টি প্রদান করেন। আবদুল কাদেরের ভোটার নং-১৬৮.২২১৯৯০৫৮৩৩৫৬ পিতা মকতুল হোসেন মাতা সৈয়দ বানু, নোয়াখালীপাড়া বড়ডেইল, টেকনাফ। রেখে যাওয়া ৮জন ওয়ারিশের মধ্যে ৭জনকে বাদ দিয়ে একমাত্র আবদুল কাদেরকে ওয়ারিশ রেখে যান বলে ওয়ারিশ সনদ দেন।

এছাড়া চেমন খাতুন স্বামী  মকতুল হোসেন মাতা গোলবানুর ওয়ারিশ হলেন ৬জন। এরা হলেন, আবুল কাশেম, ভেলুয়া খাতুন, মলকাবানু, জুলেখা বেগম, গুলজার বেগম, আবুল মনজুর এবং মকতুল হোসেন পিতা ইছা আলী প্রকৃত ওয়ারশি হলেন ৬জন। এরা হলেন, আবুল কাশেম, ভেলুয়া খাতুন, মলকাবানু, জুলেখা বেগম, গুলজার বেগম, চেমন খাতুন।

বাহারছড়া ইউনিয়নের বড়ডেইল মৌজার  বিএস ৫৪৬ নং খতিয়ানের ৬২১৫ দাগের আন্দর .৯৯২৮ একর  (রোয়াদাদ নাম্বার -৪৭৬)নালিশী বিএস ৩২৪ নং খতিয়াানের বিএস ৬২২৯ দাগের আন্দর.২৫ একর মোট.৫৫৪২ একর (রোয়াদাদ নাম্বার -৪৮৫ )নালিশী বিএস ৫৪৬নং খতিয়ানের ৬২৩০ দাগের  আন্দর .১০৩৭ একর (রোয়াদাদ নাম্বার -৪৪৫)  সর্বমোট ১.৬৫০৭ একর জমির টাকা উত্তোলনের জন্য আবদুল কাদেরকে ভূয়া ওয়ারিশ সাজিয়ে কক্সবাজার বিজ্ঞ জজ (২য়) আদালতে ৩৭৯/২০১৭ একটি মামলাও দায়ের করেন।

এ প্রসঙ্গে বাহারছড়া ইউপি চেয়ারম্যান মাও. আজিজ উদ্দীন ভূয়া ওয়ারিশ প্রদান প্রসঙ্গে বলেন, ইউপি মেম্বার মো. ইলিয়াছের স্বাক্ষরে ওয়ারিশ প্রদান করা হয়েছে। পরবর্তীতে ভূল প্রমাণিত হওয়ায় রেজুলেশনের মাধ্যমে তা বাতিল করা হয়েছে এবং চলমান মামলায় আদালতে ওয়ারিশ সনদ প্রসঙ্গে রেজুলেশন কপি ও পত্র প্রেরণ করা হবে।

ভূয়া সিন্ডিকেটের তৎপরতা প্রসঙ্গে অভিযুক্ত টেকনাফ উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান মাও. রফিক উদ্দীন,  ইউপি চেয়ারম্যান মাও. আজিজ উদ্দীন, ইউপি মেম্বার মো. ইলিয়াছ ও ইনানীর মৌলভী আবদুর শুক্কুর তা অস্বীকার করেন।




শ্রমিকলীগ নেতাকে ইয়াবা দিয়ে ফাঁসানোর দাবি পরিবারের

টেকনাফ প্রতিনিধি:

জাতীয় শ্রমিকলীগ টেকনাফ উপজেলা শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক দিদার মিয়া কুংফুকে ইয়াবা দিয়ে ফাঁসানো হয়েছে বলে দাবি করেছেন দিদার মিয়া কুংফু’র স্ত্রী রুবি চৌধুরী। বৃহস্পতিবার (১৮ জানুয়ারি) বিকালে টেকনাফের একটি কমিউনিটি সেন্টারের হলরুমে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ দাবি করেন।

তিনি লিখিত বক্তব্যে বলেন, আমার স্বামী একজন ব্যবসায়ী হিসাবে মুদির দোকানদার। তিনি চট্টগ্রাম শহরে কালুরঘাট সিএমপি বরিশাল বাজারে ৭/৮ বছর আগে থেকে একটি মুদির দোকান করে আসছেন। ওই দোকানে বান্দরবানের একটি ছেলে মো. রুবেল (২২) কে দোকানের কর্মচারী হিসাবে নিয়োগ দিয়েছিলেন। গত ২ বছর আগে আমার স্বামী টেকনাফে এসে জাতীয় শ্রমিকলীগের রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন। ফলে দীর্ঘদিন টেকনাফে অবস্থান করার কারণে দোকানের কর্মচারী মো. রুবেলকে দোকানের দায়িত্ব প্রদান করেন। এমতাবস্থায় সুযোগ বুঝে অপরের সম্পদ লোভী মো. রুবেল আমাদের দোকানের নগদ ১,৯৫,০০০/-(এক লক্ষ পঁচান্নব্বই হাজার)  টাকা নিয়ে বান্দরবানে পালিয়ে গিয়ে আত্মগোপন করে। দীর্ঘদিন তার খোঁজ না পেয়ে আমার স্বামী বান্দরবানে মো. রুবেলের মায়ের সাথে দেখা করতে যায়। এসময় তার বৃদ্ধা মা বলেন, আমি আমার ছেলের সাথে যোগযোগ করে আত্মসাৎকৃত টাকাগুলো ফেরৎ দেওয়ার ব্যবস্থা করব। এর ৭/৮মাস পরে একদিন চট্টগ্রাম নিউ মার্কেট মোড়ে আমার স্বামী মো. রুবেলের সন্ধান পান। সেই থেকে অনেক দিন পর্যন্ত ফোনে মো. রুবেলের সাথে আমার স্বামীর যোগাযোগ ছিল।

এ যোগাযোগের প্রেক্ষিতে চলতি মাসের ১২ জানুয়ারি আনুমানিক দুপুর ২টার দিকে মো. রুবেল ও তার মা আমাকে এবং আমার স্বামীকে ফোনে টাকা দেবার কথা বলে বান্দরবান যেতে অনুরোধ করেন। আমার স্বামী একজন সহজ সরল ব্যক্তি হিসেবে তাদের কথার উপর অন্ধ বিশ্বাস করে বান্দরবান যান। আনুমানিক সন্ধ্যার দিকে বান্দরবান শহরে আলওয়াফদা ব্রীজ সংলগ্ন হোটেল হিল নাইট হেভেনের সামনে পৌঁছলে মো. রুবেলের সাথে দেখা হয়। তিনি ১ লাখ টাকা আছে বলে আমার স্বামীর হাতে একটি প্যাকেট তুলে দেয়। প্যাকেটটি আমার স্বামী গ্রহণ করে খুলে দেখার আগেই উৎপেতে থাকা ৪জন (সিভিল পোষাক ও নিরস্ত্র) ব্যক্তি এসে টাকার প্যাকেট দেখতে চ্যালেঞ্জ করে এবং টানাহেঁচড়া করে। এক পর্যায়ে আমার স্বামী সন্ত্রাসী মনে করে হাতাহাতি করেন। তখন মুহূর্তের মধ্যে আরও কয়েকজন অস্ত্রধারী সিভিল পোষাকে নিজেদেরকে ডিবি পরিচয় দিলে আমার স্বামী সম্মানের সহিত তাদের কাছে আত্মসমর্পণ করেন। পরে আমার স্বামীকে থানায় নিয়ে যাওয়া হয় এবং কর্মচারী রুবেলের দেয়া টাকা ভর্তি কাগজের সেই প্যাকেট থেকে ৪শ পিস ইয়াবা পেয়েছে বলে প্রকাশ করে। এভাবে ষড়যন্ত্রমূলক ভাবে সাজানো নাটকে ৪’শ পিস ইয়াবা পেয়েছে বলে মামলা দিয়ে আমাদের পরিবারের ব্যাপক সম্মানহানি করে। এ ষড়যন্ত্রমূলক সাজানো নাটকে গ্রেফতারকৃত আমার স্বামী দিদার মিয়া কুংফু’র বিষয়টি সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সরেজমিন তদন্তপূর্বক মূল রহস্য উদঘাটন করে প্রকৃত ষড়যন্ত্রকারীকে গ্রেফতার পূর্বক দৃষ্টান্ত শাস্তি কামনা করছি এবং আমার স্বামীর নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানাচ্ছি।

সংবাদ সংবাদ সম্মেলনে দিদার মিয়া কুংফু’র মা নুরুমা খাতুন, স্থানীয় মুরুব্বী মো: ইউনুছ, ভাই হারেছ মিয়া ও ফেরদৌস মিয়া, বোন ছেনুয়ারা বেগমসহ পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।




টেকনাফ সীমান্তে আরও দু’শতাধিক রোহিঙ্গার অনুপ্রবেশ

টেকনাফ প্রতিনিধি:

প্রত্যাবাসনের চুক্তি স্বাক্ষরিত হলেও মিয়ানমারের রাখাইনে সহিংসতার চার মাস পরেও রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ বন্ধ হয়নি। বুধবার (১৭ জানুয়ারি) ভোরে রাখাইনের বুছিডং থানার দুই শতাধিক রোহিঙ্গা টেকনাফ সদর ইউনিয়নের মহেশখালীয়া পাড়া সৈকত পয়েন্ট দিয়ে এপারে ঢুকেছে। একদিকে মিয়ানমার সরকারের সাথে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিয়ে আলোচনা চলছে। অপরদিকে রাখাইন রাজ্যে মগ সেনাদের নির্যাতন ও পুরুষদের ধরে নিয়ে বিনা বেতনে শ্রমিক খাটানোর অভিযোগে এখনো প্রতিদিন সীমান্ত পাড়ি দিয়ে পালিয়ে আসছে রোহিঙ্গা।

জানা যায়, বুধবার (১৭ জানুয়ারি) ভোরে রাখাইনের বুছিডং থানার দুই শতাধিক রোহিঙ্গা টেকনাফের সদর ইউনিয়নের মহেশখালীয়া পাড়া সৈকত পয়েন্ট দিয়ে এপারে ঢুকেছে। তারা সকলে টেকনাফ বাস স্টেশনে এসে জড়ো হয়।

বুছিডং থানার সিংদিপ্রাং গ্রামের রোহিঙ্গা ছৈয়দ আলমের পুত্র আবু ছৈয়দ (৩৫) বলেন, ১২ জানুয়ারি ভোর রাতে বাড়ি থেকে বের হয়ে পাহাড়, বিল অতিক্রম করে এপারে আসার জন্য মিয়ানমার সীমান্তে পৌঁছি। আসার সময় সেনারা আমাদের টাকা, স্বর্ণালংকার কেড়ে নেয়। এপারে আসতে কোন ধরনের প্রতিবন্ধকতা করেনি। সেনারা পুরুষদের ধরে নিয়ে পারিশ্রমিক ছাড়া কাজ করাচ্ছে। আর কোথাও কাজ করা যাচ্ছে না। ফলে স্ত্রী, সন্তানরা অর্ধহারে অনাহারে ঘরে দিনাতিপাত করছে। তাই আবারো ধরে নিয়ে যাওয়ার ভয়ে এপারে আশ্রয়ে আসতে বাধ্য হয়েছি।

একই এলাকার সনজিদা বেগম (৩০) বলেন, আমার স্বামীকে সেনারা ধরে নিয়ে ১০দিন ধরে বন্ধি রেখে কাজ করিয়েছে। কিন্তু কোন পারিশ্রমিক দেয়নি। এতোদিন ঘরের ছেলে মেয়েদের নিয়ে অর্ধাহারে অনাহারে ছিলাম।

পুঁইমালি গ্রামের ফয়েজুর রহমান বলেন, আমরা একসাথে ৩০জন এসেছি। ৫দিন হেঁটে পাহাড় ও বিল অতিক্রম করে মিয়ানমার সীমান্তের কাঁটা তারের বেড়া পার হয়ে নাইক্ষ্যংদিয়া সীমান্তে নৌকার অপেক্ষায় ছিলাম। পরে নৌকা পেয়ে জনপ্রতি ৫০ হাজার কিয়াতের বিনিময়ে এপারে ঢুকেছি। পালিয়ে আসা সকল রোহিঙ্গাদের একই অভিযোগ।

টেকনাফ বাস স্টেশনে অবস্থান করা টেকনাফ মডেল থানার এএসআই রিংকন বলেন, সকাল সাড়ে ১০টা পর্যন্ত ৯১জন রোহিঙ্গাকে রেজিস্ট্রেশন তালিকায় লিপিবদ্ধ করেছি। পরে তাদের সকলকে বালুখালী ও কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে।




টেকনাফ ও সেন্টমার্টিনে ২২ কোটি টাকার ইয়াবা উদ্ধার

টেকনাফ প্রতিনিধি:

বাংলাদেশ কোস্টগার্ড বাহিনী পৃথক অভিযান চালিয়ে ২২ কোটি টাকা মুল্যের ৪ লক্ষ ৪০ হাজার পিস ইয়াবা জব্দ করেছে। এ ঘটনায় বাংলাদেশ কোস্টগার্ড বাহিনী ৪২ রাউন্ড গুলি বর্ষণ এবং ট্রলার আটক করা হয়েছে।

বাংলাদেশ কোস্টগার্ড বাহিনী চট্রগ্রাম পূর্ব জোনের গণসংযোগ কর্মকর্তা লে. কমান্ডার বিএনএম আলাউদ্দিন নয়ন অভিযানের বর্ণনা দিয়ে ১৭ জানুয়ারি রাতে বলেন, ‘১৬ জানুয়ারি আনুমানিক রাত সাড়ে ৭টায় বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড পূর্ব জোনের অধীনস্থ সিজি স্টেশন সেন্টমার্টিন্স এর একটি টহল দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে স্টেশন কমান্ডার লে. ফয়সাল বীন রশীদ, (এক্স), বিএন এর নেতৃত্বে টেকনাফ থানার অন্তর্গত সেন্টমার্টিনদ্বীপের পূর্ব পার্শ্বের সমুদ্রে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে দুইটি সন্দেহজনক বোটকে থামার নির্দেশ প্রদান করলে বোট দুটি না থেমে সমুদ্রের কিনারায় চরে তুলে দিয়ে বোটে থাকা লোকজন পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে ওই বোট তল্লাশী করে ৩ লক্ষ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট জব্দ করা হয়।

এছাড়াও অপর একটি অভিযানে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড বাহিনী পূর্ব জোনের অধীনে সিজি স্টেশন টেকনাফ কন্টিনজেন্টের একটি সেকশান ১৬ জানুয়ারি রাত সাড়ে ১১টায় ইয়াবা পাচারের গোপন সংবাদের ভিত্তিতে টেকনাফ থানাধীন কাটাবুনিয়ার অদুরে বঙ্গোপসাগরে অবস্থান নেয়। কোস্ট গার্ড বাহিনীর উপস্থিতি টের পেয়ে ইয়াবা পাচারকারী একটি নৌকা দ্রুত গতিতে পালানোর চেষ্টা করে। কোস্ট গার্ড বাহিনী সেকশান বাঁশি বাজিয়ে পাচারকারী দলকে থামাতে সক্ষম হয়। অতঃপর বোটটিকে তল্লাশী করে ১ লক্ষ ৪০ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।

ওই বোটের মাঝির স্বীকারোক্তি অনুযায়ী আরো ৪টি বোট ঘটনাস্থল হতে একটু অদূরে অবস্থান করছিল। এই ৪টি বোটকে আটক করার জন্য কোস্ট গার্ড এর বোটটি নোঙ্গররত অবস্থায় ছিল। বেশ কিছুক্ষণ পর বোট ৪টিকে দেখতে পায় এবং তাদেরকে টর্চ লাইট জ্বালিয়ে থামানোর চেষ্টা করে। কিন্তু বোট ৪টি না থেমে কোস্ট গার্ড বোট এর দিকে অগ্রসর হতে থাকে।

এমতাবস্থায়, বোটগুলোর গতি প্রতিহত ও ভীতি প্রদর্শনের জন্য প্রথমে ১২ রাউন্ড ব্লাংক এ্যামুনেশন ফায়ার করা হয়। কিন্তু তারা ভয় না পেয়ে কোস্ট গার্ড বোটের দিকে দ্রুত ধাবিত হয়ে আসতে থাকলে জান ও মালের  নিরাপত্তার জন্য ৩০ রাউন্ড তাজা গুলি ফায়ার করা হয়। পাচারকারী বোটের পিছু ধাওয়া করলে পাচারকারী বোটের গতি বেশি হওয়ায় দ্রুত গতিতে মেরিন ড্রাইভের দিকে রওয়ানা হয়ে বাহারছড়ার কাছে বিচ করে পালিয়ে যায়। বোটটি তল্লাশী করে কোন পাচারকারী ও মালামাল পাওয়া যায় নাই এবং উদ্ধারকৃত ইয়াবা ও বোটটিকে টেকনাফ থানায় হস্তান্তর করা হয়।

ওই অভিযানে কোস্ট গার্ড সদস্যদের কোন ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। জব্দকৃত দুইটি অভিযানে ইয়াবার আনুমানিক বাজার মূল্য ২২ কোটি টাকা’।




তিন’শ পর্যটক নিয়ে বঙ্গোপসাগরে পর্যটকবাহী জাহাজ বিকল

টেকনাফ প্রতিনিধি:

টেকনাফ-সেন্টমার্টিন নৌরুটে ৩০০জন পর্যটক নিয়ে বঙ্গোপসাগরে আটকা পড়েছে এফভি কাজল নামের পর্যটকবাহী একটি জাহাজ।  এতে জাহাজে থাকা যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। জাহাজটি রাতে মিয়ানমারের সীমানায় অবস্থান করেছিল। জাহাজে ধারণক্ষমতার বেশি যাত্রী পরিবহন করায় ইঞ্জিন বিকল হয়েছে বলে যাত্রীরা অভিযোগ করেছেন।

সোমবার (১৫ জানুয়ারি) সন্ধ্যা ৭টায় শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত জাহাজটি সচল করা সম্ভব হয়নি।

টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকতা জাহিদ হোসেন ছিদ্দিক বলেন, দু’টি ইঞ্জিনই বিকল হয়ে পড়ায় জাহাজটি আটকা পড়েছে। এতে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। উদ্ধার তৎপরতা চালাতে কুতুবদিয়া নামের জাহাজকে পাঠানো হয়েছে। রাতেই জাহাজটি টেকনাফের উদ্দেশে রওনা হতে পারবে।

প্রতিদিনের ন্যায় টেকনাফ থেকে সেন্টমার্টিনের উদ্দেশে ছেড়ে যায় জাহাজ এফভি কাজল। বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে জাহাজটি আবারও সেন্টমার্টিন থেকে টেকনাফের পথে রওনা হয়। তবে সাগরের মাঝামাঝি স্থানে এসে দু’টি ইঞ্জিনই বিকল হয়ে বঙ্গোপসাগরে আটকা পড়ে।

জাহাজে আটকাপড়া যাত্রীদের মধ্যে কামাল হোসেন নামে একজন মোবাইল ফোনে জানান, জাহাজে থাকা যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। জাহাজটি ভাসতে ভাসতে মিয়ানমারের দিকে চলে যাচ্ছে। আটকা পড়া নারী-শিশুরা কান্নাকাটি করছে।

এদিকে গত বছরেও পর্যটক ভরা মৌসুমে ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত যাত্রী পরিবহনের দায়ে উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে কাজল জাহাজকে জরিমানা করেছিলেন।

জাহাজে আটকা পড়া ঢাকা মোহাম্মদপুরের বাসিন্দা একাধিক যাত্রী মুঠোফোনে এসব কথা জানিয়ে তাদের উদ্ধারে সহযোগিতা চেয়েছেন।

জাহাজের যাত্রীদের অভিযোগ, সকালে জাহাজে উঠে তারা চেয়ারে বসার জায়গা পাননি। এমনকি দাঁড়ানোর জায়গাও ছিল না। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জাহিদ হোসেন ছিদ্দিক বলেন, জাহাজের পর্যটকদের নিরাপদে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করা হচ্ছে।




সেন্টমার্টিনদ্বীপে কুকুরে খাচ্ছে কচ্ছপ

টেকনাফ প্রতিনিধি:

সেন্টমার্টিনদ্বীপে মরা কচ্ছপ ভেসে আসছে। সাগর তলদেশের প্রাকৃতিক ঝাড়ুদার খ্যাত কচ্ছপ কেন মারা যাচ্ছে তার কারণ জানা সম্ভব হয়নি। এর আগে আরও বহু সংখ্যক মরা কচ্ছপ সেন্টমার্টিনদ্বীপের উপকুলে ভেসে এসেছিল।

শনিবার(৬ জানুয়ারি) সকালে একটি বিরল প্রজাতির সামুদ্রিক মরা কচ্ছপ সেন্টমার্টিনদ্বীপের চরে ভেসে আসে। সেন্টমার্টিনদ্বীপের জেটিঘাট সংলগ্ন সামান্য দক্ষিণে সমুদ্র সৈকতে ভেসে আসা বিরল প্রজাতির কচ্ছপটি দেখতে খুবই সুন্দর। সুন্দর গড়নের কচ্ছপটি দেখতে হুমড়ি খেয়ে দৌঁড়েন পর্যটকরা। মরা কচ্ছপটি ঘিরে ধরে কুকুরের দল খেতে থাকে।

স্থানীয় মেম্বার হাবিবুল্লাহ প্রকাশ হাবিব খান দুঃখ করে বলেন ‘এভাবে প্রাকৃতিক সম্পদ কচ্ছপ মারা যাওয়া মোটেও কাম্য নয়। কচ্ছপের নামে দ্বীপে অনেক ডিজিটাল সাইনবোর্ড দেখা গেলেও জনবল দেখা যায়না’।

সেন্টমার্টিনদ্বীপ ইউপি চেয়ারম্যান আলহাজ্ব নুর আহমদ শনিবার সকালে একটি বিরল প্রজাতির সামুদ্রিক মরা কচ্ছপ সেন্টমার্টিনদ্বীপের চরে ভেসে আসার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন ‘মরা কচ্ছপটি পুতে ফেলতে দ্বীপের বিচ কর্মীদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

বোট মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আলমের সহযোগিতায় মরা কচ্ছপটি গর্ত করে পুঁতে ফেলা হয়েছে’। তিনি আরও বলেন ‘সেন্টমার্টিনদ্বীপে পরিবেশ অধিদপ্তরের বড় বড় ভবন রয়েছে। কচ্ছপের নামে দ্বীপে অনেক ডিজিটাল সাইনবোর্ড আছে। কিন্তু তাদের পরিবেশ বিষয়ে কোন তৎপরতা দেখা যায়না’।




রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বিকাশের আড়ালে চলছে হুন্ডি বাণিজ্য

ঘুমধুম প্রতিনিধি:

সরকার জনস্বার্থে উপজেলা ভিত্তিক বিকাশ নামের টাকা লেনদেনের এজেন্ট প্রথা চালু করলেও বর্তমানে তা হিতে বিপরীত হয়েছে। মিয়ানমার থেকে লাখ লাখ রোহিঙ্গা এদেশে পালিয়ে এসে আশ্রয় নেওয়ার পর থেকে বিকাশ ও হুন্ডি ব্যবসায়ীদের তৎপরতা বেড়েছে আশঙ্কাজনক ভাবে। রোহিঙ্গা ক্যাম্প ভিত্তিক গড়ে উঠেছে প্রায় শতাধিক হুন্ডি ও বিকাশ এজেন্ট। যে সব এজেন্টের মাধ্যমে প্রবাসির টাকাসহ ইয়াবা বিক্রির টাকা লেনদেন করা হচ্ছে। ফলে রাষ্ট্রায়াত্ম ব্যাংক বীমা প্রতিষ্ঠান গুলোতে রেমিটেন্স কমে গেছে উল্লেখ্যযোগ্য ভাবে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন বিকাশ ও হুন্ডি ব্যবসা সরকারের আর্থিক প্রতিষ্ঠানে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি করছে। তাই এসব ব্যবসা বন্ধ করে দেওয়া উচিত বলে মনে করছেন সচেতন মহল।

তথ্য অনুসন্ধানে জানা গেছে, রোহিঙ্গা ক্যাম্প ভিক্তিক সবচেয়ে বেশি বিকাশ ভিত্তিক হুন্ডি ব্যবসা চালাই ৮ বিকাশ এজেন্ট। তাদের প্রতিদিনের লেনদেন প্রায় অর্ধকোটি টাকা। বিকাশের এজেন্ট সিম ছাড়াও তাদের রয়েছে নামে বেনামে অর্ধশত ব্যক্তিগত বিকাশ সিম। এসব সিম থেকে প্রতিদিন লেনদেন করা হচ্ছে দোকান ছাড়াও বাড়ি বাড়ি গিয়ে। রোহিঙ্গা অধ্যুষিত এলাকায় যাদের বিরুদ্ধে অস্বাভাবিক লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে তাদের মধ্যে রয়েছেন কুতুপালং বাজারের মৌলভী ছৈয়দুল আমিন, রফিক, বশর, আলী, বালুখালী পানবাজারের জাহাঙ্গীর, পালংখালী বাজারের সোহেল, থাইনখালী বাজারের মানিক, বশর ও এন ইসলাম প্রমুখ।

স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানদের সাথে কথা বলে জানা যায়, ২৫ আগস্টের আগে এ উপজেলায় ৬/৭টি বিকাশ এজেন্টের মাধ্যমে টাকা লেনদেন করতে দেখা গেছে। তাও খুব সীমিত আকারে। বর্তমানে ২৫ আগস্টের পর থেকে মিয়ানমার হতে পালিয়ে আসা প্রায় সাড়ে ৬ লাখ রোহিঙ্গা উখিয়ার ৮টি অস্থায়ী ক্যাম্পে আশ্রয় নিয়েছে। এসব ক্যাম্প গুলোতে তল্লাশী চালালে দেখা যাবে প্রায় শতাধিক হুন্ডি ও বিকাশ এজেন্টের মাধ্যমে টাকা লেনদেন হচ্ছে।

শুক্রবার সকালে অতর্কিত ভাবে কুতুপালং ক্যাম্প বাজারে অভ্যান্তরে একটি দোকানে গিয়ে দেখা যায়, ৭/৮জন লোক ভীড় করছে। একজন রোহিঙ্গা ১লক্ষ ২০ হাজার টাকা উত্তোলন করেছে। এ টাকা কোথা থেকে এসেছে জানতে চাওয়া হলে কুতুপালং বি ব্লকের বাসিন্দা নুরুল্লাহ (৪৫) জানায়, তার ২ ছেলে নুরুল ইসলাম, আলী আকবর দীর্ঘদিন যাবৎ মালয়েশিয়া অবস্থান করছে। তারা এসব টাকা পাঠিয়েছে।

এসময় বিকাশ এজেন্ট রোহিঙ্গা নাগরিক ছৈয়দ আমিন অস্বীকার করে বলেন ওই টাকা তার কাছ থেকে নেওয়া হয়নি। অন্যান্য রোহিঙ্গারা সরে পড়তে দেখে বিকাশ এজেন্ট হতভম্ব হয়ে পড়ে। পরে স্বীকার করে বলেন, আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর লোকজনকে টাকা দিয়ে বিকাশ ও হুন্ডি ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। এভাবে প্রায় শতাধিক বিকাশ ও হুন্ডি ব্যবসায়ী উখিয়ার বিভিন্ন শরনার্থী ক্যাম্পে প্রকাশ্যে দোকান খোলে কোটি কোটি টাকা লেনদেন করলেও দেখার কেউ নেই। তবে রোহিঙ্গা বস্তি ম্যানেজমেন্ট কমিটির সেক্রেটারি মোহাম্মদ নুর জানান, বিদেশ থেকে সমস্ত টাকা বিকাশ ও হুন্ডির মাধ্যমে লেনদেন হচ্ছে।

গত ২৯ আগস্ট টেকনাফ মডেল থানা মানি লন্ডারি প্রতিরোধ আইন/২০১২(সংশোধনী ২০১৫) এর ৪ (২) দায়েরকৃত মামলার আসামি নুরুল হক ওরফে ভুট্টো(৩২) কে জিজ্ঞাসাবাদকালে বলেন, তার সঙ্গে ইয়াবা ব্যবসার টাকা লেনদেন করতো স্বপন নামের এক বিকাশ এজেন্ট।

তিনি আরো বলেন, বাহকদের মাধ্যমে আটক মোহাম্মদ আফজল হোসেন ইমন মাদক বিক্রয়ের টাকা তার ছেলে সালাউদ্দিনের মাধ্যমে বিকাশ এজেন্ট স্বপনের নিকট পাঠাতো। স্বপন তার বিকাশ একাউন্ট থেকে টেকনাফের বিকাশ একাউন্টে সে নিয়মিত টাকা পাঠালে নুরুল হক ওরফে ভুট্টো ওই টাকা উত্তোলন করতো। সে সিআইডির নিকট আরো স্বীকার করেছে এ পর্যন্ত ১০লাখ ৩০হাজার ২০ টাকা ওই বিকাশের মাধ্যমে লেনদেন করা হয়েছে।

এভাবে উখিয়াতেও বেশ কয়েকজন চিহ্নিত এজেন্ট আর্কষনীয় সাইনবোর্ড ও বিলাশ বহুল দোকান দিয়ে নাম মাত্র কয়েকটি মোবাইল রেখে ইয়াবার টাকা লেনদেন করছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা দাবি করেন ওই বিকাশ এজেন্টদের আটক করা হলে উখিয়ার সমস্ত ইয়াবা ব্যবসায়ীসহ প্রতি মাসে কত পরিমাণ ইয়াবা টাকা লেনদেন হচ্ছে তা বেরিয়ে আসবে।




চকরিয়া প্রেসক্লাবে দৈনিক ইনানী পত্রিকা বর্জনের সিদ্ধান্ত

চকরিয়া প্রতিনিধি:

চকরিয়া প্রেসক্লাবের অর্থ সম্পাদক একেএম বেলাল উদ্দিনকে নিয়ে দৈনিক ইনানী পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে মিথ্যা ও মানহানীকর বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করায় ২ জানুয়ারি বিকাল ৪টায় কক্সবাজারের চকরিয়া প্রেসক্লাবে এক জরুরী সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সভায় একেএম বেলাল উদ্দিন উপস্থিত নেতৃবৃন্দ ও সদস্যদের জ্ঞাতার্থে তাকে নিয়ে যে কুরুচিপূর্ণ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ অব্যাহত রেখেছে তার বিষদ বিবরণ তুলে ধরেন নেতৃবৃন্দ।

সভায় সদস্যরা এ ধরণের কুরুচিপূর্ণ ও মানহানীকর বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ থেকে বিরত থাকার জন্য সংশ্লিষ্ট পত্রিকার প্রকাশনার দায়িত্বরত কর্তৃপক্ষের কাছে আহ্বান জানান। ওই জরুরী সভায় প্রেসক্লাব নেতৃবৃন্দ ও সদস্যসহ চকরিয়া সংবাদপত্র হকার্স সমিতির যৌথ সিদ্ধান্তে ৩ জানুয়ারি থেকে দৈনিক ইনানী পত্রিকা চকরিয়ায় বর্জনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। একই সাথে নিন্দা প্রস্তাব জ্ঞাপন করেন। মানহানীকর বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের জন্য আইনী আশ্রয় নেওয়ারও পরামর্শ দেন সভায়।

চকরিয়া প্রেসক্লাবের সভাপতি আবদুল মজিদের সভাপতিত্বে ও সহ-সাধারণ সম্পাদক মুকুল কান্তি দাশ (আমাদের সময়)এর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত জরুরী সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন চকরিয়া প্রেসক্লাবের উপদেষ্টা প্রবীণ সাংবাদিক জাকের উল্লাহ চকোরী (ইনকিলাব), প্রধান আলোচক ছিলেন প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি সিনিয়র সাংবাদিক এম জাহেদ চৌধুরী (পূর্বকোন), বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এএম ওমর আলী এডভোকেট (দিনকাল), বক্তব্য রাখেন সিনিয়র সহ-সভাপতি রফিক আহমদ (নয়াদিগন্ত), সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি এমএইচ আরমান চৌধুরী (ইত্তেফাক), সহ-সভাপতি জহিরুল আলম সাগর (আমাদের কক্সবাজার), সাবেক সহসাধারণ সম্পাদক এম রায়হান চৌধুরী (আমাদের অর্থনীতি), অর্থ সম্পাদক একেএম বেলাল উদ্দিন (ভোরের ডাক), ক্রীড়া সম্পাদক জামাল হোছাইন (সকালের কক্সবাজার), সাহিত্য-সাংস্কৃতিক সম্পাদক বিএম হাবিব উল্লাহ (আলোকিত বাংলাদেশ), সাবেক দপ্তর সম্পাদক সাইফুল ইসলাম খোকন (সৈকত), বর্তমান দপ্তর সম্পাদক এসএম হান্নান শাহ (আজকের দেশ বিদেশ ও সকালের সময়), নির্বাহী সদস্য আবদুল মতিন চৌধুরী (জনতা), সদস্য মোস্তফা কামাল (কালবেলা), মোহাম্মদ জাহেদ (বাংলাদেশ বেতার), এম আলী হোসেন (করতোয়া), জিয়া উদ্দিন ফারুক (বাংলাদেশ প্রতিদিন), নির্বাহী সদস্য এম.মনছুর আলম (সাঙ্গু-সাগরদেশ), অলি উল্লাহ রনি (খবরপত্র-কক্সবাজার ৭১), সাবেক নির্বাহী সদস্য শাহজালাল শাহেদ (সংগ্রাম), নির্বাহী সদস্য আবুল হোছাইন (আপন কন্ঠ), এম সাইফুদ্দিন (গণসংযোগ), সাঈদী আকবর ফয়সাল (আলোকিত উখিয়া), আবদুল করিম বিটু (আমাদের চট্টগ্রাম) সহ প্রেসক্লাব সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।