এবার দেশ ছাড়ছেন মংডুর রোহিঙ্গারা

টেকনাফ প্রতিনিধি:

এবার দেশ ছাড়ছেন মিয়ানমারের মংডু টাউনশীপের রোহিঙ্গারা। মংডু ও বুচিডং এ দুই টাউনশীপ নিয়ে মংডু জেলা গঠিত। আরাকানের (সংশোধিত নাম রাখাইন স্টেট) ৪টি জেলার মধ্যে আকিয়াবের পর মংডুর স্থান। ২টি থানা নিয়ে গঠিত হলেও আরাকান রাজ্যের অন্যতম বৃহত্তর ও সমৃদ্ধশালী জেলা হচ্ছে মংডু।

মংডু থানাধীন মুসলিম অধ্যুষিত ১০৫টি ইউনিয়নের রোহিঙ্গারা মিয়ানমার সেনা এবং মগদের বহুমুখী নির্যাতনের শিকার হয়ে বাংলাদেশে পালিয়ে আসলেও মংডু শহরের আশপাশের গ্রামে অবস্থানকারী রোহিঙ্গারা নানা কৌশলে নাড়িকাটা মাতৃভূমি ছেড়ে আসেননি। এদের বেশির ভাগই অবস্থা সম্পন্ন পরিবার এবং ব্যবসায়ী। শখের বসতবাড়িটি পুড়িয়ে না দিতে দাবি মতো লক্ষ লক্ষ কিয়াট ঘুষ দিয়েও মন ভরছেনা মগ-সেনাদের।

অনেক মুসলমান পরিবার আছেন স্থাবর-অস্থাবর বিশাল সম্পদের মালিক। আর কিছু আছেন সরকারি ও বেসরকারি চাকরীজীবি। এদের সংখ্যাও নেয়ায়েত কম নয়। মিয়ানমার সেনা এবং মগরা এখন তাদের উপর চড়াও হয়েছে ও হচ্ছে বলে জানা গেছে। সেই সম্পদের উপর লোলুপ নজর পড়েছে মগ-সেনাদের।

জানা যায়, মংডু ও বুচিডং এ দুই টাউনশীপই সব চেয়ে বৃহৎ এবং মুসলিম অধ্যুষিত। মংডু থানা বা টাউনশীপের আওতায় ইউনিয়ন (তাদের ভাষায় ‘গোয়াইং’) আছে ১০৫টি। বুচিডং থানা বা টাউনশীপের আওতায় ইউনিয়ন (তাদের ভাষায় ‘গোয়াইং’) আছে ৮৫টি। পুরো আরাকানে রয়েছে ৪টি জেলা এবং ১৭টি টাউনশীপ বা থানা। ৭টি থানা বা টাউনশীপ নিয়ে গঠিত আকিয়াব (নতুন নাম সিটওয়ে) জেলায় মুসলমানদের সংখ্যা বেশি। আকিয়াব জেলার থানাগুলো হচ্ছে আকিয়াব, রাচিডং, পুঁঙনাজুঁয়ে, কিয়ট, পাত্তরিকিল্লা, মামব্রা, পকট। ২০১৬ সালের অক্টোবরে আকিয়াব জেলায় ব্যাপক সহিংসতার ঘটনায় ৭টি থানা থেকেই ছোট ছোট দলে বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছিল। যার সংখ্যা ছিল ২ লক্ষাধিক। কক্সবাজার এবং পার্বত্য জেলার বিভিন্ন উপজেলায় এরা বসবাস করছে। বাকি যারা ছিলেন এখন আসছেন।

মংডু সদর থানার ১০৫টি, বুচিডং থানার ৮৫টি এবং আকিয়াব জেলার ৭টি থানার ২ শতাধিক ইউনিয়ন থেকেই এবারে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশের ঢল নেমেছিল। আকিয়াব মুলতঃ একটি দ্বীপ। ছোট ছোট আয়তন নিয়ে থানাগুলো গঠিত। তাছাড়া আকিয়াব ও মংডু বন্দর শহর।

মিয়ানমারের আরাকান রাজ্যটি উত্তর-দক্ষিণ লম্বা। বাংলাদেশের সেন্টমার্টিনদ্বীপের সোজা পুর্বে ওপারে সীতাপুরিক্ষা, শাহপরীরদ্বীপের সোজা ওপারে হাইচ্ছুরাতা, টেকনাফের সোজা ওপারে মংডুর সুধাপাড়া এবং হ্নীলার সোজা ওপারে নাকপুরা। বাংলাদেশের উখিয়া উপজেলার পালংখালী, থাইংখালী, বালুখালীর উত্তরে পার্বত্য নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার তুমব্রু সীমান্ত  পয়েন্টটি একেবারে কাছাকাছি। সামান্য পানি এবং পা’য়ে হেঁটে পারাপার হওয়া যায়।

এখন আসছেন মংডু শহরের কাছাকাছি গ্রামের রোহিঙ্গা। এরা বড়ছড়া, আংঢাং, কুলুং, সীতাপুরিক্ষা, চব্রেড, মেরুল্লা, ঘরাখালী, উধং, খইজ্জ্যারবিল, হাইচ্ছুরাতা, সনখদ্দারবিল, শীলখালী, হঁরছড়া, লম্বাঘুনা, ঘুনাপাড়া, চাইরকম্বু, গদুছড়া, নয়াপাড়া, ধাওনখালী, শাইরাপাড়া, চাইন্দাপাড়া, বাঘঘুনা, কাজিরবিল, নলবনিয়া, বড়ডেইল, খাইন্দাপাড়া, সিকদারপাড়া, হেতাইল্যা, উকিলপাড়া, খাঁরিপাড়া, মাংগালা, বমুপাড়া, নাইতারডেইল, চাইরমাইল, খইল্যাভাঙ্গা, কাউয়ারবিল, জামবইন্যা, বকসুপাড়া, আশিক্যাপাড়া, সুদাপাড়া, মগনামা, নারীবিল, নন্দাখালী, সংখদ্দাবিল, দারোগাপাড়া, পেরামপ্রু ছাটে গউজবিল, খোলারবিল, চালিপ্রাং, প্রুখালী, জামবইন্যা, রাঙ্গাবালি, বড় গউজবিল, রইগ্যাদং, রাইম্যারবিল, কাইমপ্রাং, বুড়া সিকদারপাড়া, রাইম্যাদং, কিয়ারিপ্রাং, নাইংচং, নাইচাপ্রু, লুদাইং ইত্যাদি এলাকার রোহিঙ্গা। তাদের জন্য বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের বেশি সুবিধাজনক পয়েন্ট ছিল শাহপরীরদ্বীপ ও টেকনাফ।

পালিয়ে আসা রোহিঙ্গারা জানান, কষ্ট হলেও আমরা স্বদেশে থাকতে আপ্রাণ চেষ্টা করেছি। কিন্তু নিত্য-নতুন মগ-সেনাদের চাহিদা, আবদার, তাড়ানোর কৌশল, নির্যাতন বাড়ছে। মগ-সেনাদের মনোভাব বুঝাও মুশকিল। একবার বলে থাকতে, আবার বলে চলে যেতে। পুরানো আমলের পরিচয়পত্র কেড়ে নিচ্ছে। হাটবাজার, মুসলমানদের ব্যবসা-বাণিজ্য বন্ধ। অবরুদ্ধ অবস্থা। তীব্র খাবার সংকট।

মংডু এবং মংডুর আশপাশের গ্রাম থেকে শাহপরীরদ্বীপ, সাবরাং ও টেকনাফ কাছে হলেও দীর্ঘ নৌপথ পাড়ি দিয়ে উখিয়া উপজেলার পালংখালী আঞ্জুমানপাড়া সীমান্ত দিয়ে অনুপ্রবেশ করার কারণ জানতে চাইলে ছাতা মাথায় শিশু সন্তানসহ কোমর পানি অতিক্রম করে বাংলাদেশ পানে ছুটে আসা মংডু কাজিরবিল আবদুল হাকিমের স্ত্রী আসমা আক্তার (২০) বলেন ‘মংডু থেকে শাহপরীরদ্বীপ, সাবরাং ও টেকনাফ কাছে হলেও যাওয়ার সুযোগ নেই। সেখানে খুব কড়াকড়ি চলছে বলে শুনেছি। কোন নৌকার মাঝি সেদিকে যেতে রাজি হয়না। তাই ভাড়া বেশি দিয়ে হলেও এদিকে চলে এসেছি। তাছাড়া এখান থেকে রোহিঙ্গা ক্যাম্প খুবই কাছে। শাহপরীরদ্বীপ, সাবরাং ও টেকনাফ হয়ে আসলে রোহিঙ্গা ক্যাম্প পর্যন্ত পৌঁছতে অনেক ঝামেলা পোহাতে হয়। মিয়ানমারের মংডু এবং মংডুর দক্ষিণে আরও কয়েক হাজার রোহিঙ্গা পালিয়ে আসার অপেক্ষায় রয়েছে’।

গত কয়েকদিন ব্যাপক হারে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ বন্ধ থাকলেও উখিয়া-টেকনাফে বিশেষতঃ উখিয়া সীমান্তে আবারও রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশের ঢল নেমেছে। মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে চলমান সহিংসতায় সীমান্ত পেরিয়ে আবারও প্রতিদিন বাংলাদেশে হাজার হাজার রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ করছে। এখন কয়েক লাখ রোহিঙ্গা আশ্রয় নিয়েছে উখিয়ার কুতুপালং, বালুখালী, থাইংখালী, তাজনিম্যারখোলা পাহাড়, পালংখালী বাঘঘোনা পাহাড়, টেকনাফের চাকমারকুল, পুটিবনিয়া, লেদা, নয়াপাড়া, শামলাপুর এবং ঘুমধুম তুমব্রু সীমান্ত এলাকায়।

বনবিভাগের জায়গার উপর সমাজিক বনায়ন কেটে রাতারাতি নতুন বস্তি গড়ে তুলছে রোহিঙ্গারা। ওই বস্তি গুলোতে কয়েক লাখ রোহিঙ্গা আশ্রয় নিয়েছে। এদিকে প্রতিদিন হাজার হাজার রোহিঙ্গা আসা অব্যাহত থাকায় ক্যাম্পগুলোয় স্থান সংকুলান হচ্ছেনা বলে জানা গেছে। ফলে ক্যাম্পে ঠাঁই মিলছে না অধিকাংশের। তারা রাস্তা-ঘাট, দোকান-পাটসহ বিভিন্ন স্থানে আশ্রয় নিচ্ছে। এককথায় রোহিঙ্গা ভারে নুয়্যে পড়েছে উখিয়া-টেকনাফ।

মিয়ানমার সীমান্তবর্তী এলাকা ঘুরে জানা গেছে সীমান্তে ওপারে এখনও কয়েক হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের জন্য অপেক্ষায় আছে। রোহিঙ্গারা জানান গত কয়েক দিনে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ করেছে। তাছাড়া মিয়ানমারের ‘পুরমা’ খালের পাড়ে কয়েক হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আসার জন্য অপেক্ষা করছে। নদীতে পাহাড়ি ঢলের স্রোত থাকার কারণে তারা নদী পার হয়ে আসতে পারছেনা। সীমান্তে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গারা খুবই মানবেতর জীবন কাটাচ্ছে। বিশেষ করে খাদ্য ও পানি সংকট দেখা দিয়েছে। সরকারি-বেসরকারিভাবে শুকনো খাবার, পানি দেয়া হলেও তাতে হচ্ছেনা। বৃষ্টিতে এবং স্যানিটেশন নিয়ে রোহিঙ্গাদের কাহিল অবস্থা চলছে।




১০৬ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত বেড়িবাঁধের কৃতিত্ব প্রধানমন্ত্রীর

টেকনাফ প্রতিনিধি:

টেকনাফ উপজেলার সাবরাং ইউনিয়নের শাহপরীরদ্বীপ বেড়িবাঁধের সী-ডাইক অংশে প্রতিরক্ষা কাজসহ বাঁধ পুনঃনির্মাণ প্রকল্পের কাজ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে উখিয়া-টেকনাফ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুর রহমান বদি বলেছেন, মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের ঢলে  প্রায় ৬৫ কি.মি বেড়িবাঁধ ক্ষতবিক্ষত। যা শীঘ্রই সংস্কার করা প্রয়োজন।

১০৬ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত বেড়িবাঁধের কৃতিত্ব আমার নয়, বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রী  শেখ হাসিনার। আওয়ামী লীগ সরকার উন্নয়নে বিশ্বাসী, নির্বাচনে ওয়াদা দিয়ে ওয়াদা পালন করে। কোন ধরনের বেঈমানি করেনা।

তিনি শাহপরীরদ্বীপবাসীর উদ্দেশ্যে বলেন, দীর্ঘ ৫ বছর সংগ্রামের সাথে জীবনযাপন করেছেন। এজন্য তিনি সকলের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন। এ সমস্যা প্রাকৃতিক সমস্যা। প্রকৃতির সাথে কারো যুদ্ধ করা সম্ভব নয়। সদ্য নির্মিত মেরিন ড্রাইভের সাথে শাহপরীরদ্বীপ পর্যন্ত রাস্তা নির্মাণ করা হবে। এতে করে দ্বীপবাসীর মনের দুঃখ, দুদর্শা, কান্না মুছে যাবে। আগামী সংসদ নির্বাচনের পূর্বে এ এলাকার উন্নয়নে সমস্ত কাজ শেষ করতে চাই। এজন্য প্রধানমন্ত্রীর জন্য দোয়া কামনা করেছেন তিনি।

১৯ অক্টোবর সকালে সাবরাং নয়াপাড়া হারিয়াখালীতে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান ও ফলক উম্মোচন অনুষ্ঠান কক্সবাজার জেলা যুবলীগের সহ-সভাপতি আবুল কালামের সভাপতিত্বে সাবরাং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নুর হোসেনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন, বাংলাদেশ নৌবাহিনীর লে. কর্নেল আব্দুর রাজ্জাক, কক্সবাজার জেলার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী ছাবিবুর রহমান, কক্সবাজার জেলা পরিষদের সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি শফিক মিয়া, টেকনাফ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান জাফর আহমদ, মাষ্টার জাহেদ হোসেনসহ রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ।

এ বৃহৎ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছেন বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড ও বাংলাদেশ নৌবাহিনী সোনাকান্দা নারায়ণগঞ্জ, ডকইয়ার্ড এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কস লিমিটেড।




টেকনাফ সীমান্তে নৌকার মাঝিরা আনছে রোহিঙ্গা: ১১ লাশ উদ্ধার, নিখোঁজ ৩৮

 

টেকনাফ প্রতিনিধি:

মিয়ানমারের নাইক্ষ্যংদিয়া টু শাহপরীর দ্বীপ মাঝি ও রোহিঙ্গা পারাপারের নিরাপদ পয়েন্ট হিসেবে ব্যবহার করছেন কিছু অর্থ লোভী নৌকার মাঝিমাল্লারা। তাদের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন স্থানীয় একটি দালাল চক্র। নৌকার অদক্ষ মাঝির কারণে কয়েক কিলোমিটার নাফনদী ও সাগর পাড়ি দিতে গিয়ে এ পর্যন্ত ২৭টি নৌকা ডুবিতে ১৮০ জন রোহিঙ্গা শিশু, নারী ও পুরুষকে প্রাণ দিতে হয়েছে। এসব ঘটনায় নিখোঁজ রয়েছে আরও অনেক রোহিঙ্গা। রোহিঙ্গার স্রোতে তছনছ প্রশাসনিক ব্যবস্থা।

গত ১১ আগস্ট মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সেদেশের সেনা মোতায়েন করে আবারো অভিযান শুরু অজুহাতে পাশ্ববর্তী রাষ্ট্র বাংলাদেশে রোহিঙ্গারা আসতে শুরু করেছেন। তাই সীমান্তে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও কোস্টগার্ডের টহল বাড়ানোর পাশাপাশি সীমান্ত এলাকায় বিশেষ সর্তক অবস্থা জারি করা হয়। ওই সময় সীমান্তে বিভিন্ন পয়েন্ট দিয়ে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশের আশঙ্কা করা হলেও রাতের আধাঁরের বিচ্ছিন্ন ভাবে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর লোকজন বাংলাদেশে পালানোর চেষ্টা চালায়। বাংলাদেশের সঙ্গে মিয়ানমারের ২০৮ কিলোমিটার স্থল (পাহাড়, জঙ্গল, টিলা বেষ্টিত দুর্গম এলাকা) ও ৬৩ কিলোমিটার জল সীমানা রয়েছে। প্রথম দিকে রাতে আধাঁরে নৌকায় করে কিছু রোহিঙ্গা পালিয়ে অনুপ্রবেশের চেষ্টা করলেও গত ২৫ আগস্টের পর থেকে দিনের বেলায় দলে দলে অনুপ্রবেশ করতে থাকে।

জানতে চাইলে টেকনাফ ২ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল এসএম আরিফুল ইসলাম বলেন, সীমান্তে কড়া নিরাপত্তা জোরদার করে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশে বাধা দেওয়া হয়। হঠাৎ সরকারের পক্ষ থেকে রোহিঙ্গাদের প্রতি মানবিক দিক-বিবেচনার নির্দেশ পাওয়ার পর থেকে সীমান্ত এলাকার কিছু কিছু দালালরা টাকার বিনিময়ে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশে লিপ্ত হয়। ইতিমধ্যে অনেক দালালকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছে।

রোহিঙ্গারা আসছে: মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের মুসলিম জনগোষ্ঠির উপর দেশের সেনা বাহিনী ও নাডালা বাহিনী (উগ্রপন্থি রাখাইন যুবকদের সংগঠন) সন্ত্রাস বিরুদ্ধে অভিযানের কথা বলে রোহিঙ্গা নারী, শিশু ও যুবকদের গুলি এবং আগুনে পুড়িয়ে হত্যা করছে। পাশাপাশি রাখাইনের গ্রামের পর গ্রাম আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দিতে ভয়-ভীতি প্রদর্শন করায় রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ চেষ্টায় সীমান্ত পাড়ি দিয়ে আসছে।

নৌকায় পারাপার ও অদক্ষ মাঝি: রোহিঙ্গাদের নিয়ে নৌকার মাঝি ও দালালদের বানিজ্য থেমে নেই। টেকনাফে শাহপরীর দ্বীপের একটি দালাল চক্র ও নৌকার সিন্ডিকেট। নৌকার মাধ্যমে প্রতি রাতে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ করে হাতিয়ে নিচ্ছে মোটা অঙ্কের টাকা। রোহিঙ্গা পারাপারের জড়িত নৌকার মাঝিরা সাগরে প্রায় সময় মাছ ধরার কাজে এসব নৌকা ব্যবহার করে আসছিলে। কিন্তু তারা কোনো সময় নাফনদীর মোহনা বদর মোকাম এলাকায় নৌকা চালায়নি। ফলে বদর মোকাম এলাকায় জেগে উঠা চরে নৌকা আটকে ডুবির ঘটনা ঘটছে।

দালাল কারা: নৌকার মাঝি ও দালাল চক্র হলো- শাহপরীর দ্বীপের দক্ষিনপাড়ার আমান উল্লাহ মাঝি, ছলিম উল্লাহ, শামশুল আলম, কবির আহমদ ওরফে কবিরা, মো. আলম, মো. ইসলাম, নূর হাকিম মাঝি, নবী হোসেন, আবু তাহের, কোরবান আলী, মোহাম্মদ হোছেন, ডাংগর পাড়া ও মাঝেরপাড়ার আজগর আলী ,ছৈয়দ আলম, মো. মন্নান ,সব্বির আহম্মদ, মোহাম্মদ আলম, আব্দু শুকুর, নজির আহমদ, রাজু মিয়া, আহাম্মদ হোসেন, আমির হামজা, আমান উল্লাহ, করিম উল্লাহ, হাফেজ উল্লাহ, অছিউর রহমান, মোহাম্মদ আমিন, রহিম উল্লাহ, হাফেজচ্ছা মাঝি, মোহাম্মদ রফিক, মুজিব উল্লাহ, মো. মান্নান, মো. কালাম, ইসমাইল, মিস্ত্রিপাড়ার মো. ছলিম প্রকাশ লম্বা সলিম, এনায়েত উল্লাহ, রশিদ আমিন, মোহাম্মদ আমিন, শরিফ হোসেন, নূর হোসেন, নাজির হোসেন, নূরুল উল্লাহ, ডেইল পাড়ার মোহাম্মদ ইসমাইল , মোহাম্মদ আবদুল্লাহ,জসিম উদ্দীন, কোনা পাড়ার আবদুল হাই, মোহাম্মদ তৈয়ুব, মোহাম্মদ শহীদ, উত্তরপাড়ার মোহাম্মদ ইউনুছ প্রকাশ বাইল্ল্যা,মো. ছৈয়দ, জিয়াবুল, সামশুল আলম, জিয়াউর রহমান, জালিয়াপাড়ার সামশুল আলম ওরফে শামীম কাশুর, আকবর ওরফে মাইলু, শফি আলম, কামাল হোসেন, আবদুল গণি, আবদুর রশিদ, মোহাম্মদ হোসেন, সৈয়দ হোসেন, নুর মোহাম্মদ, নুরুল আলম, মো. ফজল করিম, আবু তাহের, নাজির হোসেন, নুর হোসেন, মো. জামাল, আবদুল্লাহ, আনু মিয়া ও আবদুল করিমের নেতৃত্বে নাফনদী ও সাগর উপকূল দিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ করছে বাংলাদেশে।




সচল হয়েছে টেকনাফ-মংডু সীমান্ত বাণিজ্য

 

টেকনাফ প্রতিনিধি:

ফের সচল হয়েছে টেকনাফ স্থল বন্দর। এক মাস ২০ দিন বন্ধ থাকার পর টেকনাফ-মংডু সীমান্ত বানিজ্য চালু হয়েছে। সীমান্ত বানিজ্যের আওতায় গতকাল মংডু থেকে ২০ মেট্টিক টন চাল নিয়ে একটি ট্রলার টেকনাফ স্থল বন্দরে আসে। গত ২৫ আগস্ট রাখাইনে সহিংসতা শুরু হওয়ার পর থেকে টেকনাফ-মংডু সীমান্ত বানিজ্য বন্ধ ছিল। ফলে গত মাসে টেকনাফ স্থল বন্দরের রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়নি। তবে আকিয়াবের সাথে কিছু কিছু বানিজ্য চালু ছিল।

এদিকে সহিংসতা শুরুর পর আটকা পড়েছিল মিয়ানমারের ৪৪ জন মাঝিমাল্লা ও ১৩টি ট্রলার। তার মধ্যে ৪টি ট্রলার ও ১২ জন মাঝিমাল্লা মিয়ানমারে ফিরে গেছেন বলে জানান টেকনাফ স্থল বন্দরের সহকারী ম্যানেজার আনোয়ার হোসাইন। গত ২৫ আগস্টের পর থেকে রাখাইনের মংডু এলাকার উক্ত মাঝি-মাল্লারা পন্য নিয়ে এসে টেকনাফে আটকা পড়েছিল।

মংডু থেকে আসা চাউলের আমদানীকারক মেসার্স জিন্নাহ এন্ড ব্রাদার্স এর স্বত্বাধিকারী শওকত আলী জানান, দেড় মাসের বেশী সময় ধরে মংডুর সাথে বানিজ্য বন্ধ ছিল। মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ অনুমতি দেওয়ার ২০ মেট্টিক টন চালের প্রথম চালানটি টেকনাফ বন্দরে ভীড়ে। আমদানীকৃত চাল ইতিমধ্যে খালাস করা হয়েছে বলে জানান।

টেকনাফ স্থল বন্দর রাজস্ব কর্মকর্তা একেএম মোশারফ হোসেন জানান, গেল সেপ্টেম্বর মাসে টেকনাফ স্থল বন্দরের রাজস্ব আদায়ে ঘাটতি ছিল। মংডুর সাথে পুনরায় বানিজ্য চালু হওয়ায় চলতি মাসে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হবে। চলতি মাসে ৭ কোটি ৪ লাখ টাকা রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারন করা হয়েছে।




টেকনাফে ১০ হাজার পিস ইয়াবাসহ আটক ১

টেকনাফ প্রতিনিধি:

টেকনাফ পৌরসভার জালিয়াপাড়া থেকে ১০ হাজার পিস ইয়াবাসহ মো. আনোয়ার (৫৫) নামে এক ব্যবসায়ীকে আটক করেছে র‌্যাপিড এ্যকশন ব্যাট্যালিয়ন (র‌্যাব)। সে টেকনাফ পৌরসভার উত্তর জালিয়াপাড়া এলাকার আলী আহম্মদের ছেলে।

শনিবার (১৪ অক্টোবর) সকালে টেকনাফ ক্যাম্পের অধিনায়কের নেতৃত্বে জালিয়াপাড়ায় আনোয়ারের চায়ের দোকানে ক্রয় বিক্রয়ের সময় ইয়াবাসহ তাকে আটক করা হয়।  কক্সবাজার র‌্যাব-৭ এর অধিনায়ক মেজর রুহুল আমিন জানান, ইয়াবাসহ আটক ব্যক্তিকে টেকনাফ মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।




রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বন্যহাতির আক্রমণে ৪ রোহিঙ্গা নিহত

 

টেকনাফ প্রতিনিধি:

উখিয়া উপজেলার পালংখালী ইউনিয়নের বালুখালী রোহিঙ্গা ক্যাম্পের পাহাড়ি এলাকায় বন্যহাতির আক্রমণে মা-মেয়েসহ একই পরিবারের চারজন নিহত হয়েছেন। এরা হলেন পালংখালীর ১ নম্বর ওয়ার্ড বালুখালীর রোহিঙ্গা বস্তির গহীন পাহাড়ি এলাকায় বাস করা মো. ছিদ্দিকের স্ত্রী তাসলিমা বেগম (৩৫), তার মেয়ে রুবিনা আকতার (১১), সাবেকুন নাহার সাবুকা (৯) ও ছেলে মুহাম্মদ হামিম (৫)।

এসময় দুইজন আহত হয়েছেন। আহতরা হলেন, আহতরা হলেন মুহাম্মদ ছিদ্দিক (৪৫) ও তার দুই বছর বয়সী ছেলে কালা। আহত বাবা-ছেলেকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। শুক্রবার (১৩ অক্টোবর) দিবাগত রাত ১টার দিকে ক্যাম্পের গহীন পাহাড়ি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

ঘটনাস্থলে যাওয়া উখিয়া থানার পরিদর্শক মিজান বলেন, খবর পেয়ে শনিবার দুপুরে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। ঘটনাস্থল দুর্গম ও গহীন পাহাড়ি এলাকা। নিহতদের আশপাশে বসবাসকারী রোহিঙ্গারা জানায়, রাত পৌনে ১টার দিকে হাতির পাল আক্রমণ করে। এসময় তারা ঘুমাচ্ছিলেন। হাতিরপাল বাড়িটি শুঁড় দিয়ে ভাঙা শুরু করলে তাদের ঘুম ভাঙে। এসময় আতঙ্কিত হয়ে চিৎকার ও প্রতিহত করতে চাইলে হাতিরপাল আক্রমণ করে পায়ে চাপা দেয়।

এতে ঘটনাস্থলেই মা-মেয়ে-ছেলেসহ চারজন মারা যায়। অন্যরা বাসা থেকে বেরিয়ে দিগিবেদিক পালায়। বেলা ২টা পর্যন্ত মরদেহ ঘটনাস্থলেই ছিল। স্থানীয়ভাবে তাদের দাফনের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। বনবিভাগের বিট অফিসার মো. সাজ্জাদ হোসেন বলেন, হাতিরপাল ঝোপঝাড় ও হালকা পানি রয়েছে এমন জায়গা পছন্দ করে। এরা কচি বাঁশের পাতা ও কলাগাছ এবং বিভিন্ন বনজ লতাপাতা খায় এবং চলাচল করে রাতের বেলায়।

কিন্তু রোহিঙ্গার আবাস মহাসড়ক থেকে এখন প্রায় তিন থেকে পাঁচ কিলোমিটার ভেতরে ঢুকে যাওয়ায় নির্বিচারে ঝোপঝাড় ও লতাপাতা কেটে ফেলা হয়েছে। এতে অভয়ারণ্য হারিয়ে চলাচলের পথে হাতিরপাল সামনে যা পায় তাতে আক্রমণ করে। এছাড়া কুপি কিংবা চুলার আগুন দেখলে বিচলিত হয় হাতিরপাল। তাই হাতির আক্রমণে মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছে বলে মনে করেন তিনি।

পালংখালী ইউপির বালুখালী ১ নং ওয়ার্ডের মেম্বার ও প্যানেল চেয়ারম্যান আফসার উদ্দিন চৌধুরী জানান, বালুখালী অস্থায়ী শিবির ও কুতুপালং ক্যাম্পের পাহাড়ি এলাকার ঝুপড়ি বাড়িতে বন্যহাতির আক্রমণে শিশুসহ চারজনের প্রাণহানি ঘটেছে। ভাঙচুরের কবলে পড়েছে অসংখ্য রোহিঙ্গা ঝুপড়ি ঘর।




বন্ধ হয়ে গেছে টেকনাফ-মংডু সীমান্তবাণিজ্য

পার্বত্যনিউজ ডেস্ক:

টেকনাফ ও মিয়ানমারের মংডুর মধ্যে সীমান্তবাণিজ্য অঘোষিতভাবে বন্ধ হয়ে গেছে। গত ২৪ আগস্ট থেকে মংডু শহর থেকে টেকনাফ স্থলবন্দরে সীমান্ত বাণিজ্যের কোনো পণ্য আসেনি। মংডু টাউনশিপ থেকে পণ্য নিয়ে এসে মিয়ানমারের ১৩টি কার্গো ট্রলার এবং ৪৪ জন রোহিঙ্গা মাঝি-মাল্লা টেকনাফ স্থলবন্দরে আটকা পড়েছেন। তবে স্বল্প পরিসরে চলছে টেকনাফ-আকিয়াব সীমান্তবাণিজ্য।

মংডু টাউনশিপের কর্তৃপক্ষ ব্যবসায়ীদের টেকনাফ বন্দরে মালামাল আনতে দিচ্ছে না। সেই সাথে আমদানি-রফতানিকারকদের যাতায়াতও বন্ধ রয়েছে। তবে আকিয়াব (সিটওয়ে) থেকে যৎসামান্য পণ্য আমদানি হয়েছে। রফতানি বাণিজ্যের চিত্র আরো শোচনীয়। মিয়ানমারের মংডু কর্তৃপক্ষ একতরফা ও অঘোষিতভাবে ব্যবসায়িক কার্যক্রম বন্ধ রাখায় রাজস্ব আয়ে ধস নেমেছে বলে জানা গেছে। টেকনাফ স্থলবন্দর কাস্টমস সেপ্টেম্বর মাসে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে পারেনি। আগে যেখানে টেকনাফ স্থলবন্দরে প্রতি মাসেই জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) নির্ধারিত মাসিক রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করার পরও কয়েক কোটি টাকা বেশি আয় হতো, সেখানে সেপ্টেম্বর মাসে রাজস্ব আয় নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার কাছাকাছিও পৌঁছতে পারেনি।

জানা যায়, বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তবাণিজ্যের এই পয়েন্টটি ‘টেকনাফ-মংডু বর্ডার ট্রেড’ নামে পরিচিত ও পরিচালিত। ১৯৯৫ সালের ৫ সেপ্টেম্বর টেকনাফ ও মংডু টাউনশিপে পৃথকভাবে আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়েছিল। সেই থেকে উভয় দেশের বন্ধুসুলভ সম্পর্ক উন্নয়নের পাশাপাশি বাণিজ্য সম্প্রসারণ করে দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছে ‘টেকনাফ-মংডু বর্ডার ট্রেড’। তা ছাড়া বেকারদের কর্মসংস্থানেরও সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। কিন্তু আরাকানে (বর্তমান নাম রাখাইন স্টেট) সেনা অভিযান শুরুর পর থেকে বাংলাদেশের পক্ষে কোনো বিধিনিষেধ আরোপ করা না হলেও অঘোষিত ও একতরফাভাবে টেকনাফ স্থলবন্দরের সাথে মংডুর সীমান্তবাণিজ্য বন্ধ করে দেয় মিয়ানমার সরকার। এতে টেকনাফ স্থলবন্দর ব্যবহারকারী আমদানি-রফতানিকারক, সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট, শত শত শ্রমিক আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি সরকার প্রতিদিন মোটা অঙ্কের রাজস্ব আয় থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

১২ অক্টোবর বিকেলে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বন্দরে আগের সেই কর্মচাঞ্চল্য নেই। কিছু ভুয়া পণ্য ও কাঠ আসছে মংডুর বাইরে থেকে। বন্দরের বহির্নোঙরে জাহাজজট নেই। শ্রমিকদের কোলাহল নেই। রাজস্ব আয়সহ আমদানি-রফতানির কাহিল অবস্থা। স্থলবন্দর কাস্টমস সূত্র জানান, আগে প্রতি মাসে প্রায় শত কোটি টাকার পণ্য আমদানি-রফতানি হতো। সেখানে সেপ্টেম্বর মাসে ১৪১টি বিল অব এন্ট্রির মাধ্যমে আমদানি হয়েছে মাত্র ২৮ কোটি ৪৭ লাখ ২২ হাজার ৬৬২ টাকার পণ্য। এতে রাজস্ব আয় হয়েছে মাত্র ৫ কোটি ৬৭ লাখ ১৬১ টাকা। এ মাসে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) নির্ধারিত মাসিক রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৬ কোটি ৮২ লাখ টাকা। নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১ কোটি ১৪ লাখ ৯৯ হাজার ৮৩৯ টাকা কম আয় হয়েছে।

রফতানি বাণিজ্যের চিত্র আরো শোচনীয়। আগে প্রতি মাসে কয়েক কোটি টাকার শতাধিক চালানে বিভিন্ন প্রকারের বাংলাদেশী পণ্য টেকনাফ স্থলবন্দর দিয়ে মংডু টাউনশিপে রফতানি হতো। কিন্তু সেপ্টেম্বর মাসে মাত্র ১৬টি চালানে ৩৭ লাখ ৯১ হাজার ৮৯২ টাকার সাত প্রকারের বাংলাদেশী পণ্য রফতানি হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে চারটি চালানে ২৫ লাখ ৬০ হাজার ৮৩ টাকার ৪৪.৪৮ মেট্রিক টন বাংলাদেশী গেঞ্জি, তিনটি চালানে ১ লাখ ৫৬ হাজার ৯৬০ টাকার ১.৯২ মেট্রিক টন মানুষের চুল, তিনটি চালানে ৯ হাজার ৮১০ টাকার ০.০৮ মেট্রিক টন শুঁটকি মাছ, দুইটি চালানে ৭ লাখ ৩ হাজার ৫০ টাকার ৫.৯ মেট্রিক টন ফাইস্যা মাছ, একটি চালানে ৩০ হাজার ৬৫৬ টাকার ০.৭৫ মেট্রিক টন চিপস, দুইটি চালানে ২ লাখ ৬৯ হাজার ৭৭৫ টাকার ০.৮২৫ মেট্রিক টন ফিসিপলেটস, একটি চালানে ৬১ হাজার ৫৫৮ টাকার ১.৫ মেট্রিক টন জুট ব্যাগ।

তবে কোরবানির ঈদের মাস হওয়ায় গবাদিপশু আমদানি খাতে আয় ভালো হয়েছে। ঈদের আগে থেকেই বৈধ ও অবৈধ পথে গবাদিপশু এসেছে অনেক। মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে গবাদিপশু আমদানির জন্য টেকনাফের হ্নীলা ও শাহপরীর দ্বীপ দুইটি ক্যাডল করিডোর রয়েছে। তন্মধ্যে হ্নীলা করিডোর দিয়ে কোনো গবাদিপশু আমদানি হয়নি। শাহপরীর দ্বীপ ক্যাডল করিডোর দিয়ে সেপ্টেম্বর মাসে গবাদিপশু আমদানি হয়েছে ৯ হাজার ৯৪২টি। এর মধ্যে ৬ হাজার ৯৪৬টি গরু, ৪৩০টি মহিষ, ২ হাজার ৫৬৬টি ছাগল। প্রতিটি গরু ও মহিষ ৫০০ টাকা এবং ছাগল ২০০ টাকা হারে এ খাতে মোট রাজস্ব আয় হয়েছে ৪২ লাখ ১ হাজার ২০০ টাকা।

এ দিকে টেকনাফ-মংডু সীমান্তবাণিজ্যের আওতায় মংডু টাউনশিপ থেকে পণ্য নিয়ে এসে মিয়ানমারের ১৩টি কার্গো ট্রলার এবং ৪৪ জন রোহিঙ্গা মাঝিমাল্লা টেকনাফ স্থলবন্দরে আটকা পড়েছেন। মিয়ানমারের আরাকান রাজ্যে ২৪ আগস্ট রাতে সহিংস ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে এরা ভয়ে গত এক মাসেরও বেশি সময় ধরে স্বদেশে ফিরতে পারছেন না বলে জানা গেছে। মিয়ানমার নাগরিক ৪৪ জনের মধ্যে ৪৩ জনই মুসলমান এবং একজন হিন্দু। এদের সকলের বাড়ি মিয়ানমারের মংডু টাউনশিপের নোয়াপাড়া, উকিলপাড়া, নাপিতের ডেইল, সুধাপাড়া, খাঁরিপাড়া, ফয়েজিপাড়া, মন্নিপাড়া এবং দুই সহোদরের বাড়ি বলিবাজার গ্রামে।

আটকে পড়াদের একজন মংডু টাউনশিপের নোয়াপাড়া গ্রামের বাসিন্দা মৃত আমির হামজার ছেলে জামাল হোসেন মাঝি (৬০)। তিনি বলেন, ‘আমরা ২৪ আগস্ট মংডু থেকে ১৩টি কার্গো ট্রলারে মালামাল বোঝাই করে ৪৪ জন মাঝিমাল্লা টেকনাফ স্থলবন্দরে আসি। মালামাল খালাস করে ২৫ আগস্ট মংডুতে ফিরে যাওয়ার কথা ছিল। বাণিজ্যের মালামালও যথাসময়ে খালাস হয়েছিল। কিন্তু রাতে সহিংস ঘটনার কারণে ভয়ে দেশে ফিরে যাইনি। বন্দর কর্তৃপক্ষ, কাস্টমস ও টেকনাফের ব্যবসায়ীরা আমাদের যথেষ্ট দেখাশুনা করছেন, খোঁজখবর রাখছেন। মোবাইল ফোনে পরিবারের সাথে আমাদের নিয়মিত যোগাযোগ রয়েছে। কয়েকজনের পরিবার পালিয়ে বাংলাদেশে চলে এসেছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘আমরা সাধারণ মাঝিমাল্লা। আমরা যাদের মালামাল নিয়ে বাংলাদেশে এসেছিলাম তারা মংডু টাউনশিপের বড় বড় ব্যবসায়ী। তাদের মধ্যে মুসলমান ও রাখাইন উভয়ই রয়েছেন। তারা মংডু এলাকার ধনী লোক। তারা আমাদের মোবাইল ফোনে জানিয়েছেন বিষয়টি লিখিতভাবে ঊর্র্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। কিন্তু এখনো রিপোর্ট আসেনি। রিপোর্ট এলে ও নিরাপত্তার নিশ্চয়তা পেলে স্বদেশে ফিরে যাব।’

টেকনাফ স্থলবন্দরের জিএম জসিম উদ্দিন বলেন, ‘আকিয়াব থেকে কিছু পণ্য আসছে। ২৪ আগস্টের পর মংডু থেকে কোনো পণ্য আসেনি। কবে পুনরায় আসা শুরু হবে তার কোনো নিশ্চয়তা পাওয়া যাচ্ছে না। তা ছাড়া গত বছরের অক্টোবর থেকে টেকনাফ স্থলবন্দরের ইমিগ্রেশন শাখা বন্ধ রয়েছে। মিয়ানমারের ১৩টি কার্গো ট্রলার এবং ৪৪ জন রোহিঙ্গা মাঝিমাল্লার ২৪ আগস্ট থেকে আটকে পড়ার কথা নিশ্চিত করে বলেন, ‘বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ এবং স্থানীয় প্রশাসনকে অবহিত করা হয়েছে। আগামী কিছু দিনের মধ্যে মংডু থেকে মালামাল আসা শুরু হবে বলে শোনা যাচ্ছে’।

সূত্র: নয়া দিগন্ত




টেকনাফে কোটি টাকার ইয়াবা উদ্ধার

 

টেকনাফ প্রতিনিধি:

টেকনাফে বিজিবি সদস্যরা অভিযান চালিয়ে পরিত্যক্ত অবস্থায় ৮৬লাখ টাকা মূল্যমানের ২৮হাজার ৬শ ৯০পিস ইয়াবা বড়ি উদ্ধার করেছে। ১০ অক্টোবর রাতের প্রথম প্রহরে টেকনাফ ২বিজিবি ব্যাটালিয়নের নাজিরপাড়া বিওপির হাবিলদার মো. নজরুল ইসলাম গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিশেষ টহলদল টেকনাফ সদর ইউনিয়নের দক্ষিণ জালিয়াপাড়ার মাঠে ইয়াবা ক্রয় বিক্রয়ের সংবাদ পেয়ে অভিযানে যায়।

কিছুক্ষণ পর একটি ব্যাগ নিয়ে একজন লোক আসতে দেখে চ্যালেঞ্জ করা মাত্র ব্যাগটি ফেলে পালিয়ে যায়। ঘটনাস্থল হতে ব্যাগটি উদ্ধার করে ব্যাটালিয়ন সদরে নিয়ে গণনা করে ৮৬লাখ ৭হাজার টাকা মূল্যমানের ২৮হাজার ৬শ ৯০পিস ইয়াবা বড়ি পাওয়া যায়।

টেকনাফ ২ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্ণেল এসএম আরিফুল ইসলাম জানান, উদ্ধারকৃত ইয়াবাগুলো ব্যাটালিয়ন সদরে জমা রাখা হয়েছে। যা পরবর্তীতে ধ্বংস করা হবে।




প্রাণে বাচাঁতে সাঁতার কেটে নাফ নদী পাড়ি দিয়ে পালিয়ে আসলেন ১১ রোহিঙ্গা

টেকনাফ প্রতিনিধি:

মিয়ানমারে সেনাবাহিনীর নির্যাতন থেকে প্রাণে বাঁচতে সাঁতার কেটে নাফনদী পাড়ি শাহপরীরদ্বীপ সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করে ১১ রোহিঙ্গা যুবক। ১১ অক্টোবর সকাল ৭টায় মিয়ানমার ওপাড় থেকে সাঁতার কাটা শুরুকরে সাড়ে ৯টায় বাংলাদেশে কোস্ট র্গাড তাদেরকে উদ্ধার করে শাহ পরীর দ্বীপ জেটিতে নিয়ে আসে।কোস্টগার্ড শাহপরীর দ্বীপের স্টেশন কমান্ডার লে. জাফর ইমাম সজীব জানান, তেলের খালি ড্রাম নিয়ে সাঁতার কেটে ১১ জন রোহিঙ্গা যুবক বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের চেষ্টা করেছিলেন। এসময় কোস্টগার্ড তাদেরকে দেখতে পেয়ে তাদেরকে উদ্ধার করেন।

তিনি আরো জানান, এদের মধ্যে পাঁচ জন নাফ নদীর পাড়ের কাছাকাছি চলে আসলেও অপর ছয় জন দূরে ছিলেন এবং তারা ক্লান্ত হয়ে যান।

সাতাঁর কেটে আসা যুবক হামিদ হোছেন বলেন, তারা ১১ জন ১৫ বছরের নিচে তিন শিশুসহ মিয়ানমারের নাইক্ষ্যংদিয়া থেকে নৌযান না পেয়ে সাঁতার কেটে বাংলাদেশে আসছিল। টানা আড়াই ঘণ্টা তারা সাঁতার কাটে বাংলাদেশের সীমানায় পৌঁছে।

উদ্ধার হওয়া ১১ জনকে কোস্টগার্ড বিজিবি কাছে হস্তান্তর করেছে।




ফের বেড়েছে রোহিঙ্গা স্রোত: আরও আসার অপেক্ষায়

 

টেকনাফ প্রতিনিধি:

কিছুদিন বিরতির পর আবারো বাংলাদেশে দিকে আসতে শুরু করেছে রোহিঙ্গারা। ফের নতুনভাবে শুক্রবার সকাল থেকে শনিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত মিয়ানমারের আরকানের মংডু শহরের সাতটি মুসলিম মহল্লায় অগ্নিসংযোগ করেছে মিয়ানমার সেনা সদস্যরা।

এতে পুড়ে গেছে অন্তত ৪ শতাধিক ঘর-বাড়ি । এতে কোন হতাহতের ঘটনা জানা যায়নি।

শাহপরীরদ্বীপ সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গারা জানায়, মংডু শহরের সিনেমা হলের পূর্ব পাশের মুসলিম মহল্লা, নয়াপাড়া, পূর্ব পাড়া, পশ্চিম পাড়া ও সুন্দরী পাড়ায় আগুন দেয় আইন-শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং মংডু শহরের উত্তর দিকে মাঙ্গালা পাড়ায় আগুন দেয় সেনা সদস্যরা। এ সময় অগ্রবৌদ্ধরা রাখাইনরা মুসলিম বিরোধী শ্লোগান দেয়।

তারা বলছেন, মুসলিম রোহিঙ্গাদের জাতিগত নিধন করতে মিয়ানমার বাহিনীর নৃশংসতা শুরু হওয়ার পর থেকে অধিকাংশ রোহিঙ্গা মুসলিম আগেভাগে প্রাণ বাঁচাতে বাংলাদেশ পালিয়ে এসেছেন। যা

রা সাহস করে থেকে গিয়েছিল, এবার তাদের উপর শুরু হয়েছে নির্যাতন। যাতে তারাও পৈত্রিক ভিটেমাটি ছাড়তে বাধ্য হন।

নতুন আসা রোহিঙ্গারা বলছেন, মংডু সুধা পাড়ার দশ হাজার রোহিঙ্গাকে ঘিরে রেখেছে মিয়ানমার সেনাবাহিনী এবং তাদের গ্রামে আগুন দিয়েছে । সাথে চলছে নির্যাতন, দেখা দিয়েছে খাদ্য সংকটও। এজন্য তারা প্রাণে বাঁচতে বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছেন।

শুক্রবার রাতে টেকনাফ পৌর এলাকা থেকে আগুনের লেলিহান শিখা প্রত্যক্ষ করেছে সীমান্তের অধিবাসিরা। এছাড়া গোদাম পাড়া নামক একটি স্থানে নদীর পাশে প্রায় ১০ হাজার রোহিঙ্গাকে কয়েকদিন ধরে ঘিরে রেখেছে সেনাবাহিনী। সেখানে কাপড় ও পলিথিন দিয়ে ছোট ছোট তাবু বানিয়ে তারা অবস্থান করছে।

সেনাবাহিনী তাদেরকে কোথাও যেতে দিচ্ছেনা। আবার তাদের কাছে থাকা মোবাইল ও দা-চুরি কেড়ে নিচ্ছে তারা। সেখানে থাকা রোহিঙ্গাদের খাদ্য ও পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। শুক্রবার গোপনে সেখানে থাকা এক রোহিঙ্গা তার আত্মীয়দের কাছে একটি ভিডিও পাঠিয়ে এ অবস্থার বর্ণনা দেন। এখন তাদেরকে নিয়ে সেনাবাহিনী কি করবে তা নিয়ে তারা শংকিত রয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সংখ্যাগরিষ্ঠ রোহিঙ্গা অধ্যুষিত মংডু অঞ্চলের ৯০ ভাগ গ্রাম রোহিঙ্গা শূন্য হয়ে পড়েছে। এসব গ্রামের ৭০ ভাগ বসতি আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দিয়েছে উগ্রপন্থী বৌদ্ধ ও দেশটির সেনারা। রোহিঙ্গাদের ছেড়ে যাওয়া কিছু কিছু উন্নতমানের দ্বিতল কাঠের বাড়িঘর অক্ষত রাখা হয়েছে। সেসব দখলে নিচ্ছে স্থানীয় বৌদ্ধ রাখাইনরা।

বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তের নাফ নদের উপকূলে এখনো হাজারো রোহিঙ্গা বাংলাদেশে প্রবেশের অপেক্ষায় রয়েছেন। টেকনাফ সীমান্ত দিয়ে প্রশাসন নজরদারী বৃদ্ধি ও স্থানীয় মানব পাচারকারী দালালদের উপর অভিযান পরিচালিত হওয়ায় কয়েকদিন ধরে টেকনাফ শাহপরীর দ্বীপ দিয়ে রোহিঙ্গা আসা কমেছিল। ফের রোহিঙ্গাদের উপর সহিংসতা শুরু হওয়ায় অনুপ্রবেশ বেড়েছে।

আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইএমও) বলছে, গত কয়েকদিন গড়ে ১২’শ রোহিঙ্গা ঢুকছে। তবে গত ৭ অক্টোম্বর একদিনে ঢুকছে প্রায় ৭’শ জন রোহিঙ্গা। কর্মকর্তারা আরো দাবী করেছেন, মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশমুখী জনস্রোত এখনও থামেনি। এখনও কয়েক লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আসার অপেক্ষায় রয়েছে।

তবে স্থানীয়দের দাবি দিন দিন পরিস্থিতি ভয়াবহ হচ্ছে । সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে রোহিঙ্গা আসার হার কমে আসছিল। মিয়ানমারের মন্ত্রীর ঢাকা সফরের পর পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলে আশা করা হচ্ছিল। কিন্তু পরিসংখ্যান বলছে ভিন্ন কথা। অক্টোবরে আবারো সীমান্তে রোহিঙ্গা স্রোত বাড়ছে। এত দিনে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশের সংখ্যা সাড়ে ছয় লাখে গিয়ে দাঁড়িয়েছে।

এ ব্যাপারে টেকনাফ ২ বিজিবির অধিনায়ক লে.কর্ণেল এসএম আরিফুল ইসলাম জানান, গত দুদিনে শাহপরীর দ্বীপ এলাকা দিয়ে রোহিঙ্গারা প্রবেশের চেষ্টা করে। এসময় পাচারকারী দালালের নৌকা জব্দ করা হয়েছে। রোহিঙ্গা আসা কিছুতা কমেছে। বাস্তবে বিজিবি কর্মকর্তা এমন কথা বললেও সীমান্ত দিয়ে দলে দলে গতকাল প্রায় ৭ শতাধিক রোহিঙ্গা এসেছে।

উল্লেখ্য, মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে ২৫ আগস্ট থেকে শুরু হওয়া রোহিঙ্গা নিধন এখনো অব্যাহত রয়েছে। সেই উদ্দেশ্যে চলছে রোহিঙ্গাদের বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগ।