জুড়াছড়িতে শুরু হয়েছে চাকমা ভাষায় শিক্ষাপ্রদান সংক্রান্ত প্রশিক্ষণ

নিজস্ব প্রতিনিধি :
রাঙ্গামাটির জুরাছড়িতে প্রাথমিক পর্যায়ের শিক্ষকদের চাকমা ভাষায় শিক্ষা প্রদান সংক্রান্ত প্রশিক্ষণ শুরু হয়েছে। রাঙ্গামাটি জেলা পরিষদের অর্থায়নে ৩৩ জন শিক্ষককে নিয়ে ১৪ দিন ব্যাপী প্রশিক্ষণ কার্যক্রম মঙ্গলবার জুরাছড়ি শিক্ষা বিভাগের আয়োজনে উদ্বোধন করা হয়েছে।

জানা যায়, প্রশিক্ষণ উদ্ভোধন অনুষ্ঠানে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আশিষ কুমার ধরের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ও উদ্বোধক ছিলেন রাঙ্গামাটি জেলা পরিষদ সদস্য জ্ঞানেন্দু বিকাশ চাকমা।

বনযোগীছড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুগত চাকমার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জুরাছড়ি রিসোর্স সেন্টারের ইনস্ট্রাক্টর মো. মোর্শেদুল আলম, পানছড়ি ভূবনজয় মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও জুরাছড়ি প্রধান শিক্ষক সমিতির সভাপতি নিত্যানন্দ চাকমাসহ বরকল উপজেলাধীন ৮ জন প্রাথমিক শিক্ষক এবং জুরাছড়ি উপজেলাধীন ২৬ জন শিক্ষক প্রশিক্ষণার্থী উপস্থিত ছিলেন।

এসময় প্রধান অতিথি বলেন, বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার সহযোগিতায় আজ পার্বত্যাঞ্চলে মাতৃভাষা ‘চাকমা’ অক্ষরের মাধ্যমে আজকের শিশুরা চাকমা ভাষায় অক্ষর জ্ঞান অর্জন করবে। কিন্তু এর জন্য প্রয়োজন শিক্ষকদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ। তাই জেলা পরিষদ এ প্রশিক্ষণের উদ্যোগ নিয়েছে।




জুমের আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গেল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়

jurasari
নিজস্ব প্রতিনিধি :

রাঙ্গামাটির জুরাছড়িতে জুমের আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে পেকপাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়। বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি দয়া রঞ্জন চাকমা বলেন, বৃহস্পতিবার বিকালে জুমের আগুন থেকে এ আগুনের সূত্রপাত।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ঘটনার দিন স্কুলের কয়েক কিলোমিটার দূরে একটি জুমে আগুন দেওয়া হয়। সে আগুন জুম এলাকা ছাড়িয়ে ছড়িয়ে পড়ে চারদিকে। বেলা সাড়ে ৩টার দিকে জুমের আগুন এসে লাগে পেকপাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। বাতাসের গতিবেগ বেশি থাকায় মহুর্তের মধ্যে আগুন লেলিহান শিখা বিদ্যালয়ে ছড়িয়ে পড়ে। আগুনের তেজ বেশি থাকায় গ্রামবাসীরা সামনে এগোতে পারেননি। ফলে মুহুর্তের মধ্যে বিদ্যালয়ের সব কিছু পুড়ে ছাই হয়ে যায়।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রূপেন্দু চাকমা ও সভাপতি দয়া রঞ্জন চাকমা জানান, মুহুর্তের মধ্যে আগুন লেলিহান শিখা বিদ্যালয়ে ছড়িয়ে পড়ার কারণে আসবাবপত্র ও দাপ্তরিক কোন কাগজপত্র রক্ষা করা সম্ভব হয়নি।

উল্লেখ্য ২০১০ সালে বিদ্যালয়টি এলাকাবাসী ও ইউএনডিপি-সিএইচটিডিএফ মৌলিক শিক্ষা কর্মসূচীর আওয়াতায় স্থাপন করা হয় এবং বিগত ২০ ফেব্রুয়ারী এ বিদ্যালয়টি জাতীয়করণ করা হয়েছে।




টেকনাফে আন্তর্জাতিক কাস্টমস দিবস পালিত

টেকনাফ প্রতিনিধি:

টেকনাফে আন্তর্জাতিক কাস্টমস দিবস পালিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল ১০ টার দিকে ”আমরা বিশ্বের সাথে সংযোগ স্থাপন করি” এ প্রতিপাদ্য নিয়ে একটি র‌্যালি টেকনাফ পৌরসভার প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে।

র‌্যালিতে অংশ নেন ইউনাইটেড ল্যান্ডপোর্ট’র এজিএম জসিম উদ্দিন, স্থলবন্দরের সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা দেবাশীস কুন্ডু, আফছার উদ্দিন ও রফিকুল ইসলাম, স্থলবন্দরের সিএন্ডএফ এজেন্ট ও বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মো. আবুল হাশেম সিআইপি,আবু আহমদ, শওকত আলী চেীধূরী, মো. সেলিম সিআইপিসহ কর্মকর্তা কর্মচারীবৃন্দ।




৯৫ পিস ইয়াবাসহ জুরাছড়ি থেকে কমেন চাকমা নামের এক যুবক আটক

news-pc-copy

রাঙামাটি প্রতিনিধি:

রাঙামাটি জুরাছড়ি উপজেলায় নিরাপত্তাবাহিনী অভিযান চালিয়ে ইয়াবাসহ কমেন চাকমা নামের এক যুবককে আটক করেছে। আটককৃত কমেন চাকমা (২৪) জুরাছড়ি ইউনিয়নের ডেবাছড়া গ্রামের কিরন জয় চাকমার কনিষ্ঠ ছেলে বলে জানা গেছে।

বুধবার জুরাছড়ি উপজেলা লঞ্চ ঘাটে রাঙামাটি থেকে আসা একটি  লঞ্চে সন্দেহভাজন কমেন চাকমাকে তল্লাশি চালালে তার কাছে ৯৫ পিস ইয়াবা পাওয়া যায়। পরে তাকে আটক করে জুরাছড়ি থানায় নিয়ে যায় পুলিশ।

জুরাছড়ি যক্ষা বাজার সেনাক্যাম্পের সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার মো: আউয়াল ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, নিরাপত্তাবাহিনী কর্তৃক আটককৃত কমেন চাকমাকে পুলিশের হাতে তুলে দেয়া হয়েছে।

জুরাছড়ি থানার এসআই আলমগীর জানান, আটককৃত কমেন চাকমাকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। বৃহস্পতিবার তাকে আদালতে হাজির করে রিমান্ডের আবেদন করা হবে বলেও জানান তিনি।




জুরাছড়িতে আওয়ামী লীগের ৫ নেতা যে কোন মুহুর্তে বহিস্কার

নিজস্ব প্রতিনিধি:

রাঙামাটি জুরাছড়ি উপজেলায় আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগটনের গুরুত্বপূর্ণ ৫ নেতা যে কোন মহূর্তে বহিস্কার করা হতে পারে। রোববার নির্বাচন পর্যালোচনা ও দলীয় বর্ধিত সভায় দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে ইউপি নির্বাচনে প্রতীপক্ষ দলকে সহযোগীতা করা ও নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীদের অসহযোগীতা কায় এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে দলটির নির্ভর যোগ্য সূত্রে জানা গেছে।

বহিস্কারের তালিকায় আছেন, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক প্রমথ কান্তি চাকমা, যুগ্ম সম্পাদক অনিল কুমার কাব্বারী, কৃষক লীগের সভাপতি কেতন চাকমাসহ যুব লীগের ১ জন ও ছাত্র লীগের ১ জন রয়েছে।

রোববার সকাল থেকে রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের বিশ্রামাগারে দলীয় কর্মীদের নিয়ে রুদ্দদ্বার সভায় এমন সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। সভায় আওয়ামী লীগের সভাপতি প্রবর্তক চাকমার সভাপতিত্বে রাঙ্গামাটি আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা সদস্য বন বিহারী চাকমা, কালা চান চাকমা, রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য জ্ঞানেন্দু বিকাশ চাকমা, আওয়ামী লীগের সিনিয়র সভাপতি চারু বিকাশ চাকমা, যুব রীগের সভাপতি সুমতি বিকাশ দেওয়ান, মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি কল্পিতা চাকমাসহ ইউনিয়ন কমিটির নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন বলে জানা গেছ।




জুরাছড়িতে শান্তিপূর্ণ ভোট গ্রহণ শেষ চলছে গণনা

IMG_9606 copy

নিজস্ব প্রতিনিধি:

রাঙামাটি জুরাছড়ি উপজেলায় শান্তিপূর্ণভাবে ভোট গ্রহণ সম্পন হয়েছে। প্রতিটি কেন্দ্রে এখন ভোট গণনা চলছে। শনিবার উপজেলায় চার ইউনিয়নে ৩৬টি ভোট কেন্দ্রে কোন প্রকার অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।

সকালে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. লিয়াকত আলী ও রিটানিং অফিসার স্মৃতি ময় চাকমা জুরাছড়ি ও বনযোগীছড়া ইউনিয়নের ১৮টি ভোট কেন্দ্র পরিদর্শন করেন। এ সময় তারা সাধারণ ভোটারদের সাথে কৌশল বিনীময় করেন।

অন্যদিকে রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য জ্ঞানেন্দু বিকাশ চাকমা আমতলী মাধবছড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ভুবন জয় সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের ভোট কেন্দ্র পরির্দশন করেন। এছাড়া তিনি আমতলী মাধবছড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভোট কেন্দ্রে ভোট প্রদান করেন।




রাঙামাটির জুড়াছড়িতে জেএসএস ছাড়া অন্য প্রার্থীদের নির্বাচনী কার্যক্রম নিষিদ্ধ

index

নিজস্ব প্রতিনিধি :

আগামীকাল ৪ জুন জুরাছড়ি উপজেলায় ইউপি নির্বাচন। অথচ উপজেলা সদরে কিছু মাইকিং লক্ষ করা গেলেও গ্রামে সে আমেজ ছিল না। অভিযোগ রয়েছে জনসংহতি সমিতি সমর্থিত(স্বতন্ত্র) প্রার্থী ছাড়া অন্য কোনো প্রার্থীর গ্রামে গ্রামে নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা নিষিদ্ধ করেছে সংগঠনটি। তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে উপজেলা জেএসএসের সাধারণ সম্পাদক সমিত চাকমা।

এমন পরিস্থিতির মধ্যেও এবারের নির্বাচনে জনসংহতি সমিতির দুর্গে হানা দিয়ে জুরাছড়ি সদর ও মৈদং ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদ ছিনিয়ে নিতে সর্বচেষ্টা চালাচ্ছে আওয়ামী লীগ।

তবে অঞ্চলিক সংগঠন জেএসএসের নাম ভাঙ্গিয়ে অজ্ঞাত কিছু সন্ত্রাসী জনসাধারণকে আওয়ামী লীগের প্রচার সভায় যোগদানে বাঁধা ও তাদের সমর্থকদের দুর্গম এলাকায় নিয়ে ভয়-ভীতি ও হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে প্রার্থী ও নেতাকর্মীদের অভিযোগ রয়েছে। আ.লীগ নেতারা জনসাধারণের নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে প্রশাসনের নিরব ভূমিকায় উদ্বেগ প্রকাশ করছেন।

উপজেলা আওয়ামী লীগের সূত্রে জানা যায়, শেখ হাসিনার স্বাক্ষরিত দলীয় মনোনয়নে জুরাছড়ি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রার্থী মহিলা আওয়ামী লীগের সম্পাদিকা মিতা চাকমা ও মৈদং ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক লাল বিহারী চাকমা চেয়ারম্যান পদে প্রতিদন্দ্বিতা করছেন।

জুরাছড়ি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রার্থী মিতা চাকমার প্রতিদন্দ্বী জনসংহতি সমিতির সমর্থিত (স্বতন্ত্র) ক্যানন চাকমা ও স্বতন্ত্র প্রার্থী জাপানী বিজয় দেওয়ান।

মৈদং ইউনিয়নের আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান প্রার্থী লাল বিহারী চাকমার প্রতিদন্দ্বী জনসংহতি সমিতির সমর্থিত (স্বতন্ত্র) সাধনা নন্দ চাকমা হেডম্যান) ও স্বতন্ত্র প্রার্থী মঙ্গল বিকাশ চাকমা।

মৈদং ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী লাল বিহারী চাকমা মুঠো ফোনে জানান, পার্বত্য আঞ্চলিক সংগঠন জেএসএসের নাম ভাঙ্গিয়ে অজ্ঞাত কিছু দুর্বৃত্ত সাধারণ ভোটারদের মধ্যে আতংক সৃষ্টির চেষ্টা করছে। তবে তারা এতে সফল হবে না। জনগণ আগামীকাল ভোটের মাধ্যমে জনগণ এর জবাব দেবেন।

জানা গেছে, রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য জ্ঞানেন্দু বিকাশ চাকমার নেতৃত্বে দলীয় প্রার্থীদের জয়ী করতে গত বুধ ও বৃহস্পতিবার ঘিলাতলী, শিলছড়ি বাজারে নির্বাচনী সভা করতে গেলে জনসাধারণকে আওয়ামী লীগের সভায় যোগদানে বাঁধা দেয় অজ্ঞাত সন্ত্রাসীরা।

এছাড়া স্থানীয় হেডম্যান ও কার্বারীদের মুঠোফোনে আওয়ামী লীগের সভা না যেতে হুমকি দেওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেন আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা।

শিলছড়ি নির্বাচনী পথসভায় এ উদ্বেগ প্রকাশ করেন আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা। এ সময় উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি প্রর্বতক চাকমা, যুব লীগের সভাপতি সুমতি বিকাশ দেওয়ান, এড়াইছড়ি মৌজার হেডম্যান রিতেশ চাকমা, মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি কল্পিতা চাকমা, ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি জ্ঞান মিত্র চাকমাসহ ২০জন দলীয় নেতা-কর্মী উপস্থিত ছিলেন।




পার্বত্য চট্টগ্রামের উন্নয়নে সকলকে একসাথে কাজ করতে হবে- প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

141870_1

নিজস্ব প্রতিবেদক:

সরকার পার্বত্যাঞ্চলের মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে কাজ করছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, পার্বত্য এলাকার মানুষের জীবনমান উন্নত করতে আমরা বিভিন্ন কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। ইতোমধ্যে শান্তিচুক্তির মাধ্যমে সে অঞ্চলে সংঘাত বন্ধ করেছি। নানা অবকাঠামো উন্নয়ন করেছি। আর যেটুক বাকি আছি, আমরা সব করে দেবো।

এসময় প্রধানমন্ত্রী পার্বত্য শান্তিচুক্তির পুরোপুরি বাস্তবায়নে সব পক্ষকে এক হয়ে কাজ করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, এ অঞ্চলে সবাই যেন শান্তিতে বসবাস করতে পারে সে লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে। এক্ষেত্রে সব পক্ষকে কাজ করতে হবে। তারা আমাদের স্বজন, আমাদের লোক। তাদের দেখাশোনা তো আমাদেরই করতে হবে।

রোববার (৮ মে) সকালে রাজধানীর বেইলী রোডে পার্বত্য চট্টগ্রাম কমপ্লেক্সের ভিত্তি ফলক উন্মোচন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতা করছিলেন প্রধানমন্ত্রী। বেইলী রোডের অফিসার্স ক্লাব সংলগ্ন দুই একরের নির্ধারিত স্থানে পার্বত্য চট্টগ্রাম কমপ্লেক্স ভবন গড়ে ওঠবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ কমপ্লেক্সে এসে পার্বত্য অঞ্চলের মানুষ যেন বুঝতে পারে, এটাই তাদের এলাকা। সেভাবেই এই কমপ্লেক্স করা হচ্ছে।

শেখ হাসিনা বলেন, আমরা বাংলাদেশকে এগিয়ে  নিয়ে যাচ্ছি। পার্বত্যাঞ্চলের উন্নয়নেও কাজ করছি। এ অঞ্চলে পর্যটকরা যেন আরও বেশি আকৃষ্ট হন, সেজন্য ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এই অঞ্চলের উন্নয়নে আমরা নজর দিয়েছি। পার্বত্য চট্টগ্রামে আমরা রাস্তা করে দিয়েছি, চাষাবাদের ব্যবস্থা করে দিয়েছি। ব্রিজ করেছি। একহাজার কিলোমিটার রাস্তা করেছি, বিদ্যুৎ দিয়েছি। ৮৫৯ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছি প্রত্যকে ঘরের বিদ্যুৎ পৌঁছানোর জন্য। কারিগরি প্রতিষ্ঠান করে দিয়েছি, যেন ছেলেমেয়েরা শিক্ষা নিতে পারে।

তিনি স্মরণ করেন, পার্বত্যাঞ্চলে একসময় সংঘাত ছিল। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে সেই সংঘাত বন্ধে শান্তিচুক্তি করেছে। অথচ বিএনপি সেই শান্তিচুক্তির বিরোধিতা করেছিল। তারা হরতাল ডেকেছিল।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, পার্বত্য শান্তিচুক্তির অংশ হিসেবে যখন অস্ত্র সমর্পণের আয়োজন করা হয়, তখন বিএনপি হরতাল ডাকে। তারা বলেছিল অস্ত্র সমর্পণ কর‍া যাবে না। বিএনপি নেত্রী সেসময় বলেছিলেন, এই চুক্তি হলে নাকি ফেনী থেকে পুরো পার্বত্যাঞ্চল ভারতের নিয়ন্ত্রণে চলে যাবে। দেশের ভেতর থেকেই এই চুক্তির বিরোধিতা হয়েছে। কেন হয়েছে তাও জানি না, তবু সেই চুক্তি হয়েছে। পার্বত্যাঞ্চলে শান্তি ফিরেছে।

‘আমাদের সঙ্গে পাহাড়ি অঞ্চলের মানুষের সুসম্পর্ক ছিল এবং আছে। যে কারণে শান্তিচুক্তি করা সম্ভব হয়েছিল। ১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর শান্তিচুক্তি হয়েছিলো। যদিও শান্তিচুক্তি এতো সহজ ছিলো না। পাহাড়ি অঞ্চলে রক্ষক্ষয়ী সংঘর্ষে হয়েছে। এখন সেই পরিস্থিতি নেই। শান্তিচুক্তির অধিকাংশ ধারা আমরা বাস্তবায়ন করেছি।‘

শান্তিচুক্তি হলেও ২০০১ বিএনপি ক্ষমতায় এসে পার্বত্য অঞ্চলে মোবাইল নেটওয়ার্ক দেয়নি উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কেন নেটওয়ার্ক দেয়নি জানি। আমরা ক্ষমতায় এসে সেখানে মোবাইল নেটওয়ার্কের ব্যবস্থা করেছি।

‘স্বাধীনতার পর জাতির পিতা চারবার সেখানে গিয়েছিলেন। তিনিও পার্বত্য অঞ্চলের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। আমরাও পার্বত্য অঞ্চলকে গুরুত্ব দিয়ে কাজ করে যাচ্ছি। পার্বত্য অঞ্চলে নতুন নতুন ইউনিয়ন ও উপেজেলা করে দিচ্ছি। যেন ওই অঞ্চলে মানুষ সহজে সেবা পেতে পারে।’

অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সংসদ উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী, গণপূর্তমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী বীর বাহাদুর, প্রমুখ।

 




জুমের আগুনে পুড়ছে পাহাড় ও ধ্বংস হচ্ছে জীববৈচিত্র্য

Bandarban
স্টাফ রিপোর্টার :
পার্বত্যাঞ্চলের পাহাড় ও জীববৈচিত্র্য ধংস হচ্ছে জুমের আগুনে। প্রতিবছর (ফাল্গুন-চৈত্র) অর্থাৎ মার্চ থেকে এপ্রিল পর্যন্ত জুম চাষের জন্য গাছ কেটে পরিষ্কার করে আগুন লাগানো শুরু করে জুমচাষিরা। আর এ আগুনে ধ্বংস হচ্ছে পাহাড় ও জবিবৈচিত্র্য।

জুম চাষের জন্য নতুন নতুন জমিতে জুম চাষের নামে পাহাড়ে বিভিন্ন প্রজাতির গাছ-পালা নির্বিচারে কেটে ফেলা হচ্ছে। ফলে এসব এলাকায় দিন দিন পানীয় জলের সংকট দেখা দিচ্ছে। বৃহস্পতিবার (১০ মার্চ) জুরাছড়ি উপজেলায় দুর্যোগ প্রস্তুতি দিবসের আলোচনায় বক্তারা এসব একথা বলেন।

বক্তারা আরো বলেন, পাহাড়ী এলাকায় সচেতনতার অভাবে ফাল্গুন মাসে জুমের অগ্নি শিখায় নিজের বসতি ঘর ও বন্যপ্রাণীসহ প্রাণ হারাতে হয় অনেককেই। পাহাড়ে নির্বিচারে গাছ-পালা কাটা বন্ধ ও জুমে আগুন দেওয়ার আগে বাড়ির নিরাপত্তার বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে।

“দুর্যোগে পাবো না ভয়-দুর্যোগকে আমরা করবো জয়” প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে সকালে র‌্যালী, আলোচনা সভা ও চিত্রাংকন প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলা সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা কাজী মাসুদুর রহমান সভাপতিত্ব করেন।

সভায় প্রধান অতিথি রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য জ্ঞানেন্দু বিকাশ চাকমা, বিশেষ অতিথি পানছড়ি ভূবন জয় সরকারি মডেল প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা রিতা চাকমা, সাংবাদিক সুমন্ত চাকমা উপস্থিত ছিলেন।




জুরাছড়ি মডেল প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণ

স্টাফ রিপোর্টার :
ছাত্র-ছাত্রীদের মানসিক বিকাশে লেখা-পড়ার পাশাপাশি খেলাধুলার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। সুতরাং শিশুদের ইচ্ছাকে প্রাধান্য দিয়ে ছাত্র-ছাত্রীদের মানসিক বিকাশে প্রতিফলন করার সুযোগ করে দিতে হবে। বৃহস্পতিবার (১০ মার্চ) জুরাছড়ি পানছড়ি ভূবন জয় সরকারি মডেল প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি বক্তব্যে রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য জ্ঞানেন্দু বিকাশ চাকমা একথা বলেন।

তিনি আরো বলেন, বর্তমান সরকার শিক্ষার মান উন্নয়নে বিভিন্ন কর্মসূচী বাস্তবায়ন করছে। সরকার শিক্ষকদের বেতন ভাতার বৃদ্ধির পাশাপাশি সকল প্রাথমিক বিদ্যালয়কে জুনিয়র স্কুলে পর্যায় ক্রমে রূপান্ত করা হচ্ছে।

এ সময় বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সহ-সভাপতি বন বিহারী চাকমার সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি জুরাছড়ি ভাপরপ্রাপ্ত প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আশিষ কুমার ধর, দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সাধারণ সম্পাদক তপন কান্তি দে, থানা এএসআই মো. আলমগীর, প্রধান শিক্ষক নিত্যানন্দ চাকমাসহ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ও অভিবাবকগণ উপস্থিত ছিলেন।