রামগড়ের কামরুন্নাহার মৌসুমীর ইউজিসি’র প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদক লাভ

Ramgarh 23.3.17 copy

রামগড় প্রতিনিধি:

খাগড়াছড়ির রামগড়ের কৃতি সন্তান কামরুন্নাহার মৌসুমী সিলেট কৃষি বিশ্ব বিদ্যালয় থেকে বিশ্ব বিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের(ইউজিসি) প্রদত্ত মর্যাদাপূর্ণ ‘প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণ পদক’ লাভ করেছেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাত থেকে তিনি  এ পদক ও সনদপত্র গ্রহণ করেন।

বুধবার ঢাকার তেজগাঁয়ে অবস্থিত প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের শাপলা হলে আনুষ্ঠানিকভাবে মর্যাদাপূর্ণ এ স্বর্ণ পদক প্রদান করা হয়। ২০১৩ ও ২০১৪ সালে সিলেট কৃষি বিশ্ব বিদ্যালয়ের সাতজন কৃতি শিক্ষার্থী এ পদক লাভ করেন। ২০১৪ সালের স্বর্ণ পদক প্রাপ্ত চার কৃতি শিক্ষার্থীর মধ্যে কামরুন্নাহার মৌসুমীকে সেরাদের সেরা হিসাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজের হাতে এ স্বর্ণ পদক  তার গলায় পরিয়ে দেন।

কামরুন্নাহার মৌসুমী রামগড় পৌরসভার দক্ষিণ গর্জনতলী এলাকার বাসিন্দা ও চৌধুরিপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক মো. আব্দুর রব এবং  উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের ভিজিটর লায়লা নুরের কন্যা। তিনি ২০০৬ সালে রামগড় বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি এবং কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্ট স্কুল এন্ড কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করার পর সিলেট কৃষি বিশ্ব বিদ্যালয়ে ভর্তি হন। তিনি ২০১৪ সালে সিলেট কৃষি বিশ্ব বিদ্যালয়ে প্রথম স্থান অধিকারী শিক্ষার্থীর কৃতিত্ব অর্জন করেন।

মৌসুমী বলেন, মা, বাবাসহ সকলের দোয়ায় তিনি মর্যাদাপূর্ণ এ পদক লাভ করেছেন। ভবিষ্যতে তিনি সিলেট বিশ্ব বিদ্যালয়েই শিক্ষকতা করতে চান। এছাড়া কৃষির উন্নয়নে গবেষণা কাজে নিয়োজিত হতেও ইচ্ছুক। মৌসুমী সকলের কাছে দোয়া চেয়েছেন।

বুধবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত পদক ও সনদপত্র প্রদান অনুষ্ঠানে বিশ্ব বিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আব্দুল মান্নান সভাপতিত্ব করেন। অনুষ্ঠানে শিক্ষা মন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ, মন্ত্রী পরিষদ সদস্য, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা, সরকারী পদস্থ কর্মকর্তা, প্রাইভেট বিশ্ব বিদ্যালয়ের উপাচার্যগণ উপস্থিতি ছিলেন।

দেশের প্রতিটি পাবলিক ও প্রাইভেট বিশ্ব বিদ্যালয়ে স্নাতক পর্যায়ে প্রতিটি অনুষদে সর্বোচ্চ নম্বর প্রাপ্ত মেধাবী শিক্ষার্থীদের প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণ পদক প্রদান করে বিশ্ব বিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন।




চুক্তি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে তিন জেলা পরিষদের কাছে ৮৮টি দপ্তর হস্তান্তর

জাতীয় সংসদ

পার্বত্যনিউজ ডেস্ক :

পার্বত্য শান্তিচুক্তি বাস্তবায়নের অংশ হিসাবে সরকার এ পর্যন্ত তিন পার্বত্য জেলায় মোট ৮৮টি বিভাগ বা দপ্তর স্ব স্ব জেলা পরিষদের কাছে হস্তান্তর করেছে। মঙ্গলবার সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভায় এ তথ্য জানানো হয়।

সভায় জানানো হয়, শান্তিচুক্তি ও পার্বত্য জেলা পরিষদ আইন অনুযায়ী এরই মধ্যে রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদে ৩০টি, খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদে ৩০টি এবং বান্দরবন পার্বত্য জেলা পরিষদে ২৮টি বিভাগ বা দপ্তর হস্তান্তর করা হয়েছে।

কমিটির সভাপতি র. আ. ম. উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় উপস্থিত ছিলেন কমিটির সদস্য পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী বীর বাহাদুর উ শৈ সিং, কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা, উষাতন তালুকদার, ফিরোজা বেগম (চিনু) এবং এম, এ, আউয়াল।

এছাড়াও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিবসহ, মন্ত্রণালয় ও সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ সভায় উপস্থিত ছিলেন।




পার্বত্যাঞ্চলে পর্যটনকে আকর্ষণীয় করতে তিনদিনব্যাপী বাইক প্রতিযোগিতা

17440236_10211342230846796_1701626761_n

পার্বত্যনিউজ ডেস্ক :
পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে আয়োজন করা হয়েছে তিনদিনব্যাপী বাইক প্রতিযোগিতা। ‘ট্যুর দ্য সিএইচটি মাউন্টেন বাইক’  শিরোনামের এ প্রতিযোগিতা ২৪ মার্চ সকালে রাঙামাটির বাঘাইছড়ির সাজেক থেকে শুরু হয়ে তিনদিনে ২৫০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে ২৬ মার্চ বান্দরবানের নীলগিরিতে গিয়ে শেষ হবে।

একজন নারীসহ মোট ৪২ জন প্রতিযোগী এতে অংশ নেবেন বলে জানিয়েছেন পার্বত্য চট্টগ্রাম-বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব নববিক্রম কিশোর ত্রিপুরা।

বুধবার সচিবালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও জানান, পার্বত্য চট্টগ্রামে প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ট্যুর দ্য সিএইচটি মাউন্টেন বাইক প্রতিযোগিতা। মূলত তরুণদের উৎসাহ দেওয়া এবং পার্বত্য চট্টগ্রামের পর্যটনকে আরও আকর্ষণীয় করাই এই প্রতিযোগিতার মূল উদ্দেশ্য।

22-03-17

তিন দিনের এই প্রতিযোগিতা ২৪ মার্চ সাজেকে উদ্বোধন করবেন খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কংজুরি চৌধুরী। দ্বিতীয় দিনে (২৫ মার্চ) খাগড়াছড়ি শহর থেকে এটি শুরু হয়ে শেষ হবে রাঙামাটি শহরে। শেষ দিনে (২৬ মার্চ) রাঙামাটি শহর থেকে শুরু হয়ে বান্দরবান শহর হয়ে নীলগিরিতে গিয়ে শেষ হবে। একই দিন বিকেলে বান্দরবান স্টেডিয়ামে বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হবে।

 




ঢাকায় উপজাতি যুবকের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার

নিজস্ব প্রতিনিধি:

রাজধানীর কাফরুলের সেনপাড়া এলাকা থেকে অংহ্লা খেয়াং(২৮) নামের এক উপজাতি যুবকের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে রবিবার রাত ১০টার দিকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে পুলিশ।

কাফরুল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. সফিকুল ইসলাম জানান, রবিবার বিকাল ৪টার দিকে সেনপাড়া পর্বতার ৪৪৮ নং বাসার নিচতলার একটি কক্ষ থেকে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় গলায় গামছা প্যাঁচানো অংহ্লা খেয়াংয়ের লাশ উদ্ধার করা হয়।

জানা যায়, পার্বত্য চট্টগ্রামের চন্দনাইশ থানার উত্তর ডুবাছড়ি বাজার এলাকার সাজাই খৈয়াংয়ের ছেলে অংহ্লা খেয়াং। চাকরি খোঁজার উদ্দেশ্যে  ১৬ মার্চ সকালে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় বন্ধু উংসিং মারমার বাসায় আসে সে।

রবিবার সকালে তাকে ঘরে রেখে তার বন্ধু ও বন্ধুর ছোট দুই ভাই বাইরে যান। দুপুরে তারা ফিরে এসে দেখেন বাসার ভেতর থেকে বন্ধ। তখন অনেক ডাকাডাকি করেও কোনও সাড়া পাওয়া যায়নি। পরে জানালা দিয়ে তারা দেখেন ফ্যানের সঙ্গে গামছা দিয়ে অংহ্লা ঝুলে আছেন। থানায় খবর দেওয়া হলে পুলিশ এসে লাশ উদ্ধার করে।




জেএসএস সামরিক শাখার থার্ড ইন কমান্ড ধন বিকাশ চাকমা ১২ লাখ টাকাসহ গ্রেফতার

u mong ৩

পার্বত্যনিউজ রিপোর্ট:

পার্বত্য চট্টগ্রামের রাজনৈতিক সংগঠন জনসংহতি সমিতির (জেএসএস) সামরিক শাখার থার্ড ইন কমান্ড  ধনবিকাশ চাকমা (৬০) ওরফে উ মংকে তার ‍দুই সহযোগীসহ আটক করেছে র‌্যাব। তাদের কাছ থেকে প্রায় ১২ লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। রোববার (১৯ মার্চ) ভোরে তাদের চট্টগ্রামের হাটহাজারী থেকে আটক করা হয়েছে।

সূত্রে জানা গেছে, র‌্যাব-৭ এর ডিএডি মো. শহীদুল্লাহর নেতৃত্বে একটি টিম রবিবার বিকেলে চট্টগ্রামের হাটহাজারী থানা এলাকায় ডিউটিরত থাকাকালে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারে, বান্দরবান থেকে পার্বত্য চট্টগ্রাম জন সংহতি সমিতির সশস্ত্র শাখার একটি দল খুন, গুম, অপহরণ ও চাঁদাবাজির বিপুল পরিমাণ টাকাসহ মাইক্রোবাসে করে চট্টগ্রামের দিকে আসছে।

এ খবরের ভিত্তিতে ডিএডি মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে হাটহাজারী থানাধীন বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন নিউ শাহজাহান হোটেলের সামনে চেকপোস্ট বসিয়ে গাড়ি তল্লাশী শুরু করে।এই তল্লাশীকালে বিকাল সাড়ে চারটার দিকে চট্টগ্রামের দিক থেকে একটি কালো রঙের মাইক্রোবাস আসতে থাকলে তারা থামানোর সঙ্কেত দেয়। এতে মাইক্রোবাসটি চেকপোস্টের সামনে থামে এবং গাড়ির দরজা খুলে তিন/চারজন যাত্রীবেশী জেএসএস সন্ত্রাসীরা বেরিয়ে দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করে।

ppppppppppppppppp

এসময় র‌্যাব সদস্যরা তাদের চেজ করে আটক করতে সক্ষম হয়। আটককৃতরা হলো, ধনবিকাশ চাকমা, পিতা- মৃত বীরেন্দ্র চাকমা, মাতা- মায়াবী চাকমা, বাড়ি- পানখাইয়া পাড়া, খাগড়াছড়ি; প্রেম রঞ্জন চাকমা(৩২), পিতা- সুন্দর মণি চাকমা, বাড়ি- পূনর্বাসন পাড়া, বান্দরবান সদর এবং রুবেল বাবু তঞ্চঙ্গা, পিতা- রাজ্য মোগহন তঞ্চঙ্গা, বাড়ি- বিলাইছড়ি রাঙামাটি।’

সূত্রমতে, আটককালে ধনবিকাশ চাকমার হাতে রক্ষিত কালো রঙের একটি ব্যাগ ও সকলের পোশাকের বিভিন্ন পকেট তল্লাশী করে ১ হাজার টাকা, ৫০০ টাকা ও ১০০ টাকার বেশ কয়েকটি বান্ডিল উদ্ধার করা হয়। এসব বান্ডিলে প্রায় ১২ লক্ষ টাকা পাওয়া যায়।

গ্রেফতারকৃতরা র‌্যাবের জিজ্ঞাসাবাদে নিজেদের পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির সামরিক শাখার সদস্য বলে স্বীকার করে এবং আটককৃত টাকা বান্দরবান থেকে জনসংহতি সমিতির নামে খুন, অপহরণ, গুমের ভয় দেখিয়ে চাঁদাবাজির মাধ্যমে আয় করা বলে র‌্যাবের কাছে দেয়া স্বীকারোক্তিতে জানিয়েছে।

গ্রেফতারকৃত তিন জনের নামে র‌্যাব বাদী হয়ে পেনাল কোড আইনের ৩৮৬ ও মানি লন্ডারিং আইনে হাটহাজারী থানায় মামলা দায়ের করেছে।

lllllllllllllllllllll

র‌্যাবের চট্টগ্রাম জোনের অধিনায়ক লে.কর্ণেল মিফতা উদ্দিন আহমেদ বলেন, ধনবিকাশের নেতৃত্বে জনসংহতি সমিতির একটা গ্রুপ চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অপরাধের সঙ্গে যুক্ত।  সর্বশেষ তারা আওয়ামী লীগের এক নেতাকে অপহরণ করেছে।  ধনবিকাশ বান্দরবানের পাহাড়ে সব ধরনের অপরাধে নেতৃত্ব দেয়। ধনবিকাশের দুই সহযোগী হলেন, প্রেমরঞ্জন চাকমা ও রুবেল তঞ্চঙ্গ্যা। চাঁদাবাজির প্রায় ১২ লাখ টাকা নিয়ে তারা বান্দরবান থেকে চট্টগ্রাম নগরীতে আসছিল বলে জানিয়েছেন মিফতা।

এদিকে ধনবিকাশ চাকমার গ্রেফতারে বান্দরবান জেলাবাসীর মধ্যে আনন্দ স্বস্তির ভাব পরিলক্ষিত হয়েছে। এ ঘটনায় জেলার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থার মধ্যে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। তার বিরুদ্ধে বান্দরবান জেলার বিভিন্ন থানায় বেশ কয়েকটি মামলা রয়েছে বলে তারা জানিয়েছে।

স্থানীয় গোয়েন্দা সূত্রের খবর, পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির সামরিক শাখার প্রধানের নাম লক্ষী প্রসাদ ওরফে রাজা, দ্বিতীয়জনের নাম অসীম বাবু, তৃতীয় জনের নাম ধনবিকাশ চাকমা  এবং চুতর্থ শীর্ষ নেতার নাম সত্যবীর দেওয়ান, তিনি জেএসএসর বিচারক হিসাবে পরিচিত। কার বিরুদ্ধে কি ব্যবস্থা নেয়া হবে জেএসএসে তিনি তা নির্ধারণ করেন। ইতোপূর্বে অস্ত্র মামলায় তার ১৭ বছরের জেল হয়েছিল। কিন্তু ২ বছর জেল খাটার পর বেরিয়ে ভারতে পালিয়ে যায়।

প্রথম দুইজন এবং চতুর্থজন ভারতের ত্রিপুরায় অবস্থান করে বাংলাদেশে অপারেশন পরিচালনা করে। সে হিসাবে ধনবিকাশ চাকমা জেএসএসের বাংলাদেশে অবস্থানকারী শীর্ষ নেতা। তার নেতৃত্বে বান্দরবানে জেএসএসের চারটা সামরিক শাখা পরিচালিত হয়। এর একটি প্রধানের নাম কাজল, দ্বিতীয়টির প্রধানের নাম বিধান, তৃতীয় শাখার প্রধানের নাম মৈত্রী, চতুর্থটির প্রধানের নাম এস মং।

kjjoj

ধনবিকাশ চাকমা বান্দরবানে উ মং ওরফে ক্ষেত্র বাবু, ওরফে বড়বাবু নামেও পরিচিত। তিনি তার চারটি সশস্ত্র শাখা ব্যবহার করে বান্দরবানে জেএসএসের সকল সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, অপহরণ, খুন, গুম, টেন্ডারবাজি নিয়ন্ত্রণ করতেন। কোথায় বা কোন কাজে কতটাকা চাঁদা নিতে হবে, কার বিরুদ্ধে কি ব্যবস্থা নিতে হবে তাও তিনি নির্ধারণ করে দিতেন। বিভিন্ন ব্যক্তি মালিকানাধীন ও সরকারী বাগানের চাঁদা এবং চাঁদা না দিলে সে সকল বাগান দখল নিয়ে বিক্রি করে দিতেন তিনি।

বান্দরবানের আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আদালতের মাধ্যমে তার নামে দায়ের করা মামলায় বান্দরবানে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করার পরিকল্পনা করেছে বলে জানিয়েছে।

ধনবিকাশ চাকমার ব্যাপারে জানতে বান্দরবান জেলা জেএসএসের কয়েকজন শীর্ষ নেতার মোবাইলে ফোন করা হলেও তাদের ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।




শান্তি চুক্তির ফলে পাহাড়ে ফিরেছে শান্তি: প্রধানমন্ত্রী

Bandarban mp pic-1.3

নিজস্ব প্রতিবেদক, বান্দরবান:

তিন পার্বত্য জেলা এক সময় অশান্ত পরিবেশ ছিল। আওয়ামী লীগ সরকার শান্তি চুক্তির পর পাহাড়ে সত্যিই শান্তি ফিরে এসছে। বুধবার ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে বান্দরবান জেলার দুর্গম থানচি উপজেলার বিদ্যুতায়ন প্রকল্প উদ্বোধনের সময় এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, পাহাড়ে মোবাইল নেটওয়ার্ক না থাকায় মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে পারতো না। আওয়ামী লীগ সরকার নেটওয়ার্কের অনুমতি দিয়ে মোবাইল ফোন ব্যবহারের সুযোগ করে দিয়েছে।

তিনি বলেন, বিদ্যুত প্লান্টের জন্য পার্বত্য চট্টগ্রামে ৬০০ কোটি টাকা বরাদ্ধ দেয়া হয়েছে। এছাড়া যেসব জায়গায় বিদ্যুৎ লাইন যাওয়া কষ্টকর সেসব জায়গায় ৪৬ হাজার সোলার প্যানেল বিতরণ করা হবে। পাহাড়ের সার্বিক অর্থনৈতিক উন্নয়নে আমরা ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, থানচিসহ বিভিন্ন এলাকায় স্কুলগুলোকে আবাসিক স্কুল তৈরি করে দেয়া হবে।  ছেলে মেয়েরা যাতে মন দিয়ে পড়ালেখা করতে পারে সেজন্য আবাসিক স্কুল করে দেয়া হবে।

২৪ কোটি ৬৪ লাখ ৪২ হাজার টাকা ব্যয়ে নির্মিত থানচি বিদ্যুতায়ন প্রকল্প উদ্বোধনের সময় পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী বীর বাহাদুর, ৬৯ পদাতিক ব্রিগেড কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল যুবায়ের সালেহীন, বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ক্য শৈহ্লা, জেলা প্রশাসক দিলীপ কুমার বণিকসহ জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন ।




কুনিও হোশি হত্যায় পাঁচ জেএমবির ফাঁসি

169539_1

পার্বত্যনিউজ ডেস্ক:

রংপুরে জাপানি নাগরিক হোশি কুনিও হত্যা মামলার রায়ে ৫ জনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। এ মামলায় অপর এক আসামি খালাস পেয়েছেন। রংপুরের বিশেষ জজ নরেশচন্দ্র সরকার মঙ্গলবার সকালে চাঞ্চল্যকর এ মামলার রায় ঘোষণা করেন।

ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত পাঁচ আসামি হলেন, জেএমবির পীরগাছার আঞ্চলিক কমান্ডার মাসুদ রানা ওরফে মামুন ওরফে মন্ত্রী, জেএমবি সদস্য ইছাহাক আলী, লিটন মিয়া ওরফে রফিক, সাখাওয়াত হোসেন ও জেএমবি সদস্য আহসান উল্লাহ আনসারী ওরফে বিপ্লব। বিপ্লব বাদে বাকি দণ্ডপ্রাপ্ত ৪ আসামি কারাগারে আছেন। খালাসপ্রাপ্ত আসামি হলেন আবু সাঈদ।

২০১৫ সালের ৩ অক্টোবর রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার কাচু আলুটারি গ্রামে জাপানি নাগরিক কুনিও হোশিকে গুলি করে হত্যা করা হয়। তিনি সে এলাকায় গবাদি পশুর খাদ্য হিসেবে উন্নত মানের ঘাসের চাষ করতেন। ঘটনার দিনই কাউনিয়া থানার তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রেজাউল করিম বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তির নামে হত্যা মামলা করেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কাউনিয়া থানার বর্তমান ওসি আবদুল কাদের জিলানী ২০১৬সালের ৩ জুলাই নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন জামাআতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশের (জেএমবি) আট সদস্যের বিরুদ্ধে রংপুরের জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিমের আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। ১৫ নভেম্বর সাত আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন আদালত। অভিযোগপত্রে নাম থাকা দুই জেএমবি সদস্য ঢাকা ও রাজশাহীতে পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হওয়ায় ছয়জনের বিরুদ্ধে বিচারপ্রক্রিয়া চলে।




‘২০১৬ সালে ২৩ আদিবাসীকে হত্যা করা হয়েছে’

গাইবান্ধার এসপিকে খাগড়াছড়িতে বদলি করা হচ্ছে রাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় বুদ্ধিবৃত্তিক প্রতারণা- ড. মিজানুর রহমান

দদদদদদ

নিজস্ব প্রতিনিধি, ঢাকা:
‘দেশের সুপ্রিম কোর্টের বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের বিরুদ্ধে বিধি-নিষেধ থাকা সত্ত্বেও ২০১৬ সালে পার্বত্য চট্রগ্রাম এবং সমতল অঞ্চল মিলে কমপক্ষে ২৩ আদিবাসীকে হত্যা করা হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে ভয়ানক ও নৃশংস ঘটনা গাইবান্ধায় পুলিশের গুলিতে ৩ আদিবাসী সাঁওতালের হত্যাকাণ্ড’।

রবিবার ডেইলি স্টার ভবন মিলনায়তনে বাংলাদেশ আদিবাসীদের মানবাধিকার রিপোর্ট-২০১৬’র মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে বক্তারা এসব কথা বলেন। মানবাধিকারের সারসংক্ষেপ উপস্থাপন করেন কাপেং ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক পল্লব চাকমা।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. মিজানুর রহমান বলেন, ‘মানবাধিকার রিপোর্ট-২০১৬ গতবারের চেয়ে অনেক গুণগত ও উৎকর্ষ মানের তবে একজন ব্যক্তিরও যদি মানবাধিকার লঙ্ঘন হয় তাহলে সেটি সকল জনগণের মানবাধিকার লঙ্ঘনের পথ প্রশস্ত করেছে’।

তিনি বলেন, ‘আদিবাসীদের মানবাধিকার রক্ষা করতে না পারলে দেশের সার্বিক মানবাধিকার পরিস্থিতির উন্নয়ন হবে না।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রফেসর ড. মিজানুর রহমান বলেন, এদেশের আদিবাসীরা জনগণ থেকে অজনগণে পরিণত হচ্ছে। তাদের সংখ্যাশূন্য করা হচ্ছে। আদিবাসীদের মানবাধিকার রক্ষা করতে না পারলে দেশের সার্বিক মানবাধিকারপরিস্থিতির কোন উন্নয়ন হবেনা। একজন ব্যক্তিরও যদি মানবাধিকার লঙ্ঘন হয় তাহলে সেটি সকল জনগণের মানবাধিকার লঙ্ঘনের পথকে প্রশস্ত করছে’।

তিনি বলেন, ‘আমরা একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে যে বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেছি, বঙ্গবন্ধুর চোখে যে বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেছি সেখানে ধর্ম, বর্ণ, জাতিগোষ্ঠী ভেদাভেদ ছিলনা। আজকে কেন তাহলে আদিবাসীদের অন্য চোখে দেখা হচ্ছে।আদিবাসীদের মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় কেন রাষ্ট্র যথাযথ ব্যবস্থা নিচ্ছেনা। বাংলাদেশ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সময় যে স্বপ্ন আমরা দেখেছিলাম সেটির বাস্তবায়ন না হলে আমাদের সোনার বাংলাদেশ রচিত হবেনা’।

তিনি আরো বলেন, ‘আমাদের স্বাধীনতার ঘোষনাপত্রেই বলা হচ্ছে সমতা, সামাজিক ন্যায়চিার, মানবসত্ত্বার মর্যাদা প্রতিষ্ঠার কথা। এবং এই তিনটির সমন্বিত রূপকেই আমরা মানবাধিকার বলছি। এখন এই মর্যদা রক্ষায় রাষ্ট্র কি তার সঠিক দায়িত্ব পালন করছে। করছে?

রাষ্টের জনগণকে রক্ষার দায়িত্ব যাদের হাতে সেই পুলিশরাই সাঁওতালদের ঘরে আগুন জ্বালাচ্ছে’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘গাইবান্ধার এসপিকে খাগড়াছড়িতে বদলি করা হচ্ছে রাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় বুদ্ধিবৃত্তিক প্রতারণা। রাষ্ট্রের উচিত যে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনার সাথে জড়িত তার বিচার, তদন্ত শেষ না পর্যন্ত তাকে তার কর্মথেকেও সাময়িক অব্যাহতি দেয়া উচিত এবং তদন্ত শেষ হলে যথোপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।’।

তিনি আরও বলেন, ‘একজন নাগরিকও যেন মনে না করে রাষ্ট্র তার প্রতি বিমাতা স্বরূপ আচরণ করছে এবং তার যা প্রাপ্য সেই প্রাপ্য থেকে বঞ্চিত করছে না। এ উপলব্ধি প্রত্যেক নাগরিকের মধ্যে থাকতে হবে। শুধুমাত্র তা হলেই একটি রাষ্ট্র মানবাধিকার বান্ধব রাষ্ট্রে পরিণত হবে’।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে নারী অধিকার কর্মী খুশী কবীর বলেন, ‘আমাদের দেশের মানবাধিকার নিঃসন্দেহে ভালো যাচ্ছেনা। কারণ এখানে মুক্ত চিন্তার মানুষদের হত্যা করা হচ্ছে, ভিন্ন সংস্কৃতি, ভাষাকে রাষ্ট্র গ্রহণ করতে পারছে না। এ অবস্থা থেকে আমাদেরকে উত্তোরণ হতে হবে। গাইবান্ধার যে এসপি সাঁওতালদের মানবাধিকার লঙ্ঘনের জন্য দায়ী এবং যিনি তদন্তের আওতাধীন আছেন তাকে কিভাবে খাগড়াছড়িতে বদলি করা হয়’। সরকারকে এর উপযুক্ত যুক্তি বা কারণ জানানোর জন্য তিনি আহ্বান জানান।

তিনি আরও বলেন, ‘ভাষার মাসে আমরা যদি শুধু বাংলা ভাষা নিয়ে গর্ব করি এবং অন্যদিকে এদেশেরই আদিবাসীদের ভাষাকে যদি রক্ষা না করি তাহলে তা আমাদের জন্যই লজ্জাজনক হবে বলে মনে করি। আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের যে তাৎপর্য সেটি আমরাই লঙ্ঘন করছি’।

বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের সাধারণ সম্পাদক সঞ্জীব দ্রং বলেন, ‘সরকার বলছে বাংলাদেশ মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হচ্ছে কিন্তু আমরা বুঝবো দেশ তখনি মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হবে যখন একজন সাঁওতাল বা একজন খাসিয়া বলবে আমরা ভাল আছি। তাহলেই আমরা বুঝবো দেশ এগিয়ে যাচ্ছে’।

তিনি আরও বলেন, ‘বাগদা ফার্মে যে ধরনের মানবাধিকার লঙ্ঘন ঘটেছে তা আমরা জাতীয় ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে দেখেছি কিন্তু সরকার বা কোন দল এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচারের জন্য কিছুই করেনি। তবে উচ্চ আদালত সরকারকে বারবার প্রশ্ন করে একটি সুষ্ঠু বিচার প্রক্রিয়া অব্যাহত রেখেছে’।

অক্সফামের সিনিয়র পলিসি অফিসার মেহবুবা ইয়াসমিন বলেন, ‘আদিবাসীদের মানবাধিকার রিপোর্ট এদেশের আদিবাসীদের মানবাধিকারের সত্যিকারের চিত্র বুঝতে আমাদের সহায়তা করছে। এ রিপোর্টের উপর ভিত্তি করে আমরাআদিবাসীদের মানবাধিকার পরিস্থিতি উন্নতীকরণে করনীয় সহজে ঠিক করতে পারি’।

সভাপতির বক্তব্যে রবীন্দ্রনাথ সরেন বলেন, ‘বাগদা ফার্মের ঘটনায় আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আদিবাসীদের আশ্বাস দিলেও তিনি এখনো কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি। এভাবেই আমরা দেখছি আদিবাসীদের উপর নির্যাতনেরঘটনায় কেউ সঠিক গুরুত্ব দিচ্ছেনা। আদিবাসীরা অভিযোগ করলেও সুষ্ঠু বিচার পাচ্ছেনা’।

গাইবান্ধার উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, ‘পুলিশ যখন আদিবাসীদের বিরুদ্ধে মামলা করলো তখন অনেক আদিবাসীকে তড়িৎ গ্রেফতার করা হলোকিন্তুআদিবাসী থমাস বাস্কে যখন মামলা করলো তখন কাউকেই ধরা হলোনা’।

তিনি আরো বলেন, ‘আদিবাসীরা এভাবে নির্যাতনের শিকার হয়ে এবং ন্যায়বিচার না পেয়ে দেশান্তরিত হতে বাধ্য হেচ্ছ। তাই আদিবাসীদের মানবাধিকার রক্ষায় সরকার যেখানে নির্লুপ্ত সেখানে আদিবাসীদেরকেই রাজপথের সংগ্রামকরতে হবে। আদিবাসীদের মাঝেও ধর্মের নামে যে বিভাজন তৈরির চক্রান্ত চলছে সে বিষয়ে সকলকে সচেতন হতে হবে;।

কাপেং ফাউন্ডেশনের চেয়ারপার্সন রবীন্দ্রনাথ সরেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন চৈতালি ত্রিপুরা ও সঞ্চালনা করেন ফাল্গুনী ত্রিপুরা এবং এ রিপোর্টটি সংক্ষিপ্তভাবে তুলে ধরেন কাপেং ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক ও মানবাধিকার রিপোর্টের অন্যতম একজন সম্পাদক পল্লব চাকমা।।

এসময় তিনি বলেন, ‘গতবছর সর্বমোট ২৩ জন আদিবাসীকে হত্যা করা হয়েছে। যার একটিরও ন্যায় বিচারআদিবাসীরা পায়নি। গতবছর ভূমি সংক্রান্ত হামলার ঘটনায় ৬ জন আদিবাসীকে হত্যা করা হয়েছে যার মধ্যে সমতলের ৫ জন ও পাহাড়ের ১ জন এবং ৮৪ জনকে জখম করা হয়েছে। ক্রমাগত জমি দখলের কারণে ৩১,৬৯৯পরিবারের জীবন ও জীবিকা হুমকির মধ্যে রয়েছে যার মধ্যে পার্বত্য চট্টগ্রামের ৬০৬ টি পরিবার এবং সমতলের ৩১,০৯৩ টি পরিবার।

এছাড়াও সমতলের আদিবাসীদের ১,২০৮ টি বাড়িঘর পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে গত ৬ নভেম্বর ২০১৬ তারিখে বাগদা ফার্মের জমি উদ্ধারের নামে স্থানীয় প্রশাসন পুলিশের সহায়তায় এবং ভাড়াটে গুন্ডাদের মাধ্যমে সাহেবগঞ্জ-বাগদা ফার্ম এলাকার সাঁওতাল ও গরীব বাঙালি কৃষকদের নিজ পৈতৃক ভূমি থেকে জোর করেউচ্ছেদ চেষ্টাকালে তিনজন সাঁওতাল আদিবাসীকে হত্যা করা হয়, ১২০০ আদিবাসী পরিবারের বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগ করা হয় যা আদিবাসীদের অসহায়ত্ব ও নিকৃষ্টতম মানবাধিকার লঙ্ঘনের জ্বলন্ত উদাহরণ।

২০১৬ সালে সারাদেশে আদিবাসী নারী ও কন্যা শিশুর প্রতি ৫৩টি ঘটনায় ৫৮ জন আদিবাসী নারী ও কন্যাশিশু শারীরিক ও যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছেন যার মধ্যে ৬ জন আদিবাসী নারী ও কন্যা শিশুকে হত্যা ও ধর্ষণের পরহত্যা করা হয়েছে। সংগঠিত ৫৩ টি ঘটনায় ৩০ জন ভিকটিম পার্বত্য চট্টগ্রামের এবং ২৮ জন সমতলের।

আদিবাসী শিশু ও যুবদের অধিকার বিভিন্ন ক্ষেত্রে মিশ্র উন্নয়ন হলেও তাদের শিক্ষা অধিকার বছর জুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল। সরকার পাঁচটি আদিবাসী ভাষায় মাতৃভাষা ভিত্তিক প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা চালু করলেও এটি বাস্তবায়নে যথেষ্ট পরিকল্পনার অভাব রয়েছ ‘ বলে তিনি অভিযোগ করেন।

১৯৯৭ সালে ২ ডিসেম্বর পার্বত্য চুক্তির মূল বিষয়গুলো বাস্তবায়িত না হওযার ফলে পার্বত্য চট্টগ্রামের পরিস্থিতির কার্যত এখনো তেমন কোনো উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়নি বলেও তিনি জানান।

তিনি আরো বলেন, ‘জাতীয় ও স্থানীয় উভয় পর্যায়ে সরকারি কর্মকর্তা এবং রাজনৈতিক দলগুলোর নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি ও মানসিকতা আদিবাসীদের প্রতি সরকারের আধিপত্যবাদী ও বৈষম্যমূলক দৃষ্টিভঙ্গিকেই প্রতিফলিত করে। ২০১৬ সালে অন্তত ১৯১জন আদিবাসী মানবাধিকার কর্মীর বিরুদ্ধে মিথ্যা ও সাজানো মামলা দায়ের করা হয়েছে। তার মধ্যে সমতলের ৪২ জন নিরীহ আদিবাসী গ্রামবাসী এবং পার্বত্য চট্টগ্রামের ৩ জন জনপ্রতিনিধিসহ ৮০ জন আদিবাসী মানবাধিকারকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং সমতলের ৪ জনসহ মোট ৮১ জনকে আটক করা হয়’।




ঢাকার বিমানবন্দরে আটকে দেয়া হলো শফিক রেহমানকে

_94808476_c8bd7b03-0520-4c25-8eae-9bc79206f121

পার্বত্যনিউজ ডেস্ক:

শফিক রেহমানকে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আটকে দিয়েছে ইমিগ্রেশন পুলিশ। সকাল ৭টায় টার্কিশ এয়ারলাইন্সের একটি বিমানে তার লন্ডনে যাবার কথা ছিল।

মি. রেহমানের সহকারী তারিকুল ইসলাম চয়ন  জানিয়েছে, ক্যান্সার আক্রান্ত অসুস্থ স্ত্রীকে দেখতে মি. রেহমান লন্ডনে যাবার জন্য বিমানবন্দরে যান। কিন্তু বিমানবন্দরে ইমগ্রেশন পুলিশ, মি. রেহমানের বিদেশ ভ্রমণের ব্যপারে তাদের কাছে কোন তথ্য নেই, জানিয়ে তাকে বাধা দেয়।

মি. ইসলাম জানিয়েছেন, মি. রেহমানের বিদেশে যেতে কোন নিষেধাজ্ঞা নাই। এছাড়া গ্রেফতারের পর আটক করা তার পাসপোর্টটিও কর্তৃপক্ষ তিনদিন আগে ফেরত দিয়েছে।

এদিকে, মি. রেহমানকে বিদেশে যেতে বাধা দেবার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশন পুলিশের একজন কর্মকর্তা। তবে তিনি বিষয়টির বিস্তারিত জানাতে অপরাগতা প্রকাশ করেছেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদকে অপহরণ ও হত্যা পরিকল্পনা মামলায় গত বছরের ১৬ এপ্রিল গ্রেফতার হয়েছিলেন মি. রেহমান। সেপ্টেম্বরে জামিনে মুক্তি পান তিনি।

সূত্র: বিবিসি




শ্রীনগর সীমান্ত হাটে বাংলাদেশ-ভারত যৌথ উদ্যোগে মহান ভাষা দিবস উদযাপন

Ramgarh 21.2

রামগড় প্রতিনিধি:

ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনার মধ্যদিয়ে মঙ্গলবার ছাগলনাইয়া ও ভারতের দক্ষিণ ত্রিপুরার সাব্রুমের শ্রীনগর সীমান্ত হাটে দু’দেশের যৌথ উদ্যোগে উদযাপন করা হয়েছে মহান একুশে ফেব্রুয়ারি, আর্ন্তজাতিক মাতৃভাষা দিবস। প্রথম বারের মত বাংলাদেশ ভারতের আয়োজনে অনুষ্ঠিত ভাষা দিবসের এ অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে শ্রীনগর সীমান্ত হাট পরিণত হয় দুই দেশের মানুষের মিলন মেলায়।

ফেনী ও দক্ষিণ ত্রিপুরা জেলা প্রশাসন দিবসটি উপলক্ষে দিনব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচী গ্রহণ করে। সীমান্ত হাটে স্থাপিত অস্থায়ী শহীদ মিনারে শহীদ ভাষা সৈনিকদের স্মরণে শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ করেন অনুষ্ঠানে দু’দেশের দুই প্রধান অতিথি ফেনীর এমপি নিজাম উদ্দিন হাজারী ও ত্রিপুরার লোকসভার সদস্য কমরেড জীতেন্দ্র চৌধুরী। পরে দুই দেশের জাতীয় সংগীত পরিবেশনের পর বেলুন উড়িয়ে এবং মঙ্গল প্রদীপ প্রজ্জ্বলন করে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন প্রধান অতিথিদ্বয়।

দুই পর্বের অনুষ্ঠানমালার প্রথমে অনুষ্ঠিত হয় ভাষা দিবসের আলোচনা সভা। ছাগলনাইয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মেজবাউল হায়দার  চৌধুরী ও সাব্রুম মহকুমার শ্রীনগর পঞ্চায়েত কমিটির চেয়ারম্যান বাবুল সেনের যৌথ সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন, এমপি নিজাম উদ্দিন হাজারী, এমপি শিরিন আখতার, ত্রিপুরার লোকসভার সদস্য কমডর জীতেন্দ্র চৌধুরি, দক্ষিণ ত্রিপুরার এমএলএ  রীতা কর, ফেনীর জেলা প্রশাসক মো. আমিন উল আহসান, ফেনীর পুলিশ সুপার রেজাউল হক প্রমুখ।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, বিজিবির জয়লস্কর ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্ণেল কামরুল ইসলাম, দক্ষিণ ত্রিপুরার পুলিশ সুপার তাপস দেব বার্মা, ডিএম  সিকে জমাতিয়া, ত্রিপুরার এমএলএ প্রভা চৌধুরী, ফেনী সদর উপজেলা চেয়ারম্যান আবদুর রহমান বিকম, পরশুরাম উপজেলা চেয়ারম্যান কামাল উদ্দিন মজুমদার, ছাগলনাইয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জেসমিন আক্তার, দক্ষিণ ত্রিপুরার এডিএম মনোজ কান্তি সেনসহ দুই দেশের রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও  বিভিন্ন পদস্থ সরকারী কর্মকর্তা।

আলোচনা সভা শেষে উভয় দেশের শিল্পীদের পরিবেশনায় এক মনোজ্ঞ সংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।