রাখাইনের সহিংসতায় ভারত গভীরভাবে উদ্বিগ্ন


ডেস্ক প্রতিবেদন:
ঢাকায় ভারত বাংলাদেশ যৌথ পরামর্শক সভার পর বাংলাদেশ সফররত ভারতীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ বলেছেন, রাখাইনের সহিংসতায় ভারত গভীরভাবে উদ্বিগ্ন।

অন্য দিকে বাংলাদেশের তরফ থেকে রোহিঙ্গাদের মাতৃভূমিতে ফিরিয়ে নিতে ও রাখাইন সমস্যার শান্তিপূর্ণ সমাধানে মিয়ানমারের ওপর চাপ বাড়াতে ভারতের প্রতি আহবান জানানো হয়েছে।

রবিবার দুপুরে ভারতীয় বিমানবাহিনীর একটি বিশেষ বিমানে ঢাকায় এসে বিকেলে যৌথ পরামর্শক সভায় অংশ নেন সুষমা স্বরাজ।

বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দিল্লি সফরের সময় যে সব বিষয়ে সমঝোতা হয়েছিলো সেগুলোর অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়। আলোচনায় স্থান পায় তিস্তা নদীর পানি বন্টনের বিষয়টিও।

সভায় বলা হয়েছে বাংলাদেশে শেখ হাসিনা ও ভারতে নরেন্দ্র মোদির সরকারের মেয়াদকালেই তিস্তা চুক্তি স্বাক্ষরিত হবে।

তবে বৈঠকে রোহিঙ্গা ইস্যুটি উঠে এসেছে অবধারিতভাবেই। সেটি পরিষ্কার হয়েছে বৈঠকের পর যৌথ সংবাদ সম্মেলনে দুই পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বিৃবতিতেও।

ওই বিবৃতিতে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী স্পষ্ট করেই বলেছেন এ ধরনের পরিস্থিতি সামাল দেয়ার ক্ষেত্রে মানুষের কল্যাণের বিষয়টিও মাথায় রাখতে হবে।

সুষমা স্বরাজের কথায়, “এটা পরিষ্কার যে রাখাইনে বাস্তুহারা মানুষেরা ফেরত যেতে পারলেই সেখানকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে।”

তিনি আরও বলেন, ভারতের মতে রাখাইন পরিস্থিতির দীর্ঘমেয়াদী সমাধান হলো আর্থসামাজিক ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন – যার ইতিবাচক প্রভাব পড়বে সেখানকার সবার ওপর।

ভারত স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সাথে একযোগে এ ধরনের প্রকল্পগুলোতে আর্থিক ও কারিগরি সহায়তা দিতে অঙ্গীকারাবদ্ধ বলেও মিস স্বরাজ জানান।

বিবৃতিতে সুষমা স্বরাজ রোহিঙ্গা শব্দটি উল্লেখ না করেই বলেন, “আমরা কোফি আনান কমিশন যেসব সুপারিশ করেছে সেগুলোর বাস্তবায়নকেও সমর্থন করি।”

জাতিসংঘের হিসেব অনুযায়ী গত ২৫শে অগাস্টের পর থেকে সাড়ে পাঁচ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে এসেছে।

এদের ফিরিয়ে নিতে মিয়ানমারকে বাধ্য করতে আন্তর্জাতিক চাপ তৈরির চেষ্টা করে যাচ্ছে বাংলাদেশ।

ভারত বাংলাদেশে আসা রোহিঙ্গাদের জন্য ত্রাণ সহায়তা পাঠালেও তাদের মিয়ানমারে ফিরিয়ে নেয়ার বিষয়ে তেমন স্পষ্ট করে আগে কিছু আগে বলেনি।

যদিও বাংলাদেশ সরকার আগাগোড়াই বলে এসেছে রোহিঙ্গা ইস্যুতে ভারতের অবস্থান বাংলাদেশের বিপক্ষে নয়।

রবিবার যৌথ পরার্শক সভার পর সুষমা স্বরাজ সন্ধ্যায় সাক্ষাৎ করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে। বিরোধী দলীয় নেত্রী রওশন এরশাদের সাথেও তার বৈঠকের কথা রয়েছে।

এছাড়া রাতে ভারতীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রীর হোটেলে তার সাথে সাক্ষাত করবেন বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে দলটির একটি প্রতিনিধিদল।

সোমবার সুষমা স্বরাজ ভারতীয় হাই কমিশনের চ্যান্সেরি ভবনের উদ্বোধন করবেন। সেই সঙ্গেই উদ্বোধন করবেন ভারতীয় অর্থায়নে বাস্তবায়িত বাংলাদেশে পনেরটি প্রকল্প।

সোমবার বিকেল নাগাদ ঢাকা ছাড়ার আগে নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি, ব্যবসায়ী ও সাংস্কৃতিক কর্মীদের সঙ্গেও তার মতবিনিময় করার কথা রয়েছে।

সূত্র: বিবিসি বাংলা




স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মিয়ানমার যাচ্ছেন কাল

নিজস্ব প্রতিনিধি:

রোহিঙ্গা সংকট সমাধানের বিষয়ে আলোচনা করতে আগামীকাল সোমবার মিয়ানমার যাচ্ছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল। বেলা পৌনে একটার দিকে বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইটে মিয়ানমারের উদ্দেশ্যে ঢাকা ত্যাগ করবেন তিনি।

জানাযায়, রোহিঙ্গা সংকট সমাধানের বিষয়ে আলোচনা করতে যাচ্ছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নেতৃত্বে ১২ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল। প্রতিনিধিদলে মন্ত্রী ছাড়াও থাকবেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ২ সচিব, একজন যুগ্ম সচিব, একজন উপসচিব। প্রতিনিধি দলের অন্যান্য সদস্যদের মধ্যে বিজিবি, পুলিশ ও অন্যান্য সংস্থার প্রতিনিধিও আছেন।

সূত্র জানায়, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সফরের বিষয়ে মিয়ানমার চুপ থাকলেও হুট করে সফরসূচি পাঠিয়েছে। সোমবার(২৩ অক্টোবর) দুপুরে ১৪ সদস্যের প্রতিনিধিদল নিয়ে মিয়ানমার সফরে যাবেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। সেখানে দুই দেশের সিনিয়র কর্মকর্তাদের মধ্যে বৈঠক হবে। এসব বৈঠকে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গা নাগরিকদের ফেরত নেয়া, তাদের ওপর নির্যাতন বন্ধ করা, তাদের নিজ ভিটায় ফেরত নেয়ার বিষয়গুলোর ওপরই গুরুত্ব বাংলাদেশের। এ ছাড়া দুটি চুক্তি স্বাক্ষর হবে। একটি হবে জয়েন্ট ওয়ার্কিং সংক্রান্ত আর অন্যটি সীমান্তে দুই দেশের সীমান্ত রক্ষীদের যৌথ টহল বিষয়ক।

সূত্র মতে, প্রতিনিধিদল প্রথমে বিমানযোগে ইয়াঙ্গুনে যাবে। বিকেল ৫টার দিকে সেখানে পৌঁছানোর পর বিমানযোগে নেপিডো যাবেন প্রতিনিধিরা। রাতে তাঁরা নেপিডোতে অবস্থান করে পরদিন মঙ্গলবার সকালে মিয়ানমারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক হবে বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর। এর পর সেখান থেকে তারা আবার ইয়াঙ্গুন হয়ে ২৫ অক্টোবর দেশে ফিরবেন।

উল্লেখ্য, গত ২৫ আগস্ট মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে কয়েকটি পুলিশি চেকপোস্টে হামলার জের ধরে দেশটিতে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে অভিযানে নামে দেশটির সেনাবাহিনী। অভিযানের নামে শত শত রোহিঙ্গাকে হত্যা করে সেনাবাহিনী ও রাখাইন সন্ত্রাসীরা। এছাড়া পুড়িয়ে দেয়া হয় রোহিঙ্গাদের শত শত বাড়ি। নির্যাতন থেকে বাঁচতে ছয় লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা পালিয়ে এসে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে।




পার্বত্য চট্টগ্রামে ভূমির মূল্য নির্ধারণ করতে আহবান জানিয়েছেন বীর বাহাদুর

নিজস্ব প্রতিবেদক, বান্দরবান:
সমতলের ন্যায় তিন পার্বত্য জেলায় ভূমির মূল্য নির্ধারণ করতে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী বীর বাহাদুর এমপি ভূমি মন্ত্রী শামসুর রহমান শরীফের সাথে সৌজন্য সাক্ষাত করে আহ্বান জানিয়েছেন। মঙ্গলবার দুপুরে ভূমি মন্ত্রণালয়ের অফিস কক্ষে তিনি সাক্ষাত করেন।

সাক্ষাতে সরকারী কাজে ভূমি অধিগ্রহণে সমতলের ন্যায় তিন পার্বত্য জেলায় ভূমির মূল্য নির্ধারণের দাবি জানান। এছাড়া পার্বত্য শান্তি চুক্তির পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নে বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতার মধ্যে ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি অন্যতম একটি দিক। আলোচনার মাধ্যমে উপযুক্ত পরিবেশ সৃষ্টি করা গেলেই সমস্যা থেকে বেরিয়ে আসা সম্ভব বলে মন্ত্রী অবিহিত করেন। ভূমিমন্ত্রী বিভিন্ন বিষয়ে সহায়তার আশ্বাস দেন।




রোহিঙ্গা নয়, বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র হচ্ছে: আবুল মকসুদ

ডেস্ক প্রতিবেদন:
বিশিষ্ট কলামিস্ট সৈয়দ আবুল মকসুদ বলেছেন, একাত্তরের পরে এমন বিপর্যয় আর বাংলাদেশে আসেনি। রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে নয়, বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র হচ্ছে। আমরা যাদের বন্ধু মনে করি, তারা শুধু ত্রাণ দিয়ে সরে যাবে এটি হবে না।

বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে জাতীয় প্রেসক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে সুজন আয়োজিত ‘রোহিঙ্গা সমস্যা: প্রেক্ষিত, বর্তমান পরিস্থিতি আর সম্ভাব্য করণীয়’ শীর্ষক এক গোলটেবিল বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন।

এ বিপর্যয় ও সমস্যা মোকাবেলায় সরকারের ভেতরে দায়িত্বজ্ঞানহীন বিষয় চলছে বলে মন্তব্য করে তিনি বলেন, এটি কাম্য নয়।

বৈঠকে সুজন সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার বলেন, জেনোসাইডের (গণহত্যা) ১০টি শর্ত রয়েছে। রোহিঙ্গা নির্যাতনের ঘটনায় যার প্রতিটি পূরণ হচ্ছে। এটি বিশ্ব সম্প্রদায়ের সামনে চলমান হত্যাযজ্ঞ।

গোলটেবিল বৈঠকে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সুজনের নির্বাহী সদস্য আলী ইমাম মজুমদার।

সুজন সভাপতি হাফিজ উদ্দিনের সভাপতিত্বে এসময় আরও বক্তব্য রাখেন সাবেক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আবুল হাসান চৌধুরী,  সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব আলী ইমাম মজুমদার প্রমুখ।

সূত্র: দৈনিক যুগান্তর




রোহিঙ্গাদের কারণে দেড়শো কোটি টাকার বনজ সম্পদ ধ্বংস 

পার্বত্যনিউজ ডেস্ক:

বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের কারণে ভয়াবহ পরিবেশ বিপর্যয় ঘটবে বলে আশংকা করছে পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি। কমিটির বৈঠকে জানানো হয়েছে, রোহিঙ্গাদের কারণে এ পর্যন্ত ১৫০ কোটি ৮৭ লাখ টাকার বনজ সম্পদ ধ্বংস হয়েছে।

এরই মধ্যে পাহাড়, জলাশয়, সুমুদ্র সৈকতসহ পাকৃতিক পরিবেশের ওপর ব্যাপক  বিপর্যয় নেমে এসেছে। সম্ভাব্য আরও বিপর্যয় ঠেকাতে এবং এরই মধ্যে ঘটে যাওয়া বিপর্যয় কাটিয়ে উঠতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের সুপারিশও করেছে কমিটি।

মঙ্গলবার (১০ অক্টোবর) বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত সংসদীয় কমিটির বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন কমিটির সভাপতি ড. মোহাম্মদ হাছান মাহমুদ।

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন কমিটির সদস্য পরিবেশ ও বন উপমন্ত্রী আবদুল্লাহ আল ইসলাম জ্যাকব, নবী নেওয়াজ, মো. গোলাম রাব্বানী, মো. ইয়াহ্ইয়া চৌধুরী, টিপু সুলতান ও মো. ইয়াসিন আলীসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

বৈঠক শেষে জাতীয় সংসদ ভবনের মিডিয়া সেন্টারে কমিটির সভাপতি ড. হাছান মাহমুদ জানান, মানবিক কারণে সরকার রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়েছে। তাদের জন্য পর্যাপ্ত ত্রাণও যাচ্ছে। কিন্তু তাদের জ্বালানির কোনো ব্যবস্থা নেই। ফলে প্রাকৃতিক বন থেকে তারা জ্বালানি সংগ্রহ করছে। এতে পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে। টেকনাফ রুটের সব গাছপালা উজাড় হয়ে যাচ্ছে। বন অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, এ পর্যন্ত শুধু বনভূমিরই ক্ষতি দেড়শো কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে। আর পাকৃতিক পরিবেশের সার্বিক ক্ষতির হিসাব এর চেয়ে অনেক বেশি।

রোহিঙ্গাদের কারণে আগামীতে অবধারিতভাবে ভয়াবহ পরিবেশ বিপর্যয় দেখা দেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এরই মধ্যে পর্যটন ব্যবসায় ধস নেমেছে। কক্সবাজার অঞ্চলে পর্যটকদের যাওয়ার মতো অনুকূল পরিবেশ আর নেই। পাহাড়-জলাশয় নষ্ট হচ্ছে। যা এখন উদ্বেগজনক মাত্রায়  পৌঁছেছে। বনের পাশাপাশি পরিবেশের অন্যান্য খাতে কি পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে তা নিরূপন করে আগামী বৈঠকে প্রতিবেদন পাঠানোর জন্য মন্ত্রণালয়কে বলা হয়েছে বলেও তিনি জানান।

কমিটিসূত্র জানায়, বৈঠকে আলোচনা শেষে বনের ক্ষতি কমাতে জ্বালানিসাশ্রয়ী চুলা সরবরাহের সুপারিশ করা হয়েছে। প্রয়োজনে তাদের জন্য বায়োগ্যাস প্লান্ট বসানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

এটা করা সম্ভব হলে বনের ক্ষতি ৫০ শতাংশ কমে আসবে বলে জানান কমিটির সদস্য টিপু সুলতান।

তিনি আরও জানান, রোহিঙ্গাদের সরিয়ে নেওয়ার পর যেসব এলাকা ফাঁকা হচ্ছে, সেখানে নতুন করে বনায়নের সুপারিশ করা হয়েছে। এছাড়া বৈঠকে কক্সবাজার সমুদ্রসৈকত ও সেন্টমার্টিন্স এলাকার পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে বলা হয়েছে।

এদিকে বৈঠকে আগামী ৬ থেকে ১৭ নভেম্বর জার্মানিতে অনুষ্ঠেয় জলবায়ু সম্মেলন নিয়ে আলোচনা হয়। কমিটির পক্ষ থেকে এ পর্যন্ত জলবায়ুর ক্ষতিপ‍ূরণ প্রাপ্তি এবং ওই সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রত্যাশা নিয়ে বিস্তারিত প্রতিবেদন আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে কমিটির কাছে জমা দিতে বলা হয়েছে।

সূত্র: বাংলানিউজ ২৪ডট কম




উপজাতীয়রা ৫৭ দশমিক ৫ পেয়ে সরকারি মেডিকেলে ভর্তির সুযোগ পেয়েছে

ডেস্ক প্রতিবেদন: সরকারি ও বেসরকারি মেডিকেল কলেজে এমবিবিএস প্রথম বর্ষের (২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষ) ভর্তি পরীক্ষার ফল প্রকাশিত হয়েছে ৯ অক্টোবর সোমবার। প্রকাশিত ফলাফল বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, এবার ভর্তি পরীক্ষায় ১০০ নম্বরের মধ্যে ৭০-৮০ নম্বর পেয়েও সরকারি মেডিকেল কলেজে ভর্তির সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়েছেন হাজারও ছাত্রছাত্রী।

অন্যদিকে ভর্তি পরীক্ষায় মাত্র ৬৫ দশমিক ৫ নম্বর থেকে ৫৭ দশমিক ৫ নম্বর পেয়েই অনেক শিক্ষার্থী বিভিন্ন মেডিকেল কলেজে ভর্তির সুযোগ পেয়েছে। আর উপজাতীয় ছাত্রছাত্রীরা সর্বনিম্ন ৫৭ দশমিক ৫ পেয়েও সরকারি মেডিকেলে ভর্তির সুযোগ পেয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দেশের ৩১টি সরকারি মেডিকেল কলেজে মোট ৩ হাজার ৩১৮টি আসনের মধ্যে ৩ হাজার ২৩১টি সাধারণ আসন, মুক্তিযোদ্ধার পুত্র-কন্যা ও নাতি-নাতনিদের জন্য ৬৭টি এবং পশ্চাৎপদ জনগোষ্ঠীর জন্য ২০টি আসন সংরক্ষিত। সাধারণ আসনের মধ্যে বিভিন্ন বিভাগের জন্য নির্দিষ্টসংখ্যক কোটা সংরক্ষিত রয়েছে।

চলতি বছরের মেডিকেল ভর্তির প্রকাশিত ফলাফলে দেখা গেছে, ১০০ নম্বরের মধ্যে সর্বোচ্চ ৯০ দশমিক ৫ পেয়েছেন দু’জন ছাত্র। ৮০ থেকে ৯০ প্রাপ্তের সংখ্যা ৬৪৩ জন (৩২১ জন ছাত্রছাত্রী)। ৭০-৮০ প্রাপ্ত ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা ৩ হাজার ৭৬৮ (ছাত্র ১ হাজার ৬৯৭ ও ছাত্রী ২০৭১ জন)।

সাধারণ কোটায় ১০০ নম্বরের নৈর্ব্যক্তিক প্রশ্নপত্রের ভর্তি পরীক্ষায় প্রাপ্ত সর্বোচ্চ নম্বর ৯০ দশমিক ৫ ও সর্বনিম্ন ৭০ দশমিক ৫ পেয়ে সরকারি মেডিকেল কলেজে ভর্তির জন্য নির্বাচিত হন।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের দায়িত্বশীল একজন কর্মকর্তা জানান, সাধারণ আসনের মধ্যে দেশের বিভিন্ন বিভাগের জন্য কোটা সংরক্ষিত রযেছে। সে কোটায় সর্বনিম্ন ৬৫ দশমিক ৫ নম্বর পেয়েও ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন অনেকে। আর উপজাতি ছাত্রছাত্রীরা সর্বনিম্ন ৫৭ দশমিক ৫ পেয়েও সরকারি মেডিকেলে ভর্তির জন্য নির্বাচিত হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ এ তথ্যের সত্যতা স্বীকার করে গণমাধ্যমকে বলেন, কোটা পদ্ধতির কারণে অনেক মেধাবী শিক্ষার্থী ভর্তি পরীক্ষায় ভালো নম্বর পেয়েও ভর্তির সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।




বৃহস্পতিবার সারাদেশে সকাল-সন্ধ্যা হরতাল দিয়েছে জামায়াত

পার্বত্যনিউজ ডেস্ক |

জামায়াত আমির মকবুল আহমাদ ও সেক্রেটারি জেনারেল ডা. শফিকুর রহমানসহ কেন্দ্রীয় ৯ নেতাকে গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার সারাদেশে সকাল-সন্ধ্যা হরতাল দিয়েছে জামায়াত। মঙ্গলবার এক বিৃবতিতে ভারপ্রাপ্ত আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমান এ হরতালের আহ্বান জানান।

একইসঙ্গে আগামীকাল ১১ অক্টোবর বুধবার সারাদেশে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ এবং ১৩ অক্টোবর শুক্রবার গ্রেপ্তাতকৃত নেতাদের মুক্তির জন্য সারা দেশব্যাপী দোয়া দিবস হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।

বিবৃতিতে তিন দিনের উপরোক্ত কর্মসূচী শান্তিপূর্ণভাবে সর্বাত্মক সফল করার জন্য জামায়াতের সকল শাখা সংগঠন ও দেশবাসীর সার্বিক সহযোগীতা কামনা করা হয়েছে।

সোমবার রাত পৌনে ৯টার দিকে রাজধানীর উত্তরা পশ্চিম থানাধীন এলাকার একটি বাসা থেকে জামায়াত নেতাদের আটক করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ।

এরপর আজ কদমতলী থানার দুটি মামলায় তাদেরকে আদালতে হাজির করে ১০ দিন করে ২০ দিনের রিমান্ড আবেদন করে পুলিশ। শুনানি শেষে আদালত দুই মামলায় ৫ দিন করে ১০ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

এর আগে গত ২৯ সেপ্টেম্বর রাজধানীর কদমতলী থানা এলাকার ধোলাইপাড়ের একটি বাসা থেকে জামায়াতের ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ শাখার আমির নূরুল ইসলাম বুলবুলসহ নয় নেতাকে আটক করা হয়। পরে তাদেরকে এই দুই মামলায় ছয় দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়।




বাংলাদেশের ওপর যুদ্ধ চাপিয়ে দেয়ার চেষ্টা করেছিল মিয়ানমার

ন্যাশনাল ডেস্ক:

রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেয়াটাকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, সে চ্যালেঞ্জ বাংলাদেশ গ্রহণ করায় এখন আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টি পড়েছে এবং মিয়ানমারও আলোচনা করতে আগ্রহী হয়েছে। অথচ এ ইস্যুকে কেন্দ্র করে আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশ আমাদের ওপর যুদ্ধ পর্যন্ত চাপিয়ে দেয়ার চেষ্টা করেছিল।

শনিবার জাতিসংঘ সফর শেষে দেশে ফিরে বিমানবন্দরে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আরও বেশ কিছু ঘটনা ছিল যেটা হয়তো এখন বিস্তারিত বলব না, আমাদের একেবারে প্রতিবেশী, তারা একটা পর্যায়ে এমন একটা ভাব দেখালো যে, আমাদের সঙ্গে যেন যুদ্ধই বেঁধে যাবে। আমি আমাদের সেনাবাহিনী, বর্ডার গার্ড- সবাইকে সতর্ক করে বললাম, কোনোরকম উসকানিতে তারা যেন বিভ্রান্ত না হয়। যতক্ষণ পর্যন্ত আমি নির্দেশ না দেই। তারা এরকম একটা ঘটনা ঘটাতে চাইবে এবং অনেকেই আছে এখানে নানারকমের উসকানি দেবে বা এমন একটা অবস্থা তৈরি করতে চাইবে- যেটা অন্যদিকে দৃষ্টি ফেরাবে।

বিদেশে যাওয়ার আগেই যেকোনো ধরনের অনভিপ্রেত পরিস্থিতির উদ্ভব সম্পর্কে সবাইকে সতর্ক করে যান উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, সেদিকে আমরা খুবই সতর্ক ছিলাম। জনগণ জানে আমাদের সশস্ত্র বাহিনী আমাদের বিজিবি পুলিশ থেকে শুরু করে স্থানীয় যারা সংগঠন করেন এবং অন্যান্য প্রত্যেককেই আমরা এ ব্যাপারে সতর্ক করি। যা যা দরকার তার আগাম ব্যবস্থা আমি করে দিয়ে গিয়েছিলাম।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, যাই হোক আমি এটুকুই বলব, বাংলাদেশ এই আশ্রয়টা দিয়ে একটা চ্যালেঞ্জ নিয়েছে। শুধু তাই নয়, আমরা বললাম প্রয়োজনে আমরা একবেলা খাব, আর অন্য বেলার খাবারটা ওদের দিয়ে দেব এবং আমরা কিন্তু সেটা করে যাচ্ছি। আর আজকে বাংলাদেশ যদি এই অবস্থানটা না নিত, তাহলে হয়তো আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়েরও দৃষ্টিটা এভাবে আকর্ষণ করতে পারত না।

মিয়ানমার থেকে বিতাড়িত রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেয়াটা সম্পূর্ণই মানবিক উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মানুষ মানুষের জন্য। আর বিপন্ন মানুষকে আশ্রয় দেয়া মানুষের দায়িত্ব।

তিনি বলেন, খোঁজ নিয়ে দেখলাম মিয়ানমারে যেভাবে সাধারণ মানুষের ওপর অত্যাচার হয়েছে, যেভাবে গণহত্যা, পাশবিক অত্যাচার হয়েছে, তাতে ছোট শিশুরা পর্যন্ত রেহাই পায়নি। খুব স্বাভাবিকভাবে তাদের আমাদের আশ্রয় দিতে হলো।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, পৃথিবীর বহু দেশে এ ধরনের ঘটনা ঘটে যাচ্ছে, কিন্তু আমরা দেখেছি বিশ্বে অনেকেই দরজা বন্ধ করে দিয়েছে। আশ্রয় দিতে চায়নি।

প্রধানমন্ত্রী এ সময় ছোট বোন শেখ রেহানাকে সঙ্গে করে কক্সবাজারের উখিয়ায় একটি রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবির পরিদর্শনের স্মৃতিচারণ করে বলেন, সে সময় রেহানাও আমার সঙ্গে ছিল সে বলল, ১৬ কোটি মানুষকে তো ভাত খাওয়াচ্ছো আর ৫-৭ লাখ লোক, তাদের আশ্রয় দিতে পারবে না। খাওয়াতে পারবে না! এই যে কথাটা- সত্য কথা বলতে কী এটা একটা আত্মবিশ্বাসের ব্যাপার।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, মিয়ানমার সরকার আন্তর্জাতিক চাপে এবং যেভাবেই হোক তারা অন্তত এগিয়ে এসেছে, আলোচনা শুরু করেছে। আমি মনে করি, এটাও একটি বিশেষ দিক, আন্তর্জাতিক চাপ আছে। এ অবস্থায় আলোচনার মধ্য দিয়ে আমরা এটার সমাধান করতে পারব।




প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ: স্বাধীনতা যুদ্ধের ৪৬ বছর পার হলেও মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি পায়নি লক্ষীধন ত্রিপুরা

কাপ্তাই প্রতিনিধি:

স্বাধীনতার ৪৬ বছর অতিবাহিত হলেও এখনও পর্যন্ত মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি পাননি কাপ্তাইয়ের দুর্গম পাহাড়ি এলাকার লক্ষীধন ত্রিপুরা। স্বীকৃতি পাওয়ার জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর হন্তক্ষেপ কামনা করছেন তিনি।

লিখিত একটি পত্রের মাধ্যমে জানা যায়, কাপ্তাই ইউপির বাসিন্দা ভাইজ্যাতলী মৌজা হরিণ ছড়ার এলাকার বসবাসরত লক্ষীধন ত্রিপুরা(৬০) জানান, ১৯৬৭ সালে তিনি পুলিশে চাকরী নিয়ে রাজশাহী সারদায় ট্রেনিংয়ে যান। ১৯৬৮ সালে ট্রেনিং পাশ করে নোয়াখালী মাইজদীতে বদলী হন। ১৯৭০ সালে নভেম্বরে বিবাহ করে ছুটি শেষে আবার চাকুরীতে যোগদান করেন।

২৬মার্চ পাক বাহিনীর উৎপাত  বেড়ে যাওয়ার কারণে নোয়াখালী পুলিশ লাইনের ইনচার্জ হাবিবুর রহমান বলেন, তোমাদের নিজেদের প্রাণ বাঁচাতে যে যেদিকে পার চলে যাও। পরে আমি নোয়াখালী হয়ে ফেনী পৌছার পর ভারত বর্ডার পার হয়ে শ্রীনগর বাজার উঠি।

অতঃপর ওইদিন ওখানে রাত কাটিয়ে ভোর হওয়ার সাথে,সাথে সাব্রং চলে যাই। আবার রামগড় পার হয়ে বাড়ি যাওয়ার চেষ্টা করি । কিন্ত পাকবাহিনী চারদিকে কঠোর নিরাপত্তা রক্ষীদের কারণে বাড়ি যাওয়া আর সম্ভব হয়নি।

পরে রামগড় থানায় আবার যোগদান করি । প্রায় এক সপ্তাহ অবস্থান করার পর পাকবাহিনী রামগড় থানা আক্রমন করে। আমি আবার পালিয়ে সাব্রং চলে যাই। ওইখানে থাকা অবস্থায় রেডিওতে সংবাদ শুনি পুলিশ, সেনাবাহিনী, বি,ডি,আর পালিয়ে না থেকে মুক্তি ফোর্সে যোগদান করার ঘোষণা দেয়।

আমি ঘোষণা শুনে হরিনাতে গিয়ে মুক্তিফোর্সে যোগদান করি। এবং মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করে যুদ্ধ করি।

কিছুদিন পর মেঘালয়ে অরেমে প্রদেশে ট্রেনিং সেন্টারে চলে যাই। সেখানে এক নাগারে ছয় মাস ট্রেনিং দেওয়ার পর প্রথম যুদ্ধ করি রংপুর শীল মারি বন্দরে। আমার সাথে থাকা শলমারি বন্দরের মোজাহিদ আব্দুর রহিম সিপাহী ওই যুদ্ধে শহীদ হন।

পরে আবার ভারত আসা হয়। ভারতে কয়েক দিন থাকার পর ময়মনসিং, জামালপুর গিয়ে একটি মাইন পোড়ানে হয়। সেটা কার্যকর না হওয়ার দরুন আবার ভারত চলে যাই। পরবর্তী সিলেট বড়লেখা পৌছে ওইখানে মুক্তিঘাটি করে যুদ্ধ করি।

এক পর্যায়ে পাকবাহিনী থেকে রাজাকার আমাদের হাতে ধরা পরে। এর কিছুদনি পর ভারতে চলে যাই। কিছুদিন ভারতে অবস্থান করার পর আবার ভারত থেকে সিলেট মৌলবী বাজার গিয়ে ঘাটি করি। ওইখান থেকে আমরা কালিদহ থানায় আক্রমণ করে ওই এলাকাকে আমরা মুক্তি বাহিনীর দখলে নিয়ে আসি।

তার পরের দিন বাংলাদেশ স্বাধীনতা ঘোষণা করা হয়। তার পরে আমাকে ১৫ দিনের জন্য জয়েনলিভ ছুটি দেওয়া হয়। ১৫ দিন ছুটি ভোগ করার পর আবার আমি নোয়াখালী মাইজদি পুলিশ লাইনে যোগদান করি।

১৯৭৪ সালে আমার স্ত্রীর ডেলিভারি হওয়ার কারণে ১মাসের ছুটি নিয়ে আসি। এর পর আমাকে বিভিন্ন সমস্যার কারণে চাকুরি হতে বরখান্ত করা হয়।

এর পর হতে আমি আমার এলাকা রাঙ্গামাটি জেলার কাপ্তাই উপজেলার হরিণছড়া নামক এলাকায় পাহাড়ে স্ত্রী, তিন মেয়ে ও এক ছেলে নিয়ে অদ্যবতি পর্যন্ত পাহাড়ে জুম চাষ করে মানবতর জীবন যাপন করছি।

দেশের জন্য যুদ্ধ করে আজ দেশ স্বাধীন। কিন্ত আমি পরাধীন রয়ে গেলাম। কেউ আমার  কোন খোঁজ খবর নেয়নি বা নেওয়ার চেষ্ঠা করেনি। মুক্তিযুদ্ধ না করে আজ অনেকেই অনেক কিছু পেয়েছে কিন্তু আমি বঞ্চিত হয়ে পাহাড়ের মধ্যে ধুকে ধুকে পরিবার পরিজন নিয়ে কষ্ট পাচ্ছি।

তাই প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনার নিকট আকুল আবেদন, আমার বিস্তারিত সন্ধান নিয়ে আমাকে মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি দেওয়া হোক।




রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে মিয়ানমারের প্রস্তাব

পার্বত্যনিউজ ডেস্ক:

রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশকারীদের ফিরিয়ে নিতে মিয়ানমার প্রস্তাব দিয়েছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী।

সোমবার (২অক্টোবার) রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় মিয়ানমারের স্টেট কাউন্সেলর অং সান সু চির দপ্তরের মন্ত্রী কিউ টিন্ট সোয়ের সঙ্গে বৈঠকের পর সাংবাদিকদের এসব কথা জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

তিনি জানান, রোহিঙ্গা শরণার্থীদের ফিরিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া ঠিক করতে বাংলাদেশ ও মিয়ানমার যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ‘চুক্তির আলোকে ওয়ার্কিং গ্রুপ যাচাই-বাছাই করে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠাবে। আমি এ আলোচনায় খুবই আশাবাদী।’

তিনি বলেন, বৈঠকে রোহিঙ্গা সঙ্কট ছাড়াও দুই দেশের সীমান্তে নিরাপত্তা ইস্যুসহ দ্বিপক্ষীয় বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। নিরাপত্তা ইস্যু নিয়ে আলোচনা করতে কিছুদিনের মধ্যে আমাদের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মিয়ানমার সফরে যাবেন।

বৈঠকে সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের জিরো টলারেন্স নীতির বিষয়টিও মিয়ানমারকে জানানো হয়েছে বলে জানান এ এইচ মাহমুদ আলী। তিনি জানান, রোহিঙ্গা প্রত্যাবসান বিষয়ে দ্বি-পক্ষীয় চুক্তির একটি খসড়া মিয়ানমারকে দেওয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, চলতি বছরের ২৫ আগস্ট থেকে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে দেশটির সেনাবাহিনী নির্যাতন শুরু করলে রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে পালিয়ে আসে।