২৯ এপ্রিল পার্বত্য বাঙ্গালী গণহত্যা দিবসের জাতীয় স্বীকৃতির দাবিতে ঢাকায় র‌্যালি ও সমাবেশ

IMAG7850

প্রেস বিজ্ঞপ্তি : ২৯ এপ্রিল ২০১৭ শনিবার। পার্বত্য চট্টগ্রামে উপজাতীয় সন্ত্রাসী দ্বারা বিভিন্ন সময় সংগঠিত প্রায় ৪০ হাজার নিরীহ বাঙ্গালী হত্যাকে “২৯শে এপ্রিল পার্বত্য বাঙ্গালী গণহত্যা দিবসে হিসেবে স্বীকৃতি’র” দাবিতে ঢাকায় শোক র‌্যালি ও সমাবেশ করেছে পার্বত্য বাঙ্গালী ছাত্র পরিষদ ঢাকা মহানগর শাখা।

শনিবার সকাল ১০ ঘটিকায় ঢাকা জাতীয় প্রেস ক্লাবের সম্মুখে সংগঠনটির উদ্যোগে ও ঢাকা মহানগর সভাপতি মো. শাহাদাৎ ফরাজি সাকিব এর সভাপতিত্বে ঘন্টাব্যাপী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এসময় ছাত্র-সহ বিভিন্ন শ্রেনীপেশার মানুষ কালো ব্যাচ পরিধান পূর্বক সমাবেশে অংশগ্রহণ করেন।

সমাবেশে প্রধান অথিতির বক্তব্য রাখেন, পার্বত্যনাগরিক পরিষদের চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার আলকাছ আল মামুন ভূঁইয়া। বক্তব্য রাখেন, পার্বত্য নাগরিক পরিষদের সহ-সভাপতি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ,ন্যাপ ভাসানী এর সভাপতি খন্দকার মোস্তাক হোসেন ভাসানী, পার্বত্য নাগরিক পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক ও পার্বত্য বাঙ্গালী ছাত্র পরিষদের উপদেষ্টা মণ্ডলীর অন্যতম সদস্য,শেখ আহাম্মদ (রাজু)। পিবিসিপি’র সাবেক কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি ইব্রাহিম মনির, সেক্রেটারি সারোয়ার জাহান খান। পার্বত্য নাগরিক পরিষদের নেতা সিরাজ ও এনামুল হক কাদের প্রমুখ।
IMAG7897
প্রধান অথিতি বলেন,১৯৮৬ সালের ২৯শে এপ্রিল দিবাগত রাত আনুমানিক ৯টা থেকে রাত ১টা পর্যন্ত ৪ ঘন্টা সময়ে খাগড়াছড়ি‘র পানছড়ি উপজেলা‘র ১নং লোগাং ইউপি, ৩নং পানছড়ি সদর ইউপি‘র ও ৪নং লতিবান ইউপি (বর্তমানে ৫নং উল্টাছড়ি ইউপি)‘র বাঙ্গালি গ্রামে অগ্নি সংযোগসহ নির্বিচারে বাঙ্গালী শিশু, কিশোর, নারী, পুরুষ, আবাল, বৃদ্ধ, বনিতা যাকে যেখানে পেয়েছে তাকে সেখানেই হত্যা করেছে তৎকালীন শান্তিবাহিনী সশস্ত্র গ্রুপ  বর্তমানে  পার্বত্য চট্রগ্রাম জন সংহতি সমিতি (জেএসএস)‘র নামে পরিচিত ।

তৎ সময়ে বে-সরকারী হিসাবে মাত্র ৪ ঘন্টা সময়ে নিরস্ত্র ও নিরীহ ৮শত ৫৩ জন বাঙ্গালীকে হত্যা করা হয়েছে, আহত করা হয়েছে প্রায় ৫শত জনকে, অপহরণ ও গুম করা হয়েছে আরো কয়েক হাজার বাঙ্গালীকে। ৬ হাজার ২শত ৪০টি বাড়ি সম্পূর্ন ভাবে পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে। এতে গৃহহীন হয়ে পড়ে হাজার হাজার পরিবার।

শান্তি বাহিনী‘র গেরিলা যোদ্ধারা সাধারণ বাঙ্গালীদের হাত-পা বেঁধে গুলী করে, লাঠি দিয়ে পিটিয়ে, দা দিয়ে নির্মমভাবে কুপিয়ে, জবাই করে, আগুনে পুড়িয়ে, শিশুদেরকে পায়ে ধরে গাছের সাথে বাড়ি দিয়ে, বেনেট ও অন্যান্য দেশি অস্ত্র দিয়ে খোঁচিয়ে খোঁচিয়ে হত্যা করেছিল।

প্রতিটি লাশকেই বিকৃত করে সে দিন চরম অমানবিকতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিল শান্তি বাহিনীর সন্ত্রাসীরা। ঘটনাটি যারা স্ব-চুখে দেখাছে বা বেচে যাওয়া কিছু কিছু সাক্ষী আজো আছে, কিন্তু ঘটনার কথা মনে পড়লে আজও তারা শিউরে উঠে।

এই হত্যা কান্ডের মধ্যে দিয়ে নরকীয়তা সৃষ্টি করেছিলো ৩৮ হাজার বাঙ্গালীর হত্যাকারী সশস্ত্র সংগঠন শান্তি বাহিনীর গেরিলারা ও উপজাতি সন্ত্রাসী হায়নারা।তিনি এসব খুনি সশস্ত্র সংগঠন শান্তি বাহিনীর গেরিলারা ও উপজাতি সন্ত্রাসী’র তদন্ত কমিটি গঠন পূর্বক দ্রুত ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে বিচারের দাবী জোড় দাবী জানান।

পানছড়িত গণহত্যা ছাড়াও পার্বত্য চট্টগ্রামের ভিবিন্ন অঞ্চলে উপজাতি এসব সন্ত্রাসীদের দ্বারা ভিবিন্ন গণহত্যা সংঘটিত হয়।এসব গণহত্যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য কিছু গণহত্যা যেমনঃ লংগদু গণহত্যা, ১৯৭৯ কাউখালি গণহত্যা,বেতছড়ি গণহত্যা,বানরাইবারী, বেলতলী, বেলছড়ি গণহত্যা,তাইন্দং, আচালং, গৌরাঙ্গ পাড়া, দেওয়ান বাজার, তবলছড়ি, বর্ণাল, রামছিরা, গোমতি গণহত্যা, গোলকপতিমা ছড়া, মাইচ্যেছড়া, তারাবনছড়ি গণহত্যা,ভূষণছড়া গণহত্যা, পানছড়ি গণহত্যা, দিঘীনালা গণহত্যা, ২৯ এপ্রিল ১৯৮৬, মাটিরাংগা গণহত্যা, কুমিল্লাটিলা, শুকনাছড়ি, দেওয়ান বাজার, সিংহপাড়া, তাইন্দং গণহত্যা, দিঘীনালা গণহত্যা, ২ জুলাই ১৯৮৬, ভাইবোন ছাড়া গণহত্যা, হিরাচর, শ্রাবটতলী, খাগড়াছড়ি, পাবলাখালী গনহত্যা, লংগদু গনহত্যা ১৯৮৯, নাইক্ষ্যাছড়ি গণহত্যা, মাল্যে গনহত্যা, লোগাং গনহত্যা, নানিয়ারচর গনহত্যা,পাকুয়াখালী গণহত্যা,জুরাইছড়ি গণহত্যা ইত্যাদি।

অন্যান্য বক্তারা বলেন, যেহেতু গণহত্যা হলো একটি জাতি, একটি জাতি গোষ্ঠী বা একটি সম্প্রদায়কে নির্মূল করণ প্রক্রিয়া ৷সেহেতু উপজাতি এসব সন্ত্রাসী বাঙ্গালী নির্মূল করার লক্ষে এসব সাধারণ বাঙ্গালী জাঁতির মানুষদের হত্যা করেছে৷

সেক্ষেত্রে এটি প্রমাণিত যে, পাহাড়ে ৪০ হাজার নিরীহ বাঙ্গালী হত্যাকে “পার্বত্য বাঙ্গালী গণহত্যা দিবস”র জাতীয় স্বীকৃতির মর্যাদা রাখে।

উল্লেখ্য, এদিকে ৭৫-৯৭ সাল পর্যন্ত তিন পার্বত্য অঞ্চলকে বাংলাদেশ আলাদা করতে জেএসএস এবং ইউপিডিএফ’র জঙ্গি বাহিনী তথা শান্তি বাহিনি নির্মম ভাবে খুন করে ২৫৬ জন বীর সেনা এবং ৩৮ হাজারের অধিক নিরীহ বাঙালিকে।




কাপ্তাইকে শীঘ্রই মৌজা ঘোষণা করার সিদ্ধান্ত

18194262_1303950826368015_683559979326468812_n

নিজস্ব প্রতিনিধি :

রাঙ্গামাটির কাপ্তাইয়ে ডিফরেস্ট হওয়া এলাকার কয়েক হাজার স্থায়ী বাসিন্দার দাবির পরিপ্রেক্ষিতে শীঘ্রই ওই এলাকাকে মৌজা ঘোষণা করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। পার্বত্য চট্টগ্রামের মহিলা সংসদ সদস্য ফিরোজা বেগম চিনুর মাধ্যমে উত্থাপিত বহুল কাঙ্খিত এই প্রস্তাবটি বাস্তবায়নে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে বৈঠক সূত্রে জানা গেছে।

বুধবার ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য র আ ম উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরীর সভাপতিত্বে ২৩তম বৈঠকটি জাতীয় সংসদ ভবনের পশ্চিম ব্লকের ২য় লেবেলে অবস্থিত কেবিনেট কক্ষে বিকেল ৩টায় অনুষ্ঠিত হয় বলে জানা গেছে। বৈঠকে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী বীর বাহাদুর এমপি, রাঙামাটির সংসদ সদস্য উষাতন তালুকদার, সদস্য এমএ লতিফসহ সংশ্লিষ্ট সচিব ও উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তাগণ।

বৈঠকে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির ২২তম বৈঠকের কার্যবিবরণী অনুমোদন ও সিদ্ধান্তসমূহের বাস্তবায়ন অগ্রগতি পর্যালোচনা, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের চলমান উন্নয়ন প্রকল্পের অগ্রগতি আলোচনা ও বিবিধ বিষয় নিয়ে বৈঠকে আলোচনা করা হয়।

বৈঠক সূত্রে জানা যায়, ইতোমধ্যে কাপ্তাইয়ের সংরক্ষিত এলাকাগুলোকে সরকারিভাবে ডিফরেস্ট করে মৌজাভুক্ত করার সকল প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্যে সুপারিশমালা হয়ে গেছে। এখন প্রজ্ঞাপন জারির কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

এর আগে বিগত ২২তম মিটিংয়ে কাপ্তাইবাসীর দীর্ঘদিনের এই দাবিটি উত্থাপন করে কাপ্তাইকে মৌজা ঘোষণা করার প্রস্তাবটি পাশ করার দাবি জানিয়েছিলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের সংসদ সদস্য ফিরোজা বেগম চিনু। তার জোরালো পদক্ষেপের কারনেই অবশেষে স্থায়ী কমিটির সকল সদস্য ঐক্যমত পোষণ করে বুধবার ২৩তম বৈঠকে কাপ্তাইকে মৌজা ঘোষণার সিদ্ধান্ত নিয়ে সুপারিশ মালা প্রদান করেছে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি।

একই বৈঠকে রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতালের আধুনিকায়নে, রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতালের জন্যে ২০কোটি টাকার একটি বিশেষ প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। এছাড়াও জেনারেল হাসপাতালের জন্যে এবং নানিয়াচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এর জন্য আগামী ডিসেম্বর মধ্যেই একটি করে এ্যাম্বুলেন্স প্রদান করা হবে বলেও সিদ্ধান্ত নিয়েছে স্থায়ী কমিটি।

তাছাড়া পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির বৈঠকে গৃহীত অপর এক সিদ্ধান্তে জানানো হয়েছে যে, পার্বত্য চট্টগ্রাম থেকে নতুন শিক্ষক না দিয়ে বর্তমানে কর্মরত শিক্ষক-শিক্ষিকাদের কাউকেই স্বীয় পদ খালি করে অন্যত্র বদলী করা যাবে না।




কক্সবাজারের মহেশখালীকে ডিজিটাল আইল্যান্ড ঘোষণা

5fe35adb729abdd69315d81cc31289cd-58ffcc06b925d (1) copy

কক্সবাজার প্রতিনিধি:

কক্সবাজারের দ্বীপ উপজেলা মহেশখালীতে ‘ডিজিটাল আই ল্যান্ড’ প্রকল্পের উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এ প্রকল্পের উদ্বোধন করেন তিনি।

এসময় দেশের প্রত্যন্ত দ্বীপ মহেশখালি ডিজিটাল দ্বীপ হিসেবে যাত্রা শুরু করার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এই যে একটা বিচ্ছিন্ন দ্বীপ মহেশখালি, যা চিরদিন অবহেলিত ছিল, আজকে এ ডিজিটাল পদ্ধতির মাধ্যমে মূল ভূখণ্ডের সাথে এবং বিশ্বব্যাপী এ মহেশখালির একটি সংযোগ স্থাপিত হয়ে গেল।’

এসময় গণভবনে টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা এইচটি ইমাম, বাংলাদেশে দক্ষিণ কোরিয়ার রাষ্ট্রদূত আন সিওন দো, সংসদ সদস্যবৃন্দ এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এবং সরকারের উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

অপরদিকে, মহেশখালি প্রান্তে আইওএম’র চিফ অব মিশন শরৎ চন্দ্র দাস এবং আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলক ও সংসদ সদস্য আশেক উল্লাহ রফিক বক্তব্য রাখেন।

প্রায় ৩৬২ দশমিক ১৮ বর্গকিলোমিটার আয়তনের মহেশখালি দ্বীপের ৪ লাখ বাসিন্দার জন্য প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে সরকার। প্রায় ২২ কোটি ৩৫ লাখ ৮১ হাজার টাকা ব্যয়ে এ প্রকল্পের কাজ ২০১৮ সালের ৩০ জুনের মধ্যে শেষ হবার কথা রয়েছে।

এ প্রকল্পের মাধ্যমে প্রাথমিকভাবে মহেশখালির মোট জনসংখ্যার ৩০ শতাংশ উচ্চগতির ইন্টারনেট এবং প্রযুক্তি সেবাসহ শিক্ষা, স্বাস্থ্য, তথ্য ও জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিভিন্ন শাখায় প্রবেশাধিকার বাড়বে।

কোরিয়ান টেলিকম (কেটি) প্রতিষ্ঠানের কারিগরি সহযোগিতায় প্রকল্পটি যৌথভাবে বাস্তবায়ন করছে বাংলাদেশ সরকার এবং আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম)।




ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের প্রতিবাদে ঢাবি বৌদ্ধ ছাত্র সংসদের মানবন্ধন

18137005_705312893004645_942404456_n

প্রেস বিজ্ঞপ্তি : দৈনিক জনকন্ঠ পত্রিকায় গৌতম বুদ্ধকে সন্ত্রাসী হিসেবে আখ্যায়িত করে দেশের আপামর শান্তিপ্রিয় বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীর ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত প্রদানের প্রতিবাদে মানবন্ধন বুধবার ২৬ এপ্রিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্য পাদদেশে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বৌদ্ধ ছাত্র সংসদ এর উদ্যোগে এক প্রতিবাদ সমাবেশ হয়েছে। সমাবেশ থেকে অভিযোগ করে বলা হয়েছে, গত ২৪ এপ্রিল বৌদ্ধ ধর্মের প্রচারক মহাকারুনিক গৌতম বুদ্ধ এবং দেশের বৌদ্ধ সমাজকে জড়িয়ে ”দৈনিক জনকন্ঠ” পত্রিকায় ফিরোজ মান্না’র করা রিপোর্টটি ছিল ভিত্তিহীন, সাম্প্রদায়িক ও ধর্মীয় উস্কানিমূলক সংবাদ।

পাহাড়ী ছাত্র পরিষদের পক্ষ থেকে বুধবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, মানববন্ধনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বৌদ্ধ ছাত্র সংসদের সভাপতি শোভন বড়ুয়ার সভাপতিত্বে এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় পালি এন্ড বুড্ডিস্ট স্টাডিজ বিভাগের প্রকট চাকমার সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পালি এন্ড বুড্ডিস্ট স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক ড. সুকোমল বড়ুয়া, প্রভাষক উচিন লয়েন রাখাইন, পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ী ছাত্র পরিষদের কেন্দ্রীয় তথ্য ও প্রচার সম্পাদক সুলভ চাকমা, পিজি হাসপাতালের চিকিৎসক স্নেহাশীষ বড়ুয়া, বৌদ্ধ ছাত্র সংসদের অরুপ বড়ুয়া, ঢাকা আন্তর্জাতিক বৌদ্ধ বিহারের উপাধ্যক্ষ ভিক্ষু সুনন্দাপ্রিয় প্রমুখ।

মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ থেকে অধ্যাপক সুকোমল বড়ুয়া বলেন, “আমরা এদেশের শান্তিকামী বৌদ্ধ সমাজ অহিংসায় বিশ্বাস করি। দৈনিক জনকন্ঠে প্রকাশিত ফিরোজ মান্নার পরিবেশন করা সংবাদটি ভিত্তিহীন, বানোয়াট এবং সাম্প্রদায়িক উস্কানিমূলক। এই সংবাদ দেশের আপামর বৌদ্ধ সমাজের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করেছে।”

প্রভাষক উচিন লয়েন বলেন, “দেশের বৌদ্ধ সমাজকে জড়িয়ে এধরনের উস্কানিমূলক সংবাদ একটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত হবে তা আমরা কখনোই মেনে নিতে পারি না।”

পাহাড়ী ছাত্র পরিষদের কেন্দ্রীয় তথ্য প্রচার সম্পাদক সুলভ চাকমা মানবন্ধনে সংহতি জানিয়ে বলেন, ‘প্রকাশিত সংবাদটির প্যারাতে প্যারাতে দেশের বৌদ্ধ সমাজকে জড়িয়ে ভিত্তিহীন অপপ্রচার চালানো হয়েছে।

বক্তারা দেশের বৌদ্ধ সমাজের পক্ষ হয়ে মানবন্ধন থেকে গৌতম বুদ্ধ ও দেশের বৌদ্ধ সমাজকে জড়িয়ে জনকন্ঠ পত্রিকায় প্রকাশিত ভিত্তিহীন ও ধর্মীয় অবমাননামূলক সংবাদ অনতিবিলম্বে প্রত্যাহার করে দোষীদের যথাযথ শাস্তি প্রদান, ধর্মীয় অবমাননামূলক সংবাদ পরিবেশনের জন্য দায়ী ”দৈনিক জনকন্ঠ” পত্রিকার সম্পাদককে দেশের বৌদ্ধসমাজ তথা দেশবাসীর নিকট নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়া এবং দেশের বৌদ্ধ স্থাপনা ও বৌদ্ধ ধর্মীয় গুরুদের নিরাপত্তা বিধান করে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের পূর্ণ স্বাধীনতা নিশ্চিত করার দাবি জানান।




ভূমি কমিশনকে কাজ করতে দিন কেউ বঞ্চিত হবে না- গওহর রিজভী

চজচজকস

নিজস্ব প্রতিবেদক:

পার্বত্য চট্টগ্রামের জেলাগুলোর বাঙালিরা বঞ্চিত হবেন না উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রীর আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপদেষ্টা গওহর রিজভী বলেছেন, যাঁদের সেখানে বৈধ জমি আছে, তাঁদের কেউ বঞ্চিত হবেন না। এটা সরকারের একটা অঙ্গীকার।

তিনি বলেন, শান্তিচুক্তির ১৮ বছর পর পার্বত্য ভূমি কমিশন আইন সংশোধন পাশ হয়েছে। সেখানে অবিশ্বাস ও আস্থাহীনতা থাকায় এ সময় লেগেছে। এখন আইন হয়েছে, কমিশনের আহ্বানে ২৪ হাজার আবেদন পড়েছে। আমি চেয়ারম্যানের সাথে কথা বলেছি। এসব আদেনের নিষ্পত্তি করতে বেশী সময় লাগবে না। কমিশনকে কাজ করতে দিন। কেউ বঞ্চিত হবে না।

রাজধানীর ইস্কাটনে সোমবার বেলা একটায় বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের (বিআইআইএসএস) মিলনায়তনে ‘প্রমোটিং কালচারাল ডাইভারসিটি অভ স্মল এথনিক গ্রুপস ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক এক সেমিনারে তিনি এ কথা বলেন।

বিস আয়োজিত প্রধান অতিথির বক্তব্যে গওহর রিজভী বলেন, ‘যাঁরা ভূমি কমিশন সংশোধন নিয়ে ভয়ের মাঝে আছেন, আমি পুনরায় বাঙালিদের নিশ্চিত করছি, আপনারা কেউই বঞ্চিত হবেন না। তাঁরাই বঞ্চিত হবেন, যাঁরা সেখানে অবৈধভাবে দখল করে আছেন।’

গওহর রিজভী বলেন, পার্বত্য ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশনের আইন সংশোধনই হচ্ছে পার্বত্য চট্টগ্রামের জেলাগুলোতে পার্বত্য চুক্তি বাস্তবায়নে একমাত্র বড় বাধা। ভূমি কমিশন আইন বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া চলছে। এটা যখন হয়ে যাবে, তখন পার্বত্য জেলাগুলোর সমস্যা সমাধান হয়ে যাবে।

গওহর রিজভী আরও বলেন, ‘আমাদেরই আমাদের নৃগোষ্ঠীগুলোর সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য সুরক্ষিত করতে হবে। বৈচিত্র্য সমাজকে দূর্বল করে না বরং আরও শক্তিশালী করে। নান্দনিকতা, সৌন্দর্যের প্রেক্ষাপট, ন্যায়বিচারের প্রেক্ষাপট চিন্তা করুন, আমাদের দেশের বৈচিত্র্যকে প্রতিপালন করা হয়। যতক্ষণ আর যত দিন না পর্যন্ত সম্পূর্ণভাবে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীগুলো মূলধারার সঙ্গে একীভূত করা হবে, ততক্ষণ পর্যন্ত আমাদের শান্তিপূর্ণ সমাজ তথা সোনার বাংলা গঠন করা যাবে না।’

সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক সৈয়দ আনোয়ার হোসেন। ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের বিকাশে একটি নীতিমালা করার সুপারিশ জানিয়ে তিনি বলেন, ব্যবহার হয় না বলে অনেক ক্ষুদ্র জাতির মাতৃভাষা বিলুপ্ত হয়েছে। এগুলো আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটের সংরক্ষণ করা উচিত। তিনি বৈসাবী উৎসবকে গণমাধ্যমে প্রচার, উপজাতীয় সাংস্কৃতিক টিম পাঠানো, উপজাতীয় সাংস্কৃতিক পলিসি করার সুপারিশ করেন মূল প্রবন্ধে।

অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব নব বিক্রম কিশোর ত্রিপুরা। তিনি িএ অনুষ্ঠানের সভাপতিত্বও করেন। সভাপতির বক্তব্যে তিনি বলেন, মানবেতিহাসে সংস্কৃতিগত পার্থক্যের কারণে অনেক বছর ধরেই মানুষের মধ্যে বৈষম্য বিদ্যমান। ভুল-বোঝাবুঝির কারণে অনেক সম্পদ ও অর্থনৈতিক ক্ষতি হয়েছে। এর জন্য ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীগুলোর সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যকে মূল্যায়ন ও উন্নত করতে হবে।

সেমিনারে বিআইআইএসএসের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল এ কে এম আবদুর রহমান, মিয়ানমারে বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রদূত মেজর জেনারেল (অব.) অনুপ কুমার চাকমা, রিসার্চ ইনিশিয়েটিভ বাংলাদেশের (রিব) নির্বাহী পরিচালক মেঘনা গুহঠাকুরতা, সাবেক পররাষ্ট্র সচিব ফারুক সোবহান, সাবেক নির্বাচন কমিশনার সাখাওয়াত হোসেন, মে. জে, অব. জীবন কানাই দাশ প্রমুখ বক্তব্য দেন।




রামগড়ের কামরুন্নাহার মৌসুমীর ইউজিসি’র প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদক লাভ

Ramgarh 23.3.17 copy

রামগড় প্রতিনিধি:

খাগড়াছড়ির রামগড়ের কৃতি সন্তান কামরুন্নাহার মৌসুমী সিলেট কৃষি বিশ্ব বিদ্যালয় থেকে বিশ্ব বিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের(ইউজিসি) প্রদত্ত মর্যাদাপূর্ণ ‘প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণ পদক’ লাভ করেছেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাত থেকে তিনি  এ পদক ও সনদপত্র গ্রহণ করেন।

বুধবার ঢাকার তেজগাঁয়ে অবস্থিত প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের শাপলা হলে আনুষ্ঠানিকভাবে মর্যাদাপূর্ণ এ স্বর্ণ পদক প্রদান করা হয়। ২০১৩ ও ২০১৪ সালে সিলেট কৃষি বিশ্ব বিদ্যালয়ের সাতজন কৃতি শিক্ষার্থী এ পদক লাভ করেন। ২০১৪ সালের স্বর্ণ পদক প্রাপ্ত চার কৃতি শিক্ষার্থীর মধ্যে কামরুন্নাহার মৌসুমীকে সেরাদের সেরা হিসাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজের হাতে এ স্বর্ণ পদক  তার গলায় পরিয়ে দেন।

কামরুন্নাহার মৌসুমী রামগড় পৌরসভার দক্ষিণ গর্জনতলী এলাকার বাসিন্দা ও চৌধুরিপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক মো. আব্দুর রব এবং  উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের ভিজিটর লায়লা নুরের কন্যা। তিনি ২০০৬ সালে রামগড় বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি এবং কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্ট স্কুল এন্ড কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করার পর সিলেট কৃষি বিশ্ব বিদ্যালয়ে ভর্তি হন। তিনি ২০১৪ সালে সিলেট কৃষি বিশ্ব বিদ্যালয়ে প্রথম স্থান অধিকারী শিক্ষার্থীর কৃতিত্ব অর্জন করেন।

মৌসুমী বলেন, মা, বাবাসহ সকলের দোয়ায় তিনি মর্যাদাপূর্ণ এ পদক লাভ করেছেন। ভবিষ্যতে তিনি সিলেট বিশ্ব বিদ্যালয়েই শিক্ষকতা করতে চান। এছাড়া কৃষির উন্নয়নে গবেষণা কাজে নিয়োজিত হতেও ইচ্ছুক। মৌসুমী সকলের কাছে দোয়া চেয়েছেন।

বুধবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত পদক ও সনদপত্র প্রদান অনুষ্ঠানে বিশ্ব বিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আব্দুল মান্নান সভাপতিত্ব করেন। অনুষ্ঠানে শিক্ষা মন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ, মন্ত্রী পরিষদ সদস্য, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা, সরকারী পদস্থ কর্মকর্তা, প্রাইভেট বিশ্ব বিদ্যালয়ের উপাচার্যগণ উপস্থিতি ছিলেন।

দেশের প্রতিটি পাবলিক ও প্রাইভেট বিশ্ব বিদ্যালয়ে স্নাতক পর্যায়ে প্রতিটি অনুষদে সর্বোচ্চ নম্বর প্রাপ্ত মেধাবী শিক্ষার্থীদের প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণ পদক প্রদান করে বিশ্ব বিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন।




চুক্তি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে তিন জেলা পরিষদের কাছে ৮৮টি দপ্তর হস্তান্তর

জাতীয় সংসদ

পার্বত্যনিউজ ডেস্ক :

পার্বত্য শান্তিচুক্তি বাস্তবায়নের অংশ হিসাবে সরকার এ পর্যন্ত তিন পার্বত্য জেলায় মোট ৮৮টি বিভাগ বা দপ্তর স্ব স্ব জেলা পরিষদের কাছে হস্তান্তর করেছে। মঙ্গলবার সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভায় এ তথ্য জানানো হয়।

সভায় জানানো হয়, শান্তিচুক্তি ও পার্বত্য জেলা পরিষদ আইন অনুযায়ী এরই মধ্যে রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদে ৩০টি, খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদে ৩০টি এবং বান্দরবন পার্বত্য জেলা পরিষদে ২৮টি বিভাগ বা দপ্তর হস্তান্তর করা হয়েছে।

কমিটির সভাপতি র. আ. ম. উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় উপস্থিত ছিলেন কমিটির সদস্য পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী বীর বাহাদুর উ শৈ সিং, কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা, উষাতন তালুকদার, ফিরোজা বেগম (চিনু) এবং এম, এ, আউয়াল।

এছাড়াও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিবসহ, মন্ত্রণালয় ও সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ সভায় উপস্থিত ছিলেন।




পার্বত্যাঞ্চলে পর্যটনকে আকর্ষণীয় করতে তিনদিনব্যাপী বাইক প্রতিযোগিতা

17440236_10211342230846796_1701626761_n

পার্বত্যনিউজ ডেস্ক :
পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে আয়োজন করা হয়েছে তিনদিনব্যাপী বাইক প্রতিযোগিতা। ‘ট্যুর দ্য সিএইচটি মাউন্টেন বাইক’  শিরোনামের এ প্রতিযোগিতা ২৪ মার্চ সকালে রাঙামাটির বাঘাইছড়ির সাজেক থেকে শুরু হয়ে তিনদিনে ২৫০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে ২৬ মার্চ বান্দরবানের নীলগিরিতে গিয়ে শেষ হবে।

একজন নারীসহ মোট ৪২ জন প্রতিযোগী এতে অংশ নেবেন বলে জানিয়েছেন পার্বত্য চট্টগ্রাম-বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব নববিক্রম কিশোর ত্রিপুরা।

বুধবার সচিবালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও জানান, পার্বত্য চট্টগ্রামে প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ট্যুর দ্য সিএইচটি মাউন্টেন বাইক প্রতিযোগিতা। মূলত তরুণদের উৎসাহ দেওয়া এবং পার্বত্য চট্টগ্রামের পর্যটনকে আরও আকর্ষণীয় করাই এই প্রতিযোগিতার মূল উদ্দেশ্য।

22-03-17

তিন দিনের এই প্রতিযোগিতা ২৪ মার্চ সাজেকে উদ্বোধন করবেন খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কংজুরি চৌধুরী। দ্বিতীয় দিনে (২৫ মার্চ) খাগড়াছড়ি শহর থেকে এটি শুরু হয়ে শেষ হবে রাঙামাটি শহরে। শেষ দিনে (২৬ মার্চ) রাঙামাটি শহর থেকে শুরু হয়ে বান্দরবান শহর হয়ে নীলগিরিতে গিয়ে শেষ হবে। একই দিন বিকেলে বান্দরবান স্টেডিয়ামে বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হবে।

 




ঢাকায় উপজাতি যুবকের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার

নিজস্ব প্রতিনিধি:

রাজধানীর কাফরুলের সেনপাড়া এলাকা থেকে অংহ্লা খেয়াং(২৮) নামের এক উপজাতি যুবকের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে রবিবার রাত ১০টার দিকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে পুলিশ।

কাফরুল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. সফিকুল ইসলাম জানান, রবিবার বিকাল ৪টার দিকে সেনপাড়া পর্বতার ৪৪৮ নং বাসার নিচতলার একটি কক্ষ থেকে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় গলায় গামছা প্যাঁচানো অংহ্লা খেয়াংয়ের লাশ উদ্ধার করা হয়।

জানা যায়, পার্বত্য চট্টগ্রামের চন্দনাইশ থানার উত্তর ডুবাছড়ি বাজার এলাকার সাজাই খৈয়াংয়ের ছেলে অংহ্লা খেয়াং। চাকরি খোঁজার উদ্দেশ্যে  ১৬ মার্চ সকালে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় বন্ধু উংসিং মারমার বাসায় আসে সে।

রবিবার সকালে তাকে ঘরে রেখে তার বন্ধু ও বন্ধুর ছোট দুই ভাই বাইরে যান। দুপুরে তারা ফিরে এসে দেখেন বাসার ভেতর থেকে বন্ধ। তখন অনেক ডাকাডাকি করেও কোনও সাড়া পাওয়া যায়নি। পরে জানালা দিয়ে তারা দেখেন ফ্যানের সঙ্গে গামছা দিয়ে অংহ্লা ঝুলে আছেন। থানায় খবর দেওয়া হলে পুলিশ এসে লাশ উদ্ধার করে।




জেএসএস সামরিক শাখার থার্ড ইন কমান্ড ধন বিকাশ চাকমা ১২ লাখ টাকাসহ গ্রেফতার

u mong ৩

পার্বত্যনিউজ রিপোর্ট:

পার্বত্য চট্টগ্রামের রাজনৈতিক সংগঠন জনসংহতি সমিতির (জেএসএস) সামরিক শাখার থার্ড ইন কমান্ড  ধনবিকাশ চাকমা (৬০) ওরফে উ মংকে তার ‍দুই সহযোগীসহ আটক করেছে র‌্যাব। তাদের কাছ থেকে প্রায় ১২ লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। রোববার (১৯ মার্চ) ভোরে তাদের চট্টগ্রামের হাটহাজারী থেকে আটক করা হয়েছে।

সূত্রে জানা গেছে, র‌্যাব-৭ এর ডিএডি মো. শহীদুল্লাহর নেতৃত্বে একটি টিম রবিবার বিকেলে চট্টগ্রামের হাটহাজারী থানা এলাকায় ডিউটিরত থাকাকালে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারে, বান্দরবান থেকে পার্বত্য চট্টগ্রাম জন সংহতি সমিতির সশস্ত্র শাখার একটি দল খুন, গুম, অপহরণ ও চাঁদাবাজির বিপুল পরিমাণ টাকাসহ মাইক্রোবাসে করে চট্টগ্রামের দিকে আসছে।

এ খবরের ভিত্তিতে ডিএডি মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে হাটহাজারী থানাধীন বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন নিউ শাহজাহান হোটেলের সামনে চেকপোস্ট বসিয়ে গাড়ি তল্লাশী শুরু করে।এই তল্লাশীকালে বিকাল সাড়ে চারটার দিকে চট্টগ্রামের দিক থেকে একটি কালো রঙের মাইক্রোবাস আসতে থাকলে তারা থামানোর সঙ্কেত দেয়। এতে মাইক্রোবাসটি চেকপোস্টের সামনে থামে এবং গাড়ির দরজা খুলে তিন/চারজন যাত্রীবেশী জেএসএস সন্ত্রাসীরা বেরিয়ে দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করে।

ppppppppppppppppp

এসময় র‌্যাব সদস্যরা তাদের চেজ করে আটক করতে সক্ষম হয়। আটককৃতরা হলো, ধনবিকাশ চাকমা, পিতা- মৃত বীরেন্দ্র চাকমা, মাতা- মায়াবী চাকমা, বাড়ি- পানখাইয়া পাড়া, খাগড়াছড়ি; প্রেম রঞ্জন চাকমা(৩২), পিতা- সুন্দর মণি চাকমা, বাড়ি- পূনর্বাসন পাড়া, বান্দরবান সদর এবং রুবেল বাবু তঞ্চঙ্গা, পিতা- রাজ্য মোগহন তঞ্চঙ্গা, বাড়ি- বিলাইছড়ি রাঙামাটি।’

সূত্রমতে, আটককালে ধনবিকাশ চাকমার হাতে রক্ষিত কালো রঙের একটি ব্যাগ ও সকলের পোশাকের বিভিন্ন পকেট তল্লাশী করে ১ হাজার টাকা, ৫০০ টাকা ও ১০০ টাকার বেশ কয়েকটি বান্ডিল উদ্ধার করা হয়। এসব বান্ডিলে প্রায় ১২ লক্ষ টাকা পাওয়া যায়।

গ্রেফতারকৃতরা র‌্যাবের জিজ্ঞাসাবাদে নিজেদের পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির সামরিক শাখার সদস্য বলে স্বীকার করে এবং আটককৃত টাকা বান্দরবান থেকে জনসংহতি সমিতির নামে খুন, অপহরণ, গুমের ভয় দেখিয়ে চাঁদাবাজির মাধ্যমে আয় করা বলে র‌্যাবের কাছে দেয়া স্বীকারোক্তিতে জানিয়েছে।

গ্রেফতারকৃত তিন জনের নামে র‌্যাব বাদী হয়ে পেনাল কোড আইনের ৩৮৬ ও মানি লন্ডারিং আইনে হাটহাজারী থানায় মামলা দায়ের করেছে।

lllllllllllllllllllll

র‌্যাবের চট্টগ্রাম জোনের অধিনায়ক লে.কর্ণেল মিফতা উদ্দিন আহমেদ বলেন, ধনবিকাশের নেতৃত্বে জনসংহতি সমিতির একটা গ্রুপ চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অপরাধের সঙ্গে যুক্ত।  সর্বশেষ তারা আওয়ামী লীগের এক নেতাকে অপহরণ করেছে।  ধনবিকাশ বান্দরবানের পাহাড়ে সব ধরনের অপরাধে নেতৃত্ব দেয়। ধনবিকাশের দুই সহযোগী হলেন, প্রেমরঞ্জন চাকমা ও রুবেল তঞ্চঙ্গ্যা। চাঁদাবাজির প্রায় ১২ লাখ টাকা নিয়ে তারা বান্দরবান থেকে চট্টগ্রাম নগরীতে আসছিল বলে জানিয়েছেন মিফতা।

এদিকে ধনবিকাশ চাকমার গ্রেফতারে বান্দরবান জেলাবাসীর মধ্যে আনন্দ স্বস্তির ভাব পরিলক্ষিত হয়েছে। এ ঘটনায় জেলার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থার মধ্যে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। তার বিরুদ্ধে বান্দরবান জেলার বিভিন্ন থানায় বেশ কয়েকটি মামলা রয়েছে বলে তারা জানিয়েছে।

স্থানীয় গোয়েন্দা সূত্রের খবর, পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির সামরিক শাখার প্রধানের নাম লক্ষী প্রসাদ ওরফে রাজা, দ্বিতীয়জনের নাম অসীম বাবু, তৃতীয় জনের নাম ধনবিকাশ চাকমা  এবং চুতর্থ শীর্ষ নেতার নাম সত্যবীর দেওয়ান, তিনি জেএসএসর বিচারক হিসাবে পরিচিত। কার বিরুদ্ধে কি ব্যবস্থা নেয়া হবে জেএসএসে তিনি তা নির্ধারণ করেন। ইতোপূর্বে অস্ত্র মামলায় তার ১৭ বছরের জেল হয়েছিল। কিন্তু ২ বছর জেল খাটার পর বেরিয়ে ভারতে পালিয়ে যায়।

প্রথম দুইজন এবং চতুর্থজন ভারতের ত্রিপুরায় অবস্থান করে বাংলাদেশে অপারেশন পরিচালনা করে। সে হিসাবে ধনবিকাশ চাকমা জেএসএসের বাংলাদেশে অবস্থানকারী শীর্ষ নেতা। তার নেতৃত্বে বান্দরবানে জেএসএসের চারটা সামরিক শাখা পরিচালিত হয়। এর একটি প্রধানের নাম কাজল, দ্বিতীয়টির প্রধানের নাম বিধান, তৃতীয় শাখার প্রধানের নাম মৈত্রী, চতুর্থটির প্রধানের নাম এস মং।

kjjoj

ধনবিকাশ চাকমা বান্দরবানে উ মং ওরফে ক্ষেত্র বাবু, ওরফে বড়বাবু নামেও পরিচিত। তিনি তার চারটি সশস্ত্র শাখা ব্যবহার করে বান্দরবানে জেএসএসের সকল সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, অপহরণ, খুন, গুম, টেন্ডারবাজি নিয়ন্ত্রণ করতেন। কোথায় বা কোন কাজে কতটাকা চাঁদা নিতে হবে, কার বিরুদ্ধে কি ব্যবস্থা নিতে হবে তাও তিনি নির্ধারণ করে দিতেন। বিভিন্ন ব্যক্তি মালিকানাধীন ও সরকারী বাগানের চাঁদা এবং চাঁদা না দিলে সে সকল বাগান দখল নিয়ে বিক্রি করে দিতেন তিনি।

বান্দরবানের আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আদালতের মাধ্যমে তার নামে দায়ের করা মামলায় বান্দরবানে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করার পরিকল্পনা করেছে বলে জানিয়েছে।

ধনবিকাশ চাকমার ব্যাপারে জানতে বান্দরবান জেলা জেএসএসের কয়েকজন শীর্ষ নেতার মোবাইলে ফোন করা হলেও তাদের ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।