পার্বত্য চট্টগ্রামে পাহাড়ধস, অযাচিতভাবে প্রশ্নের তীর বাঙালিদের দিকে


পারভেজ হায়দার ::
গত ১১-১৩ জুন ভারি বর্ষণের সময় বৃহত্তর চট্টগ্রাম, অর্থাৎ চট্টগ্রাম, রাঙ্গামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি এবং কক্সবাজারে দেড় শতাধিক মানুষের প্রাণহানী ঘটেছে। বৃহত্তর চট্টগ্রামে পাহাড়ধসের করণে প্রাণহানির ঘটনা একবারে নতুন না হলেও এ বছরের পাহাড়ধসজনিত বিপর্যয় ইতিপূর্বের সকল রেকর্ডকে ছাড়িয়ে গেছে। বৃহত্তর চট্টগ্রামের মধ্যে নিঃসন্দেহে রাঙ্গামাটিতে এ বছর প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ সবচেয়ে বেশি। মর্মান্তিক মানবিক বিপর্যয়ের এই বিষয়টি সামনে রেখে বর্তমানে বেসরকারি টেলিভিশনে টক-শোসমূহে বক্তাদের বক্তব্য, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে স্বার্থান্বেষী মহলের অযাচিত মন্তব্য এবং বিভিন্ন দৈনিক পত্রিকার রিপোর্টগুলোতে আপাত দৃষ্টিতে সাম্প্রতিক পাহাড়ধসের জন্য পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসরত বাঙালিদের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে দায়ী করা হচ্ছে। গত ১৬ জুন ২০১৭ প্রথম আলো পত্রিকায় ‘ছয় বছরে নিহতদের ৬৪ ভাগ বাঙালি’ শিরোনামের একটি প্রতিবেদনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক সৈয়দ হুমায়ুন আখতার এর উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়, বন ও পাহাড় কেটে যত্রতত্র বাঙালি পুনর্বাসন করা হয়েছে। অধ্যাপক আখতার পার্বত্য অঞ্চলের এই বিষয়ে মাঠ পর্যায়ে যথেষ্ট গবেষণা করে উপরোল্লেখিত মন্তব্য করেছেন কিনা সে বিষয়ে সন্দেহ রয়েছে। পার্বত্য চট্টগ্রামের ভৌগোলিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপটে বিষয়টি একেবারে সরলীকরন করে পক্ষপাতমূলকভাবে কোন একটি জনগোষ্ঠীর উপর দোষ চাপিয়ে দেয়া সম্পূর্ণ অবিবেচনাপ্রসূত।

সাম্প্রতিক বছরগুলোর কথা যদি বিবেচনায় আনা হয়, তাহলে দেখা যায়, ২০০৭ সালের ১১ জুন চট্টগ্রামের ৭টি স্থানে পাহাড় ধসের কারণে ১২৭ জনের মৃত্যু হয়, ২০০৮ সালের ১৮ আগস্ট চট্টগ্রামের লালখান বাজার মতিঝর্ণা এলাকায় পাহাড় ধসে ৪টি পরিবারের ১২ জনের মৃত্যু হয়, ২০১১ সালের ১ জুলাই চট্টগ্রামের টাইগারপাস এলাকার বাটালি হিলের ঢালে পাহাড় ও প্রতিরক্ষা দেওয়াল ধসে ১৭ জনের মৃত্যু হয়, ২০১২ সালের ২৬-২৭ জুন চট্টগ্রাম, বান্দরবান, কক্সবাজার ও সিলেটে ৯৪ জন মৃত্যুবরণ করে। এছাড়া ২০১৫ সালের ২৬-২৭ জুন টানা বর্ষণ, ধস আর পাহাড়ি ঢলে কক্সবাজারে ১৯ জনের মৃত্যুর বিষয়ও এখানে উল্লেখ করা যেতে পারে। সাম্প্রতিক বছরগুলোর পাহাড়ধসজনিত এই প্রাণহানির বিষয় বিশ্লেষণে অনুমান করা যায় যে, পাহাড় ধসের ভৌগোলিক বিপর্যয় শুধুমাত্র পার্বত্য জেলাগুলোতে নয়, পাহাড় পরিবেষ্টিত বৃহত্তর চট্টগ্রামের অধিকাংশ স্থানেই ঘটছে। বৃহত্তর চট্টগ্রাম বাংলাদেশের অন্যান্য এলাকার তুলনায় ভৌগোলিক দিক দিয়ে কিছুটা ভিন্ন। এখানে সমতল ভূমির পাশাপাশি উঁচু-নিচু, ছোট-বড় অনেক পাহাড় বা টিলা রয়েছে। বৃহত্তর চট্টগ্রামের পাহাড়গুলো সাধারণত মাটি এবং বালু মিশ্রিত, এসকল পাহাড়ের মাটি এটেল মাটির মত আঠালো নয়। এ অঞ্চলের পাহাড়গুলো সাধারণত পৃথিবীর অন্যান্য অঞ্চলের পাহাড়গুলোর মতো পাথর পরিবেষ্টিত নয়। এই পাহাড়গুলোর মাটি কোন নির্দিষ্ট শক্ত অবলম্বনের অনুপস্থিতিতে ভারি বর্ষণের ফলে সহজে ধসে পড়ে। এখানে সহায়ক অবলম্বন বলতে ব্যাপক বনায়নই গ্রহণযোগ্য সমাধান। কিন্তু যুগের সাথে তাল মিলিয়ে আধুনিকতার ছোঁয়া পার্বত্য চট্টগ্রামেও পড়েছে। অনেক বছর আগে সাধারণত পাহাড়ের গ্রাম অঞ্চলে ‘সনাতনী উপজাতী বন ও কৃষি সভ্যতার’ ঐতিহ্যবাহী লোকজ শিক্ষা থেকে Watershed Management ও পরিবেশ সংরক্ষণের কলাকৌশল অনুসরন করে পাহাড়ি জনগোষ্ঠী তাদের ঘরবাড়ি তৈরী করত। এবিষয় অনস্বীকার্য যে এ ধরনের লোকজ জ্ঞানকেই ১৯৯২ সালে প্রথম বিশ্ব ধরিত্রী সম্মেলনে Traditional Scientific Knowledge হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছিল। অনেক আগের সেই সময়গুলোতে এই সনাতনী ধারা অবলম্বন করেই পার্বত্য চট্টগ্রামের উপজাতীরা পাহাড়ের মাটি না কেটে খুঁটির ওপর ‘টং ঘর’ তৈরি করা হতো। এছাড়া তাদের ধর্মীয় একটি সংস্কারও ছিল সেই সময়গুলোতে। প্রয়াত বিশিষ্ট উপজাতী গবেষক ও লেখক অমরেন্দ্র লাল খীসার গবেষণা পত্র থেকে জানা যায়, অধিকাংশ গোত্রের উপজাতীরা ‘ধরিত্রীকে আঘাত করে মাটি কর্ষণ করাকে পাপ মনে করতো’। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে উপজাতীদের জীবনে আধুনিকতার সাথে তাল মিলিয়ে শিক্ষা, বাসস্থান ও পোষাক পরিচ্ছেদে আমূল পরিবর্তন এসেছে। বর্তমানে প্রত্যন্ত পাহাড়ি এলাকাতেও উপজাতী যুবক-যুবতীদের জিন্স, টি-শার্টেই স্বাচ্ছন্দবোধ করতে দেখা যায়। এখানে আরো একটি বিষয় খুব গুরুত্বপূর্ণ, তা হচ্ছে পার্বত্য এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন। অনেক আগে দুর্গম পাহাড় এবং প্রত্যন্ত এলাকায় যখন কোন রাস্তা-ঘাট ছিল না, পাহাড়িরা তাদের উৎপাদিত পণ্যের ভালো মূল্য পেত না। সাম্প্রতিক কয়েক দশকের ক্রম উন্নয়নের অন্যতম হচ্ছে দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় রাস্তাঘাট তৈরি। বর্তমান সময়ে প্রত্যন্ত এলাকায় পাহাড়িদের উৎপাদিত পণ্য যোগাযোগ ব্যবস্থার ব্যপক উন্নয়নের ফলে শহর এলাকায় পরিবহন সহজেই সম্ভব হয়। পাহাড়িরা তাদের উৎপাদিত পণ্যের ভালো দাম পাচ্ছেন এবং নিজেদের ব্যক্তিগত জীবনেও ক্রমান্বয়ে আধুনিকতার সাথে মানিয়ে নিতে আগ্রহবোধ করেন। তার অর্থ হচ্ছে, পার্বত্য চট্টগ্রামে দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন অর্থাৎ পাহাড় কেটে রাস্তা তৈরি করা ছিল সময়ের দাবী।

প্রশ্ন হচ্ছে, যারা এই রাস্তাগুলো তৈরি করেছেন তারা কি যথেষ্ঠ নিরাপদভাবে রাস্তা তৈরি করতে পেরেছেন কি না? এর উত্তর হ্যাঁও হতে পারে আবার নাও হতে পারে। যেকোন উন্নয়নমূলক কর্মকান্ডের সাথে আর্থিক সংশ্লিষ্টতা নির্ভরশীল। বৃহত্তর চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় রাস্তাগুলো তৈরি করতে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সামর্থ্য এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা বিবেচনায় পাহাড়ের পাদদেশসমূহ কেটে রাস্তা তৈরি করা হয়েছে। সাধারণ জ্ঞানে পাহাড়ি এলাকায় রাস্তার দীর্ঘস্থায়ীত্ব নিশ্চিত করতে পানি সঞ্চালনের সু-ব্যবস্থা থাকা বাঞ্ছনীয়। যতটুকু জানা যায়, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্যাটালিয়ন পাহাড় কেটে রাস্তা তৈরির ক্ষেত্রে পানি সঞ্চালনের জন্য উপযুক্ত কার্যকর ড্রেন ব্যবস্থা এবং অন্যান্য নিরাপত্তার বিষয়টি ভালভাবে নিশ্চিত করেছেন। এছাড়াও সময়ে সময়ে প্রতিনিয়ত রাস্তাগুলোর রক্ষণাবেক্ষনের ব্যবস্থা তারা ভালোভাবেই করছেন। তাই, পাহাড় ধসের মূল কারণ হিসেবে পার্বত্য চট্টগ্রাম এলাকায় আধুনিকতার অন্যতম নিয়ামক যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন, আধুনিক বাসস্থান তৈরি, পর্যটনের উন্নয়ন ইত্যাদি একমাত্র কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা সমীচীন নয়। চট্টগ্রাম মহানগরীতে ২০০৭ সালের ভূমিধসের পর গঠিত তদন্ত কমিটি পাহাড় ধসের কারণ হিসেবে যে সমস্ত সমস্যা চিহ্নিত করেছিল তার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে ভারি বর্ষণ, পাহাড়ের মাটিতে বালির ভাগ বেশি থাকা, উপরিভাগে গাছ না থাকা, গাছ কেটে ভারসাম্য নষ্ট করা, পাহাড়ের পাদদেশে ঝুঁকিপূর্ণ বসবাস, পাহাড় থেকে পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা না রাখা, বনায়নের পদক্ষেপের অভাব, বর্ষণে পাহাড় থেকে নেমে আসা বালি এবং মাটি অপসারনের দুর্বলতা ইত্যাদি। এখানে আরো একটি বিষয় উল্লেখ করা যেতে পারে, অতি বৃষ্টিপাতও বালি/মাটি মিশ্রিত পাহাড়ধসের অন্যতম ‘কারণ’ হিসাবে চিহ্নিত। নাসার তথ্যমতে, গত ১২-১৪ জুন বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে ৫১০ মিলি অর্থাৎ ২০ ইঞ্চি বৃষ্টিপাত হয়েছে (ডেইলি স্টার, ১৭ জুন ২০১৭)। শুধুমাত্র ১৩ জুন সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত, একদিনে রাঙ্গামাটিতে ৫২৪ মিলি বৃষ্টিপাত হয় (ইন্ডিপেন্ডেন্ট, ১৪ জুন ২০১৭)। পূর্ববর্তী বছরগুলোতে দৃষ্টিপাত পর্যবেক্ষণ করলে দেখা যায়, রাঙ্গামাটির জুন মাসের গড় বৃষ্টিপাতের পরিমাণ হলো, ৪৫৩.১ মিলি (২০১৬), ৩৯৭.৩ মিলি (২০১৫), ৩৩৬.৭ মিলি (২০১৪), ৩১৬.৯ মিলি (২০১৩), ৩৩৫.৪ মিলি (২০১২)। অর্থাৎ পাহাড়ধস জনিত মানবিক বিপর্যয়ের ওই দিনগুলোতে একদিনের গড় বৃষ্টিপাত অন্যান্য বছরের জুন মাসের গড় বৃষ্টিপাতের চেয়ে বেশি। অর্থাৎ বৃহত্তর চট্টগ্রামের পূর্বের অভিজ্ঞতার বিবেচনায় বর্তমান বছরের পাহাড়ধসের কারণ হিসাবে শুধুমাত্র একটি জাতিগোষ্ঠী, অর্থাৎ বাঙালিদের দায়ী করা নিতান্তই অবিবেচনা প্রসূত, অপরিপক্ক চিন্তা-ভাবনা বলে প্রতীয়মান হয়।

পার্বত্য চট্টগ্রামে গত শতকের ৭০ এবং ৮০ দশকে তৎকালীন পরিস্থিতি বিবেচনায় বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থান থেকে যে সকল বাঙালিকে পুনর্বাসন করা হয়েছিল, তাদের পরিবার প্রতি পার্বত্য এলাকার বিভিন্ন খাস জমি থেকে সমতল ভূমি হলে ২.৫ একর আবার পাহাড় এবং সমতল মিশ্র ভূমি হলে ৪ একর ও সম্পূর্ণ পাহাড়ি ভূমি হলে ৫ একর করে জমির বন্দোবস্তি দেওয়া হয়েছিল। এ প্রসংগে উল্লেখ করা যেতে পারে, খাগড়াছড়ি জেলার পানছড়ি এলাকার ৩টি মৌজায় ১৮,৮৬৪ একর, বাবুছড়া এলাকার ৬টি মৌজায় ১৭,৬৭৩ একর, বড় মেরুং এলাকার ২টি মৌজায় ১১,৮৯৩ একর, ছোট মেরুং এলাকার ১টি মৌজায় ১০,৪৮১ একর, খাগড়াছড়ি সদর এলাকার গোলাবাড়ী মৌজায় ১৯,৬১৬ একর, মহালছড়ি এলাকার ৭টি মৌজায় ২৬,৬২৫ একর, রামগড় এলাকার ২টি মৌজায় ২৬,৬৭৪ একর, আলুটিলা এলাকার ৯টি মৌজায় ২৯,৩৪৭ একর, মানিকছড়ি এলাকার ৭টি মৌজায় ২২,৫৪৪ একর, লক্ষীছড়ির ৫টি মৌজায় ১৩,১৬৫ একর, কাপ্তাই এলাকার ২টি মৌজায় ১৭,৮৭৯ একর, রাঙ্গামাটি সদর এলাকার ৪টি মৌজায় ৭,২১৬ একর, বুড়িঘাট এলাকার ৬টি মৌজায় ১০,৫৯৪ একর, জুরাছড়ি এলাকার ৪টি মৌজায় ৯,৩০০ একর, ভূষণছড়া এলাকার ৬টি মৌজায় ২৬,৭১৭ একর, সুভলং এলাকার ২টি মৌজায় ১০,৯০৫ একর, লংগদু এলাকার ২টি মৌজায় ৮,৬৯৭ একর, কাচালং এলাকার ১টি মৌজায় ১৪,০০০ একর এবং আটারকছাড়া এলাকার ১টি মৌজায় ২,৬৩৩ একর জমি বাঙালিদের বন্দোবস্তি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তৎকালীন সময়ে শান্তিবাহিনীর আক্রমণ এবং নিরাপত্তা জনিত কারণে অধিকাংশ বাঙালি পরিবারকে সরকার তাদের বন্দবস্তিকৃত জমিগুলোতে স্থায়ীভাবে থাকার সুযোগ পায়নি। ১৯৮৬ সাল পরবর্তী সময়ে তাদের নিরাপত্তা বিবেচনায় পার্বত্য চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকার গুচ্ছগ্রামে স্থানান্তর করা হয়। তবে সরকারি নিয়মের ব্যত্যয় ঘটিয়ে অনেক বাঙালি অবৈধভাবে রাস্তা সংলগ্ন পাহাড়ের পাদদেশে ঘরবাড়ি তৈরি করে থাকছে। একই সাথে উপজাতীয়দের অনেকেও বাঙালিদের মতো পাহাড়ের পাদদেশে ঘরবাড়ি তৈরি করে বসবাস করছে। এ ক্ষেত্রে, উভয় সম্প্রদায়ই সনাতন উপজাতীয়দের বহুল প্রচলিত লোকজ প্রথা অর্থাৎ Watershed Management অনুসরণ করে, অর্থাৎ পাহাড়ের মাটি না কেটে খুটির উপর ‘টং ঘর’ জাতীয় ঘরে বসবাস করছে না। বাঙালি/পাহাড়ি উভয় সম্প্রদায় পাহাড় কেটে অনিরাপদভাবে তাদের বসতবাড়ি নির্মাণ করে অবস্থান করছে। প্রথম আলোর ওই রিপোর্টে আরও বলা হয়েছে, ‘পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড় পাথুরে না হলেও, গাছের আচ্ছাদন এ পাহাড়কে ধস থেকে রক্ষা করে, কিন্তু পাহাড় দিন দিন ন্যাড়া হয়েছে’। প্রকৃতপক্ষে, এই পাহাড় ন্যাড়া হওয়ার পিছনে উপজাতীয়দের বহুল প্রচলিত জুম চাষই দায়ী। জুম চাষের জন্য একটি পাহাড়কে উপযোগী করার জন্য পাহাড়ের সমস্ত গাছ পুড়িয়ে ফেলা হয়। তারপর ওই জমিতে ক্রমান্বয়ে জুম চাষ করা হয়। পূর্বে পার্বত্য এলাকায় যখন জনসংখ্যা কম ছিল, পাহাড়িরা এক বছরে একটি পাহাড় পুড়িয়ে জুম চাষ করার পর পরের বছরে অন্য একটি পাহড়ে জুম চাষ করতো। এভাবে প্রতি বছর পাহাড় পরিবর্তন করে প্রথম পাহাড়ে ফিরে আসতে তাদের ১৫ থেকে ২০ বছর সময় লাগতো। তাই একটি পাহাড় জুম চাষের ফলে প্রথম বছর ভূমি ধসের ‘কারণ’ তৈরি করলেও ১৫ থেকে ২০ বছর পর ঐ জমিতে ফিরে আসার কারণে মধ্যবর্তী বছরগুলোতে নতুন করে প্রাকৃতিকভাবেই বনাঞ্চল তৈরি হয়ে যেত। কিন্তু বর্তমানে উপজাতীয়দের জনসংখ্যা বৃদ্ধি পাবার কারণে ২ থেকে ৩ বছর পর পর একই পাহাড়ে পুনরায় জুম চাষ করার ফলে সেখানে প্রাকৃতিকভাবে নতুন বনাঞ্চল তৈরি হওয়ার সুযোগ থাকছে না। তাই একথা নিশ্চিতভাবে বলা যায় যে, পার্বত্য চট্টগ্রাম এর পাহাড় ধসের পিছনে জুম চাষ প্রথা অন্যতমভাবে দায়ী।

এখানে উল্লেখ্য, জুম চাষ শুধুমাত্র উপজাতীয়রাই জনগোষ্ঠীরা করে থাকে, বাঙালিরা জুম চাষে অভ্যস্ত নয়। গত ১১-১৩ জুন রাঙ্গামাটির বিভিন্ন এলাকায় সংঘটিত পাহাড়ধসের বিষয়টি পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, পাহাড়ের পাদদেশে অবৈধভাবে বাঙালি ও পাহাড়িদের অনিরাপদভাবে তৈরিকৃত বাসস্থান এলাকায় পাহাড়ধসের পাশাপাশি, জনবসতিহীন অনেক পাহাড়েও ব্যাপক ভূমিধস হয়েছে। তাই এ বিষয় নিশ্চিত করে বলা যায়, পাহাড়ের পাদদেশে অবৈধভাবে বাঙালি বা পাহাড়িদের বসতি স্থাপনই ভূমিধসের অন্যতম কারণ নয়, যদি তাই হতো তাহলে যে সকল পাহাড়ে বসতি স্থাপিত হয়নি, সেই পাহাড়গুলোতে ভূমি ধস হতো না।

উপর্যুক্ত আলোচনায় এ কথা নিশ্চিতভাবে বলা যায়, বিভিন্ন পত্র-পত্রিকা, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এবং টক-শোগুলোতে লেখক এবং বক্তাগণ প্রকৃত গবেষণাপ্রসূত বক্তব্য উপস্থাপন না করে অবিবেচনা প্রসূত ও অপরিপক্ক বক্তব্য দিচ্ছেন। এতে করে পাহাড়ধসের প্রকৃত কারণ অপ্রকাশিত থেকে যাবার আশঙ্কা রয়েছে। আমাদের মনে রাখতে হবে, পাহাড়ধসের কারণ হিসেবে ‘শুধুমাত্র পাহাড়ি’ অথবা ‘শুধুমাত্র বাঙালিরা’ দায়ী একথা ঢালাওভাবে বলা যাবে না। সময়ের প্রয়োজনে যুগের সাথে সামঞ্জস্য রাখতে গিয়ে বিভিন্ন সময়ে প্রাকৃতিক বৈচিত্র্যে পরিবর্তন আসা খুবই স্বাভাবিক। আধুনিকতার এ পরিবর্তন ছিল সময়ের দাবি, যা বাঙালি বা পাহাড়ি কারো পক্ষে এড়িয়ে যাওয়া সম্ভব নয়।

২০০৭ সালে চট্টগ্রাম মহানগরীতে ভূমিধসের পর গঠিত তদন্ত কমিটি কর্তৃক পাহাড়ের ৫ কি. মি. এর মধ্যে আবাসিক প্রকল্প গড়ে না তোলা, পাহাড়ে জরুরি ভিত্তিতে বনায়ন, ঢালু পাহাড়ে গাইড ওয়াল নির্মাণ, পানি নিষ্কাশনের ড্রেন ও মজবুত সীমানা প্রাচীর নির্মাণ, পাহাড়ের পানি ও বালি অপসারনের ব্যবস্থা করা, যত্রতত্র পাহাড়ি বালি উত্তোলন নিষিদ্ধ করা, পাহাড়ি এলাকার ১০ কি. মি. এর মধ্যে ইটের ভাটা নিষিদ্ধ করা, ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ের পাদদেশে বসতি স্থাপন নিষিদ্ধ করা, পাহাড় কাটার সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছিল। যতটুকু জানা গেছে, এবারও পাহাড়ধসের সমস্যা চিহ্নিত ও করণীয় নির্ধারনে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব সত্যব্রত সাহা’কে প্রধান করে ২১ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটি নিশ্চয়ই পাহাড়ধসের সঠিক কারণ চিহ্নিত করতে এবং পরবর্তী কর্মপন্থা সম্পর্কে বিভিন্ন বিশেষজ্ঞদের মতামতের আলোকে সুপারিশ করবেন। এর মধ্যে বিভিন্ন পত্র-পত্রিকা এবং সামাজিক যোগযোগ মাধ্যমে মনগড়া বিভিন্ন বক্তব্য দিয়ে পার্বত্য অঞ্চলের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের চেষ্টা করা সমীচীন নয়। বর্তমানে পাহাড়ধসে পাহাড়ি বাঙালি উভয় সম্প্রদায় তীব্র মানবিক বিপর্যয়ের মধ্যে আছেন। সরকার প্রাকৃতিক এই বিপর্যয় থেকে উত্তোরণে এবং ক্ষতিগ্রস্থ মানুষগুলোকে স্বাভাবিক জীবন ব্যবস্থায় ফিরিয়ে আনতে বিভিন্ন কার্যকর পদক্ষেপ নিয়েছেন। আমাদের সকলেরই উচিত সংঘটিত প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে হতাহত ও ক্ষয়ক্ষতিকে ইস্যু হিসেবে ব্যবহার করে নিজস্ব স্বার্থান্বেষী আচরণ পরিহার করা। এই দেশ আমাদের সকলের। পাহাড়ি ও বাঙালি উভয় জনগোষ্ঠী এই স্বাধীন ও সার্বভৌম দেশের গর্বিত নাগরিক। পার্বত্য এলাকায় প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের এই সন্ধিক্ষণে ব্যক্তিগত পছন্দ ও মতামতকে ঊর্ধ্বে রেখে সকল শ্রেণি-পেশার মানুষ একসাথে কাজ করবে, এটাই কাম্য।

লেখক : পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক গবেষক    




আট দিন পর চালু হলো চট্টগ্রাম-রাঙামাটি মহাসড়ক

রাঙামাটি প্রতিনিধি:

ভারী বর্ষণে সড়ক ধ্বসের আট দিন পর রাঙামাটির সঙ্গে চট্টগ্রামের মহাসড়ক যোগাযোগ চালু করা হয়েছে।  বুধবার দুপুরে সড়কটি হালকা যানবাহন চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হয়।

গত ১৩ জুন প্রবল বর্ষণে রাঙামাটি-চট্টগ্রাম প্রধান সড়কের শালবাগান এলাকায় ১৫০ মিটার সড়ক ধ্বসে পড়ে। এর পর থেকে রাঙামাটির সঙ্গে সারাদেশের সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়। এতে ভোগান্তিতে পড়ে সাধারণ মানুষ। পরে বিকল্প সড়ক তৈরির কাজ শুরু করে সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদপ্তর এবং সেনাবাহিনী। এক সপ্তাহ ধরে দিনরাত পরিশ্রমের পর আজ দুপুরে সড়কটি হালকা যান চলাচলের উপযোগী করে খুলে দেওয়া হয়।

সড়কটি চালুর সময় উপস্থিত ছিলেন সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব এমএএন সিদ্দিক, সেনাবাহিনীর চট্টগ্রাম ডিভিশনের জিওসি মেজর জেনারেল জাহাঙ্গীর কবির তালুকদার, বিভাগীয় কমিশনার মো. রুহুল আমিন, রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. ওমর ফারুক, রাঙামাটির জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মানজারুল মান্নান ও পুলিশ সুপার সাঈদ তারিকুল হাসান।

সড়ক ও জনপথ বিভাগের সচিব এমএএন ছিদ্দিকুর রহমান জানিয়েছেন, বুধবার আড়াইটায় হালকা যানবাহন চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া হয়েছে।

রাঙামাটি-চট্টগ্রাম, রাঙামাটি-বান্দরবান, রাঙামাটি-খাগড়াছড়ি সড়কের ৭টি রুটের ১৪৫টি স্থানে পাহাড় ধ্বস হয়েছে। এছাড়া সড়কের ৩৭টি স্থান ভেঙ্গে পড়েছে। এর মধ্যে ঘাগড়ার শালবাগান এলাকার সড়কটি ৬১কি.মি. এলাকায় একশ ফুট সড়ক ২শ-৩শ ফুট পাহাড়ের নিচে ধসে গেছে। সড়কগুলো প্রথমদিকে হালকা যান চলাচলের জন্য সচল করা হয়েছে। পরবর্তীতে মাসখানেকের মধ্যে স্থায়ী সমাধানের মাধ্যমে ভারী যান চলাচলের জন্য উপযোগী করা হবে।

সেনাবাহিনীর চট্টগ্রাম ডিভিশনের জিওসি মেজর জেনারেল জাহাঙ্গীর কবির তালুকদার বলেন, ‘আপনাদের আমরা কথা দিয়েছিলাম তিনদিন আগে, এ রাস্তাটা ছোট গাড়ি চলাচলের জন্য তুলে দেব। আল্লাহর অশেষ রহমত। বৃষ্টি হয়েছে এর মধ্যে, তারপরও আমরা আমাদের কনস্ট্রাকশন ব্যাটালিয়ন এবং রোডস অ্যান্ড হাইওয়ে একত্রে মিলে এটা একটা অসাধ্য সাধন করেছি।’

জাহাঙ্গীর আলম আরও বলেন, ‘গত ১৩ তারিখ থেকে আজ পর্যন্ত চলাচল বন্ধ ছিল, মানুষের যে ভোগান্তি হচ্ছিল, ভোগান্তিটা অ্যাটলিস্ট আজকে থেকে সমাধান হবে ইনশাল্লাহ। যেখানে যেখানে সমস্যা আছে সেই সমস্যাগুলো সমাধান করা হবে এবং ইনশাল্লাহ ছোট গাড়ির কোনো সমস্যা হবে না।’




অনলাইন গণমাধ্যম দেখভাল করবে সম্প্রচার কমিশন

পার্বত্যনিউজ ডেস্ক:

জাতীয় অনলাইন গণমাধ্যম নীতিমালা ২০১৭ এর খসড়ার অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। অনলাইন গণমাধ্যম দেখভালের জন্য সম্প্রচার কমিশন থাকবে। এ কমিশনের কাছ থেকেই অনলাইন গণমাধ্যমের অনুমোদন নিতে হবে।

সোমবার প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিপরিষদ বৈঠক শেষে সচিব মোহাম্মাদ শফিউল আলম সাংবাদিকদের এ কথা বলেন।

তিনি জানান, প্রস্তাবিত নীতিমালা অনুযায়ী গঠিত জাতীয় সম্প্রচার কমিশনই অনলাইন গণমাধ্যম পরিচালনা করবে। বিধি-বিধান যথাযথভাবে মেনে চলা হচ্ছে কি না তাও ধারাবাহিকভাবে পর্যবেক্ষণ করবে এ কমিশন।

 সব গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানের সংবাদ ও প্রকাশিত বা প্রচারিত অনুষ্ঠান প্রসঙ্গে ছয় মাস বা এক বছর পরপর প্রতিবেদন নেবে কমিশন। পরবর্তীতে তা পেশ করা হবে সরকারের কাছে। যেকোনো অনলাইন গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান পরিদর্শনও করবেন তারা।

তিনি আরো জানান, বাংলাদেশের নারী ও অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর ক্ষমতায়নের ক্ষেত্রে অনলাইন গণমাধ্যমের ভূমিকা নিশ্চিত করবে এ নীতিমালা। অনলাইন গণমাধ্যমের সহায়তায় গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানে বর্ণিত ব্যক্তির মৌলিক অধিকার, বাক-ব্যক্তি স্বাধীনতা ও সম্মান সমুন্নত রাখার বিষয়টি নিশ্চিতকরণও হবে এ নীতিমালার কাজ।

অশ্লীলতা রোধ এবং সামাজিক মূল্যবোধের পরিপন্থী কোনো বিজ্ঞাপন বা তথ্য-উপাত্ত প্রকাশ, প্রচার বা সম্প্রচার না করার মাধ্যমে সামাজিক দায়বদ্ধতা নিশ্চিতকরণ, দেশীয় সাহিত্য, কৃষ্টি ও সংস্কৃতির উন্নয়নে সহায়তা এ নীতিমালা বলেও জানান শফিউল আলম।




রাঙামাটিতে পাহাড় ধসে ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তা দিতে হবে জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে


নিজস্ব প্রতিনিধি :

রাঙামাটিতে পাহাড় ধসে গৃহহীনদের পাশাপাশি ফের ধসের আশঙ্কায় ১৭টি আশ্রয় কেন্দ্রে আড়াই হাজারের বেশি মানুষ ঠাঁই নিয়েছেন। এসব মানুষকে প্রশাসনের পাশাপাশি অনেকে ব্যক্তিগত এবং সাংগঠনিকভাবেও ত্রাণ সহায়তা নিয়ে এগিয়ে আসছেন।

বেসরকারি পর্যায় থেকে আসা সহায়তা বা ত্রাণ বিচ্ছিন্নভাবে প্রদান করতে নানা সমস্যা সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কায় জেলা প্রশাসন তা সমন্বয়ের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এখন থেকে ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তা বা ত্রাণ দিতে চাইলে তা জেলা প্রশাসনের মাধ্যমেই দিতে হবে বলে সিদ্ধান্ত হয়েছে।

এজন্য ব্যাংক হিসাব খোলার পাশাপাশি চার সদস্যের একটি কমিটি করে দিয়েছে রাঙামাটি জেলা প্রশাসন।

জেলা প্রশাসক মানজারুল মান্নান বলেন, “রাঙামাটি বা এর বাইরের জেলা থেকে ব্যক্তিগত অথবা প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে মানবিক সহায়তা করতে চাইলে তা জেলা প্রশাসনের মাধ্যমেই করতে হবে। এখানে আলাদাভাবে দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই।”

অর্থ সাহায্য নেওয়ার জন্য ইসলামী ব্যাংক রাঙামাটি শাখায় একটি ব্যাংক হিসাব খোলার তথ্য জানিয়ে তিনি বলেন, বেসরকারি উদ্যোগে দেওয়া সহায়তা বিতরণের বিষয়টি সমন্বয় করবে চার সদস্যের কমিটি।

“কেউ নগদ অর্থ সহায়তা দিতে চাইলে ব্যাংক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে তা জমা দিতে হবে। রোববার রাঙামাটি জেলা প্রশাসনের ওয়েবসাইট ও ফেইসবুক পেইজের মাধ্যমে অ্যাকাউন্ট নম্বর জানিয়ে দেওয়া হবে।”

এর বাইরে কেউ ত্রাণসামগ্রী বিশেষ করে খাদ্যদ্রব্য ও কাপড় দিতে চাইলে তা প্রশাসনের কমিটির কাছে জমা দিতে হবে।

“কারণ কোনো আশ্রয়কেন্দ্রে হয়ত দুইশজন আছেন। কিন্তু কেউ হয়ত সেখানে ৫০ জনের সমপরিমাণ সহায়তা নিয়ে গেলেন। তখন ত্রাণ বিতরণের সময় সেখানে বিশৃঙ্খলা দেখা দেওয়ার আশঙ্কা থাকে। সেজন্য আগ্রহীদের জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে ত্রাণ বিতরণের অনুরোধ জানাচ্ছি আমরা।”

ত্রাণ সহায়তা নেওয়ার জন্য গঠিত সমন্বয় কমিটির সদস্যরা হলেন- নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শাহিদা আক্তার ও ফাতিমা আক্তার, ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা বিশ্বনাথ মজুমদার এবং জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা মোশাররফ হোসেন।




পাহাড় ধসে দুর্গতদের দেখতে যাওয়ার পথে মির্জা ফখরুলের উপর হামলা

পার্বত্যনিউজ ডেস্ক:

পাহাড় ধসে দুর্গতদের দেখতে যাওয়ার পথে চট্টগ্রামে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের গাড়ি বহরে হামলা চালিয়েছে দুর্বৃত্তরা। পাহাড়ধসে নিহত ও ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারের মাঝে ত্রাণ বিতরণের জন্য রাঙামাটি যাওয়ার পথে হামলায় শিকার হয়েছেন বিএনপি প্রতিনিধি দলের সদস্যরা।

হামলায় দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ভাইস চেয়ারম্যান রুহুল আলম চৌধুরীসহ ৫ জন আহত হয়েছেন। হামলার কারণে রাঙামাটি যেতে না পেরে নগরীতে ফিরে আসছে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুলের নেতৃত্বের প্রতিনিধি দল। রোববার সকাল ১০টার দিকে রাঙ্গুনিয়া উপজেলার গোছরা এলাকায় হামলা হয় বলে জানা গেছে।

বিএনপি নেতাদের অভিযোগ সরকার দলের ক্যাডাররা এ হামলা চালিয়েছে।  আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, রাঙামাটি যাওয়ার পথে রাঙ্গুনিয়া উপজেলার গোছরা এলাকা পার হওয়ার পর আমাদের গাড়ি লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল ছুড়তে থাকে। পরে ৩০ থেকে ৪০ জন যুবক লোহার রড ও লাঠি নিয়ে আমাদের গাড়ি ভাংচুর করে। হামলায় দলের মহাসচিব, আমিসহ অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছি।

হামলা এবং বাধার কারণে রাঙামাটি না গিয়ে নগরীতে ফিরে আসছেন জানিয়ে আমীর খসরু বলেন, জীবনের নিরাপত্তা না থাকায় আমরা রাঙামাটি যাইনি।

রাজনৈতিক জীবনে এমন ন্যাক্কারজনক হামলা প্রত্যক্ষ করেননি মন্তব্য করে আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, আমরা কল্পনাও করতে পারিনি এমন হামলা হবে। দেশের রাজনীতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে বিশ্বাস করতে পারছি না।

দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুলের নের্তৃত্বে প্রতিনিধি দলে রয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ভাইস চেয়ারম্যান রুহুল আলম চৌধুরী, চট্টগ্রাম বিষয়ক সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবুর রহমান শামীম, বিএনপির স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ডা. ফাওয়াজ হোসেন শুভ, নগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম বক্কর।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, রোববার সকালে ইউএস বাংলার একটি ফ্লাইটে করে ঢাকা থেকে শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুলের নেতৃত্বের প্রতিনিধি দল।সকাল সাড়ে ৮টায় বিমানবন্দর থেকে সড়ক পথে রাঙা্মাটির উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেন তারা।

আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর পাজেরো গাড়িতে উঠেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, রুহুল আলম চৌধুরী ও মাহবুবু রহমান শামীম। এছাড়া আরও অন্তত ১০টি পাজেরো জিপ গাড়িতে করে রওয়ানা দেন প্রতিনিধি দলের সদস্য, নগর ও উত্তর জেলা বিএনপির নেতারা। প্রতিনিধি দলের গাড়ি বহরের সামনে একটি গাড়িতে ছিলেন বন্দর থানা বিএনপির সভাপতি এম এ আজিজ।

তিনি বলেন, আমরা একটি জিপ গাড়িতে বহররের সামনে ছিলাম। গোছরা বাজার অতিক্রমের পর দেখি ৩০ থেকে ৪০ জন যুবক লোহার রড ও লাঠি নিয়ে হামলা করতে আসছে। এসময় আমরা গাড়ি দ্রুত ঘুরিয়ে দলের মহাসচিবকে বহনকারী গাড়ির চালককে গাড়ি ঘুরানোর কথা বলি। কিন্তু ততক্ষণে হামলা শুরু হয়ে যায়।

দলের মহাসচিব গাড়ির সামনের সিটে ছিলেন জানিয়ে তিনি বলেন, তারা দলের শীর্ষ নেতাদের দেখে গাড়িতে হামলা চালায়। হামলায় মহাসচিব, স্থায়ী কমিটির সদস্য, রুহুল আলম ও মাহবুবুর রহমান শামীম আহত হন। হামলাকারীরা বহরের অধিকাংশ গাড়িতে ভাংচুর চালিয়েছে বলেও জানান তিনি।

ঘটনার বর্ণনায় বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘পাহাড় ধসে নিহত ও ক্ষতিগ্রস্তদের পরিবারকে সমবেদনা জানাতে বিএনপি চেয়ারপারসনের নির্দেশে আমরা ঢাকা থেকে চার জনের একটি দল চট্টগ্রামে এসেছি। চট্টগ্রাম বিমান বন্দর থেকে আমরা রাঙামাটির উদ্দেশে রওয়ানা হয়েছিলাম। রাস্তায় জানতে পারলাম রাঙামাটির যে রাস্তায় ভাঙন  শুরু হয়েছিল সেটি  ভেঙে গেছে। ওই রাস্তা হয়ে রাঙামাটি যাওয়া সম্ভব নয়।

তখন আমরা সিদ্ধান্ত নিলাম কাপ্তাই লেক হয়ে নদী পথে রাঙামাটি পৌঁছাবো। যে কারণে বিমানবন্দর থেকে সরাসরি কাপ্তাই যাওয়ার জন্য বের হয়েছি। ইছাখালী বাজারে যেতে না যেতেই মুশলধারে বৃষ্টি শুরু হয়। বৃষ্টি ঠেলে কিছুদূর যেতেই হঠাৎ ৩০-৪০ যুবক লাঠিসোটা, হকস্টিক, রামদা ও বড় বড় পাথর নিয়ে আমাদের গাড়িতে আক্রমণ করলো।

প্রথমেই তারা গাড়ি সামনের গ্লাসে পাথর ছুঁড়ে মারে। এরপর অনবরত তারা হকস্টিক, লাঠিসোটা দিয়ে ভাঙচুর চালায়। এতে আমাদের স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী রক্তাক্ত হয়েছেন, মেজর জেনারেল (অব) রহুল আলম চৌধুরী আহত হয়েছেন, আমি নিজেও আহত হয়েছি।’

এ সময় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও দলের চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবুর রহমান শামীম আহত হন। গাড়ি বহরে থাকা একজনের মাথা ফেটে গেছে।

রবিবার সকাল সোয়া এগারোটার দিকে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘আমাদের জীবন হুমকির মুখে। আমার হাতের আঙুল ফেটে গেছে, মহাসচিব হাতে ব্যাথা পেয়েছেন। আমাদের গাড়ি পুরোপুরি ভেঙে দেওয়া হয়েছে।’ তিনি এই হামলার জন্য আওয়ামী লীগের নেতা কর্মীদের দায়ী করেছেন।

হামলার পর মির্জা ফখরুলের প্রতিক্রিয়া

পাহাড় ধসের দুর্গতদের দেখতে রাঙামাটি যাওয়ার পথে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় হামলার শিকার হওয়ার বিষয়ে কথা বলেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে রবিবার বেলা ১টার দিকে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী রক্তাক্ত হয়েছেন।  আমি আঘাত পেয়েছি, আরও কয়েকজন আঘাত পেয়েছেন। কে কতটুকু আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছেন তা বড় কথা নয়।

আসল কথা হচ্ছে এই আঘাত গণতন্ত্রের প্রতি আঘাত। জাতীয়বাদী রাজনীতির প্রতি আঘাত, মুক্তবুদ্ধি ও সুস্থ চিন্তার প্রতি আঘাত। এ আঘাত যারা সরকারের খারাপ কাজের প্রতিবাদ করেন তাদের প্রতিও আঘাত। এই আক্রমণের মাধ্যমে আওয়ামী লীগের চরিত্র আরও বেশি করে উম্মোচিত হয়েছে।’

মির্জা ফখরুল আরও বলেন, ‘আওয়ামী লীগ সবসময় দাবি করে তারা গণতন্ত্র বিশ্বাস করে। আসলে তারা গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে না, ভিন্নমতেও তাদের বিশ্বাস নেই। সহনশীলতা বলতে তাদের কিছুই নেই। এভাবে আক্রমণ আমাদের কাছে দুঃস্বপ্নের মতো এবং অবিশ্বাস্য। আমাদের পর্যায়ের নেতৃবৃন্দের ওপর যদি এ ধরনের হামলা হয়, তাহলে সাধারণ মানুষের কী অবস্থা তা সহজেই অনুমেয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা তো সেখানে জনসভা অথবা পার্টির মিটিং করতে যাচ্ছিলাম না। আমরা দুর্গত ও পাহাড় ধসে নিহতদের পরিবারকে পার্টির পক্ষ থেকে সমবেদনা জানাতে যাচ্ছিলাম। এই আক্রমণের একমাত্র প্রতিবাদ তখনই হবে যখন আমরা জনগনকে ঐক্যবদ্ধ করে এই ফ্যাসিস্ট, অপশক্তিকে পরাজিত করে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করতে পারবো।’

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আজকের এ সুনির্দিষ্ট আক্রমণ কোথা থেকে আসতে পারে আপনারা তদন্ত করে দেখবেন। আওয়ামী লীগের লোকেরা এটা করেছে। এটা কোথা থেকে আসতে পারে আপনারা সেটা ভালো করে বলতে পারবেন।’

সংবাদ সম্মেলনে স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, এটি একটি অবিশ্বাস্য ঘটনা। কোনও সভ্য দেশে এ ধরনের আক্রমণ হতে পারে না। আমাদের রাজনীতি করতে দেবেন, এখন ত্রাণও দিতে পারবো না।’

তিনি বলেন, ‘একটি রাজনৈতিক দলের মহাসচিব ও জ্যেষ্ঠ নেতৃবৃন্দের ওপর যদি আক্রমণ হয় তাহলে আর বাকি থাকে কী? এর পরে কি আর রাজনীতি থাকে? রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের মাধ্যমে এ সরকার ক্ষমতায় টিকে রয়েছে।’

সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন  দলের ভাইস চেয়ারম্যান গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী, খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব) রহুল আলম চৌধুরী, কেন্দ্রীয়  সাংগঠনিক সম্পাদক মাহববুর রহমান শামীম, চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম বক্করসহ নেতাকর্মীরা।

ওবায়দুল কাদেরের প্রতিক্রিয়া

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের ওপর হামলা অন্যায় বলে মন্তব করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, ‘এটা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।’

রবিবার রাজধানীতে বিমানবন্দর সড়কে বিআরটিএর ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে গিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘যে বা যারাই মির্জা ফখরুলের গাড়িবহরে হামলা করুক না কেন, সেটা অন্যায়। আওয়ামী লীগ এটা খতিয়ে দেখছে, তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘আমি ইতিমধ্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও আইজিপির সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে কথা বলেছি। চট্টগ্রামের ডিসি-এডিশনাল এসপির সঙ্গে কথা বলেছি। কে বা কারা এই ঘটনা ঘটিয়েছে, খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’

সেতুমন্ত্রীর অভিযোগ, বিএনপি তার কর্মসূচি সম্পর্কে পুলিশকে আগে থেকে জানায়নি। তিনি বলেন, ‘বিএনপি পুলিশকে সঠিক তথ্য দেয় না। তাদের রাউজান হয়ে যাওয়ার তথ্য ছিল পুলিশের কাছে। পরে তারা বামুনিয়া হয়ে গেছে। পুলিশের কাছে এ তথ্য ছিল না। তথ্য থাকলে পুলিশ ওখানেই পাহারার ব্যবস্থা করত।’

বিএনপির গাড়ি বহরে হামলার পর বিএনপির প্রতিনিধি দল রাঙামাটিতে না গিয়ে চট্টগ্রাম ফিরে যায়।রবিবার (১৮ জুন) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ার শান্তিরহাট এলাকায় বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের গাড়ি বহরে হামলা চালায় দুর্বৃত্তরা।

তিনি রাঙামাটিতে পাহাড় ধসে দুর্গতদের দেখতে যাচ্ছিলেন। এ সময় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও দলের চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবুর রহমান শামীম আহত হন। গাড়ি বহরে থাকা একজনের মাথা ফেটে গেছে।

ওবায়দুল কাদের জানান, ঘটনার পর পুলিশ এসে তাদেরকে ত্রাণ বিতরণে অনুরোধ করেছিল। কিন্তু তারা সেটা করেনি।

ফখরুলের উপর হামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের গাড়ি বহরে হামলার প্রতিবাদে নয়া পল্টনে তাৎক্ষণিক বিক্ষোভ মিছিল করেছে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপি, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদল। রবিবার দুপুরে রাজধানীর নয়া পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে তাৎক্ষণিক এই বিক্ষোভ হয়।

বিক্ষোভ মিছিলে অংশ নেন ঢাকা মহানগর বিএনপির সভাপতি ও বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল, স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি শফিউল বারী বাবু, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাদের ভুইয়া জুয়েল, যুবদলের সিনিয়র সহসভাপতি মোরতাজুল করিম বাদরুসহ বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের শতাধিক নেতাকর্মী।

নিন্দা ও প্রতিবাদ: এদিকে মির্জা ফখরুলের গাড়ি বহরে হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন ইউনিভার্সিটি টিচার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ইউট্যাব) সহসভাপতি অধ্যাপক ড. আশরাফুল ইসলাম চৌধুরী, সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যাপক ড. মোর্শেদ হাসান খান, ছাত্রদল সভাপতি রাজীব আহসান, সাধারণ সম্পাদক আকরামুল হাসান, বাংলাদেশ ন্যাপ ভাসানীর সভাপতি জেবেল রহমান গানি, মহাসচিব গোলাম মোস্তফা ভুইয়াসহ বিভিন্ন সংগঠন ও রাজনৈতিকদল।

এদিকে মির্জা ফখরুলের ওপর হামলার প্রতিবাদে আগামীকাল সোমবার দেশের সব জেলা সদরে এবং ঢাকা মহানগরীতে বিক্ষোভ কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছে বিএনপি।

রোববার দুপুরে কুমিল্লা আদালতে একটি মামলার হাজিরা শেষে জেলা বিএনপির কার্যালয়ে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলন করে এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন দলের যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।




রাঙ্গামাটিতে পাহাড়ধসে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শনে যাচ্ছে বিএনপি


নিজস্ব প্রতিনিধি :

রাঙ্গামাটিতে পাহাড়ধসে নিহত ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়াতে বিএনপির উচ্চ পর্যায়ের একটি প্রতিনিধিদল দুর্গত এলাকা পরিদর্শনে যাচ্ছে রোববার। বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার নির্দেশে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় পরিদর্শনে যাচ্ছেন তারা।

চেয়ারপারসনের মিডিয়া উইং কর্মকর্তা শায়রুল কবির খান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর নেতৃত্বে স্থানীয় বিএনপি নেতারাসহ পার্বত্য এলাকা পরিদর্শনে যাবেন।




পাহাড়ের বিপর্যয়ের জন্য দায়ী বিএনপি: কাদের


পার্বত্যনিউজ ডেস্ক:

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, পাহাড়ের বিপর্যয়ের জন্য বিএনপি দায়ী; সেখানে চার লাখ মানুষকে পুনর্বাসন করে ভারসাম্য নষ্ট করেছে তারা।

দেশের পার্বত্য জেলাগুলোতে পাহাড় ধসের বিপর্যয়ের সময় প্রধানমন্ত্রীর বিদেশ সফর ও সরকারের সক্ষমতা নিয়ে বিএনপির নেতাদের সমালোচনার মুখে শনিবার ফেনীতে এক অনুষ্ঠানে একথা বলেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী কাদের।

তিনি বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় পাহাড়ে চার লাখ লোককে পুনর্বাসন করে বিপর্যয় শুরু করে। তাদের অবহেলার কারণে পাহাড়ের ভারসাম্য নষ্ট হয়েছে।

“যে চার লাখ বাঙালিকে নিয়ে পাহাড়ে পুনর্বাসন করেছিল তাদের ভবিষ্যতও ছিল বিপন্ন। তাদের জন্য কোনো ব্যবস্থা করেনি।”

ওবায়দুল কাদের বলেন, তারা তো ক্ষতিগ্রস্তদের খবর নিতে পাহাড়ে যায়নি। শুধু ঢাকায় বসে ত্রাণ যায়নি বলে সমালোচনা করছেন। তারা শুধু প্রেস ব্রিফিং করে সীমাবদ্ধ।

“বিএনপির নেত্রী কি কোথাও গেছেন? উপকূলে গেছেন, হাওড়ে গেছেন, পাহাড়ে গেছেন ? যারা সমালোচনা করেন তা কি কোনো কাজ করেন। কাজেই সমালোচনা না করে বিএনপিকে আমি বলি, জনগণের পাশে দাঁড়ান।নেতিবাচক রাজনীতি বাদ দিয়ে ইতিবাচক রাজনীতি করুন।”

রিঅ্যাক্টিভ কথাবার্তা না বলে প্রোঅ্যাক্টিভ ভূমিকা পালনেরও আহ্বান জানান আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক।

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ফেনীর মহিপালে ছয় লেনের ফ্লাইওভারের নির্মাণ কাজ পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

সেতুমন্ত্রী বলেন, পাহাড় থেকে সমস্ত বসতি সরিয়ে ফেলতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যত প্রভাবশালী হউক না কেন কারো কোনো বাঁধাই মেনে নেওয়া হবে না।

আগামী চার দিনের মধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত রাঙ্গামাটি-চট্টগ্রাম মহাসড়ক স্বাভাবিক হবে। ক্ষতিগ্রস্ত বান্দরবান-চট্টগ্রাম সড়কেরও মেরামত কাজ চলছে বলে জানান তিনি।

মহিপালের ফ্লাইওভারটি ২০১৮ সালের ৩০ জুনর মধ্যে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও চলতি বছরের ডিসেম্বর কিংবা আগামী বছরের জানুয়ারি মাসে শেষ হয়ে যাবে বলে জানান মন্ত্রী।

ফ্লাইওভারের কাজ পরিদর্শনের সময় সহকারী প্রকল্প পরিচালক কর্নেল জামিউল ইসলাম, প্রকল্প কর্মকর্তা মেজর ফয়সাল চৌধুরী, জেলা প্রশাসক মনোজ কুমার, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সার্কেল) উক্ক সিং প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

সূত্র- বিডিনিউজ২৪.কম




বাংলাদেশে পাহাড়ধসে বিপুল প্রাণহানির ঘটনায় বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধান এবং কূটনৈতিকবৃন্দের শোকপ্রকাশ

পার্বত্যনিউজ ডেস্ক : বাংলাদেশের চট্টগ্রামসহ রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানে পাহাড় ধসে বিপুলসংখ্যক মানুষের প্রাণহানির ঘটনায় বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধান এবং কূটনৈতিকবৃন্দ গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। গভীর শোক প্রকাশ করে যারা বার্তা দিয়েছেন তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূত জোয়েল রাইফম্যান, ইইউ রাষ্ট্রদূত পিয়েরে মায়াদুন এবং বৃটিশ হাইকমিশনার এলিসন ব্লেইক।

বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে প্রেরিত এক শোকবার্তায় রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন নিহতদের শোকাহত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা এবং আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করেছেন।

বার্তায় তিনি আরও বলেন, আপনাদের দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে বন্যা ও পাহাড় ধসে এই প্রাণহানির ঘটনায় আমার আন্তরিক সমবেদনা গ্রহণ করুন।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বাংলাদেশে ভয়াবহ ভূমিধসে বিপুল সংখ্যক মানুষের প্রাণহানিতে শোক জানানোর পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে অনুসন্ধান ও উদ্ধার তৎপরতায় সহযোগিতার প্রস্তাব করেছেন।

এক টুইট বার্তায় মোদি লিখেছেন, ভূমিধসে বাংলাদেশে প্রাণহানিতে আমি শোহাহত। নিহতদের পরিবারের সদস্যদের প্রতি আমার সমবেদনা রইলো। আহতদের প্রতি আমার প্রার্থনা।

অপর এক টুইটে তিনি লিখেছেন, বাংলাদেশের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে অবস্থান করছে ভারত। প্রয়োজন হলে আমরা স্থানীয় অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযানে সহায়তা দিতে প্রস্তুত।

বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূত জোয়েল রাইফম্যান রাঙ্গামাটি, বান্দরবান ও চট্টগ্রামে পাহাড়ধসে ব্যাপক প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতির ঘটনায় সরকারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন।

ঢাকাস্থ যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জোয়েল রাইফম্যানের উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়, গত ১৩ জুন চট্টগ্রাম, রাঙ্গামাটি ও বান্দরবানে পাহাড়ধসে যে প্রাণহানি ও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীর পক্ষ থেকে আমি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার ও উদ্ধারকারীদের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করছি।

আপনাদের এ দুঃখ-দুর্দশায় আমরা গভীরভাবে মর্মাহত। সকল সাহসী উদ্ধারকারীকে আমরা সাধুবাদ জানাই।

বাংলাদেশে নিযুক্ত বৃটিশ হাইকমিশনার এলিসন ব্লেইক এবং ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের (ইইউ) রাষ্ট্রদূত পিয়েরে মায়াদুন পার্বত্য তিন জেলায় পাহাড় ধসে হতাহতের ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করে শোক বার্তা দিয়েছেন।

ওই শোক বার্তায় ইইউ রাষ্ট্রদূত পিয়েরে মায়াদুন বলেন, ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তা করতে ইইউ প্রস্তুত আছে।

অন্যদিকে, বৃটিশ হাইকমিশনার এলিসন ব্লেইক এক টুইট বার্তায় হাহাড় ধসে হতাহতের ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করে এ ঘটনায় নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করেন।




বনানীতে শহীদ ২ সেনা অফিসারের দাফন সম্পন্ন

পার্বত্যনিউজ ডেস্ক:

রাঙামাটিতে পাহাড়ধসে উদ্ধার কার্যক্রম চালানোর সময় নিহত ২ সেনা কর্মকর্তার দাফন সম্পন্ন হয়েছে। বৃহস্পতিবার বনানী সামরিক কবরস্থানে সামরিক মর্যাদায় তাদের দাফন সম্পন্ন হয়। আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদফতর (আইএসপিআর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানিয়েছে।

এসময় সেনাবাহিনীর চীফ অব জেনারেল স্টাফ (সিজিএস) মেজর জেনারেল মো: নাজিম উদ্দীনসহ নিহত দুই সেনা কর্মকর্তার আত্নীয় স্বজন ও উর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

নিহত মেজর মোহাম্মদ মাহফুজুল হকের বাড়ি মানিকগঞ্জের সিংড়াইল। তিনি ১৯৯৯ সালে বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমিতে যোগদান করেন এবং ৪৪ বিএমএ লং কোর্সের সাথে কমিশন প্রাপ্ত হন। তিনি বিবাহিত এবং পাঁচ বছর বয়সি এক ছেলের জনক।

নিহত ক্যাপ্টেন মো. তানভীর সালাম শান্তর বাড়ি পটুয়াখালীর বাউফলে। তিনি ২০০৯ সালে বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমিতে যোগদান করেন এবং ৬৪ বিএমএ লং কোর্সের সাথে কমিশন প্রাপ্ত হন। তিনি সদ্য বিবাহিত।
উল্লেখ্য, রাঙামাটিতে পাহাড় ধসে উদ্ধার কার্যক্রম চালানোর সময় গত মঙ্গলবার ২ জন সেনা কর্মকর্তাসহ ৪ জন সেনাসদস্য নিহত হয়। এবং ১ সেনা সদস্য নিখোঁজ থাকে। রাঙামাটির মানিকছড়িতে একটি পাহাড় ধসে মাটি ও গাছ পড়ে চট্টগ্রাম-রাঙামাটি মহাসড়ক বন্ধ হয়ে গেলে তাৎক্ষণিকভাবে রাঙামাটি জোন সদরের নির্দেশে মানিকছড়ি আর্মি ক্যাম্প থেকে সেনাবাহিনীর একটি দল উক্ত সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক করতে উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করে।

উদ্ধার কার্যক্রম চলাকালীন আনুমানিক সকাল ১১টায় উদ্ধার কার্যস্থল সংলগ্ন পাহাড়ের একটি বড় অংশ উদ্ধারকারীদলের উপর ধসে পড়লে তারা মূল সড়ক হতে ৩০ ফিট নিচে পড়ে যান। পরবর্তীতে একই ক্যাম্প থেকে আরও একটি উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে ২ জন সেনা কর্মকর্তাসহ ৪ জন সেনাসদস্যকে নিহত এবং ১০ জন সেনাসদস্যকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে। পরে বৃহস্পতিবার নিখোঁজ সেনা সদস্যের লাশ পাওয়া যায়। এতে এ ঘটনায় নিহত সেনা সদস্যের সংখ্যা দাঁড়ায় ৫ এ।




ক্যাপ্টেন তানভীরের মৃত্যু শোক সইতে পারলেন না তার দাদা

নিজস্ব প্রতিবেদক:

রাঙ্গামাটিতে পাহাড় ধসে নিহত বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ক্যাপ্টেন তানভীর ইসলাম শান্ত’র গ্রামের বাড়িতে বেড়েছে শোকের মাতাম। নাতীর শোকে হার্ট অ্যাটাক করে মারা গেলেন দাদা আজিজ মোল্লা (৭৫)।

বৃহস্পতিবার সকাল ৯টার দিকে রাজধানীর বনানী কবরস্থানে যখন তানভীরের দাফনের প্রস্তুতি চলছিল তা শুনেই বাউফল উপজেলার কালীশুরী ইউনিয়নের সিংহেরা কাঠী গ্রামের বাড়িতে বসে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়লেন দাদা আজিজ মোল্লা।

তানভিরের ছোট চাচী ঝর্না বেগম জানান, তানভীরের মৃত্যু সংবাদ শোনার পর থেকেই অস্থির হয়ে ওঠেন তিনি। তানভিরের মৃত্যুর খবর শুনে অনেকেই গ্রামের বাড়িতে আসছেন। তাদের সবার সাথে বারবার তানভীরের স্মৃতিবিজড়িত নানা কথা বলে কাঁদছিলেন তিনি।

বুধবার বিকেলে সংবাদ সংগ্রহের জন্য ক্যাপ্টেন তানভীরের গ্রামের বাড়িতে গিয়ে দেখা হয় তার সাথে। সেই সময়ে তিনি ঘরের সামনে বারান্দায় একা আপন মনে বসা ছিলেন। সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে তানভীরের স্মৃতিবিজড়িত নানা কথা বলে বারবার কান্না করছিলেন তিনি। আর বিছানার পাশে তানভীরের বিয়ের কার্ড খুঁজছিলেন।

তানভীরের চাচা মো. আবদুর রব রাকিব জানান, শুক্রবার সকাল ৮টার দিকে সিংহেরাকাঠি গ্রামে তানভীরের তৈরি মসজিদে তার জানাযা অনুষ্ঠিত হবে।এদিকে পিতা আর পুত্রকে হারিয়ে পুরোপুরি নির্বাক ইঞ্জিনিয়ার মো. ছালাম মোল্লা।

পটুয়াখালী জেলার বাউফলের ছেলে ক্যাপ্টেন তানভীর সালাম শান্তের জন্ম ১৯৯০ সালের ৩০ মার্চ। তার পিতার নাম আবদুস সালাম, মাতা লুৎফুন্নাহার। ১৫ জুলাই ২০০৯ সালে যোগদান করেন বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমিতে। ৬৪তম বিএমএ দীর্ঘমেয়াদি কোর্সের মাধ্যমে ২২ জুন ২০১১ সালে কমিশন লাভ করেন তিনি। পরে ক্যাপ্টেন পদমর্যাদায় পদোন্নতি পান। চাকুরী সূত্রে তুরস্ক, সুইডেন, ফ্রান্স, ইতালী ও জার্মানী ভ্রমণ করেছেন। বিয়ে করেন ২০১৬ সালের ২ সেপ্টেম্বর। স্ত্রীর নাম নাজিয়া তাহসিন। তানভীর ও তার স্ত্রী দুজনেই অত্যন্ত ধার্মিক ছিলেন বলে জানা যায়।

তানভীরের ভাবী সোনিয়া জানান, তানভীর ঢাকা নটরডেম কলেজ থেকে পাশ করে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী কমিশনার পদে চাকরি নেন।

তার ফেসবুকের কাভার ফটোতে আছে পবিত্র কুরআনের সুরা হাশরের একটি আয়াতের অনুবাদ। যেখানে লেখা আছে, ‘যদি আমি এই কোরআন পাহাড়ের উপর অবতীর্ণ করতাম, তবে তুমি দেখতে যে, পাহাড় বিনীত হয়ে আল্লাহ তা আলার ভয়ে বিদীর্ণ হয়ে গেছে। আমি এসব দৃষ্টান্ত মানুষের জন্য বর্ণনা করি, যাতে তারা চিন্তাভাবনা করে’।

এদিকে নিহতের ওই পরিবারের স্বজনদের চলছে এখন শোকের মাতম। মৃত্যুর খবর পেয়েই রাজধানীর উদ্দেশ্যে চলে যান বাবা ছালাম মোল্লা ও মা বাবলী বেগম। ক্যাপ্টেন তানভির এক ভাই এক বোন। তানভীরের এমন আকষ্মিক মৃত্যুতে শোকে মুহ্যমান হয়ে পড়েছে তানভীরের পুরো পরিবার। তানভীরের চাচা মোজাম্মেল মোল্লা বলেন, পরিবারের একমাত্র গর্বের ধন তানভীরকে হারিয়ে নির্বাক হয়ে পড়েছে সবাই।