আদিবাসীদের আলাদা স্বীকৃতির প্রয়োজন হয় না: রাশেদ খান মেনন

নিজস্ব প্রতিনিধি:

আমি বাঙালি এটা কেউ বলে দেবে, কেউ আলাদা করে স্বীকৃতি দেবে, এটা আমি কেন মানবো? আমি বাঙালি এটা আমার অধিকার। তেমনি আদিবাসীদেরও আলাদা স্বীকৃতির প্রয়োজন হয় না। তারা তাদের নিজস্ব সংস্কৃতির মাধ্যমেই পরিচিত।

বুধবার দুপুরে রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আদিবাসী ফোরাম আয়োজিত ‘আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস-২০১৭’ এবং ‘আদিবাসী অধিকার বিষয়ক জাতিসংঘ ঘোষণাপত্রের এক দশক পালন’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, পাহাড়ে অশান্তির জন্য শান্তি চুক্তি করা হয়। কিন্তু এখনও শান্তি নিশ্চিত হয়নি। পাহাড়ে ভূমি সমস্যার সমাধানে দীর্ঘ প্রচেষ্টার পরে জাতীয় সংসদে অনেক লড়াই-সংগ্রাম করে ভূমি কমিশন করা হয়। ভূমি কমিশন এখনও কার্যকর হয়নি।

বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের সাধারণ সম্পাদক সঞ্জীব দ্রং এর সঞ্চালনায়, অনুষ্ঠান উদ্বোধন করেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও বিজ্ঞান লেখক অধ্যাপক ড. জাফর ইকবাল।

বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের সভাপতি জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় সন্তু লারমা বলেছেন, সরকার ভিন্ন জাতিসত্তার মানুষদের নিশ্চিহ্ন করে দেওয়ার তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে। এসব জাতির মানুষ যদি সমান অধিকার নিয়ে বেঁচে থাকতে চায়, তাহলে তাদের সংগ্রাম চালিয়ে যেতে হবে।

সমাবেশে কলামিস্ট ও লেখক সৈয়দ আবুল মকসুদ বলেন, আজ থেকে ১০বছর আগে এ দিনকে আদিবাসী দিবস হিসেবে জাতিসংঘ ঘোষণা করে। যখন জাতিসংঘ স্বীকৃতি দিয়েছিল তখন যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, নিউজিল্যান্ডসহ অন্যান্য বেশ কয়েকটি দেশ এ দিবসের বিরোধিতা করেছিল। অথচ আজ তারাই এ দিবসটি উদযাপন করছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত বাংলাদেশ রাষ্ট্রীয়ভাবে দিনটি উদযাপন করে না।’

সংসদ সদস্য ও আদিবাসীবিষয়ক সংসদীয় ককাসের আহ্বায়ক ফজলে হোসেন বাদশা বলেন, একটি জাতিকে যখন ক্ষুদ্র বলা হয় তখন সে জাতি বৈশম্যের স্বীকার হয়। তিনি বলেন, জাতীয় ভাবে আদিবাসী দিবস পালন হতে হতে একদিন রাষ্ট্রীয় ভাবে পালন হবেই।

‘জাতীয় আদিবাসী পরিষদের’ সভাপতি শ্রী রবীন্দ্রনাথ সরেন বলেন, আমরাও তো এদেশের জনগণ কিন্তু স্বীকৃতি নেই। আমরা শুধু কৃষি কাজে নয়, মুক্তিযুদ্ধ, কৃষক আন্দোলন থেকে শুরু করে এদেশের উন্নয়নের সব কাজে আদিবাসীদের অবদান রয়েছে।

সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম, নাট্য ব্যক্তিত্ব মামুনুর রশীদ, খুশী কবির, ব্যারিস্টার সারা হোসেন, চাকমা রাজা দেবাশীষ রায় প্রমুখ।

সমাবেশে ‘বাংলাদেশ আদিবাসী’ ফোরাম ১০ দফা দাবি তুলে ধরেছেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য দাবিগুলো হলো- ২০০৭ সালে জাতিসংঘের স্বীকৃতি দেওয়া ঘোষণাপত্র অবিলম্বে বাস্তবায়ন, এসডিজি ২০৩০ বাস্তবায়নে ‘আদিবাসী’ জনগণের পূর্ণ অংশীদারিত্ব নিশ্চিত, আদিবাসীদের ঐহিত্যগত ও প্রথাগত ভূমি অধিকারের স্বীকৃতি দিতে হবে।




আদিবাসীদের উপর বৈরী আচরণের মাত্রা অতীতের সব রেকর্ড ভেঙেছে: সন্তু লারমা

নিজস্ব প্রতিনিধি:
আদিবাসীদের উপর বৈরী আচরণের মাত্রা ‘অতীতের সব রেকর্ড ভেঙেছে’ এমন মন্তব্য করে সন্তু লারমা বলেন, “আদিবাসীদের ভূমি নির্বিঘ্নে অনায়াসে বেদখল হয়ে যাচ্ছে। অহঙ্কার ও ক্ষমতার দাপটে পাহাড়ি আদিবাসীরা আরো অসহায় হয়ে পড়ছে।

জাতিসংঘ আদিবাসী বিষয়ক ঘোষণাপত্রের এক দশক ও আদিবাসী দিবস উদযাপন উপলক্ষ্যে শনিবার সকালে রাজধানীর সুন্দরবন হোটেলে এক সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের চেয়ারম্যান জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমা এ কথা বলেন।

এসময় সংবাদ সম্মেলনে আদিবাসী ফোরামের সদস্যসচিব সঞ্জীব দ্রংয়ের সঞ্চালনায় আরও বক্তব্য দেন, ঐক্য ন্যাপের সভাপতি পঙ্কজ ভট্টাচার্য, গবেষক ও কলামিস্ট সৈয়দ আবুল মকসুদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মেসবাহ কামাল, মানবাধিকার কর্মী নুমান আহমেদ খান, বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের সাংগঠনিক সম্পাদক শক্তিপদ ত্রিপুরা ও রবীন্দ্রনাথ সরেন।

জাতিসংঘের আদিবাসী বিষয়ক ঘোষণাপত্রের এক দশক পেরিয়ে গেলেও তার বাস্তবায়ন না করে সরকার আদিবাসীদের প্রতি দায়িত্বহীনতার পরিচয় দিচ্ছে অভিযোগ করে সন্তু লারমা বলেন, “মানবাধিকার লঙ্ঘনের কোনো প্রতিকার নেই। যেন আদিবাসী ও প্রান্তিক মানুষের জন্য কোথাও কেউ নেই। রাষ্ট্র ও সরকার আদিবাসীদের কাছ থেকে অনেক দূরে চলে যাচ্ছে।”

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০০৯ সালে আদিবাসী দিবসের বাণীতে আদিবাসী অধিকার ঘোষণাপত্র বাস্তবায়নের ঘোষণা দিলেও তার বাস্তবায়ন হয়নি বলে অভিযোগ করে সংবাদ সম্মেলনের লিখিত বক্তব্যে সন্তু লারমা বলেন, “আদিবাসীদের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী হিসেবে আখ্যা দেওয়ায় দেশের ৩০ লাখ আদিবাসী জনগণ মানবাধিকার ও মৌলিক স্বাধীনতা থেকে ‘বঞ্চিত’ হয়েছেন।”

লিখিত বক্তব্যে আরও বলেন, ২০০৭ সালে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে আদিবাসী অধিকার ঘোষণাপত্র গৃহীত হয়। এতে আদিবাসীদের মৌলিক অধিকার, আত্ম নিয়ন্ত্রণ অধিকার, ভূমি, অঞ্চল বা টেরিটরি ও প্রাকৃতিক সম্পদের উপর পূর্ণ অধিকার, ভূমির উপর ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক মালিকানা ও নিয়ন্ত্রণ, আদিবাসীদের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, ধর্মীয়, সাংস্কৃতিক উন্নয়ন, শিক্ষাসহ নিজস্ব ভাষা ও জীবনধারা সংরক্ষণের স্বীকৃতি দেয় জাতিসংঘ।

এতে বলা হয়, আদিবাসীদের জীবনধারা, আদিবাসী এলাকা ও তাদের সহায় সম্পদকে প্রভাবান্বিত করে এমন কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করতে গেলে আদিবাসীরে পূর্বানুমতি গ্রহণ, আন্তর্জাতিক নীতি ফ্রি, প্রায়োর অ্যান্ড ইনফরমড পলিসি মেনে চলতে হবে। আদিবাসীদের মানবাধিকার লঙ্ঘিত হলে তার উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কথাও বলা হয় এ ঘোষণাপত্রে। এ ঘোষণাপত্রের কিছুই বাস্তবে মানা হচ্ছে না বলে অভিযোগ সন্তু লারমার।

সন্তু লারমা বলেন, “দেশে আদিবাসীদের বিষয়ে বলতে হয়, লাইফ ইজ নট আওয়ার্স। আদিবাসীদের ভূমি দখলের মহোৎসব চলছে। ভূমিলোভী চক্র নয়, কখনও কখনও বিভিন্ন প্রকল্পের নামে বিশেষত ন্যাশনাল পার্ক, ইকো পার্ক, রিজার্ভ ফরেস্ট, সামাজিক বনায়ন, সামরিক বাহিনীর ক্যাম্প ও স্থাপনা সম্প্রসারণ ইত্যাদির কারণে আদিবাসীরা ভূমি হারাচ্ছে। নতুন যন্ত্রণা শুরু হয়েছে, ইকোনমিক জোন গড়ার পরিকল্পনায় আদিবাসীরা ভূমি হারাতে শুরু করেছেন।”

গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জের সাহেবগঞ্জ ও বাগদাফার্ম, মৌলভীবাজারের ঝিমাই, আমুলি, মেঘাটিলা, নাহার, কাইলিন পুঞ্জি, পাল্লাথল পুঞ্জি; টাঙ্গাইলের মধুপুর; সীতাকুণ্ড, কুমিরা, মিরেরসরাই, ফটিকছড়ি, চাঁদপুর, কুমিল্লা ও রাঙামাটির লংগদু উপজেলায় আদিবাসীদের উপর হওয়া নানা নিপীড়নের চিত্র তুলে ধরেন তিনি।

সংবাদ মম্মেলনে ঐক্যন্যাপের সভাপতি পংকজ ভট্টাচার্য বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে পার্বত্য চট্টগ্রামসহ দেশের সমতল এলাকার ক্ষুদ্র জাতিসত্তার  প্রতি সরকারের বৈরী আচরন আরো বেড়ে গেছে। তিনি দেশকে প্রকৃত অর্থে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী  মৌলিক অধিকার সংরক্ষণে প্রগতিশীল সমাজ, দেশের সুশীল সমাজ পাশে থাকবে বলেও উল্লেখ করেন।

বিশিষ্ট কলামিস্ট ও গবেষক সৈয়দ আবুল মকসুদ বলেন, বাংলাদেশের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীরা মোটেই ভালো নেই। তারা আজ উপেক্ষিত। অথচ দেশের অর্থনীতি, সংস্কৃতি, রাজনীতির ক্ষেত্রে তারা অবদান রেখে চলেছে।

মানবাধিকার কর্মী নুমান আহম্মদ খান বলেন, বাংলাদেশকে একটি সুষ্ঠ গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্য ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর মানুষদেরকে রাষ্ট্র পরিচালনায় অংশগ্রহণ করার ব্যবস্থা করতে হবে।

প্রফেসর মেজবাহ কামাল বলেন, রাষ্ট্র ও সরকার আদিবাসীদের থেকে অনেক দূরে সরে যাচ্ছে বলে আদিবাসীরা মনে করছে। আদিবাসীদের প্রতি রাষ্ট্রের যে বৈরী আচরণ তা অতীতের সমস্ত রেকর্ডকেও ছাড়িয়ে গেছে। উগ্র বাঙ্গালি জাতীয়তাবাদ, উগ্র ধর্মান্ধতা মিলিয়ে রাষ্ট্র এক জাতির এক ধর্মের রাষ্ট্র হয়ে উঠছে। যার ফলে ভাষা বৈচিত্র্য, বর্ণবৈচিত্র্য, জাতিবৈচিত্র্য দেশ থেকে হারিয়ে যাচ্ছে। এমতাবস্থায় রাষ্ট্রের উচিত অতি শীঘ্রই আদিবাসীদের রাজনৈতিক অধিকারসহ সমস্ত মৌলিক অধিকার সংরক্ষণ করা।




অস্ত্র ও গোলাবারুদ রপ্তানি করবে বাংলাদেশ

পার্বত্যনিউজ ডেস্ক:

বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্যে আবারও যোগ হচ্ছে অস্ত্র এবং গোলাবারুদ। ছোট অস্ত্র রপ্তানির জন্য প্রস্তুত আছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। এখন শুধু সরকারের পণ্য রপ্তানির তালিকায় ক্ষুদ্রাস্ত্র ও গুলির নাম যোগ হবার অপেক্ষা, তাহলেই শুরু হবে রপ্তানি।

বাংলাদেশ সমরাস্ত্র কারখানা-বিওএফ দেশের অস্ত্র তৈরির একমাত্র প্রতিষ্ঠান। এই প্রতিষ্ঠান অস্ত্র ও গোলাবারুদ রপ্তানির অনুমোদন চেয়ে আবেদন করেছিলো বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে। আওয়ামী লীগের আগের সরকারের আমলে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি অস্ত্র ও গোলাবারুদ রপ্তানিতে অনুমোদন দিয়েছিল। ওই ধারাবাহিকতায় পরে অনুমোদন দেয় সেনা সদর ও সরকার।

জাতিগত সহিংসতায় ক্ষতবিক্ষত আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে শান্তি রক্ষায় কাজ করছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। বেশ কয়েকটি দেশের বাহিনীকে আধুনিকায়নের কাজও করছে বাংলাদেশ। ওই দেশগুলোতে রপ্তানির সুযোগ বেশি।

১৯৮৪ সালে প্রথমবারের মতো অস্ত্র ও গোলাবারুদ রপ্তানি করে বাংলাদেশ আয় করেছিলো চার কোটি ডলার। পরে অবশ্য অস্ত্র না রপ্তানির সিদ্ধান্ত হয়। এখন আবার রপ্তানি শুরু হলে দক্ষিণ এশিয়ায় ভারত-পাকিস্তানের পর বাংলাদেশ হবে অস্ত্র ও গোলাবারুদ রপ্তানিতে তৃতীয় দেশ।




আইনজীবী ইমতিয়াজ মাহমুদ হাইকোর্ট থেকে ৫৭ ধারার মামলায় আগাম জামিন নিয়েছেন

নিজস্ব প্রতিবেদক:

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারায়  দায়ের করা এক মামলায় সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ইমতিয়াজ মাহমুদকে জামিন দিয়েছেন হাইকোর্ট। পুলিশ প্রতিবেদন দেওয়ার আগ পর্যন্ত তার আগাম জামিন মঞ্জুর করেন আদালত। মঙ্গলবার (২৫ জুলাই) বিচারপতি ওবায়দুল হাসান ও বিচারপতি কৃষ্ণা দেবনাথের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

আদালতে জামিন আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার রোকন উদ্দিন মাহমুদ, ফিদা এম কামাল, এ এম আমিন উদ্দিন, ব্যারিস্টার তানজিব উল আলম ও ব্যারিস্টার মোস্তাফিজুর রহমান খান।

গত শুক্রবার বিকালে শফিকুল ইসলাম নামে খাগড়াছড়ির এক বাসিন্দা ইমতিয়াজের বিরুদ্ধে বিতর্কিত ৫৭ ধারায় মামলাটি দায়ের করেন।

মামলার এজহারে উল্লেখ করা হয়েছে, “সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ইমতিয়াজ মাহমুদ সম্প্রতি তার ফেইসবুক আইডিতে পাহাড়ের ইস্যুতে নানা মন্তব্য করেছেন। এর মাধ্যমে পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসকারী মধ্যে সাম্প্রদায়িক উস্কানি ছড়ানো হয়েছে। বাঙালি জাতিকে হেয় করে সেটলার আখ্যায়িত করা হয়েছে।।”

আইনজীবী ইমতিয়াজের পোস্টগুলো ‘পাহাড়ে দাঙ্গা’ লাগানোর জন্য পরিকল্পিত বলেও অভিযোগ করেন বাদী শফিকুল।




আলীকদমে মোরা’য় ক্ষতিগ্রস্ত ২৫০ পরিবারকে ইউএনডিপি’র নগদ অর্থ প্রদান

আলীকদম প্রতিনিধি:

বান্দরবানের আলীকদম উপজেলার চারটি ইউনিয়নে ঘূর্ণিঝড় মোরা’য় ক্ষতিগ্রস্ত ২৫০ পরিবারকে আর্থিক অনুদান দিয়েছে ইউএনডিপি।

সোমবার উপজেলা পরিষদ হলরুমে ইউএনও মোহাম্মদ নায়িরুজ্জামানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক সভায় এসব নগদ অর্থ বিতরণ করা হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন ইউএনডিপি-বাংলাদেশ অফিসের প্রোগ্রাম এনালাইসিস্ট মো. আরিফ আব্দুল্লাহ।

বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন এসআইডি-সিইএইচটি-ইউএনডিপি’র বান্দরবান ডিস্ট্রিক্ট ম্যানেজার খুশি রায় ত্রিপুরা, সদর ইউপি চেয়ারম্যান জামাল উদ্দিন ও প্রেসক্লাব সভাপতি মমতাজ উদ্দিন আহমদ।

ইউএনডিপি সূত্র জানায়, ঘূর্ণিঝড় মোরা’য় আলীকদম উপজেলায় অসংখ্য ঘরবাড়ি নষ্ট হয়েছে। অপেক্ষাকৃত বেশি ক্ষতিগ্রস্ত ২৫০ পরিবারের মাঝে পরিবার প্রতি ৫ হাজার টাকা হারে সাড়ে ১২ লক্ষ টাকা প্রদান করা হয়।

সভায় ইউএনও মো. নায়িরুজ্জামানসহ অন্যান্য বক্তারা বলেন, ঘূর্ণিঝড় মোরা’র আলীকদমে ১০/১২টি প্রাথমিক বিদ্যালয় ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেসব বিদ্যালয়ে পড়া লেখা চালু রাখতে বর্তমানে নানা সমস্যা হচ্ছে। তারা এসব বিদ্যালয় মেরামতে আর্থিক অনুদানের জন্য ইউএনডিপি কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করেন।




এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশ, সারা দেশে পাসের হার ৬৮ দশমিক ৯১ শতাংশ

নিজস্ব প্রতিবেদক:

এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়েছে। এবারে সারাদেশে পাসের হার ৬৮.৯১ যা গতবারের চেয়ে ৫ দশমিক ৭৯ শতাংশ কম। রোববার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে গণভবনে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে বিভিন্ন শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানদের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীর কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে ফল তুলে দেন শিক্ষামন্ত্রী।এসময় বিভিন্ন বোর্ডের চেয়ারম্যানসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এ বছর মোট পাস করেছে ৬ লাখ ৪৪ হাজার ৯৪২ জন পরীক্ষার্থী। মোট জিপিএ ৫ পেয়েছে ৩৩ হাজার ২৪২ জন।

রাজশাহী বোর্ডে পাসের হার ৭১ দশমিক ৩০ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৫ হাজার ২৯৪ জন। দিনাজপুর বোর্ডে পাসের হার ৬৫ দশমিক ৪৪ শতাংশ। জিপিএ ৫ পেয়েছে ২ হাজার ৯৮৭ জন। মাদ্রাসা বোর্ডে পাসের হার ৭৭ দশমিক ০২ শতাংশ। জিপিএ ৫ পেয়েছে ১ হাজার ৮১৫ জন। কারিগরি বোর্ডে পাসের হার ৮১ দশমিক ৩৩ শতাংশ। জিপিএ ৫ পেয়েছে ২ হাজার ৬৬৯ জন। বরিশাল বোর্ডে পাসের হার ৭০ দশমিক ২৮ শতাংশ। জিপিএ ৫ পেয়েছে ৫ হাজার ৮১৫ জন।

আটটি সাধারণ বোর্ডের অধীনে ৯ লাখ ৮২ হাজার ৭৮৩ জন, মাদরাসা বোর্ডের অধীনে আলিমে ৯৯ হাজার ৩২০ জন, কারিগরি বোর্ডের অধীনে এইচএসসি বিএমে ৯৬ হাজার ৯১৪ জন এবং ডিআইবিএসে চার হাজার ৬৬৯ জন পরীক্ষা দেন। মোট পরীক্ষার্থীর মধ্যে ছয় লাখ ৩৫ হাজার ৬৯৭ জন ছাত্র এবং পাঁচ লাখ ৪৭ হাজার ৯৮৯ জন ছাত্রী।

কঠোর সতর্কতার মধ্যদিয়ে এবছর ১ এপ্রিল এইচএসসি পরীক্ষা শুরু হয়েছিল। এবার ১০ শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ১১ লাখ ৮৩ হাজার ৬৮৬ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেয়। তাদের লিখিত পরীক্ষা শেষ হয় ১৫ মে। ব্যবহারিকসহ পরীক্ষা শেষ হয় ২৫ মে।

জানা গেছে, দুপুর ১টায় সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে ফলের বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরবেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ এবং দুপুর ২টার পর শিক্ষার্থীরা সংশ্লিষ্ট বোর্ডের ওয়েবসাইট, নিজস্ব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইট ও টেলিটক মোবাইল ফোনে এসএমএসের মাধ্যমে ফল জানতে পারবে।

 
পরীক্ষার্থীরা ফল জানবে যেভাবে:

পরীক্ষার্থীরা শিক্ষা বোর্ডগুলোর ওয়েবসাইট www.educationboardresults.gov.bd এবং সংশ্লিষ্ট বোর্ডের ওয়েবসাইটের মাধ্যমে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল সংগ্রহ করতে পারবে।
আটটি সাধারণ বোর্ডের ক্ষেত্রে এসএমএসের মাধ্যমে ফল জানতে হলে- মোবাইল ফোনের মেসেজ অপশনে গিয়ে HSC লিখে স্পেস দিয়ে বোর্ডের নামের প্রথম তিন অক্ষর, স্পেস দিয়ে রোল নম্বর, স্পেস দিয়ে 2017 লিখে 16222 নম্বরে এসএমএস পাঠাতে হবে।

আর আলিমের ক্ষেত্রে ফল জানতে Alim লিখে স্পেস দিয়ে Mad (বোর্ডের নামের প্রথম তিন অক্ষর) স্পেস দিয়ে রোল নম্বর, স্পেস দিয়ে 2017 লিখে 16222 নম্বরে এসএমএস পাঠাতে হবে।

এছাড়া এইচএসসি ভোকেশনালের ফল জানতে HSC লিখে স্পেস দিয়ে Tec লিখে স্পেস দিয়ে রোল নম্বর লিখে স্পেস দিয়ে 2017 লিখে 16222 নম্বরে এসএমএস পাঠাতে হবে। তিন ক্ষেত্রেই ফিরতি এসএমএসে পরীক্ষা ফল জানিয়ে দেয়া মোবাইল কোম্পানিগুলো।




ফেসবুকে সাম্প্রদায়িক উসকানি দেওয়ার অভিযোগে আইনজীবী ইমতিয়াজ মাহমুদের বিরুদ্ধে আইসিটি আইনে মামলা


নিজস্ব প্রতিবেদক, খাগড়াছড়ি:

ফেসবুকে সাম্প্রদায়িক উসকানি দেওয়ার অভিযোগে ইমতিয়াজ মাহমুদ নামে সুপ্রীম কোর্টের এক আইনজীবীর বিরুদ্ধে খাগড়াছড়ি সদর থানায় তথ্য প্রযুক্তি আইনে মামলা হয়েছে। শুক্রবার বিকালে শফিকুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তি মামলাটি দায়ের করেন। মামলা নং ১৭, তারিখ-২১-০৭-২০১৭।

মামলায় অভিযোগ করা হয়,  ইমতিয়াজ মাহমুদ সাম্প্রতিককালে তার ফেসবুক আইডিতে খাগড়াছড়িসহ পার্বত্য চট্টগ্রাম নিয়ে প্রতিনিয়ত কল্প কাহিনী বানিয়ে  পরিকল্পিতভাবে সাম্প্রদায়িক উসকানি দিয়ে পোস্ট দিয়ে যাচ্ছেন।

মামলার আর্জিতে বলা হয়, ইমতিয়াজ মাহমুদের মিথ্যা লেখাসমূহ পড়ে ও দেখে যারা লাইক ও কমেন্ট  করে উক্ত লেখাকে সমর্থন  করেছে তারাও দেশের প্রচলিত আইনের অপরাধজনক কাজ  করেছে, যা দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

খাগড়াছড়ি সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তারেক মো. আব্দুল হান্নান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, তথ্য প্রযুক্তি আইনের ৫৭(২) ধারায় মামলাটি হয়েছে। আসামীকে গ্রেফতারের পুলিশের তৎপরতা শুরু হয়েছে।

মামলার আর্জিতে আরো বলা হয়, বৃটিশ আমল থেকেই পার্বত্যাঞ্চলে বাঙালি সম্প্রদায়ের লোকজন বসবাস করে আসছেন এবং পার্বত্য জনপদের বীর  বাঙালিরার মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশ করেছেন। ফলে অনেক বীর মুক্তিযোদ্ধা  এই অঞ্চলে  পরিবার-পরিজন  নিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে স্থায়ীভাবে বসবাস করে আসছেন।

মামলায় অভিযোগ করা হয়, ১ জুলাই রাত ১২.২৫টায় ইমতিয়াজ মাহমুদ তার ফেসবুক আইডিতে ‌’খুবই জরুরী এবং আশঙ্কাজনক একটি খবর’ শিরোনামে একটি পোস্ট দেন।

পোস্টে বলা হয়, ‘একটু আগে মাত্র খবর পেয়েছি খাগড়াছড়ি জেলার রামগড় উপজেলার ১নং সদর ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের অন্তগত সৌনায়া গা ও ব্রত চন্দ্র চন্দ্র কার্বারী পাড়াতে পাশ্ববর্তী কালাঢেবা নামক এলাকা থেকে শতাধিক সেটলার সংবদ্ধভাবে হামলা চালাচ্ছে। এই গ্রামগুলিতে ত্রিপুরা আদিবাসীদের বাস। রাত এগারোটার দিকে সৌনায়া গা গ্রাম সম্পূর্ণ ধ্বংস করে লুটপাট চালানো হয়েছে। এবং এগারোটার দিকে ব্রত চন্দ্র কার্বারী গ্রামটিতে চলছিল নির্বিচার হামলা, মারধোর আর লুটপাট। সেটেলারদের সাথে এইসব হামলায় স্থানীয় চৌচালা বিজিবি ক্যাম্প থেকে বিজিবি সদস্যরাও অংশ নিচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে স্থানীয়রা।গ্রামের ত্রিপুরা আদিবাসী মানুষজন প্রাণভয়ে পালাচ্ছে বাড়িঘর ছেড়ে।’

‘আপনারা কেউ যদি এখনো জেগে থাকেন, একটু দেখবেন প্লিজ?ঐ এলাকার কোন সরকারী কর্মকর্তা, সাংবাদিক মানবাধিকার কর্মী বা রাজনৈতিক নেতা কর্মী যারাই আপনার পরিচিত আছেন, একটু যোগাযোগ করেন প্লিজ। দেখেন কিছু করা যায় কিনা। যদি কিছুটা হলেও মানুষকে রক্ষা করা যায়।

‘আর মেহেরবানী করে অন্যদেরকেও জানান। দেখেন কি করতে পারেন। যদি কারো এই বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানা থাকে বা জানার সুযোগ থাকে, জানাতে ভুলবেন না। এই সেটেলাররা তো আমাদেরকে শান্তিতে থাকতে দেবে না রে ভাই।’

অথচ ঐদিন সেখানে এ ধরনের কোন ঘটনা ঘটেনি। পোস্টটি সম্পূর্ণ সত্যের বিপরীতে বানোয়াট কল্পকাহিনী ও সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা সৃষ্টির সহায়ক। ইমতিয়াজ মাহমুদ প্রতিনিয়ত এ ধরনের কল্প কাহিনী বানিয়ে পোস্ট দিয়ে যাচ্ছেন।

কিছু দিন পূর্বেই রাঙামাটি জেলার লংগদুতে সাম্প্রায়িক শান্তি বিনষ্টকারী একটি অপ্রত্যাশিত ঘটনা সংঘঠিত হয়েছে। এর রেশ ধরে পার্বত্য জেলাগুলোতে এমনিতে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি বিরাজ করছে। সরকারের অনেক মন্ত্রী-এমপি পার্বত্য অঞ্চল সফর করে সম্প্রীতি বজায় রাখার চেষ্টা করছেন। জেলা প্রশাসন, আইন-শৃক্সখলা বাহিনী এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা এই অঞ্চলের মানুষের মধ্যে আস্থা ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

কিন্তু ইমতিয়াজ মাহমুদ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে(ফেসবুকে)অসত্য তথ্য সরবরাহ করে এ সকল প্রচেষ্টা ব্যাহত করার চেষ্টা করছেন। তার এই হীন প্রচেষ্টা পার্বত্য অঞ্চলের শান্তি ভঙ্গের কারণ হচ্ছে।

বর্তমান জনবান্ধব সরকার ১৯৯৭ সালে শান্তি চুক্তির মাধ্যমে পাহাড়ে শান্তি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ গ্রহন করে, যা বর্তমানেও চলমান। ইমতিয়াজ মাহমুদ সরকারের এই শুভ উদ্যোগকে বাধাগ্রস্ত করার হীন প্রচেষ্ঠায় লিপ্ত রয়েছেন।তাকে বিচারের আওতায় আনা সম্ভব না হলে অন্যরাও এ ধরনের শান্তি বিনষ্টকারী কাজে লিপ্ত হতে পারে। ১ জুলাই -২০১৭-হতে ১০ জুলাই-২০১৭ পর্যন্ত আসামীর উল্লেখিত পোষ্টগুলো উস্কাকানীমূলক। যা পার্বত্য চট্টগ্রামের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের জন্য যথেষ্ট।

তার প্রতিটি পোস্ট রাষ্ট্র, ব্যক্তি ও পাহাড়ি-বাঙালির মধ্যে সাম্প্রদায়িক-সম্প্রীতি বিনষ্টে উসকানিমূলক। যা দেশের প্রচলিত আইনে দন্ডনীয় অপরাধ। ইমতিয়াজ মাহমুদের এ ধরনের উসকানিমূলক পোস্ট বন্ধ না হলে খাগড়াছড়িসহ পার্বত্য চট্টগ্রাম সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা সৃষ্টি আশংকা করা হয়েছে অভিযোগে।




লংগদুতে স্থানীয় প্রশাসনের উপস্থিতিতে অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে- বাঞ্ছিতা চাকমা

নিজস্ব প্রতিনিধি:

জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সদস্য বাঞ্ছিতা চাকমা বলছেন, রাঙামাটির লংগদুতে স্থানীয় প্রশাসনের উপস্থিতিতে চারটি গ্রামে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর প্রায় ২০০ বাড়ি পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় থানার ভারপ্রাপ্ত র্কমর্কতাসহ (ওসি) অন্য দায়িত্বপ্রাপ্তরা সেখানে উপস্থিত থাকলেও তারা কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি।

রোববার দ্য ডেইলি স্টার ভবনে কোয়ালশিন অব ইনডিজিনাস পিপলস অর্গানাইজেশন অন ইউপিআর এর আয়োজনে ‘মানবাধিকারের সার্বজনীন সময়ভিত্তিক পরিবীক্ষণ (ইউপিআর) ও বাংলাদেশের ক্ষুদ্র জাতিসত্ত্বার মানুষের অধিকার’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় বাঞ্ছিতা চাকমা একথা বলেন।৩০ টি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সংগঠনের সমন্বয়ে গঠিত এই ইউপিআর কোয়ালিশন।

জাতীয় আদিবাসী পরিষদের সভাপতি ও কাপেং ফাউন্ডেশনের চেয়ারপার্সন রবীন্দ্রনাথ সরেন এর সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের সাধারণ সম্পাদক  সঞ্জীব দ্রং,  ব্লাস্টের এডভাইজার এডভোকেট তাজুল ইসলাম প্রমুখ। স্বাগত বক্তব্য রাখেন কোয়ালিশনের সদস্য সংগঠন আদিবাসী ক্লাস্টার ডেভেলপমেন্ট ফোরাম এর সভাপতি অজয় এ মৃ। আলোচনার মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ইউপিআর কোয়ালিশনের  অন্যতম সদস্য সংগঠন কাপেং ফাউন্ডেশনের প্রজেক্ট কোঅর্ডিনেটর বাবলু চাকমা।

বাঞ্ছিতা আরো চাকমা বলেন, আমি রাঙামাটি সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ থাকা অবস্থায় দেখেছি, আমাদের নিরাপত্তার জন্য যে পুলিশ দেওয়া হয়েছিলো, তাদের উপস্থিতিতেই পাহাড়িদের ওপর হামলা করা হতো। বার বার ক্ষুদ্র জাতিসত্ত্বার উপর হামলা হয়েছে কিন্তু এর বিচার হয়নি। যার ফলে অপরাধীরা ক্ষুদ্র জাতিসত্ত্বার মানুষের ওপর বারবার হামলার সুযোগ পায়।

সম্প্রতি লংগদুতে পাহাড়ীদের ঘর-বাড়িতে হামলা, লুটপাট, অগ্নিসংযোগ ঘটনা সম্পর্কে তিনি আরো বলেন, আমি গিয়েছিলাম ক্ষতিগ্রস্ত পাহাড়ীদের দেখতে। খুবই ভয়াবহ অবস্থা। এখনো পর্যন্ত কোন কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এটা নিঃসন্দেহে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মানবাধিকার লঙ্ঘন। আগামীতে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীসহ দেশের সার্বিক মানবাধিকার পরিস্থিতির উন্নয়নে সকলকে একযোগে কাজ করে যেতে হবে। সরকারকে মুখ্য ভূমিকা পালন করতে হবে।

অতি চালাকের গলায় দড়ি উল্লেখ করে বাংলাদেশে আদিবাসী ফোরামের সাধারণ সম্পাদক সঞ্জীব দ্রং বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি নিয়ে সরকার পাহাড়িদের সঙ্গে চালাকি করে যাচ্ছে। সরকার আসলে ক্ষুদ্র জাতিসত্বার মানুষদের মূর্খ মনে করে।

তিনি বলেন, ২০১৩ সালে বাংলাদেশের ইউপিআরের চক্রে ৩৯ জন প্রতিনিধি বাংলাদেশ থেকে অংশ নেয়। এসময় সরকারের প্রতিনিধিরা পার্বত্য চুক্তির ৪৮টি ধারা বাস্তবায়নের কথা বলেন। আসলে কি তাই? এটা বুঝতে আমাদের বাকি নেই যে তারা চালাকি করে উত্তর দেয়। তারা আমাদের বোকা মনে করে। কারণ তাদের হাতে ক্ষমতা। তবে অতি চালাকের বিপদ আসন্ন।

তিনি আরো বলেন, যেকোন দেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি বিচার্য হবে সেখানকার সংখ্যালঘুরা কেমন আছে তার উপর। নিঃসন্দেহে বলা যায়, বাংলাদেশের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী ও সংখ্যালঘুরা ভালো নেই। তবে আমাদের হাল ছাড়লে হবে না। অনবরত কথা বলে যেতে হবে, দাবি জানাতে হবে।

সভাপতির বক্তব্যে রবীন্দ্রনাথ সরেন বলেন, রাষ্ট্র শুধু ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর নয় এদেশের সাধারণ গরীব মানুষদের প্রতি যে অন্যায়গুলো করে যাচ্ছে তার বিরুদ্ধে আমরা প্রতিনিয়ত কথা বললেও সরকার কর্ণপাত করছেনা। সমতলের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ভূমির রক্ষাকবচ হিসেবে প্রজাস্বত্ত্ব আইন ১৯৫০ এর ৯৭ ধারা কোন কাজে আসছেনা।  ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীরা নিরবে দেশান্তরিত হচ্ছে। এটা সরকারের জন্যও নিশ্চয় লজ্জার হবে। ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মানবাধিকার রক্ষায় আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে ইউপিআরের মতো যেসব ব্যবস্থাগুলো আছে সেগুলোতে অনবরত ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর অংশগ্রহণ বৃদ্ধিসহ দেশীয় পরিসরে বড় ধরনের লড়াই সংগ্রাম করতে হবে।

আলোচনা সভার মূল প্রবন্ধে বাবলু চাকমা বলেন, আগামী বছরের মে মাসে ইউপিআরে বাংলাদেশের তৃতীয় চক্রের রিভিউ অনুষ্ঠিত হবে। এই চক্রে সরকারের পক্ষ থেকে আমরা শুধু মানবাধিকার উন্নীতকরণের অঙ্গীকার শুনতে চাইনা। চাই অঙ্গীকারগুলোর বাস্তবায়ন। এছাড়াও আলোচনায় তিনি বেশকিছু সুপারিশ দেন: সময়সূচি ভিত্তিক রোডম্যাপ ঘোষনা পূর্বক পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির পূর্নাঙ্গ বাস্তবায়ন করা; আইএলও কনভেনশন নং ১৬৯ অনুস্বাক্ষর করা; সমতলের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর জন্য ভূমি সুরক্ষায় স্বাধীন ভূমি কমিশন গঠন করা ও পৃথক মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠা করা; ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর নারীর প্রতি সকল ধরনের সহিংসতা প্রতিরোধ করা ও সহিংসতার শিকার নারী-শিশুদের আইনী সহায়তা প্রদান করা; ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর নারী ও শিশুর স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করা ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সুরক্ষায় আদিবাসী সুরক্ষা আইন প্রণয়ন করা।

এছাড়াও মুক্ত আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন, থোওায়ং মারমা; ইউজিন নকরেক; এন্ড্রু সলোমার; নমিতা চাকমা; সূভাষ চন্দ্র হেমব্রম; মাহবুবুল হক; পার্থ শংকর সাহা; সোহেল হাজং; হরেন্দ্রনাথ সিং প্রমুখ।




জেলা পরিষদের সাথে ইউএনডিপি’র প্রতিনিধি দলের সাক্ষাৎ

রাঙামাটি প্রতিনিধি:

সাম্প্রতিক পাহাড় ধ্বস বিষয় নিয়ে রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছে ইউএনডিপি’র প্রতিনিধি দল। বুধবার সকালে পরিষদের চেয়ারম্যান অফিস কক্ষে অনুষ্ঠিত এ সৌজন্য সাক্ষাৎ হয়।

এসময় সাক্ষাৎকালে রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য সবির কুমার চাকমা, পরিষদের সদস্য ত্রিদীপ কান্তি দাশ, পরিষদের সদস্য রেমলিয়ানা পাংখোয়া, পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মনতোষ চাকমা, ইউএনডিপি’র রিকোভারি এ্যাডভাইজার সীতাগিরি, ইউএনডিপি কর্মকর্তা বিপ্লব চাকমা ও ঐসৌর্য্য চাকমা উপস্থিত ছিলেন।

সাক্ষাৎকালে ইউএনডিপি’র প্রতিনিধি দল পাহাড় ধ্বস ও বন্যার কারণ জানতে চাইলে পরিষদের সদস্যরা বলেন, একদিকে অপরিকল্পিতভাবে পাহাড় কেটে ও বৃক্ষনিধন করে বাড়িঘর নির্মাণ ভূমিধ্বসের মূল কারণ।অন্যদিকে কাপ্তাই বাঁধ হওয়ার পর থেকে অদ্যাবধি ড্রেজিং না করার ফলে হ্রদে দিন দিন মাটি ভরাটের কারণে বন্যা হচ্ছে।

সদস্যরা বলেন, প্রত্যান্ত অঞ্চলে বনায়নের বিষয়ে পরিষদ হতে গাছের চারা ও সচেতনতা বার্তা প্রচার করা হচ্ছে। সাম্প্রতিক প্রাকৃতিক দূর্যোগে নিহত, আহত ও ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য পরিষদ হতে তাৎক্ষনিক নগদ অর্থসহ বিভিন্ন সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। এছাড়া ভিজিএফ এর মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তত ৩মাস-৬মাস পর্যন্ত খাদ্যশষ্য প্রদানে পার্বত্য মন্ত্রনালয়ের সচিব এর সাথে আলাপ করা হয়েছে। দূর্যোগে ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় সরকারের পাশাপাশি ইউএনডিপিকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান সদস্যরা।

ইউএনডিপি’র প্রতিনিধি দল বলেন, আবহাওয়া অফিসের সাথে সমন্বয় রেখে প্রাকৃতিক দূর্যোগের পূর্বাভাস জেনে অন্তত এক সপ্তাহ আগে যদি সতর্ক বার্তাগুলো ঝুঁকিপূর্ন এলাকায় পৌঁছানো যায় তাহলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমান অনেকাংশে কম হবে।

এছাড়া সাম্প্রতিক প্রাকৃতিক দূর্যোগে ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় ইউএনডিপি’র পরিকল্পনা রয়েছে বলেও জানান ইউএনডিপি’র প্রতিনিধি দল।




পার্বত্য চট্টগ্রামে ইউএনডিপির ৫ বছর মেয়াদী নতুন প্রকল্প চালু

পার্বত্যনিউজ রিপোর্ট:

পার্বত্য চট্টগ্রামের (পার্বত্য চট্টগ্রামের) টেকসই ও সমন্বিত উন্নয়নের ৫ বছর মেয়াদী একটি নতুন প্রকল্প উদ্বোধন করা হলো রবিবার রাজধানীর একটি হোটেলে।

পার্বত্য চট্টগ্রামের(এসআইডি-সিএইচটি) সমন্বিত উন্নয়ন শক্তিশালী করণ নামে এই প্রকল্পে ৩১ মিলিয়ন ডলার বরাদ্দ করা হয়েছে।

প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে ইউএনডিপি এবং তাকে সহায়তা করবে ইউএসএইড ও ড্যানিডা।

ইউএনডিপির প্রেস রিলিজে বলা হয়েছে, নতুন প্রকল্পটি ১৯৯৭ সালের পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তি চুক্তির পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়নে বাংলাদেশ সরকারের অঙ্গীকারকে প্রতিভাত করবে।

এটি ২০০৩ সালে তিন পার্বত্য জেলা খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি ও বান্দরবানে শুরু হওয়া ‘উন্নয়ন ত্বরান্বিতকরণ ও আস্থা প্রতিষ্ঠা’ প্রকল্পের ধারাবাহিকতা।

প্রকল্পটির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত থেকে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী বীর বাহাদুর ্উ শৈ সিং বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের আর্থ সামাজিক ক্ষেত্রে ব্যাপক উন্নয়ন হলেও তা এখনো সমতল অঞ্চল থেকে অনেক পিছিয়ে।

তিনি বলেন, নতুন এই প্রকল্প পার্বত্য চট্টগ্রামের উন্নয়নে সরকারকে সহায়তা করবে এবং আঞ্চলিক প্রতিষ্ঠানগুলো শক্তিশালীকরণে ভূমিকা রাখবে যা স্থানীয় আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে অবদান রাখবে।

পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের তত্বাবধানে এই প্রকল্প পরিচলিত হবে এবং প্রকল্পের ফলাফলও মন্ত্রণালয় পর্যবেক্ষণ করবে।

পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্মসূচির (সিএইচডিএফ) প্রোগ্রামের কাঠামোর মধ্যে ইউএনডিপি এই প্রকল্প বাস্তবায়নে সহায়তা করবে বলে তাদের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে।

এতে আরো বলা হয়েছে ২০০৩ সাল থেকে সিএইচডিএফের আওতায় পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রত্যন্ত ও দরিদ্র এলাকায় তাদের উপস্থিতি রয়েছে। প্রথম পর্যায়ের এই প্রকল্প ইউরোপীয় ইউনিয়ন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, ডেনমার্ক, নরওয়ে, সুইডেন, অস্ট্রেলিয়া, জাপান, কেয়ারসহ বিভিন্ন দাতা সংস্থার সহায়তায় বাস্তবায়ন করা হয়েছে। এবং এতে ব্যয় করা হয়েছে ১৫৫.২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে আরো বক্তব্য রাখেন ইউএনডিপি বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর কিয়োকো ইয়াকোসকা।