পার্বত্যাঞ্চলে বিদ্যুতের উন্নয়নে ৫৬৫ কোটি ৬৮ লাখ টাকা বরাদ্দ

pm_ecnec

পার্বত্যনিউজ ডেস্ক : পার্বত্য তিন জেলায় বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থার উন্নয়নসহ প্রায় ৮ হাজার ৮৭৪ কোটি টাকা ব্যয়ে নয়টি প্রকল্পে অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)।

রাজধানীর শেরেবাংলা নগর এনইসি সম্মেলন কেন্দ্রে মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত একনেকের সভায় প্রকল্পগুলো অনুমোদিত হয়।

পরে পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল সাংবাদিকদের বলেন, নয় প্রকল্পের মোট ব্যয়ের মধ্যে সরকারি তহবিল থেকে ৭ হাজার ৩২৯ কোটি ১৬ লাখ টাকা যোগান দেয়া হবে। বাস্তবায়নকারী সংস্থা থেকে ৫০ কোটি ৯ লাখ টাকা এবং বিদেশি সহায়তা থেকে একহাজার ৪৯৪ কোটি ৯১ লাখ টাকা পাওয়া যাবে।

একনেক সভায় যে সব প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে তার মধ্যে রাঙামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি জেলায় বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থার উন্নয়ন প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয়েছে ৫৬৫ কোটি ৬৮ লাখ টাকা।

অন্য প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে- চট্টগ্রাম পানি সরবরাহ উন্নয়ন ও স্যানিটেশন (১ হাজার ৮৯০ কোটি ৮৩ লাখ টাকা), গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প (৪৫৪ কোটি ৬২ লাখ টাকা), বাগেরহাট জেলায় ৮৩টি নদী, খাল পুনঃখনন এবং মংলা-ঘষিয়াখালী চ্যানেলের নাব্য বৃদ্ধি (৭০৬ কোটি ৪০ লাখ টাকা)।

খামার যান্ত্রিকীকরণের মাধ্যমে ফসল উৎপাদন বৃদ্ধি (২য় পর্যায়) প্রকল্প (৩৩৯ কোটি ৪৪ লাখ টাকা), বিনার গবেষণা কার্যক্রম শক্তিশালীকরণ এবং উপকেন্দ্রসমূহের উন্নয়ন (১৬০ কোটি ৫৬ লাখ টাকা), পল্লী সড়কে গুরুত্বপূর্ণ সেতু নির্মাণ (৩ হাজার ৯২৬ কোটি ৭৬ লাখ টাকা), তথ্য ভবন নির্মাণ (৯৫ কোটি ৮৫ লাখ টাকা)।
এছাড়া ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের আওতাধীন নতুন সংযুক্ত শ্যামপুর, দনিয়া, মাতুয়াইল ও সারুলিয়া এলাকার সড়ক অবকাঠামো ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ৭৩৪ কোটি ২ লাখ টাকা।

সূত্র : বিডিনিউজ

 




পার্বত্য চট্টগ্রামে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোকে তৎপরতা বাড়াতে সংসদীয় কমিটির সুপারিশ

জাতীয় সংসদ

সংসদ রিপোর্টার:

পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলে আইন শৃংখলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সব ধরনের আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোকে তৎপরতা বাড়াতে সুপারিশ করেছে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি। একই সাথে সকল রাজনৈতিক শক্তিগুলোকে পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে কমিটির পক্ষ থেকে অনুরোধ করা হয়।

গতকাল সোমবার জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত কমিটির ২১তম বৈঠক থেকে এ সুপারিশ করা হয়। কমিটি সভাপতি র. আ. ম উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী-এর সভাপতিত্বে বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী বীর বাহাদুর উ শৈ সিং, উষাতন তালুকদার এবং এম, এ, আউয়াল।

বৈঠকে তিন পার্বত্য জেলার আইন-শৃঙ্খলা সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। পার্বত্য তিন অঞ্চলের ২১০টি বেসরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করনের সিদ্ধান্ত গ্রহনের জন্য কমিটি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে।

বৈঠকে কমিটি ২০১৪ সালের কেবিনেটের সিদ্ধান্ত মোতাবেক পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সাধারণ ভবিষ্যৎ তহবিল এবং অবসর সুবিধা প্রদানের বিষয়ে পুন: সুপারিশ করা হয়।

পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলে আইন শৃংখলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সব ধরনের আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোকে তৎপরতা বাড়াতে সুপারিশ করে কমিটি। একই সাথে সকল রাজনৈতিক শক্তিগুলোকে পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে কমিটির পক্ষ থেকে অনুরোধ করা হয়।

বৈঠকে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিবসহ, মন্ত্রণালয় এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।




মধ্যরাতে ফের ভূমিকম্পের আঘাত বাংলাদেশে

ভূমিকম্প

নিজস্ব প্রতিনিধি:

১০ ঘণ্টা পার না হতেই ফের ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে বাংলাদেশে। প্রাথমিকভাবে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে ভূমিকম্পের কথা জানা গেছে। বুধবার (৪ জানুয়ারি) রাত ১২টা ৫৪ মিনিটের দিকে এ কম্পন অনুভূত হয়।

ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইএমএসসি ও ইউএসজিএস জানায়, ৫ দশমিক ১ মাত্রার এ ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল মায়ানমারের মাউলাইক থেকে ৩৮ কিলোমিটার দক্ষিণ দক্ষিণ পূর্বে। গভীরতা ভূপৃষ্ঠ থেকে ৯৩ দশমিক ২ কিলোমিটার।

এর আগে মঙ্গলবার (৩ জানুয়ারি) বিকেল ৩টা ৯ মিনিটে ঢাকা থেকে ১৫৯ কিলোমিটার পূর্বে ত্রিপুরার লং তারাইয়ের মাছমারায় ভূমিকম্পের ‍উৎপত্তি। উৎপত্তিস্থল ছিল ভূপৃষ্ঠের ৮ কিলোমিটার গভীরে।

ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ঢাকা থেকে ১৭২ কিলোমিটার দূরে ত্রিপুরার আমবাসায়। ভূপৃষ্ঠ থেকে ৩৬ কিলোমিটার গভীরে ছিল ভূকম্পের কেন্দ্রস্থল।

সাম্প্রতিক সময়ে বেশ ঘনঘন ভূমিকম্প হচ্ছে বাংলাদেশসহ এই অঞ্চলে। বিশেষজ্ঞরা আশংকা করছেন, একটি বড় ভূ-কম্পনের ঝুঁকিতে রয়েছে বাংলাদেশ। ‍




তিন পার্বত্য জেলায় ১২শ’ কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন

এরপরও পাহাড়ীদের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, এই এলাকার উন্নয়নে সরকার কোন গুরুত্ব দিচ্ছে না

%e0%a6%89%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%a8%e0%a7%9f%e0%a6%a8

ফিরোজ মান্না ॥

তিন পার্বত্য জেলায় (রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানে) গত তিন বছরে বিভিন্ন সংস্থা ১২শ’ কোটি টাকা ব্যয়ে ৪ হাজার ৮১৮টি উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে। পার্বত্য জেলায় সরকারের বাইরে বেসরকারী প্রতিষ্ঠানও উন্নয়ন কাজ করে যাচ্ছে। এরপরও পাহাড়ীদের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, এই এলাকার উন্নয়নে সরকার কোন গুরুত্ব দিচ্ছে না। শান্তি চুক্তির কোন কিছুই বাস্তবায়ন হচ্ছে না।

স্থানীয় সরকার বিভাগ ‘দ্বিতীয় লোকাল গভর্ন্যান্স সাপোর্ট প্রজেক্টের (এলজিএসপি-২)’ মাধ্যমে গত তিন বছরে গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন, স্থাস্থ্য, পানি সরবরাহ, শিক্ষা, প্রাকৃতিক সম্পদ ব্যবস্থাপনা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও মানবসম্পদ উন্নয়নে বান্দরবানে ২২ কোটি ৮৯ লাখ, খাগড়াছড়িতে ২৪ কোটি ৩ লাখ, রাঙ্গামাটিতে ৩৩ কোটি ৪ লাখ টাকা ব্যয় করেছে।

স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব আব্দুল মালেক বলেন, তিন পার্বত্য জেলার উন্নয়নে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হয়। অন্য যে কোন জেলার তুলনায় পার্বত্য জেলায় টাকা বরাদ্দের পরিমাণ বেশি। এরপরও উপজাতি নেতৃবৃন্দ সব সময় অভিযোগ করে আসছে পার্বত্য এলাকায় উন্নয়ন কাজ হচ্ছে না। সরকার চুক্তির কোন কিছু বাস্তবায়ন করছে না। অথচ চুক্তির বেশির ভাগ ধারাই বাস্তবায়ন করা হয়েছে। বাকিগুলোও বাস্তবায়নে কাজ চলছে।

আমরা স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে ইউনিয়ন পরিষদ উইং থেকে পার্বত্য জেলার ৫৪টি ইউনিয়নে পরিষদে গ্রাম আদালত পরিচালনার জন্য এজলাস নির্মাণ এবং আনুষঙ্গিক ব্যয় ৬৪ লাখ ৮০ হাজার টাকা ব্যয় করা হয়েছে। ৬টি পৌরসভায ৪১ কোটি ৭৩ লাখ টাকার উন্নয়ন সহযোগিতা দেয়া হয়েছে।

তিন পার্বত্য জেলার ২৫টি উপজেলায ১২৯ কোটি ৭৯ লাখ টাকা ব্যয় করা হয়েছে। এত টাকা সমতলের কোন জেলায় বরাদ্দ দেয়া হয়নি। শুধু স্থানীয় সরকার বিভাগ পার্বত্য জেলায় উন্নয়ন কাজ করে না, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় সেখানে মূল কাজ করে। এর বাইরে সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকেও উন্নয়ন করা হয়।

স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় সূত্র জানিযেছে, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতর (এলজিইডি) কর্তৃক ৬টি উন্নয়ন প্রকল্পের মাধ্যমে ৫৩২ দশমিক ৪৩ কিলোমিটার পাকা রাস্তা, ব্রিজ কালভার্ট ৮১৬৫ দশমিক ৪৫ মিটার, রবার ড্যাম ১০৮ মিটার নির্মাণ করা হয়েছে। এর বাইরে বাজার, গ্রোথ সেন্টার, ইউনিয়ন পরিষদ কমপ্লেক্স ভবন, উপজেলা পরিষদ কমপ্লেক্স ভবন, মাটির রাস্ত, রক্ষণাবেক্ষণ কাজ বাস্তবায়ন ও চলমান রয়েছে।

তিন পার্বত্য জেলায় জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতর থেকে পানির উৎস স্থাপন করা হয়েছে। এর মধ্যে রাঙ্গামাটি জেলায় রিংওয়েল স্থাপন করা হয়েছে ৯৩৮টি, নলকূপ ৫৯৮টি, ইৎপাদক নলকূপ ২টি, পাম্প ২টি, পাইপ লাইন ৫ দশমিক ৮০ কিলোমিটার। বর্তমানে গ্রামীণ পানি সরবরাহ কভারেজ ৩২ দশমিক ২ শতাংশ। খাগড়া ছড়িতে রিংওয়েল ১৫১৭টি, নলকূপ ১৪০৫টি, রেইন ওয়াটার হার্ভেস্টিং ১৫টি, উৎপাদক নলকূপ ১২টি, পাম্প হাউস ১২টি, পাইপ লাইন ১৩ দশমিক ৭৫ কিলোমিটার স্থাপন করা হয়েছে।

বর্তমানে এই জেলায় গ্রামীণ পানি সরবরাহ কভারেজ ৩৯ দশমিক ৮৯ ভাগ। বান্দরবানে রিংওয়েল ১৩৫৩টি, নলকূপ ৬৬৮টি, পানি শোধনাগার ৭টি, পাইপ লাইন ৪৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার নির্মাণ করা হয়েছে। বর্তমানে এই জেলায় গ্রামীণ পানি সরবরাহ কভারেজ ৪৯ দশমিক ২০ ভাগ।

পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ওয়েব সাইটে দেখা গেছে, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর নৃতাত্ত্বি¡ক প্রথা ও ভাষার বৈশিষ্ট্য বজায় রেখে আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নয়নে ৩ পার্বত্য জেলায় ৪৫ হাজার ৪৯৯ মিটার সেচনালা, ৭ হাজার ২৬৫ মিটার ড্রেন, এক লাখ ৮৯৯ মিটার জলাধার, ১৫০ কিলোমিটার গ্রামীণ সড়ক অবকাঠামো নির্মাণ, ১৭৭টি স্কুল ভবন, ১০টি কলেজ ভবন নির্মাণ, ধর্মীয় ও সামাজিক অবকাঠামো হিসাবে ৭০ হাজার ৫২ বর্গমিটার ভবন নির্মাণ কাজ প্রায় শেষের পথে। স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে ৩ হাজার ১৮০টি পাড়া কেন্দ্র নির্মাণ করা হয়েছে।

ভবিষ্যতে তিন জেলায় ২ হাজার ৪৫০ কিলোমিটার পাকা সড়ক নির্মাণ, ৮ হাজার মিটার ড্রেন, ১০ হাজার মিটার সেতু, ২ হাজার ২০০ মিটার কালভার্ট, ৪০ হাজার বর্গমিটার স্কুল ভবন নির্মাণ, ৬ হাজার ৫শ’ বর্গমিটার কলেজ ভবন, ২ হাজার বর্গমিটার ছাত্রাবাস ভবন নির্মাণ করা হবে। ৭০ হাজার মিটার সেচনালা, ২ হাজার ৫শ’ মিটার ড্যাম ক্রিক নির্মাণ, ৩শ’ পাওয়ারটিলার ও এক হাজার পাম্প স্থান করা হবে।

অন্যদিকে সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে তিন পার্বত্য জেলায় পাকা সড়কসহ বিভিন্ন উন্নয়ন কাজ করা হয়েছে।

সূত্র: দৈনিক জনকণ্ঠ




পার্বত্য ভূমি কমিশন সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হলে বাঙ্গালীদের বঞ্চিত না করেই পাহাড়ীরা লাভবান হবে- বিচারপতি খাদেমুল ইসলাম চৌধুরী

1111
পার্বত্যনিউজ রিপোর্ট : পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসরত বাঙ্গালীদের ভূমিহারা করার মাধ্যমে পার্বত্য চট্টগ্রামকে বিচ্ছিন্ন করতে একটি মহল ষড়যন্ত্র করছে। সেখানকার বাঙ্গালীরা ভূমিহারা হলে দেশের ওই অঞ্চলটির সার্বভৌমত্ব হারানোর আশঙ্কা রয়েছে। ২৩ ডিসেম্বর ২০১৬ শুক্রবার সকাল ১০টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে আয়োজিত “সংবিধানের আলোকে পার্বত্য চট্টগ্রাম ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশন আইন” শীর্ষক এক আলোচনা সভায় বক্তারা এ মন্তব্য করেন।

বেসরকারি সংস্থা সিএইচটি রিসার্চ ফাউন্ডেশন এর উদ্যোগে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন, অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি পার্বত্য ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান খাদেমুল ইসলাম চৌধুরী। বিশেষ অতিথি ছিলেন, সংরক্ষিত মহিলা সংসদ সদস্য ফিরোজা বেগম চিনু, জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. তারেক শামসুর রেহমান, ব্যারিস্টার সরোয়ার হোসেন। আলোচনায় মূল প্রবন্ধ পাঠ করেন অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম বীর প্রতীক। সিএইচটি রিসার্চ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান সাংবাদিক মেহেদী হাসান পলাশ এর সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন সাংবাদিক সৈয়দ ইবনে রহমত। সভায় আরও বক্তব্য রাখেন পার্বত্য নাগরিক পরিষদের চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার আলকাছ আল মামুন, সম-অধিকার আন্দোলনের কেন্দ্রীয় নেতা জাহাঙ্গীর কামাল ও বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির সহ-সভাপতি শহিদুর রহমান তামান্না। আলোচনা সভা সঞ্চালনা করেন সিএইচটি রিসার্চ ফাউন্ডেশনের কোঅর্ডিনেটর আফরিনা হক।

15725208_10210500751330334_1870648008_o

আলোচনায় প্রধান অতিথি অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি খাদেমুল ইসলাম চৌধুরী ভূমি কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান হিসাবে নিজের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করে বলেন, সঠিকভাবে ভূমি কমিশন বাস্তিবায়িত হলে পাহাড়ীরা লাভবান হবে তবে এর জন্য বাঙ্গালীদের বঞ্চিত করার প্রয়োজন নেই। তার মেয়াদকালে পাহাড়ী নেতাদের নানা অসহযোগিতার কথা উল্লেখ করে ভূমি কমিশনের এই সাবেক বিচারপতি আরও বলেন, বাংলাদেশ হচ্ছে এক কেন্দ্রীক রাষ্ট্র। তাই পার্বত্য চট্টগ্রামকে বিশেষ অঞ্চল বলার কোনো সুযোগ নেই। বাংলাদেশে কোনো আদিবাসী নেই। তাই পার্বত্য এলাকায় আদিবাসী সংক্রান্ত কোন সমস্যাও নেই। তিনি বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের পুনর্বাসিত পাহাড়িদের ভূমি সমস্যার সমাধানের লক্ষ্যে পার্বত্য চট্টগ্রাম ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশন গঠন করা হয়েছে। এর বাইরে এ কমিশন আর কোনো কাজ করতে পারে না। পার্বত্য চট্টগ্রামে যেসব বাঙ্গালী আছেন তারা সেখানে বাংলাদেশী হিসেবে বসবাস করছেন। তাই তাদেরকে সেখান থেকে সরানোর কোনো সুযোগ সংবিধানে নেই। আমাদের সকল সমাধান সংবিধানের ভেতরেই অনুসন্ধান করতে হবে।

সংসদ সদস্য ফিরোজা বেগম চিনু বলেন, সন্তু লারমা পার্বত্য চট্টগ্রামের উন্নয়ন চান না। তিনি যা বলেন তা বিশ্বাস করেন না। আবার যা বিশ্বাস করেন তা বলেন না। পার্বত্য চুক্তি স্বাক্ষরের সময় সন্তু লারমা উপজাতি হিসেবে স্বাক্ষর করেছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, সন্তু লারমা এখন ‘আদিবাসী’ স্বীকৃতি দাবি করে নতুন করে ষড়যন্ত্র শুরু করেছেন। পার্বত্য চট্টগ্রামে অবৈধ অস্ত্রের মাধ্যমে উপজাতীয়দের একটি অংশ সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে রখেছে। সেখানে উপজাতীয়রাও তাদের অত্যাচারে অতিষ্ঠ। তিনি আরও বলেন, উপজাতীয়দের চাঁদাবাজি ও অবৈধ অস্ত্রের কারণে পার্বত্য চট্টগ্রামে সেনাবাহিনীর অবস্থান করাটা জরুরি হয়ে পড়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, দেশের গণমাধ্যমগুলো পার্বত্য চট্টগ্রাম সমস্যা নিয়ে একপেশে লোকদের সাথে কথা বলেন। আড়ালে আরও মানুষের যে কষ্ট আছে তা প্রকাশ করা হয় না।

মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ ইবরাহিম বীর প্রতীক বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে যে সমস্যা বিরাজ করছে তা কোনো দলের বা পক্ষের নয়। এটি একটি জাতীয় সমস্যা। ১৯৯৭ সালে পার্বত্য চুক্তির সময় উপজাতীয়দের একটি গোষ্ঠি খুব চালাকি করে পার্বত্য ভূমি কমিশন গঠনের দাবি তোলে। এ কমিশনের মাধ্যমে তারা পার্বত্য চট্টগ্রামের বাঙ্গালীদের ভূমির অধিকার হারা করতে চায়। যা পার্বত্য চট্টগ্রামকে বিচ্ছিন্ন করার ষড়যন্ত্রের অংশ বলে তিনি মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, সংশোধিত পার্বত্য ভূমি কমিশন আইনে কমিশনের চেয়ারম্যানের ক্ষমতাকে খর্ব করা হয়েছে। এ ছাড়া কমিশনের অধিকাংশ সদস্য উপজাতীয় হওয়ায় এ কমিশন চাইলেও নিরপেক্ষ সিদ্ধান্ত দিতে পারবে না। কোনো উপজাতীয় সদস্য আন্তরিক হয়ে নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করলে তাকে হত্যা করে পাহাড়ী সন্ত্রাসীরা লাশ ঝুলিয়ে রাখবে দৃষ্টান্ত হিসাবে।

পার্বত্য চট্টগ্রামের সমস্যা সমাধানে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ নিলেও উপজাতীয়রা নিজেদের মতো করে সমাধান করতে চান। উপজাতীয় নেতারা পার্বত্য চট্টগ্রামে আলাদা দুটি ভোটার তালিকা প্রণয়ন করে ওই এলাকা থেকে বাঙ্গালীদের সরে আসার ব্যবস্থা করছেন। তিনি আরও বলেন, রাষ্ট্রের স্বার্থে সমতলের বাঙ্গালীরা পার্বত্য চট্টগ্রামে গেছেন। তাই রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্বের স্বার্থে সেখানে বাঙ্গালীদের অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।

dsc_6714

ড. তারেক শামসুর রেহমান বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের মূল সমস্যা হচ্ছে- সন্তু লারমা চান না বাঙ্গালীরা সেখানে বসবাস করুক। সন্তু লারমার জাতীয় পরিচয়পত্র নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, সন্তু লারমা দেশের আনুগত্য স্বীকার করেন না, স্বাধীনতার সময় তার কী ভূমিকা ছিলো তা জাতি জানে না। তিনি কীভাবে পার্বত্য চট্টগ্রাম থেকে বাঙ্গালীদের সরিয়ে নেয়ার দাবি তোলেন? তিনি বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে ১৩টি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠি বসবাস করলেও চাকমা সম্প্রদায় সেখানে একক আধিপত্য বিস্তার করে বাকি সম্প্রদায়গুলোকে বঞ্চিত করছে। পার্বত্য চট্টগ্রাম সমস্যা সমাধানে একটি জাতীয় কমিটি গঠন করা সময়ের দাবি বলেও তিনি মন্তব্য করেন তিনি।

সুপ্রীম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার সারোয়ার হোসেন বলেন, আজকে যদি কোনো জাতীয় দুর্যোগ হয় তাহলে বিপুল সংখ্যক লোককে কোথায় সরানো হবে? কাজেই দেশের এক দশমাংশ ভূ-খণ্ড কোনো গোষ্ঠীর জন্য নির্দিষ্ট করে দেয়া ঠিক হবে না। বরং পার্বত্য চট্টগ্রামের উন্নয়ন ও নিরাপত্তার স্বার্থে সেখানে আরো বেশি করে বাঙ্গালী পাঠানো প্রয়োজন। তিনি বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের কোনো কোনো অঞ্চল সমতলের থেকেও বেশি উন্নত। অথচ, সেখানে উন্নয়নের নামে যা কিছু হয়েছে তার শতকরা আশিভাগ চাকমারা ভোগ করায় বাঙ্গালী ও অন্যান্য উপজাতিরা বঞ্চিত হয়েছে।

সভাপতির বক্তব্যে সিএইচটি রিসার্চ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মেহেদী হাসান পলাশ বলেন, ভূমি কমিশনের নতুন সংশোধনী নিয়ে বিতর্ক ও আন্দোলন হচ্ছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে সিএইচটি রিসার্চ ফাউন্ডেশন এই সেমিনারের আয়োজন করেছে। আশা করছি, এই সেমিনারের মাধ্যমে উপস্থাপিত তথ্য, উপাত্ত ও বিশ্লেষণ সরকার বিবেচনা করে সকল পক্ষের নিকট গ্রহণযোগ্য সমাধানে পৌছাঁতে উদ্যোগ গ্রহণ করবে।




পর্বত মেলায় বাঙালিদের স্টল বন্ধ করে দেয়ার প্রতিবাদে ছাত্র পরিষদের প্রতিবাদ

333

নিজস্ব প্রতিবেদক:

পার্বত্য বাঙালী ছাত্র পরিষদ এর নেতৃবৃন্দ পর্বত মেলায় অংশ গ্রহনের জন্য পার্বত্য চট্রগ্রাম মন্ত্রনালয়ের মন্ত্রী বীর বাহাদুর উশেইসিং এমপি এর সাথে স্বাক্ষাত করে একটি স্টল দেয়ার দাবী করলে তিনি প্রথমে অপরাগতা প্রকাশ করলেও পরে বাঙালি নেতৃবৃন্দের জোরালো দাবীর প্রেক্ষিতে একটি স্টল বরাদ্ধ দিয়েছিলেন। মঙ্গলবার পার্বত্য বাঙালী ছাত্র পরিষদের স্টলে দর্শকের উপচে পরা ভীড় ছিল।

বুধবার কোন নোটিশ ছাড়া্ই পার্বত্য বাঙালী ছাত্র পরিষদের স্টলের বই, ব্যানার ও সংগঠনের ৮ দফা দাবীর লিফলেটসহ সবকিছূ নিয়ে যায়। এবং স্টলটি বন্ধ করে দেয়। এরই প্রতিবাদে পার্বত্য বাঙালী ছাত্র পরিষদ বৃহস্পতিবার পার্বত্য বাঙালী ছাত্র পরিষদপ্রতিবাদ সমাবেশ ও মানববন্ধন করেছে।

পার্বত্য বাঙালী ছাত্র পরিষদের প্রতিবাদ সমাবেশ ও মানববন্ধনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পার্বত্য বাঙালী ছাত্র পরিষদ এর প্রতিষ্ঠাতা ও নাগরিক পরিষদের চেয়ারম্যান্ এবং পাহাড়ে আন্দোলনরত পাচঁ সংগঠনের আহ্বায়ক ইঞ্জি আলকাছ আল মামুন  ভূইয়া। পার্বত্য বাঙালী ছাত্র পরিষদের ঢাকা মহানগরীর সভাপতি ফরাজি শাহাদাত হোসেন শাকিবের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন পার্বত্য নাগরিক পরিষদের মহাসচিব এডভোকেট এয়াকুব আলী চৌধুরী, পার্বত্য নাগরিক পরিষদের সহ- সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল হামিদ রানা, পার্বত্য বাঙ্গালী ছাত্র পরিষদের কেন্দ্রীয় সাধারন সম্পাদক, সারোয়ার জাহান খান, ঢাকা মহানগর সেক্রেটারি এডভোকেট সারোয়ার হোসাইন, ফেনী স্টুডেন্ট ফোরাম সভাপতি আব্দুল্লাহ আল ফারুক, পার্ব্ত্য বাঙ্গালী ছাত্র ঐক্য পরিষদ ঢাকা মহানগর সভাপতি মো. সাইফুল ইসলাম, রহমত উল্লাহ আল মামুন প্রমূখ।

বক্তারা বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে ২০১২ সাল থেকে প্রতিবছর বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক পর্বত দিবস পালিত হয়ে আসছে। এ মেলা আয়োজনের অন্যতম উদ্দেশ্য হলো পাহাড়-সমতলের মানুষের মধ্যে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, ভ্রাতৃত্ববোধ সৃষ্টি ও তাদের মধ্যে পারস্পারিক সৌহার্দ্য বৃদ্ধি করা। যার ফলে পাহাড় এবং সমতলের মানুষের মধ্যে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান গড়ে উঠবে বলে আশা করা হয়েছে। কিন্তু পরিতাপের বিষয় হলো পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালের উদ্যোগে চার বছর তিন পার্বত্যজেলা(রাঙ্গামাটি,খাগড়াছড়ি,বান্দারবন)এ বসবাসরত জন গোষ্ঠীর সিংহভাগ মানুষ বাঙালিদের কে বাদ দিয়ে শুধু মাত্র ক্ষুদ্র-নৃগোষ্ঠী সম্প্রদায়কে নিয়েই পার্বত্য মেলা উযযাপন করে আসছে। যা দিন দিন সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির পরিবর্তে সাম্প্রদায়িক দুরত্ব ও বিরোধ সৃষ্টি করছে।

বক্তারা বলেন, ২০১৫ সালে তিন পার্বত্য জেলার বাঙ্গালী জনগোষ্ঠী ব্যতিত শুধুমাত্র ক্ষুদ্র-নৃগোষ্ঠী সম্প্রদায় নিয়ে পর্বত মেলা আয়োজন করায় পার্বত্য বাঙ্গালী ছাত্র পরিষদের ক্ষোভের তোপের মুখে পড়েছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব নব বিক্রম কিশোর ত্রিপুরা। তখন তিনি দুঃখ প্রকাশ করে আশ্বাস দিয়ে বলে ছিলেন, ভবিষ্যতে পার্বত্য অঞ্চলে বসবাসরত সকল সম্প্রদায়ের অংশগ্রহণে পর্বত মেলা আয়োজন করা হবে’।

প্রধান অতিথি আরও বলেন, ‘পার্বত্য অঞ্চলে বসবাসরত সাধারণ বাঙ্গালী জনগোষ্ঠীর সাথে সচিব তার সাম্প্রদায়িক আচরনের পুনরাবৃত্তি ঘটালেন। এ অবস্থায় সচিব নব বিক্রম কিশোর ত্রিপুরার সাম্প্রদায়িক আচরণের ফলে পার্বত্য অঞ্চলে বসবাসরত সকল জাতিসত্ত্বার মধ্যে পারস্পারিক সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির সম্পর্কের মারাত্মকভাবে অবনতি ঘটিয়েছে’ তাই তার এ আচরনের ফলে (সচিব নব বিক্রম কিশোর ত্রিপুরার)অপসারণের দাবীতে শীঘ্রই পার্বত্য এলাকার সাধারণ জনগণকে সাথে নিয়ে পার্বত্য জেলায় তীব্র থেকে তীব্র আন্দোলন গড়ে তোলা হবে’ বলেও জানান তিনি।




অসহযোগ আন্দোলনে সরকার যে ভাষায় বাধা দেবে সে ভাষায় জবাব দেয়া হবে- সন্তু লারমা

15241367_1723467561304414_5839784441238540013_n
নিজস্ব প্রতিবেদক:
২ ডিসেম্বর ২০১৬ সকাল ১০ টায় “পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বিরোধী ও জুম্ম স্বার্থ পরিপন্থী সকল ষড়যন্ত্র প্রতিরোধ জোরদার করুন” এ স্লোগানে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির ১৯ তম বর্ষপূর্তি উপলক্ষ্যে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি কর্তৃক ঢাকার সুন্দরবন হোটেলে এক আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।
পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির তথ্য ও প্রচার বিভাগের সদস্য দীপায়ন খীসার সঞ্চালনায় এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির সভাপতি জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমার সভাপতিত্বে সভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন সংগঠনটির সাংগঠনিক সম্পাদক, শক্তিপদ ত্রিপুরা।
বক্তব্য রাখেন ঐক্যন্যাপের সভাপতি পঙ্কজ ভট্টাচার্য্য, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের সভাপতি শরীফ নুরুল আম্বিয়া, ওয়ার্কাস পার্টির পলিট ব্যুারোর সদস্য নূর আহমেদ বকুল, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক আন্তর্জাতিক কমিশনের সদস্য ব্যারিষ্টার সারা হোসেন, বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের সাধারণ সম্পাদক সঞ্জীব দ্রং, জাতীয় আদিবাসী পরিষদের সভাপতি রবীন্দ্রনাথ সরেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অধ্যাপক মেজবাহ কামাল ও অধ্যাপক সৌরভ শিকদার, বাংলাদেশ আদিবাসী ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সিমন চিসাম, এডভোকেট প্রকাশ বিশ্বাস প্রমুখ। এছাড়াও সভায় উপস্থিত ছিলেন নাগরিক ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিবৃন্দ এবং  বিভিন্ন  প্রগতিশীল ছাত্র সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
বক্তারা বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে ১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। চুক্তির ১৯ বছর অতিক্রান্ত হলেও পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ ও তিন পার্বত্য জেলা পরিষদের কার্যাবলী হস্তান্তর, পার্বত্য চট্টগ্রামের জুম্ম অধ্যুষিত অঞ্চলের বৈশিষ্ট্য সংরক্ষণ; অপারেশন উত্তরণ’সহ অস্থায়ী সেনাক্যাম্প প্রত্যাহার; ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তিকরণ, ভারত প্রত্যাগত জুম্ম শরণার্থী ও আভ্যন্তরীণ উদ্ভাস্তদের স্ব স্ব জায়গা-জমি প্রত্যর্পণসহ পুনর্বাসন; পার্বত্য চট্টগ্রামের সকল চাকুরিতে জুম্মদের অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে স্থায়ী বাসিন্দাদের নিয়োগ, চুক্তির সাথে সঙ্গতি বিধানকল্পে পুলিশ এ্যাক্ট, পুলিশ রেগুলেশন ও ১৯০০ সালের পার্বত্য চট্টগ্রাম শাসনবিধিসহ পার্বত্য চট্টগ্রামে প্রযোজ্য অন্যান্য আইন সংশোধন; সেটেলার বাঙালীদেরকে পার্বত্য চট্টগ্রামের বাইরে সম্মানজনক পুনর্বাসন ইত্যাদি চুক্তির মৌলিক বিষয়সমূহ এখনো অবাস্তবায়িত অবস্থায় রয়েছে। বক্তারা পার্বত্য চট্টগ্রামের সমস্যাকে একটি জাতীয় সমস্যা হিসেবে উল্লেখ করে জাতীয়ভাবেই সমাধান করতে হবে বলেও উল্লেখ করেন।
সভাপতির বক্তব্যে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির সভাপতি জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমা আক্ষেপের সুরে বলেন, ১৯ বছর আগের যে অনুভূতি সেই অনুভূতির সাথে আজকের অনুভূতির যোজন যোজন পার্থক্য অনুভূত হচ্ছে। সরকার কর্তৃক প্রকাশিত ক্রোড়পত্রে অধিকাংশই মিথ্যার বুলি আউরানো হয়েছে বলে তিনি দাবী করেন।
তিনি বলেন, ৪৬ বছর আগে বঙ্গবন্ধুর সময়ে পার্বত্য চট্টগ্রামের যে অবস্থা ছিল তা ২০১৬ তে এসে আরো খারাপ হয়েছে। ৪৬ বছর ধরে পার্বত্য চট্টগ্রামে অলিখিত সেনাশাসন চলছে। পার্বত্য চট্টগ্রামের অবস্থা অত্যন্ত নাজুক বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তিনি শাসকগোষ্ঠীকে সতর্ক করে বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের মানুষ নতুন করে জেগেছে। সরকার যদি এখনো জুম্ম জনগোষ্ঠীকে ঘুমিয়ে আছে মনে করে তবে ভুল করবে।
তিনি পার্বত্য চুক্তি বাস্তবায়নে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি কর্তৃক ঘোষিত অসহযোগ আন্দোলনে ১০ দফা কর্মসূচীতে সরকার যে ভাষায় বাধা দেবে সে ভাষায় জবাব দেওয়া হবে বলেও তিনি হুঁশিয়ারী উচ্চারণ করে সভার সমাপ্তি ঘোষণা করেন।
ঐক্যন্যাপের সভাপতি পঙ্কজ ভট্টাচার্য্য পার্বত্য চট্টগ্রামের সমস্যাকে একটি রাজনৈতিক সমস্যা বলে উল্লেখ করে বলেন, রাজনৈতিক সমস্যা রাজনৈতিকভাবেই সমাধান করতে হবে। সরকারের কলুষিত মনোভাবের নিন্দা করে তিনি বলেন, সরকার পার্বত্য চট্টগ্রামে চুক্তি বাস্তবায়নের জন্য কাজ না করে চুক্তিবিরোধী  তথাকথিত সমঅধিকার, হেফাজত ইসলামকে সমর্থন দিয়ে চলেছে। তিনি আজকের সমাবেশকে জাতীয় প্রতারণা, মিথ্যাচার বিরোধী সমাবেশ বলেও উল্লেখ করেন।
বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেন, যে দিনটি অত্যন্ত আড়ম্বরপূর্ণ করে পালন করার কথা ছিল সেই দিনটি পালন করতে হচ্ছে বেদনাহত মন নিয়ে। এর জন্য সরকারের কথা দিয়ে কথা না রাখার কলুষিত চরিত্রকে  দায়ী করেন। পার্বত্য চট্টগ্রামের আন্দোলন সেখানকার স্থায়ী সকল জুম্ম আদিবাসী, বাঙালী জাতিগোষ্ঠীর মৌলিক অধিকার আদায়ের জন্য করা হয়েছিল বিধায় এ আন্দোলন বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলন নয় বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
জাতীয় আদিবাসী পরিষদের সভাপতি রবীন্দ্রনাথ সরেন বলেন, সরকারের দোয়ায় পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি হয়নি। পার্বত্য চট্টগ্রামের জুম্ম জনগোষ্ঠীর রক্তঝরা সংগ্রামের মধ্যে দিয়ে সরকারকে বাধ্য করা হয়েছিল চুক্তিতে উপনিত হওয়ার জন্য। সরকারের থেকে বিভিন্ন সময় ৪৮ টির অধিক ধারা বাস্তবায়নের যে মিথ্যা প্রচার তিনি তার নিন্দা জানান এবং পার্বত্য চট্টগ্রামের জুম্ম জনগোষ্ঠীকে পার্বত্য চুক্তি বাস্তবায়নে ষড়যন্ত্রকারী শাসকগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ সংগ্রামে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের সাধারণ সম্পাদক সঞ্জীব দ্রং বলেন, সরকার পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির বর্ষপূর্তি পালন করছে চুক্তির এক পক্ষকে উপেক্ষা করে। সরকার পার্বত্য চট্টগ্রামে উন্নয়নের নামে প্রহসন করছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
অধ্যাপক মেজবাহ কামাল বলেন,  এটা স্পষ্টত যে, সরকার পার্বত্য চুক্তি বাস্তবায়নে প্রতারণা করছে। সরকারের সদিচ্ছার অভাবে চুক্তি বাস্তবায়ন হচ্ছেনা। দীর্ঘ ১৯ বছর অতিবাহিত হয়েছে। সামনের বছর দুই দশক পূর্ণ হবে। অথচ সরকার এখনো তারা বলছে চুক্তি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে মাঝখানে তারা সময় পাইনি। বিএনপি এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় বাদ দিলে দীর্ঘ ১৫ বছর এই সরকার ক্ষমতায় ছিল। তাহলে ১৫ বছর কি কম সময়। আর কত বছর লাগবে?
অন্যদিকে পার্বত্য চট্টগ্রামকে বাংলাদেশের উপনিবেশে পরিণত করে জাতিগত নিপীড়নের মধ্যে দিয়ে জাতিগত নিধনের সাথে ইসলামীকরণ করা হচ্ছে। তিনি বলেন, রাজনৈতিক সংগ্রামকে কখনো অস্ত্র দিয়ে দাবিয়ে রাখা যায়না। পার্বত্য চট্টগ্রামের জুম্ম জনগোষ্ঠীর এ যৌক্তিক রাজনৈতিক আন্দোলনকেও দমিয়ে রাখা যাবেনা।
বাংলাদেশ ওয়ার্কাস পার্টি, পলিট ব্যুরোর সদস্য নূর আহমেদ বকুল বলেন, ধর্মনীরপেক্ষতা, গণতন্ত্র, জাতীয়তাবাদ ও সমাজতন্ত্র এ চার নীতির ভিত্তিতে যে মুক্তিযুদ্ধ হয়েছিল তা আজ ভুলন্থিত। ধর্মনীরপেক্ষতার নামে ইসলামীকরণ, গণতন্ত্রের ভোটের রাজনীতি, জাতীয়তবাদের নামে উগ্র বাঙালী জাতীয়তাবাদ এবং সমাজতন্ত্রের নামে আমলাতান্ত্রিক ব্যবস্থা কায়েক করা হয়েছে।
পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক আন্তর্জাতিক কমিশনের সদস্য ব্যারিষ্টার সারা হোসেন বলেন, পার্বত্য চুক্তিকে বানচাল করার ষড়যন্ত্র হিসেবে পার্বত্য চুক্তির বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। যে ভিত্তিতে মামলা করা হয়েছিল তা ভিত্তিহীন বলেও উল্লেখ করেন। তিনি আরো বলেন সরকারের চুক্তি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে আন্তরিকতা ও সদিচ্ছা নিয়ে যেখানে চুক্তি বাস্তবায়নে কাজ করার কথা, সেই যায়গায় চুক্তি বাস্তবায়ন না করে কালক্ষেপন করা অত্যন্ত দু:খজনক।
স্বাগত বক্তব্যে শক্তিপদ ত্রিপুরা বলেন, চুক্তি মৌলিক বিষয়গুলো বাস্তবায়িত না হওয়ার ফলে পার্বত্য চট্টগ্রামের জুম্ম আদিবাসীরা এখনো প্রতিনিয়ত শাসক গোষ্ঠী কর্তৃক নিপীড়ন, নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। চুক্তির ধারাগুলোকে উপেক্ষা করে এখনো পার্বত্য চট্টগ্রামে অলিখিত সেনাশাসন বিরাজ করছে। এমতাবস্থায় যে কোন সময় পার্বত্য চট্টগ্রাম আবারো অশান্ত হয়ে উঠতে পারে বলে তিনি উল্লেখ করেন। সেক্ষেত্রে সরকারকেই সব দায়িত্ব নিতে হবে বলেও তিনি ঘোষণা করেন।



পার্বত্য চুক্তি একপেশে চুক্তি- মে. জে. (অব.) সৈয়দ মুহম্মদ ইব্রাহীম বীর প্রতীক

15304232_683660141792514_2272762637378976008_o

নিজস্ব প্রতিবেদক:

খেতাবপ্রাপ্ত বীর মুক্তিযোদ্ধা ও নিরাপত্তা বিশ্লেষক মে. জে. (অব.) সৈয়দ মুহম্মদ ইব্রাহীম বীর প্রতীক বলেন, পার্বত্য অঞ্চলের সমস্যা শুধু সেখানের বসবাস কারী বাঙালীদের সমস্যা নয়।এসমস্যা একটি জাতিগত সমস্যা। এ সমস্যা সমাধানে সেখানে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীদের যেভাবে সুযোগ সুবিধা দেয়া হয়েছে অনুরূপভাবে বাঙালিদেরকে সেই সুযোগ সুবিধা দিতে হবে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী এদেশে কোন আদিবাসী নেই।তথা কথিত আদিবাসী নামে যারা পার্বত্য চট্রগ্রামে অরাজকতা সৃষ্টি করেছে,তাদেরকে সরকারী ভাবেই মোকাবেলা করতে হবে।

জে. ইব্রাহীম পার্বত্য চুক্তিকে এক পেশে চুক্তি হিসেবে আখ্যায়িত করেন এবং পার্বত্য অঞ্চলের ভূমি বিরোধ সম্পর্কে বলেন, সেখানে বসবাসকারী বাঙালিদের প্রতিনিধিত্বমূলক অংশগ্রহণ এবং সকল পর্যায়ে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের কথা বলেন।

২ ডিসেম্বর পার্বত্য চুক্তির ১৯ বছর পূর্তি উপলক্ষে ৫ বাঙালী সংগঠনের আয়োজিত রাজধানীর এক সমাবেশে জে. ইব্রাহীম এ কথা বলেন। পার্বত্য নাগরিক পরিষদের সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার আলকাস আল মামুন ভুঁইয়ার সভাপতিত্বে উক্ত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে ঢাকা বিশ্বাবিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য প্রফেসর ড. এমাজউদ্দীন আহমেদ ও বিশেষ অতিথি হিসাবে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনীতি ও সরকার বিভাগের অধ্যাপক ড. মাহফুজ পারভেজের বক্তব্য রাখার কথা ছিলো। কিন্তু তারা অনুপস্থিত থাকায় অনুষ্ঠানের প্রধান বক্তা জে. ইব্রাহীম প্রধান অতিথির আসন অলংকৃত করেন।

15259316_683660118459183_4615703531927507560_o

পার্বত্য বাঙ্গালী ছাত্র পরিষদের ঢাকা মহানগর কমিটির সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার সাহাদাৎ ফরাজী সাকিবের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে ৫ বাঙালী সংগঠনের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, ১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর স্বাক্ষরিত পার্বত্য কালো চুক্তির ১৯তম বৎসর পরেও শান্তি আসেনি।জনসংহতি সমিতির সভাপতি সন্তু লারমা এবং তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের প্রতিনিধি আবুল হাসনাত আব্দুল্লাহ এ চুক্তি সম্পাদন করে ছিলেন। সে দিন জাতীয় সংসদকে পাশ কাটিয়ে জনমনের তোয়াক্কা না করে এ চুক্তি স্বাক্ষর করেছিলেন।

তারা বলেন, এ চুক্তি তিন পার্বত্য জেলার সংখ্যাগরিষ্ঠ বাঙ্গালী জনগোষ্ঠীকে ২য় শ্রেনীর নাগরিকে পরিণত করেছে। এ চুক্তিকে পার্বত্যবাসীসহ সারাদেশের মানুষ ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করে বাড়ি বাড়ি কালো পতাকা উত্তোলন ও কালো ব্যাজ ধারণ করে বিক্ষোভে ফেটে পড়েছিল।যে চুক্তি আজও কোন শান্তি আনতে পারেনি। বক্তারা অবিলম্বে এ কালো চুক্তি বাতিলের দাবী জানান।

এদিকে পার্বত্য নাগরিক পরিষদ এবং পার্বত্য বাঙ্গালী ছাত্র পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির উদ্যোগে কালো চুক্তি এবং বিতর্কিত ভ’মি কমিশন আইন ২০১৬ বাতিলের দাবীতে শুক্রবার বিকাল ২.৩০ টায় পার্বত্য নাগরিক পরিষদের চেয়ারম্যান এবং ৫(পাচঁ)বাঙালী সংগঠনের আহবায়ক ইঞ্জিনিয়ার আলকাছ আল মামুন ভূঁইয়ার সভাপতিত্বে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে এক মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

এতে  বক্তারা কালো চুক্তি বাতিল করা সহ বিতর্কিত ভুমি কমিশন আইন বাতিল না করলে কমিশনকে কোন সময়ে কার্যকর করতে দেয়া হবেনা বলে হুশিয়ারী দেয়া হয়।




চুক্তি বাস্তবায়নে সরকারের সদিচ্ছা ও আন্তরিকতার অভাব রয়েছে: সন্তু লারমা

photo-bipf-kf-discussion

নিজস্ব প্রতিবেদক:

পার্বত্য চুক্তি বাস্তবায়নে বর্তমান সরকারের সদিচ্ছা ও আন্তরিকতার অভাব রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন পার্বত্য আঞ্চলিক পরিষদের চেয়ারম্যান জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমা ওরফে সন্তু লারমা। বৃহস্পতিবার ঢাকার ডেইলি স্টার ভবনের আজিমুর রহমান কনফারেন্স হলে ‘পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির ১৯ বছর: স্থানীয় জনগণের ভূমি অধিকার ও বাস্তবতা’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সকাল সাড়ে ১০টায় শুরু হওয়া এ আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মানবাধিকার কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান ড. মিজানুর রহমান। এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন চাকমা সার্কেল চিফ ব্যারিস্টার দেবাশীষ রায়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজ বিভাগের প্রফেসর ড. সাদেকা হালিম, মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন’র এর নির্বাহী পরিচালক মিস. শাহীন আনাম, ড. মেসবাহ কামাল প্রমূখ।

বক্তব্যে সন্তু লারমা বলেন, বর্তমান সরকারকে আমি গণতান্ত্রিক, অসাম্প্রদায়িক, জাতি বৈষম্যহীন বলে মানতে নারাজ। বরং এ সরকার অগণতান্ত্রিক এবং উগ্র সাম্প্রদায়িক। শুধু তাই নয়, এ সরকারের মনের ভিতর রয়েছে প্রচণ্ড জাতিগত বৈষম্যতা। যদি তাই না হতো, তাহলে শান্তিচুক্তির সকল ধারাগুলোর বাস্তবায়ন হচ্ছে না কেন? তিনি বলেন, বর্তমান শাসক শ্রেনিতে যারা আছেন তারাই শোষক শ্রেণি। নাসিরনগর আর গোবিন্দগঞ্জে সংখ্যালঘুদের উপর হামলা তারই প্রমাণ।

সরকার শান্তিচুক্তি বাস্তবায়নে গড়িমসি করছে এমন অভিযোগ করে সন্তু লারমা বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে আমি আঞ্চলিক পরিষদের চেয়ারম্যানের দ্বায়িত্ব পালন করে আসছি। এ সময়ের মধ্যে সবাইকে চেনা হয়ে গেছে আমার। সরকারের কোথায় দুর্নীতি, কোথায় দুর্বলতা, কোথায় কোথায় প্রতারণা সব জানা হয়ে গেছে। আর নতুন করে কিছু জানার নেই আমার। পার্বত্য চুক্তির বিষয়ে শেখ হাসিনার সরকার তার নীতিনির্ধারকদের বিভিন্ন বিভ্রান্তিকর তথ্য দ্বারা প্রভাবিত হচ্ছেন এমন অভিযোগ এনে সন্তু লারমা বলেন, ১৯৯৭ সালে চুক্তির সব ধারা জেনেশুনে সরকারের পক্ষ থেকে স্বাক্ষর করা হলেও সরকারের নীতিনির্ধারকরা ইদানীং কিছু অসত্য ও উদ্ভট তথ্য প্রধানমন্ত্রীর কানে দিয়ে তাঁকে প্রভাবিত করছেন। তারা বলছে ইউএনডিপি নাকি পার্বত্যাঞ্চলের মানুষকে খ্রিস্টান ধর্মে ধর্মান্তরিত করে আলাদা রাজ্য প্রতিষ্ঠা করতে চাচ্ছে। তারা প্রধানমন্ত্রীকে আরও বলছে চুক্তির অমুক ধারা বাস্তবায়িত হলে এই হবে, তমুক ধারা বাস্তবায়িত হলে সেই হবে।

তিনি এত টালবাহানা না করে চুক্তির পূর্ণবাস্তবায়নে আন্তরিক হওয়ার জন্য সরকারের উদ্দেশ্যে বলেন, পাহাড়ের মানুষ নিজের অধিকার নিয়ে বেঁচে থাকতে চায়। আর যদি এভাবে একেরপর এক প্রতারণার মাধ্যমে তা ভূলুণ্ঠিত করা হয় তবে তারা সেই গণ্ডি থেকে বেরিয়ে আসবে। তারা তাদের নিজেদের অধিকার নিজেরা আদায় করেই নেবে, কারণ তাদের সেই সাহস এখনও রয়েছে।

শেষের দিকে, ‘আমি নারীবাদের বিরোধীতা করি, কিন্তু নারী মুক্তির পক্ষে’ সন্তু লারমার এমন বক্তব্যে উপস্থিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজ বিভাগের প্রফেসর ড. সাদেকা হালিম, মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন’র এর নির্বাহী পরিচালক শাহীন আনামসহ অন্যান্য নারীদের সাথে মতবিরোধ দেখা দেয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে সন্তু লারমা তার তাৎক্ষণিক জবাবে বলেন, আমি মনে করি নারীবাদী মানে হচ্ছে পুরুষরা যা করবে মহিলারাও তা করবে। কিন্তু আমি তার পক্ষে না। আমার মতে, পুরুষ পুরুষের কাজ করবে নারীরা নারীর কাজ করবে। কিন্তু তাতেও উপস্থিত নারী নেত্রীদের ক্ষোভ প্রশমিত না হওয়ায় পরে আরেক সময় এটা নিয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিয়ে তাদের বুঝিয়ে দিবেন বলে বক্তব্যের সমাপ্তি টানেন সন্তু লারমা।




পার্বত্য চট্টগ্রাম মন্ত্রণালয়ের কাজ চুক্তি বাস্তবায়নের পক্ষে আছে বলা যায় না- সন্তু লারমা

%e0%a7%9c%e0%a7%9c%e0%a7%9c%e0%a7%9c%e0%a7%9c

নিজস্ব প্রতিবেদক:

পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির সভাপতি জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমা বলেছেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষযক মন্ত্রনালয় যেরকম হওযার কথা ছিল সামগ্রিকভাবে সকল কার্যক্রম পার্বত্য চুক্তি বাস্তবাযনের আন্দোলনের পক্ষে আছে বলা যায় না।

অন্যদিকে দেশ বিদেশের জনমতকে বিভ্রান্ত করতে সরকার পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির ৭২ টি ধারার মধ্যে ৪৮ টি ধারা ইতিমধ্যে বাস্তবায়িত হয়েছে’ বলে অসত্য বক্তব্য প্রচার করে আসছে। বস্তত ৭২ টি ধারার মধ্যে মাত্র ২৫ টি ধারা বাস্তবায়িত হয়েছে।

পার্বত্য চট্টগ্রামের মানুষ এক শাসরদ্ধকর পরিস্থিতির মধ্যে আছে। পার্বত্য চট্টগ্রামে অপারেশন উত্তরণের নামে এক ধরনের সেনাশাসন রযেছে। আর এই অপারেশন উত্তরণের নাম দিয়ে সেখানে তারা সকল বিষয়ে হস্তক্ষেপ করে।

৩০ ডিসেম্বর পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি কর্তৃক পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির ১৯তম বর্ষপূর্তি উপলক্ষ্যে রাজধানীর সুন্দরবন হোটেলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সন্তু লারমা একথা বলেন।

পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক শক্তিপদ ত্রিপুরার সঞ্চালনায় সংবাদ সম্মেলনে জনসংহতি সমিতির সভাপতিজ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমা বক্তব্য প্রদান করেন। সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট কলামিস্ট ও লেখক সৈয়দ আবুল মকসুদ,বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের সাধারণ সম্পাদক সঞ্জীব দ্রং, আইইডির নির্বাহী পরিচালক নুমান আহমেদ খান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগীঅধ্যাপক খায়রুল ইসলাম চৌধুরী রূপম।

পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির সভাপতি জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমা তার মূল বক্তব্যে বলেন, সশস্ত্র আন্দোলন অব্যাহত থাকলেও পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি বরাবরই রাজনৈতিক ও শান্তিপূর্ণ উপায়ে পার্বত্য চট্টগ্রাম সমস্যা সমাধানের পথ উন্মুক্ত রাখে। এ প্রেক্ষিতে জিয়াউর রহমানের সরকার শান্তি আলোচনার জন্য সীমিত উদ্যোগ হাতে নেয়। পরে ১৯৮৫ সালের ২৫শে অক্টোবর হোসাইন মোহাম্মদ এরশাদের নেতৃত্বাধীন সরকারের সঙ্গে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির প্রথম আনুষ্ঠানিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

উক্ত বৈঠকে উভয় পক্ষ পার্বত্য চট্টগ্রাম সমস্যাকে জাতীয় ও রাজনৈতিক সমস্যা হিসেবে পরিচিহ্নিত করে এবং রাজনৈতিক উপায়ে সমাধানে ঐক্যমত্য হয়।

জেনারেল এরশাদ সরকারের (১৯৮৩-১৯৯০) সাথে ৬ বার, বেগম খালেদা জিয়ার সরকারের (১৯৯১-১৯৯৫) সাথে ১৩ বার এবং শেখ হাসিনা সরকারের (১৯৯৬-২০০১) সাথে ৭ বার অর্থাৎ মোট ২৬ বার আনুষ্ঠানিক বৈঠকের ধারাবহিকতায় ১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।

আজ পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির দীর্ঘ ১৯ বছর অতিক্রান্ত হলেও পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ ও তিনপার্বত্য জেলা পরিষদের কার্যাবলী হস্তান্তর; পার্বত্য চট্টগ্রামের জুম্ম অধ্যুষিত অঞ্চলের বৈশিষ্ট্য সংরক্ষণ; অপারেশন উত্তরণসহ অস্থায়ী ক্যাম্পপ্রত্যাহার; ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তিকরণ, ভারত প্রত্যাগত জুম্ম  শরনার্থী ও আভ্যন্তরীণ উদ্বাস্তদের স্ব-স্ব জায়গা-জমি প্রত্যর্পণসহ পুনর্বাসন; পার্বত্যচট্টগ্রামের সকল চাকুরিতে জুম্মদের অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে স্থায়ী বাসিন্দাদের নিয়োগ, চু্িক্তর সাথে সঙ্গতি বিধানকল্পে পুলিশ এ্যাক্ট, পুলিশরেগুলেশন ও ১৯০০ সালের পার্বত্য চট্টগ্রাম শাসনবিধিসহ পার্বত্য চট্টগ্রামে প্রযোজ্য অন্যান্য আইন সংশোধন; সেটেলার বাঙালিদের পার্বত্যচট্টগ্রামের বাইরে সম্মানজনক পুনর্বাসন ইত্যাদি চুক্তির মৌলিক বিষয়সমূহ এখনো অবাস্তবায়িত রয়েছে।

অন্যদিকে দেশ বিদেশের জনমতকে বিভ্রান্ত করতে সরকার পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির ৭২ টি ধারার মধ্যে ৪৮ টি ধারা ইতিমধ্যে বাস্তবায়িতহয়েছে’বলে অসত্য বক্তব্য প্রচার করে আসছে। বস্তত ৭২ টি ধারার মধ্যে মাত্র ২৫ টি ধারা বাস্তবায়িত হয়েছে। চুক্তি বাস্তবায়নে সরকারের এ দায়সারা উদ্যোগ, চুক্তির অবাস্তবায়িত মৌলিক বিষয়সমূহ বাস্তবায়নে গড়িমসি, চুক্তি বাস্তবায়ন সম্পর্কে অসত্য তথ্য প্রচার ইত্যাদি থেকেপ্রমাণিত হয় যে, সরকার জুম্ম জনগণসহ পার্বত্যবাসীর রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অধিকার প্রতিষ্ঠায় চরমভাবেঅনাগ্রহী।

এমতাবস্থায় পার্বত্যবাসীরা, বিশেষত: জুম্ম জনগণ নিরাপত্তাহীন ও অনিশ্চিত এক চরম বাস্তবতায় মুখোমুখী হয়ে কঠিন জীবনযাপনেবাধ্য হচ্ছে। তাই পার্বত্য চট্টগ্রামের বিরাজমান সমস্যা রাজনৈতিক ও শান্তিপূর্ণ উপায়ে সমাধানের ক্ষেত্রে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়নের বিকল্পনেই। তিনি পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির যথাযথ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে পার্বত্যবাসীকে নিয়ে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি কর্তৃক পূর্ব-ঘোষিতদশদফা কর্মসূচির ভিত্তিতে অসহযোগ আন্দোলন অব্যাহতভাবে চালিয়ে যাবেন বলেও ঘোষণা করেন।

সাংবাদিকদের ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশন আইনের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির আলোকে ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তিকমিশন আইন সংশোধন করা হলেও তার যথাযথ বাস্তবায়নে প্রশাসন কর্তৃক আইনত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না, সুষ্ঠুভাবে বাস্তবায়নে বান্দরবানও রাঙ্গামাটিতে দুটো শাখা অফিস বানানো প্রয়োজন হলেও তা এখনো বানানো হয়নি, প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ করা হয়নি, প্রয়োজনীয়সরঞ্জাম প্রভৃতির অভাবে বিচারিক কাজগুলো করা সম্ভব হয়ে উঠছে না।

তিনি আরো বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের মানুষ এক শাসরদ্ধকর পরিস্থিতির মধ্যে আছে। পার্বত্য চট্টগ্রামে অপারেশন উত্তরণের নামে এক ধরনের সেনাশাসন রযেছে। আর এই অপারেশন উত্তরণের নাম দিয়ে সেখানে তারা সকল বিষয়ে হস্তক্ষেপ করে।  চুক্তি বাস্তবায়নের জন্য সরকারের সদিচ্ছা, কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ অন্যতম অন্তরায়। পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষযক মন্ত্রনালয় যেরকম হওযার কথা ছিল সামগ্রিকভাবে সকল কার্যক্রম পার্বত্য চুক্তি বাস্তবাযনের আন্দোলনের পক্ষে আছে বলা যায় না।

অনুষ্ঠানে পঠিত প্রবন্ধে সন্তু লারমা আরো বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের সমস্যাকে রাজনৈতিক ও শান্তিপূর্ণ সমাধানের লক্ষ্যে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়নের স্বার্থে চুক্তি-পরিপন্থী ও জুম্ম স্বার্থ বিরোধী যে কোন ষড়যন্ত্র প্রতিরোধ করতে জনসংহতি সমিতি তথা জুম্ম জনগণ বরাবরের মতো সদা দৃঢ় প্রতিজ্ঞাবদ্ধ তা পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির ১৯তম বার্ষিকীতে আবারো দ্ব্যর্থহীন ভাষায় ঘোষণা করছে।

পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির সাথে সঙ্গতি বিধানকল্পে পুলিশ এ্যাক্ট, পুলিশ রেগুলেশন ও পার্বত্য চট্টগ্রাম রেগুলেশন ইত্যাদিসহ পার্বত্য চট্টগ্রামে প্রযোজ্য অন্যান্য আইন সংশোধন করা; আঞ্চলিক পরিষদ ও তিন পার্বত্য জেলা পরিষদের কার্যাবলী নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে যথাযথভাবে হস্তান্তর করা; ‘অপারেশন উত্তরণ’সহ সকল অস্থায়ী ক্যাম্প প্রত্যাহার এবং স্থানীয় পার্বত্য পুলিশ বাহিনী গঠন করা; প্রত্যাগত জুম্ম শরণার্থী ও আভ্যন্তরীণ উদ্বাস্তুদের পুনর্বাসন করা, যথাযথভাবে ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি করা ও সেটেলার বাঙালিদের পার্বত্য চট্টগ্রামের বাইরে সম্মানজনক পুনর্বাসন করাসহ পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি যথাযথভাবে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি পূর্ব-ঘোষিত দশদফা কর্মসূচির ভিত্তিতে অসহযোগ আন্দোলন অব্যাহতভাবে চালিয়ে নেয়ার ঘোষণা করছে।

সৈয়দ আবুল মকসুদ বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তিতে বাস্তবায়ন করা অসম্ভব সেদরনের কোন বিষয়গু ছিল না। চুক্তি বাস্তবায়নে একদিকেপ্রশাসন ও মূলধারার রাজনৈতিক দলগুলোর চরম অনীহা, অন্যদিকে দেশের প্রগতিশীল রাজনৈতিক সংগঠন, সুশীল সমাজ, বুদ্ধিজীবী, নাগরিকসমাজ কর্তৃক যথাযথ পদক্ষেপ ও কর্মসূচী না নেওয়ার কারণে চুক্তির যথাযথ বাস্তবায়ন সম্ভব হচ্ছে না।

তিনি আরো বলেন- পার্বত্য চুক্তি হলোসেখানকার মানুষের অধিকারের সনদ। এই চুক্তি ১৯ বছরে বাস্তবায়িত না হওয়া সত্যিই দু:খজনক। আসলে চুক্তির ৪৮টি ধারা বনাম ২৫টিধারা বাস্তবায়নের বিষয়টি অংকের বিষয় নয়। বিষয়টা হলো চুক্তির স্পিরিট কতটুকু বাস্তবায়িত হয়েছে। সবচেয়ে মূল বিষয পার্বত্য এলাকারঅধিবাসীদের ক্ষমতায়ন। চুক্তি বাস্তবায়নে সরকারের নৈতিক দায়িত্ব রয়েছে। নৈতিক দায়িত্বের আলোকে যেন সরকার চুক্তি বাস্তবায়ন করেসেজন্য নাগরিক সমাজ জনসংহতি সমিতির ১০ দফার সাথে সংহতি জানাবে। ভূমি কমিশন আইন ও পার্বত্য চুক্তি নৈতিক দায়িত্ব থেকে যেনবাস্তবায়ন করে তা আমরা প্রত্যাশা করি।

আইইডির নির্বাহী পরিচালক নুমান আহমেদ খান বলেন, মুক্তিযুদ্ধের অসাম্প্রদায়িক চেতনার যে বাংলাদেশ আমরা আশা করেছিলাম তা পার্বত্যচট্টগ্রামে আজও অলিখিত সামরিক শাসন বিরাজমান থাকার মধ্যে দিয়ে ভুলন্ঠিত হচ্ছে। পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়নের জন্য জনমত গঠনকরতে হবে। নাগরিক সমাজ, প্রগতিশীল রাজনৈতিক দলকে নিজস্ব কর্মসূচি নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে। সকল জাতির সমানাধিকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে।