পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ আইন বাতিলে আপিল শুনানি ২৩ জানুয়ারি

পার্বত্যনিউজ ডেস্ক:

পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ আইন বাতিল চেয়ে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে করা আপিলের ওপর শুনানি আগামী ২৩ জানুয়ারি পর্যন্ত মুলতবি করেছেন আপিল বিভাগ।

মঙ্গলবার (৯ জানুয়ারি) এক আবেদনের শুনানি নিয়ে দায়িত্বরত প্রধান বিচারপতি মো. আবদুল ওয়াহ্হাব মিঞার নেতৃত্বাধীন পাঁচ বিচারপতির আপিল বেঞ্চ এই আদেশ দেন।

আদালতে রিটকারী মো. বদিউজ্জামানের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এজে মোহাম্মদ আলী। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম ও ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল প্রতিকার চাকমা।

এর আগে ২০১০ সালের ১২ ও ১৩ এপ্রিল বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ ও বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ আইন বাতিল করে রায় দেন।

শান্তিচুক্তির পর প্রণীত পার্বত্য আঞ্চলিক পরিষদ আইন অসাংবিধানিক বলে রায় দেন হাইকোর্ট। তবে ওই রায়ে পার্বত্য শান্তিচুক্তিকে বৈধ ঘোষণা করা হয়।

পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ আইন, ১৯৯৮-এর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে ২০০০ সালে রাঙামাটির বাঙালি অধিবাসী মো. বদিউজ্জামান হাইকোর্টে একটি রিট আবেদন করেন। পরে ২০০৭ সালে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. তাজুল ইসলাম শান্তিচুক্তির বৈধতা নিয়ে আরেকটি রিট আবেদন করেন।

বদিউজ্জামানের রিট আবেদনের পর হাইকোর্ট পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ আইনকে কেন অসাংবিধানিক ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেন।

অন্যদিকে, তাজুল ইসলামের রিট আবেদনে পার্বত্য শান্তিচুক্তি কেন বাতিল করা হবে না, তা সরকারের কাছে  জানতে চান হাইকোর্ট। এই রিটের শুনানিতে অ্যামিকাস কিউরি (আদালতের বন্ধু) হিসেবে আইনজীবী টি এইচ খান ও ব্যারিস্টার রোকন উদ্দিন মাহমুদের বক্তব্য গ্রহণ করেন আদালত। রিট আবেদনকারীদের পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক ও তাজুল ইসলাম।

এরপর ২০১১ সালের ৩ মার্চ হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে লিভ টু আপিল (আপিলের অনুমতি) গ্রহণ করেন আপিল বিভাগ।




মিঠুন চাকমার মৃত্যু এবং পার্বত্য চট্টগ্রামে অপরাজনীতির স্বরূপ

ইউসুফ হায়দার:

গত ৩ জানুয়ারি খাগড়াছড়িতে প্রসীত বিকাশ চাকমার নেতৃত্বাধীন ইউপিডিএফের সংগঠক মিঠুন চাকমাকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। ঘটনার বিবরণ থেকে জানা যায়, ৩ জানুয়ারি কোর্টে হাজিরা শেষে বেলা সাড়ে ১২টার দিকে নিজ বাড়িতে গেলে একদল সশস্ত্রসন্ত্রাসীরা তাকে অপহরণ করে নিয়ে যায়।পথিমধ্যে স্লুইচগেইট এলাকায় নিয়ে সন্ত্রাসীরা তার পেটে ও মাথায় গুলি করে ফেলে রেখে যায়।সেখান থেকে উদ্ধার করে খাগড়াছড়ি সদর হাসপাতালে নিলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ২০০১ সালে ইউনাইটেড পিপলসডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট এর ছাত্র সংগঠন পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের কেন্দ্রীয় সভাপতি ও পরবর্তীতে গণতান্ত্রিক যুবফোরাম খাগড়াছড়ি জেলা শাখার আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন মিঠুন চাকমা। সর্বশেষ ইউপিডিএফের মূল সংগঠনের সংগঠক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন তিনি।

ইউপিডিএফ এবং বামপন্থীদের অভিযোগ:
মিঠুন চাকমা নিহত হওয়ার পর থেকেই তার সংগঠন ইউপিডিএফের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, ইউপিডিএফ থেকে বেরিয়ে আসা কিছু নেতাকর্মী মিলে সদ্য গঠিত ইউপিডিএফ (গণতান্ত্রিক) দলের কর্মীরাই এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। আর এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত করতে তাদের মদদ যুগিয়েছে সেনাবাহিনী। অপরদিকে, ইউপিডিএফের পৃষ্ঠপোষক হিসেবে পরিচিত কিছু বামপন্থী সংগঠনের পক্ষ থেকে ঢাকা জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে কর্মসূচি দিয়ে মিঠুন চাকমার হত্যার পেছনে কলকাঠি নাড়ার জন্য সরাসরি আঙ্গুল তোলা হয়েছে বাংলাদেশের সেনাবাহিনীর দিকে। এই নিয়ে বিডিনিউজ২৪.কমের করা একটি সংবাদের শিরোনাম ছিল, ‘মিঠুন চাকমা হত্যাকাণ্ড সেনা মদদে, অভিযোগ বামপন্থিদের’। ৫ জানুয়ারি শুক্রবার বিকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে জাতীয় মুক্তি কাউন্সিল আয়োজিত এক বিক্ষোভ কর্মসূচিতে গণতান্ত্রিক বিপ্লবী জোটের সংগঠক মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘দুর্বৃত্ত দিয়ে মিঠুন চাকমাকে হত্যা করা হয়েছে।পার্বত্য চট্টগ্রামে নিয়োজিত সেনাবাহিনী তাকে হত্যা করেছে।প্রতিবাদী কথা বললেই আপনিও আক্রান্ত হবেন।’

সেখানে উপস্থিত বাম নেতারা যে যার মতো করে প্রায় একই ধরনের বক্তব্য দিয়েছেন। শুধু তাই নয়, খাগড়াছড়িতে এই হত্যাকান্ডের প্রতিবাদে ইউপিডিএফ বিক্ষোভ মিছিল, সমাবেশ, অবরোধের মতো নানা কর্মসূচি পালন করছে। এই নিয়ে সামাজিক গণমাধ্যগুলোতেও চলছে তুমুল আলোচনা। এমনকি এ ব্যাপারে সরব হয়ে উঠেছে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের মতো আন্তর্জাতিক সংগঠনও।

ঘটনা যাইহোক, যাদের বিরুদ্ধে মূল অভিযোগ সেই ইউপিডিএফ গণতান্ত্রিকের পক্ষ থেকে এ ব্যাপারে একটি বিবৃতি দিয়ে বলা হয়েছে, মিঠুন চাকমার মৃত্যুর জন্য অন্য কেউ দায়ী নয়, বরং ইউপিডিএফের অভ্যন্তরীণ কলহের জেরেই তাকে হত্যা করেছে তারই দলের কর্মীরা।

ইউপিডিএফ গণতান্ত্রিকের বক্তব্য:
ইউপিডিএফ (প্রসীত) দলের নেতা মিঠুন চাকমা নিহত হওয়ার ব্যাপারে ইউপিডিএফ (প্রসীতপন্থীর) নেতা/কর্মী এবং সমর্থকরা সম্পূর্ন আবেগী ভাষায় বস্তুনিষ্ঠ, তথ্য-উপাত্ত ছাড়াই তাদের মনগড়া মন্তব্য, বক্তব্য, ফেইসবুকসহবিভিন্ন মিডিয়ায় প্রচার করে নতুন ইউপিডিএফ (গণতান্ত্রিক) পার্টির উপর দায় চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে।

তাদের এই দায় চাপিয়ে দেওয়ার বিরুদ্ধে আমাদের জরুরী বক্তব্য এই, আপনারা জানেন গত ১৫ নভেম্বর-২০১৭ তারিখে ইউপিডিএফ (গণতান্ত্রিক) পার্টি সাংবাদিক সম্মেলনের মাধ্যমে যারা আত্মপ্রকাশ করে ছিলাম, আমরা সবাই ইউপিডিএফ প্রসীত দলে সম্পৃক্ত ছিলাম। মতাদর্শ মিল না হওয়ার কারণে জুম্ম জাতীয় স্বার্থে এবং সচেতন জুম্ম জনগনের পরামর্শে ও অনুপ্রেরণায় নতুন ইউপিডিএফ (গণতান্ত্রিক) পার্টি আত্মপ্রকাশ করা হয়েছে।

কাজেই এই মহান পার্টি হানাহানি, মারামারি, প্রতিহিংসার রাজনীতি বিশ্বাস করে না বিধায় ইউপিডিএফ (প্রসীত) দলের নেতা মিঠুন চাকমা নিহত হওয়ার ব্যাপারে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া বা মন্তব্য না করে আমাদের পার্টি ৭২ ঘন্টা পর্যন্ত নিবিড় পর্যবেক্ষণে ছিলাম। পর্যবেক্ষণে থেকে যেটা পাওয়া গেল মিঠুন চাকমা ইউপিডিএফ প্রসীত দলের অন্তঃকলহে নিহত হয়েছেন। এতে নতুন ইউপিডিএফ (গণতান্ত্রিক) পার্টি কোন মতে জড়িত নয়। কারণ, আমরা যতটুকু জানি মিঠুন চাকমা একজন কট্টরবাদী, উদীয়মান নেতা ছিলেন।

ইউপিডিএফ প্রসীত দলের কোন নেতাকে সমালোচনা থেকে বাদ দেন না এবং কি দলের সভাপতি প্রসীত বিকাশ খীসাকেও না। তিনি খুবই স্পষ্টবাদী এবং বাস্তববাদী নেতা হিসেবে কর্মীদের কাছে পরিচিত ছিলেন। আমাদের পার্টি ৩ নভেম্বর-২০১৭ তারিখে পার্বত্যবাসীর উদ্দেশে প্রসীত পন্থীর ইউপিডিএফ এর ব্যাপক দুর্নীতি অনিয়ম বিষয়ে যে খোলা চিঠি লিখেছিলাম, সেই খোলা চিঠির ৯ পৃষ্ঠায় ২নং লাইনে মিঠুন চাকমার যোগ্যতার কথা কিঞ্চিত উল্লেখ করেছিলাম।

নিহত মিঠুন চাকমাসহ প্রসীত পন্থীর অনেক নেতা কর্মীর মামলা রয়েছে। তন্মধ্যে উল্লেখ যোগ্য মামলা রয়েছে মিঠুন চাকমা, প্রদীপন খীসা ও সচিব চাকমাদের এবং সচিব চাকমারা কয়েকবার পুলিশ ও সেনাবাহিনীর হাতে ধরাও পড়েন। দীর্ঘ কয়েক বছর জেল খাটার পর সচিব চাকমারা জামিনে বেরিয়ে আসলেও মামলায় নিয়মিত হাজিরা না দেওয়ার কারণে সচিব চাকমারা আবার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামী হয়ে যান। তারা কোন মামলায় হাজিরা দেন না।

কিন্তু ২০১৩ সালে মিঠুন চাকমাকে পাহাড়ী ছাত্র পরিষদ থেকে ইউপিডিএফ এর উন্নীত করে, ডাইরেক্ট বাঘাইছড়ি সাজাই এলাকায় পোষ্ট পরিচালকের দায়িত্ব দিয়ে পাঠানো হয়। এতে পঞ্চম শ্রেণীর পাশ কাঞ্চন চাকমা (জুয়েল) মানতে না পেরে পরিচালক মিঠুন চাকমার উপর নানা ষড়যন্ত্র শুরু করেন। যার কারণে মিঠুন চাকমা ইউপিডিএফ -র কাজ করবেন না ঘোষণা দিয়ে তার নিজ বাড়িতে চলে আসেন। তাকে আবার ছলে-বলে, কৌশলে ইউপিডিএফ -এ ফিরিয়ে নেওয়ার জন্য সচিব চাকমারা আপ্রাণ চেষ্টা করেন।

তাতে ব্যর্থ হয়ে খুবই সুকৌশলে মিঠুন চাকমাকে সচিব চাকমারা সেনাবাহিনীর হাতে ধরিয়ে দেন। সেনা বাহিনী মিঠুন চাকমাকে ধরে জেল হাজতে দিলেও তিনি খুবই অল্প সময়ের মধ্যে জেল থেকে সাড়া পেয়ে থাকেন। এতে আবার সচিব চাকমাদের সন্দেহ হয়, মিঠুন চাকমা নিশ্চয় অতি গোপনে সরকারের কাছে চুক্তি করে জেল থেকে বেরিয়ে আসলেন কিনা?

আমরা যখন ২০১৭ সালে ১৫ নভেম্বর তারিখে সাংবাদিক সম্মেলনের মাধ্যমে নতুন ইউপিডিএফ (গণতান্ত্রিক) পার্টির ঘোষণা করলাম প্রসীত পন্থী ইউপিডিএফ তাৎক্ষণিক ভাবে খাগড়াছড়ির স্বর্নিভর এলাকায় এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ মিছিল করেছিলেন এবং ১৬ নভেম্বর ২০১৭ তারিখে সড়ক অবরোধ করলেন। এরপর ইউপিডিএফ (গণতান্ত্রিক) পার্টির বিরুদ্ধে পাহাড়ী ছাত্র পরিষদ, যুব ফোরামকে ক্ষেপিয়ে তোলার জন্য সচিব চাকমা, মিঠুন চাকমাকে ফোন করে বলেছিলেন ইউপিডিএফ (গণতান্ত্রিক) পার্টির বিরুদ্ধে পাহাড়ী ছাত্র পরিষদ, যুব ফোরামকে সংগঠিত করে খাগড়াছড়ি ধর্মপুর এলাকায় এসে বক্তব্য দিয়ে যাওয়ার জন্য।

কিন্তু সে দিন সচিব চাকমার কথায় মিঠনু চাকমা অপরাগতা প্রকাশ করেছিলেন এবং নতুন ইউপিডিএফ (গণতান্ত্রিক) পার্টির পক্ষে যায় এমন দু-একটি কথাও সচিব চাকমাকে মিঠুন চাকমা বলেছিলেন। এতে সচিব চাকমা মিঠুন চাকমার উপর ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। এরপর থেকে মিঠুন চাকমাকে ইউপিডিএফ (গণতান্ত্রিক) এর পক্ষে মনে করেই মিঠুন চাকমাকে হত্যার সুযোগ খোঁজেন সচিব চাকমা।

কারণ, সচিব চাকমা একজন ক্ষমাহীন, আদর্শহীন ও প্রতিশোধপরায়ণ নেতা হিসেবে সকল কর্মীদের কাছে পরিচিত। আমাদের ইউপিডিএফ (গণতান্ত্রিক) পার্টির কার্যক্রমের মেয়াদ এখনো দুই মাসের অধিক হতে চলেছে। এই স্বল্প সময়ের মধ্যে এমন শক্তি অর্জন হয়নি যে, দিন-দুপুরে এভাবে মিঠুন চাকমাকে হত্যা করা যাবে। ইউপিডিএফ (গণতান্ত্রিক) পার্টিকে অংকুরে বিনষ্ট করার জন্য ইউপিডিএফ প্রসীত পন্থীর নেতারা এমন ন্যাক্কারজনক ঘটনা ঘটাচ্ছে। এমন কি, নিজের দলের নেতা কর্মীদের হত্যা করতেও দ্বিধাবোধ করছেন না।

ইউপিডিএফ (গণতান্ত্রিক) পার্টি মিঠুন চাকমার নিহত হওয়ার ঘটনায় কোনোমতে জড়িত নয় এবং মিঠুন চাকমার হত্যাকারী যেই হোক না কেন, তাকে চিহ্নিত ও গ্রেপ্তার করে শাস্তি প্রদান করা হোক ইউপিডিএফ (গণতান্ত্রিক) পার্টি দাবি জানাচ্ছে।

পার্বত্য চট্টগ্রামে অপরাজনীতির শিকার হয়েছে অনেক নেতাকর্মী:
ইউপিডিএফ গণতান্ত্রিক দলের পক্ষ থেকে দেয়া বিবৃতির সত্য-মিথ্যা আমাদের জানা নেই। তাই সে বিষয়ে কোন মন্তব্য করছি না। তবে এটা সত্য যে, দলের প্রয়োজনে ইউপিডিএফ ইতিপূর্বে তাদেরই অনেক নেতাকর্মীকে হত্যা করেছে। তারপর সেই দায় কোনো কোনোভাবে সেনাবাহিনীর ওপর চাপিয়ে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তাদের পৃষ্ঠপোষকদের সহানুভূতি পাবার চেষ্টা করেছে। তাদের সেই অপকৌশলের শিকার হয়ে প্রাণ দিতে হয়েছে সুমনচাকমা, স্টালিনচাকমা, পরাক্রম চাকমা, দম্বা চাকমা, দিবাকর চাকমা, সংগ্রাম চাকমা, কিশোর মোহন চাকমা, দুর্জয় চাকমা, বরুণ চাকমা, জ্যোতি বিকাশ চাকমা, দেব বিকাশ চাকমা, স্টেন চাকমা, জেনেল চাকমা, সাজেকে বীর চাকমা, তুহিন চাকমা, তনদ্রুং চাকমা ও রাহুল চাকমাসহ আরও অনেককেই। যারা কিনা এক সময় ইউপিডিএফেরই একনিষ্ঠ কর্মী বা নেতা ছিলেন। তখন ইউপিডিএফ (গণতান্ত্রিক) ছিল না বলে এসব নেতাকর্মীদের হত্যার পর কোনটা হয়তো একেবারেই চেপে যাওয়া হতো আবার কোনটার দায় চাপানো হতো জেএসএস (সন্তু) গ্রুপের বিরুদ্ধে কিংবা বাংলাদেশে সেনাবাহিনীর দিকে আঙ্গুল তোলা হতো।

একইভাবে খাগড়াছড়িতে প্রেম প্রত্যাখ্যান করায় নিরীহ ছাত্রী ইতি চাকমাকে হত্যা করে ইউপিডিএফ সমর্থিত পিসিপির নেতারা মিলে। পরে এই হত্যার দায় বাঙালীদের উপর চাপিয়ে হত্যাকারীরাই খাগড়াছড়ি শহরে মিছিল, মিটিং, সমাবেশ করে। কিন্তু পুলিশী তদন্তে দেখা যায় এই হত্যার সাথে জড়িত ইউপিডিএফ সমর্থিত পিসিপির নেতারা। এমনকি তাদের কয়েকজনকে গ্রেফতার করলে সকলে পুলিশের কাছে হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে। কাজেই নিজেরা হত্যা করে অন্যের উপর দোষ চাপানো ইউপিডিএফের বহুল আচরিত স্টাইল। সে জন্যই কিনা জানিনা সামাজিক গণমাধ্যমের দেয়া পাহাড়ীদের পোস্ট থেকে জানা গেছে, মিঠুন চাকমার লাশ তার জন্য তৈরি দলীয় মঞ্চে পাঠাতে তার স্ত্রী ও পরিবার অস্বীকার করেছে। বরং তারা পারিবারিকভাবে দাফনকে শ্রেয়তর মনে করেছে।

মিঠুন চাকমার হত্যার বিষয়ে সেনাবাহিনীর কোনো অনুসন্ধান বা বক্তব্য আছে কিনা জানি না। তবে দৈনিক নয়াদিগন্তের অনলাইন ভার্সনে ৬ জানুয়ারি প্রকাশিত এক প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, “ইউপিডিএফের অন্তর্কোন্দলে খুন হয়েছেন মিঠুন চাকমা। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে যে তথ্য-উপাত্ত পৌঁছেছে তাতে এই বিষয়টিই স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। তবে এখনো কাউকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি।সরাসরি কারা খুনের সঙ্গে সম্পৃক্ত সেব্যাপারেও এখনো কোনো তথ্য নেই ঘটনার তদন্ত কারীদের হাতে।এদিকে মিঠুন হত্যায় ইউপিডিএফের এক গ্রুপ আরেক গ্রুপকে দুষে আসছে।এদিকে ঘটনার তিন দিন পরেও থানায় কোনো মামলা হয়নি।খাগড়াছড়ির এসপি আলী আহম্মদ খান বলেছেন, বারবার অনুরোধ সত্ত্বেও মিঠুনের স্বজনেরা মামলা করছেন না।”

পার্বত্য চট্টগ্রামের বাস্তবতায় অপরাজনীতির স্বরূপ:
ঘটনার সত্য-মিথ্যা নির্ণয় করা আমাদের পক্ষে সম্ভব নয়। তবে পারিপার্শ্বিক পরিবেশ ও ঘটনার ধারাবাহিকতা বিশ্লেষণ করে বলা যায়; পার্বত্য চট্টগ্রামের বাস্তবতা হলো ১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর চুক্তি স্বাক্ষরের পূর্ব পর্যন্ত একটি মাত্র সন্ত্রাসী গ্রুপের উপস্থিতিই ছিল, মূল সংগঠন ছিল জেএসএস, আর সশস্ত্র সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর নাম ছিল শান্তিবাহিনী। তবে জেএসএসের সকল সদস্যই শান্তিবাহিনীর কর্মাকাণ্ডের সাথে যুক্তছিলেন, এতে কোনো সন্দেহ নেই। যাহোক, সেই একটি মাত্র সংগঠন থাকার সময় তারা যে শুধু বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, পুলিশ কিংবা বাঙালিদের হত্যা করেছে তা কিন্তু নয়। অনেক পাহাড়িকেও তারা নির্মমভাবে হত্যা করেছে। বিশেষ করে গত শতকের আশির দশকে অনেক হেডম্যান-কার্বারিকে শান্তিবাহিনীর সদস্যরা হত্যা করেছে। শুধু তাই নয়, সামান্য ভুল বুঝাবুঝির কারণে নিজ দলের অনেক নেতাকর্মীকেও হত্যা করা হয়েছে।

চুক্তির পর জেএসএস-কে সরকার এবং সেনাবাহিনীর এজেন্ট আখ্যা দিয়ে একটি গ্রুপ আলাদা হয়ে গঠন করে ইউপিডিএফ। ১৯৯৮ সালে নব্য গঠিত ইউপিডিএফ বিভিন্ন সময় বিবৃতি এবং লিফলেট ছাপিয়ে জেএসএসের নানা অপকর্ম ফাঁস করেছিলো। যা তারা এখনো করে। জেএসএসের পক্ষ থেকে তখন অবশ্য এই ইউপিডিএফকে সেনাবাহিনীর গড়া নব্য সন্ত্রাসবাহিনী আখ্যা দিয়ে তাদের নিঃশেষ করার মিশন শুরু করা হয়। ফলে শুরু হয়ে যায় উভয় গ্রুপের মধ্যে সাপে-নেউলে সম্পর্ক।পাহাড়ের সকল মানুষই জানে সন্তুষ-গন্ডুষ বাহিনীর মধ্যকার সেই ভয়াবহ দ্বন্দ্ব-সংঘাতের কথা। তাদের মধ্যকার সংঘাত-সংঘর্ষের ফলে উভয় পক্ষের কয়েক শত নেতাকর্মী (সন্ত্রাসী) নিহত হয়েছে। জেএসএস ভেঙ্গে জেএসএস (এম এন লারমা) নামে নতুন একটি গ্রুপ তৈরি হওয়ার পর সেই দ্বন্দ্ব-সংঘাতের তীব্রতা আরও বেড়ে যায়। সম্প্রতি ইউপিডিএফ থেকে বেরিয়ে এসে আরেকটি নতুন দল তৈরি হয়েছে, ইউপিডিএফ (গণতান্ত্রিক)। আর এর পর থেকেই পাহাড়ে নতুন করে গুম-খুনের মাত্রা বেড়ে গেছে। মিঠুন চাকমার মৃত্যুওটা হলো ঠিক সেই অস্থির সময়টাতেই।

যত দোষ সেনাবাহিনীর:
আশ্চর্যের বিষয় হচ্ছে, প্রত্যেকটি গ্রুপই অন্যদেরকে সেনাবাহিনীর দোসর, এজেন্ট বা এই জাতীয় অন্যান্য বিশেষণ দিয়ে দোষারোপ করে থাকে। এটা যদি সত্যই হয়, তাহলে তো এদের সবাই সেনাবাহিনীর এজেন্ডা বাস্তবায়ন করতেই ব্যস্ত থাকার কথা ছিল। কিন্তু তারা সেটা না করে, বরং বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে কেউ সরাসরি আবার কেউ আড়ালে ‘স্বাধীন জুম্ম ল্যান্ড’ প্রতিষ্ঠার নীল নকশা নিয়েই আন্দোলন করছে কেন? তাছাড়া সম্প্রতি পাক্ষিক পার্বত্যনিউজে প্রকাশিত এক প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, “নবগঠিত ইউপিডিএফ (গণতান্ত্রিক)-এর আহ্বায়ক তপন কান্তি চাকমা বর্মা এবং সদস্য সচিব জলেয়া চাকমা তরুর করা বিভিন্ন অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে প্রসীত-রবির নেতৃত্বাধীন ইউপিডিএফের কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক নিরন চাকমা পার্বত্যনিউজকে মোবাইল ফোনে জানান, এসব আসলে সবই মিথ্যা এবং ভিত্তিহীন অভিযোগ।ইউপিডিএফ শুরু থেকেই গণতান্ত্রিক একটি দল ছিল, এখনও তাই আছে।……..নিজেদের কর্মী হত্যার অভিযোগ সম্পর্কে তিনি বলেন, ইউপিডিএফ কখনো হত্যার রাজনীতিতে বিশ্বাস করে না। তিনি উল্টো অভিযোগ করে বলেন, হত্যাকারী তো তারাই, নব্য মুখোশ বাহিনীর প্রধান তপন কান্তি চাকমা বর্মার বিরুদ্ধেই তো হত্যার অভিযোগ আছে। সে নিজেই তো ক্যাপ্টেন গাজী হত্যা মামলার আসামি। সে কীভাবে অন্যদের হত্যাকারী দাবি করতে পারে?”

এখন প্রশ্ন হচ্ছে, ক্যাপ্টেন গাজী হত্যার মামলার আসামিকে সেনাবাহিনী প্রশ্রয় দেবে কোন যুক্তিতে?

সকলের গুরু এবং পৃষ্ঠপোষক তথাকথিত বামপন্থীরা:
তথাকথিত বামপন্থীদের একটা আঙ্গুল সবসময়ই সেনাবাহিনীর দিকে তোলা থাকে। এটা শুধু পার্বত্য এলাকার ঘটনাগুলোতেই সীমাবদ্ধ নয় বরং, দেশের যে কোনো স্থানের কোন নেতিবাচক ঘটনার সাথে সেনাবাহিনীর নাম জড়িয়ে দিতে পারলেই তারা যেন তৃপ্তি পান। এটা পার্বত্য চট্টগ্রামের ক্ষেত্রে যেমন সত্যি, তেমনি ঢাকা, চট্টগ্রাম কিংবা কুমিল্লার ক্ষেত্রেও। এর পেছনে অবশ্য কারণও আছে, সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশে সেনাবাহিনীতে রাজনীতি প্রবেশ করিয়ে দেশের দখল নিতে চেয়েছিলেন এই বামপন্থীরা। কিন্তু তাদের সেই নীল নকশা রুখে দিয়েছিল দেশপ্রেমি সেনাবাহিনী। সেই ব্যর্থতার সাথে সাথেই ধ্বংস হয়ে গেছে বামপন্থীদের মূল শক্তিটা। বিশ্বাস হারিয়ে ফেলেছে জনগণেরও। তাই সে প্রতিশোধ নিতেই তারা অব্যাহতভাবেই সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে যাচ্ছে।

এরা পার্বত্য চট্টগ্রামের সন্ত্রাসী গ্রুপগুলো সৃষ্টির পেছনে একদিকে সেনাবাহিনীকে দায়ী করে, অন্যদিকে তারাই আবার এসব সন্ত্রাসীগ্রুপের বিভিন্ন সভা-সমিতিতে অতিথি হয়ে বক্তব্য দিয়ে যাচ্ছে, পৃষ্ঠপোষকতা দিয়ে যাচ্ছে। দ্বিচারী বামপন্থীদের আসলে বিশ্বাস করার কিছু নেই। বরং বলা যায়, পাহাড়ে ভ্রাতৃঘাতি সংঘাতের জন্য এদের অপরাজনীতিই অনেকাংশে দায়ী। নিজেরা মোড়ল হওয়ার লোভে এক একটি বাম দলের নেতারা পাহাড়ের এক একটি সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর পৃষ্ঠপোষকতা দিয়ে পরস্পরের বিরুদ্ধে চাঙ্গা রাখে। আর এর শিকার হচ্ছে মিঠুন চাকমাদের মতো মেধাবী তরুণরা।

কিন্তু সেটা কীভাবে? একসময় পাহাড়ে জেএসএস বা শান্তিবাহিনী ছিল না। তবে বাম দল ছিল। রাঙ্গামাটিতে জেএসএস গঠিত হওয়ার আগেই গঠিত হয়েছিল রাঙ্গামাটি কমিউনিস্ট পার্টি। সেই কমিউনিস্ট পার্টির হাত ধরেই শুরু হয়েছিল সশস্ত্র তৎপরতা। গঠিত হয়েছিল জেএসএস এবং শান্তিবাহিনী। শান্তিবাহিনীর উচ্চপদস্থরাই কেবল কমিউনিস্ট পার্টির সদস্যপদ পেত। সেই কমিউনিস্ট পার্টির মূল শ্লোগানই ছিল মাও সেতুং-এর একটি বাক্য, ‘ক্ষমতা আসে বন্দুকের নল থেকেই’। সেই যে তাদের বন্দুকপ্রীতি শুরু হলো, তা আর শেষ হলো না। জাতীয় পর্যায়ের কিছু ভ্রষ্ট বামের উসকানিতে সেই বন্দুকপ্রীতি কেবল দিনে দিনে বেড়েছেই। কিন্তু বন্দুক যে শত্রু-মিত্র চিনে না, এটা আর তারা কোনদিন বুঝতে পারল না। যার ফল হিসেবে পাহাড়ে, হাজার হাজার বাঙালির পাশাপাশি মরতে হলো শত শত পাহাড়ি সহজ সরল তরুণ-তরুণীকেও, এখনো মরতে হচ্ছে। আজকের মিঠুন চাকমাও সেই ধারাবাহিকতারই শিকার।

সন্ত্রাস ও অপরাজনীতির শিকার মিঠুন চাকমারা:
মিঠুন চাকমা একজন মেধাবী ছিলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর করেছেন। এমনকি সেখানে শিক্ষকতারও সুযোগ পেয়েছিলেন বলে অনেকেই আজ হাহাকার করছেন তার অকাল মৃত্যুতে। অতি আবেগে কেউ কেউ হবিগঞ্জে ক্রসফায়ারে নিহত বিএনপি নেতার সন্তানদের আহাজারিকে মিঠুন চাকমার সন্তাদের আহাজারি বলে বুক চাপড়াচ্ছেন। দোষারোপ করছেন সেনাবাহিনীকে, কিন্তু নিজেদের দায়টা এরা কোন দিনই উপলব্ধি করতে পারেন না, এক্ষেত্রেও পারছেন না। মিঠুন চাকমার বিভিন্ন সময়ে লেখাগুলো পড়ে দেখুন, তাতে মনে হবে তিনি যতটা না ইউপিডিএফ কর্মী ছিলেন তার চেয়ে বেশি ছিলেন কমিউনিস্ট। ধারণা করি, কমিউনিস্ট গুরুরাই তাকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হওয়ার চেয়ে ইউপিডিএফ নেতা হতে প্ররোচিত করেছিলেন। আর সে প্ররোচণাতেই তিনি পাহাড়ে এসে সংগঠনের হয়ে বিভিন্ন সশস্ত্র তৎপরতায় যেমন নেতৃত্ব দিয়েছেন, তেমনি বিভিন্ন পোস্টের চাঁদাবাজির দায়িত্বও পালন করেছেন। ফলে ক্রমান্বয়ে উঠে এসেছেন সংগঠনের শীর্ষ পর্যায়ে। তারপর যে কারণেই হোক, তাকে জীবন দিতে হয়েছে সন্ত্রাসীদের হাতেই।

সশস্ত্র সন্ত্রাসী সংগঠন সে যেখানেই হোকনা কেন, এসব সংগঠনের নেতাকর্মীদের পরিণতি আসলে এমনই হয়, স্বাভাবিক মৃত‌্যুর সুযোগ এদের অল্প সংখ্যকের ভাগ্যেই জোটে। বেশির ভাগেরই জীবন যায় অপঘাতে। হয় নিজ দলের হাতে, না হয় প্রতিপক্ষের হাতে। যেমন রক্ষা পাননি শান্তিবাহিনীর প্রতিষ্ঠাতা এম এন লারমা নিজেও। তাকেও জীবন দিতে হয়েছিল নিজ দলের নেতাকর্মীদের হাতেই। ধারণা করি, সন্তু লারমা চুক্তি করে জঙ্গল থেকে বেরিয়ে না এলে এতদিন তিনিও বেঁচে থাকতে পারতেন না। সরকারি নিরাপত্ত্বার মধ্যে না থাকলে জেএসএস (এম এন লারমা) গ্রুপটি প্রতিষ্ঠার মতো কোন এক ঘটনায় হয়তো হারিয়ে যেতে পারতেন এতদিনে। অপরদিকে ইউপিডিএফের প্রতিষ্ঠাতা প্রসীত বিকাশ খীসা সবসময়ই পালিয়ে না থাকলে হয়তো তার পরিণতিও একই হতে পারত এতদিনে।

আসলে এসব সন্ত্রাসবাদী গোষ্ঠির নেতাকর্মীদের পরণতি সব দেশে, সব কালে এমনই হয়। এটাই বুঝতে হবে পার্বত্য চট্টগ্রামের বিপদগামী সকল সশস্ত্র সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর সদস্যদের। তারা যত দ্রুত এটা বুঝতে পারবে ততই কল্যাণ। আশা করি, তারা সেটা বুঝতে চেষ্টা করবে এবং সন্ত্রাসের পথ ছেড়ে দ্রুতই স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসবে। মিঠুন চাকমার মতো মেধাবী তরুণরা ভুল রাজনীতির শিকার না হয়ে উন্নত জীবনের পথ বেছে নেবে। জাতীয় রাজনীতির হাত ধরে মন্ত্রী, এমপি হবে। কিম্বা নব বিক্রম কিশোর ত্রিপুরার মতো নাম করা ব্যুরোক্রাট হবে, প্রশান্ত ত্রিপুরার মতো বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হবে এটাই সকলের প্রত্যাশা।

যাইহোক, তারপরও আশা করি, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মিঠুন চাকমার হত্যাকারীদের খুঁজে বের করতে সক্ষম হবে এবং আমরা সঠিক কারণটা একদিন জানতে পারব। অন্যদিকে নিরাপত্তাবাহিনীর প্রতি আমাদের অনুরোধ থাকবে, ভ্রষ্ট বামদের মিথ্যা প্রচারণায় বিভ্রান্ত না হয়ে পার্বত্য চট্টগ্রাম থেকে সকল সন্ত্রাসী আর চাঁদাজদের সমূলে উৎপাটন করতে যা যা করা দরকার তার সবটুকুই করুন। যদিও এসব সন্ত্রাসী এবং চাঁদাবাজরা আমাদের বামপন্থীদের কাছে আদরনীয়, কিন্তু এটাই সত্য যে পাহাড়ে সকল অশান্তির মূল এরাই। তাই এদের নির্মূল করতে পারলেই কেবল পার্বত্যবাসী শান্তির দেখা পাবে। পাহাড়ি-বাঙালি সকলে মিলে-মিশে গড়ে তুলতে পারবে শান্তির স্বর্গ।

লেখক: পার্বত্য বিষয়ক গবেষক




পদ্মা সেতু দৃশ্যমান হওয়ার সাথে সাথে বিএনপি নেত্রীর গাত্রদাহ শুরু হয়েছে: ওবায়দুল কাদের

রামগড় প্রতিনিধি:

সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, পদ্মা সেতু দৃশ্যমান হওয়ার সাথে সাথে বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়ার গাত্রদাহ শুরু হয়ে গেছে। পাঁয়রাবন্দর সমুদ্র বন্দরসহ বর্তমান সরকারের বিভিন্ন মেগা প্রকল্পের বাস্তবায়ন দেখে তার মাথা খারাপ হয়ে গেছে। কোন মেগা প্রকল্প বাস্তবায়ন তো দূরে কথা, পরিকল্পনা নেয়ার  সক্ষমতা, সাহস, আন্তরিকতা, সদিচ্ছা  কোনটাই বিএনপির নেই। বিএনপি নেত্রী  পারেননি, শেখ হাসিনা এসব প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে পেরেছেন। এটা বেগম জিয়ার গাত্র দাহের কারণ। উন্নয়নের জোয়ারে আওয়ামী লীগ সরকারের প্রতি মানুষের অভাবনীয় সমর্থন দেখে নির্বাচনে হেরে যাওয়ার ভয়ে তারা বিভ্রান্তিকর কথাবার্তা বলছেন।

তিনি আরও বলেন, নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে নির্বাচন কমিশনের অধীনে, শেখ হাসিনার অধীনে নয়। অথচ বিএনপি শেখ হাসিনার অধীনে নির্বাচন হওয়ার কথা বলে মানুষকে ব্লাক মেইলিং করার চেষ্টা করছে। অন্যান্য গণতান্ত্রিক দেশের মত নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশনের মাধ্যমেই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

বর্তমান নির্বাচন কমিশন সম্পূর্ন নিরপেক্ষ উল্লেখ করে তিনি বলেন,  এ নির্বাচন কমিশনের অধীনে অনুষ্ঠিত কুমিল্লা, রংপুর সিটি কর্পোরেশনসহ স্থানীয় নির্বাচনগুলো শতভাগ সুষ্ঠ ও নিরপেক্ষভাবে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা দেশি বিদেশি সব পর্যবেক্ষকরাই বলেছেন।

বুধবার(৩ জানুয়ারি) খাগড়াছড়ির রামগড়ে রামগড় সাব্রুম স্থল বন্দর ও ফেনীনদীর ওপর বাংলাদেশ ভারত মৈত্রী সেতু-১ এর নির্মাণ সংক্রান্ত এক বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী আরও বলেন, পদ্মা সেতুর নির্মাণে সর্বোচ্চ মান নিশ্চিত করা হচ্ছে। তা না হলে আগামী অক্টোবর মাসের আগেই এর নির্মাণ কাজ করা যেতো।

রামগড় পৌরসভার সন্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত বৈঠকে মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের ছাড়াও বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাই কমিশনার হর্ষ বর্ধন শ্রিংলা, খাগড়াছড়ির এমপি কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা, সাবেক সাংসদ যতীন্দ্র লাল ত্রিপুরা, খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কংজরী চৌধুরি, খাগড়াছড়ির জেলা প্রশাসক মো. রাশেদুল ইসলাম, জেলা পুলিশ সুপার আলী আহমদ খান, খাগড়াছড়ি ও রামগড় পৌরসভার মেয়র যথাক্রমে রফিকুল ইসলাম ও মোহাম্মদ শাহজাহান, ইউএনও আল মামুন মিয়াসহ সড়ক ও জনপথ বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং ভারতের দক্ষিণ ত্রিপুরা জেলার বিভিন্ন কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে ফেনী নদীর ওপর ভারত সরকারের অর্থায়নে নির্মিত মৈত্রী সেতু-১ এর নির্মাণ সংক্রান্ত বিভিন্ন আলোচনা হয়।

বৈঠক শেষে বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাই কমিশনার হর্ষ বর্ধন শ্রিংলা সাংবাদিকদের বলেন, মৈত্রী সেতু নির্মাণ কাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। এ সেতু দু’দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করবে। প্রসার ঘটবে ত্রিপুরার সাথে বাংলাদেশের ব্যবসা বাণিজ্য।

বৈঠক শেষে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের ও ভারতের হাই কমিশনারসহ দু’দেশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা রামগড় পৌর এলাকার মহামুনিতে স্থল বন্দর ও মৈত্রী সেতু নির্মাণের স্থান পরিদর্শন করেন।




প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সন্তু লারমার বৈঠক

নিজস্ব প্রতিনিধি:
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে বৈঠক করেছেন পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের চেয়ারম্যান ও জনসংহতি সমিতি (জেএসএস) সভাপতি জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় (সন্তু ) লারমা।
সোমবার(১জানুয়ারি) দুপুর ১২টা ৫০ মিনিট থেকে বিকাল ২টা ২৫ মিনিট পর্যন্ত গণভবনে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
 বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী ও সামরিক সচিব মেজর জেনারেল মিয়া জয়নুল আবেদীন, বিবি, পিএসসি উপস্থিত ছিলেন। অপরদিকে সন্তু লারমার সাথে সংসদ সদস্য উষাতন তালুকদার, জেএসএস নেতা ও আঞ্চলিক পরিষদ সদস্য গৌতম কুমার চাকমা উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠক সুত্রে জানা গেছে, শান্তি চুক্তির অবাস্তবায়িত বিষয়গুলো বাস্তবায়ন, ভুমি কমিশন দ্রুত কার্যকর, জেলা পরিষদ আইন ও আঞ্চলিক পরিষদের প্রবিধান কার্যকর, পাহাড়ের রাজনীতিসহ বিভিন্ন বিষয়ে নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সাথে সন্তু লারমার আলাপ হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর নানা বিষয়ে আশ^াসে সন্তু লারমা সন্তোষ প্রকাশ করেছেন বলে বৈঠক সুত্র নিশ্চিত করেছে।

একটি সূত্র জানিয়েছে, দীর্ঘ বৈঠকে পার্বত্য চুক্তি বাস্তবায়ন অগ্রগতি, অবাস্তবায়িত ধারাগুলো বাস্তবায়নে উভয় পক্ষের মধ্যে আলোচনা হয়। জেএসএস কেন্দ্রীয় এক নেতা জানান, প্রধানমন্ত্রীর সাথে সন্তু লারমার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে সত্য। তবে বৈঠকে কী কী বিষয়ে আলোচনা হয়েছে তা আমার জানা নেই।

প্রসঙ্গত, পার্বত্য চট্টগ্রামের সমস্যা সমাধানের জন্য ১৯৯৭ সালে ২ ডিসেম্বর সরকার ও জনসংহতি সমিতির মধ্যে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। চুক্তির আলোকে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়, তিন পার্বত্য জেলা পরিষদ আইন সংশোধন, পার্বত্য ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি আইন প্রণয়ন করা হয়। তবে চুক্তি ২০ বছর পরও চুক্তি পূর্ণ বাস্তবায়ন হয়নি। চুক্তি বাস্তবায়ন নিয়ে সরকার ও জনসংহতি সমিতির নেতারা পরস্পরবিরোধী বক্তব্য দেয়ায় উভয় দলের মাঝে সংকট তৈরি হয়।




সময় ও স্রোতের মতো নির্বাচন কারো জন্য অপেক্ষা করবে না: ওবায়দুল কাদের

ঘুমধুম প্রতিনিধি:

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, সময় ও স্রোতের মতো নির্বাচন কারো জন্য অপেক্ষা করবে না। বিএনপি না আসলেও যথাসময়ে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

কক্সবাজারের উখিয়ার কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে ত্রাণ বিতরণের সময় সাংবাদিকদের একথা বলেন মন্ত্রী।

ওবায়দুল কাদের বলেন, প্রথম ধাপে প্রত্যাবাসনের লক্ষ্যে আজই এক লাখ রোহিঙ্গার নামের তালিকা মিয়ানমারকে হস্তান্তর করবে বাংলাদেশ।

যত দ্রুত সম্ভব রোহিঙ্গাদের নিরাপদে এবং স্বসম্মানে নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হবে বলেও জানান তিনি। সে লক্ষ্যে জাতিসংঘসহ বিশ্ব সম্প্রদায়ের সহযোগিতায় কাজ করে যাচ্ছে জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপ।




আগামী জাতীয় নির্বাচন হবে সংবিধান মোতাবেক: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

কক্সবাজার প্রতিনিধি:

আগামী নির্বাচন সংবিধান অনুযায়ী হবে বলে জনিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও ১৪ দলের মুখপাত্র মোহাম্মদ নাসিম। তিনি বলেন, জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে আগামী বিজয়ের মাসে। এটি হবে বিশ্বের অন্যান্য দেশের মত সংবিধান মোতাবেক। তাতে বেগম জিয়া যতই যা কিছু বলুক না কেন। আর এই নির্বাচনে জনগণ যে রায় দেবে, সেটি হাসিমুখে মেনে নেবে আওয়ামী লীগ।

২৫ ডিসেম্বর সোমবার বেলা ১১টায় কক্সবাজার প্রেসক্লাবে আয়োজিত সাংবাদিকদের জন্য প্রধানমন্ত্রীর অনুদানের চেক হস্তান্তর অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে কক্সবাজার সাংবাদিক ইউনিয়ন।

মন্ত্রী আরও বলেন, রংপুরের নির্বাচনের মধ্যদিয়ে আওয়ামী লীগের সময়ে যে সুষ্ঠ নির্বাচন হয়, সেটি প্রমাণ হয়েছে। কিন্তু তাতেও বিএনপির অভিযোগের শেষ নেই। তাই তিনি বিএনপিকে মাঠ ছেড়ে না পালিয়ে নির্বাচনের মাঠে অংশ নেয়ার আহ্বান জানান।

মোহাম্মদ নাসিম বলেন, বর্তমান সরকার দুর্যোগ মোকাবেলায় শতভাগ সক্ষম। প্রকৃতি সৃষ্ট দুর্যোগের মত শক্তভাবে মানব সৃষ্ট রোহিঙ্গা সমস্যাও সামাল দিতে পেরেছে সরকার। দেশে অবস্থান করা অবস্থায় যদি কেউ রোগাক্রান্ত হয়, তাহলে তাকে সুস্থ করা সহজ। কিন্তু কেউ যদি বাইরের দেশ থেকে রোগ নিয়ে এদেশে প্রবেশ করে তখন সেই সমস্যা সমাধান করা অত্যন্ত কষ্টসাধ্য। কিন্তু এত বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গাদের মধ্যে একজনও বিনা চিকিৎসায় মারা যায়নি। বিভিন্ন ধরণের ভ্যাকসিন ও চিকিৎসার মাধ্যমে বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গাদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, রোহিঙ্গাদের স্বদেশে ফেরত পাঠাতে ইতোমধ্যে চুক্তি হয়ে গেছে। টাস্কফোর্সও দ্রুত তৈরি হয়ে যাচ্ছে। তিনি আশাবাদি, শীঘ্রই রোহিঙ্গারা নিরাপদে সেই দেশে ফেরত যেতে পারবেন।

রোহিঙ্গা ইস্যুতে কক্সবাজারবাসীর ত্যাগের প্রশংসা করে মন্ত্রী বলেন, আগামী নির্বাচনের আগে কক্সবাজার মেডিকেল কলেজের ৫০০ শয্যা হাসপাতাল দৃশ্যমান করা হবে। শীঘ্রই কক্সবাজার সদর হাসপাতালের জন্য আইসিইও সম্বলিত একটি অ্যাম্বুলেন্স ও কুতুবদিয়ার জন্য একটি অ্যাম্বুলেন্স দেওয়া হবে। আর দ্রুত চকরিয়ায় ১০০ শয্যা হাসপাতালের কাজ শুরু হবে।

চেক হস্তান্তর অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কক্সবাজার সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি আবু তাহের চৌধুরী। সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক জাহেদ সরওয়ার সোহেল।

এতে আরও বক্তব্য রাখেন কক্সবাজার সদর-রামু আসনের সাংসদ সাইমুম সরওয়ার কমল, মহেশখালী-কুতুবদিয়ার সাংসদ আশেক উল্লাহ রফিক, জেলা প্রশাসক মো. আলী হোসেন, কক্সবাজার পৌরসভার মেয়র (ভারপ্রাপ্ত) মাহবুবুর রহমান, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে) এর একাংশের সদস্য অ্যাড. আয়াছুর রহমান, কক্সবাজার সিভিল সার্জন ডা. আব্দুস সালাম, প্রবীণ সাংবাদিক প্রিয়তোষ পাল পিন্টু। পরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অনুদান পাওয়া সাংবাদিক সাঈদ জালালসহ সাত সাংবাদিকের হাতে ৫০ হাজার টাকা করে অনুদানের চেক তুলে দেন মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম।




যতদিন রোহিঙ্গা থাকবে ততদিন চিকিৎসা সেবা দেবে সরকার: স্বাস্থ্যমন্ত্রী নাসিম

ঘুমধুম প্রতিনিধি:

কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফে অবস্থানরত ৬৯ হাজার রোহিঙ্গাকে ডিপথেরিয়া টিকার আওতায় আনা হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম।

তিনি বলেন, ‘পরিস্থিতি এখন পুরো নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এতে ভয়ের কোনও কারণ নেই। প্রতিদিন এই ডিপথেরিয়া রোগ নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে সরকার। শুধু ডিপথেরিয়া নয়, যতদিন রোহিঙ্গা থাকবে ততদিন রোহিঙ্গাদের স্বাস্থ্য সেবা দিয়ে যাবে সরকার।

তিনি রবিবার (২৪ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় কক্সবাজারের উখিয়ার বালুখালিতে মেডিক্যাল ক্যাম্প পরিদর্শনকালে একথা বলেন। এ সময় জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি সিরাজুল মোস্তফা, স্বাস্থ্য বিভাগের চট্টগ্রাম বিভাগীয় পরিচালক এমএম মুজিবুল হক, সিভিল সার্জন ডা. আব্দুস সালাম।

পরে রাত সাড়ে ৯টার দিকে কক্সবাজার জেলার স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে চিকিৎসা সেবার মানোন্নয়ন বিষয়ক এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

কক্সবাজার হিলটপ সার্কিট হাউজ অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত সভায় তথ্যমন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য সাইমুম সরওয়ার কমল এমপি ও জেলা প্রশাসক মো. আলী হোসেন বক্তব্য রাখেন।

এ সময় স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।




শেখ হাসিনা শান্তিচুক্তি করে পাহাড়ে যুদ্ধাবস্থা পরিস্থিতির অবসান ঘটিয়েছে: শিক্ষামন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক, খাগড়াছড়ি:

শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শান্তি চুক্তি করে পাহাড়ে যুদ্ধাবস্থা পরিস্থিতির অবসান ঘটিয়েছে। পার্বত্য চট্টগ্রাম এখন শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বিরাজ করছে। সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টা এ অঞ্চলে উন্নয়ন অগ্রগতিকে এগিয়ে নিতে হবে।

শনিবার(২৩ ডিসেম্বর) দুপরে খাগড়াছড়ি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের  ১ম পুনর্মিলনী উৎসব উপলক্ষে আয়োজিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন। তিনি খাগড়াছড়ি জেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান উন্নয়নের চিত্র তুলে ধরে উন্নয়ন অব্যাহত থাকবে বলে প্রতিশ্রুতি দেন।

এর আগে সকালে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ এমপি বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে বেলুন উড়িয়ে খাগড়াছড়ি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের ১ম পুনর্মিলনী উৎসবের উদ্বোধন করেন।

পরে ব্যানার নিয়ে প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা মিলে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করে। শোভাযাত্রাটি খাগড়াছড়ি শহরের শাপলা চত্বর মোড় প্রদক্ষিণ করে একই স্থানে এসে শেষ হয়। অনেক দিন পর  প্রিয় ক্যাম্পাসে প্রাক্তন ও বর্তমানদের মিলন মেলায় পরিণত হয়।

উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক প্রফেসর ড. সুধীন কুমার চাকমার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈসিং এমপি, টাস্কফোর্স চেয়ারম্যান কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা এমপি, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব নব বিক্রম কিশোর ত্রিপুরা, রাঙামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিদ্যালয়ের ভিসি ড. প্রদানেন্দু বিকাশ চাকমা, খাগড়াছড়ি জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কংজরী চৌধুরী, সাবেক সংসদ সদস্য যতীন্দ্র লাল ত্রিপুরা, সদর জোন কমান্ডার  জিএম সোহাগ, জেলা প্রশাসক রাশেদুল ইসলাম ও পুলিশ সুপার আলী আহমেদ খানসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

রাতে আয়োজিত সাংস্কৃতিক সন্ধ্যায় দর্শকদের মাতাবেন আইয়ুব বাচ্চুসহ স্থানীয় শিল্পীরা। ১৯৫৭ সালে প্রতিষ্ঠিত খাগড়াছড়ি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রথম পুনর্মিলনী।

১ম পুনর্মিলনী উৎসবে ষাট বছরে বিভিন্ন ব্যাচের স্মৃতি রোমন্থ করে দিতে একাডেমিক ভবন গুলোর দেয়ালে দেয়ালে শোভা পাচ্ছে রঙিন দেয়াল চিত্র। পৃথক পৃথক ব্যাচের তোরণ, ফেস্টুন ও ব্যানারে ছেঁয়ে গেছে জেলা শহরের বিভিন্ন অলিগলি।

জানে আলমের সঞ্চালনায়ে আয়োজিত সভায় আরো বক্তব্য রাখেন, খাগড়াছড়ি পৌরসভার মেয়র রফিকুল আলম ও দীপক সেন।




লাঙলের কাছে পরাজয় মেনে নিলেন ওবায়দুল কাদের

নিজস্ব প্রতিনিধি:

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের রংপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিজয়ী দলকে আগাম অভিনন্দন জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, এটি আওয়ামী লীগের নির্বাচনী পরাজয় হলেও রাজনীতির বিজয় হয়েছে। গণতন্ত্রের বিজয় হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় আওয়ামী লীগ সভাপতির ধানমন্ডির রাজনৈতিক কার্যালয়ে তিনি এ কথা বলেন।

ওবায়দুল কাদের বলেন, এটি একটি সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের রেকর্ড। এই নির্বাচনকে জাতীয় নির্বাচনের আগে বিএনপির জন্য মেসেজ হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।

পরাজয়ে আওয়ামী লীগের জনপ্রিয়তা কমেছে কিনা এমন প্রশ্নের ওবায়দুল কাদের বলেন, সব নির্বাচনে জিততে হবে নাকি? নারায়ণগঞ্জে আমাদের প্রার্থীর জয় হয়েছে, আবার আমরা কুমিল্লায় হেরে গেছি। ফলাফলও মেনে নিয়েছি। এটাকে আমি রাজনৈতিকভাবে দেখছি। এখানে বিজয়ী জনগণ। এসময় বিএনপির অভিযোগকে ভাঙ্গা রেকর্ড বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলির সদস্য মতিয়া চৌধুরী, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডা. দীপু মনি, জাহাঙ্গীর কবির নানক, আবদুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক একেএম এনামুল হক শামীম, খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, কৃষি ও সমবায় সম্পাদক ফরিদুন্নাহার লাইলী, দফতর সম্পাদক ড. আবদুস সোবহান গোলাপ, উপ দফতর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া প্রমুখ।




দেশে কোন মধ্যবর্তী নির্বাচন হবেনা: সেতুমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক, বান্দরবান:

দেশে কোন মধ্যবর্তী নির্বাচন হবেনা। মধ্যবর্তী নির্বাচনের দাবি করে বিএনপি মধ্যবর্তী তামাশা শুরু করেছে। বেগম খালেদা জিয়া প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে উকিল নোটিশ দিয়েছে, এটি একটি আইনী বিষয়, আইনীভাবে মোকাবেলা করা হবে। বেগম খালেদা জিয়ার মিথ্যাচারের জন্য শুধু প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে নয় দেশবাসীর কাছেও ক্ষমা চাইতে হবে।

বান্দরবানে ঐতির্য্যবাহী রাজ মেলায় (রাজ পূর্ণাহ) বৃহস্পতিবার (২১ ডিসেম্বর) প্রধান অতিথির বক্ত্যবে সেতুমন্ত্রী ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবাইদুল কাদের এসব কথা বলেন।

সেতুমন্ত্রী বলেন, এই সরকারের মেয়াদেই পার্বত্য শান্তি চুক্তি বাস্তবায়ন করা হবে। পাহাড়ের উন্নয়নসহ মানুষের প্রতি শেখ হাসিনা খুবই আন্তরিক, তাই শেখ হাসিনা শান্তি চুক্তি করে দীর্ঘদিনের রক্তক্ষয় সংঘাত বন্ধ করে শান্তি প্রতিষ্ঠা করেছেন।

এসময় অর্থ মন্ত্রণালয়ের সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ড. আব্দুর রাজ্জাক এমপি, পার্বত্য চট্টগ্রাম মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈসিং এমপি, চট্টগ্রাম ২৪পদাতিক ডিভিশনের জিওসি মেজর জেনারেল জাহাঙ্গীর কবির তালুকদার, বান্দরবান জেলা ও দায়রা জজ লা মং, ৬৯পদাতিক ব্রিগেডের ব্রিগেড কমান্ডার জোবায়ের ছালেহীন, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ক্য শৈ হ্লা, জেলা প্রশাসক দিলীপ কুমার বণিক, পুলিশ সুপার সঞ্জিত কুমার রায় বক্তব্য রাখেন।

ঐতিহ্যের ধারাবাহিক নিয়ম অনুযায়ী বোমাং রাজা প্রকৌশলী উ চ প্রু রাজ পোশাকে সজ্জিত হয়ে হাতে তরবারী নিয়ে মাথায় পাগড়ি বেধে উজির নাজীর ও সৈন্য সামন্তের কড়া পাহারায় পুরাতন রাজার মাঠে অস্থায়ী নির্মিত রাজ সিংহাসনে আরোহণ করেন। রাজকীয় পোশাকে রাজাকে একনজর দেখার জন্য রাস্তার দুপাশে দাঁড়িয়ে থাকে উৎসক জনতা। তারা এসময় রাজাকে ফুল ছিটিয়ে স্বাগত জানান পর্যটক ও প্রজারা।

বংশ পরাম্পরায় ১৪০তম রাজপূণ্যাহ মেলার এটি হবে উ চ প্রু চৌধুরীর চতুর্থ রাজপূণ্যাহ উৎসব। এ মেলা তিন দিনব্যাপী চলবে। ১৮৭৫ সালে ৫তম বোমাং রাজা সাক হ্ন ঞো’র আমল থেকে বংশ পরম্পরায় ধারাবাহিক ভাবে প্রতিবছর ঐতিহ্যবাহী রাজপূণ্যাহ উৎসব হয়ে আসছে। রাজপূণ্যাহ পাহাড়ি-বাঙ্গালীর মিলন মেলায় পরিনত হয়।

বোমাং সার্কেলের অন্তর্গত ৭টি উপজেলার ৯৫টি মৌজা এবং রাঙ্গামাটি জেলার কাপ্তাই ও রাজস্থলী দুটি উপজেলার ১৪টি মৌজাসহ মোট ১০৯টি মৌজার হেডম্যান প্রতি বছর এ মেলায় জেলার হেডম্যান এবং কারবারীরা আনুষ্ঠানিক ভাবে রাজকর প্রদান করে থাকেন।

পুলিশ সুপার জানান, রাজ পূণ্যাহ মেলায় নিরাপত্তায় সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। নিয়মিত বাহিনীর পাশাপাশি সাদা পোশাকধারী আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মাঠে থাকবে।

রাজপূণ্যায় বিভিন্ন পণ্যের স্টল, হাউজি, পুতুল নাচ, বিচিত্রানুষ্ঠান, মৃত্যুকুপ, নাগরদোলা, যাত্রাপালাসহ বিনোদন মুলক নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। ঐতিহ্যবাহী উৎসব দেখতে হাজারো পর্যটকের ভীড় এখন বান্দরবানে।