কুয়াশা ভেজা ভোরে চকরিয়া উপজেলা প্রশাসনের শহীদ মিনারে শ্রদ্ধাঞ্জলী অর্পণ

চকরিয়া প্রতিনিধি:

কক্সবাজারের চকরিয়ায় কুয়াশা ভেজা ভোরে সূর্য উদয়ের সাথে সাথে ৬.০১মিনিটের সময় উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ১৬ ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে শনিবার উপজেলার পুরাতন বিমানবন্দরস্থ চকরিয়া কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ১৯৭১সালে মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে নিহত জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান সকল বীর শহীদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা নিবেদন করে পুস্পমাল্য অর্পণ করে শ্রদ্ধাঞ্জলী জানান উপজেলা প্রশাসন।

চকরিয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব জাফর আলম বি.এ(অনার্স)এম.এ ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নূরুদ্দীন মুহাম্মদ শিবলী নোমানের নেতৃত্বে এ পুষ্পমাল্য প্রদান করা হয়েছে।

এসময় উপস্থিত ছিলেন চকরিয়া উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম আজাদ, মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার হাজী বশিরুল আলম, চকরিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. আতিক উল্লাহ, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব মো. গিয়াস উদ্দিন চৌধুরী, উপজেলা ভেটেনারী সার্জন ও প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডা: ফেরদৌসি রহমানসহ সরকারি প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাবৃন্দরা উপস্থিত ছিলেন।




লামা রূপসীপাড়ায় ৪ বারের নির্বাচিত মহিলা মেম্বারকে পিটিয়ে গুরুতর জখম

চকরিয়া প্রতিনিধি:

সরকারি দলের নাম ভাঙ্গিয়ে লামা রূপসীপাড়া ইউনিয়নের ৪, ৫ ও ৬নং ওয়ার্ডের ৪ বারের নির্বাচিত ও দীর্ঘ ২৫ বছরের মহিলা মেম্বার (এমইউপি) রোকিয়া বারি (৫০) ও তার স্বামী সাবেক এমইউপি আবদুল বারি (৬০)কে পিটিয়ে গুরুতর জখম করেছে সন্ত্রাসীরা। আহত মহিলা মেম্বারকে উদ্ধার করে প্রথমে লামা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক চমেক হাসপাতালে রেফার করেন। প্রতিমধ্যে তাকে চকরিয়া ইউনিক হাসপাতালে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে উন্নত চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।  গতকাল ১৫ ডিসেম্বর সকাল ৮টার দিকে উপজেলার রূপসীপাড়া বাজারে এ ঘটনা ঘটে।

চকরিয়া প্রেসক্লাবে কর্মরত সাংবাদিকদের কাছে আহত পরিবারের সদস্যরা অভিযোগ করে বলেন, একই এলাকার একটি সংঘবদ্ধ জবর দখলকারী সন্ত্রাসী চক্র দীর্ঘদিন ধরে ক্ষমতাসীন দলের নাম ভাঙ্গিয়ে চলমান দায়িত্বসহ দীর্ঘ ২৫ বছরের এমইউপি রোকেয়া বেগমের জমি জবর দখলে নেওয়ার এবং তার একমাত্র সন্ত্রান মরজুরুল হাসান রফিক (২২)কে অপহরণ করে হত্যা করার ষড়যন্ত্রে মেতে উঠেছে।

এমনকি দখলবাজরা বিগত ১৮ বছর পূর্বে জনৈক সিরাজ আহমদকে ফরিদপুর জেলায় আত্মগোপনে রেখে মহিলা মেম্বার পক্ষকে অপহরণসহ বিভিন্ন মামলা দিয়ে হয়রাণী করে। পরে অপহরণ হয়নি মর্মে প্রশাসন ও স্থানীয়দের মাঝে বিষয়টি খোলাসা হয়।

সর্বশেষ ১৫ ডিসেম্বর সকাল ৮টার দিকে জমি জবর দখলে নিতে কথিত অপহৃত সিরাজের সন্ত্রাসী পুত্র রাসেল, তাদের পক্ষের আবুল বাসার, বাচ্চু, মহিলা লাঠিয়াল শাহনাজ পারভিন, লিজা বেগম, রুমা বেগমসহ ১৫/২০জনের বাহিনী অতর্কিতভাবে মহিলা মেম্বারের বাড়িতে ঢোকে হামলা ও লুটপাট চালায়। এক পর্যায়ে মহিলা মেম্বার রোকিয়া বারি ও তার স্বামী প্যারালাইসি রোগি আবদুল বারিকে পিটিয়ে জখম করে এবং সন্তানকে হত্যার জন্য খুঁজতে থাকে।

এসময় তার কাছ থেকে ব্যবহৃত ২ভরি স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা লুট করে সন্ত্রাসীরা। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন ৬নং রূপসীপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান চাচিং প্রেুা। এ বিষয়ে লামা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আনোয়ার হোসেন কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, মহিলা মেম্বারকে পিটিয়ে জখমের বিষয়টি শুনেছি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি জানান।




চকরিয়ায় সাবেক পৌর কাউন্সিলরসহ ১৮জনের বিরুদ্ধে মামলা

চকরিয়া প্রতিনিধি:

কক্সবাজারের চকরিয়ায় স্বশস্ত্র হামলা চালিয়ে পারিবারিক শ্মশানের জায়গা জবর দখলের চেষ্টা ও বসতবাড়ি  ভাংচুর করে গাছ কেটে লুটের ঘটনা ঘটেছে। চকরিয়া পৌরসভার ৯নম্বর ওয়ার্ডের দিগরপানখালী হিন্দুপাড়া এলাকায় মঙ্গলবার সকালে এ ঘটনা ঘটে।

এ নিয়ে ভুক্তভোগী পরিবার ও শ্মশান পক্ষের মৃত ননী গোপাল দাশের পুত্র নির্মল কান্তি দাশ (৫০) বাদী হয়ে বুধবার চকরিয়া উপজেলা সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি সিআর মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় সাবেক পৌরসভার চার নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলরসহ ১৮জনকে আসামি করা হয়েছে।

অভিযুক্তরা হলেন, সাবেক পৌর কাউন্সিলর ও মৃত অন্নদা চরণ দাশের পুত্র লক্ষণ কান্তি দাশ, মৃত মহেন্দ্র লাল দাশের পুত্র বিবেকানন্দ দাশ, রশিদ আহমদের পুত্র বশির আহমদ, মো. সিরাজের পুত্র সাইফুল ইসলাম, হাসেম মিয়ার পুত্র মো. আব্বাস ও মৃত ধৈর্য্য কুমার দে’র পুত্র কমল হরি দে প্রকাশ মন্টুসহ অজ্ঞাত আরো ১০-১২জনকে। আদালতের বিচারক বাদীর সিআর মামলার অভিযোগটি আমলে নিয়ে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) কক্সবাজারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) ঘটনাটি তদন্তের জন্য নির্দেশ দিয়েছেন।

মামলার আর্জিতে বাদী নির্মল কান্তি দাশ অভিযোগ করেন, গত ১২ ডিসেম্বর সকাল সাড়ে ৭টার দিকে অভিযুক্তরা অতর্কিতভাবে দিগরপানখালী মৌজার বিএস ২৬১নং খতিয়ানের দাগাদিতে দীর্ঘ ৫০ বছরের পুরনো শ্মশান(মন্দির)ও বসতভিটায় ঢুকে জবর দখলের চেষ্টা চালায়।

এসময় তাদের বাধা দিতে গিয়ে বাদীর বড় ভাইয়ের স্ত্রী নিরবালা দাশকে পিটিয়ে গুরুতর জখম করা হয়। তিনি আরো বলেন, ঘটনার সময় সন্ত্রাসীরা বসতভিটায় রোপিত দেড় লক্ষ টাকা মূল্যের ৩০টি মতো আম গাছ, মেহগনি, ফলদ ও বনজ গাছ কেটে লুট করে এবং দু’টি গ্রামীণ ঘর ও মন্দির(শশ্মান) ভেঙ্গে অন্তত আরো ২লাখ ৩০ হাজার টাকার ক্ষতি সাধন করে জমি জবর দখলে নেয় বলে তিনি জানান।




চকরিয়ায় পানিতে ডুবে দুই খালাতো বোনের মর্মান্তিক মৃত্যু

চকরিয়া প্রতিনিধি:

কক্সবাজারের চকরিয়ায় উপজেলার উপকূলীয় বদরখালী ইউনিয়নে পুকুরে ডুবে মুন্নি (৮) ও সিফা আক্তার (৯) নামে দুই শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। বুধবার (১৩ ডিসেম্বর) সন্ধ্যার দিকে বদরখালীর ৩নম্বর ব্লকের লম্বাখালী পাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত শিশু দুইজন সম্পর্কে খালাতো বোন।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার বদরখালীস্থ লম্বাখালী পাড়া এলাকার বশির আহমদের বাড়িতে পেকুয়া থেকে বেড়াতে আসেন তার স্ত্রীর বোনের মেয়ে সিফা আক্তার। বুধবার সন্ধ্যার সময় বশিরের কন্যা মুন্নি ও তার খালাত বোন সিফা আকতার বসতবাড়ির পেছনে পুকুরে হাত-পা ধৌত করতে গিয়ে পুকুরে পড়ে পানির গভীরে চলে যায়। পরে বাড়ির লোকজন খোঁজাখুঁজির পর তাদেরকে পুকুর থেকে ভাসমান মুমূর্ষ অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। পরিবারের লোকজন মুমূর্ষবস্থায় শিশু দুইটিকে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।

বৃহস্পতিবার (১৪ ডিসেম্বর) সকালে নিহত শিশুদের পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে।

স্থানীয় বদরখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান খাইরুল বশর নিহত দুই শিশুর মৃত্যুর ঘটনার বিষয়ে সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।




চকরিয়ায় বন্যহাতির আক্রমণে নিহত দুই পরিবারের মাঝে ২ লক্ষ টাকার চেক বিতরণ

চকরিয়া প্রতিনিধি:

চট্রগ্রামের দক্ষিণ বন বিভাগের চকরিয়াস্থ চুনতী রেঞ্জ কার্যালয়ের আওতাধীন উপজেলার হারবাং ইউনিয়নে বন্যহাতির আক্রমণে নিহত ২ পরিবারের মাঝে ক্ষতিপূরণ হিসেবে নিহতের স্বজনদের এক লাখ টাকা করে দুই লাখ টাকার চেক প্রদান করেন বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয় থেকে উপজেলা প্রশাসন।

বৃহস্পতিবার (১৪ ডিসেম্বর) সকাল সাড়ে ১১টার সময় উপজেলা পরিষদের হলরুম মোহনা মিলনায়তনে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নূরুদ্দীন মুহাম্মদ শিবলী নোমানের সভাপতিত্বে নিহত পরিবার এর মাঝে এ চেক হস্তান্তর করা হয়। ওই চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চকরিয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আলহাজ্ব জাফর আলম বি.এ (অনার্স) এম.এ।

এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন চকরিয়া পৌরসভার মেয়র মো. আলমগীর চৌধুরী, উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম আজাদ, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব গিয়াস উদ্দিন চৌধুরী, মাতামুহুরী সাংগঠনিক থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও পশ্চিম বড় ভেওলা ইউপি চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী বাবলা, চুনতি রেঞ্জ কর্মকর্তা নুর-উর রহমানসহ উপজেলার বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাগণ এবং সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

এ বিষয়ে চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নুরুদ্দীন মুহাম্মদ শিবলী নোমান জানান, বন্য প্রাণী দ্বারা আক্রান্ত মানুষের জানমালের ক্ষতিপূরণ নীতিমালা ২০১০ অনুযায়ী নিহত দুইজন ব্যক্তির স্বজনদের কাছে এক লাখ টাকা করে মোট দুই লাখ টাকা সরকারিভাবে এ চেক হস্তান্তর করা হয়েছে বলে তিনি জানান।




বুদ্ধিজীবীদের যারা হত্যা করেছে তারা অনেকেই স্বাধীন বাংলাদেশের সমাজে ও রাজনীতিতে পুনর্বাসিত

চকরিয়া প্রতিনিধি:

স্বাধীনতার ৪৭ বছর পরও দেখতে হয়, বুদ্ধিজীবীদের যারা হত্যা করেছে তারা অনেকেই স্বাধীন বাংলাদেশের সমাজে ও রাজনীতিতে পুনর্বাসিত হয়েছে। যারা এ দেশের নিরপরাধ মানুষদের নৃশংসভাবে হত্যা করে নগ্ন উল্লাস করেছিল সেই সব পাকিস্তানি প্রেতাত্মারা আজও স্বাধীন বাংলাদেশের মাটিতে সক্রিয়। এটা আমাদের জন্য সবচেয়ে বড় লজ্জার।

১৪ ডিসেম্বর (বৃহস্পতিবার) সকাল ১১টায় উপজেলা পরিষদ মিলনায়তন হলরুম “মোহনায়” উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নুরুদ্দীন মুহাম্মদ শিবলী নোমানের সভাপতিত্বে বুদ্ধিজীবী দিবসের ওই আলোচনা সভায়  প্রধান অতিথির বক্তব্যে চকরিয়া উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আলহাজ্ব জাফর আলম এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, এ দেশকে মেধাশূণ্য করতে ৭১ সালের ১৪ ডিসেম্বর বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করা হয়। ১৯৭১ এর ডিসেম্বর মাসে স্বাধীনতা যুদ্ধের শেষ পর্যায়ে এসে পাকিস্তান বাহিনী যখন বুঝতে শুরু করে যে তাদের পক্ষে যুদ্ধে জেতা সম্ভব নয়, তখন তারা দেশকে সাংস্কৃতিক, সামাজিক ও শিক্ষাগত দিক থেকে দুর্বল এবং পঙ্গু করে দেয়ার পরিকল্পনা অংশ হিসেবে বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করা হয়। দেশকে মেধাশূণ্য করতেই পরিকল্পিতভাবে বুদ্ধিজীবীদের এ হত্যা করা হয়েছিল।

এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন চকরিয়া পৌরসভার মেয়র মো. আলমগীর চৌধুরী, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও ফাঁসিয়াখালী ইউপি চেয়ারম্যান আলহাজ্ব গিয়াস উদ্দিন চৌধুরী, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম আজাদ, চকরিয়া থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা প্রতিনিধি হিসেবে উপ-পরিদর্শক (এস আই) তানবির আহমেদ, জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক ত্রাণ বিষয়ক সম্পাদক আলহাজ্ব নুরুল আবচার, জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য আমিনুর রশিদ দুলাল, চকরিয়া উপজেলা সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার ফরিদুল আলম, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. আতিক উল্লাহ, উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ছরওয়ার আলম, ছৈয়দ আলম কমিশনার, সাংগঠনিক সম্পাদক মিজবাহউল হক প্রমুখ।

বুদ্ধিজীবী দিবসের আলোচনা সভায় মাতামুহুরী সাংগঠনিক থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও পশ্চিম বড় ভেওলা ইউপি চেয়ারম্যান আলহাজ্ব সিরাজুল ইসলাম বাবলা, চিরিংগা ইউপি চেয়ারম্যান আলহাজ্ব জসিম উদ্দিন, কোনাখালী ইউপি চেয়ারম্যান দিদারুল হক সিকদার, কাকারা ইউপি চেয়ারম্যান শওকত ওসমানসহ ১৮ইউপি চেয়ারম্যানবৃন্দ সরকারি-বেসরকারি অফিসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, সাংবাদিক ও চকরিয়া সিটি কলেজের ছাত্র-ছাত্রীরা উপস্থিত ছিলেন।




চকরিয়ায় দুর্নীতি বিরোধী সাইকেল র‌্যালি অনুষ্ঠিত 

চকরিয়া প্রতিনিধি:

‘‘জাগ্রত বিবেক, দূর্জয় তারুণ্য, দুর্নীতি রুখবেই” এ শ্লোগানকে সামনে রেখে কক্সবাজারের চকরিয়ায় সনাক ও ইয়েস গ্রুপের সদস্যদের আয়োজনে দুর্নীতি বিরোধী সাইকেল র‌্যালি অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বুধবার(১৩ ডিসেম্বর)দুপুরে দুর্নীতি প্রতিরোধে জনসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক) এবং সহযোগী সংগঠন ইয়ুথ এনগেজমেন্ট এন্ড সাপোর্ট (ইয়েস) সদস্যরা চকরিয়া উপজেলা পরিষদ চত্বর থেকে এ সাইকেল র‌্যালি বের করা হয়।

আনুষ্ঠানিক ভাবে র‌্যালির উদ্বোধন করেন চকরিয়া উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. আতিক উল্লাহ। চকরিয়ার টিআইবি এরিয়া ম্যানেজার এজিএম. জাহাঙ্গীর আলমের সঞ্চালনায় র‌্যালিতে অংশ নেয়া সদস্যদের উদ্দেশ্যে স্বাগত বক্তব্য রাখেন সনাক সভাপতি ও চকরিয়া বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের অধ্যাপক একেএম. শাহাবুদ্দিন, ইয়েস গ্রুপের উপ-কমিটির আহ্বায়ক মো. জিয়া উদ্দিন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন, ইয়েস গ্রুপের দলনেতা মো. ইকবাল হোসেন, সহ-দলনেতা হাফছা বেগম ও মো. জাহিদুল ইসলাম প্রমুখ। পরে দুর্নীতি বিরোধী সাইকেল র‌্যালিটি উপজেলার বিভিন্ন প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে সনাক কার্যালয়ের সামনে এসে মিলিত হয়।




চকরিয়ায় ইয়াবা ট্যাবলেটসহ প্রাইভেট কার জব্দ: চালক আটক

চকরিয়া প্রতিনিধি:

চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে চকরিয়ায় চিরিংগা হাইওয়ে পুলিশের অভিযানে ১হাজার ৫৬৫ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ ব্যবহৃত প্রাইভেট কার গাড়িসহ বনি আমিন(৩২)নামের গাড়ির চালককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

পুলিশ এ সময় ইয়াবা পাচারকাজে ব্যবহৃত কারগাড়ি ঢাকা মেট্রো-গ-১৪-২০০৬ জব্দ করা হয়। ধৃত প্রাইভেট কারগাড়ি চালক বরগুনা জেলার সদর উপজেলার দক্ষিণ খেজুরতলা এলাকার মো. আবদু ছোবহানের পুত্র বলে জানা গেছে।

বুধবার (১৩ডিসেম্বর) ভোর ৫টার দিকে চিরিংগা হাইওয়ে পুলিশ মহাসড়কের বানিয়ারছড়াস্থ ঢালায় নামক এলাকা থেকে পুলিশ তল্লাসী চালিয়ে এসব ইয়াবাসহ কারগাড়ি জব্দ করে।

কক্সবাজারের মহাসড়কের চকরিয়া বানিয়ারছড়াস্থ চিরিংগা হাইওয়ে পুলিশের ইনচার্জ নুরে আলম জানান, চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে চকরিয়াস্থ চিরিংগা হাইওয়ে পুলিশ নিয়মিত টহলের অংশ হিসেবে বুধবার সকালে বানিয়ারছড়াস্থ মহেশখালী পাড়া নামক এলাকার সামনে মহাসড়কে দায়িত্ব পালন করেছিল হাইওয়ে পুলিশের একটি টিম। সকালের দিকে কক্সবাজার থেকে চট্টগ্রামগামী সাদা রংয়ের একটি প্রাইভেট কারযোগে বড় ধরণের একটি ইয়াবা ট্যাবলেট চালানের গোপন সংবাদ পেয়ে গাড়ি তল্লাসী করা হয়।

এসময় কক্সবাজার থেকে চট্টগ্রামগামী একটি প্রাইভেট কারগাড়ি সাদা রংয়ের (ঢাকা মেট্রো-গ-১৪-২০০৬)হাইওয়ে পুলিশ সিগন্যাল দিয়ে মহাসড়কের রাস্তার ধারে থামানো হয়।

এসময় পুলিশ কারগাড়ি তল্লাসী করে ড্রাইভারের স্ট্যান্ডিং ভেতর থেকে ১হাজার ৫৬৫পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয় এবং ব্যবহৃত ইয়াবা পাচার কাজে জড়িত প্রাইভেট কারগাড়ি জব্দ করে চালকে গ্রেফতার করে থানায় প্রেরণ করা হয়েছে।

এ ব্যাপারে চকরিয়া থানার পুলিশ পরিদর্শক(তদন্ত) মো. মিজানুর রহমানের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে চিরিংগা হাইওয়ে পুলিশ অভিযান চালিয়ে ১ হাজার ৫৬৫ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ কারগাড়ি জব্দ করে। ইয়াবা পাচারে জড়িত চালককে গ্রেফতার করা হয়। ইয়াবা পাচার কাজে ব্যবহৃত প্রাইভেট কারগাড়ি জব্দ করে থানায় দেয়া হয়েছে এবং পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ বাদী হয়ে সংশ্লিষ্ট মাদক আইনে মামলা দায়ের করার প্রস্তুতি চলছে বলেও তিনি জানান।




শিক্ষার্থীদের সুশিক্ষা নিশ্চিত করতে পারলে এ দেশ কখনও পিছিয়ে থাকবেনা

চকরিয়া প্রতিনিধি:
কক্সবাজারের চকরিয়ায় মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার মান উন্নয়ন, শীতকালীন মৌসুমী ক্রীড়া প্রতিযোগিতা এবং মাল্টিমিডিয়া ক্লাস রুম শতভাগ নিশ্চিত করার জন্য উপজেলার বিভিন্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক-সুপার ও অধ্যক্ষ এর সাথে চকরিয়া উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সভায় শিক্ষার মান নিয়ে উপস্থিত বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানদের উদ্দেশ্যে চকরিয়া উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা নুরুদ্দীন মুহাম্মদ শিবলী নোমান বলেন, একটি স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে আমরা পিছিয়ে থাকতে পারি না। আমাদেরও এগিয়ে যেতে হবে। বর্তমান সরকার দেশকে নিরক্ষরতার অভিশাপ থেকে মুক্ত করতে এবং শতভাগ শিক্ষার্থী বিদ্যালয়গামী করতে শিক্ষকদের পড়া-লেখার পাশাপাশি  মান উন্নয়নে এগিয়ে আনার চেষ্টা করছে। শিক্ষার মান উন্নয়নে অগ্রাধিকার দেওয়ার পাশাপাশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার উপযোগী পরিবেশ তৈরি করতে হবে। এ বিষয়টিকে বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে।শিক্ষার্থীদের জ্ঞানস্পৃহা জাগ্রত করে তুললে তারা জ্ঞান অর্জন করতে পারবে। এ ক্ষেত্রে শিক্ষকদের ভূমিকা সবচেয়ে বড় এবং অপরিহার্য।

দুঃখজনক হলেও সত্য, বর্তমানে দেশে শিক্ষার্থীদের জ্ঞান চর্চার যথেষ্ট অভাব রয়েছে। ফলে আমাদের শিক্ষার্থীদের অনেকেই বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় ভালো করতে না পেরে মানসিক যন্ত্রণা ও দুর্ভোগের শিকার হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের জ্ঞান অর্জনে উৎসাহিত করা, আন্তরিকতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে পাঠদান করা এবং সঠিক নির্দেশনা দিয়ে তাদের জীবন গড়তে সাহায্য করা। কিন্তু তা না হয়ে যদি মূল লক্ষ্য হয় বাণিজ্যিক, তা হলে সেটি শুধু শিক্ষার্থীদের জন্য নয়, সমগ্র জাতির জন্যও ক্ষতিকর হয়ে দাঁড়ায়।

তিনি আরো বলেন, শিক্ষার মান উন্নয়নে সরকারের ভূমিকা থাকবে ইতিবাচক। প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদান করবে সরকার। মানহীন শিক্ষার এদেশে কোন গুরুত্ব নেই। বিশ্বায়নের সাথে দেশ তাল মিলিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। একটি আত্মমর্যাদাশীল জাতি হিসেবে বিশ্বের বুকে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে মানহীন নয়, মানসম্মত শিক্ষা গ্রহণ করা আবশ্যক। বাংলাদেশে শিক্ষায় আইসিটি’র ব্যবহার উল্লেখ যোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। সারা দেশে দ্রুত গতিতে মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম ছড়িয়ে পড়ছে। কোন দেশের ভবিষ্যৎ নির্ভর করে সে দেশের ক্লাসরুমগুলোতে কী হচ্ছে তার উপর।

সুতরাং আমাদের মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুমগুলোর সুষ্ঠ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে মানসম্মত শিক্ষা অর্জনে কার্যকর ভূমিকা পালন করতে পারে। সরকার ডিজিটালের মাধ্যমে দেশকে এগিয়ে নিতে ২০২১ এবং ২০৪১ উন্নত সমৃদ্ধ দেশ গড়তে যে পরিকল্পনা নিয়ে সামনে অগ্রসর হচ্ছে তা বাস্তবে প্রতিফলন ঘটাতে শিক্ষার মান উন্নয়ন ছাড়া কোন বিকল্প নাই। শুধু তাই নয় এরই পাশাপাশি প্রতিটি শিক্ষার্থীকে লেখা-পড়ার সাথে সাথে বিভিন্ন খেলাধুলায় অংশ গ্রহণ করে একজন আদর্শবান খেলোয়াড় হিসেবে তৈরি করাও একটি নৈতিক দায়িত্ব। প্রতিটি শিক্ষার্থীকে সুশিক্ষা নিশ্চিত করতে পারলেই এ দেশ আর কখনও পিছিয়ে থাকবেনা বলে তিনি জানান।

মঙ্গলবার(১২ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় উপজেলা পরিষদ হলরুম”মোহনায়” উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা নূরুদ্দীন মুহাম্মদ শিবলী নোমানের সভাপতিত্বে্ এ শিক্ষার মান উন্নয়নের সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ সময় উপস্থিত ছিলেন চকরিয়া উপজেলার মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের একাডেমিক সুপার ভাইজার রতন বিশ্বাস। প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষাকে আরো মানসম্মত ও যুগোপযোগী কি ভাবে করা যায় সে বিষয়ে দিক নির্দেশনামূলক বক্তব্য রাখেন সভায় অংশ নেয়া স্কুল ও মাদ্রাসার প্রধানগণ।




চকরিয়ায় ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযানে ৬৩ হাজার টাকা জরিমানা

চকরিয়া প্রতিনিধি:

কক্সবাজারের চকরিয়ায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও ভ্রাম্যমান আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নুরুদ্দীন মুহাম্মদ শিবলী নোমান ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান চালিয়ে খাবার হোটেল, অবৈধ গ্যাসের গাড়ি ও মহাসড়কের বক্সরোডে গাড়ি দাঁড়িয়ে যাত্রী তোলার দায়ে ৬৩ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন।

মঙ্গলবার (১২ ডিসেম্বর) দুপুরে ভ্রাম্যমান আদালত পৌরশহরের বিভিন্ন পয়েন্টে এ অভিযান পরিচালনা করেন। অভিযানকালে চকরিয়া থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মিজানুর রহমানসহ সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

অভিযান ব্যাপারে ভ্রাম্যমান আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নুরুদ্দীন মুহাম্মদ শিবলী নোমানের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, চকরিয়া পৌর শহরের বিভিন্ন পয়েন্টে এলাকায় অভিযান চালিয়ে আদালতের মাধ্যমে ৬৩ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, থানা সেন্টারস্থ বিরতি হোটেল এন্ড ভাতঘরে নোংরা পরিবেশে খাবার তৈরি করার দায়ে ১০ হাজার টাকা, চকরিয়া মহাসড়কের বক্সরোডে দাঁড়িয়ে যাত্রী উঠা-নামা করার দায়ে একটি ম্যাজিক পরিবহণকে ৩ হাজার টাকা এবং ছিদ্দিক ফিলিং স্টেশনের পেছনে অনুমোদনহীন অবৈধ ভাবে খোলা ট্রাকগাড়িতে গ্যাস সরবরাহ   করার দায়ে গাড়ির মালিক নাজেম উদ্দিনকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। ধারাবাহিক ভাবে এ অভিযান অব্যাহত রাখবেন বলেও তিনি জানান।