গুইমারা বাজারে চুরির ঘটনায় নিরাপরাধ ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদের নামে পুলিশের অমানুষিক নির্যাতন

guimara pic 3 copy

গুইমারা প্রতিনিধি:

খাগড়াছড়ির গুইমারা বাজারে বুধবার রাতে পুলিশ বক্সের সাথে লাগোয়া ৪টি দোকানে দুর্ধর্ষ চুরির ঘটনায় সন্দেহভাজন স্থানীয় যুবককে আটকের পর জিজ্ঞাসাবাদের নামে অমানুষিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে গুইমারা থানা পুলশের বিরুদ্ধে।

জানা যায়, ঘটনার সাথে জড়িত থাকার সন্দেহে গুইমারার বাজারপাড়া থেকে বুধবার দুপুরে গুইমারা থানা পুলিশের এএসআই কৃঞ্চ’র নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল মো. টিপু সুলতান (১৯) নামের এক এতিম যুবককে  আটক করে থানায় নিয়ে যায়। থানায় নিয়ে এএসআই কৃঞ্চ’র নেতৃত্বে টিপু সুলতানের উপর জিজ্ঞাসাবাদের নামে চালায় অমানুষিক নির্যাতন।

অভিযোগ রয়েছে, পুলিশ তার চোখ বেঁধে, হাত উপরে ঝুলিয়ে বেদড়ক অমানুষিক নির্যাতন করে। এসময় প্লাস দিয়ে তার পায়ের নখ তুলে ফেলা হয় এবং শরীরের বিভিন্ন জয়েন্টে নির্মম অত্যাচার করে স্বীকার করানোর চেষ্টা করা হয়, কিন্তু তাকে স্বীকার করাতে ব্যর্থ হয়ে সন্ধ্যায় তার আত্মীয় স্বজনদের ডেকে তাদের নিকট মুমূর্ষ অবস্থায় তাকে হস্তান্তর করা হয়। বর্তমানে টিপু সুলতান মাটিরাঙ্গা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছে।

এদিকে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, টিপু সুলতান খাগড়াছড়িতে শান্তি পরিবহনে স্টাফ হিসেবে কাজ করেন। সাপ্তাহিক ছুটিতে তিনি গুইমারায় তার মামার বাড়িতে বেড়াতে আসেন।

প্রসঙ্গত, ২৫ এপ্রিল রাতে গুইমারা বাজারে পুলিশ বক্সের হাতের মধ্যে ফল বিতান, রড় সিমেন্টের দোকান ও মোবাইল ফোন সামগ্রীর দোকানসহ অন্তত ৪টি দোকানে দুর্ধর্ষ চুরির ঘটনা ঘটেছে। পুলিশের নাকের ডগায় এরকম দুর্ধর্ষ চুরির ঘটনায় চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মাঝে। ঘটনায় পুলিশ চোরকে আটক করতে না পারলেও স্থানীয় অসহায় ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদের নামে এ অমানুষিক নির্যাতন করে। এনিয়ে এলাকায় চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে। সচেতন মহলের দাবি দায়ী পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হোক।




গুইমারায় নিরাপত্তাবাহিনী ও পুলিশের অভিযানে অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার

guimara arms recovari copy

নিজস্ব প্রতিবেদক, খাগড়াছড়ি/ গুইমারা প্রতিনিধি:

গুইমারায় নিরাপত্তাবাহিনী ও পুলিশের অভিযানে তিনটি অস্ত্র ও পাঁচ রাউন্ড গুলি উদ্ধার হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১১টায় মধ্যম হাফছড়ির সিকদার টিলা এলাকা থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় এ অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার করা হয়।

উদ্ধারকৃত আগ্নেয়াস্ত্রের মধ্যে রয়েছে, একটি পিস্তল, একটি এলজি, একটি বন্দুক ও পাঁচ রাউন্ড কার্তজ।

গুইমারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা যোবাইরুল হক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, সন্ত্রাসীরা ওই এলাকায় অবস্থান করছে এমন তথ্যের ভিত্তিতে নিরাপত্তাবাহিনী ও পুলিশ যৌথ অভিযান চালায়। কিন্তু সন্ত্রাসীরা পালিয়ে গেলে ওই এলাকায় তল্লাসী চালিয়ে এ সব আগ্নেয়াস্ত্র ও গুলি উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় তদন্ত চলছে।




গুইমারাতে পুলিশ বক্সের এক হাতের মধ্যেই দুর্ধর্ষ চুরি

Capture copy

গুইমারা প্রতিনিধি:

খাগড়াছড়ির গুইমারাতে এবার পুলিশ বক্সের ১ হাতের মধ্যেই দুর্ধর্ষ চুরির ঘটনার ঘটেছে। মঙ্গলবার দিবাগত রাতে গুইমারা বাজারে এ ঘটনা ঘটে। এতে মোট ৪টি ব্যাবসা প্রতিষ্ঠানের মূল্যবান মালামাল ও নগদ টাকা চুরি করে নিয়ে যায় সংঘবদ্ধ চক্রটি।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, গুইমারা বাজারে অবস্থিত পুলিশ বক্সের সাথে লাগোয়া একই ছাদের নিচের সোহাগ ফল বিতান, মাষ্টার ট্রেডার্স ও জাহাঙ্গির ইলেকট্রনিক্সসহ ৪টি দোকানে দুর্ধর্ষ এক চুরির ঘটনা ঘটেছে। প্রাথমিক ভাবে চুরি হওয়া মালামালের সঠিক মূল্য জানা না গেলেও ক্ষয়-ক্ষতির পরিমান প্রায় লক্ষাধিক হবে বলে ধারনা করা হচ্ছে।

এ ঘটনায় বাজার ব্যাবসায়ীরা পুলিশের দায়িত্ব অবহেলাকে দায়ী করে বলেন, পুলিশ প্রশাসনের নাকের ডগায় এভাবে চুরি হওয়াটা খুবই দুঃখজনক। অভিযোগ রয়েছে, পুলিশ রাতভর বাজারে অবস্থান করার কথা থাকলেও রাত ১টার পর তাদের আর বাজারে দেখা যায়না। এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নজর দেয়ার দাবি ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের।

গত সপ্তাহে এরকমই ভাবে জেলার রামগড় বাজারে পুলিশ বক্সের ১’শ গজের মাথায় মূল সড়কে বনানী টেলিকম নামে আরও একটি দোকারে চুরির ঘটনা ঘটেছে। ধারনা করা হচ্ছে, দুটি ঘটনার সাথেই একই চক্র জড়িত থাকতে পারে।




গুইমারায় অজ্ঞাত রোগে আক্রান্তদের সংখ্যা বাড়ছে, সিভিল সার্জনের নেতৃত্বে দুর্গত এলাকায় মেডিকেল টিম

Khagrachari Pic 02 (3) copy

নিজস্ব প্রতিবেদক,খাগড়াছড়ি:

খাগড়াছড়ির দেবতা পুকুরের আশা-পাশ গ্রামে অজ্ঞাতনামা রোগে শতাধিক নারী, পুরুষ ও শিশু আক্রান্ত হয়েছে। সোমবার রাত থেকে খাগড়াছড়ি সদর হাসপাতালে ৩০জন ভর্তি হয়েছে। হাসপাতালে সিট না থাকায় রোগীদের স্থান হয়েছে ফ্লোরে। হঠাৎ রোগীর চাপ বেড়ে যাওয়ায় সেবা দিতে গিয়ে চিকিৎসকরা হিমশিম খাচ্ছে। তবে চিকিৎসকরা বলছে, এটি গণমনস্তাত্ত্বিক রোগ। এ নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই। এদিকে দুর্গত এলাকায় সিভিল সার্জনের নেতৃত্বে একটি মেডিকেল টিম যাচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দা ক্ষেত্র মোহন রোয়াজা জানান, খাগড়াছড়ির দেবতা পুকুরের আশ-পাশ দুর্গম তৈমাতাই  গ্রামে  এ অজ্ঞাত রোগটি দেখা দেয়। প্রথমে রোগী অস্বাভাবিক আচারণ করে অনেকটা হিংস্র আচারণ করে ধারালো অস্ত্র নিয়ে একে অপরকে ধাওয়া করে। এক পর্যায়ে অজ্ঞান হয়ে পড়ে।

খাগড়াছড়ি হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, সকাল পর্যন্ত খাগড়াছড়ি সদর হাসপাতালে ৩০জন রোগী ভর্তি হয়েছে। তবে এলাকাটি দুর্গম হওয়ার কারণে অনেক রোগীকে আনা সম্ভব হচ্ছে না। হাসপাতালে আসা রোগীদের মধ্যে অধিকাংশই নারী ও শিশু।

খাগড়াছড়ি সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডাক্তার নয়নময় ত্রিপুরা জানান, এটি গণমনস্তাত্ত্বিক রোগ। এ নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই।

খাগড়াছড়ি সিভিল সার্জন ডাক্তার আব্দুস সালাম জানান, দুর্গত এলাকায় চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে তার নেতৃত্বে চার সদস্যের একটি মেডিকেল টিম ঘটনাস্থলে গেছে।

প্রসঙ্গত, ২০১৩ সালে ওই গ্রামে এমন রোগে শতাধিক আক্রান্ত হয়েছিল।




খাগড়াছড়ির গুইমারায় গণমনস্তাত্ত্বিক রোগে আক্রান্ত ৭৫ নারী-পুরুষ, হাসপাতালে ভর্তি ১৫ জন

Khagrachari Pic 02

নিজস্ব প্রতিবেদক, খাগড়াছড়ি:
খাগড়াছড়ির গুইমারা উপজেলা প্রত্যন্ত দূর্গম তৈমথাং গ্রামে  গণমনস্তাত্ত্বিক রোগে আক্রান্ত হয়ে অন্তত ৭৫ নারী-পুরুষ অসুস্থ হয়েছে। এদের মধ্যে ১৫ জনকে খাগড়াছড়ি সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

খাগড়াছড়ি সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগীরা হচ্ছে, কৃঞ বালা ত্রিপুরা(২২), কবিতা ত্রিপুরা(৩০), বহি বালা ত্রিপুরা(১৭), দীকা ত্রিপুরা(১৬), মায়া বালা ত্রিপুরা(২৬), খাজ বালা ত্রিপুরা(১৮), বানু বিথি ত্রিপুরা(৩০), দিনু ত্রিপুরা(২১), কলইমা ত্রিপুরা(১৭), সাগরিকা ত্রিপুরা(১০), টিপায়ন ত্রিপুরা(১১), মহন ত্রিপুরা(১৬), সনদি রাম ত্রিপুরা(৩৫), কলোইসা ত্রিপুরা(১৬) ও বহেন ত্রিপুরা(১৫)।
Khagrachari Pic 01
এলাকাবাসী দয়া কুমার ত্রিপ্ররা জানান, সোমবার সকাল থেকে ঐ গ্রামের মানুষগুলো হঠাৎ করে একে অপরকে জড়িয়ে ধরে কান্না-কাটি ও পাগলামি শুরু করে এবং এক পর্যায়ে অজ্ঞান হয়ে পড়ে। বিকাল পর্যন্ত অন্তত ৭৫ জন নারী পুরুষ এ রোগে আক্রান্ত হয়।

খাগড়াছড়ি সদর হাসপাতালে আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডাক্তার নয়ন ময় ত্রিপুরা জানান, সোমবার সন্ধ্যা পর্যন্ত ১৫ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এটি একটি গণমনস্তাত্ত্বিক রোগ। হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে কয়েক দিনের মধ্যে সুস্থ্য হয়ে উঠবে। এ নিয়ে আতংকিত হওয়ার কিছু নেই।




গুইমারা ট্রাজেডির ৬ বছর, সন্ত্রাসীদের বিচার হয়নি আজও

guimara pic 16-04-2015 copy

খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি:

আজ ভয়ানক সেই ১৭ এপ্রিল। ২০১১ সালের এ দিনে ভূমি বিরোধকে কেন্দ্র করে এক শ্রেণির বহিরাগত স্বার্থান্বেষী মহল পাহাড়ি-বাঙ্গালীর সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করার প্রয়াসে শান্ত পাহাড়কে অশান্ত করে জন্ম দেয় এক কলঙ্কময় অধ্যায়ের। এদিন উপজাতীয় স্বশস্ত্র সন্ত্রাসীদের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে প্রাণ হারিয়েছে নিরপরাধ তিন বাঙ্গালী শ্রমিক। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে পাহাড়ি-বাঙ্গালী উভয় সম্প্রদায় হারিয়েছে প্রায় দু’শতাধিক ঘর-বাড়ি। উশৃঙ্খলদের দেয়া আগুনের লেলিহান শিখা পুড়ে ছাই করে দিয়েছে তাদের ঘর-বাড়িসহ স্বাভাবিক জীবনযাত্রাকে।

২০১১ সালের ১৭ এপ্রিল খাগড়াছড়ির গুইমারা উপজেলার বড়পিলাক কচু বাউন্তী এলাকায় ভূমি বিরোধকে কেন্দ্র করে উপজাতীয় স্বশস্ত্র সন্ত্রাসীরা বাঙ্গালীদের ধারলো অস্ত্র দিয়ে এলোপাথাড়ি কুপিয়ে জখম করে। এতে ঘটনাস্থলেই নিহত হয় নোয়াব আলী, আয়ুব আলী ও সুনিল চন্দ্র সরকার। আহত হয়েছিল অন্তত ৩০জন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে গুইমারা উপজেলার হাফছড়ি ইউনিয়নের উত্তর শণখোলাপাড়া ও রেয়ং মরং পাড়ায় এবং মানিকছড়ির মহামুনি কার্বারী পাড়ায় উত্তেজিত জনতা পাল্টাপাল্টি নিরহ পাহাড়ি-বাঙ্গালী উভয় সম্প্রদায়ের প্রায় শতাধিক ঘর-বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করে। আগুনের লেলিহান শিখা শুধু এসব ঘর-বাড়িকেই পুড়ে ছাই করে দেয়নি, ধ্বংস করে দিয়েছে শত শত বছরের পাহাড়ি-বাঙ্গালীর সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বন্ধনকে।

06 copy

এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে তৎকালে একদিকে হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে বিক্ষুব্ধ বাঙালীরা বিক্ষোভ মিছিল করে রাস্তায় নেমে এসে চট্রগ্রাম-ফেনী-খাগড়াছড়ি সড়ক অবরোধ করে যানবাহন ভাংচুর করে। বিভিন্ন এলাকায় পাহাড়িরাও পাল্টা প্রতিরোধ গড়ে তুলে। ফলে মানিকছড়ি ও গুইমারা উপজেলায় পাহাড়ি-বাঙালির মাঝে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পুলিশ ও নিরাপত্তাবাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে তাৎক্ষণিক ভাবে রাস্তায় নেমে আসে। পাশাপাশি মানিকছড়ি, গুইমারা ও রামগড় তিন উপজেলায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়।

প্রতক্ষ্যদর্শীরা জানিয়েছেন, যে জমি নিয়ে বিরোধের সূত্রপাত তা কাগজ-পত্রে বাঙ্গালিদের জায়গা। দীর্ঘ দিন উপজাতীয় একটি মহল বাঙ্গালীদের উচ্ছেদ করে এ জায়গা দখলের চেষ্টা চালিয়ে আসছিল। শেষ পর্যন্ত দখল করতে ব্যর্থ হয়ে তারা এ হত্যা কাণ্ড ঘটিয়েছিল। তবে যে জায়গা নিয়ে রক্তপাত হানাহানি এত কিছু ঘটে গেল, সেই জায়গায় বাঙ্গালীরা আজও যেতে পারেনি। অদ্যাবধি এর কোন সমাধান না হওয়ায় শঙ্কিত এলাকাবাসী। যে কোন সময় এ ভূমি বিরোধকে কেন্দ্র করে আবারও রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশঙ্কা রয়েছে।

08 copy

অনুসন্ধানে জানাযায়, হত্যা, লুটতরাজ, অগ্নিসংযোগের ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে পৃথক দুইটি মামলা দায়ের করে। হত্যা মামলায় ৫জনকে চিহিৃত করে অজ্ঞাত দুই/আড়াইশ উপজাতীয় সন্ত্রাসীকে আসামি করে মামলা করা হয়। মামলা নং-১, তারিখ-১৮-৪-২০১১ইং। এছাড়াও অগ্নিসংযোগ ও লুটতরাজের ঘটনায় অজ্ঞাত ১৫০ জনকে আসামি করে অপর একটি মামলা করে পুলিশ। মামালা নং-২, তাং-১৯-৪-২০১১ইং।

এ পরিস্থিতিতে পার্বত্য প্রতিমন্ত্রী দিপংকর তালুকদার, খাগড়াছড়ি সাংসদ যতীন্দ্র লাল ত্রিপুরা, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. জাহেদুল আলমসহ সরকারি-বেসরকারি সকল সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে তদন্ত পূর্বক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিয়ে ছিলেন।

এরপর তদন্ত কমিটির প্রধান অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো. সালা উদ্দিনের নেতৃত্বে অন্য দুই সদস্য অতিরিক্ত পুলিশ সুপার দেলোয়ার হোসেন সাইদী ও রামগড় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা গোপাল চন্দ্র দাসকে নিয়ে আনুষ্ঠানিক ভাবে তদন্ত কাজ শুরু করেন এবং এর রিপোর্টও জমা দেন। কিন্তু এত কিছুর পরও অদ্যাবধি এ হত্যাকাণ্ডের কোন বিচার পায়নি নিহতের পরিবারগুলো।

04 copy

এদিকে দীর্ঘ প্রায় এক বছর মামলার বাদী এসআই মঞ্জুরুল আবছার তদন্ত করার পর তদন্তকারী কর্মকর্তা বাদী হওয়ায় এসআই মুঞ্জুরুল আবছারের পরিবর্তে এসআই ঠাকুর দাস মণ্ডলকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়। দায়িত্ব প্রাপ্ত তদন্ত কর্মকর্তা ঠাকুর দাস মণ্ডল মাত্র ১৫ দিনের তদন্তে দায়সারাভাবে ১১-০৮-১২ তারিখে মামলার চূড়ান্ত চার্জসিট প্রদান করে। তার তদন্তে হত্যা মামলায় ৩১জন উপজাতি এবং অগ্নিসংযোগ ও লুটতরাজের মামলায় ২৮জন বাঙ্গালীকে চিহিৃত করে ঘটনার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগ এনে আসামি করে আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করে পুলিশ।

অগ্নিসংযোগ ও লুটতরাজের মামলায় ২৮জন বাঙ্গালী আসামি ২০১৩ সালে আদালত থেকে জামিনে মুক্তি পায়। দীর্ঘ কয়েক বছর মামলা চলার পর মামলা থেকে বেকোসর খালাস পান ২৮বাঙ্গালী আসামি। এদিকে তিন বাঙ্গালী শ্রমিক হত্যা মামলায় অভিযুক্ত ৩১জন উপজাতীয় আসামির নামে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে আদালত। গ্রেফতারি পরোয়ানা থাকার পরও অদৃশ্য কারণে আসামিরা দীর্ঘ কয়েক বছর আদালতে হাজির হয়নি। সম্প্রতি সময়ে আদালতে হাজির হয়ে জামিন চাইলে বিজ্ঞ আদালত তাদের জামিন নামুঞ্জুর করে আসামিদের জেল হাজতে পাঠান। পরবর্তীতে বিভিন্ন তারিখে জামিনে রেব হয়ে আসে আসামিরা। বর্তমানে হত্যা মামলাটি বিচারাধীন।

অন্যদিকে ৩ বাঙ্গালীকে হত্যার ঘটনায় প্রতিবাদ জানিয়ে বিচার দাবি করেন খাগড়াছড়ি জেলা বিএনপির সভাপতি সাবেক সাংসদ ও সাবেক পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান ওয়াদুদ ভূইয়া, পার্বত্য চট্টগ্রাম সম-অধিকার আন্দোলন খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা শাখার সভাপতি আবু ইউছুফ চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান মিল্লাত, পার্বত্য বাঙ্গালী ছাত্র পরিষদের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি এ্যাডভোকেট এয়াকুব আলী চৌধুরী।

07 copy

রবিবার দুপুরে পৃথক পৃথক বিবৃতিতে তারা এ দাবি জানান।

বিবৃতিতে ওয়াদুদ ভূইয়া ১৭ এপ্রিল বড়পিলাক হত্যা ট্রাজেডির ৬ষ্ঠ বার্ষিকীতে ঘটনার সাথে জড়িতদের গ্রেফতার এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে যথাযথ ক্ষতিপূরণ না দেয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন, এ ঘটনায় নিহতদের তিনটি পরিবার আজ অনাহারে-অর্ধাহারে অমানবিকভাবে জীবন যাপন করছে। অথচ সরকারের পক্ষ থেকে প্রশাসনিক কর্তারা তাৎক্ষণিক ভাবে নানান আশ্বাস দিলেও এখনো এসব বাস্তবায়ন না করায় সরকারের কঠোর সমালোচনা করে ক্ষতিগ্রস্তদের যথাযথ ক্ষতিপূরণ ও দোষীদের অভিলম্বে গ্রেফতার পূর্বক বিচারের দাবি করেন তিনি। এছাড়াও ভবিষ্যতে যেন এঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে সে জন্য সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের সবাইকে সজাগ থাকার আহ্বান জানান তিনি।

অপরদিকে পার্বত্য চট্টগ্রাম সম-অধিকার আন্দোলন খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা শাখার সভাপতি আবু ইউছুফ চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান মিল্লাত ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতার পূর্বক শাস্তি দাবি করে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে যথাযথ ক্ষতিপূরণ না দেয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

এছাড়াও পার্বত্য বাঙ্গালী ছাত্র পরিষদের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি এ্যাডভোকেট এয়াকুব আলী চৌধুরী জানান, নিহতদের পরিবারগুলো এখনো অনাহারে-অর্ধহারে দিনাতিপাত করছে। তাই দ্রুত নিহত পরিবারেরর প্রতি ক্ষতি পূরণের দাবি জানিয়েছেন তিনি।

এছাড়াও এখনো সন্ত্রাসীদের হামলায় হতাহতের কোন সুষ্ঠ বিচার না হওয়ায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে দ্রুত সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার ও অধিকার বঞ্চিত পার্বত্য বাঙ্গালীদের প্রাণ প্রিয় সংগঠন পার্বত্য বাঙ্গালী ছাত্র পরিষদ’র ৮ দফা দাবি যথাযথ বাস্তবায়নে সরকারের প্রতি জোর দাবি জানান তিনি।

অন্যদিকে পার্বত্য বাঙ্গালী ছাত্র পরিষদের কেন্দ্রীয় সিনিয়ার সহ-সভাপতি আব্দুল মাজিদ জানান, ন্যাক্কার জনক এ ঘটনার প্রতিবাদ ও সন্ত্রাসীদের গ্রেফতারের দাবিতে আমরা সরকারের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি। সংগঠনটির খাগড়াছড়ি জেলা সভাপতি লোকমান হোসেন জানান, ঘটনাস্থল বড়পিলাক এলাকায় কালো ব্যাচ ধারন ও কালো পতাকা উত্তোলন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে তৎকালে পার্বত্য বাঙ্গালী ছাত্র পরিষদসহ বিভিন্ন সংগঠন ৫দিনের কর্মসূচি গ্রহণ করেছিল। কর্মসূচির মধ্যেছিল তিন পার্বত্য জেলায় কালো ব্যাজ ধারণ ও কালো পতাকা উত্তোলন, ঘটনাস্থল বড়পিলাক ও খাগড়াছড়ি জেলা শহরের শাপলা চত্বরসহ বিভিন্ন এলাকায় কালো পতাকা উত্তোলন, প্রতিবাদ সমাবেশ, সকল মসজিদে দোয়া, গীর্জা ও মন্দিরে প্রার্থনা, খাগড়াছড়ি ও রাঙ্গামাটি জেলায় সকাল-সন্ধ্যা সড়ক পথ ও নৌপথ অবরোধ, সর্বশেষ ২৫এপ্রিল তিন পার্বত্য জেলায় বিক্ষোভ সমাবেশ ও জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীকে স্মারকলিপি প্রদান করা। এতসবের পরও প্রকৃত অপরাধীদের বিচারের কাঠগড়ায় না আনায় হতাশায় ভুগছে পাহাড়ে বসবাসরত বাঙ্গালীরা। তাদের প্রশ্ন আদৌ কি এ হত্যাকাণ্ডের বিচার পাবে নিহতদের স্বজনরা।




গুইমারা রিজিয়ন বৈশাখী মেলায় দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড়

15.04.2017_Gumara Sena MELA NEWS Pic (2)

নিজস্ব প্রতিবেদক, মাটিরাঙ্গা:

গুইমারা রিজিয়ন আয়োজিত তিন দিনব্যাপী মেলার দ্বিতীয় দিনে শনিবার মেলা মাঠে ছিল নানা গোষ্ঠি-সম্প্রদায়ের নানা বয়সী দর্শনার্থীদের উপচেপড়া ভীড়। দর্শনার্থীদের ভীড়ে মেলা মাঠ ছিল টুই-টুম্বর। বিশাল মাঠের কোথাও যেন তিল ধারনের ঠাঁই নেই। দুপুরের রৌদ্র শেষ হতে না হতেই জনস্রোত সৃষ্টি হয় মেলা মাঠ অভিমুখে। নানা গোষ্ঠি-সম্প্রদায়ের হাজারো দর্শনার্থীদের উপস্থিতিতে মিলন ক্ষেত্রে পরিনত হয় গুইমারা রিজিয়ন স্পোর্টস কমপ্লেক্স।

মেলার দ্বিতীয় দিন সন্ধ্যা ছ’টার দিকে মেলা মাঠ পরিদর্শন করেন গুইমারা রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ কামরুজ্জামান এনডিসি, পিএসসি, জি। এসময় তার সাথে ছিলেন বিজিবি’র গুইমারা সেক্টর কমান্ডার কর্ণেল জাবেদ সুলতান, মাটিরাঙ্গা জোন অধিনায়ক লে. কর্ণেল কাজী শামশের উদ্দিন পিএসসি জি, পলাশপুর জোন অধিনায়ক লে. কর্ণেল মোহাম্মদ খালিদ আহমেদ ও মানিকছড়ি উপজেলা চেয়ারম্যান ম্রাগ্য মারমাসহ পদস্থ সামরিক কর্মকর্তাগণ।

এসময় মেলার বিভিন্ন স্টল ঘুরে দেখেন ইমারা রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ কামরুজ্জামান। মেলার সার্বিক বিষয়াদি সম্পর্কেও তিনি খোঁজ-খবর নেন। এসময় মেলায় দর্শনার্থীদের ব্যাপক উপস্থিতি আর মানুষে মানুষে সম্প্রীতির মেলবন্ধন দেখে তিনি উচ্ছাস প্রকাশ করেছেন বলে পার্বত্যনিউজকে জানিয়েছেন পলাশপুর জোন অধিনায়ক লে. কর্ণেল মোহাম্মদ খালিদ আহমেদ।

15.04.2017_Gumara Sena MELA NEWS Pic (1)

এদিকে মেলার দ্বিতীয় দিন মেলা মাঠে মারমা তরুন-তরুনীদের ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। তাদের প্রানোচ্ছল উপস্থিতি যেন সম্প্রীতির বন্ধনকে সুদৃঢ় করেছে। মেলা মাঠেই কথা হয় মেলায় বান্ধবীদের সাথে ঘুরতে আসা একাধিক মারমা তরুনীর সাথে। তারা মনে করে নিরাপত্তাবাহিনী এ মেলার আয়োজন করে শুধুমাত্র বিনোদনই নয়, নতুন নতুন সংস্কৃতির সাথে এখানকার মানুষের পরিচয় ঘটিয়েছে। ঐতিহ্য তুলে ধরার পাশাপাশি নিরাপত্তাবাহিনীর এমন আয়োজন আমাদের সাংগ্রাই উৎসবকে এগিয়ে দিয়েছে। তারা ভবিষ্যতে এ মেলা তিন দিন থেকে বাড়িয়ে সাত দিন করারও দাবি করেছে।

দ্বিতীয় দিনে মেলা মাঠে গরুর গাড়ি ও ঘোড়ায় চড়তে পারা ছিল বিশেষ আকর্ষন। শিশুরা মনের আনন্দে গরুর গাড়িতে আর ঘোড়ায় চড়েছে। গরুর গাড়ি আর ঘোড়া পাশে দাঁড়িয়ে ফটোশেসন বা সেলফি তোলার প্রতিযোগিতা ছিল বিকালজুড়ে।

বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া মো. মাসুদ রানা মনে করে নাগরদোলা, সাপ-বানরের খেলা, পুতুল নাচসহ হরেক রকম আয়োজন এখানকার অনেকের কাছে নতুন। আর এ নতুনের সাথে পরিচয় ঘটিয়ে নিরাপত্তাবাহিনী দেশীয় সংস্কৃতি লালনের সুযোগ তৈরি করেছে। পাশাপাশি একই মাঠে বিভিন্ন সম্প্রদায়ে অবাধ ঘুরাফেরা আর ছবি তোলার মাধ্যমে এখানকার বৈরিতা ভুলে সাম্প্রদায়িক-সম্প্রীতির মেলবন্ধন রচিত হয়েছে। তার মতে এমন মেলার আয়োজন অব্যাহত থাকলে পাহাড়ে শান্তির পায়রা উড়বেই।

15.04.2017_Gumara Sena MELA NEWS Pic (3)

মেলার আয়োজনে গুইমারা রিজিয়ন কর্তৃপক্ষের প্রশংসা করে মানিকছড়ি উপজেলা চেয়ারম্যান ম্রাগ্য মারমা আমাদের যা করার কথা নিরাপত্তাবাহিনী তা করে আমাদেরকে দেখিয়ে দিয়েছে স্বদিচ্ছা থাকলে মানুষে মানুষে সম্প্রীতি আর ভাতৃত্ববোধ রচনা করা খুব কঠিন কিছু না। মেলায় পাহাড়ি-বাঙ্গালী জনগোষ্ঠির মিলন মেলাকে পাহাড়ের শান্তি প্রতিষ্ঠায় সহায়ক ভূমিকা রাখবে এমন প্রত্যাশা করে বলেন, আমরা পাহাড়ে বুলেটের গন্ধ নয়, শান্তির সুবাতাস পেতে চাই। তিনি বলেন, কেউ চাইলেও জোর করে কাউকে আটকে রাখা যায়না বা ভাইয়ে-ভাইয়ে সম্পর্ক ছিন্ন করা যায় না। এ মেলা এমন দৃষ্টান্ত তৈরি করেছে।

মেলাকে ঘিরে গুইমারা রিজিয়নের পাঁচ উপজেলার নানা গোষ্ঠি-সম্প্রদায়ের মানুষের মাঝে উৎসবের আমেজ সৃষ্টি হয়েছে রোববার দিনের আলো ফুরিয়ে যাবার সাথে সাথেই তিন দিনের বর্নিল উৎসবের পর্দা নামবে। সব আয়োজনের পরিসমাপ্তি ঘটবে। নিথর হয়ে পড়বে প্রানোচ্ছল গুইমারা রিজিয়ন স্পোর্টস কমপ্লেক্স মাঠ।

গুইমারা সেনা রিজিয়নের বৈশাখী মেলা আয়োজনের মধ্য দিয়ে রিজিয়নের আওতাধীন পাঁচ উপজেলা পাহাড়ি-বাঙ্গালী জনগোষ্ঠিকে এক সূতোয় বাঁধার যে আপ্রাণ চেষ্টা করেছে। এখানকার মানুষে মানুষে যে সাম্প্রদায়িক-সম্প্রীতির মেলবন্ধন রচনার চেষ্টা করেছে সেই শিক্ষাটাই বেঁচে থাকবে মানুষের হৃদয়ে। পাহাড়ি এ জনপদে পাহাড়ি-বাঙ্গালীর মধ্যে শান্তি-সম্প্রীতি ও ঐক্য আরও সুদৃঢ় করতে গুইমারা রিজিয়নের এমন উদ্যোগ ভবিষ্যতে ও অব্যাহত থাকবে এমনটাই মনে করছেন সচেতন মহল।




গুইমারা রিজিয়ন বৈশাখী উৎসবে রঙিন

17968242_1601740043188175_648712700_o copy

নিজস্ব প্রতিবেদক, মাটিরাঙ্গা :

পাহাড়ী-বাঙ্গালীসহ জনগোষ্ঠীর নারী-পুরুষ-শিশুসহ নানা বয়সী মানুষের বাঁধ ভাঙ্গা উপস্থিতিতে রঙিন হয়ে উঠছে গুইমারা সেনা রিজিয়ন আয়োজিত তিন দিনব্যাপী বৈশাখী মেলা। তিন দিনব্যাপী বৈশাখী মেলা যেন শুধুমাত্র আনন্দ-উৎসব নয় পাহাড়ি-বাঙ্গালী জনগোষ্ঠীর  ভ্রাতৃত্ববোধ সুদৃঢ় করার ময়দানে পরিনত হয়েছে। পাহাড়ি-বাঙ্গালী জনগোষ্ঠির মিলনমেলায় পরিনত হয়েছে গুইমারা রিজিয়ন স্পোর্টস কমপ্লেক্স।

গুইমারা রিজিয়ন আয়োজিত তিন দিনব্যাপী মেলার প্রথম দিনে শুক্রবার বিকালের দিকে মেলা মাঠ গুইমারা রিজিয়ন স্পোর্টস কমপ্লেক্সে গিয়ে এমন দৃশ্য চোখে পড়েছে। মানুষের উপস্থিতিই বলে দিচ্ছে মানুষে মানুষে সাম্প্রদায়িক-সম্প্রীতির সেতুবন্ধন রচনা করেছে গুইমারা রিজিয়ন স্পোর্টস কমপ্লেক্স।

শুক্রবার সকালে এক বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের হয়ে গুইমারার প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে গুইমারা রিজিয়ন স্পোর্টস কমপ্লেক্সে গিয়ে শেষ হয়। পরে গুইমারা রিজিয়ন স্পোর্টস কমপ্লেক্সে বেলুন আর শান্তির পায়রা উড়িয়ে তিন দিনব্যাপী বৈশাখী মেলার উদ্বোধন করনে গুইমারা রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ কামরুজ্জামান, এনডিসি, পিএসসি-জি।

এসময় গুইমারা রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ কামরুজ্জামান, এনডিসি, পিএসসি-জি সাংবাদিকদের বলেন, তিন দিনব্যাপী এ উৎসব রিজিয়িন এলাকার শান্তি-সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠায় জোড়ালো অবদান রাখবে। পাশাপাশি পাহাড়-বাঙ্গালীসহ সকল সম্প্রদায়ের মধ্যে ভ্রাতৃত্ববোধকে জাগ্রত করবে।

14.04.2017_Gumara Sena MELA NEWS Pic-04

এ সময় খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কংজরী চৌধুরী, বিজিবি’র গুইমারা সেক্টর কমান্ডার কর্ণেল জাবেদ সুলতান, সিন্দুকছড়ি জোন অধিনায়ক লে. কর্ণেল গোলাম ফজলে রাব্বি, মাটিরাঙ্গা জোন অধিনায়ক লে. কর্ণেল কাজী শামশের উদ্দিন পিএসসি জি, পলাশপুর জোন অধিনায়ক লে. কর্ণেল মোহাম্মদ খালিদ আহমেদ,  লক্ষ্মিছড়ি জোন অধিনায়ক লে. কর্ণেল মো. মিজানুর রহমান, বর্ডার গার্ড হাসপাতালের অধিনায়ক লে. কর্ণেল আব্দুল ওহাব, রামগড় জোন অধিনায়ক লে. কর্ণেল এম. জাহিদ রশিদ, যমিনীপাড়া জোন অধিনায়ক লে. কর্ণেল মো. মাহমুদুল হক  উপস্থিত ছিলেন।

এছাড়াও সামরিক পদস্থ সামরিক-বেসামরিক কর্মকর্তা, রিজিয়নের আওতাধীন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক-সাংবাদিক ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিগণ উপস্থিত ছিলেন।

তিন দিনব্যাপী বৈশাখী মেলা নাগরদোলা, সাপ-বানরের খেলা, পুতুল নাচসহ হরেক রকম আয়োজন রয়েছে দর্শনার্থীদের জন্য। পাশাপাশি ঐতিহ্যবাহী গ্রামীন জনপদের নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী কেনারও সুযোগ রয়েছে উৎসব মাঠে। একাধিক খাবারের দোকানও রয়েছে মেলা মাঠে। নানা বয়সীদের আনাগোনা যেন প্রাণের উচ্ছাসে মিলিত হয়েছে গুইমারা রিজিয়ন এলাকার বিভিন্ন জাতি-গোষ্ঠি মানুষ। মেলাকে ঘিরে সকলের মধ্যে লক্ষ্য করা গেছে উৎসবের আমেজ। নানা বর্ণের, নানা ঢঙে সেজে-গুজে সবাই ছুটছে মেলা প্রাঙ্গণে।

পাহাড়ের চাকমা, মারমা আর ত্রিপুরা জনগোষ্ঠি যখন স্ব-স্ব সামাজিক উৎসব নিয়ে মেতে উঠেছে তখন গুইমারা সেনা রিজিয়নের এমন উদ্যোগ রিজিয়নের আওতাধীন পাঁচ উপজেলা পাহাড়ি-বাঙ্গালী জনগোষ্ঠিকে এক সুতোয় বেঁধেছে এমনটাই মন্তব্য করেছে প্রথম দিনে মেলা মাঠে ঘুরতে সংবাদকর্মী সাগর চক্রবর্তী কমল। তার মতে উদ্যোগের অভাবে এখানকার মানুষ যখন বিনোদন থেকে পিছিয়ে তখন নিরাপত্তাবাহিনীর এমন উদ্যোগ শুধু বিনোদনই নয় সাম্প্রদায়িক-সম্প্রীতিকেও সুদৃঢ় করবে।

14.04.2017_Gumara Sena MELA NEWS Pic-03

গুইমারা রিজিয়নের সিন্ধুকছড়ি থেকে আসা পঞ্চাশোর্ধ সুইনাছা মারমা বলেন, নিরাপত্তাবাহিনী আমাদের সুখে দুঃখে শুধু পাশেই থাকেনি বরং এখানকার মানুষের ঐতিহ্যকে তুলে ধরতে যে মেলার আয়োজন করেছে তাতে আমরা খুবই খুশি। এমন আয়োজন আমাদের সাংগ্রাই উৎসবকে এগিয়ে দিয়েছে।

তিন দিনব্যাপী বৈশাখী মেলায় রিজিয়নের আওতাধীন তিনটি সেনা জোন ও বিজিবির গুইমারা সেক্টরের অধীণ পলাশপুর জোনের নান্দনিক স্টল গুলো মেলায় আগতদের দৃষ্টি আকৃষ্ট করতে সক্ষম হয়েছে। সমানভাবেই মেলায় আগত দর্শনার্থীদের দৃষ্টি আকৃষ্ট করতে সক্ষম হয়েছে অংশগ্রহণকারী অন্যান্য স্টলগুলোও।

পাহাড়ি এ জনপদে পাহাড়ি-বাঙ্গালীর মধ্যে শান্তি-সম্প্রীতি ও ঐক্য আরও সুদৃঢ় করতে গুইমারা রিজিয়ন আয়োজিত এ উৎসব চলবে আগমী রোববার পর্যন্ত এমনটাই জানিয়েছে পলাশপুর জোন অধিনায়ক লে. কর্ণেল মোহাম্মদ খালিদ আহমেদ। তিনি বলেন, উৎসবকে সকলের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে গুইমারা রিজিয়নের এমন উদ্যোগ সবসময়ই অব্যাহত থাকবে।

দিন দিনব্যাপী বৈশাখী মেলা মঞ্চে প্রতিদিনই মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন রয়েছে বলেও গুইমারা রিজিয়ন সূত্র নিশ্চিত করেছে।




বাঙালীয়ানায় বিজিবি স্টল

14.04.2017_Gumara BGB NEWS Pic-04
নিজস্ব প্রতিবেদক, মাটিরাঙ্গা :

বাঙালীর হাজার বছরের সংস্কৃতির মাঝে সার্বজনীনতা লাভ করেছে বৈশাখী উৎসব। আর সার্বজনীনতাকে হৃদয়ে ধারণ করে গুইমারা রিজিয়ন আয়োজিত তিন দিনব্যাপী বৈশাখী মেলায় নিজেদের স্টল সাজিয়েছে বর্ডার গার্ড ব্যাটালিয়ন-বিজিবি। স্টলটিতে শতভাগ বাঙালীয়ানা ফুটে উঠেছে বলে মন্তব্য করেছেন মেলা মাঠে ঘুরতে আসা অনেকেই।

জাতীয় পতাকাবাহী নৌকা আর তার পাশেই বাঙালীদের শত বছরের ঐতিহ্য গরুর গাড়ী সামনে রেখে পাহাড়ের ঐতিহ্য ছনের ঘরে ছনের ঘরে নিজেদের স্টল সাজিয়েছে বিজিবি গুইমারা সেক্টরের পক্ষে ৪০ বর্ডার গার্ড ব্যাটালিয়ন-পলাশপুর জোন। আর সে ঘরে প্রবেশ মুখেই রাখা আছে বাঙালীদের আরেক ঐতিহ্য পালকি। বিজিবির পলাশপুর জোনের জোন অধিনায়ক লে. কর্ণেল মোহাম্মদ খালিদ আহমেদ এর পরিকল্পনায় স্টলটি সাজানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিজিবির একাধিক সদস্য।

বাঁশের বেড়া আর ছনের ছাউনি ঘরে প্রবেশ করতে দেখা মেলে নান্দনিকতার ছোয়া। গোটা দশেক মুভিং ফ্যান, দামী সোফা দিয়ে দর্শনার্থীদের আপ্যায়নের বন্দোবস্ত করা হয়েছে। সম্পুর্ণ দেশীয় খাবার সম্বৃদ্ধ এ স্টলটিতে যেন বাঙালীয়ানারই গন্ধ পাওয়া গেল। এছাড়াও বাইরে একাধিক ছাতা দিয়ে বসার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

খাবারের মধ্যে রয়েছে ঘরে তৈরী নানা রঙের পিঠা, ফুসকা, চটপটিসহ নানা ধরনের শরবত। মেলায় ঘুরতে আসা দর্শনার্থীরা দেশীয় খাবারের গন্ধ পেতেই ছুটে আসছে বিজিবির স্টলে। দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভীরের মধ্যেও বিজিবির গোটা দশেক সদস্য অতিথি-আপ্যায়নে কোন রকমের বিরক্তি প্রকাশ করছেন না। স্বাচ্ছন্দেই আতিথেয়তা দিয়ে যাচ্ছেন।

ঘুরে ঘুরেই সবকিছু নিবিড়ভাবে তদারকি করছেন পলাশপুর জোনের জোন অধিনায়ক লে. কর্ণেল মোহাম্মদ খালিদ আহমেদ। ব্যস্ততার ফাঁকেই কথা প্রসঙ্গে তিনি জানান, স্টল সাজাতে আমরা শতভাগ উজাড় করে দিয়েছি। বানিজ্যিক চিন্তা থেকে নয় বরং আমাদের হাজার বছরের ঐতিহ্যকে নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরার চেষ্টা করেছি।

গুইমারা রিজিয়নের তিন দিনব্যাপী বৈশাখী মেলার আয়োজন প্রসঙ্গে পলাশপুর জোনের জোন অধিনায়ক লে. কর্ণেল মোহাম্মদ খালিদ আহমেদ বলেন, বৈশাখী উৎসবকে ছড়িয়ে দিতে এর চেয়ে ভালো উদ্যোগ আর হতে পারেনা। তিনি বলেন এটা শুধু উৎসব নয়। এ উৎসব আমাদেরকে সাম্প্রদায়িক-সম্প্রীতির শিক্ষা দেয়, আমাদের মধ্যে ভাতৃত্ববোধকে জাগ্রত করে। মানুষে মানুষে সম্পর্কের সেতুবন্ধুন তৈরী করে।




মঙ্গল শোভাযাত্রাসহ নানা আয়োজনের মধ্যদিয়ে গুইমারাতে বর্ষবরণ

17968242_1601740043188175_648712700_o copy

গুইমারা প্রতিনিধি:

বাঙালির নিজস্ব সংস্কৃতির উৎসব পহেলা বৈশাখ আর পাহাড়ে বসবাসরত উপজাতীদের প্রাণের উৎসব বৈসাবি মিলে পাহাড় জুড়ে বইছে এখন উৎসবের আমেজ। পুরনোর জীর্ণতা ও গ্লানি ভুলে পহেলা বৈশাখ নতুনকে আহ্বান করে বাঙালি। বাঙালির এ প্রাণের উৎসব নব-বর্ষকে বরণ করে নিতে গুইমারাতে মঙ্গল শোভাযাত্রা ও রবি ঠাকুরের এসো হে বৈশাখ এসো এসো … সুরের তালে তালে মেতে উঠেছে বাঙ্গালীরা।

শুক্রবার সকালে জেলার গুইমারা সেনা রিজিয়নের উদ্যোগে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের হয়ে উপজেলার প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে গুইমারা আর্মি স্টেডিয়ামে গিয়ে শেষ হয়। পরে আর্মি স্টেডিয়ামে বেলুন আর শান্তির পায়রা উড়িয়ে ৩দিনের বৈশাখী মেলার উদ্বোধন করেন রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. কামরুজ্জামান।

Capture copy

এসময় অন্যান্যের মধ্যে খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কংজরী চৌধুরী, বিজিবির গুইমারা সেক্টর কমান্ডার কর্ণেল জাবেদ সুলতান, সিন্দুকছড়ি জোন অধিনায়ক লে. কর্ণেল গোলাম ফজলে রাব্বি, মাটিরাঙ্গা জোন অধিনায়ক লে. কর্ণেল কাজি শামশের উদ্দিন, লক্ষ্মিছড়ি জোন অধিনায়ক লে. কর্ণেল মো. মিজানুর রহমান, বর্ডার গার্ড হাসপাতালের অধিনায়ক লে. কর্ণেল আব্দুল ওহাব, রামগড় জোন অধিনায়ক লে. কর্ণেল এম. জাহিদ রশিদ, পলাশপুর জোন অধিনায়ক লে. কর্ণেল মো. খালিদ আহাম্মদ ও যমিনীপাড়া জোন অধিনায়ক লে. কর্ণেল মো. মাহমুদুল হক উপস্থিত ছিলেন।

15909019_1601743093187870_51460823_o copy

সামরিক পদস্থ কর্মকর্তা ছাড়াও জনপ্রতিনিধি, রাজনীতিবিদ, সাংবাদিক ও বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরাসহ বৈশাখের রঙে রঙিন মানুষের পদভারে মুখরিত হয়ে উঠে মেলার মাঠ।

মেলায় মারমা সম্প্রদায়ের জলকেলি (পানি খেলা) উৎসবসহ নানা ধরনের খেলার আয়োজন করা হয়।