খাগড়াছড়ি-পানছড়ি সড়কে সোমবার সকাল-সন্ধ্যা সড়ক অবরোধ


নিজস্ব প্রতিবেদক, খাগড়াছড়ি:
গণতান্ত্রিক যুব ফোরামের নেতাসহ ৪ জনকে অপহরণ ও মারধর করে নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে তুলে দেয়ার প্রতিবাদে সোমবার পানছড়ি-খাগড়াছড়ি সড়কসহ পানছড়ি উপজেলায় সকাল সন্ধ্যা সড়ক অবরোধের ডাক দিয়েছে ইউপিডিএফ সমর্থিত গণতান্ত্রিক যুব ফোরাম।

রবিবার সন্ধ্যায় সংগঠনের পানছড়ি উপজেলা শাখার সভাপতি কৃপায়ন চাকমা ও সাধারণ সম্পাদক মিন্টু বিকাশ চাকমা সংবাদ মাধ্যমে প্রেরিত যুক্ত বিবৃতিতে এ সড়ক অবরোধের ডাক দেয়।

বিবৃতিতে অভিযোগ করা হয়, গত ২০ অক্টোবর পানছড়ি উপজেলায় জেএসএস এমএন লামরা দলের একাংশের কতিপয় বিপদগামী নেতাকর্মী গণতান্ত্রিক যুব ফোরাম কেন্দ্রীয় সদস্য রূপায়ন চাকমা ও পানছড়ি উপজেলা সহ-সাধারণ সম্পাদকসহ ৫জনকে অপহরণ ও অমানুষিক শারীরিক নির্যাতনের পর নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে তুলে দিয়ে সাজানো মিথ্যা মামলায় জেল হাজতে প্রেরণ করে।

বিবৃতিতে আরো অভিযোগ করে বলা হয়, শান্তিপুর অরণ্যকুটীরে কঠিন চীবর দান অনুষ্ঠানে গণতান্ত্রিক যুব ফোরামের পক্ষ থেকে প্রতি বছরের ন্যায় এবারো স্বেচ্ছাসেবক হিসাবে দায়িত্বে পালন করার জন্য প্রস্ততি নিতে যুব ফোরাম পানছড়ি শাখার সহ-সাধারণ সম্পাদক বুদ্ধিরাম ত্রিপুরা মোটরসাইকেল যোগে সদরের মিজ্জেটিলা থেকে শান্তিপুর অরণ্য কুটির যাওয়ার পথে কলেজ গেইট এলাকা থেকে অপহরণের শিকার হন। এরপর একই কায়দায় উপজেলার পাগুজ্জেছড়ি এলাকা থেকে গণতান্ত্রিক যুব ফোরামের কেন্দ্রীয় সদস্য রূপায়ন চাকমাসহ তিন জনকে অস্ত্রের মুখে অপহরণ করে নিয়ে যায়। অমানুষিক নির্যাতনের পর সন্ধ্যায় নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে তুলে দেয়। এরপর প্রশাসন অপহরণকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ না করে উল্টো ভিক্টমদের বিরুদ্ধে অস্ত্র মামলা দায়ের করে জেলহাজতে প্রেরণ করে।

বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, পার্বত্য চট্টগ্রামে জেএসএস এমএন লারমা দলের একটি চিহ্নিত বিপদগামী অংশ ’৭১-এর আল-বদর বাহিনীর ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে। এ নব্য আল-বদর বাহিনীর সদস্যরা প্রকৃত আন্দোলনকারী দলের নেতা-কর্মীদের অপহরণ করে অমানুষিক নির্যাতনের পর নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে তুলে দিচ্ছে। এ অশুভ পাক হানাদারি কৌশলের বিরুদ্ধে মুক্তিকামী জনতাকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে ও ২৩ অক্টোবর সকাল সন্ধ্যা অবরোধ সফল করার জন্য সকল যানবাহন মালিক এবং সর্ব স্তরের জনগণের প্রতি আহ্বান জানান ।

প্রসঙ্গত, গত ২০ অক্টোবর সন্ধ্যায় পানছড়ি কলেজ গেইট এলাকায় জনতা চাঁদা আদায়কালে চার ইউপিডিএফ সন্ত্রাসীকে সদস্যকে গণধোলাই দিয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে সোপর্দ করে। পরে তাদের স্বীকারোক্তিতে দুই রাউন্ড গুলি ও ম্যাগজিনসহ বিদেশী পিস্তল উদ্ধার করেছে নিরাপত্তা বাহিনী।




খাগড়াছড়িতে জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস পালিত

নিজস্ব প্রতিবেদক, খাগড়াছড়ি:

‘‘সাবধানে চালাবো গাড়ি, নিরাপদে ফিরবো বাড়ি” স্লোগানে জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস উপলক্ষ্যে খাগড়াছড়িতে শোভাযাত্রা হয়েছে।

রোববার (২২ অক্টোবার) বেলা ১০টায় খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসন ও বিআরটিএ’র আয়োজনে বিআরটিএ কার্যালয়ের সামনে থেকে শোভাযাত্রা বের হয়ে শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে।

শোভাযাত্রায় জেলা প্রশাসক মো. রাশেদুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এমএম সালাহউদ্দিন সহ প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

শোভাযাত্রা শেষে পরিবহন শ্রমিকদের নিয়ে ট্রাফিক আইন মেনে নিরাপদে গাড়ি চালানোর উপর পরামর্শ দেয়া হয়।




খাগড়াছড়িতে বিসিএস শিক্ষক সমিতির সাংবাদিক সম্মেলন

নিজস্ব প্রতিবেদক, খাগড়াছড়ি:

জাতীয়করণের লক্ষ্যে ঘোষিত বেসরকারি কলেজের শিক্ষকদের জন্য প্রশাসন মন্ত্রীর অনুশাসন, নন-ক্যাডার ও জাতীয় শিক্ষানীতি ২০১০-এর বর্ণিত নির্দেশনা অন্তর্ভুক্ত করে বিধিমালা জারির দাবি জানিয়েছেন বিসিএস সাধারণ শিক্ষা সমিতি।

রবিবার (২২ অক্টোবার) সকালে খাগড়াছড়ি প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে তারা এ দাবি জানান।

সাংবাদিক সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, বিসিএস সাধারণ শিক্ষা সমিতি সাবেক কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি ও খাগড়াছড়ি সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ মো. শাহ আলমগীর।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন, খাগড়াছড়ি সরকারি কলেজের দর্শন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক জামাল উদ্দিন, ইতিহাস বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক জহিরুল ইসলাম ও হিসাব বিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. রবিক উদ্দিন।

সাংবাদিক সম্মেলনে জাতীয়করণকৃত কলেজের শিক্ষকদের শিক্ষা ক্যাডার অবৈধ ক্যাডারভুক্তি রোধে বিসিএস সাধারণ শিক্ষা সমিতি চার দফা দাবি উত্থাপন করেন।

দাবিগুলো হচ্ছে, জাতীয় শিক্ষানীতি ২০১০-এর আলোকে জাতীয়করণকৃত কলেজের শিক্ষকবৃন্দকে নন-ক্যাডার করে তাদের চাকুরি প্রশাসনমন্ত্রীর অনুশাসন অনুযায়ী স্ব স্ব কলেজে সুনির্দিষ্ট করে আগামী ১৬ নভেম্বর-২০১৭-এর মধ্যে স্বতন্ত্র বিধিমালা জারি, জাতীয়করণের আদেশ জারির পূর্বেই বিধিমালা প্রণয়ন, সরকারি কর্মকমিশন কর্তৃক গৃহীত প্রতিযোগিতামূলক বিসিএস পরীক্ষার মাধ্যমে নিয়োগের জন্য সুপারিশ ব্যতীত অন্য কোন পথে কোন ব্যক্তিকে ক্যাডারভুক্ত না করা ও সম্প্রতি সরকারিকরণ করা ১২টি মডেল কলেজের শিক্ষকদের অনুরূপ বিধিমালায় আওতায় আনা।




খাগড়াছড়ি শহরে ইউপিডিএফ সমর্থিত পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের দুই নেতা অপহৃত


নিজস্ব প্রতিবেদক, খাগড়াছড়ি:

খাগড়াছড়ি জেলা শহরে লাইফ কেয়ার ডায়গনস্টিক সেন্টার থেকে ইউপিডিএফ সমর্থিত পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের দুই নেতা অস্ত্রের মুখে অপহৃত হয়েছে।

এরা হচ্ছে, পিসিপি খাগড়াছড়ি সদর উপজেলা শাখার সভাপতি সোহেল চাকমা ও সহ-সভাপতি জুয়েল চাকমা। দুপুর পৌনে ১টার দিকে এ অপহরনের ঘটনা ঘটে।

পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের খাগড়াছড়ি জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক অমল ত্রিপুরা এ ঘটনার জন্য জেএসএস(এমএন লারমা) -এর সন্ত্রাসীদের দায়ী করে বলেন, তাদের দুই নেতা লাইফ কেয়ার ডায়গনস্টিক সেন্টারে সন্ত্রাসীরা অস্ত্রের মুখে দুটি মোটরসাইকেলে করে তাদের অপহরণ করে দীঘিনালা সড়কের দিকে নিয়ে যায়।

খাগড়াছড়ি সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তারেক মো: আব্দুল আব্দুল হান্নান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর অপহৃতদের উদ্ধারে চেষ্টা চলছে।

প্রসঙ্গত, গত শুক্রবার রাতে খাগড়াছড়ি জেলা সদরের কমলছড়ি ইউনিয়ন পরিষদের খ্রীষ্টানপাড়ার মৃত শরত কুমার চাকমার ছেলে বাড়ির পাশের বিল থেকে ব্যাঙ ধরার সময় দুর্বৃত্তের ধারালো অস্ত্রের কুপে সমুয়েল চাকমা খুন হয়। এ হত্যাকান্ডের জন্য জেএসএস(এমএন) গ্রুপ ইউপিডিএফকে দায়ী করে।

অপর দিকে একই দিন রাতে জেলার পানছড়িতে যৌথ অভিযানে একটি বিদেশী পিস্তল,দুই রাউন্ড গুলি ও একটি ম্যাগজিনসহ চার ইউপিডিএফ কর্মী আটক হয়।

অপর দিকে রবিবার ভোর রাতে জেলার দীঘিনালায় যৌথবাহিনীর অভিযানে ইউপিডিএফ’র শীর্ষ নেতা রামেশ চাকমা তার দেহরক্ষীসহ ৬ রাউন্ড গুলি ভর্তি একটি বিদেশী পিস্তলসহ আটক হয়।




দীঘিনালায় অস্রসহ ইউপিডিএফ’র কর্মী আটক

দীঘিনালা প্রতিনিধি

দীঘিনালায় অস্রসহ ইউপিডিএফ’র দুই কর্মী আটক করেছে যৌথ বাহিনী। গত শনিবার রাত আড়াই’টার সময় পুলিশ ও সেনাবাহিনীর একটি দল উপজেলার বড়াদম এলাকার হেডম্যান পাড়া গ্রামের রুনা চাকমা বাড়ী থেকে আটক করা হয়।

আটককৃতরা হলেন ইউপিডিএফ’র জনসংযোগ শাখার প্রধান রমেশ চাকমা (৬০) সে বাঘাইছড়ি উপজেলার বাঘাইছড়ি মুখ এলাকার মৃত মঙ্গল চন্দ্র চাকমা’র ছেলে। এবং অন্যজন হলেন জনসংযোগ শাখার ব্যাক্তিগত সহকারী অমর চাকমা (৫৮)। সে দীঘিনালা উপজেলার বৌদ্ধপাড়া গ্রামের বিভূতিভূষণ চাকমা’র ছেলে।

এসময় তাদের সঙ্গে থাকা একটি ইতালির তৈরি ব্যারোটো পিস্তল এবং ছয় রাউন্ড গুলি ও তিনটি মোবাইল উদ্ধার করা হয়েছে।

খাগড়াছড়ি রিজিয়নের ষ্টাফ অফিসার মেজর মুজাহিদুল ইসলাম ঘটনারর সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

গ্রেফতারকৃতদের থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।




পানছড়িতে ইউপিডিএফ চাঁদাবাজদের গণধোলাই: অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার

নিজস্ব প্রতিবেদক, খাগড়াছড়ি::

খাগড়াছড়ির পানছড়িতে চাঁদা আদায়কালে চার ইউপিডিএফ সন্ত্রাসীকে সদস্যকে গণধোলাই দিয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে সোপর্দ করেছে জনতা। পরে তাদের স্বীকারোক্তিতে দুই রাউন্ড গুলি ও ম্যাগজিনসহ বিদেশী পিস্তল উদ্ধার করেছে নিরাপত্তা বাহিনী।

নিরাপত্তা বাহিনীর সূত্র জানায়, শুক্রবার রাতে পানছড়ি মডেল কলেজ গেইট এলাকার একটি ভবন চাঁদা আদায়কালে স্থানীয় জনগন ইউপিডিএফ’র চার চাঁদাবাজকে আটক করে গণধোলাই দেয়। খবর পেয়ে স্থানীয় নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌছে ইউপিডিএফ সন্ত্রাসীকে উদ্ধার করে।তবে এ সময় দলের পাণ্ডারা পালিয়ে যেতে সমর্থ হয়।

আটককৃতরা হচ্ছে, পানছড়ির দক্ষিণ নালা কাটার শান্তি দুলাল চাকমার ছেলে মুক্তাত্বার দেওয়ান চাকমা, একই উপজেলার বৌদ্ধরাম পাড়ার সুকুমনি চাকমার ছেলে সুমন চাকমা, বৌদ্ধরাম পাড়ার মবুক চাকমার ছেলে বিমল চাকমা ও খাগড়াছড়ি সদর উপজেলার ভাইবোন ছড়ার খেড়া কুমার ত্রিপুরার ছেলে বৌদ্ধিরাম ত্রিপুরাকে উদ্বার করে।

পরে তাদের স্বীকারোক্তিতে আজ ভোর রাতে একটি আমেরিকান পিস্তল, একটি ম্যাগজিন ও দুই রাউন্ড গুলি উদ্ধার করে।

স্থানীয় অধিবাসীরা জানায়, আটক ইউপিডিএফ সদস্যরা দীর্ঘ দিন ধরে এলাকায় ভয়ভীতি দেখিয়ে চাঁদাবাজি করে আসছিল।

পানছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো: মিজানুর রহমান জানান, আটক চার ইউপিডিএফ’র সদস্যের বিরুদ্ধে অস্ত্র মামলা হয়েছে।




খাগড়াছড়িতে জেএসএস নেতা সমায়ুন চাকমাকে কুপিয়ে হত্যা করেছে সন্ত্রাসীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক, খাগড়াছড়ি:

খাগড়াছড়িতে সমায়ুন চাকমা(৪৫) নামে জেএসএস(এমএন) গ্রুপের এক নেতাকে সন্ত্রাসীরা কুপিয়ে হত্যা করেছে।। শুক্রবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে জেলা সদরে কমলছড়ি ভুয়াছড়ির খ্রীষ্টান্ত পাড়ায়  এ ঘটনা ঘটে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছে, নিরাপত্তাবাহিনী ও পুলিশ।

খাগড়াছড়ি রিজিয়নের স্টাফ অফিসার মেজর মুজাহিদুল ইসলাম জানান, সন্ধ্যা ৭টার দিকে খ্রীষ্টান্ত পাড়ায় প্রতিপক্ষের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে সমায়ুন চাকমা নিহত হয়। নিহত সমায়ুন চাকমা জেএসএস(এমএন)গ্রুপের সদস্য ও ইউপিডিএফ’র সন্ত্রাসীরা এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।

খাগড়াছড়ি সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তারেক মো. আব্দুল হান্নান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, এলাকাটি খুবই দূর্গম।

দূর্গম হওয়ার কারণে সঠিক খবর পৌছাঁতে দেরী হয়। সেকারণে প্রথমে জানা যায় তিনি গুলিতে নিহত হয়েছেন। পরে লাশ দেখে নিশ্চিত হওয়া যায় নিতি গুলিতে নন, সন্ত্রাসীরা তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করেছে। নিহত সমায়ুন চাকমা মাথার ডান দিকে ধারালো অস্ত্রের কোপের দাগ বিদ্যমান রয়েছে।

এদিকে সর্বশেষ খবরে জানা গেছে, শনিবার সকালে লাশ থানায় পৌঁছেছে। আরো কিছুক্ষণ পরে লাশের ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হবে।




খাগড়াছড়িতে প্রেমের বিয়েতে পরিবারের আপত্তিতে প্রেমিক কারাগারে

নিজস্ব প্রতিবেদক, খাগড়াছড়ি:

খাগড়াছড়িতে প্রেমের বিয়েতে পরিবারের আপত্তিতে প্রেমিককে কারাগারে ও প্রেমিকাকে মুক্তি দিয়েছে অতিরিক্ত চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত।

বৃহস্পতিবার(১৯ অক্টোবার) বিকেলে পুলিশ যুগলকে খাগড়াছড়ির অতিরিক্ত চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আবু সুফিয়ান মো. নোমানের আদালতে হাজির করা হলে বিচারক প্রেমিকার জবানবন্দী শুনে প্রেমিকাকে মুক্তি দেয় এবং মেয়ের পরিবারের আপত্তিতে প্রেমিককে কারাগারে প্রেরণের নির্দেশ দেয়।

দীঘিনালা থানার ওসি সামসুদ্দিন ভূইয়া জানান, গত ১৩ অক্টোবর দীঘিনালা থানাধীন থানাপাড়া এলাকা থেকে সুখময় চাকমার কলেজ পড়ুয়া মেয়ে আয়না চাকমা একই উপজেলার কুমিল্লাটিলা এলাকার ফরিদ মিয়ার ছেলে আবু বক্করের সাথে পালিয়ে গিয়ে ধর্মান্তরিত হয়ে বিয়ে করে।

এঘটনায় মেয়ের বাবা বাদী হয়ে গত ১৮ অক্টোবর থানায় অপহরণ মামলা দায়ের করলে ওইদিন রাতেই চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি বিবিরহাটের জনৈক আবু ইউসুফের বাড়ি থেকে পুলিশ ওই যুগলকে আটক করে।

বৃহস্পতিবার সকালে খাগড়াছড়ি হাসপাতালে মেয়ের ডাক্তারী পরীক্ষা শেষে আদালতে হাজির করা হয়। আদালতে মেয়ে সেচ্ছায় বাড়ি ছেড়েছে এবং ধর্মান্তরিত হয়ে বিয়ে করেছে বলে স্বীকার করেছে। এর প্রেক্ষিতে আদালত মেয়েকে মুক্তি দেয় এবং ছেলেকে কারাগারে নেয়ার নির্দেশ দেয়।




খাগড়াছড়িতে ২৩১ ঘনফুট কাঠ আটক করেছে বিজিবি

নিজস্ব প্রতিবেদক, খাগড়াছড়ি:

খাগড়াছড়ির বিভিন্ন বনাঞ্চল থেকে অবৈধভাবে মজুত করা ২৩১ ঘনফুট সেগুন ও গামারী কাঠ জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের ৩২ ব্যাটলিয়ন।

বৃহস্পতিবার দুপুরে খাগড়াছড়ি সদর রেঞ্জে জব্দকৃত কাঠ হস্তান্তর করেছে ৩২ বিজিবি কর্তৃপক্ষ। এঘটনায় সংশ্লিষ্ট থানায় বিজিবি বন আইনে একটি মামলা দায়ের করেছে।

খাগড়াছড়ির ৩২ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্ণেল হাসানুজ্জামান জানান, সীমান্ত সুরক্ষার পাশাপাশি পার্বত্য চট্টগ্রামের বনাঞ্চল সংরক্ষণে বিজিবিকে দায়িত্ব দেয়ার পর থেকে বিভিন্ন সময়ে অভিযান চালানো হচ্ছে কাঠ পাচারকারী চক্রের বিরুদ্ধে। এর অংশ হিসেবে বুধবার সন্ধ্যায় বিজিবি’র সুবেদা ফিরোজ ও হাবিলদার আজাদের নেতৃত্বে খাগড়াছড়ি জেলা সদরের মধুপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে একটি স’মিলের পাশের মাঠ থেকে পরিত্যক্তাবস্থায় ১৫০ পিস সেগুন ও ২৫ পিস গামারী কাঠ জব্দ করা হয়।

খাগড়াছড়ি সদর রেঞ্জের বন কর্মকর্তা বাবু রাম চাকমা জানান, বিজিবির পক্ষ থেকে ২৩১ ঘনফুট সেগুন ও গামারী কাঠ বন বিভাগকে হস্তান্তর করা হয়েছে। যার বাজারমূল্য আনুমানিক ৩ লক্ষ টাকা।

অভিযোগ রয়েছে, প্রতিদিন সন্ধ্যা নামলে খাগড়াছড়ি শহরে অবৈধ কাঠ পাচারকারীদের তৎপরতা বেড়ে যায়। চাঁদের গাড়ি ও পিকআপে করে প্রকাশ্যে  বিভিন্ন  স’মিলে সেগুনসহ বিভিন্ন প্রজাতির মূল্যবান কাঠ নিয়ে যেতে দেখা যায়। অভিযোগ রয়েছে, খোদ বন বিভাগের কতিপয় কর্মকর্তা এ সব কাঠ পাচারের সাথে জড়িত।




মাটিরাঙ্গায় শিক্ষকের বাসায় হামলা করে সহযোগীসহ কাউন্সিলর সোহেল রানা শ্রীঘরে

পার্বত্যনিউজ রিপোর্ট :

মাটিরাঙ্গা মডেল হাই স্কুলের সিনিয়র শিক্ষক মো. হাবিবুর রহমানের বাসায় হামলা, ভাঙচুর, প্রাণনাশের হুমকি ও শ্লীলতাহানির চেষ্ঠার অভিযোগে মাটিরাঙ্গা থানায় দায়ের করা মামলায় মাটিরাঙ্গা পৌরসভার ৮নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. সোহেল রানা সহযোগীসহ শ্রীঘরে।

বুধবার দুপুরের দিকে খাগড়াছড়ির চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আবু সুফিয়ান মোহাম্মদ নোমান’র আদালতে জামিনের আবেদন করলে বিজ্ঞ আদালত জামিন নামঞ্জুর করে তাদেরকে কারাগারে প্রেরণ করে। বাদী পক্ষের আইনজীবি এ্যাডভোকেট মঞ্জুর মোর্শেদ ভুইয়া বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, আসামীগণ আদালতে হাজির হয়ে জামিন চাইলে আদালত জামিন নামঞ্জুর করে তাদেরকে জেলহাজতে প্রেরণ করে।

শিক্ষক হাবিবুর রহমান জানান, গত ১ অক্টোবর পৌরসভার কাউন্সিলর সোহেল রানা দলবল নিয়ে মুসলিমপাড়ায় তাঁর বসতবাড়িতে হামলা চালায়। ঐ সময় তিনি বাসায় ছিলেন না। তিনি অভিযোগ করেন, সোহেল রানার কাছে তাঁর মেয়েকে বিয়ে না দেয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে হামলার ঘটনা ঘটিয়েছে।

শিক্ষক হাবিবর রহমানের সহধর্মীনি তওহিদা আক্তার জানান, সোহেল রানা দীর্ঘদিন ধরে তাঁর বড় মেয়েকে উত্যক্ত করত। কয়েকবার বিয়ের প্রস্তাবও দেয়। কিন্তু তারা এতে রাজী হননি। তার অত্যাচারে পড়ালেখা বন্ধ করে মেয়েকে গত মার্চে বিয়ে দিয়ে দেন। গত ঈদে মেয়েটি বাড়িতে বেড়াতে আসে। এ খবর পেয়ে কাউন্সিলর সোহেল রানা ১ অক্টোবর দুপুরে তাদের বাসায় ঢুকে ঘরের আসবাবপত্র ভাংচুর করতে থাকে। এক পর্যায়ে মেয়েকে খুুঁজতে থাকে। এ সময় মেয়ে ঘরের একটি কক্ষে দরজা বন্ধ করে লুকিয়ে থাকে।

তিনি আরও বলেন, মেয়েকে খুঁজে না পেয়ে সোহেল রানা অশ্লীল ভাষায় গালমন্দ করে এবং তাকে মারতে তেড়ে আসে। এ সময় তাঁর আর্তচিৎকারে প্রতিবেশীরা  ছুটে আসলে কাউন্সিলর তার দলবল নিয়ে চলে যায়। এ ঘটনায় শিক্ষক হাবিবুর রহমানের স্ত্রী ফরিদা আক্তার বাদী হয়ে গত ৪ অক্টোবর মাটিরাঙ্গা থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।

জানা যায়, পৌরসভার কাউন্সিলর সোহেল রানা এক সময় বিএনপির ক্যাডার ছিল। ২০১৫ সালে মাটিরাঙ্গা পৌরসভার নির্বাচনের আগে সে আওয়ামী লীগে যোগ দেয়। আওয়ামী টিকেটে নির্বাচন করে সে ৮ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়।

স্থানীয় সূত্রগুলো জানায়, কাউন্সিলর নির্বাচিত হওয়ার পর সে আরও বেপরোয়া হয়ে উঠে। তক্ষক ও ইয়াবাসহ বিভিন্ন মাদক ব্যবসার সঙ্গে তার জড়িত থাকারও অভিযোগ রয়েছে।

প্রসঙ্গত, গত ১ অক্টোবর বিকালের দিকে কয়েকজন সঙ্গীসহ মাটিরাঙ্গা পৌরসভার কাউন্সিলর মো: সোহেল রানা মাটিরাঙ্গা মডেল হাই স্কুলের সিনিয়র শিক্ষক মো. হাবিবুর রহমানের বাসায় হামলা, ভাঙচুর চালায়। এসময় তারা ঐ শিক্ষকের অনুপুস্থিতির সুযোগে তার স্ত্রী ফরিদা আকতারকে মারতে উদ্যত হয়। এ ঘটনার পর মাটিরাঙ্গা পৌরসভার কাউন্সিলর মো: সোহেল রানা ও তার সহযোগি মো: জসিম উদ্দিনকে আসামী করে গত ৪ অক্টোবর মাটিরাঙ্গা থানায় অভিযোগ করেন শিক্ষক মো. হাবিবুর রহমানের স্ত্রী ফরিদা আকতার।