প্রবল বর্ষণে হেলে পড়েছে পানছড়ি বাজার উচ্চ বিদ্যালয়ের সীমানা প্রাচীর

BAZAR SCHOOL PIC (1) copy

নিজস্ব প্রতিবেদক, পানছড়ি:

খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলার পানছড়ি বাজার উচ্চ বিদ্যালয়ের সীমানা প্রাচীর হেলে একটি বৈদ্যুতিক খুঁটির সাথে কোন রকম আটকে আছে। যে কোন মুহুর্তে ধসে পড়ে ঘটে যেতে পারে মারাত্মক দুর্ঘটনা। এ নিয়ে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও পথচারীদের মাঝে বিরাজ করছে চরম আতঙ্ক।

সরেজমিনে দেখা যায়, গত তিন-চার দিনের প্রবল বর্ষণে পানছড়ি বাজার উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের দক্ষিণ দিকের সীমানা প্রাচীরের প্রায় একশত ফুট দেয়াল ধসে হেলে পড়েছে। তাছাড়া বড় বড় ফাটলও রয়েছে।

সকাল ১০টার দিকে বিদ্যালয় প্রধান অলি আহাম্মদ লাল ফিতার বিপদ সংকেত লাগিয়ে জায়গাটি বাঁশের খুঁটি দিয়ে ঘেরাও করে রেখেছে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে আসেন পানছড়িতে সদ্য যোগ দেয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আবুল কাশেম ও ৩নং পানছড়ি ইউপি চেয়ারম্যান মো. নাজির হোসেন।




শান্তিরক্ষা মিশনে পুলিশ উপদেষ্টা হিসেবে যোগ দিলেন দিঘীনালার আমিনুল

18142834_703895983146336_1081264807_n

প্রেস বিজ্ঞপ্তি :
দিঘীনালা সরকারী কলেজের সাবেক ছাত্র মো. আমিনুল হক জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে যোগদান করেছেন। তিনি জাতিসংঘের অধীনে পরিচালিত দক্ষিণ সুদানে শান্তিরক্ষা মিশনে পুলিশ উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।

দিঘিনালা কলেজ থেকে তিনি ২০০১ সালে বিজ্ঞান বিভাগ হতে ১ম বিভাগে উত্তীর্ণ হয়ে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে  স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রী সম্পন্ন করেন। শিক্ষা জীবন শেষে ২০০৯ সালে বাংলাদেশ পুলিশে উপ-পরিদর্শক পদে যোগদান করেন ।

পেশাগত জীবনে সাফল্যের সাথে দায়িত্ব পালন করে বর্তমানে তিনি দক্ষিণ সুদানে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে পুলিশ উপদেষ্টা হিসেবে যোগদান করেছেন।

জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশন দক্ষিণ সুদানে বর্তমানে বাংলাদেশের ৩৯ জন পুলিশ অফিসার কর্মরত আছেন। বিশ্বব্যাপী পরিচালিত শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশ পুলিশের অংশগ্রহণ বর্তমানে ২য় স্থান দখল করে আছে।

তিনি খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলার দিঘীনালা উপজেলার থানাপাড়া নিবাসী রোকেয়া বেগম ও মরহুম ইদু মিয়ার ৩য় সন্তান।




মাটিরাঙ্গায় বৃক্ষ ও বন জরিপ বিষয়ক তথ্য বিনিময় কর্মশালা

24.04.2017_Matiranga BFI News Pic

নিজস্ব প্রতিনিধি, মাটিরাঙ্গা:

দেশের বৃক্ষ সম্পদের পরিমান নিরুপন বর্তমান অবস্থা ও পরিবর্তন সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহের লক্ষ্যে খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গা অনুষ্ঠিত হয়েছে বৃক্ষ ও বন জরিপ বিষয়ক তথ্য বিনিময় কর্মশালা। সোমবার বেলা ১১টার দিকে মাটিরাঙ্গা উপজেলা পরিষদের কনফারেন্স রুমে বন বিভাগ, ফুড এন্ড এগ্রিকালচার অর্গানাইজেশন অব দি ইউনাইটেড নেশন এন্ড ইউসেইড সহযোগিতায় বন বিভাগ এ তথ্য বিনিময় কর্মশালার আয়োজন করে।

মাটিরাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী অফিসার বিএম মশিউর রহমান‘র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত তথ্য বিনিময় কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, মাটিরাঙ্গা উপজেলা চেয়ারম্যান মো. তাজুল ইসলাম তাজু। কর্মশালায় সহকারী বন সংরক্ষক মো. আনিসুর রহমান, মাটিরাঙ্গা ফরেস্ট রেঞ্জার মো. মোশাররফ হোসেন, মাটিরাঙ্গা প্রেসক্লাবের সভাপতি এমএম জাহাঙ্গীর আলম, ২০১নং ধলিয়া মৌজার হেডম্যান চাইলাপ্রু চৌধুরী  বক্তব্য রাখেন।

বৃক্ষ ও বন জরিপকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ন উল্লেখ করে বক্তারা সকলকে সহযোগিতার হাত প্রসারিত করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, প্রতিনিয়ত পাহাড়ের বন উজাড় হচ্ছে কিন্তু তা রক্ষায় সকলেই উদাসীন। চলমান জরিপ কাজ সফলভাবে সম্পন্ন করা গেলে জলবায়ু পরিবর্তন, প্রাকৃতিক সম্পদ ক্ষতিকারক, ভূমিকম্প ঝুকিপূর্ন প্রবনতা ইত্যাদি বিষয়টি পূর্ব সতর্কতামূলক ঘোষণায় কাজে লাগানো সম্ভব হবে বলেও উল্লেখ করেন বক্তারা।

বৃক্ষ ও বন জরিপ বিষয়ক তথ্য বিনিময় কর্মশালায় কয়েকজন অংশগ্রহণকারীর বক্তব্যের সূত্র ধরে সভাপতির বক্তব্যে মাটিরাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী অফিসার বিএম মশিউর রহমান বলেন, একসময় শুনতাম হুজুগে বাঙ্গালী আর এখন দেখছি হুজুগে পাহাড়ি। জরিপ শুনলেই তারা কিছু না বুঝেই বিরোধীতা শুরু করেন।

তিনি বলেন, হুজুগে দৌঁড় দিলে হবেনা। আগে বুঝতে হবে। বৃক্ষ ও বন জরিপ বর্তমান সরকারের ডিজিটাল বাংলাদেশের পথে বড় উদ্যোগ উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমাদের দেশের বৃক্ষ ও বন সম্পদের সার্বিক অবস্থান সম্পর্কে আমাদের জানার সুযোগ তৈরি করে দিবে।

দিনব্যাপী বৃক্ষ ও বন জরিপ বিষয়ক তথ্য বিনিময় কর্মশালায় বন বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, হেডম্যান-কারবারী, নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি ও সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।




মহালছড়ি উপজেলায় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মেলা উদ্বোধন করেন খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসক

IMG_20170424_143259 copy

মহালছড়ি প্রতিনিধি:

খাগড়াছড়ি জেলার মহালছড়ি উপজেলায় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সাপ্তাহ-২০১৭ উপলক্ষে দু’দিনব্যাপী মেলার উদ্বোধন করলেন খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসক মো. রাশেদুল ইসলাম। সোমবার সকাল ১০টায় তিনি মহালছড়ি মডেল পাইলট উচ্চ বিদ্যলয়ের অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত ওই মেলার উদ্বোধন করেন। বর্ণাঢ্য ও অত্যন্ত জাঁকজমক এবং উৎসব মুখরভাবে অনুষ্ঠিত  উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন, সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা বৃন্দ, জনপ্রতিনিধিবৃন্দ, সাংবাদিকবৃন্দ, গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ বিভিন্ন বিদ্যলয়ের শিক্ষক – শিক্ষার্থী বৃন্দ।

মহালছড়ি উপজেলা প্রশাসন এবং জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি যাদুঘর, আগারগাঁও ঢাকার আয়োজনে আর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে অনুষ্ঠিত ওই মেলার উদ্বোধন শেষে প্রধান অতিথি ও বিশেষ অতিথি বৃন্দ মেলায় অংশ গ্রহণকারী উপজেলার ১২টি উচ্চ বিদ্যলয়ের ছাত্র/ছাত্রীদের উদ্ভাবনী প্রকল্প ও স্টলগুলি ঘুরে ঘুরে দেখেন এবং ক্ষুদে উদ্ভাবক বিজ্ঞানীদের সাথে কথা বলেন। শেষে অডিটোরিয়ামে এক আলোচনা সভায় অতিথিবৃন্দ বক্তব্য রাখেন।

মহালছড়ি উপজেলার নবাগত উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. নাদিম সারওয়ার’র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওই সভায় প্রধান অতিথি হিসাবে বক্তব্য রাখেন, খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসক মো. রাশেদুল ইসলাম এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, উপজেলা চেয়ারম্যান বাবু বিমল কান্তি চাকমা, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান কাকলী খীসা, নবাগত উপজেলা সহকারী ভূমি কমিশনার তামান্ন নাসরীন ঊর্মি, সদর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান  রতন কুমার শীল, মহালছড়ি মডেল  উচ্চ বিদ্যলয়ের প্রধান শিক্ষক নিপুল বিকাশ খীসা ও অন্যান অতিথি বৃন্দ।

আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দর্শন বাংলাদেশ উন্নয়ন এবং ডিজিটাল বাংলাদেশ গঠন ও বিজ্ঞান সম্মত উন্নয়ন। বক্তারা আরও বলেন,  বিজ্ঞান উন্নতির স্বপ্ন দেখায় তাই প্রাত্যহিক জীবনে বিজ্ঞানকে প্রাধান্য দেওয়া দরকার তারা প্রাকৃতিক সম্পদ ব্যবহারে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি অনুসরণ করার পরামর্শ দেন, পার্বত্যাঞ্চলের উন্নয়নের বর্তমান ধারাকে বিজ্ঞানের অবদান বলে আখ্যায়িত করেন।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মেলার অনুষ্ঠানসূচী শেষ করে মহালছড়ি উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে মত বিনিময় সভায় মিলিত হন জেলা প্রশাসক। ওই মত বিনিময় সভায় সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা ও জনপ্রতিনিধিরা অংশ গ্রহণ করেন।




পানছড়িতে বজ্রপাতে একজনের মৃত্যু

BOJRAPAT PIC copy

নিজস্ব প্রতিবেদক, পানছড়ি:

খাগড়াছড়ি জেলার পানছড়ি উপজেলায় বজ্রপাতে এক গৃহবধু প্রাণ হারিয়েছে। নিহত গৃহবধু সনজিতা চাকমা(৩২) দুধুকছড়া গ্রামের নয়ন জ্যোতি চাকমার স্ত্রী।

ররিবার সন্ধ্যায় তার নিজ বাড়ির আঙিনায় এ ঘটনা ঘটে। প্রত্যন্ত দুধুকছড়া থেকে রাত সাড়ে ৯টার দিকে পানছড়ি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করে।

নিহত সনিজতা ১ ছেলে ও ১ মেয়ের জননী।




পানছড়িতে পাঠাভ্যাস কর্মসূচির মূল্যায়ন পরীক্ষায় বিজয়ীদের মাঝে পুরষ্কার বিতরণ

Bazar school Pic copy

নিজস্ব প্রতিবেদক, পানছড়ি:

জেলার পানছড়িতে পাঠাভ্যাস কর্মসূচির মূল্যায়ন পরীক্ষায় বিজয়ীদের মাঝে পুরষ্কার বিতরণ করা হয়েছে।

২৩ এপ্রিল বিশ্ব বই দিবস উপলক্ষে সেকায়েপ অন্তর্ভুক্ত মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পানছড়ি বাজার উচ্চ বিদ্যালয় গ্রহণ করে নানা আয়োজন।

বিকাল ৩টায় বিদ্যালয় মিলনায়তনে আয়োজিত পুরষ্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ৩নং পানছড়ি ইউপি চেয়ারম্যান মো. নাজির হোসেন।

বিদ্যালয় শিক্ষক সুলতান মাহামুদের সঞ্চালনায় এতে সভাপতিত্ব করেন বিদ্যালয় প্রধান অলি আহম্মেদ। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক অনুপ দত্ত তালুকদার।




খাগড়াছড়িতে বিশ্ব বই দিবস পালিত

unnamed (1) copy

নিজস্ব প্রতিবেদক,খাগড়াছড়ি:

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন ‘সেকেন্ডারি এডুকেশন কোয়ালিটি অ্যান্ড অ্যাকসেস এনহান্সমেন্ট প্রজেক্ট’এর আওতায় পাঠাভ্যাস উন্নয়ন কর্মসূচির আয়োজনে আলোচনা সভা, ও পুরষ্কার বিতরণসহ নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে খাগড়াছড়ি জেলার নয়টি  উপজেলায় বিশ্ব বই দিবস পালিত হয়েছে।

দিবসটি উপলক্ষে জেলা সদরের ভাইবোনছড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের হলরুমে এক আালোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। মিলোনিয়াম ভাইবোনছড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক বাবু তাতুমনি চাকমার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন, ৫নং ভাইবোনছড়া ইউপি চেয়ারম্যান বাবু পরিমল ত্রিপুরা।

unnamed (2) copy

বিশেষ অতিথি  ছিলেন, পাঠাভ্যাস উন্নয়ন কর্মসূচির প্রোগ্রাম অফিসার মো. শরফুল ইসলাম, ভাইবোনছড়া কলেজের সভাপতি মংশি মারমা, মিলোনিয়াম ভাইবোনছড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে সভাপতি কান্তি লাল দেওয়ান, পিটিএ সভাপতি মংশালা মারমা ও এমসি সদস্য বেলাল হোসেন।




মাটিরাঙ্গায় যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে আহত ৬

23.04.2017_Matranga Accident NEWS Pic

নিজস্ব প্রতিবেদক, মাটিরাঙ্গা:

মাটিরাঙ্গায় বরযাত্রীবাহী শান্তি পরিবহনের একটি বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পাশের জমিতে পড়ে গেলে এতে অন্তত ৬জন আহত হয়। রোববার সন্ধ্যা সাড়ে ৫টার দিকে মাটিরাঙ্গার বাইল্যাছড়ি জোড়া ব্রিজ এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

জানা গেছে, খাগড়াছড়ি থেকে বরযাত্রী নিয়ে চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে ছেড়ে আসা শান্তি পরিবহনের (ঢাকামেট্টো-ব-১৪-২৩৬৮) মাটিরাঙ্গার বাইল্যাছড়ি জোড়াব্রিজ এলাকায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পাশের জমিতে পড়ে গেলে এ দুর্ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত ৬ বরযাত্রী আহত হয়।

ঘটনার পরপরই মাটিরাঙ্গা জোনের জোনাল স্টাফ অফিসার ক্যাপ্টেন তানজিম হোসাইনের নেতৃত্বে নিরাপত্তাবাহিনীর সদস্যরা আহতদের উদ্ধার করে মাটিরাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রেরণ করে। আহতদের মধ্যে একজনকে খাগড়াছড়ি জেলা সদর হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। অন্যদের প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে ছেড়ে দেয়া হয়।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে গুইমারা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. জোবায়েরুল হক বলেন, দুর্ঘটনা কবলিত বাসটি পুলিশ হেফাজতে রয়েছে।




পানছড়ির কর্মস্থলে নতুন ইউএনও

Panchari UNO Pic copy

নিজস্ব প্রতিবেদক পানছড়ি:

খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলার পানছড়ি উপজেলায় নতুন নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে যোগ দিয়েছে মো. আবুল হাশেম। ২০ এপ্রিল তিনি দায়িত্বভার বুঝে নিয়ে রবিবার বিকেলে প্রথম পানছড়ি অফিসে পদার্পণ করে। ১৯৮৩ সালে পানছড়ি উপজেলা হিসেবে স্বীকৃতির পর তিনি ২৫ তম নির্বাহী কর্মকর্তা।

জানা যায়, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে যোগদানের পূর্বে তিনি চট্টগ্রাম জেলার পটিয়া উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা ছিলেন। কক্সবাজার জেলার মহেশখালী উপজেলার এ কৃতি সন্তান সবার সহযোগিতা নিয়ে নিজের দক্ষতা দিয়ে উপজেলার বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাবেন বলেও আশা প্রকাশ করেন।




বৃটিশ শাসনামলে নলখাগড়া ও সিমেন্টের প্রলেপে নির্মিত ১০ শয্যার দীঘিনালা হাসপাতাল এখন নিজেই রোগী

Khagrachari Pic 01 (6) copy

নিজস্ব প্রতিবেদক, খাগড়াছড়ি:

শত বছর আগে বৃটিশ শাসনামলে নলখাগড়া ও সিমেন্টের প্রলেপে টিন সেটে নির্মিত ১০শয্যার দীঘিনালা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি চিকিৎসক সংকট এবং রোগী ও চিকিৎসকদের আবাসন সংকটসহ নানা সমস্যায় এখন নিজেই অসুস্থ। হাসপাতালে পর্যাপ্ত ডাক্তার না থাকায় রোগীরা চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এক্স-রে মেশিন কক্ষবন্দি হয়ে আছে এক যুগের বেশি সময় ধরে।

হাসপাতালে পরীক্ষা-নিরীক্ষা তেমন কোন ব্যবস্থা নেই বললেই চলে। ফলে চিকিৎসার অনুকূল পরিবেশ না থাকায় পেট ব্যথার রোগীকেও ছুটতে হয় খাগড়াছড়ি সদর হাসপাতালে। জরাজীর্ণ ভবনে নেই টয়লেটের ব্যবস্থা। রোগীদের হাসপাতালের বাইরে গিয়ে টয়লেটের কাজ সারতে হয়। অথচ এ হাসপাতালের উপর নির্ভর করতে হয়  প্রায় সাড়ে ৩ লক্ষাধিক মানুষকে।

বাংলাদেশ স্বাধীনের পর বিভিন্ন সরকারের মেয়াদে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটির আধুনিকায়নে উদ্যোগ গ্রহণ করলেও ভূমি অধিগ্রহণ সমস্যার বেঁড়া জালে আটকে আছে এর কার্যক্রম। ফলে চরম দুর্ভোগে দীঘিনালা উপজেলাসহ রাঙামাটির বাঘাইছড়ি-সাজেক ও লংগদু উপজেলার তিন লক্ষাধিক বাসিন্দা।

১০শয্যার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসক থেকে শুরু করে সবকয়টি পদে শুন্য পদ বিদ্যমান। ১৪জন চিকিৎসকের অনুকূলে বর্তমানে কর্মরত আছেন ৪জন। আবাসিক চিকিৎসকের পদটিও শুন্য দীর্ঘ সময় ধরে। তত্ত্বাবধায়ক না থাকায় অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অফিস করেন যে যার ইচ্ছে মাফিক এমন অভিযোগ রয়েছে।

Khagrachari Pic 03 (2) copy

সরেজমিনে, শনিবার  সকাল ১০টায় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে দেখা যায়, ভারপ্রাপ্ত আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডাক্তার নুরুল আনোয়ার দায়িত্ব পালন করছেন। তার সাথে কাজ করছেন কয়েকজন সহকারী স্টাফ।  বাকী চিকিৎসকরা অনুপস্থিত। হাসপাতালে রোগীর চাপ থাকায় তিনি একা হিমশিম খাচ্ছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দীঘিনালা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা রেজাউর রহমান খান ছুটিতে আছেন। অন্যরা কোথায় গেছেন, বলতে পারছেন না কেউ। হাসপাতালের সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীকে সকাল ৮টার মধ্যে কর্মস্থলে উপস্থিত হওয়ার কথা।

হাসপাতালে একটি উন্নতমানের এক্স-রে মেশিনসহ অন্যান্য পরীক্ষা-নিরীক্ষার যন্ত্রপাতি দেয়া হলেও দীঘিনালা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সে সেবা পাচ্ছেন না রোগীরা। বিদ্যুৎ নেই ও লো ভোল্টেজ এমন অজুহাতে এক্সে-রে মেশিনটি প্রায় এক যুগ ধরে কক্ষ ও বক্সবন্দি হয়ে আছে। ফলে রোগিদের বেসরকারি ডায়াগনেস্টিক সেন্টারে গিয়ে এক্স-রে ও অন্যান্য পরীক্ষা নিরীক্ষা করতে হচ্ছে। এক্স-রে মেশিনের সন্ধান করতে গিয়ে দেখাগেল কক্ষে তালা ঝুলছে। কক্ষের দরজাও নষ্ট হয়ে গেছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০০৪ সালে দীঘিনালা হাসপাতালে একটি উন্নতমানের এক্স-রে মেশিন খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদ থেকে দীঘিনালা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সরবরাহ করা হয়। কিন্তু যন্ত্রটি বসানোর জায়গা না থাকার অজুহাতে প্রায় ৮ বছর বক্সবন্দি করে ফেলে রাখা হয়।

অবশেষে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নতুন কক্ষ নির্মিত হলে ২০১২ বক্সবন্দি দশা থেকে মুক্ত হয়েছে এক্স-রে যন্ত্রটিও। তবে বক্সবন্দি দশা থেকে এক্স-রে যন্ত্রটি এখন কক্ষবন্দি হয়ে আছে। ফলে ১৩ বছরেও এক্স-রে যন্ত্রটি একবারের জন্যও রোগ নির্ণয়ের কাজে লাগেনি। এটি কবে নাগাদ চালু করা হবে, তাও বলতে পারেননি স্বাস্থ্য দায়িত্বশীল কোনো কর্মকর্তা।

দীঘিনালা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান  নব কমল চাকমা জানান, ১৯২৪ সালে বৃটিশ শাসনামলে নলখাগড়া ও সিমেন্টের প্রলেপে ১০ শয্যার  দীঘিনালা কমপ্লেক্সেটি নির্মিত হয়। এ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের  উপর শুধু এ উপজেলার বাসিন্দারা নায়, পার্শ্ববর্তী রাঙামাটি জেলার সাজেক, বাঘাইহাট ও লংগদু উপজেলার মানুষও চিকিৎসা নিতে আসে।

Khagrachari Pic 02 (5) copy

তিনি আরো জানান, দীঘিনালা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি ৫০ শয্যায় উন্নতিকরণ ও প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণের দাবিতে মিছিল, মানববন্ধন ও প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্বারকলিপি প্রদান থেকে বহুমহলে দেন-দরবার করেছি। কিন্ত কোন ফল না পেয়ে দীঘিনালা বাসির মতো আমিও হতাশ। তিনি জানান, অবকাঠামোর পাশাপাশি দীঘিনালা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসক সংকট ও চিকিৎসকদের আবাসন সংকট রয়েছে। দীর্ঘ দিন ধরে হাসপাতলের এক্স-রে মেশিনটি কক্ষবন্দি হয়ে আছে।

দীঘিনালা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা রেজাউর রহমান খান মুঠোফোনে বলেন, এলাকার বিদ্যুৎ সমস্যার সমাধান না হলে এক্স-রে মেশিনটি কোনোভাবেই চালানো সম্ভব হবে না। যেখানে লো ভোল্টেজের কারণে বৈদ্যুতিক পাখাই ঘোরে না। সেখানে এক্স-রে মেশিন চলবে কি করে।

এক্স-রে কক্ষের দায়িত্বপ্রাপ্ত রেডিওলজিস্ট সোহেল চাকমা বলেন, এক্স-রে যন্ত্রটি এখন চালানোর মতো অবস্থায় রয়েছে কি না বলা মুশকিল। কারণ, যন্ত্রটি স্থাপনের পর গত একযুগে একবারের জন্য এটি চালু করা হয়নি। গত চার বছরে এক্স-রে কক্ষের দরজাও নষ্ট হয়ে গেছে। যেকোনো সময় দরজাটি ভেঙে পড়তে পারে।

দীঘিনালা প্রেস ক্লাবের সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম জানান, দীঘিনালা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি ৫০ শয্যায় উন্নতিকরণের জন্য ১৯৯৬ সালে ভূমি অধিগ্রহণ হয়েছিল। কিন্তু ক্ষতিপূরুণ না দেওয়া সহ নানা সমস্যার বেঁড়াজালে আটকে আছে এর কার্যক্রম। তাছাড়া গত প্রায় ২১ বছরে জমির মূল্যও বৃদ্ধি পেয়েছে।

দীঘিনালা হাসপাতালে চিকিৎসক সংকট প্রকট। রয়েছে চিকিৎসকদের আবাসন সংকট। পাশাপাশি বাড়তি দায়িত্ব পালন করতে চিকিৎসকরা ও মানসিকভাবে বিপর্যস্থ হচ্ছে।  হাসপাতলে জুনিয়র কন্সালটেন্ট(মেডিসিন), জুনিয়র কন্সালটেন্ট(সার্জিকেল), জুনিয়র কন্সালটেন্ট(এ্যানেস) পদগুলো দীর্ঘ দিন ধরে শূন্য রয়েছে। হাসপাতালের কর্মকর্তা-কর্মচারী পদগুলো প্রায় খালি বললে চলে।

Khagrachari Pic 04 (3) copy

দীঘিনালা হাসপাতালে ভারপ্রাপ্ত আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডাক্তার নুরুল আনোয়ার জানান, হাসপাতালে ১৪জন চিকিৎসক থাকার কথা থাকলেও মাত্র ৪জন কর্মরত আছেন। ফলে জনবহুল এলাকায় চিকিৎসা সেবা দেয়া অত্যন্ত কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে। তিনি জানান, চিকিৎসকদের আবাসনের ব্যবস্থা নেই। আবাসিক মেডিকেল অফিসারের জন্য একটি কোয়াটার থাকলেও তা ব্যবহারের অনুপোযোগী। এটি বৃষ্টি হলে ভিতরে পানি পড়ে।

খাগড়াছড়ি আসনের সংসদ সদস্য কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঐকান্তিক ইচ্ছা, প্রতিটি উপজেলায় একটি করে ৫০ শয্যার হাসপাতাল নির্মাণে। আমি এমপি হওয়ার পর থেকে দীঘিনালা হাসপাতালকে ৫০ শয্যায় উন্নতি করার জন্য বহু জায়গায় দেন-দরবার করেছি, কথা বলেছি।

কিন্তু কোথায় আটকে আছে জানা নেই। তিনি মানুষের স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঘোষণা ও ইচ্ছা বাস্তবায়নে অবিলম্বে ৫০শয্যা দীঘিনালা হাসপাতালের নির্মাণ কাজ শুরু করার দাবি জানান।খাগড়াছড়ি জেলার দীঘিনালা উপজেলাবাসীর চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে অবিলম্বে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন এমনি প্রত্যাশা এলাকাবাসীর।