রাঙামাটির দূর্গতদের হাতে ইফতারে অর্থ তুলে দিলো খাগড়াছড়ি সেনা রিজিয়ন

নিজস্ব প্রতিবেদক, খাগড়াছড়ি:

রাঙামাটিতে পাহাড় ধ্বসে হতাহতসহ দূর্গতদের হাতে ইফতার মাহফিলের অর্থ তুলে দিলো খাগড়াছড়ি সেনা রিজিয়ন। রবিবার সকালে খাগড়াছড়ি রিজিয়নের প্রতিনিধি মেজর মো. রফিকুল ইসলাম রাঙামাটির প্রাকৃতিক দুর্যোগের ক্ষতিগ্রস্ত ৮টি পরিবারের হাতে এক লাখ ৪০ হাজার টাকা তুলে দেন।

২০ জুন খাগড়াছড়ি রিজিয়নের ইফতার মাহফিল হওয়ার কথা ছিল। পার্বত্যাঞ্চলসহ বিভিন্ন জেলায় পাহাড় ধ্বসে ৫ সেনা সদস্যসহ দেড় শতাধিক মানুষের প্রাণহানি ও দূর্গত এলাকার জনগণের পাশে দাঁড়াতে পূর্বনির্ধারিত ইফতার ও দোয়া মাহফিল বাতিল করেছে খাগড়াছড়ি সেনা রিজিয়ন। রোববার খাগড়াছড়ি রিজিয়নের কমান্ডার ব্রি: জেনারেল মীর মুশফিকুর রহমান এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ তথ্য জানান।

বিজ্ঞপ্তিতে আগামী ২০ জুন খাগড়াছড়ি রিজিয়নের ইফতার অনুষ্ঠান বাতিল ঘোষণা করে এ মুর্হুতে দূর্গত এলাকার মানুষের পাশে দাঁড়ানো অধিক যুক্তিযুক্ত বলে উল্লেখ করেন।

খাগড়াছড়ি সেনা রিজিয়নের স্টাফ অফিসার(জিটুআই) মেজর মুজাহিদুল ইসলাম জানান, ইফতার ও মাহফিলে অর্থ খাগড়াছড়ি রিজিয়ন কমান্ডার ব্রি: জেনারেল মীর মুশফিকুর রহমানের সিদ্ধান্ত মতে পাহাড় ধ্বসে ক্ষতিগ্রস্তদের হাতে তুলে দিয়েছে।

একই কারণে খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদ, জেলা পুলিশ প্রশাসন, আওয়ামী লীগ ও বিএনপি তাদের পূর্বঘোষিত ইফতার ও দোয়া মাহফিল কর্মসূচি বাতিল করেন।




পানছড়ির দুস্থদের মাঝে ঈদ সামগ্রী বিতরণ

নিজস্ব প্রতিবেদক, পানছড়ি:

জেলার পানছড়ি উপজেলার দুস্থ পরিবারের মুখে হাসি ফোটাতে ঈদ সামগ্রী বিতরণ করে পার্থ ত্রিপুরা (জুয়েল)।

গত দু’দিনে পার্থ ত্রিপুরা জুয়েলের আর্থিক সহযোগিতায় উপজেলার প্রায় ১৮০ পরিবারের মাঝে ঈদ সামগ্রী পৌঁছে দেওয়া হয়।

খাগড়াছড়ি সদরের বাসিন্দা পার্থ ত্রিপুরা জুয়েলের এসব সামগ্রী বিতরণে সার্বিক সহযোগিতা দেয় পানছড়ির একঝাঁক উদীয়মান তরুণ। পানছড়ি ইসলামিয়া সিনিয়র মাদ্রাসা এলাকায় প্রতিবন্ধী শাহানা ও আবদুল হামিদের হাতে ঈদ সামগ্রী বিতরণ কালে খাগড়াছড়ি জেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নয়ন বড়ুয়া, পানছড়ি উপজেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. জালাল হোসেন, বাসু দেব, রাহুল বৈদ্য, কবির সহ অনেকে জানায়, পার্থ ত্রিপুরা জুয়েলের অর্থায়নে এসব সামগ্রী বিতরণ করা হচ্ছে।

আগামীতেও এ ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকবে বলে তারা জানায়।

পানছড়ি উপজেলা কৃষকলীগ সভাপতি মো. নজরুল ইসলাম মোমিন জানায়, পার্থ ত্রিপুরা জুয়েলের আর্থিক সহযোগিতায় ঈদ সামগ্রী যারা প্রাপ্য সঠিক তালিকার মাধ্যমে তাদের হাতেই তুলে দেয়া হয়েছে।




খাগড়াছড়ির সাম্প্রদায়িক-সম্প্রীতির বন্ধনকে আরও সুদৃঢ় করার আহ্বান জানালেন কংজরী চৌধুরী

নিজস্ব প্রতিবেদক, মাটিরাঙ্গা:

হৃদয়ে অসাম্প্রদায়িক চেতনা ধারন করে সকল সম্প্রদায়ের মানুষের অংশ গ্রহণে হিন্দু-মুসলমানসহ প্রতিটি ধর্মের উৎসব গুলো সম্প্রীতির মহা পরিচয় বহন করে উল্লেখ করে খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কংজরী চৌধুরী বলেছেন, ঈদের আনন্দ যেমন সবাই ভাগ করে নেয়, তেমনি পুজোৎসবও সব ধর্মের লোকজন ভাগাভাগি করে নেয়।

খাগড়াছড়ি জেলাকে সাম্প্রদায়িক-সম্প্রীতির জনপদ উল্লেখ করে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রয়েছে বলেই সরকারের উন্নয়ন তরান্বিত হচ্ছে। আগামীতেও সবসময় খাগড়াছড়ির সাম্প্রদায়িক-সম্প্রীতির বন্ধনকে আরো সুদৃঢ় ও অটুট রাখার আহ্বান জানান কংজরী চৌধুরী।

রোববার বিকাল সাড়ে তিনটায় মাটিরাঙ্গা কেন্দ্রীয় শ্রী শ্রী জগন্নাথ মন্দিরে ভগবান জগন্নাথ দেবের রথযাত্রার উদ্বোধনকালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মাটিরাঙ্গা কেন্দ্রীয় সার্বজনীন শ্রী শ্রী জগন্নাথ মন্দির পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও মাটিরাঙ্গা সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হিরনজয় ত্রিপুরার সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মাটিরাঙ্গা পৌরসভার মেয়র মো. শামছুল হক বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন।

বাংলাদেশ ত্রিপুরা কল্যান সংসদের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি মনিন্দ্র কিশোর ত্রিপুরা, মাটিরাঙ্গা ডিগ্রি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ প্রশান্ত কুমার ত্রিপুরা, মাটিরাঙ্গা উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম-আহ্বায়ক সুবাস চাকমা, মাটিরাঙ্গা সদর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মিলন কান্তি ত্রিপুরা, মাটিরাঙ্গা কেন্দ্রীয় রক্ষাকালী মন্দিরের সভাপতি বাবুল আইচ ও সাধারণ সম্পাদক স্বপন কান্তি পালসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সনাতন সম্প্রদায়ের জগন্নাথ ভক্তবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

পরে তিনি জগন্নাথ দেবের হাজারো ভক্তদের সাথে নিয়ে রথ টেনে ভগবান শ্রী শ্রী জগন্নাথ দেবের রথযাত্রার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।




খাগড়াছড়ির ঈদ জামাতের সময়সূচি

নিজস্ব প্রতিবেদক, খাগড়াছড়ি:

খাগড়াছড়ি জেলার প্রধান ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হবে ঈদের দিন সকাল সাড়ে ৮টায় কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানে। একই স্থানে সকাল ৯টায় দ্বিতীয় জামাত অনুষ্ঠিত হবে। তবে প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে ঈদের দু’টি জামাত কেন্দ্রীয় শাহী জামে মসজিদে আদায়ের বিকল্প ব্যবস্থাও রয়েছে।

এছাড়া জেলা সদরের কালেক্টরেট জামে মসজিদে সকাল ৯টায়, সদর উপজেলা পরিষদ মসজিদে সকাল ৮টা ১৫ মিনিটে, নতুন পুলিশ লাইন্স জামে মসজিদে সকাল ৮টায়, পুরাতন পুলিশ লাইন্স জামে মসজিদে সকাল ৮টা ৪৫ মিনিটে, হাসপাতাল জামে মসজিদে সকাল ৮টা ৪৫ মিনিট, খেজুরবাগান জামে মসজিদে ৮টা ৪৫ মিনিট, এপিবিএন জামে মসজিদে ৮টা ৪৫ মিনিট, বায়তুন নূর জামে মসজিদে সকাল ৮টা ৪৫ মিনিট, শান্তিনগর জামে মসজিদে সকাল ৮টা ৪৫ মিনিট, শালবন জামে মসজিদে সকাল ৯টা, কুমিল্লাটিলা জামে মসজিদে সকাল ৯টা, বাস টার্মিনাল জামে মসজিদে সকাল ৯টা, কুমিল্লাটিলা আমবাগান জামে মসজিদে সকাল ৯টা, ইসলামপুর জামে মসজিদে সকাল ৯টা ১৫ মিনিট, পূর্ব ইসলামপুর জামে মসজিদে সকাল ৯টা ও গারাঙ্গিয়া কমপ্লেক্সে সকাল ৮টা ৪৫ মিনিটে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হবে বলে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

জেলা সদরের পাশাপাশি প্রতিটি উপজেলায় একাধিক ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হবে।




প্রাক্তন ছাত্র পরিষদের উদ্যোগে ইফতার ও পূনর্মিলনী

গুইমারা প্রতিনিধি:

খাগড়াছড়ির গুইমারা ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসার প্রাক্তন ছাত্র পরিষদের উদ্যোগে ইফতার মাহফিল ও পূনর্মিলনী অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রাক্তন ছাত্রপরিষদের সভাপতি দ্বীন ইসলামের সভাপতিত্বে শনিবার মাদ্রাসার হলরুমে অনুষ্ঠিত ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সংগঠণটির উপদেষ্টা মণ্ডলির সভাপতি মাওলানা জয়নুল আবদিন।

এসময় তিনি বলেন, প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই প্রাক্তন ছাত্র পরিষদ সংগঠণটি অসহায় ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছে। ভবিষ্যতেও অসহায় মেধাবী শিক্ষার্থীদের কল্যাণে প্রাক্তন ছাত্রপরিষদের নেতৃবৃন্দদের আরো ব্যাপকভাবে কাজ চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে প্রাক্তন ছাত্র পরিষদের বিভিন্ন কর্মকাণ্ড তুলে ধরে বক্তব্য রাখেন সংগঠণটির সাংগঠনিক সম্পাদক আবু বকর ছিদ্দিক।

এসময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মাদ্রাসা পিটিএ কমিটির সভাপতি কাজী মফিজুল ইসলাম, উপদেষ্টা মাওলানা খোরশেদ আলম প্রমুখ।

এছাড়া সংগঠণের সাধারণ সম্পাদক ইউসুফ পাটোয়ারি, সহ-সাধারণ সম্পাদক নুরুজ্জামান,  প্রচার সম্পাদক নুরুননবী উপস্থিত ছিলেন। ইফতার পূর্ব দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনায় বিশেষ মোনাজাত করা হয়।




বর্তমান সরকারের আমলে সনাতন ধর্মালম্বীরা স্বাচ্ছন্দে নিজ নিজ ধর্মীয় উৎসব পালন করছে: কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা

নিজস্ব প্রতিবেদক, মাটিরাঙ্গা:

খাগড়াছড়ির সংসদ সদস্য কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা বলেছেন, জগন্নাথ দেবের আদর্শ থেকে শিক্ষা নিয়ে সনাতনী সম্প্রদায়ের লোকজন আরো ঐক্যবদ্ধভাবে তাদের নিজ নিজ ধর্ম পালন করবে।বর্তমান সরকারের নানা উন্নয়নমুখী কর্মকাণ্ড বাস্তবায়নের ফলে সনাতন ধর্মালম্বীরা স্বাচ্ছন্দে নিজ নিজ ধর্মীয় উৎসব পালন করতে আরো উৎসাহিত হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ধর্ম যার যার উৎসব সবার বর্তমান সরকার এটা প্রমান করেছে।

তিনি রোববার বেলা ১১টার দিকে মাটিরাঙ্গা কেন্দ্রীয় শ্রী শ্রী জগন্নাথ মন্দিরে ভগবান জগন্নাথ দেবের রথযাত্রা উপলক্ষ্যে আলোচনা সভা ও পুজোৎসবের উদ্বোধনকালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

মাটিরাঙ্গা কেন্দ্রীয় শ্রী শ্রী জগন্নাথ মন্দির পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও মাটিরাঙ্গা সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হিরনজয় ত্রিপুরার সভাপতিত্বে আলোচনা সভা ও পুজোৎসবের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মাটিরাঙ্গা জোন অধিনায়ক লে. কর্ণেল কাজী শামশের উদ্দিন পিএসসি ও মাটিরাঙ্গা পৌরসভার মেয়র মো. শামছুল হক বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন।

জাতি গোষ্ঠির মধ্যে ঐক্যের বন্ধন সৃষ্টি করার আহ্বান জানিয়ে কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা এমপি বলেছেন, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে সরকারের পাশাপাশি জনগণকেও সহযোগিতার মনোভাব নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে।  তবেই মন্দিরসহ সব ধর্মীয় উপাসনালয়ের কাঙ্খিত উন্নয়ন সম্পন্ন হবে। তিনি জঙ্গীবাদ ও সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে জনমত তৈরিসহ নিরাপত্তাবাহিনী ও পুলিশকে সহযোগিতা করারও আহ্বান জানান।

বাংলাদেশ ত্রিপুরা কল্যান সংসদের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি মনিন্দ্র কিশোর ত্রিপুরা, মাটিরাঙ্গা ডিগ্রি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ প্রশান্ত কুমার ত্রিপুরা, মাটিরাঙ্গা উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম-আহ্বায়ক সুবাস চাকমা, মাটিরাঙ্গা পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. হারুন অর রশীদ ফরাজী, মাটিরাঙ্গা সদর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মিলন কান্তি ত্রিপুরা, মাটিরাঙ্গা কেন্দ্রীয় রক্ষাকালী মন্দিরের সভাপতি বাবুল আইচ ও সাধারণ সম্পাদক স্বপন কান্তি পালসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সনাতন সম্প্রদায়ের জগন্নাথ ভক্তবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা এমপি মঙ্গল প্রদীপ প্রজ্জ্বলন করে ভগবান জগন্নাথ দেবের রথযাত্রা উপলক্ষ্যে পুজোৎসবের উদ্বোধন করেন।




মাটিরাঙ্গায় বিএনপি নেতা নজরুল ইসলামের পরিবারের মাঝে তারেক রহমানের ঈদ উপহার

নিজস্ব প্রতিবেদক, মাটিরাঙ্গা:

বিগত পৌরসভা নির্বাচন চলাকালীন দুর্বৃত্তের হামলায় নিহত বিএনপি নেতা মো. নজরুল ইসলাম (রঙ মিয়া) পরিবারের মাঝে বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান’র পাঠানো ঈদ উপহার প্রদান করা হয়েছে। শনিবার (২৫ জুন) বিকালের দিকে তারেক রহমানের পক্ষ থেকে নিহতের পরিবারের হাতে ঈদ সামগ্রী পৌঁছে দেন মাটিরাঙ্গা উপজেলা বিএনপি’র নেতৃবৃন্দ।

একই সময়ে বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ঈদ শুভেচ্ছা কার্ড তুলে দেয়া হয় নিহত বিএনপি নেতা মো. নজরুল ইসলামের স্ত্রীর হাতে। এসময় আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন মো. নজরুল ইসলামের বিধাব স্ত্রী।

এসময় মাটিরাঙ্গা উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান নাছির আহাম্মদ চৌধুরী, মাটিরাঙ্গা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. বদিউল আলম, মাটিরাঙ্গা পৌরসভা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. বাদশা মিয়া, খাগড়াছড়ি জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মো. ইব্রাহিম খলিল, মাটিরাঙ্গা উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক জিয়াউর রহমান, মাটিরাঙ্গা পৌর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. শাহজালাল কাজল, উপজেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মো. ফোরকান ইমামী ও ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মো. লাতু মিয়া লিডার সহ বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদল নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

এসময় খাগড়াছড়ি জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মো. ইব্রাহিম খলিল বলেন, খাগড়াছড়ি জেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য ওয়াদুদ ভুইয়ার নেতৃত্বে বিএনপির নেতাকর্মীরা দুঃসময়ে আপনাদের পাশে আছে। সুসময়ে বিএনপি নিহত নজরল ইসলামের পরিবারের দায়িত্ব নেবে ওয়াদুদ ভুইয়ার এমন প্রতিশ্রুতির কথা জানিয়ে তিনি বলেন, নিহত নজরল ইসলামের হত্যার যথাযথ বিচার হবে। প্রকৃত হত্যাকারীদের বিচারের আওতায় আনা হবে।

প্রসঙ্গত, ২০১৫ সালের ২২ ডিসেম্বর খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গা পৌরসভা নির্বাচন চলাকালীন রাত পৌনে ৮টার দিকে মাটিরাঙ্গা পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ইসলামপুর এলাকায় মাটিরাঙ্গা উপজেলা কৃষকদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি মো. নজরুল ইসলাম (রঙ মিয়া) কে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা।




খাগড়াছড়ির পর্যটন খাতে প্রাকৃতিক দূর্যোগের প্রভাব, হোটেল-মোটেলের আগাম বুকিং বাতিল

নিজস্ব প্রতিবেদক, খাগড়াছড়ি:

খাগড়াছড়ির পর্যটন খাতে এ বছর ভয়াবহ পাহাড় ধ্বস ও প্রাকৃতিক দূর্যোগের প্রভাব পড়েছে। বিগত কয়েকবছর ধরে বাংলাদেশের অন্যতম পর্যটন কেন্দ্র খাগড়াছড়ি ও সাজেকের প্রকৃতির অপার সৌন্দর্যের লীলাভূমি বিভিন্ন পর্যটন কেন্দ্র দেখতে দেশ বিদেশের হাজারো পর্যটক খাগড়াছড়িতে আসতে আগ্রহী হলেও এবছর মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন। অজানা শঙ্কার কারণ দেখিয়ে বিভিন্ন হোটেল মোটেলের অগ্রীম বুকিং বাতিল হয়েছে। এতে করে কোটি টাকার অর্থনৈতিক ক্ষতির সম্মুখীন হতে পারেন বলে আশঙ্কা করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

খাগড়াছড়ি হোটেল মোটেল ও পরিবহন সংশ্লিষ্টদের সূত্রমতে, খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলায় হোটেল মোটেল মিলিয়ে ৫০-৬০ এবং সাজেকে নিরাপত্তাবাহিনী, এনজিও ও ব্যক্তি মালিকাধীন শতাধিক হোটেল, গেস্ট হাউজ ও কটেজ রয়েছে। সাজেকসহ খাগড়াছড়ির অন্যান্য পর্যটন কেন্দ্রে যাতায়াত করে এমন পরিবহনের সংখ্যা কয়েকশত। পাশাপাশি স্থানীয় ও দূরপাল্লার যানবাহন তো আছেই।

খাগড়াছড়ির একটি বেসরকারি হোটেলের ব্যবস্থাপক স্বপন দেবনাথ জানান, প্রতিবছরের মতো এবছরও ১০ রমজানের পর থেকে অগ্রীম বুকিং শুরু হয় আমাদের হোটেলে। কিন্তু পাহাড় ধ্বসের ঘটনার পর থেকে অর্ধেকের বেশি বুকিং বাতিল হয়ে গেছে। এছাড়া পুরো মাস টানা বর্ষণের কারণে আশানুরূপ পর্যটক ছিল না।

 

আরেক হোটেলের সত্ত্বাধিকারী এস অন্তত ত্রিপুরা জানান, ঈদের ৫ দিন আগ থেকে ঈদ পরবর্তী ৫দিন পর্যন্ত হোটেলের সব রুম বুক ছিল। কিন্তু গত কয়েক দিনের সব রুম বাতিল হয়ে গেছে।  এবারও পর্যটকদের মনে ভয় থাকায় বিরাট অঙ্কের ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করছেন তিনি।

খাগড়াছড়ি-ঢাকা সড়কে চলাচলকারী একটি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত বাসের ব্যবস্থাপক মো. বাবলু জানান, পার্বত্য চট্টগ্রামে প্রাকৃতিক দূর্যোগের খবর পাওয়ার পর ঈদের দিনসহ পরবর্তী ৩দিনের প্রায় বেশ কিছু আসা যাওয়ার টিকেট বাতিল করেছেন যাত্রীরা।

খাগড়াছড়ি পর্যটর মোটেলের বানিজ্যিক কর্মকর্তা ক্যচিং মারমা জানান, এবার ঈদে কোন পর্যটক মোটেলে উঠছেন না। যারা আগাম রুম বুকিং দিয়েছিলেন, তারাও বুকিং বাতিল করেছে।

খাগড়াছড়ির পর্যটন খাতকে বিকাশিত করতে স্থানীয় প্রশাসনের আন্তরিকতা কামনা করেছেন সংশ্লিষ্টরা। পুলিশ সুপার আলী আহমদ খান জানান, প্রতিবারের মতো পুলিশের পক্ষ থেকে পর্যটক ও ঈদ উদযাপনকারীদের নিরাপত্তা দিতে প্রস্তুতি রয়েছে। পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে নিয়মিত ফোর্সের পাশাপাশি পেট্রলিং বাড়ানো হবে এবং পুরো জেলাকে নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে দেয়া হবে বলে জানান।

খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কংজরী চৌধুরী জানান, পাহাড়ে প্রাকৃতিক দুর্যোগে ব্যপক প্রাণহানিতে দেশের ভ্রমন প্রিয় মানুষগুলোও শোকাহত। পাশাপাশি মনে আতঙ্কেও রয়েছে। ফলে এবার খাগড়াছড়িতে পর্যটকরা আসছেন না।

তিনি বলেন, পর্যটক না আসায় খাগড়াছড়ির অর্থনীতিতে দারুন প্রভাব ফেলবে।




শাড়ি হাতে পেয়ে ঈদের আনন্দ লাগছে

sdr

দীঘিনালা প্রতিনিধি:

শাড়িটা হাতে পেয়ে ঈদের আনন্দ লাগছে। ভাবছিলাম পুরাতন কাপড় পড়েই ঈদ করতে হবে। কিন্তু নিরাপত্তাবাহিনী নুতন কাপড় দিয়েছে। এখন নতুন কাপড় পড়ে ঈদ করতে পারবো।

শনিবার দীঘিনালা উপজেলার কবাখালী আল আমিন বারিয়া এবতেদায়ী মাদ্রাসা মাঠে যাকাতের নতুন শাড়ি হাতে পেয়ে এসব কথা বলেন, দীঘিনালা উপজেলার উত্তর কবাখালী এলাকা ছামেনা বেগম(৭৩)।

যাকাতের কাপড় বিতরণ অনুষ্ঠানে ৩নম্বর কবাখালী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. জাহাঙ্গীর হোসেন এর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে হতদরিদ্রদের মাঝে এসব কাপড় তুলে দেন, দীঘিনালা জোন অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্ণেল ফেরদৌস  জিয়াউদ্দীন মাহমুদ।

এছাড়া একই সময়ে ১নম্বর মেরুং ইউনিয়ন পরিষদে যাকাতের কাপড় বিতরণ করা হয়। ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. রহমান কবির রতন এর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে যাকাতের কাপড় তুলে দেন, দীঘিনালা জোনের উপ-অধিনায়ক মেজর সাব্বির আহমেদ। এসময় দুই ইউনিয়নের হতদরিদ্রদের মাঝে ১শত চল্লিশটি শাড়ি, ১শত লু্ঙ্গি এবং ১শত শার্টপিস বিতরণ করা হয়।

 




পানছড়িতে গৃহবধূর মৃত্যু নিয়ে ধূম্রজাল, আদালতে হত্যা মামলা দায়ের


নিজস্ব প্রতিবেদক, খাগড়াছড়ি:

খাগড়াছড়ির পানছড়িতে এক গৃহবধূর মৃত্যু নিয়ে ধূম্রজাল সৃষ্টি হয়েছে। নিহতের স্বামী বলছে আত্মহত্যা। আর তার স্বজনরা বলছে পরিকল্পিত হত্যাকান্ড।

ওই গৃহবধূর নাম স্বপ্না হাজারী (৪০)। সে চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার জোরারগঞ্জ ইউনিয়নের দেওয়ানপুর গ্রামের মৃত নির্মল বণিকের মেয়ে ও খাগড়াছড়ি জেলার পানছড়ি উপজেলার পানছড়ি বাজারের যোগেশ হাজারীর ছেলে গোপাল হাজারীর স্ত্রী।

গত ১ জুন রাত ১১টায় ওই গৃহবধূর লাশ উদ্ধার করে পানছড়ি থানা পুলিশ। নিহতের গলার দুই পাশে ধারালো অস্ত্রের কাটা দাগ ছিল। পরে ৭ জুন নিহতের ভাই মেকু বণিক বাদি হয়ে গোপাল হাজারী, ছবি ধরসহ ৫ জনকে আসামী করে খাগড়াছড়ি আদালতে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

আদালতে দায়েরকৃত মামলার বিবরণ ও স্বপ্না হাজারীর ভাই মেকু বণিকের অভিযোগ, গত ১ জুন গভীর রাতে তার ছোট বোনের স্বামী গোপাল হাজারী তাদেরকে ফোন করে বলেন তার বোন স্বপ্না আত্মহত্যা করেছে। খবর পেয়ে পরের দিন ভোরে পরিবার পরিজন নিয়ে পানছড়িতে ছুটে যান তারা। গিয়ে জানতে পারেন তার বোনকে পানছড়ি উপজেলা কমপ্লেক্সে রাখা হয়েছে। হাসপাতালে গিয়ে দেখতে পান তার ছোট বোনের গলার দুই পাশ কাটা।

পরে তিনি পানছিড় থানায় মামলা দায়ের করতে গেলে পুলিশ ও গোপাল হাজারীর লোকজন তাকে মামলা দায়ের করতে দেয়নি। এসময় তাদেরকে প্রায় ২ ঘন্টা আটকিয়ে রাখা হয়। তার বোনকে মাতাল স্বামী গোপাল হাজারী ও তার প্রেমিকা ছবিসহ সঙ্গবদ্ধ মাতালদল খুন করেছে বলে তিনি দাবি করেন।

তিনি আরো অভিযোগ করেন, প্রায় ৩ মাস আগে গোপাল হাজারী স্বপরিবারের সাজেকে ঘুরতে যায়। ওখানে উপস্থিত হন গোপাল হাজারীর প্রেমিকা বিধবা ছবি ধর। পরে গোপাল বণিক ও ছবি ধরের অনৈতিক কর্মকান্ড তার বোন স্বপ্না হাজারী দেখে ফেলে। এর পরে সে লোক লজ্জার ভয়ে বাবার বাড়িতে চলে আসে।

হত্যাকান্ডের তিন দিন আগে তার বোনকে নিজ বাড়িতে নিয়ে যায় গোপাল হাজারী। ঘটনার দিন গোপাল হাজারী, ছবি ধর, বিপ্লব পাল, সুজল ধর, মনতোষ পাল বাড়িতে মদের আসর বসান। এসময় তার বোন বাধা দিলে তাকে লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে আহত করে। পরে একটি ধারালো সাবাল দিয়ে তার গলার বিভিন্ন অংশ কেটে ফেলে।

২১ বছর ধরে বিভিন্ন নির্যাতন সহ্য করে ছেলে-মেয়ের দিকে তাকিয়ে স্বপ্না স্বামীর সংসার করে আসছে। গোপাল হাজারী প্রায় রাতে মদ খেয়ে স্বপ্নাকে মারধর করতো।

পানছড়ি থানা পুলিশ মামলা না নেয়ায় তিনি বাধ্য হয়ে খাগড়াছড়ি আদালতে ৫ জনকে আসামী করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

নিহতের বোনের ছেলে জীবন বণিক জানান, ঘটনার ৩ দিন আগে স্বপ্না তার বাবার বাড়ি থেকে শ্বশুড় বাড়িতে যান। কিন্তু এই কয়েক দিনের মধ্যে এমন কি ঘটেছে যে তার মাসি আত্মহত্যা করেছে? তার মাসিকে পরিকল্পীতভাবে হত্যা করা হয়েছে। তিনি হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেফতার ও উপযুক্ত শাস্তি দাবি করেন।

তিনি আরো বলেন, থানা পুলিশকে ঘুষ দিয়ে হত্যাকে আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। এছাড়া তাদেরকে ওই দিন পানছড়িতে আটকিয়ে রাখা হয়েছে। পরে স্বপ্নার বড় ভাইয়ের কাছ থেকে জোর করে পুলিশ কাগজে স্বাক্ষর নিয়ে ছেড়ে দেয়।

গৃহবধূর স্বপ্না হাজারীর মৃত্যু নিয়ে গত ২ জুন পানছড়ি থানা অফিসার ইনচার্জ আ. জব্বারের সাথে এ প্রতিবেদকের কথা হয়েছিল। ঐদিন তিনি ঘটনাটি আত্মহত্যা দাবী করে জানান, লাশ ময়না তদন্তের জন্য খাগড়াছড়ি সদর হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। এ ব্যাপারে নিহতের বড় ভাই তপন বনিক অত্র থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করেছেন।