আদিবাসীরাও মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করে ছিলেন: মাউসাং মারমা

রোয়াংছড়ি প্রতিনিধি:

রোয়াংছড়ি উপজেলায় মহিলা ফোরাম সভানেত্রী ও উপজেলায় পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মাউসাং মারমা বলেন পূর্বে থেকে আদিবাসীরা ছিল বলেই ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশগ্রহণ করতে পেরেছে। আজ আমরা গর্ববোধ করে বলতে পারি, কেন আদিবাসী বলে পরিচয় দিতে পারব না?  আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস হিসেবে জাতিসংঘ ঘোষণাপত্রের এক দশক পুর্ণ হয়েছে। তা আমরা আদিবাসী অধিকার বিষয়ক জাতিসংঘ ঘোষণা বাস্তবায়ন চাই। রোয়াংছড়ি উপজেলায় আদিবাসী ফোরাম কর্তৃক আয়োজিত আদিবাসী দিবস উপলক্ষ্যে নানা আয়োজনের মধ্যদিয়ে প্রথমে রোয়াংছড়ি কেন্দ্রীয় বৌদ্ধ বিহারের সংলগ্ন প্রাঙ্গন থেকে বর্ণাঢ্য র‌্যালি বের হয়ে প্রধান সড়কগুলো প্রদক্ষিণ করে একই স্থানে এসে মিলিত হয়ে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

বুধবার সকাল সাড়ে ৯টায় অনুষ্ঠিত আদিবাসী দিবস কর্মসূচি পালন অনুষ্ঠানে ৩৪৯নং ঘেরাউ মৌজ হেডম্যান শৈসাঅং মারমা সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রোয়াংছড়ি উপজেলা পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মাউসাং মারমা।

বিশেষ অতিথি হিসিবে উপস্থিত ছিলেন ভাইস চেয়ারম্যান ক্যসাইনু মারমা, রোয়াংছড়ি সদর ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান অংশৈমং মারমা,আলেক্ষ্যং ইউপির চেয়ারম্যান বিশ্বনাথ তঞ্চঙ্গ্যা,আলেক্ষ্যং ইউপির ৯নং ওয়ার্ডে মেম্বার ভারতসেন তঞ্চঙ্গ্যা এবং প্রধান আলোচক হিসেবে ছিলেন বান্দরবান জেলা প্রথম আলো সাংবাদিক বুদ্ধজ্যোতি চাকমা।

 




‘‘শান্তি বাহিনীর হাতিয়ার, গর্জে উঠুক আরেকবার” শ্লোগানের মধ্য দিয়ে লামায় আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস উদযাপন

লামা প্রতিনিধি:

“শান্তি বাহিনীর হাতিয়ার, গর্জে উঠুক আরেকবার” শ্লোগানের মধ্য দিয়ে লামায় আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস পালিত হয়েছে। আদিবাসী দিবসের কর্মসূচি উদ্যাপন উপলক্ষে র‌্যালি ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

আদিবাসী অধিকার বিষয়ক জাতিসংঘ ঘোষণা পত্রের একাদশ” আদিবাসী অধিকার বিষয়ক জাতিসংঘ ঘোষণার বাস্তবায়ন চাই স্লোগানের মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস উদযাপন কমিটির উদ্যোগে কর্মসূচি পালিত হয়েছে। লামা বাজারে র‌্যালি শেষে পালিটুল মাঠ প্রাঙ্গনে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

উদযাপন কমিটির সভাপতি ছাহ্লাখই মার্মার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশের ওয়াকার্স পাটির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও মুক্তিযুদ্ধা চকরিয়া ইউনিট কমান্ডার কমরেট হাজী বশিরুল আলম। বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ ওয়াকার্স পাটির বান্দরবান জেলার সমন্বয়ক আবুল কালাম আজাদ।

বিশেষ অতিথি ছিলেন ত্রিপুরা কল্যাণ সংসদ লামা উপজেলা সভাপতি ইলিশা ত্রিপুরা। হিল উইম্যান্স ফেডারেশন লামা উপজেলা সম্পাদিকা উসাংপ্রু মার্মা। ম্রো যুবনেতা চম্পট ম্রো। বক্তব্য রাখেন পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ মাতামুহুরী কলেজ শাখার সভাপতি সত্যপ্রিয় চাকমা। ত্রিপুরা স্টুডেন্টস ফোরাম লামা উপজেলা সেক্রেটারি বিরেন্দ্র ত্রিপুরা।

বক্তৃতায় বিরেন্দ্র ত্রিপুরা বলেন, পাহাড়িদের মাতৃভাষা বাংলা নয়। নিজ নিজ গোষ্ঠীর ভাষাই আমাদের মাতৃভাষা। সুতারাং আমাদেরকে মাতৃভাষার পরিচয় বাংলা দেওয়া ঠিক হবে না।

সভায় বক্তরা বাংলাদেশ সরকারকে রাষ্ট্রীয়ভাবে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীদের আদিবাসী স্বীকৃতি প্রদানের দাবি জানান এবং রাষ্ট্রীয়ভাবে আদিবাসী দিবস পালনের দাবি জানান।




লড়াই সংগ্রাম করে আদিবাসীরা তাদের অধিকার প্রতিষ্ঠিত করবে: উষাতন তালুকদার

রাঙ্গামাটি প্রতিনিধি:

সরকার আদিবাসীদের আত্মপরিচয় ও জাতীয়তা লাভের অধিকারকে সর্ম্পূণভাবে উপেক্ষা ও অবজ্ঞা করতে শুরু করেছে। লড়াই সংগ্রাম করে আদিবাসীরা তাদের অধিকার প্রতিষ্ঠিত করবে। বুধবার সকালে রাঙ্গামাটি পৌরসভা প্রাঙ্গনে অনুষ্ঠিত আদিবাসী অধিকার বিষয়ক জাতিসংঘ ঘোষণার বাস্তবায়ন চাই এই দাবিকে সামনে রেখে ‘আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস’ পালন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য উষাতন তালুকদার এমপি এসব কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে পার্বত্য অঞ্চলের আদিবাসী ফোরামের সভাপতি প্রকৃতি রঞ্জন চাকমা এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানের উদ্বোধক ছিলেন, জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সদস্য বাঞ্ছিতা চাকমা। বক্তব্য রাখেন পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক কমিটির সভাপতি গৌতম দেওয়ান, এমএন লারমা ফাউন্ডেশনের সভাপতি বিজয় কেতন চাকমা প্রমূখ।

উষাতন তালুকদার আরো বলেন, আদিবাসীরা ধ্বংস হওয়ার জন্য জম্ম গ্রহণ করেনি। বর্তমান সরকারই আদিবাসীদের আত্মপরিচয় ও জাতীয়তা লাভের অধিকারকেও সর্ম্পূণভাবে উপেক্ষা ও অবজ্ঞা করতে শুরু করেছে। পার্বত্য চট্টগ্রামের আদিবাসী জুম্মদের উপজাতি, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী ইত্যাদি আখ্যা দিয়ে পার্বত্য চট্টগ্রামে এমনকি বাংলাদেশে আদিবাসী নেই বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, আদিবাসীদের অস্তিত্ব অস্বীকার করে রাষ্ট্রের গনতন্ত্র, শান্তি, সম্প্রীতি ও উন্নয়নের ধারা বজায় রাখা সম্ভব নয়। তাই সরকারকে অবিলম্বে আদিবাসীদের যথাযথভাবে সাংবিধানিক স্বীকৃতিসহ আদিবাসী অধিকার বিষয়ক জাতিসংঘ ঘোষণাপত্র বাস্তবায়নে এগিয়ে আসার আহ্বান করেন তিনি।

আদিবাসী দিবস উপলক্ষ্যে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে পৌর সভা প্রাঙ্গন থেকে এক বর্ণাঢ্য র‌্যালি বের হয়ে রাঙ্গামাটি শিল্পকলা একাডেমি প্রাঙ্গনে গিয়ে শেষ হয়।




বাংলাদেশে গনমুখী শাসন ব্যবস্থা কায়েম না হলে ক্ষুদ্র জাতিসত্তার ও বাঙালি কোন নারীরাই নিরাপদ নয়

নিজস্ব প্রতিনিধি:

বাংলাদেশে গনমুখী শাসন ব্যবস্থা কায়েম না হলে ক্ষুদ্র জাতিসত্তার ও বাঙালি কোন নারীরাই নিরাপদ নয় বলে মন্তব্য করেছেন জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমা।

রবিবার বিকাল ৩টায় দি ডেইলি স্টার ভবনের আজিমুর রহমান কনফারেন্স হলে ‘টেকসই উন্নয়ন এজেন্ডা ও বাংলাদেশের আদিবাসী নারীর অধিকার’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।

তিনি আরও বলেন, বাঙালি নারীদের চেয়ে ক্ষুদ্র জাতিসত্তার নারীরা জাতিগতভাবে অধিক নিপীড়নের শিকার। বৈষম্যমূলক এ সমাজে ক্ষুদ্র জাতিসত্তার নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠা কঠিন ব্যপার।

বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের সাধারণ সম্পাদক সঞ্জীব দ্রং এর সঞ্চলনায় ফাল্গুনী ত্রিপুরা আলোচনা সভার মূল প্রবন্ধ পাঠ করেন এবং স্বাগত বক্তব্য দেন কাপেং ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক পল্লব চাকমা।

বাংলাদেশ আদিবাসী নারী নেটওর্য়াক, কাপেং ফাউন্ডেশন ও বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরাম এর আয়োজনে টেকসই উন্নয়ন এজেন্ডা ও বাংলাদেশের আদিবাসী নারীর অধিকার’ শীর্ষক আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য রাখেন, চাকমা সার্কেলের রানী য়েন য়েন, ব্লাস্টের নির্বাহী পরিচালক ব্যারিস্টার সারা হোসেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম আর্ন্তজাতিক কমিশনের সদস্য ও নিজেরা করি’র সম্বন্বয়কারী খুশি কবির এবং সিটিজেন প্লাটফর্ম ফর এসডিজি বাংলাদেশ এর আহ্বায়ক ও সিপিডি’র সম্মানিত ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য।

ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, বহুত্ববাদকে পিছনে ফেলে বাংলাদেশের সমাজব্যবস্থা আজ একমূখী হতে চলেছে। টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রায় আদিবাসীদের অন্তর্ভূক্তিকরণ অনেকটাই বিন্দুর মাঝে সিন্ধু খোঁজার মত। আদিবাসীদের সঠিক উন্নয়ন করতে হলে প্রথমে অদৃশ্য আদিবাসীদের দৃশ্যমান করতে হবে। আদিবাসীদের জন্য তাই পৃথক আদমশুমারীর ব্যবস্থা সরকারকে করতে হবে। আদিবাসীদের নাগরিক অধিকার তাহলেই নিশ্চিত হবে এবং সঠিক তথ্য উপাত্ত নিয়ে উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড সরকারি এবং বেসরকারি পর্যায়ে করা সুষ্ঠভাবে সম্পাদন করা যাবে।

খুশি কবির বলেন, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার সারকথা, কাউকে পিছনে ফেলে নয়। বাংলাদেশের সরকার এখানে ‘কাউকে’ এ বাক্যের সুনিদিষ্ট জনগণকে এখনো খুঁজে পাচ্ছেন না। সরকার আদিবাসীদের আদিবাসী হিসেবে স্বীকৃতি দিতে অস্বীকার করছেন যেখানে সে জায়গায় আদিবাসী নারীরা স্বাভাবিকভাবেই চরম মানবাধিকার লঙ্ঘনের শিকার হন। টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রায় আদিবাসী নারীদের অন্তর্ভুক্তির জন্য সরকারের সদিচ্ছার প্রয়োজন।

ব্যরিস্টার সারা হোসেন বলেন, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন থাকলেও তার যথাযথ প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন হচ্ছে না। দূর্গম পাহাড়ী এলাকার নারীরা প্রতিকূল পরিবেশ এবং ভাষাগত কারণে ভিকটিম সার্পোট সেন্টার বা আইন সহায়তা কেন্দ্রগুলোর সাহায্য নিতে পারছে না। ‘কাউকে পিছনে ফেলে নয়’ এ শ্লোগান তখনই সার্থক হবে যখন বাংলাদেশ এগিয়ে যাওয়ার সাথে সাথে ক্ষুদ্র জাতিসত্তার মানুষও সামনে এগিয়ে যাবে।

রানী ইয়েন ইয়েন বলেন, সরকারি পরিকল্পনা পত্রের মধ্যে আদিবাসী নারীদের অন্তর্ভুক্তি করা না হলে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার অনবদ্য বিষয়টি বাদ থেকে যাবে। মূলত: আদিবাসীদের গোষ্ঠীগত অধিকার নিশ্চিত করা না হলে আদিবাসীদের মানবাধিকার কখনও নিশ্চিত করা যাবে না। সরকারের ৬ষ্ঠ পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার মত সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনাও শুধু কাগজের পাতায় পড়ে থাকলে উন্নয়ন হবে না। সরকারের সদিচ্ছা প্রয়োজন পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়নের জন্য সেই সাথে পার্বত্য শান্তিচুক্তির বিষয়টিও সরকারের আমলে নেওয়া উচিত।




খাগড়াছড়ি জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে দায়ের করা মিথ্যা মামলার প্রতিবাদে মাটিরাঙ্গায় বিক্ষোভ সমাবেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক, মাটিরাঙ্গা:

খাগড়াছড়ি জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক জহির উদ্দিন ফিরোজের বিরুদ্ধে দায়ের করা মিথ্যা মামলার প্রতিবাদে মাটিরাঙ্গায় বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে মাটিরাঙ্গা পৌর ছাত্রলীগ।

শনিবার বিকালের দিকে মাটিরাঙ্গাস্থ দলীয় কার্যালয়ের সামনে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তারা বলেন, পরিচ্ছন্ন ছাত্রনেতা জহির উদ্দিন ফিরোজের জনপ্রিয়তায় ইর্ষান্বিত হয়ে মহল বিশেষের ইন্ধনে তার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। অবিলম্বে মিথ্যা ও উদ্দ্যেশ্য প্রনোদিত মামলা প্রত্যাহার করা না হলে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা সব ষড়যন্ত্রের সময়োচিত জবাব দেবে।

মাটিরাঙ্গা পৌর ছাত্রলীগের সভাপতি মো. সাইফুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভ সমাবেশে খাগড়াছড়ি জেলা ছাত্রলীগের সদস্য নয়ন, মাটিরাঙ্গা পৌর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মো. তছলিম উদ্দীন রুবেল প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

এর আগে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবীতে বিক্ষোভ মিছিলটি দলীয় কার্যালয় থেকে শুরু হয়ে পুনরায় দলীয় কার্যালয়ের সামনে গিয়ে শেষ হয়।




আরটিভির ক্যাম্পাস স্টারের রানার আপ পাহাড়ের মেয়ে দৃষ্টি চাকমা


পার্বত্যনিউজ ডেস্ক :

আরটিভি-ডাবর ভাটিকা ক্যাম্পাস স্টারের চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন স্ট্যামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবরিনা নওরীন। প্রথম ও দ্বিতীয় রানার আপ হয়েছেন যথাক্রমে বুয়েটের দৃষ্টি চাকমা ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাকিনা ইসলাম ঈশিকা।

এছাড়া, বেস্ট স্মাইল জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের মৌ, বেস্ট হেয়ার রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আসমাউল হুসনা তাওলী ও বেস্ট স্কিন নির্বাচিত হন এআইইউবি শ্রাবন্তী অধিকারী।

রাজধানীর তেজগাঁওয়ে অবস্থিত বেঙ্গল মাল্টিমিডিয়া স্টুডিওতে শুক্রবার সন্ধ্যায় একই সাথে নাচ, গান ও অভিনয়ে পারদর্শী ছাত্রীদের মধ্য থেকে সেরা ছয়জনকে নিয়ে গ্র্যান্ড ফিনালে অনুষ্ঠিত হয়।
এই ট্যালেন্ট হান্ট প্রতিযোগিতায় দেশের ১৫টি সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীরা অংশগ্রহণ করেন। চ্যাম্পিয়ন পুরস্কার হিসেবে এক লক্ষ টাকা ও ভাটিকার পরবর্তী বিজ্ঞাপনে মডেল হিসেবে কাজ করার সুযোগ পাচ্ছেন।

প্রতিযোগিতায় জুরি হিসেবে ছিলেন সংগীতশিল্পী কনা, অভিনেতা সজল ও নিপুণ। এছাড়া গ্র্যান্ডফিনালেতে বিশেষ অতিথি বিচারক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তানিয়া আহমেদ, বাপ্পা মজুমদার ও তামান্না রহমান।

অনুষ্ঠানে ডাবর বাংলাদেশের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক জনাব সঞ্জয় মুনশী, বিপণন প্রধান জনাব মো. আসিফুর রউফ ও ব্র্যান্ড ম্যানেজার জনাব মো. শরিফুল ইসলাম (তুষার)-সহ অনেকে। এছাড়া নাট্যজন রামেন্দু মজুমদার, আরটিভির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ আশিক রহমান, অনুষ্ঠান প্রধান দেওয়ান শামসুর রকিব ও বিপণন প্রধান সুদেব ঘোষ-সহ অন্যান্য কর্মকর্তাগণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, পুরস্কার প্রদানের আগে সংগীতশিল্পী এসআই টুটুল, তারিন, পড়শী ও আইরিনের অংশগ্রহণে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়। দৃষ্টি চাকমা, বুয়েটের স্থাপত্য বিদ্যায় পঞ্চম বর্ষে অধ্যয়নরত রয়েছেন। অভিনয়ে পারদর্শীতার প্রতিযোগিতা সেখানে সম্পূর্ণ নিজের মেধায় শীর্ষ ৬ এ উঠে এসেছে। আরটিভি-ডাবর ভাটিকা ক্যাম্পাস স্টারের প্রথম রানার আপ হয়েছেন তিনি।




উপজাতি এবং বাঙ্গালীদের মধ্যে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করার অপচেষ্টা চালিয়েছিল

রাঙামাটি প্রতিনিধি:

গত ২ রা জুন যারা এ ধরনের সহিংস ঘটনার মাধ্যমে এখানকার উপজাতি এবং বাঙ্গালীদের মধ্যে বিরাজমান সৌহার্দ্য মূলক সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করার অপচেষ্টা চালিয়েছিল তাদেরকে আইনের আওতায় নিয়ে এনে শাস্তি প্রদানে সরকারের উচ্চ পর্যায়ের পক্ষ থেকে কঠোর পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে বলে মন্তব্য করেন রাঙ্গামাটির জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মানজারুল মান্নান। বুধবার দুপুরে ত্রাণ বিতরণকালে  তিনি এসব কথা বলেন।

এসময় লংগদু উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মোহাম্মদ তোফাজ্জল হোসেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, মোসাদ্দেক মেহেদী ইমাম, রাঙ্গামাটি জেলা পরিষদ সদস্য জানে আলম, ৭নং লংগদু ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান কুলিন মিত্র চাকমাসহ অন্যান্য ইউপি পরিষদ চেয়ারম্যান ও সদস্য, উপজেলা ত্রাণ কর্মকর্তাসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, হেডম্যান, কার্বারীগণ এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

এছাড়া লংগদু উপজেলায় সহিংসতায় সৃষ্ট অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ২১৩টি পাহাড়ি পরিবারের লোকজনদের মাঝে সরকারি ত্রাণ হিসাবে পরিবার প্রতি ৩০ কেজি করে খাদ্য শষ্য, ২ বান্ডিল ঢেউটিন, ৬ হাজার করে গৃহ নির্মাণ অনুদান এবং ২টি করে কম্বল বিতরণ করেন।

জেলা প্রশাসক মানজারুল মান্নান বলেন, লংগদু উপজেলার বিভিন্ন পাহাড়ি গ্রামে সংঘটিত সহিংস ঘটনা এবং অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত পাহাড়ি লোকজনদের সরকারি প্রতিশ্রুত পূর্ণবাসন কর্মকাণ্ড শুরু হয়েছে এবং একই সাথে নুরুল ইসলাম নয়নের হত্যাকারীদের বিরুদ্ধেও আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। এ সহিংস ঘটনার পরপরই প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে সরকারের একাধিক মন্ত্রী এবং উচ্চ পর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তাগণ লংগদুর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন এবং ক্ষতিগ্রস্ত প্রত্যেক পরিবারকে সরকারি সহায়তায় যথাযথ পূর্ণবাসনের জন্য উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। ভবিষ্যতে কেউ যাতে এ ধরনের সংঘাতময় পরিস্থিতির সৃষ্টি করতে না পারে সে বিষয়ে তিনি পাহাড়ি ও বাঙ্গালী সকলকে সজাগ থাকার আহ্বান জানান।

উল্লেখ্য, গত ২ জুন স্থানীয় যুবলীগ নেতা নুরুল ইসলাম নয়নের হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে একদল উচ্ছৃঙ্খল লোকজন লংগদু উপজেলার তিনটিলা, মানিক্যাছড়া, বাইট্টা পাড়ার পাহাড়ি এলাকায় অগ্নিসংযোগের সহিংস ঘটনা ঘটায়। এতে দুই শতাধিক বসতবাড়ি ও দোকান পাট ভস্মীভূত হয়।

ঘটনার সুষ্ঠু কারণ উদঘাটনের লক্ষ্যে মন্ত্রী পরিষদ বিভাগ চট্টগ্রামের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনারের নেতৃত্বে ৫ সদস্যের একটি তদন্ত দল গঠন করে এবং তদন্ত কার্যক্রম সম্পন্ন করে।

সহিংস ঘটনার পর স্বাস্থমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী বীর বাহাদুর ঊশৈসিং, সাবেক পার্বত্য প্রতিমন্ত্রী দীপংকর তালুকদার, সংসদ সদস্য ফিরোজা বেগম চিনুসহ ১৪ দলের কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি দল একাধিকবার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।




থানচিতে অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্তদের ঢেউটিন, নগদ টাকা বিতরণ

থানচি প্রতিনিধি:

থানচিতে ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রনালয়ের বরাদ্ধে অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্তদের ঢেউটিন ও নগদ টাকা বিতরণ করা হয়েছে।

২৪ জুন (শনিবার) উপজেলার তিন্দু ইউনিয়নের অংথোয়াইপ্রু কারবারী পাড়ায় এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ২০ উপজাতির বাড়িঘর ভষ্মীভুত হয়। তাদের ক্ষতির পরিমান নির্ণয়ের পর উপজেলা প্রশাসন হতে ত্রাণ সমাগ্রী বিতরণ করেন। অগ্নিকাণ্ডের ৭ম দিনে শুক্রবার বিকাল ৪টায় জনসেবা কেন্দ্রে  ( গোলঘর) ক্ষতিগ্রস্ত ২০ পরিবারকে ১ বান করে ২০ বান ঢেউ টিন, ৩ হাজার টাকা করে নগদ ৬০ হাজার টাকা বিতরণ  করা হয়।

বিতরণের সময়  উপজেলা  চেয়ারম্যান  উ,ক্যহ্লাচিং মারমা, বান্দরবান জেলা পরিষদের সদস্য ও আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক থোয়াইহ্লামং মারমা, শ্রমিক লীগের সাবেক সভাপতি রতন মারমা, অংথোয়াইপ্রু পাড়ার প্রধান নিথোয়াইউ কারবারী উপস্থিত ছিলেন,

সাংবাদিকদের  উপজেলা চেয়ারম্যান  ক্যহ্লাচিং মারমা বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ও স্থানীয় সাংসদ বীর বাহাদুরের সার্বক ব্যবস্থাপনায় ত্রাণ সমাগ্রী বিতরণ করা হয়েছে ।




সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে আলীকদমে মুরং ছাত্রাবাস উদ্বোধন

Alicodom pic-2.6.2017

নিজস্ব প্রতিবেদক, বান্দরবান
বান্দরবানের আলীকদমে মুরং কল্যাণ ছাত্রাবাসের তৃতীয় তলার উদ্বোধন করা হয়েছে। বাংলাদেশ সেনা বাহিনীর তত্ত্বাবধানে নির্মিত তৃতীয় তলা ভবনটির উদ্বোধন করেন বান্দরবান রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মুহাম্মদ যুবায়ের সালেহীন। এসময় আলীকদম জোন কমান্ডারসহ সামরিক ও বে-সামরিক ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

প্রসঙ্গত, ২০১২ সালে অবহেলিত মুরং সম্প্রদায়ের শিক্ষার জন্য মুরং কল্যাণ ছাত্রাবাস সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে স্থাপিত হয়। পরবর্তীতে ২০১৫ সালে মুরং কমপে¬ক্সটির দ্বিতীয় তলা নির্মাণ করা হয়। এই ছাত্রাবাসে মুরং ছাত্র-ছাত্রীরা এসএসসি পর্যন্ত বিনা বেতনে পড়ালেখা ও থাকা-খাওয়ার সুবিধা লাভ করে থাকে। বর্তমানে ৭৭ জন মুরং ছাত্র এবং ৪০ জন মুরং ছাত্রী এই কমপে¬ক্সে অবস্থান করছে। সেনাবাহিনী ছাড়াও সাধারণ জনগণ এই ‘আলীকদম মুরং কল্যাণ ছাত্রাবাস’ এ অনুদান প্রদান করে এর পরিচালনায় অবদান রাখছে।




মারমা সম্প্রদায়ের ভাষা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে সমুন্নত রাখতে হবে- কংজরী চৌধুরী

26.05.2017_Matiranga Marma NEWS Pic (1)
নিজস্ব প্রতিবেদক, মাটিরাঙ্গা :

মারমা সম্প্রদায়ের ভাষা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে সমুন্নত রাখতে সকলকে দ্বিধাবিভক্তি ভুলে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহবান জানিয়ে খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কংজরী চৌধুরী বলেছেন, সংস্কৃতি হচ্ছে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির সেতুবন্ধন আর এই সংস্কৃতিকে বাঁচিয়ে রাখা আমাদের দায়িত্ব। নিজেদের উন্নতি চাইলে অসাম্প্রদায়িক মনোভাব নিয়ে সকলকে একসাথে কাজ করতে হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

শুক্রবার সন্ধ্যায় মাটিরাঙ্গা উপজেলা মারমা উন্নয়ন সংসদ আয়োজিত ‘সাংগ্রাই পুনর্মিলনী ও সাংস্কৃতিক’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মাটিরাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী অফিসার বি.এম মশিউর রহমান, মাটিরাঙ্গা পৌরসভার মেয়র ও মাটিরাঙ্গা উপজেলা আওয়ামীলীগের আহবায়ক মো. শামছুল হক এবং বাংলাদেশ মারমা উন্নয়ন সংসদের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারন সম্পাদক সাথোয়াই মারমা বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন। মাটিরাঙ্গা উপজেলা মারমা উন্নয়ন সংসদের সভাপতি চাইলপ্রু চৌধুরী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন।

অন্যান্য সম্প্রদায়ের তুলনায় মারমা সম্প্রদায়ের লোকজন শিক্ষা ক্ষেত্রে পিছিয়ে আছে উল্লেখ করে খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কংজরী চৌধুরী বলেন প্রজন্ম রক্ষায় শিক্ষিত জাতি হিসেবে নিজেদেরকে সমাজের জায়গা তৈরী করে নিতে হবে। যার যার সন্তানকে সুশিক্ষায় শিক্ষিত করে তুলতে অভিভাবকদের দায়িত্বশীল হওয়ার আহবান জানান তিনি। এসময় তিনি বেকার যুবকদের আত্মকর্মী হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে মাটিরাঙ্গা উপজেলা মারমা উন্নয়ন সংসদে দীর্ঘমেয়াদী কম্পিউটার ও সেলাই প্রশিক্ষন কর্মসুচী চালুর ঘোষনা দেন।

অনুষ্ঠানে মাটিরাঙ্গা উপজেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম-আহবায়ক সুবাস চাকমা, মাটিরাঙ্গা সদর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান হিরনজয় ত্রিপুরা, মারমা উন্নয়ন সংসদ নেতা আতুশী মারমা ও মাটিরাঙ্গা উপজেলা মারমা উন্নয়ন সংসদের সাধারন সম্পাদক সদুঅং মারমা প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

পরে অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কংজরী চৌধুরীসহ আমন্ত্রিত অতিথিগণ মারমা সম্প্রদায়ের বিভিন্ন শিল্পীদের পরিবেশনায় এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপভোগ করেন।