বাঙ্গালহালিয়ায় মারমাদের সাংগ্রাই উপলক্ষে জল উৎসব

20170420_130623 copy

রাজস্থলী প্রতিনিধি:

রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলার রাজস্থলী উপজেলার বাঙ্গালহালিয়া উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে বৃহস্পতিবার পার্বত্য চট্টগ্রামের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী মারমা সম্প্রদায়ের সাংগ্রাই উপলক্ষে এক উল উৎসব ও মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। সাংগ্রাই জল উৎসব ১৪২৪ উপলক্ষে এক আলোচনা সভা সাংগ্রাই জল উৎসব উদযাপন পরিষদের সভাপতি ৩২০নং কাকড়াছড়ি মৌজার হেডম্যান মংসিং চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন, রাজস্থলী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান উথিনসিন মারমা। অনুষ্ঠানের উদ্বোধক ছিলেন, রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য চাঁনমনি তঞ্চঙ্গ্যা। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন, রাজস্থলী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি উবাচ মারমা, সাধারণ সম্পাদক পুচিমং মারমা, ৩নং বাঙ্গালহালিয়া ইউপি চেয়ারম্যান ঞোমং মারমা, সাবেক রাইখালী ইউপি চেয়ারম্যান মংক্য মারমা ও ৩৩৩নং সংসদীয় আসনের মহিলা এমপি প্রতিনিধি  লংবতি ত্রিপুরাসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে আগত হাজার হাজার দর্শক শ্রোতাবৃন্দ।

অনুষ্ঠানের শুরুতেই যুবক যুবতীদের পক্ষ থেকে অতিথিদের ফুল দিয়ে বরণ করে নেওয়া হয়। এরপর মংসিং চৌধুরী হেডম্যানের সভাপতিত্বে এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি বলেন, পুরাতন বছরকে গ্লানি দিয়ে নতুন বছরকে বরণ করার উদ্দেশ্য হলো মারমা সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী জল উৎসব। এ পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তি, শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার বদ্ধ পরিকর। কিছু অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী পার্বত্য রাজস্থলীতে নিরীহ খেটে খাওয়া মানুষের উপর অস্ত্রদিয়ে জিম্মি করে ফলে এ পার্বত্য রাজস্থলীতে অশান্তি বিরাজ করছে।

তিনি আরও বলেন, তারা পদে পদে চাঁদাবাজি, গুম, হত্যা ও নিরীহ জনগণকে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে চাঁদা আদায় করে আসছে। তাই প্রশাসনের প্রতি অনুরোধ, অচিরেই এ পার্বত্য রাজস্থলীতে অস্ত্র উদ্ধার করে তাদের আইনী আওতায় আনার ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আহ্বান জানাচ্ছি। আলোচনা সভা শেষে প্রধান অতিথি ও উদ্বোধক মারমা সম্প্রদায়ের সাংগ্রাই উপলক্ষে আয়োজিত জল উৎসবের উদ্বোধন করা হয়।

অপরদিকে স্থানীয় শিল্পী গোষ্ঠী কর্তৃক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশন করা হয়। এ সময় জল উৎসবে পার্বত্য চট্টগ্রাম ব্যতীত চট্টগ্রামের রাঙ্গুনীয়া, কাপ্তাই ও পার্শ্ববর্তী বান্দরবান, পদুয়াসহ হাজার হাজার লোকজন উৎসবে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন।




রাঙামাটিতে মারমাদের সাংগ্রাই জলোৎসব

news pic (2) copy

রাঙামাটি প্রতিনিধি:

রাঙামাটি শহরের মারমা সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী সাংগ্রাই জলোৎসব ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান বৃহস্পতিবার সকালে আসামবস্তি নারিকেল বাগানে অনুষ্ঠিত হয়েছে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন, সাবেক প্রতিমন্ত্রী দীপংকর তালুকদার।

এদিকে ঐতিহ্যবাহী মংঘন্টা বাজিয়ে জলোৎসব উদ্বোধন করেন, রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বৃষকেতু চাকমা। এসময় মারমা সংস্কৃতি সংস্থার প্রধান উপদেষ্টা চিংকিউ রোয়াজার সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি ছিলেন, রাঙামাটি জেলা পরিষদের সদস্য  হাজী মো. মুছা মাতব্বর।

এছাড়া অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, জেলা পরিষদের সদস্য রেমলিয়ানা পাংখোয়া, সাংগ্রাই উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক মিন্টু মারমা, সদস্য মইনুচিং মারমা প্রমুখ।

আলোচনা সভা শেষে অতিথিবৃন্দগণ সাংগ্রাই জলোৎসবে অংশগ্রহণ করেন। পরে তরুণ-তরুণীরা একে- অপরের গায়ে পানি ছিটিয়ে পুরনো বছরের সকল দুঃখ, অবসাদ দূর করে নতুন বছরে শুদ্ধ মননে জীবন শুরুর প্রত্যয় ব্যক্ত করে পার্বত্যাঞ্চলের মারমা সম্প্রদায় শেষ করলো বর্ষবরণের এ বছরের সব আয়োজন।




বান্দরবানে ত্রিপুরা সম্প্রদায়ের বৈসু উৎসব

Bandarban pic-18.4.2017
নিজস্ব প্রতিবেদক, বান্দরবান
বান্দরবান জেলা শহরের কালাঘাটায় মঙ্গলবার ত্রিপুরা ক্ষুদ্র-নৃ গোষ্ঠীর বর্ষবরণ উৎসব বৈসু উদযাপিত হয়েছে। পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী বীর বাহাদুর উ শৈ সিং এমপি প্রদীপ প্রজ্জ্বলন ও কেক কেটে বৈসু উৎসবের উদ্বোধন করেন।

বান্দরবান ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক ইন্সটিটিউট এবং ত্রিপুরা বৈসু উদযাপন পরিষদ যৌথভাবে এ উৎসবের আয়োজন করে। বৈসু উৎসব উপলক্ষ্যে ত্রিপুরাদের ঐতিহ্যবাহী ও লোকজ খেলাধুলা এবং গড়াইয়া নৃত্য পরিবেশন করে বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা ত্রিপুরা শিল্পীরা।

উৎসবে বান্দরবান পৌরসভার মেয়র মোহাম্মদ ইসলাম বেবী, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) দিদারে আলম মোহাম্মদ মাকসুদ চৌধুরী, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অনির্বাণ চাকমা এবং ত্রিপুরা নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।




মিয়ানমারে পানি উৎসবে নিহতের সংখ্যা ২৮৫, আহত সহাস্ত্রাধিক

myanmar

ডেস্ক রিপোর্ট :
মিয়ানমারে বর্ষবরণের সময় পানি উৎসব চলাকালে দুর্ঘটনা ও সংঘর্ষে ২৮৫ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। সংশ্লিষ্ট ঘটনায় আহত হয়েছেন হাজারের বেশি মানুষ। দেশটির বিভিন্ন রাজ্যে গত বৃহস্পতিবার থেকে পানি উৎসবকে কেন্দ্র করে চলমান সংঘর্ষে এ প্রাণহানির ঘটনা ঘটে।

দেশটির এক সরকারি কর্মকর্তার বরাত দিয়ে বিবিসি জানায়, পানি উৎসব চলাকালে মারামারি, গোষ্ঠীগত হামলা, দলবদ্ধ লড়াই, মাতাল অবস্থায় গাড়ি চালানোয় দুর্ঘটনা, ধর্ষণ, চুরিসহ দুই শতাধিক অপরাধের ঘটনা ঘটেছে। আর এ অপরাধগুলো ঘটনার সময়ে বিপুল পরিমাণ প্রাণহানি হয়। এগুলোর মধ্যে চেইন প্রদেশে পানিখেলাকে কেন্দ্র করে এক পরিবারের তিন নারীকে হত্যার ঘটনা আলোড়ন সৃষ্টি করেছে বলে উল্লেখ করা হয়।

অন্যমিডিয়া

মিয়ানমারের গত বছরের পানি উৎসবে মোট ৩৬ জনের প্রাণহানি ও আরো ৩১৬ জন আহত হয়েছিলেন।

সূত্র : কালের কণ্ঠ




গুইমারা ট্রাজেডির ৬ বছর, সন্ত্রাসীদের বিচার হয়নি আজও

guimara pic 16-04-2015 copy

খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি:

আজ ভয়ানক সেই ১৭ এপ্রিল। ২০১১ সালের এ দিনে ভূমি বিরোধকে কেন্দ্র করে এক শ্রেণির বহিরাগত স্বার্থান্বেষী মহল পাহাড়ি-বাঙ্গালীর সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করার প্রয়াসে শান্ত পাহাড়কে অশান্ত করে জন্ম দেয় এক কলঙ্কময় অধ্যায়ের। এদিন উপজাতীয় স্বশস্ত্র সন্ত্রাসীদের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে প্রাণ হারিয়েছে নিরপরাধ তিন বাঙ্গালী শ্রমিক। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে পাহাড়ি-বাঙ্গালী উভয় সম্প্রদায় হারিয়েছে প্রায় দু’শতাধিক ঘর-বাড়ি। উশৃঙ্খলদের দেয়া আগুনের লেলিহান শিখা পুড়ে ছাই করে দিয়েছে তাদের ঘর-বাড়িসহ স্বাভাবিক জীবনযাত্রাকে।

২০১১ সালের ১৭ এপ্রিল খাগড়াছড়ির গুইমারা উপজেলার বড়পিলাক কচু বাউন্তী এলাকায় ভূমি বিরোধকে কেন্দ্র করে উপজাতীয় স্বশস্ত্র সন্ত্রাসীরা বাঙ্গালীদের ধারলো অস্ত্র দিয়ে এলোপাথাড়ি কুপিয়ে জখম করে। এতে ঘটনাস্থলেই নিহত হয় নোয়াব আলী, আয়ুব আলী ও সুনিল চন্দ্র সরকার। আহত হয়েছিল অন্তত ৩০জন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে গুইমারা উপজেলার হাফছড়ি ইউনিয়নের উত্তর শণখোলাপাড়া ও রেয়ং মরং পাড়ায় এবং মানিকছড়ির মহামুনি কার্বারী পাড়ায় উত্তেজিত জনতা পাল্টাপাল্টি নিরহ পাহাড়ি-বাঙ্গালী উভয় সম্প্রদায়ের প্রায় শতাধিক ঘর-বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করে। আগুনের লেলিহান শিখা শুধু এসব ঘর-বাড়িকেই পুড়ে ছাই করে দেয়নি, ধ্বংস করে দিয়েছে শত শত বছরের পাহাড়ি-বাঙ্গালীর সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বন্ধনকে।

06 copy

এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে তৎকালে একদিকে হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে বিক্ষুব্ধ বাঙালীরা বিক্ষোভ মিছিল করে রাস্তায় নেমে এসে চট্রগ্রাম-ফেনী-খাগড়াছড়ি সড়ক অবরোধ করে যানবাহন ভাংচুর করে। বিভিন্ন এলাকায় পাহাড়িরাও পাল্টা প্রতিরোধ গড়ে তুলে। ফলে মানিকছড়ি ও গুইমারা উপজেলায় পাহাড়ি-বাঙালির মাঝে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পুলিশ ও নিরাপত্তাবাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে তাৎক্ষণিক ভাবে রাস্তায় নেমে আসে। পাশাপাশি মানিকছড়ি, গুইমারা ও রামগড় তিন উপজেলায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়।

প্রতক্ষ্যদর্শীরা জানিয়েছেন, যে জমি নিয়ে বিরোধের সূত্রপাত তা কাগজ-পত্রে বাঙ্গালিদের জায়গা। দীর্ঘ দিন উপজাতীয় একটি মহল বাঙ্গালীদের উচ্ছেদ করে এ জায়গা দখলের চেষ্টা চালিয়ে আসছিল। শেষ পর্যন্ত দখল করতে ব্যর্থ হয়ে তারা এ হত্যা কাণ্ড ঘটিয়েছিল। তবে যে জায়গা নিয়ে রক্তপাত হানাহানি এত কিছু ঘটে গেল, সেই জায়গায় বাঙ্গালীরা আজও যেতে পারেনি। অদ্যাবধি এর কোন সমাধান না হওয়ায় শঙ্কিত এলাকাবাসী। যে কোন সময় এ ভূমি বিরোধকে কেন্দ্র করে আবারও রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশঙ্কা রয়েছে।

08 copy

অনুসন্ধানে জানাযায়, হত্যা, লুটতরাজ, অগ্নিসংযোগের ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে পৃথক দুইটি মামলা দায়ের করে। হত্যা মামলায় ৫জনকে চিহিৃত করে অজ্ঞাত দুই/আড়াইশ উপজাতীয় সন্ত্রাসীকে আসামি করে মামলা করা হয়। মামলা নং-১, তারিখ-১৮-৪-২০১১ইং। এছাড়াও অগ্নিসংযোগ ও লুটতরাজের ঘটনায় অজ্ঞাত ১৫০ জনকে আসামি করে অপর একটি মামলা করে পুলিশ। মামালা নং-২, তাং-১৯-৪-২০১১ইং।

এ পরিস্থিতিতে পার্বত্য প্রতিমন্ত্রী দিপংকর তালুকদার, খাগড়াছড়ি সাংসদ যতীন্দ্র লাল ত্রিপুরা, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. জাহেদুল আলমসহ সরকারি-বেসরকারি সকল সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে তদন্ত পূর্বক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিয়ে ছিলেন।

এরপর তদন্ত কমিটির প্রধান অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো. সালা উদ্দিনের নেতৃত্বে অন্য দুই সদস্য অতিরিক্ত পুলিশ সুপার দেলোয়ার হোসেন সাইদী ও রামগড় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা গোপাল চন্দ্র দাসকে নিয়ে আনুষ্ঠানিক ভাবে তদন্ত কাজ শুরু করেন এবং এর রিপোর্টও জমা দেন। কিন্তু এত কিছুর পরও অদ্যাবধি এ হত্যাকাণ্ডের কোন বিচার পায়নি নিহতের পরিবারগুলো।

04 copy

এদিকে দীর্ঘ প্রায় এক বছর মামলার বাদী এসআই মঞ্জুরুল আবছার তদন্ত করার পর তদন্তকারী কর্মকর্তা বাদী হওয়ায় এসআই মুঞ্জুরুল আবছারের পরিবর্তে এসআই ঠাকুর দাস মণ্ডলকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়। দায়িত্ব প্রাপ্ত তদন্ত কর্মকর্তা ঠাকুর দাস মণ্ডল মাত্র ১৫ দিনের তদন্তে দায়সারাভাবে ১১-০৮-১২ তারিখে মামলার চূড়ান্ত চার্জসিট প্রদান করে। তার তদন্তে হত্যা মামলায় ৩১জন উপজাতি এবং অগ্নিসংযোগ ও লুটতরাজের মামলায় ২৮জন বাঙ্গালীকে চিহিৃত করে ঘটনার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগ এনে আসামি করে আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করে পুলিশ।

অগ্নিসংযোগ ও লুটতরাজের মামলায় ২৮জন বাঙ্গালী আসামি ২০১৩ সালে আদালত থেকে জামিনে মুক্তি পায়। দীর্ঘ কয়েক বছর মামলা চলার পর মামলা থেকে বেকোসর খালাস পান ২৮বাঙ্গালী আসামি। এদিকে তিন বাঙ্গালী শ্রমিক হত্যা মামলায় অভিযুক্ত ৩১জন উপজাতীয় আসামির নামে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে আদালত। গ্রেফতারি পরোয়ানা থাকার পরও অদৃশ্য কারণে আসামিরা দীর্ঘ কয়েক বছর আদালতে হাজির হয়নি। সম্প্রতি সময়ে আদালতে হাজির হয়ে জামিন চাইলে বিজ্ঞ আদালত তাদের জামিন নামুঞ্জুর করে আসামিদের জেল হাজতে পাঠান। পরবর্তীতে বিভিন্ন তারিখে জামিনে রেব হয়ে আসে আসামিরা। বর্তমানে হত্যা মামলাটি বিচারাধীন।

অন্যদিকে ৩ বাঙ্গালীকে হত্যার ঘটনায় প্রতিবাদ জানিয়ে বিচার দাবি করেন খাগড়াছড়ি জেলা বিএনপির সভাপতি সাবেক সাংসদ ও সাবেক পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান ওয়াদুদ ভূইয়া, পার্বত্য চট্টগ্রাম সম-অধিকার আন্দোলন খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা শাখার সভাপতি আবু ইউছুফ চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান মিল্লাত, পার্বত্য বাঙ্গালী ছাত্র পরিষদের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি এ্যাডভোকেট এয়াকুব আলী চৌধুরী।

07 copy

রবিবার দুপুরে পৃথক পৃথক বিবৃতিতে তারা এ দাবি জানান।

বিবৃতিতে ওয়াদুদ ভূইয়া ১৭ এপ্রিল বড়পিলাক হত্যা ট্রাজেডির ৬ষ্ঠ বার্ষিকীতে ঘটনার সাথে জড়িতদের গ্রেফতার এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে যথাযথ ক্ষতিপূরণ না দেয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন, এ ঘটনায় নিহতদের তিনটি পরিবার আজ অনাহারে-অর্ধাহারে অমানবিকভাবে জীবন যাপন করছে। অথচ সরকারের পক্ষ থেকে প্রশাসনিক কর্তারা তাৎক্ষণিক ভাবে নানান আশ্বাস দিলেও এখনো এসব বাস্তবায়ন না করায় সরকারের কঠোর সমালোচনা করে ক্ষতিগ্রস্তদের যথাযথ ক্ষতিপূরণ ও দোষীদের অভিলম্বে গ্রেফতার পূর্বক বিচারের দাবি করেন তিনি। এছাড়াও ভবিষ্যতে যেন এঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে সে জন্য সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের সবাইকে সজাগ থাকার আহ্বান জানান তিনি।

অপরদিকে পার্বত্য চট্টগ্রাম সম-অধিকার আন্দোলন খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা শাখার সভাপতি আবু ইউছুফ চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান মিল্লাত ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতার পূর্বক শাস্তি দাবি করে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে যথাযথ ক্ষতিপূরণ না দেয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

এছাড়াও পার্বত্য বাঙ্গালী ছাত্র পরিষদের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি এ্যাডভোকেট এয়াকুব আলী চৌধুরী জানান, নিহতদের পরিবারগুলো এখনো অনাহারে-অর্ধহারে দিনাতিপাত করছে। তাই দ্রুত নিহত পরিবারেরর প্রতি ক্ষতি পূরণের দাবি জানিয়েছেন তিনি।

এছাড়াও এখনো সন্ত্রাসীদের হামলায় হতাহতের কোন সুষ্ঠ বিচার না হওয়ায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে দ্রুত সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার ও অধিকার বঞ্চিত পার্বত্য বাঙ্গালীদের প্রাণ প্রিয় সংগঠন পার্বত্য বাঙ্গালী ছাত্র পরিষদ’র ৮ দফা দাবি যথাযথ বাস্তবায়নে সরকারের প্রতি জোর দাবি জানান তিনি।

অন্যদিকে পার্বত্য বাঙ্গালী ছাত্র পরিষদের কেন্দ্রীয় সিনিয়ার সহ-সভাপতি আব্দুল মাজিদ জানান, ন্যাক্কার জনক এ ঘটনার প্রতিবাদ ও সন্ত্রাসীদের গ্রেফতারের দাবিতে আমরা সরকারের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি। সংগঠনটির খাগড়াছড়ি জেলা সভাপতি লোকমান হোসেন জানান, ঘটনাস্থল বড়পিলাক এলাকায় কালো ব্যাচ ধারন ও কালো পতাকা উত্তোলন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে তৎকালে পার্বত্য বাঙ্গালী ছাত্র পরিষদসহ বিভিন্ন সংগঠন ৫দিনের কর্মসূচি গ্রহণ করেছিল। কর্মসূচির মধ্যেছিল তিন পার্বত্য জেলায় কালো ব্যাজ ধারণ ও কালো পতাকা উত্তোলন, ঘটনাস্থল বড়পিলাক ও খাগড়াছড়ি জেলা শহরের শাপলা চত্বরসহ বিভিন্ন এলাকায় কালো পতাকা উত্তোলন, প্রতিবাদ সমাবেশ, সকল মসজিদে দোয়া, গীর্জা ও মন্দিরে প্রার্থনা, খাগড়াছড়ি ও রাঙ্গামাটি জেলায় সকাল-সন্ধ্যা সড়ক পথ ও নৌপথ অবরোধ, সর্বশেষ ২৫এপ্রিল তিন পার্বত্য জেলায় বিক্ষোভ সমাবেশ ও জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীকে স্মারকলিপি প্রদান করা। এতসবের পরও প্রকৃত অপরাধীদের বিচারের কাঠগড়ায় না আনায় হতাশায় ভুগছে পাহাড়ে বসবাসরত বাঙ্গালীরা। তাদের প্রশ্ন আদৌ কি এ হত্যাকাণ্ডের বিচার পাবে নিহতদের স্বজনরা।




মানিকছড়ির সাংগ্রাই’র জলকেলি ও ঘিলা উৎসবে তরুণ-তরুণীর আনন্দোল্লাস

16(1) copy

 মানিকছড়ি প্রতিনিধি:

রবিবার সাংগ্রাই উৎসবের ৩য় দিন। সাংগ্রাই ৩য় দিনে ‘সাংগ্রাইং’ চূড়ান্ত শুভামন ঘটার দিন। এ দিনে মারমারা বুদ্ধকে ছোয়াইং দান, ফুল পূজা, প্রদীপ পূজাসহ শীল পালন ও পিতা-মাতা, গুরুজনদের পূজা অর্ঘ্য প্রদান  করেন। ওই দিন ‘জিংবুদ্ধিবা ক্যইং’(পৃথিবী) কে স্বাক্ষী রেখে তরোবোয়ে(সংঘ দানের জন্য যা প্রয়োজন হয়) ও পিদিসা (কল্পতরু) সাজিয়ে দান  করা হয়। জন্ম-জন্মান্তর, স্বর্গ সুখ ও সর্বোপরি নির্বাণ সুখ লাভের কামনা করে থাকে। আর তরুণ-তরুনীরা দলে মেতে উঠেন মহা আনন্দে।

আনন্দের অংশ হিসেবে মংরাজ আবাসস্থল মানিকছড়ির মহামুনি চত্বরে রাজপাড়া ক্রীড়া সংস্থার উদ্যোগে আয়োজিত পানি খেলা(জল কেলি) ও গিলা খেলা অনুষ্ঠিত হয়। খেলায় মারমা তরুণ-তরুণীরা দলে দলে অংশ গ্রহণ করেছে। অবিবাহিত তরুণ-তরুণীরা দু’সারিতে বিভক্ত হয়ে একে অপরের দিকে পানি ছিটিয়ে আনন্দে মেতে উঠে। অপরদিকে ঘিলা খেলায় অংশ নেয় ছেলে-বুড়ো সকলে। আনন্দের এ মহা আয়োজন প্রত্যক্ষ করতে স্ব-পরিবারে আসেন গুইমারা রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. কামরুজ্জামান পিএসসি, এনডিসি, সিন্দুকছড়ি জোন কমান্ডার মো. গোলাম ফজলে রাব্বি, পিএসসি।

16(3) copy

অতিথিদের ফুল ছিটিয়ে বরণ করেন সাংস্কৃতিক, জলকেলি, ঘিলাখেলা ও ক্রীড়া অনুষ্ঠানের তরুণ-তরুণীরা। এ সময় উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা চেয়ারম্যান ম্রাগ্য মারমা, ইউএনও বিনিতা রানী, অফিসার ইনচার্জ আবদুর রকিব, মারমা উন্নয়ন সংসদের সাধারণ সম্পাদক ও কলেজিয়েট উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মংশেপ্রু মারমা, রাজপাড়া ক্রীড়া সংস্থার আহ্বায়ক আব্রে মারমা, অনুষ্ঠানের আহ্বায়ক নিউচাই মারমাসহ রাজনীতিবিদ, জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, সাংবাদিক, উপজাতি নেতৃবৃন্দ ও তরুণ-তরুণীরা।

অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি গুইমারা রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. কামরুজ্জামান বলেন,  এ অঞ্চলের মানুষ আনন্দ উৎসব প্রিয়। বৈসাবিকে ঘিরে এ জনপদের সকল জনগোষ্ঠী তাদের নিজ নিজ ধর্ম ও ঐতিহ্য-সংস্কৃতি পালনের মধ্য দিয়ে নিজেদের ঐতিহ্যকে লালন-পালন এবং জাতি, ধর্ম নির্বিশেষে সম্প্রীতির বাংলাদেশ গঠনে এগিয়ে আসুক এমনই প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন এ অঞ্চলের শান্তিকামি জনগণ। পরে তিনি ক্রীড়া অনুষ্ঠান, জলকেলি, ঘিলা খেলা উদ্বোধন শেষে আয়োজক কমিটির সাথে মতবিনিময় করেন।




বৈসাবি উৎসবে মারমা জনগোষ্ঠীর সাংগ্রাই জলোৎসব

news pic copy

রাঙামাটি প্রতিনিধি:

বৈসাবি উৎসবের অন্যতম আকর্ষণ মারমা জনগোষ্ঠীর সাংগ্রাই জলোৎসব উপলক্ষে রবিবার সকালে রাঙামাটির কাউখালী উপজেলার বেতবুনিয়া মাঠে পার্বত্যাঞ্চলের মারমা জনগোষ্ঠীর সবচেয়ে বড় সামাজিক উৎসব সাংগ্রাইয়ে জলকেলি বা পানি খেলা অনুষ্ঠিত হয়।

সাংগ্রাইয়ে একে-অপরের গায়ে পানি ছিটিয়ে পুরনো বছরের সকল দুঃখ, অবসাদ দূর করে নতুন বছরে শুদ্ধ মননে জীবন শুরুর প্রত্যয় ব্যক্ত করে পার্বত্যাঞ্চলের মারমা জনগোষ্ঠী শেষ করলো বর্ষবরণের এ বছরের সব আয়োজন।

এসময় মারমা সংস্কৃতি সংস্থার (মাসস) আয়োজিত জলকেলিতে প্রধান অতিথি ছিলেন, পার্বত্য প্রতিমন্ত্রী বীর বাহাদুর উশেসিং। অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন সাবেক পার্বত্য প্রতিমন্ত্রী ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি দীপংকর তালুকদার।

রাঙামাটি মাসস’র সভাপতি অংসুইছাইন চৌধুরীর সভাপতিত্বে এতে বক্তব্য রাখেন, সংরক্ষিত সংসদ সদস্য ফিরোজা বেগম চিনু, রাঙামাটি জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বৃষকেতু চাকমা, রাঙামাটি রিজিয়নের কমান্ডার ব্রিগ্রেডিয়ার জেনারেল মো. গোলাম ফারুক ও রাঙামাটির জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মানজারুল মান্নানসহ অন্যান্য অতিথিবৃন্দ।

আলোচনা সভা শেষে অতিথিগণ ঘণ্টা বাজিয়ে জলকেলি উদ্বোধন করেন। এরপর সকলে একে-অপরের গায়ে পানি ছিটিয়ে সকল অবসাদ দূর করে দেয়।




বান্দরবানে জলকেলি উৎসবে মাতোয়ারা তরুণ-তরুণীরা

17910737_696867627182505_1447151596_n
নিজস্ব প্রতিবেদক, বান্দরবান :
মার্মা সম্প্রদায়ের বর্ষবরণ ও বিদায় উৎসব সাংগ্রাইকে ঘিরে পাহাড়ি কন্যা বান্দরবানে পাহাড়ী-বাঙ্গালীর মিলন মেলায় পরিণত হয়েছে। শনিবার সকাল থেকে জলকেলি খেলায় মেতেছে মারমা তরুণ-তরুণীরা। উৎসবে যোগ দিয়েছে স্থানীয় বাঙ্গালী তরুণ-তরুণী ও দেশী-বিদেশী পর্যটকরাও।

শনিবার স্থানীয় রাজার মাঠে সাংগ্রাই উৎসবের জলকেলীর প্রধান অতিথি ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈসিং এমপি। এসময় আরও ছিলেন পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মশিউর রহমান রাঙ্গা, রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মুহাম্মদ যুবায়ের সালেহীন, জেলা প্রশাসক দিলীপ কুমার বণিক, পুলিশ সুপার সঞ্জিত কুমার রায়, বান্দরবান পৌরসভার মেয়র মোহাম্মদ ইসলাম বেবী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

Bandarban pic-2, 15.4.2017

অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈসিং এমপি জল ছিটিয়ে জলকেলি উৎসবের উদ্বোধন করেন।

অন্যদিকে ধর্মীয় উপসানালয় গুলোতে চলে ধর্ম দেশনা। শীল গ্রহণ, বুদ্ধ পূজা দানীয় দ্রব্য (মিষ্ঠান্ন, ফলমূল) দান, হাজার মঙ্গল প্রদীপ প্রজ্জ্বলন সবশেষে চুলমনি জাদীর উদ্দ্যেশে ফানুস উড়িয়ে পুরাতন বছরকে বিদায় জানিয়েছেন বৌদ্ধধর্মালম্বীরা।

পানিকে বিশুদ্ধতার প্রতীক ধরে নিয়ে মারমা তরুণ-তরুণীরা একে অন্যকে পানি ছিটিয়ে নিজেদের পবিত্র করে নেয়। পুরোনো বছরের দুঃখ, কষ্ট, গ্লানিকে বিদায় জানিয়ে নতুন বছরকে স্বাগত জানায় তাঁরা। জলকেলি প্রতিযোগিতায় শুধু অবিবাহিত তরুণ-তরুণীরাই অংশ নেয়।

DSC04892

একাধিক তরুণ-তরুণী বলেন, এই উৎসবে আমরা তরুণ-তরুণীদের নিয়ে জলকেলি খেলা উপভোগ করে থাকি। জলকেলী রবিবারও চলবে।

এদিকে তরুণ-তরুণীদের পাশাপশি শিশুরাও উৎসবে মেতে উঠেছে। শিশুরা দলবেঁধে টমটম, রিক্সা ভাড়া নিয়ে শহরের রাস্তায় রাস্তায় পথচারী আর পর্যটকদের পানি ছিটিয়ে আনন্দ উপভোগ করেছে। অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছে কিছু বিদেশিনীও।

উৎসব উদযাপন পরিষদের সভাপতি হ্লাগ্য চিং মার্মা বলেন, এটা আমাদের অন্যতম প্রধান একটি উৎসব। এই উৎসবে আমরা নানাভাবে আনন্দ করে থাকি। মূলত তিনদিন ধরে এই উৎসব চলে। আজ সাংগ্রাই উৎসবের প্রথম দিন। এদিনে আমরা জলকেলি খেলা খেলে থাকি। এ খেলায় ছেলে ও মেয়েরা নিজেদের পছন্দ মতো একে অন্যকে পানি দিয়ে ভিজিয়ে দিয়ে থাকে।

আরেকজন বলেন, আমাদের এই উৎসবের প্রধান খেলা হলো পানি খেলা। এর মাধ্যমেও আমরা ছেলে-মেয়েরা উভয়েই আনন্দ করে থাকি।

Bandarban pic-3, 15.4.2017

সাংগ্রাই উৎসব উপলক্ষে মারমা সম্প্রদায়ের ঘরে ঘরে অতিথি আপ্যায়নে তৈরি করা হয় নানা রকমের মিষ্ঠান্ন, পিঠা। সাধারণত বিভিন্ন ধরনের সবজি দিয়ে পাজন রান্না করা হয়ে থাকে।
এ উপলক্ষে পাহাড়ী পল্লীগুলোতে তরুণ-তরুণীরা সারিবদ্ধভাবে বসে হরেক রকমের পিঠা বা পুলি তৈরির প্রতিযোগিতায় মেতে উঠে। সারা রাত পিঠা তৈরি করে পরের দিন সকালে পাড়া-প্রতিবেশী, আত্মীয়-স্বজন ও ধর্মীয় উপশানলয়ে ভিক্ষুদের উদ্দ্যেশ্য পাঠানো হয়।

মারমা অনুসৃত ক্যালেন্ডার অনুযায়ী ১৩৭৯ সক্রয় সালের প্রথম দিন হছিল গত শুক্রবার ১৪ এপ্রিল। পুরোনো বছরের সব গ্লানি মুছে দিয়ে নতুন বছরকে আবাহনের লক্ষ্যে প্রথমে ‘আসাং ম্রা’ বা জীবন্ত বুদ্ধমূর্তিকে স্নান করানো হয়।

মহামতি গৌতম বুদ্ধের জীবদ্দশায় বর্তমান মায়ানমারের আকিয়াব রাজ্যের কিয়কটো শহরে তাঁর একটি মূর্তি নির্মাণ করা হয়। পরে এই মূর্তির অংশ বিশেষ দিয়ে তৈরি অনেকগুলো মূর্তি বিভিন্ন দেশে পাঠানো হয়। বোমাং রাজারা ১৮১৪ সালে এর একটি বান্দরবান নিয়ে এসে জেলা সদরের রাজগুরু বৌদ্ধ বিহারে অধিষ্ঠান করা হয়। সে বছর থেকেই এই বুদ্ধমূর্তিকে স্নান করানোর রীতি প্রচলিত হয়ে আসছে।

পুরাতন বর্ষকে বিদায় আর নতুন বর্ষকে বরণ করার এই উৎসবকে মারমা সম্প্রদায় প্রধান সামাজিক উৎসব হিসেবে পালন করে আসছে যুগযুগ ধরে।




কাপ্তাই চিংম্রং সাংগ্রাই জল উৎসবে মাতোয়ারা

MP USTON copy

কাপ্তাই, প্রতিনিধি:

পুরাতনকে ধুয়ে মুছে নতুনকে বরণ করে নিয়ে আমরা পার্বত্যাঞ্চলকে সকলে আপন করে নেই। বিশ্বের বিভিন্নদেশসহ বাংলাদেশে প্রতিনিয়ত অনেক সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে। কিন্তু এর কোন সমাধান হচ্ছেনা। উপজাতিসহ অনেক সাধারণ মানুষ এ বর্ষবরণ পালন করতে পারছেনা। তাই আমরা সবাই মিলে পুরাতন সব গ্লানি মুছে ফেলে জল কেলির মাধ্যমে নতুনকে বরণ করে নেই।

চিংম্রং জলকেলি সাংগ্রাই উৎসবে প্রধান অতিথির বক্তব্যে রাঙ্গামাটি সাংসদ শ্রী উষাতন তালুকদার এমপি এসব কথা বলেন।

ঐতিহ্যবাহী চিংম্রং মারমা উপজাতিদের নববর্ষের নাম ‘সাংগ্রাই’। আনন্দ, উদ্দীপনা, নানা ধরণের খেলাধুলা এবং বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্যে দিয়ে সাংগ্রাই উৎসব শনিবার সকাল সাড়ে ১০টায় কাপ্তাই অনুষ্ঠিত হয়।

জলকেলি অনুষ্ঠানে বিভিন্ন জেলা হতে হাজারো লোকের সমাগম হয় এ অনুষ্ঠানে। উপজাতীয় তরুণ-তরুণীরা জল কেলি উদ্বোধন শেষে একে অপরকে পানি ছিটিয়ে পিছনের সব গ্লানি ভুলে গিয়ে নতুন বছরকে আপন করে নিয়ে নিজ ঘরে ফিরে। একে অপরকে পানি ছিটিয়ে সকলে আনন্দ ভাগা-ভাগি করে নেয়।

WATER F 15 04 2 copy

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন, সাংগ্রাই উদযাপন কমিটির আহ্ববায়ক খ্যাইসা অং মারমা। অন্যন্যাদের মধ্যে আরও বক্তব্য রাখেন, উদযাপন কমিটির উপদেষ্টা কংচাই মারমা, কাপ্তাই উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান অংসুইছাইন চৌধুরী, শিক্ষাবিদ প্রফেসর মংসানু মারামা, যুগ্ম জজ এডভোকেট দীপেন দেওয়ান, আঞ্চলিক পরিষদ সদস্য মংনচিং মারমা।

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন কাপ্তাই উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান দিলদার হোসেন, এএসপি সার্কেল আসলাম ইকবাল, আবাসিক প্রকৌশলী মজিবুর রহমান, মারমা এসোসিয়েশন সহসভাপতি থোয়াইঅং মারমাসহ বিভিন্ন গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। অনুষ্ঠান শেষে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।




 বৈসাবি উৎসব উপলক্ষে খাগড়াছড়িতে ত্রিুপরা জনগোষ্ঠীর বয়োজ্যেষ্ঠদের স্নান করিয়ে বস্ত্র বিতরণ

Khagrachari Pic 01 (4) copy

নিজস্ব প্রতিবেদক, খাগড়াছড়ি:

বৈসাবি উৎসবের ৪র্থ দিনে বয়োজ্যেষ্ঠদের স্নান করানো ও বস্ত্র বিতরণের মতো  ভীন্নধর্মী আয়োজন করেছে ত্রিপুরা জনগোষ্ঠী। শনিবার সকালে খাগড়াছড়ির নয়মাইল নিম্ন মাধ্যমিক স্কুল মাঠে স্থানীয়রা  গ্রামের ৫০জন বয়োজ্যেষ্ঠদের একসঙ্গে স্নান করিয়ে ভক্তিভরে প্রনাম করে দেয়া হয় নতুন বস্ত্র।

আজ ছিল ত্রিপুরা সম্প্রদায়ের বিসিকাতাল। এত দিন  উৎসবের এ দিনে ত্রিপুরা নিজ নিজ ঘরে সন্তানরা মা-বাবাকে স্নান করিয়ে আর্শিবাদ নেওয়ার রীতি থাকলেও এবার গ্রামের সব বয়স্কদের নিয়ে এমন ব্যতিক্রমধর্মী আয়োজন করে নয়মাইল এলাকার বাসিন্দারা।

স্নান অনুষ্ঠানে পেরাছড়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান তপন কান্তি ত্রিপুরা, মৃনাল কান্তি ত্রিপুরা, আয়োজক কমিটির আহ্বায়ক গনেশ চন্দ্র ত্রিপুরা, দিনা ত্রিপুরাসহ স্থানীয়রা অংশ নেন। আজ বৈসাবি উৎসবের অংশ হিসেবে ত্রিপুরা সম্প্রদায় বিসিকাতাল, মারমা সম্প্রদায় আক্যে উৎসব পালন করছে।