পাহাড়ি দুই সংগঠনের চার গ্রুপের বেপরোয়া চাঁদাবাজি

পার্বত্যনিউজ ডেস্ক:

পাহাড়ে নজিরবিহীন চাঁদাবাজির অপতৎপরতায় আধিপত্য বিস্তারের লড়াইয়ে চাঁদাবাজ গ্রুপের সদস্যদের নবতর সংযোজন ঘটেছে, যা শান্তিপ্রিয় অগণন পাহাড়ী-বাঙালী তথা পাহাড়বাসীর মাঝে ভয়ানক আতঙ্ক এবং উদ্বেগ উৎকণ্ঠার জন্ম দিয়েছে। বছরের পর বছর এসব চাঁদাবাজ ক্যাডারদের কাছে জিম্মি হয়ে আছে পাহাড়ের বিভিন্ন শ্রেণী পেশা ও ব্যবসা বাণিজ্যের সঙ্গে জড়িতরা। এখন সময় এসেছে বেআইনী তৎপরতায় লিপ্ত শান্তি বিনষ্টকারী ওইসব চাঁদাবাজ সন্ত্রাসীদের কঠোরহস্তে দমন করার। নচেত আগামীতে পাহাড় হয়ে উঠতে পারে চাঁদাবাজদের স্বর্গরাজ্য, এ অভিমত শান্তিপ্রিয় পাহাড়ী-বাঙালী জনগোষ্ঠীর।

পাহাড়ে রাজনীতির ব্যানারে সক্রিয় রয়েছে জনসংহতি সমিতি (জেএসএস)। আগেই দ্বিখ-িত হয় জেএসএস। জেএসএস থেকে বেরিয়ে আসা একটি গ্রুপ করেছে জেএসএস-সংস্কার নামের আরেকটি সংগঠন। অপরদিকে, ঐতিহাসিক শান্তি চুক্তি সম্পাদন ও তৎকালীন শান্তি বাহিনীর সশস্ত্র আত্মসমর্পণের দিন প্রকাশ্যে কালো পতাকা প্রদর্শন করে বিরোধিতায় অবতীর্ণ হয় জেএসএসের একটি অংশ।

প্রসিত খীসার নেতৃত্বে পরে বিরোধী ওই অংশ ইউপিডিএফ বা ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট নামে আত্মপ্রকাশ করে। পাহাড়ে স্বায়ত্তশাসন প্রতিষ্ঠা, নিজেদের জম্ম জাতি নামে অভিহিত করে জুম্মল্যান্ড প্রতিষ্ঠা, আদিবাসী হিসাবে স্বীকৃতি আদায়ের দাবির ক্ষেত্রে এদের উপস্থাপিত বক্তব্য এক হলেও অভ্যন্তর পর্যায়ে রয়েছে চাঁদাবাজি, অপহরণ করে অর্থ আদায়, পাহাড়ী-বাঙালীদের মধ্যে শান্তি বিনষ্টসহ নানা ধরনের অপকর্মের তা-বলীলা। বছরের পর বছর জেএসএস ও ইউপিডিএফের অন্তর্বিরোধ ও চাঁদাবাজির রাজ্যে আধিপত্য বিস্তারের জের হিসেবে অকালে ঝরে গেছে বহু প্রাণ। অস্ত্রের ঝনঝনানি হয়ে আছে নিত্যনৈমিত্তিক। পাহাড় জুড়ে অঞ্চলভিত্তিক জেএসএস ও ইউপিডিএফ ক্যাডারদের আধিপত্যের বিস্তৃতি নিয়েও নিজেদের মধ্যে লড়াই নিরন্তর।

পুঁজিবিহীন এবং নানামুখী বলপ্রয়োগে অবৈধ চাঁদা আদায়ের মাধ্যমে বিপুল অঙ্কের অর্থ প্রাপ্তির এ অপপ্রক্রিয়ায় এখন সেই ইউপিডিএফও দ্বিখ-িত হয়েছে। সংগঠনের ক্যাডার বাহিনীর সদস্যদের একটি অংশ গেল সপ্তাহে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা দিয়ে ইউপিডিএফ-সংস্কার নামে আত্মপ্রকাশ করেছে। যার নেতৃত্বে রয়েছে তপন জ্যোতি চাকমা বর্মা। যিনি মূল ইউপিডিএফের রাঙ্গামাটির নাজিরছড়া অঞ্চলের সমন্বয়কের পদে ছিল। এ তপন এখন তার সক্রিয় নেতা ও ক্যাডার বাহিনীর সদস্যদের নিয়ে খাগড়াছড়ির দীঘিনালা, লংগদু, নানিয়ারচর এবং বাঘাইছড়ি এলাকার চাঁদাবাজির নেতৃত্বে রয়েছে।

এর ফলে পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তি চুক্তি বিরোধী পাহাড়ের আঞ্চলিক সংগঠন ইউপিডিএফের বিভক্তিতে তাদের অন্তঃ রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণ ঘটল। যা কিনা পাহাড়বাসীর ঘাড়ে নতুন আতঙ্কের ঘটনা হিসাবে হাজির হয়েছে। পাহাড়ীদের স্বার্থের তকমা লাগিয়ে বছরের পর বছর কখনও প্রকাশ্যে কখনও নীরবে পার্বত্য চট্টগ্রাম জুড়ে চলছে বিপুল অঙ্কের অর্থের চাঁদাবাজি। প্রাণ ভয়ে এদের ধার্যকৃত চাঁদা পরিশোধে সংশ্লিষ্ট সকলেই রীতিমত বাধ্য। নচেত হত্যা ও অপহরণ এড়ানোর উপায় নেই।

ঢাকাকেন্দ্রিক একটি বাণিজ্যিক গ্রুপের পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের বিক্রয় ও বিপণন বিভাগের এক ব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, গেল বছর তাদের প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে ইউপিডিএফ। এ নিয়ে কোন সুরাহা না হওয়ায় টানা তিন মাস দুই উপজেলায় পণ্য সরবরাহ বন্ধ রাখে তাদের প্রতিষ্ঠান। শেষ পর্যন্ত চাঁদা না দেয়ায়, পণ্যবাহী গাড়িতে আগুন ও গুলি চালিয়েছে ইউপিডিএফ সন্ত্রাসীরা। এতে কোম্পানি নিযুক্ত একজন গাড়ি চালকের গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনা ঘটে।

এদিকে, পার্বত্য বাঙালী ছাত্র পরিষদের কেন্দ্রীয় সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার আব্দুল মজিদ জনকণ্ঠকে জানান, ইউপিডিএফ’র এই বিভক্তির ফলে চাঁদাবাজিতে নতুন একটি নাম যোগ হলো। আগে তিন গ্রুপকে চাঁদা দিতে হতো, এখন গ্রুপ হলো চারটি। এছাড়া নিজেদের মধ্যকার সংঘাত পার্বত্য চট্টগ্রামকে প্রতিনিয়ত অস্থির করে রাখে। নতুন এই বিভক্তিতে সেই সংঘাত আরও বাড়বে বলে তার নিশ্চিত ধারণা।

সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজ প্রতিরোধ কমিটির খাগড়াছড়ি জেলা শাখার আহ্বায়ক পৌর মেয়র রফিকুল আলম জনকণ্ঠকে জানান, ‘বেকার, কর্মহীন মানুষদের নিয়ে সংগঠন গড়ে তুলছে পাহাড়ী আঞ্চলিক দলগুলো। স্বাধিকার আন্দোলনের কথা বলে পার্বত্য চট্টগ্রামে ওরা চাঁদাবাজির মহোৎসবে মেতে রয়েছে। আর ইউপিডিএফ’র সংস্কার গ্রুপ তাতে নতুনমাত্রা যোগ করবে।’

অপরদিকে, চাঁদাবাজির কোন চিন্তা ভাবনা নেই বলে দাবি করেছেন ‘ইউপিডিএফ সংস্কার’ গ্রুপের মিডিয়া সমন্বয়কারী রিপন চাকমা। তিনি মুঠোফোনে জানান, সংগঠন পরিচালনার জন্য প্রচুর অর্থের দরকার হয়। তবে প্রসিত খীসার নেতৃত্বাধীন ইউপিডিএফের মতো কাউকে নির্যাতন, অত্যাচার করে চাঁদা আদায় করবে না নতুন এই সংগঠন।’

এর আগে গেল বুধবার সকালে খাগড়াছড়ি জেলা সদরের খাগড়াপুর কমিউনিটি সেন্টারে লিখিত বক্তব্যে ‘ইউপিডিএফ সংস্কার’ এর আহ্বায়ক তপন জ্যোতি চাকমা অভিযোগ করেন, ইউপিডিএফর গঠনতন্ত্রে গণতান্ত্রিক উপায়ে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার কথা থাকলেও বর্তমানে সম্পূর্ণ অগণতান্ত্রিক, বলপ্রয়োগের রাজনীতি, চাঁদাবাজি, গুম, খুন ও অপহরণের রাজনীতি করছে প্রসিত খীসা। ইউপিডিএফ’র অনেক নেতা চাঁদার টাকায় এখন পকেট ভারি নেতা হিসেবে পরিচিত।

নব গঠিত এ দলটির পক্ষে ওই সংবাদ সম্মেলন অভিযোগ করা হয়, বর্তমানে ইউপিডিএফ’র আন্দোলন পরিচালনার কৌশল ও পদ্ধতি সঠিক না হওয়ার কারণে ইউপিডিএফ’র কেন্দ্রীয় নেতা সঞ্জয় চাকমা ও দীপ্তি শংকরসহ অনেকে দল ত্যাগ করেছেন। এছাড়া দল ত্যাগ করার অপরাধে অনেক নেতাকর্মীকে খুন করেছে প্রসিত খীসার সন্ত্রাসী বাহিনী।

এদিকে বরাবরই আঞ্চলিক সংগঠনের নেতারা চাঁদা আদায়ের কথা অস্বীকার করে আসছে এবং একপক্ষ অন্যপক্ষকে দোষারোপ করে সহজেই দায় এড়িয়ে নিচ্ছে। চাঁদাবাজির প্রসঙ্গে ইউপিডিএফ নেতারা সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বরাবরই বলেন, শুধুমাত্র জুম্মজাতির অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে অংশগ্রহণমূলক সহযোগিতা নিয়ে থাকে তারা। জুম্ম জাতির আত্মনিয়ন্ত্রণ অধিকার আদায়ের সংগ্রামের তহবিলে সেই টাকা যোগ করা হয়।

জেএসএসের হামলা ॥ রবিবার খাগড়াছড়ির দীঘিনালা ডিগ্রী কলেজে প্রতিপক্ষের হামলায় জনসংহতি সমিতি (এমএন লারমা) সমর্থিত পাহাড়ী ছাত্র পরিষদের (পিসিপি) ৬ নেতাকর্মী আহত হয়েছে। ঘটনার জন্য ইউপিডিএফ (প্রসিত খীসা) সমর্থিত পাহাড়ী ছাত্র পরিষদকে দায়ী করা হয়েছে। কলেজে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে এই হামলার ঘটনা ঘটে।

 

সূত্র: জনকন্ঠ




সিঙ্গাপুরে বাংলাদেশি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর শিল্পীদের পরিবেশনা

পার্বত্যনিউজ ডেস্ক:

বাংলাদেশের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর জীবনযাত্রা এবং সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে তুলে ধরে সিঙ্গাপুরে অনুষ্ঠিত হলো নৃগোষ্ঠীর শিল্পীদের পরিবেশনায় একটি মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

১৭ নভেম্বর (শুক্রবার) এই সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। বিদেশে বাংলাদেশের সংস্কৃতিকে তুলে ধরার লক্ষ্যে মাত্র চার মাসের ব্যবধানে দ্বিতীয়বার এ ধরনের অনুষ্ঠান আয়োজন বাংলাদেশ হাইকমিশনের একটি সফল প্রয়াস।

পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় ‘রাইমস অ্যান্ড রিদম ফ্রম দ্য হিলস’ শিরোনামের এই অনুষ্ঠানে বিভিন্ন নৃগোষ্ঠীর শিল্পীরা নিজ নিজ নৃগোষ্ঠীর নৃত্য পরিবেশন করেন। শিল্পীরা তাদের পরিবেশনার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর জীবনযাত্রা ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তোলেন।

বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত ও কূটনীতিক, সরকারি কর্মকর্তা, সিঙ্গাপুরের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি ও বিপুলসংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশি অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। অতিথি ও দর্শকেরা বাংলাদেশে বিভিন্ন ভাষা-ধর্ম-বর্ণ-সংস্কৃতির মানুষের সহাবস্থান, মৈত্রীর বন্ধন এবং সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের ভূয়সী প্রশংসা করেন।

অনুষ্ঠানের শুরুতে সিঙ্গাপুরে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার মো. মোস্তাজির রহমান আমন্ত্রিত অতিথিদের ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। তিনি বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে সমৃদ্ধ করতে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতির অবদানের কথা স্মরণ করেন।

সমাপনী পর্বে মো. মোস্তাজির রহমানের সহধর্মিণী তানজিনা বিনতে আলমগীর শিল্পী ও প্রতিনিধিদলের সবাইকে শুভেচ্ছা উপহার প্রদান করেন। বিদেশের মাটিতে দেশের এবং নিজ সম্প্রদায়ের জীবনযাত্রা ও সংস্কৃতিকে নৃত্যকলার মাধ্যমে নিপুণভাবে উপস্থাপন করার জন্য মো. মোস্তাজির রহমান শিল্পী ও কলাকুশলীদের আন্তরিক ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।

 




মহালছড়িতে শিশুকন্যা ধর্ষণের প্রতিবাদ ও নিন্দা এবং ধর্ষকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি

প্রেস বিজ্ঞপ্তি

মহালছড়িতে মঙ্গলবার(১৪ নভেম্বর) গিয়াস উদ্দিন এর পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ুয়া শিশু কন্যা মো. সফি কর্তৃক ধর্ষণের প্রতিবাদ ও তীব্র নিন্দা জানিয়ে যৌথ বিবৃতি দিয়েছে বৃহত্তর পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ (পিসিপি) মহালছড়ি উপজেলা শাখার সভাপতি মেনন চাকমা ও হিল উইমেন্স ফেডারেশন (এইচডব্লিউএফ)মহালছড়ি উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক পিপি চাকমা।

বিবৃতিতে বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে এ যাবত হত্যা, গুম ও ধর্ষণের মতো অপরাধের সুষ্ঠ বিচারসহ ধর্ষক সফি’র দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদান করতে হবে এবং ধর্ষিত শিশুর পরিবারকে যথাযথ ক্ষতিপূরণ প্রদান করতে হবে।

উল্লেখ্য, ১৪ নভেম্বর মঙ্গলবার বিকাল ৪টার দিকে উপজেলা সদরের চৌধুরী টিলা গ্রামের মোসলেম উদ্দিনের ছেলে মো. সফি কর্তৃক  নতুন পাড়া গ্রামের মো. গিয়াস উদ্দিনের পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ুয়া শিশু কন্যা ধর্ষিত হয়। যদিও ধর্ষক সফি’কে এলাকাবাসী আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছে।




ইউপিডিএফ ভেঙে ১১ সদস্যের পাল্টা কমিটি: প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার সকাল-সন্ধ্যা সড়ক অবরোধ

নিজস্ব প্রতিবেদক,খাগড়াছড়ি:

অবশেষে ভেঙেই গেল পার্বত্য চট্টগ্রামে অন্যতম বৃহৎ আঞ্চলিক সংগঠন ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট(ইউপিডিএফ)। ১১ সদস্যের পাল্টা কমিটি গঠনের মাধ্যমে আত্মপ্রকাশ করলো ইউপিডিএফ(গণতান্ত্রিক) নামে অপর একটি সংগঠনের। প্রতিবাদে অপর গ্রুপ মাদক-সন্ত্রাস দুর্বৃত্ত প্রতিরোধ কমিটির ব্যানারে খাগড়াছড়িতে বিক্ষোভ মিছিল বের করে এবং এ মিছিল থেকে আগামীকাল বৃহস্পতিবার খাগড়াছড়িতে সকাল-সন্ধ্যা সড়ক অবরোধ ডাকা হয়েছে।

বুধবার সকাল ১১টায় খাগড়াছড়ি জেলা সদরের খাগড়াপুর কমিউনিটি সেন্টারে ইউপিডিএফ’র একাংশ সাংবাদিক সম্মেলন আহ্বান করে। সাংবাদিক সম্মেলনে অভিযোগ করে বলা হয়, পার্বত্য চট্টগ্রামের জুম্ম জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য প্রসীত বিকাশ খীসা ও সঞ্চয় চাকমার নেতৃত্বে ১৯৯৮ সালের ২৬ ডিসেম্বর আঞ্চলিক সংগঠন ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রাটিক ফ্রন্ট(ইউপিডিএফ) গঠিত হয়। কিন্তু বর্তমানে ইউপিডিএফ’র আন্দোলন পরিচালনার কৌশল ও পদ্ধতি সঠিক না হওয়ার কারণে ইউপিডিএফ’র কেন্দ্রীয় নেতা সঞ্চয় ও দিপ্তী শঙ্করসহ অনেকে দল ত্যাগ করেছেন।

সম্মেলনে আরো বলা হয়, দল ত্যাগ করার অপরাধে অনেক নেতাকর্মীকে মেরে ফেলা হয়েছে। গঠনতন্ত্রে গণতান্ত্রিক উপায়ে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার কথা থাকলেও বর্তমানে সম্পূর্ণ অগণতান্ত্রিক,বলপ্রয়োগের রাজনীতি, চাঁদাবাজি, গুম, খুন ও অপহরণের রাজনীতি, স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, রাষ্ট্রের জাতীয় দিবস বর্জনের রাজনীতি, এমনকি অগণতান্ত্রিক কার্যকলাপে প্রধানমন্ত্রীর সফর প্রতিরোধের চেষ্টার রাজনীতি করে যাচ্ছে ইউপিডিএফ প্রসীত খীসা গ্রুপ।

সাংবাদিক সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, ইউপিডিএফ মুখে ভ্রাতৃঘাতি সংঘাত বন্ধের কথা বললেও এ পর্যন্ত ১০জনের অধিক দলীয় নেতাকর্মীকে হত্যা করা হয়েছে। ইউপিডিএফ’র অনেক নেতা এখন পকেট ভারী নেতা হিসেবে পরিচিত। মূল লক্ষ্য থেকে বিচ্যুতি হয়ে নীতিহীন, আদর্শহীন, লক্ষ্যভ্রষ্ট, দুর্নীতিগ্রস্ত রাজনৈতিক দলে পরিণত হয়েছে।

এসব অপকর্মের প্রতিবাদ করলে প্রতিবাদকারীদের আর্থিকদণ্ড ও মৃত্যুদণ্ড প্রদান করা হয়। ইউপিডিএফ’র বর্তমান নেতৃত্ব জুম্ম জনগণ থেকে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন।

এ সকল বাস্তবতায় সাংবাদিক সম্মেলন থেকে সচেতন জুম্ম জনগণের সমর্থনে সেই দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারকারী নেতাদের খোলস থেকে বেড়িয়ে আসতে ইউপিডিএফের রাঙ্গামাটি জেলার সাবেক কর্ডিনেটর তপন জ্যোতি চাকমাকে আহ্বায়ক ও সাবেক উপজেলা সমন্বয়ক জলেয়া চাকমাকে সদস্য সচিব সচিব করে ১১ সদস্যের নতুন দল ইউপিডিএফ(গণতান্ত্রিক) দলের ঘোষণা দেওয়া হয়।

কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন, নানিয়ারচর থানার সাবেক সমন্বয়ক উজ্জ্বল কান্তি চাকমা, সাবেক উপজেলা সমন্বয়ক রিপন চাকমা, বাঘাইছড়ির সাবেক অফিস সহকারী সত্য রঞ্জন চাকমা, থানা কোর্ডিনেটর আলোকময় চাকমা, কেন্দ্রীয় যুব ফোরামের সদস্য মিটন চাকমা, সাবেক জেলা কর্ডিনেটর পুলু মার্মা ও সাবেক যুব ফোরাম নেতা সোনামনি চাকমা।

এদিকে নব গঠিত ইউপিডিএফ’র কমিটিকে রাষ্ট্রীয় মদদে নব্য মুখোশ-বোরকা বাহিনী আখ্যায়িত করে অপর গ্রুপ মাদক-সন্ত্রাস দুর্বৃত্ত প্রতিরোধ কমিটির ব্যানারে খাগড়াছড়িতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করে। সমাবেশ থেকে আগামীকাল বৃহস্পতিবার একই ব্যানারে খাগড়াছড়িতে সকাল-সন্ধ্যা সড়ক অবরোধের ডাক দেওয়া হয়। পার্বত্যনিউজকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন, ইউপিডিএফ(প্রসীত) অংশের পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের খাগড়াছড়ি জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক অমল ত্রিপুরা।

উল্লেখ্য, পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির স্বাক্ষরের ধারাবাহিকতায় ১৯৯৮ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি খাগড়াছড়ি স্টেডিয়ামে আনুষ্ঠানিকভাবে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতে গেরিলা নেতা সন্তু লারমার নেতৃত্বে অস্ত্র সমর্পন করে জনসংহতি সমিতির সদস্যরা। আর ঐদিনই প্রসীত বিকাশ খীসার নেতৃত্বে খাগড়াছড়ি স্টেডিয়ানে শত শত কালো পতাকা উত্তোলন করে অস্ত্র সমর্পন অনুষ্ঠানকে ধিক্কার জানানো হয়। এরই ধারাবাহিকতায় পরবর্তীতে ১৯৯৮ সালের ২৬ ডিসেম্বর ঢাকায় সম্মেলনের মধ্য দিয়ে পার্বত্য চট্টগ্রামের পূর্ণ স্বায়ত্ত্বশাসনের দাবিতে ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট(ইউপিডিএফ) গঠিত হয়। শুরু হয় সন্তু ও প্রসীতের নেতৃত্বে দুই সংগঠনের আধিপত্য রক্ষার লড়াই। এদিকে ২০০৮ সালে জেএসএস ভেঙ্গে সুধা সিন্দু খীসার নেতৃত্বে গঠিত হয় জেএসএস(এমএন) গ্রুপ। এবার শুরু হয় ত্রিমুখী সংঘাত। কখনো জেএসএস-ইউপিডিএফ আবার কখনো জেএসএস(সন্তু)-জেএসএস(এমএন) কিম্বা কখনো, কখনো নিরাপত্তা বাহিনীর সাথে সংঘর্ষে। এই সংঘর্ষে এ প্রাণ হারিয়েছে পাহাড়ের অন্তত সাড়ে ৬শ শতাধিক প্রাণোচ্ছল যুবক। এছাড়াও সহস্রাধিক আহত হয়েছে।




খাগড়াছড়ি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউ’র কার্য-নির্বাহী কমিটির প্রথম সভা অনুষ্ঠিত


নিজস্ব প্রতিবেদক, খাগড়াছড়ি: খাগড়াছড়ি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউ-এর নব গঠিত কার্য-নির্বাহী কমিটির প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয়। মঙ্গলবার (৭ নভেম্বর) বিকালে পাবর্ত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কক্ষে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেনখাগড়াছড়ি পাজেপ চেয়ারম্যান কংজরী চৌধুরী।

সভায় ২০১৭-১৮ অর্থ বছরে ইনস্টিটিউটের রাজস্ব বাজেট সংক্রান্ত, সদ্য সমাপ্ত খাগড়াছড়ি জেলার ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর আর্থ সামাজিক অবস্থার বিশ্লেষণ কর্মসূচি, খন্ডকালীন কর্মচারীদের বেতন সংস্থান, গবেষণামূলক কাজের মান বৃদ্ধি বিষয়ে আলোচনা হয়। সভায় সাংস্কৃতিক বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি হিসেবে অত্র মন্ত্রণালয়ের উপ সচিব শাহানা জামান উপস্থিত ছিলেন।

প্রসঙ্গতঃ ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান আইন ২০১০’এর ৭ নম্বর ধারামতে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউট, খাগড়াছড়ি এর কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য ২১ মে ২০১৭ স্মারক: ৪৩.০০.০০০০.১১৬.০৬.০০৩.১৭./২৫৬ মূলে ১০ (দশ) সদস্য বিশিষ্ট নির্বাহী পরিষদ গঠন করা হয়।




রেহেনা চাকমা ও স্কুল ছাত্রী জেসিকা ত্রিপুরাকে সংবর্ধনা

 

প্রেস বিজ্ঞপ্তি:

জাতীয় সম্মান মর্যাদা অক্ষুণ্ন রাখব, অন্যায়-জুলুম-নির্যাতনের কাছে মাথানত করবনা- এই শ্লোগানকে সামনে রেখে সদ্য কারামুক্ত পিসিপি মাটিরাঙ্গা উপজেলা শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক রেহেনা চাকমা ও স্কুল ছাত্রী জেসিকা ত্রিপুরাকে পিসিপি মাটিরাঙ্গা ও গুইমারা উপজেলা শাখার উদ্যোগে আয়োজিত এক সভায়  সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (৭ নভেম্বর ) দুপুর ২টায় গুইমারা উপজেলার সদরে বাইল্যাছড়ি সেন্ট পল নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে এ সংবর্ধনা ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত  হয়। অনুষ্ঠানের শুরুতে ১ মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। নীরবতা পালন শেষে সদ্য জামিনে কারামুক্ত রেহেনা চাকমা ও জেসিকা চাকমাকে ফুল দিয়ে সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে।

মাটিরাঙ্গা উপজেলা শাখার সভাপতি নেপাল ত্রিপুরার সভাপতিত্বে ও পিসিপি গুইমারা উপজেলা শাখার সভাপতি অভি চাকমার সঞ্চালনায়  আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন গণতান্ত্রিক যুব ফোরাম মাটিরাঙ্গা উপজেলা শাখার সহ-সভাপতি শুভ চাকমা, পিসিপি খাগড়াছড়ি জেলা শাখার সদস্য দিপংকর ত্রিপুরা, সদ্য কারা মুক্ত গুইমারা উপজেলা শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক রেহেনা চাকমা প্রমুখ।

সংবর্ধনা ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠানে পাঁচ উপজেলার  পিসিপি নেতৃবৃন্দ, এলাকার মুরুব্বী ও এলাকাবাসী উপস্থিত ছিলেন।




বম ভাষার নতুন অভিধান

নিজস্ব প্রতিবেদক, বান্দরবান:

বাংলা ও ইংরেজি ভাষায় নতুন অভিধান রচনা করেছেন বান্দরবানের বম নৃ-গোষ্ঠীর সদস্যরা। নতুন অভিধানটির লেখক জুয়ালরেমথাং কে. রেমা। আগে বম ভাষায় রচিত অভিধানে বাংলা বা ইংরেজি প্রতিশব্দ ছিলোনা। নতুন সংস্করণের ফলে অন্য ভাষাভাষীরা সহজে নতুন অভিধানটি পড়তে ও জ্ঞান অর্জন করতে পারবে। অভিধানটিতে ১৩ হাজার ৫শ’টি শব্দের বাংলা ও ইংরেজি প্রতিশব্দ সংযোজন করা হয়েছে।

রবিবার(৫ নভেম্বর) শহরের উজানী পাড়ায় বম কমিউনিটি হলে নতুন অভিধানের মোড়ক উন্মোচন করেন বম সোশ্যাল কাউন্সিলের কেন্দ্রীয় সভাপতি জুয়েল বম।

এসময় বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য সিংইয়ং ম্রো ও ফিলিপ ত্রিপুরা, বম সোশ্যাল কাউন্সিলের সাবেক সভাপতি জুয়ামলিয়ান আমলাই, ইভানজেলিক্যাল খ্রিস্টিয়ান চার্চের রেভারেন্ড পাকসিম বম ও বম সোশ্যাল কাউন্সিল বান্দরবান শাখার সভাপতি জলরেমথাং বম উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে শুধু বম ভাষায় রচিত অভিধান থাকলেও সেগুলোর বাংলা বা ইংরেজি প্রতিশব্দ ছিলোনা। নতুন এ অভিধানের মাধ্যমে অন্য ভাষাভাষী মানুষেরাও সহজেই বম ভাষা চর্চা করতে পারবেন বলে আশা প্রকাশ করেন উদ্যোক্তারা। অভিধানটির দাম ধরা হয়েছে ৫’শ টাকা।

নতুন অভিধানটির লেখক জুয়ালরেমথাং কে. রেমা। তিনি লেখাপড়া করেছেন ভারতের মহারাষ্ট্রে। সেখানকার ইউনিয়ন বিবলিক্যাল সেমিনার থেকে ৮৮ সালে ব্যাচেলর ডিগ্রি এবং একই প্রতিষ্ঠান থেকে ৯৫ সালে ধর্মতত্ত্বের উপর আরেকটি ডিগ্রি লাভ করেন। ২০০৯ সালে বাংলাদেশের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় শান্তা মারিয়াম থেকে ম্যাটার অব সোস্যাল সাইন্সের উপর মাস্টার্স ডিগ্রি নিয়েছেন জুয়ালরেমথাং কে. রেমা।




 দীঘিনালায় নোয়াপাড়া লুরি বৌদ্ধ বিহারে দানোত্তম ত্রি চীবর দান অনুষ্ঠান

নিজস্ব প্রতিনিধি, দীঘিনালা:

রাঙামাটি সার্কেল চীফ ব্যারিস্টার দেবাশীষ রায় বলেছেন, “ধর্মে বহুমাত্রিকতা থাকা খারাপ কিছু নয়। বহুমাত্রিকতা আমার চাকমা জাত এবং বৌদ্ধ ধর্মের সুন্দর। ধর্মের নামে মারামারি করাও মঙ্গলজনক নয়। আমরা চাকমা, আমরা মারমা, আমরা সবাই এক জাত। এ বিশ্বাস সবার মধ্যে থাকতে হবে। কিছু বিশ্বাস দেবদেবীর মধ্যেও আছে, প্রকৃতির মধ্যেও আছে। যা আমাদের বর্তমান সময়েও মঙ্গলজন। তাদের প্রতিও আমাদের আন্তরিকতা থাকতে হবে।”

রোববার (২৯ অক্টোবার) দীঘিনালা উপজেলার ১নং নোয়াপাড়া লুরি বৌদ্ধ বিহারে ৬১তম দানোত্তম ত্রি চীবর দান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

অনুষ্ঠানে ১নং নোয়াপাড়া লুরি বৌদ্ধ বিহার পরিচালনা কমিটির সভাপতি জীবন শান্তি চাকমার সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, ধর্মগুরু প্রজ্ঞাবংশ লুরি, দেবতিষ্য লুরি, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান সুসময় চাকমা, ৪নং দীঘিনালা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান চন্দ্র রঞ্জণ চাকমা, দীঘিনালা মৌজার হেডম্যান প্রান্তর চাকমা, পার্বত্য চট্টগ্রাম বৌদ্ধ ফেডারেশনের সহ-সভাপতি আনন্দ মোহন চাকমা প্রমুখ।

এর আগে বুদ্ধপতাকা উত্তোলন গঙ্গায় মূর্তি স্নান, অষ্টপরিষ্কার দান, বুদ্ধ পূজা উৎসর্গ, ত্রি চীবর আনায়ন অনুষ্ঠিত হয়েছে।




শনিবার থানচিতে নবান্ন উৎসবে যোগ দিবেন পার্বত্য প্রতিমন্ত্রী

থানচি প্রতিনিধি:

বাংলদেশ ও মিয়ানমার সীমান্ত ঘেঁষা বান্দরবানে থানচি উপজেলা সদরে শান্তি যোসেফ ক্যাথলিক মিশন ও ক্ষুদ্র-নৃগোষ্ঠীদের যৌথ আয়োজনে শনিবার নবান্ন উৎসবে যোগ দিবেন বীর বাহাদুর এমপি।

এই উপলক্ষ্যে উপজেলা প্রশাসনের কঠোর নিরাপত্তা বেস্টনিসহ ব্যাপক প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। থানচি উপজেলা সর্বস্তরে জনসাধারনের প্রানে সঞ্চালন ও উৎসব মূখর পরিবেশে মুখরিত হচ্ছে।

প্রশাসনে সূত্র বলছে, নবান্ন উৎসবের যোগ দেবার আগে উপজেলা সদরে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগের (এলজিইডি) তত্বাবধানে ৭ কোটি টাকা ব্যয়ের ৫শ আসন বিশিষ্ট অডিটরিয়াম কাম মাল্টিপারপাস হল নির্মাণ কাজ, গণপূর্ত বিভাগ (পিডব্লিউডি) তত্বাবধানে ৯ কোটি টাকা ব্যয়ের নিরাপত্তাবাহিনীদের ৪তলা বিশিষ্ট থানা ভবন নির্মাণ কাজের ভিত্তিপ্রস্তর উদ্বোধন এবং স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগের অর্থায়নের ২০১৫-১৭ সালে ৭ কোটি টাকা ব্যয়ের নব নির্মিত কোমল মতি শিক্ষার্থীদের ছাত্রাবাস ভবন উদ্বোধন শেষে শিক্ষার্থীদের শিক্ষা সামগ্রী বিতরণ করবেন।

পার্বত্য বিষয়ক মন্ত্রনালয়ের প্রতিমন্ত্রী বীর বাহাদুর ও জেলা প্রশাসক দিলিপ কুমার বণিক, পুলিশ সুপার সনজিদ কুমার রায়, জেলা পরিষদের সদস্য লক্ষী পদ দাশ পার্বত্য বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী সাথে থাকবেন।




মারমা স্টুডেন্ট কাউন্সিল এর খাগড়াছড়ি সরকারি কলেজ শাখার ১১তম কাউন্সিল অনুষ্ঠিত

খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি:

বাংলাদেশ মারমা স্টুডেন্ট কাউন্সিল এর খাগড়াছড়ি সরকারি কলেজ শাখার ১১তম কাউন্সিল ও নবগঠিত কমিটির বরণ অনুষ্ঠান করা হয়েছে।

বুধবার(১৮ অক্টোবার) সকাল ১০টার দিকে জেলা ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী সাংস্কৃতিক ইনিস্টিটিউট এর হল রুমে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানের উদ্বোধক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মারমা উন্নয়ন সংসদের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি চাইথোঅং মারমা।

বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা ও মারমা উন্নয়ন সংসদের নিজস্ব পতাকা উড়িয়ে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করা হয়। এসময় উপস্থিত সকলেই জাতীয় সংগীত পরিবেশন করেন।

খাগড়াছড়ি সরকারি কলেজ সভাপতি মংক্যচিং মারমার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের যুব ও ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক মংসুইপ্রু চৌধুরী (অপু)।

এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন মারমা উন্নয়ন সংসদের কেন্দ্রীয় আন্তর্জাতিক যোগাযোগ বিষয়ক সম্পাদক নু মং প্রু মারমা, বাংলাদেশ মারমা স্টুডেন্ট কাউন্সিল খাগড়াছড়ি জেলা শাখার সাবেক সভাপতি রনিমং মারমা, বর্তমান জেলা সভাপতি মংচিংহ্লা মারমা।

১৭জন বিশিষ্ট খাগড়াছড়ি সরকারি কলেজের নতুন কমিটিতে সভাপতি নি অংগ্য মারমা, সাধারণ সম্পাদক ওসাপ্রু মারমা ও নি অং মারমাকে সাংগঠনিক হিসেবে নির্বাচিত করা হয়েছে।