ঢাকায় উপজাতি যুবকের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার

নিজস্ব প্রতিনিধি:

রাজধানীর কাফরুলের সেনপাড়া এলাকা থেকে অংহ্লা খেয়াং(২৮) নামের এক উপজাতি যুবকের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে রবিবার রাত ১০টার দিকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে পুলিশ।

কাফরুল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. সফিকুল ইসলাম জানান, রবিবার বিকাল ৪টার দিকে সেনপাড়া পর্বতার ৪৪৮ নং বাসার নিচতলার একটি কক্ষ থেকে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় গলায় গামছা প্যাঁচানো অংহ্লা খেয়াংয়ের লাশ উদ্ধার করা হয়।

জানা যায়, পার্বত্য চট্টগ্রামের চন্দনাইশ থানার উত্তর ডুবাছড়ি বাজার এলাকার সাজাই খৈয়াংয়ের ছেলে অংহ্লা খেয়াং। চাকরি খোঁজার উদ্দেশ্যে  ১৬ মার্চ সকালে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় বন্ধু উংসিং মারমার বাসায় আসে সে।

রবিবার সকালে তাকে ঘরে রেখে তার বন্ধু ও বন্ধুর ছোট দুই ভাই বাইরে যান। দুপুরে তারা ফিরে এসে দেখেন বাসার ভেতর থেকে বন্ধ। তখন অনেক ডাকাডাকি করেও কোনও সাড়া পাওয়া যায়নি। পরে জানালা দিয়ে তারা দেখেন ফ্যানের সঙ্গে গামছা দিয়ে অংহ্লা ঝুলে আছেন। থানায় খবর দেওয়া হলে পুলিশ এসে লাশ উদ্ধার করে।




পাহাড় ও সমতলে পিছিয়ে থাকা ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠির উন্নয়ন ও বিকাশে কর্মশালা

Bandarban pic-16.3

নিজস্ব প্রতিবেদক,বান্দরবান:

সংবিধানের আলোকে পাহাড় ও সমতলে পিছিয়ে থাকা ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী সমূহের উন্নয়ন ও বিকাশের জন্য কর্ম কমিশনসহ বিভিন্ন সরকারী চাকুরীতে কোটা সংরক্ষণ এবং বাস্ততার নিরিখে কর্মপন্থা গ্রহণের মাধ্যমে চাকুরীর সুযোগ সৃষ্টির লক্ষ্যে হোটেল সোনারগাঁওয়ে কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও আইএলও’র যৌথ উদ্যোগে কর্মশালায় প্রধান অতিথি ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈসিং এমপি। কর্মশালায় গবেষণা প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন চাকমা রাজা ব্যারিস্টার দেবাশীষ রায়।

পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব নববিক্রম কিশোর ত্রিপুরার সভাপতিত্বে কর্মশালায় বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সচিব ড. কামাল আব্দুল নাসের চৌধুরী, বাংলাদেশ সরকারী কর্ম কমিশনের সচিব বেগম আকতারী মমতাজ, আইএলও’র অফিসার ইনচার্জ জনাব গগন রাজভাণ্ডারী।




১৬তম বোমাং রাজা’র সহধর্মিণীর পরলোকগমন

17238891_673250369544231_772463814_n
নিজস্ব প্রতিবেদক, বান্দরবান
বান্দরবান বোমাং সার্কেলের ১৬তম প্রয়াত রাজা ক্যসাই প্রু (কে এস প্রু) চৌধুরী’র সহধর্মিণী রাণী ড. এ সাং পরলোক গমন করেছেন। শনিবার দুপুরে ঘুমন্ত অবস্থায় পরলোক গমন করেন বলে পরিবার সূত্র জানায়।

মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৩ বছর। মৃত্যুকালে ৫ মেয়ে ও ২ ছেলেসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। দীর্ঘদিন তিনি বার্ধক্যজনিত কারণে অসুস্থ ছিলেন।

তাঁর মৃতুতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল, স্বেচ্ছাসেবক দল, যুবদল, ছাত্রদলসহ জাতীয়তাবাদী দলের বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা গভীর ভাবে শোকাহত বলে দলীয় সূত্র জানায়।

শনিবার বান্দরবান জেলা বিএনপির নবাগত সভাপতি মাম্যাচিং মারমা, সিনিয়ার সহ-সভাপতি অধ্যাপক ওসমান গনি, সাধারণ সম্পাদক জাবেদ রেজাসহ সদ্য অনুমোদন পাওয়া বিএনপির কমিটির নেতৃবৃন্দ তাঁর মরদেহে পুস্প অর্পণ করে গভীর শ্রদ্ধা জানান ।

উল্লেখ্য প্রয়াত ১৬তম বোমাংগ্রি ক্য সাই (কেএস) প্রু চৌধুরী ১৯৯১ সালে ধানের শীষের প্রতীক নিয়ে সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হন। পরে বান্দরবান জেলা আওয়ামীলীগে যোগদান করেন।




রাঙ্গামাটির কুদুকছড়িতে পিসিপির ছাত্র সমাবেশ

IMG_0119 copy
প্রেস বিজ্ঞপ্তি :

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অগণতান্ত্রিক দমনমূলক ১১ নিদের্শনা বাতিল কর” এই দাবি সম্বলিত শ্লোগানকে সামনে রেখে পাঠ্য পুস্তকে পাহাড়ি জাতিসত্তার অবমাননাকর উগ্র-জাতীয়তাবাদ ও সাম্প্রদায়িক বাক্য মুদ্রণের প্রতিবাদে এবং শিক্ষা সংক্রান্ত ৫ দফা দাবি পূর্ণ বাস্তবায়নের দাবিতে বৃহত্তর পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ (পিসিপি) রাঙ্গামাটি জেলা শাখার উদ্যোগে বুধবার দুপুর ১২টায় কুদুকছড়ি বড় মহাপুরুম স্কুল গেইট এলাকায় এক ছাত্র সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

বৃহত্তর পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ (পিসিপি)-এর রাঙ্গামাটি জেলা শাখার সভাপতি কুনেন্টুু চাকমার সভাপতিত্বে ও সহ-সভাপতি নিকন চাকমার সঞ্চালনায় সমাবেশে বক্তব্য রাখেন গণতান্ত্রিক যুব ফোরামের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক থুইক্যচিং মারমা ও হিল উইমেন্স ফেডারেশন রাঙ্গামাটি জেলা শাখার সভাপতি এবং কেন্দ্রীয় সদস্য মন্টি চাকমা প্রমুখ।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, বিগত ২০০০ সাল হতে বৃহত্তর পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ (পিসিপি) মাতৃভাষায় প্রাথমিক শিক্ষাসহ শিক্ষা সংক্রান্ত ৫ দফা দাবিতে আন্দোলন করে আসছে। কিন্তু সরকার এখনো এসব দাবি পুরোপুরি বাস্তবায়ন করেনি। উপরন্তু ২০১৭ সালে প্রণীত পাঠ্য বইয়ে পাহাড়ি জাতিসত্তার অবমাননাকর উগ্র-জাতীয়তাবাদ, সাম্প্রদায়িক বাক্য মুদ্রণ করেছে।

বক্তারা সরকারের সমালোচনা করে বলেন, ২০১৭ সালে ৫টি জাতিসত্তার ভাষায় প্রাক প্রাথমিক বই বিতরণের মাধ্যমে জাতিসত্তার মাতৃভাষায় শিক্ষা চালু করার কথা থাকলেও পার্বত্য চট্টগ্রামের অধিকাংশ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এখনো বই পৌঁছেনি। ফলে সরকারের এই উদ্যোগ কতটুকু সফল হবে তা নিয়ে যথেষ্ট সংশয় রয়েছে। সমাবেশ থেকে বক্তারা পার্বত্য চট্টগ্রামসহ দেশের সকল জাতিসত্তার নিজ নিজ মাতৃভাষায় প্রাথমিক শিক্ষা চালু ও এ লক্ষ্যে পর্যাপ্ত বই প্রণয়নের দাবি জানান।

পিসিপি’র রাঙ্গামাটি জেলা শাখার সভাপতি কুনেন্টু চাকমা অভিযোগ করে বলেন, শিক্ষা সংক্রান্ত ৫ দফা বাস্তবায়নের দাবিতে আজকের এই ছাত্র সমাবেশের জন্য রাঙ্গামাটি জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারকে লিখিতভাবে অবগত করার পরও সমাবেশের জন্য মঞ্চ তৈরিতে বাধা প্রদান করা হয়েছে। গণতান্ত্রিক কর্মসূচিতে এ ধরনের বাধাদানের ঘটনায় তিনি তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।

তিনি অবিলম্বে মাতৃভাষায় প্রাথমিক শিক্ষাসহ পিসিপি’র শিক্ষা সংক্রান্ত ৫ দফা দাবি পূর্ণ বাস্তবায়ন ও পাঠ্য পুস্তক হতে পাহাড়ি জাতিসত্তার অবমাননাকর সাম্প্রদায়িক বাক্য মুদ্রণ বাতিল করার জন্য সরকারের কাছে জোর দাবি জানান। অন্যথায় ভবিষ্যতে আরো কঠোর কর্মসূচি দেয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন।




মাটিরাঙ্গায় ৩২ অনুপবেশকারীকে আটক করেছে বিজিবি

DSC00589

নিজস্ব প্রতিবেদক, মাটিরাঙ্গা :

পার্বত্য খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গায় ৩২ অনুপ্রবেশীকারীকে আটক করেছে বর্ডার গার্ড ব্যাটালিয়ন-বিজিবি। সীমান্ত অতিক্রম করে ভারত থেকে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ কালে মাটিরাঙ্গার যামিনীপাড়ার জোনের আওতাধীন দেওয়ানবাড়ী বিওপি’র বিজিবি সদস্যরা তাদেরকে আটক করে।

কিছু সংখ্যক লোক অবৈধভাবে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করছে এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বুধবার সকালে দেওয়ানবাড়ী বিওপি’র হাবিলদার মো. বাবুল মিয়ার নেতৃত্বে বিজিবি জওয়ানরা তাদেরকে আটক করে।

আটটকৃতদের বুধবার রাত ৯টার দিক অবৈধভাবে ভারত হতে সীমান্ত অতিক্রম করায় তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য মাটিরাঙ্গা থানায় সোপর্দ করা হয়েছে।

আটককৃতদের সকলেই খাগড়াছড়ির স্থায়ী বাসিন্দা দাবী করে খাগড়াছড়ি সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আম্যা মারমা জানান, তারা সকলেই স্থানীয় সুইং নৃত্য দলের কর্মী। ভারতের এ্যালমারা এলাকায় ভৌদ্ধভিক্ষুর দাহক্রীয়া অনুষ্ঠানে নৃত্য পরিবেশনের জন্য তারা সেখানে গিয়েছিল। দাহক্রীয়া শেষে দেশে ফেরার পথে বিজিবি তাদের আটক করে।

বিজিবির হাতে অবৈধ অনুপ্রবেশকারী আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করে মাটিরাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ মো. সাহাদাত হোসেন টিটো বলেন, আটটকৃতদের বিরুদ্ধে পাসপোর্ট আইনে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। তিনি আরও বলেন, আটককৃতদের সকলেই বাংলাদেশী নাগরিক বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা জানিয়েছে।




ঘুমধুমে উদ্ধার হওয়া উপজাতি লাশের অন্তোষ্টিক্রিয়া সম্পন্ন

 

উখিয়া প্রতিনিধি:

সীমান্তবর্তী ঘুমধুমে উদ্ধার হওয়া লাশ উপজাতি মানসিক প্রতিবন্ধি মরাইয়া মার্মা’র (২৫) অন্তষ্টিক্রিয়া সোমবার বিকালে পাত্রাজিরি নামক স্থানে সম্পন্ন হয়েছে। তিনি নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঘুমধুম ইউনয়িনের পাত্রাজিরি গ্রামের অংতাই অংয়ের ছেলে।

এলাকাবাসী জানান, অভাবে তাড়ানায় তিনি প্রতিদিনের ন্যায় শুক্রবার  পাহাড়ি এলাকায় ফুলঝাড়ু সংগ্রহ করতে গেলে নিখোঁজ হয়ে যায়। অনেক খোঁজাখুঁজির পর অবশেষে রবিবার স্থানীয় কাটুরিয়া এখলাছ মিয়া নামক এক ব্যক্তি খালে ভাসমান অবস্থায় তার লাশ দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দেয়।

বিকেলে ঘুমধুম পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে মরাইয়্যা নামক উপজাতি যুবকের লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য মর্গে প্রেরণ করে।

ঘুমধুম ইউনিয়ন পরিষদের ৭, ৮ ও ৯ নং ওয়ার্ডের সংরক্ষিত আসনের মহিলা মেম্বার চিংমে মার্মা সাংবাদিকদের জানান, মরাইয়্যা মার্মা একজন প্রতিবন্ধি  মৃগী রোগি ছিলেন। পাহাড়ের ফুলঝাড়ু সংগ্রহ করতে যাওয়ার পথে খাল পারা-পারের অসাবধনা বসত  পানিতে পড়ে যায়। তার মতে উপজাতি যুবকের মৃত্যুটি দুর্ঘটনা। কারণ মানসিক প্রতিবন্ধি মারাইয়্যা মার্মার এলাকার কোন শত্রু মিত্র নেই। সবাই তাকে আদর, স্নেহ করত।

এদিকে অভিযোগ উঠেছে একটি বিশেষ মহল প্রতিবন্ধি যুবকের মৃত্যুকে পুঁজি করে ঘটনাটি ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার অপচেষ্টা শুরু করেছে। এমনকি মামলায় আসামী করার হুমকি দিয়ে অর্থও হাতিয়ে নেওয়ার পায়তারা চালিয়ে যাচ্ছে। উপজাতি গ্রামবাসীরা জানান, প্রতিবন্ধি যুবকের মৃত্যুর পেছনে কেউ জড়িত থাকতে পারে না।

ঘুমধুম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আজিজ সাংবাদিকের জানিয়েছেন, মারাইয়্যা মার্মা মৃগী রোগে আক্রান্ত ছিল। এছাড়াও মানুসিক প্রতিবন্ধি হিসাবেও তাকে সবাই জানে। তাই তার মৃত্যুকে পুঁজি করে কেউ যেন ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে না পারে সে জন্য পুলিশ প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।

স্থানীয় ওয়ার্ডের মেম্বার বাবুল কান্তি বলেন, খাল থেকে ভাসমান অবস্থায় উদ্ধার হওয়া লাশ ময়না তদন্তে শেষে ধর্মীয় রীতি অনুসারে পাত্রাজিরি এলাকায় মারা যাওয়া যুবকের  অন্তোষ্টিক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়। পুলিশের  রির্পোট লেখাকালীন সময় কোন আঘাতের চিহৃ পাওয়া যায়নি।

ঘুমধুম পুলিশ ফাঁড়ির আইসি এরশাদ উল্লাহ জানান, এ ব্যাপারে থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা রুজু করা হয়েছে।




৭১’এ বাংলাদেশিদের ত্রিপুরায় আশ্রয় ও সহায়তা দেয়া ছিল আমাদের নৈতিক দায়িত্ব : ত্রিপুরার সাংসদ জীতেন্দ্র

20170113_135444-2 copy
রামগড় প্রতিনিধি :
ভারতের লোকসভার পূর্ব ত্রিপুরার সাংসদ  জীতেন্দ্র  চৌধুরী  বলেছেন, ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে  বাংলাদেশের মানুষকে ত্রিপুরায় আশ্রয় ও সহায়তা দেয়া হয়  নৈতিক দায়িত্বে। প্রতিবেশীর প্রতি এটা নৈতিক দায়িত্ব  ছিল ভারতের।  তিনি আরো বলেন, ত্রিপুরার বিলোনীয়ার যুত্যা খোলা নামক স্থানে মুক্তিযোদ্ধাদের একটি  ক্যাম্প ছিল। সেখানে ভারত বাংলাদেশ মৈত্রী পার্ক নামে একটি পার্ক নির্মাণ করা হয়েছে। এখানে মুক্তিযোদ্ধাদের তৈরি করা ক্যাম্পের মত একটি  ক্যাম্প নির্মাণ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তৎকালীন ভারতের প্রধান মন্ত্রী  ইন্দিরাগান্ধীর প্রতি মূর্তি স্থাপন করা হয়েছে। আগামী  মার্চ বা এপ্রিল মাসে  পার্কটি উদ্বোধনের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।

শুক্রবার খাগড়াছড়ির রামগড়ে বাংলাদেশ ত্রিপুরা স্টুডেন্টস ফোরামের দুই যুগ পূর্তি  ও ১২তম কাউন্সিল  উপলক্ষে  আয়োজিত আলোচনা সভায়  গেস্ট অব অনারের বক্তব্যে শ্রী জীতেন্দ্র চৌধুরী এ কথা বলেন।  তিনি আরো বলেন, দারিদ্রতা, অশিক্ষা, কুসংস্কার শুধু ভারত বাংলাদেশের শত্রু নয়। এটা উপমহাদেশের বড় শত্রু।  এই শত্রুর বিরুদ্ধে দুদেশকে এক সাথে লড়তে হবে।

তিনি আরও বলেন, ফেনী নদীর ওপর বাংলাদেশ-ভারত মৈত্রী সেতুর নির্মাণ কাজ খুব শীঘ্রই আরম্ভ করবে ভারত সরকার। দুদেশের ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসারের সাথে সাথে সাংস্কৃতিক আদান প্রদানেও এ মৈত্রী সেতু বড় ভূমিকা রাখবে। বাংলাদেশ ভারতের মধ্যে সহযোগিতা আরও জোরদার করতে হবে। বড় দেশ বা ছোট দেশ হিসাবে নয়, সমান মর্যাদায় এগিয়ে যেতে হবে দুদেশকে। ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর ভাষা সংস্কৃতি হারিয়ে যাচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, পৃথিবী দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে। টিকে থাকতে হলে আমাদের ভাষা, সংস্কৃতি, ঐতিহ্য রক্ষা করতে হবে। এ জন্য দুদেশে নৃ-গোষ্ঠীর মধ্যে যোগাযোগ সমন্বয় থাকা দরকার।

ত্রিপুরা স্টুডেন্টস ফোরামের কেন্দ্রীয় কমিটির  সভাপতি  উবিক ত্রিপুরার সভাপতিত্বে আলোচনাসভায় প্রধান অতিথি ছিলেন খাগড়াছড়ির সংসদ সদস্য কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা। অনুষ্ঠানের উদ্বোধক ছিলেন খাগড়াছড়ি  জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান  কংজরী  চৌধুরী। প্রথম অধিবেশনে অন্যান্যের মধ্যে রামগড় উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আল মামুন মিয়া, খাগড়াছড়ি জেলা পরিষদের প্রাক্তন সদস্য ভুবন মোহন ত্রিপুরা, সাবেক তথ্য কর্মকর্তা সুরেশ মোহন ত্রিপুরা, ইউপি চেয়ারম্যান মনিন্দ্র ত্রিপুরা প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় অধিবেশনে প্রধান অতিথি ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রামের সংরক্ষিত আসনের মহিলা এমপি ফিরোজা বেগম চিনু। অন্যান্যের মধ্যে রাঙ্গামাটি প্রেসক্লাবের সভাপতি সাখাওয়াৎ হোসেন রুবেল, স্টুডেন্টস ফোরামের নেতা দেবাশীষ ত্রিপুরা, খগেশ্বর ত্রিপুরা প্রমুখ বক্তব্য দেন।

দ্বিতীয় অধিবেশনের পর সন্ধ্যায় এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

এর আগে শুক্রবার সকালে উপজেলা পরিষদ এলাকা থেকে একটি বর্নাঢ্য র‌্যালী বের করা হয়। খাগড়াছড়ি জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান র‌্যালির উদ্বোধন করেন। র‌্যালিটি শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে লেক পার্কে শেষ হয়। তিন পার্বত্য জেলা ছাড়াও চট্টগ্রাম, সিলেট, কুমিল্লাসহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে কেন্দ্রীয় কাউন্সিলে যোগ দিতে আসা ত্রিপুরা সম্প্রদায়ের বিপুল সংখ্যক ছাত্রছাত্রী ও বিভিন্ন পেশাজীবী নারী পুরুষ  র‌্যালিতে অংশ গ্রহণ করেন।




বান্দরবানে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর মাতৃভাষার বই পৌঁছায়নি

bandarban-pic-1-1-2017

নিজস্ব প্রতিবেদক
সারাদেশে সব শিক্ষার্থীর হাতে বছরের প্রথম দিনে বিনা মূল্যের নতুন বই তুলে দেবার সরকারি সিদ্ধান্ত থাকা স্বত্ত্বেও দায়িত্বরত প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাদের উদাসীনতায় ১ জানুয়ারি পর্যন্ত ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর জন্যে মুদ্রিত বইয়ের একটিও বান্দরবানে পৌঁছেনি। সে কারণে প্রাক প্রাথমিকের বই শিশুদের হাতে তুলে দেয়া যায়নি।

বিষয়টি জানতে পেরে ক্ষুব্ধ হন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী বীর বাহাদুর এমপি। তিনি অবিলম্বে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর মাতৃভাষার বই নিয়ে আসার জন্যে শিক্ষা কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন।

বান্দরবান ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক ইন্সটিটিউট অডিটোরিয়ামে বই নিতে এসে বঞ্চিত হওয়া শিশুদের সাথে কথা বলতে চাইলে তারা অনুযোগ করে- সবার বই আসছে। সবাই বই পাচ্ছে। তাহলে আমাদের বই আসবে না কেন?

বছরের প্রথম দিন মায়ের হাত ধরে নতুন বই হাতে পাবার জন্যে ছুটে এসেছিল এনু চিং মারমা, শিপ্রা ত্রিপুরা এবং চিনু চাকমাসহ আরো অনেক শিশু। তারা এসেছিল প্রতিমন্ত্রীর হাত থেকে বই নিতে। কিন্তু বই এসে পৌঁছায়নি জেলা সদরে। তাই বই না পেয়ে খালি হাতেই ফিরে গেছে কোমল মতি শিশুরা।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে বান্দরবান জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আনন্দ কিশোর সাহা জানান, প্রাক প্রাথমিক শ্রেণির জন্যে মোট ১১ হাজার ৩১০ সেট বইয়ের চাহিদা পত্র পাঠানো হয়েছে। শনিবার ৩১ ডিসেম্বর রাতে শিক্ষকদের জন্যে কয়েকটি ‘পাঠ সহায়ক বই’ এসেছে। তবে মারমা, চাকমা, ত্রিপুরা,চাকমা মাতৃভাষায় পাঠ দানের কোন বই রবিবার পর্যন্ত না পৌঁছার কারণে প্রাক প্রাথমিক শ্রেণির শিক্ষার্থীদের হাতে বই তুলে দেয়া যায়নি।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের চাহিদা অনুযায়ী মারমা ভাষায় ৪২৩৫ সেট, ত্রিপুরা ভাষাভাষিদের জন্যে ৮৬৫ সেট, চাকমা শিশুদের জন্যে ২০৮ সেট, গারো/তঞ্চঙ্গ্যা শিশুদের জন্যে ৭৩ সেট এবং অন্যান্যদের জন্যে ৬৯২৯ সেট বইয়ের চাহিদা পাঠানো হয়েছে।

অভিযোগ উঠেছে, প্রাক-প্রাথমিক শ্রেণিতে মারমা, ত্রিপুরা, চাকমা বা গারো শিশু ভর্তি হবার সম্ভাবনা যথাযথ কোন কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে না নিয়ে বা এ বিষয়ে কোন জরিপ ছাড়াই দায় এড়াতে তড়িঘড়ি আন্দাজের উপর ভিত্তি করে একটি কল্পিত চাহিদা পত্র পাঠানো হয়েছে। এ কারণে বই বিতরণের নির্ধারিত দিনের আগে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর মাতৃভাষায় রচিত প্রাইমারি বই না পৌঁছলেও জেলা বা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারগণ সংশ্লিষ্ট উর্ধতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি অবহিত করেনি।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের একটি সূত্র জানায়, বর্তমানে বান্দরবান জেলায় ৩৪৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এর মধ্যে ৩ দফায় ২১৯টি পুরাতন স্কুলে প্রাক প্রাথমিক শ্রেণির জন্যে শিক্ষক নিয়োগ দেয়া হয়েছে। অবশিষ্ট ১২৪টি বিদ্যালয়ে শিক্ষক না থাকায় এসব বিদ্যালয়ে প্রাক প্রাথমিক শ্রেণী চালু করা যায়নি।

সূত্র জানায়, ইউএনডিপি পরিচালিত ৮৩টি বেসরকারি বিদ্যালয়কে সরকারিকরণের প্রক্রিয়া এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।

এদিকে বই বিতরণ অনুষ্ঠানে বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ক্য শৈ হ্লা, জেলা প্রশাসক দিলীপ কুমার বণিক, পুলিশ সুপার সঞ্জিত কুমার রায় এবং জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আনন্দ কিশোর সাহা বক্তব্য দেন। তারা সরকারের কালজয়ী পদক্ষেপের প্রশংসা করে বলেন, এতে শিক্ষার হার বেড়ে যাবে এবং কমে যাবে ঝরে পড়ার হার।




পাহাড়ের উপজাতীয় তরুণীদের কাছে তবুও প্রিয় বাঙালি যুবকরা

girl-1-copy

মিয়া হোসেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম থেকে ফিরে :

‘ভালোবাসা’ মানে না কোন বাধা, মানে না ধর্ম, বর্ণ বা জাতের ভেদাভেদ। সুযোগ পেলেই বাঙালি ছেলেদের প্রেমে পড়ে যায় পাহাড়ী উপজাতীয় তরুণীরা। অবশেষে ধর্ম পরিবর্তন করে বিয়ে বন্ধনেও আবদ্ধ হয়। কিন্তু বাধা হয়ে দাঁড়ায় কথিত আঞ্চলিক সংগঠনগুলো। ভালোবাসায় বিচ্ছেদ ঘটাতে ভিলেনের ভূমিকায় অবর্তীণ হয় এসব সংগঠনের সন্ত্রাসীরা। নিজেদের জাত রক্ষার নামে উভয় পরিবারের উপর নির্যাতন চালায়, কখনো কখনো তরুণীদের অপহরণ করে ধর্ষণ করে। হত্যার হুমকী ধমকী দেয়। এসব বাধা উপেক্ষা করেই পাহাড়ী তরুণীরা বাঙালি ছেলেদের বিয়ে করে চলছে। এ হার দিন দিন বেড়েই চলছে।

সম্প্রতি সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, আজ থেকে ১২ বছর আগে বাঙালী তরুণ জামাল উদ্দিনের প্রেমে পড়ে মারমা তরুণী মিনিরওজা মারমা। অবশেষে ভালোবেসে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে বিয়ে বন্ধনে আবদ্ধ হয় তারা। সেই সাথে নাম তার নাম পরির্তন করে আয়েশা সিদ্দিকা রাখা হয়। বর্তমানে তাদের দু‘টি সন্তান রয়েছে। কিন্তু দীর্ঘ ১২ বছর পরও তাদের এ বিয়ে ও ভালোবাসাকে মেনে নিতে পারেনি কথিত আঞ্চলিক সংগঠনগুলোর সন্ত্রাসীরা। গত ৮ নভেম্বর স্থানীয় গিলাছড়ি বাজার থেকে এই নারীকে তুলে নিয়ে যায় উপজাতীয় সন্ত্রাসীরা। তাকে নিয়ে ১দিন, ১ রাত আটকে রেখেছে। তার গলায় শিকল দিয়ে বেঁধে রেখেছে। কেন সে মুসলিম হয়েছে? কেন বাঙালিকে বিয়ে করেছে? এসব প্রশ্নে জর্জরিত করেছে তাকে। গলায় ছুরি ধরে তার কাছ থেকে মিথ্যা বিবৃতি রেকর্ড করেছে। স্বামী-শ্বশুর তাকে নির্যাতন করে একথা বলতে বাধ্য করেছে। আর এসব কথা রেকর্ড করেছে। অবশেষে নিরাপত্তা বাহিনীর চাপে সন্ত্রাসীরা তাকে ছেড়ে দিয়েছে। কিন্তু ভয়ে এ বিষয়ে থানায় কোন মামলাও দায়ের করা হয়নি। সন্ত্রাসীরা তাতেও ক্ষান্ত হয়নি, তার শশুরের আনারস বাগানের প্রায় ৮২ হাজার আনারস কেটে নষ্ট করে দিয়েছে। তবু বাঙালি ছেলেদের ভালোবাসে পাহাড়ের উপজাতি নারীরা।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, পাহাড়ী  নারীরা রাত দিন পরিশ্রম করে সংসারে ঘানি টানে। আর পুরুষরা ঘুরে বেড়ায়, ঘরে বসে হুক্কা টানে। সকল কাজ করে নারীরা। পুরুষরা শুধুই আরাম আয়েশ করে। তারউপর আবার নানা রকম নির্যাতনও সহ্য করতে হয় তাদের। আর বাঙালিদের সংসারে সকল কাজ করে পুরুষরা, নারীরা শুধু সংসার ঘুছানোর সহজ কাজগুলোই করে। সেইসাথে বাঙালি সংস্কৃতিতে পরিচ্ছন্ন জীবনে উন্নত ভালোবাসা পেয়ে সুখী সংসার করে তারা। এসব খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়ায় পাহাড়ের উপজাতি অধিকাংশ তরুণীরই প্রথম পছন্দ হয়ে উঠে বাঙালি তরুণরা। তাই ভালোবেসে বিয়ে বন্ধনে আবদ্ধ হয়। কিন্তু পাহাড়ের কথিত আঞ্চলিক সংগঠনগুলোর ছেলেদেরকে মেয়েরা পছন্দ না করায় তারা ক্ষুব্ধ হয়ে উঠে। ভালোবাসা অর্জন করতে ব্যর্থ হয়ে নারীদের ধর্ষণ করার জন্য ভিলেনের ভূমিকায় অবতীর্ণ হচ্ছে। কিন্তু পুলিশ প্রশাসন তাদেরকে কঠোরভাবে দমন করতেও পারছে না।

জানা যায়, এর আগে ২০১৫ সালের ফেব্রুয়ারির দিকে ভালবেসে এক বাঙালি ছেলেকে বিয়ে করার অপরাধে খাগড়াছড়ির গুইমারার এক মারমা তরুণী ও তার পরিবারকে নির্যাতন ভোগ করাসহ মোটা অঙ্কের চাঁদা দিতে হয়। ওই তরুণীকে একটি কক্ষে বেঁধে অমানসিক নির্যাতন করা হয়। অন্য একটি ঘটনার বিবরণে জানা যায়, ২০১৫ সালের শুরুর দিকে ভালবেসে এক চাকমা মেয়েকে বিয়ে করাই কাল হয় একটি প্রথম শ্রেণীর জাতীয় পত্রিকার স্টাফ আলোকচিত্র সাংবাদিকের, হারাতে হয় চাকরি । অপরদিকে ভালবাসার মানুষকে ভুলে যেতে ওই চাকমা তরুণীর উপর চলে মধ্যযুগীয় র্ববরতা। তোলা হয় নিলামে। যা ব্যাপকভাবে প্রচারিত হয়েছে গণমাধ্যমে।

girl-2-copy

সবচেয়ে তোলপাড় সৃষ্টি করা ঘটনা ঘটে গত বছরের এপ্রিলে খাগড়াছড়ি জেলার দীঘিনালায়। উপজেলার এক ত্রিপুরা মেয়ে ভালবেসে ঘর বাঁধার স্বপ্ন দেখেছিল চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার আহমদ কবীরের ছেলে মো. আবদুল হান্নানের (২৪) সাথে। এক সময় প্রেমিক হান্নানের হাত ধরে পালানোর সময় বাস থেকে নামিয়ে ওই ত্রিপুরা মেয়ে ও হান্নানকে অপহরণ করে পিসিপির কর্মীরা।

অপহরণের পর একটি ঝুম ঘরে আটক করে ত্রিপুরা মেয়েটিকে পালাক্রমে গণধর্ষণ করে পিসিপির স্থানীয় কয়েকজন নেতাকর্মী। গণধর্ষণের পর গভীর রাত পর্যন্ত মেয়েটিকে নিয়ে উল্লাস করে এসব সন্ত্রাসী। পুরো গণধর্ষণের দৃশ্য মোবাইলে ভিডিও করা হয়। এ ঘটনায় আটক ইউপিডিএফ সমর্থিত পিসিপির নেতা সজীব ত্রিপুরা (২২) প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে এসব তথ্য জানায়।

এভাবে পার্বত্য চট্টগ্রামে বাঙালি মুসলিম ছেলেকে ভালবেসে বিয়ে করার কারণে মাটিরাঙা, রাঙামাটির কুতুকছড়ি ও রামগড়ের কয়েকটি ঘটনাসহ এরকম আরও অসংখ্য পাহাড়ি মেয়েকে অপহরণ, ধর্ষণ, হত্যাসহ বিভিন্ন নারকীয় অভিজ্ঞতার শিকার হতে হয়েছে।

সম্প্রতি পাহাড়ি তরুণীদের নিজ জাতি-গোষ্ঠীর লোকদের হাতে এরূপ নির্বিচারে গণধর্ষণের শিকার হওয়া নিয়ে গবেষণাধর্মী উপন্যাস বের করেন লেখিকা রোকেয়া লিটা। চলতি বছরের শুরুর দিকে ‘ডুমুরের ফুল’ নামে আলোড়ন সৃষ্টিকারী এ বইটি বের করলে ধর্ষণ করে মেরে ফেলার হুমকিও দেওয়া হয় লেখিকাকে।

রাঙামাটির বিলাইছড়ির কেরণছড়ি মৌজা কার্বারী অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি অংচাখই কার্বারী জানান, কোনো পাহাড়ি মেয়ে বাঙালি ছেলেকে বিয়ে করলে উপজাতিদের সামাজিক নিয়মে কোনো শাস্তির বিধান নেই। তবে আমরা এ ক্ষেত্রে কার্বারী প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে সাধারণত ২০ হাজার টাকা জরিমানা করে থাকি। এরপর তাদের একত্রে বসবাসে সমস্যা নেই।

স্থানীয়রা মনে করেন, পাহাড়ী সন্ত্রাসীদের মেয়েরা পছন্দ করে না, ভালোবাসে না। তাই ভিলেনের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়ে মেয়েদের অপহরণে লিপ্ত হয়েছে তারা।




রাঙামাটিতে প্রথাগত আইনসমূহ ও বাস্তবায়ন প্রেক্ষিত বিষয়ক সেমিনার

img_5256-copy

নিজস্ব প্রতিবেদক:

বাংলাদেশ নারী প্রগতি সংঘ’র সহযোগিতায় ও স্থানীয় বেসরকারী উন্নয়ন সংস্থা প্রোগ্রেসিভ’র যৌথ উদ্যোগে প্রথাগত বিদ্যমান আইনসমূহ ও বাস্তবায়ন প্রেক্ষিত পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক সেমিনার মঙ্গলবার রাঙামাটি আশিকা মানবিক উন্নয়ন কেন্দ্রের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত হয়।

প্রোগ্রেসিভ’র  নির্বাহী পরিচালক সুচরিতা চাকমার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে রাঙামাটি সদর উপজেলা চেয়ারম্যান অরুন কান্তি চাকমা ও বিশেষ অতিথি হিসেবে সিএইচটি হেডম্যান নেটওয়ার্ক’র সহ-সভাপতি প্রেমলাল চাকমা, রাঙামাটি প্রেসক্লাবের সভাপতি সাখাওয়াত হোসেন রুবেল, রাঙামাটি সদর উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান রিতা চাকমা বক্তব্য রাখেন। সেমিনারে মূল ধারণা পত্র উপস্থাপন করেন বিশিষ্ট নারী আইনজীবী এডভোকেট সুস্মিতা চাকমা এবং অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন এ্যাডভোকেট কক্সী তালুকদার।

আলোচনায় বক্তব্য রাখেন এডভোকেট ভবতোষ দেওয়ান, হেডম্যান শান্তি বিজয় চাকমা, নারী নেত্রী নুকু চাকমা, হেডম্যান এসোসিয়েশনের থোয়াই অং মারমা, আশিকা মানবিক উন্নয়ন কেন্দ্রের প্রকল্প পরিচালক সুখেশ্বর চাকমা ও ঘিলাছড়ি ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান অমর জীবন চাকমা।

সেমিনারে বক্তারা বলেন, জাতিগত নিপীড়ন, সাম্প্রদায়িক সহিংসতা ও বিভিন্ন কারণে ভিন্ন সংস্কৃতির পাহাড়ী নারীরা সহজেই লক্ষ্য বস্তুতে পরিণত হয়। এ কারণে প্রতিনিয়ত পাহাড়ী নারীরা ধর্ষণ, হত্যা, অপহরণ ও যৌন নির্যাতনের শিকার হয়।

বক্তরা বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসরত ১১টি জনগোষ্ঠীর কোন লিখিত প্রথাগত আইন নেই। যুগ যুগ ধরে জনগোষ্ঠীগুলোর সমাজে ব্যবহৃত প্রাচীন রীতিনীতি প্রথাগত আইন হিসেবে মৌখিকভাবে প্রচলিত হয়ে আসছে। সমাজের বির্বতনের ধারায় যুগের দাবীতে অনেক প্রাচীন প্রথা ও রীতিনীতি বর্তমানে পরিবর্তিত হযেছে। তথাপি পিতৃতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থা ও ঐতিহ্যগত সংস্কৃতির ধারাবাহিকতায় নারীর প্রতি বৈষম্যমূলক অনেক প্রথা ও রীতিনীতি পাহাড়ী সমাজে এখন আর নেই বললে চলে। বক্তরা বলেন, পূর্বে পাহাড়ীদের সমাজে বিয়ে নিবন্ধনের কোন রীতি নেই এবং বিয়ের কোন লিখিত দলিল তৈরী করা হয় না। বর্তমানে প্রথাগত আইন কিছুটি সংস্কারের মধ্যদিয়ে এর কিছুটা পরিবর্তন এসেছে এবং অনেক মৌজার বিবাহ নিবন্ধন প্রচলিত হয়েছে। বক্তরা, পাহাড়ী নারীর প্রতি বৈষম্য ও নির্যাতন বন্ধ করতে নারীর সম-অধিকার সংরক্ষণের লক্ষ্যে প্রথাগত আইন বিশ্লেষণ করে যুগোপযোগী করা, পাহাড়ী সমাজে বিবাহ রেজিস্ট্রেশনের ব্যবস্থা প্রবর্তন করা, পুরুষের বহু বিবাহ বন্ধ করার জন্য প্রথাগত আইনে বহু বিবাহ নিষিদ্ধ করা, পাহাড়ী নারীদের উপর সহিংসতা বন্ধের বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করার দাবি জানান।

সেমিনারে হেডম্যান, নারী উন্নয়ন সংগঠনের নারী নেত্রী, বেসরকারী উন্নয়ন সংস্থার প্রতিনিধি ও সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।