৭১’এ বাংলাদেশিদের ত্রিপুরায় আশ্রয় ও সহায়তা দেয়া ছিল আমাদের নৈতিক দায়িত্ব : ত্রিপুরার সাংসদ জীতেন্দ্র

20170113_135444-2 copy
রামগড় প্রতিনিধি :
ভারতের লোকসভার পূর্ব ত্রিপুরার সাংসদ  জীতেন্দ্র  চৌধুরী  বলেছেন, ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে  বাংলাদেশের মানুষকে ত্রিপুরায় আশ্রয় ও সহায়তা দেয়া হয়  নৈতিক দায়িত্বে। প্রতিবেশীর প্রতি এটা নৈতিক দায়িত্ব  ছিল ভারতের।  তিনি আরো বলেন, ত্রিপুরার বিলোনীয়ার যুত্যা খোলা নামক স্থানে মুক্তিযোদ্ধাদের একটি  ক্যাম্প ছিল। সেখানে ভারত বাংলাদেশ মৈত্রী পার্ক নামে একটি পার্ক নির্মাণ করা হয়েছে। এখানে মুক্তিযোদ্ধাদের তৈরি করা ক্যাম্পের মত একটি  ক্যাম্প নির্মাণ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তৎকালীন ভারতের প্রধান মন্ত্রী  ইন্দিরাগান্ধীর প্রতি মূর্তি স্থাপন করা হয়েছে। আগামী  মার্চ বা এপ্রিল মাসে  পার্কটি উদ্বোধনের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।

শুক্রবার খাগড়াছড়ির রামগড়ে বাংলাদেশ ত্রিপুরা স্টুডেন্টস ফোরামের দুই যুগ পূর্তি  ও ১২তম কাউন্সিল  উপলক্ষে  আয়োজিত আলোচনা সভায়  গেস্ট অব অনারের বক্তব্যে শ্রী জীতেন্দ্র চৌধুরী এ কথা বলেন।  তিনি আরো বলেন, দারিদ্রতা, অশিক্ষা, কুসংস্কার শুধু ভারত বাংলাদেশের শত্রু নয়। এটা উপমহাদেশের বড় শত্রু।  এই শত্রুর বিরুদ্ধে দুদেশকে এক সাথে লড়তে হবে।

তিনি আরও বলেন, ফেনী নদীর ওপর বাংলাদেশ-ভারত মৈত্রী সেতুর নির্মাণ কাজ খুব শীঘ্রই আরম্ভ করবে ভারত সরকার। দুদেশের ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসারের সাথে সাথে সাংস্কৃতিক আদান প্রদানেও এ মৈত্রী সেতু বড় ভূমিকা রাখবে। বাংলাদেশ ভারতের মধ্যে সহযোগিতা আরও জোরদার করতে হবে। বড় দেশ বা ছোট দেশ হিসাবে নয়, সমান মর্যাদায় এগিয়ে যেতে হবে দুদেশকে। ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর ভাষা সংস্কৃতি হারিয়ে যাচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, পৃথিবী দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে। টিকে থাকতে হলে আমাদের ভাষা, সংস্কৃতি, ঐতিহ্য রক্ষা করতে হবে। এ জন্য দুদেশে নৃ-গোষ্ঠীর মধ্যে যোগাযোগ সমন্বয় থাকা দরকার।

ত্রিপুরা স্টুডেন্টস ফোরামের কেন্দ্রীয় কমিটির  সভাপতি  উবিক ত্রিপুরার সভাপতিত্বে আলোচনাসভায় প্রধান অতিথি ছিলেন খাগড়াছড়ির সংসদ সদস্য কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা। অনুষ্ঠানের উদ্বোধক ছিলেন খাগড়াছড়ি  জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান  কংজরী  চৌধুরী। প্রথম অধিবেশনে অন্যান্যের মধ্যে রামগড় উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আল মামুন মিয়া, খাগড়াছড়ি জেলা পরিষদের প্রাক্তন সদস্য ভুবন মোহন ত্রিপুরা, সাবেক তথ্য কর্মকর্তা সুরেশ মোহন ত্রিপুরা, ইউপি চেয়ারম্যান মনিন্দ্র ত্রিপুরা প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় অধিবেশনে প্রধান অতিথি ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রামের সংরক্ষিত আসনের মহিলা এমপি ফিরোজা বেগম চিনু। অন্যান্যের মধ্যে রাঙ্গামাটি প্রেসক্লাবের সভাপতি সাখাওয়াৎ হোসেন রুবেল, স্টুডেন্টস ফোরামের নেতা দেবাশীষ ত্রিপুরা, খগেশ্বর ত্রিপুরা প্রমুখ বক্তব্য দেন।

দ্বিতীয় অধিবেশনের পর সন্ধ্যায় এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

এর আগে শুক্রবার সকালে উপজেলা পরিষদ এলাকা থেকে একটি বর্নাঢ্য র‌্যালী বের করা হয়। খাগড়াছড়ি জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান র‌্যালির উদ্বোধন করেন। র‌্যালিটি শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে লেক পার্কে শেষ হয়। তিন পার্বত্য জেলা ছাড়াও চট্টগ্রাম, সিলেট, কুমিল্লাসহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে কেন্দ্রীয় কাউন্সিলে যোগ দিতে আসা ত্রিপুরা সম্প্রদায়ের বিপুল সংখ্যক ছাত্রছাত্রী ও বিভিন্ন পেশাজীবী নারী পুরুষ  র‌্যালিতে অংশ গ্রহণ করেন।




বান্দরবানে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর মাতৃভাষার বই পৌঁছায়নি

bandarban-pic-1-1-2017

নিজস্ব প্রতিবেদক
সারাদেশে সব শিক্ষার্থীর হাতে বছরের প্রথম দিনে বিনা মূল্যের নতুন বই তুলে দেবার সরকারি সিদ্ধান্ত থাকা স্বত্ত্বেও দায়িত্বরত প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাদের উদাসীনতায় ১ জানুয়ারি পর্যন্ত ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর জন্যে মুদ্রিত বইয়ের একটিও বান্দরবানে পৌঁছেনি। সে কারণে প্রাক প্রাথমিকের বই শিশুদের হাতে তুলে দেয়া যায়নি।

বিষয়টি জানতে পেরে ক্ষুব্ধ হন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী বীর বাহাদুর এমপি। তিনি অবিলম্বে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর মাতৃভাষার বই নিয়ে আসার জন্যে শিক্ষা কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন।

বান্দরবান ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক ইন্সটিটিউট অডিটোরিয়ামে বই নিতে এসে বঞ্চিত হওয়া শিশুদের সাথে কথা বলতে চাইলে তারা অনুযোগ করে- সবার বই আসছে। সবাই বই পাচ্ছে। তাহলে আমাদের বই আসবে না কেন?

বছরের প্রথম দিন মায়ের হাত ধরে নতুন বই হাতে পাবার জন্যে ছুটে এসেছিল এনু চিং মারমা, শিপ্রা ত্রিপুরা এবং চিনু চাকমাসহ আরো অনেক শিশু। তারা এসেছিল প্রতিমন্ত্রীর হাত থেকে বই নিতে। কিন্তু বই এসে পৌঁছায়নি জেলা সদরে। তাই বই না পেয়ে খালি হাতেই ফিরে গেছে কোমল মতি শিশুরা।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে বান্দরবান জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আনন্দ কিশোর সাহা জানান, প্রাক প্রাথমিক শ্রেণির জন্যে মোট ১১ হাজার ৩১০ সেট বইয়ের চাহিদা পত্র পাঠানো হয়েছে। শনিবার ৩১ ডিসেম্বর রাতে শিক্ষকদের জন্যে কয়েকটি ‘পাঠ সহায়ক বই’ এসেছে। তবে মারমা, চাকমা, ত্রিপুরা,চাকমা মাতৃভাষায় পাঠ দানের কোন বই রবিবার পর্যন্ত না পৌঁছার কারণে প্রাক প্রাথমিক শ্রেণির শিক্ষার্থীদের হাতে বই তুলে দেয়া যায়নি।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের চাহিদা অনুযায়ী মারমা ভাষায় ৪২৩৫ সেট, ত্রিপুরা ভাষাভাষিদের জন্যে ৮৬৫ সেট, চাকমা শিশুদের জন্যে ২০৮ সেট, গারো/তঞ্চঙ্গ্যা শিশুদের জন্যে ৭৩ সেট এবং অন্যান্যদের জন্যে ৬৯২৯ সেট বইয়ের চাহিদা পাঠানো হয়েছে।

অভিযোগ উঠেছে, প্রাক-প্রাথমিক শ্রেণিতে মারমা, ত্রিপুরা, চাকমা বা গারো শিশু ভর্তি হবার সম্ভাবনা যথাযথ কোন কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে না নিয়ে বা এ বিষয়ে কোন জরিপ ছাড়াই দায় এড়াতে তড়িঘড়ি আন্দাজের উপর ভিত্তি করে একটি কল্পিত চাহিদা পত্র পাঠানো হয়েছে। এ কারণে বই বিতরণের নির্ধারিত দিনের আগে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর মাতৃভাষায় রচিত প্রাইমারি বই না পৌঁছলেও জেলা বা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারগণ সংশ্লিষ্ট উর্ধতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি অবহিত করেনি।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের একটি সূত্র জানায়, বর্তমানে বান্দরবান জেলায় ৩৪৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এর মধ্যে ৩ দফায় ২১৯টি পুরাতন স্কুলে প্রাক প্রাথমিক শ্রেণির জন্যে শিক্ষক নিয়োগ দেয়া হয়েছে। অবশিষ্ট ১২৪টি বিদ্যালয়ে শিক্ষক না থাকায় এসব বিদ্যালয়ে প্রাক প্রাথমিক শ্রেণী চালু করা যায়নি।

সূত্র জানায়, ইউএনডিপি পরিচালিত ৮৩টি বেসরকারি বিদ্যালয়কে সরকারিকরণের প্রক্রিয়া এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।

এদিকে বই বিতরণ অনুষ্ঠানে বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ক্য শৈ হ্লা, জেলা প্রশাসক দিলীপ কুমার বণিক, পুলিশ সুপার সঞ্জিত কুমার রায় এবং জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আনন্দ কিশোর সাহা বক্তব্য দেন। তারা সরকারের কালজয়ী পদক্ষেপের প্রশংসা করে বলেন, এতে শিক্ষার হার বেড়ে যাবে এবং কমে যাবে ঝরে পড়ার হার।




পাহাড়ের উপজাতীয় তরুণীদের কাছে তবুও প্রিয় বাঙালি যুবকরা

girl-1-copy

মিয়া হোসেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম থেকে ফিরে :

‘ভালোবাসা’ মানে না কোন বাধা, মানে না ধর্ম, বর্ণ বা জাতের ভেদাভেদ। সুযোগ পেলেই বাঙালি ছেলেদের প্রেমে পড়ে যায় পাহাড়ী উপজাতীয় তরুণীরা। অবশেষে ধর্ম পরিবর্তন করে বিয়ে বন্ধনেও আবদ্ধ হয়। কিন্তু বাধা হয়ে দাঁড়ায় কথিত আঞ্চলিক সংগঠনগুলো। ভালোবাসায় বিচ্ছেদ ঘটাতে ভিলেনের ভূমিকায় অবর্তীণ হয় এসব সংগঠনের সন্ত্রাসীরা। নিজেদের জাত রক্ষার নামে উভয় পরিবারের উপর নির্যাতন চালায়, কখনো কখনো তরুণীদের অপহরণ করে ধর্ষণ করে। হত্যার হুমকী ধমকী দেয়। এসব বাধা উপেক্ষা করেই পাহাড়ী তরুণীরা বাঙালি ছেলেদের বিয়ে করে চলছে। এ হার দিন দিন বেড়েই চলছে।

সম্প্রতি সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, আজ থেকে ১২ বছর আগে বাঙালী তরুণ জামাল উদ্দিনের প্রেমে পড়ে মারমা তরুণী মিনিরওজা মারমা। অবশেষে ভালোবেসে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে বিয়ে বন্ধনে আবদ্ধ হয় তারা। সেই সাথে নাম তার নাম পরির্তন করে আয়েশা সিদ্দিকা রাখা হয়। বর্তমানে তাদের দু‘টি সন্তান রয়েছে। কিন্তু দীর্ঘ ১২ বছর পরও তাদের এ বিয়ে ও ভালোবাসাকে মেনে নিতে পারেনি কথিত আঞ্চলিক সংগঠনগুলোর সন্ত্রাসীরা। গত ৮ নভেম্বর স্থানীয় গিলাছড়ি বাজার থেকে এই নারীকে তুলে নিয়ে যায় উপজাতীয় সন্ত্রাসীরা। তাকে নিয়ে ১দিন, ১ রাত আটকে রেখেছে। তার গলায় শিকল দিয়ে বেঁধে রেখেছে। কেন সে মুসলিম হয়েছে? কেন বাঙালিকে বিয়ে করেছে? এসব প্রশ্নে জর্জরিত করেছে তাকে। গলায় ছুরি ধরে তার কাছ থেকে মিথ্যা বিবৃতি রেকর্ড করেছে। স্বামী-শ্বশুর তাকে নির্যাতন করে একথা বলতে বাধ্য করেছে। আর এসব কথা রেকর্ড করেছে। অবশেষে নিরাপত্তা বাহিনীর চাপে সন্ত্রাসীরা তাকে ছেড়ে দিয়েছে। কিন্তু ভয়ে এ বিষয়ে থানায় কোন মামলাও দায়ের করা হয়নি। সন্ত্রাসীরা তাতেও ক্ষান্ত হয়নি, তার শশুরের আনারস বাগানের প্রায় ৮২ হাজার আনারস কেটে নষ্ট করে দিয়েছে। তবু বাঙালি ছেলেদের ভালোবাসে পাহাড়ের উপজাতি নারীরা।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, পাহাড়ী  নারীরা রাত দিন পরিশ্রম করে সংসারে ঘানি টানে। আর পুরুষরা ঘুরে বেড়ায়, ঘরে বসে হুক্কা টানে। সকল কাজ করে নারীরা। পুরুষরা শুধুই আরাম আয়েশ করে। তারউপর আবার নানা রকম নির্যাতনও সহ্য করতে হয় তাদের। আর বাঙালিদের সংসারে সকল কাজ করে পুরুষরা, নারীরা শুধু সংসার ঘুছানোর সহজ কাজগুলোই করে। সেইসাথে বাঙালি সংস্কৃতিতে পরিচ্ছন্ন জীবনে উন্নত ভালোবাসা পেয়ে সুখী সংসার করে তারা। এসব খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়ায় পাহাড়ের উপজাতি অধিকাংশ তরুণীরই প্রথম পছন্দ হয়ে উঠে বাঙালি তরুণরা। তাই ভালোবেসে বিয়ে বন্ধনে আবদ্ধ হয়। কিন্তু পাহাড়ের কথিত আঞ্চলিক সংগঠনগুলোর ছেলেদেরকে মেয়েরা পছন্দ না করায় তারা ক্ষুব্ধ হয়ে উঠে। ভালোবাসা অর্জন করতে ব্যর্থ হয়ে নারীদের ধর্ষণ করার জন্য ভিলেনের ভূমিকায় অবতীর্ণ হচ্ছে। কিন্তু পুলিশ প্রশাসন তাদেরকে কঠোরভাবে দমন করতেও পারছে না।

জানা যায়, এর আগে ২০১৫ সালের ফেব্রুয়ারির দিকে ভালবেসে এক বাঙালি ছেলেকে বিয়ে করার অপরাধে খাগড়াছড়ির গুইমারার এক মারমা তরুণী ও তার পরিবারকে নির্যাতন ভোগ করাসহ মোটা অঙ্কের চাঁদা দিতে হয়। ওই তরুণীকে একটি কক্ষে বেঁধে অমানসিক নির্যাতন করা হয়। অন্য একটি ঘটনার বিবরণে জানা যায়, ২০১৫ সালের শুরুর দিকে ভালবেসে এক চাকমা মেয়েকে বিয়ে করাই কাল হয় একটি প্রথম শ্রেণীর জাতীয় পত্রিকার স্টাফ আলোকচিত্র সাংবাদিকের, হারাতে হয় চাকরি । অপরদিকে ভালবাসার মানুষকে ভুলে যেতে ওই চাকমা তরুণীর উপর চলে মধ্যযুগীয় র্ববরতা। তোলা হয় নিলামে। যা ব্যাপকভাবে প্রচারিত হয়েছে গণমাধ্যমে।

girl-2-copy

সবচেয়ে তোলপাড় সৃষ্টি করা ঘটনা ঘটে গত বছরের এপ্রিলে খাগড়াছড়ি জেলার দীঘিনালায়। উপজেলার এক ত্রিপুরা মেয়ে ভালবেসে ঘর বাঁধার স্বপ্ন দেখেছিল চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার আহমদ কবীরের ছেলে মো. আবদুল হান্নানের (২৪) সাথে। এক সময় প্রেমিক হান্নানের হাত ধরে পালানোর সময় বাস থেকে নামিয়ে ওই ত্রিপুরা মেয়ে ও হান্নানকে অপহরণ করে পিসিপির কর্মীরা।

অপহরণের পর একটি ঝুম ঘরে আটক করে ত্রিপুরা মেয়েটিকে পালাক্রমে গণধর্ষণ করে পিসিপির স্থানীয় কয়েকজন নেতাকর্মী। গণধর্ষণের পর গভীর রাত পর্যন্ত মেয়েটিকে নিয়ে উল্লাস করে এসব সন্ত্রাসী। পুরো গণধর্ষণের দৃশ্য মোবাইলে ভিডিও করা হয়। এ ঘটনায় আটক ইউপিডিএফ সমর্থিত পিসিপির নেতা সজীব ত্রিপুরা (২২) প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে এসব তথ্য জানায়।

এভাবে পার্বত্য চট্টগ্রামে বাঙালি মুসলিম ছেলেকে ভালবেসে বিয়ে করার কারণে মাটিরাঙা, রাঙামাটির কুতুকছড়ি ও রামগড়ের কয়েকটি ঘটনাসহ এরকম আরও অসংখ্য পাহাড়ি মেয়েকে অপহরণ, ধর্ষণ, হত্যাসহ বিভিন্ন নারকীয় অভিজ্ঞতার শিকার হতে হয়েছে।

সম্প্রতি পাহাড়ি তরুণীদের নিজ জাতি-গোষ্ঠীর লোকদের হাতে এরূপ নির্বিচারে গণধর্ষণের শিকার হওয়া নিয়ে গবেষণাধর্মী উপন্যাস বের করেন লেখিকা রোকেয়া লিটা। চলতি বছরের শুরুর দিকে ‘ডুমুরের ফুল’ নামে আলোড়ন সৃষ্টিকারী এ বইটি বের করলে ধর্ষণ করে মেরে ফেলার হুমকিও দেওয়া হয় লেখিকাকে।

রাঙামাটির বিলাইছড়ির কেরণছড়ি মৌজা কার্বারী অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি অংচাখই কার্বারী জানান, কোনো পাহাড়ি মেয়ে বাঙালি ছেলেকে বিয়ে করলে উপজাতিদের সামাজিক নিয়মে কোনো শাস্তির বিধান নেই। তবে আমরা এ ক্ষেত্রে কার্বারী প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে সাধারণত ২০ হাজার টাকা জরিমানা করে থাকি। এরপর তাদের একত্রে বসবাসে সমস্যা নেই।

স্থানীয়রা মনে করেন, পাহাড়ী সন্ত্রাসীদের মেয়েরা পছন্দ করে না, ভালোবাসে না। তাই ভিলেনের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়ে মেয়েদের অপহরণে লিপ্ত হয়েছে তারা।




রাঙামাটিতে প্রথাগত আইনসমূহ ও বাস্তবায়ন প্রেক্ষিত বিষয়ক সেমিনার

img_5256-copy

নিজস্ব প্রতিবেদক:

বাংলাদেশ নারী প্রগতি সংঘ’র সহযোগিতায় ও স্থানীয় বেসরকারী উন্নয়ন সংস্থা প্রোগ্রেসিভ’র যৌথ উদ্যোগে প্রথাগত বিদ্যমান আইনসমূহ ও বাস্তবায়ন প্রেক্ষিত পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক সেমিনার মঙ্গলবার রাঙামাটি আশিকা মানবিক উন্নয়ন কেন্দ্রের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত হয়।

প্রোগ্রেসিভ’র  নির্বাহী পরিচালক সুচরিতা চাকমার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে রাঙামাটি সদর উপজেলা চেয়ারম্যান অরুন কান্তি চাকমা ও বিশেষ অতিথি হিসেবে সিএইচটি হেডম্যান নেটওয়ার্ক’র সহ-সভাপতি প্রেমলাল চাকমা, রাঙামাটি প্রেসক্লাবের সভাপতি সাখাওয়াত হোসেন রুবেল, রাঙামাটি সদর উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান রিতা চাকমা বক্তব্য রাখেন। সেমিনারে মূল ধারণা পত্র উপস্থাপন করেন বিশিষ্ট নারী আইনজীবী এডভোকেট সুস্মিতা চাকমা এবং অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন এ্যাডভোকেট কক্সী তালুকদার।

আলোচনায় বক্তব্য রাখেন এডভোকেট ভবতোষ দেওয়ান, হেডম্যান শান্তি বিজয় চাকমা, নারী নেত্রী নুকু চাকমা, হেডম্যান এসোসিয়েশনের থোয়াই অং মারমা, আশিকা মানবিক উন্নয়ন কেন্দ্রের প্রকল্প পরিচালক সুখেশ্বর চাকমা ও ঘিলাছড়ি ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান অমর জীবন চাকমা।

সেমিনারে বক্তারা বলেন, জাতিগত নিপীড়ন, সাম্প্রদায়িক সহিংসতা ও বিভিন্ন কারণে ভিন্ন সংস্কৃতির পাহাড়ী নারীরা সহজেই লক্ষ্য বস্তুতে পরিণত হয়। এ কারণে প্রতিনিয়ত পাহাড়ী নারীরা ধর্ষণ, হত্যা, অপহরণ ও যৌন নির্যাতনের শিকার হয়।

বক্তরা বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসরত ১১টি জনগোষ্ঠীর কোন লিখিত প্রথাগত আইন নেই। যুগ যুগ ধরে জনগোষ্ঠীগুলোর সমাজে ব্যবহৃত প্রাচীন রীতিনীতি প্রথাগত আইন হিসেবে মৌখিকভাবে প্রচলিত হয়ে আসছে। সমাজের বির্বতনের ধারায় যুগের দাবীতে অনেক প্রাচীন প্রথা ও রীতিনীতি বর্তমানে পরিবর্তিত হযেছে। তথাপি পিতৃতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থা ও ঐতিহ্যগত সংস্কৃতির ধারাবাহিকতায় নারীর প্রতি বৈষম্যমূলক অনেক প্রথা ও রীতিনীতি পাহাড়ী সমাজে এখন আর নেই বললে চলে। বক্তরা বলেন, পূর্বে পাহাড়ীদের সমাজে বিয়ে নিবন্ধনের কোন রীতি নেই এবং বিয়ের কোন লিখিত দলিল তৈরী করা হয় না। বর্তমানে প্রথাগত আইন কিছুটি সংস্কারের মধ্যদিয়ে এর কিছুটা পরিবর্তন এসেছে এবং অনেক মৌজার বিবাহ নিবন্ধন প্রচলিত হয়েছে। বক্তরা, পাহাড়ী নারীর প্রতি বৈষম্য ও নির্যাতন বন্ধ করতে নারীর সম-অধিকার সংরক্ষণের লক্ষ্যে প্রথাগত আইন বিশ্লেষণ করে যুগোপযোগী করা, পাহাড়ী সমাজে বিবাহ রেজিস্ট্রেশনের ব্যবস্থা প্রবর্তন করা, পুরুষের বহু বিবাহ বন্ধ করার জন্য প্রথাগত আইনে বহু বিবাহ নিষিদ্ধ করা, পাহাড়ী নারীদের উপর সহিংসতা বন্ধের বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করার দাবি জানান।

সেমিনারে হেডম্যান, নারী উন্নয়ন সংগঠনের নারী নেত্রী, বেসরকারী উন্নয়ন সংস্থার প্রতিনিধি ও সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।




বান্দরবানে শুরু হয়েছে ঐতিহ্যবাহী রাজপুন্যাহ উৎসব

bandarban-pic-2-21-12
নিজস্ব প্রতিবেদক :
বান্দরবানে ঐতিহ্যবাহী বোমাং সার্কেলের খাজনা বা জুম কর আদায় উপলক্ষে তিনদিন ব্যাপী উৎসব শুরু হয়েছে। বুধবার ১৭তম বোমাং চিফ প্রকৌশলী উ চ প্রু চৌধুরী রাজকীয় পোশাক পরে হাতে তরবারি নিয়ে অতিথিদের সাথে রাজ বাড়ী থেকে বের হয়ে আসেন।

এ সময় ১৩৯তম রাজপুন্যাহ উপলক্ষে রাজ দরবারের বাদক দলের বাঁশির সুরে পাইক পেয়াদা, সৈন্য-সামন্ত, উজির-নাজিররা গার্ড অব অনার দিয়ে সভাস্থলে নিয়ে আসেন রাজাকে। রাজ পোশাকে রাজাকে একনজর দেখার জন্য রাস্তার দুপাশে দাঁড়িয়ে অপেক্ষায় ছিলেন উৎসুক জনতা।এ সময় রাজাকে ফুল ছিটিয়ে স্বাগত জানান পর্যটক ও প্রজারা।

এ উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভা শেষে ১০৯ মৌজার হেডম্যান, পাড়া কারবাড়ী ও পাইসিংরা উপঢৌকন হিসেবে মোরগ, মদসহ জুম খাজনা প্রদান করেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এমপি। এসময় পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণায়লের প্রতিমন্ত্রী বীর বাহাদুর, চট্টগ্রাম এরিয়া কমান্ডার মেজর জেনারেল জাহাঙ্গীর কবির তালুকদার, চট্টগ্রামের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার শাখাওয়াত হোসেন, বান্দরবান রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল যুবায়ের সালেহীন, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ক্যশৈহ্লা, জেলা প্রশাসক দিলীপ কুমার বণিক, পুলিশ সুপার সাঞ্জিত কুমার রায় প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

বোমাং রাজা প্রকৌশলী উ চ প্রু চৌধুরী বলেন, রাজপুণ্যাহ হচ্ছে বংশ পরাম্পরায় অনুষ্ঠিত ঐতিহ্যবাহী অনুষ্ঠান। ১৩৯তম রাজপুন্যাহ মেলা এবং আমার তৃতীয়তম রাজপুণ্যাহ উৎসব। ১৮৭৫ সালে ৫ম বোমাং রাজা সাক হ্ন ঞো’র আমল থেকে বংশ পরস্পরায় ধারাবাহিকভাবে প্রতিবছর ঐতিহ্যবাহী রাজপুন্যাহ উৎসব হয়ে আসছে। রাজপুণ্যাহ পাহাড়ী-বাঙ্গালীর মিলন মেলায় পরিণত হবে বলে তিনি আশা করেন।
রাজপুণ্যায় বিভিন্ন পণ্যের স্টল, হাউজি, পুতুল নাচ, বিচিত্রানুষ্ঠান, মৃত্যুকূপ, নাগরদোলা, যাত্রাপালাসহ বিনোদনমূলক নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।




আত্মপ্রকাশ হতে যাচ্ছে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীদের ‘জল পাহাড়ের গান’

rangamati-army-news-pic-07-12-16

নিজস্ব প্রতিবেদক:

পার্বত্য রাঙামাটিতে আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মপ্রকাশ হতে যাচ্ছে ‘জল পাহাড়ের গান’ অ্যালবাম । পাহাড়ের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীদের জনপ্রিয় ও উদীয়মান শিল্পীদের গাওয়া ১১টি গান দিয়ে সাজানো হয়েছে এ অ্যালবামটি। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৩০৫ পদাতিক ব্রিগেড এবং রাঙামাটি জোনের সহযোগিতায় ‘জল পাহাড়ের গান’ অ্যালবামের মোড়ক উন্মোচন হবে রাঙামাটি স্টেডিয়ামে বৃহষ্পতিবার সন্ধ্যা ৬টায়। অ্যালবাম প্রকাশনার পাশাপাশি ‘কনসার্ট ফর সলিডারিটি’ অনুষ্ঠানে গাইবেন অ্যালবামের শিল্পীরাসহ তিন পার্বত্য জেলা রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানের স্থানীয় জনপ্রিয় শিল্পীরা। এ উৎসবে নামবে হাজারো মানুষের ঢল। তাই অনুষ্ঠানস্থলে ব্যাপক নিরাপত্তার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। বিভিন্ন ব্যানার ফেস্টুন ও মাকিংয়ের মাধ্যমে এ উৎসব সবার জন্য উন্মুক্ত ঘোষণা করা হয়। যাতে স্থানীয় সবাই এ উৎসবের আমেজে মেতে উঠতে পারে।

বুধবার বেলা সাড়ে ১১টায় রাঙামাটি রিজিয়নে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে রাঙামাটি জোনের ভারপাপ্ত জোন কমান্ডার মেজর মো. মাঈনুল হাসান খান এসব তথ্য জানান। এ সময় উপস্থিত ছিলেন, রাঙামাটি রিজিয়নের জিটুআই মেজর তানবির, রাঙামাটি প্রেস ক্লাবের সভাপতি সাখাওয়াৎ হোসেন রুবেল, দৈনিক রাঙামাটির সম্পাদক মো. আনোয়ার আল হক, রাঙামাটি জার্নালিস্ট নেটওর্য়াকের সভাপতি শান্তিময় চাকমা প্রমূখ।

রাঙামাটি জোনের ভারপাপ্ত জোন কমান্ডার মেজর মো. মাঈনুল হাসান খান বলেন, আমরা আসলে গানের মাধ্যমে পার্বত্যাঞ্চলের আত্ম-অনুসন্ধানের চেষ্টা করেছি। গানের মাধ্যমে শ্রোতাদের পাহাড়ের স্বপ্নের রাজ্যে নিয়ে যেতে চাই। বিশ্বের কাছে পাহাড়ের এ প্রকৃতি রূপবৈচিত্র্য তুলে ধরার এ একটা মাধ্যম। একই সাথে পাহাড়ে স্থানীয় শিল্পীদেরও পরিচিতি বাড়লো। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ২৪ পদাতিক ডিভিশনের প্রযোজনায় জি-সিরিজের অঙ্গ প্রতিষ্ঠান অগ্নিবীণা থেকে প্রকাশিত হচ্ছে ভিন্নধর্মী এই গানগুলো। অনেকদিন ধরে পাহাড়ের গান নিয়েই কাজ করেছেন সঙ্গীত পরিচালক নিসার আহমেদ। একই সাথে রঞ্জিত দেওয়ান, নন্দন দেওয়ান, কোয়েল চাকমা, আর্চি রন মারমা, জয়ন্তী চাকমা, পারকি চাকমা, রূপায়ন দেওয়ান- এদের কণ্ঠেই শোনা যাবে গানগুলো।

অনুষ্ঠানে রাঙামাটি আঞ্চলিক পরিষদের চেয়ারম্যান সন্তু লারমা, সেনাবাহিনীর রাঙামাটি রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোঃ সানাউল হক এসজিপি, পিএসসি উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে বলে জানান তিনি।




২১ ডিসেম্বর বান্দরবানে রাজস্ব আদায়ের উৎসব

bandarban-king-1-12

নিজস্ব প্রতিবেদক:

বান্দরবান বোমাং সার্কেলের ঐতিহ্যবাহী রাজস্ব আদায়ের উৎসব ২১ ডিসেম্বর। ১৩৯ তম রাজপুণ্যাহ স্থানীয় রাজার মাঠে তিন দিনব্যাপী শুরু হবে। জুমচাষী প্রজাদের কাছ থেকে খাজনা বা জুম রাজস্ব আদায়ে এ উৎসব সফল করতে রাজবাড়ীতে ইতিমধ্যে প্রস্তুতি শুরু হয়েছে।

বৃহস্পতিবার শহরে উজানী পাড়ার রাজপরিবার কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান বোমাং সার্কেল চীফ প্রকৌশলী উ চ প্রু চৌধুরী। তিনি জানান, জুম খাজনা আদায়ের জন্য বোমাং রাজারা ১৮৭৫ সাল থেকে রাজপূণ্যা উৎসব করে আসছে। তবে ১৯৯০-এ দশকে ১৪তম বোমাং রাজা মংশৈ প্রু চৌধুরী মৃত্যুর পর দুই বছর রাজপূণ্যা হয়নি।

১০৯টি মৌজার হেডম্যান (মৌজা প্রধান) ও কারবারী ( গ্রাম প্রধান) অংশ নেবে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল থাকার কথা রয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে রাজপরিবারে সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন।

রাজ প্রসাদ-রাজ সিংহাসন না থাকলেও এদিন রাজকীয় আচার আচরন এবং রীতি রেওয়াজ পালন করে প্রজারা মাথা ঝুঁকিয়ে রাজা বাহাদুরকে প্রণাম করে জুমের বাৎসরিক খাজনা প্রদান করেন। বাৎসরিক খাজনা আদায়ের উৎসবকে মার্মা সম্প্রদায়ের কাছে রাজপুণ্যাহ উৎসব ‘পইংজারা’ নামে পরিচিত।

১৩৯ তম রাজ পুণ্যাহ পাহাড়ী-বাঙ্গালীদের মিলন মেলায় পরিণত হয়। এ ছাড়া দেশি- বিদেশী পর্যটকরাও সেখানে ভিড় জমান।

পার্বত্য চট্টগ্রামে তহশিলদার প্রথা নেই। সরকারের পক্ষে রাজারাই বার্ষিক খাজনা আদায় করেন। আদায়কৃত খাজনার ৩৭ শতাংশ রাজা, ৩৭ শতাংশ মৌজা হেডম্যান এবং অবশিষ্ট অংশ সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়। সরকারের পক্ষে ভূমিকর আদায় উপলক্ষে বোমাং সার্কেলে প্রতিবছর এ উৎসবের আয়োজন করা হয়। রাঙামাটি জেলার ১৪টি মৌজাসহ বোমাং সার্কেলভুক্ত ১০৯টি মৌজার হেডম্যান-কার্বারিরা রাজপ্রথা অনুসরণ করে এদিনে সার্কেল চিফ বা রাজাকে আনুষ্ঠানিক প্রণাম জানিয়ে কর পরিশোধ করেন।

স্থানীয় সূত্র জানায়, বৃটিশ শাসনামলে পার্বত্য চট্টগ্রামের তিন জেলাকে তিনটি সার্কেলে বিভক্ত করে খাজনা আদায় করা হতো। ১৮৬৬ সাল পর্যন্ত চাকমা রাজা পার্বত্য এলাকা শাসন করতো। ১৮৬৭ সালে কর্ণফুলী নদীর দক্ষিণ অঞ্চলের মারমা অধ্যুষিত এলাকাকে বোমাং সার্কেল, ১৮৭০ সালে রামগড় ও মাইনি উপত্যকার এলাকাকে নিয়ে মং সার্কেল গঠিত হয়। এসময় রাঙামাটিকে চাকমা সার্কেল, বান্দরবানকে বোমাং সার্কেল এবং খাগড়াছড়িকে মং সার্কেল করা হয়।

প্রায় ১৭৬৪ বর্গমাইল এলাকা নিয়ে বান্দরবান বোমাং সার্কেল। দুইশ বছরের ঐতিহ্য অনুসারে বছরে একবার এই মেলার আয়োজন করা হয় বোমাং সার্কেলের পক্ষ থেকে।




সরকার সংবিধানে পাহাড়ের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠিদের বাঙালী করেছে: সন্তু লারমা

সন্তু লারমা

নিজস্ব প্রতিবেদক:

সরকার সংবিধানে পাহাড়ের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠিদের বাঙালী করেছে বলে অভিযোগ করেছেন পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ চেয়ারম্যান ও জনসংহতি সমিতির সভাপতি জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমা ওরফে সন্তু লারমা। তিনি বলেন, পার্বত্যাঞ্চলের ১৪টি ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীদের রয়েছে নিজস্ব ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও জীবন ধারা। তা পার্বত্য চুক্তির মাধ্যমে স্বীকৃতি লাভ করেছে। যা অস্বীকার করার উপায় নেই। কিন্তু সংবিধানে এ পরিচয়কে বাঙালীকরণ করা হয়ছে। তাছাড়া পার্বত্য চুক্তি স্বাক্ষরের পর পার্বত্যাঞ্চলকে উপজাতীয় অধ্যুষিত অঞ্চলের হিসেবে স্বীকৃতি দেয়া হয়েছিল। কিন্তু সরকার তা বাস্তবায়ন ও কার্যকর করেনি।

শুক্রবার বেলা ১১টায় রাঙামাটিতে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠির সাংস্কৃতিক মিলনায়তনে আয়োজিত দুইদিন ব্যাপী দ্বিতীয় পার্বত্য চট্টগ্রাম ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী লেখক সম্মেলনে সন্তু লারমা এসব কথা বলেন।

ঢাকার জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যকলা বিভাগের অধ্যাপক ড. আফসার আহমেদ সম্মেলনের উদ্বোধন করেন। এসময় ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের লেখক ক্রায়োরি মং চৌধুরী, লেখক প্রভাংশু ত্রিপুরা, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী গবেষক শিশির চাকমা উপস্থিত ছিলেন।

পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ চেয়ারম্যান ও জনসংহতি সমিতির সভাপতি সন্তু লারমা আরও বলেন, পার্বত্যাঞ্চলের সমস্য সমাধাণ করার জন্য চুক্তি করা হয়েছে। কিন্তু এ অঞ্চলের আসল সমস্য এখনো বাসবায়নের মুখ দেখেনি।একটা সময় পার্বত্যাঞ্চলে সল্প উপজাতি ছিল।  তা আমরা বিটিশ আমলে মেনে নিয়ে ছিলাম। কিন্তু এখন এ অঞ্চলে বসবাসরত ১৪টি জাতিগোষ্ঠী রয়েছে।  যারা তাদের নিজস্ব জীবন ধায় থাকতে চাই। চুক্তিতেও তাদের পুর্ণ অধিকারের কথা বলা হয়েছে। কিন্তু শাসক গোষ্ঠী চুক্তি করেও তাদের সে অধিকার ফিরিয়ে দেয়নি। তিনি পার্বত্যাঞ্চলে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীদের অস্থিত ধরে রাখতে সকল জাতিগোষ্ঠীদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।

রাঙামাটিতে দুই দিনব্যাপী ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী লেখক সম্মেলনে খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি বান্দরবানসহ ত্রিপুরা রাজ্যের ২শতাধিক লেখক ও কবি যোগ দিয়েছেন।




বাইশারীতে ‘চাক’ সম্প্রদায়ের সাথে পুলিশ প্রশাসনের জরুরী সভা

img_5566-copy

বাইশারী প্রতিনিধি:

বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার বাইশারীতে চাক সম্প্রদায়ের ২০৮ পরিবারের সাথে সাম্প্রতিক মিয়ানমার সহিংসতা, বৌদ্ধ বিহারগুলোর নিরাপত্তা কমিটি গঠন, পাড়া, মহল্লায় পাহারা ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে পুলিশ প্রশাসনের জরুরী বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার বিকাল ৪টার সময় চাক হেডম্যান পাড়া বৌদ্ধ বিহার প্রাঙ্গনে এই জরুরী সভার আয়োজন করা হয়। বাঁকখালী মৌজা হেডম্যান উ চা হ্লা চাকের পরিচালনায় সভাপতিত্ব করেন, বাইশারী ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ আলম কোম্পানী। উক্ত জরুরী বৈঠকে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাইশারী পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ উপ-পরিদর্শক আবু মুসা।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপস্থিত চাক সম্প্রদায়ের শত শত নারী পুরুষের মাঝে তিনি বলেন, পার্শ্ববর্তী রাষ্ট্র মিয়ানমারে ঘটে যাওয়া ঘটনা নিয়ে কোন ধরনের ভয় পাওয়ার কারণ নেই। পুলিশ প্রশাসন সার্বক্ষনিক আপনাদের পাশে রয়েছে। পাশাপাশি আপনাদের সকলকে পাড়ায়, মহল্লায় ও বৌদ্ধ বিহারে কমিটি গঠনের মাধ্যমে পাহারা দিতে হবে। এছাড়া তিনি আরও বলেন, পুলিশ প্রশাসন আপনাদের কোন ধরনের হয়রানী করবে না, বরং আপনাদের বন্ধু হিসেবে যতদিন দায়িত্বে থাকব কাজ করে যাব উল্লেখ করে তিনি পার্শ্ববর্তী রাষ্ট্র মিয়ানমারে চলমান সহিংসতার জের ধরে অত্র এলাকায় যাতে কোন রকম হামলা, ভাংচুর বা সহিংসতার সৃষ্টি না হয় সেদিকে সজাগ থেকে মন্দির ও বিহারগুলোর নিরাপত্তা রক্ষায় গুরুত্বারোপ করেন।

সভাপতির বক্তব্যে বাইশারী ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ আলম কোম্পানী বলেন, সম্প্রীতির বাইশারীতে দীর্ঘকাল যাবৎ যেভাবে পাহাড়ি-বাঙ্গালী এক পরিবারের সদস্য হিসেবে মিলেমিশে বসবাস করে আসছি এ সম্প্রীতি যেন নষ্ট না হয় সেদিকে সকলের সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে। তিনি আরও বলেন, মায়ানমারের ঘটনা নিয়ে আমাদের কেউ যেন বিতর্কে না জড়ায় সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে এবং কোন ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পেলে মুহুর্তের মধ্যে যেন প্রশাসনকে অবগত করেন সে বিষয়ে সকলের চোখ-কান খোলার রেখে সতর্ক দৃষ্টি সহ রাত জেগে পাড়ায়-মহল্লায় পাহাড়া বসানোর আহ্বান জানান।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বাইশারী ইউনিয়ন আওয়ামী সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম বাহাদুর বলেন, ইতিপূর্বে বান্দরবানের বাইশারীতে পাহাড়ি-বাঙ্গালী সবাই এক মায়ের সন্তান হিসেবে বসবাস করে আসছি। আমাদের ভিতর কোন ধরনের বিরোধ নেই এবং ছিলনা। আগামীতেও আমরা যেন এক পরিবারের সদস্য হিসেবে হিংসা, বিদ্বেষ ভুলে গিয়ে থাকতে পারি সেজন্য সকলের প্রতি আহ্বান জানান। পাশাপাশি এলাকায় অপরিচিত লোকজনের আনা-গোনার খবর পেলে পরিষদ চেয়ারম্যান সহ পুলিশ প্রশাসনকে দ্রুত খবর দেওয়ার পরামর্শ দেন।

এছাড়া আরও বক্তব্য রাখেন বাইশারী তদন্ত কেন্দ্রের সহকারী ইনচার্জ এএসআই উমর ফারুক, ডিএসবির এএসআই মৃদুল, ইউপি সদস্য থোয়াইচাহ্লা চাক, আব্দুর রহিম, আবু তাহের, মাস্টার ধুংচাউ চাক, উচাহ্লা চাক, সাংবাদিক আব্দুল হামিদ। উক্ত জরুরী বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন সংবাদকর্মী আব্দুর রশিদ, মুফিজুর রহমান, মাস্টার রবিন চাক, উচাথোয়াই চাক, মংবাথোয়াই চাক প্রমূখ।




গুর্খা সম্প্রদায়ের পরিচিতি এবং সংস্কৃতি সম্পর্কিত বই’র মোড়ক উন্মোচন

rangamati-pic-20-11-16
নিজস্ব প্রতিবেদক :
পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসরত ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীদের মধ্যে অন্যতম জনগোষ্ঠী গুর্খা সম্প্রদায়ের বই এর মোড়ক উন্মোচন করা হয়েছে। রবিবার সন্ধ্যায় ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্টী সাংস্কৃতিক ইন্সটিটিউটের মিলনায়তনে রাঙামাটির কবি, লেখক ও সঙ্গীত শিল্পী মনোজ বাহাদুরের লেখা এ বইটির আনুষ্ঠানিক মোড়ক উন্মোচন করেন রাঙামাটি-২৯৯ নং আসনে সংসদ সদস্য ঊষাতন তালুকদার।

এসময় বাংলাদেশ বেতার রাঙামাটি আঞ্চলিক পরিচালক সালাহ উদ্দিন, স্থানীয় পত্রিকা দৈনিক গিরিদর্পণের সম্পাদক একেএম মকছুদ আহমেদ, মুনীর চৌধুরী পদক প্রাপ্ত কবি ও লেখক মৃত্তিকা চাকমা, জুম ঈসথেটিকস কাউন্সিলের সভাপতি এ্যাডভোকেট মিহির বরণ চাকমা, রাঙামাটি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্টী সাংস্কৃকিত ইন্সটিটিউটের পরিচালক রুনেল চাকমা, রাঙামাটির বিশিষ্ট সাহিত্য গবেষক শিশির চাকমা ও রাঙামাটির বিশিষ্ট লেখক ও কবি মুজিবুল হক বুলবুল উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে রাঙামাটি-২৯৯ নং আসনে সংসদ সদস্য ঊষাতন তালুকদার বলেন, কালের বিবর্তনে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীদের সংষ্কৃতি আজ বিলুপ্তির পথে। পার্বত্য চট্টগ্রামে ১৪টি ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর বসবাস। কিন্তু নতুন প্রজন্মের কাছে এসব জাতিগোষ্ঠীদের বিষয়ে তেমন কোন ধারণা নেই। কারণ অপসংস্কৃতি। অপসংষ্কৃতির কারণে পাহাড়ের মানুষ আজ ঐতিহ্য হারিয়ে ফেলছে। ভাষা, কৃষ্টি, সংষ্কৃতিগুলো প্রায় কোণঠাসা হয়ে পড়েছে। মনোজ বাহদুরের এ বই প্রজন্মকে গুর্খা জাতিগোষ্ঠীর সংস্কৃতি সর্ম্পকে সঠিক ধারণা দিতে পারবে। তিনি অন্যান্য জাতীগোষ্ঠীদের ন্যয় গুর্খা সম্প্রদায়কেও নৃ-গোষ্ঠীদের অর্ন্তভুক্ত করার বিষয়ে সরকারকে অবগত করার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন।

পরে কবি, লেখক ও সঙ্গীত শিক্ষক মনোজ বাহাদুরের প্রতিষ্ঠিত সাংস্কৃতিক সংগঠনন সূর নিকেতনের শিল্পীদের পরিবেশনায় পরিবেশিত হয় সঙ্গীতানুষ্ঠান।