মারমা সম্প্রদায়ের ভাষা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে সমুন্নত রাখতে হবে- কংজরী চৌধুরী

26.05.2017_Matiranga Marma NEWS Pic (1)
নিজস্ব প্রতিবেদক, মাটিরাঙ্গা :

মারমা সম্প্রদায়ের ভাষা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে সমুন্নত রাখতে সকলকে দ্বিধাবিভক্তি ভুলে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহবান জানিয়ে খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কংজরী চৌধুরী বলেছেন, সংস্কৃতি হচ্ছে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির সেতুবন্ধন আর এই সংস্কৃতিকে বাঁচিয়ে রাখা আমাদের দায়িত্ব। নিজেদের উন্নতি চাইলে অসাম্প্রদায়িক মনোভাব নিয়ে সকলকে একসাথে কাজ করতে হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

শুক্রবার সন্ধ্যায় মাটিরাঙ্গা উপজেলা মারমা উন্নয়ন সংসদ আয়োজিত ‘সাংগ্রাই পুনর্মিলনী ও সাংস্কৃতিক’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মাটিরাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী অফিসার বি.এম মশিউর রহমান, মাটিরাঙ্গা পৌরসভার মেয়র ও মাটিরাঙ্গা উপজেলা আওয়ামীলীগের আহবায়ক মো. শামছুল হক এবং বাংলাদেশ মারমা উন্নয়ন সংসদের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারন সম্পাদক সাথোয়াই মারমা বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন। মাটিরাঙ্গা উপজেলা মারমা উন্নয়ন সংসদের সভাপতি চাইলপ্রু চৌধুরী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন।

অন্যান্য সম্প্রদায়ের তুলনায় মারমা সম্প্রদায়ের লোকজন শিক্ষা ক্ষেত্রে পিছিয়ে আছে উল্লেখ করে খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কংজরী চৌধুরী বলেন প্রজন্ম রক্ষায় শিক্ষিত জাতি হিসেবে নিজেদেরকে সমাজের জায়গা তৈরী করে নিতে হবে। যার যার সন্তানকে সুশিক্ষায় শিক্ষিত করে তুলতে অভিভাবকদের দায়িত্বশীল হওয়ার আহবান জানান তিনি। এসময় তিনি বেকার যুবকদের আত্মকর্মী হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে মাটিরাঙ্গা উপজেলা মারমা উন্নয়ন সংসদে দীর্ঘমেয়াদী কম্পিউটার ও সেলাই প্রশিক্ষন কর্মসুচী চালুর ঘোষনা দেন।

অনুষ্ঠানে মাটিরাঙ্গা উপজেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম-আহবায়ক সুবাস চাকমা, মাটিরাঙ্গা সদর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান হিরনজয় ত্রিপুরা, মারমা উন্নয়ন সংসদ নেতা আতুশী মারমা ও মাটিরাঙ্গা উপজেলা মারমা উন্নয়ন সংসদের সাধারন সম্পাদক সদুঅং মারমা প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

পরে অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কংজরী চৌধুরীসহ আমন্ত্রিত অতিথিগণ মারমা সম্প্রদায়ের বিভিন্ন শিল্পীদের পরিবেশনায় এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপভোগ করেন।




 পাহাড়কে অস্ত্রবাজ ও চাঁদাবাজদের অভয়ারণ্য হতে দেওয়া হবে না: বীর বাহাদুর

Lama MP Picture 03, 25.05

লামা প্রতিনিধি:

পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈসিং এমপি বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপর আস্থা রেখে শান্তি চুক্তির সময় শান্তি বাহিনী সকল অস্ত্র জমা দিয়েছে, সুতারাং তাদের কাছে অস্ত্র থাকার কথা নয়। যারা পার্বত্য চট্টগ্রামে অস্ত্র নিয়ে ঘোরাফিরা ও চাঁদাবাজি করে তারা আমাদের নিরাপত্তা এবং উন্নয়নের শত্রু। পার্বত্য চট্টগ্রামের অস্ত্রবাজ ও চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে।

বৃহস্পতিবার  দুপুরে লামা উপজেলার সরই ইউনিয়নের লুলাইং মুখ বাজারে ক্ষুদ্র-নৃ-গোষ্ঠী ম্রো সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় প্রতিমন্ত্রী বীর বাহাদুর এ সব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন পার্বত্য অঞ্চলে নিরাপত্তা বাহিনী আমাদের জান মালের নিরাপত্তা দিতে অনেক কষ্ট করেন। মানুষের উন্নয়ন এবং আইন শৃঙ্খলা পরিবেশ স্বাভাবিক রাখার জন্য আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি জনগণ কে সচেতন হতে হবে।

গজালিয়া ইউপি চেয়ারম্যান বাথোয়াই চিং মারমার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ম্রো সমাবেশে বিশেষ অতিথি ছিলেন, আলীকদম সেনাজোন কমান্ডার লে. ক. মাহাবুবুর রহমান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মো. ফারুক হোসেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. কামরুজ্জামান, আঞ্চলিক পরিষদ সদস্য কাজল কান্তি দাশ, বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদ সদস্য চিংইয়াং ম্রো, ও পার্বত্য চট্টগ্রামে বিদ্যুৎ উন্নয়ন প্রকল্প পরিচালক।

বক্তব্য রাখেন লামা উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি আলহাজ্ব মোহাম্মদ ইসমাইল, গজালিয়া ইউনিয়নের মেম্বার নিপিউ ম্রো ও লামা উপজেলা ম্রো যুব ফোরামের সেক্রেটারি মেন পুং ম্রো।

মন্ত্রী সমাবেশে আরও বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের উন্নয়নে  আওয়ামী লীগ সরকারই একমাত্র আন্তরিক। শান্তি চুক্তির পর হতে তিন পার্বত্য জেলায় উন্নয়নের জোয়ার বইছে।

পরে মন্ত্রী সরই বাজারে বিদ্যুৎ সরবরাহের ও উন্নয়ন বোর্ড এবং এলজিইডির বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের ভিত্তি প্রস্তর উদ্বোধন শেষে সরই ইউনিয়ন পরিষদ মাঠে বিশাল জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতা করেন।




খাগড়াছড়িতে চিরঞ্জয় ও কর্ণ হত্যাকারীদের গ্রেফতারে ২৪ ঘন্টার আল্টিমেটাম

Khagrachari Pic 01
নিজস্ব প্রতিবেদক, খাগড়াছড়ি:
খাগড়াছড়িতে আধিপত্য বিস্তারের জেরে পিতা ও পুত্রকে কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যা ও দুই নারী আহত হওয়ার ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। শুক্রবার দুপুরে জেলা আওয়ামলীগের একটি অংশ হত্যাকান্ডের প্রতিবাদে শহরে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশে করেছে। সমাবেশ থেকে ঘটনা জন্য জেলা অপর গ্রুপকে দায়ী করে সন্ত্রাসীদের গ্রেফতারে ২৪ ঘন্টার আল্টিমেটাম দিয়েছে।

দুপুরে জেলা আওয়ামীলীগের কার্যালয় থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি বের হয়ে শহরের প্রধান সড়ক ঘুরে হাসপাতাল গেইটে সমাবেশে বক্তব্য রাখেন, জেলা আওয়ামীলীগের শিক্ষা ও মানব উন্নয়ন বিষয়ক সম্পাদক দিদারুল আলম ও জেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হৃদয় মারমা।
Khagrachari Pic 04jpg
সমাবেশে দিদারুল আলম এ নির্মম হত্যাকান্ডের জন্য পুলিশের গাফেলতিকে দায়ী করেন। তবে এ বিষয়ে জেলা আওয়ামীলীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক নির্মলেন্দু চৌধুরী বলেন, ঘটনাটি দুই পরিবারের দীর্ঘ দিনে আধিপত্য বিস্তারের জেরে হয়েছে। নিহতরা সাধারণ নাগরিক। এ ঘটনার সাথে কোন রাজনীতি নেই। কিন্তু একটি মহল ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের অপচেষ্টা চালাচ্ছে। তিনি এ ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্তের অপরাধীর বিচার দাবী করেন।

বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে জেলা সদরের থলিপাড়া এলাকায় প্রতিপক্ষের হামলায় ব্যবসায়ী চিরঞ্জয় ত্রিপুরা ও তার ছেলে কর্ণ জ্যোতি ত্রিপুরা নিহত এবং চিরঞ্জয় ত্রিপুরার স্ত্রী ভবেলক্ষী ত্রিপুরা ও ছেলে কর্ণ জ্যোতি ত্রিপুরার স্ত্রী বিজলি ত্রিপুরা গুরতর আহত হন।
Khagrachari Pic 02
চিরঞ্জয় ত্রিপুরার মেজো ছেলে নীহার ত্রিপুরা জানান, বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে তারা পরিবারের সকল সদস্য এক সাথে বসে ভাত খাচ্ছিলেন। এ সময় খাগড়াছড়ি সদর ইউনিয়ন পরিষদের ৫ নং ওয়ার্ডের সদস্য কালিবন্ধু ত্রিপুরার নেতৃত্বে ৩০/৪০ জন সন্ত্রাসী চিরঞ্জয় ত্রিপুরার বাসায় গুলি ও বিভিন্ন ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। এ সময় তিনি পালিয়ে আত্মরক্ষা করেন। হামলায় ঘটনাস্থলেই মারা যান তার পিতা চিরঞ্জয় ত্রিপুরা। আহত অবস্থায় পরিবারের অপর তিন সদস্যকে হাসপাতালে আনা হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক কর্ণ জ্যোতি ত্রিপুরাকে মৃত ঘোষণা করেন।

প্রতিবেশী কেউচিং মারমা জানান, গত ৭ মে কালিবন্ধু ত্রিপুরা নেতৃত্বে চিরঞ্জয় ত্রিপুরা আরো এক দফা হামলা হয়। তিনি ১০ মে পর্যন্ত হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। এ ঘটনায় থানায় মামলার দায়ের করতে গেলে পুলিশ মামলা নেয়নি। অবশেষে বৃহস্পতিবার দুপুরে আদালতে কালিবন্ধু ত্রিপুরাসহ ১৪ জনকে আসামী করে মামলা করে চিরঞ্জয় ত্রিপুরা। মামলা করার মাত্র ৮ ঘন্টার ব্যবধানে কালিবন্ধু ত্রিপুরা ও তার সহযোগিদের হামলায় প্রাণ গেল চিরঞ্জয় ত্রিপুরা ও তার ছেলে কর্ণ   জ্যোতি ত্রিপুরার। শুধু তাই নয়, হামলার সময় সন্ত্রাসীরা নারীদের উপরও পাশবিক নির্যাতন চালিয়েছে।
Khagrachari Pic 03
তবে খাগড়াছড়ি সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তারেক আব্দুল হান্নান মামলা না নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, পূর্ব শত্রুতার জের ধরে এ হামলার ঘটনা ঘটেছে। তবে এখনো থানায় মামলা হয়নি। পুলিশ অভিযুক্তদের আটকের চেষ্টা চালাচ্ছে।

এদিকে শুক্রবার দুপুরে চিরঞ্জয় ত্রিপুরা ও ছেলে কর্ণ জ্যোতি ত্রিপুরার লাশ ময়না তদন্তের পর স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ সময় স্বজনদের কান্নায় হাসপাতাল এলাকার পরিবেশ ভারি হয়ে উঠে।

একটি সূত্র জানায়, চিরঞ্জয় ত্রিপুরা ও কালি বন্ধু ত্রিপুরা দু’জনে নিকটাত্মীয়। এ দুই পরিবারের বিরোধ দীর্ঘ দিনের।

স্থানীয় সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান ক্ষেত্র মোহন ত্রিপুরা জানান, ইতিপূর্বেও দুই পরিবারের মধ্যে কয়েক দফা হামলা ও মামলার ঘটনা ঘটে। বিষয়টি স্থানীয়ভাবে বসে মীমাংসা করা হয়।

অপর একটি সূত্র জানায়, বছর খানিক আগে কালি বন্ধু ত্রিপুরা ও তার ছেলেকে নিরাপত্তা বাহিনী অস্ত্র আটক করে। দীর্ঘদিন কারাভোগের পর জেল থেকে ছাড়া পায়। অতিসম্প্রতি কালি বন্ধু ত্রিপুরা অপর ছেলে যতীন ত্রিপুরা পাঁচ রাউন্ড গুলি ভর্তি একটি বিদেশী পিস্তলসহ নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে আটক হয়। সে এখনো জেলে রয়েছে।




নাছিয়া চা বাগানের অপহৃত ৭৮ ত্রিপুরা শ্রমিকের মধ্যে ১৬ জনকে উদ্ধার করেছে বিজিবি

Ramgarh 26.4
রামগড় প্রতিনিধি :
এক ত্রিপুরা নারী চা শ্রমিক বাঙ্গালী ছেলেকে ভালবেসে পালিয়ে বিয়ে করার জের ধরে  পাহাড়ি সন্ত্রাসীদের হাতে অপহৃত ফটিকছড়ির নাছিয়া চা বাগানের ৭৮ জন ত্রিপুরা  শ্রমিকের মধ্যে ১৬ জনকে উদ্ধার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। বুধবার রামগড়ের বিভিন্ন দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় দিনভর অভিযান চালিয়ে ৫টি পরিবারের ৮ জন শিশু ও ৫ জন মহিলাসহ ১৬ জনকে উদ্ধার করা হয়।

গত শুক্রবার বাগানের ১৯টি পরিবারের নারী ও শিশুসহ ৭৮ জনকে অপহরণ করে সন্ত্রাসীরা। অপহৃতদের মধ্যে ১৪ পরিবারের ৬২ জনকে এখনও উদ্ধার করা যায়নি। বিজিবি সূত্র জানায়, তাদের উদ্ধার অভিযান অব্যাহত থাকবে।

এদিকে অপহৃতদের মধ্যে ১৬ জনকে উদ্ধারের খবর পেয়ে হাটহাজারী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হাসান আল মামুন ও রামগড় সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ নুপার সৈয়দ মো. ফরহাদ বুধবার রাতে রামগড় থানায় এসে ঐ শ্রমিকদের সাথে বলে খোঁজখবর নিয়েছেন।

জানাযায়, বুধবার সকালে রামগড় বিজিবি জোনের সহ-অধিনায়ক মেজর হুমাযুন কবিরের নেতৃত্বে একটি টহল দল অপহৃতদের উদ্ধারে অভিযান শুরু করে। ফটিকছড়ির দাঁতমারা লাগায়ো রামগড়ের গুজা পাড়া, মরা কয়লা, গরু কাটা প্রভৃতি দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় সারাদিন অভিযান চালায় বিজিবি।

এ অভিযানে রামগড়ের পাতাছড়া ইউনিয়নের গরু কাটাসহ পার্শ্ববর্তী এলাকা থেকে ৫টি চা শ্রমিক পরিবারের ১৬ জনকে উদ্ধার করা হয়। এরা হচ্ছে, সত্য কুমার ত্রিপুরা(৩৫), স্ত্রী পতিবালা ত্রিপুরা(৩০), শিশু পুত্র শুভ ত্রিপুরা(৩), কন্যা জ্যোতি ত্রিপুরা(২), রদন ত্রিপুরা(৬০), স্ত্রী মায়া লক্ষ্মী ত্রিপুরা(৫৫), শান্ত ত্রিপুরা(২৫), স্ত্রী লক্ষ্মী মালা ত্রিপুরা(২০), শিশু কন্যা রিতা ত্রিপুরা(৩), শির মতি ত্রিপুরা(৩৪), শিশু সন্তান জীবনা(৯), অরুন(৭), রুবেল(৫), বিজয়(২) এবং বিনো মালা ত্রিপুরা(৩০) ও শিশু নুপুর(৩)।

বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় এদের উদ্ধার রামগড় বিজিবি ব্যাটালিয়ন সদরে নিয়ে আসা হয়। অভুক্ত, অর্ধভুক্ত এসব উদ্ধারকৃতদের বিজিবির পক্ষ থেকে খাবারের ব্যবস্থা করা হয়।  এদিকে, অপহৃতদের মধ্যে ১৪ পরিবারের ৬২ জনকে বুধবার উদ্ধার করা যায়নি। বিজিবি জানায়, তাদের উদ্ধার অভিযান অব্যাহত থাকবে।

উদ্ধারকৃতরা জানান, উপজাতীয় সন্ত্রাসীরা চা বাগান থেকে তুলে নিয়ে যাওয়ার পর রামগড়ের দুর্গম এলাকায় আটকে রাখে। ঐ এলাকার কয়েকজন গ্রামবাসী তাদেরকে সামান্য খাবার খেতে দেয়। ছেলে মেয়ে পরিবার পরিজন নিয়ে তারা গত ৫ দিন অভুক্ত, অর্ধভুক্ত অবস্থায় কাটায়। বৃদ্ধ রদন ত্রিপুরা বলেন, তারা যুগ যুগ ধরে চা বাগানে কাজ করেন, চা বাগানেই থাকেন। বাগানের এক ত্রিপুরা মেয়ে শ্রমিক পার্শ্ববর্তী গ্রামের বাঙালি ছেলের সাথে পালিয়ে যাওয়ায় সন্ত্রাসীরা তাদেরকে বাগান থেকে নিয়ে জঙ্গলের ভিতর আটকে রাখে। অন্যান্য অপহৃতরা কোথায় আছে তারা তা জানেন না।

রামগড় বিজিবি জোন কমান্ডার লে. কর্ণেল এম জাহিদুর রশিদ বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের শান্তি চুক্তি বিরোধী সংগঠন ইউপিডিএফের সন্ত্রাসীরাই চা বাগানের ত্রিপুরা শ্রমিকদের সপরিবারে অপহরণ করে। ৫ দিন যাবৎ এদেরকে রামগড়ের দুর্গম এলাকায় আটকে রাখা হয়। অনাহারে থেকে তারা খুবই দুর্বল হয়ে গেছে।

তিনি বলেন, পাতাছড়া ইউনিয়নের মেম্বার মানেন্দ্র ঐ সন্ত্রাসী গ্রুপের হয়ে কাজ করে। তিনি জনপ্রতিনিধি হয়েও অপহৃতদের উদ্ধারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ন্যুনতম সহায়তা করেনি। জোন কমান্ডার আরও জানান, অপহৃত অবশিষ্ট লোকজনদের উদ্ধার করতে বৃহষ্পতিবার পুনরায় অভিযান চালানো হবে। সিন্ধুকছড়ি সেনা জোন ও রামগড় বিজিবি যৌথভাবে এ অভিযান চালাবে।

উল্লেখ্য, খাগড়াছড়ির রামগড় উপজেলা সীমানা লাগোয়া ফটিকছড়ির দাঁতমারা ইউনিয়নের সোনারখীল এলাকায় নাছিয়া চা বাগানের শ্রমিক তশিরাম ত্রিপুরার কন্যা শব্দ মিলা ত্রিপুরা(২০) সোনারখীলের হাক্কিটিলা গ্রামের সুরত আলীর ছেলে আরিফের(২৫) সাথে পালিয়ে গিয়ে বিয়ে করার ঘটনার জের ধরে পার্বত্য এলাকার পাহাড়ি সন্ত্রাসী গ্রুপটি শুক্রবার বাগান থেকে সকল ত্রিপুরা চা শ্রমিকদের সপরিবারে তুলে নিয়ে যায়।




বান্দরবানে মাসব্যাপী তাঁত বস্ত্র ও হস্তশিল্প মেলার উদ্বোধন

Mala-pic-25.4.2017
নিজস্ব প্রতিবেদক, বান্দরবান :
বান্দরবান শহরের রাজার মাঠে মাসব্যাপী তাঁত বস্ত্র ও হস্তশিল্প মেলার উদ্বোধন করা হয়েছে। উদ্যোক্তা উন্নয়ন পরিষদ ও বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুঠির শিল্প সমিতি (নাসিব) এর আয়োজনে ও বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের সহযোগিতায় মঙ্গলবার বিকালে ফিতা কেটে ও বেলুন উড়িয়ে মেলার উদ্বোধন করেন বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান থোয়াইহ্লা মং মারমা।

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো. হারুন অর রশীদ এর সভাপতিত্বে এসময় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শম্পা রানী সাহা, পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য ফিলিপ ত্রিপুরা, উদ্যোক্তা উন্নয়ন পরিষদের সভাপতি মো. শামীম হায়দার, সাধারণ সম্পাদক বিপ্লব চাকমা, বেসরকারী উন্নয়ন সংস্থা মানবিক উন্নয়ন কেন্দ্র (আশিকা) এর কর্মসূচী পরিচালক সুখেশ্বর চাকমা পল্টু প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে মেলায় শতাধিক ষ্টল তেরী করা হলেও মাত্র একটি স্টলে মালপত্র নিয়ে এক ব্যবসায়ীকে দেখা গেছে। এর জন্য অতিরিক্ত বৃষ্টিকে দায়ী করেছেন উদ্যোক্তারা।

উদ্যোক্তা মো. শামীম হায়দার বলেন, মেলার মাধ্যমে স্থানীয় উদ্যোক্তাদের সারাদেশের উদ্যোক্তাদের সাথে পরিচয় ও স্থানীয়দের বিভিন্ন জেলায় অংশগ্রহণ করতে এ মেলার আয়োজন।




বাঙ্গালহালিয়ায় মারমাদের সাংগ্রাই উপলক্ষে জল উৎসব

20170420_130623 copy

রাজস্থলী প্রতিনিধি:

রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলার রাজস্থলী উপজেলার বাঙ্গালহালিয়া উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে বৃহস্পতিবার পার্বত্য চট্টগ্রামের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী মারমা সম্প্রদায়ের সাংগ্রাই উপলক্ষে এক উল উৎসব ও মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। সাংগ্রাই জল উৎসব ১৪২৪ উপলক্ষে এক আলোচনা সভা সাংগ্রাই জল উৎসব উদযাপন পরিষদের সভাপতি ৩২০নং কাকড়াছড়ি মৌজার হেডম্যান মংসিং চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন, রাজস্থলী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান উথিনসিন মারমা। অনুষ্ঠানের উদ্বোধক ছিলেন, রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য চাঁনমনি তঞ্চঙ্গ্যা। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন, রাজস্থলী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি উবাচ মারমা, সাধারণ সম্পাদক পুচিমং মারমা, ৩নং বাঙ্গালহালিয়া ইউপি চেয়ারম্যান ঞোমং মারমা, সাবেক রাইখালী ইউপি চেয়ারম্যান মংক্য মারমা ও ৩৩৩নং সংসদীয় আসনের মহিলা এমপি প্রতিনিধি  লংবতি ত্রিপুরাসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে আগত হাজার হাজার দর্শক শ্রোতাবৃন্দ।

অনুষ্ঠানের শুরুতেই যুবক যুবতীদের পক্ষ থেকে অতিথিদের ফুল দিয়ে বরণ করে নেওয়া হয়। এরপর মংসিং চৌধুরী হেডম্যানের সভাপতিত্বে এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি বলেন, পুরাতন বছরকে গ্লানি দিয়ে নতুন বছরকে বরণ করার উদ্দেশ্য হলো মারমা সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী জল উৎসব। এ পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তি, শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার বদ্ধ পরিকর। কিছু অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী পার্বত্য রাজস্থলীতে নিরীহ খেটে খাওয়া মানুষের উপর অস্ত্রদিয়ে জিম্মি করে ফলে এ পার্বত্য রাজস্থলীতে অশান্তি বিরাজ করছে।

তিনি আরও বলেন, তারা পদে পদে চাঁদাবাজি, গুম, হত্যা ও নিরীহ জনগণকে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে চাঁদা আদায় করে আসছে। তাই প্রশাসনের প্রতি অনুরোধ, অচিরেই এ পার্বত্য রাজস্থলীতে অস্ত্র উদ্ধার করে তাদের আইনী আওতায় আনার ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আহ্বান জানাচ্ছি। আলোচনা সভা শেষে প্রধান অতিথি ও উদ্বোধক মারমা সম্প্রদায়ের সাংগ্রাই উপলক্ষে আয়োজিত জল উৎসবের উদ্বোধন করা হয়।

অপরদিকে স্থানীয় শিল্পী গোষ্ঠী কর্তৃক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশন করা হয়। এ সময় জল উৎসবে পার্বত্য চট্টগ্রাম ব্যতীত চট্টগ্রামের রাঙ্গুনীয়া, কাপ্তাই ও পার্শ্ববর্তী বান্দরবান, পদুয়াসহ হাজার হাজার লোকজন উৎসবে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন।




রাঙামাটিতে মারমাদের সাংগ্রাই জলোৎসব

news pic (2) copy

রাঙামাটি প্রতিনিধি:

রাঙামাটি শহরের মারমা সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী সাংগ্রাই জলোৎসব ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান বৃহস্পতিবার সকালে আসামবস্তি নারিকেল বাগানে অনুষ্ঠিত হয়েছে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন, সাবেক প্রতিমন্ত্রী দীপংকর তালুকদার।

এদিকে ঐতিহ্যবাহী মংঘন্টা বাজিয়ে জলোৎসব উদ্বোধন করেন, রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বৃষকেতু চাকমা। এসময় মারমা সংস্কৃতি সংস্থার প্রধান উপদেষ্টা চিংকিউ রোয়াজার সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি ছিলেন, রাঙামাটি জেলা পরিষদের সদস্য  হাজী মো. মুছা মাতব্বর।

এছাড়া অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, জেলা পরিষদের সদস্য রেমলিয়ানা পাংখোয়া, সাংগ্রাই উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক মিন্টু মারমা, সদস্য মইনুচিং মারমা প্রমুখ।

আলোচনা সভা শেষে অতিথিবৃন্দগণ সাংগ্রাই জলোৎসবে অংশগ্রহণ করেন। পরে তরুণ-তরুণীরা একে- অপরের গায়ে পানি ছিটিয়ে পুরনো বছরের সকল দুঃখ, অবসাদ দূর করে নতুন বছরে শুদ্ধ মননে জীবন শুরুর প্রত্যয় ব্যক্ত করে পার্বত্যাঞ্চলের মারমা সম্প্রদায় শেষ করলো বর্ষবরণের এ বছরের সব আয়োজন।




বান্দরবানে ত্রিপুরা সম্প্রদায়ের বৈসু উৎসব

Bandarban pic-18.4.2017
নিজস্ব প্রতিবেদক, বান্দরবান
বান্দরবান জেলা শহরের কালাঘাটায় মঙ্গলবার ত্রিপুরা ক্ষুদ্র-নৃ গোষ্ঠীর বর্ষবরণ উৎসব বৈসু উদযাপিত হয়েছে। পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী বীর বাহাদুর উ শৈ সিং এমপি প্রদীপ প্রজ্জ্বলন ও কেক কেটে বৈসু উৎসবের উদ্বোধন করেন।

বান্দরবান ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক ইন্সটিটিউট এবং ত্রিপুরা বৈসু উদযাপন পরিষদ যৌথভাবে এ উৎসবের আয়োজন করে। বৈসু উৎসব উপলক্ষ্যে ত্রিপুরাদের ঐতিহ্যবাহী ও লোকজ খেলাধুলা এবং গড়াইয়া নৃত্য পরিবেশন করে বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা ত্রিপুরা শিল্পীরা।

উৎসবে বান্দরবান পৌরসভার মেয়র মোহাম্মদ ইসলাম বেবী, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) দিদারে আলম মোহাম্মদ মাকসুদ চৌধুরী, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অনির্বাণ চাকমা এবং ত্রিপুরা নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।




মিয়ানমারে পানি উৎসবে নিহতের সংখ্যা ২৮৫, আহত সহাস্ত্রাধিক

myanmar

ডেস্ক রিপোর্ট :
মিয়ানমারে বর্ষবরণের সময় পানি উৎসব চলাকালে দুর্ঘটনা ও সংঘর্ষে ২৮৫ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। সংশ্লিষ্ট ঘটনায় আহত হয়েছেন হাজারের বেশি মানুষ। দেশটির বিভিন্ন রাজ্যে গত বৃহস্পতিবার থেকে পানি উৎসবকে কেন্দ্র করে চলমান সংঘর্ষে এ প্রাণহানির ঘটনা ঘটে।

দেশটির এক সরকারি কর্মকর্তার বরাত দিয়ে বিবিসি জানায়, পানি উৎসব চলাকালে মারামারি, গোষ্ঠীগত হামলা, দলবদ্ধ লড়াই, মাতাল অবস্থায় গাড়ি চালানোয় দুর্ঘটনা, ধর্ষণ, চুরিসহ দুই শতাধিক অপরাধের ঘটনা ঘটেছে। আর এ অপরাধগুলো ঘটনার সময়ে বিপুল পরিমাণ প্রাণহানি হয়। এগুলোর মধ্যে চেইন প্রদেশে পানিখেলাকে কেন্দ্র করে এক পরিবারের তিন নারীকে হত্যার ঘটনা আলোড়ন সৃষ্টি করেছে বলে উল্লেখ করা হয়।

অন্যমিডিয়া

মিয়ানমারের গত বছরের পানি উৎসবে মোট ৩৬ জনের প্রাণহানি ও আরো ৩১৬ জন আহত হয়েছিলেন।

সূত্র : কালের কণ্ঠ




গুইমারা ট্রাজেডির ৬ বছর, সন্ত্রাসীদের বিচার হয়নি আজও

guimara pic 16-04-2015 copy

খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি:

আজ ভয়ানক সেই ১৭ এপ্রিল। ২০১১ সালের এ দিনে ভূমি বিরোধকে কেন্দ্র করে এক শ্রেণির বহিরাগত স্বার্থান্বেষী মহল পাহাড়ি-বাঙ্গালীর সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করার প্রয়াসে শান্ত পাহাড়কে অশান্ত করে জন্ম দেয় এক কলঙ্কময় অধ্যায়ের। এদিন উপজাতীয় স্বশস্ত্র সন্ত্রাসীদের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে প্রাণ হারিয়েছে নিরপরাধ তিন বাঙ্গালী শ্রমিক। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে পাহাড়ি-বাঙ্গালী উভয় সম্প্রদায় হারিয়েছে প্রায় দু’শতাধিক ঘর-বাড়ি। উশৃঙ্খলদের দেয়া আগুনের লেলিহান শিখা পুড়ে ছাই করে দিয়েছে তাদের ঘর-বাড়িসহ স্বাভাবিক জীবনযাত্রাকে।

২০১১ সালের ১৭ এপ্রিল খাগড়াছড়ির গুইমারা উপজেলার বড়পিলাক কচু বাউন্তী এলাকায় ভূমি বিরোধকে কেন্দ্র করে উপজাতীয় স্বশস্ত্র সন্ত্রাসীরা বাঙ্গালীদের ধারলো অস্ত্র দিয়ে এলোপাথাড়ি কুপিয়ে জখম করে। এতে ঘটনাস্থলেই নিহত হয় নোয়াব আলী, আয়ুব আলী ও সুনিল চন্দ্র সরকার। আহত হয়েছিল অন্তত ৩০জন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে গুইমারা উপজেলার হাফছড়ি ইউনিয়নের উত্তর শণখোলাপাড়া ও রেয়ং মরং পাড়ায় এবং মানিকছড়ির মহামুনি কার্বারী পাড়ায় উত্তেজিত জনতা পাল্টাপাল্টি নিরহ পাহাড়ি-বাঙ্গালী উভয় সম্প্রদায়ের প্রায় শতাধিক ঘর-বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করে। আগুনের লেলিহান শিখা শুধু এসব ঘর-বাড়িকেই পুড়ে ছাই করে দেয়নি, ধ্বংস করে দিয়েছে শত শত বছরের পাহাড়ি-বাঙ্গালীর সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বন্ধনকে।

06 copy

এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে তৎকালে একদিকে হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে বিক্ষুব্ধ বাঙালীরা বিক্ষোভ মিছিল করে রাস্তায় নেমে এসে চট্রগ্রাম-ফেনী-খাগড়াছড়ি সড়ক অবরোধ করে যানবাহন ভাংচুর করে। বিভিন্ন এলাকায় পাহাড়িরাও পাল্টা প্রতিরোধ গড়ে তুলে। ফলে মানিকছড়ি ও গুইমারা উপজেলায় পাহাড়ি-বাঙালির মাঝে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পুলিশ ও নিরাপত্তাবাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে তাৎক্ষণিক ভাবে রাস্তায় নেমে আসে। পাশাপাশি মানিকছড়ি, গুইমারা ও রামগড় তিন উপজেলায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়।

প্রতক্ষ্যদর্শীরা জানিয়েছেন, যে জমি নিয়ে বিরোধের সূত্রপাত তা কাগজ-পত্রে বাঙ্গালিদের জায়গা। দীর্ঘ দিন উপজাতীয় একটি মহল বাঙ্গালীদের উচ্ছেদ করে এ জায়গা দখলের চেষ্টা চালিয়ে আসছিল। শেষ পর্যন্ত দখল করতে ব্যর্থ হয়ে তারা এ হত্যা কাণ্ড ঘটিয়েছিল। তবে যে জায়গা নিয়ে রক্তপাত হানাহানি এত কিছু ঘটে গেল, সেই জায়গায় বাঙ্গালীরা আজও যেতে পারেনি। অদ্যাবধি এর কোন সমাধান না হওয়ায় শঙ্কিত এলাকাবাসী। যে কোন সময় এ ভূমি বিরোধকে কেন্দ্র করে আবারও রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশঙ্কা রয়েছে।

08 copy

অনুসন্ধানে জানাযায়, হত্যা, লুটতরাজ, অগ্নিসংযোগের ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে পৃথক দুইটি মামলা দায়ের করে। হত্যা মামলায় ৫জনকে চিহিৃত করে অজ্ঞাত দুই/আড়াইশ উপজাতীয় সন্ত্রাসীকে আসামি করে মামলা করা হয়। মামলা নং-১, তারিখ-১৮-৪-২০১১ইং। এছাড়াও অগ্নিসংযোগ ও লুটতরাজের ঘটনায় অজ্ঞাত ১৫০ জনকে আসামি করে অপর একটি মামলা করে পুলিশ। মামালা নং-২, তাং-১৯-৪-২০১১ইং।

এ পরিস্থিতিতে পার্বত্য প্রতিমন্ত্রী দিপংকর তালুকদার, খাগড়াছড়ি সাংসদ যতীন্দ্র লাল ত্রিপুরা, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. জাহেদুল আলমসহ সরকারি-বেসরকারি সকল সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে তদন্ত পূর্বক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিয়ে ছিলেন।

এরপর তদন্ত কমিটির প্রধান অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো. সালা উদ্দিনের নেতৃত্বে অন্য দুই সদস্য অতিরিক্ত পুলিশ সুপার দেলোয়ার হোসেন সাইদী ও রামগড় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা গোপাল চন্দ্র দাসকে নিয়ে আনুষ্ঠানিক ভাবে তদন্ত কাজ শুরু করেন এবং এর রিপোর্টও জমা দেন। কিন্তু এত কিছুর পরও অদ্যাবধি এ হত্যাকাণ্ডের কোন বিচার পায়নি নিহতের পরিবারগুলো।

04 copy

এদিকে দীর্ঘ প্রায় এক বছর মামলার বাদী এসআই মঞ্জুরুল আবছার তদন্ত করার পর তদন্তকারী কর্মকর্তা বাদী হওয়ায় এসআই মুঞ্জুরুল আবছারের পরিবর্তে এসআই ঠাকুর দাস মণ্ডলকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়। দায়িত্ব প্রাপ্ত তদন্ত কর্মকর্তা ঠাকুর দাস মণ্ডল মাত্র ১৫ দিনের তদন্তে দায়সারাভাবে ১১-০৮-১২ তারিখে মামলার চূড়ান্ত চার্জসিট প্রদান করে। তার তদন্তে হত্যা মামলায় ৩১জন উপজাতি এবং অগ্নিসংযোগ ও লুটতরাজের মামলায় ২৮জন বাঙ্গালীকে চিহিৃত করে ঘটনার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগ এনে আসামি করে আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করে পুলিশ।

অগ্নিসংযোগ ও লুটতরাজের মামলায় ২৮জন বাঙ্গালী আসামি ২০১৩ সালে আদালত থেকে জামিনে মুক্তি পায়। দীর্ঘ কয়েক বছর মামলা চলার পর মামলা থেকে বেকোসর খালাস পান ২৮বাঙ্গালী আসামি। এদিকে তিন বাঙ্গালী শ্রমিক হত্যা মামলায় অভিযুক্ত ৩১জন উপজাতীয় আসামির নামে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে আদালত। গ্রেফতারি পরোয়ানা থাকার পরও অদৃশ্য কারণে আসামিরা দীর্ঘ কয়েক বছর আদালতে হাজির হয়নি। সম্প্রতি সময়ে আদালতে হাজির হয়ে জামিন চাইলে বিজ্ঞ আদালত তাদের জামিন নামুঞ্জুর করে আসামিদের জেল হাজতে পাঠান। পরবর্তীতে বিভিন্ন তারিখে জামিনে রেব হয়ে আসে আসামিরা। বর্তমানে হত্যা মামলাটি বিচারাধীন।

অন্যদিকে ৩ বাঙ্গালীকে হত্যার ঘটনায় প্রতিবাদ জানিয়ে বিচার দাবি করেন খাগড়াছড়ি জেলা বিএনপির সভাপতি সাবেক সাংসদ ও সাবেক পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান ওয়াদুদ ভূইয়া, পার্বত্য চট্টগ্রাম সম-অধিকার আন্দোলন খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা শাখার সভাপতি আবু ইউছুফ চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান মিল্লাত, পার্বত্য বাঙ্গালী ছাত্র পরিষদের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি এ্যাডভোকেট এয়াকুব আলী চৌধুরী।

07 copy

রবিবার দুপুরে পৃথক পৃথক বিবৃতিতে তারা এ দাবি জানান।

বিবৃতিতে ওয়াদুদ ভূইয়া ১৭ এপ্রিল বড়পিলাক হত্যা ট্রাজেডির ৬ষ্ঠ বার্ষিকীতে ঘটনার সাথে জড়িতদের গ্রেফতার এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে যথাযথ ক্ষতিপূরণ না দেয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন, এ ঘটনায় নিহতদের তিনটি পরিবার আজ অনাহারে-অর্ধাহারে অমানবিকভাবে জীবন যাপন করছে। অথচ সরকারের পক্ষ থেকে প্রশাসনিক কর্তারা তাৎক্ষণিক ভাবে নানান আশ্বাস দিলেও এখনো এসব বাস্তবায়ন না করায় সরকারের কঠোর সমালোচনা করে ক্ষতিগ্রস্তদের যথাযথ ক্ষতিপূরণ ও দোষীদের অভিলম্বে গ্রেফতার পূর্বক বিচারের দাবি করেন তিনি। এছাড়াও ভবিষ্যতে যেন এঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে সে জন্য সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের সবাইকে সজাগ থাকার আহ্বান জানান তিনি।

অপরদিকে পার্বত্য চট্টগ্রাম সম-অধিকার আন্দোলন খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা শাখার সভাপতি আবু ইউছুফ চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান মিল্লাত ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতার পূর্বক শাস্তি দাবি করে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে যথাযথ ক্ষতিপূরণ না দেয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

এছাড়াও পার্বত্য বাঙ্গালী ছাত্র পরিষদের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি এ্যাডভোকেট এয়াকুব আলী চৌধুরী জানান, নিহতদের পরিবারগুলো এখনো অনাহারে-অর্ধহারে দিনাতিপাত করছে। তাই দ্রুত নিহত পরিবারেরর প্রতি ক্ষতি পূরণের দাবি জানিয়েছেন তিনি।

এছাড়াও এখনো সন্ত্রাসীদের হামলায় হতাহতের কোন সুষ্ঠ বিচার না হওয়ায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে দ্রুত সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার ও অধিকার বঞ্চিত পার্বত্য বাঙ্গালীদের প্রাণ প্রিয় সংগঠন পার্বত্য বাঙ্গালী ছাত্র পরিষদ’র ৮ দফা দাবি যথাযথ বাস্তবায়নে সরকারের প্রতি জোর দাবি জানান তিনি।

অন্যদিকে পার্বত্য বাঙ্গালী ছাত্র পরিষদের কেন্দ্রীয় সিনিয়ার সহ-সভাপতি আব্দুল মাজিদ জানান, ন্যাক্কার জনক এ ঘটনার প্রতিবাদ ও সন্ত্রাসীদের গ্রেফতারের দাবিতে আমরা সরকারের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি। সংগঠনটির খাগড়াছড়ি জেলা সভাপতি লোকমান হোসেন জানান, ঘটনাস্থল বড়পিলাক এলাকায় কালো ব্যাচ ধারন ও কালো পতাকা উত্তোলন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে তৎকালে পার্বত্য বাঙ্গালী ছাত্র পরিষদসহ বিভিন্ন সংগঠন ৫দিনের কর্মসূচি গ্রহণ করেছিল। কর্মসূচির মধ্যেছিল তিন পার্বত্য জেলায় কালো ব্যাজ ধারণ ও কালো পতাকা উত্তোলন, ঘটনাস্থল বড়পিলাক ও খাগড়াছড়ি জেলা শহরের শাপলা চত্বরসহ বিভিন্ন এলাকায় কালো পতাকা উত্তোলন, প্রতিবাদ সমাবেশ, সকল মসজিদে দোয়া, গীর্জা ও মন্দিরে প্রার্থনা, খাগড়াছড়ি ও রাঙ্গামাটি জেলায় সকাল-সন্ধ্যা সড়ক পথ ও নৌপথ অবরোধ, সর্বশেষ ২৫এপ্রিল তিন পার্বত্য জেলায় বিক্ষোভ সমাবেশ ও জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীকে স্মারকলিপি প্রদান করা। এতসবের পরও প্রকৃত অপরাধীদের বিচারের কাঠগড়ায় না আনায় হতাশায় ভুগছে পাহাড়ে বসবাসরত বাঙ্গালীরা। তাদের প্রশ্ন আদৌ কি এ হত্যাকাণ্ডের বিচার পাবে নিহতদের স্বজনরা।