কুতুবদিয়ায় ১৯ অস্ত্রসহ আটক ১

নিজস্ব প্রতিবেদক, কক্সবাজার:

কক্সবাজারের কুতুবদিয়া থেকে ১৯টি অবৈধ অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ মনোয়ারুল ইসলাম চৌধুরী মুকুল নামের এক ব্যক্তিকে আটক করেছে র‌্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব-৭) এর সদস্যরা। বৃহস্পতিবার ভোর রাত ৪টার দিকে কুতুবদিয়া উপজেলার পুরান সিকদার পাড়া এলাকায় এ অভিযান চালায় র‌্যাব। এসময় ১৫টি অস্ত্রসহ বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়।

কক্সবাজার র‌্যাব-৭ এর কোম্পানি কমান্ডার মেজর মো. রুহুল আমিন জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‌্যাব সদস্যরা দ্বীপ উপজেলা কুতুবদিয়ায় অভিযান চালান। এ সময় উপজেলার পুরান সিকাদার পাড়া এলাকার মনোয়ারুল ইসলাম চৌধুরী মুকুলকে আটক করা হয়।

তার স্বীকারোক্তি মতে, ৬টি এসবিবিএল, ১৩টি ওয়ান স্যুটার গান ও ৬শ’ পিস (৫.৫ মিমি/ ২২ বোর, ০.১/২ বোর) গোলাবারুদসহ বিপুল আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করা হয়। পরে কুতুবদিয়া থানায় আটক ব্যক্তিকে সোপর্দ করা হয়েছে।

কুতুবদিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোস্তাফিজ ভূঁইয়া জানান, র‌্যাবের অভিযানে আটক ব্যক্তি ও আগ্নেয়াস্ত্র এখনো থানায় রয়েছে। আটক ব্যক্তির বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট আইনে মামলার প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে।

 




কুতুবদিয়া বিউবোর ভুলে অর্ধ লক্ষাধিক টাকা গ্রাহকের ঘাড়ে

 

কুতুবদিয়া প্রতিনিধি:

কক্সবাজারের কুতুবদিয়া বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের ভুল রিপোর্টের দরুণ অর্ধ লক্ষাধিক টাকা গুনতে হচ্ছে সাড়ে আটশ গ্রাহককে। ফলে গ্রাহকরা অসন্তোষ প্রকাশ করে অনেকেই প্রায় দ্বিগুণ বিদ্যুৎ বিল পরিশোধে অনিহা প্রকাশ করছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, কুতুবদিয়া বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের জেনারেটরে উৎপাদিত বিদ্যুৎ সরবরাহ হয় উপজেলা সদরে। সন্ধ্যা থেকে সাড়ে ৪ ঘন্টা বিদ্যুৎ দেয়া হয় প্রতিদিন। বানিজ্যিক ও আবাসিক সহ মোট সাড়ে আট শতাধিক বৈধ গ্রাহক রয়েছে। নতুন সংযোগে ডিজিটাল মিটার চালু হলেও পুরাতন মিটারের ৯০ শতাংশই অচল। সরবরাহকৃত বিদ্যুতের গড় বিল দেয়া হয় প্রতিমাসে। অবশ্য ডিজিটাল মিটার স্থাপনে বিদ্যুৎ বিভাগ জোর প্রচেষ্টা চালালেও স্বল্প সময়ের বিদ্যুতে ডিজিটাল মিটার নিয়ে গ্রাহকদের মাঝে খুব একটা আগ্রহ নেই। এর মধ্যে গত মে মাসের বিলে দেড় থেকে প্রায় দ্বিগুণ রিডিং বিল ধরিয়ে দেয়া হয়েছে গ্রাহকদের হাতে।

হাসপাতাল গেইটের হিজবুল্লাহ বলেন, এপ্রিল মাসে গড় বিল ছিল ২৫ ইউনিটে ২৯৪ টাকা। সম পরিমাণ বিদ্যুৎ সরবরাহ দিয়ে মে মাসে হঠাৎ করেই ৪০ ইউনিট গড় বিল করে ৪৪৮ টাকা বিল দেয়া হয়েছে।  একই এলাকায় মো. নুরুল আবছার বলেন, তার আবাসিক ডিজিটাল মিটারে এপ্রিল মাসে ৫০ ইউনিটে ২২৬ টাকা বিল ছিল। মে মাসে এসে ৮৫ ইউনিট করে ৪৮৪ টাকা বিল দেয়া হয়েছে। ফার্মেসী ব্যবসায়ী মাষ্টার ইব্রাহিম বলেন, এপ্রিল মাসে গড় বিল ছিল ৩০ ইউনিটে ৩৪৫ টাকা। মে মাসে আজগুবি ভাবে ১৫ ইউনিট বাড়িয়ে ৪৫ ইউনিট করে ৫০০ টাকার বিল দেয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন এ ব্যাপারে আবাসিক প্রকৌশলীর সাথে মোবাইলে কথা হলে তিনি পরের মাসে কম হবে বলেই দায়িত্ব সারেন।

উপজেলা গেইটে ফটোস্ট্যাট ব্যবসায়ী মৌলভী আবুল বশর বলেন, তার ডিজিটাল মিটারে গত এপ্রিল মাসে বিল ছিল ৩০ ইউনিটে ৩৪৫ টাকা। হঠাৎ করেই মে মাসে ৪৫ ইউনিট করে ৫০০ টাকা বিল ধরিয়ে দেয়া হয়েছে। তিনি এ ধরণের বিল পরিশোধে অনিহা জানিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। এ ভাবে প্রতিটি গ্রাহককে বাড়তি বিল ধরিয়ে দেয়ায় বকেয়ার পরিমাণ আরো বেড়ে যাবে বলে মনে করেন গ্রাহকরা।

হঠাৎ কেন ভৌতিক বিল হয়েছে এ ব্যাপারে আবাসিক প্রকৌশলী মো. সাদিউজ্জামান বলেন, গত মাসে উর্ধ্বতন অফিসে রিপোর্ট প্রদানের সময় ভুলবশত: কম্পিউটারে ৬ হাজার ইউনিট বেশি লেখা হয়েছিল। যা কমানো সম্ভব হয়নি। এ ৬ হাজার ইউনিট মেলাতে গিয়ে গ্রাহকদের বিলে কিছুটা বেশি বিল হয়েছে। পরবর্তী মাসে অবশ্য কমে যাবে বলে তিনি জানান। যদিও সংশ্লিষ্ট অফিসের দায়িত্বহীনতার ভুলে সে দায় গ্রাহকরা বহন করবে কেন-এ প্রশ্নের কোন উত্তর দেননি তিনি।

বানিজ্যিক সংযোগে প্রতি ইউনিটে ভ্যাট ও অন্যান্য বিষয়াদি সহ খরচ পড়ে ১১.২০ টাকা। সে হিসেবে ৬ হাজার ইউনিটে ৬৭ হাজার ২০০ টাকা অতিরিক্ত বিল হয়েছে। অবশ্য আবাসিক সংযোগের বিল কম থাকায় টাকার পরিমাণ কিছুটা কম হতে পারে। তবে এ বিপুল পরিমান বাড়তি অর্থ গ্রাহকদের ঘাড়ে চাপিয়ে চুপচাপ রয়েছে স্থানীয় বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের কর্মকর্তা-কর্মচারিরা।




কুতুবদিয়ায় ঘুর্ণিঝড়ে ক্ষগ্রস্তদের মাঝে নগদ অর্থ বিতরণ


কুতুবদিয়া প্রতিনিধি
কক্সবাজারের কুতুবদিয়ায় ঘুর্ণিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারদের মাঝে ব্যক্তি উদ্যোগে নগদ অর্থ বিতরণ করলেন বিশিষ্ট চিকিৎসক আলহাজ্ব মো. নুরুল আলম কুতবী।

শুক্রবার (১৬ জুন) তার নিজ বাড়ি উপজেলার আলী আকবর ডেইল নাছিয়ার পাড়ায় সকাল ৯টায় আগত ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে তিনি অর্থ বিতরণ করেন।

এ সময় স্থানীয় আলী আকবর ডেইল ইউনিয়নে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত কাজীর পাড়া, হকদার পাড়া, নাছিয়ার পাড়া, তেলি পাড়া, কিরণ পাড়া, সাইট পাড়া, কাহার পাড়া, চৌধুরী পাড়া,স্কুল পাড়া সহ ৯টি গ্রামের প্রতি পরিবারে এক হাজার ও পাঁচ শত টাকা করে প্রায় ৬‘শ পরিবারের মাঝে নগদ অর্থ বিতরণ করেন।

স্থানীয় মহিলা ইউপি সদস্য নাছিমা আক্তার ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারদের তালিকা তৈরি করার দায়িত্ব পালন করেন।




কুতুবদিয়ায় তক্তা পড়ে ঘুমন্ত শিশু নিহত


কুতুবদিয়া প্রতিনিধি:
কক্সবাজারের কুতুবদিয়ায় রাতে ঘুমন্ত অবস্থায় ঘরের দমদমের উপরে রাখা তক্তা পড়ে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৫ জুন) উপজেলা সদর বড়ঘোপ মুরালিয়া গ্রামে এ মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটেছে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও হাসপাতাল সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে ওই গ্রামের জাহেদের ১৭ মাস বয়সী শিশু পুত্র মারুফুল ইসলাম ঘরে ঘুমাচ্ছিল। হঠাৎ দমদমের উপরে রাখা ৫ ফুট সাইজের ভারী তক্তা শিশুটির পেটের উপরে পড়ে যায়।

এ সময় তার মা শিশুটিকে হাসপাতালে নিয়ে আসলে কর্তব্যরত চিকিৎসক শিশুটিকে মৃত ঘোষনা করেন।




কুতুবদিয়ায় বজ্রপাতে দিনমজুর নিহত, আহত-১

কুতুবদিয়া প্রতিনিধি:

কক্সবাজারের কুতুবদিয়ায় বজ্রপাতে এক দিনমজুর নিহত হয়েছে। পৃথক ঘটনায় আরেক কিশোরী আহত হলে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও হাসপাতাল সূত্র জানায়, মঙ্গলবার (১৩ জুন) ইফতারের আগ মূহুর্তে উপজেলার রেমশীখালী ইউনিয়নের কড়লা পাড়ার বাসিন্দা জাহাঙ্গীরের পুত্র ভূমিহীন দিনমজুর মো. ছোটন (৩২) বাড়ির পাশে লবণ মাঠের খালে জাল বসাতে যায়।

এ সময় হঠাৎ বজ্রপাত হলে সে অজ্ঞান হয়ে পড়ে। এলাকাবাসি তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেয়ার পর জরুরী বিভাগে কর্তব্যরত চিকিৎসক ছোটনকে মৃত ঘোষণা করেন। সে স্থানীয় মুজিব কিল্লায় ভূমিহীন হিসেবে বসবাস করে আসছিল। তার ২ ছেলে ও ১ মেয়ে  রয়েছে।

অপর দিকে একই সময়ে বড়ঘোপ মুরালিয়া গ্রামের মো. ইদ্রিসের কিশোরী কন্যা এ্যানি (১৬) বাড়িতে কাজ করার সময় বজ্রপাতের বিকট শব্দে অজ্ঞান হয়ে পড়ে। দ্রুত তাকে হাসপাতালে এনে ভর্তি করা হয়।




সাগরে ফুঁসে ওঠা জোয়ারের পানি ঢুকছে কুতুবদিয়ায়

কুতুবদিয়া প্রতিনিধি:

সাগরে নিম্নচাপে পরিণত হওয়া ঘুর্ণিঝড়ের প্রভাবে ফুঁসে ওঠা জোয়ারের পানি কুতুবদিয়ায় ঢুকছে। দমকা হাওয়ায় ঢেউয়ের আঘাত একের পর এক ভাঙা বেড়িবাঁধ দিয়ে লোকালয়ে প্রবেশ করায় আশ্রয়ের খোঁজে ছুটছে মানুষ।

সোমবার  দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার আলী আকবর ডেইল কাজীর পাড়ায় সরেজমিন প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান,  রবিবার রাতেও জোয়ারের সময় এক দফা পানি প্রবেশ করেছে। সোমবার আবার দুপুরে জোয়ারের পানি বেড়িবাঁধ দিয়ে ঘর-বাড়িতে প্রবেশ করছে।

স্থানীয় ছাত্র মো. আব্দুল মান্নান,  মৎস্য জীবি কামাল হোসেন,  রেজাউল করিম,  মো.কাজল, সাদেক, আ. জব্বার, তাহের, আ. শুক্কুর, নুরুজ্জাহান, আবু সাদেক, আ. রহিম, আবু তাহের, নুরুল ইসলাম জানান, জোয়ারের পানি দুই দফা ঢুকে পড়েছে কয়েকটি গ্রামে।

তারা বলেন, বেড়িবাঁধ সংলগ্ন চৌধুরী পাড়া, কিরণপাড়া, কাজীর পাড়া, নাছিয়ার পাড়া, কাহার পাড়া, তেলিপাড়া, পণ্ডিত পাড়া সহ বায়ু বিদ্যুৎ প্লান্ট এলাকা দিয়ে দুপুর বাড়ার সাথে সাথে জোয়ারের পানি বাতাসের সাথে ঢুকে পড়েছে। অনেকে স্থানীয় টেকপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় আশ্রয় কেন্দ্রে আশ্রয় নিলেও মালামাল, গরু-ছাগল সরাতে পারেননি। মূহুর্তের মধ্যেই কাজীর পাড়ায় প্রায় দুইশ ঘরে পানি ঢুকে পড়ে। সব মিলিয়ে কয়েকটি গ্রামের অন্তত দুই হাজার পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে এলাকাবাসী জানান।

এছাড়া উত্তর ধুরুং এলাকায় বেশ কয়েকটি স্থান দিয়ে সাগরের পানি প্রবেশ করছে বলে তাৎক্ষণিক ভাবে জানা গেছে।

জরুরী সময়ে আলী আকবর ডেইল ইউপির ১ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বারের মোবাইল সংযোগও মিলছেনা। ইউপি চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মুক্তিযোদ্ধা নুরুচ্ছাফার মোবাইলও বন্ধ।

উপজেলা নির্বাহি কর্মকর্তা সুজন চৌধুরী বলেন, যে সব এলাকায় জোয়ারের পানি প্রবেশ করছে, সেসব এলাকার লোকজনদের নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেয়া হয়েছে। এছাড়া তিনি সরেজমিন পরিদর্শনেও যাচ্ছেন বলে জানান।




কুতুবদিয়ায় পুকুরে ডুবে শিশুর মৃত্যু

কুতুবদিয়া প্রতিনিধি:

কক্সবাজারের কুতুবদিয়ায় পুকুরে ডুবে ফের এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। শনিবার (১০ জুন) উপজেলার লেমশীখালী ইউনিয়নের ঠাণ্ডা চৌকিদার পাড়ায় পানি ডুবির ঘটনাটি ঘটেছে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও হাসপাতাল সূত্র জানায়, শনিবার দুপুর ২টার দিকে ওই পাড়ার বশির উল্লাহর মেয়ে নাঈমা (৭) পুকুরে গোসল করতে গিয়ে হঠাৎ তলীয়ে যায়। পরে তাকে পুকুর থেকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেয়া হলে জরুরী বিভাগে কর্তব্যরত চিকিৎসক নাঈমাকে মৃত বলে জানান।




কুতুবদিয়ায় পানিতে পড়ে হতাহত ৩ শিশু

 

কুতুবদিয়া প্রতিনিধি:

কক্সবাজারের কুতুবদিয়ায় দু’ঘন্টার ব্যবধানে পানিতে ডুবে ৩ শিশু হতাহত হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকালে পৃথক পৃথক ৩টি পানি ডুবির ঘটনা ঘটেছে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও হাসপাতাল সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার উপজেলায় বিকাল ৪টার দিকে উত্তর ধূরুং নয়াকাটা গ্রামের ফুরকানের শিশু পুত্র আকিব (২) সবার অজান্তে পাশের পুকুরে পড়ে যায়। জনৈক ব্যক্তির নজরে পড়ায় দ্রুত তাকে পুকুর থেকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

এ ছাড়া একই সময়ে বড়ঘোপ স্টিমার ঘাট অমজাখালী গ্রামের গিয়াস উদ্দিনের শিশু পুত্র সাঈদ হামিদ (১) বাড়ির পুকুরে তলিয়ে যায়। তবে তাকে তৎক্ষনাৎ পুকুর থেকে তুলে হাসপাতালে ভর্তি করা হলেও হাসপাতালে অক্সিজেন না থাকায় রোগীর অভিভাকরা অধর্য্য হয়ে মূমুর্ষ শিশুটিকে চিকিৎসা না নিয়েই চলে যায় বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়।

অপর দিকে সন্ধ্যা ৭টার দিকে লেমশীখালী হাজারিয়া পাড়ার মনুর সাড়ে ৫ বছরের শিশু পুত্র মেহেদী বাড়ির পাশের ছোট পুকরে ডুবে যায়। প্রায় আধা ঘন্টা পর শিশুটিকে পুকুর থেকে প্রতিবেশিরা উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক শিশুটিকে মৃত বলে জানান।

পানিতে ডোবা সাঈদ হামিদ নামের শিশুটি চিকিৎসা না নিয়ে চলে যাওয়ার বিষয়ে জরুরী বিভাগে কর্তব্যরত মেডিকেল অফিসার ডা. আমিনুল ইসলাম বলেন, ওই শিশুটিকে ভর্তি দেয়া হলেও শিশুটির অভিভাকগণ অধৈর্য্য হয়ে নিজেরাই চলে গেছে। তবে হাসপাতালে এ মূহুর্তে অক্সিজেন না থাকলেও ওই শিশুটিকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেয়া যেত বলেও তিনি জানান।




কুতুবদিয়ায় অস্ত্র সহ ৬ ডাকাত আটক

6 Dakat copy

কুতুবদিয়া প্রতিনিধি:

কক্সবাজারের কুতুবদিয়া চ্যানেল থেকে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে ৬ ডাকাতকে আটক করেছে কোস্টগার্ড। সোমবার রাত পৌনে ১১টার দিকে উত্তর ধুরুং আকবরবলী পাড়ায় সাগর থেকে তাদের আটক করা হয়।

থানা ও কোস্টগার্ড সূত্র জানায়, সোমবার রাত পৌনে ১১টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আকবরবলী ঘাট এলাকায় একদল ডাকাতের ডাকাতির প্রস্তুতির খবর পেয়ে কোস্টগার্ডের একটি দল অভিযান চালিয়ে সাগর থেকে ৬ ডাকাতকে আটক করা হয়।

এ সময় তাদের কাছ থেকে ২টি দেশীয় এক নলা বন্দুক উদ্ধার করা হয়। ডাকাতদের ব্যবহৃত ফিশিংবোট এফবি জিলানী জব্দ করা হয়।

আটককৃত ডাকাতরা হলো, নোয়াখালীর সুধারম থানার পূর্ব সোলা কিয়া গ্রামের বশির উদ্দিনের পুত্র জসীম উদ্দিন প্রকাশ কালাম (৪২), বাশঁখালী সরল গ্রামের লাতু মিয়ার পুত্র মো. শাহাবুদ্দিন (৩২), হাতিয়া থানার জামাল উদ্দিনের পুত্র মো. জহিরুল ইসলাম (২৬), একই থানার নতুন সূখচর গ্রামের শফি আলমের পুত্র মো. তামজীদ(২৫), বাশঁখালীর ফালেক গ্রামের আমির হোসেনের পুত্র মো. ইউনুছ (৩২) ও নোয়াখালীর কবির হাট থানার চর নলুয়া গ্রামের আবুল হাশেমের পুত্র মো. গিয়াস উদ্দিন (২৫)।

কোস্টগার্ডের পাটি অফিসার মো. সাইফুল আফসার জানান, সোমবার গভীর রাতে আটককৃত ৬ ডাকাতকে জব্দকৃত ফিশিংবোট সহ মঙ্গলবার দুপুরে কুতুবদিয়া থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। আটককৃতদের বিরুদ্ধে অস্ত্র ও ডাকাতির সংগঠিত প্রস্ততুতির অভিযোগে পৃথক দু’টি মামলা রুজু হয়েছে বলেও থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মুস্তাফিজ ভুঁইয়া নিশ্চিত করেছেন।

ডাকাতদলের ট্রলারের মালিক বাঁশখালীর জনৈক মন্জুরের বলে জানা গেছে।




সাগরে নিখোঁজ কুতুবদিয়ার ২৮ জেলে উদ্ধার

3 copy

কুতুবদিয়া প্রতিনিধি:

ঘুর্ণিঝড়ে সাগরে ফিশিং বোট ডুবিতে নিখোঁজ ২০ জেলে উদ্ধার করেছে নৌবাহিনীর একটি উদ্ধারকারী জাহাজ। বুধবার সকাল ১১টার দিকে উপজেলার উত্তর ধুরুং আকবর বলী পাড়া ঘাটে তারা নামেন। উদ্ধার কৃত ২০জনের মধ্যে ১৮জন কুতুবদিয়ার ও ২জন বাশঁখালী উপজেলার বাসিন্দা বলে জানা গেছে। এর আগে আরেক দফায় ডুবে যাওয়া এক বোটের ৯জেলের মধ্যে ৫জনকে উদ্ধার করা হয়েছিল। তাদের বাকী ৪জনের মধ্যে আরও ৩জনকে উদ্ধার করা হয় মঙ্গলবার  সকালে। অপর একটি সন্ধানে যাওয়া বোট তাদের সোনাদিয়ার পাশ থেকে সকাল ৮টার দিকে উদ্ধার করে সন্ধ্যা ৬টার দিকে নামিয়ে দেয়। সন্ধ্যায় উদ্ধার হওয়া বড়ঘোপ মুরালিয়া গ্রামের ইকবাল (৩৮), একই গ্রামের নাছির (২৮) ও পুর্ব আলী আকবর ডেইল গ্রামের সোনামিয়া(৪০) কে  উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে বলে ভারপ্রাপ্ত আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. মো. জয়নুল আবেদীন জানান।

ভর্তিকৃতরা হলেন,  স্থানীয় উপজেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, মঙ্গলবার  ঘর্ণিঝড় মোরা’র আঘাত হানার সময় সাগরে বেশ কয়েকটি মাছ ধরার ট্রলার ডুবে যায়। নিখোঁজ হন অনেক মাঝি-মাল্লা। মঙ্গলবার রাত ২টার দিকে সাগরে ভাসমান বেশ কিছু জেলে দেখে উপজেলা নির্বাহী কর্মকতাকে টেলিফোনে জানান একাধিক সূত্র। পরে তিনি সাগরে টহলরত নৌবাহিনী টিমকে অবহিত করলে নেভির উদ্ধারকারী একটি জাহাজ মহেশখালী ও কুতুবদিয়ার মাঝামাঝি স্থল থেকে বাঁশ আকঁড়িয়ে থাকা ১১জন সহ বিভিন্ন পন্থায় ২০ জেলেকে উদ্ধার করে নিয়ে আসা হয়।

উত্তর ধুরুং ইউপি চেয়ারম্যান আসম শাহরিয়ার চৌধুরী বলেন, ঘুর্ণিঝড়ে আক্রান্ত হয়ে নিখোঁজ ২০ জেলে নৌবাহিনীর উদ্ধারের পর মঙ্গলবার সকাল ১১টার দিকে বাড়ি ফিরেছে। স্থানীয় মন্ছুর আলী হাজীর পাড়ার সফুর মাঝি ছিলেন ওই বোটে। এ ছাড়া উত্তর ধুরুং এলাকার আরও ৩০জন মাঝি-মাল্লা সহ দু‘টি ফিশিং বোট সাগরে নিখোঁজ রয়েছে বলে তিনি জানান।

উপজেলা নির্বাহি কর্মকর্তা সুজন চৌধুরী বলেন, নৌবাহিনীর সহায়তায় মঙ্গলবার কুতুবদিয়ার ১৮জন,বাঁশখালীর ২জন সহ ৩ দফায় মোট ২৮জন জেলে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে।তারা প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা নিয়ে বাড়িতে ফিরেছে এবং পরের ৩জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে বলে তিনি জানান।

এ দিকে ঘুর্ণিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে ত্রাণ সহায়তা দেয়া হচ্ছে। প্রতিটি ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানদের মাধ্যমে মোট ২০ মে. টন চাল, নৌবাহিনীর মাধ্যমে উত্তর ধুরুং ইউনিয়নে ত্রাণ বিতরণ  এবং স্থানীয় সংসদ সদস্য আশেক উল্লাহ রফিক ও মঙ্গলবার এসে ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম উদ্বোধন করেন। এ ছাড়া তিনি সাগরে উদ্ধার হওয়া ৩ জেলেকে হাসপাতালে  দেখতে যান।