মৃত ভাইকে দেখতে এসে বড় বোনের মৃত্যু

কুতুবদিয়া প্রতিনিধি:

কক্সবাজারের কুতুবদিয়ায় হঠাৎ মৃত ছোট ভাইকে দেখতে এসে বড় বোনের মৃত্যু হয়েছে। মর্মান্তিক এ ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার দক্ষিণ ধূরুং হায়দর আলী মিয়াজির পাড়ায়।

স্থানীয়রা জানান, গত রবিবার (১০ ডিসেম্বর) রাতে ওই গ্রামের ছদর আমিনের পুত্র নুরুল হোছাইন (৩২) হঠাৎ শ্বাস কষ্ট রোগে ডাক্তারের কাছে যান। জরুরী হার্টের পরীক্ষার জন্য একটি ল্যাবে গেলে অবস্থার অবনতি হলে দ্রুত হাসপাতালে নেয়া হয়। এসময় জরুরী বিভাগে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত বলে জানান।

এ খবর শুনে তার বড় বোন আয়েশা বেগম(৫০) একই ইউনিয়নের শাহরুম সিকদার পাড়া থেকে সোমবার সকাল ৮টার দিকে ছোট ভাইকে দেখতে আসেন। প্রায় ৫ মিনিট কান্না কাটির পর হঠাৎ অজ্ঞান হয়ে সেখানেই মারা যান তিনি। একই বাড়িতে ভাই-বোনের মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। সোমবার সকাল ১১টায় নুরুল হোছাইনের ও বিকাল ৫টার দিকে আয়েশা বেগমের জানাযা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।




১৪ বিয়ের নায়ক আটক ধর্ষক আশেক

কুতুবদিয়া প্রতিনিধি:

কুতুবদিয়ায় ৮ম শ্রেণির ছাত্রীকে ধর্ষণের ঘটনার অভিযোগে আটক নাছির উদ্দিন প্রকাশ আশেক এলাকায় একজন সন্ত্রাসী মাদকসেবী বখাটে নামে পরিচিত। তার অপকর্মে স্থানীয়রা অতিষ্ট। আশেক  ২৬ বছর বয়সে ১৪/১৫টি বিয়ে করেছে। তবে এখন তার সংসারে কেউ নেই। তার পিতা সামসুল আলম করেছেন ৩টি বিয়ে। দক্ষিণ ধূরুং বৈদ্য পাড়ায় শনিবার (৯ ডিসেম্বর) সরেজমিনে গেলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে তার নিকটাত্মীয়রা ও এলাকাবাসী এসব তথ্য জানান।

তারা আরো জানান, গত বুধবার রাতে ধর্ষিত এই ছাত্রীর বড়বোনকে (কিছুটা মানষিক প্রতিবন্ধী) বিয়ের লোভ দেখিয়ে আশেক তুলে নিয়ে গিয়ে সারা রাত ধর্ষণ শেষে ভোর রাতে ফেরত দেয়। সকালে বিষয়টি এই মেয়ে অনেককে বলে দেয়। এ ঘটনায় ক্ষুদ্ধ হয়ে পর দিন (বৃহ:বার) রাত ২টার দিকে মা হারা স্কুল ছাত্রীকে তুলে নিয়ে ধর্ষণ করে আশেক। পরে থানায় অভিযোগ দেয়া হলে পুলিশ ধর্ষক আশেককে আটক করে। ধর্ষিতার বাবা বাদী হয়ে কুতুবদিয়া থানায় মামলা দায়ের করেছেন।

এ দিকে আশেক আটক হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করে এলাকাবাসী ধর্ষক ও বিয়ে লোভী আশেকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন এলাকাবাসী। স্কুল ছাত্রীকে মেডিকেল টেস্টের জন্য শুক্রবার জেলা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। আটক আশেককে শনিবার আদালতে চালান দেয়া হয়েছে বলে থানার ওসি মোহাম্মদ দিদারুল ফেরদাউস জানান।




কুতুবদিয়ায় কুখ্যাত ডাকাত জসিম আটক

কুতুবদিয়া প্রতিনিধি:

কক্সবাজারের কুতুবদিয়ায় পুলিশ অভিযান চালিয়ে কুখ্যাত ডাকাত জসিমকে গ্রেফতার করেছে।

গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শুক্রবার (৮ ডিসেম্বর) বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে উপজেলার ধূরুং বাজারের পশ্চিম পাশে নয়াপাড়া এলাকা থেকে মো. জসিম (৩৫) কে আটক করা হয়।

ধৃত জসিম লেমশীখালী ইউনিয়নের আনুবাপের পাড়া গ্রামের মৃত নুর মোহাম্মদের ছেলে। তার বিরুদ্ধে অস্ত্র, ডাকাতি, অপহরণসহ ৭টি মামলা রয়েছে বলে থানার অফিসার ইন-চার্জ (ওসি) মোহাম্মদ দিদারুল ফেরদাউস জানিয়েছেন।




কুতুবদিয়ায় ৮ম শ্রেণির ছাত্রীকে ধর্ষণের দায়ে যুবক আটক

কুতুবদিয়া প্রতিনিধি:

কুতুবদিয়ায় ৮ম শ্রেণির এক ছাত্রীকে ধর্ষণের দায়ে এক যুবককে আটক করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৭ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় উপজেলার দক্ষিণ ধুরুং বৈদ্যার পাড়ায় এ ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ ঘটনার পর রাতেই ধর্ষক নাছির উদ্দিন প্রকাশ আশেককে আটক করেছে। এ ঘটনায় ধর্ষিতার বাবা বাদী হয়ে কুতুবদিয়া থানায় মামলা দায়ের করে।

থানা সূত্র জানায়, গেল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে দক্ষিণ ধূরুং ইউনিয়নের বৈদ্যার পাড়ার শামসুল আলমের বখাটে পুত্র নাছির উদ্দিন প্রকাশ আশেক (২৬) স্থানীয় ৮ম শ্রেণিতে পড়ুয়া এক ছাত্রীকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে পালিয়ে যায়।

খবর পেয়ে থানার এসআই জয়নাল আবেদীন, এএসআই জাহেদসহ সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে অভিযান চালিয়ে ওই এলাকা থেকে ধর্ষক নাছির উদ্দিনকে আটক করে। এঘটনায় ধর্ষিতার বাবা বাদী হয়ে থানায় মামলা দায়ের করেছেন বলে থানার অফিসার ইন-চার্জ (ওসি) মোহাম্মদ দিদারুল ফেরদাউস জানান।




কুতুবদিয়ায় শ্বশুরকে মারধরে জামাই আটক

কুতুবদিয়া প্রতিনিধি:

কক্সবাজারের কুতুবদিয়ায় শ্বশুরকে মারধর করায় মেয়ের জামাই আটক হয়েছে। আহত শ্বশুরকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৭ ডিসেম্বর) দক্ষিণ ধূরুং করিম সিকদার পাড়ায় এ ঘটনা ঘটেছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, ওই গ্রামের বৃদ্ধ বদি আলম (৬০) এর মেয়ের জামাই মনু (২৭)  বাপের বাড়িতে বেড়াতে যাওয়া স্ত্রীকে নিয়ে আসার জন্য যায়। বৃহস্পতিবার সকাল ৮টার দিকে এ নিয়ে শ্বশুরের সাথে মনুর কথা কাটা কাটির এক পর্যায়ে মনু তার শ্বশুরকে কিল-ঘুষি মারতে থাকে।

এসময় আঘাতে বৃদ্ধ বদি আলমের দু’টি দাঁত পড়ে যায়। রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।

পরে এলাকাবাসি জামাইকে ধরে দক্ষিণ ধুরুং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ছৈয়দ আহমদ চৌধুরীর মাধ্যমে পুলিশে সৌপর্দ করে।

থানার অফিসার ইন-চার্জ (ওসি) মোহাম্মদ দিদারুল ফেরদাউস দক্ষিণ ধুরুং এ শ্বশুরকে মারধরের ঘটনায় স্থানীয় চেয়ারম্যানের মাধ্যমে সৌপর্দকৃত জামাইয়ের বিরুদ্ধে মামলার প্রস্তুতি চলছে বলে জানান। জামাই মনু বড়ঘোপ মৌলভী পাড়ার বলে জানা গেছে।




কুতুবদিয়া হাসপাতালে অক্সিজেন নেই সপ্তাহ ধরে

কুতুবদিয়া প্রতিনিধি:

কক্সবাজারের কুতুবদিয়া উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অক্সিজেন নেই এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে। ফলে দ্বীপের নিরূপায় রোগীরা জরুরী মূহুর্তে অতি প্রয়োজনীয় সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। হাসপাতালে ভর্তি রোগীর অক্সিজেন প্রয়োজন হলে গভীর রাতেও দৌঁড়াতে হচ্ছে অন্যত্র। বাড়ছে ভোগান্তিও।

হাসপাতালের স্টোরকিপার রুহুল আমিন বলেন, গত নভেম্বর মাসের ৯ তারিখে জেলা সিভিল সার্জন অফিস থেকে ৩টি অক্সিজেন সিলিন্ডার সরবরাহ দেয়া হয়েছিল। গত ৩০ নভেম্বর চাহিদাপত্রসহ ফের সেখানে গেলেও তাকে খালি হাতে তিনি ফিরে আসেন। ওই অফিসে ৯টি খালী সিলিন্ডার জমা দেয়া হলেও একটিও মেলেনি।

তিনি আরো বলেন, প্রয়োজনীয় রোগীদের অক্সিজেন দেয়া হলে মাসে অন্তত ১০টি সিলিন্ডার লাগবে। সেখানে মেলে গড়ে ৩/৪টি। ঠাণ্ডা মৌসুমে শ্বাস-কষ্ট, নিউমোনিয়া রোগের প্রকোপ বাড়ায় অক্সিজেনের চাহিদাও বেড়ে যায়।

সপ্তাহকালের বেশি সময় যাবৎ হাসপাতালে অক্সিজেন না থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করে ভারপ্রাপ্ত আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. মোহাম্মদ জয়নুল আবেদীন বলেন, প্রয়োজনের তুলনায় হাসপাতালে অক্সিজেন সরবরাহ কম। প্রতিমাসেই গুরুত্বপূর্ণ অক্সিজেন ঘাটতি লেগেই আছে। বাধ্য হয়েই অনেক সময় জরুরী মূহুর্তে রোগীকে বাহিরে পাঠানো হয়। অক্সিজেন না থাকার বিষয়টি সিভিল সার্জন অফিসকে অবহিত করেছেন বলে জানান তিনি।




কুতুবদিয়ায় মাঠে নতুন লবণ: দাম সস্তা

 

কুতুবদিয়া প্রতিনিধি:

কক্সবাজারের কুতুবদিয়ায় চলতি ২০১৭-১৮ অর্থ বছরে লবণ চাষে মাঠে নতুন লবণ উঠতে শুরু করেছে।

উপজেলার ৬ ইউনিয়নে প্রায় পাঁচ হাজার চাষি লবণ উৎপাদনে মাঠে নেমেছে। গত বছরে উৎপাদিত লবণে প্রায় পুরো মৌসুমে রেকর্ড পরিমাণ দাম পেয়েছে চাষিরা। তবে শেষের দিকে দাম পড়ে যাওয়ায় লবণ বিক্রি বন্ধ রাখে কয়েক হাজার চাষি। মণ প্রতি ৪‘শ টাকাতেও অনেকে বিক্রি করেনি অধিক দামের আশায়। যে কারণে তাদের অন্তত: ৫০ হাজার মণ লবণ মাঠে অবিক্রিত পড়ে থাকে।

লেমশীখালী কাজীর পাড়ার লবণ চাষি মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, অধিক দামের আশায় তার ৩০০ মণ পুরনো লবণ মাঠে রয়েছে। তার ৩ একর লবণ মাঠে নতুন লবণ উঠতে শুরু করেছে।পুরনো লবণ প্রতি মণ ৩০০ আর নতুন আড়াই’শ টাকা দাম মাঠ পর্যায়ে। এমন পরিস্থিতির মাঝে বিদেশ থেকে লবণ আমদানি হলে চাষিরা আরো ক্ষতির সম্মুখীন হবেন বলে তিনি জানান।

কৈয়ারবিল মাঝের পাড়া লবণ মাঠের চাষি জানান, গত বছরে লবণের দাম বৃদ্ধি থাকায় অধিক দামে মাঠ লগিয়ত নেয়া হয়েছে। ৪০ শতক(এক কানি) লবণের জমি ৬০ হাজার টাকার বেশিতে লবণ ব্যবসায়ীরা লগিয়ত দিয়েছে। সাথে বেড়েছে শ্রমিকের মজুরি। এক মৌসুমে প্রতিজন মজুরির দাম ৯০ হাজার টাকা। পলিথিন, আহার সব মিলিয়ে খরচ এবার দ্বিগুন। সে হিসেবে মাঠে লবণের দামে চরম ধস। দামের উর্ধ্বগতি না হলে মারাত্বক ক্ষতির মুখে পড়বেন তারা। এমনটি জানান তিনি।

উত্তর ধূরুং বেড়িবাঁধের বাইরে সাগরে পানি থেকে লবণ চাষে নতুন লবণ উঠছে এক সপ্তাহ আগেই। লেমশীখালী চৌমুহনী, মলমচর, কৈয়ারবিল, দক্ষিণ ধুরুং, তাবালের চর প্রভৃতি স্থানে লবণ উঠতে শুরু করেছে। সব মাঠেই লবণের দামে ধস। লবণ ব্যবসায়ীরা দামের প্রকৃত ধরণ বুঝতে না পেরে মাঠে ন্যায্য দাম দিতেও ভয় পাচ্ছে। আবার চাষিরাও কম দামে লবণ ছাড়ছে না দাম বাড়ার আশায়। যে কারণে মাঠে লবণের মজুদ বেড়েই চলেছে।

উত্তর ধুরুং ইউনিয়নের লবণ ব্যবসায়ী মোহাম্মদ হোছাইন, লেমশীখালীর লবণ ব্যবসায়ী আব্দু রহিম জানান, অনেক মাঠে পুরাতন লবণ চাষিরা মজুদ রেখেছে বেশি দামের আশায়। তবে নারায়নগঞ্জ, চট্টগ্রাম, চাঁদপুর, খুলনা প্রভৃতি স্থানের লবণ মিলগুলোতে লবণের দামে ধস থাকায় তারা বেশি দামে লবণ ক্রয় করতে পারছেন না। চলতি মৌসুম শুর হতে না হতেই নতুন লবণ উঠছে প্রতিটি মাঠে।

এ ছাড়া পরিবহণ খরচ, শ্রমিক খরচ বেড়ে যাওয়ায় এবার লবণ উৎপদনে অধিক খরচ পড়বে। আবহাওয়া অনুকুলে থাকলে লবণের উৎপাদনে লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সক্ষম হবে। এ ক্ষেত্রে বিদেশি লবণ আমদানি হলে লবণ চাষিরা মারাত্বক ক্ষতির সম্মুখীন হবে বলেও তারা জানান।




কুতুবদিয়ায় যুবকের বিষপানে আত্মহত্যার চেষ্টা

কুতুবদিয়া প্রতিনিধি:

কক্সবাজারের কুতুবদিয়ায় তুচ্ছ ঘটনায় এক যুবক বিষপান করে আত্মহত্যার চেষ্টা চালিয়েছে। সোমবার (৪ ডিসেম্বর) দুপুরে উপজেলার আলী আকবর ডেইল শহরিয়া পাড়ায়(ঘোনার মোড়) বিষপানের ঘটনাটি ঘটেছে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও হাসপাতাল সূত্র জানায়, সোমবার দুপুরে ওই গ্রামের জালাল আহমদের পুত্র আব্দুল (২৫) সাগরে ফিশিং বোটে মাছ শিকারে যাওয়া নিয়ে তুচ্ছ ঘটনার জের ধরে বিষপান করে।

এসময় বাড়ির লোকেরা তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এনে ভর্তি করান।




কুতুবদিয়ায় রাস্তায় মিলল নবজাতক শিশু

কুতুবদিয়া প্রতিনিধি:

কক্সবাজারের কুতুবদিয়ায় রাস্তার পাশ থেকে এক নবজাতক শিশুকে উদ্ধার করা হয়েছে। প্রায় ৫ ঘন্টা হাসপাতালে অক্সিজেন দেয়া হলেও পরে তার মৃত্যু হয়।

শুক্রবার (১ ডিসেম্বর) ভোর রাতে বড়ঘোপ লাল ফকির পাড়া বেড়িবাঁধ সড়কের পাশ থেকে শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়েছিল।

প্রত্যক্ষদর্শী ও হাসপাতাল সূত্র জানায়, শুক্রবার গভীর রাতে কে বা কারা উপজেলা সদর বড়ঘোপ বাজারের পশ্চিম পার্শ্বে সড়ক ঘেঁষে নারিকেল গাছের গোড়ায় একটি জীবিত পুত্র নবজাতক শিশু ফেলে যায়। ভোর রাতে স্থানীয় এক মহিলা কান্নার শব্দ পেয়ে শিশুটিকে দ্রুত হাসপাতালে এনে ভর্তি করান। ক্ষিণ শ্বাস-প্রশ্বাস চললেও অক্সিজেন দিয়ে রাখা হয় তাকে।

প্রায় ৫ ঘন্টা পর সকাল ১০টার দিকে হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার শিশুটিকে মৃত ঘোষণা করেন বলে হাসপাতাল সূত্র জানায়। পরে ওই মহিলা শিশুটিকে দাফনের ব্যবস্থা করেন বলে জানা গেছে।




কুতুবদিয়ায় শীতকালীন খিড়া চাষে বাম্পার ফলন

কুতুবদিয়া প্রতিনিধি:

কক্সবাজারের কুতুবদিয়ায় এবার শীতকালীন সবজি চাষে খিড়া শসার বাম্পার ফলন হয়েছে। দামও পাচ্ছে চাষিরা। ফলে লাভবান খিড়া চাষে আগ্রহ বেড়েছে সবজি চাষিদের মাঝে। উপজেলার ৬টি ইউনিয়নের মধ্যে বেশি সবজি চাষের জমি রয়েছে বড়ঘোপ, আলী আকবর ডেইল, কৈয়ারবিল ও দক্ষিণ ধূরুং ইউনিয়নে। শীতকালীন সবজির মধ্যে টমেটো, খিড়া, বেগুন, কাচা মরিচ, তরমুজ, বাঙ্গি প্রভৃতি।

চলতি মওসুমে বড়ঘোপ ইউনিয়নে মগডেইল, ঘোনার মোড়, মাতবর পাড়া, রোমাইপাড়া, আলী আকবর ডেইলে নাছিয়ার পাড়া, সন্দীপি পাড়া, ঘাটকুল পাড়া, হকদার পাড়া, ফতেহ আলী সিকদার পাড়া, পূর্ব আলী আকবর ডেইল, কৈয়ারবিলে বিন্দা পাড়া, দক্ষিণ ধূরুং আলী ফকির ডেইল এলাকায় এবার খিড়ার বাম্পার ফলন হয়েছে বলে চাষিরা জানান।

বড়ঘোপ এরাকার সবচি চাষি নুরুল আলম বলেন, এবার প্রচুর খিড়া উৎপাদন হয়েছে। প্রথম অবস্থায় কেজি ৪০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। এখন দাম অনেকটা কমে গেছে। পাইকারি বিক্রি হচ্ছে কেজি ২০/২২ টাকা। একই কথা জানান উপজেলার পাইকারি খিড়া মার্কেট খ্যাত আবহাওয়া অফিস সংলগ্ন সড়কে পাইকারি ক্রেতারা।

প্রতিদিন সকালে মাঠ থেকে খিড়া সংগ্রহ করে বস্তায় ভরে চাষিরা নিয়ে আসে এ মার্কেটে।গড়ে দেড়‘শ মণ খিড়া কেনা-বেঁচা হয় সকাল ১০টার মধ্যেই। ৪০/৫০ কেজি ওজনের খিড়ার বস্তা এক হাজার থেকে ১২‘শ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। খুচরা বাজারে কেজি ৩০ টাকা হলেও পাইকারি বাজারে দাম পড়ছে কেজি ২০/২২ টাকা। তবে দাম কিছুটা পড়ে গেলেও উৎপাদন খরচ উঠে গেছে অনেক আগেই।

পাইকারি ক্রেতারা এ মার্কেট থেকেই বাছাই করে লঞ্চযোগে চট্টগ্রাম নিয়ে যাচ্ছে প্রতিনিয়ত। এ ছাড়া বড়ঘোপ বাজার ও ধূরুং বাজারেও খিড়া বিক্রি হয়ে থাকে প্রচুর। যে কারণে সবজি  আবাদে টমেটো, তরমুজ চাষের সাথে খিড়া উৎপাদনে ঝুঁকছে চাষিরা। এর সাথে চাষিরা কৃষি ঋন পেলে সবজির বিশেষ করে খিড়া উৎপাদন আরো বেড়ে যাবে।

উপজেলা সহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা মো. গিয়াস উদ্দিন চলতি শীতকালীন সবজি চাষে বিশেষ করে খিড়া উৎপাদনে বাম্পার ফলনের কথা জানিয়ে বলেন, সবজি উৎপাদনে আগে লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২০০ হেক্টর। চাষিরা খিড়া উৎপাদনে চাষিদের আগ্রহ বাড়ায় এখন লক্ষ্যমাত্রা আড়াই‘শ হেক্টর। এর মধ্যে খিড়া উৎপাদন হচ্ছে অন্তত: ৫০ হেক্টর জমিতে। সামনে আরো বাড়বে বলে তিনি জানান।