কাউখালীতে বজ্রপাতে একজন নিহত

 

কাউখালী প্রতিনিধি:

রাঙামাটির কাউখালীতে বজ্রপাতে নিহলাপ্রু মারমা (২৮) নামে এক নারী নিহত ও সামাচিং মারমা (৩৪) নামে অপর একজন আহত হয়েছে।

রবিবার দুপুর ১টায় উপজেলার বেতছড়ি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। কাউখালী থানার ওসি আবদুল করিম ঘটনার সত্যতা নশ্চিত করেছেন।

২নং ওয়ার্ডের মেম্বার মুইঅং মারমা জানান, উপজেলার বেতছড়ি গ্রামের নিংথোয়াই অং মারমার স্ত্রী নিহলাপ্রু মারমা (২৮) ও একই গ্রামের সুইথোয়াইপ্রু মারমার স্ত্রী সামাচিং মারমা (৩৪) গরু নিয়ে বাড়ির পাশ্ববর্তী জঙ্গেলে যায়। দুপুর ১টার সময় বজ্রপাতে নিহলাপ্রু মারমার ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয়। এসময় তার সাথে গরুটিও মারা যায়। গুরুতর আহত হয় তার সঙ্গী সামাচিং মারমা। খবর পেয়ে পাড়া প্রতিবেশী ও আত্মীয়রা এসে আহত নারীকে উদ্ধার করে কাউখালী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে।




কাউখালীতে পাহাড় ধ্বসে ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে জেলা পরিষদের ত্রান বিতরণ

কাউখালী প্রতিনিধি:

কাউখালীতে পাহাড় ধ্বসে ক্ষতিগ্রস্ত, নিহত ও আহতদের পরিবারের মাঝে নগদ টাকা ও চাল বিতরণ করেছে রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ। রবিবার সকাল ১১টায় মিনি মার্কেটস্থ উপজেলা আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়ে এসব ত্রান সামগ্রী বিতরণ করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অংসুইপ্রু চৌধুরী।

এতে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে নিহত ২১ জনের স্বজনদের মাঝে জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে নগদ ২০ হাজার টাকা প্রদান করা হয়। এছাড়া কলমপতি, ঘাগড়া, ফটিকছড়ি ও বেতবুনিয়া ইউনিয়নের ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া ১৫০ পরিবারের মাঝে ২০ কেজি করে চাল ও নগদ এক হাজার টাকা অর্থ সহায়তা দেয়া হয়েছে।

নিহত ব্যক্তিদের স্বজনরা জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে নগদ অর্থ সহায়তা পেয়ে খুশি হয়েছেন। বাকছড়ি এলাকার দিনমজুর ফুলমোহন চাকমা (৪৫) বলেন, স্ত্রী মনি মালা চাকমা (৫৫) ও মেয়ে বৃষ মনি চাকমা (১১) কে আর ফেরত পাবোনা। খাবার নাই, কাপড় নাই, কাজও নাই। দুটি ঘরই ভেঙ্গে গেছে। প্রতিবেশিদের ঘরে আশ্রয় নিয়েছি। আরো ৪ ছেলে নিয়ে কষ্টে পড়ে গেছি। এই সহায়তা পেয়ে কিছুটা স্বস্তি লাগছে।

কাশখালীর লেইঙ্গাছড়িতে নিহত হওয়া স্ত্রী ফাতেমা বেগম ও দুই ছেলে ইসহাক ও মনিরের বাবা আব্দুল রশিদ (৭০) বলেন, এই বিপদের দিনে টাকা আর চাল দিয়ে সরকার এই গরীবের পাশে দাড়াইছে, আল্লাহ সরকারের ভালো করুক। স্বস্তি প্রকাশ করেছেন ঘিলাছড়িতে নিহত দবির উদ্দিন (৮০), ও দবির উদ্দিন এর স্ত্রী  খোদেজা বেগম (৭০)’র মেয়ে জরিনা বেগম (৪২)ও ।

ত্রান সামগ্রী বিতরণ অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন কাউখালী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান চৌচামং চৌধুরী, উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক এরশাদ সরকার, যুগ্ম সম্পাদক শামছুদ্দোহা চৌধুরী, কলমপতি ইউপি চেয়ারম্যান ক্যজাই মারমা, কাউখালী থানার ওসি আব্দুল করিম, সাবেক চেয়ারম্যান থুইমং মারমা।




কাউখালীতে ৫ম দিনে মিললো নিহতদের বাকী অর্থ ও ত্রাণের চাল

কাউখালী প্রতিনিধি:

দূর্যোগের ৫ম দিনে শনিবার কাউখালীতে পাহাড় ধ্বসে নিহত ২১জনের স্বজনেরা সরকার ঘোষিত ২০ হাজার টাকা ও ৩০ কেজি করে চাল সহায়তা পেয়েছেন। তবে এলাকায় না থাকায় ঘাগড়া বাজার এলাকার নসুমা বেগমের স্বজনেরা এ সহায়তা নিতে পারেননি। আহত ৫ জনকেও ৫ হাজার টাকা ও ২০ কেজি করে চাল দেয়া হয়েছে।

শনিবার দুপুরে ত্রাণ শাখার প্রধান উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা কমল বরণ সাহা তার কার্যালয়ে এসব ত্রাণ তুলে দেন। এর আগে বিভিন্ন স্থান থেকে স্থানীয় চেয়ারম্যানদের মাধ্যমে নিহত ও আহতদের স্বজনদের খবর দিয়ে জড়ো করা হয়। এসময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলার ৪ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান।

এদিকে ঘটনার ৫ম দিনেও সরকারের উর্দ্ধতন মহল থেকে নিহত ও আহতদের পরিবার এবং ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন না করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।

স্বজনদের মনে স্বস্তি: নিহত ব্যক্তিদের মাথাপিছু ঘোষিত সরকারি বরাদ্ধের বাকী টাকা ও ৩০ কেজি করে ত্রাণের চাল পেয়ে খুশি হয়েছেন বাকছড়ি এলাকার দিনমজুর ফুলমোহন চাকমা (৪৫)। তিনি বলেন স্ত্রী মনি মালা চাকমা (৫৫) ও মেয়ে বৃষ মনি চাকমা (১১) কে আর ফেরত পাবোনা। খাবার নাই, কাপড় নাই, কাজও নাই। দুটি ঘরই ভেঙ্গে গেছে। প্রতিবেশিদের ঘরে আশ্রয় নিয়েছি। আরো ৪ ছেলে নিয়ে কষ্টে পড়ে গেছি। ৫দিনেও কেউ দেখতে যায়নি। এ সহায়তা পেয়ে কিছুটা স্বস্তি লাগছে।

কাশখালীর লেইঙ্গাছড়িতে নিহত হওয়া স্ত্রী ফাতেমা বেগম ও দুই ছেলে ইসহাক ও মনিরের বাবা আব্দুল রশিদ (৭০) বলেন, এ বিপদের দিনে টাকা আর চাল দিয়ে সরকার এ গরীবের পাশে দাঁড়িয়েছে, আল্লাহ সরকারের ভালো করুক। স্বস্তি প্রকাশ করেছেন ঘিলাছড়িতে নিহত দবির উদ্দিন (৮০), ও দবির উদ্দিন এর স্ত্রী  খোদেজা বেগম (৭০)’র মেয়ে জরিনা বেগম (৪২) ও।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা কমল বরণ সাহা জানান, রাঙামাটির জেলা প্রশাসক মানজারুল মান্নান ৪ দিনেও কাউখালীতে ক্ষতিগ্রস্তদের চূড়ান্ত তালিকা না পাওয়ায় উষ্মা প্রকাশ করেছেন। শনিবার বিকাল ৪টার মধ্যে চূড়ান্ত তালিকা না পেলে স্থানীয় চেয়ারম্যানদের কাছ থেকে ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা গ্রহণ করা হবেনা বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। ফলে শনিবারই উপজেলার চার ইউনিয়নের ক্ষতিগ্রস্তদের নামের তালিকা তার কার্যালয়ে জমা হয়েছে।

রাত আটটায় পার্বত্যনিউজকে পিআইও জানান, তালিকার মধ্যে সম্পূর্ণরুপে বিদ্ধস্ত বাড়ির তালিকায় স্থান পেয়েছে বেতুবনিয়া ইউনিয়নে-৩৩, ফটিকছড়ি-৩৫, ঘাগড়া-১৩০ ও কলমপতিতে-৩৬টি। আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বেতুবনিয়া ইউনিয়নে-৬১, ফটিকছড়ি-৭৫, ঘাগড়া-৬০০ ও কলমপতিতে-২২৭টি। এছাড়া সম্পূর্ণরুপে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার রয়েছে ৯০০টি। দুর্যোগে ২১জন নিহত হলেও আহতের সংখ্যা ৫ থেকে বেড়ে শনিবার পর্যন্ত ১৫ জন হয়েছে। এসংখ্যা আরো বাড়তে পারে বলেও জানিয়েছেন এ কর্মকর্তা।

শনিবার পর্যন্ত ৫ দিনে দূর্তগ এলাকায় কোন ত্রাণ সহায়তা পৌঁছেনি। এমনক সরকারি কোন কর্মকর্তাকেও দেখতে পাননি বলে ক্ষতিগ্রস্তরা অভিযোগ করেছেন। তবে কাউখালী উপজেলার অতিরিক্ত দায়িত্বে নিয়োজিত, রাঙামাটি সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা মোছাম্মৎ সুমনী আক্তার ৪র্থ দিনে শুক্রবার দুপুরে রাঙামাটি থেকে কাউখালী আসেন। নির্বাচনী এলাকা হলেও রাঙামাটির সংসদ সদস্য উষাতন তালুকদারও যেমন আসেননি কাউখালীতে তেমনি সরকারের দায়িত্বশীল কোন ব্যক্তিও পরিদর্শণে আসেননি।

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নেতৃত্বে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্যরা কাউখালীতে পাহাড় ধ্বসে ক্ষতিগ্রস্তদের দেখতে আসবেন বলে উপজেলা বিএনপি সভাপতি জসিম উদ্দিন খোকন গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন। এসময় মির্জা ফখরুল ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে নগদ অর্থ সহায়তা দেবেন বলেও জানানো হয়েছে।




কাউখালীতে প্রবল বর্ষণে পাহাড় ধ্বসে নারী-শিশুসহ নিহত-২১

কাউখালী প্রতিনিধি:

রাঙামাটি কাউখালী উপজেলায় ২ দিনের টানা বৃষ্টিতে বিভিন্ন এলাকায় পাহাড় ধ্বসে নারী-শিশুসহ ২১জন নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে কমপক্ষে ১০জন। পানিতে তলিয়ে গেছে ৩শতাধিক ঘর। মাটিচাপা পড়েছে ২ শতাধিক ঘর। মঙ্গলবার সকালে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে এ হতাহতের ঘটনা ঘটে। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিহতের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে দূর্যোগ ও ত্রাণ শাখা।

উপজেলা প্রশাসন ও বিভিন্ন স্থান থেকে পাওয়া তথ্য মতে নিহতরা হলেন, ঘাগড়া ইউনিয়নের  জুনুমাছড়া এলাকার বাসিন্দা অমর শান্তি চাকমার মেয়ে বৈশাখী চাকমা (৭), ঘাগড়া বাজার এলাকার বাসিন্দা ছৈয়দ আলীর স্ত্রী নাছিমা বেগম (৬০), নোয়াপাড়া এলাকার মৃত মঙ্গল চাকমার স্ত্রী শোভারানী চাকমা (৫৫), কাশখালী এলাকার একই পরিবারের আব্দুল রশিদের স্ত্রী ফাতেমা বেগম (৬০), ছেলে মো. ইসহাক (৩৫) ও মো. মনির (২৫), ঘিলাছড়ি এলাকার মাওলানা ইসহাক এর স্ত্রী হাফিজা খাতুন (৭০), একই পরিবারের দুদু মিয়ার ছেলে দবির উদ্দিন (৮০), ও দবির উদ্দিন এর স্ত্রী  খোদেজা বেগম (৭০), হাজাছড়ি গ্রামের একই পরিবারের রামা চাকমার ছেলে কমল ধন চাকমা (২৭), কমলধন চাকমার স্ত্রী নমীতা চাকমা (২১), ছেলে সোহেল চাকমা (৭), বাকছড়ি এলাকার একই পরিবারের ফুলমোহন চাকমার স্ত্রী মনি মালা চাকমা (৫৫) ও মেয়ে তিশা মনি চাকমা (১১)। বেতবুনিয়া ইউনিয়নের একই পরিবারের অংচাপ্রু মারমার ছেলে অংচিং মারমা (৫২), অংখ্যাইচিং মারমার স্ত্রী আশেমা মারমা (৩৪), মেয়ে তেমা মারমা (১২) ও ছেলে ক্যাথোয়াইচিং মারমা (৭), ফটিকছড়ি ইউনিয়নের ধুপছড়ি গ্রামের কুজাইঅং মারমার স্ত্রী লাইপ্রু মারমা (৪০), প্রুজাইঅং মারমার স্ত্রী লাইপ্রু মারমা (৬৫) এবং কলমপতি ইউনিয়নের সুগারমিল এলাকার দুলালের স্ত্রী অজ্ঞাত (৩০)। এছাড়াও বিভিন্ন স্থানে আহত হয়েছে আরো অন্তত ১০জন। এদের মধ্যে বেশিরভাগ লোকই ঘুমন্ত অবস্থায় মাটি চাপা পড়েছে।

নিহত পরিবারের মাঝে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক ৫০০০ করে টাকা ও শুকনো খাবার দেওয়া হয়েছে বলেও জানিয়েছেন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা ও দূর্যোগ ত্রাণ শাখার প্রধান কমল বরণ সাহা। তিনি জানান, গৃহহীন পরিবারগুলোর জন্য প্রতিটি এলাকার স্কুলগুলোকে আশ্রয় কেন্দ্র হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। খুলে দেয়া হয়েছে সব স্কুল।

হঠাৎ এ প্রাকৃতিক দুর্যোগে কাউখালী খালের দু’পাশে থাকা ৩ শতাধিক পরিবারে প্রাণে রক্ষা পেলেও পাহাড়ি ঢলে নিয়ে গেছে জীবনের সম্বল সবটুকুই। গৃহহীন হয়ে পড়েছে শত শত পরিবার। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ব্রিজ কালভাটসহ অংখ্য অবকাঠামো।




কাউখালীতে প্রবল বর্ষণে পাহাড় ধ্বসে নারী-শিশুসহ নিহত-১৭

কাউখালী প্রতিনিধি:

রাঙামাটি কাউখালী উপজেলায় ২ দিনের টানা বৃষ্টিতে বিভিন্ন এলাকায় পাহাড় ধ্বসে নারী-শিশুসহ ১৫ নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে কমপক্ষে ১০জন। পানিতে তলিয়ে গেছে ৩শতাধিক ঘর। মাটিচাপা পড়েছে ২ শতাধিক ঘর। মঙ্গলবার সকালে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে এ হতাহতের ঘটনা ঘটে। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিহতের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে দূর্যোগ ও ত্রাণ শাখা।

উপজেলা প্রশাসন ও বিভিন্ন স্থান থেকে পাওয়া তথ্য মতে  নিহতরা হলেন, ঘাগড়া ইউনিয়নের  জুনুমাছড়া এলাকার বাসিন্দা অমর শান্তি চাকমার মেয়ে বৈশাখী চাকমা (৭), ঘাগড়া বাজার এলাকার বাসিন্দা ছৈয়দ আলীর স্ত্রী নাছিমা বেগম (৬০), নোয়াপাড়া এলাকার মৃত মঙ্গল চাকমার স্ত্রী শোভারানী চাকমা (৫৫), কাশখালী এলাকার একই পরিবারের আব্দুল রশিদের স্ত্রী ফাতেমা বেগম (৬০), ছেলে মো. ইসহাক (৩৫) ও মো. মনির (২৫), ঘিলাছড়ি এলাকার মাওলানা ইসহাক এর স্ত্রী হাফিজা খাতুন (৭০), একই পরিবারের দুদু মিয়ার ছেলে দবির উদ্দিন (৮০) ও দবির উদ্দিন এর স্ত্রী খোদেজা বেগম (৭০)। বাকছড়ি এলাকার একই পরিবারের ফুলমোহন চাকমার স্ত্রী মনি মালা চাকমা (৫৫) ও মেয়ে তিশা মনি চাকমা (১১)। বেতবুনিয়া ইউনিয়নের একই পরিবারের অংচাপ্রু মারমার ছেলে অংচিং মারমা (৫২), অংখ্যাইচিং মারমার স্ত্রী আশেমা মারমা (৩৪), মেয়ে তেমা মারমা (১২) ও ছেলে ক্যাথোয়াইচিং মারমা (৭), ফটিকছড়ি ইউনিয়নের ধুপছড়ি গ্রামের কুজাইঅং মারমার স্ত্রী লাইপ্রু মারমা (৪০) ও কলমপতি ইউনিয়নের সুগারমিল এলাকার দুলালের স্ত্রী অজ্ঞাত (৩০)। এছাড়াও বিভিন্ন স্থানে আহত হয়েছে আরও অন্তত ১০জন। এদের মধ্যে বেশিরভাগ লোকই ঘুমন্ত অবস্থায় মাটি চাপা পড়েছে।

নিহত পরিবারের মাঝে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক ৫০০০ করে টাকা ও শুকনো খাবার দেওয়া হয়েছে বলেও জানিয়েছেন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা ও দূর্যোগ ত্রাণ শাখার প্রধান কমল বরণ সাহা। তিনি জানান, গৃহহীন পরিবারগুলোর জন্য প্রতিটি এলাকার স্কুলগুলোকে আশ্রয় কেন্দ্র হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। খুলে দেয়া হয়েছে সব স্কুল।

হঠাৎ এ প্রাকৃতিক দুর্যোগে কাউখালী খালের দু’পাশে থাকা ৩ শতাধিক পরিবারে প্রাণে রক্ষা পেলেও পাহাড়ি ঢলে নিয়ে গেছে জীবনের সম্বল সবটুকুই। গৃহহীন হয়ে পড়েছে শত শত পরিবার। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ব্রিজ কালভাটসহ অংখ্য অবকাঠামো।




এনজিও সিসিডিআরের বিরুদ্ধে ৪ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ, চেয়ারম্যানসহ আটক ৩

CCDR News Pci
কাউখালী প্রতিনিধি :
৪ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে রাঙামাটির সাইনবোর্ড সর্বস্ব এনজিও সেন্টার ফর কমিউনিটি ডেভলপমেন্ট এন্ড রিসার্স (সিসিডিআর)’র কথিত চেয়ারম্যানসহ তিনজনকে আটক করে পুলিশে দিয়েছে গ্রাহকরা। সোমবার সন্ধ্যায় কয়েকশ গ্রাহক রাঙ্গুনীয়ার গোচরা চমৌহনী অফিস ঘেরাও করে তাদের আটক করে। কাউখালীর অতিরিক্তি দায়িত্বে থাকা উপজেলা নির্বাহী অফিসার সুমনী আক্তার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

আটকতৃরা হলো, সংস্থার চেয়ারম্যান মো. জাহিদুল ইসলাম, প্রোগ্রাম কোঅডিনিটর মো. জালাল উদ্দিন (৩২), কাউখালী ব্রাঞ্চ ম্যানেজার লিটন চাকমা। তবে আটকৃত চেয়ারম্যান জাহিদুল ইসলামকে রাঙ্গুনীয়া থেকে কাউখালী আনার পথে রানীহাট শাখার গ্রাহকরা পথিমধ্যে নামিয়ে সেখানে আটকে রাখে। বাকী দুজন বর্তমানে কাউখালী থানা হেফাজতে রয়েছে।

খোজ নিয়ে জানাযায়, রাঙামাটির স্বর্ণটিলার স্থানীয় এনজিও সেন্টার ফর কমিউনিটি ডেভলপমেন্ট এন্ড রিসার্স (সিসিডিআর)। যার চেয়ারম্যান মো. জাহেদুল ইসলাম নামে ওখানকারই এক ব্যক্তি। ২০১২ সালে জানুয়ারীতে ব্যাপক প্রচারনা চালিয়ে লোক নিয়োগের মাধ্যমে কাউখালী উপজেলার কচুখালীতে শাখা অফিস চালু করে। একই বছরে পাশ্ববর্তী রাঙ্গুনীয়া উপজেলার রানীরহাট বাজার ও গোচরা চমৌহনী বাজারে আরো দুটি শাখা খোলে।

গত ৭ বছরে তিন শাখার প্রায় দুই হাজারেরও বেশী গ্রাহক সৃষ্টি করেছে সংস্থাটি। ৫ বছর মেয়াদে দৈনিক ২০-২০০ টাকা পর্যন্ত সঞ্চয় আদায়ের মাধ্যমে তিন শাখার উল্লেখিত গ্রাহকদের কাছ থেকে আমানত সংগ্রহ করে প্রায় চার কোটি টাকা। এর মধ্যে কেবল কাউখালী ব্রাঞ্চই রয়েছে ৯৮০ জন গ্রাহক। যাদের কাছ থেকে আমানত সংগ্রহ করা হয়েছে ২ কোটি টাকার বেশী। অপর দিকে রানীহাট ও গোচরা চমৌহনী শাখা মিলে এক হাজারেরও বেশী গ্রাহক থেকে আদায় করা হয়েছে প্রায় ২ কোটি টাকা।

কাউখালী শাখার একজন গ্রাহক মাইগ্যামছড়া গ্রামের সাংমা মারমা (২৭), কৃষি কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করে থাকেন। ২০১২ সাল থেকে দৈনিক ২০ টাকা হারে ৩৫৭২০ টাকা এ পর্যন্ত জমা করছেন। কলমপতি ইউনিয়নের সাগর দাশ দৈনিক ৫০ টাকা হারে সাত বছরে জমিয়েছেন ৮৯৭০০ টাকা। টাকা আত্মসাৎকারীদের আটকের খবরে ছুটে আসেন ইউএনও অফিসে। কিন্তু সেখান থেকে সন্তোষজনক কোন উত্তর না পাওয়ায় এক পর্যায়ে কেঁদে কেঁদেই বাড়ী চলে গেলেন। এভাবে শত শত গ্রাহক টাকার আশায় প্রতিদিন ব্র্যাঞ্চ অফিসের দরজায় কড়া নাড়ছেন এবং হতাশ হয়ে বাড়ী ফিরছেন।

কাউখালীর ৯৮০ জন গ্রাহকের মধ্যে চার শতাধিক গ্রাহকের সঞ্চয় হিসাবের মেয়াদ পূর্ণ হয়েছে আরো ৬ মাস পূর্বে। কিন্তু মেয়াদ পূর্ণ হওয়া গ্রাহকরা নির্ধারিত সময়ের ৬ মাস পরেও তাদের টাকা ফেরৎ না পাওয়ায় সন্দেহের সৃষ্টি হয়। এক পর্যায়ে তারা ব্র্যাঞ্চ ম্যানেজারকে চাপ দেয় এবং অফিসে তালা ঝুলিয়ে দেয়। তাতেও কোন কাজ না হওয়ায় ব্র্যাঞ্চ ম্যানেজারের সহায়তায় আত্মগোপনে থাকা চেয়ারম্যান জাহিদুল ইসলাম ও প্রোগ্রাম কোঅডিনিটর মো. জালাল উদ্দিনকে গোচরা চমৌহনী অফিস থেকে আটক করে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ে নিয়ে আসেন। এসময় কয়েকশ গ্রাহক উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ প্রদর্শন করতে থাকে। পরে ইউএনওর আশ্বাসারে প্রেক্ষিতে এবং স্থানীয় গ্রাহকদের অভিযোগের ভিত্তিতে আটককৃতদের কাউখালী পুলিশে সপর্দ করা হয়।

কিন্তু ঘটনার মূল হোতা জাহিদুল ইসলামকে রানীরহাট শাখার গ্রাহকরা সেখানে আটকে রাখায় এবং উত্তেজিত গ্রহকদের হাত থেকে রক্ষা ও আইনগত বিষয়ে সহায়তা প্রদানের জন্য রাঙ্গুনীয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসারের সহায়তা চেয়েছেন কাউখালী উপজেলা নির্বাহী অফিসার সুমনী আক্তার। তিনি জানান, চেয়ারম্যান জাহিদুল ইসলাম যাতে কোনভাবে পালাতে না পারে রাঙ্গুনীয়া পুলিশের মাধ্যমে সে ব্যবস্থা করা হচ্ছে।




স্মার্ট জাতীয় পরিচয়পত্র মুদ্রণের লক্ষ্যে উপজেলা পর্যায়ে সংশোধন পক্রিয়া শুরু

photo-1424761653
কাউখালী প্রতিনিধি :
সারাদেশে স্মার্ট জাতীয় পরিচয়পত্র মুদ্রণ ও বিতরণের লক্ষ্যে ৩ পর্যায়ে সকল জেলার সদর ও উপজেলায় এবং ৪র্থ পর্যায়ে অন্যান্য সকল উপজেলায় স্মার্ট জাতীয় পরিচয়পত্র বিতরণ করা হবে। ইতোমধ্যে স্মার্ট কার্ড মুদ্রণের লক্ষে ৩য় পর্যায়ের অন্তর্ভূক্ত এলাকায় সংশোধন কার্যক্রম সম্পাদন করা হয়েছে। বর্তমানে ৪র্থ পর্যায়ে স্মার্ট কার্ড মুদ্রণের লক্ষ্যে সিটি কর্পোরেশন ও জেলার সদর উপজেলা ব্যতীত সকল উপজেলায় সংশোধনের বিশেষ কার্যক্রম শুরু করেছে নির্বাচন কমিশন।

উপজেলা পর্যায়ে সংশোধনের আবেদন গ্রহণ করা হবে আগামী ১ জুন ২০১৭ খ্রি. পর্যন্ত। নাগরীকদের নির্ভুল স্মার্ট জাতীয় পরিচয় পত্র প্রদানের জন্য এ সীদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। জাতীয় পরিচয়পত্র নিবন্ধন অনুবিভাগ, নির্বাচন কমিশন সচিবালয়, ঢাকা উপ-পরিচালক মো. রুহুল আমিন মল্লিক ১৭ মে ২০১৭ স্বাক্ষরিত উপজেলা নির্বাচন কর্মাকর্তা বরাবরে প্রেরিত চিঠিতে এতথ্য জানানো হয়েছে।

চিঠিতে উল্লিখিত কার্যক্রম ব্যাপক ভাবে গ্রহণের জন্য মসজিদ, মন্দির, স্কুল, কলেজ, পত্রিকায় প্রেস বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ, ক্যাবল অপারেটর, স্থানীয় জনপ্রতিনিধীগণের মাধ্যম সহ সম্ভাব্য পস্থায় প্রচারের জন্য বলা হয়েছে। এতে বলা হয় স্ব-স্ব এলাকায় স্বত্তর স্মার্ট জাতীয় পরিচয়পত্র বিতরণ কার্যক্রম শুরু হবে। সর্বাধুনিক প্রযুক্তির নির্ভুল স্মার্ট জাতীয় পরিচয়পত্র পাওয়ার লক্ষ্যে নাগরীকের জাতীয় পরিচয়পত্রে বর্ণিত তথ্য সঠিক আছে কিনা দেখে নেওয়ার জন্য বলা হয়েছে। কোন তথ্যের সংশোধনের প্রয়োজন হলে আগামী ০১/০৬/২০১৭ তারিখ এর মধ্যে সংশ্লিষ্ট উপজেলা/থানা নির্বাচন অফিসে যোগাযোগ করে নির্ধারিত ফরমে আবেদন জমা প্রদান করার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।




কাউখালীর ঘাগড়া ইউনিয়ন পরিষদের বাজেট ঘোষণা

কাউখালী  প্রতিনিধি:

রাঙ্গামাটির কাউখালী উপজেলার ৩নং ইউনিয়ন পরিষদের ২০১৭-১৮ অর্থ বৎসরের বাজেট প্রণয়ন ও ত্রিবার্ষিক পরিকল্পনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে প্রায় ৬২,৭১,৯৩৮ টাকা আয় ও ৬২,৭১,৬১৮ টাকা ব্যয়ের বাজেট ঘোষণা করা হয়। বুধবার সকালে ঘাগড়া ইউনিয়ন পরিষদ মিলনায়তনে এ বাজেট ঘোষণার অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, ৩নং ঘাগড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জগদিশ চাকমা, এতে জনপ্রতিনিধি, সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, স্কুল শিক্ষক ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। ১নং ওয়ার্ডের মেম্বার মো. শরীফের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন, প্রতিটি ওয়ার্ডের সদস্যগণ, স্থানীয় গণ্যমান্য ও রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ।

ইউনিয়ন পরিষদের সচিব তপুদল চাকমা বাজেট পেশ করেন এবং চেয়ারম্যান জগদিশ চাকমা ত্রিবার্ষিক পরিকল্পনা উপস্থাপন করেন। পরে এসব বিষয়ে উন্মুক্ত আলোচনায় অংশ নিয়ে আমন্ত্রিত অতিথিরা সন্তোষ প্রকাশ করে ভবিষ্যতেও এ ধারা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।




সরকারের সাফল্য অর্জন ও উন্নয়ন বিষয়ে কাউখালীতে তথ্য অধিদপ্তরের সংবাদ সম্মেলন

 Kawkhali News pic-1 copy

কাউখালী প্রতিনিধি:

সরকারের সাফল্য অর্জন ও উন্নয়ন ভাবনা বিষয়ে জনগণকে অবহিতকরণ এবং উন্নয়ন কার্যক্রমে সম্পৃক্তকরণের লক্ষ্যে কাউখালীতে সংবাদ সম্মেলন করেছে রাঙামাটি জেলা তথ্য অফিস।

রবিবার সকাল ১১টায় কাউখালী অফিসার্স কল্যাণ ক্লাবে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, কাউখালী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আজগর আলী।

বর্তমান সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ড লিখিত কপি পাঠ করেন, জেলা তথ্য বিষয়ক কর্মকর্তা উষামং চৌধুরী। এতে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, উচ্চমান সহকারী অমীয় কান্তি খীসা, সাইন অপারেটর মো. নজরুল ইসলাম।

সাংবাদিকদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, কাউখালী প্রেসক্লাবের সভাপতি আরিফুল হক মাহবুব, সাধারণ সম্পাদক জিয়াউর রহমান জুয়েল, সাংবাদিক ওমর ফারুক, জয়নাল আবেদীন, মেহদী হাসান সোহাগ।

সংবাদ সম্মেলনে যুদ্ধবিধ্বস্ত অঞ্চলে শান্তি প্রতিষ্ঠা, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বৃদ্ধি, শিশু মৃত্যুর হার কমিয়ে আনা, আলোচিত পদ্মা সেতু নির্মাণ, নতুন বছরে নতুন বই, দারিদ্র বিমোচন, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, নারীর ক্ষমতায়ন, আইসিটি খাতে রপ্তানি বৃদ্ধি ও বিদ্যুৎ খাতে অভাবনীয় সাফল্যে কথা তুলে ধরা হয়।

এছাড়া সরকারের নেয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের বিষয় উল্লেখ করে বলা হয়, নারীর প্রতি সহিংসতা রোধ, জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী সদস্যদের আসন বৃদ্ধি, নারী সমাজকে উন্নয়নের মূল স্রোতধারায় সম্পৃক্ত করতে কাজ করেছে সরকার।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার বলেন, গতিশীল ও যুগোপযোগী স্বাস্থ্য ব্যবস্থা নিশ্চিত, শিশু মৃত্যুর হার কমিয়ে আনা, নারীর ক্ষমতায়নসহ স্বাস্থ্য খাতে অভাবনীয় সাফল্য অর্জন হয়েছে। এছাড়াও শিক্ষা, সামাজিক নিরাপত্তা, ডিজিটাল বাংলাদেশ গঠন, কৃষিখাতে ব্যাপক সফলতা অর্জন, বিদ্যুৎ উৎপাদনে সাফল্য এবং যোগাযোগ ব্যবস্থার বৈপ্লবিক পরির্তনের বিষয়টি উঠে আসে।

সংবাদ সম্মেলনে সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড ও অর্জন সঠিকভাবে তুলে ধরার জন্য সাংবাদিকদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়। পরে উপজেলা নির্বাহী অফিসার জেলা তথ্য অফিসের আয়োজনে নারী সমাবেশে বক্তব্য রাখেন।

অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মংশুইউ চৌধুরী, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান এ্যানি চাকমা।




বৈসাবি ও বাংলা নববর্ষকে ঘিরে পাহাড় ফুলের সৌরভে মাতোওয়ারা

Kawkhali News pci copy

কাউখালী প্রতিনিধি:

পাহাড়ি সম্প্রদায়ের প্রধান সামাজিক উৎসব বৈ-সা-বি ও বাংলা নববর্ষ বরণকে ঘিরে পাহাড় যেন উৎসবে মাতোওয়ারা। প্রতিটি এলাকা সেজেছে বর্ণিলরুপে। অন্যান্য বছরের মত এবারও বেশ আনন্দমূখর পরিবেশে বৈসাবি ও বাংলা নববর্ষ পালনের জন্য নানা অনুষ্ঠান মালার আয়োজন করতে যাচ্ছে সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলো। পাহাড়ের ক্ষুদ্র জাতি সত্ত্বাগুলো তাদের ধর্মীয় আদর্শে এ উৎসব পালন করবে। এ উপলক্ষে বুধবার সকাল ১০টায় চাকমা সম্প্রদায় কাউখালীতে আয়োজন করে বর্ণাঢ্য র‌্যালির।

পার্বত্য জেলায় ১১টি ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র সম্প্রদায়ের লোকজনের সংস্কৃতি ও বৈচিত্র সংরক্ষণে এগিয়ে আসার আহ্বানের মাধ্যমে শুরু হয় এবারের আয়োজন। এ উপলক্ষে সকাল ১০টায় পোয়াপাড়া মডেল উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে সকল শ্রেণী পেশার মানুষের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হয় বিশাল র‌্যালি। বৈসাবি উদযাপন কমিটির সদস্য সচিব পাইচামং মারমার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত র‌্যালিতে অংশগ্রহণ করেন, ভাইস চেয়ারম্যান মংসুইউ চৌধুরী, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান এ্যানি চাকমা, চিংকিউ চৌধুরী, রাজেন্দ্র তংচংগ্যা, ঘাগড়া ইউপি চেয়ারম্যান জগদিশ চাকমা, ফটিকছড়ি ইউপি চেয়ারম্যান ধন কুমার চাকমা, সাবেক চেয়ারম্যান থুইমং মারমা, ইউপিডিএফ কাউখালী ইউনিটের সংগঠক পুলক চাকমা প্রমুখ।

র‌্যালিটি স্কুল মাঠ থেকে শুরু হয়ে কাউখালী সদরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক পদক্ষিণ শেষে কচুখালীতে ফুল ভাসানোর মাধ্যমে শেষ হয়।

বাংলা নববর্ষকে পাহাড়ের মানুষ ভিন্ন ভিন্ন আঙ্গিকে পালন করে থাকে। নিয়মানুযায়ী আগামী ১২ ও ১৩ এপ্রিল চাকমা সম্প্রদায় পালন করবে বিজু। ১৩, ১৪ ও ১৫ এপ্রিল মারমা সম্প্রদায় পালন করবে সাংগ্রাই অনুষ্ঠান।

বর্ষবরণকে ঘিরে পার্বত্য জেলা এখন যেন উৎসবে মাতোওয়ারা। অনুষ্ঠানকে সফল করতে পাড়ায় পাড়ায় চলছে ব্যাপক প্রচারণা। ব্যানার ফেস্টুনে ছেয়ে গেছে প্রতিটি অলি গলি। নিত্য নতুন পোশাকে সজ্জিত শিশু থেকে শুরু করে বৃদ্ধ পর্যন্ত। বিশেষ দিনে অতিথিদের আপ্যায়ন করতে সংগ্রহের ভাণ্ডারে জমা করছে রকমারি তরিতরকারী।

চৈত্রের শেষ দিনকে মূল বিঝু হিসেবে পালন করা হয়। এটাই হচ্ছে মূল উৎসব। এ দিনে সবার ঘরে অন্তত পাঁচ পদের তরিতরকারী মিলিয়ে বিশেষ ধরণের পাঁচন রান্না করা হয়। এছাড়া বিভিন্ন ধরণের পিঠা, তিলের নাড়ু, বিন্নি ধানের খৈ ও মিষ্টি তৈরি করা হয়। এর পাশাপাশি অতিথিদের মদও পরিবেশন করা হয়। চাকমা যুবতী মেয়েরা তাদের কোমড়ে তাদের বোনা রাঙ্গা খাদি এদিন বুকে জড়িয়ে পাড়ায় পাড়ায় ঘুরে বেড়ায়। তাছাড়া যুবক-যুবতীরা এক সঙ্গে ঘিলা, পোত্তি (বউচি) প্রভৃতি খেলায় মেতে উঠে।