সরকারের সাফল্য অর্জন ও উন্নয়ন বিষয়ে কাউখালীতে তথ্য অধিদপ্তরের সংবাদ সম্মেলন

 Kawkhali News pic-1 copy

কাউখালী প্রতিনিধি:

সরকারের সাফল্য অর্জন ও উন্নয়ন ভাবনা বিষয়ে জনগণকে অবহিতকরণ এবং উন্নয়ন কার্যক্রমে সম্পৃক্তকরণের লক্ষ্যে কাউখালীতে সংবাদ সম্মেলন করেছে রাঙামাটি জেলা তথ্য অফিস।

রবিবার সকাল ১১টায় কাউখালী অফিসার্স কল্যাণ ক্লাবে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, কাউখালী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আজগর আলী।

বর্তমান সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ড লিখিত কপি পাঠ করেন, জেলা তথ্য বিষয়ক কর্মকর্তা উষামং চৌধুরী। এতে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, উচ্চমান সহকারী অমীয় কান্তি খীসা, সাইন অপারেটর মো. নজরুল ইসলাম।

সাংবাদিকদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, কাউখালী প্রেসক্লাবের সভাপতি আরিফুল হক মাহবুব, সাধারণ সম্পাদক জিয়াউর রহমান জুয়েল, সাংবাদিক ওমর ফারুক, জয়নাল আবেদীন, মেহদী হাসান সোহাগ।

সংবাদ সম্মেলনে যুদ্ধবিধ্বস্ত অঞ্চলে শান্তি প্রতিষ্ঠা, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বৃদ্ধি, শিশু মৃত্যুর হার কমিয়ে আনা, আলোচিত পদ্মা সেতু নির্মাণ, নতুন বছরে নতুন বই, দারিদ্র বিমোচন, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, নারীর ক্ষমতায়ন, আইসিটি খাতে রপ্তানি বৃদ্ধি ও বিদ্যুৎ খাতে অভাবনীয় সাফল্যে কথা তুলে ধরা হয়।

এছাড়া সরকারের নেয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের বিষয় উল্লেখ করে বলা হয়, নারীর প্রতি সহিংসতা রোধ, জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী সদস্যদের আসন বৃদ্ধি, নারী সমাজকে উন্নয়নের মূল স্রোতধারায় সম্পৃক্ত করতে কাজ করেছে সরকার।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার বলেন, গতিশীল ও যুগোপযোগী স্বাস্থ্য ব্যবস্থা নিশ্চিত, শিশু মৃত্যুর হার কমিয়ে আনা, নারীর ক্ষমতায়নসহ স্বাস্থ্য খাতে অভাবনীয় সাফল্য অর্জন হয়েছে। এছাড়াও শিক্ষা, সামাজিক নিরাপত্তা, ডিজিটাল বাংলাদেশ গঠন, কৃষিখাতে ব্যাপক সফলতা অর্জন, বিদ্যুৎ উৎপাদনে সাফল্য এবং যোগাযোগ ব্যবস্থার বৈপ্লবিক পরির্তনের বিষয়টি উঠে আসে।

সংবাদ সম্মেলনে সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড ও অর্জন সঠিকভাবে তুলে ধরার জন্য সাংবাদিকদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়। পরে উপজেলা নির্বাহী অফিসার জেলা তথ্য অফিসের আয়োজনে নারী সমাবেশে বক্তব্য রাখেন।

অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মংশুইউ চৌধুরী, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান এ্যানি চাকমা।




বৈসাবি ও বাংলা নববর্ষকে ঘিরে পাহাড় ফুলের সৌরভে মাতোওয়ারা

Kawkhali News pci copy

কাউখালী প্রতিনিধি:

পাহাড়ি সম্প্রদায়ের প্রধান সামাজিক উৎসব বৈ-সা-বি ও বাংলা নববর্ষ বরণকে ঘিরে পাহাড় যেন উৎসবে মাতোওয়ারা। প্রতিটি এলাকা সেজেছে বর্ণিলরুপে। অন্যান্য বছরের মত এবারও বেশ আনন্দমূখর পরিবেশে বৈসাবি ও বাংলা নববর্ষ পালনের জন্য নানা অনুষ্ঠান মালার আয়োজন করতে যাচ্ছে সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলো। পাহাড়ের ক্ষুদ্র জাতি সত্ত্বাগুলো তাদের ধর্মীয় আদর্শে এ উৎসব পালন করবে। এ উপলক্ষে বুধবার সকাল ১০টায় চাকমা সম্প্রদায় কাউখালীতে আয়োজন করে বর্ণাঢ্য র‌্যালির।

পার্বত্য জেলায় ১১টি ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র সম্প্রদায়ের লোকজনের সংস্কৃতি ও বৈচিত্র সংরক্ষণে এগিয়ে আসার আহ্বানের মাধ্যমে শুরু হয় এবারের আয়োজন। এ উপলক্ষে সকাল ১০টায় পোয়াপাড়া মডেল উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে সকল শ্রেণী পেশার মানুষের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হয় বিশাল র‌্যালি। বৈসাবি উদযাপন কমিটির সদস্য সচিব পাইচামং মারমার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত র‌্যালিতে অংশগ্রহণ করেন, ভাইস চেয়ারম্যান মংসুইউ চৌধুরী, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান এ্যানি চাকমা, চিংকিউ চৌধুরী, রাজেন্দ্র তংচংগ্যা, ঘাগড়া ইউপি চেয়ারম্যান জগদিশ চাকমা, ফটিকছড়ি ইউপি চেয়ারম্যান ধন কুমার চাকমা, সাবেক চেয়ারম্যান থুইমং মারমা, ইউপিডিএফ কাউখালী ইউনিটের সংগঠক পুলক চাকমা প্রমুখ।

র‌্যালিটি স্কুল মাঠ থেকে শুরু হয়ে কাউখালী সদরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক পদক্ষিণ শেষে কচুখালীতে ফুল ভাসানোর মাধ্যমে শেষ হয়।

বাংলা নববর্ষকে পাহাড়ের মানুষ ভিন্ন ভিন্ন আঙ্গিকে পালন করে থাকে। নিয়মানুযায়ী আগামী ১২ ও ১৩ এপ্রিল চাকমা সম্প্রদায় পালন করবে বিজু। ১৩, ১৪ ও ১৫ এপ্রিল মারমা সম্প্রদায় পালন করবে সাংগ্রাই অনুষ্ঠান।

বর্ষবরণকে ঘিরে পার্বত্য জেলা এখন যেন উৎসবে মাতোওয়ারা। অনুষ্ঠানকে সফল করতে পাড়ায় পাড়ায় চলছে ব্যাপক প্রচারণা। ব্যানার ফেস্টুনে ছেয়ে গেছে প্রতিটি অলি গলি। নিত্য নতুন পোশাকে সজ্জিত শিশু থেকে শুরু করে বৃদ্ধ পর্যন্ত। বিশেষ দিনে অতিথিদের আপ্যায়ন করতে সংগ্রহের ভাণ্ডারে জমা করছে রকমারি তরিতরকারী।

চৈত্রের শেষ দিনকে মূল বিঝু হিসেবে পালন করা হয়। এটাই হচ্ছে মূল উৎসব। এ দিনে সবার ঘরে অন্তত পাঁচ পদের তরিতরকারী মিলিয়ে বিশেষ ধরণের পাঁচন রান্না করা হয়। এছাড়া বিভিন্ন ধরণের পিঠা, তিলের নাড়ু, বিন্নি ধানের খৈ ও মিষ্টি তৈরি করা হয়। এর পাশাপাশি অতিথিদের মদও পরিবেশন করা হয়। চাকমা যুবতী মেয়েরা তাদের কোমড়ে তাদের বোনা রাঙ্গা খাদি এদিন বুকে জড়িয়ে পাড়ায় পাড়ায় ঘুরে বেড়ায়। তাছাড়া যুবক-যুবতীরা এক সঙ্গে ঘিলা, পোত্তি (বউচি) প্রভৃতি খেলায় মেতে উঠে।




কাউখালী উপজেলা নির্বাহী অফিসারের বিদায়

Kawkhali UNO News-Pic copy

কাউখালী প্রতিনিধ:

কাউখালী উপজেলা নির্বাহী অফিসার আফিয়া আখতারকে অশ্রুসিক্ত বিদায় জানালো কাউখালীর সর্বস্তরের মানুষ। মঙ্গলবার দুপুরে কাউখালী অফিসার্স কল্যাণ ক্লাব মিলনায়তনে বর্তমান ইউএনও’র বিদায়  ও নবাগত ইউএনও আজগর আলীর বরন উপলক্ষে আয়োজিত সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন উপজেলা চেয়ারম্যান এসএম. চৌধুরী।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, ভালো কাজ করলে সর্বক্ষেত্রে যেমন স্বীকৃতি পাওয়া যায় তেমনি সাধারণ জনগণও এসব কর্মকর্তাদের আজীবন মনে রাখে। যে সকল সরকারী কর্মকর্তা নিজের কর্মস্থলের জনসাধারণকে আন্তরিক ভাবে গ্রহণ করতে পারে তারা অবশ্যই সফলতার মুখ দেখবেই।

বক্তারা বলেন, সরকারী সেবা সমূহ থেকে সাধারণ জনগণ যাতে বঞ্চিত না হয় সেক্ষেত্রে সকলকে কর্মকর্তা কর্মচারীকে আরও দায়িত্বশীল হতে হবে। বক্তারা সরকারী কর্মকর্তাদের জনগণের শাসক না হয়ে সেবক হয়ে সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান।

কাউখালী উপজেলা বিদায়ী নির্বাহী অফিসার আফিয়া আখতারের কর্মজীবনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বক্তারা বলেন, বিভিন্ন সম্প্রদায়ের বসবাস কাউখালী উপজেলায় পাহাড়ি বাঙ্গালীর সম্প্রীতির ক্ষেত্রে বিদায়ী ইউএনও’র উদ্যোগ কাউখালীবাসীর জন্য দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

অনুষ্ঠানে বিদায়ী ইউএনও আফিয়া আখতার বক্তব্য দিতে গেলে পুরো হলজুড়ে পিনপতন নিরবতা সৃষ্টি হয়। এসময় হৃদয় বিদারক এক দৃশ্যের অবতারনা ঘটে। সরকারী কর্মকর্তা কর্মচারীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষ হাউমাউ করে কেঁদে উঠেন। মানুষের কান্নায় আবেগ আপ্লুত হয়ে পড়েন ইউএনও নিজেই।

কাউখালী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কাজী সফিকুল আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বিদায় ও বরন অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন কাউখালী উপজেলার বিদায়ী নির্বাহী অফিসার আফিয়া আখতার, নবাগত নির্বাহী অফিসার আজগর আলী, কাউখালী উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মংসুউ চৌধুরী, এ্যানি চাকমা, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা পরিনয় চাকমা, কাউখালী থানার অফিসার ইনচার্জ আব্দুল করিম, মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নাজমুল হক, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা কমল বরন সাহা, বিআরডিবির সাবেক চেয়ারম্যান মো. বেলাল উদ্দিন, ঘাগড়া ইউপি চেয়ারম্যান জগদিস চাকমা। কাউখালী প্রেসক্লাবের সভাপতি আরিফুল হক মাহবুব, সাধারণ সম্পাদক জিয়াউর রহমান জুয়েল, সাংবাদিক মো. জসিম উদ্দিন, জয়নাল আবেদীন, মেহদী হাসান সোহাগ।

বিদায় ও বরন অনুষ্ঠানে ইউপি চেয়ারম্যান, মেম্বার,  কার্বারী, ধর্মীয় নেতা, স্কুল কলেজের শিক্ষক, রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, ব্যবসায়ীরা অংশগ্রহণ করেন।

উল্লেখ্য কাউখালী উপজেলা বিদায় নির্বাহী অফিসার আফিয়া আকতার চট্টগ্রামে জেলার বোয়ালখালী উপজেলা নির্বাহী অফিসার হিসেবে বুধবার (০১ মার্চ) যোগদান করবেন। এছাড়া মিরাশ্বরাই উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আজগর আলী উপজেলা নির্বাহী অফিসার হিসেবে পদোন্নতি পেয়ে কাউখালী উপজেলা নির্বাহী অফিসার হিসেবে যোগদান করেছেন।




সন্ত্রাস জঙ্গীবাদের চেয়ে মারাত্মক আকার ধারণ করেছে মাদক: রাঙামাটি জেলা প্রশাসক

Kawkhali News- 23-02-17 copy

কাউখালী প্রতিনিধি:

“জনসেবার জন্য প্রশাসন” এ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের নির্দেশনা অনুযায়ী জনসাধারণ, জনপ্রতিনিধি এবং বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষের অংশগ্রহণে কাউখালীতে অনুষ্ঠিত হল গণশুনানি। বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে রাঙামাটি জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত গণশুনানিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, রাঙামাটি জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মানজারুল মান্নান।

সভায় জঙ্গীবাদ, সন্ত্রাসবাদ, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও মাদকের ব্যাপকতা নিয়ে উন্মোক্ত আলোচনায় জেলা প্রশাসক বলেন, দেশে সন্ত্রাস জঙ্গীবাদের চেয়ে মারাত্মক আকার ধারণ করেছে মাদক। যুবসমাজকে মাদকের ভয়াবহ ছোবল থেকে রক্ষা করতে হলে এর বিরুদ্ধে সবাইকে সমন্বিত যুদ্ধ ঘোষণা করতে হবে। জনপ্রতিনিধিদের উদ্দেশ্যে জেলা প্রশাসক বলেন, সামাজিক দায়বদ্ধতা এড়িয়ে যাবেন না, সন্ত্রাস, জঙ্গীবাদের পাশাপাশি মাদকের বিরুদ্ধে গণসচেতনতা বৃদ্ধি করুন। জনগণের শাসক না হয়ে সেবক হয়ে সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ান। উপজেলার উন্নয়ন কর্মসূচীর বিষয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, কোন প্রকল্প গ্রহণ করার ক্ষেত্রে স্কুল, কলেজসহ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সমূহকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।

উন্মোক্ত আলোচনার শুরুতে বেতবুনিয়ার সাবেক চেয়ারম্যান সামছুদ্দোহা চৌধুরী বলেন, উপবৃত্তির ক্ষেত্রে বিশাল বাঙ্গালী জনগোষ্ঠির ছেলে মেয়েদের বাদ দিয়ে সেকায়েফ প্রকল্পে এক চেটিয়া পাহাড়ি জনগোষ্ঠিকে অন্তর্ভুক্ত করায় সাধারণ মানুষের ক্ষোভের সৃষ্টি হচ্ছে।

 বেতবুনিয়া ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের মেম্বার হেলাল উদ্দিন অভিযোগ করেন, মরণ নেশা মাদকের ছোবলে মারাত্মকভাবে আক্রান্ত বেতবুনিয়া ইউনিয়ন। তিনি জানান, স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত মদ ছাড়াও দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা মদ, গাঁজাসহ বিভিন্ন ধরণের নেশাজাতীয় সামগ্রী পাচারের জন্য নিরাপদ রোড হিসেবে বেতবুনিয়াকে ব্যবহার করে থাকে পাচারকারীরা। ফলে এর ভয়াবহ প্রভাব পড়ছে পুরো উপজেলা জুড়ে।

কাউখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আফিয়া আখতারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত গণশুনানীতে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এসএম. চৌধুরী, ঘগড়া ৩৪ আনসার ব্যাটালিয়নের কমান্ডিং অফিসার মো. শেফায়েত উল্লাহ, ভাইস চেয়ারম্যান মংসুইউ চৌধুরী, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান এন্যানি চাকমা, ওসি মো. আব্দুল করিম। এছাড়াও সভায় সব ইউপি চেয়ারম্যান, মেম্বার, হেম্যান, কার্বারী, ধর্মীয় নেতা, স্কুল কলেজের শিক্ষক, রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, ব্যবসায়ীরা অংশগ্রহণ করেন।




১৮ বছরের নিচে কোন ছাত্রছাত্রী মিছিল সমাবেশে গেলে ব্যবস্থা নিন: দীপংকর তালুকদার

Kawkhali News pic (1) copy

কাউখালী প্রতিনিধি:

আঠারো বছরের নিচে কোন ছাত্র ছাত্রীকে নিয়ে কোন মহল মিছিল সমাবেশে টানাটানি করলে প্রশাসনকে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানালেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক সাবেক প্রতিমন্ত্রী দীপংকর তালুকদার।

তিনি বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় কাউখালীর পোয়াপাড়া মডেল উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এসএসসি পরীক্ষার্থীদের বিদায় ও বার্ষিক পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন।

প্রধান অতিথি বলেন, মানসম্মত শিক্ষার মাধ্যমে মুক্ত মন, মুক্ত চিন্তার মানুষ তৈরী করার লক্ষে স্কুল পর্যায় থেকে কোমলমতি ছাত্র-ছাত্রীদের কঠোর পরিশ্রম করতে হবে। নিজের ভবিষ্যৎ নিজেকেই গড়ে নিতে হবে।

তিনি বলেন, ভাল ফলাফল করার জন্য যোগ্য শিক্ষক ও দায়িত্বশীল অভিভাবক দরকার। একটি সুশিক্ষিত জাতি হিসেবে গড়ে উঠার নিজেকে মানসিক ভাবে উন্নত করতে হবে।

বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি এরশাদ সরকারের সাভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বিশেষ অতিথি হিসবে বক্তব্য রাখেন, রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অংসুই প্রু চৌধুরী, পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান চিংকিউ রোয়াজা,  উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এসএম চৌধুরী, জেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা নির্মল কুমার চাকমা, ভাইস চেয়ারম্যান মংশুইউ চৌধুরী, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান এন্যানি চাকমা, সাবেক চেয়ারম্যান থুইমং মারমা, কলমপতি ইউপি চেয়ারম্যান ক্যাজাই মারমা, স্বাগত বক্তব্য রাখেন প্রধান শিক্ষক করুনাময় চাকমা।

প্রধান অতিথি বলেন, কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় চায়না এমন জাতি পৃথিবীতে খুঁজে পাওয়া মুশকিল হবে। কিন্তু পার্বত্য অঞ্চলে একটি মহল চায় না এ অঞ্চলে ভাল কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠুক।

দীপংকর বলেন, এসব কুচক্রী মহল কর্তৃক পার্বত্য অঞ্চলে অস্ত্রবাজী চাঁদাবাজীর কারণে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড মারাত্মক ব্যাহত হচ্ছে। এদের হাত থেকে পার্বত্য অঞ্চলকে রক্ষা করতে হলে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের বিকল্প নেই।

সভার পূর্বে প্রধান অতিথি পোয়াপাড়া মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের নব নির্মিত ভবন উদ্বোধন করেন।




নতুন লাইনের সংস্কার দেখিয়ে ৩৬ লাখ টাকা লোপাটের পাঁয়তারা

Kaukhali pdb xen corruption news pic-2-15-01-2017 copy

কাউখালী প্রতিনিধি:

পার্বত্য চট্টগ্রাম বিদ্যুতায়ন প্রকল্পের অধীনে কাউখালী সাবস্টেশনের ৩৩ কেভির সম্পূর্ণ নতুন সংযোগ লাইন স্থাপনে ব্যয় হয়েছিল ২২ লাখ টাকার মতো। যদিও এখনো কাজটির ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান উত্তরা এন্টারপ্রাইজ তাদের জামানতের অর্থও উত্তোলন করেনি। কিন্তু এরই মধ্যে বছর না পেরোতেই নতুন এ লাইনটির সংস্কার কাজ দেখিয়ে বিতরণ বিভাগ থেকে ভিন্ন ঠিকাদারকে বরাদ্ধ দেয়া হয়েছে ৩৬ লাখ টাকা।

অভিযোগ উঠেছে সরকারী অর্থ লোপাটের জন্যই রাঙ্গামাটি বিদ্যুৎ বিতরণ বিভাগের অতি উৎসাহি নির্বাহী প্রকৌশলী সবুজ কান্তি মজুমদার ঠিকাদারের সাথে যোগসজস করে কাগজেপত্রে ২০ আইটেমে ৩১টি কাজ দেখিয়ে নিয়ম বহির্ভূতভাবে ওই কার্যাদেশটি দিয়েছে।

শুধু তাই নয়, নতুন সঞ্চালন লাইনের ক্যাবল বদলানো হয়েছে ২০১৬ সালের জুলাই মাসে। কিন্তু ঠিকাদারকে কাজটির কার্যাদেশ দেয়া হয়েছে ৬ মাস পরে ডিসেম্বরে। আবার ঠিকাদার কাজ প্রায় শেষ করেছে দাবী করলেও প্রকৌশলী বলছে এখনো শেষ হয়নি। ইতিমধ্যে অত্যন্ত গোপনে বরাদ্ধের অর্থ উত্তোলনের তোরজোড় শুরু হলে বেঁকে বসে ভাণ্ডার রক্ষক। কার্যাদেশের শর্তানুযায়ি পুরনো মালামাল ভাণ্ডারে জমা দিয়ে প্রয়োজনীয় নতুন মালামাল ইস্যু করার কাজটি শুধুমাত্র ‘কাগজেপত্রে’ দেখিয়ে ভাণ্ডার রক্ষককে স্বাক্ষর দিতে চাপ দেওয়ায় বিষয়টি ফাঁস হয়ে পড়ে। এখন দেওয়া হচ্ছে ভাণ্ডার রক্ষককে বদলীর হুমকিও।

৩০ দিনের মধ্যে কাজ সম্পন্নের সময় বেধে দিয়ে ৮ ডিসেম্বর ২০১৬ রাঙামাটি ভেদভেদির ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মেসার্স কাজী ইঞ্জিনিয়ার্স’র স্বত্ত্বাধিকারী কাজী নিজামকে কার্যাদেশটি দেন রাঙামাটি বিতরণ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী সবুজ কান্তি মজুমদার। যার স্মারক নম্বর- বিবি-রাংগা/সিবা-১৮/২০১৬/৫১৯, তারিখ-০৮/১২/২০১৬ খ্রিস্টাব্দ। ওয়ার্কঅর্ডারে বলা হয়েছে ৩৩ কেভি হাটহাজারী-রাঙ্গামাটি সঞ্চালন লাইন হতে রাণীরহাট-কাউখালী ইন-আউট ডাবল সার্কিট অংশের কন্ডাক্টর পরিবর্তন, পোল পরিবর্তনসহ আনুষাঙ্গিক সংরক্ষণ, মেরারমত ও পদ্ধতি উন্নয়ন কাজ। অথচ শুধুমাত্র তার (ক্যাবল) বদলানো ছাড়া কোনটিরই প্রয়োজন নেই বলে জানা গেছে।

লিমিটেড টেন্ডার মেথড দেখিয়ে সর্বনিম্ন ৩৫,৯,৯৯৭২.৫০ টাকা দর দেখানো হয়েছে। কথিত মূল্যায়ন কমিটির সুপারিশে চট্টগ্রাম বিউবো বিতরণ দক্ষিণাঞ্চল’র প্রধান প্রকৌশলী প্রকল্পটি অনুমোদন করেছে। একাধিক ঠিকাদার নাম প্রকাশ না করার শর্তে অভিযোগ করে, গণমাধ্যমে বিজ্ঞাপন প্রচার আর উন্মুক্ত টেন্ডার হলে ব্যাপক ঠিকাদার অংশ নিতো। এছাড়া সত্যিকারভাবে কথিত কাজটি করা হলেও সর্বোচ্চ ৫ লাখ টাকায় সম্পন্ন করা যেতো। এতে সরকারের আরও ৩১ লাখ টাকা সাশ্রয় হতো।

সরেজমিন ঘটনাস্থল ঘুরে স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা গেছে, ২০১৬ জুলাই মাসে ১২৪টি পোলের শুধুমাত্র ৬টি ডক তার (ইন্সুলেটেড ক্যাবল) বদলিয়ে এসিএসআর ক্যাবল (উন্মুক্ত তার) পুন.স্থাপন করে মেসার্স কাজী ইঞ্জিনিয়ার্স। কার্যাদেশ পর্যবেক্ষণ করে দেখা গেছে সিডিউলের ৭নম্বর আইটেমে এ ৬টি ডক তারের মোট দৈর্ঘ্য উল্লেখ আছে ৪৫.৫ কিলোমিটার, আর এজন্য বরাদ্ধ দেয়া হয়েছে ১লাখ ২৭ হাজার চারশত টাকা।  আর খুলে ফেলা এসব ইন্সুলেটেড ক্যাবল পথে পথে পড়ে আছে অরক্ষিতভাবে। বিদ্যুৎ বিভাগের ভাণ্ডারে জমা দেওয়ার কথা থাকলেও তা করা হয়নি। যে কোন সময় এসব মূল্যবান সামগ্রি চুরি হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

কাজের অগ্রগতি নিয়ে কথা হয় উপজেলার ছিদ্দিক-ই আকবর দাখিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ আব্দুর রাজ্জাক তালুকদার, বেতছড়ির আমির উদ্দিন, ইউসুফ, গোদারপাড়ের সিরাজ ড্রাইভার, ব্যবসায়ি বেলাল, খামার পাড়ার ব্যবসায়ি শহীদের সাথে। তারা জানায় ২০১৬সালের জুলাই মাসে শুধু পুলের তার (ক্যাবল) পরিবর্তন করা হয়েছে। এছাড়া অন্য কোন কাজ করতে কেউ আসেনি।

মেসার্স কাজী ইঞ্জিনিয়ার্স’র স্বত্ত্বাধিকারী কাজী নিজাম উন্মুক্ত টেন্ডারে কাজ পেয়েছেন দাবী করে বলেন, কর্তৃপক্ষের নির্দেশে ওয়াকঅর্ডার পাওয়ার ৬ মাস আগেই কাজ করে রেখেছি। দু-একটা ছাড়া ইতিমধ্যে কাজও প্রায় শেষ করেছি। যদিও উন্মুক্ত টেন্ডারে কাজ পাওয়ার অনিশ্চয়তা থাকা সত্বেও কিভাবে ৬ মাস আগেই কাজ করেছেন এমন প্রশ্নের জবাব দিতে পারেননি তিনি। বলেন, কার্যাদেশ না পাওয়ায় মালামাল ভাণ্ডারে জমা দিতে পারিনি, পথেই রাখতে হয়েছে।

ভাণ্ডার রক্ষক হুমায়ুন কবীর রতন বলেন, আসলে পুরো প্রক্রিয়াটি গোপনেই হচ্ছিলো, আমি মালামাল গ্রহণ ও ইস্যুর কাগজে স্বাক্ষর করলেই কাগুজে প্রকল্পটি সম্পন্ন দেখানো হতো। না করায় এখন বদলীর হুমকি দেওয়া হচ্ছে নানা মহল থেকে।

সদ্য নির্মিত ৩৩ কেভি সঞ্চালন লাইনের তদারকি কর্মকর্তা ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিদ্যুতায়ন প্রকল্পের সহাকারী প্রকৌশলী নুরুল আলম। রবিবার দুপুরে তিনি জানান, কাজ কমপ্লিট করে ডিভিশনকে হস্তান্তর করে দিয়েছি। বারবার ক্যাবল ছিড়ে পড়ায় ৩৩ কেভি সঞ্চালন লাইনের মেইন কাজ হলো ক্যাবল (তার) পরিবর্তন। কাজ ও বরাদ্ধ দেওয়া নিয়ে নতুন সিডিউল না দেখে কোন মন্তব্য করতে রাজি না হওয়া এ প্রকৌশলী তার অফিসে দেখা করার অনুরোধ জানায়।

উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী চিংহলা মং মারমাকে কাজটির ভারপ্রাপ্ত প্রকৌশলী নিযুক্ত করা হয়েছে। শনিবার পৌনে তিনটার দিকে তার সেল ফোনে কথা হলে তিনি এখনো প্রচুর কাজ বাকি আছে বলেই ফোনটি ধরিয়ে দেন নির্বাহী প্রকৌশলী সবুজ কান্তি মজুমদারকে।

নির্বাহী প্রকৌশলী সবুজ কান্তি মজুমদার জানান, আগে প্রজেক্ট থেকে কাজটি করা হয়েছে। এখন প্রয়োজন হওয়ায় আমি বিতরণ বিভাগ থেকে নতুন বরাদ্ধে কার্যাদেশ দিয়েছি। শুধু তার পরিবর্তন নয়, সিস্টেম ডেভেলপমেন্টের জন্য আনুষাঙ্গিক কাজ হবে।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, কাজ এখনও শেষ হয়নি। বিদ্যুৎ জরুরী বিভাগ হওয়ায় অনেক কাজ আগাম করার নিয়ম আছে। জামানত থাকাবস্থায় ২২ লাখ টাকায় সম্পন্ন হওয়া সম্পূর্ণ নতুন লাইনে ঘটা করে কেন ৩৬ লাখ টাকার সংস্কার কাজ করতে হবে প্রশ্নের জবাবে তিনি এ প্রতিবেদককে তার অফিসে দেখা করতে বলেন।

 




ধার্মিকতা না থাকলে পৃথিবী থেকে সভ্যতা বিলুপ্ত হয়ে যেতো: দীপংকর তালুকদার

Kawkhali News pci copy

কাউখালী প্রতিনিধি:

সাবেক প্রতিমন্ত্রী দীপংকর তালুকদার বলেছেন, প্রকৃত ধার্মিকরা কখনো অন্য ধর্ম কিংবা গোষ্ঠির ক্ষতিসাধন করতে পারে না। ধার্মিকতা না থাকলে পৃথিবী থেকে সভ্যতা বিলুপ্ত হয়ে যেতো। ধর্মের ভয় আছে বলেই প্রতিটা জাতি এত উন্নত। শুক্রবার সন্ধ্যায় কাউখালী শ্রী শ্রী গীতা মন্দির আয়োজিত ২দিন ব্যাপী ধর্মসভার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন ।

বড়ডলু সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মিলন কান্তি দে’র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ৫ম উত্তরায়ন সংক্রান্তি উদযাপন উপলক্ষে আয়োজিত ধর্মসভার মঙ্গল প্রদীপ প্রজ্জ্বলনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা করেন আনোয়ারা ওঁকারেশ্বরী গীতাশ্রমের সাধক শ্রীমৎ স্বামী মহাব্রতানন্দ অবদূত (মানিক)।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য অংসুইপ্রু চৌধুরী, ত্রিদীব কান্তি দাশ, কাউখালী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান চৌচামং চৌধুরী, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এরশাদ সরকার, কলমতি ইউপি চেয়ারম্যান ক্যজাই মারমা, ধর্মীয় আলোচক শ্রী কল্পতরু ভট্টাচার্য্য।

অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, ধর্মসভা উদযাপন কমিটির সভাপতি টুন্টুলাল দে, সাধারণ সম্পাদক স্বপন কান্তি সাহা প্রমূখ।




কাউখালীতে দিনব্যাপী উন্নয়ন মেলা অনুষ্ঠিত

kawkhali-news-pic-copy

কাউখালী প্রতিনিধি:

সরকারের বিভিন্ন সাফল্যের চিত্র তুলে ধরে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে কাউখালীতে দিনব্যাপী উন্নয়ন মেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ উপলক্ষে সকাল ১০টায় এক র‌্যালি কাউখালী উপজেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক পদক্ষিণ শেষে পরিষদ মাঠে সমাপ্ত হয়।

প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে ৩৩স্টল বিশিষ্ট উন্নয়ন মেলার উদ্বোধন করেন উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান চৌচামং চৌধুরী, এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা নির্বাহী অফিসার আফিয়া আখতার। এতে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান, এ্যানী চাকমা, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. সফিকুল ইসলাম, সমবায় কর্মকর্তা আশীষ কুমার দাশ, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা কমল বরণ সাহা। অনুষ্ঠানে রাজনৈকি ব্যক্তিবর্গ ছাড়াও সব শ্রেণী পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন। পরে প্রধান অতিথি মেলার স্টলগুলো ঘুরে দেখেন।

মেলায় সরকারী বিভিন্ন দপ্তর ছাড়াও এনজিও, ইউনিয়ন পরিষদ সমূহ এবং স্কুল কলেজের প্রায় ৩৩টি স্টল অংশ গ্রহণ করে। এতে গেল বছরগুলোতে সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মসূচীর সচিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়। মেলায় নারী পুরুষের অংশগ্রহণ ছিল চোখে পড়ার মত।

মেলা শেষে বিকেলে আয়োজন করা হয় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এতে সরকারের সাফল্য তুলে ধরে ভিন্নধর্মী গান পরিবেশন করা হয়।




অতিরিক্ত মদ পানে কাউখালীতে উপজাতীয় যুবকের মৃত্যু

মাদক সেবনে মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিনিধি ॥

কাউখালী উপজেলার বেতবুনিয়া এলাকায় শুক্রবার সকালে মদপান করে এক উপজাতীয় যুবকের মৃত্যু ঘটেছে। উপজেলার বেতবুনিয়া পশ্চিম মনাই পাড়া এলাকার আপুসি মারমার ছেলে অং প্রু মারমা (৩০) শুক্রবার রাত্রে অধিক পরিমান মদ পান করে ভোর রাত্রে একই পাড়ায় তার বড় বোনের বাসায় যাওয়ার পথে পাহাড়ী এলাকায় পড়ে গিয়ে মারা যায়।

সকালে গ্রামের লোকজন খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে এসে তাকে মৃত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখতে পেয়ে বেতবুনিয়া পুলিশ ফাঁড়িতে খবর দিলে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে পোষ্ট মর্টেমের জন্য রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতালে প্রেরণ করে।

এ ব্যাপারে কাউখালী থানায় একটি ইউডি মামলা হয়েছে বলে বেতবুনিয়া পুলিশ ফাঁড়ির আইসি এস আই মোঃ আমিনুল ইসলাম নিশ্চিত করেছেন। কাউখালী থানার ইউডি মামলা নম্বার-১,তারিখ-০৬.০১.১৭ইং




শান্তিচুক্তির ১৯ বছর পূর্তিকে ঘিরে কাউখালীতে জেএসএস’র কোটি টাকার চাঁদাবাজী

%e0%a6%a4%e0%a6%95%e0%a6%b9%e0%a6%ac

পার্বত্যনিউজ রিপোর্ট:

২ ডিসেম্বর পার্বত্য শান্তি চুক্তির ১৯ বছর পূর্তিকে ঘিরে কাউখালীতে জনসংহতি সমিতি (জেএসএস) ও অংগসংগঠনগুলোর বিরুদ্ধে ব্যাপক চাঁদাবাজীর অভিযোগ পাওয়া গেছে। এক কোটি টাকা টার্গেট নির্ধারণ করে গত এক মাস যাবৎ ম্যারাথন কর্মসূচীর মাধ্যমে এ টাকা আদায় করা হচ্ছে বলে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে।

২ ডিসেম্বর পার্বত্য শান্তিচুক্তির ১৯ বছর পূর্তি। প্রতি বছর এ দিনে রাঙ্গামাটিতে ব্যাপক শো’ডাউন করে থাকে সন্তু লারমার জনসংহতি সমিতি। এ বছরও দিবসটি পালনের লক্ষ্যে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে জনসংহতি সমিতি (জেএসএস) ও তাদের ছাত্র সংগঠন পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ।

এ কর্মসূচী বাস্তবায়ন করতে শুধু কাউখালীতেই টার্গেট করা হয়েছে এক কোটি টাকা। এ টার্গেট পূরণ করতে চাঁদা আদায়ের ম্যারাথন কর্মসূচী হাতে নেয় তারা। এ লক্ষ্যে গত এক মাস যাবৎ কাউখালী ও এর আশেপাশের এলাকাগুলো চষে বেড়াচ্ছেন জনসংহতি সমিতি (জেএসএস) ও তাদের ছাত্র সংগঠনের নেতারা।

কোটি টাকা আদায়ে সংগঠনটি যেসব প্রতিষ্ঠানগুলো টার্গেট করেছে এর মধ্যে রয়েছে গাছ, বাঁশ, সরকারী চাকুরীজীবী, বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও ব্রিকফিল্ড। ইতোমধ্যেই উপজেলার প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের কাছ থেকে মাথাপিছু এক হাজার টাকা নির্ধারণ করে তা যথাসময়ে পাঠিয়ে দিতে মুঠোফোনে ক্ষুদে বার্তা পাঠানো হয়েছে।

যথা সময়ে নির্ধারিত টাকা পাঠিয়ে দেয়া না হলে সেসব শিক্ষকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার হুমকিও দেয়া হয়েছে। এতে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন দূর্গম অঞ্চলে কর্মরত স্কুল শিক্ষকরা। জীবনের নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে বেশীরভাগ শিক্ষকই টাকা পৌঁছে দিয়েছে বলে জানা গেছে।

এসব শিক্ষকদের মতে পানিতে বাস করে কুমিরের সাথে লড়াই করা ঠিক হবেনা। আবার আতঙ্কিত অনেক শিক্ষক কাউখালী সেনা ক্যাম্পে মৌখিক অভিযোগও করেছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কলমপতি, ঘাগড়া, বেতবুনিয়া ও ফটিকছড়ি ইউনিয়নের অসংখ্য শিক্ষক সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, বিষয়টি স্থানীয় সেনা ক্যাম্পকে অবগত করায় দাদারা ক্ষিপ্ত হয়েছেন।

উপজেলার সরকারী অফিসগুলো ঘুরে জানা গেছে, বেশীরভাগ কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের কাছ থেকে পদ ও পদবী হারে টাকা নির্ধারণ করে দেয়া হয়েছে। এসব সরকারী চাকুরীজিবীরা চাঁদা দেয়ার কথা স্বীকার করলেও নির্ধারিত চাঁদার পরিমাণ কত তা জানাতে অস্বীকৃতি জানান অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারী।

কোটি টাকার লক্ষ পূরণের প্রধান টার্গেট হচ্ছে গাছ ও বাঁশ ব্যবসা। মৌসুমটি গাছ ও বাঁশ ব্যবসার হওয়ায় এসব ব্যবসার সাথে সম্পৃক্ত ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে আদায় করা হবে অন্তত অর্ধ কোটি টাকা। এমন তথ্য পাওয়া গেছে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে।

এছাড়াও তালিকায় রয়েছেন ঠিকাদার, স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সড়কে চলাচলরত গাড়ীগুলো। তবে যেসব ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান ও সড়কে চলাচলরত গাড়ীগুলো জেএসএস থেকে বছর ব্যাপী টোকেন সংগ্রহ করেছেন তাদের কাছ থেকে চাঁদার পরিমাণ কম রাখা হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে নিরাপত্তার স্বার্থে কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান প্রধানের বক্তব্য বা নাম প্রকাশ করা সম্ভব হচ্ছে না।

এসব অভিযোগের বিষয়ে কথা হয় জেএসএস’র কেন্দ্রীয় তথ্য ও সহ প্রচার সম্পাদ সজীব চাকমার সাথে। তিনি জানান, সারাদেশে যেভাবে চলছে আমাদের নেতা কর্মীরাও সাধারণ মানুষের কাছ থেকে সেভাবে সহযোগিতা নিচ্ছে। এটাকে কোন ক্রমেই চাঁদাবাজি বলা যাবেনা।

তিনি আরো জানান, সবার সাথে আলোচনা স্বাপেক্ষে কর্মসূচী পালনের জন্য টাকা আদায় করা হচ্ছে। কাউকে জোর করে টাকা নেয়া হচ্ছেনা।

এ বিষয়ে জেএসএস কাউখালী উপজেলা সভাপতি সুবাষ চাকমার মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করেও ফোন বন্ধ থাকায় কথা বলা সম্ভব হয়নি।

এদিকে জেএসএস’র লাগামহীন চাঁদাবাজীর তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন, বাঙ্গালী ছাত্র পরিষদ কাউখালী উপজেলা শাখার সভাপতি মোঃ আব্দুল্লাহ তুহিন। তিনি জানান, জেএসএস’র চাঁদাবাজীর পরিধি আগের তুলনায় দ্বিগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।

কোটি টাকা চাঁদার লক্ষ্য পূরণ করতে তারা এবার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোও টার্গেট করে অসহায় শিক্ষকদের হয়রানি করছে। তিনি জেএসএস’র চাঁদাবাজী বন্ধে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের জোর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

কাউখালী থানার ওসি আব্দুল করিম জানান, বিষয়টি আমি অনেকের মুখে শুনেছি। তবে কেউ লিখিত অভিযোগ না করলে সেক্ষেত্রে আমাদের করার কিছু থাকে না।