নতুন লাইনের সংস্কার দেখিয়ে ৩৬ লাখ টাকা লোপাটের পাঁয়তারা

Kaukhali pdb xen corruption news pic-2-15-01-2017 copy

কাউখালী প্রতিনিধি:

পার্বত্য চট্টগ্রাম বিদ্যুতায়ন প্রকল্পের অধীনে কাউখালী সাবস্টেশনের ৩৩ কেভির সম্পূর্ণ নতুন সংযোগ লাইন স্থাপনে ব্যয় হয়েছিল ২২ লাখ টাকার মতো। যদিও এখনো কাজটির ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান উত্তরা এন্টারপ্রাইজ তাদের জামানতের অর্থও উত্তোলন করেনি। কিন্তু এরই মধ্যে বছর না পেরোতেই নতুন এ লাইনটির সংস্কার কাজ দেখিয়ে বিতরণ বিভাগ থেকে ভিন্ন ঠিকাদারকে বরাদ্ধ দেয়া হয়েছে ৩৬ লাখ টাকা।

অভিযোগ উঠেছে সরকারী অর্থ লোপাটের জন্যই রাঙ্গামাটি বিদ্যুৎ বিতরণ বিভাগের অতি উৎসাহি নির্বাহী প্রকৌশলী সবুজ কান্তি মজুমদার ঠিকাদারের সাথে যোগসজস করে কাগজেপত্রে ২০ আইটেমে ৩১টি কাজ দেখিয়ে নিয়ম বহির্ভূতভাবে ওই কার্যাদেশটি দিয়েছে।

শুধু তাই নয়, নতুন সঞ্চালন লাইনের ক্যাবল বদলানো হয়েছে ২০১৬ সালের জুলাই মাসে। কিন্তু ঠিকাদারকে কাজটির কার্যাদেশ দেয়া হয়েছে ৬ মাস পরে ডিসেম্বরে। আবার ঠিকাদার কাজ প্রায় শেষ করেছে দাবী করলেও প্রকৌশলী বলছে এখনো শেষ হয়নি। ইতিমধ্যে অত্যন্ত গোপনে বরাদ্ধের অর্থ উত্তোলনের তোরজোড় শুরু হলে বেঁকে বসে ভাণ্ডার রক্ষক। কার্যাদেশের শর্তানুযায়ি পুরনো মালামাল ভাণ্ডারে জমা দিয়ে প্রয়োজনীয় নতুন মালামাল ইস্যু করার কাজটি শুধুমাত্র ‘কাগজেপত্রে’ দেখিয়ে ভাণ্ডার রক্ষককে স্বাক্ষর দিতে চাপ দেওয়ায় বিষয়টি ফাঁস হয়ে পড়ে। এখন দেওয়া হচ্ছে ভাণ্ডার রক্ষককে বদলীর হুমকিও।

৩০ দিনের মধ্যে কাজ সম্পন্নের সময় বেধে দিয়ে ৮ ডিসেম্বর ২০১৬ রাঙামাটি ভেদভেদির ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মেসার্স কাজী ইঞ্জিনিয়ার্স’র স্বত্ত্বাধিকারী কাজী নিজামকে কার্যাদেশটি দেন রাঙামাটি বিতরণ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী সবুজ কান্তি মজুমদার। যার স্মারক নম্বর- বিবি-রাংগা/সিবা-১৮/২০১৬/৫১৯, তারিখ-০৮/১২/২০১৬ খ্রিস্টাব্দ। ওয়ার্কঅর্ডারে বলা হয়েছে ৩৩ কেভি হাটহাজারী-রাঙ্গামাটি সঞ্চালন লাইন হতে রাণীরহাট-কাউখালী ইন-আউট ডাবল সার্কিট অংশের কন্ডাক্টর পরিবর্তন, পোল পরিবর্তনসহ আনুষাঙ্গিক সংরক্ষণ, মেরারমত ও পদ্ধতি উন্নয়ন কাজ। অথচ শুধুমাত্র তার (ক্যাবল) বদলানো ছাড়া কোনটিরই প্রয়োজন নেই বলে জানা গেছে।

লিমিটেড টেন্ডার মেথড দেখিয়ে সর্বনিম্ন ৩৫,৯,৯৯৭২.৫০ টাকা দর দেখানো হয়েছে। কথিত মূল্যায়ন কমিটির সুপারিশে চট্টগ্রাম বিউবো বিতরণ দক্ষিণাঞ্চল’র প্রধান প্রকৌশলী প্রকল্পটি অনুমোদন করেছে। একাধিক ঠিকাদার নাম প্রকাশ না করার শর্তে অভিযোগ করে, গণমাধ্যমে বিজ্ঞাপন প্রচার আর উন্মুক্ত টেন্ডার হলে ব্যাপক ঠিকাদার অংশ নিতো। এছাড়া সত্যিকারভাবে কথিত কাজটি করা হলেও সর্বোচ্চ ৫ লাখ টাকায় সম্পন্ন করা যেতো। এতে সরকারের আরও ৩১ লাখ টাকা সাশ্রয় হতো।

সরেজমিন ঘটনাস্থল ঘুরে স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা গেছে, ২০১৬ জুলাই মাসে ১২৪টি পোলের শুধুমাত্র ৬টি ডক তার (ইন্সুলেটেড ক্যাবল) বদলিয়ে এসিএসআর ক্যাবল (উন্মুক্ত তার) পুন.স্থাপন করে মেসার্স কাজী ইঞ্জিনিয়ার্স। কার্যাদেশ পর্যবেক্ষণ করে দেখা গেছে সিডিউলের ৭নম্বর আইটেমে এ ৬টি ডক তারের মোট দৈর্ঘ্য উল্লেখ আছে ৪৫.৫ কিলোমিটার, আর এজন্য বরাদ্ধ দেয়া হয়েছে ১লাখ ২৭ হাজার চারশত টাকা।  আর খুলে ফেলা এসব ইন্সুলেটেড ক্যাবল পথে পথে পড়ে আছে অরক্ষিতভাবে। বিদ্যুৎ বিভাগের ভাণ্ডারে জমা দেওয়ার কথা থাকলেও তা করা হয়নি। যে কোন সময় এসব মূল্যবান সামগ্রি চুরি হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

কাজের অগ্রগতি নিয়ে কথা হয় উপজেলার ছিদ্দিক-ই আকবর দাখিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ আব্দুর রাজ্জাক তালুকদার, বেতছড়ির আমির উদ্দিন, ইউসুফ, গোদারপাড়ের সিরাজ ড্রাইভার, ব্যবসায়ি বেলাল, খামার পাড়ার ব্যবসায়ি শহীদের সাথে। তারা জানায় ২০১৬সালের জুলাই মাসে শুধু পুলের তার (ক্যাবল) পরিবর্তন করা হয়েছে। এছাড়া অন্য কোন কাজ করতে কেউ আসেনি।

মেসার্স কাজী ইঞ্জিনিয়ার্স’র স্বত্ত্বাধিকারী কাজী নিজাম উন্মুক্ত টেন্ডারে কাজ পেয়েছেন দাবী করে বলেন, কর্তৃপক্ষের নির্দেশে ওয়াকঅর্ডার পাওয়ার ৬ মাস আগেই কাজ করে রেখেছি। দু-একটা ছাড়া ইতিমধ্যে কাজও প্রায় শেষ করেছি। যদিও উন্মুক্ত টেন্ডারে কাজ পাওয়ার অনিশ্চয়তা থাকা সত্বেও কিভাবে ৬ মাস আগেই কাজ করেছেন এমন প্রশ্নের জবাব দিতে পারেননি তিনি। বলেন, কার্যাদেশ না পাওয়ায় মালামাল ভাণ্ডারে জমা দিতে পারিনি, পথেই রাখতে হয়েছে।

ভাণ্ডার রক্ষক হুমায়ুন কবীর রতন বলেন, আসলে পুরো প্রক্রিয়াটি গোপনেই হচ্ছিলো, আমি মালামাল গ্রহণ ও ইস্যুর কাগজে স্বাক্ষর করলেই কাগুজে প্রকল্পটি সম্পন্ন দেখানো হতো। না করায় এখন বদলীর হুমকি দেওয়া হচ্ছে নানা মহল থেকে।

সদ্য নির্মিত ৩৩ কেভি সঞ্চালন লাইনের তদারকি কর্মকর্তা ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিদ্যুতায়ন প্রকল্পের সহাকারী প্রকৌশলী নুরুল আলম। রবিবার দুপুরে তিনি জানান, কাজ কমপ্লিট করে ডিভিশনকে হস্তান্তর করে দিয়েছি। বারবার ক্যাবল ছিড়ে পড়ায় ৩৩ কেভি সঞ্চালন লাইনের মেইন কাজ হলো ক্যাবল (তার) পরিবর্তন। কাজ ও বরাদ্ধ দেওয়া নিয়ে নতুন সিডিউল না দেখে কোন মন্তব্য করতে রাজি না হওয়া এ প্রকৌশলী তার অফিসে দেখা করার অনুরোধ জানায়।

উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী চিংহলা মং মারমাকে কাজটির ভারপ্রাপ্ত প্রকৌশলী নিযুক্ত করা হয়েছে। শনিবার পৌনে তিনটার দিকে তার সেল ফোনে কথা হলে তিনি এখনো প্রচুর কাজ বাকি আছে বলেই ফোনটি ধরিয়ে দেন নির্বাহী প্রকৌশলী সবুজ কান্তি মজুমদারকে।

নির্বাহী প্রকৌশলী সবুজ কান্তি মজুমদার জানান, আগে প্রজেক্ট থেকে কাজটি করা হয়েছে। এখন প্রয়োজন হওয়ায় আমি বিতরণ বিভাগ থেকে নতুন বরাদ্ধে কার্যাদেশ দিয়েছি। শুধু তার পরিবর্তন নয়, সিস্টেম ডেভেলপমেন্টের জন্য আনুষাঙ্গিক কাজ হবে।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, কাজ এখনও শেষ হয়নি। বিদ্যুৎ জরুরী বিভাগ হওয়ায় অনেক কাজ আগাম করার নিয়ম আছে। জামানত থাকাবস্থায় ২২ লাখ টাকায় সম্পন্ন হওয়া সম্পূর্ণ নতুন লাইনে ঘটা করে কেন ৩৬ লাখ টাকার সংস্কার কাজ করতে হবে প্রশ্নের জবাবে তিনি এ প্রতিবেদককে তার অফিসে দেখা করতে বলেন।

 




ধার্মিকতা না থাকলে পৃথিবী থেকে সভ্যতা বিলুপ্ত হয়ে যেতো: দীপংকর তালুকদার

Kawkhali News pci copy

কাউখালী প্রতিনিধি:

সাবেক প্রতিমন্ত্রী দীপংকর তালুকদার বলেছেন, প্রকৃত ধার্মিকরা কখনো অন্য ধর্ম কিংবা গোষ্ঠির ক্ষতিসাধন করতে পারে না। ধার্মিকতা না থাকলে পৃথিবী থেকে সভ্যতা বিলুপ্ত হয়ে যেতো। ধর্মের ভয় আছে বলেই প্রতিটা জাতি এত উন্নত। শুক্রবার সন্ধ্যায় কাউখালী শ্রী শ্রী গীতা মন্দির আয়োজিত ২দিন ব্যাপী ধর্মসভার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন ।

বড়ডলু সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মিলন কান্তি দে’র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ৫ম উত্তরায়ন সংক্রান্তি উদযাপন উপলক্ষে আয়োজিত ধর্মসভার মঙ্গল প্রদীপ প্রজ্জ্বলনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা করেন আনোয়ারা ওঁকারেশ্বরী গীতাশ্রমের সাধক শ্রীমৎ স্বামী মহাব্রতানন্দ অবদূত (মানিক)।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য অংসুইপ্রু চৌধুরী, ত্রিদীব কান্তি দাশ, কাউখালী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান চৌচামং চৌধুরী, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এরশাদ সরকার, কলমতি ইউপি চেয়ারম্যান ক্যজাই মারমা, ধর্মীয় আলোচক শ্রী কল্পতরু ভট্টাচার্য্য।

অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, ধর্মসভা উদযাপন কমিটির সভাপতি টুন্টুলাল দে, সাধারণ সম্পাদক স্বপন কান্তি সাহা প্রমূখ।




কাউখালীতে দিনব্যাপী উন্নয়ন মেলা অনুষ্ঠিত

kawkhali-news-pic-copy

কাউখালী প্রতিনিধি:

সরকারের বিভিন্ন সাফল্যের চিত্র তুলে ধরে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে কাউখালীতে দিনব্যাপী উন্নয়ন মেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ উপলক্ষে সকাল ১০টায় এক র‌্যালি কাউখালী উপজেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক পদক্ষিণ শেষে পরিষদ মাঠে সমাপ্ত হয়।

প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে ৩৩স্টল বিশিষ্ট উন্নয়ন মেলার উদ্বোধন করেন উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান চৌচামং চৌধুরী, এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা নির্বাহী অফিসার আফিয়া আখতার। এতে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান, এ্যানী চাকমা, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. সফিকুল ইসলাম, সমবায় কর্মকর্তা আশীষ কুমার দাশ, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা কমল বরণ সাহা। অনুষ্ঠানে রাজনৈকি ব্যক্তিবর্গ ছাড়াও সব শ্রেণী পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন। পরে প্রধান অতিথি মেলার স্টলগুলো ঘুরে দেখেন।

মেলায় সরকারী বিভিন্ন দপ্তর ছাড়াও এনজিও, ইউনিয়ন পরিষদ সমূহ এবং স্কুল কলেজের প্রায় ৩৩টি স্টল অংশ গ্রহণ করে। এতে গেল বছরগুলোতে সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মসূচীর সচিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়। মেলায় নারী পুরুষের অংশগ্রহণ ছিল চোখে পড়ার মত।

মেলা শেষে বিকেলে আয়োজন করা হয় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এতে সরকারের সাফল্য তুলে ধরে ভিন্নধর্মী গান পরিবেশন করা হয়।




অতিরিক্ত মদ পানে কাউখালীতে উপজাতীয় যুবকের মৃত্যু

মাদক সেবনে মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিনিধি ॥

কাউখালী উপজেলার বেতবুনিয়া এলাকায় শুক্রবার সকালে মদপান করে এক উপজাতীয় যুবকের মৃত্যু ঘটেছে। উপজেলার বেতবুনিয়া পশ্চিম মনাই পাড়া এলাকার আপুসি মারমার ছেলে অং প্রু মারমা (৩০) শুক্রবার রাত্রে অধিক পরিমান মদ পান করে ভোর রাত্রে একই পাড়ায় তার বড় বোনের বাসায় যাওয়ার পথে পাহাড়ী এলাকায় পড়ে গিয়ে মারা যায়।

সকালে গ্রামের লোকজন খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে এসে তাকে মৃত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখতে পেয়ে বেতবুনিয়া পুলিশ ফাঁড়িতে খবর দিলে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে পোষ্ট মর্টেমের জন্য রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতালে প্রেরণ করে।

এ ব্যাপারে কাউখালী থানায় একটি ইউডি মামলা হয়েছে বলে বেতবুনিয়া পুলিশ ফাঁড়ির আইসি এস আই মোঃ আমিনুল ইসলাম নিশ্চিত করেছেন। কাউখালী থানার ইউডি মামলা নম্বার-১,তারিখ-০৬.০১.১৭ইং




শান্তিচুক্তির ১৯ বছর পূর্তিকে ঘিরে কাউখালীতে জেএসএস’র কোটি টাকার চাঁদাবাজী

%e0%a6%a4%e0%a6%95%e0%a6%b9%e0%a6%ac

পার্বত্যনিউজ রিপোর্ট:

২ ডিসেম্বর পার্বত্য শান্তি চুক্তির ১৯ বছর পূর্তিকে ঘিরে কাউখালীতে জনসংহতি সমিতি (জেএসএস) ও অংগসংগঠনগুলোর বিরুদ্ধে ব্যাপক চাঁদাবাজীর অভিযোগ পাওয়া গেছে। এক কোটি টাকা টার্গেট নির্ধারণ করে গত এক মাস যাবৎ ম্যারাথন কর্মসূচীর মাধ্যমে এ টাকা আদায় করা হচ্ছে বলে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে।

২ ডিসেম্বর পার্বত্য শান্তিচুক্তির ১৯ বছর পূর্তি। প্রতি বছর এ দিনে রাঙ্গামাটিতে ব্যাপক শো’ডাউন করে থাকে সন্তু লারমার জনসংহতি সমিতি। এ বছরও দিবসটি পালনের লক্ষ্যে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে জনসংহতি সমিতি (জেএসএস) ও তাদের ছাত্র সংগঠন পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ।

এ কর্মসূচী বাস্তবায়ন করতে শুধু কাউখালীতেই টার্গেট করা হয়েছে এক কোটি টাকা। এ টার্গেট পূরণ করতে চাঁদা আদায়ের ম্যারাথন কর্মসূচী হাতে নেয় তারা। এ লক্ষ্যে গত এক মাস যাবৎ কাউখালী ও এর আশেপাশের এলাকাগুলো চষে বেড়াচ্ছেন জনসংহতি সমিতি (জেএসএস) ও তাদের ছাত্র সংগঠনের নেতারা।

কোটি টাকা আদায়ে সংগঠনটি যেসব প্রতিষ্ঠানগুলো টার্গেট করেছে এর মধ্যে রয়েছে গাছ, বাঁশ, সরকারী চাকুরীজীবী, বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও ব্রিকফিল্ড। ইতোমধ্যেই উপজেলার প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের কাছ থেকে মাথাপিছু এক হাজার টাকা নির্ধারণ করে তা যথাসময়ে পাঠিয়ে দিতে মুঠোফোনে ক্ষুদে বার্তা পাঠানো হয়েছে।

যথা সময়ে নির্ধারিত টাকা পাঠিয়ে দেয়া না হলে সেসব শিক্ষকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার হুমকিও দেয়া হয়েছে। এতে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন দূর্গম অঞ্চলে কর্মরত স্কুল শিক্ষকরা। জীবনের নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে বেশীরভাগ শিক্ষকই টাকা পৌঁছে দিয়েছে বলে জানা গেছে।

এসব শিক্ষকদের মতে পানিতে বাস করে কুমিরের সাথে লড়াই করা ঠিক হবেনা। আবার আতঙ্কিত অনেক শিক্ষক কাউখালী সেনা ক্যাম্পে মৌখিক অভিযোগও করেছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কলমপতি, ঘাগড়া, বেতবুনিয়া ও ফটিকছড়ি ইউনিয়নের অসংখ্য শিক্ষক সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, বিষয়টি স্থানীয় সেনা ক্যাম্পকে অবগত করায় দাদারা ক্ষিপ্ত হয়েছেন।

উপজেলার সরকারী অফিসগুলো ঘুরে জানা গেছে, বেশীরভাগ কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের কাছ থেকে পদ ও পদবী হারে টাকা নির্ধারণ করে দেয়া হয়েছে। এসব সরকারী চাকুরীজিবীরা চাঁদা দেয়ার কথা স্বীকার করলেও নির্ধারিত চাঁদার পরিমাণ কত তা জানাতে অস্বীকৃতি জানান অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারী।

কোটি টাকার লক্ষ পূরণের প্রধান টার্গেট হচ্ছে গাছ ও বাঁশ ব্যবসা। মৌসুমটি গাছ ও বাঁশ ব্যবসার হওয়ায় এসব ব্যবসার সাথে সম্পৃক্ত ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে আদায় করা হবে অন্তত অর্ধ কোটি টাকা। এমন তথ্য পাওয়া গেছে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে।

এছাড়াও তালিকায় রয়েছেন ঠিকাদার, স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সড়কে চলাচলরত গাড়ীগুলো। তবে যেসব ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান ও সড়কে চলাচলরত গাড়ীগুলো জেএসএস থেকে বছর ব্যাপী টোকেন সংগ্রহ করেছেন তাদের কাছ থেকে চাঁদার পরিমাণ কম রাখা হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে নিরাপত্তার স্বার্থে কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান প্রধানের বক্তব্য বা নাম প্রকাশ করা সম্ভব হচ্ছে না।

এসব অভিযোগের বিষয়ে কথা হয় জেএসএস’র কেন্দ্রীয় তথ্য ও সহ প্রচার সম্পাদ সজীব চাকমার সাথে। তিনি জানান, সারাদেশে যেভাবে চলছে আমাদের নেতা কর্মীরাও সাধারণ মানুষের কাছ থেকে সেভাবে সহযোগিতা নিচ্ছে। এটাকে কোন ক্রমেই চাঁদাবাজি বলা যাবেনা।

তিনি আরো জানান, সবার সাথে আলোচনা স্বাপেক্ষে কর্মসূচী পালনের জন্য টাকা আদায় করা হচ্ছে। কাউকে জোর করে টাকা নেয়া হচ্ছেনা।

এ বিষয়ে জেএসএস কাউখালী উপজেলা সভাপতি সুবাষ চাকমার মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করেও ফোন বন্ধ থাকায় কথা বলা সম্ভব হয়নি।

এদিকে জেএসএস’র লাগামহীন চাঁদাবাজীর তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন, বাঙ্গালী ছাত্র পরিষদ কাউখালী উপজেলা শাখার সভাপতি মোঃ আব্দুল্লাহ তুহিন। তিনি জানান, জেএসএস’র চাঁদাবাজীর পরিধি আগের তুলনায় দ্বিগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।

কোটি টাকা চাঁদার লক্ষ্য পূরণ করতে তারা এবার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোও টার্গেট করে অসহায় শিক্ষকদের হয়রানি করছে। তিনি জেএসএস’র চাঁদাবাজী বন্ধে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের জোর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

কাউখালী থানার ওসি আব্দুল করিম জানান, বিষয়টি আমি অনেকের মুখে শুনেছি। তবে কেউ লিখিত অভিযোগ না করলে সেক্ষেত্রে আমাদের করার কিছু থাকে না।




কাউখালীতে নবান্নের পিঠা উৎসব পরিণত হলো নারী পুরুষের মিলন মেলায়

kawkhali-news-pic-28-11-16-2-copy

কাউখালী প্রতিনিধি:

‘এসো মিলি সবে নাবান্নের উৎসবে’ এ স্লোগানকে সামনে  রেখে এই প্রথমবারের মত কাউখালীতে পালিত হলো নবান্নের পিঠা উৎসব। সোমবার সকালে বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানমালার মাধ্যমে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে পরিষদ মাঠে আয়োজন করা হয় এ উৎসবের।

কাউখালী উপজেলা চেয়ারম্যান চৌচামং চৌধুরী নবান্নের পিঠা উৎসব-২০১৬ এর উদ্বোধন করেন। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাঙ্গামাটি অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সার্বিক আবু শাহেদ মোস্তাফা। এতে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা নির্বাহী অফিসার আফিয়া আখতার, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মংসুইউ চৌধুরী, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান এ্যানি চাকমা কৃপা, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা কমল বরণ সাহা, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার বাহার মিয়া প্রমূখ। উদ্বোধন শেষে স্টলগুলো ঘুরে দেখেন অতিথি বৃন্দ।

এতে মোট এগারোটি স্টল অংশগ্রহণ করে। অংশগ্রহণকারী স্টল গুলো হলো উপজেলা প্রশাসন, বেতুনিয়া ইউপি, ঘাগড়া ইউপি, কলমপতি ইউপি, ফটিকছড়ি ইউপি, প্রাথমিক শিক্ষা অফিস, মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস, কাউখালী কলেজ, মোঃ আলাউদ্দিন, সূর্যের হাসি ক্লিনিক, বিআরডিবি।

স্টল গুলোতে সাধারণ দর্শনার্থীদের জন্য গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী পিঠাগুলো ভোজের আয়োজনও করা হয়। প্রথমবার কাউখালীতে এমন আয়োজনে স্টলগুলোতে ছিল নারী পুরুষের উপচে পড়া ভিড়। এ সময় সংক্ষিপ্ত বক্তব্য অতিথিরা বলেন, গ্রাম বাংলার হাজার বছরের সংস্কৃতি পিঠা উৎসব আমাদের মধ্যে নব-প্রেরণার সৃষ্টি করে। অগ্রাহায়ণ মাস এলেই বাংলার ঘরে ঘরে আনন্দের বন্যা দেখা দেয়। আজ গ্রাম-বাংলার মাঠে মাঠে পাকা ধান কৃষক সমাজসহ সকলকে জানান দিচ্ছে সোনালী বার্তা। নবান্নের উৎসব আমাদের মধ্যে যে আনন্দের সৃষ্টি করে তা যেন জাগ্রত থাকে যুগ থেকে যুগান্তড়ে। আজকের এই দিনটি আমাদের কাছে অত্যান্ত স্মরণীয় ও আনন্দঘন মুহূর্ত। আগামীতেও এ ধারা অব্যাহত রাখতে তিনি সকলের প্রতি আহ্বান জানান।

সোমবার বিকেলে নবান্নের পিঠা উৎসবে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে বেশি সংখ্যক গ্রাম-বাংলার পিঠা প্রদর্শনীর জন্য উদযাপন কমিটি, কলমপতি ইউনিয়নকে প্রথম, প্রাথমিক শিক্ষাক অফিসকে দ্বিতীয় ও মোঃ আলাউদ্দিনকে তৃতীয় লাভ করা পুরস্কৃত করা হয়। এছাড়া উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে অংগ্রহণকারী সকলের মাঝে পুরষ্কার তুলে দেন অতিথি বৃন্দ।




ডাচ-বাংলা এজেন্ট ব্যাংকিং কাউখালী শাখার উদ্বোধন

kawkhali-news-pic-28-11-16-copy

কাউখালী প্রতিনিধি:

ব্যাংকিং সেবাকে গ্রাম পর্যায়ে পৌঁছে দিতে ডাচ-বাংলা ব্যাংক কাউখালীতে চালু করলো ডাচ-বাংলা এজেন্ট ব্যাংকিং। সোমবার সকাল ১১ টায় শাখা কার্যক্রম উদ্বোধন উপলক্ষে কাউখালী প্রেসক্লাব চত্ত্বরে এক আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।

ত্রিমাত্রিক কাউখালী শাখার প্রধান নির্বাহী মোহাম্মদ ওমর ফারুকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান চৌচামং চৌধুরী। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার আফিয়া আখতার, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান এন্যানি চাকমা, ভাইস চেয়ারম্যান মংসিউ চৌধুরী, ডাচ-বাংলা ব্যাংকের আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ নাজমুল ইসলাম।

এতে অন্যানের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মোঃ বাহার মিয়া, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এরশাদ সরকার প্রমূখ।




কাউখালী উপজেলা ফুটবল টুর্ণামেন্টের ফাইনাল খেলা সমাপ্ত

kawkhali-sports-news-pic-01-24-11

কাউখালী প্রতিনিধি:

কাউখালী উপজেলার বেতবুনিয়া দিশারী সংঘের আয়োজনে কাউখালী উপজেলা ফুটবল টুর্ণামেন্ট ফাইনাল খেলা বৃহস্পতিবার সমাপ্ত হয়েছে। ফাইনাল খেলায় টাইব্রেকারে শ্রমিক একাদশ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে। এতে স্বাধীন বাংলা একাদশ রানার্স হয়।

রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ সদস্য ও কাউখালী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অংসুই প্রু চৌধুরী ফাইনাল খেলায় প্রধান  অথিতি হিসেবে উপস্থিত থেকে বিজয়ীদের মধ্যে পুরষ্কার বিতরন করেন।

বৃহস্পতিবার বিকেলে ডাকবাংলো মাঠে অনুষ্ঠিত এ ফাইনাল খেলা শেষে বিজয়ীদের মধ্যে পুরষ্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে অংসুই প্রু চৌধুরী বলেছেন, খেলাধুলার চর্চা থাকলে যে কোন অন্যায় কাজ থেকে বিরত থাকা যায়। বিনোদন মানুষকে যেভাবে উজ্জীবিত রাথে তেমনি শরীর মন এবং এলাকায় শান্তি শৃঙ্খলা বজায় থাকে। তিনি খেলাধুলার উন্নয়ন এবং এ ধারা অব্যাহত রাখতে সকলের সহযোগীতা কামনা করেন।

এ সময় অন্যান্যর মধ্যে বক্তব্য রাখেন বেতবুনিয়া ইউপি চেয়ারম্যান খইচাবাই তালুকদার, সাবেক চেয়ারম্যান সামশুদোহা চৌধুরী, বেতবুনিয়া দিশারী সংঘের কর্মকর্তা মাঈন উদ্দিন খোকা, সালাউদ্দিন হামিদ মঞ্জু, কেএম বশির উদ্দিন প্রমূখ। ফাইনাল খেলায় রেফারীর দায়িত্ব পালন করেন  মতিউর রহমান।




কাউখালীতে ট্রাক চাপায় একজন নিহত

kawkhali-road-accident-news-pic

কাউখালী প্রতিনিধি :

চট্টগ্রাম-রাঙামাটি সড়কে কাউখালীর বেতবুনিয়া আমতল এলাকায় ট্রাক চাপায় একজন নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে ছটায় মর্মান্তি এ সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে। কাউখালী থানার ওসি আব্দুল করিম ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন। তবে নিহত ব্যক্তির পরিচয় নিশ্চিত করতে পারেননি।

বেতবুনিয় পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য রাঙামাটির মর্গে প্রেরণ করেছে। দুর্ঘটনার পর ট্রাকটি পালিয়ে যাওয়ায় কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি। এ ব্যাপারে কাউখালী থানায় মামলার পক্রিয়া চলছে।

বেতবুনিয়া ইউপি চেয়ারম্যান খইচাবাই মারমা জানিয়েছেন, নিহত ব্যক্তি পেশায় একজন ভিক্ষুক ও মানসিক প্রতিবন্ধী। সন্ধ্যায় বেতবুনিয়ার নির্জন আমতল এলাকা দিয়ে যাওয়ার সময় পেছন থেকে ট্রাকটি চাপা দেয় তাকে। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। স্থানীয়দের ধারণা সন্ধ্যার পর এ রাস্তা দিয়ে অবৈধ কাঠ বোঝাই অসংখ্য ট্রাক বেপরোয়া গতিতে ছুটে চলে। তাদের ধারণা ট্রাক চাপায় তার মৃত্যু হয়েছে।

সন্ধ্যার পর ঐ এলাকা দিয়ে শ্রমিকরা হেঁটে যাওয়ার সময় রাস্তার পাশে লাশ দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেয়। পরে বেতবুনিয়া পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য রাঙামাটি প্রেরণ করে।




কাউখালীতে দুঃস্থদের মুখে হাসি ফোটাচ্ছে ইফসা’র সমৃদ্ধি কর্মসূচী

kawkhali-ypsa-news-pci-copy

কাউখালী প্রতিনিধি:

স্বাস্থ্য সেবা, দারিদ্র বিমোচন ও সরকারের দেয়া বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মসূচী সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে কাউখালীতে কাজ করে যাচ্ছে বেসরকারী উন্নয়ন সংস্থা ইয়ং পাওয়ার সোস্যাল একশন (ইফসা)। এ উপলক্ষে রবিবার সকাল ১১টায় কলমপতি বোর্ড অফিস চত্ত্বরে এক আলোচনা সভা ও বিশেষ স্বাস্থ্য ক্যাম্পের আয়োজন করে সংস্থাটি। এতে সহায়তা করে কাউখালী উপজেলা প্রশাসন।

উপজেলার কলমপতি ইউনিয়নের নাইল্যাছড়ি গ্রামের আজিরন বেগম (৫৫), তারাবনিয়ার মংচাবাই মারমা (৪৫)। অসচ্ছল সংসারের হাল ধরতে ভিক্ষাবৃত্তিকেই বেছে নিতে হয়েছিল তাদের। মাথা গোঁজার এতটুকু ঠাইও ছিলনা। সহায়তা তো দুরের কথা অনেক চেষ্টা করেও সরকারী বেসরকারি কোন সংস্থা থেকেই ঋণ পাননি।

অবশেষে সে আক্ষেপ ঘুচিয়েছে স্থানীয় বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ইফসা। পেয়েছেন ১ লাখ টাকা অর্থ সহায়তা। এ দিয়ে তারা তৈরী করেছেন মাথা গোঁজার একখানা ঘর সাথে বাচুরসহ দুধের গরু, ঘুচবে সংসারের দৈন্যতা, কিছুটা স্বস্তি এসেছে তাদের জীবনে। আজিরন বেগম প্রাপ্ত টাকা থেকে এক কানি জমিও বন্ধক রেখেছেন।  বেসরকারী উন্নয়ন সংস্থা ইফসার সহায়তা পেয়ে তারা এখন আর ভিক্ষা করেন না।

সকাল ১১টায় শুরু হওয়া বিশেষ স্বাস্থ্য ক্যাম্পের সেবা নিতে দূর দুরান্ত থেকে ছুটে আসেন অন্ত দুই শাতাধিক নারী পুরুষ। এতে দুপুর ২টা পর্যন্ত বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হয়। এছাড়াও সংস্থাটির উদ্যোগে উপজেলার কলমপতি ইউনিয়নের ৯ ওয়ার্ডে লক্ষাধিক টাকা খরচ করে একটি করে সমৃদ্ধি কেন্দ্র খোলা হয়। এতে প্রতিদিন একজন শিক্ষক প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদের কাছ থেকে দৈনিক ক্লাশের পড়া আদায় করে নিবেন।

এছাড়ও এসব কেন্দ্রে সামাজিক বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করার জন্য উন্মোক্ত রাখা হয়েছে। সমৃদ্ধি কেন্দ্রটি পরিচালনার জন্য সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের মেম্বারকে সভাপতি করে ১৩ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করে দেয়া হয়। প্রতিটি কেন্দ্রের তদারকি করবে ইফসা কাউখালী ব্রাঞ্চ। পর্যায়ক্রমে প্রতিটি ওয়ার্ডের সম্বৃদ্ধি কেন্দ্র গুলোতে আয়োজন করা হবে বিশেষ স্বাস্থ্য ক্যাম্পের।

কলমপতি ইউপি চেয়ারম্যান ক্যজাই মারমার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার আফিয়া আখতার, বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, রাঙামাটি জেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ বেবী রানী ত্রিপুরা, কাউখালী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডাঃ প্রদীপ কুমার নাথ, উপজেলা সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার ডাঃ সুরভী দাশ। এতে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি নেতা মোঃ জাহাঙ্গীর হোসেন, আওয়ামী লীগ নেতা আবু তাহের শাহজাহান, দেলোয়ার লিডার, ৫নং ওয়ার্ডের মেম্বার মোঃ দেলোয়ার হোসেন, ইফসার কাউখালী ব্রাঞ্চ ম্যানেজার এনামুল হক শান্ত প্রমূখ।