ভিশন ২০২১ বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট প্রকল্পসমূহের কাজ দ্রুত সময়ে শেষ করার তাগিদ

কাউখালী প্রতিনিধি:

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘোষিত ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত করার ঘোষণাকে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে এ অঞ্চলের উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর কাজ দ্রুত শেষ করার তাগিদ দিয়েছেন পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান ও পার্বত্য সচিব নব বিক্রম কিশোর ত্রিপুরা।

তিনি মঙ্গলবার (১৭ অক্টোবর )কাউখালী উপজেলার বেতবুনিয়া উপগ্রহ-ভূকেন্দ্রে নির্মাণাধীন বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট পরিদর্শন, নবনির্মিত কাউখালী উপজেলা পরিষদ অডিটরিয়াম ও কাউখালী-কচুখালী সড়ক নির্মাণ কাজের উদ্বোধন শেষে নবনির্মিত অডিটরিয়াম মিলনায়তনে এক সভায় একথা বলেন।

কাউখালী উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান চৌচামং চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের ভাইস চেয়ারম্যান (অতিরিক্ত সচিব) তপন কান্তি ঘোষ, রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান চিংকিউ রোয়াজা, কাউখালী উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সম্পাদক মো. বেলাল উদ্দিন, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা কমল বরন সাহা প্রমুখ।

এতে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রনালয়ের যুগ্ম সচিব নাছিরুল আলম, সুদত্ত চাকমা, পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মজিবুল আলম।

নব বিক্রম কিশোর ত্রিপুরা বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘোষিত ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত করার লক্ষ্যে পার্বত্য চট্টগ্রামে ব্যাপক উন্নয়ন কাজ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এ জন্য তিনি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান সমূহকে উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ দ্রুত সময়ের মধ্যে শেষ করার তাগিদ দেন। তিনি বলেন, ৫৪ কোটি টাকার বাজেট নিয়ে যে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের কার্যক্রম পরিচালনা করা হতো সেখানে আজ হাজার কোটি টাকার উন্নয়নের বাজেটে কাজ করা হচ্ছে।

পার্বত্য সচিব বলেন, সরকারের আন্তরিকতার কারণে পার্বত্য চট্টগ্রামে যে সব জায়গায় বিদ্যুৎ পৌঁছাইনি সেখানে ৪৬ কোটি টাকা ব্যয়ে সোলার প্যানেল নির্মাণের প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে। এছাড়া বিলুপ্ত প্রায় বাঁশ শিল্পকে বাঁচাতে এবং পার্বত্য চট্টগ্রামের বসবাসরত সকল সম্প্রদায়ের অর্থনৈতিক উন্নয়নের লক্ষ্যে প্রতিটি উপজেলায় বাঁশ বাগান সৃজন ও মিশ্র ফলদবাগানের প্রকল্প বাস্তবায়ন নারীদের বিশেষ প্রশিক্ষন দেয়ার কথাও বলেন।




রাঙামাটির এনজিও সিসিডিআর এর নির্বাহী পরিচালক আটক

কাউখালী প্রতিনিধি:

কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে রাঙামাটির সাইনবোর্ড সর্বস্ব এনজিও সেন্টার ফর কমিউনিটি ডেভলপমেন্ট এন্ড রিসার্স (সিসিডিআর)’র নির্বাহী পরিচালক জাহিদুল ইসলামকে আটক করেছে পুলিশ।

রবিবার দুপুরে চট্টগ্রামের পাঁচলাইশ থানাধীন কাপাসগোলা এলাকায় নিজ ফ্ল্যাট থেকে তাকে আটক করে কাউখালী থানা পুলিশ। কাউখালীতে গ্রাহকের সঞ্চিত টাকা আত্মসাৎ মামলায় তাকে আটক করা হয়। সোমবার সকালে আটককৃত জাহেদকে আদালতে প্রেরণ করে ৭ দিনের রিমান্ডের আবেদন করে পুলিশ। রাঙামাটি ও বান্দারবানে কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে একাধিক মামলা রয়েছে তার নামে।

কাউখালী থানার অফিসার ইনচার্জ মো. কবির হোসেন জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এসআই ভক্ত চন্দ্র দত্ত ও এএসআই মো. আব্দুল জলিলের নেতৃত্বে ৮ অক্টোবর দুপুরে পুলিশের একটি দল পাচলাইশ থানার সহায়তায় নগরীর কাপাসগোলা অভিযান চালিয়ে নিজ ফ্ল্যাট থেকে তাকে আটক করা হয়। পুলিশ জানায়, তার বিরুদ্ধে গ্রাহকের অর্থ আত্মসাৎ ও প্রতারনার একাধিক মামলা রয়েছে। সংস্থাটির গ্রাহকদের পক্ষে চলতি বছরের ৬ জুন কাউখালী ব্যবসায়ী কল্যাণ পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মো. মাইনুদ্দিনের করা মামলায় তাকে আটক করা হয়।

উল্লেখ্য যে, ৬ জুন গ্রাহকরা সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক জাহেদুল ইসলামকে রাঙ্গুনীয়া গোচরা চমৌনী বাজার থেকে আটক করে কাউখালী থানায় আনার পথে রাঙ্গুনীয়ার সন্ত্রাসীদের একটি গ্রুপের মাধ্যমে জাহেদ নিজেকে উদ্ধার করে। অবশ্য তারা পরে তাকে ৩০ লক্ষ টাকার বিনিময়ে নিরাপদ স্থানে পৌঁছে দেয়। জাহেদ পালিয়ে গেলেও সংস্থাটির অন্য দু’জন প্রোগ্রাম কোঅডিনিটর মো. জালাল উদ্দিন, কাউখালী ব্রাঞ্চ ম্যানেজার লিটন চাকমাকে পুলিশে তুলে দিতে সক্ষম হন।

সূত্র মতে এ সংস্থার মোট ২৭টি শাখা অফিস রয়েছে। তার মধ্যে শুধু কাউখালী ও বান্দারবান থেকে আত্মসাৎ করা হয়েছে প্রায় ১০ কোটি টাকা। অবশিষ্ট শাখা গুলোতেও একই অবস্থা বলে ধারনা করছে পুলিশ। এতে বোঝা যাচ্ছে ২৭টি শাখায় গ্রাহকের আত্মসাৎকৃত টাকা ১০০শ কোটি ছাড়াতে পারে। সোমবার সকালে আলোচিত জাহিদুল ইসলাম আটকের খবরে থানায় ছুটে আসেন প্রায় অর্ধশত গ্রাহক। কিন্তু বিষয়টি আইনি পক্রিয়ায় চলে যাওয়ায় এই মুহুর্তে গ্রাহকের টাকা ফেরৎ পাওয়ার বিষয়টি ঝুলে গেল। ফলে অনেকে হতাশ হয়ে থানা থেকে ফেরৎ আসেন।

কাউখালী থানার ওসি কবির হোসেন জানান, আইনি পক্রিয়ার মাধ্যমে যাতে বিষয়টি নিষ্পত্তি হয় তার জন্য মামলার নথিপত্র পর্যালোচনা করে দ্রুত তার বিরুদ্ধে চার্জসিট প্রদান করা হবে।




কাউখালীতে বজ্রপাতে নারীর মৃত্যু

কাউখালী প্রতিনিধি:

কাউখালীর ঘিলাছড়িতে বজ্রপাতে ফাতেমা খাতুন (৪০) নামে এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। শনিবার দুপুরে নিজ বাড়ির সামনে এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় বাসিন্দা মজিবুর হক জানান, শনিবার দুপুর নাগাদ ভারী বৃষ্টিসহ বজ্রপাত শুরু হয়। এসময় ফাতেমা ঘরের দরজায় বসা ছিল। উপর্যপুরী বজ্রপাতের একপর্যায়ে সে বিদ্যুতায়িত হয়েপড়ে। এসময় ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। নিহত ফাতেমা উপজেলার ঘাগড়া ইউনিয়নের ঘিলাছড়ি মিয়াপাড়া গ্রামের তোতা মিয়ার স্ত্রী।

কাউখালী থানার অফিসার ইনচার্জ আব্দুল করিম মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে, ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে বলে জানান।




রাঙ্গামাটি-চট্টগ্রাম সড়কে ফের ভারী যানবাহন চলাচল বন্ধ, আতংকে সাধারণ মানুষ


কাউখালী প্রতিনিধি:
টানা বর্ষণে রাঙ্গামাটি চট্টগ্রাম মহাসড়কের কাউখালীর ঘাগড়ায় আবারো পাহাড় ধসে ভারী যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। শুক্রবার দুপুরে ঘাগড়ার চম্পাতলী এলাকায় সড়কের উপর পাহাড় ধসে পড়লে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত সবধরণের যান চলাচল বন্ধ থাকে। পরে স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় রাস্তা থেকে মাটি সরিয়ে নিলে হালকা যানবাহন চলাচল শুরু হয়।

এছাড়া কাউখালী উপজেলার বিভিন্ন এলাকার নি¤œাঞ্চল পাহাড়ী ঢলে প্লাবিত হয়েছে। তবে সবচেয়ে বেশি প্লাবিত হয়েছে ঘাগড়া বাজার এলাকার একাংশ, ঘাগড়া উচ্চ বিদ্যালয়, বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও ঘাগড়া কলেজ এলাকায়। ১৩ জুনের পাহাড়ী ঢলে একরকম বন্ধ থাকা এসব স্কুলগুলো গত এক মাস ধরে এলাকার মানুষ স্বেচ্ছাশ্রমে ক্লাসের উপযোগী গড়ে তুললেও শুক্রবার ফের পাহাড়ী ঢলে সম্পূর্ণ পানিতে তলিয়ে গেছে। ফলে আগামী এক মাস এসব স্কুলগুলোতে পাঠকার্যক্রম মারাত্মক ব্যহত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

রাঙ্গামাটি সড়ক জনপথ বিভাগের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মোঃ মুছা জানান, ভারী বৃস্টির কারণে কিছু কিছু স্থানে পাহাড় ধ্বসের ঘটনা ঘটলেও রাঙ্গামাটি-চট্টগ্রাম সড়কের যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।

দিনভর টানা বৃষ্টি শুরু হলে সন্ধ্যাঅবদি বন্ধ হওয়ায় এবং বিভিন্ন এলাকা পানিবন্ধী হওয়ায় সাধারণ মানুষ আতংকিত হয়েপড়ে। কাউখালী বিভিন্ন স্থানে পাহাড়ের পাদদেশে ঝুঁকিপূর্ণ বসবাসকারীদের বিষয়ে উপজেলা প্রশাসন থেকে এখনো পর্যন্ত কোন ধরণে সর্তকতা মূলক ব্যবস্থা গ্রহণ হয়নি। সকাল থেকে ভারী বৃষ্টি হলেও মাইকিং বা কোন ধরণের প্রচারনা চোখে পড়েনি।

রাত ১০টায় কাউখালী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. নজরুল ইসলাম জানিয়েছেন, দূর্যোগপূর্ণ এলাকাগুলোতে খুব শীঘ্রই মাইকিং করা হবে এবং প্রয়োজনে আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হবে।




মায়ের অপেক্ষায় মিনহাজ

কাউখালী প্রতিনিধি:

রাঙামাটির কাউখালী উপজেলার সুগারমিল এলাকার দিদারুল আলমের ছেলে ছোট্ট মিনহাজা। এইতো ক’দিন আগে ৭ বছরে পা দিল। দুই ভাইয়ের মধ্যে সে ছোট। উপজেলার মদিনাতুল উলুম আল ইসলামিয়া মাদ্রাসার ১ম শ্রেণির ছাত্র। থাকে মাদ্রাসার পার্শ্ববর্তী খালার বাসায়। বাবা থাকলেও তার দেখাশুনার পাশাপাশি লেখপড়ার খোঁজ খবর রাখতেন মা। প্রতি সপ্তাহে কিছু একটা হাতে নিয়ে আদরের ধনকে দেখতে মাদ্রাসায় আসতো তার মা।

১৩ জুন ২০১৭ রাঙামাটি জুড়ে স্মরণকালে ভয়াবহ পাহাড় ধসের ঘটনায় শুধু কাউখালীতে মাটি চাপা পড়ে ২১ প্রান। মৃত্যুর মিছিলে শামিল হন মিনহাজের মা লায়লা বেগমও। আহত হয়ে একপ্রকার পুঙ্গ অবস্থায় ঘরে পড়ে আছেন বাবা দিদারুল আলম। গুরুতর আহত হয়েছে মিনহাজের বড় ভাই মহিউদ্দিন। মিনহাজের পরিবারে এখন হাল ধরার এখন আর কেউ নেই।

সপ্তাহ শেষে এখন আর কেউ তাকে দেখতে আসেনা। মায়ের প্রতীক্ষায় ঈদুল ফিতর গেল। সামনে আসছে ঈদুল আযহা। কিন্তু কেউতো আসেনা। দুনিয়াশুদ্ধ জানে মিনহাজের পরিবারে কি হয়েছে। জানেনা শুধু ছোট্ট মিনহাজ। খালা তাসলিমা বেগম, তার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, এমনকি প্রতিবেশিরাও মায়ের মৃত্যুর বিষয়টি জানতে দেয়নি। আত্মীয় স্বজন বুঝতে দেয়নি মায়ের অভাব। তবুও তো একটি শব্দ মা। মায়ের অভাব কি অন্য কারো দ্বারা পূরণ করা সম্ভব?

কেউ কেউ নিজের অজান্তে তার মায়ের মৃত্যুর কথা মুখ ফসকে বলে ফেললেও সে জানেনা মৃত্যু কি জিনিষ। ফেল ফেল করে তাকিয়ে থাকে সবার দিকে। মাদ্রাসার আঙ্গিনায় সারাক্ষণ সে হাসছে, খেলছে, ছোটাছুটি করছে। সে এতটুকু বুঝে মা তার জন্য অনেক কিছু নিয়ে আসবে। ঈদে তাকে বাড়িতে নিয়ে যাবে। না, মিনহাজের মা আর আসবেনা, আদর করে কপালে চুমু দিয়ে নাস্তার পেকেট তার হাতে তুলে দেবেনা।

আশান্বিত, সদা হাস্যোজ্জল ছোট্ট মিনহাজ এখনো মায়ের প্রতিক্ষায় পথ চেয়ে বসে আছে। এজগতে মিনাহাজের সাথে তার মায়ের দেখা না হউক, পরকালে যেন ছোট্ট শিশুর প্রতিক্ষার প্রহর শেষ হয়।




কাউখালীতে আ’লীগের প্রাথমিক সদস্য সংগ্রহ কার্যক্রম শুরু

কাউখালী প্রতিনিধি:

দেশব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে কাউখালীর ৩নং ঘাগড়া ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে আওয়ামী লীগের প্রাথমিক সদস্য সংগ্রহ ও সদস্যপদ নবায়ন কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

এ উপলক্ষ্য সোমবর বিকাল ৩টায় কাউখালীর মিনি মার্কেটস্থ দলীয় কার্যালয়ে এক সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে কর্মসূচির উদ্বোধন করেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও রাঙ্গামাটি জেলা পরিষদের সদস্য অংসুইপ্রু চৌধুরী।

ঘাগড়া ইউনিয়ন আওময়ামী লীগের সভাপতি রঞ্জন মনি চাকমার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায়, অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান এসএম চৌধুরী, ক্যজাই মারমা, মুক্তিযোদ্ধা মিলন কান্তি পালিত, সাধারণ সম্পাদক এরশাদ সরকার, যুগ্ম সম্পাদক বেলাল উদ্দিন, শামসুদ্দোহা চৌধুরী, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কাজী সিরাজ উদ্দিন কাউছার।

সভায় প্রধান অতিথি বলেন, কেবল জয়বাংলা শ্লোগান দিয়ে দৌঁড়ালে আওয়ামী লীগের কর্মী হওয়া যাবেনা। প্রকৃত কর্মী হতে হলে ত্যাগ স্বীকার করতে হবে। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ একটি প্রতিষ্ঠানের নাম। এ সংগঠন অনেক ত্যাগের বিনিময়ে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, আওয়ামী লীগে সাম্প্রদায়িকতার কোন স্থান নেই। অসাম্প্রদায়িক পার্বত্য চট্টগ্রাম উপহার দিতে পাহাড়ি বাঙ্গালী ভেদাভেদ ভুলে এক সাথে কাজ করতে হবে। দলকে তৃনমুল পর্যায়ে শক্তিশালী করে আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীকে নির্বাচিত করার আহ্বান জানান।




গ্রাহকদের দু’কোটি টাকা ফিরিয়ে দেয়ার দাবিতে কাউখালীতে মানববন্ধন

কাউখালী প্রতিনিধি:

রাঙামাটি স্থানীয় এনজিও সংস্থা সিসিডিআর কর্তৃক কাউখালী থেকে দু’কোটি টাকা আত্মসাতের প্রতিবাদে এবং অসহায় গ্রাহকদের টাকা ফিরিয়ে দেওয়ার দাবিতে মানববন্ধন করছে সংস্থার শতাধিক গ্রাহক। সোমবার সকাল ১১টায় কাউখালী প্রেসক্লাব চত্ত্বরে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

সংস্থার গ্রাহক মো. মাইনুদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন, ব্যবসায়ী মো. খোরশেদ আলম, মো. সোহেল, রাজন বড়ুয়া, মোহাম্মদ আলী প্রমুখ।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, কোটি  কোটি টাকা আত্মসাতকারী সংস্থার কথিত চেয়ারম্যান প্রশাসনকে ম্যানেজ করে আত্মগোপন করে আছে। প্রশাসন দ্রুত গরীব অসহায় গ্রাহকদের টাকা ফেরতের ব্যবস্থা না করলে কাউখালীর অন্যান্য সব এনজিও সংস্থার কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়া হবে বলেও সভা থেকে হুমকী দেয়া হয়।

উল্লেখ্য যে, গত ৬ জুন রাঙ্গুনীয়া ও কাউখালী থেকে প্রায় ৪ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে রাঙামাটির সাইনবোর্ড সর্বস্ব এনজিও সেন্টার ফর কমিউনিটি ডেভলপমেন্ট এন্ড রিসার্স (সিসিডিআর)’র কথিত চেয়ারম্যানসহ তিনজনকে আটক করে গ্রাহকরা। আটকের পর সংস্থার চেয়ারম্যান মো. জাহিদুল ইসলাম কৌশলে পালিয়ে গেলেও প্রোগ্রাম কোঅডিনিটর মো. জালাল উদ্দিন (৩২), কাউখালী ব্রাঞ্চ ম্যানেজার লিটন চাকমাকে পুলিশের হাতে তুলে দেয় গ্রহকরা।

এ বিষয়ে সংস্থার গ্রাহক মো. মাইনুদ্দিন বাদী হয়ে কাউখালী থানায় মামলা দায়ের করেন। পরে পুলিশ আটককৃতদের আদালতে প্রেরণ করলে কোট তাদের জেলহাজতে প্রেরণ করেন। কিন্তু  আটকের এক সপ্তাহের মধ্যেই ছাড়া পেয়ে যান কাউখালী ব্র্যাঞ্চ ম্যানেজার লিটন চাকমা।

একই ভাবে এ সংস্থার বিরুদ্ধে রাঙামাটি ছাড়াও বান্দারবান ও খাগড়াছড়ি থেকেও কোটি কোটি টাকা আত্মসাত অভিযোগ উঠে। মামলা হয় প্রতিটি উপজেলায়, গ্রেফতার করা হয় প্রায় প্রত্যেক এলাকার ব্র্যাঞ্চ ম্যানেজারকে। এ নিয়ে গ্রাহকরা দিন পনের আন্দোলন করে মাঠ গরম রাখলেও কোন ফল না আসায় এবং কথিত এনজিও ও প্রভাবশালীদের সাথে পেরে না উঠায় একপর্যায়ে খেটে খাওয়া মানুষগুলো রাস্তা ছাড়তে বাধ্য হয়। বর্তমানে সংস্থার বেশিরভাগ কর্মকর্তা আত্মগোপনে থাকায় এ বিষয়ে তাদের সাথে কথা বলা সম্ভব হয়নি।




মুজুরী বৃদ্ধির জন্য কাউখালীর রাঙামাটি টেক্সটাইল মিল শ্রমিকদের মানববন্ধন

 

কাউখালী প্রতিনিধি:

মুজুরী বৃদ্ধির দাবিতে কাউখালীতে অবস্থিত রাঙ্গামাটি টেক্সটাইলস মিলের শ্রমিকরা আন্দোলনে নেমেছে। দাবি আদায়ে দৈনিক দুই ঘন্টা কর্মবিরতির ঘোষনা দিয়েছে তারা। এ উপলক্ষে মঙ্গলবার সকাল ১১ টার মিলের বাইরে মানববন্ধন করেছে শ্রমিক সংগঠন শ্রমিক কল্যাণ সমিতি।

রাঙ্গামাটি টেক্সটাইল মিলস শ্রমিক কল্যাণ সমিতির সভাপতি অরুন বিকাশ চাকমার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে অন্যানের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সমিতির সাধারণ সম্পাদক জীবন চাকমা, সাংগঠনিক সম্পাদক সুদীপ্ত তালুকদার, প্রচার সম্পাদক মাইকেল চাকমা ও অর্থ সম্পাদক কিরণ চন্দ্র চাকমা।

জানাযায়, ১৯৯৭ সাল থেকে সার্ভিস চার্জের ভিত্তিতে চলে আসা তিন পার্বত্য জেলার একমাত্র টেক্সটাইল মিলটি কম সার্ভিস চার্জ ও দক্ষ শ্রমিকসহ বিভিন্ন সমস্যার কারণে বন্ধ হয়ে যায়। দীর্ঘ ৮ বছর বন্ধ থাকার পর হাজারো সমস্যা মাথায় নিয়ে ২০১৫ সালের ২৯ এপ্রিল প্রায় দেড়শ শ্রমিক নিয়ে পূনরায় উৎপাদনে যায় মিলটি। বর্তমানে বিটিএমসির অধীনে পরিচালিত হওয়া এ মিলের শ্রমিক সংখ্যা ১২৯ জন।

দৈনিক ১২০ টাকা মুজুরীর ভিত্তিতে কাজ করা এসব শ্রমিকরা নিজেদের উজাড় করে দিয়ে মিলটিকে পূণরায় দাড় করানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। চালু হওয়ার পর বিগত তিন বছরে শ্রমিকদের দৈনিক মুজুরী বেড়েছে মাত্র ১০ টাকা।  অর্থাৎ ১২০ টাকা থেকে ১৩০ টাকা করা হয়েছে। যা কার্যকর করা হয় ২০১৭ সালের জুলাই থেকে। বিটিএমসি কর্তৃক তিন বছরে মাত্র ১০ টাকা বৃদ্ধির এমন বৈষম্যমূলক সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানায় মিলে কর্মরত শ্রমিকরা।

প্রতিবাদ স্বরূপ শ্রমিক সংগঠন শ্রমিক কল্যাণ সমিতি মঙ্গলবার মানববন্ধনের মাধ্যমে দৈনিক দুই ঘন্টা কর্মবিরতি কর্মসূচী ঘোষনা করে। দাবি আদায় না হলে আরো কঠোর কর্মসূচীর হুমকি দেয় শ্রমিকরা।

সমিতির সভাপতি অরুন বিকাশ চাকমার জানান, বিটিএমসি তিন বছরে মাত্র ১০ টাকা মুজুরী বৃদ্ধি করে শ্রমিকদের সাথে ঠাট্টা করছে। যাদের পরিশ্রমে বন্ধ হওয়া মিল পূণরায় উৎপাদনে গেছে তাদের সাথে এমন আচরণ মেনে নেয়া হবেনা। তিনি জানান, মিল চালাতে হলে কর্তৃপক্ষকে শ্রমিকদের দৈনিক মুজুরী ১৫০-২০০ টাকায় উন্নীত করতে হবে।

শ্রমিক মুন্নি আক্তার জানান, একজন কাজের বুয়ার বেতন এখন চার থেকে ছ’হাজার টাকা। আমরা তাদের চেয়েও খারাপ হয়ে গেছি। একদিন বিদ্যুৎ না থাকলে কর্তৃপক্ষ ওই দিন আমাদের আর বেতন দেন না। এছাড়া এত কম মুজুরীতে চার ছেলে মেয়ে নিয়ে কিভাবে সংসার চালাবো বুঝতে পারছিনা।

এব্যাপারে কথা হয় মিলের ব্যবস্থাপক (কারিগরি) ও মিল ইনচার্জ মো. নুরুল ইসলামের সাথে। তিনি জানান, বিটিএমসির সিদ্ধান্তে শ্রমিকদের দৈনিক মুজুরী ১০ টাকা বৃদ্ধি করা হয়েছে। তাছাড়া সার্ভিস চার্জের উপর চলে আসা এ মিলে লাভের উপর ভিত্তি করে শ্রমিকদের বেতন বৃদ্ধি করা হয়। সার্ভিস চার্জ কম হওয়ায় এর অতিরিক্ত মুজুরী বৃদ্ধি করলে মিল বন্ধ করে দেয়া ছাড়া উপায় নাই।

তিনি আরও জানান, ১০ টাকা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল হলেও এখানে আমার কোন হাত নেই। কৃর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তের বাইরে কিছু করা আমার পক্ষে সম্ভব নয়।




কাউখালীতে বিএনপি’র প্রাথমিক সদস্য কার্যক্রম সংগ্রহ শুরু

কাউখালী প্রতিনিধি:

দেশব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে কাউখালীতে বিএনপির প্রাথমিক সদস্য সংগ্রহ ও সদস্যপদ নবায়ন কার্যক্রম শুরু হয়েছে। শনিবার বিকাল ৩টায় কাউখালী বাজারের দলীয় কার্যালয়ে রাঙামাটি জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট সাইফুল ইসলাম পনির এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন।

কাউখালী উপজেলা বিএনপির তত্তাবধানে এ কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন, উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন খোকন। এসময় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, জেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক মাহাবুবুল বাসেত অপু, সহ-সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম সাকিল, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এমএ. মনছুর, সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল মোতালেব, সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. মহিউদ্দিন, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক সফিকুল আলম, উপজেলা ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. হাসেম, কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি আব্দুল্লা তুহিন সহ জেলা ও উপজেলার নেতৃবৃন্দ।

সভায় বক্তারা, বিএনপি’র প্রাথমিক সদস্য সংগ্রহ ও আগামী নির্বাচন সামনে রেখে রাঙামাটির সকল উপজেলায় কোন্দল নিরসনের উপর গুরুত্বারোপ করা হয়। এছাড়া সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে আগামী নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীককে জয়ী করার জন্য সকলের প্রতি আহ্বান জানান।




টানা বৃষ্টিতে পাহাড় ধ্বসে মাটির নিচে ভবন, কাউখালীর পাঁচ স্কুলের শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত

কাউখালী প্রতিনিধি:

টানা বৃষ্টিতে পাহাড় ধ্বসে এবং পাহাড়ি ঢলে রাঙামাটির কাউখালীর তিন উচ্চ বিদ্যালয় মাটির সাথে মিশে গেছে। দু’’স্কুলে পাহাড় ধ্বস না হলেও শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে বললেই চলে। এসব স্কুল গুলোতে বর্ষা উপেক্ষা করে প্রতিদিন খোলা আকাশের নিচে আবার কোন কোন স্কুলে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে ক্লাস চালিয়ে যাচ্ছে। মূলত ১৩ ও ১৪ জুন পাহাড় ধ্বসে এসব স্কুলের পাঠ কার্যক্রম বন্ধ থাকলেও এখন পর্যন্ত কোন পরিদর্শন টিম বা উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তা স্কুল গুলো দেখতে যাননি।

সরজমিন ঘুরে দেখা যায়, পাহাড় ধ্বসে উপজেলার কলমপতি ইউনিয়নের নাইল্যাছড়ি উচ্চ বিদ্যালয়ের একটি অফিস রুমসহ মোট ৯টি ক্লাস রুমের একটি ভবন সম্পূর্ণ মাটির নিচে চাপা পড়েছে। নষ্ট হয়ে গেছে ছাত্রছাত্রীদের মূল্যবান সব সার্টিফিকেট। মাটি চাপা পড়েছে প্রায় দু’হাজার পাঠ্য বইসহ দেড়শতাধিক পড়ার ব্যাঞ্চ ৩টি আলমিরা। পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়েছে ভবন। বিপদজনক ভবনের সামনে সাটিয়ে দেয়া হয়েছে লাল পতাকা। ৪ শতাধিক ছাত্র-ছাত্রীর জন্য অবশিষ্ট রয়েছে একটি মাত্র কক্ষ। এতে প্রাণের ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও ক্লাস চালিয়ে যেতে বাধ্য হচ্ছেন শিক্ষকরা। বাকী ছাত্রছাত্রীরা ক্লাস করছে খোলা আকাশের নিচে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ৫০ লক্ষ টাকা ছাড়াতে পারে বলে ধারনা করছেন স্কুল পরিচালনা কমিটি।

কমিটির সভাপতি মো. জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, এত বড় বিপর্যয়ের পড়েও সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তর, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কেউই দেখতে আসেনি। তিনি জানান, ক্লাস চলাতে পাশ্ববর্তী মাঝিপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে ধার করা হয়েছে ব্যাঞ্চ। বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক মো. আজগর আলী জানান, এভাবে চলতে থাকলে জেএসসি ও এসএসসি পরীক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে মারাত্মক প্রভাব পড়বে। ফলাফল বিপর্যয়ের আশঙ্কা থাকবে শতভাগ। তিনি জানান, বৃষ্টির সাথে লুকোচুরি খেলে মাঠে ও স্কুলের বারান্দায় দৌঁড়ের উপর রাখতে হচ্ছে চার শতাধিক ছাত্রছাত্রীদের। এমন পরিস্থিতিতে ক্লাস পরিচালনা করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে।

ঘাগড়া ইউনিয়নের ঘাগড়া সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়, ঘাগড়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের পরিস্থিতি আরো ভয়াবহ। পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট বন্যায় বেড়িবাঁধ ভেঙ্গে ঘাগড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের ৮টি কক্ষর মধ্যে ৩টি সম্পুর্ণ ভেঙ্গে গেছে। পরিত্যক্ত করা হয়েছে কক্ষগুলিকে। পাঁচ শতাধিক ছাত্রছাত্রী নিয়ে অবশিষ্ট কক্ষগুলিতে গাদাগাদি করে ক্লাস চালাতে হিসশিম খাচ্ছেন শিক্ষকরা। বিদ্যালয়ের স্যানিটেশন ও পানি ব্যবস্থা পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে। পাহাড় থেকে নেমে আসা পলিমাটিতে ভরে গেছে পুরো মাঠ। পাশাপাশি থাকা ঘাগড়া বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের কাঁচা ঘরসহ সব মালামালই পানিতে ভেসে গেছে। অবশিষ্ট যা আছে তাও সম্পূর্ণরুপে মাটি চাপা পড়েছে। দু’টি স্কুলের একাডেমিক ভবন অপরিহার্য হয়েপড়েছে।

ঘাগড়া সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা চন্দ্রা দেওয়ান জানান, বন্যা ও পাহাড় ধ্বসের পর প্রায় দু’মাস পার হলেও ক্ষতিগ্রস্ত এসব স্কুলগুলো দেখতে শিক্ষা অধিদপ্তরের কোন টিম দুরে থাক উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার দেখাও মেলেনি। তিনি জানান, এভাবে চলতে থাকলে এর প্রভাব জেএসসি ও এসএসসি পরীক্ষার্থীদের উপর পড়বে এতে কোন সন্দেহ নেই।

 

এছাড়াও কম বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ঘাগড়া ইউনিয়নের হারাঙ্গীপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়, উত্তর মুবাছড়ি নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়। এসব স্কুলগুলোর তেমন একটা ক্ষতি না হলেও সুষ্ঠভাবে পাঠদান করা সম্ভব হচ্ছেনা বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট স্কুলের শিক্ষকরা।

ক্ষতিগ্রস্ত স্কুলগুলোর বিষয়ে কথা হয় উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. নাজমুল হকের সাথে। তিনি জানান, সম্প্রতি ঘটে যাওয়া দূর্যোগে উপজেলার তিনটি স্কুল বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে দু’টি স্কুল। তিনি জানান, এর মধ্যে নাইল্যাছড়ি উচ্চ বিদ্যালয় প্রায় ৭০ লক্ষ, ঘাগড়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ৭০ লক্ষ ও ঘাগড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রায় ৫০ লক্ষ ক্ষতি সাধিত হয়েছে। এছাড়াও কমবেশি ক্ষতির তালিকায় রয়েছে হারাঙ্গী উচ্চ বিদ্যালয় ও মুবাছড়ি নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়।

তিনি জানান, ক্ষতিগ্রস্ত স্কুলগুলোর তালিকা আমি তাৎক্ষনিক ভাবে মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে পাঠিয়েছি। এত বড় দূর্যোগের পর স্কুলগুলো পরিদর্শনে যাওয়া হয়েছিল কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, যোগাযোগ ব্যবস্থা খারাপ থাকায় ওই মূর্হেুতে যাওয়া সম্ভব হয়নি। তবে খোঁজখবর নিয়েছে। যোগাযোগ ব্যবস্থা স্বাভাবিক হওয়ার পর শিক্ষা কর্মকর্তা স্কুল পরিদর্শন করেছেন বলে জানালেও সংশ্লিষ্ট প্রতিটি স্কুলের প্রধান শিক্ষকরা বলেছেন কেউ আসেননি আমাদের খবর নিতে।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের উদাসীনতা এবং সমন্বয়হীনতার বিষয়ে অসন্তোষ জানালেন খোদ  উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এসএম চৌধুরী। তিনি জানান, এত বড় ঘটনা আমার জানাছিলনা বা কোন তালিকাও আমি পায়নি। তাছাড়া উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার উচিৎ ছিল ক্ষতিগ্রস্ত স্কুলগুলোর একটা তালিকা আমাকে দেয়া। তিনি জানান, তালিকা দূরের কথা এতটুকু সমন্বয়ও করেননি উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা। যা অত্যন্ত দুঃখজনক।