১জনে চালান কুতুবদিয়া একাউন্টস অফিস

কুতুবদিয়া প্রতিনিধি:

কক্সবাজারের কুতুবদিয়া হিসাব রক্ষণ কার্যালয় চলছে একজন কর্মচারী দিয়ে। ৬টি পদ থাকলেও বছরের পর বছর খালী রয়েছে ৫টি পদ। ফলে উপজেলার প্রধান গুরুত্বপূর্ণ অফিসে ভোগান্তির শেষ নেই।

সংশ্লিষ্ট একাউন্টস অফিস সূত্রে জানা যায়, এ অফিসে ১জন হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তা, ২জন অডিটর, ১জন জুনিয়র, ১জন কম্পিউটার অপারেটর ও ১জন অফিস সহায়ক পদ রয়েছে। মোট এ ৬টি পদের মধ্যে শুধু অডিটর পদে ১জন আছেন।  একাউন্টস অফিসার নেই প্রায় ৩ বছর ধরে। চকরিয়া উপজেলা প্রধান কর্মকর্তা (একাউন্টস অফিসার) অতিরিক্ত দায়িত্বে আছেন কুতুবদিয়ায়। তিনিও সপ্তাহে আসেন ১দিন বা কখনো ২ দিন।

দায়িত্বপূর্ণ একাউন্টস অফিসটিতে মাত্র ১ জন অডিটর যাবতীয় দায়িত্ব পালন করলেও বাকি ৪ পদের কোন হদিস নেই। যে কারণে কাজের স্তুপসহ সময়, ভোগান্তি সবই চরম আকার ধারণ করেছে। একাউন্টস অফিসে সরকারী, বেসরকারী সব দপ্তরের যাবতীয় বিল তৈরি, যাচাই-বাছাইসহ পাশ করানো পর্যন্ত পর্যাপ্ত কাজ করতে হয়। সেখানে রয়েছে মাত্র একজন কর্মচারী। অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা অফিসার প্রতিদিন না আসায় সময় মত বিল-বেতন তোলা সম্ভব হয়না বলেও সেবা প্রার্থীরা জানান।

উপজেলা একাউন্টস অফিসের অডিটর শাকের উল্লাহ বলেন, দীর্ঘ দিন ধরেই ৫জনের কাজ তাকে একাই করতে হচ্ছে। পদগুলো শূন্য থাকায় কাজের চাপ ক্রমশ বেড়েই যাচ্ছে। একা সব ধরনের কাজ যথাসময়ে সম্পন্ন করতে তাকে রাত-দিন পরিশ্রম করতে হয়। যে কারণে তিনি কখনো ছুটিও ভোগ করতে পারেননা বলেও জানান। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ এ অফিসের শূন্য পদগুলো পূরণে তড়িৎ পদক্ষেপ নেবেন বলে ভুক্তভোগী দ্বীপবাসির প্রত্যাশা।




কুতুবদিয়ায় পুকুরে ডুবে শিশুর মৃত্যু

কুতুবদিয়া প্রতিনিধি:

কক্সবাজারের কুতুবদিয়ায় পুকুরে ডুবে ফের পিয়ামনি নামের এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। শনিবার উপজেলার কৈয়ারবিল অছি মিয়া হাজীর পাড়ায় পানি ডুবির ঘটনা ঘটেছে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও হাসপাতাল সূত্র জানায়, ওই গ্রামের ফরিদ আলমের শিশু কন্যা পিয়ামনি (৪) শনিবার ৫টার দিকে বাড়ির পাশের পুকুরে গোসল করতে গিয়ে পড়ে যায়। খোঁজাখুঁজির পর পুকুর থেকে তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক শিশুটি মৃত বলে জানান।

উল্লেখ্য, উপজেলায় পানিতে ডুবে গত ৪ দিনে ৩ শিশুর মৃত্যু হলো।




নাফ নদী থেকে দুই বাংলাদেশীকে ধরে নিয়ে গেছে মিয়ানমারের বিজিপি

টেকনাফ প্রতিনিধি:

কক্সবাজারের টেকনাফের নাফনদী থেকে আবারও বাংলাদেশী ২ জেলেকে নৌকাসহ ধরে নিয়ে গেছে মিয়ানমারের সীমান্ত রক্ষী বাহিনী বর্ডার পুলিশ (বিজিপি)।

জেলেরা হলেন, টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপ উত্তর পাড়ার বাসিন্দা ও নৌকার মালিক এখলাস মিয়ার ছেলে মোহাম্মদ ইউনুছ (৩৫), মাঝের পাড়ার মৃত আবদুল গনির ছেলে আবু তাহের (২৮)।

শনিবার (২৫ মার্চ) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে নাফ নদীর বদর মোকাম ঘোলারচর মোহনা থেকে তাদের ধরে নিয়ে যাওয়া হয়।

টেকনাফে ২ বিজিবির ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল আবু জার আল জাহিদ জানান, ‘জেলেদের স্বজনরা বিষয়টি আমাদের জানিয়েছেন। মিয়ানমারের জলসীমায় গিয়ে মাছ ধরার সময় তাদের ধরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলেও জানা গেছে। বিষয়টি মিয়ানমারের বিজিপিকে অবহিত করে জেলেদের ফেরত দেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে। তবে বিজিপির পক্ষে জেলে ধরে নিয়ে যাওয়ার কথা এখনও স্বীকার করেনি।’

প্রসঙ্গত, গত ৬ মাসে নাফ নদী থেকে প্রায় ২৫ জেলেকে ধরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে বিজিবি লিখিত প্রতিবাদসহ জেলেদের ফেরত দিতে মিয়ানমারের বিজিপিকে জানিয়েছে। তবে কার্যত কোনও উদ্যোগ নেয়নি মিয়ানমার।




রামুতে ১ টাকার পিকনিক

ramu pic komol school pic 24.23.17
রামু প্রতিনিধি :
জনপ্রতি মাত্র এক টাকা চাঁদা দিয়ে পিকনিকে অংশ নিয়েছেন ৬৫০ জন ছাত্রছাত্রী ও অভিভাবক। অবিশ্বাস্য এ পিকনিক নিয়ে এলাকাজুড়ে চলছে সরব আলোচনা।

রামু উপজেলার কাউয়ারখোপ ইউনিয়নে প্রতিষ্ঠিত উখিয়ারঘোনা সাইমুম সরওয়ার কমল উচ্চ বিদ্যালয়ের বার্ষিক পিকনিক অনুষ্ঠিত হয়েছে চকরিয়া উপজেলার অন্যতম দর্শনীয় স্থান বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্কে। শুক্রবার (২৪ মার্চ) উৎসবমুখর পরিবেশে এ পিকনিক অনুষ্ঠিত হয়। সকালে ১৮টি বাস নিয়ে পিকনিক এ অংশগ্রহনকারীরা ডুলাহাজারা বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্কে রওনা দেয়। সেখানে সারাদিন চলে নানা আনন্দ আয়োজন।

পিকনিকে অংশ নেন, উখিয়ারঘোনা সাইমুম সরওয়ার কমল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা কক্সবাজার-৩ (সদর-রামু) আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব সাইমুম সরওয়ার কমল।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আতিকুর রহমান জানিয়েছেন, বিদ্যালয়ের পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী ছাত্রছাত্রীরা এক টাকা করে দিয়ে এ পিকনিকে অংশ নিয়েছেন।

পিকনিক উপলক্ষ্যে সাফারি পার্ক প্রাঙ্গনে আয়োজিত মত বিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন, বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও কক্সবাজার জেলা পরিষদের সদস্য শামসুল আলম। বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সদস্য বিশিষ্ট বীমাবিদ এরশাদ উল্লাহ খানের সঞ্চালনায় এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন, রামু উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা যুবলীগ সভাপতি রিয়াজ উল আলম, কক্সবাজার জেলা আওয়ামীলীগের সহ সভাপতি জাফর আলম চৌধুরী, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান আলী হোসেন, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার নুরুল হক, কাউয়ারখোপ হাকিম রকিমা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কিশোর বড়ুয়া, কবি এম সুলতান আহমদ মনিরী, উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক নীতিশ বড়ুয়া, গর্জনিয়া ইউপি চেয়ারম্যান সৈয়দ নজরুল ইসলাম, কচ্ছপিয়া ইউপি চেয়ারম্যান আবু মো. ইসমাঈল নোমান, ঈদগড় ইউপি চেয়ারম্যান ফিরোজ আহমদ ভূট্টো, কাউয়ারখোপ ইউপি চেয়ারম্যান মোস্তাক আহমদ, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম ভূট্টো, আওয়ামীলীগ নেতা সৈয়দ মো. আবদু শুক্কুর, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগের যুগ্ন সম্পাদক ও সাংসদ কমলের ব্যক্তিগত সহকারি আবু বকর ছিদ্দিক, বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির আবছার মেম্বার, হোছন মেম্বার, আজিজুল হক মেম্বার, আনার কলি মেম্বার, সাইফুল ইসলাম, সাইফুল ইসলাম, নুরুল ইসলাম, রাজমোহন বড়ুয়া, সুলতান আহমদ, হাজ্বী আনোয়ার, নুর আহমদ, যুবলীগ নেতা তারেক আহমদ, মনজুর আলম প্রমূখ।




টানা ৩ দিনের ছুটিতে কক্সবাজারে পর্যটকের ঢল, জোরদার নিরাপত্তা ব্যবস্থা

????????????????????????????????????

কক্সবাজার প্রতিনিধি :
ছুটি পেলেই লোকজন ছুটে আসে বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকতের নগরী কক্সবাজারে। ছুটির দিন শুক্র-শনিও ২৬ মার্চের সরকারী ছুটিসহ টানা ৩ দিনের ছুটিতে পর্যটকের ঢল নেমেছে কক্সবাজারে। পর্যটক আগমনকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই সব হোটেল-মোটেলগুলো বুকিং হয়ে গেছে। এমনকি কোন কটেজের কক্ষ’ও খালি নেই। এদিকে পর্যটকদের নিরাপত্তা প্রদানে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছে বাড়তি ব্যবস্থা। টুরিষ্ট পুলিশের টহল পার্টি, সিভিল টিম ও টাইঙ্গার পার্টি নামে বিশেষ টিম কাজ করছে। যাতায়তের সুবিধাত্বে ট্রাফিক ব্যবস্থাও জোরদার করা হয়েছে।

কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের লাবনী ও সুগন্ধ্যা পয়েন্টে গিয়ে দেখা যায়, দের লাখেরও বেশি পর্যটকের সমাগম হয়েছে। তারা আনন্দে মেতেছিল। তারা সময় কাটাচ্ছিল সমুদ্রে গোসল করে। বালুচরে দৌড়ঝাঁপ করে। আবার কাউকে দেখা যায়, জেডস্কি ও স্পিডবোটকরে সমুদ্রের বুকে ছুটাছুটি করতে। এছাড়া তাদের বিনোদনের জন্য ছিল ঘোড়ায় চড়া বিচবাইক, টিউব নিয়ে সাতার কাটা আরো কতকি। সব মিলে তারা একটি আনন্দের মুহুর্ত পার করছিল।

অন্যদিকে দেখা যায়, নিরাপত্তা প্রদানে ব্যস্থ সময় পার করছে, টুরিষ্ট পুলিশ, লাইফগার্ড ও নিরাপত্তাকর্মীরা। তারা পর্যটকদের বেশি পানিতে যেতে দিচ্ছে না।

নিরাপত্তার বাঁশি দিয়ে তাদের নিয়ন্ত্রণে রাখছে। টুরিষ্ট পুলিশেরা চেষ্টা করছে পর্যটকদের নিরাপদে ভ্রমনের জন্য।

ঢাকা থেকে বেড়াতে আসা গৃহবধু তামান্না সোলতান জানান, বিয়ের পর পরিবার নিয়ে এই প্রথম কক্সবাজর এসেছেন। তার খুবই ভাল লাগছে। তিনি বলেন, কক্সবাজার না আসলে বুঝা যাবে না কক্সবাজার কি জিনিস। একইভাবে তার স্বামী ও সন্তানেরা আনন্দ পাচ্ছে।

পর্যটক কলেজ ছাত্র ইব্রাহিম জানান, তারা ৮ জন বন্ধু এসেছে। তাদের আনন্দের শেষ নেই। তারা খুবই মাস্তি করছে। সমুদ্র সৈকতে গোসল ছাড়াও তারা ইনানী, হিমছড়ি গিয়েছে। সেন্টমার্টিন যাবে আগামীকাল। সবমিলে তাদের খুবই ভাল লাগছে।

টানা ৩ দিনের ছুটিকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই পর্যটন শহরের ৪৫০টির বেশি হোটেল, মোটেল ও কটেজের সব কক্ষই বুকিং হয়ে গেছে। আর এসব রুম বুকিং হয়েছে অনেক আগে থেকে। রুম না পেয়ে অনেক পর্যটককে ভোগান্তিতে পড়তে দেখা গেছে।

ঢাকার ইসলামপুরের বাসিন্দা ইমন সিকদার জানন, হঠাৎ সিদ্ধান্তে পরিবার নিয়ে গাড়ি করে কক্সবাজার চলে এসেছে। আর এসেই পড়েছে বিপাকে। তারা জানত না এই ছুটি উপলক্ষে কক্সবাজারের সব হোটেল যে বুকিং হয়ে যাবে। সী-বিচের আসপাশে রুম না পেলে হয় শহরের দিতে থাকতে হবে নয়ত ঢাকায় ফিরতে হবে।

কক্সবাজার কটেজ ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি কাজী রাসেল আহমেদ নোবেল জানান, ইতিমধ্যেই সব কটেজে বুকিংহয়ে গেছে। আগত পর্যটকদের নিরাপত্তা প্রদানে সকল কটেজ ব্যবসায়ীদের নিয়ে একাধিকবার মিটিং হয়েছে। এছাড়া আইন-শৃংখলা বাহিনীর সাথেও মিটিং হয়েছে যাতে করে পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারে।আর পর্যটকদের নিরাপত্তার জন্য (সিসিটিভি)ক্যামরা ছাড়াও রয়েছে বেশ কয়েকজন নিরাপত্তাকর্মী। যারা পর্যটকদের নিরাপদে ভ্রমনে সহযোগিতা করবে।

কক্সবাজার হোটেল-মোটেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মো. শাখাওয়াত হোসেন বলেন, তারকা মানের হোটেল থেকে শুরু করে কটেজ পর্যন্ত সবখানের কক্ষ বুকিং হয়ে গেছে। আগত পর্যটকদের বিনোদনের জন্য সার্বিক সহযোগিতা করা হবে। এছাড়া তাদের নিরাপত্তা ব্যবস্থাও জোরদার করা হয়েছে।

কক্সবাজার টুরিষ্ট পুলিশের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার রায়হান কাজেমী বলেন, ৩ দিনের লম্বা ছুটিতে প্রচুর পর্যটক আসছে। পর্যটকের নিরাপত্তায় টহল ডিউটি থাকবে পাশাপাশি থাকবে সিভিল টিম। আর টাঙ্গার পার্টি নামে একটি বিশেষ টিম থাকবে। এছাড়া হোটেল-মোটেলে টুরিষ্ট পুলিশের টহল অব্যাহত থাকবে। এছাড়া যাতায়ত ব্যবস্থার সুবিধার জন্য লাবনী থেকে কলাতলী পর্যন্ত ট্রাফিক কন্ট্রোলের কাজও করা হবে।




কুতুবদিয়ায় বিশ্ব যক্ষা দিবসে আলোচনা সভা

unnamed copy

কুতুবদিয়া প্রতিনিধি:

কক্সবাজারের কুতুবদিয়ায় বিশ্ব যক্ষা দিবস উপলক্ষে উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ ও স্থানীয় ব্রাকের উদ্যোগে র‌্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শুক্রবার সকাল ১০টায় ‘ঐক্যবদ্ধ হলে সবে, যক্ষামুক্ত দেশ হবে’ এ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে মেডিকেল অফিসার ডা. শাহ মো. ইমরান চৌধুরীর নেতৃত্বে একটি র‌্যালি বের হয়ে  উপজেলা সদর বড়ঘোপ’র বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এসে সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভায় মিলিত হয়।

এ সময় স্থানীয় ব্রাকের টিবি কন্ট্রোল প্রোগ্রাম ম্যানেজার মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর, যক্ষা নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচি সংগঠক মো. শরীফ উদ্দিন, হাসপাতালের অফিস সহকারী মো. রশীদ বাদশা, অফিস সহায়ক আব্দুর রহীম, ব্রাক ধূরুং শাখার এইচএনপিপি পিকলু বেপারীসহ বিভিন্ন কর্মচারী, সেবিকা উপস্থিত ছিলেন।




কক্সবাজারে অস্ত্র ও গুলিসহ আটক ১

Pic 01 (1)
নিজস্ব প্রতিবেদক, কক্সবাজার:
কক্সবাজার শহরে অভিযান চালিয়ে অস্ত্র ও গুলিসহ একজনকে আটক করেছে পুলিশ। শুক্রবার সকালে কক্সবাজার শহরের ফিশারীঘাট এলাকায় এ অভিযান চালানো হয় বলে জানান জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ওসি অংসা থোয়াই।

এসময় উদ্ধার করা হয়েছে দেশিয় তৈরী ১ বন্দুক ও ৩ রাউন্ড গুলি।

আটক মোহাম্মদ হোসেন (৪৮) মহেশখালী উপজেলার কুতুবজোম ইউনিয়নের নয়াপাড়া এলাকার মৃত মোস্তাক আহহমদের ছেলে।

ওসি অংসা থোয়াই বলেন, মহেশখালী থেকে অস্ত্রপাচার হওয়ার খবরে ডিবি পুলিশের একটি দল কক্সবাজার শহরের ফিশারীঘাট এলাকায় অভিযান চালায়। এসময় সন্দেহভাজন একজন ব্যক্তিকে থামিয়ে তল্লাশী করা হয়। পরে আটক মোহাম্মদ হোসেনের দেহ তল্লাশী করে কোমড়ে লুকানো অবস্থায় দেশিয় তৈরী একটি বন্দুক ও ৩ রাউন্ড গুলি পাওয়া যায়।

আটক ব্যক্তির বিরুদ্ধে কোন ধরনের অপরাধ সংঘটনের অভিযোগে মামলা রয়েছে কিনা পুলিশ তা খতিয়ে দেখছে বলে জানান তিনি।

অংসা থোয়াই জানান, আটক ব্যক্তির বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট আইনে কক্সবাজার সদর থানায় মামলা করার প্রস্তুতি চলছে।




চকরিয়ায় পৃথক অভিযানে ২০৭০পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ তিন মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার

চকরিয়া প্রতিনিধি:

কক্সবাজারের চকরিয়ায় পৃথক স্থানে অভিযান চালিয়ে ২০৭০পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ তিন মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার সকাল ১১টার দিকে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের খুটাখালী মেদাকচ্ছপিয়া ঢালায় যাত্রীবাহী মাইক্রোবাসে এবং একইদিন সন্ধ্যায় ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের রশিদ আহমদ চৌধুরী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এ অভিযান চালায় পুলিশ।

খুটাখালীর মেদাকচ্ছপিয়া থেকে গ্রেফতারকৃত দুই মাদক ব্যবসায়ী হলো, কক্সবাজার সদর উপজেলার চৌফলদণ্ডির আবদুর রশিদের ছেলে মো. নাছির উদ্দিন (২২) ও একই এলাকার মোজাহের মিয়ার ছেলে মো. জসীম উদ্দিন। ফাঁসিয়াখালীর রশিদ আহমদ চৌধুরী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠ থেকে গ্রেফতারকৃতের নাম সাইফুল ইসলাম (১৯)। সে চকরিয়া পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের কমিশনার পাড়ার মোহাম্মদ সেলিমের ছেলে।

চকরিয়া থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. কামরুল আজম জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মহাসড়কের খুটাখালী মেদাকচ্ছপিয়া পাহাড়ি ঢালায় যাত্রীবাহী একটি মাইক্রোবাসে তল্লাশী চালায় থানার অপারেশন অফিসার তানভীর আহমদ, উপপরিদর্শক (এসআই) কাওসার উদ্দিন ও সুকান্ত চৌধুরীসহ সঙ্গীয় পুলিশ ফোর্স। এ সময় মাইক্রোবাসটির দুই যাত্রীর দেহ তল্লাশীর সময় তাদের হেফাজতে থাকা ২০০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।

তিনি আরও জানান, একইদিন সন্ধ্যায় ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের রশিদ আহমদ চৌধুরী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে খুচরা ইয়াবা বিক্রেতার অবস্থানের খবর পেয়ে অভিযান চালায় উপপরিদর্শক (এসআই) দেবব্রত রায়সহ সঙ্গীয় পুলিশ ফোর্স। এ সময় তার হেফাজত থেকে উদ্ধার করা হয় ৭০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট। তিনি বলেন, ‘পৃথক অভিযানে ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধারের ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে পৃথক মামলা রুজু করা হয়েছে।’




রামুর চাকমারকুলে অলিম্পিক বার ফুটবলে প্রভাতি একাদশ চ্যাম্পিয়ন

ramu pic football 23.3

রামু প্রতিনিধি:

কক্সবাজার-৩ (সদর-রামু) আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব সাইমুম সরওয়ার কমল বলেছেন, দেশের ক্রীড়াক্ষেত্রে কক্সবাজার-রামু এখন পরিচিত নাম। এখানকার খেলোয়াড়রা এখন জাতীয় ক্রিকেট দল এবং জাতীয় ফুটবল দলে খেলছে। এটা আমাদের জন্য গৌরবের। অচিরেই রামুতে এক লাখ দর্শক ধারন ক্ষমতার স্টেডিয়াম, বিকেএসপি ভবন নির্মাণ শুরু হবে। আগামীতে ক্রীড়া চর্চার উর্বর ভূমিতে পরিনত হবে রামু। তখন এখানকার খেলোয়াড়রা দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বিদেশের মাটিতেও খেলতে যাবে। আর বিদেশে যদি কোন খেলোয়াড় খেলার জন্য গেলে তাদের আসা যাওয়ার খরচও আমি বহন করবো।

রামুতে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় অলিম্পিক বার ফুটবল টূর্ণামেন্টের সমাপনী খেলায় বিজয়ীদের পুরষ্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সাংসদ কমল এসব কথা বলেন

বৃহষ্পতিবার (২৩ মার্চ) বিকালের চাকমারকুল ইউনিয়নের কলঘর বাজার সংলগ্ন মাঠে তেচ্ছিপুল উন্নয়ন পরিষদ আয়োজিত এ টূর্ণামেন্টের ফাইনাল খেলায় স্বাগতিক টি সেভেন ভাইকিংস ফুটবল একাদশকে ২-১ গোলে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন শিরোপা লাভ করে প্রভাতি ফুটবল একাদশ।

বিজয়ীদলের পক্ষে খেলার প্রথমার্ধে মতিউর ও কমল জয়সূচক গোল দুটি করেন। পরে দ্বিতীয়ার্ধে স্বাগতিক টি সেভেন ভাইকিংস ফুটবল একাদশের পক্ষে ছৈয়দ করিম একটি গোল করে ব্যবধান কমায়। খেলায় চ্যাম্পিয়ন হওয়ায় প্রভাতি একাদশের পক্ষে দুজন জাতীয় দলের খেলোয়াড় এবং রানার আপ হওয়া টি সেভেন ভাইকিংস ফুটবল একাদশের পক্ষে ঘানার একজন খেলোয়াড় অংশ নেন। বিজয়ী দলের খেলোয়াড় কমল বড়ুয়া সেরা খেলোয়াড় এবং স্বাগতিক টি সেভেন ভাইকিংস ফুটবল একাদশের গোলরক্ষক মিনহাজ ম্যান অব দ্য সিরিজ এর পুরষ্কার পান।

টূর্ণামেন্ট আয়োজক তেচ্ছিপুল উন্নয়ন পরিষদ এর সভাপতি মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর হোসাইন’র পরিচালনায় পুরষ্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন, কক্সবাজার জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি এডভোকেট আবুল কালাম ছিদ্দিকী।

এতে বিশেষে অতিথি ছিলেন, রামু উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. শাজাহান আলি, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান আলী হোসেন, কক্সবাজার জেলা পরিষদের সদস্য নুরুল হক, ফতেখাঁরকুল ইউপি চেয়ারম্যান ফরিদুল আলম, চাকমারকুল ইউপি চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম সিকদার, সাবেক চেয়ারম্যান মুফিদুল আলম, মাস্টার ফরিদ আহমদ, ক্রীড়া ব্যক্তিত্ব ও রেফারি সুবীর বড়ুয়া বুলু, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও ক্রীড়া সংগঠক শফিকুর রহমান, রামু ব্রাদার্স ইউনিয়নের সভাপতি নবু আলম, ইউপি সদস্য মোস্তাক আহমদ, মাস্টার নজিবুল আলম, মোহাম্মদ আলী। অনুষ্ঠানে সার্বিক সহযোগিতায় ছিলো স্থানীয় সংগঠন বিডিএমএস। সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন, টূর্ণামেন্ট আয়োজক তেচ্ছিপুল উন্নয়ন পরিষদের সদস্য জাহেদ, মনজুরসহ সকল সদস্যবৃন্দ।

অনুষ্ঠানে সাংসদ কমল আরও বলেন, রামুতে এত বিশাল আনুষ্ঠানিকতায় ফুটবল এ ধরনের টূর্ণামেন্ট আয়োজন সত্যিই প্রশংসনীয়। তিনি খেলার আয়োজক সংগঠনকে ১ লাখ টাকা অনুদান প্রদান করা হবে বলেও জানান। তিনি বলেন, কেবল ক্রীড়া ক্ষেত্রে নয়, শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধিন বর্তমান সরকার বেকারত্ব দূর করে মধ্যম আয়ের উন্নয়নশীল দেশে পরিনত করার জন্য নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। মানুষের কল্যাণে প্রয়োজনীয় সকল উন্নয়নমূলক কাজ এখন দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে।

টূর্ণামেন্ট আয়োজক তেচ্ছিপুল উন্নয়ন পরিষদ এর সভাপতি মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর হোসাইন জানিয়েছেন, টূর্ণামেন্টে চ্যাম্পিয়ন দলকে নগদ ৫০ হাজার টাকা ও ট্রপি এবং রানার আপ দলকে ১৫ হাজার নগদ টাকা ও ট্রপি তুলে দেন অতিথিবৃন্দ। ফাইনাল খেলায় হাজার হাজার মানুষের উপস্থিতি ছিলো চোখে পড়ার মতো।

এরআগে সকালে সাংসদ কমল কক্সবাজার সদর উপজেলার ইসলামাবাদ ইসলামিয়া আদর্শ দাখিল মাদ্রাসার বার্ষিক পুরষ্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন। দুপুরে তিনি পর্যটন স্পট ইনানীতে রামু খিজারী আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের বার্ষিক পিকনিক এ অংশ নেন।




চাঁদা না পেয়ে যাত্রীবাহী ম্যাজিক গাড়িকে হাইওয়ে পুলিশের ধাওয়া, পালাতে গিয়ে বাসের সঙ্গে সংঘর্ষ, আহত ১০

 

চকরিয়া প্রতিনিধি:

চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের চকরিয়া কলেজ গেইট এলাকায় বৃহস্পতিবার সকাল ১১টার দিকে চৌকি বসিয়ে অবৈধ যানবাহন আটক করার নামে চাঁদাবাজি করছিল চিরিঙ্গা হাইওয়ে পুলিশের সার্জেন্ট মাইদুল ইসলাম ও সঙ্গীয় পুলিশ ফোর্স।

এ সময় চাঁদা না দেওয়ায় ধাওয়া দেয় যাত্রীবাহী একটি ম্যাজিক গাড়িকে। এ অবস্থায় মাজিক গাড়িটি দ্রুত স্থান ত্যাগ করতে গিয়ে বিপরীত দিক থেকে আসা যাত্রীবাহী অপর একটি হানিফ বাসের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষে পতিত হয়। এতে মাজিক গাড়ির চালক ও যাত্রীসহ অন্তত ১০ জন আহত হয়। আহতদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

এদিকে ক্ষুব্ধ জনতা মহাসড়কের বানিয়ারছড়াস্থ চিরিঙ্গা হাইওয়ে পুলিশের সার্জেন্ট মাইদুল ইসলাম ও কনস্টেবল আবদুল মোনাফকে ধরে গণপিটুনি দেয়। এতে গুরুতর আহত হন কনস্টেবল মোনাফ। আহত মোনাফকেও ভর্তি করা হয় হাসপাতালে।

এছাড়া আহত ম্যাজিক গাড়ির যাত্রীরা হলেন, চালক খুটাখালীর মো. শাহজাহান (৩৪), যাত্রী কক্সবাজার সদর উপজেলার ঈদগাঁও’র মো. আবদুল্লাহ (২৫), একই এলাকার আমির হোসেন (৩৫), মো. আমিন (৩৭), ওসমান (২৮), লক্ষ্যারচরের মহিউদ্দিন (২০) ও বরইতলীর তৌহিদ (২৫)। তন্মধ্যে গুরুতর আহত চালক শাহজাহান, আমির হোসেন ও আমিনকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এছাড়াও আরও তিনজন সামান্য আহত হয়।

ম্যাজিক গাড়ির আহত যাত্রীরা বলেন, ‘সার্জেন্ট মাইদুল ইসলামের চাঁদাবাজির কারণেই আজকের দুর্ঘটনাটি সংঘটিত হয়েছে।’

তবে সার্জেন্ট মো. মাইদুল ইসলাম বলেন, ‘আমি গাড়ি থামিয়ে কোন ধরণের চাঁদাবাজি করিনি। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে প্রেরণ করি। কিন্তু কিছু উশৃঙ্খল লোক উল্টো পুলিশের ওপর আক্রমণ চালালে আমি ও কনস্টেবল আবদুল মোনাফ আহত হই।’