পাসপোর্ট পেতে পুলিশ প্রতিবেদনে হয়রানি

কক্সবাজার প্রতিনিধি:

পাসপোর্ট তৈরিতে পুলিশ ভেরিফাই (পুলিশ প্রতিবেদন) একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এই প্রতিবেদনের মাধ্যমে উঠে আসে আবেদনকারীর তথ্য। এতেই প্রকাশ পায় আবেদনকারী আদৌ পাসপোর্ট পাওয়ার যোগ্য কিনা। আর এই গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদনের দায়িত্বে থাকা অনেক পুলিশের হাতে হয়রানির স্বীকার হচ্ছে আবদেনকারীরা। নানা অযুহাতে তাদের কাছ থেকে টাকা আদায় করা হচ্ছে। এতে বাড়ছে ভোগান্তি। অনেকে আবার টাকা দিয়েও ঠিক সময়ে পাসপোর্ট পাচ্ছেনা।

এমনই এক ভুক্তভোগী যুবক হলেন, সদর উপজেলা পিএমখালী’র ঘাটকুলিয়া পাড়ার মৃত আব্দুর সালামের ছেলে মোহাম্মদ ইসমাইল (২২)।

তিনি জানান, তার বাবা-মা দুইজনই মারা গেছে। এক আত্বীয়ের সহযোগিতায় তার বিদেশ যাওয়ার সুযোগ হচ্ছে। তাই পাসপোর্টের জন্য আবেদন করে। গত ২৫ অক্টোবর ওই পাসপোর্টের (৫৪৬২) এর ডেলিভারি (প্রদান) দেওয়ার সময় ছিল। আর এই পাসপোর্টের পুলিশ প্রতিবেদনের দায়িত্ব পড়ে ডিএসবি এএসআই মো. হোসেনের হাতে। প্রতিবেদন নিয়ম অনুযায়ী গত ১৮ নভেম্বর রেজাউল হাসান নামে এক এএসআই মোহাম্মদ ইসলামইলের বাড়িতে যান। যাকে এএসআই মো. হোসেন পাঠিয়েছেন।

তিনি মোহাম্মদ ইসমাইলের কাছ থেকে তথ্য নেওয়া শেষে ১৭ শত টাকা নেন। পরে গত ২৫ অক্টোবর ডেলিভারি তারিখ অনুযায়ী মোহাম্মদ ইসমাইল ও তার ভাইয়ের ছেলে ফেরদৌস আলম পাসপোর্ট অফিসে যান। কিন্তু পুলিশের রিপোর্ট না যাওয়ার কারণে পাসপোর্ট পাওয়া যায়নি। বিষয়টি জানতে তারা এএসআই মো. হোসেনের সাথে দেখা করেন।

এসময় এএসআই মো. হোসেন মোহাম্মদ ইসমাইলকে জিজ্ঞেস করেন, এএসআই রেজাউল হাসানকে কত টাকা দেওয়া হয়েছে। তিনি বললেন ১৭ শত টাকা। আর জানতে চায় তার ভাগের টাকা কোথায়। মোহাম্মদ ইসমাইল বলেন ‘ যিনি গিয়েছিল (এএসআই রেজাউল হাসান) তাকে তো টাকা দেওয়া হয়েছে। এ কথায় এএসআই হোসেন ক্ষুব্ধ হয়ে বলেন, তার হিসাব তার সাথে আমারটা আমার। এসময় মোহাম্মদ হোসেনের পাশে থাকা একজন বলেন, এত কথা না বলে দেড় হাজার টাকা দাও। এএসআই মো. হোসেন বলেন, তোমার কাছে না থাকলে সাথে থাকা ব্যক্তির কাছ থেকে নিয়ে দাও। আর দেড় হাজার না থাকলে ১ হাজার টাকা হলেও দাও। পরে তার কাছে থাকা ৫০০ টাকা দেয়।

এরপর পাসপোর্টের খবরের জন্য ৪-৫ বার এএসআই মো. হোসেনের কাছে গিয়েছেন মোহাম্মদ ইসমাইল। আর তাকে বার বারই ফেরত পাঠিয়েছে নানা অযুহাতে।

সর্বশেষ সোমবার(২০ নভেম্বর) তিনি গেলে তাকে ধমক দিয়ে বলেন, এখানে বার বার আসো কেন। আর এই নাম্বারে ফোন কর কেন। জাননা এইটা সরকারি নাম্বার। আর এখানে আসবে না।

এরপরেও মোহাম্মদ ইসমাইল পাসপোর্টে’র ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, তোমার বিরুদ্ধে মামলা আছে। মামলা তুলে নিয়ে আসো এরপর দেখা যাবে। পরে তিনি ওই এএসআই রেজাউল হাসানকে ফোন করেন। ফোনে রেজাউল হাসান বলেন, তিনি ব্যস্ত আছেন। এখন কথা বলতে পারবে না।

এ অবস্থায় আতঙ্কিত এবং হতাশায় ভুগছে বাবা-মা হারা মো. ইসমাইল। তার বিরুদ্ধে কোন মামলা না থাকার পরেও কেন মামলা আছে বলা হচ্ছে। এছাড়া সবকিছু ঠিক থাকার পরেও কেন পাসপোর্ট দেওয়া হচ্ছেনা। যদিও তার পরে অনেকে আবেদন করে পাসপোর্ট পেয়ে গেছে।

ডিএসবি’র এএসআই রেজাউল হাসান বিষয়টি স্বীকার করে জানান, ডিএসবি’র এএসআই মো. হোসেনের অনুরোধে পুলিশ প্রতিবেদনের জন্য পিএম খালীর মোহাম্মদ ইসমাইলের কাছে তিনি গিয়েছিলেন। আর তথ্য নিয়ে এএসআই মো. হোসেনকে জমা দেন। ইসমাইলের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার বিষয়টি তিনি পাশ কাটিয়ে যান। পরে জানান, ওই ধরনের কোন ঘটনা ঘটেনি।

এ ব্যাপারে ডিএসবি’র এএসআই মো. হোসেন জানান, পুলিশ ভেরিফাই বা পুলিশ প্রতিবেদনের কার্যক্রম পক্রিয়ায় মামলা থেকে শুরু করে নানা বিষয় খতিয়ে দেখতে হয়। তাই তার বিরুদ্ধে কোন মামলা আছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এসব কাজের জন্য একটু সময় লাগে। টাকা নেওয়া ও টাকা চাওয়ার ব্যাপারে কোন কথা বলেননি।

এ ব্যাপারে সাইফুর রহমান নামে এক সচেতন যুবক জানান, শুধু মোহাম্মদ ইসমাইল নয়। এই ধরনের আরো অনেকে রয়েছে যারা হয়রানির স্বীকার হচ্ছে। কিন্তু তারা ভয়ে কিছু বলতে পারছেনা যদি পাসপোর্ট না পায়। এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। যাতে করে আবেদনকারীরা যথাযথ সেবা পায়।

এ ব্যাপারে জেলা পুলিশ সুপার ড. একেএম ইকবাল হোসেন জানান, এটি আইনগত অপরাধ। তাই কারো বিরুদ্ধে এই ধরনের কোন অভিযোগ থাকলে তা লিখিতভাবে জানাতে হবে। আর ওই অভিযোগের ভিত্তিতে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।




চকরিয়ায় ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযানে ৬৮০ কেজি নিষিদ্ধ পলিথিন জব্দ

চকরিয়া প্রতিনিধি:

কক্সবাজারের চকরিয়ায় পৌরশহরে কাঁচা বাজারস্থ হক মার্কেট এলাকায় জেলা পরিবেশ অধিদপ্তর ও ভ্রাম্যমান আদালত অভিযান চালিয়ে ৩টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে ৬৮০ কেজি নিষিদ্ধ ঘোষিত পলিথিন জব্দ করেছে ভ্রাম্যমান আদালত। এ সময় ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে নিষিদ্ধ পলিথিন রাখার দায়ে ওই সব দোকানকে ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

সোমবার (২০ নভেম্বর) রাত ৭টার দিকে জেলা পরিবেশ অধিদপ্তর কর্তৃক পরিচালিত ভ্রাম্যমান আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নুরুদ্দীন মুহাম্মদ শিবলী নোমান এর নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালিত হয়। এ সময় কক্সবাজার পরিবেশ অধিদপ্তরের দায়িত্বে থাকা সহকারী পরিচালক সাইফুল আশরাফ উপস্থিত ছিলেন।

জেলা পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক সাইফুল আশরাফ সাথে ভ্রাম্যমান আদালত অভিযান এর ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, চকরিয়া পৌরশহরের বাণিজ্যিক কেন্দ্র কাঁচা বাজার হক মার্কেট এলাকায় বেশ কয়েকটা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে নিষিদ্ধ পলিথিন মজুদ রয়েছে বলে তাদের কাছে অভিযোগ ছিল।

ফলে সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাত ৭টা পর্যন্ত পরিবেশ অধিদপ্তরের উদ্যোগে বাণিজ্যিক হক মার্কেট এলাকায় অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় বশির স্টোর, ইব্রাহিম স্টোর ও আমিন স্টোর নামে তিনটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে নিষিদ্ধ পলিথিন রাখার সন্ধান পাওয়া যায়। পরে তল্লাশী চালিয়ে এসব প্রতিষ্ঠান থেকে ৬৮০ কেজি নিষিদ্ধ পলিথিন জব্দ করা হয়।

তাৎক্ষণিক ভ্রাম্যমান আদালত বসিয়ে পরিবেশ সংরক্ষণ আইনে বশির স্টোরের মালিককে ৪০ হাজার টাকা, ইব্রাহিম স্টোরকে ৫০ হাজার টাকা ও আমিন স্টোরকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা নির্দেশ দেয়া হয়। পরে ভ্রাম্যমান আদালতের নির্দেশে প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে জরিমানাকৃত ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকা আদায় করা হয়েছে বলেও তিনি জানান। অভিযানের সময় সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তা, আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।




পেকুয়ায় পিএসসি পরিক্ষার্থীকে মাথা ন্যাড়া করে নির্যাতন, আটক-১

পেকুয়া প্রতিনিধি:
কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার উজানটিয়া ইউনিয়নের নুরীর পাড়া এলাকায় পিএসসি পরিক্ষার্থী শহিদুল ইসলামকে মাথা ন্যাড়া করে নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে। এছাড়াও হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর জখম করা তাকে। সে ওই এলাকার নুরুল আজিমের পুত্র  এস এ সিনিয়র মাদ্রাসার ছাত্র। শনিবার (১৮ নভেম্বর) সন্ধ্যায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে রবিবার (১৯ নভেম্বর) নুরুল আমিন নামের এক ব্যক্তিকে আটক করেছে পুলিশ।

লিখিত অভিযোগে জানা গেছে, শনিবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে চিংড়ি ঘের থেকে মাছ চুরির অভিযোগে শিশু শহিদুল ইসলামকে ধরে নিয়ে যায় নুরুল আমিনসহ আরো কয়েকজন ব্যক্তি। চিংড়ি ঘেরের বাসায় নিয়ে গিয়ে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে আহত করে। সর্বশেষ মাথা মুন্ডন করে বর্বর নির্যাতন চালায় তারা। একপর্যায়ে এ বিষয়টি পরিবার জানতে পারলে স্থানীয়দের নিয়ে তাকে উদ্ধার করে মূমর্ষ অবস্থায় পেকুয়া সরকারী হাসপাতালে ভর্তি করায়।

হামলায় গুরুতর আহত ও মাথা মুন্ডন করে নির্যাতন করায় শিশুটি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ায় পিএসসির প্রথম পরিক্ষায় অংশগ্রহন করতে পারেনি।

রবিবার (১৯ নভেম্বর) এ ঘটনায় পেকুয়া থানায় শিশুর পিতা নুরুল আজিম বাদি হয়ে লিখিত অভিযোগ দিলে পুলিশ তাৎক্ষনিকভাবে ঘটনায় জড়িত নুরুল আমিনকে আটক করে।




কুখ্যাত জলদস্যু জাম্বু র‌্যাবের সাথে বন্দুকযুদ্ধে নিহত: ৪৪টি আগ্নেয়াস্ত্রসহ ১,২১৫ রাউন্ড গুলি উদ্ধার

মহেশখালী প্রতিনিধি:

কক্সবাজারে র‌্যাবের সাথে বন্দুকযুদ্ধে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী, সোনাদিয়ার ত্রাস ও জলদস্যু মোকারম হোসেন জাম্বু ((৩৮) ) নিহত হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে ৪৪টি বিভিন্ন ধরণের আগ্নেয়াস্ত্র, ১,২১৫ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়েছে।

রোববার বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে জেলার মহেশখালী উপজেলা সোনাদিয়া দ্বীপে এ ঘটনা ঘটেছে। নিহত জাম্বু সোনাদিয়া পূর্বপাড়ার এখলাস মিয়ার পুত্র। র‌্যাব কক্সবাজার ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার মেজর রুহুল আমিন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

মেজর রুহুল আমিন জানান, লে. কর্ণেল মিফতাহ উদ্দিন আহমদ এর নেতৃত্বে সোনাদিয়ায় অভিযান চালানো হয়। এসময় সেখানে পৌঁছালে উপস্থিতি টের পেয়ে সন্ত্রাসীরা র‌্যাবকে লক্ষ্য করে এলোপাথাড়ি গুলি বর্ষণ করে। আত্মরক্ষার্থে র‌্যাবও পাল্টা গুলি ছুঁড়ে। গোলাগুলির এক পর্যায়ে সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যায়।

পরে ঘটনাস্থলে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় জলদস্যু মোকারম হোসেন জাম্বুকে পাওয়া যায়। দ্রুত কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। ঘটনাস্থল থেকে বিদেশি পিস্তলসহ ৪৪টি আগ্নেয়াস্ত্র, ১ হাজার ২১৫ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়েছে।

র‌্যাব জানান জলদস্যু জাম্বুর নামে কক্সবাজার জেলার বিভিন্ন থানায় ডাকাতি, খুন, ধর্ষণ, চাঁদাবাজিসহ মোট ১২টি মামলা রয়েছে।




 রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শনে ইইউ ভাইস প্রেসিডেন্টসহ ৩ দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী

কক্সবাজার প্রতিনিধি:

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সেনাবাহিনীর নির্মম নির্যাতনের শিকার হয়ে প্রাণের ভয়ে বাংলাদেশে পালিয়ে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের স্বচোখে দেখতে কক্সবাজারের উখিয়ার কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করেছেন জাপান, জার্মান ও সুইডেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। এসময় ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) পররাষ্ট্র বিষয়ক প্রধান ফ্রেডরিকা মোঘেরিনি তাদের সঙ্গে ছিলেন।

বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহামুদ আলীর নেতৃত্বে  রবিবার(১৯ নভেম্বর) দুপুর সাড়ে ১২টায় ৩ বিদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীসহ আন্তর্জাতিক রেড ক্রসের উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধিদল পরিদর্শন করেন। এরা হলেন, জাপানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী তারো কোনো, জার্মানির পররাষ্ট্রমন্ত্রী সিগমার গ্যাব্রিয়েল ও সুইডেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মারগট ওয়ালস্টার।

বিদেশী পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা উখিয়ার কুতুপালং ক্যাম্পে পৌঁছে প্রথমে  ক্যাম্প ইনচার্জ কার্যালয়ে সংক্ষিপ্ত বৈঠকে মিলিত হয়। প্রায় ১৫ মিনিট বৈঠক শেষে কুতুপালং শরণার্থী ক্যাম্পে আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএমওর) পরিচালনাধীন চিকিৎসা কার্যক্রম পরিদর্শন করেন। এর পরে তারা বিভিন্ন রোহিঙ্গা ক্যাম্প ঘুরে দেখেন ও মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আশ্রিত নির্যাতিত রোহিঙ্গাদের সাথে কথা বলে তাদের বক্তব্য ধৈর্য্য সহকারে শোনেন। এসময় পিতা-মাতৃহীন এতিম রোহিঙ্গা শিশুদের সাথেও কথা বলেন তারা।

পরিদর্শন শেষে জাপানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী তারো কোনো সাংবাদিকদের এক প্রেসব্রিফিংয়ে বলেন, মিয়ানমার থেকে পালিয়ে এসে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের করুন চিত্র আমরা দেখেছি। তাদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, রোহিঙ্গারা মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সেনাবাহিনীর বর্বর নির্যাতন, জুলুম ও জাতিগত হত্যাযজ্ঞের শিকার হয়েছে। তাদের বাড়ি ঘরে আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছে।

বসত বাড়ি থেকে বিতাড়িত করা হয়েছে। আমরা রোহিঙ্গাদের সংকট সমাধানে কাজ করে যাব। পাশাপাশি রোহিঙ্গাদের স্বদেশে ফেরত পাঠিয়ে নাগরিত্বকসহ তাদের মৌলিক অধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য আগামী ২০-২১ নভেম্বর মিয়ানমারের অনুষ্ঠিত আছেন সম্মেলনে জোরালো ভাবে তুলে ধরা হবে। আমরাও চাই শান্তিপূর্ণ ভাবে রোহিঙ্গাদেরকে স্বীকৃতি দিয়ে মিয়ানমার তাদেরকে ফেরত নেবে। বিশেষ করে বিপন্ন রোহিঙ্গাদেরকে আশ্রয় দেওয়ায় বাংলাদেশ সরকারের প্রতিও পররাষ্ট্রমন্ত্রীগণ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

এসময় উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম, পররাষ্ট্র সচিব শহিদুল হক, আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) বাংলাদেশের ডাইরেক্টর পেপি ছিদ্দিকীসহ ৩ দেশের রাষ্ট্রদূত, বিদেশি কূটনৈতিক ও আন্তর্জাতিক রেড ক্রস কমিটির (আইসিআরসি) এশীয় ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের পরিচালক বরিস মিশেল।

এর আগে সকাল সাড়ে ১১টায় দিকে ৩ বিদেশি  পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলীর নেতৃত্বে ৩টি বিশেষ হেলিকপ্টার যোগে উখিয়ার ইনানীতে অবতরণ করেন। রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন শেষে বিকেল ৩টায় ঢাকার উদ্দেশ্যে উখিয়া ত্যাগ করেন বিদেশি পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা।




চকরিয়ায় পুলিশের অভিযানে হত্যা মামলার পলাতক আসামি গ্রেফতার

গ্রেফতারচকরিয়া প্রতিনিধি:

কক্সবাজারের চকরিয়ায় পুলিশ অভিযান চালিয়ে মো. মফিজ(৫০) নামের এক পলাতক হত্যা মামলার আসামিকে গ্রেফতার করেছে। ধৃত মফিজ উপজেলার মানিকপুর ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের দক্ষিণ পাড়া এলাকার মিয়াজানের পুত্র বলে জানাগেছে। শুক্রবার(১৭নভম্বর) রাত্রে পুলিশ অভিযান চালিয়ে মানিকপুর তার বসত বাড়ি থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানাগেছে, উপজেলার সুরাজপুর-মানিকপুর ইউনিয়নের ৫নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ পাড়া এলাকায় ২০০৮ সালের আলোচিত হত্যা মামলার পলাতক আসামি গোপনে অবস্থান নেয়ার সংবাদ পাই পুলিশ। চকরিয়া থানার ওসি মো. বখতিয়ার উদ্দিন চৌধুরীর নির্দেশে থানার(এএসআই) সাজু প্রতাপ দাশের নেতৃত্বে একদল সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে পলাতক আসামির বসতঘরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে হত্যা মামলার এজাহারনামীয় পলাতক আসামি মো. মফিজকে গ্রেফতার করা হয়।ধৃত আসামি দীর্ঘদিন ধরে এলাকা ছেড়ে পলাতক ছিল বলে পুলিশ জানায়। তার বিরুদ্ধে হত্যাসহ নানা ধরণের অভিযোগ রয়েছে।

এ ব্যাপারে চকরিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি) মো. বখতিয়ার উদ্দিন চৌধুরীর কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, পুলিশ গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে হত্যা মামলার পলাতক আসামি মফিজ নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হন। ধৃত আসামিকে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে বলেও তিনি জানান।




পেকুয়ায় চাঁদার দাবিতে এক ব্যবসায়ীকে মারধর

পেকুয়া প্রতিনিধি:

পেকুয়ায় চাঁদার দাবিতে মোহাম্মদ মানিক(২১) নামের এক ব্যবসায়ীকে মারধর করছে স্থানীয় এক চাঁদাবাজ চক্র। বৃহস্পতিবার (১৬ নভেম্বর) দুপুর ১.৩০ মিনিটে উপজেলার শীলখালী ইউনিয়নের জারুলবুনিয়া স্টেশনে এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় ও আহত ব্যবসায়ীর কাছ থেকে জানা যায়, শিলখালী মাঝির ঘোনা এলাকার মোহাম্মদ আলীর পুত্র মোহাম্মদ মানিক জারুলবুনিয়া স্টেশনে তিন বছর ধরে একটি মুদির দোকান ও একটি চায়ের দোকানের ব্যবসা করে আসছে।

তার ব্যবসার প্রতি ঈর্ষানিত হয়ে জারুলবুনিয়া স্টেশন এলাকার মেম্বার আহমদ ছবির ছোট ভাই ছৈয়দ একই এলাকার আসহাব উদ্দিন, মিজান, মিয়ার নেতৃত্বে সংঘবদ্ধ চাঁদাবাজ চক্র দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসায়ী মানিকের কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করে আসছে। চাঁদা না দিলে ওই স্টেশনে ব্যবসা করা যাবেনা বলেও হুমকি দেয়।

এ ব্যাপারে প্রতিকার চেয়ে স্থানীয় মেম্বারের কাছে গেলেও কোন সুরাহ হয়নি ওই ব্যবসায়ীর। শেষ পর্যন্ত ঘটনার  দিন ওই সময়ে চাঁদাবাজ চক্রের প্রধান মেম্বারের ভাই ছৈয়দ পাশের সাজ্জাদ টেইলাসের দোকানে মানিককে ডেকে নিয়ে তাদের দাবিকৃত টাকা চাই।

সে দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে চাঁদাবাজচক্ররা তাকে বেধে হাতুড়ি দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে এলোপাতাড়ি আঘাত করলে সে গুরুত্বর আহত হয়। এমনকি পিঠে হাতুড়ি দিয়ে থেঁতলে দেয়। চাঁদাবাজচক্ররা তার উপর অমানবিক নির্যাতন চালায়।

পরে বিষয়টি স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মাঝে ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা এগিয়ে এসে ব্যবসায়ী মানিককে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে পেকুয়া সদর হাসপাতালে ভর্তি করে। পরে অবস্থার অবনতি হলে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে প্রেরণ করে।

এদিকে কর্তব্যরত ডাক্তার জানিয়েছেন আহত ব্যবসায়ীর অবস্থা আশঙ্কা জনক। এ ব্যাপারে আহত ব্যবসায়ীর পরিবার জানিয়েছেন চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে থানায় মামলা করার প্রস্তুতি নিয়েছে।

এ ব্যাপারে পেকুয়া থানার ওসি জহিরুল ইসলাম খাঁনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বিষয়টি শুনেছেন বলে জানান।




রোহিঙ্গা শিশু মৃত্যুর ঝুঁকি কমাতে শুরু হচ্ছে পুষ্টি কার্যক্রম সপ্তাহ

কক্সবাজার প্রতিনিধি:

মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গার মধ্যে প্রায় ৫০ ভাগ’ই শিশু। আর এসব শিশু’র মধ্যে ২৬ ভাগ ভুগছে অপুষ্টিতে। তার মধ্যে ৭ ভাগ মারাত্বক পুষ্টিহীনতায় ভুগছে। শুরু থেকেই এসব রোহিঙ্গা শিশুদের চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হচ্ছে সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন সংস্থার পক্ষ থেকে। ক্যাম্পে ক্যাম্পে রয়েছে মেডিকেল টিম। যেখানে বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হচ্ছে প্রতিনিয়ত।

এরই ধারাবাহিকতায় আগামী ১৫ নভেম্বর থেকে ২৩  নভেম্বর এক সপ্তাহ পর্যন্ত রোহিঙ্গা ক্যাম্পে চলবে পুষ্টি সপ্তাহ কার্যক্রম। সপ্তাহব্যাপী এ কার্যক্রমে ২ লক্ষ ৯৫ হাজার ১ শত ৫৬জন রোহিঙ্গা শিশুকে ভিটামিন এ ক্যাপসুল আর কৃমিনাশক ওষধ খাওয়ানো হবে। আর এটি সফলভাবে বাস্তবায়ন করতে ৭০টি কেন্দ্র একসাথে ৭০টি টিম কাজ করবে। যেখানে ৫৬০জন ভলান্টিয়ার (স্বেচ্চাসেবী) থাকবে।

গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় সিভিল সার্জন কার্যলয়ে ‘পুষ্টি সপ্তাহ কার্যক্রম’ নিয়ে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান, জেলা সিভিল সার্জন আব্দুর সালাম।

এসময় তিনি আরো বলেন, অপুষ্টিতে ভোগা রোহিঙ্গা শিশুরা যথাসময়ে চিকিৎসা না পেলে মারা যাবে। অনেক রোহিঙ্গা শিশু এই ধরনের একটা ঝুঁকির মধ্যে তারা বসবাস করছে। তাই পুষ্টি কার্যক্রম সপ্তাহ উপলক্ষ্যে ১ লক্ষ ৭৬ হাজার ৭ শত ৫৬জন শিশুকে ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে।

যাদের বসয় ৬ মাস থেকে ৫৯ মাস। পাশাপাশি ১ লক্ষ ১৮ হাজার ৪ শত শিশুকে কৃমিনাশক ঔষধ খাওয়ানো হবে। যাদের বসয় ১২ মাস থেকে ৫৯ মাস পর্যন্ত। এ দুই কার্যক্রম এক সাথে চলবে। এর মধ্যে যেসব বাচ্চা মারাত্বক অপুষ্টিতে ভুগছে তাদের আলাদা করা হবে এবং উন্নত চিকিৎসা দেওয়া হবে। আর এ চিকিৎসা কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।




 ভেলায় করে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ অব্যাহত রয়েছে

কক্সবাজার প্রতিনিধি:

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সে দেশের সামরিক জান্তার রোহিঙ্গা নাগরিকদের হত্যা, ধর্ষণ, বসতঘরে অগ্নিসংযোগসহ নানা নির্যাতন কিছুদিন বন্ধ রাখার পর ফের শুরু করেছে।

এতে সীমান্তের নাফ নদী পার হয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বাংলাদেশে পালিয়ে আসছে রোহিঙ্গারা। সাঁতার কেটে, ভেলায় করে, যে যেমনি পারে নাফ নদী পার হয়ে অনুপ্রবেশ করছে। নৌকা সংকটের কারণে প্লাস্টিকের জারিকেন, কাঠ, বাঁশ ও দড়ি দিয়ে ভেলা তৈরি করে ঝুঁকি নিয়ে বাংলাদেশে আসছে।

সোমবার (১৩ নভেম্বর) সকালে নাফ নদীর শাহপরীরদ্বীপ ও সাবরাং পয়েন্ট দিয়ে ২টি ভেলায় শতাধিক রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ করেছে। এর পুর্বে গত ৪ দিনে ভেলায় করে ৮ শতাধিক রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ করেছে। এদের ক্যাম্পে নিয়ে আসা হয়েছে।

উখিয়ার আঞ্জুমানপাড়া সীমান্ত পয়েন্ট দিয়ে অনুপ্রবেশকারী ১৫ শতাধিক রোহিঙ্গাকে বালুখালী ক্যাম্পে নিয়ে আসা হয়েছে। আঞ্জুমানপাড়া সীমান্তের নাফ নদীর ওপারে অনুপ্রবেশের অপেক্ষায় রয়েছে ২ হাজারের অধিক রোহিঙ্গা।

নতুন করে অনুপ্রবেশকারী রোহিঙ্গাদের জন্য সরকার নির্ধারিত জমিতে আবাসন তৈরি করে মানবিক সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে প্রশাসন।




দীর্ঘদিন পর টেকনাফ-সেন্টমার্টিন জাহাজ চলাচল শুরু

কক্সবাজার প্রতিনিধি:

প্রায় সাত মাস বন্ধ থাকার পর সোমবার(১৩ নভেম্বর) সকালে টেকনাফ-সেন্টমার্টিন নৌপথে আবার পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচল শুরু হয়েছে। ৩ শতাধিক পর্যটক নিয়ে  জাহাজ কেয়ারী সিন্দাবাদ সকাল ১০টায় টেকনাফ জেটি ঘাট থেকে ছেড়ে যায়।

কেয়ারী সিন্দাবাদের ইনচার্জ শাহ আলম জানান, জাহাজটি দুপুর ১২টায় সেন্টমার্টিন জেটিঘাটে নোঙর করবে। বিকেল ৩টায় সেন্টমার্টিন থেকে জাহাজটি টেকনাফের উদ্দেশ্যে যাত্রা করবে।

এদিকে সাগর উত্তাল থাকায় এবং রেহিঙ্গা অনুপ্রবেশের কারণে  ১ মে থেকে নৌপথে পর্যটক পারাপারে নিয়োজিত জাহাজ চলাচল বন্ধ করে দিয়েছিল স্থানীয় প্রশাসন।

টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা  মো. জাহিদ হোসেন ছিদ্দিক জানান,  বিআইডব্লিউটিএ অনুমতির সাপেক্ষে  নৌপথে জাহাজ চলাচল শুরুর অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

তিনি জানান, শুরু হওয়া পর্যটন মৌসুমে পর্যায়ক্রমে টেকনাফ সেন্টমার্টিন রুটে পর্যটকবাহী আরো ৪টি জাহাজ চলাচল করবে।