পেকুয়ায় পল্লী বিদ্যুতের তারে জড়িয়ে এক যুবকের মর্মান্তিক মৃত্যু

পেকুয়া প্রতিনিধি:

পেকুয়ায় পল্লী বিদ্যুতের তারে জড়িয়ে এক যুবকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। ২৬ জুলাই রাত সাড়ে ৯ টায় উপজেলার বারবাকিয়া ইউনিয়নের ভারুয়াখালী এলাকায় এঘটনা ঘটে। মৃত ব্যক্তি ওই এলাকার আব্দুল কাদেরের পুত্র আজিম উদ্দিন (৩২)।

বারবাকিয়া ইউপির সদস্য এনাম ঘটনার সত্যতা জানিয়ে বলেন, আজিম বারবাকিয়া বাজার থেকে বাশঁ কিনে পানি দিয়ে বাড়ি ফিরছিল। পথে নাজিরমোরা এলাকায় পল্লী বিদ্যুতের একটি তার পানিতে পড়ে ছিল, ওই পল্লী বিদ্যুতের তারে স্পর্শ লাগলে ঘটনাস্থলে সে প্রাণ হারায়।

এব্যাপারে পেকুয়া পল্লী বিদ্যুতের অফিস ইনচার্জ খোরশেদ আলমের সাথে কথা হলে তিনি বিষয়টি জানেন না বলে জানান।




কুতুবদিয়ায় উচ্চ মাধ্যমিকে সেরা সাবরিনা

কুতুবদিয়া প্রতিনিধি:

সদ্য প্রকাশিত এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় কেউ জিপিএ-৫ পায়নি কুতুবদিয়া উপজেলায়। ফলাফল বিপর্যায়েও  সেরা ফলাফল করেছে সাবরিনা সুলতানা ডলি।

একটি সরকারি কলেজ, দু’টি মাদ্রাসা ও একটি টেকনিক্যাল কলেজ থেকে মোট ৪৮৫জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পাশ করেছে ২০৫জন। এর মধ্যে সর্বোচ্চ জিপিএ পয়েন্ট ৪.৮৩ পেয়েছে কুতুবদিয়া টেকনিক্যাল ও বিএম কলেজের ছাত্রী সাবরিনা সুলতানা ডলি। সে উপজেলার ধুরুং বাজারের হোটেল ব্যবসায়ী মানিক সওদাগরের মেয়ে। ৭ বোনের মধ্যে ডলি ৩য়। পরীক্ষার মাত্র এক মাস আগেই তার বিয়ে হয়।

কলেজের শিক্ষকরা মনে করেন পরীক্ষার আগে তার বিয়ে না হলে জিপিএ-৫ অর্জন করতে পারতো সে।

 




কুতুবদিয়া হাসপাতালে ৪ ধাত্রী নার্সের যোগদান

 

কুতুবদিয়া প্রতিনিধি:

কুতুবদিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আরো ৪ সিনিয়র নার্স যোগদান করেছেন। তারা ডেলিভারিতে বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত হয়ে একটি প্রকল্পের অধিনে কাজ করবেন।

হাসপাতাল সূত্র জানায়, আগে যোগদানকৃত ১২ নার্স রয়েছে। সম্প্রতি ঘুর্ণিঝড় মোরা’য় আঘাতের পর একটি প্রকল্পের বিশেষ টিম হিসেবে ডেলিভারিতে  ধাত্রী নার্স দেয়া হয়েছে। তারা প্রাথমিক পর্যায়ে ৪ মাস থাকবেন। নিয়মিত সাধারণ ডেলিভারির দায়িত্বের পাশা পাশি অন্য সেবাও দেবেন। এর আগে হাসপাতালে ডেলিভারি রোগীদের সেবা দেয়া হলেও ঝুঁকিপূর্ণ নরমাল ডেলিভারি করানো সম্ভব হতো না। এখন সে সেবাটাও নিয়মিত পাবে রোগীরা।

এ জন্যে লেবার রুম সহ আনুসাঙ্গিক যন্ত্রপাতিও প্রস্তুত। যোগাযোগ-যাতায়াত ব্যবস্থার অপ্রতুল দ্বীপে সাধারণ রোগীর পাশাপাশি গর্ভবর্তী রোগীদের ডেলিভারির পূর্ণ নিশ্চয়তা দেওয়া যেতনা অনেক সময়। এ ৪ নার্স যোগদানের পর সে ভোগান্তি দূর হবে বলে মনে করেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। পালাক্রমে দিবা-রাত্রি সেবা দিবেন তারা।

হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. মো. জয়নুল আবেদীন বলেন, ধাত্রী বিদ্যায় বিশেষ প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত ৪জন নার্স যোগদান করায় প্রত্যন্ত অঞ্চলের গর্ভবর্তী মহিলাগণ চিকিৎসকের পরামর্শে এখন কুতুবদিয়া হাসপাতালে ২৪ ঘন্টা নিরাপদ ডেলিভারি করানোর সুযোগ পাবে সম্পূর্ণ বিনা পয়সায়। এ ছাড়া আনুসাঙ্গিক অতি প্রয়োজনীয় ঔষধ সেবাও পাবেন তারা। প্রাথমিক পর্যায়ে ধাত্রী নার্সগণ ৪ মাসের জন্য এলেও প্রয়োজনে এসময় বাড়ানো হতে পারে বলে তিনি জানান।




চকরিয়ায় ভোররাতে মার্কেটে সন্ত্রাসীদের তাণ্ডব, ব্যবসায়ীদের মাঝে আতঙ্ক

চকরিয়া প্রতিনিধি:

কক্সবাজারের চকরিয়া পৌরশহর চিরিঙ্গা আনোয়ার শপিং কমপ্লেক্সের কয়েকটি দোকান দখলে নিতে সীমানা প্রাচীর ভেঙে গুঁড়িয়ে দিয়েছে সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা। এ সময় বাঁধা দিতে গেলে মার্কেট মালিক ও তার ভাইদের লক্ষ্য করে কয়েক রাউন্ড গুলি চালায়। তবে সেই গুলি লক্ষ্যভ্রষ্ট হলে প্রাণে বেঁচে যান তারা।

এ ঘটনায় মার্কেটের ব্যবসায়ীদের মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যায়। বুধবার ভোররাত সাড়ে তিনটার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

আনোয়ার শপিং কমপ্লেক্সের মালিক আনোয়ার হোসেন অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় একটি চক্র তাদের মার্কেটের কয়েকটি দোকান দখলে নেওয়ার চেষ্টা চালিয়ে আসছিল।

বুধবার ভোররাত সাড়ে তিনটার দিকে অন্য মার্কেটের ভেতর দিয়ে এসে আনোয়ার শপিং কমপ্লেক্সের একটি গলির দেওয়াল বড় বড় হাতুড়ি দিয়ে ভেঙে গুঁড়িয়ে দেয় সন্ত্রাসীরা। এ খবর পেয়ে ছুটে গেলে তাদের লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে সন্ত্রাসীরা। পরে পুলিশকে জানালে তাৎক্ষণিক থানার একদল পুলিশ ঘটনাস্থলে আসলে সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যায়।

আনোয়ার হোছাইন দাবি করেন, পৌরসভার সমশের পাড়ার আবদুল গফুরের নেতৃত্বে, শাহ আলম, আরিফুল ইসলাম মনিয়াসহ অন্তত ৩০জনের সশস্ত্র সন্ত্রাসী এই তাণ্ডব ও ফাঁকা গুলি করে।

আবদুল গফুর দাবি করেছেন, তার মার্কেটের গলির প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করায় দেওয়ালটি ভাঙা হয়েছে। এ সময় তারা কোন গুলি করেন নি।

পৌরসভার দুই নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর রেজাউল করিমও গুলির করার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে থানার ওসিকে বলেছি।’

এ ব্যাপারে চকরিয়া থানার ওসি মো. বখতিয়ার উদ্দিন চৌধুরী বলেন, ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। লিখিত অভিযোগ পেলে ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে মামলা নেওয়া হবে।




নাফনদীতে নিখোঁজ জেলের লাশ উদ্ধার

টেকনাফ প্রতিনিধি:

নাফনদীর জাদিমুরা বরাবর মাছ শিকারে গিয়ে নিখোঁজ হওয়া জেলে নুর আলম (৩৫)এর লাশ উদ্ধার করেছে টেকনাফ মডেল থানার পুলিশ। সে জাদিমুরা এলাকার নুর মোহাম্মদের ছেলে।

২৬ জুলাই বেলা ১১টার দিকে থানার এসআই মাহির উদ্দিন খাঁন এর নেতৃত্বে একদল পুলিশ শাহপরীরদ্বীপ জেটিঘাট এলাকা থেকে তার লাশটি উদ্ধার করে।

টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাইন উদ্দিন খাঁন জানান, উদ্ধার হওয়া লাশের পরিচয় সনাক্ত করেছে তাদের পরিবার এবং তাদের পরিবারের নিকট হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।

উল্লেখ্য, গত ২৪ জুলাই সকালে উপজেলার হ্নীলা দক্ষিণ জাদিমোরাস্থ নাফনদীতে মোস্তাক আহমদের পুত্র নোম্মাল হাকিম (৩০) ও উদ্ধার হওয়া জেলে মৃত হাবিব উল্লাহর মেয়ে জামাই নুর আলম (৩৫) ভাসা জাল নিয়ে ইলিশ মাছ শিকারে যায়। মাছ শিকাররত অবস্থায় প্রবল বৃষ্টি আর ঝড়ো হাওয়ার কবলে পড়ে জইল্যারদ্বীপ সংলগ্ন নাফনদীতে নৌকাটি ডুবে যায়। ওই সময় জইল্যারদ্বীপে গিয়ে বিহিঙ্গী জালের ভেতর হতে লোকমাল হাকিমকে ডুবে যাওয়া নৌকা থেকে উদ্ধার করে। এরপর থেকে উদ্ধার হওয়া নুরুল আলম নিখোঁজ ছিল।




টেকনাফে দু’টি আগ্নেয়াস্ত্র ও ৩ রাউন্ড কার্তুজ উদ্ধার

টেকনাফ প্রতিনিধি:

কক্সবাজারের টেকনাফে দু’টি আগ্নেয়াস্ত্র ও ৩ রাউন্ড কার্তুজ উদ্ধার করেছে বর্ডার গার্ড ব্যাটালিয়ন (বিজিবি)। তবে এসময় কাউকে আটক করতে পারেনি বিজিবি।

২৫ জুলাই রাতে সাবরাং ইউপির কাটাবনিয়া কবরস্থান এলাকায় আগ্নেয়াস্ত্র ক্রয়-বিক্রয়ের সময় দুটি আগ্নেয়াস্ত্র ও ৩ রাউন্ড কার্তুজ উদ্ধার করা হয়।

এব্যাপারে টেকনাফ ২ ব্যাটালিয়ন বিজিবির অতিরিক্ত পরিচালক শরীফুল ইসলাম জোমাদ্দার স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞাপ্তির মাধ্যমে জানান, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে কিছু দুস্কৃতিকারী, সন্ত্রাসী ঐ এলাকায় দেশীয় আগ্নেয়াস্ত্র ক্রয়-বিক্রয় করবে।

এমন সংবাদে নাজিরপাড়া বিওপির হাবিলদার মো. নজরুল ইসলামের নেতৃত্বে একটি বিশেষ টহল দল ঐ স্থানে অবস্থান  নেয়। এসময় দুই ব্যক্তিকে একটি ব্যাগ হাতে আসতে দেখে সন্দেহ হওয়ায় চ্যালেঞ্জ করে। এমতাবস্থায় অস্ত্র পাচারকারীদ্বয় তাদের হাতে থাকা ব্যাগটি ফেলে পালিয়ে যায়।

এসময় দু’টি আগ্নেয়াস্ত্র ৩ রাউন্ড কার্তুজ উদ্ধার করতে সক্ষম হয়। উদ্ধারকৃত অস্ত্র ও কার্তুজ টেকনাফ মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।




উখিয়ায় শিক্ষক কর্তৃক রুমখাঁ মহাজন পাড়া রাস্তা বন্ধ করায় স্কুল শিক্ষার্থীরা বিপাকে

উখিয়া প্রতিনিধি: ফলোআপ

উখিয়ার হলদিয়াপালং একজন স্কুল শিক্ষক রুমখাঁ মহাজন পাড়া গ্রামীন রাস্তা বন্ধ করে দিয়ে জায়গা জবর দখল করায় গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এর ফলে স্কুল শিক্ষার্থীসহ এলাকাবাসীদের যাতায়াতের চরম অসুবিধার সম্মূখীন হয়েছে। প্রভাবশালী স্কুল শিক্ষক কর্তৃক জোরপূর্বক রাস্তা বন্ধ করে দেওয়ার ঘটনা পুরো এলাকাজুড়ে ক্ষোভ ও অভিভাবকদের মাঝে মিশ্র প্রতিক্রিয়াসহ অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।

এদিকে গত ১৯ জুলাই উখিয়া রুমখাঁ মহাজন পাড়া রাস্তা বন্ধ করে দেওয়ায় শিক্ষার্থীরা বিপাকে শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হলে ওই শিক্ষক তেলে বেগুনে জ্বলে উঠে স্কুলের অভিভাবক ও স্থানীয় গ্রামবাসীদের সাথে দূর্ব্যবহারসহ নানা হুমকি ধমকি দিয়ে যাচ্ছে বলে সচেতন মহল জানিয়েছেন।

জানা যায়, উপজেলার হলদিয়াপালং ইউনিয়নের উত্তর ধুরুমখালীর মহাজন পাড়া গ্রামীন রাস্তা দিয়ে যুগযুগ ধরে শত শত গ্রামবাসী যাতায়াত করে আসছে। বিশেষ করে মহাজন পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা এ সড়ক দিয়ে বিদ্যালয়ের আসা যাওয়া করে।

গুরুতর অভিযোগ উঠেছে মহাজন পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও রায় মোহন বড়ুয়ার ছেলে মাস্টার তুষার বড়ুয়া ক্ষমতার প্রভাব দেখিয়ে ওই রাস্তার অংশ বিশেষ ঘেরা টেংরা দিয়ে জবর দখল করে রাখে।

অভিভাবকগণ জানান এ রাস্তা দিয়ে প্রতিদিন বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা আসা যাওয়া করত। কিন্তু খোদ বিদ্যালয়ের শিক্ষক রাস্তা বন্ধ করে দিয়ে জায়গা জবর দখল করায় নিজ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা প্রতিবন্ধকতার শিকার হয়েছে।

এলাকাবাসীরা অভিযোগ করে বলেন মাস্টার তুষার বড়ুয়া দীর্ঘদিনের চলাচলের রাস্তা বন্ধ করে দেওয়ায় পুরো গ্রামজুড়ে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে কচিকাঁচা শিক্ষার্থীরা বর্ষার মৌসুমে বিদ্যালয়ে আসতে বাঁধাগ্রস্থ হওয়ায় বিষয়টি খুবই নিন্দনীয়।

স্থানীয় অভিভাবক ও গ্রামবাসী সরেজমিন তদন্ত পূর্বক ঘেরা টেংরা দিয়ে দীর্ঘদিনের চলাচলের রাস্তা বন্ধ করে দেওয়ার ঘটনা তদন্ত পূর্বক সুরহা করার জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নিকট জোর দাবি জানিয়েছেন।




পানিতে ভাসছে রামু: পাহাড় কেড়েছে ভাই-বোনের প্রাণ

রামু প্রতিনিধি:

মাত্র ১৮দিনের ব্যবধানে আরো ভয়াবহ বন্যায় আক্রান্ত হয়েছে কক্সবাজারের রামু উপজেলা। পাহাড় ধ্বসে ভাই-বোনের মৃত্যু হয়েছে। উপজেলাজুড়ে অধিকাংশ এলাকা পানিতে একাকার হয়ে গেছে। সপ্তাহ খানেকের টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে রামুর ১১ ইউনিয়নে সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন, প্লাবিত হওয়ায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা, বেড়িবাঁধ ভেঙ্গে অসংখ্য গ্রাম তলিয়ে যাওয়ায় মানুষের দূর্ভোগ চরম আকার ধারন করেছে। শতাধিক গ্রামের কয়েক হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে দুর্ভোগে পড়েছে।

পাহাড় ধ্বসে উপজেলার দক্ষিণ মিঠাছড়ি ইউনিয়নের হাইম্যারঘোনার পাহাড়তলী এলাকায় জিহান (৭) ও সাইমা আকতার (৫) নামে দু’ভাইবোন প্রাণ হারিয়েছে। মঙ্গলবার ভোররাত ৩টার দিকে রামুর দক্ষিণ মিঠাছড়ি ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডে পাহাড় ধ্বসের এ ঘটনা ঘটে। নিহত শিশুরা ওই এলাকার জিয়াউর রহমানের ছেলে-মেয়ে। এ ঘটনায় নিহতদের পিতা জিয়াউর রহমান ও মা আনার কলি গুরুতর আহত হয়েছেন।

মঙ্গলবার (২৫ জুলাই) সকালে রামু উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. শাজাহান আলি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং নিহত শিশুদ্বয়ের পরিবারকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নগদ ৪০ হাজার টাকা প্রদান করেন। এছাড়া ইউএনও এ ঘটনায় আহত বাবা-মাকে আরো ২০ হাজার টাকা সহায়তা প্রদানের আশ্বাস দেন। এসময় দক্ষিণ মিঠাছড়ি ইউপি চেয়ারম্যান মো. ইউনুচ ভূট্টো উপস্থিত ছিলেন। তিনি জানান, পাহাড় ধ্বসে জিয়াউর রহমানের বসতঘরসহ একই ইউনিয়নের চান্দের পাড়া এলাকার মৃত নুরুল আলমের ছেলে মো. শাহ ও মৃত শফিকুর রহমানের ছেলে আহমদের বসতঘর মাটি চাপা পড়েছে।

 

এদিকে কক্সবাজার-৩ (সদর-রামু) আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব সাইমুম সরওয়ার কমল মঙ্গলবার দুপুর থেকে কক্সবাজার সদর ও রামু উপজেলার বন্যা কবলিত বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করেন। এসময় বন্যার্তদের ত্রান সামগ্রী ও নগদ অর্থ সহায়তা দেন।

জানা গেছে, তিনদিনের টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে বাঁকখালি নদী, সোনাইছড়ি খালসহ কয়েকটি খালে পানি আবারো বিপদ সীমার উপরদিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় বিধ্বস্ত বেড়িবাঁধ দিয়ে পানি প্রবেশ করছে। নতুন করে ভাঙ্গনের কবলে পড়েছে বহু রাস্তাঘাট ও গ্রামরক্ষা বাঁধ। বন্যা প্লাবিত হয়ে ঈদগড়, গর্জনিয়া, কচ্ছপিয়া, রাজারকুল, দক্ষিন মিঠাছড়ি, খুনিয়াপালং, ও কাউয়ারখোপ ইউনিয়নের সাথে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে উপজেলা সদরের সাথে। পাহাড় ধ্বসের আশঙ্কায় আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে ওইসব ইউনিয়নের বাসিন্দারা।

এদিকে উপজেলার বিভিন্নস্থানে অসংখ্যা শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান প্লাবিত হয়েছে।  এসব প্রতিষ্ঠানে শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে। অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। রামু আলহাজ্ব ফজল আম্বিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আমানুল হক জানিয়েছেন, আগেরদিন রাত থেকে বিদ্যালয়টি প্লাবিত হয়ে পড়ে। গতকাল আরো পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় পুরো বিদ্যালয় পানিতে একাকার হয়। ফলে বিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করা হয়। তিনি আরো জানান, সাম্প্রতিক আরো এক দফা বন্যা হলে বিদ্যালয়ে পরীক্ষা গ্রহণ সম্ভব হয়নি।সরেজমিনে দেখা যায় বন্যায় মঙ্গলবার সকালে ফতেখাঁরকুল ইউনিয়নের হাইটুপি ভুত পাড়া এলাকার রামু ফকিরা বাজার-জাদিমুরা সড়ক বাঁকখালী নদীতে, ঈদগাঁও-ঈদগড় সড়কের ব্যাপক এলাকা ঈদগাঁও খালে বিলীন হয়ে গেছে। এছাড়া রামু-মরিচ্যা সড়ক, রামু-নাইক্ষ্যংছড়ি সড়ক, কচ্ছপিয়া-গর্জনিয়া সড়ক, লামারপাড়া-তেচ্ছিপুল সড়ক, রশিদনগর-ধলিরছড়া সড়ক বাঁকখালী নদী ও সোনাইছড়ি খালের বন্যায় প্লাবিত হয়ে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। এছাড়া কচ্ছপিয়া-গর্জনিয়ার বাকখাঁলী সেতুর সংযোগ সড়ক বিলীন হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

রাজারকুল ইউনিয়নের সিকদারপাড়া শর্মা পাড়া অংশে বাঁকখালী নদীতে বেড়িবাঁধ ভেঙ্গে গেছে। এতে ব্যাপক এলাকা প্লাবিত হয়েছে। এছাড়া ওই এলাকায় বাঁকখালী নদীর ভাঙ্গনে প্রায় ৮টি বসত বাড়ি তলিয়ে গেছে। বিগত বন্যায়ও এখানে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিলো। স্থানীয়দের দাবি প্রশাসন নির্লিপ্ত থাকায় এবার ভাঙ্গনের শিকার হতে হয়েছে। ইতিপূর্বে মাত্র কয়েকটি বস্তা দিয়ে দায়সারা কাজ দেখানো হয়েছে। যা উল্টো প্রতারনার মত। স্থানীয় বাসিন্দা কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা জাফর আলম চৌধুরীর কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি বিষয়টি স্বীকার করে জানান, এখন ভাঙ্গন তীব্র হয়েছে। স্থানীয়রা আরো বসত বাড়ি ভাঙ্গনের আশঙ্কায় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে। এ জন্য তিনি অনতিবিলম্বে এখানে জরুরী ভিত্তিতে ভাঙ্গন রোধ ও বেড়িবাঁধ সংস্কারের উদ্যোগ নেয়ার জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

এদিকে টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে গর্জনিয়ার গর্জই খাল, খুনিয়াপালং এর রেজু খাল, রশিদনগর ইউনিয়নের কালিরছড়া খালের পানি বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে নদী তীরবর্তী ও বানভাসী মানুষরা।

উপজেলার ফতেখাঁরকুল ইউনিয়নের ফকিরা বাজার, হাইটুপি, পশ্চিম মেরংলোয়া, পূর্বমেরংলোয়া, শ্রীকুল, অফিসেরচর, মন্ডলপাড়া, সিকদারপাড়া, লামারপাড়া, খোন্দকারপাড়া, লম্বরীপাড়া, উত্তর ফতেখাঁরকুল, চালন্যাপাড়া, দোয়ানাপাড়া, পূর্বদ্বীপ শ্রীকুল, পূর্বদ্বীপ ফতেখাঁরকুল, তেমুহনী, হাজারীকুল, রাজারকুল ইউনিয়নের সিকদারপাড়া, হালদারকুল, পালপাড়া, মৌলবীপাড়া, নয়াপাড়া, পূর্ব রাজারকুল, দরগামুরা, দক্ষিণ মিঠাছড়ি ইউনিয়নের উমখালী, চরপাড়া, চেইন্দা, চাইল্যাতলী, পানেরছড়া, কাউয়ারখোপ ইউনিয়নের মনিরঝিল, পূর্ব মনিরঝিল, লামার পাড়া, চরপাড়া, পূর্বপাড়া, জারুল্যাছড়ি, কাউয়ারখোপ ফরেষ্ট অফিস, বৈলতলী, জোয়ারিয়ানালা ইউনিয়নের উত্তর মিঠাছড়ি, নন্দাখালী, নোনাছড়ি, আশকরখিল, পূর্বপাড়া, মালাপাড়া, রশিদনগর ইউনিয়নের উল্টাখালী, চাকমারকুল ইউনিয়নের মোহাম্মদপুরা, মিন্ত্রীপাড়া, শ্রীমুরা ও শাহমদ পাড়া, গর্জনীয়া ইউনিয়নের ক্যাজরবিল, বোমাংখিল, জুমছড়ি, কচ্ছপিয়া ইউনিয়নের তিতারপাড়া, চাকমারকাটা, ফাক্রিকাটা, মুরারকাছা, শোকমনিয়া, দোছড়ি, জামছড়ি ও গর্জনয়িা বাজারসহ উপজেলার শতাধিক গ্রাম এখন পানিবন্দি। বাঁকখালী নদীর বিভিন্ন স্থানে নতুন করে ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে।

রামু উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. শাজাহান আলি জানিয়েছেন, রামুর সবকটি ইউনিয়নই বন্যায় আক্রান্ত হয়েছে। পাহাড় ধ্বসে দক্ষিণ মিঠাছড়ি ইউনিয়নে দু’শিশু মারা গেছে। এদেরকে ৪০ হাজার টাকা অর্থ সহায়তা দেয়া হয়েছে। আহত বাবা-মাকে আরো ২০ হাজার টাকা দেয়া হবে। প্রশাসন বন্যা কবলিত মানুষের পাশে রয়েছেন। বানভাসী মানুষকে ত্রাণ সহায়তা দেয়া হচ্ছে। আশ্রয় কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়েছে প্লাবিত অঞ্চলের মানুষ ও গবাদি পশুকে।

রামুর রাজারকুল ইউনিয়নে বন্যার্তদের জেলা আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে দুই শতাধিক পরিবারকে নগদ অর্থ সহায়তা দেয়া হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার বন্যার্ত নারী-পুরুষদের মাঝে এসব অর্থ বিতরণ করেন, জেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি ও রাজারকুল ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মুক্তিযোদ্ধা জাফর আলম চৌধুরী। ২০০ পরিবারে ১০০ টাকা করে বিতরণ করা হয়। এসময় আওয়ামী লীগ, তাঁতীলীগসহ বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।




চকরিয়ায় ইভটিজিংয়ে বাঁধা দেওয়ায় বখাটে সন্ত্রাসীর হামলা: ছাত্রীসহ আহত-৪

চকরিয়া প্রতিনিধি:

কক্সবাজারের চকরিয়ায় স্কুল পড়ুয়া ছাত্রীকে ইভটিজিংয়ে বাধা দেওয়ার কারণে বখাটে সন্ত্রাসীদের হামলায় একই পরিবারের ৪জন সদস্য আহত হয়েছে। সোমবার উপজেলার সাহারবিল ইউনিয়নের মধ্যমপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয়রা আহতদেরকে উদ্ধার করে চকরিয়া সরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

অভিযোগে জানা গেছে, উপজেলার সাহারবিল ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের মধ্যমপাড়া গ্রামের নুর খাঁনের অপ্রাপ্ত মেয়ে স্থানীয় সাহারবিল বিএমএস হাইস্কুলে অষ্টম শ্রেণিতে লেখাপড়া করেন। ওই ছাত্রী নিয়মিত স্কুলে যাওয়া আসার পথে একই এলাকার শামসুল আলমের বখাটে ছেলে মো. তারেক ৬মাস ধরে নানাভাবে উত্ত্যক্ত ও ইভটিজিং করে আসছে।

সোমবার দুপুরে পরীক্ষা শেষে স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার পথে রাস্তায় বখাটে ছেলে তারেক অষ্টম শ্রেণি পড়ুয়া ছাত্রীকে কুপ্রস্তাব ও চরিতার্থ করার চেষ্টা করলে ওই ছাত্রীর চিৎকারে পথচারী লোকজন ও স্থানীয়রা এগিয়ে আসলে ছাত্রী দৌঁড়ে নিজেকে আত্মরক্ষা করেন।

পরিবারের লোকজন ঘটনাটি জানার পর প্রতিবাদ করলে ও স্থানীয় লোকজন বাধা দিলে উল্টো নানাভাবে হুমকি দেন অভিযুক্ত বখাটে ও তার সহযোগীরা। এরই জের ধরে ক্ষিপ্ত হয়ে অভিযুক্ত বখাটে ও সহযোগীরা মিলে ছাত্রীর বাড়িতে ঢুকে হামলা চালায়। এসময় তারা কুপিয়ে ও মারধর করে ছাত্রীসহ ৪জনকে গুরুতর জখম করেন।

আক্রান্ত পরিবার সদস্য ও ছাত্রীর পিতা নুরখাঁন জানান, তার স্ত্রী রহিমা বেগমকে(৪০) উদ্ধার করতে তার চাচা নাজেম উদ্দিন (৬০) এগিয়ে আসলে তাকেও মারধর করে হামলাকারীরা।এসময় বাঁধা দিতে গেলে ছাত্রীর চাচী বুলবুল জন্নাত(৩৫)কে বেদম প্রহার করা হয়। এনিয়ে ইভটিজারের শিকার ছাত্রী বাদী হয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

চকরিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. বখতিয়ার উদ্দিন চৌধুরী জানান, ছাত্রীকে ইভটিজিং করায় বখাটের হামলার ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দেয়া হয়েছে। এ ব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




পুলিশ পাহারায় অবশেষে দীর্ঘদিন পর পেকুয়া মডেল জিএমসি ইনস্টিটিউশনের প্রধান শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত

পেকুয়া প্রতিনিধি:

পুলিশ পাহারায় পেকুয়া উপজেলার ঐতিহ্যবাহী পেকুয়া মডেল জিএমসি ইনস্টিটিউশনের প্রধান শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ২৫ জুলাই সকাল ১১টায় বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের অফিস কক্ষে অনুষ্ঠিত হয়।

এসময় উপস্থিত ছিলেন ঢাকার ডিসি প্রতিনিধি, জেলা প্রশাসক কক্সবাজারের প্রতিনিধি পেকুয়া উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা মাহাবুবউল করিম, জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সালাহ উদ্দিন, চকরিয়া সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ফরিদুল আলম, বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও জেলা আ’লীগের সদস্য উম্মে কলুসুম মিনু, বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা মারুফা দিদা, বিদ্যালয়ের শিক্ষানুরাগী সদস্য ও জেলা পরিষদের সদস্য উপজেলা যুবলীগের সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম, বেলাল উদ্দিন, ইসমাইল সিকদারসহ বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির অন্যান্য সদস্যবৃন্দ।

উল্লেখ যে গত ২৫ জুন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শূন্য পদে নিয়োগ চেয়ে সংবাদপত্রে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের ১৫ দিনের মধ্যে ১৫টি আবেদন জমা দিলেও পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করে ৯জন প্রার্থী। লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় প্রথম স্থান লাভ করেন ওই বিদ্যালয়ের সাবেক সফল ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক জহির উদ্দিন। ২য় স্থান অর্জন করেন সাজ্জাদুল হোছাইন। উল্লেখ যে গত ১৯৮১ সাল থেকে ২০১২ সালের মার্চ পর্যন্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্বপালন করেন বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা পরিবারের সদস্য এএমএম শাহাজাহান চৌধূরী।

তিনি মার্চ মাসের শেষের দিকে অবসরে গেলে বিদ্যালয়ের হালধরেন সিনিয়র শিক্ষক এনামুল হক চৌধুরী। তিনি ২ বছর ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্বপালন করেন। ৫ বছর ধরে নানা জটিলতার কারণে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষক নিয়োগ ঝুলে থাকলেও অবশেষে সে দরজা খুলে দিলেন বর্তমান বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও প্রতিষ্ঠাতা পরিবারের সদস্যা উম্মে কুলছুম মিনু।

এ বিদ্যালয়ের ইতিহাসে সহকারী শিক্ষক থেকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক অতঃপর প্রধান শিক্ষক হিসাবে স্থান করে নেন রাজাখালী নিবাসী আলহাজ্ব মাহাফুজুল করিমের পুত্র জহির উদ্দিন। তিনি ১৯৮৯  সালে মহান শিক্ষকতার পেশা ধারণ করে পেকুয়া মডেল জিএমসি ইনস্টিটিউশনের সহকারী শিক্ষক হিসাবে যোগদান করেন। সে থেকে তিনি বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক এএমএম শাহজাহান চৌধুরীকে অনুসরণ করে শিক্ষকতার পেশায় নিয়োজিত ছিলেন। শেষ পর্যন্ত তিনি অনেক বাঁধা ও প্রতিকূলতার মাঝে ঐতিহ্যবাহী এ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হিসাবে হাল ধরেন।

এ ব্যাপারে নিয়োগ প্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক জহির উদ্দিনের সাথে কথা হলে তিনি জানান, নিয়োগ কমিটি যথাযথ নিয়ম মেনে আমাকে নিয়োগ দিয়েছেন। আমাকে নিয়োগ দেওয়ার জন্য নিয়োগ কমিটির সাথে সংশ্লিষ্ট এবং উপজেলা প্রশাসন ও জেলা প্রশাসন, বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সদস্য, শিক্ষক শিক্ষিকাসহ সকলের কাছে কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি। তিনি আরো জানান, এ ঐতিহ্যবাহী বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের দায়িত্বপালন করতে এবং বিদ্যালয়ের ঐতিহ্য ধরে রাখতে সকলের সহযোগিতা কামনা করছি।

এ ব্যাপারে পেকুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহাবুবুল করিম জানান, নিয়োগ পরীক্ষা সুষ্ঠ ভাবে সম্পন্ন হয়েছে।

এ ব্যাপারে বিদ্যালয়ের সভাপতি উম্মে কুলছুম মিনু জানান, যথাযথ নিয়ম অনুসরণ করে নিয়োগ কমিটি লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার মাধ্যমে যোগ্য ব্যক্তিকে নিয়োগ দিয়েছেন। পরীক্ষা সুষ্ঠ ভাবে সম্পন্ন হয়েছে।