চকরিয়ায় বৈশাখী ঝড়ের ছোবলে লবণ-বোরো ও সবজির চাষে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি

চকরিয়া প্রতিনিধি:

কক্সবাজারের চকরিয়া ও পেকুয়ায় আগাম টানা বৃষ্টিতে লবণ, বোরো ও সবজি চাষাবাদে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বৃষ্টির জন্য মৌসুমের একমাস আগেই বন্ধ হয়ে গেছে লবণ উৎপাদন। নিচু জমি ও ডোবায় পানি জমে থাকার কারণে পাকা বোরো ধান ঘরে তুলতে পারছেনা কৃষকরা। পাশাপাশি বিভিন্ন সবজি ক্ষেত নষ্ট হয়েছে মুষলধারে বৃষ্টিতে। কালবৈশাখী বৃষ্টির সাথে হালকা ও মাঝারি দমকা হাওয়া বয়ে যাওয়ায় বিদ্যুৎ বিপর্যয় ঘটেছে উপজেলায়। টানা দু’দিন ধরে বিদ্যুৎ বিহীন রয়েছে পল্লী বিদ্যুতের গ্রাহকরা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে কক্সবাজার ও চট্টগ্রামের আট উপজেলায় ৬১ হাজার একর জমিতে লবণ চাষ হয়। তিন মাস টানা লবণ উৎপাদন করে কৃষকরা। চৈতালী হালকা বৃষ্টিতে লবণ উৎপাদন আরও বেড়ে যায়। কিন্তু বৈশাখে হঠাৎ ভারী টানা বর্ষণ শুরু হলে বিপাকে পড়ে যায় লবণ চাষীরা।

এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় চকরিয়া ও পেকুয়ার লবণ চাষীরা। এ দু’উপজেলায় বুধবার দিবাগত রাত থেকে বৃষ্টি শুরু হয়ে শনিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত অব্যাহত ছিল। ফলে, লবণ মৌসুম শেষ হওয়ার একমাস আগেই লবণ উৎপাদন বন্ধ করতে বাধ্য হয় চাষীরা। বৃষ্টি অব্যাহত থাকায় ক্ষতির পরিমাণ এখনো নির্ণয় করতে পারেনি বিসিক।

এদিকে, চলতি শুষ্ক মৌসুমে চকরিয়া-পেকুয়ার ৬০ হাজার একরের অধিক জমিতে বোরো চাষবাদ হয়। কিছু কিছু এলাকায় ক্ষেতের ধান ঘরে তোলা হলেও সিংহভাগ জমিতে এখনো পুরোদমে ধান কাটা শুরু হয়নি। বিশেষ করে নিচু জমি ও ডোবায় পাকা ধান কাটার আগ মুহুর্তে কালবৈশাখী টানা বর্ষণে পানির নিচে তলিয়ে গেছে। বৃষ্টি না থামলে ওই ধান ঘরে তোলা সম্ভব হবেনা। এতে শত শত কৃষক পরিবারকে ক্ষতির মুখে পড়তে হবে।

অন্যদিকে যে সব উচু জমিতে বেগুন, চিচিংগা, তিতকাকরল, বরবটি, মরিচসহ নানা জাতের সবজি চাষাবাদ করে কৃষকরা যখন কিছুটা লাভের মুখ দেখছিল ঠিক ওই সময় বৈশাখী ঝড়ে লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে সবজি ক্ষেত। এতে হতাশা ছড়িয়ে পড়েছে পুরো কৃষক পরিবারে।

এ ব্যাপারে চকরিয়া উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. আতিক উল্লাহ’র কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, হঠাৎ করে কালবৈশাখী বৃষ্টি অব্যাহত থাকায় কোথায় কি পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তা তাৎক্ষণিক তার হিসাব-নিকাশ করা সম্ভব হয়নি। বৃষ্টি বন্ধ হলেই প্রত্যেক ইউনিয়ন পর্যায়ের সহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের মাধ্যমে ক্ষয়ক্ষতির তথ্য সংগ্রহ করা হবে বলেও তিনি জানান।




উখিয়ায় নতুন উদ্ভাবিত বিটি বেগুন চাষে অধিক ফলন, চাষীদের মুখে হাসি

Pic Ukhiya 22-04-2017 (1) copy

উখিয়া প্রতিনিধি:

উখিয়ায় নতুন জাতের উদ্ভাবিত বারি বিটি বেগুন চাষ করে অধিক ফলন উৎপাদন করতে সক্ষম হয়েছে চাষীরা। ফলন ছিদ্রকারী পোকা মুক্ত বিটি বেগুনের পরীক্ষামূলক চাষ করে ফলন ভাল হওয়ায় চাষীদের মুখে হাঁসি ফুটেছে।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ সূত্রে জানা যায়, কৃষি গবেষণা ইনস্টিউটের বিষেজ্ঞগণ ব্যাপক গবেষণা চালিয়ে নতুন জাতের বারি বিটি বেগুন উদ্ভাবন করা হয়। মূলত পোকা মাকড়ের হাত থেকে রক্ষা ও কীটনাশক ব্যবহার না করে বিটি বেগুন চাষ করা সম্ভব। গবেষণঅয় দেখা যায় ওই নতুন জাতের বেগুন চাষে ফল ছিদ্রকারী পোকা আক্রমন করতে পারে না।

এদিকে উখিয়ার রত্নাপালং ইউনিয়নের ভালুকিয়া থিমছড়ি গ্রামের চাষী চলতি রবিমৌসুমে নতুন জাতের উদ্ভাবিত বিটি বেগুন চাষ করেছে। পরীক্ষামূলক ৬০ বিঘা জায়গায় তিনি চাষ করে দ্বিগুন ফলন উৎপাদন করতে সক্ষম হয়েছে।

চাষী হারুন জানান, উখিয়া কৃষি বিভাগের পরামর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে তিনি নতুন জাতের চাষ করে বেশ সফল হয়। তিনি আরও বলেন, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. শরিফুল ইসলাম ও অন্যান্য উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাগণ রোপন পদ্ধতি, পরিচর্যা, রোগ বালাইয় প্রতিরোধ, ফলন উৎপাদন বিষয়ে হাতে কলমে প্রশিক্ষণ প্রদান করেছেন। এছাড়াও বিনামূলে সার, বীজসহ অন্যান্য কৃষি উপকরণ সামগ্রী প্রদান করেছে।

কক্সবাজার কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপ-পরিচালক আকম শাহরিয়ার বলেন, নতুন উদ্ভাবিত বারি বিটি বেগুন চাষে কোন প্রকার পোকা মাকড় আক্রমণ করতে পারবে না। কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউ গবেষকগণ পোকামাকড় বিরোধী এক প্রকার জিন নতুন বেগুন জাতে সংযুক্ত করায় ওই জাত চাষীদের কাছে বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।

উখিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. শরিফুল ইসলাম নতুন জাতের বিটি বেগুন পরীক্ষামূলক ভাবে চাষ করে ব্যাপক সফলতা এসেছে। বিশেষ করে ফল ছিদ্রকারী পোকার আক্রমন করতে পারবে না এ চাষে। ফলে রোগ প্রতিরোধে কীটনাশক যেমনি প্রয়োজন হবে না তেমনি ভাবে চাষীদের অর্থ ও সময় সাশ্রয় হবে।

এদিকে গত সোমবার নতুন জাতের বিটি বেগুন চাষের ফলন উৎপাদন প্রদর্শনী উপলক্ষে কৃষক মাঠ দিবস ভালুকিয়া থিমছড়ি এলাকায় অনুষ্ঠিত হয়েছে। চাষী হাজী মোহাম্মদ আবুল কাশেমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মাঠ দিবসে প্রধান অতিথি ছিলেন, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. শরিফুল ইসলাম। এসময় উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা ও স্থানীয় কৃষক, কৃষানীগণ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে বক্তারা অধিক ফলন উৎপাদন ও অর্থনৈতিক ভাবে লাভবান হওয়ার জন্য নতুন জাতের উদ্ভাবিত বিটি বেগুন চাষ করার জন্য চাষীদেরকে উদ্বুদ্ধ করা হয়।




বালুখালী পান বাজারে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে শেড নির্মাণের দাবি ব্যবসায়ীদের

Pic Ukhiya 22-04-2017 copy

উখিয়া প্রতিনিধি:

উখিয়ার সীমান্তবর্তী বালুখালী পানবাজারটি নানা অব্যবস্থাপনা, সুষ্ঠ নীতিমালার অভাব  ও জবরদখলকারীদের অবৈধ স্থাপনা তৈরির কারণে ক্রেতা-বিক্রেতাদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে বর্ষা মৌসুমের আগেই বাজার শেড নির্মাণ করার জন্য সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের নিকট জোরদাবি জানিয়েছেন ব্যবসায়ীগণ।

সরজমিন পরিদর্শনে দেখা যায়, বালুখালী পানবাজারটি সংস্কারের অভাবে অযত্ন ও অবহেলায় দিন দিন নাজুক পরিস্থিতিতে অবতীর্ণ হয়। বিশেষ করে বালুখালী ঐতিহ্যবাহী বাজারটি বিলুপ্ত হয়ে গেলে বৃহত্তর এলাকায় হাজার হাজার লোকজনের একমাত্র নির্ভরশীল হয়ে পড়ে এ পানবাজারটি।

বাজার কমিটির সভাপতি সাবেক মেম্বার আলী আহমদ বলেন, প্রতিদিন পানবাজারে তরিতরকারী ও কাঁচা মাছসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের হাঁট বসে। তবে বাজারে কোন প্রকার সরকারি শেড না থাকায় পণ্য সামগ্রী ক্রয়-বিক্রয় করতে সীমাহীন কষ্ট শিকার হতে হয়। বিশেষ করে কতিপয় মহল সরকারি জায়গার উপর অবৈধ স্থাপনা তৈরি করে বাজারটি জবরদখল করে রেখেছে। সাধারণ সম্পাদক ডাক্তার ফরিদ আলম জানান, অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে নির্ধারিত জায়গায় শেড নির্মাণ বিপুল পরিমান রাজস্ব আদায় করতে সক্ষম হবে।

তরকারী ব্যবসায়ী শাহাব উদ্দিন ও নজির আহমদ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বালুখালী পানবাজারটি উপজেলা প্রশাসন ইজারা প্রদান করলেও খুচরা ব্যবসায়ীদের বসার কোন স্থান নেই। সব জায়গায় অবৈধ স্থাপনা। এলাকায় উৎপাদিত কৃষি পণ্য সামগ্রী কিংবা সবজি জাতীয় পণ্য ক্রয়-বিক্রি কালে অবৈধ জবরদখলকারীরা জোরপূর্বক ভাবে অতিরিক্ত টাকা দাবি করে। টাকা না দিতে চাইলে বাজারে না আসার জন্য হুমকি ধামকি দেয়।

এদিকে বর্তমানে বৃহত্তর বালুখালীর প্রায় ১৫টি গ্রামের এক মাত্র হাঁট হচ্ছে এ পানবাজারটি। প্রতিদিন অসংখ্য ক্রেতা-বিক্রেতার সমাগম ঘটে। তবে বেশ কয়েকবছর ধরে সরকারি জায়গার উপর অবৈধ স্থাপনা তৈরি করে বাজারটি এক প্রকার জবর দখল করে রেখেছে। কেউ হাঁট বাজারে উৎপাদিত পণ্য সামগ্রী ক্রয় ও বিক্রয় করতে চাইলে তাদেরকে অতিরিক্ত টাকা দিতে হয়। এ ঘটনা নিয়ে প্রায় সময় নানা ঝগড়া বিবাদের ঘটনাও ঘটে। সরকারি টোল আদায়কারী কাশেম মিয়া অভিযোগ করে বলেন, বাজারের ইজারা আদায় করতে গেলে জবরদখলকারী ও অবৈধ স্থাপনার মালিকগণ বাঁধা দেয়। ফলে সরকারি ভাবে নির্ধারিত রাজস্ব আদায়ে লক্ষ্য মাত্রা পূরণ নাও হতে পারে।

কাঁচা মাছ ব্যবসায়ী জিল্লুর রহমান ও ফরিদ আলম বলেন, সরকারি ভাবে কোন বাজার শেড না থাকায় রোদে পুড়ে ঝড়ে ভিজে আমাদেরকে ব্যবসা করতে হচ্ছে। এতে করে ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়ের সীমাহীন দুর্ভোগে পড়তে হয়।

সচেতন নাগরিক সমাজ ও ক্রেতা-বিক্রেতাগণ অবিলম্বে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে বাজারে পণ্য ক্রয়-বিক্রয়ের সুবিধার্থে শেড নির্মাণ করার জন্য নির্বাহী কর্মকর্তার নিকট জোরদাবি জানিয়েছেন।




চকরিয়ায় মহাসড়কে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ২, আহত ১২

সড়ক দুর্ঘটনা

চকরিয়া প্রতিনিধি:

চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের চকরিয়া উপজেলার খুটাখালী ফুলছড়ি এলাকায় প্রাইভেট নোহা ও মোটর সাইকেল মুখোমুখি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। ঘটনাস্থল থেকে মোটর সাইকেল আরোহী গুরুতর আহত অবস্থায় দুই জনকে উদ্ধার করে স্থানীয় মালুমঘাট হাসপাতালে নেওয়ার পরে মারা যায়। শুক্রবার বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে এ দুর্ঘটনাটি ঘটেছে।

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, কক্সবাজার থেকে ভ্রমণ শেষে মোটরসাইকেল (নং ঢাকা মেট্রো ল-২১-০১২৮) নিয়ে চট্রগ্রামের চুনতি বাড়ি ফেরার পথে চকরিয়া উপজেলার খুটাখালীর ফুলছড়ি এলাকায় পৌঁছলে বিপরিত দিকে থেকে আসা একটি প্রাইভেট নোহা গাড়ি (নং- ঢাকা মেট্রো ঘ- ৩৭৯১) এর সাথে মুখোমুখি সংঘর্ষে দুর্ঘটনায় পতিত হয়। এসময় নোহা গাড়ির চাপায় মোটর সাইকেলের দুই আরোহী চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার চুনতি কুমুদিয়া গ্রামের মৃত আলি আহমদের পুত্র মোহাম্মদ আকিব (২১) ও তার সঙ্গী চুনতি হাটখোলা মুড়া গ্রামের আয়ুব আলীর পুত্র মোহাম্মদ মুসা (১৯) নিহত হয়।

অপরদিকে উপজেলার খুটাখালী মেধাকচ্ছপিয়ার ঢালায় চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজার মুখি তিশা পরিবহনের যাত্রীবাহী একটি বাস ও কক্সবাজার থেকে চট্টগ্রাম মুখি একটি ট্রাক মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এসময় তিশা পরিবহন নিয়ন্ত্রন হারিয়ে খাদে পড়ে যায়।

এতে প্রায় ১২জন যাত্রী আহত হয়েছে। আহতদের উদ্ধার করে চকরিয়ার বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বেলা ২টার দিকে এ দুর্ঘটনাটি ঘটে। মালুমঘাট হাইওয়ে পুলিশের আইসি (এসআই) রুহুল আমিন জানিয়েছেন, দুই মোটর সাইকেল আরোহী কক্সবাজার থেকে ভ্রমন শেষে বাড়ি ফেরার পথে দুর্ঘটনার শিকার হয়ে মারা যায়। নিহতের মধ্যে মুসা এবারের এইচএসসি পরীক্ষার্থী বলে জানা গেছে। খবর পেয়ে হাইওয়ে পুলিশ দ্রুত দুর্ঘটনাস্থলে পৌঁছে এবং দুর্ঘনা পতিত গাড়ি দু’টি পুলিশ জব্দ করে ফাঁড়িতে নিয়ে আসে। একইদিন বেলা ২টার দিকে দুর্ঘটনা পতিত গাড়িতে বেশ কিছু যাত্রী আহত হলেও কোন যাত্রী মারা যায়নি।




বালুখালী উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটিতে হত্যা মামলার আসামীকে অন্তর্ভুক্ত করার ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা

Pic Ukhiya- (21.04

উখিয়া প্রতিনিধি:

উখিয়ার বালুখালী কাশেমিয়া উচ্চ বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটিতে ভুলু হত্যা মামলার প্রধান আসামী, ইয়াবার গডফাদার ও ডজন মামলার আসামী জামায়াত ক্যাডার আকবর আহমদকে শিক্ষানুরাগী পদে অন্তর্ভুক্ত করায় বিদ্যালয়ের সচেতন অভিভাবক, সুশিলসমাজ ও রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টিসহ মিশ্র প্রতিক্রিয়া এবং উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। এলাকাবাসী নানা বিতর্কিত ও ইয়াবার সাথে জড়িত আকবর আহমদকে কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত না করার জন্য সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষের নিকট জোর দাবি জানিয়েছেন।

জানা যায়, উখিয়া উপজেলার বালুখালী কাশেমিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পুর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করার জন্য চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ড কর্তৃক প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্রে প্রকাশ বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির শিক্ষানুরাগী পদে এক জনসচেতন সম্মানিত ব্যক্তি, শিক্ষিত এবং শিক্ষার জন্য নিবেদিত এমন সর্বজন গ্রহণ যোগ্য ব্যক্তিকে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য সুনির্দিষ্ট নির্দেশনাবলী রয়েছে।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, গত ১৭ এপ্রিল ম্যানেজিং কমিটির এক সভায় নানা আলোচিত ও সমালোচিত এবং হত্যা মামলার আসামী আকবর আহমদকে শিক্ষানুরাগী পদে অন্তর্ভুক্তি করা হয়। বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির অভিভাবক প্রতিনিধি হেলাল উদ্দিন আহমদ অভিযোগ করে বলেন, ইয়াবার গডফাদার ও জামায়াত ক্যাডার আকবর আহমদকে কমিটিতে শিক্ষানুরাগী না রাখার জন্য তিনি জোরালো প্রতিবাদ করলেও অদৃশ্যের কারণে তাকে রাখা হয়। তার মতে এলাকার যোগ্যতা সম্পন্ন লোক থাকার পরও একজন অশিক্ষিত ও বিতর্কিত ব্যক্তিকে কমিটিতে রাখা ঠিক হয়নি।

এদিকে খোঁজ খবর নিয়ে জানা যায় সীমান্তে ইয়াবা ব্যবসার নিয়ন্ত্রক আকবর আহমদের বিরুদ্ধে হত্যা, মাদকপাচার, অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড ও কাঠ পাচারে জড়িত থাকার অভিযোগে উখিয়া থানা এবং কক্সবাজার আদালতে একাধিক মামলা রয়েছে। উখিয়া থানার মামলা নং যথাক্রমে- ৮ তারিখ-১৪/০২/২০১৬ইং ধারা ৩০২/ ২০১/ ৩৪/ ৫০(১) দবি ৩৩ তারিখ-২৮/০৬/২০১৫ইং, জিআর ২২৫/১৫। ১৫ তারিখ-১৩/ ০৬/ ২০১৫ইং,  জিআর ২০৭/১৫ইং। ১৮ তারিখ-১৫/০৬/২০১৫ ইং, জিআর ২১০/১৫ ইং। ১৯ তারিখ ২৫/০৫/২০১১ জিআর ১১৫/১১ইং। পিওআর নং-১১ইং। ১৪ তারিখ-২৪/০১/২০১৬ ইং, জিআর-১৪/১৬ ইং। ধারা ৩৪১/৫০৬(২) ৩০৭/২৬১/৩২৪/৩২৩/১৪৯/১৪৮/১৪৭ দবি।

উখিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক মনিরুল হক সাংবাদিকদের বলেন, বর্তমান সরকার জঙ্গিবাদ ও মাদক মুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান করতে দৃঢ়প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। সে লক্ষে ব্যাপক কাজ করে যাচ্ছে। কিন্তু দুঃখজনক ভাবে বালুখালী কাশেমিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষানুরাগী পদে একজন মাদকের গড়ফাদার এবং অসংখ্য মামলার আসামীকে অন্তর্ভূক্ত করা জাতীর জন্য লজ্জাজনক। স্থানীয় সাবেক মেম্বার আলী আহমদ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বিতর্কিত জামায়াত ক্যাডার আকবর আহমদকে কমিটিতে রাখায় সাধারণ জনগণ ও অভিভাবক মহলে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। এ ব্যপারে জানতে চাইলে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সবুজ সেন জানান, আকবর আহমদকে শিক্ষানুরাগী হিসাবে কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করা আমার কোন হাত ছিলনা। এটা কেবল ম্যানেজিং কমিটির সিদ্ধান্ত ক্রমে তা অনুমোদন হয়। সচেতন অভিভাবক মহল অবিলম্বে হত্যা মামলার আসামী ইয়াবার গডফাদারকে কমিটি থেকে বাদ দেওয়ার জন্য ।ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট জোর দাবি জানিয়েছেন।




কুতুবদিয়ায় রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সালেহ আহমদ চৌধুরীর দাফন সম্পন্ন

Saleh Ahmed Chowdhury copy

কুতুবদিয়া প্রতিনিধি:

মহান মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক কুতুবদিয়া উপজেলা আ’লীগের প্রতিষ্ঠাতা  সভাপতি জেলা আ’লীগের সাবেক সহ-সভাপতি প্রবীন রাজনীতিবিদ আলহাজ সালেহ আহমদ চৌধুরীর জানাজা শুক্রবার (২১ এপ্রিল) বিকাল ৩টায় বড়ঘোপ ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসা মাঠে অনুষ্ঠিত হয়।

এসময় জানাজা পূর্ব সমাবেশে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এডভোকেট সিরাজুল মোস্তফা, উপজেলা চেয়ারম্যান এটিএম নুরুল বশর চৌধুরী, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান বড়ঘোপ ইউপি চেয়ারম্যান এডভোকেট ফরিদুল ইসলাম চৌধুরী, উপজেলা আ’লীগের সভাপতি আওরঙ্গজেব মাতবর, সাধারণ সম্পাদক ও  আলী আকবর ডেইল ইউপি চেয়ারম্যান মুক্তিযোদ্ধা নুরুচছাফা প্রমূখ।

এ ছাড়া জানাজায় স্থানীয় আ’লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মী, বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সাংবাদিক, শুভাকাঙ্খীগণ উপস্থিত ছিলেন। জানাজা শেষে মনোহরখালী গ্রামে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। বৃহস্পতিবার সকাল ৭টায় মুক্তিযোদ্ধা সালেহ আহমদ চৌধুরী চট্টগ্রাম হাসপাতালে ইন্তেকাল করেন।




কুতুবদিয়ায় বিষপানে কলেজ ছাত্রের আত্মহত্যার চেষ্টা

কুতুবদিয়া প্রতিনিধি:

কক্সবাজারের কুতুবদিয়ায় বিষপান করে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছে এক কলেজ ছাত্র। শুক্রবার উপজেলার দক্ষিণ ধূরুং আলী ফকির ডেইল গ্রামে বিষপানের ঘটনাটি ঘটেছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, শুক্রবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে আলী ফকির ডেইল গ্রামের আশরফ আলীর কলেজ পড়–য়া পুত্র দিদার (১৯) পারিবারিক কলহের জেরে বিষপান করে। টের পেয়ে বাড়ির লোকজনেরা দিদারকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসে। এ সময় জরুরী বিভাগে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেয়া হয়।

 অতিরিক্ত বিষপান করায় তাকে রেফার করা হয় বলেও হাসপাতাল সূত্র জানায়। দিদার চট্টগ্রামে একটি কলেজে পড়া-শোনা করে বলে স্থানীয় ইউপি সদস্য মহিউদ্দীন জানান।




 শনিবার কুতুবদিয়া রোড কমিটির নির্বাচন

 কুতুবদিয়া প্রতিনিধি:

জেলা হিউম্যান হলার শ্রমিক ইউনিয়নের অন্তর্ভূক্ত কুতুবদিয়া রোড কমিটির নির্বাচন শনিবার (২২ এপ্রিল) অনুষ্ঠিত হবে। যানবাহন শ্রমিকদের দ্বি-বার্ষিক কার্যকরী কমিটির নির্বাচনে ১১টি পদের মধ্যে ৬টি পদে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বীতায় নির্বাচিত হন ৬ প্রার্থী। বাকি ৫টি পদে নির্বাচন হচ্ছে শনিবার।

সভাপতি পদে ৪ প্রার্থী  মো. নুরুল হুদা (হরিণ), মোহাম্মদ ফারুক (আনারস), আশেক মোহাম্মদ জয় (হারিকেন ) ও  নুর মোহাম্মদ বাদশা (ছাতা)। সহ-সভাপতি পদে  দু’প্রার্থী মিজানুর রহমান (বাস) ও মকবুল আহমদ (উড়োজাহাজ), সাধারণ সম্পাদক পদে দু’প্রার্থী মোহাম্মদ তারেক সিকদার (চাকা) ও মো. শাহাদাত হোসেন  (চেয়ার ), সাংগঠনিক সম্পাদক পদে দু’প্রার্থী মো. আবু মোছা  (টেলিফোন ) ও কবির হোছাইন সুনু  (মোবাইল ফোন), কোষাধ্যক্ষ পদে দু’প্রার্থী মো. বদিউল আলম ( তালা) ও মো. আশেক (আলমারি)।

যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদে মিজানুর রহমান, প্রচার সম্পাদক পদে আবু বক্কর ছিদ্দিক (কাদের), সদস্য পদে নুরুল আবছার, শরীফ, মুজিব ও মিজান বিনা প্রতিদ্বন্ধিতায় নির্বাচিত হন। ১৮ এপ্রিল নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবার কথা থাকলেও পরে তারিখ পিছিয়ে ২২ এপ্রিল নির্ধারণ করা হয়। নির্বাচনে প্রধান উপদেষ্টা ও সমন্বয়ক মাষ্টার আহমদ উল্লাহ, উপদেষ্টা আনম শহীদ উদ্দীন ছোটন, উপদেষ্টা আসম শাহরিয়ার চৌধুরীসহ ১জন প্রিসাইডিং ও ১জন পোলিং অফিসার দায়িত্ব পালন করবেন বলেও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। উপজেলা গেইটস্থ শ্রমিকদের কার্যালয়ে সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত  মোট ১৪৫জন ভোটার তাদের ভোট প্রয়োগ করবেন।




পেকুয়ায় জাতীয় পার্টির আনন্দ র‌্যালি

পেকুয়া প্রতিনিধি:

পেকুয়ায় জাতীয় পার্টির উদ্যেগে আনন্দ র‌্যালি  ও শোকরানা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার বিকেলে এক আনন্দ র‌্যালি উপজেলার প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে চৌমুহনীস্থ ভাই ভাই মার্কেটের তৃতীয় তলায় উপজেলা জাতীয় পার্টির কার্যালয়ে সংগঠনের সভাপতি এসএম মাহবুব সিদ্দিকীর সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলমের পরিচালনায় এক শোকরানা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সভায় বক্তব্য রাখেন, উপজেলা জাতীয় পার্টির সিনিয়র সহ-সভাপতি সাংবাদিক এম. দিদারুল করিম, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, জেলা জাতীয় যুব সংহতির সহ-সভাপতি সাজ্জাদুল ইসলাম, উপজেলা মহিলা জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক মোমেনা সোলতানা ছুট্টু, বারবাকিয়া ইউনিয়ন জাতীয় পার্টির আহ্বায়ক শহিদুর রহমান ওয়ারেচি, টৈটং ইউনিয়ন জাতীয় পার্টির আহ্বায়ক আব্দুল খালেক, শিলখালী ইউনিয়ন জাতীয় পার্টির আহ্বায়ক আলম ফরায়েজী,  টৈটং ইউনিয়ন মহিলা জাতীয় পার্টির আহ্বায়ক দিলোয়ারা বেগম প্রমুখ।

এদিকে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান, সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ রাডার ক্রয় দুর্নীতি মামলা থেকে খালাস পাওয়ায় সভার শুরুতে শোকরানা সভা করা হয়। সভায় মোনাজাতের মাধ্যমে তার দীর্ঘায়ু কামনা করা হয়েছে। পরে সভা শেষে দলীয় নেতাকর্মীদের মাঝে মিষ্টি বিতরণ করা হয়।




পেকুয়া গ্রাম পুলিশ সমিতির সম্পাদকের হামলার প্রতিবাদে গ্রামপুলিশের কর্মবিরতি

পেকুয়া প্রতিনিধি:

পেকুয়ায় গ্রাম পুলিশ সমিতির সম্পাদক ও মগনামা ইউনিয়ন পরিষদের ৬নং ওয়ার্ডের গ্রাম পুলিশ আলমগীরের উপর দুর্বৃত্তের হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে তার বিচারের দাবিতে কর্মবিরতি দিয়েছে গ্রাম পুলিশ সদস্যরা।

বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় পেকুয়া উপজেলা গ্রাম পুলিশ সমিতির সদস্যরা স্ব স্ব ইউনিয়ন পরিষদে না গিয়ে তারা ঐক্যবদ্ধ হয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে এসে হাজির হয়।

পরে তার সুষ্ঠ বিচারের দাবিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহাবুবুল করিমের সাথে ইউএনওর সরকারী বাসভবনে সৌজন্য স্বাক্ষাত করেন। এসময় ইউএনও গ্রাম পুলিশদের আশ্বস্ত করে তাদের বলেন, কেউ এ ধরণের হামলার শিকার হলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে তোমরা দায়িত্ব অবহেলা করো না একা চলাচল করবে না।