রোহিঙ্গা ক্যাম্পে টিউবওয়েল এবং ল্যাট্রিন স্থাপনে কারচুপি ও অনিয়মের ঘটনায় তদন্তে নেমেছে ব্র্যাকের উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত কমিটি

 

উখিয়া প্রতিনিধি:

মিয়ানমারের বাস্তচ্যুত রোহিঙ্গা ক্যাম্পে স্বাস্থ্য ঝুঁকি এড়াতে বিশুদ্ধ পানি ও স্যানিটেশন কর্মসূচি বাস্তবায়নে টিউবওয়েল এবং ল্যাট্রিন স্থাপনে ব্যাপক কারচুপি ও অনিয়মের ঘটনায় তদন্তে নেমেছেন এনজিও সংস্থা ব্র্যাকের উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত কমিটি। গত কয়েকদিন ধরে ওই তদন্ত কমিটি উখিয়ার ৭টি ও টেকনাফের ৫টি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ওই তদন্ত কমিটি কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে বলে নির্ভযোগ্য সূত্রে নিশ্চিত হওয়া গেছে।

জানা গেছে স্যানেটারি ল্যাট্রিন ও টিওয়েবেল স্থাপনের নামে এনজিও সংস্থা এবং তাদের পরিচিত ঠিকাদারদের যোগসাজশে কোটি কোটি টাকা লুটপাট করছে। আন্তর্জাতিক কয়েকটি দাতা সংস্থার অর্থায়নে এ কর্মসূচি বাস্তবায়নে ফটোসেশনের মাধ্যমে লোক দেখানো টিউবওয়েল এবং ল্যাট্রিন স্থাপনের নামে বেশ কয়েকটি এনজিও সংস্থা লক্ষ লক্ষ টাকা লুটপাট করেছে। রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ত্রাণ বিতরণ ও পুর্নবাসন কাজে দায়িত্ব নিয়োজিত সেনাবাহিনী ইতিমধ্যে ব্র্যাক এনজিওকে সতর্ক করে দিয়েছে বলে নির্ভরযোগ্য সুত্রে জানা গেছে।

গত ১৬ সেপ্টেম্বর সেনাবাহিনীর একটি তদারিক দল উখিয়ার কুতুপালং বালুখালী সহ কয়েকটি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ব্র্যাকের পক্ষ থেকে বসানো ল্যাট্রিনের কাজে অনিয়ম ও ব্যাপক কারচুপির প্রমাণ পেয়ে কাজ বন্ধ করে দিয়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। এমনকি খোদ জনস্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সোহরাব হোসেন ব্র্যাক কর্তৃক টিউবওয়েল ও ল্যাট্রিন স্থাপন নিয়ে চরম আপত্তি তুলেছেন।

জানা যায়, মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর নির্যাতন, অত্যাচার, ধর্ষণ, হত্যা ও বাড়ি ঘরে অগ্নিসংযোগ এবং নানামুখী হুমকির শিকার হয়ে লক্ষ লক্ষ রোহিঙ্গা প্রাণের ভয়ে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। বর্তমানে উখিয়া-টেকনাফের ১২টি অস্থায়ী ক্যাম্পে রোহিঙ্গারা অবস্থান করছে। তাদেরকে মানবিক সহায়তা দিতে দেশি-বিদেশি এনজিওরা আর্তমানবতার সেবায় এগিয়ে আসে।

খোঁজ খবর নিয়ে জানা গেছে, ব্র্যাক ইতিমধ্যে উখিয়া ও টেকনাফের রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ৬ হাজার ৩৬৬টি ল্যাট্রিন ও ১ হাজার ৪০টি টিউবওয়েল স্থাপন করেছেন। সচেতন নাগরিক সমাজ অভিযোগ করে বলেছেন ব্র্যাক কর্তৃক শুধু মাত্র ২টি রিং দিয়ে ল্যাট্রিন স্থাপন নিরাপদ নয়। এ ছাড়াও ৩০/৪০ ফুট গভীরের টিউবওয়েল স্থাপন করলেও অধিকাংশ টিউবওয়েল থেকে পানি আসে না।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে, ব্র্যাক ওয়াশ কর্মসূচির উখিয়া উপজেলা ম্যানেজার ফারহান জানান, প্রতিটি ল্যাট্রিনে ব্যয় হয়েছে ৩ থেকে সাড়ে ৫ হাজার টাকা এবং টিউবওয়েলে ব্যয় ধরা হয়েছে ১০ থেকে সাড়ে ১৪ হাজার টাকা পর্যন্ত। জরুরী মুহর্তে সংস্থার নিয়ম অনুসারে সঠিক ভাবে বাস্তবায়ন করা হয়েছে। এতে অনিয়মের সুযোগ আছে বলে আমার সন্দেহ রয়েছে।

বান্দরবান, খাগড়াছড়ি ও ক্যাম্পে চলতি দায়িত্বপ্রাপ্ত জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৗশলী মো. সোহরাব হোসেন বলেন, ব্র্যাক সংস্থা যেসব টিউবওয়েল ও ল্যাট্রিন স্থাপন করেছেন তা ভয়ানক ও অনিরাপদ। দুই রিংয়ের ল্যাট্রিন খুবই বিপদ জনক। ল্যাট্রিনের পাশে ৫/১০ ফুটের মধ্যে টিউবওয়েল স্থাপন স্বাস্থ্যে জন্য ক্ষতিকর। তিনি এক প্রশ্নে জবাবে বলেন, পাশাপাশি জায়গায় ল্যাট্রিন ও টিউবওয়েল স্থাপন করলে ল্যাট্রিনের জমানো মল থেকে ফিকেল কলিফরম নামক এক প্রকার জীবাণু পানির সাথে সংমিশ্রনের আশঙ্কা থাকে। ফলে ওই সব টিউবওয়েলের পানি পান করলে মারাত্মক পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভবনা বেশি।

দায়িত্বশীল সূত্রে মতে, আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) ইউনিসেফ, ডব্লিউএফপি, গ্লোবাল ফান্ডের আর্থিক সহযোগিতায় প্রায় ৩ কোটি ৮৪ লক্ষ টাকা ব্যয়ে ব্র্যাক এ কর্মসূচি বাস্থবায়ন করলেও কাজের মান নিয়ে  প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। ব্যাপক দুর্নীতি ও অনিয়মের মাধ্যমে টিউবওয়েল এবং ল্যাট্রিন স্থাপনে অদক্ষ ঠিকাদারের সাথে অনৈতিক গোপন চুক্তির মাধ্যমে লক্ষ লক্ষ টাকা লুটপাট হয়েছে।

এদিকে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে লোক দেখানো এসব প্রকল্প সরজমিন তদন্ত করলে থলের বিড়াল বের হয়ে আসবে বলে এমন দাবি সচেতন মহলের। এদিকে উপজেলা ম্যানেজার ফারহান বর্তমানে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ল্যাট্রিন ও টিউবওয়েল স্থাপন কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে বলে সত্যতা স্বীকার করলেও ব্র্র্যাকের জেলা প্রতিনিধি অজিত কুমার নন্দী তা অস্বীকার করে কর্মসূচি চালু রয়েছে বলে জানান। এনিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।




রোহিঙ্গাদের মাঝে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ ও ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প উদ্বোধন

 

উখিয়া প্রতিনিধি:

মিয়ানমারে নিষ্ঠুর নির্যাতনের শিকার হয়ে প্রাণের ভয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া বিপন্ন রোহিঙ্গাদের মাঝে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করেছেন চট্টগ্রাম আমাদের আলোকিত সমাজ।

রোববার রোহিঙ্গা মুসলিম রিফুজি চট্টগ্রাম ও এনজিও সংস্থা ঘরণীর আর্থিক সহযোগিতায় উখিয়ার তাজুনিরমার খোলা রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ২ হাজার রোহিঙ্গা পরিবারের মাঝে বিভিন্ন ত্রাণ বিতরণ করা হয়।

উপজেলা প্রশাসন ও সেনাবাহিনীর সহযোগিতায় ত্রাণ বিতরণকালে উপস্থিত ছিলেন আমাদের আলোকিত সমাজের চেয়ারম্যান এআর কামরুল ইসলাম, সেক্রেটারি আনিসুর রহমান মামুন, আমাদের আলোকিত সমাজের উপদেষ্টা গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব জালাল উদ্দিন আহমদ চৌধুরী, টিম লিডার ছালেহ্ নাছের জাবেদ। ত্রাণ সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে কম্বল, লুঙ্গি, থামি, কলসি, বদনা, প্লেইট, গ্লাস, গামলা, মশারী, ছাটাই, জগ ইত্যাদি।

এদিকে কাগতিয়া আলিয়া গাউসুল আজম দরবার শরীফের উদ্যোগে মুনিরীয়া যুব তবলীগ কমিটি বাংলাদেশ চট্টগ্রামস্থ রাউজানের উদ্যোগে রোহিঙ্গাদের চিকিৎসা সেবায় ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প চালু করা হয়। উখিয়ার বালুখালী ক্যাম্পে ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প ও রোহিঙ্গাদের মাঝে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ কালে উপস্থিত ছিলেন মুনিরীয়া যুব তবলীগ কমিটির সহ-সভাপতি ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ড. মো. আবুল মনসুর, প্রফেসর অলি আহমদ, ডাক্তার আলহাজ্ব শহীদুল্লাহ, ডাক্তার মুহসীন।




রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ব্র্যাকের টিউবওয়েল, ল্যাট্রিন স্থাপনে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ

 

উখিয়া প্রতিনিধি:

মিয়ানমারের বাস্তচ্যুত রোহিঙ্গা ক্যাম্পে স্বাস্থ্য ঝুঁকি এড়াতে বিশুদ্ধ পানি ও স্যানিটেশন কর্মসূচি বাস্তবায়নে টিউবওয়েল এবং ল্যাট্রিন স্থাপনে ব্যাপক দুর্নীতি ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে।

আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থার অর্থায়নে এ কর্মসূচি বাস্তবায়নে ফটোসেশনের মাধ্যমে লোক দেখানো টিউবওয়েল এবং ল্যাট্রিন স্থাপনের নামে বেশ কয়েকটি এনজিও সংস্থা লক্ষ লক্ষ টাকা লুটপাট করেছে।

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ত্রাণ বিতরণ ও পুর্নবাসন কাজে দায়িত্ব নিয়োজিত সেনাবাহিনী ইতি মধ্যে ব্র্যাক এনজিওকে সতর্ক করে দিয়েছে বলে নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানাযায়। এমন কি খোদ জনস্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সোহরাব হোসেন ব্র্যাক কর্তৃক টিউবওয়েল ও ল্যাট্রিন স্থাপন নিয়ে চরম আপত্তি তুলেছেন।

জানাযায়, মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর নির্যাতন, অত্যাচার, ধর্ষণ, হত্যা ও বাড়ি ঘরের অগ্নিসংযোগ এবং নানামুখী হুমকির শিকার হয়ে লক্ষ লক্ষ রোহিঙ্গা প্রাণের ভয়ে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। বর্তমানে উখিয়া-টেকনাফের ১২টি অস্থায়ী ক্যাম্পে রোহিঙ্গারা আশ্রয় নেয়। তাদেরকে মানবিক সহায়তা দিতে দেশি-বিদেশি এনজিওরা আর্তমানবতার সেবায় এগিয়ে আসে।

খোঁজ খবর নিয়ে জানাযায়, ব্র্যাক ইতি মধ্যে উখিয়া ও টেকনাফের রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ৬ হাজার ৩৬৬টি ল্যাট্রিন ও ১ হাজার ৪০টি টিউবওয়েল স্থাপন করেছেন।

সচেতন নাগরিক সমাজ অভিযোগ করে বলেন, ব্র্যাক কর্তৃক ২টি রিং দিয়ে ল্যাট্রিন স্থাপন নিরাপদ নয়। এ ছাড়াও ৩০/৪০ ফুট গভীরের টিউবওয়েল স্থাপন করলেও অধিকাংশ টিউবওয়েল থেকে পানি আসে না।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ওয়াশের উখিয়া উপজেলা ম্যানেজার ফারহান জানান, প্রতিটি ল্যাট্রিনে ব্যয় হয়েছে ৩ থেকে সাড়ে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত আর টিউবওয়েলে ব্যয় ধরা হয়েছে ১০ থেকে সাড়ে ১৪ হাজার টাকা পর্যন্ত। জরুরী সংস্থার নিয়ম অনুসারে সঠিক ভাবে বাস্তবায়ন করা হয়েছে। এতে অনিয়মের কোন সুযোগ নেই।

জনস্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৗশলী মো. সোহরাব হোসেন বলেন, ব্র্যাক সংস্থা যেসব টিউবওয়েল ও ল্যাট্রিন স্থাপন করেছেন তা ভয়ানক অনিরাপদ। দুই রিংয়ের ল্যাট্রিন খুবই বিপদ জনক। আর ল্যাট্রিনের ৫/১০ ফুটের মধ্যে ৩০/৪০ ফুটের টিউবওয়েল স্থাপন স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর।

তিনি এক প্রশ্নে জবাবে বলেন, পাশাপাশি ল্যাট্রিন ও টিউবওয়েল স্থাপন করলে ল্যাট্রিনের জমানো মল থেকে ফিকেল কলিফরম নামক এক প্রকার জীবাণু পানির সাথে সংমিশ্রনের আশঙ্কা থাকে। ফলে ওই সব টিউবওয়েলের পানি পান করলে মারাত্মক পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভবনা বেশি।

দায়িত্বশীল সূত্রে জানাযায়, আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) ইউনিসেফ, ডব্লিউএফপি, গ্লোবাল ফান্ডের আর্থিক সহযোগিতায় প্রায় ৩ কোটি ৮৪ লক্ষ টাকা ব্যয়ে ব্র্যাক এ কর্মসূচি বাস্থবায়ন করলেও কাজের মান নিয়ে  প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। ব্যাপক দুর্নীতি ও অনিয়মের মাধ্যমে টিউবওয়েল এবং ল্যাট্রিন স্থাপনে অদক্ষ টিকাদারের সাথে অনৈতিক গোপন চুক্তির মাধ্যমে লক্ষ লক্ষ টাকা লুটপাট হয়েছে। এদিকে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে লোক দেখানো এসব প্রকল্প সরজমিন তদন্ত করলে থলের বিড়াল বের হয়ে আসবে বলে এমন দাবি সুশীল সমাজের।

এদিকে উপজেলা ম্যানেজার ফারহান বর্তমানে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ল্যাট্রিন ও টিউবওয়েল স্থাপন কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে বলে সত্যতা স্বীকার করলেও ব্র্র্যাকের জেলা প্রতিনিধি অজিত কুমার নন্দী তা অস্বীকার করে কর্মসূচি চালু রয়েছে বলে জানান। এনিয়ে জনমনে মিশ্র প্রতিক্রিয়া শুরু হয়।




উখিয়ায় পরিদর্শনকালে মালেশিয়ার উপ-প্রধানমন্ত্রী: রোহিঙ্গা ইস্যু বাংলাদেশের একা নয়, এ সংকট বৈশ্বিক সমস্যা

উখিয়া প্রতিনিধি:

মিয়ানমারের বাস্তচ্যুত উদ্বাস্তুতু বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া বিপন্ন রোহিঙ্গাদেরকে দেখতে কক্সবাজারের উখিয়া শরণার্থী ক্যাম্প পরিদর্শন করেছেন, মালয়েশিয়ার উপপ্রধানমন্ত্রী আহমদ জাহিদ হামিদি। সোমবার সকালে তিনি নির্যাতিত রোহিঙ্গাদের সাথে কথা বলে সে দেশের সেনাবাহিনীর অমানবিক নিষ্টুর নির্যাতন, হত্যাযজ্ঞ ও বাড়ী ঘরে অগ্নিসংযোগের করুন কাহিনী শুনে তাদেরপ্রতি সহমর্মিতা প্রকাশ করেন।

মালেশিয়ার উপ-প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, আশিয়ানভুক্ত দেশগুলো চাপ সৃষ্টি করলে রোহিঙ্গাদের ফেরত নিতে বাধ্য হবে মিয়ানমার। রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশ একা নয়। বাংলাদেশে আশ্রিত রোহিঙ্গাদের সহযোগিতা ও প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে বাংলাদেশের পাশে রয়েছে মালয়েশিয়া। রোহিঙ্গাদের বর্ণনায় যেসব নির্যাতন উঠে এসেছে তা বর্তমান সময়ে কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।

কক্সবাজারের উখিয়ার কুতুপালং ক্যাম্প পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মালয়েশিয়ার উপপ্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

সোমবার বেলা ১১টার দিকে কক্সবাজারের কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শনে এসে তিনি রোহিঙ্গাদের অবস্থান ঘুরে দেখেন। সেখানেই রোহিঙ্গা শরণার্থীরা তার কাছে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে তাদের ওপর ঘটে যাওয়া ভয়াবহ হত্যা-নির্যাতনের কথা তুলে ধরেন। নিজ দেশে অমানবিক আচরণের বিপরীতে বাংলাদেশ মানবিকতায় তাদের আশ্রয় দেয়া রোহিঙ্গা শরণার্থীরা কৃতজ্ঞতার কথা জানান। কিন্তু তাদের প্রদেয় ত্রাণে অপ্রতুলতাসহ বিভিন্ন সমস্যার মাঝে দিন অতিবাহিত হচ্ছে বলে উল্লেখ করেন রোহিঙ্গারা।

এসময় আহমাদ জাহিদ হামিদি রোহিঙ্গাদের উদ্দেশে বলেন, নাগরিকত্ব নিয়ে নিজ দেশ মিয়ানমারে রোহিঙ্গারা যেন ফিরতে পারে সে ব্যাপারে বাংলাদেশের পাশাাপাশি মালয়েশিয়াও কাজ করছে। নিজেদের অনেক সীমাবদ্ধতা ও নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও বাংলাদেশ রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়েছে। সেটা মাথায় রেখেই শান্তিপূর্ণ ভাবে বসবাস করতে হবে শরণার্থীদের।

এত সংখ্যক লোককে একটি দেশ আশ্রয়ের সঙ্গে সবকিছু শতভাগ নিশ্চিত করতে পারবে না। তাই আশ্রিত রোহিঙ্গাদের স্বাস্থ্যসেবার জন্য ক্যাম্প এলাকায় একটি ফিল্ড হাসপাতাল স্থাপন করে দিবে মালয়েশিয়া। অতিসম্প্রতি এর কাজ শুরু হবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

এসময় বাংলাদেশস্থ মালয়েশিয়ান দূতাবাস, কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মো: আলী হোসেন, সামরিক ও বে-সামরিক উচ্চ প্রদস্থ কর্মকর্তা এবং দেশি-বিদেশি এনজিও প্রতিনিধিরা তার সঙ্গে ছিলেন।

এর আগে সকাল পৌনে ১০টার দিকে ঢাকা থেকে বিশেষ ফ্লাইটে উপপ্রধানমন্ত্রী আহমদ জাহিদ হামিদি কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান। আর রোহিঙ্গা শিবির পরিদর্শন ও রোহিঙ্গাদের সঙ্গে কথা বলা শেষে বিকেলে কক্সবাজার বিমানবন্দর থেকেই মালয়েশিয়ার উদ্দেশে বাংলাদেশ ছাড়ার কথা রয়েছে তার।

উল্লেখ্য, দু’দিনের সফরে রোববার সকালে ঢাকায় পৌঁছেন মালয়েশিয়ার উপপ্রধানমন্ত্রী আহমদ জাহিদ হামিদি। এরপর সন্ধ্যায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাহমুদ আলীর সঙ্গে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেন। বৈঠকে আহমাদ জাহিদ রোহিঙ্গাদের আশ্রয় ও সর্বাত্মক সহযোগিতায় বাংলাদেশের ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করেন। রোহিঙ্গা সংকটে মালয়েশিয়া সরকার বাংলাদেশের পাশে রয়েছে এবং থাকবে বলে প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।




রোহিঙ্গারা পাচ্ছে চাহিদার অতিরিক্ত ত্রাণ: বিক্রি করে দিচ্ছে স্থানীয়দের কাছে

ঘুমধুম প্রতিনিধি:

নগদ টাকা সহ নানা ত্রাণ সামগ্রীতে ভরে উঠেছে রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ছোট- ছোট ঝুপড়ি ঘরগুলো। কক্সবাজারের উখিয়া -টেকনাফের নতুন রোহিঙ্গা বস্তিতে বাশঁ, গাছ, ত্রিপলী, কাপড়, চাল, ডাল, আলু, চিনি, দুধ, ভোজ্য তৈল সহ নিত্য প্রয়োজনীয় ত্রাণ সামগ্রী পাচ্ছে চাহিদার কয়েকগুন বেশী।

২৫ আগস্ট মিয়ানমারের সহিংস ঘটনার পর -পরই লাখ -লাখ রোহিঙ্গার শ্রোত পড়ে। মগ সেনাদের নির্মম নির্যাতনের ঘটনা শুরুতে কয়েকটি গ্রামে ঘটলেও অপরাপর রোহিঙ্গারা নিজভুমি ছেড়ে এপারে চলে আসে প্রান বাচাঁতে। আশ্রয় নেন দুই উপজেলা ছাড়িয়ে বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তেও। আশ্রিত যারা এরই মধ্যে ঘর তুলে উখিয়া ও টেকনাফের অস্থায়ী ক্যাম্পে সংসার সাজিয়ে বসেছেন, এখন তাদের আর ভাতের অভাব নেই।

কেননা এরই মধ্যে বিশ্ব খাদ্যসংস্থা প্রায় অর্ধেক রোহিঙ্গাকে তাদের চাল বিতরণ কর্মসূচির আওতায় নিয়ে এসেছে। এছাড়া প্রতিদিনই সেনাবাহিনীর সহায়তায় ক্যাম্পগুলোতে ত্রাণ দিচ্ছে শতশত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান। এসব ত্রাণে এরই মধ্যে ক্যাম্পগুলোতে জমতে শুরু করেছে ত্রাণের মজুদ। ক্যাম্পগুলোর ঘরে- ঘরে হাজির হচ্ছে নগদ টাকাওয়ালারাও। নতুন যারা বাংলাদেশে পা রাখছে, তারাও আসার সঙ্গে- সঙ্গে পেয়ে যাচ্ছেন ত্রাণের টোকেন। বাংলাদেশে প্রবেশমাত্র সেনাবাহিনীর সদস্যরা নাম নিবন্ধন করে তাদের হাতে ধরিয়ে দিচ্ছেন এই টোকেন।

তবুও ত্রাণ বিতরণে শতভাগ শৃঙ্খলা ও সমন্বয় আসেনি এখনো।বিচ্ছিন্ন ভাবে প্রশাসনের লোকচক্ষুঁর আড়াঁলেও কতিপয় বিশেষ (অচেনা) লোকজন নগদ টাকা বিতরণ করছে। এদিকে আরো বেশি ত্রাণ সংগ্রহের লোভ পেয়ে বসেছে ‘বলপূর্বক বাস্তুচ্যুত’ মিয়ানমারের এসব রোহিঙ্গাকে । তারা এখন এক ক্যাম্প থেকে আর এক ক্যাম্পে ছুটে বেড়াচ্ছে আরো বেশি বেশি ত্রাণ লাভের আশায়। মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে একই ব্যক্তি ভিন্ন ভিন্ন ক্যাম্প থেকে একাধিকবার ত্রাণ সংগ্রহ করছেন। এত ত্রাণ নিতে রোহিঙ্গারা একঘরে ভেংগে একাধিক ঘর পরিচয় (পরিবার) দিচ্ছেন।

কখনো- কখনো এক মাস আগে আসা রোহিঙ্গারা নতুন আসা রোহিঙ্গাদের সঙ্গে মিশে গিয়ে নতুন আসাদের তালিকায় পরিবারের অন্য সদস্যর নাম আবারও লেখাচ্ছেন। এতে করে সমন্বয়ের দায়িত্বে থাকা সেনা, বিজিবি ও পুলিশ সদস্যরা পড়েছেন মহা বিপাকে। এজন্য ভীষণ বিরক্ত তারা। ক্যাম্পগগুলো ঘুরে দেখা গেছে, ক্যাম্পে সংসার গেড়াঁ প্রতিটি রোহিঙ্গা পরিবারের কাছেই এখন তিন থেকে ৮ বস্তা করে ত্রাণের চাল, ডালসহ অন্যান্য ত্রাণ সামগ্রী জমা হয়েছে।

তবুও তারা প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে উঠেই বিভিন্ন ব্যক্তি ও সংস্থার দেওয়া ত্রাণের লাইনে গিয়ে দাঁড়াচ্ছেন। প্রতিদিনই বস্তাভর্তি ত্রাণ মাথায় করে ঘরে ফিরছে। আবার এক ক্যাম্প থেকে ত্রাণ নিয়ে ছুটছে অন্য ক্যাম্পে। আবার কক্সবাজার -টেকনাফ সড়কের ধারে -কিনারে বসে ভিক্ষা ভিত্তিও চালিয়ে যাচ্ছে সমানতালে।

এমনকি বালুখালি বা কুতুপালং থেকে ত্রাণ আনতে ছুটতে দেখা যাচ্ছে উনচিপ্রাং, নয়াপাড়া, লেদা বা শামলাপুরে। আবার ওখান থেকে ছুটে আসছে উখিয়ার কুতুপালং, বালুখালী, থাইংখালী, হাকিম পাড়া বস্তিতে। নাইক্ষ্যংছড়ির ঘুমধুমের তুমব্রুর জিরো পয়েন্ট থেকে বালুখালী, থাইংখালী ও কুতুপালংয়েও ত্রাণ নিচ্ছে। আবার ওইসব ক্যাম্প থেকেও অন্যখানে ছুটতে দেখা যাচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ত্রাণ স্থানীয় বাজারে বিক্রি করে দিচ্ছে এরা। এমন রটনার সত্যতা মিলেছে।

রবিবার (১৫ অক্টোবর ) দুপুরে তুমব্রু থেকে মো. শরীফ (৫০) বালুখালীতে যাচ্ছেন ত্রাণের জন্য। মো. শরীফসহ অনেকেই ত্রাণের বস্তা নিয়ে ফিরছেন বিকেলে। শনিবার টেকনাফের শাহপরীর দ্ধীপ থেকে ফেরার পথে সাবরাংয়ের হাড়িয়াখালির ভাঙ্গা রাস্তার ওপরে সেনাবাহিনীর চেকপোস্টে একদল রোহিঙ্গাকে জটলা পাকাতে দেখা যায়। এদের প্রায় সবাই মহিলা ও শিশু।

এদেরই কয়েকজন মহিলাকে সেনাবাহিনী লাইন ছেড়ে ক্যাম্পে চলে যাওয়ার নির্দেশ দিলেও তারা অনুনয় বিনয় করেই যাচ্ছিল। এখানে দায়িত্বরত সেনা সদস্যরা জানান, এই মহিলারা সকালেই নাম নিবন্ধন করে ত্রাণের স্লিপ নিয়ে গেছেন। এখন আবার নতুন আসা রোহিঙ্গাদের লাইনে দাঁড়িয়ে নতুন করে ত্রাণের স্লিপ চাচ্ছেন। এদের কয়েকজন আবার মাস খানেক আগে বাংলাদেশে এসেছেন। এরা বালুখালি ক্যাম্পে থাকনে। সেখান থেকে এই ৫০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে এসেছেন নতুন আসা রোহিঙ্গা হিসেবে নাম লেখাতে। যাতে একাধিকবার ত্রাণ তুলতে পারেন।

গত কয়েকদিন ধরে উখিয়া থেকে টেকনাফ পর্যন্ত রাস্তায় ঘনঘন চেক পোস্ট বসানো হয়েছে। এইসব চেক পোস্টে পুলিশ, বিজিবি ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা যানবাহন চেক করছেন। তারপরও রোহিঙ্গাদের এক স্থান থেকে অন্যস্থানে ছড়িয়ে পড়া ঠেকানো যাচ্ছে না। টেকনাফ, উখিয়ার ভাষার সঙ্গে রোহিঙ্গাদের ভাষায় মিল থাকায় এবং সেনা সদস্যরা সে ভাষা বুঝতে না পারায় এমন ঘটনা ঘটছে।একাধিক স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এই প্রতিবেদক কে বলেন, ধীরে ধীরে রোহিঙ্গাদের আসল চরিত্র বের হয়ে আসছে।

একাধিকবার ত্রাণ নিতে গিয়ে ধরা খাওয়ারা বলতে শুরু করেছে, তারা বাংলাদেশের ত্রাণ নিচ্ছে না। তারা ইউএনএইচসিআর বা বিশ্ব সম্প্রদায়ের ত্রাণ নিচ্ছে।আবার বলছে বার রাষ্ট্রের ত্রাণ নিচ্ছে, বাংলাদেশের নয়?

এদিকে এ সমস্যাকে ত্রাণকাজে সমন্বয়হীনতার দুর্বলতা হিসেবে দেখছে রোহিঙ্গাদের নিয়ে কাজ করা ৪৭টি দেশীয় ও আর্ন্তজাতিক সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানের জোট ইন্টার সেক্টর কোঅর্ডিনেশন আইএসসিজি। প্রতিষ্ঠানের মুখপাত্র হিসেবে কাজ করা শিরিন আকতার বলেন, দ্রুততম সময়ের মধ্যে রোহিঙ্গাদের নিবন্ধন কার্যক্রম শেষ করতে পারলে সুষ্ঠু সমন্বয় সম্ভব হবে। তার আগে প্রয়োজন মিয়ানমার থেকে প্রতিদিনই যে হারে রোহিঙ্গা আসছে, তা বন্ধ হওয়া।

তবে পুলিশ বলছে, রোহিঙ্গাদের মধ্যেই একশ্রেণীর দালাল গড়ে উঠেছে। এরা মোবাইল ফোনের মাধ্যমে ত্রাণ ও নগদ টাকার প্রলোভন দেখিয়ে অনেক রোহিঙ্গাকে বাংলাদেশে ডেকে আনছে। তাই সবার আগে রোহিঙ্গাদের মোবাইল ফোনের ব্যবহার বন্ধ করতে হবে।

একই সঙ্গে তাবলীগ জামায়াতসহ ব্যক্তি পর্যায়ে ত্রাণ হিসেবে নগদ অর্থ বিতরণও বন্ধ করতে হবে। তা না হলে ক্যাম্প থেকে ক্যাম্পে ছোটাছুটি ও নতুন রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ রোধ সম্ভব হবেনা।উখিয়ার পালংখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান (ইউপি) এম.গফুর উদ্দিন চৌধুরী বলেন, রোহিঙ্গারা সরকারের নিয়ন্ত্রিত সংস্থা ছাড়াও বিভিন্ন এনজিও, ব্যক্তি প্রতিষ্ঠান থেকে ব্যাপক ত্রাণ ও নগদ টাকা পাচ্ছে।

ফলে পরিবারের চাহিদা মিটিয়ে বাইরেও বিক্রি করছে। কিন্তু অর্বণনীয় দুর্ভোগে পড়ছি উখিয়া -টেকনাফের রোহিঙ্গা অধ্যুষিত এলাকার জনগণ।




রোহিঙ্গাদের মধ্যে ত্রাণ বিতরণ করলেন মন্ত্রী পরিষদ সচিব


উখিয়া প্রতিনিধি:
মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর বর্বরোচিত নির্যাতনের শিকার হয়ে প্রাণের ভয়ে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করেছেন, মন্ত্রী পরিষদ সচিব মো: শফিউল আলম। শনিবার (১৪ অক্টোবর) দুপুরে উখিয়ার কুতুপালং ১নং অস্থায়ী রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শনকালে নির্যাতিত রোহিঙ্গা নারী পুরুষদের সাথে কথা বলেন। পরে মন্ত্রী পরিষদ সচিব মো: শফিউল আলম বে-সরকারী উন্নয়ন সংস্থা পদক্ষেপ মানবিক উন্নয় কেন্দ্রের ত্রাণ সামগ্রী বিপন্ন রোহিঙ্গাদের মাঝে বিতরণ করেন।

ত্রাণ বিতরণ কালে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা, উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাঈন উদ্দিন, ত্রাণ কেন্দ্রে দায়িত্ব নিয়োজিত নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট, হলদিয়াপালং ইউপি চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ শাহ আলম, সেনাবাহিনীর অফিসার, এনজিও সংস্থা পদক্ষেপ এর ডেপুটি ম্যানেজার হাসানুর রহমান, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জোনের জোনাল ম্যানেজার আব্দুল খায়ুম ভুঁইয়া, উত্তর জোনের জোনাল ম্যানেজার নজরুল ইসলাম খাঁন, ব্রাম্মণবাড়িয়া জোনাল ম্যানেজার মো: রফিকুল ইসলাম।

ডেপুটি ম্যানেজার হাসানুর রহমান জানান, পদক্ষেপ এনজিও সংস্থার কর্মরত কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের আর্থিক সহযোগিতায় ৩শ রোহিঙ্গা পরিবারের মাঝে চাউল, ডাল, তৈল, চিনি, সাবান, কাপড় সহ খাবার স্যালাইন ইত্যাদি বিতরণ করা হয়েছে।

এদিকে মন্ত্রী পরিষদ সচিব মো. শফিউল আলম কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন শেষে বালুখালী রোহিঙ্গা ক্যাম্পে স্বাস্থ্য সেবায় নিয়োজিত মেডিকেল সেন্টার পরিদর্শন করেন। এছাড়াও ত্রাণ বিতরণ কাজে নিয়োজিত প্রশাসনের উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তা, নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট এবং সেনাবাহিনীর অফিসারদের সাথে কথা বলে গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।




রোহিঙ্গাদের উপর নির্যাতন বন্ধ করতে ব্যর্থ জাতিসংঘ

উখিয়া প্রতিনিধি:
মিয়ানমার থেকে প্রাণের ভয়ে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া বিপন্ন রোহিঙ্গাদের সাহার্য্যাতে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণে এগিয়ে এসেছেন আহ্লে সুন্নাত ওয়াল জামায়াত। শুক্রবার বিকেলে উখিয়ার থাইংখালী তাজুনিমার খোলা রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ৪০ লক্ষ টাকার ত্রাণ বিতরণ করেন ইসলামি ফ্রন্ট বাংলাদেশের মহাসচিব ও আহ্লে সুন্নাহ্ ওয়াল জামায়াত কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক এমএ মতিন।

ত্রাণ বিতরণকালে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে ইসলামি ফ্রন্টের মহাসচিব এমএ মতিন মিয়ানমারের সেনাবাহিনী কর্তৃক রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের উপর নির্যাতন, ধর্ষণ, বাড়ী ঘরে অগ্নিসংযোগ ও গণহত্যার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, জাতি সংঘের নিরাপত্তা পরিষদ রোহিঙ্গা নাগরিদের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হয়েছে। তিনি রোহিঙ্গাদেরকে নাগরিত্ব প্রদানসহ মিয়ানমারে ফেরত পাঠাতে আর্ন্তজাতিক সম্প্রদায়কে এক যোগে মিয়ানমার সরকারের উপর চাপ প্রয়োগ অব্যাহত রাখার দাবী জানান।

এসময় উপস্থিত ছিলেন আহ্লে সুন্নাহ্ ওয়াল জামাতের চট্টগ্রাম মহানগর নেতা নাঈমুল ইসলাম পুতুল, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলার সদস্য সচিব মাস্টার আবুল হোছাইন, কক্সবাজার জেলা নেতা অধ্যক্ষ সালা উদ্দিন মাহমুদ, বাংলাদেশ ইসলামি ছাত্রসেনার জেলা নেতা সালা উদ্দিন মোহাম্মদ তারেক, ছাত্রনেতা যথাক্রমে এইচ. এম শহিদুল্লাহ, ইফতেখার রেজা, নিজামুল করিম, ফরিদুল ইসলাম, মোহাম্মদ মাছুনুর রশিদ, নিয়ামত উল্লাহ, মোহাম্মদ ইসমাঈল ও মো: রফিকুল ইসলাম। ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রমে সহযোগিতা করেন উখিয়া উপজেলা যুবলীগের নেতা আজিজুর রহমান মামুন ও স্বেচ্ছাসেবকলীগ নেতা নুর মোহাম্মদ শেখর।

উল্লেখ্য, ক্যাম্পে দায়িত্ব প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও সেনাবাহিনীর সহযোগিতায় নির্যাতিত ৩ হাজার রোহিঙ্গাদের মাঝে ৪০ লক্ষ টাকার মূল্যে তাবু, বিভিন্ন কাপড়, পাড়ি, মশরী বিতরণ করা হয়।




রহস্যময় ডিজিটাল ব্যানারে রোহিঙ্গাদের ২১ দফা দাবি!


নিজস্ব প্রতিবেদক, বান্দরবান
আমরা নিজ দেশে ফিরে যেতে চাই, আমাদের অধিকার আমরা চাই, মারামারি নয়, হানাহানি নয়, খুনাখুনি নয়, অধিকার নিয়ে শান্তিতে বসবাস করতে চাই’। রোহিঙ্গারা আর্ন্তজাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে নাকি রোহিঙ্গাদের পক্ষে কোন কু-চক্রী গোষ্ঠি পরিকল্পিতভাবে ২১টি দফা দাবি সম্বলিত ডিজিটার ব্যানার লাগিয়েছে তা ভাবিয়ে তুলেছে স্থানীয়দের।

রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ করতে না করতেই বান্দরবান-উখিয়া-টেকনাফে রোহিঙ্গাদের আন্দোলন শুরু হয়ে গেছে। আন্দোলনের কর্মসুচীর অংশ হিসাবে ২১ দফা বাস্তবায়নের দাবিতে ইতিমধ্যেই রোহিঙ্গারা দাবি সম্বলিত ডিজিটাল ব্যানার প্রকাশ করেছে উখিয়া-টেকনাফের ক্যাম্পের ভেতরে বাইরে প্রধান সড়কের পাশে এবং দর্শনীয় স্থানে লাগানো হয়েছে এ ব্যানার।

ব্যানারে বাংলা ও ইংরেজী দুই ভাষায় ২১ দফা উল্লেখ করা হয়েছে “রোহিঙ্গা অধিকার প্রতিষ্ঠা কমিটি” নামে। তবে সোমবার কে বা কারা এ ব্যানার তৈরি করেছে বা কারা লাগিয়েছে সন্ধান পাওয়া যায়নি। সাধারণত ডিজিটাল ব্যানারে প্রেসের ঠিকানা থাকে। কিন্তু এ ব্যানারে ঠিকানা নেই। এ ব্যানার সকলের নজর কাড়লেও ব্যানার তৈরিতে কে বা কারা জড়িত তার দায়-দায়িত্ব কেউ স্বীকার করেনি।

ব্যানারে প্রথম লাইন লাল কালিতে ইংরেজী এবং ২য় লাইন কাল কালিতে বাংলা লেখা হয়েছে। ২১ দফা দাবি হচ্ছে ১. সকল রোহিঙ্গা জনগণকে বাধ্যতামুলক নাগরিক অধিকার দিতে হবে ও বার্মা সরকারের পক্ষ থেকে কোন শর্ত না দিয়ে আমাদেরকে ফিরিয়ে নিতে হবে। ২. রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে ফিরিয়ে নেওয়ার আগে নিরাপত্তার ব্যবস্থা করতে হবে। ৩. রোহিঙ্গাদের বাড়িঘর যেগুলো আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে তার সম্পুর্ণ ক্ষতিপুরণ সরকারী ভাবে দিতে হবে। ৪. রোহিঙ্গাদের সকল শিক্ষার অধিকার দিতে হবে। ৫. রোহিঙ্গাদের বাড়িঘরের জমি জমা কোন শর্ত ছাড়াই কাগজে-কলমে ফেরৎ দিতে হবে। ৬. রোহিঙ্গাদের পুরানো নাম আরাকান স্টেট দিতে হবে। ৭. রোহিঙ্গাদের স্বাধীনভাবে ব্যবসা বাণিজ্যের অধিকার দিতে হবে এবং ব্যবসা বাণিজ্যের মালামালের নিরাপত্তা দিতে হবে। ৮. আরাকানে রোহিঙ্গাদের জন্য আলাদা বিচার ব্যবস্থা করতে হবে। জজ, ম্যাজিস্ট্রেট রোহিঙ্গাদের মধ্য থেকে দিতে হবে। ৯. রোহিঙ্গাদের ধরে ধরে জেল হাজতে বন্দি রেখে দিনের পর দিন নির্যাতন করছে তাদের শর্তবিহীন ছেড়ে দিতে হবে এবং রোহিঙ্গাদের জন্য আলাদা জেলখানা আরাকানের ভেতরে স্থাপন করতে হবে। ১০. রোহিঙ্গাদের জন্য আলাদা সরকারী মুসলিম মন্ত্রণালয় স্থাপন করতে হবে। ১১. যেকোন এনজিও দেশী-বিদেশী সাংবাদিকদেরকে আরাকানে প্রবেশ করার অধিকার দেওয়ার পাশাপাশি নিজস্ব টিভি চ্যানেল পরিচালনায় কোন বাধা দিতে পারবেনা। ১২. আরাকানের জমিতে অবস্থানরত বৌদ্ধ ধর্মের লোকদের বাড়িতে যে অস্ত্র ও বোমা দেয়া হয়েছে তা সম্পুর্ণ সরকারী ভাবে ফেরৎ নিতে হবে। ১৩. রোহিঙ্গা নারী শিশু যুবকদের উপর যুগ যুগ ধরে গোপনে প্রকাশ্যে যে গণহত্যা নারী ধর্ষন করা হয়েছে তার বিচার আর্ন্তাতিক আদালতে হতে হবে। ১৪. রোহিঙ্গাদের জন্য প্রতি থানায় ওআইসি এবং জাতিসংর্ঘের শান্তি মিশনের ফোর্স নির্ধারিত থাকতে হবে। ১৫. রোহিঙ্গাদের মসজিদ মাদ্রাসা মক্তব তবলীগের মরকজসহ সকল ধর্মীয় প্রতিষ্টান স্থাপন করতে দিতে হবে। ১৬. রোহিঙ্গাদের সকল প্রকার সরকারী ডিপার্টমেন্টে চাকরি দিতে হবে। শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ সকলের অধিকার দিতে হবে। ১৭. পুরো আরাকানে ও বার্মার যে কোন স্থানে রোহিঙ্গাদের চলাফেরা করার অধিকার দিতে হবে। ১৮. রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে ভিসা পাসপোর্ট করার ব্যবস্থা করতে হবে। পাসপোর্ট অফিস আরাকানের ভেতরে হতে হবে এবং রোহিঙ্গাদের বিদেশ গমনাগমণের সুযোগ দিতে হবে। ১৯. কোন মামলা ছাড়া মিলেটারী পুলিশসহ যেকোন বাহিনী অনর্থক রোহিঙ্গাদের বাড়িঘরে চেক করার নামে ঢুকতে পারবেনা। ২০. রোহিঙ্গা আলেম ওলামাদের পাঞ্জাবী পায়জামা টুপি পরনে বাধা না দেয়ার পাশাপাশি ধর্মীয় কাজে বাধা দিতে পারবেনা। ২১. গবাদিপশু হাঁস-মুরগী পালনে কোন ক্ষতিপুরণ নিতে পারবে না।

এদিকে ব্যানার নিয়ে স্থানীয় প্রশাসন ও স্থানীয়দের মধ্য নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। তারা মনে করেন, এ ধরনের কর্মকান্ড মোটেও যুক্তিসঙ্গত নয়। এতে সীমান্ত এলাকার শান্তি শৃঙ্খলা ভঙ্গসহ অশুভ শক্তির ইঙ্গিত বহন করে। টেকনাফ এবং উখিয়ায় ২টি নিবন্ধিত এবং একাধিক অনিবন্ধিত ক্যাম্প গত ২ যুগ ধরে চলছে।
এছাড়া রোহিঙ্গাদের অতীত ইতিহাস অন্তত সীমান্ত এলাকার মানুষ ভুলে যাননি। এরা বাংলাদেশের সরকারি কর্মকর্তাদের উপর সশস্ত্র হামলা, ক্যাম্প অভ্যন্তরে ঢুকতে না দিয়ে অবরুদ্ধ করে রাখা, কথায় কথায় রেশন বর্জন ও অপপ্রচার চালিয়ে আর্ন্তজাতিক মহলে বাংলাদেশের ভাবমুর্তি ক্ষুন্ন, পুলিশ-বিডিআরের উপর হামলা এমনকি ম্যাজিস্ট্রেটের উপর হামলা করতে মোটেও কুন্ঠাবোধ করেনি।

তাছাড়া রোহিঙ্গাদের অঘটন-অপকর্মের ফিরিস্তি অনেক লম্বা। টেকনাফ উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আলহাজ্ব অধ্যাপক মোহাম্মদ আলী বলেন, এসব ভাল লক্ষণ নয়। এই রোহিঙ্গাদের পেছনে আর্ন্তাতিক চক্র রয়েছে। মহলটি আমাদের মাতৃভুমি বাংলাদেশকে তালেবান রাষ্ট্র বানাতে তৎপর। রোহিঙ্গারা আমাদের দেশে আশ্রয় নিয়ে তাদের দাবি বাস্তবায়নে বড় বড় ডিজিটাল ব্যানার প্রচার করবে আর আমাদের দেশের প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিরব থাকবে তা মেনে নেয়া যায় না।




উখিয়া আবুল কাশেম নুর জাহান চৌধুরী উচ্চ বিদ্যালয়ে অভিভাবক সমাবেশ অনুষ্ঠিত

উখিয়া প্রতিনিধি:

উখিয়ার আবুল কাশেম নুর জাহান চৌধুরী উচ্চ বিদ্যালয়ে অভিভাবক সমাবেশ ও সিসি ক্যামরা সংযোগ উদ্বোধন অনুষ্ঠান সোমবার (৯ অক্টোবর) অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি সাবেক চেয়ারম্যান আলহাজ্ব শাহ কামাল চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন, উখিয়া উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি এডভোকেট একেএম শাহজালাল চৌধুরী।

বিদ্যালয়ের হল রুমে অনুষ্ঠিত সভায় শুরুতেই স্বাগতম বক্তব্য দেন প্রধান শিক্ষক মো. আলমগীর কবির। অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, মেম্বার নুরুল কবির, মেম্বার মোহাম্মদ মুছা, সাবেক মেম্বার হাবিব উল্লাহ, উখিয়া সাংবাদিক ফোরামের সভাপতি ফারুক আহমদ, সাধারণ সম্পাদক গফুর মিয়া চৌধুরী ও সহকারী প্রধান শিক্ষক বাবুল হোছাইন।

সভায় বক্তারা বলেন, বিদ্যালয়ে ভাল ফলাফল অর্জন ধরে রাখা এবং শিক্ষার্থীদেরকে আদর্শবান মেধাবী করে তুলতে শিক্ষকদের পাশাপাশি অভিভাবকদেরকে আরো সচেতন হতে হবে।

এর আগে প্রধান অতিথি সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান এডভোকেট শাহজালাল চৌধুরী ফলক উম্মোচনের মাধ্যমে বিদ্যালয়ের পুরো ক্যাম্পাস সিসি ক্যামরার আওতার আনুষ্ঠানিকতা যাত্রা শুরু হয়।




স্বাস্থ্য ঝুঁকি এড়াতে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে নিরাপদ পানি ও স্যানিটেশন ব্যবস্থা জোরদার

 

উখিয়া প্রতিনিধি:

মিয়ানমার হতে প্রাণের ভয়ে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া বাস্তচ্যুত রোহিঙ্গাদের স্বাস্থ্য ঝুঁকি এড়াতে সরকার মেগা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে। রোহিঙ্গাদের মাঝে বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ ও স্যানেটিশন ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে এমন তথ্য জানিয়েছেন, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলীর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সোহারাব হোসেন।

মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর অত্যচার, নির্যাতন, বসতবাড়িতে অগ্নিসংযোগ ও রাখাইন প্রদেশে জাতিগত হত্যাযজ্ঞের শিকার হয়ে গত ২৫ আগস্ট থেকে লাখ লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করে। উখিয়ার কুতুপালং, বালুখালী, থাইংখালী, হাকিম পাড়া, তাজুনিমার খোলা, পালংখালী সহ ৭টি অস্থায়ী ক্যাম্পে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গারা আশ্রয় নেয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিপন্ন রোহিঙ্গাদের সাহায্য সহযোগিতা সহ তাদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানালে বিশ্ব সম্প্রদায় সহ দেশি-বিদেশি এগিয়ে আসে।

বিশেষ করে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় বাস্তচ্যুত রোহিঙ্গাদের স্বাস্থ্য ঝুঁকি এড়াতে বিশেষ প্রদক্ষেপ গ্রহণ করে। প্রথম পর্যায়ে ডায়রিয়া কলেরা রোগ সহ পানিবাহিত রোগ প্রতিরোধে বাস্তচ্যুত রোহিঙ্গাদের মাঝে জরুরী পানি সরবরাহ ব্যবস্থা শুরু করেন। ১৪টি মোবাইল ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্টের মাধ্যমে পানি সরবরাহ, ৭টি ভ্রাম্যমান ওয়াটার ক্যারিয়ারের মাধ্যমে উখিয়া সহ টেকনাফের বিভিন্ন রোহিঙ্গা নিরাপদ খাবার পানি নিশ্চিত করে।

ক্যাম্পে দায়িত্বপ্রাপ্ত বান্দরবান ও খাগড়াছড়ির জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সোহরাব হোসেন জানান, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে জরুরী ভিত্তিতে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ৫ হাজার স্যানিটারি ল্যান্ট্রিন ও ৩ হাজার নলকূপ স্থাপনের লক্ষমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও ইতিমধ্যে ১৩টি ক্যাম্পে ২ হাজার ৬৮০টি স্যানেটারি ল্যান্ট্রিন ও ১ হাজার ৯২৯টি নলকূপ স্থাপন সম্পন্ন করা হয়েছে।

এদিকে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে স্বাস্থ্য ঝুঁকি এড়াতে ও পানিবাহিত রোগ প্রতিরোধে চলমান স্যানেটিশন কার্যক্রম পরিদর্শ করার জন্য ইতি মধ্যে স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার খোন্দকার মোশারফ হোসেন, মন্ত্রণালয়ের সচিব আব্দুল মালেক, জনস্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী সুধিল কুমার ঘোষসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শনে আসেন।

উখিয়া জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপ-সহকারী মো. ইকবাল হোসাইন বলেন, ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট ও ভ্রাম্যমান ওয়াটার ক্যারিয়ারের মাধ্যমে বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ করে বাস্তচ্যুত রোহিঙ্গাদের পানিবাহিত রোগ প্রতিরোধ করতে সক্ষম হয়েছি। এছাড়াও পরিস্থিতি মোকাবেলায় ৬ লক্ষ ওয়াটার ফিউরিন ট্যাবলেট ও ৪৫ ড্রাম ব্লিচিং পাউটার সরবরাহ করা হয়েছে। বর্তমানে কেন্দ্রীয় ভাণ্ডারে ১৬ লক্ষ ওয়াটার ফিউরিন ট্যাবলেট মজুদ রয়েছে।

কক্সবাজার জেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ মোসলেম উদ্দিন জানান, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে ১২০জনের একটি টিম রোহিঙ্গা ক্যাম্পে স্যানেটারিন ল্যান্ট্রিন ও নলকূপ স্থাপনে দায়িত্বপালন করে যাচ্ছে।