রোহিঙ্গা ক্যাম্পে দুই গ্রুপের গুলিবিনিময়ে নিহত ১


কক্সবাজার প্রতিনিধি:
উখিয়া থাইংখালী রোহিঙ্গা ক্যাম্পে মোহাম্মদ ইউসুফ নামের এক রোহিঙ্গা নেতাকে গুলি করা হয়েছে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে কুতুপালং এমএসএফ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসারত অবস্থায় ইউসুফ মারা যায় বলে উখিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ আবুল খায়ের নিশ্চিত করেছেন। শুক্রবার (১৯ জানুয়ারি) রাত ৮টার দিকে একদল মুখোশধারী ইউসুফের মাথায় গুলি করে।

কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (উখিয়া সার্কেল) চাই লাউ মার্মা জানিয়েছেন, শুক্রবার রাত ৮টার দিকে ১০/১২ জনের একটি দল থাইংখালী তানজিমার খোলা রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ডি ব্লকের মাঝি ইউসুফের মাথায় গুলি করে পালিয়ে যায়। মুমূর্ষু অবস্থায় তাকে কুতুপালংয়ে এমএসএফ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।

এদিকে বালুখালী শরণার্থী ক্যাম্পের ময়নার ঘোনা এলাকা থেকে বিদেশি পিস্তল ও গুলিসহ মোহাম্মদ আলম নামে এক রোহিঙ্গাকে পুলিশ আটক করেছে।

উখিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবুল খায়ের জানান, রাত ৯টার দিকে বালুখালী ময়নার ঘোনা এলাকা থেকে বিদেশি পিস্তলসহ রোহিঙ্গা আলমকে আটক করা হয়। এসময় স্থানীয় রোহিঙ্গারা তাকে মারধর করে। পরে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে উখিয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়।




 উখিয়া ট্রাক-পিকআপ মালিক সমিতির নির্বাচনে জয়ী প্রার্থীদের আনন্দ শুভাযাত্রা

উখিয়া প্রতিনিধি:

উখিয়া উপজেলা ট্রাক-পিকআপ মালিক সমবায় সমিতি লিমিটেড এর ব্যবস্থাপনার কমিটির নির্বাচন শুক্রবার(১৯ জানুয়ারি) ব্যাপক উৎসাহ উদ্দিপনার মধ্যে দিয়ে শান্তিপূর্ণ ভাবে সম্পন্ন হয়েছে। কোটবাজারস্থ নিজস্ব অফিস কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে সভাপতি পদে মো. আব্দুল মালেক কোম্পানী (ছাতা মার্কা) ৮০ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রার্থী মকবুল আহমদ কোম্পানী (চেয়ার মার্কা) ৩৫ ভোট।

অন্যান্য নির্বাচিত কর্মকর্তারা হলেন, সাধারণ সম্পাদক পদে আলহাজ্ব জামাল উদ্দিন কোম্পানী, সহ-সভাপতি মেম্বার আব্দুল গফুর সওদাগর, কোষাধ্যক্ষ পদে মনজুর আলম কোম্পানী নির্বাচিত হন।

এছাড়াও নির্বাচিত কার্যকরী নির্বাহী সদস্যরা হলেন, মো. জয়নাল উদ্দিন কোম্পানী, শামসুল আলম কোম্পানী, মো. আব্দু শুক্কুর কোম্পানী, সাইফুল ইসলাম বাপ্পি ও জসিম উদ্দিন কোম্পানী।

নির্বাচন কমিশনার হিসাবে দায়িত্বপালন করেন, উখিয়া উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা কৃষিবীদ কবির আহমদ, সহকারী কমিশনার হিসাবে দায়িত্বপালন করেন, মো. ইউনুছ চৌধুরী ও মাহবুবুল আলম। ১৩৭জন ভোটারদের মধ্যে ১১৬জন তাদের ভোটারধিকার প্রয়োগ করেন।

এদিকে উখিয়া উপজেলার ট্রাক-পিকআপ মালিক সমিতির নবনির্বাচিত সভাপতি মো. আব্দুল মালেক ও সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব মো. জামাল উদ্দিন কোম্পানীর নেতৃত্বে নবনির্বাচিত কর্মকর্তারা বিকেলে কোটবাজার স্টেশনে বিজয় র‌্যালি বের করেন। র‌্যালিতে নবনির্বাচিত কর্মকর্তারাসহ সমিতির সদস্য ও সমর্থকগণ অংশ নেন।




উখিয়ায় সরকারি পাহাড় কাঁটার সময় মাটিভর্তি ২টি ডাম্পার আটক

 

উখিয়া প্রতিনিধি:

উখিয়ার হরিণমারা এলাকায় সরকারি পিএফ বনভূমির মাটি পাচারকালে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে বনবিভাগ ও পুলিশ যৌথ অভিযান চালিয়ে মাটিভর্তি ২টি ডাম্পার পিক-আপ আটক করেছে। রাজাপালং বনবিট কর্মকর্তা আমির হোসেন গজ নবী অভিযানের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, আটককৃত ডাম্পার ২টি থানা হেফাজতে রাখা হয়েছে এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে মামলার দায়ের করার প্রস্তুতি চলছে।

জানা যায়, একটি সংঘবদ্ধ মাটি খেকো সিন্ডিকেট দীর্ঘদিন ধরে ইনানী রেঞ্জের আওতাধীন রাজাপালং বনবিটের সীমান্তবর্তী এলাকা হরিণমারা বাগানের পাহাড় নামক এলাকায় সরকারি পাহাড় কর্তন করে ডাম্পার ও পিক-আপ যোগে মাটি পাচার করে আসছিল ।

এদিকে বৃহস্পতিবার (১৮ জানুয়ারি) দুপুরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উখিয়া সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট একরামুল ছিদ্দিকের নেতৃত্বে বন বিভাগ ও পুলিশ যৌথ অভিযান চালিয়ে মাটি পাচারকালে ২টি ডাম্পার পিক-আপ আটক করা হয়। এসময় রাজাপালং বিট কর্মকর্তা নবী হোসেন গজ নবী ও পুলিশের একটি দল।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, হরিণ মারা বাগানের পাহাড় এলাকার বাসিন্দা মাটি খেকো সিন্ডিকেটের অন্যতম সদস্য শাহ আলম, কামাল, নুরুল আলম, ল্যাং মোহাম্মদ সহ ৫/৬ জন চিহ্নিত লোক দীর্ঘদিন ধরে সরকারি পিএফ বনভূমির পাহাড় কেঁটে মাটি বিক্রির ঘটনায় জড়িত।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে রাজাপালং বিট কর্মকর্তা বলেন, পাচারের সময় মাটিভর্তি অবস্থায় ২টি ডাম্পার আটক করা হয়।




কোটবাজারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ৪ বাড়ি ভস্মিভূত

উখিয়া প্রতিনিধি:

উখিয়ার কোটবাজার স্টেশন সংলগ্ন বড়ুয়া পাড়ায় এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ৪টি বাড়ি সম্পূর্ণ পুড়ে ভস্মিভূত হয়েছে। শনিবার(১৩জানুয়ারি) ভোর সকালে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও রত্না পালং ইউপি চেয়ারম্যান খাইরুল আলম চৌধুরী ঘটনাস্থল পরিদর্শন এবং সরকারি ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে তাৎক্ষনিক সরকারি ভাবে নগদ অর্থ, শীতবস্ত্র ও শাড়ি, লুঙ্গি  বিতরণ করা হয়।

জানা যায়, উপজেলার রত্নাপালং ইউনিয়নের কোটবাজারস্থ বড়ুয়া পাড়া গ্রামে এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে আশুতোষ বড়ুয়া পরিতোষ বড়ুয়া রুপম বড়ুয়া ও সুমন বড়ুয়া বসত বাড়ি সম্পূর্ণভাবে পুড়ে যায়। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যরা জানান ওই অগ্নিকাণ্ডে ১০ লক্ষ টাকার মত ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান শনিবার ভোর সকাল অর্থাৎ ফজর নামাজের আজানের পর পর পাশ্ববর্তী হোটেল আল-হেরার বাবুর্চিরা আগুন দেখতে পেয়ে চিৎকার দেয়। মেম্বার আবদুল গফুর ও মেম্বার মোক্তার আহমদ জানান ফায়ার সার্ভিসকে খবর দিলে দমকল বাহিনী এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। চেয়ারম্যান খাইরুল আলম চৌধুরী বলেন ফায়ার সার্ভিসের দমকল বাহিনীর সদস্যরা তাৎক্ষনিক এসে আগুন নিয়ন্ত্রণ আনায় পাশ্ববর্তী কোট বাজার স্টেশনও অগ্নিকাণ্ড থেকে রক্ষা পায়।

এদিকে সকালে উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নিকারুজ্জামান চৌধুরী রবিন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার চাউলা মার্মা, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আহসান উল্লাহ ও রত্না পালং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান খাইরুল আলম চৌধুরীসহ পুলিশ ও স্থানীয় মেম্বারগণ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

চেয়ারম্যান খাইরুল আলম চৌধুরী জানান সংসদ সদস্য আবদুর রহমান বদির নির্দেশে  উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ৪টি পরিবারের ৬ হাজার টাকা করে নগদ ২৪ হাজার টাকা,  ৮ বান্ডিল ঢেউটিন, ১৯টি কম্বল, ৮টি শাড়ি ও ৮টি লুঙ্গি এবং সোয়েটার বিতরণ করা হয়।




গুরামিয়া গ্যারেজ বয়ানুল কুরআন মাদ্রাসায় বই বিতরণ ও শ্রেণি কার্যক্রম উদ্বোধন

উখিয়া প্রতিনিধি:

উখিয়ার মরিচ্যা গুরামিয়া গ্যারেজ বয়ানুল কুরআন মাদ্রাসার শ্রেণি কার্যক্রম উদ্বোধন ও বই বিতরণ অনুষ্ঠান শনিবার প্রবীণ আলেমে দ্বীন মাওলানা মোস্তাক আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়েছে।

অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন বয়ানুল কুরআন মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক এবং  হযরত ওমর ফারুক  (রা:) জামে মসজিদের ইমাম ও খতিব মাওলানা মুহাম্মদ রেজাউল করিম (আফজল)। প্রধান অতিথি ছিলেন হলদিয়া পালং ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বার এম মনজুর আলম।

বিশেষ অতিথি ছিলেন মেম্বার স্বপন শর্মা রনি ও উখিয়া সাংবাদিক ফোরামের সভাপতি ফারুক আহমদ বক্তব্য রাখেন হাজি কবির আহমদ, হাফেজ মাহমুদুল হাসান, মাওলানা আবদুল হামিদ, সামশুল আলম বুখারী, দুবাই প্রবাসী ফরিদ আহমদ, কুয়েত প্রবাসী মোজাফ্ফর আহমদ, সুলতান আহমদ, নুরুল আজিম প্রকাশ মনু ড্রাইভার ও আলী হোসাইন।

বক্তরা অনগ্রসর এলাকায় প্রতিষ্ঠিত বয়ানুল কুরআন মাদ্রাসার সার্বিক উন্নয়ন ও ইসলামের দ্বীন প্রসারিত করার জন্য সর্বস্তরের মানুষকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। পরে আনুষ্ঠানিক শ্রেণি কার্যক্রম উদ্বোধন ও শিক্ষার্থীদের হাতে বই তুলে দেওয়া হয়। এসময় অভিভাবক, গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও শিক্ষার্থীগণ উপস্থিত ছিলেন। সমগ্র অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন বয়ানুল কুরআন মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক মাওলানা রেজাউল করিম (আফজল)




উখিয়ায় কে.জি স্কুলের শিক্ষার্থীর মাথা বিক্রি করে লক্ষ লক্ষ টাকা আদায়: অভিভাবক মহলে অসন্তোষ

 

উখিয়া প্রতিনিধি:

উখিয়া কিন্ডার গার্ডেন ও কে.জি স্কুলের কচি-কাঁচা শিক্ষার্থীদের মাথা বিক্রি করে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। কতিপয় স্কুল শিক্ষক ও লাইব্রেরি মালিক সিন্ডিকেট করে অভিভাবক এবং শিক্ষার্থীদেরকে জিম্মি করে উচ্চ মূল্যে অখ্যাত প্রকাশনির নিম্নমানের বই ক্রয় করতে বাধ্য করা হচ্ছে এমন অভিযোগ সচেতন মহলের। আর এসব সিন্ডিকেটের হোতা হচ্ছে উখিয়ার ফ্রেন্ডস লাইব্রেরি।

খোঁজখবর নিয়ে জানা যায়, উখিয়ার উপজেলা সদর সহ প্রত্যন্ত অঞ্চলে ৩০টির অধিক কিন্ডার গার্ডেন ও কে.জি স্কুল রয়েছে। এসব স্কুলে প্রায় ৪ হাজার অধিক কচি-কাঁচা শিক্ষার্থী অধ্যায়নরত। উখিয়া কিন্ডার গার্ডেন এসোসিয়েশন ও উখিয়া উপজেলার কেজি স্কুল এসোসিয়েশন নামক দু’টি আলাদা ব্যানারে কে.জি স্কুল গুলো পরিচালনা হয়ে আসছে।

দায়িত্বশীল সূত্রে জানা যায়, বছরের শুরুতেই এসব কে.জি স্কুলের শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের মাথা বিক্রির প্রতিযোগিতায় নেমে পড়ে। ঢাকা ও চট্টগ্রামের অখ্যাত প্রকাশনীর সাথে গোপন আতাঁত করে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেয় এবং ওই প্রকাশনীর বই ক্রয় করতে শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকদেরকে বাধ্য করা হয়।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন শিক্ষক জানান, প্রতিজন শিক্ষার্থীদের মাথা পিচু ১শ থেকে ১শ ৩০ টাকা পর্যন্ত আদায় করেছে। এভাবে ৪ হাজার শিক্ষার্থীদের মাথা বিক্রি করে অন্তত ৪ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে শিক্ষকরা। এসব অপকর্মে জড়িত বেশ কয়েকটি লাইব্রেরি।

জানা যায়, ঢাকার সাবারিন প্রকাশনী ও ক্রিসেন্ট প্রকাশনী নামক অখ্যাত বই কোম্পানীর সাথে গোপন আঁতাত করে তাদের প্রতিষ্ঠানের বই ক্রয়ে বাধ্যকরার ঘটনাকে কেন্দ্র করে সচেতন অভিভাবক মহলে ক্ষোভের সঞ্চার ও মিশ্রপ্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অভিযোগে প্রকাশ উখিয়া মসজিদ মার্কেটের ফ্রেন্ডস লাইব্রেরির মধ্যস্থতায় শিক্ষার্থীদের মাথা বিক্রির টাকা বন্টন করা হয়। এর ফলে সমস্ত বই শিক্ষার্র্থীদেরকে ওই ফ্রেন্ডস লাইব্রেরি থেকে ক্রয় করতে বাধ্য করানো হয়েছে। উখিয়ার অন্যান্য লাইব্রেরিতে ধর্না দিয়েও অভিভাবকরা এসব বই খুঁজে পাচ্ছে না।

ফ্রেন্ডস লাইব্রেরির মালিক আবু মুছা ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, আমরা অনেক মূলধন ও পুঁজি বিনিয়োগ করেছি। তাই কে.জি স্কুলের বই আমার লাইব্রেরি ছাড়া অন্য কেউ বিক্রি করতে পারবে না।

ভালুকিয়া কে.জি স্কুল, পাতাবাড়ী কে.জি স্কুল, থাইংখালী কে.জি স্কুল ও রাজাপালং কে.জি স্কুলের অভিভাবকদের প্রশ্ন সরবরাহকৃত বইয়ের স্লিপ নিয়ে লাইব্রেরিতে গেলে বই পাওয়া যাচ্ছে না। শুধু মাত্র এসব বই ফ্রেন্ডস লাইব্রেরি পাওয়া যায় বলে শিক্ষকরা জানান দেয়। বলতে গেলে জিম্মি হয়ে অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা উচ্চ মূল্য দিয়ে নিম্নমানের বই ফ্রেন্ডস লাইব্রেরি থেকে ক্রয় করছে।

অনেক লাইব্রেরির মালিক শিক্ষার্থীদের সুবিধার্থে ফ্রেন্ডস লাইব্রেরিতে পাইকারী বই ক্রয় করতে গেলেও মালিক আবু মুছা সাফ জানিয়ে জবাব দেন তিনি ছাড়া এই বই কেউ বিক্রি করতে পারবে না। কোটবাজারে পালং লাইব্রেরিকে ওই বই বিক্রির জন্য মনোনয়ন করা হয়েছে। সচেতন শিক্ষানূরাগীদের অভিমত কচি-কাঁচা শিক্ষার্থীদের মাথা বিক্রি করে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিলে শিক্ষকদের কাছ থেকে  দেশ ও জাতি কি আশা করতে পারে। সিন্ডিকেট তৈরির প্রধান হোতা ফ্রেন্ডস লাইব্রেরি বই ব্যবসার নামে এসব কি শুরু করেছে তা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সহ অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা) নিকট জোর দাবি জানিয়েছেন।




উখিয়ায় রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অগ্নিকাণ্ডে নিহত ৪ আহত ১

কক্সবাজার প্রতিনিধি:

উখিয়ায় রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় নারী-শিশুসহ ৪জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছে আরো একজন।

বৃহস্পতিবার(১১জানুয়ারি) রাতে উখিয়ার বালুখালী ট্রানজিট ক্যাম্পের একটি তাবুতে ঘটনাটি ঘটেছে। অগ্নিকাণ্ডে আশঙ্কাজনক ১জনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে প্রেরণ করা হয় বলে জানিয়েছে, ফায়ার সার্ভিসের উপ-সহকারী পরিচালক ফরিদ আহমদ।

কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার উখিয়া সার্কেল চাইলাউ মারমা জানান, রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় এ পর্যন্ত ৪জনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতরা হলো নুরুন খাবা (৩০), ইমাম শরীফ (৮), আরজুমান বিবি (১), দিলশান বিবি (৬)। অগ্নিকাণ্ডে শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত ৪জন মারা গেছে বলে জানিয়েছে প্রত্যক্ষদর্শী কুতুপালং ক্যাম্পের মাঝি মোহাম্মদ নুর।

ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানাযায়, নতুন আসা রোহিঙ্গাদের তাবুতে মোমবাতির আগুন থেকে আগুনের সূত্রপাত হলে মুহুর্তের মধ্যে তাবুটি পুড়ে যায়। ওই সময় তাদের উদ্ধার করে পার্শ্ববর্তী রেড ক্রিসেন্ট ও এমএসএফ হাসপাতালে প্রেরণ করা হলে সেখানে তারা মারা যায়। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বক্তব্য না দেওয়া আহত ব্যক্তি’র পরিচয় জানা যায়নি।

উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নিকারুজ্জামান চৌধুরী রবিন, একই পরিবারের ৪ রোহিঙ্গা মৃত্যুর সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, এরা গতকালই মিয়ানমার থেকে এসে বালুখালীর ট্রানজিট ক্যাম্পে আশ্রয় নেয়।




কোটবাজারে পুলিশ ও জনতার মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া, আটক ২

উখিয়া প্রতিনিধি:

উখিয়ার কোটবাজারে বুধবার (১০জানুয়ারি) সন্ধ্যায় পুলিশ ও জনতার মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এ সময় বিক্ষুব্ধ জনতা পুলিশের ভ্যান গাড়ি ব্যারিকেডের চেষ্টা করলে পুলিশ নির্বিচারে লাঠিচার্জ করে ছত্রভঙ্গ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ২জনকে আটক করে পুলিশ।

রত্না পালং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান খাইরুল আলম চৌধুরী বলেন, সরকারি কাজে পুলিশকে বাধা দেওয়া দুঃখ জনক। এধরনের অনাকাঙ্খিত ঘটনা কারো জন্য কাম্য নয়। আগামীতে পুলিশ ও জনগণের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি না হয় সে ব্যাপারে সকলকে আরো দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, কোটবাজার স্টেশনের দক্ষিণপাশে মসজিদ-পিনজিরকুল সড়কে রোহিঙ্গাদের ত্রান সামগ্রীর বাজার বসে। রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে চাল, ডাল, কম্বল, সাবান, তৈল, চিনি, লবণ, শাড়ি, লুঙ্গি, দুধ, টুতপেস্টসহ নানা নিত্যপন্য সংগ্রহ করে কোটবাজারে প্রকাশ্য বিক্রয় করে আসছে।

সস্তায় এ সব নিত্যপন্য ক্রয় করতে কোটবাজারে ক্রেতাদের ভিড় জমে। কোটবাজারের ওই সড়ককে বর্মাইয়া বাজার হিসাবে সকলের কাছে পরিচিত।

স্থানীয় গ্রাম পুলিশের চকিদার জানান উখিয়া থানার এক দল পুলিশ বুধবার সন্ধ্যায় অতর্কিত অবস্থায় কোটবাজার বর্মাইয়া বাজারে হানা দেয়। পুলিশ রোহিঙ্গাদের বিপুল পরিমান ত্রান সামগ্রী বিক্রির জন্য রাখা নিত্যপন্য জব্দ করে এবং ৪জনকে আটক করে গাড়িতে তুলে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, এ সময় বিক্ষুব্ধ জনতা ধাওয়া করে পুলিশের গাড়ি ব্যারিকেড দিয়ে জব্দকৃত  মালামাল ও আটক ব্যক্তিদের ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চালায়। খবর পেয়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার ভূমি একরামুল ছিদ্দিকের নেতৃত্বে উখিয়া থানার ওসি মো. আবুল খায়ের ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে জনতাকে লাঠি চার্জ করে চত্রভঙ্গ করে দেয়।

স্থানীয় সচেতন জনগণ জানান বাজারে নিত্যপন্য বিক্রি কালে পুলিশের অভিযান, মালামাল জব্দ ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদেরকে আটক ঠিক হয়নি।

উখিয়া থানার ওসি ঘটনার সত্যতা শিকার করে বলেন পুলিশের কাজে বাঁধা দেওয়ার মামলা রুজু করা হয়েছে।




রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বিকাশের আড়ালে চলছে হুন্ডি বাণিজ্য

ঘুমধুম প্রতিনিধি:

সরকার জনস্বার্থে উপজেলা ভিত্তিক বিকাশ নামের টাকা লেনদেনের এজেন্ট প্রথা চালু করলেও বর্তমানে তা হিতে বিপরীত হয়েছে। মিয়ানমার থেকে লাখ লাখ রোহিঙ্গা এদেশে পালিয়ে এসে আশ্রয় নেওয়ার পর থেকে বিকাশ ও হুন্ডি ব্যবসায়ীদের তৎপরতা বেড়েছে আশঙ্কাজনক ভাবে। রোহিঙ্গা ক্যাম্প ভিত্তিক গড়ে উঠেছে প্রায় শতাধিক হুন্ডি ও বিকাশ এজেন্ট। যে সব এজেন্টের মাধ্যমে প্রবাসির টাকাসহ ইয়াবা বিক্রির টাকা লেনদেন করা হচ্ছে। ফলে রাষ্ট্রায়াত্ম ব্যাংক বীমা প্রতিষ্ঠান গুলোতে রেমিটেন্স কমে গেছে উল্লেখ্যযোগ্য ভাবে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন বিকাশ ও হুন্ডি ব্যবসা সরকারের আর্থিক প্রতিষ্ঠানে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি করছে। তাই এসব ব্যবসা বন্ধ করে দেওয়া উচিত বলে মনে করছেন সচেতন মহল।

তথ্য অনুসন্ধানে জানা গেছে, রোহিঙ্গা ক্যাম্প ভিক্তিক সবচেয়ে বেশি বিকাশ ভিত্তিক হুন্ডি ব্যবসা চালাই ৮ বিকাশ এজেন্ট। তাদের প্রতিদিনের লেনদেন প্রায় অর্ধকোটি টাকা। বিকাশের এজেন্ট সিম ছাড়াও তাদের রয়েছে নামে বেনামে অর্ধশত ব্যক্তিগত বিকাশ সিম। এসব সিম থেকে প্রতিদিন লেনদেন করা হচ্ছে দোকান ছাড়াও বাড়ি বাড়ি গিয়ে। রোহিঙ্গা অধ্যুষিত এলাকায় যাদের বিরুদ্ধে অস্বাভাবিক লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে তাদের মধ্যে রয়েছেন কুতুপালং বাজারের মৌলভী ছৈয়দুল আমিন, রফিক, বশর, আলী, বালুখালী পানবাজারের জাহাঙ্গীর, পালংখালী বাজারের সোহেল, থাইনখালী বাজারের মানিক, বশর ও এন ইসলাম প্রমুখ।

স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানদের সাথে কথা বলে জানা যায়, ২৫ আগস্টের আগে এ উপজেলায় ৬/৭টি বিকাশ এজেন্টের মাধ্যমে টাকা লেনদেন করতে দেখা গেছে। তাও খুব সীমিত আকারে। বর্তমানে ২৫ আগস্টের পর থেকে মিয়ানমার হতে পালিয়ে আসা প্রায় সাড়ে ৬ লাখ রোহিঙ্গা উখিয়ার ৮টি অস্থায়ী ক্যাম্পে আশ্রয় নিয়েছে। এসব ক্যাম্প গুলোতে তল্লাশী চালালে দেখা যাবে প্রায় শতাধিক হুন্ডি ও বিকাশ এজেন্টের মাধ্যমে টাকা লেনদেন হচ্ছে।

শুক্রবার সকালে অতর্কিত ভাবে কুতুপালং ক্যাম্প বাজারে অভ্যান্তরে একটি দোকানে গিয়ে দেখা যায়, ৭/৮জন লোক ভীড় করছে। একজন রোহিঙ্গা ১লক্ষ ২০ হাজার টাকা উত্তোলন করেছে। এ টাকা কোথা থেকে এসেছে জানতে চাওয়া হলে কুতুপালং বি ব্লকের বাসিন্দা নুরুল্লাহ (৪৫) জানায়, তার ২ ছেলে নুরুল ইসলাম, আলী আকবর দীর্ঘদিন যাবৎ মালয়েশিয়া অবস্থান করছে। তারা এসব টাকা পাঠিয়েছে।

এসময় বিকাশ এজেন্ট রোহিঙ্গা নাগরিক ছৈয়দ আমিন অস্বীকার করে বলেন ওই টাকা তার কাছ থেকে নেওয়া হয়নি। অন্যান্য রোহিঙ্গারা সরে পড়তে দেখে বিকাশ এজেন্ট হতভম্ব হয়ে পড়ে। পরে স্বীকার করে বলেন, আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর লোকজনকে টাকা দিয়ে বিকাশ ও হুন্ডি ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। এভাবে প্রায় শতাধিক বিকাশ ও হুন্ডি ব্যবসায়ী উখিয়ার বিভিন্ন শরনার্থী ক্যাম্পে প্রকাশ্যে দোকান খোলে কোটি কোটি টাকা লেনদেন করলেও দেখার কেউ নেই। তবে রোহিঙ্গা বস্তি ম্যানেজমেন্ট কমিটির সেক্রেটারি মোহাম্মদ নুর জানান, বিদেশ থেকে সমস্ত টাকা বিকাশ ও হুন্ডির মাধ্যমে লেনদেন হচ্ছে।

গত ২৯ আগস্ট টেকনাফ মডেল থানা মানি লন্ডারি প্রতিরোধ আইন/২০১২(সংশোধনী ২০১৫) এর ৪ (২) দায়েরকৃত মামলার আসামি নুরুল হক ওরফে ভুট্টো(৩২) কে জিজ্ঞাসাবাদকালে বলেন, তার সঙ্গে ইয়াবা ব্যবসার টাকা লেনদেন করতো স্বপন নামের এক বিকাশ এজেন্ট।

তিনি আরো বলেন, বাহকদের মাধ্যমে আটক মোহাম্মদ আফজল হোসেন ইমন মাদক বিক্রয়ের টাকা তার ছেলে সালাউদ্দিনের মাধ্যমে বিকাশ এজেন্ট স্বপনের নিকট পাঠাতো। স্বপন তার বিকাশ একাউন্ট থেকে টেকনাফের বিকাশ একাউন্টে সে নিয়মিত টাকা পাঠালে নুরুল হক ওরফে ভুট্টো ওই টাকা উত্তোলন করতো। সে সিআইডির নিকট আরো স্বীকার করেছে এ পর্যন্ত ১০লাখ ৩০হাজার ২০ টাকা ওই বিকাশের মাধ্যমে লেনদেন করা হয়েছে।

এভাবে উখিয়াতেও বেশ কয়েকজন চিহ্নিত এজেন্ট আর্কষনীয় সাইনবোর্ড ও বিলাশ বহুল দোকান দিয়ে নাম মাত্র কয়েকটি মোবাইল রেখে ইয়াবার টাকা লেনদেন করছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা দাবি করেন ওই বিকাশ এজেন্টদের আটক করা হলে উখিয়ার সমস্ত ইয়াবা ব্যবসায়ীসহ প্রতি মাসে কত পরিমাণ ইয়াবা টাকা লেনদেন হচ্ছে তা বেরিয়ে আসবে।




রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অর্ধশত অবৈধ হাটবাজার

উখিয়া প্রতিনিধি:

কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফের রোহিঙ্গা ক্যাম্প গুলোতে অর্ধশত অবৈধ হাটবাজার বসিয়ে রোহিঙ্গাদের দিয়ে জমজমাট ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে স্থানীয় একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট। হাটবাজার গুলো নিয়ন্ত্রণ করছে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি সহ প্রভাবশালী মহল। উখিয়ার থাইংখালী, জামতলীতে বিশাল আকারে নতুন করে রোহিঙ্গা বস্তিতে বাজার বসাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় ও রোহিঙ্গাদের মধ্যে দ্বন্দ্ব ও সংঘাত সৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে। স্থানীয় ব্যবসায়ীদের কাছে ইউনিয়ন পরিষদের ট্রেড লাইসেন্স থাকলেও রোহিঙ্গা ব্যবসায়ীর কাছে কোন ধরনের ট্রেড লাইসেন্স ও দোকানের বৈধ ছাড়পত্র নেই। অর্ধশত অবৈধ হাটবাজারে কয়েক হাজার দোকান বসিয়ে স্থানীয় সরকার ও উপজেলা পরিষদকে কয়েক লাখ টাকার রাজস্ব ও কর ফাঁকি দিচ্ছে বলে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।

গতকাল সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, উখিয়ার থাইংখালী, জামতলী, বাঘঘোনা, হাকিমপাড়া, ময়নার ঘোনা, কুতুপালং লম্বাশিয়া, মধুর ছড়া, ইরানী পাহাড়, মক্কা মদিনা পাহাড়, মদিনার ঘোনা, বাশেঁর কেল্লা, টিভি রিলে কেন্দ্র, রাবার বাগান, বালুখালী, পানবাজারসহ অন্যান্য অনিবন্ধনকৃত রোহিঙ্গা ক্যাম্প গুলোতে ব্যাঙের ছাতার মতো গড়ে উঠেছে অর্ধশতাধিক হাটবাজার। প্রতিটিবাজারে অনন্ত দুই থেকে আড়াইশত দোকান রয়েছে। স্থানীয় প্রভাবশালী মহল ও জনপ্রতিনিধিরা রাতারাতি ফায়দা লুটার কু-উদ্দ্যেশে রোহিঙ্গাদের দিয়ে দোকান বসিয়ে হাটবাজার নিয়ন্ত্রণ করে আসছে। বাজার গুলোতে রয়েছে, মুদির দোকান, ফার্মেসি, কাঁচা তরি তরকারি, হোটেল, ট্রি স্টোল, গ্যাস স্টেপের দোকান, রকমারি স্টোর, মাছ ও মাংসের দোকান। যার একটিরও বৈধ ট্রেড লাইসেন্স ও কর্তৃপক্ষের ছাড় পত্র নেই।

গুরুতর অভিযোগ উঠেছে, উখিয়ার জামতলী, বাঘ ঘোনা রোহিঙ্গা ক্যাম্পের সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের অনুমতি সাপেক্ষে স্থানীয় কয়েকজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী রোহিঙ্গাদের নিত্যপণ্য ক্রয়ের সুবিধার্থে কয়েকটি দোকান বসায়। পালংখালী ইউনিয়ন পরিষদ থেকে ট্রেড লাইসেন্স নিয়ে বৈধভাবে ব্যবসা করে আসছিল। ব্যক্তিমালিকানাধিন জোত জায়গায় দোকান বসালেও স্থানীয় ইউপি মেম্বার নুরুল আমিন ওই ক্যাম্পে পাহাড় কেটে রোহিঙ্গাদের দিয়ে রাতারাতি হাটবাজার বসায়। ক্যাম্পের অভ্যন্তরে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসানো হাটবাজারে দোকান গুলোতে ব্যবসা পরিচালনা করছে রোহিঙ্গা মাঝি থেকে শুরু করে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাগণ। ওই বাজারের দোকান গুলোতে কোন বৈধ কাগজ ও ইউনিয়ন পরিষদের ট্রেড লাইসেন্স নেই। মেম্বারের নেতৃত্বে গড়ে উঠা ওই বাজারের দোকানদারগণ সবাই রেহিঙ্গা ব্যবসায়ী। বাজার বসাকে কেন্দ্র করে বর্তমানে স্থানীয় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের মাঝে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে। এমন কি স্থানীয়দের সাথে রোহিঙ্গাদের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে বলে জানিয়েছেন বাজার কমিটির সভাপতি জামাল উদ্দিন সওদাগার।

দায়িত্বশীল সূত্রে জানা যায়, মিয়ানমারের বলপূর্বক বাস্তুচ্যুত বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের কোন প্রকার চাকরি, দোকান পরিচালনা ও ব্যবসা বানিজ্য করার সুযোগ না দেওয়ার জন্য পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয় ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয় প্রজ্ঞাপন জারি করেছেন। পালংখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এম গফুর উদ্দিন চৌধুরী সাংবাদিকদের জানান, সরকার বিধি নিষেধ আরোপ করার পরও কিভাবে প্রশাসনের সামনে ক্যাম্পে বাজার বসিয়ে রোহিঙ্গারা দোকানে ব্যবসা পরিচালনা করে। শুধু তাই নয়, শত শত  রোহিঙ্গা যুবক এনজিওতে চাকরি করছে। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় ক্ষতিগ্রস্ত অধিবাসী ও সচেতন মহলে প্রচণ্ড ক্ষোভ পরিলক্ষিত হচ্ছে। স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি রোহিঙ্গাদের সাথে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের হাত থেকে রক্ষা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ক্যাম্পের অভ্যন্তরে অবৈধ ভাবে গড়ে উঠা বাজার গুলোতে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করার জন্য সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের হস্থক্ষেপ কামনা করেছেন।