কোর্টবাজারের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্থদের মাঝে অর্থ প্রদান

Pic Ukhiya 18-01-2017 copy

উখিয়া প্রতিনিধি:

উখিয়ার কোর্টবাজার স্টেশনের দক্ষিণ পাশে এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্থদের মাঝে বুধবার বিকেলে রত্নাপালং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান খাইরুল আলম চৌধুরী নগদ অর্থ ও শীতবস্ত্র বিতরণ করে।

জানা যায়, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান খাইরুল আলম চৌধুরী ও ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বারগণ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাস্থল পরিদর্শন ও ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারের মাঝে নগদ অর্থ এবং শীতবস্ত্র প্রদান করেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন, মেম্বার আব্দুল গফুল সওদাগর, মহিলা মেম্বার বিউটিসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

রত্নাপালং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান খাইরুল আলম চৌধুরী জানান, উখিয়া-টেকনাফ আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য আলহাজ্ব আব্দুর রহমান বদির আর্থিক সহযোগিতায় ক্ষতিগ্রস্থ ১১টি পরিবারের মাঝে নগদ ৪৮ হাজার টাকা ও শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়। তার মধ্যে প্রতি পরিবারকে ৫ হাজার টাকা থেকে ৩হাজার টাকা পর্যন্ত এবং ৪টি করে শীতবস্ত্র দেওয়া হয়েছে। পরবর্তীতে তাদের পূর্ণ বাসন করারও চেষ্টা করা হবে।




কক্সবাজারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড নিহত এক

pic (3) copy

নিজস্ব প্রতিবেদক:

কক্সবাজারের উখিয়ার কোটবাজার দক্ষিণ স্টেশনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। আগুন লেগে ১৫টি দোকান ও ঘরবাড়ি পুড়ে গেছে। এ সময় জাবেদা (প্রকাশবুইগ্যানি) নামে বাক প্রতিবন্ধি নারী ঘটনাস্থলে পুড়ে মারা যায়।

বুধবার ভোর রাতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাটি ঘটে। অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় তাৎক্ষনিক উপস্থিত হয়ে উখিয়া উপজেলা নিবার্হী অফিসার মো. মাইন উদ্দিন ও উখিয়া থানা অফিসার ইনচার্জ মো. আবুল খাইয়ের এলাকাবাসির সহযোগিতায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে চেষ্টা চালায়। পরে কক্সবাজার থেকে একটি ফায়ার সার্ভিসের ইউনিট এসে আগুন সম্পন্ন নিয়ন্ত্রণে আনে।

আগুন নিয়ন্ত্রণ আনার পর ঘটনাস্থলের মালামাল সরানোর সময় ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা পুড়া এক মহিলার লাশ দেখতে পাই। পরে মৃত মহিলার স্বজনেরা ঘটনাস্থলে এসে লাশ সনাক্ত করে। বাক প্রতিবন্ধী জাবেদা উখিয়ার মৃত আব্দুস সবির’র মেয়ে  বলে জানা যায়।

আগুনে পুড়ে যাওয়া বাড়ি ও দোকানের ক্ষয় ক্ষতির পরিমান এখনো জানা যায়নি।

প্রত্যক্ষদর্শী ও এলাকাবাসিরা জানিয়েছে ভোর রাতে আগুন দেখতে পেয়ে সবাই এগিয়ে এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চলিয়েছে। আগুনে পুড়ে যাওয়া সবকয়টি দোকান কাটের ফার্নিসার ও গ্রিল ওয়ার্কশপের দোকান ছিল বলে জানাযায়।

ফায়ার সার্ভিস ও উপজেলা নিবার্হী অফিসার জানান, ক্ষয় ক্ষতির পরিমান নির্নয় করে দেখা হবে। তবে আগুনের সূত্রপাত কোথা থেকে হয়েছে তা এখনও জানা যায়নি।




উখিয়ার গ্রামীণ জনপদে গড়ে উঠেছে সম্ভাবনাময় কৃষি ভিত্তিক খামার

Pic Ukhiya 16-01-2017-

উখিয়া প্রতিনিধি :
উখিয়ার পূর্বাঞ্চলীয় গ্রামীণ জনপদে গড়ে উঠেছে সম্ভাবনাময় কৃষি ভিত্তিক শিল্প খামার। রাজাপালং ইউনিয়নের পূর্ব দরগাহবিল গ্রামে প্রতিষ্ঠিত ওয়েল ডান এগ্রো ইন্ড্রাস্ট্রিয়াল পার্ক এন্ড মৎস্য খামারটি পূর্ণাঙ্গতা লাভ করলে ২ শতাধিক পরিবারের কর্মসংস্থানের পাশাপাশি সৌন্দর্যের প্রাণকেন্দ্রে পরিণত হবে।

সরজমিন পরিদর্শনে দেখা গেছে, উখিয়ার এক অজপাড়া গ্রামে গড়ে উঠেছে এক বিশাল কৃষি ভিত্তিক শিল্প খামার। সবুজ বনানী বেষ্টিত পাহাড়ের পাদ দেশে নীল জলরাশি পানিভর্তি লেক ভ্রমণ পিপাসুদের জন্য আনন্দের খোরাক যোগাবে। এছাড়াও রয়েছে বিনোদন স্পর্ট, নৌকা ভ্রমণ, মৎস্য খামারসহ নানা পরিকল্পনা।

উদ্যোগক্তা সিরাজুল কবির জানান, বৃহত্তর পূর্বাঞ্চলীয় এলাকার মানুষের জীবন যাত্রার মান উন্নয়ন ও আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে ২০১৬ সালের জুন মাস থেকে পূর্ব দরগাহবিল হাতি মোড়া এলাকায় ওয়েল ডান এগ্রো ইন্ড্রাস্ট্রিয়াল এন্ড মৎস্য খামার প্রকল্প গড়ে তোলা হচ্ছে। তিনি আরো বলেন, প্রায় ১শ একর চাষী জমি ও পাহাড়ী লেকজুড়ে গড়ে উঠা প্রকল্পের মধ্যে থাকবে পোল্ট্রি, দুগ্ধ ও মৎস্য খামার। এছাড়াও সবজি চাষ, কৃষি ভিত্তিক কুঁটির ও হস্তশিল্প। বিনোদনের জন্য মিনি পর্যটন পার্ক থাকবে। চট্টগ্রামের খ্যাতনামা শিল্প প্রতিষ্ঠান মধুবন এন্ড কোম্পানীর আর্থিক সহযোগিতায় কৃষি ভিত্তিক শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠলে এতদাঞ্চলের ২শ পরিবারের কর্মসংস্থানসহ সম্ভাবনাময় একটি পর্যটন স্পর্ট হিসেবে গড়ে উঠবে খামার এলাকাটি।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে মধুবন এন্ড কোম্পানীর ব্যবস্থাপনা পরিচালক আলহাজ্ব মোহাম্মদ সলোমান সওদাগর বলেন, বর্তমান সরকারের পক্ষ থেকে মাছের চাহিদা পূরণ করতে মৎস্য খাতকে উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে। আমরা মাছের ঘাটতি মোকাবেলায় কৃষি ভিত্তিক শিল্প গড়ে তোলায় আগ্রহী হয়ে উঠেছি।

স্থানীয় বাসিন্দা ডাক্তার সুরুত আলম জানান, ওয়েল ডান এগ্রো ইন্ড্রাস্ট্রিয়াল পার্ক এন্ড মৎস্য খামার প্রকল্পে শৈল, কৈ, মাগুর, পাঙাস ও তেলপিয়া মাছের চাষ করা হয়েছে। খামার হতে প্রতিদিন গড়ে ৩ থেকে ৪ মণ মাছ সংগ্রহ করে বাজারজাত করা হচ্ছে। পূর্ব দরগাহ বিল গ্রামের নুর আহমদ (৫৮) ও হাতির ঘোনা গ্রামের ছখিনা খাতুন (৫০) বলেন, ‘বর্তমানে আমরাসহ ৮০ জন বেকার লোক খামারে কাজ করার সুযোগ পেয়েছি। এ ধরনের কৃষি ভিত্তিক শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠলে অনেকেরেই কাজ করার সুযোগ হবে হবে।’




৩৪ বিজিবি কর্তৃক ১৯৪৫পীস বার্মিজ ইয়াবাসহ একজন আটক

unnamed copy

বিজ্ঞপ্তি

বালুখালী অস্থায়ী চেকপোস্ট’র সদস্যগণ নিয়মিত তল্লাশীর প্রাক্কালে রবিবার সাড়ে ১১টার সময় কক্সবাজার জেলার উখিয়া উপজেলার ৫নং পালংখালী ইউপি’র বালুখালী অস্থায়ী চেকপোস্ট নামক স্থানে চোরাচালান বিরোধী অভিযান চালিয়ে মো তাহের (৩০) নামের এক ব্যক্তিকে ৫,৮৩,৫০০(পাঁচ লক্ষ তিরাশি হাজার পাঁচশত) টাকা মূল্যের ১৯৪৫ পীস বার্মিজ ইয়াবা সহ আটক করেছে ৩৪ বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ।

জব্দকৃত ইয়াবাসহ আটককৃত আসামীকে উখিয়া থানায় সোপর্দ করার কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন।

জব্দকৃত ইয়াবা ব্যাটালিয়ন সদরে জমা রেখে পরবর্তীতে পর্ষদের উপস্থিতিতে ধ্বংস করা হবে।




উখিয়ায় সন্ত্রাসীদের ছুরিকাঘাতে যুবক আহত

উখিয়া প্রতিনিধি:
উখিয়ার ভালুকিয়া পালংয়ে সন্ত্রাসীদের ছুরিকাঘাতে জসিম উদ্দিন নামের এক যুবক গুরুতর আহত হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে শুক্রবার বিকেলে ভালুকিয়া ফয়েজা বাপের পাড়া গ্রামে।

আহত যুবককে উখিয়া  হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। উখিয়া থানায় দায়েরকৃত এজাহারে উল্লেখ করা হয় রত্নাপালং ইউনিয়নে ফয়েজা বাপের পাড়া গ্রামের জয়নাল আবেদীনের পুত্র জসিম রাস্তায় বের হলে পূর্ব শত্রুতার জের ধরে মো. ইউনুস নামে হত্যা মামলার এক আসামী তাকে উপর্যুপরী ছুরিকাঘাত করে।

জানা যায়, ২০১৩ সালে স্ত্রী সাবেকুন্নাহারকে খুন করে স্বামী ইউনুস। উক্ত হত্যা মামলায় পুলিশকে স্বাক্ষ্য প্রদান করে জয়নাল আবেদীন। হত্যা মামলায় স্বাক্ষী দেওয়ার অপরাধে তার পুত্র জসিমকে ছুরিকাঘাত করে হত্যার চেষ্টা চালায় হত্যা মামলার আসামী ইউনুস।

এ ব্যাপারে উখিয়া থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে জানা গেছে।




কোটবাজারে ক্ষমতাসীনদের প্রশ্রয়ে বাড়ী ভাংচুর, জায়গা দখলের ঘটনায় উত্তেজনা

Pic Ukhiya 14-01-2017
উখিয়া প্রতিনিধি:
উখিয়ার কোটবাজার ষ্টেশনের দক্ষিণ পার্শ্বে বাড়ী ভাংচুর চালিয়ে ভাড়াটিয়াকে উচ্ছেদ করে অবৈধভাবে জায়গা জবর দখলের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। ক্ষমতাসীন দলের ক্ষমতাধর নেতার সহযোগিতায় অবৈধ জায়গা জবর দখলের ঘটনা নিয়ে এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। ঘটনাটি ঘটেছে শনিবার সকালে।

জানা যায়, উখিয়া উপজেলার রত্না পালং ইউনিয়নের খোন্দকার পাড়া গ্রামের মৃত এডভোকেট ফজলুল হকের পুত্র ডাক্তার মো. আবুল কালাম জায়গা ক্রয় করে দীর্ঘ দিন ধরে ভোগদখল করে আসছিলেন। উক্ত জায়গায় বেশ কয়েকটি টিন শেডের বাসা তৈরি করে ভাড়া দেন।

অভিযোগে প্রকাশ, শনিবার সকালে ২০/২৫ জন লোক ৪টি ভাড়া বাসায় ভাংচুর চালিয়ে ভাড়াটিয়াদেরকে উচ্ছেদ করে জায়গা জবর দখলের পাঁয়তারা শুরু করে।

কেয়ারটেকার রফিক উদ্দিন বলেন, ডাক্তার আবুল কালামের মালিকানাধীন ৪টি ভাড়া বাসায় ভাংচুর চালিয়ে ভাড়াটিয়াদেরকে জোর পূর্বক তাড়িয়ে দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। উক্ত ভাড়া বাসায় শুক্কুর, জসিম ও তৈয়বা নামের ৩টি পরিবার বসবাস করে আসছিল।

জমির মালিক ডাক্তার মো. আবুল কালাম অভিযোগ করে সাংবাদিকদের বলেন, আমার পৈত্রিক ও ক্রয়কৃত জায়গা জবর দখল করার জন্য দীর্ঘদিন ধরে আলহাজ্ব হাকিম আলী স্কুলের অধ্যক্ষ শাহ আলম অপতৎপরতা চালিয়ে আসছিলেন। আমি বর্তমানে আমেরিকায় অবস্থান করার সুযোগ নিয়ে ক্ষমতাসীন দলের চিহ্নিত ব্যক্তিরা আমার কেয়ারটেকারকে হুমকি-ধমকি দিয়ে ৪টি ভাড়া বাসা তছনছ করে ভাড়াটিয়াদেরকে তাড়িয়ে দিয়েছে।

তিনি আরো বলেন, উক্ত জায়গা নিয়ে আদালতে একাধিক মামলার বিচারধীন রয়েছে। মামলা গুলোর নং হচ্ছে- ১৩১/২০১১, ১৪২/২০১৪, ৩৯৬/২০১২, ৩৯৭/২০১২ ইং। চলমান মামলা থাকার পরও জায়গা জবর দখল করা খুবই দুঃখ জনক। তিনি ক্ষমতাধর ব্যক্তির সহযোগিতায় অবৈধ জায়গা জবর দখল বিষয়টি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ রাষ্ট্রের শীর্ষ কর্তাদের নিকট হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।




উখিয়ায় রাবার ড্যামের পানিতে প্রাণ ফিরে পেয়েছে কৃষকরা

Pic Ukhiya 11-01-2017 (1) copy

উখিয়া প্রতিনিধি:

উখিয়ার থিমছড়ি খালের উপর রাবার ড্যাম প্রকল্পের নির্মাণ কাজ বাস্তবায়ন হওয়ায় স্থানীয় অধিবাসীদের মাঝে আনন্দ উচ্ছ্বাস দেখা দিয়েছে। রাবার ড্যামের পানি দিয়ে শুস্ক মৌসুমে অনাবাদী জমি চাষাবাদের আওতায় আসায় প্রাণ ফিরে পেয়েছে কৃষকরা।

উখিয়া উপজেলা এলজিইডি অফিস সূত্রে জানা যায়, অংশ গ্রহণমূলক ক্ষুদ্রাকার পানি সম্পদ সেক্টর প্রকল্পের আওতায় রত্নাপালং ইউনিয়নের থিমছড়ি খালে রাবার ড্যাম স্থাপন করে। বাংলাদেশ সরকার ও এশিয়া উন্নয়ন ব্যাংকের যৌথ অর্থায়নে প্রায় ৪কোটি ২০লাখ টাকা ব্যয় বরাদ্ধে এ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হয়েছে। ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান এসএস ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড কন্সট্রাকশন লি. রাবার ড্যাম স্থাপন কাজ নির্মাণ করে।

থিমছড়ি পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনা সমবায় সমিতি লি. এর সভাপতি মেম্বার মাহবুবুল আলম চৌধুরী জানান, সেচ ব্যবস্থা না থাকায় দীর্ঘদিন ধরে বৃহত্তর ভালুকিয়া এলাকায় শত শত একর জমি শুস্ক মৌসুমে অনাবাদী অবস্থায় পড়ে থাকছিল। সরকার কৃষকদের স্বার্থ বিবেচনা করে রাবার ড্যাম স্থাপনের মাধ্যমে সেচ ব্যবস্থা নিশ্চিত করায় অনাবাদী জমি চাষাবাদ ও সবজি ক্ষেতের আওতায় এসেছে। ফলে কয়েক শতাধীক কৃষক পরিবারের ভাগ্যের পরিবর্তন হবে। রত্নাপালং ইউপি চেয়ারম্যান খাইরুল আলম চৌধুরীর মতে রাবার ড্যাম প্রকল্প সফল ভাবে নির্মাণ কাজ বাস্তবায়ন হওয়ায় চাষীরা ফলন উৎপাদনের মাধ্যমে খাদ্যের ঘাটতি পূরণ করতে সক্ষম হবে।

উখিয়া উপজেলা প্রকৌশলী সুমন মাহমুদ বলেন, সরকার কৃষি ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দিয়ে রাবার ড্যাম প্রকল্প হাতে নিয়েছে। থিমছড়ি খালে রাবার ড্যাম স্থাপন ও নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ায় প্রায় ৩শত একর জমি চাষাবাদের আওতায় আসতে সক্ষম হয়েছে। উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. সোহরাব আলী জানান, ওই প্রকল্পের অফিস গৃহ, পাম্প হাউজ ও গার্ডসেড নির্মাণের জন্য রত্নাপালং ইউপি চেয়ারম্যান খাইরুল আলম চৌধুরী ও মেম্বার কামাল উদ্দিন জমি দান করায় এসব স্থাপনা নির্মাণ করা সম্ভব হয়েছে।

স্থানীয় কৃষক নুর মোহাম্মদ (৫৭) ও সৈয়দ করিম (৫২) আনন্দ উচ্ছ্বাস কন্ঠে বলেন, খালের উপর রাবার ড্যাম স্থাপন করায় আমরা চলতি শুস্ক মৌসুমে শত শত একর জমি চাষাবাদের পাশা-পাশি আলু, বেগুন, মরিচ, শিম ও শাক সবজির চাষ করার সুযোগ পেয়েছি।




উখিয়ায় জাতীয় শীতকালীন প্রতিযোগিতায় টাকা আদায়ের অভিযোগ

উখিয়া প্রতিনিধি :
উখিয়ায় ৪৬তম জাতীয় স্কুল ও মাদ্রাসা পর্যায়ে শীতকালীন ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে শিক্ষকদের মাঝে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে।

জানা যায়, গত ৩১ ডিসেম্বর উখিয়া মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের উদ্যোগে জাতীয় শীতকালীন ক্রীড়া প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। এবারে প্রতিযোগিতায় ইভেন্টগুলো হচ্ছে সাঁতার, ভলিবল, ক্রিকেট ও উচ্চলাফ। এতে প্রায় শতাধিক শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন। উখিয়া উচ্চ বিদ্যালয় খেলার মাঠে এসব প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়।

অভিযোগে প্রকাশ, জাতীয় শীতকালীন ক্রীড়া প্রতিযোগিতা সম্পন্ন করার লক্ষ্যে প্রতিটি উচ্চ বিদ্যালয়, নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও মাদ্রাসা থেকে দেড় হাজার টাকা করে চাঁদা আদায় করা হয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, উখিয়া উপজেলায় ১৩টি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও ৪টি নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ৮টি এমপিওভুক্ত মাদ্রাসা ও ২টি নন এমপিওভুক্ত মাদ্রাসা রয়েছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিদ্যালয়ের কয়েকজন প্রধান শিক্ষক অভিযোগ করে বলেন, ক্রীড়া প্রতিযোগিতার নামে সকল বিদ্যালয় ও মাদ্রাসা হতে প্রায় অর্ধলক্ষ টাকা চাঁদা আদায় করা হলেও উক্ত প্রতিযোগিতায় ব্যয় হয়েছে মাত্র ৫ থেকে ৭ হাজার টাকা।
বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতিগণ জানান, জাতীয় প্রতিযোগিতা পরিচালনার জন্য শিক্ষা অধিদপ্তর বাজেট দিয়ে থাকে। এর পরও স্কুল থেকে জোরপূর্বক টাকা আদায় করা দুঃখজনক।

এ প্রসঙ্গে জানাতে চাইলে, উখিয়া উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার রায়হানুল ইসলাম মিয়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে চাঁদা আদায়ের ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, মন্ত্রণালয় থেকে কোনো অর্থ বরাদ্দ না দেওয়ায় স্ব-স্ব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে টাকা নিয়ে জাতীয় শীতকালীন ক্রীড়া প্রতিযোগিতা সম্পন্ন করতে হয়েছে।




চলাচলের রাস্তা কেটে ফেলায় এলাকাবাসীর মাঝে উত্তেজনা

pic-ukhiya-10-01-2017

উখিয়া প্রতিনিধি :
উখিয়ার মধ্যম হলদিয়াপালংয়ে চলাচলের রাস্তা কেটে দিয়ে যাতায়তে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করার গুরুতর অভিযোগ পাওয়া গেছে। ক্ষমতার প্রভাব দেখিয়ে প্রকাশ্যে রাস্তা কেটে জমি তৈরি করেছে ওই প্রভাবশালী মহল। কেউ প্রতিবাদ করলে উল্টো হুমকি ধমকি প্রদর্শন করছেন তারা। এ ব্যাপারে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন ভুক্তভোগীরা।

জানা যায়, উখিয়া উপজেলার হলদিয়াপালং ইউনিয়নের স্বাস্থ্য উপকেন্দ্র সংলগ্ন ঘোনার পাড়া রাস্তা দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় গ্রামবাসী যাতায়ত করে আসছেন। কাঁচা রাস্তাটি পাকা করার জন্য জনসাধারণ প্রশাসন ও চেয়ারম্যান মেম্বারের নিকট দাবি জানিয়ে আসছিলেন। সম্প্রতি উক্ত কাঁচা সড়কটি ইটের ব্রীকসলিন করার জন্য ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে পরিমাপ করা হয়েছে।

অভিযোগে প্রকাশ, রাস্তাটি যাতে ইটের ব্রীকসলিন করতে না পারে আক্রোশমূলক নানা ষড়যন্ত্র শুরু করে। এক পর্যায়ে প্রকাশ্যে শ্রমিক দিয়ে রাস্তার দু’পার্শ্বে প্রায় ৩ ফুট কেটে ফেলে। এর ফলে গ্রামবাসী ও পথচারীদের যাতায়ত এবং পরিবহনে চরম দুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে।

গ্রামবাসী জানান, মধ্যম হলদিয়া হাজীর পাড়া গ্রামের সৌদিপ্রবাসী রশিদ আহমদের পুত্র মামুনুর রশিদ ও ছৈয়দ আহমদের পুত্র আব্দুর রহিমের নেতৃত্বে প্রায় দৈঘ্য ২শ ফুট পর্যন্ত রাস্তাটি কেটে ছোট করা হয়েছে। কেউ প্রতিবাদ করলে উল্টো তাদেরকে হুমকি ধমকি প্রদর্শন করা হচ্ছে।

ওই এলাকার অধিবাসী মেহের আলী সিকদার বলেন, সরকারীভাবে ব্রীকসলিন বা ইট বসানোর জন্য উদ্যোগ নেওয়া হলে তারা রাস্তাটি কেটে ফেলে উন্নয়নের বাধাগ্রস্থ করার হীন অপচেষ্টা করেছে। যাতে রাস্তার উন্নয়ন কাজ বাতিল হয়। অথচ হলদিয়াপালং স্বাস্থ্য উপ-কেন্দ্র সংলগ্ন ঘোনার পাড়া সড়ক দিয়ে প্রতিদিন অসংখ্য লোক যাতায়ত করে থাকে।

এদিকে রাস্তা কেটে ফেলার ঘটনাটি হলদিয়াপালং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ শাহ আলম ও ৫নং ওয়ার্ডের মেম্বার সরওয়ার বাদশা কে স্থানীয় জনগণ অবহিত করেছে বলে জানা গেছে।

সচেতন নাগরিক সমাজ গ্রামীণ রাস্তা কেটে ফেলার ঘটনাটি সরজমিন পরিদর্শন করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ ও উন্নয়ন কাজটি যথাযথভাবে সম্পন্ন করার জন্য নির্বাহী কর্মকর্তার নিকট জোরদাবি জানিয়েছেন।




সরকারের উন্নয়নের সফলতাকে জনগণের দরগোড়ায় পৌঁছে দিতে হবে

Exif_JPEG_420

Exif_JPEG_420

উখিয়া প্রতিনিধি:

‘উন্নয়নের গণতন্ত্র শেখ হাসিনার মূলমন্ত্র’ স্লোগানকে ধারণ করে সারা দেশের ৪৯৭টি উপজেলায় সাথে উখিয়ায় তিন দিনব্যাপী উন্নয়ন মেলা উপলক্ষে র‌্যালি, আলোচনা সভা ও উদ্বোধনী অনুষ্ঠান বর্ণাঢ্য আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয়েছে। সরকারের উন্নয়নকে সাধারণ জনগণের কাছে তুলে ধরার জন্য সারা দেশে উপজেলা ভিত্তিক উন্নয়ন মেলা উদ্বোধন উপলক্ষে সোমবার দুপুর ২টায় উখিয়া উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে উখিয়া মডেল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে মেলার শুভ উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। উখিয়া উপজেলা পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ছেনুয়ারা বেগমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত থেকে সরকারী বিভিন্ন দপ্তরের উন্নয়ন মূলক কর্মকাণ্ড নিয়ে আলোচনা করেন, উখিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মাইন উদ্দিন। বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন, উখিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও রাজাপালং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর কবির চৌধুরী, উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আবুল খায়ের, উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডা. শাহাব উদ্দিন, মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা সৈকত ইসলাম, কৃষি কর্মকর্তা শরিফুল ইসলাম, মৎস্য কর্মকর্তা কেএম শাহরিয়ার নজরুল, খাদ্য কর্মকর্তা সুনিল দত্ত, উখিয়া সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবুল হোছাইন সিরাজী, উখিয়া মডেল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হারুন-অর রশিদ, মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধা পরিমল বড়ুয়া, উখিয়া প্রেসক্লাবের সভাপতি রফিকুল ইসলাম। এসময় বক্তারা সরকারের ধারাবাহিক উন্নয়নকে আরও বেগবান করার জন্য বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা কর্মচারী ও বেসরকারী সংস্থা গুলোকেও এগিয়ে আসতে হবে বলেও তারা উল্লেখ করেন।

তাছাড়া সরকার অভাবনীয় সফলতাকে সাধারণ জনগণের দরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার জন্য আরও আন্তরিক ভাবে কাছ করে যাওয়ার আহ্বান জানান। আলোচনা সভায় শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মো. রায়হানুল ইসলাম মিয়া। উখিয়া মডেল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মেদু বড়ুয়া পরিচালনায় অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় পবিত্র কোরআন থেকে তেলওয়াত করেন উখিয়া মডেল প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাত্র তাহাছিন তানভীর, ত্রিপিটক পাঠ করেন মিলিকা বড়ুয়া তুলী, গীতা পাঠ করেন সুরঞ্জিতা চৌধুরী। আলোচনা সভার শেষে প্রধান অতিথি উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও সরকারী বিভিন্ন দপ্তরের গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তাগণ মেলার বিভিন্ন স্টল পরিদর্শন করেন। জাঁককজমক পূর্ণ মেলায় ৩২টি প্রতিষ্ঠান অংশগ্রহণ করে।