রোহিঙ্গা ইস্যুতে কক্সবাজারে মিয়ানমার সরকারের ১০ সদস্যের প্রতিনিধি দল

কক্সবাজার প্রতিনিধি:

মার্কিন রাষ্ট্রদূত বর্নিকাট, জাতি সংঘের কফিআনান কমিশনসহ অন্তত ১০জন রাষ্ট্রদূতের পরিদর্শনের পর এবার কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শনে এসেছেন মিয়ানমারের একটি প্রতিনিধি দল। সোমবার সকালে মিয়ানমার সরকারের রাষ্ট্রীয় পরামর্শক অংসানসূচি কতৃক গঠিত ১০ সদস্যের এ প্রতিনিধি দল উখিয়ার নিবন্ধিত ও অনিবন্ধিত কয়েকটি শরণার্থী ক্যাম্প পরিদর্শন করেন। পরে তারা একই ভাবে টেকনাফের কয়েকটি রোহিঙ্গা ক্যাম্পঘুরে দেখার কথা রয়েছে।

এর আগে কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আলী হোসেনের সাথে সাক্ষাৎ করেন প্রতিনিধি দলের সদস্যরা।

জেলা প্রশাসক জানান, মিয়ানমার থেকে নতুন করে আসা রোহিঙ্গাদের সঙ্গে আলাপ করতে কক্সবাজারে এসেছেন মিয়ানমারের ১০ সদস্যের এ প্রতিনিধি দল। প্রায় এক ঘন্টা আলাপ কালে মিয়ানমার বাংলাদেশের সম্পর্কের উন্নয়নসহ রোহিঙ্গা সমস্যা নিয়ে নানা আলাপ আলোচনা হয়।

প্রতিনিধি  দলটি কিভাবে উভয় দেশের সম্পর্কের উন্নয়ন করা যায় তার উপায় নিয়ে আলাপ-আলোচনা করেছেন। এছাড়া রোহিঙ্গাদের সম্পর্কে খোঁজ খবর নেন। প্রতিনিধি দলের মধ্যে ছিলেন, তদন্তকারী দলের ৫ সদস্য ত্যং তুই থেট, তুনমায়ার্ট, নিয়াট সোয়ে, থেট থেট ঝিন, নিয়াননাই ম্যান।




উখিয়ায় চলছে ভয়াবহ পাহাড় কাটার মহোৎসব: নিরব ভূমিকায় প্রশাসন

Pic Ukhiya 19-03-2017 copy

উখিয়া প্রতিনিধি:

উখিয়ায় চলছে ভয়াবহ পাহাড় কাটার মহোৎসব। ফ্রি স্টাইলে পাহাড় কেটে মাটিভর্তি করে ট্রাক যোগে বিভিন্ন জায়গায় নিয়ে যাচ্ছে ভূমিদস্যুচক্রের সদস্যরা। একের পর এক পাহাড় কর্তন ও পরিবেশ ধ্বংস করলেও উপজেলা প্রশাসন এবং বনবিভাগ সম্পূর্ণ নিরব ভূমিকা পালন করছে বলেও অভিযোগ সচেতন মহলের। ফলে এলাকায় পরিবেশ বিপর্যয়ের পাশাপাশি পাহাড় সংরক্ষণ কঠিন হয়ে পড়েছে।

সরজমিন পরিদর্শনে দেখা যায়, অতি সম্প্রতি উপজেলার বিভিন্ন স্থানে পাহাড় কাটার ধুম পড়েছে। সংঘবদ্ধ মাটি খেকোরা প্রকাশ্যে পাহাড় কেটে মাটি বিক্রির ব্যবসায় নেমেছে। প্রতিদিন অসংখ্য ট্রাক যোগে মাটি সরবরাহ করা হচ্ছে বিভিন্ন জায়গায়। কতিপয় বনবিভাগকে মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময় ম্যানেজ করে, গুরা মিয়া গ্যারেজ, উখিয়া সদর, ওয়ালাপালং, জালিয়াপালং, জুম্মাপাড়া, নিদানিয়া, ইনানী, থাইংখালী, পালংখালী, হলদিয়াপালংসহ বিভিন্ন স্থানে পাহাড় কর্তনের প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে।

গুরুতর অভিযোগ উঠেছে, উপজেলার হলদিয়াপালং ইউনিয়নে গুরা মিয়া গ্যারেজ সংলগ্ন একটি বিশাল আকৃতির পাহাড় কেটে বিরাণ ভূমিতে পরিণত করা হচ্ছে। প্রভাবশালী একটি মহল মাটি কেটে ট্রাক যোগে নিয়ে যাচ্ছে। বিশাল এ পাহাড়টি কর্তনের ফলে যেকোন সময় কিংবা বর্ষা অথবা দুর্যোগকালীন সময় ধ্বসে গিয়ে বড় ধরনের দুর্ঘটনা হতে পারে এমন আশঙ্কা করছেন স্থানীয় এলাকাবাসীরা।

রুমখাঁ হাজীর পাড়া গ্রামের মৃত শাহাব উদ্দিন ড্রাইভারের স্ত্রী আয়েশা বেগম অভিযোগ করে বলেন, তাদের জোত স্বত্ত্বদখলীয় জায়গায় অবস্থিত বিশাল পাহাড়টি কু-দৃষ্টি পড়ে স্থানীয় কু-চক্রীমহলের। গুরা মিয়া গ্যারেজ এলাকার কয়েকজন প্রভাবশালী সোলতান, আব্দুল সালাম ও সিরাজ মিয়ার নেতৃত্বে গত কয়েকদিন ধরে ১০/১২জন শ্রমিক দিয়ে ওই পাহাড়টি কেটে সাবাড় করা হচ্ছে। ট্রাক দিয়ে মাটি বিক্রি করা হচ্ছে প্রতিদিন। এ ব্যাপারে বাধা প্রদান করা হলে উল্টো আমাদেরকে হুমকি ধামকি দেওয়া হচ্ছে।

এ ব্যাপারে শনিবার উখিয়া থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হলে রবিবার বিকেলে এসআই মিল্টন দে’র নেতৃত্বে একদল পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে বলেও জানা গেছে। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে, উখিয়া রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. মনিরুল ইসলাম বলেন, পাহাড় কাটা ও পরিবেশ ধ্বংসকারীর বিরুদ্ধে বন বিভাগ সবসময় কড়া নজরদারীসহ অভিযান অব্যাহত রেখেছে। এ ধরনের কাজে জড়িতদের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যে পরিবেশ আইনে থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।

সচেতন এলাকাবাসীর মতে পরিবেশ রক্ষা ও দুষণের হাত থেকে রক্ষা করার জন্য অবিলম্বে পাহাড় কাটা বন্ধ করার জন্য জেলা প্রশাসক ও বিভাগীয় বন কর্মকর্তার নিকট দাবি জানিয়েছেন।




পালং উচ্চ বিদ্যালয়ে গৌরবের ৭০ বছর উদযাপন

Pic Ukhiya 18-03-20171
উখিয়া প্রতিনিধি :
প্রতিষ্ঠতার ৭০ বছর পূর্তি উপলক্ষে শনিবার উখিয়ার উপজেলার পালং র্আদশ উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের মিলন মেলা বর্ণাঢ্য আয়োজনে পালিত হয়েছে। সকালে র‌্যালী ও শোভাযাত্রার মধ্য দিয়ে কর্মসূচী শুরু করা হয়।হাজারের অধিক প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিতে পালং আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় মূখরিত হয়ে উঠে।

জাতীয় সংঙ্গীতের মাধ্যমে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করে স্মৃতিচারণ অনুষ্ঠান শুরু করা হয়। পালং আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন পালং আর্দশ উচ্চ বিদ্যালয়েরর শিক্ষার্থী তোফাইল আহমদ চৌধুরী।

এতে প্রধান অতিথি ছিলেন, উখিয়া-টেকনাফ আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য আলহাজ্ব আবদুর রহমান বদি, বিশেষ অতিথি হিসাবে বক্তব্য রাখেন, যথাক্রমে ককসবাজার জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান খানঁ বাহাদুর মোসতাক আহমদ, কক্সবাজার উন্নয়ন কতৃপক্ষ চেয়ারম্যান লে: কর্নেল(অব)ফোরকান আহমদ, সাবেক প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা পরমানু শক্তি কমিশন ড. মোহাম্মদ মীর কাশেম, চট্টগ্রাম বিশ্ব বিদ্যালয়ের ভূ’তপূর্ব বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এখলাসুল কবির, চট্রগ্রাম বিশ্ব বিদ্যালয়ের উদ্ভিদ বিদ্যার সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড.মোকতার আহমদ, কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি এড: একে আহমদ হোসেন, উখিয়া উপজেলা নির্বাহী র্কমকর্তা মো. মাঈন উদ্দিন, কক্সবাজার জেলা আওয়ামীলীগ নেত্রী কানিস ফাতেমা, উখিয়া উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান সরওয়ার জাহান চৌধুরী।

স্বাগত বক্তব্য রাখেন, উপদযাপন পরিষদের আহ্বায়ক সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মাহমুদুল হক চৌধুরী। ঘোষণা পত্র পাঠ করেন রত্নাপালং ইউপি চেয়ারম্যান খাইরুল আলম চৌধুরী। শোক প্রস্তাব পেশ করেন, পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক কবি আদিল চৌধুরী, এসময় উপস্থিত ছিলেন উখিয়া ডিগ্রী কলেজের অধ্যক্ষ এম. ফজলুল করিম, কক্সবাজার জেলা পরিষদের সদস্য আশরাফ জাহান কাজল, উখিয়া উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান সোলতান মাহমুদ চৌধুরী, সাবেক চেয়ারম্যান বাদশা মিয়া চৌধুরীসহ অসংখ্য প্রাক্তন শিক্ষাবীদ।

উদ্যাপন পরিষদের আহ্বায়ক সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মাহমুদুল হক চৌধুরীর পরিচালনায় স্মৃতিচারণ অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন, প্রাক্তন শিক্ষার্থীর মধ্যে অধ্যাপক মোহাম্মদ আলী, আবুল মনসুর চৌধুরী, এডভোকেট আব্বাস উদ্দিন, সাজেদা ইয়াছমিন, ডা: শংকর বড়ুয়া, এড.অনিল বড়ুয়া, রফিক উদ্দিন মাহমুদ, আশরাফুল হক চৌধুরী, জিয়াউল হক জিয়া, কাসেদ নূর, স্বাগত বক্তব্য রাখেন উদযাপন পরিষদের আহবায়ক মাহামুদুল হক চৌধুরী। পুরো অনুষ্টানে সহযোগিতায় ছিলেন মাস্টার কামাল উদ্দিন ও হাসান জামাল রাজু। এর আগে সকালে র‌্যালী, খতমে কোরআন, কবর জিয়ারত করা হয়।

আলোচনা সভা শেষে টেকনাফ কলেজের প্রভাষক পারিয়েল সামিহা শারিকার উপস্থাপনায় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্টান গান পরিবেশন করেন, তানজিনা মমতাজ রুশা, রামিজা চৌধুরী রিস্তা সহ ঢাকা ও চট্টগ্রামের প্রখ্যাত সংগীত শিল্পি। পরে র‌্যাফেল ড্র অনুষ্ঠিত হয়।




উখিয়া ডাকবাংলো মার্কেট খুলে দেওয়া হয়েছে, ব্যবসায়ীদের মাঝে স্বস্তির নিশ্বাস

Pic Ukhiya 15-03-2017 copy

উখিয়া প্রতিনিধি:

দীর্ঘ ১ মাস ১৫ দিন বন্ধ থাকার পর উখিয়ায় জেলা পরিষদ ডাকবাংলো সুপার মার্কেট খুলে দিয়েছে। হাইকোর্টের আদেশে মঙ্গলবার ৩২টি দোকানের চাবি হস্তান্তর ও তালা খুলে দেওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের মাঝে স্বস্তির নিশ্বাস ফিরে এসেছে। এমনকি তাদের পরিবার পরিজনের মধ্যে আনন্দ উচ্ছাস দেখা দিয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত মার্কেটের ইজারাদার হাসমত কাশেম আলীম বাদী হয়ে জেলা পরিষদের উচ্ছেদ অভিযান কে অবৈধ চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে কনটেম্প পিটিশন করে। যার নং- ৬৯/১৭। ১২ মার্চ বিচারপতি মোয়াজ্জেম হোসেন ও বিচারপতি আমির হোসনের সমন্বয়ে গঠিত দ্বৈত বেঞ্জ এক আদেশে উখিয়া ডাকবাংলো সুপার মার্কেট খুলে দেওয়ার রায় দেন। বাদীর পক্ষে মামলা পরিচালনা করেন, এডভোকেট নুরুল ইসলাম সুজন এমপি ও এডভোকেট মাহফুজুল আলম।

জানা যায়, ১ ফেব্রুয়ারি  উখিয়া জেলা পরিষদ মার্কেটে অভিযান চালিয়ে ৩২টি দোকানের মালামাল বের করে দিয়ে ব্যবসায়ীদেরকে উচ্ছেদ করা হয়। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট পিএস ইমরুল কায়েসের নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালনা কালে কক্সবাজার জেলা পরিষদের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. সাইফু উদ্দিন, সিএ রেজাউল করিমসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। অভিযান কালে ৩২টি দোকানে নতুন তালা লাগিয়ে দেওয়া সহ সিলগালা করা হয়।

ব্যবসায়ীদের অভিযোগ ছিল কোন প্রকার নোটিশ ও মাইকিং না করেই দোকানে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করায় তাদের অপূরণীয় ক্ষতি সাধন হয়। এমনকি অনেক ব্যবসায়ী পূঁজি হারিয়ে পথে বসেছে। অথচ তারা বৈধ ইজারাদার থেকে উপ-ভাড়া নিয়ে দীর্ঘ বছর ধরে শান্তিপূর্ণ ভাবে ব্যবসা বাণিজ্য পরিচালনা করে আসছিল।

ইজারাদার হাসমত কাসেম আলীম বলেন, ২০০৫ সালে জেলা পরিষদের নিয়ম অনুসারে উখিয়া জেলা পরিষদ সুপার মার্কেটের ২৫টি দোকান লীজ নিয়ে যথারীতি মূল্য পরিশোধপূর্বক লীজ গ্রহণ করে। জেলা পরিষদ নতুন করে দোকান ভাড়া দেওয়ায় নিয়ম বহির্ভুত ও অবৈধ হওয়ায় তা চ্যালেঞ্জ করে লীজ গ্রহীতা বাদী হয়ে হাইকোর্টে রিট পিটিশন দায়ের করে। যার নং- ৬৬৯৯/২০১৫। ২৫জানুয়ারি আমার মনোনীত আইনজীবী অনুপস্থিত থাকায় রিটপিটিশন খারিজ হয়। আমি আইনের প্রতিকার চেয়ে ৩১জানুয়ারি হাইকোর্ট ডিভিশনে আপীল বিভাগে রিটপিটিশন দায়ের করি। হাইকোর্ট ডিভিশনের বিচারপতি এম মোয়াজ্জেম হোসেন ও বিচারপতি আমির হোসেন গঠিত দ্বৈত বেঞ্চ রিটপিটিশন গ্রহণ পূর্বক পুন: রায় চালু রাখার আদেশ দেন। অতীব দুঃখের সহিত বলতে হয়, হাইকোর্টে রিটপিটিশন বিচারধীন থাকা অবস্থায় ক্ষমতার অপব্যবহার করে ১ ফেব্রুয়ারি সংশ্লিষ্ট প্রশাসন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতায় উখিয়া জেলা পরিষদ সুপার মার্কেটের বৈধ ব্যবসায়ীদেরকে উচ্ছেদ করে লক্ষ লক্ষ টাকার মালামাল বাহিরে বের করে দেয়।

বাদীর আইনজীবী মাহফুজুল আলম জানান, মার্কেটের ব্যবসায়ীদেরকে উচ্ছেদ ও মালামাল বের করে দেওয়ার ঘটনাকে অবৈধ চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে কনটেম্প পিটিশন করলে দ্বৈত বেঞ্চের বিচারপতি মোয়াজ্জেম হোসেন ও বিচারপতি আমির হোসেন বৈধ ইজারাদার হাসমত কাসেম আলীমকে চাবি হস্তান্তরসহ দোকান খুলে দেওয়ার রায় প্রদান করেন।




উখিয়ার শীর্ষ মানব পাচারকারী কালাম আটক

Pic Ukhiya 13-03-2017 copy

উখিয়া প্রতিনিধি:

উখিয়া উপজেলার শীর্ষ মানব পাচারকারী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের তালিকাভূক্ত আসামী আবুল কালামকে অবশেষে আটক করেছে উখিয়া থানা পুলিশ। রবিবার কোটবাজার এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়। এ ব্যাপারে উখিয়া থানার ওসি (তদন্ত) আটকের ঘটনা সত্যতা নিশ্চিত করেন।

আবুল কালাম স্থানীয় উখিয়া জালিয়াপালং ইউনিয়নের ছেপটখালী গ্রামের মৃত মাষ্টার শরীফ মোহাম্মদের পুত্র ও উপকূলের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের তালিকাভূক্ত আসামী।

জানা যায়, কক্সবাজার উপকূলের সিংহভাগ মানুষ মালেশিয়া পাচার করেছে কালামের সিন্ডিকেটটি। সিন্ডিকেটে আরও রয়েছে স্থানীয় মৃত এরশাদুর রহমান সিকদারের পুত্র ফয়েজ আহাম্মদ, রেবি ম্যাডাম, শামশুল আলম সোহাগ, লাল বেলাল, জুম্মাপাড়ার ছানা উল্লাহসহ আরও কয়েকজন পাচারকারী। এলাকায় তাদের রয়েছে কোটি-কোটি টাকার সম্পদ। খুব অল্প দিনে আঙ্গুল ফুলে কালাগাছে পরিণত হয়েছে তারা।

নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা যায়, তালিকাভূক্ত আসামীরা মামলার আইও কে মোটা অঙ্কের টাকা দিয়ে তাদের নামীয় স্থানীয় নিরীহ ব্যক্তিদের মামলার চার্জশীটে নাম তোলান। আটককৃত তালিকাভূক্ত আসামী আবুল কালাম তার মামলার চার্জশীটে তার নামের স্থলে স্থানীয় ছেপটখালী গ্রামের জাফর আহাম্মদের পুত্র নিরীহ আরেক আবুল কালাম এর নাম সংযুক্ত করায়।

৬ ফ্রেব্রুয়ারি নিরীহ আবুল কালামকে আটক করে জেলহাজতে প্রেরণ করে। ২২দিন মিথ্যা মামলায় কারাভোগের পর  ২৭ ফেব্রুয়ারি জামিনে মুক্ত হন নিরীহ আবুল কালাম। কিছু অসাধু ও অর্থ পিপাসু মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশের কারণে ছাড়া পাচ্ছে অপরাধী রাঘব বোয়ালেরা আর ফেঁসে যাচ্ছে নিরীহ মানুষ এমনটি ধারণা করেন মিথ্যা মামলায় জড়ানো ভূক্তভোগিরা।




রত্নাপালং ৯নং ওয়ার্ডের উপ-নির্বাচন ১৬এপ্রিল

উখিয়া প্রতিনিধি:

উখিয়ার রত্নাপালং ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের উপ-নির্বাচন ১৬ এপ্রিল অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ওই নির্বাচনকে ঘিরে সম্ভাব্য মেম্বার প্রার্থীরা প্রচার প্রচারণা শুরু করেছে। সম্ভাব্য প্রার্থীরা হচ্ছে সাংবাদিক এসএম আনোয়ার, রফিক উদ্দিন মাহমুদ, সাইফুল ইসলাম, সেলিম কায়সার, গোপাল বড়ুয়া, মাহবুবুল আলম ও মরহুম মেম্বার নুরুল হক মনুর সহধর্মিনী রশিদা খাতুন।

বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন সচিবালয় ঢাকা কর্তৃক ০৮-০৩-২০১৭খ্রি. তারিখের ১৭.০০.০০০০.০৭৯.৪১.০৬০.১৬. ১৫৯ নং স্মারক মূলে স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) নির্বাচন বিধিমালা ২০১০বিধি মোতাবেক জারিকৃত প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী আগামী ১৬এপ্রিল উখিয়া উপজেলার রত্নাপালং ৯নং ওয়ার্ডের উপ-নির্বাচনের দিনধার্য্য করে তফশীল ঘোষণা করেছে উপজেলা নির্বাচন অফিস।

উপজেলা নির্বাচন কর্তৃক জারীকৃত তফশীলে দেখা যায়, আগামী ২০মার্চ মনোনয়পত্র জমাদানের শেষ দিন। ২১ মার্চ মনোনয়ন যাছাই-বাছাই। ২৮মার্চ প্রার্থীতা প্রত্যাহার এবং ১৬এপ্রিল ভোট গ্রহণ।

উপজেলা নির্বাচন অফিসার ও রিটার্নিং অফিসার মোঃ নুুরুল ইসলাম বলেন, উল্লেখ্যিত তফশিল অনুযায়ী যথারীতি ভোট গ্রহন করা হবে। তিনি বলেন, এখন থেকে ২০মার্চ পর্যন্ত প্রতিদিন অফিস চলাকালীন সময়ে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করতে পারবেন।

জানা গেছে, ২০১৬সালে যথারীতি ভোটের মাধ্যমে মো. নুরুল হক মনু বিপূল ভোটের ব্যবধানে রত্নাপালং ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের সাধারণ সদস্য পদে জয় লাভ করেন। মাত্র কয়েক মাসের ব্যবধানে তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যায়। এরপরই এ ওয়ার্ডটির সাধারণ সদস্যপদ সৃষ্টি হয়।




মরিচ্যায় ভেজাল বিরোধী অভিযানে বিপুল পরিমান মেয়াদ উর্ত্তীণ পানীয় খাবার জব্দ

Pic Ukhiya 13-03-2017(2) copy

উখিয়া প্রতিনিধি:

উখিয়ায় বেকারী ও কুলিং কর্ণারে মেয়াদ উর্ত্তীণ এবং নিম্নমানের পানীয় খাবার বিক্রি হচ্ছে দেধারছে। সোমবার মরিচ্যা বাজার স্টেশনে ভেজাল বিরোধী অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমান পানীয় খাবার জব্দ করে নষ্ট করা হয়েছে।

জানা যায়, উখিয়া উপজেলা স্যানেটারি অফিসার ও জেলা নিরাপদ খাদ্য পরিদর্শক নুরুল আলমের নেতৃত্বে একটি টিম মরিচ্যা বাজারে বিভিন্ন কুলিং কর্ণার ও বেকারীতে ভেজাল বিরোধী অভিযান পরিচালনা করেন। অভিযান কালে মেয়াদ উর্ত্তীণ মিরিন্ডা, ফ্লুটিকা, জুস্, ফিজআপ, সেভেনআপসহ বিভিন্ন নিম্নমানের পানীয় খাবার জব্দ করা হয়। এসময় স্বাস্থ্য বিভাগের ইউনুছ, জাফর আলমসহ স্থানীয় মেম্বার মনজুর আলম ও বাজার কমিটির নেতৃবৃন্দরা উপস্থিত ছিলেন।

জেলা নিরাপদ খাদ্য পরিদর্শক নুরুল আলম জানান, মরিচ্যা বাজারের তামান্না বেকারী, সিরাজ কুলিং কর্ণার, সুদত্ত স্টোর, মনজুর কুলিং কর্ণারে অভিযান পরিচালনা করা হয়। ওই দোকান গুলোতে বিক্রি করার উদ্দেশ্যে বিপুল পরিমান মেয়াদ উর্ত্তীণ ও নিম্ন মানের পানীয় মজুদ করে রাখছিল। যাহা মানবদেহে মারাত্মক ক্ষতিসহ নানা রোগে আক্রান্ত হওয়া আশাঙ্কা ছিল।

এদিকে আলম বিস্কুট গোডাউন নামক একটি ভেজাল বেকারী আবিষ্কার করেছে স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মীরা। একই দিন অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমান নিম্ন মানের  পাউরুটি, কেক, বন, চানাচুর ও বিস্কুট জব্দ করে ফেলে দেওয়া হয়েছে।

জেলা নিরাপদ খাদ্য পরিদর্শক নুরুল আলম এ প্রসঙ্গে বলেন, নিরাপদ খাদ্য আইন ২০১৩ এর ধারা অনুযায়ী ওই বেকারী ও কুলিং কর্ণারের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা রুজু করা হবে।




কক্সবাজার ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে দু’শিক্ষককে সাময়িক বহিষ্কার

উখিয়া প্রতিনিধি :

শিক্ষকদের অভ্যন্তরীণ কোন্দল, গ্রুপিং, শিক্ষার্থীদের পাঠদানে অবহেলা, আন্দোলন, শিক্ষকদের উপর হামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভ ও প্রকাশ্য হাতাহাতি এবং মারধরের ঘটনায় কক্সবাজার ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে শিক্ষক শিক্ষার্থীদের মাঝে অসন্তোষ এবং চরম উত্তেজনার কর পরিস্থিতি দেখা দিয়েছে। ইউনিভার্সিটির ভিসি প্রফেসর ড. আবুল কাশেম, ঘটনার সত্যতা শিকার করে সাংবাদিকদের বলেন, উদ্ভূত পরিস্থিতি নিরসন করতে প্রভাষক আহসান উল্লাহ জাহিদ ও প্রভাষক খোরশেদ আলমকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে। গঠন করা হয়েছে ৪ সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি। আগামী ১ সপ্তাহের জন্য ইউনিভার্সিটির ইংরেজী বিভাগের ক্লাসে পাঠদান ও কার্যক্রম আপাতত বন্ধ করে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

খোঁজ খবর নিয়ে জানা যায়, গত ১ মার্চ কক্সবাজার ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ইংরেজি বিভাগে চেয়াম্যারম্যান হিসেবে যোগ দেন আহসান উল্লাহ জাহিদ। যোগ দেয়ার দু’দিনের মাথায় ৩ মার্চ বিভাগের আলোচনা সভার সামান্য বিষয় নিয়ে আহসান উল্লাহ জাহিদ ও একই বিভাগে সিনিয়র প্রভাষক খোরশেদুল আলমের মধ্যে মতপার্থক্য দেখা দেয়। এই ইস্যুকে কেন্দ্র করে খোরশেদুল আলমকে মারধর করেন সদ্য যোগ দেয়া চেয়াম্যারম্যান আহসান উল্লাহ জাহিদ। এই ঘটনায় খোরশেদুল আলম কক্সবাজার সদর মডেল থানায় সাধারণ ডায়রি করেছেন।

ইউনিভার্সিটিতে অধ্যায়নরত উখিয়ার বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী অভিযোগ করে এ প্রতিবেদককে জানান, এমনিতে সেমিষ্টার বাবদ অতিরিক্ত ফি আদায় করা হয়। কিন্তু কোনদিন নিয়মিত ক্লাসে শিক্ষক আসে না। শিক্ষকরা দিনের পর দিন অনুপস্থিত থাকেন। অনেক শিক্ষার্থী ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে বলেন, স্কুল থেকে শিক্ষক ধার করে এনে বিশ্ববিদ্যালয়ে শ্রেণী কক্ষে শিক্ষার্থীদের পাঠদান খুবই দুঃখজনক। বলতে গেলে এ বিশ্ববিদ্যালয়ে লেখা-পড়ার মান খুবই নাজুক।

এই বিষয়ে জানতে চাইলে খোরশেদুল আলম বলেন, ‘বিভাগের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা সভায় সদ্য যোগ দেয়া চেয়ারম্যান অন্যান্য শিক্ষকদের সাথে হেয় আচরণ করেন। এক পর্যায়ে তিনি বলেন ‘রাজার সামনে প্রজা যেভাবে বসে সেভাবে বসেন’। এতে প্রতিবাদ করায় আমাকে কিল ঘুষি মারেন। তবে ঘটনার খবর শুনে বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিন এসে আমাকে অন্য কক্ষে নিয়ে গিয়ে রক্ষা করেন।

এদিকে উক্ত ঘটনায় জড়িত দু’শিক্ষক প্রভাষক আহাসান উল্লাহ জাহিদ ও প্রভাষক খোরশেদ আলম কে সাময়িক বহিষ্কার করে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এই ঘটনায় সাধারণ শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা ক্ষুব্ধ হয়ে উঠে। সেই থেকে শিক্ষার্থীরা ক্লাস বর্জনসহ নানাভাবে প্রতিবাদ জানিয়ে আসছিল। কিন্তু কর্তৃপক্ষ তাতেও কোনো ব্যবস্থা না নেয়ায় বাধ্য হয়ে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা শুক্রবার ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ করেন। এক পর্যায়ে তারা ইংরেজি বিভাগের মূল ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেয়। একই সাথে তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, অভিযুক্ত শিক্ষক আহসান উল্লাহ জাহিদকে বহিষ্কার ও শাস্তির দাবি এবং খোরশেদুল আলমকে পুনর্বহাল করার দাবি জানিয়ে ভিসি বরাবর স্মারকলিপি দেন।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের জন্য ইংরেজি বিভাগ এক সপ্তাহের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, সংঘটিত ঘটনা তদন্তের জন্য ৪ সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত টিম করা হয়েছে। এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে কক্সবাজার ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ভিসি প্রফেসর ড. আবুল কাশেম জানান, আগামী ১ সপ্তাহের মধ্যে তদন্ত কমিটি রির্পোট প্রদান করলে উক্ত রিপোর্টে রভিত্তিতে দোষী শিক্ষককের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




ঝড়ো হাওয়ায় উখিয়ার বালুখালীতে রোহিঙ্গা বস্তি লন্ডভন্ড

17198856_670514273151174_1272096440_n
উখিয়া প্রতিনিধি :
আস্মিক ঝড়োহাওয়া ও বৃষ্টিতে লন্ডভন্ড হয়ে পড়েছে উখিয়ার বালুখালীতে গড়ে ওঠা নতুন রোহিঙ্গা বস্তি। সোমবার ৬ মার্চ বিকেলে হঠাৎ বৃষ্টি ও ঝড়ো হাওয়ার কবলে পড়ে মায়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে নির্যাতিত হয়ে বাংলাদেশে পালিয়ে এসে উখিয়া  আশ্রয় নেওয়া  রোহিঙ্গারা।

কক্সবাজারের উখিয়ার পালংখালী ইউনিয়নের বালুখালীর পান বাজার ষ্টেশনের পশ্চিম পার্শ্বে পাহাড়ে বনবিভাগের জায়গায় ঝুঁপড়ি ঘর বেঁধে আশ্রয় নেয় প্রায় ২২শ’ রোহিঙ্গা পরিবার। এখানে রোহিঙ্গারা এলোমেলোভাবে যার যার মত করে শত শত ঘর তৈরি করে বসবাস করছে। পলিথিন ও জঙ্গলের ছাউনি দিয়ে বস্তির ঘর তৈরি করে খেয়ে না খেয়ে কোন রকম মানবতের জীবন যাপন করছে তারা। এরই মধ্যে হঠাৎ আস্মিক বৃষ্টি ও ঝড়ো হাওয়ায় লন্ডভন্ড হয়ে পড়েছে তাদের মাথাগুঁজার আশ্রয়টুকুও। ফলে শত শত রোহিঙ্গা পরিবার এখন দিশাহারা অবস্থার মধ্যে পড়েছে।

মঙ্গলবার দুপুরে বালুখালীতে নতুন গড়ে ওঠা বস্তিতে গেলে সাংবাদিকরা রোহিঙ্গাদের এ অসহায় চিত্র দেখতে পায়। এ সময় রোহিঙ্গা নারী জুলেখা বেগম (৩০) জানান, ‘মা-বাবাসহ ৫ জনকে নিয়ে ঝুঁপড়ি ঘরে থাকছি। বৃষ্টি পানিতে ও বাতাসে একমাত্র থাকার ঘরটি ভেঙ্গে গেছে। এখন কী করব কিছুই বুঝতে পারছি না।’ অপর রোহিঙ্গা আবুল বশর (৪২) ও তার স্ত্রী সাবেকুন্নাহার জানান, ‘৫ ছেলে-মেয়ে নিয়ে থাকার ঝুঁপড়ি ঘরটি ভেঙ্গে গেছে।’ ছমুদা খাতুন জানান, ‘২ ছেলে ৩ মেয়ে নিয়ে মায়ানমার থেকে পালিয়ে এসে বালুখালীতে আশ্রয় নিয়েছি। আয়-রোজগার করার কেউ নেই। অনাহারে অর্ধহারে দিনাতিপাত করছি। স্বামী বুকে ব্যাথার রোগী হওয়ায় কিছু করতে পারে না। গতকাল সোমবার রাতে ভাত খেয়েছিলাম। এরপর থেকে না খেয়েই আছি। কোন ত্রাণ সামগ্রী কপালে জুটেনি।’

এভাবে রোহিঙ্গা বস্তিতে চলছে হাহাকার অবস্থা। নতুন বস্তির মাঝি লালু জানান, মায়ানমার থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গারা অমানবিক জীবন যাপন করছে। অধিকাংশ রোহিঙ্গা পরিবারে খাবারের জন্য একমুঠো চাউল নেই।




নিখোঁজ মাদ্রাসার ছাত্র আড়াই মাসেও সন্ধান মেলেনি

Pic Ukhiya 02-03-2017 (2) copy

উখিয়া প্রতিনিধি:

মাদ্রাসার ছাত্র হামিদ হোছাইন (১২) নিখোঁজ হওয়ার আড়াই মাস পরও তার সন্ধান পাওয়া যায়নি। ছেলেকে আদৌ খুঁজে পাবে কিনা আশায় মা-বাবা অসহায়ত্ববস্থায় শঙ্কিত হয়ে পড়েছে। নিখোঁজ ছেলেকে উদ্ধারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন অভিভাবক।

জানা যায়, রামু উপজেলার খুনিয়াপালং ইউনিয়নের দারিয়ারদীঘি গ্রামের দরিদ্র কৃষক ছৈয়দ হোছাইনের পুত্র হামিদ হোছাইন স্থানীয় দারুণ উলুম মাদ্রাসায় তৃতীয় শ্রেণীতে অধ্যায়নরত।

পিতা জানান, গত আড়াই মাস পূর্বে ছেলে মাদ্রাসায় যাওয়ার উদ্দেশ্যে ঘর থেকে বের হয়ে আর বাড়িতে ফিরে আসেনি। সে থেকে অদ্যবদি নিখোঁজ ছেলেকে আত্মীস্বজনের বাড়ি থেকে শুরু করে সম্ভাব্য বহু জায়গায় খোঁজাখুঁজি করে এখনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। বর্তমানে ছেলের খোঁজে পিতা-মাতা প্রায় পাগল হয়ে পড়েছে।

মা সাবেকুন নাহার বলেন, আমার ছেলে হামিদ কে আর খুঁজে পাব কিনা জানি না। প্রতিদিন নিখোঁজ ছেলের সন্ধানে এদিক ওদিক ছুটে বেড়াচ্ছি। কিন্তু ছেলেকে পাচ্ছি না।

খুনিয়াপালং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল মাবুদ জানান, নিখোঁজ ছেলের পিতা-মাতা বিষয়টি তাকে অবহিত করেছে। পরিষদের পক্ষেও নিখোঁজ ছেলের সন্ধানে সাধ্যমত চেষ্টা চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে। এদিকে নিখোঁজ মাদ্রাসার ছাত্র হামিদ কে কেউ সন্ধান পেলে মোবাইল নং- ০১৮৮২৪২৭৫৭০ ফোন করার জন্য পরিবারের পক্ষে অনুরোধ করা হয়।