উখিয়ায় মুক্তিযোদ্ধার ছেলে সন্ত্রাসী হামলায় আহত

উখিয়া প্রতিনিধি:

উখিয়ার হলদিয়া পালং ইউনিয়নের চৌধুরী পাড়া গ্রামে সন্ত্রাসী হামলায় মুক্তিযোদ্ধা মুফিজুর রহমানের ছেলে মোহাম্মদ ইসহাক খোকন (৩০) গুরুতর আহত হয়েছে।

রবিবার বিকাল সাড়ে চারটায় এ ঘটনাটি ঘটেছে। আহত খোকন কে রক্তাক্ত অবস্থায় উখিয়া সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

গ্রামবাসীরা জানায়, স্থানীয় কিছু উশৃঙ্খল যুবক মোবাইল ফোনে মুক্তিযোদ্ধা মুফিজুর রহমানের পুত্রবধুকে দীর্ঘদিন ধরে উত্তক্ত্য করে আসছিল। ওই ঘটনায় স্বামী ইউনূছ প্রতিবাদ করতে গিয়ে সন্ত্রাসীদের হামলায় শিকার হয় তার মেজ ভাই খোকন।

ছোট ভাই ইউনূছ সাংবাদিকদেরকে অভিযোগ করে বলেন, চৌধুরী পাড়া গ্রামের কামাল হোসেনের ছেলে নজরুল ইসলাম প্রকাশ কাজী প্রায় সময় মোবাইল ফোনে উত্তক্ত্য করে আসছে। বিষয়টি স্থানীয় ভাবে সালিশ দেওয়ার জন্য রবিবার গণ্যমান্য ব্যক্তির নিকট আসলে বখাটে যুবকরা পরিকল্পিত ভাবে আমার উপর হামলার চেষ্টা চালায়। খবর পেয়ে মেজ ভাই খোকন সন্ত্রাসীদের কবল থেকে আমাকে উদ্ধার করার জন্য এগিয়ে আসলে পথিমধ্যে তার উপর নগ্ন হামলা চালায়।

আহত খোকন অভিযোগ করে জানান, কাজীর নেতৃত্বে ৪/৫ জন চিহ্নিত সন্ত্রাসী কাঠের বাটাম, লাঠি ও লোহার রড নিয়ে এলোপাতাড়ি হামলা চালায়।

এ হামলায় সোহেল, কামাল হোসেন, ডাকাত জসিম সহ বেশ কয়েকজন দূর্বৃত্ত সন্ত্রাসী হামলায় অংশ নেন বলে পিতা মুক্তিযোদ্ধা মুফিজুর রহমান জানিয়েছেন। এব্যাপারে উখিয়া থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে বলে জানা গেছে।




সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনে নতুন প্রজন্মদেরকে এগিয়ে আসতে হবে

 

 

উখিয়া প্রতিনিধি:

গণ-সচেতনতা সৃষ্টি করে মানবপাচারের মত মরণ নাশক ইয়াবা ও মাদকদ্রব্য বন্ধ করা সম্ভব। সারা দেশে এখন কক্সবাজার নিয়ে একটি কলঙ্ক রয়েছে। তা হল ইয়াবা। ইয়াবা বন্ধে সরকারি বিভিন্ন সংস্থার পাশাপাশি সাধরণ জনগণকে এগিয়ে আসতে হবে। অন্যতায় ইয়াবা বন্ধ করা যাবেনা।

ইয়াবার মত হারাম ব্যবসার টাকা দিয়ে উচু উচু দালান কোঠা নির্মাণ না করে নিজেদের সন্তানদের মাদক থেকে রক্ষা করে নৈতিকতার শিক্ষায় শিক্ষিত করে বাংলাদেশকে একটি সুখী ও সমৃদ্ধশালী দেশ হিসাবে গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মন্ত্রীপরিষদ সচিব মোহম্মদ শফিউল আলম।

যেখানে মাদকের খবর পাবেন সেখানেই পুলিশ, বিজিবি ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরকে খবর দিয়ে মাদক সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ধরে দেওয়া পরার্মশ দিয়েছেন তিনি। তার এলাকার সাধরণ মানুষকে।

শনিবার সকাল ১১টায় কক্সবাজার জেলার উখিয়া উপজেলার প্রাচীনতম বিদ্যাপীঠ পালং আর্দশ উচ্চ বিদ্যালয়ে উখিয়া উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের উদ্যোগে ও সেকেন্ডারি এডুকেশন কোয়ালিটি অ্যান্ড অ্যাকসেস এনহান্সমেন্ট প্রজেক্ট (সেকায়েপ) এর উখিয়া উপজেলার শ্রেষ্ঠ উদ্দীপনা পুরষ্কার ও কক্সবাজার জেলার সেরা সংগঠক পুরষ্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রীপরিষদ সচিব মো. শফিউল আলম এর শৈশবের স্মৃতি বিজড়িত বিদ্যালয় পালং আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের একজন গর্বিত ছাত্র হিসাবে দাবি করে তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্যেশে বলেন, লেখা পড়ার গুনগত মান উন্নয়নের মাধ্যমে নতুন প্রজন্মকে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চো অধিষ্ঠ হতে হবে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

তিনি জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাস বিরোধী গণ সচেতনতা সৃষ্টির মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের দেশের কল্যাণে কাজ করা, কারিগরি ও বিজ্ঞান শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে সরকারের দেওয়া ২০৪১ সালের সমৃদ্ধ ও উন্নত বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গিকার ব্যক্ত করেন। ১৮ বছরের নিচে কোন কণ্যা সন্তান ও ২১ বছরের নিচে পুরুষ সন্তানদের বাল্য বিবাহ না দেওয়ার কাথাও বলেন।

অতিরিক্ত সচিব ও সেকায়েপ প্রকল্প পরিচালক ড. মো. মাহমুদ-উল- হক এর সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রামের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার সংকর রনজন শাহ।

তিনি তার বক্তব্যে বলেন, কক্সবাজারের মত পিছিয়ে থাকা জেলাকে শিক্ষায় উন্নত করতে হলে বিশ্বের সাথে তালমিলিয়ে শিক্ষার মানকে আরও উন্নত ও গুনগত করে গড়ে তোলতে হবে। তার জন্য শিক্ষক ও অভিভাবকদের আরও আন্তরিক হওয়ার আহ্বান জানান।

বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আলী হেসেন। তিনি বলেন, শিক্ষামন্ত্রনালয়ের একটি শিক্ষামূলক প্রজেক্ট হিসাবে সেকায়েপ জেলায় পিছিয়ে পড়া ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য কাজ করে যাচ্ছে যা শিক্ষার্থী ও কমল মতি ছেলে মেয়েদের পড়ালেখায় আরও মনোযোগী করে তুলতে সাহয়ক ভূমিকা রাখছে।

তিনি আরও বলেন, বর্তমান শিক্ষাবান্ধব সরকার প্রতি উপজেলায় একটি করে রিসোর্স সেন্টার নির্মাণ করেছে যাতে শিক্ষকগণ সহজে রিসোর্স সেন্টার থেকে শিক্ষা বিষয়ক যাবতীয় প্রশিক্ষণ নিতে পারে। তাছাড়া মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞান ল্যাব গুলোকে আরও কার্যকর করে গড়ে তুলার জন্য শিক্ষকদের প্রতি পরামর্শ দেন।

সেকায়েপ এর টিম লিডার মিছবাহ উদ্দিন আহমদ সুমন এর পরিচারনায় অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন, ব্যারিস্টার জি আর মাহমুদ, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রনালয়ের যুগ্ম সচিব সাইফুল্লাহ মকবুল মোরশেদ দুলাল, যুগ্ম সচিব ও বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র এবং পাঠাভ্যস উন্নয়ন কেন্দ্রের পরিচালক শরিফ মো. মসুদ।

এসময় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, উখিয়া উপজেলা নিবার্হী অফিসার মো. মাঈন উদ্দিন, উখিয়া বঙ্গমাতা মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হামিদুল হক চৌধুরী, উপজেলা পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ছেনুয়ারা বেগম, রত্নাপালং ইউপি চেয়ারম্যান খাইরুল আলম চৌধুরী, পালং আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এহেসানুল হক মানিক। অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার রায়হানুর ইসলাম মিয়া।

এছাড়াও অনুষ্ঠানে শিক্ষক, ইমাম, অভিভাবক, রাজনৈতিক, সাংবাদিক, উপজেলার সকল মাধ্যমিক ও মাদ্রাসার পুরষ্কার প্রাপ্ত শিক্ষার্থী এবং জেলার সংগঠক সহ সর্বস্তরের মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

উপস্থিত ছিলেন, কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক শিক্ষা ও আইসিটি সাইফুল ইসলাম মজুমদার, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার চাইলাউ মারমা, উপজেলা ভূমি কমিশনার নুরউদ্দিন মো. নোমান শিবলি, উখিয়া থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আবুল খায়ের, দৈনিক কালের কন্ঠের কক্সবাজারস্থ সিনিয়র স্টাফ রির্পোটার বিশিষ্ট সাংবাদিক তোফায়েল আহমদ, হলদিয়াপালং ইউপি চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ শাহ আলম প্রমুখ।পুরা অনুষ্ঠানে মন্ত্রীপরিষদ সচিবের সহধর্মীনি সহ পরিবারের সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত করেন, ১০ম শ্রেণীর ছাত্রী তাহেরা বেগম, গীতা পাঠ করেন, রানী শর্মা ও থ্রীপিটক পাঠ করেন স্বপ্তষী বড়ুয়া। অনুষ্ঠানের শেষে ২১জন সেরা সংগঠক ও ৩৭৯জন শিক্ষার্থীর হাতে পুরষ্কার ও সনদ পত্র তুলে দেন মন্ত্রীপরিষদ সচিব মোহম্মদ শফিউল আলম।




ইনানী সরকারি বনভূমি জবর দখলের মহোৎসব, নিরব ভূমিকায় বনবিভাগ

উখিয়া প্রতিনিধি:

উখিয়া সমুদ্র উপকূলীয় ইনানী বনবিভাগের সরকারি সংরক্ষিত জায়গায় নতুন নতুন বসতি গড়ে উঠার প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে। স্থানীয় প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় বনভূমি জবর দখল করে রাতারাতি বসতি গড়ে তুললেও বনবিভাগের ভূমিকা রহস্যজনক বলে মনে করছেন সচেতন নাগরিক সমাজ। এভাবে চলতে থাকলে অচিরেই বনভূমি বে-হাত হয়ে যাবে এতে কোন সন্দেহ নেই।

ইনানী বিট অফিসার জাকের হোসেন, জবরদখলের ঘটনা সত্যতা স্বীকার করে বলেন, বৃষ্টি কমলেই উচ্ছেদ অভিযান করা হবে।

জানা যায়, উপজেলার উপকূলীয় ইনানী রেঞ্জের আওতাধীন ইনানী বনবিটে বিস্তৃর্ণ সংরক্ষিত বনভূমি রয়েছে। ইতি মধ্যে অসংখ্য বনভূমি জবরদখল হলেও অতিসম্প্রতি আশঙ্কাজনক হারে বে-দখল বেড়ে চলছে। স্থানীয় কতিপয় মহল বনভূমির জায়গা জবরদখল করে প্লট তৈরি এবং মোটা অংকের টাকা বিনিময়ে তা বিক্রি করছে।

স্থানীয় এলাকাবাসী অভিযোগ করে বলেন, ইনানী বনবিটের মোহাম্মদ শফির বিল এলাকায় দুই একরের মত বিশাল সরকারি জায়গা জবরদখল করার ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। মৃত শফর মুল্লুকের ছেলে নুরুল আলম নামক এক ভূমিদস্যু ভারী বর্ষণের সুযোগে রাস্তার ধারে লাগোয়া বনভূমির জায়গায় ঝুঁপড়ি ঘর তৈরি করে ওই জায়গা জবরদখল করেছে।

অভিযোগে প্রকাশ, ভূমিদস্যু নুরুল আলমের ছেলে সোলেমান ও নুরুচ্ছফা সন্ত্রাসী কায়দায় প্রকাশ্যে বনভূমির বিশাল জায়গা জবরদখল করে রাখলেও বনবিভাগ রহস্যজনক ভূমিকা পালন করছে।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে, ইনানী বিট অফিসার মো. জাকের হোসেন বলেন, সরকারি বনভূমিতে ঝুঁপড়ি ঘর তৈরি করে জায়গা জবরদখলের ঘটনাটি আমরা অবগত হয়েছি। তবে বৃষ্টি একটু কমলে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করে অবৈধ জবরদখলকারীদেরকে উচ্ছেদ করা হবে।

তবে স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ এভাবে জবরদখলের প্রতিযোগিতা ও বসতি গড়ে উঠলে অছিরেই ইনানী বনভূমি হুমকির সম্মুখিন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।




উখিয়ায় অবৈধ হুণ্ডি ব্যবসা অপ্রতিরোধ্য, প্রশাসনের ভূমিকা রহস্যজনক

 

উখিয়া প্রতিনিধি:

উখিয়ায় সরকারি ভাবে নিষিদ্ধ হুণ্ডি ব্যবসা অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠেছে। ঈদ কে সামনে রেখে অবৈধ ভাবে হুণ্ডির টাকা প্রকাশ্য ভাবে লেনদেন হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের চোখে ফাঁকি দিয়ে ও পুলিশকে ম্যানেজ করে শক্তিশালী সিন্ডিকেট সদস্যরা প্রতিদিন হুণ্ডির মাধ্যমে আসা লক্ষ লক্ষ টাকা অবৈধ ভাবে বিতরণ করছে। ফলে সরকার বিপুল পরিমান বৈদেশিক আয় বা র‌্যামিট্যান্স থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, বাংলাদেশ ব্যাংক মানি লন্ডারিং ও হুণ্ডির মাধ্যমে আসা অবৈধ লেনদেন প্রতিরোধ করতে কঠোর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। এমনকি হুণ্ডির লেনদেন কে অবৈধ ঘোষণা করা হয়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয় হুণ্ডির মাধ্যমে আসা টাকা লেনদেনকারী বা হুণ্ডির ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে সাড়াশি অভিযান সহ শাস্তিমূলক ব্যবস্থার বিধান চালু করে। নির্ভরযোগ্য তথ্যে প্রকাশ দেশের প্রতিটি উপজেলায় হুণ্ডি ব্যবসায়ী ও সিন্ডিকেট সদস্যদের নাম ঠিকানা তালিকা করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করার জন্য থানার অফিসার ইনচার্জকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এদিকে বাংলাদেশ মিয়ানমার সীমান্তবর্তী অঞ্চল উখিয়ায় হুণ্ডি ব্যবসা ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। প্রভাবশালী হুণ্ডি সিন্ডিকেট চক্রের সদস্যরা বেপরোয়া ভাবে হুণ্ডির টাকা বিতরণ করে যাচ্ছে। অভিযোগে প্রকাশ চাকবৈঠা গ্রামের একরাম, উখিয়া হাজী পাড়া গ্রামের ইয়াবা মাহমুদুল হক, তেলী পাড়া গ্রামের আব্দুর রহিম, জালিয়াপালং পাইন্যাশিয়া গ্রামের হেলালের নেতৃত্বে উখিয়ায় ২০/২৫ সদস্যের বিশাল একটি হুণ্ডি টাকা বিতরণের সিন্ডিকেট রয়েছে।

খোঁজখবর নিয়ে জানা যায়, উখিয়ার প্রায় শত শত লোক সৌদি আরব, দুবাইসহ মধ্যপ্রাচ্যে রয়েছে। বিদেশে অবস্থানরত এসব প্রবাসীরা তাদের উপার্জিত টাকা ব্যাংকিং লেনদেনের পরিবর্তে বেশির ভাগ অবৈধ ভাবে হুণ্ডির চ্যানেলে পাঠানো হয়। হুণ্ডি ব্যবসার একরাম, মাহমুদুল হক, আব্দুর রহিম ও হেলালের নেতৃত্বে পরিচালিত সিন্ডিকেট পুরো হুণ্ডি ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করছে তারা। প্রতিদিন এ সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে ১০ লক্ষ টাকার অধিক হুণ্ডির টাকা বিতরণ করা হয়। শুধু তাই নয় ভয়াবহ ইয়াবা ব্যবসার টাকাও হুণ্ডির মাধ্যমে বিতরণ করছে এ সিন্ডিকেট। তৎ মধ্যে মাহমুদুল হক ইয়াবা ব্যবসায়ও জড়িত বলে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। কোটবাজার চৌধুরী মার্কেটে একরামের একটি একরাম সু-নামক দোকান রয়েছে। হুণ্ডির গডফাদার একরাম পুরো হুণ্ডি সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করছে বলে সূত্রে প্রকাশ। থানা পুলিশকে ম্যানেজ করে এ ধরনের অবৈধ কাজ কারবার করে যাচ্ছে।

সচেতন মহলের মতে বৈদেশিক মুদ্রার আয় বৃদ্ধি বা র‌্যামিট্যান্স আদায়ের অবৈধ হুণ্ডি ব্যবসা বন্ধ সহ জড়িত অবৈধ ব্যবসায়ীদের কে নজর দারী সহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থার পাশা-পাশি পুলিশ ও র‌্যাবের যৌথ অভিযান জরুরী হয়ে পড়েছে।




জেলায় আমন মৌসুমে অধিক ফলন উৎপাদনে মুক্তা বীজ কৃষকদের ব্যাপক সাড়া

উখিয়া প্রতিনিধি:

চলতি আমন মৌসুমে জেলায় কৃষকদের উন্নত জাতের বীজ ধানের চাহিদা পূরণ করছে বে-সরকারি পর্যায়ের বীজ উন্নয়ন প্রকল্পের বেশ কয়েকটি উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান। তার মধ্যে বাম্পার ফলন উৎপাদন হওয়ায় চাষীদের কাছে মুক্তা বীজের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে।

বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কার্পোরেশন (বিএ,ডি,সি) এর জেলা বীজ প্রত্যয়ন অফিস সূত্রে জানা যায়, কক্সবাজারে বে-সরকারি পর্যায়ের ৪টি বীজ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান রয়েছে। প্রতিষ্ঠান গুলো হচ্ছে মুক্তা বীজ উৎপাদন খামার (রামু) পতিকৃতি এগ্রো ফার্ম লি. (সদর) জননী এন্টারপ্রাইজ (চকরিয়া) ও এডভান্স মাল্টি ফার্ম (চকরিয়া)।

জেলা বীজ প্রত্যয়ন অফিসার আব্দুল জলিল মণ্ডল দৈনিক কক্সবাজার বলেন, সরকারের পাশাপাশি আমরা বে-সরকারি ভাবে ব্যক্তি মালিকানাধীন উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানকে বীজ উৎপাদন ও প্রক্রিয়াজাত এবং বাজার জাত করণে পরামর্শ দিয়ে থাকি। এমনকি চাষীদেরকে বীজ উৎপাদনে উদ্বুদ্ধ করণ এবং প্রযুক্তি ব্যবহার সম্পর্কে ধারণা দেওয়া হয়।

তিনি আরও বলেন, জেলায় ৪টি বে-সরকারি প্রতিষ্ঠান বীজ উৎপাদন করে বাজার জাত করায় জেলায় আমন মৌসুমে বীজ সংকট মোকাবেলা করতে সক্ষম হবে। তিনি অপর এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, বীজ উৎপাদন ও প্রক্রিয়া জাত করণ করেছেন তার মধ্যে মুক্তা বীজ ভাণ্ডার (রামু) ৩০ হাজার কেজি ভিত্তি ও ১০ হাজার কেজি প্রত্যায়িত, এডভান্স মাল্টি ফার্ম লি. (চকরিয়া)। সরকারি হিসাব মতে ওই প্রতিষ্ঠানে ১ লাখ ১৩ হাজার ৯শত ৫৫ কেজি ভিত্তি ও ৩০ হাজার ৬শ কেজি প্রত্যায়িত বীজ, প্রতিকৃত এগ্রো ফার্ম লি. ভিত্তি ১৫ হাজার ৫শ কেজি প্রত্যায়িত ৪ হাজার ২শ ৫০ কেজি, জননী বীজ ভাণ্ডার ১৬শ কেজি প্রত্যায়িত বীজ বাজার জাত করে আসছে আমন মৌসুমে।

বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএ,ডি,সি) সিনিয়র সহকারী পরিচালক সুমন চাকমা জানান, বে-সরকারি ভাবে জেলায় বীজ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের বীজ ধান গুলো গুনগত মান নির্ণয়, আদ্রতার মান বজায় ও অঙ্কুর উৎগম ইত্যাদি বিষয়গুলো যাচাই বাচাই করে উৎপাদিত বীজ বাজার জাত করণে সুযোগ দেওয়া হয়ে থাকে।

মুক্তা বীজ উৎপাদন খামারের মালিক মো. ইসমাঈল জানান, ২০০৭ সালে চাষী পর্যায়ে বীজ উৎপাদন শুরু করি। মূলত বিএডিসির পরামর্শ ও উদ্বুদ্ধ হয়ে বীজ উৎপাদনের সফলতা পেয়েছি। ২০০৮ সালে কৃষি মন্ত্রণালয় থেকে জাতীয় পুরুস্কার পান তিনি। অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি আরও বলেন, চলতি আমন মৌসুমে মুক্তা বীজ উৎপাদন খামারের অধীনে ৪০ হাজার কেজি উন্নত জাতের বীজ উৎপাদন করা হয়েছে। যা জেলার চাহিদা মিটিয়ে চট্টগ্রামের বিভিন্ন উপজেলায় সরবরাহ করা হয়।

কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ সূত্রে জানা যায়, চলতি আমন মৌসুমে ব্রি-ধান ১১, ২২, ৩৩, ৩৯, ৪৬, ৪৯ ও ৫২ নং উন্নত জাতের বীজ ধানের পাশা-পাশি পাইজাম ও হরিধানের বীজ ধান কৃষকদের মাঝে চাহিদা রয়েছে। পশ্চিম রত্না গ্রামের চাষী সাইফুল ইসলাম বলেন, গেল আমন মৌসুমে মুক্তা বীজ ধান ব্যবহার করে চাষ করায় বাম্পার ফলন হয়েছে।

কোটবাজার ভালুকিয়া সড়কের ব্যবসায়ী ইদ্রিস জানান, বর্তমানে কৃষকরা বীজ ধান ক্রয়ে দোকানে ভীড় জমাচ্ছে। চার দিকে বীজ তলা তৈরি শেষ হওয়ায় এখন বীজ ধান বপন করবে কৃষকরা। তবে সরকারের পাশা-পাশি বে-সরকারি ভাবে উৎপাদিত উন্নত জাতের মুক্তা বীজের চাহিদা চাষীদের নিকট আগ্রহ বেশি।




আ’লীগকে আর ছাড় দেওয়া হবে না

উখিয়া প্রতিনিধি:

কক্সবাজার জেলা বিএনপির সভাপতি ও জাতীয় সংসদের সাবেক হুইপ শাহজাহান চৌধুরী বলেছেন, আওয়ামী লীগকে আর ছাড় দেওয়া হবে না। সহায়ক সরকারের অধীনে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানে বাধ্য করা হবে।

আগামী সংসদ নির্বাচনের জন্য সকল নেতাকর্মীদেরকে এখন থেকে প্রস্তুতি গ্রহণ করার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, জাতিকে দুঃশাসনের কবল থেকে মুক্ত করতে হলে সকলকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে স্বৈরাচারী আওয়ামী লীগ সরকারকে পতন ঘটাতে শপথ নিতে হবে।

শনিবার বিকেলে উখিয়া বিএনপির উদ্যোগে আলোচনা সভা ও ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

উখিয়া বিএনপির সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান সরওয়ার জাহান চৌধুরীর সভাপতিত্বে, উখিয়া বিএনপির সাধারণ সম্পাদক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান সোলতান মাহমুদ চৌধুরীর পরিচালনায় অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় সাবেক সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী আওয়ামী লীগ সরকারের সমালোচনা করে বলেন, দেশে উন্নয়নের কথা বলে ভোটার বিহীন নির্বাচনের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় গিয়ে দেশ পরিচালনার নামে সর্বত্র লুটপাট করছে। খুন, গুম ও মিথ্যা মামলা দিয়ে বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের কারাগারে পাঠিয়ে আওয়ামী লীগের মন্ত্রী এমপিরা বিদেশে টাকা পাচারে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে।

সব নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্য সামগ্রীর দাম উর্ধ্বগতি সহ প্রতি কেজি চাউল ৫০ টাকা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ১০ টাকা দামে চাউল খাওয়ানোর কথা বলে জনগণের সাথে আওয়ামী লীগ প্রতারণা করেছে।

রাজাপালং ফাজিল মাদ্রাসায় অনুষ্ঠিত আলোচনা সভা ও ইফতার মাহফিলে বিশেষ অতিথি ছিলেন, কক্সবাজার জেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি সিরাজুল হক বিএ।

অতিথি হিসাবে আরও বক্তব্য রাখেন, জেলা বিএনপির দপ্তর সম্পাদক ইউছুপ বদরী ও কক্সবাজার জেলা ছাত্রদলের সভাপতি রাশেদুল হক রাশেদ। অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, সাবেক চেয়ারম্যান ফজলুল করিম সিকদার, উখিয়া জামায়াতের আমির মাওলানা আবুল ফজল, চেয়ারম্যান নুরুল আমিন চৌধুরী, উখিয়া বিএনপির সহ-সভাপতি জুহুর আহমদ চৌধুরী, ছাবের আহমদ কন্ট্রাক্টর, সাংগঠনিক সম্পাদক সাবেক চেয়ারম্যান নুরুল কবির চৌধুরী, বিএনপির তরুণ নেতা তারেক মাহমুদ রাজিব, দপ্তর সম্পাদক আব্দুল মালেক মানিক, সহ-দপ্তর সম্পাদক সেলিম সিরাজী, হলদিয়াপালং দক্ষিণ ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি দলিলুর রহমান শাহীন, রাজাপালং বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. সেলিম উদ্দিন, টেকনাফ পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম রেজা, সৌদিআরবস্থ মক্কা প্রবাসী বিএনপির সভাপতি শামশুল আলম আজাদ, জেলা ছাত্রদলের সহ-সভাপতি ফাহিম, কক্সবাজার সরকারি কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি মোশারফ, উখিয়া যুবদলের সভাপতি আহসান উল্লাহ, সাধারণ সম্পাদক রফিক উল্লাহ, সাংগঠনিক সম্পাদক সাবিত, ছাত্রদলের সভাপতি রিদুয়ান ছিদ্দিকী ও সাধারণ সম্পাদক আরাফাত চৌধুরী। পরে দেশ ও জাতির মঙ্গল কামনায় মোনাজাত করেন মাওলানা আবুল ফজল।

 




উখিয়ার কোটবাজারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে দোকান ভষ্মিভূত

 

উখিয়া প্রতিনিধি:

উখিয়ার কোটবাজারে গভির রাতে একটি মার্কেটে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। আগুনে ২টি দোকান ভষ্মিভূত হয়েছে। খবর পেয়ে কক্সবাজার থেকে ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট ঘটনাস্থলে এসে আগুন নিয়ন্ত্রণ করতে স্বক্ষম হয়।

প্রত্যেক্ষদর্শীরা জানিয়েছে বুধবার রাত  ১টার দিকে উখিয়া উপজেলার ব্যস্ততম স্টেশন কোটবাজারের হাকিম ট্রেড সেন্টার নামক মার্কেটের নিচ তলায় গলির ভেতরে অবস্থিত একটি মোবাইল অপরেটর ও সার্ভিস সেন্টারে রাত ১টার দিকে আগুন লাগে। আগুনের কুণ্ডলী ও প্রচণ্ড ধোয়া দেখতে পেয়ে মাকের্টের ব্যবসায়ী ও এলাকার লোকজন এসে দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণ আনার চেষ্টা চালায়।

উখিয়া থানার ওসি (তদন্ত) মো. কায়কিসলো ঘটনার সত্যতার স্বীকার করে বলেন, আগুন লাগার খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে আসি এবং ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেওয়া হয়। ফায়ার সার্ভিস এসে আগুন নিয়ন্ত্রণ আনতে স্বক্ষম হয়।

ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা জানিয়েছে মার্কেটের ভেতর  একটি দোকান সম্পূর্ণ পুড়ে গেছে আর একটি দোকানের কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে এখনও ক্ষয়ক্ষতির পরিমান জানা যায়নি। কোথায় থেকে আগুনের সুত্রপাত হয়েছে তা এখন পর্যন্ত নিশ্চিত হতে পারেনি। বিদ্যুৎ এর শটসার্কিট থেকে আগুন লাগতে পারে বলে ধারনা করা হচ্ছে। আগুনে পুড়ে যাওয়া দোকানটি স্থানীয় ব্যবসায়ী টিটুর দোকান বলে জানা গেছে।




উখিয়ার মরিচ্যা উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগে অনিয়ম ও স্বজন প্রীতির অভিযোগ

 

উখিয়া প্রতিনিধি:

উখিয়ার মরিচ্যাপালং উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রহসন মূলক শিক্ষক নিয়োগ দেওয়ার পায়তারা চলছে বলে গুরুতর  অভিযোগ উঠেছে। অনিয়ম ও স্বজন প্রীতির মাধ্যমে মোটা অংকের টাকা নিয়ে নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে এখবর ফাঁস হওয়ায় নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ গ্রহণকারীগণ ও সচেতন অভিভাবকদেরও মাঝে মিশ্র প্রতিক্রিয়া  সহ ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায় বিগত ২৭ অক্টোবর ২০১৬ তারিখ স্থানীয় পত্রিকায় মরিচ্যা উচ্চ বিদ্যালয়ে জন্য সহকারি গ্রন্থগারিক/ক্যাটালগার পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রচার করা হয়। এতে ৮জন প্রার্থী ওই পদে আবেদন করেন। গত ১০ এপ্রিল ২০১৭ তারিখ কক্সবাজার সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ে নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হলেও একই দিন মৌখিক পরীক্ষা অজ্ঞাত কারণ বশত নেওয়া হয়নি।

নিয়োগ পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারীরা অভিযোগ করে বলেন, লিখিত পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়েছে এমন গুজব ছড়িয়ে পড়লে নিয়োগ কমিটির সদস্যরা মৌখিক পরীক্ষা ওই দিন আপাতত স্থগিত ঘোষণা করে। অনেকে নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান এক জন মহিলাকে সহকারী গ্রন্থগারিক/ক্যাটালগার পদে নিয়োগ দেওয়ার জন্য পূর্ব থেকে ঠিক করে রাখে । ওই মহিলাকে পরীক্ষায় পাশ করানোর জন্য প্রশ্নপত্র গোপনে সরবরাহ করে।

এদিকে নিয়োগ পরীক্ষার ৩মাস অতিবাহিত হলেও মৌখিক পরীক্ষা এখনো নেওয়া হয়নি কিংবা প্রশ্নপত্র ফাঁস হওয়ার গুজব ছড়িয়ে পড়লেও লিখিত পরীক্ষা বাতিল করা হয়নি। ঠিক এমতবস্থায় বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি ও প্রধান শিক্ষক পরষ্পর আতাঁত করে মৌখিক পরীক্ষা বিহীন একজন মহিলাকে প্রহসন মূলক গোপনে নিয়োগ দেওয়ার জন্য যাবতীয় প্রক্রিয়া চালিয়ে যাচ্ছে । পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী পরীক্ষার্থীদের অভিযোগ মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে অনিয়মের মাধ্যমে গোপনে এ নিয়োগ দেয়া হচ্ছে।

মরিচ্যা উচ্চ বিদ্যালয়ে অনিয়ম ও স্বজন প্রীতির মাধ্যমে নিয়োগ প্রক্রিয়া চালিয়ে যাওয়ায় পরীক্ষায় অংশ গ্রহণকারীগণ ও বিদ্যালয়ের সচেতন অভিভাবকদের মাঝে প্রচণ্ড ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

এলাকার সুশীল নাগরিক সমাজ প্রহসন মূলক শিক্ষক নিয়োগ না দিয়ে নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে বৈধ পদ্ধতিতে শিক্ষক নিয়োগ দেওয়ার জন্য জেলা প্রশাসক সহ সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষের নিকট দাবি জানিয়েছেন।




উখিয়ার কোর্ট বাজার ইসলামী ব্যাংকের উদ্যোগে ইফতার মাহ্ফিল অনুষ্ঠিত

উখিয়া প্রতিনিধি:

ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড, উখিয়ার কোর্টবাজার শাখার উদ্যোগে মঙ্গলবার (১৩ জুন) বিকাল ৫টায় পালং গার্ডেন কমিউনিটি সেন্টারে তাকওয়া অর্জনে মাহে রমজানের ভূমিকা শীর্ষক আলোচনা সভা ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

ব্যাংকের সিনিয়র প্রিন্সিপাল অফিসার এবং কোর্টবাজার শাখার ব্যবস্থাপক এসএম. শাহ্ উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, উখিয়া উপজেলার নির্বাহী অফিসার মো. মাঈন উদ্দিন।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, উখিয়া উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান সুলতান মাহমুদ চৌধুরী ও রাজনীতিবিদ, সাহিত্যিক কবি আদিল চৌধুরী।

বক্তব্য রাখেন ইসলামী ব্যাংক রামু শাখার ব্যবস্থাপক মো. হারুন-অর রশিদ। তাকওয়া অর্জনে মাহে রমজানের ভূমিকার উপর আলোচনা পেশ করেন রাজাপালং এমদাদুল উলুম ফাজিল মাদ্রাসার আরবী প্রভাষক  মাওলানা আবুল ফজল।

এ সময় ইসলামী ব্যাংক কোর্টবাজার শাখার সদ্য বিদায়ী ব্যবস্থাপক আবদুল্লাহ আল-হারুন, ফার্স্ট সিকিরিউটি ইসলামী ব্যাংক কোর্ট বাজার শাখার ব্যবস্থাপক আব্দুর রহিম সহ ব্যবসায়ী, ব্যাংকের গ্রাহক, সূধী, সাংবাদিক ও রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দরা উপস্থিত ছিলেন।

প্রধান অতিথি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাঈন উদ্দিন বলেন, ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড শুধুমাত্র ব্যাংকিং কার্যক্রমই পরিচালনা করছে না বরং এ ব্যাংক সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে দেশ ও মানবতার কল্যানে প্রশংসনীয় অবদান রাখছে। প্রাকৃতিক দূর্যোগে ত্রাণ সহায়তা, শীতার্ত মানুষের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ, রমজানের গরীব দুস্থদের মাঝে ইফতার সামগ্রী বিতরণ, প্রাক প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাধ্যমে শিক্ষা বঞ্চিতদের মাঝে শিক্ষার আলো দান ও আন্ নুর মক্তবের মাধ্যমে ধর্মীয় শিক্ষা দানের মত অসংখ্য কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। ইসলামী ব্যাংক শরীয়াভিত্তিক ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনার পাশা-পাশি ও আন্তরিকতাপূর্ণ সেবাদানের মাধ্যমে অত্র এলাকার সকল গোত্র, শ্রেণি ও পেশার মানুষের মন জয় করতে স্বক্ষম হয়েছে।

সভাপতির বক্তব্যে এসএম শাহ্ উদ্দিন বলেন ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড দক্ষিণ এশিয়ার সর্বপ্রথম সুদমুক্ত ও শরীয়া ভিত্তিক পরিচালিত ব্যাংক। ইসলামী ব্যাংক শুধুমাত্র দেশের সেরা ব্যাংকই নয় আল্লাহর রহমতে এটি একটি বর্তমানে বিশ্বের শ্রেষ্ঠ ব্যাংকদের মধ্যে অন্যতম। তিনি ইসলামী ব্যাংকের সেবা জনগণের দোরগোডায় পৌঁছে দেওয়ার জন্য সকলকে আহ্বান জানান।

পরে দেশ ও জাতির কল্যানে মোনাজাত পরিচালনা করেন মাওলানা আবুল ফজল। অনুষ্ঠান পরিচালনায় ছিলেন ব্যাংকের অফিসার শহীদ উদ্দিন সোহেল।




উখিয়ার মরিচ্যায় সরকার ফার্মেসিতে বিক্রি হচ্ছে অনিবন্ধন কোম্পানীর ঔষুধ

 

উখিয়া প্রতিনিধি:

উখিয়ার মরিচ্যা বাজারে সরকার ফার্মেসীতে অনিবন্ধনকৃত কোম্পানীর ঔষুধ বিক্রির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। ওই ফার্মেসির এসব অবৈধ কর্মকাণ্ড ও মানবদেহের ক্ষতিকারক ঔষুধ বিক্রির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করায় বিভিন্ন কোম্পানি মেডিকেল রিপ্রেজেন্টেটিভদের কে হুমকি ধমকি দেওয়ায় অনিদিষ্টকালের জন্য ঔষুধ সরবরাহ বন্ধ করে দিয়েছে ফারিয়া নামক সংগঠন।

এদিকে সরকার ফার্মেসি কে নিয়ে কেন্দ্র করে উদ্ধুদ্ধ পরিস্থিতি সমাধান কল্পে প্রশাসনের জরুরী হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন সচেতন নাগরিক সমাজ।

খোঁজখবর নিয়ে জানা যায়, উপজেলা মরিচ্যা বাজার স্টেশনে মেসার্স সরকার ফার্মেসি নামে একটি ঔষুধের দোকান রয়েছে। ২য় তলা বিশিষ্ট এ ভবনে নিচে ফার্মেসি ও উপরে অনিবন্ধিত প্যাথলজি ল্যাব।

কোর্টবাজার মেডিকেল রিপ্রেজেন্টেটিভ এসোসিয়েশন (ফারিয়া) সভাপতি আরিফুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, দেশের সনাম ধন্য ঔষুধ কোম্পানির দায়িত্বরত মেডিকেল রিপ্রেজেন্টেটিভগণ সরকার ফার্মেসিতে বিলের টাকা কালেকশনের জন্য গেলে মালিক অরূপ সরকার ঘন্টার পর ঘন্টা দাঁড়িয়ে রাখে। এমনকি অশ্লীল দুর্ব্যবহার সহ মারধরের শিকার হতে হয় তার হাতে।

সাধারণ সম্পাদক ছালেহ্ আহমদ জানান, মূলত সরকার ফার্মেসিতে অনিবন্ধনকৃত অরবিট ফার্মা, হাটসন, এভারেস্ট ফার্মা ও ফিলকো নামক বেশকয়েকটি অখ্যাত কোম্পানির ঔষুধ বিক্রি সহ বাজার জাত করণ করে আসছে। এমনকি ওই কোম্পানি গুলোর ঔষুধ গুলো স্থানীয় ভাবে বাজার জাত করণে একমাত্র পরিবেশক হচ্ছে সরকার ফার্মেসি। মরিচ্যা বাজারের সচেতন নাগরিক জানান, সরকার ফার্মেসিতে অভিযান পরিচালনা করলে লক্ষ লক্ষ টাকার বিপুল পরিমান নিম্ন মানের বিক্রি নিষিদ্ধ ঔষুধ জব্দ করা সম্ভব হবে।

ফারিয়ার সাবেক সভাপতি মোহাম্মদ আমিন উল্লাহ ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক শরিফ আজাদ ক্ষুদ্ধ প্রতিক্রিয়ায় বলেন, সরকারি ভাবে বিধি নিষেধ  আছে এসব কোম্পানির নিম্নমানের ঔষুধ বিক্রি না করার জন্য অনুরোধ করলে ফার্মেসির মালিক অরূপ সরকার সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে আমাদের উপর হামলার চেষ্টা সহ মিথ্যা মামলার হুমকি ধমকি দিয়ে যাচ্ছে।

এদিকে মানবদেহে ক্ষতিকারক ঔষুধ বিক্রি বন্ধ ও মেডিকেল রিপ্রেজেন্টেটিভদেরকে হয়রানি করার প্রতিবাদে গত ৮ জুন ফারিয়ার উদ্যোগে এক জরুরী সভা সংগঠনের সভাপতি আরিফুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়। সভায় উদ্ধুদ্ধ পরিস্থিতি সমাধান না হওয়ায় পর্যন্ত অনিদিষ্ট কালের জন্য সরকার ফার্মেসিতে ঔষুধ সরবরাহ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এসময় সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক ছালেহ্ আহমদ, সাবেক সভাপতি মো. আমিন উল্লাহ, সাধারণ সম্পাদক শরিফ আজাদ, সিনিয়র সহ-সভাপতি ফরহাদ আল-মামুন ও যুগ্ম সম্পাদক নুর হোসেন সহ অন্যান্য সদস্যগণ উপস্থিত ছিলেন। সভায় সরকার ফার্মেসির অনৈতিক কর্মকাণ্ড বন্ধ না হলে মানববন্ধনের কর্মসূচি ঘোষণা দেন।