রোহিঙ্গাদের উপর বর্বরোচিত নির্যাতনের বর্ণনা শুনলেন জাতিসংঘের বিশেষ দূত

16923558_662977730571495_1595652294_n

উখিয়া প্রতিনিধি :
কক্সবাজারে উখিয়ার বালুখালী নতুন রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করেছেন জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক বিশেষ দূত ইয়াংঘি লি। মঙ্গলবার একুশে ফেব্রুয়ারী দুপুরে এ ক্যাম্প পরিদর্শন করেন।

এ সময় প্রায় দুই ঘন্টা মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর হাতে নির্যাতিত অন্তত পঞ্চাশ জন নারী-পুরুষের কথা শুনেন জাতিসংঘের মানবধিকার বিষয় দূত ইয়াংঘি লি। পরিদর্শনকালে রোহিঙ্গা নাগরিকদের উপর বর্বরোচিত নির্যাতন, হত্যাযজ্ঞ, মানবধিকার লংঘন ও বাড়ি ঘরে অগ্নিসংযোগের বর্ণনা শুনে তিনি মর্মাহত হন।

রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব, স্ব-দেশে ফেরত বিষয়ে আর্ন্তজাতিক পর্যায়ে মিয়ানমারকে চাপপ্রয়োগ সহ সমস্যা সমাধানের জন্য জাতিসংঘ কাজ করবে বলে নির্যাতিত রোহিঙ্গাদেরকে আশ্বস্ত করেন। এই সময় উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সহকারী পররাষ্ট্র সচিব বাকী বিবাহ, মিয়ানমারের মানবাদিকার বিষয়ক রিপোর্টার, উখিয়ার সহকারী কমিশনার (ভূমি ) নুরুদ্দিন মো. শিবলী, আইএমও প্রতিনিধি সৈকত বিশ্বাস ও জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কারীর কার্যালয়ের বাংলাদেশস্থ কমিউনিকেশন এন্ড পার্টনারশিপ অফিসার নাজ্জিনা মোহসিন।

মিয়ানমারের খিয়াজী পাড়া গ্রামের আব্দুস ছবুরের স্ত্রী আয়েশা খাতুন (৪৫) বলেন, গত দুই মাস আগে দুই ছেলে দুই মেয়েকে নিয়ে নাফ নদী পার হয়ে এ দেশে চলে আসি। ওখানকার মিলিটারী আমার স্বামীকে ধরে নিয়ে গিয়ে গুলি করে হত্যা করেছে। মিয়ানমারের শীলখালী গ্রামের আলী আকবরের স্ত্রী দিলদার বেগম বলেন, গত দেড় মাস আগে স্বামী ও সন্তানকে মিলিটারি হত্যা করে। কোনমতেই পালিয়ে আসি এখানে ঝুপড়ি ঘরে আশ্রয় নিয়েছি। কেয়ারীপাড়া গ্রামের হাজেরা বেগম বলেন আমার স্বামী অনেক দিন ধরে নিখোঁজ আছে। এখনো জানি না কোথায় আছেন,জীবিত না মৃত। মেীলভী জাফর আলম বলেন মিয়ানমার সরকার য়দি নাগরিকত্ব দিলে নিজ দেশে ফিরে যেতে চাই। এ্খনো নতুন রোহিঙ্গা আসছে।

মিযানমারের পোয়াপাড়া গ্রামের সাবেক চেযারম্যান আবুল ফয়েজ বলেন মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী কর্তৃক এ  পর্যন্ত অনেক নারী গণ ধর্ষণের শিকার হয়েছে। তিনি আরো বলেন মিয়ানমার সামরিক বাহিনীর হাতে গণ ধর্ষণের শিকার ৪২ নারী ও গুলিবিদ্ধ ৩৬ পুরুষের নাম সম্বলিত একটি তালিকা ইয়াংঘি লি হাতে তুলে দেন ।




উখিয়ায় বিশ্বমানের ওপেন কারাগার হবে দেশের ইতিহাস

pic ukhiya, 17-02-2017

 উখিয়া প্রতিনিধি ॥
কক্সবাজারের উখিয়ায় পাহাড়ী এলাকায় উন্নত বিশ্বের আদলে প্রস্তাবিত অত্যাধুনিক মানের সু-বিশাল ওপেন কারাগার ও পুনঃবাসন কেন্দ্র পরিদর্শন করেছেন আইজিপি (প্রিজন) বিগ্রেডিয়ার সৈয়দ ইফতেকার উদ্দিন। সবুজ অরণ্য বেষ্টিত বিশাল পাহাড় ও নির্জন পরিবেশ বান্ধব জায়গা দেখে তিনি সন্তোষ প্রকাশ করেন।

শুক্রবার বিকালে আইজিপি (প্রিজন) সরজমিনে পরিদর্শনে আসেন। ৩শত ২৫ একর সরকারি খাস জায়গায় ওপেন কারাগারটি নির্মাণ করছে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণলায়। উক্ত কারাগার নির্মাণের লক্ষ্যে ভূমি অধিগ্রহণ ও হস্তান্তর প্রক্রিয়া ইতি মধ্যে সম্পন্ন হয়েছে।

উপজেলার হলদিয়া পালং ইউনিয়নের উত্তর বড়বিল প্রস্তাবিত এলাকা পরিদর্শন শেষে গ্রামবাসীর সাথে এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে আইজিপি (প্রিজন) বিগ্রেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ ইফতেকার উদ্দিন বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরাসরি নির্দশেই এতদঞ্চলে বাংলাদেশে এই প্রথম বিশ্বমানের ওপেন কারাগার নির্মাণ হতে যাচ্ছে।

এটি হলে উখিয়া নামক উপজেলাটি ইতিহাসের পাতায় লিপিবদ্ধ হবে। তিনি আরো বলেন, জেল খানায় বন্দিরা আমাদের ভাই, আতœীয় ও দেশেরই লোক। তাদের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করতে হবে। তাই বর্তমান সরকার বন্দি কয়েদিদের কে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষতা অর্জন করে পূন:বাসনের জন্য ওপেন কারাগার উদ্যোগ নিয়েছে। এতে ২৫টি ট্রেড সেন্টার খোলা হবে।

হলদিয়া পালং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ শাহ আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বক্তব্য রাখেন, কক্সবাজার কারাগারের জেল সুপার বজলুল রশিদ, বেসরকারি কারাপরিদর্শক আবুল মনসুর চৌধুরী, উখিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ মো: আবুল খায়ের, উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) নূর উদ্দিন মোহাম্মদ সীবলী, গণপূর্ত অধিদপ্তরের উপ: বিভাগীয় প্রকৌশলী এস.এম.এ জাহিদ অপু, স্থানীয় বাসিন্দা বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আজিজুল হক চৌধুরী, উখিয়া সাংবাদিক ফোরামের সভাপতি ফারুক আহমদ, সৌদি আরব বঙ্গবন্ধু পরিষদের সাধারণ সম্পাদক হাজী গিয়াস উদ্দিন, সভাটি পরিচালনা করেন, উখিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক সাংবাদিক রাসেল চৌধুরী।

পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন উখিয়া ভূমি অফিসের সার্ভেয়ার, তহশীলদার, কানুনগো, রামু উপজেলা তহশীলদার আবুল কাশেম, মাষ্টার ইসমাইল, ডা: নাছির উদ্দিন চৌধুরী প্রমুখ।

জেল সুপার বজলুর রশিদ জানান উত্তর বড়বিল গ্রামে পরিত্যক্ত ৩শত ২৫.৫০ একর সরকারী খাস জমিতে ওপেন কারাগার ও পুনঃবাসন কেন্দ্রটি হবে বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ কারাগার। উক্ত প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রাথমিক কাজ শুরু করা হয়েছে। এ লক্ষ্যে স্থান নির্বাচন, সম্ভাব্যতা যাচাই, প্রাক্কলন তৈরী ও ভূমি অধিগ্রহণ কাজ সম্পন্ন করা হয়। জেল সুপার আরও জানান ওপেন কারাগার ও পুনঃবাসন কেন্দ্র নির্মানে প্রাথমিক ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৪শ কোটি টাকা।

জেলা কারা অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, পাবলিক বা ওপেন কারাগার ও পুনঃবাসন কেন্দ্রে প্রচলিত জেলখানার মত আসামিদের নির্দিষ্ট স্থানে ও লকআপে বন্দি রাখা হবে না। আসামিরা মুক্ত বিহঙ্গের মত ঘুরে বেড়াতে পারবেন। বিভিন্ন ধরণের কুটির, হস্তশিল্প, মৎস্য চাষ, ফার্ণিচার তৈরী, হাসমুরগী পালন সহ গবাদি পশু মোটা তাজা করণ সহ আয় বর্ধন মূলক কাজ করতে পারবে কয়েদিরা।

শুধু তাই নয় কৃষি জমিতে চাষাবাদ করে পারিশ্রমিক ও আয় করে কারাগারে বসে সংসারের জীবিকা নির্বাহ করা যাবে। এমন কি পরিবার পরিজনের সাথে মোবাইলে কথাবলা, দেখা সাক্ষাৎ করার সুযোগ থাকবে।

স্থানীয় চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ শাহ আলম বলেন উত্তর বড়বিল এলাকায় ওপেন কারাগার ও পুনঃবাসন কেন্দ্র নির্মানে বর্তমান সরকার যে উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন তা ইতিবাচক। এর ফলে অবহেলিত এলাকার অভুত পূর্ব উন্নয়ন ও স্থানীয় অধিবাসীদের জীবণযাত্রার মান পরিবর্তন হবে।

উত্তর বড় বিল গ্রামের বাসিন্দা বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও শিক্ষা অনুরাগী আজিজুল হক চৌধুরী জানান এই এলাকাটি স্বাধীনতার ৪৫ বছর পরও উন্নয়নের কোন ছোঁয়া লাগেনি। নেই কোন যোগাযোগ ব্যবস্থা, নেই বিদ্যুৎ, এমনকি জীবণ-জীবিকার কর্মসংস্থান। এ ধরনের সু-বিশাল কারাগার নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়ায় এলাকাবাসীদের মাঝে আনন্দ ও উচ্ছাস দেখা দিয়েছে। এটি বাস্তবায়ন হলে অবহেলিত এলাকাটি আলোকিত হয়ে উঠবে।




লোকসানে জর্জরিত পাহাড়ের সাদা স্বর্ণ রাবার শিল্প

Pic Ukhiya 16-02-2017 copy

উখিয়া প্রতিনিধি:

কক্সবাজারের উখিয়া সীমান্তে পাহাড় জুড়ে গড়ে ওঠা সম্ভবনাময় রাবার বাগানে রাবাব উৎপাদন বাড়লেও বাজারে দাম অর্ধেকে নেমে আসায় কোটি টাকার বেশি লোকসান গুনতে হচ্ছে শিল্প উদ্যোক্তাদের। উখিয়া, ঘুমধুম ও তুমব্রু মৌজার বিস্তৃর্ণ পাহাড়ি এলাকায় দেশে সাদা স্বর্ণ হিসেবে খ্যাত রাবার শিল্প এখন বন্ধের উপক্রম হয়েছে। শুধু উখিয়া বা ঘুমধুমে নয়, দেশের বিভিন্ন স্থানে গড়ে ওঠা রাবার বাগানের মালিকগণ পুঁজি সংকটে পড়ে হুমকীর মুখে পড়েছে রাবার উৎপাদন।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বর্তমানে দেশে যে পরিমান রাবার উৎপাদন হয় তা দিয়ে দেশের চাহিদার ৬০ ভাগ মেটানো সম্ভব হলেও বিদেশ থেকে প্রয়োজনের তুলনায় বেশি রাবার আমদানি করা হচ্ছে। অন্যদিকে রাবার আমদানিতে নামমাত্র আমদানি শুল্ক বসানো এবং কৃষিপণ্য হলেও রাবার বেচার সময় শতকরা ১৫ টাকা ভ্যাট ও ৪ টাকা আয়কর চাপিয়ে দেওয়ার কারণই দেশের রাবার শিল্পের বিপর্যয়ের অন্যতম কারণ।  ভিয়েতনাম দেশের বর্তমান বাজার দরের চেয়ে কম দামে রাবার এদেশে রপ্তানি হচ্ছে।

রাবার বাগানের সংশ্লিষ্ট এক ব্যক্তির সাথে কথা বলে জানা গেছে, কাঁচা রাবারের স্বয়ং সম্পূর্ণতা অর্জনের লক্ষে বাংলাদেশ বনশিল্প উন্নয়ন কর্পোরেশনের সহযোগিতায় গ্লাসকো রাবার এন্ড কোম্পানি নামে একটি বেসরকারী প্রতিষ্ঠান ১৯৮০-৮১ সালে সরকারের নিকট ৪০ বছরের জন্য লিজ নিয়ে উখিয়ার কুতুপালং টিভি রিলে কেন্দ্রের পার্শ্বে ২৫একর জায়গায় রাবার বাগান সৃজন করে। ওই বাগানের ম্যানেজার রবিউল ইসলাম বলেন, মালয়েশিয়া থেকে বীজ এনে এ বাগানটি গড়ে তোলা হয়।

পরবর্তীতে প্রায় ঘুমধুম ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানে প্রায় ২০/২৫টি রাবার বাগান গড়ে উঠেছে। তিনি এসময় জানান,  গত ২ বছর ধরে রাবারে লাভের চেয়ে লোকসান বেশি হচ্ছে। প্রতিকেজি রাবার উৎপাদনে ১৮৮ টাকা খরচ পড়লেও বর্তমানে বাজার দর পাওয়া যাচ্ছে ৯০ থেকে ১০০ টাকা। এ অবস্থা চলতে থাকায় গুনতে হচ্ছে লাখ লাখ টাকার ক্ষতি। শুধু এ বাগানই নয়,বর্তমানে কোটি কোটি টাকা লোকসানের মুখে পড়ে দেশের সরকারী-বেসরকারী রাবার বাগান। এ অবস্থা চলতে থাকলে আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে বেসরকারী বাগানগুলোও বন্ধ হয়ে যাবে।

সরেজমিনে রাবার বাগান ঘুরে দেখা গেছে, বাগানের হাজার হাজার গাছে ঝুলছে ছোট ছোট মাটির পাত্র। সেই পাত্রে কাটা অংশ দিয়ে গাছ বেয়ে বেয়ে পড়ছে ধবধবে সাদা দুধের মতো রাবারের কষ। পাত্রে জমা হওয়া রাবারের কষ সংগ্রহ করে শ্রমিকেরা ভারে করে নিয়ে যাচ্ছে কারখানায়।

খোঁজখবর নিয়ে জানা যায়, মূলত সারা বছরই রাবার উৎপাদন চলে। তবে অক্টোবর থেকে জানুয়ারি, সর্বশেষ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত পাঁচ মাস রাবার উৎপাদনের ভরা মৌসুম। মৌসুমে প্রতিদিন উখিয়া ও ঘুমধুমে রাবার বাগান থেকে ৪ হাজার থেকে সাড়ে ৪ হাজার কেজি কষ আহরণ করা হয়। শীতে কষ আহরণ বেশি হয়, আবার বর্ষায় উৎপাদন কমে আসে। বাগান থেকে সাদা কষ সংগ্রহের পর ৭দিনের মধ্যে তা প্রক্রিয়াজাত করে শুকনো রাবারে পরিণত করা হয়।

এ ব্যাপারে রাবার বাগানে উপ-ব্যবস্থাপক মো. ওয়াহিদুল ইসলাম’র সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, নামমাত্র আমদানি শুল্ক বসানোর কারণে আমদানিকারকেরা বিদেশ থেকে চাহিদার তুলনায় বেশি রাবার আমদানি করছে। ফলে দেশীয় রাবারের চাহিদা কমে যাচ্ছে। তাই ১৯৬০ সাল থেকে টিকে থাকা এশিল্পকে বাঁচাতে আমদানি শুল্ক বাড়ানো এবং রাবারের উপর ভ্যাট ও আয়কর প্রত্যাহার করার দাবি জানান তিনি।




৩৪ বিজিবি কর্তৃক ৯ হাজার প্যাকেট বার্মিজ মার্বেল সিগারেট এবং ২৬৪ ক্যান বার্মিজ বিয়ার আটক

 

0-02-06-8b3d231460322880d1be8548b69f08ea2f1afbda66730c0b99ea27faf2e5a09e_full copy

বিজ্ঞপ্তি:

শনিবার রাত ২টার দিকে ৩৪ বর্ডার গার্ড ব্যাটালিয়নের বালুখালী বিওপি’র এর সদস্যগণ গোয়েন্দা সংবাদের ভিত্তিতে কক্সবাজার জেলার উখিয়া উপজেলার ৫ নং পালংখালী ইউনিয়নের দামনখালী নামক স্থানে চোরাচালান বিরোধী অভিযান চালিয়ে মালিক বিহীন পরিত্যাক্ত অবস্থায় ৫,২৯,২০০ (পাঁচ লক্ষ উনত্রিশ হাজার দুইশত) টাকা মূল্যের ৯০০০ প্যাকেট বার্মিজ মার্বেল সিগারেট এবং ২৬৪ ক্যান বার্মিজ বিয়ার জব্দ করে।

জব্দকৃত বার্মিজ মার্বেল সিগারেট পরবর্তীতে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে ধ্বংস করা হবে এবং বিয়ার ব্যাটালিয়ন সদরে জমা রেখে পরবর্তীতে পর্ষদের উপস্থিতিতে ধ্বংস করা হবে।




উখিয়ায় বয়োবৃদ্ধ কৃষককে প্রকাশ্য অপহরণের চেষ্টা: উদ্ধার করতে গিয়ে মহিলা সহ আহত-৪

উখিয়া প্রতিনিধি:

উখিয়ায় হত্যা মামলার বাদী বয়োবৃদ্ধ শহর আলী মিস্ত্রি (৮৫) কে মারধর পূর্বক প্রকাশ্যে অপহরণের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। এসময় বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে সন্ত্রাসীদের হামলায় মহিলা সহ ৪ জন গুরুতর আহত হয়। উখিয়া থানার পুলিশ খবর পেয়ে সন্ত্রাসীদের কবল হতে আহতদেরকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে উখিয়া হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করে। ঘটনাটি ঘটেছে বৃহস্পতিবার সকালে।

জানা যায়, উপজেলার হলদিয়াপালং ইউনিয়নের ক্রাইমজোন হিসাবে খ্যাত পাগলির বিল এলাকায় ২০০৩ সালে মোক্তার আহমদ ও ২০০০ সালে আব্দু শুক্কুর সন্ত্রাসীদের হাতে নির্মম ভাবে খুন হন। ওই হত্যা মামলায় বাদী এবং  স্বাক্ষী হচ্ছে একই এলাকার মৃত রহমত আলীর পুত্র শহর আলী মিস্ত্রি।

অভিযোগে প্রকাশ, প্রায় সময় হত্যা মামলার আসামীরা মামলা প্রত্যহার করে নিতে বয়োবৃদ্ধ শহর আলী মিস্ত্রিকে প্রাণ নাশের হুমকি ধমকি দিয়ে আসছিল। এমনকি ইতিপূর্বে কক্সবাজার আদালতে জবানবন্দি দিয়ে ফেরার পথে সন্ত্রাসীরা তাকে অপহরণ করে ৪ দিন অজ্ঞাত স্থানে আটকিয়ে রাখে।

গ্রামবাসীরা জানান, বৃহস্পতিবার সকালে নিজের জমিতে পানি সেচ দিতে গেলে পূর্বশত্রুতার জের ধরে বয়োবৃদ্ধ শহর আলী (৮৫) কে মারধর পূর্বক অপহরণের চেষ্টা চালায়। চিৎকার শুনে সন্ত্রাসীদের কবল থেকে উদ্ধার করার জন্য এগিয়ে আসলে সন্ত্রাসীদের এলো পাতাড়ী হামলায় গুরুতর আহত হয়েছেন, স্ত্রী হাজেরা বেগম (৫৫), মেয়ে শাহনু আক্তার (৩৮) ও ছেনুয়ারা বেগম (৩২)।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে পড়ে থাকলেও সন্ত্রাসীদের ভয়ে তাদেরকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে আসতে কেউ সাহস পায়নি। এ ধরনের খবর শুনে হলদিয়া ইউপি চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ শাহ আলম এ বিষয়টি উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত)কে অবহিত করে। দুপুর ১২টার দিকে উখিয়া থানার উপ-সহকারী পুলিশ পরিদর্শক মিতেন চাকমার নেতৃত্বে একদল পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদেরকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে আসেন।

বয়োবৃদ্ধ আহত শহর আলী মিস্ত্রি সাংবাদিকদের বলেন, মৃত খুইল্যা মিয়ার পুত্র ২টি হত্যা মামলার আসামী খোরশেদ আলমের নির্দেশে মাহবুবুল আলম, আবুল কালাম প্রকাশ গুরা মনিয়া, শামশুল আলম প্রকাশ গুইন্যা ডাকাত, ফয়েজসহ ৯/১০ জন সন্ত্রাসী পূর্বশত্রুতার জের ধরে তাকে অপহরণ করে প্রাণনাশের চেষ্টা চালায়। এ ব্যাপারে উখিয়া থানায় মামলা দায়ের করার প্রস্তুতি চলছে বলেও জানা গেছে।




পালং উচ্চ বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠতার ৭০ বছর পূর্তিতে বর্ণাঢ্য আয়োজনের প্রস্তুতি

Pic Ukhiya 08-02-20
উখিয়া প্রতিনিধি :
সবার আপন, প্রাণের এ প্রাঙ্গণ- এ স্লোগানকে সামনে রেখে উখিয়ার ঐতিহ্যবাহি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পালং আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ৭০ বছর পূর্তিতে গৌরবের ৭০ বর্ণাঢ্য আয়োজনে সফল করতে ব্যাপক কর্মসূচী হাতে নেওয়া হয়েছে।

জাঁকঝমক পরিবেশে গৌরবের ৭০ বছর পূর্তিঅনুষ্ঠান স্বার্থক করতে ১০১ সদস্য বিশিষ্ট উদ্যাপন পরিষদ গঠন করা হয়েছে। এছাড়াও বেশ কয়েকটি উপ-কমিটি গঠনও ইতিমধ্যে সম্পন্ন করা হয়।

এদিকে ৮ ফেব্রুয়ারী বুধবার বিকেলে কোটবাজার স্টেশনে ‘গৌরবের ৭০’ এর অফিস আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন হয়েছে। এতে উপস্থিত ছিলেন, উদ্যাপন পরিষদের আহ্বায়ক সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মাহমুদুল হক চৌধুরী, যুগ্ম আহ্বায়ক কবি আদিল চৌধুরী, রত্নাপালং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান খাইরুল আলম চৌধুরী, হলদিয়াপালং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ শাহ আলম, জালিয়াপালং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নুরুল আমিন চৌধুরী, সাবেক চেয়ারম্যান কামাল উদ্দিন মিন্টু, সাবেক চেয়ারম্যান আনোয়ার হোছাইন চৌধুরী, শফিউল আলম বাবুল, নুরুল হুদা, ছাবের আহমদ কন্ট্রাক্টর, মাস্টার মোস্তাক আহমদ, আবুল হাছনাত চৌধুরী আবুলু, হাছান জামাল রাজু, সাকের উদ্দিন সাগর, মো. আলমগীর, উখিয়া সাংবাদিক ফোরামের সভাপতি ফারুক আহমদ, মেম্বার শাহজাহান চৌধুরী, মানিক, জসিমসহ অসংখ্য প্রাত্তন ছাত্ররা।

উদ্যাপন কমিটির সদস্য সচিব, মাস্টার কামাল উদ্দিন জানান, রেজিষ্ট্রেশন প্রক্রিয়া ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে। প্রতিদিন কোটবাজার অস্থায়ী কার্যালয়ে রেজিষ্ট্রেশন করা হবে।




উখিয়ায় ওপেন কারাগার নির্মিত হচ্ছে

Pic Ukhiya copy

উখিয়া প্রতিনিধি,

কক্সবাজারের উখিয়ায় ওপেন কারাগার ও পুনর্বাসন কেন্দ্র নির্মাণের জন্য ভূমি অধিগ্রহণ এবং হস্তান্তর করা হয়েছে।  সোমবার সকাল ১১টায় প্রস্তাবিত উপজেলার হলদিয়াপালং ইউনিয়নের উত্তর বড়বিল এলাকায় প্রস্তাবিত জায়গায় সাইনবোর্ড উত্তোলন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কক্সবাজার জেল সুপার বজলুর রশিদ।

এসময় উখিয়া ভূমি অফিসের কর্মকর্তা, হলদিয়াপালং ইউপি চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ শাহআলম, সহ সরকারী প্রতিনিধি দলের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। উন্নত বিশ্বের আদলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এধরনের অত্যাধুনিক মানের সু-বিশাল এ প্রথম কারাগার নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন বলে দায়িত্বশীল সূত্রে জানা গেছে।

জেল সুপার বজলুর রশিদ জানান উত্তর বড়বিল গ্রামে পরিত্যক্ত ৩শত ২৫.৫০ একর সরকারী খাস জমিতে ওপেন কারাগার ও পুর্নবাসন কেন্দ্র নির্মাণে প্রকল্প গ্রহণ করেছেন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়। এটি হবে বাংলাদেশের সর্ব বৃহৎ কারাগার। ওই প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রাথমিক কাজ শুরু করা হয়েছে। এলক্ষে স্থান নির্বাচন, সম্ভাব্যতা যাচাই ও ভূমি অধিগ্রহণ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। জেল সুপার আরও জানান ওপেন কারাগার ও পুনর্বাসন কেন্দ্র নির্মাণে প্রাথমিক ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৪শ কোটি টাকা।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ইতি মধ্যে সরকার ৩শত ২৫.৫০ একর ভূমি বুঝে নেওয়ার জন্য কেন্দ্রীয় কারা অধিদপ্তরকে চিঠি দিয়েছেন। খুব শীঘ্রই এ প্রকল্পের ভিত্তি প্রস্তর উদ্বোধন করা হবে। পরিদর্শন টিমের সাথে উপস্থিত ছিলেন বেসরকারী কারা পরিদর্শক আবুল মনসুর চৌধুরী, উখিয়া ভূমি অফিসের সার্ভেয়ার, উপজেলা কাননগো ও স্থানীয় মেম্বার ও সৌদিআরব বঙ্গবন্ধু পরিষদের সাধারণ সম্পাদক হাজী গিয়াস উদ্দিন।

পাবলিক বা ওপেন কারাগার ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে প্রচলিত জেলখানার মত আসামিদের নির্দিষ্ট স্থানে ও লকআপে বন্দি রাখা হবে না। আসামিরা মুক্ত বিহঙ্গের মত ঘুরে  বেড়াতে পারবে। বিভিন্ন ধরনের কুটির ও হস্তশিল্পের কাজ করতে পারবে কয়েদিরা। শুধু তাই নয় কৃষি জমিতে চাষাবাদ করে পারিশ্রমিক ও আয় করতে পারবে। এমন কি পরিবার পরিজনের সাথে মোবাইলে কথা বলা, দেখা সাক্ষাৎ করার সুযোগ থাকবে।

স্থানীয় চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ শাহ আলম বলেন, উত্তর বড়বিল এলাকায় ওপেন কারাগার ও পুনর্বাসন কেন্দ্র নির্মাণে বর্তমান সরকার যে উদ্যোগ  গ্রহণ করেছেন তা ইতিবাচক। এর ফলে অবহেলিত এলাকার অভুত পূর্ব উন্নয়ন ও স্থানীয় অধিবাসীদের জীবণযাত্রার মান পরিবর্তন হবে।

এদিকে দেশের এ প্রথম সু-বিশাল কারাগার নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়ায় এলাকাবাসীদের মাঝে আনন্দ ও উচ্ছাস দেখা দিয়েছে। উত্তর বড় বিল গ্রামের বাসিন্দা বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও শিক্ষা অনুরাগী আজিজুল হক চৌধুরী জানান এ এলাকাটি স্বাধীনতার ৪৫ বছর পরও উন্নয়নের কোন ছোঁয়া লাগেনি। নেই কোন যোগাযোগ ব্যবস্থা, নেই বিদ্যুৎ, এমনকি জীবন-জীবিকার কর্মসংস্থান। ওপেন কারাগার ও পুনর্বাসন কেন্দ্র নির্মাণ হলে অবহেলিত এলাকাটি আলোকিত হয়ে উঠবে। দেশের সর্ববৃহৎ প্রকল্প গ্রহণে উদ্যোগ নেওয়ায় সরকারের উচ্চপদস্থ কর্তৃপক্ষ  ও হলদিয়াপালং ইউপি চেয়ারম্যান কে গ্রাম বাসী সাধুবাদ জানিয়েছেন।




কোর্টবাজারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড

আগুন

উখিয়া প্রতিনিধি:

উখিয়ার কোর্টবাজার স্টেশনে ফজল মার্কেটে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘটলেও স্থানীয় জনগণের সহযোগীতায় ফায়ার সার্ভিস দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে আনলে ব্যপক ক্ষয়ক্ষতি থেকে রক্ষা পায়।

রবিবার ভোরে এ ঘটনাটি ঘটেছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান ভোর রাতে ফজল মার্কেটের গোল্ড হ্যাভেন জুয়েলার্সে আগুন ধরে উঠে। মুহুর্তের মধ্যে আগুন চারদিকে ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় জনগণ এগিয়ে এসে আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালায়।

দোকানদার জানিয়েছেন, মেম্বার আব্দুল গফুর তার মালিকানাধীন হোটেল থেকে গ্যাস যন্ত্রের সাহায্যে আগুন নিয়ন্ত্রণ আনতে ঝাপিয়ে পড়ে। এসময় ফায়ার সার্ভিস দ্রুত ঘটনা স্থলে এসে আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আনেন। ফলে বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ড থেকে বেঁচে যায় কোর্টবাজার স্টেশন।




কোর্টবাজার দু’গ্রুপের প্রকাশ্য মহড়ায় উত্তাপ্ত: আইশৃংখলা অবনতির হওয়ার আশঙ্কা

 

উখিয়া প্রতিনিধি:

উখিয়ার ব্যস্ততম কোর্টবাজার স্টেশনে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি দিন দিন অবনতি সহ উত্তাপ্ত  হয়ে উঠেছে। ব্যবসায়ী ও সাধারণ জনগণ চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভোগছে।শনিবার সন্ধ্যায় হঠাৎ করে শতাধিক যুবক হাতে লাঠি সোটা নিয়ে প্রকাশ্যে মহড়া ও স্লোগান শুরু করলে মুহুর্তের মধ্যে ব্যবসায়ীরা দোকান পাট বন্ধ করে দেয়। এ সময় পুরো স্টেশন জুড়ে সকলের মাঝে অজানা আতঙ্ক ও উৎকণ্ঠা দেখা দেয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে টহল জোরদার বৃদ্ধি করেছে।

জানা যায়, বৃহস্পতিবার রাতে কোর্টবাজার ওয়ালটন চত্বরে স্থানীয় মেম্বার রফিক আহমদের সাথে আনাস মেডিকেল হলের মালিক শাহনেওয়াজ ও ইসহাকের মধ্যে তুচ্ছ ঘটনা নিয়ে হাতাহাতি হয়। এ খবর চারদিকে ছড়িয়ে পড়লে এক পর্যায়ে দু’গ্রুপ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে প্রকাশ্য মহড়া দেয়। দু’পক্ষের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ঘটনায় ব্যবসায়ীরা আতঙ্কিত হয়ে উঠে।

এদিকে দোকানে হামলা ও ভাংচুরের ঘটনায় দোকান মালিক সমিতির ব্যানারে শুক্রবার সকাল ৮টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত দোকান বন্ধ রেখে ধর্মঘট পালন করেছে। ওই সময় ব্যবসায়ীদের একটি অংশ মৌনমিছিল করে।

স্থানীয় দোকানদার জানান, শনিবার সন্ধ্যায় তৃতীয় বারের মত শতাধিক যুবক প্রকাশ্যে মহড়া দিয়েছে স্টেশনে। সংঘবদ্ধ যুবকদের মহড়া দেখে ব্যবসায়ীরা দ্রুত দোকান পাট বন্ধ করে দিক-বিদিক ছুটাছুটি করতে শুরু করে। বলতে গেলে কোর্টবাজারে দিন দিন আইনশৃংখলা পরিস্থিতি অবনতি আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। উখিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ মো. আবুল খায়ের এ প্রসঙ্গে বলেন, যেকোন ধরনের পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে পুলিশ টহল জোরদারের পাশা-পাশি আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রনে রেখেছেন।

 




বালুখালীতে গড়ে উঠা রোহিঙ্গা বস্তি অপসারণে স্থানীয়রা ফুঁসে উঠেছে

Pic UKhiya 04-02-2017 copy

উখিয়া প্রতিনিধি:

উখিয়ার বালুখালীতে গড়ে উঠা নতুন বস্তিতে অবস্থানকারী রোহিঙ্গা সহ বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা অনুপ্রবেশকারী রোহিঙ্গাদেরকে অপসারণ সহ দ্রুত অন্যত্র স্থানান্তরীত করার দাবিতে স্থানীয়রা ফুঁসে উঠেছে। এমনকি রোহিঙ্গা ঠেকাতে বৃহত্তর আন্দোলনের চিন্তাভাবনা করছেন সচেতন এলাকাবাসী।

পালংখালী ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান ও ১নং ওয়ার্ডের মেম্বার নুরুল আবছার চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেন, বালুখালীতে নতুন ভাবে গড়ে উঠা রোহিঙ্গা বস্তির কারণে এলাকার পরিবেশ দিন দিন দুষিত হয়ে পড়েছে। পাহাড়ি জায়গা জবরদখল সহ বনাঞ্চল ধ্বংস করছে রোহিঙ্গারা। এছাড়াও নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত হবে রোহিঙ্গারা। উপকূলীয় হাতিয়ার ঠেঙ্গারচরে রোহিঙ্গাদের পূর্ণবাসনে সরকার যে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে তা সাধুবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, জনস্বার্থে এ সিদ্ধান্তটি সময় উপযোগী সিদ্ধান্ত।

জানা যায়, মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গা মুসলিমদের উপর সে দেশটির আইনশৃংখলা বাহিনী নারকীয় অত্যাচার, নীপড়ন, হত্যা ও ধর্ষণ সহ ব্যাপক অগ্নিসংযোগ করে ঘর বাড়ি পুড়িয়ে দেয়। মিয়ানমারের আইনশৃংখলা বাহিনীর হত্যাজজ্ঞ থেকে বাঁচতে হাজার হাজার রোহিঙ্গা নারী পুরুষ ও শিশুরা সীমান্ত পাড়ি দিয়ে উখিয়া ও টেকনাফে চলে আসে।

জানা গেছে, গত ২ মাসে সীমান্ত পাড়ি দিয়ে মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছে প্রায় অর্ধলক্ষ রোহিঙ্গা। আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইএমও) জানান, পালিয়ে আসা রোহিঙ্গারা উখিয়া টেকনাফ কক্সবাজার সহ বৃহত্তর চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রামে আশ্রয় নিয়েছে। পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের সংখ্যা লক্ষাধিক ছড়িয়ে যাবে বলে মন্তব্য করছেন সুশীল সমাজ। জাতিসংঘের মানধিকার সংস্থা’র উদ্ধৃতি দিয়ে সংবাদ সংস্থা রয়টার্স জানান, গত ৪ মাসে মিয়ানমারের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নির্যাতনে ৯২ হাজার রোহিঙ্গা মুসলিম গৃহ হারা হয়ে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করেছে।

সরজমিন পরিদর্শনে দেখা যায়, উপজেলার পালংখালী ইউনিয়নের পশ্চিম বালুখালী পাহাড়ি এলাকায় নতুন করে রোহিঙ্গা বস্তি গড়ে উঠেছে। বে-সরকারী এনজিও সংস্থা মুক্তির এ জরিপে দেখা গেছে বর্তমানে ওই বস্তিতে প্রায় দেড় হাজার অধিক রোহিঙ্গা পরিবার আশ্রয় নিয়েছে। প্রতিদিন নতুন নতুন রোহিঙ্গার দল এতে ঢুকে পড়ছে। আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা’র (আইএমও) মাঠ কর্মীরা জানান, কুতুপালং শরণার্থী ক্যাম্পের অভ্যন্তরে ও আশ-পাশ এলাকায় হাজার হাজার পালিয়ে আসা রোহিঙ্গা অবস্থান করছে।

পালংখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গফুর উদ্দিন চৌধুরী ব্যাপক হারে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ ও নতুন রোহিঙ্গা বস্তি গড়ে উঠার বিষয়ে চরম উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, সরকার ও আন্তর্জাতিক সংস্থার সমন্বয়ে রোহিঙ্গা সমস্যা বিষয়টি দ্রুত সমাধান করার জন্য দ্বি-পাক্ষিক আলোচনা সহ আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কুটনৈতিক চাপ বাড়ানোর পর জোর দেন।

এদিকে বালুখালীতে গড়ে উঠা নতুন রোহিঙ্গা বস্তির কারণে এলাকার পরিবেশ দুষণ হয়ে পড়েছে। রোহিঙ্গাদের যত্রতত্র চলা ফেরা ও খোলা জায়গায় মলমূত্র ত্যাগ করায় চারদিকে রোগ জীবানু ছড়িয়ে পড়ছে।

এ প্রসঙ্গে পালংখালী ইউপির প্যানেল চেয়ারম্যান ও মেম্বার নুরুল আবছার চৌধুরী বালুখালীতে গড়ে উঠা নতুন বস্তি দ্রুত অপসারণ করে হাতিয়ার ঠেঙ্গারচরে আশ্রয় দেওয়ার জন্য দাবি জানান। কারণ রোহিঙ্গারা স্থানীয়দের বিষফোঁড়া হয়ে দাঁড়িয়েছে। তারা যেকোন অপরাধ মূলক ঘটনা সহ আইনশৃংখলা অবনতি ঘটাতে দ্বিধাবোধ করে না।

উখিয়া নাগরিক অধিকার বাস্তবায়ন পরিষদের সদস্য সচিব সাংবাদিক গফুর মিয়া চৌধুরী বলেন, রোহিঙ্গারা বাংলাদেশের ভুখন্ঠে ঢুকে কক্সবাজার পর্যটন নগরীকে বিভিন্ন অপরাধের স্বর্গরাজ্যে বানিয়ে কুলষিত করছে। এদের যেকোন মূলে স্বদেশের প্রত্যাবাসন সময়ের দাবিতে পরিণত করেছে। এছাড়াও সরকার রোহিঙ্গাদের পূর্নবাসনে নোয়াখালীর হাতিয়ার চর কে বেঁচে নেওয়ায় এ দেশের সর্বস্তরের মানুষ সঠিক সিদ্ধান্ত বলে মনে করছে।